পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন২৫
সিলেবাস
বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিকসমূহ: ১. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা: রাজনৈতিক দলসমূহের গঠন, ভূমিকা ও কার্যক্রম, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সম্পর্কাদি, সুশীল সমাজ ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ এবং এদের ভূমিকা। ২. বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজ সংস্কারক। উৎস: পৌরনীতি ও সমাজবিজ্ঞান বিষয়ক বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ২৫ প্রশ্ন

.
Almond ও Powel চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কয় ভাগে বিভক্ত করেছেন?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- যে গোষ্ঠীর সদস্যগণ একই মনোভাব ও স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং স্বার্থের ভিত্তিতেই তারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ হয় তাকে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলে।
- Almond ও Powel চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে ৪ ভাগে ভাগ করেছেন। যথা-
• Institutional Interest Groups,
• The Associational Interest Groups,
• Anomic Interest Groups,
• Non-Associational Interest Groups.

তথ্যসূত্র - উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মজনু শাহ কোন আন্দোলনের নেতা ছিলেন?
  1. সিপাহি বিদ্রোহ
  2. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  3. তেভাগা আন্দোলন
  4. রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
ফকির মজনু শাহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ঐতিহাসিক ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নায়ক মজনু শাহ।
- তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের মাদারিয়া তরিকার সুফি সাধক। 
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করেন।
 
উল্লেখ্য,
- মজনু শাহ মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কার নেতৃত্বে বাঁশের কেল্লা নির্মিত হয়?
  1. তিতুমীর
  2. দুদু মিয়া
  3. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. মজনু শাহ
ব্যাখ্যা
বাঁশের কেল্লা:
- ১৮৩১ সালের ২৩ অক্টোবর ভারতের কলকাতার বারাসাতের কাছে নারিকেলবাড়িয়া নামক গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করা হয়।
- ইতিহাসে এটিই ‘বাঁশের কেল্লা’ বা ‘নারিকেলবাড়িয়া বাঁশের কেল্লা’ নামে চিহ্নিত হয়ে আছে।
- ব্রিটিশ শক্তিকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে একটি বিপ্লবী কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য বাংলার সন্তান মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর ও তাঁর অনুসারীরা এই কেল্লা নির্মাণ করেন।
- বাঁশের কেল্লায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিরাট বাহিনী ছিল স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও সংগ্রামী চেতনায় উদ্দীপ্ত।
- তারা তিতুমীরের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা স্থাপন করে।
- লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে ১০০ অশ্বারোহী, ৩০০ স্থানীয় পদাতিক, দুটি কামানসহ গোলন্দাজ সৈন্যের এক নিয়মিত বাহিনী তিতুমীরের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন।
- ১৮৩১ সালের ১৪ নভেম্বর ইংরেজ বাহিনী মুজাহিদদের উপর আক্রমণ চালায়।
- তাঁদের সাধারণ তলোয়ার ও হালকা অস্ত্র নিয়ে তিতুমীর ও তাঁর সেনারা ব্রিটিশ সেনাদের আধুনিক অস্ত্রের সামনে দাঁড়াতে পারেননি।
- সেই যুদ্ধে তিতুমীর শহীদ হন।
- পাশাপাশি ১৮৩১ সালের ১৭ নভেম্বর বাঁশের কেল্লাটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
.
'মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. সৈয়দ আহমদ খান
  4. সৈয়দ আমির আলী
ব্যাখ্যা
আলীগড় আন্দোলন:
- ১৮৭৫ সালে সৈয়দ আহমদ খান আলীগড়ে 'মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৭৭ সালে এটি কলেজে উন্নীত হয়।
- এ কলেজ প্রতিষ্ঠার পর আলীগড় ভারতীয় মুসলমানদের ধর্মীয়, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
- সৈয়দ আহমদ খান এ আলীগড় কলেজকে কেন্দ্র করে অধঃপতিত অবস্থা থেকে মুসলমানদের পুনরুদ্ধার ও তাদের পুনর্জাগরণের জন্য একটি আন্দোলন পরিচালনা করেন।
- ইতিহাসে এটিই 'আলীগড় আন্দোলন' নামে প্রসিদ্ধ।
- এ আন্দোলন মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক ভাবধারা ও চিন্তা-চেতনা জাগ্রত করে।
- পরবর্তীকালে আলীগড় কলেজ ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক জীবনকেও প্রভাবিত করেছিল।
 
উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোনটি সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি দূরীকরণে পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে?
  1. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  2. বিচারপতি
  3. নির্বাচন কমিশন
  4. জনগণ
ব্যাখ্যা
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- কোনো বিশিষ্ট লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করার জন্য কাজ করে এমন গোষ্ঠীকে বলা হয় চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী।
-সুশীল সমাজ কাজ করে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে।
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য হলো গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধার।
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বিভিন্ন কাজ:
• স্বার্থের সংহতি সাধন,
• জনসংযোগ,
• তথ্য প্রদান,
• রাজনৈতিক প্রচার,
• সামাজিকীকরণ,
• সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি দূরীকরণ,
• সরকারের উপদেষ্টা,
• রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংরক্ষণ ও পরিবর্তন,
• আইন ও নীতির উৎস।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ২০ জুন, ১৯৪৯ সালে
  2. ২১ জুন, ১৯৪৯ সালে
  3. ২২ জুন, ১৯৪৯ সালে
  4. ২৩ জুন, ১৯৪৯ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ:
 
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম।
- পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালে দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ করা হয়।
- মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং শামসুল হক ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
- ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও শোষণমুক্তি এ চারটি মূলনীতির উপর দলটি পরিচালিত হচ্ছে।
- স্বাধীনতার পর থেকে দেশ পুনর্গঠন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দলটি অনবদ্য অবদান রেখেছে।
 
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মঙ্গল পান্ডে নামটি কোন বিদ্রোহের সাথে জড়িত?
  1. নাচোল বিদ্রোহ
  2. কৃষক বিদ্রোহ
  3. সিপাহী বিদ্রোহ
  4. নীল বিদ্র্রোহ
ব্যাখ্যা
মঙ্গল পান্ডে:
- মঙ্গল পান্ডে ছিলেন একজন সিপাহি, যার নেতৃত্বে সিপাহি বিদ্রোহ শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সিপাহিদের একটি অংশ বিদ্রোহ করে।
- মঙ্গল পাণ্ডের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণার ব্যারাকপুরে এই বিদ্রোহ শুরু হয়।
- ‘সিপাহি বিদ্রোহ’ নামে খ্যাত এই বিদ্রোহের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইংরেজ শাসনকে হটিয়ে দিয়ে পুরো ভারতকে দখলদার মুক্ত করা।
 
সিপাহী বিদ্রোহ:
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।
 
উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মাস্টারদা সূর্য সেনের ফাঁসি কোথায় কার্যকর হয়েছিল?
  1. ব্যারাকপুর
  2. ঢাকা
  3. কলকাতা
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
মাস্টারদা সূর্য সেন:
- চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠিত হয় ১৯৩০ সালে।
- ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের প্রধান সংগঠক মাস্টারদা সূর্যসেন।
- মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্ম ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে।
- পুরো নাম সূর্যকুমার সেন।
- বিএ পড়ার সময় তিনি তাঁর এক শিক্ষক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন।
- অধ্যাপক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী যুগান্তর নামে বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন। 
- শিক্ষকতা করার কারণে তিনি পরিচিত মহলে 'মাস্টারদা' আখ্যা পান।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
- ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
ভারতের গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান হিসাবে পরিচিত ছিলেন -
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. মাওলানা মোহাম্মদ আলী
  3. রমেশ চন্দ্র দত্ত
  4. দাদাভাই নওরোজী
ব্যাখ্যা
দাদাভাই নওরোজী:
- দাদাভাই নওরোজি ছিলেন একজন ভারতীয় জাতীয়তাবাদী এবং ভারতে ব্রিটিশ অর্থনৈতিক নীতির সমালোচক।
- ভারতীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য।
- ভারতের গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান হিসাবে পরিচিত ছিলেন দাদাভাই নরোজি।
- ১৮৮৬, ১৮৯৩ এবং ১৯০৬ সালে তিনি ভারতীয় জাতীয় সংসদের বার্ষিক অধিবেশনেও সভাপতিত্ব করেন। 

উল্লেখ্য,
- ১৮৫৫ সালে দাদাভাই নওরেজি প্রথম বারের মতো ব্রিটেন সফরে আসেন।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার জন্য তার মধ্যে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, তার মূলে ছিল ভারতের দারিদ্র।

উৎস: Britannica.
১০.
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় সম্পৃক্ত ছিলেন -
  1. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  2. মুহম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. নবাব ভিকার-উল মুলক
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
মুসলিম লীগ:
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্ব ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে ঢাকার তৎকালীন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্যে একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন।
- তার প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল মুলক, সুলতান মুহাম্মদ শাহ আগা খান প্রমুখের উদ্যোগে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। 

উল্লেখ্য,
- নওয়াব আব্দুল লতিফ, স্যার সৈয়দ আহমদ খান, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ছিলেন না। 
- মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
 
১১.
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের কাজ কোনটি?
  1. রাজনৈতিক দল গঠন করা
  2. প্রার্থী মনোনয়ন
  3. ভোটার তালিকা প্রণয়ন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
নির্বাচন কমিশনের কাজ:
 
- রাষ্ট্রপতি, সংসদ সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে।
- রাষ্ট্রপতি ও সংসদ সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ভোটার তালিকা প্রণয়ন করবে।
- সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ করবে।
- এলাকা ভিত্তিক ভোটার তালিকা প্রণয়ন।
- সংবিধানের বিধান সাপেক্ষে নির্বাচন সংক্রান্ত সকল বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করতে পারবে।
 
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
তেভাগা আন্দোলনের সাথে জড়িত নন -
  1. হাজী দানেশ
  2. ইলা মিত্র
  3. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. অমল সেন
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন:
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র।
- তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন।
- ১৯৪০ থেকে ১৯৫০ সালে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ।
- কৃষকদের অধিকার আদায়ে তেভাগা আন্দোলনে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেন নড়াইলের অমল সেন।
- তেভাগা আন্দোলনের দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।
 
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ১৮ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো।
১৩.
বাংলাদেশের কোন নেতা কলকাতার মেয়র ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. মাওলানা ভাসানী
  3. এ. কে. ফজলুল হক
  4. উপরের কেউই নন
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক:
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এ.কে. ফজলুল হক।
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৫ সালে তিনি বাংলার মন্ত্রী সভার সদস্য মনোনীত হন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- তিনি কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের মেয়র হন ১৯৩৫ সালে।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- সে থেকে তিনি শের-ই-বাংলা নামেই পরিচিত। 
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- বাংলার নয়নমণি শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
 
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৪.
নিম্নলিখিতদের মধ্যে কে বিধবা বিবাহের প্রচলনের সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. জ্যোতিরাও ফুলে
  2. ই. ভি. রামাস্বামী নাইকার
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- কোলকাতায় সংস্কৃতি কলেজে অধ্যয়নকালে তার অগাধ পান্ডিত্য ও মেধার স্বীকৃতি স্বরুপ শিক্ষক মন্ডলী তাঁকে বিদ্যাসাগর উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাগরের অমরকীর্তি হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলন।
- ১৮২৯ সালে প্রণীত সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইনের ফলে হিন্দু বিধবারা সহমরণ থেকে মুক্তি পেলেও বিধবা বিবাহের রীতি না থাকায় বিধবারা মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হয়।
- ১৮৫৫ সালের ৪ঠা অক্টোবর তিনি হিন্দু সমাজের বিভিন্ন স্তরের ৯৮৭ জনের স্বাক্ষরিত একখানা স্মারকলিপি ভারত সরকারের নিকট পেশ করেন। 
- লর্ড ডার্লহৌসীর সহায়তায় ১৮৫৬ সালের ২৬শে জুলাই বিধবা বিবাহ আইন পাস হলেও তা বাস্তবায়ন সহজ হয়নি।
- ১৮৭০ সালের ১১ই আগষ্ট নিজ পুত্র নারায়নচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের বিয়ের মাধ্যমে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
 
উল্লেখ্য,
- বহুবিবাহ এবং বাল্য বিবাহ রোধেও তিনি প্রয়াস চালান।
 
উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
ইংরেজ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যার জন্য কে বোমা নিক্ষেপ করে?
  1. ক্ষুদিরাম বসু
  2. তিতুমীর
  3. সূর্য সেন
  4. বাঘা যতীন
ব্যাখ্যা
ক্ষুদিরাম বসু:
- ক্ষুদিরাম বসু বিপ্লবী ও শহীদ।
- মেদিনীপুর জেলার হাবিবপুর গ্রামে ক্ষুদিরামের জন্ম। 
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলন ক্ষুদিরামের মতো স্কুলের ছাত্রদেরও প্রভাবিত করে এবং পরিণামে তিনি পড়াশোনা ছেড়ে সত্যেন বসুর নেতৃত্বে এক গুপ্ত সমিতিতে যোগ দেন।
- আরও কয়েকজনের সঙ্গে সেখানে তিনি শরীরচর্চার সাথে সাথে নৈতিক ও রাজনৈতিক শিক্ষা পেতে শুরু করেন।
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ইংল্যান্ডে উৎপাদিত কাপড় পোড়ানো ও ইংল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত লবণে বোঝাই নৌকা ডোবানোর কাজে ক্ষুদিরাম অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯০৬ সালের মার্চে মেদিনীপুরের এক কৃষি ও শিল্পমেলায় রাজদ্রোহমূলক ইস্তেহার বণ্টনকালে ক্ষুদিরাম প্রথম পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
- ১৯০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নারায়ণগড় রেল স্টেশনের কাছে বঙ্গের ছোটলাটের বিশেষ রেলগাড়িতে বোমা আক্রমণের ঘটনার সাথে তিনি জড়িত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলনের কর্মীদের প্রয়োজনভিত্তিক কঠোর সাজা ও দমননীতির কারণে কলকাতার প্রধান প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড বাঙালিদের অত্যন্ত ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন।
- ১৯০৮ সালে তাঁকে হত্যার দায়িত্ব পড়ে প্রফুল্ল চাকী ও ক্ষুদিরামের উপর।
- কিন্তু কিংসফোর্ডের গাড়ির মতো অন্য একটি গাড়িতে ভুলবশত বোমা মারলে গাড়ির ভেতরে একজন ইংরেজ মহিলা ও তাঁর মেয়ে মারা যান।
- এ ঘটনার পর ক্ষুদিরাম বোমা নিক্ষেপের সমস্ত দায়িত্ব নিজের উপর নিয়ে নেন।
- তাঁকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। 
- মুজফ্ফরপুর কারাগারে ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট ফাঁসিতে তাঁর মৃত্যৃ হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬.
"রাজনৈতিক দল হল নির্দিষ্ট ও স্বীকৃত নীতির ভিত্তিতে এবং সমবেত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য একত্রিত এক জনসমষ্টি।" কার প্রদত্ত সংজ্ঞা?
  1. এলান আর বল
  2. হ্যারল্ড লাসওয়েল
  3. এডমন্ড বার্ক
  4. আর এম ম্যাকাইভার
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল সম্পর্কিত সংজ্ঞা:

- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনীতিবিদ এডমন্ড বার্ক রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, "রাজনৈতিক দল হল নির্দিষ্ট ও স্বীকৃত নীতির ভিত্তিতে এবং সমবেত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য একত্রিত এক জনসমষ্টি।"
- অধ্যাপক আর এম ম্যাকাইভার তাঁর 'দ্য মডার্ণ স্টেট' গ্রন্থে রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বলেন, "যারা কতগুলো সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং সাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠন করতে তৎপর হয়, তাদেরকে রাজনৈতিক দল বলা হয়।"
- হ্যারল্ড লাসওয়েল এর মতানুসারে- "রাজনৈতিক দল হল এমন একটি সংগঠন যা নির্বাচনে কর্মসূচী স্থিও কওে এবং প্রার্থী দাঁড় করায়।"
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনীতিবিদ এডমন্ড বার্ক রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, "রাজনৈতিক দল হল নির্দিষ্ট ও স্বীকৃত নীতির ভিত্তিতে এবং সমবেত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য একত্রিত এক জনসমষ্টি।"

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
নারী শিক্ষা আন্দোলনের জন্য 'দীপালি সংঘ' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. আশালতা সেন
  2. লীলা নাগ
  3. ইলা মিত্র
  4. বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
লীলা নাগ:
- লীলা নাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী।
- তিনি একজন সক্রিয় বিপ্লবী ও আন্দোলনকারী।
- তিনি শিক্ষা-সংক্রান্ত সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সহকারী ছিলেন।
- কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে তিনি ইংরেজিতে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তাঁর শিক্ষাগত সাফল্যের জন্য (তিনি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন) তাঁকে ‘পদ্মাবতী’ স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। 

উল্লেখ্য,
- ১৯২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে নারীশিক্ষা প্রসারের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি 'দীপালি সংঘ' নামে নারীদের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- দীপালি সঙ্ঘের সাহায্য নিয়ে তিনি দীপালি স্কুল নামে একটি স্কুল ও অন্য বারোটি ফ্রি প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি নারীশিক্ষা মন্দির ও শিক্ষাভবন নামে পরিচিত অন্য দুটি স্কুলও প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৯২৫ সালে শ্রীসঙ্ঘ নামে অভিহিত একটি বিপ্লবী দলের তিনি সদস্য হন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৮.
সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করে কোনটি?
  1. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  2. সচিব
  3. এলিট শ্রেণি
  4. সামরিক বাহিনী
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা রাজনৈতিক দলের তুলনায় সাধারণত কম হয় এবং অভিন্ন স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতে গোষ্ঠীর সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ থাকে।
- সাংগঠনিক দিক থেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী রাজনৈতিক দল অপেক্ষা দুর্বল।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে প্রভাবিত করাই হল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য।
 
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
নিচের কোন শাসনের নিষ্পেষণে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক আদর্শ ভুলণ্ঠিত হয়?
  1. গণতান্ত্রিক শাসন
  2. একদলীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা
  3. বহুদলীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা
  4. সামরিক শাসন
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক আদর্শ ভুলণ্ঠিত:

- ১৯৭২ সালে শুরু হওয়া গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের মধ্যে দিয়ে স্তব্ধ হয়ে যায়।
- পরবর্তী প্রায় ১৫ বছর সামরিক শাসনের নিষ্পেষণে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক আদর্শ ভুলণ্ঠিত হয়।
- স্বৈরাচার বিরোধী তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে সামরিক শাসনের অবসান হয়।
- ১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনের পুন:সূচনা হয়।
- জনমত যাচাইয়ের সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম হল-নির্বাচন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় কোন মুসলিম নেতার অবদান উল্লেখযোগ্য?
  1. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  2. হোসেন শহীদ সোরাওয়ার্দী
  3. এ কে ফজলুল হক
  4. স্যার সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
- এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য তিনি ঢাকার রমনা এলাকায় নিজ জমি দান করেন।
- বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকায় ‘সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন’ এবং ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক শিক্ষা সমিতির’ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 
- নওয়াব সলিমুল্লাহ ১৯০৫ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন।
- ১৯১২ সালের ২৯ জানুয়ারি লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকায় আগমন করে তিন দিন অবস্থান করেন।
- ৩১ জানুয়ারি নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি মুসলিম প্রতিনিধি দল বড়লাটের সঙ্গে দেখা করে একটি মানপত্র প্রদান করেন এবং কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করে পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের স্বার্থসংরক্ষণের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 
- ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এক ইশতেহারে ভারত সরকার কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ ঘোষণা করা হয়।
- ১৯২১ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান হয়ে আসছে।
 
উৎস: i) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
২১.
কোন বাঙালী নেতার নামের আগে নেতাজী বলা হয়?
  1. চিত্তরঞ্জন দাস
  2. সুভাষ চন্দ্র বসু
  3. বিধান চন্দ্র রায়
  4. মণি সিংহ
ব্যাখ্যা
সুভাষ চন্দ্র বসু:
- সুভাষ চন্দ্র বসু ছিলেন কংগ্রেস দলের বামপন্থী নেতা, ফরওয়ার্ড ব্লক এর প্রতিষ্ঠাতা ও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সর্বাধিনায়ক। 
- ২৩ জানুয়ারি ১৮৯৭-এ সুভাষচন্দ্রের জন্ম হয়।
- তিনি নেতাজি নামে সমধিক পরিচিত।
- সুভাষচন্দ্র পরপর দুইবার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
- কিন্তু গান্ধীর সঙ্গে আদর্শগত সংঘাত, কংগ্রেসের বৈদেশিক ও আভ্যন্তরীণ নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা এবং বিরুদ্ধ-মত প্রকাশ করার জন্য তাকে পদত্যাগ করতে হয়।
- সুভাষচন্দ্র মনে করতেন, মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর অহিংসা এবং সত্যাগ্রহের নীতি ভারতের স্বাধীনতা লাভের জন্য যথেষ্ট নয়।
- এই কারণে তিনি সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছিলেন। 
- ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাঁকে এগারো বার কারারুদ্ধ করে।
- তার বিখ্যাত উক্তি "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো।" 
- ১৯৩০ সালে তিনি অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে গান্ধীর লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৫ সালের আগস্ট মাসে ফরমোজায় এক বিমান দুর্ঘটনায় সুভাষ নিহত হন বলা হয়ে থাকে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২২.
বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগের জন্য কত সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি মনোনীত করা হয়েছিল?
  1. ১১০ জন
  2. ১১৫ জন
  3. ১২০ জন
  4. ১২৫ জন
ব্যাখ্যা
বাকশাল: 
- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর ভিত্তিতে ১৯৭৫ সালের ৭ জুন একমাত্র বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- বাকশালের বিভিন্ন দিক, কার্যক্ষেত্র এবং সম্ভাবনা সবিস্তারে বর্ণনা করে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর এই উদ্যোগকে ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
- ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারিভাবে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
- সাংগঠনিক ক্ষেত্রে বাকশালের চেয়ারম্যান হিসেবে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমান জাতীয় দলের জন্য ১৫ সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি এবং ১১৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি মনোনীত করেন। 
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২৩.
খিলাফত আন্দোলনের অন্যতম নেতা কে ছিলেন?
  1. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  2. মাওলানা শওকত আলী
  3. মাওলানা মোহাম্মদ আলী
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
খিলাফত আন্দোলন:
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান-ইসলামি আন্দোলন।
- কারণ ভারতের মুসলমানেরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা বলে শ্রদ্ধা করতেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের সুলতান ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করলে ভারতে মুসলমান সম্প্রদায় বিব্রত হন।
- কারণ ধর্মীয় কারণে তাঁরা খলিফার অনুগত, আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারের অনুগত থাকতে বাধ্য।
- খিলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও দুই ভাই মাওলানা শওকত আলী এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী।
 
উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৪.
সুশীল সমাজের কাজ নয় কোনটি?
  1. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা
  2. প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া
  3. মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ:
- বর্তমানে সুশীল সমাজ মানব পুঁজি গঠন, সমাজসেবা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সুশীল সমাজ সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট।
- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং সরকার সুশীল সমাজের বক্তব্য বা সুপারিশসমূহকে উপেক্ষা করতে পারে না।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা ও মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া সুশীল সমাজের দায়িত্ব।
- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া সুশীল সমাজের কাজ নয়।
 
তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৫.
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার যে আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন -
  1. রংপুর আন্দোলন
  2. ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন
  3. তেভাগা আন্দোলন
  4. অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার:
- ভারতের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রথম শহীদ বিপ্লবী নারী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।
- ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের বর্তমান পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ইডেন কলেজে ছাত্রী থাকাকালে প্রীতিলতা লীলা নাগের নেতৃত্বাধীন দীপালি সংঘের অন্তর্ভুক্ত শ্রীসংঘের সদস্য ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে সমগ্র বাংলা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী হয়ে ওঠে।
- প্রথম মহিলা সদস্য হিসেবে প্রীতিলতা যোগ দেন সূর্যসেনের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী দলের সঙ্গে।
- ১৯৩২ সালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে প্রীতিলতার ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
- প্রীতিলতার নেতৃত্বে বিপ্লবীরা ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করে।
- ওই সময়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হলে তাত্ক্ষণিকভাবে পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দেন।
- তাঁর আত্মদান বিপ্লবীদের সশস্ত্র সংগ্রামে আরো উজ্জীবিত করে তোলে।
- পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাবটি এখন ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা জাদুঘর’ নামে পরিচিত।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।