বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা

মোট প্রশ্ন১,৮৩৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা

PrepBank · পাতা / ১৯ · ৩০১৪০০ / ১,৮৩৫

৩০১.
সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি ও সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান যুক্ত করে কোন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে? [মে, ২০২৫]
  1. জাতীয় নিরাপত্তা অধ্যাদেশ, ২০২৫
  2. অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ২০২৫
  3. রাষ্ট্রদ্রোহ ও নিরাপত্তা বিধান অধ্যাদেশ, ২০২৫
  4. সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
ব্যাখ্যা
সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫:
- সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তার (সংগঠন) যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করে সরকার।
- সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ সময়োপযোগী করার জন্য সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করেছে সরকার।
- সংসদ কার্যকর না থাকায় আইন অধিকতর সংশোধন করে আশু ব্যবস্থা নিতে সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে দেয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেন।
- পরে তা ১১ মে, ২০২৫ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
- সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার নিষিদ্ধ করার বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- অধ্যাদেশে বলা হয়, সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যাবে।
- এ ছাড়া সত্তা বা তার পক্ষে বা সমর্থনে যেকোনো প্রেস বিবৃতি, প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন বা জনসম্মুখে বক্তব্য দেওয়া নিষিদ্ধ করা যাবে।
- সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী, ‘সত্তা’ বলতে কোনো আইনি প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, বাণিজ্যিক বা অবাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, গোষ্ঠী, অংশীদারি কারবার, সমবায় সমিতিসহ এক বা একাধিক ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত যে কোনো সংগঠনকে বোঝায়।

তথ্যসূত্র: নিউজ রিপোর্ট।
৩০২.
‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী গুমের ঘটনায় দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ দণ্ড কী নির্ধারণ করা হয়েছে? 
  1. মৃত্যুদণ্ড 
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড
  4. অর্থদণ্ড 
ব্যাখ্যা

• ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’:  
- চূড়ান্ত অনুমোদন: নভেম্বর ৬, ২০২৫ (উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে)।
- গেজেট প্রকাশ ও জারি: ১ ডিসেম্বর ২০২৫
- সংশোধনী: অধ্যাদেশটি ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ সংশোধনকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে।

• গুমের সংজ্ঞা: রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ বা তাদের অনুমোদনে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার/আটক করে তার অবস্থান গোপন করা বা অস্বীকার করাকে হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

• শাস্তি:
- সর্বোচ্চ শাস্তি: মৃত্যুদণ্ড।
- অন্যথায়: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড এবং জরিমানা। 

• ট্রাইব্যুনাল:
- প্রত্যেক বিভাগ বা জেলায় গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল গঠন।
- বিচার ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। 

তথ্যসূত্র:
i) আইন মন্ত্রণালয়। (Link) (Link2) 
ii) বাসস। (Link) (Link2)
iii) প্রথম আলো। (Link) 

৩০৩.
বর্তমানে দেশে কতটি  সিটি কর্পোরেশন রয়েছে? (আগস্ট-২০২৫)
  1. ১০টি
  2. ১২টি
  3. ৮টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা

• সিটি কর্পোরেশন:
- বর্তমানে দেশে ১২টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে।
- সিটি কর্পোরেশনের এলাকা ও কাজের ওপর এর সদস্যসংখ্যা নির্ভর করে। কর্পোরেশনে একজন মেয়র আছেন।
- তাঁরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।

• সিটি কর্পোরেশনগুলো হচ্ছে -
১. ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।
২. ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন।
৩. চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।
৪. খুলনা সিটি কর্পোরেশন।
৫. রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন।
৬. বরিশাল সিটি কর্পোরেশন।
৭. সিলেট সিটি কর্পোরেশন।
৮. নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন।
৯. কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন।
১০. রংপুর সিটি কর্পোরেশন।
১১. গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন।
১২. ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন।

• শহরের নানাবিধ সমস্যা, যেমন- পানীয়জলের ব্যবস্থা, পয়ঃনিষ্কাশন, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য সিটি কর্পোরেশন গঠন করা হয়েছে।
- স্থানীয় শাসনের মতো স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোও একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের জীবনধারা উন্নত করার জন্য অপরিহার্য।

উৎস: স্থানীয় সরকার বিভাগ ওয়েবসাইট।

৩০৪.
বর্তমান জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্যে সংরক্ষিত আসন রয়েছে কয়টি? [জুলাই - ২০২৫]
  1. ৫০টি
  2. ৪০টি
  3. ৪৫টি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ: 
- জাতীয় সংসদ ভবনের বর্তমান ভবন ২৮ জানুয়ারি ১৯৮২ সালে উদ্বোধন করা হয়।
- এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৬১ সালে।
- বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ।
- এটি এক কক্ষবিশিষ্ট।
- জাতীয় সংসদের সদস্য সংখ্যা ৩৫০
- ৩০০টি আসনে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- অন্য ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে।
- নারী সংসদ সদস্যগণ ৩০০ জন সংসদ সদস্য দ্বারা নির্বাচিত হয়ে থাকেন।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৫.
সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সমালোচনা করে -
  1. বিরোধী দল
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের ভূমিকা:

• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না। বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ। এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়। শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে। জন স্টুয়ার্ট মিল তাই বলেন, “যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই”।

• বিকল্প নীতি উত্থাপন:
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা। এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দিল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে। এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

• সমস্যা চিহ্নিত করা :
- রাষ্ট্রে অনেক ধরনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান থাকে। এ ধরনের সমস্যাগুলো সমগ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষে বিরোধীদল সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে পারে। 

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৬.
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের আয়তন কত একর?
  1. ক) ২১৫ একর
  2. খ) ২১৬ একর
  3. গ) ২২০ একর
  4. ঘ) ২২৫ একর
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ: 

- ১৯৬১ সালে ৯ তলা এ ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
- মার্কিন স্থপতি লুই আই কান এর মূল স্থপতি।
- রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত।
- আয়তন ২১৫ একর।
- ১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবন উদ্বোধন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, Live MCQ লেকচার।
৩০৭.
নির্বাচন কমিশন কী ধরনের সংস্থা?
  1. স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা
  2. পূর্ণ সরকারি সংস্থা
  3. স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
নির্বাচন কমিশন:

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় নির্বাচন কমিশন গঠিত। 
- নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন কমিশনারসহ মোট পাঁচজন নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত।
- নির্বাচন কমিশনারগণকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন।
- নির্বাচন কমিশনের সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভাপতির কাজ করেন।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারের মেয়াদ তাদের কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর।
- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সরকার ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কর্তব্য।
- নির্বাচন কমিশন সংবিধানে বর্ণিত নির্দেশনাবলি এবং দেশের নির্বাচনি আইন দ্বারা পরিচালিত হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০৮.
রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য-
  1. নির্বাচন দেওয়া
  2. সামাজিক মূল্যবোধ শিক্ষা দেওয়া
  3. দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
•রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য:
১. রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে আদর্শগতভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কর্মসূচি ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা;
২. রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক কিছু নীতিমালা ও পরিকল্পনা জনগণের নিকট পেশ করে জনসমর্থন সৃষ্টি করা;
৩. দলীয় নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নতি ও সমৃদ্ধি অর্জন করা এবং জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখা;
৪. বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাসনভার গ্রহণ ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০৯.
নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়ন ও ক্ষমতা কোন অনুচ্ছেদের অধীনে?
  1. ১২৪
  2. ১১৭
  3. ১১৮
  4. ১০৮
ব্যাখ্যা

◊ ১২৪ অনুচ্ছেদ — নির্বাচন সম্পর্কিত বিধানপ্রণয়ন:
- সংসদের ১২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ আইনের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পর্কিত বিষয়গুলি নির্ধারণ করতে পারে।
• এর মধ্যে রয়েছে : 
- নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ,
- ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা,
- নির্বাচন পরিচালনা এবং
- সংসদের সঠিক গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিধান প্রণয়ন করা।

উল্লেখ্য, 
• ১০৮ অনুচ্ছেদ — সুপ্রিম কোর্টের কোর্ট অব রেকর্ড স্বরূপ ক্ষমতা:
- সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদ মতে, সুপ্রিম কোর্ট একটি কোর্ট অফ রেকর্ড; তার আদেশ এবং রায় চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে এবং
- কোন বাক্তি  আদালত এর সিদ্ধান্তের অবমাননা করলে সুপ্রিম কোর্ট তদন্ত ও শাস্তিসহ তার সমস্ত সংবিধিবদ্ধ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে ওই বাক্তির বিরুদ্ধে।
• ১১৭ অনুচ্ছেদ — প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল:
- সংবিধানের ১১৭ অনুচ্ছেদ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসমূহ সম্পর্কিত বিধান নির্ধারণ করে (ট্রাইব্যুনালের প্রতিষ্ঠা, এখতিয়ার ও কার্যপদ্ধতি ইত্যাদি)।
• ১১৮ অনুচ্ছেদ — নির্বাচন কমিশন:
- ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে, যার প্রধান হবেন একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং
- সদস্য হিসেবে সর্বোচ্চ চারজন নির্বাচন কমিশনার থাকবেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

৩১০.
বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদকাল -
  1. ক) ৭ বছর
  2. খ) ১০ বছর
  3. গ) ১৩ বছর
  4. ঘ) ১৫ বছর
ব্যাখ্যা
জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ হবে -  প্রদানের তারিখ থেকে ১৫ বছর।

• জাতীয় পরিচয়পত্র:

- জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০ অনুসারে,
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশের নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করে থাকে।
- আবার, মেশিন রিডেবল জাতীয় পরিচয়পত্র স্মার্ট কার্ডের মেয়াদ - ১০ বছর।
- এতে নাগরিকদের ৩২ ধরনের তথ্য সংরক্ষিত থাকে।

উৎস: আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।
৩১১.
Rules of Business কে প্রণয়ন করেন?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. স্পিকার
  4. অ্যাটর্নি জেনারেল
ব্যাখ্যা

⇒ 'Rules of Business' প্রণয়ন করেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি:
- রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধান।
- বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ অংশের ৪৮-৫৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধানাবলি বিধৃত হয়েছে।
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত।
- তিনি সংবিধান ও আইন বলে তাঁর উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব সম্পন্ন করেন।
- রাষ্ট্রপতি জারিকৃত আইনকে অধ্যাদেশ বলে।
- সরকারের যাবতীয় নির্বাহী কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদন করা হয়।
- সংসদ-সদস্যদের দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্যে নূন্যতম বয়স ৩৫ বছর।
- রাষ্ট্রপতির পদ শূণ্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬০-৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।

৩১২.
সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভা গঠনে কার ভূমিকা মুখ্য?
  1. ক) রাষ্ট্রপতি
  2. খ) প্রধানমন্ত্রী
  3. গ) স্পিকার
  4. ঘ) সংসদ সদস্য
ব্যাখ্যা
মন্ত্রিসভা গঠনে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা: প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের তালিকা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করবেন, আর রাষ্ট্রপতি তাদের নিয়োগ দিবেন।

প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই মন্ত্রী নিযুক্ত করবেন। প্রয়োজনবোধে সংসদ সদস্য নন এমন নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তিকেও মন্ত্রিসভায় তিনি অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। তবে এভাবে নিযুক্ত মন্ত্রীদের সংখ্যা এক-দশমাংশের বেশি হবে না।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ সংবিধান।
৩১৩.
দন্ডবিধি আইন কত সালে প্রণয়ন করা হয়?
  1. ক) ১৮৬০
  2. খ) ১৮৭০
  3. গ) ১৮৫৭
  4. ঘ) ১৮৯৩
ব্যাখ্যা
দন্ডবিধি আইন: 
-১৮৩৪ সালে স্যার টমাস ব্যাবিংটন মেকলের সভাপতিত্বে প্রথম আইন কমিশন গঠিত হয়, যার সুপারিশে ১৮৬০ সালে ভারতীয় দণ্ডবিধি প্রণীত হয়।
- দেশ স্বাধীনের পর এর নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ দণ্ডবিধি।
- এটি বর্তমানে প্রচলিত প্রধান এবং প্রাচীনতম আইন সংকলন।

উল্লেখ্য,
ফৌজধারী কার্যবিধি বা Criminal Procedure - ১৮৯৮ সালে প্রণীত হয়। 

তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া।
৩১৪.
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি কততম? [মার্চ, ২০২৬]
  1. ২৪তম
  2. ২৫তম
  3. ২৬তম
  4. ২৭তম
ব্যাখ্যা

বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি: বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী
- তিনি ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ প্রধান করেন।

উল্লেখ্য,
- তিনি ২৭ আগস্ট ২০০৩ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে উন্নীত হন এবং ২৭ আগস্ট ২০০৫ সালে একই বিভাগের স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন।
- ১৩ আগস্ট ২০২৪ সালে তিনি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে উন্নীত হন। [ব্যাখ্যা আপডেট - মার্চ, ২০২৬]

উৎস: বিচার বিভাগ ওয়েবসাইট।

৩১৫.
শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য সংসদ সদস্যদের সংসদ থেকে বহিষ্কার করতে পারেন কে?
  1. প্রধান মন্ত্রী
  2. স্পিকার
  3. ডেপুটি স্পিকার
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
সংসদে দায়িত্ব ও কর্তব্য:
- বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব আইন প্রণয়ন [অনুচ্ছেদ ৬৫ (১)], রাষ্ট্রের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন [অনুচ্ছেদ ৪৮], রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন [অনুচ্ছেদ ৫২] বা অপসারণ [অনুচ্ছেদ ৫৩], প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন [অনুচ্ছেদ ৫৬), স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দান [অনুচ্ছেদ ৭৪], কার্যপ্রণালী বিধি সংশোধন [অনুচ্ছেদ ৭৫), সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা [অনুচ্ছেদ ৭৩], জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে বিল উত্থাপন [অনুচ্ছেদ ৮০], এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে অংশগ্রহণ করা [অনুচ্ছেদ ৭৬]। লক্ষণীয়, সংবিধানে উল্লিখিত সবগুলো দায়িত্বই সংসদে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ সম্পর্কিত, এবং সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ওপর কোনো নির্বাহী দায়িত্ব অর্পিত হয়নি।

⇒ বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি: 
- সংসদীয় পরিভাষায় 'বিশেষ অধিকার' সংসদ এবং এর বিভিন্ন কমিটির জন্য সামগ্রিকভাবে এবং এর সদস্যদের জন্য ব্যক্তিগতভাবে প্রযোজ্য বিশেষ কিছু অধিকার এবং বিশেষ দায়মুক্তি বোঝায়। বাংলাদেশের সংবিধান ও কার্যপ্রণালী-বিধিতে সংসদ সদস্যদের ও কমিটির কিছু বিশেষ অধিকার নির্দিষ্ট করা হয়েছে, এবং এর বাইরেও কিছু বিশেষ অধিকার প্রথাগতভাবে পালিত হয়ে এসেছে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের যে সদস্যের ওপর সংসদের কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রণ, কার্য-পরিচালনা বা শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষমতা ন্যস্ত থাকবে, তিনি সকল ক্ষমতা প্রয়োগ সম্পর্কিত কোনো ব্যাপারে কোনো আদালতের এখতিয়ারের অধীন হবেন না। সংসদে বা সংসদের কোনো কমিটিতে কিছু বলা বা ভোটদানের জন্য কোনো সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো আদালতে কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না। স্পিকারের অনুমতি ছাড়া সংসদীয় এলাকার মধ্যে কোনো সংসদ সদস্যকে গ্রেফতার করা বা অন্য কোনো ধরনের আইনি কার্যক্রম চালানো যাবে না।
- সংসদ অধিবেশন চলাকালীন কোনো সদস্য বক্তব্য উপস্থাপন করার সময় অন্য কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ, আক্রমণাত্মক ভাষা প্রয়োগ, হেয় প্রতিপন্ন করা, এবং যৌক্তিক কারণ ছাড়া দোষারোপ করতে পারবেন না।
- অন্যদিকে সংসদে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার জন্য সংসদ সদস্যদের জন্য স্পিকারের পক্ষ থেকে সতর্কতা সংকেত প্রদান, বক্তব্যদান বন্ধ করে দেওয়া, বহিষ্কার, এবং অধিবেশনে যোগদান সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিধান রয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) ট্রান্সপ্যারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। 
৩১৬.
’বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’-র মতাদর্শ কী?
  1. ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ
  2. মার্কসবাদ
  3. ক্যাপিটালিজম
  4. জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি):
- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) অবিভক্ত ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি নামে পরিচিত ছিল।
- পরবর্তিতে ভারত ভাগের পর ১৯৪৮ সালের ৬ মার্চ গঠিত হয়,  পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি।
- এরই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি আত্মপ্রকাশ করে।
- এই দলটি মার্কসবাদী- লেলিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি হিসেবে পরিচিত।
- কমরেড মনি সিং (মৃত্যু ১৯৯০) ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির প্রাণপুরুষ।

উৎস : পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৩১৭.
জাতীয় অর্থ তহবিলের নিয়ন্ত্রক কে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. জাতীয় সংসদ
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদের অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
- জাতীয় সংসদ সরকারের অর্থ সংক্রান্ত কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। 
- সংসদের আইন বা উহার কর্তৃত্ব ব্যতীত কর আরোপ বা সংগ্রহ করা যায় না (অনু: ৮৩)।
- সরকার প্রতি বছর আয়-ব্যয়ের অনুমিত হিসাব সংবলিত একটি বাজেট সংসদে উপস্থাপন করবে এবং সংসদের অনুমোদন ব্যতীত উক্ত বাজেট কার্যকর হবে না (অনু: ৮৭)।
- সকল সরকারি অর্থের রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ সংসদের আইন দ্বারা করা হবে (অনু: ৮৫)। 
সুতরাং, জাতীয় সংসদ হচ্ছে জাতীয় অর্থের অভিভাবক ও নিয়ন্ত্রণকারী।

সূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও বাংলাদেশ সংবিধান।
৩১৮.
নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী অর্থ মন্ত্রণালয়ের কয়টি বিভাগ করা হবে? [অক্টোবর,২০২৫]
  1. ৬টি
  2. ৫টি
  3. ২টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

অর্থ মন্ত্রণাল:
• বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতায় রয়েছে চারটি বিভাগ- 
- অর্থ বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি), অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি)। - আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে 'রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ' বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার।
- নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিভাগ করা হবে ৫টি।
- নতুন পাঁচ বিভাগের মধ্যে অর্থ বিভাগ, ইআরডি ও এফআইডি থাকবে।বাদ পড়বে আইআরডি।
- তবে নতুন যুক্ত হবে রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ।]

উৎস: প্রথম আলো।

৩১৯.
কোন জেলায় একটি মাত্র সংসদীয় আসন রয়েছে?
  1. ক) শেরপুর
  2. খ) খাগড়াছড়ি
  3. গ) লালমনিরহাট
  4. ঘ) মাগুরা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি। এর মধ্যে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আসন সংখ্যা ৩০০টি।
- বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।
- সর্বোচ্চ ২০টি আসন রয়েছে ঢাকা জেলায়।
(তথ্যসূত্র: নির্বাচন কমিশন)
৩২০.
সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়সসীমা কত?
  1. ৬০ বছর
  2. ৬৩ বছর
  3. ৬৫ বছর
  4. ৬৭ বছর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৭ বছর।

• বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচারকদের পদের মেয়াদ: একজন বিচারপতি ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তার পদে বহাল থাকেন।

প্রধান বিচারপতি:

- দেশের বর্তমান ও ২৬তম প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
- ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে জুবায়ের রহমান চৌধুরী দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

⇒ সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান মহামান্য রাষ্ট্রপতি। প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করেই অন্যান্য বিচারপতি দের নিয়োগ দেয়া হয়।
- প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্যে ন্যূনতম দশ বছর সুপ্রিমকোর্টে অ্যাডভোকেট বা দেশের বিচার বিভাগীয় পদে দশ বছর নিযুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়।
- প্রধান বিচারপতি ৬৭ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন।
- বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বয়সসীমা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ বছর।

উল্লেখ্য,
- সংবিধান অনুযায়ী বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৭ বছর। ২৫তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। সে হিসাবে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে তাঁর ৬৭ বছর পূর্ণ হয়েছে।
- সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর জন্ম ১৯৬১ সালের ১৮ মে। সে হিসাবে তাঁর ৬৭ বছর পূর্ণ হবে ২০২৮ সালের ১৭ মে। অর্থাৎ ওই সময়ে তিনি অবসরে যাবেন।

উৎস: i) সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৩২১.
নিচের কোনটি প্রশাসনিক কাঠামোর স্তর নয়?
  1. ক) জেলা প্রশাসন
  2. খ) সিটি কর্পোরেশন
  3. গ) সচিবালয়
  4. ঘ) উপজেলা প্রশাসন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো স্তরভিত্তিক। এর প্রধান দুটি স্তর রয়েছে। যথা: কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসন।

- কেন্দ্রীয় প্রশাসন হলো সচিবালয়। কেন্দ্রীয় প্রশাসনে সকল নীতি ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মাঠ প্রশাসন কেন্দ্রীয় প্রশাসনে গৃহীত সকল নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।

মাঠ প্রশাসন কতগুলো স্তরে বিভক্ত।
এগুলো হলো:
- বিভাগীয় প্রশাসন
- জেলা প্রশাসন
- উপজেলা প্রশাসন।

এদের মধ্যে বিভাগীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন হলো সর্বনিম্ন স্তর যা তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত।

অন্যদিকে,
- সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ হলো স্থানীয় সরকার কাঠামোর অংশ।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩২২.
জাতীয় সংসদে কোরাম হতে হলে কতজন সংসদ সদস্যের উপস্থিত থাকতে হবে?
  1. মোট সংসদ সদস্যের ১/৫ ভাগ
  2. মোট সংসদ সদস্যের ১/১০ ভাগ
  3. মোট সংসদ সদস্যের ১/৩ ভাগ
  4. মোট সংসদ সদস্যের অর্ধেক
ব্যাখ্যা

কোরাম:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫নং অনুচ্ছেদে কোরাম সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে। অর্থাৎ মোট সংসদ সদস্যের ১/৫ ভাগ। 
- জাতীয় সংসদের বৈঠক চলাকালে কোনো সময়ে উপস্থিত সংসদ সংখ্যা ৬০ জনের কম বলে যদি সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় তাহলে তিনি অনূন্য ৬০ জন সদস্য উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত বৈঠক স্থগিত রাখবেন কিংবা মুলতবি করবেন।

উল্লেখ্য,
- কোরাম বলতে বুঝায় একটি বৈধ সভার শুরু হতে শেষ পর্যন্ত ভোটদানের অধিকারী সদস্যের একটি নূন্যতম সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা প্রতিনিধি উপস্থিত থাকা এবং নূন্যতম এই সংখ্যা সংগঠনের আইন নিয়ম দ্বারা পূর্বেই নির্ধারিত করে দেওয়া।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৩২৩.
মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বোচ্চ স্তরের প্রধান হল-
  1. জেলা প্রশাসক
  2. বিভাগীয় কমিশনার
  3. উপজেলা নির্বাহী
  4. জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
• বিভাগীয় প্রশাসন :
- মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বোচ্চ স্তরের - বিভাগ।
- প্রতিটি বিভাগের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন বিভাগীয় কমিশনার।
- বিভাগীয় কমিশনার জেলা প্রশাসকদের কাজ তদারক করেন।

• জেলা প্রশাসন :
- জেলা প্রশাসন মাঠ বা স্থানীয় প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর।
- এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন জেলা প্রশাসক।
- জেলা প্রশাসক জেলার মুখ্য বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটক।
- দেশের সব জেলায় একজন করে জেলা প্রশাসক আছেন।

• উপজেলা প্রশাসন :
- মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বনিন্ম স্তরের হল - উপজেলা প্রশাসন।
- উপজেলার প্রধান প্রশাসক হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
- তিনি উপজেলা উন্নয়ন কমিটির প্রধান।

উৎস : পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৩২৪.
বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ ধাপ কোনটি?
  1. উপজেলা প্রশাসন
  2. জেলা প্রশাসন
  3. বিভাগীয় প্রশাসন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
স্থানীয় প্রশাসন: 
- বাংলাদেশের স্তরভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামোর দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন বা মাঠ প্রশাসন।
- প্রথম স্তরটি হচ্ছে কেন্দ্রীয় প্রশাসন।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রথম ও সর্বোচ্চ ধাপ হচ্ছে বিভাগীয় প্রশাসন।
- বাংলাদেশের স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামো ৩টি স্তরে বিভক্ত।
যথা:- বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন।
- স্থানীয় প্রশাসনের সর্বনিম্ন স্তর হলো উপজেলা প্রশাসন ৷

• শহরাঞ্চলের স্থানীয় সরকারের স্তর হচ্ছে -
- পৌরসভা
- সিটি কর্পোরেশন।

সূত্র -পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৫.
নিচের কোনটি স্থানীয় সরকার নয়?
  1. ক) সিটি কর্পোরেশন
  2. খ) জেলা পরিষদ
  3. গ) উপজেলা প্রশাসন
  4. ঘ) ইউনিয়ন পরিষদ
ব্যাখ্যা
স্থানীয় সরকার হলো এমন সরকার ব্যবস্থা যা ছোট ছোট এলাকার স্থানীয় প্রয়োজন মেটানোর জন্যে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত ও আইনের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত।
বাংলাদেশে বর্তমানে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো লক্ষ্য করা যায়।
এগুলো হলো: ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং জেলা পরিষদ।
এছাড়া শহরাঞ্চলে পৌরসভা ও ১২টি শহরে সিটি কর্পোরেশন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি স্থানীয় পার্বত্য জেলা পরিষদ রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন - হলো সরকারের প্রশাসন ব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর।
(সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩২৬.
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে? (ডিসেম্বর, ২০২৫)
  1. কাজী হাবিবুল আওয়াল
  2. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার
  3. আনিসুর রহমান
  4. এ এম এম নাসির উদ্দীন
ব্যাখ্যা

নির্বাচন কমিশন:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় নির্বাচন কমিশন গঠিত। 
- এটি সাংবিধানিকভাবে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন কমিশনারসহ মোট পাঁচজন নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত।
- নির্বাচন কমিশনারগণকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন।
- নির্বাচন কমিশনের সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভাপতির কাজ করেন।
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারের মেয়াদ তাদের কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর।
- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সরকার ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কর্তব্য।
- নির্বাচন কমিশন সংবিধানে বর্ণিত নির্দেশনাবলি এবং দেশের নির্বাচনি আইন দ্বারা পরিচালিত হয়।
- নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পরিচালিত নির্বাচন সমূহ,
• রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
• জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
• সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।
• জেলা পরিষদ নির্বাচন।
• উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।
• পৌরসভা নির্বাচন।
• ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।

৩২৭.
বাংলাদেশে সিটি কর্পোরেশনের সংখ্যা কতটি? ( মে-২০২৫)
  1. ৮ টি
  2. ১২ টি
  3. ৬ টি
  4. ১০ টি
ব্যাখ্যা
• দেশের প্রশাসনিক কাঠামো:
- বিভাগ - ৮টি
- জেলা ৬৪টি
- সিটি কর্পোরেশন - ১২ টি
- উপজেলা -৪৯৫ টি
- মেট্রো থানা- ১০৫ টি
- পৌরসভা - ৩২৭ টি
- ইউনিয়ন - ৪,৫৯৬ টি
- মৌজা - ৫৮,৮৪৬ টি
- গ্রাম - ৯০,০৪৯ টি
- মহল্লা - ১৫,১৫৩ টি

উৎস : জনশুমারি- ২০২২।
৩২৮.
প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা যৌথভাবে কার নিকট দায়ী থাকেন? 
  1. সুপ্রিম কোর্ট
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. জাতীয় সংসদ
  4. সেনাপ্রধান
ব্যাখ্যা

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কাজ:
-----------------------------------------
সংবিধান অনুযায়ী দেশের সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
​মন্ত্রিপরিষদের সহযোগিতায় তিনি শাসনসংক্রান্ত সকল দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকেন।
​প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার সদস্য, সাংবিধানিক পদে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিদেশে রাষ্ট্রদূত ইত্যাদি নিয়োগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের প্রধান। তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করেন ও মন্ত্রীদের মধ্যেদপ্তর বণ্টন করেন।
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের একজন সদস্য ও সংসদ নেতা।
পররাষ্ট্র বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে না।
আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন।
দেশের জরুরি অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়া যেকোনো নির্দেশ দিতে পারেন।
তবে প্রধানমন্ত্রী সংসদের কাছে জবাবদিহি করবেন। সংসদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে জবাবদিহি চালু রাখতে পারে।
জাতির মুখপাত্র হিসেবে প্রধানমন্ত্রী:
প্রধানমন্ত্রী জাতির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৩২৯.
বাংলাদেশে ৭ম জাতীয় সংসদের বিলুপ্তি ঘটে ২০০১ এর জুলাই মাসের কত তারিখে?
  1. ১০
  2. ১১
  3. ১২
  4. ১৩
ব্যাখ্যা
সপ্তম সংসদ নির্বাচন:
- ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
- ৮১টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
- নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৪.৯৬ শতাংশ।
- এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে।
- নির্বাচনের এক মাস দুদিন পর ১৯৯৬ সালের ১৪ জুলাই সংসদ গঠিত হয়।
- এই সংসদ ২০০১ সালের ১৩ জুলাই মেয়াদ শেষ করে।

তথ্যসূত্র - যুগান্তর পত্রিকার রিপোর্ট।
৩৩০.
নিচের কোনটি প্রশাসনিক কাঠামোর স্তর নয়?
  1. জেলা প্রশাসন
  2. বিভাগীয় প্রশাসন
  3. পৌরসভা
  4. উপজেলা প্রশাসন
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বনিম্ন স্তর হলো উপজেলা প্রশাসন।
- সর্বোচ্চ স্তর হলো সচিবালয়। এর নিচে বিভাগীয় প্রশাসন। তার নিচে জেলা প্রশাসন।
বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে মাঠ প্রশাসন ধরা হয়।
এছাড়া, প্রশাসন ব্যবস্থায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন বিভাগ, অধিদপ্তর ও দপ্তর রয়েছে।
অন্যদিকে,
- পৌরসভা হলো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৩১.
বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন প্রণীত হয় -
  1. ১৯৭৮ সালে
  2. ১৯৮০ সালে
  3. ১৯৮২ সালে
  4. ১৯৮৪ সালে
ব্যাখ্যা
আইন:
-  বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন প্রণীত হয় ১৯৮০ সালে। 
- ১৯৮০ সালের Dowry Prohibition Act অনুসারে যৌতুক বলতে “বিবাহে এক পক্ষ কতৃর্ক অপর পক্ষকে অথবা বিবাহের কোনো এক পক্ষের পিতামাতা কতৃর্ক বা অন্য যে কোনো ব্যক্তি কতৃর্ক অপর পক্ষকে বা অপর কোনো ব্যক্তিকে, বিবাহকালে বা বিবাহের পূর্বে বা পরে যে কোনো কালে উক্ত পক্ষগণের বিবাহের পণ হিসেবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রদত্ত বা প্রদান করতে সম্মত যে কোনো সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানতকে বুঝায়।”    

উৎস:- Ministry of Law এবং সমাজকর্ম দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩২.
বর্তমানে বাংলাদেশে কতটি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে? [জানুয়ারি, ২০২৫]
  1. ১০টি
  2. ১১টি
  3. ১২টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা
সিটি কর্পোরেশন: 
- ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, কুমিল্লা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহ পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা হয়েছে।
- ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে আইনের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ নামে দুটি কর্পোরেশন হিসেবে বিভক্ত করা হয়েছে।
- বর্তমানে দেশে ১২টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে
- সিটি কর্পোরেশনের এলাকা ও কাজের ওপর এর সদস্যসংখ্যা নির্ভর করে।
- কর্পোরেশনে একজন মেয়র আছেন। তাঁরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।
- শহরের নানাবিধ সমস্যা, যেমন- পানীয়জলের ব্যবস্থা, পয়ঃনিষ্কাশন, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য সিটি কর্পোরেশন গঠন করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৩৩.
ফ্লোর ক্রসিং বলতে কী বোঝায়?
  1. একাদিক্রমে ৯০ দিবসের অধিক অনুপস্থিত থাকা
  2. সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান
  3. সাংসদ নয় এমন ব্যক্তিদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি
  4. যেকোনো প্রস্তাবে দুই তৃতীয়াংশ ভোট পাওয়া
ব্যাখ্যা

ফ্লোর ক্রসিং:
- জাতীয় সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করা বা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলাকে ফ্লোর ক্রসিং বলা হয় ৷
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে সেই দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান বা সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।

সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি-
(ক) উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,
তাহা হলে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হবার অযোগ্য হবেন না। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৩৩৪.
সংসদ-কক্ষের সামনের দিকের আসনগুলোকে কী বলা হয়?
  1. বিরোধী বেঞ্চ
  2. ট্রেজারি বেঞ্চ
  3. ব্যাকবেঞ্চার
  4. মেম্বার বেঞ্চ
ব্যাখ্যা

◉ সংসদ কক্ষের সামনের দিকের আসনগুলোকে ট্রেজারি বেঞ্চ বলা হয়।

- সংসদ-কক্ষের সামনের দিকের আসনগুলোকে বলা হয় ট্রেজারি বেঞ্চ।
- সরকারি দলের মন্ত্রী ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ সামনের সারিতে বসেন।
- স্পীকারের আসনের ডানদিকে থাকে ট্রেজারি বেঞ্চ।
- এর বিপরীত দিকে সামনের সারিতে বসেন বিরোধী দলের নেতা, উপনেতা, হুইপ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
- ট্রেজারি বেঞ্চকে ‘ফ্রন্ট বেঞ্চ’ও বলা হয়।
- সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের যেসব সদস্য পেছনের সারিতে বসেন তাদের বলা হয় ব্যাকবেঞ্চার।
- এ সদস্যগণ সরকারি দলের মন্ত্রী বা গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত নন, আবার বিরোধী দলের নেতৃস্থানীয়ও নন। তাই সংসদের আসন ব্যবস্থায় তাঁরা পেছনের সারিতে বসেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৩৩৫.
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান ভিত্তি -
  1. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
  2. সংবিধানের প্রাধান্য রক্ষা
  3. মৌলিক অধিকার রক্ষা
  4. ব্যাক্তিস্বাধীনতা রক্ষা
ব্যাখ্যা
• ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা:
 → আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান ভিত্তি হল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
→ বিচার বিভাগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারিক কার্য সম্পাদন সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।
→ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা তথা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের ভূমিকাই প্রধান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৬.
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর কে? (জুলাই-২০২৫)
  1. এডভোকেট মোঃ মনজুর আলম
  2. এডভোকেট রেদওয়ান আহম্মেদ রনজিব
  3. এডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম
  4. এডভোকেট মোঃ রফিকুল ইসলাম মন্টু
ব্যাখ্যা
• আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ):
- এটি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত একটি অপরাধ ট্রাইবুনাল যার উদ্দেশ্য হচ্ছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত আন্তর্জাতিক অপরাধসমূহের বিচার করা।
- ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- ২০১০ সালের ২৫শে মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন ১৯৭৩-এর ৬ ধারার বলে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় ।
- এ্যাটর্নী জেনারেল পদমর্যাদায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের “চীফ প্রসিকিউটর” হিসেবে বর্তমানে নিয়োগপ্রাপ্ত ’জনাব মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম’। 

উৎস: চীফ প্রসিকিউটর কার্যালয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
৩৩৭.
রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কার্যাবলি কোনটি?
  1. সরকার বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন
  2. যৌতুক ও বর্ণ বা গোত্রপ্রথা দূরীকরণ
  3. খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

→ রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কার্যাবলি:
- সরকার বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন,
- নারী শিক্ষার ওপর গুরুত্বসহ বয়স্ক শিক্ষার ব্যবস্থা করা,
- হাসপাতাল,
- দাতব্য চিকিৎসালয়,
- শিশুসদন,
- মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র স্থাপন,
- পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্ৰ স্থাপন,
- জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিশুদ্ধ পানীয়জলের সুব্যবস্থা,
- পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা,
- রোগ প্রতিরোধক,
- প্রতিষেধক টিকা প্ৰদান,
- যৌতুক ও বর্ণ বা গোত্রপ্রথা দূরীকরণ,
- বাল্যবিবাহ রোধ,
- জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে,
- উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ,
- কৃষিতে ভর্তুকি প্রদান,
- সার, বীজ, কীটনাশক সরবরাহ, সেচের ব্যবস্থা করা,
- খাদ্য গুদামজাতকরণ
- দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যথা: রাস্তাঘাট, সেতু, সড়ক, রেলপথ, নৌ-চলাচল, বিমান যোগাযোগ,
- গ্রামীণ উন্নয়ন, কালোবাজারি রোধ,
- খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ,
- নারী ও শিশু পাচার রোধ।

→ রাষ্ট্রের অপরিহার্য বা মুখ্য কার্যাবলি:
- সেনাবাহিনী গঠন,
- বাজেট প্রণয়ন,
- মুদ্রাস্ফীতি রোধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।

৩৩৮.
মন্ত্রিসভা কার ইচ্ছাধীন থাকে?
  1. ক) রাষ্ট্রপতি
  2. খ) জাতীয় সংসদ
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী
  4. ঘ) সুপ্রিমকোর্ট
ব্যাখ্যা
মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাধীন থাকে। মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ, দপ্তর বন্টন, নিয়োগ ও অব্যাহতি প্রভৃতি প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে মন্ত্রিসভাও ভেঙে যায়।
- তবে মন্ত্রিসভার সদস্যগণ একক ও যৌথভাবে জাতীয় সংসদের নিকট দায়ী থাকেন।

- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা দেশের প্রকৃত শাসক। প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগদান করে থাকেন।
- মন্ত্রিসভার সদস্যগণ জাতীয় সংসদের সদস্যদের থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে মন্ত্রিসভার এক-দশমাংশ সদস্য সাংসদ নয় এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া যায়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৩৯.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম প্রশাসনিক কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. সাতক্ষীরায়
  2. মেহেরপুরে
  3. চুয়াডাঙ্গায়
  4. নবাবগঞ্জে
ব্যাখ্যা
₻ প্রথম প্রশাসনিক কেন্দ্র
- মুজিবনগর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার বা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদরদপ্তর বা প্রশাসনিক কেন্দ্র।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় এবং ১৪ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গার মুক্তাঞ্চলে সরকারের শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয় হওয়া সত্ত্বেও আকাশবাণীসহ আরও দু’একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এ তথ্য ফাঁস হয়ে যায়।
- পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণের স্থান নির্ধারিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৪০.
শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন কবে?
  1. ক) ১৯৪৯ সালে
  2. খ) ১৯৫২ সালে
  3. গ) ১৯৫৩ সালে
  4. ঘ) ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত প্রশ্নের উত্তর : ১৯৫৩ সালে। 

- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটিতে বঙ্গবন্ধু যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তখন তার বয়স ছিলো মাত্র ২৯ বছর।
- ১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামীলীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
- এর আগের ১ বছর তিনি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্বপালন করেন।
- পরে তিনি টানা চারবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৬ সালের ১৯ মার্চ তিনি আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

সূত্র : কারাগারের রোজনামচা, অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট ।
৩৪১.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু কোন আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন?
  1. ঢাকা - ১০
  2. ঢাকা - ১২
  3. গোপালগঞ্জ - ৩
  4. গোপালগঞ্জ - ১
ব্যাখ্যা
• জাতীয় সংসদ:
- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- সে সময় ৩০০ আসনে সরাসরি নির্বাচন হয়।
- সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ছিল ১৫টি।
- নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টিতে জয়লাভ করে।
- বঙ্গবন্ধু সে সময় ঢাকা-১২ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন।
- প্রথম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন মুহম্মদুল্লাহ
- ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন বায়তুল্লাহ।

উৎস: লাইভ এম সি কিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।
৩৪২.
প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কোন কমিশনের অধীনে?
  1. নুরুল ইসলাম কমিশন
  2. রউফ কমিশন
  3. ইদ্রিস কমিশন
  4. মাসুদ কমিশন
ব্যাখ্যা
• ইদ্রিস কমিশন :
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি এম ইদ্রিস।
- তাঁর কমিশনের মেয়াদ ছিল ১৯৭২ সালের ৭ জুলাই থেকে ১৯৭৭ সালের ৭ জুলাই।
- ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে এই কমিশন।

• নুরুল ইসলাম কমিশন :
- বিচারপতি একেএম নুরুল ইসলাম বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্ব পালন করা প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
- তিনি ১৯৭৭ সালের ৮ জুলাই দায়িত্ব নেন।
- অব্যাহতি নেন ১৯৮৫ সালের ১৭ ফ্রেব্রুয়ারি৷ আট বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

• রউফ কমিশন : 
- বিচারপতি সুলতান হোসেন খানের পর বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ সিইসি হিসেবে নিযু্ক্ত হন।
- গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারের ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করে তাঁর কমিশন।
- তিনি ১৯৯৫ সালের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: ডয়েচ লেভেল।
৩৪৩.
বাংলাদেশের শাসন বিভাগের কয়টি অংশ?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা

•  শাসন বিভাগের দুইটি অংশ।

• শাসন বিভাগ:
• সরকারের সর্ববৃহৎ বিভাগ হল শাসন বিভাগ।
- যা নির্বাহী বিভাগও বলা হয়।
- শাসন বিভাগ আইন প্রয়োগ ও আইনের আলোকে রাষ্ট্রের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
- জনগণকে সেবা প্রদানের মূল দায়িত্বে থাকে শাসন বিভাগ।

• শাসন বিভাগের দুটি অংশ থাকে:
• একটি রাজনৈতিক অংশ
• অন্যটি অরাজনৈতিক অংশ।
- রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ শাসন বিভাগের রাজনৈতিক অংশ।
- রাজনৈতিক অংশ অস্থায়ী।
- তাঁরা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত এবং নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন।
- আমলাগণ শাসন বিভাগের অরাজনৈতিক অংশ, স্থায়ী ও বেতনভূক্ত।
- শাসন বিভাগের ক্ষমতা বিভিন্ন ইউনিটে বিভক্ত থাকে।
- যা কেন্দ্রিয় ও মাঠ প্রশাসন হিসেবে পরিচিত।
- কেন্দ্রে থাকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ।
- মাঠ প্রশাসনে জেলা-উপজেলা প্রশাসন সরকারি দায়িত্ব পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৪.
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের কততম প্রধানমন্ত্রী?
  1. ১৩তম
  2. ১১তম
  3. ১২তম
  4. ১০ম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ১২তম প্রধানমন্ত্রী।
তিনি ২০০৯ সাল থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত।
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ।
দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
(সূত্র: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ওয়েবসাইট)
৩৪৫.
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ইংরেজি সংক্ষিপ্ত রুপ কি?
  1. ক) MoFA
  2. খ) MOAP
  3. গ) MoE
  4. ঘ) MoPA
ব্যাখ্যা

MoPA (Ministry of Public Administration) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ইংরেজি সংক্ষিপ্ত রূপ ।
-সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের নতুন নাম হলো ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়’। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন

৩৪৬.
কোন ব্যক্তি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য হবেন না যদি তিনি -
  1. যদি তিনি ঋণ খেলাপী হন
  2. কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেন
  3. প্রজাতন্ত্রের কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
সংসদ সদস্যদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা:
- সংবিধানের ৬২ (১), (২), (৩), (৪) সংসদ সদস্যদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে।

যোগ্যতা:
- কোন ব্যক্তি সংসদ নির্বাচিত হবার যোগ্যবলে বিবেচিত হবেন যদি তিনি নিম্নে বর্ণিত যোগ্যতার অধিকারী হন-
- প্রথমত: তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
- দ্বিতীয়ত: তাঁর বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর হতে হবে।

অযোগ্যতা
- কোন ব্যক্তি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য হবেন না যদি তিনি -
(১) যদি তিনি ঋণ খেলাপী হন।
(২) বাংলাদেশের কোন আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হন।
(৩) দেউলিয়া বলে ঘোষিত হবার পর দায় হতে অব্যাহতি লাভ না করে থাকেন।
(৪) কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেন।
(৫) কোন নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাবস্ত হয়ে অন্যূন ২ বছর কারাদন্ডে দন্ডিত হন এবং তাঁর মুক্তি লাভের পর ৫ বছর অতিবাহিত না করে থাকেন।
(৬) প্রজাতন্ত্রের কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন।
(৭) কোন আইনের দ্বারা নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হন। [অনুচ্ছেদ ৬৬ (২)]

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৭.
দুদক আইন কত সালে প্রণীত হয়?
  1. ক) ২০০৫
  2. খ) ২০০৪
  3. গ) ২০০৩
  4. ঘ) ২০০২
ব্যাখ্যা
- দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ২১শে নভেম্বর পূর্বেকার দুর্নীতি দমন ব্যুরোর স্থলে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হয়।
- তবে দুদক আইন কার্যকর হয় ২০০৪ সালের ৯ মে থেকে।
- একজন চেয়ারম্যান ও দুইজন কমিশনার নিয়ে দুদক গঠিত।

(সূত্রঃ দুর্নীতি দমন কমিশন)
৩৪৮.
সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরদের কত ভাগ নারীদের জন্য সংরক্ষিত?
  1. অর্ধেক
  2. দুই-তৃতীয়াংশ
  3. এক-তৃতীয়াংশ
  4. এক-চতুর্তাংশ
ব্যাখ্যা
সিটি কর্পোরেশন:
- বাংলাদেশের প্রধান প্রধান শহর কেন্দ্রিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা হচ্ছে সিটি কর্পোরেশন।
- বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ১২টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে।
- এগুলো হল ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রংপুর ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন।
- নগরায়নের প্রভাবে সিটি কর্পোরেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

⇒ প্রত্যেক সিটি কর্পোরেশনকে কতগুলো ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়।
- জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত একজন মেয়র সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত কাউন্সিলার এবং সর্বমোট কাউন্সিলরদের এক তৃতীয়াংশ সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর সমন্বয়ে সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয়।
- মেয়র প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করেন।
- প্রত্যেক ওয়ার্ড হতে একজন কাউন্সিলর প্রাপ্তবয়স্কদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৯.
নিচের কোনটি স্থানীয় প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. বিভাগীয় প্রশাসন
  2. জেলা প্রশাসন
  3. উপজেলা প্রশাসন
  4. উপজেলা পরিষদ
ব্যাখ্যা

স্থানীয় প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত নয়- উপজেলা পরিষদ।
- উপজেলা পরিষদ একটি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান

স্থানীয় প্রশাসন:
- স্থানীয় শাসন বলতে সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ের তথা বিভাগ,জেলা এবং উপজেলা শাসন ব্যবস্থাকে বুঝায়।
- প্রশাসনের সুবিধার্থে এর সৃষ্টি।
- এ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় শাসন ও নিয়ন্ত্রণকে নিম্নস্তর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়।
- কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, রাজস্ব আদায় ও সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নই এর মুখ্য উদ্দেশ্য।
- এ ব্যবস্থায় স্থানীয় শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিবৃন্দ সরকারের এজেন্ট বা প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৩৫০.
নিচের কোনটি নাগরিকের আইনগত কর্তব্য?
  1. কর প্রদান করা
  2. রাষ্ট্রের সেবা করা
  3. সন্তানদের শিক্ষিত করা
  4. নিজে শিক্ষিত হওয়া
ব্যাখ্যা

• অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিকরা যেসব দায়িত্ব পালন করে, তাকে কর্তব্য বলে।
- নাগরিকের কর্তব্যকে দুভাগে ভাগ করা যায়।

• নৈতিক কর্তব্য:
- নৈতিক কর্তব্য মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে সৃষ্টি হওয়ায় এগুলোকে নৈতিক কর্তব্য বলে।
-যেমন-
- নিজে শিক্ষিত হওয়া 
- সন্তানদের শিক্ষিত করা,
- সততার সাথে ভোট দান,
- রাষ্ট্রের সেবা করা, 
- বিশ্বমানবতার সাহায্যে এগিয়ে আসা। 

আইনগত কর্তব্য:
- রাষ্ট্রের আইন দ্বারা আরোপিত কর্তব্যকে আইনগত কর্তব্য বলে।
যেমন-
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য,
- আইন মানা,
- কর প্রদান করা,

উৎস : পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৩৫১.
সংসদ প্রণীত বিলে রাষ্ট্রপতি কত দিনের মধ্যে সম্মতি দান করবেন?
  1. ৩০ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ৪৫ দিন
ব্যাখ্যা

সংবিধান: 
- সংবিধানের ৮০ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, আইন প্রণয়নের জন্যে সংসদে আনীত প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হয়।
- সংসদ বিল গ্রহণ করলে তা সম্মতির জন্যে রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হয়।
- সংসদ বিল রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হলে তিনি তাতে ১৫ দিনের মধ্যে সম্মতি দান করবেন।
- রাষ্ট্রপতি যদি বিলটি ফেরত পাঠান, তাহলে সংসদ তা গ্রহণ করবে।
- পুনরায় তা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হবে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৩৫২.
রাজনৈতিক দলের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
  1. গঠনমূলক বিরোধিতা করা
  2. জনমত গঠন করা
  3. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করা
  4. রাজনৈতিক শিক্ষাদান
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দল:  
- রাজনৈতিক দল হচ্ছে একটি দেশের জনগোষ্ঠীর সেই অংশ যারা নির্দিষ্ট আদর্শ বা কর্মসূচির ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানে সংগঠিত হয়।
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হলো নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করা।

» এছাড়া অন্যান্য কার্যাবলীর মধ্যে রয়েছে:
- নেতৃত্ব তৈরি
- জনমত গঠন
- রাজনৈতিক শিক্ষাদান
- গঠনমূলক বিরোধিতা করা
- সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী

৩৫৩.
মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন-
  1. ক) এম মনসুর আলী
  2. খ) এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান
  3. গ) খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে।
- এই সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ-
- রাষ্ট্রপতিঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান;
- উপরাষ্ট্রপতিঃ সৈয়দ নজরুল ইসলাম;
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীঃ তাজউদ্দীন আহমদ;
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীঃ এম মনসুর আলী;
- স্বরাষ্ট্র, কৃষি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীঃ এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান;
- পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীঃ খন্দকার মোশতাক আহমেদ;
- প্রধান সেনাপতিঃ কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত এম. এ. জি ওসমানী;
- চিফ অব স্টাফঃ কর্নেল (অব.) আব্দুর রব এবং
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং বিমান বাহিনীর প্রধানঃ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।

উৎস:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৫৪.
এক দলীয় সরকার ব্যবস্থার গুণ কোনটি?
  1. ব্যক্তিত্ব বিকাশের সুযোগ দেয়
  2. স্বৈরাচার কায়েম হয়
  3. দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয় না
  4. দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব হয়
ব্যাখ্যা
একদলীয় ব্যবস্থা:
- যখন রাষ্ট্রে একটি মাত্র দল থাকে তখন তাকে একদলীয় ব্যবস্থা বলা হয়।
- একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় একটিমাত্র দল থাকে।
- এ ধরনের ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় না।
- দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পূর্বে ইতালীর ফ্যাসিষ্ট এবং জার্মানীর নাৎসী দল এই ব্যবস্থার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- একদলীয় ব্যবস্থায় দলীয় প্রধান সাধারণত সরকার প্রধান হন।

একদলীয় ব্যবস্থার গুণ:
- একদলীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রের একতা বিধান করা সম্ভব। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন রকম দ্বি-মত থাকে না।
- দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একদলীয় ব্যবস্থা উপযোগী।
- একদলের মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব হয়।
- রাজনৈতিক কলহ একদলীয় ব্যবস্থায় থাকে না বললেই চলে। কঠোরভাবে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৫.
সংবিধান অনুসারে বাংলাদেশের প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী কে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. স্পীকার
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
প্রধানমন্ত্রী:
- প্রধানমন্ত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকার প্রধান।
- সংবিধানের ৫৫ ও ৫৬ নং ধারা মতে, প্রধানমন্ত্রী পদায়িত হবেন মন্ত্রিপরিষদের শীর্ষে।
- তিনি তাঁর মন্ত্রিপরিষদের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী নির্বাচন করেন।
- সংবিধান অনুসারে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রকৃত নির্বাহী।
- জাতীয় সংসদের নির্বাচনের পর সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মনোনীত ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দান করেন।
- প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধান পরিষদ অর্থাৎ মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৬.
ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কোন মন্ত্রনালয়ের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অর্থমন্ত্রনালয়
  2. শিল্পমন্ত্রনালয়
  3. বাণিজ্য মন্ত্রনালয়
  4. সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
• বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অধিনস্থ দপ্তরসমূহের তালিকা:
- বাংলাদেশ ট্রেড এবং ট্যারিফ কমিশন
- রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো
- ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (TCB).
- জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর
- যৌথ মূলধন কোম্পানী ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর
- আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের অফিস
- বাংলাদেশ চা বোর্ড
----------------------------------------------
TCB:
- TCB-এর পূর্ণরূপ: Trading Corporation of Bangladesh.
- রাষ্ট্রপতির আদেশ নং-৬৮/১৯৭২ এর মাধ্যমে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- ১৯৭২ সনের ০১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠার পর এদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পথিকৃৎ হিসেবে কাজ করছে টিসিবি।
- টিসিবি’র মাধ্যমেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যাদি থেকে শিল্পের কাঁচামাল পর্যন্ত আমদানি এবং পাট, তৈরী পোশাক প্রভৃতি রপ্তানির মাধ্যমে দেশে বৈদেশিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু করা হয়।
-  বর্তমানে তৈরী পোশাক রপ্তানি অর্থনীতিতে যে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে তারও পথিকৃৎ টিসিবি। 

উৎস: টিসিবি ও বাণিজ্য় মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৩৫৭.
বাংলাদেশের সরকার প্রধান কে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. স্পীকার
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সরকার প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী:
- সংসদীয় গণতন্ত্রে নির্বাহী বিভাগ ও সংসদের মধ্যমনি হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- তিনি কেবল মন্ত্রীসভার প্রধান নন; তার উপরই নির্ভর করবে সংসদের মেয়াদ।
- প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে কার্যত সংসদ ভেঙে যায়।
- প্রধানমন্ত্রীই অন্যান্য মন্ত্রী নির্বাচন করেন।
- মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা বিচার করে তিনি মন্ত্রীদের কার্যত পদত্যাগে বাধ্য করেন।
- সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির তথা মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন হয়েছে।
- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী একাধারে সরকার প্রধান, জাতীয় সংসদের নেতা এবং শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু।
- তার নেতৃত্বে সরকার পরিচালিত হয়।
- তিনি দেশ পরিচালনায় মন্ত্রীপরিষদকে নেতৃত্ব দেন। 
- এছাড়াও মন্ত্রীসভার অধিবেশন আহ্বান, কার্যসূচী নির্ধারন, অধিবেশন সভা পরিচালনা, মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বন্টন, মন্ত্রীসভার কাজ তত্ত্বাবধান প্রভৃতি দায়িত্ব মূলত প্রধানমন্ত্রীর উপর ন্যস্ত।
- এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে 'ক্যাবিনেট তোরণের স্তম্ভ' (Keystone of the Cabinet arch) বলা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হলেন রাষ্ট্রপতি।
- জাতীয় সংসদের প্রধান হলেন স্পিকার।
- প্রধান বিচারপতি হলেন 'বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট' এর প্রধান।
 
উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
 
৩৫৮.
'জনসমষ্টি' রাষ্ট্র গঠনের কততম উপাদান?
  1. চতুর্থ
  2. তৃতীয়
  3. দ্বিতীয়
  4. প্রথম
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্র গঠনের প্রথম উপাদান হচ্ছে - জনসমষ্টি।

• রাষ্ট্র:
- আদিম মানুষ প্রথমে গোত্রভিত্তিক বসবাস করতো। সময়ের বিবর্তনে একসময় রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়।
- রাষ্ট্রের সৃষ্টিকারী মূলত মানুষই।
- রাষ্ট্রে বসবাসকারী জনগণকে রাষ্ট্রের নাগরিক বলা হয়।
- প্রত্যেক নাগরিককে রাষ্ট্রের সমস্ত নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়।
- সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান।
- এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা।

• রাষ্ট্রের উপাদান:
রাষ্ট্রের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে রাষ্ট্রের ৪টি উপাদান পাওয়া যায়।
যথা: 
(ক) জনসমষ্টি,
(খ) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড,
(গ) সরকার,
(ঘ) সার্বভৌমত্ব।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৯.
বাংলাদেশের অষ্টম প্রশাসনিক বিভাগ -
  1. ময়মনসিংহ
  2. কুমিল্লা
  3. রংপুর
  4. খুলনা
ব্যাখ্যা
ময়মনসিংহ বিভাগ:
- বাংলাদেশের অষ্টম প্রশাসনিক বিভাগ হলো ময়মনসিংহ।

⇒ জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠিত।
- ঢাকা বিভাগকে ভেঙ্গে দেশের অষ্টম বিভাগ ময়মনসিংহ বিভাগ সৃষ্টি করে।
- এই বিভাগের আয়তন ১০,৫৮৪ বর্গকিলোমিটার।
- এটি বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম বিভাগ।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৬০.
বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন ক্ষমতা কার উপর ন্যস্ত?
  1. মন্ত্রিসভা
  2. জাতীয় সংসদ
  3. সুপ্রিম কোর্ট
  4. রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা

• জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
• বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত।

- সংসদ যেকোনো নতুন আইন প্রণয়ন, প্রচলিত আইনের পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে।
- কোনো নতুন আইন পাশ করতে হলে খসড়া বিলের আকারে তা সংসদে পেশ করা হয়।
- সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে বিলটি গৃহীত হওয়ারপর এবং বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর তা' আইনে পরিণত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।

৩৬১.
বাংলাদেশে প্রথম উপজেলা পরিষদ গঠিত হয় কবে?
  1. ১৯৮০ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৮২ সালে
  4. ১৯৮৪ সালে
ব্যাখ্যা

উপজেলা পরিষদ:
- ১৯৮২ সালে বাংলাদেশে প্রথম উপজেলা পরিষদ গঠিত হয়।
- থানাগুলোকে উপজেলা নামে গণ্য করে সর্বত্র নির্বাচিত পরিষদের ব্যবস্থা করা হয়।
- ১৯৯১ সালে উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করা হলেও ১৯৯৮ সালে আবার উপজেলা গঠনের জন্যে আইন প্রণয়ন করা হয়।
- উপজেলা পরিষদ গঠিত হয় জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন চেয়ারম্যান,
- দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান (এদের মধ্যে একজন হবেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মহিলা),
- এবং কিছু সংখ্যক সদস্য নিয়ে।
- সংশ্লিষ্ট উপজেলার এলাকাভুক্ত প্রত্যেক পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি এই পরিষদের সদস্য হবেন।
- এ ছাড়া উপজেলা পরিষদে সংরক্ষিত পদে তিনজন নারী সদস্য মনোনীত হয়ে থাকেন।
- ২০০৯ উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যগণ পরিষদের পরামর্শকের ভূমিকা পালন করেন।
- এই পরিষদের কার্যকাল ৫ বছর।
- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ.এন.ও.) পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬২.
বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ (বাকশাল) এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন -
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) তাজউদ্দিন আহমেদ
  3. গ) এম. মনসুর আলী
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

- ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের সকল রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়ে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ' বা বাকশাল গঠন করা হয়।
- এতে রাষ্ট্রপতি হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী হন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী।
- ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাকশাল কার্যকর হওয়ার কথা ছিলো।
- এর সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী।
- এর আগে ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

উৎস:-  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া ।

৩৬৩.
অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রের কোন অংশের কর্মকর্তা?
  1. নির্বাহী বিভাগ
  2. মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ
  3. বিচার বিভাগ
  4. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
ব্যাখ্যা

অ্যাটর্নি জেনারেল:
- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগের ৫ম পরিচ্ছেদে ৬৪ নং অনুচ্ছেদে অ্যাটর্নি জেনারেল পদের উল্লেখ রয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন অ্যাটর্নি জেনারেল থাকবেন।
- অ্যাটর্নি জেনারেল বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা।
- তিনি আইনগত দিক নিয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষে আদালতে বক্তব্য পেশ করেন।
- সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগদান করবেন।
- রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করবেন।
- বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিত স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন।
- বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারকের ন্যায় মর্যাদা ভোগের অধিকারী হবেন।

⇒ অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
• অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করবেন।
• অ্যাটর্নি-জেনারেলের দায়িত্বপালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তাঁর বক্তব্য পেশ করার অধিকার থাকবে।
• বাংলাদেশ সরকারের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৩৬৪.
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ স্তর কোনটি? 
  1. উপজেলা পরিষদ 
  2. পৌরসভা
  3. জেলা পরিষদ 
  4. ইউনিয়ন পরিষদ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে বর্তমানে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো লক্ষ করা যায়।
যথা-
- ইউনিয়ন পরিষদ,
- উপজেলা পরিষদ ও 
- জেলা পরিষদ। 

এছাড়া শহরগুলোতে পৌরসভা, বড় শহরে সিটি কর্পোরেশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি (খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি) স্থানীয় জেলা পরিষদ রয়েছে।
- উল্লিখিত তিন স্তরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদকেই নিচের দিকে সবচেয়ে কার্যকর ইউনিট বলে মনে করা হয়ে থাকে।
-  বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ স্তর- জেলা পরিষদ।

• জেলা পরিষদ
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন আমল থেকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে 'জেলা পরিষদ' থাকলেও ১৯৯১ সালে জেলা পরিষদ আইন বিলুপ্ত করে দেওয়ার পর প্রায় এক দশক জেলা পরিষদের অস্তিত্ব ছিল না।
- পুনরায় ২০০০ সালে জেলা পরিষদ আইন পাশ করে দেশের সকল জেলায় জেলা পরিষদ গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয়।
- পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর।

⇒ গঠন
- একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনে ৫ জন মহিলা সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠিত হয়।
- কোনো জেলার সংসদ-সদস্যগণ আইন অনুযায়ী উক্ত জেলার পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন।
- আইন অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্য বা অন্য কোনো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা সদস্যদের স্বীয় পদে থেকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই।
- আইন অনুযায়ী জেলার অন্তর্ভুক্ত সিটি কর্পোরেশনের (যদি থাকে) মেয়র ও কমিশনারবৃন্দ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কমিশনার এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সকল সদস্যদের ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত হবেন। অর্থাৎ পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে জেলা পরিষদের প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হবেন।
- প্রথম বারের মতো ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা পরিষদ গঠন করা হয়।

 উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৩৬৫.
আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কার উপর ন্যস্ত থাকে?
  1. রাষ্ট্রপতির
  2. আইন মন্ত্রণালয়ের
  3. সুপ্রীম কোর্টের
  4. জাতীয় সংসদের
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
• সংবিধানের ৬৫ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
- 'জাতীয় সংসদ' নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকবে,
- এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইনপ্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হবে,
- তবে শর্ত থাকে যে, সংসদের আইন-দ্বারা যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন বা আইনগত কার্যকরতাসম্পন্ন অন্যান্য চুক্তিপত্র প্রণয়নের ক্ষমতার্পণ হতে এই দফার কোন কিছুই সংসদকে নিবৃত্ত করবে না।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৬৬.
বাংলাদেশের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় নিয়মতান্ত্রিক প্রধান কে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. স্পিকার
  4. সংসদ সচিব
ব্যাখ্যা
❐  বাংলাদেশের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় নিয়মতান্ত্রিক প্রধান হলেন রাষ্ট্রপতি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ সাহাবুদ্দিন।

রাষ্ট্রপতি:
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন।
- রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধানসমূহ বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ অংশের ৪৮-৫৪ অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।
- নিয়মমাফিক রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত এবং তিনি সংবিধান ও আইন বলে তাঁর উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ ভাগের ১ম পরিচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা, ক্ষমতা ও কার্যাবলি নির্ধারিত আছে।

⇒ বাংলাদেশে সাংবিধানিকভাবে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত এবং এদেশকে প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ সকল কারণেই রাষ্ট্রপতি দেশের প্রধান নির্বাহী; কিন্তু অলঙ্কারিক প্রধান। রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব পালনের অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করতে হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পাঁচ বছরের জন্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। সংসদে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে পদচ্যুত করা যায়।

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮ (৪) অনুসারে পঁয়ত্রিশ বছর বয়স্ক বাংলাদেশের যেকোন নাগরিক নির্দিষ্ট আইনের আওতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন। তাঁকে অবশ্যই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। এছাড়া এই সংবিধানের আওতায় তিনি কখনও এই পদ থেকে অপসারিত হননি এই শর্তটিও পূরণ করতে হবে। তবে উল্লেখ্য যে, রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়ে তিনি কখনই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। 

⇒ রাষ্ট্রের প্রধান হওয়ায় সরকারের সকল কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও তিনি অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীকে নিয়োগ প্রদান করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে তিনি প্রধান বিচারপতি, এটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ দান করে থাকেন। তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিভাগের সর্বাধিনায়ক।

⇒ রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহবান করে।  কোন বিল সংসদে পাশ হলে তা সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। সংসদ ভেঙে দেয়া হলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করে আইন তৈরি করতে পারেন যা সংসদে আইন হিসেবে গণ্য হয়।

⇒ রাষ্ট্রপতি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানসমূহকে সম্মানসূচক পদক বা খেতাব প্রদান করে থাকেন। তাঁর অনুমতি ব্যতিত দেশের কোন নাগরিক বিদেশী কোন খেতাব বা সম্মান গ্রহণ করতে পারেন না। রাষ্ট্রপতির ওপর বর্তানো কাজের অংশ হিসেবে তিনি সকল জাতীয় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের দায়িত্বপূর্ব শপথ বাক্য পাঠ করান।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৭.
সংসদ সদস্য পদের আসন শূন্য হবার কারন নয় কোনটি?
  1. ক) বিনা অনুমতিতে একাধারে ৬০ দিন অনুপস্থিত থাকলে
  2. খ) নিজ দল ব্যতীত অন্য দলের পক্ষে ভোট প্রদান করলে
  3. গ) স্পিকারের নিকট পদত্যাগ করলে
  4. ঘ) বিনা অনুমতিতে একাধারে ৯০ দিন অনুপস্থিত থাকলে
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ সদস্যদের আসন শূন্য হয় যদি: 

- যদি কোনো সংসদ সদস্য একাধারে ৯০ দিন সংসদে অনুপস্থিত থাকেন।
- নিজ দল হতে পদত্যাগ করেন।
- স্পিকারের নিকট পদত্যাগ পত্র জমা দেন।
- সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অযোগ্য হয়ে যান। 
- সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিস্থিতি উদ্ভব হয়।


তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৬৮.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য ন্যূনতম কত বছর হতে হবে?
  1. ৩৫ বছর
  2. ২৫ বছর
  3. ১৮ বছর
  4. ২১ বছর
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদের বিবরণ:
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ হল এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা।
- সারাদেশ থেকে নির্বাচিত ৩০০ সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত ৫০ জন নারী সংসদ সদস্য নিয়ে এই জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
- পূর্ণ মেয়াদে প্রতি পাঁচ বছর পর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- আইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধনের জন্য যথাক্রমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের সম্মতি থাকতে হয়।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নূন্যতম বয়স ২৫ বছর।
- সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১২২(২) খ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যক্তির ভোটাধিকার প্রাপ্তির নূন্যতম বয়স ১৮ বছর।
- সংবিধানের ১২২(১) অনুচ্ছেদে বলা আছে 'প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটাধিকার- এই নীতির ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।'
- তাই ভোটার হওয়ার নূন্যতম বয়স ১৮ বছর।

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৬৯.
বর্তমানে দেশের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের নাম-  [জানুয়ারি,২০২৬]
  1. আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন
  2. কায়সার আহমেদ
  3. মোঃ আসাদুজ্জামান
  4. মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ
ব্যাখ্যা

- দেশে বর্তমানে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়ি্ত্ব্য কেউ নেই।
- বর্তমানে দেশের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের নাম- জনাব মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ,

- যিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন;
- কারণ মো. আসাদুজ্জামান পদত্যাগ করার পর তিনি এই পদে এসেছেন। 
- বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত: মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ
- পদবি: অ্যাটর্নি জেনারেল (অতিরিক্ত দায়িত্ব)
- পূর্ববর্তী: মো. আসাদুজ্জামান (৮ আগস্ট ২০২৪ – ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫) 

অ্যাটর্নি জেনারেল:

- অনুচ্ছেদ- ৬৪ (১) সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি-জেনারেল পদে নিয়োগদান করবেন।
- (২) অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করবেন।
- তিনি দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা।
- ১৬ তম অ্যাটর্নি জেনারেলজনাব আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন।
- ১৭ তম অ্যাটর্নি জেনারেল জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র এইচ এসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

৩৭০.
মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বনিম্ন স্তর-
  1. জেলা প্রশাসন
  2. বিভাগীয় প্রশাসন
  3. সচিবালয়
  4. উপজেলা প্রশাসন
ব্যাখ্যা
প্রশাসনিক কাঠামো:
- বাংলাদেশে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক কাঠামোর স্তর তিনটি। যথা- 
- বিভাগীয় প্রশাসন,
- জেলা প্রশাসন ও
- উপজেলা প্রশাসন।
• মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বোচ্চ স্তর - বিভাগীয় প্রশাসন‌।
• মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বনিম্ন স্তর উপজেলা প্রশাসন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।।
৩৭১.
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা কে?
  1. সালাউদ্দিন আহমদ
  2. এ এম আমিন উদ্দিন
  3. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু
  4. মাহবুবে আলম
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

অ্যাটর্নি-জেনারেল:

- অ্যাটর্নি জেনারেল, রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা।
- তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সরকারের প্রধান আইনজীবী।
- প্রসঙ্গত, অ্যাটর্নি জেনারেলের পদটি সাংবিধানিক পদ হলেও এপদের শপথ গ্রহণ করতে হয় না।
- অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং নিয়োগ লাভের পর তিনি রাষ্ট্রপতি বরাবরে যোগদানপত্র দাখিল সাপেক্ষে পদে আসীন হন।

উল্লেখ্য,
- দেশের বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।
- তিনি ১৬তম অ্যাটর্নি জেনারেল।

অন্যদিকে -
- জনাব সালাউদ্দিন আহমদ ১৪তম অ্যাটর্নি জেনারেল।
- জনাব মাহবুবে আলম ১৫তম অ্যাটর্নি জেনারেল।

উৎস: i) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ওয়েবসাইট।
          ii) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
৩৭২.
নিচের কোনটি গ্রাম অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নয়?
  1. পৌরসভা
  2. জেলা পরিষদ
  3. উপজেলা পরিষদ
  4. ইউনিয়ন পরিষদ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:
- বর্তমান বাংলাদেশে শহুরে ও গ্রামীণ দুই ধরনের স্থানীয় সরকার কার্যকর রয়েছে।
- বাংলাদেশে শহরের জন্য দুই স্তর বিশিষ্ট ও
- পল্লীর জন্য তিন স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো রয়েছে।

⇨ শহর অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা-
- পৌরসভা এবং
- সিটি কর্পোরেশন।

⇨ গ্রাম অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা -
- ইউনিয়ন পরিষদ,
- উপজেলা পরিষদ এবং
- জেলা পরিষদ।

⇨ এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩টি জেলা নিয়ে আঞ্চলিক স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আঞ্চলিক পরিষদ-
১. বান্দরবান পাহাড়ী জেলা পরিষদ
২. রাঙ্গামাটি পাহাড়ী জেলা পরিষদ
৩. খাগড়াছড়ি পাহাড়ী জেলা পরিষদ

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭৩.
নিম্নের কোন বিভাগ অধ্যাদেশ জারি করতে পারে?
  1. বিচার বিভাগ
  2. আইন বিভাগ
  3. শাসন বিভাগ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রপতি:
- অধ্যাদেশ জারি করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশ সংবিধানে মােট ১১টি ভাগ রয়েছে।
- এর মধ্যে পঞ্চম ভাগে আইনসভা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- পঞ্চম ভাগের ৩য় পরিচ্ছেদের ৯৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের শাসন বিভাগের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ব্যক্তি হলেন রাষ্ট্রপতি।
- তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান।
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সকল সন্মানের উৎস।
- সংসদীয় পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকার রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আইন অনুসারে সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন।

• সুতরাং অধ্যাদেশ জারি করতে পারে শাসন বিভাগ। 

উৎস:  বাংলাদেশের সংবিধান এবং পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭৪.
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি অবস্থিত-
  1. ক) সারদায়
  2. খ) বাইতুল ইজ্জতে
  3. গ) সুজানগরে
  4. ঘ) ডুলাহাজরায়
ব্যাখ্যা
বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড স্কুল চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত।
উৎসঃ বিজিবি ওয়েবসাইট।
৩৭৫.
আইন বিভাগের প্রধান কাজ নয় -
  1. শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ
  2. সংবিধান রচনা ও সংশোধন
  3. অনুসন্ধানমূলক কাজ
  4. জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
জবাবদিহিতা আইন বিভাগের প্রধান কাজ নয়।

আইন বিভাগ:
- আইন প্রণয়নের ক্ষমতা একমাত্র জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত হওয়ায় বাংলাদেশের সংবিধান কর্তৃক জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কার্যাবলিকে বিস্তৃত করা হয়েছে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চমভাগে জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আছে।
- সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত।
- বাংলাদেশের আইন সভা সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে।

⇒ আইন বিভাগের কাজ:

(১) আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত: কাজ আইনসভা জনমতের সাথে সঙ্গতি রেখে আইন প্রণয়ন করে ও পুরাতন আইনের সংস্কার করে।
(২) সংবিধান রচনা ও সংশোধন: কোন কোন ক্ষেত্রে আইন পরিষদ গণপরিষদ হিসেবে দেশের
সংবিধান রচনা করে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের আইন পরিষদ গণপরিষদ হিসাবে ১৯৭২ সালের সংবিধান রচনা করেছে। আবার আইন পরিষদ সংবিধান প্রদত্ত নিয়ম অনুসারে সংবিধান সংশোধন করে।
(৩) প্রশাসনিক কাজ: আইন পরিষদ কোন কোন ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কাজ করে। যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চ কক্ষ সিনেট চুক্তি স্বাক্ষর, যুদ্ধ ঘোষণা, শান্তি স্থাপন এবং পদস্থ কর্মচারীদের নিয়োগের অনুমোদন দান করে।
(৪) শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ: মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে আইন পরিষদ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, মূলতবী প্রস্ত াব, অনাস্থা প্রস্তাব ও বাজেট প্রত্যাখানের মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদকে নিয়ন্ত্রণ করে। রাষ্ট্রপতি ধরনের সরকারে আইন পরিষদ অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে পারে বলে নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে।
(৫) বিচার সংক্রান্ত কাজ: আইনসভা কিছু কিছু বিচার সংক্রান্ত কাজ করে। ইংল্যান্ডের লর্ডসভা সে দেশে আপীল বিচারের সর্বোচ্চ আদালত। কোন কোন ক্ষেত্রে আইনসভা সদস্যদের অসদাচরণের বিচার করে।
(৬) অর্থ সংক্রান্ত কাজ: আইনসভা জাতীয় তহবিলের রক্ষক। আইনসভার অনুমোদন ছাড়া ট্যাক্স ধার্য করা যায় না। আইন সভার অনুমোদন ছাড়া আয়কৃত টাকা ব্যয় করাও যায় না। কারণ আইনসভা বাজেট অনুমোদন করে।
(৭) নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ: কোন কোন দেশের আইন সভা নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ করে। যেমন, বাংলাদেশ ও ভারতের আইন পরিষদ রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করে। তাছাড়া স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার নির্বাচন করা আইন সভারই কাজ।
(৮) জনমত গঠন: আইন পরিষদে বিভিন্ন বিষয়ের পক্ষে ও বিপক্ষে বিজ্ঞ আলোচনা জনমত গঠনে সহায়তা করে।
(৯) অনুসন্ধানমূলক কাজ: রাষ্ট্রের কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য অবহিত হওয়ার জন্য আইন পরিষদ অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে। অনুসন্ধান কমিটির রিপোর্ট আইন পরিষদে যথাযথভাবে আলোচিত হওয়ার পর আইন পরিষদ সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৬.
বিচার বিভাগের কার্যাবলি নিচের কোনটি?
  1. আইন সংক্রান্ত কাজ
  2. জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা
  3. সংবিধান সংরক্ষণ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগ:
- রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম।
- নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শেষ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
• উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
• অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৪ নং ধারা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদেরকে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে থাকেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ষষ্ট বিভাগে বিচার বিভাগের কাঠামো, মর্যাদা এবং কার্যাবলি সম্পর্কিত বিধান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

বিচার বিভাগের কার্যাবলি:
১. বিচার সংক্রান্ত কাজ।
২. আইন সংক্রান্ত কাজ।
৩. শাসন সংক্রান্ত কাজ করা।
৪. পরামর্শ সংক্রান্ত কাজ।
৫. জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা।
৬. তদন্ত সংক্রান্ত কাজ।
৭. সংবিধান সংরক্ষণ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৭.
বাংলাদেশ পোস্টাল একাডেমি কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকায়
  2. চট্টগ্রামে
  3. রাজশাহীতে 
  4. খুলনায়
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ পোস্টাল একাডেমি:
- বাংলাদেশ পোস্টাল একাডেমি — রাজশাহীতে অবস্থিত।
- এটি ১৯৮২ সালে স্থাপিত হয়।
- ১৯৮৬ সালে এটি বর্তমান রূপ লাভ করে।
- জাতীয়ভাবে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও পেশাগত দক্ষতার উন্নয়ন সাধনের লক্ষ্যে পোস্টাল একাডেমি স্থাপিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ পোস্টাল একাডেমি ওয়েবসাইট।

৩৭৮.
সংবিধানের কতনং অনুচ্ছেদে অনুসারে, পঞ্চাশ মহিলা-সদস্য নিয়ে সংসদ গঠিত হবে?
  1. ৬২ নং
  2. ৬৩ নং
  3. ৬৪ নং
  4. ৬৫ নং
ব্যাখ্যা

• সংসদ-প্রতিষ্ঠা সম্পর্কিত বিষয়বলি সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখিত।

⇒ ৬৫(১) "জাতীয় সংসদ" নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকিবে এবং এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইনপ্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হইবে:

 ⇒ তবে শর্ত থাকে যে, সংসদের আইন-দ্বারা যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন বা আইনগত কার্যকরতাসম্পন্ন অন্যান্য চুক্তিপত্র প্রণয়নের ক্ষমতার্পণ হইতে এই দফার কোন কিছুই সংসদকে নিবৃত্ত করিবে না।

  ⇒ ৬৫(২) একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাসমূহ হইতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আইনানুযায়ী নির্বাচিত তিন শত সদস্য লইয়া এবং এই অনুচ্ছেদের (৩) দফার কার্যকরতাকালে উক্ত দফায় বর্ণিত সদস্যদিগকে লইয়া সংসদ গঠিত হইবে; সদস্যগণ সংসদ-সদস্য বলিয়া অভিহিত হইবেন।

 ⇒ ৬৫(৩) সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) আইন, ২০১৮ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অব্যবহিত পরবর্তী সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে শুরু করিয়া পঁচিশ বৎসরকাল অতিবাহিত হইবার অব্যবহিত পরবর্তীকালে সংসদ ভাংগিয়া না যাওয়া পর্যন্ত পঞ্চাশটি আসন কেবল মহিলা-সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে এবং তাঁহারা আইনানুযায়ী পূর্বোক্ত সদস্যদের দ্বারা সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হইবেন:

 - তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার কোন কিছুই এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন কোন আসনে কোন মহিলার নির্বাচন নিবৃত্ত করিবে না।]

 ⇒ ৬৫(৩ক) সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অবশিষ্ট মেয়াদে এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত তিন শত সদস্য এবং (৩) দফায় বর্ণিত পঞ্চাশ মহিলা-সদস্য লইয়া সংসদ গঠিত হইবে।]

 ⇒ ৬৫(৪) রাজধানীতে সংসদের আসন থাকিবে।
  
উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৩৭৯.
বাংলাদেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা হলেন-
  1. আইনমন্ত্রী
  2. আইন সচিব
  3. অ্যাটর্নি জেনারেল
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা হচ্ছেন - অ্যাটর্নি জেনারেল।

সংবিধানের ৬৪ নং অনুচ্ছেদে "অ্যাটর্নি জেনারেল" সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।

অনুচ্ছেদ-৬৪: অ্যাটর্নি-জেনারেল - 
(১) সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি - জেনারেল পদে নিয়োগদান করিবেন।
(২) অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৩) অ্যাটর্নি-জেনারেলের দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তাঁহার বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে।
(৪) রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করিবেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক এবং বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৮০.
নিচের কোনটি সরকার কাঠামোর অংশ নয়?
  1. ক) বাংলাদেশ পুলিশ
  2. খ) আপিল বিভাগ
  3. গ) সুশীল সমাজ
  4. ঘ) দুর্নীতি দমন কমিশন
ব্যাখ্যা
সিভিল সোসাইটি বা সুশীল সমাজ আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার কাঠামোর অংশ নয়। সিভিল সোসাইটি হলো বেসরকারি স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী।
এই গোষ্ঠী সরকারি কাঠামোর বাহিরে অবস্থান করে সরকারি সিদ্ধান্ত ও নীতি গ্রহণ, পরিচালনা ও নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশ পুলিশ, আপিল বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সরকার কাঠামোর অংশ।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৩৮১.
আয়তনে বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম বিভাগ কোনটি?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) রংপুর
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
দেশের সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক বিভাগ: চট্টগ্রাম এবং ক্ষুদ্রতম: ময়মনসিংহ। উৎস: নিকার।
৩৮২.
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন বা অপসারণ করার ক্ষমতা রয়েছে কার?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. জাতীয় সংসদ
  3. সুপ্রিমকোর্ট
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা

• জাতীয় আইনসভার ক্ষমতা ও কার্যবলী :
- বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নামে একটি আইনসভা থাকবে এবং এর ওপর প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন ক্ষমতা ন্যস্ত হবে।
- সংবিধান অনুযায়ী সংসদ যে কোনো নতুন আইন প্রণয়ন ও প্রচলিত আইন পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধন করতে পারে।
- সংসদ আইনের মাধ্যমে যে কোনো সংস্থা বা কর্তৃপক্ষকে আদেশ প্রদান, বিধি, উপবিধি ও প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা দিতে পারে।
- সংসদের আস্থাভাজন ব্যক্তিই প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন এবং তিনি মন্ত্রিসভা গঠন করেন।
- প্রধানমন্ত্রী সংসদের আস্থা হারালে সরকারের পতন হয়।
- সংবিধান লঙ্ঘন, গুরুতর অপরাধ, দৈহিক ও মানসিক অসুস্থতা ও অক্ষমতার জন্য সংসদ রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন বা অপসারণ করতে পারে জাতীয় সংসদ।
- জাতীয় সংসদ নির্বাচন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, ন্যায়পাল ইত্যাদি পদের নির্বাচনি ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।

৩৮৩.
নিচের কোনটি বিচার বিভাগের কাজ নয়?
  1. সংবিধান প্রণয়ন
  2. জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা
  3. বিচার সংক্রান্ত কাজ
  4. শাসন সংক্রান্ত কাজ করা
ব্যাখ্যা
• সংবিধান প্রণয়ন বিচার বিভাগের কাজ নয়।

বিচার বিভাগ:
- রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম।
- নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শেষ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
• উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
• অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৪ নং ধারা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদেরকে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে থাকেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ষষ্ট বিভাগে বিচার বিভাগের কাঠামো, মর্যাদা এবং কার্যাবলি সম্পর্কিত বিধান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

বিচার বিভাগের কার্যাবলি:
১. বিচার সংক্রান্ত কাজ।
২. আইন সংক্রান্ত কাজ।
৩. শাসন সংক্রান্ত কাজ করা।
৪. পরামর্শ সংক্রান্ত কাজ।
৫. জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা।
৬. তদন্ত সংক্রান্ত কাজ
৭. সংবিধান সংরক্ষণ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৪.
নিম্নের কোনটির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ অনুসরণে বাধ্য নয়?
  1. জরুরি অবস্থা ঘোষণা
  2. সংসদ অধিবেশন আহ্বান
  3. প্রধান বিচারপতি নিয়োগ
  4. সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রপতি:
⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগের ৪৮ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, 
- এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁর অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করবেন।

⇒ সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।

উল্লেখ্য,
- সংবিধানের ১৪১ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির জরুরী-অবস্থা ঘোষণার বৈধতার জন্য ঘোষণার পূর্বেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে।
-  সংবিধানের ৭২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংসদ আহবান , স্থগিত ও ভঙ্গ করবেন এবং এই দফার অধীন তাঁহর দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক লিখিতভাবে প্রদত্ত পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৩৮৫.
কাকে নিয়োগ দানে রাষ্ট্রপতি কারো পরামর্শ গ্রহণ করেন না?
  1. তিন বাহিনীর প্রধান
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. প্রতিমন্ত্রী
  4. মহাহিসাব রক্ষক
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কাজ:
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান।
- সরকারের সকল শাসনসংক্রান্ত কাজ তাঁর নামে পরিচালিত হয়।
- তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করেন।
- অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের নিয়োগ করেন।
- রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের (মহাহিসাব রক্ষক, রাষ্ট্রদূত ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা) নিয়োগের
- দায়িত্বও রাষ্ট্রপতির। প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহের সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত।
- তিন বাহিনীর (সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী) প্রধানদের তিনিই নিয়োগ দেন।
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতিত রাষ্ট্রপতি তাঁর সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য পরিচালনা করেন।
-  রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে, স্থগিত রাখতে ও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সংসদ ভেঙে দিতে পারেন।
- তিনি সংসদে ভাষণ দিতে ও বাণী পাঠাতে পারেন।
- রাষ্ট্রপতি কিছু আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজ করেন।
- সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করতে পারেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।
৩৮৬.
বাংলাদেশের সকল মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় অফিস কী নামে পরিচিত?
  1. ক) মন্ত্রণালয়
  2. খ) সচিবালয়
  3. গ) অধিদপ্তর
  4. ঘ) পরিদপ্তর
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সকল মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় অফিসকে সচিবালয় বলা হয়। 

• কেন্দ্রীয় প্রশাসন চারটি শাখা:
- সচিবালয়: সকল মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় অফিসকে বলা হয় সচিবালয়। সচিবালয়ের অধীনস্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের জন্য পৃথক যে Unit আছে তাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলা হয় এবং এর প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। রাষ্ট্রপতি সচিবালয়, কর্মকমিশন সচিবালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়
- মন্ত্রণালয়: সচিবালয়ের অধীন একটি প্রশাসনিক ইউনিট হলো মন্ত্রণালয়, যার নির্বাহী প্রধান হলেন মন্ত্রী এবং প্রশাসনিক প্রধান সচিব। মন্ত্রীপরিষদের প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সরকারের প্রধান। মন্ত্রীপরিষদ তাদের কাজকর্মের জন্য জাতীয় সংসদের নিকট দায়ী থাকেন।
-  অধিদপ্তর: মন্ত্রণালয়ের অধীন এক বা একাধিক ইউনিটকে অধিদপ্তর বলে । যার প্রধান মহাপরিচালক বা Director General, যিনি অতিরিক্ত সচিব পদ মর্যাদা সম্পন্ন - পরিদপ্তর: অধিদপ্তরের অধিনস্ত এক বা একাধিক প্রশাসনিক ইউনিটকে পরিদপ্তর বলে। যার প্রধান হলেন পরিচালক, যিনি যুগ্ম সচিব বা উপ-সচিব পদ মর্যাদা সম্পন্ন ।
-  কর্পোরেশন: যে অফিসের প্রধানের পরবর্তী চেয়ারম্যান অর্থাৎ সরকারের অতিরিক্ত সচিব মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি সেই অফিসকে বলা হয় কর্পোরেশন। কর্পোরেশনগুলো সাধারণত বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।

উৎস: লাইভ এম সি কিউ লেকচার।
৩৮৭.
বিচার বিভাগের কার্যাবলি কোনটি?
  1. বিচার সংক্রান্ত কাজ
  2. শাসন সংক্রান্ত কাজ করা
  3. পরামর্শ সংক্রান্ত কাজ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

বিচার বিভাগ:
- রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম।
- নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শেষ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
• উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
• অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৪ নং ধারা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদেরকে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে থাকেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ষষ্ট বিভাগে বিচার বিভাগের কাঠামো, মর্যাদা এবং কার্যাবলি সম্পর্কিত বিধান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

⇒ বিচার বিভাগের কার্যাবলি:
১. বিচার সংক্রান্ত কাজ।
২. আইন সংক্রান্ত কাজ।
৩. শাসন সংক্রান্ত কাজ করা।
৪. পরামর্শ সংক্রান্ত কাজ।
৫. জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা।
৬. তদন্ত সংক্রান্ত কাজ
৭. সংবিধান সংরক্ষণ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৮.
কততম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া শপথ গ্রহণ করেন?
  1. ৪র্থ
  2. ৫ম
  3. ৬ষ্ঠ
  4. ৭ম
ব্যাখ্যা

⇒ পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া।

পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন:
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ৭৬টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়।
- এই নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫২.৩৭ শতাংশ।
- নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।
- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিরোধী দল হিসেবে সংসদে যায়।

⇒ নির্বাচনের ফলাফল:
- বিএনপি: ১৪০টি আসন।
- আওয়ামী লীগ: ৮৮টি আসন।
- জাতীয় পার্টি: ৩৫টি আসন।
- জামায়াতে ইসলামী: ১৮টি আসন।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা ও প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৩৮৯.
সার্বজনীন পেনশন কর্মসূচির সর্বশেষযুক্ত স্কিম কোনটি?
  1. প্রগতি
  2. সুরক্ষা
  3. প্রত্যয়
  4. প্রবাসী
ব্যাখ্যা

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে যুক্ত হলো 'প্রত্যয় স্কিম'
⇒ সরকার, ১৩ মার্চ, ২০২৪ খ্রি. তারিখে জারীকৃত এস.আর.ও. নং-৪৭-আইন/২০২৪ এর মাধ্যমে সকল স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা এবং তাদের অধীনস্থ অঙ্গ প্রতিষ্ঠানসমূহের চাকুরিতে যে সকল কর্মকর্তা বা কর্মচারী ০১ জুলাই, ২০২৪ খ্রি. তারিখ ও তৎপরবর্তী সময়ে নতুন যোগদান করবেন, তাদেরকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইনের অন্তর্ভুক্ত করেছে।

উল্লেখ্য,
- পরবর্তীতে সরকার এ স্কিমটি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। 

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি (স্কিম):

- ১৮ বছরের বেশি বয়সী যেকোনো নাগরিক ৬০ বছর বয়সে না পৌঁছানো পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ করে অবসর জীবনের সময় পেনশন সুবিধা পেতে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
- ২৪ জানুয়ারি-২০২৩ জাতীয় সংসদে 'সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা বিল ২০২৩' পাস হয়েছে।
- ১৭ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- সরকার মোট ৬টি স্কিমের কথা ঘোষণা করেছে। 
- আপাতত চালু হয়েছে ৪টি স্কিম।

৪টি স্কিম:
• প্রবাস: 
- এটি শুধু বিদেশে কর্মরত বা অবস্থানকারী বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য।
- এর মাসিক চাঁদার হার ধরা হয়েছে ৫ হাজার, সাড়ে ৭ হাজার ও ১০ হাজার টাকা করে।

• প্রগতি:
- এই স্কিম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য।

• সুরক্ষা:
- এই স্কিমটা স্বনির্ভর ব্যক্তির জন্য।
- অর্থাৎ কেউ কোথাও চাকরি করছেন না কিন্তু নিজে উপার্জন করতে পারেন, তারা সুরক্ষা স্কিমে অংশ নিতে পারবেন।
- এর আওতায় পড়েন ফ্রিল্যান্সার, কৃষক, শ্রমিক ইত্যাদি পেশার লোকজন।

• সমতা:
- এই স্কিমে চাঁদার হার একটিই: এক হাজার টাকা।
- তবে এক্ষেত্রে প্রতিমাসে ব্যক্তি দেবে পাঁচশ টাকা আর বাকি পাঁচশো দেবে সরকার।
- মূলত দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসরত স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এই স্কিম।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৯০.
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে কে নিয়োগ দেন?
  1. সংসদ
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. জনগণের সরাসরি ভোটে 
  4. বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা

প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ:
- বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন।  
- যেই সংসদ সদস্য সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন হিসেবে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করবেন।
- প্রধানমন্ত্রী হলো সরকারপ্রধান এবং সরকারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
- তিনি সংসদের নেতা এবং মন্ত্রিসভার প্রধান, যার মাধ্যমে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।
- প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে দেশের সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে হলে বয়স ন্যূনতম ২৫ বছর হতে হবে।
- প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার জন্য তিনি জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বা নেত্রী হতে হবে।
- প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বা সংসদের আস্থা হারালে সরকারের পতন ঘটে। সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ
- যদিও প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করেন, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন।
- প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার মূলস্তম্ভ এবং সংবিধান অনুযায়ী তিনি সংসদের কাছে দায়ী থাকেন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি

৩৯১.
বাংলাদেশের গ্রাম সংখ্যা কত?
  1. ক) প্রায় ৮৪ হাজার
  2. খ) প্রায় ৮৫ হাজার
  3. গ) প্রায় ৮৬ হাজার
  4. ঘ) প্রায় ৮৭ হাজার
ব্যাখ্যা
পঞ্চম আদমশুমারির তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশের গ্রাম সংখ্যা ৮৭,১৯১ টি।
৩৯২.
সচিবদের পদমর্যাদা অনুযায়ী সবার নিচে অবস্থান কার? 
  1. অতিরিক্ত সচিব
  2. সচিব
  3. সহকারী সচিব
  4. উপসচিব
ব্যাখ্যা

সচিবালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো: 
- মন্ত্রী
    ↓
- সচিব
    ↓
- অতিরিক্ত সচিব
    ↓
- যুগ্ম সচিব
    ↓
- উপসচিব
    ↓
- সিনিয়র সহকারী সচিব
    ↓
- সহকারী সচিব
    ↓
- প্রশাসনিক কর্মকর্তা

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, ৬৩পৃষ্ঠা।

৩৯৩.
রাষ্ট্র সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে কিসের মাধ্যমে?
  1. রাজনৈতিক দল
  2. আইন বিভাগ
  3. সরকার
  4. চাপসৃষ্টিকারী দল
ব্যাখ্যা
• সরকারের অঙ্গসমূহ:
→ রাষ্ট্র একটি বিমূর্ত ধারণা। রাষ্ট্রকে বাস্তবে দেখা যায় না। রাষ্ট্রকে উপলব্ধি করা যায় এর অন্যতম উপাদান সরকারের মাধ্যমে।
→ রাষ্ট্রের অন্য তিনটি উপাদান হচ্ছে নাগরিক, ভূখন্ড ও সার্বভৌমত্ব।
→ রাষ্ট্র তার সার্বভৌম ক্ষমতা সরকারের মাধ্যমে প্রয়োগ করে।
→ আর সরকার গঠিত হয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে।
→ সরকার ব্যতীত কোন রাষ্ট্র কল্পনা করা যায় না। সরকার সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি বা কৌশল তৈরি করে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৪.
বাংলাদেশ তথ্য অধিকার আইনের তফসিল কয়টি?
  1. ক) ৭টি 
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ১টি
ব্যাখ্যা
তথ্য অধিকার আইন: 
- তথ্য প্রাপ্তি নাগরিকের অধিকার।
- বাংলাদেশে ২০০৯ সালের  এপ্রিল মাসে প্রণীত তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
- আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের লক্ষ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- সে জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অনিবার্য। জনগণের অংশগ্রহণ ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।
- এ লক্ষ্যেই তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়েছে।
- এ আইনে আটটি অধ্যায়, ১টি তফসিল ও ৩৭টি ধারা রয়েছে।


- এ আইন প্রণয়নের ৯০ দিনের মধ্যে একটি তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়া হয়।
- এটি একটি সংবিধিবদ্ধ স্বাধীন সংস্থা।
- এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায়।
- কমিশন গঠন বিষয়ে আইনটির ১২ নং ধারায় বলা হয়েছে যে একজন প্রধান তথ্য কমিশনার এবং ২ জন তথ্য কমিশনার নিয়ে এটি গঠিত হবে। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৫.
একটি ইউনিয়ন পরিষদ কয়টি ওয়ার্ডে বিভক্ত?
  1. ৩টি
  2. ৭টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
ইউনিয়ন পরিষদের গঠন:
- একটি ইউনিয়ন ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত।
- চেয়ারম্যান: ১ জন।
- নির্বাচিত সদস্য: ৯ জন।
- সংরক্ষিত মহিলা সদস্য: ৩ জন।
- ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয় মোট ১৩ জন সদস্য নিয়ে।
- প্রতি তিন ওয়ার্ড থেকে একজন মহিলা সদস্য নির্বাচিত হন।
- কার্যালয় পরিচালনার জন্য এক জন সচিব নিয়োগ করা হয়।
- ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর, সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের অপসারণ করা যায়।
- ইউনিয়ন পরিষদের সকলেই সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৬.
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদাধিকার বলে কোন প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন?
  1. ক) এশিয়াটিক সোসাইটি
  2. খ) সশস্ত্র বাহিনী
  3. গ) জাতীয় পর্যটন পরিষদ
  4. ঘ) বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি
ব্যাখ্যা
পদাধিকার বলে প্রধানমন্ত্রী যেসকল প্রতিষ্ঠানের প্রধান:-
- ECNEC , NEC , BEZA , BEPZA  
- জাতীয় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন পরিষদ 
- জাতীয় পর্যটন পরিষদ 
- জাতীয় পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি 
- রপ্তানি সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি 
- বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA)
- প্রশাসন সংস্কার ও বাস্তবায়ন কমিটি (NICAR)

পদাধিকার বলে রাষ্ট্রপতি যেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান সেগুলো নিম্নরুপ:-
- সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক,
- সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর 
- বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ,
- স্কাউট
- এশিয়াটিক সোসাইটির প্রধান।

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন , প্রফেসর মোজাম্মেল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
৩৯৭.
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রথম আঞ্চলিক দপ্তর চালু হতে যাচ্ছে কোন শহরে? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. সিলেট
  2. চট্টগ্রাম
  3. খুলনা
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রথম আঞ্চলিক দপ্তর:
- স্বাধীনতার পাঁচ দশক পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে একটি কনস্যুলার দপ্তর পরিচালনা করতে যাচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
- গত মাসে সরকারের উচ্চপর্যায়ে চট্টগ্রামে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার দপ্তর চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- প্রস্তাবিত আঞ্চলিক দপ্তরটিতে বিদেশে কর্মরত ও বিদেশগামী নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সব কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে।
- পাশাপাশি দপ্তরটি আঞ্চলিক পর্যায়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সফর, প্রতিনিধিদলের সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

উল্লেখ্য,
- দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এই মুহূর্তে ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাগরিকদের কনস্যুলার সেবা দিতে আঞ্চলিক দপ্তর রয়েছে।
- এসব অফিস কনস্যুলার সেবা দেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড সমন্বয়ের কাজও করে।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা প্রতিবেদন। [Link]

৩৯৮.
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক কে? 
  1. সেনাপ্রধান
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. আইনমন্ত্রী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী:
- বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত।
- সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ (AFD) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন একটি বিভাগ।
- এই বিভাগটি মন্ত্রী পদমর্যাদা ভোগ করে এবং বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (MoD) সাথে সমান্তরাল কাজ করে।
- বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি।
- মহামান্য রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতাবলে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবর্গ, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল,
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত ব্যক্তিবর্গের নিয়োগ প্রদান করেন।
- তাছাড়া জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান ও সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

এছাড়াও,
- মহামান্য রাষ্ট্রপতি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ((Supreme Command) এবং বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চ্যান্সেলর।
- বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতগণ মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট পরিচয়পত্র (Credentials) পেশ করেন।
- জাতীয় দিবসসমূহে মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশ্যে বাণী প্রদান করেন এবং বঙ্গভবনে সংবর্ধনার আয়োজন করেন।

উৎস: ⅰ) সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ।
ii) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়।

৩৯৯.
মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রধান কে?
  1. মন্ত্রী
  2. সচিব
  3. অতিরিক্ত সচিব
  4. উপসচিব
ব্যাখ্যা

মন্ত্রনালয়গুলোর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাঠামো:
- বাংলাদেশে মন্ত্রণালয়গুলোকে যৌথভাবে সচিবালয় বলা হয়।
১. মন্ত্রী - মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রধান। প্রত্যেক মন্ত্রণালয় দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে
থাকে।
২. সচিব - মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। সচিব মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মূখ্য হিসাব নিরীক্ষক।
৩. অতিরিক্ত সচিব - উপ-বিভাগের প্রধান।
৪. যুগ্ম-সচিব - উপ-বিভাগের প্রধান।
৫. উপসচিব - একাধিক শাখার প্রধান।
৬. সিনিয়র বা জেষ্ঠ সহকারী সচিব - শাখা বা সেকশন প্রধান।
৭. সহকারী সচিব - শাখা বা সেকশন প্রধান।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোজাম্মেল হক।

৪০০.
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কে?
  1. ড. মসিউর রহমান
  2. ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী
  3. অধ্যাপক ড. গওহর রিজভী
  4. সালমান ফজলুর রহমান
ব্যাখ্যা
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা:
- বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭ জন উপদেষ্টা রয়েছে তারা হলেন- 
ড. মসিউর রহমান - প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। 
• ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বীর বিক্রম - প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা।
•  অধ্যাপক ড. গওহর রিজভী - প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ।
•  সালমান ফজলুর রহমান - প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা ।
•  ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী - প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ।
•  সজীব আহমেদ ওয়াজেদ - প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ।
•  মেজর জেনারেল (অবঃ) তারিক আহমেদ সিদ্দিক - প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা ।

- রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬ এর রুল ৩ বি (১) অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
- উপদেষ্টা পদে থাকাকালে তারা মন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

উৎস: প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ওয়েবসাইট (লিংক)।