বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা

মোট প্রশ্ন১,৮৩৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা

PrepBank · পাতা ১০ / ১৯ · ৯০১১,০০০ / ১,৮৩৫

৯০১.
বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের পরিবর্তন বা সংশোধন কার উপর ন্যস্ত?
  1. সুপ্রিমকোর্ট
  2. জাতীয় সংসদ
  3. হাইকোর্ট
  4. আইন মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
• জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:

• বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত।
- সংসদ যেকোনো নতুন আইন প্রণয়ন, প্রচলিত আইনের পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে।
- কোনো নতুন আইন পাশ করতে হলে খসড়া বিলের আকারে তা সংসদে পেশ করা হয়। সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে বিলটি গৃহীত হওয়ারপর এবং বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর তা' আইনে পরিণত হয়।

• জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রম তদারকি করে।
- প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ সংসদের নিকট দায়ী থাকেন।
- কোনো কারণে সংসদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা আনলে মন্ত্রিসভা ভেঙে যায়। মুলতুবি

• জাতীয় সংসদের অনুমতি ছাড়া কোনো কর বা খাজনা আরোপ ও আদায় করা যায় না।
- সংসদ প্রতিবছর জাতীয় বাজেট পাস করে।
- অর্থমন্ত্রী বাজেটের খসড়া সংসদে উপস্থাপন করেন। সংসদ সদস্যগণ দীর্ঘ বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ তা পাশ করেন।

•  জাতীয় সংসদের বিচারসংক্রান্ত ক্ষমতা রয়েছে। কোনো সংসদ সদস্য অসংসদীয় আচরণ করলে স্পিকার তাঁকে বহিষ্কার করতে পারেন।
- তাছাড়া সংবিধান লঙ্ঘন করলে সংসদ রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে পারে এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে।

•  সংসদ সংবিধানে উল্লিখিত নিয়মের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে পারে। তবে এজন্য সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের দরকার হয়।
• জাতীয় সংসদের সদস্যগণ সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদের বিভিন্ন কমিটির সদস্যদের নির্বাচিত করেন।
- সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যগণও সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হয়ে থাকেন।
- এ ছাড়া সংসদ সদস্যগণ দেশের রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচন করে থাকেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।
৯০২.
নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য নয় কোনটি?
  1. রোগীর সেবা
  2. আইন মেনে চলা
  3. ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান
  4. শোকার্তকে সান্ত্বনা প্রদান
ব্যাখ্যা
• নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য নয় আইন মেনে চলা।

বাংলাদেশের নাগরিকতা:
- বাংলাদেশের নাগরিকতা প্রধানত জন্মসূত্রে নির্ণয় করা হয়।
- বাংলাদেশে জন্ম নেয়া সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।

নাগরিকের কর্তব্য:
- কর্তব্য বলতে নাগরিকের দায়িত্ব বোঝায়।
- নাগরিকগণ যেমন রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্যও রয়েছে।
নাগরিক কর্তব্য দুই ভাগে বিভক্ত।
- যথা: (ক) নৈতিক কর্তব্য (খ) আইনগত কর্তব্য।

নৈতিক কর্তব্য:
- ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান, রোগীর সেবা,
- শোকার্তকে সান্ত্বনা প্রদান,
- দুর্যোগ, মহামারী, বন্যা, খরা ও দুর্ভিক্ষের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।

আইনগত কর্তব্য:
- নির্বাচনে ভোটদান করা,
- আইন মেনে চলা,
- নিয়মিত কর প্রদান করা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৩.
মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রককে শপথ বাক্য পাঠ করান -
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. স্পিকার
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:

রাষ্ট্রপতি শপথ বাক্য পাঠ করান:
- প্রধানমন্ত্রী।
- প্রধান বিচারপতি।
- মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ।
- স্পিকার।
- ডেপুটি স্পিকার।

প্রধান বিচারপতি শপথ বাক্য পাঠ করান:
- আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ।
- পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ।
- মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারবৃন্দ।

স্পিকার শপথবাক্য পাঠ করান:
- রাষ্ট্রপতি।
- সংসদ সদস্যবৃন্দ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ সংবিধান।
৯০৪.
জাতীয় সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন- 
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. স্পীকার
  4. আইনমন্ত্রী
ব্যাখ্যা

জাতীয় সংসদ: 
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭২(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।
- তবে এক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করবেন।
- নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ও নতুন বছরের অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণদান করেন।
- রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে আলোচনা হয়। সময়ে সময়ে রাষ্ট্রপতি সংসদে বাণী প্রেরণ করেন।
- তিনি সংসদ মুলতবি রাখতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে তিনি সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  জাতীয় সংসদের নেতা।
- মাননীয় স্পিকার  সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- আর চিপ হুইপ সংসদ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় বিধানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৯০৫.
আইন বিভাগের প্রধান কাজ কোনটি?
  1. সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন
  2. শাসন বিভাগ নিয়ন্ত্রণ
  3. ক ও খ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদের কার্যাবলী:
- বাংলাদেশের আইনসভাকে জাতীয় সংসদ বলে আখ্যা দেয়া হয়।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ মূলত: সংসদীয় গণতন্ত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- সংসদীয় গণতন্ত্রের মূলনীতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হলেন প্রধান নির্বাহী।
- জাতীয় সংসদের কার্যাবলি সংবিধান প্রণীত নীতি অনুযায়ী সংঘটিত হয়। আইন প্রণয়ন হলো জাতীয় সংসদের প্রধান কাজ। 
- সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত।
- বাংলাদেশের আইনসভার কার্যাবলিসমূহ সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত।

• আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কার্যাবলি: আইন প্রণয়ন করার কাজটি আইন সভার প্রধান কাজ। বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আইন বিভাগ এই কাজটি করে থাকে। এই বিভাগটি নতুন আইন প্রণয়ন ও পুরাতন আইন বাতিলের ক্ষমতা রাখে।

• সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন: বাংলাদেশের আইন সভা সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে। দেশের সংবিধান উল্লিখিত দুইটি ক্ষমতাই আইন সভাকে প্রদান করেছে। এক্ষেত্রে আইন সভা সংবিধান সংশোধনকল্পে বিভিন্ন সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ ও প্রয়োজনে গণভোটের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

• বিচার সংক্রান্ত কার্যাবলি: প্রয়োজনের নিরীখে কখনও বাংলাদেশের আইন সভা বিচার সম্পর্কিত কার্যাদিও সম্পাদন করে থাকে। এমনকি রাষ্ট্রপতিও যদি কোন গুরুতর অসদাচরণ করেন তাহলে সংবিধানের ৫২ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ তাঁর অভিশংসন অর্থাৎ বিচারিক কাজটি করতে পারবে। নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধের বিচার সংক্রান্ত ব্যাপারেও বাংলাদেশের আইনসভা ক্ষমতাপ্রাপ্ত।

• শাসন বিভাগ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কার্যাবলি: তত্ত্বগতভাবে শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণকল্পে অর্থাৎ শাসন বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতা রোধে আইন বিভাগ ভূমিকা পালন করে। তবে রাষ্ট্রভেদে তা ভিন্নরূপ পরিগ্রহ করতে দেখা যায়।

• অর্থ-সংক্রান্ত কার্যাবলি: বাংলাদেশের আইন সভা নানাবিধ অর্থ সংক্রান্ত কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে। বিশেষ করে অর্থের অপচয় রোধে আইন সভা গণতান্ত্রিক পদ্ধতির চর্চা করে তা নিয়ন্ত্রণ করে। বাজেট পেশসহ সরকারি আয়-ব্যয়ের পর্যালোচনা, পরবর্তী বছরের ব্যয় বরাদ্দের কাজ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কার্যকর করে তোলে। বাংলাদেশের আইন সভার অনুমতি ছাড়া কর ধার্য বা পুরাতন কর ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস সম্ভব হয় না।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৬.
বাংলাদেশের কোন জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু হয়?
  1. পঞ্চম জাতীয় সংসদে
  2. সপ্তম জাতীয় সংসদে
  3. অষ্টম জাতীয় সংসদে
  4. চতুর্থ জাতীয় সংসদে
ব্যাখ্যা
• জাতীয় সংসদ:
- ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় লাভ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।
- এ সপ্তম জাতীয় সংসদে সর্বপ্রথম প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু করা হয়।
- সংসদের অধিবেশন চলাকালে সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে সংসদ সদস্যগণ প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং তিনি তার জবাব দেন।

উৎস: জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
৯০৭.
কোন আইন সংস্কার করে 'র‍্যাব' (Rapid Action Battalion) গঠন করা হয়?
  1. আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অ্যাক্ট, ১৯৭৯
  2. ডিএমপি অ্যাক্ট, ১৯৭৯
  3. ডিবি পুলিশ অ্যাক্ট, ১৯৮৩
  4. র‍্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন অ্যাক্ট, ২০০২
ব্যাখ্যা
• Rapid Action Battalion:
- আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ,১৯৭৯-এ সংশোধনীর মাধ্যমে ২০০৩ সালে  ‘র‌্যাব’ (Rapid Action Battalion) গঠন করা হয়।
- আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ,১৯৭৯-র ২০০৪-এ সংশোধন করা কতিপয়  বিধানের আওতায় গঠিত ও পরিচালিত হয়  ‘র‌্যাব’ (Rapid Action Battalion)।
- র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)  সরকার ২০০১ সাল পরবর্তী সময় থেকে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্র্মবর্ধমান অবনতি রোধকল্পে গুরুতর অপরাধীসহ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কারের চিন্তাভাবনা করছিল। এ সংক্রা্ন্ত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ২০০৩ সালে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। 

উৎস: প্রথম আলো ও যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট এবং বাংলাপিডিয়া।
৯০৮.
বাংলাদেশের ১৬তম অ্যাটর্নি জেনারেলের নাম কী?
  1. মাহবুবে আলম
  2. আহমেদ আব্দুল বারি
  3. হাফিজুর রহমান
  4. এ এম আমিন উদ্দিন
ব্যাখ্যা
• অ্যাটর্নি-জেনারেল:
- রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন পরামর্শক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সরকারের প্রধান আইনজীবী হলেন এটর্নি জেনারেল।
- অ্যাটর্নি জেনারেল হল বাংলাদেশ সরকারের প্রধান ও মুখ্য আইন পরামর্শক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সরকারের প্রাথমিক আইনজীবী।
- অ্যাটর্নি জেনারেল সাধারণত সম্মানিত জেষ্ঠ আইনানুজ্ঞদের মধ্য থেকে শাসিত সরকার কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হন।
- বাংলাদেশের বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন এ এম আমিন উদ্দিন। তিনি ১৬তম অ্যাটর্নি জেনারেল।
এছাড়াও,
- অ্যাটর্নি জেনারেল তার পদাধিকার বলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- অ্যাটর্নি জেনারেলকে কিছু সংখ্যক যুগ্ম অ্যাটর্নি জেনারেল, উপ অ্যাটর্নি জেনারেল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সহায়তা করেন।

উৎস: অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ওয়েবসাইট।
৯০৯.
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ কবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়?
  1. ৫ আগস্ট, ২০২৪
  2. ৬ আগস্ট, ২০২৪
  3. ৭ আগস্ট, ২০২৪
  4. ৮ আগস্ট, ২০২৪
ব্যাখ্যা
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ:
- বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৭ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে।
- ২৮টি রাজনৈতিক দল দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়।
- দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করে।
- দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২২৪টিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ।
- ক্ষমতাসীনদের পর সবচেয়ে বেশি জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২টি আসনে।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নির্বাচিত ২৯৮ জন সংসদ সদস্য শপথ নেন ১০ জানুয়ারি, ২০২৪।

উল্লেখ্য,
⇒ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা:
- রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন।
- রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করা হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ টেলিভিশন ওয়েবসাইট।
৯১০.
বেসরকারি বিল উত্থাপনের জন্য কতদিনের নোটিশের প্রয়োজন হয়?
  1. ক) ৭ দিন
  2. খ) ৯ দিন
  3. গ) ১০ দিন
  4. ঘ) ১৫ দিন
ব্যাখ্যা
- আইনের প্রাথমিক প্রস্তাবকে সংসদীয় ভাষায় বিল বলা হয়।
- আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে সংসদে আনীত প্রত্যেকটি প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হয়।
- জাতীয় সংসদে উত্থাপিত আইনের খসড়াকে বিল বলে।
- বিল দুই প্রকার। যথা- সরকারি বিল ও বেসরকারি বিল।

- যে বিল সাধারণ সংসদ সদস্যদের দ্বারা উত্থাপিত হয় তাকে বেসরকারি বিল - বলে।
- বেসরকারি বিল উত্থাপনের জন্য ১৫ দিনের নোটিশ প্রয়োজন হয়
- সরকারি বিল উত্থাপনের জন্য ৭ দিন সময়।
- যে বিল মন্ত্রীদের দ্বারা উত্থাপিত হয় তাকে সরকারি বিল বলে।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯১১.
রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা কার কর্তৃক পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. সেনাপ্রধান
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. মন্ত্রীপরিষদ সচিব
ব্যাখ্যা
- প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি:

• শাসন বিষয়ক ও নির্বাহী ক্ষমতা:
- প্রধানমন্ত্রী পুরো শাসনব্যবস্থায় নেতৃত্ব প্রদান করেন।
- সকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেন।
- সকল নির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নামে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।

• আইনসংক্রান্ত ক্ষমতা:
- আইন প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- তিনি জাতীয় সংসদে সরকারি বিলের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- প্রধানমন্ত্রীকেকেন্দ্র করে সংসদের আইন প্রণয়ন বিষয়ক কার্যাবলি পরিচালিত হয়।

• সংসদ পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা:
- প্রধানমন্ত্রী সংসদের নেতা।
- তিনি সংসদের সাফল্যজনক সুষ্ঠ চালনায় কার্যকর ভূমিকা পালন করেন।
- রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর রামর্শক্রমে সংসদ আহ্বান, স্থগিত বা ভেঙে দেন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
৯১২.
তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. ক) পঞ্চদশ সংশোধনী
  2. খ) ষষ্ঠদশ সংশোধনী
  3. গ) ত্রয়োদশ সংশোধনী
  4. ঘ) চতুর্থ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল বাংলাদেশ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।
- পঞ্চদশ সংশোধনী আইন  সংবিধান আইন ২০১১ (পঞ্চদশ সংশোধনী) পাস হয় ২০১১ সালের ২৫ জুন।
- এই সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্টীয় মুলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতিও দেয়া হয়।
 - এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়, জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।
- সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্টীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়। 

উৎস:- বাংলাপিডিয়া। 
৯১৩.
রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারিকৃত আইন কে কী বলা হয়?
  1. আইন
  2. অধ্যাদেশ
  3. বিল
  4. সংবিধান
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
- রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধান।
- বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ অংশের ৪৮-৫৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধানাবলি বিধৃত হয়েছে।
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত।
- তিনি সংবিধান ও আইন বলে তাঁর উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব সম্পন্ন করেন।
- রাষ্ট্রপতি জারিকৃত আইনকে অধ্যাদেশ বলে।
- সরকারের যাবতীয় নির্বাহী কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদন করা হয়।
- সংসদ-সদস্যদের দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্যে নূন্যতম বয়স ৩৫ বছর।
- রাষ্ট্রপতির পদ শূণ্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬০-৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।
৯১৪.
শেখ মুজিব কোয়ালিশন সরকার থেকে পদত্যাগ করে কত সালে?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৭ সালে
  3. ১৯৭১ সালে
  4. ১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
কোয়ালিশন সরকার
যখন একটি দেশে আইনসভার নির্বাচনে কোন বৃহৎ রাজনৈতিক দল এককভাবে নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য প্রয়ােজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভে সক্ষম হতে ব্যর্থ হয় তখন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দলগুলাে- সবাই মিলে যে সরকার গঠন করে তাকে কোয়ালিশন বা সম্মিলিত সরকার বলে। ভারত, বাংলাদেশ প্রভৃতি দেশে কোয়ালিশন সরকার গঠন করা হয়।

- ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তফ্রন্ট সরকারের কৃষিমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগের কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়।
- এর মাত্র এক সপ্তাহ পর পশ্চিম পাকিস্তানের কয়েকটি দলের সঙ্গে কোয়ালিশন করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন।
- ফলে প্রদেশ ও কেন্দ্র দুই স্থানেই আওয়ামী লীগের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫৬ সালে কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।
- আওয়ামী লীগের উদ্যোগেই রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলা আনুষ্ঠানিক মর্যাদা লাভ করে, ২১শে ফেব্রুয়ারি 'শহিদ দিবস' ঘোষিত হয় জাতীয় ছুটির দিন, প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলা একাডেমি।
- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বাঙালির অধিকার আদায় আন্দোলনকে বেগবান করা এবং সংগঠনকে আরো সুসংহত করার উদ্দেশ্যে ১৯৫৭ সালের ৩০ মে শেখ মুজিবুর রহমান স্বেচ্ছায় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট । 
৯১৫.
বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সংহতির প্রতীক -
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. স্পিকার
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা

জাতীয় নিরাপত্তা এবং সংহতির প্রতীক:
- প্রধানমন্ত্রী জাতীয় নিরাপত্তা এবং জাতীয় সংহতির প্রতীক।
- জাতীয় প্রতিরক্ষা তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
- সংকটকালে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে আসে।
- জাতীয় নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রের সংহতির জন্য তিনি সম্ভাব্য সবকিছু করে থাকেন।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৯১৬.
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান ঘটে-
  1. ১৯৯৬ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৩ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ:
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলের শুরু থেকে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার বিতর্ক শুরু হয়।
- ১৭৯৩ সালে প্রণীত রেগুলেশন ৩-এর মাধ্যমে গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস কালেক্টরের বিচার করার ক্ষমতা রহিত করেন।
- এর ফলে দেওয়ানি আদালতের বিচারক জজ-ম্যাজিস্ট্রেট নামে অভিহিত হন।
- জেলা পর্যায়ে এ দুই বিভাগকে পৃথকীকরণের বিষয়টি ১৮২৮ সাল পর্যন্ত বহুল বিতর্কিত ছিল।
- নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সংক্রান্ত চলমান বিতর্কের অবসান ঘটে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর।
- মাজদার হোসেন মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রদত্ত রায়ের মাধ্যমে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯১৭.
মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বোচ্চ স্তর কোনটি?
  1. জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
  2. উপজেলা নির্বাহী
  3. বিভাগীয় কমিশনার
  4. জেলা প্রশাসক
ব্যাখ্যা

→ বিভাগীয় প্রশাসন:
- মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বোচ্চ স্তরের - বিভাগ।
- প্রতিটি বিভাগের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন বিভাগীয় কমিশনার।
- বিভাগীয় কমিশনার জেলা প্রশাসকদের কাজ তদারক করেন।

→ জেলা প্রশাসন:
- জেলা প্রশাসন মাঠ বা স্থানীয় প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর।
- এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন জেলা প্রশাসক।
- জেলা প্রশাসক জেলার মুখ্য বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটক।
- দেশের সব জেলায় একজন করে জেলা প্রশাসক আছেন।

→ উপজেলা প্রশাসন:
- মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বনিন্ম স্তরের হল - উপজেলা প্রশাসন।
- উপজেলার প্রধান প্রশাসক হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
- তিনি উপজেলা উন্নয়ন কমিটির প্রধান।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি৷

৯১৮.
জাতীয় সংসদে হুইপের দায়িত্ব -
  1. ক) শৃঙ্খলা রক্ষা করা
  2. খ) অর্থ বিল পাস করা
  3. গ) রাষ্ট্রপতিকে সাহায্য করা
  4. ঘ) সংসদ আহ্বান করা
ব্যাখ্যা
- জাতীয় সংসদে হুইপের দায়িত্ব হলো শৃঙ্খলা রক্ষা করা।
- সংসদের হুইপকে ‘সচেতক’ বলা হয়।
- সরকারি ও বিরোধী উভয় দলেই একজন করে চীফ হুইপ থাকেন।
- তাঁদের সহায়তা করার জন্য আরও কয়েকজন হুইপ থাকেন।
- সরকারি ও বিরোধী দলের চীফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপদের পারস্পরিক সমঝোতা ও সুসম্পর্ক সংসদের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করে।

তথ্যসূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
৯১৯.
স্মার্ট বাংলাদেশ টাস্কফোর্স-এর চেয়ারপারসন কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. অর্থমন্ত্রী
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী
ব্যাখ্যা
-‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এবার রূপ নিচ্ছে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এ।
- এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে এ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে।
- স্মার্ট বাংলাদেশ টাস্কফোর্স কমিটির চেয়ারপারসন হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
- পাঁচজন মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রীসহ সদস্য রয়েছেন ৩০ জন।
- দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও আর্থিক খাতের কার্যক্রম স্মার্ট পদ্ধতিতে রূপান্তরের জন্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা দেবে এই 'টাস্কফোর্স'।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯২০.
মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ দেয় কে?
  1. ক) রাষ্ট্রপতি
  2. খ) জাতীয় সংসদ
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী
  4. ঘ) সুপ্রিমকোর্ট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৬ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদেরকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগদানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কারো পরামর্শ গ্রহণ না করলেও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ গ্রহণ করে থাকেন।

মন্ত্রীসভা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাধীন থাকে। মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ, দপ্তর বন্টন, নিয়োগ ও অব্যাহতি প্রভৃতি প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে মন্ত্রিসভাও ভেঙে যায়।

মন্ত্রিসভার সদস্যগণ একক ও যৌথভাবে জাতীয় সংসদের নিকট দায়ী থাকেন। মন্ত্রিসভার সদস্যগণ জাতীয় সংসদের সদস্যদের থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে মন্ত্রিসভার এক-দশমাংশ সদস্য সাংসদ নয় এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া যায়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৯২১.
বর্তমানে একনেক-এর বিকল্প চেয়ারম্যান কে? (মার্চ-২০২৬)
  1. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
  2. শেখ রবিউল ইসলাম
  3. সালাহউদ্দিন আহমদ
  4. আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) পুনর্গঠন:
• একনেক-এর চেয়ারম্যান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
• বিকল্প চেয়ারম্যান: স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
• সদস্যরা:
- অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী : আমীর খসুর মাহমুদ চৌধুরী।
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী : সালাহউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র মন্ত্রী : খলিলুর রহমান।
- বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী : খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
- আইন মন্ত্রী : আসাদুজ্জামান।
- স্বাস্থ্যমন্ত্রী : সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
- সড়ক পরিবহন, সেতু, রেল, নৌপথ মন্ত্রী : শেখ রবিউল ।
- সংশ্লিষ্ট এজেন্ডাভুক্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরাও সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

৯২২.
দেশের সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৭৭ সালে
  3. ১৯৮৫ সালে
  4. ১৯৯০ সালে
ব্যাখ্যা

 - সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়- ১৯৯১ সালে।

গণভোট:

- বাংলাদেশে ৩ বার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- এর মধ্যে ২ বার অনুষ্ঠিত হয় প্রশাসনিক গণভোট।
- এবং ১ বার অনুষ্ঠিত হয় সাংবিধানিক গণভোট।

• প্রথম গণভোট:
- প্রশাসনিক গণভোট হয় ১৯৭৭ সালে।
- প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন কার্যের বৈধতা দান।
- ফলাফল ৯৮.৮০% 'হ্যাঁ' ভোট।

• দ্বিতীয় গণভোট: 
- প্রশাসনিক গণভোট ১৯৮৫ সালে।
- হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সমর্থন যাচাইয়ের লক্ষ্যে হ্যাঁ-না ভোট।
- ফলাফল ৯৪.১৪% হ্যাঁ ভোট।

• তৃতীয় গণভোট:
- সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়- ১৯৯১ সালে।
- এটি সর্বশেষ গনভোট।
- সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আইন প্রস্তাব।
- ফলাফল ৮৪.৩৮% হ্যাঁ ভোট।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র,  এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২৩.
প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও সংস্কার কমিটি গঠিত হয় -
  1. ১৯৮৪ সালে
  2. ১৯৮২ সালে
  3. ১৯৮০ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা
• নিকার:
- কমিটি গঠনের তারিখ: ১৯৮২ সালের ২৮ এপ্রিল।
- কমিটির গঠনকারী: জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সামরিক সরকার।
- কমিটির সভাপতি: রিয়ার অ্যাডমিরাল এম.এ খান, তৎকালীন উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক।
- কমিটির উদ্দেশ্য: ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠ ও কার্যকর শাসন পদ্ধতি সুপারিশ করা।
• কমিটি সদস্যবৃন্দ:
- চেয়ারম্যান,
- সদস্য-সচিব,
- ৩ জন কো-অপ্ট করা সদস্য,
- মোট নয় জন সদস্য।
• ১৯৮২ সালের ২২ জুন কমিটির চেয়ারম্যান চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। [লিংক]
৯২৪.
বাংলাদেশের ২১ তম রাষ্ট্রপতির নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে?
  1. ক) ৫ ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ১৮ ফেব্রুয়ারি
  3. গ) ২৩ ফেব্রুয়ারি
  4. ঘ) ২৮ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
দৈনিক পত্রিকাগুলোতে ২১ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ হিসেবে কোথাও কোথাও ১৮ ফেব্রুয়ারি এবং কোথাও কোথাও ১৯ ফেব্রুয়ারির উল্লেখ আছে। অপশনে ১৮ ফেব্রুয়ারি থাকায় এটাকেই উত্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
৯২৫.
The smallest administrative unit in the cities of Bangladesh is
  1. ক) Upazilla
  2. খ) Thana
  3. গ) Ward
  4. ঘ) none
ব্যাখ্যা
শহর কেন্দ্রিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:

- বাংলাদেশের প্রধান প্রধান শহর কেন্দ্রিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা হচ্ছে সিটি কর্পোরেশন।
- বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ১১ টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে।
- এগুলো হল ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন।
- নগরায়নের প্রভাবে সিটি কর্পোরেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- প্রত্যেক সিটি কর্পোরেশনকে কতগুলো ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়।
- বাংলাদেশের শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোট প্রশাসনিক ইউনিট ওয়ার্ড।
- জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত একজন মেয়র সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত কাউন্সিলার এবং সর্বমোট কাউন্সিলরদের এক তৃতীয়াংশ সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর সমন্বয়ে সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয়।
- প্রত্যেক ওয়ার্ড হতে একজন কাউন্সিলর প্রাপ্তবয়স্কদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। 

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি অ নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৬.
মন্ত্রিসভা কার নিকট যৌথভাবে দায়ী থাকেন?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. জনগণ
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী,
- মন্ত্রিসভা সংসদের নিকট যৌথভাবে দায়ী থাকে।
- অর্থাৎ, সরকারের নীতিমালা ও কার্যক্রমের জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সকল মন্ত্রী সংসদের কাছে সম্মিলিতভাবে জবাবদিহি করতে বাধ্য।
- যদি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করে, তবে পুরো মন্ত্রিসভাকেই পদত্যাগ করতে হয়।
- এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংসদ কার্যত সরকারের ওপর নজরদারির দায়িত্ব পালন করে।
- এই দায়বদ্ধতা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, যাতে জনগণের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।
- অতএব, মন্ত্রিসভার কর্মকাণ্ড ও সিদ্ধান্তের জন্য তারা দলীয়ভাবে নয়, বরং সমগ্র মন্ত্রিসভা হিসেবে সংসদের প্রতি দায়বদ্ধ।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

৯২৭.
Which of the following is the number one constituency in the National Parliament of Bangladesh?
  1. Kishoreganj
  2. Cox's Bazar
  3. Panchagarh
  4. Dhaka
  5. None of these
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ:
- জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইনসভা।
- এককক্ষ বিশিষ্ট এ আইনসভা।
- সদস্য সংখ্যা ৩৫০ জন।
- মহিলাদের জন্য সংসদে সংরক্ষিত আসন ৫০টি।

উল্লেখ্য,
⇒ বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সংসদীয় আসন রয়েছে ঢাকা জেলায়।
- ঢাকা জেলায় ২০টি সংসদীয় আসন রয়েছে।
- জাতীয় সংসদের - ১ নং আসন হলো পঞ্চগড়-১।
- বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।
- ৩০০ নং আসন হলো বান্দরবান।
- চট্রগ্রাম জেলায় সংসদীয় আসন ১৬টি।
- রাজশাহী জেলায় সংসদীয় আসন ৬টি।
- কুমিল্লা জেলায় সংসদীয় আসন ১১টি।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯২৮.
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিভাগসমূহের সর্বাধিনায়কতা কার উপর ন্যস্ত?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. সংসদ
  4. সচিবালয়
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি: 
- পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতি সবার উপরে।
- সংবিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রের প্রধান।
- সবার ঊর্ধ্বে তিনি স্থান লাভ করেন।
- সংবিধান ও আইন অনুযায়ী তাঁকে প্রদত্ত সকল দায়িত্ব ও ক্ষমতা তিনি প্রয়োগ করেন।
- সংসদ প্রণীত আইন রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করেন।
- সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নিয়মতান্ত্রিক প্রধান।
- প্রজাতন্ত্রের সকল কাজ তাঁর নামে পরিচালিত হয়। তাঁর হাতে কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই।
- দেশের সরকার গঠন, শাসন পরিচালনা, আইন প্রণয়ন এবং অর্থ, বিচার, প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কাজ তিনি সম্পাদন করেন।
- বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিভাগসমূহের সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত।
- তিনি বহিরাক্রমণ মোকাবিলার জন্য যে কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯২৯.
বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ তাদের কাজকর্মের জন্য কার কাছে দায়ী?
  1. রাষ্ট্রপতির কাছে
  2. জনগণের কাছে
  3. জাতীয় সংসদের কাছে
  4. এর কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা:
- বাংলাদেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা বিদ্যমান। 
- আইন সভায় মূলত জাতীয় সংসদের সদস্যরাই উপস্থিত থাকে এবং তাদের নিয়েই সরকার গঠিত হয়।
- শাসন বিভাগের আইন বাস্তবায়নকারী অংশ অর্থাৎ মন্ত্রী পরিষদের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের প্রকৃত শাসনের কাজ করে থাকে।
- এ কারণে তিনি জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন হয়ে থাকেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৫ (৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিসভা যৌথভাবে জাতীয় সংসদের নিকট দায়ী থাকে।
- প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দকে শাসন বিভাগের যাবতীয় কর্মকান্ডের জন্য জাতীয় সংসদের নিকট জবাবদিহি করতে হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩০.
বাংলা ভাষাকে দেশের সর্বস্তরে ব্যবহার নিশ্চিত করতে আইন পাশ করা হয় কোন সালে? 
  1. ১৯৭৩ সালে 
  2. ১৯৮০ সালে 
  3. ১৯৮৭ সালে 
  4. ১৯৯০ সালে 
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য আইন পাশ: 
- বাংলাদেশের সংবিধানে তৃতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা'।
বাংলাদেশে বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে (সরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইনানুগ কার্যক্রম ইত্যাদি) ব্যবহারের জন্য "বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭" পাস করা হয়েছে ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ।
- এই আইনের ৩(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এ আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস-আদালত, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন আদালতের সোয়াল- জওয়াব এবং অন্যান্য আইনানুগত কার্যাবলী অবশ্যই বাংলায় লিখিতে হবে।
- ' ৩(২) ধারায় আরও বলা হয়েছে, উল্লেখিত কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন, তাহলে তা বেআইনি ও অকার্যকর বলে গণ্য হবে।'
- ধারা ৩ ( বলছে, ‘যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই আইন অমান্য করেন তাহলে উক্ত কার্যের জন্য তিনি সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধির অধীনে অসদাচরণ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোজাম্মেল হক এবং প্রথম আলো ।

৯৩১.
জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন কে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. স্পিকার
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা

সংসদ আহবান:
- রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।
- সংসদের এক অধিবেশনের শেষ এবং পরবর্তী অধিবেশনের শুরুর মধ্যে সর্বোচ্চ বিরতি হবে ৬০ দিন।
- সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহ্বান করা হবে।
- একাধারে কোনো সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে ৯০টি কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে তাহার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।
- দেশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবনে হুমকির কারণে জরুরি অবস্থা (সর্বাধিক ১২০ দিনের জন্য) ঘোষিত হতে পারে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এস এস এইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের সংবিধান।

৯৩২.
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. ক) পারমাণবিক শক্তি কমিশন
  2. খ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
  3. গ) বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ড
  4. ঘ) এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় বেশ কয়েকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
- এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ বাংলাদেশ সরকারের আইনি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারের আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ:-  
- জাতীয় সংসদ।
- সুপ্রিম কোর্ট। 
-নির্বাচন কমিশন।
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।
- এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।
- কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল অব বাংলাদেশ।

উৎস:- জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯৩৩.
বাংলাদেশ সরকার কত সালে 'ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন' প্রণয়ন করে?
  1. ২০০৫ সালে
  2. ২০০৭ সালে
  3. ২০০৮ সালে
  4. ২০১১ সালে
ব্যাখ্যা

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন:
- বাংলাদেশ সরকার ২০০৫ সালে 'ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন' প্রণয়ন করে।

⇒ বাংলাদেশ সরকার ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে গৃহীত আন্তর্জাতিক চুক্তি এফসিটিসিতে (ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল) স্বাক্ষর করে।
- চুক্তির বিধানসমূহ প্রতিপালনে সরকার পরবর্তী সময়ে ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে।
- এই আইনের ৪ ধারার ১ উপধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি কোনো পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান করতে পারবেন না, অর্থাৎ উন্মুক্ত স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উৎস: i) ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০৫। 
ii) প্রথম আলো।

৯৩৪.
জাতীয় সংসদের সংসদ নেতা কে?
  1. স্পীকার
  2. প্রধানমন্ত্রীর
  3. ডেপুটি স্পীকার
  4. রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা

• প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কাজ:
⇒ সংবিধান অনুযায়ী দেশের সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শাসনকার্য পরিচালনা করেন। মন্ত্রিপরিষদের সহযোগিতায় তিনি শাসনসংক্রান্ত সকল দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার সদস্য, সাংবিধানিক পদে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিদেশে রাষ্ট্রদূত ইত্যাদি নিয়োগ দেন।

⇒  প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের প্রধান। তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করেন ও মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন। মন্ত্রীদের কাজ তদারক করেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের মধ্যে সমন্বয় করেন। সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্ত্রীগণ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও অনুমোদন নিয়ে কাজ করেন। তিনি যেকোনো মন্ত্রীকে তার পদ থেকে অপসারণের পরামর্শ দিতে পারেন।

⇒  প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের একজন সদস্য ও সংসদ নেতা। তিনি সংসদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। যেমন- সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত দিনে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব প্রদান করেন, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও কার্যক্রম তুলে ধরে সংসদে বক্তৃতা প্রদান করেন। এছাড়া তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত বা ভেঙে দিতে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন।

⇒ সংসদে আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কোনো সরকারি বিল উত্থাপনের পূর্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। যদি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিপরিষদ উক্ত প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন তবেই তা সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা যায়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও পরামর্শে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের (জাতীয়) বাজেট প্রণয়ন ও সংসদে উপস্থাপন করেন। এভাবে তিনি আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকেন।

⇒ পররাষ্ট্র বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে না। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।

৯৩৫.
FID- এর পূর্ণাঙ্গ রূপ কি?
  1. Financial Institutions Division
  2. Foreign Investor Department
  3. Fire Investigation Department
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
FID:
- FID-এর পূর্ণরূপ: Financial Institutions Division.
- FID বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
- আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ হলো একটি বাংলাদেশ সরকারী বিভাগ যা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন।
- আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (FID) ২০১০ সালের জানুয়ারী মাসে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ব্যাংক, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্যাপিটাল মার্কেট, বীমা খাত এবং মাইক্রোক্রেডিট খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত আইন ও নীতি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে। 
- আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা যেমন: বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) ও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA)-এর সাথে সমন্বয়মূলক কার্যাবলী সম্পাদন করে।

উৎস: আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ওয়েবসাইট।
৯৩৬.
কোনটি স্থানীয় সরকারের অংশ নয়?
  1. ক) গ্রাম পরিষদ
  2. খ) ইউনিয়ন পরিষদ
  3. গ) থানা পরিষদ
  4. ঘ) জেলা পরিষদ
ব্যাখ্যা

- স্থানীয় সরকার নিম্নতম পর্যায়ের বা স্থানীয়ভাবে সংগঠিত সরকার ব্যবস্থা।
- ১৯৭৬ সালে জেনারেল জিয়াউর রহমানের নতুন সরকার স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ জারি করে। এতে তিন ধরনের গ্রামীণ স্থানীয় সরকার গঠনের বিধান রাখা হয়।
যথাঃ
- ইউনিয়ন পরিষদ,
- থানা পরিষদ এবং
- জেলা পরিষদ।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

৯৩৭.
বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ এবং সর্বশেষ আশ্রয়স্থল কোনটি?
  1. জজ কোর্ট
  2. আপিল বিভাগ
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. সুপ্রীম কোর্ট
ব্যাখ্যা
আপিল বিভাগ:
- বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ এবং সর্বশেষ আশ্রয়স্থল হল আপিল বিভাগ।
- হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের প্রেক্ষিতেই কেবল এখানে আপিল করা যায়।
- এ বিভাগের বিচারকের নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা নেই তবে এখানে হাইকোর্ট বিভাগের চেয়ে স্বল্প সংখ্যক বিচারক থাকে।

আপিল বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
- হাইকোট বিভাগের রায়, ডিক্রি, আদেশ বা দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির ও তা নিস্পত্তির এখতিয়ার ও ক্ষমতা রয়েছে।
- এ বিভাগের কোন ঘোষিত রায় বা প্রদত্ত আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
- রাষ্ট্রপতির প্রয়োজন মোতাবেক আপিল বিভাগ আইন বিষয়ে মতামত জ্ঞাপন করতে পারে।
- সম্পূর্ণ ন্যায় বিচারের স্বার্থে কোন ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা ও কাগজপত্র পেশ করার আদেশ দিতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা (নবম-দশম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৮.
মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বোচ্চ স্তর-
  1. ক) বিভাগীয় প্রশাসন
  2. খ) জেলা প্রশাসন
  3. গ) উপজেলা প্রশাসন
  4. ঘ) সচিবালয়
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক কাঠামোর স্তর তিনটি। যথা-
• বিভাগীয় প্রশাসন,
• জেলা প্রশাসন ও
• উপজেলা প্রশাসন।
- মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বোচ্চ স্তর-
বিভাগীয় প্রশাসন‌।
- মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বনিম্ন স্তর উপজেলা প্রশাসন।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৯৩৯.
কোনটি জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার রক্ষাকবচ?
  1. বিচার বিভাগ
  2. আইন বিভাগ
  3. শাসন বিভাগ
  4. প্রতিরক্ষা বিভাগ
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগ:
- আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের মত বিচার বিভাগও আধুনিক সরকার ব্যবস্থার অপরিহার্য অঙ্গ।
- সরকারের যে বিভাগ প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল বিচারকার্য সম্পন্ন করে তাকে বিচার বিভাগ বলে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হচ্ছে বিচার বিভাগ।
- বিচার বিভাগ হল সরকারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ যা জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করে এবং এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রকার রিট জারি করে।
- বিচার বিভাগ রাষ্ট্র ও সরকারের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।

⇒ বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
• উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
• অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।

⇒ সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ষষ্ঠ বিভাগে বিচার বিভাগের কাঠামো, মর্যাদা এবং কার্যাবলি সম্পর্কিত বিধান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
- বিচার বিভাগ বলতে সরকারের সেই অঙ্গকে বুঝায় যা মামলার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করে, অপরাধের প্রকৃতি নির্ণয় করে এবং আইন অনুযায়ী শাস্তি বিধান করে।
- এছাড়াও বিচার বিভাগ আইনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে সংবিধানের প্রাধান্য রক্ষা করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪০.
'গ্রাম সরকার' ব্যবস্থার প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. তাজউদ্দিন আহমদ
  3. বিচারপতি আবদুস সাত্তার
  4. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
ব্যাখ্যা

গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থার প্রবক্তা ছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

গ্রাম সরকার ব্যবস্থা:
- লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান গঠন করেন গ্রাম সরকার। ব্রিটিশ চৌকিদার মডেলে গ্রাম পুলিশ গঠন করা হয়।
- এজন্য তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেন এবং তাদের নেতৃত্ব, সততা ও কর্মস্পৃহায় অনুপ্রাণিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেন ‘স্বনির্ভর গ্রাম সরকার’ গঠনের।
- এই গ্রাম সরকার গঠনের মাধ্যমে জনগণ নিজেরাই তাদের সমস্যা নির্ধারণ, পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেত। এতে ১৪ জন সদস্য থাকতেন, এর মধ্যে ৬ জন নারী সদস্য থাকতেন।
- ১৯৮২ সালে জেনারেল এরশাদ থানাগুলোকে উপজেলায় উন্নীত করে গঠন করেন উপজেলা পরিষদ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৯৪১.
বাংলাদেশে জেলার সংখ্যা-
  1. ৬০টি
  2. ৬২টি
  3. ৬৪টি
  4. ৬৬টি
ব্যাখ্যা
স্থানীয় সরকার বিভাগ:
- সিটি কর্পোরেশন রয়েছে ১২ টি।
- জেলা রয়েছে ৬৪টি।
- পৌরসভা রয়েছে ৩৩০টি।
- উপজেলা রয়েছে ৪৯৫টি।
- ইউনিয়ন পরিষদ ৪৫৯৬টি।
- গ্রাম ৯০০৪৯টি।

উৎস: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
৯৪২.
বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারি করার এখতিয়ার রয়েছে কার?
  1. ক) সংসদের
  2. খ) প্রধানমন্ত্রীর
  3. গ) রাষ্ট্রপতির
  4. ঘ) কেউই পারেন না
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারি করার এখতিয়ার রয়েছে রাষ্ট্রপতির। 

সংবিধানের ১৪১ক(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ যেকোন গোলযোগের কারণে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি অনধিক ১২০ দিনের জন্যে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন ।
- তবে এরূপ ঘোষণার পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়।
- ১৪১ (খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জরুরি অবস্থা ঘোষণার সাথে সাথে এই ৬টি মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়ে যায়।
- জরুরি অবস্থার সময় স্থগিত হয় ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪২ অনুচ্ছেদ গুলো।

তথ্যসূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ।
৯৪৩.
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান-  
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. অ্যাটর্নি-জেনারেল
  4. স্পীকার
ব্যাখ্যা

• অন্তর্বর্তীকালীন সরকার:
- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।
- নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট, ২০২৪ সালে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।
- এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

⇒ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
- শপথ গ্রহণের স্থান: বঙ্গভবন।
- মোট উপদেষ্টা: ২১ জন।
- নারী উপদেষ্টা রয়েছে ৪ জন।

উল্লেখ্য,
⇒ প্রধান উপদেষ্টা: ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

এছাড়াও,
⇒ অন্যান্য উপদেষ্টাগণ:
১. জনাব সালেহ উদ্দিন আহমেদ
২. জনাব ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ
৩. ড. আসিফ নজরুল
৪. জনাব হাসান আরিফ
৫. জনাব মোঃ তৌহিদ হোসেন
৬. লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গ আলম চৌধুরী (অব:)
৭. জনাব আদিলুর রহমান খান
৮. জনাব আলী ইমাম মজুমদার
৯. জনাব মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
১০. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
১১. জনাব মোঃ নাহিদ ইসলাম
১২. জনাব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া
১৩. জনাব ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক
১৪. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন
১৫. মিজ নূরজাহান বেগম
১৬. অধ্যাপক ডাঃ বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার
১৭. মিজ ফরিদা আখতার
১৭. মিজ্ শারমীন এস মুরশিদ
১৯. ড. আফম খালিদ হাসান
২০. জনাব সুপ্রদীপ চাকমা।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

৯৪৪.
(প্রশ্নটি তৎকালীন সাম্প্রতিক ছিলো)
বাংলাদেশের অষ্টম জাতীয় সংসদে কোন সদস্য নিজেই নিজের কাছে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন?
  1. বেগম খালেদা জিয়া
  2. শেখ হাসিনা
  3. জমির উদ্দীন সরকার
  4. আবদুল হামিদ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের শপথনামা সংবিধানের ‘তৃতীয় তফসিল’ – এ লিপিবদ্ধ রয়েছে।
- সে অনুযায়ী প্রত্যেক নির্বাচিত ব্যক্তি বিদায়ী স্পিকার বা তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকারের সামনে শপথ গ্রহণ এবং শপথ নামায় স্বাক্ষর করেন। 
- সংসদ সদস্যগণ বিদায়ী স্পিকারের কাছে শপথ গ্রহণ করবেন। 
- যেহেতু আবদুল হামিদ নিজেই বিদায়ী স্পিকার ছিলেন।
- তাই তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদে নিজেই নিজের কাছে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। 
- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নিজেই নিজের শপথবাক্য পাঠ করেছেন।
 
সূত্র: দৈনিক পত্রিকাসমূহ। 
৯৪৫.
বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হয় কততম সংশোধনীর মাধ্যমে ?
  1. ক) ৮
  2. খ) ১১
  3. গ) ১২
  4. ঘ) ১৪
ব্যাখ্যা

দ্বাদশ সংশোধনী
শিরোনাম - সংবিধান [দ্বাদশ সংশোধন] আইন, ১৯৯১।
উত্থাপনকারী - প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
সংসদে পাশের তারিখ - ৬ আগস্ট, ১৯৯১।
বিষয়বস্তু - রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন।
উপ-রাষ্ট্রপতি ও উপ-প্রধানমন্ত্রী পদগুলো বাতিল ঘোষণা।
দ্বাদশ সংশোধনীকে চতুর্থ সংশোধনীর বিপরীত সংশোধনী বলা হয়।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন-একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি

৯৪৬.
বাংলাদেশে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ার সীমা কত?
  1. সর্বোচ্চ ৫%
  2. সর্বোচ্চ ১০%
  3. সর্বোচ্চ ১৫%
  4. সর্বোচ্চ ২০%
ব্যাখ্যা
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী:
- সংবিধানের ৫৬ ধারা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সদস্য এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া যাবে যাঁরা সংসদ নির্বাচনে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্য।
- এরা টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত।
- মন্ত্রিপরিষদের অন্তত ৯০ শতাংশ সদস্যকে জাতীয় সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে হবে।
- এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী ‘রুলস অব বিজনেস’ অনুযায়ী ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা’ পদেও ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে পারেন।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
৯৪৭.
জাতীয় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কে? 
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. স্পিকার 
  4. মন্ত্রিপরিষদ সচিব
ব্যাখ্যা

প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ক্ষমতা:
- রাষ্ট্রপতি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।
- বাংলাদেশের বিরুদ্ধে স্থল, জল ও আকাশ পথে আক্রমণের ক্ষেত্রে তিনি তা প্রতিরক্ষার জন্য এই সকল বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে যেকোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।
- সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক: বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানসমূহকে সম্মানসূচক পদক বা খেতাব প্রদান করে থাকেন।
- তাঁর অনুমতি ব্যতিত দেশের কোন নাগরিক বিদেশী কোন খেতাব বা সম্মান গ্রহণ করতে পারেন না।
- এ সকল ক্ষমতার বাইরে তিনি রাষ্ট্রদূত প্রেরণ ও গ্রহণ করেন।
- রাষ্ট্রপতির ওপর বর্তানো কাজের অংশ হিসেবে তিনি সকল জাতীয় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
- তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের দায়িত্বপূর্ব শপথ বাক্য পাঠ করান।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪৮.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পীকার কে ছিলেন?
  1. মোহাম্মদ মালেক
  2. হাফেজউল্লাহ
  3. মোহাম্মদ তর্কবাগীশ
  4. মোহাম্মদউল্লাহ
ব্যাখ্যা
প্রথম স্পীকার:
- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম স্পীকার ছিলেন মোহাম্মদউল্লাহ।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে (১৯৭২) মোহাম্মদউল্লাহ ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত হন তিনি।
- স্পীকার শাহ আবদুল হামিদের মৃত্যুর পর তিনি ভারপ্রাপ্ত স্পীকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে স্পীকার পদে নির্বাচিত হন।

অন্যদিকে,
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ।
- গণপরিষদের প্রথম স্পীকার ছিলেন শাহ আব্দুল হামিদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট।
৯৪৯.
প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর আসন ছিল কোনটি?
  1. ঢাকা-১২
  2. ঢাকা-১৮
  3. গোপালগঞ্জ-১
  4. গোপালগঞ্জ-৭
ব্যাখ্যা
প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- সে সময় ৩০০ আসনে সরাসরি নির্বাচন হয়।
- সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ছিল ১৫টি।
- বিচারপতি এম ইদ্রিস কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয়।
- নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি তে জয়লাভ করে।
- বঙ্গবন্ধু সে সময় ঢাকা-১২ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন।
- প্রথম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন মুহম্মদুল্লাহ।
- ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন বায়তুল্লাহ।
- পরে মুহম্মদুল্লাহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে আবদুল মালেক উকিল স্পিকার নির্বাচিত হন।
 
উল্লেখ্য,
- ২য় সংসদ নির্বাচন ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হয়।
- সেবার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ছিল ৩০টি।
- ঐ সংসদেই প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ ভোটে একজন নারী সাংসদ সৈয়দা রাজিয়া ফয়েজ খুলনা-১৪ থেকে নির্বাচিত হন।
- প্রথম অধিবেশন বসেছিল ২ এপ্রিল।
- জাতীয় সংসদের প্রতীক শাপলা ফুল।
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫০.
অধ্যাদেশ জারি করেন -
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. আইন মন্ত্রী
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
- রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধান।
- বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ অংশের ৪৮-৫৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধানাবলি বিধৃত হয়েছে।
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত।
- তিনি সংবিধান ও আইন বলে তাঁর উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব সম্পন্ন করেন।
- রাষ্ট্রপতি জারিকৃত আইনকে অধ্যাদেশ বলে।
- সরকারের যাবতীয় নির্বাহী কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদন করা হয়।
- 'Rules of Business' প্রণয়ন করেন রাষ্ট্রপতি।
- সংসদ-সদস্যদের দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্যে নূন্যতম বয়স ৩৫ বছর।
- রাষ্ট্রপতির পদ শূণ্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬০-৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।
৯৫১.
সরকারের যাবতীয় নির্বাহী কার্যাদি কার নামে সম্পাদন করা হয়?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. স্পীকার
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
- রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধান।
- বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ অংশের ৪৮-৫৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধানাবলি বিধৃত হয়েছে।
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত।
- তিনি সংবিধান ও আইন বলে তাঁর উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব সম্পন্ন করেন।
- রাষ্ট্রপতি জারিকৃত আইনকে অধ্যাদেশ বলে।
- সরকারের যাবতীয় নির্বাহী কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদন করা হয়।
- সংসদ-সদস্যদের দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্যে নূন্যতম বয়স ৩৫ বছর।
- রাষ্ট্রপতির পদ শূণ্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬০-৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।
৯৫২.
উপজেলা পরিষদে কতজন প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকে?
  1. ৩ জন
  2. ৭ জন
  3. ৯ জন
  4. ১৩ জন
ব্যাখ্যা
উপজেলা পরিষদ:
- বাংলাদেশের তিন স্তর বিশিষ্ট গ্রামীন স্থানীয় সরকার কাঠামোর মধ্যম স্তর হল উপজেলা পরিষদ।
- ১৯৮২ সালে স্থানীয় সরকার অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে থানা পরিষদ নামক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত করা হয়। 
- ১৯৮৩ সালে সংশোধনীর মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ নামকরণ করা হয়।
- উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালে।
- ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পরে সামরিক শাসন আমলে গঠিত উপজেলা পরিষদের সকল কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
- নানান পরিবর্তনের পরে ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদে উপজেলা পরিষদ আইনটি পাশ হয় এবং স্থানীয় সরকারের এই স্তরটি চালু হয়।
- দীর্ঘ বিরতির পর ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

বর্তমানে উপজেলা পরিষদে প্রধানত দুই ধরনের প্রতিনিধি দেখা যায়। যথা: নির্বাচিত প্রতিনিধি ও সরকারি প্রতিনিধি। 

উপজেলা পরিষদের কাঠামো নিম্নরূপ:
প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি:
একজন চেয়ারম্যান ও দুইজন ভাইস-চেয়ারম্যান (একজন পুরুষ ও একজন নারী)। 

পরোক্ষভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধি:
উপজেলা পরিষদের অন্তর্গত সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র এবং এই দু'টি স্থানীয় সরকারের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত এক-তৃতীয়াংশ সদস্য।

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৩.
জাতীয় সংসদ ভবন কত একর জমির উপর অবস্থিত?
  1. ক) ২১২ একর
  2. খ) ২৫০ একর
  3. গ) ২১৫ একর
  4. ঘ) ২২৫ একর
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম আইনসভা কমপ্লেক্স।
- এটির স্থপতি এস্তোনীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক লুই আই কান।
- জাতীয় সংসদ ভবন ২১৫ একর জমির উপর অবস্থিত।
- এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৬১ সালে এবং উদ্বোধন করা হয় ১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি।
- এই ভবনে প্রথম সংসদ অধিবেশন বসে ১৯৮২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি।

তথ্যসূত্র:- জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
৯৫৪.
পারিবারিক আদালত অর্ডিন্যান্স জারি করা হয় -
  1. ১৯৮৩ সালে
  2. ১৯৮৫ সালে
  3. ১৯৮৬ সালে
  4. ১৯৯০ সালে
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালত অর্ডিন্যান্স:
- পারিবারিক আদালত অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৫ পরিবারের প্রতিটি সদস্যের আইনগত সমস্যার বিচার নিষ্পত্তি সম্পর্কিত অধ্যাদেশ।
- এটি ১৯৮৫ সালে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
- ইসলামী আইন, হিন্দু আইন, দেওয়ানি কার্যবিধি, সাক্ষ্য আইন, অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ প্রভৃতি সমন্বয়ে পারিবারিক আদালতের বিচার্য বিষয়ের আইন সংকলিত হয়েছে।
- এ আইন রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও পার্বত্য এলাকার জেলাসমূহ ছাড়া সারা দেশে প্রযোজ্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৫৫.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি-কে শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. প্রধান নির্বাচন কমিশনার
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. স্পীকার
  4. প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা

» স্পিকার যাদের শপথ বাক্য পাঠ করান-
১। রাষ্ট্রপতি;
২। সকল সংসদ সদস্যদের;

» রাষ্ট্রপতি যাদের শপথ বাক্য পাঠ করান-
১।প্রধানমন্ত্রী;
২।মন্ত্রীগন;
৩। উপমন্ত্রীদের;
৪। প্রতিমন্ত্রীদের;
৫। স্পীকার;
৬। ডেপুটি স্পিকার;
৭। প্রধান বিচারপতি ;

» প্রধানমন্ত্রী যাদের শপথ বাক্য পাঠ করান-
১। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র;
২। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান;

» প্রধান বিচারপতি যাদের শপথ বাক্য পাঠ করান-
১। সুপ্রীম কোর্টের কোন বিভাগের কোন বিচারককে;
২। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের ;
৩। মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রন;
৪। সরকারী কর্মকমিশনের সদস্যদেরকে;

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৯৫৬.
কাকে মুসলিম রেঁনেসার অগ্রদূত বলা হয়?
  1. ক) নওয়াব আব্দুল লতিফ
  2. খ) সৈয়দ আহমদ খান
  3. গ) নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ
  4. ঘ) সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা
• মুসলিম রেঁনেসার অগ্রদূত:
- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত।
- ইসলামী ও পাশ্চাত্য জ্ঞানের অধিকারী আমীর আলী ছিলেন একজন সুলেখক।
- তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন।

• এসব গ্রন্থের মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে -
(১) দি স্পিরিট অব ইসলাম এবং
(২) এ সর্ট হিস্টরি অব দি স্যারাসিন।
- এ গ্রন্থ দুটি পণ্ডিত হিসেবে আমীর আলীকে অমরত্ব দান করেছে।

- আমীর আলী তাঁর লেখায় ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দান করেছেন।
- মুসলমানদের গৌরবময় অতীতের প্রতি বারংবার অঙ্গুলি নির্দেশ করে মুসলিম সমাজকে আত্মসচেতন করার চেষ্টা করেছেন।
- তাঁর এ চেষ্টায় হতাশাগ্রস্ত মুসলিম সমাজে প্রাণের সঞ্চার ঘটে।

সূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৭.
কোন ব্যক্তির দায়ের করা মামলায় বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার রায় আসে?
  1. বিচারপতি আবু সাঈদ
  2. বিচারপতি মাজদার হোসেন
  3. বিচারপতি এম আবদুর রহমান
  4. বিচারপতি আমিরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ:
- নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের জন্য মামলা করেন বিচারপতি মো. মাজদার হোসেন।
- ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর, তাঁর দায়ের করা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক রায় প্রদান করে।
- এই রায়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রশাসনিক ক্যাডার থেকে আলাদা করে একটি স্বাধীন জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়াও, 
- আদালত আরও নির্দেশ দেয় যে, বিচারকদের নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলা সম্পর্কিত বিষয়সমূহ সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
- এই রায় বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় মাইলফলক হয়ে ওঠে। পরে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইন কার্যকর করে পৃথকীকরণ বাস্তবায়ন শুরু করে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৯৫৮.
নিচের কোনটি সিটি কর্পোরেশনের আয়ের উৎস?
  1. টোল
  2. উপকর
  3. ফিস
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সিটি কর্পোরেশন:
- বাংলাদেশের প্রধান শহর কেন্দ্রিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা হচ্ছে- সিটি কর্পোরেশন।
- প্রত্যেক সিটি কর্পোরেশনকে কতগুলো ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়।
- জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত একজন মেয়র সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত কাউন্সিলার এবং সর্বমোট কাউন্সিলরদের এক তৃতীয়াংশ সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর সমন্বয়ে সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয়।
- মেয়র প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করেন।
- প্রত্যেক ওয়ার্ড হতে একজন কাউন্সিলর প্রাপ্তবয়স্কদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন।

সিটি কর্পোরেশনের আয়ের উৎস:
(ক) সরকার হতে প্রাপ্ত অনুদান।
(খ) কর্পোরেশনের উপর ন্যস্ত এবং তৎকর্তৃক পরিচালিত সকল সম্পত্তি হতে প্রাপ্ত আয় বা মুনাফা।
(গ) সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক আরোপিত যে-কোনো কর, উপকর, রেইট, টোল ও ফিস ইত্যাদি।
(ঘ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি বিশেষ কর্তৃক প্রদত্ত দান।
(ঙ) কর্পোরেশনের উপর ন্যস্ত সকল ট্রাস্ট হতে প্রাপ্ত আয়।
(চ) কর্পোরেশনের অর্থ বিনিয়োগ হতে প্রাপ্ত মুনাফা।
(জ) আইনের অধীন অর্থদন্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৯.
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান কে?
  1. অধ্যাপক আলী রিয়াজ
  2. আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী
  3. সফর রাজ হোসেন
  4. ড. ইফতেখারুজ্জামান
ব্যাখ্যা

 • জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন:
- ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর আট সদস্যের জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়।
- পরে কমিশনের সদস্যসংখ্যা আরও তিনজন বাড়ানো হয়।
- এ কমিশনের প্রধান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী।
- জনমুখী, জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও নিরপেক্ষ জনপ্রশাসন ব্যবস্থা করে তুলতে এ কমিশন গঠন করা হয়।
- ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১২টায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।

• অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কমিশনের নাম ও প্রধান কমিশনার: 
• নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন- ড. বদিউল আলম মজুমদার;
• পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশন- সফর রাজ হোসেন;
• বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন- বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান;
• দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন- ড. ইফতেখারুজ্জামান;
• সংবিধান সংস্কার কমিশন- অধ্যাপক আলী রিয়াজ।

উৎস: সংস্কার কমিশনের ওয়েবসাইট বিবিসি প্রতিবেদন।

৯৬০.
সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কত দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৪৫ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ:
- জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
- দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
- প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
- সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) মহিলা আসন সংখ্যা ৫০ করা হয়।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
- জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
- সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়।
- জাতীয় সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য কোরাম থাকতে হয়।
- অধিবেশনে কোরামের জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫ নং অনুচ্ছেদে কোরাম সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
- ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।
৯৬১.
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নয় কোনটি?
  1. সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা
  2. জাতীয় মর্যাদা বৃদ্ধি করা
  3. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
  4. নিজস্ব মতবাদে দৃঢ় থাকা
ব্যাখ্যা

সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নয়।

• পররাষ্ট্রনীতি:
- পররাষ্ট্রনীতি হলো কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের গৃহীত সেসব নীতি যা রাষ্ট্র তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে সম্পাদন করে থাকে।
- অন্য রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতাকে তুলে ধরে।
- বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি মূলত বহিঃশক্তির প্রভাব থেকে দেশের সাবভৌমত্ব ও ভূখন্ডকে রক্ষা করার মতো বিষয়েই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।

• বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
১. আত্বরক্ষা,
২. অর্থনৈতিক অগ্রগতি,
৩. অন্য রাষ্ট্রের তুলনায় নিজের জাতীয় শক্তিকে রক্ষা ও প্রয়োজনবোধে বৃদ্ধি করা,
৪. নিজস্ব মতবাদে দৃঢ় থাকা, ও
৫. জাতীয় মর্যাদা বৃদ্ধি করা।

উৎস: সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬২.
কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার জন্য যোগ্যতা নিচের কোনটি?
  1. ক) বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া
  2. খ) তাঁর বয়স পঁচিশ বছর পূর্ণ হওয়া
  3. গ) আদালত তাঁকে অপ্রকৃতিস্থ বলে ঘোষণা না করলে
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ-৬৬: সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা
 (১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে এবং তাঁহার বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হইলে এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত বিধান-সাপেক্ষে তিনি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন। 
 
(২) কোন ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি 
(ক) কোন উপযুক্ত আদালত তাঁহাকে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা করেন; 
(খ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন; 
(গ) তিনি কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন; 
(ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অনূ্যন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে; 
 [(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন যে কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইয়া থাকেন; 
 (চ) আইনের দ্বারা পদাধিকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করিতেছে না, এমন পদ ব্যতীত তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন; অথবা] 
(ছ) তিনি কোন আইনের দ্বারা বা অধীন অনুরূপ নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হন। 
 
সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
৯৬৩.
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট এর বিচারকগণকে অপসারণের সুপারিশকারী কর্তৃপক্ষ -
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিল
  4. জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা

সুপ্রিম কোর্ট:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার বর্ণিত হয়েছে।
- সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, আপীল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হবে।
- সুপ্রিম কোর্টের এই দুই বিভাগের পৃথক এখতিয়ার রয়েছে।
- সংবিধান ও সংবিধানের পাশাপাশি দেশের সাধারণ আইন (সংসদ কর্তৃক পাশকৃত আইন) এই এখতিয়ারের উৎস।
- ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত করা হয়।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে (১৬তম সংশোধনী বাতিলের পর), সুপ্রীম কোর্টের বিচারকদের অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে অপসারণের জন্য সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিল (SJC) তদন্ত করে রাষ্ট্রপতিকে সুপারিশ করে। SJC-এর চেয়ারম্যান প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য সদস্য আপীল বিভাগের সিনিয়র বিচারক। এই রায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে অ্যাপিলেট ডিভিশন কর্তৃক নিশ্চিত হয়েছে, যা বিচারবিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সংসদের ক্ষমতা বাতিল করে।

অর্থাৎ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের সুপারিশ করার জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল (Supreme Judicial Council) হলো মূল কর্তৃপক্ষ।
- আপিল বিভাগের এক রায়ের মাধ্যমে এই কাউন্সিলকে পুনরায় বিচারক অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
- এর মাধ্যমে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতি অপসারণের যে ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছিল, সেটি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে নেওয়া হয়েছে।

৯৬৪.
গভর্নমেন্ট হাউজ এর নাম বর্তমান নাম কি?
  1. গণভবন
  2. বঙ্গভবন
  3. জাতীয় সংসদ ভবন
  4. বাংলা একাডেমি
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এর মহামান্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও বাসভবন - বঙ্গভবন।
- ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর এ ঐতিহাসিক এই ভবনের যাত্রা শুরু হয়।
- তখন এর নাম ছিল গভর্নমেন্ট হাউজ।
- ১৯৭১ সালের ২৩ ডিসেম্বর এই ভবনের নাম পরিবর্তন করে 'বঙ্গভবন' রাখা হয়।

- বঙ্গভবন বা রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এর ২টি বিভাগ রয়েছে। যথা -
১. জন বিভাগ (Public Division),
২. আপন বিভাগ (Personal Division)।

তথ্যসূত্র - রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ওয়েবসাইট।
৯৬৫.
প্রধানমন্ত্রী তার কাজের জন্য কার নিকট জবাবদিহি করবেন?
  1. জাতীয় সংসদের নিকট
  2. রাষ্ট্রপতির নিকট
  3. স্পীকারের নিকট
  4. সুপ্রিম কোটের নিকট
ব্যাখ্যা

- প্রধানমন্ত্রী সংসদের কাছে জবাবদিহি করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কাজ: 

- সংবিধান অনুযায়ী দেশের সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
- প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকেন।
- প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার সদস্য, সাংবিধানিক পদে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিদেশে রাষ্ট্রদূত ইত্যাদি নিয়োগ দেন।
- প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের প্রধান।
- তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করেন ও মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন।
- প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের একজন সদস্য ও সংসদ নেতা।

এছাড়াও, 
- জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত বা ভেঙে দিতে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন।
- সংসদে আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কোনো সরকারি বিল উত্থাপনের পূর্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
- যদি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিপরিষদ উক্ত প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন তবেই তা সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা যায়।
- এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও পরামর্শে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের (জাতীয়) বাজেট প্রণয়ন ও সংসদে উপস্থাপন করেন। 
- প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে না।
- আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন।
- দেশের জরুরি অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়া যেকোনো নির্দেশ দিতে পারেন।
- তবে প্রধানমন্ত্রী সংসদের কাছে জবাবদিহি করবেন।
- সংসদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে জবাবদিহি চালু রাখতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, ৫৯ পৃষ্ঠা।

৯৬৬.
‘কোর্ট অব রেকর্ড’ বলা হয় নিম্নের কোন আদালতকে?
  1. হাইকোর্ট
  2. সুপ্রিম কোর্ট
  3. জজকোর্ট
  4. ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট
ব্যাখ্যা

সংবিধানের ১০৮ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, সুপ্রিম কোর্টকে ‘কোর্ট অব রেকর্ড’ বলা হয়।

১ম পরিচ্ছেদ:  সুপ্রীম কোর্ট
- সংবিধানের ১০৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে 'কোর্ট অব রেকর্ড' রূপে সুপ্রীম কোর্ট: সুপ্রীম কোর্ট একটি 'কোর্ট অব্ রেকর্ড' হবেন এবং এর অবমাননার জন্য তদন্তের আদেশদান বা দণ্ডাদেশদানের ক্ষমতাসহ আইন-সাপেক্ষে অনুরূপ আদালতের সকল ক্ষমতার অধিকারী থাকিবেন।

⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার বর্ণিত হয়েছে।
- সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, আপীল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হবে।
- সংবিধান ও সংবিধানের পাশাপাশি দেশের সাধারণ আইন (সংসদ কর্তৃক পাশকৃত আইন) এই এখতিয়ারের উৎস।
- সুপ্রীমকোর্ট সংবিধানের অভিভাবক ও ব্যাখ্যাকারক।
- নাগরিকের মৌলিক অধিকারের উপর সংসদ যে সমস্ত বাঁধা নিষেধ আরোপ করতে পারে সেগুলো যুক্তিসঙ্গত কিনা তা বিচার করবার ক্ষমতা সুপ্রীমকোর্টের উপর ন্যাস্ত।

উৎস: i) সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।

৯৬৭.
কোনটি বিচার বিভাগের কাজ নয়?
  1. আইনের প্রয়োগ
  2. আইনের ব্যাখ্যা
  3. সংবিধানের ব্যাখ্যা
  4. সংবিধান প্রণয়ন
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগের কাজ নয় - সংবিধান প্রণয়ন

বিচার বিভাগ:
- বিচার বিভাগ সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে অন্যতম, দেশের সমস্ত বিচারকদের নিয়ে বিচার বিভাগ গঠিত। বিচার বিভাগ বিচার পরিচালনা করে।

নিম্নে বিচার বিভাগের কার্যাবলি আলোচনা করা হলো:
১. বিচার সংক্রান্ত কাজ:
- বিচার বিভাগ আইনকে বাস্তবায়িত করে। এ বিভাগ দেশের আইন মোতাবেক বিচার কার্য সম্পাদন করে।
- এটা ব্যক্তির সাথে, রাষ্ট্রের সাথে, প্রতিষ্ঠানের সাথে বিরোধের মোকাবেলা সম্পন্ন করে।

২. আইন সংক্রান্ত:
- বিচার বিভাগ আইনের ব্যাখ্যা করে। প্রয়োজনে নিজস্ব মতামতের প্রতিফলন ঘটায়।
- আইনের এ ব্যাখ্যা পরবর্তীকালে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৩. শাসন সংক্রান্ত কাজ করা:
- বিচার বিভাগ শুধু বিচার সংক্রান্ত কাজ করে না। শাসন সংক্রান্ত কাজও করে থাকে।
- নাবালকের সম্পত্তি দেখা শোনা করা, বিদেশী নাগরিককে নাগরিকত্ব প্রদান করাও বিচারবিভাগের কাজ।

৪.পরামর্শ সংক্রান্ত কাজ:
- শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ, বিচার বিভাগের পরামর্শের প্রত্যাশী হয়।
- বিচার বিভাগ সেক্ষেত্রে তাদের জ্ঞানগর্ভ শলা-পরামর্শ বা উপদেশ প্রদান করে থাকে।

৫. জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা:
- বিচার বিভাগ জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে। শাসন বিভাগের যথেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগ একমাত্র হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
- এটা বিভিন্নভাবে ব্যক্তির অধিকার রক্ষার প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে।

৬.তদন্ত সংক্রান্ত কাজ:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের সম্পত্তি ও জানগণের নিরাপত্তা দান করতে সরকার ওয়াদাবদ্ধ থাকে।
- ফলে রাষ্ট্রে যদি কোন অন্যায় বা জোর-জবরদস্তি, অপরাধ বা দুর্ঘটনা ঘটে, সেক্ষেত্রে বিচার বিভাগ তদন্ত কাজ পরিচালনা করেও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে।

৭. সংবিধান সংরক্ষণ:
- বিচার বিভাগ সংবিধান সংরক্ষণ করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থায় বিচার বিভাগ সংবিধানের অভিভাবক।
- সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান করে কেন্দ্র ও অঙ্গরাজ্যের মধ্যে বিবাদ মীমাংসা করে যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত সংবিধানের প্রাধান্য বজায় রাখে।

৮. ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠা:
- ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা বিচার বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
- বিচার বিভাগ মামলা পরিচালনার তথ্য অনুসন্ধানের জন্য নথিপত্র দেখে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ করে অপরাধীর শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠা করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্বদ্যালয়।
৯৬৮.
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অনধিক নির্বাচন কমিশনার কতজন?
  1. চারজন
  2. দুইজন
  3. তিনজন
  4. ছয়জন
ব্যাখ্যা
• নির্বাচন কমিশনের গঠন:
- বাংলাদেশে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কমিশন স্বতন্ত্র, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন পরিচালনা করে।
- এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে এ কমিশন গঠিত হয়।
- সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগদান করেন।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের সভাপতি হিসেবে কাজ করেন। কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর।
- কমিশনাররা রাষ্ট্রপতির কাছে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র পেশ করতে পারেন।
- অসদাচরণ ও অসামর্থ্যের কারণে কমিশনাররা দায়িত্ব থেকে অপসারিত হতে পারেন।

উৎস:বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
৯৬৯.
সংবিধান অনুসারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কত বছরের জন্য নির্বাচিত হন?
  1. ৩ বছর
  2. ৪ বছর
  3. ৫ বছর
  4. নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ নেই
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
- রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধান।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি দেশের প্রধান নির্বাহী ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ অংশের ৪৮-৫৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধানাবলি বিধৃত হয়েছে।
- রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হন।
- সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে ৫ বছর।
- উল্লেখ্য, দুই মেয়াদের অধিক কেউ রাষ্ট্রপতির পদে কোন ব্যক্তি অধিষ্ঠিত হতে পারবেন না।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।
৯৭০.
কত সালে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনটি প্রবর্তন করা হয়?
  1. ২০০১ সালে
  2. ২০০৮ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
ব্যাখ্যা
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন:
- মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও অধ্যাদেশ রহিতক্রমে এতদসংক্রান্ত আইন পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন।
- মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনটি প্রবর্তন করা হয় ২০১২ সালে।

⇒ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন -
- এই আইন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ নামে অভিহিত হইবে।
- ইহা ৩ মাঘ, ১৪১৮ বঙ্গাব্দ/১৬ জানুয়ারি, ২০১২ খ্রিস্টাব্দ তারিখ হতে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য,
⇒ দেশে মানি লন্ডারিং ঠেকাতে ২০০২ সালে প্রথম মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন করা হয়।
- পরে কয়েক দফা এই আইনের সংশোধন করা হয়।
- মানি লন্ডারিং আইন অনুযায়ী, অর্থ বা সম্পত্তি পাচারের অর্থ হচ্ছে দেশের বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করে দেশের বাইরে অর্থ বা সম্পদ পাঠানো কিংবা রক্ষণ করা।
- আবার দেশের বাইরে এমন অর্থ বা সম্পত্তি, যাতে বাংলাদেশের স্বার্থ রয়েছে, কিন্তু তা আনা হয়নি, তা–ও মানি লন্ডারিং আইনে অপরাধ।
- আবার বিদেশ থেকে প্রকৃত পাওনা দেশে না আনা কিংবা বিদেশে প্রকৃত দেনার অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করা এই আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

⇒ মানিলণ্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০২ বাংলাদেশের একটি আইন যা ২০০২ সালের ৭ নং আইন হিসাবে চিহ্নিত এবং ৭ই এপ্রিল, ২০০২ তারিখে আইন হিসাবে প্রচারিত। আইনটি ৩০শে এপ্রিল ২০০২ তারিখ থেকে কার্যকর হয়। এ আইনটি “মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ (সংশোধন) আইন” দ্বারা ২০০৩ সালে সংশোধন করা হয়। পরে, ২০১২ সালে এই আইনটি রহিত করা হয়।

উৎস: আইন মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৯৭১.
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কতবার প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ২ বার
  2. খ) ৩ বার
  3. গ) ৪ বার
  4. ঘ) ৫ বার
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোট ৩ বার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়।
যথা -
- ১৯৭৮ সালের ৩ জুন বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ ভোটে সর্বপ্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর দেশে দ্বিতীয়বার প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশে সর্বশেষ প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জয় লাভ করেন।

- ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হলে প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়।
- বর্তমানে পরোক্ষভাবে অর্থ্যাৎ সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়।

সূত্র- নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশের সংবিধান।

৯৭২.
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর কোন পর্যায়ের উপাধি 'অ্যাডমিরাল'?
  1. সেনাবাহিনী
  2. বিমান বাহিনী
  3. নৌ-বাহিনী
  4. বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা

অ্যাডমিরাল:
- 'অ্যাডমিরাল' বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ চার-তারকা পদমর্যাদা।
- এই উপাধি সাধারণত নৌবাহিনী প্রধানকে দেওয়া হয়।
- যা নৌ-বাহিনীর সর্বোচ্চ অর্জনযোগ্য পদবি হিসেবে স্বীকৃত।
- অ্যাডমিরাল সশস্ত্র বাহিনীর নৌবাহিনী পর্যায়ের উপাধি, যা সেনাবাহিনীতে জেনারেল বা বিমানবাহিনীতে এয়ার চিফ মার্শাল-এর সমতুল্য।
- অ্যাডমিরাল উপাধিতে পদোন্নতি সিলেক্টিভ এবং সরকারি অনুমোদনের উপর নির্ভর করে।
- বর্তমানে নৌ-বাহিনীর 'অ্যাডমিরাল' এম নাজমুল হাসান।

তথ্যসূত্র - নৌ-বাহিনীর ওয়েবসাইট।

৯৭৩.
বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থা কোন ধরনের?
  1. যুক্তরাষ্ট্রীয়
  2. এককেন্দ্রিক
  3. রাজতন্ত্র
  4. কেন্দ্রশাসিত
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকার: 
- সরকার যে কোন দেশের শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু।
- সরকারকে কেন্দ্র করে একটি রাষ্ট্রের শাসনতান্ত্রিক কার্যাবলি সম্পাদিত হয়।
- মূলত: রাষ্ট্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সাধিত হয় সরকারের মাধ্যমে।
- রাষ্ট্র গঠিত হয় চারটি মূল উপাদানের সমন্বয়ে যেমন, নির্দিষ্ট ভূ-খন্ড, জনগণ, সরকার ও সার্বভৌমত্ব।
- সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা এককেন্দ্রিক।
- এবং সংসদীয় কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- অর্থাৎ এই সরকার কাঠামোয় একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার থাকবে।
- কেন্দ্রীয় সরকারই রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল সূতিকাগার হিসেবে আইন প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও ব্যাখ্যা সংক্রান্ত বিষয়ে ভূমিকা পালন করবে।
- সরকারের তিনটি অঙ্গ- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৪.
গ্রাম অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নয় কোনটি?
  1. ইউনিয়ন পরিষদ
  2. উপজেলা পরিষদ
  3. পৌরসভা
  4. জেলা পরিষদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:

⇨ শহর অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা-
- পৌরসভা এবং
- সিটি কর্পোরেশন।

⇨ গ্রাম অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা -
- ইউনিয়ন পরিষদ,
- উপজেলা পরিষদ এবং
- জেলা পরিষদ।

⇨ এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩টি জেলা নিয়ে আঞ্চলিক স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আঞ্চলিক পরিষদ-
১. বান্দরবান পাহাড়ী জেলা পরিষদ
২. রাঙ্গামাটি পাহাড়ী জেলা পরিষদ
৩. খাগড়াছড়ি পাহাড়ী জেলা পরিষদ

• স্থানীয় প্রশাসনের অঙ্গ হলো:
- বিভাগীয় প্রশাসন,
- জেলা প্রশাসন,
- উপজেলা প্রশাসন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৭৫.
বাংলাদেশে স্থানীয় প্রশাসন কাঠামোর সর্বনিম্ন স্তর কোনটি?
  1. জেলা পরিষদ
  2. উপজেলা পরিষদ
  3. ইউনিয়ন পরিষদ
  4. গ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের "স্থানীয় প্রশাসন" একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা যা সরকারের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী দ্বারা পরিচালিত হয়।
বাংলাদেশের স্থানীয় প্রশাসন কাঠামোর স্তর তিনটি। যথা:
১. বিভাগীয় প্রশাসন (Divisional Administration)
২. জেলা প্রশাসন (District Administration)
৩. উপজেলা প্রশাসন (Upazila Administration)

অন্যদিকে, বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোর প্রধানস্তর তিনটি। যথা:
১। জেলা পরিষদ 
২। উপজেলা পরিষদ 
৩। ইউনিয়ন পরিষদ

অর্থাৎ,
স্থানীয় প্রশাসনের সর্বনিম্ন স্তর - উপজেলা প্রশাসন
স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তর - ইউনিয়ন  ইউনিয়ন পরিষদ।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৬.
মোট কতজন সদস্য নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়?
  1. ৯ জন
  2. ১১ জন
  3. ১৩ জন
  4. ১৫ জন
ব্যাখ্যা

ইউনিয়ন পরিষদের গঠন:
- একটি ইউনিয়ন ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত।
- চেয়ারম্যান ১ জন।
- নির্বাচিত সদস্য ৯ জন।
- সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৩ জন।
- ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয় মোট ১৩ জন সদস্য নিয়ে।
- প্রতি তিন ওয়ার্ড থেকে একজন মহিলা সদস্য নির্বাচিত হন।
- কার্যালয় পরিচালনার জন্য এক জন সচিব নিয়োগ করা হয়।
- ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর, সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের অপসারণ করা যায়। 
- ইউনিয়ন পরিষদের সকলেই সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭৭.
নিচের কোনটি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) আইন ও সালিশ কেন্দ্র
  2. খ) এফবিসিসিআই
  3. গ) বাংলাদেশ সশ্স্ত্র বাহিনী
  4. ঘ) জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
ব্যাখ্যা
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো এমন এক গোষ্ঠী যার সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি। এটি একটি নির্দলীয় বা অরাজনৈতিক সামাজিক গোষ্ঠী যাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য থাকে।
- তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা।
- এদের কোন বৃহৎ বা জাতীয় লক্ষ্য থাকে না। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, এফবিসিসিআই ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- বাংলাদেশ সশ্বস্ত্র বাহিনী সরকার কাঠামোর অংশ। এটি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নয়।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক)
৯৭৮.
বাংলাদেশে বর্তমানে কোন পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা চালু রয়েছে?
  1. রাষ্ট্রপতি শাসিত
  2. যুক্তরাষ্ট্রীয়
  3. সংসদীয়
  4. একনায়কতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা:
-  সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত। তিনি সংসদের নিকট দায়বদ্ধ।
- কিন্তু বাংলাদেশে ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯১ রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু ছিল।
- এ ধরনের ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।
- বিশেষ করে জিয়াউর রহমান ও এরশাদ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি পদটিকে বাংলাদেশে খুবই আকর্ষণীয় করে তোলা হয়।
- এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধান সংসদের নিকট দায়বদ্ধ থাকেন না।
- ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ব্যবস্থা বলবৎ করা হয়।
- কিন্তু ১৯৯১ সালের ১০ আগস্ট দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়।
- পুনরায় সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা কার্যকর হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৯.
চতুর্থ জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন কে?
  1. ক) মওদুদ আহমেদ
  2. খ) আতাউর রহমান খান
  3. গ) মিজানুর রহমান চৌধুরী
  4. ঘ) শাহ আজিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৫ এপ্রিল চতুর্থ সংসদ যাত্রা শুরু করে। এ সংসদে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ২৭ মার্চ ১৯৮৮ থেকে ১২ আগস্ট ১৯৮৯ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে ১২ আগস্ট ১৯৮৯ থেকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ পর্যন্ত এরশাদের শাসনামলে কাজী জাফর আহমেদ প্রধানমন্ত্রী'র দায়িত্ব পালন করেন। (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ওয়েবসাইট)
৯৮০.
বাংলাদেশে শহরে স্থানীয় সরকার কয় স্তর বিশিষ্ট?
  1. ২ স্তর বিশিষ্ট
  2. ৩ স্তর বিশিষ্ট
  3. ৪ স্তর বিশিষ্ট
  4. ৫ স্তর বিশিষ্ট
ব্যাখ্যা
• সরকার ব্যবস্থা:
→ বর্তমান বাংলাদেশে শহুরে ও গ্রামীণ দুই ধরনের স্থানীয় সরকার কার্যকর রয়েছে।
→ বাংলাদেশে শহরের জন্য দুই স্তর বিশিষ্ট ও পল্লীর জন্য তিন স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো রয়েছে।

• শহরে স্থানীয় সরকার:
→ সিটি কর্পোরেশন,
 → পৌরসভা।

• পল্লী স্থানীয় সরকার:
 → জেলা পরিষদ,
 → উপজেলা পরিষদ,
 → ইউনিয়ন পরিষদ। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮১.
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো কতটি প্রধান স্তরে বিভক্ত?
  1. একটি
  2. দুটি 
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো:
 - বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো স্তরভিত্তিক।
- এর দুটি প্রধান স্তর আছে।

• প্রথম স্তরটি হলো কেন্দ্রীয় প্রশাসন (সচিবালয়)।
- দেশের সব ধরনের প্রশাসনিক নীতি ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়।
- আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সারা দেশে বাস্তবায়িত হয়।

• বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দ্বিতীয় স্তরটি হলো মাঠ প্রশাসন।
- মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলো বিভাগীয় প্রশাসন।
- দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে জেলা প্রশাসন।
- জেলার পর আছে উপজেলা প্রশাসন।
- উপজেলা প্রশাসন একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত।

-  মাঠ প্রশাসন মূলত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। কয়েকটি মন্ত্রণালয় নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রশাসন বা সচিবালয় গঠিত।
- প্রতি মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত আছে বিভিন্ন বিভাগ বা অধিদপ্তর।
- অধিদপ্তরের/দপ্তরের প্রধান হলেন মহাপরিচালক/পরিচালক। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।

৯৮২.
তৃতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয় কেন?
  1. ক) এরশাদের ক্ষমতাকে বৈধতা প্রদানের জন্য
  2. খ) বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের দায়মুক্তি জন্য
  3. গ) অপারেশন ক্লিন হার্টের বৈধতা প্রদানের জন্য
  4. ঘ) জিয়ার ক্ষমতাকে বৈধতা প্রদানের জন্য
ব্যাখ্যা

- ইনডেমনিটি হলো কোন বিচারকার্যকে বাধা প্রধান সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বা আইন। কোনো অভিযান বা অভ্যুত্থানের ক্ষয়ক্ষতি আদালতের বহির্ভূত রাখার জন্য আইনসভা যে বিল পাস করে তাকেই ইনডেমনিটি বিল বলে।
- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৩ বার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সাথে জড়িতদের দায়মুক্তি করে ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ সালে প্রথম ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত এরশাদ সরকারের জারিকৃত সকল প্রকার সামরিক আইন,অধ্যাদেশ,বিধি-নির্দেশ ইত্যাদিকে ও বৈধতাদানের উদ্দেশ্য ২য ইনডেমিনিটি বিলটি' ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং সংবিধানের সপ্তম সংশোধনীতে এটি অন্তর্ভুক্ত' করা হয়।
- ২০০২ সালের অপারেশন ক্লিন হার্টের বৈধতা প্রদান করার জন্য ২০০৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৯৮৩.
Rules of Business কে প্রণয়ন করেন? 
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. অ্যাটর্নি জেনারেল
  4. প্রধান বিচারপতি 
ব্যাখ্যা

• Rules of Business:
- যে আইনের মাধ্যমে সরকারের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা করা হয় তাকেই সরকারী কার্যপ্রণালী বিধি বা Rules of Business বলা হয়ে থাকে।
- রুলস অফ বিজনেস, ১৯৯৬ হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল যা সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রণীত।
- সরকারের ‘রুলস অব বিজনেস’ বা কার্যবিধিমালার বিষয়বস্তু হচ্ছে মূলত নির্বাহী বিভাগের কর্মবণ্টন ও কর্মপদ্ধতি। 
- বলা হয়ে থাকে রাষ্ট্রের সংবিধান যেমন সব নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য, তেমনি কার্যবিধিমালা নির্বাহী বিভাগের সবার জন্য প্রযোজ্য।
- এই বিধিমালার উদ্দেশ্য হলো সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে কার্যাবলী বন্টন করা এবং তাদের দায়িত্ব ও কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করা। 
- সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি Rules of Business প্রণয়ন করেন। 

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের প্রথম কার্যবিধিমালা প্রণীত হয়েছিল ১ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে। তখন রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ছিল বিধায় সেটি সে আদলেই করা হয়েছিল।
- ১৯৯৬ সালে প্রবর্তিত হয় সংসদীয় পদ্ধতির সরকার উপযোগী নতুন কার্যবিধিমালা। 
- বিধিমালাটি ইংরেজিতে প্রণীত।
- কার্যবিধিমালাতে পাঁচটি অধ্যায়ে ৩৩টি বিধি এবং সাতটি তফসিল রয়েছে। 

তথ্যসূত্র: 
i) বণিক বার্তা।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান। 
iii) বাংলাপিডিয়া। 

৯৮৪.
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের জন্য মামলা করেন -
  1. বিচারপতি মাজদার হোসেন
  2. বিচারপতি আবু সাঈদ
  3. বিচারপতি মোহাম্মদ সালেহ
  4. বিচারপতি মো. মেসবাহউদ্দিন
ব্যাখ্যা
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ:
- নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের জন্য মামলা করেন বিচারপতি মো. মাজদার হোসেন।

উল্লেখ্য, 

- ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর, তাঁর দায়ের করা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক রায় প্রদান করে।
- এই রায়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রশাসনিক ক্যাডার থেকে আলাদা করে একটি স্বাধীন জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
- আদালত আরও নির্দেশ দেয় যে, বিচারকদের নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলা সম্পর্কিত বিষয়সমূহ সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
- এই রায় বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় মাইলফলক হয়ে ওঠে।
- পরে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইন কার্যকর করে পৃথকীকরণ বাস্তবায়ন শুরু করে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৯৮৫.
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন করা হয় কবে?  
  1. ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ 
  2. ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ 
  3. ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ 
  4. ১ জানুয়ারি, ২০২৬ 
ব্যাখ্যা

• সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন: 
- বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করা হয়। 
- ২০ নভেম্বর, ২০২৫ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ অধ্যাদেশের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। 
- অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিচারকাজে নিয়োজিত বিচারকদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও ছুটিবিষয়ক সব সিদ্ধান্ত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় এই সচিবালয়ের হাতে থাকবে। 
- সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সচিবালয়ের সচিব প্রশাসনিক প্রধান হবেন।
- ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয়ের উদ্বোধন করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।  


উল্লেখ্য, 
- সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন আদালত ও ট্রাইবুনালের ওপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ কার্যকরভাবে পালনের জন্য একটি আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার ও ইত্তেফাক।

৯৮৬.
’এক ব্যক্তি এক ভোট’ কী?
  1. প্রতিপাদ্য বিষয়
  2. দলীয় কর্মসূচী
  3. নির্বাচন পদ্ধতি
  4. নির্বাচনের স্লোগান
ব্যাখ্যা
• এক ব্যক্তি এক ভোট :
- নির্বাচনপদ্ধতির মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হচ্ছে 'এক ব্যক্তি, এক ভোট' পদ্ধতি। '
- এক ব্যক্তি, এক ভোট' বর্তমানে সর্বত্র গৃহীত নীতি।
- এ পদ্ধতিতে একটি আসনের জন্য যেকোনো সংখ্যক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
- একজন ভোটার কেবল তাঁর পছন্দের প্রার্থীকে একটি ভোট দিবেন।
- প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে যিনি বেশি ভোট পাবেন তিনি নির্বাচিত হবেন।

উৎস : পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৯৮৭.
কয়টি অঙ্গ বা বিভাগ নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠিত?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৫ টি
ব্যাখ্যা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গ বা বিভাগ তিনটি
যথা-
- আইন বিভাগ,
- শাসন বিভাগ এবং
- বিচার বিভাগ।

- রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনি আইন পরিষদের নিকট দায়ী নন।
- কিন্তু সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি হল নামমাত্র প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী হলেন শাসন বিভাগ তথা নির্বাহী বিভাগের প্রধান।

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন , প্রফেসর মোজাম্মেল হক।

৯৮৮.
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে নারী সদস্য সংখ্যা কত জন? [অক্টোবর, ২০২৫]
  1. ৩ জন
  2. ৪ জন
  3. ৫ জন
  4. ৬ জন
ব্যাখ্যা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা: 
- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
- প্রধান উপদেষ্টা সহ বর্তমানে অন্তবর্তীকালীন সরকারের মোট উপদেষ্টা ২৩ জন। [অক্টোবর, ২০২৫]
- বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মোট ৪ জন নারী উপদেষ্টা রয়েছেন। 

তাদের নাম হল:
- সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, 
- নূরজাহান বেগম, 
- ফরিদা আখতার, 
- শারমীন এস মুরশিদ। 

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

৯৮৯.
মন্ত্রীসভার ব্যর্থতার জন্য কার নিকট জবাবদিহি করতে হয়?
  1. ক) রাষ্ট্রপতি
  2. খ) জাতীয় সংসদ
  3. গ) জনগন
  4. ঘ) সচিবালয়
ব্যাখ্যা
- সরকার পরিচালনার জন্য দেশে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ যার নেতা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। 
- মন্ত্রিসভার সদস্যগণ নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
- মন্ত্রিসভা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের কাজের মধ্যে সমন্বয় করে থাকে।
- মন্ত্রীসভার ব্যর্থতার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে জাতীয় সংসদের নিকট জবাবদিহি করতে হয়।

তথ্যসূত্রঃ উৎস:  পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৯০.
’গণ ফোরাম‘-র প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  2. ড. কামাল হোসেন
  3. তৌহিদুল ইসলাম খান
  4. ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• গণ ফোরাম :
-  প্রখ্যাত আইনজীবী ড.কামাল হোসেন ১৯৯২ সালে গণ ফোরাম গঠন করেন।
- ১৯৯৩ সালের আগস্ট মাসে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- এটি একটি উদারনৈতিক রাজনৈতিক দল।
- দলটি একটি শক্তিশালী সিভিল সমাজ এবং সমতার ভিত্তিতে সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগ্রহী।

উৎস : বাংলাপিডিয়া
৯৯১.
বাংলাদেশের সরকারব্যবস্থা কোন ধরনের?
  1. প্রেসিডেনশিয়াল
  2. একনায়কতান্ত্রিক
  3. সংসদীয় সরকার
  4. সামরিক শাসন
ব্যাখ্যা
সরকার ব্যবস্থা: 
- মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারই বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- এটি রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ছিল।
- কিন্তু পরবর্তীতে সংসদীয় সরকার প্রবর্তন করা হয়।
- বাংলাদেশের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যামান রয়েছে।
- বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র।
- এই রাষ্ট্রের শাসন বিভাগ, বিচার ও আইন  বিভাগ নামে তিনটি বিভাগ রয়েছে।
- সরকার যাবতীয় কার্যাবলির জন্য জাতীয় সংসদের নিকট দায়বদ্ধ।

উল্লেখ্য,
- শাসন বিভাগের কেন্দ্রে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ (Cabinet)।
- প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকার প্রধান ও মন্ত্রিপরিষদের কেন্দ্রবিন্দু।
- তাঁর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ দেশের শাসনকার্য পরিচালনা করে।
- সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে থাকেন।
- বাংলাদেশে ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯১ রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু ছিল।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৯২.
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে রয়েছেন? [ডিসেম্বর, ২০২৪]
  1. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  2. জনাব সালেহ উদ্দিন আহমেদ
  3. মোঃ তৌহিদ হোসেন
  4. মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার:
- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে।
- নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আগস্ট, ২০২৪ সালে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।
- এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

⇒ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
- শপথ গ্রহণের স্থান: বঙ্গভবন।
- মোট উপদেষ্টা: ২৪ জন।

উল্লেখ্য,
⇒ ড. মুহাম্মদ ইউনূস:
- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

⇒ জনাব সালেহ উদ্দিন আহমেদ:
- অর্থ মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

⇒ জনাব ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ:
- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

⇒ জনাব মোঃ তৌহিদ হোসেন:
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

⇒ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী:
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। [link]
৯৯৩.
'অ্যাটর্নি জেনারেল' রাষ্ট্রের কোন বিভাগের কর্মকর্তা?
  1. বিচার বিভাগ
  2. নির্বাহী বিভাগ
  3. প্রশাসনিক বিভাগ
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
অ্যাটর্নি জেনারেল:
- বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগের ৫ম পরিচ্ছেদে ৬৪ নং অনুচ্ছেদে অ্যাটর্নি জেনারেল পদের কথা উল্লেখ আছে।
- অ্যাটর্নি জেনারেল বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাহী বিভাগের অধীনে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সরকারের প্রধান আইনজীবী।
- অ্যাটর্নি জেনারেল হল বাংলাদেশ সরকারের প্রধান ও মুখ্য আইন পরামর্শক।
- এছাড়াও, অ্যাটর্নি জেনারেল তার পদাধিকার বলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- অ্যাটর্নি জেনারেলকে কিছু সংখ্যক যুগ্ম অ্যাটর্নি জেনারেল, উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সহায়তা করেন।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধান মোতাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবিধানিক পদ নয়, এটি একটি সংবিধিবদ্ধ পদ।
- সংবিধানের ৬৪(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন।

উল্লেখ্য,
- দেশের বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
- তিনি ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল।
- ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তিনি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

উৎস: i) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ওয়েবসাইট।
ii) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
৯৯৪.
নিচের কোনটি দুদকের তদন্ত ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. সামরিক অপরাধ
  2. ব্যাংক লুট
  3. ঘুষ গ্রহণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার
  4. রাষ্ট্রদ্রোহ
ব্যাখ্যা

দুর্নীতি দমন কমিশন:
- দুর্নীতি দমন কমিশন তার সামগ্রিক কার্যক্রম ৮টি অনুবিভাগের মাধ্যমে পরিচালনা করে।
- অনুসন্ধান ও তদন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুবিভাগ।
- দুর্নীতির অপরাধসমূহের বিচার কার্য প্রধানত নির্ভর করে অনুসন্ধানের উপর।
- দুর্নীতি  দমন কমিশন আইন ২০০৪ অনুসন্ধান সম্পর্কে দুদককে বিশেষ ক্ষমতা অর্পণ করেছে (ধারা ১৯ ও ২০)।
- সেজন্য, অনুসন্ধান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য দুদকের এই অনুবিভাগটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

⇒ সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালকের নেতৃত্বে এই অনুবিভাগ টি নিম্নোক্ত বিষয়ের উপর তদন্ত ও অনুসন্ধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত:
- ভূমি, ভূমি রাজস্ব ও বন্ধক;
- ঘুষ (অর্থ, সম্পদ ও পরিষেবা);
- স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অবৈধ উপায়ে অর্জন;
- নির্মাণ কাজ ও যোগাযোগ খাতের দুর্নীতি ;
- উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বেসরকারি সংস্থার দুর্নীতি;
- শুল্ক ও রাজস্ব, ব্যবসায়ী/ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ;
- সরকারি ক্রয়/বিক্রয়, লাইসেন্স ইস্যু করা;
- শপথ ভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহার শীর্ষক অপরাধ; এবং
- অন্যান্য, যেমন, দুদক আইন, ২০০৪-এর তফসিলে উল্লিখিত অপরাধসমূহ।

উৎস: দুর্নীতি দমন কমিশন ওয়েবসাইট।

৯৯৫.
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তর-
  1. জেলা পরিষদ
  2. উপজেলা পরিষদ
  3. ইউনিয়ন পরিষদ
  4. গ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা: 
- বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তরটি হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ।
-  ইউনিয়ন পরিষদের কাঠামো নিম্নরূপ:
- ১ জন চেয়ারম্যান
- ৯ জন সদস্য
- ৩ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য
- ১ জন সচিব, অফিস সহকারি ও গ্রাম পুলিশ। 
- প্রতি পাঁচ বছর পরপর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা তিনটি স্তর।
- জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ,ইউনিয়ন পরিষদ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৯৬.
বাংলাদেশে SWAT টিমের কার্যক্রম শুরু হয় কত সালে?
  1. ক) ২০০৯
  2. খ) ২০১২
  3. গ) ২০১১
  4. ঘ) ২০১৩
ব্যাখ্যা
স্পেশাল উইপন্স অ্যান্ড ট্যাকটিক্স টিম (সোয়াট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি অভিজাত কৌশলী ইউনিট যা ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ
৯৯৭.
বাংলাদেশের অস্ত্র কারখানা কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সাভার
  2. খ) গাজীপুর
  3. গ) নারায়ণগঞ্জ
  4. ঘ) নরসিংদী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সর্ববৃহৎ সামরিক কারখানা। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালে। এখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম তৈরি করা হয়। এটি গাজীপুর জেলায় অবস্থিত।
সূত্রঃ Bangladesh Ordnance Factories এর ওয়েব সাইট
৯৯৮.
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড কার নামে পরিচালিত হয়?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. মন্ত্রী
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা

কেন্দ্রীয় প্রশাসন:
- বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক সরকার কাঠামোভিত্তিক রাষ্ট্র হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে সকল প্রশাসনিক ক্ষমতা ন্যস্ত।
- সকল প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে কেন্দ্রীয় সচিবালয়।
- কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের সকল প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী।
- রাষ্ট্রপতির নামে রাষ্ট্রের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
- প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীপরিষদের কার্যকরি প্রধান হিসেবে সকল কার্য পরিচালনা করে থাকেন।
- প্রধানমন্ত্রীর অধীনে থাকেন মন্ত্রীগণ এবং মন্ত্রীদের অধীনে থাকেন রাষ্ট্রের স্থায়ী প্রশাসন অর্থাৎ সচিবগণ।
- সচিব হলেন বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার অরাজনৈতিক প্রশাসনিক প্রধান।
- এই সচিবদের অধীনে থাকেন অন্যান্য সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯৯.
বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি -
  1. ক) মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন
  2. খ) এডভোকেট আব্দুল হামিদ
  3. গ) হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী
  4. ঘ) এফ.কে.এম.এ মুনিম
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
• বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. সাহাবুদ্দিন৷
•  মো. আবদুল হামিদের উত্তরসূরি হিসেবে তিনি হবেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সর্ম্পকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য :
• রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মো. সাহাবুদ্দিনকে নির্বাচিত ঘোষণা করে নাম ঠিকানাসহ প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন৷
• দুদকের সাবেক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য৷
• ১৯৪৯ সালে পাবনায় জন্মগ্রহণ করা মো. সাহাবুদ্দিন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা৷
• ২০০৬ সালে তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসরে যান৷
•  ব্যক্তিজীবনে তিনি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু নামেই বেশি পরিচিত৷
• ১৯৭১ সালে পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন তিনি, মুক্তিযুদ্ধেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন৷
• তিনি ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল দুদকের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন৷ 

উৎস: বাংলাদেশে ডয়চে ভেলের কনটেন্ট ।
১,০০০.
বাংলাদেশে উপজেলা ব্যবস্থার প্রবর্তক কে?
  1. হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ
  2. জেনারেল জিয়াউর রহমান
  3. সাত্তার খান
  4. মোহাম্মদ উল্ল্যা
ব্যাখ্যা
উপজেলা ব্যবস্থার প্রবর্তক হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ।

উপজেলা ব্যবস্থা:
- উপজেলা পরিষদ  জেনারেল এরশাদের সামরিক সরকার (১৯৮২-১৯৯০) কর্তৃক সংস্কার ও পুনর্গঠন কমিটির সুপারিশমালা থেকে উপজেলা পরিষদের ঐতিহাসিক পটভূমি রচিত।
- ১৯৮২ সালে উপজেলা পরিষদ আইন পাস হওয়ার পর বাংলাদেশে উপজেলা ব্যবস্থা চালু হয়।
- ১৯৮৫ সালে উপজেলা পরিষদ প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়।
- উপজেলা প্রশাসন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সড়ক নির্মাণ, এবং সরকারি অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।
- ইউএনও উপজেলার আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম, এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে থাকেন।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ শাসন ব্যবস্থার ধরণ সংসদীয়।
- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্র মর্যাদার অধিকারী: রাষ্ট্রপতি।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।