বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাচীন কালের ইতিহাস, জনপদ ও বিভিন্ন রাজবংশ

মোট প্রশ্ন১,৩৩৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাচীন কালের ইতিহাস, জনপদ ও বিভিন্ন রাজবংশ

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৮০১৯০০ / ১,৩৩৮

৮০১.
মৌর্য সাম্রাজ্যের শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে ‘ইন্ডিকা’ নামক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন-
  1. ক) মা-হুয়ান
  2. খ) ফা-হিয়েন
  3. গ) হিউয়েন সাঙ
  4. ঘ) মেগাস্থিনিস
ব্যাখ্যা
মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। চন্দ্রগুপ্ত গ্রিকদের আক্রমণ শুধু প্রতিহত নয়, তাদেরকে ভারত থেকে বিতাড়িত করে এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তার নামানুসারে ভারতবর্ষে খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতকে যে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় তা মৌর্য সাম্রাজ্য নামে পরিচিত। চাণক্য ছিলেন তাঁর প্রধানমন্ত্রী। চাণক্য কৌটিল্য ছদ্মনামে ‘অর্থশাস্ত্র’ নামে এক বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন। রাষ্ট্রশাসন ও কূটনীতি কৌশলের সারসংক্ষেপ হচ্ছে এই গ্রন্থ। চন্দ্রগুপ্তের সময়ে গ্রিক পরিব্রাজক মেগাস্থিনিস ভারতবর্ষে আগমন করে ভারতের শাসন প্রকৃতি, ভৌগোলিক বিবরণ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ইন্ডিকা’তে লিপিবদ্ধ করেন।
[সূত্রঃ ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি(উন্মুক্ত)]
৮০২.
নিচের কোন জেলাটি প্রাচীন বঙ্গ জনপদের অন্তর্গত ছিল?
  1. ক) কুমিল্লা
  2. খ) নোয়াখালী
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) সিলেট
ব্যাখ্যা
বঙ্গ জনপদ:

- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাই বঙ্গদের অঞ্চল।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৩.
বাংলার সবচেয়ে 'সমৃদ্ধ জনপদ' ছিল কোনটি?
  1. হরিকেল
  2. তাম্রলিপ্ত
  3. চন্দ্রদ্বীপ
  4. পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা

পুণ্ড্র:
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্র ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
- বলা হয় যে, পুণ্ড্র বলে একটি জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর।
- পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্র ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
- পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপি এখানে পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে প্রাপ্ত এটিই প্রাচীনতম শিলালিপি।

উৎস: বাংলাদেশের  ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।

৮০৪.
নালন্দায় বিশাল বৌদ্ধমন্দির নির্মাণ করেছিলেন কোন রাজা?
  1. গোপাল
  2. ধর্মপাল
  3. মদনপাল
  4. দেবপাল 
ব্যাখ্যা

পাল শাসন:
- বাংলার প্রথম দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশের পাল বংশ।
- পাল বংশ বাংলায় দৈর্ঘ্য ৪০০ বছর শাসন করেন।
- এ বংশের  প্রতিষ্ঠাতা: গোপাল।
- শেষ রাজা: মদনপাল।
- গোপাল শাসন করেছিলেন ২৭ বছর (৭৫৬-৭৮১)।
- গোপালের মৃত্যুর পর বাংলার সিংহাসনে বসেন ধর্মপাল।
- পাল রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মপাল। 
- সোমপুর বিহার (নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত) এর প্রতিষ্ঠাতা- রাজা ধর্মপাল।
-  ধর্মপাল রাজত্ব করেন ৪০ বছর।
- ধর্মপালের শাসনকাল ৭৮১-৮২১ খ্রিষ্টাব্দে।
- ধর্মপাল অনুসারী ছিলেন বৌদ্ধধর্মের।
- ধর্মপালের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন দেবপাল।
-  দেবপাল নালন্দায়  বুদ্ধগয়ায় এক বিরাট মন্দির নির্মাণ  করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৮০৫.
কোন পরিব্রাজকের ভ্রমণ বৃত্তান্ত ‘ফো-​কুয়ো-কিং’?
  1. ক) মা হুয়ান
  2. খ) ফা-হিয়েন
  3. গ) হিউয়েন সাং
  4. ঘ) মেগাস্থিনিস
ব্যাখ্যা

ফা-হিয়েনঃ
দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন ভারতবর্ষে আসেন।
-তিনি ১০ বছর ভারতে অবস্থানকালে তাঁর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ৭টি গ্রন্থ রচনা করেন।
-ফা-হিয়েনের ভ্রমন বৃত্তান্ত ‘ফো-কুয়ো-কিং’ নামে পরিচিত। এটি ভারতের ইতিহাসের একটি বিশিষ্ট ও প্রামাণ্য দলিল। বিশেষ করে গুপ্ত সাম্রাজ্যের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে বিশেষ মূল্যবান উপাদান।
উৎসঃ ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।

৮০৬.
বাঙালি পন্ডিত অতীশ দীপঙ্কর নিম্নের কোন মহাবিহারের আচার্যপদে নিযুক্ত হন?
  1. ক) সোমপুর মহাবিহার
  2. খ) মহা কারণিক বৌদ্ধ বিহার
  3. গ) বিক্রমশিলা মহাবিহার
  4. ঘ) জগদ্দল মহাবিহার
ব্যাখ্যা
- অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান (৯৮০-১০৫৩) বৌদ্ধ পন্ডিত, ধর্মগুরু ও দার্শনিক। 
- দশম-একাদশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি পন্ডিত দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান ৯৮০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামে এক রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা কল্যাণশ্রী এবং মাতা প্রভাবতী দেবী। তাঁর বাল্যনাম ছিল চন্দ্রগর্ভ।
- মায়ের নিকট এবং স্থানীয় বজ্রাসন বিহারে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি বিখ্যাত বৌদ্ধ গুরু জেতারির নিকট  বৌদ্ধধর্ম ও শাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। এ সময় তিনি সংসারের প্রতি বিরাগবশত গার্হস্থ্যজীবন ত্যাগ করে ধর্মীয় জ্ঞানার্জনের সঙ্কল্প করেন। 
- এ উদ্দেশ্যে তিনি পশ্চিম ভারতের কৃষ্ণগিরি বিহারে গিয়ে রাহুল গুপ্তের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং বৌদ্ধশাস্ত্রের আধ্যাত্মিক গুহ্যবিদ্যায় শিক্ষালাভ করে ‘গুহ্যজ্ঞানবজ্র’ উপাধিতে ভূষিত হন। 
- মগধের ওদন্তপুরী বিহারে মহাসাংঘিক আচার্য শীলরক্ষিতের নিকট দীক্ষা গ্রহণের পর তাঁর নতুন নামকরণ হয় ‘দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান’। 
 
- একত্রিশ বছর বয়সে তিনি আচার্য ধর্মরক্ষিত কর্তৃক সর্বশ্রেষ্ঠ ভিক্ষুদের শ্রেণিভুক্ত হন। 
- পরে দীপঙ্কর মগধের তৎকালীন শ্রেষ্ঠ আচার্যদের নিকট কিছুকাল শিক্ষালাভ করে শূন্য থেকে জগতের উৎপত্তি এ তত্ত্ব (শূন্যবাদ) প্রচার করেন।
 
- ১০১১ খ্রিস্টাব্দে শতাধিক শিষ্যসহ দীপঙ্কর মালয়দেশের সুবর্ণদ্বীপে গিয়ে আচার্য চন্দ্রকীর্তির নিকট ১২ বছর বৌদ্ধশাস্ত্রের যাবতীয় বিষয় অধ্যয়ন করেন এবং ৪৩ বছর বয়সে মগধে ফিরে আসেন। 
- মগধের তখনকার প্রধান প্রধান পন্ডিতদের সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় ও বিতর্ক হয়। 
- বিতর্কে তাঁর বাগ্মিতা, যুক্তি ও পান্ডিত্যের কাছে তাঁরা পরাজিত হন। 
- এভাবে ক্রমশ তিনি একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী পন্ডিতের স্বীকৃতি লাভ করেন। এ সময় পালরাজ প্রথম মহীপাল সসম্মানে তাঁকে বিক্রমশিলা (ভাগলপুর, বিহার) মহাবিহারের আচার্যপদে নিযুক্ত করেন। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া 
৮০৭.
ভাগীরথী নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থান ছিল কোন জনপদের?
  1. গৌড়
  2. রাঢ়
  3. বঙ্গ
  4. সমতট
ব্যাখ্যা
• রাঢ় জনপদ :
- রাঢ় জনপদ ভাগীরথী নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত ছিল।

- এ উত্তর রাঢ় ও দক্ষিণ রাঢ় নামে দুভাগে বিভক্ত ছিল রাঢ়দেশ।
- এর রাজধানী ছিল কোটীবর্ষ।
- রাঢ়ের এক বড় অংশ সুম্ম নামেও পরিচিত ছিল।
- রাঢ়ের দক্ষিণে বর্তমান মেদিনীপুর জেলায় 'তাম্রলিপ্তি' ও 'দণ্ডভুক্তি' নামে দুটি ছোট বিভাগ ছিল। 

• গৌড় :
- গৌড় রাজ্য ছিল একটি স্বাধীন রাজ্যের ।
- যার অবস্থান ষষ্ঠ শতকে পূর্ব বাংলার উত্তর অংশে ছিল।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড় রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। 

• বঙ্গ :
-  বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বঙ্গ জনপদ নামে একটি অঞ্চল গড়ে উঠেছিল।
- ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি এ নাব্য অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

• সমতট :
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের প্রতিবেশী জনপদ সমতটের অবস্থান।
- চীন দেশের পর্যটক হিউয়েন সাং সপ্তম শতকের মাঝামাঝিতে সমতট ভ্রমণ করে একটি বিবরণী লেখেন। 
- সমতটের অন্তর্গত ছিল বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালি অঞ্চল। 

উৎস : ইতিহাস, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৮.
বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করেন বাংলার কোন শাসক?
  1. ক) আলাউদ্দিন আলী শাহ
  2. খ) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. গ) আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. ঘ) ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
ব্যাখ্যা
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক’, ‘জগৎভূষণ’, ‘কৃষ্ণাবতার’ প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- তিনি সুফি ও দরবেশদেরকে শ্রদ্ধা করতেন। 
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।
বড় সোনা মসজিদ, গৌড় ছোট সোনা মসজিদ, গৌড় বাংলাভাষায়ও অনেক গ্রন্থ রচিত হয়।
- যেমন রূপ গোস্বামী সুলতানের উৎসাহে বিদগ্ধ মাধব ও ললিত মাধব নামে দুটি বই লেখেন। এ সময়ে বিজয়গুপ্ত পদ্মপুরাণ বা মনসা মঙ্গল, বিপ্রদাস মনসা বিজয়
- এবং যশোরাজ খান শ্রীকৃষ্ণ বিজয় কাব্য রচনা করেন।
- মালাধর বসু শ্রীমদ্ভাগবত বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন।
- তিনি শ্রীকৃষ্ণ বিজয় নামে আর একটি কাব্যও রচনা করেন।
- আলাউদ্দীন হুসেন শাহ বাংলায় হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠা করেন। 

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও  বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৯.
'কৌলিন্য প্রথা' নিম্নের কোন সেন রাজার সাথে সম্পর্কিত?
  1. বল্লাল সেন 
  2. লক্ষ্মণ সেন 
  3. বিজয় সেন
  4. হেমন্ত সেন 
ব্যাখ্যা

বল্লাল সেন:
- বল্লাল সেন হলো সেন বংশের ২য় রাজা।
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি রাজ্য জয়ের চেয়ে দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
- তবে তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
- কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।
- তিনি ব্রতসাগর, আচারসাগর, প্রতিষ্ঠাসাগর, দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর নামে পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

উল্লেখ্য,
- কৌলিন্য প্রথা বলতে বোঝায়, যে কোনো জাতি বা গোষ্ঠী বা বর্ণ বা সম্ভ্রান্ত বংশ যারা সামাজিক সম্মান ভোগ করে এবং ঐতিহ্যগতভাবে নিজেদের সামাজিক অবস্থান এবং ‘কুল’ পরিচিতি ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। 
- সেন আমলে বল্লাল সেন কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন।

⇒ কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- বাংলাদেশে কৌলিন্য প্রথার বহুল প্রচলন দেখা যায় আঠারো ও উনিশ শতকে।
- ব্রাহ্মণগণ এ প্রথা প্রবর্তনের উদ্যোক্তা ছিলেন।
- তাঁরা তাঁদের দাবি প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এ প্রথার একটি ঐতিহাসিক ভিত্তি দেখানোর জন্য প্রচার করেন যে, সেন আমলে বল্লাল সেন কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন।

উল্লেখ্য,
- কৌলিন্য প্রথা বলতে বোঝায়, যে কোনো জাতি বা গোষ্ঠী বা বর্ণ বা সম্ভ্রান্ত বংশ যারা সামাজিক সম্মান ভোগ করে এবং ঐতিহ্যগতভাবে নিজেদের সামাজিক অবস্থান এবং ‘কুল’ পরিচিতি ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১০.
সেন বংশের কোন রাজা কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন?
  1. লক্ষ্মণ সেন
  2. বিজয় সেন
  3. হেমন্ত সেন
  4. বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা
বল্লাল সেন:
- সেন বংশের দ্বিতীয় রাজা হলো বল্লাল সেন।
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি রাজ্য জয়ের চেয়ে দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
- তবে তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
- কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।

উল্লেখ্য,
- কৌলিন্য প্রথা বলতে বোঝায়, যে কোনো জাতি বা গোষ্ঠী বা বর্ণ বা সম্ভ্রান্ত বংশ যারা সামাজিক সম্মান ভোগ করে এবং ঐতিহ্যগতভাবে নিজেদের সামাজিক অবস্থান এবং ‘কুল’ পরিচিতি ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।
- সেন আমলে বল্লাল সেন কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১১.
প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে কোনটি সমৃদ্ধ জনপদ ছিল?
  1. ময়নামতি
  2. মহাস্থানগড়
  3. পাহাড়পুর
  4. উয়ারী-বটেশ্বর
ব্যাখ্যা

পুন্ড্র:
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তীকালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুন্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুন্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুন্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১২.
সীতাকোট বিহার তৈরীর সময়কাল কোনটি?
  1. খ্রিঃ ১ম-২য় শতক
  2. খ্রিঃ ৪র্থ-৫ম শতক
  3. খ্রিঃ ৭ম-৮ম শতক
  4. খ্রিঃ ৯ম-১০ম শতক
ব্যাখ্যা

সীতাকোট বিহার:
- দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় সীতাকোট বিহার অবস্থিত।
- বিহারটিতে মোট ৪১টি প্রায় সমআয়তনের কক্ষ ছিল।
- এই কক্ষগলি একটি প্রশস্ত টানা বারান্দার সংগে যুক্ত ছিল।
- সীতাকোট বিহার আঙ্গিনার মধ্যবর্তী স্থানে কোন প্রধান মন্দির ছিলনা।
- এখানে পাহাড়পুর,শালবন বিহার এবং আনন্দ বিহারের মত ঐতিহ্যবাহী পোড়ামাটির ফলক দেখা যায়না।
- তবে আকার আয়তনের দিক থেকে এই বিহারের সংগে বগুড়ায় অবস্থিত ভাসু বিহার এর অনেক মিল রয়েছে।
- সীতাকোট বিহার থেকে প্রাপ্ত দুইটি ব্রোঞ্জ মূর্তির গঠন শৈলী থেকে অনুমান করা যায় যে, এগুলি ৭ম-৮ম শতাব্দীতে তৈরী।
- সময়কাল: - খ্রিঃ ৭-৮ম শতক।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট জেলার ওয়েবসাইট।

৮১৩.
অশোকের রাজ্য শাসন নীতির পরিবর্তন ঘটে কোন যুদ্ধের পরে?
  1. সিংহলী যুদ্ধ
  2. কলিঙ্গ যুদ্ধ
  3. মহীশূরের যুদ্ধ
  4. মগধের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• সম্রাট অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন এবং রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোকের মন ও শাসননীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। 
- এ যুদ্ধের পর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি মৌর্য সম্রাটদের চিরাচরিত দ্বিগ্বিজয় নীতি পরিত্যাগ করে ঘোষণা করেন তাঁর পুত্র, প্রপৌত্র কেউই ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ করবে না।
- তিনি ঘোষণা করেন সব মানুষই তাঁর সন্তান। 
- অশোকের প্রচারিত ধর্ম বৌদ্ধ ধর্ম ছিল না। তাঁর প্রচারিত ধর্মের মূল বিষয় ছিল গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা, জীবে দয়া, সত্যবাদিতা ইত্যাদি। 
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।
 
সূত্র: ইতিহাস প্রথমপত্র, স্নাতক শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৪.
প্রাচীনকালে 'সমতট' বলতে বাংলাদেশের কোন অঞ্চলকে বোঝানো হতো?
  1. নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল
  2. কুমিল্লা ও ঢাকা অঞ্চল
  3. বগুড়া ও দিনাজপুর অঞ্চল
  4. নোয়াখালী ও বরিশাল অঞ্চল
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন বাংলা কতগুলো অঞ্চল বা জনপদে বিভক্ত ছিলো।
- সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
- বরেন্দ্র জনপদ বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

সূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি, উন্মুক্ত উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৫.
প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের কয়টি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো। 
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল । 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৬.
হযরত শাহজালাল কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. ক) ইরান
  2. খ) ইরাক
  3. গ) ইয়েমেন
  4. ঘ) আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের উত্তর : ইয়েমেন

হযরত শাহজালাল: 
- ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত সুফি ও দরবেশ হযরত শেখ শাহজালাল মুজার্রাদ ইয়ামনী (রাহ:)।
- উনার পুরো নাম শেখ শাহ জালাল, কুনিয়াত মুজাররাদ।
- ৭০৩ হিজরী মোতাবেক ১৩০৩ খ্রিষ্টীয় সালে ৩২ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে অধুনা বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
- সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের শাসনামলে বিখ্যাত সুফি ব্যক্তিত্ব হযরত শাহ জালাল বাংলায় আসেন।
- শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের সিলেট অভিযানকালে হযরত শাহ জালাল তাঁর সাথে মিলিত হয়ে সিলেটের রাজা গৌরগোবিন্দকে পরাজিত করেন। 
- বিশেষ করে হযরত শাহজালালের কারণে সিলেট অঞ্চলে ইসলামের ব্যাপক প্রচার-প্রসার হয়।
- হযরত শাহজালাল (র.) আরবের ইয়েমেনের অধিবাসী ছিলেন। তাঁর পিতা মাহমুদ বিন মোহাম্মদ ছিলেন কোরায়শ বংশের একজন সম্মানিত ব্যক্তি।

[সূত্র- বাংলাপিডিয়া ও সিলেট জেলা ওয়েব সাইড]

৮১৭.
ঢাকা যখন জাহাঙ্গীরনগর বগুড়া তখন -
  1. বরেন্দ্র
  2. পাহাড়পুর
  3. মহাস্থানগড়
  4. পুণ্ড্রনগর
ব্যাখ্যা
মুঘল আমলে, ঢাকার নাম ছিল জাহাঙ্গীরনগর
তখন বগুড়ার নাম ছিল মহাস্থানগড়
৮১৮.
আর্যদের আদি নিবাস ছিলো কোথায়?
  1. ক) তিব্বত মালভূমি
  2. খ) ইউরাল পর্বতের দক্ষিণে
  3. গ) ইন্দোচীন
  4. ঘ) দক্ষিণ ভারত
ব্যাখ্যা
আর্যদের আদি নিবাস ছিলো ইউরাল পর্বতমালার দক্ষিণে বর্তমান ইরান ও কিরগিজস্থানে। সেখান থেকে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় দুই হাজার অব্দে আর্যরা পশ্চিম প্রদেশ দিয়ে ভারতে আগমন করে।
প্রথম তারা সিন্ধু তীরে বসতি স্থাপন করে। পরবর্তীতে সমগ্র ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলায় আর্যদের আগমন শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব এক হাজার অব্দ থেকে।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ব্রিটানিকা)
৮১৯.
‘ত্রিশক্তির সংঘর্ষ' কোন রাজার শাসনামলে সংঘটিত হয়?
  1. দেবপাল
  2. ধর্মপাল
  3. রামপাল
  4. গোপাল
ব্যাখ্যা
• ধর্মপাল:
- ধর্মপাল হচ্ছেন পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা।
- তিনি প্রায় ৪০ বছর রাজত্ব করেন।
- বাংলার ইতিহাসে ধর্মপালই প্রথম রাজা যিনি সর্বপ্রথম উত্তর ভারতীয় রাজনীতিতে স্বল্পকালের জন্য হলেও কিছু সাফল্য অর্জন করেন। ধর্মপালের সময়ে বাংলা নতুন শক্তি ও উদ্দীপনার প্রতীক হয়েছিল।
- ধর্মপাল বৌদ্ধ ছিলেন এবং তিনি অনেক বিহারের প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি রাজশাহী বিভাগের বর্তমান নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে সোমপুর মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন।
- বরেন্দ্র অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে প্রতিষ্ঠিত এই বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সমগ্র ভারতবর্ষের মধ্যে সর্ববৃহৎ বৌদ্ধ বিহার। এই জন্যে এটি মহাবিহার নামে পরিচিত।
- পালবংশের অন্যতম রাজা দেবপাল ছিলেন ধর্মপালের পুত্র।
- ৬৪৭ সালে রাজা হর্ষবর্ধনের মৃত্যুর পর কনৌজের সিংহাসনের ওপর আধিপত্য স্থাপনকে কেন্দ্র করে পাল, প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূটের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব শুরু হয় তা-ই ইতিহাসে ত্রিশক্তির সংঘর্ষ বা ত্রি-শক্তির সংগ্রাম নামে পরিচিত। এটি ধর্মপালের শাসনামলে সংঘটিত হয়। 

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও কালের কণ্ঠ।
৮২০.
বাঙালি জাতির প্রধান অংশ কোন জনগোষ্ঠী থেকে গড়ে উঠেছে?
  1. নেগ্রিটো
  2. দ্রাবিড়
  3. অস্ট্রিক
  4. আর্য
ব্যাখ্যা

◉ বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে অস্ট্রিক জনগোষ্ঠী থেকে, যাদের আরেক নাম নিষাদ জাতি। তারা প্রায় ৫০০০ বছর আগে ইন্দোচীন থেকে বাংলায় এসে বসতি স্থাপন করে। 

বাঙালি আদি-জনগোষ্ঠী:
- নৃতাত্ত্বিক গঠন প্রক্রিয়ার দিক থেকে বাঙালি জাতি হলো একটি সংকর জাতি।
- বাঙালি জাতিধারার নৃতাত্ত্বিক গঠনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ থাকলেও অস্ট্রিক জাতির ভূমিকা সর্বাধিক।
- বাঙালি জাতির প্রধান অংশ অস্ট্রিক জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- ইন্দোচীন থেকে আদি অস্ট্রেলীয় নরগোষ্ঠীর অন্তর্গত অস্ট্রিক জাতি প্রাক আর্য যুগে বাংলায় বসতি স্থাপন করে।
- এই অস্ট্রিক নরগোষ্ঠী থেকেই বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে।
- অস্ট্রিক নরগোষ্ঠীর সাথে দ্রাবিড় ও আর্য জাতির সংমিশ্রণে বাঙালি জাতি গড়ে উঠেছে।
- তবে ইতিহাসের নানা পর্যায়ে বাঙালি রক্তপ্রবাহে ভোটচীনীয়, ককেশীয়, ইংরেজ, পর্তুগিজ প্রভৃতি জাতিসত্ত্বার সংমিশ্রণ ঘটেছে।
- বাংলার আদি জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।

সূত্র: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া, বাঙালির ইতিহাস, নিহারঞ্জন রায়।

৮২১.
'কর্ণসুবর্ণ' কোন জনপদের রাজধানী ছিল?
  1. সমতট
  2. গৌড়
  3. বঙ্গ
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা
⇒ গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ।

গৌড়:

- বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো যে যুগে যুগে সীমানা সম্প্রসারণ করেছে তার বড় উদাহরণ হলো গৌড়।
- এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই সময়ে সময়ে গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
- পূর্ব ভারতীয় দেশসমূহের সামগ্রিক নাম হিসেবে এমনকি উত্তর ভারতের আর্যাবর্তের নাম হিসেবেও কখনো কখনো গৌড়ের ব্যবহার দেখা যায়।
- সর্বপ্রথম পাণিনির গ্রন্থে গৌড়ের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- সেনবংশীয় রাজারা ‘গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন।
- ব্যাপক অর্থে ‘গৌড়' বলতে অনেক সময় বাংলা ভাষাভাষী সমগ্র অঞ্চলকে বুঝাত।
- আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো ‘গৌড়' আবার কখনো লক্ষ্মণাবতী নামে পরিচিত ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২২.
নোয়াখালীর পূর্বনাম -
  1. ক) নাসিরাবাদ
  2. খ) পূর্বাশা
  3. গ) সুধারাম
  4. ঘ) সুবর্ণগ্রাম
ব্যাখ্যা
নোয়াখালীর নামকরণ: ১৭৬০ এর দশকের শেষের দিকে নোয়াখালীর নামের উৎপত্তি হয়।তখন আওরঙ্গজেব ছিলেন দিল্লির সম্রাট। পার্বত্য ত্রিপুরার পাহাড় থেকে উৎসারিত ডাকাতিয়া নদীর বন্যায় ঘন ঘন প্লাবিত হতো ভুলুয়ার উত্তর এবং পূর্বাঞ্চল। বন্যার হাত থেকে এখানকার কৃষি অঞ্চলকে রক্ষা করার জন্য কুমিল্লার ফৌজদারের তত্ত্বাবধানে ডাকাতিয়া থেকে রামগঞ্জ, সোনাইমুড়ী, চৌমুহনীর মধ্য দিয়ে একটি নতুন খাল কেটে বন্যার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলো মেঘনা ও ফেণী নদীর সঙ্গমস্থলে।
সুদীর্ঘ এই খালটি খননের পর ভুলুয়া ভূখন্ডের নতুন নাম হলো নোয়াখালী, অর্থাৎ নতুন খালের দেশ। ‘নতুন’ শব্দের স্থানীয় লোকজ নাম ‘নোয়া’ থেকেই মোঘল যুগে কাটা খালটি ‘নোয়াখাল’ লোকমুখে এই অঞ্চলটিকে অভিহিত করেছে নোয়াখালী নামে।
১৮২১ সালে নোয়াখালীকে পৃথক জেলা গঠন করলেও ভুলুয়া নামেই এ জেলার পরিচিতি ছিল। ১৮২২ সালের ২৯ মার্চ গভর্ণর দ্বিতীয় হেস্টিংস স্বপরিষদে নোয়াখালীকে একটি পৃথক জেলার মর্যাদা দান করেন। কিন্তু ভুলুয়া রাজ্যের ঐতিহ্য রক্ষার জন্য নবঘোষিত জেলার নামকরণ করা হয় ভুলুয়া।
১৮৬৮ সাল হতে সরাসরি এ অঞ্চলের নামকরণ করা হয় নোয়াখালী। ১৯৮৪ সালে নোয়াখালী জেলা ভেঙ্গে লক্ষীপুর ও ফেণী নামে আলাদা দুটি জেলা গঠিত ।
সুধারাম (সদর) থানা: আয়তন এবং জনসংখ্যার দিক থেকে সদর থানাটি নোয়াখালী জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম থানা হিসেবে পরিচিত। ১৮৬১ সালে এটি একটি থানা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- এ থানাটির পূর্বে ‘সুধারাম’ থানা হিসেবে পরিচিতি ছিল।
- ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর মাসে এ থানা নোয়াখালী সদর থানা হিসেবে পুন:নামকরণ করা হয়।

উৎস:- সরকারী তথ্য বাতায়ন।
৮২৩.
সমতট জনপদ কোন অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল?
  1. ঢাকা ও ময়মনসিংহ
  2. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
  3. রাজশাহী ও বগুড়া
  4. বরিশাল ও পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা

সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটির অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- প্রাচীন ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট জনপদ।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২৪.
'কোটিবর্ষ' কোন জনপদের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল?
  1. রাঢ়
  2. গৌড়
  3. সমতট
  4. পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা
রাঢ়:
- বিভিন্ন ঐতিহাসিক উৎস থেকে বলা যায় যে, রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- তবকত-ই-নাসিরীর বর্ণনায়ও গঙ্গার দক্ষিণে রাঢ়ের অবস্থান নির্দেশিত হয়েছে।
- এই জনপদটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল।
• দক্ষিণ রাঢ়।
• উত্তর রাঢ়।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- রাঢ় বা সূহ্মদেশের অন্তর্গত তাম্রলিপ্তের কথা টলেমির ভূগোলে উল্লিখিত ছিল ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।

প্রাচীন জনপদের রাজধানী:
- গৌড় জনপদের রাজধানী: কর্ণসুবর্ণ।
- সমতট জনপদের রাজধানী: বড়কামতা।
- পুণ্ড্র জনপদের রাজধানী: পুণ্ড্রনগর/পুণ্ড্রবর্ধন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৫.
কোন রাজার শাসনামলে নালন্দা মহাবিহার প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. প্রথম কুমারগুপ্ত
  2. হর্ষবর্ধন
  3. ধর্মপাল
  4. গোপাল
ব্যাখ্যা

নালন্দা মহাবিহার:
- প্রাচীন ভারতের খ্যাতনামা বৌদ্ধ মহাবিহার নালন্দা।
- বিহার প্রদেশের পাটনা থেকে ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং বিহার শরিফ শহরের কাছে এর অবস্থান।
- সাত শতকে নালন্দা মহাবিহার প্রসিদ্ধি অর্জনকারী বৌদ্ধ শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র।
- ধারণা করা হয়, গুপ্ত সম্রাটরা এ মহাবিহারের নির্মাতা।
- নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রথম কুমারগুপ্তের রাজত্বকালে (৪১৫-৪৫৫ খ্রিষ্টাব্দ) ৪২৭ খ্রিষ্টাব্দে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- নালন্দার নাম ব্যাখ্যা করে অভয় কে বলেছিলেন, এটি 'নালম' (পদ্ম যা জ্ঞানের প্রতীক) এবং 'দা' (যার অর্থ দেওয়া)-র সংমিশ্রণ থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো জ্ঞানের সম্প্রসারণ।
- স্কন্দগুপ্তের রাজত্বকালে (৪৫৫-৪৬৭ খ্রিষ্টাব্দ) মিহিরকুলের নেতৃত্বে হুনরা নালন্দাকে প্রথমবার ধ্বংস করে। 

⇒ পঞ্চম শতাব্দী থেকে ১২০০ শতাব্দী পর্যন্ত এটি ছিল একটি বিখ্যাত শিক্ষাকেন্দ্র। 
- বিহারটি সম্পর্কে জানা যায় পর্যটক জুয়ান জাং ও ইজিংয়ের লেখা ভ্রমণ-বিবরণী থেকে।
- তাঁরা সপ্তম শতাব্দীতে নালন্দায় ভ্রমণ করেন।
- চৈনিক তীর্থযাত্রী হিউয়েন-সাং পড়াশোনার জন্য এখানে কয়েক বছর অতিবাহিত করেন।
- নালন্দার পন্ডিতগণ ছিলেন স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিখ্যাত।
- হিউয়েন-সাং যখন নালন্দায় ছিলেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন এর অধ্যক্ষ।
- শীলভদ্র ছিলেন সর্বপ্রথম বাঙালি বৌদ্ধ শিক্ষক যিনি বাংলার বাইরে এরূপ দুর্লভ সম্মান অর্জন করেন।

উল্লেখ্য,
- বর্তমানে বিহারটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) BBC.

৮২৬.
ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম কী?
  1. গুপ্ত সাম্রাজ্য
  2. মৌর্য সাম্রাজ্য
  3. মগধ সাম্রাজ্য
  4. পাল সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা

• চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য :
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যই প্রাচীন ভারতে অখন্ড ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে প্রথম বড় ধরনের সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁর সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে।
- মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়।
- বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- সামাজিক ক্ষেত্রে আর্য-অনার্যের পার্থক্য ক্রমেই ঘুঁচে যেতে শুরু করে।
- শিল্প- সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হয়।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন চাণক্য।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
       ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২৭.
কোন রাজবংশের শাসনামলে ‘আনন্দবিহার’ তৈরি হয়?
  1. দেব বংশ
  2. সেন বংশ
  3. পাল বংশ
  4. চন্দ্র বংশ
ব্যাখ্যা

আনন্দবিহার:
- আনন্দবিহার প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে সমৃদ্ধ কুমিল্লার নিকটবর্তী কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত।
- এ বিহার ময়নামতিতে আবিষ্কৃত সৌধমালার মধ্যে সর্ববৃহৎ।
- এ এলাকার সর্ববৃহৎ পুষ্করিণীসহ আনন্দবিহার কমপ্লেক্সটি সাত শতকের শেষ বা আট শতকের প্রথম দিকের কোনো এক সময়ে প্রথম দেববংশের তৃতীয় শাসক শ্রী আনন্দ দেব কর্তৃক নির্মিত হয়।

⇒ দেববংশীর রাজা ভবদেব এই বিহারটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ঐ সময় বিহারটি এশিয়ার জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিগণিত হয়।
- সেই সময় একে বিশ্বিবদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়া হয়।
- তার প্রমাণ হলো, বিখ্যাত চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং আনন্দ বিহারে আসেন এবং তিনি এখানে প্রায় ৪০০০ ভিক্ষু ও ময়নামতি অঞ্চলে ৩৫টি শিক্ষাকেন্দ্র দেখতে পান।
- যার কারণে তিনি কুমিল্লাবাসীকে প্রবল শিক্ষানুরাগী বলে আখ্যায়িত করেন।
- প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে ভারতের নালন্দের পর এশিয়ার দি¦তীয় বৃহত্তম শিক্ষাকেন্দ্র ছিলো লালমাই-ময়নামতি অঞ্চল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮২৮.
চন্দ্র বংশের কোন রাজার উপাধি ছিল ‘মহারাজধিরাজ’?
  1. ক) শ্রীচন্দ্র
  2. খ) পূর্ণচন্দ্র
  3. গ) সুবর্ণচন্দ্র
  4. ঘ) ত্রৈলোক্যচন্দ্র
ব্যাখ্যা
চন্দ্র বংশ দশ শতকের শুরু থেকে প্রায় দেড়শত বছর দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা (বঙ্গ ও সমতট) শাসন করে। পূর্ণচন্দ্র এবং সুবর্ণচন্দ্র হরিকেল রাজার অধীনে রোহিতাগিরির (সম্ভবত লালমাই অঞ্চল) সামন্ত ছিলেন। সুবর্ণচন্দ্রের পুত্র ত্রৈলোক্যচন্দ্র (আনুমানিক ৯০০-৯৩০ খ্রি.) ছিলেন এ বংশের প্রথম স্বাধীন রাজা। তিনি সমতটে বংশের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন। দেবপর্বত ছিল তাদের ক্ষমতার কেন্দ্রস্থল। বঙ্গের অংশ বিশেষ এবং চন্দ্রদ্বীপের উপর তিনি ধীরে ধীরে তাঁর ক্ষমতার বিস্তার ঘটান এবং ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধি গ্রহণ করেন। [সুত্র- বাংলাপিডিয়া]
৮২৯.
কোন প্রাচীন পরিব্রাজক তাম্রলিপ্ত বন্দর পরিদর্শন করেছিলেন?
  1. হিউয়েন সাং
  2. আল-বিরুনি
  3. ইবনে বতুতা
  4. মেগাস্থিনিস
ব্যাখ্যা

তাম্রলিপ্ত:
- হরিকেলের উত্তরে ছিল তাম্রলিপ্ত জনপদ। বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার (প্রাচীন যুগে মিধুনাপুর নামে পরিচিত) তমলুক শহরই ছিল প্রাচীন তাম্রলিপ্তি নগরস্থল।
- বর্তমান শহরটি বঙ্গোপসাগরের কাছে রূপনারায়ণের তীরে অবস্থিত।

⇒ প্রাচীনকালে তাম্রলিপ্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
- চৈনিক তীর্থযাত্রী হিউয়েন-সাং তাম্রলিপ্তি শহরকে ‘তান-মো-লি-তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- সাত শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৮৩০.
বাঙালি জাতির নৃতাত্ত্বিক গঠনে কোন নৃগোষ্ঠীর প্রভাব সবচেয়ে বেশি?
  1. আর্য
  2. অস্ট্রিক
  3. মঙ্গোলীয়
  4. নেগ্রিটো
ব্যাখ্যা

• নৃতাত্ত্বিক গঠন প্রক্রিয়ার দিক থেকে বাঙালি জাতি হলো একটি সংকর জাতি।
- বাঙালি জাতিধারার নৃতাত্ত্বিক গঠনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ থাকলেও অস্ট্রিক জাতির ভূমিকা সর্বাধিক। 
- ইন্দোচীন থেকে আদি অস্ট্রেলীয় নরগোষ্ঠীর অন্তর্গত ‘অস্ট্রিক’ জাতি প্রাক আর্য যুগে বাংলায় বসতি স্থাপন করে। এই অস্ট্রিক নরগোষ্ঠী থেকেই বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে।
- অস্ট্রিক নরগোষ্ঠীর সাথে দ্রাবিড় ও আর্য জাতির সংমিশ্রণে বাঙালি জাতি গড়ে উঠেছে।
- তবে ইতিহাসের নানা পর্যায়ে বাঙালি রক্তপ্রবাহে ভোটচীনীয়, ককেশীয়, ইংরেজ, পর্তুগিজ প্রভৃতি জাতিসত্ত্বার সংমিশ্রণ ঘটেছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বাঙালির ইতিহাস, নিহাররঞ্জন রায়। 

৮৩১.
কার শাসনামলে উত্তর বাংলায় মৌর্য সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশে পরিণত হয়?
  1. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  2. বিন্দুসার
  3. রাজা অশোক
  4. সমুদ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা

মৌর্য শাসনামলে বাংলা: 
- গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণকালে বর্তমান বাংলাদেশ এলাকায় গঙ্গারিডই নামে সমৃদ্ধশালী রাজ্য ছিল।
- এ রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল গঙ্গা। এ সময়কালকে মৌর্য শাসনামল বলে ধারণা করা হয়।
- পণ্ডিতদের ধারণা হলো, 'গঙ্গারিডই' ছিল বর্তমানকালের বাংলা।
- আর্যদের আগমনের আগেই বাংলায় মৌর্য বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ৩২১ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে ভারতে মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- উত্তর বাংলায় মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় রাজা অশোকের সময়ে ২৬৯-২৩২ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে। বাংলা ছিল মৌর্যদের একটি প্রদেশ।
- এর রাজধানী ছিল প্রাচীন পুণ্ড্র নগর।
-মৌর্য শাসনামলে বাংলা ছিল ঐশ্বর্যপূর্ণ রাজ্য।
- 'গঙ্গারিডই' (বাংলার পূর্বনাম) রাজ্যের রাজধানীতে সূক্ষ্ম মসলিন কাপড় তৈরি হতো, যা সুদূর পশ্চিমা দেশে রপ্তানি হতো।
- মৌর্য সম্রাট অশোকের সময় প্রাচীন পুণ্ড্ররাজ্য মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। ফলে উত্তরবঙ্গের এ অঞ্চল তখন মৌর্য শাসনাধীন একটা প্রদেশে পরিণত হয়।

 উৎস: পৌরনীতি , এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩২.
কোন নদীর তীরে 'বং' গোষ্ঠীভুক্ত মানুষের বসবাস ছিল?
  1. যমুনা নদীর তীরে
  2. মেঘনা নদীর তীরে
  3. ভাগীরথী নদীর তীরে
  4. ইছামতি নদীর তীরে
ব্যাখ্যা
• 'বং' গোষ্ঠীভুক্ত 
- বিশেষজ্ঞের ধারণা, একদা যে অঞ্চলের পরিচিতি ছিল পুন্ড্র বরেন্দ্র নামে, বঙ্গ-সমতট-হরিকেল-চন্দ্রদ্বীপ নামে।
- কালের বিবর্তনে আজকের বাংলাদেশের জন্ম সেই ভূখণ্ড থেকে।
- ঐতিহাসিক রমেশ চন্দ্র মজুমদারের মতে বঙ্গদেশ নামের যে গাঙ্গেয় বদ্বীপ এলাকায় বাংলাদেশের অস্তিত্ব, সেই বংগদেশের (বাংলাদেশের) বংগ শব্দটি প্রাচীনতার সাক্ষ্য বহন করে।
- ‘বং’ শব্দ থেকেই ‘বংগ’ শব্দের উৎপত্তি এবং ‘বং’ একটি চৈনিক শব্দ।
- চীনা ভাষায় ‘বং’ শব্দের অর্থ জলাশয় অর্থাৎ নদীমাতৃক এলাকা।
পুরাকালে সুন্দরবনের উত্তর ও পূর্ব ভূখ-টি ছিল এক বিস্তৃত বনাঞ্চল। 
- 'বং' গোষ্ঠীভুক্ত মানুষের বসবাস ছিলো ভাগীরথী নদীর পূর্ব তীরে।  

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৩৩.
‘রামরচিত’ গ্রন্থে পাল বংশের কোন রাজার জীবনকথা উল্লেখ আছে?
  1. ক) মহীপাল
  2. খ) ধর্মপাল
  3. গ) দেবপাল
  4. ঘ) রামপাল
ব্যাখ্যা
• রামপাল পাল বংশের সর্বশেষ সফল শাসক ছিলেন। তিনি (১০৮২-১১২৪ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত তার শাসনকাল পরিচালনা করেন।
• প্রাচীন বাংলার কবি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত ‘রামরচিত’ থেকে রামপালের জীবনকথা জানা যায়।
• রামপাল রাজ্যগ্রহণ করেই বরেন্দ্র উদ্ধার করতে সচেষ্ট হন এবং রাষ্ট্রকূট, মগধ, রাঢ় দেশসহ  চৌদ্দটি অঞ্চলের রাজাদের সহযোগীতায় যুদ্ধে কৈবর্তরাজ ভীমকে পরাজিত ও নিহত করেন। এরপর তিনি বর্তমান মালদাহের কাছাকাছি ‘রামাবতী’ নামে নতুন রাজধানী স্থাপন করেন।


উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৩৪.
প্রাচীনকালে ‘সুবর্ণগ্রাম’ নামে পরিচিত ছিল-
  1. ময়নামতি
  2. চট্রগ্রাম
  3. গৌড়
  4. সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
প্রাচীন জনপদের নাম:
- প্রাচীনকালে ‘সুবর্ণগ্রাম’ নামে পরিচিত ছিল- সোনারগাঁও
- ময়নামতি - রোহিতগিরি।
- চট্রগ্রাম - ইসলামাবাদ/পোর্টোগ্রান্ডে/শাতিলগঞ্জ।
- সিলেট - জালালাবাদ/শ্রীহট্ট।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৩৫.
কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে কোন শাসক ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত?
  1. বিজয় সেন
  2. হেমন্ত সেন
  3. লক্ষ্মণ সেন
  4. বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা
কৌলিন্য প্রথা ও বল্লাল সেন:

- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, কৌলিন্য প্রথার সাথে বল্লাল সেনের সম্পর্কের তেমন কোনো যুক্তিযুক্ত ভিত্তি নেই।
- বাংলাদেশে কৌলিন্য প্রথার বহুল প্রচলন দেখা যায় আঠারো ও উনিশ শতকে।
- বল্লাল সেন তাঁর পিতার ন্যায় শৈব ছিলেন।
- ধর্মপ্রচারে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল।
- তিনি তাঁর পিতার অন্যান্য উপাধির সাথে 'অরিরাজ নিঃশঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি আনুমানিক ১৮ বছর রাজত্ব করার পর বৃদ্ধ বয়সে পুত্র লক্ষণ সেনের হাতে রাজ্যভার অপর্ণ করে সস্ত্রীক ত্রিবেণীর কাছে গঙ্গাতীরে বাণপ্রস্থ অবলম্বন করে শেষ জীবন অতিবাহিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৬.
ঐতিহাসিক তাম্রলিপ্ত জনপদটি বর্তমানে কোন স্থানে অবস্থিত ছিল?
  1. বর্ধমান
  2. মেদিনীপুর
  3. বরিশাল
  4. আসাম
ব্যাখ্যা

• তাম্রলিপ্ত জনপদ:
- হরিকেলের উত্তরে ছিল তাম্রলিপ্ত জনপদ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার (প্রাচীন যুগে মিধুনাপুর নামে পরিচিত) তমলুক শহরই ছিল প্রাচীন তাম্রলিপ্তি নগরস্থল।
- বর্তমান শহরটি বঙ্গোপসাগরের কাছে রূপনারায়ণের তীরে অবস্থিত।
- সমুদ্র উপকূলবর্তী এ এলাকা ছিল খুব নিচু ও আর্দ্র।
- নৌ চলাচলের জন্য জায়গাটি ছিল খুবই উওম।
- প্রাচীনকালে তাম্রলিপ্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
- চৈনিক তীর্থযাত্রী হিউয়েন-সাং তাম্রলিপ্তি শহরকে ‘তান-মো-লি-তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৮৩৭.
প্রাচীন কোন জনপদের পূর্বের নাম ছিল 'বাকলা'?
  1. পুন্ড্র
  2. সমতট
  3. চন্দ্রদ্বীপ
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা
চন্দ্রদ্বীপ:
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।
- চন্দ্রদ্বীপ নামের আগে এ অঞ্চলটির নাম ছিল ‘বাকলা’।
- চন্দ্রদ্বীপের রাজধানী ছিল কচুয়া।
- মধ্যযুগে চন্দ্রদ্বীপ বেশ সমৃদ্ধ ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৩৮.
কোন পাল সম্রাট 'বিক্রমশীলা মহাবিহার' প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. গোপাল
  2. মহীপাল
  3. দেবপাল
  4. ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
বিক্রমশীলা মহাবিহার:
- বিক্রমশিলা মহাবিহার বর্তমান বিহারের ভাগলপুর জেলার কাছে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল।
- পালযুগে সম্রাট ধর্মপাল তাঁর নিজের নাম বিক্রমশিল অনুসারে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- খ্রিস্টীয় নবম শতকের প্রথম দিক থেকে বারো শতক পর্যন্ত এর নির্মাণকাজ চলে।
- এই বিশ্ববিদ্যালয়টিও সুউচ্চ প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল।
- বিহারের কেন্দ্রস্থলে ছিল মহাবােধির মূর্তি।
- এ মহাবিহার বৌদ্ধ ধর্মীয় শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
- এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বৌদ্ধশাস্ত্র, ব্যাকরণ, গণিত, চিকিৎসাশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা, চিত্রাঙ্কন, জাদুবিদ্যা প্রভৃতি বিষয়ে পাঠদান করা হত। শিক্ষাদান পদ্ধতি ছিল মৌখিক।
- এ মহাবিহারের মধ্যে ছিল ৫৮টি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান। আর এগুলিতে বাস করতেন ১০৮ জন পন্ডিত। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৮৩৯.
প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ নগরসভ্যতা কোনটি?
  1. বঙ্গ
  2. পুণ্ড্র
  3. গৌড়
  4. সমতট
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র:
- পুণ্ড্র শব্দের অর্থ আখ বা ইক্ষু।
- প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পুণ্ড্র।
- খুব সম্ভবত পুণ্ড্র বলে একটি জনগোষ্ঠী এ জনপদ গড়ে তুলেছিল।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকা নিয়ে এ পুত্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। 
- মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ নগরসভ্যতা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮৪০.
কোন সময় থেকে বঙ্গ জনপদ বাঙ্গালাহ নামে পরিচিতি পায়?
  1. ক) খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতক
  2. খ) খ্রিস্টীয় নবম শতক
  3. গ) খ্রিস্টীয় তের শতক
  4. ঘ) খ্রিস্টীয় চৌদ্দ শতক
ব্যাখ্যা
বঙ্গ হলো বাংলার একটি সুপ্রাচীন জনপদ। বর্তমান বৃহত্তর ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চল প্রাচীন বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। বঙ নামক জনগোষ্ঠী এই জনপদ গড়ে তুলেছিলো।

খ্রিস্টীয় চৌদ্দ শতকে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলা অধিকার করে বৃহত্তর বাংলা গঠন করলে বঙ্গ জনপদ বাঙ্গালাহ নামে পরিচিতি পেতে শুরু করে। তখন থেকেই এই ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠী বাঙ্গালি হিসেবে অভিহিত শুরু করে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮৪১.
কার বিবরণের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে লালমাই অঞ্চলই "সমতট" জনপদ?
  1. কালিদাস
  2. হিউয়েন সাঙ
  3. পাণিনী
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটি বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ
রয়েছে।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।
- হিউয়েন সাঙ বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা- পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪২.
কুষাণদের শ্রেষ্ঠ সম্রাট কে ছিলেন?
  1. কুজলা
  2. কদফিসেস
  3. কণিষ্ক
  4. বাসুদেব
ব্যাখ্যা

কুষাণ যুগ:
- যে সকল বিদেশি জাতি ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিল তাদের মধ্যে কুষাণদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- কুষাণরা ছিল ইউ-চি জাতির একটি শাখা।
- কুষাণ শাখার নেতা কুজলা কদফিসেস কর্তৃক খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দ নাগাদ পাঁচটি শাখায় বিভক্ত ইউ-চিরা ঐক্যবদ্ধ হয়।
- তিনি কাবুল, সোমায়ার, কাশ্মির অধিকার করেন।
- তাঁর পুত্র বিম কদফিসেস সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সাম্রাজ্য মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্থান থেকে সিন্ধু উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কণিষ্ক।
- ৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের বাইরে বর্তমান সোভিয়েত তুর্কিস্থানের এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশও তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- পুরুষপুর বা বর্তমান পেশোয়ার তাঁর রাজধানী ছিল।
- বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রাজকর্মচারীদের মাধ্যমে এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম 'মহাযান' ও 'হীনযান' -এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- ২৩ বছর রাজত্ব করার পর কণিষ্ক ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪৩.
কুমিল্লার শালবন বিহারটির প্রকৃত নাম কি?
  1. ভবদেব মহাবিহার
  2. আনন্দ বিহার
  3. সীতাকোট বিহার
  4. ময়নামতি বৌদ্ধ বিহার
ব্যাখ্যা
শালবন বিহার:

- বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কুমিল্লার শালবন বিহার যা দেব সাম্রাজ্যের কীর্তি।
- এটি দেববংশের চতুর্থ রাজা ভবদেব খ্রিস্টীয় আট শতকে নির্মাণ করেন।
- বিহারের আসল নাম 'ভবদেব মহাবিহার'।
- সময়কাল:- অষ্টম শতক।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট জেলার ওয়েবসাইট।
৮৪৪.
পুন্ড্রনগর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. বাঙ্গালী নদী
  2. করতোয়া নদী
  3. ইছামতি নদী
  4. যমুনা নদী
ব্যাখ্যা

পুণ্ড্র:
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুণ্ড্র।
- পুণ্ড্র 'জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুণ্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ-৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুণ্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪৫.
'সোমপুর মহাবিহার' প্রাচীন কোন শাসনামলের স্থাপত্য কীর্তির নিদর্শন?
  1. পাল
  2. মৌর্য
  3. গুপ্ত
  4. মুঘল
ব্যাখ্যা
সোমপুর মহাবিহার প্রাচীন বাংলার পাল শাসনামলের স্থাপত্য কীর্তির নিদর্শন।

সোমপুর মহাবিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা যেতে পারে।
- আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে।
- এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্মচর্চা কেন্দ্র ছিল।
- শুধু উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই নয়, চীন, তিব্বত, মায়ানমার (তদানীন্তন ব্রহ্মদেশ), মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের বৌদ্ধরা এখানে ধর্মচর্চা ও ধর্মজ্ঞান অর্জন করতে আসতেন।
- খ্রিষ্টীয় দশম শতকে বিহারের আচার্য ছিলে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান।
- পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী পুন্ড্রনগর (বর্তমান মহাস্থান) এবং অপর শহর কোটিবর্ষ (বর্তমান বানগড়)এর মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত ছিল সোমপুর মহাবিহার।
- এর ধ্বংসাবশেষটি বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজশাহীর অন্তর্গত নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮৪৬.
পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন কে?
  1. মহীপাল
  2. গোপাল
  3. ধর্মপাল
  4. দেবপাল
ব্যাখ্যা
ধর্মপাল:
- ধর্মপাল হচ্ছেন পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা।
- তিনি প্রায় ৪০ বছর রাজত্ব করেন।
- বাংলার ইতিহাসে ধর্মপালই প্রথম রাজা যিনি সর্বপ্রথম উত্তর ভারতীয় রাজনীতিতে স্বল্পকালের জন্য হলেও কিছু সাফল্য অর্জন করেন। ধর্মপালের সময়ে বাংলা নতুন শক্তি ও উদ্দীপনার প্রতীক হয়েছিল।
- ধর্মপাল বৌদ্ধ ছিলেন এবং তিনি অনেক বিহারের প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি রাজশাহী বিভাগের বর্তমান নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে সোমপুর মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন।
- বরেন্দ্র অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে প্রতিষ্ঠিত এই বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সমগ্র ভারতবর্ষের মধ্যে সর্ববৃহৎ বৌদ্ধ বিহার। এই জন্যে এটি মহাবিহার নামে পরিচিত।
- পালবংশের অন্যতম রাজা দেবপাল ছিলেন ধর্মপালের পুত্র।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪৭.
দেবপাল কার পুত্র?
  1. মদন পাল
  2. ধর্মপাল
  3. গোপাল
  4. মহীপাল
ব্যাখ্যা

দেবপাল (৮২১-৮৬১ খ্রিস্টাব্দ):
- তিনি পাল সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক। 
- ধর্মপালের মৃত্যুর পর তার পুত্র দেবপাল (৮২১ খ্রি.) ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।
- দেবপাল ভারতবর্ষের উৎকল, হৃন, কম্বোজ, গাড়োয়াল, রাষ্ট্রকূট, প্রতিহার, প্রাগজ্যোতিষপুর এবং সমতটের রাজাদের পরাজিত করেন।
- এর ফলে সমগ্র উত্তর ভারতে তার রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাজ্য বিস্তারে তার মন্ত্রী দর্ভপাণির কূটনীতি এবং মন্ত্রী কেদার মিত্র মিশ্রের বুদ্ধি বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে।
- তবে বাংলার হরিকেল অঞ্চল তার অধীনতার বাইরে থেকে যায়।
- পরবর্তীকালে সমতটে চন্দ্রবংশের উত্থান ঘটে।
- পালরাজাদের মধ্যে দেবপাল সবচেয়ে শক্তিশালী রাজা ছিলেন।
- তবে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হিসেবে পাল রাজারা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের চেয়ে বুদ্ধিমত্তা ও কূটনীতির সাফল্যের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিতেন।
- দেবপাল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, এছাড়া নালন্দায় তিনি একটি বৌদ্ধ বিহারও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪৮.
বর্তমান ময়মনসিংহ প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের অর্ন্তভূক্ত ছিল?
  1. ক) বঙ্গ
  2. খ) পুন্ড্র
  3. গ) গৌড়
  4. ঘ) সমতট
ব্যাখ্যা

বঙ্গ জনপদ বিস্তৃত ছিল - ঢাকা, ফরিদপুর , ময়মনসিংহ, বরিশাল অঞ্চল নিয়ে।
বঙ্গ অত্যন্ত প্রাচীন জনপদ। সম্ভবত আর্যযুগের আগে বা শুরুতে (খ্রি. পূ. ১৫০০-৬০০) বঙ্গ জাতি এ ভূখন্ডের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে জনপদ-রাষ্ট্র তৈরি করে।                        
মহাভারতে ও রামায়ণে শক্তিশালী বঙ্গ রাজ্যের কথা উল্লেখ আছে।
বর্তমান বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে বঙ্গ জনপদ অবস্থিত ছিল। পশ্চিমে করতোয়া নদী, উত্তর-পূর্বে ব্রহ্মপুত্র প্রবাহিত হয়েছে।
বৃহত্তর বগুড়া, পাবনা, ময়মনসিংহ জেলার পশ্চিমাঞ্চল, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালির কিয়দংশ নিয়ে বঙ্গ গঠিত হয়েছিল।
এখানে যারা বসবাস করত তাদের ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠী বলা হত।
‘বঙ্গ’ থেকে বাঙালি জাতির উৎপত্তি ঘটেছিল।

 অন্যদিকে,                     
• পুন্ড্র - বগুড়া, রংপুর , রাজশাহী ও দিনাজপুর। সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ জনপদ।
• গৌড় - চাঁপাইনবাবগঞ্জ ,মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বহরমপুর।
• সমতট - কুমিল্লা , নোয়াখালী , ত্রিপুরা। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪৯.
ফিনিশীয় সভ্যতা কোথায় গড়ে উঠেছিল?
  1. ক) মেসোপটেমিয়া
  2. খ) স্ক্যান্ডেনেভিয়া
  3. গ) ভূমধ্যসাগরের তীরে
  4. ঘ) মধ্য আমেরিকায়
ব্যাখ্যা
ভূমধ্যসাগরের তীরে প্রাচীন লেবানন এবং সিরিয়া ও ফিলিস্তিন-ইসরাইলের কিছু অংশ জুড়ে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২৫০০ বছর পূর্বে ফিনিশীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
ফিনিশীয় সভ্যতা বর্ণমালা আবিষ্কারের জন্যে বিখ্যাত। তারা ২২টি ব্যাঞ্জনবর্ণ সম্বলিত বর্ণমালার উদ্ভাবন করেছিল। এছাড়া জাহাজ নির্মাণ এবং নাবিকের জন্যেও ফিনিশীয়রা বিখ্যাত।
(সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৮৫০.
কোন রাজবংশের অধীনে সর্বপ্রথম সমগ্র বাংলা দীর্ঘকালব্যাপী একক রাজার অধীনে ছিল?
  1. মৌর্য বংশ
  2. গুপ্ত বংশ
  3. সেন বংশ
  4. পাল বংশ
ব্যাখ্যা
সেন রাজ বংশ:
- সেনগণই সর্বপ্রথম সমগ্র বাংলার ওপর তাদের নিরঙ্কুশ শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- বাংলার পাল যুগের অবসানের পর বার শতকের দ্বিতীয় ভাগে সেন শাসনের সূচনা হয়।
- বাংলায় সেনবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হেমন্ত সেন।
- সেন বংশের সর্বশেষ শাসক লক্ষ্মণ সেন ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজির আক্রমণে নদীয়া ত্যাগ করেন এবং বাংলায় সেন বংশের শাসনের পতন হয়।

⇒ বিজয় সেন:
- বাংলাদেশে বিজয় সেনের সময়ই সেনবংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। হেমন্ত সেনের পুত্র বিজয় সেন ১০৯৮ সাল থেকে ১১৬০ সাল পর্যন্ত বাংলায় রাজত্ব করেন। বিজয় সেন সম্ভবত পালরাজা রামপালের রাজত্বকালে রাঢ় অঞ্চলে প্রথমে সামন্তরাজা ছিলেন। পরবর্তীকালে বিজয়সেন প্রায় সমগ্র বাংলা জয় করে সেনদের ক্ষুদ্র রাজ্যটিকে একটি বড় রাজ্যে পরিণত করেন। এভাবে বিজয় সেন তাঁর সুদীর্ঘ ৬২ বছরের রাজত্বকালে বহু যুদ্ধে জয়লাভ করে প্রায় সমগ্র বাংলাদেশে একক রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- তিনি বেশ কিছু উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। যেমন- 'পরম মাহেশ্বর, পরম ভট্টারক, মহারাজাধিরাজ, অরিরাজ নিশঙ্ক শঙ্কর' ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
- পাল রাজারা বাংলা, বিহার থেকে শুরু করে উত্তর ভারতের অনেক অঞ্চলের উপর ক্ষমতা বিস্তার করলেও সমগ্র বাংলা সকল সময়ের জন্য তাঁদের অধিকারে রাখতে পারেননি। পাল যুগের বেশিরভাগ সময় জুড়েই বঙ্গ বলে পরিচিত দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা বিভিন্ন স্বাধীন রাজবংশের অধিকারে ছিল।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫১.
বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ অঞ্চল প্রাচীন কোন জনপদের অন্তর্গত ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. হরিকেল
  3. সমতট
  4. বরেন্দ্র
ব্যাখ্যা

• বরেন্দ্র:
- বরেন্দ্রী, বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি নামে প্রাচীন বাংলায় অপর একটি জনপদের কথা জানা যায়।
- এটি বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ।
- অনুমান করা হয়, পুঞ্জের একটি অংশ জুড়ে বরেন্দ্রর অবস্থান ছিল।
- বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক এলাকা এবং সম্ভবত পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র বিস্তৃত ছিল।

অন্যদিকে,
- প্রাচীন সমতট জনপদের বর্তমান অবস্থান- কুমিল্লা, নোয়াখালী ।
- প্রাচীন হরিকল জনপদের বর্তমান অবস্থান- সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রাম।
- প্রাচীন বঙ্গ জনপদের বর্তমান অবস্থান- ঢাকা, ফরিদপুর ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।

৮৫২.
নিচের কোনটি হরিকেল জনপদের অংশ ছিল?
  1. রাজশাহী
  2. চট্টগ্রাম
  3. নোয়াখালী
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
হরিকেল:
- হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উলিণ্ঢখিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, জনপদগুলোর নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ণয় করা বা যুগে যুগে তাদের সীমার বিস্তার ও সংকোচনের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দুরূহ কাজ।
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৩.
বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা-
  1. অশোক
  2. সমুদ্র গুপ্ত
  3. লক্ষণ সেন
  4. শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
• শশাঙ্ক:
- শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন।
- এর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- সপ্তম শতকের শুরুতে তিনি রাজ্য গড়ে তোলেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হর্ষবর্ধন।
- তিনি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির উন্নয়নের উদ্যোগ নেন।
- তাঁর আমলে তাম্রলিপ্ত বন্দর গুরুত্ব লাভ করে।
- তাঁর মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর গৌড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় যা 'মাৎস্যন্যায়' নামে পরিচিত।

⇒ অপরদিকে,
- ধর্মপাল: পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা।
- রামপাল: পাল বংশের সর্বশেষ সফল শাসক।
- লক্ষণসেন: সেন বংশের সর্বশেষ রাজা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৪.
প্রাচীন জনপদ ‘সমতট’ এর প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল-
  1. ক) কোটিবর্ষ
  2. খ) পুণ্ড্রনগর
  3. গ) কর্ণসুবর্ণ
  4. ঘ) বড়কামতা
ব্যাখ্যা
বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী একসময় সমতট নামে পরিচিত ছিল। রাজ্য রাজভট্টের (৭ম শতকে) অন্যতম রাজধানী ছিল কর্মান্ত বা ত্রিপুরা (কুমিল্লা) জেলার ময়নামতির অদূরে বড়কামতা। রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ। গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ (মুর্শিদাবাদ)। প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পুণ্ড্র। এ অঞ্চলের রাজধানী পুণ্ড্রনগর। এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
৮৫৫.
The foundation of the Nawabi rule in Bengal was laid during the reign of which ruler?
  1. Shuja-ud-Din Khan
  2. Murshid Quli Khan
  3. Alivardi Khan
  4. Mir Qasim
ব্যাখ্যা

• মুর্শিদকুলী খান:
- ১৭০৭ সালে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যু হয়।
 - এরপর পুরো মুঘল সাম্রাজ্যে গোলযোগ দেখা দেয়। এ সময় থেকে অনুপস্থিত নাজিমের পক্ষে তিনিই বাংলার নায়েব এ নাজিম হিসেবে শাসন করতে থাকেন।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়। বাংলাও এর ব্যতিক্রম ছিল না। 
-বিশেষ করে মুশিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবী আমলের সূচনা হয়। 
- মুর্শিদকুলী খানের কোনো পুত্র সন্তান ছিল না।
- তাঁর উত্তরাধিকার হিসেবে কন্যা জিনাত-উন-নেসার স্বামী সুজাউদ্দীন খান  বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সিংহাসনে বসেন।

অন্যদিকে
- সুজাউদ্দীন আলীবর্দীকে উপদেষ্টা নিয়োগ করেন। সুজাউদ্দীন ১৭৩৩ সালে আলীবর্দীকে বিহারের শাসনভার অর্পণ করেন।
-১৭৪১ সালের শেষ নাগাদ আলীবর্দী তাঁর সব শত্রুকে পরাভূত করে সমগ্র বাংলা বিহার ও উড়িষ্যায় তাঁর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠ করেন। 

তথ্যসূত্র:  বাংলাপিডিয়া ; ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫৬.
বৃহত্তর ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাকেরগঞ্জ, প্রাচীন কোন জনপদের অংশ ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. পুণ্ড্র
  3. মহাস্থানগড়
  4. সমতট
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন বাংলা কতগুলো অঞ্চল বা জনপদে বিভক্ত ছিল।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিল।
- জনপদগুলোর মধ্যে ‘বঙ্গ’ জনপদ ছিল অন্যতম।
- বৃহত্তর ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাকেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি নিয়ে ‘বঙ্গ’ জনপদ গঠিত হয়েছিল।
- এই অঞ্চলে বসবাসকারী ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠী থেকে ‘বঙ্গ’ নামের উৎপত্তি ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়।
- বরেন্দ্র জনপদ বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৮৫৭.
কার সময়ে ভারতে প্রথম রেলব্যবস্থা চালু হয়?
  1. ক) লর্ড বেন্টিংক
  2. খ) লর্ড ওয়েলেসলি
  3. গ) লর্ড ডালহৌসি
  4. ঘ) লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
ভারতীয় উপমহাদেশে ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল লর্ড ডালহৌসির সময়ে মুম্বাইয়ে প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয়।
১৮৫৪ সালে হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত বাংলায় প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয়।
বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর দর্শনা থেকে জগতী পর্যন্ত প্রথম ৫৩ কি.মি. রেললাইন উদ্বোধন করা হয়।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮৫৮.
মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতা কার শাসনামলে বাংলায় আসেন?
  1. ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহ
  2. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  3. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  4. সুলতান ফিরোজ শাহ
ব্যাখ্যা

 • ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ:
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের (তাতার খান) মৃত্যু হলে 'ফখরা' বা ফখরুদ্দিন নামে তাঁর একজন সিলাহ্দার (বর্মরক্ষক) স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- তিনি 'মুবারক শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন। 
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ কদরখানের সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে সোনারগাঁও পুনরুদ্ধার করতে সমর্থ হন।
- এই সোনারগাঁও-ই হল স্বাধীন বাংলার প্রথম রাজধানী।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান।
- তিনি একজন বিচক্ষণ ও প্রজাহিতৈষী শাসক ছিলেন।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের রাজত্বকালে সুদূর আফ্রিকার মরক্কো থেকে ইবনে বতুতা নামে একজন মুসলিম পর্যটক ১৩৪৫-৪৬ খ্রি. বাংলায় অসেন। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫৯.
ফা-হিয়েন কোন দেশের পরিব্রাজক ছিলেন?
  1. ভিয়েতনাম
  2. নেপাল
  3. চীন
  4. তুর্কিয়ে
ব্যাখ্যা
ফা-হিয়েন:
- ফা-হিয়েন প্রাচীন চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
- তিনি মধ্য এশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকা ভ্রমণ করেন ও তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করেন।
- ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি যখন ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তখন তাঁর বয়স সম্ভবত ৬৪ বছর।
- তিনি তাঁর ভ্রমণের অধিকাংশ সময়ই মধ্য ভারত বা মগধ পরিভ্রমণ অতিবাহিত করেন।
- তাঁর গন্তব্যস্থল ছিল সে সময়ের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বন্দর তাম্রলিপ্তি (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত তমলুক)।

উল্লেখ্য,
- চিনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শাসনকালে গৌতমবুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন।
- ফা-হিয়েনের বর্ণনায় পাটলীপুত্র, তাম্রলিপ্তি, তক্ষশীলা, সারনাথ, মথুরা, পেশোয়ার, কুশীনগরসহ বেশ কিছু প্রসিদ্ধ স্থানের বিবরণ আছে।
- তাঁর ভ্রমণ কাহিনী থেকে গুপ্তযুগীয় ভারতের আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় এবং পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক অবস্থার কিছু চিত্র পাওয়া যায়, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- ফা-হিয়েন গুপ্ত শাসনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। 

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৮৬০.
লক্ষ্মণ সেন কোন ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন?
  1. ক) শৈব
  2. খ) জৈন
  3. গ) বৈষ্ণব
  4. ঘ) শাক্ত
ব্যাখ্যা
লক্ষণ সেন(১১৭৮-১২০৬ খ্রি.) ৬০ বছর বয়সে বাংলার শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। তিনি ছিলেন সেন বংশের শেষ রাজা। সমগ্র বাংলায় নিজ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করার পর লক্ষণ সেন ‘গৌড়েশ্বর’ উপাধি গ্রহণ করেন। তাঁর নামানুসারে গৌড়ের রাজধানী লক্ষণাবতী নেওয়া হয়। তিনি পুরী, বানারসী ও প্রয়াগে বিজয়স্তম্ভ প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়া তিনি মগধ অধিকার করেন। লক্ষণ সেন ছিলেন বৈষ্ণব ধর্মে বিশ্বাসী, যদিও তাঁর পিতা ও পিতামহ শৈব ধর্মের অনুরাগী ছিলেন। তিনি জাতিভেদপূর্ণ শৈব (হিন্দু) ধর্ম ত্যাগ করে বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি ‘পরম বৈষ্ণব’ বা ‘পরম নারসিংহ’ উপাধি ধারণ করেন। [সুত্র- বাংলাপিডিয়া]
৮৬১.
বাংলাকে প্রাচুর্যপূর্ণ নরক বলে অভিহিত করেন কে?
  1. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  2. মীর কাশিম
  3. মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  4. ইবনে বতুতা
ব্যাখ্যা
ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- বাংলায় সফরের উদ্দেশ্য তিনি নিজেই তাঁর ভ্রমন কাহিনীতে উল্লেখ করেছেন এবং তা ছিল কামরূপের পার্বত্য অঞ্চলে বিখ্যাত সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের (হযরত শাহজালাল মুজারদ-ই-ইয়েমেনী) দর্শন লাভ।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
- এরপর তিনি ভারতে আসেন।
- ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লিতে পৌঁছেন।
- তিনি মুহাম্মদ বিন-তুঘলকের রাজত্বকালে ভারতে আসেন।
- মুহাম্মদ বিন-তুঘলক তার পাণ্ডিত্য দেখে মুগ্ধ হয়ে ইবন বতুতাকে দিল্লির কাজী বা বিচারক নিযুক্ত করেন।
- প্রায় আট বছর তিনি এ পদে বহাল ছিলেন।
- ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে (চতুর্দশ ) বাংলায় সফর করেন।
- ইবনে বতুতা তাঁর ভ্রমণ কাহিনীতে বাংলাকে 'দোজখ-ই-পুর নিয়ামত' অর্থাৎ প্রাচুর্যপূর্ণ নরক বলে অভিহিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৮৬২.
বাংলার প্রাচীনতম স্থান কোনটি?
  1. সোনারগাঁও
  2. বিক্রমপুর
  3. পুণ্ড্র
  4. চন্দ্রদ্বীপ
ব্যাখ্যা

→ বাংলার প্রাচীনতম স্থান পুণ্ড্র।

পুণ্ড্র জনপদ:
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।
- পুণ্ড্র ‘জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়। 
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম- দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

৮৬৩.
কোন দুটি নদীর মধ্যবর্তী স্থানে প্রাচীন ‘গঙ্গারিডিই’ রাজ্যের অবস্থান ছিলো?
  1. ক) যমুনা ও সিন্ধু
  2. খ) পদ্মা ও ভাগীরথী
  3. গ) মেঘনা ও পদ্মা
  4. ঘ) মহাকালী ও ব্রহ্মপুত্র
ব্যাখ্যা
পদ্মা ও ভাগীরথী নদীর মধ্যবর্তী স্থানে প্রাচীন ‘গঙ্গারিডিই’ নামক একটি শক্তিশালী রাজ্যের অবস্থান ছিলো।
আলেকজান্ডার কর্তৃক ভারত আক্রমণের সময় এ রাজ্য অস্তিত্বশীল ছিলো বলে অনুমান করা হয়। একই সময়ে প্রাসিয়র নামে আরেকটি রাজ্যেরও অস্তিত্ব ছিলো।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৮৬৪.
কুমিল্লার ময়নামতি অঞ্চলে অবস্থিত ঐতিহাসিক শালবন বৌদ্ধ বিহারটি কার প্রতিষ্ঠিত কীর্তি?
  1. রাজা বিজয় সেন
  2. শ্রী আনন্দদেব
  3. ধর্মপাল
  4. শ্রী ভবদেব
ব্যাখ্যা

◉ শালবন বৌদ্ধ বিহার ৮ম শতকে দেব বংশের রাজা শ্রীভবদেব প্রতিষ্ঠা করেন

শালবন বিহার:
- কুমিল্লার ময়নামতিতে খননকৃত সব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে শালবন বিহার অন্যতম প্রধান।
- কোটবাড়িতে বার্ডেরকাছে লালমাই পাহাড়ের মাঝামাঝি এলাকায় এ বিহারটির অবস্থান।
- বিহারটির আশপাশে এক সময় শাল-গজারির ঘন বন ছিল বলে এ বিহারটির নামকরণ হয়েছিল শালবন বিহার।
- ধারণা করা হয় যে খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন।
- শালবন বিহারের প্রতিটি বাহু ১৬৭.৭ মিটার দীর্ঘ।
- বিহারে ঢোকা বা বের হওয়ার মাত্র একটাই পথ ছিল।
- বিহারে সর্বমোট ১৫৫টি কক্ষ আছে।
- এই কক্ষগুলোতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বিদ্যাশিক্ষা ও ধর্মচর্চা করতেন।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে বিহারটির ধ্বংসাবশেষ থেকে আটটি তাম্রলিপি, প্রায় ৪০০টি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, অসংখ্য পোড়া মাটির ফলক বা টেরাকোটা, সিলমোহর, ব্রৌঞ্জ ও মাটির মূর্তি পাওয়া গেছে।
- এগুলো বাংলাদেশের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বহন করছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮৬৫.
উয়ারী-বটেশ্বরে কত বছর পূর্বের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে?
  1. প্রায় চার হাজার
  2. প্রায় সাড়ে তিন হাজার
  3. প্রায় আড়াই হাজার
  4. প্রায় দুই হাজার
ব্যাখ্যা

উয়ারী-বটেশ্বর:
- উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল।
- নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম দু’টি ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত।
-প্লাইস্টোসিন যুগে গঠিত মধুপুর গড়ের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এ গ্রাম দু’টিতেই নিবিড় অনুসন্ধান ও সীমিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত হয়েছে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ নগর।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উয়ারী প্রত্নস্থলে আবিষ্কৃত হয়েছে ৬০০ মি. x ৬০০ মি. আয়তনের চারটি মাটির দুর্গ-প্রাচীর।
- দুর্গ প্রাচীরের ৫-৭ ফুট উঁচু ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু অংশ এখনো টিকে আছে।
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত উয়ারী নগরের বাইরে আরো ৫০টি প্রত্নস্থান এ যাবত আবিষ্কৃত হয়েছে।
- উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একটি দুর্গনগর, নগর বা একটি নগর কেন্দ্র।
- আবিষ্কৃত প্রত্নবস্তু বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় যে, উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একাধারে একটি নগর ও সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮৬৬.
সম্রাট শাহজাহানের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত ?
  1. ক) পদ্মা
  2. খ) ভাগীরথী
  3. গ) যমুনা
  4. ঘ) মেঘনা
ব্যাখ্যা
- যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত তাজমহল হচ্ছে সম্রাট তার প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে অমর করে রাখার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত। 
- বিশ হাজার দক্ষ শিল্পী ও কারিগর সুদীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ এই সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন। 
- সম্রাট নিজেই ছিলেন এর পরিকল্পনাকারী। 
- প্রধান স্থাপতি ছিলেন ইসফানদিয়ার রুমী ও মাস্টার ঈসা। 
- ভারতীয় ও পারসিক শিল্পকলার মিলন ঘটিয়ে তাজমহল নির্মিত হয়েছে। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ।
৮৬৭.
প্রাচীন কালে সিলেট জেলা কোন জনপদের অন্তর্গত ছিল? 
  1. বঙ্গ
  2. সমতট
  3. হরিকেল
  4. বরেন্দ্র
ব্যাখ্যা

প্রাচীন বাংলার জনপদ:
- হরিকেল:
- সপ্তম শতকের লেখকরা হরিকেল নামে অপর একটি জনপদের বর্ণনা করেছেন।
- এ জনপদের অবস্থান ছিল বাংলার পূর্ব প্রান্তে।
- সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই জনপদ বিস্তৃত ছিল।

অপরদিকে,
- সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের প্রতিবেশী জনপদ হিসেবে সমতটের অবস্থান।
- কেউ কেউ মনে করেন, সমতট বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম।
- গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী অঞ্চলকেই সম্ভবত বলা হতো সমতট।
- কুমিল্লা শহরের ১২ মাইল পশ্চিমে বড় কামতা এর রাজধানী ছিল।
- কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- শালবন বিহার এদের অন্যতম।

বরেন্দ্র:
- বরেন্দ্রী, বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি নামে প্রাচীন বাংলায় অপর একটি জনপদের কথা জানা যায়।
- এটিও উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ।
- অনুমান করা হয়, পুন্ড্রের একটি অংশ জুড়ে বরেন্দ্রর অবস্থান ছিল।
- বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক অঞ্চল এবং সম্ভবত পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইহিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৬৮.
প্রাচীন সমতট জনপদের কেন্দ্র ছিল -
  1. লালমাই
  2. পুণ্ড্রনগর
  3. কোটিবর্ষ
  4. পাহাড়পুর
ব্যাখ্যা
সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটির অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- প্রাচীন ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট জনপদ।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬৯.
পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম সভ্যতা কোনটি?
  1. মেসােপটেমীয় সভ্যতা
  2. অ্যাসেরীয় সভ্যতা
  3. সুমেরীয় সভ্যতা
  4. মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সভ্যতা:
 - বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা মেসােপটেমীয় সভ্যতা গড়ে উঠে ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদীর তীরে।
- মেসােপটেমীয় সভ্যতারই চারটি পর্ব ছিল।
- সেগুলাে হলাে সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, অ্যাশিরীয় সভ্যতা ও ক্যালডীয় সভ্যতা।

অন্যদিকে,
- মিশরীয় সভ্যতা গড়ে উঠে নীল নদের তীরে।
- প্রাচীন রােমের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল রােমান সভ্যতা।
- ভারতে জন্ম নিয়েছিল সিন্ধু সভ্যতার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।
৮৭০.
কৌটিল্য কোন শাসকের মন্ত্রীসভার সদস্য ছিলেন?
  1. সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
  2. সম্রাট বিন্দুসার
  3. সম্রাট অশোক
  4. সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য

- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্যে।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। তাঁর রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
- তাঁর সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে, মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়, বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিল কৌটিল্য। 
- অর্থশাস্ত্র গ্রন্থের রচয়িতা হলেন প্রাচীন ভারতের শ্রেষ্ঠ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ ও সমরবিদ কৌটিল্য। এই বইয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, সমরনীতি, কৃষি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। 
- আলেকজান্ডারের সেনাপতি সেলুকাসকে পরাজিত করে উপমহাদেশ থেকে গ্রিকদের বিতাড়িত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭১.
ঢাকার বিখ্যাত ‘তারা মসজিদ’ তৈরি করেন কে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. মির্জা আহমদ খান
  3. মির্জা গোলাম পীর
  4. ঈসা খান
ব্যাখ্যা
তারা মসজিদ:

- তারা মসজিদ পুরানো ঢাকার আরমানিটোলায় আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত।
- সাদা মার্বেলের গম্বুজের ওপর নীলরঙা তারায় খচিত এ মসজিদ নির্মিত হয় আঠারো শতকের প্রথম দিকে।
- মির্জা গোলাম পীর (মির্জা আহমদ জান) ঢাকার বিখ্যাত ‘তারা মসজিদ’ তৈরি করেন।
- ১৯২৬ সালে, ঢাকার তৎকালীন স্থানীয় ব্যবসায়ী, আলী জান বেপারী মসজিদটির সংস্কার করেন। সে সময় জাপানের রঙিন চিনি-টিকরি পদার্থ ব্যবহৃত হয় মসজিদটির মোজাইক কারুকাজে।
- মসজিদের বতর্মান দৈর্ঘ্য ৭০ ফুট (২১.৩৪ মিটার), প্রস্থ ২৬ ফুট (৭.৯৮ মিটার)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।
৮৭২.
'পুন্ড্রনগর' কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) ব্রহ্মপুত্র
  2. খ) করতোয়া
  3. গ) আত্রাই
  4. ঘ) ইছামতি
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র।
- পুন্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুন্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল। পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল। 

উৎস: বিবিএস, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৩.
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন গঠিত হয় কখন?
  1. ক) ১৯৭৩
  2. খ) ১৯৭৪
  3. গ) ১৯৭৫
  4. ঘ) ১৯৭৬
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন:
- বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন গঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি
- ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল আণবিক শক্তি কমিশন। 
- বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন বাংলাদেশের একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও অন্যতম নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য হল, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে আণবিক শক্তি উৎপাদন ও এটি নিয়ে গবেষণা করা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ওয়েবসাইট।
৮৭৪.
কোন চীনা পরিব্রাজক শীলভদ্রের নিকট দীক্ষাগ্রহণ করেন?
  1. ক) ফা হিয়েন
  2. খ) মা হুয়ান
  3. গ) হিউয়েন সাঙ
  4. ঘ) ইৎ সিঙ
ব্যাখ্যা
- হিউয়েন সাঙ একজন বিখ্যাত চীনা বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী। তিনি ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে ভারতের উদ্দেশ্যে চীন থেকে যাত্রা শুরু করেন।
- ভারতে তিনি প্রায় পনের বছর অতিবাহিত করেন। এর অনেকটা সময় তিনি বিহারে অবস্থিত প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র নালন্দা মহাবিহারে অতিবাহিত করেন।
- তখন নালন্দা বিহারের অধ্যক্ষ ছিলেন বাঙালি বৌদ্ধ পন্ডিত শীলভদ্র। হিউয়েন সাঙ শীলভদ্রের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দে হিউয়েন সাঙ চীনে ফিরে যান।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮৭৫.
বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল কোন জনপদের অন্তর্গত ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. রাঢ়
  3. হরিকেল
  4. সমতট
ব্যাখ্যা

সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটির অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- প্রাচীন ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট জনপদ।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭৬.
বঙ্গদেশের নাম বঙ্গাল পাওয়া যায় কোন গ্রন্থে?
  1. মহাভারত
  2. আইন-ই-আকবরী
  3. ঐতরেয় আরণ্যক
  4. রামায়ণ
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- মহাভারত, রামায়ণ ও হরিবংশেও রয়েছে বঙ্গ প্রসঙ্গ।
- অনুমান করা যায় ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো। 
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল।
- কারণ এ দেশের প্রাচীন রাজাগণ সারাদেশে চওড়া 'আল' নির্মাণ করতেন।
- সেজন্যে 'বঙ্গ' ও 'আল' শব্দ দুটির যোগে 'বঙ্গাল' নামের উৎপত্তি হয়েছে।
- এ থেকে ধারণা করা হয় যে পানি থেকে শস্যক্ষেত রক্ষার জন্য বড় বড় 'আল' বাঁধা হতো এবং তার ফলে এ অঞ্চলটি 'বঙ্গাল' নামে পরিচিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৭.
বাংলার কোন সুলতান ‘খলিফাতুল্লাহ' উপাধি গ্রহণ করেন?
  1. ক) সুলতান শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  2. খ) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. গ) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  4. ঘ) জালাল উদ্দীন মুহম্মদ শাহ
ব্যাখ্যা
• জালালউদ্দিন মাহমুদ শাহ:
- ১৪১৮ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ পরলোকগমন করলে তাঁর কনিষ্ঠপুত্র মহেন্দ্ৰ দেব উপাধি নিয়ে সিংহাসনে বসেন কিন্তু দু-এক মাসের বেশী তিনি রাজত্ব করতে পরেন নি।
- এসময় জালালউদ্দিন (যদু সেন) মহেন্দ্ৰ দেবকে অপসারণ করে সিংহাসন দখল করেন।
- তিনি ইসলাম ধর্মের একজন একনিষ্ঠ সেবক ছিলেন।
- ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর থেকে তিনি নিজেকে খাঁটি মুসলমান হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি উৎসাহী ছিলেন।
- তাঁর আমলে ইসলামের বিশেষ উন্নতি সাধিত হয়।

- ক্ষমতালাভ করে তিনি পিতা কর্তৃক নিবাসিত দরবেশ নুর-কতুব-উল আলমের দৌহিত্র শেখ জাহিদকে সোনারগাঁও থেকে রাজধানীতে ফিরিয়ে আনেন।
- তিনি একজন সুযোগ্য শাসক ছিলেন। তিনি তাঁর রাজ্যের রাজধানী পাণ্ডুয়া থেকে গৌড়ে স্থানান্তরিত করেন।
- তাঁর সময়ে গৌড় একটি সমৃদ্ধ নগরীতে পরিণত হয়। সেখানে মসজিদ, স্নানাগার, জলাশয়, সরাইখানা প্রভৃতি নির্মিত হয়।
- এ সময় ইব্রহিম শর্কীর রাজ্যের কিছু অংশ জালালউদ্দিনের দখলে আসে। 
- তিনি তাঁর মুদ্রায় নিজেকে খলিফাতুল্লাহ বা আল্লাহর খলিফা হিসেবে উল্লেখ করেন।
- তিনি চীন, পারস্য, মিশর ও দামেস্কের সঙ্গে দূত বিনিময় করেন।

সূত্র: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৮.
সর্বপ্রথম পাণিনির গ্রন্থে কোন জনপদের উল্লেখ পাওয়া যায়?
  1. বঙ্গ
  2. সমতট
  3. গৌড়
  4. রাঢ়
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো যে যুগে যুগে সীমানা সম্প্রসারণ করেছে তার বড় উদাহরণ হলো গৌড়।
- এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই সময়ে সময়ে গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
- পূর্ব ভারতীয় দেশসমূহের সামগ্রিক নাম হিসেবে এমনকি উত্তর ভারতের আর্যাবর্তের নাম হিসেবেও কখনো কখনো গৌড়ের ব্যবহার দেখা যায়।
- সর্বপ্রথম পাণিনির গ্রন্থে গৌড়ের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- সেনবংশীয় রাজারা ‘গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন।
- ব্যাপক অর্থে ‘গৌড়' বলতে অনেক সময় বাংলা ভাষাভাষী সমগ্র অঞ্চলকে বুঝাত।
- আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো ‘গৌড়' আবার কখনো লক্ষ্মণাবতী নামে পরিচিত ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৯.
‘বিক্রমপুর‘ প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) রাঢ়
  2. খ) বঙ্গ
  3. গ) সমতট
  4. ঘ) হরিকেল
ব্যাখ্যা
• বঙ্গ জনপদ:
-  প্রাচীন বাংলা কতগুলো অঞ্চল বা জনপদে বিভক্ত ছিলো। এর মধ্যে বঙ্গ জনপদ ছিলো অন্যতম।
 - বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি। 

- অন্যদিকে,
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
- রাঢ় জনপদের অবস্থান ছিলো বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৮৮০.
কোন শাসকের মৃত্যুর পর বাংলার ইতিহাসে অন্ধকার যুগ ‘মাৎস্যন্যায়’ এর সূত্রপাত হয়?
  1. ক) গোপাল
  2. খ) শশাঙ্ক
  3. গ) ধর্মপাল
  4. ঘ) অশোক
ব্যাখ্যা
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে বাংলায় অরাজকতা দেখা দেয়। সর্বত্র অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, লুটতরাজ প্রভৃতিতে ছেয়ে যায়। ঐতিহাসিকরা এ অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় হিসেবে অভিহিত করেন। পুকুরে যেমন বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, এ সময়ে বাংলার অবস্থাও তেমনটিই ছিলো। যার কারণে এ সময়কে মাৎস্যন্যায় বলা হয়। ৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর এ অবস্থা বিরাজমান ছিলো। গোপাল কর্তৃক শাসনভার গ্রহণের মাধ্যমে মাৎস্যন্যায় অবস্থার অবসান ঘটে এবং বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ পালবংশের সূত্রপাত ঘটে। পাল বংশের রাজাগণ একটানা চারশ বছর এদেশ শাসন করেন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৮৮১.
'সত্যপীরের ভিটা' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সোমপুর, নওগাঁ
  2. খ) পুঠিয়া, রাজশাহী
  3. গ) ময়নামতি, কুমিল্লা
  4. ঘ) মহাস্থানগড়, বগুড়া
ব্যাখ্যা
• সত্যপীরের ভিটা:
- সত্যপীরের ভিটা, পাহাড়পুর নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার অধীনে পাহাড়পুর বিহার থেকে ৩৬৫ মিটার পূর্বে অবস্থিত। 
- সত্যপীরের ভিটা বর্তমান নামের উৎপত্তি ষোল-সতের শতকের পূর্বে হয়েছে বলে মনে হয় না। 
- এ ভিটায় একটি তারা মন্দির এবং বিভিন্ন আকার ও আয়তনের প্রচুর নিবেদন স্তূপের ধ্বংসাবশেষ বিদ্যমান।

- মন্দির অঙ্গনের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫০টি পোড়ামাটির ফলক, আটহাত বিশিষ্ট দেবীমূর্তি ও বৌদ্ধ ধর্মীয় মতবাদ লিপি খোদিত পোড়ামাটির গোল সীলগুলি থেকেই এই ভিটা ও তারা মন্দিরের অভিন্নতা প্রতিপন্ন হয়েছে।
- আবিষ্কৃত দেবী মূর্তিটি বৌদ্ধদেবী শীতাতপত্র তারা বলেই মনে হয়।
- মন্দির এলাকায় ১৩২টি নিবেদন স্তূপ আছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৮৮২.
ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার কোন দেশের পর্যটক ছিলেন?
  1. চীন
  2. নেপাল
  3. আফগানিস্তান
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার:
- ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার ছিলেন একজন ফরাসি চিকিৎসক এবং ভ্রমণকারী।
- তিনি ১৬৫৬ ও ১৬৬৮ সালের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।
- মুঘল আমলে প্রায় ১২ বছর তিনি ভারতে ছিলেন।
- হিন্দুস্থানের সম্রাট, আমীর ওমরাহ থেকে সকল শ্রেণির মানুষের জীবন, সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি-নীতি, এমন কি সতীদাহ পর্যন্ত নিজের চোখে দেখেছেন।

উল্লেখ্য,
- সম্রাট শাহজাহান এর পুত্রদের মধ্যে উত্তরাধিকার যুদ্ধে দারাকে বন্দি করে কুচকাওয়াজ সহকারে অসম্মানজনকভাবে রাস্তা দিয়ে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, বার্নিয়ার সেই সময় দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন।
- বার্নিয়ারের মূল ভ্রমণবৃত্তান্ত ফরাসি ভাষায় লিখিত ও প্রকাশিত।
- Travels in The Mogul Empire, AD 1656-68 শিরোনামে আরচিবল্ড কনস্টেবল (Archibald Constable) পুস্তকটি ১৮৯১ সালে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ও ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশ করেন।
- সেই সময় থেকে বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় পুস্তকটি অনূদিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৮৩.
কোন বিষয়টির সাথে 'স্যার সৈয়দ আহমদের' নাম জড়িত?
  1. ক) মুসলিম লীগ
  2. খ) আলীগড় আন্দোলন
  3. গ) ঋণসালিসী বোর্ড
  4. ঘ) ওহাবী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- আলিগড় আন্দোলনের প্রবর্তক ছিলেন স্যার সৈয়দ আহমদ খান।
- স্যার সৈয়দ আহমদের' নাম আলীগড় আন্দোলনের সাথে জড়িত।

• সৈয়দ আহমদ খান:

- নওয়াব  সরফরাজ খানের আমলে সৈয়দ আহমদ খান ঘোড়াঘাট ও রংপুরের নায়েব ফৌজদার ছিলেন।
- উনিশ শতকের মধ্যভাগে স্যার সৈয়দ আহমদ খান উত্তর ভারতে আলীগড় আন্দোলন গড়ে তুলে।
- পিছিয়ে পড়া মুসলমান সম্প্রদায়কে যুক্তিবাদী আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার জন্য উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে যে আন্দোলনের সূচনা করেন তা আলিগড় আন্দোলন নামে খ্যাত।
- ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে বিদ্রোহের পর অনগ্রসর মুসলিম সমাজে কিছু কিছু সংস্কারের প্রয়োজন অনুভূত হয়।
- হিন্দুদের তুলনায় অনগ্রসর পাশ্চাত্য শিক্ষায় উদাসীন মুসলিম সমাজের দুরবস্থার কথা সৈয়দ আহমদ অবগত ছিলেন।
- ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে পাশ্চাত্য শিক্ষাকে প্রগতির যথার্থ সোপান বলে মনে করতেন তিনি এজন্য মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রসারে উদ্যোগী হয়েছিলেন।
- তাই তাকে মুসলিম জাগরনের অগ্রদূত বলা হয়। 

উৎস: ডেইলি বাংলাদেশ।
৮৮৪.
আর্যপূর্ব প্রাচীন কোন জনগোষ্ঠী 'নিষাদ' নামে পরিচিত ছিল?
  1. অস্ট্রিক
  2. দ্রাবিড়
  3. নেগ্রিটো
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাঙালি আদি-জনগোষ্ঠী:
- অস্ট্রোলয়েড প্রাচীন বাংলায় একটি নৃ-গোষ্ঠী।
- নৃতত্ত্ববিদগণ এদেরকে আদি অস্ট্রেলীয় বলে মনে করেন।
- এ জনগোষ্ঠীকে অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয়ও বলা হয়।
- প্রাচীন সাহিত্যে এরা 'নিষাদ' নামে পরিচিত।
- কাল পরিক্রমায় তাদের একটি দল আদি বাসস্থান ত্যাগ করে বাংলায় অভিবাসন করে।
- বাংলার প্রাচীনতম বং জনগোষ্ঠীর পরবর্তী নেগ্রিটো জনগোষ্ঠীর পরে বাংলায় এদের আগমন ঘটে বলে অনুমিত হয়।
- বাংলার আদি জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।

উৎস: i) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৮৮৫.
হাজী শরীয়তুল্লাহ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) মাদারীপুর
  2. খ) শরীয়তপুর
  3. গ) পিরোজপুর
  4. ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
- হাজী শরীয়তুল্লাহ মাদারীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

ফরায়েজি আন্দোলন:
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তুল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন
- হাজী শরীয়তুল্লাহর এই সংস্কার আন্দোলনের নামই ফরায়েজি আন্দোলন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
-  শরীয়তুল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরীয়তুল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। 
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া
- তিনি ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮৬.
বখতিয়ার খলজি বাংলার বয়োঃবৃদ্ধ রাজা লক্ষণ সেনকে অতর্কিত আক্রমণ করেন-
  1. ক) দেবকোটে
  2. খ) নদীয়ায়
  3. গ) বিক্রমপুরে
  4. ঘ) লক্ষণাবতীতে
ব্যাখ্যা
বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ-বিন-বখতিয়ার খলজি। বখতিয়ার খলজি ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলার বয়োঃবৃদ্ধ রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
তিনি অশ্ব বিক্রেতার বেশে ১৭/১৮ জন অশ্বারোহীসহ লক্ষণ সেনের রাজধানী নদীয়ায় প্রবেশ করে অতর্কিত আক্রমণ করেন। এই আক্রমণে লক্ষণ সেন পালিয়ে পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরে আশ্রয় নেন।
লক্ষণ সেন পলায়ন করলে বখতিয়ার খলজি বিনা বাধায় নদীয়া দখল করেন এবং গৌড়ের নাম পরিবর্তন করে লক্ষণাবতী রাখেন। তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই এদেশে প্রথম মুসলমানদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৮৮৭.
পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা হিসেবে কাকে বিবেচনা করা হয়?
  1. গোপাল
  2. ধর্মপাল
  3. মহিপাল
  4. দেবপাল
ব্যাখ্যা
- পাল বংশের মধ্যে ধর্মপাল ছিলেন সবচেয়ে শক্তিশালী ও কৃতী শাসক।

পাল বংশ:
- পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন ধর্মপাল।
- পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের পুত্র ও উত্তরাধিকারী ধর্মপাল পালদের উদীয়মান প্রতিপত্তির যুগের সূচনা করেন।
- পাল শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল গোপালের হাত ধরে।
- ধর্মপাল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন।
- বিক্রমশীল বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের কৃতিত্ব তাঁর।
- নয় শতক থেকে বারো শতক পর্যন্ত সমগ্র ভারতে এটি ছিল বৌদ্ধদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র।
- এছাড়া পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারও ধর্মপালের আরেক কীর্তি।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৮৮৮.
প্রাচীন পুন্ড্রনগর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. বাঙ্গালী 
  2. করতোয়া
  3. ব্রহ্মপুত্র
  4. মহানন্দা
ব্যাখ্যা

পুণ্ড্র:
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুণ্ড্র।
- পুণ্ড্র 'জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুণ্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
- ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ-৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- এখানে গুপ্তদের সুনিয়ন্ত্রিত শাসনব্যবস্থা ছিল।
- পুণ্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮৯.
তাম্রলিপ্তের প্রাণকেন্দ্র কোনটি?
  1. মেদিনীপুর
  2. জামালপুর
  3. ফরিদপুর
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
তাম্রলিপ্ত:
- হরিকেলের উত্তরে ছিল তাম্রলিপ্ত জনপদ।
- বর্তমান মেদিনীপুর জেলার তমুলকই ছিল তাম্রলিপ্তের প্রাণকেন্দ্র।
- সমুদ্র উপকূলবর্তী এ এলাকা ছিল খুব নিচু ও আর্দ্র।
- নৌ চলাচলের জন্য জায়গাটি ছিল খুবই উওম।
- প্রাচীনকালে তাম্রলিপ্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
- চৈনিক তীর্থযাত্রী হিউয়েন-সাং তাম্রলিপ্তি শহরকে ‘তান-মো-লি-তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৮৯০.
‘ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন’ কোন শতকে সংঘটিত হয়?
  1. ক) সতের শতকে
  2. খ) আঠারো শতকে
  3. গ) উনিশ শতকে
  4. ঘ) ষোড়শ শতকে
ব্যাখ্যা
বাংলায় ব্রিটিশবিরোধী প্রথম সংঘটিত আন্দোলন হলো ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন।
এই আন্দোলনের ব্যাপ্তি ছিলো আঠারো শতকের ১৭৬০ সাল থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত।
এই আন্দোলনে ফকিরদের নেতৃত্ব দেন মজনু শাহ। অন্যদিকে সন্ন্যাসীদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভবানী পাঠক।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮৯১.
প্রাচীন পুণ্ড্র জনপদের অন্তর্ভুক্ত জেলা নয় কোনটি?
  1. রাজশাহী
  2. রংপুর
  3. সিলেট
  4. বগুড়া
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র:
- পুণ্ড্র শব্দের অর্থ আখ বা ইক্ষু।
- প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পুণ্ড্র।
- পুণ্ড্র বলে একটি জনগোষ্ঠী ছিল।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকা নিয়ে এ পুঞ্জ জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর।
- পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ নগরসভ্যতা।

উল্লেখ্য, 
- সিলেট জেলা হরিকেল জনপদের অন্তর্গত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।
৮৯২.
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার কে নির্মাণ করেন?
  1. দেবপাল
  2. রামপাল
  3. গোপাল
  4. ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- এই মহাবিহার বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলায় অবস্থিত।
- এটি প্রাচীন বাংলার একটি বৌদ্ধ বিহার।
- পাহাড়পুরএর উৎখননকৃত বিহার কমপ্লেক্সের সঙ্গে সোমপুর মহাবিহারকে অভিন্ন মনে করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল দেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।

⇒ ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।
- পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা যেতে পারে।
- আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে।
- এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্মচর্চা কেন্দ্র ছিল।
- শুধু উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই নয়, চীন, তিব্বত, মায়ানমার (তদানীন্তন ব্রহ্মদেশ), মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের বৌদ্ধরা এখানে ধর্মচর্চা ও ধর্মজ্ঞান অর্জন করতে আসতেন।
- খ্রিষ্টীয় দশম শতকে বিহারের আচার্য ছিলে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান।
- পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী পুন্ড্রনগর (বর্তমান মহাস্থান) এবং অপর শহর কোটিবর্ষ (বর্তমান বানগড়)এর মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত ছিল সোমপুর মহাবিহার।
- এর ধ্বংসাবশেষটি বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজশাহীর অন্তর্গত নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮৯৩.
'মহাস্থানগড়' এর পূর্বনাম কী ছিল?
  1. হরিকেল
  2. পুন্ড্রনগর
  3. সমতট
  4. চন্দ্রদ্বীপ
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- পূর্বে মহাস্থানগড়ের নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- বগুড়া শহর হতে ১৫ কিঃমিঃ দূরে পুণ্ড্রবর্ধনের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দূর্গনগরী ।
- সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দুর্গ নগরী ইটের বেষ্টনী প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত যা উত্তর দক্ষিনে ১৫২৫ মিঃদীর্ঘ এবং পূর্ব পশ্চিমে ১৩৭০মিঃ প্রশস্থ ও চতুপার্শ্বস্থ সমতল ভূমি হতে ৫মিঃ উঁচু।
- কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত এ স্থান পরাক্রমশালী মৌর্য, গুপ্ত এবং পাল শাসকবর্গের প্রাদেশিক রাজধানী ও পরবর্তীকালে হিন্দু সমান্ত রাজাগণের রাজধানী ছিল।
- বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হয়েন সাঙ ভারতবর্ষ ভ্রমণকালে (৬৩৯-৬৪৫) পুন্ড্রনগর পরিদর্শন করেন।

তথ্যসূত্র - বগুড়া জেলা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৮৯৪.
’সোমপুর মহাবিহার’ প্রাচীন বাংলার কোন অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. বঙ্গ
  2. বরেন্দ্র 
  3. সমতট
  4. রাঢ়
ব্যাখ্যা

- ধর্মপাল বৌদ্ধ ছিলেন এবং তিনি অনেক বিহারের প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি রাজশাহী বিভাগের বর্তমান নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে সোমপুর মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন।
- বরেন্দ্র অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে প্রতিষ্ঠিত ’সোমপুর মহাবিহার’ এই বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সমগ্র ভারতবর্ষের মধ্যে সর্ববৃহৎ বৌদ্ধ বিহার।
- এই জন্যে এটি মহাবিহার নামে পরিচিত।
- ধর্মপাল বৌদ্ধ ধর্মানুরাগী হলেও তিনি অন্য ধর্ম সম্পর্কে উদার মনোভাব পোষণ করতেন।
- তিনি হিন্দু দেবতার জন্য মন্দির নির্মাণ করার জন্য ভূমিদান করতেন।
- ধর্মপালের প্রধানমন্ত্রী গর্গ ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা-৯ম-১০ম, শ্রেণি; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৯৫.
নিচের কোন অঞ্চলটি নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ফরিদপুর
  2. কুমিল্লা
  3. সিলেট
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৬.
বাংলার প্রাচীনতম শিলালিপি ‘ব্রাহ্মী লিপি‘ কোথায় পাওয়া গেছে?
  1. পাহাড়পুর
  2. উয়ারী বটেশ্বর
  3. ময়নামতি
  4. মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা
• প্রাচীন জনপদ:
- প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পুণ্ড্র।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়।

- মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
- পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপি ‘ব্রাহ্মী লিপি‘ মহাস্থানগড়ে পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে প্রাপ্ত এটিই প্রাচীনতম শিলালিপি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৮৯৭.
'কোটিবর্ষ' কোন জনপদের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল?
  1. হরিকেল
  2. বঙ্গ
  3. সমতট
  4. রাঢ়
ব্যাখ্যা
রাঢ়:
- বিভিন্ন ঐতিহাসিক উৎস থেকে বলা যায় যে, রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- তবকত-ই-নাসিরীর বর্ণনায়ও গঙ্গার দক্ষিণে রাঢ়ের অবস্থান নির্দেশিত হয়েছে।
- এই জনপদটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল।
• দক্ষিণ রাঢ়।
• উত্তর রাঢ়।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সুহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- রাঢ় বা সূহ্মদেশের অন্তর্গত তাম্রলিপ্তের কথা টলেমির ভূগোলে উল্লিখিত ছিল ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৮.
‘মা হুয়ান’ বাংলায় আগমন করেন তখন বাংলার শাসক ছিলেন?
  1. ক) সুলতান মুহাম্মদ বিন তুগলক
  2. খ) গিয়াস উদ্দীন আজম শাহ
  3. গ) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
  4. ঘ) মীর জুমলা।
ব্যাখ্যা

- মা হুয়ান একজন চীনা পরিব্রাজক।
- তার বাংলায় আগমনের সময় বাংলার শাসক ছিলেন গিয়াস উদ্দীন আজম শাহ।
- মা হুয়ান পনের শতকের প্রথমার্ধে বাংলায় আসেন।
- ফা হিয়েন বাংলায় আগমনের সময় বাংলার শাসক ছিলেন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৮৯৯.
‘বঙ্গ জনপদের’ প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় কোন গ্রন্থে?
  1. চর্যাপদ
  2. রামায়াণ
  3. ঐতরেয় আরণ্যক
  4. মেঘদূত
ব্যাখ্যা

- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ, যার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ঐতরেয় আরণ্যকে উপজাতির নাম হিসেবে।
- মহাভারত, রামায়ণ ও হরিবংশ গ্রন্থে বঙ্গের নাম উল্লেখ রয়েছে।
- কালীদাসের রঘুবংশ কাব্যে বঙ্গের অবস্থান ও সীমানা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
- কালীদাসের মতে, ভাগীরথী ও পদ্মার মধ্যবর্তী ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপই ছিল বঙ্গদের অঞ্চল।
- এই অঞ্চলটি টলেমির ‘গঙ্গরিডাই’ নামের স্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়—বিক্রমপুর বঙ্গ ও নাব্য বঙ্গ।
- অনুমান করা হয়, ঢাকা, ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চল নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- মুসলিম শাসনের প্রাথমিক পর্যায়ে ‘বঙ্গ’ বলতে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব অংশ বোঝানো হতো।
- আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে বঙ্গদেশকে ‘বঙ্গাল’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
- ‘বঙ্গ’ ও ‘আল’ (চওড়া বাঁধ বা উঁচু জমি) শব্দদ্বয়ের যোগে ‘বঙ্গাল’ নামের উৎপত্তি হয়।
- পানি থেকে শস্যক্ষেত রক্ষার জন্য নির্মিত বড় বড় ‘আল’-এর কারণে এ অঞ্চলটি ‘বঙ্গাল’ নামে পরিচিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০০.
ফকিররা কত সাল থেকে কত সাল পর্যন্ত বাংলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহ করেছিল?
  1. ক) ১৭৮১ থেকে ১৮৪০ পর্যন্ত
  2. খ) ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ পর্যন্ত
  3. গ) ১৭৫৭ থেকে ১৮৫৭ পর্যন্ত
  4. ঘ) ১৮১৯ থেকে ১৮৬২ পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ (১৭৬০-১৮০০)
• বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ চলে।
• আন্দোলনকারী ফকির-সন্ন্যাসীগণ ছিলেন মাদারিয়া সুফি তরিকার অনুসারী।
• নবাব মীর কাশিম ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে ফকির-সন্ন্যাসীদের সাহায্য চান।
• বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ।
• সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
• তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
• ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
• ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
• তবে এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে ফকির।
• মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি, অর্থাৎ অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
• মজনু শাহর মত্যুর পর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ।ণ
• ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চুড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা - ৯ম - ১০ম শ্রেনি এবং ইতিহাস প্রথম পত্র - এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।