বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাচীন কালের ইতিহাস, জনপদ ও বিভিন্ন রাজবংশ

মোট প্রশ্ন১,৩৩৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাচীন কালের ইতিহাস, জনপদ ও বিভিন্ন রাজবংশ

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৩০১৪০০ / ১,৩৩৮

৩০১.
প্রাচীন বাংলায় স্বাধীন জনপদ ছিল-
  1. গৌড়
  2. পুণ্ড্র
  3. রাঢ়
  4. বরেন্দ্র
ব্যাখ্যা
গৌড় রাজ্য:
- প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজ্য গৌড় রাজ্য।
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৩০ অব্দে মালদহ অঞ্চলে ভোজ বংশীয় গৌড় নামক জনৈক ব্যক্তি যে রাজ্যের পত্তন করেছিলেন কালক্রমে তাই গৌড় রাজ্য নামে পরিচিত হয়।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল গৌড় রাজ্যের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ - পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে গৌড়ের নাম লখনৌতি (প্রদেশের নামে) পরিচিতি পায়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০২.
মাৎস্যন্যায় কোন শাসন আমলে দেখা দেয়?
  1. সেন শাসন আমলে
  2. পাল তাম্র শাসন আমলে
  3. গুপ্ত শাসন আমলে
  4. মোঘল শাসন আমলে
ব্যাখ্যা
মাৎস্যন্যায়:
- 'মাৎস্যন্যায়' বাংলার ৭ম-৮ম শতক সময়কালকে নির্দেশ করে।
- প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে পাল রাজবংশ দীর্ঘকাল শাসন করেছে।
- পাল রাজারা বাংলা ও বিহার অঞ্চলে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রায় চারশ বছর শাসন করেছেন।
- নৈরাজ্য ও চরম অরাজকতার হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করে গোপাল নামক এক উচ্চবর্গীয় ব্যক্তি এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- ধর্মপাল, দেবপাল, মহিপাল নামে অনেক পাল রাজারা বাংলা শাসন করেছেন।
- মাৎস্যন্যায় ও গোপালের উত্থান বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি 'মাৎস্যন্যায়' নামে খ্যাত।
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ
- অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পাল বংশের শাসন শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০৩.
প্রাচীন বাংলার ক্ষত্রিয় গোত্রের পেশা মূলত কী ছিল?
  1. ক) অধ্যাপনা করা
  2. খ) যুদ্ধ করা
  3. গ) ব্যবসা বানিজ্য করা
  4. ঘ) মাছ ধরা
ব্যাখ্যা

প্রাচীন বাংলার ৪ টি গোত্রের পেশা নিম্নরুপ: 

1. ব্রাহ্মণ- অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও পূজা-পার্বণ করা- এগুলাে ছিল ব্রাহ্মণদের নির্দিষ্ট কর্ম । তারা সমাজে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করতাে।
2. ক্ষত্রিয়- ক্ষত্রিয়দের পেশা ছিল যুদ্ধ করা।
3. বৈশ্য- ব্যবসা-বাণিজ্য করা ছিল বৈশ্যদের কাজ।
4. শূদ্র- সবচেয়ে নীচু শ্রেণির শূদ্ররা সাধারণত কৃষিকাজ, মাছ শিকার ও অন্যান্য ছােটখাটো কাজ করত।

বর্ণপ্রথা
- বর্ণপ্রথা উপমহাদেশে আর্যীকরণের পর সামাজিক শ্রেণিসমূহকে বিন্যস্ত করেছিল।
- তাত্ত্বিকভাবে এ বিন্যাসে শ্রেষ্ঠত্বের ক্রম নির্ধারিত হতো সংশ্লিলষ্ট বিভিন্ন বর্ণের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিবর্গ তাঁদের চরিত্রে ও কর্মে যে সব গুণাগুণের প্রকাশ ঘটাতেন তার ওপর ভিত্তি করে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, 

- ব্রাহ্মণরা ছিলেন ‘সত্ত্বা’র রক্ষক, এবং সে হিসেবে তাদের পবিত্রতম বলে গণ্য করা হতো। ।
- পবিত্রতার এ মাত্রা ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যদের গুণাগুণের প্রতীক, যথাক্রমে ‘রজ’ ও ‘তম’-এর ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী বলে বিবেচিত হতো।
- সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচু স্তরে থাকা শুদ্রদের এ রকম কোনো গুণই ছিল না বলে মনে করা হতো। 

তথ্যসূত্র:  নীহাররঞ্জন রায়, বাঙালির ইতিহাস : আদি পর্ব, (১ম সংস্করণ)

৩০৪.
বল্লাল সেন কার পুত্র ছিলেন?
  1. বিজয় সেন
  2. হেমন্ত সেন
  3. লক্ষ্মণ সেন
  4. গোবিন্দপাল
ব্যাখ্যা
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর বল্লাল সেন আনুমানিক ১১৬০ সালে সিংহাসনে বসেন।

বল্লাল সেন:
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি রাজ্য জয়ের চেয়ে দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
- তবে তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
- কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।
- বল্লাল সেন বিদ্যান ও বিদ্যোৎসাহী রাজা ছিলেন।
- তিনি ব্রতসাগর, আচারসাগর, প্রতিষ্ঠাসাগর, দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর নামে পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৫.
মৌর্যদের পূর্বে মগধে কোন দুটি রাজবংশ শাসন করেছিল?
  1. কুষাণ ও সাতবাহন
  2. শুঙ্গ ও কণ্ব
  3. সেন ও পাল
  4. শৈশুনাগ ও নন্দ
ব্যাখ্যা

মগধ সাম্রাজ্য:
- খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ অব্দে ভারতে কোন অখন্ড সর্বভারতীয় রাজ্য ছিল না।
- এ সময়ে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল ১৬টি রাজ্য বা ষোড়শ মহাজনপদে বিভক্ত ছিল। এ রাজ্যগুলির মধ্যে ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক যোগ্যতাবলে মগধ বৃহৎ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।
- বর্তমান বিহারের দক্ষিণাংশ, মুখ্যত পাটনা ও গয়া জেলা, প্রাচীনকালে মগধ নামে পরিচিত ছিল।
- এ রাজ্যের রাজধানী ছিল পাটলীপুত্র।  

• মৌর্যদের পূর্বে দুটি বিখ্যাত রাজবংশ মগধে রাজত্ব করেন বলে জানা যায় এগুলি হলো হর্ষঙ্ক-শৈশুনাগ বংশ এবং নন্দ বংশ।
- হর্ষঙ্ক-শৈশুনাগ বংশের বিম্বিসার, অজাতশত্রু এবং নন্দবংশের মহাপদ্মনন্দ ও ধননন্দ হচ্ছেন প্রসিদ্ধ রাজা।
- বিম্বিসার মগধের সাম্রাজ্য বিস্তার নীতির বীজ বপন করেন।
- বৌদ্ধ শাস্ত্র অনুসারে বিম্বিসারকে হত্যা করে তাঁরই পুত্র অজাতশত্রু মগধের সিংহাসনে বসেন। 

• হর্ষঙ্ক-শৈশুনাগ বংশের পর মহাপদ্মনন্দ প্রতিষ্ঠা করেন নন্দ বংশের শাসন।
- বৌদ্ধ সূত্র মতে, তিনি ছিলেন 'উগ্রসেনা' বা ভয়ংকর সেনাদলের অধিপতি।
- ধননন্দ ছিলেন নন্দবংশের সর্বশেষ রাজা। তিনি অত্যাচারী এবং অর্থলিপ্স হিসাবে ইতিহাসে নিন্দিত। 
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য এবং কৌটিল্য এর পরিপূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করেন এবং নন্দ বংশের শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রাচীন ভারতে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০৬.
প্রাচীন বাংলার পূর্বাংশে কোন অঞ্চল ছিল?
  1. রাঢ়
  2. বরেন্দ্র
  3. চন্দ্রদ্বীপ
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা
• হরিকেল:
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ। 
- খ্রিস্টীয় সাত শতকের প্রাচীন ভারতীয় লেখকগণ পূর্বভারতীয় একটি অঞ্চলকে হরিকেল বলে উলে­খ করেন।
- এটি পূর্ববঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য।
- সাত শতকের চৈনিক পরিব্রাজক  ই-ৎসিঙ্ হরিকেলের অবস্থানকে ‘পূর্বভারতের পূর্বসীমা’য় নির্দেশ করেন। 
- বর্তমান সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে এই অঞ্চল নিয়ে গঠিত। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩০৭.
সেনদের মধ্যে কে প্রথম ‘গৌড়েশ্বর’ উপাধি ধারণ করেন?
  1. বিজয় সেন
  2. লক্ষ্মণ সেন
  3. বল্লাল সেন
  4. হেমন্ত সেন
ব্যাখ্যা
লক্ষ্মণ সেন:
- লক্ষ্মণসেন সেন বংশের তৃতীয় শাসক।
- লক্ষ্মণসেন প্রায় ২৮ বছর রাজত্ব করেন।
- বল্লাল সেন ও রমাদেবীর পুত্র লক্ষ্মণ সেন ১১৭৯ সালে প্রায় ৬০ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- লক্ষ্মণ সেন গৌড়, কলিঙ্গ, কামরূপ ও কাশীতে বিজয় অভিযান পরিচালনা করেছিলেন।
- গৌড় লক্ষ্মণসেনের রাজত্বকালেই পুরোপুরি সেন সাম্রাজ্যভুক্ত হয়েছিল।
- তিনিই সেনদের মধ্যে প্রথম রাজা যিনি ‘গৌড়েশ্বর’ উপাধি ধারণ করেন
- ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করেন।
- লক্ষ্মণ সেনের নদীয়া ত্যাগের মাধ্যমেই বাংলায় হিন্দুশাসনের পতন হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- লক্ষ্মণ সেন একজন বিদ্বান ও কবি ছিলেন।
- তিনি বল্লাল সেনের অসমাপ্ত অদ্ভুতসাগর সমাপ্ত করেছিলেন।
- ভারত প্রসিদ্ধ পণ্ডিত হলায়ূধ তাঁর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৩০৮.
পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অঙ্কন করেন কারা?
  1. ক) মিশরীয় বিজ্ঞানীরা
  2. খ) গ্রিক বিজ্ঞানীরা
  3. গ) সিন্ধুসভ্যতার ব্যবসায়ীরা
  4. ঘ) রোমান ভূগোলবিদরা
ব্যাখ্যা
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অংকন করেন গ্রিক বিজ্ঞানিরা।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।
- চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, বজ্র ও বিদ্যুৎ জিউসের ক্রোধের কারণে নয় প্রাকৃতিক কারণে ঘটে।
- এই সত্য তারাই প্রথম আবিষ্কার করেন।
- বিখ্যাত গণিতবিদ পিথাগোরাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিপোক্রেটসের যথেষ্ট খ্যাতি ছিল।
-  গ্রিক শিল্পের বিশেষ করে স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে বিশেষ উন্নতি হয়েছিল। 

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৯.
নিচের কোন এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ঢাকা
  2. ফরিদপুর
  3. বরিশাল
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো। 
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল । 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১০.
বাংলা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে প্রথম ব্যাখ্যা কে প্রদান করেন?
  1. ক) ইলিয়াস শাহ
  2. খ) সম্রাট আকবর
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
- মোগল সম্রাট আকবরের ইতিহাস লেখক আবুল ফজল বাংলা নামের উৎপত্তির একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। 
- তার মতে এদেশের প্রাচীন নাম ছিল ‘বঙ্গ'। 
- এর আগে আমরা অবশ্য একটি ছোট জনপদ হিসেবে বঙ্গ নামক অঞ্চলের সাথে পরিচিত হয়েছি। 
- আবুল ফজলের মতে প্রাচীনকালে এই বঙ্গ অঞ্চলের রাজারা ১০ গজ উঁচু ও ২০ গজ চওড়া প্রকাণ্ড ‘আল বা বাঁধ’ নির্মাণ করতেন।
-  এ থেকে বঙ্গ+আল=বঙ্গাল, বাঙ্গাল বা ‘বাঙ্গালা' নাম হয়েছে। 
- তবে একথা ঠিক মুসলিম আমলের পূর্বে ‘বঙ্গ’ ও বাঙ্গালা বাংলার অংশ বিশেষের নাম ছিল।
-  আবুল ফজল সে সময়ের বাংলার একটি সীমা এঁকেছেন।
-  তার মতে বাংলা চট্টগ্রাম থেকে রাজমহলের নিকট তেলিয়াগর্হি পর্যন্ত চারশত ক্রোশ লম্বা ছিল। 
- পূর্ব ও উত্তর দিক ছিল পাহাড়ে ঘেরা । বাংলার দক্ষিণে ছিল সাগর আর পশ্চিমে বিহার প্রদেশ। তখন প্রদেশগুলোর নাম হয় 'সুবা’। সুবা বাংলা তখনও চট্টগ্রাম থেকে তেলিয়া গর্হি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। 
- ব্রিটিশ শাসন যুগেও সীমারেখার তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। 
- তখন চট্টগ্রাম থেকে রাজমহল এবং হিমালয় পর্বত থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বাংলার বিস্তার ছিল। 
- ১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত সিলেট জেলা ছিল আসামের সাথে যুক্ত। পরে তা আবার বাংলাদেশের সাথে যুক্ত হয় ।
 
উৎস : ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩১১.
নিচের কোন এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল না?
  1. ঢাকা
  2. ফরিদপুর
  3. কুমিল্লা
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
• কুমিল্লা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১২.
পানিপথ কোন নদীর তীরে অবস্থিত ছিল?
  1. ব্রহ্মপুত্র
  2. যমুনা
  3. তিস্তা
  4. ধলেশ্বরী
ব্যাখ্যা

পানি পথের যুদ্ধ:
- পানিপথ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত।
- দিল্লি হতে পানি পথের দূরত্ব- ৯০ কি.মি.
- পানি পথে এ পর্যন্ত তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।

• পানি পথের প্রথম যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ
- পক্ষ: বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী।
- ফলাফল: ইব্রাহিম লোদী পরাজিত হন এবং নিহত হন্।
- এই যুদ্ধে প্রথম কামানের ব্যাবহার হয়।

• পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ।
- পক্ষ: আকবরের সেনাপতি বৈরাম খাঁ বনাম আফগান নেতা হিমু।
- ফলাফল: হিমু পরাজিত ও নিহত হন।

• পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৪ জানুয়ারি, ১৭৬১ সালে।
- আহমদ শাহ আবদালি বনাম মারাঠা।
- ফলাফল: মারাঠা বাহিনী পরাজিত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি।

৩১৩.
তিব্বতের রাজার অনুরোধে বৌদ্ধধর্ম প্রচারে কোন বাঙালি তিব্বত গমন করেন?
  1. ক) শুদ্ধোধন
  2. খ) কৌটিল্য
  3. গ) অতীশ দীপঙ্কর
  4. ঘ) আর্যভট্ট
ব্যাখ্যা
অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান একজন বৌদ্ধ ধর্মগুরু, পণ্ডিত ও দার্শনিক। তিনি ৯৮০ সালে মুন্সিগঞ্জের বজ্রযোগিনি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিব্বতের রাজা চ্যান চাবের একান্ত অনুরোধে বৌদ্ধধর্মের প্রসারে অতীশ দীপঙ্কর ১০৪০ খ্রিস্টাব্দে তিব্বত গমন করেন। ১০৫৩ সালে তিনি তিব্বতের লাসায় দেহত্যাগ করেন।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৩১৪.
সাত গম্বুজ মসজিদ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) আরমানিটোলা
  2. খ) মোহাম্মদপুর
  3. গ) লালবাগ
  4. ঘ) চকবাজার
ব্যাখ্যা
- সাত গম্বুজ মসজিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত। এটির নির্মাতা মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান। ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে তিনি এটি নির্মাণ করেন।
- তবে অন্য তথ্যমতে এটির নির্মাতা শায়েস্তা খানের ছেলে বুজুর্গ উদ্দিন (উমিদ)।
- বর্তমানে মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে আছে।

(তথ্যসূত্র: ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট)
৩১৫.
পাল বংশের 'শেষ মুকুটমণি' বলা হয় কোন শাসককে?
  1. ধর্মপাল
  2. দেবপাল 
  3. রামপাল
  4. গোপাল
ব্যাখ্যা

রামপাল:
- রামপালকে পালবংশের শেষ 'মুকুটমণি' বলা হয়।
- দ্বিতীয় শূরপালের পর রামপাল পাল বংশের রাজা হন।
- লিপি প্রমাণে বলা যায় তিনি ৪২ বছর  রাজত্ব করেন।
- তিনি আনুমানিক ১০৮২-১১২৪ খ্রি পর্যন্ত রাজত্ব করেন।
- প্রথম দিকে তাঁর রাজ্য বিহার ও পশ্চিম বাংলার অংশবিশেষে সীমাবদ্ধ ছিল।
- অগ্রজ দুই ভ্রাতার পর রামপাল বেশ প্রৌঢ় অবস্থায় সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তাঁর রাজত্বকাল ছিল নিঃসন্দেহে সাফল্যপূর্ণ।
- সীমিত সাম্রাজ্যের অধিপতি হয়েও উত্তর বাংলাকে পাল সাম্রাজ্যভুক্ত করে।
- তাঁর মৃত্যুর পর এই সাম্রাজ্য দ্রুত গতিতে বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যায়।

উল্লেখ্য,
- দ্বিতীয় মহীপালের রাজত্বকালের প্রধান ঘটনা ছিল উত্তর বাংলার সামন্ত বিদ্রোহ।
- 'রামচরিত' কাব্যে এই বিদ্রোহ ও বিদ্রোহোত্তর ঘটনাবলীর পাওয়া যায়।
- গোপালের উত্থানের মধ্যে দিয়ে পাল রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পাল রাজবংশ প্রায় ৪শ বছর স্থায়ী ছিল।

উৎস: ইতিহাস, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৬.
বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত কোন মূল জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত?
  1. ক) অস্ট্রোলয়েড
  2. খ) নেগ্রিড
  3. গ) মঙ্গোলয়েড
  4. ঘ) ভোটচীনীয়
ব্যাখ্যা
অস্ট্রোলয়েডঃ
- অস্ট্রোলয়েড  প্রাচীন বাংলায় একটি নৃ-গোষ্ঠী। নৃতত্ত্ববিদগণ এদেরকে আদি অস্ট্রেলীয় বলে  মনে করেন। এ জনগোষ্ঠীকে অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয়ও বলা হয়।
- প্রাচীন সাহিত্যে এরা নিষাদ নামে পরিচিত। পন্ডিতদের মতে, অস্ট্রোলয়েডদের আদি বাসস্থান মধ্য ভারত থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারত এবং সিংহল থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কাল পরিক্রমায় তাদের একটি দল আদি বাসস্থান ত্যাগ করে বাংলায় অভিবাসন করে। 

অতএব প্রদত্ত প্রশ্নের এটিই সঠিক উত্তর।

এছাড়াও,
-  নেগ্রিটো: প্রস্তরযুগে প্রাচীন ভারতের আদিম মানুষ। বাংলার প্রাচীনতম বং জনগোষ্ঠীর পরবর্তীতে আসে নেগ্রিটো জনগোষ্ঠী।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির বড় অংশ হলো মঙ্গোলয়েড।
- প্রাচীনকালে আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠীর যে চারটি শাখা এখানে বাস করতো তারা হলো- অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, নেগ্রিটো ও ভোটচীনীয়।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া
৩১৭.
নিচের কোনটি প্রাচীন বাংলার জনপদের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) পুণ্ড্র
  2. খ) বঙ্গ
  3. গ) সমতট
  4. ঘ) চট্টলা
ব্যাখ্যা
চট্টলা প্রাচীন বাংলা জনপদের অন্তর্ভুক্ত নয়। 

- প্রাচীন বাংলা জনপদসমূহ- বঙ্গ, গৌড়, সমতট, পুণ্ড্র, রাঢ় ইত্যাদি। 

উত্তীর্ণ শিলালিপি ও বিভিন্ন সাহিত্যগ্রন্থে প্রায় ১৬টি জনপদের কথা জানা যায়। তবে একেকটি জনপদের সীমা এক এক রকম ছিল। এই জনপদগুলাে ধীরে ধীরে বর্ধিত হয়ে বর্তমান বাংলার রূপ পরিস্ফুটন হয়েছে। তাই এই জনপদগুলাের গুরুত্ব অপরিসীম।

নিচে কয়েকটি উল্লেখযােগ্য জনপদের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হলাে- 

পুন্ড্র:  প্রাচীন বাংলার অন্যতম প্রধান জনপদ ছিল পুন্ড্র। বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে গঠিত পুন্ড্রদের রাজধানী ছিল পুন্ড্রনগর যা পরবর্তীকালে মহাস্থানগড় নামে পরিচিত হয়। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের মধ্যে পুন্ড্রই ছিল সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ। পাথরের চাকতিতে খােদাই করা প্রাপ্ত লিপিগুলােকেই মনে করা হয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম শিলালিপি।

বঙ্গ:  বঙ্গ নামের সাথে বাংলা নামটি জড়িয়ে আছে। এটি অতি প্রাচীন জনপদ। বর্তমান বাংলাদেশের বিক্রমপুর, ফরিদপুর, বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালির নিচু জলাভূমি পর্যন্ত ছিল বঙ্গ জনপদের বিস্তৃতি। বঙ্গ জনপদ ছিল খুবই শক্তিশালি অঞ্চল। এই বঙ্গ’ নাম থেকেই বাঙালি জাতির উৎপত্তি ঘটেছিল। 

গৌড়: প্রাচীন বাংলায় সবচেয়ে জনপ্রিয় জনপদ ছিল গৌড়। তবে এই জনপদটির প্রাথমিক অবস্থান ঠিকমতাে জানা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হয় ষষ্ঠ শতকে পূর্ব বাংলার উত্তর অংশে গৌড় রাজ্য নামে স্বাধীন এক রাজ্য। ছিল। যার রাজা ছিলেন শশাঙ্ক এবং রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। রাজা শশাঙ্ক ছিলেন শক্তিশালী রাজা।
তার শাসনামলে প্রাচীন বাংলায় গৌড় জনপদ অনেক সমৃদ্ধ হয়েছিল।

হরিকেল: সপ্তম শতকের লেখকদের বর্ণনায় হরিকেল জনপদের অবস্থান যে পূর্ব বাংলায় ছিল সেটা জানা যায়। বর্তমান সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত এই জনপদ ছিল সমৃদ্ধ। সমতট অনেকেই মনে করেন সমতট বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম। গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মােহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী অঞ্চলকেই সম্ভবত সমতট বলঅ হতাে। কামতা ছিল এর রাজধানী।

সূত্র: ২৮ পৃষ্ঠা, বাংলাদেশের ইতিহাস এবং বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৮.
কার রাজত্বকালে বাংলার উত্তরাংশে মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. সম্রাট বিন্দুসার 
  2. সম্রাট অশোক
  3. সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা
মৌর্য বংশের শাসন: 
- আলেকজান্ডারের ভারত প্রত্যাগমনের মাত্র দুই বছর পর ৩২১ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ভারতের এক বিশাল অঞ্চলের ওপর মৌর্য বংশের শাসন চালু করেন।
- বাংলার উত্তরাংশে মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (২৬৯-২৩২ খ্রিষ্টপূর্ব)।
- বাংলা তখন মৌর্যদের একটি প্রদেশে পরিণত হয়েছিল।
- প্রাচীন পুণ্ড্রনগর ছিল এ প্রদেশের রাজধানী।
- উত্তর বঙ্গ ছাড়াও মৌর্য শাসন কর্ণসুবর্ণ (মুর্শিদাবাদ), তাম্রলিপ্তি (বর্তমান পশ্চিম বঙ্গের তমলুক জেলা) ও সমতট (দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা) অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- মৌর্যরাই ছিল ভারতের প্রথম সাম্রাজ্যবাদী শক্তি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩১৯.
শাহ সুলতান বলখীর মাজার কোথায় অবস্থিত?
  1. লালমাই
  2. মহাস্থানগড়
  3. উয়ারী বটেশ্বর
  4. সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
শাহ সুলতান বলখীর মাজার:
- বিখ্যাত সাধক শাহ সুলতান মাহিসওয়ার (রঃ) একজন দরবেশ।
- তিনি বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ে সমাহিত।
- শাহ সুলতান বলখীর মাজার মহাস্থানগড়ে অবস্থিত।
- শাহ সুলতান মাহিসওয়ারের ইতিহাস অস্পষ্ট।
- কথিত আছে যে, তিনি বলখ রাজ্যের রাজার পুত্র ছিলেন এবং এজন্য তিনি বলখী নামেও পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- মহাস্থানগড় এক সময় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
- বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কি.মি উত্তরে মহাস্থানগড় অবস্থিত।
- মহাস্থানগড় বগুড়ায় জেলার করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রাচীন পর্যটন কেন্দ্র।
- এটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগর কেন্দ্র মহাস্থানগড়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩২০.
নালন্দা মহাবিহারের আচার্য কে ছিলেন?
  1. ক) হিউয়ান সাঙ
  2. খ) ক্যানিং
  3. গ) মহাস্থবীর শীলভদ্র
  4. ঘ) ফা-হিয়েন
ব্যাখ্যা
- নালন্দা ছিল প্রাচীন ভারতের মগধ রাজ্যে (অধুনা ভারতের বিহার রাজ্য) অবস্থিত একটি খ্যাতনামা মহাবিহার। 
- এটি বিহারের রাজধানী পাটনা শহরের ৯৫ কিলোমিটার (৫৯ মা) দক্ষিণপূর্বে এবং বিহার শরিফ শহরের কাছে অবস্থিত।
 -নালন্দা মহাবিহারের আচার্য ছিলেন মহাস্থবীর শীলভদ্র
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩২১.
বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদের নাম-
  1. হরিকেল
  2. তাম্রলিপি
  3. চন্দ্রদ্বীপ
  4. পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা

- বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদের নাম- 'পুণ্ড্র'।

'পুণ্ড্র' জনপদ:

- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুণ্ড্র।
- পুন্ড্র 'জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল। পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- এটি বাংলার প্রাচীনতম জনপদ।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
-এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।

৩২২.
কোন গ্রন্থে বঙ্গ জনপদের অবস্থান সম্পর্কে প্রথম ধারণা পাওয়া যায়?
  1. অর্থশাস্ত্র
  2. রঘুবংশ
  3. আইন-ই-আকবরী
  4. ঐতরেয় আরণ্যক
ব্যাখ্যা
- ‘বঙ্গ’ হলো প্রাচীন বাংলায় বসবাসকারী একটি জনগোষ্ঠী ও জনপদের নাম।
- ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠীর প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় বেদের শাখা হিসেবে রচিত ‘ঐতরেয় আরণ্যক’ গ্রন্থে।
- তবে বঙ্গের অবস্থান সম্পর্কে প্রথম ধারণা পাওয়া যায় কালিদাস রচিত ‘রঘুবংশ’ গ্রন্থে। রঘুবংশ গ্রন্থের মতে গঙ্গার দুইধারার মধ্যবর্তী স্থানে বঙ্গ জনপদের অবস্থান।
- গ্রিক লেখকগণ বঙ্গ জনপদকেই গঙ্গারিডিই হিসেবে অভিহিত করেন। ‘বঙ্গ’ শব্দ থেকেই বর্তমান ‘বাংলাদেশ’ নামের উদ্ভব হয়েছে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৩২৩.
অস্ট্রোলয়েড জাতিগোষ্ঠী প্রাচীন সাহিত্যে কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. নিগ্রো
  2. নিষাদ
  3. দ্রাবিড়
  4. দাস
ব্যাখ্যা

→ প্রাচীন সাহিত্যে অস্ট্রোলয়েডদের 'নিষাদ' নামে উল্লেখ করা হয়েছে।

অস্ট্রোলয়েড: 
- অস্ট্রোলয়েড জাতিগোষ্ঠী প্রাচীন বাংলায় একটি আদিম নৃগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত, তাদের প্রাচীন সাহিত্যে “নিষাদ” নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
- নৃতত্ত্ববিদদের মতে, এরা আদি অস্ট্রেলীয় জনগোষ্ঠীর অংশ এবং অনেক সময় অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয় বলেও অভিহিত হন।
- মধ্য ও দক্ষিণ ভারত থেকে শুরু করে সিংহল ও অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত এদের বিস্তৃতি ছিল, তবে একটি অংশ কালক্রমে বাংলায় অভিবাসন করে।
- বাংলার প্রাচীন বং ও নেগ্রিটো জাতিগোষ্ঠীর পরে এদের আগমন ঘটে।
- বর্তমান বাংলাদেশের কোল, ভীল, সাঁওতাল, মুন্ডা, মালপাহাড়ি প্রভৃতি গোষ্ঠী এদের উত্তরসূরি।
- অস্ট্রোলয়েডদের কৃষিনির্ভর সভ্যতা, ভাষা ও সামাজিক পদ্ধতির প্রভাব বাংলার সংস্কৃতিতে গভীরভাবে পরিলক্ষিত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৩২৪.
বাংলার প্রাচীনতম জনপদ কোনটি?
  1. বঙ্গ জনপদ
  2. পুণ্ড্র জনপদ
  3. বরেন্দ্র জনপদ
  4. সমতট জনপদ
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র জনপদ:
- বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদ হলো পুণ্ড্র।
- বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অবস্থান ভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে পুণ্ড্র জনপদ।
প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়।

অপরদিকে,
বঙ্গ জনপদ:
- প্রাচীন বাংলা কতগুলো অঞ্চল বা জনপদে বিভক্ত ছিল।
- এর মধ্যে 'বঙ্গ' জনপদ ছিল অন্যতম।
- বর্তমান বরিশাল, ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাখেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর নীচু জলাভূমি নিয়ে 'বঙ্গ' জনপদ গঠিত ছিল।
- এই অঞ্চলে বসবাসকারী 'বঙ্গ' জনগোষ্ঠী থেকে 'বঙ্গ' নামের উৎপত্তি ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়।

বরেন্দ্র জনপদ:
- রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর এবং ভারতের মালদহ, মুর্শিদাবাদের কিছু অংশ, দার্জিলিং ও কোচবিহার এক সময় এ জনপদের আওতায় ছিল।

সমতট জনপদ:
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ।
- বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী একসময় সমতট নামে পরিচিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩২৫.
কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন কে?
  1. বল্লাল সেন
  2. বিজয় সেন
  3. হেমন্ত সেন
  4. লক্ষ্মণ সেন
ব্যাখ্যা

কৌলিন্য প্রথা ও বল্লাল সেন:
- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, কৌলিন্য প্রথার সাথে বল্লাল সেনের সম্পর্কের তেমন কোনো যুক্তিযুক্ত ভিত্তি নেই।
- বাংলাদেশে কৌলিন্য প্রথার বহুল প্রচলন দেখা যায় আঠারো ও উনিশ শতকে।
- বল্লাল সেন তাঁর পিতার ন্যায় শৈব ছিলেন।
- ধর্মপ্রচারে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল।
- তিনি তাঁর পিতার অন্যান্য উপাধির সাথে 'অরিরাজ নিঃশঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি আনুমানিক ১৮ বছর রাজত্ব করার পর বৃদ্ধ বয়সে পুত্র লক্ষণ সেনের হাতে রাজ্যভার অপর্ণ করে সস্ত্রীক ত্রিবেণীর কাছে গঙ্গাতীরে বাণপ্রস্থ অবলম্বন করে শেষ জীবন অতিবাহিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৬.
শশাঙ্কের সময়ে গৌড়ের রাজধানীর নাম কী ছিল?
  1. সুবর্ণগ্রাম
  2. কর্ণসুবর্ণ
  3. কর্ণাটক
  4. কোটিবর্ষ
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩২৭.
কৈবর্ত্য বিদ্রোহের সময় সেন বংশের কোন রাজা রামপালকে সাহায্য করেন?
  1. ক) সমান্ত সেন
  2. খ) বল্লাল সেন
  3. গ) হেমন্ত সেন
  4. ঘ) বিজয় সেন
ব্যাখ্যা
• হেমন্ত সেনের মৃত্যুর পর তার পুত্র বিজয় সেন (১০৯৮-১১৬০ খ্রিষ্টাব্দে) সিংহাসনে আরোহণ করেন। তার সুদীর্ঘ রাজত্বকালই সেন বংশের শাসনের শক্তিশালী ভিত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিল।

কৈবর্ত্য বিদ্রোহের সময় বিজয় সেন রামপালকে সাহায্য করেন। বরেন্দ্র উদ্ধারে রামপালকে সাহায্য করার বিনিময়ে বিজয় সেন স্বাধীনতার স্বীকৃতি পান। 

• রাঢ় শূর বংশের রাজকন্যা বিলাসদেবীকে তিনি বিয়ে করেন এবং বৈবাহিক আত্মীয়তার সূত্র ধরে রাঢ় বিজয় সেনের অধিকারে আসে।


উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩২৮.
বিক্রমশীলা মহাবিহারের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. দেবপাল
  2. মহীপাল
  3. গোপাল
  4. ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
• বিক্রমশীলা মহাবিহার: 
- বিক্রমশীলা মহাবিহার পালরাজ ধর্মপাল প্রতিষ্ঠিত একটি বৌদ্ধ মঠ।
- এর সমর্থন মেলে সর্বজ্ঞ মিত্র-এর ‘স্রগ্ধরা স্তোত্র’ (Sragdhara Stotra) সূত্রে, যেখানে এটিকে ‘শ্রীমদ্বিক্রমশীলাদেব মহাবিহার’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- রাজা ধর্মপাল গৌরবময় ‘বিক্রমশীলাদেব’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন বলে জানা যায়।
- সন্ন্যাসীদের বসবাসের জন্য বুদ্ধদেব পাঁচ ধরনের বাসস্থান নির্দেশ করেছিলেন বলে জানা যায়।
- বিহার ছিল এগুলির মধ্যে একটি।
- বিহারগুলি ধীরে ধীরে বেশ বড়সড় আবাসস্থলে পরিণত হয় এবং সন্ন্যাসীরা সেখানে সম্মিলিতভাবে জীবনযাপন করতেন।
- প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে বর্তমানে বিক্রমশীলা মহাবিহারের অবস্থান বিহারের ভাগলপুর জেলার অন্তিচক নামক স্থানে নির্দিষ্ট হয়েছে।
- খ্রিস্টীয় নবম শতকের প্রথম দিক থেকে বারো শতক পর্যন্ত এর নির্মাণকাজ চলে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৩২৯.
শশাঙ্ক আনুমানিক কোন সালে স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ৫৯৮ খ্রি.
  2. ৬০৬ খ্রি.
  3. ৬২০ খ্রি.
  4. ৬৩৭ খ্রি.
ব্যাখ্যা

রাজা শশাঙ্ক:
- বাংলার ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- তিনি বাংলার বাইরেও রাজ্য জয় করে এক বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
- শশাঙ্ক উত্তর ভারতের রাজনীতিতেও ভূমিকা পালন করেছিলেন। 
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী। বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩০.
'অদ্ভূত সাগর' এর রচনা সমাপ্ত করেন কে?
  1. বিজয় সেন
  2. বল্লাল সেন
  3. লক্ষণ সেন
  4. কেশব সেন
ব্যাখ্যা
- লক্ষণ সেনের শাসনামলে শিল্প সাহিত্যের যথেষ্ট প্রসার ঘটেছিল।
- তিনি কবি-সাহিত্যিকদের যথেষ্ট মর্যাদা দিতেন।
- এক্ষেত্রে ধোয়ী, শরণ, জয়দেব, গোবর্ধন, উমাপতিধর প্রমুখ কবির নাম উল্লেখ করা যায়।
- লক্ষণ সেন নিজেও পন্ডিত ব্যক্তি ছিলেন।
- তিনি বল্লাল সেনের অসমাপ্ত বই 'অদ্ভূত সাগর' এর রচনা সমাপ্ত করেন।
- মধ্যযুগের মুসলিম ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজ লক্ষণ সেনের এসব কাজের প্রশংসা করেন।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩১.
Which of the following areas was included in Harikal township?
  1. Cumilla
  2. Sylhet
  3. Noakhali
  4. Dhaka
ব্যাখ্যা
হরিকেল:
- হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উলিণ্ঢখিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, জনপদগুলোর নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ণয় করা বা যুগে যুগে তাদের সীমার বিস্তার ও সংকোচনের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দুরূহ কাজ।
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩২.
কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট কে ছিলেন?
  1. কণিষ্ক
  2. অশোক
  3. শশাঙ্ক
  4. কুজলা
ব্যাখ্যা

কুষাণ যুগ:
- যে সকল বিদেশি জাতি ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিল তাদের মধ্যে কুষাণদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- কুষাণরা ছিল ইউ-চি জাতির একটি শাখা।
- কুষাণ শাখার নেতা কুজলা কদফিসেস কর্তৃক খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দ নাগাদ পাঁচটি শাখায় বিভক্ত ইউ-চিরা ঐক্যবদ্ধ হয়।
- তিনি কাবুল, সোমায়ার, কাশ্মির অধিকার করেন।
- তাঁর পুত্র বিম কদফিসেস সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সাম্রাজ্য মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্থান থেকে সিন্ধু উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কণিষ্ক।
- ৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের বাইরে বর্তমান সোভিয়েত তুর্কিস্থানের এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশও তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- পুরুষপুর বা বর্তমান পেশোয়ার তাঁর রাজধানী ছিল।
- বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রাজকর্মচারীদের মাধ্যমে এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম 'মহাযান' ও 'হীনযান' -এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- ২৩ বছর রাজত্ব করার পর কণিষ্ক ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৩.
বর্তমানে অস্তিত্বশীল পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন শহর কোনটি?
  1. ক) কানকুন
  2. খ) হামা
  3. গ) কেসাং
  4. ঘ) জেরিকো
ব্যাখ্যা
ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরে অবস্থিত জেরিকো শহরকে পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো শহর বিবেচনা করা হয়। খ্রিস্টপূর্ব প্রায় নয় হাজার বছর আগে এখানে বসতি স্থাপিত হয়।
(সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান)
৩৩৪.
পাল বংশের রাজাগণ কত বছর শাসন করেন?
  1. ২০০ বছর
  2. ৩০০ বছর
  3. ৫০০ বছর
  4. ৪০০ বছর
ব্যাখ্যা

- গোপাল প্রতিষ্ঠিত রাজবংশের নাম পাল বংশ।
- গোপালের পিতার নাম বপ্যট।
- পিতামহ ছিলেন দয়িতবিষ্ণু।
- গোপালের সিংহাসনে আরোহণের মধ্য দিয়ে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পাল রাজত্বের শুরু হয়।
- পাল বংশের রাজাগণ একটানা চার'শ বছর শাসন করেন। 
- গোপাল সিংহাসনে আরোহণ করে রাজ্য বিস্তারে মনোযোগ দেন।
- তিনি বাংলার উত্তর এবং পশ্চিমের বিরাট অংশই রাজ্যভুক্ত করেন।
- ইতিহাস গবেষকগণের অনেকেই মনে করেন, গোপাল ৭৫০ থেকে ৭৮১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজ্য শাসন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।

৩৩৫.
বাংলা ভাষায় লিখিত প্রথম তাম্রলিপি কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) ১৯৩১ সালে
  2. খ) ১৮৩১ সালে
  3. গ) ১৭৩১ সালে
  4. ঘ) ১৬৩১ সালে
ব্যাখ্যা
তাম্রলিপি:

- ১৯৩১ সালে ওড়িশার বালাশোর জেলায় আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষায় লিখিত প্রথম তাম্রলিপি।
- প্রাচীনকালে তামার পাতের ওপর দলিল,চুক্তি ও প্রয়োজনীয় বিষয় লেখা হতো।তামার পাতের ওপর লেখা এসব দলিলই ইতিহাসে তাম্রলিপি বা তাম্রশাসন নামে পরিচিত।
- তামার পাতে লিপিবদ্ধ করার পর তাতে রাজকীয় সিল দেওয়া হতো।
- ৪৯ লাইনে লিখিত এই তাম্রলিপি থেকে ‘কম্বোজ বংশ-তিলক’-এর পরিচিতিমূলক বর্ণনা পাওয়া যায়।
- এই তাম্রলিপিটি দশ শতকের দ্বিতীয় ভাগে লিপিবদ্ধ করা হয়। ইর্দা তাম্রলিপি বা তাম্রপত্র নামে এটি পরিচিত।
- ওড়িশার বালাশোরে আরো একটি লিপির সন্ধান পাওয়া যায়। কলন্দ গ্রামে পাওয়ায় এর নাম ‘কলন্দ তাম্রলিপি’ দেওয়া হয়।
- তৃতীয় তাম্রলিপি হিসেবে ‘ভাতুরিয়া তাম্রলিপি’ নামে কম্বোজদের আরো একটি তাম্রপত্র পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ,১৭ মার্চ ২০১৯।
৩৩৬.
বাংলায় সেন বংশের শাসনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন কে?
  1. সামন্ত সেন
  2. হেমন্ত সেন
  3. বিজয় সেন
  4. বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা
সেন বংশের পরিচয়: 
- সেন বংশের পূর্বপুরুষরা কর্ণাটক থেকে বাংলার রাঢ়ভূমিতে এসে বসবাস শুরু করেন পাল যুগে।
- সামন্ত সেন সেই বংশে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও তার বাল্য ও যৌবনকাল কেটেছিল কর্ণাটকে, সেখানে কয়েকটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে খ্যাতিও অর্জন করেছিলেন।
- কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে রাঢ়দেশে এসে আশ্রমবাসে বসবাস করেন।
- তার পুত্র হেমন্ত সেন দ্বিতীয় মহীপালের রাজত্বকালে ভ্রাতৃবিরোধ ও সামন্ত বিরোধের সুযোগ নিয়ে রাঢ় অঞ্চলে সামন্ত (জমিদার) হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- তিনি বাংলায় সেন বংশের শাসন শুরু করলেও তাঁর পুত্র বিজয় সেনই বাংলায় সেন বংশের শাসনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।
- পাল শাসনামলের ভগ্নদশার সুযোগ নিয়ে বিজয় সেন (১০৯৭-১১৬০ খ্রি.) মহাধিরাজ উপাধি ধারণ করে বাংলায় সেন শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৭.
তালপাতার পুঁথিচিত্র কোন যুগের নিদর্শন?
  1. পাল যুগ
  2. গুপ্ত যুগ
  3. মৌর্য যুগ
  4. কুষাণ যুগ
ব্যাখ্যা

পাল রাজবংশ:
- প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে পাল রাজবংশ দীর্ঘকাল শাসন করেছে।
- সুশাসন, জনকল্যাণ, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, উন্নত জীবনবোধ ইত্যাদি বাংলায় সর্বপ্রথম পালরাই প্রতিষ্ঠিত করে।
- পাল রাজারা বাংলা ও বিহার অঞ্চলে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রায় চারশ বছর শাসন করেছেন।
- নৈরাজ্য ও চরম অরাজকতার হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করে গোপাল নামক এক উচ্চবর্গীয় ব্যক্তি এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- ধর্মপাল, দেবপাল, মহিপাল নামে অনেক পাল রাজারা বাংলা শাসন করেছেন।
- তালপাতার পুঁথিচিত্র পাল যুগের নিদর্শন।
- তালপাতার উপরে চিত্রসম্বলিত বৌদ্ধ গ্রন্থ অষ্টসাহস্রিকা-প্রজ্ঞাপারমিতা পান্ডুলিপির বারোটি রঙ্গিন চিত্র বঙ্গীয় চিত্রকলার প্রাচীনতম নিদর্শন। 
- বর্তমানে দুর্লভ এই পান্ডুলিপি কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটিতে সংরক্ষিত আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৩৩৮.
বাংলার প্রথম সেন রাজা কে?
  1. ক) সামন্ত সেন
  2. খ) বিজয় সেন
  3. গ) হেমন্ত সেন
  4. ঘ) বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা
- বাংলায় সেন রাজত্বের সূচনা হয় একাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে। সেনদের আদিনিবাস ছিলো দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটকে।
- সেনরা প্রথমে ছিলো ব্রাহ্মণ এবং পরবর্তীতে পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় হয়ে যায়। যার কারণে এরা ‘ব্রহ্মক্ষত্রিয়’ নামে পরিচিত।
- বাংলায় ‘সেন বংশের পত্তন’ করেন সামন্ত সেন। কিন্তু তিনি কোন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেননি। তাই তার পুত্র হেমন্ত সেনকে বাংলার ‘প্রথম সেন রাজা’ বিবেচনা করা হয়।
- বিজয় সেন ‘সর্বশ্রেষ্ঠ সেন রাজা’ হিসেবে বিবেচিত।
- ১২০৪ সালে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি বাংলার সর্বশেষ সেন রাজা (১২০৪ সাল পর্যন্ত) লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
- তবে বিক্রমপুরকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলায় প্রায় ১২৩০ সাল পর্যন্ত সেন শাসন বিরাজমান ছিলো। এ সময়ের সেন রাজাদের মধ্যে রয়েছে বিশ্বরূপ সেন ও কেশব সেন।
- সেন শাসনামলে হিন্দু সমাজে কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তিত হয়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৩৯.
নিচের কোন শাসক 'শকারি' উপাধি গ্রহণ করেন?
  1. সমুদ্রগুপ্ত
  2. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
  3. প্রথম কুমারগুপ্ত
  4. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত:
- সমুদ্রগুপ্তের উত্তরাধিকারী হিসাবে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত এক বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করেন।
- পশ্চিম ভারত থেকে শকদের বিতাড়ন তার মুখ্য সামরিক কৃতিত্ব।
- এ কারণে তিনি 'শকারি' উপাধি গ্রহণ করেন।
- অন্যান্য দিকে তিনি সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ এবং দৃঢ় শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে তিনি নাগ ও বাকাটক বংশীয় রাজাদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করেন।
- মহাকবি কালিদাসসহ অনেক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি তাঁর সভা অলঙ্কৃত করেছিলেন।
- শৌর্য-বীর্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক উন্নতির পরিচয় বহন করে তাঁর রাজত্বকাল।
- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তই সম্ভবত কিংবদন্তীর বিক্রমাদিত্য। তাঁর রাজত্বকালে চৈনিক পর্যটক ফা-হিয়েন ভারত সফর করেন।
- ফা-হিয়েনের বিবরণে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সময়কার আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জীবনচিত্রের অনেকটাই বিধৃত হয়ে আছে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪০.
'বেদ' নিম্নের কোন জাতির প্রধান ধর্মগ্রন্থ ছিল?
  1. ক) নেগ্রিটো
  2. খ) অস্ট্রিক
  3. গ) আর্য
  4. ঘ) দ্রাবিড়
ব্যাখ্যা
- সিন্ধু সভ্যতার পতনের পর একটি জাতি ভারতে প্রবেশ করতে থাকে। 
- ইতিহাসে এরা আর্য নামে পরিচিত। 
- আর্যদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম বেদ। 
- বেদের ধর্ম খুব নিষ্ঠার সাথে পালন করতো আর্যরা। 
- বেদের অনুসারী এই আর্যরা ভারতে গড়ে তোলে এক সভ্যতা। 
- ইতিহাসে তা আর্য সভ্যতা বা বৈদিক সভ্যতা নামে পরিচিত। 
- বেদ শুধু ধর্ম গ্রন্থই ছিল না। এতে সাহিত্যের গুণও ছিল। 
- এভাবে আর্য সভ্যতা ভারতবর্ষে এক উন্নত সাহিত্যের জন্ম দেয় যা বৈদিক সাহিত্য নামে পরিচিত। আর্য সভ্যতা সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনে একটি নতুন ধারণার জন্ম দিয়েছিল। 
- এই সভ্যতাই ধাতু যুগের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় ভারতকে।
- বেদের এর অপরনাম শ্রুতি। এর কারণ, লিপিবদ্ধ হওয়ার আগে দীর্ঘকাল বেদ ছিল মানুষের স্মৃতিতে বিধৃত। 
 
উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
 
৩৪১.
ধর্মপাল কোন ধর্মাবলম্বী ছিলেন?
  1. হিন্দু
  2. বৌদ্ধ
  3. জৈন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- ধর্মপাল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং বৌদ্ধ ধর্মের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ধর্মপাল:
- পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন ধর্মপাল।
- ধর্মপাল বাংলার পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা।
- পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের পুত্র ও উত্তরাধিকারী ধর্মপাল পালদের উদীয়মান প্রতিপত্তির যুগের সূচনা করেন।
- পাল শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল গোপালের হাত ধরে।
- গোপাল রাজ্য প্রতিষ্ঠার সূচনা করলেও পাল সাম্রাজ্যকে সুসংহত করেন গোপালের পুত্র ধর্মপাল।
- ধর্মপাল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন।
- বিক্রমশীল বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের কৃতিত্ব তাঁর।
- নয় শতক থেকে বারো শতক পর্যন্ত সমগ্র ভারতে এটি ছিল বৌদ্ধদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র।
- এছাড়া পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারও ধর্মপালের আরেক কীর্তি।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৩৪২.
Which port city in ancient Bengal has been discovered in Ptolemy's world map?
  1. ক) Satgaon
  2. খ) Tamralipi
  3. গ) Chittagong
  4. ঘ) Sonargaon
ব্যাখ্যা
• গ্রিক পন্ডিত টলেমির মানচিত্রে বাংলায় তমলিটিস নামে একটি বন্দরনগরীর উল্লেখ পাওয়া যায়, যেটি প্রাচীন বাংলার তাম্রলিপ্তি বা তাম্রলিপ্ত বন্দরেরই অন্য নাম বলে মনে করা হয়।
- বন্দরটির অবস্থান নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মোটামুটিভাবে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনিপুর জেলায় বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী রূপনারান নদীর মোহনায় অবস্থিত তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- এছাড়া স্বরস্বতী নদীর মোহনায় অবস্থিত সপ্তগ্রাম বা সাতগাঁও এবং কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত চট্টগ্রাম বন্দর প্রাচীন ও মধ্যযুগেই বহির্বিশ্বে বেশ পরিচিত ছিল।
- সুলতানি আমলে বাংলা ভ্রমণকারী ইবনে বতুতা ও চীনা পর্যটকদের বর্ণনা থেকে জানা যায় তাঁরা চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে নদীপথে সোনারগাঁও বন্দরে উপস্থিত হয়েছিলেন।
- মুগল আমলে ঢাকায় রাজধানী স্থাপিত হলে বাংলার প্রধান অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর হিসেবে সোনারগাঁও গুরুত্ব হারায়।

তথ্যউৎস:- বাংলাপিডিয়া।
৩৪৩.
Which township was mentioned in the ''Aitareya Upanishad''?
  1. Harikel
  2. Gour
  3. Samatat
  4. Bango
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৪.
সমুদ্রগুপ্তের ইতিহাসের প্রধান উৎস কোনটি?
  1. সুসুনিয়া লিপি
  2. এলাহাবাদ প্রশস্তি লিপি
  3. গয়ালিপি
  4. এরণ লিপি
ব্যাখ্যা
সমুদ্রগুপ্ত:
- সমুদ্রগুপ্ত সম্ভাব্য ৩৩৫ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং ৩৮০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে তাঁর মৃত্যু হয়।
- প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে রাজ্য বিজেতারূপে যে সকল সম্রাট খ্যাতি লাভ করেছেন, সমুদ্রগুপ্ত তাঁদের মধ্যে প্রথম সারিতে স্থান পেয়েছেন।
- উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত গাঙ্গেয় উপত্যকার স্থানীয় একটি রাজ্যকে তিনি সর্বভারতীয় এক সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
- প্রাচীন ভারতের তৃতীয় সাম্রাজ্যবাদী পুরুষ হিসাবে সমুদ্রগুপ্ত বিখ্যাত।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজ্যজয় সম্পর্কে হরিষেণ রচিত এলাহাবাদ প্রশস্তিতে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।
- এলাহাবাদ প্রশস্তি লিপি সমুদ্রগুপ্তের ইতিহাসের প্রধান উৎস।
- আর্যাবর্তের সকল রাজাকে পরাজিত করে তিনি 'সর্বরাজোচ্ছেত্তা' উপাধি গ্রহণ করেন।
- সমুদ্রগুপ্তের সাম্রাজ্য ছিল প্রভুত্ব ও স্বায়ত্ত্বশাসনের এক অপূর্ব সমন্বয়।
- দিগ্বিজয় সম্পন্ন করে তিনি 'অশ্বমেধযজ্ঞ' অনুষ্ঠান করেন এবং এই যজ্ঞের স্মৃতিরক্ষায় স্বর্ণমুদ্রা প্রচলন করেন।
- তিনি ছিলেন প্রচন্ড সাম্রাজ্যবাদী।
- ড. স্মিথ সম্ভবত এ কারণেই সমুদ্রগুপ্তকে 'ভারতীয় নেপোলিয়ন' আখ্যা দিয়েছেন।
- ভারতের জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিকগণ মনে করেন, আসমুদ্রহিমাচল বিস্তৃত ভারতভূমিকে এক শাসনে আবদ্ধ করাই ছিল সমুদ্রগুপ্তের লক্ষ।
- কুষাণ সাম্রাজ্যের পতনের পর ভারতের রাজনীতিতে যে শক্তিশূন্যতা দেখা দেয় গুপ্ত সাম্রাজ্য তা দূর করে।
- সমুদ্রগুপ্ত ছিলেন সাধুব্যক্তিদের আশাস্বরূপ, আর অসাধুদের জন্য প্রলয়। হরিষেণ সমুদ্রগুপ্তকে মানুষের আকৃতিতে দেবতা তুল্য 'অচিন্ত্যপুরুষ' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৫.
ঢাকা শহরের গোড়াপত্তন হয় -
  1. ক) ব্রিটিশ আমলে
  2. খ) সুলতানি আমলে
  3. গ) স্বাধীন নবাবী আমলে
  4. ঘ) মুঘল আমলে
ব্যাখ্যা
• মুঘল আমল:
 - বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মোঘল-পূর্ব যুগে কিছু গুরুত্বধারন করলেও শহরটি ইতিহাসে প্রসিদ্ধি লাভ করে মুঘল আমলে
- আকবর নামা গ্রন্থে ঢাকা একটি থানা (সামরিক ফাঁড়ি) হিসেবে এবং আইন-ই- আকবরী গ্রন্থে সরকার বাজুহার একটি পরগনা হিসেবে ঢাকা বাজু উল্লিখিত হয়েছে।
- ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে ইসলাম খান চিশতি সুবাহ বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামানুসারে এর নামকরণ করে জাহাঙ্গীরনগর।
- প্রশাসনিকভাবে জাহাঙ্গীরনগর নামকরণ হলেও সাধারণ মানুষের মুখে ঢাকা নামটিই থেকে যায়। সকল বিদেশী পর্যটক এবং বিদেশী কোম্পানির কর্মকর্তারাও তাদের বিবরণ এবং চিঠিপত্রে ঢাকা নামটি ব্যবহার করেন।
- ঢাকার সমৃদ্ধি ও স্থাপত্য সমূহ মূলত মুঘল যুগেই শুরু হয়।

উৎস:- ঢাকা জেলার ওয়েবসাইট ও মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই।
৩৪৬.
হরিকেল জনপদ বিস্তৃত ছিল -
  1. ঢাকা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত
  2. কুমিল্লা থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত
  3. সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত
  4. নোয়াখালী থেকে ঢাকা চট্টগ্রাম পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
হরিকেল:
- এই জনপদ সম্পর্কে প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
- হরিকেল জনপদ বিস্তৃত ছিল: সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উলিণ্ঢখিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, জনপদগুলোর নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ণয় করা বা যুগে যুগে তাদের সীমার বিস্তার ও সংকোচনের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দুরূহ কাজ।
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৭.
সেন বংশের কোন রাজা কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন?
  1. লক্ষণ সেন
  2. হেমন্ত সেন
  3. বিজয় সেন
  4. বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা

• সেন বংশ: 
- সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হেমন্ত সেন। 
- বাংলায় পাল যুগের অবসানের পর বার শতকের শেষের দিকে সেন বংশের শাসনের সূচনা হয়।
- সেন বংশের শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হেমন্ত সেন হলেও বিজয় সেনের সময়েই বাংলাদেশে সেন বংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- সেন বংশের অন্যতম শাসক বল্লাল সেন যিনি কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন বলে মনে করা হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় অনেকটা অস্বীকার করা হয়েছে।
- সেন বংশের সর্বশেষ শাসক লক্ষ্মণ সেন ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজির আক্রমণে নদীয়া ত্যাগ করেন এবং বাংলায় সেন বংশের শাসনের পতন হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৮.
ফা-হিয়েন কোন ধর্মের তীর্থযাত্রী ছিলেন?
  1. হিন্দু ধর্ম
  2. শৈব ধর্ম
  3. বৌদ্ধ ধর্ম
  4. খ্রিস্ট ধর্ম
ব্যাখ্যা

• ফা-হিয়েন:
- ফা-হিয়েন প্রাচীন চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
- তিনি মধ্য এশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকা ভ্রমণ করেন ও তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করেন।
- ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি যখন ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তখন তাঁর বয়স সম্ভবত ৬৪ বছর।
- তিনি তাঁর ভ্রমণের অধিকাংশ সময়ই মধ্য ভারত বা মগধ পরিভ্রমণ অতিবাহিত করেন।
- তাঁর গন্তব্যস্থল ছিল সে সময়ের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বন্দর তাম্রলিপ্তি (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত তমলুক)।
উল্লেখ্য,
- চিনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শাসনকালে গৌতমবুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন।
- ফা-হিয়েনের বর্ণনায় পাটলীপুত্র, তাম্রলিপ্তি, তক্ষশীলা, সারনাথ, মথুরা, পেশোয়ার, কুশীনগরসহ বেশ কিছু প্রসিদ্ধ স্থানের বিবরণ আছে।
- তাঁর ভ্রমণ কাহিনী থেকে গুপ্তযুগীয় ভারতের আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় এবং পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক অবস্থার কিছু চিত্র পাওয়া যায়, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- ফা-হিয়েন গুপ্ত শাসনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। 

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।

৩৪৯.
বাংলার আদি ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে কাদের সংখ্যায় বেশি ছিল?  
  1. আর্য
  2. অষ্ট্রিক 
  3. মঙ্গোলীয়
  4. ককেশীয়
ব্যাখ্যা

• বাঙালি জাতি:
- বাঙালি জাতি একটি মিশ্রিত জাতি, যা নানা যুগে বিভিন্ন নরগোষ্ঠীর মেলবন্ধনের ফলে গঠিত হয়েছে। 
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, বাংলায় পৃথিবীর চারটি প্রধান নরগোষ্ঠীর (নিগ্রীয়, মঙ্গোলীয়, ককেশীয় ও অষ্ট্রেলীয়) শাখার আগমন ঘটেছে।
- বাংলার প্রাচীন জনগুলির মধ্যে অষ্ট্রিক ভাষীরাই সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাচীন সময়ে আদি অষ্ট্রেলীয় জনগোষ্ঠী—যেমন সাঁওতাল, বাঁশফোড়, রাজবংশী—এ অঞ্চলে বাস করত। 
- পরবর্তীতে আর্য, পারস্য-তুর্কিস্তান, গুপ্ত, সেন, বর্মণ, তুর্কি, আফগান, মুগল, ইংরেজ, আর্মেনীয় প্রভৃতি বহু জাতির আগমন বাঙালি রক্তে নতুন মিশ্রণ ঘটায়।
- এমনকি পাকিস্তান যুগ ও বর্তমান বিশ্বায়নের সময়েও এই শংকর প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
- সুতরাং, বাঙালি জাতি ইতিহাসভিত্তিক ও বৈচিত্র্যময় রক্তের মিশ্রণের ফলশ্রুতিতে একটি শংকর জাতি হিসেবে পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৩৫০.
বাংলাদেশের আদি অধিবাসীদের মধ্যে দ্বিতীয় প্রাচীনতম -
  1. ক) নেগ্রিটো
  2. খ) অস্ট্রিক
  3. গ) মোঙ্গলীয়
  4. ঘ) দ্রাবিড়
ব্যাখ্যা
• আদি অধিবাসী:
- পৃথিবীর বহু জাতি বাংলায় অনুপ্রবেশ করেছে, অনেকে আবার বেরিয়েও গেছে, তবে পেছনে রেখে গেছে তাদের আগমনের অকাট্য প্রমাণ।
- প্রাচীনকালে আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠীর যে চারটি শাখা বাংলায় বাস করতো তারা হলো:
- অস্ট্রিক,
- দ্রাবিড়,
- নেগ্রিটো ও
- ভোটচীনীয়।

• সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয় অনুসারে -
এ অঞ্চলে প্রথম অস্ট্রিক জনগোষ্ঠীর লোকরা আসে এবং সেটি সম্ভবত পাঁচ-ছয় হাজার বছর পূর্বে ইন্দোচীন থেকে।

• সরকারি সাইট শিক্ষক বাতায়ন (teachers.gov.bd) অনুসারে -
এ অঞ্চলে প্রথম আসে নিগ্রপ্রতিম খর্বাকায় মানুষ, যাদেরকে নেগ্রিটো বলা হয়।

• বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুসারে - 
বাংলার প্রাচীনতম বং জনগোষ্ঠীর পরবর্তী নেগ্রিটো জনগোষ্ঠীর পরে  বাংলায় অস্ট্রোলয়েডদের আগমন ঘটে বলে অনুমিত হয়।

*** বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুসারে আমরা প্রাচীন জনগোষ্ঠীর হিসেবে প্রথমে নেগ্রিটো এবং দ্বিতীয় হিসেবে অস্ট্রিক বা অস্ট্রলয়েড গ্রহণ করছি।
সে অনুসারে সঠিক উত্তর হবে - অস্ট্রিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৫১.
নৃতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত কোন নরগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) নার্কিড
  2. খ) মঙ্গোলীয়
  3. গ) অ্যালপাইন
  4. ঘ) আদি-অস্ট্রেলীয়
ব্যাখ্যা
• নরগোষ্ঠী:
- অস্ট্রোলয়েড প্রাচীন বাংলায় একটি নৃ-গোষ্ঠী।
- নৃতত্ত্ববিদগণ বাংলাদেশের মানুষদের আদি অস্ট্রেলীয় বলে মনে করেন।
- এ জনগোষ্ঠীকে অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয়ও বলা হয়।
- প্রাচীন সাহিত্যে এরা নিষাদ নামে পরিচিত।

- বাংলাদেশের প্রাচীন জাতি হলো দ্রাবিড়।
- বাংলার আদি জনগণের অধিবাসিরা নিষাদ জাতির অন্তর্ভুক্ত।
- বাংলা আদি অধিবাসীগণ অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির বড় অংশ হলো মঙ্গোলয়েড।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেনি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫২.
ফা হিয়েনের আগমনকালে ভারতের রাজা ছিলেন -
  1. ক) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  2. খ) হর্ষবর্ধন
  3. গ) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
  4. ঘ) গিয়াস উদ্দীন আজম শাহ
ব্যাখ্যা
• ফা-হিয়েন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (৩৮০-৪১৩খ্রি.) এর সময় বাংলায় আসেন।
• ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে ফা-হিয়েন ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন।
• গোবি, খোটান, পামির মালভূমি এবং গান্ধারন দেশ অতিক্রম করে তিনি ৪০১ খ্রিস্টাব্দে ভারতে প্রবেশ করেন।
• তিনি টানা ১০ বছর ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেছিলেন।
• ফা-হিয়েনের ভ্রমন বৃত্তান্ত ‘ফো-কুয়ো-কিং’ নামে পরিচিত।
• এটি ভারতের ইতিহাসের একটি বিশিষ্ট ও প্রামাণ্য দলিল।

অন্যদিকে,
▪ বিখ্যাত চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন।
▪ মা হুয়ান চীনা পরিব্রাজক। গিয়াস উদ্দীন আজম শাহের সময় বাংলায় আসেন।
▪ মেগাস্থিনিস (গ্রিস) রাজকীয় দূত হিসেবে ভারতীয় রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের (স্যান্ড্রাকোটাস) রাজদরবারে দায়িত্ব পালন করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৫৩.
প্রাচীন 'চন্দ্রদ্বীপ' এর বর্তমান নাম কী?
  1. নোয়াখালী
  2. বরিশাল
  3. ভোলা
  4. নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা

• চন্দ্রদ্বীপ:
- প্রাচীন যুগে বাংলা কোন একক রাজ্য ছিল না।
- বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন অনেকগুলো ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল।
- যেমন: পুণ্ড্র, বরেন্দ্র, বঙ্গ, সমতট, চন্দ্রদ্বীপ, হরিকেল, রাঢ় ইত্যাদি।
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- মধ্যযুগে চন্দ্রদ্বীপ বেশ সমৃদ্ধ ছিল।
- এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।

অন্যদিকে,
• সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
• হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
• বরেন্দ্র জনপদ বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৫৪.
আর্যদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ কোনটি?
  1. পুরাণ
  2. মহাভারত
  3. বেদ
  4. রামায়ণ
ব্যাখ্যা
- আর্যদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ হলো বেদ। 

আর্য: 
- আর্যদের আদিনিবাস ছিল ইউরাল পর্বতের দক্ষিণে বর্তমান মধ্য এশিয়া - ইরানে।
- ভারতবর্ষে আর্যদের আগমন ঘটেছিল খ্রিষ্টপূর্ব ২০০ অব্দে।
- আর্যদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম বেদ। আর্য পুরোহিতগণ বেদের রচয়িতা।
- বেদের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেকের মতে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ অব্দের মধ্যে বেদের শ্লোকসমূহ রচিত হয়।
- ব্রাহ্মণদের মুখ থেকে বেদের শ্লোক শুনে অনুসারীরা পূণ্য লাভ করতো বিধায় বেদ শ্রুতি নামেও পরিচিত। পরবর্তীতে এগুলো লিখিত রূপ লাভ করে।
- বেদ রচিত হয় সংস্কৃত ভাষায়।
- ধর্মগ্রন্থের পাশাপাশি বেদের সাহিত্যগুণও ছিলো। এটিকে আর্য সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন বিবেচনা করা হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া। 
৩৫৫.
প্রাচীন বাংলার বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে কোন জনপদটি পরিচিত ছিল?
  1. চন্দ্রদ্বীপ 
  2. বঙ্গ 
  3. তাম্রলিপ্ত
  4. গৌড়
ব্যাখ্যা

• জনপদ: 
- তাম্রলিপ্ত জনপদ প্রাচীন বাংলার বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে খুবই খ্যাতি অর্জন করেছিল।
- তাম্রলিপ্ত (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার তমলুক),
- চন্দ্রদ্বীপ (বর্তমান বরিশাল জেলার অন্তর্গত),
- বঙ্গাল (বাখেরগঞ্জ ও খুলনা জেলার সমুদ্র লাগোয়া অঞ্চল) উল্লেখযোগ্য।
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি , এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৫৬.
হরিকেল জনপদের বিস্তার কোন এলাকায় ছিল?
  1. ময়নামতি থেকে কর্ণসুবর্ণ
  2. সিলেট থেকে চট্টগ্রাম
  3. রাজশাহী থেকে খুলনা
  4. কুমিল্লা থেকে বরিশাল
ব্যাখ্যা
হরিকেল:
- সপ্তম শতকের লেখকরা হরিকেল নামে অপর একটি জনপদের বর্ণনা করেছেন।
- এ জনপদের অবস্থান ছিল বাংলার পূর্ব প্রান্তে।
- আধুনিক সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই জনপদ বিস্তৃত ছিল।

অন্যদিকে,
- হরিকেলের দক্ষিণে অবস্থিত ছিল তাম্রলিপ্ত জনপদ।
- বর্তমান মেদিনীপুর জেলার তমলুকই ছিল তাম্রলিপ্তের প্রাণকেন্দ্র।
- সপ্তম শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫৭.
কৈবর্ত বিদ্রোহের নায়ক কে ছিলেন?
  1. ভারিয়ানকুন্নাথু
  2. জাতবর্মা
  3. আরাম শাহ
  4. দিব্যোক
ব্যাখ্যা
- দ্বিতীয় মহীপালের সময় বাংলার উত্তরাংশের বরেন্দ্র এলাকার সামন্তবর্গ প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
- ইতিহাসে এ বিদ্রোহ 'কৈবর্ত বিদ্রোহ' নামে পরিচিত।
- এ বিদ্রোহের নেতা ছিলেন কৈবর্ত বা মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের নেতা দিব্যোক বা দিব্য।
- বাংলার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে সংঘটিত এ বিদ্রোহে দ্বিতীয় মহীপালকে হত্যা করে বরেন্দ্র দখল করে নেয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৩৫৮.
পরীবিবির মাজার কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সোমপুর মহাবিহারে
  2. খ) লালবাগ কেল্লায়
  3. গ) জগদ্দল বিহার
  4. ঘ) রুপবান মুড়া
ব্যাখ্যা
- লালবাগ কেল্লা পুরাতন ঢাকার লালবাগে অবস্থিত।
- সতের শতকে ১৬৭৮ সালে সুবাদার আজম শাহ এটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। মাঝে এর কাজ বন্ধ হয়ে গেলে ১৬৮০ সালে শায়েস্তা খান পুনরায় এর কাজ শুরু করে এটি নির্মাণ করেন।
- লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে শায়েস্তা খানের কন্যা পরীবিবির মাজার অবস্থিত
- ১৯১০ সালে লালবাগ কেল্লা প্রত্নতত্ত্ব নির্দশন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এর আদি নাম কেল্লা আওরঙ্গবাদ।
- লালবাগে অবস্থিত হওয়ায় পরে এর নামকরণ করা হয় লালবাগ কেল্লা।

তথ্যসূত্র: প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৩৫৯.
বাংলার প্রাচীন জনপদ হরিকেল-এর বর্তমান নাম কী?
  1. নোয়াখালী
  2. সিলেট
  3. বরিশাল
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা

হরিকেল:
- হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উলি-খিত হয়েছে।
- অনেকে ধারণা করেন যে হরিকেল জনপদ ছিল না, এটি বঙ্গের সাথে যুক্ত ছিল।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।

অন্যদিকে,
- সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
-  বর্তমান বরিশাল জেলাই ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখণ্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকা নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৩৬০.
ইতিহাসবিদদের মতে, হরিকেল জনপদ কোথা থেকে কোথা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল?
  1. ঢাকা থেকে যশোর
  2. দিনাজপুর থেকে রাজশাহী
  3. সিলেট থেকে চট্টগ্রাম
  4. কুমিল্লা থেকে বরিশাল
ব্যাখ্যা
হরিকেল:
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।
- এটি হরিকেলি বা হরিকেলা নামেও পরিচিত। এর ইতিহাস ও ভৌগোলিক পরিসীমা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।
- ইতিহাসবিদদের মতে, এই জনপদ মূলত বাংলার শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট) থেকে চট্টগ্রামপর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- এর সীমানা দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও পূর্বে আরাকান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
- জনপদটি মূলত কৃষি, মৎস্য ও বাণিজ্যের জন্য ছিল ভারতবর্ষে বেশ পরিচিতি পেয়েছে।
- ধান, নারকেল, আর সুগন্ধি মসলার উৎপাদনে হরিকেল নামডাক ছিল। সমুদ্র বাণিজ্যের মাধ্যমে এখানে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হতো।
- ঐতিহাসিক নথি থেকে জানা যায়, আরব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে আসতেন।
- চীনা পর্যটক হিউয়েন সাঙ তাঁর ভ্রমণকাহিনিতে হরিকেল জনপদের বাণিজ্যিক সমৃদ্ধির উল্লেখ করেছেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬১.
কোমদের দেবতা কে ছিলেন?
  1. ক) ধর্মঠাকুর
  2. খ) ব্রক্ষা
  3. গ) বিষ্ণু
  4. ঘ) গোপাল
ব্যাখ্যা
প্রাচীন বাংলার ধর্ম:

- কোমদের দেবতা ছিলেন ধর্মঠাকুর।
- খ্রিস্টপূর্ব বার শতকের আগে বাংলার লোকালয়ের বাইরে গ্রাম-দেবতার অবস্থিতি ছিল, নানা ধরনের পূজো প্রচলিত ছিল । এ সবই কোম সমাজের পূজো।
- চাষাবাদের সাথেও নানা ধরণের দেবদেবীর পূজো জড়িত ছিল।
- রথযাত্রা, স্নানযাত্রা, দোলযাত্রা ইত্যাদি আদি যুগেরই অবদান। প্রাক-বৈদিক যুগে কোমদের ধর্মোৎসব ছিল ব্রত যা শিবপূজা যা মধুসংক্রান্তি নামেও পরিচিত।
- এ ছাড়া মনসা পূজা, জাঙ্গুলী দেবীর পূজা, পর্ণশবরী শারবোৎসব, ঘটলক্ষ্মী, ষষ্ঠীপূজা ইত্যাদি আর্যপূর্ব কৌম সমাজের অবদান।
- পাল যুগে বৌদ্ধ এবং সেন যুগে ব্ৰাহ্মণ ধর্মের জয়জয়কার অবস্থা বিরাজ করেছিল।
- পৌরাণিক ধর্ম, বৈষ্ণবধর্ম, শৈবধর্ম (হিন্দু ধর্মের বিশেষ শাখা) ও সহজিয়া ধর্মের প্রভাবও বাংলায় ঘটেছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬২.
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. পাটালিপুত্র
  2. গৌড়
  3. কর্ণ সুবর্ণ
  4. মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা

চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য:
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যই প্রাচীন ভারতে অখন্ড ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে প্রথম বড় ধরনের সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁর সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে।
- মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়।
- বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- সামাজিক ক্ষেত্রে আর্য-অনার্যের পার্থক্য ক্রমেই ঘুঁচে যেতে শুরু করে।
- শিল্প- সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হয়।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন চাণক্য।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
         ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৩.
কণিষ্কের রাজধানী ছিল -
  1. কাবুল
  2. পুরুষপুর
  3. মথুরা
  4. পাটলিপুত্তর
ব্যাখ্যা
কুষাণ যুগ:
- যে সকল বিদেশি জাতি ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিল তাদের মধ্যে কুষাণদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- কুষাণরা ছিল ইউ-চি জাতির একটি শাখা।
- কুষাণ শাখার নেতা কুজলা কদফিসেস কর্তৃক খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দ নাগাদ পাঁচটি শাখায় বিভক্ত ইউ-চিরা ঐক্যবদ্ধ হয়।
- তিনি কাবুল, সোমায়ার, কাশ্মির অধিকার করেন।
- তাঁর পুত্র বিম কদফিসেস সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সাম্রাজ্য মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্থান থেকে সিন্ধু উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কণিষ্ক।
- ৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের বাইরে বর্তমান সোভিয়েত তুর্কিস্থানের এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশও তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- পুরুষপুর বা বর্তমান পেশোয়ার তাঁর রাজধানী ছিল।
- বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রাজকর্মচারীদের মাধ্যমে এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম 'মহাযান' ও 'হীনযান' -এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- ২৩ বছর রাজত্ব করার পর কণিষ্ক ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৪.
কোন কোন অঞ্চল নিয়ে বঙ্গ জনপদ বিস্তৃত ছিল?
  1. চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা
  2. ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল
  3. রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর
  4. খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা
ব্যাখ্যা

- বঙ্গ জনপদ বিস্তৃত ছিল- ঢাকা, ফরিদপুর ,  বরিশাল অঞ্চল নিয়ে।

বঙ্গ:

→ বঙ্গ  বাংলার একটি সুপ্রাচীন মানব-বসতির স্থান বা জনপদ, যা  চৌদ্দ শতকে মুসলমান শাসনামলে পরিবর্তিত রূপে বাঙ্গালাহ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। 
→ ঐতরেয় আরণ্যক-এ সর্বপ্রথম মগধের সাথে বঙ্গ নামক একটি জনগোষ্ঠীর কথা উল্লিখিত হয়েছে।
→ মহাকবি কালীদাসের রঘুবংশ কাব্যে আছে বঙ্গের অবস্থান ও সীমানা সম্পর্কিত কিছু তথ্য।
→ তিনি 
ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলেছেন।
→ আর এ অঞ্চলই সম্ভবত টলেমির ‘গঙ্গরিডাই’।
→ প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়। একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ। বর্তমানে নাব্য বলে কোনো জায়গা নেই। অনুমান করা যায় ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
→ বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে ‘বঙ্গ’ বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
 → সুতরাং বঙ্গের এই ভৌগোলিক পরিচিতি হিন্দু ও বৌদ্ধ যুগ পেরিয়ে মুসলিম যুগের প্রাথমিক পর্যায়েতো বটেই, সম্ভবত ‘বাঙ্গালাহ’ নামের বিকাশ পর্যন্তই ছিল।

অন্যদিকে,
- হরিকেল জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল- সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকা নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- প্রাচীন ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট জনপদ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৫.
বরেন্দ্র জনপদ বলতে কোনটি বোঝায়?
  1. উত্তরবঙ্গ
  2. দক্ষিণবঙ্গ
  3. পূর্ববঙ্গ
  4. পশ্চিমবঙ্গ
ব্যাখ্যা
জনপদ:
বরেন্দ্র:
- উত্তরবঙ্গের জনপদ বরেন্দ্র।
- রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর এবং ভারতের মালদহ, মুর্শিদাবাদের কিছু অংশ, দার্জিলিং ও কোচবিহার এক সময় এ জনপদের আওতায় ছিল।
পুণ্ড্র:
- প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পুণ্ড্র।
- এ অঞ্চলের রাজধানী পুণ্ড্রনগর।
- এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়।
গৌঢ়:
- পাল রাজাদের আমলে গৌঢ়ের নাম-ডাক ছিল।
- অনেকের মতে, ভারতের মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বর্ধমানের কিছু অংশ আগে গৌঢ়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বঙ্গ:
- বৃহত্তম ঢাকা ও ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর আগে বঙ্গ জনপদের অধীনে ছিল।
সমতট:
- অনেকের মতে, বর্তমানের কুমিল্লা ও নোয়াখালী একসময় সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- কুমিল্লা শহর থেকে ১২ মাইল দূরে বড় কামতা এ জনপদের রাজধানী ছিল।
হরিকেল:
- শ্রীহট্ট (সিলেট) থেকে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার পর্যন্ত হরিকেল জনপদের সীমানা ছিল।

উৎস: ২৯ আগস্ট, ২০১৭, কালের কন্ঠ।
৩৬৬.
সম্রাট আকবর কত বছর বয়সে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন?
  1. ১২
  2. ১৩
  3. ১৪
  4. ১৬
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবর:

• সম্রাট আকবর ১৩ বছর বয়সে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
• ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি পিতা সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যুর পর তিনি জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ আকবর নাম ধারণ করে দিল্লির মোগল সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
• সম্রাট আকবর ১৫৬১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৬০১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তাঁর রাজ্য জয় ও সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
• এ সময়ের মধ্যে তিনি উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে কৃষ্ণা নদী এবং পশ্চিমে হিন্দুকুশ থেকে পূর্বে ব্রহ্মপুত্র পর্যন্ত এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
• ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে আকবর আফগান শাসক আদিল শাহ সুরের সেনাপতি হিমুকে পরাস্ত করেন।
• ১৫৬৭ খ্রিস্টাব্দে আকবর মেবারের রাজধানী চিতোর আক্রমণ করেন। 
• সম্রাট আকবর ১৫৮১ খ্রিস্টাব্দে কাবুল আক্রমণ করেন। 
• ১৬০১ খ্রিস্টাব্দে আকবর দুর্ভেদ্য দুর্গ আসিরগড় অধিকার করেন এটিই ছিল তাঁর সর্বশেষ রাজ্য জয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৭.
মুসলিম যুগে 'লক্ষ্মণাবতী' নামে পরিচিত ছিল কোন জনপদ?
  1. বঙ্গ
  2. সমতট
  3. গৌড়
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো ‘গৌড়' আবার কখনো লক্ষ্মণাবতী নামে পরিচিত ছিল।

গৌড়:
- বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো যে যুগে যুগে সীমানা সম্প্রসারণ করেছে তার বড় উদাহরণ হলো গৌড়।
- এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই সময়ে সময়ে গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
- পূর্ব ভারতীয় দেশসমূহের সামগ্রিক নাম হিসেবে এমনকি উত্তর ভারতের আর্যাবর্তের নাম হিসেবেও কখনো কখনো গৌড়ের ব্যবহার দেখা যায়।
- সর্বপ্রথম পাণিনির গ্রন্থে গৌড়ের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- সেনবংশীয় রাজারা ‘গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন।
- ব্যাপক অর্থে ‘গৌড়' বলতে অনেক সময় বাংলা ভাষাভাষী সমগ্র অঞ্চলকে বুঝাত।
- আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৮.
প্রোটেস্টান্টানিজমের সূচনা করেন কে?
  1. ক) সেন্ট অগাস্টিন
  2. খ) মার্টিন লুথার
  3. গ) থমাস একুইনাস
  4. ঘ) সেন্ট পিটার লোম্বার্ড
ব্যাখ্যা
ষোড়শ শতকে জার্মান ধর্মযাজক মার্টিন লুথার প্রচলিত পোপ নিয়ন্ত্রিত চার্চতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেন। তার এই প্রতিবাদে মাধ্যমে প্রতিবাদী খ্রিস্টধর্ম বা প্রোটেস্টানিজমের সূচনা ঘটে।
এর অংশ হিসেবে ১৫৪৩-১৫৫৫ সময়ে জার্মানিতে ক্যাথলিক ও প্রোটেস্টান্টদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়। পরবর্তীতে অগসবার্গের সন্ধির মাধ্যমে এই সংঘাত অবসান হয় এবং খ্রিস্টান প্রোটেস্টেন্ট সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে।
(সূত্রঃ আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৩৬৯.
ড. স্মিথ কোন শাসককে 'ভারতীয় নেপোলিয়ন' আখ্যা দিয়েছেন?
  1. কুমার গুপ্ত
  2. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
  3. সমুদ্রগুপ্ত
  4. শ্রীগুপ্ত
ব্যাখ্যা
সমুদ্রগুপ্ত:
- সমুদ্রগুপ্ত সম্ভাব্য ৩৩৫ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং ৩৮০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে তাঁর মৃত্যু হয়।
- প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে রাজ্য বিজেতারূপে যে সকল সম্রাট খ্যাতি লাভ করেছেন, সমুদ্রগুপ্ত তাঁদের মধ্যে প্রথম সারিতে স্থান পেয়েছেন।
- উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত গাঙ্গেয় উপত্যকার স্থানীয় একটি রাজ্যকে তিনি সর্বভারতীয় এক সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
- প্রাচীন ভারতের তৃতীয় সাম্রাজ্যবাদী পুরুষ হিসাবে সমুদ্রগুপ্ত বিখ্যাত।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজ্যজয় সম্পর্কে হরিষেণ রচিত এলাহাবাদ প্রশস্তিতে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।
- আর্যাবর্তের সকল রাজাকে পরাজিত করে তিনি 'সর্বরাজোচ্ছেত্তা' উপাধি গ্রহণ করেন।
- সমুদ্রগুপ্তের সাম্রাজ্য ছিল প্রভুত্ব ও স্বায়ত্ত্বশাসনের এক অপূর্ব সমন্বয়।
- দিগ্বিজয় সম্পন্ন করে তিনি 'অশ্বমেধযজ্ঞ' অনুষ্ঠান করেন এবং এই যজ্ঞের স্মৃতিরক্ষায় স্বর্ণমুদ্রা প্রচলন করেন।
- তিনি ছিলেন প্রচন্ড সাম্রাজ্যবাদী।
- ড. স্মিথ সম্ভবত এ কারণেই সমুদ্রগুপ্তকে 'ভারতীয় নেপোলিয়ন' আখ্যা দিয়েছেন।
- ভারতের জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিকগণ মনে করেন, আসমুদ্রহিমাচল বিস্তৃত ভারতভূমিকে এক শাসনে আবদ্ধ করাই ছিল সমুদ্রগুপ্তের লক্ষ।
- কুষাণ সাম্রাজ্যের পতনের পর ভারতের রাজনীতিতে যে শক্তিশূন্যতা দেখা দেয় গুপ্ত সাম্রাজ্য তা দূর করে।
- সমুদ্রগুপ্ত ছিলেন সাধুব্যক্তিদের আশাস্বরূপ, আর অসাধুদের জন্য প্রলয়। হরিষেণ সমুদ্রগুপ্তকে মানুষের আকৃতিতে দেবতা তুল্য 'অচিন্ত্যপুরুষ' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭০.
বাংলার কোন সুলতানের শাসনামলকে স্বর্ণযুগ বলা হয়?
  1. ক) শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  2. খ) আলাউদ্দিন হােসেন শাহ
  3. গ) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. ঘ) নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ
ব্যাখ্যা
• বাংলার আলাউদ্দিন হুসেন শাহ এর শাসনামলকে স্বর্ণযুগ বলা হয়। 

• হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে ১৪৯৩ সালে বাংলার সিংহাসনে বসেন - সৈয়দ হোসেন। সুলতান হয়ে তিনি ''আলাউদ্দিন হুসেন শাহ'' উপাধি গ্রহণ করেন।
- এভাবেই বাংলায় ''হুসেন শাহী বংশ'' নামে এক নতুন বংশের শাসনপর্ব শুরু হয়। রাজধানী ছিল - গৌড়।
- বাংলার স্বাধীন সুলতানদের মধ্যে হুসেন শাহী আমল (১৪৯৩ - ১৫৩৮) ছিল সবচেয়ে গৌরবময়।
- তিনি বাংলার শ্রেষ্ঠ শাসক হিসাবে পরিগণিত হন।

আলাউদ্দিন হুসেন শাহ: 
• কৃতিত্ব:
- মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাসে হোসেন শাহের রাজত্বকাল একটি অত্যুজ্জ্বল অধ্যায়। তার রাজত্বকালে বাংলার সালতানাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে।
- তিনি কামরূপ ও কামতা জয় করেন। ঊড়িষ্যা ও ত্রিপুরা  রাজ্যের কিছু অংশ তার শাসনভুক্ত হয়। তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতারিত করেন।
- বাংলার রাজনীতি হাবসি দাসদের প্রভাবমুক্ত করেন। প্রশাসন ব্যবস্থা সুদৃঢ় করেন।
- ক্ষমতা গ্রহনের অল্প সময়ের মধ্যে রাজ্যের অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা দূর করে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন।
- দিল্লীর লোদী আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য রাজ্যের সবরকম নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন।
- হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি তৈরিতে তার প্রচেষ্টা তৎকালীন সমাজ জীবনকে প্রভাভিত করেছিল।
- তিনি ছিলেন সাহিত্যানুরাগী। তার পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা সাহিত্যের ব্যাপক উন্নতি ও বিকাশ লাভ করে। তার সময়ের বিখ্যাত কবিরা ছিলেন - রূপ গোস্বামী, মালাধর বসু, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, পরাগল খান প্রমুখ।

সূত্র: মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ও বাংলাপিডিয়া।
৩৭১.
বিখ্যাত ল্যান্ডমার্ক টাওয়ার কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) প্যারিসে
  2. খ) মিউনিখে
  3. গ) টোকিওতে
  4. ঘ) লন্ডনে
ব্যাখ্যা
- জাপানের টোকিও শহরে অবস্থিত ল্যান্ডমার্ক টাওয়ার ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর উচ্চতা ৯৭১ ফুট।
- বিখ্যাত ল্যান্ডমার্ক টাওয়ার ৭০ তলা বিশিষ্ট।

উৎস:- ব্রিটানিকা। 
৩৭২.
বাংলার দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশের নাম কী?
  1. মৌর্য বংশ
  2. সেন বংশ
  3. পাল বংশ
  4. গুপ্ত বংশ
ব্যাখ্যা
• পাল বংশ:
- বাংলা শাসনকারী সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ হলো পাল বংশ
- ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে গোপাল এ বংশের প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর থেকে দ্বাদশ শতকের দ্বিতীয় ভাগ পর্যন্ত প্রায় চারশ বছর ধরে পাল শাসকরা বাংলা শাসন করেন।
- পাল বংশের শ্রেষ্ঠতম শাসক ছিলেন ধর্মপাল।
- তিনি প্রায় (৭৮১-৮২১ খ্রি.) ৪০ বছর বাংলা শাসন করেন।
- তার উপাধি ছিলো পরমেশ্বর, পরমভট্টারক, মহারাজাধিরাজ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭৩.
Who is the proponent of 'Young Bengal' movement?
  1. Vivian Derozio
  2. Muhammad Mohsin
  3. Valentino Rossi
  4. Raja Ram Mohan Roy
ব্যাখ্যা
ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:

- 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ডিরোজিও।
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধ জুড়ে ছিল রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ধারা। দৃঢ়ভাবে সে ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হিন্দু কলেজের প্রতিভাবান ছাত্রবৃন্দ ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের মাধ্যমে । যার নেতৃত্বে ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুইস ডিরোজিও।
- তিনি তাঁর ছাত্র-অনুসারীদের স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার শিক্ষা দেন।
- ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ডিরোজিও তাঁর স্কুল শিক্ষক ডেভিড ড্রামন্ডের প্রগতিবাদী, সংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ মানবতাবাদী চিন্তাধারা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- বাংলার ‘রেনেসাঁস’ যুগের এই প্রতিভাবান তরুণ মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে গড়া অনুসারী, ছাত্ররা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যনার্জি প্রমুখ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৪.
ভারতীয় উপমহাদেশে মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠা কে ছিলেন?
  1. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  2. সম্রাট অশোক
  3. রাজা শশাঙ্ক
  4. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য 
ব্যাখ্যা

 মৌর্য সম্রাজ্য:
- গ্রিক লেখকদের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণকালে বর্তমান বাংলাদেশ এলাকায় গঙ্গারিডই নামে সমৃদ্ধশালী রাজ্য ছিল।
- এ রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল গঙ্গা। এ সময়কালকে মৌর্য শাসনামল বলে ধারণা করা হয়।
- পণ্ডিতদের ধারণা হলো, 'গঙ্গারিডই' ছিল বর্তমানকালের বাংলা।
- আর্যদের আগমনের আগেই বাংলায় মৌর্য বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ৩২১ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে ভারতে মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- উত্তর বাংলায় মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় রাজা অশোকের সময়ে ২৬৯-২৩২ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে। বাংলা ছিল মৌর্যদের একটি প্রদেশ। এর রাজধানী ছিল প্রাচীন পুণ্ড্র নগর।
- মৌর্য শাসনামলে বাংলার রাজা খুবই প্রতাপশালী ছিলেন। তার বিশাল সামরিক বাহিনীতে ৪ হাজার সুসজ্জিত হাতি ছিল।
- কোন কোন ঐতিহাসিক মনে করেন, বিশাল হস্তী বাহিনীর ও সুসজ্জিত সেনাবাহিনীর খবর শুনে গ্রিক বীর আলেকজান্ডার বাংলা আক্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করেন।
- মৌর্য শাসনামলে বাংলা ছিল ঐশ্বর্যপূর্ণ রাজ্য। 'গঙ্গারিডই' (বাংলার পূর্বনাম) রাজ্যের রাজধানীতে সূক্ষ্ম মসলিন কাপড় তৈরি হতো, যা সুদূর পশ্চিমা দেশে রপ্তানি হতো।
- মৌর্য শাসনামলে বাংলার সীমানা বিস্তৃত হয়। মৌর্য সম্রাট অশোকের সময় প্রাচীন পুণ্ড্ররাজ্য মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- ফলে উত্তরবঙ্গের এ অঞ্চল তখন মৌর্য শাসনাধীন একটা প্রদেশে পরিণত হয়।

অন্যদিকে,
- প্রথম চন্দ্রগুপ্ত ছিলেন গুপ্ত বংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- সম্রাট অশোক ছিলেন  মৌর্য সম্রাজ্যের একজন রাজা।
- রাজা শশাঙ্ক ছিলেন, বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা। তিনি স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস:
১. বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
২. ইতিহাস ১ম পত্র , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭৫.
শশাঙ্কের রাজধানী 'কর্ণসুবর্ণ' বর্তমানে কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. মালদহ জেলায়
  2. মুর্শিদাবাদ জেলায়
  3. রাজশাহী জেলায়
  4. নদীয়া জেলায়
ব্যাখ্যা

গৌড়
- গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়, যার অবস্থান ষষ্ঠ শতকে পূর্ব বাংলার উত্তর অংশে ছিল।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড় রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলায় এর অবস্থান।
- বাংলায় মুসলিম বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।
- মুসলিম যুগেও এ অঞ্চল গৌড় নামে পরিচিত ছিল।

উৎস: পৌরনীতি , এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭৬.
কোন রাজ বংশের আমলে চর্যাপদ রচিত হয়?
  1. ক) সেন বংশ
  2. খ) পাল বংশ
  3. গ) গুপ্ত বংশ
  4. ঘ) মুঘল আমলে
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:

- পাল বংশের আমলে চর্যাপদ রচিত হয়।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- চর্যার কবিদের কাল খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে ধরা হয়।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- চর্যাপদ শুধু প্রাচীন বাংলা সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, প্রাচীন বাংলা গানেরও নিদর্শন।

তথযসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৭৭.
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং কোন জনপদ ভ্রমণ করে তার বিবরণী লিখে যান?
  1. সমতট
  2. বঙ্গ
  3. হরিকেল
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

হিউয়েন সাং:
- ফা-হিয়েনের পরবর্তী তীর্থ-ভ্রমণকারী ছিলেন হিউয়েন-সাং।
- হিউয়েন-সাং  সাত শতকের চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী। 
- তাঁর বিবরণী থেকে সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধের বাংলা সম্পর্কে কিছুটা তথ্য জানা যায়।
- সে সময় উত্তর ভারতে হর্ষবর্ধন, বাংলায় শশাঙ্ক এবং আসামে ভাস্করবর্মণ শাসন করছিলেন। ৬২৯ সালে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে হিউয়েন সাং উত্তরের বাণিজ্য পথ ধরে মধ্য এশিয়ার কুশ হয়ে উত্তর ভারতে পৌঁছান। হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন। কনৌজনগরে পৌঁছে তিনি ভারতীয় সম্রাট হর্ষবর্ধনের আতিথ্য লাভ করেন। হিউয়েন-সাং যখন নালন্দা মহাবিহারে অধ্যয়ন করেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন এর অধ্যক্ষ। হিউয়েন-সাং শীলভদ্রের একজন ছাত্র ছিলেন।

⇒ হিউয়েন-সাং ৬৩৮ সালের দিকে বাংলায় আসেন।
- তাঁর বিবরণী শশাঙ্ক-এর ইতিহাস, বিশেষ করে হর্ষবর্ধনের সঙ্গে তাঁর বৈরিতা এবং শশাঙ্কের ধর্মনীতি সম্পর্কে জানার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
- শৈশব থেকেই তিনি ধর্মগ্রন্থ, বিশেষ করে চৈনিক ধ্রুপদি গ্রন্থ ও প্রাচীন জ্ঞানী লোকদের লেখা পাঠে আগ্রহী হন।
- লুওইয়াং নগরে অবস্থানকালে হিউয়েন সাং মাত্র ১৩ বছর বয়সে বৌদ্ধভিক্ষু সম্প্রদায়ে প্রবেশ করেন।

উল্লেখ্য,
- হিউয়েন-সাং-এর গ্রন্থ জিউ জি (সি-উ চি) মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের উপর সর্ববৃহৎ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ সম্বলিত গ্রন্থ। বৌদ্ধ গ্রন্থ সংগ্রহ ও বৌদ্ধ ধর্ম নির্দেশনায় ব্যুৎপত্তি অর্জন হিউয়েন-সাং-এর প্রধান উদ্দেশ্য হলেও ভারতে অবস্থানকালে তিনি অন্যান্য কাজও করেছেন। বাংলায় ভ্রমণকৃত বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ছিল প্রধানত কর্ণসুবর্ণের নিকটবর্তী  রক্তমৃত্তিকা,  পুন্ড্রনগর ও এর সংলগ্ন এলাকা,  সমতট ও  তাম্রলিপ্তি। তাঁর বিবরণ বাংলার প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে ব্যাপক সহায়তা করে। কোথাও কোথাও তাঁর বিবরণ পক্ষপাতদোষে দুষ্ট হলেও সাত শতকের বাংলার ইতিহাস, বিশেষ করে শশাঙ্কের শাসনাধীন গৌড় রাজ্য সম্বন্ধে তিনি আলোকপাত করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৩৭৮.
'লালমাই' কোন প্রাচীন জনপদের কেন্দ্র ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. হরিকেল
  3. সমতট
  4. পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা
সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটির অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- প্রাচীন ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট জনপদ।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৯.
পাল বংশের শেষ মুকুট বলা হয় কোন শাসককে?
  1. মহীপাল
  2. রামপাল
  3. দেবপাল
  4. ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
রামপাল:

- রামপাল রাজা হয়েই বরেন্দ্র পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন।
- এই সময় কৈবর্তদের নেতা ছিলেন ভীম। প্রথম চেষ্টায় রামপাল ব্যর্থ হন।
- বরেন্দ্র অঞ্চলের উপর রামপালের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তাঁর রাজত্বের শেষের দিকে তিনি কামরূপ এবং উড়িষ্যার উপরও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন।
- রামপালকে পাল বংশের শেষ মুকুট বলা হয়।
- কবি সন্ধ্যাকর নন্দী ‘রামচরিত’ নামে রামপালের জীবনী লিখেন।
- রামপালের মৃত্যুর পর পাল সাম্রাজ্যের গৌরব দ্রুত বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮০.
অষ্টসাহস্রিকা-প্রজ্ঞাপারমিতা পান্ডুলিপি কোথায় সংরক্ষিত আছে?
  1. কলকাতার শিল্প গ্যালারি জাদুঘর
  2. ঢাকা এশিয়াটিক সোসাইটি
  3. পল্লী কবি জসীম উদ্‌দীন সংগ্রহশালা
  4. কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি
ব্যাখ্যা
পাল বংশ:
 - পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল এর মৃত্যুর পর ধর্মপাল পাল বংশের সিংহাসনে বসেন এবং সকল পাল রাজাদের মধ্যে ধর্মপাল ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।
- পাল রাজাদের মধ্যে তিনিই সর্বোচ্চ সার্বভৌম।
- তিনি পরমেশ্বর, পরমভট্টারক মহারাজধিরাজ উপাধি ধারন করেছিলেন।
-  তিনি বৌদ্ধধর্মের অনুসারী ছিলেন।

এছাড়াও,
- বিক্রমশীল তার আরেকটি উপাধি এবং ভাগলপুরে তার স্থাপিত একটি বৌদ্ধ বিহার বিক্রমশীল বিহার নামে খ্যাত ছিল।
- পাল চিত্রকলা পাল রাজা প্রথম মহীপালের (খ্রিস্টীয় ৯৮৩) ষষ্ঠ রাজ্যাঙ্কে তালপাতার উপরে চিত্রসম্বলিত বৌদ্ধ গ্রন্থ অষ্টসাহস্রিকা-প্রজ্ঞাপারমিতা পান্ডুলিপির বারোটি রঙ্গিন চিত্র বঙ্গীয় চিত্রকলার প্রাচীনতম নিদর্শন। 
- বর্তমানে দুর্লভ এই পান্ডুলিপি কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটিতে সংরক্ষিত আছে

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৮১.
বর্তমান বৃহত্তর রংপুর প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের অংশ ছিল?
  1. সমতট
  2. পুন্ড্র
  3. চন্দ্ৰদ্বীপ
  4. তাম্রলিপ্ত
ব্যাখ্যা

পুন্ড্র: 
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম প্রধান জনপদ ছিল পুন্ড্র।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে গঠিত পুন্ড্রদের রাজধানী ছিল পুন্ড্রনগর যা পরবর্তীকালে মহাস্থানগড় নামে পরিচিত হয়।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের মধ্যে পুন্ড্রই ছিল সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ। 
- পাথরের চাকতিতে খােদাই করা প্রাপ্ত লিপিগুলােকেই মনে করা হয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম শিলালিপি।

প্রাচীন বাংলার অন্যান্য জনপদ:
• বঙ্গ:

- বৃহত্তর ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাখেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি নিয়ে ‘বঙ্গ’ জনপদ গঠিত হয়েছিল।
- এই অঞ্চলে বসবাসকারী ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠী থেকে ‘বঙ্গ' নামের উৎপত্তি ঘটেছে বলে ধারণা করা হয় ৷

•  রাঢ়:

- রাঢ় জনপদের অবস্থান ছিলো বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে।

• সমতট:
- বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিল।

•  বরেন্দ্র:
- বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিল।

•  চন্দ্ৰদ্বীপ:
- বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

•  তাম্রলিপ্ত:
- বর্তমান ভারতের মেদিনীপুর জেলার তমলুকই ছিল তাম্রলিপ্তের প্রাণকেন্দ্র। সপ্তম শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।

উৎস:
i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৩৮২.
স্বাধীন গৌড় রাজ্যের রাজধানী কোথায় স্থাপিত ছিল?
  1. পাটালিপুত্র
  2. দন্ডভুক্তি
  3. কর্ণসুবর্ণ
  4. পুন্ড্রনগর
ব্যাখ্যা

স্বাধীন গৌড়রাজ্য:
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটলে পরবর্তী গুপ্তবংশ নামে পরিচিত গুপ্ত উপাধি নেয়া রাজাগণ বাংলা, পশ্চিম বাংলার উত্তরাংশ ও মগধে ক্ষমতা বিস্তার করেছিলেন।
- বিভিন্ন কারণে গুপ্ত বংশের রাজারা দুর্বল হয়ে পড়লে এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে মগধে শশাঙ্ক নামক এক খ্যাতিমান শাসক গৌড় রাজ্যের ক্ষমতা দখল করেন।
- প্রাথমিক যুগে শশাঙ্ক ছিলেন গুপ্ত রাজ মহাসেন গুপ্তের একজন মহাসামন্ত।
- ৬০৬ খ্রিস্টাব্দের আগে কোন এক সময় তিনি গৌড়ের স্বাধীন নরপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- তিনি কর্ণসুবর্ণে রাজধানী স্থাপন করেন।
- প্রাথমিক সময়ে স্বাধীন গৌড় রাষ্ট্রের রাজা শশাঙ্ক দণ্ডভুক্তি রাজ্য, উড়িষ্যার উৎকল ও কঙ্গোগ রাজ্য এবং বিহারের মগধ রাজ্য জয় করে তার রাজ্যসীমা বৃদ্ধি করেন। পশ্চিমে তার রাজ্য বারানসী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। কামরূপ রাজারাও শশাঙ্কের হাতে পরাজিত হন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৩.
প্রাচীন বাংলার সবগুলো জনপদই একত্রে বাংলা নামে পরিচিতি লাভ করে কার আমল থেকে?
  1. ক) সুলতান সিকান্দার শাহ
  2. খ) সুলতান শাহবুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  3. গ) নবাব সিরাজউদৌল্লা
  4. ঘ) নবাব আলীবর্দী খাঁ
ব্যাখ্যা
- বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হলেন শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ (১৩৪২-১৩৫৮ খ্রি.)।
- তিনি ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহকে পরাজিত করে দুই বাংলাকে এক করে বৃহত্তর বাংলা প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার সময় থেকেই বাংলায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠী ‘বাঙালি’ নামে পরিচিত পায়।
- তিনি ‘শাহ-ই বাঙালা’ ও ‘শাহ-ই বাঙালিয়ান’ উপাধি ধারণ করেন।
- তিনি `ইলিয়াস শাহী’ বংশের প্রতিষ্ঠাতা।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৮৪.
গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. সমুদ্রগুপ্ত 
  2. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  3. বিজয়গুপ্ত
  4. সম্রাট অশোক
ব্যাখ্যা

• গুপ্ত সাম্রাজ্য:

- আনুমানিক ৩২০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম চন্দ্রগুপ্ত পাটলীপুত্র এলাকা (বর্তমান পাটনায়) গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ধারণা করা হয়, গুপ্ত সাম্রাজ্য বর্তমান পাটনা এলাকায়, যার তৎকালীন নাম পাটলীপুত্র। 
- গুপ্ত বংশের আদি পুরুষেরা বাংলার পশ্চিমাংশে একটি ছোট রাজ্যের সামন্ত অধিপতি ছিলেন।
- পরবর্তীকালে সমগ্র বাংলাই গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনস্ত হয়।


- বাংলার উত্তরাংশ 'পুণ্ড্রবর্ধন ভুক্তি' নামে একটি প্রদেশ অথবা প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে সংঘটিত হয়েছিল।
- গুপ্ত সম্রাটের নিযুক্ত একজন শাসনকর্তা দ্বারা এটি শাসিত হতো।
- ৫০৭ খ্রিস্টাব্দে মহারাজ বৈন্যগুপ্ত দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা বা সমতট শাসন করতেন।
- প্রথমে তিনি গুপ্ত সম্রাটের অধীনে একজন সামন্ত শাসনকর্তা ছিলেন। 
- পরে সম্ভবত তিনি গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে স্বাধীন স্বতন্ত্র রাজা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

- গুপ্ত যুগের শাসনামলে বাংলা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ছিল। 
- সে সময় বাংলাদেশে প্রচুর স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার প্রচলন ছিল। 
- গুপ্ত শাসনাধীন বাংলাদেশ ছিল বেশ সমৃদ্ধ। 
- ঐতিহাসিকদের মতামত বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায়, প্রাচীন বাংলা সমৃদ্ধশালী ছিল।

উৎস: ইতিহাস-১ম পত্র , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৫.
বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান উয়ারী বটেশ্বর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. নরসিংদী
  2. নাটোর
  3. কুমিল্লা
  4. বগুড়া
ব্যাখ্যা
উয়ারী বটেশ্বর:
- উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল।
- নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম দু’টি ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত।
-প্লাইসটোসিন যুগে গঠিত মধুপুর গড়ের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এ গ্রাম দু’টিতেই নিবিড় অনুসন্ধান ও সীমিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত হয়েছে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ নগর।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উয়ারী প্রত্নস্থলে আবিষ্কৃত হয়েছে ৬০০ মি. x ৬০০ মি. আয়তনের চারটি মাটির দুর্গ-প্রাচীর।
- দুর্গ প্রাচীরের ৫-৭ ফুট উঁচু ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু অংশ এখনো টিকে আছে।
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত উয়ারী নগরের বাইরে আরো ৫০টি প্রত্নস্থান এ যাবত আবিষ্কৃত হয়েছে।
- উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একটি দুর্গনগর, নগর বা একটি নগর কেন্দ্র।
- আবিষ্কৃত প্রত্নবস্তু বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় যে, উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একাধারে একটি নগর ও সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৮৬.
বাংলার ইতিহাসে প্রথম সার্বভৌম রাজা কে ছিলেন?
  1. গোপাল
  2. শশাঙ্ক
  3. বিজয় সেন
  4. ধর্মপাল
ব্যাখ্যা

শশাঙ্ক:
- বাংলার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ নৃপতি শশাঙ্ক সপ্তম শতাব্দীর প্রথমার্ধের শাসক।
- গুপ্ত শাসনের পর বাংলার গৌড় রাজ্যের তিনি অধিপতি হন।
- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্কই বাংলার প্রথম নৃপতি যার ভূমিদান করার মতো এবং মুদ্রা প্রকাশ করার মতো স্বাধীন ক্ষমতা ছিল।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু (শৈব) ধর্মের অনুসারী ছিলেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস, এস এস এইচ এল প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৭.
কোন রাজার শাসনামলে ‘ত্রিশক্তির সংঘর্ষ' সংঘটিত হয়?
  1. মহীপাল
  2. ধর্মপাল
  3. গোপাল
  4. দেবপাল
ব্যাখ্যা
• ধর্মপাল:
- ‘ত্রিশক্তির সংঘর্ষ’ বা ত্রি-শক্তির সংগ্রাম পালরাজা ধর্মপালের শাসনামলে সংঘটিত হয়।
- রাজা হর্ষবর্ধনের মৃত্যুর পর কনৌজের সিংহাসনের ওপর আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পাল, প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূট রাজবংশের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
- ধর্মপাল বাংলার ইতিহাসে প্রথম রাজা যিনি উত্তর ভারতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
- যদিও তিনি স্বল্পমেয়াদী সাফল্য অর্জন করেন, তবে তার শাসনামলে বাংলা একটি শক্তিশালী রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- ধর্মপাল একজন বৌদ্ধ শাসক ছিলেন এবং তিনি সোমপুর মহাবিহারসহ বহু বিহার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার পুত্র দেবপালও পাল রাজবংশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজা ছিলেন।
- ৬৪৭ সালে রাজা হর্ষবর্ধনের মৃত্যুর পর কনৌজের সিংহাসনের ওপর আধিপত্য স্থাপনকে কেন্দ্র করে পাল, প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূটের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব শুরু হয় তা-ই ইতিহাসে ত্রিশক্তির সংঘর্ষ বা ত্রি-শক্তির সংগ্রাম নামে পরিচিত। এটি ধর্মপালের শাসনামলে সংঘটিত হয়।
 
সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও কালের কণ্ঠ।
৩৮৮.
Emancipation Proclamation কোন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. ক) দাস প্রথা নিষিদ্ধকরণ
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা
  3. গ) বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন
  4. ঘ) যুক্তরাষ্ট্রের শাসন কাঠামো
ব্যাখ্যা
আব্রাহাম লিংকন (১৮০৯ - ১৮৬৫)
আব্রাহাম লিংকন ছিলেন আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট। ১৮৬১ সালের ৪ মার্চ থেকে ১৮৬৫ সালের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
⤇ গেটিসবার্গের ভাষণ (Gettysburg Address) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের একটি বিখ্যাত ভাষণ। আব্রাহাম লিংকন আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় পেনসিলভানিয়ার গেটিসবার্গে এই ভাষণ দেন। ১৮৬৩ সালের ১৯ নভেম্বর ভাষণটি দিতে তাঁর লেগেছিল তিন মিনিটেরও কম সময়। শব্দ ছিল মাত্র ২৭২টি। অথচ তার শিহরণ লেগেছিল গোটা বিশ্বে। 
⤇ ১৮৬২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আব্রাহাম লিংকন দাস প্রথা বিলুপ্তির ঘোষণা দেন। এ লক্ষে ১ জানুয়ারি ১৮৬৩ তিনি Emancipation Proclamation এ স্বাক্ষর করেন। পরবর্তীতে সংবিধানের ১৩তম সংশোধনী কার্যকরের মাধ্যমে ১৮৬৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর সাংবিধানিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দাস প্রথা নিষিদ্ধ হয়। 
⤇ ১৮৬১ সাল থেকে ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কনফেডারেট ও ইউনিয়নিস্টদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয় যা মার্কিন গৃহযুদ্ধ নামে পরিচিত। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন আব্রাহাম লিংকন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৩৮৯.
সোমপুর বিহারের নির্মাতা কে?
  1. হেমন্ত সেন
  2. শশাঙ্ক
  3. ধর্মপাল
  4. রামপাল
ব্যাখ্যা
সোমপুর বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার। 
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।
- পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা যেতে পারে।
- আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে।
- এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্মচর্চা কেন্দ্র ছিল।
- পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী পুন্ড্রনগর (বর্তমান মহাস্থান) এবং অপর শহর কোটিবর্ষ (বর্তমান বানগড়)এর মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত ছিল সোমপুর মহাবিহার।
- এর ধ্বংসাবশেষটি বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজশাহীর অন্তর্গত নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।
৩৯০.
চৈনিক ভ্রমণকারী 'হিউয়েন সাং' কার শাসনামলে বাংলা ভ্রমণ করেন?
  1. রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  2. রাজা সমুদ্রগুপ্ত
  3. রাজা শশাঙ্ক
  4. রাজা গোপাল
ব্যাখ্যা
চৈনিক ভ্রমণকারী 'হিউয়েন সাং' রাজা শশাঙ্ক-এর শাসনামলে বাংলা ভ্রমণ করেন।

হিউয়েন সাং
:
- হিউয়েন-সাং ছিলেন একজন চৈনিক ভ্রমণকারী।
- ফা-হিয়েনের পরবর্তী তীর্থ-ভ্রমণকারী ছিলেন হিউয়েন-সাং।
- তাঁর বিবরণী থেকে সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধের বাংলা সম্পর্কে তথ্য জানা যায়।
- সে সময় উত্তর ভারতে হর্ষবর্ধন, বাংলায় শশাঙ্ক এবং আসামে ভাস্করবর্মণ শাসন করছিলেন।
- ৬২৯ সালে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে হিউয়েন সাং উত্তর ভারতে পৌঁছান।
- হিউয়েন-সাং তৎকালীন বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র নালন্দা মহাবিহারে বেশ কিছুদিন অবস্থান করে পড়াশোনা চালিয়ে যান।
- হিউয়েন-সাং ৬৩৮ সালের দিকে বাংলায় আসেন।
- ৬৪৫ সালে হিউয়েন সাং চীনে প্রত্যাবর্তন করেন।
- ৬৬৪ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বৌদ্ধ রচনার অনুবাদে জীবনের বাকি সময় ব্যয় করেন হিউয়েন সাং। 

অন্যদিকে,
রাজা শশাঙ্ক:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- হিউয়েনসাং শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- তাঁর বিবরণী থেকে শশাঙ্ক-এর ইতিহাস, বিশেষ করে হর্ষবর্ধনের সঙ্গে তাঁর বৈরিতা এবং শশাঙ্কের ধর্মনীতি সম্পর্কে জানা যায়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯১.
পাল রাজারা প্রায় কত বছর রাজত্ব করেন?
  1. পঞ্চাশ বছর
  2. একশ বছর
  3. দুইশ বছর
  4. চারশ বছর 
ব্যাখ্যা
পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠা:
- প্রাচীন বাংলার রাজবংশসমূহের তালিকায় পালবংশ বিখ্যাত একটি রাজবংশ।
- এই বংশই বাংলার সর্বপ্রথম দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ বলে ধারণা করা হয়।
- পাল রাজারা প্রায় চারশ বছর যাবৎ এদেশে রাজত্ব করেন।
- ৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে রাজা গোপাল বাংলায় পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- এক অরাজকতাপূর্ণ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সামন্তরা গোপালকে ক্ষমতায় বসান।
- রাজা গোপালের প্রতিষ্ঠিত রাজবংশই পাল বংশ নামে ইতিহাসে প্রসিদ্ধ হয়ে আছে।

⇒ পাল বংশের পতন:
- রাজা রামপালের মৃত্যুর পর পাল সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয়। অল্পদিনের মধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে যায় পাল রাজবংশ। সমাপ্ত হয় দীর্ঘ ৪শ বছরের পাল শাসন। এভাবে বাংলার ক্ষমতার মসনদে অন্য একটা রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত হবার পথ সৃষ্টি হয়ে যায়।
- পাল বংশের পতনের পর বাংলায় সেন বংশের উত্থান ঘটে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯২.
প্রাচীন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করে কোন যুগে?
  1. ক) মৌর্য যুগে
  2. খ) সেন যুগে
  3. গ) গুপ্ত যুগে
  4. ঘ) পাল যুগে
ব্যাখ্যা
• পালযুগ:
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় যে মাৎস্যন্যায় বা মাছের রাজত্ব চলছিল গোপাল সেই শত বছরের অরাজকতার অবসান ঘটিয়ে রাজা হন এবং পাল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- পাল রাজা ধর্মপাল উত্তর ভারতের রাজনীতিতে অংশ নেন ।
- গুপ্ত সম্রাটরা নালন্দা মহাবিহারের নির্মাতা। পাল রাজাদের (আট থেকে বারো শতক) সময়ে এটি বিভিন্ন কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
- প্রাচীন বাংলার প্রথম দেশজ রাজশক্তি এবং আধুনিক বাঙালি জাতি গঠনের প্রাচীনতম পাল বংশ মহীপালের সময় থেকে দুর্বল হতে থাকে।
- রামপালকে পাল বংশের শেষ মুকুট বলা হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৩.
কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ নৃপতি কে ছিলেন?
  1. হুবিষ্ক
  2. কনিষ্ক
  3. বাসুদেব
  4. শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা

কুষাণ যুগ:
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ নৃপতি ছিলেন কনিষ্ক। 
- উমহাদেশে প্রথম স্বর্ণমুদ্রা চালু করেন কুষাণ সম্রাটগণ।
- কুষাণ সম্রাট বীম কদফিসেসই সম্ভবত সর্বপ্রথম স্বর্ণমুদ্রা প্রবর্তন করেন যেখানে মুদ্রার উপরিপৃষ্ঠে বেদিতে যজ্ঞরত রাজার প্রতিকৃতি উৎকীর্ণ রয়েছে।
- প্রত্নতাত্ত্বিকগণ মনে করেন, এই বিশেষ প্রতিকৃতি পার্থিয়ান রাজা গোটার্জেসের স্বর্ণমুদ্রার নকশা দ্বারা প্রভাবিত।
- তবে পরবর্তীকালের কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক ও হুবিষ্ক তাদের স্বর্ণমুদ্রায় বিভিন্ন ধরনের নকশা ও প্রতীক ব্যবহার করেছেন যেগুলো আলাদাভাবে বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
- প্রত্নতাত্ত্বিকগণ বাংলার বিভিন্ন প্রত্নস্থান থেকে কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক, হুবিষ্ক ছাড়াও মহানাদ কুষাণ, প্রথম বাসুদেব ও দ্বিতীয় বাসুদেবের স্বর্ণমুদ্রা আবিষ্কার করেছেন।

উৎস: বাংলাদেশ স্ট্যাডিজ, বিবিএ বাংলা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯৪.
কোন শতকে সেন বংশের অবসান ঘটে?
  1. ১২ শতকে
  2. ১৩ শতকে
  3. ১৪ শতকে
  4. ১৫ শতকে
ব্যাখ্যা
বাংলায় সেন বংশের শাসন:
- বাংলার ইতিহাসে সেন রাজাদের উত্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি অধ্যায়।
- ১০৭০ থেকে ১২৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ বছর সেনরা বাংলায় রাজত্ব করে।
- পালদের পতনের পর বাংলায় সেন রাজবংশের উত্থান ঘটে।
- সেন রাজবংশ তাদের শাসনামলে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকা নিজেদের দখলে আনে।
- ১০৭০ থেকে ১২৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হেমন্ত সেন, বিজয় সেন, বল্লাল সেন, লক্ষ্মণ সেন, বিশ্বরূপ সেন, কেশব সেন রাজ্য পরিচালনা করেন।

⇒ বাংলার সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সামন্ত সেন।
- সামন্ত সেন কোনো রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করায় সেন বংশের প্রথম রাজার মর্যাদা দেওয়া হয় সামন্ত সেনের পুত্র হেমন্ত সেনকে।
- এই বংশের শেষ রাজা ছিলেন লক্ষ্মণ সেন।
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজী নদীয়া আক্রমণ করলে তিনি প্রতিরোধ না করে মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর পালিয়ে আসেন।
- এই অঞ্চলে তিনি আরো ২/৩ বছর রাজত্ব করেন।

⇒ সেনদের রাজধানী ছিল নবদ্বীপে। ১২০২ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করেন। সে সময় সেনদের অস্থায়ী রাজধানী ছিল নদীয়ায়। নদীয়ায় আক্রমণ করা হলে লক্ষ্মণ সেন পূর্ববঙ্গে পালিয়ে যান। এরপর লক্ষ্মণ সেনের মৃত্যু হলে সেনরা দুর্বল হতে শুরু করে। সামন্ত বিদ্রোহের ফলে বাংলায় সেনদের পতন ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯৫.
কে 'মহারাজাধিরাজ' উপাধি গ্রহণ করে স্বাধীন বঙ্গরাজ্য শাসন করতেন?
  1. গোচন্দ্র
  2. ধর্মাদিত্য
  3. সমাচারদেব
  4. সকলেই
ব্যাখ্যা
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর সমগ্র উত্তর ভারতে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়।
- সেই সুযোগে বাংলাদেশে দুইটি স্বাধীন রাজ্যের সৃষ্টি হয়।
- এর একটি হলো বঙ্গ, যার অবস্থান দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম-বাংলার দক্ষিণাঞ্চলে।
- দ্বিতীয় রাজ্যের নাম গৌড়, যার অবস্থান ছিল বাংলার পশ্চিম ও উত্তর বাংলা নিয়ে।

স্বাধীন বঙ্গ রাজ্য:

- গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে বঙ্গ জনপদে একটি স্বাধীন রাজ্যের উদ্ভব ঘটে।
- তাম্র শাসন (তামার পাতে খোদাই করা রাজার বিভিন্ন ঘোষণা বা নির্দেশ) থেকে জানা যায় যে, গোচন্দ্র, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব নামে তিনজন রাজা স্বাধীন বঙ্গরাজ্য শাসন করতেন।
- তাঁরা সবাই 'মহারাজাধিরাজ' উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।
- তাঁদের রাজত্বকাল ছিল ৫২৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৬০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৩৯৬.
প্রাচীন বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না কোনটি?
  1. ঢাকা
  2. ফরিদপুর
  3. কুষ্টিয়া
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ অত্যন্ত প্রাচীন জনপদ।
- সম্ভবত আর্যযুগের আগে বা শুরুতে (খ্রি. পৃ. ১৫০০-৬০০) বঙ্গ জাতি এ ভূখন্ডের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে জনপদ-রাষ্ট্র তৈরি করে। 
- মহাভারতে ও রামায়ণে শক্তিশালী বঙ্গ রাজ্যের কথা উল্লেখ আছে।
- কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে বঙ্গরাজ ও বঙ্গসেনাদের অসীম সাহসের কথা বলা আছে।
- বর্তমান বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে বঙ্গজনপদ অবস্থিত ছিল।
- পশ্চিমে করতোয়া নদী, উত্তর-পূর্বে ব্রহ্মপুত্র প্রবাহিত হয়েছে।
- বৃহত্তর বগুড়া, পাবনা, ময়মনসিংহ জেলার পশ্চিমাঞ্চল, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালির কিয়দংশ নিয়ে বঙ্গ গঠিত হয়েছিল।
- এখানে যারা বসবাস করত তাদের 'বঙ্গ' জনগোষ্ঠী বলা হত।
- 'বঙ্গ' থেকে বাঙালি জাতির উৎপত্তি ঘটেছিল।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৯৭.
আলেকজান্ডার ভারত আক্রমণ করে কবে?
  1. ক) ৩৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
  2. খ) ৩৩৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
  3. গ) ৩২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
  4. ঘ) ৩২৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
ব্যাখ্যা
গ্রিক বীর আলেকজান্ডার ছিলেন গ্রিসের উত্তরে অবস্থিত ম্যাসিডোন রাজ্যের সম্রাট। পারস্য অধিকার করে তিনি খ্রিস্টপূর্ব ৩২৭ অব্দে ভারত আক্রমণ করেন। ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল জয়ের পর তিনি ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ভারতের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। ভারত অভিযান শেষে ফিরে যাবার পথে ব্যাবিলনে তার মৃত্যু হয়।
(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস ১মপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৩৯৮.
ত্রিশক্তি সংঘর্ষে বাংলার পাল বংশের প্রতিনিধি কে ছিলেন?
  1. গোপাল
  2. দেবপাল
  3. ধর্মপাল 
  4. মহীপাল
ব্যাখ্যা

- ধর্মপাল (৭৮১–৮২১ খ্রি.) পিতার মৃত্যুর পর বাংলার সিংহাসনে বসেন।
- পাল রাজাদের মধ্যে তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন।
- তিনি বাংলা ও বিহারে পাল শাসনের শক্ত ভিত্তি তৈরি করেন।
- তিনি বৌদ্ধ ধর্মের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- ভাগলপুরের পূর্বদিকে তিনি বিক্রমশীল বিহার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তাঁর দ্বিতীয় নাম বিক্রমশীল হওয়ায় বিহারটির নামকরণ এভাবে হয়।
- রাজশাহীর পাহাড়পুরে সোমপুর বৌদ্ধবিহারও তিনি প্রতিষ্ঠা করেন।
- নিজে বৌদ্ধ হলেও হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মের প্রতি উদার ছিলেন।
- একজন ব্রাহ্মণকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে নিয়োগ দেন।
- ধর্মপাল প্রায় ৪০ বছর রাজত্ব করেন।

• ত্রি-শক্তি সংঘর্ষ:
- অষ্টম শতাব্দীর শেষ দিকে উত্তর ভারত অধিকার করার জন্য তিনটি শক্তিশালী বংশের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়:
- বাংলার পাল বংশ।
- রাজপুতনার গুর্জর-প্রতীহার বংশ।
- দক্ষিণ ভারতের রাষ্ট্রকুট বংশ।
- ত্রিশক্তি সংঘর্ষে বাংলার পাল বংশের  প্রতিনিধিত্ব করেন- রাজা ধর্মপাল।
- প্রথম যুদ্ধ হয় ধর্মপাল ও প্রতীহার বংশের বৎসরাজের মধ্যে; এই যুদ্ধে ধর্মপাল পরাজিত হন।
- পরে দক্ষিণ থেকে রাষ্ট্রকুট রাজা ধ্রুব ধারাবর্ষ এসে বৎসরাজ ও ধর্মপালকে পরাজিত করেন।
- ত্রিশক্তি সংঘর্ষে ধর্মপাল পরাজিত হলেও বিশেষ ক্ষতি হয়নি, কারণ বিজয়ের পর রাষ্ট্রকুট রাজ দক্ষিণে ফিরে যান।
- ধর্মপাল কনৌজ অধিকার করেন এবং বারাণসী ও প্রয়াগ জয় করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯৯.
প্রাচীন গৌড় নগরীর অংশবিশেষ বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  2. কুমিল্লা
  3. বগুড়া
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা

গৌড় নগরী:
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৩০ অব্দে মালদহ অঞ্চলে ভোজ বংশীয় গৌড় নামক জনৈক ব্যক্তি যে রাজ্যের পত্তন করেছিলেন কালক্রমে তাই গৌড় রাজ্য নামে পরিচিত হয়।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল গৌড় রাজ্যের রাজধানী। 
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ - পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।

উল্লেখ্য,
- প্রাচীন গৌড় নগরীর বৃহদাংশের বর্তমান অবস্থান মূলত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ জেলার সদর মহকুমার সীমান্তবর্তী গ্রাম মহদিপুরে এবং ক্ষুদ্রাংশ অবস্থিত বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের গৌড় নামক গ্রামে।
- এখানে ‘দাখিল দরওয়াজা’ নামক একটি প্রত্ননির্দশন ও তার পুরু দেয়াল দিয়ে দুটি দেশের সীমান্ত বিভক্ত হয়েছে। ‘দাখিল দরওয়াজা’ দুদেশের প্রবেশ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ভারতীয় অংশে পড়েছে বড় সোনা মসজিদসহ বহুসংখ্যক দৃষ্টিনন্দন প্রত্ননিদর্শন। আর ছোট সোনা মসজিদসহ কিছু নিদর্শন রয়েছে বাংলাদেশ অংশে।

উৎস: i) দৈনিক ইনকিলাব।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০০.
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯১০
  2. খ) ১৯১২
  3. গ) ১৯১৫
  4. ঘ) ১৯০৫
ব্যাখ্যা
- বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাদুঘর।
- এটি বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটির একটি বড় অর্জন। 
 - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্নস্থল আবিষ্কারের লক্ষ্যে শরৎকুমার ১৯১০ সালের এপ্রিলে দেওপাড়া, পালপাড়া, মালঞ্চ, জগপুর, ইটাহার, চবিবশনগর, মান্দইল, কুমারপুর, খেতুর ও বিজয়নগর পরিদর্শন করেন।
- তাঁরা মান্দইল থেকে চন্ডীর কয়েকটি প্রমাণসাইজ মূর্তিসহ প্রায় ৩২টি ভাস্কর্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।
- রাজশাহীতে ফিরে আসার পর শহরের গণ্যমান্য নাগরিকগণ শরৎকুমার ও তাঁর সহকর্মীদের সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেন এবং রাজশাহীতে প্রত্নসামগ্রী সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সুতরাং প্রয়োজনের তাগিদে রাজশাহী জাদুঘর (পরবর্তীকালে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর) গড়ে ওঠে এবং প্রত্নসামগ্রী সংরক্ষণের জন্য শরৎকুমার মাসে ২০০ টাকা প্রদানের ব্যবস্থা করেন।
- ১৯১১ সালে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে সংগৃহীত সকল দুষ্প্রাপ্য ও অনন্য নমুনা কলকাতার ভারতীয় জাতীয় জাদুঘর দাবি করলে বরেন্দ্র জাদুঘরের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার উপক্রম হয়।
- বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে পাথর ও ধাতুনির্মিত ভাস্কর্য, খোদিত লিপি, মুদ্রা, মৃৎপাত্র ও পোড়ামাটির ফলক, অস্ত্রশস্ত্র, আরবি ও ফারসি দলিলপত্র, চিত্র, বইপত্র ও সাময়িকী এবং সংস্কৃত ও বাংলা পান্ডুলিপিসমূহ।