বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাচীন কালের ইতিহাস, জনপদ ও বিভিন্ন রাজবংশ

মোট প্রশ্ন১,৩৩৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাচীন কালের ইতিহাস, জনপদ ও বিভিন্ন রাজবংশ

PrepBank · পাতা ১১ / ১৪ · ১,০০১১,১০০ / ১,৩৩৮

১,০০১.
গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. ক) আম্বালা
  2. খ) লুম্বিনি
  3. গ) কাশগড়
  4. ঘ) হরপ্পা
ব্যাখ্যা
বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক গৌতমবুদ্ধ খ্রিস্টপূর্ব ৬২৩ অব্দে নেপালের লুম্বিনি নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার জন্ম সন নিয়ে মতভেদ রয়েছে। লুম্বিনি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের নিকট একটি পবিত্র স্থান।
(সূত্র: ইউনেস্কো ওয়েবসাইট)
১,০০২.
বাংলায় সেন বংশের পত্তন করেন কে?
  1. সামন্ত সেন
  2. বিজয় সেন
  3. হেমন্ত সেন
  4. বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা
- বাংলায় পাল যুগের অবসানের পর ক্ষমতাদখলের পালাবদলে বার শতকের দ্বিতীয় ভাগে সেন শাসনের সূচনা হয়।
- সেনদের পূর্বপুরষদের আদি বাস ছিল দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটকে।সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে এ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কিছুটা দ্বিমত লক্ষ্য করা যায়।

সামন্ত সেন: সামন্ত সেন কর্ণাটক থেকে এসে বাংলায় বসতি গড়েন। তিনি কোন রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করায় তাকে সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বলা গেলেও সেন শাসনের প্রতিষ্ঠাতা বলা সমীচিন না।

হেমন্ত সেন:  সামন্ত সেনের মৃত্যুর পর তার ছেলে হেমন্ত সেন পাল রাজা রামপালের অধীনে একজন সামন্ত রাজা ছিলেন। এজন্য অনেকেই তাকে সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বলে আখ্যায়িত করে থাকেন।
১,০০৩.
পাহাড়পুর কোন শতকে বিখ্যাত নগরী হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল?
  1. ক) পঞ্চম - অষ্টম
  2. খ) নবম - ত্রয়োদশ
  3. গ) ৬ষ্ঠ - দশম
  4. ঘ) সপ্তম - দ্বাদশ
ব্যাখ্যা
পাহাড়পুর জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। 
- এটি নওগাঁ জেলার একটি বৌদ্ধ ইতিহাস প্রসিদ্ধ স্থান। 
- এখানে সর্ববৃহৎ বৌদ্ধ সংঘারামের ধ্বংস স্তূপ খুঁজে পাওয়া গেছে। 
- আনুমানিক একাশি বিঘা জমিতে বিস্তৃত এই প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ।
- সপ্তম শতক থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত পাহাড়পুর এ দেশের বিখ্যাত নগরী হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল। 
- এ সময় পালরাজাগণ বঙ্গদেশ শাসন করতেন। পাল রাজারা বৌদ্ধ ছিলেন। 
-  পাহাড়পুরে একটি বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। এটি ইতিহাস প্রসিদ্ধ বিখ্যাত ‘সোমপুর বিহার' বলে প্রমাণিত। 
- পালবংশের রাজা ধর্মপাল কর্তৃক সোমপুর বিহার নির্মিত হয়।
- এটি দৈর্ঘ্যে ৯২২ ফুট এবং প্রস্থে ৯১৯ ফুট বিস্তৃত ছিল। 
- এতে দেওয়াল ঘেসে ভিক্ষুদের জন্য ১১৭টি কক্ষ ছিল। 
- কথিত আছে, সে সময় পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারের মত এত বড় বিহার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আর ছিল না। 
- সম্ভবত এই পাহাড়পুর সোমপুর বিহারের অনুকরণেই ইন্দোনেশিয়ার বোরোবোদুর মন্দির নির্মিত হয়।
 
উৎস : বৌদ্ধধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,০০৪.
'কোটিবর্ষ' কোন জনপদের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. সমতট
  3. গৌড়
  4. রাঢ়
ব্যাখ্যা

রাঢ়:
- বিভিন্ন ঐতিহাসিক উৎস থেকে বলা যায় যে, রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- তবকত-ই-নাসিরীর বর্ণনায়ও গঙ্গার দক্ষিণে রাঢ়ের অবস্থান নির্দেশিত হয়েছে।
- এই জনপদটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল।
• দক্ষিণ রাঢ়।
• উত্তর রাঢ়।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সুহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- রাঢ় বা সূহ্মদেশের অন্তর্গত তাম্রলিপ্তের কথা টলেমির ভূগোলে উল্লিখিত ছিল ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০০৫.
ফা-হিয়েনের ভ্রমণ কাহিনী থেকে কোন সাম্রাজ্য সম্পর্কে জানা যায়?
  1. সুলতানি সাম্রাজ্য
  2. পাল সাম্রাজ্য
  3. গুপ্ত সাম্রাজ্য
  4. সেন সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা
ফা-হিয়েন:
- ফা-হিয়েন প্রাচীন চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
- তিনি মধ্য এশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকা ভ্রমণ করেন ও তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করেন।
- ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি যখন ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তখন তাঁর বয়স সম্ভবত ৬৪ বছর।
- তিনি তাঁর ভ্রমণের অধিকাংশ সময়ই মধ্য ভারত বা মগধ পরিভ্রমণ অতিবাহিত করেন।
- তাঁর গন্তব্যস্থল ছিল সে সময়ের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বন্দর তাম্রলিপ্তি (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত তমলুক)।

উল্লেখ্য,
- চিনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শাসনকালে গৌতমবুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন।
- ফা-হিয়েনের বর্ণনায় পাটলীপুত্র, তাম্রলিপ্তি, তক্ষশীলা, সারনাথ, মথুরা, পেশোয়ার, কুশীনগরসহ বেশ কিছু প্রসিদ্ধ স্থানের বিবরণ আছে।
- তাঁর ভ্রমণ কাহিনী থেকে গুপ্তযুগীয় ভারতের আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় এবং পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক অবস্থার কিছু চিত্র পাওয়া যায়, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- ফা-হিয়েন গুপ্ত শাসনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। 

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া। 
১,০০৬.
‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার কোন সময়কে নির্দেশ করে?
  1. ক) ৫ম - ৬ষ্ঠ শতক
  2. খ) ৬ষ্ঠ - ৭ম শতক
  3. গ) ৭ম - ৮ম শতক
  4. ঘ) ৮ম - ৯ম শতক
ব্যাখ্যা
শশাঙ্কের পর দীর্ঘদিন বাংলায় কোন যোগ্য শাসক ছিল না। ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়।
সামন্ত রাজারা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে থাকেন। অরাজকতাপূর্ণ সময় (৭ম - ৮ম) কে পাল তাম্র শাসনে আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলে। পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা 'গোপাল' এর শাসনামলে এই মাৎস্যন্যায় এর অবসান ঘটে ও শৃঙ্খলা ফিরে আসে।
উৎস - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
১,০০৭.
রাঢ় জনপদ কতটি অংশে বিভক্ত ছিল?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
রাঢ় জনপদ:
- রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- রাঢ় জনপদটি দুইটি অংশে বিভক্ত ছিল।
- দক্ষিণ রাঢ় এবং উত্তর রাঢ় নিয়ে ছিল রাঢ় জনপদ।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০৮.
সর্বপ্রথম সূর্য গ্রহণের প্রাকৃতিক কারণ ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. ক) প্লেটো
  2. খ) থালেস
  3. গ) এরিস্টটল
  4. ঘ) পিথাগোরাস
ব্যাখ্যা
দর্শন শাস্ত্রে প্রাচীন গ্রিস:
- দার্শনিক চিন্তার ক্ষেত্রে গ্রিসের অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছিল।
- পৃথিবী কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, প্রতিদিন কীভাবে এর পরিবর্তন ঘটছে এসব ভাবতে গিয়ে গ্রিসে দর্শন চর্চার সূত্রপাত।
- থালেস ছিলেন প্রথম দিককার দার্শনিক। তিনিই প্রথম সূর্য গ্রহণের প্রাকৃতিক কারণ ব্যাখ্যা করেন।
- এরপর গ্রিসের যুক্তিবাদী দার্শনিকের আবির্ভাব ঘটে। এদের বলা হতাে সফিস্ট। এরা বিশ্বাস করতেন যে চূড়ান্ত সত্য বলে কিছু নেই।
- গণতান্ত্রিক নগর রাষ্ট্র এথেন্সের রাজা পেরিক্লিস এদের অনুসারী ছিলেন।
- সক্রেটিস ছিলেন এ চিন্তার দার্শনিকদের মধ্যে সবচেয়ে খ্যাতিমান। তার শিক্ষার মূল দিক ছিল- আদর্শ রাষ্ট্র ও সৎ নাগরিক গড়ে তােলা। অন্যায় শাসনের প্রতিবাদ করার শিক্ষাও তিনি দেন।
- সক্রেটিসের শিষ্য প্লেটো গ্রিক দর্শনকে চরম উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হন।
- প্লেটোর শিষ্য এরিস্টটলও একজন বড় দার্শনিক ছিলেন। 


উৎস: মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০৯.
দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের আমলে কোন চীনা পরিব্রাজক ভারতবর্ষে আসেন?
  1. ক) ফা-হিয়েন
  2. খ) হিউয়েন সাং
  3. গ) মেগাস্থিনিস
  4. ঘ) মা হুয়ান
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন ভারতবর্ষে আসেন। তিনি ১০ বছর ভারতে অবস্থানকালে তাঁর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ৭টি গ্রন্থ রচনা করেন। এর মধ্যে ‘ফো-কুয়ো-কিং’ বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সময়ে গ্রিক পরিব্রাজক মেগাস্থিনিস ভারতবর্ষে আগমন করে ভারতের শাসন প্রকৃতি, ভৌগোলিক বিবরণ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ইন্ডিকা’তে লিপিবদ্ধ করেন। হিউয়েন সাং ছিলেন চীন দেশীয় বৌদ্ধ পণ্ডিত। হর্ষবর্ধনের দরবারে তিনি আট বছর কাটান। সূত্র- বোর্ড বইঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১০.
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস কবে পালন করা হয়?
  1. ৮ সেপ্টেম্বর
  2. ১১ জুলাই
  3. ২৩ জুলাই
  4. ২ অক্টোবর
ব্যাখ্যা

- বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস - ১১ জুলাই;

• আরও কিছু জাতীয় দিবস:
- জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস = ২৩ জুলাই;
- জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস =  ৯ আগস্ট;
- আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস = ৮ সেপ্টেম্বর;
- বিশ্ব নৌদিবস = সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ;
- জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস = ২ অক্টোবর;
- শিশু অধিকার দিবস = অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার;
- আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস = ১৩ অক্টোবর;
- বিশ্ব খাদ্য দিবস = ১৬ অক্টোবর ;
- জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস = ২২ অক্টোবর;
- জাতীয় যুব দিবস ১ নভেম্বর;
- জাতীয় সমবায় দিবস নভেম্বর মাসের প্রথম শনিবার;
- বিশ্ব এইডস দিবস = ১ ডিসেম্বর;
- জাতীয় বস্ত্র দিবস = ০৪ ডিসেম্বর;
- আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস = ৯ ডিসেম্বর;
- বেগম রোকেয়া দিবস = ৯ ডিসেম্বর;

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

১,০১১.
বলেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে নিচের কোন জনপদটি ছিল?
  1. পুণ্ড্র
  2. বঙ্গ
  3. গৌড়
  4. চন্দ্রদ্বীপ
ব্যাখ্যা

চন্দ্রদ্বীপ:
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- এ প্রাচীন জনপদটি বলেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।
- চন্দ্রদ্বীপ নামের আগে এ অঞ্চলটির নাম ছিল ‘বাকলা’। 
- চন্দ্রদ্বীপের রাজধানী ছিল কচুয়া।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০১২.
কলোসিয়াম নাট্যশালা নির্মিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?
  1. ক) ৪০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. খ) ৫৫ খ্রিষ্টাব্দে
  3. গ) ৬০ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ঘ) ৮০ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
রােমান সভ্যতার স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও বিজ্ঞান: 
- রােমান স্থাপত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এর বিশালতা।
- স্মাট হার্ডিয়ানের তৈরি ধর্মমন্দির প্যানথিয়ন রােমানদের স্থাপত্যের এক অসাধারণ নিদর্শন।
- ৮০ খ্রিষ্টাব্দে রােমান সম্রাট টিটাস কর্তৃক নির্মিত কলােসিয়াম নাট্যশালা নির্মিত হয়, যেখানে একসঙ্গে ৫৬০০ দর্শক বসতে পারত।
- স্থাপত্যকলার পাশাপাশি রােমান ভাস্কর্যেরও উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল।
- রােমান ভাস্করগণ দেব-দেবী, সম্রাট, দৈত্য, পুরাণের বিভিন্ন চরিত্রের মূর্তি তৈরি করতেন মার্বেল পাথরের।
- বিজ্ঞানীদের মধ্যে কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হন।
- তাদের মধ্যে প্লিনি বিজ্ঞান সম্পর্কে বিশ্বকোষ প্রণয়ন করেন।
- এতে প্রায় পাঁচশ’ বিজ্ঞানীর গবেষণাকর্ম স্থান পেয়েছে।
- তাছাড়া চিকিৎসা বিজ্ঞানে রােমানদের অবদান ছিল।
- বিজ্ঞানী সেলসাস চিকিসা বিজ্ঞানের ওপর বই লেখেন।
- এছাড়া চিকিৎসাশাস্ত্রে গ্যালেন রুফাসে অসামান্য অবদান রেখেছেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০১৩.
মাৎস্যন্যায় বাংলার কোন সময় নির্দেশ করে?
  1. ৭ম - ৮ম শতক
  2. ৯ম - ১০ম শতক
  3. ৫ম - ৬ষ্ঠ শতক 
  4. ৮ম - ৯ম শতক
ব্যাখ্যা

 মাৎস্যন্যায়:
- ‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার ৭ম-৮ম শতক সময়কালকে নির্দেশ করে।
- রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়কালকে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।
- সে সময় বাংলার রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।
- প্রায় সমসাময়িক লিপি, খালিমপুর তাম্রশাসন এবং সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতম কাব্যে পাল বংশের পূর্ববর্তী সময়ের বাংলার নৈরাজ্যকর অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলে উল্লেখ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০১৪.
সপ্তম শতাব্দীতে নির্মিত পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহারটি কি নামে পরিচিত ছিল?
  1. শ্রী বিহার
  2. সোমপুর বিহার
  3. ধর্মপাল বিহার
  4. জগদ্দল বিহার
ব্যাখ্যা
পাহাড়পুর বা পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলায় অবস্থিত।
পাল রাজা ধর্মপাল ৭৮১-৮২১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেছেন। পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ধর্মপাল বৌদ্ধধর্মের প্রসারে নওগাঁ জেলার পাহারপুরে সোমপুর বিহার প্রতিষ্ঠা করেন।
এখন পর্যন্ত সোমপুর বিহার ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার হিসেবে স্বীকৃত।
এটিকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐহিত্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সূত্রঃ নওগাঁ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।
১,০১৫.
কোন ইউরোপীয় সর্বপ্রথম সমুদ্রপথে ভারতে আগমন করেন?
  1. ম্যাগিলান
  2. ভাস্কো-দা-গামা
  3. ড্রেক
  4. লিভিংস্টোন
ব্যাখ্যা
বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম বাংলায় আগমন করে।
- পর্তুগীজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-দা-গামা। 
- ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ মে তার এ উপমহাদেশে আগমন ব্যবসায়-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- পর্তুগিজরা ব্যবসায়-বাণিজ্যকে মূলধন করে এদেশে এলেও ক্রমে ক্রমে তারা সাম্রাজ্য বিস্তারের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে তারা কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি অঞ্চলে কুঠি স্থাপন এবং ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল হলেও তাদের অপকর্ম ও দস্যুতার কারণে বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান পর্তুগিজদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপের ঘাঁটি দখল করে, তাদের বাংলা থেকে বিতাড়িত করেন।
- তাছাড়া পর্তুগিজরা এদেশে আগত ইউরোপীয় অন্যন্য শক্তির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাজিত হয়ে এদেশ ত্যাগে বাধ্য হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১৬.
প্রথম সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. খালিদ বিন ওয়ালিদ
  2. সুলতান মাহমুদ
  3. মুহম্মদ ঘুরি
  4. মুহাম্মদ বিন কাসিম
ব্যাখ্যা
সিন্ধু বিজয়:
- আরবদের সিন্ধু বিজয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- এটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলমানদের আগমনের সূচনালগ্ন ধরা হয়।
- এ ঐতিহাসিক ঘটনার প্রধান কুশীলব ছিলেন আরব সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম ও সিন্ধুর তৎকালীন রাজা দাহির।
- প্রথম সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি ছিলেন মুহাম্মদ বিন কাসিম।

উল্লেখ্য,
- খলিফা প্রথম ওয়ালিদের সময় মুসলমানগণ সিন্ধু অভিযান করে।
- খলিফার অনুমতি নিয়ে ইরাকের গভর্ণর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এই অভিযান পাঠান।
- সিন্ধু বিজয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাম্রাজ্যের বিস্তার সাধন এবং অর্থ সম্পদ লাভ।
- মুহম্মদ বিন কাসিম এক শক্তিশালী বাহিনী নিয়ে সিন্ধুদেশ আক্রমণ করেন।
- তিনি দাইবুল, নীরুন, সিওয়ান ও সিসাম দখল করে আরও উত্তরে অগ্রসর হন।
- সিন্ধুরাজ দাহির রাওয়ার দুর্গ রক্ষার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু তিনি যুদ্ধে নিহত হন।
- রাওয়ার দখলের পর মুহম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুর রাজধানী আলোর জয় করেন।
- এরপর মুলতানও মুসলমানদের দখলে আসে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১৭.
বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল প্রাচীনযুগে কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. পুণ্ড্র
  2. সমতট
  3. বরেন্দ্র
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা

পুণ্ড্র জনপদ:
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুণ্ড্র।
- পুণ্ড্র ‘জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়। 
- পুণ্ড্র রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।

অন্যদিকে,
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
- সমতটের অন্তর্গত ছিল বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালি অঞ্চল।
- সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত হরিকেল জনপদ বিস্তৃত ছিল।

উৎস: i)বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম- দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

১,০১৮.
ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে সর্বশেষ বাংলায় এসেছিলেন-
  1. ক) পর্তুগিজরা
  2. খ) ইংরেজরা
  3. গ) ফরাসিরা
  4. ঘ) ওলন্দাজরা
ব্যাখ্যা
১৪৯৮ সালের ২৭মে দুঃসাহসিক পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা উত্তমাশা অন্তরীপ অতিক্রম করে তিনটি বাণিজ্য তরী নিয়ে ভারতের পশ্চিম উপকূলে কালিকট বন্দরে আগমন করেন। তারা ১৫১৬ সালে প্রথম বাংলায় আসেন।
এরপর ১৬৩০ সালে ওলন্দাজরা, ১৬৫৮ সালে ইংরেজরা এবং সবশেষে ১৬৭৪ সালে ফরাসিরা বাংলায় আগমন করে।
উৎস - বাংলাপিডিয়া।
১,০১৯.
”ষাট গম্বুজ মসজিদ” কোন শতাব্দীতে নির্মিত হয়?
  1. ১৫শ
  2. ১৬শ
  3. ১৩শ
  4. ১৪শ
ব্যাখ্যা

• ষাট গম্বুজ মসজিদ:
- ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ।
- মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই।
- মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী দেখলে এটি যে খান-ই-জাহান নির্মাণ করেছিলেন সে সম্বন্ধে কোনো সন্দেহ থাকে না।
- তিনি ১৫শ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করেন। 
- এ মসজিদটি বহু বছর ধরে ও বহু অর্থ খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছিলো। 
- পাথরগুলো আনা হয়েছিলো রাজমহল থেকে।
- এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটির মধ্যে অবস্থিত; 
- বাগেরহাট শহরটিকেই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। 
- ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো এই সম্মান প্রদান করে।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

১,০২০.
বাংলার প্রথম পাল রাজা কে?
  1. জয়পাল
  2. গোপাল
  3. রামপাল
  4. মহিপাল
ব্যাখ্যা
- পাল বংশ প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ। পালরা প্রায় চারশ বছর বাংলা শাসন করে।
- অষ্টম শতাব্দীতে ৭৫০ সালে গোপাল মাৎস্যনায় অবস্থার অবসান ঘটিয়ে পাল শাসনের সূত্রপাত করেন। গোপাল ৭৫০ খ্রি. থেকে ৭৮১ খ্রি. পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন।
- পাল বংশের শ্রেষ্ঠতম শাসক ছিলেন ধর্মপাল। তিনি প্রায় (৭৮১-৮২১ খ্রি.) ৪০ বছর বাংলা শাসন করেন। তার উপাধি ছিলো পরমেশ্বর, পরমভট্টারক, মহারাজাধিরাজ প্রভৃতি।
- পাল বংশের সর্বশেষ শাসক হলেন মদনপাল (১১৪৩-১১৬১ খ্রি.)।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০২১.
শীলাদেবীর ঘাট বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. কিশোরগঞ্জ
  2. নরসিংদী
  3. বগুড়া
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
শীলাদেবীর ঘাট: 
- শীলাদেবীর ঘাট বগুড়া জেলার করতোয়া নদীতে অবস্থিত।
- স্থানটির অবস্থান মহাস্থানগড়স্থ বৈরাগীর ভিটার বিপরীত দিকে।
- স্থানীয় কাহিনী-কিংবদন্তী অনুযায়ী শীলাদেবী ছিলেন মহাস্থানগড়ের শেষ হিন্দু রাজা পরশুরামের কন্যা বা ভগ্নি।

উল্লেখ্য, 
- মুসলিম সাধক শাহ সুলতান বলখী (রঃ) মাহীসওয়ার কর্তৃক রাজা পরশুরাম পরাজিত হলে শীলাদেবী করতোয়ার এই স্থানে জলে ডুবে আত্মাহুতি দেন। এই স্থানটি তাই শীলাদেবীর ঘাট নামে পরিচিত। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
১,০২২.
প্রাচীনকালে বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন -
  1. সম্রাট অশোক
  2. শশাঙ্ক
  3. সমুদ্রগুপ্ত
  4. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
ব্যাখ্যা
সম্রাট অশোক:
- মৌর্য বংশের তৃতীয় শাসক ছিলেন সম্রাট অশোক।
- উত্তর বাংলা জয়কারী প্রথম মৌর্য সম্রাট।
- কলিঙ্গ যুদ্ধ ভয়াবহ দেখে তিনি বৌদ্ধ ধর্ম দীক্ষা লাভ করেন।
- সম্রাট অশোককে বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক বা কনস্ট্যানটাইন বলা হয়।

অপরদিকে,
শশাঙ্ক:
- শশাঙ্ক ছিলেন গৌড়ের স্বাধীন রাজা।
- তার রাজধানী কর্ণসুবর্ণ।
- তাকে বৌদ্ধ ধর্ম বিদ্বেষী বলা হয়।
-তার মৃত্যুর পর মৎস্যন্যায় শুরু হয়।

সমুদ্র গুপ্ত: 
- সমতট ব্যতীত সমগ্র বাংলা জয় করেন সমুদ্র গুপ্ত।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।

এছাড়াও,
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ছিলেন মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠা। 
- প্রথম স্বাধীন ও শক্তিশালী রাজা ছিল।

উৎস: বাংলাদেশ ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০২৩.
হিউয়েন সাঙ বাংলায় এসেছিলেন কবে?
  1. ক) ৬০৬ খ্রি:
  2. খ) ৬১৯ খ্রি:
  3. গ) ৬৩৭ খ্রি:
  4. ঘ) ৬৩৯ খি:
ব্যাখ্যা
- খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে উত্তর-বাংলায় জৈন ধর্মের প্রসার হয়েছিল। আর মৌর্য সম্রাট অশোকের বৌদ্ধধর্ম প্রচার বাংলাদেশের হৃদয় জয় করেছিল।
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের মধ্যে পণ্ড্রর্বধনে বৌদ্ধধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। বৌদ্ধধর্মের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি বৌদ্ধ শ্রমণেরা বাংলাদেশ ভ্রমণ করেন।
- পঞ্চম শতকের গোড়ায় চীনের বৌদ্ধ শ্রমণ ফা-হিয়েন বাংলায় এসেছিলেন।
- হিউয়েন সাঙ বাংলায় এসেছিলেন আনুমানিক ৬৩৯ খ্রিস্টাব্দে। তিনি দেখেছেন, সমতটের ত্রিশটি বিহারে দুহাজার শ্রমণের বাস।
- অষ্টম শতকে পাল যুগে বাংলাদেশের বৌদ্ধ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। বহুখ্যাত বৌদ্ধবিহারগুলো ঐ পর্বের বৌদ্ধধর্ম ও জ্ঞানের শ্রেষ্ঠ পরিচয় বহন করে।
- আচার্যগণ জ্ঞান-সাধনা এবং গ্রন্থ রচনা করেছেন যার অধিকাংশই তিব্বতি ভাষায় অনূদিত হয়েছিল।
- বৌদ্ধ ধর্মেরও রূপ বদলে সহজিয়া পরিচয় লাভ করেছে। বাংলার আউল-বাউলরা বাংলার সেই সহজিয়া ধর্মেরই ধারকবাহক।
- সেন-বর্মণ পর্বে বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব কমে আসছিল।
- বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মণ্য ধর্মের এই দ্বন্দ্ব-সংঘাত অনেক দিনের। ব্রাহ্মণেরা বৌদ্ধদের বলেছেন ‘পাষণ্ড’ যা সংঘর্ষের প্রমাণ।
- বৌদ্ধধর্ম ব্রাহ্মণ্য ধর্মের কুক্ষিগত হয়ে পড়ছিল। বৌদ্ধ বিহারে এর পরেও যা অবশিষ্ট ছিল, বখতিয়ার খিলজির নেতৃত্বে তুর্কি আক্রমণের মুখে তাও ধুয়ে মুছে গেল। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২৪.
পূর্বে মহাস্থানগড় কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. কর্ণসুবর্ণ
  2. পুণ্ড্রনগর
  3. বঙ্গ
  4. রাঢ়
ব্যাখ্যা

মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- পূর্বে মহাস্থানগড়ের নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- বগুড়া শহর হতে ১৫ কিঃমিঃ দূরে পুণ্ড্রবর্ধনের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দূর্গনগরী ।
- সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দুর্গ নগরী ইটের বেষ্টনী প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত যা উত্তর দক্ষিনে ১৫২৫ মিঃদীর্ঘ এবং পূর্ব পশ্চিমে ১৩৭০মিঃ প্রশস্থ ও চতুপার্শ্বস্থ সমতল ভূমি হতে ৫মিঃ উঁচু।
- কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত এ স্থান পরাক্রমশালী মৌর্য, গুপ্ত এবং পাল শাসকবর্গের প্রাদেশিক রাজধানী ও পরবর্তীকালে হিন্দু সমান্ত রাজাগণের রাজধানী ছিল।
- বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হয়েন সাঙ ভারতবর্ষ ভ্রমণকালে (৬৩৯-৬৪৫) পুন্ড্রনগর পরিদর্শন করেন।

তথ্যসূত্র - বগুড়া জেলা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

১,০২৫.
প্রাচীনকালে ‘সমতট’ বলতে বাংলাদেশের কোন অঞ্চলকে বোঝানো হয়?
  1. কুষ্টিয়া
  2. বগুড়া
  3. বরিশাল
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• সমতট জনপদ:
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা-পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী ‘লালমাই' এলাকা।
- ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট। (অপশনে উত্তর না থাকায় এখানে উত্তর 'কোনটি নয়' হবে)
- হিউয়েন সাঙ কোন সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,০২৬.
'উয়ারী-বটেশ্বর' গ্রামে কোন সময়ে প্রাচীন নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল?
  1. প্রায় দুইশ বছর আগে
  2. প্রায় ছয়শ বছর আগে
  3. প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে
  4. প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে
ব্যাখ্যা

উয়ারী-বটেশ্বর:
- উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম।
- উয়ারী-বটেশ্বর গ্রামে আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে (খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ থেকে ১০০ অব্দের মধ্যে) লৌহ যুগে এই প্রাচীন নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উয়ারী প্রত্নস্থলে আবিষ্কৃত হয়েছে ৬০০ মি. x ৬০০ মি. আয়তনের চারটি মাটির দুর্গ-প্রাচীর।
- দুর্গ প্রাচীরের ৫-৭ ফুট উঁচু ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু অংশ এখনো টিকে আছে।
- এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন, প্রত্নতাত্ত্বিক এবং একটি দুর্গ-নগর বা বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল, যেখানে ছাপাঙ্কিত মুদ্রা, নগর পরিকল্পনা ও উন্নত বসতি স্থাপনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
- আবিষ্কৃত প্রত্নবস্তু বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় যে, উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একাধারে একটি নগর ও সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,০২৭.
বাংলার প্রাচীনতম জনগোষ্ঠী কোনটি?
  1. অস্ট্রিক
  2. নেগ্রিটো
  3. দ্রাবিড়
  4. বং
ব্যাখ্যা
- বাংলায় বসবাসকারী প্রাচীনতম জনগোষ্ঠী হলো বং জনগোষ্ঠী
- বং জনগোষ্ঠীর পরে নেগ্রিটো জনগোষ্ঠী বাংলায় বসতি স্থাপন করেছিলো।

- নেগ্রিটোদের পর ইন্দোচীন থেকে অস্ট্রিক বা নিষাদ বা আদি-অস্ট্রেলীয় জনগোষ্ঠী বাংলায় বসতি স্থাপন করে এবং অপরাপর জনগোষ্ঠীসমূহের উপর প্রভাব বিস্তার করে।
- পরবর্তীতে দ্রাবিড় ও ভোটচীনীয়রা বাংলায় আগমন করে।

- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ থেকে ৫০০ অব্দ সময়ে বাংলায় আর্যদের আগমন ঘটে। আর্যদের পূর্বে বাংলায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠী অনার্য নামে পরিচিত।
- আর্য পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন উপনিবেশিক নৃগোষ্ঠী বাংলায় বসতি স্থাপন করে
- বাঙালির নৃতাত্ত্বিক গঠনে অস্ট্রিক জনগোষ্ঠীর প্রভাব সর্বাধিক।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১,০২৮.
গৌড়রাজ শশাঙ্ক কোন শতকে শাসন করেন?
  1. ষষ্ঠ শতক
  2. সপ্তম শতক
  3. অষ্টম শতক
  4. নবম শতক
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি সপ্তম শতকে শাসন করেছিলেন।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

⇒ স্বাধীন গৌড়রাজ্য:
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটলে পরবর্তী গুপ্তবংশ নামে পরিচিত গুপ্ত উপাধি নেয়া রাজাগণ বাংলা, পশ্চিম বাংলার উত্তরাংশ ও মগধে ক্ষমতা বিস্তার করেছিলেন। বিভিন্ন কারণে গুপ্ত বংশের রাজারা দুর্বল হয়ে পড়লে এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে মগধে শশাঙ্ক নামক এক খ্যাতিমান শাসক গৌড় রাজ্যের ক্ষমতা দখল করেন। প্রাথমিক যুগে শশাঙ্ক ছিলেন গুপ্ত রাজ মহাসেন গুপ্তের একজন মহাসামন্ত। ৬০৬ খ্রিস্টাব্দের আগে কোন এক সময় তিনি গৌড়ের স্বাধীন নরপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তিনি কর্ণসুবর্ণে রাজধানী স্থাপন করেন। প্রাথমিক সময়ে স্বাধীন গৌড় রাষ্ট্রের রাজা শশাঙ্ক দণ্ডভুক্তি রাজ্য, উড়িষ্যার উৎকল ও কঙ্গোগ রাজ্য এবং বিহারের মগধ রাজ্য জয় করে তার রাজ্যসীমা বৃদ্ধি করেন। পশ্চিমে তার রাজ্য বারানসী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। কামরূপ রাজারাও শশাঙ্কের হাতে পরাজিত হন।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) মুর্শিদাবাদ জেলা ওয়েবসাইট।
১,০২৯.
নিচের কোন এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. কুমিল্লা
  2. ফরিদপুর
  3. সিলেট
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৩০.
‘দীন-ই-ইলাহি’ নামে একেশ্বরবাদমূলক নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন কে? 
  1. বখতিয়ার খলজি
  2. সম্রাট বাবর
  3. সম্রাট হুমায়ুন
  4. সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
দীন-ই-ইলাহি:

• সম্রাট আকবর ১৫৮২ সালে 'দীন-ই-ইলাহি' নামে একেশ্বরবাদমূলক এক নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। 
• সকল ধর্মের সারবস্তু নিয়ে এই ধর্মমত গঠিত হয়। 
• এই ধর্মমতের কালেমা ছিল 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আকবর খলিফাতুল্লাহ'। 

• দীন-ই-ইলাহি রীতিনীতি, বিধানগুলো ছিল নিম্নরূপ:
১. এই ধর্মের অনুসারীগণ পরস্পর দেখা হলে, 'আসসালামু আলাইকুম' এর পরিবর্তে 'আল্লাহু আকবার' এবং প্রত্যুত্তরে 'ওয়া আলাইকুম আস্সালাম' না বলে 'জাল্লাজালালুহু' বলা।
২. এই ধর্মীয় বিধান অনুসারে মৃত্যুর পরে নয়, মৃত্যুর পূর্বেই দাওয়াত বা আমন্ত্রণের ব্যবস্থা করা।
৩. সভ্যগণ নিজ নিজ জন্মদিন পালন এবং ভোজের আয়োজন করবেন।
৪. সভ্যগণ ভিক্ষা প্রদান করবেন কিন্তু ভিক্ষা গ্রহণ করবেন না।
৫. এই ধর্মমত গ্রহণে কাউকে বাধ্য করা হবে না।

• ড. ভি. স্মিথের মতে, সংকীর্ণ অর্থে আকবরের দীন-ই-ইলাহি কোনো ধর্ম নয়। 
• এটি ছিল একটি জীবন দর্শন মাত্র। 
• দীন-ই-ইলাহির দীক্ষা গ্রহণকারী ব্যক্তির সংখ্যা ছিল মাত্র বিশজন। এদের একমাত্র হিন্দু ছিলেন রাজা বীরবল এবং বাকী সকলেই মুসলমান। 
• দীন-ই-ইলাহির মাধ্যমে সকল ধর্মের সারাংশের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ সাধন করা ছিল আকবরের উদ্দেশ্য। এর পিছনে তাঁর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল ভারতের বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদেরকে একসঙ্গে নিয়ে আসা। 
• দীন-ই-ইলাহি সম্রাট আকবরের মৃত্যুর (১৬০৫ খ্রি.) সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,০৩১.
নিচের কোন এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. সিলেট
  2. চট্টগ্রাম
  3. ফরিদপুর
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৩২.
প্রত্নতাত্ত্বিক স্থল 'শালবন বিহার' কোন জনপদে অবস্থিত?
  1. পুন্ড্র
  2. সমতট
  3. হরিকেল
  4. বঙ্গ
ব্যাখ্যা
প্রত্নতাত্ত্বিক স্থল 'শালবন বিহার' সমতট জনপদে অবস্থিত।

শালবন বিহার:
- কুমিল্লার ময়নামতিতে খননকৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে শালবন বিহার অন্যতম প্রধান।
- লালমাই পাহাড়ের মাঝামাঝি এলাকায় এ বিহারটির অবস্থান।
- বিহারটির আশপাশে এক সময় শাল-গজারির ঘন বন ছিল বলে এ বিহারটির নামকরণ হয়েছিল শালবন বিহার।
- ধারণা করা হয় যে খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন।
- বিহারে সর্বমোট ১৫৫টি কক্ষ আছে।
- এই কক্ষগুলোতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বিদ্যাশিক্ষা ও ধর্মচর্চা করতেন।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে বিহারটির ধ্বংসাবশেষ থেকে আটটি তাম্রলিপি, প্রায় ৪০০টি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, অসংখ্য পোড়া মাটির ফলক বা টেরাকোটা, সিলমোহর, ব্রৌঞ্জ ও মাটির মূর্তি পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য,
⇒ সমতট:
- দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট।
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী এলাকায় কুমিল্লা-নোয়াখালীর সমতল অঞ্চলে ছিল সমতটের অবস্থান।
- তবে ত্রিপুরাকে সমতটের প্রধান কেন্দ্র বলা হতো।
- লালমাই-ময়নামতীকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চল গড়ে উঠেছিল।
- চন্দ্রবংশীয় রাজা ভবদেবের আমলে (সপ্তম শতাব্দী) ময়নামতীতে শালবন বিহার তৈরি হয়।
- বিভিন্ন সময় উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন লিপিতে ‘দেবপর্বত’কে সমতটের রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- সাত শতকে সমতটের রাজধানী ছিল বড়কামতা।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,০৩৩.
নিচের কোনটি শশাঙ্কের রাজত্বকাল?
  1. ৫৮৪ খ্রি. – ৬১৪ খ্রি.
  2. ৫৯৪ খ্রি. – ৬৩৭ খ্রি.
  3. ৫৯৯ খ্রি. – ৬৩০ খ্রি.
  4. ৬০২ খ্রি. – ৬৪৩ খ্রি.
ব্যাখ্যা
- সপ্তম শতকের প্রারম্ভে বাংলার প্রথম স্বাধীন নৃপতি শশাঙ্ক উত্তর বাংলায় একটি শক্তিশালী স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন যা ‘গৌড়রাজ্য’ নামে পরিচিত। এই রাজ্যের রাজধানী ছিলো মুর্শিদাবাদ জেলার নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ।
- উত্তর বাংলা থেকে উড়িষ্যা পর্যন্ত স্বাধীন গৌড়রাজ্যের বিস্তৃতি ছিলো।
- ৫৯৪ খ্রি. থেকে ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শশাঙ্ক গৌড়রাজ্য শাসন করেন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০৩৪.
বাংলা সাল গণনা শুরু হয় -
  1. ক) ১৫৮৪
  2. খ) ১৫৭২
  3. গ) ১৫৬৫
  4. ঘ) ১৫৫৬
ব্যাখ্যা
▪ কৃষি কাজের সুবিধার্থে মোগল সম্রাট আকবর ১৫৮৪ সালের ১০/১১ মার্চ বাংলা সনের প্রবর্তন করেন এবং তা ১৫৫৬ সালের ৫ নভেম্বর তার সিংহাসনে আরোহনের সময় হতে কার্যকর হয়।
▪ হিজরি চান্দ্র সন ও বাংলা সৌর সনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়।
▪ এটি প্রথমে ফসলি সন নামে পরিচিতি পেলেও পরবর্তীতে এটি বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
১,০৩৫.
‘মাৎস্যন্যায়' বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে কোন সময়কে?
  1. ক) ৫ম শতকের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত।
  2. খ) ৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত।
  3. গ) ৯ম শতক থেকে ১২ শতক পর্যন্ত ।
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয় ।
ব্যাখ্যা
‘মাৎস্যন্যায়’
- ৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দে রাজা শশাঙ্ক এর মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে বাংলার রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।  ঐতিহাসিকরা এ অবস্থাকে  হিসেবে অভিহিত করেন ‘মাৎস্যন্যায়’ নামে।
- প্রায় সমসাময়িক লিপি, খালিমপুর তাম্রশাসন এবং সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতম কাব্যে পাল বংশের অব্যবহিত পূর্ববর্তী সময়ের বাংলার নৈরাজ্যকর অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়ম্’ বলে উল্লেখ করা হয়।
- ৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর এ অবস্থা বিরাজমান ছিলো। ৭৫০ সালে গোপাল কর্তৃক পাল শাসনের সূত্রপাতের মাধ্যমে মাৎস্যন্যায় অবস্থার অবসান হয়।

[রেফারেন্স: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী]
১,০৩৬.
দেবপাল কোন খ্রিস্টাব্দে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন?
  1. ৮২০ খ্রিস্টাব্দে
  2. ৮২১ খ্রিস্টাব্দে
  3. ৮২২ খ্রিস্টাব্দে
  4. ৮২৩ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
দেবপাল:
- দেবপাল পালবংশের অন্যতম রাজা ছিলেন।
- তিনি আনুমানিক ৮২১ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি শুধু পিতা ধর্মপালের সাম্রাজ্য রক্ষাই করেননি, বরং সীমানা বৃদ্ধিও করেন।
- দেবপাল গুর্জের রাজাকে পরাজিত করেন, উড়িষ্যাও জয় করেন।
- দেবপাল সুমাত্রা, জাভা ও বোর্ণিও রাজ্যের রাজাদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
- দেবপাল বৌদ্ধ ধর্মের একজন প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- তিনি মগধের বৌদ্ধ মঠগুলোর সংস্কার সাধন করেন।
- তিনি নালন্দায়ও কয়েকটি মঠ এবং বুদ্ধগয়ায় একটি বড় মন্দির নির্মাণ করেন।
- দেবপালের পৃষ্ঠপোষকতায় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্ররূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- এ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে তাঁর শাসনামলে উত্তর ভারতে লুপ্তপ্রায় বৌদ্ধ ধর্ম পুনরায় সঞ্জীবিত হয়ে উঠে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৩৭.
কোন জনপদটি বাংলার বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য বন্দর ছিল?
  1. পুণ্ড্র
  2. রাঢ়
  3. বরেন্দ্র
  4. চন্দ্রদ্বীপ
ব্যাখ্যা
রাঢ় বাংলার বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য বন্দর ছিল।

রাঢ় জনপদ:

- রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- রাঢ় জনপদটি ২টি অংশে বিভক্ত ছিল।
- দক্ষিণ রাঢ় এবং উত্তর রাঢ় নিয়ে ছিল রাঢ় জনপদ।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।
- বৌদ্ধ পুঁথি ও বিদেশী পর্যটকদের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তৎকালে তাম্রলিপ্তি একটি বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য বন্দর ছিল।
- শুধু বাংলা নয় এটি প্রাচীন ভারতেরও পূর্বাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বন্দর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৩৮.
বখতিয়ার খিলজি বাংলা জয় করেন কোন সালে?
  1. ক) ১২১২
  2. খ) ১২০০
  3. গ) ১২০৪
  4. ঘ) ১২১১
ব্যাখ্যা
- তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- লক্ষ্মণ সেন পেছনের দরজা দিয়ে নৌকাযোগে বিক্রমপুরে পলায়ন করেন।
- বখতিয়ার খলজি কর্তৃক নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
১,০৩৯.
মুসলিম যুগে কোন অঞ্চলটি 'লক্ষণাবতী' নামে পরিচিত ছিল?
  1. গৌড়
  2. হরিকেল 
  3. বঙ্গ
  4. সমতট
ব্যাখ্যা
গৌড়: 

মুসলিম যুগে গৌড় অঞ্চলটি ‘লক্ষণাবতী’ নামে পরিচিত ছিল।
• বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো যে যুগে যুগে সীমানা সম্প্রসারণ করেছে তার বড় উদাহরণ হলো গৌড়।
• এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পাচ্ছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই সময়ে সময়ে গৌড় দেশ বিবেচনা করা হতো।
• সেনবংশীয় রাজারা 'গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন। 
• ব্যাপক অর্থে 'গৌড়' বলতে অনেক সময় বাংলা ভাষাভাষী সমগ্র অঞ্চলকে বুঝাত। 
• আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত। 
• হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে 'গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 
• কর্ণসুবর্ণ দেশ ও গৌড়দেশ ছিল অভিন্ন। 
• গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ। 
• মুসলিম পণ্ডিত আল বিরুনীর বিবরণ অনুযায়ী পূর্বভারতের বিভিন্ন দেশের অর্থাৎ বর্তমান বাংলা, উড়িষ্যা, আসামের আদি মধ্যযুগীয় লিপির প্রকৃত রূপ হলো এই 'গৌড়ীয় লিপি'। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪০.
রাঢ় জনপদের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. কামরুপ
  2. সমতট
  3. দক্ষিণ রাঢ়
  4. কোটিবর্ষ
ব্যাখ্যা

রাঢ় জনপদ:
- রাঢ় জনপদটি ২টি অংশে বিভক্ত ছিল।
- রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- দক্ষিণ রাঢ় এবং উত্তর রাঢ় নিয়ে ছিল রাঢ় জনপদ।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।
- শুধু বাংলা নয় এটি প্রাচীন ভারতেরও পূর্বাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বন্দর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৪১.
কোন আইনের অধীনে 'ঋণ সালিশি বোর্ড' স্থাপিত হয়?
  1. বেঙ্গল অ্যাক্ট ১১
  2. বেঙ্গল অ্যাক্ট ৯
  3. বেঙ্গল অ্যাক্ট ৭
  4. বেঙ্গল অ্যাক্ট ৫
ব্যাখ্যা
১৯৩৬ সালে বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ডেটরস অ্যাক্ট (১৯৩৬-এর বেঙ্গল অ্যাক্ট ৭)-এর অধীনে ঋণ সালিশি বোর্ড স্থাপিত হয়।

• ঋণ সালিশি বোর্ড:
- বোর্ড অব ইকোনমিক ইনকোয়ারি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ১৯৩৫ সালের জুলাই মাসে বঙ্গীয় আইন পরিষদে খাজা নাজিমউদ্দীন একটি বিল উত্থাপন করেন।
- বিলটি বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ডেটরস অ্যাক্ট (১৯৩৬-এর বেঙ্গল অ্যাক্ট ৭) শিরোনামে ১৯৩৬ সালের এপ্রিলে আইন পরিষদে পাস হয়।
- আইনটি ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতা উভয়ের দ্বারা মনোনীত স্থানীয় প্রভাবশালী ও শিক্ষিত লোকদের মধ্য থেকে সদস্য নিয়ে ‘বোর্ড’ নামক ঋণবিষয়ক বেশ কয়টি সালিশি সভা স্থাপনের ব্যবস্থা করে দেয়।
- বোর্ডের দায়িত্ব ছিল দু পক্ষেরই কথা শুনে প্রধানত মহাজনদের কাছে ঋণগ্রস্ত কৃষকদের অনাদায়ী ঋণ আনুপাতিক হারে কমানো এবং এভাবে তাদের ওপর থেকে চাপ লাঘব করা।
- ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত এসব বোর্ড সক্রিয় ছিলো।

এছাড়াও,
- ঋণ সালিশি বোর্ড কৃষকদের ঋণের বোঝা থেকে রক্ষা করলেও এর প্রভাবে বাংলার গ্রামীণ ঋণ বাজার দুর্বল হয়ে পড়ে।
- কারণ অনেক মহাজন তাদের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলে।
- এতে করে কৃষি ঋণের অভাবে অনাবাদী জমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
- এটিকে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের অন্যতম একটি কারণ হিসেবে অনেকে মনে করেন।
- এই দুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৪২.
মৌর্য সাম্রাজ্যের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. গৌড়
  2. পাটলিপুত্র
  3. বিক্রমপুর
  4. তাম্রলিপ্ত
ব্যাখ্যা

- মৌর্য সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র, এটা বর্তমান ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনা শহরের কাছে অবস্থিত।  

চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য:
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
- তার সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে, মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়, বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিল কৌটিল্য।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৪৩.
মায়া সভ্যতা কতটি শহর নিয়ে গড়ে উঠেছিল?
  1. ক) ৩০টির বেশি
  2. খ) ৪০টির বেশি
  3. গ) ৫০টির বেশি
  4. ঘ) ৬০টির বেশি
ব্যাখ্যা
১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মায়া জাতি গ্রামে বসতি স্থাপন করেছিল এবং কৃষিকাজ করছিল।
- মায়া সংস্কৃতির ক্লাসিক কাল প্রায় ২৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রায় ৯০০ অবধি স্থায়ী হয়েছিল।
- মায়া সভ্যতা ৪০ টিরও বেশি শহর নিয়ে গঠিত, যার প্রত্যেকটির জনসংখ্যা ৫০০০ থেকে ৫০০০০ এর মধ্যে ছিল।
- ক্লাসিক-পরবর্তী সময়কালে (৯০০-১৫১৯) ইউকাটান উপদ্বীপের শহরগুলি কয়েক শতাব্দী ধরে ক্রমবর্ধমান অব্যাহত থাকার পর নিম্নভূমি গুয়াতেমালার শহরগুলি জনবহুল হয়ে পড়েছিল।


উৎস: Britannica.
১,০৪৪.
পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার কোন রাজবংশের সময়ে নির্মিত হয়েছিল?
  1. গুপ্ত
  2. কৈবর্ত
  3. চন্দ্র
  4. পাল
ব্যাখ্যা

⇒ পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার পাল রাজবংশের সময়ে নির্মিত হয়েছিল।

সোমপুর মহাবিহার:

- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর মহাবিহার বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলায় অবস্থিত ।
- সোমপুর মহাবিহার প্রাচীন বাংলার একটি বৌদ্ধ বিহার।
- পাহাড়পুরএর উৎখননকৃত বিহার কমপ্লেক্সের সঙ্গে সোমপুর মহাবিহারকে অভিন্ন মনে করা হয়।
- পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল আনুমাণিক ৭৮১ - ৮২১ খ্রিস্টাব্দে এ বিহার স্থাপন করেন বলে অনুমান করা হয়।
- বিহারের ধ্বংসাবশেষ হতে কিছু মাটির সিল পাওয়া গেছে, যেখানে উৎকীর্ণ রয়েছে- .‘শ্রী-সোমপুরে-শ্রী-ধর্মপালদেব-মহাবিহারিয়ার্য- ভিক্ষু-সংঘস্য'।
- পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা যেতে পারে।
- এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্মচর্চা কেন্দ্র ছিল।

⇒ উল্লেখ্য:
- খ্রিষ্টীয় দশম শতকে বিহারের আচার্য ছিলেন: অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, নওগাঁ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

১,০৪৫.
সেন রাজবংশ বাংলায় কত বছর রাজত্ব করে? 
  1. ১০০ বছর
  2. ১২০ বছর
  3. ১৫০ বছর
  4. ২০০ বছর
ব্যাখ্যা

বাংলায় সেন বংশের শাসন:
- ১০৭০ থেকে ১২৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ বছর সেনরা বাংলায় রাজত্ব করে। 

উল্লেখ্য,
- পালদের পতনের পর বাংলায় সেন রাজবংশের উত্থান ঘটে।
- ১০৭০ থেকে ১২৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হেমন্ত সেন, বিজয় সেন, বল্লাল সেন, লক্ষ্মণ সেন, বিশ্বরূপ সেন, কেশব সেন রাজ্য পরিচালনা করেন।
- বাংলার সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সামন্ত সেন। সামন্ত সেন কোনো রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করায় সেন বংশের প্রথম রাজার মর্যাদা দেওয়া হয় সামন্ত সেনের পুত্র হেমন্ত সেনকে।
- এই বংশের শেষ রাজা ছিলেন লক্ষ্মণ সেন।
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজী নদীয়া আক্রমণ করলে তিনি প্রতিরোধ না করে মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর পালিয়ে আসেন।
- এই অঞ্চলে তিনি আরো ২/৩ বছর রাজত্ব করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৪৬.
বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা হলেন-
  1. ক) গোপাল
  2. খ) অশোক
  3. গ) শশাঙ্ক
  4. ঘ) লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা।
তিনি নিজেকে গৌড়েশ্বর পরিচয় দিতেন। শশাঙ্ক একজন সুশাসক ছিলেন।
তার রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদের নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ।
তার আমলে তাম্রলিপ্ত বন্দর গুরুত্ব লাভ করে।
বিখ্যাত চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং হিন্দু ধর্মের অনুসারী রাজা শশাঙ্ককে বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রহকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৪৭.
কোন রাজ বংশের সময়ে 'আনন্দ বিহার' নির্মাণ করা হয়?
  1. সেন বংশ
  2. পাল বংশ
  3. দেব বংশ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
দেব বংশ:
- অষ্টম শতকের মাঝামাঝি একই অঞ্চলে দেব বংশের উদ্ভব হয়।
- দেববংশের চারজন রাজার নাম পাওয়া যায়। এরা হলেন-
• শ্রী শান্তিদেব,
• শ্রী বীরদেব,
• শ্রী আনন্দদেব,
• শ্রী ভবদেব।
- শক্তিশালী দেব রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ।
- তাঁদের রাজধানী ছিল দেবপর্বতে।
- কুমিল্লার নিকট ময়নামতির দক্ষিণে ছিল এই দেবপর্বত।
- সমগ্র সমতট অঞ্চল জুড়ে দেবরাজাদের রাজত্ব ছিল।
- দেবরাজা আনন্দের রাজধানীতে 'আনন্দ বিহার' বলে একটি বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করা হয়।
- আনুমানিক ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দেবরাজাদের শাসন চালু থাকে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪৮.
প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ কোনটি?
  1. বঙ্গ
  2. পুণ্ড্র
  3. হরিকেল
  4. গৌড়
ব্যাখ্যা

প্রাচীন বাংলার জনপদ:
- প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পুণ্ড্র।
- বলা হয় যে, পুণ্ড্র বলে একটি জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর।
- পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্র ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
- পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপি এখানে পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে প্রাপ্ত এটিই প্রাচীনতম শিলালিপি।

উৎস: বাংলাদেশের  ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।

১,০৪৯.
বাংলার কোন শাসকের মৃত্যুর পর মাৎস্যন্যায় যুগ শুরু হয়?
  1. গোপাল
  2. শশাঙ্ক
  3. ধর্মপাল
  4. অশোক
ব্যাখ্যা
মাৎস্যন্যায়:
- ‘মাৎস্যন্যায়’ একটি সংস্কৃত শব্দ, যার আক্ষরিক অর্থ 'মাছের ন্যায়'।
- এতে বোঝানো হয় এমন একটি সামাজিক বা রাজনৈতিক অবস্থা যেখানে বড় বা ক্ষমতাবানরা ছোট বা দুর্বলদের শোষণ করে।
- অর্থাৎ, আইনশৃঙ্খলার অভাবে অরাজকতা ছড়িয়ে পড়ে এবং শক্তিশালীরা দুর্বলদের উপর অত্যাচার চালায়।
- রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ।
- প্রায় ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই সময়কে মাৎস্যন্যায়ের যুগ হিসেবে ধরা হয়।
- এ সময়ে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বণিক সবাই নিজের মতো রাজত্ব করতে শুরু করে।
- রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও তিব্বতীয় ও কনৌজীয় আক্রমণে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে। 
- এই বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটে গোপালের আগমনের মাধ্যমে।
- তিনি পাল বংশ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর হাত ধরেই স্থিতিশীল শাসনের সূচনা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫০.
ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত সাত গম্বুজ মসজিদের গম্বুজের সংখ্যা কত?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৭টি
ব্যাখ্যা
- সাত গম্বুজ মসজিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত মুঘল আমলে নির্মিত একটি মসজিদ।
- এই মসজিদটি চারটি মিনারসহ সাতটি গম্বুজের কারনে মসজিদের নাম হয়েছে 'সাতগম্বুজ মসজিদ'।
- এটির নির্মাতা মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান।
- ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে তিনি এটি নির্মাণ করেন।
- তবে অন্য তথ্যমতে এটির নির্মাতা শায়েস্তা খানের ছেলে বুজুর্গ উদ্দিন (উমিদ)।
- বর্তমানে মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে আছে।

উৎস: ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট 
১,০৫১.
পণ্ডিত 'হলায়ুধ' কোন শাসকের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন? 
  1. বিজয় সেন 
  2. লক্ষণ সেন
  3. বল্লাল সেন 
  4. হেমন্ত সেন
ব্যাখ্যা
'হলায়ুধ': 

• প্রসিদ্ধ পণ্ডিত 'হলায়ুধ' লক্ষণ সেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
• ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করলে লক্ষ্মণ সেন নদীপথে দক্ষিণপূর্ব বাংলায় চলে যান।
• লক্ষ্মণাবতীকে (গৌড়) কেন্দ্র করে বাংলায় মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন বখতিয়ার খিলজি। 
• লক্ষ্মণ সেন একজন বিদ্বান ও কবি ছিলেন। 
• তিনি বল্লাল সেনের “অসমাপ্ত অদ্ভুতসাগর” গ্রন্থটি সমাপ্ত করেছিলেন। 
• লক্ষ্মণসেন বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন। 
• তিনি 'পরমবৈষ্ণব' উপাধি গ্রহণ করেন। 
• ভারত বিখ্যাত বৈষ্ণব কবি জয়দেবের অবস্থান ছিল লক্ষণ সেনের রাজসভায় ।
• কৌলীন্যপ্রথা বিস্তারে তিনি ছিলেন সচেষ্ট। 
• মুসলমান ঐতিহাসিক মিনহাজুদ্দীনকে লক্ষণ সেনের দানশীলতার জন্য তাকে হিন্দুস্থানের 'খলিফা স্থানীয়' বলে অভিহিত করেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫২.
কাকে পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা বলা হয়?
  1. ক) দেবপাল
  2. খ) মহীপাল
  3. গ) গোপাল
  4. ঘ) ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
• পাল বংশ:
- পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন ধর্মপাল।
- ধর্মপাল বাংলার পাল বংশের দ্বিতীয় এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা।
- পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের পুত্র ও উত্তরাধিকারী ধর্মপাল পালদের উদীয়মান প্রতিপত্তির যুগের সূচনা করেন।
- পাল শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল গোপালের হাত ধরে।
- গোপাল রাজ্য প্রতিষ্ঠার সূচনা করলেও পাল সাম্রাজ্যকে সুসংহত করেন গোপালের পুত্র ধর্মপাল।
- ধর্মপাল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন।
- বিক্রমশীল বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের কৃতিত্ব তাঁর।
- নয় শতক থেকে বারো শতক পর্যন্ত সমগ্র ভারতে এটি ছিল বৌদ্ধদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র।
- এছাড়া পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারও ধর্মপালের আরেক কীর্তি।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
১,০৫৩.
প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে কোনটি প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ ছিল?
  1. পুণ্ড্র
  2. বঙ্গ
  3. গৌড়
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা

পুণ্ড্র জনপদ:
- পুণ্ড্র ছিল পূর্বাঞ্চলের জনপদসমূহের মধ্যে খুব সম্ভবত প্রাচীনতম।
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের (আনুমানিক) মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপিতে উল্লিখিত পুদনগল (পুণ্ড্র নগর) এবং বগুড়া যে অভিন্ন তা একাধিক উৎস থেকে প্রমাণ করা যায়। প্রাচীন এই জনপদের সীমানা চিহ্নিত করে ড. নীহাররঞ্জন রায় লিখেছেন, "পুণ্ড্রবর্ধনের কেন্দ্র বা হৃদয়স্থানের একটি নতুন নাম পাইতেছি দশম শতক হইতে; এ নাম বরেন্দ্র অথবা বরেন্দ্রী।" অর্থাৎ এই প্রাচীন জনপদটি ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে দুটো ভিন্ন নামে পরিচিতি লাভ করেছিল। কতিপয় লিপি প্রমাণে এ কথা বলা যায় যে, বরেন্দ্র পুণ্ড্রবর্ধনেরই অংশবিশেষ। মধ্যযুগের মুসলিম ঐতিহাসিকরা বরেন্দ্রিকে বলতেন বরীন্দ্র।

⇒ বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অবস্থানভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে পুণ্ড্র জনপদ। প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর। এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়। বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়। গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।
 
উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম।

১,০৫৪.
মুসলিম শাসনামলে গৌড় জনপদ কী নামে পরিচিতি লাভ করে?
  1. কর্ণসুবর্ণ 
  2. তাম্রলিপ্ত
  3. লখনৌতি
  4. সমতট
ব্যাখ্যা

গৌড়:
- বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো যে যুগে যুগে সীমানা সম্প্রসারণ করেছে তার বড় উদাহরণ হলো গৌড়। এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই সময়ে সময়ে গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
 - পূর্ব ভারতীয় দেশসমূহের সামগ্রিক নাম হিসেবে এমনকি উত্তর ভারতের আর্যাবর্তের নাম হিসেবেও কখনো কখনো গৌড়ের ব্যবহার দেখা যায়।
- সেনবংশীয় রাজারা 'গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন।
- ব্যাপক অর্থে 'গৌড়' বলতে অনেক সময় বাংলা ভাষাভাষী সমগ্র অঞ্চলকে বুঝাত।
- আদি গৌড়ের রাজনীতিক ক্ষমতার সম্প্রসারণের ফলে এর সীমানা বৃদ্ধি পেতো।

⇒ আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে 'গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কর্ণসুবর্ণ দেশ ও গৌড়দেশ অভিন্ন।
- গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- মধ্যযুগের খ্যাতিমান মুসলিম পণ্ডিত আল বেরুনির বিবরণ অনুযায়ী পূর্বভারতের বিভিন্ন দেশের অর্থাৎ বর্তমান বাংলা, উড়িষ্যা, আসামের আদি মধ্যযুগীয় লিপির প্রকৃত রূপ হলো এই "গৌড়ীয় লিপি"।
- মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো 'গৌড়' আবার কখনো লক্ষণাবতী নামে পরিচিত ছিল।

উল্লেখ্য,
- সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের নেতৃত্বে বাংলার পুন্ড্র বা পণ্ড্রবর্ধন, গৌড় এবং বঙ্গকে একত্রিত করে একটি বিশাল গৌড় রাজ্য স্থাপিত হয়।
- শশাঙ্ক আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল গৌড় রাজ্যের রাজধানী।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে গৌড়ের নাম লখনৌতি (প্রদেশের নামে) পরিচিতি পায়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাপিডিয়া।

১,০৫৫.
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি কোন যুগের ভূমিরূপ?
  1. ক) সাম্প্রতিককাল
  2. খ) প্লাইস্টোসিনকাল
  3. গ) নবোপলীয় যুগ
  4. ঘ) টারশিয়ারি যুগ
ব্যাখ্যা
ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশে তিন ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়।
এগুলো হলো:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
- প্লাবন সমভূমি।

প্লাইস্টোসিনকালের ভূমিরূপ প্রায় ২৫ হাজার বছর পূর্বে গঠিত হয়। দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালগড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় প্লাইস্টোসিনকালের ভূমিরূপ।

টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহের মধুপুর এবং গাজীপুরের ভাওয়ালগড়ের মোট আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার। 
সমভূমি থেকে এই অঞ্চল ৩০ মিটার উঁচু। মাটির রং লালচে ও ধূসর।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০৫৬.
বাংলার প্রাচীন নগরী 'কর্ণসুবর্ণ'-এর অবস্থান কোথায় ছিল?
  1. বরিশাল 
  2. বগুড়া 
  3. কুমিল্লা 
  4. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
প্রাচীন গৌড় নগরী:
- প্রাচীন গৌড় নগরী ভারতীয় উপমহাদেশে মধ্যযুগীয় অন্যতম বৃহৎ নগরী।
- আনুমানিক ১৪৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এটি বাংলার রাজধানী ছিল।
- প্রাচীন এই দূর্গনগরীর অধিকাংশ পড়েছে বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদা জেলায় এবং কিছু অংশ পড়েছে বাংলাদশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়।
- এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কর্ণসুবর্ণ দেশ ও গৌড়দেশ অভিন্ন।
- গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫৭.
সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে কোন জনপদের উল্লেখ রয়েছে?
  1. হরিকেলা
  2. সমতট
  3. গৌড়
  4. বরেন্দ্র
ব্যাখ্যা
- চতুর্থ শতকের সমুদ্রগুপ্ত তাঁর পূর্ব সীমান্তে সমতটের উল্লেখ করেন।

সমতট জনপদ:
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা-পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী ‘লালমাই' এলাকা।
- ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট।  
- হিউয়েন সাঙ কোন সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৫৮.
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব - 
  1. ক) মুর্শিদকুলি খান
  2. খ) অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. গ) সিরাজউদ্দৌলা
  4. ঘ) মুর্শিকুলি খান
ব্যাখ্যা
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব ছিলেন-  নবাব মুর্শিদকুলি খান। 

• নবাব:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়।
- বাংলাও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
- বিশেষ করে মুর্শিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবী আমলের সূচনা হয়।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে কর তলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুরশিদকুলি খান দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি ঢাকা বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন। 
- সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা বিহার উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৫৯.
বাংলার ইতিহাসে প্রথম সার্বভৌম রাজা ছিলেন কে?
  1. গোপাল
  2. ধৰ্মপাল
  3. বিজয় সেন
  4. শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা

শশাঙ্ক:
- বাংলার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ নৃপতি শশাঙ্ক সপ্তম শতাব্দীর প্রথমার্ধের শাসক।
- গুপ্ত শাসনের পর বাংলার গৌড় রাজ্যের তিনি অধিপতি হন।
- বাংলার ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্কই বাংলার প্রথম নৃপতি যার ভূমিদান করার মতো এবং মুদ্রা প্রকাশ করার মতো স্বাধীন ক্ষমতা ছিল।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু (শৈব) ধর্মের অনুসারী ছিলেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস, এস এস এইচ এল প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৬০.
গুপ্ত সাম্রাজ্যের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. পাটলিপুত্র
  2. তক্ষশীলা
  3. কনৌজ
  4. বড়কামতা
ব্যাখ্যা

গুপ্ত সাম্রাজ্য:
- প্রাচীন ভারতের 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে পরিচিত গুপ্ত যুগ। 
- শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান, গণিত (আর্যভট্ট) এবং জ্যোতির্বিদ্যায় অসামান্য অগ্রগতির জন্য বিখ্যাত।
- সময়কাল: ৪র্থ শতাব্দী- ৬ষ্ঠ শতাব্দী।
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র।
- শ্রীগুপ্ত হচ্ছেন গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ তবে প্রথম চন্দ্রগুপ্তের হাত ধরে গুপ্ত শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, তাই প্রথম চন্দ্রগুপ্ত গুপ্ত যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচিত।
- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন ভারতে এসেছিলেন।
- সমুদ্রগুপ্ত 'ভারতের নেপোলিয়ন' নামে পরিচিত।
- মহাকবি কালিদাস, আর্যভট্ট (গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যা) এই যুগের রত্ন ছিলেন।
- হূণ আক্রমণ এবং অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার কারণে ৬ষ্ঠ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এই শক্তিশালী সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।

১,০৬১.
নিম্নের কোন মুঘল সম্রাট 'জিজিয়া কর' রহিত করেন?
  1. আওরঙ্গজেব
  2. আকবর
  3. শাহজাহান
  4. হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মুঘল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবর বাংলার শাসনভার গ্রহন করেন।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- মুঘল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলেই 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।

সূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
১,০৬২.
বর্তমান কোন রাষ্ট্রের সীমানায় মেসোপটেমীয়া অঞ্চল অবস্থিত ছিল?
  1. ক) ইরাক
  2. খ) ইরান
  3. গ) সিরিয়া
  4. ঘ) মিশর
ব্যাখ্যা
- খ্রিস্টপূর্ব ৫,০০০ অব্দে মিশরে যখন নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, সেই সময় আরো কিছু নগর সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- এই নগর সভ্যতাগুলোর আলাদা আলাদা নাম থাকলেও, একই ভূ-খন্ডে গড়ে ওঠার কারণে এদেরকে একত্রে মেসোপটেমীয় সভ্যতা বলা হয়।
- বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসোপটেমীয়া অঞ্চল অবস্থিত।
মেসোপটেমীয়া একটি গ্রিক শব্দ। যার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি।
- মেসোপটেমীয়া বলতে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস (দজলা-ফোরাত) এই দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে বোঝায়।
- এই উর্বর ভূখন্ডের উত্তরে আর্মেনিয়ার পার্বত্যাঞ্চল, পশ্চিম ও দক্ষিণে আরব মরুভূমি; দক্ষিণ-পূর্বে পারস্য উপসাগর, পূর্বে এলাম পার্বত্যাঞ্চল এবং পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর অবস্থিত।
- মেসোপটেমীয়ার অর্ন্তভুক্ত সভ্যতাসমূহ প্রাচীন মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
- যেমন: সুমেরীয়, ব্যবিলনীয়, এ্যাসিরীয়, ক্যালডীয় ও আক্কাদীয় সভ্যতা।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬৩.
রোহিতগিরি কোন বিষয়টির জন্য বিখ্যাত?
  1. ক) বৌদ্ধ বিহার
  2. খ) প্রাচীন রাজধানী
  3. গ) টারশিয়ারি পাহাড়
  4. ঘ) কোনটি নয়?
ব্যাখ্যা
ময়নামতি :

- ময়নামতি বাংলাদেশের কুমিল্লায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- ময়নামতির পূর্ব নাম রোহিতগিরি।
- এযাবৎ আবিষ্কৃত লালমাই অঞ্চলের প্রাচীনতম সভ্যতার নিদর্শন হল ময়নামতি প্রত্নস্থল।
- বর্তমানে ময়নামতি অঞ্চলে যে ধ্বংশস্তুপ দেখা যায় তা প্রকৃতপক্ষে একটি প্রাচীন নগরী ও বৌদ্ধ বিহারের অবশিষ্টাংশ।
- প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে ইহা জয়কর্মান্তবসাক নামক একটি প্রাচীন নগরীর ধ্বংসাবশেষ ।
- কুমিল্লার ময়নামতিতে খননকৃত সব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে শালবন বিহার অন্যতম প্রধান।
- ময়নামতি বৌদ্ধ বিহারের জন্য বিখ্যাত। ধারণা করা হয় যে খৃষ্টিয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৬৪.
প্রাচীন বাংলায় 'উয়ারী বটেশ্বর' কী ছিলো? 
  1. ক) বানিজ্য কেন্দ্র
  2. খ) স্থল বন্দর
  3. গ) মন্দির
  4. ঘ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা
- অতি সম্প্রতি নরসিংদী জেলায়  উয়ারী বটেশ্বর  নামে একটি প্রত্ন ত্তত্ব/ প্রাচীন নগর সভ্যতার  একটি নিদর্শন খুজে পাওয়া গেছে ,যা প্রাচীন বাংলার প্রাচীনতম নগরী এবং নদী বন্দর ও আন্তর্জাতিক বানিজ্য কেন্দ্র ছিল। 
- এখানে বিকশিত হয়েছিল স্বল্পমুল্যবান পুতির কারখানা। 
- এছাড়াও এখানে প্রাপ্ত রুলেটেড মৃৎপাত্র, স্যান্ডউইচ কাচের পুঁতি, স্বর্ণ আবৃত কাঁচের পুঁতি, টিন মিশ্রিত ব্রোঞ্জ ইত্যাদি সব উপকরণ এ তথ্যের সত্যতার প্রমাণ দেয়।
- সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত হয়েছে পেরেক, লৌহমল, লৌহ গলানোর ফলে অতি ক্ষুদ্র বল, মরিচাপড়া লৌহবস্ত্ত প্রভৃতি। 
- প্রত্নতাত্ত্বিক গর্ডন চাইল্ডের মতে, উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলটি টলেমি (দ্বিতীয় শতকের ভূগোলবিদ) উল্লেখিত ‘সোনাগড়া’।

তথ্যসূত্রঃ উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৬৫.
কোন মুগল সম্রাট বাংলার রাজধানী হিসেবে 'জান্নাতাবাদ' নামকরণ করেন?
  1. ক) বাবর
  2. খ) আকবর
  3. গ) হুমায়ুন
  4. ঘ) জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
- হুমায়ুন (১৫৩০-১৫৫৬)  মুগল সম্রাট  বাবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
- ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
-  সম্রাট হুমায়ুন বাংলার রাজধানীর নতুন নামকরণ করেন ‘জান্নাতাবাদ’ এবং হুমায়ূন এখানে ছয়মাস অবস্থান করেন।
উৎস: বাংলা পিডিয়া।
১,০৬৬.
প্রাচীন বাংলায় গুপ্তদের রাজধানী ছিল কোথায়?
  1. সমতট
  2. হরিকেল
  3. পুণ্ড্রনগর
  4. বরেন্দ্র
ব্যাখ্যা
গুপ্ত সাম্রাজ্য:
- ভারতে গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় ৩২০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তখন বাংলায় কিছু স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে।
- এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সমতট রাজ্য ও পশ্চিম বাংলার পুষ্করণ রাজ্য উল্লেখযোগ্য।
- গুপ্ত সম্রাট প্রথম চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালেই উত্তর বঙ্গের কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিকারে আসে।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকালে সমগ্র বাংলা জয় করা হলেও সমতট একটি করদ রাজ্য ছিল।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকাল থেকে ছয় শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত উত্তর বঙ্গ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনস্থ একটি 'প্রদেশ' বা 'ভুক্তি' হিসেবে পরিগণিত হতো।
- মৌর্যদের মতো এদেশে গুপ্তদের রাজধানী ছিল মহাস্থানগড়ের পুণ্ড্রনগর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,০৬৭.
নিচের কোন জনপদ 'বজ্রভূমি ও সুহ্মভূমি' নামে পরিচিত ছিল?
  1. হরিকেল
  2. সমতট
  3. বঙ্গ
  4. রাঢ়
ব্যাখ্যা
রাঢ়:
- বিভিন্ন ঐতিহাসিক উৎস থেকে বলা যায় যে, রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- তবকত-ই-নাসিরীর বর্ণনায়ও গঙ্গার দক্ষিণে রাঢ়ের অবস্থান নির্দেশিত হয়েছে।
- এই জনপদটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল।
• দক্ষিণ রাঢ়।
• উত্তর রাঢ়।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সুহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- রাঢ় বা সূহ্মদেশের অন্তর্গত তাম্রলিপ্তের কথা টলেমির ভূগোলে উল্লিখিত ছিল ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬৮.
প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন কোথায় অবস্থিত?
  1. পাহাড়পুর
  2. বিক্রমপুর
  3. ময়নামতি
  4. মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা

পুণ্ড্র জনপদ:
- পুণ্ড্র ছিল পূর্বাঞ্চলের জনপদসমূহের মধ্যে খুব সম্ভবত প্রাচীনতম।
- বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অবস্থানভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে পুণ্ড্র জনপদ।
- প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর। এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়। গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

⇒ মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি। এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গেছে। সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল। ১৮৭৯ সালে প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্যের ঐতিহাসিক নিদর্শন আবিষ্কার করেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ আলেকজান্ডার কানিংহ্যাম। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ঐতিহাসিক স্থান। ২০১৬ সালে এটিকে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
 
উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম।

১,০৬৯.
মুহাম্মদ ঘুরী ও পৃথ্বীরাজ চৌহানের মধ্যে দ্বিতীয় তারাইনের যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ক) ১১৯০ সালে
  2. খ) ১১৯২ সালে
  3. গ) ১২০৬ সালে
  4. ঘ) ১২১২ সালে
ব্যাখ্যা
The Battle of Terain took place on 9 and 12 near the present town of Thanesvara in present-day Haryana , near the city of Tarain. This place is located 3 km north of Delhi. These wars took place between the Ghuri forces led by Muhammad Ghuri and the Chauhan Rajput forces led by Prithviraj Chauhan . [source: to A Chronology of Global Collect who in Conflict: in From the World-Ancient to Modern in Middle in East to the (English)]
১,০৭০.
ঢাকায় কোন আমলে প্রাচীন বাংলার গৌরব 'মসলিন কাপড়' তৈরি হতো?
  1. ক) পাল আমলে
  2. খ) মুঘল আমলে
  3. গ) সেন আমলে
  4. ঘ) ইংরেজ আমলে
ব্যাখ্যা

- মুঘল আমলে বাংলার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকে ঢাকাই মসলিনের খ্যাতি বেড়ে যায় এবং তা দূর-দূরান্তের বিদেশী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে।
- মুগল সম্রাট ও অভিজাতগণ ঢাকার মসলিন শিল্পের প্রসারে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১,০৭১.
মোগল সম্রাট আকবরের যুগে বাংলার নামের উৎস ব্যাখ্যা কোন ইতিহাস লেখকের গ্রন্থে পাওয়া যায়?
  1. আল বেরুনি
  2. ইবনে বতুতা
  3. আবুল ফজল
  4. মিনহাজ-ই-সিরাজ
ব্যাখ্যা

বাংলা নামকরণ: 
- মোগল সম্রাট আকবরের ইতিহাস লেখক আবুল ফজল বাংলা নামের উৎপত্তির একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
- তার মতে এদেশের প্রাচীন নাম ছিল 'বঙ্গ'।
- এর আগে আমরা অবশ্য একটি ছোট জনপদ হিসেবে বঙ্গ নামক অঞ্চলের সাথে পরিচিত হয়েছি।
- আবুল ফজলের মতে প্রাচীনকালে এই বঙ্গ অঞ্চলের রাজারা ১০ গজ উঁচু ও ২০ গজ চওড়া প্রকাণ্ড 'আল বা বাঁধ' নির্মাণ করতেন।
- এ থেকে বঙ্গ+আল=বঙ্গাল, বাঙ্গাল বা 'বাঙ্গালা' নাম হয়েছে।
- তবে একথা ঠিক মুসলিম আমলের পূর্বে 'বঙ্গ' ও বাঙ্গালা বাংলার অংশ বিশেষের নাম ছিল।
- আবুল ফজল সে সময়ের বাংলার একটি সীমা এঁকেছেন।
- তার মতে বাংলা চট্টগ্রাম থেকে রাজমহলের নিকট তেলিয়াগর্হি পর্যন্ত চারশত ক্রোশ লম্বা ছিল।
- পূর্ব ও উত্তর দিক ছিল পাহাড়ে ঘেরা। বাংলার দক্ষিণে ছিল সাগর আর পশ্চিমে বিহার প্রদেশ।
- তখন প্রদেশগুলোর নাম হয় 'সুবা'। সুবা বাংলা তখনও চট্টগ্রাম থেকে তেলিয়াগর্হি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- তখন চট্টগ্রাম থেকে রাজমহল এবং হিমালয় পর্বত থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বাংলার বিস্তার ছিল।

উৎস: পৌরনীতি , এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৭২.
'মাৎস্যন্যায়' কোন সময়কালকে নির্দেশ করে?
  1. মৌর্য পূর্ববর্তী যুগ
  2. শশাঙ্কের পূর্ববর্তী যুগ
  3. পালদের পূর্ববর্তী যুগ
  4. গুপ্ত পূর্ববর্তী যুগ
ব্যাখ্যা

◉ ‘মাৎস্যন্যায়’ নির্দেশ করে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সময়কে, এটা পাল বংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।

মাৎস্যন্যায়:
- ‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার ৭ম-৮ম শতক সময়কালকে নির্দেশ করে।
- রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়কালকে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।
- সে সময় বাংলার রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।
- প্রায় সমসাময়িক লিপি, খালিমপুর তাম্রশাসন এবং সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতম কাব্যে পাল বংশের পূর্ববর্তী সময়ের বাংলার নৈরাজ্যকর অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলে উল্লেখ করা হয়।
- মাৎস্যন্যায়ের সময়টি ছিল মোটামুটিভাবে ৬৫০-৭৫০ সালের মধ্যকার প্রায় ১০০ বছর।
- বাংলা অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা যখন চরমে, তখন সিংহাসনে বসেন রাজা গোপাল।
- রাজা গোপালের হাত ধরে প্রতিষ্ঠা লাভ করে পাল বংশ।
- রাজা গোপাল সিংহাসনে বসার মাধ্যমে অবসান ঘটে মাৎস্যন্যায়ের।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৭৩.
কররানী রাজবংশের রাজধানী ছিল -
  1. কর্ণসুবর্ণ
  2. পাটলিপুত্র
  3. তাণ্ডায়
  4. সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
- কররানী রাজবংশের রাজধানী ছিল তাণ্ডায়।
- সর্দার তাজ খান কররানী বাংলায় কররানী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন (১৫৬৪ খ্রি.)।
- তাজ খান কররাণী ও সুলায়মান খান কররাণী শের শাহের সেনাপতি ছিলেন।
- দাউদ কররাণী ছিলেন বাংলায় শেষ আফগান শাসক।
- কর্ণসুবর্ণ বাংলার গৌড় রাজ্যের প্রথম স্বাধীন শাসক শশাঙ্ক-এর রাজধানী।
- সুলতানী আমলে বাংলার রাজধানী ছিল প্রথমে সোনারগাঁও (১৩৩৮-১৩৫২ খ্রি.)।
- পরে রাজধানী স্থানান্তরিত হয় গৌড়ে (১৪৫০-১৫৬৫ খ্রি.)।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো। এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিলো কর্ণসুবর্ণ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৭৪.
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের অর্ন্তগত ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. পুন্ড
  3. গৌড়
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা

- চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বহরমপুর প্রভূতি অঞ্চল নিয়ে গৌড় জনপদ গড়ে উঠেছিলো।
অন্যদিকে,
- বঙ্গ - ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল।
- পুন্ড্র - বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর।
- হরিকেল - সিলেট, চট্রগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম।

তথ্যসূত্র- ইতিহাস প্রথম পত্র - এইচ. এস. সি,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৭৫.
৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়-
  1. ক) চট্টগ্রামকে
  2. খ) সিলেটকে
  3. গ) বাগেরহাটকে
  4. ঘ) রাজশাহীকে
ব্যাখ্যা
সুলতান শামসউদ্দিন ফিরোজশাহের শাসনামলে হযরত শাহ জালাল (র.) ৩৬০ জন আউলিয়া (শিষ্য) সহ বাংলাদেশে আসেন।
এজন্য সিলেটকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়।
রাজা গৌর গোবিন্দকে পরাজিত করে হযরত শাহজালাল সিলেটে ইসলাম প্রচার করেন। তার সাথে ছিল তার ভাগ্নে বিখ্যাত সুফী শাহ পরান র.।
আবার চট্টগ্রামকে ১২ আউলিয়ার দেশ বলা হয়।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৬.
বাংলায় ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে প্রথম এসেছিল -
  1. পর্তুগিজরা
  2. ওলন্দাজরা
  3. ইংরেজরা
  4. ফরাসিরা
ব্যাখ্যা
• বাংলায় বণিকেরা:
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম বাংলায় আগমন করে।
- পনেরো শতকের শুরু থেকেই তারা বাণিজ্যের জন্য দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রা শুরু করে।
- ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে ভাস্কো ডা গামার কালিকটে পৌঁছার কয়েক দশক পরে বাংলায় পর্তুগিজদের আগমন ঘটে।
- পনেরো শতকের শেষ দিক হতেই এশিয়া থেকে মসলা আহরণের উদ্দেশ্যে ভেনিস ও আরব বণিকদের এড়িয়ে বিকল্প পথ অনুসরণের ফলেই এদেশে পর্তুগিজদের অনুপ্রবেশ ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৭৭.
মহাস্থানগড়ের পূর্বের নাম কী ছিল?
  1. সোমপুর
  2. ভাসু বিহার
  3. গৌড়
  4. পুণ্ড্রবর্ধন
ব্যাখ্যা

মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- পূর্বে মহাস্থানগড়ের নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- বগুড়া শহর হতে ১৫ কিঃমিঃ দূরে পুণ্ড্রবর্ধনের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দূর্গনগরী ।
- সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দুর্গ নগরী ইটের বেষ্টনী প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত যা উত্তর দক্ষিনে ১৫২৫ মিঃদীর্ঘ এবং পূর্ব পশ্চিমে ১৩৭০মিঃ প্রশস্থ ও চতুপার্শ্বস্থ সমতল ভূমি হতে ৫মিঃ উঁচু।
- কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত এ স্থান পরাক্রমশালী মৌর্য, গুপ্ত এবং পাল শাসকবর্গের প্রাদেশিক রাজধানী ও পরবর্তীকালে হিন্দু সমান্ত রাজাগণের রাজধানী ছিল।
- বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হয়েন সাঙ ভারতবর্ষ ভ্রমণকালে (৬৩৯-৬৪৫) পুন্ড্রনগর পরিদর্শন করেন।

তথ্যসূত্র - বগুড়া জেলা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

১,০৭৮.
লালবাগ কেল্লা কোন শতকে নির্মিত হয়?
  1. ক) ষোড়শ শতক
  2. খ) সতের শতক
  3. গ) আঠারো শতক
  4. ঘ) উনিশ শতক
ব্যাখ্যা
লালবাগ কেল্লা পুরাতন ঢাকার লালবাগে অবস্থিত যা সতের শতকে নির্মিত হয়।
১৬৭৮ সালে সুবাদার আজম শাহ এটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। মাঝে বিরতির পর ১৬৮০ সালে শায়েস্তা খান পুনরায় এটি নির্মাণ করেন।
এর অভ্যন্তরে শায়েস্তা খানের কন্যা ‘পরীবিবি’র মাজার অবস্থিত।
১৯১০ সালে লালবাগ কেল্লা কে প্রত্নতত্ত্ব নির্দশন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এর আদি নাম কেল্লা আওরঙ্গবাদ। লালবাগে অবস্থিত হওয়ায় পরে এর নামকরণ করা হয় লালবাগ কেল্লা।
(সূত্রঃ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
১,০৭৯.
মেঘনা- পূর্ববর্তী অঞ্চল কোন নামে পরিচিত ছিল?
  1. গঙ্গারিডি
  2. রাঢ়
  3. হরিকেল
  4. সমতট
ব্যাখ্যা
⇒ মেঘনা- পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।

সমতট:

- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটি বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।
- হিউয়েন সাঙ বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮০.
গৌড়ের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. কর্ণাটক
  2. পুণ্ড্রনগর
  3. বিক্রমপুর
  4. কর্ণসুবর্ণ
ব্যাখ্যা

গৌড়:
- ধারণা করা হয় যে, গুড় উৎপাদনের কেন্দ্র বলে গৌড় নগর ও দেশের নামের উদ্ভব হয়।
- এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই সময়ে সময়ে গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
- সেনবংশীয় রাজারা ‘গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন।
- আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে 'গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কর্ণসুবর্ণ দেশ ও গৌড়দেশ অভিন্ন।
- গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ
- মধ্যযুগের খ্যাতিমান মুসলিম পণ্ডিত আল বেরুনির বিবরণ অনুযায়ী পূর্বভারতের বিভিন্ন দেশের অর্থাৎ বর্তমান বাংলা, উড়িষ্যা, আসামের আদি মধ্যযুগীয় লিপির প্রকৃত রূপ হলো এই “গৌড়ীয় লিপি”।
- মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো ‘গৌড়' আবার কখনো লক্ষণাবতী নামে পরিচিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৮১.
হিউয়েন সাঙ কোন শতকে সমতটে এসেছিলেন?
  1. ৬ষ্ঠ
  2. ৭ম
  3. ৮ম
  4. ৯ম
ব্যাখ্যা
সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটি বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।
- হিউয়েন সাঙ বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮২.
বাংলার শেষ হিন্দু শাসক কে ছিলেন?
  1. কেশব সেন
  2. গৌরী সেন
  3. তান সেন
  4. বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা
বাংলায় সেন বংশের শাসন:
- পাল বংশের পতনের বারো শতকের দ্বিতীয় ভাগে বাংলায় সেন বংশের শাসনের সূচনা হয়।
- বাংলার সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সামন্ত সেন।
- সামন্ত সেন কোনো রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করায় সেন বংশের প্রথম রাজার মর্যাদা দেওয়া হয় সামন্ত সেনের পুত্র হেমন্ত সেনকে।
- এই বংশের শেষ উল্লেখযোগ্য রাজা ছিলেন - লক্ষ্মণ সেন। ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজী নদীয়া আক্রমণ করলে তিনি প্রতিরোধ না করে মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর পালিয়ে আসেন। এই অঞ্চলে তিনি আরো ২/৩ বছর রাজত্ব করেন।
- ১২০৫/০৬ খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মণ সেনের মৃত্যুর পর তাঁর দুই পুত্র বিশ্বরূপসেন ও কেশব সেন যথাক্রমে সিংহাসনে বসেন। তাঁদের শাসনামলের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় না।
- তবে বাংলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তাঁদের শাসন যে আরও প্রায় ২৫ বছর স্থায়ী ছিল, লিপি প্রমাণে তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
- লক্ষ্মণ সেনের মৃত্যুর পর বিশ্বরূপসেন ও কেশবসেন কর্তৃক বিক্রমপুর ও বঙ্গে ভূমিদান করা থেকে প্রমাণিত হয় যে, এতদঞ্চলে তাঁদের আধিপত্য বজায় ছিল।
- কেশব সেনের (রাজত্বকাল ১২২৫ - ১২৩০ সাল) পর সেনগণ বাংলায় রাজত্ব করেছিলেন এমন কোন প্রমাণ এখনও পাওয়া যায় নি।
- সেন উপাধিধারী কেশব সেনেই ছিলেন বাংলার শেষ রাজা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৮৩.
গুপ্তদের পরবর্তী সময়ে কোন দুটি স্বাধীন রাজ্যের সৃষ্টি হয়? 
  1. মগধ ও থানেশ্বর
  2. বঙ্গ ও ত্রিপুরা
  3. বঙ্গ ও গৌড়
  4. গৌড় ও কামরূপ
ব্যাখ্যা

স্বাধীন গৌড় রাজ্য:
- ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে বিশাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
- সেই অস্থিতিশীল পরিবেশে বাংলাদেশে দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে।
- এর একটি হচ্ছে স্বাধীন 'বঙ্গ রাষ্ট্র', অপরটি 'গৌড় রাজ্য।

উল্লেখ্য,
- সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের নেতৃত্বে বাংলার পুন্ড্র বা পণ্ড্রবর্ধন, গৌড় এবং বঙ্গকে একত্রিত করে একটি বিশাল গৌড় রাজ্য স্থাপিত হয়।
- শশাঙ্ক আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল গৌড় রাজ্যের রাজধানী।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে গৌড়ের নাম লখনৌতি (প্রদেশের নামে) পরিচিতি পায়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৮৪.
কৌটিল্য কোন রাজার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন?
  1. সম্রাট অশোক
  2. কুমারগুপ্ত
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. ধর্মপাল
ব্যাখ্যা

কৌটিল্য: 
- ভারতে মৌর্য শাসনের শুরু করেছিলেন রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- সেই রাজার প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষাগুরু ছিলেন কৌটিল্য।
- সংস্কৃত ভাষায় রচিত খ্রিস্টপূর্ব তিন শতকের এ গ্রন্থটির রচয়িতা ছিলেন সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী কৌটিল্য যিনি অতীব বুদ্ধিমান ‘চাণক্য’ বা সম্রাটের প্রাথমিক জীবনের শিক্ষক বিষ্ণুগুপ্ত বলেও পরিচিত।

⇒ বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, সেই সময় কৌটিল্য তাঁর অর্থশাস্ত্রে যা লিখে গেছেন, তা আজকের রাজনীতি, কূটনীতি, প্রশাসন ব্যবস্থাপনা, সমাজনীতি ও অর্থনীতিতে সমানভাবে প্রযোজ্য।
- কৌটিল্য তাঁর শাস্ত্রে লিখেছেন, ‘সকল উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করে অর্থের ওপর। সে জন্য সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে খাজাঞ্চিখানার দিকে। জিহ্বার ডগায় বিষ রেখে যেমন মধুর স্বাদ আস্বাদন সম্ভব নয়, তেমনি একজন লোক রাজকর্মচারী হয়ে রাজার রাজস্বের সামান্য পরিমাণ না খেয়ে বসে থাকবেন, এটা অবিশ্বাস্য। জলের নিচের মাছের গতিবিধি যেমন লক্ষ করা সম্ভব নয়, তেমনি রাজকর্মচারীর তহবিল আত্মসাৎ করাও পর্যবেক্ষণ করা অসম্ভব। আকাশের অতি উঁচুতে পাখির ওড়াউড়ি দেখা সম্ভব, কিন্তু রাজকর্মচারীর সকল কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অসম্ভব।’

উল্লেখ্য,
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য। মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত। 
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যই প্রাচীন ভারতে অখন্ড ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে প্রথম বড় ধরনের সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তাঁর সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
  ii) প্রথম আলো।

১,০৮৫.
উয়ারী-বটেশ্বর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. করতোয়া
  2. কয়রা
  3. শীতলক্ষ্যা
  4. মেঘনা
ব্যাখ্যা
নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে পুরাতন ব্রক্ষ্মপুত্র নদ বা কয়রা নদীর তীরে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম দু’টি ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত।
=> নির্মানকাল- ৪৫০ খ্রিস্টা- পূর্বাব্দ ।
=>  গ্লাইসটোসিন যুগে গঠিত মধুপুর গড়ের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এ গ্রাম দু’টিতেই নিবিড় অনুসন্ধান ও সীমিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত হয়েছে ২৫০০ বছরের প্রাচীন দুর্গ।
=> স্কুল শিক্ষক মুহাম্মদ হানিফ পাঠান উয়ারী বটেশ্বরের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব প্রথম জনসম্মুখে তুলে ধরেন ১৯৩০ সালে । 
=> এর খনন কাজ শুরু হয় ২০০০ সালে 
=> উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একাধারে একটি নগর ও সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র। 
=> আবিস্কৃত হয় - পদ্ম  মন্দির বা লোটাস টেম্পল ।
=> পুঁতি তৈরির কারখানা এখানে বিকশিত হয়েছিল ।
=> প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উয়ারী প্রত্নস্থলে আবিষ্কৃত হয়েছে ৬০০ মি. x ৬০০ মি. আয়তনের চারটি মাটির দুর্গ-প্রাচীর। দুর্গ প্রাচীরের ৫-৭ ফুট উঁচু ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু অংশ এখনো টিকে আছে।
=> পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত উয়ারী নগরের বাইরে আরো ৫০ টি প্রত্নস্থান এ যাবত আবিষ্কৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,০৮৬.
প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপের বর্তমান নাম কী?
  1. সন্দ্বীপ
  2. ভোলা
  3. বরিশাল
  4. নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপের বর্তমান নাম বরিশাল। 

• চন্দ্রদ্বীপ:

- প্রাচীন যুগে বাংলা কোন একক রাজ্য ছিল না।
- বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন অনেকগুলো ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল।
- যেমন: পুণ্ড্র, বরেন্দ্র, বঙ্গ, সমতট, চন্দ্রদ্বীপ, হরিকেল, রাঢ় ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের শেষ দিকে বাখরগঞ্জ জেলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ব্যাপী চন্দ্রদ্বীপ জমিদারি বিস্তৃত ছিল।
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- মধ্যযুগে চন্দ্রদ্বীপ বেশ সমৃদ্ধ ছিল।
- এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।
১,০৮৭.
কোন মুঘল সম্রাট গৌড়ের চমৎকার প্রাসাদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এর নামকরণ করেন ‘জান্নাতবাদ’ ?
  1. ক) সম্রাট হুমায়ুন
  2. খ) সম্রাট আকবর
  3. গ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. ঘ) সম্রাট বাবর
ব্যাখ্যা
- গৌড়ের চমৎকার প্রাসাদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে হুমায়ুন এর নামকরণ করেন ‘জান্নাতবাদ’ 
- হুমায়ুন ‘নাসির উদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন’ নাম ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
- সম্রাট হুমায়ুনের রাজত্বকালকে দু’টি পর্বে বিভক্ত করা যায়। 
-প্রথম পর্বে ১৫৩০-১৫৪০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এবং 
-দ্বিতীয় পর্বে ১৫৫৫-১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ
- গুলবদন বেগম রচিত হুমায়ুনের ইতিহাস সম্বন্ধে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান উৎস গ্রন্থ। 
- ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ২৭ জানুয়ারি দিল্লিতে গ্রন্থাগারের সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে 
সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই। 
১,০৮৮.
ঐতিহাসিকদের মতে, গঙ্গারিডাই কোন জনপদের সমতুল্য?
  1. পুণ্ড্র
  2. হরিকেল
  3. রাঢ়
  4. বঙ্গ
ব্যাখ্যা

গঙ্গারিডাই:
- গঙ্গারিডাই প্রথম খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে দ্বিতীয় খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে গ্রিক ও ল্যাটিন লেখায় একটি জনগোষ্ঠী ও একটি দেশের নাম হিসেবে উল্লিখিত।
- গঙ্গারিডাই রাজ্যের অস্তিত্বকালে প্রধান গ্রিক সেনাপতি ছিলেন আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট। আলেকজান্ডার ও তাঁর সৈন্যবাহিনীর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ডিওডোরাস সিন্ধু পরবর্তী দেশ সম্বন্ধে লিখতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, গঙ্গা পেরিয়ে যে অঞ্চল সেখানে ‘প্রাসিয়ই' ও গঙ্গারিডাইদের আধিপত্য।
- টলেমি (দ্বিতীয় খ্রিস্টাব্দ) গঙ্গারিডাই-এর অবস্থান সম্পর্কে কিছুটা বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন যে, গঙ্গার পাঁচটি মুখ সংলগ্ন প্রায় সমস্ত এলাকা গঙ্গারিডাইগণ দখল করে রেখেছিল, ‘গাঙ্গে’ (Gange) নগর ছিল এর রাজধানী। 
- প্রাচীন বাংলার বঙ্গ জনপদকে গ্রিক ও ল্যাটিন লেখকদের ‘গঙ্গারিডাই’-এর সমতুল্য গণ্য করা যেতে পারে।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রাপ্ত নিদর্শনের ভিত্তিতে 'ঐতিহ্য অন্বেষণ' নামক সংস্থাটি দাবি করেছে যে, উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলেই হয়তো ইতিহাস বিখ্যাত গঙ্গারিডি বা গঙ্গারিডাই রাজ্য গড়ে উঠেছিল।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৮৯.
প্রাচীন বাংলার কোন জনপদ দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত ছিল?
  1. তাম্রলিপ্ত
  2. গৌড়
  3. পুণ্ড্র
  4. সমতট
ব্যাখ্যা
তাম্রলিপ্ত:
- হরিকেলের উত্তরে ছিল তাম্রলিপ্ত জনপদ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার (প্রাচীন যুগে মিধুনাপুর নামে পরিচিত) তমলুক শহরই ছিল প্রাচীন তাম্রলিপ্তি নগরস্থল।
- বর্তমান শহরটি বঙ্গোপসাগরের কাছে রূপনারায়ণের তীরে অবস্থিত।

⇒ সমুদ্র উপকূলবর্তী এ এলাকা ছিল খুব নিচু ও আর্দ্র।
- নৌ চলাচলের জন্য জায়গাটি ছিল খুবই উওম।
- প্রাচীনকালে তাম্রলিপ্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
- চৈনিক তীর্থযাত্রী হিউয়েন-সাং তাম্রলিপ্তি শহরকে ‘তান-মো-লি-তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- সাত শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১,০৯০.
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খ) খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. গ) সুলতানউদ্দিন আহমেদ
  4. ঘ) এ.কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
- অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

•হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:

- হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ছিলেন একজন পূর্ব পাকিস্তানি বাঙালি রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী, যুক্তফ্রন্ট গঠনের মূলনেতাদের মধ্যে অন্যতম।
- গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, তাই সুধী সমাজ কর্তৃক 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলে আখ্যায়িত হন।
- ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলায় সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন মুসলিমলীগ ১১৪টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে এবং তিনি মুখ্যমন্ত্রী হন।
- ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টি হলে খাজা নাজিমুদ্দিন পূর্ব বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

অন্যদিকে,
 - অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক।
- ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ মুসলিমলীগের লাহোর অধিবেশনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এই প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৯১.
বাংলাদেশের স্থাপত্যের সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শন-
  1. ক) বৌদ্ধ স্তূপ
  2. খ) বজ্রযোগিনী
  3. গ) শালবন বিহার
  4. ঘ) ময়নামতি
ব্যাখ্যা

- বৌদ্ধ স্তুপ বাংলাদেশের স্থাপত্যের সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শন।
- ঢাকার আশ্রাফপুরে রাজা দেব খড়রের স্তুপটি বাংলার প্রাচীনতম স্তুপের নিদর্শন।
- ময়নামতি কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কি. মি. পশ্চিমে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান।

- এর পূর্ব নাম রোহিতগিরি ।
- মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় বজ্রযোগিনী গ্রামটি অবস্থিত।
- অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের (৯৮০-১০৫৩) স্মৃতিবিজড়িত বজ্রযোগিনী গ্রাম।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত অধিদপ্তর।

১,০৯২.
বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা কে ছিলেন?
  1. ধর্মপাল
  2. বিজয় সেন
  3. গোপাল
  4. শশাঙ্ক 
ব্যাখ্যা

রাজা শশাঙ্ক:
- বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা ছিলেন শশাঙ্ক।

উল্লেখ্য,
- শশাঙ্ক বাংলার বাইরেও রাজ্য জয় করে এক বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
- সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে তিনি গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী। বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- তিনি প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দণ্ডভুক্তি (মেদিনীপুর), উৎকল (উত্তর উড়িষ্যা) ও কঙ্গোদ (দক্ষিণ উড়িষ্যা) নিজ রাজ্যভুক্ত করেন। 

এছাড়া,
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন। এ কারণেই হর্ষবর্ধনের সভাকবি বাণভট্ট শশাঙ্ককে বৌদ্ধবিদ্বেষী ও বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রহকারীরূপে চিহ্নিত করেন।
- হিউয়েন সাঙ-এর বিবরণী থেকে জানা যায় যে, রাজধানী কর্ণসুবর্ণে এবং শশাঙ্কের রাজ্যের অন্যত্র বৌদ্ধধর্মের যথেষ্ট মর্যাদা ছিল।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৯৩.
সেন বংশের আদি নিবাস কোথায় ছিলো?
  1. ক) দাক্ষিণাত্য
  2. খ) নদীয়া
  3. গ) বিক্রমপুরে
  4. ঘ) কামরূপ
ব্যাখ্যা
- সেন বংশের আদি নিবাস দাক্ষিণাত্য ছিলো। 

সেন বংশ: 

- প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে এগারো শতকের অন্তিমলগ্নে পাল বংশের অবসান ঘটিয়ে সেনদের উত্থান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- সেন বংশের আদি নিবাস দাক্ষিণাত্য ছিলো। 
- বাংলায় সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সামন্ত সেন।
- তিনি যৌবনে কর্ণাটে বীরত্ব প্রদর্শন করে শেষ বয়সে বসতি স্থাপন করেন রাঢ় অঞ্চলে গঙ্গা তীরে।
- সামন্ত সেন কোনো রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করায় সেন বংশের প্রথম রাজার মর্যাদা দেয়া হয় তাঁর পুত্র হেমন্ত সেনকে । 
-হেমন্ত সেনের পুত্র বিজয় সেন বাংলায় সেন বংশের শাসনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।
- বল্লালসেন সুপন্ডিত হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তিনি ১১৬৮ খ্রিস্টাব্দে দানসাগর লেখা সম্পন্ন করেন এবং ১১৬৯ খ্রিস্টাব্দে অদ্ভুতসাগর লেখায় হাত দেন। তবে তা তিনি সম্পন্ন করে যেতে পারেন নি।
- ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মণসেনের মৃত্যুর পর তাঁর দুই পুত্র বিশ্বরূপসেন ও কেশবসেন যথাক্রমে সিংহাসনে বসেন।
- তাঁদের শাসনামলের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় না। তবে বাংলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তাঁদের শাসন যে আরও প্রায় ২৫ বছর স্থায়ী ছিল, লিপি প্রমাণে তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
 উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,০৯৪.
হরিকেল নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল -
  1. ক) বরিশালে
  2. খ) চট্রগ্রামে
  3. গ) দিনাজপু্রে
  4. ঘ) নোয়াখালীতে
ব্যাখ্যা

• বর্তমান সিলেট, চট্রগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম অঞ্চলে হরিকেল নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল।
• সমস্ত তথ্য পর্যালোচনা করে ধরে নেয়া যায় যে, পূর্বে শ্রীহট্ট (সিলেট) থেকে চট্টগ্রামের অংশ বিশেষ পর্যন্ত হরিকেল জনপদ বিস্তৃত ছিল।
• বগুড়া,দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক অঞ্চল এবং সম্ভবত পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল।
• সমতট (কুমিল্লা, নোয়াখালী, ত্রিপুরা)।
• বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা এস এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৯৫.
বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদের নাম কি?
  1. পুণ্ড্র
  2. তাম্রলিপি
  3. গৌড়
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা

পুণ্ড্র জনপদ:
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।
- পুণ্ড্র ‘জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়। 
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম- দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

১,০৯৬.
উয়ারি-বটেশ্বর নগর সভ্যতা কত বছর পূর্বের?
  1. ক) এক হাজার বছর
  2. খ) দেড় হাজার বছর
  3. গ) আড়াই হাজার বছর
  4. ঘ) তিন হাজার বছর
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরী হলো উয়ারি-বটেশ্বর। আনুমানিক প্রায় আড়াইহাজার বছর আগে নরসিংদী জেলার উয়ারি-বটেশ্বরে নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
- এটি দ্বিতীয় ভারতীয় সভ্যতার অন্তর্গত। উয়ারি-বটেশ্বর ছিলো একটি নদীবন্দর ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : ষষ্ঠ শ্রেণী)
১,০৯৭.
‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ বাংলা কত সনে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ক) ১৩৪৩ বঙ্গাব্দে
  2. খ) ১৩৫০ বঙ্গাব্দে
  3. গ) ১৩৪০ বঙ্গাব্দে
  4. ঘ) ১৩৬০ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৩ সালে বাংলায় সংঘটিত দুর্ভিক্ষ ‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ নামে পরিচিত।
বাংলা ১৩৫০ বঙ্গাব্দে এই দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হওয়ায় একে ‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ বলা হয়।
• এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ মারা যায়।
• এই দুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।      

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম - ১০ম শ্রেণি, বাংলাদেশ ও ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া। 
১,০৯৮.
প্রাচীন বাংলার হরিকেল জনপদ অঞ্চলভুক্ত এলাকা -
  1. ক) সিলেট
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) কুমিল্লা
  4. ঘ) ক+খ
ব্যাখ্যা
• প্রাচীন বাংলার হরিকেল জনপদ অঞ্চলভুক্ত এলাকা -  সিলেট, চট্টগ্রাম। 

• হরিকেল:
- এটি প্রাচ্যদেশের পূর্বতম সীমানায় অবস্থিত ছিল বলে বিভিন্ন সূত্র ও বর্ণনায় উল্লেখ পাওয়া যায়।
- কারো কারো লিপিতে হরিকেলের যে পরিচয় পাওয়া যায় তাতে বর্তমান চট্টগ্রামেরও অংশ খুঁজে পাওয়া যায়।
- সমস্ত তথ্য পর্যালোচনা করে ধরে নেয়া যায় যে, পূর্বে শ্রীহট্ট (সিলেট) থেকে চট্টগ্রামের অংশ বিশেষ পর্যন্ত হরিকেল জনপদ বিস্তৃত ছিল।
- ‘ডাকাবর্ণ' নামক গ্রন্থে হরিকেলকে চৌষট্টিটি তান্ত্রিক পীঠের একটি পীঠ বলা হয়।
- এখানে নারীদের প্রশংসা করে গ্রন্থ লেখা হয়েছে। ধারণা করা হয় যে, হরিকেলে মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা কার্যকর ছিল।
-  হরিকেলে বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাবও ছিল।

উৎস: লাইভ এম সি কিউ লেকচার।
১,০৯৯.
কোন যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে সম্রাট অশোক বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন?
  1. কলিঙ্গ যুদ্ধ
  2. পানিপথের যুদ্ধ
  3. হলদীঘাটির যুদ্ধ
  4. তরাইনের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

সম্রাট অশোক:
- কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে সম্রাট অশোক বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।

⇒ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর ২৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- তিনি পাটলীপুত্র হতে তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করতেন।
- রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে তিনি কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- তিনি মৌর্য সম্রাটদের চিরাচরিত দ্বিগ্বিজয় নীতি পরিত্যাগ করে ঘোষণা করেন তাঁর পুত্র, প্রপৌত্র কেউই ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ করবে না।

⇒ রক্তক্ষয়ী কলিঙ্গ যুদ্ধের পর অশোকের রাজনৈতিক ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীতে আমূল পরিবর্তন আসে।
- কলিঙ্গ যুদ্ধের রক্তবন্যা তাঁকে একজন নীতিবান ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।
- ওই সময় থেকেই তিনি জীবনের সর্বক্ষেত্রে বিশ্বশান্তি ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসন প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।
- জীবনের অবশিষ্ট সময় অহিংস ধর্ম তাঁর পথপ্রদশর্কের ভূমিকা পালন করে।
- সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন।
- অশোকের প্রচারিত ধর্মের মূল বিষয় ছিল গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা, জীবে দয়া, সত্যবাদিতা ইত্যাদি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১০০.
হিউয়েন সাঙ কোন শতকে সমতটে এসেছিলেন?
  1. ৫ম শতকে
  2. ৬ষ্ঠ শতকে
  3. ৭ম শতকে
  4. ৮ম শতকে
ব্যাখ্যা

• সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটি বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তে-এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন হিউয়েন সাঙ।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- মূলত মেঘনা-পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল এবং এ অঞ্চলের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- একেবালে সঠিকভাবে সমতটের সীমা নির্ধারণ না করা গেলেও ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই ছিল সম্ভবত প্রাচীন সমতট।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।