বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা / ৩১ · ৬০১৭০০ / ৩,০২৪

৬০১.
‘যেমন কর্ম তেমন ফল।’ - বাক্যে কোন ধরনের সর্বনাম ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অন্যবাচক সর্বনাম
  2. সাপেক্ষ সর্বনাম
  3. সকলবাচক সর্বনাম
  4. পারস্পরিক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।

যেমন:
- যারা-তারা,
- যে-সে,
- যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৬০২.
'কি, যে, বা, না, তো' - প্রভৃতি কোন ধরনের ক্রিয়া বিশেষণ?
  1. ধরনবাচক
  2. স্থানবাচক
  3. কালবাচক
  4. পদাণু
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
লোকটি ধীরে হাঁটে।
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।
--------------------------- 
• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে’, ‘বা’, ‘না’, ‘তো’ প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন -
কি: আমি কি যাব?
যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
বা: কখনো বা দেখা হবে।
না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
তো: মরি তো মরব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬০৩.
"রাস্তা সংকীর্ণ।" - এখানে 'সংকীর্ণ' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ
  3. বিশেষণ
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• "রাস্তা সংকীর্ণ।"
এখানে,
"সংকীর্ণ" একটি বিশেষণ (adjective) যা রাস্তা শব্দটিকে বর্ণনা করছে। এটি ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নয়, কারণ এখানে কোনো ক্রিয়া বিশেষণ পদ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬০৪.
'সে খুব ভালাে একটি খবর দিয়েছে’- বাক্যের 'খুব' কোন প্রকার বিশেষণ?
  1. নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
  2. ভাববাচক বিশেষণ
  3. বিধেয় বিশেষণ
  4. অবস্থাবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'সে খুব ভালাে একটি খবর দিয়েছে’- বাক্যের 'খুব' বিশেষণ — ভাববাচক বিশেষণ।
---------------------- 
• ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – 
- 'সে খুব ভালাে একটি খবর দিয়েছে’, 
- ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে’, 
এসব বাক্যে খুব এবং বেশ ভাববাচক বিশেষণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬০৫.
‘শত্রুর সহিত সন্ধি চাইনা।’ - বাক্যে ‘সহিত’ অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. তুলনায়
  2. বিরুদ্ধগামিতা
  3. সহগামিতা
  4. সমসূত্রে
ব্যাখ্যা

• এখানে 'সহ" 'সহিত' 'সঙ্গে' 'সনে' -এগুলা একেক বাক্যে একেক অর্থ প্রকাশ করেছে।

যেমন:
 ১. তিনি পুত্র সহ উপস্থিত হলেন। (সহগামীতা অর্থে),
 ২. শত্রুর সহিত সন্ধি চাইনা। (সমসূত্রে অর্থে),
 ৩. মায়ের সঙ্গে এই মেয়ের তুলনা হয়না। (তুলনায় অর্থে),
 ৪. দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে। (বিরুদ্ধগামীতা অর্থে)।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬০৬.
ক্রিয়ার দ্বিরুক্তি যোগে গঠিত বিশেষণের দৃষ্টান্ত হলো -
  1. ক) ডেকে ডেকে
  2. খ) বারে বারে
  3. গ) যায় যায়
  4. ঘ) দেখতে দেখতে
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি:
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়ে গেছি।
- বিশেষণ রূপে: রোগী বুঝি যায় যায়। তোমার নেই নেই ভাব আর গেলো না। 
- স্বলপকাল স্থায়ী বোঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে গেলো।
- ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: দেখে দেখে যেও। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে  শুনলে কিভাবে? 
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬০৭.
'লোকটি দরিদ্র কিন্তু সং' এই বাক্যে 'কিন্তু' হলো-
  1. বিয়োজক অব্যয়
  2. সংযোজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. বিস্ময়াদিসূচক অব্যয়
ব্যাখ্যা

সমুচ্চয়ী অব্যয় :
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথা- 

সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়।
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।
- "লোকটি দরিদ্র্য কিন্তু সৎ।" - এ বাক্যে ‘কিন্তু’ হলো - সংকোচক অব্যয়।

অন্যদিকে,
বিয়োজক অব্যয়: 
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন। এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬০৮.
'আমি সকাল থেকে বসে আছি।'- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন বর্গের উদাহরণ?
  1. বিশেষণ বর্গ
  2. বিশেষ্য বর্গ
  3. ক্রিয়া বর্গ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ বর্গ
ব্যাখ্যা
• 'আমি সকাল থেকে বসে আছি।'- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি ক্রিয়া বিশেষণ বর্গের উদাহরণ।

বাক্যের বর্গ:
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ। 

বিশেষ্যবর্গ: 
- বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন – আমার ভাই পড়তে বসেছে।

বিশেষণবর্গ: 
- বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন –
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর

ক্রিয়াবিশেষণ-বৰ্গ:
- যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন: সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো ।
আমি সকাল থেকে বসে আছি।
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম ।

ক্রিয়াবৰ্গ: 
- বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন –
অস্ত্রসহ সৈন্যদল এগিয়ে চলেছে
সে লিখছে আর হাসছে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
৬০৯.
নিচের কোনটিতে সাধারণ অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
  2. ভাল করে খেয়ে নাও।
  3. সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
  4. হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে - হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি

• অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: 
- সাধারণ অনুসর্গ,
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
- জন্য: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
- বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে
- করে: ভাল করে খেয়ে নাও

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬১০.
"একজন সৎ ব্যক্তি কখনো মিথ্যা কথা বলে না।" - বাক্যে ‘একজন’ কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. আত্মবাচক সর্বনাম
  2. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  3. নির্দেশক সর্বনাম
  4. সাপেক্ষ সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, 
- একজন (একজন এসে খবরটা দেয়);
- একজন সৎ ব্যক্তি কখনো মিথ্যা কথা বলে না ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে।
যেমন:
- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬১১.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. চতুর
  2. প্রণয়ন
  3. দহনীয়
  4. দিগম্বর
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ - প্রণয়ন
-'প্রণয়ন' এর বিশেষণ পদ - প্রণীত।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- রচনা,
- গ্রন্থন; নির্মাণ।

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - চতুর, দহনীয় এবং দিগম্বর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬১২.
কোটবাড়ি দর্শন করে এলাম। বাক্যে ‘দর্শন’ কোন ধরনের পদ?
  1. ক) ক্রিয়াপদ
  2. খ) ভাববাচক বিশেষ্য
  3. গ) নামবাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
‘কোটবাড়ি দর্শন করে এলাম’ এবং ‘খুকুর নাচন দেখে যা’ বাক্য দুটিতে ‘দর্শন’ এবং ‘নাচন’ ভাববাচক বিশেষ্য। ‘আমি কোটবাড়ি দেখেছি’ এবং ‘খুকু নাচছে’ এই বাক্য দুটিতে ‘দেখেছি’ এবং ‘নাচছে’ ক্রিয়াপদ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৬১৩.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. চলন্ত
  2. চলন
  3. চালিত
  4. চঞ্চল
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ - চলন
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- গমন; ভ্রমণ।

অন্যদিকে,
- চলন্ত, চালিত এবং চঞ্চল - শব্দগুলো বিশেষণ পদের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬১৪.
আমি ভাত খাব না। - এ বাক্যে ‘না’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোনো বাক্যের না-বাচক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় তাকে না-বাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন : 
আমি ভাত খাব না
মেয়েটা মিষ্টি নয়। 
ছেলেটা দুষ্টু নয়। 
আমার বাবা লন্ডন যাননি। 

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৬১৫.
'নিশ্চয়ই পারব।' এখানে 'নিশ্চয়ই' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. পদান্বয়ী অব্যয়
  2. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  3. অনুকার অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:

উচ্ছ্বাস প্রকাশে:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে:
- হ্যাঁ, আমি যাব।
- না, আমি যাব না।

সম্মতি প্রকাশে:
- আমি আজ আলবত যাব।
- নিশ্চয়ই পারব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬১৬.
'মনের দুঃখ চেপে রাখা উচিত নয়'- বাক্যে কোন প্রকার ক্রিয়ার ব্যবহার ঘটেছে?
  1. ক) সরল ক্রিয়া
  2. খ) নাম ক্রিয়া
  3. গ) যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) সংযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
'মনের দুঃখ চেপে রাখা উচিত নয়'- বাক্যে যৌগিক ক্রিয়ার ব্যবহার ঘটেছে। 

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৬১৭.
'খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।' এখানে ‘ঘুম’ কী?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সমধাতুজ কর্ম
  3. নামধাতু
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• কর্মকারকের প্রকারভেদ:
ক) সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম: নাসিমা ফুল তুলছে।
খ) প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম: ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।
গ) সমধাতুজ কর্ম: খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।

ঘ) উদ্দেশ্য ও বিধেয়: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার দুটি পরস্পর অপেক্ষিত কর্মপদ থাকলে প্রধান কর্মটিকে বলা হয় উদ্দেশ্য কর্ম এবং অপেক্ষিত কর্মটিকে বলা হয় বিধেয় কর্ম।
যেমন -
- দুধকে (উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুগ্ধ (বিধেয় কর্ম) বলি, হলুদকে (উদ্দেশ্য কর্ম) বলি হরিদ্রা (বিধেয় কর্ম)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬১৮.
‘সূর্য উঠলে আঁধার দূরীভূত হয়’। এখানে ‘উঠলে’ কোন ক্রিয়াপদ?
  1. সমাপিকা
  2. অসমাপিকা
  3. প্রযোজক
  4. প্রযোজ্য
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া: 
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের পরিসমাপ্তি ঘটে না, বক্তার কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে৷
যেমন: 
- সূর্য উঠলে….. এই বাক্যে 'উঠলে' দ্বারা কথা শেষ হয় নি৷
- তাই এখানে 'উঠলে' অসমাপিকা ক্রিয়া৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম, শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬১৯.
'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা’- বাক্যের ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তিটি কোন পদ নির্দেশ করছে?
  1. ক) ক্রিয়া-বিশেষণ
  2. খ) বিশেষ্য
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

বিশেষ্যঃ বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তােলে।
বিশেষণ :  নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়। তার সুন্দর সুন্দর গল্পের বই আছে। 
ক্রিয়া :  কলকলিয়ে উঠল সেথায় নারীর প্রতিবাদ।
ক্রিয়া বিশেষণ :  চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা। ধীরে ধীরে বায়ু বয়। 

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াত মামুদ এবং ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ

৬২০.
নিচের যেটি সম্বন্ধ পদের বিভক্তি নয়-
  1. ক) র
  2. খ) এর
  3. গ) রা
  4. ঘ) কার
ব্যাখ্যা

 -ক্রিয়াপদের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে যে নামপদ বাক্যস্থিত অন্য পদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়, তাকে সম্বন্ধ পদ বলে।
যেমন—মতিনের ভাই বাড়ি যাবে।

সম্বন্ধ পদের বিভক্তি:
- সম্বন্ধ পদে ‘র’ বা ‘এর’ বিভক্তি যুক্ত হয়ে থাকে। যথা : আমি + র = আমার (ভাই), খালিদ + এর = খালিদের (বই)।

- সময়বাচক অর্থে সম্বন্ধ পদে কার > কের বিভক্তি যুক্ত হয়। যথা- আজি + কার = আজিকার > আজকের (কাগজ)।

সুতরাং 'রা' সম্বন্ধ পদের বিভক্তি নয়৷

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৬২১.
রবিন দোকানে গিয়েছে। - এই বাক্যে ক্রিয়ার কোন ধরনের ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
  1. ক) অনুজ্ঞা ভাব
  2. খ) শর্তসাপেক্ষ ভাব
  3. গ) নির্দেশক ভাব
  4. ঘ) আকাঙ্ক্ষাবাচক ভাব
ব্যাখ্যা

ক্রিয়ার ভাবকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমনঃ
নির্দেশক ভাব - রবিন দোকানে গিয়েছে
অনুজ্ঞা ভাব -অন্ধকে ভিক্ষা দিন।
শর্তসাপেক্ষ ভাব - যদি মানা কর, করব না।
আকাঙ্ক্ষাবাচক ভাব - যা হয় হোক।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ

৬২২.
নিচের কোনটি পুরাঘটিত অতীত?
  1. করতাম
  2. পৌছেছিলাম
  3. পড়ছিলাম
  4. উঠতাম
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত অতীত:
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম। 
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

অন্যদিকে,
ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন -
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম। 
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

নিত্য অতীত:
অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন -
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৬২৩.
কোন বাক্যে দ্বিকর্মক ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. স্বপন লিখছে।
  2. স্বপন চিঠি লিখছে।
  3. শিক্ষক ছাত্রদের বাংলা পড়াচ্ছেন।
  4. কাঞ্চন বই পড়ছে।
ব্যাখ্যা
দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকে তাকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
শিক্ষক ছাত্রদের বাংলা পড়াচ্ছেন।
মা শিশুকে দুধ খাওয়াচ্ছেন।

অন্যদিকে,
সকর্মক ক্রিয়া - স্বপন চিঠি লিখছে। কাঞ্চন বই পড়ছে।
অকর্মক ক্রিয়া - স্বপন লিখছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬২৪.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. দীর্ঘতা
  2. দীর্ঘ
  3. দীর্ঘক্ষণ
  4. দীর্ঘকাল
ব্যাখ্যা
দীর্ঘ - শব্দটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- অধিক,
- লম্বা।

অন্যদিকে,
- দীর্ঘকাল, দীর্ঘক্ষণ, দীর্ঘতা - বিশেষ্য পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬২৫.
পদের লগ্নক কত ধরনের?
  1. তিন
  2. চার
  3. পাঁচ
  4. ছয়
ব্যাখ্যা

• পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। 
- লগ্নক চার ধরনের: 
 
বিভক্তি: 
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। 
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।
 
নির্দেশক: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 
- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ। 
 
বচন: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 
- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ। 
 
বলক: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬২৬.
কোনটি নিত্যবৃত্ত অতীতে কালের উদাহরণ?
  1. আমি রোজ কলেজ যেতাম।
  2. তোমাকে রোজ কলেজ যেতে হবে।
  3. আমি বেড়াতে যাব।
  4. আমি রোজ সকালে স্কুলে যাই।
ব্যাখ্যা
• "আমি রোজ কলেজ যেতাম।" বাক্যটি নিত্যবৃত্ত অতীতে কালের উদাহরণ।

• নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন-
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

অন্যদিকে,
- তোমাকে রোজ কলেজ যেতে হবে।- সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল।
- আমি বেড়াতে যাব।-  সাধারণ ভবিষ্যৎ।
- আমি রোজ সকালে স্কুলে যাই।- নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬২৭.
নিচের কোনটি পদের অন্তর্ভুক্ত হবে না?
  1. ক) অব্যয়
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) আবেগ
  4. ঘ) যােজক
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ। বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়:
- বিশেষ্য
- সর্বনাম
- বিশেষণ
- ক্রিয়া
- ক্রিয়াবিশেষণ
- অনুসর্গ
- যােজক 
- আবেগ
বাক্যে প্রয়ােগের উপরে শব্দশ্রেণির এই আট রকম বিভাজন চূড়ান্ত হয়ে থাকে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬২৮.
‘কাজটি কি তুমি করেছিলে?’ - বাক্যটিতে কোন কালের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ঘটমান অতীত কাল
  2. সাধারণ অতীত কাল
  3. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  4. পুরাঘটিত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

অন্যদিকে,
সাধারণ অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম। 

ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল সান্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল। 
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম। 
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৯.
নিচের কোন বাক্যে অসমাপিকা ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
  2. বিথু গান গায়।
  3. সেতু স্কুলে যায়।
  4. ভালো করে পড়াশোনা করবে।
ব্যাখ্যা
সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।

যেমন:
সেতু স্কুলে যায়।
বিথু গান গায়।
ভালো করে পড়াশোনা করবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।

যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে .......
সে বই নিয়ে

এখানে 'গিয়ে', 'নিয়ে' ক্রিয়ার দ্বারা কথা শেষ হয় নি। বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ রয়েছে। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য আরও ক্রিয়া চাই।
যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬৩০.
'সে জীবন যুদ্ধে একজন পরাজিত সৈনিক' বাক্যে সলগ্নক পদ কোনটি?
  1. ক) জীবন
  2. খ) যুদ্ধে
  3. গ) একজন
  4. ঘ) সৈনিক
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলাের নাম লগ্নক।
- লগ্নক চার ধরনের: বিভক্তি, নির্দেশক, বচন ও বলক।

বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলােকে সলগ্নক পদ এবং যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলােকে অলগ্নক পদ বলে।
ছেলেরা ক্রিকেট খেলে’- এই বাক্যের ‘ছেলেরা ও ‘খেলে' সলগ্নক পদ আর 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।

অনুরূপ ভাবে, 'সে জীবন যুদ্ধে একজন পরাজিত সৈনিক' বাক্যে 'জীবন' 'একজন' 'পরাজিত' 'সৈনিক' = অলগ্নক পদ
এবং  'যুদ্ধে' = সলগ্নক পদ।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৩১.
যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।- এ বাক্যে কী ধরনের যোজক ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) কারণ যোজক
  2. খ) বিকল্প যোজক
  3. গ) সাপেক্ষ যোজক
  4. ঘ) বিরোধ যোজক
ব্যাখ্যা
যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।- এ বাক্যে সাপেক্ষ যোজক ব্যবহৃত হয়েছে।

সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন – 
যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব ।
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

কারণ যোজক: 
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন –
জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি। 
বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

বিকল্প যোজক:
এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে ।
যেমন – 
লাল বা নীল কলমটা আনো ৷
চা না-হয় কফি খান।

বিরোধ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন -
এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না ৷
তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
৬৩২.
"খুব ভালো খরব।" - বাক্যে 'খুব' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. পরিমাণবাচক
  2. নির্দিষ্টতাবাচক
  3. ভাববাচক
  4. অবস্থাবাচক
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।

যেমন:
- খুব ভালো খরব।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
- এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৩৩.
"তাড়াতাড়ি কাজটি করো।"- কোন কালের উদাহরণ?
  1. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
  2. সাধারণ বর্তমান
  3. অনুজ্ঞা বর্তমান
  4. ঘটমান বর্তমান
ব্যাখ্যা
• "তাড়াতাড়ি কাজটি করো।"- অনুজ্ঞা বর্তমান কালের উদাহরণ।

• অনুজ্ঞা বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বোঝায়।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
- সকলের মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
৬৩৪.
'জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।' এখানে 'কারণ' কোন ধরনের যোজক?
  1. সাপেক্ষ যোজক
  2. কারণ যোজক
  3. বিকল্প যোজক
  4. সাধারণ যোজক
ব্যাখ্যা
কারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন-
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

অন্যদিকে,
সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন –
- রহিম করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো ।

বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন -
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান ।

সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব ।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।
৬৩৫.
নিচের কোনটি সমুচ্চয়ী অব্যয়?
  1. মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ! 
  2. উচ্চপদ সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।
  3. ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
  4. ঝম ঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে।
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:  মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

অন্যদিকে,
• অনুসর্গ/ পদান্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
- যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
- অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।

• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
যেমন: উচ্চপদ সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।

• অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। 
যেমন- ঝম ঝম, গুড় গুড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)

৬৩৬.
কোনটি জাতি-বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. হিমালয়
  2. সাগর
  3. বাংলাদেশ
  4. আকাশ
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
 যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বস্তু-বিশেষ্য - ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।
নাম-বিশেষ্য - বাংলাদেশ, হিমালয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬৩৭.
‘শ্যামল’ পদের বিশেষ্য কোনটি?
  1. শ্যামলিকা
  2. শামল্য
  3. শ্যামলিমা
  4. শ্যামলী
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
‘শ্যামল’ (বিশেষণ)-  তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।

• ‘শ্যামল’ (বিশেষণ) শব্দের বিশেষ্য পদ- 'শ্যামলিমা'
• 'শ্যামলিমা' শব্দের অর্থ- 'শ্যামলতা'। 

অন্যদিকে, 
• শ্যামলী (বিশেষণ) অর্থ- শ্যামবর্ণ গাভী; গরুর নাম।  

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৬৩৮.
'খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।' - এটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. নিত্য অতীত
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. সাধারণ অতীত
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।

যেমন:
- সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আমরা মসজিদে পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬৩৯.
‘সে একটু হাসুক।’ -বাক্যে ক্রিয়ার কোন ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
  1. সাপেক্ষ ভাব
  2. অনুজ্ঞা ভাব
  3. নির্দেশক ভাব
  4. আকাঙ্ক্ষা ভাব
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।

- ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।

• নির্দেশক ভাব: সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক: আমরা বই পড়ি। তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়: আপনি কি আসবেন? সে কি গিয়েছিল?

• অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
• বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড় ।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

• সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।
তার মঙ্গল হোক।

• আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব: আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৪০.
'তিনটি বছর' - এখানে 'তিনটি' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• 'তিনটি বছর' - এখানে 'তিনটি' সংখ্যাবাচক বিশেষণ পদ।

• নাম  বিশেষণ:

- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

• নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬৪১.
'দরিদ্রকে দান করো' - এ বাক্যে ‘দরিদ্র’ কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণের বিশেষণ
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
- 'দরিদ্রকে দান করো' বাক্যে 'দরিদ্র' (বিশেষ্য) শব্দ। 

• শব্দের অর্থ:
১. নির্ধনতা; দরিদ্র অবস্থা; দরিদ্রতা।
২. অভাব (চিন্তার দারিদ্র্য)।
৩. দৈন্য; দীনতা।

অর্থাৎ, দারিদ্র এবং দারিদ্র্য দুইটাই অভিধানে আছে এবং দুইটাই শুদ্ধ। তবে, আধুনিক অভিধানে কেবল "দারিদ্র্য" রাখা হয়েছে।
আবার কয়েকজন স্কলারের বইতে "" (য ফলা) ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

দরিদ্র শব্দটি বিশেষণ হলেও এখানে বিশেষ্য হিসেবে বসেছে।
কারণ দরিদ্র কাউকে বিশেষিত করেনি, বরং কর্ম হিসেবে বসেছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ব্যবহারিক বাংলা ব্যাকরণ।
৬৪২.
'এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।' - এখানে 'মাঝে' শব্দটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. মাঝে
  2. একদেশিক
  3. ব্যাপ্তি
  4. ক্ষণকাল
ব্যাখ্যা

অনুসর্গের ব্যবহার:
• 'এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।' এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'একদেশিক' অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' 'মধ্যে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।
• আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে।' 'মাঝারে' অনুসর্গটি 'ব্যাপ্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'নিমেষ মাঝেই সব শেষ।' 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৪৩.
'এবার মা খেতে ডেকেছেন।' - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. নিত্যবৃত্ত অতীত
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত বর্তমান:
- যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।

যেমন:
- বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।
- এবার মা খেতে ডেকেছেন।
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৬৪৪.
‘১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।’ বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. ঘটমান অতীত
  4. ঐতিহাসিক বর্তমান
ব্যাখ্যা
⇒ সাধারণ বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে। যেমন: তৃণা স্কুলে যায়।
সাধারন বর্তমানে দুটি রূপ পাওয়া যায়। যথা:

১. নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া সাধারণভাবে নিত্য বা সব সময় ঘটে অর্থাৎ ক্রিয়া সংঘটনের স্বাভাবিকতা বা অভ্রস্ততা বোঝালে সাধারন বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সকালে সূর্য উঠে।
- আমি প্রত্যহ সকালে চা খাই।

২. ঐতিহাসিক বর্তমান কাল:
ঐতিহাসিক বর্তমান কাল অতীত অর্থে বর্তমান। অতীত কালের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনায় অনেক ক্ষেত্রে নিত্য বর্তমান কালের প্রয়োগ বা ব্যবহার হয়। এরূপ ক্ষেত্রে সাধারণ বর্তমান বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
- ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দে নবদ্বীপ শ্রীচৈতন্য দেবের জন্ম হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৪৫.
যদি সে সঠিক সময়ে উপস্থিত হতে পারে, তবেই সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।- বাক্যে কোন প্রকার যোজক ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সাধারণ যােজক
  2. খ) বিকল্প যােজক
  3. গ) সাপেক্ষ যােজক
  4. ঘ) বিরােধ যােজক
ব্যাখ্যা
পদ, বৰ্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলােকে যােজক বলে।
যেমন - এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।

সাপেক্ষ যােজক:
এ ধরনের যােজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
যদি রােদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
অনুরূপভাবে, 
যদি সে সঠিক সময়ে উপস্থিত হতে পারে, তবেই সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৪৬.
‘নগর’ শব্দের বিশেষণ
  1. ক) নাগরদোলা
  2. খ) নগরী
  3. গ) নাগরিক
  4. ঘ) নগরসমেত
ব্যাখ্যা
নগর (বিশেষ্য)
এর বিশেষণ - নাগরিক।

সূত্র: অভিগম্য অভিধান
৬৪৭.
'ইট' কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. বস্তু-বিশেষ্য
  4. গুণ-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
ব্যক্তিনাম:
- হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম:
- ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা
কালনাম:
- সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান
সৃষ্টিনাম:
- গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৪৮.
"তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।" - এ বাক্যে কোন ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. নাম ক্রিয়া
  3. মিশ্র ক্রিয়া
  4. সংযোগ ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

মিশ্র ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।
যেমন:
ক. বিশেষ্যের উত্তর (পরে): আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। এখন গোল্লায় যাও।
খ. বিশেষণের উত্তর (পরে): তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
গ. ধ্বনাত্মক অব্যয়ের উত্তর (পরে): মাথা ঝিম ঝিম্ করছে। ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।

৬৪৯.
'সাইরেন বেজে উঠল' - বাক্যটিতে কোন ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. মিশ্র
  2. যৌগিক
  3. দ্বিকর্মক
  4. অকর্মক
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
→ ঘটনাটা শুনে রাখ।
→ তিনি বলতে লাগলেন।
→ সাইরেন বেজে উঠল।

অন্যদিকে,
মিশ্র ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, প্রভৃতি ধাতুযোগে
গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে, তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে।
যেমন–
বিশেষ্যের (পরে): আমরা তাজমহল দর্শন করলাম; এখন গোল্লায় যাও।
ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পরে: ঝম্‌ ঝম্‌ করে বৃষ্টি পড়ছে। মাথা ঝিম ঝিম করছে।

দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে ।
যেমন – শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন’ একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
‘কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (‘বই’), আর ‘কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (‘ছাত্রকে’)।

অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমনঃ ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না।
- কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
- প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে।

যেমন:
অকর্মক: সে পড়ছে।
সকর্মক: সে বই পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১ ও ২০১৯)।
৬৫০.
একের বেশি সংখ্যা বুঝাতে যেসকল লগ্নক ব্যবহৃত হয় তাদেরকে কী বলে?
  1. ক) নির্দেশক
  2. খ) বচন
  3. গ) যোজক
  4. ঘ) আবেগ
ব্যাখ্যা

একের বেশি সংখ্যা বুঝাতে যেসকল লগ্নক ব্যবহৃত হয় তাদের কে বচন বলে। 
- যেসকল শব্দের শেষে বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয় না তাদের একবচন শব্দ।
যেসকল শব্দের শেষে বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয় তাদের বহুবচন শব্দ।
'রা' - ছাত্ররা, ধনী
'এরা' - ভাইয়েরা, শিক্ষকেরা।
'গণ; - সদস্যগণ, সচিবগণ, 
'বৃন্দ''- শিক্ষকবৃন্দ, দর্শকবৃন্দ ইত্যাদি
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৬৫১.
'মহাভারতের কথা অমৃত সমান।' বাক্যটি কোন কাল নির্দেশ করছে?
  1. সাধারণ বর্তমান কাল
  2. নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল
  3. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  4. ঘটমান বর্তমান কাল
ব্যাখ্যা

নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
- বস্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যথা -
- সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। (স্বাভাবিকতা)।
- আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই। (অভ্যস্ততা)।

নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
(১) স্থায়ী সত্য প্রকাশে: চার আর তিনে সাত হয়।

(২) ঐতিহাসিক বর্তমান:
- অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন -
- বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।

(৩) কাব্যের ভণিতায়:
- মহাভারতের কথা অমৃত সমান।
- কাশীরাম দাস ভনে শুনে পুণ্যবান।

(৪) অনিশ্চয়তা প্রকাশে: কে জানে দেশে আবার সুদিন আসবে কি না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৫২.
কোনটি যোজকের উদাহরণ?
  1. যেরূপ-সেরূপ
  2. দেখে-শুনে
  3. ভেবে-চিন্তে
  4. এধার-ওধার
ব্যাখ্যা

• যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- তিনি বিদ্বান অথচ সৎ ব্যক্তি নন।
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।  

• যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, এবং, নইলে, যেহেতু, কিংবা, অতএব, যদি, যত-তত, যেমন-তেমন, যেরূপ-সেরূপ, অথচ, তবে, তাই, নতুবা, কিন্তু ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
দেখে-শুনে, ভেবে-চিন্তে এবং এধার-ওধার ক্রিয়াবিশেষণের দৃষ্টান্ত।


উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬৫৩.
তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। - বাক্যটির ঘটনা অতীতের কিন্তু ক্রিয়া কোন কালের?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. সাধারণ ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা
• তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। - বাক্যটির ঘটনা অতীতের কিন্তু ক্রিয়া সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের।

ক্রিয়ার কাল:
- ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে।
- ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার: বর্তমান কাল, অতীত কাল ও ভবিষ্যৎ কাল।

ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ: 
 অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলাে ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ। 

সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল ভবিষ্যৎ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৫৪.
বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ ____যুক্ত।
  1. ক) সন্ধি
  2. খ) বিভক্তি
  3. গ) পদ
  4. ঘ) অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
শব্দে বিভক্তি যুক্ত হলেই তাকে পদ বলা হয়। অর্থাৎ, বিভক্তি যুক্ত শব্দকে পদ বলে। বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ বিভক্তিযুক্ত। যেসব শব্দে বিভক্তি দেখা যায় না সেসব শব্দে শূন্য বিভক্তি থাকে। তাই বাক্যের প্রতিটি শব্দই পদ। পদগুলো প্রধানত দুই প্রকারঃ সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৬৫৫.
নিচের কোনটি ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞার উদাহরণ?
  1. আদেশ করুন জাহাপনা।
  2. তোমরা কাজ করো।
  3. চেষ্টা করো, সবই বুঝতে পারবে।
  4. মিথ্যা কথা বলো না।
ব্যাখ্যা

• ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা:
ভবিষ্যতে কোনো কাজ করার জন্য আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝালে ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা হয়।
যেমন:
- আদেশ: সদা সত্য বলবে।
সম্ভাবনায়: চেষ্টা করো, সবই বুঝতে পারবে
- বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধে: কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)।

অন্যদিকে, 
বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
- তোমরা কাজ করো।
- রোহান লিখুক।
- মিথ্যা কথা বলো না।
- অঙ্কটা বুঝিয়ে দেবেন?
- আমাকে তুমি রক্ষা করো, প্রভু।
- আদেশ করুন জাহাপনা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৬৫৬.
'এই বাড়ি হতাে যদি রাজার বাড়ি।'- কোন কালের উদাহরণ?
  1. ক) নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল
  2. খ) নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  3. গ) পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  4. ঘ) পুরাঘটিত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত অতীত কাল: অতীতে প্রায়ই ঘটতাে এরূপ অর্থে ক্রিয়ার যে, কাল হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে ইতাম, ইত, ইতেন, ইতে যুক্ত হয়।
যেমন- প্রতিদিন সকালে সে গান গাইত।

নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
১. কামনা প্রকাশে: আজ যদি মারিয়া আসতাে, কেমন মজা হতাে।
২. সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি আসতে, তবে ভালােই হতাে।
৩. অসম্ভব কল্পনায়: এই বাড়ি হতাে যদি রাজার বাড়ি

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৭.
কোনটি অনন্বয়ী অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. তাই
  2. অধিকন্তু
  3. আলবত 
  4. কিংবা
ব্যাখ্যা

অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
- নিশ্চয়ই পারব।
- আমি আজ আলবত যাব।

অন্যদিকে,
সমুচ্চয়ী অব্যয়ের উদাহরণ - কিংবা, অধিকন্তু, এবং, তাই

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

৬৫৮.
'৩৪তম অনুষ্ঠান।' - এখানে '৩৪তম' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ক্রমবাচক
  2. পরিমাণবাচক
  3. গুণবাচক
  4. পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
পূরণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বােঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান – এখানে তৃতীয় ও ৩৪তম পূরণবাচক বিশেষণ

অন্যদিকে,
গুণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বােঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- আধা কেজি চাল, অনেক লােক – এখানে আধা কেজি’ ও ‘অনেক পরিমাণবাচক বিশেষণ।

ক্রমবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বােঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – এক টাকা, আট দিন – এখানে ‘এক’ ও ‘আট’ ক্রমবাচক বিশেষণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৫৯.
"যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেবো।"- বাক্যটি কোন যোজক নির্দেশ করেছে?
  1. সাধারণ যোজক
  2. বিকল্প যোজক
  3. বিরোধ যোজক
  4. সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা

• সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
 যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

অন্যদিকে,
• সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন -
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৬৬০.
"আমার দরখাস্তটা পড়ুন।" - কোন অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে?
  1. আদেশ
  2. উপদেশ
  3. প্রার্থনা
  4. অনুরোধ
ব্যাখ্যা

• অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
- যে বাক্য আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অনুজ্ঞা বাক্য বলে।

কিছু অনুজ্ঞার উদাহরণ:
• 'আদেশ' অর্থে - তোমরা এখন যাও, হাতমুখ ধুয়ে পড়তে বসো।
• 'অনুরােধ' অর্থে - অঙ্কটা বুজিয়ে দাও না।
• 'উপদেশ' অর্থে - পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা।
• 'প্রার্থনা' অর্থে- আমার দরখাস্তটা পড়ুন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৬১.
গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. দুঃখ
  2. গমন
  3. স্বাস্থ্য
  4. যৌবন
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'গমন' ভাববাচক/ক্রিয়া বিশেষ্যর উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬৬২.
'এখন গোল্লায় যাও।' এই বাক্যে ক্রিয়াপদটি কোন ধরনের?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  4. ঘ) মিশ্র ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, মার্ প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।
যেমন- আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। এখন গোল্লায় যাও। তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম। মাথা ঝিম্ ঝিম্ করছে। ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৬৩.
’ফোঁটা ফোঁটা’ কোন পদের দ্বৈত রূপ?
  1. ক্রিয়া
  2. অব্যয়
  3. বিশেষণ
  4. বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ফোঁটা (বিশেষ্য পদ),
- এটি তদ্ভব শব্দ।
যার অর্থ: তরল পদাের্থের বিন্দু, তিলক, টিপ, তাসের চিহ্ন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘ফোটা’ শব্দটি বাক্যে ক্রিয়া বিশেষণ ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়।
- এটি দেশি শব্দ।
যার অর্থ:
- বিকশিত বা প্রস্ফুটিত হওয়া,
- উদিত হওয়া,
- প্রকাশিত হওয়া,
- উন্মিলিত হওয়া।

• সুতরাং ’ফোঁটা ফোঁটা’ বিশেষ্য পদের দ্বৈত রূপ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৬৪.
কোনটি নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়?
  1. যখন-তখন
  2. শন শন
  3. অথবা
  4. অধিকন্তু
ব্যাখ্যা
নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়:
- কতকগুলো যুগ্ম শব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত।
যেমন:
- যথা-তথা,
- যখন-তখন,
- যেমন-তেমন,
- যে রূপ- সে রূপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬৬৫.
'আজ মঙ্গলবার'- এখানে 'মঙ্গলবার' কোনবাচক বিশেষ্য পদ?
  1. ক) গুণ-বিশেষ্য
  2. খ) জাতি-বিশেষ্য
  3. গ) নাম-বিশেষ্য
  4. ঘ) ক্রিয়া-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
-প্রশ্নে উল্লেখিত 'মঙ্গলবার' হলো 'নাম-বিশেষ্য' এর অন্তর্গত।

'নাম-বিশেষ্য'- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন-
- ব্যক্তিনাম হাবিব, লতা, অনুরাধা।
- স্থাননাম ঢাকা, বাংলাদেশ, পদ্মা।
- কালনাম সোমাবার, রবিবার, বৈশাখ, রমজান।
- সৃষ্টিনাম গীতাঞ্জলি, মৃত্যুক্ষুধা, ইত্তেফাক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৬৬.
'একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে' - বাক্যটিতে 'না' কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  3. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
লোকটি ধীরে হাঁটে।
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে’, ‘বা’, ‘না’, ‘তো’ প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন -
কি: আমি কি যাব?
যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
বা: কখনো বা দেখা হবে।
না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
তো: মরি তো মরব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৬৭.
কোনটি সাধারণ অনুসর্গ?
  1. বলে
  2. ধরে
  3. থেকে
  4. উপরে
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন-
করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৬৬৮.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. ক) হস্তী
  2. খ) কর্তব্য
  3. গ) জলধি
  4. ঘ) পঙ্কজ
ব্যাখ্যা
• অর্থগত দিক থেকে শব্দ তিন প্রকার‌।
যথা-
- যৌগিক শব্দ,
- রূঢ়ি বা রূঢ় শব্দ
- যোগরূঢ় শব্দ।

রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ।
যেমন: হস্ত + ইন্ = হস্তী, অর্থ- হাত আছে যার;
কিন্তু 'হস্তী' বলতে একটি বিশেষ পশু হাতিকে বােঝায়। 
এরকম : বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ ইত্যাদি।

যৌগিক শব্দ: যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থানুযায়ী নির্ধারিত হয়ে থাকে তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন: গৈ+অক = গায়ক, কৃ+তব্য=কর্তব্য।

যোগরূঢ় শব্দ: সমাসবদ্ধ অথবা একাধিক শব্দ বা ধাতুর দ্বারা নিষ্পন্ন শব্দ যখন কোনো আপেক্ষিক অর্থ না বুঝিয়ে অন্য বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন: 'জলধি, পঙ্কজ’ যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
৬৬৯.
অসমাপিকা ক্রিয়ার প্রকারভেদ নয় কোনটি?
  1. ক) বর্তমান অসমাপিকা ক্রিয়া
  2. খ) ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া
  3. গ) ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া
  4. ঘ) শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন – ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:

ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৭০.
নিম্নের কোনটি অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক) টি, টা, খানা, খানি
  2. খ) প্র, পরা, পরি, নির
  3. গ) শূণ্য, এ, য়, তে
  4. ঘ) বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত
ব্যাখ্যা
যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না। - এই বাক্যে ছাড়া একটি অনুসর্গ।
কোন পর্যন্ত পড়েছ? - এই বাক্যে পর্যন্ত একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৭১.
সব্যয় পদ কত প্রকার?
  1. পাঁচ প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. দুই প্রকার
  4. চার প্রকার
ব্যাখ্যা
পদ:
- বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে।

• পদগুলো প্রধানত দুই প্রকার:
- সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ।

- সব্যয় পদ চার প্রকার:
- বিশেষ্য;
- বিশেষণ;
- সর্বনাম;
-  ক্রিয়া।

• সুতরাং পদমোট পাঁচ প্রকার: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া এবং অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
৬৭২.
কোনটি পারস্পরিক সর্বনাম?
  1. পরস্পর
  2. যারা-তারা
  3. যে-সে
  4. যেমন-তেমন
ব্যাখ্যা
পারস্পরিক সর্বনাম:
- দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন – পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন – যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৭৩.
নিচের কোন উদাহরণ ভাববাচক বিশেষণ নির্দেশ করে?
  1. খুব ভালো ছেলে
  2. ঠান্ডা পানি
  3. সবুজ মাঠ
  4. চলন্ত ট্রেন
ব্যাখ্যা
• 'খুব ভালো ছেলে' এখানে 'খুব' ভাববাচক বিশেষণ নির্দেশ করছে।

• ভাববাচক বিশেষণ: যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- 'খুব ভালো খবর' ও 'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে, 
- 'ঠান্ডা পানি' এখানে 'ঠান্ডা' গুণবাচক বিশেষণ।
- 'সবুজ মাঠ'  এখানে 'সবুজ' বর্ণবাচক বিশেষণ।
- 'চলন্ত ট্রেন' এখানে 'চলন্ত' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৬৭৪.
“রুবেল ভদ্র ছেলে।”- এখানে ‘ভদ্র’ কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. বিশেষ্যের বিশেষণ
  2. সর্বনামের বিশেষণ
  3. ভাববাচক বিশেষণ
  4. ক্রিয়াবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• “রুবেল ভদ্র ছেলে”- এখানে ‘ভদ্র’ শব্দটি ‘রুবেল’ ও ‘ছেলে’ - উভয়েরই গুণ প্রকাশ করছে। 
- বাক্যে ‘ছেলে’ হচ্ছে বিশেষ্য এবং ‘ভদ্র’ তার গুণ নির্দেশ করছে।
- যে বিশেষণ বিশেষ্যের গুণ প্রকাশ করে, তাকে বিশেষ্যের বিশেষণ বলে।
- তাই “রুবেল ভদ্র ছেলে।”- এখানে ‘ভদ্র’ বিশেষ্যের বিশেষণ। 
-------------------------------------------
বিশেষণ:
- বিশেষণ হলো সেই পদ যা বিশেষ্য, সর্বনাম বা ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে।
- যেমন:
- মেধাবী ছেলে (গুণ);
- নীল আকাশ (অবস্থা/রং);
- সুন্দর মেয়ে (গুণ);
- দ্রুত হাঁট (ক্রিয়া);
- তিন/চার (সংখ্যা)।

• বিশেষণ দুই প্রকার:
১. নাম বিশেষণ- বিশেষ্য বা সর্বনামকে বিশেষিত করে, যেমন- 'সুন্দর ফুল' বা 'রূপবান ছেলে'।
২. ভাব বিশেষণ- বিশেষ্য বা সর্বনাম ছাড়া অন্য পদ, যেমন ক্রিয়া বা পুরো বাক্যকে বিশেষিত করে, যেমন- 'আস্তে হাঁটো' বা 'খুব ভালো।

• নামবিশেষণ আবার দুই ভাগে বিভক্ত:
- বিশেষ্যের বিশেষণ: যা বিশেষ্যের গুণ নির্দেশ করে (যেমন—ভদ্র ছেলে)।
- সর্বনামের বিশেষণ: যা সর্বনামের গুণ নির্দেশ করে (যেমন—ওই তুমি, এই আমি)।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। 

৬৭৫.
'বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।' - বাক্যে 'ধরে' কোন অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
  2. ক্রিয়াধর্মী অনুসর্গ
  3. সাধারণ অনুসর্গ
  4. বিশেষ অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।

যেমন:
- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

অন্যদিকে,
সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
- যেমন: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬৭৬.
'ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে'- বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. ক) ঘটমান বর্তমান
  2. খ) পুরাঘটিত বর্তমান
  3. গ) অনুজ্ঞা বর্তমান
  4. ঘ) সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা
- 'ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে'-  বাক্যটি পুরাঘটিত বর্তমান কালের উদাহরণ। 

• পুরাঘটিত বর্তমান:
- যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফল বা প্রভাব এখনও বর্তমান এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।
- আমি অঙ্কটি করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।

উৎস:
১। উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
৬৭৭.
কোন বাক্যটিতে সমধাতুজ কর্ম রয়েছে?
  1. ক) আর কত খেলা খেলবে
  2. খ) আজ খেলা আছে
  3. গ) কাল খেলতে গিয়েছিলাম
  4. ঘ) আমি ঘুম থেকে জেগেছি
ব্যাখ্যা

- বাক্যের ক্রিয়া ও কর্ম পদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ কর্ম বা ধাত্বর্থক কর্মপদ বলে।
- সমধাতুজ কর্মপদ অকর্মক ক্রিয়াকে সকর্মক করে।
যেমনঃ
- ''আর কত খেলা খেলবে” —বাক্যে কর্মপদ 'খেলা' এবং ক্রিয়াপদ 'খেলবে' একই ধাতু 'খেল' থেকে গঠিত হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

৬৭৮.
কোনটি পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ?
  1. স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।
  2. তুমি কি তার পরীক্ষা নিয়েছিলে?
  3. তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
  4. রিতা ঘুমাচ্ছিল।
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আমরা মসজিদে পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
- তুমি কি তার পরীক্ষা নিয়েছিলে?

অন্যদিকে,
→ ঘটমান অতীত - রিতা ঘুমাচ্ছিল।
→ সাধারণ অতীত - তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
→ নিত্যবৃত্ত অতীত - স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬৭৯.
'তুমি যদি যেতে, তবে ভালােই হতাে।' - বাক্যটি কোন কালের দৃষ্টান্ত?
  1. সাধারণ অতীত কাল
  2. ঘটমান অতীত কাল
  3. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  4. পুরাঘটিত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।
- আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।

নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার।
১. কামনা প্রকাশে: আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতাে।
২. অসম্ভব কল্পনায়: ‘সাতাশ হতাে যদি একশ সাতাশ।
৩. সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালােই হতাে।

অন্যদিকে,
সাধারণ অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল সান্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৮০.
জাতিবাচক বিশেষ্য নয় কোনটি?
  1. মানুষ
  2. পর্বত
  3. ইংরেজ
  4. জনতা
ব্যাখ্যা

• জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

অন্যদিক,
---------------------
• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বুঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন: মিছিল, সমাজ, সভা, জনতা, বহর, দল, সমিতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৬৮১.
'বিপদ যখন আসে, তখন এমনি করেই আসে।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. ঘটমান বর্তমান কাল
  2.  সাধারণ অতীত কাল
  3. ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল
  4. সাধারণ বর্তমান কাল
ব্যাখ্যা
• সাধারণ বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন-
- সে ভাত খায়।
- আমি বাড়ি যাই।

ক. নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল: স্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত
বর্তমান কাল বলে। যথা-
- সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। (স্বাভাবিকতা)
- আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই। (অভ্যস্ততা)

নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ-
• স্থায়ী সত্য প্রকাশে: চার আর তিনে সাত হয়।

• ঐতিহাসিক বর্তমান: অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।

• কাব্যের ভণিতায়: মহাভারতের কথা অমৃত সমান। কাশীরাম দাস ভনে শুনে পুণ্যবান।

• অনিশ্চয়তা প্রকাশে: কে জানে দেশে আবার সুদিন আসবে কি না।

• যদি', 'যখন', 'যেন' প্রভৃতি শব্দের প্রয়োগে অতীত ও ভবিষ্যৎ কাল জ্ঞাপনের জন্য সাধারণ বর্তমান কালের ব্যবহার হয়। যেমন-
- বৃষ্টি যদি আসে, আমি বাড়ি চলে যাব।
- সকলেই যেন সভায় হাজির থাকে।
- বিপদ যখন আসে, তখন এমনি করেই আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬৮২.
নিচের কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. বুদ্ধিমান
  2. বুদ্ধিমত্তা
  3. বুদ্ধি
  4. নির্বুদ্ধিতা
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধিমান (বিশেষণ পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।


অন্যদিকে, 
বুদ্ধিমত্তা, বুদ্ধি ও নির্বুদ্ধিতা বিশেষ্য পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬৮৩.
'মরতে মরতে' কিসের দৃষ্টান্ত?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়াবিশেষণ
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মিলি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
- বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৮৪.
চণ্ডীদাস বলেন, 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'- বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত কাল
  2. পুরাঘটিত অতীত কাল
  3. সাধারণ বর্তমান কাল
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• সাধারণ বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সে ভাত খায়। আমি বাড়ি যাই।

সাধারণ বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ-
(১) অনুমতি প্রার্থনায় (ভবিষ্যৎ কালের অর্থে): এখন তবে আসি।
(২) প্রাচীন লেখকের উদ্ধৃতি দিতে (অতীত কালের অর্থে): চণ্ডীদাস বলেন, 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'
(৩) বর্ণিত বিষয় প্রত্যক্ষীভূত করতে (অতীতের স্থলে): আমি দেখেছি, বাচ্চাটি রোজ রাতে কাঁদে।
(৪) 'নেই', 'নাই' বা 'নি' শব্দযোগে অতীত কালের ক্রিয়ায় তিনি গতকাল হাটে যাননি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৬৮৫.
সম্ভাবনা ও কল্পনা প্রকাশের ক্ষেত্রে কোন ধরনের অতীতকাল ব্যবহৃত হয়?
  1. সাধারণ অতীতকাল
  2. নিত্যবৃত্ত অতীতকাল
  3. ঘটমান অতীতকাল
  4. পুরাঘটিত অতীতকাল
ব্যাখ্যা

১. সাধারণ অতীতকাল:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- তিনি বাড়ি গেলেন,
- রফি এসেছিল ইত্যাদি।

২. নিত্যবৃত্ত অতীতকাল:
অতীতকালে কোনো ক্রিয়া সব সময় বা নিয়মিতভাবে ঘটতো এমন বোঝালে কিংবা অভ্যাসগত কোনো কাজ বোঝালে তাকে 'নিত্যবৃত্ত অতীতকাল' বলে।
যেমন:
- আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।

নিত্যবৃত্ত অতীত কালের প্রয়োগ:
ইচ্ছা প্রকাশে: আজ যদি ছুটি হতো, কেমন মজা হতো।
কল্পনায়: "সাতাশ হতো যদি এক সাতাশ'।
সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালই হতো।
ক্রিয়া সংঘটনের অপূর্ণতাজনিত কারণ বোঝাতে: গাড়িটা কিনতাম, কিন্তু দাম বেশি বলে কেনা হল না ।
ইচ্ছার অপূর্ণতাজনিত খেদ প্রকাশে: যদি তোমার মতো গান গাইতে পারতাম।
নিশ্চয়তার ভাব প্রকাশে ভবিষ্যৎকালের দ্যোতনায়: এ ঘটনা আজ হোক কাল হোক ঘটতই।

৩. ঘটমান অতীতকাল:
অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে তখনো কাজটি সমাপ্ত হয়নি- ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- মা তখন শিশুকে ঘুম পাড়াচ্ছিলেন।
- কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- মা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

৪. পুরাঘটিত অতীতকাল:
যে ক্রিয়া অতীতে বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাধটিত অতীত কাল বলে। যেমন:
- সেবার তোমাকে সুস্থই দেখেছিলাম।

পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ:
অতীতে সংঘটিত ঘটনার নিশ্চিত বর্ণনায়: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ মারাঠা সৈন্য মারা গিয়েছিল।
অতীতে সংঘটিত ঘটনার পরম্পরা বোঝাতে শেষ ক্রিয়াপদে পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ হয়: বৃষ্টি শেষ হবার পূর্বেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।

৬৮৬.
‘আমার এ দরখাস্তটা পড়ুন’- এ বাক্যে অনুজ্ঞার কোন ভাব প্রকাশিত হয়?
  1. অনুরোধ
  2. প্রার্থনা
  3. উপদেশ
  4. আদেশ
ব্যাখ্যা
• বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
- আদেশ : কাজটি করে ফেল। তোমরা এখন যাও।
- উপদেশ : সত্য গোপন করো না।
- অনুরোধ : অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
- প্রার্থনা : আমার এ দরখাস্তটা পড়ুন।

• ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:

- আদেশ : সদা সত্য বলবে।
- সম্ভাবনায় : চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
- বিধান অর্থে : রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধে : কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৮৭.
নিচের কোনটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গ?
  1. ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
  2. মাথার উপরে নীল আকাশ।
  3. কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  4. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
ব্যাখ্যা

• অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: সাধারণ অনুসর্গ ও ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
- বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
- ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৬৮৮.
নিচের কোনটি অনুসর্গ?
  1. খাস
  2. পরি
  3. সহ
  4. অনু
ব্যাখ্যা

- প্রদত্ত অপশনগুলোতে অনু ও পরি সংস্কৃত উপসর্গ।
- খাস একটি আরবি উপসর্গ।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অনুসর্গ হলোঃ প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হতে, থেকে, চেয়ে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি। অপরদিকে খাস আরবি উপসর্গ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৮৯.
"কল কল" কোন প্রকার অব্যয়?
  1. অনুসর্গ অব্যয়
  2. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা
অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।

যথা:
বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়।
বৃষ্টির তুমুল শব্দ – ঝম ঝম। 
স্রোতের ধ্বনি – কল কল। 
বাতাসের গতি – শন শন।
শুষ্ক পাতার শব্দ – মর মর। 
নূপুরের আওয়াজ – রুম ঝুম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬৯০.
কর্মপ্রবচনীয় বলা হয় কোনটিকে?
  1. উপসর্গ
  2. নির্দেশক
  3. অনুসর্গ
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ:
- বাংলায় ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে। 
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে। 
যেমন: 
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না। 
[এ বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।]

অনুসর্গকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
- সাধারণ অনুসর্গ, 
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৬৯১.
"ঋণের বোঝা ভারী হয়ে উঠছে।" - এখানে 'উঠ্‌' ধাতুটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আকস্মিকতা
  2. ক্রমান্বয়তা
  3. সম্ভাবনা
  4. নিরন্তরতা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) ক্রমান্বয়তা।

------------------
• ‘উঠ্‌’ ধাতুর অর্থ:
‘উঠ্‌’ ধাতুটি এখানে ‘হয়ে উঠছে’ রূপে একটি ক্রমান্বয়ী বা ধীরে ধীরে ঘটমান প্রক্রিয়া বোঝাচ্ছে। এটি কোনো অবস্থার দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়া বা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ প্রকাশ করে। "ঋণের বোঝা ভারী হয়ে উঠছে" - এই ক্ষেত্রে, ঋণের বোঝা ক্রমশ ভারী হচ্ছে, যা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া- ক্রমান্বয়তা বোঝাচ্ছে।

"উঠ্‌" ধাতুর বিভিন্ন ব্যবহার:
• অভ্যাস অর্থে - শুধু শুধু তিনি রেগে উঠেন।
• আকস্মিকতা অর্থে - সে হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠল।
• সম্ভাবনা অর্থে - আমার আর থাকা হয়ে উঠল না।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৯২.
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে কী বলে?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  2. সাধারণ অতীত কাল
  3. ঘটমান অতীত কাল
  4. পুরাঘটিত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত অতীত:
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীতকাল বলে।
যেমন
- খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
-------------------- 
অন্যদিকে, 
• সাধারণ অতীত:
অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন –
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল
 
• ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন -
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।
 
• পুরাঘটিত বর্তমান কাল: 
ক্রিয়া পুর্বে শেষ হলে এবং তার ফল এখনো বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।
যেমন: এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি, এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি। 
 
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি , নবম - দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)। 
 
৬৯৩.
‘নৌকার ছইয়ে নীল মাছরাঙাটি বসে আছে।’ - বাক্যে অলগ্নক পদ কোনটি?
  1. মাছরাঙাটি
  2. নীল
  3. বচন
  4. নৌকার
ব্যাখ্যা
- 'নৌকার ছইয়ে নীল মাছরাঙাটি বসে আছে' - বাক্যে 'নীল' অলগ্নক পদ।
- এবং 'নৌকার', ছইয়ে, মাছরাঙাটি' = সলগ্নক পদ।

সলগ্নক পদ:
• বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক পদ বলে। যেমন -
'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'
- এ বাক্যে 'ছেলেরা' ও 'খেলে' সংলগ্নক পদ।

অলগ্নক পদ:
• যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলোকে অলগ্নক পদ বলে। যেমন -
'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'
- এ বাক্যে 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৯৪.
যোজক কাকে যুক্ত করে?
  1. বাক্য
  2. বর্গ
  3. পদ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• যোজক: 
- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে।
- যেমন: এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।
- বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

- সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।

- বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন- লাল বা নীল কলমটা আনো।

- বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।

- কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।

- সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৬৯৫.
'আপনি সাহায্য করেছেন বলেই কাজটা হলো।' - বাক্যে 'বলেই' শব্দটি কোন ধরনের অনুসর্গ?
  1. সংস্কৃত অনুসর্গ
  2. বিবির্তিত অনুসর্গ
  3. ফারসি অনুসর্গ
  4. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
ব্যুৎপত্তি অনুসারে অনুসর্গ গুলিকে দুটিভাগে ভাগ করা যায়- 
- নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ

নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ কে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- সংস্কৃত অনুসর্গ
- বিবির্তিত অনুসর্গ
- ফারসি অনুসর্গ

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া থেকে তৈরি হয় তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।
ক্রিয়াজাত অনুসর্গের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: করে, থেকে, দিয়ে, ধরে হতে ইত্যাদি।
ক্রিয়াজাত কিছু অনুসর্গের প্রয়োগ- উদাহরণ:
- করে : কাপড়্গুলো ভালোকরে পরিষ্কার করো। 
- থেকে: আমার কথ শুনে সে আকাশ থেকে আকাশ থেকে পড়লো।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা উচিত। 
- বলে: আপনি সাহায্য করেছেন বলেই কাজটা হলো।


উৎস:
প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি অভিধান।
৬৯৬.
কোনটি সামীপ্যবাচক সর্বনাম?
  1. ইহারা
  2. ঐসব
  3. সমুদয়
  4. যাহারা
ব্যাখ্যা
• সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

(১) ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
(২) আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
(৩) সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
(৪) দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব
(৫) সাকুল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
(৬) প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
(৭) অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
(৮) ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
(৯) সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
(১০) অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬৯৭.
কোনটি গুণবাচক বিশেষ্য?
  1. গমন
  2. দর্শন
  3. যৌবন
  4. শয়ন
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা,
- তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য,
- তিক্ত দ্রব্যের গুণ-তিক্ততা ইত্যাদি।

তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
দর্শন, গমন ও শয়ন- ভাববাচক/ক্রিয়া বিশেষ্যর উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬৯৮.
নিচের কোনটি বিশেষ্য?
  1. লাবণ্য
  2. উৎকৃষ্ট
  3. সুন্দর
  4. একত্র
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'লাবণ্য' - বিশেষ্য শব্দ।

• 'লাবণ্য' শব্দের অর্থ:
- চাকচিক্য;
- সৌন্দর্য;
- কান্তি;
- শ্রী;
- শোভা;
- লাবনি। 
-----------------
অন্যদিকে,
উৎকৃষ্ট' শব্দটি বিশেষণ; যার অর্থ: উত্তম, প্রকৃষ্ট।
সুন্দর - শব্দটি বিশেষণ । 
একত্র - শব্দটি বিশেষণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৯৯.
কৃদন্ত বিশেষণের উদাহরণ কোনটি?
  1. জাতীয় সম্পদ
  2. স্বীয় সম্পত্তি
  3. নৈতিক বল
  4. হৃত সম্পত্তি
ব্যাখ্যা
• কৃদন্ত বিশেষণের উদাহরণ - হৃত সম্পত্তি।

বিভিন্নভাবে বিশেষণ গঠনের পদ্ধতি:


ক. ক্রিয়াজাত: হারানো সম্পত্তি, খাবার পানি, অনাগত দিন।
খ. অব্যয়জাত: আচ্ছা মানুষ, উপরি পাওনা, হঠাৎ বড়লোক।
গ. সর্বনাম জাত: কবেকার কথা, কোথাকার কে, স্বীয় সম্পত্তি
ঘ. সমাসসিদ্ধ: বেকার, নিয়ম-বিরুদ্ধ, জ্ঞানহারা, চৌচালা ঘর।
ঙ. বীপ্সামূলক: হাসিহাসি মুখ, কাঁদকাঁদ চেহারা, ডুবুডুবু নৌকা।
চ. অনুকার অব্যয়জাত: কনকনে শীত, শনশনে হাওয়া, ধিকিধিকি আগুন, টসটসে ফল, তকতকে মেঝে।
ছ. কৃদন্ত: কৃতী সন্তান, জানাশোনা লোক, পায়ে-চলা পথ, হৃত সম্পত্তি, অতীত কাল
জ. তদ্ধিতান্ত: জাতীয় সম্পদ, নৈতিক বল, মেঠো পথ।
ঝ. উপসর্গযুক্ত: নিখুঁত কাজ, অপহৃত সম্পদ, নির্জলা মিথ্যে।
ঞ. বিদেশি: নাস্তানাবুদ অবস্থা, লাওয়ারিশ মাল, লাখেরাজ সম্পত্তি, দরপত্তনি তালুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
৭০০.
যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ বোঝায় তাকে কী বলে?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. অনুজ্ঞা বর্তমান
  4. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা বর্তমান:
- যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে।
যেমন, 
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
- সকলের মঙ্গল হোক।

অন্যদিকে,
অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে। 
যেমন -
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- নজরুল, সময়মতো খেয়ো।
- ভালভাবে পৌঁছে যেয়ো।

• সাধারণ বর্তমান:
যে ক্রিয়া বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে। যেমন -
- আমি স্কুলে যাই।
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।

• পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে। 
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে। 
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।