পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২৬
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১০ বাংলা টপিক: সন্ধি, সমাস, পদ-প্রকরণ, কারক-বিভক্তি, প্রকৃতি-প্রত্যয়।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৬ প্রশ্ন

.
'দুরুচ্চার্য' এ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দুরঃ + চার্য
  2. দুর + আচার্য
  3. দুঃ + উচ্চার্য
  4. দু + উচ্চার্য
ব্যাখ্যা
• 'দুরুচ্চার্য' এর সন্ধি বিচ্ছেদ : 'দুঃ + উচ্চার্য'। 
 
• কিছু বিসর্গ সন্ধির সন্ধি বিচ্ছেদ হলো: 
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ,
- পুনঃ + আয় = পুনরায়,
- অন্তঃ + ধান = অন্তর্ধান,
- অন্তঃ + গত = অন্তর্গত,
- পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত,
- অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 
.
'সমাস' শব্দের ব্যুৎপত্তি কোনটি?
  1. সম্‌ + √ অস্‌
  2. সম্‌ + √ অস্‌ + অ
  3. স + √ অস্‌ + অ
  4. সম্‌ + √ অ + মস্‌
ব্যাখ্যা
• 'সমাস' শব্দের ব্যুৎপত্তি - সম্‌ + √ অস্‌ + অ।

• সমাস:
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
- সমাস অর্থ হল সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
- সমাসের কাজ হলো ভাষাকে সংক্ষপে করা, নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করা, শব্দ গঠন প্রভৃতি।
- সমাস শব্দ বা রূপতত্ত্বে আলেচিত হয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
.
'চতুর্থ' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় -
  1. √চতুর্‌ + ত
  2. √চতু্ + তর
  3. √চতুর + অ
  4. √চতুর্‌ + থ
ব্যাখ্যা
• 'চতুর্থ' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √চতুর্‌ + থ।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়:  
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √নন্দি+অন। 
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √দৃশ্ + অনীয়।
- 'দাপট' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √দাপ + অট। 
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√শ্রম্‌ + ইন্‌ '।  

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
.
"চিত্রকরের কাজ হচ্ছে ছবি আঁকা।" - এখানে ‘ছবি’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূণ্য
  2. অধিকরণে শূন্য
  3. কর্মে শূন্য
  4. করণে শূন্য
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে৷
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

• "চিত্রকরের কাজ হচ্ছে ছবি আঁকা।" - 
বাক্যটিতে 'কী' বা 'কাকে' আঁকা দিয়ে প্রশ্ন করলে, উত্তর পাওয়া যায় 'ছবি'৷
অর্থাৎ,
বাক্যে ‘ছবি' একটি কর্মকারক। 

• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি :
- বাক্যের কোন পদে যখন কোন বিভক্তি যুক্ত হয়না বা দৃশ্যমান হয়না, সেই আপাত বিভক্তিহীন শব্দে যে বিভক্তি থাকে তাই শূন্য বিভক্তি।
- একবচন শব্দের সাথে ০, অ,(য়) যুক্ত থাকলে শূন্য বিভক্তি হয়।
যেমন - আমাকে এক খানা বই দাও।

• অতএব,
‘চিত্রকরের কাজ হচ্ছে ছবি আঁকা।’ এই বাক্যে ‘ছবি’ কর্ম কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
"শেষ তর্কে তুমি হেরেছিলে।" - এ বাক্যে 'শেষ' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• "শেষ তর্কে তুমি হেরেছিলে।" - এ বাক্যের 'শেষ' বিশেষণ পদ।

বিশেষণ পদ:  
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, বৈশিষ্ট্য, ধর্ম ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন: 
- নিশীথ (বিশেষণ) রাতে বাজছে বাঁশি।
- দশটি (বিশেষণ) বছর।
- এ আমার চেনা (বিশেষণ) লোক।
---------------------- 
• একই পদের বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে প্রয়োগ বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন -

বিশেষণ রূপে - ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন ।
বিশেষ্য রূপে - আপন ভালো সবাই চায় ৷

বিশেষণ রূপে - মন্দ কথা বলতে নেই ।
বিশেষ্য রূপে - এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

বিশেষণ রূপে - তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক ।
বিশেষ্য রূপে - পুণ্যে মতি হোক ।

বিশেষণ রূপে - শীতকালে কুয়াশা পড়ে
বিশেষ্য রূপে - শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার ।

বিশেষণ রূপে - সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্য রূপে - এ এক বিরাট সত্য

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
"গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়েছে।" - নিম্নরেখ অংশটুকু কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্মকারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্প্রদান কারক
ব্যাখ্যা
"গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়েছে।" - অপাদান কারকের উদাহরণ।

---------------------
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
→ বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
→ গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
------------------------ 
• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না। 
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
→ লোকমুখে শুনেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'পতঞ্জলি' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. পতন + জলি
  2. পতঃ + অঞ্জলি
  3. পতৎ + অঞ্জলি
  4. পতত + অঞ্জলি
ব্যাখ্যা
• 'পতঞ্জলি' - এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ : 'পতৎ + অঞ্জলি'। 
 
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি: 
- এটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ। 
- যেসব সন্ধির নিদিষ্ট কোন নিয়ম নেই তাদেরকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ:
• বন + পতি = বনস্পতি,
• আ + চর্য = আশ্চর্য,
• গো + পদ = গোস্পদ,
• পর + পর = পরস্পর,
• ষট্ + দশ = ষোড়শ,
• এক + দশ = একাদশ,
• পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
বাক্যের শোভা বর্ধন করে কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
অব্যয় পদ: 
- ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থ্যাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
- অব্যয় শব্দের সাথে কোন বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, এর কোন একবচন-বহুবচন হয় না।
- এই শব্দসমূহের কোন পুরুষবাচক বা স্ত্রীবাচক শব্দ নির্ণয় করা যায় না।

• যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বদ্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'অবজ্ঞার্থে' প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. বেতো
  2. চোরা
  3. গেঁয়ো
  4. কানাই
ব্যাখ্যা
• 'অবজ্ঞা অর্থে 'আ' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ - 'চোরা'।

• প্রত্যয়:
- প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
- তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ বদলে যায়।

• 'আ' প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ:
অবজ্ঞা অর্থে: চোর - চোরা।
আদর অর্থে: কানু - কানাই।
সংশ্লিষ্ট অর্থে: গাঁ - গেঁয়ো।
রোগগ্রস্ত অর্থে: বাত - বেতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
"বইয়ের মধ্যে অনেক ছবি আছে।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্মকারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• "বইয়ের মধ্যে অনেক ছবি আছে।" - নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
----------------------------------------
• 'বইয়ের মধ্যে অনেক ছবি আছে।' - বাক্য়ের ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'বইয়ের মধ্যে'।
তাই,
নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।  
 
উৎস:
- মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১.
নিচের কোনটি উত্তম পুরুষের উদাহরণ?
  1. তুমি
  2. আমি
  3. আপনি
  4. তাহাকে
ব্যাখ্যা
• 'আমি'- উত্তম পুরুষের উদাহরণ। 
---------------------
উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।
যেমন: আমি।

মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।
যেমন: তুমি, আপনি, তুই। 

প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ:
- যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ বলে। 
- আমি ও তুমি এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ  প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ।
- যেমন: সে, তাকে, তাঁর, তিনি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎমামুদ।
১২.
‘সংগীত’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. সং + গিত
  2. সমঃ + গিত
  3. সং + গীত
  4. সম্ + গীত
ব্যাখ্যা
• সন্ধির নিয়ম:
- সন্ধি বিচ্ছেদে নাসিক্য বর্ণের পরিবর্তে’ ম ‘ হয়।
এরূপ-
- সম্ + গীত = সংগীত,
- সম্+ ধি = সন্ধি,
- সম্+ চয় = সঞ্চয়,
- সম্+তাপ = সন্তাপ,
- কিম+ভূত = কিম্ভূত,
- সম্+সার = সংসার,
- সম্+বাদ = সংবাদ ইত্যাদি।

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ);
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
- ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
নিচের কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. কাজলকালো
  2. সিংহপুরুষ
  3. চন্দ্রমুখ
  4. পদ্মআঁখি
ব্যাখ্যা
• 'কাজলের মতো কালো' = 'কাজলকালো' উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
---------------------------- 
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়। 
যেমন -
কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে
শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
- এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।
যেমন - 
পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১৪.
কোন বাক্যটিতে ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বাগানটি অত্যন্ত সুন্দর।
  2. সামান্য একটু দুধ দাও।
  3. গাড়িটি খুব দ্রুত চলে।
  4. আজ আবহাওয়া অনেক ভালো।
ব্যাখ্যা
বিশেষণের বিশেষণ:
যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন- 

• নাম-বিশেষণের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- বাগানটি অত্যন্ত সুন্দর।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
- আজ আবহাওয়া অনেক ভালো।

• ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।
- ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।

• "গাড়িটি খুব দ্রুত চলে।" 
[বাক্যে ‘দ্রুত চলা’র কাজ মানে ক্রিয়া বিশেষণকে ‘খুব’ শব্দের মাধ্যমে বিশেষিত করা হয়েছে।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫.
'নীলিমা' শব্দটি গঠনে কোন প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ইল
  2. ইমন
  3. বতুপ
ব্যাখ্যা
• নীলিমা = নীল + ইমন; 
'নীলিমা' শব্দটি গঠনে 'ইমন' প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়েছে।
------------------------ 
তদ্ধিত প্রত্যয়: 
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। 

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিতপ্রত্যয়যুগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। 
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়: 
- তেজঃ + বিন্‌ = তেজস্বী,
- মেধা + বিন্‌ = মেধাবী,
- মায়া + বিন্‌ = মায়াবী,
- যশঃ + বিন্‌ = যশস্বী,
- নীল + ইমন = নীলিমা  ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
ভাবাধিকরণ কারকে সর্বদাই কোন বিভক্তির প্রয়োগ হয়?
  1. তৃতীয়া
  2. পঞ্চমী
  3. ষষ্ঠী
  4. সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• ভাবাধিকরণ কারক:
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ‘ভাবে সপ্তমী’ বলা হয়।
যেমন-
সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭.
'যথোচিত' এর সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. যথো + উচিত
  2. যথ + উচিত
  3. যথা + উচিত
  4. যথাঃ + উচিত
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
অ- কার কিংবা আ- কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও- কার হয়, ও- কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়। 
যেমন:
যথা + উচিত = যথোচিত; 
সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
গৃহ + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্ধ্ব। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮.
নিত্য সমাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. গ্রামান্তর
  2. দর্শনমাত্র
  3. প্রবচন
  4. বিরানব্বই
ব্যাখ্যা
• প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন; প্রাদি সমাসের উদাহরণ।

--------------------
নিত্য সমাস :

যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয় তাকে নিত্য সমাস বলে। অর্থাৎ যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না, সে সমাসকে নিত্য সমাস বলা হয়। এ সমাসের ব্যাসবাক্যের প্রারম্ভে 'অন্য' বা 'কেবল' প্রভৃতি শব্দ বসে।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- অন্য দেশ = দেশান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- কেবল যাওয়া = যাওয়ামাত্র,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- কেবল বলা = বলামাত্র। 

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৯.
কোন শব্দটি বিশেষ্য?
  1. চঞ্চল
  2. চাতুর্য
  3. বুনো
  4. লবণাক্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'চাতুর্য' - বিশেষ্য পদ।

• 'চাতুর্য' অর্থ:
- চতুরতা।

অন্যদিকে,
চঞ্চল, বুনো, লবণাক্ত - বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২০.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. তেজস্বী
  2. মেধাবী
  3. দারোয়ান
  4. চড়াই
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়- সই, বাজ, ওয়ালা, ওয়ান যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- জুত + সই = জুতসই,
- বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা,
- দার + ওয়ান = দারোয়ান,
- ধোঁকা + বাজ = ধোঁকাবাজি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়: 
- তেজঃ + বিন্‌ = তেজস্বী,
- মেধা + বিন্‌ = মেধাবী।

• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় এর নিয়ম:
• আই-প্রত্যয়: ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে 'আই' প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- চড়্‌ + আই = চড়াই।

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২১.
কোন বাক্যটিতে সম্বন্ধ কারকের প্রয়োগ ঘটেনি?
  1. ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
  2. তােমার দেখা পেলাম না।
  3. আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
  4. তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতাে মাইলের পর মাইল।
ব্যাখ্যা
• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘র’, -এর’, -য়ের’, ‘কার’, ‘কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
• ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
• আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
• তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতাে মাইলের পর মাইল।

অন্যদিকে, 
তােমার দেখা পেলাম না = কর্ম কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২.
কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. স্থায়ী
  2. চালানো 
  3. জ্ঞাত
  4. ঘাটাল
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - স্থায়ী (√স্থা + ইন্‌)।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - চালানো (√চাল্‌ + আনো)।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - জ্ঞাত (√ জ্ঞা + ত)।

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - ঘাটাল (ঘাট + আল)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২৩.
'উপকণ্ঠ' কোন সমাস?
  1. নিত্য সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
 - পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তবে থাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়।
যেমন:
- কূলের সমীপে = উপকূল;
- ভাষার সদৃশ = উপভাষা;
- নদীর সদৃশ = উপনদী;
- (আয়তনে) জেলার ক্ষুদ্র = উপজেলা;
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ;
- কথার সদৃশ = উপকথা।

উৎস:
- ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪.
"অ/আ + এ/ঐ = ঐ" সন্ধির এই নিয়মে গঠিত শব্দ-
  1. বনৌষধি
  2. জনৈক
  3. অতীত
  4. জলৌকা
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়মে:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয় মিলে ঐ-কার হয়; ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
• অ + এ = ঐ;
- জন + এক = জনৈক;
- হিত + এষী = হিতৈষী।

অন্যদিকে,
• অ + ও = ঔ;
- জল + ওকা = জলৌকা;
- বন + ওষধি = বনৌষধি।

• ই + ই = ঈ;
- অতি + ইত = অতীত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫.
'প্রাণপ্রিয়' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  2. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  3. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
- সাধারণত পুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, নিয়ত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, চালানাে, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরস্পরের ফলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন-
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত,
- প্রাণের চেয়ে অধিক = প্রাণাধিক,
- সত্য থেকে ভ্রষ্ট = সত্যভ্রষ্ট,
- প্রাণের চেয়ে প্রিয় = প্রাণপ্রিয়,
- জেল থেকে মুক্ত= জেলমুক্ত,
- জেল থেকে খালাস = জেলখালাস,
- পণ হতে মুক্তি = পণমুক্তি,
- আগা থেকে গােড়া = আগাগােড়া,
- পদ থেকে চ্যুত = পদচ্যুত প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬.
"ব্যবহারেই ইতরভদ্র চেনা যায়।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্তাকারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• "ব্যবহারেই ইতরভদ্র চেনা যায়।" - নিম্নরেখ শব্দটি — করণ কারকের উদাহরণ।

• করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'ব্যবহারেই ইতরভদ্র চেনা যায়।' (উপায় = ব্যবহারেই)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

• "ব্যবহারেই ইতরভদ্র চেনা যায়।" - 
- এ বাক্যে ক্রিয়াকে 'কী উপায়ে/কীভাবে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ব্যবহারেই'। তাই নিম্নরেখ শব্দটি করণ কারকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।