বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা / ৩১ · ৪০১৫০০ / ৩,০২৪

৪০১.
কোনটি অনন্বয়ী অব্যয়?
  1. অথবা
  2. নিশ্চয়ই
  3. অধিকন্তু
  4. নয়তো
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
- নিশ্চয়ই পারব।
- আমি আজ আলবত যাব।

অন্যদিকে,
- সমুচ্চয়ী অব্যয়ের উদাহরণ - নয়তো, অধিকন্তু, অথবা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪০২.
Q. 01 - 16:Choose the correct answer.
১) সাধুভাষা থেকে চলিত বাংলায় লিখতে কোন পদযুগলের পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) বিশেষ্য ও বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণ ও ক্রিয়া
  3. গ) বিশেষ্য ও সর্বনাম
  4. ঘ) সর্বনাম ও ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।
সুতরাং, এই দুটি পদের ভিন্নতার জন্যই সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯ ]
৪০৩.
নিচের কোনটিতে মিশ্র ক্রিয়া আছে?
  1. ক) শিক্ষক ছাত্রকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
  2. খ) ছেলেটি ঝিমাচ্ছে
  3. গ) মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
  4. ঘ) আমর মাথা ভনভন করছে।
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে র্ক, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, র্ধ, র্মা প্রভৃতি ধাতুযোগ যে ক্রিয়া সৃষ্টি হয় তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে।
যেমন : 
বিশেষ্যের পর: আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। 
বিশেষণের পর: তোমাকে দেখে প্রীত হলাম। 
ধ্বনাত্মক অব্যয়ের পর: মাথা ঝিমঝিম করছে

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৪০৪.
'আমি দেখেছি, বাচ্চাটি রোজ রাতে কাঁদে।' - বাক্যটি কোন বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. অনুজ্ঞা বর্তমান
  4. সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা

সাধারণ বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সে ভাত খায়।
- আমি বাড়ি যাই।

সাধারণ বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
(১) অনুমতি প্রার্থনায় (ভবিষ্যৎ কালের অর্থে): এখন তবে আসি।
(২) প্রাচীন লেখকের উদ্ধৃতি দিতে (অতীত কালের অর্থে): চণ্ডীদাস বলেন, 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'
(৩) বর্ণিত বিষয় প্রত্যক্ষীভূত করতে (অতীতের স্থলে): আমি দেখেছি, বাচ্চাটি রোজ রাতে কাঁদে।
( ৪) 'নেই', 'নাই' বা 'নি' শব্দযোগে অতীত কালের ক্রিয়ায়: তিনি গতকাল হাটে যাননি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪০৫.
"যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।" - বাক্যটিতে ব্যবহৃত কোন ধরনের যোজক রয়েছে?
  1. বিকল্প
  2. সাধারণ
  3. বিরোধ
  4. সাপেক্ষ
ব্যাখ্যা
"যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।" - বাক্যটিতে ব্যবহৃত সাপেক্ষ যোজক রয়েছে।
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
• উদাহরণ
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
• উদাহরণ
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
• উদাহরণ
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
• উদাহরণ 
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
৪০৬.
অনুসর্গ নয় কোনটি?
  1. পর্যন্ত
  2. সম্মুখে
  3. আস্তে
  4. বরাবর
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ নয়- আস্তে। 

• আস্তে (ক্রিয়া বিশেষণ),
এটি ফারসি শব্দ। 
অর্থ:
- লঘুপদে ও ধীরে (আস্তে চলা),
- নিঃশব্দে।

----------------
• অনুসর্গ:

যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'আস্তে' ক্রিয়া বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪০৭.
একটি বাক্যের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অংশ কোনটি?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াপদ:
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে পুরুষ অনুযায়ী কালসূচক ক্রিয়াবিভক্তি যোগ করে ক্রিয়াপদ গঠন করতে হয়।
- ক্রিয়াপদ একটি বাক্যের অপরিহার্য অংশ, এটা ছাড়া মনের ভাব সম্পূর্ণরুপে প্রকাশ করা যায় না।
তবে, কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য থাকতে পারে৷ যেমন- ইনি আমার ভাই (হন)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
৪০৮.
‘গান করা’ - কী ধরনের ক্রিয়া?
  1. যৌগিক
  2. সংযোগ
  3. নাম
  4. সরল
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি শব্দ যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া হয় তাকে সংযোগ ক্রিয়া বলে।
যেমন :
- গরম করা, ঠনঠন করা, সাঁতার কাটা, বড়ো হওয়া, পকেট মারা ইত্যাদি।
- নবম-দশম শ্রেণির পুরনো ব্যাকরণের মিশ্র ক্রিয়াই হলো নতুন ব্যাকরণে সংযোগ ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০২১ সংস্করণ)
৪০৯.
কোন কোন পদের বচনভেদ হয়?
  1. ক) বিশেষ্য ও সর্বনাম
  2. খ) বিশেষ্য ও অব্যয়
  3. গ) বিশেষণ ও সর্বনাম
  4. ঘ) বিশেষ্য ও বিশেষণ
ব্যাখ্যা

কেবল বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বচনভেদ হয়।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৪১০.
রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়। - বাক্যে কোন ক্রিয়ার প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. নামক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়

অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যক্ত হয়।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো।

সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- ছেলেরা মাঠে খেলছে

নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত্য করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪১১.
'রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।' এখানে 'খাওয়ায়' কোন ক্রিয়া?
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. নামক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
 যেমন :
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন;
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
[এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।]

অন্যদিকে,
• সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
 যেমন:
- সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও খেলছে - এগুলো সরল ক্রিয়া।

• নামক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা -আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
 যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ‘চমকানো’।

• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৪১২.
কোনটি বিশেষ্য পদের উদাহরণ?
  1. চৌকশ
  2. বুদ্ধিমান
  3. সরলতা
  4. চতুর
ব্যাখ্যা
• ‘সরলতা’ গুণবাচক বিশেষ্য পদের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• চৌকশ, বুদ্ধিমান ও চতুর বিশেষণ পদের উদাহরণ।

-------------------
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪১৩.
'বৃষ্টি আমাদের বড়ই উপকার করেছে' কোন কালের উদাহরণ?
  1. ক) সাধারণ বর্তমান কাল
  2. খ) ঘটমান বর্তমান কাল
  3. গ) পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  4. ঘ) বর্তমান অনুজ্ঞা
ব্যাখ্যা
'বৃষ্টি আমাদের বড়ই উপকার করেছে'- 'পুরাঘটিত বর্তমান' কালের উদাহরণ।

বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া দ্বারা বর্তমানের কোনো কাজ করা, অভ্যাস বা চিরসত্য বোঝায় তাকে বর্তমান কাল বলে।
বর্তমান কালের চারটি রূপ।
যথা:
১. সাধারণ বর্তমান কাল।
২. ঘটমান বর্তমান কাল।
৩. পুরাঘটিত বর্তমান কাল।
৪. বর্তমান অনুজ্ঞা।

সাধারণ বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তৃণা স্কুলে যায়।
- বর্ণ বই পড়ে।

ঘটমান বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়ার কাল শেষ হয়নি, এখন চলছে এরূপ অর্থ বোঝালে ঘটমান বর্তমান হয়।
যেমন:
- ছন্দা গান গাইছে।
- রাফিন ও রিজন বল খেলছে।

পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।

বর্তমান অনুজ্ঞা:
বর্তমানে কোনো ক্রিয়া সম্পাদনের আদেশ, উপদেশ, আশীবার্দ, অভিশাপ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝানোর জন্য বর্তমান অনুজ্ঞা ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সদা সত্য বলো।
- আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করুন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪১৪.
আদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ কোনটি?
  1. মন দিয়ে পড়।
  2. মিথ্যা বলবে না।
  3. ছাতাটা দিন তো ভাই।
  4. চুপ কর।
ব্যাখ্যা
⇒ অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
• বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড়।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪১৫.
'ছি ছি, তুমি এত নীচ!'- এ বাক্যে 'ছি ছি' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. পদান্বয়ী অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. ধ্বন্যাত্মক অব্যয়
ব্যাখ্যা
অব্যয় পদ: 
• ন ব্যয় = অব্যয়।
• যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
• অব্যয় শব্দের সাথে কোনো বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলোর একবচন বা বহুবচন হয় না এবং সেগুলোর স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।
• যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বদ্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।

♣ অব্যয়ের প্রকারভেদ:   
• অব্যয় প্রধানত চার প্রকার; 
১. সমুচ্চয়ী,
২. অনন্বয়ী,
৩. অনুসর্গ বা পদান্বয়ী, 
৪. অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়। 

♠ অনন্বয়ী অব্যয়: 
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
- যেমন: 
• উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
• স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে: হ্যাঁ, আমি যাব। না, আমি যাব না।
• সম্মতি প্রকাশে: আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব। 
• অনুমোদনবাচকতায়: আপনি যখন বলছেন, বেশ তো আমি যাব। 
• সমর্থনসূচক জবাবে: আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে।
• যন্ত্রণা প্রকাশে: উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে। নাঃ! এ কষ্ট অসহ্য। 

• ঘৃণা বা বিরক্তি প্রকাশে: ছি ছি, তুমি এত নীচ!
কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।   

• সম্বোধনে: 'ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।' 
• সম্ভাবনায়: ‘সংশয়ে সংকল্প সদা টলে; পাছে লোকে কিছু বলে। 

• বাক্যালংকার অব্যয় :
- কয়েকটি অব্যয় শব্দ নিরর্থকভাবে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের শোভাবর্ধন করে, এদের বাক্যালংকার অব্যয় বলে। যেমন-
১. কত না হারানো স্মৃতি জাগে আজও মনে।  
২. ‘হায়রে ভাগ্য, হায়রে লজ্জা, কোথায় সভা, কোথায় সজ্জা।’ 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।   
৪১৬.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. ক) আবশ্যক দ্রব্যাদি সঙ্গে আনবেন
  2. খ) উৎপন্ন বৃদ্ধির জন্য কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন
  3. গ) সে সভায় উপস্থিত ছিলেন
  4. ঘ) মাদকাশক্তি ভাল নয়
ব্যাখ্যা

আবশ্যক দ্রব্যাদি সঙ্গে আনবেন।এটি একটি শুদ্ধ বাক্যের উদাহরণ।
প্রশ্নের অন্যান্য বাক্যের শুদ্ধরূপঃ
- উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন
- তিনি সভায় উপস্থিত ছিলেন।
- মাদকাসক্তি ভাল নয়।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৪১৭.
‘ঘিয়ের চেয়ে দুধ বেশি উপকারী।’ এই বাক্যে ‘বেশি’ হল-
  1. বাক্যের বিশেষণ
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. বিশেষণীয় বিশেষণ
  4. বিশেষ্যের বিশেষণ
ব্যাখ্যা

যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যথা- সামান্য একটু দুধ দাও। রকেট অতি দ্রুত চলে। ঘিয়ের চেয়ে দুধ বেশি উপকারী।
(বাংলা শব্দে দুটি বস্তুর মধ্যে অতিশায়নে জোর দিতে হলে মূল বিশেষণের আগে অনেক, অধিক, বেশি, অল্প, কম, অধিকতর প্রভৃতি বিশেষণীয় বিশেষণ যোগ করতে হয়।)
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]

৪১৮.
নিচের কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. চিরন্তন
  2. গতকল্য 
  3. রাজ্য
  4. গতিবিদ্যা
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ:
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন- দুঃসাহসী, চিরন্তন, প্রস্তুত।

-------------------
• বিশেষ্য পদ:
কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন- গতিবিদ্যা, গতকল্য, অভিমুখিতা, মানুষ, রাজ্য, দেশ, মঙ্গলগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪১৯.
'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।' - এখানে 'বেশ' কোন বিশেষণ?
  1. গুণবাচক বিশেষণ
  2. ভাববাচক বিশেষণ
  3. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।

যেমন:
- খুব ভালো খরব।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
- এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪২০.
মেঘলা আকাশ আমার ভালো লাগে। এখানে মেঘলা কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা

মেঘলা শব্দটি আকাশকে বিশেষিত করেছে বলে এটি বিশেষণ।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৪২১.
'দিকে দিকে আগুন জ্বলছে।' ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ বর্তমান কাল
  2. ঘটমান বর্তমান কাল
  3. ঘটমান অতীত কাল
  4. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
ব্যাখ্যা
• বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া দ্বারা বর্তমানের কোনো কাজ করা, অভ্যাস বা চিরসত্য বোঝায় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কালের চারটি রূপ। যথা:
১. সাধারণ বর্তমান কাল।
২. ঘটমান বর্তমান কাল।
৩. পুরাঘটিত বর্তমান কাল।
৪. বর্তমান অনুজ্ঞা।

• সাধারণ বর্তমান কাল: যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তৃণা স্কুলে যায়।
- বর্ণ বই পড়ে।

• ঘটমান বর্তমান কাল: যে ক্রিয়ার কাল শেষ হয়নি, এখনও চলছে এরূপ অর্থ বোঝালে ঘটমান বর্তমান হয়।
যেমন:
- ছন্দা গান গাইছে।
- দিকে দিকে আগুন জ্বলছে।
- রাফিন ও রিজন বল খেলছে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অর্থে ঘটমান বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- চিন্তা করো না, কালই আসছি।

• পুরাঘটিত বর্তমান কাল: যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।

• বর্তমান অনুজ্ঞা: বর্তমানে কোনো ক্রিয়া সম্পাদনের আদেশ, উপদেশ, আশীবার্দ, অভিশাপ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝানোর জন্য বর্তমান অনুজ্ঞা ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সকলের মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য বলো।
- আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করুন।
- আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দান করুক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪২২.
'সম্ভবত আগামীকাল পরীক্ষার ফল বের হয়ে থাকবে।' - এটি কোন ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত
  2. ঘটমান
  3. সাধারণ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া সম্ভবত ঘটে গিয়েছে এবং সেটি বোঝাতে সাধারণ ভবিষ্যৎ কালবোধক শব্দ ব্যবহার করা হয়, এমন হলে তার কালকে পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল বলে।

যেমন:
তুমি হয়তো আমাকে এ কথা বলে থাকবে।
সম্ভবত আগামীকাল পরীক্ষার ফল বের হয়ে থাকবে।
কাঞ্চন বোধহয় কঠিন অঙ্কটা বুঝে থাকবে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪২৩.
'উপমা' শব্দের বিশেষণ কোনটি?
  1. ক) উপমান
  2. খ) উপমিতি
  3. গ) উপযাচক
  4. ঘ) উপমিত
ব্যাখ্যা
'উপমা' শব্দের বিশেষণ = 'উপমিত'

• উপমা (বিশেষ্য) 
অর্থ: 
- তুলনা, সাদৃশ্য 
- একই গুন বিশিষ্টদুটি ভিন্ন বস্তুর সাদৃশ্য কল্পিত হয় এরূপ অর্থালঙ্কার। 

• উপমিত (বিশেষণ) 
অর্থ: তুলনা করা হয়েছে এমন, তুলিত। 

অন্যদিকে, 
উপমান, উপমিতি ও উপযাচক = বিশেষ্য। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪২৪.
"অনেক্ষণ ধরে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন-
- অনেক্ষণ ধরে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
গতকাল তিনি এসেছেন। 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
৪২৫.
'আমি পরীক্ষায় পাস করেছি।' বাক্যটি কোন কালের?
  1. পুরাঘটিত অতীত
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
ব্যাখ্যা
• 'আমি পরীক্ষায় পাস করেছি।'  বাক্যটি পুরাঘটিত বর্তমান কালের উদাহরণ।

• পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
- ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলে এবং তার ফল এখনও বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪২৬.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. মধু
  2. মধুময়
  3. মধুরতা
  4. মাধুরী
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ - মধুময়
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- মধুপূর্ণ, মধুমাখা, সুমধুর।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - মাধুরী, মধু, মধুরতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪২৭.
'আমি তাকে চা খেতে দেখেছিলাম।' কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত অতীত
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. সাধারণ অতীত
ব্যাখ্যা

• পুরাঘটিত অতীত:
- যে ক্রিয়া অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা রাজশাহী গিয়েছিলাম।
- তুমি কি তার পরীক্ষা নিয়েছিলে?
- আমি তাকে চা খেতে দেখেছিলাম।

অন্যদিকে,
নিত্যবৃত্ত অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীতে প্রায়ই ঘটত এমন বোঝায়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- বাবা প্রতিদিন বাজার করতেন।
- স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।
- ছুটিতে প্রতি বছর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৪২৮.
কোন শব্দদ্বয় অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. আপন, তুমি
  2. বলে, কয়েক
  3. অবধি, কাছে
  4. জোর, আস্তে
ব্যাখ্যা
• অবধি, কাছে অনুসর্গের উদাহরণ

• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'আপন' বিশেষ্য  ও বিশেষণ উভয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- 'তুমি' সর্বনাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- 'বলে' অব্যয় ক্রিয়া ও ক্রিয়া বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- 'জোর' বিশেষ্য  ও বিশেষণ উভয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- 'আস্তে'  ক্রিয়া বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৪২৯.
‘মরি মরি, কী সুন্দর প্রভাতের রূপ।’ - এখানে অনন্বয়ী অব্যয় কী প্রকাশ করছে?
  1. উচ্ছ্বাস
  2. সম্মতি
  3. বিরক্তি
  4. যন্ত্রণা
ব্যাখ্যা
অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
• কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না' - বিরক্তি প্রকাশে।
মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ - উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
• হ্যাঁ, আমি যাব না। না, আমি যাব না। - স্বীকৃতি জ্ঞাপনে।
• আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব - সম্মতি প্রকাশে।
• উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে- যন্ত্রণা প্রকাশে।
• 'ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে - সম্বোধনে।
• ছি ছি, তুমি এত নীচ! - ঘৃণা বা বিরক্তি প্রকাশে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০১৯)।
৪৩০.
নিচের কোনটি অবস্থাবাচক বিশেষণ?
  1. ক) নীল আকাশ
  2. খ) দক্ষ কারিগর
  3. গ) তাজা মাছ
  4. ঘ) মেটে কলসি
ব্যাখ্যা
তাজা মাছ- অবস্থাবাচক বিশেষণ। 

নাম বিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। 
রূপবাচক বিশেষণ: নীল আকাশ 
গুণবাচক বিশেষণ: দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া
অবস্থাবাচক বিশেষণ- তাজা মাছ 
উপাদানবাচক বিশেষণ- মেটে কলসি, বেলে মাটি 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 
৪৩১.
বাক্যের আবশ্যিক পদ কোনটি?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিষেষণ
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যকরণের নিয়ম অনুসারে ক্রিয়াপদ ভিন্ন কোন বাংলা বাক্য গঠিত হয় না। প্রকাশ না থাকলেও উহ্য অবস্থায় ক্রিয়াপদ বাক্যে থাকে বলে একে আবশ্যিক পদ বলে।
যেমন: রাম ও রহিম বন্ধু। এখানে ‘হয়’ উহ্য।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৩২.
কোন অব্যয় কে পদান্বয়ী অব্যয় ও বলা হয়?
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. অনুসর্গ অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা

যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, এদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
যেমনঃ ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
অনুসর্গ অব্যয়কে 'পদান্বয়ী' অব্যয় ও বলে।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি

৪৩৩.
'শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার।' - বাক্যে 'শীতের' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য পদ
  2. বিশেষণ পদ
  3. সর্বনাম পদ
  4. ক্রিয়া পদ
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য পদ:
- কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে।
- বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।

• বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন -
শীত:
- বিশেষণ রূপে: শীতকালে কুয়াশা পড়ে।
- বিশেষ্য রূপে: শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩৪.
'সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে।' - এখানে 'জন্য' কোন ধরনের অব্যয়? 
  1. অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. পদান্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• 'সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে।' - এখানে 'জন্য' পদান্বয়ী অব্যয়।

• অনুসর্গ/ পদান্বয়ী অব্যয়:

- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
- যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
- অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।

অন্যদিকে,
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
যেমন: উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:  মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

• অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। 
যেমন- ঝম ঝম, গুড় গুড়।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪৩৫.
"ও দিকে আর যাব না।" - এখানে 'না' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অব্যয় পদ:
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
যথা-
১. বাংলা, 
২. তৎসম, 
৩. বিদেশি।

এগুলো হলো - 
• বাংলা অব্যয় শব্দ - আর, আবার, ও, হ্যাঁ।
• তৎসম অব্যয় শব্দ - যদি, যথা, সহসা, আপাতত, বরং।
• বিদেশী অব্যয় শব্দ - আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি।

• বাক্যটি- "ও দিকে আর যাব না।"
- এখানে 'না' শব্দটি অব্যয় পদ (বিশেষত নঞর্থক/নেতিবাচক অব্যয়)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৬.
কোন বাক্যে ক্রিয়া অনুক্ত?
  1. খুব শীত লাগছে।
  2. মনটা ভাল নেই আমার।
  3. করিম স্কুলে যায়।
  4. আজ প্রচণ্ড গরম।
ব্যাখ্যা
আজ প্রচণ্ড গরম। - বাক্যে ক্রিয়া অনুক্ত।

অনুক্ত ক্রিয়াপদ:
- ক্রিয়াপদ বাক্যগঠনের অপরিহার্য অঙ্গ।
- ক্রিয়াপদ ভিন্ন কোনো মনোভাবই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় না।
- তবে কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য বা অনুক্ত থাকতে পারে।
যেমন -
→ ইনি আমার ভাই = ইনি আমার ভাই (হন)।
আজ প্রচণ্ড গরম = আজ প্রচণ্ড গরম (অনুভূত হচ্ছে)।
→ তোমার মা কেমন? = তোমার মা কেমন (আছেন)?
- বাক্যে সাধারণত 'হ্' এবং 'আছ' ধাতু গঠিত ক্রিয়াপদ উহ্য থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩৭.
নিচের কোন বাক্যে বিরোধ যোজকের উদাহরণ আছে?
  1. লাল বা নীল কলমটা আনো।
  2. তোমাকে ইমেইল করেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি।
  3. বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
  4. যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
ব্যাখ্যা

• বিরোধ যোজক: 
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।
- তোমাকে ইমেইল করেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি।

 অন্যদিকে,
বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।

যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।

৪৩৮.
'ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।' - এখানে 'ওগো' কোন ধরনের অব্যয় পদ?
  1. অনুকার অব্যয়
  2. অনুসর্গ অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• 'ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।' - এখানে 'ওগো' অনন্বয়ী অব্যয়। 

⇒ অনন্বয়ী অব্যয়: 
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনাে অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
- অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনােভাব প্রকাশে সহায়তা করে।
যেমন: মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।
বাক্যে ব্যবহার: 
• 'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!' - এখানে 'মরি মরি' উচ্ছ্বাস প্রকাশে অনন্বয়ী অব্যয়।

কিছু অনন্বয়ী অব্যয়ের উদাহরণ হলো:
•  ‘হ্যাঁ’ আমি যাব না (স্বীকৃতি জ্ঞাপনে)।
•  ‘উঃ!’ পায়ে বড্ড লেগেছে (যন্ত্রণা প্রকাশে)।
• ‘ওগো’ আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে' (সম্বোধন অর্থে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৭ সংস্করণ)।
৪৩৯.
‘ঘণ্টা বেজে উঠল‘ কোন ধরণের ক্রিয়াপদ?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) মিশ্র ক্রিয়া
  4. ঘ) নাম ধাতুর ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
"ঘণ্টা বেজে উঠল"- বাক্যে 'বেজে উঠা' যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। 
- সরল ক্রিয়া 
- প্রযোজক ক্রিয়া 
- নাম ক্রিয়া
- সংযোগ ক্রিয়া
- যৌগিক ক্রিয়া

যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৪০.
পিপাসিত শব্দের বিশেষ্য রূপ-
  1. পিপাসী
  2. পিয়াসী
  3. পিপাসা
  4. পিপাসু
ব্যাখ্যা
• 'পিপাসা'
- বিশেষ্য পদ। 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √পিপাস্‌ + আ।
অর্থ: 
- পান করার বাসনা,
- তৃষ্ণা।

অন্যদিকে, 
- পিপাসিত, পিপাসী এবং পিপাসু বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৪১.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. রূপবান
  2. নিখুঁত
  3. গাম্ভীর্য
  4. মেঘলা
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ - গাম্ভীর্য
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

অর্থ:
- গম্ভীর ভাব,
- চপলতার অভাব,
- প্রগাঢ়তা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - রূপবান, নিখুঁত।
বিশেষণ পদ - মেঘলা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪৪২.
'বুঝে নেওয়া' - এটি কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ​সরল ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. নাম ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যক্ত হয়।

​যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো।

​অন্যদিকে,
​সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।

প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।

নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত্য করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪৪৩.
"ছি ছি! টাকার জন্য কেউ এত নিচে নামতে পারে?" — কোন আবেগ বোঝায়?
  1. কারণ
  2. সাপেক্ষ
  3. বিস্ময়
  4. বিরক্তি
ব্যাখ্যা
• বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।

• বাক্যটি "ছি ছি! টাকার জন্য কেউ এত নিচে নামতে পারে?" — এতে বিরক্তি বা অবজ্ঞা প্রকাশ পায়, কারণ এখানে কেউ টাকা পেতে এত নিচে নামার ব্যাপারে নিন্দা করা হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৪৪.
'কেউ' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. আত্মবাচক সর্বনাম 
  2. প্রশ্নবাচক সর্বনাম
  3. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  4. অন্যবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা

• অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে এই সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: কেউ, কোথাও, একজন, কিছু ইত্যাদি।

• সর্বনাম পদ: 

 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
সর্বনাম কে ৯ টি শ্রেনিতে ভাগ করা হয়।
যথা -
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম - ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যাক্তির নামের পরিবর্তে বসে।
যেমন: আমি, তুমি, সে ইত্যাদি।

২. প্রশ্নবাচক সর্বনাম - প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৩. অনির্দিষ্ট সর্বনাম - অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে এই সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: কেউ, কোথাও, একজন, কিছু ইত্যাদি।

৪. নির্দেশবাচক সর্বনাম - যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব প্রকাশ করে তাকে নির্দেশবাচক সর্বনাম বলে।
যেমন: এ, এই, এরা, ইনি ইত্যাদি।

৫. আত্মবাচক সর্বনাম: 
- কর্তা নিজেই কোন কাজ করছে এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এই সর্বনামটি ব্যবহার করা হয়।
যেমন: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম - পরষ্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন: যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম - দুই পক্ষের সহযোগীতা বা নির্ভরশীলতা বোঝাতে পারষ্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক সর্বনাম - ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: সবাই, সকলে, সকলকে ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম - নিজ ভিন্ন অন্য কোন অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪৪৫.
নিচের কোন বাক্যে ঘটনা অতীতের, কিন্তু ক্রিয়ার কাল ভবিষ্যৎ?
  1. আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম।
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
  3. তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে।
  4. শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার কাল:
- ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে।
- ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার: বর্তমান কাল, অতীত কাল ও ভবিষ্যৎ কাল।

ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ: 
 অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলাে ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ। 

সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ)

অন্যদিকে,
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত)
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান)
- শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল। (ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৪৬.
‘মিছিল’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষণ
  3. বিশেষ্য
  4. ক্রিয়া-বিশেষণ
ব্যাখ্যা
•  ‘মিছিল’ সমষ্টি-বিশেষ্য পদের উদাহরণ।

• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৪৪৭.
“মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন” এখানে 'কিংবা' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. অনুসর্গ অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. পদান্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

• 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন'- এখানে 'কিংবা' সমুচ্চয়ী অব্যয়।

• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

• বিয়োজক অব্যয়: 
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

• অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়: 
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৪৪৮.
'তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না' - বাক্যটিতে 'কোথাও' কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. কালবাচক
  2. ধরনবাচক
  3. স্থানবাচক
  4. একপদী
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
লোকটি ধীরে হাঁটে।
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন -
মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৪৯.
কোন বাক্যে সাপেক্ষ সর্বনাম আছে?
  1. অন্য কেউ এই কাজ করতে পারবে না।
  2. যারা সৎ তারা সমাজে সম্মানিত।
  3. এরা খুব ভালো ছাত্র। 
  4. তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করো।
ব্যাখ্যা

• সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

• "যারা সৎ তারা সমাজে সম্মানিত।" - বাক্যটিতে 'যারা-তারা' সাপেক্ষ সর্বনাম।

অন্যদিকে,
- 'অন্য কেউ এই কাজ করতে পারবে না।' - অন্যবাচক সর্বনাম।
- 'এরা খুব ভালো ছাত্র।' - সামীপ্যবাচক সর্বনাম।
- 'তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করো।' - পারস্পরিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪৫০.
বাক্যে ক্রিয়ার সঙ্গে কোন পদের সম্পর্ককে কারক বলা হয়?
  1. ক) বিশেষ্য ও অনুসর্গ
  2. খ) বিশেষ্য ও সর্বনাম
  3. গ) বিশেষণ ও সর্বনাম
  4. ঘ) বিশেষ্য ও বিশেষণ
ব্যাখ্যা
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

কারক ছয় প্রকার :
- কর্তা কারক
- কর্ম কাবক
- করণ কারক
- অপাদান কারক
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৫১.
'লাল ফিতা দিয়ে বাঁধা কয়েনগুলি সৌভাগ্য বহন করে।' - বাক্যটিতে 'লাল' কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের বাক্যটিতে 'লাল' শব্দটি বর্ণবাচক বিশেষণ।

• বর্ণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
 যেমন- নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা – এখানে ‘নীল’, ‘সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৪৫২.
নিচের কোনটি সাপেক্ষ সর্বনাম?
  1. কোথাও
  2. যেমন-তেমন
  3. স্বয়ং
  4. নিজেরা নিজেরা
ব্যাখ্যা
• সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্য অপশনে,
• আত্মবাচক সর্বনাম - স্বয়ং।
• অনির্দিষ্ট সর্বনাম - কোথাও।
• পারস্পরিক সর্বনাম - নিজেরা নিজেরা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৫৩.
কোনটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গ নয়?
  1. ক) করে
  2. খ) দিয়ে
  3. গ) ধরে
  4. ঘ) কাছে
ব্যাখ্যা
অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
- সাধারণ অনুসর্গ ও
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

সাধারণ অনুসর্গ- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলা হয়।
যেমন,
উপরে- মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে- কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে- হারানো ঘড়িটার জন্যে অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ- অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন,
করে- ভালো করে খেয়ে নাও।
দিয়ে-মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
ধরে- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
থেকে- ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মানদী পার হতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নমব-দশম শ্রেণি।
৪৫৪.
নিচের কোনটি অকর্মক ক্রিয়া?
  1. আকাশে চাঁদ দেখি না।
  2. আমি রাতে ভাত খাব না।
  3. সে বই পড়ছে।
  4. ছেলেটা কানে শোনে না।
ব্যাখ্যা
সকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া। ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ। কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া।
 
অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমনঃ ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না।
- কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
- প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে।

যেমন:
অকর্মক: সে পড়ছে।
সকর্মক: সে বই পড়ছে। 
 
অকর্মক: আমি রাতে খাব না।
সকর্মক: আমি রাতে ভাত খাব না।
 
অকর্মক: আমি চোখে দেখি না।
সকর্মক: আকাশে চাঁদ দেখি না।
 
অকর্মক: ছেলেটা কানে শোনে না।
সকর্মক: ছেলেটা কথা শোনে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৫৫.
অলংকার আবেগ আছে কোন বাক্যে?
  1. উহ্! কী বিপদে পড়া গেল।
  2. দূর পাগল! এ কথা কি বলতে আছে?
  3. আহা! বেচারার এত কষ্ট!
  4. হে বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন।
ব্যাখ্যা

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- দুর! একথা কি বলতে আছে?
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

• তেমনই ভাবে, দুর পাগল! এ কথা কি বলতে আছে? অলংকার আবেগের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- উহ্! কী বিপদে পড়া গেল।- আতঙ্ক আবেগের উদাহরণ।
- আহা! বেচারার এত কষ্ট!- করুণা আবেগের উদাহরণ।
- হে বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন।- বাক্যটি সম্বোধন আবেগের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৪৫৬.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. কয়জন
  2. করণীয় 
  3. লাজ
  4. অবজ্ঞেয়
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য পদ:
- কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য ,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• বিশেষ্য পদ - লাজ।

শব্দের অর্থ:
- লজ্জা সরম।

অন্যদিকে,
• বিশেষণ পদ - কয়জন, করণীয়, অবজ্ঞেয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪৫৭.
শব্দের পরে বসে শব্দকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে কোনটি?
  1. প্রত্যয়
  2. অনুসর্গ
  3. উপসর্গ
  4. আবেগ
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- রুনা অপেক্ষা পুতুলের পরীক্ষা ভালো হয়েছে।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ?
[উপরের বাক্যে ব্যবহৃত ‘অপেক্ষা’ ও ‘পর্যন্ত’ অনুসর্গের উদাহরণ।]

• এরূপ আরো কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ হলো:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘কে’ ‘রে’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন:
- তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব!

-----------------------
অন্যদিকে,
• উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- অজানা (অ+জানা), অভিযোগ (অভি+যোগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ', 'অভি', 'বে' হলো উপসর্গ।

• আবেগ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ বলে।এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

• প্রত্যয়:
যেসকল শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৫৮.
'শয়ন' কোন বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) গুণবাচক বিশেষ্য
  2. খ) সাধারণ বিশেষ্য
  3. গ) নামবাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) ভাববাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাকে বিশেষ্য পদ বলে।

বিশেষ্যপদ ছয় প্রকার:
১. সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য,
২. জাতিবাচক বিশেষ্য,
৩. বস্তুবাচক বিশেষ্য,
৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য,
৫. ভাববাচক বিশেষ্য,
৬. গুণবাচক বিশেষ্য।

• যে বিশেষ্য পদ দ্বারা ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন: গমন, শয়ন, ভোজন, দর্শন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৫৯.
‘তুই তাহলে আমাদের সঙ্গে আয়' এখানে ক্রিয়ার কোন কাল ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  2. খ) ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
  3. গ) বর্তমান অনুজ্ঞা
  4. ঘ) পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার আছে ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা, যেখানে বলা হয় কাজটি এই মুহূর্তে না করলেও চলবে, অনির্দিষ্ট ভবিষ্যতে সম্পাদন করতে হবে। 
- এ ভবিষ্যৎ কেবল স্রোতাপক্ষে ব্যবহৃত হয়, তারই ক্রিয়ার বিশেষ রূপের জন্য নির্দিষ্ট আছে। যেমন:

বর্তমান অনুজ্ঞা: এ বইটা তাড়াতাড়ি পোড়ো। 
ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা: এ বইটা তাড়াতাড়ি পড়ো। 
বর্তমান অনুজ্ঞা: তুমি কাল আমাদের বাড়ি যাও। 
ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা: তুমি কাল আমাদের বাড়ি যেও। 
বর্তমান অনুজ্ঞা: তুই তাহলে আমাদের সঙ্গে আয়। 
ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা: তুই তাহলে আমাদের সঙ্গে আসিস। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খন্ড), বাংলা একাডেমি।
৪৬০.
কোনটি অনুসর্গ পদের দৃষ্টান্ত?
  1. কেউ-কোথাও
  2. যেমন-তেমন
  3. উপরে-নিচে
  4. অপর-পর
ব্যাখ্যা
• উপরে ও নিচে শব্দ দুটি অনুসর্গ পদের উদাহরণ।

• অনুসর্গ:

যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
- রুনা অপেক্ষা পুতুলের পরীক্ষা ভালো হয়েছে।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ?
[উপরের বাক্যে ব্যবহৃত ‘অপেক্ষা’ ও ‘পর্যন্ত’ অনুসর্গের উদাহরণ।]
 
• এরূপ আরো কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ হলো:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতিত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘কে’ ‘রে’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন:
- তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব!

অন্যদিকে,
- ‘যেমন-তেমন’ সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ।
- ‘অপর-পর’ অন্যবাচক সর্বনাম পদের উদাহরণ।
- ‘কেউ-কোথাও’ অনির্দষ্ট সর্বনাম পদের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৪৬১.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. উদ্ধত
  2. গাম্ভীর্য
  3. অজ্ঞাত
  4. পার্থিব
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ - গাম্ভীর্য
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- গম্ভীর ভাব, চপলতার অভাব; অবিকারত্ব, গুরুত্ব; প্রগাঢ়তা, মহিমা।

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - উদ্ধত, অজ্ঞাত এবং পার্থিব।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪৬২.
'ছেলে তো নয় যেন ননীর পুতুল' - এখানে 'যেন' কী?
  1. ক) অব্যয়
  2. খ) বিশেষ্য
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা

- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
- যে, যদি, যেন হলো অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়।
যেমনঃ
- ছেলে তো নয় যেন ননীর পুতুল।
- এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হও।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬৩.
কোনটি পুরাঘটিত অতীত?
  1. পড়িয়েছিলাম
  2. পড়াচ্ছিলাম
  3. পড়ছিল
  4. পড়াইতাম
ব্যাখ্যা
• 'পড়িয়েছিলাম' পুরাঘটিত অতীত কাল নির্দেশ করে।

• পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন-
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

অন্যদিকে,
- 'পড়াচ্ছিলাম' ঘটমান অতীত কাল নির্দেশ করে।
- 'পড়াইতাম' নিত্যবৃত্ত অতীত কাল নির্দেশ করে।
- 'পড়ছিল' ঘটমান অতীত কাল নির্দেশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪৬৪.
'পঠন' কােন পদের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়া বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৪৬৫.
যে ক্রিয়া সম্ভবত ঘটে গিয়েছে, সাধারণ ভবিষ্যৎ কালবোধ শব্দ ব্যবহার করে তা বোঝালে তাকে কোন কাল বলে?
  1. ক) সাধারণ ভবিষ্যৎ
  2. খ) পুরাঘটি ভবিষ্যৎ
  3. গ) ঘটমান ভবিষ্যৎ
  4. ঘ) পরাঘটিত অতীত
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল : যে ক্রিয়া সম্ভবত ঘটে গিয়েছে, সাধারণ কালবোধ শব্দ ব্যবহার করে তা বোঝাতে পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল হয়।
পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কালের অর্থ প্রকাশের জন্য মূল ধাতুর সঙ্গে অসমাপিকা ক্রিয়া বিভক্তি-ইয়া/এ যোগ করে এবং যাক্ ও গম্ ধাতুর সঙ্গে সাধারণ ভবিষ্যতের ক্রিয়াবিভক্তি যুক্ত করে যৌগিক ক্রিয়াপদ তৈরি হয়। যথা- গিয়ে থাকব/যাইয়া থাকিব।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬৬.
নিচের কোনটি গুণবাচক বিশেষ্য?
  1. ক) তরল
  2. খ) সরল
  3. গ) ধীরতা
  4. ঘ) মধুর
ব্যাখ্যা
যে বিশেষ্য দ্বারা গুণের নাম বুঝায় তাকে বিশেষণজাত বা গুণবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন : তরলতা, ধীরতা, মধুরতা, দ্রুততা, চালাকি, নষ্টামি, পটুত্ব ইত্যাদি।
পক্ষান্তরে,
তরল, সরল, মধুর হলো বিশেষণ। 

উৎস : বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক ব্যাকরণ।
৪৬৭.
ধ্বন্যাত্মক নামক্রিয়ার উদাহরণ আছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. সাইরেন বেজে উঠলো।
  2. জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।
  3. আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
  4. ঝম ঝম করে বৃষ্টি পড়ছে।
ব্যাখ্যা
নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা আনাে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে অনাে যুক্ত হয়ে হয় চমকানাে: আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।
- বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে -আ যুক্ত হয়ে হয় কমা: বাজারে সবজির দাম কমছে না।
- ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে আনাে যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।

অন্য অপশনে,
'সাইরেন বেজে উঠলো'- যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 
'আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।', ঝম ঝম করে বৃষ্টি পড়ছে।'- মিশ্র ক্রিয়ায়র উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৬৮.
'পরে একবার এসো'- এখানে 'পরে' কোন ধরনের বিশেষণের উদাহরণ?
  1. বাক্যের বিশেষণ
  2. বিশেষণীয় বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. অব্যয়ের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া বিশেষণ:
যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেষ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে ।
যেমন:
ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো। 
-----------------------
বিশেষণীয় বিশেষণ :  
যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যথা-
ক. নাম বিশেষণের বিশেষণ : সামান্য একটু দুধ দাও। এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
খ. ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ : রকেট অতি দ্রুত চলে।

অব্যয়ের বিশেষণ:
যে ভাব বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে,তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে ।
যথা-
ধিক তারে শত ধিক নির্লজ্জ যে জন ।

বাক্যের বিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করে,তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে ।
যেমন-
দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ -২০১৯)।
৪৬৯.
'গিজগিজ' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'গিজগিজ' - অব্যয় পদ।


উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৭০.
নিচের কোনটিতে সাধারণ অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. মন দিয়ে লেখাপড়া দরকার।
  2. ভালো করে খেয়ে নাও।
  3. এমন কাজ আঁখির দ্বারা হবে না।
  4. বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন -
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ আঁখির দ্বারা হবে না
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

অন্যদিকে,
ভালো করে খেয়ে নাও, মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার, বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি - ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৭১.
বিশেষ্য বর্গের উদাহরণ কোনটি?
  1. সে লিখছে আর হাসছে।
  2. অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
  3. আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
  4. ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য বর্গ:
- বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন:
- আমার ভাই পড়তে বসেছে।
- অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।

অন্যদিকে,
ক্রিয়াবর্গ:
- বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গতৈরি করে।
যেমন:
- সে লিখছে আর হাসছে।

বিশেষণবর্গ:
- বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন:
- আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
- ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।
- পোকায় খাওয়া কাঠ দিয়ে আসবাব বানানো ঠিক নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪৭২.
'তোমার তরে এনেছি এক হাড়ি রসগোল্লা।' এখানে 'তরে' অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. নিমিত্ত
  2. মধ্যে
  3. নিকট
  4. মত
ব্যাখ্যা
• 'তোমার তরে এনেছি এক হাড়ি রসগোল্লা।' এখানে 'তরে' অনুসর্গটি 'নিমিত্ত' অর্থ প্রকাশ করছে।

এছাড়াও 
- কখনো কখনো তরে 'মত' অর্থেও ব্যবহৃত হয় ।
- যেমন: এ জন্মের তরে বিদায় নিলাম।

উল্লেখ্য,
'নিমিত্ত' অর্থে 'হেতু' ও 'জন্যে' অনুসর্গও ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- 'কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া।'
- 'এ ধন-সম্পদ তোমার জন্যে।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪৭৩.
‘টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।’- বাক্যে ‘টিপ টিপ’ কোন ধরনের পদ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া বিশেষণ: 
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।
- তিনি বেড়াতে যাননি।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?
- খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৭৪.
'রাফিন ও রিজন বল খেলছে।' - কোন কালের উদাহরণ?
  1. ক) পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  2. খ) বর্তমান অনুজ্ঞা
  3. গ) সাধারণ বর্তমান কাল
  4. ঘ) ঘটমান বর্তমান কাল
ব্যাখ্যা
- 'রাফিন ও রিজন বল খেলছে।' - ঘটমান বর্তমান কালের উদাহরণ।

• ঘটমান বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়ার কাল শেষ হয়নি, এখন চলছে এরূপ অর্থ বোঝালে ঘটমান বর্তমান হয়।
যেমন:
- ছন্দা গান গাইছে।
- রাফিন ও রিজন বল খেলছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৭৫.
'এখানেই তর্কের শেষ।' বাক্যে 'শেষ' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'এখানেই তর্কের শেষ।' বাক্যে 'শেষ' বিশেষ্য পদ ।
- সমাপ্তি, অবসান, সীমা, প্রান্ত(পথের শেষ) ইত্যাদি বুঝাতে শেষ বিশেষ্য হিসেবে বসে।

অন্যদিকে
- সমাপ্ত, বিনষ্ট, বিধ্বস্ত, অবশিষ্ট, অন্তিম বুঝাতে বাক্যে 'শেষ' বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪৭৬.
'হিমালয়' - কোন প্রকার বিশেষ্য?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. গুণ-বিশেষ্য
  4. বস্তু-বিশেষ্য
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।

যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, জুয়েল, লতা।
স্থাননাম: বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪৭৭.
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে কী বলে?
  1. অসমাপিকা ক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. অকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
সে পাস করে গেল।
সাইরেন বেজে উঠল।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪৭৮.
"সুন্দরবন খুলনা বিভাগে অবস্থিত।" - বাক্যে 'সুন্দরবন' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. সমষ্টিবাচক
  2. জাতিবাচক
  3. গুণবাচক
  4. সংজ্ঞাবাচক
ব্যাখ্যা
নামবাচক বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোন ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান, বা গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নামবাচক বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন-
- সুন্দরবন, নজরুল, ঢাকা, মেঘনা, হিমালয়, গীতাঞ্জলি, ফাল্গুন, বিজু, বৈসাবি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনো গুণ, অবস্থা ও ভাবের নাম বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: সুখ, দুঃখ, দয়া, বীরত্ব ইত্যাদি।

জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
- যেমন: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
- যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।
৪৭৯.
আমি হিমালয় দেখি নি। এই বাক্যে হিমালয় কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. ক) সংজ্ঞাবাচক
  2. খ) বস্তুবাচক
  3. গ) শ্রেনিবাচক
  4. ঘ) দ্রব্যবাচক
ব্যাখ্যা
“সুন্দরবন খুলনা জেলায় অবস্থিত। আমি হিমালয় দেখি নি। গরু গৃহপালিত পশু।” এই বাক্যগুলোতে ‘খুলনা, হিমালয়, গরু’ এগুলো নামবাচক বিশেষ্য। হিমালয়, আরব সাগর, মেঘনা এসব ভৌগোলিক সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৪৮০.
'আমরা রাজশাহী গিয়েছিলাম।' - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত অতীত
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত অতীত কাল:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।

যেমন:
- সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আমরা মসজিদে পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
- আমরা রাজশাহী গিয়েছিলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি

৪৮১.
কোনটি নিত্যবৃত্ত অতীত?
  1. কুড়াত
  2. খেলছিল
  3. উঠল
  4. জানিয়েছিলে
ব্যাখ্যা

নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন:
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম
- তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত

অন্যদিকে,
পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে

ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন -
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম। 
- তারা মাঠে খেলছিল

সাধারণ অতীত:
অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন -
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪৮২.
কোনটি অনুজ্ঞা?
  1. ক) তুমি গিয়েছিলে
  2. খ) তুমি যাও
  3. গ) তুমি যাচ্ছিলে
  4. ঘ) তুমি যাচ্ছ
ব্যাখ্যা
- আদেশ, অনুমতি, অনুরােধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বােঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয় তাকে বলে অনুজ্ঞা।
- আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।

যেমন:
- তুমি যাও
- কাজটি করে ফেল।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৩.
"সকালে সে রওনা দিল।" - বাক্যটি কোন বর্গের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য বর্গ
  2. ক্রিয়া বর্গ
  3. ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
  4. বিশেষণ বর্গ
ব্যাখ্যা

• "সকালে সে রওনা দিল।" - এখানে সকালে - ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ এর উদাহরণ।

বাক্যের বর্গ:
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ। 

বিশেষ্যবর্গ:
- বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন – আমার ভাই পড়তে বসেছে।

বিশেষণবর্গ:
- বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন –
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।

ক্রিয়াবিশেষণ-বৰ্গ:
- যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন:
সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো ।
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম ।

ক্রিয়াবৰ্গ
- বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন –
অস্ত্রসহ সৈন্যদল এগিয়ে চলেছে।
সে লিখছে আর হাসছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।

৪৮৪.
নিচের কোন বাক্যে সাপেক্ষ যোজক ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) যদি রোদ উঠে তবে রওনা দিব
  2. খ) তুমি তাড়াতাড়ি রওনা দাও নইলে ট্রেন ধরতে পারবে না
  3. গ) যেহেতু ঠান্ডা লেগেছে তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না
  4. ঘ) এত বৃষ্টি হলো তবু গরম গেল না
ব্যাখ্যা
যােজক: পদ, বৰ্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলােকে যােজক বলে।
যেমন - এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।

সাপেক্ষ যােজক: এ ধরনের যােজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
যদি রােদ ওঠে, তবে রওনা দেব। (অনুরূপভাবে, যদি বৃষ্টি থামে, তবে রওনা দেব। )
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

কারণ যােজক: এ ধরনের যোজক দুটি বাক্যের মধ্যে সংযোজক  ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।   
তুমি তাড়াতাড়ি রওনা দাও নইলে ট্রেন ধরতে পারবে না।
যেহেতু ঠান্ডা লেগেছে তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না।
 
 বিরােধ যােজক: এ ধরনের যোজক দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটিয়ে দ্বিতীয়টির সাহায্যে প্রথম বাক্যের বক্তব্যের বিরোধ নির্দেশ করে। 
এত বৃষ্টি হলো তবু গরম গেল না 


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৮৫.
দুটি পদের সংযোগস্থলে কী বসে?
  1. ক) ড্যাশ
  2. খ) হাইফেন
  3. গ) কোলন
  4. ঘ) কোলন ড্যাশ
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- 
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব। 
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৮৬.
নিচের কোন বাক্যে বিকল্প যোজকের উদাহরণ আছে?
  1. যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
  2. চা না-হয় কফি খান।
  3. যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
  4. বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
ব্যাখ্যা
বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।

যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান

অন্যদিকে,
কারণ যোজক - বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
সাপেক্ষ যোজক - যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব। যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।
৪৮৭.
নিচের কোনটি অব্যয়জাত শব্দ দ্বারা গঠিত বিশেষণ?
  1. হঠাৎ বড়লোক
  2. নৈতিক বল
  3. স্বীয় সম্পত্তি
  4. কাঁদকাঁদ চেহারা
ব্যাখ্যা
বিভিন্নভাবে বিশেষণ গঠনের পদ্ধতি:
ক. ক্রিয়াজাত: হারানো সম্পত্তি, অনাগত দিন।
খ. অব্যয়জাত: উপরি পাওনা, হঠাৎ বড়লোক
গ. সর্বনাম জাত: স্বীয় সম্পত্তি, কবেকার কথা।
ঘ. সমাসসিদ্ধ: জ্ঞানহারা, চৌচালা ঘর।
ঙ. বীপ্সামূলক: কাঁদকাঁদ চেহারা, ডুবুডুবু নৌকা।
চ. অনুকার অব্যয়জাত: কনকনে শীত, ধিকিধিকি আগুন।
ছ. কৃদন্ত: কৃতী সন্তান, হৃত সম্পত্তি।
জ. তদ্ধিতজাত: নৈতিক বল, মেঠো পথ।
ঝ. উপসর্গযুক্ত: নিখঁত কাজ, নির্জলা মিথ্যে।
ঞ. বিদেশি: নাস্তানাবুদ অবস্থা, দরপত্তনি তালুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৪৮৮.
'বই' কোন বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. গুণ-বিশেষ্য
  4. বস্তু-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।

ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৮৯.
সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ কোনটি?
  1. রেখো মা, দাসেরে মনে এ মিনতি করি পদে।
  2. শীঘ্রই বৃষ্টি আসবে।
  3. আমার জন্য একটি বই আনবেন।
  4. আমি গল্প লিখতে থাকব।
ব্যাখ্যা
সাধারণ ভবিষ্যৎ:
- ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন-
- আমরা রংপুরে যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।
- শীঘ্রই বৃষ্টি আসবে।

অন্যদিকে,
ঘটমান ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- আমি গল্প লিখতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন –
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
- আমার জন্য একটি বই আনবেন
- 'রেখো মা, দাসেরে মনে এ মিনতি করি পদে।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৯০.
কোনটি একপদী ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ?
  1. যায় যায়
  2. ভয়ে ভয়ে
  3. ভালোভাবে
  4. চুপি চুপি
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
লোকটি ধীরে হাঁটে।
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।
 
• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৯১.
কোন বাক্যে ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ আছে?
  1. টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে
  2. বৃষ্টি হতে পারে
  3. বৃষ্টি পড়ছে
  4. বৃষ্টিতে মন কেমন করে
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
লোকটি ধীরে হাঁটে।
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।
টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪৯২.
কোনটি সাপেক্ষ সর্বনাম?
  1. কেউ
  2. যে-সে
  3. কোথাও
  4. স্বয়ং
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।

যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
আত্মবাচক সর্বনাম - স্বয়ং।
অনির্দিষ্ট সর্বনাম - কেউ, কোথাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪৯৩.
তোমার তরে এনেছি মালা গাঁথিয়া। এখানে 'তরে' শব্দটি কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. সঙ্গে
  2. মধ্যে
  3. নিকট
  4. নিমিত্ত
ব্যাখ্যা
• 'তোমার তরে এনেছি মালা গাঁথিয়া।' বাক্যে 'তরে' অনুসর্গটি "নিমিত্ত" অর্থে ব্যবহৃ হয়েছে।

• আরো কয়েকটি অনুসর্গের ব্যবহার:
- কাছে : 'নিকট' অর্থে = আমার কাছে আর কে বলবে?
- মাঝে: 'মধ্যে' অর্থে = সীমার মাঝে অসীম তুমি।
- জন্য: 'নিমিত্তে' অর্থে = এ ধন-সম্পদ তোমার জন্য।
- পানে : প্রতি, দিকে অর্থে ঐ তো ঘর পানে ছুটেছেন।
- পক্ষে : সক্ষমতা অর্থে রাজার পক্ষে সব কিছুই সম্ভব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪৯৪.
'তখনই কাজটি শুরু করা উচিত ছিলো।'- এখানে 'তখনই' শব্দের সাথে যুক্ত 'ই'-এর ব্যাকরণিক পরিচয় কী?
  1. প্রত্যয়
  2. উপসর্গ
  3. ধাতু
  4. বলক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) বলক।
'তখনই কাজটি শুরু করা উচিত ছিলো।'- এখানে 'তখনই' শব্দের সাথে যুক্ত 'ই'- হলো বলক।

--------------
• বাংলা ব্যাকরণে, শব্দ গঠনের বিভিন্ন উপাদান রয়েছে, যেমন উপসর্গ, প্রত্যয়, ধাতু, এবং বলক।

• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে।
যেমন -
'তখনই' বা ‘এখনও' পদের 'ই' বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

অন্য অপশন,

উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
যেমন-
- অজানা (অ + জানা), অভিযােগ (অভিযােগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ’, ‘অভি’, ‘বে’ হলাে উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন -
→ বাঘ + আ = বাঘা।
→ দিন + ইক = দৈনিক।
উপরের উদাহরণে 'আ' ও 'ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'বাঘা' ও 'দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। এসকল ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
যেমন: ‘লিখ্‌ + আ = লিখা; এখানে, লিখ্‌ হলো ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪৯৫.
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয় তাকে বলা হয়-
  1. ক) অনুকার অব্যয়
  2. খ) অনুসর্গ অব্যয়
  3. গ) সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. ঘ) অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশের ব্যবহৃত হয় তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমনঃ
• 'আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে।'
- বাক্যটি 'তো' এর সাথে অন্য কোনো পদের মিল নেই।
• এটি ছাড়াও বাক্যটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে।
• তাই 'তো' এখানে অনন্বয়ী অব্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৯৬.
'তারুণ্য' কোন ধরনের বিশেষ্য পদ?
  1. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  2. গুণবাচক বিশেষ্য
  3. জাতিবাচক বিশেষ্য
  4. ভাববাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা - 
মধুর মিষ্টত্বের গুণ = মধুরতা। 
তদ্রূপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৭.
‘জন্য’ শব্দটি কোন পদ?
  1. ক) বিশেষণ
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থ্যাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
যেমন- এবং, জন্য, আর, কিন্তু, ও, আবার ইত্যাদি।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯৮.
নিচের কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্য?
  1. নজরুল
  2. নদী
  3. পঞ্চায়েত
  4. ঝাঁক
ব্যাখ্যা
জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
- যেমন: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

অপরদিকে:
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
- যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

নামবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোন ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান, বা গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নামবাচক বিশেষ্য পদ বলে।
- যেমন- নজরুল, ঢাকা, মেঘনা, হিমালয়, গীতাঞ্জলি, ফাল্গুন, বিজু, বৈসাবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪৯৯.
‘ওরে, তুই কোথায় চললি?’- বাক্যে ‘ওরে’ কোন পদ?
  1. ক্রিয়াবিশেষণ
  2. যোজক
  3. অনুসর্গ
  4. আবেগ
ব্যাখ্যা

• আবেগ-শব্দ: মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
⇒ সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ মনে হচ্ছে না।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাহ, চমৎকার লিখেছ।
- শাবাশ! খেলার মতো খেলা দেখালে।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।
- কী জ্বালা! আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।
- আহ! কী বিপদ।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- অ্যাঁ, বলছ কী?

⇒ করুণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আহা! বেচারার কত কষ্ট।
- হায়! হায়! এখন ওদের কে দেখবে!

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
- ওরে, তুই কোথায় চললি ?

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৫০০.
"কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া।" - বাক্যে 'হেতু' শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ব্যাপ্তি
  2. নিমিত্ত
  3. মধ্যে
  4. প্রতি
ব্যাখ্যা
• ‘কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া’ - বাক্যে ‘হেতু’ অনুসর্গটি 'নিমিত্ত' অর্থ প্রকাশ করছে।

উল্লেখ্য,
নিমিত্ত শব্দের অর্থ- উপলক্ষ; উদ্দেশ্য; প্রয়োজন।

কিছু অনুসর্গের ব্যবহার:
'বোকার মতো কাজ করো না।'- 'মতো' অনুসর্গটি 'ন্যায়' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'আমার কাছে আর কে আসবে?'- 'কাছে' অনুসর্গটি 'নিকট' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'নিমেষ মাঝেই সব শেষ।'- 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় এক ধরনের সহায়ক শব্দ বাক্যে অন্য কনো পদের পরে বসে পদটিকে বাক্যের সবগে সম্পর্কিত করে কিংবা বিভক্তির মতো কাজ করে। এগুলো অনুসর্গ নামে পরিচিত।

• বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে। 
যেমন-
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।