বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনির উচ্চারণ বিধি

মোট প্রশ্ন৭২৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনির উচ্চারণ বিধি

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৭২৮

৩০১.
'ষ্ণ' যুক্তবর্ণটি কিভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. ণ্ + ষ
  2. ষ্ + ণ
  3. ন্ + ষ
  4. ষ্ + ন
ব্যাখ্যা
এর সঠিক রূপ হলোঃ
- ষ্ + ণ = ষ্ণ
গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণঃ
- হ্ + ম = হ্ম
- হ্ + উ = হু
- হ্ + ঋ = হৃ
- হ্ + ন = হ্ন

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]
৩০২.
নিচের কোনটি স্পর্শধ্বনি নয়?
  1. ক) ফ
  2. খ) ধ
  3. গ) জ
  4. ঘ) হ
ব্যাখ্যা
ক-ম পর্যন্ত ২৫ বর্ণকে স্পর্শধ্বনি বলে। হ হচ্ছে উষ্মধ্বনি। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০৩.
'জয়ধ্বনি' শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. জয়োদ্‌ধোঁনি
  2. জয়দ্‌ধ্বোনি
  3. জয়দ্‌ধোনি
  4. জয়োদ্‌ধোনি
ব্যাখ্যা

• 'জয়ধ্বনি' শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ - জয়োদ্‌ধোনি
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
- 'জয়ধ্বনি' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয়: জয় + √ধ্বন্‌ + ই।

শব্দের অর্থ:
- জয়োল্লাসের ধ্বনি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩০৪.
'য' বর্ণ শব্দের মধ্যে বা অন্তে ব্যবহৃত হলে বাংলায় এর উচ্চারণ হয়- 
  1. অ - এর মতো 
  2. জ - এর মতো 
  3. য় - এর মতো 
  4. ও - এর মতো
ব্যাখ্যা

• 'য' বর্ণের উচ্চারণ:
য-বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি সাধারণত সম্মুখ তালু স্পর্শ করে উচ্চারিত হয়। এজন্য এ ধ্বনিটিকে বলা হয় তালব্য ধ্বনি।
শব্দের আদিতে ব্যবহৃত হলে বাংলায় এর উচ্চারণ 'জ'-এর মতো। যেমন- য বর্ণের উচ্চারণ (জ্‌): যদি [জোদি), যিনি [জিনি), সূর্য (শুজো। 

শব্দের মধ্যে বা অন্তে (সংস্কৃত নিয়মানুযায়ী) ব্যবহৃত হলে 'য়' উচ্চারিত হয়। যেমন- বি + যোগ = বিয়োগ। তবে য-ফলা থাকলে স্বরের উচ্চারণে পরিবর্তন হয়। যেমন- ব্যতীত [বেতিতো], ব্যথা [ব্যাথা]।

শব্দের মাঝখানে বা শেষে য-ফলা বর্ণের সঙ্গে যুক্ত থাকলে ঐ বর্ণের উচ্চারণ দ্বিত্ব হয়। যেমন- উদ্যম [উদ্‌দম], গদ্য [গোদ্‌দো]। কিন্তু শব্দের মধ্যে বা শেষে যুক্তব্যঞ্জনের সঙ্গে থাকা '‍্য'-এর কোনো উচ্চারণ হয় না। যেমন- সন্ধ্যা [শোন্‌ধা), স্বাস্থ্য [শাস্‌থো], অর্ঘ্য [অর্‌ঘ্যে]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯ ও ২০২২)। 

৩০৫.
'অন্যান্য' শব্দের প্রমিত বাংলা উচ্চারণ কোনটি?
  1. ওন্‌নান্‌ন
  2. ওন্যান্য
  3. অন্‌নান্‌নো
  4. ওন্‌নান্‌নো
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি প্রণীত "আধুনিক বাংলা অভিধান" অনুসারে -
'অন্যান্য' শব্দের প্রমিত বাংলা উচ্চারণ = ওন্‌নান্‌নো।
 
অন্যান্য (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = অন্য+অন্য 
অর্থ: 
- অপরাপর
- ভিন্ন ভিন্ন 
 
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩০৬.
মুখ-গহ্বরের কোন অংশে জিভের অবস্থান?
  1. ক) উপরে
  2. খ) সামনে
  3. গ) পেছনে
  4. ঘ) নিচে
ব্যাখ্যা
• জিভ:
- মুখগহ্বরের নিচের অংশে জিভের অবস্থান।
- বাগযন্ত্রের মধ্যে জিভ সবচেয়ে সচল ও সক্রিয় প্রত্যঙ্গ।
- জিভের উচ্চতা, সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান এবং মুখগহ্বরের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে জিভের স্পর্শের প্রকৃতি অনুযায়ী ধ্বনির বৈচিত্র্য তৈরি হয়।

এছাড়াও,
• আলজিভ:
- মুখগহ্বরের কোমল তালুর পিছনে ঝুলন্ত মাংসপিণ্ডের নাম 'আলজিভ'।
- ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে কোমল তালুর সঙ্গে আলজিভ নিচে নেমে এলে বাতাস মুখ দিয়ে পুরোপুরি বের না হয়ে খানিকটা নাক দিয়ে বের হয়। এর ফলে নাসিক্য ধ্বনি তৈরি হয় ।

• তালু:
- মুখবিবরের ছাদকে বলা হয় তালু।
- তালুর দুটি অংশ - কোমল তালু ও শক্ত তালু।
- অনুনাসিক স্বরধ্বনি উচ্চারণে কোমল তালু নিচে নামে।
- কোমল তালু ও জিভমূলের স্পর্শে কণ্ঠ্যধ্বনি উচ্চারিত হয়।
- দন্তমূলের শুরু থেকে কোমল তালু পর্যন্ত বিস্তৃত অংশকে বলা হয় শক্ততালু।

• মূর্ধা:
- শক্ত তালু ও উপরের পাটির দাঁতের মধ্যবর্তী উত্তল মূর্ধা বলে।
- কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ মূর্ধাকে স্পর্শ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৩০৭.
নিচের কোন শব্দে ব-ফলার উচ্চারণ নেই?
  1. অশ্ব
  2. ত্বক
  3. পক্ব
  4. বিশ্বাস
ব্যাখ্যা
• 'ত্বক' শব্দে ব-ফলার উচ্চারণ নেই।

ব:
 'ব' বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ব]। তবে ফলা হিসেবে এই বর্ণের উচ্চারণে স্বাতন্ত্র্য আছে।

শব্দের আদিতে ব-ফলার উচ্চারণ হয় না
যেমন - 
- ত্বক [তক্],
- শ্বশুর [শোশুর্],
- স্বাধীন [শাধিন্]।

• শব্দের মধ্যে বা শেষে ব-ফলা যুক্ত হলে সেই ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়।
যেমন - 
- অশ্ব [অশ্শো‌],
- বিশ্বাস [বিশ্শা‌শ্],
- পক্ব [পক্‌কো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০৮.
‘ঘ’ কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. ঘােষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
  2. অঘোষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
  3. ঘােষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
  4. অঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘ঘ’ ঘােষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘোষ।

• ঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

• অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।


---------------------------
• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।

• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

• মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৩০৯.
নিচের কোন শব্দে "এ" ধ্বনির উচ্চারণ স্বাভাবিক?
  1. বেলা
  2. কেন
  3. এক
  4. কেক
ব্যাখ্যা
এ-এর দু রকম উচ্চারণ হয়:

স্বাভাবিক (এ-এর মতো):
- একটি (এক্‌টি ), কেক (কেক্‌), কেটলি (কেট্লি), মেয়ে (মেয়ে), বেগুন (বেগুন্‌), মেষ (মেশ্)। 

সংবৃত বা পরিবর্তিত (অ্যা-এর মতো):
এক (অ্যাক্), খেলা (খ্যালা), বেলা (ব্যালা), কেন (ক্যানো), যেন (য্যানো)।

বর্ণের উচ্চারণ:
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মূল ধ্বনিকে প্রকাশ করার জন্য রয়েছে ৫০টি মূল বর্ণ।
- এর মধ্যে অধিকাংশ বর্ণের উচ্চারণ মূল ধ্বনির অনুরূপ।
- কয়েকটি বর্ণের একাধিক উচ্চারণ রয়েছে।
- আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক বর্ণের উচ্চারণ অভিন্ন।
- ধ্বনিগুলাে দিয়ে শব্দ তৈরি হওয়ার সময়ে পাশের ধ্বনির প্রভাবে বর্ণের উচ্চারণ অনেক সময়ে বদলে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩১০.
‘ছ, ঝ, শ’- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী কোন ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. দন্ত্য ব্যঞ্জন
  2. তালব্য ব্যঞ্জন
  3. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  4. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন: চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো হলো- ক, খ, গ, ঘ, ঙ।

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩১১.
উষ্ণ শব্দের যুক্তাক্ষরটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ক) ষ + ণ
  2. খ) ষ + ন
  3. গ) ষ + ঞ
  4. ঘ) ষ + ঙ
ব্যাখ্যা

• ষ্ণ = ষ + ণ, যেমন- কৃষ্ণ, কৃষ্ণচূড়া, তৃষ্ণা, উষ্ণ ইত্যাদি।
• ক্ষ = ক + ষ,
• হ্ম = হ + ম,
• জ্ঞ = জ + ঞ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৩১২.
নিচের কোনটি অল্পপ্রণ ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. ক) ঢ
  2. খ) খ
  3. গ) ভ
  4. ঘ) ড়
ব্যাখ্যা
• ‘ড়’ হচ্ছে অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি।

• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।
 
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন – ফ, , থ, ধ, ঠ, , ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩১৩.
নিচের কোনটি ঘৃষ্টধ্বনি নয়?
  1. ক) ঝ
  2. খ) চ
  3. গ) জ
  4. ঘ) ল
ব্যাখ্যা
ঘৃষ্টধ্বনি উচ্চারণে ক্রমান্বয়ে দুটি প্রক্রিয়া চলে। প্রথমে দুটি উচ্চারক বাতাসের প্রবাহকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়, এরপর বাতাসে চাপে সেই বাধা ধীরে ধীরে অপসারিত হয়ে শ্রবণযোগ্য ঘর্ষণধ্বনি উৎপন্ন করে।
অর্থাৎ ঘৃষ্টধ্বনিগুলো আসলে স্পৃষ্ট ও উষ্মধ্বনির সম্মিলন। স্পৃষ্ট + উষ্ম = ঘৃষ্ট।

বাংলায় ঘৃষ্ট ধ্বনি ৪ টি।
যথা : চ, ছ, জ, ঝ।
প্রচলিত ব্যাকরণে প্রাচীন সংস্কৃতের স্মৃতি থেকে স্পৃষ্ট তালব্য ব্যঞ্জন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। 

পক্ষান্তরে ‘ল’ হলে পার্শ্বিক ধ্বনি।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ এবং নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’।
৩১৪.
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতাে করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে ______ বলে।
  1. ক) তাড়িত ব্যঞ্জন
  2. খ) নাসিক্য ব্যঞ্জন
  3. গ) উষ্ম ব্যঞ্জন
  4. ঘ) কম্পিত ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
তাড়িত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতাে করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
- বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ড়, ঢ় তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৩১৫.
জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী কোনটি সম্মুখ স্বরধ্বনি
  1. অ্যা
ব্যাখ্যা
• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন প্রকার।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি,
২. মধ্য স্বরধ্বনি ও
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

• সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- যেমন: [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়। [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৩১৬.
কোন শব্দে 'ম' বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব এবং সামান্য অনুনাসিক হয়েছে?
  1. শ্মশান
  2. যুগ্ম
  3. জন্ম
  4. আত্মীয়
ব্যাখ্যা

ম উচ্চারণ:
- ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়,
- যেমন: শ্মশান [শশাঁন্‌], স্মরণ [শরোঁন্]।
- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়, যেমন- আত্মীয় [আত্‌তীঁয়], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।
- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে, যেমন- যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি(২০২৫)।

৩১৭.
উচ্চ -মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি কোনটি? 
ব্যাখ্যা

 উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।

আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও  নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩১৮.
'সন্ন্যাস' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) শন্‌ন্যাশ্‌ 
  2. খ) শোন্‌ন্যাশ্‌ 
  3. গ) শোন্‌নাশ্‌ 
  4. ঘ) শন্‌নাশ্‌ 
ব্যাখ্যা
'সন্ন্যাস' এর সঠিক উচ্চারণ =শোন্‌ন্যাশ্‌ 

সন্ন্যাস(বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
অর্থ: সংসার ত্যাগ করে ঈশ্বরচিন্তায় নিমগ্ন থাকার আশ্রম, চতুরাশ্রমের শেষটি। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩১৯.
ব্যঞ্জনান্ত ধ্বনিকে কী বলে?
  1. একাক্ষর
  2. যুক্তাক্ষর
  3. বদ্ধাক্ষর
  4. মুক্তাক্ষর
ব্যাখ্যা

 অক্ষর (Syllable):
- বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশের নাম অক্ষর (Syllable)। অক্ষর দু প্রকার। 
যথা:
১. মুক্তাক্ষর ও
২. বদ্ধাক্ষর।
• মুক্তাক্ষর:
যখন একটি অক্ষরে একটিই বর্ণ থাকে, তখন তাকে মুক্তাক্ষর বলে। অযুগ্ন বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে। একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
যেমন:
- ‘ভালোবাসো যদি বলিবে না কেন?’
এখানে (ভা) (লো) (বা) (সো) (য) (দি) (ব) (লি) (বে) (না) (কে) (ন) এই সবগুলোই (১২টি) মুক্তাক্ষর। 

- মুক্তাক্ষর U চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়।
- মুক্তাক্ষর উচ্চারণের শেষে মুখ খোলা থাকে, ফলে অক্ষর উচ্চারণ করে ও তাকে প্রয়োজন মতো প্রলম্বিত করা চলে। 
যেমন: অপরিচিত। 

• বদ্ধাক্ষর:
ব্যঞ্জনধ্বনি বা অর্ধস্বরধ্বনির মাধ্যমে যে সব অক্ষরের সমাপ্তি ঘটে তাকে বদ্ধাক্ষর বলে।
বদ্ধ অর্থ্যাৎ যুগ্মাস্বরান্ত বা ব্যঞ্জনান্ত ধ্বনিকে বদ্ধাক্ষর বলে। 
যেমন : 'সোম বার দিনরাত হরতাল।
[এখানে (সোম্) (বার্) (দিন্) (রাত) (হর্) (তাল্) এই সবগুলোই (৬টি) বদ্ধাক্ষর।] 

বদ্ধাক্ষর ( - ) চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়। 

উৎস: বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩২০.
স্বরধ্বনির অর্ধ-সংবৃত উচ্চারণ ঘটেছে নিচের কোন বর্ণে?
  1. ক) [উ]
  2. খ) [এ]
  3. গ) [ই]
  4. ঘ) [অ্যা]
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খােলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত: [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।

• সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট কম খেলে;
• বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট বেশি খােলে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩২১.
'এ' বর্ণের বিকৃত উচ্চারণ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. একটা
  2. দেশ
  3. এক্‌টি
  4. এলো
ব্যাখ্যা

• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি। এ একটি মৌলিক স্বরধ্বনি।
- ‘এ’ বর্ণের দুটি উচ্চারণ রয়েছে। যথা: [এ] এবং [অ্যা]। 

• সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনো কখনো 'অ্যা' উচ্চারিত হয়। 
- 'এ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি [এক্‌টি], দেশ [দেশ্‌], এলো [এলো]।
- 'এ' বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: একটা [অ্যাকটা], বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি,  নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)। 

৩২২.
কোনটি দন্ত ব্যঞ্জনধ্বনি নয়?
  1. ক) ত
  2. খ) থ
  3. গ) দ
  4. ঘ) ন
ব্যাখ্যা

দন্ত্য ব্যঞ্জন: যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন: যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

৩২৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শব্দের শুরুতে মাত্রাযুক্ত এ-কার ব্যবহার করতেন কেন? 
  1. এ-কার মাত্রা যুক্ত বলে
  2. 'এ' মাত্রাহীন বর্ণ বলে 
  3. 'এ' উচ্চারণ বোঝাতে
  4. 'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) 'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে।

• ‘এ’ এবং 'অ্যা' - এর উচ্চারণ:
‘এ’- কারের উচ্চারণ ভিন্নতা (‘এ’ এবং 'অ্যা') নির্দেশকল্পে রবীন্দ্রনাথ ‘এ’-কারের মুদ্রণে মাত্রাযুক্ত ও মাত্রাহীন ব্যবহার প্রচলন করেন; যা নির্দেশ করে ধ্বনির পার্থক্য—‘এ’ এবং ‘অ্যা’। শব্দের শুরুতে মাত্রাহীন ‘এ’-কার থাকলে উচ্চারণ সংবৃত হয়, অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে ‘এ’ ধ্বনি উচ্চারিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ‘মেলা’ শব্দটি যদি মাত্রাহীন ‘এ’-কার দিয়ে লেখা হয়, তার উচ্চারণ হবে স্বাভাবিক ‘মেলা’, যা ‘গেলা’ শব্দের ‘এ’ ধ্বনির অনুরূপ। এ ধরনের উচ্চারণের আরও উদাহরণ হলো: দেবী, সেরা, সেই, বেদনা, মেয়ে, গেলা, জেলা ইত্যাদি।

অপরদিকে, শব্দের আদিতে মাত্রাযুক্ত ‘এ’-কার থাকলে উচ্চারণ বিবৃত হয়, অর্থাৎ ‘অ্যা’ ধ্বনি প্রকাশ পায়। যেমন, ‘মেলা’-র উচ্চারণ হবে ‘ম্যালা’, যা ‘ঠেলা’ শব্দের ‘এ’ ধ্বনির অনুরূপ। তদ্রূপ, কেমন, যেমন, যেন, ফেনা প্রভৃতি শব্দেও এই ধ্বনির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩২৪.
'ব্রহ্মপুত্র' শব্দের 'হ্ম' যুক্তব্যঞ্জনটিতে কোন কোন বর্ণ আছে?
  1. ক) ক + ষ
  2. খ) হ + ষ
  3. গ) হ + ম
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
হ্ম-এই যুক্তব্যঞ্জনে বর্ণ আছে - হ + ম। হ্ম-সহযােগে গঠিত কয়েকটি শব্দ ব্রাহ্মণ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ব্রহ্ম, ব্রহ্মাণ্ড, ব্রহ্মপুত্র। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২৫.
বাংলায় বর্গীয় ধ্বনি কয়টি?
  1. ক) ১০টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ২০টি
  4. ঘ) ২৫টি
ব্যাখ্যা
বাংলায় বর্গীয় ধ্বনি ২৫ টি। ক থেকে ম পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শধ্বনিকে উচ্চারণের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছে বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি গুচ্ছের প্রথম ধ্বনিটির নামানুসারে সে গুচ্ছের সবগুলো ধ্বনিকে বলা হয় ঐ বর্গীয় ধ্বনি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩২৬.
‘বাংলাদেশ’ শব্দে অক্ষর কয়টি?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৪টি
  4. ৩টি
ব্যাখ্যা
⇒ অক্ষর:
বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশকে বলে-অক্ষর। এর ইংরেজি নাম - syllable.
অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা-
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- ক/লা), 
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- দিন, রাত)। 

• 'বাংলাদেশ' শব্দে ৩ টি অক্ষর রয়েছে (বাং + লা + দেশ)। 

⇒ অক্ষর নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে দুটো বিষয় লক্ষণীয় - যতগুলো কার আছে এবং যতগুলো এক প্রয়াসে উচ্চারিত শব্দাবলী তার সমষ্টি হবে অক্ষর সংখ্যা।
৩২৭.
কোনটি দন্তমূলীয় উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি?
ব্যাখ্যা
• উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।
- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ)- এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

অন্যদিকে,
• ‘দ’ দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২২ সংস্করণ)।
৩২৮.
'মধ্য স্বরাগম' এর সমার্থক কোনটি?
  1. বিপ্রকর্ষ
  2. অভিশ্রুতি
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• 'মধ্য স্বরাগম' এর সমার্থক - বিপ্রকর্ষ।

মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে।
- একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
- অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার >শুক্কুরবার ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'স্বরলোপ' এর সমার্থক - সম্প্রকর্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২৯.
নিচের কোনটি অঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি?
  1. ক) ব
  2. খ) ফ
  3. গ) ভ
  4. ঘ) ড
ব্যাখ্যা
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয়, তাদের ঘােষ ধ্বনি এবং যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না তাদের অঘােষ ধ্বনি বলে।
অন্যদিকে,
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে, তাদের মহাপ্রাণ ধ্বনি এবং যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে না, তাদের অল্পপ্রাণ ধ্বনি বলে।
[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০১৯]  
৩৩০.
নিচের কোনটি উষ্মধ্বনি?
  1. ক) স
  2. খ) শ
  3. গ) হ
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শ,ষ,স,হ- এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি। এগুলোকে বলা হয় উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি। এ বর্ণ গুলোকে বলা হয় উষ্মবর্ণ। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৩১.
অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি -
  1. ট, ঙ
  2. ত, ল
  3. প, ন
  4. শ, ঠ
ব্যাখ্যা
ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, , র, , ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, , হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, , চ, ছ, , ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৩২.
'মোজা > মুজো' কোন স্বরসঙ্গতির উদাহরণ?
  1. চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি
  2. পরাগত স্বরসঙ্গতি
  3. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  4. অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা

• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন- দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি, জিলাপি > জিলিপি।

• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মোজা > মুজো

• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন- মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি।
- বিশেষ নিয়মে - উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩৩৩.
'ভাষা' শব্দের সঠিক উচ্চারণ -
  1. ক) ভাসা
  2. খ) ভাষা
  3. গ) ভাশা
  4. ঘ) ভাশআ্‌
ব্যাখ্যা
- 'ভাষা' শব্দের সঠিক উচ্চারণ - ভাশা

• শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।
যেমন:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক], শ্রদ্ধা [স্রোধা]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্নাে] ।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।
৩৩৪.
কোনটি ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি?
  1. ক) চ
  2. খ) ঢ
  3. গ) ড
  4. ঘ) থ
ব্যাখ্যা
ঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, , ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন – ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, , ঢ় ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি। 

সুতরাং 'ঢ' ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৩৫.
নিচের কোনটি তাড়নজাত বর্ণ?
  1. ক) র
  2. খ) ড়
  3. গ) য়
  4. ঘ) ঢ
ব্যাখ্যা
ড় ও ঢ় - বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি জিহ্বার অগ্রভাগের তলদেশ দ্বারা ওপরের দন্তমূলে দ্রুত আঘাত বা তাড়না করে উচ্চারিত হয়, তাই তাকে তাড়নজাত বর্ণ বলে।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ–নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই।
৩৩৬.
নিচের কোন শব্দটিতে ‘অ’ ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ হয়?
  1. মন
  2. যাবতীয়
  3. অনাচার
  4. অতুল
ব্যাখ্যা

- শব্দের আদিতে না-বোধক 'অ' ধ্বনির স্বাভাবিক/বিবৃত উচ্চারণ হয়।
যেমন - অটল, অনাচার ইত্যাদি।
উল্লেখ্য, অনাচার = অন্ ‌(নঞ্‌) + আচার; (নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস)।
- 'অ' কিংবা 'আ' - যুক্ত ধ্বনির পূর্ববর্তী অ-ধ্বনি বিবৃত হয়।
যেমন - অমানিশা, কথা ইত্যাদি।

প্রশ্নে উল্লেখিত অন্যান্য শব্দগুলোতে, 'অ' ধ্বনির উচ্চারণ সংবৃত/'ও' ধ্বনির মতো।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ ও বাংলা একাডেমি অভিধান।

৩৩৭.
‘ঞ্ছ’ যুক্তবর্ণের মধ্যে কোন কোন বর্ণ আছে?
  1. ছ + ঞ
  2. ঞ্ + ছ
  3. ঞ + জ
  4. ঞ্ + চ
ব্যাখ্যা
বাঞ্ছা, বাঞ্ছিত, বাঞ্ছনীয় শব্দগুলো লিখতে ঞ্ + ছ = ঞ্ছ যুক্তবর্ণ বসে।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর/ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৩৩৮.
'ষ্ণ' যুক্তবর্ণে কি কি বর্ণ আছে?
  1. ণ্ + ষ
  2. ষ্ + ণ
  3. ষ্ + ন
  4. ন্ + ষ
ব্যাখ্যা
'ষ্ণ' যুক্তবর্ণে ষ্ + ণ দুটি বর্ণ আছে।
আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
-ঙ্ + গ = ঙ্গ
ন্ + ধ = ন্ধ
হ্ + উ = হু
হ্ + ঋ = হৃ
হ্ + ন = হ্ন
হ্ + ম = হ্ম
ণ্ + ড = ণ্ড

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১।]
৩৩৯.
'নিমন্ত্রণ' শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. নিমোন্‌ত্রোণ্‌
  2. নিমোন্‌ত্রোন্‌
  3. নিমন্‌ত্রোন্‌
  4. নিমোণ্‌ত্রোন্‌  
ব্যাখ্যা

• নিমন্ত্রণ(বিশেষ্য পদ), 
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শুদ্ধ উচ্চারণ: নিমোন্‌ত্রোন্‌। 
অর্থ: 
- আমন্ত্রণ;
- ভোজে আহ্ম্যন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৩৪০.
কোনটি 'অনুদ্দেশ' শব্দের অক্ষর বিন্যাস?
  1. অ + নু + দ্‌ + দে + শ
  2. অনু + দ্‌ + দেশ্‌
  3. অনুদ্‌ + দেশ্‌
  4. অনু + দ্‌দেশ
ব্যাখ্যা
অনুদ্দেশ:
- শব্দটি বিশেষণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অক্ষর বিন্যাস: অনুদ্‌ + দেশ্‌
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: ন + উদ্দেশ।
- অর্থ: খোঁজ বা উদ্দেশ নেই এমন, নিরুদ্দেশ, নিখোঁজ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৪১.
কোন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়?
ব্যাখ্যা
• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন প্রকার।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি,
২. মধ্য স্বরধ্বনি ও
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

• সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- যেমন: [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়। [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৪২.
'শিক্ষা' শব্দের সংযুক্ত বর্ণ দুটি হলো-
  1. ক্ + ণ
  2. হ্ + ম
  3. ক্ + ষ
  4. ঞ্ + জ
ব্যাখ্যা

যুক্তবর্ণ ক্ষ = ক + ষ, যেমন- বক্ষ, রক্ষা, শিক্ষা ইত্যাদি।
যুক্তবর্ণ হ্ম = হ + ম, যেমন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইত্যাদি।
যুক্তবর্ণ জ্ঞ = জ + ঞ, জ্ঞান, বিজ্ঞান ইত্যাদি।
যুক্তবর্ণ ষ্ণ = ষ + ণ, কৃষ্ণ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৪৩.
“চ, ছ, জ, ঝ” কোন ধরনের স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন?
  1. ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
  2. মূর্ধা স্পৃষ্ট
  3. দন্ত স্পৃষ্ট
  4. তালু স্পৃষ্ট
ব্যাখ্যা
• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাক্প্রতঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।
- ফল, থলে, ঠাণ্ডা, ছুরি, খেলা শব্দের ফ, থ, ঠ, ছ, খ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।
- উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী এগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা:
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৪৪.
'সম্মান' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. সোমমান্‌
  2. শম্‌মান্‌
  3. সম্‌মান্‌
  4. সমোমান
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'সম্মান' এর সঠিক উচ্চারণ — 'শম্‌মান্‌'।

• 'শম্‌মান্‌' এর অর্থ:
- মর্যাদা; গৌরব।

• আরো কিছু সঠিক উচ্চারণ: 
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।   

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩৪৫.
‘এ’ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. একটি
  2. এলো
  3. দেশ
  4. বেলা
ব্যাখ্যা
• ‘এ’ বর্ণ:
এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [এ] এবং [অ্যা]। সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনো কখনো [অ্যা] উচ্চারিত হয়।
- ‘এ’ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি [এক্‌টি], দেশ [দেশ্‌], এলো [এলো]।
- ‘এ’ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
৩৪৬.
ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হসচিহ্ন না থাকলে কোন ধ্বনি আছে বলে ধরে নেওয়া হয়?
  1. ক) ই
  2. খ) অ
  3. গ) আ
  4. ঘ) উ
ব্যাখ্যা

স্বরবর্ণের মােট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলাের নাম কারবর্ণ: া, ি, ী, ু, ূ, ৃ, ে, ৈ, ো, ৌ। কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই। এগুলাে ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়।

- কোনাে ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হসচিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি ‘’ আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৩৪৭.
'অপরাহ্ণ' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. অপোরান্নো
  2. অপরান্‌হ
  3. অপোরান্‌হো
  4. অপোরানও
ব্যাখ্যা
• 'অপরাহ্ণ' এর সঠিক উচ্চারণ- 'অপোরান্‌হো'। 

• আরো কিছু সঠিক উচ্চারণ: 
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।   

উৎস: ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৩৪৮.
নিচের কোন শব্দে তাড়িত ব্যঞ্জন ধ্বনির প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) হার
  2. খ) কল
  3. গ) পথ
  4. ঘ) মূঢ়
ব্যাখ্যা
⇒ যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- যেমন- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের 'র' কম্পিত ব্যঞ্জন ধ্বনির উদাহরণ।

⇒ যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে। বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের 'ড়', 'ঢ়' তাড়িত ব্যঞ্জনের উদাহরণ।

⇒ যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্র্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।
- তল, পথ, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি,  নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪৯.
'যুগ্ম' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কী হবে?
  1. ক) জুগ্নো
  2. খ) জুগ্‌মো
  3. গ) জুজ্ঞো
  4. ঘ) যুম্মো
ব্যাখ্যা
'যুগ্ম' শব্দের সঠিক উচ্চারণ- জুগ্‌মো। 

কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্‌ এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন-
যুগ্ম এর উচ্চারণ: জুগ্‌মো,
গুল্ম এর উচ্চারণ: গুল্‌মো, 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৫০.
কোনটি সম্মুখ স্বরধ্বনি?
  1. ক) আ
  2. খ) ই
  3. গ) ও
  4. ঘ) উ
ব্যাখ্যা
• সম্মুখ স্বরধ্বনি হচ্ছে: [ই]

• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন প্রকার।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি
২. মধ্য স্বরধ্বনি
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি

সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- যেমন: [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়। [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫১.
'শ্রমিক' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. শ্রোমিক্‌
  2. স্রমিক্‌
  3. স্রোমিক্‌
  4. ষোমিক
ব্যাখ্যা
শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।  স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

উদাহরণ:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শৃগাল [সৃগাল্‌]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্‌নো]।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
৩৫২.
স্বতন্ত্র ব্যবহারে [অঁ]-এর মতো আর সংযুক্ত ব্যঞ্জনে [ন্‌]-এর মতো উচ্চারিত হয় -
ব্যাখ্যা
• ঞ বর্ণের নিজস্ব কোনো ধ্বনি নেই।
- স্বতন্ত্র ব্যবহারে [অঁ]-এর মতো আর সংযুক্ত ব্যঞ্জনে [ন্‌]-এর মতো উচ্চারিত হয়: মিঞা [মিয়াঁ], চঞ্চল [চন্চ‌ল্], গঞ্জ [গন্‌জো]।

অন্যদিকে,
• ণ বর্ণের উচ্চারণ [ন্‌]: কণা [কনা], বাণী [বানি], হরিণ [হোরিন্]।

• ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়।
যেমন - শ্মশান [শশান্‌], স্মরণ [শঁরোন্]।
- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়।
যেমন - আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।
- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন - যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৫৩.
অ-ধ্বনির সংবৃত উচ্চারণ হয়েছে কোন শব্দে?
  1. ক) অটল
  2. খ) কলম
  3. গ) প্রিয়তম
  4. ঘ) অনাচার
ব্যাখ্যা
অ-ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণঃ অটল (অট্‌ল), অনাচার, কথা, কলম ইত্যাদি।
অ-ধ্বনির সংবৃত উচ্চারণঃ অতি (ওতি), প্রতিভা (প্রোতিভা), প্রিয়তম (প্রিয়তমো), যাবতীয় (জাবতীয়ো) ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি
৩৫৪.
'সর্বস্ব' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. শর্‌বোষ্‌শো
  2. শর্বোশ্‌শো 
  3. শর্‌বোঁশ্‌শ
  4. শর্‌বোশ্‌শো
ব্যাখ্যা

'শ' এর কয়েক রকম উচ্চারণ হয়: 

স্বতন্ত্র শ-এর মতো: 
- শক্তি (শোক্‌তি), মশা (মশা), শাসন (শাশোন্‌), সচিব (শোচিব)।  

যুক্ত শ + চ/ছ: শ-এর মতো: 
- নিশ্চয় (নিশ্‌চয়), শিরশ্ছেদ (শিরোশ্‌ছেদ)।

যুক্ত স + ব/ম: শব্দের মধ্যে/শেষে শশ্/স্স:
- সর্বস্ব (শর্‌বোশ্‌শো), সুস্মিত (শুশ্‌মিতো)।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৫৫.
বাংলা বর্ণমালায় [এ] এর উচ্চারণ-
  1. অর্ধ-বিবৃত
  2. বিবৃত
  3. সংবৃত
  4. অর্ধ-সংবৃত
ব্যাখ্যা

 স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খােলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত: [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।

- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট কম খেলে;
- বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট বেশি খােলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩৫৬.
'লক্ষ্য' - শব্দটির সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. লক্‌খো
  2. লোক্‌কো
  3. লোখ্‌খো
  4. লোক্‌খো
ব্যাখ্যা

• 'লক্ষ্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'লোক্‌খো'। 

• আরো কিছু সঠিক উচ্চারণ: 
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।   

উৎস: ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৩৫৭.
'অ' বর্ণের (ও) উচ্চারণ হয়েছে কোন শব্দে?
  1. অনেক
  2. কথা 
  3. মন
  4. অনাথ
ব্যাখ্যা
• 'অ' বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

• 'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।
• 'অ' বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৫৮.
কোনটি নাসিক্য ব্যঞ্জন?
ব্যাখ্যা
• নাসিক্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

অন্যদিকে,
----------------------
• উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।

- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ)- এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

• তাড়িত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অথার্ৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায় তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
 যেমন:
- বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ড়, তাড়িত ব্যঞ্জনের উদাহরণ।

• পার্শ্বিক ব্যঞ্জন:
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- লাল শব্দে পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৫৯.
'বিসদৃশ' - এর সঠিক উচ্চারণ হবে -
  1. ক) বিশদ্‌দৃশো
  2. খ) বিশদ্‌দৃশ্‌
  3. গ) বিসদ্‌দৃশ্‌
  4. ঘ) বিসোদ্‌দৃশ্‌
ব্যাখ্যা
বিসদৃশ (বিশেষণ)
উচ্চারণ - বিশদ্‌দৃশো 

অর্থ - অন্যরকম, বিপরীত, সামঞ্জস্যহীন, বিরুদ্ধ। 

সূত্র: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৬০.
কোনটি 'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ?
  1. অতি
  2. পক্ষ
  3. অদ্য
  4. অনাথ
ব্যাখ্যা
'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
- অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।

• সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
- অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা্‌], অনাথ [অনাথ্‌]।
- অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৬১.
'স্মৃতিসৌধ' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. সৃঁতিশোউ্‌দো
  2. সৃঁতিসোউ্‌দো
  3. সৃঁতিশোউ্‌ধো
  4. সৃঁতিসোউ্‌ধো
ব্যাখ্যা
• বানান: স্মৃতিসৌধ।
- সঠিক উচ্চারণ: সৃ্‌ঁতিশোউ্‌ধো
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: স্মৃতি + সৌধ।
- অর্থ: কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বা ব্যক্তির স্মরণে নির্মিত স্থাপত্য।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৬২.
কোন বর্ণের নিজস্ব কোনো ধ্বনি নেই?
ব্যাখ্যা
ঞ:
- '' বর্ণের নিজস্ব কোনো ধ্বনি নেই
- স্বতন্ত্র ব্যবহারে [অঁ]-এর মতো আর সংযুক্ত ব্যঞ্জনে [ন্‌]-এর মতো উচ্চারিত হয়: মিঞা [মিয়াঁ], চঞ্চল [চন্চ‌ল্], গঞ্জ [গন্‌জো]।

অন্যদিকে,
ণ:
ণ বর্ণের উচ্চারণ [ন্‌]: কণা [কনা], বাণী [বানি], হরিণ [হোরিন্]।

ম:
- ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়।
যেমন - শ্মশান [শশান্‌], স্মরণ [শঁরোন্]।
- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়।
যেমন - আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।
- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন - যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৬৩.
'স্বজন' শব্দের ঠিক উচ্চারণ -
  1. ক) সজন
  2. খ) সজোন
  3. গ) শজন্‌
  4. ঘ) শজোন্‌
ব্যাখ্যা
স্বজন [শজোন্‌] (বিশেষ্য) - আত্মীয়; আপনার লোক; বন্ধু- বান্ধব।

সোর্সঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
৩৬৪.
‘আত্মীয়’ শব্দটির শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. আত্​তিঁও
  2. আত্​মিও
  3. আত্​তিঁয়ো
  4. আত্​তিও
ব্যাখ্যা

‘আত্মীয়’ শব্দটির শুদ্ধ উচ্চারণ : আত্​তিঁয়ো।

- ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]। শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়,
যেমন
শ্মশান [শঁশান),
স্মরণ [শঁরোন্]।

- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়, 
যেমন
 আত্মীয় [/আত্​তিঁয়ো/],

উৎস:
i) বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান 
ii) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৬৫.
'ক্ম' যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণ দিয়ে তৈরি?
  1. ক্ + ণ
  2. ক্ + হ
  3. ক্ + ম
  4. ক্ + ন
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। যেমনঃ
- ক্ + ত = ক্ত,
- ক্ + ম = ক্ম,
- ক্ + র = ক্র,
- ক্ + হ = ক্হ,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- ক্ + স = ক্স,
- ঙ্ + ক = ঙ্ক ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬৬.
'ছ' এর উচ্চারণ স্থানগত অবস্থান কোনটি?
  1. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  3. তালব্য ব্যঞ্জন
  4. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
- দন্ত্য ব্যঞ্জন ,
- দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন,
- মূর্ধন্য ব্যঞ্জন,
- তালব্য ব্যঞ্জন,
- কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
- কণ্ঠনালী ব্যঞ্জন।

• তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা, প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৩৬৭.
‘স' বর্ণের উচ্চারণ [স] হয়েছে কোন শব্দে?
  1. আস্তে
  2. সাধারণ
  3. সামান্য
  4. শ্রমিক
ব্যাখ্যা
• শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

• শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
• শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শ্রদ্ধা [স্রোদ্‌ধা], শৃগাল [স্রিগাল]।
• ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
• স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন্‌], সামান্য [শামান্‌নো] ।
• স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আস্‌তে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৬৮.
“স্থ” যুক্তবর্ণে কি কি বর্ণ আছে?
  1. ক) ষ + থ
  2. খ) হ + থ
  3. গ) স + থ
  4. ঘ) স + ত
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

“স্থ” যুক্তবর্ণে স + থ দুটি বর্ণ আছে।
আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক + ষ,
- হ্ম = হ + ম,
- জ্ঞ = জ + ঞ,
- ষ্ণ = ষ + ণ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬৯.
'স্মরণ' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. শরণ
  2. শঁরোন্‌
  3. শ্বোঁরণ্‌
  4. শরোন
ব্যাখ্যা
ম বর্ণের উচ্চারণ:
- ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়,
যেমন:
- শ্মশান [শঁশান্],
- স্মরণ [শঁরোন্]।

- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়,
যেমন:
- আত্মীয় [আতিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।
- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্- এর উচ্চারণ বজায় থাকে,
যেমন:
- যুগ্ম [জুগ্‌মো],
- জন্ম [জমো],
- গুল্ম [গুমো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
৩৭০.
‘হ’-এর ক্ষেত্রে কোনটি ঠিক নয়?
  1. ক) অঘোষ ধ্বনি
  2. খ) ঘোষ ধ্বনি
  3. গ) কণ্ঠনালীয় ধ্বনি
  4. ঘ) শিস ধ্বনি
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সময় অনেকক্ষণ শ্বাস ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতো আওয়াজ হয় বলে শিস ধ্বনি বলা হয়।
শিস ধ্বনি - ২ টি।
যথা : স, শ। 

‘হ’ ক্ষেত্রবিশেষে ঘোষ ও অঘোষ হয়।
কণ্ঠনালীয় ধ্বনি ১ টি। সেটি হলো ‘হ’।
সুতরাং, 'হ' শিস ধ্বনি নয়।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ এবং নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’।
৩৭১.
‘উ’ উচ্চারণের সময়ে ঠোঁটের উন্মুক্তি কেমন?
  1. বিবৃত
  2. অর্ধ-বিবৃত
  3. সংবৃত
  4. অর্ধ-সংবৃত
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত: [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।

• সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে।
• বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৭২.
‘ষ্ণ’ যুক্ত বর্ণটি ভাঙলে কোন দুটি বর্ণ পাওয়া যায়?
  1. ক) ষ+ম
  2. খ) ষ+ন
  3. গ) ষ+ণ
  4. ঘ) ষ+হ
ব্যাখ্যা

ষ্ণ = ষ+ণ
ক্ষ = ক+ষ
হ্ম = হ+ম
জ্ঞ = জ+ঞ
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৭৩.
‘ব্রহ্মপুত্র’ - শব্দের যুক্ত ব্যঞ্জন দুটি কোন দুটি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. জ্‌ + ঞ
  2. ম্‌ + হ
  3. ক্‌ + ষ্‌ + ম
  4. হ্‌ + ম
ব্যাখ্যা
হ্‌ + ম = হ্ম।
যেমন - ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ব্রাহ্মণ, ব্রহ্মাণ্ড ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯)
৩৭৪.
'অপরাহ্ণ' শব্দের যুক্তবর্ণে কোন দুটি বর্ণের সংযোগ ঘটেছে?
  1. ক) হ্‌+ণ
  2. খ) হ্‌+ন
  3. গ) ণ্‌+হ
  4. ঘ) ন্‌+হ
ব্যাখ্যা
হ্‌+ণ = হ্ণ = অপরাহ্ণ, মধ্যাহ্ণ।
হ্‌+ন = হ্ন = চিহ্ন, আহ্নিক, মধ্যাহ্ন। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৫.
কোন দুটি অঘোষ ধ্বনি?
  1. চ ছ
  2. ড ঢ
  3. ব ভ
  4. দ ধ
ব্যাখ্যা

ধ্বনির কম্পমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন: ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই। ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘােষ।

⇒ঘােষ ব্যঞ্জন
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি। যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

⇒অঘােষ ব্যঞ্জন
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি, যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি।

৩৭৬.
ঘৃষ্ট ধ্বনি কোনটি?
ব্যাখ্যা
• ঘৃষ্ট ধ্বনি:
এ জাতীয় ধ্বনির উচ্চারণগত বৈশিষ্ট্য দুই ধরনের-বাতাস প্রথমে স্পৃষ্ট ধ্বনির মতো মুখের মধ্যে সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয় কিন্তু দ্রুত বের না হয়ে কিছুটা বিলম্বে ঘর্ষণ ধ্বনি তৈরি করে বের হয়।

সে-হিসাবে এ জাতীয় ধ্বনির উচ্চারণগত বৈশিষ্ট্য হলো: স্পৃষ্ট + ঘর্ষণজাত = ঘৃষ্ট। ইংরেজি child, jam শব্দের ch, j এ জাতীয় ধ্বনি। বাংলা কাচ, মাছ, কাজ, মাঝ, শব্দের [চ্, ছ্, জ্, ঝ্ ] ঘৃষ্ট ধ্বনি।

অন্যদিকে,
- শ উষ্ম ধ্বনি।
- ম নাসিক্য ধ্বনি।
- ঘ স্পৃষ্ট ধ্বনি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।
৩৭৭.
'আহ্বান' - শব্দের উচ্চারণ কোনটি?
  1. আও্‌বান
  2. আহোভান
  3. আউ্‌ভান
  4. আও্‌ভান
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• বানান: আহ্বান।
- সঠিক উচ্চারণ: আও্‌ভান।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: আ + √হ্বে + অন।
- অর্থ: নিমন্ত্রণ, আমন্ত্রণ; সম্বোধন, ডাক।

 অভিসম্বন্ধ: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৭৮.
ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী কম্পিত হওয়াকে কি বলে? 
  1. ক) অল্পপ্রাণ ধ্বনি 
  2. খ) মহাপ্রাণ ধ্বনি 
  3. গ) ঘোষ ধ্বনি
  4. ঘ) অঘোষ ধ্বনি  
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী কম্পিত বা কেঁপে ওঠাকে ঘোষ ধ্বনি বলা হয়।
- আবার যখন কম্পিত হয় না বা আওয়াজে গাম্ভীর্য আসে না তখন তাকে অঘোষ ধ্বনি বলা হয়।

• স্বরতন্ত্রীর কাঁপা না কাঁপার ওপর ভিত্তি করে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুভাগে ভাগ করা যায়-
ঘোষ ধ্বনি - গ, ঘ, জ, ঝ ইত্যাদি। 
অঘোষ ধ্বনি - ক, খ, চ, ছ ইত্যাদি।

• ঘোষ ধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়-

• উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের যখন স্বল্পতা থাকে তখন তাকে অল্পপ্রাণ ধ্বনি বলে। 
- যেমন: ক,গ,চ,জ ইত্যাদি। 

• উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের যখন আধিক্য থাকে তখন তাকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে।
- যেমনঃ খ, ঘ, ছ,ঝ ইত্যাদি।  

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩৭৯.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ‘ঠ, ড, ঢ, ড়’ কোন প্রকৃতির ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. দন্ত্য ব্যঞ্জন
  2. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  3. তালব্য ব্যঞ্জন
  4. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। যেমন: চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো হলো- ক, খ, গ, ঘ, ঙ।

• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৮০.
'বিদ্রোহ' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ -
  1. বিদ্দ্রো‌হ
  2. বিদ্‌দ্রোহো
  3. বিধ্‌দ্রোহো
  4. বিদ্‌দ্রহো
ব্যাখ্যা
র বর্ণের উচ্চারণ:
- র বর্ণের উচ্চারণ [র্‌]। তবে র-ফলা হিসেবে এর উচ্চারণে বৈচিত্র্য আছে।
- শব্দের মধ্যে বা শেষে কোনাে ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে র-ফলা থাকলে দ্বিত্বসহ র-ফলা উচ্চারিত হয়।
যেমন –
- মাত্র [মাত্ত্রো‌], বিদ্রোহ [বিদ্‌দ্রোহো], যাত্রী [জাত্ত্রি‌]।
- কিন্তু শব্দের মধ্যে বা শেষে যুক্তব্যঞ্জনের সঙ্গে র-ফলা যুক্ত হলে দ্বিত্ব উচ্চারণ হয় না।
যেমন -
- কেন্দ্র [কেন্‌দ্রো], শাস্ত্র [শাস্‌ত্রো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
৩৮১.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) ঞ্চ= ঞ্ +ণ
  2. খ) ঞ্ছ= ঞ +ছ
  3. গ) ঞ্জ= ঞ্ +জ
  4. ঘ) ঞ্ঝ = ঞ+ঝ
ব্যাখ্যা
কতিপয় সংযুক্ত বর্ণ।
ঞ্চ (ঞ্চ)= ঞ্ +চ। যেমন- অঞ্চল, সঞ্চয়, পঞ্চম।
• ঞ্ছ= ঞ +ছ। যেমন-বাঞ্ছিত, বাঞ্ছনীয়, বাঞ্ছা।
• ঞ্জ= ঞ্ +জ। যেমন— গঞ্জ, রঞ্জন, কুঞ্জ।
• ঞ্ঝ = ঞ+ঝ। যেমন- ঝঞ্ঝা, ঝঞ্ঝাট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮২.
‘চিহ্ন’ শব্দের কোন উচ্চারণটি শুদ্ধ?
  1. চিন্ no
  2. চিন্ho
  3. চিন্nho
  4. চিন্‌অ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
‘চিহ্ন’ শব্দের সঠিক উচ্চারণ: 'চিন্nho'। 

• ‘চিহ্ন’ সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত- প্রত্যয়: '√ চিহ্ন্‌ + অ'। 
- শব্দের অর্থ: দাগ, ছাপ, নিদর্শন।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি। 
৩৮৩.
‘বিশ্ববিদ্যালয়’ শব্দটিতে কয়টি অক্ষর রয়েছে?
  1. ৭টি
  2. ৬টি
  3. ৫টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

⇒ 'বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দে ৫টি অক্ষর রয়েছে (বি + শ্ব + বি + দ্যা + লয়)।

⇒ অক্ষর:
বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশকে বলে-অক্ষর। এর ইংরেজি নাম - syllable.
অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা:
• মুক্তাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- ক/লা)।
• বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- দিন, রাত)।

৩৮৪.
‘বজ্র’ শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) বজ্রো
  2. খ) বজ্জ্রো
  3. গ) বজ্‌রো
  4. ঘ) বজরো
ব্যাখ্যা
বজ্র (বজ্জ্রো)
-সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃত প্রত্যয় - √বজ্ + র
অর্থ: 
- বাজ্ অশনি কুলিশ্
- দধিচীর অস্থি দ্বারা মির্মিত ইন্দ্রের অস্ত্র।
- হীরক।

উৎস:- আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩৮৫.
'হু' যুক্তবর্ণটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. হ্ + উ
  2. উ + হ্
  3. হ্ + ও
  4. হ্‌ + ঊ
ব্যাখ্যা
'হু' = হ্ + উ 

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ঙ্ + গ = ঙ্গ
- ন্ + ধ = ন্ধ
- হ্ + ঋ = হৃ
- হ্ + ন = হ্ন
- হ্ + ম = হ্ম
- ণ্ + ড = ণ্ড

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১।]
৩৮৬.
নিচের কোনটি অন্ত্যস্বরাগমের উদাহরণ?
  1. প্রীতি > পিরীতি
  2. আজি > আইজ
  3. টপ টপ > টপাটপ
  4. বেঞ্চ > বেঞ্চি
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন-
অ = রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই = প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ = মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ = গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও = শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ >মোরগ ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম :
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিশ্ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

• অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি > চাইর, মারি > মাইর ইত্যাদি।

• অসমীকরণ:
- একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন
- ধপ ধপ > ধপাধপ, টপ টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ,নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।

৩৮৭.
শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে -
  1. ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়
  2. দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়
  3. দ্বিত্ব হয় এবং অনুনাসিক হয় না
  4. ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে
ব্যাখ্যা
• ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়।
যেমন - শ্মশান [শশান্‌], স্মরণ [শঁরোন্]।
- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়
যেমন - আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।
- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন - যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৮৮.
‘অপরাহ্ণ’ শব্দে যুক্তবর্ণের বিশ্লিষ্ট রূপ-
  1. ক) হ্ + ন
  2. খ) হ্ + ণ
  3. গ) হ্ + ম
  4. ঘ) ন্ + ণ
ব্যাখ্যা
‘অপরাহ্ণ’ শব্দে যুক্তবর্ণের বিশ্লিষ্ট রূপ হল হ্ + ণ = হ্ণ।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
৩৮৯.
‘অধ্যাপক’ শব্দের উচ্চারণ হচ্ছে -
  1. অদ্‌ধাপোক্‌
  2. ওদ্‌ধাপোক্‌
  3. ওধ্যাপোক্
  4. ওদ্‌ধাপক্‌
ব্যাখ্যা
• অধ্যাপক।
- সঠিক উচ্চারণ (ওদ্‌ধাপোক্),
- তৎসম বা সংস্কৃত।
অর্থ: শিক্ষক; ওস্তাদ; আচার্য। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার পদবিশেষ। 

উৎস: অভিগম্য অভিধান।

৩৯০.
নিচের কোন শব্দে এ- বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ ঘটেছে?
  1. বেলা
  2. যেন
  3. খেলা
  4. বেগুন
ব্যাখ্যা
এ-এর দু রকম উচ্চারণ হয়:
স্বাভাবিক (এ-এর মতো):
- একটি (এক্‌টি ), কেক (কেক্‌), কেটলি (কেট্লি), মেয়ে (মেয়ে), বেগুন (বেগুন্‌), মেষ (মেশ্)।

সংবৃত বা পরিবর্তিত (অ্যা-এর মতো):
- এক (অ্যাক্), খেলা (খ্যালা), বেলা (ব্যালা), কেন (ক্যানো), যেন (য্যানো)।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৯১.
বাকযন্ত্রের অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) যকৃত
  2. খ) জিহ্বা
  3. গ) দাঁত
  4. ঘ) মুখবিবর
ব্যাখ্যা
ধ্বনি সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় মানব শরীরের যেসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ব্যবহৃত হয় তাকে হয় তাদেরকে একত্রে বাগযন্ত্র বলা হয়। আমাদের গলনালি, ‍মুখবিবর, কণ্ঠ, জিহ্বা, তালু, দাঁত, নাক, ফুসফুস ইত্যাদি অঙ্গ বাগযন্ত্রের অন্তর্গত। যকৃত বা লিভার বাগযন্ত্রের অংশ নয়। এই বাগযন্ত্রের দ্বারা উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনির সাহায্যে মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে। (সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৯২.
[উ] উচ্চারণের সময়ে জিভের অবস্থান –
  1. ক) সম্মুখ স্বরধ্বনি
  2. খ) মধ্য স্বরধ্বনি
  3. গ) পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
  4. ঘ) মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত:
- সম্মুখ স্বরধ্বনি [ই], [এ], [অ্যা];
- মধ্য স্বরধ্বনি [আ];
- পশ্চাৎ স্বরধ্বনি [অ], [ও], [উ]

• সম্মুখ স্বরধ্বনির বেলায় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়;
পশ্চাৎ স্বরধ্বনির বেলায় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৯৩.
নিম্নের কোনটি উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি?




ব্যাখ্যা

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত: 
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও]; 
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ]; 
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]। 

- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২৫)।

৩৯৪.
ঢ, ড়, ঢ় বর্ণের উচ্চারণের স্থান কোনটি?
  1. ক) মূর্ধা
  2. খ) ওষ্ঠ্য
  3. গ) কণ্ঠ
  4. ঘ) দন্ত্য
ব্যাখ্যা
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢােল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৯৫.
‘ঐ’ বর্ণের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. অঈ্
  2. ওঈ্
  3. অউ্
  4. ওই্
ব্যাখ্যা
• ‘ঐ’ বর্ণের উচ্চারণ [ওই্]: ঐকিক [ওইকিক্], তৈল [তোই্লো]।

এরূপ কিছু বর্ণের শুদ্ধ উচ্চারণ হলো:
• এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [এ] এবং [অ্যা]। সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনো কখনো [অ্যা] উচ্চারিত হয়। ‘এ’ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: দেশ [দেশ্], এলো [এলো]। ‘এ’ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]। 

• ‘ঔ’ বর্ণের উচ্চারণ [ওউ্]: ঔষধ [ওউ্শধ্], মৌমাছি [মোউ্মাছি]।

• ‘ও’ বর্ণের উচ্চারণ [ও]: ওল [ওল্], বোধ [বোধ্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
৩৯৬.
'ল, স' কোন ধরনের ব্যঞ্জন?
  1. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
  3. দন্ত্য ব্যঞ্জন
  4. কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত।
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে। 'হাতি' শব্দের 'হ' কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৯৭.
নিচের কোনটি মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. ক) ব
  2. খ) শ
  3. গ) ড
  4. ঘ) ঝ
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনধ্বনি:
- ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা: অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি ও মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, , ত, দ, স, ট, , ড়, চ, জ, , ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন – ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ,, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৯৮.
ক, খ, গ, ঘ, ঙ- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী কোন ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. দন্ত্য ব্যঞ্জন
  3. তালব্য ব্যঞ্জন
  4. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো হলো- ক, খ, গ, ঘ, ঙ।

অন্যদিকে,
• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। যেমন: চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৯৯.
'মণিমঞ্জুষা' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো -
  1. মনিমোঞ্জুষা 
  2. মণিমোনঞ্জুষা
  3. মোণিমোনজুষা
  4. মোনিমোন্জুশা
ব্যাখ্যা
• 'মণিমঞ্জুষা'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- উচ্চারণ: মোনিমোন্জুশা। 
- প্রকৃতি প্রত্যয়: মণি+মঞ্জুষা। 
  অর্থ:
- মণিমাণিক্যের আঁধার,
- রত্নের ঝাপি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪০০.
নিচের কোনটি উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি ? 
  1. অ্যা
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনির উচ্চারণ:
উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।

উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - ,
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।

আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।