বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা

মোট প্রশ্ন১,৮৩৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা

PrepBank · পাতা / ১৯ · ৭০১৮০০ / ১,৮৩৫

৭০১.
দেশে 'বাণিজ্যিক আদালত' প্রতিষ্ঠার জন্য অধ্যাদেশ জারি হয় কবে?
  1. ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  2. ১ জানুয়ারি, ২০২৬
  3. ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  4. ৪ জানুয়ারি, ২০২৬
ব্যাখ্যা

• বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৬:
- দীর্ঘদিনের বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুততম সময়ে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার ‘বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে।
- রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যাদেশটি জারি করেন।
- ২ জানুয়ারি, ২০২৬ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।
- মামলার চূড়ান্ত শুনানি শুরুর ৯০ দিনের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রেখে প্রণীত এই আইনি কাঠামো দেশের ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ বা সহজ ব্যবসা সূচকে আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

উল্লেখ্য, 
- এই অধ্যাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ‘সুইট ম্যানেজমেন্ট’ বা মামলা ব্যবস্থাপনা শুনানি।
- বিবাদী জবাব দাখিল করার পর প্রথম শুনানির দিনই আদালত বিচার্য বিষয়গুলো নির্ধারণ করবেন এবং কত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ হবে, তার একটি রূপরেখা তৈরি করবেন।
- চূড়ান্ত শুনানি শুরু হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: Lawyers Club Bangladesh. (Link)

৭০২.
কোনো আদালতের নিকট জবাবদিহি করেন না কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. স্পিকার
  4. সাংসদ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
- রাষ্ট্রপতি তাঁর দায়িত্ব পালনের জন্য করো কাছে দায়ী নন।
- তিনি কোন আদালতের নিকটও জবাবদিহি করেন না।
- কিন্তু রাষ্ট্রপতিকে সংবিধান লংঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে অভিশংসিত করা যায়।
- সংবিধান লংঘন কিংবা গুরুতর অসদাচরণের কারণে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে তাঁকে অভিযুক্ত করা যায়।
- পদত্যাগ করতে চাইলে রাষ্ট্রপতি স্পীকারের নিকট স্বীয় পদত্যাগ পত্র পেশ করতে পারেন।
- ক্ষমতায় থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারী মামলা দায়ের করা চলে না, এ ছাড়া তাঁকে গ্রেফতারও করা যায় না।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৩.
'অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল' কী ধরনের সংস্থা?
  1. ক) অর্থনীতি সম্পর্কিত
  2. খ) সাহিত্য সম্পর্কিত
  3. গ) মানবাধিকার সম্পর্কিত
  4. ঘ) আইন সম্পর্কিত
ব্যাখ্যা
'অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল' এক ধরনের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্পর্কিত সংস্থা। এটি ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দপ্তর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত। এর প্রতিষ্ঠাতা পিটার ব্যানেনসন।
উৎসঃ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইট।
৭০৪.
ইসির চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা কত? [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. ১২ কোটি ২৬ লাখ
  2. ১২ কোটি ৫৬ লাখ
  3. ১২ কোটি ৬৬ লাখ
  4. ১২ কোটি ৭৬ লাখ
ব্যাখ্যা

ভোটার সংখ্যা:
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
- দেশে বর্তমানে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন ভোটার রয়েছেন।
- এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩৪ জন।
- ভোটার তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পুরুষ ভোটার বৃদ্ধির হার ২.২৯ শতাংশ, আর নারী ভোটার বৃদ্ধির হার ৪.১৬ শতাংশ।
- নতুন প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় যারা ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ১৮ বছর পূর্ণ করেছেন, তারা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা রিপোর্ট। [link]

৭০৫.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কীভাবে নির্বাচিত হন?
  1. জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে
  2. সংসদ সদস্যদের ভোটে
  3. সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের ভোটে
  4. মন্ত্রিসভার ভোটে
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রপতি:
- রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধান।
- রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধান সংবিধানের চতুর্থ অংশে রয়েছে।
- এ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ ৪৮-৫৪।
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত।
- সংবিধান ও আইন অনুযায়ী তিনি তাঁর ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করেন।
- রাষ্ট্রপতি জারিকৃত আইনকে অধ্যাদেশ বলা হয়।
- সরকারের সব নির্বাহী কার্য রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদিত হয়।
- রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন।
- রাষ্ট্রপতি হওয়ার ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর।
- রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৬০-৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।

৭০৬.
দুটি সংসদ অধিবেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ কত দিনের বিরতি থাকতে পারে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা

সংসদ আহবান:
- রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।
- সংসদের এক অধিবেশনের শেষ এবং পরবর্তী অধিবেশনের শুরুর মধ্যে সর্বোচ্চ বিরতি হবে ৬০ দিন।
- সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহ্বান করা হবে।
- একাধারে কোনো সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে ৯০টি কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে তাহার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।
- দেশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবনে হুমকির কারণে জরুরি অবস্থা (সর্বাধিক ১২০ দিনের জন্য) ঘোষিত হতে পারে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এস এস এইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের সংবিধান।

৭০৭.
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়-
  1. ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮
  2. ৩০ ডিসেম্বর ২০০৮
  3. ৩১ ডিসেম্বর ২০০৮
  4. ০১ জানুয়ারি ২০০৯
ব্যাখ্যা
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন:
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে সবশেষ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর।
- সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ২৬৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে।
- দুই বছর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পর আসা ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৩৩টি আসন পায়।

উল্লেখ্য, 
- সর্বশেষ ২০২৪ সালের ০৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, জাতীয় দৈনিক পত্রিকা।
৭০৮.
জেলা পরিষদে কতজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য থাকে?
  1. ক) ৩ জন
  2. খ) ৪ জন
  3. গ) ৫ জন
  4. ঘ) ৬ জন
ব্যাখ্যা
• জেলা পরিষদ:
- ২০০০ সালের জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী জেলা পরিষদ গঠিত। 
- ১ জন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনে ৫ জন মহিলা সদস্য। 
- এরা সবাই পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হবেন একটি নির্দিষ্ট জেলার অধীনে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, কমিশনারবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের ভোটে।
- এই পরিষদের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। 

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭০৯.
বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি কে ছিলেন?
  1. বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
  2. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  3. কামালউদ্দিন হোসেন
  4. সৈয়দ রেফাত আহমেদ
ব্যাখ্যা
বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম: 
- বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম (১৯১৬-১৯৯৭) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। 
- ১৯৭০-৭১ সালে তিনি নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি বাংলাদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন।
- ওই বছর ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর বিচারপতি সায়েম বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি সংসদ ও মন্ত্রী পরিষদ ভেঙে দিয়ে সারা দেশে সামরিক আইন জারী করেন এবং নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করেন।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন এবং ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭১০.
সর্বশেষ জাতীয় জনসংখ্যা নীতি প্রণীত হয় কত সালে? (জানুয়ারি-২০২৬)
  1. ২০১২ সালে
  2. ২০১৮ সালে
  3. ২০২২ সালে
  4. ২০২৫ সালে
ব্যাখ্যা

'বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫:
- ২৪ জুলাই ২০২৫ সালে 'বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫' প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
- রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের এক অনুষ্ঠানে এই নতুন জনসংখ্যা নীতি প্রকাশ করা হয়।
- প্রতিবছর ১১ জুলাই জনসংখ্যা দিবস পালন কর হলেও অনিবার্য কারণে মন্ত্রণালয় গতকাল এই দিবস পালন করেছে।
- এর আগে জনসংখ্যা নীতি ছিল ২০১২ সালের।

- এই নীতির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২০৬১ সালের পর আর বাড়বে না।
- তখন দেশের জনসংখ্যা হবে ২১ কোটি।
- ২০৬২ সাল থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঋণাত্মক হবে এবং মোট জনসংখ্যা কমতে থাকবে।
- ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ জনসংখ্যার লভ্যাংশের যে সুযোগ পেয়ে আসছে তা অব্যাহত থাকবে ২০৬১ সাল পর্যন্ত।
- তখন সমাজে প্রবীণ মানুষের হার অনেক বেশি থাকবে।

- মানবাধিকার, ন্যায্যতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, জেন্ডার সমতা, বৈষম্যহীনতা, স্বেচ্ছা সম্মতি ও অবহিত পছন্দ, তথ্য প্রাপ্তি, গোপনীয়তা, সেবার মান ও অংশীদারত্ব–অংশগ্রহণকে ২০২৫ সালের জনসংখ্যা নীতির মূল ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
• জনসংখ্যার আধিক্য রোধকল্পে বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় জনসংখ্যা নীতি প্রণীত হয়- ১৯৭৬ সালে

উৎস: বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫ ও প্রথম আলো।

৭১১.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কে?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) রিয়াজউদ্দিন আহমদ
  3. গ) আলী আশরাফ
  4. ঘ) ফজলে রাব্বী মিয়া
ব্যাখ্যা
একাদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। উৎস: জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট
৭১২.
জাতীয় সংসদের ৩০০নং আসন কোনটি? 
  1. কক্সবাজার
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা
সংসদীয় আসন:
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ মোট ৩৫০টি আসন নিয়ে গঠিত।
- ৩০০টি আসন থেকে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সদস্য নির্বাচিত হয়। অবশিষ্ট ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।
- জাতীয় সংসদের ৩০০নং আসন হলো বান্দরবান।

উল্লেখ্য,
- জাতীয় সংসদের ১ নং আসন হলো পঞ্চগড়-১ 
- বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।

অন্যদিকে,
- জাতীয় সংসদের ২৯৯নং আসন হলো রাঙামাটি।
- জাতীয় সংসদের ২৯৮নং আসন হলো খাগড়াছড়ি।
- জাতীয় সংসদের ২৯৭নং আসন হলো কক্সবাজার।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭১৩.
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো কয় স্তরভিত্তিক?
  1. তিন
  2. চার
  3. দুই
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো:
 - বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো স্তরভিত্তিক।
- এর দুটি প্রধান স্তর আছে।

• প্রথম স্তরটি হলো কেন্দ্রীয় প্রশাসন (সচিবালয়)।
- দেশের সব ধরনের প্রশাসনিক নীতি ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়।
- আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সারা দেশে বাস্তবায়িত হয়।

• বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দ্বিতীয় স্তরটি হলো মাঠ প্রশাসন।
- মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলো বিভাগীয় প্রশাসন।
- দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে জেলা প্রশাসন।
- জেলার পর আছে উপজেলা প্রশাসন।
- উপজেলা প্রশাসন একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত।

-  মাঠ প্রশাসন মূলত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। কয়েকটি মন্ত্রণালয় নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রশাসন বা সচিবালয় গঠিত।
- প্রতি মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত আছে বিভিন্ন বিভাগ বা অধিদপ্তর।
- অধিদপ্তরের/দপ্তরের প্রধান হলেন মহাপরিচালক/পরিচালক। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।
৭১৪.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দ্বিতীয় স্তর- 
  1. সচিবালয়
  2. মাঠ প্রশাসন
  3. মন্ত্রণালয় 
  4. অধিদপ্তর 
ব্যাখ্যা

প্রশাসনিক কাঠামো: 
- বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো এর দুটি প্রধান স্তর আছে।
- প্রথম স্তরটি হলো কেন্দ্রীয় প্রশাসন (সচিবালয়)।
- দেশের সব ধরনের প্রশাসনিক নীতি ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়।
- আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সারা দেশে বাস্তবায়িত হয়।

• বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দ্বিতীয় স্তরটি হলো মাঠ প্রশাসন।
- মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলো বিভাগীয় প্রশাসন।
- দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে জেলা প্রশাসন।
- জেলার পর আছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসন একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মাঠ প্রশাসন মূলত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।

উল্লেখ্য,
- কয়েকটি মন্ত্রণালয় নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রশাসন বা সচিবালয় গঠিত।
- প্রতি মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত আছে বিভিন্ন বিভাগ বা অধিদপ্তর।
- অধিদপ্তরের/দপ্তরের প্রধান হলেন মহাপরিচালক/পরিচালক।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, ৬২ পৃষ্ঠা।

৭১৫.
বাংলাদেশের পদমর্যাদার মানক্রমে জাতীয় সংসদের স্পিকারের স্থান কততম?
  1. ক) প্রথম
  2. খ) তৃতীয়
  3. গ) চতুর্থ
  4. ঘ) দ্বিতীয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের পদমর্যাদার মানক্রমে জাতীয় সংসদের স্পিকারের স্থান তৃতীয়। অর্ডার অফ প্রেসিডেন্সি অনুযায়ী সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
৭১৬.
বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সমগ্র দেশকে কয়টি বিভাগে বিভক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) ৭ টি
  2. খ) ৮ টি
  3. গ) ৯ টি
  4. ঘ) ১০ টি
ব্যাখ্যা

কেন্দ্রের পরেই বাংলাদেশে বিভাগীয় প্রশাসনের স্থান। বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সমগ্র দেশকে ৮টি বিভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
যথা - ১. ঢাকা বিভাগ ২. চট্টগ্রাম বিভাগ ৩. রাজশাহী বিভাগ ৪. খুলনা বিভাগ ৫. বরিশাল বিভাগ ৬. সিলেট বিভাগ ৭. রংপুর বিভাগ ও ৮. ময়মনসিংহ বিভাগ।
বিভাগীয় প্রশাসনের শীর্ষে অবস্থান করেন বিভাগীয় কমিশনার।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি

৭১৭.
Chief Executive বলা হয় কাকে?
  1. ক) প্রধান বিচারপতি
  2. খ) রাষ্ট্রপতি
  3. গ) আইনমন্ত্রী
  4. ঘ) স্পিকার
ব্যাখ্যা
Chief Executive

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান ও নির্বাহী বিভাগের প্রধান। কারণ, বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮ (২) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,

“রাষ্ট্রপ্রধান (As Head of State) রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির উর্ধ্বে স্থান লাভ করবেন।"

এছাড়া সংবিধানের ৫৫(৪) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,

"সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হয়েছে বলে প্রকাশ করা হবে।"

আবার Warrant of Precedence অনুযায়ী ২৫টি স্তরের মধ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি হলেন বাংলাদেশের প্রথম ব্যক্তি। এ থেকে বোঝা যায় রাষ্ট্রপতি হলেন সরকার প্রধান অর্থাৎ Chief Executive।


তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ সংবিধান এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭১৮.
ডেপুটি স্পিকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. স্পিকার
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে শপথ পাঠ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- রাষ্ট্রপতি শপথ বাক্য পাঠ করান যাদের :
- প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার।

• প্রধান বিচারপতি শপথ বাক্য পাঠ করান যাদের:

- আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ।
- পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ।
- মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারবৃন্দ।

• স্পিকার শপথবাক্য পাঠ করান যাদের:
- রাষ্ট্রপতি, সংসদ সদস্যবৃন্দ।

 উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
৭১৯.
মন্ত্রণালয়ের মূখ্য হিসাব নিরীক্ষক কে?
  1. মন্ত্রী
  2. সচিব
  3. অতিরিক্ত সচিব
  4. উপসচিব
ব্যাখ্যা

মন্ত্রনালয়গুলোর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাঠামো:
- বাংলাদেশে মন্ত্রণালয়গুলোকে যৌথভাবে সচিবালয় বলা হয়।
১. মন্ত্রী - মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রধান। প্রত্যেক মন্ত্রণালয় দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে
থাকে।
২. সচিব - মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। সচিব মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মূখ্য হিসাব নিরীক্ষক।
৩. অতিরিক্ত সচিব - উপ-বিভাগের প্রধান।
৪. যুগ্ম-সচিব - উপ-বিভাগের প্রধান।
৫. উপসচিব - একাধিক শাখার প্রধান।
৬. সিনিয়র বা জেষ্ঠ সহকারী সচিব - শাখা বা সেকশন প্রধান।
৭. সহকারী সচিব - শাখা বা সেকশন প্রধান।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোজাম্মেল হক।

৭২০.
বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান (২০২৪) মহাপরিদর্শক (আইজিপি) কে?
  1. মো. ময়নুল ইসলাম
  2. আদিলুর রহমান খান
  3. চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন
  4. কে এম শহিদুর রহমান
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান (২০২৪) মহাপরিদর্শক (আইজিপি)
- পুলিশের ৩২তম মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুলের কমান্ড্যান্ট মো. ময়নুল ইসলাম।

- ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে ১২তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন ময়নুল ইসলাম। 
- ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের ডিআইজি পদমর্যাদার ১৪ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতি. আইজিপি) করা হয়।  
- তাদের মধ্যে সুপারনিউমারারি (সংখ্যাতিরিক্ত পদ) পদে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি পান ৫৮ বছর বয়সি ময়নুল ইসলাম।  
- এর আগে ২০১৮ সালে অতিরিক্ত ডিআইজি থেকে ডিআইজি হন তিনি।

পুলিশ প্রশাসন:
- পুলিশ প্রশাসন  অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার্থে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা।
-  বর্তমানে বাংলাদেশের পুলিশ প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হলেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (আইজিপি)।
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণে তিনি দেশের সকল পুলিশ বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করেন।
- তাকে পুলিশ সদর দপ্তরে সহযোগিতা করেন কয়েকজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা।
- সিভিল প্রশাসনিক ইউনিটের প্রত্যেক রেঞ্জে একজন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল নিয়োগ প্রাপ্ত হন। 
- বাংলাদেশে ছয়টি সিভিল রেঞ্জ ও একটি রেলওয়ে রেঞ্জ রয়েছে। প্রতিটি রেঞ্জে রয়েছেন একজন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল।
- এছাড়া বিভাগীয় মহানগর পুলিশ কমিশনার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইডি) প্রশাসনিক প্রধান, স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান এবং সারদা একাডেমীর প্রধানের পদবী অতিরিক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ।
- জেলা পর্যায়ে সকল পুলিশের প্রশাসন পরিচালক হলেন জেলা পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট। সার্কেলের প্রশাসন পরিচালনা করেন একজন সহকারি পুলিশ সুপার। 

উৎস: পুলিশ হেডকোয়ার্টাস ও বাংলাপিডিয়া।
৭২১.
সুপ্রিম কোর্টে বিচারক হতে হলে অ্যাডভোকেট হিসেবে ন্যূনতম কত বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়?
  1. ৬ বছর
  2. ৯ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
• সুপ্রীম কোর্টের গঠন:
- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের নাম হলো সুপ্রীম কোর্ট।
- এই আদালতের প্রধান হলেন প্রধান বিচারপতি।
- সুপ্রীম কোর্টে দুটি বিভাগ রয়েছে—হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ।
- প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন।
- এরপর প্রধান বিচারপতির পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রীম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগ প্রদান করেন।
- কোনো বাংলাদেশি নাগরিক যদি ১০ বছর এডভোকেট হিসেবে কাজ করেন অথবা বিচার বিভাগীয় কোনো পদে ১০ বছর চাকরি করেন, তবে তিনি সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ লাভের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হন।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২২.
জাতীয় সংসদে সর্বোচ্চ কত শতাংশ মন্ত্রী সংসদ সদস্য না হয়েও নিযুক্ত হতে পারেন?   
  1. ৫%
  2. ৮%
  3. ১০%
  4. ১৫%
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৬(২) অনুযায়ী বলা হয়েছে:
- "প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদিগকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, তাঁহাদের সংখ্যার অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ-সদস্যগণের মধ্য হইতে নিযুক্ত হইবেন এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে মনোনীত হইতে পারিবেন।"
- অর্থাৎ কমপক্ষে ৯০% (নয়-দশমাংশ) মন্ত্রী হতে হবে সংসদ সদস্য। 
- বাকী সর্বোচ্চ ১০% (এক-দশমাংশ) মন্ত্রী হতে পারেন সংসদ সদস্য না হলেও, তবে তাঁদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য হতে হবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

৭২৩.
রাজনৈতিক দল এবং চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উভয়েই কোন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত?
  1. রাজনৈতিক প্রক্রিয়া
  2. সামাজিক প্রক্রিয়া
  3. অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া
  4. রাষ্ট্র পরিচালনা প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
 - রাজনৈতিক দল এবং চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উভয়েই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত।
- উভয়েই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নির্ধারক।
- উভয়েই রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে নিজেদের দাবি ও মনোভাব ব্যক্ত করে।
- রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী উভয়ই স্বার্থের সংহতি সাধনের সাথে জড়িত।
- উভয়েই রাজনৈতিক নিয়োগ বা রাজনৈতিক ভূমিকায় নাগরিকদের অবতীর্ণ করানোর দায়িত্ব বহন করে।
- রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারা উভয়ের মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়।
- বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংরক্ষণ বা পরিবর্তন, গণ-সংযোগ সাধন, তথ্য সরবরাহ, জনমত গঠন, সরকারের সমালোচনা ইত্যাদির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কার্যক্রমে সাদৃশ্য দেখা যেতে পারে।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৪.
বাংলাদেশের আইনসভার মোট সদস্যসংখ্যা কত?
  1. ৩০০ জন
  2. ৩৫০ জন
  3. ২৭০ জন
  4. ৩২০ জন
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের আইনসভা:
- সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে আইনসভা অন্যতম।
- বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ।
- এটি এক কক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদের মোট সদস্যসংখ্যা ৩৫০।
- এর মধ্যে ৩০০ জন সদস্য জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন ।
- এবং অবশিষ্ট ৫০টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। 
- বাংলাদেশকে মোট ৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় ভাগ করা হয়েছে।
- এ সকল নির্বাচনী এলাকা থেকে নাগরিকদের প্রত্যক্ষ ভোটে একজন করে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন।
- নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যার আনুপাতিক হারে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যরা সাধারণ আসনে নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন।
- তবে মহিলা সদস্যগণ ইচ্ছা করলে ৩০০ আসনের যে কোনোটিতে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমেও নির্বাচিত হতে পারেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭২৫.
বাংলাদেশের কোন জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু হয়?
  1. ক) অষ্টম
  2. খ) সপ্তম
  3. গ) চতুর্থ
  4. ঘ) পঞ্চম
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সপ্তম জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু হয়।

• জাতীয় সংসদ:
- ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় লাভ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।
- এ সপ্তম জাতীয় সংসদে সর্বপ্রথম প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু করা হয়।
- সংসদের অধিবেশন চলাকালে সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে সংসদ সদস্যগণ প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং তিনি তার জবাব দেন।
- প্রথম দিকে এ প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য সময় বরাদ্দ ছিল ১৫ মিনিট।
- পরে তা বাড়িয়ে ৩০ মিনিট করা হয়।
- সরকারি দলের সদস্যদের জন্য ১৫ মিনিট এবং বিরোধী দলের সদস্যদের জন্য ১৫ মিনিট ধার্য করা হয় ।

উৎস: জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট।
৭২৬.
নির্বাচিত হবার পর কোন সংসদ সদস্যের অযোগ্যতা প্রকাশ পেলে তার সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে-
  1. ক) জাতীয় সংসদ
  2. খ) নির্বাচন কমিশন
  3. গ) সুপ্রিমকোর্ট
  4. ঘ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৬৬ নং অনুচ্ছেদের ৪ নং দফা অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হবার পর যদি কোন সংসদ সদস্যের ৬৬ (২) দফায় বর্ণিত কোন অযোগ্যতা প্রকাশ পায়, সেক্ষেত্রে তা নিষ্পত্তির জন্যে নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করা হয় এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই এক্ষেত্রে চূড়ান্ত বলে গণ্য।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
৭২৭.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মনোগ্রামে কতটি তারকা চিহ্ন রয়েছে?
  1. ক) ৪ টি
  2. খ) ৫ টি
  3. গ) ৬ টি
  4. ঘ) ২ টি
ব্যাখ্যা


বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম - লাল রঙের বৃত্তের মাঝে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র।
বৃত্তের উপর দিকে লেখা 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নিচে লেখা 'সরকার' এবং বৃত্তের দু'পাশে দু'টি করে মোট চারটি তারকা।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের ডিজাইনার এ এন সাহা।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭২৮.
উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন কে?
  1. বিভাগীয় কমিশনার
  2. জেলা প্রশাসক
  3. উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
  4. উপজেলা চেয়ারম্যান
ব্যাখ্যা

উপজেলা প্রশাসন:
- উপজেলা প্রশাসন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বশেষ স্তর।
- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা প্রশাসনের মধ্যমণি এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
- ২০০৮ সালের জারিকৃত অধ্যাদেশ অনুযায়ী তিনি উপজেলা পরিষদের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

• স্থানীয় প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধান:-
- উপজেলা প্রশাসন -UNO বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
- বিভাগীয় প্রশাসন - Divisional Commissioner বা বিভাগীয় কমিশনার
- জেলা প্রশাসন - Deputy Commissioner বা ডিসি বা জেলা প্রশাসক।

• একটি জেলার মধ্যে সকল ধরনের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা, কর আদায় এবং উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনার দায়দায়িত্ব বর্তায় জেলা প্রশাসনের হাতে।
- একজন ডেপুটি কমিশনার জেলা প্রশাসনের প্রধান।
- ডেপুটি কমিশনার বা জেলা প্রশাসক হল জেলা প্রশাসনের প্রাণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭২৯.
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি সন্নিবেশিত হয়েছে বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ক) ১২২
  2. খ) ১১৮
  3. গ) ১৩৭
  4. ঘ) ১১৭
ব্যাখ্যা
- প্রজাতন্ত্রের  কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিবর্গের চাকুরি সংক্রান্ত বিষয়াদি, অর্থদন্ড বা অন্য দন্ডের বিষয়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল নিস্পত্তি করে থাকে।
-  এ আদালতের এখতিয়ার রয়েছে এমন কোন বিষয়ে অন্য কোন আদালত কোন কার্যক্রম  গ্রহণ বা রায় দিতে পারে না। 
- অনুচ্ছেদ ১১৭(২) অনুযায়ী কোন ক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদের অধীন কোন প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠিত হলে অনুরূপ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের অন্তর্গত কোন বিষয়ে অন্য কোন আদালত কোনরূপ কার্যধারা গ্রহণ করবেন না বা কোন আদেশ প্রদান করবেন না।
- বিদ্যমান বিচার কাঠামো ছাড়াও জাতীয় সংসদ আইনের মাধ্যমে আরও এক বা একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন বা বিলোপ করতে পারে।
- সংসদ আইনের দ্বারা কোন ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা বা অনুরূপ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীলের বিধান করতে পারবে।

উৎস:- বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৩০.
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন -
  1. ওবায়দুল হাসান
  2. সৈয়দ রেফাত আহমেদ
  3. আবু মোস্তফা কামাল
  4. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ছিলেন। 

⇒ বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হয় ১ নভেম্বর ২০০৭ সালে।
- ২০০০ সালের ২৮ মে মাসে উচ্চ আদালতে প্রথমবারের মতো নিয়োগ পান নারী বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।
- হাইকোর্টের ব্রেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি।
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি।
- বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বয়সসীমা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ বছর।
-  সংবিধানের প্রণয়নকালে বিচারপতিদের চাকরির বয়সসীমা ছিল ৬২ বছর।
- দেশে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় ২৮ জানুয়ারি ২০১৩ সালে।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।
- বাংলাদেশের বর্তমান ২৫তম প্রধান বিচারপতি হলেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ
 
উল্লেখ্য, 
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে, সুপ্রীম কোর্ট দুটি বিভাগ নিয়ে গঠিত:
১. আপীল বিভাগ
২. হাইকোর্ট বিভাগ

আপীল বিভাগের এখতিয়ার
১. আপীল শুনানি: সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগের রায়, আদেশ বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল শুনানির এখতিয়ার আপীল বিভাগের রয়েছে।
- বিশেষ ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ যদি সার্টিফিকেট প্রদান করে যে মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ আইন বা সংবিধান ব্যাখ্যার প্রশ্নে জড়িত, তখন আপীল করা যাবে।
২. পরোয়ানা জারি: ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে, আপীল বিভাগ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আদেশ বা রিট জারি করতে পারে।
৩. পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা: ১০৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত, আপীল বিভাগ তার রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনার এখতিয়ার রাখে।
৪. উপদেষ্টামূলক ক্ষমতা: ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি আইনি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে আপীল বিভাগের মতামত চাইতে পারেন।
৫. বিধি প্রণয়ন ক্ষমতা: সুপ্রীম কোর্ট রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে আদালতের রীতি ও পদ্ধতি নির্ধারণে বিধি প্রণয়ন করতে পারে।

হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার
১. আদি এখতিয়ার: সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৌলিক অধিকার রক্ষায় হাইকোর্ট বিভাগ রিট জারি করতে পারে।
- কোম্পানি আইন, ১৯৯৪; বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯ ইত্যাদির অধীনে আদি এখতিয়ার প্রয়োগ করা হয়।
২. আপীল শুনানি: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮; দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর অধীনে আপীল শুনানির ক্ষমতা রাখে।
৩. পুনঃনিরীক্ষণের ক্ষমতা: অধস্তন আদালতের রায় বা আদেশ পুনঃপরীক্ষার এখতিয়ার রয়েছে।
৪. তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা: সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে, হাইকোর্ট বিভাগ অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম তদারকি করতে পারে।
৫. মামলা স্থানান্তর: সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে, হাইকোর্ট বিভাগ তার অধীনস্থ আদালত থেকে মামলা সরাসরি স্থানান্তর করতে পারে।

তথ্যসূত্র: সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ সংবিধান ও বিবিসি বাংলা নিউজ। [লিঙ্ক] 

৭৩১.
জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির সংখ্যা-
  1. ক) ৩৯টি
  2. খ) ৪১টি
  3. গ) ৫০টি
  4. ঘ) ১১টি
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির সংখ্যা ৫০টি। মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সংখ্যা ৩৯টি এবং সংসদ সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সংখ্যা ১১টি।
উৎসঃ জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
৭৩২.
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কে? [জুন,২০২৫]
  1. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ
  2. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  3. আদিলুর রহমান খান
  4. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
ব্যাখ্যা
অন্তর্বতী সরকারের উপদেষ্টা:
- অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা: ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

• ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ- অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
• ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ: পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
• আসিফ নজরুল: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়,
-  প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় 
• মোঃ তৌহিদ হোসেন: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
- আদিলুর রহমান খান: শিল্প মন্ত্রণালয় ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
• মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান: 
- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়,
- সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।
- রেলপথ মন্ত্রণালয়।

উৎস: প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
৭৩৩.
সংবিধানের কোন ভাগে রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা, ক্ষমতা ও কার্যাবলি নির্ধারিত আছে?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
- বাংলাদেশ সরকারের যাবতীয় কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদিত হয়।
- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ ভাগের ১ম পরিচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা, ক্ষমতা ও কার্যাবলি নির্ধারিত আছে
- রাষ্ট্রপতি দেশের প্রধান নির্বাহী; কিন্তু অলঙ্কারিক প্রধান।
- রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব পালনের অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করতে হয়।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পাঁচ বছরের জন্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন।
- রাষ্ট্রবিরুদ্ধ কর্মকান্ডের জন্য সংসদ রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের মুখোমুখি করতে পারে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮ (৪) অনুসারে পঁয়ত্রিশ বছর বয়স্ক বাংলাদেশের যেকোন নাগরিক নির্দিষ্ট আইনের আওতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন।
- তাঁকে অবশ্যই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।
- এছাড়া এই সংবিধানের আওতায় তিনি কখনও এই পদ থেকে অপসারিত হননি এই শর্তটিও পূরণ করতে হবে।
- উল্লেখ্য যে, রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়ে তিনি কখনই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে নানাবিধ ক্ষমতা প্রদান করেছে -
- শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতা,
- সংসদ ও আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত ক্ষমতা,
- বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা,
- অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা,
- প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ক্ষমতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৪.
“চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন এক সংগঠিত সামাজিক গোষ্ঠী, যা সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের আচরণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।” - কার সংজ্ঞা?
  1. ক) এস. ই. ফাইবার
  2. খ) এইচ. জিগলার
  3. গ) অ্যালান আর. বল
  4. ঘ) আলফ্রেড গ্রাজিয়ার
ব্যাখ্যা

- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সম্পর্কে উল্লেখিত সংজ্ঞাটি প্রদান করেছেন - আলফ্রেড গ্রাজিয়ার।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বেসরকারি সংগঠন যা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও স্বার্থ অর্জনের জন্য কাজ করে এবং সরকারের নীতি ও আচরণকে প্রভাবিত করে।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর (১ম) বোর্ড বই।

৭৩৫.
পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি যে পরিষদের কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত-
  1. ক) এনইসি
  2. খ) বিসিইসি
  3. গ) নিকার
  4. ঘ) একনেক
ব্যাখ্যা
এনইসি হচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এনইসি কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদনের জন্য সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ- এনইসি। জাতীয় অর্থনীতির নীতি নির্ধারণের সর্বোচ্চ ফোরাম- একনেক। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি হলো- নিকার।
উৎসঃ অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৭৩৬.
বাংলাদেশের জাতীয় শিশুনীতি অনুসারে শিশুর বয়স সীমা কত?
  1. ০-১৮ বছর
  2.  ০-৮ বছর
  3.  ১-২০ বছর
  4. ০-১২ বছর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জাতীয় শিশুনীতি অনুসারে,

• শিশুর সংজ্ঞা:
• শিশু: শিশু বলতে আঠারো বছরের কম বয়সী বাংলাদেশের সকল ব্যক্তিকে বুঝাবে।
• কিশোর কিশোরী: কিশোর কিশোরী বলতে ১৪ বছর থেকে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদেরকে বুঝাবে।

• জাতীয় শিশুনীতি - ২০১১:
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ফেব্রুয়ারী, ২০১১ সালে জাতীয় শিশুনীতি প্রবর্তন করেন।

• পরিধি:
জাতীয় শিশু নীতি বাংলাদেশের নাগরিক সকল শিশুর ক্ষেত্রে বৈষম্যহীনভাবে প্রযোজ্য হবে।

• মূলনীতি:
-  বাংলাদেশের সংবিধান, শিশু আইন ও আন্তর্জাতিক সনদসমূহের আলোকে শিশু অধিকার নিশ্চিতকরণ।
- শিশু দারিদ্র বিমোচন।
- শিশুর প্রতি সকল প্রকার নির্যাতন ও বৈষম্য দূরীকরণ।
- কন্যা শিশুর প্রতি সকল প্রকার নির্যাতন ও বৈষম্য দূরীকরণ।
- শিশুর সার্বিক সুরক্ষা ও সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে শিশুদের অংশগ্রহণ ও মতামত গ্রহণ।

উৎস: জাতীয় শিশুনীতি - ২০১১।

৭৩৭.
”স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশ” নাগরিকের কী ধরনের অধিকার?
  1. রাজনৈতিক অধিকার
  2. অর্থনৈতিক অধিকার
  3. নৈতিক অধিকার
  4. সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা

• নাগরিকের আইনগত অধিকার:
- যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত,সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে। আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- ক. সামাজিক খ. রাজনৈতিক ও গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

• সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি।
যেমন-
- জীবন রক্ষার,
- স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশের,
- পরিবার গঠনের,
- শিক্ষার,
- আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের,
- সম্পত্তি লাভের;
- ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি।

• রাজনৈতিক অধিকার:
- নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সকল প্রকার অভাব-অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

• অর্থনৈতিক অধিকার:
- জীবনধারণ করা এবং জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে।
যেমন-
- যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার,
- ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার,
- অবকাশ লাভের অধিকার,
- শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার।

উৎস : পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৭৩৮.
বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কয় স্তরবিশিষ্ট?
  1. ১ স্তর
  2. ২ স্তর
  3. ৩ স্তর
  4. ৪ স্তর
ব্যাখ্যা
স্থানীয় সরকার ও স্থানীয় স্বায়ত্বশাসন:
- স্থানীয় সরকার বলতে স্থানীয় জনগণের ভোটে নির্বাচিত স্বশাসনের অধিকারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে থাকে।
- স্থানীয় সরকারের নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য থাকার কথা বলা হয়, যার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে স্বায়ত্বশাসন।
- সুতরাং স্থানীয় সরকার বলতে মূলত স্থানীয় স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানকেই বোঝানো হয়।
- বাংলাদেশে শহরের জন্য দুই স্তর বিশিষ্ট ও গ্রামাঞ্চলে তিন স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো রয়েছে।
- শহুরে স্থানীয় সরকার: সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা।
- পল্লী স্থানীয় সরকার: জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ।

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৯.
স্থানীয় সরকার কাঠামোর সর্বশেষ স্তর- 
  1. জেলা পরিষদ 
  2. উপজেলা পরিষদ
  3. থানা পরিষদ
  4. ইউনিয়ন পরিষদ
ব্যাখ্যা

- স্থানীয় সরকার কাঠামোর সর্বশেষ স্তর- ইউনিয়ন পরিষদ।

• স্থানীয় সরকার:

- স্থানীয় সরকার হলো রাষ্ট্রের ভৌগলিক অবস্থানের ভিত্তিতে বিভক্ত করা ক্ষুদ্রতর শাসন কাঠামো।
- এটি হল কেন্দ্রীয় সরকারের বর্ধিত ও সহায়ক অংশ।
- স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হয়।
- স্থানীয় প্রশাসন কেন্দ্রিয় সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমিকা পালন করে।
- বাংলাদেশে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- এ স্তরগুলো হল: জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, এবং ইউনিয়ন পরিষদ।
- গ্রাম বা এর নিকটবর্তী হল ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ।
- ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকার কাঠামোর সর্বশেষ ও কার্যকরী স্তর বলে বিবেচিত।

উলেখ্য,
- শহরে পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন রয়েছে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদ রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিশেষ স্থানীয় সরকারের পাশাপাশি পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন রয়েছে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭৪০.
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ১৭ তম স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পান কে?
  1. মাসুদ বিন মোমেন
  2. মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত
  3. মো. জসীম উদ্দীন
  4. সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]
----------------------- 
• জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পান — সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।

• জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি: 
- নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীকে সরকার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
- তিনি সেখানে মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
- বিসিএস (পররাস্ট্র ক্যাডার) ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন নোমান ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর থেকে কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

সূত্র- প্রথম আলো (২১ অক্টোবর ২০২৪)।
৭৪১.
মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে-
  1. ক) ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল
  2. খ) ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল
  3. গ) ১৯৭১ সালের ২৭ এপ্রিল
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 
- এ সরকারের সদর দপ্তর প্রথম স্থাপিত হয় মুজিবনগরে (মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা)।
-পরবর্তীকালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রধানত নিরাপত্তা এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানের সুবিধার্থে এ সরকারের প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তর হয়।
- এ সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে বৈদ্যনাথতলার নতুন নামকরণ হয় মুজিবনগর এবং অস্থায়ী সরকারও পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।

তথ্যসূত্র: - ইতিহাস তৃতীয় পত্র, BA & BSS প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪২.
বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. মন্ত্রণালয়
  2. সিটি কর্পোরেশন
  3. সচিবালয়
  4. বিভাগীয় প্রশাসন
ব্যাখ্যা

• স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন :
- স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জনগণের স্বশাসনকে বুঝায়।
- সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা তা পরিচালিত হয়। প্র
- তিনিধিরা তাঁদের কাজের জন্য জনগণের নিকট দায়ী থাকেন।

• বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-
- ইউনিয়ন পরিষদ,
- উপজেলা পরিষদ,
- জেলা পরিষদ,
- পৌরসভা,
- সিটি কর্পোরেশন,
- পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।

৭৪৩.
বাংলাদেশ কয়টি মূল প্রশাসনিক অঞ্চল এ বিভিক্ত?
  1. ৮টি
  2. ৬টি
  3. ১২টি
  4. ৬৪টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিচিতি:
- বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ।
- এই দেশের ভূখণ্ডগত বিস্তৃতি ১৪৭, ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার, যা গ্রীসের চাইতে সামান্য বড়। 
- বাংলাদেশ ৮টি মূল প্রশাসনিক অঞ্চল সমন্বয়ে গঠিত, যা বিভাগ নামে পরিচিত। এগুলো হলো বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং রংপুর বিভাগ।
- এসকল বিভাগের অধীনে রয়েছে ৬৪টি জেলা এবং এই ৬৪টি জেলাকে বিভক্ত করা হয়েছে মোট ৪৯৫টি উপজেলায়।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩২ টি।
- ভারতের সাথে ৩০টি ও মিয়ানমারের সাথে ৩টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- রাঙ্গামাটি জেলার সাথে উভয় দেশের সীমান্ত রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের মোট সীমান্ত - ৫১৩৮ কিমি।
- উপকূলীয় সীমানা - ৭১১ কিমি।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের সাথে সীমান্তদৈর্ঘ্য - ৪১৫৬ কিমি।
- ভারতের ৫ টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমানা রয়েছে।
-  মিয়ানমারের সীমান্তদৈর্ঘ্য ২৭১ কিমি।
- মিয়ানমারের আরাকান ও চিন; এই দুই রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমানা রয়েছে।

তথ্যসূত্র- জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭৪৪.
বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের কত তারিখে?
  1. ১০ এপ্রিল
  2. ১৭ এপ্রিল
  3. ২৬ মার্চ
  4. ১৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার:
- ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ সরকার 'মুজিবনগর সরকার' নামেই বেশি পরিচিত। 
- অনেকে একে প্রবাসী সরকার বলেন। 
- তবে এ সরকারকে বাংলাদেশ সরকার বা মুজিবনগর সরকার বলাই শ্রেয়। 
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- মুজিবনগর সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
• রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
• উপরাষ্ট্রপতি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
• প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ। 
• অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: এম মনসুর আলী।
• স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী: এএইচএম কামারুজ্জামান।
• পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমদ।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র: তৃতীয় খণ্ড।
৭৪৫.
উপজেলা পরিষদে ভাইস চেয়ারম্যান কতজন?
  1. ২জন
  2. ৩জন
  3. ১জন
  4. ৪জন
ব্যাখ্যা
• উপজেলা পরিষদ:
- উপজেলা পরিষদ বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর।
- স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও স্বায়ত্তশাসনের অধিকার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এটি গঠিত হয়।
- বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলায় মোট ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে।

• ইতিহাস ও আইনগত ভিত্তি:
- উপজেলা ব্যবস্থা প্রথম চালু হয়: ১৯৮২ সালে
- স্থায়িত্ব না পাওয়ায় পরবর্তীতে এটি বিলুপ্ত হয়।
- পুনরায় প্রবর্তনের জন্য: উপজেলা পরিষদ (রহিত আইন পুনঃপ্রচলন ও সংশোধন) আইন, ২০০৯ পাশ হয় (তারিখ: ৬ এপ্রিল ২০০৯)

• উপজেলা পরিষদের গঠন:
- আইন অনুযায়ী উপজেলা পরিষদ নিম্নোক্ত সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়:
- চেয়ারম্যান – সরাসরি নির্বাচিত
- ২ জন ভাইস চেয়ারম্যান – একজন পুরুষ ও একজন নারী, সরাসরি নির্বাচিত
- ইউনিয়ন পরিষদের সকল চেয়ারম্যান
- পৌরসভার মেয়র (যদি উপজেলা এলাকায় পৌরসভা থাকে)
- সংরক্ষিত নারী সদস্যগণ – ইউনিয়ন ও পৌরসভার নারী প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে নির্বাচিত

- নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন:
- ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার মোট সদস্য সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ নারীদের জন্য সংরক্ষিত।
- সংশ্লিষ্ট নারী সদস্য বা কাউন্সিলরগণ নিজেদের মধ্য থেকে এসব আসনে নির্বাচন করেন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪৬.
কোন পদটি সাংবিধানিক পদ নয়?
  1. প্রধান নির্বাচন কমিশনার
  2. চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন
  3. চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
  4. মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
ব্যাখ্যা

⇒ চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সাংবিধানিক পদ নয়।

সাংবিধানিক পদ:
- সংবিধান হলো প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন।
- সাংবিধানিক উপায়ে যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলে।
- সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা, পদের মেয়াদ, পদমর্যাদা, পদত্যাগ ও অপসারণ পদ্ধতি এবং দায়িত্ব সংবিধানে সুনির্দিষ্ট ও সুষ্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

⇒ সাংবিধানিক পদ:
• রাষ্ট্রপতি
• স্পিকার
• প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীগণ
• ডিপুটি স্পিকার
• প্রধান বিচারপতি
• সংসদ সদস্য
• প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার
• মহা-হিসাব রক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
• সরকারী কর্ম- কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭৪৭.
সরকারি বিল উত্থাপনের জন্য প্রয়োজন হয় -
  1. ক) ৭ দিন
  2. খ) ৯ দিন
  3. গ) ১৫ দিন
  4. ঘ) ২০ দিন
ব্যাখ্যা
- আইনের প্রাথমিক প্রস্তাবকে সংসদীয় ভাষায় বিল বলা হয়।
- আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে সংসদে আনীত প্রত্যেকটি প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হয়।
- জাতীয় সংসদে উত্থাপিত আইনের খসড়াকে বিল বলে।
- বিল দুই প্রকার। যথা- সরকারি বিল ও বেসরকারি বিল।

- যে বিল সাধারণ সংসদ সদস্যদের দ্বারা উত্থাপিত হয় তাকে বেসরকারি বিল - বলে।
- বেসরকারি বিল উত্থাপনের জন্য ১৫ দিনের নোটিশ প্রয়োজন হয়।
- সরকারি বিল উত্থাপনের জন্য ৭ দিন সময়।
- যে বিল মন্ত্রীদের দ্বারা উত্থাপিত হয় তাকে সরকারি বিল বলে।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭৪৮.
নিচের কোনটি স্থানীয় প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. জেলা প্রশাসন
  2. বিভাগীয় প্রশাসন
  3. উপজেলা প্রশাসন
  4. জেলা পরিষদ
ব্যাখ্যা
 ’জেলা পরিষদ’ স্থানীয় প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত নয় কারণ  এটি একটি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠান ।

- স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জনগণের স্বশাসনকে বুঝায়। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা তা পরিচালিত হয়।
----------------------------------------------
• স্থানীয় প্রশাসন: 
- স্থানীয় শাসন বলতে সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ের তথা বিভাগ,জেলা এবং উপজেলা শাসন ব্যবস্থাকে বুঝায়। প্রশাসনের সুবিধার্থে এর সৃষ্টি।
- এ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় শাসন ও নিয়ন্ত্রণকে নিম্নস্তর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়।
- কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, রাজস্ব আদায় ও সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নই এর মুখ্য উদ্দেশ্য।
- স্থানীয় শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিবৃন্দ সরকারের এজেন্ট বা প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য।

• স্থানীয় প্রশাসনগুলো হলো:

• বিভাগীয় প্রশাসন:
বাংলাদেশে আটটি বিভাগ আছে। প্রতিটি বিভাগের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন বিভাগীয় কমিশনার।

• জেলা প্রশাসন:
- জেলা প্রশাসন মাঠ বা স্থানীয় প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর।
- এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন জেলা প্রশাসক।
- দেশের সব জেলায় একজন করে জেলা প্রশাসক আছেন।
- তাঁকে কেন্দ্র করে জেলার সকল সরকারি কাজ পরিচালিত হয়।

• উপজেলা প্রশাসন:
- উপজেলার প্রধান প্রশাসক হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
- উপজেলার প্রশাসনিক কাজ তদারক করা তাঁর অন্যতম দায়িত্ব।
- এছাড়া তিনি উপজেলার সকল উন্নয়নকাজ তদারক করেন ও সরকারি অর্থের ব্যয় তত্ত্বাবধান করেন।
- তিনি উপজেলা উন্নয়ন কমিটির প্রধান।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৭৪৯.
বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
  1. ক) শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) মোহাম্মদ উল্লাহ
  3. গ) আবু সাইদ চৌধুরী
  4. ঘ) ড. কামাল হোসেন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় রাষ্ট্রপতি ছিলেন আবু সাঈদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
উৎসঃ সহজ ভাষায় বাংলাদেশ সংবিধান : আরিফ খান।
৭৫০.
রাষ্ট্রের সকল ধরনের প্রশাসনিক কার্যাবলি সম্পাদন করে কোন বিভাগ?
  1. শাসন বিভাগ
  2. আইন বিভাগ
  3. বিচার বিভাগ
  4. রানৈতিক বিভাগ
ব্যাখ্যা
• শাসন বিভাগ:
- শাসন বিভাগ আইন বিভাগ কর্তৃক প্রণীত আইনকে বাস্তবায়ন করে।
- আইনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের ইচ্ছা প্রকাশ পায়। আর এ আইনকে কার্যকর করে শাসন বিভাগ।
- রাষ্ট্রের সকল ধরনের প্রশাসনিক কার্যাবলি শাসন বিভাগ সম্পাদন করে।
- শাসন বিভাগের দুইটি অংশ রয়েছে। যথা− রাজনৈতিক অংশ এবং অ-রাজনৈতিক অংশ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫১.
হাইকোর্টের বেঞ্চ গঠন করেন -
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. অ্যাটর্নি জেনারেল
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হয়: ১ নভেম্বর ২০০৭ সালে।
- ২০০০ সালের ২৮ মে মাসে উচ্চ আদালতে প্রথমবারের মতো নিয়োগ পান নারী বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।
- হাইকোর্টের বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি।
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি।
- বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বয়সসীমা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ বছর।
- সংবিধানের প্রণয়নকালে বিচারপতিদের চাকরির বয়সসীমা ছিল ৬২ বছর।
- দেশে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় ২৮ জানুয়ারি ২০১৩ সালে।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।

উৎস: i) সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।
         ii) বাংলাদেশ সংবিধান।
৭৫২.
মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দকে শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা

সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:

রাষ্ট্রপতি শপথ বাক্য পাঠ করান:
- প্রধানমন্ত্রী।
- প্রধান বিচারপতি।
- মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ।
- স্পিকার।
- ডেপুটি স্পিকার।

প্রধান বিচারপতি শপথ বাক্য পাঠ করান:
- আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ।
- পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ।
- মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারবৃন্দ।

স্পিকার শপথবাক্য পাঠ করান:
- রাষ্ট্রপতি।
- সংসদ সদস্যবৃন্দ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ সংবিধান।

৭৫৩.
SPARRSO কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৭৮
  2. খ) ১৯৭৯
  3. গ) ১৯৮০
  4. ঘ) ১৯৮২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র হলো SPARRSO (Space Research and Remote Sensing Organisations)।
এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার সাভারে অবস্থিত।
(সূত্রঃ SPARSO ওয়েবসাইট)
৭৫৪.
কে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নিয়োগ দিয়ে থাকেন?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিল
  4. জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট:
- হাইকোর্টের ব্রেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি। 
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি। 
- সংবিধানের প্রণয়নকালে বিচারপতিদের চাকরির বয়সসীমা ছিল ৬২ বছর। 
- বর্তমানে ৯৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে।
- দেশে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় ২৮ জানুয়ারি ২০১৩ সালে। 
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।
- সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, আপীল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রীম কোর্ট গঠিত হবে।
- সুপ্রীম কোর্টের এই দুই বিভাগের পৃথক এখতিয়ার রয়েছে।

আপীল বিভাগের এখতিয়ার:
সংবিধান আপীল বিভাগকে নিম্নলিখিত এখতিয়ার প্রদান করেছে:

ক) আপীলের এখতিয়ার: সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ডিক্রী, আদেশ বা দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল শুনানী ও তা নিষ্পত্তির এখতিয়ার আপীল বিভাগের থাকবে। 

খ) আপীল বিভাগের পরোয়ানা জারী ও নির্বাহ: সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের অধীন কোন ব্যক্তির হাজিরা বা দলিলপত্র উদ্ঘাটন বা দাখিল করার আদেশসহ আপীল বিভাগের নিকট বিচারাধীন যে কোন মামলা বা বিষয়ে সম্পূর্ণ ন্যায় বিচারের জন্য যেরূপ প্রয়োজনীয় হতে পারে, আপীল বিভাগ সেরূপ নির্দেশ, আদেশ, ডিক্রী বা রীট জারী করতে পারে।

গ) পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা: সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, সংসদের যে কোন আইনের বিধানাবলী এবং আপীল বিভাগ কর্তৃক প্রণীত যে কোন বিধি সাপেক্ষে আপীল বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত কোন রায় বা প্রদত্ত আদেশ পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা উক্ত বিভাগের থাকবে। 

ঘ) উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার

ঙ) সুপ্রীম কোর্টের বিধি প্রণয়ন ক্ষমতা: সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইন সাপেক্ষে, সুপ্রীম কোর্ট রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে প্রত্যেক বিভাগের এবং অধস্তন যে কোন আদালতের রীতি ও পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিধি প্রণয়ন করতে পারে।

হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার
সংবিধানের ১০১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, সংবিধান বা যে কোন আইনের দ্বারা হাইকোর্ট বিভাগের উপর যেরূপ আদি, আপীল ও অন্য প্রকার এখতিয়ার ও ক্ষমতা অর্পন করা হবে উক্ত বিভাগের সেরূপ এখতিয়ার ও ক্ষমতা থাকবে।

ক) আদি এখতিয়ার: হাইকোর্ট বিভাগের আদি এখতিয়ার বলতে সেই এখতিয়ারকে বোঝায় যেখানে এটি প্রথম বিচারাদালত হিসেবে একটি মামলা বা মোকদ্দমার শুনানী করতে পারে। 

খ) আপীলের এখতিয়ার: যেকোনো আইন যেকোনো বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগকে এখতিয়ার প্রদান করতে পারে। 

গ) পুনঃনিরীক্ষণের এখতিয়ার: হাইকোর্ট বিভাগ তার অধীনস্ত আদালতের সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করতে পারে।

(খ) ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৪৩৯ ধারা হাইকোর্ট বিভাগকে তার অধীনস্ত আদালতের ফৌজদারী বিষয়গুলির পুনঃনিরীক্ষণের এখতিয়ার প্রদান করেছে। 

ঘ) পুনর্বিবেচনার এখতিয়ার: দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১১৪ ধারা হাইকোর্ট বিভাগকে পুনর্বিবেচনার এখতিয়ার প্রদান করেছে। 

ঙ) অধস্তন আদালতসমূহের উপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের এখতিয়ার: সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন সকল আদালত ও ট্রাইব্যুনালের উপর উক্ত বিভাগের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা থাকবে।

চ) অধস্তন আদালত থেকে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা স্থানান্তর

লয়াজিমা আদালত:
মাননীয় রেজিস্ট্রার মহোদয় লয়াজিমা আদালতের সভাপতিত্ব করেন। এ আদালত মামলাগুলি শুনানীর জন্য প্রস্তুত করার পদ্ধতিগত বিষয় নিয়ে কাজ করে।

উৎস: i) বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ওয়েবসাইট।
ii) Legislative and Parliamentary Affairs Division, Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs
৭৫৫.
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি হলো - 
  1. নিকার
  2. সরকারি কর্ম কমিশন 
  3. একনেক
  4.  জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

NICAR:
- NICAR-এর পূর্ণরূপ: National Implementation Committee for Administrative Reform.
- প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি হলো নিকার।
- ১৯৮২ সালের প্রশাসনিক পুনর্গঠন/সংস্কার কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গঠিত একটি স্থায়ী কমিটি।
- ১৯৮২ সালের আগস্ট মাসে তৎকালীন উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক রিয়ার এডমিরাল এম.এ খানকে সভাপতি করে এ কমিটি গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৭৫৬.
বাংলাদেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল কে?
  1. এ. এম. আমিন উদ্দিন
  2. মাহবুবে আলম
  3. মো. আসাদুজ্জামান
  4. মাহমুদুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
দেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল:
- বাংলাদেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন মো. আসাদুজ্জামান।
- তিনি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য,
- অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন পরামর্শক ও প্রধান আইন কর্মকর্তা।
- তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সরকারের প্রধান আইনজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
- সাধারণত জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মধ্য থেকে সরকার তাকে নিয়োগ দেয়।
- এ পদাধিকারবলে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সভাপতি হন।
- তাকে যুগ্ম অ্যাটর্নি জেনারেল, উপ অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা সহায়তা করেন।

সূত্র- অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ওয়েবসাইট।
৭৫৭.
মন্ত্রী পরিষদের প্রধান কে?
  1. স্পীকার
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. চীফ হুইপ
  4. মন্ত্রী পরিষদ সচিব
ব্যাখ্যা

• মন্ত্রী পরিষদের প্রধান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশে সংবিধানের ৫৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে,
- ৫৫। (১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী লইয়া এই মন্ত্রিসভা গঠিত হইবে। 
 
(২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তত্বে এই সংবিধান-অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে। 
 
(৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন। 
 
(৪) সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে। 
 
(৫) রাষ্ট্রপতির নামে প্রণীত আদেশসমূহ ও অন্যান্য চুক্তিপত্র কিরূপে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হইবে, রাষ্ট্রপতি তাহা বিধিসমূহ-দ্বারা নির্ধারণ করিবেন এবং অনুরূপভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত কোন আদেশ বা চুক্তিপত্র যথাযথভাবে প্রণীত বা সম্পাদিত হয় নাই বলিয়া তাহার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না। 
 
(৬) রাষ্ট্রপতি সরকারী কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করিবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৭৫৮.
বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয় কবে?
  1. ১৯৭৪ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৯০ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা

বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয় ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি।
এই আইনের অধীনে ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি ৬৮টি উপজেলায় বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তিত হয়।
পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি এই আইন সারাদেশে কার্যকর হয়।

(সূত্র: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাপিডিয়া)
৭৫৯.
বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন?
  1. ৯৪নং অনুচ্ছেদ
  2. ৯৫নং অনুচ্ছেদ
  3. ৯৬নং অনুচ্ছেদ
  4. ৯৭নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হয়: ১ নভেম্বর ২০০৭ সালে।
- সংবিধানের ৯৫নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শপূর্বক অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগ দেন।
- বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্যে ন্যূনতম দশ বছর সুপ্রিমকোর্টে অ্যাডভোকেট বা দেশের বিচার বিভাগীয় পদে দশ বছর নিযুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন আবু সাদাত মো. সায়েম।
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি হচ্ছেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
- ১১ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে তাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান, জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭৬০.
সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় আনুষ্ঠানিক প্রধান কে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. স্পিকার
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি একজন নিয়মতান্ত্রিক প্রধান (Constitutional Head)।
- সংবিধান অনুযায়ী দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রচলিত থাকায় রাষ্ট্রপতি নাম সর্বস্ব রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি মূলত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তবে সংবিধান অনুযায়ী তিনি দেশের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকারী। এর ফলে তিনি দেশের সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করেন।

অর্থাৎ, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি -
- আলংকারিক বা আনুষ্ঠানিক প্রধান,
- নামসর্বস্ব রাষ্ট্রপ্রধান, 
- সাংবিধানিক প্রধান, 
- নিয়মতান্ত্রিক প্রধান,

সূত্র:- বাংলাদেশ সংবিধান এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭৬১.
ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান নির্বাহী কে?
  1. ইউনিয়ন পরিষদ সচিব
  2. চেয়ারম্যান
  3. উপজেলা নির্বাহী অফিসার
  4. মেম্বার
ব্যাখ্যা

ইউনিয়ন পরিষদ -
- ইউনিয়ন পরিষদের সকল কাজের কেন্দ্রবিন্দু হলেন চেয়ারম্যান।
- তিনি পরিষদের প্রধান নির্বাহী, পরিষদের যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানের অনুমোদন দরকার হয়।
- স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর। মোট ১৩ জন নির্বাচিত প্রতিনিধির সমন্বয়ে ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত।
- এরা হলেন:
- ১ জন চেয়ারম্যান
- ৯ জন সাধারণ সদস্য
- ৩ জন নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী সদস্য।
- এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদে বেতনভুক্ত একজন সচিব থাকেন।
- ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদকাল ৫ বছর। অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সকল সদস্য ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।[লিংক]

৭৬২.
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে কবে?
  1. ক) ১৯৭১ সালের ১৭ মার্চ
  2. খ) ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল
  3. গ) ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। যা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

৭৬৩.
বাংলাদেশের মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ কোনটি?
  1. জেলা প্রশাসন
  2. উপজেলা প্রশাসন
  3. ইউনিয়ন প্রশাসন
  4. বিভাগীয় প্রশাসন
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো:
 - বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো স্তরভিত্তিক।
- এর দুটি প্রধান স্তর আছে।

• প্রথম স্তরটি হলো কেন্দ্রীয় প্রশাসন (সচিবালয়)।
- দেশের সব ধরনের প্রশাসনিক নীতি ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়।
- আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সারা দেশে বাস্তবায়িত হয়।

• বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দ্বিতীয় স্তরটি হলো মাঠ প্রশাসন।
- মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলো বিভাগীয় প্রশাসন।
- দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে জেলা প্রশাসন।
- জেলার পর আছে উপজেলা প্রশাসন।
- উপজেলা প্রশাসন একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত।

-  মাঠ প্রশাসন মূলত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। কয়েকটি মন্ত্রণালয় নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রশাসন বা সচিবালয় গঠিত।
- প্রতি মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত আছে বিভিন্ন বিভাগ বা অধিদপ্তর।
- অধিদপ্তরের/দপ্তরের প্রধান হলেন মহাপরিচালক/পরিচালক। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।

৭৬৪.
রাষ্ট্রপতির পদ শূণ্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার কত দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে?
  1. ৩০-৪৫ দিন
  2. ৪৫-৬০ দিন
  3. ৬০-৯০ দিন
  4. ৯০-১২০ দিন
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্রপতির পদ শূণ্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬০-৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি:

- রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধান।
- বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ অংশের ৪৮-৫৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধানাবলি বিধৃত হয়েছে।
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত।
- তিনি সংবিধান ও আইন বলে তাঁর উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব সম্পন্ন করেন।
- রাষ্ট্রপতি জারিকৃত আইনকে অধ্যাদেশ বলে।
- সরকারের যাবতীয় নির্বাহী কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদন করা হয়।
- সংসদ-সদস্যদের দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্যে নূন্যতম বয়স ৩৫ বছর।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৬৫.
"দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন"-এর প্রধান কে?
  1. ড. আবদুল মোমেন
  2. ড. বদিউল আলম মজুমদার
  3. ড. ইফতেখারুজ্জামান
  4. সফর রাজ হোসেন
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন:
- ৩ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান দুর্নীতি দমন কমিশনকে কার্যকর, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাবনার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনক্রমে "দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন" গঠন করা হয়েছে।

⇒ উক্ত কমিশনের প্রধান: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
- এছাড়াও উক্ত কমিশনের সদস্য- জনাব মাসুদ আহমেদ, অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম, অধ্যাপক মোস্তাক খান, জনাব মাহদীন চৌধুরী, ড. মাহবুবুর রহমান, জনাব ফারজানা শারমিন, ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধি।

অন্যদিকে,
- সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
- নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার।
- পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন।
- দুর্নীতি দমন কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
৭৬৬.
বর্তমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি দেশের কততম রাষ্ট্রপতি?
  1. ২০তম
  2. ২১তম
  3. ২২তম
  4. ২৩তম
ব্যাখ্যা
২২তম রাষ্ট্রপতি:

- বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন- মো. সাহাবুদ্দিন। 
- এ নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে একমাত্র প্রার্থী সাহাবুদ্দিনকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
- দুদকের সাবেক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।
- ১৯৪৯ সালে পাবনায় জন্মগ্রহণ করা মো. সাহাবুদ্দিন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
- ২০০৬ সালে তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসরে যান।
- ব্যক্তিজীবনে তিনি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু নামেই বেশি পরিচিত।
- পেশায় আইনজীবী মো. সাহাবুদ্দিন ১৯৮২ সালে বিসিএস (বিচার) ক্যাডারে যোগ দেন।
- বিচারকের বিভিন্ন পদে চাকরি শেষে ২০০৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর নেন।

তথ্যসূত্র - রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের ওয়েবসাইট। 
৭৬৭.
কোনটি রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কার্যাবলি?
  1. উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ
  2. মুদ্রাস্ফীতি রোধ
  3. বাজেট প্রণয়ন
  4. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্রের অপরিহার্য বা মুখ্য কার্যাবলি :
- অপরিহার্য বা মুখ্য কার্যাবলি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রে বসবাসরত জনগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্র যে সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেগুলোকে অপরিহার্য বা মুখ্য কাজ বলা হয়। রাষ্ট্রের অপরিহার্য
• কাজগুলো নিম্নরূপ:
- দেশ রক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন ও পরিচালনা ।
-  রাষ্ট্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ ও অন্যান্য আধা-সামরিক বাহিনী গড়ে তোলা।
- জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।
- বিদেশে অবস্থানরত দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সেবা প্রদান করা ইত্যাদি হচ্ছে রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিষয়ক অপরিহার্য কাজ।
- আইন প্রণয়ন, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের মৌলিক কাজ।
- অর্থ ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অর্থ সংগ্রহ ও বণ্টন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
 - রাষ্ট্র বাজেট প্রণয়ন,
- মুদ্রা প্রবর্তন ও মুদ্রা বিনিয়োগের ব্যবস্থা,
- গণনা ও পরিমাপের একক নির্ধারণ
- মুদ্রাস্ফীতি রোধ,
- নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে।

• রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কার্যাবলি :
- মহাসড়ক নির্মাণ,
- শিক্ষানীতি প্রণয়ন,
- রোগ প্রতিষেধক টিকা প্রদান।
 জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিশুদ্ধ পানীয়জলের সুব্যবস্থা।
- পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা,
- রোগ প্রতিরোধক ,
- প্রতিষেধক টিকা প্রদান,
 - যৌতুক ও বর্ণ বা গোত্রপ্রথা দূরীকরণ,
- বাল্যবিবাহ রোধ,
- জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ,
- কৃষিতে ভর্তুকি প্রদান,
- সার, বীজ, কীটনাশক সরবরাহ, সেচের ব্যবস্থা করা,
- খাদ্য গুদামজাতকরণ
- দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যথা: রাস্তাঘাট, সেতু, সড়ক, রেলপথ, নৌ-চলাচল, বিমান যোগাযোগ।
- গ্রামীণ উন্নয়ন, কালোবাজারি রোধ,
- খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ,
- নারী ও শিশু পাচার রোধ।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
৭৬৮.
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ) কবে গঠিত হয়?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৩ সালে
  4. ২০১৪ সালে
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ):
- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ) ২০১০ সালে গঠিত হয়।

⇒ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য বাংলাদেশে ২০১০ সালের মার্চে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে।
- সবশেষ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য পুনর্গঠন করে একই ট্রাইব্যুনাল।
- ২০১০ সালে গঠনের পর নানা আলােচনা এবং ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- 'The International Crimes (Tribunals) Act, 1973' আইনের অধীনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটক, গ্রেফতার, বিচার এবং সাজা দেওয়া হয়।
- ১৯৭৩ সালের এই আইনটি মূলত বাংলাদেশ কোলাবরেটর (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) অর্ডার ১৯৭২-কে প্রতিস্থাপিত করেছে।
- আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩, যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত একটি রাষ্ট্রীয় আইন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা এবং তাদের সহযোগী রাজাকার বাহিনী জনগণের প্রতি যে নৃশংসতা চালিয়েছিল, তাদের বিচারের উদ্দেশ্যে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে এ আইনে সংশোধনী আনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ।
- স্বাধীনতার ৩৯ বছর পরে ২০১০ সালের ২৫শে মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, তদন্ত সংস্থা এবং আইনজীবী প্যানেল গঠন করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।

উৎস: i) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ)।
ii) BBC.

৭৬৯.
গ্রাম অঞ্চলে কত স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান?
ব্যাখ্যা
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:

- গ্রাম অঞ্চলে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- এ স্তরগুলো হল-
• জেলা পরিষদ।
• উপজেলা পরিষদ।
• ইউনিয়ন পরিষদ।

- শহর অঞ্চলে দুই স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
• পৌরসভা।
• সিটি কর্পোরেশন রয়েছে।

- তাছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদ রয়েছে।
- গ্রাম বা এর নিকটবর্তী হল ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ।
- ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকার কাঠামোর সর্বশেষ ও কার্যকরী স্তর বলে বিবেচিত।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে বিশেষ স্থানীয় সরকারের পাশাপাশি পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন রয়েছে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭০.
আইনবিভাগ, শাসনবিভাগ ও বিচারবিভাগের সমন্বয়ে রাষ্ট্রের কোন উপাদান গঠিত?
  1. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
  2. সরকার 
  3. জনসমষ্টি 
  4. সার্বভৌমত্ব
ব্যাখ্যা

জনসমষ্টি :
-রাষ্ট্রের প্রাথমিক উপাদান হচ্ছে জনসমষ্টি।
- জনসমষ্টি বলতে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত জনগণকে বোঝায়। রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসমষ্টি একান্ত অপরিহার্য। 

• নির্দিষ্ট ভূখণ্ড :
- নির্দিষ্ট ভূখণ্ড হচ্ছে রাষ্ট্রের অপরিহার্য দ্বিতীয় উপাদান।
- প্রত্যেক রাষ্ট্রই একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখা দ্বারা পরিবেষ্টিত।
- ভূখন্ড বলতে স্থলভাগ, সমুদ্রসীমা, আকাশসীমাও বোঝায়।
- রাষ্ট্রের জনগণের বসবাসের জন্য নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের উপর নিয়ন্ত্রণ আবশ্যক। 

• সরকার :
- রাষ্ট্রের অপরিহার্য তৃতীয় উপাদানটি হলো সরকার।
- সরকার গঠনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ভূখন্ডের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তিনটি বিভাগ থাকে- আইনবিভাগ, শাসনবিভাগ ও বিচারবিভাগ।
- এ তিন বিভাগের সমন্বয়ে সরকার গঠিত হয়।

• সার্বভৌমত্ব:
- রাষ্ট্র গঠনের মুখ্য উপাদান সার্বভৌমত্ব বা সার্বভৌমিকতা।
- সার্বভৌম শব্দ দ্বারা চরম ও চূড়ান্ত ক্ষমতাকে বোঝায়।
- সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাষ্ট্রের গঠন পূর্ণতা পায়। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।

৭৭১.
ECNEC-এর বর্তমান সভাপতি কে?
  1. শেখ হাসিনা
  2. ওবায়দুল কাদের
  3. আবুল হাসান মাহমুদ আলী
  4. আনিসুল হক
ব্যাখ্যা
ECNEC:
- ECNEC এর পূর্ণরূপ: The Executive Committee of the National Economic Council.
- জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (ECNEC) সরকারের দ্বিতীয় শক্তিশালী কমিটি।
- এর সভাপতি দেশটির প্রধানমন্ত্রী।
- অর্থমন্ত্রী এর বিকল্প চেয়ারম্যান বা সভাপতি।
- এ কমিটির সদস্যগণ সরকার প্রধান কর্তৃক মনোনীত হয়ে থাকেন। 
- নিম্নোক্ত মন্ত্রীদের মধ্য থেকে কমিটির সদস্য মনোনয়ন দেয়া হয়:
• স্থানীয় সরকার পলী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী,
• শিক্ষা মন্ত্ৰী,
• প্রযুক্তি মন্ত্ৰী,
• পানি সম্পদ মন্ত্রী,
• শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্ৰী,
• ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্ৰী,
• কৃষি, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী এবং
• পরিকল্পনা মন্ত্রী।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
৭৭২.
বাংলাদেশের আইনসভার অফিসিয়াল ইংরেজি নাম কী?
  1. Parliament of the People
  2. House of the Nation 
  3. Nation of the House
  4. National Assembly House 
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের আইনসভার অফিসিয়াল ইংরেজি নাম House of the Nation.

আইনবিভাগ: 

- সরকারের তিনটি বিভাগের একটি হলো আইনবিভাগ।
- আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন এবং প্রয়োজনবোধে প্রচলিত আইনের সংশোধন বা রদবদল করে থাকে।
- আইনবিভাগের একটি অংশ হলো আইনসভা বা পার্লামেন্ট।
- আইনসভা আইন প্রণয়ন করে।
- নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের নিয়ে কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে মনোনীত সদস্যদের নিয়ে এটি গঠিত হয়।
- আইনসভা প্রণীত আইন রাষ্ট্রপ্রধানের সম্মতি লাভের পর কার্যকর হয়।
- প্রত্যেক রাষ্ট্রের আইনসভা রয়েছে।
- এসব আইনসভা বিভিন্ন নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ।
- কোনো দেশের আইনসভা এক কক্ষবিশিষ্ট আবার কোনো দেশের আইনসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হয়ে থাকে।
- দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভায় উচ্চ পরিষদ ও নিম্ন পরিষদ থাকে।
- বাংলাদেশের আইনসভা অবশ্য এক কক্ষবিশিষ্ট।
- ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের আইনসভা দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭৩.
নিচের কোনটি সাংবিধানিক পদ?
  1. ক) চেয়ারম্যান, মানবাধিকার কমিশন
  2. খ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার
  3. গ) চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশন
  4. ঘ) চেয়ারম্যান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড
ব্যাখ্যা
প্রধান নির্বাচন কমিশন, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, চেয়ারম্যান ও সদস্য সরকারি কর্ম কমিশন, ইত্যাদি বাংলাদেশের সাংবিধানিক পদ। চেয়ারম্যান, মানবাধিকার কমিশন; চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশন; চেয়ারম্যান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ইত্যাদি সাংবিধানিক পদ নয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৭৪.
নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করা কোন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সমাজকর্ম
  2. ইতিহাস
  3. পৌরনীতি ও নাগরিকতা
  4. সমাজবিজ্ঞান
ব্যাখ্যা

পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের পরিসর বা বিষয়বস্তু:
- নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য।
- সামাজিক ও রাজনৈতিক প্ৰতিষ্ঠান।
- যেমন- পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, নির্বাচন, রাজনৈতিক দল ইত্যাদি।
- নাগরিকতার স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় নাগরিকতার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৭৭৫.
কোন জাতীয় সংসদে কোনো সংরক্ষিত মহিলা আসন ছিলো না?
  1. ক) তৃতীয়
  2. খ) চতুর্থ
  3. গ) পঞ্চম
  4. ঘ) ষষ্ঠ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বর্তমান পর্যন্ত মোট ১১টি সংসদ গঠিত হয়েছে।
- চতুর্থ জাতীয় সংসদে নারীদের জন্যে কোন সংরক্ষিত আসন ছিলো না।
- বিভিন্ন সংসদে নারীদের জন্যে সংরক্ষিত আসন: 
- প্রথম সংসদ: ১৫টি
- দ্বিতীয় সংসদ : ৩০টি
- তৃতীয় সংসদ : ৩০টি
- পঞ্চম সংসদ: ৩০টি
- ষষ্ঠ সংসদ : ৩০টি
- সপ্তম সংসদ : ৩০টি
- অষ্টম সংসদ : ৪৫টি
- নবম সংসদ: ৫০টি
- দশম সংসদ: ৫০টি
- একাদশ সংসদ : ৫০টি।

উৎস: সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট।
৭৭৬.
কোনটি রাষ্ট্রের প্রাণস্বরূপ?
  1. জনসমষ্টি
  2. সরকার
  3. সার্বভৌমত্ব
  4. নির্দিষ্ট ভূখন্ড
ব্যাখ্যা

সার্বভৌমত্ব:
- সার্বভৌমত্ব হল রাষ্ট্রের প্রাণস্বরূপ।
- সার্বভৌমত্বের মাধ্যমেই রাষ্ট্র তার অস্তিত্ব প্রকাশ করে।
- জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখন্ড ও সরকার থাকার পরও যদি তাদের সার্বভৌমত্ব না থাকে তবে রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।
- সার্বভৌমত্ব অর্জনের জন্য অনেক সময় চরম মূল্য দিতে হয়।
- সার্বভৌমত্বের বৈশিষ্ট্য দ্বারাই অন্য সকল সংগঠন অপেক্ষা রাষ্ট্রকে আলাদা ও ক্ষমতাবান হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।

উল্লেখ্য,
- রাষ্ট্রের মূল উপাদান চারটি।
- এগুলো হল- জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখন্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব।
- এদের যেকোন একটি অনুপস্থিত থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হওয়া সম্ভব নয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭৭.
বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (BPATC) কোন উপজেলায় অবস্থিত?
  1. ধামরাই
  2. নবাবগঞ্জ
  3. সাভার
  4. দোহার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র:
- BPATC এর পূর্ণরূপ Bangladesh Public Administration Training Centre. 
- বাংলাদেশ সরকারের প্রধান প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র BPATC।
- ক্যাডার ও নন-ক্যাডারভুক্ত সকল সরকারি কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য ১৯৮৪ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি ঢাকার অদূরে সাভার উপজেলায় অবস্থিত।
- সরকারের একজন সচিব এর প্রধান কর্মকর্তা।
- বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধানের পদবী রেক্টর। 

উৎস: বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) ওয়েবসাইট।
৭৭৮.
বাংলাদেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা কে?
  1. আইনমন্ত্রী
  2. আইন সচিব
  3. অ্যাটর্নি জেনারেল
  4. ন্যায়পাল
ব্যাখ্যা
অ্যাটর্নি জেনারেল:
- বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন পরামর্শক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সরকারের প্রধান আইনজীবী। 
- অ্যাটর্নি জেনারেল হলো বাংলাদেশ সরকারের প্রধান ও মুখ্য আইন পরামর্শক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সরকারের প্রধান আইনজীবী।
- অ্যাটর্নি জেনারেল সাধারণত সুপ্রিম কোর্টের সম্মানীয় জ্যেষ্ঠ আইনজীবীগণের মধ্য থেকে সরকার কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হন।
- বাংলাদেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন।

উৎস: এটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ওয়েবসাইট।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
৭৭৯.
বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা কোন ধরনের?
  1. এককেন্দ্রিক রাজতন্ত্র
  2. সংসদীয় গণতন্ত্র 
  3. যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার 
  4. সংসদীয় ইসলামিকপ্রজাতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• সরকার কাঠামো:
- বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক সরকার কাঠামোভিত্তিক রাষ্ট্র।
- কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে সকল প্রশাসনিক ক্ষমতা ন্যস্ত।
- বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থার ধরণ - সংসদীয় গণতন্ত্র।
- রাজধানী ঢাকা থেকে সারাদেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে সারা দেশকে বিভিন্ন প্রশাসনিক এককে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।
- তবে সকল প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে কেন্দ্রীয় সচিবালয়।
- কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের সকল প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী।
- রাষ্ট্রপতির নামে রাষ্ট্রের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীপরিষদের কার্যকরি প্রধান হিসেবে সকল কার্য পরিচালনা করে থাকেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮০.
নাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোন নীতি অনুসরণ করে?
  1. জন্মস্থান নীতি ও অনুমোদন সূত্র
  2. জন্মসূত্র ও অনুমোদন সূত্র
  3. জন্মস্থান নীতি
  4. জন্মনীতি
ব্যাখ্যা

নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি:
নাগরিকতা অর্জনের দু'টি পদ্ধতি রয়েছে।
এগুলো হচ্ছে: (ক) জন্মসূত্রে নাগরিক এবং (খ) অনুমোদনসূত্রে নাগরিক।

- যারা জন্মগতভাবে কোন রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করে তাদেরকে জন্মসূত্রে নাগরিক বলে।
- আর যারা কতকগুলো শর্তপূরণ করে শর্ত আরোপকারী রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করে তাদেরকে অনুমোদনসূত্রে নাগরিক বলে।

জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি:
জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে দু'টি নীতি মেনে চলা হয়- (ক) জন্মস্থান নীতি ও (খ) জন্মনীতি।
(ক) জন্মস্থান-নীতি:
- জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী শিশু যে রাষ্ট্রে ভূমিষ্ট হয় সে রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করে।
- যদি কোন রাষ্ট্রের পতাকাবাহী জাহাজ, বিমান কিংবা দূতাবাসে জন্মগ্রহণ করে তবে সে সেই রাষ্ট্রের নাগরিক বলে বিবেচিত হবে।
যেমন- বাংলাদেশের কোন পিতা-মাতার সন্তান যদি কানাডা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বা তাদের পতাকাবাহী বিমান বা দূতাবাসে জন্মগ্রহণ করে তবে সে সন্তান কানাডা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হবে।
- অস্ট্রেলিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই নীতি অনুসরণ করে।

(খ) জন্মনীতি:
- এই নীতি অনুযায়ী শিশু যেখানেই ভূমিষ্ট হোক না কেন, পিতা-মাতার নাগরিকতাই তার নাগরিকতা নির্ধারণ করবে। যেমন:
- জাপানের কোন পিতা-মাতার সন্তান যদি রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ করে তবে সেই সন্তান জাপানের নাগরিক বলে বিবেচিত হবে।
- বাংলাদেশ, ফ্রান্স, জাপান, ইতালী প্রভৃতি রাষ্ট্র জন্মনীতি মেনে চলে।

অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা অর্জন:
যদি কোন ব্যক্তি অনুমোদনসূত্রে নাগরিক হতে চায় তবে তাকে নাগরিকতা অর্জনের জন্য নিম্নলিখিত এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়:
(১) অনুমোদনদানকারী রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করতে হয়, (২) সেনাবাহিনীতে যোগদান করতে হয়,
(৩) সরকারি চাকরি করতে হয়, (৪) সম্পত্তি ক্রয় করতে হয়, (৫) ভাষা জানতে হয়, (৬) নির্দিষ্ট সময় বসবাস করতে হয়।
অনুমোদনের শর্ত রাষ্ট্রভেদে আলাদা হতে পারে। শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একজন বিদেশীকে অনুমোদনকারী রাষ্ট্রের নিকট আবেদন করতে হয় এবং আবেদন মঞ্জুর হলেই একজন বিদেশী অনুমোদনদানকারী রাষ্ট্রের অনুমোদনসূত্রে নাগরিকে পরিণত হয়।

উৎস: পৌরনীতি, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮১.
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্তির পরে কোন দুটি বিভাগ গঠন করা হয়েছে?
  1. কর প্রশাসন বিভাগ ও কর আইন বিভাগ
  2. রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ
  3. রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও কর আদায় বিভাগ
  4. কর নীতি বিভাগ ও পরিসংখ্যান বিভাগ
ব্যাখ্যা

রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ:
- গত ১২ মে, ২০২৫ ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ’ জারির মাধ্যমে এনবিআর ভেঙে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি বিভাগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
- অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, রাজস্ব নীতি বিভাগ কর আইন প্রয়োগ এবং কর আহরণ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে।
- রাজস্ব সংগ্রহের মূল কাজ করবে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
- নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনবল রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগে ন্যস্ত হবে।
- এই জনবল থেকে প্রয়োজনীয় জনবল রাজস্ব নীতি বিভাগে পদায়ন করা যাবে।
- এছাড়া অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত হয়ে তার জনবল রাজস্ব নীতি বিভাগে ন্যস্ত হবে।

উৎস: রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫।

৭৮২.
রাষ্ট্রপতি কাকে শপথবাক্য পাঠ করান?
  1. সংসদ সদস্যবৃন্দ
  2. পিএসসির সদস্যবৃন্দ
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. নির্বাচন কমিশনার
ব্যাখ্যা

⇒ রাষ্ট্রপতি যাদের শপথ বাক্য পাঠ করান:
- প্রধানমন্ত্রী
- মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ।
- স্পিকার ।
- ডেপুটি স্পিকার।
- প্রধান বিচারপতি।

⇒ স্পিকার যাদের শপথবাক্য পাঠ করান:
- রাষ্ট্রপতি।
- সংসদ সদস্যবৃন্দ।

⇒ প্রধান বিচারপতি যাদের শপথ বাক্য করান:
- আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ।
- পিএসসির সদস্যবৃন্দ।
- মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
- নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৭৮৩.
ভোট প্রদানের জন্যে সর্বনিম্ন বয়সসীমা কত?
  1. ২১ বছর
  2. ১৮ বছর
  3. ১৬ বছর
  4. ১৯ বছর
ব্যাখ্যা
• নাগরিকতা :
 - প্রাচীন গ্রিসে নাগরিক ও নগররাষ্ট্র ছিল অবিচ্ছেদ্য।
- ঐ সময় গ্রিসে ছোটো ছোটো অঞ্চল নিয়ে গড়ে উঠে নগররাষ্ট্র।
- যারা নগর রাষ্ট্রীয় কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করত, তাদের নাগরিক বলা হতো।
- একইসাথে আধুনিক রাষ্ট্র পুলিশ ও সেনাবাহিনী গঠন করে জনগণকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে এবং রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করে। আধুনিক রাষ্ট্র নারী।
- পুরুষ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অধিকার প্রদান করে।
- আধুনিক রাষ্ট্রে সকল নাগরিক সমানভাবে সকল অধিকার ভোগ করে।
- নাগরিক অধিকার ভোগের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে থাকে।
-  যাদের বয়স ১৮ বছরের কম, তারা ভোটদান কিংবা নির্বাচিত হওয়ার মতো রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারে না। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৭৮৪.
বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি- 
  1. এককেন্দ্রিক
  2. যুক্তরাষ্ট্রীয় 
  3. রাজতন্ত্র
  4. রাষ্ট্রপতি শাসিত
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি:
- বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক, এককেন্দ্রিক ও সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার রাষ্ট্র।
- এর সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ, জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে সরকার কাঠামো কেন্দ্রিয় ও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

⇒ বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা কাঠামো ও কার্যগতভাবে কতগুলো বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে।
- সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা এককেন্দ্রিক ও সংসদীয় কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- অর্থাৎ এই সরকার কাঠামোয় একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারই রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল সূতিকাগার হিসেবে আইন প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও ব্যাখ্যা সংক্রান্ত বিষয়ে ভূমিকা পালন করবে।
- সরকারের তিনটি অঙ্গ- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। প্রতিটি অঙ্গ 'নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য' নীতির মাধ্যমে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কার্যকরি। একটি বিভাগ কখনও অন্য বিভাগের কার্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
- সংসদীয় সরকার কাঠামোর নিয়ম মেনে বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সংসদকে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী বিভাগ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।
- আইন অনুযায়ী শাসন বিভাগের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পদ হল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
- এই সরকার ব্যবস্থায় একটি মন্ত্রিসভা থাকবে এবং বাংলাদেশ সংবিধানের ধারা ৫৫-র ৩ অনুসারে মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকবে।

উল্লেখ্য,
- এককেন্দ্রিক সরকার এক ধরনের একক, অখন্ড ও সুসংবদ্ধ সরকার ব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রের ক্ষমতা সাংবিধানিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে। এ ধরনের শাসন ব্যবস্থায় কেন্দ্রই থাকে সকল ক্ষমতার উৎস। এককেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থায় আঞ্চলিক বা স্থানীয় সরকারের অস্তিত্ব থাকতে পারে, এ সরকারগুলো কিছু কিছু ক্ষমতা উপভোগ করতেও পারে। তবে তাদের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে এ সরকারগুলো তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে। কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছা করলে এ ক্ষমতা বাড়াতে পারে, কমাতেও পারে।
- এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থায় স্থানীয় বা আঞ্চলিক সরকারগুলোর সাংবিধানিক কোন ক্ষমতা নেই। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জাপান, বাংলাদেশ এ ধরনের সরকারের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার হলো এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সংবিধান অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে বন্টন করা হয়।এ ব্যবস্থায় ক্ষমতা বন্টন এমন প্রক্রিয়ায় হয়, যার ফলে কেন্দ্রীয় সরকার ও আঞ্চলিক সরকার প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকায় স্বতন্ত্র ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮৫.
বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হয় -
  1. ১ নভেম্বর, ২০০৬
  2. ১১ নভেম্বর, ২০০৬
  3. ১ নভেম্বর, ২০০৭
  4. ১১ নভেম্বর, ২০০৭
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগ:
- রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম।
- নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শেষ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
• উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
• অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।
- সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- সুপ্রিম কোর্ট প্রধান বিচারপতি ও প্রত্যেক বিভাগের বিচারপতিদের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৪ নং ধারা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদেরকে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে থাকেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ষষ্ট বিভাগে বিচার বিভাগের কাঠামো, মর্যাদা এবং কার্যাবলি সম্পর্কিত বিধান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হয়: ১ নভেম্বর ২০০৭ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগসমূহ থেকে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণের কথা বলা হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         iii) সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।
৭৮৬.
কোন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় 'সম্মিলিত সরকার' গঠিত হয়?
  1. বহু-দলীয় ব্যবস্থা
  2. একদলীয় ব্যবস্থা
  3. দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা
  4. যুক্তরাষ্ট্রীয়
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক দলের বিভিন্নরূপ:
সাধারণত রাজনৈতিক দল ব্যবস্থা  প্রকার।
যথা :
• একদলীয় ব্যবস্থা :
- যখন রাষ্ট্রে একটিমাত্র দল থাকে তখন তাকে একদলীয় ব্যবস্থা বলা হয়।
- একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় একটিমাত্র দল থাকে।
- এ ধরনের ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় না।
- অন্য কোন রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকে।
- কোন দলের উদ্ভব হলে তা উৎপাটন করা হয়।
- দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পূর্বে ইতালীর ফ্যাসিষ্ট এবং জার্মানীর নাৎসী দল এই ব্যবস্থার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- একদলীয় ব্যবস্থায় দলীয় প্রধান সাধারণত সরকার প্রধান হন।

• দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা :
- দেশে মাত্র দু'টি দল থাকলে তাকে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা বলে।
- একটি দল সরকার গঠন করে এবং অন্যদল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে।
- কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা দেখা যায় না।
- এমনকি বৃটেনে শ্রমিক দল ও রক্ষণশীল দল প্রধান দল হলেও সেখানে উদারনৈতিক দল ও সমাজতান্ত্রিক দলের উদ্ভব ঘটেছে।
- তবে প্রকৃতিগতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ও বৃটেনে দ্বি-দল ব্যবস্থাই প্রচলিত আছে।

• বহু-দলীয় ব্যবস্থা :
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যখন দুটির বেশি দল, রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের লাড়াইয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে, তখন তাকে 'বহুদলীয় ব্যবস্থা' বলে।
- বহুদলীয় ব্যবস্থায় সাধারণত সাধারণ নির্বাচনে কোন দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে না।
- ফলে নির্বাচনে জয় লাভের জন্য অনেক সময় সমমনা দলগুলির সমন্বয়ে 'সম্মিলিত সরকার' গঠিত হয়।
- ফ্রান্স, ইতালি, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান প্রভৃতি দেশে এরূপ বহুদলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান আছে।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৭.
বাংলাদেশ সরকার কত সালে 'পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন' পাস করে?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১১ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৩ সালে
ব্যাখ্যা
পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন:
- বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ পাস করে।
- এ আইনে বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে তাঁর মা-বাবার ভরণপোষণ দিতে হবে।
- কোনো মা-বাবার একাধিক সন্তান থাকলে সে ক্ষেত্রে সন্তানেরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে তাঁদের ভরণপোষণ নিশ্চিত করবেন।
- আর তা না করলে তাঁদের শাস্তি পেতে হবে।

⇒ পিতামাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩-এর ৫ ধারার (১) অনুযায়ী, কোনো প্রবীণ ব্যক্তি তাঁর সন্তানদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আনলে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হবে।
- আইনে বলা হয়, কোনো সন্তানের স্ত্রী, ছেলেমেয়ে বা নিকটাত্মীয় যদি বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি সন্তানকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেন, তাহলে তাদেরও একই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

উৎস: পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩।
৭৮৮.
বাংলাদেশে কখন প্রথম প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকার গঠিত হয়?
  1. ১৯৭১
  2. ১৯৭২
  3. ১৯৭৫
  4. ১৯৮০
ব্যাখ্যা
❐ বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে প্রথম প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকার গঠিত হয়।

বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধ শুরুর এক মাসের মধ্যেই ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রথম মন্ত্রিসভায় বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়। এটি মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- শেখ মুজিবর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। উল্লেখ্য, শেখ মুজিবর রহমান পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকার কারণে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- অন্যান্য মন্ত্রিসভায় মোট ৮ জন সদস্য ছিল।
- তাঁরা ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে।
- এই সরকার দক্ষতার সহিত মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে এবং পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটায়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান অস্থায়ী সংবিধান আদেশের দ্বারা রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- সে অনুযায়ী ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। এ মন্ত্রিসভা ১৯৭৩ সালের ১৬ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
- বাঙালিদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে স্বল্পতম সময়ে একটি সংবিধান প্রণয়ন করা হয়।

এছাড়াও,
♠ রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের বৈশিষ্ট্য:
- এই শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি একাধারে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধান। রাষ্ট্রপতিই প্রকৃত শাসক এবং আইনগত দিক থেকে তিনি প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী।
- রাষ্ট্রপতি আইনসভার সদস্য নন এবং আইন সভার নিকট দায়িত্বশীলও নন। তবে আইন সভার গৃহীত বিলে ভেটো দানের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।
- সাধারণত: রাষ্ট্রপতি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি। তিনি জনগণের কাছেই দায়ী থাকেন। এ ব্যবস্থায় মূলত: রাষ্ট্রপতি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত হন। কেবলমাত্র শাসনতন্ত্রের লঙ্ঘন, গুরুতর অসদাচরণের দায়ে কিংবা শারীরিক বা মানসিক অসামর্থের কারণে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত (impeached) করা যায়।
- রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ক্ষমতার মূলত: স্বতন্ত্রীকরণ নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ তাদের পৃথক পৃথক অস্তিত্ব বজায় রাখে।
- এ ব্যবস্থায় সংবিধান সাধারণত লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় হয়ে থাকে।
- এ শাসন ব্যবস্থায় মন্ত্রিপরিষদ রাষ্ট্রপতির বিশ্বস্ত কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তাঁরা আইন সভার কাছে দায়ী নন। মন্ত্রীরা তাঁদের কাজ কর্মের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে দায়ী থাকেন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
iii) দৈনিক ইত্তেফাক।
৭৮৯.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার ছিলেন কে?
  1. বিচারপতি এম. ইদ্রিস
  2. বিচারপতি এ. কে. এম. নুরুল ইসলাম
  3. বিচারপতি চৌধুরী এ. টি. এম. মাসুদ
  4. বিচারপতি চৌধুরী এ. টি. এম. সাদেক
ব্যাখ্যা

প্রথম জাতীয় নির্বাচন:
- ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ সংসদ নির্বাচন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
- ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি এম. ইদ্রিস।
- এ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পূর্বে মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত মুজিবনগর সরকার কর্তৃক রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে।
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে প্রত্যাবর্তন করেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ গঠনের কার্যক্রম গ্রহণ করেন।
- নয় মাসের প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে ৩০০টি সাধারন আসন ও ১৫টি সংরক্ষিত মহিলা আসন।
- ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০৮টি আসনে জয়লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট, পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৭৯০.
বিচারক নিয়োগ করেন -
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগ:
- রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম।
- নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শেষ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
• উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
• অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৫ নং ধারা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদেরকে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে থাকেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ষষ্ট বিভাগে বিচার বিভাগের কাঠামো, মর্যাদা এবং কার্যাবলি সম্পর্কিত বিধান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

বিচার বিভাগের কার্যাবলি:
১. বিচার সংক্রান্ত কাজ।
২. আইন সংক্রান্ত কাজ।
৩. শাসন সংক্রান্ত কাজ করা।
৪. পরামর্শ সংক্রান্ত কাজ।
৫. জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা।
৬. তদন্ত সংক্রান্ত কাজ
৭. সংবিধান সংরক্ষণ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯১.
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. আইনগত ভিত্তি
  2. নির্বাচিত সংস্থা
  3. পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন: 
- স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জনগণের স্বশাসনকে বুঝায়।
- সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা তা পরিচালিত হয়।
- প্রতিনিধিরা তাঁদের কাজের জন্য জনগণের নিকট দায়ী থাকেন।
- এটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা সরকার পরিচালনা পদ্ধতির পরিশীলিত রূপ।
- বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রভৃতি।
- স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো-
ক. আইনগত ভিত্তি,
খ. নির্বাচিত সংস্থা,
গ. সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ,
ঘ. করারোপের মাধ্যমে তহবিল সগ্রহের ক্ষমতা,
ঙ. পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন,
চ. কেন্দ্রীয় বা বিভাগীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে কার্য পরিচালনা প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭৯২.
কোন বছরে সংসদ ভবন, সংসদ অধিবেশনের জন্য প্রথম ব্যবহৃত হয়?
  1. ১৯৭৯
  2. ১৯৮০
  3. ১৯৮১
  4. ১৯৮২
ব্যাখ্যা

জাতীয় সংসদ :
- জাতীয় সংসদ হলো বাংলাদেশের আইন প্রণয়নের প্রধান বিভাগ।
- সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি, যার মধ্যে ৫০টি নারী আসন রয়েছে।
- ১৭তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে এই নারী আসন পরবর্তী ২৫ বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত রাখার বিধান প্রণীত হয়েছে।
- জাতীয় সংসদের স্থপতি লুইস আই কান।
- স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল।
- এটি ছিল দেশের প্রথম সংসদের সূচনা।

- ১৯৬১ সালে বর্তমান জাতীয় সংসদ ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
- ১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি এটি উদ্বোধন করা হয়।
- তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার সংসদ ভবনের উদ্বোধন করেন।
- একই বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশে দ্বিতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হলে এই ভবনটি প্রথম সংসদ ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
 
উৎস : বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

৭৯৩.
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি কে? [ফেব্রুয়ারি, ২০২৬]
  1. সৈয়দ রেফাত আহমেদ
  2. জুবায়ের রহমান চৌধুরী
  3. এম এনায়েতুর রহিম
  4. এ এম এম নাসির উদ্দিন
ব্যাখ্যা

প্রধান বিচারপতি:
- দেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
- তিনি দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি।
- ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে জুবায়ের রহমান চৌধুরী দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

⇒ প্রজ্ঞাপনের তারিখ—২৩ ডিসেম্বর ২০২৫।
- প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফার ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে দেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেছেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম করেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি ১৯৮৫ সালে জজকোর্টে, ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হন। ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হন। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন।

উৎস: i) সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৭৯৪.
বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার কমপক্ষে কত শতাংশ সদস্য সংসদ সদস্য হতে হবে?
  1. ১০%
  2. ৫০%
  3. ৯০%
  4. ৭৫%
ব্যাখ্যা

- মন্ত্রিসভার কমপক্ষে নয়-দশমাংশ সদস্য সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে হয়।

- বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদের মধ্যে অন্তত ৯০% সংসদ সদস্য হতে হবে। অর্থাৎ, তাঁরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হবেন।
- বাকি সর্বোচ্চ ১০% মন্ত্রী হতে পারেন এমন ব্যক্তি, যাঁরা সরাসরি সংসদ সদস্য না হলেও সংসদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

৭৯৫.
নিম্নের কোন মন্ত্রণালয়ের পূর্ব নাম 'সংস্থাপন মন্ত্রণালয়' ছিল?
  1. ভূমি মন্ত্রণালয়
  2. সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
  3. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
  4. পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
• জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়:

⇒ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একটি মন্ত্রণালয়।
⇒ সংস্থাপন মন্ত্রণালয় হলো 'জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়' এর পূর্ব নাম।
⇒ ১৯৮২ সালে Martial Law Committee on Reorganizational Set-up সকল সরকারি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর/পরিদপ্তরসহ সকল স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
⇒ সময়ের আবর্তনে কার্যসম্পৃক্ত নামকরণের চাহিদা অনুভূত হওয়ায় ২৮/০৪/১১ সালে তারিখে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (Ministry of Public Administration) করা হয়।

সাংগঠনিক কাঠামো:
- এ মন্ত্রণালয়ে ৯টি অনুবিভাগ, ২৬টি অধিশাখা ও ৭৩টি শাখা/ইউনিট/কোষ রয়েছে।
- তাছাড়া বাংলাদেশ সচিবালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এবং লোক-প্রশাসন কম্পিউটার কেন্দ্র এ মন্ত্রণালয়ের অধীন।

তথ্যসূত্র: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৭৯৬.
রাষ্ট্রপতি কত দিনের জন্য কোন সংশ্লিষ্ট তহবিল হতে অর্থ মঞ্জুর করতে পারেন?
  1. ৩০দিন
  2. ৬০দিন
  3. ৯০দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কাজ:

-  রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান।
- তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করেন।
- রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের (মহাহিসাব রক্ষক, রাষ্ট্রদূত ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা) নিয়োগের দায়িত্বও রাষ্ট্রপতির।
- তিন বাহিনীর (সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী) প্রধানদের তিনিই নিয়োগ দেন।
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতিত রাষ্ট্রপতি তাঁর সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য পরিচালনা করেন।
- রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে, স্থগিত রাখতে ও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সংসদ ভেঙে দিতে পারেন।
-  সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় অথবা সংসদ অধিবেশনরত অবস্থায় না থাকলে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করতে পারেন।
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি ছাড়া কোনো অর্থ বিল সংসদে উত্থাপন করা যায় না।
- কোনো কারণে সংসদ কোনো ক্ষেত্রে অর্থ মঞ্জুর করতে অসমর্থ হলে রাষ্ট্রপতি ৬০দিনের জন্য সংশ্লিষ্ট তহবিল হতে অর্থ মঞ্জুর করতে পারেন।
- রাষ্ট্রপতি সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং তাঁর সাথে পরামর্শ করে আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের নিয়োগদান করেন।
- তিনি কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাজা মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করতে পারেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।
৭৯৭.
সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সদস্য কতজন?
ব্যাখ্যা
‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’: 
উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংক্রান্ত কাউন্সিল হচ্ছে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’।
বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের ৩ নম্বর দফায় বলা আছে,
"একটি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থাকবে, যা এই অনুচ্ছেদে ‘কাউন্সিল’ বলে উল্লিখিত হবে এবং বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারকের মধ্যে পরবর্তী যে দুজন কর্মে প্রবীণ তাঁদের (মোট ৩জন সদস্য) নিয়ে গঠিত হবে।"

গঠন:
• সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠিত হবে প্রধান বিচারপতি এবং পরবর্তী দুজন প্রবীণ বিচারপতি নিয়ে।
• যদি কোনো সদস্য অসামর্থ্য বা অনুপস্থিতির কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তাহলে পরবর্তী প্রবীণ বিচারক তার স্থলাভিষিক্ত হবেন।

দায়িত্ব:
• বিচারকদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন এবং
• বিচারকগণের আচরণ ও সামর্থ্য সংক্রান্তে তদন্ত করা।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান, প্রথম আলো (২১ অক্টোবর ২০২৪)।
৭৯৮.
সরকারি কর্মচারীদের চাকুরি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কোন আইন প্রণীত হয়েছে?
  1. প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৬
  2. প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৮
  3. প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৯
  4. প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮০
ব্যাখ্যা

প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল:
- প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল হলো প্রজাতন্ত্রের কোন বিষয় অথবা কোন সংবিধিবদ্ধ সংস্থায় উদ্ভূত বিষয় নিষ্পত্তি বা বিচারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সালিস-সভা।
- একদিকে রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রতিষ্ঠান ও আমলাদের এবং অন্যদিকে বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিকদের মধ্যকার সৃষ্ট বিরোধ প্রশাসনিকভাবে বিচার-নিষ্পত্তির অনুশীলনের ধারণা থেকেই প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের উদ্ভব।

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের ১১৭ অনুচ্ছেদে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের বিধান রাখা হয়েছে।
- অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালস অ্যাক্ট ১৯৮০/প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮০ (১৯৮১ সালের অ্যাক্ট-৭) বলে বাংলাদেশে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়।
- এ আইনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হলো প্রজাতন্ত্রের চাকুরিতে নিয়োজিত ব্যক্তির চাকুরির শর্ত সম্পর্কিত বিষয়ে বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করা।
- এ আইনে বলা হয়েছে, সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ দানের দিন থেকে এই ট্রাইব্যুনাল কার্যকর হবে।
- এ চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সরকার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা দেয় যে, ১৯৮১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কিত আইন কার্যকর হবে।
- এ আইনে আরও বলা হয় যে, যখন সরকার এক বা একাধিক প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে, তখন প্রত্যেকটি ট্রাইব্যুনালের সুনির্দিষ্ট আওতা নির্ধারণ করে দিতে হবে।
- এক সদস্যবিশিষ্ট এই ট্রাইব্যুনালের সদস্য সরকার কর্তৃক জেলা জজদের মধ্য থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। ট্রাইব্যুনালের সদস্যের নিয়োগের শর্তাবলি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে।

⇒ প্রজাতন্ত্রের চাকুরিতে নিয়োজিত কোন ব্যক্তির চাকুরির শর্তাবলি পেনশনের অধিকার সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ ও তৎসম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুস্পষ্ট এখতিয়ার প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রয়েছে। প্রজাতন্ত্রের চাকুরিতে নিয়োজিত কোনো ব্যাক্তি সম্পর্কে তার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত যেকোন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তার আবেদনও ট্রাইব্যুনাল বিবেচনা করতে পারে। 
- এডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল আক্টে একটি প্রশাসনিক আপীল ট্রাইব্যুনালেরও বিধান রাখা হয়েছে। সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত একজন চেয়ারম্যান ও অপর দুজন সদস্য নিয়ে আপীল ট্রাইব্যুনাল গঠিত হবে।
- প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের কোন আদেশ বা সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আপীল শুনানী এবং সিদ্ধান্ত প্রদানের বিষয় আপীল ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত। কোন ব্যক্তি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত যেকোন আদেশ বা সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে এ ধরনের আদেশ বা সিদ্ধান্ত দেওয়ার দিন থেকে পরবর্তী দুইমাসের মধ্যে আপীল দাখিল করার সুযোগ পাবেন। আপীল ট্রাইব্যুনাল প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের যেকোন আদেশ বা সিদ্ধান্ত বহাল রাখা, বাতিল, দ্বিমত পোষণ অথবা পরিবর্তন করতে পারেন। আপীল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত আদেশই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ ওয়েবসাইট।

৭৯৯.
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নয় কোনটি?
  1. পৌরসভা
  2. ইউনিয়ন পরিষদ
  3. উপজেলা পরিষদ
  4. জেলা প্রশাসন
ব্যাখ্যা
⇒ জেলা প্রশাসন স্থানীয় সরকার নয়।

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:
- বর্তমান বাংলাদেশে শহুরে ও গ্রামীণ দুই ধরনের স্থানীয় সরকার কার্যকর রয়েছে।
- বাংলাদেশে শহরের জন্য দুই স্তর বিশিষ্ট ও
- পল্লীর জন্য তিন স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো রয়েছে।

⇨ শহর অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা-
- পৌরসভা এবং
- সিটি কর্পোরেশন।

⇨ গ্রাম অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা -
- ইউনিয়ন পরিষদ,
- উপজেলা পরিষদ এবং
- জেলা পরিষদ।

⇨ এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩টি জেলা নিয়ে আঞ্চলিক স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আঞ্চলিক পরিষদ-
১. বান্দরবান পাহাড়ী জেলা পরিষদ
২. রাঙ্গামাটি পাহাড়ী জেলা পরিষদ
৩. খাগড়াছড়ি পাহাড়ী জেলা পরিষদ

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০০.
প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা কার কর্তৃত্বে প্রযুক্ত হয়?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. মন্ত্রী
  4. সচিব
ব্যাখ্যা
চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ।
২য় পরিচ্ছেদ: প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা। 

অনুচ্ছেদ-৫৫: মন্ত্রিসভা: 
(১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী লইয়া এই মন্ত্রিসভা গঠিত হইবে। 
(২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তত্বে এই সংবিধান-অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে। 
(৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন। 
(৪) সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে। 
(৫) রাষ্ট্রপতির নামে প্রণীত আদেশসমূহ ও অন্যান্য চুক্তিপত্র কিরূপে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হইবে, রাষ্ট্রপতি তাহা বিধিসমূহ-দ্বারা নির্ধারণ করিবেন এবং অনুরূপভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত কোন আদেশ বা চুক্তিপত্র যথাযথভাবে প্রণীত বা সম্পাদিত হয় নাই বলিয়া তাহার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না। 
(৬) রাষ্ট্রপতি সরকারী কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করিবেন।

তথ্যসূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান