বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাচীন কালের ইতিহাস, জনপদ ও বিভিন্ন রাজবংশ

মোট প্রশ্ন১,৩৩৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাচীন কালের ইতিহাস, জনপদ ও বিভিন্ন রাজবংশ

PrepBank · পাতা ১০ / ১৪ · ৯০১১,০০০ / ১,৩৩৮

৯০১.
মহাস্থানগড়ে রয়েছে -
  1. ক) শাহ সুলতান বলখীর মাজার
  2. খ) পরীবিবির মাজার
  3. গ) শাহ্ মখদুমের মাজার
  4. ঘ) আমানত শাহের মাজার
ব্যাখ্যা
• মহাস্থানগড়ে বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ নগর পুন্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ বিদ্যমান। 
• মহাস্থানগড়ে শাহ সুলতান বলখীর মাজার রয়েছে। 
• সম্রাট অশোকের সময়ের খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপি পাওয়া গেছে। 
• স্থানটি বগুড়া শহর থেকে ১৩ কিমি (৮ মাইল) উত্তরে করতোয়া নদীর তীরে।

অন্যদিকে, 
• শায়েস্তা খানের কন্যা ছিলেন পরী বিবি। তাঁর আসল নাম ইরান দুখত। পরীবিবির মাজার লালবাগ কেল্লার অভ্যান্তরে দরবারগৃহ থেকে ২৭৫ ফুট পশ্চিমে অবস্থিত।
• হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র:) এর মাজার বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত।
• শাহ্ মখদুমের মাজার রাজশাহীতে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৯০২.
হিজরী সন গণনা শুরু হয় কোন সালে?
  1. ক) ৬০২ সালে
  2. খ) ৬১৪ সালে
  3. গ) ৬২২ সালে
  4. ঘ) ৬২৪ সালে
ব্যাখ্যা
হিজরি সন:
- হিজরি সন গণণা শুরু হয় ৬২২ খ্রিস্টাব্দ থেকে।
- মহানবী (সা.) আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা পাওয়ার পর ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর মোতাবেক ২৭ সফর মক্কা মুকাররামা থেকে মদিনার উদ্দেশে হিজরত করেন।
- ২৩ সেপ্টেম্বর, ৬২২ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ৮ রবিউল আওয়াল কোবায় পৌঁছেন।
- ২৭ সেপ্টেম্বর, ৬২২ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১২ রবিউল আওয়াল মদিনা মুনাওয়ারায় পৌঁছেন মহানবী (সা.)।
- এ হিজরতেরই স্মৃতিবহন করে আসছে আমাদের হিজরি সন।

 উৎস: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, Jagonews24।
৯০৩.
অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা কোন যুগের চিত্রশিল্পের নিদর্শন?
  1. মাৎসন্যায়
  2. পাল যুগ
  3. সেন যুগ
  4. সুলতানি যুগ
ব্যাখ্যা
চিত্রশিল্প:
- পাল যুগের পূর্বেকার কোনো চিত্র আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
- কিন্তু প্রাচীনকালেই যে বাংলায় চিত্র অঙ্কনের চর্চা ছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
- সাধারণত বৌদ্ধ বিহার ও মন্দিরের দেয়াল সৌন্দর্যময় করার জন্য চিত্রাঙ্কন করার রীতি প্রচলিত ছিল।
- তখনকার দিনে বৌদ্ধ লেখকরা তালপাতা অথবা কাগজে তাদের পুস্তকের পাণ্ডুলিপি তৈরি করতেন।
- এ সকল পুঁথি চিত্রায়িত করার জন্য লেখক ও শিল্পীরা ছোট ছোট ছবি আঁকতেন।
- রেখার সাহায্যে চিত্রাঙ্কনেও প্রাচীন বাংলার শিল্পীরা যথেষ্ট দক্ষতা দেখিয়েছেন।
- রাজা রামপালের রাজত্বকালে রচিত 'অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা' পুঁথি বাংলার চিত্রশিল্পের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
- রেখার সাহায্যে চিত্রাঙ্কনের আর একটি দৃষ্টান্ত হলো সুন্দরবনে প্রাপ্ত ডোম্মনপালের তাম্রশাসনের অপর পিঠে উৎকীর্ণ বিষ্ণুর রেখাচিত্র।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৯০৪.
'মহারাজাধিরাজ' উপাধি কারা গ্রহণ করেন?
  1. ইলিয়াস শাহ , তুঘলক ও জালালউদ্দিন
  2. আকবর, হুমায়ুন ও জাহাঙ্গীর
  3. চন্দ্রগুপ্ত, ধর্মপাল ও গোপাল
  4. চন্দ্রগুপ্ত, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বঙ্গ রাজ্যের তিন রাজা গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।

স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্র:

- ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে বিশাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
- সেই অস্থিতিশীল পরিবেশে বাংলাদেশে দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে।
- এর একটি হচ্ছে স্বাধীন 'বঙ্গ রাষ্ট্র', অপরটি 'গৌড় রাজ্য।

উল্লেখ্য,
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সমগ্র দক্ষিণ ও পূর্ব বঙ্গে একটি স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে।
- স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্রের রাজারা তামার পাতে খোদাই করা রাজ নির্দেশ জারি করতেন।
- এগুলোকে তাম্রশাসন বলা হতো।
- এ রকম ৭টি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে।
- স্বাধীন বঙ্গরাজ্যে চন্দ্রগুপ্ত, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব নামের তিনজন রাজা ছিলেন।
- তারা ৫২৫-৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট ৭৫ বছর রাজত্ব করেন।
- তারা 'মহাধিরাজ' উপাধি ধারণ করতেন।
- এতে তাদের সার্বভৌম ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায়। স্বাধীন বঙ্গের যথেষ্ট যশ, খ্যাতি, প্রভাব ও সমৃদ্ধির কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের নেতৃত্বে বাংলার পুন্ড্র বা পণ্ড্রবর্ধন, গৌড় এবং বঙ্গকে একত্রিত করে একটি বিশাল গৌড় রাজ্য স্থাপিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৫.
মৌর্য শাসনামলে পুণ্ড্রবর্ধনের প্রাচীন নাম কী ছিল?
  1. কর্ণসুবর্ণ
  2. পুণ্ড্রনগর
  3. দেবকোট
  4. তাম্রলিপ্ত
ব্যাখ্যা

মৌর্য শাসনামলে বাংলা:
- মহাজনপদ যুগের শেষদিকে এসে মগধ অনেক শক্তিশালী হয়ে অন্যান্য প্রায় সকল জনপদকে দখল করে নিতে থাকে।
- ষোড়শ মহাজনপদের শেষদিকে এসে মগধ যখন অধিকাংশ মহাজনপদে তার নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে; তার কিছুদিন পর ৩২১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মৌর্যরা ভারতে কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে।
- খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে মগধ রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ভারতের গয়া আর পাটনা জেলা নিয়ে। কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে, বর্তমান বাংলাদেশ পর্যন্ত এর বিস্তার ঘটেছিল।

• মহাস্থানগড়-এর নিকটবর্তী স্থানে প্রাপ্ত একটি শিলালিপির ভাষ্য হতে বাংলাদেশে মৌর্য শাসন বিস্তৃত হয়েছিল বলে ধরা হয়। এই শিলালিপিতে যদিও অশোকের নাম সরাসরি উল্লেখ নেই, তবে এই লিপির ভাষ্য বিশ্লেষণ করে 'পুণ্ড্রবর্ধন ভুক্তিটির' রাজধানী হিসেবে আজকের বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়কে চিহ্নিত করা হয়।
- পুণ্ড্রবর্ধনের তখনকার নাম ছিল 'পুণ্ড্রনগর'।
- প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হলে খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দে বগুড়ার মহাস্থানগড়ে উন্নত এক সংস্কৃতির পত্তন করেছিলেন মৌর্য বংশের রাজারা।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে মহাস্থানগড়ে ধারাবাহিকভাবে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন ও মুসলিম যুগের নানা নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে। তাই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান এবং ইতিহাসের বিচারে মহাস্থানগড় অঞ্চলটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০৬.
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা জেলা প্রাচীনকালে কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. পুন্ড্র
  3. সমতট
  4. বরেন্দ্র
ব্যাখ্যা
বঙ্গ জনপদ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- আর এ অঞ্চলই সম্ভবত টলেমির ‘গঙ্গরিডাই'।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়। একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- অনুমান করা যায় ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল। সেজন্যে ‘বঙ্গ' ও 'আল' শব্দ দুটির যোগে 'বঙ্গাল' নামের উৎপত্তি হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- মুদ্রা ও লিপিতাত্ত্বিক প্রমাণের আলোকে ধরা হয়, খ্রিস্টীয় ৬ শতকে স্বাধীন বঙ্গরাজ্যের উদ্ভব ঘটে।

অন্যদিকে,
- পুন্ড্র: প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র। পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর। বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
- বরেন্দ্র জনপদ বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৭.
কোন জাতির আক্রমনের ফলে সিন্ধু সভ্যতার অবসান ঘটে?
  1. ক) আর্য
  2. খ) মোঙ্গলীয়
  3. গ) হান
  4. ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা
সভ্যতার সময়কাল সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত রয়েছে।
- পণ্ডিতদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দ পর্যন্ত এ সভ্যতার উত্থান-পতনের কাল।
- ঐতিহাসিকরা মনে করেন, আর্য জাতির আক্রমণের ফলে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অথবা ১৪০০ অব্দে সিন্ধু সভ্যতার অবসান ঘটে
- তবে সিন্ধু সভ্যতা ধ্বংস সম্পর্কেও ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে।
- এই সভ্যতার সময়কাল মর্টিমার হুইলারের মতে খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দ পর্যন্ত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৮.
ধর্মপালের মৃত্যুর পর সিংহাসনে কে বসেন?
  1. গোপাল
  2. রাজ্যপাল
  3. রামপাল
  4. দেবপাল
ব্যাখ্যা
পাল রাজবংশ:
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে।
- এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সময় উত্তর ভারতের আধিপত্য নিয়ে গুর্জর প্রতিহার, রাষ্ট্রকুট ও পালবংশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ধর্মপালের মৃত্যুর পর রাজা হলেন তাঁর পুত্র দেবপাল।
- তাঁর শাসনামলে পাল সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত হয়।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে।
- প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
- রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন।
- তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৯.
প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ কোনটি?
  1. গৌড়
  2. পুণ্ড্র
  3. হরিকেল
  4. বঙ্গ
ব্যাখ্যা

পুণ্ড্র:
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্র ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুণ্ড্র।
- পুণ্ড্র 'জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুণ্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
- ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ-৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- এখানে গুপ্তদের সুনিয়ন্ত্রিত শাসনব্যবস্থা ছিল।
- পুণ্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১০.
‘Parrot of India’ বা 'তোতা-ই-হিন্দ' বলা হয় কাকে?
  1. ক) তানসেনকে
  2. খ) আমীর খসরুকে
  3. গ) আবুল ফজলকে
  4. ঘ) গালিবকে
ব্যাখ্যা

১) তানসেনকে সঙ্গীত সম্রাট বলা হয়। তার একমাত্র উপাধি ছিল "মিয়া", মানে হল জ্ঞানী ব্যাক্তি।
২) আমীর খস্রু কে বলা হয় "Parrot of India" তোতা-ই-হিন্দ।
৩) বিখ্যাত নেত্রী সরোজিনী নাইডু, তিনি বিশিষ্ট কবিও ছিলেন। তাঁর রচিত কবিতা সংগ্রহ The Golden Threshold ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি সাধারণ্যে ‘বুলবুলে হিন্দ’ খেতাবে বিভূষিত হন।
১৯০৮ সালে হায়দ্রাবাদে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁকে কায়সার-ই-হিন্দ স্বর্ণপদক প্রদান করে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও ব্রিটানিকা।

৯১১.
কোন আমল থেকে সমগ্র বাংলাদেশের অধিবাসীরা 'বাঙালি' নামে পরিচিতি লাভ করে?
  1. ইলিয়াস শাহী আমল
  2. গুপ্ত আমল
  3. পাল আমল
  4. হোসেন শাহী আমল
ব্যাখ্যা

ইলিয়াস শাহী আমল: 
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন।
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্র করেন।
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্র করতে পারেননি।
- তাই এ আমল থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় 'বাঙালি' নামে।
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ স্থানীয় জনগণের মন জয় করার জন্য উদারনৈতিক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁরা জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাইকে শাসনকার্যে ও সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করেন।
- তাঁরা দেশীয় ভাষা ও সাহিত্যের সমাদর এবং দেশীয় কবিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- তাঁদের উদার নীতির ফলে বাংলাদেশে সামাজিক জীবনে এক নতুন ধারার সৃষ্টি হয়েছিল।
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ আরবদেশ, চীন ও পারস্যের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন।
- ইলিয়াস শাহী আমলে বাংলার কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৯১২.
শশাঙ্ক প্রাচীন বাংলার কোন অঞ্চলের শাসক ছিলেন?
  1. বঙ্গ
  2. রাঢ়
  3. গৌড়
  4. চন্দ্রদ্বীপ
ব্যাখ্যা
প্রাচীন বাংলা:
- সপ্তম শতকের প্রারম্ভে বাংলার প্রথম স্বাধীন নৃপতি শশাঙ্ক উত্তর বাংলায় একটি শক্তিশালী স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন যা গৌড়রাজ্য নামে পরিচিত।
- এই রাজ্যের রাজধানী ছিলো মুর্শিদাবাদ জেলার নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ।
- উত্তর বাংলা থেকে উড়িষ্যা পর্যন্ত স্বাধীন গৌড়রাজ্যের বিস্তৃতি ছিলো।
- ৫৯৪ খ্রি. থেকে ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শশাঙ্ক গৌড়রাজ্য শাসন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৯১৩.
বিখ্যাত ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক’ রোড কোন কোন শহরকে সংযুক্ত করেছে?
  1. ক) চট্রগ্রাম থেকে লাহোর
  2. খ) দাউদকান্দি থেকে করাচি
  3. গ) সোনারগাঁও থেকে ইসলামাবদ
  4. ঘ) সোনারগাঁও থেকে লাহোর
ব্যাখ্যা
চৌসারের যুদ্ধে (১৫৩৯) হুমায়ুনকে পরাজিত করে শেরখান (শেরশাহ) নিজেকে বিহারের স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন। ১৫৪০ সালে তিনি বাংলা দখল করে নেন।
তিনি বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে লাহোর পর্যন্ত ২৭০০ কি.মি (১৭০০ মাইল) দীর্ঘ একটি মহাসড়ক ‘সড়ক-ই-আজম’ নির্মান করেন।
পরবর্তীতে ইংরেজগণ এ রাস্তা সংস্কার করে নাম দেয় ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক’ রোড।
এছাড়াও শেরশাহ ‘ঘোড়ার ডাক’ এবং কবুলিয়ত ও পাট্টা প্রথার প্রচলন করেন। তিনি ‘দাম’ নামক রূপার মুদ্রার প্রচলন করেন।
উৎস-বাংলাপিডিয়া।
৯১৪.
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম সার্বভৌম রাজা ছিলেন -
  1. শশাঙ্ক
  2. গোপাল
  3. বিজয় সেন
  4. ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৫.
সপ্তম শতকে গৌড়ের রাজধানীর নাম কী ছিল?
  1. বিক্রমপুর
  2. নাব্য
  3. কর্ণসুবর্ণ
  4. পুণ্ড্রনগর
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৯১৬.
আর্যদের আদিনিবাস কোথায় ছিল?
  1. ক) ইরাকে
  2. খ) ইরানে
  3. গ) জর্দানে
  4. ঘ) প্যালেস্টাইনে
ব্যাখ্যা

সমগ্র বাঙালি জনগোষ্ঠীকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
প্রাক-আর্য(অনার্য) জনগোষ্ঠী ও আর্য জনগোষ্ঠী।
আর্যদের আদিনিবাস ছিল ইউরাল পর্বতের দক্ষিণে বর্তমান মধ্য এশিয়া- ইরানে।
আর্যরা খ্রিস্টপূর্ব ২০০ অব্দে ভারতবর্ষে আগমন করেন।
আর্যরা সনাতন ধর্মালম্বী ছিল। তাদের ধর্মগ্রন্থের নাম ছিল বেদ।

৯১৭.
'রোহিতগিরি' বাংলাদেশের কোন স্থানের পূর্বনাম?
  1. ক) মহাস্থানগড়
  2. খ) ময়নামতি
  3. গ) পাহাড়পুর
  4. ঘ) সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
- ময়নামতি হলো কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কি. মি. পশ্চিমে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- এর পূর্ব নাম রোহিতগিরি
- এযাবৎ আবিষ্কৃত লালমাই অঞ্চলের প্রাচীনতম সভ্যতার নিদর্শন হল ময়নামতি প্রত্নস্থল।
- রাজা মানিক চন্দ্রের স্ত্রী ময়নামতির নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় ।
- ময়নামতিকে আবার শালবন বিহার ও বলা হয় ।
- ধারণা করা হয় যে খৃষ্টিয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন।
- এর আবিস্কার বা খনন কাজ শুরু হয় ১৯৫৫ সালে ।
- পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল (আনু. ৭৮১-৮২১ খ্রি) পাহাড়পুর (সোমপুর বিহার ) বিহার স্থাপন করেন।
- মহাস্থানগড়ে বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ নগর পুন্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ বিদ্যমান।
- নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে পুরাতন ব্রক্ষ্মপুত্র নদ বা কয়রা নদীর তীরে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম দু’টি ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এবং বাংলাপিডিয়া ।
৯১৮.
‘হর্ষচরিত’ গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. কলহন
  2. বানভট্ট
  3. হর্ষবর্ধন
  4. কৌটিল্য
ব্যাখ্যা
বাণভট্ট:
- বাণভট্ট ছিলেন খ্রিষ্টাব্দ সপ্তম শতাব্দীর ভারতীয় সংস্কৃত পণ্ডিত।
- তিনি বাণ নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন। 
- হর্ষবর্ধন (৬০৬-৬৪৭) ছিলেন পূষ্যভূতি বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা।
 -হর্ষবর্ধনের সভাকবি ছিলেন বানভট্ট।
- বানভট্টের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘হর্ষচরিত’

উৎস: ইতিহাস, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৯.
পাল বংশের 'শেষ মুকুট' বলে অভিহিত করা হয় কোন শাসককে?
  1. রামপাল
  2. গোপাল
  3. চন্দ্রপাল
  4. দেবপাল
ব্যাখ্যা

রামপাল:
- রামপাল রাজা হয়েই বরেন্দ্র পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন।
- এই সময় কৈবর্তদের নেতা ছিলেন ভীম। প্রথম চেষ্টায় রামপাল ব্যর্থ হন।
- বরেন্দ্র অঞ্চলের উপর রামপালের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তাঁর রাজত্বের শেষের দিকে তিনি কামরূপ এবং উড়িষ্যার উপরও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন।
- রামপালকে পাল বংশের শেষ মুকুট বলা হয়।
- কবি সন্ধ্যাকর নন্দী ‘রামচরিত’ নামে রামপালের জীবনী লিখেন।
- রামপালের মৃত্যুর পর পাল সাম্রাজ্যের গৌরব দ্রুত বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২০.
দেব বংশের রাজারা কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?
  1. বৌদ্ধ
  2. হিন্দু
  3. শৈব
  4. জৈন
ব্যাখ্যা
দেব বংশ:
- অষ্টম শতকের মাঝামাঝি একই অঞ্চলে দেব বংশের উদ্ভব হয়।
- দেববংশের চারজন রাজার নাম পাওয়া যায়। এরা হলেন-
• শ্রী শান্তিদেব,
• শ্রী বীরদেব,
• শ্রী আনন্দদেব,
• শ্রী ভবদেব।
- শক্তিশালী দেব রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ।
- তাঁদের রাজধানী ছিল দেবপর্বতে।
- কুমিল্লার নিকট ময়নামতির দক্ষিণে ছিল এই দেবপর্বত।
- সমগ্র সমতট অঞ্চল জুড়ে দেবরাজাদের রাজত্ব ছিল।
- দেবরাজা আনন্দের রাজধানীতে 'আনন্দ বিহার' বলে একটি বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করা হয়।
- আনুমানিক ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দেবরাজাদের শাসন চালু থাকে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২১.
বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল কোনটি?
  1. বরিশাল
  2. কুমিল্লা
  3. চট্টগ্রাম
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২২.
প্রাচীন ময়নামতি বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন কোন শাসক?
  1. ধর্মপাল
  2. শ্রীভবদেব
  3. দেবপাল
  4. গোপাল
ব্যাখ্যা

• ময়নামতি বৌদ্ধ বিহার:
- লালমাই ময়নামতি গিরি শ্রেণীর মধ্যবর্তী স্থানে এই বিহারটি অবস্থিত।
- এই বিহারটির প্রত্যেক বাহুর দৈর্ঘ্য ৫৫০ ফুট।
- চারটি বাহুতে মোট ১১৫টি ভিক্ষু কক্ষ আছে যাতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বসবাস করতেন।
- এর মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে বিশাল প্রবেশ দ্বার।
- উম্মুক্ত চত্বরে ক্রশাকৃতির প্রধান মন্দির।
- মূল বিহারটি দেব বংশের চতুর্থ রাজা ভবদেব কর্তৃক আনুমানিক ৮ম শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছে।
- শালবন বিহার খনন করে অসংখ্য মূল্যবান প্রত্নতত্ত্ব আবিস্কার করা হয়েছে।
- এগুলোর মধ্যে আছে ৮টি তাম্রলিপি, ১৮টি স্বর্ণ ও ৩৫০টি রৌপ্য মুদ্রা, স্বর্ণালংকার, নানা ধরণের মূর্তি, পোড়ামাটির বিএফলক, সীল ও নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্য।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।

৯২৩.
বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য ছিল কোনটি?
  1. সমতট
  2. বঙ্গ
  3. পুণ্ড্র
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা

পুণ্ড্র জনপদ:
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।
- পুণ্ড্র ‘জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়। 
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম- দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

৯২৪.
হরিকেল জনপদের অবস্থান কোথায় ছিল?
  1. বাংলার পশ্চিম প্রান্তে
  2. বাংলার উত্তর প্রান্তে
  3. বাংলার দক্ষিণ প্রান্তে
  4. বাংলার পূর্ব প্রান্তে
ব্যাখ্যা

প্রাচীন বাংলার জনপদ:
- হরিকেল:
- সপ্তম শতকের লেখকরা হরিকেল নামে অপর একটি জনপদের বর্ণনা করেছেন।
- এ জনপদের অবস্থান ছিল বাংলার পূর্ব প্রান্তে।
- সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই জনপদ বিস্তৃত ছিল।

অন্যদিকে,
- সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের প্রতিবেশী জনপদ হিসেবে সমতটের অবস্থান।
- কেউ কেউ মনে করেন, সমতট বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম।
- গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী অঞ্চলকেই সম্ভবত বলা হতো সমতট।
- কুমিল্লা শহরের ১২ মাইল পশ্চিমে বড় কামতা এর রাজধানী ছিল।
- কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- শালবন বিহার এদের অন্যতম।

বরেন্দ্র:
- বরেন্দ্রী, বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি নামে প্রাচীন বাংলায় অপর একটি জনপদের কথা জানা যায়।
- এটিও উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ।
- অনুমান করা হয়, পুন্ড্রের একটি অংশ জুড়ে বরেন্দ্রর অবস্থান ছিল।
- বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক অঞ্চল এবং সম্ভবত পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইহিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৯২৫.
বরিশালের প্রাচীন নাম কী ছিল?
  1. চন্দ্রদ্বীপ
  2. তাম্রলিপ্তি
  3. রাঢ়
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা
চন্দ্রদ্বীপ:
- বরিশালের প্রাচীন নাম ছিল চন্দ্রদ্বীপ। 
- প্রাচীন বাংলায় একটি ক্ষুদ্র জনপদের নাম হলো চন্দ্রদ্বীপ।
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখণ্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বোর্ড বই।
৯২৬.
ঢাকা সর্বপ্রথম বাংলার রাজধানী হয় কবে? 
  1. ১৯০৫ সালে
  2. ১৬১০ সালে 
  3. ১৭১৭ সালে 
  4. ১৯৪৭ সালে 
ব্যাখ্যা

• ঢাকায় সর্বপ্রথম বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয় — ১৬১০ খ্রিঃ। 

• রাজধানী হিসেবে ঢাকা:
- এটি বাংলাদেশের — বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- মুঘল সম্রাট আকবরের সময় বাংলার রাজধানী ছিল — বিহারের রাজমহল।
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী — ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম — 'জাহাঙ্গীরনগর' রাখা হয়।

উল্লেখ্য, 
• ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন। শাহ সুজার পতনের পর ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন।

• ১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে আসাম ও বাংলার রাজধানী করা হয়।

• কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলা নামে নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় ঢাকার উথানে অধিকতর স্থায়ী উন্নয়ন সাধিত হয়।

• ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ঢাকা রাজনৈতিক , প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্ররূপে মর্যাদা লাভ করে।

তথ্যসূত্র: ঢাকা জেলা, dhaka.gov.bd.জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৯২৭.
হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান কে ছিলেন? 
  1. হোসেন মুজাফফর শাহ 
  2. সুলতান সিকান্দার লোদী 
  3. সুলতান নুসরত শাহ
  4. সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা
সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ:

• সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান। 
• তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হুসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন। 
• তিনি আরব দেশীয় সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন। 
• তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত। 
• তিনি বাংলার আকবর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 
• তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব “বৈষ্ণব ধর্ম” প্রচার করেন। 
• তাঁর সমাধি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাঁরই প্রতিষ্ঠিত ছোট সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯২৮.
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কে?
  1. দেবপাল
  2. ধর্মপাল
  3. মহীপাল
  4. গোপাল
ব্যাখ্যা
পাহাড়পুর বৌদ্ধ: 
- পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ধর্মপাল।
- তিনি বাংলার পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা এবং সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে পরিচিত।
- ধর্মপাল সোমপুর মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন।
- এটি ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র।
- পাল শাসকগণ বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং ধর্মপাল বিশেষভাবে বিক্রমশীল মহাবিহার এবং সোমপুর মহাবিহার প্রতিষ্ঠার জন্য বিখ্যাত।
- পাহাড়পুর বিহার গুপ্ত ও পাল স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন বহন করে।
- এটি এখন ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত।
- ধর্মপালের শাসনামলে বাংলা ছিল বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
৯২৯.
বাংলায় সেন বংশের শাসন কোন শতকে শুরু হয়?
  1. দশম শতকে
  2. তেরো শতকে
  3. বার শতকে
  4. এগারো শতকে
ব্যাখ্যা

• সেন বংশ (১০৬১-১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ):
- প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে এগারো শতকের অন্তিমলগ্নে পাল বংশের অবসান ঘটিয়েসেন শাসনের সূচনা হয়।
- ধারণা করা হয় তারা এদেশে ছিলেন বহিরাগত। সেনদের পূর্বপুরুষদের আদি বাস ছিল দাক্ষিণ্যাত্যের কর্নাটে।
- বাংলায় সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হেমন্ত সেন।
- তিনি শেষ বয়সে কর্নাট থেকে এসে রাঢ় অঞ্চলে গঙ্গা নদীর তীরে বসতি স্থাপন করেন।

- ধারণা করা হয় যে, তিনি পাল রাজা রাম পালের অধীনে একজন সামন্ত রাজা ছিলেন। 
- হেমন্ত সেনের পুত্র বিজয় সেন ১০৯৮ সাল থেকে ১১৬০ সাল পর্যন্ত বাংলায় রাজত্ব করেন।
- বিজয় সেন সম্ভবত পালরাজা রামপালের রাজত্বকালে রাঢ় অঞ্চলে প্রথমে সামন্তরাজা ছিলেন।
- বিজয় সেন পালরাজা রামপালকে বরেন্দ্র উদ্ধারে সাহায্য করেছিলেন। 
- বাংলাদেশে বিজয় সেনের সময়ই সেন বংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৩০.
রাজা চন্দ্রগুপ্তের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন –
  1. ক) কৌটিল্য
  2. খ) কনফুসিয়াস
  3. গ) শীলভদ্র
  4. ঘ) হেমন্ত
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন ভারতের শ্রেষ্ঠ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, সমরবিদ কৌটিল্য মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য এর পরামর্শদাতা বা উপদেষ্টা বা মন্ত্রিসভার সভ্য ছিলেন।
- তিনি চাণক্য ও বিষ্ণুগুপ্ত নামেও পরিচিত।
- চাণক্য রচিত গ্রন্থ হলো অর্থশাস্ত্র।
- এই বইয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, সমরনীতি, কৃষি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৯৩১.
প্রাচীন বাংলার কোন জনপদটি ' বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি নামে পরিচিত ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. পুন্ড্র
  3. বরেন্দ্র
  4. রাঢ়
ব্যাখ্যা
প্রাচীন বাংলার রাঢ় জনপদ' বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি নামে পরিচিত ছিল।

রাঢ় জনপদ:
- রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।

⇒ রাঢ় জনপদটি ২টি অংশে বিভক্ত ছিল।
- দক্ষিণ রাঢ় এবং উত্তর রাঢ় নিয়ে ছিল রাঢ় জনপদ।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি।

⇒ রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।
- বৌদ্ধ পুঁথি ও বিদেশী পর্যটকদের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তৎকালে তাম্রলিপ্তি একটি বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য বন্দর ছিল।
- শুধু বাংলা নয় এটি প্রাচীন ভারতেরও পূর্বাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বন্দর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩২.
বল্লাল সেন কর্তৃক রচিত গ্রন্থ নিচের কোনটি? 
  1. আচারসাগর
  2. ব্রতসাগর
  3. দানসাগর
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
বল্লাল সেন: 

বল্লাল সেন “ব্রতসাগর, আচারসাগর, প্রতিষ্ঠাসাগর, দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর” নামে পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন। (লক্ষ্মণ সেন বল্লাল সেনের অসমাপ্ত অদ্ভুতসাগর গ্রন্থ সমাপ্ত করেছিলেন।
• সেন বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা বিজয় সেনের পুত্র ছিলেন বল্লাল সেন। 
• সিংহাসনে আরোহণ : আনুমানিক ১১৬০ সালে। 
• তিনি দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
• তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
• বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন। 
• কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৩.
মহাস্থানগড় কোন জেলার অন্তর্গত?
  1. রাজশাহী
  2. বগুড়া
  3. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
• মহাস্থানগড়: বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি: 
- পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।
- এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
- বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কি.মি উত্তরে মহাস্থানগড় অবস্থিত।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড়ের বিস্তীর্ণ ধ্বংসাবশেষ প্রাচীর পুণ্ড্রবর্ধনভূক্তির রাজধানী পুন্ড্রনগরেরসুদীর্ঘ প্রায় আড়াই হাজার বছরের গৌরবোজ্জল ইতিহাসের এক নীরব স্বাক্ষী।
- এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ঐতিহাসিক স্থান।
 
উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
৯৩৪.
সর্বপ্রথম ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করেন কে?
  1. মুসা খান
  2. শায়েস্তা খান
  3. মীর জুমলা
  4. ইসলাম খান
ব্যাখ্যা

- ১৬১০ সালের ১৬ জুলাই সুবাদার ইসলাম খান চিশতী সর্বপ্রথম ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করেন এবং নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর।
- এই নাম সম্রাট জীবিত থাকা পর্যন্ত বহাল ছিল।
-এরপর ১৬৫০ সালে সুবাদার শাহ সুজা পুনরায় বাংলার রাজধানী বিহারের রাজমহলে নিয়ে যান।
-কিন্তু ১৬৬০ সালে মীর জুমলা পুনরায় ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করেন যা ১৭১৭ সাল পর্যন্ত বজায় ছিল।
-১৭১৭ সালে মুর্শিদকুলি খান বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- পরবর্তী ১৯০৫ থেকে ১৯১১ এবং ১৯৪৭ সাল থেকে ঢাকা বাংলার রাজধানী হিসেবে ছিলো।
-১৯৭১ সাল থেকে ঢাকা স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী।

উৎস: ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট

৯৩৫.
অশোক কোন বংশের সম্রাট ছিলেন?
  1. মৌর্য
  2. গুপ্ত
  3. সেন
  4. পাল
ব্যাখ্যা
⇒ অশোক মৌর্য বংশের সম্রাট ছিলেন।

অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- পিতার রাজত্বকালে অশোক প্রথম জীবনে উজ্জয়িনীর শাসনকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
- পরে তক্ষশীলায় বিদ্রোহ দেখা দিলে বিন্দুসার তাঁকে সেখানে পাঠান। বিদ্রোহ দমনের পর তিনি তক্ষশীলার শাসনভার গ্রহণ করেন।
- পিতার মৃত্যুর পর ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি পাটলিপুত্রের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- সিংহাসনে আরোহণ করে অশোক তাঁর পূর্বসুরীদের মতই 'দেবনম পিয়' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি নিজেকে 'দেবনম পিয় পিয় দসী' রূপে পরিচয় দিতেন।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন এবং রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোকের মন ও শাসননীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এ যুদ্ধের পর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।
- সামরিক বিজয়ের পরিবর্তে ধর্ম বিজয় অর্থাৎ সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন।
- তিনি ঘোষণা করেন সব মানুষই তাঁর সন্তান। তাদের জাগতিক ও পারলৌকিক সুখ নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৬.
নিচের কোন অঞ্চল সমতট জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. নোয়াখালী
  2. চট্টগ্রাম
  3. সিলেট
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটি বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।
- হিউয়েন সাঙ বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা- পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৭.
উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কে ছিলেন?
  1. ভাস্করবর্মা
  2. রাজ্যবর্ধন
  3. হর্ষবর্ধন
  4. বাণভট্ট
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:
- শশাঙ্ক উত্তর ভারতের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন।
- তাঁর লক্ষ্য ছিল কনৌজের মৌখরীরাজাদের আক্রমণ থেকে নিজ রাজ্যকে রক্ষা করা।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হর্ষবর্ধন।
- হর্ষবর্ধনের সভাকবি বাণভট্টের রচিত হর্ষচরিত ও তার সমসাময়িক হিউয়েন সাং এর বর্ণনায় শশাঙ্কের উত্তর ভারতের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বিবরণ রয়েছে।
- শশাঙ্কের সাথে রাজ্যবর্ধনের যুদ্ধে রাজ্যবর্ধন নিহত হন।
- রাজ্যবর্ধনের ভাই হর্ষবর্ধন রাজ্যবর্ধনের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে শশাঙ্কের উপর ভীষণ ক্রুদ্ধ হন এবং এক বিশাল বাহিনীসহ শশাঙ্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন।
- তবে শশাঙ্কের বিরুদ্ধে হর্ষবর্ধন যে বিশেষ সাফল্য লাভ করতে পারেননি তা শশাঙ্কের গঞ্জাম তাম্রশাসন থেকেই প্রমাণিত হয়।
- শশাঙ্ক হর্ষবর্ধন ও ভাস্করবর্মার হাত থেকে নিজ রাজ্য রক্ষা করতে পেরেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৮.
'সীমান্ত গান্ধী' নামে কে পরিচিত ছিলেন?
  1. ক) জিয়াউল হক
  2. খ) করমচাঁদ গান্ধী
  3. গ) ইন্দিরা গান্ধী
  4. ঘ) আব্দুল গাফফার খান
ব্যাখ্যা

• গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি:
- ব্রিটিশ ভারতের অহিংস স্বাধীনতা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন খান আব্দুল গাফ্ফার খান
- আব্দুল গাফফার খান সীমান্ত গান্ধী নামে যিনি বেশী পরিচিত ছিলেন।
- উত্তর- পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে তার অহিংস স্বাধীনতা আন্দোলন ব্রিটিশ শাসকদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিল।
-  সীমান্তে বিশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা রোধে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতি প্রচার ও ধারণ করায় তাকে 'সীমান্ত গান্ধী' উপাধীতে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বিবিসি নিউজ বাংলা এবং বিডিনিউজ২৪।

৯৩৯.
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং কত সালে বাংলায় আসেন ?
  1. ক) ৫৩৪ সালে
  2. খ) ৫৩০ সালে
  3. গ) ৪৩৮ সালে
  4. ঘ) ৬৩৮ সালে
ব্যাখ্যা

হিউয়েন সাং ৬৩৮ সালে বাংলায় আসেন।
৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে হিউয়েন সাং পুন্ডবর্ধনের রাজধানী পুন্ডনগরে আগমন করেন। 
- নালন্দা থেকে ৬০০ লি(ছয় লিতে এক মাইল) অতিক্রম করে কজংগলে আসেন সেখানে কিছুদিন অতিবাহিত করার পর ৯০০ লি পুর্ব দিকে পদ্মা পার হয়ে পুন্দ্রনগর আসেন সেখানেই অনেক দিন কাটান। 
- পুন্ডনগর হল বর্তমানে বাংলাদেশের মহাস্থানগড়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৯৪০.
প্রাচীন সমতট জনপদ কোন কোন বর্তমান অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল?
  1. রাজশাহী ও বগুড়া
  2. সিলেট ও ময়মনসিংহ
  3. বরিশাল ও পটুয়াখা
  4. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
ব্যাখ্যা

সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটির অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- প্রাচীন ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট জনপদ।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪১.
'মাৎস্যন্যায়' যুগের অবসান ঘটে কোন রাজবংশের আগমনের মাধ্যমে? 
  1. সেনদের আগমনে
  2. মৌর্যদের আগমনে
  3. পালদের আগমনে
  4. গুপ্তদের আগমনে
ব্যাখ্যা

মাৎস্যন্যায়:
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে।
- এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সময় উত্তর ভারতের আধিপত্য নিয়ে গুর্জর প্রতিহার, রাষ্ট্রকুট ও পালবংশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ধর্মপালের পর রাজা হলেন তাঁর পুত্র দেবপাল।
- তাঁর শাসনামলে পাল সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত হয়।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে।
- প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
- রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন।
- তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।

উৎস: ইতহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪২.
প্রথম জীবনে অশোক ছিলেন -
  1. উজ্জয়িনীর শাসনকর্তা
  2. সৌরাষ্ট্র
  3. মহীশুরের শাসনকর্তা
  4. কলিঙ্গ
ব্যাখ্যা
অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- পিতার রাজত্বকালে অশোক প্রথম জীবনে উজ্জয়িনীর শাসনকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
- পরে তক্ষশীলায় বিদ্রোহ দেখা দিলে বিন্দুসার তাঁকে সেখানে পাঠান। বিদ্রোহ দমনের পর তিনি তক্ষশীলার শাসনভার গ্রহণ করেন।
- পিতার মৃত্যুর পর ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি পাটলিপুত্রের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- সিংহাসনে আরোহণ করে অশোক তাঁর পূর্বসুরীদের মতই 'দেবনম পিয়' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি নিজেকে 'দেবনম পিয় পিয় দসী' রূপে পরিচয় দিতেন। 
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন এবং রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোকের মন ও শাসননীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এ যুদ্ধের পর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।
- সামরিক বিজয়ের পরিবর্তে ধর্ম বিজয় অর্থাৎ সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন।
- তিনি ঘোষণা করেন সব মানুষই তাঁর সন্তান। তাদের জাগতিক ও পারলৌকিক সুখ নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৩.
গণতন্ত্রের সূচনা হয় কোথায়?
  1. ক) জার্মানি
  2. খ) মিশর
  3. গ) গ্রিস
  4. ঘ) স্পেন
ব্যাখ্যা
প্রাচীন গ্রিসে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর শুরুর দিকে প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয়। গ্রিক সভ্যতার এথেন্স নগররাষ্ট্র ছিলো গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীলতার ধারক। পরবর্তীতে অষ্টাদশ শতকে ইংল্যান্ডে প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের সূচনা ঘটে।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা)
৯৪৪.
কণিষ্ক প্রবর্তিত অব্দকে বলা হয় -
  1. হর্ষাব্দ
  2. গুপ্তাব্দ
  3. শকাব্দ
  4. বিক্রম সম্বৎ
ব্যাখ্যা
কণিষ্ক:
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কণিষ্ক।
- ৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের বাইরে বর্তমান সোভিয়েত তুর্কিস্থানের এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশও তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- পুরুষপুর বা বর্তমান পেশোয়ার তাঁর রাজধানী ছিল।
- বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রাজকর্মচারীদের মাধ্যমে এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- শুধুমাত্র বিজেতা ও সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতারূপেই নয়, বৌদ্ধধর্ম, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও তিনি ইতিহাসে খ্যাত হয়ে আছেন।
- তাঁর রাজত্বকালে চতুর্থ বা শেষ বৌদ্ধ সঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হয়।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম 'মহাযান' ও 'হীনযান'-এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- কণিষ্কের প্রচেষ্টায় বৌদ্ধ ধর্ম ভারত ও ভারতের বাইরে প্রসার লাভ করে।
- ২৩ বছর রাজত্ব করার পর কণিষ্ক ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৫.
ইবনে বতুতা বাংলায় কার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন?
  1. হযরত শাহপরান (রহ.)
  2. হযরত শাহজালাল (রহ.)
  3. হযরত বায়েজিদ বোস্তামী (রহ.)
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- ইবনে বতুতা মরোক্কোর বিখ্যাত পর্যটক। বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবে ১৩৩৪ সালে তিনি মুহাম্মদ বিন তুঘলকের সময়ে দিল্লি আসেন।
- পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশ সফর করে ১৩৪৬ সালের ৯ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে তিনি বাংলায় প্রবেশ করেন। তখন বাংলার শাসক ছিলেন ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ।
- ১৩৪৬ সালের জুলাই ও আগস্ট এই দুইমাস তিনি বাংলায় অতিবাহিত করেন। তার বাংলা সফরের উদ্দেশ্য সিলেটের হযরত শাহজালাল রহ. এর দর্শন লাভ।
- তার ভ্রমণ সংক্রান্ত বিখ্যাত বই হলো কিতাবুল রেহালা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৪৬.
আদম পাহাড় কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) তুরস্ক
  2. খ) সিরিয়া
  3. গ) শ্রীলংকা
  4. ঘ) ইন্দোনেশিয়া
ব্যাখ্যা
আদম পাহাড় বা এডামস পিক শ্রীলংকায় অবস্থিত। মুসলমানদের বিশ্বাস পৃথিবীতে আগমনের সময় এই পাহাড়েই হযরত আদম (আ) সর্বপ্রথম পদার্পণ করেন।
একইভাবে বৌদ্ধরা বিশ্বাস করে এটি গৌতম বুদ্ধের বাম পায়ের ছাপ এবং হিন্দুরা বিশ্বাস করে এটি তাদের দেবতা শিবের পায়ের ছাপ। ফলে আদম পাহাড় একই সাথে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের নিকট পবিত্র ভূমি হিসেবে পরিচিত।
(সূত্র: ব্রিটানিকা)
৯৪৭.
’তাম্রলিপ্তি’ কী?
  1. চিত্রকর্ম
  2. জনপদ
  3. লিপি
  4. সংগীত
ব্যাখ্যা
• তাম্রলিপ্তি:
- হরিকেলের দক্ষিণে অবস্থিত ছিল তাভ্রলিপ্তি জনপদ।
- বর্তমান মেদিনীপুর জেলার তমলুকই ছিল তান্দ্রলিপ্তির প্রাণকেন্দ্র।
- সপ্তম শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।
- প্রাচীন মানব বসতিস্থল তাম্রলিপ্তি বা তাম্রলিপ্ত এর অবস্থান ছিল গঙ্গা নদী যেখানে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে তার কাছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৯৪৮.
সেন বংশের কোন রাজা ‘গৌড়েশ্বর’ উপাধি ধারণ করেন?
  1. সামন্ত সেন
  2. হেমন্ত সেন
  3. লক্ষ্মণ সেন
  4. বিজয় সেন
ব্যাখ্যা
লক্ষ্মণ সেন:
- লক্ষ্মণসেন (আনু. ১১৭৮-১২০৬ খ্রি)  সেন বংশের তৃতীয় শাসক।
- লক্ষ্মণসেন প্রায় ২৮ বছর রাজত্ব করেন।
- বল্লাল সেন ও রমাদেবীর পুত্র লক্ষ্মণ সেন ১১৭৯ সালে প্রায় ৬০ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- লক্ষ্মণ সেন গৌড়, কলিঙ্গ, কামরূপ ও কাশীতে বিজয় অভিযান পরিচালনা করেছিলেন।
- গৌড় লক্ষ্মণসেনের রাজত্বকালেই পুরোপুরি সেন সাম্রাজ্যভুক্ত হয়েছিল।
- তিনিই সেনদের মধ্যে প্রথম রাজা যিনি ‘গৌড়েশ্বর’ উপাধি ধারণ করেন।
- ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করেন।
- লক্ষ্মণ সেনের নদীয়া ত্যাগের মাধ্যমেই বাংলায় হিন্দুশাসনের পতন হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- লক্ষ্মণ সেন একজন বিদ্বান ও কবি ছিলেন।
- তিনি বল্লাল সেনের অসমাপ্ত অদ্ভুতসাগর সমাপ্ত করেছিলেন।
- ভারত প্রসিদ্ধ পণ্ডিত হলায়ূধ তাঁর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৯৪৯.
নিম্নোক্ত কোন ব্রিটিশ ভাইসরয়ের সময় প্রথম 'ভারতীয় শিক্ষা কমিশন' গঠন করা হয়?
  1. লর্ড রিপন
  2. লর্ড লিটন
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
হান্টার কমিশন:
- ১৮৫৪ সালে উডের ডেসপ্যাচে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উন্নতির জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
- কিন্তু এই ডেসপ্যাচের ভাবধারা কে অবহেলা করে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উপর গুরুত্ব না দিয়ে শুধু উচ্চশিক্ষা ও সরকারি স্কুল কলেজগুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি একেবারেই হয় না।
- তাই সরকার প্রথমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নতি সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করেন।

• হান্টার কমিশন গঠন:
- এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০ জন সদস্য নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- এটি প্রথম "ভারতীয় শিক্ষা কমিশন” নামে পরিচিত।
- এই কমিশন স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বলে একে "হান্টার কমিশন” বলা হয়।
- স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টার ছিলেন এই কমিশনের সভাপতি।
- অন্যান্য সদস্যরা হলেন আনন্দমোহন বসু, কে.টি. তেলাং, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রমুখ।
- প্রাথমিক শিক্ষা ও নিরক্ষরতা বিষয়ে এই কমিশনকে বিশেষভাবে বিচার করার কথা বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৫০.
'তাম্রশাসন' বলতে কী বোঝায়?
  1. তামার যুগের শাসন
  2. তামার পাতে খোদাই করা আদেশ
  3. তামার যুগের আইন-কানুন
  4. কালো আইন
ব্যাখ্যা
⇒ ষষ্ঠ শতকে বঙ্গ ও গৌড় দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। 
স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্রের রাজারা তামার পাতে খোদাই করা রাজ নির্দেশ জারি করতেন। এগুলোকে তাম্রশাসন বলা হতো।
⇒ এ রকম ৭টি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে। স্বাধীন বঙ্গরাজ্যে চন্দ্রগুপ্ত, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব নামের তিনজন রাজার নাম জানা যায়।
⇒ তারা ৫২৫ থেকে ৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট ৭৫ বছর রাজত্ব করেন। সম্ভবত চন্দ্ৰগুপ্ত একাই ৩৩ বছর শাসন করেছেন বলে জানা যায়।
⇒ বঙ্গের রাজাগণ ‘মহাধিরাজ’ উপাধি ধারণ করতেন।
⇒ ৬ষ্ঠ শতাব্দীর শেষের দিকে দাক্ষিণাত্যের চাণক্য রাজ বংশের রাজা কীর্তি বর্মণ দ্বারা বাংলা আক্রান্ত হয়।

উৎস - একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস বোর্ড বই, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫১.
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য রাজধানী ছিল কোনটি?
  1. পাটালিপুত্র
  2. কর্ণসুবর্ণ
  3. বিক্রমপুর
  4. পুণ্ড্রনগর
ব্যাখ্যা
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য:
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিষ্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
- তার সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে, মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়, বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিল কৌটিল্য।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য সম্ভবত ২৪ বছর রাজত্ব করেন।
- জৈন সূত্র থেকে জানা যায় যে, পরপর কয়েক বছর অনাবৃষ্টির দরুন দুর্ভিক্ষ হলে চন্দ্রগুপ্ত সিংহাসন ত্যাগ করেন এবং
- তিনি মহীশূরের শ্রাবণবেলগোলা নামক স্থানে অনশন করে জৈন রীতিতে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
       ¡¡) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫২.
হিউয়েন সাং কোন সময়ে বাংলা ভ্রমণ করেন?
  1. ৬০৫-৬১১ সাল
  2. ৬১৮-৬২২ সাল
  3. ৬৩০-৬৪০ সাল
  4. ৬৬৫-৬৭০ সাল
ব্যাখ্যা
হিউয়েন সাং:
- ফা-হিয়েনের পরবর্তী তীর্থ-ভ্রমণকারী ছিলেন হিউয়েন-সাং।
- তাঁর বিবরণী থেকে সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধের বাংলা সম্পর্কে কিছুটা তথ্য জানা যায়।
- সে সময় উত্তর ভারতে হর্ষবর্ধন, বাংলায় শশাঙ্ক এবং আসামে ভাস্করবর্মণ শাসন করছিলেন।
- ৬২৯ সালে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে হিউয়েন সাং উত্তরের বাণিজ্য পথ ধরে মধ্য এশিয়ার কুশ হয়ে উত্তর ভারতে পৌঁছান।
- হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন।
- কনৌজনগরে পৌঁছে তিনি ভারতীয় সম্রাট হর্ষবর্ধনের আতিথ্য লাভ করেন।
- হিউয়েন-সাং যখন নালন্দা মহাবিহারে অধ্যয়ন করেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন এর অধ্যক্ষ।
- হিউয়েন-সাং শীলভদ্রের একজন ছাত্র ছিলেন।

⇒ হিউয়েন-সাং ৬৩৮ (৬৩০-৬৪০) সালের দিকে বাংলায় আসেন।
- তাঁর বিবরণী শশাঙ্ক-এর ইতিহাস, বিশেষ করে হর্ষবর্ধনের সঙ্গে তাঁর বৈরিতা এবং শশাঙ্কের ধর্মনীতি সম্পর্কে জানার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
- ৬৪৫ সালে হিউয়েন সাং চীনে প্রত্যাবর্তন করলে তাঁকে বিপুল সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
- ৬৬৪ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বৌদ্ধ রচনার অনুবাদে জীবনের বাকি সময় ব্যয় করেন হিউয়েন সাং।

উল্লেখ্য,
- শৈশব থেকেই তিনি ধর্মগ্রন্থ, বিশেষ করে চৈনিক ধ্রুপদি গ্রন্থ ও প্রাচীন জ্ঞানী লোকদের লেখা পাঠে আগ্রহী হন।
- লুওইয়াং নগরে অবস্থানকালে হিউয়েন সাং মাত্র ১৩ বছর বয়সে বৌদ্ধভিক্ষু সম্প্রদায়ে প্রবেশ করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৩.
মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. অশোক
  2. বিন্দুসার
  3. চন্দ্রগুপ্ত  
  4. বৃহদ্রথ
ব্যাখ্যা

- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য নন্দ বংশের শেষ রাজা ধননন্দকে পরাজিত করে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।  

মৌর্য সাম্রাজ্য:
- মৌর্য সাম্রাজ্যই ভারতের ইতিহাসে প্রথম সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য।
- খ্রিস্টপূর্ব ৩২৩ অব্দে ব্যাবিলনে আলেকজান্ডারের মৃত্যু ঘটলে তাঁর অধিকৃত ভারতীয় অঞ্চলে গ্রিকদের মধ্যে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা এবং বিরোধ দেখা দেয়।
- এ সময়ে মগধে নন্দবংশীয় সম্রাট ধননন্দ রাজত্ব করছিলেন।
- তিনি মোটেও জনপ্রিয় ছিলেন না।
- এ অবস্থায় চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য মগধের সিংহাসন দখল করেন এবং উত্তর পশ্চিম ভারত থেকে গ্রিকদের বিতাড়িত করে ভারতে এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্য ইতিহাসে মৌর্য সাম্রাজ্য নামে বিখ্যাত।
- মৌর্য সম্রাটরা বহু-বিভক্ত ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করে এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- এ বংশের দুজন সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ও অশোক বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৫৪.
কোন মুঘল সুবেদার চট্টগ্রাম দখল করে এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ?
  1. ইসলাম খান
  2. রাজা মানসিংহ
  3. শায়েস্তা খান
  4. মীর জুমলা
ব্যাখ্যা

শায়েস্তা খান (১৬৬৪-১৬৮৮):
 - বাংলার মুগল সুবাহদার।
- ১৬৭৮-৭৯ খ্রিস্টাব্দে এক বছরের সামান্য বেশি সময়ের বিরতিসহ দীর্ঘ ২৪ বছর তিনি এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- বাংলায় সুবাহদার হিসেবে তাঁর কার্যকালের মেয়াদই দীর্ঘতম।
- ইরানি বংশোদ্ভূত  শায়েস্তাখানের আসল নাম ছিল মির্জা আবু তালিব।
- জাহাঙ্গীর তাঁর রাজত্বের একুশতম বছরে তাঁকে ‘শায়েস্তা খান’ উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- ১৬৬৩ খ্রিস্টাব্দে মীরজুমলার মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান বাংলার সুবাহদার নিযুক্ত হন।
- প্রধানত চট্টগ্রাম জয়ের জন্যই বাংলায় শায়েস্তা খানের বিশাল খ্যাতি।
- বিখ্যাত সামুদ্রিক বন্দর চট্টগ্রাম চৌদ্দ শতকের মধ্যভাগে সুলতান ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ দখল করেছিলেন। মাঝে মাঝে আরাকান বা ত্রিপুরা এটি দখল করে নিত।
- সেই বিরতিটুকু ছাড়া তখন থেকেই চট্টগ্রাম মুসলমানদের শাসনাধীন ছিল।
- কিন্তু মুগলদের বাংলা বিজয়ের আগে চট্টগ্রাম আরাকানিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল।
- ১৬৬৬ সালে বাংলার মোঘল শাসক শায়েস্তা খান তাঁর পুত্র বুজুর্গ — ওমেদখানের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিজয় সম্পন্ন করেন।
- তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের নাম রাখেন — ইসলামাবাদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৯৫৫.
১৭৮১ সালে ফকির মজনু শাহ কোন জঙ্গলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. মধুপুর জঙ্গল
  2. পলাশী আম্রকানন
  3. সুন্দরবন
  4. ভাওয়াল গড়
ব্যাখ্যা
ফকির মজনু শাহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ঐতিহাসিক ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নায়ক মজনু শাহ।
- তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের মাদারিয়া তরিকার সুফি সাধক। 
- ১৭৮১ সালে মজনু শাহ টাঙ্গাইলের মধুপুর জঙ্গলে আধিপত্য বিস্তার করেন।
- ১৭৮২ সালে ময়মনসিংহের আলপসিং পরগনায় ইংরেজদের সাথে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ফকির ও সন্ন্যাসীরা পরাজিত হন।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করেন।
- মজনু শাহ মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং নয়া দিগন্ত পত্রিকা রিপোর্ট।
৯৫৬.
সমতটের কেন্দ্র ছিল কোনটি?
  1. লালমাই
  2. কর্ণসুবর্ণ
  3. কোটিবর্ষ
  4. মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা

সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটির অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- প্রাচীন ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট জনপদ।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৫৭.
'অরিরাজ নিঃশঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেন কোন শাসক?
  1. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  2. হর্ষবর্ধন
  3. অশোক
  4. বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা

কৌলিন্য প্রথা ও বল্লাল সেন:
- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, কৌলিন্য প্রথার সাথে বল্লাল সেনের সম্পর্কের তেমন কোনো যুক্তিযুক্ত ভিত্তি নেই।
- বাংলাদেশে কৌলিন্য প্রথার বহুল প্রচলন দেখা যায় আঠারো ও উনিশ শতকে।
- বল্লাল সেন তাঁর পিতার ন্যায় শৈব ছিলেন।
- ধর্মপ্রচারে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল।
- তিনি তাঁর পিতার অন্যান্য উপাধির সাথে 'অরিরাজ নিঃশঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি আনুমানিক ১৮ বছর রাজত্ব করার পর বৃদ্ধ বয়সে পুত্র লক্ষণ সেনের হাতে রাজ্যভার অপর্ণ করে সস্ত্রীক ত্রিবেণীর কাছে গঙ্গাতীরে বাণপ্রস্থ অবলম্বন করে শেষ জীবন অতিবাহিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৫৮.
Where was the Martyred Intellectuals Memorial built?
  1. University of Dhaka
  2. Rayerbazar killing ground
  3. Mirpur, Dhaka
  4. Savar, Dhaka
ব্যাখ্যা

• শহিদ বুদ্ধিজীবি স্মৃতিসৌধ:
- বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সময় অগণিত বুদ্ধিজীবিকে হত্যাকরা হয়। 
-পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে মানবতাবিরোধী এই বর্বর কাজে সহায়তা করেছে রাজাকার ও আলবদর বাহিনী।
-পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চূড়ান্ত পরাজয়ের দুই দিন পূর্বে ১৪ই ডিসেম্বর অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে।
- তাঁদের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ঢাকার মিরপুরে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। 
- এর স্থপতি ছিলেন মোস্তফা আলী কুদ্দুস। ১৯৭২ সালে এই স্মৃতিসৌধের নির্মাণকাজ শেষ হয়।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৫৯.
প্রাচীনকালে হরিকেল জনপদের অন্তর্গত ছিল-
  1. ঢাকা
  2. নীলফামারী
  3. ফরিদপুর
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
প্রাচীন বাংলার জনপদ:
- হরিকেল:
- সপ্তম শতকের লেখকরা হরিকেল নামে অপর একটি জনপদের বর্ণনা করেছেন।
- এ জনপদের অবস্থান ছিল বাংলার পূর্ব প্রান্তে।
- সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই জনপদ বিস্তৃত ছিল।

অন্যদিকে,
- সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের প্রতিবেশী জনপদ হিসেবে সমতটের অবস্থান।
- কেউ কেউ মনে করেন, সমতট বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম।
- গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী অঞ্চলকেই সম্ভবত বলা হতো সমতট।
- কুমিল্লা শহরের ১২ মাইল পশ্চিমে বড় কামতা এর রাজধানী ছিল।
- কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- শালবন বিহার এদের অন্যতম।

বরেন্দ্র:
- বরেন্দ্রী, বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি নামে প্রাচীন বাংলায় অপর একটি জনপদের কথা জানা যায়।
- এটিও উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ।
- অনুমান করা হয়, পুন্ড্রের একটি অংশ জুড়ে বরেন্দ্রর অবস্থান ছিল।
- বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক অঞ্চল এবং সম্ভবত পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইহিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৬০.
বাংলাদেশকে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত’ বা ‘ধনসম্পদপূর্ণ নরক’ বলে অভিহিত করেন-
  1. ক) ফা-হিয়েন
  2. খ) ইবনে বতুতা
  3. গ) মেগাস্থিনিস
  4. ঘ) হিউয়েন সাং
ব্যাখ্যা
মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের রাজত্বকালে ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সফর করেন। ইবনে বতুতা তাঁর ভ্রমণ কাহিনীতে বাংলার জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন। জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্রাচুর্য ও মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেশটিকে বসবাসের জন্য খুবই আকর্ষণীয় বললেও, এদেশের আবহাওয়া তাঁর পছন্দ হয়নি। এজন্য বাংলাদেশকে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত’ অর্থাৎ ‘প্রাচুর্যপূর্ণ নরক’ বলে অভিহিত করেছন। সূত্র- বাংলাপিডিয়া।
৯৬১.
বিক্রমাদিত্য কার উপাধি ছিল?
  1. ১ম চন্দ্রগুপ্ত
  2. ২য় চন্দ্রগুপ্ত
  3. শ্রীগুপ্ত
  4. ভিনসেন্ট স্মিথ
ব্যাখ্যা

 • দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত:
- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালেই গুপ্ত সাম্রাজ্য উন্নতি ও গৌরবের চরম শিখরে পৌঁছেছিল।
- সমুদ্রগুপ্তকে যদি গুপ্ত সাম্রাজ্যের বিস্তারকর্তা বলা যায় তবে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তকে এই সাম্রাজ্যের সংগঠক বলা চলে।
- তিনি ছিলেন একজন বীরযোদ্ধা ও সুদক্ষ শাসক।
- সামরিক প্রতিভার পাশাপাশি সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতিও তাঁর ছিল প্রগাঢ় অনুরাগ।
- বিদ্যোৎসাহী সম্রাট হিসেবে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
- মহাকবি কালিদাস ছিলেন তাঁর সমকালীন।
- নব-রত্নের বেশ কয়েকজন তাঁর সভা অলংকৃত করতেন।
- তিনি 'বিক্রমাদিত্য' বা 'শক্তির সূর্য' উপাধী গ্রহণ করেন।
- এই উপাধীর কারণে অনেকেই দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তকে 'কিংবদন্তীর বিক্রমাদিত্য' হিসেবে মনে করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬২.
সমতট জনপদটি কোন কোন অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল?
  1. ঢাকা ও ময়মনসিংহ
  2. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
  3. রাজশাহী ও বগুড়া
  4. বরিশাল ও পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা

• সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটির অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- প্রাচীন ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট জনপদ।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬৩.
প্রাচীন বাংলার নিদর্শন সোমপুর বিহার কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বগুড়া
  2. নওগাঁ
  3. রাজশাহী
  4. জয়পুরহাট
ব্যাখ্যা
সোমপুর বিহার:
- অবস্থান: নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলায় পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর বিহার।
-  নির্মাতা: রাজবংশের রাজা ধর্মপাল  অষ্টম শতকের শেষ দিকে এ বিহার নির্মাণ করেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- সোমপুর বিহার এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম বিহার।
- মোট ৭০.৩১ একর জমির উপর সোমবার বিহার অবস্থিত। 
- পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য ১৭৭ টি কক্ষ ছিল।
-  বেলে পাথরের চামুণ্ডা মূর্তি, লাল পাথরের দণ্ডায়মান শীতলা মূর্তি, কৃষ্ণ পাথরের বিষ্ণুর খণ্ডাংশ, কৃষ্ণ পাথরের দণ্ডায়মান গণেশ, বেলে পাথরের কীর্তি মূর্তি, দুবলহাটির মহারাণীর তৈলচিত্র পাওয়া গেছে এখানে।
- ১০ম শতাব্দীর শেষভাগে পাল বংশীয় রাজা মহিপাল সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন ও সোমপুর বিহার মেরামত করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।
- আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে। 

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন শিল্প।
৯৬৪.
হিউয়েন সাঙ কোন সময়ে সমতটে এসেছিলেন?
  1. ৫ম শতকে
  2. ৬ষ্ঠ শতকে
  3. ৭ম শতকে
  4. ৮ম শতকে
ব্যাখ্যা
সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটির অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- প্রাচীন ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট জনপদ।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৫.
পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. গোপাল
  2. রামপাল
  3. ধর্মপাল
  4. দেবপাল
ব্যাখ্যা

পাল রাজবংশ:
- পাল বংশ আট শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রায় চারশত বছর বাংলা ও বিহারে শাসনকারী রাজবংশ।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে। এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

⇒ গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন। তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।

⇒ পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ছিলেন। পালযুগে বৌদ্ধ ধর্ম প্রসার লাভ করেছিল তিববত, জাভা, সুমাত্রা ও মালয়েশিয়াতে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬৬.
কার নামানুসারে কুমিল্লা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন "ময়নামতি" নামকরণ হয়েছে?
  1. পাহাড়ের নামানুসারে
  2. রাজা মানিক চন্দ্রের নামানুসারে
  3. রাজা শ্রীভবদেব নামানুসারে
  4. রাজা মানিক চন্দ্রের স্ত্রীর নামানুসারে
ব্যাখ্যা
→ রাজা মানিক চন্দ্রের স্ত্রীর নামানুসারে  নামকরণ হয় ময়নামতি।

• ময়নামতি:

- ময়নামতি বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্ম ও প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।
- কুমিল্লা শহরের সাত কিলোমিটার পশ্চিমে কোটবাড়িতে বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমি অবস্থিত।
- এখান থেকে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে ময়নামতির শালবন বিহার ধ্বংসাবশেষ।
- সমগ্র প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকাটি ময়নামতি-লালমাই পাহাড়ি অঞ্চলের প্রায় ১১ মাইল এলাকা জুড়ে অবস্থিত।

• উৎপত্তি ও নামকরণ:

- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ময়নামতিতে ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া যায়।
- অষ্টম-দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ময়নামতিতে বৌদ্ধধর্ম কেন্দ্র করে এক উন্নত সভ্যতার বিকাশলাভ ঘটে।
- ১৯৫৫-৫৬ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এখানে জরিপ কাজ করে।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন হিসেবে ৫৪টি স্থান সংরক্ষণ করার জন্য চিহ্নিত করে।
- অষ্টম শতাব্দীতে রাজা বুদ্ধদেব ময়নামতি বিহার প্রতিষ্ঠা করেন বলে ধারণা করা হয়।
- ৯ম ও ১০ম শতকে এ অঞ্চলে চন্দ্রবংশীয় বৌদ্ধ রাজাদের আধিপত্য ছিল।
- চন্দ্রবংশীয় রাজাদের মধ্যে প্রখ্যাত ছিলেন রাজা মানিক চন্দ্র।
- রাজা মানিক চন্দ্র স্ত্রী রাণী ময়মনামতি।
- রাণী ময়নামতির নামানুসারে এ স্থানের নামকরণ হয় ময়নামতি।

উৎস: সমাজ বিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৭.
'মাৎস্যন্যায়' বাংলার কোন সময়কালকে নির্দেশ করে?
  1. চন্দ্রগুপ্ত পূর্ববর্তী
  2. শশাঙ্ক পূর্ববর্তী
  3. লক্ষ্মণ সেন পরবর্তী
  4. গোপাল পূর্ববর্তী
ব্যাখ্যা
- 'মাৎস্যন্যায়' রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পরবর্তী এবং গোপালের পূর্ববর্তী সময়কে নির্দেশ করে।  
 
মাৎস্যন্যায়:
- সংস্কৃত শব্দ মাৎস্যন্যায়ের আক্ষরিক অর্থ ‘মাছের ন্যায়’।
- মাছেদের জগতে যেমন বড় মাছ ছোট ছোট মাছ খেয়ে ফেলে; তেমনি মানবসমাজে দুর্বলরা সবলদের হাতে, ক্ষমতাহীনরা শোষিত হয় ক্ষমতাবানদের হাতে।
- ‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার ৭ম-৮ম শতক সময়কালকে নির্দেশ করে।
- রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়কালকে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।
- সে সময় বাংলার রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।
- প্রায় সমসাময়িক লিপি, খালিমপুর তাম্রশাসন এবং সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতম কাব্যে পাল বংশের পূর্ববর্তী সময়ের বাংলার নৈরাজ্যকর অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলে উল্লেখ করা হয়।
- মাৎস্যন্যায়ের সময়টি ছিল মোটামুটিভাবে ৬৫০-৭৫০ সালের মধ্যকার প্রায় ১০০ বছর।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে। এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ। পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৮.
শালবন বিহারের নির্মাতা কে?
  1. ধর্মপাল
  2. রাজা মানিক্য চন্দ্র
  3. শ্রীভবদেব
  4. দয়ারাম রায়
ব্যাখ্যা

শালবন বিহার:
- কুমিল্লার ময়নামতিতে খননকৃত সব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে শালবন বিহার অন্যতম প্রধান।
- কোটবাড়িতে বার্ডেরকাছে লালমাই পাহাড়ের মাঝামাঝি এলাকায় এ বিহারটির অবস্থান।
- বিহারটির আশপাশে এক সময় শাল-গজারির ঘন বন ছিল বলে এ বিহারটির নামকরণ হয়েছিল শালবন বিহার। 
- ধারণা করা হয় যে খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন। 
- শালবন বিহারের প্রতিটি বাহু ১৬৭.৭ মিটার দীর্ঘ। 
- বিহারে ঢোকা বা বের হওয়ার মাত্র একটাই পথ ছিল।
- বিহারে সর্বমোট ১৫৫টি কক্ষ আছে। 
- এই কক্ষগুলোতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বিদ্যাশিক্ষা ও ধর্মচর্চা করতেন।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে বিহারটির ধ্বংসাবশেষ থেকে আটটি তাম্রলিপি, প্রায় ৪০০টি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, অসংখ্য পোড়া মাটির ফলক বা টেরাকোটা, সিলমোহর, ব্রৌঞ্জ ও মাটির মূর্তি পাওয়া গেছে।
- এগুলো বাংলাদেশের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বহন করছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৯৬৯.
হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে কোন চীনা পরিব্রাজক ভারতে এসেছিলেন?
  1. ফা-হিয়েন
  2. ই-ৎ সিঙ
  3. হিউয়েন সাং
  4. মেগাস্থিনিস
ব্যাখ্যা
হিউয়েন সাং:
- ফা-হিয়েনের পরবর্তী চীনা তীর্থ-ভ্রমণকারী ছিলেন হিউয়েন-সাং।
- সে সময় উত্তর ভারতে হর্ষবর্ধন, বাংলায় শশাঙ্ক এবং আসামে ভাস্করবর্মণ শাসন করছিলেন।
- ৬২৯ সালে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে হিউয়েন সাং উত্তরের বাণিজ্য পথ ধরে মধ্য এশিয়ার কুশ হয়ে উত্তর ভারতে পৌঁছান।

⇒ হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন।

- কনৌজনগরে পৌঁছে তিনি ভারতীয় সম্রাট হর্ষবর্ধনের আতিথ্য লাভ করেন।
- হিউয়েন-সাং যখন নালন্দা মহাবিহারে অধ্যয়ন করেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন এর অধ্যক্ষ।
- হিউয়েন-সাং শীলভদ্রের একজন ছাত্র ছিলেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭০.
লাল বাগের কেল্লা স্থাপন করেন কে?
  1. ক) শায়েস্তা খান
  2. খ) শাহ সুজা
  3. গ) টিপু সুলতান
  4. ঘ) ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
• লালবাগ দুর্গের (সম্রাট আওরঙ্গজেবের নামানুসারে আওরঙ্গাবাদ দুর্গ নামে অভিহিত) সম্প্রসারণ করেন।
- লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৬৭৮ সালে। 
- শাহজাদা মুহম্মদ আজম এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন, তবে তিনি এটি সম্পূর্ণ করে যেতে পারেন নি।
-  শায়েস্তা খাঁ পুনরায় কাজ শুরু করেন
- দুর্গের প্রাচীরঘেরা প্রাঙ্গণে শায়েস্তা খান বিবি পরীর সমাধি নির্মাণ করেন। 
- ইরান দুখ্ত নামে পরিচিত বিবি পরী ছিলেন শায়েস্তা খানের কন্যা।
- শাহজাদা আজমের সঙ্গে তাঁর বাগদান হয়েছিল, কিন্তু তার অকালে মৃত্যু হয়েছিল।
- প্রিয় কন্যার সমাধি নির্মাণের জন্য শায়েস্তা খান প্রচুর অর্থব্যয় করে উত্তর ভারত থেকে দামি নির্মাণ-সামগ্রী আমদানি করেছিলেন।
- এ সমাধি ঢাকার এবং শায়েস্তা খানের আমলের স্থাপত্যশিল্পের এক চমৎকার নিদর্শন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ঢাকা জেলার ওয়েবসাইট
৯৭১.
তালপাতার পুঁথিচিত্র কোন যুগের নিদর্শন?
  1. পাল যুগ
  2. সেন যুগ
  3. গুপ্ত যুগ
  4. কুষাণ যুগ
ব্যাখ্যা

পাল রাজবংশ:
- প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে পাল রাজবংশ দীর্ঘকাল শাসন করেছে।
- সুশাসন, জনকল্যাণ, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, উন্নত জীবনবোধ ইত্যাদি বাংলায় সর্বপ্রথম পালরাই প্রতিষ্ঠিত করে।
- পাল রাজারা বাংলা ও বিহার অঞ্চলে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রায় চারশ বছর শাসন করেছেন।
- নৈরাজ্য ও চরম অরাজকতার হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করে গোপাল নামক এক উচ্চবর্গীয় ব্যক্তি এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- ধর্মপাল, দেবপাল, মহিপাল নামে অনেক পাল রাজারা বাংলা শাসন করেছেন।
- তালপাতার পুঁথিচিত্র পাল যুগের নিদর্শন।
- তালপাতার উপরে চিত্রসম্বলিত বৌদ্ধ গ্রন্থ অষ্টসাহস্রিকা-প্রজ্ঞাপারমিতা পান্ডুলিপির বারোটি রঙ্গিন চিত্র বঙ্গীয় চিত্রকলার প্রাচীনতম নিদর্শন। 
- বর্তমানে দুর্লভ এই পান্ডুলিপি কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটিতে সংরক্ষিত আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৯৭২.
প্রাচীন জনপদগুলোকে একত্রিত করে গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. শশাঙ্ক
  2. অশোক
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. গোপাল
ব্যাখ্যা
স্বাধীন গৌড় রাজ্য:
- ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে বিশাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
- সেই অস্থিতিশীল পরিবেশে বাংলাদেশে দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে।
- এর একটি হচ্ছে স্বাধীন 'বঙ্গ রাষ্ট্র', অপরটি 'গৌড় রাজ্য।

উল্লেখ্য,
- সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের নেতৃত্বে বাংলার পুন্ড্র বা পণ্ড্রবর্ধন, গৌড় এবং বঙ্গকে একত্রিত করে একটি বিশাল গৌড় রাজ্য স্থাপিত হয়।
- শশাঙ্ক আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল গৌড় রাজ্যের রাজধানী।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে গৌড়ের নাম লখনৌতি (প্রদেশের নামে) পরিচিতি পায়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৩.
পাল যুগের পুঁথি চিত্র কোন বস্তুর উপর আঁকা হয়েছিল?
  1. তালপাতার উপর
  2. পাথরের উপর
  3. গুহার দেয়ালে
  4. হাতে তৈরি কাগজে
ব্যাখ্যা
পাল চিত্রকলা:
- পাল চিত্রকলা পাল রাজা প্রথম মহীপালের (খ্রিস্টীয় ৯৮৩) ষষ্ঠ রাজ্যাঙ্কে তালপাতার উপরে চিত্রসম্বলিত বৌদ্ধ গ্রন্থ অষ্টসাহস্রিকা-প্রজ্ঞাপারমিতা পান্ডুলিপির বারোটি রঙ্গিন চিত্র বঙ্গীয় চিত্রকলার প্রাচীনতম নিদর্শন।
- বর্তমানে দুর্লভ এই পান্ডুলিপি কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটিতে সংরক্ষিত আছে। 
- পরবর্তী দুশ বছরে চিত্রসম্বলিত আরও বেশ কিছু পান্ডুলিপি পাওয়া যায়।
- এগুলিকে ‘পাল মিনিয়েচার’ বলে অভিহিত করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পান্ডুলিপিসমূহ তালপাতায় লেখা ও চিত্রায়িত করা হয়েছে।
- তালপাতা ভঙ্গুর, এ কারণে অনেক পুথিচিত্র বর্তমানে জীর্ণ হয়ে পড়েছে।
- তুলনামূলক বিচারে দেখা যায় যে, পাল যুগের চিত্রালঙ্কৃত পান্ডুলিপিসমূহ উন্নতমানের তালপাতার (শ্রীতাড়) উপর অনুলিখিত ও চিত্রালঙ্কৃত করা হতো। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৭৪.
প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ ছিল- 
  1. বঙ্গ
  2. পুণ্ড্র
  3. সমতট
  4. গৌড়
ব্যাখ্যা

পুণ্ড্র জনপদ:
- প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পুণ্ড্র। বলা হয় যে, পুণ্ড্র বলে একটি জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্র ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
- পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপি এখানে পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে প্রাপ্ত এটিই প্রাচীনতম শিলালিপি।

প্রাচীন বাংলার জনপদ সমূহ:
• গৌড় জনপদ  :
- আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে 'গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে
মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো 'গৌড়' আবার কখনো লক্ষণাবতী নামে পরিচিত ছিল।

• বঙ্গ জনপদ:
- অনুমান করা যায় ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।

• সমতট জনপদ:
- খ্রিস্টীয় ৪র্থ শতকে সমতট (কুমিল্লা-নোয়াখালি) রাজ্যের উদ্ভব হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।

৯৭৫.
শালবন বিহারের অবস্থান কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বঙ্গ
  2. চন্দ্রদ্বীপ
  3. হরিকেল
  4. সমতট
ব্যাখ্যা
শালবন বিহার:
- কুমিল্লার ময়নামতিতে খননকৃত সব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে শালবন বিহার অন্যতম প্রধান।
- কুমিল্লা জেলার কোটবাড়িতে বার্ডের কাছে লালমাই পাহাড়ের মাঝামাঝি এলাকায় এ বিহারটির অবস্থান।
- স্থানগত ভাবে এটি সমতট জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

⇒ সমতট:
- দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট।
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী এলাকায় কুমিল্লা-নোয়াখালীর সমতল অঞ্চলে ছিল সমতটের অবস্থান।
- তবে ত্রিপুরাকে সমতটের প্রধান কেন্দ্র বলা হতো।
- রাজা রাজভট্টের (৭ম শতকে) অন্যতম রাজধানী ছিল বড়োকামতা।

উল্লেখ্য,
- সমুদ্রগুপ্তের সময় থেকে (চতুর্থ শতাব্দী) এর স্বতন্ত্র অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়।
- লালমাই-ময়নামতীকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চল গড়ে উঠেছিল।
- চন্দ্রবংশীয় রাজা ভবদেবের আমলে (সপ্তম শতাব্দী) ময়নামতীতে শালবন বিহার তৈরি হয়।
- বিভিন্ন সময় উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন লিপিতে ‘দেবপর্বত’কে সমতটের রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 
- সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন হিউয়েন সাঙ।
- সাত শতকে সমতটের রাজধানী ছিল বড়কামতা। 

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৯৭৬.
বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ঐতিহাসিক স্থান কোনটি?
  1. সোমপুর বিহার
  2. ময়নামতি
  3. মহাস্থানগড়
  4. সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি।
- পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।
- এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
- বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কি.মি উত্তরে মহাস্থান গড় অবস্থিত।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড়ের বিস্তীর্ণ ধবংসাবশেষ প্রাচীর পুন্ড্রবর্ধনভূক্তির রাজধানী পুন্ড্রনগরেরসুদীর্ঘ প্রায় আড়াই হাজার বছরের গৌরবোজ্জল ইতিহাসের এক নীরব স্বাক্ষী।
- এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ঐতিহাসিক স্থান।

অন্যদিকে -
সোনারগাঁও:
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদের মধ্যে শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে সোনারগাঁও একটি গৌরবময় জনপদ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল।

সোমপুর বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।

ময়নামতি:
- ময়নামতি বাংলাদেশের কুমিল্লায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৯৭৭.
প্রাচীনকালে গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জনপদ কোনটি?
  1. বঙ্গ
  2. সমতট
  3. পুণ্ড্র
  4. তাম্রলিপ্ত
ব্যাখ্যা

তাম্রলিপ্ত:
- হরিকেলের উত্তরে ছিল তাম্রলিপ্ত জনপদ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার (প্রাচীন যুগে মিধুনাপুর নামে পরিচিত) তমলুক শহরই ছিল প্রাচীন তাম্রলিপ্তি নগরস্থল।
- বর্তমান শহরটি বঙ্গোপসাগরের কাছে রূপনারায়ণের তীরে অবস্থিত।
- সমুদ্র উপকূলবর্তী এ এলাকা ছিল খুব নিচু ও আর্দ্র।
- নৌ চলাচলের জন্য জায়গাটি ছিল খুবই উওম।
- প্রাচীনকালে তাম্রলিপ্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
- চৈনিক তীর্থযাত্রী হিউয়েন-সাং তাম্রলিপ্তি শহরকে ‘তান-মো-লি-তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- সাত শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ii) বাংলাপিডিয়া।

৯৭৮.
ধর্মপাল কোন ধর্মাবলম্বী ছিলেন?
  1. খ্রিস্টান
  2. জৈন
  3. বৌদ্ধ
  4. হিন্দু
ব্যাখ্যা
• ধর্মপাল:
- পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন ধর্মপাল।
- ধর্মপাল বাংলার পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা।
- পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের পুত্র ও উত্তরাধিকারী ধর্মপাল পালদের উদীয়মান প্রতিপত্তির যুগের সূচনা করেন।
- পাল শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল গোপালের হাত ধরে।
- গোপাল রাজ্য প্রতিষ্ঠার সূচনা করলেও পাল সাম্রাজ্যকে সুসংহত করেন গোপালের পুত্র ধর্মপাল।
- ধর্মপাল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন।
- বিক্রমশীল বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের কৃতিত্ব তাঁর।
- নয় শতক থেকে বারো শতক পর্যন্ত সমগ্র ভারতে এটি ছিল বৌদ্ধদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র।
- এছাড়া পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারও ধর্মপালের আরেক কীর্তি।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৯৭৯.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রবর্তন করেন কে?
  1. ক) লর্ড ডালহৌসি
  2. খ) লর্ড রিপন
  3. গ) লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. ঘ) লর্ড ক্লাইভ
ব্যাখ্যা
- লর্ড কর্নওয়ালিসকে কোম্পানির শাসন দুর্নীতিমুক্ত ও সুসংগঠিত করতে ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
ভারতের গভর্নর জেনারেল ও সেনা প্রধানের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়।
- তিনি ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- ঐ বছর ২২ মার্চ নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে ভূমি বন্দোবস্ত চালু করা হয় তাকেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলা হয়।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আগে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস রাজস্ব আদায়ের জন্য পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
- ওয়ারেন হেস্টিংস পাঁচসালা বন্দোবস্ত এবং একসালা বন্দোবস্ত করে ভূমিব্যবস্থায় পরিবর্তন আনে। 

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৮০.
বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন জনপদের নাম কী?
  1. ক) গৌড়
  2. খ) পুন্ডু নগর
  3. গ) হরিকেল
  4. ঘ) সমতট
ব্যাখ্যা
পুন্ড্র জনপদ
• প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র। পুন্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল। পুন্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
• পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর। বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
• সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়। এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ,রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
• পুন্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল। রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
• ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুন্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুন্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়। গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুন্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
• পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুন্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।

অন্যদিকে,              
• সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
• গৌড়- মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বর্ধমান ও চাপাইনবাবগঞ্জ।
• হরিকেল -  সিলেট, চট্রগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৯৮১.
তালপাতার পুঁথিচিত্র কোন যুগের অন্যতম নিদর্শন?
  1. পাল
  2. সেন
  3. দেব
  4. কুষাণ
ব্যাখ্যা
পাল রাজবংশ:
- প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে পাল রাজবংশ দীর্ঘকাল শাসন করেছে।
- সুশাসন, জনকল্যাণ, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, উন্নত জীবনবোধ ইত্যাদি বাংলায় সর্বপ্রথম পালরাই প্রতিষ্ঠিত করে।
- পাল রাজারা বাংলা ও বিহার অঞ্চলে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রায় চারশ বছর শাসন করেছেন।
- নৈরাজ্য ও চরম অরাজকতার হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করে গোপাল নামক এক উচ্চবর্গীয় ব্যক্তি এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- ধর্মপাল, দেবপাল, মহিপাল নামে অনেক পাল রাজারা বাংলা শাসন করেছেন।
- তালপাতার পুঁথিচিত্র পাল যুগের নিদর্শন।
- তালপাতার উপরে চিত্রসম্বলিত বৌদ্ধ গ্রন্থ অষ্টসাহস্রিকা-প্রজ্ঞাপারমিতা পান্ডুলিপির বারোটি রঙ্গিন চিত্র বঙ্গীয় চিত্রকলার প্রাচীনতম নিদর্শন।
- বর্তমানে দুর্লভ এই পান্ডুলিপি কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটিতে সংরক্ষিত আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৯৮২.
কোন ফরাসি মন্ত্রীর পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতীয় উপমহাদেশে 'ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠিত হয়?
  1. লুই-তেরো
  2. শুল ম্যাজারিন
  3. কোলবার্ট
  4. কার্ডিনাল রিশেলিউ
ব্যাখ্যা
ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- উপমহাদেশে ফরাসিদের আগমন সবার শেষে।
- ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি মন্ত্রী কোলবার্টের পৃষ্ঠপোষকতায় 'ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠিত হয় এবং ভারতবর্ষে বাণিজ্য শুরু করে।
- প্রথমে তারা মুম্বাইয়ের সুরাটে ও পরে পন্ডিচেরীতে কুঠি স্থাপন করে।
- অল্পদিনের মধ্যেই তারা বাংলার চন্দননগরে আরও একটি কুঠি স্থাপন করে। এছাড়া কারিকল, মসলিপট্টম, কাশিমবাজার এবং বালেশ্বরেও তাদের কুঠি ছিল।
- ফরাসিরা উপমহাদেশে প্রায় একশ বছর বাণিজ্য করে।
- ইংরেজগণ ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ফরাসিদের চন্দননগর এবং ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পন্ডিচেরী কুঠি দখল করে নেয়।
- স্বদেশে ইংরেজ ও ফরাসিদের মধ্যে বিবাদের জের হিসেবে এখানেও বিবাদ চলতে থাকে। কিন্তু ইংরেজগণ উন্নততর সামরিক শক্তি ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে নেয়।
- পরপর তিনটি কর্ণাটক যুদ্ধে ফরাসিরা পরাজিত হলে ফরাসিদের সাম্রাজ্য ও বাণিজ্য বিস্তার সফল হয়নি।
- এর ফলস্বরূপ ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে উপমহাদেশ থেকে বিদায় নিতে হয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৩.
কোন পাল রাজা নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন?
  1. ধর্মপাল
  2. দেবপাল
  3. গোপাল
  4. মহীপাল
ব্যাখ্যা
দেবপাল (৮২১-৮৬১ খ্রিস্টাব্দ):
- ধর্মপালের মৃত্যুর পর তার পুত্র দেবপাল (৮২১ খ্রি.) ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।
- দেবপাল ভারতবর্ষের উৎকল, হৃন, কম্বোজ, গাড়োয়াল, রাষ্ট্রকূট, প্রতিহার, প্রাগজ্যোতিষপুর এবং সমতটের রাজাদের পরাজিত করেন।
- এর ফলে সমগ্র উত্তর ভারতে তার রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাজ্য বিস্তারে তার মন্ত্রী দর্ভপাণির কূটনীতি এবং মন্ত্রী কেদার মিত্র মিশ্রের বুদ্ধি বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে।
- তবে বাংলার হরিকেল অঞ্চল তার অধীনতার বাইরে থেকে যায়।
- পরবর্তীকালে সমতটে চন্দ্রবংশের উত্থান ঘটে।
- পালরাজাদের মধ্যে দেবপাল সবচেয়ে শক্তিশালী রাজা ছিলেন।
- তবে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হিসেবে পাল রাজারা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের চেয়ে বুদ্ধিমত্তা ও কূটনীতির সাফল্যের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিতেন।
- দেবপাল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, এছাড়া নালন্দায় তিনি একটি বৌদ্ধ বিহারও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৪.
সপ্তম শতকে কোন পরিব্রাজক প্রাচীন জনপদ সমতটে এসেছিলেন?
  1. পাণিনী
  2. হিউয়েন সাঙ
  3. ফার্দিনান্দ ম্যাগিলান
  4. ফা হিয়েন
ব্যাখ্যা
সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটি বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।
- হিউয়েন সাঙ বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা- পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৫.
বঙ্গ রাজ্যের ধ্বংসাবশেষ কোথায় পাওয়া গেছে?
  1. কুমিল্লা
  2. বগুড়া
  3. গোপালগঞ্জ
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
বঙ্গ জনপদ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়। আর এ অঞ্চলই সম্ভবত টলেমির ‘গঙ্গরিডাই'।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়। একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- অনুমান করা যায় ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল। সেজন্যে ‘বঙ্গ' ও 'আল' শব্দ দুটির যোগে 'বঙ্গাল' নামের উৎপত্তি হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- মুদ্রা ও লিপিতাত্ত্বিক প্রমাণের আলোকে ধরা হয়, খ্রিস্টীয় ৬ শতকে স্বাধীন বঙ্গরাজ্যের উদ্ভব ঘটে।
- মুদ্রা ও লিপিমালায় এ রাজ্যের তিনজন রাজার নাম জানা যায় গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব।
- বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া এলাকা থেকেই অধিকাংশ লিপি পাওয়া গেছে।
- অন্যদিকে গোপচন্দ্রের জয়রামপুর তাম্রশাসন পাওয়া গেছে উড়িষ্যায়, মল্লসারুল তাম্রশাসন পাওয়া গেছে পশ্চিমবঙ্গে যা থেকে স্বাধীন বঙ্গরাজ্যের বিস্তৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৮৬.
বৌদ্ধ ধর্মের কনস্ট্যানটাইন বলা হয় কাকে?
  1. বানভট্র
  2. অশোক
  3. মেগাস্থিনিস
  4. সেলুকাস
ব্যাখ্যা
অশোক 
- মৌর্য বংশের প্রথম রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের ছেলে বিন্দুসার। পাটালিপুত্র ছিল মৌর্য বংশের রাজধানী।
- বাবা বিন্দুসার এবং মা সুবোধরাঙ্গীর ছেলে ছিলেন অশোক।
- তার আসল নাম ছিল দেবাঙ্গপ্রিয় প্রিয়দর্শী আশোক।
- ২৬৮ খ্রিষ্টপূর্বে মৌর্য বংশের ২য় সম্রাট এবং ৩য় শাসক হিসেবে অশোকের রাজ্যাভিষেক হয়।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য যখন মগদে তার শাসনামল শুরু করেন তখন ভারত ১৬টি জনপদে বিভক্ত ছিল।
- ২৬১ খ্রিষ্টপূর্বে কলিঙ্গের সাথে মগদের বিধ্বংসী যুদ্ধ হয়।
- এই সাম্রাজ্যটি অনেক শক্তিশালী ছিল বলে তার পূর্বসূরিরা এটি দখল করতে পারেনি।
- অশোক প্রথমে রাজনৈতিকভাবে চেষ্টা করেন। তাতে ব্যর্থ হয়ে তিনি যুদ্ধের পথ বেছে নেন।
- এই যুদ্ধে প্রায় ১ লাখ সৈনিক নিহত এবং প্রায় ২ লাখ সাধারণ মানুষ প্রাণ হারায়।
- যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে অশোক বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন।
- তখন থেকেই অশোক বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার শুরু করেন এবং যুদ্ধ করা ছেড়ে দেন।
- এজন্য অশোককে বৌদ্ধ ধর্মের কনস্ট্যানটাইন বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৮৭.
বরেন্দ্রভূমি কোন জেলার মধ্যে বিস্তৃত ছিল?
  1. রাজশাহী, পাবনা, কুমিল্লা
  2. দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী
  3. সিলেট, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী
  4. গোপালগঞ্জ, বরিশাল
ব্যাখ্যা
বরেন্দ্র জনপদ: 
- বরেন্দ্রী, বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি নামে প্রাচীন বাংলায় অপর একটি জনপদের কথা জানা যায়।
- এটিও উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ।
- পুন্ড্রের একটি অংশ জুড়ে বরেন্দ্রর অবস্থান ছিল।
- বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক অঞ্চল এবং সম্ভবত পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৮৮.
কোন যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে সম্রাট অশোক বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন?
  1. পানিপথের যুদ্ধ
  2. হিদাসপিসের যুদ্ধ
  3. কলিঙ্গের যুদ্ধ
  4. তরাইনের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

- কলিঙ্গ যুদ্ধের ব্যাপক রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞ সম্রাট অশোককে গভীরভাবে ব্যথিত করে, এর ফলে তিনি যুদ্ধনীতি ত্যাগ করে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।  

সম্রাট অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর ২৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন।
- তিনি পাটলীপুত্র হতে তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করতেন।
- রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে তিনি কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- তিনি মৌর্য সম্রাটদের চিরাচরিত দ্বিগ্বিজয় নীতি পরিত্যাগ করে ঘোষণা করেন তাঁর পুত্র, প্রপৌত্র কেউই ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ করবে না।
- তিনি অনেক জনহিতকর কাজ করেন।
- তিনি ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত রাজ্য শাসন করেন।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- রক্তক্ষয়ী কলিঙ্গ যুদ্ধের পর অশোকের রাজনৈতিক ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীতে আমূল পরিবর্তন আসে।
- কলিঙ্গ যুদ্ধের রক্তবন্যা তাঁকে একজন নীতিবান ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।
- ওই সময় থেকেই তিনি জীবনের সর্বক্ষেত্রে বিশ্বশান্তি ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসন প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।
- জীবনের অবশিষ্ট সময় অহিংস ধর্ম তাঁর পথপ্রদশর্কের ভূমিকা পালন করে।
- সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন।
- অশোকের প্রচারিত ধর্মের মূল বিষয় ছিল গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা, জীবে দয়া, সত্যবাদিতা ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৮৯.
সমতটের রাজধানী ছিল-
  1. ক) বড় কামতা
  2. খ) ছোট কামতা
  3. গ) কুমিল্লা
  4. ঘ) নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
প্রাচীন যুগে বাংলা জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম সম্মৃদ্ধ জনপদ ছিল সমতট।
যারা অধিভূক্ত ছিল বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চল। এই অঞ্চলের রাজধানী ছিল বড় কামতা।
উৎস-বাংলাপিডিয়া।
৯৯০.
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা -
  1. তিতুমীর 
  2. মীর নিসার আলী
  3. হাজী শরীয়তুল্লাহ
  4. মজনু শাহ 
ব্যাখ্যা

ফরায়েজি আন্দোলন:

• ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তুল্লাহ।
• জন্ম: ১৭৮২ সালে।
• জন্মস্থান: বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার শাসশাইল গ্রামে। 
• তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
• ‘ফরায়েজি’ শব্দটি আরবি 'ফরজ' (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যারা ফরজ পালন করেন তাঁরাই ফরায়েজি।
• বাংলায় যাঁরা হাজী তুল্লাহর অনুসারী ছিলেন, ইতিহাসে শুধু তাদেরকেই ফরায়েজি বলা হয়ে থাকে। 
• হাজী শরীয়তুল্লাহ ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ ‘বিধর্মীর দেশ' বলে ঘোষণা করেন।
• জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের ওপর অত্যাচার শুরু করলে প্রজাদের রক্ষার জন্য তিনি লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। 
• ১৮৩৯ সালে তাঁর ওপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। 
• ১৮৪০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 
• তাঁর মৃত্যুর পর ফরায়েজি আন্দোলনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাঁর যোগ্য পুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দিন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া। তিনি ১৮১৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। 
• তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।  
৯৯১.
গুপ্তদের সময় রাজতন্ত্র কেমন ছিল?
  1. রাজানির্ভর
  2. মানুষনির্ভর
  3. জমিদারনির্ভর
  4. সামন্তনির্ভর
ব্যাখ্যা
গুপ্তদের সময় রাজতন্ত্র ছিল সামন্তনির্ভর।

গুপ্ত সাম্রাজ্য:

- ভারতে সাম্রাজ্যবাদী গুপ্তদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ৩২০ খ্রিষ্টাব্দে।
- শ্রীগুপ্ত হচ্ছেন গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ।
- এল্যানের মতে, পাটলীপুত্র (মগধের অভ্যন্তরে) নগরের অদূরে শ্রীগুপ্তের রাজত্ব ছিল।
- তখন বাংলায় কিছু স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে ।
- এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সমতট রাজ্য ও পশ্চিম বাংলার পুষ্করণ রাজ্য উল্লেখযোগ্য।

⇒ প্রথম চন্দ্রগুপ্তের হাত ধরে গুপ্ত শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রথম কুমারগুপ্তের সময় (৪৩২-৪৪৮ খ্রি.) থেকে উত্তর বাংলা গুপ্ত সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে গড়ে ওঠে।
- এটির নাম ছিল তখন ‘পুন্ড্রবর্ধন ভুক্তি’।
- গুপ্ত সম্রাট প্রথম চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালেই বাংলার উত্তরাংশের কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিকারে আসে।

⇒ এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে শ্রীগুপ্তের কথা বলা হলেও প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় প্রথম চন্দ্রগুপ্তকে।
- তাঁর উপাধি ছিল মহারাজাধিরাজ।
- গুপ্ত বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয় সমুদ্রগুপ্তকে।
- তিনি সমগ্র বাংলা জয় করেন।
- তাঁকে প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ন বলেও অভিহিত করা হয়।

⇒ সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকালে সমগ্র বাংলা অধিকৃত হলেও সমতট একটি করদ রাজ্য ছিল।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকাল থেকে ছয় শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলার উত্তরাংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনস্থ একটি ‘প্রদেশ' বা 'ভুক্তি' হিসেবে পরিগণিত হতো।

⇒ গুপ্তদের সময় রাজতন্ত্র ছিল সামন্তনির্ভর।
- এদের রাজাদের অধীনে বড় কোনো অঞ্চলের শাসককে বলা হতো মহাসামন্ত।

⇒ মৌর্যদের মতো গুপ্তদের রাজধানী ছিল মহাস্থানগড়ের পুণ্ড্রনগর।
- হুনদের আক্রমণের মধ্য দিয়ে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

উৎস: i) ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।
৯৯২.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে বরেন্দ্রভূমি আছে ?
  1. ক) মধুপুর
  2. খ) রংপুর
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
বরেন্দ্রভূমি (Barind Tract):
- বঙ্গ অববাহিকার বৃহত্তম প্লাইসটোসিন ভূ-প্রাকৃতিক একক।
- অবন্থান- বৃহত্তর দিনাজপুর, রংপুর, পাবনা, রাজশাহী ও বগুড়া জেলা জুড়ে বরেন্দ্রভূমির অবস্থান।
- বরেন্দ্রভূমির নামকরণের পেছনে একাধিক পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। ‘বর’ শব্দের অর্থ হচ্ছে আশীর্বাদ এবং ‘ইন্দ্র’ শব্দের অর্থ দেবতাদের রাজা। অর্থাৎ ইন্দ্রের বর বা ইন্দ্রের আশীর্বাদ থেকে সাধারণভাবে বরেন্দ্র শব্দটির উৎপত্তি।
- বরেন্দ্রভূমির অবস্থান গ্রীষ্মপ্রধান মৌসুমিমন্ডলে। কর্কটক্রান্তি এই ভূমির দক্ষিণে অবস্থান করছে। এই অঞ্চলের জলবায়ু সাধারণভাবে উষ্ণ ও আর্দ্র।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৯৯৩.
'রোহিতগিরি' নামে পরিচিত -
  1. পাহাড়পুর
  2. ময়নামতি
  3. সোনারগাঁও
  4. মহামুনি বিহার
ব্যাখ্যা
ময়নামতি:
- ময়নামতির পূর্ব নাম রোহিতগিরি।
- এটি কুমিল্লা শহরের প্রায় ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে বাংলাদেশের পূর্ব সীমায় বিচ্ছিন্ন অনুচ্চ পার্বত্য এলাকা।
- এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের ফলে অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ নিদর্শনাদি উন্মোচিত হয়েছে।
- মেঘনা বেসিনের ভাটিতে গোমতী নদী তীরস্থ ময়নামতী গ্রাম থেকে লালমাই রেলস্টেশনের নিকটে চান্দিমুরা পর্যন্ত এই ক্ষুদ্র শৈলশ্রেণি উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৭ কিলোমিটার বিস্তৃত।
- এর প্রশস্ততম অংশটি ৪.৫ কিলোমিটার চওড়া এবং সর্বোচ্চ চূড়াটি ৪৫ মিটার উঁচু।
- ১৮৭৫ সালে পাহাড়গুলির মধ্য দিয়ে প্রসারিত পুরানো সড়কটির পুনঃনির্মাণ কালে শ্রমিকরা হঠাৎ কিছু ধ্বংসাবশেষ উদ্ঘাটন করে।
- প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল একটি বৌদ্ধ মঠ।
- খননকৃত প্রত্নস্থান খননকৃত প্রত্নস্থানসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শালবন বিহার।
- এটি শৈলরাজির প্রায় কেন্দ্রে বর্তমান কোটবাড়িস্থ বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন অ্যাকাডেমির সন্নিকটে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৯৪.
সম্রাট অশোক কোন ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন?
  1. শিখ
  2. বৌদ্ধ
  3. জৈন
  4. হিন্দু
ব্যাখ্যা
অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- পিতার রাজত্বকালে অশোক প্রথম জীবনে উজ্জয়িনীর শাসনকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
- পরে তক্ষশীলায় বিদ্রোহ দেখা দিলে বিন্দুসার তাঁকে সেখানে পাঠান। বিদ্রোহ দমনের পর তিনি তক্ষশীলার শাসনভার গ্রহণ করেন।
- পিতার মৃত্যুর পর ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি পাটলিপুত্রের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- সিংহাসনে আরোহণ করে অশোক তাঁর পূর্বসুরীদের মতই 'দেবনম পিয়' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি নিজেকে 'দেবনম পিয় পিয় দসী' রূপে পরিচয় দিতেন।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন এবং রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোকের মন ও শাসননীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এ যুদ্ধের পর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।
- সামরিক বিজয়ের পরিবর্তে ধর্ম বিজয় অর্থাৎ সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন।
- তিনি ঘোষণা করেন সব মানুষই তাঁর সন্তান। তাদের জাগতিক ও পারলৌকিক সুখ নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৫.
প্রথম চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন ভারতবর্ষে আসেন-
  1. মৌর্য যুগে
  2. গুপ্ত যুগে
  3. পাল শাসনামলে
  4. সেন শাসনামলে
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন ভারতবর্ষে আসেন। তিনি ১০ বছর ভারতে অবস্থানকালে তাঁর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ৭টি গ্রন্থ রচনা করেন। এর মধ্যে ‘ফো-কুয়ো-কিং’ বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সময়ে গ্রিক পরিব্রাজক মেগাস্থিনিস ভারতবর্ষে আগমন করে ভারতের শাসন প্রকৃতি, ভৌগোলিক বিবরণ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ইন্ডিকা’তে লিপিবদ্ধ করেন।
হিউয়েন সাং ছিলেন চীন দেশীয় বৌদ্ধ পণ্ডিত। হর্ষবর্ধনের দরবারে তিনি আট বছর কাটান।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণি এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়(বোর্ড বই)]

৯৯৬.
'ব্রতসাগর' ও 'আচারসাগর' নামক গ্রন্থ কে রচনা করেন?
  1. হলায়ুধ মিশ্র
  2. বল্লাল সেন
  3. বিশ্বরূপ সেন
  4. জয়দেব
ব্যাখ্যা
বল্লাল সেন:
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি রাজ্য জয়ের চেয়ে দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
- তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
- কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।
- বল্লাল সেন বিদ্যান ও বিদ্যোৎসাহী রাজা ছিলেন।
- তিনি ব্রতসাগর, আচারসাগর, প্রতিষ্ঠাসাগর, দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর নামে পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাপিডিয়া।
৯৯৭.
ভারতবর্ষে মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. অশোক
  2. কৌটিল্য
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. বিন্দুসার 
ব্যাখ্যা

চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত। 
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যই প্রাচীন ভারতে অখন্ড ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে প্রথম বড় ধরনের সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁর সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে। সামাজিক ক্ষেত্রে আর্য-অনার্যের পার্থক্য ক্রমেই ঘুঁচে যেতে শুরু করে। শিল্প- সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হয়।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কৌটিল্য বা চাণক্য (চাণক্য, প্রায়ই কৌটিল্য এবং বিষ্ণুগুপ্ত নামে পরিচিত)।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯৮.
নিচের কোনটির মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতে মুসলমানদের মধ্যে পৃথক রাজনীতির উদ্ভব ঘটে?
  1. মর্লি ও মিন্টোর সংস্কার
  2. চেমসফোর্ট-মন্টেগু সংস্কার
  3. ইলবার্ট আইন
  4. রাওলাট আইন
ব্যাখ্যা
- মর্লি ও মিন্টোর সংস্কার চিন্তাগুলো ১৯০৯ সালের ইন্ডিয়া অ্যাক্টে বাস্তবায়িত হয়েছিল।
- জন মর্লি ও লর্ড মিন্টোর নামানুসারেই এই সংস্কারের নামকরণ হয় মর্লি-মিন্টো সংস্কার।
- ইন্ডিয়া অ্যাক্টের প্রধান দিকগুলোর মধ্যে ছিল মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ এবং
- সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ইন্ডিয়ার পরিষদে একজন করে ভারতীয়ের অন্তর্ভুক্তি।
- এই সংস্কারের আদৌ কোনও প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনের উদ্দেশ্য ছিল না।
- প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনের লক্ষ্যে যাত্রা শুরুই ছিল এর উদ্দেশ্য।
- এ সংস্কারের সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য ছিল মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক নির্বাচকমন্ডলী গঠন।
- সংস্কারের এ ব্যবস্থা থেকেই মুসলমানদের মধ্যে পৃথক রাজনীতির উদ্ভব ঘটে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৯৯৯.
গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ কে?
  1. কুমারগুপ্ত
  2. সমুদ্রগুপ্ত
  3. চন্দ্রগুপ্ত
  4. শ্রীগুপ্ত
ব্যাখ্যা
গুপ্ত সাম্রাজ্য:
- খ্রিস্টীয় তিন শতকের শেষ এবং চার শতকের প্রথমদিকে সম্ভবত প্রথম চন্দ্রগুপ্ত অথবা সমুদ্রগুপ্তের মাধ্যমে বাংলায় গুপ্ত শাসন সম্প্রসারিত হয়।
- শ্রীগুপ্ত হচ্ছেন গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ।
- এল্যানের মতে, পাটলীপুত্র (মগধের অভ্যন্তরে) নগরের অদূরে শ্রীগুপ্তের রাজত্ব ছিল।
- প্রথম চন্দ্রগুপ্তের হাত ধরে গুপ্ত শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রথম কুমারগুপ্তের সময় (৪৩২-৪৪৮ খ্রি.) থেকে উত্তর বাংলা গুপ্ত সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে গড়ে ওঠে।
- এটির নাম ছিল তখন ‘পুন্ড্রবর্ধন ভুক্তি’।
- হুনদের আক্রমণের মধ্য দিয়ে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০০.
নিচের কোনটি রাজা রামমোহন রায়ের প্রকাশিত পত্রিকা নয়?
  1. ক) তুহফাত উল মোয়াহিদ্দীন
  2. খ) সম্বাদ কৌমুদী
  3. গ) মিরাত উল আখবার
  4. ঘ) ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন
ব্যাখ্যা
- তুহফাত উল মোয়াহিদ্দীন রাজা রামমোহন রায়ের প্রকাশিত পত্রিকা নয়।

রাজা রামমোহন:
- ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে রাজা রামমোহন রায় জন্ম গ্রহন করেন।
- তিনি সুফি মতবাদে বিশেষভাবে প্রভাবিত ছেলেন।
- তিনি বেদান্তসূত্র বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
- তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে আছে ‘তুহফাত-উল-মোয়াহিদ্দীন' (একেশ্বরবাদ সৌরভ) ‘মানাজারাতুল আদিয়ান' (বিভিন্ন ধর্মের উপর আলোচনা)।
- তিনি ‘সম্বাদ কৌমুদী’, ‘মিরাত-উল-আখবার' ও ‘ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন' নামে তিনটি পত্রিকার প্রকাশকও ছিলেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা, মূর্তিপূজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।
- হিন্দুধর্মের সংস্কার তথা নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে ‘আত্মীয় সভা' নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে এই মহাপুরুষ, ভারতীয় নবজাগরণের স্রষ্টা, রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।