ব্যাখ্যা
- ষ্ + ণ = ষ্ণ
গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণঃ
- হ্ + ম = হ্ম
- হ্ + উ = হু
- হ্ + ঋ = হৃ
- হ্ + ন = হ্ন
[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৪ / ৮ · ৩০১–৪০০ / ৭২৮
• 'জয়ধ্বনি' শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ - জয়োদ্ধোনি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
- 'জয়ধ্বনি' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয়: জয় + √ধ্বন্ + ই।
শব্দের অর্থ:
- জয়োল্লাসের ধ্বনি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'য' বর্ণের উচ্চারণ:
য-বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি সাধারণত সম্মুখ তালু স্পর্শ করে উচ্চারিত হয়। এজন্য এ ধ্বনিটিকে বলা হয় তালব্য ধ্বনি।
শব্দের আদিতে ব্যবহৃত হলে বাংলায় এর উচ্চারণ 'জ'-এর মতো। যেমন- য বর্ণের উচ্চারণ (জ্): যদি [জোদি), যিনি [জিনি), সূর্য (শুজো।
শব্দের মধ্যে বা অন্তে (সংস্কৃত নিয়মানুযায়ী) ব্যবহৃত হলে 'য়' উচ্চারিত হয়। যেমন- বি + যোগ = বিয়োগ। তবে য-ফলা থাকলে স্বরের উচ্চারণে পরিবর্তন হয়। যেমন- ব্যতীত [বেতিতো], ব্যথা [ব্যাথা]।
শব্দের মাঝখানে বা শেষে য-ফলা বর্ণের সঙ্গে যুক্ত থাকলে ঐ বর্ণের উচ্চারণ দ্বিত্ব হয়। যেমন- উদ্যম [উদ্দম], গদ্য [গোদ্দো]। কিন্তু শব্দের মধ্যে বা শেষে যুক্তব্যঞ্জনের সঙ্গে থাকা '্য'-এর কোনো উচ্চারণ হয় না। যেমন- সন্ধ্যা [শোন্ধা), স্বাস্থ্য [শাস্থো], অর্ঘ্য [অর্ঘ্যে]।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯ ও ২০২২)।
• ষ্ণ = ষ + ণ, যেমন- কৃষ্ণ, কৃষ্ণচূড়া, তৃষ্ণা, উষ্ণ ইত্যাদি।
• ক্ষ = ক + ষ,
• হ্ম = হ + ম,
• জ্ঞ = জ + ঞ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
ম উচ্চারণ:
- ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়,
- যেমন: শ্মশান [শশাঁন্], স্মরণ [শরোঁন্]।
- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়, যেমন- আত্মীয় [আত্তীঁয়], পদ্ম [পদ্দোঁ]।
- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে, যেমন- যুগ্ম [জুগ্মো], জন্ম [জন্মো], গুল্ম [গুল্মো]।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি(২০২৫)।
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।
আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
অক্ষর (Syllable):
- বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশের নাম অক্ষর (Syllable)। অক্ষর দু প্রকার।
যথা:
১. মুক্তাক্ষর ও
২. বদ্ধাক্ষর।
• মুক্তাক্ষর:
যখন একটি অক্ষরে একটিই বর্ণ থাকে, তখন তাকে মুক্তাক্ষর বলে। অযুগ্ন বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে। একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
যেমন:
- ‘ভালোবাসো যদি বলিবে না কেন?’
এখানে (ভা) (লো) (বা) (সো) (য) (দি) (ব) (লি) (বে) (না) (কে) (ন) এই সবগুলোই (১২টি) মুক্তাক্ষর।
- মুক্তাক্ষর U চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়।
- মুক্তাক্ষর উচ্চারণের শেষে মুখ খোলা থাকে, ফলে অক্ষর উচ্চারণ করে ও তাকে প্রয়োজন মতো প্রলম্বিত করা চলে।
যেমন: অপরিচিত।
• বদ্ধাক্ষর:
ব্যঞ্জনধ্বনি বা অর্ধস্বরধ্বনির মাধ্যমে যে সব অক্ষরের সমাপ্তি ঘটে তাকে বদ্ধাক্ষর বলে।
বদ্ধ অর্থ্যাৎ যুগ্মাস্বরান্ত বা ব্যঞ্জনান্ত ধ্বনিকে বদ্ধাক্ষর বলে।
যেমন : 'সোম বার দিনরাত হরতাল।
[এখানে (সোম্) (বার্) (দিন্) (রাত) (হর্) (তাল্) এই সবগুলোই (৬টি) বদ্ধাক্ষর।]
বদ্ধাক্ষর ( - ) চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়।
উৎস: বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি। এ একটি মৌলিক স্বরধ্বনি।
- ‘এ’ বর্ণের দুটি উচ্চারণ রয়েছে। যথা: [এ] এবং [অ্যা]।
• সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনো কখনো 'অ্যা' উচ্চারিত হয়।
- 'এ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি [এক্টি], দেশ [দেশ্], এলো [এলো]।
- 'এ' বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: একটা [অ্যাকটা], বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
দন্ত্য ব্যঞ্জন: যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন: যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
সঠিক উত্তর: ঘ) 'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে।
• ‘এ’ এবং 'অ্যা' - এর উচ্চারণ:
‘এ’- কারের উচ্চারণ ভিন্নতা (‘এ’ এবং 'অ্যা') নির্দেশকল্পে রবীন্দ্রনাথ ‘এ’-কারের মুদ্রণে মাত্রাযুক্ত ও মাত্রাহীন ব্যবহার প্রচলন করেন; যা নির্দেশ করে ধ্বনির পার্থক্য—‘এ’ এবং ‘অ্যা’। শব্দের শুরুতে মাত্রাহীন ‘এ’-কার থাকলে উচ্চারণ সংবৃত হয়, অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে ‘এ’ ধ্বনি উচ্চারিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ‘মেলা’ শব্দটি যদি মাত্রাহীন ‘এ’-কার দিয়ে লেখা হয়, তার উচ্চারণ হবে স্বাভাবিক ‘মেলা’, যা ‘গেলা’ শব্দের ‘এ’ ধ্বনির অনুরূপ। এ ধরনের উচ্চারণের আরও উদাহরণ হলো: দেবী, সেরা, সেই, বেদনা, মেয়ে, গেলা, জেলা ইত্যাদি।
অপরদিকে, শব্দের আদিতে মাত্রাযুক্ত ‘এ’-কার থাকলে উচ্চারণ বিবৃত হয়, অর্থাৎ ‘অ্যা’ ধ্বনি প্রকাশ পায়। যেমন, ‘মেলা’-র উচ্চারণ হবে ‘ম্যালা’, যা ‘ঠেলা’ শব্দের ‘এ’ ধ্বনির অনুরূপ। তদ্রূপ, কেমন, যেমন, যেন, ফেনা প্রভৃতি শব্দেও এই ধ্বনির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন- দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।
• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।
• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি।
• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি, জিলাপি > জিলিপি।
• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মোজা > মুজো।
• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।
- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন- মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি।
- বিশেষ নিয়মে - উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
- শব্দের আদিতে না-বোধক 'অ' ধ্বনির স্বাভাবিক/বিবৃত উচ্চারণ হয়।
যেমন - অটল, অনাচার ইত্যাদি।
উল্লেখ্য, অনাচার = অন্ (নঞ্) + আচার; (নঞ্ তৎপুরুষ সমাস)।
- 'অ' কিংবা 'আ' - যুক্ত ধ্বনির পূর্ববর্তী অ-ধ্বনি বিবৃত হয়।
যেমন - অমানিশা, কথা ইত্যাদি।
প্রশ্নে উল্লেখিত অন্যান্য শব্দগুলোতে, 'অ' ধ্বনির উচ্চারণ সংবৃত/'ও' ধ্বনির মতো।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ ও বাংলা একাডেমি অভিধান।
• নিমন্ত্রণ(বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শুদ্ধ উচ্চারণ: নিমোন্ত্রোন্।
অর্থ:
- আমন্ত্রণ;
- ভোজে আহ্ম্যন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
যুক্তবর্ণ ক্ষ = ক + ষ, যেমন- বক্ষ, রক্ষা, শিক্ষা ইত্যাদি।
যুক্তবর্ণ হ্ম = হ + ম, যেমন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইত্যাদি।
যুক্তবর্ণ জ্ঞ = জ + ঞ, জ্ঞান, বিজ্ঞান ইত্যাদি।
যুক্তবর্ণ ষ্ণ = ষ + ণ, কৃষ্ণ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
স্বরবর্ণের মােট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলাের নাম কারবর্ণ: া, ি, ী, ু, ূ, ৃ, ে, ৈ, ো, ৌ। কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই। এগুলাে ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়।
- কোনাে ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হসচিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি ‘অ’ আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
'শ' এর কয়েক রকম উচ্চারণ হয়:
স্বতন্ত্র শ-এর মতো:
- শক্তি (শোক্তি), মশা (মশা), শাসন (শাশোন্), সচিব (শোচিব)।
যুক্ত শ + চ/ছ: শ-এর মতো:
- নিশ্চয় (নিশ্চয়), শিরশ্ছেদ (শিরোশ্ছেদ)।
যুক্ত স + ব/ম: শব্দের মধ্যে/শেষে শশ্/স্স:
- সর্বস্ব (শর্বোশ্শো), সুস্মিত (শুশ্মিতো)।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খােলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত: [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট কম খেলে;
- বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট বেশি খােলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• 'লক্ষ্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'লোক্খো'।
• আরো কিছু সঠিক উচ্চারণ:
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।
উৎস: ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
‘আত্মীয়’ শব্দটির শুদ্ধ উচ্চারণ : আত্তিঁয়ো।
- ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]। শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়,
যেমন
শ্মশান [শঁশান),
স্মরণ [শঁরোন্]।
- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়,
যেমন
আত্মীয় [/আত্তিঁয়ো/],
উৎস:
i) বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান
ii) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
“স্থ” যুক্তবর্ণে স + থ দুটি বর্ণ আছে।
আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক + ষ,
- হ্ম = হ + ম,
- জ্ঞ = জ + ঞ,
- ষ্ণ = ষ + ণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
ষ্ণ = ষ+ণ
ক্ষ = ক+ষ
হ্ম = হ+ম
জ্ঞ = জ+ঞ
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
ধ্বনির কম্পমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন: ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই। ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘােষ।
⇒ঘােষ ব্যঞ্জন
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি। যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।
⇒অঘােষ ব্যঞ্জন
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি, যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি।
• বানান: আহ্বান।
- সঠিক উচ্চারণ: আও্ভান।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: আ + √হ্বে + অন।
- অর্থ: নিমন্ত্রণ, আমন্ত্রণ; সম্বোধন, ডাক।
অভিসম্বন্ধ: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
⇒ 'বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দে ৫টি অক্ষর রয়েছে (বি + শ্ব + বি + দ্যা + লয়)।
⇒ অক্ষর:
বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশকে বলে-অক্ষর। এর ইংরেজি নাম - syllable.
অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা:
• মুক্তাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- ক/লা)।
• বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- দিন, রাত)।
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন-
অ = রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই = প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ = মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ = গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও = শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ >মোরগ ইত্যাদি।
• অন্ত্যস্বরাগম :
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিশ্ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য > সত্যি ইত্যাদি।
• অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি > চাইর, মারি > মাইর ইত্যাদি।
• অসমীকরণ:
- একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন
- ধপ ধপ > ধপাধপ, টপ টপ > টপাটপ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ,নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।
- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২৫)।