বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা

মোট প্রশ্ন১,৮৩৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা

PrepBank · পাতা ১৬ / ১৯ · ১,৫০১১,৬০০ / ১,৮৩৫

১,৫০১.
বিদেশি কূটনীতিকগণ কার নিকট পরিচয়পত্র পেশ করেন?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. সেনাপ্রধান
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. জাতীয় সংসদের স্পিকার
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কাজ :

• নিয়োগ সংক্রান্ত ক্ষমতা:
- রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ।
- শীর্ষ কর্মকর্তা (মহাহিসাব রক্ষক, রাষ্ট্রদূত, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা) নিয়োগ।
- প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ।
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগ (এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ব্যতীত)।

• সংসদ সংক্রান্ত ক্ষমতা:
- জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত এবং ভেঙে দেওয়া (প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে)।
- সংসদে ভাষণ ও বাণী প্রদান।
- সংসদ কর্তৃক পাস হওয়া বিলে সম্মতি দিয়ে আইন কার্যকর করা।
- সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশন না থাকলে অধ্যাদেশ জারি।

• আর্থিক ক্ষমতা:
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি ছাড়া অর্থ বিল উত্থাপন করা যাবে না।
- সংসদ অর্থ মঞ্জুর করতে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের জন্য তহবিল থেকে অর্থ অনুমোদন।

• বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা:
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের নিয়োগ।
- আদালত বা ট্রাইব্যুনালের প্রদত্ত দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা।

• জরুরি অবস্থা ঘোষণা:
- যুদ্ধ, বিদেশি আগ্রাসন বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের ক্ষেত্রে জরুরি অবস্থা ঘোষণা (প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে)।

• অন্যান্য দায়িত্ব:
- জাতীয় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব।
- খেতাব, পদক ও সম্মাননা প্রদান।
- নাগরিকদের বিদেশি উপাধি গ্রহণে অনুমতি প্রদান।
- রাষ্ট্রীয় চুক্তি ও দলিল সম্পাদন।
- বিদেশি কূটনীতিকদের পরিচয়পত্র গ্রহণ।
- প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও বিচারপতিদের শপথ বাক্য পাঠ করানো।

• জবাবদিহিতা:
- রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করবেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,৫০২.
বাংলাদেশের মাঠ প্রশাসনের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত-
  1. বিভাগীয় প্রশাসন
  2. উপজেলা প্রশাসন
  3. জেলা প্রশাসন
  4. ইউনিয়ন পরিষদ
ব্যাখ্যা

প্রশাসনিক কাঠামো: 
- বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো এর দুটি প্রধান স্তর আছে।
- প্রথম স্তরটি হলো কেন্দ্রীয় প্রশাসন (সচিবালয়)।
- দেশের সব ধরনের প্রশাসনিক নীতি ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়।
- আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সারা দেশে বাস্তবায়িত হয়।

• বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দ্বিতীয় স্তরটি হলো মাঠ প্রশাসন।
- মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলো বিভাগীয় প্রশাসন।
- দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে জেলা প্রশাসন।
- জেলার পর আছে উপজেলা প্রশাসন।
- উপজেলা প্রশাসন একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মাঠ প্রশাসন মূলত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত নয়।
- এটি বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার/স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার অন্তর্গত।
- স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জনগণের স্বশাসনকে বুঝায়। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা তা পরিচালিত হয়। প্রতিনিধিরা তাঁদের কাজের জন্য জনগণের নিকট দায়ী থাকেন। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫০৩.
মুজিবনগর সরকারের ক্যাবিনেট সচিব কে ছিলেন?
  1. রুহুল কুদ্দুস
  2. নুরুল কাদের
  3. এইচ. টি ইমাম
  4. মাহবুবুল আলম চাষী
ব্যাখ্যা

- মুজিবনগর সরকারের মূখ্য সচিব ছিলেন - রুহুল কুদ্দুস।
উল্লেখ্য, তিনি তৎকালীন পাকিস্তানের সিএসপি অফিসার ছিলেন এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামী ছিলেন।
এছাড়া,
- মন্ত্রীপরিষদ সচিব ছিলেন - হোসেন তৌফিক (এইচ.টি) ইমাম,
-  সংস্থাপন সচিব - নুরুল কাদের,
-  পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন - মাহাবুব আলম চাষী।

উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস -১ম পত্র বই ও ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।

১,৫০৪.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে স্থানীয় শাসনের কথা বলা হয়েছে?
  1. ৫৯নং অনুচ্ছেদে
  2. ৬১নং অনুচ্ছেদে
  3. ৬২নং অনুচ্ছেদে
  4. ৬০নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

স্থানীয় শাসন: 
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৯ নং অনুচ্ছেদে স্থানীয় শাসনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের প্রতিটি প্রশাসনিক এককে আইনানুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত স্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে স্থানীয় শাসনের দায়িত্ব প্রদান করতে হবে।
- অর্থাৎ, ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে প্রশাসন পরিচালনা করা হবে।
- এই অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রশাসন পরিচালনা, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসাধারণের কল্যাণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।
- এতে করে স্থানীয় পর্যায়ে গণতন্ত্র চর্চা, বিকেন্দ্রীকরণ ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।

এছাড়াও, 
- সংবিধানের ৬১নং অনুচ্ছেদে 'সর্বাধিনায়কতা' কথা বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ৬২নং অনুচ্ছেদে 'প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে ভর্তি প্রভৃতি' কথা বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ৬০নং অনুচ্ছেদে 'স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা' কথা বলা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

১,৫০৫.
স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বনিন্ম স্তরের হল -
  1. জেলা প্রশাসন
  2. সিটি কর্পোরেশন
  3. উপজেলা প্রশাসন
  4. বিভাগীয় প্রশাসন
ব্যাখ্যা
• বিভাগীয় প্রশাসন :
- স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বোচ্চ স্তরের - বিভাগ।
- প্রতিটি বিভাগের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন বিভাগীয় কমিশনার।
- বিভাগীয় কমিশনার জেলা প্রশাসকদের কাজ তদারক করেন।

• জেলা প্রশাসন :
- জেলা প্রশাসন মাঠ বা স্থানীয় প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর।
- এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন জেলা প্রশাসক।
- জেলা প্রশাসক জেলার মুখ্য বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটক।
-  দেশের সব জেলায় একজন করে জেলা প্রশাসক আছেন।

• উপজেলা প্রশাসন :
- মাঠ  বা স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বনিন্ম স্তরের হল - উপজেলা প্রশাসন।
- উপজেলার প্রধান প্রশাসক হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
- তিনি উপজেলা উন্নয়ন কমিটির প্রধান।

উৎস : পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,৫০৬.
দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মেয়াদ কত বছর নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা

দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫:
- ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
- অধ্যাদেশে কমিশনের সদস্য সংখ্যা তিন থেকে বাড়িয়ে পাঁচ করা এবং কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে চার বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
- অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কমিশনে অন্তত একজন নারী কমিশনার এবং অন্তত একজন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কমিশনার থাকতে হবে।
- অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, প্রতি ছয় মাস অন্তর দুদককে তাদের কার্যক্রমের প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
- পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতাও দুদককে দেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র- দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫।

১,৫০৭.
বাংলাদেশে কত সালে 'স্থানীয় শাসন অর্ডিন্যান্স' জারি হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৭৭ সালে
ব্যাখ্যা

 স্থানীয় শাসন অর্ডিন্যান্স:
- বাংলাদেশে ১৯৭৬ সালে 'স্থানীয় শাসন অর্ডিন্যান্স' জারি হয়। 

⇒ ১৯৭২ সালে জারিকৃত রাষ্ট্রপতির ৭নং আদেশ দ্বারা  সরকার বিদ্যমান সকল স্থানীয় সরকার কমিটি ভেঙে দেয়।
- ১৯৭৩ সালে নতুন করে জারিকৃত রাষ্ট্রপতির আদেশের (আদেশ নং ২২) অধীনে গঠিত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। 
- ১৯৭৬ সালে জেনারেল জিয়াউর রহমানের নতুন সরকার স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ জারি করে। এতে তিন ধরনের গ্রামীণ স্থানীয় সরকার গঠনের বিধান রাখা হয়, যথা, ইউনিয়ন পরিষদ, থানা পরিষদ এবং জেলা পরিষদ।
- এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেবলমাত্র ইউনিয়ন পরিষদেই চেয়ারম্যান ও অপর ৯ জন সদস্য প্রাপ্ত বয়স্কদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। থানা পরিষদ সরকারি কর্মকর্তা ও বেসরকারি সদস্যের সমন্বয়ে গঠনের বিধান রাখা হয়। মহকুমা অফিসার (SDO) থানা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সার্কেল অফিসারকে (SO) ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্তির বিধান করা হয়। যদিও জেলা পরিষদও নির্বাচিত সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও মহিলা সদস্যদের দ্বারা গঠন করার কথা বলা হয়েছিল কিন্তু এক্ষেত্রে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

উৎস: i) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
ii) বাংলাপিডিয়া।

১,৫০৮.
মহামান্য রাষ্ট্রপতি অনধিক কত দিনের জন্যে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন?
  1. ক) ৩০ দিন
  2. খ) ৬০ দিন
  3. গ) ৯০ দিন
  4. ঘ) ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর : ১২০ দিন। 

সংবিধানের ১৪১ক(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ যেকোন গোলযোগের কারণে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি অনধিক ১২০ দিনের জন্যে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন ।
- তবে এরূপ ঘোষণার পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়।
- ১৪১ (খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জরুরি অবস্থা ঘোষণার সাথে সাথে এই ৬টি মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়ে যায়।
- জরুরি অবস্থার সময় স্থগিত হয় ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪২ অনুচ্ছেদ গুলো।

তথ্যসূত্র : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ।
১,৫০৯.
রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
  2. জনসমষ্টি
  3. সার্বভৌমত্ব
  4. সরকার
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্রের চারটি উপাদান :
যথা- 
১।জনসমষ্টি, 
২।নির্দিষ্ট ভূখণ্ড,
৩। সরকার ও 
৪। সার্বভৌমত্ব।

• জনসমষ্টি: 
⇒ রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য উপাদান জনসমষ্টি। কোনো ভূখণ্ডে একটি জনগোষ্ঠী স্থায়ীভাবে বসবাস করলেই রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে। তবে একটি রাষ্ট্র গঠনের জন্য কী পরিমাণ জনসমষ্টি প্রয়োজন, এর কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। 

• নির্দিষ্ট ভূখণ্ড: 
⇒ রাষ্ট্র গঠনের জন্য নির্দিষ্ট ভূখণ্ড আবশ্যক। ভূখণ্ড বলতে একটি রাষ্ট্রের স্থলভাগ, জলভাগ ও আকাশসীমাকে বোঝায়।

• সরকার: 
⇒ রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সরকার। সরকার ছাড়া রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না। রাষ্ট্রের যাবতীয় কার্যাবলি সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সরকার গঠিত হয় তিনটি বিভাগ নিয়ে। যথা- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।

• সার্বভৌমত্ব: 
⇒ সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা। এর দুটি দিক রয়েছে, যথা- অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সার্বভৌমত্ব।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,৫১০.
সুপ্রিম কোর্টের দুটি বিভাগ কী কী?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ
  2. আপিল ও বিচার বিভাগ
  3. দেওয়ানি ও ফৌজদারি
  4. নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালত
ব্যাখ্যা
- সুপ্রীম কোর্টে দুটি বিভাগ রয়েছে — হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ।

সুপ্রীম কোর্টের গঠন:
- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের নাম হলো সুপ্রীম কোর্ট।
- এই আদালতের প্রধান হলেন প্রধান বিচারপতি।
- সুপ্রীম কোর্টে দুটি বিভাগ রয়েছে—হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ।

উল্লেখ্য, 
- রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন।
- এরপর প্রধান বিচারপতির পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রীম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগ প্রদান করেন।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১১.
নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন কে?  
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. স্পিকার
  4. প্রধান নির্বাচন কমিশনার 
ব্যাখ্যা

- নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশ আহবান করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। 

• জাতীয় সংসদের অধিবেশন: 

- সংবিধানের ৭২(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।
- তবে এক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করবেন। 
- নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ও নতুন বছরের অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণদান করেন।
- রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে আলোচনা হয়।
- সময়ে সময়ে রাষ্ট্রপতি সংসদে বাণী প্রেরণ করেন।
- তিনি সংসদ মুলতবি রাখতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে তিনি সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় স্পিকার যথাক্রমে জাতীয় সংসদের নেতা ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- আর চিপ হুইপ সংসদ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় বিধানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান। 

১,৫১২.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা কী ধরনের?
  1. গণতান্ত্রিক
  2. রাজতান্ত্রিক
  3. সমাজতান্ত্রিক
  4. একনায়কতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা গণতান্ত্রিক।

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা:
- গণতন্ত্র হলো এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে নীতিনির্ধারণে বা প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সকল সদস্য বা নাগরিকের সমান অধিকার থাকে।
- গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সদস্য বা নাগরিকদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ থাকে।
- নাগরিক বা সদস্যদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ আইন প্রস্তাবনা, তৈরী এবং প্রণয়নের কাজ করে থাকেন।

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- 
১. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র;
২. পরোক্ষ গণতন্ত্র।

- প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে নাগরিকগণ রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীতে সরাসরি বা প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে।
- পরোক্ষ গণতন্ত্রে সাধারণত নাগরিকগণ সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৫১৩.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে কাস্টিং ভোট দেওয়ার ক্ষমতা কাকে প্রদান করা হয়েছে?
  1. স্পিকার
  2. প্রধানমন্ত্রীর ভোট
  3. রাষ্ট্রপতির ভোট
  4. বিরোধী দলের ভোট
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে কাস্টিং ভোট দেওয়ার ক্ষমতা স্পিকারকে প্রদান করা হয়েছে।

কাস্টিং ভোট:

- সংসদে কখনো কখনো কোন বিষয়ে দু পক্ষের হা অথবা না ভোটের সংখ্যা সমান হয়ে যেতে পারে।
- এমন অবস্থায় স্পীকার নিজের ভোট দিয়ে সংসদের অচলাবস্থা দূর করেন।
- অন্যভাবে বলা যায়, কোন বিলের ভোটাভুটিতে যখন পক্ষে বিপক্ষে সমান ভোট পরে, তখন স্পিকার সংসদের সভাপতি হিসেবে তার ভোট প্রয়োগ করেন।
- একে নির্ণায়ক বা কাস্টিং ভোট বলে।
- এ ব্যতীত অন্যকোন ক্ষেত্রে স্পিকার তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না।
- স্পীকারের এই ভোটটিই হলো 'কাস্টিং বা নির্ণায়ক ভোট'।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এর ৭৫ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী:
- ”উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংসদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে, তবে সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্র ব্যতীত সভাপতি (স্পীকার) ভোটদান করবেন না এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তিনি নির্ণায়ক (casting) ভোট প্রদান করবেন।”

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১,৫১৪.
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ -
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম ভাগের ১১৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে।
- নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলা হয়ে থাকে।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চার জন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে।
- একাধিক নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের সভাপতিরূপে কাজ করবেন।
- সংবিধানের বিধানবলী সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কোন নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ তাঁর কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর।
- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৯ এ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব বর্ণিত হয়েছে।
- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রপতি ও সংসদে নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ, আইন কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য নির্বাচন পরিচালনা (এর মধ্যে সকল স্থানীয় সরকার পরিষদ যেমন: ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদ অর্ন্তভুক্ত) এবং আনুষাঙ্গিক কার্যাদির সুষ্ঠু সম্পাদন।
- দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকবেন এবং কেবল সংবিধান ও আইনের অধীন হবেন।
- নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল কর্তৃপক্ষের কর্তব্য।

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।

১,৫১৫.
বাংলাদেশে এই পর্যন্ত দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন কত জন?
  1. ক) ২ জন
  2. খ) ৩ জন
  3. গ) ৪ জন
  4. ঘ) ৫ জন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে ২ মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ৪ জন।
তাঁরা হলেন -
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ,
- বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ এবং
- আব্দুল হামিদ।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এর ওয়েবসাইট]

১,৫১৬.
প্রশাসনিক সংস্কার হিসেবে মহকুমাকে উন্নীত করা হয়েছিল -
  1. ক) ইউনিয়ন হিসেবে
  2. খ) ওয়ার্ড হিসেবে
  3. গ) উপজেলা হিসেবে
  4. ঘ) জেলা হিসেবে
ব্যাখ্যা
১৯৮৪ সালে প্রশাসনিক সংস্কারের আওতায় উপজেলা প্রথার প্রবর্তন করা হয়। এর আওতায় ৪৬০টি থানাকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মহকুমা প্রথা বিলুপ্ত করে জেলা সৃষ্টি হয়। [সূত্র: কালের কণ্ঠ]
১,৫১৭.
মন্ত্রনালয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা কে?
  1. মন্ত্রী
  2. সচিব
  3. অতিরিক্ত সচিব
  4. সহকারী সচিব
ব্যাখ্যা

মন্ত্রনালয়গুলোর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাঠামো:
- বাংলাদেশে মন্ত্রণালয়গুলোকে যৌথভাবে সচিবালয় বলা হয়।
১. মন্ত্রী - মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রধান। প্রত্যেক মন্ত্রণালয় দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে
থাকে।
২. সচিব - মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। সচিব মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মূখ্য হিসাব নিরীক্ষক।
৩. অতিরিক্ত সচিব - উপ-বিভাগের প্রধান।
৪. যুগ্ম-সচিব - উপ-বিভাগের প্রধান।
৫. উপসচিব - একাধিক শাখার প্রধান।
৬. সিনিয়র বা জেষ্ঠ সহকারী সচিব - শাখা বা সেকশন প্রধান।
৭. সহকারী সচিব - শাখা বা সেকশন প্রধান।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোজাম্মেল হক।

১,৫১৮.
বর্তমানে সরকার কয়টি স্তরে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার চিন্তা ভাবনা করছেন?
  1. ৪টি স্তরে
  2. ৩টি স্তরে
  3. ২টি স্তরে
  4. ১টি স্তরে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপর তিনটি স্তরে  স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার এবং নারী সদস্যদের জন্য বিধি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

• সরকার ব্যবস্থা:

→ বর্তমান বাংলাদেশে শহুরে ও গ্রামীণ দুই ধরনের স্থানীয় সরকার কার্যকর রয়েছে।
→ বাংলাদেশে শহরের জন্য দুই স্তর বিশিষ্ট ও পল্লীর জন্য তিন স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো রয়েছে।

• শহরে স্থানীয় সরকার:
→ সিটি কর্পোরেশন,
 → পৌরসভা।

• পল্লী স্থানীয় সরকার:
 → জেলা পরিষদ,
 → উপজেলা পরিষদ,
 → ইউনিয়ন পরিষদ। 

তথ্যসূত্র: স্থানীয় সরকার বিভাগ, পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১৯.
পাকিস্তানের Central Superior Services এ মোট কতটি ক্যাডার গ্রুপ রয়েছে?
  1. ক) ৮টি
  2. খ) ১০টি
  3. গ) ১২টি
  4. ঘ) ১৮টি
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের Central Superior Services এ মোট ১২টি ক্যাডার গ্রুপ রয়েছে।
এগুলো হলো:
- প্রশাসন সার্ভিস
- ফরেন সার্ভিস
- কাস্টমস সার্ভিস
- পুলিশ সার্ভিস
- অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সার্ভিস
- অফিস ম্যানেজমেন্ট
- তথ্য
- বাণিজ্য
- সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট
- রেলওয়ে
- পোস্টাল এবং
- হিসাব ও নিরীক্ষা।
(সূত্র: Economy.pk)
১,৫২০.
বর্তমানে জাতীয় সংসদের (একাদশ জাতীয় সংসদ) বিরোধী দলীয় নেতা কে?
  1. ক) বেগম রওশন এরশাদ
  2. খ) জি.এম কাদের
  3. গ) বেগম খালেদা জিয়া
  4. ঘ) মীর্জা ফখরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ ও উপনেতা হিসেবে জি এম কাদেরকে স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। উৎসঃ The Daily Star (September’19)।
১,৫২১.
বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধানকে বলা হয় -
  1. কো রেক্টর
  2. রেক্টর
  3. পরিচালক
  4. মহাপরিচালক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধানকে বলা হয় - রেক্টর। 

• বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র  : 
- বাংলাদেশ সরকারের প্রধান প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
- ক্যাডার ও নন-ক্যাডারভুক্ত সকল সরকারি কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য ১৯৮৪ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি ঢাকার অদূরে সাভারে অবস্থিত।
- সরকারের একজন সচিব এর প্রধান কর্মকর্তা।
- তাঁর পদবী রেক্টর।

উৎস: বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) ওয়েবসাইট। 
১,৫২২.
জন্মস্থান নীতি সংজ্ঞা অনুসারে, যদি বাংলাদেশের নাগরিকের সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করে, তবে সে— 
  1.  যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হবে
  2. বাংলাদেশের নাগরিক হবে
  3. দ্বৈত নাগরিক হবে
  4. রাষ্ট্রহীন থাকবে
ব্যাখ্যা

• নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি:
- নাগরিকতা অর্জনের দু'টি পদ্ধতি রয়েছে।
এগুলো হচ্ছে:
(ক) জন্মসূত্রে নাগরিক এবং
(খ) অনুমোদনসূত্রে নাগরিক।

- যারা জন্মগতভাবে কোন রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করে তাদেরকে জন্মসূত্রে নাগরিক বলে।
- আর যারা কতকগুলো শর্তপূরণ করে শর্ত আরোপকারী রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করে তাদেরকে অনুমোদনসূত্রে নাগরিক বলে।

• জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি:
জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে দু'টি নীতি মেনে চলা হয়- (ক) জন্মস্থান নীতি ও (খ) জন্মনীতি।

(ক) জন্মস্থান-নীতি:
- জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী শিশু যে রাষ্ট্রে ভূমিষ্ট হয় সে রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করে।
- যদি কোন রাষ্ট্রের পতাকাবাহী জাহাজ, বিমান কিংবা দূতাবাসে জন্মগ্রহণ করে তবে সে সেই রাষ্ট্রের নাগরিক বলে বিবেচিত হবে।
যেমন-বাংলাদেশের কোন পিতা-মাতার সন্তান যদি কানাডা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বা তাদের পতাকাবাহী বিমান বা দূতাবাসে জন্মগ্রহণ করে তবে সে সন্তান কানাডা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হবে।
- অস্ট্রেলিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই নীতি অনুসরণ করে।

(খ) জন্মনীতি:
- এই নীতি অনুযায়ী শিশু যেখানেই ভূমিষ্ট হোক না কেন, পিতা-মাতার নাগরিকতাই তার নাগরিকতা নির্ধারণ করবে। যেমন:
- জাপানের কোন পিতা-মাতার সন্তান যদি রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ করে তবে সেই সন্তান জাপানের নাগরিক বলে বিবেচিত হবে।
- বাংলাদেশ, ফ্রান্স, জাপান, ইতালী প্রভৃতি রাষ্ট্র জন্মনীতি মেনে চলে।

• অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা অর্জন:
- যদি কোন ব্যক্তি অনুমোদনসূত্রে নাগরিক হতে চায় তবে তাকে নাগরিকতা অর্জনের জন্য নিম্নলিখিত এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়:
(১) অনুমোদনদানকারী রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করতে হয়,
(২) সেনাবাহিনীতে যোগদান করতে হয়,
(৩) সরকারি চাকরি করতে হয়,
(৪) সম্পত্তি ক্রয় করতে হয়,
(৫) ভাষা জানতে হয়,
(৬) নির্দিষ্ট সময় বসবাস করতে হয়।
- অনুমোদনের শর্ত রাষ্ট্রভেদে আলাদা হতে পারে। শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একজন বিদেশীকে অনুমোদনকারী রাষ্ট্রের নিকট আবেদন করতে হয় এবং আবেদন মঞ্জুর হলেই একজন বিদেশী অনুমোদনদানকারী রাষ্ট্রের অনুমোদনসূত্রে নাগরিকে পরিণত হয়।

উৎস: পৌরনীতি, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫২৩.
একাধারে কত কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত থাকলে সদস্যপদ বাতিল হয়?
  1. ৩০ কার্যদিবস
  2. ৬০ কার্যদিবস
  3. ৯০ কার্যদিবস
  4. ১২০ কার্যদিবস
ব্যাখ্যা

সংসদ সদস্য হবার যোগ্যতা:
- সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২৫ বছর বয়স্ক বাংলাদেশী যেকোন নাগরিক সংসদ সদস্য হবার যোগ্যতা রাখে।
- অপ্রকৃতিস্থ, দেউলিয়া, বিদেশী নাগরিকত্ব অর্জন, কোন অপরাধে ২ বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত নাগরিক সংসদ সদস্য হতে পারবেন না।
- সংসদের মেয়াদ ৫ বছর। তবে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন।
- অধিবেশন আরম্ভ করার জন্য ৬০ সদস্যের উপস্থিতিতে কোরাম পূর্ণ হতে হয়।
- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল সরকারি দলের এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসনে বিজয়ী দল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। সংসদ সদস্যগণ অনেকে একই সাথে হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
- কোন সংসদ সদস্য নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগ দাখিল করলে অথবা একাধারে ৯০ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত থাকলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে।
- তাছাড়া তিনি যে দল থেকে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে সে দলের বিপক্ষে ভোট দান করলেও তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫২৪.
বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় মোট কতটি প্রধান স্তর রয়েছে?
  1. একটি
  2. দুটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা

• প্রশাসনিক কাঠামো: 
- বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায়  দুটি প্রধান স্তর আছে।

• প্রথম স্তরটি হলো কেন্দ্রীয় প্রশাসন (সচিবালয়)। 
- দেশের সব ধরনের প্রশাসনিক নীতি ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়।
- আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সারা দেশে বাস্তবায়িত হয়।

• বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দ্বিতীয় স্তরটি হলো মাঠ প্রশাসন। 
- মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলো বিভাগীয় প্রশাসন। 
- দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে জেলা প্রশাসন। 
- জেলার পর আছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসন একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- মাঠ প্রশাসন মূলত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫২৫.
রাষ্ট্র গঠনের উপাদান নয় কোনটি?
  1. জনসমষ্টি
  2. রাজনৈতিক দল
  3. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
  4. সরকার
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্র গঠনের উপাদান নয় রাজনৈতিক দল। 

• রাষ্ট্র:

- আদিম মানুষ প্রথমে গোত্রভিত্তিক বসবাস করতো। সময়ের বিবর্তনে একসময় রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়।
- রাষ্ট্রের সৃষ্টিকারী মূলত মানুষই।
- রাষ্ট্রে বসবাসকারী জনগণকে রাষ্ট্রের নাগরিক বলা হয়।
- প্রত্যেক নাগরিককে রাষ্ট্রের সমস্ত নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়।
- সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান।
- এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা।

• রাষ্ট্রের উপাদান:
রাষ্ট্রের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে রাষ্ট্রের ৪টি উপাদান পাওয়া যায়।
যথা:
(ক) জনসমষ্টি,
(খ) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড,
(গ) সরকার,
(ঘ) সার্বভৌমত্ব।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫২৬.
ঢাকা জেলায় কয়টি সংসদীয় আসন রয়েছে?
  1. ২৩টি
  2. ২০টি
  3. ১৯টি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
সংসদীয় আসন:
- বাংলাদেশের ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি সংসদীয় আসন রয়েছে।
- ২০টি আসন রয়েছে ঢাকা জেলায়।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
- এর মধ্যে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আসন সংখ্যা ৩০০টি।
- জাতীয় সংসদের ৩০০নং আসন হলো বান্দরবান।
- ১ নং আসন হলো পঞ্চগড়-১।
- বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।

সূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট।
১,৫২৭.
ডেপুটি স্পিকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা

সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:

⇒ রাষ্ট্রপতি শপথ বাক্য পাঠ করান:
- প্রধানমন্ত্রী।
- প্রধান বিচারপতি।
- মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ।
- স্পিকার।
- ডেপুটি স্পিকার।

⇒ প্রধান বিচারপতি শপথ বাক্য পাঠ করান:
- আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ।
- পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ।
- মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারবৃন্দ।

⇒ স্পিকার শপথবাক্য পাঠ করান:
- রাষ্ট্রপতি।
- সংসদ সদস্যবৃন্দ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৫২৮.
সর্বনিম্ন কতজন সদস্য উপস্থিত না থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন?
  1. ৪৫ জন
  2. ৬০ জন
  3. ৯০ জন
  4. ১২০ জন
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ:
- জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
- দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
- প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
- সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) মহিলা আসন সংখ্যা ৫০ করা হয়।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
- জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
- সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়।
- জাতীয় সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য কোরাম থাকতে হয়।
- অধিবেশনে কোরামের জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫ নং অনুচ্ছেদে কোরাম সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
- ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫২৯.
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো কয় স্তর বিশিষ্ট?
  1. ১ স্তর
  2. ২ স্তর
  3. ৩ স্তর
  4. ৪ স্তর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো:
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর দুইটি স্তর রয়েছে।এগুলো হলো-
ক) কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কাঠামো এবং
খ) মাঠ পর্যায় প্রশাসনিক কাঠামো।
এই কাঠামোর প্রশাসনিক ইউনিটগুলো হচ্ছে
- বিভাগ
- জেলা
- উপজেলা
- ইউনিয়ন পরিষদ
- সিটি কর্পোরেশন 
- পৌরসভা।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কাঠামো:
- বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর প্রথম স্তর হলো কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কাঠামো (সচিবালয়) যা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর/অধিদপ্তর নিয়ে গঠিত।
- সচিবালয় হলো প্রশাসনিক কার্যাবলি এবং সমস্ত সরকারি কার্যক্রমের মূল কেন্দ্র।
- সংবিধানের ৫৫ (৬) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত Rules of Business এর নিয়ম অনুসারে মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহের কার্যাদি নির্ধারণ করা হয়।
- এছাড়াও সচিবালয়ের নির্দেশাবলী (Secretariate Instructions) নামে আলাদা একটি ডকুমেন্টও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের কার্যাবলি নির্ধারণ করে থাকে।
- সচিব একটি মন্ত্রণালয়/বিভাগের প্রশাসনিক প্রধান হন এবং তিনিই এর শৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন।


বাংলাদেশের মাঠ পর্যায় প্রশাসনিক কাঠামো (স্থানীয় সরকার):
- বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর দ্বিতীয় স্তর হলো মাঠ প্রশাসন।
- মাঠ প্রশাসনের প্রধান দু'টি ক্ষেত্র হচ্ছে জেলা এবং উপজেলা প্রশাসন।
- জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয় এবং নেতৃত্বে রয়েছে বিভাগীয় প্রশাসন।
- এটি মূলত প্রশাসন বা আমলাতন্ত্রের বিন্যাস।
- অন্যদিকে সরকারের কাঠামোগত বিন্যাসে মাঠ পর্যায়ে রয়েছে স্থানীয় সরকার।
- স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ। 

রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন ও নাগরিকসেবা নিশ্চিতকরণ এবং কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে স্থানীয় সরকার ও মাঠ প্রশাসনের যুগপৎ এবং সমন্বিত কর্মসূচির বিকল্প নেই।


উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩০.
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম সংসদ নেতা কে?
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. মােহাম্মদউল্লাহ
  3. তাজউদ্দিন আহমদ
  4. ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
সংসদ নেতা: 
- সংসদ নেতা হলেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে শাসক দলের নেতা, যিনি জাতীয় সংসদে সরকারের কার্যক্রম নির্ধারন ও পরিচালনার জন্য দায়ী থাকেন। 
- সংসদ নেতা ও সংসদ উপনেতা সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের ভিত্তিতে নির্বাচিত হন।
- বাংলাদেশের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদের নেতা হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- তার নেতৃত্বেই জাতীয় সংসদে আইন প্রণীত হয় এবং তার পরামর্শেই রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করে থাকেন।
- বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংসদ নেতার কার্যালয় অবস্থিত।
- বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নেতা ছিলেন — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 

অপরদিকে, 
- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম স্পিকার মোহাম্মদ উল্লাহ।
- তাজউদ্দিন আহমেদ ও ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী যথাক্রমে মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী, mujib100.gov.bd।
১,৫৩১.
বর্তমান সরকারের মন্ত্রীসভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন -
  1. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
  2. আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
  3. সালাহউদ্দিন আহমদ
  4. খলিলুর রহমান
ব্যাখ্যা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়:
- বর্তমান সরকারের মন্ত্রীসভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

অন্যদিকে,
- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
- আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
- খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

উৎস: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

১,৫৩২.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের পর পর দুই অধিবেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ বিরতি থাকে -
  1. ৩০ দিন
  2. ৪৫ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ:
- জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
- দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
- প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
- জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের পর পর দুই অধিবেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ দিন বিরতি থাকে।
- একাধারে কোনো সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে ৯০টি কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে তাহার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।
- রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।
- সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহ্বান করা হবে।
- একাধারে কোনো সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে ৯০ টি কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে তাহার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।
- দেশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবনে হুমকির কারণে জরুরি অবস্থা (সর্বাধিক ১২০ দিনের জন্য) ঘোষিত হতে পারে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৩৩.
আইন প্ৰণয়ন ও সংবিধান সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদ সদস্যদের কত অংশের সম্মতি থাকতে হয়?
  1. ক) এক-তৃতীয়াংশ
  2. খ) দুই-তৃতীয়াংশ
  3. গ) এক-চতুর্থাংশ
  4. ঘ) তিন-চতুর্থাংশ
ব্যাখ্যা
• জাতীয় সংসদের বিবরণ:
- আইন অনুসারে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ হল এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা।
- সারাদেশ থেকে নির্বাচিত ৩০০ সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত ৫০ জন নারী সংসদ সদস্য নিয়ে এই জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
- পূর্ণ মেয়াদে প্রতি পাঁচ বছর পর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রত্যেক বয়স্কপ্রাপ্ত নাগরিক তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করে থাকে।
- এই সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে একজন প্রার্থীর বয়স ৩৫ বছর হতে হবে।
- পক্ষান্তরে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ২৫ বছর হওয়ার শর্ত দেশের সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত।
- জাতীয় সংসদে কোন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংসদ সদস্যগণের মতামত গৃহীত হয়।
- মূলত: জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকারের সম্মুখে সংসদ সদস্যগণ কর্তৃক তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার মাধ্যমে কোন আইন সংসদে পাশ হয়।
- তবে আইন প্ৰণয়ন ও সংবিধান সংশোধনের জন্য যথাক্রমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের সম্মতি থাকতে হয়।
- এরপর সরকার প্রধান হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পরিশেষে রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতির লিখিত সম্মতির মধ্য দিয়ে একটি আইনকে কার্যকরি রূপ প্রদান করা হয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
 
 
১,৫৩৪.
পারিবারিক আদালত অর্ডিন্যান্স ১৯৮৫ অনুযায়ী, পারিবারিক আদালত মূলত কয়টি বিষয়ে বিচারকার্য নিষ্পন্ন করে থাকে?
  1. ৩টি
  2. ৮টি
  3. ৬টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৫:
- পারিবারিক আদালত অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৫ পরিবারের প্রতিটি সদস্যের আইনগত সমস্যার বিচার নিষ্পত্তি সম্পর্কিত অধ্যাদেশ।
- ১৯৮৫ সালে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
- ইসলামী আইন, হিন্দু আইন, দেওয়ানি কার্যবিধি, সাক্ষ্য আইন, অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ প্রভৃতি সমন্বয়ে পারিবারিক আদালতের বিচার্য বিষয়ের আইন সংকলিত হয়েছে।
- এ আইন রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও পার্বত্য এলাকার জেলাসমূহ ছাড়া সারা দেশে প্রযোজ্য।
- এ আইন বলে দেশের সকল মুন্সেফ আদালত পারিবারিক আদালত হিসেবে গণ্য হবে এবং মুন্সেফগণ এ আদালতের বিচারক হবেন।

⇒ পারিবারিক আদালত মূলত পাঁচটি বিষয়ে বিচারকার্য নিষ্পন্ন করে থাকে। এগুলি হচ্ছে:
- বিবাহ বিচ্ছেদ,
- দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার,
- মোহরানা,
- ভরণপোষণ ও
- অভিভাবকত্ব।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৫৩৫.
জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০২২ অনুসারে কতজন চেয়ারম্যান থাকে?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০২২ অনুসারে:

(২০০০ সনের ১৯ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এর ধারা ৪ এর উপ-ধারা (১) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (১) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-

‘‘(১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে পরিষদ গঠিত হইবে, যথা :-

(ক) একজন চেয়ারম্যান;

(খ) সংশ্লিষ্ট জেলার মোট উপজেলার সমসংখ্যক সদস্য;

(গ) দফা (ক) ও (খ) এ উল্লিখিত সদস্য-সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ (নিকটবর্তী পূর্ণ সংখ্যায়) নারী সদস্য:

তবে শর্ত থাকে যে, তাহাদের সংখ্যা ২(দুই) এর কম হইবে না; এবং

(ঘ) সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র এবং ক্ষেত্রমত, সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের প্রতিনিধি পদাধিকারবলে সদস্য।’’।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন-একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি এবং জেলা পরিষদ আইন, ২০২২।[link]

১,৫৩৬.
নিচের কোনটি আইনসভার প্রত্যক্ষ কার্যাবলির অংশ?
  1. শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ
  2. বিরোধ দূরীকরণ
  3. রাজনৈতিক বৈধকরণ
  4. রাজনৈতিক অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
• আইনসভার ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
→ আইনসভার ক্ষমতা ও কার্যাবলিকে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করা যায়। যথা− (ক) প্রত্যক্ষ কার্যাবলি ও (খ) পরোক্ষ কার্যাবলি।

• প্রত্যক্ষ কার্যাবলি:
→ সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন সংক্রান্ত,
→ আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত,
→ বিচার সংক্রান্ত,
শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ,
→ অর্থ-সংক্রান্ত,
→ শাসন সংক্রান্ত,
→ নির্বাচন সংক্রান্ত।

• পরোক্ষ কার্যাবলি:
→ রাজনৈতিক বৈধকরণ,
→ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ,
→ রাজনৈতিক মতৈক্য সৃষ্টি,
→ বিরোধ দূরীকরণ,
→ রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ সংক্রান্ত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩৭.
বাংলাদেশের স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বনিম্ন স্তর কোনটি?
  1. ইউনিয়ন পরিষদ
  2. উপজেলা প্রশাসন
  3. জেলা প্রশাসন
  4. বিভাগীয় প্রশাসন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের "স্থানীয় প্রশাসন" একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা যা সরকারের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী দ্বারা পরিচালিত হয়।
→ স্থানীয় প্রশাসনের সর্বনিম্ন স্তর হলো উপজেলা প্রশাসন ৷ 
- বাংলাদেশের স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামো ৩টি স্তরে বিভক্ত।

যথা:-
১। বিভাগীয় প্রশাসন, 
২। জেলা প্রশাসন এবং
৩। উপজেলা প্রশাসন। 

এছাড়াও,
→ স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তর - ইউনিয়ন পরিষদ।

সূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩৮.
অভিশংসন ব্যতীত পদ থেকে অপসারণ করা যায় না কাকে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. স্পিকার
  4. অ্যাটর্নি জেনারেল
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
- সংসদীয় পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকার রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আইন অনুসারে সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন।
- রাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে, রাষ্ট্রের অন্যান্য সকল ব্যক্তির উপর অগ্রাধিকার দেবেন এবং এই সংবিধান এবং অন্য কোন আইন দ্বারা তার উপর অর্পিত ও আরোপিত ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন এবং দায়িত্ব পালন করবেন।
- কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদ বেশি রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হবেন না, পদ পরপর থাকুক বা না থাকুক।
- রাষ্ট্রপতি সংসদের সদস্য হতে পারবেন না, এবং যদি সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হন, তবে তিনি যেদিন রাষ্ট্রপতি হিসাবে তার পদে প্রবেশ করবেন সেদিন সংসদে তার আসন খালি করবেন।
- কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হবেন যদি তার বয়স পঁয়ত্রিশ বছরের কম হয়, সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য না হন।
- সংবিধানের অধীনে অভিশংসন মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণ করা হয়ে থাকে।
- রাষ্ট্রপতিই প্রকৃত শাসক এবং আইনগত দিক থেকে তিনি প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী।
- রাষ্ট্রপতি আইনসভার সদস্য নন এবং আইন সভার নিকট দায়িত্বশীলও নন।
- কেবলমাত্র শাসনতন্ত্রের লঙ্ঘন, গুরুতর অসদাচরণের দায়ে কিংবা শারীরিক বা মানসিক অসামর্থের কারণে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত (impeached) করা যায়।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ-৪৮। 
         ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩৯.
সংসদ সদস্যগণ সরকারের কোন বিভাগের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) আইন
  2. খ) শাসন
  3. গ) বিচার
  4. ঘ) জনপ্রশাসন
ব্যাখ্যা
আইন বিভাগ বা আইনসভা বা জাতীয় সংসদ

- সরকারের যে বিভাগ আইন প্রণয়ন, পরিবর্তন ও সংশোধন করে তাকে আইন বিভাগ বলে।
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বিশেষ করে সংসদীয় গণতন্ত্রে আইন সভার গুরুত্ব অপরিসীম।
- আইন সভা প্রণীত আইনের আলোকেই একটি দেশের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালিত হয়।
- আইন সভা প্রণীত আইনকে বাস্তবায়িত করার জন্যই শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
- আইন সভার (জাতীয় সংসদ) সদস্যগণ হলেন জনপ্রতিনিধি।
- জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা তারা আইনসভায় তুলে ধরেন।
- সরকারের সকল কাজে আইনসভার অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
- আইনসভার অনুমোদন ছাড়া সরকার আর্থিক কাজ সম্পন্ন করতে পারে না।
- আইন সভা শাসন বিভাগকে সংগঠন করে, সংসদীয় গণতন্ত্রে মন্ত্রিসভা গঠন করে এবং মন্ত্রিসভাকে পদচ্যুতও করে থাকে।
- আইন সভা দেশের সংবিধান প্রণয়ন ও তা বাতিল বা সংশোধনও করতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১,৫৪০.
দেশের প্রস্তাবিত নবম বিভাগের নাম কি?
  1. ক) ফরিদপুর বিভাগ
  2. খ) শরিয়তপুর বিভাগ
  3. গ) পদ্মা বিভাগ
  4. ঘ) গোপালগঞ্জ বিভাগ
ব্যাখ্যা
নিকারের সর্বশেষ সভায় সিদ্ধান্ত হয় দেশের প্রস্তাবিত নবম বিভাগের নাম পদ্মা বিভাগ। পদ্মা বিভাগ কার্যকর হলে ১৩ তম সিটি কর্পোরেশন হবে ফরিদপুর সিটি কর্পোরেশন।
৫টি জেলা নিয়ে পদ্মা বিভাগ গঠিত হবে: ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুর। নতুন নিয়ম- বিভাগীয় শহর ছাড়া আর নতুন করে কোনো সিটি করপোরেশন হবে না। উৎস: নিকারের সর্বশেষ সভা।
১,৫৪১.
কোন বিভাগকে ‘জাতীয় মঞ্চ’ বলে অভিহিত করা হয়?
  1. বিচার বিভাগ
  2. শাসন বিভাগ
  3. আইন বিভাগ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• আইন বিভাগ:
- আইনসভা সরকারের তিনটি অঙ্গের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ।
- বস্তুত: সংবিধান প্রণয়ন কিংবা আইন প্রণয়নের মত দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে বলতে গেলে আইন সভা থেকেই একটি রাষ্ট্রের কার্যক্রম সূচনা হয়।
- জনগনের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আইনসভার সদস্য হন। যার জন্য আইনসভাকে গণতন্ত্রের প্রতীক বলা হয়।
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আইনসভা সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। 
- আইন প্রণয়নের কারণে সরকারের অন্য দুই বিভাগ থেকে এ বিভাগের মর্যাদা অধিকতর। আইনসভাকে অনেকে ‘জাতীয় মঞ্চ’ বলে অভিহিত করেন। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৪২.
বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. অ্যাটর্নি জেনারেল
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. আইনমন্ত্ৰী
ব্যাখ্যা

অ্যাটর্নি জেনারেল:
- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগের ৫ম পরিচ্ছেদে ৬৪ নং অনুচ্ছেদে অ্যাটর্নি জেনারেল পদের উল্লেখ রয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন অ্যাটর্নি জেনারেল থাকবেন।
- অ্যাটর্নি জেনারেল বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা।
- তিনি আইনগত দিক নিয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষে আদালতে বক্তব্য পেশ করেন।
- সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগদান করবেন।
- রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করবেন।
- বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিত স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন।
- বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারকের ন্যায় মর্যাদা ভোগের অধিকারী হবেন।

⇒ অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
• অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করবেন।
• অ্যাটর্নি-জেনারেলের দায়িত্বপালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তাঁর বক্তব্য পেশ করার অধিকার থাকবে।
• বাংলাদেশ সরকারের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১,৫৪৩.
১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব কার ওপর ন্যস্ত ছিল?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. সুপ্রিম কোর্ট
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে অনুযায়ী ‘অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান, ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত রয়েছে এবং রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। 

⇒ ১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান, ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের এই দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল। 
- ১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণের সেই শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়।
- সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সেই শৃঙ্খলা বিধানের সঙ্গে ‘এবং সুপ্রিম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে’ শব্দগুলো সন্নিবেশিত করা হয়। 
- পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইন অসাংবিধানিক মর্মে ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধন আইন, ২০১১ এর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান বিধানটি প্রতিস্থাপন করা হয়। 
- বর্তমানে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে এ বিধানটিই বিদ্যমান রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ২৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের ১০ জন আইনজীবী।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) প্রথম আলো।

১,৫৪৪.
মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এক বা একাধিক ইউনিটকে কী বলা হয়?
  1. অধিদপ্তর
  2. পরিদপ্তর
  3. সচিবালয়
  4. কার্যালয়
ব্যাখ্যা
• অধিদপ্তর:

⇒ সাধারণত মন্ত্রণালয়ের অধীন এক বা একাধিক ইউনিটকে অধিদপ্তর বলে।
⇒ অধিদপ্তরের প্রধান হলেন মহাপরিচালক।
⇒ তিনি অতিরিক্ত সচিবের মর্যাদাসম্পন্ন।

অন্যদিকে,
- অধিদপ্তরের অধীন এক বা একাধিক দপ্তরকে পরিদপ্তর বলে, যার প্রধান হলেন 'পরিচালক'।
- যিনি একজন যুগ্ম সচিব বা উপসচিবের মর্যাদাসম্পন্ন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্ৰেণী।
১,৫৪৫.
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কোন বিভাগের প্রধান?
  1. বিচার বিভাগ
  2. শাসন বিভাগ
  3. অর্থ বিভাগ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
→ সংসদীয় পদ্ধতির শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত থাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শাসন ক্ষমতার মধ্যমণি।
→ তাঁকে কেন্দ্র করেই প্রজাতন্ত্রের সকল শাসন ও প্রশাসন পরিচালিত হয়।
→ সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন প্রধানমন্ত্রী।
→ তিনি শাসন সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও শাসনকার্য পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন।
→ তিনি মন্ত্রীদের নিয়োগ দেন ও তাঁদের মধ্যে দায়িত্ব বন্টন করেন।
→ যেকোন আইন প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃত্বশীল ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন।
→ তাঁর মতামত অনুযায়ী সংসদে আইন উত্থাপিত ও পাশ হয়। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (দ্বিতীয় পত্র), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৪৬.
শেখ হাসিনা নকশিপল্লী কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সুনামগঞ্জ
  2. খ) সোনারগাঁও
  3. গ) নেত্রকোনা
  4. ঘ) জামালপুর
  5. ঙ) মুন্সিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
জামালপুর জেলার সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম নকঁশিপল্লী। এর নামকরণ করা হয় শেখ হাসিনা নকশিপল্লী। এর আয়তন প্রায় ৩০০ একর। এটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড। (সূত্রঃ দৈনিক কালেরকণ্ঠ)
১,৫৪৭.
বাংলাদেশের সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশন কোনটি?
  1. কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন
  2. গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন
  3. ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন
  4. রংপুর সিটি কর্পোরেশন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন
:
- ময়মনসিংহ শহর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮১১ সালে।
- ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয় ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল।
- এটি বাংলাদেশের সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশন।
- এর আয়তন ৯১ দশমিক ৩১৫ বর্গ কি.মি.।

অন্যদিকে -
- ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয় ১৯৮৩ সালের ২৪ আগস্ট।
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয় ১৯৮৩ সালের ২৪ আগস্ট।
- চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয় ১৯৮২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর।
- খুলনা সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয় ১৯৮৪ সালের ১০ ডিসেম্বর।
- রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয় ১৯৮৭ সালের ১৩ আগস্ট।
- সিলেট সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয় ২০০১ সালের ৯ এপ্রিল।
- বরিশাল সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয় ২০০২ সালের ২৫ জুলাই।
- কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয় ২০১১ সালের ১০ জুলাই।
- নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয় ১৮৭৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর।
- রংপুর সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয় ২০১২ সালের ২৮ জুন।
- গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয় ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি।

উল্লেখ্য,
- আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় সিটি কর্পোরেশন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন।
- আয়তনে দেশের ক্ষুদ্রতম সিটি কর্পোরেশন সিলেট।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৫৪৮.
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কার কাছে দায়বদ্ধ?
  1. জনগণ
  2. আইনসভা
  3. বিচার বিভাগ
  4. রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সরকারব্যাবস্থা
- সরকার হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কতৃপক্ষ বা মুখপাত্র।
- বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার বিদ্যমান।
- এই সরকারব্যাবস্থায় শাসনবিভাগ ও আইনবিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিজায় থাকে।
- বাংলাদেশ সরকারের নির্বাহী প্রধান - প্রধানমন্ত্রী।
- প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা আইনসভার কাছে দায়বদ্ধ।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহামেদ।
- এই ধরণের সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি পদটি আলঙ্কারিক। 
- সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় বিরোধী দলকে বিকল্প সরকার বলা হয়। 

উৎস - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৫৪৯.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে নাগরিকের কর্তব্য কোনটি?
  1. আইন মান্য করা
  2. নাগরিক দ্বায়িত্ব পালন করা
  3. শৃঙ্খলা রক্ষা করা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

নাগরিকের কর্তব্য:
- বাংলাদেশের নাগরিকত্ব মূলত ও প্রধাণত জন্মসূত্রে নির্ধারিত হয়।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৬নং অনুচ্ছেদ অনুসারে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।
- ২১ নং অনুচ্ছেদে নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে নাগরিকের কর্তব্য ৪টি। যথা -
• আইন মান্য করা।
• নাগরিক দ্বায়িত্ব পালন করা। 
• শৃঙ্খলা রক্ষা করা।
• জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা।

→ উল্লেখ্য:
- সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে সকল লাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ সংবিধান।

১,৫৫০.
কোনটি স্থানীয় প্রশাসনের অঙ্গ নয়?
  1. ক) ইউনিয়ন পরিষদ
  2. খ) জেলা পরিষদ
  3. গ) উপজেলা পরিষদ
  4. ঘ) বিভাগীয় প্রশাসন
ব্যাখ্যা
স্থানীয় প্রশাসনের অঙ্গ হচ্ছে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ। বিভাগ হচ্ছে মাঠ প্রশাসনের অন্তর্গত। বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন মাঠ প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত। আর সচিবালয় কেন্দ্রীয় প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৫৫১.
একটি ইউনিয়ন কয়টি ওয়ার্ডে বিভক্ত?
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
ইউনিয়ন পরিষদের গঠন:
- একটি ইউনিয়ন ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত।
- চেয়ারম্যান ১ জন।
- নির্বাচিত সদস্য ৯ জন।
- সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৩ জন।
- ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয় মোট ১৩ জন সদস্য নিয়ে।
- প্রতি তিন ওয়ার্ড থেকে একজন মহিলা সদস্য নির্বাচিত হন।
- কার্যালয় পরিচালনার জন্য এক জন সচিব নিয়োগ করা হয়।
- ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর, সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের অপসারণ করা যায়।
- ইউনিয়ন পরিষদের সকলেই সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৫২.
অধিদপ্তরের প্রধান দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন কে?
  1. পরিচালক
  2. সচিব
  3. মন্ত্রী
  4. মহাপরিচালক
ব্যাখ্যা
অধিদপ্তর: 
- অধিদপ্তরের প্রধান দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন মহাপরিচালক।
- দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন পরিচালক।
- কোনো মন্ত্রণালয় বা তার বিভাগগুলোর প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হলো- সচিব বা জ্যৈষ্ঠ সচিব এবং নির্বাহী প্রধান মন্ত্রী।
- অধিদপ্তরের অধীনস্ত এক বা একাধিক দপ্তরকে পরিদপ্তর বলে, যার প্রধান হলেন পরিচালক।
- যিনি একজন যুগ্ম সচিব বা উপসচিবের মর্যাদাসম্পন্ন।

সচিবালয়:
- সচিব হলেন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান।
- তিনি এর প্রশাসন, নিয়ম-শৃঙ্খলা ও ন্যস্ত যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করেন।
- সচিব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও অধীনস্থ অফিসসমূহে কার্যবিধি অনুযায়ী কার্যাদি সম্পন্ন হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে তদারকি করেন এবং এ সকল বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীকে অবহিত করেন।

মন্ত্রণালয়:
- মন্ত্রণালয় শাসন বিভাগের কার্য নির্বাহের জন্য জাতীয় পর্যায়ে গঠিত সরকারের প্রশাসনিক ইউনিট।
- যার প্রধান হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিভাগে বা মন্ত্রণালয়ে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী থাকবেন।
- সরকারের কার্যাবলি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
- প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অধীনে রয়েছে অধিদপ্তর, অধীনস্থ দপ্তর এবং কতিপয় আধা সরকারি সংস্থা।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও বিভিন্ন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
১,৫৫৩.
একনেক (ECNEC) -এর বিকল্প সভাপতি কে?
  1. পরিকল্পনা মন্ত্রী
  2. অর্থমন্ত্রী
  3. স্পীকার
  4. রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা

 একনেক (ECNEC):
- একনেক (ECNEC)-এর চেয়ারম্যান বা সভাপতি- প্রধানমন্ত্রী।
- একনেক (Executive Committee of the National Economic Council)
-১৯৮২ সালে গঠিত হয়। এর চেয়ারম্যান বা সভাপতি হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- বিকল্প সভাপতি হলেন- অর্থমন্ত্রী।
- সদস্য হচ্ছেন- পরিকল্পনা মন্ত্রী।

উৎস: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইট।

১,৫৫৪.
ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা হয় কোন রাষ্ট্রব্যবস্থায়?
  1. পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা
  2. গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা
  3. সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা
  4. একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
• গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার গুণ:
----------------------------------------------
• ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষাকবচ :
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে। সরকারের সমালোচনা করতে পারে।
- প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারে।
- ফলে ব্যক্তিস্বাধীনতার বিকাশ ঘটে এবং নাগরিকের অধিকার রক্ষা হয়।

• দায়িত্বশীল শাসন:
- এ ব্যবস্থায় শাসকগণ জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের নিকট দায়ী থাকে।
- তারা পরবর্তী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য জনস্বার্থমূলক কাজ করার চেষ্টা করে। ফলে দেশে দায়িত্বশীল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

• সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি:
- গণতন্ত্রে জনগণের আস্থার উপর সরকারের স্থায়িত্ব নির্ভর করে। ফলে জনগণের আস্থা লাভের জন্য সরকার সততার সাথে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করে।
- এর ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

•  সাম্য ও সমঅধিকারের প্রতীক :
- গণতন্ত্রে সবাই সমান।
- এতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ইত্যাদি নির্বিশেষে সবাই সমান সুযোগ বা অধিকার ভোগ করে এবং সবাই সমানভাবে রাষ্ট্রের কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে।

• নাগরিকের মর্যাদা বৃদ্ধি:
-  গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই রাষ্ট্র পরিচালনা করে।
- নির্বাচনের মাধ্যমে সব নাগরিকের রাষ্ট্রের কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকার তারা নিজেদের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে।
- এতে তাদের মধ্যে দেশাত্মবোধ সৃষ্টি হয় এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

• যুক্তি ও সম্মতির উপর প্রতিষ্ঠিত:
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা জনগণের সম্মতির উপর প্রতিষ্ঠিত।
- কাজেই গণতন্ত্রে শক্তি প্রয়োগ বা জোর করে কিছু করার সুযোগ নেই বরং জনগণের ইচ্ছা এবং যুক্তি প্রাধান্য পায়।

• রাজনৈতিক শিক্ষা লাভ:
- গণতন্ত্রে রাষ্ট্রের শাসনকার্যে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকায় নাগরিকগণ জটিল রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ পায়।
- নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য শুনে তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,৫৫৫.
র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) কবে গঠিত হয়?
  1. ২০০০ সালে
  2. ২০০১ সালে
  3. ২০০২ সালে
  4. ২০০৪ সালে
ব্যাখ্যা
র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব):
- র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ফোর্স।
- ২০০৪ সালের ২৬ শে মার্চ র‌্যাব প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এলিট ফোর্স র‍্যাবের আত্মপ্রকাশ ঘটে। 
- জঙ্গি দমন, সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকমু্ক্ত সমাজ গড়তে র‌্যাব সর্বদা সোচ্চার।
- র‌্যাব বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, কোষ্ট গার্ড ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত।

⇒ ২০০৩ সালের ১২ জুলাই বিদ্যমান আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন সংশোধনের মাধ্যমে র‌্যাব গঠন করা হয়।
- সংশোধনী আইনটি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধনী) আইন ২০০৩ নামে পরিচিত।
- আর্মড পুলিশ বাহিনীর সংশোধনী আইনের (আইন ৩৭, ২০০৩) শৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে র‌্যাব গঠন করা হয়।

⇒ মূলত দেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমন এবং আইনশৃঙ্খলার মানোন্নয়নে গঠন করা হয়েছিল র‍্যাব।
- আত্মপ্রকাশের পর র‍্যাবের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইয়ে র‍্যাবের বেশ কয়েক জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। 
 
উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাপিডিয়া। 
১,৫৫৬.
ভূমি রেকর্ডের ক্ষেত্রে আপিল আপত্তির স্তর কোনটি?
  1. ৬ ও ৫
  2. ৪ ও ৫
  3. ৫ ও ৬
  4. ৬ ও ৭
ব্যাখ্যা
ভূমি রেকর্ডের ক্ষেত্রে আপিল আপত্তির স্তর:
- ভূমি জরিপ হচ্ছে এমন এক কৌশল, পেশা, বিজ্ঞান যা নির্দিষ্টভাবে স্থানসমূহের ভূগোলক বা ত্রিমাত্রিক অবস্থানের পারস্পারিক দূরত্ব এবং কোণ নির্ণয় করতে পারে। সাধারণত মৌজা ভিত্তিক ভূমির নকশা ও ভূমির মালিকানা সম্পর্কিত খতিয়ান বা ভূমি রেকর্ড প্রস্তুত কার্যক্রমকে ভূমি জরিপ বলা হয়।

⇒ ভূমি রেকর্ডের ক্ষেত্রে আপিল আপত্তির স্তর ৫ ও ৬।

• আপীল স্তর:
এ স্তরে আপত্তি মামলায় প্রদত্ত রায়ের অসম্মতিতে আপত্তি মামলার পক্ষগণের পক্ষ হতে আপীল দায়ের হয় এবং মামলাগুলি যথাবিধি শুনানি করা হয়। কিন্ত সে সময় আপীল শুনানীর অফিসারকে মৌজার মূল ওয়ার্কিং ভলিউমও সরবরাহ করা হয় বিধায় অনাকাঙ্ক্ষিত টেম্পারিং হয়ে থাকে যা বর্তমানে অনলাইন ভূমি জরিপ সফটওয়ার এর মাধ্যমে কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহারের দ্বারা আপীল শুনানির অফিসারকে যে যে খতিয়ানে আপীল মামলা জড়িত ঠিক সেই সেই খতিয়ানগুলিকে সংশোধনের অনুমতি প্রদান করা হয় ফলে আপীল না পড়া খতিয়ানগুলিতে কোন প্রকার টেম্পারিং করার সুযোগ থাকে না। কাজেই ট্র্যাডিশনাল ভূমি জরিপ ব্যবস্থাপনায় চিরাচরিতভাবে টেম্পারিং করার যে সুযোগ ও সম্ভাবনা ছিল তা চিরতরে দূরকরণ করা সম্ভব হয়েছে।

• আপত্তি স্তর: এ স্তরে খসড়া প্রকাশনা দেয়া খতিয়ানের উপর ভূমি মালিকদের দাখিলকৃত আপত্তি মামলাগুলি শুনানি করা হয় এবং সে সময় মৌজার মূল ওয়ার্কিং ভলিউম আপত্তি শুনানীর অফিসারকে সরবরাহ করা হয়। ভলিউম হাতে থাকার ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত টেম্পারিং হয়ে থাকে যা বর্তমানে অনলাইন ভূমি জরিপ সফটওয়ার এর মাধ্যমে কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহারের দ্বারা আপত্তি শুনানির অফিসারকে যে যে খতিয়ানে আপত্তি মামলা জড়িত ঠিক সেই সেই খতিয়ানগুলিকে সংশোধনের অনুমতি প্রদান করা হয়। ফলে আপত্তি না পড়া খতিয়ানগুলিতে কোন প্রকার টেম্পারিং করার সুযোগ থাকে না। কাজেই ট্র্যাডিশনাল ভূমি জরিপ ব্যবস্থাপনায় চিরাচরিতভাবে টেম্পারিং করার যে সুযোগ ও সম্ভাবনা ছিল তা চিরতরে দূরকরণ করা সম্ভব হয়েছে।

উৎস: জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস ওয়েবসাইট।
১,৫৫৭.
'ক্যাবিনেট তোরণের প্রধান স্তম্ভ' বলা হয় -
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা
প্রধানমন্ত্রী:
- প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করেই মন্ত্রীসভা গঠিত ও পরিচালিত হয়, ক্ষমতায় টিকে থাকে ও ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হয়।
- প্রধানমন্ত্রী যেকোন সময় যেকোন মন্ত্রীকে পদত্যাগ করার পরামর্শ দিতে পারেন এবং ঐ মন্ত্রী তা করতে অসমর্থ হলে রাষ্ট্রপতিকে তার নিয়োগ বাতিলের পরামর্শ দিতে পারেন।
- প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বা স্বীয় পদে বহাল না থাকলে মন্ত্রীদের সকলেই পদত্যাগ করেছেন বলে গণ্য হবে।
- এছাড়াও মন্ত্রীসভার অধিবেশন আহ্বান, কার্যসূচী নির্ধারন, অধিবেশন সভা পরিচালনা, মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বন্টন, মন্ত্রীসভার কাজ তত্ত্ববধান প্রভৃতি দায়িত্ব মূলত প্রধানমন্ত্রীর উপর ন্যস্ত।
- এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে 'ক্যাবিনেট তোরণের স্তম্ভ' (Keystone of the Cabinet arch) বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৫৫৮.
সরকারের স্তম্ভ বলা হয় কাকে?
  1. স্পিকারকে
  2. রাষ্ট্রপতিকে
  3. প্রধানমন্ত্রীকে
  4. প্রধান বিচারপতিকে
ব্যাখ্যা
সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা:
- বাংলাদেশের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় সরকার এবং মন্ত্রিসভার প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- তার নেতৃত্বেই সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হয়।
- এজন্যে তাকে 'সরকারের স্তম্ভ' হিসেবে অভিহিত করা।
- তিনি জাতীয় সংসদের নেতা।
- তার নেতৃত্বে জাতীয় সংসদে আইন প্রণীত হয় এবং তার পরামর্শেই রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করে থাকেন।
- সংসদীয় সরকার আধুনিককালে জনপ্রিয় শাসন ব্যবস্থা।

⇒ এ সরকারের গুণাবলি:
১। দায়িত্বশীলতা:
- মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থায় মন্ত্রিপরিষদ আইনসভার নিকট দায়ী থাকে, ফলে সরকার দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে।

২। নমনীয়তা:
- সংসদীয় সরকার নমনীয় প্রকৃতির।
- কেননা প্রয়ােজনবােধে যে কোন সময় সরকার মন্ত্রিসভার পরিবর্তন করতে পারে।

৩। প্রতিনিধিত্ব মূলক শাসন ব্যবস্থা:
- মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার জন প্রতিনিধিত্ব মূলক শাসন ব্যবস্থা।
- নিবার্চিত প্রতিনিধিদের দ্বারা এটি গঠিত হয়।
- জনমতের উপর ভিত্তি করে শাসন পরিচালনা করে।

৪। শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক:
- সংসদীয় সরকারের শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
- মন্ত্রিসভা অতি সহজে আইন পরিষদে আইন পাস করে নিতে পারে।
- কেননা মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সদস্য।

৫। সুষ্ঠু শাসন ব্যবস্থা:
- শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযােগিতা থাকায় এ সরকার ব্যবস্থা সুষ্ঠু শাসন প্রতিষ্ঠায় সক্ষম।

৬। স্বেচ্ছাচার বিরােধী:
- সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভার ক্ষমতায় টিকে থাকা না থাকা নির্ভর করে আইন সভার আস্থা ও অনাস্থার ওপর।
- মন্ত্রীগণ সংসদের আস্থা অর্জনের জন্য শাসন কার্য পরিচালনায় মনােযােগী হয়।
- ফলে স্বেচ্ছাচারী সরকার প্রতিষ্ঠার আশংঙ্কা দূর হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৫৫৯.
বাংলাদেশের রাজধানী কোথায়?
  1. ক) ঢাকা উত্তর
  2. খ) ঢাকা দক্ষিণ
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) শেরে বাংলা নগর
ব্যাখ্যা
ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী।
সংবিধানের প্রথম ভাগে বর্ণিত প্রজাতন্ত্র অংশে ৫ নং অনুচ্ছেদ এই সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে।

অনুচ্ছেদ - ৫: রাজধানী
(১) প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা৷
(২) রাজধানীর সীমানা আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
১,৫৬০.
আইন বিভাগের কাজ নয় কোনটি?
  1. আইন প্রণয়ন
  2. বিচারিক কার্য সম্পাদন করা
  3. আইন পরিবর্তন
  4. আইন সংশোধন
ব্যাখ্যা
⇒ বিচারিক কার্য সম্পাদন করা আইন বিভাগের কাজ নয়।

আইন বিভাগ:

- বাংলাদেশ সরকারের আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন, পরিবর্তন ও সংশোধন করার অধিকার রাখে, যা সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত।
- বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থায় সংসদীয় পদ্ধতি গৃহীত হওয়ার দরুণ আইনসভাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের হাতেই নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে।
- সরকার কর্তৃক শাসনব্যবস্থা পরিচালিত করার ক্ষমতা মহান সংসদের হাতে থাকার কারণে বাংলাদেশে সংসদের সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে।
- এর অর্থ হল-আইন ও শাসন প্রণয়নগত সকল বিষয়ে সংসদ কর্তৃক গৃহীত নীতিমালাই প্রযোজ্য হবে এবং তা শাসন বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত হবে। এর ব্যতয় হওয়া সাংবিধানিকভাবে আইন লংঘনের শামিল।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সরকার কাঠামোতে বিচার বিভাগ সরকারের সকল প্রকার বিচারিক কার্য সম্পাদন করে থাকে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৬১.
ক্ষমতার উৎসের ভিত্তিতে রাষ্ট্র প্রধানত কত প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র:
- ক্ষমতার উৎসের ভিত্তিতে রাষ্ট্র প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
• গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
• একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে।
- এ ব্যবস্থা ব্যক্তি স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অংশগ্রহণ, ভোটাধিকার প্রয়োগসহ রাজনীতি চর্চার সুযোগ থাকে।

একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র:
- একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এক ব্যক্তির শাসন বহাল থাকে।
- ফলে সেই একনায়কের আদেশ-নির্দেশ উপেক্ষা করে নিজস্ব মত প্রকাশের মাধ্যমে সরকার পরিচালনা করা সম্ভব হয় না।
- জনগণ স্বাধীনভাবে রাজনীতি চর্চা করতে পাওে না, তাছাড়া এ ব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনতার কোন অবকাশও নেই।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৬২.
বর্তমানে জেলা পরিষদ প্রধানের পদবী-
  1. ক) চেয়ারম্যান
  2. খ) প্রশাসক
  3. গ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
  4. ঘ) কমিশনার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার শাসন ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ স্তর হলো জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদের প্রধান হলেন চেয়ারম্যান।
- একজন চেয়ারম্যান, পনের জন সাধারণ সদস্য এবং পাঁচজন সংরক্ষিত নারী সদস্যসহ মোট একুশজনের সমন্বয়ে জেলা পরিষদ গঠিত হয়।
- এদের সকলে জেলার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচত হন। জেলা পরিষদের মেয়াদ পাঁচ বছর।
- জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সচিবের দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)।
(সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৫৬৩.
প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা হলো—
  1. পরামর্শ ভিত্তিক
  2. সীমিত
  3. স্বতন্ত্র
  4. সংসদ নির্ভর
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কাজ:

- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান।
- প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন।
- মহাহিসাব রক্ষক, রাষ্ট্রদূত ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।
- সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি স্বাধীন (স্বতন্ত্র)।
- অন্যান্য দায়িত্বে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন।
- জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান ও স্থগিত করেন রাষ্ট্রপতি।
- প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সংসদ ভেঙে দিতে পারেন রাষ্ট্রপতি।
- সংসদ অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি ছাড়া সংসদে কোনো অর্থ বিল উত্থাপন করা যায় না।
- সংসদ অর্থ মঞ্জুর করতে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রপতি সর্বোচ্চ ৬০ দিনের জন্য অর্থ মঞ্জুর করতে পারেন।
- রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নিয়োগ দেন।
- রাষ্ট্রপতি যে কোনো আদালত/ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাজা মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করতে পারেন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,৫৬৪.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম কবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন?
  1. ক) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
  2. খ) ১১ জানুয়ারি ১৯৭১
  3. গ) ২৬ মার্চ ১৯৭২
  4. ঘ) ১২ জানুয়ারি ১৯৭২
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের কয়েকদিনের মধ্যেই মুজিবনগর প্রশাসনের সিনিয়র
আমলাবৃন্দ ঢাকায় এসে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেন।
- ২২ ডিসেম্বর মুজিবনগর সরকারের সদস্যবৃন্দ ঢাকায় আসেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তিলাভের পর লন্ডন-দিল্লি হয়ে ১০-০১-৭২ তারিখে বঙ্গবন্ধু ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন।
- ঢাকায় ফেরার পরদিন (১১.১.৭২ তারিখ রাতে) বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ‘অন্তবর্তীকালীন শাসনতন্ত্র আদেশ, ১৯৭২’ জারি করেন।
- এই আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধান বিচারপতির কাছে প্রথমে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং পরে পদত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- এভাবেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সরকার প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন।
- তখন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
- প্রধান বিচারপতি মনোনীত হন বিচারপতি আবু সাদাত মোঃ সায়েম।
- ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ১২ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করেন।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৬৫.
জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৫০ করা হয় সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. ক) পঞ্চদশ সংশোধনী
  2. খ) সপ্তদশ সংশোধনী
  3. গ) চতুর্থ সংশোধনী
  4. ঘ) ষষ্ঠদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
- ১৯৭২ সালের পর থেকে গ্ণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৭ বার সংশোধন ও পরিবর্তন করা হয়েছে।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী:- 
- পঞ্চদশ সংশোধনী আইন  সংবিধান আইন ২০১১ (পঞ্চদশ সংশোধনী) পাস হয় ২০১১ সালের ২৫ জুন।
- এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়, জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।
- এই সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্টীয় মুলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতিও দেয়া হয়।
- সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্টীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়। 

উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
১,৫৬৬.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবার জন্য সর্বনিম্ন বয়স কত?
  1. ২৫ বছর
  2. ৩০ বছর
  3. ৩৫ বছর
  4. ৪০ বছর
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রার্থীর বয়স ন্যূনতম ৩৫ বছর হতে হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বয়স:

- বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের (৪)(ক) দফা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রার্থীর বয়স অন্তত ৩৫ বছর হতে হবে।
- এর নিচে বয়স হলে কেউ রাষ্ট্রপতির পদে প্রার্থী হতে পারবেন না।
- রাষ্ট্রপতি হতে হলে তাকে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য হতে হবে এবং
- তিনি যদি আগে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকেন, তবে তিনিও অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

এছাড়াও, 
→ ভোটার হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর।
→ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হবার ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৬৭.
বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় 'জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট' পদ সৃষ্টি হয় কোন সালে?  
  1. ২০০৬ সালে
  2. ২০০৭ সালে
  3. ২০০৮ সালে
  4. ২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা

• নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা:
- নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের জন্য মামলা হয় ১৯৯৫ সালের ১৯ নভেম্বর। 
- এই মামলাটি 'মাসদার হোসেন বনাম বাংলাদেশ' নামে পরিচিত। 
- নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান ঘটে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাজদার হোসেন মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রদত্ত রায়ের মাধ্যমে।
- ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের লক্ষ্যে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পদ সৃষ্টি করে ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধনী) অধ্যাদেশ ২০০৭ জারি করে। 
- যা ২০০৯ সালে আইনে পরিণত হয়।

উল্লেখ্য,
- রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম।
- নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শেষ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
(১) উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
(২) অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বিবিসি বাংলা ও পত্রিকা রিপোর্ট। 

১,৫৬৮.
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের বর্তমান কাঠামোটির উদ্ভব ঘটে কোন আমলে?
  1. পাকিস্তান আমলে
  2. সুলতানি আমলে
  3. মুঘল আমলে
  4. ব্রিটিশ আমলে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:
- বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ইতিহাস দেখায় যে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের বর্তমান কাঠামোটির উদ্ভব ঘটে।

উল্লেখ্য,
-  ব্রিটিশ শাসনের সময় ১৮৭০ সালে বাংলার গ্রাম চৌকিদারি আইন পাস হয় প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে। তখন আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার সংস্থা প্রতিষ্ঠা শুরু হয়। এই আইনের অধীনে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি ইউনিয়ন এবং চৌকিদারি পঞ্চায়েত (সংগঠন) গঠিত হয়। 
- ১৮৮৫ সালে কর্তৃপক্ষ Bengal Local Self Government Act আইন পাস করেন। এই আইনের অধীনে ইউনিয়ন কমিটি, স্থানীয় সরকার বোর্ড এবং জেলা বোর্ড সেটার ছিল।
- ১৯১৯ সালের The Bengal Village Self- Government Act আইনটি চৌকিদার পঞ্চায়েত ও ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করে এবং তাদের জায়গায় ইউনিয়ন বোর্ড ও জেলা বোর্ড গঠন করে। 
- পাকিস্তান সময়কালে ১৯৫৯  সালের Basic Democracy Order আইনের অধীনে স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলি চারটি টায়ারে স্থাপন করা হয়েছিল। ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ, থানা পর্যায়ে থানা কাউন্সিল, জেলা পর্যায়ে জেলা পরিষদ এবং বিভাগীয় স্তরে বিভাগীয় কাউন্সিল। 
- ১৯৬১ সালের Muslim Family and Marriage Ordinance আইন অনুসারে ইউনিয়ন কাউন্সিলকে সমঝোতা আদালত প্রতিষ্ঠা করার ক্ষমতা দেওয়া হয় এবং সদস্যদেরকে বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়।
- থানা পর্যায়ে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৮২ সালে উপজেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮২ সালে চালু হওয়া উপজেলা পদ্ধতি ১৯৯১ সালে বিলুপ্ত হয়।
- বর্তমানে  নির্বাচিত  স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। 

উৎস: স্থানীয় সরকার বিভাগ ওয়েবসাইট।
১,৫৬৯.
রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে একজন প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে কত বছর হতে হবে?
  1. কমপক্ষে ২৫ বছর
  2. কমপক্ষে ৩০ বছর
  3. কমপক্ষে ৩৫ বছর
  4. কমপক্ষে ৪০ বছর
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ:
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ হল এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা।
- সারাদেশ থেকে নির্বাচিত ৩০০ সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত ৫০ জন নারী সংসদ সদস্য নিয়ে এই জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
- পূর্ণ মেয়াদে প্রতি পাঁচ বছর পর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে একজন প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে। (৪৮ এর ৪ নং অনুচ্ছেদ)
- প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ২৫ বছর হওয়ার শর্ত দেশের সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত।
- আইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধনের জন্য যথাক্রমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের সম্মতি থাকতে হয়।

উৎস: i) পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৭০.
একনেক এর বিকল্প সভাপতি কে?
  1. পরিকল্পনামন্ত্রী
  2. বাণিজ্যমন্ত্রী
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. অর্থমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
ECNEC:
- ECNEC এর পূর্ণ অভিব্যাক্তি - Executive Committee of the National Economic Council.
- একনেক ১৯৮২ সালে গঠিত হয়।
- এর চেয়ারম্যান বা প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- বিকল্প সভাপতি হলেন- অর্থমন্ত্রী।
- সদস্য হচ্ছেন- পরিকল্পনা মন্ত্রী।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫৭১.
অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে দেশের নিরাপত্তা বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম হলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন কে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. সেনাবাহিনী
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা

- অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে দেশের নিরাপত্তা বা শান্তি বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম হলে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।

রাষ্ট্রপতি: 

- রাষ্ট্রপতি হলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান।
- রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে নির্বাচিত হন।
- তাঁর কার্যকাল পাঁচ বছর।
- রাষ্ট্রপতি পুনঃনির্বাচিত হতে পারেন। তবে একাদিক্রমে হউকবা না হউক কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারেন না।
- সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর কোনো অভিযোগে জাতীয় সংসদ অভিশংসনের (অপসারণ পদ্ধতি) মাধ্যমে তাঁকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অপসারণ করতে পারে।
- যুদ্ধ বা অন্য দেশ কর্তৃক আক্রান্ত হলে বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে দেশের নিরাপত্তা বা শান্তি বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম হলে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন
- তবে এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি প্রয়োজন হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, ৫৭ পৃষ্ঠা।

১,৫৭২.
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তর কোনটি?
  1. ক) জেলা পরিষদ
  2. খ) সিটি কর্পোরেশন
  3. গ) উপজেলা পরিষদ
  4. ঘ) ইউনিয়ন পরিষদ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে বর্তমানে ৩ স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা চালু আছে।
যথা -
- প্রথম স্তর/সর্বনিম্ন স্তর - ইউনিয়ন পরিষদ
- দ্বিতীয় স্তর- উপজেলা পরিষদ
- তৃতীয় স্তর/সর্বোচ্চ স্তর - জেলা পরিষদ


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (SSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৭৩.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ পত্র প্রদান করেন কার নিকট?
  1. ক) প্রধান বিচারপতি
  2. খ) রাষ্ট্রপতি
  3. গ) স্পিকার
  4. ঘ) অ্যাটর্নি জেনারেল
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ-৫৭: প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ
 (১) প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি- 
 (ক) তিনি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন; অথবা 
 (খ) তিনি সংসদ-সদস্য না থাকেন। 
 
(২) সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারাইলে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করিবেন কিংবা সংসদ ভাংগিয়া দিবার জন্য লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শদান করিবেন এবং তিনি অনুরূপ পরামর্শদান করিলে রাষ্ট্রপতি, অন্য কোন সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন নহেন এই মর্মে সন্তুষ্ট হইলে, সংসদ ভাংগিয়া দিবেন। 
 
(৩) প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই অযোগ্য করিবে না।

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৭৪.
সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কত দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়?
  1. ৩০ দিন
  2. ৪৫ দিন
  3. ৫০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা

সংসদ আহবান:
- রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।
- সংসদের এক অধিবেশনের শেষ এবং পরবর্তী অধিবেশনের শুরুর মধ্যে সর্বোচ্চ বিরতি হবে ৬০ দিন।
- সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহ্বান করা হবে।
- একাধারে কোনো সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে ৯০টি কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে তাহার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।
- দেশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবনে হুমকির কারণে জরুরি অবস্থা (সর্বাধিক ১২০ দিনের জন্য) ঘোষিত হতে পারে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এস এস এইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের সংবিধান।

১,৫৭৫.
দ্বাদশ জাতীয় সংসদে দেশের বিরোধী দল কোনটি?
  1. তৃণমূল বিএনপি
  2. প্রগতিশীল ইসলামী জোট
  3. বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি
  4. জাতীয় পার্টি
ব্যাখ্যা
বিরোধী দল:
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তারা সরকার গঠন করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- বাকি দলগুলো বিরোধী দল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অপরিহার্য।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার সমূহ আশঙ্কা থাকে।
- গণতন্ত্র রক্ষায় বিরোধীদলের বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য,
- ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২৩টি আসনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করেছে।
- নির্বাচনে জাতীয় পার্টি পেয়েছে ১১টি আসন।
- দ্বাদশ জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি।
- বিরোধী দলের নেতা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের।
- একই দলের কো-চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ৩০ জানুয়ারি, ২০২৪, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।
১,৫৭৬.
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়?
  1. নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়
  2. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
  3. যোগাযোগ মন্ত্রণালয়
  4. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড:
-‘কোস্ট গার্ড এ্যাক্ট ১৯৯৪’ মহান জাতীয় সংসদে পাশ করার মাধ্যমে বাংলাদেশে কোস্ট গার্ড গঠন করা হয়।
- এবং ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিতে "GUARDIAN AT SEA" মূলমন্ত্রে  একটি আধাসামরিক স্বতন্ত্র বাহিনী হিসাবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড তার যাত্রা শুরু করে।

- এ বাহিনীর কার্যাবলীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- বাংলাদেশের জাতীয় জলসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যুতা দমন,
- মাদকদ্রব্য পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধ,
- মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ,
- সমুদ্রবন্দরের নিরাপত্তা প্রদান,
- প্রাকৃতিক দূর্যোগকালে উপকূলীয় এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ পরিচালনা
- এবং তেল, গ্যাস ও বনজ সম্পদ রক্ষাসহ উপকূলীয় পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ।
- কোস্ট গার্ডের প্রধানকে মহাপরিচালক বলা হয়।
- বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত প্রতিষ্ঠান।

তথ্যসূত্র: কোস্ট গার্ড ওয়েবসাইট।

১,৫৭৭.
কে. এম. নূরুল হুদা বাংলাদেশের কততম প্রধান নির্বাচন কমিশনার?
  1. ক) ১০তম
  2. খ) ১১তম
  3. গ) ১২তম
  4. ঘ) ১৩তম
ব্যাখ্যা

- বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে. এম. নূরুল হুদা বাংলাদেশের ১২তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
- তিনি ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে নিয়োগ পান।
- তিনি ১১তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের স্থলাভিষিক্ত হন।
উৎসঃ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট।

১,৫৭৮.
কাস্টিং ভোটের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. সংসদীয় অচলাবস্থা দূর করা
  2. সরকারের প্রস্তাব পাশ করানো
  3. বিরোধীদের সন্তুষ্ট করা
  4. রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

কাস্টিং ভোট:
- সংসদে কখনো কখনো কোন বিষয়ে দু পক্ষের হা অথবা না ভোটের সংখ্যা সমান হয়ে যেতে পারে।
- এমন অবস্থায় স্পীকার নিজের ভোট দিয়ে সংসদের অচলাবস্থা দূর করেন।
- অন্যভাবে বলা যায়, কোন বিলের ভোটাভুটিতে যখন পক্ষে বিপক্ষে সমান ভোট পরে, তখন স্পিকার সংসদের সভাপতি হিসেবে তার ভোট প্রয়োগ করেন।
- একে নির্ণায়ক বা কাস্টিং ভোট বলে।
- এ ব্যতীত অন্যকোন ক্ষেত্রে স্পিকার তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না।
- স্পিকারের এই ভোটটিই হলো 'কাস্টিং বা নির্ণায়ক ভোট'।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এর ৭৫ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী:
”উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংসদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্র ব্যতীত সভাপতি (স্পিকার) ভোটদান করিবেন না এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তিনি নির্ণায়ক (casting) ভোট প্রদান করিবেন।”

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

১,৫৭৯.
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্যে ন্যূনতম কত বছর বয়স্ক হতে হয়?
  1. ১৮ বছর
  2. ২৫ বছর
  3. ৩০ বছর
  4. ৩৫ বছর
ব্যাখ্যা
- স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন-২০০৯ অনুসারে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নির্বাচনের জন্যে ন্যূনতম ২৫ বছর হতে হয়।

- সংবিধানের ৬৬(১) নং অনুচ্ছেদ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হওয়ার ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর।
- সংবিধানের ৪৮(৪) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
১,৫৮০.
নির্বাচন কমিশনের কাজ -
  1. ভোটার তালিকা প্রণয়ন
  2. নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ
  3. ভোটার তালিকা সংশোধন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
নির্বাচন কমিশনের কাজ:
- রাষ্ট্রপতি, সংসদ সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে।
- ভোটার তালিকা প্রণয়ন।
- নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ করবে।
- ভোটার তালিকা সংশোধন।
- নির্বাচন সংক্রান্ত সকল বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করতে পারবে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৮১.
বাংলাদেশ সংসদে বর্তমানে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আসন সংখ্যা কতটি? [জানুয়ারি - ২০২৫]
  1. ৩৫০টি
  2. ৩০০টি
  3. ২৫০টি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সংসদে বর্তমানে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আসন সংখ্যা ৩০০টি। 

সংসদীয় আসন:

- বাংলাদেশের ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি সংসদীয় আসন রয়েছে।
- ২০টি আসন রয়েছে ঢাকা জেলায়।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
- এর মধ্যে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আসন সংখ্যা ৩০০টি।
- জাতীয় সংসদের ৩০০ নং আসন হলো বান্দরবান।
- ১ নং আসন হলো পঞ্চগড়-১।
- বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।

সূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট।
১,৫৮২.
সংবিধান অনুযায়ী কোন অপরাধে ন্যূনতম কত বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত নাগরিক সংসদ সদস্য হতে পারবেন না?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা

সংসদ সদস্য হবার যোগ্যতা:
- সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২৫ বছর বয়স্ক বাংলাদেশী যেকোন নাগরিক সংসদ সদস্য হবার যোগ্যতা রাখে।
- অপ্রকৃতিস্থ, দেউলিয়া, বিদেশী নাগরিকত্ব অর্জন, কোন অপরাধে ২ বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত নাগরিক সংসদ সদস্য হতে পারবেন না।
- সংসদের মেয়াদ ৫ বছর। তবে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন।
- অধিবেশন আরম্ভ করার জন্য ৬০ সদস্যের উপস্থিতিতে কোরাম পূর্ণ হতে হয়।
- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল সরকারি দলের এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসনে বিজয়ী দল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। সংসদ সদস্যগণ অনেকে একই সাথে হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
- কোন সংসদ সদস্য নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগ দাখিল করলে অথবা একাধারে ৯০ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত থাকলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে।
- তাছাড়া তিনি যে দল থেকে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে সে দলের বিপক্ষে ভোট দান করলেও তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৮৩.
কোনটি নাগরিকের কর্তব্য নয়?
  1. রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য
  2. রাষ্ট্রের সেবা করা
  3. বাজেট প্রণয়ন
  4. কর প্রদান করা
ব্যাখ্যা
• অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিকরা যেসব দায়িত্ব পালন করে, তাকে কর্তব্য বলে।
- নাগরিকের কর্তব্যকে দুভাগে ভাগ করা যায়।

• নৈতিক কর্তব্য:
- নৈতিক কর্তব্য মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে সৃষ্টি হওয়ায় এগুলোকে নৈতিক কর্তব্য বলে।
-যেমন-
- নিজে শিক্ষিত হওয়া 
- সন্তানদের শিক্ষিত করা,
-সততার সাথে ভোট দান,
- রাষ্ট্রের সেবা করা,
- বিশ্বমানবতার সাহায্যে এগিয়ে আসা। 

• আইনগত কর্তব্য:
- রাষ্ট্রের আইন দ্বারা আরোপিত কর্তব্যকে আইনগত কর্তব্য বলে।
যেমন-
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য,
- আইন মানা,
- কর প্রদান করা।

উৎস : পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,৫৮৪.
রাষ্ট্রের অপরিহার্য কাজ নিচের কোনটি?
  1. রাষ্ট্র বাজেট প্রণয়ন
  2. মুদ্রাস্ফীতি রোধ
  3. সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রের অপরিহার্য বা মুখ্য কার্যাবলি:
- অপরিহার্য বা মুখ্য কার্যাবলি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রে বসবাসরত জনগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্র যে সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেগুলোকে অপরিহার্য বা মুখ্য কাজ বলা হয়।

→ রাষ্ট্রের অপরিহার্য কাজগুলো নিম্নরূপ:
- দেশ রক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন ও পরিচালনা।
- রাষ্ট্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ ও অন্যান্য আধা-সামরিক বাহিনী গড়ে তোলা।
- জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।
- বিদেশে অবস্থানরত দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সেবা প্রদান করা ইত্যাদি হচ্ছে রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিষয়ক অপরিহার্য কাজ।
- আইন প্রণয়ন, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের মৌলিক কাজ।
- অর্থ ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অর্থ সংগ্রহ ও বণ্টন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
- রাষ্ট্র বাজেট প্রণয়ন।
- মুদ্রা প্রবর্তন ও মুদ্রা বিনিয়োগের ব্যবস্থা।
- গণনা ও পরিমাপের একক নির্ধারণ।
- মুদ্রাস্ফীতি রোধ।
- নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে।

→ রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কার্যাবলি:
- মহাসড়ক নির্মাণ,
- শিক্ষানীতি প্রণয়ন,
- রোগ প্রতিষেধক টিকা প্ৰদান৷

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি৷

১,৫৮৫.
নিচের কোনটি সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াকে নির্দেশ করে?
  1. জিটুজি
  2. জিটুবি
  3. জিটুসি
  4. জিটুই
ব্যাখ্যা
- জিটুজি (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট) হলো সরকারের সাথে সরকারের বা সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যকার মিথস্ক্রিয়া।
অন্যদিকে,
- জিটুসি (গভর্নমেন্ট টু সিটিজেন) সরকারের সাথে নাগরিক বা ব্যক্তির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বা মিথস্ক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
- জিটুই (গভর্নমেন্ট টু এমপ্লয়ি) সরকারের সাথে সরকারি কর্মচারীদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
- জিটুবি হলো সরকারের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের সম্পর্ক।
(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
১,৫৮৬.
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ) কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ২৫ মার্চ, ২০১০
  2. ১৫ নভেম্বর, ২০১০
  3. ১ সেপ্টেম্বর, ২০১০
  4. ৭ নভেম্বর, ২০১০
ব্যাখ্যা

• আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ):
- ২০১০ সালের ২৫শে মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন ১৯৭৩-এর ৬ ধারার বলে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় ।
- ২০১০ সালে গঠনের পর নানা আলােচনা এবং ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
-  ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য পুনর্গঠন করে একই ট্রাইব্যুনাল।
- পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলা হয়।
- ২০২৪ সালের ১৭ই অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। 


তথ্যসূত্র: 
i) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ)।
ii) BBC.

১,৫৮৭.
কোনটি বিচার বিভাগের কাজের আওতাধীন নয়?   
  1.  সংবিধান প্রণয়ন
  2. আইনের ব্যাখ্যা
  3. আইন প্রয়োগ
  4. সংবিধানের ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা

- বিচার বিভাগ আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করে, আইন প্রয়োগ করে এবং সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান করে কিন্তু সংবিধান প্রণয়ন করেনা।

• বিচার বিভাগ:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হচ্ছে বিচার বিভাগ।
- সরকারের যে বিভাগ প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল বিচারকার্য সম্পন্ন করে তাকে বিচার বিভাগ বলে।

⇒ বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
• উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
• অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।

⇒ বিচার বিভাগের কার্যাবলি:
১. বিচার সংক্রান্ত কাজ।
২. আইন সংক্রান্ত কাজ।
৩. শাসন সংক্রান্ত কাজ করা।
৪. পরামর্শ সংক্রান্ত কাজ।
৫. জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা।
৬. তদন্ত সংক্রান্ত কাজ
৭. সংবিধান সংরক্ষণ
৮. ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা।

তথ্যসূত্র:
i) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৮৮.
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি কততম প্রধান বিচারপতি?
  1. ২৭
  2. ২৬
  3. ২৪
  4. ২৮
ব্যাখ্যা

প্রধান বিচারপতি:
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি ২৬তম প্রধান বিচারপতি।
- দেশের বর্তমান ২৬তম প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
- ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে জুবায়ের রহমান চৌধুরী দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

⇒ দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
- প্রজ্ঞাপনের তারিখ—২৩ ডিসেম্বর ২০২৫।
- প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফার ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে দেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেছেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম করেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি ১৯৮৫ সালে জজকোর্টে, ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হন। ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হন। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন।

উল্লেখ্য,
- সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান মহামান্য রাষ্ট্রপতি। প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করেই অন্যান্য বিচারপতি দের নিয়োগ দেয়া হয়।
- বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্যে ন্যূনতম দশ বছর সুপ্রিমকোর্টে অ্যাডভোকেট বা দেশের বিচার বিভাগীয় পদে দশ বছর নিযুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়।

উৎস: i) সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

১,৫৮৯.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নির্বাহী বিভাগের মূল দায়িত্ব কোনটি?
  1. আইন কার্যকর
  2. আইন প্রণয়ন
  3. সংবিধান সংশোধন
  4. আইন ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা

♦নির্বাহী বিভাগ:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় আইনসভা, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ পৃথক ক্ষমতার কাঠামো হিসেবে কাজ করে।
• আইনসভা আইন প্রণয়ন করে,
• বিচার বিভাগ আইনের ব্যাখ্যা দেয়,
•আর নির্বাহী বিভাগ আইন কার্যকর করে।
----------------------------------------
- নির্বাহী বিভাগের মূল দায়িত্ব হলো আইন বাস্তবায়ন করা।
- তারা আইন প্রণয়ন বা ব্যাখ্যার কাজ করে না—এগুলোর দায়িত্ব যথাক্রমে আইনসভা ও বিচার বিভাগের।
- নির্বাহী বিভাগ মূলত প্রশাসন পরিচালনার মাধ্যমে রাষ্ট্রের কার্যক্রম সচল রাখে।
--------------------------------------------
♦নির্বাহী বিভাগের প্রধান দায়িত্বসমূহ:
- আইন বাস্তবায়ন: আইনসভায় পাস হওয়া আইন কার্যকর করে জনগণের জীবনে প্রয়োগ করা।
- রাষ্ট্র পরিচালনা: রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভা মিলে দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
- নীতি বাস্তবায়ন: সরকারের গৃহীত নীতি, নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা।
- স্থিতিশীলতা রক্ষা: আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
- নির্বাহী বিভাগের অধীন বিস্তৃত প্রশাসনিক কাঠামো দেশের সর্বত্র আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৯০.
বাংলাদেশ সরকারের সকল কার্যাদি কার নামে সম্পাদিত হয়?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. স্পীকার
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. আইন সভা
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের প্রধান হওয়ায় সরকারের সকল কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদিত হয়।

রাষ্ট্রপতির শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতা:
- রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিভাগের সর্বাধিনায়ক।
- রাষ্ট্রের প্রধান হওয়ায় সরকারের সকল কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদিত হয়।
- প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও তিনি অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীকে নিয়োগ প্রদান করেন।
- এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে তিনি প্রধান বিচারপতি, এটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ দান করে থাকেন।
- তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন।

সূত্র: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯১.
কে ‘কালেক্টর’ নামে পরিচিত?
  1. জেলা প্রশাসক
  2. পৌরসভার মেয়র
  3. সিটি কর্পোরেশনের মেয়র
  4. উপজেলা নির্বাহী অফিসার
ব্যাখ্যা
জেলা প্রশাসক:
- জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক বা ডেপুটি কমিশনার হিসাবে পরিচিত।
- তিনি একাধারে জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (District Magistrate), জেলা কালেক্টর (District Collector) ও ডেপুটি কমিশনার (Deputy Commissioner)।
- তিনি প্রশাসন, পরিকল্পনা, উন্নয়ন এবং সরকারি নিয়ম পদ্ধতির সমন্বয়কারী এবং প্রশাসন কাডারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
- ফলে তিনি একইসাথে আইনশৃঙ্খলা, ভূমি প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং সাধারণ ও স্থানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।
- জেলা প্রশাসক জেলাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রতিনিধি। 
- তিনি সরাসরি রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগকারী ক্ষমতাপ্রাপ্ত জেলার একমাত্র কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশ ও তত্ত্বাবধানে কাজ করেন। 
- ডেপুটি কমিশনার হিসাবে জেলায় পোস্টিং পাওয়ার আগে তিনি সহকারী কমিশনার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অতিরিক্ত ডেপুটি  কমিশনার পদে এবং সচিবালয়ে সহকারী সচিব ও উপসচিব  পদে  দায়িত্ব পালন করেন। 

উল্লেখ্য,
- স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক ইউনিটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জেলা ইউনিট।
 - প্রসঙ্গত, ডিসিদের জেলায় তিন ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হয়। ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর, ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কমিশনার। অর্থাৎ রাজস্ব আদায়, বিচার সংক্রান্ত এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের সমন্বয়। প্রথম ও দ্বিতীয় দায়িত্বটি দুইশ বছরের বেশি সময় আগের, যা ব্রিটিশ কোম্পানি শাসনামলের। শেষোক্ত দায়িত্বটি যোগ হয়েছে পাকিস্তান আমলে। ২০০৭ সালে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পর হলে ডিসিরা শুধু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসির দায়িত্বে থাকেন।

উৎস: i) Comptroller and Auditor General of Bangladesh ওয়েবসাইট। 
ii) The Daily Star Bangla.
১,৫৯২.
বর্তমানে দেশে কয়টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে? [মার্চ, ২০২৫]
  1. ১০টি
  2. ১১টি
  3. ১২টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা
সিটি কর্পোরেশন: 
- ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, কুমিল্লা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহ পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা হয়েছে।
- ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে আইনের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ নামে দুটি কর্পোরেশন হিসেবে বিভক্ত করা হয়েছে।
- বর্তমানে দেশে ১২টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে
- সিটি কর্পোরেশনের এলাকা ও কাজের ওপর এর সদস্যসংখ্যা নির্ভর করে।
- কর্পোরেশনে একজন মেয়র আছেন।
- তাঁরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।
- শহরের নানাবিধ সমস্যা, যেমন- পানীয়জলের ব্যবস্থা, পয়ঃনিষ্কাশন, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য সিটি কর্পোরেশন গঠন করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৫৯৩.
সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের কত দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৬০ দিন 
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা

প্রথম অধিবেশন:
- বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়।
- এটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭২(২)-এ উল্লেখিত।
- রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী এটি করেন।

উল্লেখ্য,
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনের এক দিন পরেই বিজয়ী প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে ১৪ মার্চের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ নেন ১৭ ফেব্রুয়ারি। 
- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে ১২ মার্চ অথবা এর দু-এক দিন আগে। এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের অধ্যাদেশসমূহ উপস্থাপন করা হবে এবং শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। 

উৎস: i) বাংলাদেশ সংবিধান। 
ii) প্রথম আলো।

১,৫৯৪.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সর্বাধিক সংসদীয় আসন রয়েছে? 
  1. রাজশাহী 
  2. ঢাকা 
  3. চট্টগ্রাম 
  4. কুমিল্লা 
ব্যাখ্যা

• সংসদীয় আসন: 
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা- ৩৫০টি।
- এর মধ্যে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আসন সংখ্যা- ৩০০টি।
- সংরক্ষিত মহিলা আসন ৫০টি।
- জাতীয় সংসদের ৩০০তম আসন হলো বান্দরবান।
- ১ নং আসন হলো পঞ্চগড়-১।
- বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।
- সর্বোচ্চ ২০টি আসন রয়েছে ঢাকা জেলায়। 
- চট্টগ্রাম জেলায় সংসদীয় আসন ১৬টি।
- রাজশাহী জেলায় সংসদীয় আসন ৬টি।
- কুমিল্লা জেলায় সংসদীয় আসন ১১টি।

তথ্যসূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট।

১,৫৯৫.
বাংলাদেশে একজন ভোটারের সর্বনিম্ন বয়স কত?
  1. ১৬ বছর
  2. ১৮ বছর
  3. ২০ বছর
  4. ২১ বছর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান মতে- 
- বাংলাদেশের একজন ভোটারের সর্রনিম্ন বয়স ১৮ বছর, 
- বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ২৫ বছর,
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ২৫ বছর, 
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ৩৫ বছর। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৯৬.
মন্ত্রণালয়ের কাজ সম্পর্কে মন্ত্রীকে কে অবহিত করেন?
  1. ক) উপসচিব
  2. খ) যুগ্ন সচিব
  3. গ) অতিরিক্ত সচিব
  4. ঘ) সচিব
ব্যাখ্যা
প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে একজন মন্ত্রী এবং এক বা একাধিক প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর হাতে। মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রধান। মন্ত্রীর পরই অবস্থান হলো সচিবের। তিনি হলেন মন্ত্রী প্রধান পরামর্শদাতা ও উপদেষ্টা। সচিব মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের ক্ষেত্রে মন্ত্রীকে সহায়তা প্রদান করে থাকেন। সচিব মন্ত্রণালয়ের কাজ সম্পর্কে সব সময় মন্ত্রীকে অবহিত রাখেন। সচিব মন্ত্রণালয়ের জন্য সঠিক নীতি নির্ধারণের লক্ষ্যে সকল তথ্য, উপাত্ত ও পরিসংখ্যান মন্ত্রীকে সরবরাহ করে থাকেন।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৫৯৭.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. স্পিকার
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. উপরের কেউ নন
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী:
- রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান স্পিকার।
- স্পিকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি।
- প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপ মন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি।
- সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান স্পিকার।
- প্রধান বিচারপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫৯৮.
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ করা হয় কত সালে? 
  1. ১লা জানুয়ারি, ২০০৭ সাল
  2. ১লা ডিসেম্বর, ২০০৭ সাল
  3. ১লা নভেম্বর, ২০০৭ সাল
  4. ১লা সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সাল
ব্যাখ্যা

- ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ করা হয়।

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ:

- মূলত বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য ১৯৯৪ সালে একটি রিট মামলা করেছিলেন জেলা জজ ও জুডিশিয়াল এসোসিয়েশনের তৎকালীন মহাসচিব মাসদার হোসেন।
- সেই মামলাটি 'মাসদার হোসন মামলা' নামে পরিচিত, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে যার চূড়ান্ত রায় হয়েছিল ১৯৯৯ সালে।
- রায়ের আট বছর পর ১লা নভেম্বর, ২০০৭ সাল মূল নির্দেশনাটি বাস্তবায়ন করে বিচার বিভাগকে আলাদা করা হয়েছিল।
- নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।

উৎস: বিবিসি বাংলা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৫৯৯.
সরকারের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কে?
  1. ক) আইনমন্ত্রী
  2. খ) প্রধান বিচারপতি
  3. গ) আইন প্রতিমন্ত্রী
  4. ঘ) অ্যাটর্নি জেনারেল
ব্যাখ্যা
অ্যাটর্নি জেনারেল

- সরকারের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
- অ্যাটর্নি জেনারেল প্রজাতন্ত্রের পক্ষে বাংলাদশের রাষ্ট্রপতিকে আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত প্রদান করেন।
- তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা।
- অ্যাটর্নি জেনারেলের কাজ হলো প্রজাতন্ত্রের পক্ষে আইনি ব্যাখ্যা প্রদান।
- অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ করা হয় আদালতে সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য।
- অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতির নিকট লিখিত স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৬০০.
দুর্নীতি দমন কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান কে?
  1. আছিয়া খাতুন
  2. মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ
  3. নিশাত মজুমদার
  4. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি দমন কমিশন:
- দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ৯ মে দুদক আইন কার্যকরের মাধ্যমে পূর্বেকার দুর্নীতি দমন ব্যুরোর স্থলে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হয়।
- এটি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান।
- এর কার্যালয়: ঢাকার সেগুনবাগিচা।

- দুর্নীতি দমন কমিশন একজন চেয়ারম্যান ও দুইজন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত।
- মহামান্য রাষ্ট্রপতি তিনজন কমিশনারের মধ্যে হতে একজনকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করে থাকেন।
- দুর্নীতি দমন কমিশনের নতুন চেয়ারম্যানের নাম মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আব্দুল্লাহ।

- দুদক আইন ২০০৪ এর ৭ ধারা অনুযায়ী গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ৫ (পাঁচ) বছর মেয়াদের জন্য নিয়োগ প্রাপ্ত হন।
- দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার যথাক্রমে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমান মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন।

উৎস: দুর্নীতি দমন কমিশন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।[link]