বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা ২৫ / ৩১ · ২,৪০১২,৫০০ / ৩,০২৪

২,৪০১.
কোনটি সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ?
  1. ক) আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
  2. খ) আমরা মাঠে খেলতে যাব।
  3. গ) ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
  4. ঘ) তাড়াতাড়ি কাজটি করো। 
ব্যাখ্যা
- 'আমরা মাঠে খেলতে যাব।'- এটি সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল এর উদাহরণ।

• ভবিষ্যৎ কাল:
- ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে।
- ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার।

• সাধারণ ভবিষ্যৎ:
- ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন: আমরা মাঠে খেলতে যাব।

• ঘটমান ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন: আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব। এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

• অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমন: তাড়াতাড়ি কাজটি করো। ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
২,৪০২.
'নীল আকাশ জুড়ে সাদা মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে।' - বাক্যে "নীল আকাশ" কোন বিশেষণের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্যের বিশেষণ
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. ভাব বিশেষণ
  4. নাম বিশেষণ
ব্যাখ্যা
নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:

ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪০৩.
নিচের কোন বাক্যটি পুরাঘটিত অতীত কাল নির্দেশ করে?
  1. আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
  2. বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
  3. সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
  4. কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
ব্যাখ্যা

• পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।

যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

অন্যদিকে,
• ঘটমান অতীত কাল:
অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

২,৪০৪.
কোনটি ক্রিয়াজাত বিশেষণের উদাহরণ?
  1. খাবার পানি
  2. হারানো সম্পত্তি
  3. অনাগত দিন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বিভিন্নভাবে বিশেষণ গঠনের পদ্ধতি:
• ক্রিয়াজাত বিশেষণ- খাবার পানি, হারানো সম্পত্তি, অনাগত দিন, ইত্যাদি।
• অব্যয়জাত জাত: আচ্ছা মানুষ; উপরি পাওনা।
• সর্বনাম জাত: কবেকার কথা; কোথাকার কে।
• সমাসসিদ্ধ বিশেষণ: বেকার, চৌচালা ঘর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম - দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪০৫.
'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে।' - বাক্যে 'অলগ্নক' পদ কোনটি?
  1. ছেলেরা
  2. ক্রিকেট
  3. খেলে
  4. ক্রিকেট খেলে
ব্যাখ্যা
অলগ্নক পদ:
- যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলোকে অলগ্নক পদ বলে।
যেমন -
'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'
- এ বাক্যে 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।
 
অন্যদিকে,
সলগ্নক পদ:
- বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক পদ বলে। যেমন -
- 'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'
- এ বাক্যে 'ছেলেরা' ও 'খেলে' সংলগ্নক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪০৬.
কোন বাক্যে আবশ্যকতা বোঝাতে 'ইতে > তে' বিভক্তি যুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) মেলা দেখতে ঢাকা যাব।
  2. খ) বাল্যকালে বিদ্যাভ্যাস করতে হয়।
  3. গ) এখন ট্রেন ধরতে হবে।
  4. ঘ) খোকা এখন পড়তে পারে।
ব্যাখ্যা
আবশ্যকতা বোঝাতে ইতে > তে বিভক্তি যুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়া: 'এখন ট্রেন ধরতে হবে'। 

অন্যদিকে,
ইতে > তে বিভক্তি যুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার- 
⇒ উদ্দেশ্য বোঝাতে বা নিমিত্ত অর্থে- মেলা দেখতে ঢাকা যাব। 
⇒ বিধি বোঝাতে- বাল্যকালে বিদ্যাভ্যাস করতে হয়।  
⇒ সামর্থ্য বোঝাতে- খোকা এখন পড়তে পারে। 

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪০৭.
আদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ কোনটি ?
  1. ক) শান্ত হও
  2. খ) সবাই এখানে আসুন
  3. গ) সুখী হও
  4. ঘ) নিজের দিকে খেয়াল রাখ
ব্যাখ্যা
আদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ- শান্ত হও।

- আদেশ, অনুমতি, অনুরােধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বােঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয় তাকে বলে অনুজ্ঞা।
- আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।

যেমন
- অনুরােধ- সবাই এখানে আসুন
- উপদেশ- নিজের দিকে খেয়াল রাখ
- প্রার্থনায়- সুখী হও 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪০৮.
গুণ-বিশেষ্য কোনটি?
  1. জনতা
  2. ভোজন
  3. সরলতা
  4. পঠন
ব্যাখ্যা
গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন- 
– সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
---------------- 
অন্যদিকে, 
সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
২,৪০৯.
বিশেষ্য পদ কোনটি?
  1. চালাকি
  2. সুন্দর 
  3. চটপটে 
  4. ঠান্ডা
ব্যাখ্যা



• বিশেষণজাত (গুণবাচক) বিশেষ্য:

বিশেষণের সঙ্গে বিশেষ্যকারী অন্ত্যপ্রত্যয় যোগ করে এ ধরনের বিশেষ্য গঠিত হয়। যেমন- ধীর + তা = ধীরতা, এরকম- দ্রুততা, চালাকি, পটুত্ব, শৌখিনতা, নষ্টামি ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে,
---------------
• বিশেষণ পদ:
বিশেষণ বাক্যে ব্যবহৃত শব্দকে বিশেষিত করে শব্দের অর্থকে বিশদ বা সীমিত করে। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর গুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে তখন বিশেষ্য শব্দের অর্থ বিশদ করে। যেমন-নীল আকাশ, ঠান্ডা হাওয়া, চৌকশ লোক, সাদা বাড়ি, সুন্দর বাগান, চটপটে ছেলে, ইত্যাদি।

গুণবাচক বিশেষণ: বিশেষিত পদের গুণ-বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। যেমন- চৌকশ লোক, দক্ষ কারিগর, চটপটে ছেলে, ঠান্ডা হাওয়া।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৪১০.
“যাকগে, ওসব কথা মনে রেখোনা।” – কোন ধরনের আবেগ?
  1. প্রশংসা
  2. আতঙ্ক
  3. করুণা
  4. আলংকারিক
ব্যাখ্যা

• “যাকগে, ওসব কথা মনে রেখোনা।” – আলংকারিক আবেগ। 

• আলংকারিক আবেগ:

- যে শব্দের সাহায্যে বক্তার মনের নানা ভাব বা আবেগ প্রকাশ পায় তাকে আবেগ—শব্দ বলে।
- প্রচলিত ব্যাকরণে এগুলোকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে। 
- ৮ প্রকার আবেগ শব্দের মধ্যে আলংকারিক আবেগ একটি।
- যে আবেগ-শব্দ দ্বারা বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয়, অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশ পায় তাকে আলংকারিক আবেগ বলে।
- যেমন:
- দূর, এমন কথা কি বলতে আছে?
- দুর পাগল! তোকে তো কিছুই বলিনি। 
- মাগো মা! লোকে এমন হাসাতেও পারে!
- যাকগে যাক, ওসব ভেবে লাভ নেই।
- যাকগে, ওসব কথা থাক।
---------------------------------------------------
অন্যদিকে,
• প্রশংসা আবেগ:
- এই ধরনের শব্দ বা অভিব্যক্তি বাক্যে প্রশংসা বা প্রণোদনার মনোভাব প্রকাশ করে।
- উদাহরণ: বাহ! সত্যিই দারুণ ছবি আঁকছ।

• আতঙ্ক আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, ভয় বা চাঞ্চল্য প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: ওহ না! কীভাবে এমন হলো!

• করুণা আবেগ:
- এই ধরনের শব্দ করুণা, দয়া বা সহানুভূতি প্রকাশ করে।
- উদাহরণ: আহা! ছেলেটির কত দুঃখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০২৪ সংস্করণ)।

২,৪১১.
অংশবাচক নাম বিশেষণের উদাহরণ কোনটি?
  1. পাঁচ শতাংশ ভূমি
  2. সিকি পথ
  3. দশ দশা
  4. সত্তর পৃষ্ঠা
ব্যাখ্যা

নাম  বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। যথা-
- বিশেষ্যের বিশেষণ: সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?
- সর্বনামের বিশেষণ: সে রূপবান ও গুণবান।

• নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উল্লেখ্য,
- বিশেষণ দুই ভাগে বিভক্ত। যথা-১. নাম বিশেষণ ও ২. ভাব বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২,৪১২.
'টেবিল' কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. বস্তু-বিশেষ্য
  4. গুণ-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৪১৩.
অনুসর্গ হচ্ছে -
  1. ক) শব্দ
  2. খ) শব্দাংশ
  3. গ) বর্গ
  4. ঘ) বর্ণ
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ হচ্ছে শব্দ। যার নিজস্ব অর্থ আছে। 
অনুসর্গ- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন-
সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪১৪.
'মানুষ হও' বাক্যটিতে রয়েছে-
  1. অনুনয়
  2. আদেশ
  3. অনুরোধ
  4. উপদেশ
ব্যাখ্যা

• উপদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ - মানুষ হও

অনুজ্ঞা:
- আদেশ, অনুমতি, অনুরােধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বােঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয় তাকে বলে অনুজ্ঞা।
- আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।

যেমন:
- সম্ভাবনায় - ভাল করে পড়লে পাস করবে।
- উপদেশ - মানুষ হও।
- প্রার্থনায় - সুখী হও।
- অনুরোধে - কাল দেখা করো।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৪১৫.
‘ওস্তাদ শিষ্যকে গান শেখাচ্ছেন।’ - এ বাক্যে ‘শেখাচ্ছেন’ কোন ধরনের ক্রিয়াপদ?
  1. অসমাপিকা
  2. যৌগিক
  3. প্রযোজক
  4. অকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটিকে ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)।
যেমন:
মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

• ‘ওস্তাদ শিষ্যকে গান শেখাচ্ছেন।’ - 
"শেখাচ্ছেন" ক্রিয়াপদটি এমন একটি ক্রিয়া, যেখানে কাজটি অন্য কাউকে দ্বারা করানো হচ্ছে। অর্থাৎ, ওস্তাদ নিজে গান শিখছেন না, বরং শিষ্যকে শেখাচ্ছেন। এ ধরনের ক্রিয়াপদকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।

উল্লেখ্য,
প্রযোজক কর্তা : যে ক্রিয়া প্রযোজন করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
প্রযোজ্য কর্তা : যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন :
মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। বাক্যে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা, ‘শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪১৬.
নিচের কোনটি বিশেষণ?
  1. জীবিকা
  2. জীবাণু
  3. জীবনী
  4. জীবন
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
অপশনে উল্লেখিত শব্দগুলোর মধ্যে 'জীবনী' শব্দটি বিশেষণ  হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- জীবনী(বিশেষণ)- প্রাণশক্তি দান করে এমন(জীবনীশক্তি)।

অন্যদিকে,
জীবিকা, জীবন, জীবাণু শব্দগুলো বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৪১৭.
‘কোন বইটি তুমি নেবে?’— এ বাক্যে ‘কোন’ হলো-
  1. বিশেষ্য পদ
  2. বিশেষণ পদ
  3. সর্বনাম পদ
  4. অব্যয় পদ
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – কেমন গান? কতক্ষণ সময়? – এখানে ‘কেমন' ও 'কতক্ষণ' প্রশ্নবাচক বিশেষণ।

• ‘কোন বইটি তুমি নেবে?’— এই বাক্যে 'কোন' শব্দটি 'বই' নামক বিশেষ্যের পূর্বে বসে তার বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করছে। অর্থাৎ, এটি বইয়ের ধরন বা পরিচয় বোঝাচ্ছে, তাই এটি বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ), বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪১৮.
কোনটি বস্তুবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ নয়?
  1. বই
  2. খাতা
  3. মাটি
  4. গাছ
ব্যাখ্যা
বস্তুবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪১৯.
'যাহারা সত্য বলে, তাহারা সম্মানিত হয়।' – এখানে 'যাহারা, তাহারা' কী?
  1. বিশেষণ
  2. অব্যয়
  3. যোজক অব্যয়
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা

• 'যাহারা সত্য বলে, তাহারা সম্মানিত হয়।' – এখানে 'যাহারা, তাহারা' - সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ।

সর্বনাম পদ:
- বাক্যে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক সর্বনাম: ঐ, ঐসব।
৫. সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
[প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন - কী দিয়ে ভাত খায়?]
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক সর্বনাম: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।
১১. সাপেক্ষ সর্বনাম: যেমন - যারা তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০২১ সংস্করণ)।

২,৪২০.
“যথা ধর্ম তথা জয়”- কাব্যে ব্যবহৃত যথা ও তথা কোন পদ?
  1. কারণ যোজক
  2. বিকল্প যোজক
  3. বিরোধ যোজক
  4. সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা

• “যথা ধর্ম তথা জয়”- কাব্যে ব্যবহৃত যথা ও তথা হচ্ছে সাপেক্ষ যোজক।

⇒ যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।

বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
- সাধারণ যোজক,
- বিকল্প যোজক,
- বিরোধ যোজক,
- কারণ যোজক,
- সাপেক্ষ যোজক।

• সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক এক অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। সাপেক্ষ যোজক হলো: যথা-তথা, যত-তত, যখন-তখন, যেমন-তেমন, যেরূপ-সেরূপ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৪২১.
‘আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি’- এ বাক্যে ‘আজকাল’ কোন পদ?
  1. ক) সর্বনাম
  2. খ) বিশেষ্য
  3. গ) যোজক
  4. ঘ) ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। ক্রিয়া বিশেষণ মোট পাঁচটি ভাগে বিভক্ত যথা:
১. ধরণবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
২. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
৩. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
৪. নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
৫. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ

• যে ধরণের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কার নির্দেশ কর তাকে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন:
আজকাল ফলেন চেয়ে ফুলের দাম বেশি ।
যথাসময়ে সে হাজির হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪২২.
এ এক বিরাট সত্য— বাক্যে 'সত্য' কী রূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষণরূপে
  2. বিশেষ্যরূপে
  3. সর্বনামরূপে
  4. ক্রিয়ারূপে
ব্যাখ্যা

একই পদের বিশেষ্য ও নাম-বিশেষণ রূপে ব্যবহারঃ
বিশেষণরূপে - রহিম ভাল ছেলে।
বিশেষ্যরূপে - আপন ভাল সবাই চায়।
বিশেষণরূপে - মন্দ কথা বলতে নেই।
বিশেষ্যরূপে - এখানে তুমি মন্দ কী দেখলে?
বিশেষণরূপে - সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্যরূপে - এ এক বিরাট সত্য
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

২,৪২৩.
নিচের কোনটি গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ নয়?
  1. যৌবন
  2. দর্শন
  3. সুখ
  4. স্বাস্থ্য
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• দর্শন ভাববাচক/ক্রিয়া বিশেষ্যর উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪২৪.
'জনতা, সমিতি' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. জাতিবাচক বিশেষ্য
  2. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  3.  ভাববাচক বিশেষ্য
  4. গুণবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (Collective Noun) :
যে পদে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বােঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যথা,
- সভা, জনতা, সমিতি, সমাজ, পঞ্চায়েত, মিছিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

------------------- 
অপরদিকে,
• গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

জাতিবাচক বিশেষ্য: 
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, সাগর, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ। 

বস্তু-বিশেষ্য: 
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ও০২২ সংস্করণ)।
২,৪২৫.
‘মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন’ বাক্যে প্রযোজ্য কর্তা কে?  
  1. মা
  2. শিশু
  3. চাঁদ
  4. দেখাচ্ছেন 
  5. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

- ‘মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন’ বাক্যে প্রযোজ্য কর্তা হচ্ছে "শিশু"। 

প্রযোজক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া একজনের (কর্তার) প্রযোজনা বা চালনায় অন্যের দ্বারা অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
- সংস্কৃতে একে ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়।
উদাহরণ:
চাঁদ দেখাচ্ছেন = প্রযোজক ক্রিয়া। 

প্রযোজক কর্তা:
- যে ক্রিয়া প্রযোজনা করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
মা = প্রযোজক কর্তা। 

প্রযোজ্য কর্তা:
- যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
শিশুকে = প্রযোজ্য কর্তা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

২,৪২৬.
অনুপস্থিত ব্যক্তি কোন পুরুষ?
  1. ক) প্রথম পুরুষ
  2. খ) নাম পুরুষ
  3. গ) উত্তম পুরুষ
  4. ঘ) আদিম পুরুষ
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার।
যথা- উত্তম, মধ্যম ও নাম পুরুষ।

উত্তম পুরুষ: স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।
মধ্যম পুরুষ: প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।
নাম পুরুষ: অনুপস্থিত বা পরোক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু, প্রাণীই নাম পুরুষ। সে, তারা, তাদের, তিনি, তাহাদের প্রভৃতি নাম পুরুষ। (সমস্ত বিশেষ্য শব্দই নাম পুরুষ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪২৭.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. মন দেওয়া
  2. বলে ফেলা
  3. দোষ দেওয়া
  4. কথা দেওয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সংযোগ ক্রিয়া - কথা দেওয়া, দোষ দেওয়া, মন দেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪২৮.
কোন পদ বিশেষ্য ও সর্বনামের দোষ, গুন, সংখ্যা ইত্যাদি বোঝায়?
  1. ক্রিয়া পদ
  2. অব্যয় পদ
  3. বিশেষণ পদ
  4. ক্রিয়াবিশেষণ পদ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ:
যেসব শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুন, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন,
সুন্দর ফুল, বাজে কথা, লাল ফিতা, নীল আকাশ ইত্যাদি।

যেমন, 
- নীল আকাশ।
- লাল ফিতা।
এখানে 'নীল', 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

একইভাবে, 
'সবুজ মাঠ পেরিয়ে আমাদের গ্রাম।' - বাক্যটিতে 'সবুজ' বিশেষণ পদ।

তথ্যসূত্র:-  বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪২৯.
‘অভিজ্ঞ লোকই কাজটা করতে পারেন।’ বাক্যে ‘অভিজ্ঞ’ কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. যোজক
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ‘অভিজ্ঞ লোকই কাজটা করতে পারেন।’ বাক্যে ‘অভিজ্ঞ’ বিশেষণ পদ।

• বিশেষণ পদ:
বিশেষণ হলো সেই শব্দশ্রেণি যা অন্য শব্দের অর্থকে বিশাদ বা সীমিত করে শব্দটিকে বিশেষিত করে। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর গুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে তখন বিশেষ্য শব্দের অর্থ বিশাদ হয়। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর পরিমাণ, সংখ্যা, সম্বন্ধ ইত্যাদি প্রকাশ করে তখন শব্দের অর্থ সীমিত হয়ে যায়।
যেমন:
- দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।
- অভিজ্ঞ উনিই ব্যাপারটা বুঝবেন।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,৪৩০.
"বহর" কোন প্রকার বিশেষ্য?
  1. ভাববাচক
  2. জাতিবাচক
  3. বস্তুবাচক
  4. সমষ্টিবাচক
ব্যাখ্যা

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা- 
- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।
 
জাতিবাচক বিশেষ্য: 
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন- 
- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
 
বস্তুবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: 
- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৪৩১.
"যথা-তথা" এটি কোন ধরনের অব্যয়?
  1. বিয়োজক অব্যয়
  2. সংযোজক অব্যয়
  3. নিত্য সম্বন্ধীয়
  4. অনন্বয়ী
ব্যাখ্যা
নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়:
- কতকগুলো যুগ্ম শব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত।

যেমন:
- যথা-তথা,
- যখন-তখন,
- যেমন-তেমন,
- যেরূপ-সেরূপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৪৩২.
'অনেক লোক' - এখানে 'অনেক' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  2. ক্রমবাচক বিশেষণ
  3. পরিমাণবাচক বিশেষণ
  4. পূরণবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

পরিমাণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন -
- আধা কেজি চাল, অনেক লোক - এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪৩৩.
’ওরা’ কোন সর্বনামের উদাহরণ?
  1. ব্যক্তিবাচক
  2. নির্দেশবাচক
  3. প্রশ্নবাচক
  4. আত্মবাচক
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন
» নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা,ইনি;
» দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।


• ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে।
যেমন: আমি, আপনি, তুমি, আপনারা,

• আত্মবাচক সর্বনাম:
কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

• প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
প্রশ্ন তৈরির জন্যে প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়।
যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী (কী দিয়ে ভাত খায়?) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২,৪৩৪.
‘ব্যাপ্তি‘ অর্থে সম্বন্ধ কোনটি?
  1. ক) রাজার রাজ্য
  2. খ) বাটির দুধ
  3. গ) দেশের লোক
  4. ঘ) রোজার ছুটি
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ পদ বহু প্রকারের হতে পারে।
যেমন:
অধিকরণ সম্বন্ধ : রাজার রাজ্য, প্রজার জমি।
কার্যকারণ সম্বন্ধ : অগ্নির উত্তাপ, রোগের কষ্ট।
হেতু সম্বন্ধ : ধনের অহংকার, রূপের দেমাক।
ব্যাপ্তি সম্বন্ধ : রোজার ছুটি, শরতের আকাশ।
অভেদ সম্বন্ধ : জ্ঞানের আলোক, দুঃখের দাহন।
উপমান-উপমেয় সম্বন্ধ : ননীর পুতুল, লোহার শরীর।
নির্ধারক সম্বন্ধ : সবার সেরা, সবার ছোট।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
২,৪৩৫.
'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।' - এখানে 'কিংবা' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. বিয়োজক
  2. অনুকার
  3. অনুসর্গ 
  4. সংকোচক
ব্যাখ্যা

• 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন'- এখানে 'কিংবা' বিয়োজক অব্যয়।

• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

• বিয়োজক অব্যয়: 
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

• সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

• অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়: 
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৪৩৬.
নিচের কোনটি ক্রিয়া-বিশেষ্য?
  1. সরলতা
  2. গুরুত্ব
  3. দীনতা
  4. শয়ন
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ: যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৪৩৭.
'স্বয়ং' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. নির্দেশক
  2. অনির্দিষ্ট
  3. আত্মবাচক
  4. সাপেক্ষ
ব্যাখ্যা

আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে।
যেমন:
- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি। 

নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,৪৩৮.
নিচের কোনটি মিশ্র ক্রিয়া?
  1. এখন যেতে পার।
  2. তিনি বলতে লাগলেন।
  3. ঘটনাটা শুনে রাখ।
  4. এখন গোল্লায় যাও।
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন-
ক. তাগিদ দেওয়া অর্থে: ঘটনাটা শুনে রাখ
খ. নিরন্তরতা অর্থে: তিনি বলতে লাগলেন
গ. কার্যসমাপ্তি অর্থে: ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল
ঘ. আকস্মিকতা অর্থে: সাইরেন বেজে উঠল
ঙ. অভ্যস্ততা অর্থে: শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে
চ. অনুমোদন অর্থে: এখন যেতে পার

• মিশ্র ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।
যেমন-
ক. বিশেষ্যের উত্তর (পরে): আমরা তাজমহল দর্শন করলামএখন গোল্লায় যাও
খ. বিশেষণের উত্তর (পরে): তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম
গ. ধ্বনাত্মক অব্যয়ের উত্তর (পরে): মাথা ঝিম্‌ ঝিম্ করছে। ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৩৯.
‘লবণ’ কোন ধরনের বিশেষ্য পদের উদাহরণ?
  1. জাতি বিশেষ্য
  2. সমষ্টি বিশেষ্য
  3. বস্তু বিশেষ্য
  4. গুণ বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:

১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪৪০.
'লাল থেকে নীল ভালো।'- বাক্যে 'লাল' কোন পদ?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) অব্যয়
  3. গ) বিশেষ্য
  4. ঘ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
- প্রশ্নোক্ত বাক্যে 'লাল' হচ্ছে বিশেষ্য পদ।

• বিশেষ্য পদ:
- যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
- যেমন: নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

• ‘লাল থেকে নীল ভালো।
- এখানে 'লাল' এটি বিশেষ্য পদ।

আবার যখন বলা হয়-
• আমি একটি লাল ফুল তুলেছি।
- এখানে ‘লাল’ বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
২,৪৪১.
ভাব বিশেষণ কত প্রকার?
  1. ৩ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৫ প্রকার
  4. ৬ প্রকার
ব্যাখ্যা
ভাব বিশেষণ:
- যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাকে ভাব বিশেষণ বলে।
- ভাব বিশেষণ ৪ প্রকার।

যথা:
১. ক্রিয়া বিশেষণ,
২. বিশেষণের বিশেষণ,
৩. অব্যয়ের বিশেষণ ও
৪. বাক্যের বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণ:
- যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব,কাল বা রূপ নির্দেশ করে,তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা:
ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো।

বিশেষণের বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন-
নাম-বিশেষনের বিশেষণ:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

অব্যয়ের বিশেষণ:
- যে ভাব বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে,তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যেমন -
- ধিক তারে শত ধিক নির্লজ্জ যে জন ।

বাক্যের বিশেষণ: যে বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করে,তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে।
যেমন-
- দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৪২.
কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. পর্বত
  2. লবণ
  3. বহর
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৪৩.
'অনুধাবন' সমস্তপদটির 'অনু' পূর্বপদটি কি অর্থে ব্যবর্হত হয়েছে?
  1. ক) বিরোধ
  2. খ) পশ্চাৎ
  3. গ) অতিপ্রান্ত
  4. ঘ) ঈষৎ
ব্যাখ্যা

অব্যয়ীভাব সমাস:
'অব্যয়ীভাব' অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসের পূর্বপদে অব্যয় এবং পরপদে বিশেষ্য থাকে।
যেমন:
- বীপ্সা (অনু, প্রতি) : দিন দিন = প্রতিদিন, ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণ, অনুক্ষণ ইত্যাদি।
- পশ্চাৎ (অনু) : পশ্চাৎ গমন = অনুগমন, পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন ইত্যাদি।
- বিরােধ (প্রতি) : বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ, বিরুদ্ধ কূল = প্রতিকূল ইত্যাদি।
- প্রতিনিধি অর্থে (প্রতি) : প্রতিচ্ছায়া, প্রতিচ্ছবি, প্রতিবিম্ব।
- প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থে (প্রতি) : প্রত্যুত্তর, প্রতিপক্ষ।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

২,৪৪৪.
'যারা-তারা' - কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. আত্মবাচক সর্বনাম
  3. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  4. নির্দেশক সর্বনাম
ব্যাখ্যা

সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।

যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
আত্মবাচক সর্বনাম - নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।
অনির্দিষ্ট সর্বনাম - কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি। 
নির্দেশক সর্বনাম - নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,৪৪৫.
'মরি মরি! কী রূপমাধুরী!' - এ বাক্যে 'মরি মরি' কী ধরনের অব্যয়?
  1. অনুসর্গ
  2. অনুকার
  3. সমুচ্চয়ী
  4. অনন্বয়ী 
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনাে অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
- অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনােভাব প্রকাশে সহায়তা করে।
যেমন:
- মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।

বাক্যে ব্যবহার: 
- 'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!' 
- 'মরি মরি! কী রূপমাধুরী!' - এখানে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৪৪৬.
‘কী বিপদ, লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।’—এখানে অব্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সাকল্য অর্থে
  2. খ) হতাশা জ্ঞাপনে
  3. গ) বিরক্তি প্রকাশে
  4. ঘ) বিড়ম্বনা প্রকাশে
ব্যাখ্যা
‘কী বিপদ, লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।’—এখানে অব্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে বিরক্তি প্রকাশে। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২,৪৪৭.
'একজন এসে খবরটা দেয়' - বাক্যটি কোন সর্বনামকে নির্দেশ করছে?
  1. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  2. অন্যবাচক সর্বনাম
  3. আত্মবাচক সর্বনাম
  4. নির্দেশক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
সর্বনাম:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
যেমন - নজরুল ভালো ছেলে। সে নিয়মিত স্কুলে যায়।
দ্বিতিয় বাক্যের ‘সে’ প্রথম বাক্যের ‘নজরুল’- এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

• সর্বনামকে নিচের নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম,
২. আত্মবাচক সর্বনাম,
৩. নির্দেশক সর্বনাম,
৪. অর্নিদিষ্ট সর্বনাম,
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম,
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম,
৭. পারস্পরিক সর্বনাম,
৮. সকলবাচক সর্বনাম,
৯. অন্যবাচক সর্বনাম।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন - কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪৪৮.
'তৃতীয় প্রজন্ম' - এখানে 'তৃতীয়' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. পূরণবাচক
  2. গুণবাচক
  3. পরিমাণবাচক
  4. ক্রমবাচক
ব্যাখ্যা
পূরণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বােঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান – এখানে তৃতীয় ও ৩৪তম পূরণবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
গুণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বােঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- আধা কেজি চাল, অনেক লােক – এখানে আধা কেজি’ ও ‘অনেক পরিমাণবাচক বিশেষণ।

ক্রমবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বােঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – এক টাকা, আট দিন – এখানে ‘এক’ ও ‘আট’ ক্রমবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৪৪৯.
নিচের কোন বাক্যে সাপেক্ষ যোজকের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. লাল বা নীল কলমটা আনো।
  2. তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।
  3. যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
  4. জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
ব্যাখ্যা
⇒ যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২,৪৫০.
কোনটি পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ?
  1. খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
  2. বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম।
  3. আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
  4. তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।

যেমন:
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম

অন্যদিকে,
সাধারণ অতীত - তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
ঘটমান অতীত - আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
নিত্য অতীত - খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৪৫১.
নিচের কোনটি ভাব বিশেষ্য এর উদাহরণ?
  1. হাত
  2. বাক্স
  3. যুক্তি
  4. গোলাপ
ব্যাখ্যা
• ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার দিক থেকে সাধারণ বিশেষ্যকে দুটি উপশ্রেণিতে ভাগ করা যায় : 
 
মূর্ত বিশেষ্য: এমন ব্যাক্তি বা বস্তুর নাম বোঝায় যা দেখা যায়, স্পর্শ করা, ঘ্রান নেওয়া কিংবা পরিমাপ করা যায় । যেমন -  গোলাপ, বাক্স, হাত ইত্যাদি।

ভাব বিশেষ্য: নির্বস্তুক অবস্থা, মনোগত ভাব বা গুনগত বৈশিষ্ট্য ইত্যাদির নাম বোঝায়। যেমন -
আনন্দ, ইচ্ছা, শান্তি, ক্ষমা, পাপ, যুক্তি, রাগ ইত্যাদি।

এ শ্রেণীর বিশেষ্যের সঙ্গে বহুবচন প্রয়োগ খুব স্বাভাবিক নয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।
২,৪৫২.
“আহত” শব্দটি কোন পদ?
  1. অব্যয়
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষ্য
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'আহত' শব্দটি একটি বিশেষণ পদ
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- আঘাতপ্রাপ্ত,
- প্রহৃত,
- মর্দিত।
 
উল্লেখ্য,
- 'আহত' শব্দের বিশেষ্য পদ - আহতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৪৫৩.
'ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।' — এখানে ঘটনা অতীতের হলেও কোন কালের ক্রিয়া প্রয়োগ হয়েছে?
  1. অতীত
  2. বর্তমান
  3. ভবিষ্যৎ
  4. সাধারণ অতীত
ব্যাখ্যা

সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)
- সবাই যেন সভায় হাজির থাকে। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল। (ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)
- যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)

সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২,৪৫৪.
'এ মাটি সোনার বাড়া'-এ উদ্ধৃতিতে 'সোনা' কোন অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে?
  1. বিশেষণের অতিশায়ন
  2. রূপবাচক বিশেষণ
  3. উপাদান বাচক বিশেষণ
  4. বিধেয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণের অতিশায়ন:
বিশেষণ পদ যখন দুই বা ততোধিক বিশেষ্য পদের মধ্যে গুণ, অবস্থা, পরিমাণ, প্রভৃতি বিষয়ে তুলনায় একটির উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বুঝিয়ে থাকে, তাকে বিশেষণের অতিশায়ন বলে।

বাংলা শব্দের অতিশায়ন:
১. বাংলা শব্দের অতিশায়নে দুয়ের মধ্যে চাইতে, চেয়ে, হইতে, হতে, অপেক্ষা, থেকে ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়। এসব ক্ষেত্রে দুয়ের মধ্যে তারতম্য বোঝাতে প্রথম বিশেষ্যটি প্রায়ই যষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত হয়ে থাকে এবং মূল বিশেষণের পর কোনো পরিবর্তন সাধিত হয় না।
যথা-
- গরুর থেকে ঘোড়ার দাম বেশি।
- বাঘের চেয়ে সিংহ বলবান।

২. বহুর মধ্যে অতিশায়ন: অনেকের মধ্যে একের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বোঝাতে মূল বিশেষণের কোনো পরিবর্তন হয় না। মূল বিশেষণের পূর্বে সবচাইতে, সবচেয়ে, সব থেকে, সর্বাপেক্ষা, সর্বাধিক প্রভৃতি শব্দ ব্যবহার হয়।
যথা-
- নবম শ্রেণির ছাত্রদের মধ্যে করিম সবচেয়ে বুদ্ধিমান।
- ভাইদের মধ্যে বিমলই সবচাইতে বিচক্ষণ।
- পশুর মধ্যে সিংহ সর্বাপেক্ষা বলবান।

৩. দুটি বস্তুর মধ্যে অতিশায়নে জোর দিতে হলে মূল বিশেষণের আগে অনেক, অধিক, বেশি, অল্প, কম,
অধিকতর প্রভৃতি বিশেষণীয় বিশেষণ যোগ করতে হয়।
যথা-
- পদ্মফুল গোলাপের চাইতে অনেক সুন্দর।
- ঘিয়ের চেয়ে দুধ বেশি উপকারী।
- কমলার চাইতে পাতিলেবু অল্প ছোট।

৪. কখনো কখনো ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দে ষষ্ঠী বিভক্তিই চেয়ে, থেকে প্রভৃতি শব্দের কার্যসাধন করে।
যেমন-
- এ মাটি সোনার বাড়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম -দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২,৪৫৫.
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম কয় ধরনের?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
ব্যাখ্যা
• ব্যক্তিবাচক সর্বনাম তিন ধরনের।

- বক্তা পক্ষের সর্বনাম : আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যাদি ।
- শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে ইত্যাদি ।
- অন্য পক্ষের সর্বনাম : সে, তারা, তিনি, তাঁরা , এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি (নবম - দশম শ্রেণি)
২,৪৫৬.
‘কী বিপদ, লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।’ - এই বাক্যের 'কী' এর অর্থ-
  1. ক) ভয়
  2. খ) রাগ
  3. গ) বিরক্তি
  4. ঘ) বিপদ
ব্যাখ্যা
• ‘কী বিপদ, লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।’—এখানে অব্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে বিরক্তি প্রকাশে
• 'ভিক্ষুকটা যে পিছনে লেগেই রয়েছে, কী বিপদ!' বাক্যের অব্যয় পদটি (কী) 'বিরক্তি' অর্থ প্রকাশ করে।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৫৭.
আদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ কোনটি ?
  1. আমটা খাও
  2. সবাই এখানে আসুন
  3. সুখী হও
  4. নিজের দিকে খেয়াল রাখ
ব্যাখ্যা
- আদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ - আমটা খাও

- আদেশ, অনুমতি, অনুরােধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বােঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয় তাকে বলে অনুজ্ঞা।

- আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে।

- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।

যেমন:

- অনুরােধ- সবাই এখানে আসুন
- উপদেশ- নিজের দিকে খেয়াল রাখ
- প্রার্থনায়- সুখী হও 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৫৮.
অনুসর্গ সাধারণত কোথায় বসে?
  1. বাক্যের শেষে
  2. শব্দের পরে
  3. শব্দের মধ্যে
  4. শব্দেরর পূর্বে
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- বিনা, তরে, দ্বারা, দিয়ে, পানে, নামে, মত, কাছে, ধরে, নিয়োগ ইত্যাদি।

অনুসর্গকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১) সাধারণ অনুসর্গ ও
২) ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
- যেমন: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
- যেমন: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি;
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি,
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪৫৯.
'মাহফিল' শব্দটি কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. সমষ্টিবাচক
  2. বস্তুবাচক
  3. জাতিবাচক
  4. ভাববাচক
ব্যাখ্যা
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা-
- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন-
- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

বস্তুবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৬০.
'পরে একবার এসো' বাক্যে 'পরে' কোন জাতীয় বিশেষণ?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণীয় বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়ের বিশেষণ
  4. ঘ) নাম বিশেষণ
ব্যাখ্যা
'পরে একবার এসো' বাক্যে 'পরে' শব্দটি ক্রিয়া বিশেষণ। এতে ক্রিয়া সংগঠনের কাল প্রকাশ পেয়েছে। যে বিশেষণ পদ ক্রিয়ার ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে তা ই ক্রিয়া বিশেষণ। বিশেষণ পদ দুই প্রকার। যথা- নাম বিশেষণ এবং ভাব বিশেষণ। ভাব বিশেষণ পদ আবার ৪ ভাগে বিভক্ত। যথা- ক্রিয়া বিশেষণ, বিশেষণের বিশেষণ, অব্যয়ের বিশেষণ এবং বাক্যের বিশেষণ। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৪৬১.
"বর্তমানে মাতৃমৃত্যুহার কমে এসেছে।" বাক্যে 'কমে আসা' কোন প্রকার ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) সরল ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) সংযােগ ক্রিয়া
  4. ঘ) নামক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
- যেমন - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪৬২.
কোনটি বিভক্তিযুক্ত অনুসর্গ?
  1. পর্যন্ত
  2. বিনা
  3. সম্মুখে
  4. অপেক্ষা
  5. ক ও গ
ব্যাখ্যা
বিভক্তির ভিত্তিতে বাংলা ব্যাকরণের অনুসর্গ গুলোকে বিভক্তিহীন ও বিভক্তিযুক্ত এ দুই অবস্থায় দেখা যায়। যথা:

• বিভক্তিহীন অনুসর্গ:
কিছু অনুসর্গ গঠনের দিক থেকে বিভক্তিহীন। যেমন: অপেক্ষা, অবধি, কর্তৃক, ছাড়া, দ্বারা, নাগাদ, পর্যন্ত, প্রতি, বিনা, ব্যতীত, মতো। ফারসি অনুসর্গ বিভক্তিহীন : দরুন, বনাম, বরাবর, বাবদ।]

• বিভক্তিযুক্ত অনুসর্গ:
এ জাতীয় অনুসর্গের অধিকাংশই নাম অনুসর্গ '-এ' বিভক্তিযুক্ত। যেমন: আগে, পরে, কাছে, কারণে, দিকে, নিচে, পাশে, পেছনে, বাইরে, ভেতরে, মধ্যে, মাঝে, সঙ্গে, সাথে, সামনে, সম্মুখে।

- ক্রিয়া অনুসর্গগুলো '-ইয়া জাত-এ' বিভক্তিযুক্ত। যেমন-করে, চেয়ে, থেকে, দিয়ে, লেগে, হতে। কোনে কোনো ফারসি অনুসর্গ 'এ' বিভক্তি যোগে গঠিত। যেমন-বদলে, বাদে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৪৬৩.
মরি তো মরব। এখানে 'তো' কোন ধরনের পদ?
  1. অনুসর্গ
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. আবেগ
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তো প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন :
কি : আমি কি খাব?
যে : খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
বা : কখনো বা দেখা হবে।
না : একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
তো : মরি তো মরব।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)।
২,৪৬৪.
‘তার মঙ্গল হোক’-এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) প্রশ্নবাচক বাক্য
  2. খ) বিবৃতিবাচক বাক্য
  3. গ) প্রশ্নবাচক বাক্য
  4. ঘ) অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা

- আদেশ ,উপদেশ নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বুঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্যহয়। 
- যেমন - 
- আমাকে একটি কলম দাও
- অঙ্কটি করো

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১]

২,৪৬৫.
'সারি' কোন প্রকার বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ভাববাচক
  2. সমষ্টিবাচক
  3. নামবাচক
  4. শ্রেণিবাচক
ব্যাখ্যা
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্যপদ দ্বারা একজাতীয় ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায়, তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- জনতা, সভা, সমিতি, শ্রেণি, দল, সংঘ, পাল, ঝাঁক, গুচ্ছ, মালা, সারি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নামবাচক বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোন ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান, বা গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নামবাচক বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন-
- নজরুল, ঢাকা, মেঘনা, হিমালয়, গীতাঞ্জলি, ফাল্গুন, বিজু, বৈসাবি ইত্যাদি।

শ্রেণিবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্যপদ দ্বারা ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, নদী, পর্বত ইত্যাদির সাধারণ নাম বোঝায়, তাকে শ্রেণিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- মানুষ, পাখি, পর্বত, কবি, শহর, বই, গাছ, বাঙালি, মাছ, সাগর ইত্যাদি।

ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্যপদ দ্বারা ক্রিয়ার ভাব বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- ভোজন, শয়ন, দর্শন, গমন, শ্রবণ, করা, দেখা, শোনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,৪৬৬.
পুরাঘটিত বর্তমান কালের উদাহরণ কোনটি?
  1. তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
  2. তারা বাড়িতে ফিরেছে।
  3. আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
  4. খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত বর্তমান:
- এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন
• আমি অঙ্কটি করেছি।
• তারা বাড়িতে ফিরেছে।

অন্যদিকে,
- সাধারণ অতীত কালের উদাহরণ= তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ= আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- নিত্য অতীত কালের উদাহরণ= খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২,৪৬৭.
নিচের কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. দিয়া
  2. কর্তৃক
  3. অন্য
  4. চেয়ে
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ নয়: অন্য।

• অনুসর্গ:
- অনু’ মানে পরে বা পিছনে, আর ‘সর্গ’ মানে সৃষ্টি বা ব্যবহার।
- অনুসর্গ হলো এমন একটি শব্দাংশ যা পদের পরে বসে এবং সেই শব্দের সঙ্গে পরবর্তী শব্দের সম্পর্ক দেখায়।
- অনুসর্গ পদের পরে বসে কারক বা সম্পর্ক নির্দেশ করে।
- অনুসর্গ হলো অব্যয় পদ এবং এর নিজস্ব অর্থ থাকে।
- এটি পদের পরে বসে ওই শব্দের সঙ্গে পরবর্তী শব্দের সম্পর্ক নির্দেশ করে।
- অনুসর্গ দিয়ে কারক নির্ণয় করা যায়।
- অনুসর্গ বিভক্তির মতো কাজ করে।
- কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুসর্গ: হইতে, হতে, চেয়ে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-
“অন্য” শব্দটি হলো অনন্বয়ী অব্যয়।
- এই শব্দটি সাধারণত স্বতন্ত্রভাবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
- এটি বাক্যে বিভিন্ন ভাব প্রকাশ করতে- যেমন বিস্ময়, সম্মতি, অসম্মতি, বা প্রশ্ন- ব্যবহার করা হয়। 
- একই সাথে শব্দটি বাক্যের সৌন্দর্য ও রূপ বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে।

উৎস: 
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ;
প্রথম আলো।

২,৪৬৮.
কোনটি নিত্যবৃত্ত অতীতে কালের উদাহরণ?
  1. আমি রোজ সকালে বেড়াই।
  2. আমি রোজ বেড়াতে যাব।
  3. তারা মাঠে খেলছিল।
  4. সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ। 
ব্যাখ্যা

 নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।
- আমি রোজ স্কুলে যেতাম।
নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
(১) কামনা প্রকাশে: আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতো।
(২) অসম্ভব কল্পনায়: 'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'।
(৩) সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো।

অন্যদিকে,
- নিত্যবৃত্ত বর্তমানের উদাহরণ - আমি রোজ সকালে বেড়াই।
- ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ - আমি রোজ বেড়াতে যাব।
- ঘটমান অতীত কালের উদাহরণ - তারা মাঠে খেলছিল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২,৪৬৯.
নিচের কোনটি অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়?
  1. অথবা
  2. বা
  3. যদি
  4. অথচ
ব্যাখ্যা
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন।

যেমন:
- এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

অন্যদিকে,
বিয়োজক অব্যয় - বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।
সংকোচক অব্যয় - অথচ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৭০.
নিচের কোনটি ব্যক্তিবাচক সর্বনাম?
  1. নিজে
  2. তারা
  3. একজন
  4. কেউ
ব্যাখ্যা
• 'তারা' ব্যক্তিবাচক সর্বনাম।

• ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে।
- এই সর্বনাম তিন ধরনের:
- বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
- শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
- অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।
- শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
- সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে),
- মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও
- ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, ও)।

অন্যদিকে,
- 'নিজে' আত্মবাচক সর্বনাম।
- 'একজন' ও 'কেউ' অনির্দিষ্ট সর্বনাম। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,৪৭১.
'আবার যেতে হবে।' এখানে 'আবার' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়
  2. প্রত্যয়ান্ত অব্যয়
  3. অনুসর্গ অব্যয়
  4. অব্যয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• অব্যয় বিশেষণ:
কতগুলো অব্যয় বাক্যে ব্যবহৃত হলে নাম-বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ এবং বিশেষণীয় বিশেষণের অর্থবাচকতা প্রকাশ করে থাকে। এদের অব্যয় বিশেষণ বলা হয়। যথা-
নাম-বিশেষণ: অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।
ভাব-বিশেষণ: আবার যেতে হবে।
ক্রিয়া-বিশেষণ: অন্যত্র চলে যায়।

অন্যদিকে, 
----------------------
• নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়:
কতগুলো যুগ্মশব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত। যেমন: যথা-তথা, যত-তত, যখন-তখন, যেমন-তেমন, যেরূপ-সেরূপ ইত্যাদি। উদাহরণ-যথা ধর্ম তথা জয়। যত গর্জে তত বর্ষে না।

• ত (সংস্কৃত তস্) প্রত্যয়ান্ত অব্যয়:
এরকম তৎসম অব্যয় বাংলায় ব্যবহৃত হয়। যথা- ধর্মত বলছি। দুর্ভাগ্যবশত পরীক্ষায় ফেল করেছি। অন্তত তোমার যাওয়া উচিত। জ্ঞানত মিথ্যা বলিনি।

• অনুসর্গ অব্যয়:
যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে। যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৪৭২.
'যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি' - বাক্যটি কোন যোজক নির্দেশ করেছে?
  1. কারণ যোজক
  2. সাধারণ যোজক
  3. বিরোধ যোজক
  4. সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
• যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে।
যেমন - এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।

• সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪৭৩.
'জোর যার মুল্লুক তার।' - বাক্যে ব্যবহৃত ‘যার-তার’ কোন পদ?
  1. পারস্পারিক সর্বনাম
  2. আত্মবাচক সর্বনাম
  3. নির্দেশক সর্বনাম
  4. সাপেক্ষ সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• 'জোর যার মুল্লুক তার।' - বাক্যে ব্যবহৃত ‘যার-তার’ সাপেক্ষ সর্বনাম পদের দৃষ্টান্ত।

⇒ সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৭৪.
'ঈদুল আজহার পর আসে ঈদুল ফিতর।' - এখানে 'পর' অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. দীর্ঘ বিরতি
  2. বিরতি
  3. স্বল্প বিরতি
  4. নৈকট্য
ব্যাখ্যা
• 'ঈদুল আজহার পর আসে ঈদুল ফিতর।' - এখানে 'পর' অনুসর্গটি দীর্ঘ বিরতি অর্থ প্রকাশ করছে।

অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
- বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
- সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)

- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়। 

অনুসর্গের প্রয়োগ:
- পরে: স্বল্প বিরতি অর্থে - এ ঘটনার পরে আর এখানে থাকা চলে না।
- পর: দীর্ঘ বিরতি অর্থে - ঈদুল আজহার পর আসে ঈদুল ফিতর

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৭৫.
"শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।" - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. সাধারণ অতীত
  4. ঘটমান অতীত
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার কাল:
- ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে।
- ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার: বর্তমান কাল, অতীত কাল ও ভবিষ্যৎ কাল।

• সাধারণ অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম -দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২,৪৭৬.
কোনটি নির্দেশক সর্বনাম?
  1. কোথাও
  2. ওরা
  3. কেউ
  4. কিছু
ব্যাখ্যা
নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন:
- নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

অন্যদিকে:
অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৪৭৭.
অনুসর্গের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. স্বাধীন পদ রূপে বসতে পারে না
  2. শব্দের পরে বসে
  3. স্বাধীন পদ রূপে বসতে পারে
  4. বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে
ব্যাখ্যা
• 'অনুসর্গ' স্বাধীন পদ রূপে বসতে পারে না। এই তথ্যটি ভুল।
- কারণ অনুসর্গ স্বাধীন পদ রূপে বসতে পারে।

• অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় শব্দ:

- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে,
- আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়,
- আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন-
- বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)। 
- সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)।
- দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৪৭৮.
যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে বলা হয়-
  1. ক) সমাপিকা ক্রিয়া
  2. খ) অসমাপিকা ক্রিয়া
  3. গ) অকর্মক ক্রিয়া
  4. ঘ) সকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে বলা হয়- অসমাপিকা ক্রিয়া। 

ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে, বাক্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে এবং গঠন বিবেচনায় ক্রিয়াকে নানা ভাগে ভাগ করা যায় ।

ক. ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার:
১. সমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে ৷
যেমন – ভালো করে পড়াশোনা করবে।

২. অসমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে ।
যেমন – ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে ।
অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের: ১. ভূত অসমাপিকা, ২. ভাবী অসমাপিকা এবং ৩. শর্ত অসমাপিকা। যথা :
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায় ।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালো হয় ৷

খ. বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার:
১. অকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে ।
যেমন – সে ঘুমায় । এই বাক্যে কোনো কৰ্ম নেই ৷

২. সকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে ৷
যেমন সে বই পড়ছে। এই বাক্যে ‘পড়ছে’ হলো সকর্মক ক্রিয়া। ‘বই’ হলো ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম ।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে ।
যেমন – শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন’ একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
‘কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (‘বই’), আর ‘কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (‘ছাত্রকে’)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
২,৪৭৯.
‘একজন এসে খবরটা দেয়’ - বাক্যে ‘একজন’ কোন সর্বনাম?
  1. সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. আত্মবাচক সর্বনাম
  3. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  4. নির্দেশক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে:
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে।
যেমন:
- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।
 
আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।
 
নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৪৮০.
'বিঘাটেক জমি।' - এখানে 'বিঘাটেক' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• 'বিঘাটেক জমি।' - এখানে 'বিঘাটেক' - বিশেষণ পদ। 

• বিশেষণ পদ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে। 
যেমন:
- সাদা বাড়ি।
- সুন্দর বাগান।
- বিঘাটেক জমি।
- চটপটে ছেলে।

[এখানে সাদা, সুন্দর, বিঘাটেক ও চটপটে বিশেষণ পদ।]

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২,৪৮১.
‘পরস্পর’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. অব্যয়
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম পদ:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: 
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন- আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: 
কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি। 

৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: 
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: 
ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম:
নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৮২.
সাপেক্ষ যোজক কোনটি?
  1. ততই
  2. তবুও
  3. না-হয়
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

অন্যদিকে,
বিরোধ যোজক - তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না।
সাধারণ যোজক - করিম রহিম এ কাজটি করেছে।
বিকল্প যোজক - চা না-হয় কফি খান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪৮৩.
নিচের কোনটি অনির্দিষ্ট সর্বনাম?
  1. ক) একজন
  2. খ) নিজে
  3. গ) ওরা
  4. ঘ) নিজেরা নিজেরা
ব্যাখ্যা
অনির্দিষ্ট সর্বনাম- একজন 

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে । 
যেমন – কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন – নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন – নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

 পারস্পরিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন – পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
২,৪৮৪.
'রেখো মা, দাসেরে মনে এ মিনতি করি পদে।' - এই বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. ক) সাধারণ ভবিষ্যত
  2. খ) পুরাঘটিত ভবিষ্যত
  3. গ) ঘটমান ভবিষ্যত
  4. ঘ) ভবিষ্যত অনুজ্ঞা
ব্যাখ্যা
'রেখো মা, দাসেরে মনে  এ মনতি করি পদে' - এই বাক্যটি ভবিষ্যত অনুজ্ঞা কালের উদাহরণ। 

ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা : ভবিষ্যতে কোনাে কাজ করার আদেশ, অনুরােধ, উপদেশ, প্রার্থনা প্রভৃতি বােঝালে ভবিষ্যৎ কালের, ক্রিয়াপদের যে রূপ হয়, তাকে ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা বলে।
যেমন:
আদেশ- এই লেখাটি তুমিই লিখবে।
অনুরােধ- আমার জন্য একটি বই আনবেন।
উপদেশ- মনােযােগ দিয়ে লেখাপড়া করবে।
প্রার্থনা- ‘রেখাে মা, দাসেরে মনে এ মিনতি করি পদে।'

ভবিষ্যৎ কাল যে ক্রিয়ার কাজটি এখনাে ঘটেনি অর্থাৎ অনাগতকালে সংঘটিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে।
ভবিষ্যৎ কাল চার প্রকার - 
- সাধারণ ভবিষ্যত
- পুরাঘটিত ভবিষ্যত
- ঘটমান ভবিষ্যত
- ভবিষ্যত অনুজ্ঞা

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৮৫.
বাংলাদেশে জুলাই আগষ্ট মাসে আউশ ধান কাটা হয়। এখানে 'ধান কাটা' কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) নাম ক্রিয়া
  2. খ) প্রযোজক ক্রিয়া
  3. গ) সংযোগ ক্রিয়া
  4. ঘ) যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
সংযােগ ক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযােগ ক্রিয়া গঠিত হয়।

করা ক্রিয়া যােগে: গান করা,
গরম করা, ঠনঠন করা,ব্যাট করা;
কাটা ক্রিয়া যােগে: সঁতার কাটা, বিপদ কাটা; ধান কাটা
হওয়া ক্রিয়া যােগে: উদয় হওয়া, বড়াে হওয়া, রাজি হওয়া;
দেওয়া ক্রিয়া যােগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া;
ধরা ক্রিয়া যােগে: ভাঙন ধরা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা;
পাওয়া ক্রিয়া যােগে: লজ্জা পাওয়া, কষ্ট পাওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া
খাওয়া ক্রিয়া যােগে: আছাড় খাওয়া, মার খাওয়া, ডিগবাজি খাওয়া;
মারা ক্রিয়া যােগে: উকি মারা, পকেট মারা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪৮৬.
শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম নিম্নের কোনটি?
  1. ক) আমি
  2. খ) তিনি
  3. গ) তুই
  4. ঘ) তারা
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে।
এই সর্বনাম তিন ধরণের।
যেমন,
- বক্তা পক্ষের সর্বনাম- আমি, আমরা, আমাকে।
- শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম- তুমি, তোমরা, তুই
- অন্য পক্ষের সর্বনাম- সে, তারা, তিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৮৭.
কোনটি মিশ্র ক্রিয়া?
  1. দেখাচ্ছেন
  2. বেজে উঠল
  3. কনকনাচ্ছে
  4. গোল্লায় যাও
ব্যাখ্যা
মিশ্র ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।
যেমন:
ক. বিশেষ্যের উত্তর (পরে): আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। এখন গোল্লায় যাও।
খ. বিশেষণের উত্তর (পরে): তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
গ. ধ্বনাত্মক অব্যয়ের উত্তর (পরে): মাথা ঝিম ঝিম্ করছে। ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

অন্যদিকে,
- 'দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- 'বেজে উঠল' যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- 'কনকনাচ্ছে' নামধাতুর ক্রিয়ার উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
২,৪৮৮.
'ছাগল' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. সমষ্টি-বিশেষ্য
  2. বস্তু-বিশেষ্য
  3. নাম-বিশেষ্য
  4. জাতি-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
- যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন-
- ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
- স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
- কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।

• বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
- যেমন- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
- যেমন- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি(২০২৪ সংস্করণ)।
২,৪৮৯.
'অরণ্য' শব্দের বিশেষণ রূপ কোনটি?
  1. ক) অরণ্যনানী
  2. খ) অরণি
  3. গ) অরণ্যময়ী
  4. ঘ) আরণ্যক
ব্যাখ্যা
'অরণ্য' শব্দের বিশেষণ রূপ 'আরণ্যক'।
আরণ্যক (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = অরণ্য+অক
অর্থ: 
- বনসম্বন্ধীয়
- বনস্থিত
- অরণ্যবাসী 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,৪৯০.
''বেঁচে থাকার মতো সামান্য কয়টা টাকা বেতন পাই।'' - নিম্নরেখ শব্দগুচ্ছ কোন ধরনের বর্গ নির্দেশ করে?
  1. বিশেষ্য বর্গ
  2. বিশেষণ বর্গ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ বর্গ
  4. ক্রিয়া বর্গ
ব্যাখ্যা
''বেঁচে থাকার মতো সামান্য কয়টা টাকা বেতন পাই।'' - নিম্নরেখ শব্দগুচ্ছ ক্রিয়া বিশেষণ বর্গ নির্দেশ করে।
-------------------
বাক্যের বর্গ:
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ। 
 
বিশেষ্য বর্গ: 
- বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন – আমার ভাই পড়তে বসেছে।
 
বিশেষণ বর্গ: 
- বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন –
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর
 
ক্রিয়া-বিশেষণ বৰ্গ:
- যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন:
সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো ।
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম ।
বেঁচে থাকার মতো সামান্য কয়টা টাকা বেতন পাই।

ক্রিয়াবৰ্গ: 
- বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন –
অস্ত্রসহ সৈন্যদল এগিয়ে চলেছে।
সে লিখছে আর হাসছে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
২,৪৯১.
‘ন্যায়' শব্দের বিশেষণ কোনটি?
  1. ক) ন্যায়সংগত
  2. খ) নীতিবাদ
  3. গ) ন্যায্য
  4. ঘ) নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
• 'ন্যায়' শব্দটি বিশেষ্য, এর বিশেষণ রূপটি হলো- ন্যায্য।

• 'ন্যায়' (বিশেষ্য) শব্দের অর্থ:
- নীতি; যুক্তি; যথার্থ; সত্য; সুবিচার যা সত্যে নিয়ে যায়।

• 'ন্যায্য' (বিশেষণ) শব্দের অর্থ- 'ন্যায়সংগত, যুক্তিসংগত।  

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৪৯২.
সাকুল্যবাচক সর্বনাম কোনটি?
  1. আপসে
  2. খোদ
  3. ইহারা
  4. তাবৎ
  5. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

সাকুল্যবাচক সর্বনাম - তাবৎ।

সর্বনাম পদ:

- বাক্যে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক সর্বনাম: ঐ, ঐসব।
৫. সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
[প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন কী দিয়ে ভাত খায়?]
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক সর্বনাম: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।
১১. সাপেক্ষ সর্বনাম: যেমন যারা তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৪৯৩.
কোনটি সামীপ্যবাচক সর্বনাম?
  1. সমুদয়
  2. কেউ
  3. ইহারা
  4. যিনি
ব্যাখ্যা

• সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
সাকুল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৪৯৪.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. গান করা
  2. পেয়ে বসা
  3. গরম করা
  4. উদয় হওয়া
ব্যাখ্যা

• 'পেয়ে বসা'- যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: 
এগিয়ে চলা, মরে যাওয়া, কমে আসা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন- গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৪৯৫.
‘হতে, থেকে’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. যোজক
  2. অনুসর্গ
  3. আবেগ
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• হতে ও থেকে শব্দদুটি অনুসর্গ পদের উদাহরণ।

--------------------
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- রুনা অপেক্ষা পুতুলের পরীক্ষা ভালো হয়েছে।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ?
[উপরের বাক্যে ব্যবহৃত ‘অপেক্ষা’ ও ‘পর্যন্ত’ অনুসর্গের উদাহরণ।]

• এরূপ আরো কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ হলো:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতিত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘কে’ ‘রে’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন:
- তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২,৪৯৬.
নিচের কোনটিতে সাধারণ অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ভালো করে খেয়ে নাও।
  2. মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
  3. মাথার উপরে নীল আকাশ।
  4. বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
- বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

অন্যদিকে,
• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকেতৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
- ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২,৪৯৭.
যখন বৃষ্টি শুরু হবে তখন তুমি বারান্দায় এসো। - এ বাক্যে কী ধরনের যোজক ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বৈকল্পিক যোজক
  2. খ) রিবোধমূলক যোজক
  3. গ) কারণবাচক যোজক
  4. ঘ) সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
যে যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয় তাকে সাপেক্ষ যোজক বলে। সাপেক্ষ যোজক হলো : যথা..তথা, যত...তত, যখন...তখন, যেমন... তেমন, যেরূপ...সেরূপ। যেমন :
যদি যৌতুকের প্রশ্ন ওঠে তবে বিয়েতে রাজি হব না।
যদি তুমি আস তবে আমি যাব।
যদি তুমি আমাকে ভালোবাস তবে আমিও তোমাকে ভালোবাস।
যখন বৃষ্টি শুরু হবে তখন তুমি বারান্দায় এসো।
যেমন তোমার মেধা তেমন তোমার চেহারা।
যত গর্জে তত বর্ষে না।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
২,৪৯৮.
নিচের কোনটি বিশেষণ নয়?
  1. ক) নিশীথে কল কইরো ওগো আমার ফোনের বন্ধু।
  2. খ) পড়া বই আর কত পড়ো?
  3. গ) পাতলা দুধ খাইতে মজা নেই।
  4. ঘ) এত অল্প প্রস্তুতিতে ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণিতে ভালো নম্বর পাওয়া যাবে না।
ব্যাখ্যা
প্রথম বাক্যে ‘নিশীথ’ অর্থ রাত, এটি কোনো পদকে বিশেষিত করেনি, বরং নিজেই বিষয় হিসেবে বসেছে। 
বাকি বাক্যগুলোতে বিশেষণ হিসেবে বসেছে। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ব্যবহারিক বাংলা ব্যাকরণ।
২,৪৯৯.
'কি' এবং 'কী' যথাক্রমে-
  1. অব্যয় ও সর্বনাম পদ
  2. সর্বনাম ও বিশেষণ পদ
  3. বিশেষ্য ও অব্যয় পদ
  4. সর্বনাম ও বিশেষ্য পদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা বানানের নিয়মানুসারে 'কি' ও 'কী' এর ব্যবহারের নিয়ম:
১. অব্যয়পদরূপে 'কি' ব্যবহৃত হয়।
বাংলা ভাষায় যেসব প্রশ্নবোধক বাক্যের উত্তর 'হ্যা-না' হয় অথবা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়, সেসব বাক্যে  কি' ব্যবহৃত হবে।
যেমন-
 যদি কামাল জামালকে প্রশ্ন করে- তুমি কি যাবে?
এখানে জামাল হ্যাঁ অথা না দিয়ে উত্তর দিতে পারে অথবা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও জানাতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে 'কী' না হয়ে 'কি' হাবে।

২. সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ও যোজক পদরূপে- 'কী' ব্যবহৃত হয়। 
যেসব প্রশ্নের উত্তরে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া লাগতে পারে সেখানে 'কী' বসবে।
 যেমন-
কী করো?
এটা কী ধরনের রং?

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৫০০.
'তোমার তরে এনেছি মালা গাঁথিয়া।' — এখানে ‘তরে’ অনুসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত?
  1. দিক
  2. নিমিত্ত
  3. অবস্থান
  4. সময়
ব্যাখ্যা
• 'তোমার তরে এনেছি মালা গাঁথিয়া।' - বাক্যে 'তরে' অনুসর্গটি "নিমিত্ত" অর্থে ব্যবহৃ হয়েছে।

• আরো কয়েকটি অনুসর্গের ব্যবহার:
- কাছে : 'নিকট' অর্থে = আমার কাছে আর কে বলবে?
- মাঝে: 'মধ্যে' অর্থে = সীমার মাঝে অসীম তুমি।
- জন্য: 'নিমিত্তে' অর্থে = এ ধন-সম্পদ তোমার জন্য।
- পানে : প্রতি, দিকে অর্থে ঐ তো ঘর পানে ছুটেছেন।
- পক্ষে : সক্ষমতা অর্থে রাজার পক্ষে সব কিছুই সম্ভব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।