বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা ২৩ / ৩১ · ২,২০১২,৩০০ / ৩,০২৪

২,২০১.
নিচের কোন বাক্যে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ আছে?
  1. মাথার উপরে নিল আকাশ।
  2. কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  3. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
  4. মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
• করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
• ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
• দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
• বলে: তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।

সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
• উপরে: মাথার উপরে নিল আকাশ।
• কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
• দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২,২০২.
কোন বাক্যে ‘শেষ’ ক্রিয়ারূপে ব্যবহৃত হয়েছে? 
  1. আমার সুখের শেষ নেই।
  2. আমি আপনার শেষ কথা শুনতে চাই।
  3. কাজটি শীঘ্র শেষ কর।
  4. সব ভাল যার শেষ ভাল।
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ‘শেষ’ শব্দটি কখনো বিশেষ্য (noun), কখনো বিশেষণ (adjective), আবার কখনো ক্রিয়া (verb) রূপে ব্যবহৃত হয়।

 ক) আমার সুখের শেষ নেই।
- এখানে ‘শেষ’ মানে অন্ত বা সীমা, অর্থাৎ এটি একটি বিশেষ্য (noun)।

 খ) আমি আপনার শেষ কথা শুনতে চাই।
-  এখানে ‘শেষ’ অর্থ চূড়ান্ত বা সর্বশেষ, অর্থাৎ এটি বিশেষণ (adjective)।
উদাহরণ: শেষ দিন, শেষ সময়, শেষ কথা ইত্যাদি।

 গ) কাজটি শীঘ্র শেষ কর।
- এখানে ‘শেষ কর’ একটি ক্রিয়াপদ, যার অর্থ সমাপ্ত করো বা শেষ করে ফেলো।
অর্থাৎ, ‘শেষ’ এখানে ক্রিয়ারূপে ব্যবহৃত হয়েছে।

 ঘ) সব ভাল যার শেষ ভাল।
- এখানে প্রথম ‘শেষ’ একটি বিশেষ্য (শেষাংশ), আর দ্বিতীয়টি বিশেষণ (শেষ ভাল = চূড়ান্ত ভাল)।
তাই এটি ক্রিয়া নয়।

 সুতরাং সঠিক উত্তর:
গ) কাজটি শীঘ্র শেষ কর।
‘শেষ’ এখানে ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ সমাপ্ত করা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।

২,২০৩.
বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে, তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তা হলো—
  1. উত্তম পুরুষ
  2. মধ্যম পুরুষ
  3. নাম পুরুষ
  4. কর্তা পুরুষ
ব্যাখ্যা

• পুরুষ তিন প্রকার। যেমন:
- উত্তম পুরুষ,
- মধ্যম পুরুষ,
- নাম পুরুষ।

• উত্তম পুরুষ:
ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে।
যেমন: আমি, আমরা ইত্যাদি।

• মধ্যম পুরুষ:
বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে।
যেমন: তুমি, তােমরা, আপনি ইত্যাদি।

• নাম পুরুষ:
বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে।
যেমন: সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,২০৪.
'দ্বারা, দিয়া, হইতে' শব্দগুলোকে বলা হয় -
  1. ক) অব্যয়
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় যে অব্যয় সূচক শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ  বলা হয়। দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কতৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি অনুসর্গগুলো বিভক্তি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

২,২০৫.
'নগর' শব্দের বিশেষণ পদ -
  1. নাগরীকত্ব
  2. নাগরক
  3. নগরসমেত
  4. নাগরী
ব্যাখ্যা
• 'নগর' শব্দের বিশেষণ পদ - নাগরক

'নাগরক' শব্দের অর্থ:
- নগরে বসবাসকারী,
- নগররক্ষক।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - নাগরী, নাগরীকত্ব।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২০৬.
নিচের কোনটি সাপেক্ষ সর্বনাম?
  1. যারা-তারা
  2. কেউ-কোথাও
  3. এই-এরা
  4. সে-তারা
ব্যাখ্যা

• সর্বনাম
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।
সর্বনামকে নিচের নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:
- বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
- শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
- অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।
শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে), মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ. ও)।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম: অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্যে প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী (কী দিয়ে ভাত খায়?) ইত্যাদি।
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।
৮. সকলবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম হয়। যেমন- সবাই, সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত, সব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২,২০৭.
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তাকে কী বলে?
  1. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. জটিল ক্রিয়া
  4. সংযোগ ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,২০৮.
বিশেষ্য পদ কোনটি?
  1. উদ্ধত
  2. অভ্যাস
  3. নাব্য
  4. ভেতো
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ - অভ্যাস

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদের উদাহরণ:
- ভেতো,
- নাব্য,
- উদ্ধত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২০৯.
'তুমি এতক্ষণ কী করেছ?'- এই বাক্যে 'কী' কোন পদ?
  1. কবিশেষণ
  2. অব্যয়
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• 'তুমি এতক্ষণ করেছ' এই বাক্যে 'কী' প্রশ্নবাচক সর্বনাম পদ

------------------
সর্বনাম পদ:
বাক্যে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।

• প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
যে সর্বনাম দ্বারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রশ্ন করা বুঝায় তাকে প্রশ্নবাচক সর্বনাম বলে।
এ জাতীয় সর্বনা হলো : কে, কী, কোন, কার, কাকে, কীসে ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক সর্বনাম: ঐ, ঐসব।
৫. সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
[প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন - কী দিয়ে ভাত খায়?]
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক সর্বনাম: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ]।
২,২১০.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়া?
  1. উঠে পড়া
  2. গরম করা
  3. গান করা
  4. উদয় হওয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- এগিয়ে চলা, মরে যাওয়া, কমে আসা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংযোগ ক্রিয়া - গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২১১.
‘পূণ্যে মতি হোক' বাক্যে ‘পূণ্য' কোন পদরূপে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) বিশেষ্যরূপে
  2. খ) বিশেষণরূপে
  3. গ) বিশেষণের বিশেষণরূপে
  4. ঘ) সর্বনামরূপে
ব্যাখ্যা
• বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোন ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে‌।
• যেমন- 'পুণ্যে মতি হোক' এখানে 'পুণ্য' শব্দটি বিশেষ্য পদরূপে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২১২.
'মা শিশুকে ভাত খাওয়াচ্ছেন' এখানে 'শিশু' কে -
  1. প্রযোজক কর্তা
  2. মুখ্য কর্ম
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. প্রযোজ্য কর্তা
ব্যাখ্যা
প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- 'মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন'।

• বাক্যটিতে 'খাওয়াচ্ছেন' প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া, 'মা' প্রযোজক কর্তা এবং 'শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০০১৯ সংস্করণ।
২,২১৩.
নিত্যবৃত্ত অতীত কালের উদাহরণ কোনটি?
  1. আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।
  2. শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
  3. বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
  4. সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
ব্যাখ্যা

নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।
- আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।

নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার।
১. কামনা প্রকাশে: আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতাে।
২. অসম্ভব কল্পনায়: ‘সাতাশ হতাে যদি একশ সাতাশ।
৩. সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালােই হতাে।

অন্যদিকে,
সাধারণ অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল সান্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,২১৪.
'আজ যদি মারিয়া আসতাে, কেমন মজা হতাে।' বাক্যে কোন কালের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল
  2. খ) নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  3. গ) বর্তমান অনুজ্ঞা
  4. ঘ) ঘটমান অতীত
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত অতীত কাল:
অতীতে প্রায়ই ঘটতাে এরূপ অর্থে ক্রিয়ার যে, কাল হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে ইতাম, ইত, ইতেন, ইতে যুক্ত হয়।
যেমন- প্রতিদিন সকালে সে গান গাইত।

নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
১. কামনা প্রকাশে: আজ যদি মারিয়া আসতাে, কেমন মজা হতাে।
২. সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি আসতে, তবে ভালােই হতাে।
৩. অসম্ভব কল্পনায়: এই বাড়ি হতাে যদি রাজার বাড়ি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২১৫.
"ঋণের বোঝা ভারী হয়ে উঠছে।" - এখানে 'উঠ্‌' ধাতু কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অভ্যাস অর্থে
  2. ক্রমান্বয়তা বোঝাতে
  3. আকস্মিকতা অর্থে
  4. সম্ভাবনা অর্থে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ক্রমান্বয়তা বোঝাতে।

• ‘উঠ্‌’ ধাতুর অর্থ:
‘উঠ্‌’ ধাতুটি এখানে ‘হয়ে উঠছে’ রূপে একটি ক্রমান্বয়ী বা ধীরে ধীরে ঘটমান প্রক্রিয়া বোঝাচ্ছে। এটি কোনো অবস্থার দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়া বা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ প্রকাশ করে। এই ক্ষেত্রে, ঋণের বোঝা ক্রমশ ভারী হচ্ছে, যা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

"উঠ্‌" ধাতুর বিভিন্ন ব্যবহার:
• অভ্যাস অর্থে - শুধু শুধু তিনি রেগে উঠেন।
• আকস্মিকতা অর্থে - সে হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠল।
• সম্ভাবনা অর্থে - আমার আর থাকা হয়ে উঠল না।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২,২১৬.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. এগিয়ে চলা
  2. উদয় হওয়া
  3. ডিগবাজি খাওয়া
  4. বৃ্দ্ধি পাওয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
 যেমন:
- মরে যাওয়া, 
- কমে আসা,
- এগিয়ে চলা, 
- হেসে ওঠা,
- উঠে পড়া, 
- পেয়ে বসা,
- সরে দাঁড়ানো,
- বেঁধে দেওয়া, 
- বুঝে নেওয়া,
- বলে ফেলা, 
- করে তোলা, 
- চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
২,২১৭.
"ছিঃ! এমন কাজ কেউ করে!"- বাক্যে কোন ধরনের অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পদান্বয়ী অব্যয়
  2. অনুসর্গ অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
-অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনোভাব প্রকাশে সহায়তা করে।
যেমন: মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।

বাক্যে ব্যবহার:
'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!'-  এখানে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয়।

এরূপ- "ছিঃ! এমন কাজ কেউ করে!" এখানে 'ছিঃ' অনন্বয়ী অব্যয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ)।

২,২১৮.
'গীতাঞ্জলি' কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. জাতি-বিশেষ্য
  2. গুণ-বিশেষ্য 
  3. নাম-বিশেষ্য 
  4. বস্তু-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
ব্যক্তিনাম:
- হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম:
- ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা
কালনাম:
- সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান
সৃষ্টিনাম:
- গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

অন্যদিকে:
বস্তু-বিশেষ্য:

- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
 যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
 যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
 যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,২১৯.
পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, সেসব শব্দাংশকে বলে-
  1. ক) উপসর্গ
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) লগ্নক
  4. ঘ) ধাতু
ব্যাখ্যা
পদ: শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।

পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। 

লগ্নক চার ধরনের:
বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ। 

নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। ‘লোকটি’ বা ‘ভালোটুকু' পদের ‘টি' বা ‘টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ ।

বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। ‘ছেলেরা’
বা ‘বইগুলো” পদের ‘রাত বা ‘গুলো হলো বচনের উদাহরণ।

বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। ‘তখনই
বা ‘এখনও’ পদের ‘ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
২,২২০.
"লোকটি দরিদ্র্য কিন্তু সৎ।" - এ বাক্যে ‘কিন্তু’ হলো -
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. সংকোচক অব্যয়
  3. বিয়োজক অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা
সমুচ্চয়ী অব্যয় : যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথা- 

সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়।
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।
- "লোকটি দরিদ্র্য কিন্তু সৎ।" - এ বাক্যে ‘কিন্তু’ হলো - সংকোচক অব্যয়।

অন্যদিকে,
বিয়োজক অব্যয়: 
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন। এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২২১.
কোনটি বস্তু-বিশেষ্য?
  1. ইট
  2. সরলতা
  3. ফুল
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা

বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জাতি-বিশেষ্য - মানুষ, ফুল।
গুণ-বিশেষ্য - সরলতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২,২২২.
অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি- এখানে 'অসুস্থ ছেলেটি' কোন ধরণের বর্গের অন্তর্গত?
  1. ক) বিশেষ্যবর্গ
  2. খ) বিশেষণবর্গ
  3. গ) ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়া বর্গ
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ নিয়ে গঠিত বাক্যাংশ কে বর্গ বলে। 
নিচে বিভিন্ন ধরনের বর্গের পরিচয় দেয়া হল- 
বিশেষ্যবর্গ: বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধ পদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্যবর্গ তৈরি হয়। 
যেমন - অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি। 
             আমার ভাই পড়তে বসেছে।  
            রহিম ও করিম বৃষ্টিতে ভিজছে। 

বিশেষণবর্গ: বিশেষণ জাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা হয় বিশেষণবর্গ।
যেমন- আমটা দেখতে ভারী সুন্দর। 
           ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।

ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ: যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ বলে। 
যেমন - সকাল আটটার সময় সে রওনা হলো।
            তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে  গিয়ে দাড়ালাম। 

ক্রিয়া বর্গ: বাক্যের ইধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় সময় ক্রিয়া বর্গহিসেবেকাজকরে।
যেমন - সে লিখছে আর হাসছে। 
            সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২,২২৩.
"দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে।" - বাক্যে 'সনে' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. তুলনায়
  2. সহগামিতা
  3. সমসূত্রে
  4. বিরুদ্ধগামিতা
ব্যাখ্যা
অনুসর্গের প্রয়োগ:

যেমন:
সহ: সহগামিতা অর্থে – তিনি পুত্রসহ উপস্থিত হলেন।
সহিত: সমসূত্রে অর্থে – শত্রুর সহিত সন্ধি চাই না।
সনে: বিরুদ্ধগামিতা অর্থে – 'দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে।'
সঙ্গে: তুলনায় – মায়ের সঙ্গে এ মেয়ের তুলনা হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২২৪.
পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ কোনটি?
  1. আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
  2. তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
  3. তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।
  4. সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আমরা মসজিদে পৌঁছেছিলাম।
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আমরা মসজিদে পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

অন্যদিকে,
• ঘটমান অতীত - আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
• সাধারন অতীত - তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
• নিত্য অতীত - তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২২৫.
বিশেষণ কার দোষ, গুণ, সংখ্যা, পরিমাণ ও অবস্থা ইত্যাদি নির্দেশ করে?
  1. বিশেষণ ও আবেগ
  2. বিশেষ্য ও বিশেষণ
  3. বিশেষ্য ও অনুসর্গ
  4. বিশেষ্য ও সর্বনাম
ব্যাখ্যা

বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
- যেমন: সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা।   

বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ:
১. বর্ণবাচক:
- রং নির্দেশ করা হয়। যেমন: কালো, নীল, সবুজ, লাল।
২. গুণবাচক:
- গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়। যেমন: চালাক, ঠান্ডা। 
৩. অবস্থাবাচক:
- অবস্থা বোঝায়। যেমন: তাজা, রোগা,  চলন্ত, তরল, কঠিন।   
৪. ক্রমবাচক:
- ক্রমসংখ্যা বোঝায়। যেমন:  এক, আট।
৫. পূরণবাচক:
- পূরণসংখ্যা বোঝায়। যেমন: তৃতীয়, ৩৪তম। 
৬. পরিমাণবাচক:
- পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়। যেমন: আধা, অনেক।
৭. উপাদানবাচক:
- উপাদান নির্দেশ করে। যেমন: বেলে, পাথুরে। 
৮. প্রশ্নবাচক:
-প্রশ্নঝচকতা নির্দেশিত হয়। যেমন: কেমন, কতক্ষণ।
৯. নির্দিষ্টবাচক:
- বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়। যেমন: এই, সেই। 
১০. ভাববাচক:
-বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে। যেমন: খুব, বেশ।
১১. বিধেয় বিশেষণ:
- বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেসব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে। যেমন: যেমন: পাগল, ঘোলা।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,২২৬.
'দক্ষ কারিগর' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন বিশেষণের উদাহরণ?
  1. উপাদানবাচক
  2. রূপবাচক
  3. গুণবাচক
  4. অংশবাচক
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন: সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

• গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে।
- গরম পানি।
- চৌকস লোক।
- 'দক্ষ কারিগর'।
[ এখানে 'চালাক', 'গরম', চৌকস এবং দক্ষ - হলো গুণবাচক বিশেষণ।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২২৭.
'হিমালয়' কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. গুণ-বিশেষ্য
  2. বস্তু-বিশেষ্য
  3. জাতি-বিশেষ্য
  4. নাম-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
ব্যক্তিনাম:
- হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম:
- ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম:
- সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম:
- গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

অন্যদিকে:
বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
 যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।
 
জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
 যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।
 
গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
 যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,২২৮.
'তরল পদার্থ' - এখানে 'তরল' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
  2. গুণবাচক বিশেষণ
  3. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  4. ভাববাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
অবস্থাবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে: 
ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খরব।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
- এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।
 
গুণবাচক বিশেষণ: 
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।
 
নির্দিষ্টতাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
 যেমন:
- এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,২২৯.
কোনটি অনন্বয়ী অব্যয়?
  1. অধিকন্তু
  2. আলবত
  3. এবং 
  4. কিংবা
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
নিশ্চয়ই পারব।
- আমি আজ আলবত যাব।

অন্যদিকে,
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
যেমন: উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।

সমুচ্চয়ী অব্যয়ের উদাহরণ - কিংবা, অধিকন্তু, এবং, তাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
২,২৩০.
সমাপিকা ও অসমাপিক ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠন করে তাকে কী বলে?
  1. ক) সংযোগ ক্রিয়া
  2. খ) সরল ক্রিয়া
  3. গ) যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) নাম ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
- যেমন - 
- মরে যাওয়া, 
- কমে আসা, 
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা, 
- উঠে পড়া, 
- পেয়ে বসা,
- সরে দাঁড়ানো, 
- বেঁধে দেওয়া,
- বুঝে নেওয়া,
- বলে ফেলা,
- করে তোলা,
- চেপে রাখা
-মরে যাওয়া

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১]

২,২৩১.
'খুব যে বলেছিলেন আসবেন!' - বাক্যটিতে 'যে' কোন জাতীয় ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  4. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'খুব যে বলেছিলেন আসবেন!' - বাক্যটিতে 'যে' পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ

ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে’, ‘বা’, ‘না’, ‘তো’ প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন -
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
- বা: কখনো বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
- তো: মরি তো মরব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২৩২.
'অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।' বাক্যে কী অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার ঘটেছে?
  1. অনুরোধ অর্থে
  2. আদেশ অর্থে
  3. প্রার্থনা অর্থে
  4. উপদেশ অর্থে
ব্যাখ্যা

• আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

• বিভিন্ন অর্থে বর্তমান কালের অনুজ্ঞার প্রয়োগ:

• আদেশ অর্থে:
- কাজটি করে ফেল।
- তোমরা এখন যাও।

• উপদেশ অর্থে:
- সত্য গোপন করো না।
- কড়া রোদে ঘোরাফেরা করিস না।
- 'পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা।

• অনুরোধ অর্থে: 
- আমার কাজটা এখন কর।
- অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।

• প্রার্থনা অর্থে :  আমার দরখাস্তটা পড়ুন।
• অভিশাপ অর্থে: মর, পাপিষ্ঠ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২,২৩৩.
'তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।' - বাক্যটিতে কোন ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. নাম ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।

অন্যদিকে,
সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- গরম করা, গান করা, মার খাওয়া, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

সরল বাক্য:
একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন,
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,২৩৪.
তুলনা বোঝাতে নিচের যে বাক্যে 'না' ব্যবহৃত হয়েছে-
  1. ক) হয় তুমি যাবে, না হয় আমি।
  2. খ) তার না আছে লোভ, না আছে হিংসা।
  3. গ) আমি না গেলে তুমি যেও।
  4. ঘ) ছেলে তো না, একটা বিচ্ছু ।
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অর্থে 'না' অব্যয়ের ব্যবহার-

নিষেধ অর্থে - এখন যেও না।
বিকল্প প্রকাশে - তিনি যাবেন, না হয় আমি যাব। 
আদর প্রকাশে বা অনুরােধে  আর একটি মিষ্টি খাও না খােকা। আর একটা গান গাও না।
সম্ভাবনায় - তিনি না কি ঢাকায় যাবেন।
বিস্ময়ে - কী করেই না দিন কাটাচ্ছ। 
তুলনায় - ছেলে তাে না, যেন একটা হিটলার। (অনুরূপভাবে, ছেলে তো না, একটা বিচ্ছু।)

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৮ সংস্করণ)।
২,২৩৫.
অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে কোন কাল বলে?
  1. ঘটমান অতীত
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।

যেমন:
আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
কামনা প্রকাশে আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতো।
অসম্ভব কল্পনায়: 'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'।
সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৩৬.
পদে পরিণত হবার সময়ে শব্দের সঙ্গে যেসকল শব্দাংশ যুক্ত হয় তাদের কী বলে?
  1. ক) উপসর্গ
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) লগ্নক
  4. ঘ) যুক্তবর্ণ
ব্যাখ্যা

- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে তখন তাঁর নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হবার সময়ে শব্দের সঙ্গে যেসকল শব্দাংশ যুক্ত হয় তাদের লগ্নক বলে।
- লগ্নক ৪ প্রকার। যথা-
বিভক্তি
নির্দেশক
বচন
বলক
-বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে তাদের সংলগ্নক পদ এবং যেসব পদে লগ্নক থাকে না তাদের অলগ্নক পদ বলে ।
যেমন, 'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে' এ বাক্যে 'ছেলেরা' ও 'খেলে' সংলগ্নক এবং 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

২,২৩৭.
নিচের কোনটি সর্বনাম পদ?
  1. কি
  2. কী
  3. কেনা
  4. কারণ
ব্যাখ্যা
- বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথাঃ
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনামঃ আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।
২. আত্মবাচক সর্বনামঃ স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।
৩. নির্দেশক সর্বনামঃ
নিকট নির্দেশক - এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক - ও, ওই, ওরা, উনি।
৪. অনির্দষ্ট সর্বনামঃ কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনামঃ কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।
৬. সাপেক্ষ সর্বনামঃ যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।
৭. পারস্পারিক সর্বনামঃ পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।
৮. সকল/সাকুল্যবাচক সর্বনামঃ সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।
৯. অন্যবাচক সর্বনামঃ অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। 
২,২৩৮.
তুমি তো দেখি প্রায় পাগলের মত দৌড়াচ্ছো। এই বাক্যে ‘প্রায়’ কী?
  1. ক) নাম বিশেষণ
  2. খ) অব্যয় বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) বিশেষণের অতিশায়ন
ব্যাখ্যা
তুমি তো দেখি প্রায় পাগলের মত দৌড়াচ্ছো। এই বাক্যে ‘মতো’ পদান্বয়ী অব্যয়। ‘প্রায়’ অব্যয় বিশেষণ। কারণ ‘প্রায়’ দিয়ে কতটুকু মত তা বুঝানো হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২,২৩৯.
নিচের কোন শব্দ বিশেষ্য'র উদাহরণ?
  1. ক) পতিত
  2. খ) জান্তব
  3. গ) আগ্নেয়
  4. ঘ) উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'উন্নয়ন' শব্দটি বিশেষ্যের উদাহরণ।

• উন্নয়ন (বিশেষ্য):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে উন্‌নয়োন।
- এর অর্থ হচ্ছে উন্নতিসাধন, বিকাশ, উত্তোলন।

অন্যদিকে,
• জান্তব (বিশেষণ):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে জান্‌তব্‌।
- এর অর্থ হচ্ছে জন্তুজাত, জন্তুসম্পর্কিত, পশুবৎ।

• পতিত (বিশেষণ):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে পোতিতো।
- এর অর্থ হচ্ছে অনাবাদি, দুর্দশাপ্রাপ্ত, চ্যুত, ভ্রষ্ট ইত্যাদি।

• আগ্নেয় (বিশেষণ):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে আগ্‌নেয়ো।
- এর অর্থ হচ্ছে অগ্নি-সম্বন্ধীয়, অগ্নিগর্ভ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,২৪০.
নিচের কোনটি ক্রিয়া-বিশেষ্য?
  1. জনতা
  2. সরলতা
  3. দয়া
  4. করা
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
- যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
- যেমন: নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।  

♠ বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার: 
১. নাম-বিশেষ্য:
• হাবিব, সজল, বাংলাদেশ, পদ্মা, বৈশাখ ইত্যাদি।
২. জাতি-বিশেষ্য:
• মানুষ, গরু, ফুল, নদী ইত্যাদি।
৩. বস্তু-বিশেষ্য:
• ইট, লবণ, আকাশ ইত্যাদি।
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য:
• জনতা, পরিবার, বাহিনী ইত্যাদি।
৫. গুণ-বিশেষ্য:
• সরলতা, দয়া, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য:
• ক্রিয়া বা কাজের নাম বুঝায়।
• পঠন, ভোজন,শয়ন, করা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।  
২,২৪১.
ভাব প্রকাশের সম্পূর্ণতা অনুসারে ক্রিয়াকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
ভাব প্রকাশের সম্পূর্ণতা অনুসারে ক্রিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
১. সমাপিকা ক্রিয়া 
২. অসমাপিকা ক্রিয়া

উৎস : নবম—দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা—শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
২,২৪২.
‘হাঁড়ি হাঁড়ি সন্দেশ‘ এখানে কোন কোন পদযোগে বহুবচন হয়েছে?
  1. ক) বিশেষ্য ও বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণ ও ক্রিয়া
  3. গ) বিশেষ্য ও বিশেষ্য
  4. ঘ) বিশেষণ ও বিশেষণ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) বিশেষ্য ও বিশেষ্য।
‘হাঁড়ি হাঁড়ি সন্দেশ’—এখানে ‘হাঁড়ি হাঁড়ি’ দ্বারা পরিমাণ বোঝানো হয়েছে এবং এটি পুনরুক্ত বিশেষ্য পদ; অর্থাৎ বিশেষ্য শব্দের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে বহুবচন বা অধিকতার ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে ‘হাঁড়ি’ (বিশেষ্য) + ‘হাঁড়ি’ (বিশেষ্য) — পদযোগে বহুবচন বোঝানো হয়েছে।
-------------
• বিশেষ্যপদকে পর পর দুইবার বসিয়ে বহুবচন প্রকাশ করা হয়।
যেমন-
- অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার,
- ডালে ডালে আম ঝুলছে,
- বনে বনে পাখি গান গাইছে,
- দলে দলে লােক মাঠে জমায়েত হচ্ছে।
- অনুরূপভাবে, 'হাঁড়ি হাঁড়ি সন্দেশ' ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৪৩.
শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে-
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অনুসর্গ
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৪৪.
সাধারণ অনুসর্গের উদাহরণ কোনটি?
  1. সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
  2. হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
  3. মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
  4. ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
ব্যাখ্যা

• অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: সাধারণ অনুসর্গ ও ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
- বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
- ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২,২৪৫.
কোনটি জাতি-বিশেষ্য?
  1. বাংলাদেশ
  2. ফল
  3. হাবিব
  4. সরলতা
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।

যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য: - বাংলাদেশ, হাবিব।
গুণ-বিশেষ্য: - সরলতা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২,২৪৬.
কোন বাক্যে ক্রিয়া-বিশেষণ রয়েছে? 
  1. ইশান হেলেধুলে হাঁটে। 
  2. মাহাদিকে সামান্য একটু দুধ দাও।
  3. বাস খুব দ্রুত চলে। 
  4. রকেট অতি দ্রুত চলে। 
ব্যাখ্যা

ইশান হেলেধুলে হাঁটে- বাক্যটি ক্রিয়া বিশেষণ।
------------------------------------
• ক্রিয়া বিশেষণ:
- যে শব্দ ক্রিয়ার কাজের ধরণ, সময়, স্থান, পরিমাণ, কারণ বা অবস্থা সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দেয়, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
- সাধারণত ক্রিয়াকে কীভাবে দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তরে ক্রিয়াবিশেষণটি পাওয়া যায়।
- ইশান হেলেধুলে হাঁটে- বাক্যটিতে হাঁটা হচ্ছে ক্রিয়া আর হেলেধুলে হচ্ছে বিশেষণ।
- যদি প্রশ্ন করা হয় কিভাবে হাঁটে তাহলে উত্তর হবে হেলেধুলে হাঁটে।
- তাই ‘ইশান হেলেধুলে হাঁটে’- এই বাক্যটি ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ। 

ক্রিয়া বিশেষণের কিছু উদাহরণ-
- গাড়িটি জোরে ছুটছে।
- তুমি একটু আস্তে হাঁটো।
- ছেলেটি কেঁদে কেঁদে অনুরোধ করল।
- লোকটি নাচতে নাচতে এল।
-------------------------------
অন্যদিকে,
• সামান্য একটু দুধ দাও- নাম-বিশেষনের বিশেষণ। 

• বাস খুব দ্রুত চলে ও রকেট অতি দ্রুত চলে- বাক্য দুইটি ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নির্দেশ করে।  
- এখানে "খুব" এবং “ অতি” হলো ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ, কারণ এটি "দ্রুত" ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

২,২৪৭.
ধাতুর সঙ্গে কী যুক্ত করে ক্রিয়া হয়?
  1. প্রত্যয়
  2. বিভক্তি
  3. উপসর্গ
  4. অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- রাজীব খেলছে।
- বৃষ্টি হতে পারে।
 
• ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন -
পড়্‌ + ই = পড়ি,
পড়্‌ + এ = পড়ে,
পড়্‌ + ছে = পড়ছে,
পড়্‌ + বে = পড়বে 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)। 
২,২৪৮.
'সর্বজন' এর বিশেষণ-
  1. সর্বজনীন
  2. সর্বগ্রাহ্য
  3. সার্বিক
  4. সার্বজনীন
ব্যাখ্যা
• 'সর্বজন' শব্দের বিশেষণ — 'সার্বজনীন'।

• 'সর্বজন' - শব্দের অর্থ:
- সকল নরনারী।

অন্যদিকে, 
সর্বজনীন (বিশেষ্য) - সর্বসাধারণের জন্য অনুষ্ঠিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২৪৯.
'আজ যদি আশরাফ আসত, তবে ভালোই হতো।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. ঘটমান বর্তমান
  2. পুরাঘটিত অতীত 
  3. সাধারণ ভবিষ্যৎ 
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা

'আজ যদি আশরাফ আসত, তবে ভালোই হতো।'নিত্যবৃত্ত অতীত কালের উদাহরণ।

• নিত্যবৃত্ত অতীত:

অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে। 
যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
(১) কামনা প্রকাশে: আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতো।
(২) অসম্ভব কল্পনায়: 'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'।
(৩) সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,২৫০.
চাউল, চিনি,পানি এগুলাে কী বাচক বিশেষ্য?
  1. ক) জাতিবাচক
  2. খ) বস্তুবাচক
  3. গ) সমষ্টিবাচক
  4. ঘ) ব্যক্তিবাচক
ব্যাখ্যা
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায় তাকে বস্তুবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন - বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, লবণ, পানি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
২,২৫১.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. পীড়িত
  2. উজ্জ্বলতা
  3. কুৎসিত
  4. উজ্জ্বল
ব্যাখ্যা
• 'উজ্জ্বলতা'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- প্রভা, দীপ্তি, নির্মলতা।

অন্যদিকে,
- উজ্জ্বল, কুৎসিত এবং পীড়িত - শব্দগুলো বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,২৫২.
‘ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন’ -বাক্যে ‘ভালো’ কোন রূপে ব্যবহার করা হয়েছে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা

- ‘আপন ভালো সবাই চায়।’ বাক্যে ‘ভালো’ বিশেষ্য রূপে ব্যবহার করা হয়েছে।
- ‘ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন’। বাক্যে ভালো বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী

২,২৫৩.
কোনটি একপদী ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ?
  1. ভয়ে ভয়ে
  2.  মরতে মরতে
  3. ভালোভাবে
  4. যায় যায়
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াবিশেষণ:
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:

যেমন:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,২৫৪.
নিচের কোনটি নাম পুরুষের উদাহারণ?
  1. আমি
  2. আপনি
  3. তিনি
  4.  তুই
ব্যাখ্যা

• প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ:
যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ বলে।
আমি ও তুমি এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ।
যেমন: সে, তাকে, তাঁর, তিনি ইত্যাদি।

• উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।
যেমন: আমি।

• মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।
যেমন: তুমি, আপনি, তুই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি, প্রমিত বাংলা, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।

২,২৫৫.
বলকযুক্ত শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. কথাটি 
  2. বাড়িতে 
  3. চলন্ত
  4. আজই
ব্যাখ্যা

• বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে।
- তখনই বা ‘এখনও পদের ই বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

- অনুরূপভাবে,
'যদিও', আজই - শব্দে ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।

২,২৫৬.
আমি দেখেছি, বাচ্চাটি রোজ রাতে কাঁদে। - বাক্যটি কোন বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. অনুজ্ঞা বর্তমান
  2. সাধারণ বর্তমান
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
সাধারণ বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন -
- সে ভাত খায়।
- আমি বাড়ি যাই।

• সাধারণ বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
(১) অনুমতি প্রার্থনায় (ভবিষ্যৎ কালের অর্থে): এখন তবে আসি।
(২) প্রাচীন লেখকের উদ্ধৃতি দিতে (অতীত কালের অর্থে): চণ্ডীদাস বলেন, 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'
(৩) বর্ণিত বিষয় প্রত্যক্ষীভূত করতে (অতীতের স্থলে): আমি দেখেছি, বাচ্চাটি রোজ রাতে কাঁদে।
( ৪) 'নেই', 'নাই' বা 'নি' শব্দযোগে অতীত কালের ক্রিয়ায়: তিনি গতকাল হাটে যাননি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৫৭.
কোনটি ঘটমান ভবিষ্যৎ?
  1. আমি হব সকালবেলার পাখি।
  2. সুমন হয়তো তখন দেখতে থাকবে। 
  3. তুমি হয়তো সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' পড়ে থাকবে।
  4. সম্ভবত আগামীকাল পরীক্ষার ফল বের হয়ে থাকবে।
ব্যাখ্যা

ঘটমান ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়ার কাজ ভবিষ্যতে শুরু হয়ে চলতে থাকবে, তার কালকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে। 

যেমন: 
- সুমন হয়তো তখন দেখতে থাকবে। 
- মনীষা দৌড়াতে থাকবে। 
- আমিনা কথা বলতে থাকবে।

অন্যদিকে,
পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ - সম্ভবত আগামীকাল পরীক্ষার ফল বের হয়ে থাকবে।
সাধারণ ভবিষ্যৎ - আমি হব সকালবেলার পাখি। তুমি হয়তো সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' পড়ে থাকবে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২,২৫৮.
"সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।" বাক্যের ক্রিয়া কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  2. ঘটমান অতীত কাল
  3. সাধারণ অতীত কাল
  4. পুরাঘটিত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন-
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

(ক) অতীতে সংঘটিত ঘটনার নিশ্চিত বর্ণনায়:
যেমন:
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ সৈন্য মারা গিয়েছিল।
- আমি সমিতিতে সেদিন পাঁচ টাকা নগদ দিয়েছিলাম।

(খ) অতীতে সংঘটিত ক্রিয়ার পরম্পরা বোঝাতে শেষ ক্রিয়াপদে পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ হয়।
যেমন-
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার পূর্বেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,২৫৯.
'নিশ্চয়ই পারব।' বাক্যে 'নিশ্চয়ই' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা
• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
• উচ্ছ্বাস প্রকাশে:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

• স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে:
- হ্যাঁ, আমি যাব।
- না, আমি যাব না।

• সম্মতি প্রকাশে:
- আমি আজ আলবত যাব।
- নিশ্চয়ই পারব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,২৬০.
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে কোন ক্রিয়া গঠন করে?
  1. সংযোগ ক্রিয়া
  2. নাম ক্রিয়া
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,২৬১.
‘পাঠানো’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ‘পাঠানো’ ক্রিয়া-বিশেষ্যের উদাহরণ।

-----------------------
• বিশেষ্য পদ:

যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২৬২.
কোন বাক্যে অনন্বয়ী অব্যয়ের ব্যবহার হয়েছে?
  1. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।
  2.  ভালো করে খেয়ে নাও।
  3. ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।
  4. মাথার উপরে নিল আকাশ।
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীন ভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
- উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
- সম্মতি অর্থে: আজ আমি আলবত যাবো।
- সম্বোধন অর্থে: 'ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে'।

অন্যদিকে,
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
যেমন: উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।

সমুচ্চয়ী অব্যয়ের উদাহরণ - কিংবা, অধিকন্তু, এবং, তাই।

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
• করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
• ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
• দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
• বলে: তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।

সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
• উপরে: মাথার উপরে নিল আকাশ।
• কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
• দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

২,২৬৩.
কোনটি অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক) জন্য, মধ্যে
  2. খ) আপন, তুমি
  3. গ) বলে, কয়ে
  4. ঘ) জোরে, আস্তে
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ: যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে ।
যেমন,
সে কাজ ছাড়া কিছু বোঝে না। - এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
কোন পর্যন্ত পড়েছ?- এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।


কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘কে’ ‘র’, - ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন -
তােমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব।
সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৬৪.
বিশেষণ পদের উদাহরণ কোনটি?
  1. রাজ্য
  2. রক্তাক্ত
  3. প্রীতি
  4. অভিযান
ব্যাখ্যা
বিশেষণ:
- যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।

রক্তাক্ত (বিশেষণ): রক্তে মাখা; রক্তরঞ্জিত।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- অভিযান, মানুষ, রাজ্য, দেশ, মঙ্গলগ্রহ, রক্ত, আসক্তি ও প্রীতি শব্দগুলো বিশেষ্য পদ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলা একাডেমি অভিধান।
২,২৬৫.
'আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।'- প্রদত্ত বাক্যে 'ভারী সুন্দর' কোন ধরনের বর্গ?
  1. ক্রিয়াবর্গ
  2. বিশেষণ বর্গ
  3. ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
  4. বিশেষ্য বর্গ
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ বর্গ:
বিশেষণ জাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন:
- আমটা দেখতে ভারী সুন্দর

অন্যদিকে, 
-----------------
• বিশেষ্য বর্গ:
বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন:
- অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।

• ক্রিয়া বিশেষণ-বর্গ:
যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন:
- সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।

• ক্রিয়াবর্গ:
বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন:
- সে লিখছে আর হাসছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, বাংলাদেশ উমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,২৬৬.
'ইস্, ঠাণ্ডা যেন বরফ।' -এই বাক্যে 'যেন' অব্যয়টি কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপমা অর্থে
  2. তুলনা অর্থে
  3. অনুমান অর্থে
  4. সতর্কীকরণ অর্থে
ব্যাখ্যা

'যেন' অব্যয় শব্দের বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার:
- উপমা অর্থে- মুখ যেন পদ্মফুল।
- প্রার্থনা অর্থে- খোদা যেন তোমার মঙ্গল করেন।
- তুলনা অর্থে- ইস্, ঠাণ্ডা যেন বরফ।
- অনুমান অর্থে- লোকটা যেন আমার পরিচিত মনে হলো।
- সতর্কীকরণ অর্থে- সাবধানে চল, যেন পা পিছলে না পড়।
- ব্যঙ্গ প্রকাশ অর্থে- ছেলে তো নয় যেন ননীর পুতুল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২,২৬৭.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. মন দেওয়া
  2. হেসে ওঠা
  3. উদয় হওয়া
  4. রাজি হওয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংযোগ ক্রিয়া - মন দেওয়া, উদয় হওয়া, রাজি হওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ ও ২০১৯)।
২,২৬৮.
কোনটি অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ?
  1. আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
  2. দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।
  3. এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
  4. ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

অন্যদিকে,
ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল:
- যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

অন্যদিকে,
সাধারণ ভবিষ্যৎ:
- ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন-
- আমরা রংপুরে যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,২৬৯.
শন শন করে বাতাস বইছে— বাক্যে 'শন শন' কী ধরনের অব্যয়?
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) অনন্বয়ী
  3. গ) অনুকার
  4. ঘ) সমুচ্চয়ী
ব্যাখ্যা
যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।
ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের উদাহরণঃ বাতাসের গতি - শন শন, বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়, স্রোতের ধ্বনি - কলকল, শুষ্ক পাতার শব্দ - মর মর।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২,২৭০.
‘আমি দেখেছি, বাচ্চাটি রোজ রাতে কাঁদে।’ — এখানে ‘কাঁদে’ ক্রিয়াটি কোন কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. সাধারণ অতীত
  4. ঘটমান বর্তমান
ব্যাখ্যা

সাধারণ বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সে ভাত খায়।
- আমি বাড়ি যাই।

• সাধারণ বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
(১) অনুমতি প্রার্থনায় (ভবিষ্যৎ কালের অর্থে): এখন তবে আসি।
(২) প্রাচীন লেখকের উদ্ধৃতি দিতে (অতীত কালের অর্থে): চণ্ডীদাস বলেন, 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'
(৩) বর্ণিত বিষয় প্রত্যক্ষীভূত করতে (অতীতের স্থলে): আমি দেখেছি, বাচ্চাটি রোজ রাতে কাঁদে।
( ৪) 'নেই', 'নাই' বা 'নি' শব্দযোগে অতীত কালের ক্রিয়ায়: তিনি গতকাল হাটে যাননি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,২৭১.
'অনুসর্গ' সাধারণত কোথায় বসে?
  1. শব্দের পূর্বে
  2. শব্দের পরে
  3. শব্দের মধ্যে
  4. বাক্যের শেষে
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- বিনা, তরে, দ্বারা, দিয়ে, পানে, নামে, মত, কাছে, ধরে, নিয়োগ ইত্যাদি।

অনুসর্গকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১) সাধারণ অনুসর্গ ও
২) ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,২৭২.
যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) তাড়াতাড়ি বলে ফেল।
  2. খ) বার বার উঁকি মারছে।
  3. গ) মা শিশুকে গোসল করাচ্ছেন।
  4. ঘ) আকাশে চাঁদ উঠেছে।
ব্যাখ্যা
'তাড়াতাড়ি বলে ফেল'- বাক্যে 'বলে ফেলা' যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার:
- সরল ক্রিয়া,
- প্রযোজক ক্রিয়া,
- নাম ক্রিয়া,
- সংযোগ ক্রিয়া,
- যৌগিক ক্রিয়া।

যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২৭৩.
কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ নয়?
  1. জনতা
  2. ঝাঁক
  3. মানুষ
  4. বহর
ব্যাখ্যা

- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
- নদী শব্দটি দ্বারা সকল নদী (পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র) কে বোঝায়, সুতরাং এখানে নদী শব্দটি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৭৪.
'নহিলে' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়াপদ
  3. অব্যয়
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• অব্যয় পদ:
যে পদের কোন ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে।

অর্থাৎ, যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থাকে, যার সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় না এবং পুরুষ বা বচন বা লিঙ্গ ভেদে যে পদের রূপের বা চেহারারও কোন পরিবর্তন হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে।

• অব্যয় পদ বাক্যে কোন পরিবর্তন ছাড়াই ব্যবহৃত হয় এবং বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে কখনো বাক্যকে আরো শ্রচতিমধুর করে, কখনো একাধিক পদ বা বাক্যাংশ বা বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে।
------------------
• 'নহিলে' শব্দটি - অব্যয় পদ।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম - দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

২,২৭৫.
কোন বাক্যে সমুচ্চয়ী অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ধন অপেক্ষা মান বড়
  2. তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না
  3. ঢং ঢং ঘণ্টা বাজে
  4. লেখাপড়া কর, নতুবা ফেল করবে
ব্যাখ্যা
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একাধিক পদের বা বাক্যাংশের বা বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে। এই সম্পর্ক সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন যে কোনটিই হতে পারে। একে সম্বন্ধবাচক অব্যয়ও বলে।
যেমন:
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- লেখাপড়া কর, নতুবা ফেল করবে।
[এখানে ''কিংবা' ও ‘নতুবা’ সমুচ্চয়ী অব্যয়।]

এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২,২৭৬.
'উৎকর্ষ' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. অব্যয়
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

 • বিশেষ্য: কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার। যথা:
১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, বহর, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – মধুরতা, সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, দর্শন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,২৭৭.
অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম কোনটি?
  1. ক) এই
  2. খ) যে
  3. গ) আপনি
  4. ঘ) কিছু
ব্যাখ্যা
কিছু অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম হলো- কোন, কেহ, কেউ, কিছু ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২,২৭৮.
কী ভেদে ক্রিয়ার রূপের কোন পার্থক্য হয় না?
  1. পুরুষভেদে
  2. অর্থভেদে
  3. বর্ণনাভেদে
  4. বচনভেদে
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াপদ:
ক্রিয়ামূল অর্থাৎ ধাতুর সঙ্গে কাল সময় ও পুরুষজ্ঞাপক (ক্রিয়া) বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।

• বচনভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় না।
যেমন:
- আমি (বা আমরা) যাই।
- তুমি (বা তোমরা) যাও।
- সে (বা তারা) যায়।

এখানে, 
• পুরুষভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য দেখা যায়।
যেমন:
- আমি যাই।
- তুমি যাও।
- আপনি যান।
- সে যায়। তিনি যান। (সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে নাম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষের রূপ অভিন্ন।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৭৯.
নিচের কোনটি সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. কমে আসা
  2. এগিয়ে চলা
  3. পেয়ে বসা
  4. বৃদ্ধি পাওয়া
ব্যাখ্যা
• সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ = বৃদ্ধি পাওয়া।

- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।

অন্যদিকে,
- কমে আসা, এগিয়ে চলা, পেয়ে বসা, ইত্যাদি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।

উল্লেখ্য,
• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২,২৮০.
কোনটি সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. জুয়েল লিখছে।
  2. তোফায়েল খেলা করছে।
  3. পূজা বলছে।
  4. রাকিব ঘুমায়।
ব্যাখ্যা
• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার। যথা:
১. সকর্মক ক্রিয়া,
২. অকর্মক ক্রিয়া,
৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া।

সকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- তোফায়েল খেলা করছে
এই বাক্যে 'করছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'খেলা' হলো 'করছে' ক্রিয়ার কর্ম।

অকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- জুয়েল লিখছে। 
- পূজা বলছে।
- রাকিব ঘুমায়।
উপর্যুক্ত বাক্যগুলোতে কোনো কর্ম নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২৮১.
নিচের কোনটি ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ?
  1. ক) যথাসময়ে সে হাজির হয়
  2. খ) টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে
  3. গ) মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
  4. ঘ) আমি কি যাব? 
ব্যাখ্যা
'টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে'- ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হল ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।  

ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন – টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
            ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন: যথাসময়ে সে হাজির হয় ।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ -  ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে।
যেমন: মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 

নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। 
যেমন : তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন: আমি কি যাব? 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২,২৮২.
'অদ্যাপি' কোণ জাতীয় শব্দ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'অদ্যাপি' - অব্যয় জাতীয় শব্দ।
অর্থ:
- এখনও; আজও; একাল পর্যন্ত।

অব্যয় পদ:
ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
যেমন- হ্যাঁ, না, এবং, জন্য, আর, সহসা, অদ্যাপি, হঠাৎ, সুতরাং, কিন্তু, ও, আবার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৮৩.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. রূপবান
  2. মঙ্গলকামনা
  3. নিখুঁত
  4. কিংবা
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ - মঙ্গলকামনা
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- কল্যাণকামনা,
- শুভকামনা।

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - রূপবান, নিখুঁত।
অব্যয় পদ - কিংবা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,২৮৪.
‘যথাসময়ে সে হাজির হয়।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘যথাসময়ে’ কোন ধরনের ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া বিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। 
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব? 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২৮৫.
যে ক্রিয়াপদ দ্বারা বাক্যের পরিসমাপ্তি ঘটে না, বক্তার কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়-
  1. ক) সকর্মক ক্রিয়া
  2. খ) অকর্মক ক্রিয়া
  3. গ) অসমাপিকা ক্রিয়া
  4. ঘ) সমাপিকা ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়াপদ দ্বারা বাক্যের পরিসমাপ্তি ঘটে না, বক্তার কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায় তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন- আমরা হাত মুখ ধুয়ে...।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২,২৮৬.
কোনটি আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব?
  1. বৃষ্টি আসে আসুক।
  2. আমরা বই পড়ি।
  3. ছাতাটা দিন তো ভাই।
  4. অন্যায় কাজ করো না।
ব্যাখ্যা
আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব:
- আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।

যেমন:
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।
- তার মঙ্গল হোক।

অন্যদিকে,
অনুজ্ঞা ভাব - অন্যায় কাজ করো না। ছাতাটা দিন তো ভাই।
নির্দেশক ভাব - আমরা বই পড়ি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৮৭.
"সময়মতো কাজ শেষ করো, নতুবা সমস্যায় পড়তে হবে।" - এখানে 'নতুবা' শব্দটি-
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনুসর্গ অব্যয়
ব্যাখ্যা
• বিয়োজক অব্যয়:
'নতুবা' শব্দটি দুটি বাক্যাংশ বা অংশকে সংযুক্ত করে, তবে এটি বিকল্প বা বিরোধী সম্পর্ক প্রকাশ করে। অর্থাৎ, একটি কাজ না করলে আরেকটি ফলাফল ঘটবে—এ ধরনের বিরোধী সম্পর্ক বোঝাতে ব্যবহৃত অব্যয়কে বিয়োজক অব্যয় বলা হয়।
কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি বিয়োজক অব্যয়।

যেমন-
• সময়মতো কাজ শেষ করো, নতুবা সমস্যায় পড়তে হবে।
(অর্থ: কাজ শেষ না করলে সমস্যা হবে)

বিয়োজক অব্যয়ের অন্যান্য উদাহরণ:
• অথবা (তুমি পড়াশোনা করো, অথবা পরীক্ষায় খারাপ করবে।)
• নচেৎ (আমাকে সাহায্য করো, নচেৎ আমি একা পারব না।)
• না হলে (তুমি ওষুধ খাও, না হলে অসুস্থ হয়ে পড়বে।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৮৮.
'তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।' - বাক্যটিতে 'কোথাও' কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে,
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২৮৯.
'তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।'- বাক্যে 'কোথাও' কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়াবিশেষণ
  4. অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

২. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

৩. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

৪. নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন:
- সে এখন যাবে না
- তিনি বেড়াতে যাননি
- এমন কথা আমার জানা নেই

৫. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'তো' প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২,২৯০.
যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ কোনটি?
  1. তুমি চলে যাও। 
  2. সময় চলে যায়।
  3. সাইরেন বেজে উঠল।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়া: 
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন : 
তুমি চলে যাও। 
সময় চলে যায়।
তুমি বসে পড়। 
সাইরেন বেজে উঠল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (পুরাতন ও নতুন সংস্করণ) ভাষা-শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
২,২৯১.
'দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে' এই বাক্যের অব্যয়টির নাম কী?
  1. ক) অনুসর্গ অব্যয়
  2. খ) অনুকার অব্যয়
  3. গ) অনস্বয়ী অব্যয়
  4. ঘ) সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বা পদান্বয়ী অব্যয় বলে।
- যেমন
- ধন অপেক্ষা মান বড় (‘অপেক্ষা’ অনুসর্গ অব্যয়)।
- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না (‘দিয়ে’ অনুসর্গ অব্যয়)।
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে (এখানে 'বিনা' অনুসর্গ অব্যয় )

অনুসর্গ অব্যয় দুই প্রকার।
যথা- বিভক্তিসূচক অব্যয় এবং বিভক্তি রূপে ব্যবহৃত অনুসর্গ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৯২.
'তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক।'- এ বাক্যের 'পুণ্য' কোন পদ?
  1. অব্যয়
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• ‘তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক।’- বাক্যে ‘পুণ্য’ বিশেষণ পদ। 

• বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে৷

বিশেষণ রূপে - তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক ।
বিশেষ্য রূপে - পুণ্যে মতি হোক ।

বিশেষণ রূপে - নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি ।
বিশেষ্য রূপে - গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

বিশেষণ রূপে - ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন ।
বিশেষ্য রূপে - আপন ভালো সবাই চায় ৷

বিশেষণ রূপে - মন্দ কথা বলতে নেই ।
বিশেষ্য রূপে - এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

বিশেষণ রূপে - শীতকালে কুয়াশা পড়ে
বিশেষ্য রূপে - শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার ।

বিশেষণ রূপে - সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্য রূপে - এ এক বিরাট সত্য ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২,২৯৩.
‘হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী' - বাক্যে ‘কিংবা’ কোন অব্যয়?
  1. বিয়োজক অব্যয়
  2. সংযোজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
বিয়োজক অব্যয়:
- বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।
যেমন: হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।

অন্যদিকে,
সংকোচক অব্যয়:
- যে অব্যয় দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করে, তাকে সংকোচক অব্যয় বলে।
- ‘অথচ’ কিন্তু, বরং শব্দগুলো সংকোচক অব্যয়।
 
সংযোজক অব্যয়:
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং। 
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। 
 
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন। 
যেমন: এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্কর
২,২৯৪.
"আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন ধরনের বর্গ?
  1. বিশেষ্য বর্গ
  2. বিশেষণ বর্গ
  3. ক্রিয়া বিশষেণ-বর্গ
  4. ক্রিয়াবর্গ
ব্যাখ্যা
বাক্যের বর্গ: বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে। বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।

বিশেষ্য বর্গ: বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন,
অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।

বিশেষণ বর্গ:
বিশেষণ জাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন-
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর

ক্রিয়া বিশষেণ-বর্গ: যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন,
সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।

ক্রিয়াবর্গ: বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন,
সে লিখছে আর  হাসছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২৯৫.
'তুমি অপরাধী অতএব শাস্তি পেতে হবে।'- বাক্যটিতে কোন ধরনের যোজক এর প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বিকল্প যোজক
  2. খ) বিরোধ যোজক
  3. গ) কারণ যোজক
  4. ঘ) সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
'তুমি অপরাধী অতএব শাস্তি পেতে হবে।'- বাক্যটিতে 'কারণ যোজক' এর প্রয়োগ ঘটেছে। 

• কারণ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
'তুমি অপরাধী অতএব শাস্তি পেতে হবে।'

• সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

• বিকল্প যোজক:
এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন: চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,২৯৬.
'আহ্বান' শব্দের বিশেষণ রূপ কোনটি?
  1. ক) আহরিত
  2. খ) আহূত
  3. গ) আহত
  4. ঘ) আন্বিত
ব্যাখ্যা
'আহ্বান' শব্দের বিশেষণ রূপ = 'আহূত'

আহ্বান (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = আ+√হ্বে+অন
অর্থ: 
- নিমন্ত্রন, আমন্ত্রন
- সম্বোধন, ডাক 

আহূত (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ 
অর্থ: আহ্বান করা হয়েছে এমন। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,২৯৭.
বাক্যের মধ্যে কীসের ভূমিকা বদলে গিয়ে বাক্যের প্রকাশভঙ্গি আলাদা হয়?
  1. ক) যোজক
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) আবেগ
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার ভূমিকা বদলে গিয়ে একই বক্তব্যের প্রকাশভঙ্গি আলাদা হয়ে যায়।
- ক্রিয়া কখনো কর্তাকে অনুসরণ করে, ক্রিয়া কখনো কর্মকে অনুসরণ করে, আবার ক্রিয়াই কখনো কর্মকে অনুসরণ করে, আবার ক্রিয়াই কখনো বাক্যের মধ্যে মূখ্য হয়ে ওঠে।

প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী-ই বাচ্য তিন প্রকার: 
- কর্তাবাচ্য, 
- কর্মবাচ্য ও 
- ভাববাচ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৯৮.
সাধু ভাষা থেকে চলিত ভাষায় লিখতে পদ যুগলের পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) সর্বনাম ও ক্রিয়া
  2. খ) বিশেষ্য ও বিশেষণ
  3. গ) বিশেষণ ও ক্রিয়া
  4. ঘ) বিশেষ্য ও সর্বনাম
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।
সুতরাং, এই দুটি পদের ভিন্নতার জন্যই সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২,২৯৯.
নিচের কোন বাক্যে 'অভ্যস্ততা' অর্থে যৌগিক ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) তিনি বলতে লাগলেন।
  2. খ) সাইরেন বেজে উঠল।
  3. গ) শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
  4. ঘ) ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল।
ব্যাখ্যা
' শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে' - 'অভ্যস্ততা' অর্থে যৌগিক ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে। 

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া।  
যেমন: 
তাগিদ দেয়া অর্থে- তিনি বলতে লাগলেন।  
আকস্মিকতা অর্থে- সাইরেন বেজে উঠল। 
কার্যসমাপ্তি অর্থে- ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল। 


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম - ১০ম শ্রেণী ( ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩০০.
‘মাথার উপরে নীল আকাশ।’-বাক্যটিতে ‘উপরে’ কী ধরণের শব্দ?
  1. বিশেষণ
  2. অনুসর্গ
  3. ক্রিয়া
  4. বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

“মাথার উপরে আকাশ।” - এখানে ‘উপরে’ হচ্ছে সাধারণ অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
• উদাহরণ
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
- বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।