বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা / ৩১ · ১০১২০০ / ৩,০২৪

১০১.
কোন কালের ক্ষেত্রে অনুজ্ঞা হয় না?
  1. অতীত কালে
  2. বর্তমান কালে
  3. ভবিষ্যৎ কালে
  4. ঘটমান ভবিষ্যৎ কালে
ব্যাখ্যা
• অতীত কালে অনুজ্ঞা হয় না।

• ক্রিয়ার কাল ৩ প্রকার।
- বর্তমান কাল,
- অতীত কাল,
- ভবিষ্যৎ কাল।

• বর্তমান কাল ৪ প্রকার -
- সাধারন বর্তমান,
- ঘটমান বর্তমান,
- পুরাঘটিত বর্তমান,
- অনুজ্ঞা বর্তমান।

• অতীত কাল ৪ প্রকার -
- সাধারন অতীত,
- ঘটমান অতীত,
- পুরাঘটিত অতীত,
- নিত্য অতীত।

• ভবিষ্যৎ কাল ৪ প্রকার -
- সাধারন ভবিষ্যৎ,
- ঘটমান ভবিষ্যৎ,
- পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ,
- অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০২.
'নিমেষ মাঝেই সব শেষ।' - বাক্যে 'মাঝে' অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. মধ্যে
  2. একদেশিক
  3. ক্ষণকাল
  4. ব্যাপ্তি
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অর্থে অনুসর্গের প্রয়োগ:

'মধ্যে' অর্থে - 'সীমার মাঝে অসীম তুমি'।
'একদেশিক' অর্থে - এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
'ক্ষণকাল' অর্থে - নিমেষ মাঝেই সব শেষ।
'ব্যাপ্তি' অর্থে - আছো তুমি জগৎ মাঝারে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০৩.
'না' শব্দটি?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• না (অব্যয় পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ক্রিয়ার অঘটন বা নিষেধ (এখন যেয়ো না)।
- অভাব (না আছে বিদ্যা না আছে বুদ্ধি)। 
- অনুরোধ বা অনুজ্ঞা (আমায় করতে দাও না)। আধিক্য (কত না ধন এ জগতে)।
- প্রশ্ন বা সন্দেহ (খাবে না?)।
- বিকল্প (কোনো না কোনো)।
- বিনা (না বুঝে কারে তুমি ভাসালে আঁখিজলে। রবীন্দ্র.)
 
অন্যদিকে,
• না অব্যয় পদ হিসেবে নঞর্থক বাংলা উপসর্গবিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
 
আবার, 
• না বিশেষ্য পদ হিসেবে অঞ্চলিক ভাষায় নৌকা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- না নিয়ে গেল বোয়াল-মাছে।
 
তবে ‘না’ শব্দের বহুল ব্যবহার হয় অব্যয় পদ হিসেবেই। তাই অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে অপশন ‘ঘ’ অব্যয় পদ গ্রহণ করা হয়েছে।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০৪.
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয়- 
  1. বিভক্তি
  2. পদ
  3. প্রত্যয়
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

পদ:
- বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে৷
- অন্যভাবে, শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।

• বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
- বিশেষ্য,
- সর্বনাম,
- বিশেষণ,
- ক্রিয়া,
- ক্রিয়াবিশেষণ,
- অনুসর্গ,
- যােজক,
- আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১০৫.
নিচের কোন শব্দটি বিশেষ্য?
  1. চঞ্চল
  2. চতুর
  3. চালাক
  4. চাতুর্য
ব্যাখ্যা

• চাতুর্য একটি বিশেষ্য পদ।

বিশেষ্য পদ:
- যে পদ কোন ব্যক্তি, বস্ত্ত, প্রাণী, সমষ্টি, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম, গুণ ইত্যাদির নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন- নীল থেকে সাদা ভালো।
- এখানে 'নীল' এটি বিশেষ্য পদ।

অন্যদিকে,
চঞ্চল, চতুর, চালাক - বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১০৬.
নিচের কোন বাক্যটিতে অসমাপিকা ক্রিয়া নেই?
  1. ভালো করে পড়াশোনা করলে।
  2. ভালো করে পড়াশোনা করবে।
  3. প্রভাতে সূর্য উঠলে।
  4. আমরা হাত-মুখ ধুয়ে।
ব্যাখ্যা
- ”ভালো করে পড়াশোনা করবে।” এটি একটি সমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ।
- এ বাক্যে কোন অসমাপিকা ক্রিয়া নেই।

• সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- ভালো করে পড়াশোনা করবে।
-  ছেলেরা খেলা করছে।
- এ বছর বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে,
- ভালো করে পড়াশোনা করলে।
- প্রভাতে সূর্য উঠলে।
- আমরা হাত-মুখ ধুয়ে। এ বাক্যগুলো অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫, এবং ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১০৭.
‘কফির চেয়ে সবুজ চা বেশি উপকারী।’ এই বাক্যে ‘বেশি’ হল-
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. বিশেষ্যের বিশেষণ
  3. বাক্যের বিশেষণ
  4. বিশেষণীয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যথা- সামান্য একটু দুধ দাও। রকেট অতি দ্রুত চলে। ঘিয়ের চেয়ে দুধ বেশি উপকারী। 
(বাংলা শব্দে দুটি বস্তুর মধ্যে অতিশায়নে জোর দিতে হলে মূল বিশেষণের আগে অনেক, অধিক, বেশি, অল্প, কম, অধিকতর প্রভৃতি বিশেষণীয় বিশেষণ যোগ করতে হয়।)
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী
১০৮.
”মা শিশু কে চাঁদ দেখাচ্ছেন”- বাক্যে ”দেখাচ্ছেন” কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সংযোগ ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. নামক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- মা শিশু কে চাঁদ দেখাচ্ছেন;

- এখানে ’দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১০৯.
এ ঘটনার পরে আর এখানে থাকা চলে না। - বাক্যে 'পরে' অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. দীর্ঘ বিরতি অর্থে
  2. পর্যন্ত অর্থে
  3. অবধি অর্থে
  4. স্বল্প বিরতি অর্থে
ব্যাখ্যা

"পরে" অনুসর্গের ব্যবহার:
পরে: স্বল্প বিরতি অর্থে - এ ঘটনার পরে আর এখানে থাকা চলে না।
পর: দীর্ঘ বিরতি অর্থে - শরতের পরে আসে বসন্ত।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১১০.
'সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।' - এটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. নিত্যবৃত্ত অতীত
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. সাধারণ অতীত
  4. ঘটমান অতীত
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

অন্যদিকে,
নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

সাধারণ অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১১.
'পছন্দ' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ক এবং খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• 'পছন্দ' শব্দটি বিশেষ্য এবং বিশেষণ উভয়রূপে পাওয়া যায়। 

পছন্দ (বিশেষণ):

- শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে আগত।
অর্থ -
- মনের মতো, মনঃপূত, ইচ্ছানুযায়ী মনোনীত,
- নির্বাচিত।

পছন্দ (বিশেষ্য):
অর্থ -
- নির্বাচন,
- মনোনয়ন,
- রুচি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১২.
'কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৭৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।' - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. সাধারণ বর্তমান
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
অতীতের কিংবা ভবিষ্যতের কোনো ঘটনা বর্তমান কালের ক্রিয়া দিয়ে হলে সেটি বর্তমান কাল হবে।
বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগের উদাহরণ এটি।
যেমন :
- সবাই যেন সভায় হাজির থাকে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।



উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০২১ সংস্করণ)
১১৩.
কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. অপেক্ষা
  2. ব্যতীত
  3. অপর
  4. কর্তৃক
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন - 
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। 

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা - 
- সাধারণ অনুসর্গ ও 
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 

অর্থ্যাৎ,
• অপেক্ষা, ব্যতীত, কর্তৃক → এগুলো অনুসর্গ।

• অপর - অনুসর্গ নয়।
- অপর - অন্যবাচক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

১১৪.
কোনটি কালবাচক ক্রিয়া বিশেষণ?
  1. ক) তিনি এখানে এসেছিলেন
  2. খ) ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়
  3. গ) গতকাল তিনি এসেছেন
  4. ঘ) একটু ঘুরে আসুন না
ব্যাখ্যা
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন-
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- গতকাল তিনি এসেছেন। 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
১১৫.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. উদ্ধত
  2. জাত
  3. গাম্ভীর্য
  4. দাম্ভিক
ব্যাখ্যা
• 'গাম্ভীর্য' (বিশেষ্য পদ):
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- গম্ভীর ভাব,
- চপলতার অভাব,
- প্রগাঢ়তা ইত্যাদি।

• গাম্ভীর্য শব্দের বিশেষণ রূপ - গম্ভীর।

অন্যদিকে,
- জাত ও উদ্ধত - বিশেষণ পদ।
- আর ‘দাম্ভিক’ শব্দটি বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১৬.
বক্তা বলেন, “চাঁদাবাজদের অত্যাচারে জনগণ আজ বিপন্ন” - কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  2. ঘটমান বর্তমান কাল
  3. সাধারণ বর্তমান কাল
  4. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল
ব্যাখ্যা
• ঘটমান বর্তমান কাল:
- যে কাজ শেষ হয়নি, এখনও চলছে সে কাজ বোঝানোর জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- হাসান বই পড়ছে।

ঘটমান বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ :
ক. বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তিতে ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যথা:
বক্তা বলেন, “চাঁদাবাজদের অত্যাচারে জনগণ আজ বিপন্ন”, “দিকে দিকে আগুন জ্বলছে”।

খ. ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অর্থে : চিন্তা করো না, কালই আসছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১৭.
'এই পুকুরের পানি ঘোলা।' - বাক্যটি কোন প্রকার বিশেষণ নির্দেশ করছে?
  1. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  2. গুণবাচক বিশেষণ
  3. বর্ণবাচক বিশেষণ
  4. বিধেয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা
বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

বিধেয় বিশেষণ:
বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেসব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
যেমন -
- লোকটা পাগল।
- এই পুকুরের পানি ঘোলা
বাক্য দুটির 'পাগল' ও 'ঘোলা' বিধেয় বিশেষণ।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১৮.
'পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা’ বাক্যটিতে ক্রিয়ার ভাবটি-
  1. নির্দেশক
  2. সাপেক্ষ
  3. অনুজ্ঞা
  4. আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা:
- আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

• বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:

 
• আদেশ অর্থে:
- কাজটি করে ফেল। তোমরা এখন যাও।

• উপদেশ অর্থে :
- সত্য গোপন করো না।
- কড়া রোদে ঘোরাফেরা করিস না।
- 'পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা।'
- মানুষ হও;
- ভালো হও।

• অনুরোধ অর্থে:
- আমার কাজটা এখন কর। অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
•প্রার্থনা অর্থে :
- আমার দরখাস্তটা পড়ুন।
• অভিশাপ অর্থে:
- মর, পাপিষ্ঠ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
১১৯.
'ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর' বাক্যে কোন ধরনের আবেগ এর ব্যবহার ঘটেছে?
  1. ক) প্রশংসা আবেগ
  2. খ) বিস্ময় আবেগ
  3. গ) সম্বোধন আবেগ
  4. ঘ) অলংকার আবেগ
ব্যাখ্যা
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
⇒ সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- বাহ, চমৎকার লিখেছ।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- উহ! কি বিপদে পরা গেল।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আরে! তুমি আবার কখন এলে?

⇒ করূণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আহা! বেচারার কত কষ্ট।

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১২০.
জাতিবাচক বিশেষ্যের দৃষ্টান্ত-
  1. ক) সমাজ
  2. খ) পানি
  3. গ) মিছিল
  4. ঘ) পাখি
ব্যাখ্যা
যে পদ দ্বারা কোন এক জাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বােঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- মানুষ, পাখি, নদী, পর্বত ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
১২১.
'বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।' বাক্যটি কোন ধরনের বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান 
  2. সাধারণ বর্তমান 
  3. ঘটমান বর্তমান 
  4. নিত্যবৃত্ত বর্তমান 
ব্যাখ্যা

• পুরাঘটিত বর্তমান:
যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।
- এবার মা খেতে ডেকেছেন।
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১২২.
'যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।' এখানে 'যত-ততই' কোন ধরনের যোজক?
  1. বিকল্প যোজক
  2. সাপেক্ষ যোজক
  3. সাধারণ যোজক
  4. বিরোধ যোজক
ব্যাখ্যা

• সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
 যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি

অন্যদিকে,
-------------------
• সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন -
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১২৩.
'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' - বাক্যে ’বেশ’ কী ধরনের বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক
  2. পূরণবাচক
  3. গুণবাচক
  4. ভাববাচক
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষণ :
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন
- 'খুব ভালো খবর' ও 'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

উল্লেখ্য
• বিশেষণ:
- যে শব্দ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের গুণ, পরিমাণ, রং, সংখ্যা ইত্যাদি বোঝায় বা বর্ণনা করে, তাকে বিশেষণ বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১২৪.
কোনটি অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ?
  1. আমরা ঢাকায় যাব।
  2. এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
  3. দু-এক দিনের মধ্যে জুয়েল আসবে।
  4. সদা সত্য কথা বলবে।
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ - সদা সত্য কথা বলবে

অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
- সদা সত্য কথা বলবে

অন্যদিকে,
- আমরা ঢাকায় যাব। এবং দু-এক দিনের মধ্যে জুয়েল আসবে। = সাধারণ ভবিষ্যৎ।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে। = ঘটমান ভবিষ্যৎ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২৫.
'কে জানত, আমার ভাগ্য এমন হবে?' - এটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ
  4. সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা
সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল:
যে ক্রিয়া পরে বা অনাগত কালে সংঘটিত হবে, তার কালকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।

যথা:
আমরা মাঠে খেলতে যাব।
শীঘ্রই বৃষ্টি আসবে।

সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
আক্ষেপ প্রকাশে অতীতের স্থলে ভবিষ্যৎ কাল ব্যবহার হয়।
যেমন-
কে জানত, আমার ভাগ্য এমন হবে?
সেদিন কে জানত যে ইউরোপে আবার মহাযুদ্ধের ভেরি বাজবে?

অতীত কালের ঘটনা সম্পর্কিত যে ক্রিয়াপদে সন্দেহের ভাব বর্তমান থাকে, তার বর্ণনায় সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ব্যবহার হয়।
যেমন
ভাবলাম, তিনি এখন বাড়ি গিয়ে থাকবেন।
তোমরা হয়তো 'বিশ্বনবি' পড়ে থাকবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২৬.
নিচের কোন শব্দত্রয় ব্যতিহারিক সর্বনাম?
  1. অন্য, অপর, পর
  2. আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে
  3. সব, সকল, সমুদয়
  4. অন্য, অপর, পর
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনাম সমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
১. ব্যাক্তিবাচক বা পুরুষবাচক - আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক - স্বয়ং, খোদ, নিজে, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক - এ, এই, এরা, ইহারা ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক - ঐ, ঐসব ইত্যাদি।
৫. সাকুল্যবাচক - সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক - কে, কি, কী, কোন, কাহার ইত্যাদি।
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক - কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক - আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক - যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক - অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।
১২৭.
'আমি আজ আলবত যাব।' নিম্নরেখ শব্দটি কোন ধরেনর অব্যয়?
  1. অনুসর্গ অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনোভাব প্রকাশে সহায়তা করে।

যেমন:
- মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।

এরূপ শব্দ ব্যবহারে বাক্য-
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
- নিশ্চয়ই পারব।
- আমি আজ আলবত যাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১২৮.
‘ছেলেরা মাঠে খেলছে।’- বাক্যে ‘খেলছে’ কোন ধরনের ক্রিয়া পদ?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. সংযোগ ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ রকম। এগুলো হলো:

• সরল ক্রিয়া:

একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে লিখছে।
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।
[এখানে ‘লিখছে’ ও ‘খেলছে’ এগুলো সরল ক্রিয়া।]

• প্রযোজক ক্রিয়া:
কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
[এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।]

• নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে আ বা আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বাজারে সবজির দাম কমছে না; (বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে আ যুক্ত হয়ে হয় কমা)।
-  জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়; (ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে -আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো)।

• সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
• করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা।
• কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা।
• হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া;
• দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া ইত্যাদি।

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২৯.
নাম অনুসর্গ কয় প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে আগত অনুসর্গকে নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ বলে। 
নাম অনুসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা :
- তৎসম
- তদ্ভব
- ফারসি

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ বোর্ড বই।
১৩০.
কোনটি সাধারণ অতীত?
  1. জানিয়েছিলে
  2. উঠতাম
  3. দেখলাম
  4. পড়ছিলাম
ব্যাখ্যা
সাধারণ অতীত:
- অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন -
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- আমি ছবিটি দেখলাম

অন্যদিকে,
ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন -
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম

পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে

নিত্য অতীত:
- অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন -
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩১.
'আমাদের' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. সকলবাচক সর্বনাম
  2. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  3. আত্মবাচক সর্বনাম
  4. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা

সর্বনাম
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।

সর্বনামকে নিচের নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:
- বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
- শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
- অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।
- শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে), মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ. ও)।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম: অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্যে প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন কে, কারা, কাকে, কার, কী (কী দিয়ে ভাত খায়?) ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম হয়। যেমন সবাই, সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত, সব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

১৩২.
নিচের কোনটি গুণবাচক বিশেষ্য?
  1. মধুর
  2. দর্শন
  3. সুন্দর
  4. তিক্ততা
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য: 
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা:
মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা।

গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ:
- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষ্য - দর্শন।
বিশেষণ পদ - মধুর, সুন্দর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ)।
১৩৩.
কোনটি অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. বলে, কয়ে
  2. আপন, তুমি
  3. ছাড়া, বনাম
  4. জোরে, আস্তে
ব্যাখ্যা
কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মততা, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)
১৩৪.
'তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।'- বাক্যটিতে কোন ধরণের ক্রিয়াবিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. খ) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. গ) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ঘ) পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
 ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন -
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন -
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
যথাসময়ে সে হাজির হয়।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন -
মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

 নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বােঝায়।
এগুলাে সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন -
সে এখন যাবে না।
তিনি বেড়াতে যাননি।
এমন কথা আমার জানা নেই।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে, বা',না’, ‘তাে  প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন -
কি: আমি কি যাব?
যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]

 
১৩৫.
'দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে।' এখানে 'সনে' একটি -
  1. প্রত্যয়
  2. অব্যয়
  3. অনুসর্গ
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে।' এখানে 'সনে' একটি - অনুসর্গ

অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
→ বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
→ সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
→ দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়। 

অনুসর্গের প্রয়োগ:
→ সহ: সহগামিতা অর্থে - তিনি পুত্রসহ উপস্থিত হলেন।
→ সহিত: সমসূত্রে অর্থে - শত্রুর সহিত সন্ধি চাই না।
সনে: বিরুদ্ধগামিতা অর্থে - 'দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে।'
→ সঙ্গে: তুলনায় - মায়ের সঙ্গে এ মেয়ের তুলনা হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩৬.
নিচের কোন বাক্যে ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের, কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত?
  1. আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম।
  2. শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল।
  3. তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে।
  4. আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি।
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়ার কাল:
- ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে।
- ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার: বর্তমান কাল, অতীত কাল ও ভবিষ্যৎ কাল।

• ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ:
 অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলাে ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ। 

• সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল। (ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত)।
- যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত)।

অন্যদিকে,
- আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান)।
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত)।
- তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল ভবিষ্যৎ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৩৭.
তোমার লেখা ভালো না। বাক্যে 'লেখা' কোন পদ?
  1. ক) ক্রিয়া
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) বিশেষ্য
  4. ঘ) বিশেষণের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
- লেখা, পড়া, চলা, বলা ইত্যাদি ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য।
- উক্ত শব্দগুলো - লেখে, পড়ে, চলে, বলে ইত্যাদি ক্রিয়া থেকে এই শব্দগুলো এসেছে।
- তাছাড়া লেখা একটি কৃদন্ত পদ। লিখ + আ = লেখা
- আর কৃদন্ত পদ বিশেষ্য অথবা বিশেষণ হয়।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩৮.
‘দহন’ শব্দের বিশেষণ রূপ কোনটি?
  1. ক) দাহ্য
  2. খ) দহনকারী
  3. গ) দগ্ধ
  4. ঘ) দাহ্যনীয়
ব্যাখ্যা

দহন [দহোন্‌] (বিশেষ্য)
১ দগ্ধকরণ; জ্বালা; পোড়া; দাহ।
২ অগ্নি (বেহান বিকাল যায় দহন সেবনে-কবি কঙ্কণ কুমুন্দরাম চক্রবর্তী)।
৩ ((আলঙ্কারিক)) যন্ত্রণা (হিয়ায় লইতে দহন দ্বিগুণ হয়-চণ্ডীদাস)।

দাহক (বিশেষণ) ; দহনকারী (বিশ্বদহন ক্রোধ)।
দহনক্রিয়া (বিশেষ্য) জ্বলনের কাজ (দহনক্রিয়ার অর্থই হল দ্রুতবেগে অক্সিজেনের সঙ্গে মিলন-শামসুল হক ফজলুর রহমান)।
দাহ্য; দহনীয় (বিশেষণ)  দহনের উপযুক্ত; দহনযোগ্য।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) √দহ্‌+অন(ল্যুট্‌)}

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান

১৩৯.
কোনটি ক্রিয়াজাত বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ক) বেকার
  2. খ) খাবার পানি
  3. গ) হাসিহাসি মুখ
  4. ঘ) জানাশোনা লোক
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াজাত বিশেষণের উদাহরণ হলো- খাবার পানি, হারানো সম্পত্তি, অনাগত দিন, ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৪০.
বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত অনুসর্গ নয় কোনটি?
  1. হতে
  2. কর্তৃক
  3. দ্বারা
  4. মতো
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
[অনুসর্গগুলো কখনো প্রতিপাদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।]

বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে। এগুলো হলো-
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।

[এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক (তৃতীয়া বিভক্তি), হইতে, হতে, চেয়ে (পঞ্চমী বিভক্তি), অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪১.
তর, তম, তন প্রত্যয়যুক্ত বিশেষণ পদের অন্ত ‘অ’ এর উচ্চারণ কীরূপ হয়?
  1. বিবৃত হয়
  2. প্রকৃত হয়
  3. সংবৃত হয়
  4. অপ্রকৃত হয়
ব্যাখ্যা

তর, তম, তন প্রত্যয়যুক্ত বিশেষণ পদের অন্ত ‘অ’ সংবৃত হয়।
- সংস্কৃত প্রয়োগ অনুসারেই বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণের মধ্যে আকর্ষিত রয়েছে। 

অ - ধ্বনির দুই রকম উচ্চারণ।
- বিবৃত বা স্বাভাবিক উচ্চারণ। যেমন : অমল, অনেক, কত।
- সংবৃত বা ও - ধ্বনির মতো উচ্চারণ। যেমন : ওধীর, ওতুল, মোন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণি)

১৪২.
'কখনও মিথ্যা বলবে না।' - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. ক) সাধারন বর্তমান
  2. খ) নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  3. গ) বর্তমান অনুজ্ঞা
  4. ঘ) নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা
 বর্তমান অনুজ্ঞা:
- আদেশ, অনুমতি, অনুরােধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বােঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয় তাকে বলে অনুজ্ঞা।
- আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।
যেমন: 
- আদেশ- তােমরা এখনি চলে যাও।
- অনুমতি- আপনি ভেতরে আসুন।
- অনুরােধ- আমাকে এক গ্লাস পানি দেবেন।
- উপদেশ- কখনও মিথ্যা বলবে না।

উৎস:
উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৩.
নিচের কোনটি সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) সে ঘুমায়
  2. খ) আমি চোখে দেখি না
  3. গ) ছেলেটি হাসে
  4. ঘ) আমি রাতে ভাত খাব না
ব্যাখ্যা

- যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া। ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ। কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া।
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমনঃ ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
- প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে।

যেমনঃ
অকর্মক: সে পড়ছে। সকর্মক: সে বই পড়ছে। 
অকর্মক: আমি রাতে খাব না। সকর্মক: আমি রাতে ভাত খাব না।
অকর্মক: আমি চোখে দেখি না। সকর্মক: আকাশে চাঁদ দেখি না।
অকর্মক: ছেলেটা কানে শোনে না। সকর্মক: ছেলেটা কথা শোনে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

১৪৪.
”কাল একবার এসো।” - কী অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে?
  1. সম্ভাবনা
  2. উপদেশ
  3. অনুরোধ
  4. বিধান
ব্যাখ্যা
• ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
- আদেশে অর্থে: সদা সত্য বলবে।
- সম্ভাবনায় অর্থে : চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
- বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধ অর্থে: কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)।

উল্লেখ্য,
আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
১৪৫.
’তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন’- এখানে 'করাচ্ছেন' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. নামক্রিয়া
  4. সংযোগ ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• ’তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন’- এখানে 'করাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।
---------------------------
• প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন
তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন;
রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৪৬.
”কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।” -বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. ঘটমান অতীত
  2. নিত্য অতীত
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. পুরাঘটিত অতীত
ব্যাখ্যা

• ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন
- কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।

• পুরাঘটিত অতীত:

- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে। 
যেমন:
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- বিষয় টা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

• পুরাঘটিত বর্তমান:
- এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন
- আমি অঙ্কটি করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।

• নিত্য অতীত:
- অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
- তারা সাগরের তীরেঝিনুক কুড়াত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ এবং ২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১৪৭.
কোনটি মধ্যম পুরুষ?
  1. আপনারা
  2. আমাদের
  3. তাহারা
  4. সে
ব্যাখ্যা
• বাংলা ব্যাকরণে কেবলমাত্র বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদেরই পুরুষ আছে। বিশেষণ ও অব্যয়ের কোন পুরুষ নাই।

পুরুষ তিন প্রকার। যথা-

• উত্তম পুরুষ: আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি
• মধ্যম পুরুষ: তুমি, তোমরা, তোমাকে, তোমাদের, আপনি, আপনারা ইত্যাদি মধ্যম পুরুষ।
• নাম পুরুষ: সে, তারা, তাহারা, তাদের, তাহাকে, তিনি, তাঁরা ইত্যাদি নাম পুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪৮.
নিচের কোনটি বিশেষণ?
  1. চাষি
  2. চালাকি 
  3. জ্ঞানী 
  4. মানুষ 
ব্যাখ্যা

• জ্ঞানী (বিশেষণ পদ)। 
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 


অন্যদিকে, 
• চাষি (বিশেষ্য পদ)। 
অর্থ: ভূমিকর্ষণ যার পেশা, কৃষক।

• চালাকি (বিশেষ্য পদ)।
অর্থ: চাতুরী, চালবাজি। ২ কৌশল, ফন্দি।

• মানুষজন (বিশেষ্য পদ)।
অর্থ: অনেক লোক, লোকজন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১৪৯.
বিশেষ্য পদ নয় কোনটি?
  1. বীরত্ব
  2. সুখ
  3. তাজা 
  4. গমন
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ নয়- তাজা। 

• তাজা (বিশেষণ পদ)। 
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- সদ্যপ্রাপ্ত, নতুন (তাজা খবর)।
- টাটকা (তাজা সবজি)।
- জীবন্ত; প্রাণবন্ত, প্রফুল্ল (তাজা প্রাণ)।

--------------------
বিশেষ্যের উদাহরণগুলো হলো:
• নজরুল, ঢাকা, মেঘনা, হিমালয়, অগ্নিবীণা- এই উদাহরণগুলো সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করে।
• মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী- এই উদাহরণগুলো জাতিবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করছে।
• বই, খাতা, কলম, লোহা, জল, চিনি- এই উদাহরণগুলো দ্রব্যবাচক বা বস্তুবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করছে।
• সভা, সমিতি, জনতা, মাহফিল, দল, পাল- এই উদাহরণগুলো সমষ্টিবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করছে। 
• গমন, দর্শন, ভোজন- এই উদাহরণগুলো ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বা অবস্থাবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করে।
• তারুণ্য, সৌন্দর্য, বীরত্ব, যৌবন, দুঃখ, সুখ-এই উদাহরণগুলো গুণবাচক বিশেষ্যকে নির্দেশ করে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১৫০.
আতঙ্ক আবেগের দৃষ্টান্ত -
  1. আহ্‌, কী চমৎকার দৃশ্য!
  2. উহ্‌, কি বিপদে পড়া গেল।
  3. দুর! এ কথা কি বলতে আছে?
  4. বাহ্‌, চমৎকার লিখেছ।
ব্যাখ্যা
• আতঙ্ক আবেগের দৃষ্টান্ত - উহ্‌, কি বিপদে পড়া গেল

আবেগ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ বলে।
- এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

আতঙ্ক আবেগ:
এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশ করে।
যেমন -
- উহ্‌, কি বিপদে পড়া গেল।
- বাপরে বাপ! কী ভয়ঙ্কর ছিল রাক্ষসটা।

অন্যদিকে,
• বিস্ময় আবেগ - আহ্‌, কী চমৎকার দৃশ্য!
• অলংকার আবেগ - দুর! এ কথা কি বলতে আছে?
• প্রশংসা আবেগ - বাহ্‌, চমৎকার লিখেছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫১.
কোনটি বাংলা অব্যয় শব্দ?
  1. ক) মাইরি
  2. খ) আবার
  3. গ) আপাতত
  4. ঘ) খুব
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় (উত্স অনুযায়ী) তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে।
বাংলা অব্যয় শব্দঃ আর, আবার, ও, হাঁ, না ইত্যাদি।
তৎসম অব্যয় শব্দঃ যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি।
বিদেশী অব্যয় শব্দঃ আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১৫২.
‘কি’, ‘যে’, ‘বা’ - প্রভৃতি কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  2. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫৩.
বাক্যের অপরিহার্য শব্দ কোনটি?
  1. নামপদ
  2. ক্রিয়াপদ
  3. কর্মপদ
  4. কর্তৃপদ
ব্যাখ্যা
• বাক্য গঠনের অপরিহার্য অঙ্গ - ক্রিয়াপদ।

• ক্রিয়াপদ:
- যে পদের দ্বারা কোন কার্য সম্পাদন করা বোঝায় তাকে ক্রিয়াপদ বলে।
- ক্রিয়াপদ বাক্য গঠনের অপরিহার্য অঙ্গ।
- ক্রিয়াপদ ভিন্ন কোনো মনোভাবই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় না।
- তবে কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য বা অনুক্ত থাকতে পারে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫৪.
কোন শব্দটি বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. আগ্নেয়
  2. লাজুক
  3. উন্নয়ন
  4. চালাক
ব্যাখ্যা
• 'উন্নয়ন'- শব্দটি বিশেষ্য। 
- উন্নয়ন এর বিশেষণ পদ- উন্নীত।
-----------------
অন্যদিকে, 
আগ্নেয় - বিশেষণ শব্দ।
লাজুক - বিশেষণ শব্দ।
চালাক - বিশেষণ শব্দ।
---------------
• বিশেষ্য পদ:
- যে পদ কোন ব্যক্তি, বস্ত্ত, প্রাণী, সমষ্টি, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম, গুণ ইত্যাদির নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন- নীল থেকে সাদা ভালো।
- এখানে 'নীল' এটি বিশেষ্য পদ।
 
• বিশেষণ পদ:
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, বৈশিষ্ট্য, ধর্ম ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন: 
- নিশীথ (বিশেষণ) রাতে বাজছে বাঁশি।
- দশটি (বিশেষণ) বছর।
- এ আমার চেনা (বিশেষণ) লোক।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৫৫.
'তার হাতের কাজ খুব নিখুঁত'- এখানে 'খুব' কী পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
• যে পদ বাক্যের অন্য কোন পদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
- অর্থাৎ, বিশেষণ পদ অন্য কোন পদ সম্পর্কে তথ্য বা ধারণা প্রকাশ করে, বা অন্য পদকে বিশেষায়িত করে।
-  বিশেষণ অনেক ধরণের হতে পারে; বিশেষণের বিশেষণ নামেও এক ধরণের বিশেষণ আছে।
- কোন বিশেষণ যদি অন্য একটি বিশেষণকেও বিশেষায়িত করে, তাকে বিশেষণের বিশেষণ বলে।

প্রশ্নোক্ত বাক্যের 'খুব' শব্দটি 'ভাল' শব্দকে বিশেষিত করেছে।
তাই 'খুব' শব্দটি বিশেষণের বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫৬.
বুদ্ধিমান-এর বিশেষ্য পদ কি?
  1. বুদ্ধি
  2. বুদ্ধিত্ব
  3. বোদ্ধা
  4. বুদ্ধিজীবী
ব্যাখ্যা
• 'বুদ্ধিমান' শব্দটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটির বিশেষ্য পদ - বুদ্ধি।

অন্যদিকে,
- 'বোদ্ধা' শব্দটি বিশেষণ পদ।
- 'বুদ্ধিজীবী' শব্দটি বিশেষণ পদ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৫৭.
"বৃষ্টি হচ্ছে, তবুও আমি স্কুলে যাব।" - এখানে 'তবুও' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• "বৃষ্টি হচ্ছে, তবুও আমি স্কুলে যাব।" - এখানে 'তবুও' অব্যয় পদ।

• 'তবুও' বলতে বোঝায় - তথাপি, তা সত্ত্বেও।

• অব্যয় পদ:
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
যথা-
১. বাংলা, 
২. তৎসম, 
৩. বিদেশি।

এগুলো হলো - 
• বাংলা অব্যয় শব্দ - আর, আবার, ও, হ্যাঁ।
• তৎসম অব্যয় শব্দ - যদি, যথা, সহসা, আপাতত, বরং।
• বিদেশী অব্যয় শব্দ - আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৮.
নিচের কোনটি বিদেশী অব্যয়?
  1. ক) শাবাশ
  2. খ) খুব
  3. গ) বরং
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
বিদেশী অব্যয় শব্দ - আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি। যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং ইত্যাদি তৎসম অব্যয় শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৫৯.
অনুসর্গ কী?
  1. শব্দ-বিভক্তি
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া-বিভক্তি
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র'বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।

যেমন-
- বিনা:দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
- সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে'বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)

• বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে। যেমন- 
- প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত, অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)

১৬০.
একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে কি বলে?
  1. ক) দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) মিশ্র ক্রিয়া
  4. ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন-
তাগিত দেওয়া অর্থে : ঘটনাটা শুনে রাখ।
নিরন্তরতা অর্থে : তিনি বলতে লাগলেন।
কার্যসমাপ্তি অর্থে : ছেলে মেয়েরা শুয়ে পড়ল।
আকস্মিকতা অর্থে : সাইরেন বেজে উঠল।
অভ্যস্ততা অর্থে : শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
অনুমোদন অর্থে : এখন যেতে পার।
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১৬১.
পদের লগ্নক কত ধরনের?
  1. দুই
  2. চার
  3. তিন
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
• পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।
- লগ্নক চার ধরনের:

বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৬২.
'পদ' বলতে কি বোঝায়?
  1. ক) কবিতা
  2. খ) যে কোনো শব্দ
  3. গ) প্রত্যয়ান্ত শব্দ বা ধাতু
  4. ঘ) বিভক্তিযুক্ত শব্দ
ব্যাখ্যা

উৎসঃ মাধ্যমিক ব্যাকরণ বোর্ড বই।
১৬৩.
অনুসর্গের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. অপেক্ষা, অবধি
  2. মাঝে, মধ্যে
  3. বাইরে, বাদে
  4. জোরে, আস্তে
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।
এই বাক্যে ‘ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ?
এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘-কে’, ‘-র’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন -
তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব।
সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬৪.
বাক্যের কোন পদটি সর্বদা ধ্রুব?
  1. বিশেষ্য পদ
  2. সর্বনাম পদ
  3. অব্যয় পদ
  4. ক্রিয়াপদ
ব্যাখ্যা

 অব্যয় পদ:
যে পদের কোন ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে।

অর্থাৎ, যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থাকে, যার সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় না এবং পুরুষ বা বচন বা লিঙ্গ ভেদে যে পদের রূপের বা চেহারারও কোন পরিবর্তন হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে।

• অব্যয় পদ বাক্যে কোন পরিবর্তন ছাড়াই ব্যবহৃত হয় এবং বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে কখনো বাক্যকে আরো শ্রচতিমধুর করে, কখনো একাধিক পদ বা বাক্যাংশ বা বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম - দশম শ্রেণী (২০১৮ সংস্করণ)।

১৬৫.
পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ কোনটি?
  1. খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
  2. তারা মাঠে খেলছিল।
  3. তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
  4. খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
ব্যাখ্যা
অতীত কাল:
- অতীতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হতো তাকে অতীত কাল বলে।
- অতীত কাল চার প্রকার: সাধারণ অতীত, ঘটমান অতীত, পুরাঘটিত অতীত এবং নিত্য অতীত।

পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আমরা মসজিদে পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

অন্যদিকে,
• ঘটমান অতীত - তারা মাঠে খেলছিল।
• সাধারণ অতীত - তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
• নিত্য অতীত - খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬৬.
‘এমনভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পারে’ বাক্যে কী ধরণের অব্যয়ের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. ক) সংযোজন
  2. খ) বিয়োজক
  3. গ) অনুগামী সমুচ্চায়ী
  4. ঘ) সংকোচন
ব্যাখ্যা
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

যেহেতু প্রশ্নে 'যেন' ব্যবহৃত হয়েছে যা সমুচ্চায়ী অব্যয়।
১৬৭.
'আমি স্কুলে যাচ্ছি।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. ঘটমান বর্তমান কাল
  2. সাধারণ বর্তমান কাল
  3. সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল
  4. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
ব্যাখ্যা
• ঘটমান বর্তমান কাল:
যে কাজ শেষ হয়নি, এখনও চলছে, সে কাজ বোঝানোর জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়। 
যথা:
- হাসান বই পড়ছে।
- তাহিয়া গান গাইছে।
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬৮.
কোনটি সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. কমে আসা
  2. এগিয়ে চলা
  3. উদয় হওয়া
  4. বুঝে নেওয়া
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার।
যথা:
- সরল ক্রিয়া,
- প্রযোজক ক্রিয়া,
- নাম ক্রিয়া,
- সংযোগ ক্রিয়া,
- যৌগিক ক্রিয়া।

 • সংযোগ ক্রিয়া: 
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - 
- হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া।

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন,
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬৯.
কোন পর্যন্ত পড়েছ? - এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি -
  1. বিশেষ্য
  2. অনুসর্গ
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ? - এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭০.
কিসের ভেদে ক্রিয়ার রূপের কোন পার্থক্য হয় না?
  1. ক) বচনভেদে
  2. খ) প্রয়োগভেদে
  3. গ) অর্থভেদে
  4. ঘ) বর্ণনাভেদে
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াপদ: ক্রিয়ামূল অর্থাৎ ধাতুর সঙ্গে কাল সময় ও পুরুষ জ্ঞাপক (ক্রিয়া) বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।

ক. পুরুষভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য দেখা যায়।
যেমন:
- আমি যাই।
- তুমি যাও।
- আপনি যান।
- সে যায়। তিনি যান। (সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে নাম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষের রূপ অভিন্ন।)

খ. বচনভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় না।
যেমন:
- আমি (বা আমরা) যাই।
- তুমি (বা তোমরা) যাও।
- সে (বা তারা) যায়।

গ. সাধারণ, সম্ভ্রমাত্মক, তুচ্ছার্থকভেদে মধ্যম ও নাম পুরুষের ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় হয়ে থাকে (উত্তম পুরুষের হয় না)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
১৭১.
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য পদ কোনটি?
  1. ক) খাতা
  2. খ) মাহফিল
  3. গ) পাখি
  4. ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
যে পদে বেশ কিছু সংখ্যক ব্যাক্তি বা প্রাণির সমষ্টি বোঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৭২.
'দুর্ভাগ্যবশত সভায় উপস্থিত হতে পারি নি।' বাক্যটিতে 'বশত' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) নিমিত্ত
  2. খ) কারণ
  3. গ) নিকট
  4. ঘ) প্রসঙ্গ
ব্যাখ্যা
'দুর্ভাগ্যবশত সভায় উপস্থিত হতে পারি নি।' বাক্যটিতে 'বশত' কারণ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৩.
'অলস' এর বিশেষ্য পদ কোনটি?
  1. অলসতা
  2. আলস্য
  3. আলসে
  4. আলসেমী
ব্যাখ্যা
• 'অলস' এর বিশেষ্য পদ - আলস্য
 
অন্যদিকে,
- 'আলসে' - বিশেষণ পদ।
- 'আলসেমি' - বিশেষ্য পদ।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৭৪.
’যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম।’  বাক্যটির ক্রিয়া অতীতের কিন্তু ঘটনা কোন কালের?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. সাধারণ অতীত
  4. সাধারণ ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

•সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
-  শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল। (ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের;কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)
- যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)

উল্লেখ্য,
⇒ ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ
- অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলো ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ।

- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি।

- প্রথম বাক্যে ক্রিয়ার কাল অতীত এবং ক্রিয়া ঘটার সময় অতীতের। কিন্তু দ্বিতীয় বাক্যে ক্রিয়ার কাল বর্তমান কালের এবং ক্রিয়া ঘটার সময় অতীতের। দ্বিতীয় বাক্যটি কালের বিশিষ্ট প্রয়োগের নমুনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

১৭৫.
কোনটি অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় এর উদাহরণ?
  1. অথচ
  2. যদিও
  3. বরং
  4. সুতরাং
ব্যাখ্যা

• অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন। 
যেমন: এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

অন্যদিকে,
সংকোচক অব্যয়:
- যে অব্যয় দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করে, তাকে সংকোচক অব্যয় বলে।
- ‘অথচ’ কিন্তু, বরং শব্দগুলো সংকোচক অব্যয়।

সংযোজক অব্যয়:
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং। 
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। 

বিয়োজক অব্যয়:
- বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।
যেমন: হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১৭৬.
নিচের কোনটি বিশেষণ নয়?
  1. ক) তুমি কী খাবে?
  2. খ) কবেকার গল্প মারছ!
  3. গ) তদীয় বইয়ের প্রতি আমার কোনো লোভ নেই।
  4. ঘ) স্বীয় উদ্যোগে প্রস্তুতি গ্রহণ করো।
ব্যাখ্যা
প্রশ্নবোধক সর্বনাম: মূলত সর্বনাম। প্রশ্নবোধক সর্বনামে যে প্রশ্ন থাকে তার উত্তর হিসেবে কোনো বিশেষ্যের নাম আসে।
সর্বনামজাত বিশেষণ: সর্বনামের সঙ্গে ‘ঈয়’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে অথবা কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্নবোধক সর্বনাম: শব্দটি দ্বারা কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝাবে, অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা স্থানের পরিবর্তে বসে।
সর্বনামজাত বিশেষণ: শব্দটি দ্বারা সাধারণত কোনো বিশেষ্যকে বিশেষিত করবে।

প্রশ্নবোধক সর্বনাম: সাধারণত শব্দটির পরে ক্রিয়া থাকে।
সর্বনামজাত বিশেষণ: সাধারণত শব্দটির পরে বিশেষ্য থাকে। 

প্রশ্নবোধক সর্বনাম: 
- ওখানে কে
- তুমি কাকে চাও? 
- কারা পড়ে আসেনি?
- তুমি কোথায় যাবে?
- তুমি কী খাবে?

সর্বনামজাত বিশেষণ: 
- অন্য লোকের দিকে তাকিয়ো না। 
- কত দিন না খেয়ে থাকবে?
- কবেকার কথা বলছ? একটু স্পষ্ট করে বলো।
- তদীয় সম্পত্তিতে আমার কোনো লোভ নেই। 
- স্বীয় উদ্যোগে করিম সাহেব কাজটি করলেন।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১৭৭.
'সাতজন লোক' – এখানে 'সাত' কোন পদ?
  1. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  2. সংখ্যাবাচক বিশেষণ
  3. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক বিশেষণ
  4. উপাদানবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• 'সাতজন লোক' - এখানে 'সাতজন' - সংখ্যাবাচক বিশেষণ পদ।

• নাম  বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

• নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৭৮.
গুণ- বিশেষ্য কোনটি?
  1. লবণ
  2. ধৈর্য
  3. জনতা
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা

• 'ধৈর্য'- গুণ- বিশেষ্যের উদাহরণ। 

বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৭৯.
কোনটি নির্দেশক সর্বনাম?
  1. একজন
  2. কিছু
  3. এরা
  4. কোথাও
ব্যাখ্যা
নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।

যেমন:
- নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

অন্যদিকে,
সাপেক্ষ সর্বনাম - যেমন- তেমন।
অনির্দিষ্ট সর্বনাম - কোথাও, কিছু, একজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৮০.
‘সুতরাং’ শব্দটি কী পদ?
  1. ক) অব্যয়
  2. খ) বিশেষ্য
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়। যেমন- হ্যাঁ, না, এবং, জন্য, আর, সহসা, হঠাৎ, সুতরাং, কিন্তু, ও, আবার ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৮১.
'তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!' -বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অনন্বয়ী অব্যয়
  2. অনুকার অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনুসর্গ অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনাে অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
- অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনােভাব প্রকাশে সহায়তা করে।
যেমন: মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।

• বাক্যে ব্যবহার: 'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!' - এখানে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয়।

• প্রশ্নে আলোচিত বাক্য- 'তুমি তাে ভারি সুন্দর ছবি আঁক!’
- বাক্যটিতে 'তো' অব্যয়টি অনন্বয়ী অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা বাক্যের অন্য পদের সাথে সরাসরি সম্বন্ধ না রেখে একটি বিশেষ ভাব (এখানে প্রশংসা বা জোর) প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৮২.
"খাবার পানি" - এখানে, 'খাবার' কোন ধরনের বিশেষণ পদ?
  1. ক্রিয়াজাত 
  2. অব্যয়জাত  
  3. সর্বনাম জাত 
  4. অনুকার অব্যয়জাত 
ব্যাখ্যা

• "খাবার পানি" - এখানে, 'খাবার' ক্রিয়াজাত বিশেষণ পদ।

বিভিন্নভাবে বিশেষণ গঠনের পদ্ধতি:
ক. ক্রিয়াজাত - হারানো সম্পত্তি, খাবার পানি, অনাগত দিন।
খ. অব্যয়জাত - আচ্ছা মানুষ, উপরি পাওনা, হঠাৎ বড়লোক।
গ. সর্বনামজাত - কবেকার কথা, কোথাকার কে, স্বীয় সম্পত্তি।
ঘ. সমাসসিদ্ধ - বেকার, নিয়ম-বিরুদ্ধ, জ্ঞানহারা, চৌচালা ঘর।
ঙ. বীপ্সামূলক - হাসিহাসি মুখ, কাঁদকাঁদ চেহারা, ডুবুডুবু নৌকা।
চ. অনুকার অব্যয়জাত - কনকনে শীত, শনশনে হাওয়া, ধিকিধিকি আগুন, টসটসে ফল, তকতকে মেঝে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১৮৩.
কোনটি পুরাঘটিত অতীত কাল?
  1. শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
  2. কাজটি কি তুমি করেছিলে?
  3. কাল সান্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
  4. বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

অন্যদিকে,
সাধারণ অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল সান্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৮৪.
‘আড়াই বছর বয়স মাত্র তার’- বাক্যে ‘আড়াই’ শব্দটি কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
• ‘আড়াই বছর বয়স মাত্র তার’- বাক্যে ‘আড়াই’ শব্দটি পরিমাণ-মাত্রাবাচক বিশেষণ

বিশেষণ পদ:
বিশেষণ হলো সেই শব্দশ্রেণি যা অন্য শব্দের অর্থকে বিশাদ বা সীমিত করে শব্দটিকে বিশেষিত করে। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর গুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে তখন বিশেষ্য শব্দের অর্থ বিশাদ হয়। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর পরিমাণ, সংখ্যা, সম্বন্ধ ইত্যাদি প্রকাশ করে তখন শব্দের অর্থ সীমিত হয়ে যায়।
যেমন:
- দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।
- অভিজ্ঞ উনিই ব্যাপারটা বুঝবেন।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮৫.
'গুরুত্ব' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

 গুণবাচক-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• গুরুত্ব (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- মনোযোগ আকর্ষণের যোগ্যতা।
- মূল্য, তাৎপর্য; ওজন।
- মহত্ত্ব, মাহাত্ম্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৮৬.
নিচের কোন বাক্যে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. একটু ঘুরে আসুন না!
  2. গতকাল তিনি ঘুরে গিয়েছেন।
  3. ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
  4. মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
ব্যাখ্যা
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- গতকাল তিনি ঘুরে গিয়েছেন।

অন্যদিকে,
- 'একটু ঘুরে আসুন না!' পদাণু ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ।
- 'ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।' ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ।
- 'মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।' স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮৭.
অনুসর্গের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. অপেক্ষা, অবধি
  2. সামনে, পিছনে
  3. বলে, কয়ে
  4. বাইরে, বাদে
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।
এই বাক্যে ‘ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ?
এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘-কে’, ‘-র’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন -
তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব।
সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮৮.
'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' - বাক্যটিতে 'মাঝে' কী?
  1. অনুসর্গ
  2. অব্যয়
  3. উপসর্গ
  4. প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• 'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' - বাক্যটিতে 'মাঝে' - অনুসর্গ

অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
→ বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
→ সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
→ দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়। 

অনুসর্গের প্রয়োগ:
মাঝে:
- মধ্যে অর্থে - 'সীমার মাঝে অসীম তুমি।'
- একদেশিক অর্থে - এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
- ক্ষণকাল অর্থে - নিমেষ মাঝেই সব শেষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮৯.
ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) চলন্ত গাড়ি
  2. খ) নীল আকাশ
  3. গ) দ্রুত চল
  4. ঘ) করুণাময় তুমি
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া বিশেষণ : যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা -
ক. ক্রিয়া সংঘটনের ভাব : ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
খ. ক্রিয়া সংঘটনের কাল : পরে একবার এসো।



উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১৯০.
'তাৎপর্য' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য পদ
  2. বিশেষণ পদ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• গুণবাচক-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• তাৎপর্য: (বিশেষ্য পদ)
অর্থ:
- গূঢ় অর্থ, মর্মার্থ, ভাবার্থ।
- গুরুত্ব।
-অভিপ্রায়। (বিশেষ্য পদ),

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৯১.
নিচের কোনটি বিশেষণ?
  1. অধুনা
  2. অভ্যুত্থান
  3. আকর
  4. আকাল
ব্যাখ্যা

অপশন বিশ্লেষণ:
ক) অধুনা → বর্তমানে / এখন (ক্রিয়া বিশেষণ)।
খ) অভ্যুত্থান → বিদ্রোহ / আন্দোলন (বিশেষ্য)।
গ) আকর → উৎস / ভাণ্ডার (বিশেষ্য)।
ঘ) আকাল → অন্নাভাব / দুর্ভিক্ষ (বিশেষ্য)।

এদের মধ্যে কোনোটি প্রকৃত বিশেষণ নয়।
রিয়েল জবের পরীক্ষা বিধায়, অপশন বিবেচনায় সবচেয়ে কাছাকাছি উত্তর ক) অধুনা নেওয়া হয়েছে, যদিও এটি বিশেষণ নয়, ক্রিয়া বিশেষণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৯২.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. ইচ্ছা
  2. অনিচ্ছা
  3. ইচ্ছাময়
  4. ঐচ্ছিক
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ - ঐচ্ছিক
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- ইচ্ছানুরূপ,ইচ্ছানুযায়ী।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - ইচ্ছাময়, অনিচ্ছা, ইচ্ছা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৯৩.
কোনটি অনুসর্গ?
  1. অপেক্ষা
  2. কর্তৃক
  3. অভিমুখে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

যেমন:
সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
কোন পর্যন্ত পড়েছ? - এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯৪.
'পূণ্যে মতি হোক।' বাক্যে 'পূণ্যে' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• 'পূণ্যে মতি হোক।' বাক্যে 'পূণ্যে' বিশেষ্য পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

- সাধারণত 'পূণ্য' শব্দটি বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এই বাক্যে 'পূণ্যে' গুণবাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

• গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
- যেমন- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৯৫.
'তাড়াতাড়ি কাজটি করাে' বাক্যটি কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. অনুজ্ঞা বর্তমান
  3. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  4. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা
'তাড়াতাড়ি কাজটি কোরাে' বাক্যটি অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল নির্দেশ করে।

⇒ সাধারণ বর্তমান : যে ক্রিয়া বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
- যেমন – আমি স্কুলে যাই।
               সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।

⇒ অনুজ্ঞা বর্তমান : যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরােধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে।
যেমন – তাড়াতাড়ি কাজটি করাে।
               সকলের মঙ্গল হােক।

⇒ সাধারণ ভবিষ্যৎ : ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বােঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন – আমবা রংপুরে যাব।
             দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।

⇒ অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ : যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরােধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন – তাড়াতাড়ি কাজটি কোরাে।
              ভালােভাবে পৌঁছে যেয়াে ।
১৯৬.
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো কাজের নাম বোঝায়, তাকে কোন ধরনের বিশেষ্য বলে ?
  1. ক) বস্তু-বিশেষ্য
  2. খ) সমষ্টি-বিশেষ্য
  3. গ) গুণ-বিশেষ্য
  4. ঘ) ক্রিয়া-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার।
- নাম-বিশেষ্য
- জাতি-বিশেষ্য
- বস্ত-বিশেষ্য
- সমষ্টি-বিশেষ্য
- গুণ-বিশেষ্য
- ক্রিয়া-বিশেষ্য

ক্রিয়া-বিশেষ্যঃ যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন,
- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯৭.
অকর্মক ক্রিয়া রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. সে ঘুমায়।
  2. আমি রোজ রাত দশটায় খাই।
  3. সে বই পড়ছে।
  4. তপু দীপুকে বলটি দিল।
ব্যাখ্যা
• ‘সে ঘুমায়।’- বাক্যে ‘ঘুমায়’ অকর্মক ক্রিয়াপদ।

-------------------
• ক্রিয়া পদ:

বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
 
বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার। 
যথা:
১. অকর্মক ক্রিয়া: বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়। 
- সে মাটিতে শোয়।
- সে ভালো দৌড়ায়।
[এই বাক্যেগুলোতে কোনাে কর্ম নেই।]
 
২. সকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
- আমি রোজ রাত দশটায় খাই।
[এই বাক্যে পড়ছে’ হলাে সকর্মক ক্রিয়া। বই’ হলাে ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।]

ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদের বই (২২৮ পৃষ্টা) অনুসারে,
সকর্মক ক্রিয়ায় কর্মপদ অকথিত থাকতে পারে। যেমন, 'আমি রোজ রাত দশটায় খাই।' এখানে 'কী' খাই বলা হয়নি, কিন্তু বলা সম্ভব ছিলো। এই সম্ভাবনাই সকর্মকের লক্ষণ।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তপু দীপুকে বলটি দিল।
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।]
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯৮.
কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্যের দৃষ্টান্ত?
  1. জনতা
  2. মানুষ
  3. সভা
  4. পানি
ব্যাখ্যা
• জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
• বস্তুবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বুঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন: মিছিল, সমাজ, সভা, জনতা, বহর, দল, সমিতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৯৯.
যোজক কাকে যুক্ত করে?
  1. পদ
  2. বর্গ
  3. বাক্য
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• যোজক: 
- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।
যেমন: 
এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।

• যোজকের প্রকারভেদ:
বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজক কে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

- সাধারন যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে। যেমন: করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।
- বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। যেমন: চা না-হয় কফি খান।
- বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।
- কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
- সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
২০০.
নিচের কোনটি কালনাম বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. আকাশ
  2. বৈশাখ
  3. সঞ্চিতা
  4. হিমালয়
ব্যাখ্যা
• কালনাম শ্রেণির নাম-বিশেষ্য- বৈশাখ।
--------------------------------------
• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন
•  ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
• স্থাননাম: ঢাকা,বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
• কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
• সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

অন্যদিকে,
• স্থাননাম শ্রেণির নাম-বিশেষ্য - হিমালয়,
• সৃষ্টিনাম শ্রেণির নাম-বিশেষ্য - সঞ্চিতা।
• বস্তুবাচক -বিশেষ্য - আকাশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।