বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা / ৩১ · ২০১৩০০ / ৩,০২৪

২০১.
'সেই বাক্য বুঝে প্রভু আপে নিরঞ্জন'। এখানে 'আপে' অর্থ কি?
  1. ক) আগে
  2. খ) সম্পূর্ন
  3. গ) স্বয়ং
  4. ঘ) পুরোপুরি
ব্যাখ্যা
কবি আবদুল হাকিমের বঙ্গবাণী কবিতার একটি লাইন হলো- ‘সেই বাক্য বুঝে প্রভু আপে নিরঞ্জন’। এখানে ‘আপে’ শব্দের অর্থ- স্বয়ং।
২০২.
‘তিনি এত পরিশ্রম করেন যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে’- এখানে ‘যে’ কীসের উদাহরণ?
  1. ক) অনন্বয়ী অব্যয়
  2. খ) অনুসর্গ অব্যয়
  3. গ) অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. ঘ) অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
২০৩.
কোন পদ দুটির ‘পুরুষ’ নাই?
  1. ক) বিশেষ্য ও ক্রিয়া
  2. খ) বিশেষ্য ও সর্বনাম
  3. গ) বিশেষণ ও অব্যয়
  4. ঘ) সব পদেরই পুরুষ রয়েছে
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পুরুষ আছে; অন্যদিকে বিশেষণ ও অব্যয় পদের পুরুষ নাই।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৪.
"শ্রবণ" কোন প্রকার বিশেষ্য?
  1. শ্রেণিবাচক
  2. নামবাচক
  3. ভাববাচক
  4. সমষ্টিবাচক
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্যপদ দ্বারা ক্রিয়ার ভাব বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- ভোজন, শয়ন, দর্শন, গমন, শ্রবণ, করা, দেখা, শোনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২০৫.
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ কোনটি?
  1. দ্বারা
  2. বলে
  3. কাছে
  4. বনাম
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।

যেমন:
- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি,
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি,
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

অন্যদিকে,
সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।

যেমন:
- আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২০৬.
বাংলায় কোন পদের ক্ষেত্রে পুরুষ হয় না?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষণ
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• বাংলায় — বিশেষণ পদের পুরুষ হয় না।  

সর্বনামের পুরুষ:
'পুরুষ' একটি পারিভাষিক শব্দ। বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়ার পুরুষ আছে। 
- বিশেষণ ও অব্যয়ের পুরুষ নেই।

ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার।
যথা- 
১। উত্তম পুরুষ- আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যাদি। 
২। মধ্যম পুরুষ- তুমি, তোমরা, তোমাকে, তোমাদের, আপনার, আপনাদের ইত্যাদি। 
৩। নাম পুরুষ- সে, তারা, তাহারা, তাদের, তিনি, তাঁকে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৭.
'কামাল পুরস্কার পেয়েছে।' কোন ধরনের বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. ক) ঘটমান বর্তমান কাল
  2. খ) পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  3. গ) সাধারণ বর্তমান কাল
  4. ঘ) বর্তমান অনুজ্ঞা
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার কাল:
ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে। ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার:
- বর্তমান কাল,
- অতীত কাল,
- ভবিষ্যৎ কাল।

• বর্তমান কাল:
বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে।

• বর্তমান কাল চার প্রকার:
- সাধারণ বর্তমান,
- ঘটমান বর্তমান,
- পুরাঘটিত বর্তমান এবং
- অনুজ্ঞা বর্তমান।

• সাধারণ বর্তমান:
যে ক্রিয়া বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে। যেমন -
- আমি স্কুলে যাই।
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।

• ঘটমান বর্তমান:
যে ক্রিয়া বর্তমানে চলছে বোঝায়, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে। যেমন -
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

• পুরাঘটিত বর্তমান:
এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে। যেমন -
- আমি অঙ্কটি করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।

• বর্তমান অনুজ্ঞা:
বর্তমানে কোনো ক্রিয়া সম্পাদনের আদেশ, উপদেশ, আশীবার্দ, অভিশাপ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝানোর জন্য বর্তমান অনুজ্ঞা ব্যবহৃত হয়।

আদেশ অর্থে বর্তমান অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে- 
- হাতমুখ ধুয়ে পড়তে বসো।
- কাজটি তাড়াতাড়ি সম্পন্ন করো। 
 
অনুরোধ অর্থে বর্তমান অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে- 
- অনুগ্রহপূর্বক আমার কথাগুলো শুনুন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২০৮.
পদ বিবেচনায় শব্দ কত প্রকার?
  1. ৬ প্রকার
  2. ৭ প্রকার
  3. ৮ প্রকার
  4. ৯ প্রকার
ব্যাখ্যা
• পদ বিবেচনায় শব্দ - ৮ প্রকার।

পদ: 
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য,
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ,
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়া বিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক,
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
২০৯.
কোনটি ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা নয়?
  1. চেষ্টা করো, সবই বুঝতে পারবে।
  2. কাল একবার এসো
  3. অঙ্কটা বুঝিয়ে দেবেন?
  4. রোগ হলে ওষুধ খাবে।
ব্যাখ্যা
ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা:
- ভবিষ্যতে কোনো কাজ করার জন্য আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝালে ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা হয়।

যেমন:
- আদেশ: সদা সত্য বলবে।
- সম্ভাবনায়: চেষ্টা করো, সবই বুঝতে পারবে।
- বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধে: কাল একবার এসো

অন্যদিকে,
বর্তমান কালের অনুজ্ঞা - অঙ্কটা বুঝিয়ে দেবেন?

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১০.
”তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।” বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. ঘটমান অতীত
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
সাধারণ অতীত:
- অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল

ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।

পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২১১.
নিচের কোন শব্দটি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. পানি
  2. নদী
  3. সমিতি
  4. মিছিল
ব্যাখ্যা
• জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ- 'নদী'। 

জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন-
- মানুষ,
- নদী, 
- গরু,
- পাখি,
- গাছ,
- পর্বত,
- ইংরেজ ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
- যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মিছিল, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

বস্তুবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
- যেমন: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
২১২.
‘কি আমীর কি ফকির, একদিন সকলকেই যেতে হবে।’ - এ বাক্যে ‘কি’ অব্যয়টি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. জিজ্ঞাসায়
  2. বিরক্তি প্রকাশে
  3. সাকুল্য অর্থে
  4. বিড়ম্বনা প্রকাশে
ব্যাখ্যা

• ‘কি আমীর কি ফকির, একদিন সকলকেই যেতে হবে।’ - এ বাক্যে ‘কি’ অব্যয়টি সাকুল্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

"কি/কী" অব্যয় শব্দের বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার:
- জিজ্ঞাসায়: তুমি কি বাড়ি যাচ্ছ?
- বিরক্তি প্রকাশে: কী বিপদ, লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।
- সাকুল্য অর্থে: কি আমীর কি ফকির, একদিন সকলকেই যেতে হবে।
- বিড়ম্বনা প্রকাশে: তোমাকে নিয়ে কী মুশকিলেই না পড়লাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

২১৩.
'আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।' বাক্যের ক্রিয়া কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  2. সাধারণ অতীত কাল
  3. ঘটমান অতীত কাল
  4. পুরাঘটিত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• 'আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।' বাক্যটি  নিত্যবৃত্ত অতীত কাল নির্দেশ করছে।

• নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন-
আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

• নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
- কামনা প্রকাশে- আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতো।
- অসম্ভব কল্পনায় -  'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'।
- সম্ভাবনা প্রকাশে - তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২১৪.
'সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালবাসে?' এখানে 'সুস্থ সবল' কোন পদ?
  1. সর্বনামের বিশেষণ
  2. বিশেষ্যের বিশেষণ
  3. অব্যয়ের বিশেষণ
  4. বিশেষণের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ:  
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, বৈশিষ্ট্য, ধর্ম ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন: 
- নিশীথ (বিশেষণ) রাতে বাজছে বাঁশি।
- দশটি (বিশেষণ) বছর।
- এ আমার চেনা (বিশেষণ) লোক।

• নাম বিশেষণ: 
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। যথা -

বিশেষ্যের বিশেষণ:
- সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?
- নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।

সর্বনামের বিশেষণ:
- সে রূপবান ও গুণবান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২১৫.
‘মাথা ঝিমঝিম্ করছে‘ -বাক্য়টি কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) নাম ধাতুর ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) মিশ্র ক্রিয়া
  4. ঘ) নিজন্ত ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• ‘ মাথা ঝিমঝিম্ করছে‘ - বাক্যটি মিশ্র ক্রিয়ার উদাহরণ।
- কারণ এখানে ধ্বন্যাত্মক অব্যয় ( ঝিমঝিম্ )  + ধাতু ( কর্ ‘) যুক্ত হয়ে মিশ্র ক্রিয়া গঠিত হয়েছে।
•মিশ্র ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে, তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে।
- যেমন–
- বিশেষ্যের (পরে) : আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। 
- বিশেষণের (পরে) : তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
- ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের (পরে) : মাথা ঝিমঝিম্ করছে।
• যৌগিক ক্রিয়া-একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। 
• নিজন্ত ক্রিয়া-- কর্তার যে ক্রিয়া অন্যকে দিয়ে করানো হয়, তাকে প্রযোজক বা নিজন্ত ক্রিয়া বলে।
- যেমন—মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
২১৬.
'গরম পানি' - এখানে 'গরম' কোন বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ভাববাচক
  2. গুণবাচক
  3. উপাদানবাচক
  4. অবস্থাবাচক
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে।
- গরম পানি।
- চৌকস লোক।
[ এখানে 'চালাক', 'গরম' ও চৌকস হলো গুণবাচক বিশেষণ।]

বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন: সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২১৭.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. রূপবান
  2. মেঘলা
  3. গাম্ভীর্য
  4. উদ্ধত
ব্যাখ্যা

• 'গাম্ভীর্য' (বিশেষ্য পদ):
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- গম্ভীর ভাব,
- চপলতার অভাব,
- প্রগাঢ়তা ইত্যাদি।

• গাম্ভীর্য শব্দের বিশেষণ রূপ - গম্ভীর।

অন্যদিকে,
• বিশেষণ পদ - রূপবান, নিখুঁত।
• বিশেষণ পদ - মেঘলা।
• 'উদ্ধত' - হলো বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২১৮.
‘মরি তো মরব।’এখানে ‘তো’ কোন ধরনের ক্রিয়া বিশেষণ?
  1. পদাণু
  2. কালবাচক
  3. বহুপদী
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে’, ‘বা’, ‘না’, ‘তো’ প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন :
কি : আমি কি খাব?
যে : খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
বা : কখনো বা দেখা হবে।
না : একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
তো : মরি তো মরব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২১৯.
সংকোচক অব্যয় শনাক্ত করুন।
  1. ক) কিন্তু
  2. খ) অধিকন্তু
  3. গ) অথবা
  4. ঘ) নতুবা
ব্যাখ্যা
সংযোজক অব্যয় - আর, অধিকন্তু, সুতরাং। বিয়োজক অব্যয় - বা, অথবা, নতুবা, নয়তো। সংকোচক অব্যয় - কিন্তু, বরং, অথচ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২২০.
নিম্নের কোন বাক্যটি পুরাঘটিত অতীত কালের?
  1. আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
  2. তুমি কি কাজটি করেছিলে?
  3. বাবা প্রতিদিন বাজার করতেন।
  4. শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।

যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- তুমি কি কাজটি করেছিলে?

অন্যদিকে,
সাধারণ অতীত কাল - শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
নিত্যবৃত্ত অতীত - বাবা প্রতিদিন বাজার করতেন।
ঘটমান অতীত কাল - আমরা তখন বই পড়ছিলাম।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২১.
‘আমরা পরস্পর মিলেমিশে থাকি।’- বাক্যে ‘পরস্পর’ কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. অনুসর্গ
  4. যোজক
ব্যাখ্যা
• ‘আমরা পরস্পর মিলেমিশে থাকি।’- বাক্যে ‘পরস্পর’ পারস্পারিক সর্বনাম পদ

⇒ সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২২২.
'পেয়ে বসা' কোন ধরনের ক্রিয়া পদের উদাহরণ?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সংযোগ ক্রিয়া
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. সরল ক্রিয়া
ব্যাখ্যা


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই (২০২১ সংস্করণ)।
২২৩.
কোন বাক্যে অকর্মক ক্রিয়া আছে?
  1. আমি রাতে খাব না।
  2. আকাশে চাঁদ দেখি না।
  3. ছেলেটা কথা শোনে।
  4. সে বই পড়ছে। 
ব্যাখ্যা

অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমনঃ ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না।
- কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
- প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে।

যেমন:
অকর্মক: সে পড়ছে।
সকর্মক: সে বই পড়ছে। 
 
অকর্মক: আমি রাতে খাব না।
সকর্মক: আমি রাতে ভাত খাব না।
 
অকর্মক: আমি চোখে দেখি না।
সকর্মক: আকাশে চাঁদ দেখি না।
 
অকর্মক: ছেলেটা কানে শোনে না।
সকর্মক: ছেলেটা কথা শোনে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২২৪.
দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।- বাক্যে ‘দুষ্টু’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।- বাক্যে ‘দুষ্টু’ শব্দটি ছেলেটিকে বিশেষায়িত করেছে। সুতরাং দুষ্টু বিশেষণ পদ।

• বিশেষণ পদ:

বিশেষণ হলো সেই শব্দশ্রেণি যা অন্য শব্দের অর্থকে বিশাদ বা সীমিত করে শব্দটিকে বিশেষিত করে। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর গুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে তখন বিশেষ্য শব্দের অর্থ বিশাদ হয়। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর পরিমাণ, সংখ্যা, সম্বন্ধ ইত্যাদি প্রকাশ করে তখন শব্দের অর্থ সীমিত হয়ে যায়।
যেমন:
- দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।
- অভিজ্ঞ উনিই ব্যাপারটা বুঝবেন।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২২৫.
"গ্রাম্যতা" শব্দটি- 
  1. বিশেষ্য 
  2. বিশেষণ 
  3. ক্রিয়া বিশেষণ 
  4. প্রত্যয়ান্ত 
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য পদ:
- কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'গ্রাম্যতা' - বিশেষ্য শব্দ।


উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২২৬.
"দুঃখের পরেই সুখ আসে।" এখানে 'দুঃখ' কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• দুঃখ (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- খেদ,
- দুর্দশা । 

------------------
• গুণবচক বিশেষ্য:

যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা:
• মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা। (এখানে মধু গুণবাচক বিশেষ্য)
• তরল দ্রব্যের গুণ - তারল্য।
• তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ - তিক্ততা।
• তরুণের গুণ - তারুণ্য ইত্যাদি।

তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২২৭.
কোন পদের ক্ষেত্রে পুরুষ হয়না?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
'পুরুষ' একটি পারিভাষিক শব্দ।
- বিশেষ্য, সর্বনাম, ক্রিয়ারই পুরুষ আছে।
- বিশেষণ ও অব্যয়ের পুরুষ নেই।

ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার।
যথা- উত্তম, মধ্যম ও নাম পুরুষ।

উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ। যেমন: আমি 

মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ।
যেমন: তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।

নাম পুরুষ:
অনুপস্থিত বা পরোক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু, প্রাণীই নাম পুরুষ।
যেমন: সে, তারা, তাদের, তিনি, তাহাদের প্রভৃতি নাম পুরুষ। (সমস্ত বিশেষ্য শব্দই নাম পুরুষ)।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
২২৮.
'আমাদের এখনই এ কাজটি শুরু করা উচিত।'- এখানে 'এখনই' শব্দের সাথে যুক্ত 'ই'-এর ব্যাকরণিক পরিচয় কোনটি?
  1. যোজক 
  2. প্রত্যয়
  3. বলক
  4. বিভক্তি 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) বলক।

'আমাদের এখনই এ কাজটি শুরু করা উচিত।'- এখানে 'এখনই' শব্দের সাথে যুক্ত 'ই'- হলো বলক।
--------------
• বাংলা ব্যাকরণে, শব্দ গঠনের বিভিন্ন উপাদান রয়েছে, যেমন উপসর্গ, প্রত্যয়, ধাতু, এবং বলক।

• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে।
যেমন -
'তখনই' বা ‘এখনও' পদের 'ই' বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

অন্য অপশন,

উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
যেমন-
- অজানা (অ + জানা), অভিযােগ (অভিযােগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ’, ‘অভি’, ‘বে’ হলাে উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন -
→ বাঘ + আ = বাঘা।
→ দিন + ইক = দৈনিক।
উপরের উদাহরণে 'আ' ও 'ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'বাঘা' ও 'দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। এসকল ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
যেমন: ‘লিখ্‌ + আ = লিখা; এখানে, লিখ্‌ হলো ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২২৯.
নিচের কোনটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক) আজ বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ডের খেলা।
  2. খ) ঢাকা থেকে কুমিল্লা যেতে মেঘনা নদী পার হতে হয়।
  3. গ) এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।
  4. ঘ) কার কাছে গেলে জানা যাবে?
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ- ঢাকা থেকে কুমিল্লা যেতে মেঘনা নদী হতে হয়। 

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। 
যেমন: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি; তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।

 সাধারণ অনুসর্গ: 
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। 
যেমন: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
কার কাছে গেলে জানা যাবে? 
এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
২৩০.
বাংলা ভাষায় কত প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে?
ব্যাখ্যা
⇒ অব্যয় পদ:
যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বদ্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।

বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে- বাংলা অব্যয় শব্দ, তৎসম অব্যয় শব্দ এবং বিদেশি অব্যয় শব্দ।

১. বাংলা অব্যয় শব্দ গুলো হলো: আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।
২. তৎসম অব্যয় শব্দ গুলো হলো: যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি। 'এবং' ও 'সুতরাং' তৎসম শব্দ হলেও বাংলায় এগুলোর অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে। সংস্কৃতে 'এবং' শব্দের অর্থ এমন, আর 'সুতরাং' অর্থ অত্যন্ত, অবশ্য। কিন্তু এবং ও (বাংলা), সুতরাং = অতএব (বাংলা)।
৩. বিদেশি অব্যয় শব্দ গুলো হলো: আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩১.
বাংলা ভাষায় কোন অনুসর্গটি পঞ্চমী বিভক্তিরূপে কাজ করে?
  1. দ্বারা
  2. কর্তৃক
  3. হতে
  4. পর্যন্ত
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।

[অনুসর্গগুলো কখনো প্রতিপাদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা ‘কে’ এবং ‘র’ বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।]

• বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে: প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।

[এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক (তৃতীয়া বিভক্তি), হইতে, হতে, চেয়ে (পঞ্চমী বিভক্তি), অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৩২.
বাক্যের মধ্যে শব্দ অবস্থান করে কীভাবে?
  1. কর্তা ও ক্রিয়ার পদবিন্যাস অনুযায়ী
  2. অর্থ ও ভাব অনুযায়ী
  3. বর্গ বা গুচ্ছ আকারে
  4. স্বাধীন পদের পরিচয় নিয়ে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) কর্তা ও ক্রিয়ার পদবিন্যাস অনুযায়ী।

বাক্য গঠনের নিয়ম:
বাংলা বাক্যে শব্দের অবস্থান সাধারণত কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া (SOV: Subject-Object-Verb) পদবিন্যাস অনুসারে হয়। এটি বাংলা ভাষার বাক্য গঠনের মূল বৈশিষ্ট্য।

উদাহরণস্বরূপ:
“রানা (কর্তা) বই (কর্ম) পড়ে (ক্রিয়া)।” এই পদবিন্যাস বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করতে এবং ব্যাকরণগতভাবে বাক্যটি সঠিক হতে সাহায্য করে। বাংলায় শব্দের অবস্থান নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে, যেখানে কর্তা সাধারণত বাক্যের শুরুতে, কর্ম (যদি থাকে) মাঝে এবং ক্রিয়া শেষে থাকে।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:

খ) অর্থ ও ভাব অনুযায়ী:
যদিও বাক্যের অর্থ ও ভাব শব্দ নির্বাচন ও বিন্যাসে প্রভাব ফেলে, তবু শব্দের অবস্থান প্রাথমিকভাবে ব্যাকরণগত পদবিন্যাস (কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, অর্থ বা ভাব দ্বারা নয়।

গ) বর্গ বা গুচ্ছ আকারে:
বাংলা বাক্যে শব্দগুচ্ছ (যেমন: বিশেষণ-বিশেষ্য) থাকতে পারে, কিন্তু শব্দের অবস্থান সরাসরি বর্গ বা গুচ্ছের উপর নির্ভর করে না; বরং পদবিন্যাসের নিয়ম এটি নির্ধারণ করে।

ঘ) স্বাধীন পদের পরিচয় নিয়ে:
শব্দের স্বাধীন পদের পরিচয় (যেমন: বিশেষ্য, ক্রিয়া) বাক্যে তাদের ভূমিকা নির্ধারণে সাহায্য করে, কিন্তু অবস্থান নির্ধারিত হয় বাক্যের পদবিন্যাসের নিয়ম অনুসারে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; মাধ্যমিক ব্যাকরণ- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৩.
নিচের কোনটি অনুসর্গের প্রকারভেদ?
  1. বিশেষ্যজাত অনুসর্গ
  2. সর্বনামজাত অনুসর্গ
  3. অব্যয়জাত অনুসর্গ
  4. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
- যেমন:
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না। - এই বাক্যে ‘ছাড়া’ একটি অনুসর্গ।
• কোন পর্যন্ত পড়েছ? – এই বাক্যে ‘পর্যন্ত’ একটি অনুসর্গ।

♣♣ কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

- যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘-কে ‘-র’, ‘- ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
- যেমন:
তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব;
• সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে। 

♠ অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. সাধারণ অনুসর্গ ও
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।  

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।   
২৩৪.
কোনটি ক্রমবাচক বিশেষণ? 
  1. চতুর্থ
  2. আধা
  3. দশ
  4. ৩০তম
ব্যাখ্যা

• ক্রমবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন,
 এক টাকা, দশ দিন এখানে - 'এক' ও 'দশ' ক্রমবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
• পূরণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন- তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে 'তৃতীয়' ও '৩৪তম' পূরণবাচক বিশেষণ।

• পরিমাণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন: আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৩৫.
কোনটি বিস্ময় আবেগ?
  1. বাহ্‌
  2. উহ্‌
  3. আহা
  4. আরে!
ব্যাখ্যা
বিস্ময় আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ করে।

যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- আহ্‌, কী চমৎকার দৃশ্য!

অন্যদিকে,
• আহা - করুণা আবেগ।
• উহ্‌ - আতঙ্ক আবেগ।
• বাহ্‌ - প্রশংসা আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৩৬.
কোনটি সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সালমা ঘুমায়।
  2. হাসিব বলছে।
  3. নাছরিন খেলা করছে।
  4. সুমাইয়া লিখছে।
ব্যাখ্যা
• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার।
যথা:
১. সকর্মক ক্রিয়া,
২. অকর্মক ক্রিয়া,
৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া।

সকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- নাছরিন খেলা করছে।
এই বাক্যে 'করছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'খেলা' হলো 'করছে' ক্রিয়ার কর্ম।

অকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- সুমাইয়া লিখছে। 
- হাসিব বলছে।
- সালমা ঘুমায়।
উপর্যুক্ত বাক্যগুলোতে কোনো কর্ম নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৩৭.
’সত্য গোপন করো না।’-কী অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে?
  1. নিষেধ
  2. প্রার্থনা
  3. অনুরোধ
  4. উপদেশ
ব্যাখ্যা

• বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:

• আদেশ অর্থে:
- কাজটি করে ফেল।
- তোমরা এখন যাও।

• উপদেশ অর্থে:
- সত্য গোপন করো না।
- কড়া রোদে ঘোরাফেরা করিস না।
- 'পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা।

• অনুরোধ অর্থে: 
- আমার কাজটা এখন কর।
- অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।

• প্রার্থনা অর্থে :  আমার দরখাস্তটা পড়ুন।
• অভিশাপ অর্থে: মর, পাপিষ্ঠ।

উল্লেখ্য,
আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।

২৩৮.
'অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।' এখানে 'অতি' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. প্রত্যয়ান্ত অব্যয়
  2. নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়
  3. অব্যয় বিশেষণ
  4. অনুসর্গ অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অব্যয় বিশেষণ: কতগুলো অব্যয় বাক্যে ব্যবহৃত হলে নাম-বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ এবং বিশেষণীয় বিশেষণের অর্থবাচকতা প্রকাশ করে থাকে। এদের অব্যয় বিশেষণ বলা হয়। যথা-
নাম-বিশেষণ: অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।
ভাব-বিশেষণ: আবার যেতে হবে।
ক্রিয়া-বিশেষণ: অন্যত্র চলে যায়।

অন্যদিকে, 
----------------------
• নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়:
কতগুলো যুগ্মশব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত। যেমন: যথা-তথা, যত-তত, যখন-তখন, যেমন-তেমন, যেরূপ-সেরূপ ইত্যাদি। উদাহরণ-যথা ধর্ম তথা জয়। যত গর্জে তত বর্ষে না।

• ত (সংস্কৃত তস্) প্রত্যয়ান্ত অব্যয়:
এরকম তৎসম অব্যয় বাংলায় ব্যবহৃত হয়। যথা- ধর্মত বলছি। দুর্ভাগ্যবশত পরীক্ষায় ফেল করেছি। অন্তত তোমার যাওয়া উচিত। জ্ঞানত মিথ্যা বলিনি।

• অনুসর্গ অব্যয়:
যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে। যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৩৯.
'বেকুবের মতো কাজ করো না।' - এখানে 'মতো' অনুসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পর্যন্ত
  2. সক্ষমতা
  3. ন্যায়
  4. মত
ব্যাখ্যা

অনুসর্গের প্রয়োগ:

যেমন:
অবধি: পর্যন্ত অর্থে-  সন্ধ্যা অবধি অপেক্ষা করব।
পরে: স্বল্প বিরতি অর্থে - এ ঘটনার পরে আর এখানে থাকা চলে না।
পর: দীর্ঘ বিরতি অর্থে - শরতের পরে আসে বসন্ত।
মতে: ন্যায় অর্থে - বেকুবের মতো কাজ করো না।
তরে: মত অর্থে – এ জন্মের তরে বিদায় নিলাম।
পক্ষে: সক্ষমতা অর্থে- রাজার পক্ষে সব কিছুই সম্ভব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৪০.
‘না’ কোন জাতীয় শব্দ ?
  1. বিশেষণ
  2. অব্যয়
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
অব্যয় পদ:
ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।

যেমন-
- হ্যাঁ, না, এবং, জন্য, আর, সহসা, অদ্যাপি, হঠাৎ, সুতরাং, কিন্তু, ও, আবার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪১.
'পদ' বলতে কি বোঝায়?
  1. কবিতা
  2. যে কোনো শব্দ
  3. প্রত্যয়ান্ত শব্দ বা ধাতু
  4. বিভক্তিযুক্ত শব্দ
ব্যাখ্যা
• পদ:
- শব্দে বিভক্তি যুক্ত হলেই তাকে পদ বলা হয়। অর্থাৎ, বিভক্তি যুক্ত শব্দকে পদ বলে।
- বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ বিভক্তিযুক্ত।
- যেসব শব্দে বিভক্তি দেখা যায় না সেসব শব্দে শূন্য বিভক্তি থাকে। তাই বাক্যের প্রতিটি শব্দই পদ।

পদগুলো প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪২.
'উত্যক্ত' কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. উপসর্গ
  2. প্রত্যয়
  3. বিভক্তি
  4. সন্ধি
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
- প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
→ উত্যক্ত - উত্ত্যক্ত,
→ একত্রিত - একত্র,
→ পুজ্য - পূজ্য,
→ বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪৩.
নিম্নের কোনটি 'উদ্দেশ' শব্দের বিশেষণ রূপ?
  1. ক) উদ্দেশ্য
  2. খ) উদ্দীপ্ত
  3. গ) উদ্দিষ্ট
  4. ঘ) আদেষ্টা
ব্যাখ্যা
• 'উদ্দেশ' শব্দের বিশেষণ রূপ = উদ্দিষ্ট

• উদ্দেশ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
অর্থ: অন্বেষণ, সন্ধান, খোঁজ। 
- লক্ষ্য
- উদ্দেশ্য অভিসন্ধি
- ঠিকানা
- সংবাদ 

• উদ্দিষ্ট (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
অর্থ: 
- অন্বিষ্ট
- অভীষ্ট
- কাঙ্ক্ষিত 

অন্যদিকে, 
• উদ্দেশ্য (বিশেষ্য) 
অর্থ: অভিপ্রায়; লক্ষ্য, উদ্দেশ্যের বিষয়; তাৎপর্য, অর্থ। 

• উদ্দীপ্ত (বিশেষণ)
অর্থ: জ্বলে উঠেছে এমন, জ্বলন্ত, প্রজ্বলিত। 

• আদেষ্টা (বিশেষণ) 
অর্থ: আদেশকর্তা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৪৪.
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে। উল্লিখিত অংশটুকু কোন পদ?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া বিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়া পদকে বিশেষিত করে তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যেমন -
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০২১)।
২৪৫.
"গাড়িটি দ্রুত চলে গেল।" - এখানে 'দ্রুত' কোন ধরনের পদ?
  1. ক্রিয়া  
  2. গুণবাচক বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া বিশেষণ 
  4. অব্যয় 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর — ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ।
---------------

ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে, দ্রুত, ধীরে — শব্দগুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

প্রশ্নে দেওয়া বাক্যটি হলো: “গাড়িটি দ্রুত চলে গেল।”
 — ‘দ্রুত’ শব্দের অর্থ হলো — ‘শীঘ্র’ বা ‘তাড়াতাড়ি’। এটি বাক্যে ‘চলে গেল’ ক্রিয়াটির গতি বা পদ্ধতি বর্ণনা করছে।
এ বাক্যে, ‘দ্রুত’ — ক্রিয়া ‘চলে গেল’- এর গুণ বা অবস্থা বিশেষিত করছে, যা ক্রিয়া-বিশেষণের বৈশিষ্ট্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৪৬.
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে কী বলে?
  1. উপসর্গ
  2. অনুসর্গ
  3. প্রত্যয়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ-
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন-
সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- সাধারণ অনুসর্গ, 
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

সাধারণ অনুসর্গ- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলা হয়।
যেমন,
উপরে- মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে- কার কাছে গেলে জানা যাবে?

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন,
করে- ভালো করে খেয়ে নাও।
দিয়ে- মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
-----------------
অন্যদিকে,

• প্রত্যয়:
যেসকল শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।

• উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- অজানা (অ+জানা), অভিযোগ (অভি+যোগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ', 'অভি', 'বে' হলো উপসর্গ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪৭.
বাক্যের বর্গ কয় প্রকার?
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ নিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
বাক্যের বর্গ চার প্রকার। 
যথা :
ক. বিশেষ্যবর্গ
খ. বিশেষণবর্গ
গ. ক্রিয়াবিশেষ্যবর্গ
ঘ.ক্রিয়াবর্গ

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)।
২৪৮.
নিচের কোনটি প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. নদী বহে। 
  2. আমরা জাদুঘর দর্শন করলাম।
  3. জাদুকর জাদু দেখায়।
  4. বাতাস হু-হু করে বইছে। 
ব্যাখ্যা

জাদুকর জাদু দেখায়- প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

প্রযোজক ক্রিয়া:
- প্রযোজক ক্রিয়া হলো সেই ক্রিয়া যা একজনের প্রযোজনায় বা চালনায় অন্য কর্তৃক সম্পন্ন হয়।
- সংস্কৃত ব্যাকরণে এই ক্রিয়াকে ণিজন্ত ক্রিয়াও বলা হয়।
- জাদুকর জাদু দেখায়- এই বাক্যে ‘জাদু দেখায়’ প্রযোজক ক্রিয়া।
- কারণ জাদুকর নিজে জাদু হয় না, বরং দর্শককে জাদু দেখায়।
- প্রযোজক কর্তা হলো যে ব্যক্তি ক্রিয়াটি প্রযোজনা করছে।
- আর প্রযোজ্য কর্তা হলো যার মাধ্যমে ক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছে।
- উদাহরণস্বরূপ- জাদুকর জাদু দেখায়- এই বাক্যে-
- প্রযোজক কর্তা: জাদুকর;
- প্রযোজ্য কর্তা: দর্শককে (অপ্রকাশিত/উহ্য);
- প্রযোজক ক্রিয়া: জাদু দেখায়। 
--------------------------------------------------
অন্যদিকে,
• নদী বহে- অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ। 
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।

• 'আমরা জাদুঘর দর্শন করলাম'- মিশ্র ক্রিয়ার উদাহরণ। 
- মিশ্র ক্রিয়া হলো এমন ক্রিয়া যা বিশেষ্য, বিশেষণ অথবা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে ‘কর’, ‘হ’, ‘দে’, ‘পা’, ‘গাও’, ‘কাট্’ প্রভৃতি ধাতু বা মূল ক্রিয়ার সংযোগে সৃষ্টি হয়।

• বাতাস হু-হু করে বইছে- যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- যৌগিক ক্রিয়া বলতে সেই ক্রিয়াকে বোঝায়, যা একটি অসমাপিকা ক্রিয়া এবং একটি সমাপিকা ক্রিয়ার মিলনে গঠিত হয় এবং একসঙ্গে একটি সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ);
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৪৯.
‘আকাশ’ কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. জাতি-বিশেষ্য
  2. সমষ্টি-বিশেষ্য
  3. বস্তু-বিশেষ্য
  4. গুণ-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ‘আকাশ’ বস্তু-বিশেষ্যের উদাহরণ।

• বিশেষ্য পদ:

যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫০.
'আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. নিত্যবৃত্ত বর্তমানকাল
  2. পুরাঘটিত বর্তমানকাল
  3. নিত্যবৃত্ত অতীতকাল
  4. পুরাঘটিত অতীতকাল
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অতীতকাল:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- তিনি রাড়ি গেলেন, কাফি এসেছিল ইত্যাদি।

• নিত্যবৃত্ত অতীতকাল:
অতীতকালে কোনো ক্রিয়া সব সময় বা নিয়মিতভাবে ঘটতো এমন বোঝালে কিংবা অভ্যাসগত কোনো কাজ বোঝালে তাকে 'নিত্যবৃত্ত অতীতকাল' বলে। যেমন:
- আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।

নিত্যবৃত্ত অতীত কালের প্রয়োগ:
• ইচ্ছা প্রকাশে: আজ যদি ছুটি হতো, কেমন মজা হতো।
• কল্পনায়: 'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'।
• সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালই হতো।
• ক্রিয়া সংঘটনের অপূর্ণতাজনিত কারণ বোঝাতে: গাড়িটা কিনতাম, কিন্তু দাম বেশি বলে কেনা হল না।
• অপূর্ণতাজনিত খেদ প্রকাশে: যদি তোমার মতো গান গাইতে পারতাম।
• নিশ্চয়তার ভাব প্রকাশে ভবিষ্যৎকালের দ্যোতনায়: এ ঘটনা আজ হোক কাল হোক ঘটতই।

• ঘটমান অতীতকাল:
অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে তখনো কাজটি সমাপ্ত হয়নি- ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- মা তখন শিশুকে ঘুম পাড়াচ্ছিলেন।
- কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- মা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

• পুরাঘটিত অতীতকাল:
যে ক্রিয়া অতীতে বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন: সেবার তোমাকে সুস্থই দেখেছিলাম।

পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ:
• অতীতে সংঘটিত ঘটনার নিশ্চিত বর্ণনায়: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ মারাঠা সৈন্য মারা গিয়েছিল।
• অতীতে সংঘটিত ঘটনার পরম্পরা বোঝাতে শেষ ক্রিয়াপদে পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ হয়: বৃষ্টি শেষ হবার পূর্বেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫১.
নিচের কোনটি অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. কোথাও
  2. পরস্পর
  3. সমস্ত
  4. ব্যতীত
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
- রুনা অপেক্ষা পুতুলের পরীক্ষা ভালো হয়েছে।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ?
[উপরের বাক্যে ব্যবহৃত ‘অপেক্ষা’ ও ‘পর্যন্ত’ অনুসর্গের উদাহরণ।]
 
• এরূপ আরো কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ হলো:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।
 
• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘কে’ ‘রে’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন:
- তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব!
 
অন্যদিকে,
- ‘কোথাও, পরস্পর, সমস্ত’ সর্বনাম পদের উদাহরণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫২.
'আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দান করুক।' - বাক্যটি কোন কাল প্রকাশ করে?
  1. বর্তমান অনুজ্ঞা
  2. ঘটমান ভবিষ্যৎ
  3. ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
  4. সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা
বর্তমান অনুজ্ঞা:
- বর্তমানে কোনো ক্রিয়া সম্পাদনের আদেশ, উপদেশ, আশীবার্দ, অভিশাপ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝানোর জন্য বর্তমান অনুজ্ঞা ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সদা সত্য বলো।
- আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করুন।
- আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দান করুক।

সাধারণ বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তৃণা স্কুলে যায়।
- বর্ণ বই পড়ে।

ঘটমান বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়ার কাল শেষ হয়নি, এখন চলছে এরূপ অর্থ বোঝালে ঘটমান বর্তমান হয়।
যেমন:
- ছন্দা গান গাইছে।
- রাফিন ও রিজন বল খেলছে।

পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫৩.
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।- এ বাক্যে ‘ভালোভাবে’ কী ধরণের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) ধরণবাচক
  2. খ) কালবাচক
  3. গ) স্থানবাচক
  4. ঘ) নেতিবাচক
ব্যাখ্যা
• যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোন কাজ কীভাবে বা কেমন করে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে ধরনবাচক বা ভাবজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
য়েমন :
টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে।
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে।

অন্যদিকে,
কালবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে তাদেরকে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন:
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

স্থানবাচক: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
মিলেমিশে সামনে এগিয়ে যায়।

নেতিবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ না, নি, নেই ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায় তাকে নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পেছনে বসে।
যেমন:
সে এখন যাবে না

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫৪.
'জানুয়ারি' কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. বস্তু-বিশেষ্য
  4. গুণ-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
ব্যক্তিনাম:
- হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম:
- ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা
কালনাম:
- সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান
সৃষ্টিনাম:
- গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

অন্যদিকে:
বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৫৫.
"বেশ, তাই হবে।" দাগাঙ্কিত অংশটি কোন পদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) আবেগ
  2. খ) যোজক
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
আবেগ:
মনের নানা ভাব বা আবেগকে প্রকাশ করা হয় যেসব শব্দ দিয়ে সেগুলােকে আবেগ শব্দ বলা হয়।
এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলাের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

"বেশ, তাই হবে।" - এটি সিদ্ধান্তবাচক আবেগ-শব্দ। 

সিদ্ধান্তবাচক আবেগ-শব্দ:
এই জাতীয় আবেগ শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি ভাব প্রকাশ করা হয়। 
যেমন:
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ হচ্ছে না। 
- না, আমি তোমার কোনো কথাই শুনব না।
- উঁহু, ও কাজ আমাকে দিয়ে হবে না। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি। 

 
২৫৬.
‘ওরে, তুই কোথায় চললি?’- বাক্যে ‘ওরে’ কোন পদ?
  1. ক্রিয়াবিশেষণ
  2. আবেগ
  3. যোজক
  4. অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• আবেগ-শব্দ: মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
⇒ সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ মনে হচ্ছে না।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাহ, চমৎকার লিখেছ।
- শাবাশ! খেলার মতো খেলা দেখালে।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।
- কী জ্বালা! আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।
- আহ! কী বিপদ।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- অ্যাঁ, বলছ কী?

⇒ করুণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আহা! বেচারার কত কষ্ট।
- হায়! হায়! এখন ওদের কে দেখবে!

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
- ওরে, তুই কোথায় চললি ?

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫৭.
'মনােযােগ দিয়ে লেখাপড়া করবে।' - বাক্যে কোন কালের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) নিত্যবৃত্ত ভবিষ্যত
  2. খ) বর্তমান অনুজ্ঞা
  3. গ) সাধারণ ভবিষ্যত
  4. ঘ) ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
ব্যাখ্যা
'মনােযােগ দিয়ে লেখাপড়া করবে।' - এই বাক্যটি ভবিষ্যত অনুজ্ঞা কালের উদাহরণ। 

ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা : ভবিষ্যতে কোনাে কাজ করার আদেশ, অনুরােধ, উপদেশ, প্রার্থনা প্রভৃতি বােঝালে ভবিষ্যৎ কালের, ক্রিয়াপদের যে রূপ হয়, তাকে ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা বলে।
যেমন:
আদেশ- এই লেখাটি তুমিই লিখবে।
অনুরােধ- আমার জন্য একটি বই আনবেন।
উপদেশ- মনােযােগ দিয়ে লেখাপড়া করবে।
প্রার্থনা- ‘রেখাে মা, দাসেরে মনে এ মিনতি করি পদে।'

ভবিষ্যৎ কাল যে ক্রিয়ার কাজটি এখনাে ঘটেনি অর্থাৎ অনাগতকালে সংঘটিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে।
ভবিষ্যৎ কাল চার প্রকার - 
- সাধারণ ভবিষ্যত
- পুরাঘটিত ভবিষ্যত
- ঘটমান ভবিষ্যত
- ভবিষ্যত অনুজ্ঞা

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৮.
'মারহাবা' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য 
  2. বিশেষণ 
  3. অব্যয় 
  4. ক্রিয়াবিশেষণ 
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'মারহাবা' শব্দটি অব্যয় পদ।


উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৫৯.
‘ছেলেটি এমন আকায় একেছে’ - বাক্যে যে ধরনের কর্মপদ ব্যবহৃত হয়েছে -
  1. ক) মুখ্যকর্ম
  2. খ) ধাত্বর্থক কর্ম
  3. গ) গৌণ কর্ম
  4. ঘ) প্রযোজক কর্ম
ব্যাখ্যা

বাক্যের ক্রিয়া ও কর্মপদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ/ধাত্বর্থক কর্ম বলে।
যেমন-
আর কত খেলা খেলবে।
বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
আর মায়াকান্না কেঁদো না। ইত্যাদি।
তেমনিভাবে, ছেলেটি এমন আকায় একেছে - সমধাতুজ/ধাত্বর্থককর্ম পদ। 
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণঃ নবম-দশম শ্রেণী।

২৬০.
জাতিবাচক বিশেষ্যর দৃষ্টান্ত -
  1. পর্বত
  2. খাতা
  3. দল
  4. বাটি
ব্যাখ্যা
জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
বস্তুবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন:
বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বুঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।

যেমন:
- মিছিল, সমাজ, সভা, জনতা, বহর, দল, সমিতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৬১.
'তারা মাঠে খেলছিল' বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. ক) সাধারণ অতীত
  2. খ) ঘটমান অতীত
  3. গ) পুরাঘটিত অতীত
  4. ঘ) নিত্য অতীত
ব্যাখ্যা
'তারা মাঠে খেলছিল' ঘটমান অতীত কালের উদাহরণ।

ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে। 
যেমন: আমরা তখন বই পড়ছিলাম। 

সাধারণ অতীত কাল: 
অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বােঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন: তারা সেখানে বেড়াতে গেল। 
 
পুরাঘটিত অতীত: 
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরাে কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন: বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম। 

নিত্য অতীত কাল:
অতীত কালে প্রায়ই ঘটতাে এমন বােঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন - খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম
তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৬২.
সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ কোনটি?
  1. আমাদের পরীক্ষা চলছে।
  2. আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
  3. আসবেন বলে এলেন না কেন?
  4. ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
ব্যাখ্যা
সাধারণ ভবিষ্যৎ:
ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- আমরা রংপুরে যাব
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে

সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের বিশেষ প্রয়োগ:
- সাধারণ ভবিষ্যতের ক্রিয়ারূপ দিয়ে অতীতের ঘটনা বর্ণনায় বা জিজ্ঞাসায়: আসবেন বলে এলেন না কেন?

অন্যদিকে,
ঘটমান বর্তমান কাল - আমাদের পরীক্ষা চলছে।।
• ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল - আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
• অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল - ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬৩.
বিশেষ্য পদ- 
  1. অজ্ঞাত
  2. লাজ
  3. জীবন্ত
  4. অবজ্ঞেয়
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য পদ:
- কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য ,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• বিশেষ্য পদ - লাজ।
শব্দের অর্থ:
- লজ্জা সরম।

অন্যদিকে,
• বিশেষণ পদ - অজ্ঞাত, জীবন্ত, অবজ্ঞেয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২৬৪.
আকাঙক্ষা ভাব প্রকাশ পেয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে।
  2. বৃষ্টি আসে আসুক।
  3. ভালো করে পড়লে সফল হবে।
  4. তারা বাড়ি যাবে।
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।

- ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।

• নির্দেশক ভাব:
সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক: তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়: আপনি কি আসবেন? 

• অনুজ্ঞা ভাব:
আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়। যেমন:
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
• বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড় ।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

• সাপেক্ষ ভাব:
একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন:
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

• আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব:
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬৫.
ভাষায় সর্বনাম ব্যবহারের উদ্দেশ্য কি ?
  1. ক) বিশেষণের পরিবর্তে ব্যবহার করা
  2. খ) বিশেষ্যের পুনরাবৃত্তি দূর করা
  3. গ) বিশেষ্যের অভাব দূর করা
  4. ঘ) ভাষা শব্দ সম্পদ বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম: 
- সর্বনাম বাক্যে বিশেষ্যের অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। 
- সর্বনাম অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ্য, বিশেষ্যগুচ্ছ কিংবা বিশেষ্যস্থানীয় ব্যাক্যাংশের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়। 
যেমন,
বিশেষ্যের পরিবর্তে: ডাক্তার অসুস্থ, তিনি রোগী দেখতে আসবেন না। 
এখানে বিশেষ্য: ডাক্তার, আর সর্বনাম: তিনি। 

সূত্র: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন। 
২৬৬.
'মানুষ হও'। বাক্যটিতে রয়েছে-
  1. উপদেশ
  2. আদেশ
  3. অনুরোধ
  4. অনুনয়
ব্যাখ্যা
• উপদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ - মানুষ হও।

অনুজ্ঞা:
- আদেশ, অনুমতি, অনুরােধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বােঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয় তাকে বলে অনুজ্ঞা।
- আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।

যেমন:
- সম্ভাবনায় - ভাল করে পড়লে পাস করবে।
- উপদেশ - মানুষ হও।
- প্রার্থনায় - সুখী হও।
- অনুরোধে - কাল দেখা করো।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬৭.
“যথাসময়ে সবাই উপস্থিত হয়েছে।”- বাক্যে ‘যথাসময়ে’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• “যথাসময়ে সবাই উপস্থিত হয়েছে”- বাক্যে ‘যথাসময়ে’ কালবাচক ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ।

--------------------
• ক্রিয়া বিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।


ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। 
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব? 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৬৮.
কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. ব্যতীত
  2. অভিমুখে
  3. কর্তৃক
  4. স্বয়ং
ব্যাখ্যা

• কর্তৃক, ব্যতীত, অভিমুখে → এগুলো অনুসর্গ।
• স্বয়ং → এটি অব্যয় শব্দ, কিন্তু অনুসর্গ নয়। (যেমন: "স্বয়ং সে পরিশ্রম করেছে।")।

------------------
অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন - 
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। 

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা - 
- সাধারণ অনুসর্গ ও 
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

২৬৯.
নিচের কোনটি নিত্যবৃত্ত অতীত?
  1. ক) পড়াতাম
  2. খ) পড়ালাম
  3. গ) পড়িয়েছিলাম
  4. ঘ) পড়াবো
ব্যাখ্যা

যে ক্রিয়া অতীতে প্রায়ই ঘটত (অভ্যস্ততা) এমন বোঝায়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলা হয়।
ক) কামনা প্রকাশে : আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হত।
খ) অসম্ভব কল্পনায় : সাতাশ হত যদি একশ’ সাতাশ।
গ) সম্ভাবনা প্রকাশে : তুমি যদি যেতে, তবে ভালই হত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৭০.
'সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. নিত্য অতীত
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. সাধারণ অতীত
ব্যাখ্যা
• বর্তমান কাল
বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কাল চার প্রকার: সাধারণ বর্তমান, ঘটমান বর্তমান, পুরাঘটিত বর্তমান এবং অনুজ্ঞা বর্তমান।

• সাধারণ বর্তমান: যে ক্রিয়া বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি স্কুলে যাই।
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।

• ঘটমান বর্তমান: যে ক্রিয়া বর্তমানে চলছে বোঝায়, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

• পুরাঘটিত বর্তমান: এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি অঙ্কটি করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।

• অনুজ্ঞা বর্তমান: যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
- সকলের মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৭১.
‘যত চাও তত লও তরণী পরে।’— এখানে ‘যত-তত’ হলো—
  1. নির্দেশক সর্বনাম 
  2. সাপেক্ষ সর্বনাম
  3. পারস্পরিক সর্বনাম
  4. অনির্দিষ্ট সর্বনাম 
ব্যাখ্যা

• 'যত চাও তত লও তরণী পরে' - এই বাক্যে 'যত-তত' হলো — সাপেক্ষ সর্বনাম।
-----------------
• সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।

যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যান্য অপশন ক্ষেত্রে:
• (ক) নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম  বলে।
যেমন -
নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি।
দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

(গ) পারস্পরিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযােগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন – পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

(ঘ) অনির্দিষ্ট সর্বনাম: 
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২৭২.
ব্যতিহারিক সর্বনাম কোনটি?
  1. ইহারা
  2. যিনি
  3. নিজে নিজে
  4. কেহ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণির (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনাম সমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে:
 
১. ব্যাক্তিবাচক বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক: স্বয়ং, খোদ, নিজে, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব ইত্যাদি।
৫. সাকুল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার ইত্যাদি।
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে,
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে,

• সর্বনাম পদ:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। যেমন- "শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।" দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে। বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।
 
সর্বনামকে নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম,
২. আত্মবাচক সর্বনাম,
৩. নির্দেশক সর্বনাম,
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম,
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম,
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম,
৭. পারস্পরিক সর্বনাম,
৮. সকলবাচক সর্বনাম,
৯. অন্যবাচক সর্বনাম।
২৭৩.
কোনটি অনন্বয়ী অব্যয়?
  1. তাই
  2. নিশ্চয়ই
  3. কিংবা
  4. অধিকন্তু
ব্যাখ্যা

অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
নিশ্চয়ই পারব।
- আমি আজ আলবত যাব।

​অন্যদিকে,
সমুচ্চয়ী অব্যয়ের উদাহরণ - কিংবা, অধিকন্তু, এবং, তাই

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

২৭৪.
নিচের কোনটি গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) গমন
  2. খ) বহর
  3. গ) যৌবন
  4. ঘ) চাল
ব্যাখ্যা
- গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ হলো- যৌবন। 

গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। 
যেমন- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি। 
তদ্রুপ- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭৫.
"এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে না কো তুমি" বাক্যে 'কোথাও' কোন প্রকার ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. খ) কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. গ) পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ঘ) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• যে পদ ক্রিয়া কে বিশেষিত করে তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। যেমন: লোকটি ধীরে হাটে। 

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন -
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন -
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন -
মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বােঝায়।
এগুলাে সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন -
সে এখন যাবে না।
তিনি বেড়াতে যাননি।
এমন কথা আমার জানা নেই।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে, বা',না’, ‘তাে  প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন -
কি: আমি কি যাব?
যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৭৬.
‘কর’ ধাতুর পুরাঘটিত অতীত কালের প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ কোনটি?
  1. করেছিলে
  2. করতে
  3. করিয়েছিলাম
  4. করলাম
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত অতীত কাল: 
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীতকাল বলে।
যেমন
- খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।

• প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া: 
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।

যেমন:
''আমি আরিফকে দিয়ে কাজটি করিয়েছিলাম।" 
- বাক্যটি পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ। 
- 'করিয়েছিলাম' প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া,
- 'করিয়েছিলাম' ক্রিয়াটি কর ধাতু থেকে উৎপন্ন।
- 'আমি' প্রযোজক কর্তা এবং
- 'আরিফকে' প্রযোজ্য কর্তা।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭৭.
'মালী' শব্দটি-
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) ক্রিয়া
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মালী (-লিন্‌) [মালি] (বিশেষ্য)
১) মাল্যরচনাকারী; মালাকর।
২) বেতনের বিনিময়ে বাগানের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তি; উদ্যানরক্ষক; উদ্যানপালক।
৩) একটি হিন্দু জাতি।
(বিশেষণ) মালাধারী; মাল্যবিশিষ্ট।
মালিনী (২) (স্ত্রীলিঙ্গ)।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) মাল্য+ইন্‌(ইন)}
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

২৭৮.
‘আহা! বেচারার কত কষ্ট।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘আহা’ কোন পদ?
  1. অনুসর্গ
  2. সর্বনাম
  3. আবেগ
  4. যোজক
ব্যাখ্যা
⇒ আবেগ শব্দ: মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

⇒ সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ মনে হচ্ছে না।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাহ, চমৎকার লিখেছ।
- শাবাশ! খেলার মতো খেলা দেখালে।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।
- কী জ্বালা! আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।
- আহ! কী বিপদ।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- অ্যাঁ, বলছ কী?

⇒ করুণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আহা! বেচারার কত কষ্ট।
- হায়! হায়! এখন ওদের কে দেখবে!

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
- ওরে, তুই কোথায় চললি ?

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৭৯.
কোনটি রূপবাচক বিশেষণ?
  1. ঠাণ্ডা হাওয়া।
  2. কালো মেঘ।
  3. পাথুরে মূর্তি।
  4. রোগা ছেলে।
ব্যাখ্যা
বিশেষণের প্রকারভেদ:
• রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
• গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
• অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
• সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
• ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
• পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
• অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
• উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
• প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
• নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮০.
কোন বাক্যে ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
  2. টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
  3. মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
  4. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
ব্যাখ্যা
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।

যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

অন্যদিকে,
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।

যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৮১.
‘কিছু হলে আমাকে জানিও’- এখানে ‘কিছু’ কোন পদ?
  1. ক) সর্বনাম
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• যে সর্বনাম দ্বারা অনির্দিষ্ট ও পরিচয়হীন কোন কিছুকে বুঝায় তাকে অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম বলে।
এ ধরনের সর্বনাম হলো: কেউ, কেউ কেউ, কিছু।
যেমন:
- কিছু হলে আমাকে জানিও।
- কোথাও কেউ নেই।
- কেউ কেউ ঘটনাটা জানবেন।
- কোন কিছু আমার জানা নেই।
- কিছু না খেলে আর পারছি না।
- যে কেউ এর নিন্দা করেবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮২.
কোন বাক্যটিতে 'ভালো' শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পরের ভালো দেখতে পারে না। 
  2. তোমার ভালো হোক। 
  3. ভালো বাসা সবাই চায়।
  4. তুমি এখানে কার ভালোটা দেখলে?
ব্যাখ্যা

• 'ভালো বাসা সবাই চায়।'এই বাক্যে 'ভালো' বিশেষণ হিসেবে বসেছে। 
- এখানে 'ভালো' গুণবাচক বিশেষণ।
- এখানে বাসার গুণ অর্থে 'ভালো' বিশেষণটি বসেছে।

অন্যদিকে,
- পরের ভালো দেখতে পারে না;
- তোমার ভালো হোক;
- তুমি এখানে কার ভালোটা দেখলে? 
এই বাক্যগুলোতে 'ভালো' গুণবিশেষ্য হিসেবে বসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২৮৩.
কোনটি অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কালের দৃষ্টান্ত?
  1. এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
  2. তারা বাড়িতে ফিরেছে।
  3. তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
  4. সকলের মঙ্গল হোক।
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

অন্যদিকে,
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে। = ঘটমান ভবিষ্যৎ।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে। = পুরাঘটিত বর্তমান।
- সকলের মঙ্গল হোক। = অনুজ্ঞা বর্তমান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৮৪.
কোন বাক্যে ক্রিয়া-বিশেষণ রয়েছে?
  1. ক) তিনি প্রতিদিন ধীরে ধীরে হাঁটেন।
  2. খ) তিনি প্রতিদিন বাগানে হাঁটেন ।
  3. গ) তিনি প্রতিদিন একা একা হাঁটেন।
  4. ঘ) তিনি প্রতিদিন লাঠি হাতে হাঁটেন।
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত বাক্যের মধ্যে 'তিনি প্রতিদিন ধীরে ধীরে হাঁটেন'। এই বাক্যের মধ্যে 'ধীরে ধীরে' হলো ক্রিয়া-বিশেষণ এর অন্তর্গত।

ক্রিয়া বিশেষণ
যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব,কাল বা রূপ নির্দেশ করে,তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা:
ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮৫.
কর্তা নিজেই কোন কাজ করছে এমন বোঝালে কোন সর্বনাম হয়?
  1. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
  2. সাপেক্ষ সর্বনাম
  3. আত্মবাচক সর্বনাম
  4. অন্যবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা

• সর্বনাম পদ: 
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
সর্বনাম কে ৯ টি শ্রেনিতে ভাগ করা হয়।
যথা -
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম - ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যাক্তির নামের পরিবর্তে বসে।
যেমন: আমি, তুমি, সে ইত্যাদি।

২. প্রশ্নবাচক সর্বনাম - প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৩. অনির্দিষ্ট সর্বনাম - অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে এই সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: কেউ, কোথাও, একজন, কিছু ইত্যাদি।

৪. নির্দেশবাচক সর্বনাম - যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব প্রকাশ করে তাকে নির্দেশবাচক সর্বনাম বলে।
যেমন: এ, এই, এরা, ইনি ইত্যাদি।

৫. আত্মবাচক সর্বনাম: 
- কর্তা নিজেই কোন কাজ করছে এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এই সর্বনামটি ব্যবহার করা হয়।
যেমন: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম - পরষ্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন: যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম - দুই পক্ষের সহযোগীতা বা নির্ভরশীলতা বোঝাতে পারষ্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক সর্বনাম - ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: সবাই, সকলে, সকলকে ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম - নিজ ভিন্ন অন্য কোন অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম - দশম শ্রেণী (২০২১ সংস্করণ)।

২৮৬.
'পদ' এর প্রকারভেদ এর অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. বিশেষ্য
  2. অনুসর্গ
  3. বিভক্তি
  4. যােজক
ব্যাখ্যা

• পদ:
বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে৷

অন্যভাবে,
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।

• বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
যথা:
- বিশেষ্য,
- সর্বনাম,
- বিশেষণ,
- ক্রিয়া,
- ক্রিয়াবিশেষণ,
- অনুসর্গ,
- যােজক,
- আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

২৮৭.
কোনটি ব্যতিহারিক সর্বনাম?
  1. ক) তোমরা
  2. খ) আমি-তুমি
  3. গ) আপনা-আপনি
  4. ঘ) কাহার
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনাম সমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকেঃ

১. ব্যাক্তিবাচক বা পুরুষবাচক - আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক - স্বয়ং, খোদ, নিজে, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক - এ, এই, এরা, ইহারা ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক - ঐ, ঐসব ইত্যাদি।
৫. সাকুল্যবাচক - সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক - কে, কি, কী, কোন, কাহার ইত্যাদি।
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক - কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক - আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক - যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক - অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই

২৮৮.
“আমাদের পরীক্ষা চলছে” কোন কালের উদাহরণ?
  1. ক) সাধারণ বর্তমান
  2. খ) পুরাঘটিত বর্তমান 
  3. গ) ঘটমান বর্তমান
  4. ঘ) চলিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
• “আমাদের পরীক্ষা চলছে” - ঘটমান বর্তমান কালের উদাহরণ

বর্তমান কাল তিন প্রকার যথা: 
সাধারণ বর্তমান 
ঘটমান বর্তমান
পুরাঘটিত বর্তমান 

সাধারণ বর্তমান কাল :
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন: তানিমা ভাত খায়। আমি বাড়ি যাই। 

ঘটমান বর্তমান কাল :
যে কাজ শেষ হয়নি, এখনও চলছে, সে কাজ বোঝানোর জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যথা:
- আরিফ বই পড়ছে।
- তাহিয়া গান গাইছে।
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলে এবং তার ফল এখনও বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি।
২৮৯.
'কাজটি কি তুমি করেছিলে?' কোন ধরনের অতীত কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত অতীত
  2. সাধারণ অতীত
  3. নিত্যবৃত্ত অতীত
  4. ঘটনার অতীত
ব্যাখ্যা
অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল। 
 
• সাধারণ অতীত:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন-
প্রদীপ নিভে গেল।
শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

. নিত্যবৃত্ত অতীত:
অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
বলে।
যেমন-
আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

•. ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি-ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন-
কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

. পুরাঘটিত অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন-
সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: , বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)
২৯০.
কোন ক্রিয়াটি ঘটমান বর্তমান?
  1. করেছি
  2. ডেকেছেন
  3. খেলছে
  4. ফিরেছেন
ব্যাখ্যা
ঘটমান বর্তমান: 
- যে ক্রিয়ার কাজ বর্তমানে ঘটছে বা চলছে, এখনো শেষ হয়ে যায় নি, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে। 
যেমন: 
আমার ছোট ভাই লিখছে। 
ছেলেরা এখনো ফুটবল খেলছে। 
টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক দেখাচ্ছে। 
 
অন্যদিকে,
পুরাঘটিত বর্তমান: 
- যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে। 
যেমন: 
এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন। 
এবার মা খেতে ডেকেছেন। 
অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি
 
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৯১.
"পঞ্চায়েত" কোন বিশেষ্য পদের উদাহরণ?
  1. ভাববাচক
  2. সমষ্টিবাচক
  3. বস্তুবাচক
  4. ব্যক্তিবাচক
ব্যাখ্যা
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।

যেমন-
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২৯২.
'পাঁচটি বছর' - এখানে 'পাঁচটি' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়াবিশেষণ 
ব্যাখ্যা

• 'পাঁচটি বছর' - এখানে 'পাঁচটি' সংখ্যাবাচক বিশেষণ পদ।

• নাম বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৯৩.
‘ওই ঘরে আজকাল সহজে কেউ ঘেঁষে না।’—এখানে ‘না’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়াবিশেষণ
  4. যোজক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) ক্রিয়াবিশেষণ।

ব্যাখ্যা:
• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বােঝায়। এগুলাে সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন -
সে এখন যাবে না।

বাক্যটি: ‘ওই ঘরে আজকাল সহজে কেউ ঘেঁষে না।’

- এখানে ‘না’ শব্দটি ক্রিয়ার অর্থকে নেতিবাচক করে দিচ্ছে।
- এটি ঘেঁষে (ক্রিয়া)-কে বিশেষিত করছে → অর্থাৎ ঘেঁষা হচ্ছে না।
- বাংলা ব্যাকরণে ক্রিয়াকে যে শব্দ নেতিবাচক বা বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ (Adverb) বলা হয়।
- এখানে ‘না’ ক্রিয়ার নেতিবাচকতা প্রকাশ করছে → ক্রিয়াবিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।

২৯৪.
ডুবুডুবু নৌকা- কোন ধরনের বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ক) অব্যয়জাত
  2. খ) বীপ্সামূলক
  3. গ) ক্রিয়াজাত
  4. ঘ) অনুকার অব্যয়জাত
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বীপ্সামূলক বিশেষণের উদাহরণঃ- হাসিহাসি মুখ, কাঁদো কাঁদো চেহারা, ডুবুডুবু নৌকা।
২৯৫.
'হ্যাঁ' শব্দটি কোন ধরনের পদ?
  1. ক) বিশেষণ
  2. খ) অব্যয়
  3. গ) বিশেষ্য
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়। যেমন- হ্যাঁ, না, এবং, জন্য, আর, কিন্তু, ও, আবার ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২৯৬.
কেউ কেউ ঘটনাটা জানবেন। এখানে 'কেউ কেউ' কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
যে সর্বনাম দ্বারা অনির্দিষ্ট ও পরিচয়হীন কোনো কিছুকে বুঝায় তাকে অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম বলে।
- এ ধরনের সর্বনাম হলো : কেউ, কেউ; কিছু, কিছু,  

যেমন : 
- কেউ কোথাও আছে বলে মনে হয় না।
- কেউ কেউ ঘটনাটা জানবেন।
- কোনো কিছু আমার জানা নেই।
- কিছু না খেলে আর পারছি না।
- যে কেউ এর নিন্দা করবে। 
- চলো কোথাও ঘুরে আসি।

উৎস : মাধ্যমিক ব্যাকরণ (নতুন) এবং বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক ব্যাকরণ।
২৯৭.
“হাসিমের ভাই এসেছে” - এ বাক্যে ‘হাসিমের’ পদটি কীসের সম্প্রসারক?
  1. ক) ক্রিয়ার সম্প্রসারক
  2. খ) উদ্দেশ্যের সম্প্রসারক
  3. গ) বিশেষণের সম্প্রসারক
  4. ঘ) বিধেয়ের সম্প্রসারক
ব্যাখ্যা

প্রতিটি বাক্যে দুটি অংশ থাকে: উদ্দেশ্য ও বিধেয়।
বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য এবং উদ্দেশ্য সম্বন্ধে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলা হয়।
যেমন: খোকা এখন (উদ্দেশ্য) বই পড়ছে (বিধেয়)।

একটি মাত্র পদবিশিষ্ট কর্তৃপদকে সরল উদ্দেশ্য বলে।
উদ্দেশ্যের সঙ্গে বিশেষণাদি যুক্ত থাকলে তাকে সম্প্রসারিত উদ্দেশ্য বলে।

প্রশ্নের বাক্যে,
হাসিমের (উদ্দেশ্য) ভাই এসেছে (বিধেয়)।
সুতরাং, উদ্দেশ্যের সম্প্রসারণ হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

২৯৮.
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে কি বলে?
  1. বিভক্তি
  2. পদ
  3. প্রত্যয়
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা

• পদ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য
২. সর্বনাম
৩. বিশেষণ
৪. ক্রিয়া
৫. ক্রিয়া বিশেষণ
৬. অনুসর্গ
৭. যোজক
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২৯৯.
‘তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।’— বাক্যটিতে 'তবু' কোন ধরনের যোজক নির্দেশ করেছে?
  1. বিরোধ যোজক
  2. সাধারণ যোজক
  3. সাপেক্ষ যোজক
  4. বিকল্প যোজক
ব্যাখ্যা
• বিরোধ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।

- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।
(এখানে, 'তবু' যোজকটি দুইটি বাক্যাংশের মধ্যে বিরোধ নির্দেশ করে।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০০.
সাধারণত বিশেষ্য পদ কত প্রকার?
  1. ক) চার
  2. খ) পাঁচ
  3. গ) ছয়
  4. ঘ) সাত
ব্যাখ্যা
সধারণত ছয় প্রকার বিশেষ্যের কথা জানা গেলেও ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বিশেষ্য পদ পাঁচ প্রকার এবং ব্যাকরণবিদ জগদীশচন্দ্র ঘোষের মতে সাত প্রকার।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর