বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

দ্বিরুক্ত বাচক শব্দ/শব্দ দ্বিত্ব

মোট প্রশ্ন৬০১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

দ্বিরুক্ত বাচক শব্দ/শব্দ দ্বিত্ব

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৬০১

৩০১.
ধ্বনিবাচক দ্বিরুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. গুটিশুটি
  2. অঙ্ক-টঙ্ক
  3. অল্পস্বল্প
  4. কড়কড়
ব্যাখ্যা

• ধ্বনিবাচক দ্বিরুক্ত শব্দ:
কোনোকিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ বিভিন্নভাবে হতে পারে:
১। মানুষের বিভিন্ন ধ্বনির অনুকরণের সাহায্যে: ভেউ ভেউ করে কাঁদা, ট্যাট্যা করে কাঁদা, হা হা করে হাসা, ঠাঠা করে হাসা ইত্যাদি
২। জীব-জন্তুর ধ্বনিকে অনুকরণ করে: মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ডাক), গুনগুন (মৌমাছির ডাক) ইত্যাদি।
৩। কোন বস্তুর ধ্বনির অনুকরণে: ঝমঝম (বৃষ্টির শব্দ), চুকচুক (দুধ খাবার শব্দ) মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ইত্যাদি।
অনুরূপভাবে, কড়কড় (বিশেষ্য) মেঘগর্জন ধ্বনি; বজ্রপাতের শব্দ।

অন্যদিকে, 
অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ: অল্পস্বল্প, গুটিশুটি, অঙ্ক-টঙ্ক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩০২.
ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে কোন ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়?
  1. ক) অনুকার দ্বিত্ব
  2. খ) ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. গ) পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. ঘ) বিভক্তিহীন দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব: কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয় , সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে। যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়। যেমন- সাঁ করে তির ছুটে যায়, সাঁ সাঁ।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
 টুং টুং, ঠুকঠুক, শোঁ শোঁ, খক খক, দুম দুম, কুটুস-কুটুস, ঠুক-ঠুক, কোঁত কোঁত, হিস হিস, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথকে, ফুসুর ফুসুর, ভট ভট, ঢং ঢং।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০৩.
'চকচক' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. পুনরাবৃত্ত
  2. পদাত্মক
  3. ধ্বন্যাত্মক
  4. অনুকার
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক শব্দ:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, টসটস, থকথকে, ভটভট, হিস হিস।

কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৩০৪.
'পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি।' বাক্যে 'মিটি মিটি' কী?
  1. প্রত্যয় 
  2. যোজক 
  3. দ্বিরুক্তি
  4. নির্দেশক 
ব্যাখ্যা

অব্যয়ের ক্ষেত্রে দ্বিরুক্তি বোঝাতে:
ভাবের গভীরতা বোঝাতে:
- তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- ছি ছি, তুমি কী করেছ।

পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
- বার বার সে কামান গর্জে উঠল।

অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে:
- ভয়ে গা ছম ছম করছে।
- ফোঁড়াটা টন টন করছে।

বিশেষণ বোঝাতে:
- পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি।

ধ্বনিব্যঞ্জনা:
- ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

৩০৫.
'গলায় গলায় ভাব'- এখানে 'গলায় গলায়' কোন ধরনের দ্বিরুক্তি?
  1. শব্দাত্মক
  2. পদাত্মক
  3. ধ্বন্যাত্মক
  4. অব্যয়ের
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'গলায় গলায় ভাব'- এখানে 'গলায় গলায়' - পদাত্মক দ্বিরুক্তি।
এখানে একই পদ (গলায়) দুইবার পুনরাবৃত্ত হয়েছে, যার ফলে এটি পদাত্মক দ্বিরুক্তি।

• পদাত্মক দ্বিরুক্তি:
বিভক্তিযুক্ত পদ পর পর দুবার ব্যবহৃত হলে তাকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলে। পদাত্মক দ্বিরুক্তি দুইভাবে হতে পার। 
যথা- 
১. যথাদ্বিরুক্তি,
২. যুগ্মরীতি বা অনুচর-দ্বিরুক্তি।

• পদাত্মক যথাদ্বিরুক্তি:
যেমন:
- জনে জনে আজকে আমি জানিয়ে যাব সব।
অন্যান্য ( হোতে হাতে, হেসে হেসে, চোর চোর ইত্যাদি।)

• পদাত্মক যুগ্নরীতি বা অনুচর দ্বিরুক্তি:
যেমন:
- হাতে-নাতে পড়লে ধরা দলে-বলে জেলে যাবে।
অন্যান্য (আকাশে-বাতাশে, কাপড়-চোপড়, দলে-বলে ইত্যাদি।)

অন্যদিকে,
- রোজ রোজ, দিন দিন শব্দের দ্বিরুক্তি।
- অব্যয়ের দ্বিরুক্তিতে বহুবচন এর উদাহরণ: যখন যখন।
- ঝমঝম, কুটুস- কুটুস - ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০৬.
কাদা কাদা মাঠ - এখানে 'কাদা কাদা' দ্বিরুক্তি কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) আধিক্য
  2. খ) তীব্রতা
  3. গ) সামান্য
  4. ঘ) বহুত্ব
ব্যাখ্যা
• এখানে 'কাদা কাদা' দ্বিরুক্তি সামান্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

বিভিন্ন অর্থে শব্দদ্বিত বা অনুকার শব্দের প্রয়োগ:
- আধিক্য অর্থে: পাকা পাকা আম, লাল লাল গোলাপ, বস্তা বস্তা সার, রাশি রাশি ধান।
- সামান্য অর্থে: কবি কবি ভাব, শীত শীত লাগে, কাদা কাদা মাঠ।
- তীব্রতা অর্থে: হিম হিম ঠান্ডা, গরম গরম দুধ, নরম নরম বালিশ।
- বহুত্ব অর্থে: কে কে যাবে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩০৭.
'সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে।' - বাক্যে দ্বিরুক্ত শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আগ্রহ বােঝাতে
  2. অনুরূপ বােঝাতে
  3. ক্রিয়া বিশেষণ বােঝাতে
  4. ধারাবাহিকতা বােঝাতে
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তির কিছু ব্যবহার:
ক) আধিক্য বােঝাতে : রাশি রাশি ধান, থােকা থােকা জাম।
খ) সামান্য বােঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
গ) পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বােঝাতে: তুমি দিন দিন রােগা হয়ে যাচ্ছ। সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে।
ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ বােঝাতে: ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে তাকায়।
ঙ) অনুরূপ বােঝাতে : তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই।
চ) আগ্রহ বােঝাতে : সে মা মা বলে কাঁদছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৮.
কোনটি অশ্বের ডাক?
  1. ক্রেঙ্কার
  2. কূজন
  3. বৃংহিত
  4. হ্রেষা
ব্যাখ্যা
• অশ্বের ডাক - হ্রেষা। 

অন্যদিকে,
• পাখির ডাক - কূজন।
• হাতির ডাক - বৃংহিত।
• 'রাজহাঁসের ডাক - ক্রেঙ্কার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৯.
উন্নত প্রাণীবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয় না কোনটি?
  1. ক) বর্গ
  2. খ) গণ
  3. গ) মণ্ডলী
  4. ঘ) পাল
ব্যাখ্যা
উন্নত প্রাণীবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয় গণ (জনগণ, দেবগণ), বর্গ (পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ), মণ্ডলী (শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদক মণ্ডলী) এবং বৃন্দ (সুধীবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ)। পাল (গরুরপাল) এবং যূথ (হস্তীযূথ) কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩১০.
অনুভূতি বোঝাতে নিচের কোন দ্বিরুক্তি শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।
  2. বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
  3. ফোঁড়াটা টন টন করছে।
  4. ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন। বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগেই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন:
- আমার জ্বর জ্বর লাগছে।
[অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।]

অব্যয়ের ক্ষেত্রে দ্বিরুক্তি বোঝাতে-
• ভাবের গভীরতা বোঝাতে:
- তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- ছি ছি, তুমি কী করেছ। 

• পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
- বার বার সে কামান গর্জে উঠল।

• অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে:
- ভয়ে গা ছম ছম করছে।
- ফোঁড়াটা টন টন করছে।

• বিশেষণ বোঝাতে:
- পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি।

• ধ্বনিব্যঞ্জনা:
- ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৮)।
৩১১.
নিচের কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব শব্দ?
  1. মোটাসোটা
  2. এলোমেলো
  3. খুটুর খুটুর
  4. ঘুম ঘুম
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
- যেমন- ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।   

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। 
যেমন: গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি।  

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৩১২.
কোন দ্বিরুক্তিটি ধনাত্মক?
  1. শনশন
  2. শীতশীত
  3. পড়োপড়ো
  4. হাতেনাতে
ব্যাখ্যা
• ‘শনশন’ ধনাত্মক দ্বিত্ব শব্দের উদাহরণ।

• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের:
১.অনুকার দ্বিত্ব
২.ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
৩.পুনরাবৃত্তদ্বিত্ব

⇒ অনুকার দ্বিত্ব: পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরনে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

- যেমন: ঝাল-টাল, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, অঙ্কটঙ্ক, আমটাম ।

⇒ ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব: কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয় , সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন: টুং টুং, ঠুকঠুক, শোঁ শোঁ, খক খক, দুম দুম ।

⇒ পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব: পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩১৩.
'ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?' - বাক্যে দ্বিরুক্ত শব্দটি কী রূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্য রূপে
  2. ক্রিয়া বিশেষণ রূপে
  3. সর্বনাশ রূপে
  4. বিশেষণ রূপে
ব্যাখ্যা
• 'ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?' এখানে দ্বিরুক্ত শব্দটি ক্রিয়া বিশেষণ রূপে  ব্যবহৃত হয়েছে।  
 
আরো কিছু দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ: 
• ক্রিয়া বিশেষণ অর্থে দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে: 
- ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?
- দেখে দেখে যেও।
 
• স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে:
- দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে গেলো।
 
• বিশেষণ রূপে:
- এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
 
• অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে:
- ভয়ে গা ছম ছম করছে। 
 
• পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে, 
- 'ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি'- এখানে দ্বিরুক্ত শব্দ পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
৩১৪.
"ফট্‌ফট্‌" কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. ধ্বন্যাত্মক
  2. অনুকার
  3. পুনরাবৃত্ত
  4. বিভক্তিযুক্ত
ব্যাখ্যা
• "ফট্‌ফট্‌" ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ। 

--------------
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব / দ্বিরুক্ত শব্দ:

কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন:
- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ।
[কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।]

• অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব তৈরি হয়।
যেমন:
- ফোড়া টনটন করে, গা ছমছম করে।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, খুটুর-খুটুর, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথকে, ফুসুর ফুসুর, ভটভট, শোঁ শোঁ, হিস হিস।

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। যেমন - খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩১৫.
‘মনে মনে তুলনা করে দেখলাম’— এখানে দ্বিরুক্তিটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আধিক্য অর্থে
  2. সামান্য অর্থে
  3. ক্রিয়া বিশেষণ রূপে
  4. তীব্রতা অর্থে
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়া বিশেষণ: 
যে পদ ক্রিয়া সংগঠনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাই ক্রিয়া বিশেষণ।

'মনে মনে তুলনা করে দেখলাম' বাক্যে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি পদ 'মনে মনে', তুলনা করা(ক্রিয়া) কে বিশেষায়িত করে।
- তাই 'মনে মনে' ক্রিয়া বিশেষণ রূপে দ্বিরুক্ত পদ।

বিভিন্ন অর্থে শব্দদ্বিত বা অনুকার শব্দের প্রয়োগ:
- আধিক্য অর্থে: পাকা পাকা আম, লাল লাল গোলাপ, বস্তা বস্তা সার, রাশি রাশি ধান।
- সামান্য অর্থে: কবি কবি ভাব, শীত শীত লাগে, কাদা কাদা মাঠ।
- তীব্রতা অর্থে: হিম হিম ঠান্ডা, গরম গরম দুধ, নরম নরম বালিশ।
- বহুত্ব অর্থে: কে কে যাবে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৬.
কোন শব্দটি লিঙ্গান্তর হয় না?
  1. অভিসারিণী
  2. শিষ্যা
  3. অর্ধাঙ্গিনী
  4. শূদ্রা
ব্যাখ্যা

• কিছু পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দের লিঙ্গান্তর হয় না। 

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: 
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- অভিসারী-অভিসারিণী,
- শিষ্য-শিষ্যা,
-  শূদ্র-শূদ্রা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩১৭.
'বার বার সে কামান গর্জে উঠল।' এখানে 'বার বার' কী অর্থে প্রকাশ করেছে?
  1. ভাবের গভীরতা
  2. পৌনঃপুনিকতা
  3. ধ্বনিব্যঞ্জনা
  4. বিশেষণ বোঝাতে
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন। বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগেই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন:
- 'আমার জ্বর জ্বর লাগছে।' অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।

অব্যয়ের দ্বিরুক্তি:
• ভাবের গভীরতা বোঝাতে:
- তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- ছি ছি, তুমি কী করেছ

• পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
- বার বার সে কামান গর্জে উঠল।

• অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে
- ভয়ে গা ছম ছম করছে।
- ফোঁড়াটা টন টন করছে।

• বিশেষণ বোঝাতে:
- পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি।

• ধ্বনিব্যঞ্জনা:
- ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৩১৮.
কোন প্রকারের দ্বিত্বে বিভক্তি যুক্ত হতে দেখা যায়?
  1. অনুকার দ্বিত্ব

  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব

  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব

  4. ক ও খ উভয়ই

ব্যাখ্যা

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বে বিভক্তি যুক্ত হতে দেখা যায়।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
- যেমন-জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।
- বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
- বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও অনুকার দ্বিত্বে বিভক্তি যুক্ত হতে দেখা যায় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৪ সংস্করণ)।

৩১৯.
''মরি মরি! কি সুন্দর প্রভাতের রূপ'' - বাক্যে ''মরি মরি'' কোন শ্রেণীর অব্যয়?
  1. ক) সমন্বয়ী
  2. খ) অনন্বয়ী
  3. গ) পদান্বয়ী
  4. ঘ) অনুকার
ব্যাখ্যা
'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!' বাক্যে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয় পদ।
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সম্পর্ক না রেখে স্বাধীন ভাবে ব্যবহৃত হতে পারে তাদের অনন্বয়ী অব্যয় পদ বলে।

যেমনঃ
- ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে।
- ছি ছি, তুমি এতে নীচ! 
- আমি আজ আলবত যাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণি
৩২০.
'রাশি রাশি ভারা ভারা' বাক্যে 'রাশি' শব্দের দ্বিরুক্তিতে কোন অর্থ প্রকাশ পায়?
  1. ভাবের গভীরতা
  2. আধিক্য
  3. ধ্বনিব্যঞ্জনা
  4. ভিন্নার্থক
ব্যাখ্যা
• 'রাশি রাশি ভারা ভারা'- 'আধিক্য' বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 
----------------------
 • দ্বিরুক্ত শব্দ: 
 দ্বিরুক্ত শব্দকে ভাঙলে পাওয়া যায় ‘দ্বি+উক্ত’। অর্থাৎ, যা দুইবার বলা হয়েছে।
- দ্বিরুক্ত শব্দ ৩ প্রকার- শব্দের দ্বিরুক্তি, পদের দ্বিরুক্তি ও অনুকার দ্বিরুক্তি। 

• আরো কিছু পদাত্মক দ্বিরুক্তির প্রয়োগ: 

১. ভাবের গভীরতা বোঝাতে: 
সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!

২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
বার বার সে কামান গর্জে উঠল।

৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: 
ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।

৪. বিশেষণ বোঝাতে: 
পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।

৫. ধ্বনিব্যঞ্জনা: 
ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)। 
৩২১.
'মেয়েটা হাড়ে হাড়ে শয়তান।' - এখানে 'হাড়ে হাড়ে' কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. সতর্কতা
  2. ভাবের প্রগাঢ়তা
  3. কালের বিস্তার
  4. আধিক্য
ব্যাখ্যা

বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ:

যেমন:
- ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো। (সতর্কতা)
- ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা। (ভাবের প্রগাঢ়তা)
- থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। (কালের বিস্তার)
- মেয়েটা হাড়ে হাড়ে শয়তান। (আধিক্য)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩২২.
প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়-
  1. ব্যঞ্জন্যাত্মক দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. অনুকার দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। প্রকাশ পায় 'এই রকম একটা' ভাব।
যেমন-
অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাটু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষ-মেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে।

অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে। 
যেমন-
আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মোটামুটি, টুকরো-টাকরা, ধারধোর, জোগাড়-জাগাড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩২৩.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. জ্বর জ্বর
  2. জ্বলজ্বল
  3. পর পর
  4. ঝিকিমিকি
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন:
ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।

অন্যদিকে,
• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, মোটাসোটা, আমটাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৩২৪.
কোনটি ’অনুকার দ্বিত্ব’-এর উদাহরণ?
  1. কুটুস-কুটুস
  2. ঝটাঝট
  3. খপাখপ
  4. ঝিকিমিকি
ব্যাখ্যা
• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন
, লুচিফুচি, টাটু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষমেষ, অল্পসল্প,বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে।

• ধ্বন্যাত্মকদ্বিত্ব
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন-
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, খুটুর-খুটুর, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম,ঢং ঢং।

- কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন
খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
৩২৫.
সামান্যতা বােঝাতে বিশেষণ পদের দ্বিরুক্তি ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) পঁচা পঁচা আম।
  2. খ) পুকুর থেকে বড় বড় মাছ ধর।
  3. গ) ভালাে ভালাে লিচু নিয়ে এসাে।
  4. ঘ) গরম গরম জিলাপি খেতে মজা।
ব্যাখ্যা
বিশেষণ পদের দ্বিরুক্তি : বাংলা ভাষায় বিশেষণ পদের দ্বিরুক্তি নিম্নোলিখিত উপায়ে ব্যবহৃত হয়

ক) আধিক্য বােঝাতে : ভালাে ভালাে লিচু নিয়ে এসাে। পুকুর থেকে বড় বড় মাছ ধর।
খ) তীব্রতা বা সঠিকতা বােঝাতে : গরম গরম জিলাপি খেতে মজা। নরম নরম হাত দিয়ে সে রােগীর সেবা করছে।
গ) সামান্যতা বােঝাতে : কালাে কালাে চেহারা। পঁচা পঁচা আম।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৬.
'ছি ছি, তুমি এত খারাপ!' - বাক্যে 'ছি ছি' কী অর্থে প্রকাশ পেয়েছে?
  1. পৌনঃপুনিকতা
  2. ধ্বনিব্যঞ্জনা
  3. অনুভূতি
  4. ভাবের গভীরতা
ব্যাখ্যা
অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি:
ভাবের গভীরতা বোঝাতে: সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২৭.
কোনটি অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. খক খক
  2. বুদ্ধিশুদ্ধি
  3. শোঁ শোঁ
  4. ঠুক-ঠুক
ব্যাখ্যা

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে,
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুক-ঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩২৮.
'বস্তা বস্তা সার' - এখানে 'বস্তা বস্তা' দ্বিরুক্তি কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বহুত্ব
  2. খ) সামান্য
  3. গ) তীব্রতা
  4. ঘ) আধিক্য
ব্যাখ্যা
• এখানে 'পাকা পাকা' দ্বিরুক্তি আধিক্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• বিভিন্ন অর্থে শব্দদ্বিত বা অনুকার শব্দের প্রয়োগ:
- আধিক্য অর্থে: পাকা পাকা আম, লাল লাল গোলাপ, বস্তা বস্তা সার, রাশি রাশি ধান।
- সামান্য অর্থে: কবি কবি ভাব, শীত শীত লাগে, কাদা কাদা মাঠ।
- তীব্রতা অর্থে: হিম হিম ঠান্ডা, গরম গরম দুধ, নরম নরম বালিশ।
- বহুত্ব অর্থে: কে কে যাবে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩২৯.
‘ধামা ধামা ধান।' - বাক্যে 'ধামা ধামা' কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. অনুভূতি বোঝাতে
  2. আধিক্য
  3. ভাবের গভীরতা
  4. ধারাবাহিকতা
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান।
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- অনুভূতি বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
৩৩০.
'কৃষক হলেও তার আছে রাশি রাশি ধন'- বাক্যে 'রাশি রাশি' কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সামান্য
  2. গভীরতা
  3. আধিক্য
  4. তীব্রতা
ব্যাখ্যা
• ‘রাশি রাশি ধান' এখানে 'রাশি রাশি' - 'আধিক্য' অর্থ প্রকাশ করেছে।

• দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন।
- বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
- এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।

• বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- অনুভূতি বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
৩৩১.
নিচের কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. অল্পসল্প
  2. পর পর
  3. অঙ্ক-টঙ্ক
  4. খক খক
ব্যাখ্যা
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

অন্যদিকে,
- 'পর পর' হচ্ছে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ।
- অঙ্ক-টঙ্ক ও অল্পসল্প হচ্ছে অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৩৩২.
অনুভূতির কাল্পনিক অনুকৃতি কোনটি?
  1. গর গর
  2. কা কা
  3. কুহু কুহু
  4. চোঁ চোঁ
ব্যাখ্যা
অনুভূতির কাল্পনিক অনুকৃতি:
ঝিকিমিকি: 'চাঁদের কিরণ লেগে করে ঝিকিমিকি।
ঠাঠা: ঠা ঠা রোদে ঘুরে বেড়িও না।
কুট কুট: মশা কুট কুট করে কামড়াচ্ছে।
ছম ছম: ভয়ে গা ছম ছম করছে।
চোঁ চোঁ: ক্ষিধেয় পেট চোঁ চোঁ করছে।

অন্যদিকে,
জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকৃতি - কা কা, গর গর, কুহু কুহু।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৩৩.
“তালাচাবি” কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. সমার্থক দ্বিরুক্তি
  2. বিপরীতার্থক দ্বিরুক্তি
  3. ভিন্নার্থক দ্বিরুক্তি
  4. পদাত্মক দ্বিরুক্তি
ব্যাখ্যা

• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়। -
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।

• তালাচাবি - ভিন্নার্থক শব্দ যোগে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- চালচলন শব্দটি সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- ছোট-বড়, আসা-যাওয়া হচ্ছে বিপরীতার্থক অর্থে ব্যবহৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।

৩৩৪.
বিশেষণ পদ যোগে গঠিত দ্বিরুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. লাল লাল ফুল
  2. জ্বর জ্বর লাগছে
  3. গ্রামে গ্রামে যাবে
  4. ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

⇒ দ্বিরুক্ত শব্দ:
বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন: আমার জ্বর জ্বর লাগছে অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।

⇒ বিশেষণ শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার:
• আধিক্য বোঝাতে:
- ভালো ভালো আম নিয়ে এসো।
- ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।
- লাল লাল ফুল। 

⇒ বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান।
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।

এরূপ,
জ্বর জ্বর লাগছে, গ্রামে গ্রামে যাবে এবং ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধ। বিশেষ্য শব্দের দ্বিরুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ )।

৩৩৫.
'টসটস' কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. অনুকার দ্বিত্ব
  4. পদদ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ:
চকচক, জ্বলজ্বল, থকথকে, কুট কুট, টসটস, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপ, শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন: খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৩৬.
'ধ্বন্যাত্মক বিরুক্তির' উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) চোখে চোখে
  2. খ) ঘেউ ঘেউ
  3. গ) কেউ কেউ
  4. ঘ) চুপচাপ
ব্যাখ্যা
দ্বিরুক্ত শব্দের আভিধানিক অর্থ- দুবার বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কোন শব্দ বা পদের পরপর দুবার প্রয়োগ বা পুনরাবৃত্তিকেই দ্বিরুক্ত শব্দ বলে ।

বাংলা ভাষায় এমন বহু দ্বিরুক্ত শব্দ আছে যা কোন বাস্তব ধ্বনির অনুকারী বা নিছক কোন ধ্বনির কাল্পনিক অনুকরণ করে। এই জাতীয় শব্দকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এমন একই ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুবার প্রয়োগের নামই ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি বা ধ্বনির দ্বিরুক্তি।

এই ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দগুলো বাংলা ভাষার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, 'সে সকল শব্দ ভাষা হইতে বাদ দিলে বঙ্গভাষার বর্ণনাশক্তি নিতান্তই পঙ্গু হইয়া পড়ে।” 

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ বিভিন্নভাবে হতে পারে:
১। মানুষের বিভিন্ন ধ্বনির অনুকরণের সাহায্যে : ভেউ ভেউ করে কাঁদা, ট্যাট্যা করে কাঁদা, হা হা করে হাসা, ঠাঠা করে হাসা ইত্যাদি
২। জীব-জন্তুর ধ্বনিকে অনুকরণ করে : মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ডাক), গুনগুন (মৌমাছির ডাক) ইত্যাদি।
৩। কোন বস্তুর ধ্বনির অনুকরণে : ঝমঝম (বৃষ্টির শব্দ), চুকচুক (দুধ খাবার শব্দ) মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ইত্যাদি।
৪। অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির শব্দ : চিকচিক, ঝিকমিক, কুটকুট, ম্যাজম্যাজ, ঘিনঘিন, ঘ্যানঘ্যান, সুড়সুড়, চিনচিন, ছমছম ইত্যাদি।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৭.
আগ্রহ বোঝাতে কোন বাক্যে বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি ঘটেছে?
  1. ক) ধামা ধামা ধান।
  2. খ) আমার জ্বর জ্বর লাগছে।
  3. গ) ও দাদা দাদা বলে ডাকছে।
  4. ঘ) তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ।
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তিঃ
১. আধিক্য বোঝাতে : রাশি রাশি ধন, ধামা ধামা ধান।
২. সামান্য বোঝাতে : আমার জ্বর জ্বর লাগছে। কবি কবি ভাব।
৩. পরস্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে : তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ।
৪. ক্রিয়া বিশেষণ : ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে চায়।
৫. অনুরূপ কিছু বোঝাতে : তার সঙ্গী সাথী কেউ নেই।
৬. আগ্রহ বোঝাতে : ও দাদা দাদা বলে ডাকছে, শিশুটি মা মা বলে কাঁদছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৩৮.
‘ঝমঝম’ কোন প্রকার শব্দদ্বিত্বের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) অনুকার দ্বিত্ব
  2. খ) ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. গ) পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. ঘ) ঋণাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দের আভিধানিক অর্থ- দুবার বলা হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে কোন শব্দ বা পদের পরপর দুবার প্রয়োগ বা পুনরাবৃত্তিকেই দ্বিরুক্ত শব্দ বলে ।

• বাংলা ভাষায় এমন বহু দ্বিরুক্ত শব্দ আছে যা কোন বাস্তব ধ্বনির অনুকারী বা নিছক কোন ধ্বনির কাল্পনিক অনুকরণ করে।
- এই জাতীয় শব্দকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- এমন একই ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুবার প্রয়োগের নামই ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি বা ধ্বনির দ্বিরুক্তি।

• এই ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দগুলো বাংলা ভাষার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, 'সে সকল শব্দ ভাষা হইতে বাদ দিলে বঙ্গভাষার বর্ণনাশক্তি নিতান্তই পঙ্গু হইয়া পড়ে।” 

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ বিভিন্নভাবে হতে পারে:
১। মানুষের বিভিন্ন ধ্বনির অনুকরণের সাহায্যে : ভেউ ভেউ করে কাঁদা, ট্যাট্যা করে কাঁদা, হা হা করে হাসা, ঠাঠা করে হাসা ইত্যাদি
২। জীব-জন্তুর ধ্বনিকে অনুকরণ করে : মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ডাক), গুনগুন (মৌমাছির ডাক) ইত্যাদি।
৩। কোন বস্তুর ধ্বনির অনুকরণে : ঝমঝম (বৃষ্টির শব্দ), চুকচুক (দুধ খাবার শব্দ) মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ইত্যাদি।
৪। অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির শব্দ : চিকচিক, ঝিকমিক, কুটকুট, ম্যাজম্যাজ, ঘিনঘিন, ঘ্যানঘ্যান, সুড়সুড়, চিনচিন, ছমছম ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৯.
'নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।'- বাক্যের ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তিটি কোন পদ নির্দেশ করছে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• 'নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।'- বাক্যের ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তিটি বিশেষণ পদ নির্দেশ করছে।
 
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। 
 
• বিভিন্ন পদরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার:
- বিশেষ্য: বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।
- বিশেষণ: 'নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।'
- ক্রিয়া: কলকলিয়ে উঠল সেথায় নারীর প্রতিবাদ।
- ক্রিয়া বিশেষণ: 'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।'
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৪০.
কোনটি অনুকার দ্বিত্ব শব্দের উদাহরণ?
  1. খুটুর খুটুর
  2. গুনগুন
  3. বুঝে-সুঝে
  4. কথায় কথায়
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।

যেমন:
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে:

ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস। 

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।

৩৪১.
নিচের কোন বাক্যে বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. চোখে চোখে রাখা।
  2. সুরে সুরে কথা বলা।
  3. ঘুম ঘুম চোখ তার।
  4. মজার মজার খাবার।
ব্যাখ্যা
⇒ অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের:
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

⇒ পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন - জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৪২.
কোনটি পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব এর উদাহরণ?
  1. ক) ঝাল-টাল
  2. খ) হাতে হাতে
  3. গ) শোঁ শোঁ
  4. ঘ) বুঝে-সুঝে
ব্যাখ্যা
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, হাতে হাতে

অন্যদিকে,
ঝাল-টাল, বুঝে-সুঝে - অনুকার দ্বিত্ব এর উদাহরণ।
শোঁ শোঁ - ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব এর উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৪৩.
কোনটি বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. কবি কবি
  2. কথায় কথায়
  3. ভালো ভালো
  4. ঘুম ঘুম 
ব্যাখ্যা

• ‘কথায় কথায়’ শব্দগুচ্ছে বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব আছে। 
- এখানে ‘কথা’ শব্দের সঙ্গে “-য়” বিভক্তি যুক্ত হয়ে পুনরাবৃত্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
• কবি কবি, ভালো ভালো ও ঘুম ঘুম বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব। 

-------------------
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন-জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উত্তু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৩৪৪.
'অল্পসল্প' কোন ধরনের দ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. ধন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. অনুকার দ্বিত্ব
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অনুকার দ্বিত্ব:
- অনুকার দ্বিত্ব পরপর প্রয়ােগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। প্রকাশ পায় এই রকম একটা ভাব।
যেমন -
- অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাট্ট-ফাটু,
- আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলােমেলাে, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষমেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি, মােটাসােটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝেসুঝে ।
- অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে,
যেমন -
- আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, ঘােরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি,
- দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মােটামুটি, টুকরাে-টাকরা, ধারধাের, জোগাড়-জাগাড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৩৪৫.
"আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।" - এখানে দ্বিরুক্ত শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আধিক্য
  2. ধারাবাহিকতা
  3. সামান্য
  4. অনুরূপ
ব্যাখ্যা
পদের দ্বিরুক্তি:
- বাক্যে একই পদ বার বার ব্যবহার করাকে বলা হয় পদের দ্বিরুক্তি।

বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি:
- বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে-

আধিক্য বোঝাতে:
- রাশি রাশি ধান, থোকা থোকা জাম।

সামান্য বোঝাতে:
- আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।

পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে:
- তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ।
- সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে।

ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে:
- সে ধীরে ধীরে যায়,
- ফিরে ফিরে তাকায়।

অনুরূপ বোঝাতে:
- তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই।

আগ্রহ বোঝাতে:
- সে মা মা বলে কাঁদছে।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৬.
'আমার জ্বর জ্বর লাগছে' এখানে 'জ্বর-জ্বর' কোন শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বিরুক্ত শব্দ
  2. খ) দেশি শব্দ
  3. গ) তদ্ভব শব্দ
  4. ঘ) তৎসম শব্দ
ব্যাখ্যা
'আমার জ্বর জ্বর লাগছে' এখানে 'জ্বর-জ্বর' দ্বিরুক্ত  শব্দের উদাহরণ। 
শব্দের/পদের দ্বিরুক্তি
বাক্যে একই পদ বার বার ব্যবহার করাকে বলা হয় পদের দ্বিরুক্তি।
বাংলা ভাষায় পদের দ্বিরুক্তির মাধ্যমে নিম্নলিখিত উপায়ে শব্দ গঠন করা হয়

১) বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি : বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে।
ক) আধিক্য বােঝাতে : রাশি রাশি ধান, থােকা থােকা জাম।
খ) সামান্য বােঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
গ) পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বােঝাতে : তুমি দিন দিন রােগা হয়ে যাচ্ছ। সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে।
ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ বােঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে তাকায়।
ঙ) অনুরূপ বােঝাতে : তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই।
চ) আগ্রহ বােঝাতে : সে মা মা বলে কাঁদছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৭.
"তোমার নেই নেই ভাব গেল না।" - এখানে "নেই নেই" দ্বিরুক্তিটি কোন পদ রূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• "তোমার নেই নেই ভাব গেল না।" -  এটি একটি পদের দ্বিরুক্তির উদাহরণ।
এখানে "নেই নেই" — বিশেষণ পদরূপে ব্যবহৃত হয়েছে।

• বিভিন্ন পদরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার:
- বিশেষ্য: বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।
- বিশেষণ: 'নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।'
- ক্রিয়া: কলকলিয়ে উঠল সেথায় নারীর প্রতিবাদ।
- ক্রিয়া বিশেষণ: 'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৪৮.
‘বুঝে-সুঝে’ কোন প্রকার শব্দদ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. বিভক্তহীন দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৩৪৯.
'ঘরে ঘরে লেখাপড়া হচ্ছে।'-এখানে ’ঘরে ঘরে’ কোন ধরনের শব্দ?
  1. শব্দের দ্বিরুক্তি
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত
  3. পদের দ্বিরুক্ত
  4. ছড়ার শব্দ
ব্যাখ্যা
• পদের দ্বিরুক্তি:
 বাক্যে একই পদ বার বার ব্যবহার করাকে বলা হয় পদের দ্বিরুক্তি। 
- দুটি পদে একই বিভক্তি প্রয়োগ করা হয়, শব্দ দুটি ও বিভক্তি অপরিবর্তিত থাকে।
যেমন-
- ঘরে ঘরে লেখাপড়া হচ্ছে।
- দেশে দেশে ধন্য ধন্য করতে লাগল।
- মনে মনে আমিও এ কথাই ভেবেছি।

• দ্বিতীয় পদের আংশিক ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু পদ-বিভক্তি অবিকৃত থাকে।
যেমন-
- চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে।
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৩৫০.
'সে সুরে সুরে কথা বলে'- বাক্যে কোন প্রকার শব্দদ্বিত্ব ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) ধ্বন্যাত্মক
  2. খ) অনুকার
  3. গ) বিভক্তিযুক্ত
  4. ঘ) বিভক্তিহীন
ব্যাখ্যা
• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের:
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব: পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন - জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৫১.
'ভয়ে গা ছম ছম করছে।' — এই বাক্যে ‘ছম ছম’ শব্দটি কীসের বহিঃপ্রকাশ?
  1. আধিক্য
  2. ধারাবাহিকতা
  3. অনুভূতি
  4. সামান্যতা
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:

যেমন:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ। 
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল। 
- অনুভূতি বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।

৩৫২.
থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে’ এখানে বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে-
  1. ক) ভাবের প্রগাঢ়তা বোঝাতে
  2. খ) কালের বিস্তার বোঝাতে
  3. গ) আধিক্য বোঝাতে
  4. ঘ) পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে
ব্যাখ্যা
থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে’ এখানে বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে কালের বিস্তার বোঝাতে। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৩৫৩.
'ট্যা ট্যা' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত
  2. পদাত্মক দ্বিরুক্ত
  3. অনুকার দ্বিরুক্ত
  4. পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্ত
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়।

যেমন-
১. মানুষের ধ্বনির অনুকার: ভেউ ভেউ – মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ-ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।
২. জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ-মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।
৩. বস্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ)। এরূপ-মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ঝমঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ), হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।
৪. অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার: ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এরূপ ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মতো অনুভূতি)। অনুরূপভাবে- মিন মিন, পিট পিট, ঝি ঝি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ -সংস্করণ)।

৩৫৪.
নিচের কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. এলোমেলো
  2. চুপচাপ
  3. ঘোরাঘুরি
  4. ঢং ঢং
ব্যাখ্যা
• 'ঢং ঢং' ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ। 

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আমার্‌
- যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।
- যেমন- সাঁ করে তির ছুটে যায়, সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে, সাঁ সাঁ সাঁ করে অসংখ্য তির চারদিকে ছুটে গেল।

অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব তৈরি হয়।
যেমন:
- ফোরা টনটন করে,
- গা ছমছম করে।

• কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, টসটস, থকথকে, ভটভট, হিস হিস।

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

অন্যদিকে,
এলোমেলো, চুপচাপ, ঘোরাঘুরি অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৩৫৫.
অব্যয়ের দ্বিরুক্তি যোগে গঠিত বিশেষণের দৃষ্টান্ত হলো -
  1. পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি।
  2. বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।
  3. ভয়ে গা ছম ছম করছে।
  4. ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
ব্যাখ্যা
অব্যয়ের দ্বিরুক্তি:
১. ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি কী করেছ?
২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
৪. বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি
৫. ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫৬.
নিচের উল্লেখিত শব্দজুটির মধ্যে কোনটিকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে?
  1. ক) কল কাকলি
  2. খ) মুগ্ধ -প্রান্তরে
  3. গ) পথে -প্রান্তে
  4. ঘ) হাতে হাতে
ব্যাখ্যা
দ্বিরুক্ত শব্দ ৩ প্রকার। যথা- ১.শব্দের দ্বিরুক্তি (রোজ রোজ, কেউ কেউ), ২.পদের দ্বিরুক্তি (হেসে হেসে, চোরে চোরে, হাতে হাতে ) ও ৩. অনুকার দ্বিরুক্তি (শন শন, খিল খিল)। সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসাঃ ড. সৌমিত্র শেখর এবং দৈনিক কালের কণ্ঠ
৩৫৭.
'ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।' - এখানে ‘ডেকে ডেকে' দ্বিরুক্তিটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পৌনঃপুনিকতা
  2. অস্থিরতা
  3. দীর্ঘকাল স্থায়ী
  4. স্বল্পকাল স্থায়ী
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি:

বিশেষণ রূপে:
- এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
- তোমার নেই নেই ভাব গেলো না।

স্বপ্লকাল স্থায়ী বোঝাতে:
- দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।

ক্রিয়া বিশেষণ:
- দেখে দেখে যেও।
- ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাব?

পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
- ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫৮.
‘চোখ দুটো তার জ্বলজ্বল করে উঠলো।’- বাক্যে ‘জ্বলজ্বল’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. বিভক্তিযুক্ত দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• ‘চোখ দুটো তার জ্বলজ্বল করে উঠলো।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘জ্বলজ্বল’ ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।
 
শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের। যথা:
১. অনুকার দ্বিত্ব,
২. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব,
৩. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

⇒ কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ:
চকচক, জ্বলজ্বল, থকথকে, কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপ, শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

⇒ কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন: খপাখপ, হবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৫৯.
নিচের কোনটিতে শব্দের দ্বিরুক্তি ঘটেছে?
  1. ক) মনে মনে ভাবছি
  2. খ) হাতে নাতে ধরা পড়েছে
  3. গ) ধামা ধামা ধান
  4. ঘ) বড় বড় বই
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হবে 'বড় বড় বই'।
- বাংলা ভাষায় কিছু কিছু শব্দ রয়েছে যেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, এই শব্দগুলোকে দ্বিরুক্তি শব্দ বলে।
দ্বিরুক্তি শব্দ কয়েকভাবে সম্পন্ন হতে পারে।
যেমন-
» শব্দের দ্বিরুক্তি
» পদের দ্বিরুক্তি
» অব্যয়ের দ্বিরুক্তি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯সংস্করণ) ।
৩৬০.
দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহার করে একের অধিক কোনো কিছুকে বুঝালে তাকে কী বলে?
  1. সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. বহুবচন
  3. নির্ধারক বিশেষণ
  4. শব্দদ্বিত্ত্ব
ব্যাখ্যা

দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহার করে একের অধিক কোনো কিছুকে বুঝালে তাকে নির্ধারক বিশেষণ বলে।
যেমন : ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল।’
পক্ষান্তরে,
যত...তত, যিনি...তিনি ইত্যাদি জোড়া সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৬১.
অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. খকখক
  2. টুং টুং
  3. ঝিকিমিকি
  4. খপাখপ
ব্যাখ্যা
• 'ঝিকিমিকি'- অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ। 
 
অন্য অপশনে,
খকখক, টুং টুং, খপাখপ, - ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।
--------------------- 
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি। 
 
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস। 
 
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৩৬২.
"বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।" - বাক্যে 'ঝমঝমানি' কোন পদরূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. বিশেষণ
  3. বিশেষ্য
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন পদরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার:

যেমন:
বিশেষ্য: বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।
বিশেষণ: নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।
ক্রিয়া: কলকলিয়ে উঠল সেথায় নারীর প্রতিবাদ।
ক্রিয়া বিশেষণ: চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬৩.
দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।এখানে 'দেখতে দেখতে' কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বিশেষণ রূপে
  2. খ) পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে
  3. গ) স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে
  4. ঘ) সামান্যতা বোঝাতে
ব্যাখ্যা

দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো। বাক্যটিতে 'দেখতে দেখতে' স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী

৩৬৪.
'কবি কবি ভাব'- এখানে 'কবি কবি' কোন ধরনের দ্বিত্ব?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
- যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের:
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• অনুকার দ্বিত্ব: পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর ইত্যাদি।
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব: কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। যেমন: কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৪ সংস্করণ)।
৩৬৫.
বর্ষায় নদীর পানি কলকল শব্দে বয়ে চলে - বাক্যে ‘কল কল’ কী ধরনের অব্যয়?
  1. ক) অনন্বয়ী
  2. খ) অনুকার
  3. গ) সমুচ্চয়ী
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।
- ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের উদাহরণঃ বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়, স্রোতের ধ্বনি - কলকল, শুষ্ক পাতার শব্দ - মর মর।

তথ্যসূত্র:- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি , নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬৬.
'যদিও হাত কাঁপে তথাপি ছোট ছোট করে চারটা চিঠি লিখলাম।' এখানে দ্বিরুক্ত শব্দ কোন অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. সামান্য
  2. মার্জিত
  3. পৌনঃপুনিকতা
  4. আধিক্য
ব্যাখ্যা
• বাক্যটি: "যদিও হাত কাঁপে তথাপি ছোট ছোট করে চারটা চিঠি লিখলাম।" - 

এখানে দ্বিরুক্ত শব্দ "ছোট ছোট" একটি কাজের ধরন বা পদ্ধতি নির্দেশ করছে। অর্থাৎ, হাত কাঁপার কারণে চিঠিগুলো একেবারে একটানা লেখা সম্ভব হচ্ছে না, বরং ধীরে ধীরে বা ভাগ ভাগ করে লিখতে হচ্ছে।
এই কারণে এখানে দ্বিরুক্ত শব্দটি "সামান্য" বা কম পরিমাণ বোঝাচ্ছে।

কেন "আধিক্য" নয়?
• আধিক্য হলো বেশি সংখ্যা বা বেশি পরিমাণ বোঝানো। "ছোট ছোট" বস্তু বা জিনিসের ক্ষেত্রে সেটি সংখ্যা বা বিচ্ছিন্ন অংশ নির্দেশ করলে "আধিক্য" অর্থ হতে পারে, যেমন— "গাছের ছোট ছোট ডাল" অর্থ অনেকগুলো ছোট আকারের ডাল বোঝায়। কিন্তু এখানে একটি কাজ (চিঠি লেখা) ছোট ছোট বা ধাপে ধাপে করা বোঝানো হয়েছে, সংখ্যাধিক্য নয়।

• উল্লেখ্য, বাক্যটিতে 'চারটা চিঠি' উল্লেখ করা আছে। তাই আধিক্য নেওয়ার সুযোগ নেই। 

• আবার, দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহারের দিক থেকে চার প্রকারের হতে পারে। এর মধ্যে - একটি প্রকার হলো - যথাদ্বিরুক্ত। 
যথাদ্বিরুক্ত: এতে মূল শব্দের অর্থের কোনোরূপ পরিবর্তন হয় না, শব্দের অর্থের বিকৃতিও ঘটে না।
যেমন - ছোট ছোট বাক্য। লম্বা লম্বা বাঁশ। 

তুলনামূলক উদাহরণ:
উদাহরণ  - অর্থ
ছোট ছোট কাজ - সামান্য বা ধাপে ধাপে,
ছোট ছোট শিশু - সংখ্যাধিক্য,
ছোট ছোট ডাল - সংখ্যাধিক্য,
ছোট ছোট কথা - সামান্য বা হালকা।

অর্থাৎ, কাজের প্রকৃতি বোঝালে → সামান্য;
বস্তুর সংখ্যা বা বিচ্ছিন্নতা বোঝালে → আধিক্য;

অতএব, সঠিক উত্তর: (ক) সামান্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬৭.
‘কচর-মচর’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. বিভক্তিযুক্ত দ্বিত্ব
  4. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের:
১.অনুকার দ্বিত্ব,
২.ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব,
৩.পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• অনুকার দ্বিত্ব:

পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন:
কচর-মচর, অঙ্ক-টঙ্ক, চাকর-বাকর, ঝিকিমিকি, এলোমেলো, অল্পসল্প, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৬৮.
'ছাগল- টাগল' কোন ধরনের দ্বিত্ব এর উদাহরণ?
  1. ক) অনুকার দ্বিত্ব
  2. খ) ধনাত্মক দ্বিত্ব
  3. গ) পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. ঘ) বিরোধাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোন শব্দ পর পর দুইবার ব্যবহার হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। 
শব্দদ্বিত্ব ৩ প্রকার -
- অনুকার দ্বিত্ব
- ধনাত্মক দ্বিত্ব
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব

⇒ অনুকার দ্বিত্ব: পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারায় শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় অনুকার দ্বিত্ব বলে। এত প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক; আম-টাম, কেক-টেক; ঘর-টর; গরু-টরু; ছাগল- টাগল; আড়াআড়ি, খোজাখুজি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৬৯.
বিশেষ্য পদযোগে গঠিত দ্বিরুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. ভালো-ভালো আম
  2. যে-যে যাবে
  3. বাড়ি-বাড়ি যাবে
  4. লাল-লাল ফুল
ব্যাখ্যা
দ্বিরুক্ত শব্দ:
- বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে
- অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন:
- আমার জ্বর জ্বর লাগছে অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।

⇒ বিশেষণ শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার:
• আধিক্য বোঝাতে:
- ভালো ভালো আম নিয়ে এসো।
- ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।
- লাল লাল ফুল। 

⇒ বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান।
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ )।
৩৭০.
"তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছো" এখানে 'দিন দিন' দ্বিরুক্তি শব্দ দ্বারা কী বুঝাচ্ছে? 
  1. সামান্য
  2. অনুরূপ
  3. পরস্পরতা
  4. আধিক্য
ব্যাখ্যা
পদের দ্বিরুক্তি: 
- বাক্যে একই পদ বার বার ব্যবহার করাকে বলা হয় পদের দ্বিরুক্তি। 

বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি: 
- বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে- 
ক) আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, থোকা থোকা জাম। 
খ) সামান্য বোঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি। 
গ) পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ, সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে। 
ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে তাকায়। 
ঙ) অনুরূপ বোঝাতে: তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই। 
চ) আগ্রহ বোঝাতে: সে মা মা বলে কাঁদছে। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭১.
নিচের কোন বাক্যে শব্দদ্বিত্ব দ্বারা আধিক্য বোঝানো হয়েছে?
  1. রাশি রাশি ধান, থোকা থোকা জাম
  2. আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি
  3. তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ 
  4. সে মা মা বলে কাঁদছে 
ব্যাখ্যা

- “রাশি রাশি ধান, থোকা থোকা জাম” বাক্যে ‘রাশি রাশি’ হলো-আধিক্য অর্থে বিশেষ্য পদের শব্দদ্বিত্ব।
- "রাশি রাশি" বলতে অনেক ধান, "থোকা থোকা" বলতে প্রচুর জাম বোঝায়।
- এমন দ্বিরুক্তিতে প্রথম শব্দটি অপরিবর্তিত থাকে। 
- আর দ্বিতীয় শব্দটি দ্বিত্ব আকারে ব্যবহৃত হয়ে শব্দটির ভাব বা আভাস প্রকাশ করে, সম্পূর্ণ জ্বর বোঝায় না।
-----------------------
• শব্দদ্বিত্ব:
- বাংলা ভাষায় একটি শব্দ বা তার সামান্য পরিবর্তিত রূপ যখন একই সাথে বা পরপর দুবার ব্যবহৃত হয়ে কোনো নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, তাকে শব্দদ্বিত্ব বা শব্দদ্বৈত বলা হয়।
- যেমন ‘রাশি রাশি’ বাক্যে ‘রাশি’ শব্দটি পুনরুক্ত হয়েছে।

- বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি মূলত নিম্নলিখিত অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, থোকা থোকা জাম।
- সামান্য বোঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
- আগ্রহ বোঝাতে: সে মা মা বলে কাঁদছে। 
- পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ। 
- ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়; ফিরে ফিরে তাকায়।
- অনুরূপ বোঝাতে: তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৭২.
আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি - জ্বর জ্বর কোন অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. ক) ধারাবাহিকতা
  2. খ) ভাবের গভীরতা
  3. গ) সামান্যতা
  4. ঘ) আগ্রহ
ব্যাখ্যা
দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন।
বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন- আমার জ্বর জ্বর লাগছে অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।

বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
৩৭৩.
কোনটি যুগ্মরীতিতে গঠিত ধ্বন্যাত্মক শব্দ?
  1. ঝন ঝন
  2. কিচির মিচির
  3. টপা টপ
  4. ধক ধক
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি গঠন:
• একই (ধ্বন্যাত্মক) শব্দের অবিকৃত প্রয়োগ ধক ধক, ঝন ঝন, পট পট।
•. প্রথম শব্দটির শেষে আ যোগ করে: গপাগপ, টপাটপ, পটাপট।
•  দ্বিতীয় শব্দটির শেষে ই যোগ করে : ধরাধরি, ঝমঝমি, ঝনঝনি।
•. যুগ্মরীতিতে গঠিত ধ্বন্যাত্মক শব্দ :কিচির মিচির (পাখি বা বানরের শব্দ), টাপুর টুপুর (বৃষ্টি পতনের শব্দ), হাপুস হুপুস (গোগ্রাসে কিছু খাওয়ার শব্দ)।
•. আনি-প্রত্যয় যোগেও বিশেষ্য দ্বিরুক্ত গঠিত হয় পাখিটার ছটফটানি দেখলে কষ্ট হয়। তোমার বকবকানি আর ভালো লাগে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৩৭৪.
'ঘেউ ঘেউ' কোন প্রকার দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. অব্যয়ের দ্বিরুক্তি
  2. সমার্থক দ্বিরুক্তি
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি
  4. শব্দের দ্বিরুক্তি
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ:
দ্বিরুক্ত শব্দের আভিধানিক অর্থ- দুবার বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কোন শব্দ বা পদের পরপর দুবার প্রয়োগ বা পুনরাবৃত্তিকেই দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।

• বাংলা ভাষায় এমন বহু দ্বিরুক্ত শব্দ আছে যা কোন বাস্তব ধ্বনির অনুকারী বা নিছক কোন ধ্বনির কাল্পনিক অনুকরণ করে। এই জাতীয় শব্দকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এমন একই ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুবার প্রয়োগের নামই ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি বা ধ্বনির দ্বিরুক্তি।

• এই ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দগুলো বাংলা ভাষার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, 'সে সকল শব্দ ভাষা হইতে বাদ দিলে বঙ্গভাষার বর্ণনাশক্তি নিতান্তই পঙ্গু হইয়া পড়ে।”

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ বিভিন্নভাবে হতে পারে:
• মানুষের বিভিন্ন ধ্বনির অনুকরণের সাহায্যে: ভেউ ভেউ করে কাঁদা, ট্যাট্যা করে কাঁদা, হা হা করে হাসা, ঠাঠা করে হাসা ইত্যাদি।

• জীব-জন্তুর ধ্বনিকে অনুকরণ করে: মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ডাক), গুনগুন (মৌমাছির ডাক) ইত্যাদি।

• কোন বস্তুর ধ্বনির অনুকরণে: ঝমঝম (বৃষ্টির শব্দ), চুকচুক (দুধ খাবার শব্দ) মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ইত্যাদি।

• অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির শব্দ: চিকচিক, ঝিকমিক, কুটকুট, ম্যাজম্যাজ, ঘিনঘিন, ঘ্যানঘ্যান, সুড়সুড়, চিনচিন, ছমছম ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৫.
'জ্বর' এর সাথে কোন শব্দের দ্বিরুক্তিতে সামান্য অর্থ প্ৰকাশ পায়?
  1. ক) জারি
  2. খ) বিকার
  3. গ) জ্বর
  4. ঘ) ব্যাধি
ব্যাখ্যা
পদের দ্বিরুক্তি: বাক্যে একই পদ বার বার ব্যবহার করাকে বলা হয় পদের দ্বিরুক্তি। বাংলা ভাষায় পদের দ্বিরুক্তির মাধ্যমে নিম্নলিখিত  উপায়ে শব্দ গঠন করা হয়-

• ক্রিয়াবাচক পদের দ্বিরুক্তি: বাংলা ভাষায় ক্রিয়াবাচক পদ নিম্নলিখিত অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়-
- বিশেষণরূপে : তোমার নেই নেই ভাব আর গেল না। 
- স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে : দেখতে দেখতে আকাশে মেঘ জমা হয়ে গেল। 
- ক্রিয়া-বিশেষণ বোঝাতে :  দেখে দেখে যাও। 
- পৌণপুনিকতা বোঝাতে : তোমাকে ডেকে ডেকে আমি হয়রান হয়ে গেলাম। 

• বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি: বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে-
- আধিক্য বোঝাতে : রাশি রাশি ধান, থোকা থোকা জাম। 
- সামান্য বোঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি। 
- পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে : তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ।
- ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়।
- অনুরূপ বোঝাতে : তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই। 
- আগ্রহ বোঝাতে : সে মা মা বলে কাঁদছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৬.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. বুদ্ধিশুদ্ধি
  2. অল্পস্বল্প
  3. জ্বর জ্বর
  4. খক খক
ব্যাখ্যা

ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।

যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

অন্যদিকে,
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব - জ্বর জ্বর।
অনুকার দ্বিত্ব - অল্পস্বল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩৭৭.
‘টুং টুং’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

অন্যদিকে,
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা ইত্যাদি।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৭৮.
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি কোনটি?
  1. ঘুম ঘুম
  2. আমটাম
  3. এলোমেলো
  4. জ্বলজ্বল
ব্যাখ্যা
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
- যেমন- ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।

অন্যদিকে,
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, মোটাসোটা, আমটাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৩৭৯.
"এত এত কাজের চাপ, শেষ হবে কী করে!" - এখানে দ্বিরুক্ত শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পুনরাবৃত্তি
  2. সামান্য
  3. কালের বিস্তার
  4. আধিক্য
ব্যাখ্যা
• "এত এত কাজের চাপ, শেষ হবে কী করে!" বাক্যে 'এত এত' দ্বিরুক্ত শব্দটি 'আধিক্য ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
এখানে কাজের পরিমাণ অত্যধিক, অতিরিক্ত বা অনেক বেশি হওয়া বুঝানো হয়েছে

অব্যয় পদের কয়েকটি দ্বিরুক্তির উদাহরণ - 
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
- ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮০.
‘চকচক ও জ্বলজ্বল’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. অনুকার শব্দদ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত শব্দদ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্ব
  4. বিভক্তিযুক্ত শব্দদ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের। যথা:
১. অনুকার দ্বিত্ব,
২. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব,
৩. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

⇒ কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ:
চকচক, জ্বলজ্বল, থকথকে, কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপ, শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

⇒ কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন: খপাখপ, হবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৮১.
"বার বার সে কামান গর্জে উঠল।" - এ বাক্যে কোন ধরনের দ্বিরুক্তি রয়েছে?
  1. ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি
  2. অব্যয়ের দ্বিরুক্তি
  3. বিশেষ্য শব্দের দ্বিরুক্তি
  4. বিশেষণ শব্দের দ্বিরুক্তি
ব্যাখ্যা
• পদাত্মক দ্বিরুক্তির প্রয়োগ:

অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি -
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
- ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮২.
‘কথায় কথায়’ কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্ত
  3. অনুকার দ্বিরুক্ত
  4. বিভক্তিহীন দ্বিরুক্ত
ব্যাখ্যা
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৮৩.
নিচের কোন দ্বিরুক্ত শব্দটি সামান্য অর্থ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) ভালো ভালো আম নিয়ে আসো।
  2. খ) ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।
  3. গ) গরম গরম জিলাপি।
  4. ঘ) কালো কালো চেহারা।
ব্যাখ্যা
কালো কালো চেহারা, এই  দ্বিরুক্ত শব্দটি সামান্য অর্থ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। 

- ভালো ভালো আম নিয়ে আসো, ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল - এই  দ্বিরুক্ত শব্দটি তীব্রতা অর্থ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। 
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা। 
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়। 

সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি। 

 
৩৮৪.
‘ব্যাপার-স্যাপার এবং বুঝে-সুঝে’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. বিভক্তহীন দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।

যেমন:
- ঝাল-টাল, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে, অল্পস্বল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৩৮৫.
অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. চুপচাপ
  2. দামাদামি
  3. মোটামুটি
  4. দমাদম
ব্যাখ্যা
•  অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ নয়- দমাদম। 
- দমাদম ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ। 

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন-
খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

------------------
•  অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। প্রকাশ পায় 'এই রকম একটা' ভাব।
যেমন-
অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাটু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষ-মেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে।

• অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে।
যেমন-
আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মোটামুটি, টুকরো-টাকরা, ধারধোর, জোগাড়-জাগাড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৮৬.
'জোরে জোরে বাতাস করো।' বাক্যে 'জোরে জোরে' কোন ধরেনের দ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

 • পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
- যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের:
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• অনুকার দ্বিত্ব: পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর ইত্যাদি।
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব: কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। যেমন: কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৪ সংস্করণ)।

৩৮৭.
কোনটি পুনরাবৃত্ত শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. টসটস
  2. জ্বর জ্বর
  3. অল্পসল্প
  4. শোঁ শোঁ
ব্যাখ্যা
• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের:
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন - জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

-----------------------
অন্যদিকে,
• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
- যেমন: ঝাল-টাল, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, অঙ্কটঙ্ক, আমটাম ।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয় , সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন: টুং টুং, ঠুকঠুক, শোঁ শোঁ, খক খক, টসটস, দুম দুম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৮৮.
সামান্য বােঝাতে কোন বাক্যে বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি ঘটেছে?
  1. ক) আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
  2. খ) থােকা থােকা জাম।
  3. গ) সে ধীরে ধীরে যায়।
  4. ঘ) সে মা মা বলে কাঁদছে।
ব্যাখ্যা
পদের দ্বিরুক্তি
বাক্যে একই পদ বার বার ব্যবহার করাকে বলা হয় পদের দ্বিরুক্তি।
বাংলা ভাষায় পদের দ্বিরুক্তির মাধ্যমে নিম্নলিখিত উপায়ে শব্দ গঠন করা হয়

১) বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি : বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে।
ক) আধিক্য বােঝাতে : রাশি রাশি ধান, থােকা থােকা জাম।
খ) সামান্য বােঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
গ) পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বােঝাতে : তুমি দিন দিন রােগা হয়ে যাচ্ছ। সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে।
ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ বােঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে তাকায়।
ঙ) অনুরূপ বােঝাতে : তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই।
চ) আগ্রহ বােঝাতে : সে মা মা বলে কাঁদছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৯.
মানুষের ধ্বনির অনুকার বোঝাতে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি হয়েছে কোনটি?
  1. ভেউ ভেউ
  2. কুহু কুহু
  3. মড়মড়
  4. মিন মিন
ব্যাখ্যা
মানুষের ধ্বনির অনুকার:
- ভেউ ভেউ – মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ-ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার:
- ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ-মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।

বস্তুর ধ্বনির অনুকার:
- ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ)। এরূপ-মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ঝমঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ), হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।

অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার:
- ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এরূপ ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মতো অনুভূতি)। অনুরূপভাবে- মিন মিন, পিট পিট, ঝি ঝি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
৩৯০.
'ব্যাপার-স্যাপার' কোন ধরনের দ্বিত্ব?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে,
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর,
- কবি কবি,
- কথায় কথায় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।

৩৯১.
‘ধামা ধামা ধান।' বাক্যে ‘ধামা ধামা’ কী অর্থে দ্বিরুক্তি হয়েছে?
  1. ইষৎ
  2. আধিক্য
  3. সামান্য
  4. অনুরূপ
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন।
- বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
- এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।

• বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান।
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- অনুভূতি বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
৩৯২.
‘হু হু করে বায়ু ফেলিছে সতত দীর্ঘশ্বাস’ বলতে বােঝানাে হয়েছে
  1. ক) অনিশ্চয়তা
  2. খ) আকস্মিকতা
  3. গ) যােগাযােগহীনতা
  4. ঘ) আশংকা
ব্যাখ্যা
‘হু হু করে বায়ু ফেলিছে সতত দীর্ঘশ্বাস’ এই বাক্যে ব্যবহৃত ধ্বন্যাত্মক শব্দ ‘হু হু’ এর অর্থ - অন্তর্দাহ নৈরাশ্য বা অনিশ্চয়তা।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৩৯৩.
'পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।' বাক্যে 'মিটির মিটির' কী অর্থ প্রকাশ পেয়েছে? 
  1. অনুভূতি
  2. বিশেষণ
  3. ধ্বনিব্যঞ্জনা
  4. পৌনঃপুনিকতা
ব্যাখ্যা

অব্যয় পদের কয়েকটি দ্বিরুক্তির উদাহরণ:

যেমন:
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির
- ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৯৪.
ভাবের গভীরতা বোঝাতে অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি হয়েছে কোনটিতে?
  1. ফোঁড়াটা টন টন করছে।
  2. ভয়ে গা ছম ছম করছে।
  3. ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
  4. তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগলো।
ব্যাখ্যা
দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন।
বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন- আমার জ্বর জ্বর লাগছে অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।

অব্যয়ের দ্বিরুক্তি:
ধ্বনিব্যঞ্জনা:
- ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর

ভাবের গভীরতা বোঝাতে: 
- তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগলো।
- ছি ছি, তুমি কী করেছো?

পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
- বার বার সে কামান গর্জে উঠলো।

অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে:
- ভয়ে গা ছম ছম করছে।
 -ফোঁড়াটা টন টন করছে।

বিশেষণ বোঝাতে:
- পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
 
৩৯৫.
"ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।" - বাক্যে 'ঝির ঝির' কোন অর্থে দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. ভাবের গভীরতা
  2. অনুভূতি
  3. ধ্বনিব্যঞ্জনা
  4. স্বল্পকাল স্থায়ী
ব্যাখ্যা
• 'ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।' - বাক্যটি অব্যয়ের দ্বিরক্তি যা 'ধ্বনিব্যঞ্জনা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অব্যয় পদের কয়েকটি দ্বিরুক্তির উদাহরণ:
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
- ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৯৬.
'পাভেল মজার মজার কথা বলে।' বাক্যে 'মজার মজার' কোন ধরনের দ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. অনুসর্গ দ্বিত্ব
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন – জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালাে ভালাে (কথা), কত কত (লােক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩৯৭.
ধ্বনিবাচক দ্বিরুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. ক) কড়কড়
  2. খ) মরমর
  3. গ) নরনর
  4. ঘ) দরদর
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় এমন বহু দ্বিরুক্ত শব্দ আছে যা কোন বাস্তব ধ্বনির অনুকারী বা নিছক কোন ধ্বনির কাল্পনিক অনুকরণ করে। এই জাতীয় শব্দকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এমন একই ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুবার প্রয়োগের নামই ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি বা ধ্বনির দ্বিরুক্তি।

এই ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দগুলো বাংলা ভাষার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, 'সে সকল শব্দ ভাষা হইতে বাদ দিলে বঙ্গভাষার বর্ণনাশক্তি নিতান্তই পঙ্গু হইয়া পড়ে।” 

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ বিভিন্নভাবে হতে পারে:
১। মানুষের বিভিন্ন ধ্বনির অনুকরণের সাহায্যে : ভেউ ভেউ করে কাঁদা, ট্যাট্যা করে কাঁদা, হা হা করে হাসা, ঠাঠা করে হাসা ইত্যাদি
২। জীব-জন্তুর ধ্বনিকে অনুকরণ করে : মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ডাক), গুনগুন (মৌমাছির ডাক) ইত্যাদি।
৩। কোন বস্তুর ধ্বনির অনুকরণে : ঝমঝম (বৃষ্টির শব্দ), চুকচুক (দুধ খাবার শব্দ) মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ইত্যাদি।
অনুরূপভাবে, কড়কড় (বিশেষ্য) - মেঘগর্জন ধ্বনি; বজ্রপাতের শব্দ৷

৪। অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির শব্দ : চিকচিক, ঝিকমিক, কুটকুট, ম্যাজম্যাজ, ঘিনঘিন, ঘ্যানঘ্যান, সুড়সুড়, চিনচিন, ছমছম ইত্যাদি।

- কড়কড় (বিশেষ্য) - মেঘগর্জন ধ্বনি; বজ্রপাতের শব্দ৷
- মরমর (বিশেষ্য) - শুষ্ক পত্রাদির ধ্বনি।
উভয়ই ধ্বনিবাচক দ্বিরুক্ত শব্দ। প্রশ্নে একাধিক সঠিক উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩৯৮.
মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি ছিলেন-
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. ফররুখ আহমদ 
  3. আহসান হাবীব 
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য(১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়। 

-  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মন্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেন। ১৯৪৪ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। এ বছর আকাল নামক একটি সংকলনগ্রন্থ তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

সুকান্ত কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন। মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন।

- পরবর্তীকালে উভয় বাংলা থেকে সুকান্ত সমগ্র নামে তাঁর রচনাবলি প্রকাশিত হয়। সুকান্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পিসঙ্ঘের পক্ষে আকাল (১৯৪৪) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন।

- রবীন্দ্রোত্তর বাংলা কবিতার বৈপ্লবিক ভাবধারাটি যাঁদের সৃষ্টিশীল রচনায় সমৃদ্ধ হয়েছে, সুকান্ত তাঁদের অন্যতম। তাঁর কবিতার ছন্দ, ভাষা, রচনাশৈলী এত স্বচ্ছন্দ, বলিষ্ঠ ও নিখুঁত যে, তাঁর বয়সের বিবেচনায় এরূপ রচনা বিস্ময়কর ও অসাধারণ বলে মনে হয়।

- ১৯৪৭ সালের ১৩ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয় ।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
- ছাড়পত্র (১৯৪৭),
- পূর্বাভাস (১৯৫০),
- মিঠেকড়া (১৯৫১),
- অভিযান (১৯৫৩),
- ঘুম নেই (১৯৫৪),
- হরতাল (১৯৬২),
- গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৯৯.
কোনটি পদাত্মক দ্বিরুক্তির উদাহরণ?
  1. ভেউ ভেউ
  2. ভয়ে ভয়ে
  3. ট্যা ট্যা
  4. মিউ মিউ
ব্যাখ্যা

পদাত্মক দ্বিরুক্তি:
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়। এগুলো দুই রকমে গঠিত হয়। একই পদের অবিকৃত অবস্থায় দুইবার ব্যবহার।

যথা
- ভয়ে ভয়ে এগিয়ে গেলাম।
- হাটে হাটে বিকিয়ে তোর ভরা আপণ।

অন্যদিকে,
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি - মিউ মিউ, ট্যা ট্যা, ভেউ ভেউ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।

৪০০.
"তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।" - এখানে 'বাড়ি বাড়ি' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আধিক্য
  2. সামান্য 
  3. ধারাবাহিকতা 
  4. ভাবের গভীরতা
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার: 

যেমন: 
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ। 
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল। 
- অনুভূতি বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।