বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা ১৮ / ৩১ · ১,৭০১১,৮০০ / ৩,০২৪

১,৭০১.
'পরে একবার এসো।' বাক্যে 'পরে' কোন ধরনের বিশেষণের উদাহারণ? 
  1. সর্বনামের বিশেষণ
  2. বিশেষণীয় বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. অব্যয়ের বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়া বিশেষণ:
যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। 
যথা-
ক. ক্রিয়া সংগঠনের ভাব- ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
খ. ক্রিয়া সংগঠনের কাল- পরে একবার এসো।

অন্যদিকে, 
--------------
• বিশেষণীয় বিশেষণ: যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যথা-
ক. নাম বিশেষণের বিশেষণ : সামান্য একটু দুধ দাও। এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
খ. ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ: রকেট অতি দ্রুত চলে।

• অব্যয়ের বিশেষণ: যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যথা- ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৭০২.
'সেদিন কে জানত যে ইউরোপে আবার মহাযুদ্ধের ভেরি বাজবে?' - এটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  2. সাধারণ বর্তমান
  3. সাধারণ অতীত
  4. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল:
যে ক্রিয়া পরে বা অনাগত কালে সংঘটিত হবে, তার কালকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন :
- শীঘ্রই বৃষ্টি আসবে।
- আমরা মাঠে খেলতে যাব।

সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
ক. আক্ষেপ প্রকাশে অতীতের স্থলে ভবিষ্যৎ কাল ব্যবহার হয়।
যেমন:
কে জানত, আমার এমন ভাগ্য হবে?
সেদিন কে জানত যে ইউরোপে আবার মহাযুদ্ধের ভেরি বাজবে?

খ. অতীতের কালের ঘটনা সম্পর্কিত যে ক্রিয়াপদে সন্দেহের ভাব বর্তমান থাকে, তার বর্ণনায় সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ব্যবহার হয়।
যেমন:
তোমরা হয়তো ‘বিশ্বনবি’ পড়ে থাকবে।
ভাবলাম, তিনি এখন বাড়ি গিয়ে থাকবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৭০৩.
দ্বিকর্মক ক্রিয়া রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. আনোয়ার বই পড়ে।
  2. মেয়েটি হাসে।
  3. আমি তোমাকে একটি কলম উপহার দেব।
  4. মাসুদ সারাদিন খেলেছিল।
ব্যাখ্যা
• সমাপিকা ক্রিয়ার গঠন:
সমাপিকা ক্রিয়া সকর্মক, অকর্মক ও দ্বিকর্মক হতে পারে। ধাতুর সঙ্গে বর্তমান, অতীত বা ভবিষ্যৎ কালের বিভক্তি যুক্ত হয়ে সমাপিকা ক্রিয়া গঠিত হয়।
যথা-
• আনোয়ার বই পড়ে। (ক্রিয়া সকর্মক, কাল- বর্তমান)।
• মাসুদ সারাদিন খেলেছিল।(ক্রিয়া অকর্মক, কাল- অতীত)।
• মেয়েটি হাসে। (এখানে, 'কী হাসে' বা 'কাকে হাসে' প্রশ্ন করলে কোন উত্তর হয় না। কাজেই 'হাসে' ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
• আমি তোমাকে একটি কলম উপহার দেব। (ক্রিয়া দ্বিকর্মক, কাল- ভবিষ্যৎ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭০৪.
কোনটি ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞার উদাহরণ?
  1. আপনি কথাটা বলুন।
  2. এক সময় বইটা পোড়ো।
  3. তুমি ভেতরে যাও।
  4. কাজটা তাড়াতিাড়ি করো।
ব্যাখ্যা
• ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে। ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার:
- সাধারণ ভবিষ্যৎ,
- ঘটমান ভবিষ্যৎ এবং
- অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।

• সাধারণ ভবিষ্যৎ:
ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমরা ঢাকা যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।

• ঘটমান ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন: 
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

• অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
- এক সময় বইটা পোড়ো।

অন্যদিকে,
• বর্তমান অনুজ্ঞাকালের উদাহরণ হলো:
- আপনি কথাটা বলুন।
- তুমি ভেতরে যাও।
- কাজটা তাড়াতিাড়ি করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৭০৫.
'আপনারা আসবেন' - বাক্যটিতে ক্রিয়ার কোন ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
  1. নির্দেশক ভাব
  2. অনুজ্ঞা ভাব
  3. সাপেক্ষ ভাব
  4. আকাঙক্ষা ভাব
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞা ভাব:
- আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়া পদের অনুজ্ঞা ভাব হয়।

যথা:
- চুপ করো।
- ছাতাটা দিন তো ভাই।
- আপনারা আসবেন
- মন দিয়ে পড়।
- অন্যায় কাজ করো না।
- মিথ্যা বলবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭০৬.
'মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়'- বাক্যটিতে কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ধরনবাচক
  2. কালবাচক
  3. স্থানবাচক
  4. পদাণু
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়া বিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫সংস্করণ)।

১,৭০৭.
'তোমার কাছে সুখ চেয়ে পেলাম শুধু লজ্জা।' - এ বাক্যে অনুসর্গ কোনটি?
  1. লজ্জা
  2. সুখ
  3. তোমার
  4. কাছে
ব্যাখ্যা
- তোমার কাছে সুখ চেয়ে পেলাম শুধু লজ্জা। - বাক্যে অনুসর্গ হচ্ছে - কাছে

অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে। যেমন -
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ? - এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭০৮.
‘ছেলেরা ক্রিকেট খেলে’-বাক্যে ‘ক্রিকেট’ পদটি -
  1. বলক
  2. সলগ্নক পদ
  3. বচন
  4. অলগ্নক পদ
ব্যাখ্যা
গঠনগতভাবে পদ দুই রকমের। যথা -
- অলগ্নক পদ,
- সলগ্নক পদ। 
 
সলগ্নক পদ:
• বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক পদ বলে। যেমন -
'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'
- এ বাক্যে 'ছেলেরা' ও 'খেলে' সংলগ্নক পদ।
 
অলগ্নক পদ:
• যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলোকে অলগ্নক পদ বলে। যেমন -
'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'
- এ বাক্যে 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ২০২২ সংস্করণ।
১,৭০৯.
কোন শব্দের সাথে 'খানা' নির্দেশক শব্দটি বসে?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. ক্রিয়া
  4. অব্যয়
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক:
- যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন-টা, টি, খানা, -খানি, -জন, -টুকু।

কিছু নির্দেশকের ব্যবহার:
- বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে-টা, -টি নির্দেশক বসে।
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-খানা, -খানি নির্দেশক বসে।
-  বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে -টুকু নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়।

যেহেতু প্রশ্নের অপশনে 'বিশেষণ' - রয়েছে তাই উত্তর হিসেবে এটিই গ্রহণ করা হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২২ সংস্করণ)।
১,৭১০.
অসমাপিকা ক্রিয়া কয় ধরনের?
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।

• অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
- ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
- ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
- শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৭১১.
'এখন তবে আসি।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করছে?
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল
  2. সাধারণ বর্তমান কাল
  3. ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল
  4. ঘটমান বর্তমান কাল
ব্যাখ্যা
সাধারণ বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সে ভাত খায়।
- আমি বাড়ি যাই।

সাধারণ বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ-
(১) অনুমতি প্রার্থনায় (ভবিষ্যৎ কালের অর্থে): এখন তবে আসি।
(২) প্রাচীন লেখকের উদ্ধৃতি দিতে (অতীত কালের অর্থে): চণ্ডীদাস বলেন, 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'
(৩) বর্ণিত বিষয় প্রত্যক্ষীভূত করতে (অতীতের স্থলে): আমি দেখেছি, বাচ্চাটি রোজ রাতে কাঁদে।
(৪) 'নেই', 'নাই' বা 'নি' শব্দযোগে অতীত কালের ক্রিয়ায়: তিনি গতকাল হাটে যাননি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১,৭১২.
বাংলা ভাষায় ‘অনুসর্গ’ বসে
  1. শব্দের আগে
  2. শব্দের পরে
  3. বাক্যের পূর্বে
  4. বাক্যের মধ্যে
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:  
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে। 
যেমন -
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ? 

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে '-কে', '-র' ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন -
- তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব।
- সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে।

• অনুসর্গ দুই প্রকার। যথা:
১. সাধারণ অনুসর্গ ও
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৭১৩.
‘সমুদয়’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. যোজক
ব্যাখ্যা
• ‘সমুদয়’ সর্বনাম পদের উদাহরণ।

------------------------
• সর্বনাম:

বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন- আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭১৪.
"সে নিজে কাজটা করছে।" - এখানে 'নিজে' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. আত্মবাচক সর্বনাম
  3. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  4. নির্দেশক সর্বনাম
ব্যাখ্যা

আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে কাজটা করছে।),
- স্বয়ং ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে।
যেমন:
- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,৭১৫.
'কোন পর্যন্ত পড়েছ?'—এখানে 'পর্যন্ত' শব্দটি কোন পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্য
  2. উপসর্গ
  3. অনুসর্গ
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন - 
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ। 

• কোন পর্যন্ত পড়েছ?
এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। 

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা - 
- সাধারণ অনুসর্গ ও 
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

১,৭১৬.
কোনটি বর্তমান কালের অনুজ্ঞা?
  1. অসুস্থ হলে ওষুধ খাবে।
  2. আমাকে তুমি রক্ষা করো, প্রভু।
  3. বড় হও, বুঝতে পারবে।
  4. সব সময় সত্যি বলবে।
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞা:
আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয়, তাকে অনুজ্ঞা বলে।

বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
যেমন:
- তোমরা কাজ করো।
- রোহান লিখুক।
- মিথ্যা কথা বলো না।
- অঙ্কটা বুঝিয়ে দেবেন?
- আমাকে তুমি রক্ষা করো, প্রভু।
- আদেশ করুন জাহাপনা।

অন্যদিকে,
ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
যেমন:
- সব সময় সত্যি বলবে।
- বড় হও, বুঝতে পারবে।
- অসুস্থ হলে ওষুধ খাবে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,৭১৭.
'মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছে' এ বাক্যে দেখাচ্ছে কোন ক্রিয়া?
  1. ক) অসমাপিকা
  2. খ) সমাপিকা
  3. গ) দ্বিকর্মক
  4. ঘ) প্রযোজক
ব্যাখ্যা

প্রযোজক ক্রিয়াঃ কর্তার যে ক্রিয়া অন্যকে দিয়ে করানো হয়, তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন,
মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছে,
সাপুড়ে সাপ খেলায়,
মা শিশুটিকে হাসান।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭১৮.
কোন বাক্যে প্রযোজক ক্রিয়া আছে?
  1. সে বই পড়ছে।
  2. রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
  3. শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
  4. সে ঘুমায়।
ব্যাখ্যা

প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
সকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে ৷
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
- এই বাক্যে 'পড়ছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া।
- 'বই' হলো ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।

অন্যদিকে:
অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়। এই বাক্যে কোনো কৰ্ম নেই ৷

দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে ।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন’ একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
- 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (‘বই’), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (‘ছাত্রকে’)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,৭১৯.
‘দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে।’ বাক্যে ‘সনে’ অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সহগামিতা
  2. তুলনায়
  3. বিরুদ্ধগামিতা
  4. সমসূত্রে
ব্যাখ্যা
• এখানে 'সহ" 'সহিত' 'সঙ্গে' 'সনে' -এগুলা একেক বাক্যে একেক অর্থ প্রকাশ করেছে।
যেমন:
১. তিনি পুত্র সহ উপস্থিত হলেন। (সহগামীতা অর্থে),
২. শত্রুর সহিত সন্ধি চাইনা। (সমসূত্রে অর্থে),
৩. মায়ের সঙ্গে এই মেয়ের তুলনা হয়না। (তুলনায় অর্থে),
৪. দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে। (বিরুদ্ধগামীতা অর্থে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭২০.
নিচের কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. বিস্ময়
  2. বুদ্ধিমত্তা
  3. সৌহার্দ
  4. স্বতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ - স্বতন্ত্র
- 'স্বতন্ত্র' শব্দের বিশেষ্য পদ - স্বাতন্ত্র্য।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- স্বাধীন,
- ভিন্ন, পৃথক।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - বিস্ময়, বুদ্ধিমত্তা, সৌহার্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৭২১.
নিচের কোনটি ক্রিয়া-বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ধৈর্য 
  2. আনন্দ
  3. দয়া
  4. ভোজন
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-----------------
• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,৭২২.
"সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।" - এ বাক্যে 'ছাড়া' হলো- 
  1. উপসর্গ 
  2. অনুসর্গ 
  3. ধাতু
  4. যোজক 
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন - 
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ। 

• কোন পর্যন্ত পড়েছ?
এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। 

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা - 
- সাধারণ অনুসর্গ ও 
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

১,৭২৩.
নিচের কোন বাক্যে প্রযোজক ক্রিয়া আছে?
  1. ক) বাবা ছেলেকে পড়াচ্ছেন।
  2. খ) বাবা ছেলের জন্য বই এনেছেন।
  3. গ) শিক্ষক ছাত্রদের বেতাচ্ছেন। 
  4. ঘ) মা ছেলের জন্য চিন্তা করছেন।
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়া একজনের (কর্তার) প্রযোজনায় বা চালনায় অন্যের দ্বারা অনুষ্ঠিত হয় তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন : 
- মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। 
- শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। 
- সাপুড়ে সাপ খেলায়

উৎস : ভাষা—শিক্ষা ও বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ।
১,৭২৪.
'জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো'- বাক্যে ‘এবং’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. অনুসর্গ
  2. যোজক
  3. আবেগ
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১,৭২৫.
‘এ ঘটনার পরে আর এখানে থাকা চলে না। নিম্নরেখ অনুসর্গটি কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) দীর্ঘ বিরতি অর্থে
  2. খ) পেছনে
  3. গ) স্বল্প বিরতি অর্থে
  4. ঘ) ভবিষ্যৎ অর্থে
ব্যাখ্যা
- 'পরে' অনুসর্গটি দুইটি অর্থে শব্দে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন-
"শরতের পরে আসে বসন্ত" এখানে 'পরে' অনুসর্গটি দীর্ঘ বিরতি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
'এই ঘটনার পরে আর এখানে থাকা চলে না' এই বাক্যে স্বল্প বিরতি অর্থে 'পরে' অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭২৬.
'তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না' - বাক্যে নিম্নরেখ পদটি কী ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ধরনবাচক
  2. নেতিবাচক
  3. পদাণু
  4. স্থানবাচক
ব্যাখ্যা
নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বােঝায়।
- এগুলাে সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন:
- সে এখন যাবে না
- তিনি বেড়াতে যাননি
- এমন কথা আমার জানা নেই
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৭২৭.
'পাথুরে মূর্তি'- এখানে 'পাথুরে' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. পরিমাণবাচক
  2. উপাদানবাচক
  3. ভাববাচক
  4. নির্দিষ্টতাবাচক
ব্যাখ্যা
উপাদানবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি – এখানে ‘বেলে' ও ‘পাথুরেউপাদানবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
পরিমাণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- আধা কেজি চাল, অনেক লোক – এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন –
- 'খুব ভালো খবর' ও ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে'- এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৭২৮.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. আরণ্যক
  2. অভ্যাস
  3. গাম্ভীর্য
  4. মাধুর্য
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ - আরণ্যক
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- বনসম্বন্ধীয়।
- বনস্থিত।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - অভ্যাস, গাম্ভীর্য, মাধুর্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৭২৯.
“তুমি খোকাকে কাঁদিও না।” - এখানে ‘তুমি’ হচ্ছে -
  1. প্রযোজ্য কর্তা
  2. সহায়ক কর্তা
  3. প্রযোজক কর্তা
  4. প্রধান কর্তা
ব্যাখ্যা
“তুমি খোকাকে কাঁদিও না।” - এখানে ‘তুমি’ হচ্ছে প্রযোজক কর্তা।
এখানে,
- তুমি: প্রযোজক কর্তা
- খোকাকে: প্রযোজ্য কর্তা
- কাঁদিও না: প্রযোজক ক্রিয়া

প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের (কর্তার) প্রযোজনা বা চালনায় অন্যের দ্বারা অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে বলে প্রযোজক ক্রিয়া। (সংস্কৃতে একে ণিজন্ত ক্রিয়া বলে)।
যেমন-আনিস শাস্তুকে পড়াচ্ছে। এখানে প্রকৃতপক্ষে পড়ার কাজটি শান্ত করছে, কিন্তু কাজটি পরিচালনা করছে আনিস।

প্রযোজক কর্তা: যে ক্রিয়া প্রযোজনা করে, তাকে বলে প্রযোজক কর্তা।
পূর্ববর্তী উদাহরণে আনিস প্রযোজক কর্তা আর পড়াচ্ছে প্রযোজক ক্রিয়া।

প্রযোজ্য কর্তা: যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।

• উদাহরণ -
-মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
এখানে,
- মা : প্রযোজক কর্তা
- শিশুকে: প্রযোজ্য কর্তা
- চাঁদ দেখাচ্ছেন: প্রযোজক ক্রিয়া

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৭৩০.
'শয়ন' শব্দটি কোন পদ?
  1. অব্যয়
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন: 
- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার: ১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-
বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

১,৭৩১.
নিচের কোনটি বিভক্তিহীন অনুসর্গ?
  1. আগে
  2. বাইরে
  3. অপেক্ষা
  4. সামনে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) অপেক্ষা।

----------------------
বিভক্তির ভিত্তিতে বাংলা ব্যাকরণের অনুসর্গ গুলোকে বিভক্তিহীন ও বিভক্তিযুক্ত এ দুই অবস্থায় দেখা যায়।
যথা:

• বিভক্তিহীন অনুসর্গ:
কিছু অনুসর্গ গঠনের দিক থেকে বিভক্তিহীন।
যেমন: অপেক্ষা, অবধি, কর্তৃক, ছাড়া, দ্বারা, নাগাদ, পর্যন্ত, প্রতি, বিনা, ব্যতীত, মতো। ফারসি অনুসর্গ বিভক্তিহীন : দরুন, বনাম, বরাবর, বাবদ।

• বিভক্তিযুক্ত অনুসর্গ:
এ জাতীয় অনুসর্গের অধিকাংশই নাম অনুসর্গ '-এ' বিভক্তিযুক্ত।
যেমন: আগে, পরে, কাছে, কারণে, দিকে, নিচে, পাশে, পেছনে, বাইরে, ভেতরে, মধ্যে, মাঝে, সঙ্গে, সাথে, সামনে, সম্মুখে।

- ক্রিয়া অনুসর্গগুলো '-ইয়া জাত-এ' বিভক্তিযুক্ত।
যেমন-করে, চেয়ে, থেকে, দিয়ে, লেগে, হতে। কোনে কোনো ফারসি অনুসর্গ 'এ' বিভক্তি যোগে গঠিত। যেমন-বদলে, বাদে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৭৩২.
‘আর, অথবা, কারণ’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. যোজক
  2. অনুসর্গ
  3. আবেগ
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১,৭৩৩.
নিচের কোনটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. দ্বারা
  2. জন্য
  3. বনাম
  4. দিয়ে
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. সাধারণ অনুসর্গ ও
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:
সাধারণ অনুসর্গ যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলােকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ তােমার দ্বারা হবে না।
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৭৩৪.
কোন বাক্যটির ক্রিয়াপদ অকর্মক?
  1. মেয়েটি জোরে জোরে হাসছে।
  2. ছেলেটি দ্রুত দৌড়াচ্ছে।
  3. তারা সকালে পার্কে দৌড়ায়।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
অকর্মক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া।
- অকর্মক ক্রিয়ার ক্রিয়া পদটিকে 'কী' বা 'কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করলে কোন উত্তর পাওয়া না।
যেমন:
- মেয়েটি জোরে জোরে হাসছে।
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়াচ্ছে।
- তারা সকালে পার্কে দৌড়ায়।
এখানে,
'কী হাসে' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে কোন উত্তর হয় না। কাজেই উদাহরণগুলোর ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৩৫.
'আপন ভালো সবাই চায়' - এখানে 'ভালো' শব্দটি -
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণের বিশেষণ
  4. বিশেষ্যের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'আপন ভালো সবাই চায়' - এখানে 'ভালো' শব্দটি বিশেষ্য। 

================= 
• বিশেষ্য:
বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন:
- আপন ভালো সবাই চায়। 
বাক্যে ‘ভালো’ বিশেষ্যরূপে ব্যবহৃত হয়েছে।

এরূপ বিশেষ্য পদদ্বারা গঠিত বাক্য:

• বিশেষণরূপে - রহিম ভাল ছেলে।
• বিশেষ্যরূপে - আপন ভাল সবাই চায়।
• বিশেষণরূপে - মন্দ কথা বলতে নেই।
• বিশেষ্যরূপে - এখানে তুমি মন্দ কী দেখলে?
• বিশেষণরূপে - সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
• বিশেষ্যরূপে - এ এক বিরাট সত্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৩৬.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. দোষ দেওয়া
  2. মন দেওয়া
  3. চেপে রাখা
  4. উদয় হওয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
 • সংযোগ ক্রিয়া: 
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - 
- হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া।
- কথা দেওয়া, দোষ দেওয়া, মন দেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,৭৩৭.
'শ টাকা' কোন প্রকার বিশেষণের উদাহরণ?
  1. সংখ্যাবাচক
  2. ক্রমবাচক
  3. পরিমাণবাচক
  4. অংশবাচক
ব্যাখ্যা
বিশেষণের প্রকারভেদ:
বিশেষণ পদকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- নাম বিশেষণ এবং ভাব বিশেষণ।
নাম বিশেষণকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- বিশেষ্যের বিশেষণ এবং সর্বনামের বিশেষণ।
ভাব বিশেষণকে আবার চার ভাগে ভাগ করা যায় যথা- ক্রিয়া বিশেষণ, বিশেষণের বিশেষণ, অব্যয়ের বিশেষণ এবং বাক্যের বিশেষণ।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ: নাম বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা
• রূপবাচক : কালাে মেঘ, নীল আকাশ, সবুজ মাঠ।
• গুণবাচক : দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া, চৌকস লোক।
• অবস্থাবাচক : মােটা মেয়ে, রােগা ছেলে, তাজা মাছ, খোঁড়া পা।
• সংখ্যাবাচক : শ টাকা, হাজার লােক, দশ দশা।
• ক্রমবাচক : পঞ্চাশ পৃষ্ঠা, অষ্টম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা। 
• পরিমাণবাচক : এক কেজি চিনি, তিন কিলােমিটার রাস্তা, বিঘাটেক জমি, দশ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ।
• অংশবাচক : ষােল আনা দখল, সিকি পথ, অর্ধেক সম্পত্তি।
• উপাদানবাচক : কাঠের জানালা, পাথরের মূর্তি, বেলে মাটি, মেটে কলসি।
• প্রশ্নবাচক : কেমন অবস্থা? কতদূর পথ? • নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক : এই মেয়ে, ষােলই ডিসেম্বর ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৩৮.
'জাদুকর জাদু দেখায়।'- এই বাক্যের 'জাদুকর'-
  1. প্রযোজক কর্তা
  2. প্রযোজ্য কর্তা
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. সমধাতুজ কর্ম
ব্যাখ্যা
• প্রযোজক কর্তা: 
- মুখ্য কর্তা যখন অন্যকে দিয়ে ক্রিয়া সম্পাদন করায় তাকে বোঝায়। 
যেমন: 
-  কৃষক গরু দিয়ে চাষ করায়।
এখানে 'কৃষক' হচ্ছে প্রযোজক কর্তা।
যেমন :
জাদুকর জাদু দেখায়।
বাক্যে ‘জাদুকর’ প্রযোজক কর্তা, ‘জাদু’ প্রযোজ্য কর্তা, ‘দেখায়’ প্রযোজক ক্রিয়া।

• প্রযোজক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটি ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)।
যেমন: তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন।

প্রযোজ্য কর্তা :
- যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন : মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
বাক্যে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা, ‘শিশুকে’ প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন’ প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৩৯.
কোনটি বিশেষণ পদ নয়?
  1. অবজ্ঞা
  2. অজ্ঞাত
  3. অবজ্ঞাত
  4. অবজ্ঞেয়
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ নয় - অবজ্ঞা। 
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- উপেক্ষা, তাচ্ছিল্য, ঘৃণা, অপমান।

অন্যদিকে, 
বিশেষণ পদ - অজ্ঞাত, অবজ্ঞাত এবং অবজ্ঞেয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৭৪০.
নিচের কোন বাক্যে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ আছে?
  1. তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।
  2. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
  3. কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  4. মাথার উপরে নিল আকাশ।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
• করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
• ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
• দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
• বলে: তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।

অন্যদিকে,
সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
• উপরে: মাথার উপরে নিল আকাশ।
• কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
• দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১,৭৪১.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. হ্রাস পাওয়া
  2. ডিগবাজি খাওয়া
  3. অস্ত যাওয়া
  4. হেসে ওঠা
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়া: 
- সমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা,
- সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া,
- বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১,৭৪২.
"ঝাঁক, বহর" কোন ধরনের বিশেষ্য পদ?
  1. জাতিবাচক
  2. গুণ বিশেষ্য
  3. ভাববাচক
  4. সমষ্টিবাচক
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য ।
----------------------
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন – 
জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বহর, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৭৪৩.
'বন্য' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- "বন্য" শব্দটি একটি — বিশেষণ পদ।

• 'বন্য' (বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- বনে জাত বা উৎপন্ন, বুনো।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৭৪৪.
'প্রচুর' শব্দের বিশেষ্য রূপ কোনটি?
  1. ক) প্রাচুর্য
  2. খ) প্রাচুর্য্য
  3. গ) প্রাচুর্যতা
  4. ঘ) প্রাচুর্য্যতা
ব্যাখ্যা
'প্রচুর' শব্দের বিশেষ্য রূপ = 'প্রাচুর্য'

প্রচুর (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্র+√চুর্‌+অ
অর্থ: ঢের, পর্যাপ্ত

প্রাচুর্য (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রচুর+য
অর্থ:
- আধিক্য
- বাহুল্য
- প্রচুরতা 
- ধনাঢ্যতা 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৭৪৫.
'উৎকর্ষ' শব্দটি -
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• 'উৎকর্ষ' শব্দটি 'বিশেষ্য' পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ: 
- উৎকৃষ্টতা, শ্রেষ্ঠত্ব,
- উন্নতি, বৃদ্ধি; আধিক্য।

উল্লেখ্য,
উৎকর্ণ - বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৭৪৬.
"খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।" - এটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. ঘটমান অতীত
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. নিত্য অতীত
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা

নিত্য অতীত:
- অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন:
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

অন্যদিকে,
পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম। 
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন -
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম। 
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

১,৭৪৭.
অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ কোনটি?
  1. স্বপন চিঠি লিখছে।
  2. আমি সেখানে যাব না।
  3. ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলছে।
  4. ছেলেটি কথা শোনে।
ব্যাখ্যা
• অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।

যেমন - 
- যেমন সে ঘুমায়। 
- এই বাক্যে কোনো কৰ্ম নেই। 
আবার,
আমি সেখানে যাব না। - কী বা ‘কাকে’ দ্বারা প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘যাব’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।

সকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- নাছরিন খেলা করছে।
এই বাক্যে 'করছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'খেলা' হলো 'করছে' ক্রিয়ার কর্ম।

তেমনিভাবে,
স্বপন চিঠি লিখছে।
কাঞ্চন বই পড়ছে।
ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলছে
রহিম বই পড়ে।
ছেলেটি কথা শোনে।
মেয়েটি গান গাচ্ছে।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৭৪৮.
'উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে।'- বাক্যে 'উঃ' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. অনুসর্গ অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা
• উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে- যন্ত্রণা প্রকাশে 'উঃ' অনন্বয়ী অব্যয়। 

-----------------
• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনোভাব প্রকাশে সহায়তা করে।

যেমন:
- মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।

এরূপ শব্দ ব্যবহারে বাক্য-
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
- নিশ্চয়ই পারব।
-আমি আজ আলবত যাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৭৪৯.
"আমার ছোট ভাই লিখছে।" - এটি কোন বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. ঘটমান
  2. সাধারণ
  3. নিত্যবৃত্ত
  4. পুরাঘটিত
ব্যাখ্যা
ঘটমান বর্তমান:
- যে ক্রিয়ার কাজ বর্তমানে ঘটছে বা চলছে, এখনো শেষ হয়ে যায় নি, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।

যেমন:
- আমার ছোট ভাই লিখছে।
- ছেলেরা এখনো ফুটবল খেলছে।
- টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক দেখাচ্ছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,৭৫০.
অনুসর্গ কোথায় ব্যবহৃত হয় না?
  1. ক) শব্দের আগে
  2. খ) শব্দের পরে
  3. গ) বিভক্তির পরে
  4. ঘ) প্রাতিপদিকের পরে
ব্যাখ্যা
- অনুসর্গ কখনো শব্দের পূর্বে বসে না, সেই হিসেবে সঠিক উত্তর হলো: 'শব্দের আগে'।
- শব্দের আগে ব্যবহৃত হয় উপসর্গ।
- তাছাড়া অনুসর্গ কখনো শব্দের পরে, কখনো প্রাতিপদিকের পরে আবার কখনো কখনো 'কে' বা 'রে' বিভক্তির পরে বসে থাকে।

অনুসর্গ-
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় শব্দ বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
১,৭৫১.
‘কি’ এর ব্যবহার কোন পদের হয়?
  1. ক) সর্বনাম
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা

- সর্বনাম , বিশেষণ ও ক্রিয়া বিশেষণ পদ রূপে বসলে 'কী' এর ব্যবহারহর।

- যেমনঃ কী বলছো তুমি? কী করছো? কী পরছো? কী খেলে? কী বলবো? 'পদ কত প্রকার ও কী কী ইত্যাদি

- কিন্তু অব্যয় পদ হিসেবে যদি ব্যবহার করতে হয় তাহলে 'কি' লিখতে হয়। 

- যেমনঃ তুমি কি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাও?

 -তুমি কি বিসিএস পরীক্ষা দিতে চাও?

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৫২.
থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) কালের বিস্তার
  2. খ) কালের প্রখরতা
  3. গ) ভাবের গভীরতা
  4. ঘ) পৌণপুনিকতা
ব্যাখ্যা

বিশিষ্টার্থক বাগ্ধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ :
- ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো। (সতর্কতা)
- ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা। (ভাবের প্রগাঢ়তা)
- থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। (কালের বিস্তার)
- লোকটা হাড়ে হাড়ে শয়তান। (আধিক্য)

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

১,৭৫৩.
“সে বন্ধুর জন্য কষ্ট পাচ্ছে।” এখানে "জন্যে" কোন পদ?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষণ
  3. অনুসর্গ
  4. বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• “সে বন্ধুর জন্য কষ্ট পাচ্ছে।” এখানে "জন্য" অনুসর্গ/অবয় পদ।

অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।

• এ বাক্যে "জন্যে" শব্দটি বন্ধুর জন্য 'নিমিত্ত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করছে, যা অনুসর্গের বৈশিষ্ট্য।

সুতরাং, "জন্যে" একটি অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৫৪.
কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য?
  1. পর্বত
  2. পাখি
  3. মানুষ
  4. জনতা
  5. মাটি
ব্যাখ্যা
• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বুঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন: মিছিল, সমাজ, সভা, জনতা, বহর, দল, সমিতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

• বস্তুবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৭৫৫.
'অভিজাত' এর বিশেষ্য রূপ কোনটি??
  1. অভিজাত্ব
  2. আভিজাত্য
  3. অভিজাততা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

'অভিজাত' এর বিশেষ্য রূপ - আভিজাত্য।

অভিজাত (বিশেষণ):
১) সম্ভ্রান্ত, মর্যাদাসম্পন্ন।
২) ভদ্রোচিত, শিষ্ট।
৩) জ্ঞানী।
৪) বিত্তবান।
৫) কল্পিত উচ্চবংশীয়, কুলীন।

আভিজাত্য(বিশেষ্য):
১) পাণ্ডিত্য। 
২) শীলতা।
৩) কৌলিন্য, বংশমর্যাদা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৭৫৬.
'দুর্ভাগ্যবশত সভায় উপস্থিত হতে পারিনি' - বাক্যে ‘বশত’ অনুসর্গ কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. নিকট
  2. কারণ
  3. ব্যাপ্তি
  4. দিকে
ব্যাখ্যা
• 'দুর্ভাগ্যবশত সভায় উপস্থিত হতে পারিনি'  বাক্যে ‘বশত’ অনুসর্গ 'কারণে' অর্থ প্রকাশ করেছে।

বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে:
- প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৫৭.
'লোকটি দরিদ্র কিন্তু সৎ' এ বাক্যে ‘কিন্তু’ হলো -
  1. ক) অনুকার অব্যয়
  2. খ) সংকোচক অব্যয়
  3. গ) সংযোজক অব্যয়
  4. ঘ) অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

সংকোচক অব্যয় - কিন্তু, বরং, অথচ। সুতরাং, 'লোকটি দরিদ্র কিন্তু সৎ' এ বাক্যে ‘কিন্তু’ হলো সংকোচক অব্যয়।
সংযোজক অব্যয় - আর, অধিকন্তু, সুতরাং।
বিয়োজক অব্যয় - বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী

১,৭৫৮.
কোনটিতে বস্তুবাচক বিশেষ্য রয়েছে?
  1. ক) সবুজ মাঠ
  2. খ) তাজা মাছ
  3. গ) অর্ধেক পথ
  4. ঘ) বেলে মাটি
ব্যাখ্যা
যে পদে কোন উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে৷
এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়৷
যথা- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চনি, লবণ, পানি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৫৯.
নিচের কোন বাক্যটিতে অলংকার আবেগ প্রকাশ পায়?
  1. জ্বালা ! তোমাকে নিয়ে আর পারি না।
  2. বাহ, চমৎকার লিখেছ।
  3. যাকগে, ওসব কথা থাক।
  4. উহ! কি বিপদে পরা গেল।
ব্যাখ্যা
• অলংকার আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশের জন্যে অলংকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক।
- দূর, এ কথা কি বলতে আছে?

অন্যদিকে,
বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন,
- ছি ছি ! এরকম কথা মুখে মানায় না।
- জ্বালা ! তোমাকে নিয়ে আর পারি না।

• প্রশংসা আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: বাহ, চমৎকার লিখেছ।

• আতঙ্ক আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: উহ! কি বিপদে পরা গেল।

• করুণা আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: আহা! বেচারার কত কষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৭৬০.
কোনটি বিশেষণ বাচক শব্দ? 
  1. জীবন
  2. জীবনী
  3. জীবিকা
  4. জীবাণু
ব্যাখ্যা
• জীবনী শব্দটি অর্থভেদে বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয় শব্দ হিসেবি ব্যবহৃত হয়।

• জীবনী একটি সংস্কৃত শব্দ।
• জীবনী (বিশেষণ পদ),
- প্রাণশক্তি দান করে এমন অর্থে জীবনী বিশেষণ বাচক।

• জীবনী (বিশেষ্য পদ)
অর্থ:জীবনবৃত্তান্ত বা জীবন কাহিনি অর্থে 'জীবনী' বিশেষ্য পদ।

-----------------
অন্যদিকে,
• জীবন (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: প্রাণ, আয়ু।

• জীবিকা (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: বৃত্তি, পেশা।

• জীবাণু (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: খালি চোখে দেখা যায় না এমন অতি ক্ষুদ্রপ্রাণী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৭৬১.
'দেশসেবার মহত্তম ব্রতই সৈনিকের দীক্ষা।' - বাক্যে 'মহত্তম' কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক্রমবাচক বিশেষণ
  2. বিধেয় বিশেষণ
  3. বিশেষণের অতিশায়ন
  4. ভাববাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
বিশেষণের অতিশায়ন:
বিশেষণ পদ যখন দুই বা ততোধিক বিশেষ্য পদের মধ্যে গুণ, অবস্থা, পরিমাণ প্রভৃতি বিষয়ে তুলনায় একের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বুঝিয়ে থাকে, তখন তাকে বিশেষণের অতিশায়ন বলে।
যেমন -
- যমুনা একটি দীর্ঘ নদী, পদ্মা দীর্ঘতর, কিন্তু মেঘনা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী।
- সূর্য, পৃথিবী ও চন্দ্রের মধ্যে তুলনায় সূর্য বৃহত্তম, পৃথিবী চন্দ্রের চেয়ে বৃহত্তর এবং চন্দ্র পৃথিবী অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর

তৎসম শব্দের অতিশায়ন:
১. তৎসম শব্দের অতিশায়নে দুয়ের মধ্যে 'তর' এবং বহুর মধ্যে 'তম' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে থাকে।
যেমন -
→ গুরু-গুরুতর-গুরুতম।
→ দীর্ঘ-দীর্ঘতর-দীর্ঘতম।
কিন্তু 'তর' প্রত্যয়যুক্ত বিশেষণটি শ্রুতিকটু হলে 'তর' প্রত্যয় যোগ না করে বিশেষণের পূর্বে 'অধিকতর' শব্দটি যোগ করতে হয়।
যেমন - অশ্ব হস্তী অপেক্ষা অধিকতর সুশ্রী।

২. বহুর মধ্যে অতিশায়নে তুলনীয় বস্তুর উল্লেখ না করেও 'তম' প্রত্যয় যুক্ত হতে পারে।
যেমন -
- মেঘনা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী।
- দেশসেবার মহত্তম ব্রতই সৈনিকের দীক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)
১,৭৬২.
"যথা কর্ম তথা ফল।"- এ বাক্যে কোন ধরনের অব্যয়ের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. অনন্বয়ী অব্যয়
  2. প্রত্যয়ান্ত অব্যয়
  3. নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়
  4. অব্যয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়:
- কতকগুলো যুগ্ম শব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত।
যেমন:
- যথা-তথা,
- যখন-তখন,
- যেমন-তেমন,
- যে রূপ- সে রূপ ইত্যাদি।

বাক্যে উদাহরণ:
- যথা ধর্ম তথা জয়।
- যত গর্জে তত বর্ষে না।
- যথা কর্ম তথা ফল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,৭৬৩.
কোনটি ভাববাচক বিশেষ্য?
  1. সৌরভ
  2. দর্শন
  3. তারুণ্য
  4. উৎকর্ষ
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ:
কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার। যথা-
১. বিশেষ্য,
২. নামবাচক,
৩. জাতিবাচক,
৪. বস্তুবাচক,
৫. সমষ্টিবাচক,
৬. ভাববাচক,
৭. গুণবাচক।

• ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যথা- যাওয়ার ভাব বা কাজ গমন।
তদ্রুপ: ভোজন, শয়ন, দর্শন, দেখা, শোনা প্রভৃতি।

আবার, ধাতুর বা প্রাতিপদিকের পর 'আই' প্রত্যয় যুক্ত করে ভাববাচক বিশেষ্য গঠিত হয়। চড়ু + আই = চড়াই, বড় + আই = বড়াই ইত্যাদি।

• গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। যথা- মধুর মিষ্টত্বের গুণ মধুরতা।

তদ্রুপ-
সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৬৪.
সাধারণ বাক্যের প্রধান অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) কর্তা
  2. খ) পদ
  3. গ) কর্ম
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবােধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।

সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ:
- কর্তা,
- কর্ম ও
- ক্রিয়া।

- বাক্যের ক্রিয়াকে যে চালায়, সে হলাে কর্তা।
- যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে বলে কর্ম।
- আর বাক্যের মধ্যে যে অংশ দিয়ে কোনাে কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বােঝায় তাকে বলে ক্রিয়া।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৭৬৫.
‘আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি।’ -বাক্যটি ঘটনা ভবিষ্যতের, কিন্তু ক্রিয়া কোন কালের?
  1. সাধারণ বর্তমান 
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. সাধারণ ভবিষ্যত
  4. ঘটমান ভবিষ্যত
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলো ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ।

যেমন:
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি।
প্রথম বাক্যে ক্রিয়ার কাল অতীত এবং ক্রিয়া ঘটার সময় অতীতের। কিন্তু দ্বিতীয় বাক্যে ক্রিয়ার কাল বর্তমান কালের এবং ক্রিয়া ঘটার সময় অতীতের। দ্বিতীয় বাক্যটি কালের বিশিষ্ট প্রয়োগের নমুনা।

• ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

• সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- ঈশ্বরচন্দ্রবিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালেমৃত্যুবরণ করেন। (ঘটনা অতীতের;কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)
- সবাই যেন সভায় হাজির থাকে। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

১,৭৬৬.
'মন্দ কথা বলতে নেই।' বাক্যে 'মন্দ' কোন পদ?
  1. ক) ক্রিয়া
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) বিশেষ্য
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে। বাক্যটিতে কথা বিশেষ্য পদ। মন্দ কথার দোষ প্রকাশ করেছে। তাই বাক্যে মন্দ বিশেষণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৬৭.
'নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।'- বাক্যের ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তিটি কোন পদ নির্দেশ করছে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• 'নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।'- বাক্যের ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তিটি বিশেষণ পদ নির্দেশ করছে।
 
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। 
 
• বিভিন্ন পদরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার:
- বিশেষ্য: বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।
- বিশেষণ: 'নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।'
- ক্রিয়া: কলকলিয়ে উঠল সেথায় নারীর প্রতিবাদ।
- ক্রিয়া বিশেষণ: 'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।'
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৬৮.
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।' বাক্যে 'টাপুর টুপুর' কোন পদ?
  1. ক) অনুসর্গ অব্যয়
  2. খ) অনন্বয়ী অব্যয়
  3. গ) সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. ঘ) অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা
যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয় সেগুলোকে অনুকার অব্যয় বলে। যথা- বজ্রের ধ্বনি- কড় কড়, বৃষ্টির তুমুল শব্দ- ঝম ঝম, শুষ্ক পাতার শব্দ- মর মর, বাতাসের গতি-, শন শন, কোকিলের রব- কুহু কুহু, বৃষ্টি পড়ার শব্দ- টাপুর টুপুর ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৬৯.
'যদি রোধ ওঠে, তবে রওনা দেবো'- বাক্যটিতে কোন ধরনের যোজক ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. কারণ যোজক
  2. বিরোধ যোজক
  3. সাপেক্ষ যোজক
  4. বিকল্প যোজক
ব্যাখ্যা
'যদ রোধ ওঠে, তবে রওনা দেবো'- বাক্যটিতে 'সাপেক্ষ যোজক' ব্যবহৃত হয়েছে।  

• সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন – যত গর্জে তত বর্ষে না। 
যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব ।
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

• কারণ যোজক: 
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন – যেহেতু ঠান্ডা লেগেছে তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না। 
জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি। 
বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• বিকল্প যোজক:
এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে ।
যেমন – সারাদিন খুঁজলাম অথচ বইটা পেলাম না। 
লাল বা নীল কলমটা আনো ৷
চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন - এত বৃষ্টি হলো তবু গরম গেল না। 
এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না ৷
তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
১,৭৭০.
”শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।” বাক্যটিতে ”দিলেন” কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. অসমাপিকা ক্রিয়া
  2. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  3. অকর্মক ক্রিয়া
  4. ত্রিকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
- এই বাক্যে 'দিলেন' একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
- 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম ('বই'), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম ('ছাত্রকে')।

উল্লেখ্য,
- বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার:
- সকর্মক ক্রিয়া।
- অকর্মক ক্রিয়া।
- দ্বিকর্মক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫,সালের সংস্করণ।
১,৭৭১.
কোনটি পুরাঘটিত বর্তমানের উদাহরণ?
  1. প্রতিদিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
  2. তারা বাড়িতে ফিরেছে।
  3. আমাদের পরীক্ষা চলছে।
  4. বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত বর্তমান কাল: 
- ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলেও তার ফল এখনো বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।

বাকি অপশনগুলো হলো:
• প্রতিদিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম। - নিত্যবৃত্ত বর্তমান।
• আমাদের পরীক্ষা চলছে। - ঘটমান বর্তমান।
• বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম। - পুরাঘটিত অতীত।

উৎস:
১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৭৭২.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. চাটুকারী
  2. চাটুকার
  3. চাটুকারিতা
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ - চাটুকার
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- তোষা-মোদ করে এমন, তোষামোদকারী।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - চাটুকারিতা। 

উল্লেখ্য, 
- 'চাটুকারী' শব্দ অভিধানে নেই।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৭৭৩.
'নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশী' এ বাক্যে 'নিশীথ' কোন পদ?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নে 'নিশীথ' বিশেষণ পদ।
উদাহরণ- 
বিশেষণ রূপে - নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি ।
বিশেষ্য রূপে - গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

• একই পদের বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে প্রয়োগ বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন -

বিশেষণ রূপে - ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন ।
বিশেষ্য রূপে - আপন ভালো সবাই চায় ৷

বিশেষণ রূপে - মন্দ কথা বলতে নেই ।
বিশেষ্য রূপে - এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

বিশেষণ রূপে - তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক ।
বিশেষ্য রূপে - পুণ্যে মতি হোক ।

বিশেষণ রূপে - শীতকালে কুয়াশা পড়ে
বিশেষ্য রূপে - শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার ।

বিশেষণ রূপে - সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্য রূপে - এ এক বিরাট সত্য ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৭৪.
হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, কোন প্রকার ক্রিয়ার উদাহরণ-
  1. সরল ক্রিয়া
  2. নমিক্রিয়া
  3. সংযােগ ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন – মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৭৭৫.
বাক্য গঠনের উপাদান হলো-
  1. প্রত্যয়
  2. সমাস
  3. পদ
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• বাক্য গঠনের উপাদান হলো- পদ। 
------------
• বাক্যতত্ত্ব: 
- বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে। 
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• পদকে ক্রমানুসারে সাজানো হলে বাক্য তৈরি হয় সুতরাং বাক্য গঠনের উপাদান হলো পদ। এবং বাক্যতত্ত্বের অপর নাম পদক্রম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
 
১,৭৭৬.
গুণবাচক বিশেষ্যটি শনাক্ত করুন।
  1. ক) তিক্ততা
  2. খ) চৌকস
  3. গ) দক্ষ
  4. ঘ) তাজা
ব্যাখ্যা
তিক্ততা, মধুরতা, তারুণ্য, তারল্য, সুখ, স্বাস্থ্য, দুঃখ, সৌরভ, যৌবন গুণবাচক বিশেষ্য। গুণবাচক বিশেষণ - চৌকস, দক্ষ। তাজা, রোগা, খোঁড়া - অবস্থাবাচক বিশেষণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১,৭৭৭.
এ ধন-সম্পদ তোমার জন্য।'- এখানে 'জন্য' অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ব্যাপ্তি
  2. একদেশিক
  3. নিমিত্ত
  4. মাঝে
ব্যাখ্যা
• এ ধন-সম্পদ তোমার জন্য। - এখানে 'নিমিত্ত' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।
---------------------
• অনুসর্গ: 

- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কীত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন-
সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্য, পর্যন্ত ইত্যাদি।

কিছু অনুসর্গের ব্যবহার:
• সীমার মাঝে অসীম তুমি। - 'মধ্যে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। 
• এ ধন-সম্পদ তোমার জন্য। - 'নিমিত্তে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।
• এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল। - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'একদেশিক' অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।
• আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে। - 'মাঝারে' অনুসর্গটি 'ব্যাপ্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• সীমার মাঝে অসীম তুমি। - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• নিমেষ মাঝেই সব শেষ। - 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৭৮.
'এ যে আমাদের পরিচিত জায়গা।' এখানে 'পরিচিত' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য 
  2. বিশেষণ 
  3. অব্যয় 
  4. সর্বনাম 
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ: 
​যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।

​বাক্যে ‘পরিচিত’ শব্দটি একটি বিশেষণ পদ। এটি ‘জায়গা’ শব্দের বিশেষণ হিসেবে কাজ করছে, কারণ এটি ‘জায়গা’ নাম পদটির গুণ বা বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করছে। ‘পরিচিত’ শব্দটি নির্দেশ করছে যে জায়গাটি আমাদের জানা বা চেনা।

​এরূপ কিছু বাক্য হলো- 
- দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।
- অভিজ্ঞ উনিই ব্যাপারটা বুঝবেন।
[বাক্যে দুষ্টু ও অভিজ্ঞ বিশেষণ পদ]

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৭৭৯.
'কিছু' পদটি কোন জাতীয় সর্বনাম?
  1. সাপেক্ষ
  2. প্রশ্নবাচক
  3. অনির্দিষ্ট
  4. নির্দেশক
ব্যাখ্যা
অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে।
যেমন:
- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।
 
প্রশ্নবাচক সর্বনাম: 
- প্রশ্ন তৈরির জন্যে প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়ােগ করা হয়।
যেমন – কে, কারা, কাকে, কার, কী (কী দিয়ে ভাত খায়?) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৭৮০.
অনুসর্গকে কত ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. চার
  2. দুই
  3. পাঁচ
  4. তিন
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
- সাধারণ অনুসর্গ;
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উল্লেখ্য,
• যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না। এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ? এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১,৭৮১.
নিচের কোন বাক্যে ক্রিয়াজাত অনুসর্গের প্রয়োগ রয়েছে?
  1. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
  2. মাথার উপরে নীল আকাশ।
  3. ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
  4. আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
ব্যাখ্যা

• সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন-
করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১,৭৮২.
নাম পুরুষের উদাহরণ কোনগুলো?
  1. আমি, আমরা
  2. তুমি, তোমরা
  3. সে, তারা, করিম
  4. আপনি, আপনারা
ব্যাখ্যা

• পুরুষ তিন প্রকার।
যেমন:
- উত্তম পুরুষ,
- মধ্যম পুরুষ,
- নাম পুরুষ।

• উত্তম পুরুষ:
ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে।
যেমন: আমি, আমরা ইত্যাদি।

• মধ্যম পুরুষ:
বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে।
যেমন: তুমি, তােমরা, আপনি ইত্যাদি।

• নাম পুরুষ:
বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে।
যেমন:
সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৭৮৩.
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে কী বলে?
  1. পদ
  2. বাক্যাংশ
  3. প্রকৃতি
  4. পদাণু
ব্যাখ্যা
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।
- লগ্নক চার ধরনের:

বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- ‘লোকটি’ বা ‘ভালোটুকু’ পদের ‘টি’ বা ‘টুকু’ হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন:
- যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- ‘ছেলেরা’ বা ‘বইগুলো’ পদের ‘রা’ বা ‘গুলো’ হলো বচনের উদাহরণ।

বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- ‘তখনই’ বা ‘এখনও’ পদের ‘ই’ বা ‘ও’ হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৭৮৪.
কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে, কোন ক্রিয়া বলে?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. নাম ক্রিয়া
  3. সংযোগ ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।

অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- গরম করা, গান করা, মার খাওয়া, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
১,৭৮৫.
কোনটি কালজ্ঞাপক ক্রিয়া বিশেষণ?
  1. ঠিকভাবে  চললে কেউ কিছু বলবে না।
  2. টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
  3. আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
  4. তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
ব্যাখ্যা

আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।- কালজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ। 

কালজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কালজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ- ক্রিয়াবিশেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধরন, যা ক্রিয়ার সময় বা কাল নির্দেশ করে।
- সময় বা কালজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলতে সেই ক্রিয়াবিশেষণকে বোঝায়, যার মাধ্যমে কোনো কাজ কখন বা কত সময়ে সংঘটিত হচ্ছে—তা জানা যায়।
- যেমন:
• “সেদিন তুমি এলে না।”
•“অনেকক্ষণ ধরে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।”
•“আজ যখন সে আসবে, তখন তাকে বুঝিয়ে দিয়ো।”
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- ক্রিয়াকে ‘কখন’ বা ‘কতক্ষণ’ প্রশ্ন করলে যে শব্দ বা শব্দগুচ্ছ উত্তর হিসেবে পাওয়া যায়, সেটিই সময় বা কালজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ।

উদাহরণস্বরূপ- 
• আগামীকাল বৃষ্টি হবে (কখন বৃষ্টি হবে?)।
• সে দুপুরে আসবে (কখন আসবে?)।
• আমরা মাঝে মাঝে এখানে আসি (কখন আসি?)।
• তাড়াতাড়ি যাও (তাড়াতাড়ি = কখন?)।
• কাল সে আসেনি (কাল = কখন?)।
• শীঘ্রই সে ফিরে আসবে (শীঘ্রই = কখন?)।
• সবসময় সে পড়াশোনা করে (সবসময় = কখন?)।
----------------------------------------------------------------------
অন্যদিকে, 
- ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে। 
• টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে ও ঠিকভাবে  চললে কেউ কিছু বলবে না- ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ। 

• তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না- স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ।
- স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,৭৮৬.
ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে বলে-
  1. ক) ক্রিয়া মূল
  2. খ) ক্রিয়া বিভক্তি
  3. গ) ক্রিয়ার কাল
  4. ঘ) ক্রিয়ার স্থান
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে।
- ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার।
যথা-
- বর্তমান কাল,
- অতীত কাল ও
- ভবিষ্যৎ কাল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৭৮৭.
"ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।" - কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ বর্তমান কাল
  2. ঘটমান বর্তমান কাল
  3. পুরাঘটিত অতীত কাল
  4. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।

যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।

১,৭৮৮.
‘পাথুরে মূর্তি’- বাক্যে ‘পাথুরে’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়া বিশেষ্য
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• ‘পাথুরে মূর্তি’- বাক্যে ‘পাথুরে’ উপাদানবাচক বিশেষণ পদের উদাহরণ।

------------------------
• বিশেষণ পদ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে। যেমন সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ
কোন কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে, সেই অনুযায়ী বিশেষণকে আলাদা করা যায়। বিশেষণ শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে, সেই বিবেচনায়ও বিশেষণকে ভাগ করা সম্ভব। এছাড়া বাক্যের মধ্যে বিশেষণটির অবস্থান কোথায় তা দিয়েও বিশেষণকে চিহ্নিত করা যায়। এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যথা:

• বর্ণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

• গুণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি- এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ- এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

• ক্রমবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: এক টাকা, আট দিন এখানে 'এক' ও 'আট' ক্রমবাচক বিশেষণ।

• পূরণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে 'তৃতীয়' ও '৩৪তম' পূরণবাচক বিশেষণ।

• পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

• উপাদানবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি (এখানে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ)।

• প্রশ্নবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: কেমন গান? কতক্ষণ সময়? এখানে 'কেমন' ও 'কতক্ষণ' প্রশ্নবাচক বিশেষণ।

• নির্দিষ্টতাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: এই দিনে, সেই সময় এখানে 'এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

• ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে। যেমন: 'খুব ভালো খবর' ও 'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

• বিধেয় বিশেষণ:
বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
যেমন: ‘লোকটা পাগল’ বা ‘এই পুকুরের পানি ঘোলা’- বাক্য দুটির ‘পাগল’ ও ‘ঘোলা’ বিধেয় বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩-সংস্করণ)।
১,৭৮৯.
'মায়ের সঙ্গে এ মেয়ের তুলনা হয় না।' এখানে 'সঙ্গে' একটি -
  1. অব্যয়
  2. অনুসর্গ
  3. উপসর্গ
  4. প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
'মায়ের সঙ্গে এ মেয়ের তুলনা হয় না।' এখানে 'সঙ্গে' একটি - অনুসর্গ

অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
→ বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
→ সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
→ দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়। 

অনুসর্গের প্রয়োগ:
→ সহ: সহগামিতা অর্থে - তিনি পুত্রসহ উপস্থিত হলেন।
→ সহিত: সমসূত্রে অর্থে - শত্রুর সহিত সন্ধি চাই না।
→ সনে: বিরুদ্ধগামিতা অর্থে - 'দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে।'
সঙ্গে: তুলনায় - মায়ের সঙ্গে এ মেয়ের তুলনা হয় না

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৯০.
'বীরত্ব' কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ- 
  1. নামবাচক-বিশেষ্য
  2. বস্তুবাচক-বিশেষ্য
  3. গুণবাচক-বিশেষ্য
  4. জাতিবাচক-বিশেষ্য
  5. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

'বীরত্ব' গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ। 
--------------------------
বিশেষ্য পদ:
- যে শব্দ বা পদ দিয়ে ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, জাতি, গুণ কিংবা কোনো কাজের নাম প্রকাশ করা হয়, তাকে বিশেষ্য পদ (Noun) বলা হয়।
- বিশেষ্য মূলত কোনো কিছুর নাম নির্দেশ করে এবং বাক্যের গঠন ও অর্থ প্রকাশে মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- উদাহরণ:
- সালাম, বরকত, ওয়াজেদ আলী, লক্ষ্মীপুর, শ্রীলঙ্কা, এভারেস্ট, বই, কলম, পাখি, নদী, সততা, দয়া, ভোজন।
------------------------- 
•  বিশেষ্য পদ ৬ প্রকার:
• নামবাচক-বিশেষ্য: 
- কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, স্থান, সময় বা সৃষ্টির নাম বোঝায়।
- ব্যক্তিনাম: ললিতা, খুশি। 
- স্থাননাম: যশোর, নারায়ণগঞ্জ, কর্ণফুলী, দার্জিলিং। 
- কালনাম: শনিবার, আষাঢ়, মার্চ, রমজান। 
- সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চয়িতা, প্রথম আলো, সাবাস বাংলাদেশ। 

• জাতিবাচক-বিশেষ্য: 
- যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট প্রাণী, বস্তু বা স্থানের নাম না বলে, বরং একই জাতিভুক্ত প্রাণী, বস্তু বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝানো হয়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলা হয়।
- উদাহরণ: 
- মানুষ, বাঘ, গরু, ভাল্লুক, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি। 

• বস্তুবাচক-বিশেষ্য:
- কোনো বস্তু বা দ্রব্যের নাম বোঝায়।
- উদাহরণ:
- বই, খাতা, কলম, টেবিল, চেয়ার, মাটি, পানি, সোনা, চিনি, লবণ ইত্যাদি। 

• সমষ্টিবাচক-বিশেষ্য:
- কোনো ব্যক্তি বা প্রাণীর দল বা সমষ্টি বোঝায়।
- উদাহরণ:
- মানুষের ক্ষেত্রে: জনতা, কমিটি, জুরি, জনসমাগম ইত্যাদি।
- প্রাণীর ক্ষেত্রে: হাতির পাল, মেষের ঝাঁক ইত্যাদি। 
- বস্তুর ক্ষেত্রে: লাইব্রেরি, নৌবহর, তোড়া ইত্যাদি। 

• গুণবাচক-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদ দিয়ে কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণীর গুণ, দোষ, অবস্থা, ধর্ম কিংবা মানসিক ভাবের নাম প্রকাশ করা হয়, তাকে গুণবাচক বিশেষ্য বলা হয়।
- উদাহরণ:
- উদারতা, বীরত্ব, ভদ্রতা, তারুণ্য, বার্ধক্য, অসুস্থতা, দারিদ্র্য, প্রেম, ক্রোধ, ভক্তি, করুণা, সততা, অসুস্থতা, দারিদ্র্য, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, ধৈর্য, সাহস, 

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- কোনো কাজ বা ক্রিয়ার নাম বোঝায়।
- উদাহরণ:
- পঠন, ভোজন, শয়ন, গমন, দর্শন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 

১,৭৯১.
কোনটি বিরোধ যোজক?
  1. না-হয়
  2. ততই
  3. তবুও
ব্যাখ্যা
বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।

যেমন:
- তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না

অন্যদিকে,
সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে।

যেমন:
- করিম রহিম এ কাজটি করেছে।

বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- চা না-হয় কফি খান।

সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৭৯২.
"কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।" বাক্যটি কোন ধরনের অতীত কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ অতীত
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. ঘটমান অতীত
ব্যাখ্যা
১. সাধারণ অতীত কাল: বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- প্রদীপ নিভে গেল।
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

২. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল: অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

৩. ঘটমান অতীত কাল: অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি-ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

৪. পুরাঘটিত অতীত কাল: যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৭৯৩.
কোনটি পারস্পরিক সর্বনাম?
  1. নিজেরা নিজেরা
  2. স্বয়ং
  3. অমুক
  4. সকলকে
ব্যাখ্যা

• সর্বনাম পদ:
বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনামকে ৯টি শ্রেনিতে ভাগ করা হয়।
যথা:

১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যাক্তির নামের পরিবর্তে বসে।
যেমন: আমি, তুমি, সে ইত্যাদি।

২. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৩. অনির্দিষ্ট সর্বনাম: অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে এই সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: কেউ, কোথাও, একজন, কিছু ইত্যাদি।

৪. নির্দেশবাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব প্রকাশ করে তাকে নির্দেশবাচক সর্বনাম বলে।
যেমন: এ, এই, এরা, ইনি ইত্যাদি।

৫. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোন কাজ করছে এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এই সর্বনামটি ব্যবহার করা হয়।
যেমন: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরষ্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন: যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগীতা বা নির্ভরশীলতা বোঝাতে পারষ্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: সবাই, সকলে, সকলকে ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোন অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১,৭৯৪.
'চলন্ত ট্রেন' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ক) ভাববাচক
  2. খ) উপাদানবাচক
  3. গ) অবস্থাবাচক
  4. ঘ) গুণবাচক
ব্যাখ্যা
• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে চলন্ত ও তরল অবস্থাবাচক বিশেষণ।

 অন্যান্য অপশন:
• ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – “খুব ভালাে খবর’ ও ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে’ – এসব বাক্যে খুব এবং বেশ ভাববাচক বিশেষণ।

• উপাদানবাচক বিশেষণ: 
- যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি – এখানে ‘বেলে’ ও ‘পাথুরে’ উপাদানবাচক বিশেষণ।

• গুণবাচক বিশেষণ: 
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
১,৭৯৫.
'চন্দ্র' এর বিশেষণ রূপ কোনটি?
  1. চান্দ্র
  2. চাঁদ
  3. চন্দ্রা
  4. চান্দ্রা
ব্যাখ্যা
• 'চন্দ্র' এর বিশেষণ রূপ - 'চান্দ্র'। 

• 'চান্দ্র'(বিশেষণ) চন্দ্র সম্পর্কিত।
------------------
• 'চন্দ্র' (বিশেষ্য) বলতে বোঝায়: পৃথিবীর উপগ্রহ-যা পৃথিবীকে মাসে একবার প্রদক্ষিণ করে। 

• 'চন্দ্র' এর সমার্থক শব্দ: 
- চাঁদ; চন্দ্রমা; নিশাকর; নিশাকান্ত; শশধর; হিমাংশু; সুধাংশু; সুধাকর; ইন্দু; বিধু; শশী; সোম; মৃগাঙ্ক।

উৎস: অভিগম্য অভিধান- বাংলা একাডেমি। 
১,৭৯৬.
কোনটি অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ?
  1. সকলের মঙ্গল হোক।
  2. ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
  3. আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দান করুক।
  4. সদা সত্য বলো।
ব্যাখ্যা
• ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে। ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার:
- সাধারণ ভবিষ্যৎ,
- ঘটমান ভবিষ্যৎ এবং
- অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।

• সাধারণ ভবিষ্যৎ:
ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমরা ঢাকা যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।

• ঘটমান ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন: 
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

• অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

অন্যদিকে,
• বর্তমান অনুজ্ঞা: 
বর্তমানে কোনো ক্রিয়া সম্পাদনের আদেশ, উপদেশ, আশীবার্দ, অভিশাপ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝানোর জন্য বর্তমান অনুজ্ঞা ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সকলের মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য বলো।
- আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করুন।
- আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দান করুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
 
১,৭৯৭.
সকর্মক ক্রিয়া কোনটি?
  1. আমি রাতে খাব না।
  2. ছেলেটা কানে শোনে না।
  3. আকাশে চাঁদ দেখি না।
  4. সে পড়ছে
ব্যাখ্যা

• যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া। ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ। কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া।
• যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমন: ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
- প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে।
যেমন:
- অকর্মক: সে পড়ছে।
- সকর্মক: সে বই পড়ছে। 

- অকর্মক: আমি রাতে খাব না।
- সকর্মক: আমি রাতে ভাত খাব না।

- অকর্মক: আমি চোখে দেখি না।
- সকর্মক: আকাশে চাঁদ দেখি না।

- অকর্মক: ছেলেটা কানে শোনে না।
- সকর্মক: ছেলেটা কথা শোনে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।

১,৭৯৮.
“মাথার উপরে আকাশ।” — এখানে ‘উপরে’ কোন ধরনের অনুসর্গ?
  1. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
  2. সাধারণ অনুসর্গ
  3. অব্যয়সূচক অনুসর্গ
  4. সম্বন্ধসূচক অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
“মাথার উপরে আকাশ।” - এখানে ‘উপরে’ হচ্ছে সাধারণ অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
• উদাহরণ
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
- বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৭৯৯.
'আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি।'- কাব্যে 'কিন্তু' কোন শ্রেণির অব্যয়?
  1. অনন্বয়ী অব্যয়
  2. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  3. অনুসর্গ অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।যেমন:
• সংযোজক অব্যয়:
- উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে 'ও' সংযোজক অব্যয়।
- তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে 'তাই' সংযোজক অব্যয়।
- তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• বিয়োজক অব্যয়:
- হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। বাক্যে 'কিংবা' বিয়োজক অব্যয়।
- আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। 'কিন্তু' অব্যয়টি দুটি বাক্যের বিয়োজক।

- তাছাড়া বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, বিয়োজক ন অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়:
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে 'অথচ' সংকোচক অব্যয়।
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১,৮০০.
"কাজ” শব্দটি কোন পদ?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষ্য
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা

কাজ (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
-  কর্ম, কার্য (কাজ করা)। 
- দরকার (রোজ গিয়ে কাজ নেই)। 
- কৃত বিষয় (এটা নিশ্চয় ওর কাজ)।
- কর্তব্য (তোমার কাজ পড়াশোনা করা)।
-  উদ্দেশ্য সিদ্ধি (ওষুধে কাজ হয়েছে)। 
- কারুকার্য (রঙের কাজ)।
- সাধ্য (এ কাজ ওর আয়ত্তের বাইরে)।
- ব্যবহারযোগ্যতা (এটা কোনো কাজের নয়)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।