বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাচীন কালের ইতিহাস, জনপদ ও বিভিন্ন রাজবংশ

মোট প্রশ্ন১,৩৩৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাচীন কালের ইতিহাস, জনপদ ও বিভিন্ন রাজবংশ

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৭০১৮০০ / ১,৩৩৮

৭০১.
চাণক্যের বিখ্যাত গ্রন্থ অর্থশাস্ত্র কতখন্ডে রচিত?
  1. ক) ১৫
  2. খ) ১৬
  3. গ) ১৭
  4. ঘ) ১৮
ব্যাখ্যা

- চাণক্য খ্রিস্টপূর্ব ৩৭০ অব্দে জন্ম গ্রহণ করে।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী কৌটিল্য যিনি অতীব বুদ্ধিমান ‘চাণক্য’ বা সম্রাটের প্রাথমিক জীবনের শিক্ষক বিষ্ণুগুপ্ত বলেও পরিচিত।।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতির দিকপাল ও ভারতের ম্যাকিয়াভ্যালি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- চন্দ্রগুপ্তের এবং বিন্দুসারের উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।
- তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হল অর্থশাস্ত্র ( ১৫ খন্ডে ) ও চাণক্যনীতি।
- অর্থশাস্ত্র গ্রন্থটি রাষ্ট্রশাসন ও কূটনীতিকৌশলের সার সংক্ষেপ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ স্টাডিজ , বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭০২.
কোন সাম্রাজ্যের পতনের পর স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে?
  1. গুপ্ত
  2. সেন
  3. কুষাণ
  4. মৌর্য
ব্যাখ্যা
গুপ্ত সাম্রাজ্য:
- খ্রিস্টীয় প্রায় ৪ শতকের শুরুতে উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রথম গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- মগধ বা বরেন্দ্রের অধিপতি ছিলেন গুপ্তদের আদিপুরুষ শ্রীগুপ্ত। 
- প্রথম চন্দ্রগুপ্তের হাত ধরে গুপ্ত শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর একে একে সমুদ্রগুপ্ত, দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্য, ১ম কুমারগুপ্ত মহেন্দ্রাদিত্য, স্কন্ধগুপ্ত বিক্রমাদিত্যের প্রবল পরাক্রান্ত শাসন লক্ষ করা যায়।
- তবে পরবর্তীকালের গুপ্ত শাসকগণ অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছিলেন।
- তারপর হুনদের আক্রমণের মধ্য দিয়ে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

⇒ ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে বিশাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
- সেই অস্থিতিশীল পরিবেশে বাংলাদেশে দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে।
- এর একটি হচ্ছে স্বাধীন 'বঙ্গ রাষ্ট্র', অপরটি 'গৌড় রাজ্য।

⇒ স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্র:
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সমগ্র দক্ষিণ ও পূর্ব বঙ্গে একটি স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে। স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্রের রাজারা তামার পাতে খোদাই করা রাজ নির্দেশ জারি করতেন। এগুলোকে তাম্রশাসন বলা হতো। এ রকম ৭টি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে।
- স্বাধীন বঙ্গরাজ্যে চন্দ্রগুপ্ত, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব নামের তিনজন রাজা ছিলেন। তারা ৫২৫-৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট ৭৫ বছর রাজত্ব করেন। তারা 'মহাধিরাজ' উপাধি ধারণ করতেন। এতে তাদের সার্বভৌম ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায়। স্বাধীন বঙ্গের যথেষ্ট যশ, খ্যাতি, প্রভাব ও সমৃদ্ধির কথা জানা যায়। সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের নেতৃত্বে বাংলার পুন্ড্র বা পণ্ড্রবর্ধন, গৌড় এবং বঙ্গকে একত্রিত করে একটি বিশাল গৌড় রাজ্য স্থাপিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৩.
নিচের কোন ব্যক্তি লাহোর প্রস্তাব উত্থাপক এর সাথে সম্পর্কিত?
  1. খাজা নাজিমউদ্দিন
  2. মুহম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

লাহোর প্রস্তাব:
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন।
- মুহম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সভায় গৃহীত হয়।
- এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত।
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।
- এ প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পৃথক আবাসভূমির স্বপ্ন বপন করে।
- এ প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহিত হয়।

​অন্যদিকে, 
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭০৪.
নিচের কোনটি পূর্বদেশের জনপদ?
  1. ক) রাঢ়
  2. খ) বঙ্গ
  3. গ) গৌড়
  4. ঘ) সমতট
ব্যাখ্যা
গৌড়:

- পূর্বদেশের জনপদ হচ্ছে গৌড়।
- গৌড়, জনপদ  প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অঞ্চল। 
- মুর্শিদাবাদকে কেন্দ্র করে গৌড় জনপদটি পশ্চিম ভাগীরথীর নিকটে গড়ে উঠেছিল।
- মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমান নিয়ে ছিল প্রাচীন গৌড় রাজ্য। 
- আদি অভিলেখর মধ্যে খ্রিস্টীয় ৫৫৪ অব্দে উৎকীর্ণ মৌখরি বংশীয় রাজা ঈশান বর্মণের হরাহ লিপিতে গৌড়বাসীর উল্লেখ পাওয়া যায়।
- কোনো একসময় গৌড়ের অবস্থান উপকূলীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- সাত শতকের প্রথম দিকে গৌড়ের অত্যন্ত শক্তিশালী রাজা শশাঙ্কের উত্থান গৌড়ের রাজ্যসীমার সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে।
- গৌড়ের রাজধানী কর্ণসুবর্ণ পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ছিরুটি অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। আর একারণেই মুর্শিদাবাদ গৌড়ের কেন্দ্রবিন্দু বলে পরিগণিত হয়।
- তেরো শতকে বাংলার মুসলমান সুলতানদের শাসনাধীন সমগ্র অঞ্চলই গৌড় নামে পরিচিত ছিল। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৭০৫.
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং কত সালে বাংলায় আসেন?
  1. ৬৩৮ সালে
  2. ৭৩২ সালে
  3. ৫৩২ সালে
  4. ৬৪৮ সালে
ব্যাখ্যা

হিউয়েন সাং:
- হিউয়েন সাং বাংলায় এসেছিলেন আনুমানিক ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে। [Wisdom Library]
- হিউয়েন সাং সাত শতকের চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
- তিনি দেখেছেন, সমতটের ত্রিশটি বিহারে দু- হাজার শ্রমণের বাস।
- কনৌজে সম্রাট হর্ষবর্ধনের আতিথ্য গ্রহণের পর তিনি মগধের নালন্দা মহাবিহারে পড়াশোনা করেন।
- বাংলার কর্ণসুবর্ণ, পুন্ড্রনগর, সমতট এবং তাম্রলিপ্তি ভ্রমণ করেন।
- তিনি রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ করেন, যা সাত শতকের বাংলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।
- তাঁর রচনা জিউ জি (সি-উ চি) মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ প্রদান করে।
- বৌদ্ধ গ্রন্থ সংগ্রহ তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলেও, ভ্রমণকালীন বিভিন্ন অঞ্চলের বর্ণনায় তিনি বাংলার প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা রাখেন।

উল্লেখ্য,
- বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এর বইয়ে দেওয়া আছে, হিউয়েন সাং বাংলায় এসেছিলেন আনুমানিক ৬৩৯ খ্রিস্টাব্দে।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
          ¡¡) Wisdom Library. [লিঙ্ক]

৭০৬.
কোন সময়ে ভারতে গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ৩২০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ৩২১ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ৩২২ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ৩২৪ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
গুপ্ত সাম্রাজ্য: 
- ভারতে সাম্রাজ্যবাদী গুপ্তদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ৩২০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তখন বাংলায় কিছু স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে।
- এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সমতট রাজ্য ও পশ্চিম বাংলার পুষ্করণ রাজ্য উল্লেখযোগ্য।
- গুপ্ত সম্রাট প্রথম চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালেই বাংলার উত্তরাংশের কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিকারে আসে।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকালে সমগ্র বাংলা অধিকৃত হলেও সমতট একটি করদ রাজ্য ছিল।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকাল থেকে ছয় শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলার উত্তরাংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনস্থ একটি 'প্রদেশ' বা 'ভুক্তি' হিসেবে পরিগণিত হতো।
- মৌর্যদের মতো গুপ্তদের রাজধানী ছিল মহাস্থানগড়ের পুণ্ড্রনগর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭০৭.
আধুনিক ভারতের ইতিহাসে প্রথম শিক্ষা কমিশন কোনটি?
  1. ক) নাথান কমিশন
  2. খ) হান্টার কমিশন
  3. গ) সাইমন কমিশন
  4. ঘ) উড কমিশন
ব্যাখ্যা
হান্টার কমিশন:
- সরকারিভাবে ইন্ডিয়ান এডুকেশন কমিশন (১৮৮২) নামে পরিচিত।
- এটি ছিল আধুনিক ভারতের ইতিহাসে প্রথম শিক্ষা কমিশন।
- ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে উইলিয়ম হান্টারকে চেয়ারম্যান করে প্রথম ইন্ডিয়ান এডুকেশন কমিশন নিয়োগ করেন।
- এই কমিশন সরকারি অনুদান ব্যবস্থার মাধ্যমে মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যক্তি উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেয়া, স্কুলে অভ্যন্তরীণ ও প্রবেশিকা পরীক্ষা অনুষ্ঠান এবং মাধ্যমিক স্কুলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করে।
- ১৯০১ সালে সিমলায় অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান কনফারেন্সের পর লর্ড কার্জন একটি সরকারি সিদ্ধান্তের আদলে ১৯০৪ সালে তাঁর শিক্ষানীতি প্রকাশ করেন।
- এই শিক্ষানীতিতে হাইস্কুল পর্যায়ে বিশেষত পাবলিক স্কুলে মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষালাভের সুযোগ সম্প্রসারিত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৭০৮.
নিচের কোন জনপদটি মুসলিম যুগে লক্ষণাবতী নামে পরিচিত ছিল?
  1. ক) রাঢ় জনপদ
  2. খ) হরিকেল জনপদ
  3. গ) বঙ্গ জনপদ
  4. ঘ) গৌড় জনপদ
ব্যাখ্যা
গৌড় জনপদ:

- গৌড় জনপদ  প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অঞ্চল। 
- মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমান নিয়ে ছিল প্রাচীন গৌড় রাজ্য। 
- গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো ‘গৌড়’ আবার কখনো লক্ষণাবতী নামে পরিচিত ছিল।
- আদি অভিলেখর মধ্যে খ্রিস্টীয় ৫৫৪ অব্দে উৎকীর্ণ মৌখরি বংশীয় রাজা ঈশান বর্মণের হরাহ লিপিতে গৌড়বাসীর উল্লেখ পাওয়া যায়।
- কোনো একসময় গৌড়ের অবস্থান উপকূলীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- সাত শতকের প্রথম দিকে গৌড়ের অত্যন্ত শক্তিশালী রাজা শশাঙ্কের উত্থান গৌড়ের রাজ্যসীমার সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে।
- গৌড়ের রাজধানী কর্ণসুবর্ণ পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ছিরুটি অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। আর একারণেই মুর্শিদাবাদ গৌড়ের কেন্দ্রবিন্দু বলে পরিগণিত হয়।
- তেরো শতকে বাংলার মুসলমান সুলতানদের শাসনাধীন সমগ্র অঞ্চলই গৌড় নামে পরিচিত ছিল। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৯.
বরেন্দ্রভূমির অবস্থান কোন জনপদের মধ্যে ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. পুণ্ড্র
  3. গৌড়
  4. রাঢ়
ব্যাখ্যা

বরেন্দ্রভূমির অবস্থান পুণ্ড্র জনপদের মধ্যে ছিল।

বরেন্দ্র:
- বরেন্দ্র উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ।
- ঐতিহাসিকদের মতে বর্তমান রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর এবং পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদের কিছু অংশ এবং দার্জিলিং ও কোচবিহারসহ গঠিত সমগ্র অঞ্চল বরেন্দ্র এলাকা।
- সন্ধ্যাকর নন্দীর 'রামচরিত-কাব্য'-এ গঙ্গা ও করতোয়া নদীর মধ্যভাগকে বরেন্দ্রী নামে অভিহিত করা হয়েছে।

⇒ পুণ্ড্র ছিল পূর্বাঞ্চলের জনপদসমূহের মধ্যে খুব সম্ভবত প্রাচীনতম।
- মধ্যযুগের মুসলিম ঐতিহাসিকরা বরেন্দ্রিকে বলতেন বরীন্দ্র।
- পুন্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অবস্থানভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে পুণ্ড্র জনপদ।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। 
- প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর। এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।
 
উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম।

৭১০.
কোন মৌর্য সম্রাটের রাজত্বকালে প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়?
  1. সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত
  2. সম্রাট বিন্দুসার
  3. সম্রাট অশোক
  4. সম্রাট বৃহদ্রথ
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র:
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুণ্ড্র।
- পুণ্ড্র 'জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুণ্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
- ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ-৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- এখানে গুপ্তদের সুনিয়ন্ত্রিত শাসনব্যবস্থা ছিল।
- পুণ্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭১১.
'বাসু বিহার' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) দিনাজপুর
  2. খ) নওগাঁ
  3. গ) কুমিল্লা
  4. ঘ) বগুড়া
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার সীতাকোট বিহার এটি দিনাজপুরে অবস্থিত।
- সোমপুর বিহার বা পাহাড়পুর, হলুদ বিহার ও জগদ্দল বিহার নওগাঁ তে অবস্থিত।
- বাসু বিহার বগুড়ায় অবস্থিত।
- শালবন বিহার কুমিল্লায় অবস্থিত।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত অধিদপ্তর।

৭১২.
বর্তমান বরিশাল জেলা প্রাচীন কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. রাঢ়
  2. চন্দ্রদ্বীপ
  3. সমতট
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা
চন্দ্রদ্বীপ:
- প্রাচীন বাংলায় একটি ক্ষুদ্র জনপদের নাম হলো চন্দ্রদ্বীপ।
- বর্তমান বরিশাল জেলাই ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখণ্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড  বই। 
৭১৩.
সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানীর নাম কী ছিল?
  1. গৌড়
  2. সোনারগাঁও
  3. জাহাঙ্গীরনগর
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
• সোনারগাঁও - বাংলার প্রাচীন রাজধানী
- নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্গত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোগড়াপাড়া ক্রসিং থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার উত্তরে সোনারগাঁও অবস্থিত।
- সবুজ বন-বনানী আর অনুপম স্থাপত্যশৈলীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য়ের নান্দনিক ও নৈসর্গিক পরিবেশে ঘেরা বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁও।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে হিন্দু আমলের রাজধানী এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
- পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পুর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
- প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে।
- অন্য ধারণামতে বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ’র স্ত্রী সোনাবিবি’র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদের মধ্যে শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে সোনারগাঁও একটি গৌরবময় জনপদ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- সুলতানী আমলে বাংলার রাজধানী ছিল প্রথমে সোনারগাঁও (১৩৩৮-১৩৫২ খ্রি.)।
- পরে রাজধানী স্থানান্তরিত হয় গৌড়ে (১৪৫০-১৫৬৫ খ্রি.)।
- সুলতানি আমলে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে এবং সর্বশেষ  রাজধানী গৌড় ছিল। সে আলোকে গৌড়  উত্তর নেওয়া হয়েছে।


এছাড়াও,
- ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ঢাকা সুবে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হবার পূর্ব পর্য়ন্ত সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
- ঈশা খাঁ ও তাঁর বংশধরদের শাসনামলে সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
- সোনারগাঁও-এর আরেকটি নাম ছিল পানাম।
- পানাম নগরের নির্মিত ভবনগুলো ছোট লাল ইট দ্বারা তৈরী।
- ইমারতগুলো কোথাও একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন, আবার কোথাও সন্নিহিত।
- অধিকাংশ ভবনই আয়তাকার এবং উত্তর দক্ষিণে বিস্তৃত।দীর্ঘ একটি সড়কের উভয় পাশে দৃষ্টিনন্দন ভবন স্থাপত্যের মাধ্যমে পানামনগর গড়ে উঠেছিল।
- উভয় পাশে মোট ৫২টি পুরোনো বাড়ী এই ক্ষুদ্র নগরীর মূল আকর্ষণ।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া (লিংক)।
৭১৪.
কোন শতকে বাংলার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে শশাঙ্ক কর্তৃক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. পঞ্চম
  2. ষষ্ঠ
  3. সপ্তম
  4. অষ্টম
ব্যাখ্যা
প্রাচীন বাংলার ইতিহাস: 
- খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে বাংলার উত্তরাংশ দখল করেন ভারতের মৌর্য সম্রাট অশোক।
- সে সময় পুণ্ড্রনগর (পুণ্ড্রবর্ধনভুক্তি) হয় মৌর্যদের প্রদেশ। 
- চার শতকে উত্তর বাংলা ও দক্ষিণ-পূর্ববাংলার কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিকারে আসে।
- গুপ্তদের পতনের পর সপ্তম শতকে বাংলার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে প্রথম বাঙালি শাসক শশাঙ্ক কর্তৃক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

- একই সময়ে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ববাংলায় বঙ্গ নামে আরেকটি স্বাধীন রাজ্য গড়ে উঠেছিল।
- তাঁর মৃত্যুর পর একশো বছর ধরে বাংলায় অরাজকতা চলতে থাকে।
- যাকে সংস্কৃত ভাষায় বলা হয় মাৎস্যন্যায় যুগ।
- এরপর বাঙালিদের দীর্ঘস্থায়ী রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় আট শতকের মাঝ পর্বে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৭১৫.
কার শাসনামলে বাংলার রাজ্যসীমা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়?
  1. ক) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  2. খ) শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  3. গ) শের-শাহ
  4. ঘ) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
- আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সময় বাংলার রাজ্যসীমা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়।
- হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে ১৪৯৩ সালে বাংলার সিংহাসনে বসেন - সৈয়দ হোসেন। 
- সুলতান হয়ে তিনি ''আলাউদ্দিন হুসেন শাহ'' উপাধি গ্রহণ করেন।
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহী যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন।
- হোসেন শাহের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় মালাধরবসু ‘ভগবদ গীতা’, কৃত্তিবাস ‘রামায়ন' সংস্কৃত থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন।
- রামায়ন অনুবাদের জন্য হোসেন শাহ তাঁকে *গুনরাজ খাঁ' উপাধি দেন। 

- মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাসে হোসেন শাহের রাজত্বকাল একটি অত্যুজ্জ্বল অধ্যায়। তার রাজত্বকালে বাংলার সালতানাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে।
- তিনি কামরূপ ও কামতা জয় করেন। ঊড়িষ্যা ও ত্রিপুরা  রাজ্যের কিছু অংশ তার শাসনভুক্ত হয়। তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতারিত করেন।
- বাংলার রাজনীতি হাবসি দাসদের প্রভাবমুক্ত করেন। প্রশাসন ব্যবস্থা সুদৃঢ় করেন।
- ক্ষমতা গ্রহনের অল্প সময়ের মধ্যে রাজ্যের অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা দূর করে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন।
- দিল্লীর লোদী আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য রাজ্যের সবরকম নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন।
- হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি তৈরিতে তার প্রচেষ্টা তৎকালীন সমাজ জীবনকে প্রভাভিত করেছিল।
- তিনি ছিলেন সাহিত্যানুরাগী। তার পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা সাহিত্যের ব্যাপক উন্নতি ও বিকাশ লাভ করে। তার সময়ের বিখ্যাত কবিরা ছিলেন - রূপ গোস্বামী, মালাধর বসু, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, পরাগল খান প্রমুখ।

তথ্যসূত্র:
১. মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ও বাংলাপিডিয়া।
২. বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৭১৬.
বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ জনপদের অর্ন্তভুক্ত অঞ্চল কোনটি?
  1. ক) দিনাজপুর
  2. খ) সিলেট
  3. গ) চট্রগ্রাম
  4. ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
পুন্ড্র জনপদ
• প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র। পুন্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল। পুন্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
• পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর। বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
• সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়। এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ,রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
• পুন্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল। রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
• ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুন্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুন্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়। গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুন্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
• পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুন্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।

অন্যদিকে,              
• বঙ্গ জনপদ বিস্তৃত ছিল - ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল অঞ্চল নিয়ে।
• বরেন্দ্র - বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী ও পাবনা।
• হরিকেল -  সিলেট, চট্রগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৭১৭.
কোন যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে মহারাজা অশোক বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন?
  1. মেবার যুদ্ধ 
  2. প্লাসি যুদ্ধ
  3. কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ
  4. কলিঙ্গ যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

সম্রাট অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর ২৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন। তিনি পাটলীপুত্র হতে তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করতেন।
- রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে তিনি কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- তিনি অনেক জনহিতকর কাজ করেন।
- তিনি ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত রাজ্য শাসন করেন। প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ রক্তক্ষয়ী কলিঙ্গ যুদ্ধের পর অশোকের রাজনৈতিক ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীতে আমূল পরিবর্তন আসে।
- তিনি কলিঙ্গ যুদ্ধের পরেই রাজ্যজয়ের নীতি বর্জন করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধই তাঁকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে, মানব সংঘ, কল্যাণ ও শান্তির ক্ষেত্রে যুদ্ধ কতটা ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। 
- তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করার পর দেবনামপিয় পিয়দসি (পিয়দসি, অর্থাৎ দেবতাদের প্রিয়জন) শীর্ষক ধর্ম- রাজকীয় উপাধি গ্রহণ করেন এবং নিজেকে শান্তি ও মানবজাতির কল্যাণের কাজে নিবেদিত করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধের রক্তবন্যা তাঁকে একজন নীতিবান ব্যক্তিতে পরিণত করেছে। ওই সময় থেকেই তিনি জীবনের সর্বক্ষেত্রে বিশ্বশান্তি ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসন প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।
- সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন। অশোকের প্রচারিত ধর্মের মূল বিষয় ছিল গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা, জীবে দয়া, সত্যবাদিতা ইত্যাদি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১৮.
কৌলীন্য প্রথার উদ্ভব কোন শাসনামলে হয়েছিল বলে মনে করা হয়?
  1. সেন 
  2. পাল
  3. গুপ্ত
  4. মুঘল 
ব্যাখ্যা

- কৌলীন্য প্রথার উদ্ভব পাল শাসনামলে হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

কৌলীন্য প্রথা:

- রাঢ় ও  বরেন্দ্র এর ব্রাহ্মণদের মধ্যে কৌলীন্য প্রথা অধিক মাত্রায় প্রভাব বিস্তার করেছিল।
- তারা সম্ভবত কান্যকুব্জের পাঁচ ব্রাহ্মণ-রক্ষিতীশ, মেধতিথী, বিতরগ, সুধনিধি এবং সম্ভরি-এর উত্তরসূরি।
- গৌড়ের রাজা শশাঙ্ক এবং বর্মণ রাজা হরিবর্মণ উভয়েই যথাক্রমে শকদ্বীপী ও বৈদিক ব্রাহ্মণ নিয়ে এসেছিলেন বলে জানা যায়।
- বলা হয়ে থাকে, এ ব্রাহ্মণদের সাথে সম্পর্ক সৃষ্টির ফলস্বরূপ বাংলায় সামাজিক প্রথা হিসেবে কৌলিন্য প্রথার সূত্রপাত হয়েছে।
- সেন রাজা বল্লালসেনকেও কৌলিন্য প্রথার স্রষ্টা হিসেবে কৃতিত্ব দেওয়া হয়, যদিও এ দাবির সমর্থনে সেন যুগের কোনো সাহিত্যিক ও উৎকীর্ণলিপি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
- তৃতীয় বিগ্রহপালের বনগাঁ তাম্রশাসনে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তাঁর কর্মকর্তা ঘন্তিস-এর প্রো-পিতামহের মাধ্যমে তাঁর পূর্বপুরুষের সাথে কোলঞ্চ (কান্যকুব্জ) ব্রাহ্মণ কচ্ছ-এর যোগসূত্র ছিল।
- ফলে কৌলীন্য প্রথার উদ্ভব পাল শাসনামলে হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

উল্লেখ্য,
- কুলীন অর্থ হলো উত্তম পরিবার বা সম্ভ্রান্ত বংশজাত। 
- বাচস্পতি মিশ্র-এর মতে, এটি চিহ্নিত হয় আচার (শুদ্ধতা), বিদ্যা (জ্ঞান), বিনয় (শৃঙ্খলাবোধ), প্রতিষ্ঠা (শুদ্ধতার খ্যাতি), তীর্থ-দর্শন (তীর্থযাত্রা), নিষ্ঠা (কর্তব্যনিষ্ঠা), তপস্যা (কঠোর ধ্যান), আবৃত্তি (সমবর্ণে বিবাহ) এবং দান (উদারহস্ত) দিয়ে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।[লিঙ্ক]

৭১৯.
কোন যুগে অস্ট্রিক জাতি বাংলায় বসতি স্থাপন করে?
  1. আর্য যুগে
  2. প্রাক-আর্য যুগে
  3. বৈদিক যুগে
  4. গুপ্ত যুগে
ব্যাখ্যা

বাঙালি আদি-জনগোষ্ঠী:
- নৃতাত্ত্বিক গঠন প্রক্রিয়ার দিক থেকে বাঙালি জাতি হলো একটি সংকর জাতি।
- বাঙালি জাতিধারার নৃতাত্ত্বিক গঠনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ থাকলেও অস্ট্রিক জাতির ভূমিকা সর্বাধিক।
- ইন্দোচীন থেকে আদি অস্ট্রেলীয় নরগোষ্ঠীর অন্তর্গত অস্ট্রিক জাতি প্রাক আর্য যুগে বাংলায় বসতি স্থাপন করে।
- এই অস্ট্রিক নরগোষ্ঠী থেকেই বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে।
- অস্ট্রিক নরগোষ্ঠীর সাথে দ্রাবিড় ও আর্য জাতির সংমিশ্রণে বাঙালি জাতি গড়ে উঠেছে।
- তবে ইতিহাসের নানা পর্যায়ে বাঙালি রক্তপ্রবাহে ভোটচীনীয়, ককেশীয়, ইংরেজ, পর্তুগিজ প্রভৃতি জাতিসত্ত্বার সংমিশ্রণ ঘটেছে।
- বাংলার আদি জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।

• অস্ট্রিক জাতি:
- অস্ট্রিক প্রাচীন বাংলার একটি নৃগোষ্ঠী।
- প্রাচীন বাঙালি জনগোষ্ঠীকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রাক-আর্য বা অনার্য নরগোষ্ঠী ও আর্য নরগোষ্ঠী।
- আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠী চার ভাগে বিভক্ত: নেগ্রিটো, অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও ভোটচীনীয়।
- অস্ট্রিক গোষ্ঠী থেকে বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে বলে মনে করা হয়। অস্ট্রিক জাতিকে নিষাদ জাতিগোষ্ঠী নামেও অভিহিত করা হয়।
- অস্ট্রিকদের আদি বাসস্থান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। এখান থেকে তারা পূর্ব ভারত, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ, শ্রীলঙ্কা এবং অন্যদিকে পাপুয়া নিউগিনি, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- অস্ট্রিকদের সংস্কৃতি ও সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর। তারা কলা, লাউ, বেগুন, নারকেল, পান, সুপারি, হলুদ, আদা প্রভৃতি ফসলের চাষ করত। সম্ভবত গরু তাদের গৃহপালিত পশু ছিল না।

উৎস: i) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। 

৭২০.
প্রাচীন ’মহাস্থানগড়’ কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. তিস্তা
  2. সুরমা
  3. করতোয়া 
  4. কুশিয়ারা
ব্যাখ্যা

মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি।
- পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।
- এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
- বগুড়া শহর থেকে উত্তরে মহাস্থান গড় অবস্থিত।
- মহাস্থানগড় বগুড়ায় জেলার করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রাচীন পর্যটন কেন্দ্র।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭২১.
প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ?
  1. রাঢ়
  2. বঙ্গ
  3. সমতট
  4. গৌড়
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭২২.
কোন রাজা স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছেন? 
  1. রামপাল
  2. শশাঙ্ক
  3. ধর্মপাল 
  4. লক্ষণ সেন 
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:

• শশাঙ্ক ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা।
• তিনি স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন।
• এর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। 
• সপ্তম শতকের শুরুতে তিনি রাজ্য গড়ে তোলেন।
• উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হর্ষবর্ধন। 
• তিনি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। 
• তাঁর আমলে তাম্রলিপ্ত বন্দর গুরুত্ব লাভ করে।
• তাঁর মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর গৌড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় যা 'মাৎস্যন্যায়' নামে পরিচিত।  
• ধর্মপাল: পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ  রাজা। 
• রামপাল: পাল বংশের সর্বশেষ সফল শাসক।
• লক্ষণসেন: সেন বংশের সর্বশেষ রাজা। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৭২৩.
বরিশাল এর প্রাচীন নাম কি?
  1. ক) নদীয়া
  2. খ) চন্দ্রদ্বীপ
  3. গ) শাহবাজপুর
  4. ঘ) হরিকেল
ব্যাখ্যা
বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। মধ্যযুগে চন্দ্রদ্বীপ বেশ সমৃদ্ধ ছিল। এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।
[সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)]
৭২৪.
ভারতের প্রথম সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ছিল কারা?
  1. গুপ্তরা 
  2. পালরা 
  3. মৌর্যরা
  4. সেনরা 
ব্যাখ্যা
মৌর্য সাম্রাজ্য: 
- আলেকজান্ডারের ভারত প্রত্যাগমনের মাত্র দুই বছর পর ৩২১ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ভারতের এক বিশাল অঞ্চলের ওপর মৌর্য বংশের শাসন চালু করেন।
- বাংলার উত্তরাংশে মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (২৬৯-২৩২ খ্রিষ্টপূর্ব)।
- বাংলা তখন মৌর্যদের একটি প্রদেশে পরিণত হয়েছিল।
- প্রাচীন পুণ্ড্রনগর ছিল এ প্রদেশের রাজধানী।
- উত্তর বঙ্গ ছাড়াও মৌর্য শাসন কর্ণসুবর্ণ (মুর্শিদাবাদ), তাম্রলিপ্তি (বর্তমান পশ্চিম বঙ্গের তমলুক জেলা) ও সমতট (দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা) অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- মৌর্যরা ছিল ভারতের প্রথম সাম্রাজ্যবাদী শক্তি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭২৫.
'লখনৌতি' কার আমলে বাংলার রাজধানীর মর্যাদা লাভ করে?
  1. গোপাল
  2. বিজয় সেন
  3. চন্দ্রগুপ্তমৌর্য
  4. বখতিয়ার খলজী
ব্যাখ্যা
লখনৌতি
- লখনৌতি প্রাচীন নাম লক্ষ্মণাবতী।
- মুসলিম শাসনামলে লখনৌতি নামে পরিচিতি লাভ করে।
- লক্ষ্মণসেনের (১১৭৮-১২০৬ খ্রি) নামানুসারে এই নামকরণ করা হয়। জায়গাটি গৌড় নামেও পরিচিত।
- লখনৌতির অবস্থান বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলায়।

উল্লেখ্য, 
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজী নদীয়া জয় করার পর পরই লক্ষ্মণাবতীতে আসেন এবং এখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করে মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠা করেন।
- লখনৌতি বা লক্ষণাবতী বা গৌড়েই মুসলমান আমলে বাংলার রাজধানীর মর্যাদা লাভ করে। 
- ১২০৬ থেকে ১২১১ খ্রিস্টাব্দ এই ছয় বছর ব্যতীত ১৩৪২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত লখনৌতি মুসলমান শাসকদের রাজধানী ছিল।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম -১০ম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৭২৬.
ইন্দ্রগুপ্ত নামক বৌদ্ধ শাস্ত্রবিদকে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নিযুক্ত করেছিলেন কে?
  1. বালপুত্রদেব
  2. দেবপাল
  3. মহীপাল
  4. মদনপাল
ব্যাখ্যা

দেবপাল ও নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়:
- দেবপাল পালবংশের অন্যতম রাজা ছিলেন।
- তিনি আনুমানিক ৮২১ সালে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি শুধু পিতা ধর্মপালের সাম্রাজ্য রক্ষাই করেননি, বরং সীমানা বৃদ্ধিও করেন।
- মালয় উপদ্বীপের শৈলবংশীয় রাজা বালপুত্রদেব দেবপালের খ্যাতির কথা জানতে পেরে তাঁর নিকট দূত পাঠিয়েছিলেন।
- বালপুত্রদেব ইতোমধ্যেই নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মঠ নির্মাণ করেছিলেন।
- তিনি এর স্থায়ী ব্যয় পরিচালনার জন্য পাঁচটি গ্রাম প্রার্থনা করেন। দেবপাল তাঁর অনুরোধ রক্ষা করেন।
- দেবপাল বৌদ্ধ ধর্মের একজন প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তিনি মগধের বৌদ্ধ মঠগুলোর সংস্কার সাধন করেন।
- তিনি নালন্দায়ও কয়েকটি মঠ এবং বুদ্ধগয়ায় একটি বড় মন্দির নির্মাণ করেন।
- ইন্দ্রগুপ্ত নামক জনৈক বৌদ্ধ শাস্ত্রবিদকে তিনি নালন্দার অধ্যক্ষ নিযুক্ত করেন।
- দেবপালের পৃষ্ঠপোষকতায় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্ররূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে তাঁর শাসনামলে উত্তর ভারতে লুপ্তপ্রায় বৌদ্ধ ধর্ম পুনরায় সঞ্জীবিত হয়ে উঠে।
- বৌদ্ধ ধর্মানুরাগী হলেও দেবপাল অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
- দেবপালই ছিলেন যথার্থভাবে পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা এবং তাঁর সময়েই পাল সাম্রাজ্য ক্ষমতা ও গৌরবের শীর্ষ-স্থানে উপনীত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭২৭.
রাজা শশাঙ্ক কোন শতকে গৌড় রাজ্য শাসন করেছিলেন?
  1. ষষ্ঠ
  2. সপ্তম
  3. অষ্টম
  4. নবম
ব্যাখ্যা
রাজা শশাঙ্ক সপ্তম শতকে গৌড় রাজ্য শাসন করেছিলেন।

গৌড় নগরী:

- খ্রিস্টপূর্ব ৭৩০ অব্দে মালদহ অঞ্চলে ভোজ বংশীয় গৌড় নামক জনৈক ব্যক্তি যে রাজ্যের পত্তন করেছিলেন কালক্রমে তাই গৌড় রাজ্য নামে পরিচিত হয়।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।

⇒ শশাঙ্ক:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হর্ষবর্ধন।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৮.
বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন -
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  3. লর্ড মিন্টো
  4. লর্ড কর্নওয়ালিশ
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ:
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপর দিকে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় হিন্দু সমপ্রদায়ের মধ্যে।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে। রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- বঙ্গভঙ্গ রদে হিন্দু সম্প্রদায় খুশি হয়, অপর দিকে মুসলমান সম্প্রদায় মর্মাহত এবং হতাশ হয়।
- ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৯.
দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন কে?
  1. ক) লর্ড কার্জন
  2. খ) লর্ড ক্লাইভ
  3. গ) জর্জ হ্যারিসন
  4. ঘ) লুই আইকান
ব্যাখ্যা
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ক্লাইভ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করার পর কোম্পানির পক্ষে লর্ড ক্লাইভ বাংলার নবাব নজম - উদ্ - দৌলাকে কাঙ্ক্ষিত ৫৩ লক্ষ টাকা দেবার বিনিময়ে রাজস্ব আদায় এবং দেওয়ানি মামলার ভার গ্রহণ করলেন ।
- দেশ শাসনের দায়িত্ব আগের মতোই নবাবের হাতে রইলো। 
- এই ব্যবস্থা ইতিহাসে দ্বৈতশাসন নামে পরিচিত ।
- এই ব্যবস্থায় বাংলার নবাব সামান্য বৃত্তিভোগী কর্মচারীতে পরিণত হলেন ।
- আর প্রচুর অর্থনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ইংরেজ কোম্পানি এদেশের প্রকৃত প্রভু হয়ে বসলেন ।
- নবাব ও কোম্পানির মধ্যে এই ক্ষমতা ভাগাভাগির ফলে দেশশাসন ও প্রজাসাধারনের মঙ্গল বিধানের দায়িত্ব কেউই পালন করত না।
- ফলে বাংলায় রাজনৈতিক ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ দেখা দেয় ।
- ক্ষমতাহীন নবাব সেই বিশৃঙ্খলা দমনে ব্যর্থ হন ।
- কোম্পানি নিযুক্ত রাজস্ব বিভাগের দুই সহকারী রেজা খাঁ ও সিতাব রায়ের শোষণ ও অত্যাচারে প্রজাদের দুর্দশার অন্ত ছিল না ।
- পরিণতিতে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে বা ১১৭৬ বঙ্গাব্দে বাংলায় ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় ।
- যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৩০.
সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. মান সিংহ
  2. চাণক্য
  3. টোডরমল
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য:
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।

⇒ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যই প্রাচীন ভারতে অখন্ড ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে প্রথম বড় ধরনের সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁর সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে।
- মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়।
- বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- সামাজিক ক্ষেত্রে আর্য-অনার্যের পার্থক্য ক্রমেই ঘুঁচে যেতে শুরু করে।
- শিল্প- সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হয়।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন চাণক্য।

⇒ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য সম্ভবত ২৪ বছর রাজত্ব করেন।
- জৈন সূত্র থেকে জানা যায় যে, পরপর কয়েক বছর অনাবৃষ্টির দরুন দুর্ভিক্ষ হলে চন্দ্রগুপ্ত সিংহাসন ত্যাগ করেন এবং
- তিনি মহীশূরের শ্রাবণবেলগোলা নামক স্থানে অনশন করে জৈনরীতিতে মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে,
⇒ সম্রাট আকবরের মন্ত্রীসভা:
- প্রধানমন্ত্রী: আবুল ফজল।
- অর্থমন্ত্রী: টোডরমল।
- সেনাপ্রধান: মান সিংহ।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩১.
প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপের বর্তমান নাম কী?
  1. বরিশাল
  2. কুমিল্লা
  3. রাজশাহী
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
চন্দ্রদ্বীপ:
- প্রাচীন যুগে বাংলা কোন একক রাজ্য ছিল না।
- বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন অনেকগুলো ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল।
- যেমন: পুণ্ড্র, বরেন্দ্র, বঙ্গ, সমতট, চন্দ্রদ্বীপ, হরিকেল, রাঢ় ইত্যাদি।
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- মধ্যযুগে চন্দ্রদ্বীপ বেশ সমৃদ্ধ ছিল।
- এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।

অন্যদিকে
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের প্রতিবেশী জনপদ হিসেবে সমতটের অবস্থান।
- সমতট বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম। 
- কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- শালবন বিহার এদের অন্যতম।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৩২.
বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলা প্রাচীনকালে কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. পুণ্ড্র
  2. সমতট
  3. বঙ্গ
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা

বঙ্গ: 
- বঙ্গ একটি অতি প্রাচীন জনপদ।
- বর্তমান বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বঙ্গ জনপদ নামে একটি অঞ্চল গড়ে উঠেছিল।
- অনুমান করা হয়, এখানে বঙ্গ বলে একটি জাতি বাস করতো। তাই জনপদটি পরিচিত 'বঙ্গ' নামে।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়-একটি বিক্রমপুর ও আরেকটি নাব্য।
- ধারণা করা হয়, ফরিদপুর, ঢাকা, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালির নিচু জলাভূমি এ নব্য অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। 

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা-৯ম-১০ম শ্রেণি।

৭৩৩.
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ নিচের কোন জনপদে ভ্রমণ করেন?
  1. ক) সমতট
  2. খ) বঙ্গ
  3. গ) বরেন্দ্র
  4. ঘ) রাঢ়
ব্যাখ্যা
- চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ প্রাচীন বাংলার সমতট ও হরিকেন জনপদে ৭ম শতকে ভ্রমণ করেন।
• সমতট:

- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট প্রাচীন বঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের নতুন নামের আর একটি বিশাল রাজ্য।
কুমিল্লা, নোয়াখালী, ত্রিপুরা 
- রাজধানী ছিল কর্মান্ত বা ত্রিপুরা (কুমিল্লা শহরের ১২ মাইল পশ্চিমে) জেলার ময়নামতির অদূরে বড়কামতা।
-  ৭ম শতকে চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ ভ্রমণ করেন।
• হরিকেল:
- সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান।
৭ম শতকে চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ ভ্রমণ করেন।

তথ্যসূত্র: তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৪.
”কৈবর্ত বিদ্রোহ” সংঘটিত হয়েছিলো কোন অঞ্চলে?
  1. ক) সমতট
  2. খ) হরিকেল
  3. গ) রাঢ়
  4. ঘ) বরেন্দ্র
ব্যাখ্যা

কৈবর্ত বিদ্রোহ
- একে বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশ এমনকি ভারতবর্ষের প্রথম সফল জনবিদ্রোহ।
- যদিও কৈবর্ত বিদ্রোহ শুধুই জনবিদ্রোহ ছিল না, বরং তাতে যুক্ত হয়েছিল তৎকালীন সামন্তদের একটি বড় অংশ।
- তার পরও বাংলার ইতিহাসে কৈবর্ত বিদ্রোহ একটি জনবিদ্রোহ হিসেবেই ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। বরেন্দ্র বিদ্রোহ নামেও অভিহিত করা হয় একে।
- রাজা দ্বিতীয় মহিপালের (১০৭৫-১০৮০) শাসনামলে কৈবর্ত বিদ্রোহ হয়।
- অনেকে শুধু জেলে সম্প্রদায়কে কৈবর্ত বললেও প্রকৃতপক্ষে জেলে, কৃষক এবং শ্রমজীবী মানুষকে সাধারণত কৈবর্ত বলা হতো।
- পাল রাজাদের এক সামন্ত দিব্যর নেতৃত্বে কৈবর্তরা রাজ্যের বরেন্দ্রীয় অংশ দখল করে নেয়।
- রাজা দ্বিতীয় মহীপাল কৈবর্তবাহিনীকে আক্রমন করতে দিয়ে নিজে নিহত হন।
- বরেন্দ্র বিদ্রোহ সম্পর্কে জানার একমাত্র উৎস হচ্ছে সন্ধ্যাকর নন্দীর বিখ্যাত কাব্য রামচরিতম্। এ কাব্যের প্রধান বিষয় হলো বরেন্দ্রের পতন এবং রামপাল কর্তৃক তা পুনরুদ্ধার। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

 
৭৩৫.
কোন সম্রাটগণ উপমহাদেশে প্রথম স্বর্ণমুদ্রা চালু করেন?
  1. কুষাণ সম্রাটগণ
  2. সেন সম্রাটগণ
  3. শুঙ্গ সম্রাটগণ
  4. মৌর্য সম্রাটগণ
ব্যাখ্যা
কুষাণ যুগ:
- উপমহাদেশে প্রথম স্বর্ণমুদ্রা চালু করেন কুষাণ সম্রাটগণ।

⇒ কুষাণ সম্রাট বীম কদফিসেসই সম্ভবত সর্বপ্রথম স্বর্ণমুদ্রা প্রবর্তন করেন যেখানে মুদ্রার উপরিপৃষ্ঠে বেদিতে যজ্ঞরত রাজার প্রতিকৃতি উৎকীর্ণ রয়েছে।
- প্রত্নতাত্ত্বিকগণ মনে করেন, এই বিশেষ প্রতিকৃতি পার্থিয়ান রাজা গোটার্জেসের স্বর্ণমুদ্রার নকশা দ্বারা প্রভাবিত।
- তবে পরবর্তীকালের কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক ও হুবিষ্ক তাদের স্বর্ণমুদ্রায় বিভিন্ন ধরনের নকশা ও প্রতীক ব্যবহার করেছেন।

উল্লেখ্য,
- কুষাণ স্বর্ণমুদ্রা ভারতের অন্যান্য স্থানে কুষাণ শাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট মুদ্রা আর বাংলায় প্রাপ্ত কুষাণ মুদ্রার অবস্থানগত পার্থক্য রয়েছে।
- বিশেষত, বাংলা সরাসরি কুষাণ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
- তবুও বাংলা থেকে অগণিত কুষাণ-মুদ্রা আবিষ্কৃত হয়েছে।
- প্রত্নতাত্ত্বিকগণ বাংলার বিভিন্ন প্রত্নস্থান থেকে কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক, হুবিষ্ক ছাড়াও মহানাদ কুষাণ, প্রথম বাসুদেব ও দ্বিতীয় বাসুদেবের স্বর্ণমুদ্রা আবিষ্কার করেছেন।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৬.
সমতট (কুমিল্লা-নোয়াখালি) রাজ্যের উদ্ভব হয় কখন?
  1. ক) ৪র্থ শতকে
  2. খ) ৫ম শতকে
  3. গ) ৬ষ্ঠ শতকে
  4. ঘ) ৭ম শতকে
ব্যাখ্যা

- খ্রিস্টীয় ৪র্থ শতকে সমতট (কুমিল্লা-নোয়াখালি) রাজ্যের উদ্ভব হয়।
- এ অঞ্চলে যারা শাসন করেন তারা হলেন বৈন্যগুপ্ত (৫০৭ খ্রি.), খড়গ বংশ (৬২৫-৭০৫ খ্রি.), চন্দ্র (৮৬৫-১০৫৫ খ্রি.) বর্মণ (১০৫৫-১১৪৫ খ্রি.)।
- বৈন্যগুপ্ত ৫০৭ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে ‘দশ আদিত্য’ ও ‘মহারাজাধিকার’ উপাধি ধারণ করে স্বাধীন বলে ঘোষণা করে ।
- সপ্তম শতকের প্রথম দিকে (৬২৫-৭০৫) সমতট অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী খগড় রাজবংশের শাসন চলে।
- খড়গদের রাজ্যের রাজধানী ‘কর্মান্ত বসাক’- যা বড় কামতা নামক স্থান বলে অনুমান করা হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা এস এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া ।

৭৩৭.
শশাঙ্ক কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ক) ৬১০ সালে
  2. খ) ৬২২ সালে
  3. গ) ৬৩৭ সালে
  4. ঘ) ৬৪৯ সালে
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:

- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- সপ্তম শতকের ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসেও শশাঙ্ক ছিলেন একজন নামকরা রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ - পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।
- শশাঙ্ক ৬৩৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে গৌড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় ।
- গোটা বাংলায় নেমে আসে অন্ধকারের যুগ। প্রায় একশ বছর বাংলার ইতিহাসে যে অরাজকতা, নেতৃত্বের শূন্যতার সৃষ্টি হয় তাকে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলা হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৮.
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার এর নির্মাতা কে?
  1. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  2. ধর্মপাল
  3. ভবদেব
  4. রাম পাল
ব্যাখ্যা
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- এটি বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলায় অবস্থিত।

⇒ পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল অষ্টম শতকের শেষের দিকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- মূল ভবনে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য ১৭৭টি কক্ষ ছিল। ৮০০ জন ভিক্ষুর বাসপোযোগী ছিল। এ বিহারে ১২৫নং কক্ষে মাটির পাত্রে খলিফা হারুন-অর-রশিদের শাসনামলের রৌপ্য মুদ্রা পাওয়া যায়।

⇒ পূর্বভারতে জরিপ কাজ পরিচালনাকালে ১৮০৭ ও ১৮১২ সালে বুকানন হ্যামিল্টন সর্ব প্রথম প্রত্নস্থলটি পরিদর্শন করেন।
- পরবর্তীকালে ওয়েস্টম্যাকট পাহাড়পুর পরিভ্রমণে আসেন।
- স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ সালে এ স্থান পরিদর্শন করেন ও ২২ ফুট বর্গাকার একটি ইমারত আবিষ্কার করেন।
- প্রত্নস্থলটি ১৯০৯ সালের পুরাকীর্তি আইনের আওতায় ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ কর্তৃক ১৯১৯ সালে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭৩৯.
কোন গ্রন্থে শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. হর্ষচরিত
  2. রঘুবংশ
  3. মহাভারত
  4. ঐতরেয় আরণ্যক
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো যে যুগে যুগে সীমানা সম্প্রসারণ করেছে তার বড় উদাহরণ হলো গৌড়।
- এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই সময়ে সময়ে গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
- পূর্ব ভারতীয় দেশসমূহের সামগ্রিক নাম হিসেবে এমনকি উত্তর ভারতের আর্যাবর্তের নাম হিসেবেও কখনো কখনো গৌড়ের ব্যবহার দেখা যায়।
- সেনবংশীয় রাজারা ‘গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন।
- ব্যাপক অর্থে ‘গৌড়' বলতে অনেক সময় বাংলা ভাষাভাষী সমগ্র অঞ্চলকে বুঝাত।
- আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো ‘গৌড়' আবার কখনো লক্ষণাবতী নামে পরিচিত ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪০.
বর্তমান 'পাবনা' প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের অন্তর্গত ছিল?
  1. ক) হরিকেল
  2. খ) চন্দ্রদ্বীপ
  3. গ) বরেন্দ্র
  4. ঘ) সমতট
ব্যাখ্যা
- বর্তমান বগুড়া , দিনাজপুর , পাবনা ও রাজশাহী জেলার অনেক অঞ্চল বরেন্দ্র জনপদের অন্তর্গত ছিল।
- বর্তমান সিলেট , চট্রগ্রাম , পার্বত্য চট্রগ্রাম অঞ্চলে হরিকেল নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল।
- বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল।
- সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা এস এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪১.
চন্দ্র বংশের রাজা শ্রীচন্দ্রের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. নদীয়া
  2. বিক্রমপুর
  3. গৌড়
  4. রোহিতগিরি
ব্যাখ্যা

• চন্দ্র বংশ:
- চন্দ্র বংশ ছিল দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার একটি স্বাধীন রাজবংশ।
- দশম শতকের শুরু থেকে একাদশ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ বছর তারা শাসন করে।
- এই বংশের প্রথম নৃপতি ছিলেন পূর্ণচন্দ্র; তাঁর পুত্র সুবর্ণচন্দ্র রোহিতগিরির ভূস্বামী ছিলেন।
- সুবর্ণচন্দ্রের পুত্র ত্রৈলোক্যচন্দ্র এই বংশের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন এবং 'মহারাজাধিরাজ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- ত্রৈলোক্যচন্দ্র হরিকেল, চন্দ্রদ্বীপ, বঙ্গ ও সমতট অঞ্চলে শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- লালমাই পাহাড়, যা প্রাচীনকালে রোহিতগিরি নামে পরিচিত ছিল, ছিল চন্দ্র রাজাদের শাসনকেন্দ্র।
- আনুমানিক ৯০০–৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ত্রৈলোক্যচন্দ্র রাজত্ব করেন।
- ত্রৈলোক্যচন্দ্রের পুত্র শ্রীচন্দ্র ছিলেন চন্দ্র বংশের সবচেয়ে প্রতাপশালী শাসক।
- শ্রীচন্দ্র ‘পরমেশ্বর পরম ভট্টারক মহারাজাধিরাজ’ উপাধি ধারণ করেন।
- তাঁর রাজ্য দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা ছাড়িয়ে উত্তর-পূর্ব কামরূপ ও গৌড় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- তিনি বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে রাজধানী স্থাপন করেন।
- আনুমানিক ৯৩০–৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ বছর শ্রীচন্দ্র রাজত্ব করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৭৪২.
’সোমপুর মহাবিহার’ কোন ধর্মের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল?
  1. হিন্দু ধর্ম
  2. শৈব ধর্ম
  3. খ্রিস্টান ধর্ম
  4. বৌদ্ধ ধর্ম
ব্যাখ্যা

- ধর্মপাল বৌদ্ধ ছিলেন এবং তিনি অনেক বিহারের প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি রাজশাহী বিভাগের বর্তমান নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে সোমপুর মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন।
- বরেন্দ্র অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে প্রতিষ্ঠিত ’সোমপুর মহাবিহার’ এই বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সমগ্র ভারতবর্ষের মধ্যে সর্ববৃহৎ বৌদ্ধ বিহার।
- এই জন্যে এটি মহাবিহার নামে পরিচিত।
- ধর্মপাল বৌদ্ধ ধর্মানুরাগী হলেও তিনি অন্য ধর্ম সম্পর্কে উদার মনোভাব পোষণ করতেন।
- তিনি হিন্দু দেবতার জন্য মন্দির নির্মাণ করার জন্য ভূমিদান করতেন।
- ধর্মপালের প্রধানমন্ত্রী গর্গ ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা-৯ম-১০ম, শ্রেণি; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৩.
নওগাঁ জেলার পাহারপুরে অবস্থিত সোমপুর বিহারের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. গোপাল
  2. ধর্মপাল
  3. মহীপাল
  4. দেবপাল
ব্যাখ্যা
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।
- পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা যেতে পারে।
- আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে।
- এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্মচর্চা কেন্দ্র ছিল।
- শুধু উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই নয়, চীন, তিব্বত, মায়ানমার (তদানীন্তন ব্রহ্মদেশ), মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের বৌদ্ধরা এখানে ধর্মচর্চা ও ধর্মজ্ঞান অর্জন করতে আসতেন।
- খ্রিষ্টীয় দশম শতকে বিহারের আচার্য ছিলে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান।
- পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী পুন্ড্রনগর (বর্তমান মহাস্থান) এবং অপর শহর কোটিবর্ষ (বর্তমান বানগড়)এর মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত ছিল সোমপুর মহাবিহার।
- এর ধ্বংসাবশেষটি বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজশাহীর অন্তর্গত নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭৪৪.
প্রাচীন ভারতে কে সর্বপ্রথম সর্বভারতীয় ঐক্য রাষ্ট্র স্থাপন করেন?
  1. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  2. সম্রাট অশোক
  3. সম্রাট আকবর
  4. ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য: 
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত। 
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যই প্রাচীন ভারতে অখন্ড ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে প্রথম বড় ধরনের সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁর সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে।
- মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়।
- বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- সামাজিক ক্ষেত্রে আর্য-অনার্যের পার্থক্য ক্রমেই ঘুঁচে যেতে শুরু করে।
- শিল্প- সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হয়।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কৌটিল্য।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
          ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৫.
পুন্ড্রনগর কোথায় অবস্থিত?
  1. নওগাঁ
  2. বগুড়া
  3. দিনাজপুর
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

• পুন্ড্র:
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র।
- পুন্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল। পুন্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- এটি বাংলার প্রাচীনতম জনপদ।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।

এছাড়াও প্রাচীন বাংলার আরো জনপদ সমূহ হচ্ছে:
- বঙ্গ
- বরেন্দ্র
- সমতট
- হরিকেল
- রাঢ়
- চন্দ্রদ্বীপ
- তাম্রলিপ্ত
- গঙ্গারিডাই
- গৌড় প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৪৬.
নিচের কোন জনপদ লক্ষ্মণাবতী নামে পরিচিত ছিল?
  1. গৌড়
  2. সমতট
  3. বঙ্গ
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা

⇒ ‘গৌড়' জনপদ পূর্বে লক্ষ্মণাবতী নামে পরিচিত ছিল।

গৌড়:
- বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো যে যুগে যুগে সীমানা সম্প্রসারণ করেছে তার বড় উদাহরণ হলো গৌড়।
- এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই সময়ে সময়ে গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
- পূর্ব ভারতীয় দেশসমূহের সামগ্রিক নাম হিসেবে এমনকি উত্তর ভারতের আর্যাবর্তের নাম হিসেবেও কখনো কখনো গৌড়ের ব্যবহার দেখা যায়।
- সর্বপ্রথম পাণিনির গ্রন্থে গৌড়ের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- সেনবংশীয় রাজারা ‘গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন।
- ব্যাপক অর্থে ‘গৌড়' বলতে অনেক সময় বাংলা ভাষাভাষী সমগ্র অঞ্চলকে বুঝাত।
- আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৭.
ভারতীয় উপমহাদেশের কোন সাম্রাজ্যটি দীর্ঘ সময় শাসন করেছিল?
  1. গুপ্ত
  2. মৌর্য
  3. পাল
  4. সেন
ব্যাখ্যা
পাল রাজবংশ:
- পাল বংশ আট শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রায় চারশত বছর বাংলা ও বিহারে শাসনকারী রাজবংশ।
- ভারতীয় উপমহাদেশের পাল সাম্রাজ্যটি দীর্ঘ সময় শাসন করেছিল।

উল্লেখ্য,
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে। এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৮.
“রামচরিত” কাব্য কে রচনা করেন?
  1. ক) হর্ষবর্ধন
  2. খ) কালিদাস
  3. গ) সন্ধ্যাকর নন্দী
  4. ঘ) দিব্য
ব্যাখ্যা
 “রামচরিত” কাব্য সন্ধ্যাকর নন্দী রচনা করেন। 

- রামচরিতম্  সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত একটি সংস্কৃত কাব্যগ্রন্থ। 
- গ্রন্থটির গুরুত্ব এই যে, এটি এগারো শতকের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে বারো শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বাংলার অবস্থার ওপর আলোকপাত করে।
- রামচরিতম্ বরেন্দ্রের (উত্তর বাংলা) একজন কবি কর্তৃক বাংলায় বসে রচিত একমাত্র সংস্কৃত গ্রন্থ, যার মূল বিষয়বস্ত্ত সমকালীন ঐতিহাসিক ঘটনা। একারণে গ্রন্থটি পরবর্তী পালযুগের ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত।
- সন্ধ্যাকর নন্দী মাত্র ১০টি শ্লোকে পালদের প্রাথমিক ইতিহাস বর্ণনা করেছেন।
- গ্রন্থের অবশিষ্ট অংশে রয়েছে তাঁর মূল বিষয়ের ওপর আলোচনা।
- তিনি রামপালের কাহিনীকে মহাকাব্যিক ব্যক্তিত্ব রামের কাহিনীর সাথে মিলিয়ে এক করে বর্ণনা করেছেন।


উৎসঃ বাংলাপিডিয়া। 
৭৪৯.
বাংলার প্রাচীনতম স্থান কোনটি?
  1. সোনারগাঁও
  2. বিক্রমপুর
  3. পুন্ড্র
  4. চন্দ্রদ্বীপ
ব্যাখ্যা

পুন্ড্র:
- বাংলার প্রাচীনতম স্থান বা নগরকেন্দ্র হলো বগুড়া জেলায় অবস্থিত মহাস্থানগড় যা প্রাচীনকালে 'পুণ্ড্রনগর' বা 'পুন্ড্রবর্ধন' নামে পরিচিত ছিল। 

• খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের (আনুমানিক) মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপিতে উল্লিখিত পুদনগল (পুণ্ড্র নগর) এবং বগুড়া যে অভিন্ন তা একাধিক উৎস থেকে প্রমাণ করা যায়।
- প্রাচীন এই জনপদের সীমানা চিহ্নিত করে ড. নীহাররঞ্জন রায় লিখেছেন, "পুণ্ড্রবর্ধনের কেন্দ্র বা হৃদয়স্থানের একটি নতুন নাম পাইতেছি দশম শতক হইতে; এ নাম বরেন্দ্র অথবা বরেন্দ্রী।"
- অর্থাৎ এই প্রাচীন জনপদটি ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে দুটো ভিন্ন নামে পরিচিতি লাভ করেছিল।
- কতিপয় লিপি প্রমাণে এ কথা বলা যায় যে, বরেন্দ্র পুণ্ড্রবর্ধনেরই অংশবিশেষ। মধ্যযুগের মুসলিম ঐতিহাসিকরা বরেন্দ্রিকে বলতেন বরীন্দ্র।

• প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। পরবর্তীকালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল। পুন্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- গুপ্ত যুগে পুন্ড্রনগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।

উল্লেখ্য,
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুন্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।
- এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ঐতিহাসিক স্থান।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫০.
বাংলাদেশের কোথায় মৌর্য শীলালিপি পাওয়া গেছে?
  1. ক) কুমিল্লার ময়নামতি
  2. খ) রাজশাহীর পাহাড়পুর
  3. গ) বগুড়ার মহাস্থানগড়
  4. ঘ) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের বগুড়ার মহাস্থানগড়মৌর্য শীলালিপি পাওয়া গেছে।
- মহাস্থান বা মহাস্থানগড়ে বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ নগর পুন্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ বিদ্যমান।
- স্থানটি বগুড়া শহর থেকে ১৩ কিমি উত্তরে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে  অবস্থিত।
- আয়তাকার ধ্বংসস্তূপটি উত্তর-দক্ষিণে ১৫০০ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৪০০ মিটার বিস্তৃত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
৭৫১.
হেলেনিস্টিক সভ্যতা কোথায় গড়ে উঠেছিলো?
  1. ক) বাগদাদ
  2. খ) এথেন্স
  3. গ) আলেকজান্দ্রিয়া
  4. ঘ) দামেস্ক
ব্যাখ্যা
গ্রিক বীর আলেকজান্ডার কর্তৃক উত্তর আফ্রিকা দখলের পর গ্রিক সংস্কৃতি ও তার বাহিরের সংস্কৃতির সংমিশ্রণে যে সভ্যতা বা সংস্কৃতি গড়ে উঠে তা ই হেলেনিস্টিক সভ্যতা নামে পরিচিত।
এই হেলেনিস্টিক সভ্যতার কেন্দ্রভূমি ছিলো মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া। যার কারণে একে অনেক ক্ষেত্রে আলেকজান্দ্রিয়ান সভ্যতা নামেও ডাকা হয়।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস ১মপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৭৫২.
সপ্তম শতকে সমতট অঞ্চলে কোন চীনা পরিব্রাজক ভ্রমণ করেছিলেন?
  1. ফা-হিয়েন
  2. হিউয়েন সাঙ
  3. ওয়াংচুয়াং
  4. মা হুয়ান
ব্যাখ্যা

সমতট, পট্টিকেরা:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটি বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন হিউয়েন সাঙ।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- মূলত মেঘনা-পূর্ববতী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল এবং এ অঞ্চলের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী ‘লালমাই’ এলাকা।
- একেবারে সঠিকভাবে সমতটের সীমা নির্ধারণ না করা গেলেও ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই ছিল সম্ভবত প্রাচীন সমতট।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭৫৩.
প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা কে ছিলেন?
  1. লক্ষণ সেন
  2. ধর্মপাল
  3. শেরশাহ
  4. শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
• শশাঙ্ক:
- শশাঙ্ক বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা।
- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- তিনি বাংলার বাইরেও রাজ্য জয় করে এক বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
- শশাঙ্ক উত্তর ভারতের রাজনীতিতেও ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- ড. নীহাররঞ্জনের মতে শশাঙ্ক "স্বতন্ত্র স্বাধীন নরপতিরূপে সুবিস্তৃত রাজ্যের অধিকারী হইয়াছিলেন।"
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
- হর্ষবর্ধনের সভাকবি বাণভট্ট শশাঙ্ককে বৌদ্ধবিদ্বেষী ও বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রহকারীরূপে চিহ্নিত করেন।
- প্রতিভা বলে স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।

উল্লেখ্য,
- সেন বংশের সর্বশেষ সার্বভৌম ও বাংলার শেষ হিন্দু রাজা  লক্ষণ সেন।
- শেরশাহ ভারতবর্ষের সম্রাট ও শূর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- ধর্মপাল বাংলার পাল বংশের দ্বিতীয় এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্বদ্যালয়।
৭৫৪.
নিচের কোন অঞ্চলটি পুণ্ড্র জনপদের অংশ ছিল না?
  1. বগুড়া
  2. কুমিল্লা
  3. রাজশাহী
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
• কুমিল্লা পুণ্ড্র জনপদের অংশ ছিল না।

পুণ্ড্র জনপদ:
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।
- পুণ্ড্র ‘জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম- দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৭৫৫.
ইখতিয়ারউদ্দীন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী কোন সালে বঙ্গ বিজয় করেন?
  1. ৯৭৫
  2. ১২০৫
  3. ১৩৩৮
  4. ১৫০৮
ব্যাখ্যা
ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজী:
- বখতিয়ার খিলজী ছিলেন বাংলার দিল্লি সুলতানাতের একজন মুসলিম সুলতান।
- তিনি ছিলেন একজন তুর্কি সেনাপতি।
- তিনি আফগানিস্তানের গরমশির এলাকার অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি তুর্কীদের খিলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন। 
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- উল্লেখ্য, পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।
- ত্রয়োদশ শতকে তার নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়। 
- তিনি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- তিনি স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- ১২০৬ সালে বখতিয়ার খিলজী ইহলোক ত্যাগ করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৭৫৬.
ইসলামাবাদ কোন জেলার পূর্ব নাম?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) নোয়াখালী
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) সিলেট
ব্যাখ্যা
- চট্রগ্রাম এর পূর্ব নাম- ইসলামাবাদ/পোর্টোগ্রান্ডে/শাতিলগঞ্জ।

অন্যদিকে-
- ময়নামতি - রোহিতগিরি।
- সিলেট - জালালাবাদ/শ্রীহট্ট।
- সোনারগাঁও - সুবর্ণ গ্রাম।
- ময়মনসিংহ - নাসিরাবাদ
- নোয়াখালী - সুধারাম বা ভুলুয়া।

তথ্যসূত্র:  বাংলাপিডিয়া।
৭৫৭.
সমতট জনপদ বর্তমান বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে অবস্থিত ছিল?
  1. রাজশাহী ও নাটোর
  2. খুলনা ও বাগেরহাট
  3. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
  4. ঢাকা ও ফরিদপুর
ব্যাখ্যা

- কুমিল্লা ও নোয়াখালী নিয়েই সমতট গঠিত ছিল।

সমতট জনপদ:
- সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী ‘লালমাই' এলাকা।
- ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট।  
- মেঘনা-পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- হিউয়েন সাঙ কোন সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৭৫৮.
সম্রাট অশোক কোন বংশের শাসক ছিলেন?
  1. মৌর্য
  2. গুপ্ত
  3. সেন
  4. পাল
  5. চোল
ব্যাখ্যা
⇒ সম্রাট অশোক মৌর্য বংশের শাসক ছিলেন।

অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- পিতার রাজত্বকালে অশোক প্রথম জীবনে উজ্জয়িনীর শাসনকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
- পরে তক্ষশীলায় বিদ্রোহ দেখা দিলে বিন্দুসার তাঁকে সেখানে পাঠান। বিদ্রোহ দমনের পর তিনি তক্ষশীলার শাসনভার গ্রহণ করেন।
- পিতার মৃত্যুর পর ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি পাটলিপুত্রের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- সিংহাসনে আরোহণ করে অশোক তাঁর পূর্বসুরীদের মতই 'দেবনম পিয়' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি নিজেকে 'দেবনম পিয় পিয় দসী' রূপে পরিচয় দিতেন।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন এবং রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোকের মন ও শাসননীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এ যুদ্ধের পর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।
- সামরিক বিজয়ের পরিবর্তে ধর্ম বিজয় অর্থাৎ সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন।
- তিনি ঘোষণা করেন সব মানুষই তাঁর সন্তান। তাদের জাগতিক ও পারলৌকিক সুখ নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫৯.
দেবপর্বত বর্তমান কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. নওগাঁয়
  2. কুমিল্লায়
  3. বগুড়ায়
  4. নাটোরে
ব্যাখ্যা

দেবপর্বত:
- দেবপর্বত বর্তমানে কুমিল্লা জেলার বরকামতা নামক স্থানে অবস্থিত। 
- এটি মূলত সমতট রাজ্যের রাজধানী ছিল।
- দেব রাজবংশের শাসনামলে এই স্থানটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। 

⇒ দেবপর্বত সমতটের একটি প্রাচীন নগরীর নাম। 
- কুমিল্লার নিকটবর্তী ময়নামতী শৈলশিরায় এটি অবস্থিত। 
- সমতটের পরম্পরাগত পাঁচটি পরিচিত রাজধানীর মধ্যে দেবপর্বত ছিল তৃতীয় ও সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার বহু পূর্বেই এটি ছিল একটি তীর্থস্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। 

• সমতট:
- দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট।
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী এলাকায় কুমিল্লা-নোয়াখালীর সমতল অঞ্চলে ছিল সমতটের অবস্থান।
- রাজা রাজভট্টের (৭ম শতকে) অন্যতম রাজধানী ছিল বড়োকামতা।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৭৬০.
গুপ্ত সাম্রাজ্যে স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন প্রথম শুরু করেন কে?
  1. শ্রীগুপ্ত
  2. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  3. সমুদ্রগুপ্ত
  4. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা

গুপ্ত মুদ্রা:
- খ্রিস্টীয় চার শতকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা মুদ্রাতত্ত্বের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
• গুপ্ত মুদ্রার প্রচলন শুরু হয় সাম্রাজ্যের তৃতীয় শাসক প্রথম চন্দ্রগুপ্ত কর্তৃক প্রকাশিত কিছু স্বর্ণমুদ্রার মধ্য দিয়ে। এ মুদ্রার এক পিঠে চন্দ্রগুপ্ত ও তাঁর রানী কুমারদেবীর প্রতিকৃতি এবং অপর পিঠে সিংহের উপর উপবিষ্ট দেবী এবং লিচ্ছব্যাঃ উক্তিটি উৎকীর্ণ রয়েছে। এ ধরনের মুদ্রার কিছু নিদর্শন চবিবশ পরগনা (উত্তর) ও বর্ধমান জেলা থেকে আবিষ্কৃত হয়।

• সমুদ্রগুপ্ত সাত ধরনের স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন করেন। এগুলির মধ্যে রাজদন্ড, তীরন্দাজ, অশ্বমেধ এ তিন প্রকার মুদ্রা বাংলায় প্রচলিত ছিল বলে জানা যায়। রাজদন্ড অঙ্কিত মুদ্রা আবিষ্কৃত হয়েছে বাংলাদেশ, মেদিনীপুর, বর্ধমান, হুগলি এবং চবিবশ পরগনা (উত্তর) থেকে। ‘অশ্বমেধ’ মুদ্রা আবিষ্কৃত হয় কুমিল্লা জেলা থেকে। এতে অঙ্কিত রয়েছে উড়ন্ত পতাকা সম্বলিত যুপকাষ্ঠের সম্মুখে সাজসজ্জাবিহীন একটি অশ্ব। এর অপর পিঠে রয়েছে সজ্জিত বর্শার সম্মুখে দন্ডায়মান একজন নারী, যাকে প্রধান রানী বলে মনে করা হয় এবং উৎকীর্ণ হয়েছে ‘অশ্বমেধ পরাক্রম’ উক্তিটি। নারীমূর্তিটির ডান কাঁধের উপর রয়েছে একটি ঝাড়ু/ ব্রাশ। বাংলা থেকে সমুদ্রগুপ্তের যুদ্ধকুঠার, ব্যাঘ্রশিকারী, বীণাবাদক এবং ‘কচ’ মুদ্রার কোনো নিদর্শন পাওয়া যায় নি।

• রাজা দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সময় বঙ্গ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিভুক্ত হয়েছিল। তাঁর শাসনকালে বাংলায় প্রচলিত দুপ্রকারের মুদ্রা সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়। রাজা প্রথম কুমার গুপ্তের মুদ্রার পরেই দ্বিতীয় চন্দ্র গুপ্তের তীরন্দাজ মুদ্রা সর্বাধিক জনপ্রিয়তা লাভ করে। 

• রাজা প্রথম কুমারগুপ্ত ষোলো প্রকার স্বর্ণমুদ্রা প্রচলন করেন। এগুলির মধ্যে বাংলার হুগলিতে ‘তীরন্দাজ’, মেদিনীপুর ও হুগলিতে ‘অশ্বারোহী’, হুগলিতে ‘গজারূঢ়’, বর্ধমানে ‘কার্তিকেয়’, বগুড়া, হুগলি ও বর্ধমানে ‘সিংহশিকারী’ মুদ্রা পাওয়া গেছে।

• বাংলায় প্রাপ্ত চার প্রকার মুদ্রার মধ্যে ‘তীরন্দাজ’ ও ‘রাজারানী’ মুদ্রার প্রচলন করেন রাজা স্কন্ধগুপ্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭৬১.
What is 'July Art Work'?
  1. Graffiti drawn on metro rail pillars
  2.  A painting of the July uprising
  3. A book of July uprising paintings
  4.  A sculpture exhibition
ব্যাখ্যা

• 'জুলাই আর্ট ওয়ার্ক:
-  'ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সার্বিক সহযোগিতায় আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার মেট্রোরেল পিলারের অঙ্কিত গ্রাফিতি 'জুলাই আর্ট ওয়ার্ক'।
- এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
উল্লেখ্য,
দেয়ালের ভাষা: স্মৃতি, প্রতিরোধ ও জনতার ইতিহাস'—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অঙ্কিত জুলাই আর্ট ওয়ার্কে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের এক শক্তিশালী চিত্রমালা উপস্থাপন করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: The Business Standard 

৭৬২.
হিউয়েন-সাঙ কোন শাসককে বৌদ্ধ ধর্মের বিদ্বেষী বলে আখ্যায়িত করেছেন-
  1. ক) গোপালকে
  2. খ) শশাঙ্ককে
  3. গ) হর্ষবর্ধনকে
  4. ঘ) অশোককে
ব্যাখ্যা
গুপ্ত রাজাদের অধীনে বড় কোন অঞ্চলের শাসনকর্তাকে বলা হত ‘মহাসামন্ত’। শশাঙ্ক ছিলেন গুপ্ত রাজা মহাসেন গুপ্তের একজন মহাসামন্ত। তিনি ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা। শশাঙ্ক নিজেকে গৌড়েশ্বর পরিচয় দিতেন। তিনি প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোকে গৌড় নামে একত্রিত করেন। তার রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদের নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ। তার আমলে তাম্রলিপ্ত বন্দর গুরুত্ব লাভ করে। বিখ্যাত চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং শৈব ধর্মের অনুসারী রাজা শশাঙ্ককে বৌদ্ধ ধর্মের বিদ্বেষী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৭৬৩.
ইন্দোচীন থেকে বাংলায় প্রবেশ করে নেগ্রিটোদের উৎখাত করে কোন জাতি?
  1. দ্রাবিড়
  2. নিষাদ
  3. ভোটচীনীয়
  4. আলপাইন
ব্যাখ্যা

দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাসকারী আদিতম মানবগোষ্ঠীসমূহের মধ্যে একটি বাঙালি জাতি।
সমগ্র বাঙালি জনগোষ্ঠীকে দুভাগে ভাগ করা যায়- অনার্য বা প্রাক আর্য নরগোষ্ঠী এবং আর্য নরগোষ্ঠী।
আর্যদের আগমনের পূর্বে বসবাস ছিল অনার্যদের। নেগ্রিটো, অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও ভোটচীনীয় - এই চার ভাগে মূলত আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠী বিভক্ত।
বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে অস্ট্রিক বা অস্ট্রো এশিয়াটিক গোষ্ঠী থেকে। এদের ‘নিষাদ জাতি’ বলা হয়।
ইন্দোচীন থেকে বাংলায় প্রবেশ করে নেগ্রিটোদের উৎখাত করে অস্ট্রিক জাতি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য (ড.সৌমিত্র শেখর)]

৭৬৪.
কুসুম্বা মসজিদটি কোথায় অবস্থিত?
  1. রাজশাহী
  2. পাবনা
  3. নওগাঁ
  4. বগুড়া
ব্যাখ্যা
কুসুম্বা মসজিদ আত্রাই নদীর পশ্চিমতীরস্থ নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার অন্তর্গত কুসুম্বা গ্রামের নাম অনুসারে পরিচিত।
বাংলায় আফগানদের শাসন আমলে শূর বংশের শেষ দিকের শাসক গিয়াসউদ্দীন বাহাদুর শাহ-এর রাজত্বকালে জনৈক সুলায়মান মসজিদটি নির্মাণ করেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৭৬৫.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের বিরুদ্ধে বাঙ্গালিদের প্রথম বিদ্রোহ -
  1. ক) ফরায়েজি বিদ্রোহ
  2. খ) সিপাহি বিদ্রোহ
  3. গ) নীল বিদ্রোহ
  4. ঘ) ফকির ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
• বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ চলে।
• আন্দোলনকারী ফকির-সন্ন্যাসীগণ ছিলেন মাদারিয়া সুফি তরিকার অনুসারী।
• নবাব মীর কাশিম ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে ফকির-সন্ন্যাসীদের সাহায্য চান।
• বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ।
• সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
• তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
• ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন। -১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
• তবে এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে ফকির।
• মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি, অর্থাৎ অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
• মজনু শাহর মত্যুর পর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ।
• ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চুড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা - ৯ম - ১০ম শ্রেনি এবং ইতিহাস প্রথম পত্র - এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৬.
সেন বংশের রাজাদের আদি নিবাস কোথায়?
  1. কেরালা
  2. মহারাষ্ট্র
  3. কর্ণাটক
  4. পাঞ্জাব
ব্যাখ্যা

• সেন বংশ (১০৬১-১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ):
- পাল বংশের অবসানের পর এগারো শতকের দ্বিতীয় ভাগে বাংলায় সেন রাজবংশের সূচনা হয়।
- এ বংশের গুরুত্বপূর্ণ তিনজন রাজা ছিলেন বিজয়সেন, বল্লাল সেন ও লক্ষণ সেন।
- তাদের আদি নিবাস ছিল দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটক।
- বাংলার সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সামন্ত সেন।
- কিন্তু তিনি কোনো রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করায় সেন বংশের প্রথম রাজার মর্যাদা দেওয়া হয় সামন্ত সেনের পুত্র হেমন্ত সেনকে।
- তিনি পাল রাজা রামপালের অধীনে একজন সামস্ত রাজা ছিলেন।
- হেমন্ত সেনের মৃত্যুর পর তার পুত্র বিজয় সেন (১০৯৮-১১৬০ খ্রিষ্টাব্দ) সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
- হেমন্তসেনের পুত্র বিজয়সেন নিজ বংশের স্বাধীন শাসনের সূচনা করেন। 
-  কৈবর্তদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে বরেন্দ্র পুনরুদ্ধারে রামপালকে সহায়তা করার প্রতিদান হিসেবে তিনি রাঢ়ে স্বাধীন শাসকের মর্যাদা লাভ করেন।
- পরবর্তী পর্যায়ে তিনি পালদের পরাজিত করে গৌড়ের সিংহাসন দখল করেন।
-  বিজয়পুর ছিল বিজয় সেনের প্রথম রাজধানী।
- দ্বিতীয় রাজধানী স্থাপন করা হয় বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে।
- শিব অনুরাগী বিজয় সেন পরম মহেশ্বর, পরমেশ্বর,পরমভট্টারক, মহারাজাধিরাজ অরিরাজ-বৃষভ-শঙ্কর প্রভৃতি উপাধি গ্রহণ করেন।
 - সেন বংশের অধীনেই সর্বপ্রথম সমগ্র বাংলা দীর্ঘকালব্যাপী একক রাজার অধীনে ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৭৬৭.
গঙ্গা ও ভাগিরথীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে কোন জনপদ অবস্থিত?
  1. বঙ্গ
  2. গৌড়
  3. সমতট
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:

- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৮.
'ইন্ডিকা' কার গ্রন্থ?
  1. আলেকজান্ডার
  2. কৌটিল্য
  3. ফা-হিয়েন
  4. মেগাস্থিনিস
ব্যাখ্যা

• মেগাস্থিনিস (Megasthenes):
- মেগাস্থিনিস  ছিলেন একজন প্রাচীন গ্রিক ঐতিহাসিক, ভূগোলবিদ এবং রাষ্ট্রদূত। 
 - তিনি সেলুকাসের প্রেরিত দূত হিসেবে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজধানী পাটলিপুত্রে দীর্ঘকাল অবস্থান করেন।
- সিরিয়ার গ্রিক রাজা ছিলেন সেলুকাস। 
- ‘ইন্ডিকা’ গ্রন্থের রচয়িতা মেগাস্থিনিস। 
- এই গ্রন্থে চন্দ্রগুপ্তের ব্যক্তিগত জীবন ও শাসন ব্যবস্থার বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- গ্রন্থটি প্রাচীন গ্রিক-রোমান বিশ্বে ভারত সম্পর্কে সবচেয়ে বিস্তারিত এবং গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা প্রদান করে। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।  

৭৬৯.
বাঙ্গালি উপভাষা অঞ্চল কোনটি?
  1. নদীয়া
  2. ত্রিপুরা
  3. পুরুলিয়া
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার আঞ্চলিক কথ্য রীতির পার্থক্য সহজেই অঞ্চল ভেদে বুঝা যায়। আঞ্চলিক ভেদে ভাষার এই ভিন্নতা উপভাষা নামে পরিচিত।
- সেই হিসেবে 'বাঙ্গালি' উপভাষা বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলে যেসকল জেলা রয়েছে,সেই সব অঞ্চলের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

• কয়েকটি উপভাষার নাম :
- বাঙ্গালি (বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল),
- পূর্বি (বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চল),
- বরেন্দ্রি (বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল),
- কামরূপি (বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চল),
- রাঢ়ি (পশ্চিমবঙ্গ),
- ঝাড়খণ্ডি (পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অঞ্চল ও ঝাড়খণ্ডের পূর্ব অঞ্চল) প্রভৃতি।

• উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়,
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে ''বরিশাল''ই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত উত্তর।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৭০.
বাংলার প্রাচীন জনপদ সমতট বর্তমানে কী নামে পরিচিত?
  1. ঢাকা
  2. কুমিল্লা
  3. সিলেট
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা

সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট।
- প্রাচীন বঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের নতুন নামের আর একটি বিশাল রাজ্য।
- মধ্যবাংলার কিছু অংশ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- তবে ত্রিপুরাকে সমতটের প্রধান কেন্দ্র বলা হতো।
- রাজা রাজভট্টের (৭ম শতকে) অন্যতম রাজধানী ছিল বড়োকামতা।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭১.
প্রাচীন সমতট রাজ্যের রাজধানী ছিল -
  1. পাটালিপুত্র
  2. কোটিবর্ষ
  3. বড় কামতা
  4. কর্ণসুবর্ণ
ব্যাখ্যা
সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের পাশাপাশি সমতটের অবস্থান।
- সমতটের রাজধানী বড় কামতা এবং দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত।
- গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা এবং বর্তমান ভারতের ত্রিপুরার প্রাচীন অংশই সমতট।
- কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- শালবন বিহার এদের অন্যতম।

এছাড়া,
- কর্ণসুবর্ণ ছিলো গৌড়ের রাজধানী।
- পাটালিপুত্র মৌর্য সম্রাজ্যের রাজধানী।
- কোটিবর্ষ ছিলো রাঢ়ের রাজধানী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, NCTB।
৭৭২.
কোন যুগ প্রাচীন ভারতের স্বর্ণযুগ হিসেবে পরিচিত?
  1. মৌর্যযুগ
  2. কুষাণযুগ
  3. গুপ্তযুগ
  4. পালযুগ
ব্যাখ্যা
গুপ্তযুগ:
- বাংলায় গুপ্তরা শাসন করে ৩২০ থেকে ৪১৫ সাল পর্যন্ত।
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী গুপ্ত।
- গুপ্ত যুগ প্রাচীন ভারতের স্বর্ণ যুগ হিসেবে পরিচিত।
- এই সম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা প্রথম চন্দ্রগুপ্ত।
- এর শ্রেষ্ঠ রাজা ছিল সমুদ্রগুপ্ত।
- তাকে প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ন বলা হয় ।
- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের উপাধি ছিল বিক্রমাদিত্য।
- এই সাম্রাজ্যের রাজধানী পাটালিপুত্র।
- চীনা পরিব্রাজক ফাহিয়েন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সময় ভারতবর্ষে আসেন।
- গুপ্ত বংশ ধ্বংস হয় হুন শক্তির হাতে।
- এই সময় পণ্ডিত ছিলেন আর্যভট্ট, কালিদাস, বিষ্ণুশর্মা, বরাহমিহির।

উল্লেখ্য 
- পাল আমল ছিল বংশানুক্রমিক রাজবংশ।
- এই বংশ সবচেয়ে বেশি শাসন করেছিল।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ¡¡) বাংলাপিডিয়া।
৭৭৩.
'মাৎস্যন্যায়' কোন শাসকের মৃত্যু পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত হয়?
  1. অশোক
  2. শশাঙ্ক
  3. হর্ষবর্ধন
  4. চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা
⇒ 'মাৎস্যন্যায়' শশাঙ্কের মৃত্যু পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত হয়।

মাৎস্যন্যায়:

- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর একশো বছর বাংলায় কোনো যোগ্য শাসক ছিল না, যার ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা বিরাজমান ছিল।
- হর্ষবর্ধন ও ভাস্কর বর্মণের আক্রমণ, এবং ভূস্বামীরা একে অপরের সঙ্গে সংঘাতে মেতে ওঠে বাংলার রাজ্যকে।
- কেন্দ্রীয় শাসন শক্ত হাতে ধরার মতো কেউ ছিল না।
- এই অরাজকতাকেই ধর্ম পালের 'খালিমপুর' তাম্রশাসনে 'মাৎস্যন্যায়' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
- 'মাৎস্যন্যায়' শব্দটি প্রথম কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়েছিল, যা বড় মাছের ছোট মাছ খেয়ে ফেলার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নির্দেশ করে।
- বাংলার সবল অধিপতিরা তখন ছোট রাজ্যগুলোকে গ্রাস করছিলেন।
- অষ্টম শতকের মাঝামাঝি পাল রাজাদের উত্থানের মাধ্যমে এ অরাজকতার অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
৭৭৪.
আচারসাগর ও প্রতিষ্ঠাসাগর নামে গ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. কেশব সেন
  2. বিজয় সেন
  3. লক্ষণ সেন
  4. বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা
• বল্লাল সেন:
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি রাজ্য জয়ের চেয়ে দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
- তবে তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
- কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।
- বল্লাল সেন বিদ্যান ও বিদ্যোৎসাহী রাজা ছিলেন।
- তিনি ব্রতসাগর, আচারসাগর, প্রতিষ্ঠাসাগর, দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর নামে পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৫.
সমুদ্রগুপ্তকে ‘প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ন’ উপাধি দিয়েছেন কে?
  1. ভিনসেন্ট স্মিথ
  2. উইলিয়াম জোনস
  3. আর.সি. মজুমদার
  4. জেফ্রি সোয়েল 
ব্যাখ্যা

• গুপ্তযুগ ও সমুদ্রগুপ্ত:
- গুপ্ত যুগকে বলা হয় “প্রাচীন ভারতের স্বর্ণযুগ”।
- কারণ এই সময়ে সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্পকলা ও রাজনীতি - সবক্ষেত্রেই অসাধারণ উন্নতি হয়েছিল।
- এই যুগে মোট ১৬ জন শাসক ছিলেন।
- এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম মহারাজা ছিলেন শ্রীগুপ্ত।
- এই যুগের সেরা ও সবচেয়ে বীর রাজা ছিলেন সমুদ্রগুপ্ত।
- প্রথম চন্দ্রগুপ্তের মৃত্যুর পর সমুদ্রগুপ্ত পাটলিপুত্রের সিংহাসনে বসেন।
- সমুদ্রগুপ্ত প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ন নামে পরিচিত। 
- তাঁর অসংখ্য বিজয়যাত্রা ও সামরিক প্রতিভার কারণে ইতিহাসবিদ ভিনসেন্ট স্মিথ  তাঁকে “ Napoleon of India” আখ্যা দেন।

উল্লেখ্য, 
- সমুদ্রগুপ্তের সামরিক অভিযানগুলি গুপ্ত সাম্রাজ্যকে একটি ক্ষুদ্র রাজ্য থেকে একটি বিশাল সাম্রাজ্যে রূপান্তরিত করে।
- তিনি শুধু যুদ্ধ জয়ই করেননি, বরং পরাজিত রাজাদের আনুগত্যের বিনিময়ে তাদের সিংহাসনে ফিরিয়ে দিতেন, যা তাঁর রাজনৈতিক বিচক্ষণতার প্রমাণ।
- গুপ্ত যুগের শেষ শাসক ছিলেন বিষ্ণুগুপ্ত।
- এই যুগেই হিন্দুদের সংস্কৃতির উত্থান ঘটে।

অন্যদিকে,
- উইলিয়াম জোনস- ভারতের প্রাচীন আইন ও সংস্কৃত ভাষার গবেষক।
- আর.সি. মজুমদার- ভারতীয় ইতিহাসের গবেষক।
- জেফ্রি সোয়েল হচ্ছে ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ। 

উৎস:
১. Britannica;
২. বাংলাপিডিয়া;
৩. ইতিহাস প্রথম পত্র, উচ্চমাধ্যমিক (HSC) পাঠ্যবই, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB), বাংলাদেশ।

৭৭৬.
শশাঙ্কের রাজধানী ছিল কোনটি?
  1. কর্ণসুবর্ণ
  2. পুণ্ড্রবর্ধন
  3. লক্ষ্মণাবতী
  4. গৌড়
ব্যাখ্যা

শশাঙ্ক:
- বাংলার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ নৃপতি শশাঙ্ক সপ্তম শতাব্দীর প্রথমার্ধের শাসক।
- গুপ্ত শাসনের পর বাংলার গৌড় রাজ্যের তিনি অধিপতি হন।
- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্কই বাংলার প্রথম নৃপতি যার ভূমিদান করার মতো এবং মুদ্রা প্রকাশ করার মতো স্বাধীন ক্ষমতা ছিল।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু (শৈব) ধর্মের অনুসারী ছিলেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস, এস এস এইচ এল প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭৭.
ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে উপমহাদেশে সবার শেষে আগমন করে কারা?
  1. ক) দিনেমার
  2. খ) ওলন্দাজ
  3. গ) ইংরেজ
  4. ঘ) ফরাসি
ব্যাখ্যা
- ১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ‘ভাস্কো দা গামা’ ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করার পর থেকে উপমহাদেশে ইউরোপীয় বণিকদের আগমন শুরু হয়।
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরা প্রথম উপমহাদেশে আগমন করে। পরবর্তীতে ইংরেজ, ওলন্দাজ বা ডাচ, দিনেমার বা ডেনিশদের আগমন ঘটে।
- সবার শেষে আগমন করেন ফরাসিরা। ১৬৬৪ সালে ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬৬৮ সালে ফরাসিরা সুরাটে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৭৭৮.
প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য কোনটি ছিল?
  1. রাঢ়
  2. চন্দ্রদ্বীপ
  3. হরিকেল
  4. পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন জনপদের দিক থেকে পুণ্ড্র ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।

পুণ্ড্র জনপদ
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুণ্ড্র।
- পুণ্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুণ্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ,রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।

সূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৭৭৯.
সাত গম্বুজ মসজিদটির নির্মাতা-
  1. ক) সুবেদার ইসলাম খান
  2. খ) মীরজুমলা
  3. গ) মুরশীদ কুলী খান
  4. ঘ) শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
- সাত গম্বুজ মসজিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত। এটির নির্মাতা মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান। ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে তিনি এটি নির্মাণ করেন।
- তবে অন্য তথ্যমতে এটির নির্মাতা শায়েস্তা খানের ছেলে বুজুর্গ উদ্দিন (উমিদ)।
- বর্তমানে মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে আছে।

তথ্য: ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।
৭৮০.
ঢাকা প্রথমবার বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয়- 
  1. ১৬১৫ খ্রিঃ
  2. ১৬১০ খ্রিঃ
  3. ১৬২০ খ্রিঃ
  4. ১৬৬০ খ্রিঃ
ব্যাখ্যা

- ঢাকা প্রথমবার বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয়: ১৬১০ খ্রিঃ।
- ঢাকার পুরোনো নাম: জাহাঙ্গীরনগর।
- ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ও পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর ঢাকাকে পূর্ব বাংলার রাজধানী করা হয়। 
- ঢাকাকে রাজমহল থেকে আবার রাজধানী করা হয়: ১৬৬০ খ্রিঃ।
- বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকাকে পুনরায় রাজধানী করা হয়: ১৯০৫ খ্রিঃ।

- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ঢাকাকে স্বাধীন দেশের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়: ১৯৭১ খ্রিঃ।

উৎস: ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।

৭৮১.
'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর' নামক গ্রন্থ কে রচনা করেন?
  1. হেমন্ত সেন
  2. বিজয় সেন
  3. বল্লাল সেন
  4. বিশ্বরূপ সেন
ব্যাখ্যা
বল্লাল সেন:
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি রাজ্য জয়ের চেয়ে দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন। 
- তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
- কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।
- বল্লাল সেন বিদ্যান ও বিদ্যোৎসাহী রাজা ছিলেন।
- তিনি ব্রতসাগর, আচারসাগর, প্রতিষ্ঠাসাগর, দানসাগরঅদ্ভুতসাগর নামে পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮২.
উয়ারি-বটেশ্বর কোন সভ্যতার অন্তর্গত?
  1. চৈনিক সভ্যতা
  2. সিন্ধু সভ্যতা
  3. দ্বিতীয় ভারতীয় সভ্যতা
  4. মালয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগর হলো উয়ারি-বটেশ্বর। আনুমানিক প্রায় আড়াইহাজার বছর আগে নরসিংদী জেলার উয়ারি-বটেশ্বরে নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
- এটি দ্বিতীয় ভারতীয় সভ্যতার অন্তর্গত। উয়ারি-বটেশ্বর ছিলো একটি নদীবন্দর ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র।
- বগুড়ার পুন্ড্রনগরও দ্বিতীয় ভারতীয় সভ্যতার অন্তর্গত। সিন্ধু সভ্যতা পতনের প্রায় একহাজার বছর পর গাঙ্গেয় অববাহিকায় দ্বিতীয় ভারতীয় সভ্যতা বিকাশ লাভ করেছিলো।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : ষষ্ঠ শ্রেণী)
৭৮৩.
হিউয়েন সাং রচিত মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের উপর সর্ববৃহৎ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ সম্বলিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ইন্ডিকা
  2. খ) ফো-কুয়ো-কিং
  3. গ) জিউ জি (সি-উ চি)
  4. ঘ) কিতাবুল রেহালা
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন। তাঁর রচিত ‘জিউ জি (সি-উ চি)’ মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের উপর সর্ববৃহৎ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ সম্বলিত গ্রন্থ। চন্দ্রগুপ্তের সময়ে গ্রিক পরিব্রাজক মেগাস্থিনিস ভারতবর্ষে আগমন করে ভারতের শাসন প্রকৃতি, ভৌগোলিক বিবরণ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ইন্ডিকাতে লিপিবদ্ধ করেন। চৈনিক পর্যটক ফা-হিয়েন ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের আমলে ভারতে এসে এদেশে দীর্ঘদিন, প্রায় ১৫ বৎসর অতিবাহিত করেন । তাঁর রচিত ফো-কুয়ো-কিং একটি মূল্যবান গ্রন্থ। [সূত্র-বোর্ড বইঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়(ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি) ও বাংলাপিডিয়া]
৭৮৪.
কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কে?
  1. কুজুলা
  2. বাসুদেব
  3. কনিষ্ক
  4. হুবিষ্ক
ব্যাখ্যা
কুষাণ যুগ:
- যে সকল বিদেশি জাতি ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিল তাদের মধ্যে কুষাণদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- কুষাণরা ছিল ইউ-চি জাতির একটি শাখা।
- কুষাণ শাখার নেতা কুজলা কদফিসেস কর্তৃক খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দ নাগাদ পাঁচটি শাখায় বিভক্ত ইউ-চিরা ঐক্যবদ্ধ হয়।
- তিনি কাবুল, সোমায়ার, কাশ্মির অধিকার করেন।
- তাঁর পুত্র বিম কদফিসেস সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সাম্রাজ্য মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্থান থেকে সিন্ধু উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কণিষ্ক।
- ৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের বাইরে বর্তমান সোভিয়েত তুর্কিস্থানের এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশও তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- পুরুষপুর বা বর্তমান পেশোয়ার তাঁর রাজধানী ছিল।
- বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রাজকর্মচারীদের মাধ্যমে এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম 'মহাযান' ও 'হীনযান' -এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- ২৩ বছর রাজত্ব করার পর কণিষ্ক ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৫.
হায়া সোফিয়া স্থাপত্যের নির্মাতা কে?
  1. ক) সুলতান তৃতীয় মেহমুদ
  2. খ) সম্রাট জাস্টিনিয়ান
  3. গ) সম্রাট দারিয়ুস
  4. ঘ) সম্রাট জুলিয়াস সিজার
ব্যাখ্যা
বাইজান্টাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ান ৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান তুরস্কের ইস্তাম্বুল নগরে অবস্থিত হায়া সোফিয়া স্থাপত্য নির্মাণ করেন যা ছিলো তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে বড় গির্জা।
১৪৫৩ সালে অটোমান সুলতান ফাতিহ ‍মুহাম্মদ ইস্তাম্বুল অধিকার করে হায়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করেন। ১৯৩৫ সালে তুরস্কের কামাল আতাতুর্ক সরকার হায়া সোফিয়াকে মিউজিয়ামে রূপান্তর করে। সম্প্রতি তুরস্ক সরকার হায়া সোফিয়াকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তর করেছে।
(সূত্র: হিস্টোরি ডটকম)
৭৮৬.
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম সার্বভৌম রাজা কে ছিলেন?
  1. বিজয় সেন
  2. গোপাল
  3. শশাঙ্ক
  4. হর্ষবর্ধন
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৭.
তুর্কি সেনাপতি বখতিয়ার খলজি সেন বংশের কোন রাজাকে পরাজিত করেন?
  1. বিজয় সেন
  2. লক্ষ্মণ সেন
  3. বল্লাল সেন
  4. সামন্ত সেন
ব্যাখ্যা
তুর্কি সেনাপতি বখতিয়ার খলজি লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করেন।

ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি:

- বখতিয়ার খলজী ছিলেন বাংলার দিল্লি সুলতানাতের একজন মুসলিম সুলতান।
- তিনি আফগানিস্তানের গরমশির এলাকার অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- উল্লেখ্য, পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।
- ত্রয়োদশ শতকে তার নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়।
- তিনি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- তিনি স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- ১২০৬ সালে বখতিয়ার খিলজী ইহলোক ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য,
⇒ বাংলায় সেন বংশের শাসন:
- ১০৭০ থেকে ১২৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ বছর সেনরা বাংলায় রাজত্ব করে।
- পালদের পতনের পর বাংলায় সেন রাজবংশের উত্থান ঘটে।
- বাংলার সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সামন্ত সেন। সামন্ত সেন কোনো রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করায় সেন বংশের প্রথম রাজার মর্যাদা দেওয়া হয় সামন্ত সেনের পুত্র হেমন্ত সেনকে।
- এই বংশের শেষ রাজা ছিলেন লক্ষ্মণ সেন। ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজী নদীয়া আক্রমণ করলে তিনি প্রতিরোধ না করে মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর পালিয়ে আসেন। এই অঞ্চলে তিনি আরো ২/৩ বছর রাজত্ব করেন।

⇒ ১২০২ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করেন। সে সময় সেনদের অস্থায়ী রাজধানী ছিল নদীয়ায়। নদীয়ায় আক্রমণ করা হলে লক্ষ্মণ সেন পূর্ববঙ্গে পালিয়ে যান। এরপর লক্ষ্মণ সেনের মৃত্যু হলে সেনরা দুর্বল হতে শুরু করে। সামন্ত বিদ্রোহের ফলে বাংলায় সেনদের পতন ঘটে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৭৮৮.
‘মাৎস্যন্যায়’-এর অবসান ঘটে কীভাবে?
  1. পালদের আগমনে
  2. সেনদের আগমনে
  3. গুপ্তদের আগমনে
  4. মৌর্যদের আগমনে
ব্যাখ্যা

মাৎস্যন্যায়:
- ‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার ৭ম-৮ম শতক সময়কালকে নির্দেশ করে।
- রাজা শশাঙ্ক ৬৩৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে গৌড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। গোটা বাংলায় নেমে আসে অন্ধকারের যুগ। প্রায় একশ বছর বাংলার ইতিহাসে যে অরাজকতা, নেতৃত্বের শূন্যতার সৃষ্টি হয় তাকে 'মাৎস্যন্যায়' বলা হয়ে থাকে।
- বাংলা অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা যখন চরমে, তখন সিংহাসনে বসেন রাজা গোপাল।
- পালদের আগমনের মাধ্যমে অবসান ঘটে মাৎস্যন্যায়ের।

⇒ পাল রাজবংশ:
- পাল বংশ আট শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রায় চারশত বছর বাংলা ও বিহারে শাসনকারী রাজবংশ।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী রাজার প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন। তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।
- পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ছিলেন। পালযুগে বৌদ্ধ ধর্ম প্রসার লাভ করেছিল তিববত, জাভা, সুমাত্রা ও মালয়েশিয়াতে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮৯.
সম্রাট শাহজাহানের কোন পুত্র বাংলার শাসনকর্তা ছিলেন?
  1. ক) দারা
  2. খ) শাহ সুজা
  3. গ) মুরাদ
  4. ঘ) আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
শাহ সুজা (১৬৩৯-১৬৬০) সুবাহ-বাংলার মুগল ভাইসরয়। তিনি ছিলেন সম্রাট শাহজাহান ও সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহলের দ্বিতীয় পুত্র। শাহজাহান ইসলাম খান মাসহাদীকে দরবারে ডেকে পাঠান এবং শাহ সুজাকে ১৬৩৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুবাহদার নিযুক্ত করেন। ১৬৪২ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে ঊড়িষ্যা প্রদেশের দায়িত্বও অর্পণ করা হয়। ১৬৩৯-১৬৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিশ বছরের কিছু অধিক সময় ধরে তিনি প্রদেশ দুটি শাসন করেন। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
৭৯০.
ইউরোপীয়দের ভারতে আগমনের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. ক) রাজনৈতিক
  2. খ) সাংস্কৃতিক
  3. গ) বাণিজ্যিক
  4. ঘ) ধর্মীয়
ব্যাখ্যা
- ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দে কনস্টান্টিনপোল অটমান তুর্কিদের দখলে চলে গেলে, উপমহাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয়দের সমুদ্র পথে ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ বন্ধ হয়ে যায়।
- ফলে ভারতবর্ষে আসার ভিন্ন পথ আবিষ্কারের প্রয়োজন দেখা দেয়।
- এই পথ আবিষ্কারে প্রথম সফল হন পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-ডা-গামা।
- সর্ব প্রথম পর্তুগিজরাই ভারতবর্ষে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আসে।
- তাদের পথে আসে হল্যান্ড, ডেনমার্ক, ইংরেজ এবং ফরাসিরা।
- একশ বছর অর্থাৎ ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত চলে এদেশে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন এবং চরম শোষণ।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭৯১.
বঙ্গ জনপদের অংশ ছিল কোনটি?
  1. কুমিল্লা
  2. ফরিদপুর
  3. চট্টগ্রাম
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯২.
কনৌজের কোন রাজবংশ শশাঙ্কের বিরোধীতা করে?
  1. চন্দ্র
  2. পরবর্তী গুপ্ত
  3. মৌখরী
  4. পুষ্যভূতি
ব্যাখ্যা
⇒  কনৌজের মৌখরী রাজবংশ শশাঙ্কের বিরোধীতা করে।

শশাঙ্ক:

- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৩.
কোন রাজবংশের পতনের পর দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় দেব রাজবংশের উত্থান ঘটে?
  1. নাথ রাজবংশ
  2. রাত রাজবংশ
  3. পাল রাজবংশ
  4. খড়গ রাজবংশ
ব্যাখ্যা

⇒ খড়গ রাজবংশের পতনের পর দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় দেব রাজবংশের উত্থান ঘটে।

দেব রাজবংশ:
- সাত শতকের শেষ ভাগ থেকে আট শতকের প্রথমার্ধে (৭৫০-৮০০খ্রি.) দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গ দেব রাজবংশের অধীনে শক্তিশালী রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাদের রাজধানী ছিল বর্তমান লালমাই-ময়নামতি অঞ্চলের দেবপর্বত।
- দেব রাজবংশের চারজন বিখ্যাত রাজার নাম শ্রী শান্তিদেব, শ্রী বীরদেব, শ্রী আনন্দদেব ও শ্রী ভবদেব।
- ময়নামতির শালবন বিহার খনন করে এই রাজবংশের চারটি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে।
- দেববংশের রাজারা প্রাথমিক যুগের পাল রাজাদের সমসাময়িক ছিলেন।
- পাল রাজারা ময়নামতি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধধর্মের বিকাশ ঘটিয়েছিলেন।
- এর নিদর্শন শালবন বিহার, আনন্দ বিহার, ভোজ বিহার প্রভৃতির কথা বলা যায়।
- বৌদ্ধ ধর্মীয় স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও পোড়ামাটির ফলক থেকে দেবপর্বত অঞ্চলে বৌদ্ধধর্ম-কেন্দ্রিক একটি সমৃদ্ধ জনবসতি গড়ে ওঠার বিষয়টি সুস্পষ্ট।
- আনন্দদেব ছিলেন দেব রাজবংশের শ্রেষ্ঠ রাজা।
- তিনি প্রায় ৩৯ বছর দেবপর্বতের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- তিনি পরমসৌগত, পরমেশ্বর, পরমভট্টারক ও মহারাজাধিরাজ উপাধি ধারণ করেছিলেন বলে জানা যায়। বাংলাদেশে বিকশিত বৌদ্ধ সংস্কৃতির সাথে দেব রাজবংশের ইতিহাস গুরুত্বের সাথে জড়িয়ে আছে।
- দেব রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতি রাজকীয় মর্যাদা লাভ করেছিল।
- চন্দ্র ও পাল রাজাদের আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করায় বঙ্গ হয়ে উঠেছিল তৎকালীন বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯৪.
ফা-হিয়েন ছিলেন—
  1. গ্রিক ইতিহাসবিদ
  2. আরবি পরিব্রাজক
  3. চীনা বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী
  4. রোমান সেনাপতি
ব্যাখ্যা
- ফা-হিয়েন ছিলেন একজন প্রাচীন চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক। 

ফা-হিয়েন:
- ফা-হিয়েন প্রাচীন চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
- তিনি মধ্য এশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকা ভ্রমণ করেন ও তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করেন।
- ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি যখন ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তখন তাঁর বয়স সম্ভবত ৬৪ বছর।
- তিনি তাঁর ভ্রমণের অধিকাংশ সময়ই মধ্য ভারত বা মগধ পরিভ্রমণ অতিবাহিত করেন।
- তাঁর গন্তব্যস্থল ছিল সে সময়ের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বন্দর তাম্রলিপ্তি। 

উল্লেখ্য,
- চিনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শাসনকালে গৌতমবুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন।
- ফা-হিয়েনের বর্ণনায় পাটলীপুত্র, তাম্রলিপ্তি, তক্ষশীলা, সারনাথ, মথুরা, পেশোয়ার, কুশীনগরসহ বেশ কিছু প্রসিদ্ধ স্থানের বিবরণ আছে।
- তাঁর ভ্রমণ কাহিনী থেকে গুপ্তযুগীয় ভারতের আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় এবং পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক অবস্থার কিছু চিত্র পাওয়া যায়, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- ফা-হিয়েন গুপ্ত শাসনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

সূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয় ও  বাংলাপিডিয়া।
৭৯৫.
কোন যুগে আগুন আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) প্রাচীন প্রস্তর যুগ
  2. খ) মধ্য প্রস্তর যুগ
  3. গ) নব্য প্রস্তর যুগ
  4. ঘ) তাম্রযুগ
ব্যাখ্যা
আগুনের আবিষ্কার হয় প্রাচীন প্রস্তর যুগে। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১ লক্ষ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১০ হাজার অব্দ পর্যন্ত সময়কে প্রাচীন প্রস্তর যুগ ধরা হয়। নব্য প্রস্তর যুগের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো চাকা এবং কৃষিকাজ।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক সমাজবিজ্ঞান ২য়পত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৭৯৬.
সীতাকোট বিহারের অবস্থান -
  1. কুমিল্লায়
  2. দিনাজপুরে
  3. চট্টগ্রামে
  4. বগুড়ায়
ব্যাখ্যা
সীতাকোট বিহার:
- সীতাকোট বিহারের অবস্থান: নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।
- বিহারটিতে মোট ৪১টি প্রায় সমআয়তনের কক্ষ ছিল।
- এই কক্ষগলি একটি প্রশস্ত টানা বারান্দার সংগে যুক্ত ছিল।
- সীতাকোট বিহার আঙ্গিনার মধ্যবর্তী স্থানে কোন প্রধান মন্দির ছিলনা।
- এখানে পাহাড়পুর,শালবন বিহার এবং আনন্দ বিহারের মত ঐতিহ্যবাহী পোড়ামাটির ফলক দেখা যায়না।
- তবে আকার আয়তনের দিক থেকে এই বিহারের সংগে বগুড়ায় অবস্থিত ভাসু বিহার এর অনেক মিল রয়েছে।
- সীতাকোট বিহার থেকে প্রাপ্ত দুইটি ব্রোঞ্জ মূর্তির গঠন শৈলী থেকে অনুমান করা যায় যে, এগুলি ৭ম-৮ম শতাব্দীতে তৈরী।
- সময়কাল: - খ্রিঃ ৭-৮ম শতক।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট জেলার ওয়েবসাইট।
৭৯৭.
'ঋণ সালিশি বোর্ড' কোন আইনের অধীনে স্থাপিত হয়?
  1. ক) বেঙ্গল অ্যাক্ট ৫
  2. খ) বেঙ্গল অ্যাক্ট ৬
  3. গ) বেঙ্গল অ্যাক্ট ৭
  4. ঘ) বেঙ্গল অ্যাক্ট ৮
ব্যাখ্যা
১৯৩৬ সালে বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ডেটরস অ্যাক্ট (১৯৩৬-এর বেঙ্গল অ্যাক্ট ৭)-এর অধীনে ঋণ সালিশি বোর্ড স্থাপিত হয়।

• ঋণ সালিশি বোর্ড:

- বোর্ড অব ইকোনমিক ইনকোয়ারি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ১৯৩৫ সালের জুলাই মাসে বঙ্গীয় আইন পরিষদে খাজা নাজিমউদ্দীন একটি বিল উত্থাপন করেন।
- বিলটি বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ডেটরস অ্যাক্ট (১৯৩৬-এর বেঙ্গল অ্যাক্ট ৭) শিরোনামে ১৯৩৬ সালের এপ্রিলে আইন পরিষদে পাস হয়।
- আইনটি ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতা উভয়ের দ্বারা মনোনীত স্থানীয় প্রভাবশালী ও শিক্ষিত লোকদের মধ্য থেকে সদস্য নিয়ে ‘বোর্ড’ নামক ঋণবিষয়ক বেশ কয়টি সালিশি সভা স্থাপনের ব্যবস্থা করে দেয়।
- বোর্ডের দায়িত্ব ছিল দু পক্ষেরই কথা শুনে প্রধানত মহাজনদের কাছে ঋণগ্রস্ত কৃষকদের অনাদায়ী ঋণ আনুপাতিক হারে কমানো এবং এভাবে তাদের ওপর থেকে চাপ লাঘব করা।
- ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত এসব বোর্ড সক্রিয় ছিলো।

এছাড়াও,
- ঋণ সালিশি বোর্ড কৃষকদের ঋণের বোঝা থেকে রক্ষা করলেও এর প্রভাবে বাংলার গ্রামীণ ঋণ বাজার দুর্বল হয়ে পড়ে।
- কারণ অনেক মহাজন তাদের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলে।
- এতে করে কৃষি ঋণের অভাবে অনাবাদী জমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
- এটিকে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের অন্যতম একটি কারণ হিসেবে অনেকে মনে করেন।
- ১৯৪৩ সালে বাংলায় সংঘটিত দুর্ভিক্ষ পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- বাংলা ১৩৫০ সালে এই দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হওয়ায় একে পঞ্চাশের মন্বন্তর বলা হয়।
- এই দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ মারা যায়।
- এই দুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৯৮.
কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোককে কোন ধর্ম গ্রহণে প্রভাবিত করে?
  1. জৈন ধর্ম
  2. হিন্দু ধর্ম
  3. বৌদ্ধ ধর্ম
  4. শৈব ধর্ম
ব্যাখ্যা

• সম্রাট অশোক:
- সম্রাট অশোক ভারতের মৌর্য সাম্রাজ্যের তৃতীয় শাসক ছিলেন।
- খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩ অব্দে তিনি সিংহাসনে বসেন। এর তের বছর পর খ্রিস্টপূর্ব ২৬১ অব্দে অশোক পার্শ্ববর্তী কলিঙ্গ রাজ্য আক্রমণ করেন।
- ভয়াবহ কলিঙ্গ যুদ্ধে সাধারণ মানুষসহ প্রায় লক্ষাধিক মানুষ মারা যায়।
- এ ভয়াবহতা সম্রাট অশোকের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। এতে করে তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন এবং যুদ্ধ পরিহার করে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির নীতি গ্রহণ করেন।
-তিনি ঘোষণা করেন 'সব মানুষই আমার সন্তান'।
- সম্রাট অশোক খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩ অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ২৩২ অব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, স্নাতক শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯৯.
কোন যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হয়?
  1. ক) বক্সারের যুদ্ধ
  2. খ) রাজমহলের যুদ্ধ
  3. গ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  4. ঘ) পানিপথের ‍দ্বিতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• যুদ্ধ:
- ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
- বিহারের বক্সার নামক স্থানে বাংলার নবাব মীর কাশিম, মুঘল সম্রাট শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলার সম্মিলিত বাহিনী মেজর মনরো'র নেতৃত্বাধীন   ইংরেজ বাহিনীর নিকট পরাজয় বরণ করে।
- এর ফলে বাংলার নামমাত্র টিকে থাকা স্বাধীনতাও পুরোপুরি বিনষ্ট হয়।
- অন্যদিকে ভারতে ইংরেজদের সাম্রাজ্য বিস্তারের পথ আরও সুগম হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৮০০.
বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. হরিকেল
  2. সমতট
  3. বঙ্গ
  4. গৌড় 
ব্যাখ্যা

সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট।
- প্রাচীন বঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের নতুন নামের আর একটি বিশাল রাজ্য।
- মধ্যবাংলার কিছু অংশ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- তবে ত্রিপুরাকে সমতটের প্রধান কেন্দ্র বলা হতো।
- রাজা রাজভট্টের (৭ম শতকে) অন্যতম রাজধানী ছিল বড়োকামতা।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।