PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা
বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা
PrepBank · পাতা ৬ / ১৯ · ৫০১–৬০০ / ১,৮৩৫
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত (অস্থায়ী) রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম। অর্থাৎ, তিনি বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমদ। তিনি বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী : এএইচএম কামারুজ্জামান (পুরো নাম - আবুল হাসানাত মুহাম্মদ কামারুজ্জান)
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
ব্যাখ্যা
সুপ্রীম কোর্টের বিচারক নিয়োগ:
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
(১) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করবেন।
(২) কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হলে, এবং
(ক) সুপ্রীম কোর্টে অন্যূন দশ বৎসরকাল এ্যাডভোকেট না থাকলে; অথবা
(খ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন দশ বৎসর কোনো বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করে থাঢ়লে; অথবা
(গ) সুপ্রীমকোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে; তিনি বিচারকপদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৪ নং ধারা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদেরকে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে থাকেন।
- বর্তমানে দেশের প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
⇒ রাষ্ট্রপতি:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগের ৪৮ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তাঁর অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করবেন।
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ১৯৭২ সালে জারিকৃত রাষ্ট্রপতির ৭নং আদেশে আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যমান সকল স্থানীয় সরকার কমিটি ভেঙে দেয়। এসব অবলুপ্ত কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার কিছু কমিটি নিয়োগ করে। অধিকন্তু ইউনিয়ন কাউন্সিল ও জেলা কাউন্সিল যথাক্রমে ইউনিয়ন পঞ্চায়েত (পরবর্তী সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ) ও জেলা বোর্ডে (পরবর্তী সময়ে জেলা পরিষদ) রূপান্তরিত হয়। অবশ্য থানা কাউন্সিল ও বিভাগীয় কাউন্সিলের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো কমিটি নিয়োগ করা হয় নি।
⇒ ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭২ সালের সংবিধানে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটানো হয় এবং স্থানীয় সংস্থা সম্পর্কিত বিধানাবলি অকেজো হয়ে পড়ে। অবশ্য নির্দিষ্ট কিছুসংখ্যক স্থানীয় সংস্থা গঠনের বিধান রাখা হয়, তবে এর অধিকাংশই নির্বাচনভিত্তিক নয়। শেখ মুজিবের হত্যা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের (আগস্ট ১৯৭৫) ফলে স্থানীয় সরকার সম্পর্কিত উন্নয়ন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।
⇒ ১৯৭৬ সালে জেনারেল জিয়াউর রহমানের নতুন সরকার স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ জারি করে। এতে তিন ধরনের গ্রামীণ স্থানীয় সরকার গঠনের বিধান রাখা হয়,
যথা,
- ইউনিয়ন পরিষদ,
- থানা পরিষদ।
- জেলা পরিষদ।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
ব্যাখ্যা
- সরকার বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন।
- নারী শিক্ষার ওপর গুরুত্বসহ বয়স্ক শিক্ষার ব্যবস্থা করা
- হাসপাতাল,
- দাতব্য চিকিৎসালয়,
- শিশুসদন,
- মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র স্থাপন।
- পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র স্থাপন।
- জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিশুদ্ধ পানীয়জলের সুব্যবস্থা।
- পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা,
- রোগ প্রতিরোধক ,
- প্রতিষেধক টিকা প্রদান,
- যৌতুক ও বর্ণ বা গোত্রপ্রথা দূরীকরণ,
- বাল্যবিবাহ রোধ,
- জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ,
- কৃষিতে ভর্তুকি প্রদান,
- সার, বীজ, কীটনাশক সরবরাহ, সেচের ব্যবস্থা করা,
- খাদ্য গুদামজাতকরণ
- দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যথা: রাস্তাঘাট, সেতু, সড়ক, রেলপথ, নৌ-চলাচল, বিমান যোগাযোগ।
- গ্রামীণ উন্নয়ন, কালোবাজারি রোধ,
- খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ,
- নারী ও শিশু পাচার রোধ।
• রাষ্ট্রের অপরিহার্য বা মুখ্য কার্যাবলি :
- সেনাবাহিনী গঠন,
- বাজেট প্রণয়ন,
- মুদ্রাস্ফীতি রোধ।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
ব্যাখ্যা
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
ব্যাখ্যা
ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ (১৯ মার্চ ১৯৯৬ - ৩০ মার্চ ১৯৯৬) ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়।
- ১৯৯৬ সালের ১৯ মার্চ থেকে ৩০শে মার্চ পর্যন্ত এই সংসদের মেয়াদ ছিলো মাত্র ১২ দিন।
- অধিকাংশ প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল নির্বাচনটি বর্জন করেছিল।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান আছে- ৬টি।
• স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন:
- স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জনগণের স্বশাসনকে বুঝায়।
- সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা তা পরিচালিত হয়।
- প্রতিনিধিরা তাঁদের কাজের জন্য জনগণের নিকট দায়ী থাকেন।
- স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো-
ক. আইনগত ভিত্তি,
খ. নির্বাচিত সংস্থা,
গ. সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ,
ঘ. করারোপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের ক্ষমতা,
ঙ. পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন,
চ. কেন্দ্রীয় বা বিভাগীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে কার্য পরিচালনা প্রভৃতি।
এটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা সরকার পরিচালনা পদ্ধতির পরিশীলিত রূপ।
• বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-
- ইউনিয়ন পরিষদ,
- উপজেলা পরিষদ,
- জেলা পরিষদ,
- পৌরসভা,
- সিটি কর্পোরেশন,
- পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রভৃতি।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচিতি, নবম ও দশম শ্রেণি।
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধান।
- বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ অংশের ৪৮-৫৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধানাবলি বিধৃত হয়েছে।
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত।
- তিনি সংবিধান ও আইন বলে তাঁর উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব সম্পন্ন করেন।
- রাষ্ট্রপতি জারিকৃত আইনকে অধ্যাদেশ বলে।
- সরকারের যাবতীয় নির্বাহী কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদন করা হয়।
- সংসদ-সদস্যদের দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্যে নূন্যতম বয়স ৩৫ বছর।
- রাষ্ট্রপতির পদ শূণ্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬০-৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।
ব্যাখ্যা
- বিকল্প চেয়ারপারসন অর্থমন্ত্রী।
- ভাইস চেয়ারপারসন পরিকল্পনামন্ত্রী।
- পরিকল্পনা বিভাগের সচিব কমিশনের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
- এছাড়া আরও ছয়জন সদস্য সহ সর্বমোট ১০ জনের সমন্বয়ে পরিকল্পনা কমিশন গঠিত।
(তথ্যসূত্র: পরিকল্পনা কমিশন ওয়েবসাইট)
ব্যাখ্যা
• বরিশাল বিভাগের জেলা সংখ্যা ছয়টি।
• জেলাগুলো হলোঃ
- বরিশাল,
- পটুয়াখালী,
- ঝালকাঠি,
- পিরোজপুর,
- ভোলা ও
- বরগুনা।
উৎসঃ বরিশাল বিভাগের ওয়েবসাইট।
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিকাংশ সদস্যের আস্থাভাজন সাংসদকেই (সংসদ সদস্য) প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন।
- বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারপ্রধান।
- তিনি সরকারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
- প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা ও মন্ত্রিসভার প্রধান।
- তিনিই মন্ত্রিসভা গঠন করেন।
- প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বা সংসদের আস্থা হারালে সরকারের পতন ঘটে।
- প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে দেশের সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়ে আসছে।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
ব্যাখ্যা
বয়স্ক ভাতা:
- ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে ‘বয়স্কভাতা’ কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়।
- দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ দুস্থ ও স্বল্প অথবা অক্ষম বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে ও পরিবার ও সমাজে উপার্জনক্ষম বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়।
- প্রাথমিকভাবে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫ জন পুরুষ ও ৫ জন মহিলাসহ ১০ জন দরিদ্র বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে প্রতিমাসে ১০০ টাকা হারে ভাতা প্রদানের আওতায় আনা হয়।
- পরবর্তীতে দেশের সকল পৌরসভা ও সিটিকর্পোরেশনকে এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত করা হয়।
- ২০১৭-২০১৮ অর্থবছর থেকে বয়স্ক ভাতা কর্মসূচির আংশিক এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।
- বর্তমানে সকল উপকারভোগীকে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার নগদ ও বিকাশ এবং এজেন্ট ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে জিটুপি পদ্ধতিতে (গভর্মেন্ট টু পারসন) ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
- বাস্তবায়নকারী দফতর: সমাজসেবা অধিদপ্তর।
- কার্যক্রম শুরুর বছর: ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর।
• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
(১) বয়স্ক জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা বিধান;
(২) পরিবার ও সমাজে তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধি;
(৩) আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে তাঁদের মনোবল জোরদারকরণ;
(৪) চিকিৎসা ও পুষ্টি সরবরাহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করা।
উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে-
- উপকারভোগী ৬১ লক্ষ জন,
- জনপ্রতি মাসিক ভাতার হার ৬৫০ টাকা এবং
- বাজেট ৪৭৯১.৩১ কোটি টাকা।
উৎস: সমাজসেবা অধিদফতর।
ব্যাখ্যা
- আইন প্রণয়নকারী কর্তৃপক্ষ আইন বিভাগ।
বিচার বিভাগ:
- বিচার বিভাগ সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে অন্যতম, দেশের সমস্ত বিচারকদের নিয়ে বিচার বিভাগ গঠিত।
- বিচার বিভাগ বিচার পরিচালনা করে।
নিম্নে বিচার বিভাগের কার্যাবলি আলোচনা করা হলো:
বিচার সংক্রান্ত কাজ:
- বিচার বিভাগ আইনকে বাস্তবায়িত করে। এ বিভাগ দেশের আইন মোতাবেক বিচার কার্য সম্পাদন করে।
- এটা ব্যক্তির সাথে, রাষ্ট্রের সাথে, প্রতিষ্ঠানের সাথে বিরোধের মোকাবেলা সম্পন্ন করে।
সংবিধান সংরক্ষণ:
- বিচার বিভাগ সংবিধান সংরক্ষণ করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থায় বিচার বিভাগ সংবিধানের অভিভাবক।
- সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান করে কেন্দ্র ও অঙ্গরাজ্যের মধ্যে বিবাদ মীমাংসা করে যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত সংবিধানের প্রাধান্য বজায় রাখে।
ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠা:
- ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা বিচার বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
- বিচার বিভাগ মামলা পরিচালনার তথ্য অনুসন্ধানের জন্য নথিপত্র দেখে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ করে অপরাধীর শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠা করে।
আইন সংক্রান্ত:
- বিচার বিভাগ আইনের ব্যাখ্যা করে। প্রয়োজনে নিজস্ব মতামতের প্রতিফলন ঘটায়।
- আইনের এ ব্যাখ্যা পরবর্তীকালে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
শাসন সংক্রান্ত কাজ করা:
- বিচার বিভাগ শুধু বিচার সংক্রান্ত কাজ করে না। শাসন সংক্রান্ত কাজও করে থাকে।
- নাবালকের সম্পত্তি দেখা শোনা করা, বিদেশী নাগরিককে নাগরিকত্ব প্রদান করাও বিচারবিভাগের কাজ।
পরামর্শ সংক্রান্ত কাজ:
- শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ, বিচার বিভাগের পরামর্শের প্রত্যাশী হয়।
- বিচার বিভাগ সেক্ষেত্রে তাদের জ্ঞানগর্ভ শলা-পরামর্শ বা উপদেশ প্রদান করে থাকে।
জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা:
- বিচার বিভাগ জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে। শাসন বিভাগের যথেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগ একমাত্র হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
- এটা বিভিন্নভাবে ব্যক্তির অধিকার রক্ষার প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে।
তদন্ত সংক্রান্ত কাজ:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের সম্পত্তি ও জানগণের নিরাপত্তা দান করতে সরকার ওয়াদাবদ্ধ থাকে।
- ফলে রাষ্ট্রে যদি কোন অন্যায় বা জোর-জবরদস্তি, অপরাধ বা দুর্ঘটনা ঘটে, সেক্ষেত্রে বিচার বিভাগ তদন্ত কাজ পরিচালনা করেও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে।
সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্বদ্যালয়।
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান।
- সরকারের সকল শাসনসংক্রান্ত কাজ তাঁর নামে পরিচালিত হয়।
- তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করেন।
- অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের নিয়োগ করেন।
- রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের (মহাহিসাব রক্ষক, রাষ্ট্রদূত ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা) নিয়োগের
- দায়িত্বও রাষ্ট্রপতির। প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহের সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত।
- তিন বাহিনীর (সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী) প্রধানদের তিনিই নিয়োগ দেন।
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতিত রাষ্ট্রপতি তাঁর সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য পরিচালনা করেন।
- রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে, স্থগিত রাখতে ও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সংসদ ভেঙে দিতে পারেন।
- তিনি সংসদে ভাষণ দিতে ও বাণী পাঠাতে পারেন।
- রাষ্ট্রপতি কিছু আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজ করেন।
- সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করতে পারেন।
- রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।
ব্যাখ্যা
- শাসন বিভাগের আইন বাস্তবায়নকারী অংশ অর্থাৎ মন্ত্রী পরিষদের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের প্রকৃত শাসনের কাজ করে থাকে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৫ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকে।
- অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দকে শাসন বিভাগের যাবতীয় কর্মকান্ডের জন্য জাতীয় সংসদের নিকট জবাবদিহি করতে হয়।
- জবাবদিহিতার এই বিষয়টি বিদ্যমান থাকায় সরকারকে সদা জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত থাকতে হয়।
- সরকারের ভুল-ত্রুটি শুধরে দিতেও জাতীয় সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা হল বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ অন্যান্য কর্মকতারা তাঁদের ওপর অর্পিত কাজ সঠিকভাবে সম্পাদন করছেন কিনা সে ব্যাপারে সংসদ বা আইন সভায় অবহিত করা।
- মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের ওপর অর্পিত কার্যক্রম যদি জনগণের প্রতিকূলে যায়, সেক্ষেত্রে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ জাতীয় সংসদ করে থাকে।
উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যাখ্যা
• প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কাজ:
⇒ সংবিধান অনুযায়ী দেশের সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শাসনকার্য পরিচালনা করেন। মন্ত্রিপরিষদের সহযোগিতায় তিনি শাসনসংক্রান্ত সকল দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার সদস্য, সাংবিধানিক পদে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিদেশে রাষ্ট্রদূত ইত্যাদি নিয়োগ দেন।
⇒ প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের প্রধান। তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করেন ও মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন। মন্ত্রীদের কাজ তদারক করেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের মধ্যে সমন্বয় করেন। সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্ত্রীগণ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও অনুমোদন নিয়ে কাজ করেন। তিনি যেকোনো মন্ত্রীকে তার পদ থেকে অপসারণের পরামর্শ দিতে পারেন।
⇒ প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের একজন সদস্য ও সংসদ নেতা। তিনি সংসদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। যেমন- সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত দিনে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব প্রদান করেন, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও কার্যক্রম তুলে ধরে সংসদে বক্তৃতা প্রদান করেন। এছাড়া তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত বা ভেঙে দিতে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন।
⇒ সংসদে আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কোনো সরকারি বিল উত্থাপনের পূর্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। যদি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিপরিষদ উক্ত প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন তবেই তা সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা যায়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও পরামর্শে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের (জাতীয়) বাজেট প্রণয়ন ও সংসদে উপস্থাপন করেন। এভাবে তিনি আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকেন।
⇒ পররাষ্ট্র বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে না। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
ব্যাখ্যা
আর অধিবেশন আহ্বান করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের নেতা।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
ব্যাখ্যা
• স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন:
- স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জনগণের স্বশাসনকে বুঝায়।
- সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা তা পরিচালিত হয়।
- প্রতিনিধিরা তাঁদের কাজের জন্য জনগণের নিকট দায়ী থাকেন।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো-
ক. আইনগত ভিত্তি,
খ. নির্বাচিত সংস্থা,
গ. সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ,
ঘ. করারোপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের ক্ষমতা,
ঙ.পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন,
চ. কেন্দ্রীয় বা বিভাগীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে কার্য পরিচালনা প্রভৃতি।
• বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-
- ইউনিয়ন পরিষদ,
- উপজেলা পরিষদ,
- জেলা পরিষদ,
- পৌরসভা,
- সিটি কর্পোরেশন,
- পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রভৃতি।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ব্যাখ্যা
- ৪৮। (১) বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন।
(২) রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করিবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁহাকে প্রদত্ত ও তাঁহার উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করিবেন।
(৩) এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোন পরামর্শদান করিয়াছেন কি না এবং করিয়া থাকিলে কি পরামর্শ দান করিয়াছেন, কোন আদালত সেই সম্পর্কে কোন প্রশ্নের তদন্ত করিতে পারিবেন না।
সূত্র : বাংলাদেশ সংবিধান।
ব্যাখ্যা
- ১১ প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন যাঁরা:
•বেগম সিমিন হোসেন (রিমি) (গাজীপুর-৪)
•নসরুল হামিদ (ঢাকা-৩)
•জুনাইদ আহমেদ পলক (নাটোর-৩)
•মোহাম্মদ আলী আরাফাত (ঢাকা-১৭)
•মো. মহিবুর রহমান (পটুয়াখালী-৪)
•খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (দিনাজপুর-২)
•জাহিদ ফারুক (বরিশাল-৫)
•কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (খাগড়াছড়ি)
•বেগম রুমানা আলী (গাজীপুর-৩)
•শফিকুর রহমান চৌধুরী (সিলেট-২)
•আহসানুল ইসলাম টিটু (টাঙ্গাইল-৬)
উৎস- কালেরকন্ঠ পত্রিকা।
ব্যাখ্যা
- উপজেলা প্রশাসন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বশেষ স্তর।
- উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলা প্রশাসনের মধ্যমণি এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
- ২০০৮ সালের জারিকৃত অধ্যাদেশ অনুযায়ী তিনি উপজেলা পরিষদের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- উপজেলা পরিষদের কার্যাবলি বলতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যাবলিকেই বুঝিয়ে থাকে।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
- রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধান।
- বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ অংশের ৪৮-৫৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধানাবলি বিধৃত হয়েছে।
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত।
- তিনি সংবিধান ও আইন বলে তাঁর উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব সম্পন্ন করেন।
- রাষ্ট্রপতি জারিকৃত আইনকে অধ্যাদেশ বলে।
- সরকারের যাবতীয় নির্বাহী কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদন করা হয়।
- সংসদ-সদস্যদের দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্যে নূন্যতম বয়স ৩৫ বছর।
- রাষ্ট্রপতির পদ শূণ্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬০-৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।
ব্যাখ্যা
উপজেলা পরিষদ গঠন:
- একজন চেয়ারম্যান,
- দুজন ভাইস চেয়ারম্যান (এদের মধ্যে একজন হবেন মহিলা) ।
- এবং উপজেলার আওতাধীন ইউনিয়ন পরিষদসমূহের চেয়ারম্যানবৃন্দ,
- পৌরসভার (যদি থাকে) মেয়র এবং তিনজন মহিলা সদস্যের সমন্বয়ে উপজেলা পরিষদ গঠিত হয়।
- ২০০৯ সালের উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যদেরকে পরিষদের পরামর্শকের ভূমিকা প্রদান করা হয়েছে।
- চেয়ারম্যান উপজেলার ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, ৮২ পৃষ্ঠা।
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ৩২: মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে
অনুমোদন:
১. ফৌজদারী কার্যবিধি বা অন্য কোনো আইনে কিছুই থাকুক না কেন,
কমিশনের অনুমোদন (Sanction) ছাড়া কোনো আদালত দুর্নীতি আইনের অধীনে কোনো অপরাধের বিচার গ্রহণ (Cognizance) করতে পারবে না।
২. যখন এই আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হবে, তখন কমিশনের (এবং প্রয়োজনে সরকারের) অনুমোদনের কপি মামলার সঙ্গে আদালতে দাখিল করতে হবে।
তথ্যসূত্র - দুর্নীতি দমন কমিশন ওয়েবসাইট।
ব্যাখ্যা
- আইন বিভাগ - সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন করে এবং
- বিচার বিভাগ - সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান করে।
- শাসন বিভাগ বিচার বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের নিয়োগ করেন।
- শাসন বিভাগের প্রধান অপরাধীদের দণ্ড হ্রাস করতে পারেন ও স্থগিত রাখতে পারেন।
- আবার কর নির্ধারণ নিয়োগ, পদোন্নতি, পদচ্যুতি প্রভৃতি বিষয়ে আপত্তির নিষ্পত্তি শাসন বিভাগ করে থাকে।
সূত্র : পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর (১ম) বোর্ড বই ।
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক:
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ সভায় অনুমোদন লাভ করে।
উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক গ্রহণ করা হয়।
- এ প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পার্শ্বে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
- পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি। এ তিনটি উপাদানের ওপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হল অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।
- তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা।
- জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার পটুয়া কামরুল হাসান।
- সংবিধানের প্রথম ভাগ (প্রজাতন্ত্র) অনুচ্ছেদে : ৪ (৩)-এ জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে বর্ণনা করা আছে।
⇒ ভাসমান শাপলাটি এঁকেছেন মোহাম্মদ ইদ্রিস ও এর দুই পাশে ধানের শীষবেষ্টিত পাটপাতা ও চারটি তারকা যুক্ত করেছেন শামসুল আলম।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলনীতি।
- জাতীয় প্রতীকের চারটি তারকা চিহ্ন দিয়ে এই চারটি মূলনীতিকেই বোঝানো হয়েছে।
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন। [link]
ব্যাখ্যা
• বিচার বিভাগ:
- আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের মত বিচার বিভাগও আধুনিক সরকার ব্যবস্থার অপরিহার্য অঙ্গ।
- সরকারের যে বিভাগ প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল বিচারকার্য সম্পন্ন করে তাকে বিচার বিভাগ বলে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হচ্ছে বিচার বিভাগ।
- বিচার বিভাগ হল সরকারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ যা জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করে এবং এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রকার রিট জারি করে।
- বিচার বিভাগ রাষ্ট্র ও সরকারের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
• উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
• অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।
অন্যদিকে,
- সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ষষ্ঠ বিভাগে বিচার বিভাগের কাঠামো, মর্যাদা এবং কার্যাবলি সম্পর্কিত বিধান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
- বিচার বিভাগ বলতে সরকারের সেই অঙ্গকে বুঝায় যা মামলার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করে, অপরাধের প্রকৃতি নির্ণয় করে এবং আইন অনুযায়ী শাস্তি বিধান করে।
- এছাড়াও বিচার বিভাগ আইনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে সংবিধানের প্রাধান্য রক্ষা করে।
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮ এর আওতায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্থাপিত হয়েছে।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চার জন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে।
- জনাব এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর তারিখে বাংলাদেশের ১৪তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
• নতুন কমিশনে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে থাকছেন:
- সাবেক অতিরিক্ত সচিব আনোয়ারুল ইসলাম সরকার,
- সাবেক জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহমানেল মাসুদ,
- সাবেক যুগ্ম সচিব বেগম তহমিদা আহমদ
- অবসরারপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
উৎস: বিডিনিউজ২৪ ও নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট।
ব্যাখ্যা
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার 'প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)’নিম্নরূপে গঠন করেছে :
• শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী, আহ্বায়ক।
• জনাব আ, ক, ম, মোজাম্মেল হক মন্ত্রী,মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয, সদস্য।
• জনাব ওবায়দুল কাদের মন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, সদস্য।
• জনাব মোঃ আব্দুর রাজ্জাক মন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রণালয়, সদস্য।
• জনাব আসাদুজ্জামান খান মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয, সদস্য।
• জনাব মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ মন্ত্রী, তথ্য মন্ত্রণালয়, সদস্য।
• জনাব আনিসুল হক মন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয, সদস্য।
এছাড়াও অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে 'প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি' গঠিত হয়।
উৎস: মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ,
ব্যাখ্যা
• ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন:
- বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূতের নাম ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন।
- ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন সিনেট।
- ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের পুরো নাম ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।
- ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
- ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
- ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
উৎস: বণিক বার্তা ও বাংলা ট্রিবিউন।
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্র :
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
- বিশ্বের সকল মানুষ কোনো না কোনো রাষ্ট্রে বসবাস করে।
- অধ্যাপক গার্নার বলেন, 'সুনির্দিষ্ট ভুখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী, সুসংগঠিত সরকারের প্রতি স্বভাবজাতভাবে আনুগত্যশীল, বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত স্বাধীন জনসমষ্টিকে রাষ্ট্র বলে।'
রাষ্ট্রের ৪টি উপাদান রয়েছে-
(১) জনসমষ্টি
(২) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
(৩) সরকার ও
(৪) সার্বভৌমত্ব।
এই চারটি উপাদান রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। এর কোন একটি না থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
ব্যাখ্যা
- জেলা প্রশাসন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামাের তৃতীয় স্তর।
- একটি জেলার মধ্যে সকল ধরনের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা, কর আদায় এবং উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন।
- ‘জেলা প্রশাসক’ পদটি সচিবালয়ের উপ-সচিব পদের সমান।
- একজন ডেপুটি কমিশনার এই প্রশাসন এককের প্রধান।
- ডেপুটি কমিশনার বা জেলা প্রশাসক হল জেলা প্রশাসনের প্রাণ। তাকে কেন্দ্র করেই জেলার সকল কার্যপ্রণালি চালিত হয়।
- জেলার প্রধান হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যসমূহ নিম্নরূপ:
• প্রশাসন সংক্রান্ত কাজ।
• আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কাজ।
• রাজস্ব সংক্রান্ত কাজ।
• উন্নয়নমূলক কাজ।
• সমন্বয় সংক্রান্ত কাজ।
• স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত কাজ।
• বিচারিক কাজ।
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যাখ্যা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার:
- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে।
- নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আগস্ট, ২০২৪ সালে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।
- এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
- শপথ গ্রহণের স্থান: বঙ্গভবন।
- প্রধান উপদেষ্টা: ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- মোট উপদেষ্টা: ২৩ জন।
- নারী উপদেষ্টা রয়েছে ৪ জন।
উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
ব্যাখ্যা
তিনি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করে থাকেন।
শাসন বিভাগের প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারি প্রধানমন্ত্রী ও তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
ব্যাখ্যা
প্রধান বিচারপতি:
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ (২৫তম)।
- সৈয়দ রেফাত আহমেদ ২০০৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
- ২০০৫ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে স্থায়ী নিয়োগ লাভ করেন।
- সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করেই অন্যান্য বিচারপতি দের নিয়োগ দেয়া হয়।
- বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্যে ন্যূনতম দশ বছর সুপ্রিমকোর্টে অ্যাডভোকেট বা দেশের বিচার বিভাগীয় পদে দশ বছর নিযুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়।
- সংবিধানের প্রণয়নকালে বিচারপতিদের চাকরির বয়সসীমা ছিল ৬২ বছর।
- ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৯৬ ধারা পুন:স্থাপন করে বিচারপতিদের বয়স করা হয় ৬৭ বছর।
- বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বয়সসীমা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ বছর।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মো. সায়েম।
সূত্র - সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।
ব্যাখ্যা
- প্রথম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে কোন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলো না।
- দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা লক্ষ্য করা যায় ।
- জাতীয় সংসদের প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগের আসাদুজ্জামান খান (দ্বিতীয় সংসদ)।
- প্রথম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে কোন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলো না।
- ষষ্ঠ সংসদ দেশের সবচেয়ে স্বল্পকালীন সংসদ যার স্থায়িত্ব ছিলো মাত্র ১২ দিন।
সূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট।
ব্যাখ্যা
- প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের 'রুলস অব বিজনেস' অনুযায়ী 'প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা' পদেও নিয়োগ দিতে পারেন।
- প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন এবং
- এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রের সকল প্রশাসনিক কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকেন।
- জাতীয় সংসদের নেতা ও মন্ত্রিপরিষদের প্রধান হিসেবে আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সর্বাধিক।
- এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শাসন বিষয়ক, আইন বিষয়ক, নিয়োগ সংক্রান্ত, বাজেট সংক্রান্ত বিবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকেন।
- সংবিধানের ৫৬ ধারা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের কমপক্ষে ৯০ শতাংশ সদস্য জাতীয় সংসদ সদস্যের মধ্য থেকে থেকে নিয়োগ প্রদান করবেন।
- এছাড়া বাইরে থেকে ১০ শতাংশ সদস্য তিনি মন্ত্রিসভায় যোগ করতে পারবেন (টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী)।
সূত্র: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ডেইলি স্টার।
ব্যাখ্যা
ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা
- ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ১২ (১) অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
- কর্মকর্তারা ‘ফৌজদারি কার্যবিধির, ১৮৯৮’ এর ১৭টি ধারা অপরাধগুলো বিবেচনায় নিতে পারবেন।
- ধারা গুলো হলো: ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২।
সূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
ব্যাখ্যা
• ট্রেজারি বেঞ্চ:
- ট্রেজারি বেঞ্চ হলো সংসদের সামনের সারির আসন যেখানে সরকারি দলের মন্ত্রী ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ বসেন।
- সংসদ-কক্ষের সামনের দিকের আসনগুলোকে বলা হয় ট্রেজারি বেঞ্চ।
- সরকারি দলের মন্ত্রী ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ সামনের সারিতে বসেন।
- স্পীকারের আসনের ডানদিকে থাকে ট্রেজারি বেঞ্চ।
- এর বিপরীত দিকে সামনের সারিতে বসেন বিরোধী দলের নেতা, উপনেতা, হুইপ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
- ট্রেজারি বেঞ্চকে ‘ফ্রন্ট বেঞ্চ’ও বলা হয়।
- সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের যেসব সদস্য পেছনের সারিতে বসেন তাদের বলা হয় ব্যাকবেঞ্চার।
- এ সদস্যগণ সরকারি দলের মন্ত্রী বা গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত নন, আবার বিরোধী দলের নেতৃস্থানীয়ও নন। তাই সংসদের আসন ব্যবস্থায় তাঁরা পেছনের সারিতে বসেন।
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
ব্যাখ্যা
এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৬৯ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮০ সালে এটির নামকরণ করা হয় ‘জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট’।
এটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হলো প্রশিক্ষণ প্রদান ও পাস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং গবেষণার মাধ্যমে প্রচলিত নীতিমালার উন্নয়নে কাজ করা।
(সূত্র: জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট)
ব্যাখ্যা
ভিজিডি কর্মসূচি:
- এটি একটি সর্ববৃহৎ সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি।
- দুঃস্থ ও অসহায় এবং শারীরিকভাবে সক্ষম মহিলাদের উন্নয়ন স্থায়ীত্বের জন্য খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি, তাদের স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্যে উন্নয়ন প্যাকেজ সেবার আওতায় নির্বাচিত এনজিওর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
- এই কর্মসূচির উপকারভোগীরা ১০০% মহিলা।
- ভিজিডি’ কর্মসূচি দুঃস্থ মহিলাদের খাদ্য সহায়তা।
- খাদ্য বরাদ্দ- ৪৮৮ টি উপজেলার ভিজিডি উপকারভোগীকে মাসে ৩০কেজি হারে প্রাপ্যতার সাপেক্ষে গম/চাল এবং ৩টি পার্বত্য জেলার ২৫টি উপজেলায় মাথাপিছু ৩০ কেজি হারে আতপ চাল বিতরণ করা।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের শাসন বিভাগের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ব্যক্তি হলেন রাষ্ট্রপতি।
- তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান।
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সকল সন্মানের উৎস।
- সংসদীয় পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকার রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আইন অনুসারে সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন।
⇒ রাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে, রাষ্ট্রের অন্যান্য সকল ব্যক্তির উপর অগ্রাধিকার দেবেন এবং এই সংবিধান এবং অন্য কোন আইন দ্বারা তার উপর অর্পিত ও আরোপিত ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন এবং দায়িত্ব পালন করবেন।
- কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদ বেশি রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হবেন না, পদ পরপর থাকুক বা না থাকুক।
- রাষ্ট্রপতি সংসদের সদস্য হতে পারবেন না, এবং যদি সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হন, তবে তিনি যেদিন রাষ্ট্রপতি হিসাবে তার পদে প্রবেশ করবেন সেদিন সংসদে তার আসন খালি করবেন।
- কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হবেন যদি তার বয়স পঁয়ত্রিশ বছরের কম হয়, সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য না হন।
- এই সংবিধানের অধীনে অভিশংসন মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণ করা হয়ে থাকে।
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
ব্যাখ্যা
সংসদের “বিশেষ অধিকার কমিটি” হল সাংবিধানিক স্থায়ী কমিটি।
বর্তমান একাদশ জাতীয় সংসদে মোট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সংখ্যা ৫০টি।
এর মধ্যে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সংখ্যা ৩৯টি।
সূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
- মাওলানা ভাসানী নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক পার্টি, মাওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজাম-ই-ইসলামী এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ নেতৃত্বাধীন বামপন্থী গণতন্ত্রী দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- নির্বাচনে মোট ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- মুসলিম লীগ ৯টি আসন লাভ করে।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিলো নৌকা।
- নির্বাচনকে ঘিরে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২১ দফা ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
ব্যাখ্যা
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন:
- স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জনগণের স্বশাসনকে বুঝায়।
- সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা তা পরিচালিত হয়।
- তিনিধিরা তাঁদের কাজের জন্য জনগণের নিকট দায়ী থাকেন।
- বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
• ইউনিয়ন পরিষদ,
• উপজেলা পরিষদ,
• জেলা পরিষদ,
• পৌরসভা,
• সিটি কর্পোরেশন,
• পার্বত্য জেলা পরিষদ।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
ব্যাখ্যা
আইন বিভাগের কার্যাবলী:
- আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজ;
- সংবিধান রচনা ও সংশোধন;
- প্রশাসনিক কাজ;
- শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ;
- বিচার সংক্রান্ত কাজ;
- অর্থ সংক্রান্ত কাজ;
- নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ;
- জনমত গঠন;
- অনুসন্ধানমূলক কাজ;
অন্যদিকে,
বিচার বিভাগের বিভিন্ন কাজ:
- আইনের ব্যাখ্যা প্রদান;
- শাসন সংক্রান্ত;
- পরামর্শ দান;
- তদন্ত কার্য;
- ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা;
- নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ;
- সহজ কথায় আইন বিভাগ সরকারের চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করে, শাসন বিভাগ সেই আইন বাস্তবায়ন করে এবং বিচার বিভাগ প্রণীত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল বিচারকার্য সম্পন্ন ও আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করে।
উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।[লিঙ্ক]
ব্যাখ্যা
- ইউনিয়ন পরিষদ,
- থানা/উপজেলা পরিষদ এবং
- জেলা পরিষদ।
অর্থাৎ, ইউনিয়ন পরিষদ - সর্বনিম্ন স্তর ও
জেলা পরিষদ - সর্বোচ্চ স্তর।
উৎসঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতাঃনবম দশম শ্রেণী
ব্যাখ্যা
জনাব আবদুল হামিদ ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয় মেয়াদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ২৪ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
উৎসঃ রাষ্ট্রপতির কার্যালয়
ব্যাখ্যা
স্থানীয় সরকার ও স্থানীয় স্বায়ত্বশাসন:
- স্থানীয় সরকার বলতে স্থানীয় জনগণের ভোটে নির্বাচিত স্বশাসনের অধিকারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে থাকে।
- স্থানীয় সরকারের নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য থাকার কথা বলা হয়, যার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে স্বায়ত্বশাসন।
- সুতরাং স্থানীয় সরকার বলতে মূলত স্থানীয় স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানকেই বোঝানো হয়।
- বর্তমানে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন রয়েছে।
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:
i) শহুরে স্থানীয় সরকার:
- দুই স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো রয়েছে
- সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা।
ii) পল্লী স্থানীয় সরকার:
- তিন স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো রয়েছে
- জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ।
উৎস: i) পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) স্থানীয় সরকার বিভাগ ওয়েবসাইট।
ব্যাখ্যা
যে দলিল অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা ডিভিশনের মধ্যে বিভিন্ন কার্যাবলি বণ্টন করা হয় এবং কে, কোন দায়িত্ব পালন করবে, কীভাবে পালন করবে, কোন বিভাগ/ মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলী কী হবে তা নির্ধারণ করা হয় তাই হলো Rules of Business।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৫ (৬) অনুসারে 'Rules of Business, ১৯৯৬' প্রণয়ন করা হয়। 'Rules of Business, ১৯৯৬' অনুসারে, এর ভাগ দুটি। যথা –
Rules for the Allocation of Business (কার্যবণ্টন বিধি): কোন মন্ত্রণালয় বা দপ্তর-অধিদপ্তর কী কাজ করবে তা উল্লেখ থাকে কার্যবণ্টন বিধিতে।
Rules for the Transaction of Business (কার্যপ্রণালি বিধি): কে কীভাবে কাজ করবেন, কে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন বা সমস্যা সমাধানের জন্য কোন মন্ত্রণালয়ের সাথে পরামর্শ করবেন সেগুলোর নির্দেশনা থাকে কার্যপ্রণালী বিধিতে।
Rules of Procedure (কার্যপ্রণালি বিধি): জাতীয় সংসদের কার্যাবলি সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য Rules of Procedure প্রণয়ন করা হয়। ১ এপ্রিল ১৯৭৩ তারিখে মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সংবিধানের ৭৫ অনুচ্ছেদের (১) দফার (ক) উপ-দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কার্যপ্রণালি বিধি প্রণয়ন করেন।
Ordinance (অধ্যাদেশ): যখন জাতীয় সংসদে অধিবেশন থাকে না অথবা সংসদ ভেঙে যায় তখন মহামান্য রাষ্ট্রপতি নির্বাহী আদেশে যে আইন প্রণয়ন করেন তা Ordinance নামে পরিচিত। যেমন- ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ-১৯৮৪।
Order (আদেশ): সংবিধানের অবর্তমানে রাষ্ট্রপতি যে আইনবলে দেশ পরিচালনা করেন তা অর্ডার নামে পরিচিত। উদাহরণ: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২।
তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ সংবিধান এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ব্যাখ্যা
- স্থানীয় সরকার হলো রাষ্ট্রের ভৌগলিক অবস্থানের ভিত্তিতে বিভক্ত করা ক্ষুদ্রতর শাসন কাঠামো।
- এটি হলো কেন্দ্রীয় সরকারের বর্ধিত ও সহায়ক অংশ।
- যথা: স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় স্বায়ত্বশাসিত সরকার।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা দুই ধরনের:
(ক) শহর বা পৌর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এবং
(খ) গ্রামীণ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা।
- বাংলাদেশে শহরের জন্য দুই স্তর বিশিষ্ট ও গ্রামে তিন স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো রয়েছে।
শহর অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:
- পৌরসভা এবং
- সিটি কর্পোরেশন।
গ্রাম অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:
- ইউনিয়ন পরিষদ,
- উপজেলা পরিষদ এবং
- জেলা পরিষদ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩টি জেলা নিয়ে আঞ্চলিক স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে।
- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আঞ্চলিক পরিষদ:
১. বান্দরবান পাহাড়ী জেলা পরিষদ
২. রাঙ্গামাটি পাহাড়ী জেলা পরিষদ
৩. খাগড়াছড়ি পাহাড়ী জেলা পরিষদ
উল্লেখ্য,
- ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকার কাঠামোর সর্বশেষ ও কার্যকরী স্তর বলে বিবেচিত।
- সাধারণত প্রতিটি স্তরের এলাকাকে ওয়ার্ড হিসাবে ভাগ করা হয়।
- একটি ইউনিয়ন ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত।
- প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে জনগণের সরাসরি ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়।
- সুতরাং, বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম প্রশাসনিক ইউনিট ওয়ার্ড।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ:
- জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
- দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
- প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
- সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) মহিলা আসন সংখ্যা ৫০ করা হয়।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
- জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
- সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়।
- জাতীয় সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য কোরাম থাকতে হয়।
- অধিবেশনে কোরামের জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫ নং অনুচ্ছেদে কোরাম সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
- ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন।
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।
ব্যাখ্যা
• গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব:
- আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হল রাজনৈতিক দল।
- গণতন্ত্রের অপর নাম সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন।
- জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করে পরোক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে।
- অধ্যাপক ফাইনার বলেন, "আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন।" তাই গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব অপরিসীম।
• গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব ও ভূমিকা নিম্নরূপ-
১ । জনমত গঠন ও রাজনৈতিক সচেতনতা দান।
২। সরকার গঠন।
৩। আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ ।
৪। শান্তিপূর্ণভাবে সরকার পরিবর্তন।
৫। বিরোধী বিকল্প পক্ষ।
৬। ভিন্নমুখী মতামত একত্রীকরণ।
৭। সংসদীয় সরকারের উপযোগী ।
উৎস: পৌরনীতি প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে মন্ত্রণালয়গুলোকে যৌথভাবে সচিবালয় বলা হয়।
১. মন্ত্রী - মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রধান। প্রত্যেক মন্ত্রণালয় দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে
থাকে।
২. সচিব - মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। সচিব মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মূখ্য হিসাব নিরীক্ষক।
৩. অতিরিক্ত সচিব - উপ-বিভাগের প্রধান।
৪. যুগ্ম-সচিব - উপ-বিভাগের প্রধান।
৫. উপসচিব - একাধিক শাখার প্রধান।
৬. সিনিয়র বা জেষ্ঠ সহকারী সচিব - শাখা বা সেকশন প্রধান।
৭. সহকারী সচিব - শাখা বা সেকশন প্রধান।
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোজাম্মেল হক।
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এ ২০০৪ সনের ৫ নং আইনের ধারা ২৯ এর প্রতিস্থাপন:
- বার্ষিক ও অন্যান্য প্রতিবেদন-
১) প্রতি পঞ্জিকা বৎসরের মার্চ মাসের মধ্যে কমিশন পূর্ববর্তী বৎসরের সম্পাদিত উহার কার্যাবলী সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবার ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিবে।
২) এই ধারার অধীন প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর রাষ্ট্রপতি উহা জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করিবেন।
৩) জাতীয় সংসদ প্রতিবেদনটি পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নিকট প্রেরণ করিবেন এবং কমিটি উহা পর্যালোচনা করিয়া প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করিতে পারিবে, যাহা জাতীয় সংসদে আলোচিত হইবে।
৪) কমিশন ষান্মাসিক ভিত্তিতে সর্বসাধারণের জন্য কমিশনের ওয়েবসাইটে কমিশনের কার্যক্রমের প্রতিবেদন প্রকাশ করিবে যাহাতে নিম্নরূপ বিষয় অন্তর্ভুক্ত হইবে
তথ্যসূত্র - দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫।
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ সরকারের স্বরূপ:
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকার (মুজিবনগর সরকার) গঠিত হয়।
- বাংলাদেশ একটি গণপ্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
- এই রাষ্ট্রে সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।
- দেশে সংসদীয় পদ্ধতির এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকার প্রধান।
- এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করেন।
- সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তাঁকে প্রদত্ত ও তাঁর উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করে থাকেন।
- সংসদীয় রীতি অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়।
- তাঁকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।
- বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগের শীর্ষ শাসক (Chief Executive) হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকে।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।
ব্যাখ্যা
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগের -
- ৪৮ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।
- ৪৮ (২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁকে প্রদত্ত ও তাঁর উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করবেন।
- ৪৮ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁর অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করবেন।
- ৪৮ (৪) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হইবার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি-
(ক) পঁয়ত্রিশ বছরের কম বয়স্ক হন; অথবা
(খ) সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য না হন; অথবা
(গ) কখনও এই সংবিধানের অধীন অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ হতে অপসারিত হয়ে থাকেন।
- ৪৮ (৫) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রীয় নীতি সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখবেন এবং রাষ্ট্রপতি অনুরোধ করলে যেকোন বিষয় মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্য পেশ করবেন।
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
ব্যাখ্যা
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের এখতিয়ার বর্ণিত হয়েছে।
- সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রীম কোর্ট গঠিত হবে।
- সুপ্রীম কোর্টের এই দুই বিভাগের পৃথক এখতিয়ার রয়েছে।
- সংবিধান ও সংবিধানের পাশাপাশি দেশের সাধারণ আইন (সংসদ কর্তৃক পাশকৃত আইন) এই এখতিয়ারের উৎস।
- ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট উদ্বোধন করা হয়।
- ২০১৭ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়ে আসছে।
- ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়।
উৎস: সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।
ব্যাখ্যা
ইউনিয়ন পরিষদের গঠন:
- একটি ইউনিয়ন ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত।
- চেয়ারম্যান ১ জন।
- নির্বাচিত সদস্য ৯ জন।
- সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৩ জন।
- ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয় মোট ১৩ জন সদস্য নিয়ে।
- প্রতি তিন ওয়ার্ড থেকে একজন মহিলা সদস্য নির্বাচিত হন।
- কার্যালয় পরিচালনার জন্য এক জন সচিব নিয়োগ করা হয়।
- ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর, সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের অপসারণ করা যায়।
- ইউনিয়ন পরিষদের সকলেই সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন।
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যাখ্যা
অ্যাটর্নি জেনারেল:
- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগের ৫ম পরিচ্ছেদে ৬৪নং অনুচ্ছেদে অ্যাটর্নি জেনারেল পদের কথা উল্লেখ রয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন অ্যাটর্নি জেনারেল থাকবেন।
- অ্যাটর্নি জেনারেল বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা।
- তিনি আইনগত দিক নিয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষে আদালতে বক্তব্য পেশ করেন।
⇒ সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি এটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগদান করবেন।
- রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত এটর্নি জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভকরবেন।
- বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিত স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন।
- বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারকের ন্যায় মর্যাদা ভোগের অধিকারী হবেন।
⇒ অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
- অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করবেন।
- অ্যাটর্নি-জেনারেলের দায়িত্বপালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তাঁর বক্তব্য পেশ করার অধিকার থাকবে।
- বাংলাদেশ সরকারের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য,
- দেশের বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
উৎস: i) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ওয়েবসাইট।
ii) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
ব্যাখ্যা
• আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ।
• পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ।
• মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারবৃন্দ।
⇒ রাষ্ট্রপতি শপথ বাক্য পাঠ করান:
• প্রধানমন্ত্রী।
• প্রধান বিচারপতি।
• মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ।
• স্পিকার।
• ডেপুটি স্পিকার।
⇒ স্পিকার শপথবাক্য পাঠ করান:
• রাষ্ট্রপতি।
• সংসদ সদস্যবৃন্দ।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ সংবিধান।
ব্যাখ্যা
• ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
• বৃহস্পতিবার রাতে (৮ আগস্ট-২০২৪) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়েছেন উপদেষ্টারা।
• বঙ্গভবনে উপদেষ্টাদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি।
উল্লেখ্য,
- শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগের পরে সংসদ ভেঙে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
- ফলে দেশ পরিচালনার জন্য সাংবিধানিক সরকার কাঠামো দরকার হয়।
- বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’ নামে কোন ব্যবস্থার উল্লেখ নেই।
- সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ব্যাপারে মতামত দেয় সুপ্রিমকোর্ট।
- সর্বোচ্চ আদালত 'সুপ্রিম কোর্ট' সংবিধানের আলোকে এই সরকারের বৈধতা দিয়েছেন।
উৎস: বিবিসি এবং প্রথম আলো.
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় দুই ধরনের মামলা রয়েছে। একটি হলো দেওয়ানি মামলা অপরটি হলো ফৌজদারি মামলা।
- কোন বিষয়ে অধিকারের দাবি বা সম্পত্তি দাবি বা কোন ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবির জন্য যে মামলা করা হয় তাকে দেওয়ানি মামলা বলে।
- অপরদিকে কোন ব্যক্তিকে যখন মারামারি, চুরি, ডাকাতি, খুন, প্রতারণা, ধর্ষণ, অপহরণ, ইভ-টিজিং, জালিয়াতি, মিথ্যা সাক্ষ্যদান প্রভৃতি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় তাকে ফৌজদারি মামলা বলে।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন-একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি
ব্যাখ্যা
- অপরিহার্য বা মুখ্য কার্যাবলি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রে বসবাসরত জনগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্র যে সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেগুলোকে অপরিহার্য বা মুখ্য কাজ বলা হয়। রাষ্ট্রের অপরিহার্য
• কাজগুলো নিম্নরূপ:
- দেশ রক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন ও পরিচালনা ।
- রাষ্ট্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ ও অন্যান্য আধা-সামরিক বাহিনী গড়ে তোলা।
- জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।
- বিদেশে অবস্থানরত দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সেবা প্রদান করা ইত্যাদি হচ্ছে রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিষয়ক অপরিহার্য কাজ।
- আইন প্রণয়ন, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের মৌলিক কাজ।
- অর্থ ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অর্থ সংগ্রহ ও বণ্টন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
- রাষ্ট্র বাজেট প্রণয়ন,
- মুদ্রা প্রবর্তন ও মুদ্রা বিনিয়োগের ব্যবস্থা,
- গণনা ও পরিমাপের একক নির্ধারণ
- মুদ্রাস্ফীতি রোধ,
- নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে।
• রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কার্যাবলি :
- মহাসড়ক নির্মাণ,
- শিক্ষানীতি প্রণয়ন,
- রোগ প্রতিষেধক টিকা প্রদান।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড:
-‘কোস্ট গার্ড এ্যাক্ট ১৯৯৪’ মহান জাতীয় সংসদে পাশ করার মাধ্যমে বাংলাদেশে কোস্ট গার্ড গঠন করা হয়।
- এবং ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিতে "GUARDIAN AT SEA" মূলমন্ত্রে একটি আধাসামরিক স্বতন্ত্র বাহিনী হিসাবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড তার যাত্রা শুরু করে।
- প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে অদ্যাবধি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানা,
- তৎসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চল এবং বিভিন্ন নদ-নদীতে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আসছে।
- বর্তমান সরকারের দূরদর্শিতা এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডে সংযুক্ত হয়েছে ৯৮ টি আধুনিক ও দ্রুততর জলযান,
- এ বাহিনীর কার্যাবলীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- বাংলাদেশের জাতীয় জলসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যুতা দমন,
- মাদকদ্রব্য পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধ,
- মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ,
- সমুদ্রবন্দরের নিরাপত্তা প্রদান,
- প্রাকৃতিক দূর্যোগকালে উপকূলীয় এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ পরিচালনা
- এবং তেল, গ্যাস ও বনজ সম্পদ রক্ষাসহ উপকূলীয় পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ।
- কোস্ট গার্ডের প্রধানকে মহাপরিচালক বলা হয়।
- বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত প্রতিষ্ঠান।
উৎস: কোস্ট গার্ড ওয়েবসাইট।
ব্যাখ্যা
- সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
- ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি দুটি বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত। যথা- হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগ।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৪(১) ধারায় সুপ্রিম কোর্ট এর গঠন সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
উল্লেখ্য,
- প্রতি বছর ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়।
তথ্যসূত্র: সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইট।
ব্যাখ্যা
• সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের শপথ বাক্য পাঠ করান- প্রধানমন্ত্রী
• ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে শপথ বাক্য পড়ান - জেলা প্রশাসক।
এছাড়াও,
স্পিকার যাদের শপথবাক্য পাঠ করান:
- রাষ্ট্রপতি
- সংসদ সদস্যবৃন্দ।
প্রধান বিচারপতি যাদের শপথ বাক্য করান:
- আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ
- পিএসসির সদস্যবৃন্দ
- মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
- নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ।
রাষ্ট্রপতি যাদের শপথ বাক্য পাঠ করান:
- প্রধানমন্ত্রী
- মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ
- স্পিকার
- ডেপুটি স্পিকার
- প্রধান বিচারপতি।
উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
ব্যাখ্যা
বহুদলীয় ব্যবস্থা:
- 'রাজনৈতিক জোট' গড়ে উঠার প্রবণতা দেখা যায় বহুদলীয় শাসনব্যবস্থায়।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যখন দুইটির বেশি দল রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের লড়াইয়ে কার্্যকর ভূমিকা পালন করে তাকে বহুদলীয় ব্যবস্থা বলে।
- বহুদলীয় ব্যবস্থায় সাধারণত সাধারণ নির্বাচনে কোন দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে না।
- ফলে নির্বাচনে জয় লাভের জন্য অনেক সময় সমমনা দলগুলির সমন্বয়ে 'সম্মিলিত সরকার' গঠিত হয়।
- ফ্রান্স, ইতালি, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান প্রভৃতি দেশে এরূপ বহুদলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান আছে।
- বহু দলীয় ব্যবস্থায় মতামত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা থাকে।
- জনগণ ইচ্ছামত যেকোনো দলকে সমর্থন করে তাদের ব্যক্তিগত ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারে।
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, মোজাম্মেল হক।
ব্যাখ্যা
- উপজেলা প্রশাসন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বশেষ স্তর।
- উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলা প্রশাসনের মধ্যমণি এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
- ২০০৮ সালের জারিকৃত অধ্যাদেশ অনুযায়ী তিনি উপজেলা পরিষদের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- জেলা প্রশাসন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন জেলা প্রশাসক।
- দেশের সব জেলায় একজন করে জেলা প্রশাসক আছেন। তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে একজন অভিজ্ঞ সদস্য। তাকে কেন্দ্র করে জেলার সকল সরকারি কাজ পরিচালিত হয়।
- একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ৯ জন নির্বাচিত সাধারণ সদস্য ও ৩ জন নির্বাচিত নারী সদস্য (সংরক্ষিত আসনে) নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত।
তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ব্যাখ্যা
- বিল:
- আইনের প্রাথমিক প্রস্তাবকে সংসদীয় ভাষায় বিল বলা হয়।
- আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে সংসদে আনীত প্রত্যেকটি প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হয়।
- বিল দুই প্রকার। যথা- সরকারি বিল ও বেসরকারি বিল।
সরকারি বিল
- সরকারি বিল উত্থাপনের জন্য ৭ দিন সময়।
- যে বিল মন্ত্রীদের দ্বারা উত্থাপিত হয় তাকে সরকারি বিল বলে।
বেসরকারি বিল
- যে বিল সাধারণ সংসদ সদস্যদের দ্বারা উত্থাপিত হয় তাকে বেসরকারি বিল বলে।
- বেসরকারি বিল উত্থাপনের জন্য ১৫ দিনের নোটিশ প্রয়োজন হয়।
উৎস:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট।
ব্যাখ্যা
- প্রতিরক্ষা বাহিনীর চৌকস ক্যাডারদের সর্বোচ্চ সন্মাননা হলো সোর্ড অব অনার।
- বাংলাদেশের সোর্ড অব অনার পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম নারী - মারজিয়া ইসলাম।
- প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠিত হয় ১৯৭১ সালে।
- প্রথম প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হলেন তাজউদ্দীন আহমেদ বর্তমানে প্রধান্মন্ত্রী এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছে।
- নৌ , সেনা ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠিত হয়।
তথ্যসূত্র- প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রথম আলো।
ব্যাখ্যা
গ্রাম আদালত আইন:
- গ্রাম আদালত আইন বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ সহজ, দ্রুত এবং কম খরচে নিষ্পত্তির জন্য প্রণীত আইন।
- বাংলাদেশে ২০০৬ সালে গ্রাম আদালত আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার সহজলভ্য করা এবং আদালতের চাপ কমানো।
- প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে গ্রাম আদালত গঠিত হয়, যা ইউনিয়নের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় কার্যকর।
- আদালত গঠিত হয় চেয়ারম্যান (সভাপতি), প্রতিপক্ষের মনোনীত ২ জন সদস্য, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্ধারিত সদস্য দিয়ে।
- বিচারযোগ্য মামলায় দেওয়ানি ক্ষতিপূরণ সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা।
- আদালতের রায় সংখ্যাগরিষ্ঠতায় (৩ বা ২ ভোটে) গৃহীত হয় এবং আপিলের সুযোগ রয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট বা সহকারী জজ আদালতে।
- আইনটি গ্রামীণ ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করে এবং স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করে।
তথ্যসূত্র - গ্রাম আদালত আইন।
ব্যাখ্যা
• সরকারের অঙ্গ সংগঠন তিনটি :
- আইন বিভাগ,
- শাসন বিভাগ
- বিচার বিভাগ।
• রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।
- তিনি আইন পরিষদের নিকট দায়ী নন।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ব্যাখ্যা
• প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কাজ:
⇒ সংবিধান অনুযায়ী দেশের সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শাসনকার্য পরিচালনা করেন। মন্ত্রিপরিষদের সহযোগিতায় তিনি শাসনসংক্রান্ত সকল দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার সদস্য, সাংবিধানিক পদে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিদেশে রাষ্ট্রদূত ইত্যাদি নিয়োগ দেন।
⇒ প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের প্রধান। তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করেন ও মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন। মন্ত্রীদের কাজ তদারক করেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের মধ্যে সমন্বয় করেন। সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্ত্রীগণ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও অনুমোদন নিয়ে কাজ করেন। তিনি যেকোনো মন্ত্রীকে তার পদ থেকে অপসারণের পরামর্শ দিতে পারেন।
⇒ প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের একজন সদস্য ও সংসদ নেতা। তিনি সংসদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। যেমন- সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত দিনে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব প্রদান করেন, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও কার্যক্রম তুলে ধরে সংসদে বক্তৃতা প্রদান করেন। এছাড়া তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত বা ভেঙে দিতে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন।
⇒ সংসদে আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কোনো সরকারি বিল উত্থাপনের পূর্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। যদি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিপরিষদ উক্ত প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন তবেই তা সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা যায়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও পরামর্শে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের (জাতীয়) বাজেট প্রণয়ন ও সংসদে উপস্থাপন করেন। এভাবে তিনি আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকেন।
⇒ পররাষ্ট্র বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে না। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সরকারের আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন, পরিবর্তন ও সংশোধন করার অধিকার রাখে, যা সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত।
- বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থায় সংসদীয় পদ্ধতি গৃহীত হওয়ার দরুণ আইনসভাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের হাতেই নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে।
- সরকার কর্তৃক শাসনব্যবস্থা পরিচালিত করার ক্ষমতা মহান সংসদের হাতে থাকার কারণে বাংলাদেশে সংসদের সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে।
- এর অর্থ হল-আইন ও শাসন প্রণয়নগত সকল বিষয়ে সংসদ কর্তৃক গৃহীত নীতিমালাই প্রযোজ্য হবে এবং তা শাসন বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত হবে।
- এর ব্যতয় হওয়া সাংবিধানিকভাবে আইন লংঘনের শামিল।
উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যাখ্যা
- অধিবেশন চলাকালেও যদি সদস্য সংখ্যা ৬০ জনের কম হয় সেক্ষেত্রেও স্পিকার বৈঠক মূলতবি রেখে কোরাম পূর্ণ হওয়ার জন্যে অপেক্ষা করে থাকেন।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
ব্যাখ্যা
নির্বাচন কমিশন:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় নির্বাচন কমিশন গঠিত।
- এটি সাংবিধানিকভাবে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন কমিশনারসহ মোট পাঁচজন নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত।
- নির্বাচন কমিশনারগণকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন।
- নির্বাচন কমিশনের সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভাপতির কাজ করেন।
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। (সেপ্টেম্বর, ২০২৫)
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারের মেয়াদ তাদের কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর।
- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সরকার ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কর্তব্য।
- নির্বাচন কমিশন সংবিধানে বর্ণিত নির্দেশনাবলি এবং দেশের নির্বাচনি আইন দ্বারা পরিচালিত হয়।
- নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পরিচালিত নির্বাচন সমূহ,
• রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
• জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
• সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।
• জেলা পরিষদ নির্বাচন।
• উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।
• পৌরসভা নির্বাচন।
• ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো:
- বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর দুটি স্তর আছে।
• প্রথম স্তরটি হলো কেন্দ্রীয় প্রশাসন (সচিবালয়)।
- দেশের সব ধরনের প্রশাসনিক নীতি ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়।
- আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমেসারা দেশে বাস্তবায়িত হয়।
• বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দ্বিতীয় স্তরটি হলো মাঠ প্রশাসন।
- মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলো বিভাগীয় প্রশাসন।
- দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে জেলা প্রশাসন।
- জেলার পর আছে উপজেলা প্রশাসন।
- উপজেলা প্রশাসন একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মাঠ প্রশাসন মূলত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। এটিই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী : এ এইচ এম কামরুজ্জামান
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
ব্যাখ্যা
এরা হলেন:
- ১ জন চেয়ারম্যান
- ৯ জন সাধারণ সদস্য
- ৩ জন নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী সদস্য।
- এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদে বেতনভুক্ত একজন সচিব থাকেন।
- ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদকাল ৫ বছর। অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সকল সদস্য ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়।
তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ব্যাখ্যা
- একটি জেলার মধ্যে সকল ধরনের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা, কর আদায় এবং উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনার দায়দায়িত্ব বর্তায় জেলা প্রশাসনের হাতে।
- একজন ডেপুটি কমিশনার জেলা প্রশাসনের প্রধান।
জেলা প্রশাসনের কার্যাবলি:
- প্রশাসন সংক্রান্ত কাজ
- আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কাজ
- রাজস্ব সংক্রান্ত কাজ
- উন্নয়নমূলক কাজ
- সমন্বয় সংক্রান্ত কাজ
- স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত কাজ
- বিচারিক কাজ
উল্লেখ্য,
- কমিশনার বিভাগীয় প্রশাসনের প্রধান।
- উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) উপজেলা প্রশাসনের প্রধান।
উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যাখ্যা
- প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদিগকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করিবেন।
- সংসদ-সদস্যগণের মধ্য হতে ৯০ শতাংশ মন্ত্রী নিযুক্ত হবেন।
- নির্বাচিত সদস্য সংসদ সদস্যদের বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত।
- বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যের বাইরে থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায় এক-দশমাংশ।
- অর্থাৎ ১০ শতাংশ সংসদ সদস্যের বাইরে থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায়।
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
ব্যাখ্যা
১. যখন সংসদে কোনো বিল প্রস্তাব আকারে পাশ হয় তখন তাকে আইন বলে।
২. সংসদের বাহিরেও আইন প্রণীত হতে পারে। যেমন- প্রথা, রীতিনীতি, আদেশ, বিধি ইত্যাদি।
৩. আইন কার্যকর করতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লাগে।
৪. সংসদ আইন পাশ করার পর রাষ্ট্রপতি তা বাতিল করতে পারেন না।
উল্লেখ্য,
- যখন জাতীয় সংসদে অধিবেশন থাকে না অথবা সংসদ ভেঙে যায় তখন মহামান্য রাষ্ট্রপতি নির্বাহী আদেশে যে আইন প্রণয়ন করেন তা অধ্যাদেশ বা Ordinance নামে পরিচিত।
- অধ্যাদেশ একমাত্র রাষ্ট্রপতি প্রণয়ন করে।
- অধ্যাদেশ রাষ্ট্রপতি নিজেই প্রণয়ন করে বলে অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না।
তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাদেশ সংবিধান।
ব্যাখ্যা
- আইন বিভাগ,
- বিচার বিভাগ,
- শাসন বিভাগ,
আইনসভা:
- আইনসভা জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সংস্থা হিসেবে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে। জনপ্রতিনিধিরা আইনসভায় জনগণের অভাব অভিযোগ তুলে ধরে।
- আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ বা আইন বিভাগ সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।
- বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ (House of the Nation)।
- এটি এক কক্ষবিশিষ্ট।
সূত্র: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হলেন- রাষ্ট্রপতি।
- সরকার প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- জাতীয় সংসদের প্রধান হলেন স্পিকার।
- 'বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট' এর প্রধান হলেন প্রধান বিচারপতি।
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ব্যাখ্যা
- অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাহী বিভাগের বা সরকারের পক্ষে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারিক কর্মকান্ডে প্রধান কুশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
- অ্যাটর্নি জেনারেল হলো একটি সাংবিধানিক পদ।
- অ্যাটর্নি জেনারেল সরকারকে সংবিধান, সাধারণ আইন, আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইনগত পরামর্শ দেন।
- সরকারের পক্ষে আদালতে উপস্থিত থাকেন।
- বলা যায় অ্যাটর্নি জেনারেল হলো সরকারের আইনগত পরামর্শক।
তথ্যসূত্র -বাংলাদেশ সংবিধান
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্রের চারটি উপাদান থাকে।
• জনসমষ্টি:
- রাষ্ট্র গঠনের প্রথম উপাদান জনসমষ্টি।
- জনসমষ্টি ব্যতীত রাষ্ট্র হতে পারে না।
- তবে একটি রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসংখ্যা কত হতে হবে তার কোন ধরা বাঁধা নিয়ম নেই।
• ভূখন্ড:
- রাষ্ট্র গঠনের দ্বিতীয় উপাদান হল ভূখন্ড।
- জনসমষ্টিকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ভূখন্ড আবশ্যক। ভূখন্ড বলতে রাষ্ট্রের ভূমি, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, সামুদ্রিক জলসীমা বোঝায়।
• সরকার:
- রাষ্ট্রের তৃতীয় উপাদান সরকার।
- সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
- রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার তিন ধরনের কাজ করে। যথা- আইন সংক্রান্ত, শাসন সংক্রান্ত ও বিচার সংক্রান্ত।
• সার্বভৌমত্ব:
- রাষ্ট্র গঠনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল সার্বভৌমত্ব।
- এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা।
- সার্বভৌমত্ব ব্যতীত কোন দেশ রাষ্ট্র বলে পরিগণিত হতে পারে না। যেমন- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পূর্বে বাংলাদেশের অন্যান্য উপাদান থাকা সত্ত্বেও সার্বভৌম ক্ষমতা না থাকায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র বলে পরিগণিত হতে পারে নি।
উৎস: পৌরনীতি, দ্বাদশ শ্রেণি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যাখ্যা
- জাতীয়তাবাদ রাষ্ট্রের উপাদান নয়।
- রাষ্ট্রের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে রাষ্ট্রের ৪টি উপাদান পাওয়া যায়। যথাঃ
• জনসমষ্টি।
• নির্দিষ্ট ভূখণ্ড।
• সরকার।
• সার্বভৌমত্ব।
- সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও
সর্বোচ্চ ক্ষমতা।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বোর্ড বই ও পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যাখ্যা
• প্রধানমন্ত্রী:
- বাংলাদেশ সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধানই প্রধানমন্ত্রী।
- সংসদ সদস্য পদের যোগ্যতা ও প্রধানমন্ত্রী পদের যোগ্যতা একই।
- ২৫ বছর বয়স্ক যে কোন বাংলাদেশী নাগরিক সংসদ সদস্য থাকা সাপেক্ষে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ পেতে পারেন।
- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি বা রাষ্ট্রপ্রধান সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধানকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন।
- সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী।
- প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদ নেতা।
- সংসদ অধিবেশন আহবান, স্থগিত বা ভেঙ্গে দিতে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেন।
- তার নেতৃত্বে সংসদে আইন প্রণীত হয়।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যাখ্যা
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন:
- বাংলাদেশ সরকার ২০০৫ সালে 'ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন' প্রণয়ন করে।
⇒ বাংলাদেশ সরকার ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে গৃহীত আন্তর্জাতিক চুক্তি এফসিটিসিতে (ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল) স্বাক্ষর করে।
- চুক্তির বিধানসমূহ প্রতিপালনে সরকার পরবর্তী সময়ে ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে।
- এই আইনের ৪ ধারার ১ উপধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি কোনো পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান করতে পারবেন না, অর্থাৎ উন্মুক্ত স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
উৎস: i) ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০৫।
ii) প্রথম আলো।
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা
⇒ সংবিধান অনুসারে অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি।
অ্যাটর্নি জেনারেল:
- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগের ৫ম পরিচ্ছেদে ৬৪ নং অনুচ্ছেদে অ্যাটর্নি জেনারেল পদের উল্লেখ রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন অ্যাটর্নি জেনারেল থাকবেন।
- বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল।
- তিনি আইনগত দিক নিয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষে আদালতে বক্তব্য পেশ করেন।
- সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগদান করবেন।
- রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করবেন।
- বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিত স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন।
- বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারকের ন্যায় মর্যাদা ভোগের অধিকারী হবেন।
⇒ অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
• অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করবেন।
• অ্যাটর্নি-জেনারেলের দায়িত্বপালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তাঁর বক্তব্য পেশ করার অধিকার থাকবে।
• বাংলাদেশ সরকারের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন।
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর নাম প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ।
- প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) (ইংরেজি: President Guard Regiment) বঙ্গভবনে অবস্থিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির নির্বাহী অফিসের একটি সত্তা, রাষ্ট্রপতির বিদেশ ভ্রমণ, রাষ্ট্রপতির সাধারণ যাতায়াত, চিকিৎসা সহায়তা ও জরুরি চিকিৎসা সেবা, এবং আতিথেয়তা পরিষেবা সহ সকল ধরনের নিরাপত্তা, সামরিক সহায়তা নিশ্চিত করে।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ রেলওয়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
- বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি মালিকানাধীন ও পরিচালিত দেশের প্রধান স্থল পরিবহন সংস্থা।
- মোট রুট দৈর্ঘ্য প্রায় ২৯৫৫.৫৩ কিমি এবং প্রায় ২৫,০৮৩ জন নিয়মিত কর্মচারী রয়েছে।
- দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত সংযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- ২ জুন ১৯৮২ পর্যন্ত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়ে রেলওয়ে বোর্ড রেলপথ পরিচালনা করত।
- ৩ জুন ১৯৮২ রেলওয়ে বোর্ড বিলুপ্ত হয়ে কার্যক্রম যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের রেলওয়ে ডিভিশনে ন্যস্ত হয়।
- তখন সচিব বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করতেন।
- প্রশাসনিক সুবিধার্থে রেলওয়েকে পূর্ব ও পশ্চিম দুই অঞ্চলে ভাগ করা হয়।
- দুই অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মহাপরিচালকের অধীনে দায়িত্ব পালন করেন।
- বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (DRM) বিভাগীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
- পাহাড়তলী ও সৈয়দপুরে বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়কের অধীনে কারখানা রয়েছে।
- পার্বতীপুরে লোকোমোটিভ জেনারেল ওভারহলিং কারখানা আছে।
- রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি, পরিকল্পনা কোষ, সরঞ্জাম শাখা ও হিসাব বিভাগ কার্যক্রম সহায়তা করে।
- রেল পরিবহন নিরাপত্তা তদারকিতে পৃথক রেলপথ বিভাগ ও পরে রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি:
- আধুনিক বিশ্বে প্রত্যেক রাষ্ট্র একে অপরের উপর নির্ভরশীল।
- প্রতিটি রাষ্ট্র অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য অপর রাষ্ট্রের সাথে অনুরূপ সম্পর্ক স্থাপন করে।
- রাষ্ট্র প্রকৃত পক্ষে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন করে। এজন্য অটো ভন বিসমার্ক বলেন, ‘‘অভ্যন্তরীণ নীতির সম্প্রসারণই হল পররাষ্ট্র নীতি।”
- পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রের ন্যায় বাংলাদেশেরও নিজস্ব বৈদেশিক নীতি রয়েছে।
- সংবিধানের ২৫নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিসমূহ নিম্নে উপস্থাপন করা হল-
i. জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা- এই সকল নীতি হবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি।
ii. রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবে।
iii. প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবে।
iv. সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণ বৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে রাষ্ট্র সমর্থন করবে।
পরিশেষে বলা যায়, বৈদেশিক নীতি হল রাষ্ট্রের সে সকল কার্যাবলির বিবরণী, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র তার স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে থাকে। অন্যান্য রাষ্ট্রের ন্যায় বাংলাদেশ জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যাখ্যা
১. ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন
২. ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন
৩. চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন
8. খুলনা সিটি কর্পোরেশন
৫. রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন
৬. বরিশাল সিটি কর্পোরেশন
৭. সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সবচেয়ে ছোট)
৮. নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন
৯. কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন
১০. রংপুর সিটি কর্পোরেশন
১১. 16 গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (সবচেয়ে বড়)
১২. ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাস:
১৮৬৪ সালের ১ আগস্ট ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি'র সৃষ্টি হয় এবং ঢাকার তৎকালীন ম্যাজিষ্ট্রেট মিঃ স্কিনার পদাধিকার বলে ঢাকার চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।
১৮৮৫ সালে সর্বপ্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান হন আনন্দ চন্দ্র রায়।
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর হতে সরকার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিই চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৭৭ সালের পৌরসভা অধ্যাদেশ জারি হবার পর হতেই চেয়ারম্যানের সাথে সাথে ওয়ার্ড কমিশানার নির্বাচিত হবার পদ্ধতি চালু হয়।
ঐ অধ্যাদেশ বলে ১৯৭৮ সালে ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে পরিবর্তিত হয়।
উৎস: স্থানীয় সরকার বিভাগ।
ব্যাখ্যা
- ১৮৯৮ সালে ইংরেজরা সর্বপ্রথম এই আইন তৈরি করে।
- ২৪ ঘন্টার বেশী আটক রাখা যাবে না - ৬১ ধারা ।
- এজাহার রেকর্ড করা - ১৫৪ ।
- পুলিশ কর্তৃক জবানবন্দী গ্রহণ- ১৬১ ।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এনং BLAST ।
ব্যাখ্যা
- নির্বাচনী বিভাগ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকার কাঠামোর অংশ নয়।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকার কাঠামো ৩টি। যথা-
• আইন বিভাগ।
• বিচার বিভাগ।
• শাসন বিভাগ।
- একটি বিভাগ কখনও অন্য বিভাগের কার্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
শাসন বিভাগ:
- শাসন বিভাগের প্রকৃত ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে।
- রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে; কিন্তু সকল ক্ষেত্রে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করতে হয়।
- প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীপরিষদেরও প্রধান।
- মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করেন।
আইন বিভাগ:
- বাংলাদেশ সরকারের আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন, পরিবর্তন ও সংশোধন করার অধিকার রাখে, যা সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত।
- বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থায় সংসদীয় পদ্ধতি গৃহীত হওয়ার দরুণ আইনসভাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের হাতেই নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে।
বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের সরকার কাঠামোতে বিচার বিভাগ সরকারের সকল প্রকার বিচারিক কার্য সম্পাদন করে থাকে।
- বিচারিক কার্যের অংশ হিসেবে এই বিভাগটি মূলত সংবিধান ও আইন অনুযায়ী অপরাধীকে শাস্তি প্রদান করে থাকে ও জনগণের অধিকার রক্ষা করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে থাকে।
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ:
- জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
- দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
- প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
- সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) মহিলা আসন সংখ্যা ৫০ করা হয়।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
- জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
- সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়।
- জাতীয় সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য কোরাম থাকতে হয়।
- অধিবেশনে কোরামের জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫ নং অনুচ্ছেদে কোরাম সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
- ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন।
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।