বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা

মোট প্রশ্ন১,৮৩৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা

PrepBank · পাতা / ১৯ · ২০১৩০০ / ১,৮৩৫

২০১.
বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার কখন পঠিত হয়?
  1. ০৮ আগস্ট ২০২৪
  2. ১০ আগস্ট ২০২৪
  3. ১২ আগস্ট ২০২৪
  4. ০৫ আগস্ট ২০২৪
ব্যাখ্যা
❐  বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগের পরে ৮ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে ড. মোহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার:
- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের তিন দিন পর ৮ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে।
- এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
- প্রধান উপদেষ্টাসহ মোট উপদেষ্টা: ২৩ জন।

উল্লেখ্য,
- শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগের পরে সংসদ ভেঙে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। ফলে দেশ পরিচালনার জন্য সাংবিধানিক সরকার কাঠামো দরকার হয়।
- বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’ নামে কোন ব্যবস্থার উল্লেখ নেই। তবে কাছাকাছি ধরনের একটি ব্যবস্থার কথা আগে বলা ছিল, যেটি ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা নামে পরিচিত।
- সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ব্যাপারে মতামত দেয় সুপ্রিমকোর্ট। সংবিধানের ওই অনুচ্ছেদে বলা বলা আছে,"যদি কোনো সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হয় যে আইনের এইরূপ কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হইয়াছে বা উত্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দিয়াছে, যাহা এমন ধরনের ও এমন জনগুরুত্বসম্পন্ন যে, সেই সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি প্রশ্নটি আপিল বিভাগের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করিতে পারিবেন এবং উক্ত বিভাগ স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত শুনানির পর প্রশ্নটি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে স্বীয় মতামত জ্ঞাপন করিতে পারিবেন।''
- সর্বোচ্চ আদালত 'সুপ্রিম কোর্ট' সংবিধানের আলোকে এই সরকারের বৈধতা দিয়েছেন।

উৎস: i) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
iii) DW.
২০২.
দুর্নীতি দমন কমিশন কার কাছে বার্ষিক প্রতিবেদন দাখিল করে?
  1. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
  2. সুপ্রিম কোর্ট
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা

দুর্নীতি দমন কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন:
- দুর্নীতি দমন কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৯(১) ধারা অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি সমীপে উপস্থাপন করা হয়।

⇒ বাংলাদেশে দুর্নীতিমূলক কার্য প্রতিরোধ, দমন ও নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সমাজে সততা, ন্যায় ও নিষ্ঠাবোধ সৃষ্টির জন্য উপযুক্ত কার্যক্রম পরিচালনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা হয়।
- দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি বাস্তবায়নের জন্য জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী সনদ (UNCAC)-এর অনুচ্ছেদ ১৩ অনুযায়ী সাধারণ জনগণের অংশীদারিত্ব ও অন্তর্ভুক্তকরণ, নাগরিক সমর্থন, গণমাধ্যমসহ সকল অংশীজনের সম্পৃক্তকরণে কমিশন সদা তৎপর। 
- দুর্নীতির ঘটনা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের লক্ষ্যে কমিশন ২০১৭ সালের ২৭ শে জুলাই দুদক অভিযোগ কেন্দ্রের টোল ফ্রি হটলাইন ১০৬ এর কার্যক্রম শুরু করে।
- দুর্নীতি সংঘটিত হবার পূর্বেই তা প্রতিরোধ ও তাৎক্ষণিক প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ব্রত নিয়ে ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট যাত্রা শুরু করে। 

⇒  দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর মাধ্যমে কমিশন তার কার্যাবলি, ক্ষমতা এবং সাংগঠনিক কাঠামোর যাত্রা শুরু করে। এর সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আইনসমূহ হচ্ছে:
১। দণ্ডবিধি, ১৮৬০
২। সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২
৩। ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮
৪। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭
৫। দি ক্রিমিনাল ল এ্যামেন্ডমেন্ট এ্যাক্ট, ১৯৫৮
৬। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং এর সংশোধনীসমূহ।

উৎস: দুর্নীতি দমন কমিশন ওয়েবসাইট।

২০৩.
সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কত দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়?
  1. ৭ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৪৫ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা

জাতীয় সংসদ:
- জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
- দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
- প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
- সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) মহিলা আসন সংখ্যা ৫০ করা হয়।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
- জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
- সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়।
- জাতীয় সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য কোরাম থাকতে হয়।
- অধিবেশনে কোরামের জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫ নং অনুচ্ছেদে কোরাম সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
- ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।

২০৪.
শহর অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কোনটি?
  1. ইউনিয়ন পরিষদ
  2. জেলা পরিষদ
  3. পৌরসভা
  4. উপজেলা পরিষদ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:
- বর্তমান বাংলাদেশে শহুরে ও গ্রামীণ দুই ধরনের স্থানীয় সরকার কার্যকর রয়েছে।
- বাংলাদেশে শহরের জন্য দুই স্তর বিশিষ্ট ও
- পল্লীর জন্য তিন স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো রয়েছে।

⇨ শহর অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা-
- পৌরসভা এবং
- সিটি কর্পোরেশন।

⇨ গ্রাম অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা -
- ইউনিয়ন পরিষদ,
- উপজেলা পরিষদ এবং
- জেলা পরিষদ।

⇨ এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩টি জেলা নিয়ে আঞ্চলিক স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আঞ্চলিক পরিষদ-
১. বান্দরবান পাহাড়ী জেলা পরিষদ,
২. রাঙ্গামাটি পাহাড়ী জেলা পরিষদ,
৩. খাগড়াছড়ি পাহাড়ী জেলা পরিষদ,

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৫.
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করে অধ্যাদেশ জারি হয়-
  1. ১৫ নভেম্বর, ২০২৪
  2. ১৮ নভেম্বর, ২০২৪
  3. ২০ নভেম্বর, ২০২৪
  4. ২৫ নভেম্বর, ২০২৪
ব্যাখ্যা
• সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করে অধ্যাদেশ জারি হয়- ১৮ নভেম্বর, ২০২৪।

অধ্যাদেশ শিরোনাম:
'সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা- স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ২০২৪।'

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়,
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের সকল ক্যাডারের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩২ বছর। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের আওতাবহির্ভূত সকল সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা হইবে ৩২ বছর। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্ব স্ব নিয়োগ বিধিমালা বা ক্ষেত্রমতো প্রবিধানমালা বহাল থাকিবে।’

উল্লেখ্য,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করেন।
‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন, বিধিমালা, প্রবিধানমালা, আদেশ, নির্দেশ বা আইনগত দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।

তথ্যসূত্র: Laws of Bangladesh ওয়েবসাইট। [Link]
২০৬.
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ 'জয় বাংলা' কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করে -
  1. ক) ২ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  2. খ) ২ মার্চ ২০২২
  3. গ) ৩ মার্চ ২০২২
  4. ঘ) ৫ মার্চ ২০২২
ব্যাখ্যা
- ২ মার্চ ২০২২ 'জয় বাংলা' কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
এছাড়াও
 - আইন ও শাসন বিভাগের সম্পর্কের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক সরকার দুই ভাগে বিভক্ত।
- মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার বা সংসদীয় সরকার এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার।
- শাসন বিভাগ আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকলে তাকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার বলে। যেমন:  বাংলাদেশ ও ভারতের সরকার।
- আর আইন বিভাগের নিকট শাসন বিভাগ দায়ী না থাকলে তাকে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলে। যেমন:  আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সরকার।
 - অর্থাৎ, বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ তাদের কাজকর্মের জন্য জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ। 


সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, এপ্রিল ২০২২
২০৭.
রাষ্ট্রে উপাদান নয় কোনটি?
  1. সার্বভৌমত্ব
  2. জনসমষ্টি
  3. সরকার 
  4. ঐক্য
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্রে উপাদান নয়- ঐক্য।

- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
- বিশ্বের সকল মানুষ কোনো না কোনো রাষ্ট্রে বসবাস করে।
- প্রতিটি রাষ্ট্রেরই আছে নির্দিষ্ট ভূখণ্ড এবং জনসংখ্যা।
- এ ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আরও আছে সরকার এবং সার্বভৌমত্ব।
- মূলত এগুলো ছাড়া কোনো রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না। 

- অধ্যাপক গার্নার বলেন, 'সুনির্দিষ্ট ভুখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী, সুসংগঠিত সরকারের প্রতি স্বভাবজাতভাবে আনুগত্যশীল, বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত স্বাধীন জনসমষ্টিকে রাষ্ট্র বলে।' 

• রাষ্ট্রের চারটি উপাদান ।
যথা-
১।জনসমষ্টি,
২।নির্দিষ্ট ভূখণ্ড,
৩। সরকার ও
৪। সার্বভৌমত্ব।

উৎস : পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

২০৮.
বাংলাদেশে সর্বপ্রথম মহিলা পুলিশ নিয়োগ করা হয় -
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
পুলিশ প্রশাসন:
- পুলিশ প্রশাসন অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার্থে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা।
- মহিলাদের মধ্যে পেশাধারী প্রতারণা, দেশি ও আন্তর্জাতিক চোরাচালান, হোটেল ও বিত্তবানদের গৃহে প্রমোদবালাদের অসামাজিক তৎপরতা প্রতিরোধ সংক্রান্ত অপরাধের অনুসন্ধান ও তল্লাশীর ক্ষেত্রে পুরুষের জন্য কিছু আইনগত ও সামাজিক অসুবিধা থাকায় ১৯৭৪ সালে সর্বপ্রথম স্পেশাল ব্রাঞ্চ পুলিশে ১২ জন মহিলা পুলিশ নিয়োগ করা হয়। 

• ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী,
বাংলাদেশে নারী পুলিশের যাত্রা ১৯৭৪ সালে ৭ জন এসআই এবং ৭ জন কনস্টেবলের যোগদানের মধ্য দিয়ে।
প্রথমে সাদা পোশাকেই তারা ডিউটি করতেন। দুই বছর পর অর্থাৎ ১৯৭৬ সালে ইউনিফর্মধারী নারী পুলিশের যাত্রা হয়।

• গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কার:
- প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও সংস্কার কমিটি গঠিত হয়- ১৯৮২ সালে,
- গ্রাম সরকার ব্যবস্থার' বিলুপ্তি সাধন হয়েছিল ১৯৮২ সালে।
- বাংলাদেশ সচিবালয় প্রথমে যাত্রা শুরু করে ইডেন বিল্ডিং-এ।
- সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের নাম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় করা হয়- ২৮ এপ্রিল ২০১১।
- রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের বিভাগ- ২টি ।
- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পূর্ব নাম- সংস্থাপন মন্ত্রণালয়।
- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়- ২৩ অক্টোবর, ২০০১।
- উপজেলা পরিষদ চালু হয়- ১৯৮৫ সালে ।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
২০৯.
বিচারপতি ওবায়দুল হাসান দেশের কততম প্রধান বিচারপতি?
  1. ২২তম
  2. ২৪তম
  3. ২৩তম
  4. ২৫তম
ব্যাখ্যা
প্রধান বিচারপতি:
• দেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

• উল্লেখ্য,
• রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে শপথবাক্য পাঠ করান।
• ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে।
• বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ১৯৫৯ সালের ১১ জানুয়ারি নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ থানাধীন ছয়াশী (হাটনাইয়া) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস (অনার্স), এমএসএস (অর্থনীতি) ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৬ সালে আইনজীবী হিসেবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদ পেয়ে জেলা বার-কমিটিতে যোগদান করেন।
• তিনি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন।
• তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে ২০০৯ সালের ৩০ জুন যোগদান করেন এবং ২০১১ সালের ৬ জুন একই বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - ডেইলী স্টার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩।
২১০.
বাংলাদেশের প্রথম মডেল থানা -
  1. ক) শ্রীপুর, গাজীপুর
  2. খ) ভালুকা, ময়মনসিংহ
  3. গ) হাজিগঞ্জ, চাঁদপুর
  4. ঘ) ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা
• ভালুকা থানা:
-  ভালুকা বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম মডেল থানা এবং দেশের অন্যতম বিসিক শিল্প নগরী।
 -
এ উপজেলায় বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন রয়েছে।
- এ উপজেলায় ৮৭টি মৌজা ও ১১০টি গ্রাম রয়েছে।
- মূলতঃ ভালুকা গ্রাম ও ভালুকা বাজারকে কেন্দ্র করেই পরবর্তী সময়ে ভালুকা থানা ও ভালুকা উপজেলার নামকরণ করা হয়েছে। 
 - ১৯১৭ সালে গফরগাঁও থানাকে বিভক্ত করে ভালুকা থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। 

তথ্যসূত্র: ভালুকা উপজেলার ওয়েবসাইট।
২১১.
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল কত বছর?
  1. ক) ৩ বছর
  2. খ) ৪ বছর
  3. গ) ৫ বছর
  4. ঘ) ৬ বছর
ব্যাখ্যা
প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ পাঁচ বছর। রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদও ৫ বছর। বাংলাদেশের সকল জনপ্রতিনিধির পদের মেয়াদ ৫ বছর। বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৭নং তে প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ সম্পর্কে বলা আছে।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক
২১২.
বাংলাদেশের নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট কোথায়?
  1. ক) ফরিদপুর
  2. খ) চাঁদপুর
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা

নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটঃ
নদী মাতৃক এ বাংলাদেশ একটি অতি জটিল পলিভরণকৃত ব-দ্বীপ।
- অসংখ্য বিনুনি শাখা প্রশাখা সহ গঙ্গা-পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও মেঘনা এ ৩টি অন্যতম প্রধান ও সুবৃহৎ আন্তর্জাতিক নদীমালা কর্তৃক বাহিত পলিতে গঠিত এ বাংলাদেশ।
- এতদবিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে তৎকালীন সরকার ১৯৪৮ সালে ঢাকার গ্রীণরোডে প্রায় ১২ একর জমির উপর ‘‘হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরী’’ নামে একটি গবেষণাগার স্থাপন করে।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে ব্যাপক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৮ সালে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে এবং ‘‘হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরী’’ প্রতিষ্ঠানটি ইহার সহিত একীভূত করে।
- ১৯৮৯ সালে ফরিদপুর শহরের উপকন্ঠে ৮৬ একর জমির উপর এক মনোরম পরিবেশে নদী গবেষণা ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে পানি সম্পদ সেক্টরে বহুমুখী গবেষণা কার্যক্রম উত্তরোত্তর বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৯০ সনের ৫৩নং আইন বলে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট কেএকটি সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্ব-শাসিত সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন হতে আলাদা করে সরাসরি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করে।

উৎসঃ বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ফরিদপুর জেলা ওয়েবসাইট।

২১৩.
রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি পরিচালনার জন্য প্রণীত Rules of Business কার দ্বারা অনুমোদিত হয়?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. মন্ত্রিপরিষদ সচিব
  4. জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা

• Rules of Business:
- যে আইনের মাধ্যমে সরকারের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা করা হয় তাকেই সরকারী কার্যপ্রণালী বিধি বা Rules of Business বলা হয়ে থাকে।
- রুলস অফ বিজনেস, ১৯৯৬ হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল যা সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রণীত।
- সরকারের ‘রুলস অব বিজনেস’ বা কার্যবিধিমালার বিষয়বস্তু হচ্ছে মূলত নির্বাহী বিভাগের কর্মবণ্টন ও কর্মপদ্ধতি। 
- বলা হয়ে থাকে রাষ্ট্রের সংবিধান যেমন সব নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য, তেমনি কার্যবিধিমালা নির্বাহী বিভাগের সবার জন্য প্রযোজ্য।
- এই বিধিমালার উদ্দেশ্য হলো সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে কার্যাবলী বন্টন করা এবং তাদের দায়িত্ব ও কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করা। 
- সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি Rules of Business প্রণয়ন করেন। 

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের প্রথম কার্যবিধিমালা প্রণীত হয়েছিল ১ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে। তখন রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ছিল বিধায় সেটি সে আদলেই করা হয়েছিল।
- ১৯৯৬ সালে প্রবর্তিত হয় সংসদীয় পদ্ধতির সরকার উপযোগী নতুন কার্যবিধিমালা। 
- বিধিমালাটি ইংরেজিতে প্রণীত।
- কার্যবিধিমালাতে পাঁচটি অধ্যায়ে ৩৩টি বিধি এবং সাতটি তফসিল রয়েছে। 

তথ্যসূত্র: i) বণিক বার্তা।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান। 
iii) বাংলাপিডিয়া। 

২১৪.
কেন্দ্রিয় প্রশাসনের অতিগুরুত্বপূর্ণ কাঠামো কোনটি?
  1. হাইকোর্ট
  2. অধিদপ্তর
  3. সচিবালয়
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রিয় প্রশাসন:
- কেন্দ্রিয় প্রশাসনের অতিগুরুত্বপূর্ণ কাঠামোর নাম সচিবালয়।
- প্রশাসনিক সংগঠনের পদসোপানে সচিবালয়ের স্থান সর্বোচ্চ।
- সচিবালয় মন্ত্রীকে তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ ও পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাজকে এগিয়ে নিয়ে থাকে।
- এছাড়া মন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ, সংসদে তা উত্থাপন ও বক্তব্য প্রস্তুত করতে সহযোগিতা প্রদানসহ নানাবিধ প্রশাসনিক কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে।
- সচিবালয় মন্ত্রণালয় চালনার অন্যতম প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেব কাজ করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৫.
বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা কত?
  1. ক) ৪৫০০
  2. খ) ৪৫৭১
  3. গ) ৪৬০০
  4. ঘ) ৪৬২২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান পকেট বুক ২০১৮ অনুযায়ী ৪৫৭১টি; জাতীয় তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী ৪৫৫৪টি এবং পঞ্চম আদমশুমারি ২০১১ অনুযায়ী ৪৫৬২টি।
২১৬.
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হয় -
  1. ক) ২০১৮ সালে
  2. খ) ২০১৯ সালে
  3. গ) ২০১৭ সালে
  4. ঘ) ২০২০ সালে
ব্যাখ্যা
‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন- ২০১৮’ 
- ২০১৮ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর সংসদে পাস হয়েছিলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।

- নতুন আইনে মুক্তিযুদ্ধ, জাতির পিতা, ধর্ম অবমাননা, মানহানির মতো সাইবার অপরাধের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে সাজার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিল ও নিরাপত্তা এজেন্সি গঠনের কথা বলা হয়েছে।

- আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা, প্রচারণা ও মদদ দিলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এর সর্ব্বোচ শাস্তি ১৪ বছরের সাজার পাশাপাশি জরিমানা দিতে হবে ৫০ লাখ টাকা।

- ২৮ ধারায় বলা হয়েছে, ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত দিলে ভোগ করতে হবে সর্ব্বোচ ১০ বছরের কারাদণ্ড। অন্যদিকে, ২৯ ধারায় মানহানিকর কিছু প্রচার প্রকাশ করলে সাজা হবে তিন বছরের।

- ৩০ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক, বীমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন বহির্ভূতভাবে ই-ট্রানজেকশন করলে সর্ব্বোচ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
- এছাড়া হ্যাকিং, কম্পিউটারের সোর্স কোড ধ্বংস ও সরকারি তথ্য বেআইনিভাবে ধারণ, প্রেরণ ও সংরক্ষণ করলে থাকছে নানা শাস্তি ও জরিমানার বিধান।
- নতুন আইনের বেশিরভাগ ধারাই জামিন অযোগ্য।
- তবে এর মধ্যে মানহানির ২৯ ধারাসহ ২০, ২৫ ও ৪৮ ধারার অপরাধে জামিনের বিধান আছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো ও বিবিসি বাংলা নিউজ।
২১৭.
আদালত বা ট্রাইব্যুনালের প্রদত্ত দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার এখতিয়ার কার রয়েছে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. আইনমন্ত্রী
  3. এটর্নি জেনারেল
  4. প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কাজ :

• নিয়োগ সংক্রান্ত ক্ষমতা:
- রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ।
- শীর্ষ কর্মকর্তা (মহাহিসাব রক্ষক, রাষ্ট্রদূত, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা) নিয়োগ।
- প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ।
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগ (এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ব্যতীত)।

• সংসদ সংক্রান্ত ক্ষমতা:
- জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত এবং ভেঙে দেওয়া (প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে)।
- সংসদে ভাষণ ও বাণী প্রদান।
- সংসদ কর্তৃক পাস হওয়া বিলে সম্মতি দিয়ে আইন কার্যকর করা।
- সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশন না থাকলে অধ্যাদেশ জারি।

• আর্থিক ক্ষমতা:
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি ছাড়া অর্থ বিল উত্থাপন করা যাবে না।
- সংসদ অর্থ মঞ্জুর করতে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের জন্য তহবিল থেকে অর্থ অনুমোদন।

• বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা:
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের নিয়োগ।
- আদালত বা ট্রাইব্যুনালের প্রদত্ত দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা।

• জরুরি অবস্থা ঘোষণা:
- যুদ্ধ, বিদেশি আগ্রাসন বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের ক্ষেত্রে জরুরি অবস্থা ঘোষণা (প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে)।

• অন্যান্য দায়িত্ব:
- জাতীয় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব।
- খেতাব, পদক ও সম্মাননা প্রদান।
- নাগরিকদের বিদেশি উপাধি গ্রহণে অনুমতি প্রদান।
- রাষ্ট্রীয় চুক্তি ও দলিল সম্পাদন।
- বিদেশি কূটনীতিকদের পরিচয়পত্র গ্রহণ।
- প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও বিচারপতিদের শপথ বাক্য পাঠ করানো।

• জবাবদিহিতা:
- রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করবেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

২১৮.
বর্তমানে সরকার কয়টি মন্ত্রণালয়ের অধীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে? [মে, ২০২৫]
  1. ২০টি
  2. ২২টি
  3. ২৬টি
  4. ২৮টি
ব্যাখ্যা
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি:
- সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ ২৭ ধরনের ভাতা দেওয়া হয়।
- এসব কর্মসূচিকেই প্রকৃত অর্থে সামাজিক সুরক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- বর্তমানে ২৬টি মন্ত্রণালয়ের অধীন ১৪০টি কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

উল্লেখ্য,
- চলতি অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন ৬০ লাখ। তাদের মাথাপিছু মাসিক ভাতা ৬০০ টাকা।
- বিধবা ভাতা পান প্রায় ২৮ লাখ এবং মাথাপিছু ভাতা ৫৫০ টাকা।
- অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা পান ৩২ লাখ এবং মাথাপিছু ভাতা ৮৫০ টাকা।
- অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিশেষ ভাতা পান ৬০ হাজার। তাদের মাথাপিছু মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা।
- সাধারণত তিন মাস পরপর উপকারভোগীদের টাকা দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র- নিউজ রিপোর্ট। [LINK]
২১৯.
মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রধান -
  1. মন্ত্রী
  2. সচিব
  3. উপসচিব
  4. যুগ্ম-সচিব
ব্যাখ্যা
মন্ত্রনালয়গুলোর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাঠামো:
- বাংলাদেশে মন্ত্রণালয়গুলোকে যৌথভাবে সচিবালয় বলা হয়।
১. মন্ত্রী - মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রধান। প্রত্যেক মন্ত্রণালয় দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে
থাকে।
২. সচিব - মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। সচিব মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মূখ্য হিসাব নিরীক্ষক।
৩. অতিরিক্ত সচিব - উপ-বিভাগের প্রধান।
৪. যুগ্ম-সচিব - উপ-বিভাগের প্রধান।
৫. উপসচিব - একাধিক শাখার প্রধান।
৬. সিনিয়র বা জেষ্ঠ সহকারী সচিব - শাখা বা সেকশন প্রধান।
৭. সহকারী সচিব - শাখা বা সেকশন প্রধান।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোজাম্মেল হক।
২২০.
বাংলাদেশের গ্রামীণ স্থানীয় সরকার কাঠামোর মধ্যম স্তর কোনটি?
  1. ইউনিয়ন পরিষদ
  2. জেলা পরিষদ
  3. উপজেলা পরিষদ
  4. সিটি কর্পোরেশন
ব্যাখ্যা

উপজেলা পরিষদ:
- বাংলাদেশের তিন স্তর বিশিষ্ট গ্রামীন স্থানীয় সরকার কাঠামোর মধ্যম স্তর হল উপজেলা পরিষদ।
- ১৯৮২ সালে স্থানীয় সরকার অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে থানা পরিষদ নামক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
- পরবর্তী বছরে অর্থাৎ ১৯৮৩ সালে সংশোধনীর মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ নামকরণ করা হয়।
- এই স্থানীয় সরকার উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালে।
- ঐতিহাসিকভাবে দেখতে গেলে ১৮৮৫ সালের ব্রিটিশ বেঙ্গল লোকাল সেল্ফ গভর্মেন্ট এ্যাক্ট-র মাধ্যমে যে লোকাল বোর্ডগঠন করা হয় তারই পরিবর্তিত রূপ এই উপজেলা পরিষদ।
- উপজেলা পরিষদ সৃষ্টির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের মানুষের শাসন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।
- ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পরে সামরিক শাসন আমলে গঠিত উপজেলা পরিষদের সকল কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
- নানান পরিবর্তনের পরে ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদে উপজেলা পরিষদ আইনটি পাশ হয় এবং স্থানীয় সরকারের এই স্তরটি চালু হয়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- বর্তমানে উপজেলা পরিষদে প্রধানত দুই ধরনের প্রতিনিধি দেখা যায়। যথা: নির্বাচিত প্রতিনিধি ও সরকারি প্রতিনিধি।
- নির্বাচিত প্রতিনিধির একাংশ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত।
- অন্যরা পরোক্ষভাবে অর্থাৎ একটি উপজেলা পরিষদের আওতাধীন সকল ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র এবং
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের মধ্য থেকে নিজেদের দ্বারা নির্বাচিত এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্য।
- এই পরিষদের কার্যকাল ৫ বছর।
- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ.এন.ও.) পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম) উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২১.
নির্বাচন কমিশনারগণকে নিয়োগ প্রদান করেন কে?
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা
নির্বাচন কমিশন:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় নির্বাচন কমিশন গঠিত।
- এটি সাংবিধানিকভাবে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন কমিশনারসহ মোট পাঁচজন নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত।
- নির্বাচন কমিশনারগণকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন।
- নির্বাচন কমিশনের সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভাপতির কাজ করেন।
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। (জুলাই, ২০২৫)
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারের মেয়াদ তাদের কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর।
- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সরকার ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কর্তব্য।
- নির্বাচন কমিশন সংবিধানে বর্ণিত নির্দেশনাবলি এবং দেশের নির্বাচনি আইন দ্বারা পরিচালিত হয়।
- নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পরিচালিত নির্বাচন সমূহ,
• রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
• জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
• সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।
• জেলা পরিষদ নির্বাচন।
• উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।
• পৌরসভা নির্বাচন।
• ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
২২২.
বাংলাদেশের মাঠ প্রশাসন দ্বিতীয় স্তরটি-
  1. ইউনিয়ন প্রশাসন
  2. জেলা প্রশাসন
  3. উপজেলা প্রশাসন
  4. বিভাগীয় প্রশাসন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো:
 - বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো স্তরভিত্তিক।
- এর দুটি প্রধান স্তর আছে।

• প্রথম স্তরটি হলো কেন্দ্রীয় প্রশাসন (সচিবালয়)।
- দেশের সব ধরনের প্রশাসনিক নীতি ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়।
- আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সারা দেশে বাস্তবায়িত হয়।

• বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দ্বিতীয় স্তরটি হলো মাঠ প্রশাসন।
- মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলো বিভাগীয় প্রশাসন।
- দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে জেলা প্রশাসন।
- জেলার পর আছে উপজেলা প্রশাসন।
- উপজেলা প্রশাসন একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত।

-  মাঠ প্রশাসন মূলত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। কয়েকটি মন্ত্রণালয় নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রশাসন বা সচিবালয় গঠিত। প্রতি মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত আছে বিভিন্ন বিভাগ বা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের/দপ্তরের প্রধান হলেন মহাপরিচালক/পরিচালক। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।
২২৩.
বাংলাদেশের কোন জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু হয়?
  1. ৪র্থ
  2. ৫ম
  3. ৬ষ্ঠ
  4. ৭ম
ব্যাখ্যা
সপ্তম জাতীয় সংসদ:
- বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণমেয়াদকালীন সংসদ হলো সপ্তম জাতীয় সংসদ।
- এই সংসদের ব্যাপ্তী ছিলো ১৯৯৬ সালের ১৪ জুলাই থেকে ২০০১ সালের ১৩ জুলাই পর্যন্ত।
- সপ্তম জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু করা হয়।
- সংসদের অধিবেশন চলাকালে সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে সংসদ-সদস্যগণ প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং তিনি তার জবাব দিয়ে থাকেন।
- প্রথম দিকে এই প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য সময় বরাদ্দ ছিল ১৫ মিনিট।
- পরে তা বাড়িয়ে ৩০ মিনিট করা হয়।
- সরকারি দলের সদস্যদের জন্য ১৫ মিনিট এবং বিরোধী দলের সদস্যদের জন্য ১৫ মিনিট করে সময় ধার্য করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২২৪.
'প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়' এর বর্তমান প্রতিমন্ত্রী কে?
  1. রুমানা আলী
  2. মোঃ জাকির হোসেন
  3. খাদিজা খাতুন
  4. মহিবুল হাসান চৌধুরী
ব্যাখ্যা
                                         
- জনাব রুমানা আলী, এমপি বর্তমান সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওন করছেন। 
- জনাব রুমানা আলী, এমপি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৩ (সদর-শ্রীপুর-১৯৬) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।
- তিনি পেশায় একজন অধ্যাপক।
- রুমানা আলী একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 
- তাঁর রচিত ‘প্রাচীন কীর্তি ও ঐতিহাসিক স্থান’ গ্রন্থ বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে।

উৎস:- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রানালয়ের ওয়েবসাইট।
২২৫.
বাংলাদেশের বর্তমান স্থানীয় সরকার কাঠামো কতটি স্তরে বিভক্ত?
  1. দুই স্তর
  2. তিন স্তর
  3. চার স্তর
  4. পাঁচ স্তর
ব্যাখ্যা

• স্থানীয় সরকার কাঠামো:
- বাংলাদেশে বর্তমানে 'তিন স্তরবিশিষ্ট' স্থানীয় সরকার কাঠামো লক্ষ করা যায়। 
- যথা- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ। 
- এছাড়া শহরগুলোতে পৌরসভা, বড় শহরে সিটি কর্পোরেশন,
- পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি (খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি) স্থানীয় জেলা পরিষদ রয়েছে। 
- উল্লিখিত তিন স্তরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদকেই নিচের দিকে সবচেয়ে কার্যকর ইউনিট বলে মনে করা হয়ে থাকে।
- গ্রাম বা এর নিকটবর্তী হচ্ছে ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ। 
- শহর এলাকায় রয়েছে পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, ৮০ পৃষ্ঠা।

২২৬.
বাংলাদেশে মন্ত্রিসভার মেয়াদ কত বছর?
  1. ১ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা
• সরকার ব্যবস্থা:
- বাংলাদেশে বর্তমানে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- এ ব্যবস্থাকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারও বলা হয়।
- শাসন বিভাগের স্তম্ভ হল মন্ত্রিপরিষদ।
- মন্ত্রিসভার মেয়াদ ৫ বছর। 

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৭.
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন জাতীয় সংসদে পাস হয় কোন সালের কত তারিখে?
  1. ক) ১৭ এপ্রিল, ২০০২
  2. খ) ৯ এপ্রিল, ২০০২
  3. গ) ১৮ মার্চ, ২০০২
  4. ঘ) ৩ এপ্রিল, ২০০২
ব্যাখ্যা
রাস্তাঘাট এ বিশৃঙ্খলা, যানবাহন চলাচলপথ এ বাধা সৃষ্টিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধে ৯ এপ্রিল ২০০২সালে জাতীয় সংসদে এই আইন পাশ হয়।

উৎসঃ আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
২২৮.
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন কোনটি?
  1. পদ্মা ভবন
  2. বঙ্গভবন
  3. গণভবন
  4. উত্তরা ভবন
ব্যাখ্যা
♣♣ 
• বাংলাদেশ সরকারের প্রধান নির্বাহী প্রধানমন্ত্রী।
• প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের নাম 'গণভবন'। 
• গণভবন অবস্থিত শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।  

• প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ইংরেজি নাম 'পিএমও'। 
• প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অবস্থান তেজগাঁও, ঢাকা।

• রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনের নাম 'বঙ্গভবন'।
• বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত বাসভবনের নাম 'সুধা সদন'। 
• এটি ধানমন্ডিতে অবস্থিত।

উৎস:
বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট।
২২৯.
অপরাধীদের দণ্ড হ্রাস করার ক্ষমতা রাখে কোন বিভাগ?
  1. ক) আইন বিভাগ
  2. খ) শাসন বিভাগ
  3. গ) বিচার বিভাগ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সরকারের তিনটি বিভাগের কাজ: 

- আইন বিভাগ - সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন করে এবং
- বিচার বিভাগ - সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান করে।
- শাসন বিভাগ: 
. শাসন বিভাগ বিচার বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের নিয়োগ করেন ৷
. শাসন বিভাগের প্রধান অপরাধীদের দণ্ড হ্রাস করতে পারেন ও স্থগিত রাখতে পারেন।
. আবার কর নির্ধারণ নিয়োগ, পদোন্নতি, পদচ্যুতি প্রভৃতি - বিষয়ে আপত্তির নিষ্পত্তি শাসন বিভাগ করে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর (১ম) বোর্ড বই।
২৩০.
সুপ্রিম কোর্টের ব্রেঞ্চ কয়টি?
  1. ৩ টি
  2. ২ টি
  3. ৪টি
  4. ১ টি
ব্যাখ্যা
• সুপ্রিম কোর্ট:
- বিচারবিভাগের সর্বোচ্চ আদালতের নাম সুপ্রিমকোর্ট।
- সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রধানবিচারপতি রয়েছেন, যাকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি বলা হয়।
- প্রত্যেক বিভাগের জন্য যতজন বিচারক প্রয়োজন ততজন বিচারককে নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট গঠিত। 
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিমকোর্টের দুই বিভাগের বিচারপতিদের নিয়োগ দেন। 

• সুপ্রিমকোর্টের এর রয়েছে দুটি বিভাগ,

যথা:
- আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ।
 
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।
২৩১.
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কয়টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়?
  1. ৪৪টি
  2. ৪১টি
  3. ৩৩টি
  4. ২৮টি
ব্যাখ্যা
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৮টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন:

- দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন ⎯ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।
- নির্বাচনের জন্য ৬৬ জন রিটার্নিং অফিসার ও ৫৯২ জন সহকারি রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়।
- ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় - ৭ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে।
- নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়।
- প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি জিতেছে ১১টি আসনে।
- পরবর্তীতে ২টি আসনের উপনির্বাচনেও আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীরা জয়লাভ করে।

• বিশেষ তথ্য:
- ২৮টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়।
- দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করেছে।
- টানা চতুর্থবারসহ পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ⎯ বঙ্গবন্ধুকন্যা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নির্বাচিত ২৯৮ জন সংসদ সদস্য শপথ নেন ⎯ ১০ জানুয়ারি, ২০২৪।
- নতুন এমপিদের শপথ বাক্য পাঠ করান ⎯ বর্তমান স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
         ii) বাংলাদেশ টেলিভিশন ওয়েবসাইট।
         ii) ১১ জানুয়ারি, ২০২৪, কালের কন্ঠ।
২৩২.
শহর এলাকায় স্থানীয় সরকারের প্রথম ধাপ কোনটি?
  1. পৌরসভা
  2. ইউনিয়ন পরিষদ
  3. জেলা পরিষদ
  4. সিটি কর্পোরেশন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:
- স্থানীয় সরকার হলো রাষ্ট্রের ভৌগলিক অবস্থানের ভিত্তিতে বিভক্ত করা ক্ষুদ্রতর শাসন কাঠামো।
- এটি হলো কেন্দ্রীয় সরকারের বর্ধিত ও সহায়ক অংশ।
- স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হয়।
- কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার দুই রকমের হয় যথা:স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় স্বায়ত্বশাসিত সরকার।

⇒ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা দুই ধরনের।
(ক) শহর বা পৌর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা,
(খ) গ্রামীণ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা।

⇒ বাংলাদেশে শহরের জন্য দুই স্তর বিশিষ্ট ও গ্রামে তিন স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো রয়েছে।
• শহর অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:
- পৌরসভা,
- সিটি কর্পোরেশন।

• গ্রাম অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:
- ইউনিয়ন পরিষদ,
- উপজেলা পরিষদ,
- জেলা পরিষদ।

• পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩টি জেলা নিয়ে আঞ্চলিক স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে।
- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আঞ্চলিক পরিষদ-
১. বান্দরবান পাহাড়ী জেলা পরিষদ,
২. রাঙ্গামাটি পাহাড়ী জেলা পরিষদ,
৩. খাগড়াছড়ি পাহাড়ী জেলা পরিষদ।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৩.
Which is not a part of local administration?
  1. ক) Upazila
  2. খ) District
  3. গ) Union
  4. ঘ) Division
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের স্থানীয় প্রশাসন:
- স্থানীয় প্রশাসন তিন স্তর বিশিষ্ট যথা: 
১. বিভাগীয় প্রশাসন। ২. জেলা প্রশাসন। ৩. উপজেলা প্রশাসন।

- বাংলাদেশের স্তরভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামোর প্রথম স্তরটি  হচ্ছে কেন্দ্রীয় প্রশাসন।
- স্থানীয় প্রশাসনের প্রথম ও সর্বোচ্চ ধাপ হচ্ছে বিভাগীয় প্রশাসন।
- এর দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে জেলা প্রশাসন এবং
- তৃতীয় বা সর্বনিম্ন ধাপে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। 

• বিভাগীয় প্রশাসনের গঠন:
- বিভাগীয় প্রশাসনের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে একজন বিভাগীয় কমিশনার দায়িত্ব পালন করেন। তাঁকে সাহায্য করার জন্য
কয়েক জন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ও অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ রয়েছেন।
- বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন অভিজ্ঞ সদস্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
- তাঁর পদ মর্যাদা জেলা প্রশাসকের উপরে এবং রাজস্ব বোর্ডের সদস্যদের নিচে।
- বাংলাদেশে বর্তমানে বিভাগীয় কমিশনার যুগ্ম সচিবের পদমর্যাদা সম্পন্ন। 

• জেলা প্রশাসনের গঠন:
- স্থানীয় প্রশাসনের দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে জেলা প্রশাসন। ডেপুটি কমিশনার (উঈ) বা জেলা প্রশাসক এ প্রশাসনের প্রধান।
- জেলা প্রশাসনিক কাঠামোতে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক থাকেন।
- একাধিক সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও সহকারী কমিশনার এবং অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারির থাকেন।
- বাংলাদেশে বর্তমানে জেলা প্রশাসক উপসচিব পদমর্যাদা সম্পন্ন।

• উপজেলা প্রশাসনের গঠন:
- স্থানীয় প্রশাসনের সর্বশেষ স্তর হল উপজেলা প্রশাসন।
- উপজেলা প্রশাসনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)।
- উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেন্দ্রীয় প্রশাসন কর্তৃক নিয়োজিত হয়ে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন।
- উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ যাবতীয় কাজে সহযোগিতা করে
থাকেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৪.
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কোন দলের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন?
  1. ক) বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি
  2. খ) ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ - মোজাফফর)
  3. গ) ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ - ভাসানী)
  4. ঘ) ন্যাশনাল কংগ্রেস
ব্যাখ্যা
খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি ছিলেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ - মোজাফফর) - এর সদস্য। তিনি ছাড়া সব সদস্য ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের। সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধানের ইতিহাস
২৩৫.
বাংলাদেশে প্রথম শুল্ক নীতি কখন প্রণয়ন করা হয়?
  1. ২০২৩ সাল
  2. ২০২১ সাল
  3. ২০২০ সাল
  4. ২০২২ সাল
ব্যাখ্যা

• শুল্ক নীতি:
- ২০১৬ সালে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্থানীয় কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতা বৃদ্ধিতে প্রথমবারের মতো শুল্ক নীতি প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ।
- ২০২৩ সালে দেশের প্রথম শুল্ক নীতি প্রণয়ন করা হয়।
- ১০ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় শুল্ক নীতিমালার গেজেট প্রকাশ করেছে।

⇒ জাতীয় শুল্ক নীতিমালার লক্ষ্য আমদানি শুল্ক কাঠামোকে যৌক্তিক করা, কারণ বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা পাবে না।
- এই শুল্ক নীতি দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গতি বাড়াবে।
- এতে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
- ফলে, সরকার ধীরে ধীরে আমদানি শুল্কের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারবে।

তথ্যসূত্র:
 i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) The Daily Star Bangla.

২৩৬.
নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতার রক্ষাকর্তা হিসেবে কাজ করে কোন বিভাগ?
  1. আইন বিভাগ
  2. বিচার বিভাগ
  3. শাসন বিভাগ
  4. সংস্থাপন মন্ত্রণালয় 
ব্যাখ্যা
→ আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগ নাগরিকদের অধিকার ও স্বাধীনতার রক্ষাকর্তা হিসেবে কাজ করে।
→ যে দেশে লিখিত সংবিধান রয়েছে সেখানে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগকে সংবিধানের গন্ডির মধ্যে থেকে কাজ করতে হয় সরকার যদি সংবিধানে লিপিবদ্ধ নাগরিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করে তাহলে বিচার বিভাগ সেই অধিকার পুন:প্রতিষ্ঠার কাজে অগ্রসর হয়। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৭.
আয়তনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের সবচেয় বড় বিভাগ কোনটি?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. বরিশাল
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের বিভাগ সমূহ:
- বাংলাদেশে মোট ৮টি বিভাগ রয়েছে।
- আয়তনে সবচেয়ে বড় বিভাগ- চট্টগ্রাম (৩৩,৯০৪ বর্গ কিমি)।
- এর মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে ছোট বিভাগ- ময়মনসিংহ ( ১০,৫৫২ বর্গ কিমি)।
- জনসংখ্যায় সবচেয়ে বড় বিভাগ ঢাকা এবং সবচেয়ে ছোট বরিশাল বিভাগ।
- সবচেয়ে বেশি জেলা রয়েছে ঢাকা বিভাগে ১৩টি।
- সবচেয়ে কম ৪টি করে জেলা রয়েছে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।

২৩৮.
The term 'Amicus Curiae' is related to
  1. ক) Medical Science
  2. খ) Mathematics
  3. গ) Judiciary
  4. ঘ) Physics
ব্যাখ্যা
'Amicus Curiae' is related to Judiciary

- Amicus Curiae হল আদালতের বন্ধু।
- অনেক সময় দেখা যায় বিজ্ঞ আদালত কোন জটিল মামলার রায়ের ব্যাপারে আইন বিষয়ে সদ্ধিান্ত নিতে সমস্যায় পড়েন। সে ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিজ্ঞ আদালত এক বা একাধীক অভিজ্ঞ এ্যাডভোকেট মহোদয়কে নিয়োগ প্রদান করতে পারেন। উক্ত ব্যক্তিগণ ঐ সমস্যার সমাধান তাদের নিজের অভিজ্ঞতা ও আইনের মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করেন অতঃপর তাদের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত বিজ্ঞ আদালতের নিকট অবহিত করেন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
২৩৯.
বাংলাদেশের শাসন বিভাগের প্রকৃত ক্ষমতা কার উপর ন্যস্ত থাকে?
  1. রাষ্ট্রপতি 
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. অ্যাটর্নি জেনারেল
ব্যাখ্যা

শাসন বিভাগ:
- বাংলাদেশের শাসন বিভাগের প্রকৃত ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে।
- রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে; কিন্তু সকল ক্ষেত্রে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করতে হয়।
- প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীপরিষদেরও প্রধান।
- মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করেন।
- মন্ত্রীদের মধ্যে দায়দায়িত্ব বন্টন করেন প্রধানমন্ত্রী।
- সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সরকার ব্যবস্থার প্রধান নীতিনির্ধারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তবে আইন বাস্তবায়নগত সকল ক্ষমতা শাসন বিভাগের এখতিয়ারে।
- বাংলাদেশের শাসন বিভাগ এর ব্যাপ্তি সমুন্নত রেখেছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ থেকে একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত।
- এ কারণে সরকারের এই বিভাগটির মাধ্যমেই রাষ্ট্রের সকল স্তরে আইন বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪০.
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. আতাউর রহমান
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. সামছুল হক
  4. আব্দুস সালাম খান
ব্যাখ্যা
• আওয়ামী মুসলীম লীগ:
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- আওয়ামী মুসলীম লীগ থেকে মুসলীম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়-১৯৫৫ সালে।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি নিম্নরুপ: 
- প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি - মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক - সামছুল হক।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সহ সভাপতি - আতাউর রহমান ও আব্দুস সালাম খান।
- প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক - শেখ মুজিবুর রহমান।

- ১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
- ১৯৬৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

সূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।
২৪১.
বাংলাদেশে প্রশাসনিক কাঠামোয় বিভাগের সংখ্যা কত?
  1. ৬টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

• দেশের প্রশাসনিক কাঠামো:
- বিভাগ = ৮টি।
- জেলা = ৬৪টি।
- সিটি কর্পোরেশন= ১২ টি।
- উপজেলা= ৪৯৫ টি।
- মেট্রো থানা= ১০৫ টি।
- পৌরসভা= ৩২৭ টি।
- ইউনিয়ন = ৪,৫৯৬ টি।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৪২.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য সংখ্যা কত?
  1. ৩০০টি
  2. ৩৩০টি
  3. ৩৪৫টি
  4. ৩৫০টি
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মোট সদস্য সংখ্যা ৩৫০
- প্রাপ্তবয়স্ক ভোটারের সরাসরি ভোটের ভিত্তিতে প্রতি আসন থেকে একজন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
- সাধারণত প্রতি ৫ বছর অন্তর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- ৩রা জুলাই, ২০১১ তারিখে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা ৪৫ হতে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানে সর্বোচ্চ আইন পরিষদকে বাংলায় ‘জাতীয় সংসদ’ এবং ইংরেজিতে ‘হাউজ অব্ দ্য নেশন’ বলা হয়েছে।

সূত্র: জাতীয় সংসদ ও বাংলাপিডিয়া।

২৪৩.
শহর অঞ্চলে কয় স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:
শহর অঞ্চলে দুই স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- পৌরসভা এবং
- সিটি কর্পোরেশন।

অন্যদিকে -
• গ্রাম অঞ্চলে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- জেলা পরিষদ।
- উপজেলা পরিষদ।
- ইউনিয়ন পরিষদ।

• পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩টি জেলা নিয়ে আঞ্চলিক স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে।
১. বান্দরবান পাহাড়ী জেলা পরিষদ।
২. রাঙামাটি পাহাড়ী জেলা পরিষদ।
৩. খাগড়াছড়ি পাহাড়ী জেলা পরিষদ।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৪.
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য বা রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত হলে কে দায়িত্ব পালন করবেন?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. বিচারপতি
  3. স্পীকার 
  4. চীফ হুইফ
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ৫৪ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, 
⇒ রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ক্ষেত্রমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করিবেন।

রাষ্ট্রপতি:
- সংসদীয় পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকার রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আইন অনুসারে সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন।
- রাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে, রাষ্ট্রের অন্যান্য সকল ব্যক্তির উপর অগ্রাধিকার দেবেন এবং এই সংবিধান এবং অন্য কোন আইন দ্বারা তার উপর অর্পিত ও আরোপিত ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন এবং দায়িত্ব পালন করবেন।
-  কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদ বেশি রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হবেন না, পদ পরপর থাকুক বা না থাকুক।
- রাষ্ট্রপতি সংসদের সদস্য হতে পারবেন না, এবং যদি সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হন, তবে তিনি যেদিন রাষ্ট্রপতি হিসাবে তার পদে প্রবেশ করবেন সেদিন সংসদে তার আসন খালি করবেন।
- কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হবেন যদি তার বয়স পঁয়ত্রিশ বছরের কম হয়, সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য না হন।
- এই সংবিধানের অধীনে অভিশংসন মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণ করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২৪৫.
রাষ্ট্র কী ধরনের প্রতিষ্ঠান?
  1. অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান
  2. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
  3. রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান
  4. সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
- বিশ্বের সকল মানুষ কোনো না কোনো রাষ্ট্রে বসবাস করে।
- অধ্যাপক গার্নার বলেন, 'সুনির্দিষ্ট ভুখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী, সুসংগঠিত সরকারের প্রতি স্বভাবজাতভাবে আনুগত্যশীল, বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত স্বাধীন জনসমষ্টিকে রাষ্ট্র বলে।'

→ রাষ্ট্রের ৪টি উপাদান রয়েছে। যথা:
• জনসমষ্টি।
• নির্দিষ্ট ভূখণ্ড।
• সরকার।
• সার্বভৌমত্ব।
- এই চারটি উপাদান রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। এর কোন একটি না থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না ৷

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

২৪৬.
'ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ' বাতিল করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৯৬ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ২০০৬ সালে
  4. ২০১০ সালে
ব্যাখ্যা
'ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ' বাতিল করা হয় ১৯৯৬ সালে।

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ:

- ‘ইনডেমনিটি’ শব্দের অর্থ হচ্ছে শাস্তি এড়ানোর ব্যবস্থা।
- ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ হলো সেই অধ্যাদেশ, যে অধ্যাদেশের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের শাস্তি এড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনি ব্যবস্থা থেকে শাস্তি এড়ানোর জন্য বাংলাদেশে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে ডার্কেস্ট ল’ বা সবচেয়ে কালো আইন নামে পরিচিত।
- ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ এ ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারি করেন।
- বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে খন্দকার মোশতাক হন দেশের রাষ্ট্রপতি।
- বঙ্গবন্ধুর খুনি ও তাদের দোসররা নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানের হত্যাকে আইনসিদ্ধ করতে চেয়েছিল।
- তাই তখন খুনিদের ‘প্রয়োজনে’ জারি করা হয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ।
- খন্দকার মোশতাক আহমেদ কর্তৃক ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর একটি অধ্যাদেশের আকারে এ আইনটি প্রণীত হয়; যা ১৯৭৫ সালের অধ্যাদেশ নম্বর ৫০ নামে অভিহিত ছিল।
- ১৯৭৯ সালে সংসদ কর্তৃক ওই ইনডেমনিটি অনুমোদন করা হয়।
- ১৯৭৯ সালের ৯ জুলাই সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর পর সংশোধিত আইনে এ আইনটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ফলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।

উল্লেখ্য,
- পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর সপ্তম জাতীয় সংসদে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ নামক ইতিহাসের কালো আইনটি বাতিল করা হয়।
- এর ফলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ সুগম হয় এবং ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্ট কর্তৃক সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) ১২ নভেম্বর ২০২১, যুগান্তর।
২৪৭.
সরকারি কাঠামোর বাইরে থেকে সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে-
  1. ক) দুর্নীতি দমন কমিশন
  2. খ) সশ্বস্ত্র বাহিনী
  3. গ) বাংলাদেশ ব্যাংক
  4. ঘ) চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা

- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার কাঠামোর অংশ নয়। এরা হলো বেসরকারি স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী।
- কিন্তু তা সত্ত্বেও এই গোষ্ঠী সরকারি সিদ্ধান্ত ও নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। এদের মূল উদ্দেশ্যে হলো নিজেদের অনুকূলে সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- অন্যদিকে, সশ্বস্ত্র বাহিনী ও বাংলাদেশ ব্যাংক সরকার কাঠামোর অংশ।
- দুর্নীতি দমন কমিশন - বিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠান।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।

২৪৮.
ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয় মোট কত জন সদস্য নিয়ে?
  1. ১১
  2. ১৩
  3. ১৫
ব্যাখ্যা

ইউনিয়ন পরিষদ:
- ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত থাকে একটি ইউনিয়ন।
- চেয়ারম্যান ১ জন।
- নির্বাচিত সদস্য ৯ জন।
- সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৩ জন।
- মোট ১৩ জন সদস্য নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়।
- প্রতি তিন ওয়ার্ড থেকে একজন মহিলা সদস্য নির্বাচিত হন।
- এক জন সচিব নিয়োগ করা হয় কার্যালয় পরিচালনার জন্য।
- ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর, সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের অপসারণ করা যায়।
- ইউনিয়ন পরিষদের সকলেই সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪৯.
দেশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবনে হুমকির কারণে সর্বাধিক কত দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষিত হতে পারে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
সংসদ আহবান:
- রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।
- সংসদের এক অধিবেশনের শেষ এবং পরবর্তী অধিবেশনের শুরুর মধ্যে সর্বোচ্চ বিরতি হবে ৬০ দিন।
- সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহ্বান করা হবে।
- একাধারে কোনো সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে ৯০টি কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে তাহার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।
- দেশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবনে হুমকির কারণে জরুরি অবস্থা (সর্বাধিক ১২০ দিনের জন্য) ঘোষিত হতে পারে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এস এস এইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের সংবিধান।
২৫০.
সুপ্রিমকোর্টের বিচারকগণ সর্বোচ্চ কত বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে কর্মরত থাকতে পারেন?
  1. ৬৫ বছর
  2. ৬৭ বছর
  3. ৬৯ বছর
  4. ৬৩ বছর
ব্যাখ্যা
• সুপ্রিম কোর্ট:
- বিচারবিভাগের সর্বোচ্চ আদালতের নাম সুপ্রিমকোর্ট।
- সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রধানবিচারপতি রয়েছেন, যাকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি বলা হয়।
- প্রত্যেক বিভাগের জন্য যতজন বিচারক প্রয়োজন ততজন বিচারককে নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট গঠিত। 
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিমকোর্টের দুই বিভাগের বিচারপতিদের নিয়োগ দেন। 
- প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারপতিগণ বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন।
- প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করেন।
- সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হতে হলে তাকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
- সুপ্রিম কোর্টে কমপক্ষে ১০ বছর অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে
- বাংলাদেশে বিচার বিভাগীয় পদে ১০ বছর বিচারক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
- সুপ্রিমকোর্টের বিচারকগণ ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে কর্মরত থাকতে পারেন

• সুপ্রিমকোর্টের এর রয়েছে দুটি বিভাগ,
যথা:
- আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ।
 
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।
২৫১.
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গৃহীত হয় সংবিধানের কত নং সশোধনীর মাধমে?
  1. ক) একাদশ সংশোধনী
  2. খ) দ্বাদশ সংশোধনী
  3. গ) ত্রয়োদশ সংশোধনী
  4. ঘ) পঞ্চদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
• ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী গৃহীত হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান সংবিধানে সন্নিবেশ করা হয়।
- ৫৮ খ নং অনুচ্ছেদে এই সংক্রান্ত বিধানটি সংযুক্ত করা হয়েছিল।

- তবে পরবর্তীতে হাইকোর্ট ২০১১ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হয়।

উৎস: আইন মন্ত্রণালয় এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী।
২৫২.
বাংলাদেশ সংবিধানের রক্ষক কে?
  1. জাতীয় সংসদ
  2. বিশেষ ট্রাইবুনাল
  3. সুপ্রীম কোর্ট
  4. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
ব্যাখ্যা

বিচারবিভাগের কাজ:

• ন্যায়বিচার করা:

⇒ বিচারবিভাগের প্রধান কাজ প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং আইন অমান্যকারীর বিচার করা। এক্ষেত্রে বিচারকগণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে আইন অনুযায়ী ন্যায়নীতির ভিত্তিতে বিচারকার্য সম্পন্ন করেন। বিচার বিভাগ সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। দেওয়ানি, ফৌজদারি প্রভৃতি মামলায় সত্য ঘটনা অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিচারবিভাগ অপরাধীকে শাস্তি প্রদান করে।

• আইন তৈরি:
⇒ সাধারণত আইনের ব্যাখ্যা প্রদান ও প্রয়োগের দায়িত্ব বিচারবিভাগের ওপর ন্যস্ত থাকে। এছাড়া বিচারকগণ নতুন আইন সংযোজন করে থাকেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিচার করতে গিয়ে উপযুক্ত আইন খুঁজে পাওয়া না গেলে বিচারকগণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিচারের রায় প্রদান করেন যা আইন হিসেবে বিবেচিত হয়।

• মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ:
⇒ জনগণের মৌলিক অধিকার সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকে। এ অধিকার সংরক্ষণের দায়িত্ব বহুলাংশে আদালতের ওপরই ন্যস্ত হয়।

• আইনের ব্যাখ্যা প্রদান ও প্রয়োগ:
⇒ বিচারবিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কাজ আইনের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা এবং সেই ব্যাখ্যা অনুযায়ী আইন প্রয়োগ করা। আইন বলতে সাধারণত সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইন, শাসনতান্ত্রিক আদেশ বা অর্ডার এবং বিভিন্ন প্রথাগত আইনকে বোঝানো হয়।

• সংবিধান রক্ষা করা:
⇒ সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে বিচারবিভাগ কাজ করে। বিচারবিভাগ সংবিধানের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার গুরুত্ব অপরিসীম; সেখানে সুপ্রিম কোর্ট প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী।

উৎস: বাংলাদেশ ওি বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।

২৫৩.
প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা কাজের জন্য কার কাছে দায়বদ্ধ থাকেন?
  1. রাষ্ট্রপতির কাছে
  2. আদালতের কাছে
  3. জাতীয় সংসদের কাছে
  4. স্পিকারের কাছে
ব্যাখ্যা

প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা কাজের জন্য জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন।

বাংলাদেশের সংবিধান:
⇒ সংবিধানের ৫৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিসভা -
- ৫৫ (১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করবে, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী নিয়ে এই মন্ত্রিসভা গঠিত হবে।
- ৫৫ (২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হবে।
- ৫৫ (৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকবেন।
- ৫৫ (৪) সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হয়েছে বলে প্রকাশ করা হবে।
- ৫৫ (৫) রাষ্ট্রপতির নামে প্রণীত আদেশসমূহ ও অন্যান্য চুক্তিপত্র কিভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হবে, রাষ্ট্রপতি তা বিধিসমূহ-দ্বারা নির্ধারণ করবেন এবং অনুরূপভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত কোন আদেশ বা চুক্তিপত্র যথাযথভাবে প্রণীত বা সম্পাদিত হয় নাই বলে তার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
- ৫৫ (৬) রাষ্ট্রপতি সরকারী কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২৫৪.
জেলা প্রশাসক কার পদমর্যাদা সম্পন্ন পদ হিসেবে বিবেচিত?
  1. যুগ্ম সচিব
  2. উপসচিব
  3. অতিরিক্ত সচিব
  4. সচিব
ব্যাখ্যা

জেলা প্রশাসন: 
- জেলা প্রশাসন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর তৃতীয় স্তর।
- প্রত্যেক বিভাগ কয়েকটি জেলায় বিভক্ত।
- বর্তমানে বাংলাদেশে ৬৪টি জেলা রয়েছে।
- জেলা প্রশাসক বা ডেপুটি কমিশনার হলেন জেলা প্রশাসনের মধ্যমণি।
- তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন অভিজ্ঞ সদস্য।
- তিনি প্রশাসনের উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা।
- জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কেন্দ্রের যোগসূত্র বিদ্যমান।
- বাংলাদেশ সচিবালয়ে জেলাসংক্রান্ত গৃহীত যাবতীয় সিদ্ধান্ত সরাসরি জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরিত হয়।
- জেলা প্রশাসক কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলা প্রশাসন পরিচালনা করেন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫৫.
উপজেলা উন্নয়ন কমিটির প্রধান কে?
  1. উপজেলার চেয়ারম্যান
  2. উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
  3. থানা নির্বাহী কর্মকর্তা
  4. জেলা প্রশাসক
ব্যাখ্যা
• উপজেলা প্রশাসন:
- উপজেলার প্রধান প্রশাসক হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
- উপজেলার প্রশাসনিক কাজ তদারক করা তাঁর অন্যতম দায়িত্ব।
- এছাড়া তিনি উপজেলার সকল উন্নয়নকাজ তদারক করেন ও সরকারি অর্থের ব্যয় তত্ত্বাবধান করেন।
- তিনি উপজেলা উন্নয়ন কমিটির প্রধান।

উৎস : পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
২৫৬.
বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করেন-
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. রাষ্ট্রপতি 
  4. মন্ত্রিসভা
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সরকারের স্বরূপ:
- বাংলাদেশ একটি গণপ্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। 
- এই রাষ্ট্রে সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। 
- আমাদের দেশে সংসদীয় পদ্ধতির এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকার প্রধান।
 - এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করেন।
- সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তাঁকে প্রদত্ত ও তাঁর উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করে থাকেন।
- সংসদীয় রীতি অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়।
- সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার উপর ন্যস্ত।
- প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম-১০ম শ্রেণি।

২৫৭.
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কত দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ৩০-৬০ দিনের মধ্যে
  2. ৬০-৯০ দিনের মধ্যে
  3. ৯০-১২০ দিনের মধ্যে
  4. ১২০-১৫০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রপতি:
- রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধান।
- বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ অংশের ৪৮-৫৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধানাবলি বিধৃত হয়েছে।
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত।
- তিনি সংবিধান ও আইন বলে তাঁর উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব সম্পন্ন করেন।
- রাষ্ট্রপতি জারিকৃত আইনকে অধ্যাদেশ বলে।
- সরকারের যাবতীয় নির্বাহী কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদন করা হয়।
- সংসদ-সদস্যদের দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্যে নূন্যতম বয়স ৩৫ বছর।
- রাষ্ট্রপতির পদ শূণ্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬০-৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।

২৫৮.
ECNEC এর চেয়ারম্যান কে?
  1. ক) অর্থমন্ত্রী
  2. খ) প্রধানমন্ত্রী
  3. গ) পরিকল্পনা মন্ত্রী
  4. ঘ) স্পীকার
ব্যাখ্যা
• ECNEC:
- একনেক (ECNEC)-এর প্রধান- প্রধানমন্ত্রী।
- একনেক (Executive Committee of the National Economic Council) 1982 সালে গঠিত হয়। এর চেয়ারম্যান বা সভাপতি হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- বিকল্প সভাপতি হলেন- অর্থমন্ত্রী।
- সদস্য হচ্ছেন- পরিকল্পনা মন্ত্রী।

তথ্যসূত্র: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইট।
২৫৯.
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা কত শতাংশ?
  1. ৫%
  2. ১০%
  3. ১৫%
  4. ২০%
ব্যাখ্যা

→ টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা ১০%।

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী:
- প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদিগকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করিবেন।
- সংসদ-সদস্যগণের মধ্য হতে ৯০ শতাংশ মন্ত্রী নিযুক্ত হবেন।
- নির্বাচিত সদস্য সংসদ সদস্যদের বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত।
- বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যের বাইরে থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায় এক-দশমাংশ।
- অর্থাৎ ১০ শতাংশ সংসদ সদস্যের বাইরে থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

২৬০.
কোনটি নাগরিকের আইনগত কর্তব্য?
  1. দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো
  2. পরিবেশ পরিষ্কার রাখা
  3. শিক্ষার প্রসার ঘটানো
  4. সরকারি সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ
ব্যাখ্যা
নাগরিকত্ব ও কর্তব্য : বাংলাদেশ
- বাংলাদেশের নাগরিকত্ব মূলত ও প্রধাণত জন্মসূত্রে নির্ধারিত হয়।
- নাগরিকের যেমন আছে রাষ্টপ্রদত্ত আধিকার, তেমনি আছে রাষ্ট্র নির্ধারিত কর্তব্য।
- রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্য দুই ধরণের। যথা - ১. নৈতিক ও ২. আইনগত কর্তব্য।

১. নৈতিক কর্তব্য :
- মানুষের সেবা করা,
- দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো,
- শিক্ষার প্রসার ঘটানো,
- পরিবেশ পরিষ্কার রাখা ইত্যাদি।

২. আইনগত কর্তব্য
- ভোট দান করা,
- নিয়মিত কর প্রদান,
- আইন মেনে চলা,
- সরকারি সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস.এস.সি প্রোগ্রাম, বাউবি।
২৬১.
রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব কোন ধরনের শাসন ব্যবস্থায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
  1. স্বৈরতন্ত্র
  2. রাজতন্ত্র
  3. সামরিক শাসন
  4. গণতন্ত্র 
ব্যাখ্যা
• গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে রাজনৈতিক দল।
- গণতন্ত্র সুসংহতকরণে এটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
- রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য গণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার গঠন করা।
- জনগণের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করা এবং কোন বিষযের পক্ষে-বিপক্ষে জনমত গঠন করা রাজনৈতিক দলের কাজ।
- জনগণের প্রতিনিধিত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করে এবং শাসন পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে।
- সংসদীয় গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দল বিকল্প সরকার ও ছায়া মন্ত্রিসভা হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
- রাজনৈতিক দল তাদের কার্যাবলির মাধ্যমে সুযোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে ওঠে।
- রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬২.
জাতীয় সংসদে 'কাস্টিং ভোট' প্রদান করেন কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. স্পিকার
  3. চিফ হুইপ
  4. প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা

⇒ জাতীয় সংসদে 'কাস্টিং ভোট' হলো স্পিকারের ভোট।

কাস্টিং ভোট:
- সংসদে কখনো কখনো কোন বিষয়ে দু পক্ষের হা অথবা না ভোটের সংখ্যা সমান হয়ে যেতে পারে।
- এমন অবস্থায় স্পীকার নিজের ভোট দিয়ে সংসদের অচলাবস্থা দূর করেন।
- অন্যভাবে বলা যায়, কোন বিলের ভোটাভুটিতে যখন পক্ষে বিপক্ষে সমান ভোট পরে, তখন স্পিকার সংসদের সভাপতি হিসেবে তার ভোট প্রয়োগ করেন।
- একে নির্ণায়ক বা কাস্টিং ভোট বলে।
- এ ব্যতীত অন্যকোন ক্ষেত্রে স্পিকার তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না।
- স্পিকারের এই ভোটটিই হলো 'কাস্টিং বা নির্ণায়ক ভোট'।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এর ৭৫ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী:
”উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংসদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্র ব্যতীত সভাপতি (স্পিকার) ভোটদান করিবেন না এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তিনি নির্ণায়ক (casting) ভোট প্রদান করিবেন।”

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

২৬৩.
বিভাগীয় কমিশনারের পদমর্যাদা সম্পন্ন পদ কার সমান?
  1. সিনিয়র সচিব
  2. অতিরিক্ত সচিব
  3. সচিব
  4. উপসচিব
ব্যাখ্যা
বিভাগীয় প্রশাসন: 
- কেন্দ্রের পরেই বাংলাদেশে বিভাগীয় প্রশাসনের স্থান।
- বিভাগীয় প্রশাসনের শীর্ষে অবস্থান করেন বিভাগীয় কমিশনার।
- বিভাগীয় কমিশনার বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন পদস্থ কর্মকর্তা।
- তিনি একজন অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদাসম্পন্ন কর্মকর্তা।
- তিনি মূলত বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব বিষয়ক কর্মকর্তা।
- বিভাগীয় কমিশনার জেলা প্রশাসকদের কার্যাবলি তদারকি করেন।
- তিনি বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেন।

উল্লেখ্য, 
- বিভাগীয় কমিশনার বিভাগের জনকল্যাণমূলক কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন তাঁর দায়িত্ব।
- সাহায্য ও সেবামূলক কাজ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যবস্থা গ্রহণ ইত্যাদিও তাঁকে করতে হয়।
- তিনি বিভাগ পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেনি। 
২৬৪.
একটি রাজনৈতিক দল কয়টি আসনের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন পান?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
- জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি।
- একেকটি রাজনৈতিক দল ৬টি আসনের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন পান।
- সেই হিসেবে দ্বাদশ জাতীয়  নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২৩টি আসনের বিপরীতে ৩৭টি আসন পাবার কথা।
- তবে, ৬২ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের মধ্যে মতৈক্য হওয়ায় তাদের ভাগের ১০ আসনেও আওয়ামী লীগই প্রার্থী দেবে।

সূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
২৬৫.
ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্গত জেলা কোনটি?
  1. ক) মানিকগঞ্চ
  2. খ) কিশোরগঞ্জ
  3. গ) টাঙ্গাইল
  4. ঘ) নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা
১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ময়মনসিংহ বিভাগ যাত্রা শুরু করে। মোট চারটি জেলা তথাঃ ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা এবং শেরপুর। এর আয়তন ১০৬৬৯ বর্গ কিমি এবং জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ। মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত। (সূত্রঃ মনময়সিংহ বিভাগ ওয়েবসাইট)
২৬৬.
জাতীয় মানবাধিকার কমশনের বর্তমান চেয়ারম্যান- 
  1. ক) কাজী আব্দুল আউয়াল
  2. খ) আব্দুল রউফ
  3. গ) কামাল উদ্দিন আহমেদ
  4. ঘ) নাসিমা বেগম
ব্যাখ্যা
- ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করে।
- জাতীয় মানবাধিকার কমশনের বর্তমান চেয়ারম্যান সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ
- ডিসেম্বর, ২০২২ সালে তিনি নাসিমা বেগমের স্থলাভিষিক্ত হন।

উৎসঃ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওয়েবসাইট।
২৬৭.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত থাকে?
  1. ৬৫ নং
  2. ৫৫ (৩) নং
  3. ৯৫ নং
  4. ৪৭ (৩) নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত।

আইন বিভাগ:
- জবাবদিহিতা আইন বিভাগের প্রধান কাজ নয়।
- আইন প্রণয়নের ক্ষমতা একমাত্র জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত হওয়ায় বাংলাদেশের সংবিধান কর্তৃক জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কার্যাবলিকে বিস্তৃত করা হয়েছে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চমভাগে জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আছে।
- সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত।
- বাংলাদেশের আইন সভা সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে।
- দেশের সংবিধান উল্লিখিত দুইটি ক্ষমতাই আইন সভাকে প্রদান করেছে।
- এক্ষেত্রে আইন সভা সংবিধান সংশোধনকল্পে বিভিন্ন সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ ও প্রয়োজনে গণভোটের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আইন বিভাগ এই কাজটি করে থাকে।
- এই বিভাগটি নতুন আইন প্রণয়ন ও পুরাতন আইন বাতিলের ক্ষমতা রাখে।

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি ।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৫ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকে।
- সংবিধানের ৪৭ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোন সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য বা অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন কিংবা যুদ্ধবন্দীকে আটক, ফৌজদারীতে সোপর্দ কিংবা দণ্ডদান করার বিধান-সংবলিত কোন আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোন বিধানের সাথে অসমঞ্জস বা তাহার পরিপন্থী, এই কারণে বাতিল বা বেআইনী হিসেবে গণ্য হবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনী হয়েছে বলে গণ্য হবে না।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
         ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৮.
সংসদীয় ভাষায় “বিল” বলতে বোঝায় -
  1. ক) সরকারের খরচের হিসাব
  2. খ) উন্নয়নের জন্য গৃহীত প্রস্তাব
  3. গ) আইনের প্রাথমিক প্রস্তাব
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের পদ্ধতি

- আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে সংসদে আনীত প্রত্যেকটি প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হয়।
- জাতীয় সংসদে উত্থাপিত আইনের খসড়াকে 'বিল' (Bill) বলে।

বিল দুই প্রকারের -
  (১) সরকারি বিল,
  (২) বেসরকারি বিল। 

- সরকারি বিল মন্ত্রিগণ উত্থাপন করেন এবং বেসরকারি বিল জাতীয় সংসদের সাধারণ সদস্যগণ উত্থাপন করেন।
- সরকারি বিল উত্থাপনের জন্য ৭ দিনের সময় এবং বেসরকারি বিলের জন্য ১৫ দিনের নোটিশ প্রয়োজন হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২৬৯.
মুজিবনগর সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. আবদুল মান্নান
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. এম. মনসুর আলী
  4. এএইচএম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় যা ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে।
মুজিবনগর সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় : তাজউদ্দীন আহমদ।
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী : এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ-পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী : এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২৭০.
বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি কে ছিলেন?
  1. সৈয়দ রেফাত আহমেদ
  2. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
  3. বদরুল হায়দার চৌধুরী
  4. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
ব্যাখ্যা
প্রধান বিচারপতি:
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।
- তিনি ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে ৫ নভেম্বর ১৯৭৫ পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান মহামান্য রাষ্ট্রপতি। প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করেই অন্যান্য বিচারপতি দের নিয়োগ দেয়া হয়।
- সংবিধানের প্রণয়নকালে বিচারপতিদের চাকরির বয়সসীমা ছিল ৬২ বছর। ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৯৬ ধারা পুন:স্থাপন করে বিচারপতিদের বয়স করা হয় ৬৭ বছর। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বয়সসীমা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ বছর।

এছাড়াও,
- দেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ (২৫তম)। মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সৈয়দ রেফাত আহমেদকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আগস্ট, ২০২৪-এ তিনি নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

উৎস: সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।
২৭১.
আইন বিভাগের একটি প্রধান প্রতিষ্ঠান-
  1. হাইকোর্ট
  2. আপিল বিভাগ
  3. জাতীয় সংসদ
  4. সুপ্রিমকোর্ট
ব্যাখ্যা
• জাতীয় সংসদের: 
- বাংলাদেশের আইনসভার নাম 'জাতীয় সংসদ'।
- জাতীয় সংসদ আইনবিভাগের একটি প্রধান প্রতিষ্ঠান।
- সংসদ প্রণীত আইন রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর কার্যকর হয়।
- আইনবিভাগ সরকারের একটি অংশ।
- সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুসারে জাতীয় সংসদ মোট ৩৫০জন সদস্য নিয়ে গঠিত।
- এদের মধ্যে ৩০০ জন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন।
- ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত।
- সংরক্ষিত আসন ছাড়াও নারীরা সাধারণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
- সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে সদস্যদের ভোটে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন।
- সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
- ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয় যা ১৯৭৫ থেকে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায় পরিণত হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আনয়নের পূর্ব পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতি চালু ছিল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
২৭২.
Bangladesh Academy for Rural Development (BARD) কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) গোপালগঞ্জ
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) বগুড়া
  4. ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
•  BARD (Bangladesh Academy for Rural Development) বা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ড. আখতার হামিদ খান।
- এটির অবস্থান কুমিল্লা জেলার কোটবাড়ীতে যা ১৯৫৯ সালের ২৭ মে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বার্ড বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- এটির প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রদান।

সূত্র: বার্ড ওয়েবসাইট।
২৭৩.
সংসদীয় ব্যবস্থায় নিয়মতান্ত্রিক প্রধান কে?
  1. আইনসভা
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি: 
- পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতি সবার উপরে।
- সংবিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রের প্রধান।
- সবার উর্ধ্বে তিনি স্থান লাভ করেন।
- সংবিধান ও আইন অনুযায়ী তাঁকে প্রদত্ত সকল দায়িত্ব ও ক্ষমতা তিনি প্রয়োগ করেন।
- সংসদ প্রণীত আইন রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করেন।
- সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নিয়মতান্ত্রিক প্রধান
- প্রজাতন্ত্রের সকল কাজ তাঁর নামে পরিচালিত হয়।
- তাঁর হাতে কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই।
- দেশের সরকার গঠন, শাসন পরিচালনা, আইন প্রণয়ন এবং অর্থ, বিচার, প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কাজ তিনি সম্পাদন করেন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
২৭৪.
বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান অর্থমন্ত্রীর নাম কী?
  1. ক) ড. দিপু মনি
  2. খ) টিপু মুন্সি
  3. গ) আ. হ. ম মোস্তফা কামাল
  4. ঘ) আব্দুর রাজ্জাক
ব্যাখ্যা

- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন আ. হ. ম মোস্তফা কামাল
- তিনি বাংলাদেশের ১১তম অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত।
- তিনি কুমিল্লা-১০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নৌকা প্রতীকে ৪ লাখ ৫ হাজার ২৯৯ ভোট পেয়ে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
- মোস্তফা কামাল ১৯৪৭ সালের ১৫ জুন কুমিল্লা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

সূত্র: দৈনিক যুগান্তর।

২৭৫.
বাংলাদেশে প্রথম দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত পৃথক করে প্রজ্ঞাপন জারি হয় কবে?
  1. ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  2. ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  3. ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  4. ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত:
- গত ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ প্রজ্ঞাপন জারি করে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতকে সম্পূর্ণভাবে পৃথক করা হয়েছে।
- দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মামলাজট কমাতে এই পৃথককীরণ করা হয়েছে।
- এর ফলে মামলা পরিচালনার সময় বাঁচবে এবং মামলার নিষ্পত্তি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

উল্লেখ্য,
- দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে বর্তমানে বিচারাধীন দেওয়ানি মামলার সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ এবং ফৌজদারি মামলা প্রায় ২৩ লাখ।
- ফৌজদারি মামলা দেওয়ানি মামলার তুলনায় বেশি হওয়া সত্ত্বেও ফৌজদারি বিচারককে উভয় ধরনের মামলা পরিচালনা করতে হয়। এর ফলে মামলা নিষ্পত্তির গতি হ্রাস পায় এবং মামলাজট বৃদ্ধি পায়।
- এই বাস্তবতা বিবেচনায় পৃথক ২০৩টি অতিরিক্ত দায়রা আদালত এবং ৩৬৭টি যুগ্ম দায়রা আদালত প্রতিষ্ঠা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
- এই আদালতগুলোতে বিচারকেরা কেবল ফৌজদারি মামলার বিচার করবেন।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা প্রতিবেদন। [link]

২৭৬.
‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয় কবে?
  1. ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  2. ২২ নভেম্বর, ২০২৫
  3. ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  4. ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫:
- ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর গেজেট জারি করা হয়।
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে আয়োজন করা হবে গণভোট। 
- গণভোটে চারটি বিষয়ের ওপর একটি প্রশ্ন উপস্থাপন করা হবে।
- গণভোটের ব্যালট জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট থেকে আলাদা এবং ভিন্ন রঙের হবে।
- এছাড়া, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো গণভোটেও প্রবাসীসহ চার শ্রেণির নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। 

তথ্যসূত্র- পত্রিকা প্রতিবেদন।

২৭৭.
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে ‘লবি গ্রুপ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন কে?
  1. ক) এস. ই. ফাইবার
  2. খ) এইচ. জিগলার
  3. গ) অ্যালান আর. বল
  4. ঘ) আলফ্রেড গ্রাজিয়ার
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ - চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ। চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে ‘লবি গ্রুপ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন - এস. ই. ফাইবার এবং “Interest group” - বলে আখ্যায়িত করেছেন - এইচ. জিগলার। সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর (১ম) বোর্ড বই।
২৭৮.
Bangladesh Railway has been divided into how many regions for the convenience of administrative work?
  1. ক) 1
  2. খ) 2
  3. গ) 3
  4. ঘ) 4
ব্যাখ্যা
রেলওয়ে অঞ্চল: 

- প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়েকে ২টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।
• রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল।
• রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল।

রেলওয়ে বিভাগ,
• কমলাপুর, ঢাকা।
• পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।
• পাকশী, পাবনা।
• লালমনিরহাট।

তথ্যসূত্র - রেলপথ মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
২৭৯.
স্মার্ট বাংলাদেশের ভিত্তি নয় কোনটি?
  1. স্মার্ট সিটিজেন
  2. স্মার্ট ইকোনোমি
  3. স্মার্ট গভর্নমেন্ট
  4. স্মার্ট এডুকেশন
ব্যাখ্যা
স্মার্ট বাংলাদেশ
- ২০৪১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন কাঠামো পরিকল্পনা হলো - স্মার্ট বাংলাদেশ।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ ডিসেম্বর ২০২২ -এ  ২০৪১ সালের মধ্যে 'স্মার্ট বাংলাদেশ' গড়ার ঘোষণা দেন।
- স্মার্ট বাংলাদেশ দিবস - ১২ ডিসেম্বর।
- স্মার্ট বাংলাদেশ টাস্কফোর্স এর চেয়ারপারসন - মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

- স্মার্ট বাংলাদেশ এর ভিত্তি ৪টি। যথা-
১.স্মার্ট সিটিজেন,
২.স্মার্ট ইকোনমি,
৩.স্মার্ট গভর্নমেন্ট,
৪.স্মার্ট সোসাইটি।

উৎস - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৮০.
বাংলাদেশে প্রাণিকল্যাণ আইন কত সালে প্রণয়ন করা হয়?
  1. ২০১৮ সালে
  2. ২০১৯ সালে
  3. ২০২০ সালে
  4. ২০২১ সালে
ব্যাখ্যা

প্রাণিকল্যাণ আইন ২০১৯:
- বাংলাদেশে প্রাণিকল্যাণ আইন ২০১৯ সালে প্রণয়ন করা হয়।
- এটি ১৯২০ সালের 'দ্য ক্রুয়েলটি টু অ্যানিমেলস অ্যাক্ট' বাতিল করে প্রণীত হয়েছে।
- কার্যকর হয়: ১০ জুলাই, ২০১৯। 
- উদ্দেশ্য: প্রাণীদের সঠিক যত্ন ও দায়িত্বশীল পালন নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ করা।

⇒ এই আইনে প্রাণী বলতে মানুষ ছাড়া সব স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি, সরীসৃপজাতীয় প্রাণী, মাছ ছাড়া অন্যান্য জলজ প্রাণী এবং সরকারি গেজেট-প্রজ্ঞাপনে ঘোষিত অন্য প্রাণীকে বোঝাবে।
- আইনে ‘কর্তৃপক্ষ’ বলতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তাঁর কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ওই অধিদপ্তরের কোনো ভেটেরিনারি সার্জনকে বোঝানো হয়েছে।
- আর ‘স্থানীয় কর্তৃপক্ষ’ বলতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডকে বোঝানো হয়েছে।
- এ আইনে সাজা হিসেবে অনধিক ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার কথা বলা আছে। সর্বোচ্চ সাজা অনধিক দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান আছে। এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ অ-আমলযোগ্য ও জামিনযোগ্য। 

উৎস: প্রাণিকল্যাণ আইন ২০১৯।

২৮১.
বাংলাদেশের বর্তমান মন্ত্রীসভা মোট কত সদস্য বিশিষ্ট?
  1. ২৪ সদস্য 
  2. ২৫ সদস্য 
  3. ৪৯ সদস্য 
  4. ৫০ সদস্য 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মন্ত্রীসভা:
- বাংলাদেশের বর্তমান মন্ত্রীসভা মোট ৫০ সদস্য বিশিষ্ট।

• ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে।
- বিএনপির নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী রয়েছেন ২৫ জন এবং প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন ২৪ জন।
- মন্ত্রীসভা বলতে প্রধানমন্ত্রী নিজে+ পূর্ণমন্ত্রী+ প্রতিমন্ত্রী। সব মিলিয়ে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা।
- নতুন মন্ত্রিসভায় নারী সদস্য রয়েছেন তিনজন। এর মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী আফরোজা খানম (মানিকগঞ্জ-৩)। আর প্রতিমন্ত্রী দুজন হলেন শামা ওবায়েদ (ফরিদপুর-২) ও ফারজানা শারমীন (নাটোর-১)। 

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ।

২৮২.
বিএনপি প্রথম সরকার গঠন করে কত সালে?
  1. ১৯৭৯ সাল
  2. ১৯৮০ সাল
  3. ১৯৮২ সাল
  4. ১৯৭৮ সাল
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।
- ১৯৭৫-এর নভেম্বরের উন্মাতাল রাজপথে অভিষেক ঘটে তাঁর। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক ও যোদ্ধা।
- রমনা বটমূলের খোলা চত্ত্বরে ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দল (বিএনপি)’ নামে এই নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা - শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
- ১৯৭৮-এর ৩০ নভেম্বর সরকার ১৯৭৯ সালের ২৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
- স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে এই প্রথম সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে বিএনপি ২০৭টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে
- বিএনপির প্রথম সরকার গঠন করে ১৯৭৯ সালে।

উৎস : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি'

২৮৩.
বর্তমানে দেশের মোট পৌরসভা কয়টি?
  1. ক) ৩৩০টি
  2. খ) ৩২৯টি
  3. গ) ৩২৮টি
  4. ঘ) ৩২৭টি
ব্যাখ্যা
- বর্তমানে দেশে মোট পৌরসভা ৩৩০টি
- সর্বশেষ পৌরসভা শ্যামনগর, সাতক্ষীরা।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।
২৮৪.
দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মেয়াদ কত বছর নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ৫ বছর
  2. ৪ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা

দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫:
- ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
- অধ্যাদেশে কমিশনের সদস্য সংখ্যা তিন থেকে বাড়িয়ে পাঁচ করা এবং কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে চার বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
- অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কমিশনে অন্তত একজন নারী কমিশনার এবং অন্তত একজন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কমিশনার থাকতে হবে।
- অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, প্রতি ছয় মাস অন্তর দুদককে তাদের কার্যক্রমের প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
- পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতাও দুদককে দেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র- দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫।

২৮৫.
গণভোটের বিধান বাতিল করা হয় কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. ক) চতুর্থ
  2. খ) পঞ্চম
  3. গ) পঞ্চদশ
  4. ঘ) ষোঢ়শ
ব্যাখ্যা
গণভোট: 
-২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে গনভোটের বিধান বাতিল করা হয়।  
- গণভোট সংক্রান্ত সংবিধানের দুটি অনুচ্ছেদ হলো : ৪৮ এবং ৫৬. তবে বর্তমানে এই অনুচ্ছেদ দুটিতে গনভোটের বিধান আর নেই।
- সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে গনভোটের বিধান আওতাভুক্ত করা হয়েছিল। 
- বাংলাদেশের প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৭ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের নিজ শাসনকে বৈধকরণ। (প্রশাসনিক )
- দ্বিতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের ১ মার্চ এরশাদের সমর্থন যাচাই। (প্রশাসনিক)
- তৃতীয় গণভোট - ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১ (একমাত্র সাংবিধানিক )।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও জাতীয় দৈনিক ।
২৮৬.
রংপুর বিভাগে কতটি জেলা রয়েছে?
  1. ৬টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
রংপুর বিভাগ:
- আয়তন: ১৬৩৭৪.০৯১ বর্গকিলোমিটার।
- অবস্থান: ২৫°২০´ থেকে ২৬°৩৭´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৫০´ থেকে ৮৯°৫৩´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
- সীমানা: উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, দক্ষিণে জয়পুরহাট, বগুড়া ও জামালপুর জেলা, পূর্বে ভারতের আসাম রাজ্য, পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।
- রংপুর বিভাগ গঠিত হয় ২৫ জানুয়ারী ২০১০ সালে।
- জেলা: ৮টি।
- উপজেলা: ৫৮টি।

উৎস- বাংলাপিডিয়া ও রংপুর বিভাগ ওয়েবসাইট।
২৮৭.
বাংলাদেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা কে? 
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. আইনমন্ত্রী
  3. প্রধান নির্বাচন কমিশনার 
  4. অ্যাটর্নি জেনারেল
ব্যাখ্যা

অ্যাটর্নি জেনারেল:
- সংবিধানের  অনুচ্ছেদ-৬৪ (১) সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি-জেনারেল পদে নিয়োগদান করবেন।
- (২) অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করবেন।
- তিনি দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা।
- ১৬ তম অ্যাটর্নি জেনারেলজনাব আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন।
- ১৭ তম অ্যাটর্নি জেনারেলজনাব মোঃ আসাদুজ্জামান। [আগস্ট, ২০২৫]।

উল্লেখ্য,
-  দেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতির বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। [আগস্ট, ২০২৫]।
-  দেশের বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম, নাসির উদ্দিন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র এইচ এসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

২৮৮.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সত্য নয়?
  1. বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা
  2. রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকবে
  3. এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা
  4. এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা
ব্যাখ্যা
সরকার ব্যবস্থা:
 - বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- এই ব্যবস্থায় সরকারের প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধান।
- তার নেতৃত্বেই নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হয়।

এছাড়াও,
- তবে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯১ সময়ে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত ছিলো।
- প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকবে।
- বাংলাদেশের আইনসভা জাতীয় সংসদ নামে পরিচিত যা এককক্ষ বিশিষ্ট।
- বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা এককেন্দ্রিক এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থা বহুদলীয়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম  শ্রেণি এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।
২৮৯.
'Keystone of the Cabinet Arch' হিসেবে পরিচিত -
  1. ক) রাষ্ট্রপতি
  2. খ) স্পিকার
  3. গ) হুইপ
  4. ঘ) প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
প্রধানমন্ত্রী
- প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার প্রধান।
- তিনি তাঁর প্রয়োজন অনুসারে মন্ত্রি নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন এবং দপ্তর বন্টন করেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি মন্ত্রীদেও পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
- তিনি মন্ত্রণালয়ের কাজের সমন্বয় করেন। প্রধানমন্ত্রী যেকোন সময়ে যেকোন মন্ত্রীকে পদত্যাগের অনুরোধ করতে পারেন।
- প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে মন্ত্রিসভার অস্তিত্ব থাকে না।
- মন্ত্রিসভার অধিবেশন আহবান , কার্যসূচী নির্ধারণ ,অধিবেশন সভা পরিচালনা ,মন্ত্রীদের দপ্তর বন্টন , মন্ত্রী ও বিভিন্ন দপ্তরের কার্যাবলী পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান করা প্রভূতি সকল দায়িত্ব মূলত তার উপর ন্যস্ত।
- এজন্য তাকে ক্যাবিনেট তোরণের প্রধান স্তম্ভ (Keystone of the Cabinet Arch) বলা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯০.
বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ছিল-
  1. ক) ৩০টি
  2. খ) ২০টি
  3. গ) ১৫টি
  4. ঘ) ১০টি
ব্যাখ্যা

- ১৯৭৩ সালে অর্থাৎ প্রথম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ছিল ১৫টি।
- তখন সংসদের মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩১৫টি।
- ১৯৭৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসন করা হয় ৩০ টি।
- তখন মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩৩০ টি।
- পরবর্তীতে ২০০১ সালে সংরক্ষিত নারী আসন করা হয় ৪৫ টি।
- সর্বশেষ ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন করা হয় ৫০ টি।
- ফলে বর্তমানে জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
উৎসঃ জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

২৯১.
নিচের কোনটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নয়?
  1. ইউনিয়ন পরিষদ
  2. জেলা পরিষদ
  3. পৌরসভা
  4. সচিবালয়
ব্যাখ্যা
- সচিবালয় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নয়। 

বাংলাদেশের  স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান: 

- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপর তিনটি স্তরে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার এবং নারী সদস্যদের জন্য বিধি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
- থানা পর্যায়ে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৮২ সালে উপজেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- গ্রাম পর্যায়ে গ্রামীণ সরকার ও পল্লী পরিষদ গঠনের প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
- ১৯৮২ সালে চালু হওয়া উপজেলা পদ্ধতি ১৯৯১  সালে বিলুপ্ত হয় (২০০৯ সালে পুনরায় চালু)।
- শুরু থেকেই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলিকে তাদের এলাকার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তাদের রক্ষণাবেক্ষণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ইত্যাদি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া  হয়েছিল।
- যদিও তাদের নিজস্ব আয়ের উৎস ছিল, তবুও তাদের কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য  তারা প্রধানত সরকার থেকে প্রদত্ত  বিভিন্ন অনুদানের উপর নির্ভরশীল ছিল।
- বর্তমানে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। 

উৎস: স্থানীয় সরকার বিভাগ ওয়েবসাইট।
২৯২.
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান আইন কর্মকর্তা কে? [এপ্রিল - ২০২৫]  
  1. এ এম আমিন উদ্দিন
  2. মো. আসাদুজ্জামান
  3. শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান আইন কর্মকর্তা হলেন মো. আসাদুজ্জামান। 

অ্যাটর্নি জেনারেল: 
- অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সরকারের প্রধান আইনজীবী।
- তিনি বাংলাদেশ সরকারের মুখ্য আইন পরামর্শক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
- তার পদাধিকারবলে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- অ্যাটর্নি জেনারেলকে সহায়তা করার জন্য কিছু সংখ্যক যুগ্ম অ্যাটর্নি জেনারেল, উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিযুক্ত থাকেন।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের সংবিধান মোতাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল একটি সংবিধিবদ্ধ পদ।
- সংবিধানের ৬৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তিকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিয়ে থাকেন।
- বর্তমানে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন মো. আসাদুজ্জামান।
- তিনি দেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতির দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

সূত্র: অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ওয়েবসাইট।

২৯৩.
কৃষি ও কৃষিভিত্তিক সেবা জনগনের দোরগোড়ায় পৌছে দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রবর্তিত ই-কৃষি সেবা নয় কোনটি?
  1. ক) কৃষকের ডিজিটাল ঠিকানা
  2. খ) কৃষকের জানালা
  3. গ) কৃষি বাতায়ন
  4. ঘ) বন্ধুফোন
  5. ঙ) সবগুলোই ই-কৃষি সেবা
ব্যাখ্যা
কৃষি ও কৃষিভিত্তিক সেবা জনগনের দোরগোড়ায় পৌছে দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রবর্তিত ই-কৃষি সেবাঃ কৃষকের জানালা, কৃষকের ডিজিটাল ঠিকানা, কৃষি বাতায়ন, বন্ধুফোন, Online Fertilizer Recommendation Software, Bangladesh Rice Knowledge Bank। উৎসঃ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯।
২৯৪.
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বর্তমান চেয়ারম্যান কে? [নভেম্বর, ২০২৪]
  1. বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ
  2. বিচারপতি এম সালেহ আহমেদ
  3. বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার
  4. বিচারপতি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
গত ১৪ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়।

নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন-

চেয়ারম্যান:
হাইকোর্টের বিচারপতি — গোলাম মর্তুজা মজুমদার।

সদস্য: 
১. হাইকোর্টের বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও
২. অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

চিফ প্রসিকিউটর:
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট (০৪ নভেম্বর ২০২৪)।
২৯৫.
বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন সরকারপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী:
- বাংলাদেশের শাসন বিভাগের প্রধান প্রধানমন্ত্রী।
- সংসদীয় পদ্ধতির শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত থাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শাসন ক্ষমতার মধ্যমণি।
- তাঁকে কেন্দ্র করেই প্রজাতন্ত্রের সকল শাসন ও প্রশাসন পরিচালিত হয়।
- সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- তিনি শাসন সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও শাসনকার্য পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন।
- প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী অর্থমন্ত্রী বাজেট প্রণয়ন ও তা সংসদে পেশ করেন।
- তাঁর পরামর্শের আলোকে দেশের রাষ্ট্রপতি প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহে অর্থ মঞ্জুরী প্রদান করেন।

⇒ শাসন বিভাগ:
- শাসন বিভাগের প্রকৃত ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে।
- রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে; কিন্তু সকল ক্ষেত্রে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করতে হয়।
- প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীপরিষদেরও প্রধান।
- মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করেন।
- মন্ত্রীদের মধ্যে দায়দায়িত্ব বন্টন করেন প্রধানমন্ত্রী।
- সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সরকার ব্যবস্থার প্রধান নীতিনির্ধারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তবে আইন বাস্তবায়নগত সকল ক্ষমতা শাসন বিভাগের এখতিয়ারে।
- বাংলাদেশের শাসন বিভাগ এর ব্যাপ্তি সমুন্নত রেখেছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ থেকে একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত।
- এ কারণে সরকারের এই বিভাগটির মাধ্যমেই রাষ্ট্রের সকল স্তরে আইন বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৬.
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মোট বিচারক কত জন? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. ৪ জন
  2. ৫ জন
  3. ৬ জন
  4. ৭ জন
ব্যাখ্যা
আপিল বিভাগ:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের এখতিয়ার বর্ণিত হয়েছে।
- সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, আপীল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রীম কোর্ট গঠিত হবে।
- সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ হলো বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আপীল আদালত।
- এটি হল প্রথম স্তরের আপীল আদালত, যা হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত বিচারিক রায় পর্যালোচনা করার কর্তৃত্ব রাখে।

⇒ ক্ষমতা ও কার্যাবলী:
- হাইকোট বিভাগের রায়, ডিক্রি, আদেশ বা দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল শুনানির ও তাহা নিস্পত্তির এখতিয়ার ও ক্ষমতা রয়েছে।
- এ বিভাগের কোন ঘোষিত রায় বা প্রদত্ত আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
- রাষ্ট্রপতির প্রয়োজন মোতাবেক আপিল বিভাগ আইন বিষয়ে মতামত জ্ঞাপন করতে পারে।
- সম্পূর্ণ ন্যায় বিচারের স্বার্থে কোন ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা ও কাগজপত্র পেশ করার আদেশ দিতে পারে।

⇒ এ বিভাগের বিচারকের নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা নেই তবে এখানে হাইকোর্ট বিভাগের চেয়ে স্বল্প সংখ্যক বিচারক থাকে।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে তিনজন বিচারপতি নিয়ে আপিল বিভাগে বিচারকাজ শুরু হয়।
- ২০০৯ সালে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা ১১ জনে উন্নীত করে সরকার।

উল্লেখ্য,
- বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারকের সংখ্যা ৭ জন।
- মোট বিচারক: প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ, বিচারপতি মোঃ আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব শপথ ।

উৎস: i) সুপ্রীম কোর্ট ওয়েবসাইট।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৭.
সাংবিধানিকভাবে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন কে?
  1. আইনমন্ত্রী
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা

প্রধান বিচারপতি নিয়োগ:
- সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শপূর্বক অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগ দেন।
- বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্যে ন্যূনতম দশ বছর সুপ্রিমকোর্টে অ্যাডভোকেট বা দেশের বিচার বিভাগীয় পদে দশ বছর নিযুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়।
- ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৯৬ ধারা পুন:স্থাপন করে বিচারপতি’র চাকুরীর শেষ বয়সসীমা ৬৭ বছর করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ সংবিধান, সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।

২৯৮.
প্রথম জাতীয় সংসদ কতদিন স্থায়ী ছিল?
  1. ক) ২৭ মাস
  2. খ) ৩১ মাস
  3. গ) ৩৪ মাস
  4. ঘ) ২৯ মাস
ব্যাখ্যা
প্রথম জাতীয় সংসদ (৭ এপ্রিল ১৯৭৩ - ৬ নভেম্বর ১৯৭৫) ৩১ মাস স্থায়ী ছিল। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়। ৭ এপ্রিল সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়।
সূত্রঃ www.parliament.gov.bd
২৯৯.
১৯৯৬ - ২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম কার্যক্রম কোনটি ছিল?
  1. ক) ইনডিমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল
  2. খ) পাবর্ত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি
  3. গ) গঙ্গার (ফারাক্কা) পানি বণ্টন চুক্তি
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন সরকার গঠনের পর থেকে পূর্ণ মেয়াদ (৫ বছর) ক্ষমতায় ছিল। 
- ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত শাসনামলে আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম কার্যক্রম ছিল “ইনডিমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল” ভারতের সঙ্গে “গঙ্গার (ফারাক্কা) পানি বণ্টন চুক্তি” এবং “ পাবর্ত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি”।
 
উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩০০.
বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব কী?
  1. ক) সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাব করা
  2. খ) রাষ্ট্রের হিসাব সংসদে পেশ করা
  3. গ) বাজেট প্রণয়ন করা
  4. ঘ) সরকারি হিসাব নিরীক্ষণ করা
ব্যাখ্যা
মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব

মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক জাতীয় অর্থের অভিভাবক হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এগুলো নিম্নরূপ:

১। মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাব এবং সকল আদালত, সরকারি কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীর সরকারি হিসাব নিরীক্ষা করবেন এবং অনুরূপ হিসাব সম্পর্কে রিপোর্ট দিবেন।
২। এ উদ্দেশ্যে তিনি প্রজাতন্ত্রের কার্যে নিযুক্ত যেকোনো ব্যক্তির নথি, বই, রসিদ, দলিল, নগদ অর্থ, স্ট্যাম্প, জামিন বা সরকারি সম্পত্তি পরীক্ষা করবেন এবং এরূপ হিসাব সম্পর্কে রিপোর্ট দান করবেন।
৩। জাতীয় সংসদের আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত যেকোনো যৌথ সংস্থার হিসাব তিনি নিরীক্ষা করবেন এবং অনুরূপ হিসাব সম্পর্কে রিপোর্ট প্রদান করবেন।
৪। উপরোল্লিখিত কার্যাদি ছাড়া জাতীয় সংসদ আইনের দ্বারা তাঁর ওপর যে সব দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ করবে সেসব দায়িত্ব তিনি সম্পাদন করবেন।
৫। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মহাহিসাব নিরীক্ষক অন্য কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণাধীন হবেন না।
৬। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে যে পদ্ধতি নির্ধারিত হয়, সে পদ্ধতিতে প্রজাতন্ত্রের হিসাব রাখবেন।
৭। প্রজাতন্ত্রের হিসাব সম্পর্কিত রিপোর্ট “মহাহিসাব নিরীক্ষকের রিপোর্ট" নামে অভিহিত হবে। মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক তা রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করবেন এবং রাষ্ট্রপতি ঐ রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপন করার ব্যবস্থা করবেন।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।