বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা ২১ / ৩১ · ২,০০১২,১০০ / ৩,০২৪

২,০০১.
কোনটি ভাববাচক বিশেষ্য?
  1. তারুণ্য
  2. তারল্য
  3. মধুরতা
  4. ভোজন
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভোজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শোয়ার কাজ), দেখা, শোনা।

অন্যদিকে,
গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা-মধুর মিষ্টত্বের গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ-তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ- তিক্ততা, তরুণের গুণ-তারুণ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
২,০০২.
বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজক কয়টি শ্রেণিতে বিভক্ত?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
⇒ যোজক: পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিমকরিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

•  সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২,০০৩.
নিচের কোনটি ক্রিয়া বিশেষ্য?
  1. ভোজন
  2. গুরুত্ব
  3. আনন্দ
  4. সরলতা
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
- যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
- যেমন- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার: ১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
২,০০৪.
‘করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে’ — এখানে ‘ও’ কোন ধরনের যোজক?
  1. বিকল্প যোজক
  2. সাপেক্ষ যোজক
  3. বিরোধ যোজক
  4. সাধারণ যোজক
ব্যাখ্যা

সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে।
যেমন:
- করিম রহিম এ কাজটি করেছে।

অন্যদিকে,
বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- চা না-হয় কফি খান। লাল বা নীল কলমটা আনো।

সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।যেমন:
- তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,০০৫.
'সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।' কোন ধরনের বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. ঘটমান বর্তমান
  2. সাধারণ বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. অনুজ্ঞা বর্তমান
ব্যাখ্যা
• বর্তমান কাল:
বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কাল চার প্রকার, যথা-

• সাধারণ বর্তমান: যে ক্রিয়া বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি স্কুলে যাই।
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।

• ঘটমান বর্তমান: যে ক্রিয়া বর্তমানে চলছে বোঝায়, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

• পুরাঘটিত বর্তমান: এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি অঙ্কটি করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।

• অনুজ্ঞা বর্তমান: যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
- সকলের মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২,০০৬.
সাকুল্য অর্থে 'কি/কী' এর ব্যবহার ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) তুমি কি বাড়ি যাচ্ছ?
  2. খ) কি আমীর কি ফকির, একদিন সকলকেই যেতে হবে।
  3. গ) কী বিপদ, লােকটা যে পিছু ছাড়ে না।
  4. ঘ) তােমাকে নিয়ে কী মুশকিলেই না পড়লাম।
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন  অর্থে 'কি/কী' এর ব্যবহার- 

জিজ্ঞাসায় - তুমি কি বাড়ি যাচ্ছ?
বিরক্তি প্রকাশে - কী বিপদ, লােকটা যে পিছু ছাড়ে না।
সাকুল্য অর্থে - কি আমীর কি ফকির, একদিন সকলকেই যেতে হবে। 
বিড়ম্বনা প্রকাশে - তােমাকে নিয়ে কী মুশকিলেই না পড়লাম।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২,০০৭.
নিচের কোনটি বিদেশি অব্যয় শব্দ?
  1. আবার
  2. যথা
  3. আলবত
  4. বরং
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে।
যথা- 
- বাংলা অব্যয় শব্দ, তৎসম অব্যয় শব্দ এবং বিদেশি অব্যয় শব্দ।

১. বাংলা অব্যয় শব্দ গুলো হলো: আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।
২. তৎসম অব্যয় শব্দ গুলো হলো: যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি। 'এবং' ও 'সুতরাং' তৎসম শব্দ হলেও বাংলায় এগুলোর অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে। সংস্কৃতে 'এবং' শব্দের অর্থ এমন, আর 'সুতরাং' অর্থ অত্যন্ত, অবশ্য। কিন্তু এবং ও (বাংলা), সুতরাং = অতএব (বাংলা)।
৩. বিদেশি অব্যয় শব্দ গুলো হলো: আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,০০৮.
এখন যেও না। এখানে 'না' অব্যয়টি কোন অর্থে ব্যাবহৃত হয়েছে?
  1. ক) আদেশ
  2. খ) নিষেধ
  3. গ) অনুরোধ
  4. ঘ) বিরক্তি
ব্যাখ্যা
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যাবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমন- এখন যেও না (নিষেধ অর্থে), মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ! (উছ্বাস প্রকাশে), ছি ছি, তুমি এত নীচ! (ঘৃণা বা বিরক্তি প্রকাশে) ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২,০০৯.
‘ভোজন’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়া বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
২,০১০.
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো কাজের নাম বোঝায়, তাকে কী বলে?
  1. বস্তু-বিশেষ্য
  2. সমষ্টি-বিশেষ্য
  3. গুণ-বিশেষ্য
  4. ক্রিয়া-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
- যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।
• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
২,০১১.
'গতবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।' কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত কাল
  2. পুরাঘটিত অতীত কাল
  3. ঘটমান অতীত কাল
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।

যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

অন্যদিকে,
সাধারণ অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল সান্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,০১২.
ক্রিয়ার দ্বিতীয় অংশকে কী বলে?
  1. ক) ধ্বনি
  2. খ) বর্ণ
  3. গ) ধাতু
  4. ঘ) ক্রিয়াবিভক্তি
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায়: 
(১) ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং
(২) ক্রিয়া বিভক্তি।
- ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়া বিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তাই ধাতু।

• ধাতু: 
- ক্রিয়ার মূল অংশকে বলা হয় ধাতু।
- ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায়- একটি ধাতু বা ক্রিয়ামূল অপরটি ক্রিয়াবিভক্তি।
- ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়াবিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তা-ই হলাে ধাতু।
- অর্থাৎ ক্রিয়ামুলের আরেক নাম ধাতু।
- ড. এনামুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ক্রিয়াপদের যে অবিভাজ্য অংশ এর অন্তর্নিহিত মূল ভাবটির দ্যোতনা করে তাকে ধাতু বলে। 
- ক্রিয়ামূলকে বা ধাতুকে আবার প্রকৃতিও বলা হয়।
- ক্রিয়ার মূল বা ধাতু বােঝাতে (√) চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।

• ক্রিয়া বিভক্তি: 
- ক্রিয়ামূলের সঙ্গে যেসব লগ্নক যুক্ত হয়ে ক্রিয়ার কাল ও পক্ষ নির্দেশিত হয়, সেগুলোকে ক্রিয়াবিভক্তি বলে। 
যেমন,
- পড়ছি (পড়্‌ + ছি); এটা দিয়ে ঘটমান বর্তমান কালের পড়া ক্রিয়াকে বোঝায়।
- পড়বেন (পড়্‌ + বেন); এখানে সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের পড়া ক্রিয়াকে বোঝায়।
- পড়ছিল (পড়্‌ + ছিল); একাহ্নে সাধারণ অতীত কালের পড়া ক্রিয়াকে বোঝায়। 
উপরের উদাহরণগুলোতে '-ছি', '-বেন', '-ছিল'- এগুলো হলো ক্রিয়াবিভক্তি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী (২০২২ সংস্করণ)।
২,০১৩.
বাক্যের অন্তর্গত পদকে কতটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?
  1. চারটি
  2. তিনটি
  3. ছয়টি
  4. আটটি
ব্যাখ্যা
• পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়।
যথা:
- বিশেষ্য,
- সর্বনাম,
- বিশেষণ,
- ক্রিয়া,
- ক্রিয়াবিশেষণ,
- অনুসর্গ,
- যােজক,
- আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,০১৪.
'সমিতি' শব্দটি কোন পদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) বস্তুবাচক বিশেষ্য
  2. খ) ভাববাচক বিশেষ্য
  3. গ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) গুণবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
যে পদে বেশ কিছু সংখ্যক ব্যাক্তি বা প্রাণির সমষ্টি বোঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২,০১৫.
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ গুচ্ছ যখন পদের ন্যায় আচরন করে তখন তাকে কি বলে?
  1. ক) শব্দ
  2. খ) বর্ণ
  3. গ) বর্গ
  4. ঘ) পদ
ব্যাখ্যা

বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ গুচ্ছ যখন পদের ন্যায় আচরন করে তখন তাকে বর্গ বলে।

যেমন -
- সজল ও লতা বই পড়ে।”

এখানে ‘সজল ও লতা’ একটি বর্গ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিত নবম-দশম শ্রেণি।

২,০১৬.
‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’- বাক্যে ‘টাপুর টুপুর’ কোন ধরনের দ্বিরুক্তি পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) অব্যয়
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা

অব্যয়ের দ্বিরুক্তি শব্দ-
১.ভাবের গভীরতা বোঝাতে : ছি ছি, তুমি কী করেছ?
২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে : বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে : ভয়ে গা ছম ছম করছে।
৪. বিশেষণ বোঝাতে : পিলসুজে বাতি জ্বলে মিট মিট।
৫. ধ্বনি ব্যঞ্জনা : বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী।

২,০১৭.
’তিথি অঙ্কটি করেছে।’- বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. অনুজ্ঞা বর্তমান
ব্যাখ্যা

সাধারণ বর্তমান:
- যে ক্রিয়া বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন-
- আমি স্কুলে যাই।
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।

ঘটমান বর্তমান:
- যে ক্রিয়া বর্তমানে চলছে বোঝায়, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।
যেমন-
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

পুরাঘটিত বর্তমান:
- এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন-
- তিথি অঙ্কটি করেছে।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।

• অনুজ্ঞা বর্তমান:
- যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে।
যেমন-
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
- সকলের মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

২,০১৮.
কোনটি সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. পেয়ে বসা
  2. মরে যাওয়া
  3. রাজি হওয়া
  4. বুঝে নেওয়া
ব্যাখ্যা

• সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া।
- দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, দোষ দেওয়া, মন দেওয়া।

অন্যদিকে,
--------------------
• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,০১৯.
সারাদিন খুঁজলাম, অথচ তোমার দেখা পেলাম না। - এ বাক্যে কী ধরনের যোজক আছে?
  1. ক) বৈকল্পিক যোজক
  2. খ) বিরোধমূলক যোজক
  3. গ) কারণবাচক যোজক
  4. ঘ) সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
যে যোজক দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটিয়ে দ্বিতীয়টির সাহায্যে প্রথম বাক্যের বিরোধ নির্দেশ করে তাকে বিরোধমূলক যোজক বলে।
বিরোধমূলক যোজক হলো : কিন্তু, তবু, অথচ।
যেমন : 
তোমাকে ইমেইল করেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি। 
তোমাকে কত ডাকলাম, কিন্তু তুমি শুনলে না।
সারাদিন খুঁজলাম, অথচ তোমার দেখা পেলাম না। 
এত বৃষ্টি হলো, তবু গরম কমল না।

উৎস : নবম—দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা—শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
২,০২০.
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য বা কারক বোঝাতে যেসকল শব্দাংশ যুক্ত হয় তাদের কী বলে?
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) নির্দেশক
  3. গ) বচন
  4. ঘ) কর্মকর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য বা কারক বোঝাতে যেসকল শব্দাংশ যুক্ত হয় তাদের বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার - ক্রিয়া বিভক্তি ও কারক বিভক্তি
'করলাম' শব্দে 'লাম' শব্দাংশটি হলো ক্রিয়া বিভক্তির উদাহরণ।
'কৃষকের' শব্দে 'এর' শব্দাংশটি হলো কারক বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)

২,০২১.
কোনটি অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. যেমন-তেমন
  2. চলন্ত, কতক্ষণ
  3. অবধি, বাইরে
  4. তবু, অথবা
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
- রুনা অপেক্ষা পুতুলের পরীক্ষা ভালো হয়েছে।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ?
[উপরের বাক্যে ব্যবহৃত ‘অপেক্ষা’ ও ‘পর্যন্ত’ অনুসর্গের উদাহরণ।]
 
• এরূপ আরো কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ হলো:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দারুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতিত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘কে’ ‘রে’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন:
- তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব!

অন্যদিকে,
যেমন-তেমন সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ।
চলন্ত, কতক্ষণ বিশেষণের উদাহরণ।
তবু, অথবা যোজক পদের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২,০২২.
কর্তা নিজেই কাজ করছে এই ভাবকে জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য কোন সর্বনাম ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সাপেক্ষ
  2. খ) নির্দেশক
  3. গ) আত্নবাচক
  4. ঘ) সকলবাচক
ব্যাখ্যা
কর্তা নিজেই কাজ করছে এই ভাবকে জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য আত্নবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের
সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন - নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন – নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি;
দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি। 

সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন - যারা-তারা, যে-সে,যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

সকলবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বােঝাতে সকলবাচক সর্বনাম হয়। যেমন - সবাই,সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত সব ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,০২৩.
'এক' এর বিশেষ্যরূপ কোনটি?
  1. ক) একাধিক
  2. খ) বহু
  3. গ) একতা
  4. ঘ) একক
ব্যাখ্যা
'এক' এর বিশেষ্যরূপ 'একতা'

একতা (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = এক+তা 
অর্থ:
- ঐক্য, অভিন্নতা, অভেদত্ব, একত্ব;
- একভাব;
- মিলন। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,০২৪.
কোনটি জাতি-বিশেষ্য এর উদাহরণ?
  1. হিমালয়
  2. পদ্মা
  3. নদী
  4. আকাশ
ব্যাখ্যা
• 'নদী' জাতি-বিশেষ্য এর উদাহরণ।
• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

 অন্যদিকে,
- 'পদ্মা' ও 'হিমালয়' নাম-বিশেষ্য।
- 'আকাশ' বস্তু-বিশেষ্য।
• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
- যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,০২৫.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. চৌকশ 
  2. তাজা 
  3. তারুণ্য
  4. রোগা 
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্যে পদ:
কোনো ব্যক্তি, স্থান, দ্রব্যসামগ্রী, গুণ বা অবস্থার নাম বিশেষ্য শব্দশ্রেণির মধ্যে পড়ে। যেমন: নজরুল, ঢাকা, চট্টগ্রাম, দয়া, হাসি। এছাড়া যাতে -র/-এর বা -গুলি/-গুলো বিভক্তি বা প্রত্যয় যুক্ত হয় এবং যা কর্তা/উদ্দেশ্য বা কর্ম হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে তা-ই বিশেষ্য। বাংলায় সংস্কৃত শব্দঋণ ও তদ্ভব অংশে কেবল বিশেষ্য শব্দেরই শ্রীলিঙ্গ রূপ পাওয়া যায়।

বিশেষ্যের উদাহরণ:
• নজরুল, ঢাকা, মেঘনা, হিমালয়, অগ্নিবীণা– এই উদাহরণগুলো সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করে।
• মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী—এই উদাহরণগুলো জাতিবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করছে।
• বই, খাতা, কলম, লোহা, জল, চিনি—এই উদাহরণগুলো দ্রব্যবাচক বা বস্তুবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করছে।
• সভা, সমিতি, জনতা, মাহফিল, দল, পাল—এই উদাহরণগুলো সমষ্টিবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করছে।
• গমন, দর্শন, ভোজন— এই উদাহরণগুলো ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বা অবস্থাবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করে।
তারুণ্য, সৌন্দর্য, বীরত্ব, যৌবন, দুঃখ, সুখ—এই উদাহরণগুলো গুণবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করে।

অন্যদিকে, 
চৌকশ, তাজা ও রোগা বিশেষণ পদ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

২,০২৬.
'সলিম সাহেবের তৃতীয় প্রজন্ম এখন ব্যবসার দায়িত্ব নিয়েছে।' বাক্যে 'তৃতীয়' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ক্রমবাচক
  2. পূরণবাচক
  3. নির্দিষ্টতাবাচক
  4. পরিমাণবাচক
ব্যাখ্যা
• পূরণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন: তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে 'তৃতীয়' ও '৩৪তম' পূরণবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
• ক্রমবাচক বিশেষণ: যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: এক টাকা, আট দিন এখানে 'এক' ও 'আট' ক্রমবাচক বিশেষণ।
• পরিমাণবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন - আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।
• নির্দিষ্টতাবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: এই দিনে, সেই সময় এখানে 'এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,০২৭.
'গ্রীষ্মের পর আসে শীত।' এখানে 'পর' অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. দীর্ঘ বিরতি
  2. বিরতি
  3. অল্প বিরতি
  4. নৈকট্য
ব্যাখ্যা
• 'গ্রীষ্মের পর আসে শীত।' এখানে 'পর' অনুসর্গটি দীর্ঘ বিরতি অর্থ প্রকাশ করছে।

• 'পর/পরে' অনুসর্গ :
- স্বল্প বিরতি অর্থে: এ ঘটনার পরে আর এখানে থাকা চলে না।
- দীর্ঘ বিরতি অর্থে: শরতের পরে আসে বসন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,০২৮.
কোনটি সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. গাছটি বেড়ে উঠছে।
  2. ছেলেটি হাসছে।
  3. সে বই পড়ছে।
  4. পাখি উড়ছে।
ব্যাখ্যা
"সে বই পড়ছে" বাক্যে "পড়ছে" হলো সকর্মক ক্রিয়া, কারণ এটি সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে "বই" (কর্ম) এর প্রয়োজন হয়। এখানে কর্ম 'বই' রয়েছে।

অন্য অপশনগুলো অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ।
যেমন:
ক) "গাছটি বেড়ে উঠছে।" (অকর্মক)।
খ) "ছেলেটি হাসছে।" (অকর্মক)।
ঘ) "পাখি উড়ছে।" (অকর্মক)।
--------------------- 
• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার।
যথা:
১. সকর্মক ক্রিয়া,
২. অকর্মক ক্রিয়া,
৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া।

সকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- নাছরিন খেলা করছে।
এই বাক্যে 'করছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'খেলা' হলো 'করছে' ক্রিয়ার কর্ম।

অকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- সুমাইয়া লিখছে। 
- হাসিব বলছে।
- সালমা ঘুমায়।
উপর্যুক্ত বাক্যগুলোতে কোনো কর্ম নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,০২৯.
আত্মবাচক সর্বনাম কোনটি? 
  1. নিজে 
  2. আমি 
  3. আমাদের
  4. সবাই
ব্যাখ্যা
• আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'আমাদের', 'আমি' ব্যাক্তিবাচক সর্বনাম।
- 'সবাই'  সকলবাচক সর্বনাম। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
২,০৩০.
"ওই, ওরা" - কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. অনির্দষ্ট সর্বনাম
  3. নির্দেশক সর্বনাম
  4. আত্মবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
নির্দেশক সর্বনাম: 
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,০৩১.
কোনটি বাতিহারিক সর্বনাম?
  1. ক) যার-তার
  2. খ) আমি-তুমি
  3. গ) নিজে-নিজে
  4. ঘ) এরা-ওরা
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনাম সমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকেঃ

১. ব্যাক্তিবাচক বা পুরুষবাচক - আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক - স্বয়ং, খোদ, নিজে, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক - এ, এই, এরা, ইহারা ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক - ঐ, ঐসব ইত্যাদি।
৫. সাকুল্যবাচক - সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক - কে, কি, কী, কোন, কাহার ইত্যাদি।
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক - কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক - আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক - যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক - অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই

২,০৩২.
'প্রচুর' এর বিশেষ্য রূপ কোনটি?
  1. প্রাচুর্য্য
  2. প্রাচুর্য
  3. প্রাচুর্যতা
  4. প্রচুর
ব্যাখ্যা

• 'প্রচুর' এর বিশেষ্য রূপ- প্রাচুর্য।

প্রচুর (বিশেষণ): 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্র+√ চুর্‌ + অ। 
অর্থ: ঢের, পর্যাপ্ত।

প্রাচুর্য (বিশেষ্য): 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রচুর + য। 
অর্থ:
- আধিক্য।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,০৩৩.
’রোগ হলে ওষুধ খাবে।’- কী অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে?
  1. আদেশ
  2. সম্ভাবনা
  3. উপদেশ
  4. বিধান
ব্যাখ্যা
• ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
- আদেশ অর্থে: সদা সত্য বলবে।
- সম্ভাবনা অর্থে : চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
- বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধ অর্থে: কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)।

উল্লেখ্য,
আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
২,০৩৪.
কোনটি ভাববাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) মধুর
  2. খ) দেখা
  3. গ) যৌবন
  4. ঘ) সুখ
ব্যাখ্যা
যে বিশেষ্য পদে কোন ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- গমন, দর্শন, ভোজন, দেখা, শোনা, শয়ন ইত্যাদি। যে বিশেষ দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায় তাই গুণবাচক বিশেষ্য। যেমন- মধুরতা, তারল্য, তিক্ততা, সৌরভ, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৩৫.
কোন বাক্যে ঘটনা অতীতের, কিন্তু ক্রিয়ার কাল সাধারণ বর্তমান কালের?
  1. যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম।
  2. সবাই যেন সভায় হাজির থাকে।
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
  4. আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার কাল:
- ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে।
- ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার: বর্তমান কাল, অতীত কাল ও ভবিষ্যৎ কাল।

ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ: 
 অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলাে ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ। 

সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান),
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান)।

অন্যদিকে,
- আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান)
- যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত)
- সবাই যেন সভায় হাজির থাকে। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,০৩৬.
জাতি-বিশেষ্য কোনটি?
  1. ক) পরিবার
  2. খ) সাগর
  3. গ) লবণ
  4. ঘ) বাহিনী
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'সাগর' হচ্ছে জাতি-বিশেষ্যের উদাহরণ।

• জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
 যেমন নদী, সাগর, পর্বত, মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন:
বস্তু-বিশেষ্য: যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি ।
সমষ্টি-বিশেষ্য: যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
২,০৩৭.
আবেগ শব্দ কত প্রকার ?
  1. ক) ২
  2. খ) ৫
  3. গ) ৮
  4. ঘ) ১০
ব্যাখ্যা
আবেগ শব্দ আট প্রকার। যথা :
১. বিস্ময়সূচক আবেগ
২. প্রশংসাসূচক আবেগ
৩. বিরক্তিসূচক আবেগ
৪. ভয় ও যন্ত্রণাবাচক আবেগ
৫. করুণাবাচক আবেগ
৬. সিদ্ধান্তসূচক আবগে
৭. সম্বোধনসূচক আবেগ
৮. আলংকারিক আবেগ

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
২,০৩৮.
’আপনি’ কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. মানী সর্বনাম
  2. সাধারণ সর্বনাম
  3. ঘনিষ্ট সর্বনাম
  4. তুচ্ছ সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• ব্যক্তিবাচক সর্বনামগুলো মর্যাদার ভিত্তিতে আবার তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়।
- এগুলো হলো:
- সাধারণ সর্বনাম (যেমন: তুমি, সে),
- মানী সর্বনাম (যেমন: আপনি, তিনি, ইনি, উনি)।
- ঘনিষ্ট সর্বনাম (যেমন: তুই, এ, ও)।

উল্লেখ্য,
• ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
- এ ধরনের সর্বনাম হলো এমন এক ধরনের সর্বনাম, যা কোনো ব্যক্তি নামের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।
২,০৩৯.
'ইচ্ছা' বিশেষ্যের বিশেষণ নির্দেশ করুন-
  1. ইচ্ছাময়
  2. ঐচ্ছিক
  3. ইচ্ছুক
  4. অনিচ্ছা
ব্যাখ্যা
• ইচ্ছা (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- অভিলাষ; স্পৃহা; বাসনা।
- রুচি; প্রবৃত্তি (খাওয়ার ইচ্ছা নাই)।
- অভিপ্রায় (খোদার ইচ্ছায় সব হয়)।

অন্যদিকে,
• ইচ্ছুক (বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- অভিলাষী;
- বাসনাযুক্ত
- রাজি;
- সম্মত।

• ঐচ্ছিক ( বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- ইচ্ছানুরূপ,
- ইচ্ছানুযায়ী,
- ইচ্ছাধীন।

- ঐচ্ছিক এবং ইচ্ছুক দুটিই বিশেষণ পদ।
- কিন্তু এখানে ইচ্ছা- কোন ব্যক্তিকে নির্দেশ করছে না, বরং একটি বিমূর্ত ধারণা প্রকাশ করছে। তাই এর বিশেষণ হিসেবেও এমন শব্দ চয়ন করা উচিত যেটা কোন ব্যক্তিকে নির্দেশ না করে একটি বিমূর্ত ধারণাকে প্রকাশ করবে।

• ইচ্ছুক - সাধারণত ব্যক্তিকেই নির্দেশ করে।
• ঐচ্ছিক - বিমূর্ত ধারণা প্রকাশ করে।

সুতরাং, ‘ইচ্ছা’ শব্দের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বিশেষণর পদ হচ্ছে- ঐচ্ছিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,০৪০.
বিদেশি অব্যয়ের উদাহরণ হল-
  1. ক) ইদানিং
  2. খ) বেশ
  3. গ) যদি
  4. ঘ) অপিচ
ব্যাখ্যা

- 'বেশ' একটি ফারসি (বিদেশি) শব্দ ৷ বাক্যে এটি বিশেষণরূপে ব্যবহৃত হয়৷
- এটি অনুমোদনবাচক অব্যয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়৷ যেমন- আপনি যখন বলছেন, বেশ তো আমি যাব৷

- 'ইদানীং', 'যদি', 'অপিচ' হলো সংস্কৃত অব্যয়৷
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷

২,০৪১.
কোন শব্দটি বিশেষণ?
  1. সান্ধ্য
  2. বিধি
  3. দীন
  4. নিসর্গ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'সান্ধ্য' শব্দটি বিশেষণ।
- অর্থ: সন্ধ্যা সম্পর্কিত, সন্ধ্যাকালীন।
- 'সান্ধ্য' শব্দটির বিশেষ্য 'সন্ধ্যা'।

অন্যদিকে,
- 'বিধি' শব্দটি বিশেষ্য।
- 'দীন' শব্দটি বিশেষ্য।
- 'নিসর্গ' শব্দটি বিশেষ্য।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,০৪২.
"বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।" - বাক্যটি কোন ক্রিয়ার কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. সাধারণ বর্তমান
  4. পুরাঘটিত অতীত
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।

যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।

২,০৪৩.
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে কী বলে?
  1. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  2. নির্দেশক সর্বনাম
  3. সাপেক্ষ সর্বনাম
  4. আত্মবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,০৪৪.
বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল- বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. ক) নিত্যবৃত্ত অতীত
  2. খ) পুরাঘটিত বর্তমান
  3. গ) ঘটমান বর্তমান
  4. ঘ) সাধারণ অতীত
ব্যাখ্যা
অতীত কাল: যে ক্রিয়া পূর্বেই ঘটে গেছে তাতে অতীত কাল বলে। যেমন:
- তিনি ঢাকায় গেলেন।
- আমি বাড়ি ফিরলাম।

অতীত কালের চারটি রূপ। যথা:
১. সাধারণ অতীত কাল: যে ক্রিয়া সাধারণভাবে অতীত অর্থাৎ বর্তমান কালের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত।
যেমন: 
- বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল।
- পুলিশ সন্ত্রাসী ছেলেটিকে মেরে ফেলল।
- বাতিটি নিভে গেল।

২. ঘটমান অতীত কাল: অতীতে কোনো কাজ চলছিল এবং তখনও কাজটি শেষ হয়নি; এরূপ অর্থে ঘটমান অতীত ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখছিলাম।

৩. পুরাঘটিত অতীত কাল: যে ক্রিয়া অতীতে ঘটেছে এবং এর প্রভাবও শেষ হয়ে গেছে। তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম।

.নিত্যবৃত্ত অতীত কাল: অতীতকালে যে ক্রিয়া সাধারণভাবে এবং সচরাচর ঘটতো তার কাল নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন:
- প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,০৪৫.
নিচের কোন পদের পুরুষ নেই?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
‘পুরুষ’ একটি পারিভাষিক শব্দ। বিশেষ্য,সর্বনাম ও ক্রিয়ারই পুরুষ আছে। বিশেষণ ও অব্যয়ের পুরুষ নেই। ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার। যথা- উত্তম, মধ্যম ও নাম পুরুষ। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২,০৪৬.
কোন বাক্যে নাম পুরুষের ব্যবহার করা হয়েছে?
  1. ক) আপনি আসবেন
  2. খ) আমরা যাচ্ছি
  3. গ) তোরা যাসনে
  4. ঘ) ওরা কি করে?
ব্যাখ্যা
- ‘ওরা কি করে?’ এই বাক্যে নাম পুরুষ ব্যবহৃত হয়েছে।
পুরুষ তিন প্রকার। যেমন-
উত্তম পুরুষ
মধ্যম পুরুষ
নাম পুরুষ

→ উত্তম পুরুষ : ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে। যেমন- আমি, আমরা ইত্যাদি।
→ মধ্যম পুরুষ : বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে। যেমন- তুমি, তোমরা, আপনি ইত্যাদি।
⇒ নাম পুরুষ : বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে। যেমন- সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,০৪৭.
'প্রস্তুত' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• 'প্রস্তুত' - বিশেষণ পদ।
-----------
• 'প্রস্তুত' শব্দের অর্থ:
- নির্মিত, তৈরি, সম্পাদিত।
- উদ্যোগ বা আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
২,০৪৮.
কোন বাক্যে ঘটনা ভবিষ্যতের, কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান?
  1. আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি।
  2. আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম।
  3. যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম।
  4. সবাই যেন সভায় হাজির থাকে।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার কাল:
- ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে।
- ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার: বর্তমান কাল, অতীত কাল ও ভবিষ্যৎ কাল।

ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ: 
 অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলাে ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ। 

সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান)
- সবাই যেন সভায় হাজির থাকে। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান)

অন্যদিকে,
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান)
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত)
- যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,০৪৯.
ভাবপ্রকাশের দিক থেকে ক্রিয়া কয় প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া পদ:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।

• ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার:
১. সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালাে করে পড়াশােনা করবে

২. অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের: ১. ভূত অসমাপিকা, ২. ভাবী অসমাপিকা এবং ৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

-----------------------
• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার।
যথা:
১. অকর্মক ক্রিয়া: বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়।
- সে মাটিতে শোয়।
- সে ভালো দৌড়ায়।
[এই বাক্যেগুলোতে কোনাে কর্ম নেই।]

২. সকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
- আমি রোজ রাত দশটায় খাই।
[এই বাক্যে পড়ছে’ হলাে সকর্মক ক্রিয়া। বই’ হলাে ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।]

ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদের বই (২২৮ পৃষ্টা) অনুসারে,
সকর্মক ক্রিয়ায় কর্মপদ অকথিত থাকতে পারে। যেমন, 'আমি রোজ রাত দশটায় খাই।' এখানে 'কী' খাই বলা হয়নি, কিন্তু বলা সম্ভব ছিলো। এই সম্ভাবনাই সকর্মকের লক্ষণ।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তপু দীপুকে বলটি দিল।
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
২,০৫০.
'সেও এসেছে আর তোমারও যাওয়া হয়েছে।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ অতীত 
  2. ঘটমান অতীত 
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. পুরাঘটিত অতীত 
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত বর্তমানের বিশেষ প্রয়োগ:
• অতীত সময় বোঝাতে:
- দশ বছর হলো তার বাবা মারা গেছেন।
- গত মাসে তাকে ঢাকায় দেখেছি।

• ভবিষ্যৎ সময় বোঝাতে:
- সেও এসেছে আর তোমারও যাওয়া হয়েছে।
- সে আগামীকাল কানাডা যাচ্ছে, আর ফিরছে না।

• অনুমতি গ্রহণ: যাচ্ছি তাহলে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,০৫১.
"মধুরতা" - কোন ধরনের শব্দ?
  1. গুণ বিশেষণ
  2. গুণবাচক বিশেষ্য 
  3. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• গুণবাচক বিশেষ্য: 
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা - 
মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা।

গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ:
- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৫২.
'সুমি বই পড়ছে।'- বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  2. সাধারণ বর্তমান কাল
  3. নিত্য বর্তমান কাল
  4. ঘটমান বর্তমান কাল
ব্যাখ্যা
• ঘটমান বর্তমান কাল:
যে কাজ শেষ হয় নি, এখনো চলছে, সে কাজ বোঝাবার জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সুমি বই পড়ছে।
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।
- মেয়েরা গান গাইছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
২,০৫৩.
‘করানো’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. ক্রিয়া
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,০৫৪.
"চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবেই।" - এখানে 'পর্যন্ত' অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ছাড়া
  2. প্রতীক্ষা
  3. তুলনা
  4. অবধি
ব্যাখ্যা
• "চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবেই।" - এখানে 'পর্যন্ত' অনুসর্গটি 'অবধি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
---------------------
• অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কীত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন-
সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্য, পর্যন্ত ইত্যাদি।

কিছু অনুসর্গের ব্যবহার:
• সীমার মাঝে অসীম তুমি। - 'মধ্যে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। 
• এ ধন-সম্পদ তোমার জন্য। - 'নিমিত্তে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।
• এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল। - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'একদেশিক' অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।
• আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে। - 'মাঝারে' অনুসর্গটি 'ব্যাপ্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• সীমার মাঝে অসীম তুমি। - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• নিমেষ মাঝেই সব শেষ। - 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,০৫৫.
”সকল সৃষ্টির মঙ্গল হোক।” বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. ঘটমান বর্তমান
  2. অনুজ্ঞা বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

 অনুজ্ঞা বর্তমান:
- যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে।
যেমন
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
- সকলের মঙ্গল হোক।

উল্লেখ্য:
• বর্তমান কাল:
- বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে।

• বর্তমান কাল চার প্রকার:
- সাধারণ বর্তমান,
- ঘটমান বর্তমান,
- পুরাঘটিত বর্তমান;
 - অনুজ্ঞা বর্তমান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

২,০৫৬.
'মরি মরি!' - কোন ধরনের অব্যয়?
  1. অনুকার
  2. অনন্বয়ী
  3. পদান্বয়ী
  4. সমুচ্চয়ী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
উচ্ছ্বাস প্রকাশে:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে:
- হ্যাঁ, আমি যাব। না, আমি যাব না।

সম্মতি প্রকাশে:
- আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,০৫৭.
কোন বাক্যটিতে অসমাপিকা ক্রিয়া নেই?
  1. আমরা বিকেলে খেলতে যাই।
  2. এ বছর বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
  3. ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।
  4. গান করলে তার মন ভালো হয়।
ব্যাখ্যা
• অসমাপিকা ক্রিয়া নেই - এ বছর বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- ভালো করে পড়াশোনা করবে।
- এ বছর বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।
- প্রভাতে সূর্য উঠলে অন্ধকার দূর হয়।
- আমরা বিকেলে খেলতে যাই।

• অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের। যথা:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:
- ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
- ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
- শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালো হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
২,০৫৮.
নিচের কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. তরে
  2. বনাম
  3. ভর
  4. অবধি
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ নয় - ভর। এটি একটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ।

অনুসর্গ:

- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,০৫৯.
কোনটি জাতি  বিশেষ্য?
  1. পদ্মা
  2. ফুল
  3. হিমালয়
  4. গীতাঞ্জলি
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য: 
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।

যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য - পদ্মা, হিমালয়, গীতাঞ্জলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,০৬০.
‘আমরা নির্ভয়ে গুহায় ঢুকলাম।’- বাক্যে ‘নির্ভয়ে’ কোন পদ?
  1. আবেগ
  2. ক্রিয়া
  3. যোজক
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে। ক্রিয়াবিশেষণ বাক্যের ক্রিয়াকে বিশেষিত করে। এটি ক্রিয়ার গুণ, প্রকৃতি , বৈশিষ্ট্য ও অর্থ প্রকাশক শব্দ হিসেবে কাজ করে এবং ক্রিয়া সময়, স্থান, প্রকার, উৎস, তীব্রতা, উপকরণ ইত্যাদি প্রকৃতিগত অবস্থার অর্থগত ধারণা দেয়।

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
কোনো ক্রিয়া কীভাবে বা কেমনভাবে সংঘটিত হলো তা বোঝায়।
যেমন:
- আমরা নির্ভয়ে গুহায় ঢুকলাম।
- সে দ্রুত দৌড়াতে পারে।
- কাজটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,০৬১.
ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
  2. আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি।
  3. ছন্দা গান গাইছে।
  4. রাফিন ও রিজন বল খেলছে।
ব্যাখ্যা
• ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

---------------------
• বর্তমান কাল:

যে ক্রিয়া দ্বারা বর্তমানের কোনো কাজ করা, অভ্যাস বা চিরসত্য বোঝায় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কালের চারটি রূপ। যথা:
১. সাধারণ বর্তমান কাল।
২. ঘটমান বর্তমান কাল।
৩. পুরাঘটিত বর্তমান কাল।
৪. বর্তমান অনুজ্ঞা।

• সাধারণ বর্তমান কাল: যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তৃণা স্কুলে যায়।
- বর্ণ বই পড়ে।

• ঘটমান বর্তমান কাল: যে ক্রিয়ার কাল শেষ হয়নি, এখন চলছে এরূপ অর্থ বোঝালে ঘটমান বর্তমান হয়।
যেমন:
- ছন্দা গান গাইছে।
- রাফিন ও রিজন বল খেলছে।

• পুরাঘটিত বর্তমান কাল: যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।

• বর্তমান অনুজ্ঞা: বর্তমানে কোনো ক্রিয়া সম্পাদনের আদেশ, উপদেশ, আশীবার্দ, অভিশাপ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝানোর জন্য বর্তমান অনুজ্ঞা ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সকলের মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য বলো।
- আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করুন।
- আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দান করুক।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,০৬২.
গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. দর্শন
  2. দুঃখ
  3. সৌরভ
  4. স্বাস্থ্য
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।

যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
দর্শন - ভাববাচক/ক্রিয়া বিশেষ্যর উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,০৬৩.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. জীবন্ত
  2. অজ্ঞাত
  3. জীবাণু
  4. আনন্দময়
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ - জীবাণু।

শব্দের অর্থ:
- অণুবীক্ষণে দৃ্শ্য অতিসূক্ষ্ম প্রাণী বা উদ্ভিদ; প্রাণবিশিষ্ট অতি ক্ষুদ্র কণা।

অন্যদিকে,
• বিশেষণ পদ - অজ্ঞাত, জীবন্ত, আনন্দময়।

বিশেষ্য পদ:
- কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য ,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,০৬৪.
নিচের কোনটি ক্রিয়া-বিশেষ্য?
  1. ক) সমিতি
  2. খ) গমন
  3. গ) সৌরভ
  4. ঘ) মধুরতা
ব্যাখ্যা
'গমন'- ভাববাচক বিশেষ্য। 
ভাববাচক বিশেষ্য: 

বিশেষ্য: কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য ।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

৩. বস্তু-বিশেষ্যঃ কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্যঃ এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্যঃ গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
২,০৬৫.
নিচের কোন বাক্যে গুণবাচক বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বেলে মাটি
  2. তরল দুধ
  3. চালাক লোক
  4. সবুজ পাতা
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
উপাদানবাচক বিশেষণ : বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি, ইত্যাদি।

• বর্ণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, সবুজ পাতা, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- চলন্ত ট্রেন, তরল দুধ এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,০৬৬.
'করেছি' কোন কালের উদাহরণ?
  1. ঘটমান বর্তমান কাল
  2. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  3. পুরাঘটিত অতীত কাল
  4. ঘটমান অতীত কাল
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলে এবং তার ফল এখনও বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত
হয়।
যেমন:
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,০৬৭.
'যেমন কর্ম তেমন ফল।'- বাক্যে কোন ধরনের অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) নিত্য সম্বন্ধীয়
  2. খ) অনুকার
  3. গ) বাক্যালঙ্কার
  4. ঘ) অনন্বয়ী
ব্যাখ্যা
কতগুলো যুগ্মশব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত। যেমন- যথা-তথা, যত-তত, যখন-তখন, যেমন-তেমন ইত্যাদি। উদাহরণ- যেমন কর্ম তেমন ফল, যথা ধর্ম তথা জয়, যত গর্জে তত বর্ষে না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৬৮.
"ফুল" - কোন প্রকার বিশেষ্য?
  1. জাতি-বিশেষ্য
  2. বস্তু-বিশেষ্য
  3. গুণ-বিশেষ্য
  4. নাম-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,০৬৯.
‘খুব যে বলেছিলেন আসবেন!’ এখানে ‘যে’ শব্দ দ্বারা কোন পদ নির্দেশ করছে?
  1. ক) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. খ) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. গ) নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ঘ) পদানু ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা

যে পদ ক্রিয়া কে বিশেষিত করে তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। যেমন: লোকটি ধীরে হাটে।

ক্রিয়াবিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোন ক্রিয়া কিভাবে সম্পন্ন হয় তা নির্দেশ করে। যেমন, টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ে।
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। যেমন, যথাসময়ে সে হাজির হয়।
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়া সম্পাদনের স্থান নির্দেশ করে। যেমন, কোথাও কেউ নেই।
নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। যেমন, তিনি বেড়াতে যান নি।
পদানু ক্রিয়াবিশেষণ: কি, যে, বা, না , তো প্রভৃতি পদানু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। যেমন, খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।

২,০৭০.
নিচের কোনটি বলকের উদাহরণ?
  1. লোকটি
  2. তখনই
  3. ভালোটুকু
  4. করলাম
  5. ছেলেরা
ব্যাখ্যা

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)
২,০৭১.
বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া পদ কয় প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া পদ:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
 
বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার। 
যথা:
১. অকর্মক ক্রিয়া: বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়। 
- সে মাটিতে শোয়।
- সে ভালো দৌড়ায়।
[এই বাক্যেগুলোতে কোনাে কর্ম নেই।]
 
২. সকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
- বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তপু দীপুকে বলটি দিল।
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।]
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
২,০৭২.
কোনটি বিভক্তিহীন অনুসর্গ?
  1. মধ্যে
  2. অপেক্ষা
  3. বাদে
  4. সঙ্গে
ব্যাখ্যা
বিভক্তির ভিত্তিতে বাংলা ব্যাকরণের অনুসর্গ গুলোকে বিভক্তিহীন ও বিভক্তিযুক্ত এ দুই অবস্থায় দেখা যায়। যথা:

বিভক্তিহীন অনুসর্গ:
কিছু অনুসর্গ গঠনের দিক থেকে বিভক্তিহীন। যেমন: অপেক্ষা, অবধি, কর্তৃক, ছাড়া, দ্বারা, নাগাদ, পর্যন্ত, প্রতি, বিনা, ব্যতীত, মতো। ফারসি অনুসর্গ বিভক্তিহীন : দরুন, বনাম, বরাবর, বাবদ।]

• বিভক্তিযুক্ত অনুসর্গ:
এ জাতীয় অনুসর্গের অধিকাংশই নাম অনুসর্গ '-এ' বিভক্তিযুক্ত। যেমন: আগে, পরে, কাছে, কারণে, দিকে, নিচে, পাশে, পেছনে, বাইরে, ভেতরে, মধ্যে, মাঝে, সঙ্গে, সাথে, সামনে, সম্মুখে।

- ক্রিয়া অনুসর্গগুলো '-ইয়া জাত-এ' বিভক্তিযুক্ত। যেমন-করে, চেয়ে, থেকে, দিয়ে, লেগে, হতে। কোনে কোনো ফারসি অনুসর্গ 'এ' বিভক্তি যোগে গঠিত। যেমন-বদলে, বাদে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,০৭৩.
বিশেষণ বর্গের উদাহরণ কোনটি?
  1.  অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
  2. আমার ভাই পড়তে বসেছে।
  3. পোকায় খাঁওয়া কাঠ দিয়ে ভালো আসবাব হয় না।
  4. সে লিখছে আর হাসছে।
ব্যাখ্যা

বিশেষণবর্গ
- বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।

যেমন:
- আমটা দেখতে ভারী সুন্দর
- ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ
- পোকায় খাওয়া কাঠ দিয়ে আসবাব বানানো ঠিক নয়।

অন্যদিকে,
ক্রিয়াবর্গ:
- বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গতৈরি করে।
যেমন:
- সে লিখছে আর হাসছে

বিশেষ্যবর্গ:
- বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন 
- আমার ভাই পড়তে বসেছে।
- অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,০৭৪.
"আ মরি বাংলা ভাষা”- এ চরণে 'আ' দ্বারা কী প্রকাশ পেয়েছে?
  1. আগ্রাবাদ
  2. আবেগ
  3. আনন্দ
  4. আনুগত্য
ব্যাখ্যা
'মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা!' - এ চরণে 'আ' দ্বারা আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে।

• 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা!' - এটি অতুলপ্রসাদ সেন রচিত জনপ্রিয় দেশাত্ববোধক গান।
- তাঁর এই গানটি ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।
- অনেক আন্দোলন, ত্যাগ, তিতিক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত আমাদের মাতৃভাষা 'বাংলা', যার মাধ্যমে আমরা আবেগ, ভালোবাসা ইত্যাদি প্রকাশ করে আনন্দ পাই, এই ভাবই এই গানে প্রকাশ পেয়েছে।

তাছাড়া, 'আ' (অব্যয়) বিভিন্ন বাক্যে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়:

• আনন্দ প্রকাশে-  আ মরি বাংলা ভাষা!
• সুখবোধে - আ কি আরাম!
• বিদ্রূপে - আ মরণ আর কী!
• প্রশংসায় - আ মরি! আ মরি! কী শোভা!
• স্বস্তিতে - আ! বাঁচা গেল
• স্মরণে - আ, তাই বটে!

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৭৫.
'সে নিজে অঙ্কটা করেছে।' - বাক্যে 'নিজে' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. নির্দেশক সর্বনাম
  2. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  3. সাপেক্ষ সর্বনাম
  4. আত্মবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে।
যেমন:
- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,০৭৬.
"যৌবন জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়।"- এ বাক্যে ‘যৌবন’ শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. অব্যয় 
ব্যাখ্যা

• "যৌবন জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়।"- এ বাক্যে ‘যৌবন’ শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এখানে 'যৌবন' হলো গুণবাচক বিশেষ্য।
--------------

• গুণবচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা:
• মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা।
• তরল দ্রব্যের গুণ - তারল্য।
• তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ - তিক্ততা।
• তরুণের গুণ - তারুণ্য ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,০৭৭.
যোজককে প্রচলিত ব্যাকরণে কী বলে?
  1. ক) সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. খ) অনন্বয়ী অব্যয়
  3. গ) অনুসর্গ অব্যয়
  4. ঘ) অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা
যে পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন ও সংকোচন ঘটায় তাকে যোজক বলে। 
প্রচলিত ব্যাকরণে যোজককে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলা হয়েছে। 

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
২,০৭৮.
কোন বাক্যে প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ আছে?
  1. সে বই পড়ছে।
  2. তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
  3. সে ঘুমায়।
  4. শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

অন্যদিকে
দ্বিকর্মক ক্রিয়া - শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
অকর্মক ক্রিয়া - সে ঘুমায়।
সকর্মক ক্রিয়া - সে বই পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,০৭৯.
'ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।' - বাক্যটি কোন ধরনের বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. ঘটমান বর্তমান
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. বর্তমান অনুজ্ঞা
  4. সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।

যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,০৮০.
'তোমরা যা খুশি কর, আমি বিদায় হলাম।' বাক্যের ক্রিয়া কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. পুরাঘটিত অতীত কাল
  2. সাধারণ অতীত কাল
  3. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  4. নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অতীত:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন-
- প্রদীপ নিভে গেল।
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

• সাধারণ অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
(১) পুরাঘটিত বর্তমান স্থলে 'এক্ষণে জানিলাম, কুসুমে কীট আছে।'
(২) বিশেষ ইচ্ছা অর্থে বর্তমান কালের পরিবর্তে: তোমরা যা খুশি কর, আমি বিদায় হলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,০৮১.
'এ বছর আমি এসএসসি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছি।' - এ বাক্যের ক্রিয়াপদটি কোন কালের?
  1. ঘটমান অতীত
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. সাধারণ অতীত
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
- ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলেও তার ফল এখনো বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,০৮২.
সব্যয় পদ কত প্রকার?
  1. ক) ৫ প্রকার
  2. খ) ২ প্রকার
  3. গ) ৩ প্রকার
  4. ঘ) ৪ প্রকার
ব্যাখ্যা
পদ প্রধানত দুই প্রকার। যথা-সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ। সব্যয় পদ চার প্রকার।
যথা- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বণাম ও ক্রিয়া।
সুতরাং পদ মোট পাঁচ প্রকার।
যথা- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বণাম, ক্রিয়া ও অব্যয়।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৮৩.
'যাচ্ছি তাহলে।' - বাক্যটি কোন বর্তমান কালকে নির্দেশ করছে?
  1. অনুজ্ঞা বর্তমান
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা
• 'যাচ্ছি তাহলে।' - বাক্যটি ঘটমান বর্তমান কালকে নির্দেশ করছে।
-------------------
ঘটমান বর্তমান:
যে ক্রিয়া বর্তমানে চলছে বোঝায়, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।
যেমন,
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

• অনুমতি নিতেও বক্তাপক্ষে এ প্রকারটি ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- যাচ্ছি তাহলে। 



উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,০৮৪.
"আমি ছেলেবেলার কথা ভাবছিলাম।" - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত অতীত
  2. সাধারণ অতীত
  3. নিত্যবৃত্ত অতীত
  4. ঘটমান অতীত
ব্যাখ্যা
ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলেছিল, তখনো শেষ হয় নি বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীতকাল বলে।
যেমন:
- রিতা ঘুমাচ্ছিল।
- সুমন বই পড়ছিল।
- আমি ছেলেবেলার কথা ভাবছিলাম।

অন্যদিকে,
নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।
- আমি রোজ স্কুলে যেতাম।

সাধারণ অতীত:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,০৮৫.
নিচের কোন বাক্যে সম্বোধন আবেগ এর প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. আহ, কী চমৎকার দৃশ্য!
  2. ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
  3. ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।
  4. দূর! এ কথা কি বলতে আছে?
ব্যাখ্যা
• 'ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।'- বাক্যটিতে 'সম্বোধন' আবেগ এর প্রয়োগ ঘটেছে।

• আবেগ: 
- মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

সম্বোধন আবেগ:
এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।

অলংকার আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য
এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
- দূর ! এ কথা কি বলতে আছে?
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।

বিস্ময় আবেগ: 
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
আহ, কী চমৎকার দৃশ্য !

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২,০৮৬.
'এ জন্মের তরে বিদায় নিলাম।' এই বাক্য 'তরে' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ব্যাপ্তি অর্থে
  2. মধ্যে অর্থে
  3. সক্ষমতা অর্থে
  4. মত অর্থে
ব্যাখ্যা
'এ জন্মের তরে বিদায় নিলাম।' এই বাক্য 'তরে' মত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

এছাড়াও,
• অনুসর্গের প্রয়োগ:
- বিনা/বিনে: কর্তৃ কারকের সঙ্গে- তুমি বিনা (বিনে) আমার কে আছে?
- বিনি : করণ কারকের সঙ্গে- বিনি সুতায় গাঁথা মালা।
- বিহনে : উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ?

- সহ : সহগামিতা অর্থে-  তিনি পুত্রসহ উপস্থিত হলেন।
- সহিত : সমসূত্রে অর্থে-  শত্রুর সহিত সন্ধি চাই না।
- সনে: বিরুদ্ধগামিতা অর্থে-  'দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে।'
- সঙ্গে : তুলনায়-  মায়ের সঙ্গে এ মেয়ের তুলনা হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,০৮৭.
নিচের কোনটি ঘটমান অতীত কাল নির্দেশ করে?
  1. পড়ছিলাম
  2. পৌঁছেছিলাম
  3. উঠতাম
  4. করেছিলাম
ব্যাখ্যা
• ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন -
আমরা তখন বই পড়ছিলাম। 

অন্যদিকে, 
সাধারণ অতীত:
অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন -
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল

পুরাঘটিত অতীত:

অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম
- দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম

নিত্য অতীত:
অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন -
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,০৮৮.
কোনটি বিশেষণ পদ না?
  1. ক) দুঃসাহসী
  2. খ) অভিযাত্রী
  3. গ) চিরন্তন
  4. ঘ) প্রস্তুত
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য পদ - অভিযাত্রী, মানুষ, রাজ্য, দেশ, মঙ্গলগ্রহ।
বিশেষণ পদ - দুঃসাহসী, চিরন্তন, প্রস্তুত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২,০৮৯.
যে ক্রিয়া অতীত কালে প্রায়ই ঘটতাে, সেটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. ঘটমান অতীত
  4. নিত্য অতীত
ব্যাখ্যা
• নিত্য অতীত কাল:
- অতীত কালে প্রায়ই ঘটতাে এমন বােঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন-
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।

• ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায় তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন:
আমরা তখন বই পড়ছিলাম।

• পুরাঘটিত অতীত:
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরাে কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
গত বছর আমি কলকাতা গিয়েছিলাম।

• সাধারণ অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বােঝায় তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন:
তারা সেখানে বেড়াতে গেল।

পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলে এবং তার ফল এখনও বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত
হয়।
যেমন:
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
২,০৯০.
নিচের কোনটি 'বিশেষ্য' পদ?
  1. উজ্জ্বল
  2. সুন্দর
  3. পীড়িত
  4. সুপথ
ব্যাখ্যা
• 'সুপথ':
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- উত্তম পথ; সদুপায়।

অন্যদিকে,
• 'উজ্জ্বল':
- এটি বিশেষণ পদ।
এর অর্থ:
- আলোকিত, দীপ্তিমান, উদ্ভাসিত ইত্যাদি।

• 'সুন্দর':
- এটি বিশেষণ পদ।
এর অর্থ:
- সুশ্রী;, সুদর্শন।

• 'পীড়িত':
- এটি বিশেষণ পদ।
এর অর্থ:
- রোগগ্রস্থ, ,অসুস্থ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,০৯১.
'দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে'- এখানে 'বিনা' কি?
  1. উপসর্গ
  2. অনুসর্গ
  3. বিভক্তি
  4. কারক
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে, তাকে অনুসর্গ বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
- সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,০৯২.
বাক্যে বিশেষ্যের পরিবর্তে কোনটি ব্যবহার করা যায়?
  1. ক্রিয়া
  2. অনুসর্গ
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• সর্বনাম:
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।
- যেমন: "শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।"
- দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।
- সর্বনাম মোট নয় প্রকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,০৯৩.
"তারা বাড়িতে ফিরেছে।" - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত বর্তমান কাল: 
- ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলেও তার ফল এখনো বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।

উৎস:
১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,০৯৪.
নিচের কোনটি অর্কমক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) সে চিঠি লিখছে
  2. খ) সে রোজ সেখানে যায়
  3. গ) আমি চাঁদ দেখছি
  4. ঘ) সালমান ছবি আঁকছে
ব্যাখ্যা
সে রোজ সেখানে যায়- বাক্যটি অর্কমক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

সকর্মক ক্রিয়া
- যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া।
- ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ।
- কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া।

অকর্মক ক্রিয়া
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া।
- যেমনঃ সে রোজ সেখানে যায়। কী ‘যায়’ বা ‘কাকে যায়’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘যায়’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।


উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 
২,০৯৫.
কোন পদ বাক্যের শোভা বর্ধন করে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• অব্যয় পদ: 
- ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থ্যাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
- অব্যয় শব্দের সাথে কোন বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, এর কোন একবচন-বহুবচন হয় না।
- এই শব্দসমূহের কোন পুরুষবাচক বা স্ত্রীবাচক শব্দ নির্ণয় করা যায় না।

• যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বদ্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,০৯৬.
কর্তা নিজেই কোন কাজ করছে, তা বোঝাতে কোন সর্বনাম হয়?
  1. ব্যক্তিবাচক
  2. সামীপ্যবাচক
  3. আত্মবাচক
  4. সাপেক্ষ সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• আত্মবাচক সর্বনাম: 
- কর্তা নিজেই কোন কাজ করছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝাতে আত্মবাচক সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: 
নিজে (সে নিজে অঙ্কটি করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।
-------------- 
নির্দেশক সর্বনাম: 
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরুত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন-
- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি।
- দূর নির্দেশক:  ও, ওই, ওরা, উনি।

ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: 
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। যেমন- আমরা, তোমরা, তারা ইত্যাদি।

সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন - যারা-তারা, যে-সে,যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,০৯৭.
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে ___ সর্বনাম বলে।
  1. আত্মবাচক
  2. অনির্দিষ্ট
  3. সাপেক্ষ
  4. নির্দেশক
ব্যাখ্যা

সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে

যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।
 
অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,০৯৮.
যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাকে কী বলে?
  1. বিশেষণ
  2. ভাব বিশেষণ
  3. ভাববাচক বিশেষ্য
  4. নাম বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ভাব বিশেষণ:
- যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাকে ভাব বিশেষণ বলে।
- ভাব বিশেষণ ৪ প্রকার।

যথা:
১. ক্রিয়া বিশেষণ,
২. বিশেষণের বিশেষণ,
৩. অব্যয়ের বিশেষণ ও
৪. বাক্যের বিশেষণ।

অন্যদিকে,
বিশেষণ:
- যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।

• ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদের কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা- গমন (যাওয়ার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভোজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শোয়ার কাজ) দেখা, শোনা ইত্যাদি ভাববাচক বিশেষ্য।

নাম বিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,০৯৯.
'রোগ হলে ওষুধ খাবে।' - কী অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে?
  1. বিধান
  2. উপদেশ
  3. আদেশ
  4. অনুরোধ
ব্যাখ্যা
• রোগ হলে ওষুধ খাবে। - 'বিধান' অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে।

অনুজ্ঞা পদ:
- আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

• ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
(১) আদেশে: সদা সত্য বলবে
(২) সম্ভাবনায়: চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে
(৩) বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে
(৪) অনুরোধে: কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,১০০.
বুকের রক্তে লিখেছি একটি নাম, বাংলাদেশ। - বাক্যের ক্রিয়াটি কোন কালের?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।

যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।
- বুকের রক্তে লিখেছি একটি নাম, বাংলাদেশ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।