বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা ২৪ / ৩১ · ২,৩০১২,৪০০ / ৩,০২৪

২,৩০১.
পুলিশ সন্ত্রাসী ছেলেটিকে মেরে ফেলল।- বাক্যটি কোন কালের দৃষ্টান্ত?
  1. সাধারণ অতীত কাল
  2. ঘটমান অতীত কাল
  3. পুরাঘটিত অতীত কাল
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
ব্যাখ্যা

⇒ অতীত কাল:
যে ক্রিয়া পুর্বে ঘটে গেছে, তাকে অতীত কাল বলে। অতীত কালের চারটি রূপ। যথা:

১. সাধারণ অতীত কাল: যে ক্রিয়া সাধারণভাবে অতীত অর্থাৎ বর্তমান কালের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত।
যেমন: 
- বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল।
- পুলিশ সন্ত্রাসী ছেলেটিকে মেরে ফেলল।

২. ঘটমান অতীত কাল: অতীতে কোনো কাজ চলছিল এবং তখনও কাজটি শেষ হয়নি; এরূপ অর্থে ঘটমান অতীত ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখছিলাম।

৩. পুরাঘটিত অতীত কাল: যে ক্রিয়া অতীতে ঘটেছে এবং এর প্রভাবও শেষ হয়ে গেছে। তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম।
- প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের বাড়ি গিয়েছিলেন।
- আমি ঐ কাজ করেছিলাম।
[বাক্যে কাজ গুলো অতীতে হয়ে গিয়েছে এবং এর রেশ এবং প্রভাবও শেষ হয়ে গিয়েছে]

৪.নিত্যবৃত্ত অতীত কাল: অতীতকালে যে ক্রিয়া সাধারণভাবে এবং সচরাচর ঘটতো তার কাল নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন:
- প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৩০২.
নির্দেশক সর্বনামের পরে টা, টি যুক্ত হলে কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. অনির্দিষ্ট
  2. সুনির্দিষ্ট
  3. কখনো অনির্দিষ্ট কখনো সুনির্দিষ্ট
  4. নিরর্থকভাব
ব্যাখ্যা

নির্দেশক সর্বনামের পরে টা, টি যুক্ত হলে সুনির্দিষ্ট ভাব প্রকাশ করে।
যেমন :
- ওটি যেন কার তৈরি?
- এটা নয় ওটা আন।
- সেইটিই ছিল আমার প্রিয় কলম।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই (২০১৯ সংস্করণ)

২,৩০৩.
পুরাঘটিত অতীত কাল নয় কোনটি?
  1. বাবা প্রতিদিন বাজার করতেন।
  2. আমরা রাজশাহী গিয়েছিলাম।
  3. তুমি কি তার পরীক্ষা নিয়েছিলে?
  4. আমি তাকে ভাত খেতে দেখেছিলাম।
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত অতীত:
- যে ক্রিয়া অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
আমরা রাজশাহী গিয়েছিলাম।
তুমি কি তার পরীক্ষা নিয়েছিলে?
আমি তাকে ভাত খেতে দেখেছিলাম।

অন্যদিকে,
নিত্যবৃত্ত অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীতে প্রায়ই ঘটত এমন বোঝায়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
বাবা প্রতিদিন বাজার করতেন।
স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।
ছুটিতে প্রতি বছর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,৩০৪.
কোনটি ভাববাচক বিশেষ্য শব্দের উদাহরণ?
  1. জনতা
  2. তিক্ততা
  3. গমন
  4. মধুরতা
ব্যাখ্যা
• ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা-
- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

অন্যদিকে,
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

বস্তুবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩০৫.
কোন সর্বনামটি নৈকট্য বা দূরুত্ব নির্দেশ করে?
  1. ব্যক্তিবাচক
  2. আত্মবাচক
  3. নির্দেশক
  4. সাপেক্ষ
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক সর্বনাম: 
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরুত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন-
- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি।
- দূর নির্দেশক:  ও, ওই, ওরা, উনি।

• আত্মবাচক সর্বনাম: 
- কর্তা নিজেই কোন কাজ করছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝাতে আত্মবাচক সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: 
নিজে (সে নিজে অঙ্কটি করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: 
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে।
যেমন- আমরা, তোমরা, তারা ইত্যাদি।

সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন - যারা-তারা, যে-সে,যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩০৬.
‘আমি প্রত্যহ খুব সকালে ঘুম থেকে উঠি।’- বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  2. ঘটমান বর্তমান কাল
  3. সাধারণ অতীত কাল
  4. নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল
ব্যাখ্যা
• সাধারণ বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে। যেমন: তৃণা স্কুলে যায়।
সাধারণ বর্তমানে দুটি রূপ পাওয়া যায়। যথা:

১. নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া সাধারণভাবে নিত্য বা সব সময় ঘটে অর্থাৎ ক্রিয়া সংঘটনের স্বাভাবিকতা বা অভ্রস্ততা বোঝালে সাধারন বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সকালে সূর্য উঠে।
- আমি প্রত্যহ সকালে চা খাই।
- আমি প্রত্যহ খুব সকালে ঘুম থেকে উঠি।

২. ঐতিহাসিক বর্তমান কাল:
ঐতিহাসিক বর্তমান কাল অতীত অর্থে বর্তমান। অতীত কালের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনায় অনেক ক্ষেত্রে নিত্য বর্তমান কালের প্রয়োগ বা ব্যবহার হয়। এরূপ ক্ষেত্রে সাধারণ বর্তমান বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
- ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দে নবদ্বীপ শ্রীচৈতন্য দেবের জন্ম হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩০৭.
নিচের কোন বাক্যে ক্রিয়াজাত অনুসর্গের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. ঘূর্ণিঝড় চট্টগ্রামের দিকে এগুচ্ছে।
  2. তার জন্য আর অপেক্ষা করো না।
  3. তুমি আছ বলেই আমার ভরসা।
  4. মাথার উপরে নীল আকাশ।
ব্যাখ্যা
• তুমি আছ বলেই আমার ভরসা।- বাক্যে ব্যবহৃত ‘বলে’ শব্দটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ।

⇒ ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া থেকে তৈরি সেগুলো ক্রিয়াজাত অনুসর্গ হিসেবে পরিচিত। ক্রিয়াজাত অনুসর্গের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: করে, থেকে, দিয়ে, ধরে, হতে, বলে ইত্যাদি।

ক্রিয়াজাত কিছু অনুসর্গের প্রয়োগ-উদাহরণ:
• কাপড়গুলো ভালো করে পরিষ্কার করো। 
• লোকটা হাজত থেকে পালিয়ে গেছে।
• মন দিয়ে লেখাপড়া করা উচিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
২,৩০৮.
'স্বয়ং' কোন ধরনের সর্বনামের উদাহরণ?
  1. পুরুষবাচক সর্বনাম
  2. আত্মবাচক সর্বনাম
  3. সাপেক্ষ সর্বনাম
  4. পারস্পরিক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম পদ:
বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম:
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন- আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম:
কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম:
ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন-সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম:
নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

(তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো-ব্যতিহারিক সর্বনাম।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩০৯.
‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ - এখানে 'একুশে' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক
  2. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক
  3. উপাদানবাচক
  4. অংশবাচক
ব্যাখ্যা

• ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ - এখানে 'একুশে' - নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক বিশেষণ।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:

ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

২,৩১০.
"ওটা টেবিলে রেখে দাও" বাক্যে 'ওটা' সর্বনামটির সাধুরূপ কোনটি?
  1. ক) উহা
  2. খ) ইহা
  3. গ) তাহা
  4. ঘ) ঐগুলি
ব্যাখ্যা
সাধু ও চলতি ভাষা
সাধু ও চলতি ভাষারীতির প্রধান পার্থক্য নির্ভর করে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের ওপর।
- সাধুরীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়ার পূর্ণ ও দীর্ঘরূপ ব্যবহৃত হয়।
- পক্ষান্তরে চলতি বাংলায় সর্বনাম ও ক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত বা হ্রস্বরূপ ব্যবহৃত হয়।
- নিচে ওই সাধু ও চলতি রীতিতে এদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী পার্থক্য ঘটে তা দেখানাে হলাে :




উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩১১.
নিচের কোনটি মিশ্র ক্রিয়া?
  1. গান গাওয়া
  2. এগিয়ে চলা
  3. হেসে ওঠা
  4. সরে দাঁড়ানাে
ব্যাখ্যা

• মিশ্র ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।

যেমন:
- দর্শন করা,
- প্রীত হওয়া,
- গান গাওয়া।

অন্যদিকে,
• যৌগিক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একটি অসমাপিকা ও একটি সমাপিকা ক্রিয়া মিলে গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা,
- সরে দাঁড়ানাে ইত্যাদি।
প্রশ্নোক্ত বাক্যটিতে কোন অসমাপিকা না থাকায় যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ হিসেবে গণ্য হবেনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২,৩১২.
‘চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।’- বাক্যের অনুজ্ঞা কী অর্থ প্রকাশ করে? 
  1. আদেশ
  2. বিধান
  3. অনুরোধ
  4. সম্ভাবনা
ব্যাখ্যা
• ‘চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।’- বাক্যের অনুজ্ঞা 'সম্ভাবনা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

• ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
- আদেশ: সদা সত্য বলবে।
- সম্ভাবনায়: চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
- বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধে: কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)।

• বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
- আদেশ: কাজটি করে ফেল। তোমরা এখন যাও।
- উপদেশ: সত্য গোপন করো না।
- অনুরোধ: অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
- প্রার্থনা: আমার দরখাস্তটা পড়ুন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩১৩.
কে জানতো, আমার সাথে এমন হবে। - বাক্যটিতে কোন কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) ভবিষ্যত অনুজ্ঞা
  2. খ) সাধারণ ভবিষ্যত
  3. গ) সাধারণ অতীত
  4. ঘ) ঘটমান বর্তমান
ব্যাখ্যা
কে জানতো, আমার সাথে এমন হবে। - বাক্যটিতে সাধারণ ভবিষ্যত কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে।

ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগঃ
অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলাে ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ।

সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়ােগ:
তােমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে - ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ। 
আবার আক্ষেপ বুঝাতে অতীতের স্থলে ভবিষ্যত কালের ব্যবহার করা হয়। 
যেমনঃ কে জানতো, আমার সাথে এমন হবে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩১৪.
সাধারণত কোন পদে সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য সর্বাধিক পরিলক্ষিত হয়?
  1. ক) বিশেষ্য ও বিশেষণ
  2. খ) ক্রিয়া ও সর্বনাম
  3. গ) বিশেষ্য ও ক্রিয়া
  4. ঘ) বিশেষণ ও ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
অন্যদিকে, 
চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।

সুতরাং, এই দুটি পদের ভিন্নতার জন্যই সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য সহজেই নির্ণয় করা যায়।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
২,৩১৫.
কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্য?
  1. মাটি
  2. মিছিল
  3. জনতা
  4. পাখি
ব্যাখ্যা
জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

অন্যদিক, 
------------------
• বস্তুবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বুঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
- যেমন: মিছিল, সমাজ, সভা, জনতা, বহর, দল, সমিতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩১৬.
'মহাভারতের কথা অমৃত সমান।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ অতীত কাল
  2. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  3. ঘটমান অতীত কাল
  4. সাধারণ বর্তমান কাল
ব্যাখ্যা
• সাধারণ বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সে ভাত খায়। আমি বাড়ি যাই।

• নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল স্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যথা-
- সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। (স্বাভাবিকতা)
- আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই। (অভ্যস্ততা)

নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ-
• স্থায়ী সত্য প্রকাশে: চার আর তিনে সাত হয়।

• ঐতিহাসিক বর্তমান:
অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন- বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।

• কাব্যের ভণিতায়:
- মহাভারতের কথা অমৃত সমান।
- কাশীরাম দাস ভনে শুনে পুণ্যবান।

• অনিশ্চয়তা প্রকাশে:
- কে জানে দেশে আবার সুদিন আসবে কি না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)
২,৩১৭.
নিচের কোনটি অনুসর্গের দৃষ্টান্ত?
  1. বলে, কয়ে
  2. মনের, মতো
  3. জোরে, আস্তে
  4. ধরে, করে
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গের দৃষ্টান্ত - ধরে, করে

অনুসর্গ:  
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
→ সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না। - এই বাক্যে ‘ছাড়া’ একটি অনুসর্গ।
→ কোন পর্যন্ত পড়েছ? - এই বাক্যে ‘পর্যন্ত’ একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘-কে‘, '-র’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন -
তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব।
→ সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩১৮.
অনুসর্গ নয় কোনটি?
  1. নাগাদ
  2. ভিতরে
  3. তখন
  4. ব্যতীত
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ নয়- তখন।
 
• 'তখন' ক্রিয়া-বিশেষণ। 
অর্থ- সেই সময়ে, সেই যুগে। 

-----------------
• অনুসর্গ:

যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ? – এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

এরূপ কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩১৯.
অনুসর্গ কি?
  1. শব্দ বিভক্তি
  2. উপসর্গ
  3. ক্রিয়া বিভক্তি
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ: 
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে, তাকে অনুসর্গ বলে। 
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে। 
যেমন: 
- বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে) 
- সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে) 
- দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)

বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে। এগুলো হলো-
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।

• এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২,৩২০.
'ভিক্ষুকটা যে পিছনে লেগেই রয়েছে, কী বিপদ!'- এই বাক্যের 'কী'-এর অর্থ-
  1. ভয়
  2. রাগ
  3. বিরক্তি
  4. বিপদ
ব্যাখ্যা
• একই অব্যয় শব্দের বিভিন্ন অর্থের ব্যবহারে,
- 'কী বিপদ, লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।'-এখানে অব্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে বিরক্তি প্রকাশে।

তেমনি,
'ভিক্ষুকটা যে পিছনে লেগেই রয়েছে, কী বিপদ!' বাক্যের অব্যয় পদটি (কী) 'বিরক্তি' অর্থ প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
২,৩২১.
কোনটি ভাববাচক বিশেষ্য নয়?
  1. ক) চলন্ত
  2. খ) দর্শন
  3. গ) সৌন্দর্য
  4. ঘ) করবে
ব্যাখ্যা

জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনাে একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বােঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন - মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী, ইংরেজ।

দ্রব্যবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনাে উপাদানবাচক পদার্থের নাম বােঝায়, তাকে বহ্বাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্ত্র সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়।
যেমন - বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, লবণ, পানি।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বােঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যথা— সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝক, বহর, দল।

ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনাে বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বােঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা—মধুর মিষ্টত্বের গুণ মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ–তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ— তিক্ততা, তরুণের গুণ-তারুণ্য ইত্যাদি।
তদ্রপ : সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ]

২,৩২২.
কোনটির অপর নাম কর্মপ্রবচনীয় শব্দ?
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) প্রাতিপদিক
  4. ঘ) বাগধারা
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ এর আরেক নাম কর্মপ্রবচনীয় শব্দ।
বাংলা ভাষায় যেসব অব্যয় শব্দ কখনও স্বাধীন পদরূপে আবার কখনও শব্দ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয় তাদেরকে অনুসর্গ বলে।
অনুসর্গ বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে।
যেমনঃ তুমি বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে।
এখানে 'বিনা' অনুসর্গ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩২৩.
"যেমন কর্ম তেমন ফল।"- এখানে "যেমন-তেমন" কোন ধরনের সর্বনাম পদ?
  1. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  2. পারস্পরিক সর্বনাম
  3. সাপেক্ষ সর্বনাম
  4. ব্যতিহারিক সর্বনাম
ব্যাখ্যা

সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,৩২৪.
"কখনাে বা দেখা হবে।" বাক্যে দাগাঙ্কিত অংশটি একটি _____ পদ।
  1. ক) ক্রিয়াবিশেষণ
  2. খ) যােজক
  3. গ) আবেগ
  4. ঘ) অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। যেমন:
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।

• অনেক সময় বিশেষ্য বিশেষণ শব্দের সঙ্গে- ‘এ’, ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি এবং- ‘ভাবে’, ‘বশত’, ‘মতো’, ইত্যাদি শব্দাংশ যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবিশেষণ তৈরি হয়।
- ক্রিয়াবিশেষণকে ৫টি ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. ধরণবাচক
২. কালবাচক
৩. স্থানবাচক
৪. নেতিবাচক
৫. পদাণু

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে’, বা’,না’, ‘তাে’ প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন –
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
- বা: কখনাে বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালাে লাগবে।
- তাে: মরি তাে মরব।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩২৫.
কোনটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গ?
  1. কাছে
  2. করে
  3. জন্যে
  4. দ্বারা
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: সাধারণ অনুসর্গ ও ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন-
করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২,৩২৬.
'শয়ন' কোন জাতীয় বিশেষ্য?
  1. ক্রিয়া-বিশেষ্য
  2. নাম-বিশেষ্য
  3. সমষ্টি-বিশেষ্য
  4. বস্তু-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন
- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন-
- ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
- স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
- কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
- সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন
- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

২,৩২৭.
'এই যুগে মোবাইল অপরিহার্য' - বাক্যে 'এই' কী জাতীয় বিশেষণ?
  1. বর্ণবাচক
  2. প্রশ্নবাচক
  3. ভাববাচক
  4. নির্দিষ্টতাবাচক
ব্যাখ্যা
নির্দিষ্টতাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – এই দিনে, সেই সময় – এখানে এই’ ও ‘সেই নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।
তেমনি,
- এই যুগে মোবাইল অপরিহার্য।

অন্যদিকে, 
বর্ণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ কবা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা – এখানে নীল, সবুজ বা ললি’ হলাে বর্ণবাচক বিশেষণ।

প্রশ্নবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – কেমন গান? কতক্ষণ সময়? – এখানে ‘কেমন' ও 'কতক্ষণ' প্রশ্নবাচক বিশেষণ।

ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খবর।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
২,৩২৮.
বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. বিধেয় বিশেষণ
  2. বর্ণবাচক বিশেষণ
  3. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  4. ভাববাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খবর। 
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
[ এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।]

---------------------
• বিধেয় বিশেষণ:
বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেসব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
যেমন – ‘লােকটা পাগল’ বা ‘এই পুকুরের পানি ঘােলা’ – বাক্য দুটির ‘পাগল’ ও ‘ঘােলা’ বিধেয় বিশেষণ।

• বর্ণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ কবা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা – এখানে নীল, সবুজ বা ললি’ হলাে বর্ণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে চলন্ত ও তরল অবস্থাবাচক বিশেষণ। 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৩২৯.
কোনটি ভাববাচক বিশেষ্য পদ নয়?
  1. ক) স্বাস্থ্য
  2. খ) দর্শন
  3. গ) ভোজন
  4. ঘ) শয়ন
ব্যাখ্যা

ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন:
- ভোজন (খাওয়ার কাজ),
- শয়ন (শোয়ার কাজ),
- দর্শন (দেখার কাজ),
- গমন (যাওয়ার ভাব বা কাজ)।
অন্যদিকে,
'স্বাস্থ্য' শব্দটি গুণবাচক বিশেষ্য।



উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩৩০.
'সঞ্চিতা' কোন ধরনের নাম-বিশেষ্য?
  1. কালনাম
  2. ব্যক্তিনাম
  3. সৃষ্টিনাম
  4. স্থাননাম
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও  গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
যেমন - নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

• বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার। যথা:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন - 
- ব্যক্তিনাম: হাবিব, জুয়েল, লতা, শম্পা।
- স্থাননাম: বাংলাদেশ, ঢাকা, হিমালয়, পদ্মা।
- কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
- সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩৩১.
কোনটি একপদী ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ?
  1. যায় যায়
  2. গুনগুনিয়ে
  3. চুপি চুপি
  4. ভয়ে ভয়ে
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
যেমন:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩৩২.
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে। - এই বাক্যে ‘গুণগুনিয়ে’ কোন বিশেষণ?
  1. ক্রিয়াবিশেষণ
  2. বিশেষণের বিশেষণ
  3. অব্যয়ের বিশেষণ
  4. বিশেষ্যের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
- বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩৩৩.
'কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া'। -'হেতু' অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. ব্যাপার
  2. নিমিত্ত
  3. প্রার্থনা
  4. জন্যে
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে। যেমন- প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।

• অনুসর্গের প্রয়োগ- 
- হেতু: নিমিত্ত অর্থে-'কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া।'
- জন্যে: নিমিত্ত অর্থে- 'এ ধন-সম্পদ তোমার জন্যে।'
- সহকারে: সঙ্গে অর্থে - আগ্রহ সহকারে কহিলেন।
- বশত: কারণে অর্থে - দুর্ভাগ্যবশত সভায় উপস্থিত হতে পারিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৩৩৪.
'সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।' এখানে 'ছাড়া' একটি-
  1. উপসর্গ
  2. অনুসর্গ
  3. যোজক
  4. আবেগ
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না। (এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ)।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ? (এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ)।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২,৩৩৫.
'ইন্দ্রিয়' এর বিশেষণ রূপ কোনটি?
  1. ক) ইন্ধন
  2. খ) ইন্দ্রানী
  3. গ) ঐন্দ্রিয়
  4. ঘ) ইন্দ্রিয়জ্ঞান
ব্যাখ্যা
'ইন্দ্রিয়' এর বিশেষণ রূপ = ঐন্দ্রিয়   
ঐন্দ্রিয় (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ইন্দ্রিয়+অ  
অর্থ: 
- ইন্দ্রিয় সম্বধীয়। 
- প্রত্যক্ষ

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,৩৩৬.
কোনটি উপাদানবাচক নাম বিশেষণ?
  1. সিকি পথ
  2. কালো মেঘ
  3. মেটে কলসি
  4. তাজা মাছ
ব্যাখ্যা
• উপাদানবাচক নাম বিশেষণ - মেটে কলসি

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:

ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৩৭.
"মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়”- কিসের উদাহরণ
  1. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. কালবাচক ক্রিয়া বিশেষণ
  3. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ধরণবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা

• 'মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়'- এখানে 'সামনে' স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ এর উদাহরণ। 

• ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুণগুণিয়ে গান করছে।
[এখানে দ্রুত, ধীরে, গুণগুণিয়ে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়াবিশেষণ।]

ক্রিয়াবিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।  
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয় ।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। 
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব? 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৩৩৮.
"তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না।" - এখানে 'তবুও' কোন ধরনের যোজক?
  1. বিরোধ যোজক
  2. সাধারণ যোজক
  3. বিকল্প যোজক
  4. সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা

বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।

যেমন:
- তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না।

অন্যদিকে,
সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে।

যেমন:
- করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।

বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- চা না-হয় কফি খান।

সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৩৩৯.
নিচের কোনটি ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) যথাসময়ে সে হাজির হয়।
  2. খ) মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
  3. গ) ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না
  4. ঘ) সে এখন যাবে না
ব্যাখ্যা
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না- ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ। 

ক্রিয়াবিশেষণ
: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে তাঁকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। 

ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে ।
যেমন – টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না ।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন – আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি। যথাসময়ে সে হাজির হয়।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন – মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায় তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন - সে এখন যাবে না । তিনি বেড়াতে যাননি । এমন কথা আমার জানা নেই

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
২,৩৪০.
নিচের কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. বনাম
  2. প্রতি
  3. কার্‌
  4. দ্বারা
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ নয় - কার্‌।
- 'কার্‌' - ফারসি উপসর্গ।
-------------- 
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ। 

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে '-কে','-র' ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন -
- তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব।
- সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৪১.
’ভালো হও’ বাক্যটিতে রয়েছে-
  1. আদেশ
  2. অনুনয়
  3. উপদেশ
  4. অনুরোধ
ব্যাখ্যা
• বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
 
• আদেশ অর্থে:
- কাজটি করে ফেল। তোমরা এখন যাও।

• উপদেশ অর্থে :
- সত্য গোপন করো না।
- কড়া রোদে ঘোরাফেরা করিস না।
- 'পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা।'
- মানুষ হও;
- ভালো হও।

• অনুরোধ অর্থে:
- আমার কাজটা এখন কর। অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
•প্রার্থনা অর্থে :
- আমার দরখাস্তটা পড়ুন।
• অভিশাপ অর্থে:
- মর, পাপিষ্ঠ।

• অনুজ্ঞা:
- আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
২,৩৪২.
নিচের কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. বিনা
  2. সহ
  3. পানে
  4. অনু
ব্যাখ্যা

- প্রদত্ত অপশনগুলোতে অনু অনুসর্গ নয়। এটি একটি সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অনুসর্গ হলোঃ প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হতে, থেকে, চেয়ে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩৪৩.
‘কোথাও আমার হারিয়ে যেতে নেই মানা।’- বাক্যে কোথাও কোন পদ?
  1. অনুসর্গ
  2. যোজক
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• কোথাও আমার হারিয়ে যেতে নেই মানা।- বাক্যে ব্যবহৃত ‘কোথাও’ শব্দটি অনির্দিষ্ট সর্বনাম পদ।

⇒ সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৪৪.
নিচের কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্য?
  1. পরিবার
  2. ঝাঁক
  3. ছাগল
  4. বাহিনী
ব্যাখ্যা

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য, সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সমষ্টি-বিশেষ্য: 
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২,৩৪৫.
কোনটি পুরাঘটিত অতীতকালের উদাহরণ?
  1. তুমি যদি যেতে, তবে ভালই হতো।
  2. সেবার তোমাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
  3. তিনি ক্লাসে পড়াতে থাকবেন।
  4. আজ যদি ছুটি হতো, কেমন মজা হতো।
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত অতীতকাল:
যে ক্রিয়া অতীতে বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- সেবার তোমাকে সুস্থই দেখেছিলাম।

অন্যদিকে, 
• ঘটমান ভবিষ্যৎকাল:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যতে আরম্ভ হয়ে চলতে থাকবে এমন বোঝায় তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- তিনি ক্লাসে পড়াতে থাকবেন।

• নিত্যবৃত্ত অতীত কালের প্রয়োগ:
- ইচ্ছা প্রকাশে: আজ যদি ছুটি হতো, কেমন মজা হতো।
- সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালই হতো।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩৪৬.
'সমিতি' শব্দটি কোন ধরনের পদ?
  1. ক) বস্তুবাচক বিশেষ্য
  2. খ) জাতিবাচক বিশেষ্য
  3. গ) শ্রেণিবাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
যে বিশেষ্যপদ দ্বারা একজাতীয় ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায়, তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, বহর, শ্রেণী, বাহিনী, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, পাল, মালা, সারি, দল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২,৩৪৭.
"যেমন আচরণ করবে, তেমন ব্যবহার পাবে।"- এ বাক্যে "যেমন-তেমন" কোন ধরনের সর্বনাম পদ?
  1. পারস্পরিক সর্বনাম
  2. সাপেক্ষ সর্বনাম
  3. আত্মবাচক সর্বনাম
  4. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
ব্যাখ্যা

সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

তেমনিভাবে,
"যেমন আচরণ করবে, তেমন ব্যবহার পাবে।"- এ বাক্যে "যেমন-তেমন" হলো- সাপেক্ষ সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,৩৪৮.
'একদল কর্মী এ মাসে যোগদান করেছেন।'- এই বাক্যে 'একদল কর্মী' কোন ধরনের বর্গ?
  1. বিশেষ্য বর্গ
  2. বিশেষণ বর্গ
  3. ক্রিয়া বর্গ 
  4. ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ 
ব্যাখ্যা

"একদল কর্মী এ মাসে যোগদান করেছেন" - এই বাক্যে 'একদল কর্মী' একটি বিশেষ্য বর্গ।

বিশেষ্য বর্গ:
বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন,
অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।

বিশেষণ বর্গ:
বিশেষণ জাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন-
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।

ক্রিয়া বিশষেণ-বর্গ: যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন,
সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।

ক্রিয়াবর্গ: বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন,
সে লিখছে আর  হাসছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৩৪৯.
'এ ধন-সম্পদ তোমার জন্যে।' - এখানে 'জন্যে' অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. কারণ
  2. নিমিত্ত
  3. ন্যায়
  4. মত
ব্যাখ্যা
• ’এ ধন সম্পদ তোমার জন্য ‘ বাক্যে ’জন্যে’ অনুসর্গটি 'নিমিত্ত' অর্থে প্রকাশ পায়।

• অনুসর্গ :
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।

• বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে : 
• যেমন- প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।

অনুসর্গের প্রয়োগ:
- হেতু: নিমিত্ত অর্থে 'কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া।'
- জন্যে: নিমিত্ত অর্থে 'এ ধন-সম্পদ তোমার জন্যে।'
- সহকারে : সঙ্গে অর্থে আগ্রহ সহকারে কহিলেন।
- বশত : কারণে অর্থে দুর্ভাগ্যবশত সভায় উপস্থিত হতে পারিনি।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।
২,৩৫০.
"ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।" বাক্যে 'করলে' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. অসমাপিকা ক্রিয়া
  2. সমাপিকা ক্রিয়া
  3. সংযোগ ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার:

• অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।

• সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করবে।

• সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা;

• প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন-  তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন: রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায় এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
২,৩৫১.
৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে হযরত মুহম্মদ (স) মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন।- বাক্যটি কোন কালের?
  1. ক) সাধারণ বর্তমান
  2. খ) নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. গ) পুরাঘটিত বর্তমান
  4. ঘ) ঘটমান অতীত
ব্যাখ্যা
• সাধারণ বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে। যেমন: তৃণা স্কুলে যায়।
সাধারন বর্তমানে দুটি রূপ পাওয়া যায়। যথা:

• নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল: যে ক্রিয়া সাধারণভাবে নিত্য বা সব সময় ঘটে অর্থাৎ ক্রিয়া সংঘটনের স্বাভাবিকতা বা অভ্রস্ততা বোঝালে সাধারন বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সকালে সূর্য উঠে।
- আমি প্রত্যহ সকালে চা খাই।

• ঐতিহাসিক বর্তমান কাল: ঐতিহাসিক বর্তমান কাল অতীত অর্থে বর্তমান। অতীত কালের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনায় অনেক ক্ষেত্রে নিত্য বর্তমান কালের প্রয়োগ বা ব্যবহার হয়। এরূপ ক্ষেত্রে সাধারণ বর্তমান বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
- ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দে নবদ্বীপ শ্রীচৈতন্য দেবের জন্ম হয়।
- ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে হযরত মুহম্মদ (স) মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,৩৫২.
"ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।" - এ বাক্যে ‘ঠিকভাবে’ কোন ধরণের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  2. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
- বা: কখনাে বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালাে লাগবে।
- তাে: মরি তাে মরব।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩৫৩.
'যারা-তারা' - কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. আত্মবাচক সর্বনাম
  3. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  4. নির্দেশক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৩৫৪.
বাংলায় বিভক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয় এমন ব্যাকরণিক উপাদান কোনটি?
  1. উপসর্গ
  2. প্রত্যয়
  3. নির্দেশক
  4. অনুসর্গ
ব্যাখ্যা

• দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে- প্রভৃতি অনুসর্গগুলো বিভক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

-----------------------
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
- সাধারণ অনুসর্গ ও
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

২,৩৫৫.
নিচের কোন বাক্যটিতে কারণবাচক যোজকের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) সারাদিন খুঁজলাম অথচ বইটা পেলাম না।
  2. খ) এত বৃষ্টি হলো তবু গরম গেল না।
  3. গ) যেহেতু ঠান্ডা লেগেছে তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না।
  4. ঘ) যত গর্জে তত বর্ষে না।
ব্যাখ্যা
যেহেতু ঠান্ডা লেগেছে তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না- বাক্যটিতে 'কার যোজক' ব্যবহৃত হয়েছে। 

কারণ যোজক: 
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন – যেহেতু ঠান্ডা লেগেছে তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না। 
জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি। 
বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

বিকল্প যোজক:
এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে ।
যেমন – সারাদিন খুঁজলাম অথচ বইটা পেলাম না। 
লাল বা নীল কলমটা আনো ৷
চা না-হয় কফি খান।

বিরোধ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন - এত বৃষ্টি হলো তবু গরম গেল না। 
এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না ৷
তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন – যত গর্জে তত বর্ষে না। 
যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব ।
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
২,৩৫৬.
'সুখী হও।' বাক্যটিতে রয়েছে-
  1. উপদেশ
  2. অনুরোধ
  3. আদেশ
  4. প্রার্থনা
ব্যাখ্যা

• অনুজ্ঞা:
- আদেশ, অনুমতি, অনুরােধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বােঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয় তাকে বলে অনুজ্ঞা।
- আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।

যেমন:
- সম্ভাবনায় - ভাল করে পড়লে পাস করবে।
- উপদেশ - মানুষ হও।
- প্রার্থনায় - সুখী হও।
- অনুরোধে - কাল দেখা করো।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৩৫৭.
কোনটি পুরাঘটিত অতীত কাল?
  1. আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
  2. কাল সান্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
  3. শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
  4. কাজটি কি তুমি করেছিলে?
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।

যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

অন্যদিকে,
সাধারণ অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল সান্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৫৮.
পদ বিবেচনায় শব্দকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ৫
  2. খ) ৬
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ৮
ব্যাখ্যা

পদ বিবেচনায় শব্দ কে ৮ টি শ্রেনিতে ভাগ করা হয়।
যথা বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ, অনুসর্গ, যোজক, আবেগ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিত নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩৫৯.
নিচের কোন বাক্যে অনুসর্গ ব্যবহার করা হয়নি?
  1. আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।
  2. সে মায়ের মতো কথা বলে।
  3. বিনি সুতায় গাঁথা মালা।
  4. পাখি আকাশে উড়ছে।
ব্যাখ্যা
• 'পাখি আকাশে উড়ছে।' বাক্যটিতে কোনো অনুসর্গ ব্যবহার করা হয়নি।

• অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় শব্দ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে,
- আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়,
- আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন-
- বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)। 
- সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)।
- দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)।

অন্যদিকে,
- আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।
- সে মায়ের মতো কথা বলে।
- বিনি সুতায় গাঁথা মালা।
- বাক্যগুলোতে জন্য, মতো ও বিনি অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৩৬০.
বাক্যের কোন পদটি অপরিবর্তনীয়?
  1. বিশেষ্য পদ
  2. সর্বনাম পদ
  3. অব্যয় পদ
  4. ক্রিয়াপদ
ব্যাখ্যা

• অব্যয় পদ:
যে পদের কোন ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে।

অর্থাৎ, যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থাকে, যার সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় না এবং পুরুষ বা বচন বা লিঙ্গ ভেদে যে পদের রূপের বা চেহারারও কোন পরিবর্তন হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে।

• অব্যয় পদ বাক্যে কোন পরিবর্তন ছাড়াই ব্যবহৃত হয় এবং বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে কখনো বাক্যকে আরো শ্রচতিমধুর করে, কখনো একাধিক পদ বা বাক্যাংশ বা বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম - দশম শ্রেণী (২০১৮ সংস্করণ)।

২,৩৬১.
নিচের কোন বাক্যটিতে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ রয়েছে?
  1. মাথার উপরে নীল আকাশ।
  2. ভালাে করে খেয়ে নাও।
  3. কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  4. হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
- সাধারণ অনুসর্গ ও
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ: 
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলােকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন –
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ তােমার দ্বারা হবে না।
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: 
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলােকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন -
করে: ভালাে করে খেয়ে নাও।
থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
দিয়ে মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩৬২.
"স্নিগ্ধ বাতাসে মন জুড়ায়।" - এখানে 'স্নিগ্ধ' কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষ্যের বিশেষণ
  4. বিশেষণের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• "স্নিগ্ধ বাতাসে মন জুড়ায়।" - এখানে 'স্নিগ্ধ' শব্দটি বাতাস (বিশেষ্য)-এর গুণ বোঝাচ্ছে।
তাই, এটি বিশেষ্যের বিশেষণ।
------------------ 
• নাম বিশেষণ: 
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।
যথা -

বিশেষ্যের বিশেষণ:
- সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?
- নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।

সর্বনামের বিশেষণ:
- সে রূপবান ও গুণবান

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৬৩.
কোনটি মধ্যম পুরুষ?
  1. আপনি
  2. তারা
  3. আমরা
  4. সে
ব্যাখ্যা

• আপনি- মধ্যম পুরুষ। 

​পুরুষ তিন প্রকার। যেমন:
১. উত্তম পুরুষ,
২. মধ্যম পুরুষ,
৩. নাম পুরুষ।

• উত্তম পুরুষ: ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে। যেমন: আমি, আমরা ইত্যাদি।

• মধ্যম পুরুষ: বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে। যেমন: তুমি, তোমরা, আপনি, তোরা ইত্যাদি।

• নাম পুরুষ: বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে। যেমন: সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৩৬৪.
আমি কি যাব? - বাক্যে কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণের দৃষ্টান্ত রয়েছে?
  1. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  2. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
⇒ ক্রিয়াবিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হল ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

⇒ পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব? 

⇒ ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
 - ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

⇒ কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয় ।

⇒ স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন: মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 

⇒ নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৩৬৫.
'তোমার জেলার নাম কী?' এই বাক্যে 'কী' কোন প্রকারের পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
'তোমার জেলার নাম কী?' এই বাক্যে 'কী' প্রশ্নবাচক সর্বনাম পদ।

• প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
- প্রশ্ন তৈরির জন্যে প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়।
- যেমন: কে, কারা, কাকে, কার, কী (কী দিয়ে ভাত খায়?) ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- উত্তর যদি 'হ্যাঁ' বা 'না' হলে প্রশ্ন হবে কি দিয়ে এবং কি অব্যয় পদ।
- হ্যাঁ না ব্যতিত উত্তর অন্যকিছু হলে প্রশ্ন হবে কী দিয়ে যা সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,৩৬৬.
”এই দিনে সে এসেছিল” - বাক্যটিতে 'এই' কোন জাতীয় বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক
  2. নির্দিষ্টতাবাচক
  3. পূরণবাচক
  4. ভাববাচক
ব্যাখ্যা
”এই দিনে সে এসেছিল” - বাক্যটিতে 'এই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।
-------------------------
• নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন -
- এই দিনে, সেই সময় এখানে 'এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

উল্লেখ্য,
- যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন
সুন্দর ফুল,
বাজে কথা,
পঞ্চাশ টাকা,
হাজার সমস্যা,
তাজা মাছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২,৩৬৭.
যাহা কর্তব্য তাহা কায়মনোবাক্যে করিবে, করার ফলাফল কি হইবে তাহার প্রতি কোন লক্ষ্য রাখিবে না। এখানে 'কায়মনোবাক্যে" হলো -
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়াবিশেষণ
  4. বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
কায়মনোবাক্যে ( ক্রিয়াবিশেষণ)
দেহ মন ও কথার দ্বারা;
সর্বতোভাবে;
সর্বান্তঃকরণে কায়সাধনা (বিশেষ্য) দেহকে অমর করার জন্য যৌগিক সাধনা।

উৎস : বাংলা একাডেমি অভিধান।
২,৩৬৮.
ইংরেজি ব্যাকরণের 'Adverb'-কে বাংলা ব্যাকরণে বলে -
  1. নাম বিশেষণ
  2. ভাব বিশেষণ
  3. সমুচ্চরী অব্যয়
  4. নামপদ
ব্যাখ্যা
ইংরেজি ব্যাকরণের 'Adverb' কে বাংলা ব্যাকরণে 'ভাব বিশেষণ' বলে।

• যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাই ভাব বিশেষণ।

• ভাব বিশেষণ চার প্রকার। যথাঃ
- ক্রিয়া বিশেষণ,
- বিশেষণের বিশেষণ,
- অব্যয়ের বিশেষণ ও
- বাক্যের বিশেষণ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৬৯.
’সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম’ কোন ক্রিয়া কালের উদাহরণ?
  1. নিত্যবৃত্ত অতীত
  2. পুরাঘটিত অতীত কাল
  3. সাধারণ অতীত
  4. ঘটমান অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন-
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?
 
অন্যদিকে,
• সাধারণ অতীত:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন-
- প্রদীপ নিভে গেল।
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

• নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
বলে।
যেমন-
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

• ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি-ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন-
কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

উৎস: , বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)
২,৩৭০.
'আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে।' এখানে 'তো' কোন ধরনের অব্যয় পদ?
  1. অনুকার অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. অনুসর্গ অব্যয়
ব্যাখ্যা

• যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশের ব্যবহৃত হয় তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
• 'আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে।'
• বাক্যটি 'তো' এর সাথে অন্য কোনো পদের মিল নেই।
• এটি ছাড়াও বাক্যটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে।
• তাই 'তো' এখানে অনন্বয়ী অব্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩৭১.
‘সুন্দর’ শব্দের বিশেষ্য পদ কোনটি?
  1. সুশ্রী
  2. সুদর্শন
  3. সুন্দরী
  4. সৌন্দর্য
  5. খ ও ঘ
ব্যাখ্যা
• সুন্দর শব্দের বিশেষ্য পদ- সৌন্দর্য।

• সুন্দর (বিশেষণ পদ),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- সুশ্রী,
- সুদর্শন,
- কমনীয়।

আবার,
• সৌন্দর্য (বিশেষ্য পদ),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- রূপ,
- শোভা,
- লালিত্য,
- মনোহারিতা।

অন্যদিকে,
• ‘সুন্দর’ শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - সুন্দরী। এটি বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩৭২.
কোনটি বর্তমান অনুজ্ঞার উদাহরণ?
  1. বড় হও, বুঝতে পারবে।
  2. সব সময় সত্যি বলবে।
  3. সুমাইয়া সময়মতো খেয়ো।
  4. সকলের মঙ্গল হোক।
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা বর্তমান:
- যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে।
যেমন -
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
- সকলের মঙ্গল হোক।

অন্যদিকে,
------------------
• অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- বড় হও, বুঝতে পারবে।
- সব সময় সত্যি বলবে।
- সুমাইয়া সময়মতো খেয়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
২,৩৭৩.
'প্রাণের অপেক্ষা প্রিয় আর কী আছে? এখানে 'অপেক্ষা' কোন অনুসর্গ?
  1. ক) সংস্কৃত অনুসর্গ
  2. খ) বিবর্তিত অনুসর্গ
  3. গ) ফারসি অনুসর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়া অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ 
• বাংলা ভাষায় এক ধরনের সহায়ক শব্দ বাক্যে অন্য কোন পদের পরে বসে পদটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে কিংবা বিভক্তির মত কাজ করে।
• এগুলো অনুসর্গ নামে পরিচিত।
• এদেরকে পরসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়ও শব্দ বলা হয়ে থাকে।

অনুসর্গ প্রধানত দুই প্রকার।
যথা- 
- নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ।
- ক্রিয়া অনুসর্গ।

নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা -
- সংস্কৃত অনুসর্গ: অপেক্ষা, অভিমুখ, উপরে, কর্তৃক, জন্য, দিকে ইত্যাদি।
- বিবর্তিত অনুসর্গ: আগে, কাছে, ছাড়া, তরে, পানে, পাশে, বই, ভেতর, মাঝে, সাথে, সামনে ইত্যাদি।
- ফারসি অনুসর্গ: দরুন, বদলে, বনাম, বাদে, বাবদ, বরাবর ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
২,৩৭৪.
'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!' বাক্যে 'মরি মরি' কী ধরনের অব্যয়?
  1. অনুকার
  2. অনুসর্গ
  3. সমুচ্চয়ী
  4. অনন্বয়ী
ব্যাখ্যা
অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনাে অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
- অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনােভাব প্রকাশে সহায়তা করে।
যেমন:
- মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।
বাক্যে ব্যবহার: 
'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!' - এখানে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৭৫.
কোনটি লগ্নক নয়?
  1. ক) নির্দেশক
  2. খ) বাচ্য
  3. গ) বিভক্তি
  4. ঘ) বলক
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলাের নাম লগ্নক।
লগ্নক চার ধরনের:
বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বােঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলােকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। করলাম ক্রিয়াপদের লাম’ শব্দাংশ হলাে ক্রিয়া-বিভক্তি এবং কৃষকের পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলােকে নির্দেশক বলে। ‘লােকটি বা ভালােটুকু পদের টি’ বা ‘টুকু হলাে নির্দেশকের উদাহরণ।

 বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বােঝায়, সেগুলােকে বচন বলে। ছেলেরা বা বইগুলাে পদের রা’ বা ‘গুলাে হলাে বচনের উদাহরণ।

বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে। তখনই বা ‘এখনও পদের ই বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৩৭৬.
নিম্নের কোন বাক্যটিতে অলংকার আবেগ রয়েছে?
  1. ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
  2. যাকগে, ওসব কথা থাক। 
  3. বাহ, চমৎকার লিখেছ।
  4. বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
ব্যাখ্যা

মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
১. সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।

২. প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- বাহ, চমৎকার লিখেছ।

৩. বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।

৪. আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- উহ! কি বিপদে পরা গেল।

৫. বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আরে! তুমি আবার কখন এলে?

৬. করূণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আহা! বেচারার কত কষ্ট।

৭. সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।

৮. অলংকার আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৩৭৭.
বিশেষণ কার দোষ, গুণ, সংখ্যা, পরিমাণ ও অবস্থা ইত্যাদি নির্দেশ করে?
  1. বিশেষ্য ও অনুসর্গ
  2. বিশেষ্য ও বিশেষণ
  3. বিশেষ্য ও সর্বনাম
  4. বিশেষণ ও আবেগ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বিশেষণ:
- যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
- যেমন: সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা।   

বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ:
১. বর্ণবাচক:
- রং নির্দেশ করা হয়। যেমন: কালো, নীল, সবুজ, লাল।
২. গুণবাচক:
- গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়। যেমন: চালাক, ঠান্ডা। 
৩. অবস্থাবাচক:
- অবস্থা বোঝায়। যেমন: তাজা, রোগা,  চলন্ত, তরল, কঠিন।   
৪. ক্রমবাচক:
- ক্রমসংখ্যা বোঝায়। যেমন:  এক, আট।
৫. পূরণবাচক:
- পূরণসংখ্যা বোঝায়। যেমন: তৃতীয়, ৩৪তম। 
৬. পরিমাণবাচক:
- পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়। যেমন: আধা, অনেক।
৭. উপাদানবাচক:
- উপাদান নির্দেশ করে। যেমন: বেলে, পাথুরে। 
৮. প্রশ্নবাচক:
-প্রশ্নঝচকতা নির্দেশিত হয়। যেমন: কেমন, কতক্ষণ।
৯. নির্দিষ্টবাচক:
- বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়। যেমন: এই, সেই। 
১০. ভাববাচক:
-বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে। যেমন: খুব, বেশ।
১১. বিধেয় বিশেষণ:
- বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেসব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে। যেমন: যেমন: পাগল, ঘোলা।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৭৮.
গুণবাচক বিশেষ্য কোনটি?
  1. স্বাস্থ্য
  2. যৌবন
  3. তারল্য
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

গুণবাচক বিশেষ্য: 
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা - 
মধুর মিষ্টত্বের গুণ = মধুরতা। 
- তদ্রূপ : সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৭৯.
"তাঁর কোনো লাজ নেই।" এখানে, ‘লাজ’ শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণের বিশেষণ
  3. অব্যয়ের বিশেষণ
  4. ক্রিয়া-বিশেষণ
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
• ‘লাজ’- বিশেষ্য পদ। 
-  ‘লাজ’ শব্দের অর্থ- লজ্জা, শরম। 
- 'লাজ' এর বিশেষণ পদ: 'লাজুক'।

• "তাঁর কোনো লাজ নেই।" এখানে, ‘লাজ’ শব্দটি বিশেষ্য পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৩৮০.
'তুমি না বলেছিলে এখানে আসবে?'- এখানে 'না' এর ব্যবহার কি অর্থে?
  1. ক) প্রশ্নবোধক
  2. খ) হ্যাঁ বোধক
  3. গ) না বোধক
  4. ঘ) বিস্ময়সূচক
ব্যাখ্যা
• তুমি না বলেছিলে এখানে আসবে?- এখানে 'না'- প্রশ্নাত্মক/প্রশ্নবোধন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর:
নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে প্রশ্নাত্মক বাক্যটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যার সবচেয়ে কাছাকাছি সম্ভাব্য উত্তর হবে নির্দেশাত্মক বাক্যটি।

• সূত্র: নির্দেশাত্মক বাক্য হ্যাঁ-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে না-বাচক, নির্দেশাত্মক বাক্য না-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে হ্যাঁ-বাচক। প্রথমটির ক্ষেত্রে বিধেয় ক্রিয়ার সঙ্গে নঞর্থক শব্দ যোগ করতে হয়, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে নঞর্থক শব্দ বর্জন করে 'আর' প্রভৃতি বাক্যালঙ্কার শব্দের আগমন ঘটাতে হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: দেশপ্রেমিককে সবাই ভালোবাসে।
• প্রশ্নাত্মক: দেশপ্রেমিককে কে না ভালোবাসে?

তেমনই,
• নির্দেশাত্মক: তুমি বলেছিলে এখানে আসবে।
• প্রশ্নাত্মক: তুমি না বলেছিলে এখানে আসবে?

• সূত্র: রূপান্তরিত বাক্যে প্রয়োজনমতো 'কে', 'কি', 'কোথায়' ইত্যাদি প্রশ্নাত্মক শব্দ এবং প্রশ্ন (?) চিহ্ন বসাতে
হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: কেউ মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে না।
• প্রশ্নাত্মক: কেউ কি মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩৮১.
যে পদে বাক্যের ক্রিয়াপদটির গুণ, প্রকৃতি, তীব্রতা ইত্যাদি প্রকৃতিগত অবস্থা বোঝায়, তাকে বলা হয়-
  1. ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য
  2. ক্রিয়াবিশেষণ
  3. ক্রিয়াবিশেষ্যজাত বিশেষণ
  4. ক্রিয়াবিভক্তি
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে। ক্রিয়াবিশেষণ বাক্যের ক্রিয়াকে বিশেষিত করে। এটি ক্রিয়ার গুণ, প্রকৃতি, তীব্রতা, বৈশিষ্ট্য ও অর্থ-প্রকাশক শব্দ হিসেবে কাজ করে এবং ক্রিয়া সময় স্থান, প্রকার, উৎস, উপকরণ ইত্যাদি প্রকৃতিগত অবস্থার অর্থগত ধারণা দেয়।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হল ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয় ।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন: মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩৮২.
কোন বাক্যে পুরাঘটিত অতীত কালের ক্রিয়া আছে?
  1. আমরা সবাই নানুবাড়ি গিয়েছি।
  2. আমি যেতে থাকিবো।
  3. আরিফ কি গিয়েছিল?
  4. সেখানে গিয়ে দেখে এসো।
ব্যাখ্যা
• "আরিফ কি গিয়েছিল?" বাক্যে পুরাঘটিত অতীত কালের ক্রিয়া আছে।

অন্যদিকে,
- 'আমরা সবাই নানুবাড়ি গিয়েছি।' পুরাঘটিত বর্তমান কাল।
- 'সেখানে গিয়ে দেখে এসো।' পুরাঘটিত বর্তমান কাল।
- 'আমি যেতে থাকিবো।'- ঘটমান ভবিষ্যত কাল।

• পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন-
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম। কাজটি কি তুমি করেছিলে?

• অতীতে সংঘটিত ঘটনার নিশ্চিত বর্ণনায় পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ সৈন্য মারা গিয়েছিল। আমি সমিতিতে সেদিন পাঁচ টাকা নগদ দিয়েছিলাম।
• অতীতে সংঘটিত ক্রিয়ার পরম্পরা বোঝাতে শেষ ক্রিয়াপদে পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ হয়। যেমন- বৃষ্টি শেষ হওয়ার পূর্বেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৩৮৩.
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে কী বলে?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. সংযোগ ক্রিয়া
  4. নাম ক্রিয়া
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত্য করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

অন্যদিকে,
সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো।

সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩৮৪.
'এ-যে আমাদের চেনালোক' - চেনা কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) অব্যয়
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
বিশেষণ হল সেই সব পদ, যেগুলি বিশেষ‍্য ও অন‍্যান‍্য পদের পরিচিতি স্পষ্ট করে। উক্ত প্রশ্নে ‘চেনা’ শব্দটি ‘লোক’ বিশেষ্যের পরিচিতি স্পষ্ট করে।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-মোহসীনা নাজিলা
২,৩৮৫.
'মা প্রতিদিন আসতেন' - কোন কালের উদাহরণ?
  1. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  2. সাধারণ বর্তমান
  3. সাধারণ অতীত
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।
- মা প্রতিদিন আসতেন।

অন্যদিকে,
নিত্যবৃত্ত বর্তমান:
- বস্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যথা -
- সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। (স্বাভাবিকতা)।
- আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই। (অভ্যস্ততা)।

সাধারণ বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তানিমা ভাত খায়।
- আমি বাড়ি যাই।

সাধারণ অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৮৬.
“আমরা আজকের মধ্যে সমস্যাটির সমাধান করবই” বাক্যে ‘করব’ শব্দের সঙ্গে যুক্ত ই শব্দাংশটিকে কী বলে?
  1. ক) বচন
  2. খ) বিভক্তি
  3. গ) নির্দেশক
  4. ঘ) বলক
ব্যাখ্যা

যেসব শব্দাংশ পদের শেষে যুক্ত হয়ে বক্তব্যকে জোড়ালো করে তাকে বলক বলে ।
‘তখনই’ বা ‘এখনও’ শব্দের শেষে ‘ই’ এবং ‘ও’ শব্দাংশ হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)

২,৩৮৭.
'চলো কোথাও একটু ঘুরে আসি।' - এখানে 'কোথাও' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য পদ
  2. সর্বনাম পদ
  3. বিশেষণ পদ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ পদ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া বিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

• নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।

• এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হল ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।  

• ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন –
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
যথাসময়ে সে হাজির হয় ।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে।
যেমন:
মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 
চলো কোথাও একটু ঘুরে আসি। 

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। 
যেমন :
তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
আমি কি যাব? 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৩৮৮.
কোনটি সাধারণ বিশেষ্য নামেও পরিচিত?
  1. নাম বিশেষ্য
  2. বস্তু বিশেষ্য
  3. জাতি বিশেষ্য
  4. গুণ বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
 যেমন নদী, সাগর, পর্বত, মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল ইত্যাদি।
--------------
নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
ব্যক্তিনাম:
- হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি ।

সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

গুণ-বিশেষ্য: 
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন - সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
২,৩৮৯.
নিচের কোন বাক্যে 'পরিণতি' বোঝাতে 'ইলে > লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) চারটা বাজলে স্কুলের ছুটি হবে।
  2. খ) এখন বৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতি হবে।
  3. গ) তিনি গেলে কাজ হবে।
  4. ঘ) বৃষ্টিতে ভিজলে সর্দি হবে।
ব্যাখ্যা
'বৃষ্টিতে ভিজলে সর্দি হবে' বাক্যে- 'পরিণতি' বোঝাতে 'ইলে > লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে। 

তাছাড়া,
'ইলে' > 'লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার কয়েকটি ব্যবহার -
- কার্যপরম্পরা বোঝাতে -- চারটা 'বাজলে' স্কুলের ছুটি হবে।
- সম্ভাব্যতা অর্থে -- এখন বৃষ্টি 'হলে' ফসলের ক্ষতি হবে।
- সাপেক্ষতা বোঝাতে -- তিনি 'গেলে' কাজ হবে।
- প্রশ্ন বা বিস্ময় জ্ঞাপনে -- একবার 'মরলে' কি কেউ ফেরে?
- বিধিনির্দেশ অর্থে- এখানে প্রচারপত্র লাগালে ফৌজদারিতে সোপর্দ হবে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২,৩৯০.
উপসর্গ কোনটি?
  1. ক) অতি
  2. খ) থেকে
  3. গ) চেয়ে
  4. ঘ) দ্বারা
ব্যাখ্যা
• 'অতি'- শব্দটি তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ। 

অন্যদিকে, 
থেকে, চেয়ে, দ্বারা- এগুলো অনুসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। 
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,৩৯১.
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় -
  1. বলক
  2. লগ্নক
  3. পদ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

• লগ্নক চার ধরনের:
১. বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের' পদের ‘এর শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

২. নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। ‘লোকটি’ বা ‘ভালোটুকু পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

৩. বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। ‘ছেলেরা’ বা ‘বইগুলো পদের 'রা' বা 'গুলো হলো বচনের উদাহরণ।

৪. বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 'তখনই' বা ‘এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩৯২.
'শয়ন' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. গুণ-বিশেষ্য
  2. নাম-বিশেষ্য
  3. বস্তু-বিশেষ্য
  4. ক্রিয়া-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি

অন্যদিকে,
গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন:
- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

নাম-বিশেষ্য:

- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
- ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা। স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা। কালনাম: সােমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান। সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩৯৩.
কোনগুলো অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম?
  1. ক) কেহ, কে
  2. খ) যে, যিনি
  3. গ) কেউ, কিছু
  4. ঘ) অপর, পর
ব্যাখ্যা
কিছু অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম হলো -
কোন, কেহ, কেউ, কিছু ইত্যাদি।
প্রশ্নবাচক সর্বনাম - কে, কি, কী, কেন ইত্যাদি।
সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম - যে, যিনি, যারা ইত্যাদি।
অন্যাদিবাচক সর্বনাম - অপর, পর, অন্য ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৯৪.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ নয়?    
  1. তারুণ্য
  2. দুঃখ
  3. সন্ধ্যা
  4. ঐচ্ছিক
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ:
- ঐচ্ছিক বিশেষ্য পদ নয়।
- এটি বিশেষণের উদাহরণ।
- ঐচ্ছিক এমন একটি বিশেষণ পদ, যা কোনো বিশেষ্যকে বিশেষিত করে।
- যেমন- ঐচ্ছিক বিষয়, ঐচ্ছিক শিক্ষা।
- বিশেষণ হলো সেই পদ যা বিশেষ্য, সর্বনাম বা ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে।
- যেমন:
- মেধাবী ছেলে (গুণ);
- নীল আকাশ (অবস্থা/রং);
- সুন্দর মেয়ে (গুণ);
- দ্রুত হাঁট (ক্রিয়া);
- তিন/চার (সংখ্যা)।
 
- বিভিন্ন ধরনের বিশেষণ পদের উদাহরণ: 

• বিশেষ্যের বিশেষণ: বিশেষ্য পদকে বিশেষিত করে।
- উদাহরণ: চঞ্চল শিশু (শিশুর অবস্থা), চলন্ত ট্রেন (ট্রেনের অবস্থা)।

• সর্বনামের বিশেষণ: সর্বনামকে বিশেষিত করে।
- উদাহরণ: ধৈর্যশীল তুমি (তোমার গুণ), যত পদ তত ফল (ফলের অবস্থা। 

• ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়াপদকে বিশেষিত করে।
- উদাহরণ: দ্রুত দৌড়াও (দৌড়ানোর ধরন)।

• সংখ্যাবাচক বিশেষণ: সংখ্যা বোঝায়।
- উদাহরণ: সতের বছর, পাঁচশ টাকার নোট।

• গুণবাচক বিশেষণ: গুণ বা দোষ প্রকাশ করে।
- উদাহরণ: মেধাবী ছেলে, কুৎসিত লোক।

• পরিমাণবাচক বিশেষণ: পরিমাণ বোঝায়।
- উদাহরণ: সল্প সম্পদ, অনেক পানি।

• অবস্থা নির্দেশক বিশেষণ: অবস্থার মান প্রকাশ করে।
- উদাহরণ: লাল গোলাপ, নরম বিছানা।
-------------------------------------------------
বিশেষ্য পদ:
- তারুণ্য, দুঃখ, সন্ধ্যা- বিশেষ্য পদের উদাহরণ।
- যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা বা গুণের নাম বোঝানো হয়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলা হয়।

- বিশেষ্য পদ সাধারণত ছয় প্রকারে বিভক্ত:
১. নাম-বিশেষ্য: আরিফ, রিমা, সিলেট, যমুনা, রবিবার, শ্রাবণ, ফাল্গুন, ঈদ, স্বাধীনতা।
২. জাতি-বিশেষ্য: মানুষ, সিংহ, হরিণ, গাছ, ফল, নদী, পাহাড়।
৩. বস্তু-বিশেষ্য: কাঁঠাল, লবণ, আকাশ, চেয়ার, বই।
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: দল, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল।
৫. গুণ-বিশেষ্য: উদারতা, করুণা, আনন্দ, গুরুত্ব, ধৈর্য, সততা।
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: পঠন, ভ্রমণ, শয়ন, লেখা, খাওয়া, শেখা।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ);
আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

২,৩৯৫.
'এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।' এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে -
  1. একদেশিক অর্থে
  2. ক্ষণকাল অর্থে
  3. ব্যাপ্তি অর্থে
  4. মধ্যে অর্থে
ব্যাখ্যা
• 'এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।' এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - একদেশিক অর্থে

অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)

- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়। 

অনুসর্গের প্রয়োগ:
মাঝে:
- মধ্যে অর্থে - 'সীমার মাঝে অসীম তুমি'।
- একদেশিক অর্থে - এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
- ক্ষণকাল অর্থে - নিমেষ মাঝেই সব শেষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৯৬.
'পর্বত' কোন ধরনের বিশেষ্য পদ?
  1. জাতিবাচক বিশেষ্য
  2. নাম বাচক বিশেষ্য
  3. বস্তুবাচক বিশেষ্য
  4. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, পর্বত, নদী, ইংরেজ প্রভৃতি।

অন্যদিকে, 
--------------------
• সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্য (Proper Noun):
যে পদ দ্বারা ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান বা সংজ্ঞা এবং গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন-
ব্যক্তির নাম: সারা, কনিকা, শিলা, মাসুদ, দেলোয়ার প্রভৃতি।
ভৌগোলিক অস্থানের নাম: কিশোরগঞ্জ, পটুয়াখালী, ঢাকা, আমেরিকা, লন্ডন প্রভৃতি।
ভৌগোলিক সংজ্ঞা: (নদী, পর্বত, সমুদ্র ইত্যাদি): করতোয়া, মেঘনা, হিমালয়, আরব সাগর প্রভৃতি।
গ্রন্থের নাম: কৃষ্ণকুমারী, অগ্নি-বীণা, গীতাঞ্জলি, পথের দাবী, সঞ্চিতা, সঞ্চয়িতা, বিশ্বনবী প্রভৃতি।

• বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য (Material Noun):
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়।
যথা- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, পানি, লবণ প্রভৃতি।

• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (Collective Noun):
যে পদে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যথা- সভা, জনতা, সমিতি, সমাজ, পঞ্চায়েত, মিছিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৯৭.
"মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন" বাক্যে 'কিংবা' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা
'কিংবা' সমুচ্চয়ী অব্যয়।

• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

• সমুচ্চয়ী অব্যয় ৪ প্রকার-
- সংযোজক অব্যয়,
- বিয়োজক অব্যয়,
- সংকোচক অব্যয়,
- অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়।

অন্যদিকে,
• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন-মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ।

• অনুসর্গ অব্যয়:
যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না।

• অনুকার অব্যয়:
যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।
যথা- বজ্রের ধ্বনি- কড় কড়; মেঘের গর্জন গুড় গুড়; বৃষ্টির তুমুল শব্দ ঝম ঝম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩৯৮.
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এল বান'–এখানে 'টাপুর টুপুর' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. ক) অবস্থাবাচক
  2. খ) বাক্যালঙ্কার
  3. গ) ধ্বন্যাত্মক
  4. ঘ) সংযোজক
ব্যাখ্যা

যে–অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয় তাকে ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বা অনুকার অব্যয় বলে৷
যেমন- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
শাঁ করে ছুটে গেলো তীরটা৷
ধপ্ করে তাল পড়ল। বাতাসের গতি শনশন
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

২,৩৯৯.
"ভোগে নয়, ত্যাগেই মনুষ্যত্বের বিকাশ' বাক্যে অলগ্নক পদ কোনটি?
  1. ক) ভোগে
  2. খ) ত্যাগেই
  3. গ) মনুষ্যত্বের
  4. ঘ) বিকাশ
ব্যাখ্যা
- বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলােকে সলগ্নক পদ 
- যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলােকে অলগ্নক পদ বলে।
- ছেলেরা ক্রিকেট খেলে’- এই বাক্যের ‘ছেলেরা ও ‘খেলে সলগ্নক পদ আর ক্রিকেট অলগ্নক পদ।
অনুরূপভাবে,
"ভোগে নয়, ত্যাগেই মনুষ্যত্বের বিকাশ'
বাক্যে 'ভোগে' 'ত্যাগেই' 'মনুষ্যত্বের'  সলগ্নক পদ এবং 'নয়' 'বিকাশ' অলগ্নক পদ।  

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৪০০.
আজ বিকেলে যদি সুমন আসত, মজা হতো। - কোন কালের উদহারণ?
  1. নিত্যবৃত্ত অতীত
  2. পরাঘটিত বর্তমান
  3. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  4. সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত অতীত কাল:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদীর তীরে ভ্রমণ করতাম।

নিত্যবৃত্ত অতীত কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
ক. কামনা প্রকাশে: আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতো।
খ. অসম্ভব কল্পনায়: সাতাশ যদি হতো একশ সাতাশ।
গ. সম্ভবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।