বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা ১৬ / ৩১ · ১,৫০১১,৬০০ / ৩,০২৪

১,৫০১.
নিচের কোন শব্দযুগল সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) নদী ও সাগর
  2. খ) বই ও পাহাড়
  3. গ) মিছিল ও জনতা
  4. ঘ) পরিবার ও ভোজন
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, কল্প, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলােকে বিশেষ্য বলে।
যেমন – নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভােজন, সততা ইত্যাদি।

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
- নাম-বিশেষ্য
- জাতি-বিশেষ্য
- বস্তু-বিশেষ্য
- সমষ্টি-বিশেষ্য
- গুণ-বিশেষ্য
- ক্রিয়া-বিশেষ্য

সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বােঝায়।
যেমন – জনতা, পরিবার, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।


তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি 
১,৫০২.
কোনটি গুণবাচক বিশেষ্য?
  1. দর্শন
  2. গমন
  3. শয়ন
  4. দুঃখ 
ব্যাখ্যা

গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা,  তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য,  তিক্ত দ্রব্যের গুণ-তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- দর্শন, গমন ও শয়ন- ভাববাচক/ক্রিয়া বিশেষ্যর উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১,৫০৩.
'যত গর্জে তত বর্ষে না।' - বাক্যটি কোন ধরনের যোজক নির্দেশ করেছে?
  1. সাধারণ যোজক
  2. বিরোধ যোজক
  3. সাপেক্ষ যোজক
  4. কারণ যোজক
ব্যাখ্যা
• যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে।
যেমন - এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।

• সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
- যত গর্জে তত বর্ষে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫০৪.
’রোগ হলে ওষুধ খাবে’ বাক্যটিতে রয়েছে-
  1. অনুরোধ
  2. আদেশ
  3. উপদেশ
  4. বিধান
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা:
- আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

 ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:


• আদেশে অর্থে:
- সদা সত্য বলবে।
- রোদে দৌড়াবে না।

• সম্ভাবনায় অর্থে:
- চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।

• বিধান অর্থে:
- রোগ হলে ওষুধ খাবে।

• অনুরোধ অর্থে:  
- কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
১,৫০৫.
কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) মুসলিম
  2. খ) সমিতি
  3. গ) গীতাঞ্জলি
  4. ঘ) মাটি
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য সাধারণত ৬ প্রকার।
নাম-বিশেষ্য: নজরুল, ঢাকা, গীতাঞ্জলি, ইন্দোচীন, ইত্যাদি।
জাতি-বিশেষ্য: গরু, পাখি, ইংরেজ, হিন্দু, মুসলিম ইত্যাদি।
বস্তু-বিশেষ্য: ইট, লবন, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।
সমষ্টি-বিশেষ্য: জনতা, পরিবার, সমিতি, মিছিল ইত্যাদি।
গুণ-বিশেষ্য: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, ধৈর্য্য ইত্যাদি।
ক্রিয়া-বিশেষ্য: পঠন, ভোজন, শয়ন, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি বই।

১,৫০৬.
'ঐচ্ছিক' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• ঐচ্ছিক (বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- ইচ্ছানুরূপ,
- ইচ্ছানুযায়ী,
- ইচ্ছাধীন।

উল্লেখ্য, 
• 'ঐচ্ছিক' শব্দের বিপরীত শব্দ 'আবশ্যিক'।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫০৭.
নিচের কোন বাক্যে সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ পাওয়া যায়?
  1. সে ঘুমায়।
  2. সে চিঠি পড়ছে।
  3. সে খাটে শোয়।
  4. সে দৌড়ায়।
ব্যাখ্যা

• "সে চিঠি পড়ছে।" - সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ।
অপশনের অন্যগুলো - অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ।

বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার। 
যথা:
১. অকর্মক ক্রিয়া: 
বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়।
- সে মাটিতে শোয়।
- সে ভালো দৌড়ায়।
[এই বাক্যেগুলোতে কোনাে কর্ম নেই।]
 
২. সকর্মক ক্রিয়া: 
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
- বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: 
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তপু দীপুকে বলটি দিল।
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।]
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৫০৮.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. দিনান্ত
  2. দীন
  3. দিন
  4. দিনাতিপাত
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ - দীন
- এটি একটি বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- দরিদ্র (দীন দুঃখী,
- অনুদার (দীনাত্মা),
- দরিদ্র বা দুঃখী ব্যক্তি।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - দিন, দিনান্ত, দিনাতিপাত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫০৯.
গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া কয় প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। 
যথা, 
- সরল ক্রিয়া, 
- প্রযোজক ক্রিয়া, 
- নাম ক্রিয়া, 
- সংযোগ ক্রিয়া, 
- যৌগিক ক্রিয়া। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
১,৫১০.
‘প্রচুর’ শব্দের বিশেষ্য কোনটি?
  1. প্রাচুর্য
  2. প্রচুরক
  3. প্রবল
  4. প্রচুর শব্দটি নিজেই বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- ‘প্রচুর’ বিশেষণ শব্দ।
- এর বিশেষ্য শব্দ: 'প্রাচুর্য'।
- যার অর্থ: আধিক্য, বাহুল্য, প্রচরতা। 

উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫১১.
‘সাদা বাড়ি’- এখানে 'সাদা' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. আবেগ
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ‘সাদা বাড়ি’- এখানে 'সাদা' বিশেষণ পদ। 

• বিশেষণ পদ:

যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে। 
যেমন:
সাদা বাড়ি।
সুন্দর বাগান।
চটপটে ছেলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১,৫১২.
'চুপি চুপি' কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষণ
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষ্য
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• চুপিচাপি। 
- ক্রিয়া বিশেষণ পদ।
- এটি বাংলা শব্দ। 
অর্থ:
- অন্যের অগোচরে।

------------------
• ক্রিয়াবিশেষণ:

যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
• বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫১৩.
"আজই কাজটা শেষ করতে হবে।" - এ বাক্যে ‘ই’ এর পরিচয় কোনটি?
  1. উপসর্গ
  2. বচন
  3. পদাশ্রিত নির্দেশক
  4. বলক
ব্যাখ্যা

• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে।
যেমন - 
'তখনই' বা ‘এখনও' পদের 'ই' বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

• "আজই কাজটা শেষ করতে হবে।" - এ বাক্যে ‘ই’ হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

১,৫১৪.
"সেদিন কে জানত যে ইউরোপে আবার মহাযুদ্ধের ভেরি বাজবে?" - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল
  2. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল
  3. সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল
  4. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল
ব্যাখ্যা

সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল:
- যে ক্রিয়া পরে বা অনাগত কালে সংঘটিত হবে, তার কালকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন :
- শীঘ্রই বৃষ্টি আসবে।
- আমরা মাঠে খেলতে যাব।

সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
ক. আক্ষেপ প্রকাশে অতীতের স্থলে ভবিষ্যৎ কাল ব্যবহার হয়।
যেমন:
- কে জানত, আমার এমন ভাগ্য হবে?
- সেদিন কে জানত যে ইউরোপে আবার মহাযুদ্ধের ভেরি বাজবে?

খ. অতীতের কালের ঘটনা সম্পর্কিত যে ক্রিয়াপদে সন্দেহের ভাব বর্তমান থাকে, তার বর্ণনায় সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ব্যবহার হয়।
যেমন:
- তোমরা হয়তো ‘বিশ্বনবি’ পড়ে থাকবে।
- ভাবলাম, তিনি এখন বাড়ি গিয়ে থাকবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৫১৫.
'খুব ভালো খবর।' - এখানে 'খুব' কোন প্রকার বিশেষণ?
  1. ভাববাচক
  2. অবস্থাবাচক
  3. গুণবাচক
  4. নির্দিষ্টতাবাচক
ব্যাখ্যা

ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।

যেমন:
- খুব ভালো খরব।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
- এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
অবস্থাবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।
 
গুণবাচক বিশেষণ: 
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।
 
নির্দিষ্টতাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
 যেমন:
- এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,৫১৬.
কোনটি সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ?
  1. আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
  2. কে বলবে সে দেশে ফেরে কিনা?
  3. তারা বাড়িতে ফিরেছে।
  4. ভাবতে পারিনি, ওকে আমরা চিরতরে হারাব।
ব্যাখ্যা
• সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ - ভাবতে পারিনি, ওকে আমরা চিরতরে হারাব

সাধারণ ভবিষ্যৎ:
ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- আমরা রংপুরে যাব
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে

সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের বিশেষ প্রয়োগ:
- আক্ষেপ প্রকাশে ভবিষ্যতের ক্রিয়ারূপ দিয়ে অতীতের সময়ের ধারণা প্রকাশে: ভাবতে পারিনি, ওকে আমরা চিরতরে হারাব

অন্যদিকে,
• ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল - আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব
• সাধারণ বর্তমান কাল - কে বলবে সে দেশে ফেরে কিনা?
• পুরাঘটিত বর্তমান কাল - তারা বাড়িতে ফিরেছে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫১৭.
নিচের কোন বাক্যেটি সমাপিকা ক্রিয়া নির্দেশ করে?
  1. ভালো কোরে পড়াশোনা করবে।
  2. সে গান করে আনন্দ পায়।
  3. গান করলে তার মন ভালো হয়।
  4. সে গান শিখতে রাজশাহী যাবে।
ব্যাখ্যা
⇒ ক্রিয়া:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কি ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তালে ক্রিয়া পদ বলে।

ভাব প্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া ২ প্রকার।
⇒ সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- ভালো কোরে পড়াশোনা করবে

⇒ অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় না তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল পাবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া ৩ প্রকারের। যথা-
• ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া: সে গান করে আনন্দ পায়।
• শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া: গান করলে তার মন ভালো হয় ।
• ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া: সে গান শিখতে রাজশাহী যাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১,৫১৮.
'পদ প্রকরণ' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'পদ প্রকরণ' ব্যাকরণের 'রূপতত্ত্ব' অংশে আলোচিত হয়। 

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় পদ প্রকরণ যেমন: বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- ক্রিয়ারকাল ও পুরুষ এ অংশে আলোচিত হয়। 
---------------- 
অর্থতত্ত্ব: 
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়,
- বাগ্ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে ।

ধ্বনিতত্ত্ব: 
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,৫১৯.
"আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার কষ্ট হতো না" - বাক্যটি কোন ভাবের ক্রিয়া?
  1. সাপেক্ষ ভাব
  2. নির্দেশক ভাব
  3. অনুজ্ঞা ভাব
  4. অনির্দেশক ভাব
ব্যাখ্যা
• "আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার কষ্ট হতো না" - বাক্যটি সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া। 
-------------------- 
ক্রিয়ার ভাব:
- ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বলে।
- ক্রিয়ার ভাব ৪ প্রকার।
যথা -

নির্দেশক ভাব:
- সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
যথা:
- তারা বাড়ি যাবে।

অনুজ্ঞা ভাব:
- আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়া পদের অনুজ্ঞা ভাব হয়।
যথা:
- চুপ করো, মিথ্যা বলবে না, ডেকে দেয় পাষণ্ড!

সাপেক্ষ ভাব:
- একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে।
যথা:
- যদি সে পড়ত, তবে পাস করত।
- আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব:
- যে ক্রিয়াপদের বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যথা:
- সে যাক, বৃষ্টি আসে আসুক, তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫২০.
'আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি।' বাক্যটিতে ক্রিয়ার কোন কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সাধারণ বর্তমান কালের
  2. ঘটমান বর্তমান কালের
  3. সাধারণ অতীত কালের
  4. সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলো ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ। নিচের বাক্য দুটির দিকে তাকানো যাক:
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম।
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি।
[প্রথম বাক্যে ক্রিয়ার কাল অতীত এবং ক্রিয়া ঘটার সময় অতীতের। কিন্তু দ্বিতীয় বাক্যে ক্রিয়ার কাল বর্তমান কালের এবং ক্রিয়া ঘটার সময় অতীতের। দ্বিতীয় বাক্যটি কালের বিশিষ্ট প্রয়োগের নমুনা।]


• সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)
- সবাই যেন সভায় হাজির থাকে। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

• ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

• সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল। (ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)
- 'যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।

• সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২২ সংস্করণ)।
১,৫২১.
ক্রিয়াজাত অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. মাথার উপরে নীল আকাশ।
  2. বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি
  3. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না
  4. কার কাছে গেলে জানা যাবে?
ব্যাখ্যা
’বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি’ বাক্যে ক্রিয়াজাত অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে ।

• অনুসর্গ:
- অনু’ কথাটির অর্থ পরে , আর ‘সর্গ’ মানে সৃষ্টি বা ব্যবহার।
- সুতরাং সাধারণভাবে অনুসর্গ বলতে বোঝায় যা পরে ব্যবহৃত হয়।
- উপসর্গ যেমন ধাতুর আগে বসে, অনুসর্গ তেমন পদের পরে বসে।
- যেসব অব্যয় বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে পৃথকভাবে বসে শব্দ বিভক্তির মতো তাদের কারক-সম্বন্ধ নির্ধারণ করে, তাদের অনুসর্গ বলা হয়।
- কেবল বিভক্তির মতো কারক-সম্বন্ধ নির্দেশ করলে তবেই তাদের অনুসর্গ বলে।

• অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
- সাধারণ অনুসর্গ ও ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না
- বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকেতৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
- ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- বলে:সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১,৫২২.
কোনটি শব্দের শেষে যুক্ত হয় না ?
  1. নির্দেশক
  2. প্রত্যয়
  3. বলক
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• শব্দের শেষে যুক্ত হয়না - উপসর্গ।

• উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
'পরিচালক' শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ ।
---------------- 
প্রত্যয়:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
সাংবাদিক” শব্দের ইক’ অংশ একটি প্রত্যয়।

নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
‘লোকটি বা ভালোটুকু পদের টি' বা ‘টুকু হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
তখনই বা ‘এখনও পদের ই বা ‘ও’ হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ২০২২ সংস্করণ।
১,৫২৩.
ভাব প্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

• ভাব প্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া ২ প্রকার।

সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালো কোরে পড়াশোনা করবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় না তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

১,৫২৪.
‘চটপটে ছেলে’ এখানে ‘চটপটে’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ:
বিশেষণ হলো সেই শব্দশ্রেণি যা অন্য শব্দের অর্থকে বিশাদ বা সীমিত করে শব্দটিকে বিশেষিত করে। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর গুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে তখন বিশেষ্য শব্দের অর্থ বিশাদ হয়।
যেমন:
- সাদা বাড়ি।
- সুন্দর বাগান।
- চটপটে ছেলে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫২৫.
'আগামী কাল থেকেই কাজ শুরু করতে হবে'-এখানে 'থেকে' শব্দের সাথে যুক্ত 'ই'-এর ব্যাকরণিক পরিচয় কী? 
  1. উপসর্গ
  2. প্রত্যয়
  3. ধাতু
  4. বলক
ব্যাখ্যা

• 'আগামী কাল থেকেই কাজ শুরু করতে হবে'-এখানে 'থেকে' শব্দের সাথে যুক্ত 'ই'- হলো বলক।

• বলক:

যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে।
যেমন - 
'তখনই' বা ‘এখনও' পদের 'ই' বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

অন্যদিকে,

উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
যেমন- 
- অজানা (অ + জানা), অভিযােগ (অভিযােগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ’, ‘অভি’, ‘বে’ হলাে উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন -
→ বাঘ + আ = বাঘা।
→ দিন + ইক = দৈনিক।
উপরের উদাহরণে 'আ' ও 'ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'বাঘা' ও 'দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। এসকল ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
যেমন: ‘লিখ্‌  + আ = লিখা; এখানে, লিখ্‌ হলো ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,৫২৬.
ভূত অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ কোনটি? 
  1. খেয়ে সে বাড়ি গেল। 
  2. সে খেলতে বলল। 
  3. পরিশ্রম করলে ফল ভালো হবে। 
  4. কোনটি নয়। 
ব্যাখ্যা

• ভূত অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ- খেয়ে সে বাড়ি গেল। 
----------------------- 
• ভাব প্রকাশের ধরন, বাক্যে কাজের উপস্থিতি ও গঠনগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ক্রিয়াকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়।
- ভাবপ্রকাশের দিক থেকে ক্রিয়া প্রধানত দুই প্রকার—

১. সমাপিকা ক্রিয়া—
- সমাপিকা ক্রিয়া হলো সেই ক্রিয়াপদ, যার মাধ্যমে বাক্যের ভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায় এবং বাক্যটি শেষ বা পূর্ণতা লাভ করে। 
- উদাহরণ:
- আমরা সিনেমা দেখলাম (এখানে দেখলাম সমাপিকা ক্রিয়া)।

২. অসমাপিকা ক্রিয়া— 
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের পরিসমাপ্তি ঘটে না, বরং কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
- যেমন :
- আমি ভাত খেয়ে...,
- সে নিয়মিত পড়াশোনা করতে করতে...,
- সকালে সূর্য উঠলে...।
--------------------------------- 
• অসমাপিকা ক্রিয়ার প্রকারভেদ:

- অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ভাগে বিভক্ত—
- ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া;
- ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া; 
- শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া। 

ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়াগুলো বাক্যের ভাব অসম্পূর্ণ রাখে এবং যখন সেই ক্রিয়াগুলো অতীতকাল নির্দেশ করে, তখন সেগুলোকে ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া বলা হয়।
- ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া হলো এমন অসমাপিকা ক্রিয়া, যা বাক্যে অতীতকাল নির্দেশ করে;
- কিন্তু নিজে একা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করতে পারে না। 
- এগুলো পরবর্তী সমাপিকা ক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে বাক্যের পূর্ণ অর্থ তৈরি করে। 

- যেমন: 
- খেয়ে সে বাড়ি গেল—এখানে খেয়ে অতীতের কাজ বোঝাচ্ছে, কিন্তু বাক্য শেষ করেছে গেল সমাপিকা ক্রিয়া। 
- আবার দেখে আমি মুগ্ধ হলাম—এখানে দেখে অতীতকে নির্দেশ করছে, কিন্তু বাক্যের অর্থ মুগ্ধ হলাম ক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্ণ হয়। 
- পড়ে সে ঘুমিয়ে পড়ল বা কাজটি করতে আমার দেরি হয়ে গেল—এগুলোতে পড়ে ও করতে ক্রিয়াগুলো অতীতের কাজ বোঝাচ্ছে, কিন্তু বাক্যের সম্পূর্ণ অর্থ প্রদানের জন্য সমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। 
----------------------------- 
অন্যদিকে,
• ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া:
- • ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া হলো এমন ক্রিয়া, যা ভবিষ্যতে হতে পারে এমন কোনো কাজ বা সম্ভাবনার কথা বোঝায়, কিন্তু নিজে একা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করতে পারে না।
- এই ধরনের ক্রিয়া অন্য একটি সমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে তবেই বাক্যের পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে।
- উদাহরণ- 
- সে খেলতে বলল—এখানে খেলতে হলো ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া, যা বলল সমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থ পূর্ণ করছে।

• শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া:
- শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া হলো এমন অসমাপিকা ক্রিয়া, যা বাক্যে কোনো শর্ত বা আবশ্যকতা নির্দেশ করে, কিন্তু একা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করতে পারে না।
- এই ধরনের ক্রিয়াগুলো অন্য কোনো সমাপিকা ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে বাক্যের পূর্ণ অর্থ তৈরি করে।
- যেমন: 
- পরিশ্রম করলে ফল ভালো হবে—এখানে করলে শর্ত বোঝাচ্ছে, এবং মনোযোগ দিলে তুমি পাস করবে—এখানে দিলে শর্তসূচক।

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম- দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,৫২৭.
কোনটি অশুদ্ধ প্রয়োগ?
  1. ক) ইহার আবশ্যকতা নাই
  2. খ) রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকা
  3. গ) বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
‘বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ’ - বাক্যটি বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত অপপ্রয়োগ।

বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তনের মাধ্যমে বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল করা হয়। 

যেমন : আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে -ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়। যেমন -

অশুদ্ধ - বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ
শুদ্ধ - বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫২৮.
’সুষ্ঠু’ এ শব্দের বিশেষ্য রূপটি হলো -
  1. ক) সৌষ্ঠব
  2. খ) সুষ্ঠতা
  3. গ) সুষ্ঠ
  4. ঘ) সুষ্ঠব
ব্যাখ্যা
সুষ্ঠু একটি বিশেষণ পদ। এর বিশেষ্য হচ্ছে - সৌষ্ঠব
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
১,৫২৯.
'আপনি' কোন সর্বনামের উদাহরণ?
  1. দূরত্ববাচক
  2. আত্মবাচক
  3. প্রশ্নবাচক
  4. ব্যক্তিবাচক
ব্যাখ্যা

ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:
বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে),
মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও
ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, ও)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।

১,৫৩০.
অতীতের অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয় কোনটি?
  1. ক) সাধারন অতীত
  2. খ) ঘটমান অতীত
  3. গ) পুরাঘটিত অতীত
  4. ঘ) নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত অতীত: অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
- আমরা তখন রোজ সকালে গ্রামের নদী তীরে বেড়াতাম।

পুরাঘটিত অতীত: অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরাে কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
- ঘন্টা বাজার পর তারা বিদ্যালয়ে পৌঁছেছিল - পুরাঘটিত অতীত 

 ঘটমান অতীত: যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বুঝায়, তাকে ঘটমান অতীত বলে।
- বাচ্চারা মাঠে খেলছিলো - ঘটমান অতীত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৩১.
নিচের কোনটি অলংকার আবেগ এর উদাহরণ?
  1. উহ ! কি বিপদে পরা গেল।
  2. দূর ! এ কথা কি বলতে আছে? 
  3. আরে ! তুমি আবার কখন এলে?
  4. আহা ! বেচারার কত কষ্ট।
ব্যাখ্যা
অলংকার আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
যাকগে, ওসব কথা থাক। 
দূর ! এ কথা কি বলতে আছে? 
============================ 
অন্যদিকে, 
 বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি ! এরকম কথা মুখে মানায় না।

আতঙ্ক আবেগ:
এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- উহ ! কি বিপদে পরা গেল।

বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আরে ! তুমি আবার কখন এলে?

করুণা আবেগ:
এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আহা ! বেচারার কত কষ্ট।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৫৩২.
নিচের কোনটি দ্বিকর্ম ক্রিয়া নয়?
  1. ক) বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন। 
  2. খ) মা তোমাকে চিঠি লিখবেন।
  3. গ) শিক্ষক ছাত্রকে অঙ্ক করাচ্ছেন। 
  4. ঘ) করিমের একটি বই আছে? 
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়ার দুটি কর্মপদ আছে তাকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন : 
বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন। 
মা তোমাকে চিঠি লিখবেন।
শিক্ষক ছাত্রকে অঙ্ক করাচ্ছেন। 

উৎস : নবম—দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা—শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১,৫৩৩.
কোনটি পদের নাম নয়?
  1. আবেগ
  2. যোজক
  3. সর্বনাম
  4. বিভক্তি 
ব্যাখ্যা
• পদ বিবেচনায় শব্দ - ৮ প্রকার।

• পদ:
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।

- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য,
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ,
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়া বিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক,
৮. আবেগ

অন্যদিকে,
- 'বিভক্তি' পদের নাম নয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
১,৫৩৪.
কোন বাক্যে অসমাপিকা ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।
  2. বিথু গান গায়।
  3. সেতু স্কুলে যায়।
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।

যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে .......
সে বই নিয়ে

এখানে 'গিয়ে', 'নিয়ে' ক্রিয়ার দ্বারা কথা শেষ হয় নি। বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ রয়েছে। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য আরও ক্রিয়া চাই।
যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।

সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।

যেমন:
সেতু স্কুলে যায়।
বিথু গান গায়।
ভালো করে পড়াশোনা করবে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,৫৩৫.
কোন বাক্যটিতে ক্রিয়াজাত অনুসর্গের ব্যবহার হয়েছে? 
  1. পাহাড়ের উপরে মেঘ ভাসছে।
  2. আমার কাছে কোনো টাকা নেই।
  3. দেশের জন্যে অনেকে জীবন দিয়েছেন।
  4. বুদ্ধি দিয়ে সমস্যার সমাধান করো।
ব্যাখ্যা

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
- সাধারণ অনুসর্গ ও
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

সাধারণ অনুসর্গ- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলা হয়।
যেমন,
উপরে- পাহাড়ের উপরে মেঘ ভাসছে।
কাছে- আমার কাছে কোনো টাকা নেই।
জন্যে- দেশের জন্যে অনেকে জীবন দিয়েছেন।
দ্বারা- এই কাজটি আমার দ্বারা সম্ভব নয়।

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ- অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন,
করে- পরিশ্রম করে সফলতা অর্জন করতে হয়।
দিয়ে- বুদ্ধি দিয়ে সমস্যার সমাধান করো।
ধরে- বছরের পর বছর ধরে এই প্রথা চলে আসছে।
থেকে- সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নমব-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,৫৩৬.
"যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।" - বাক্যটিতে কোন যোজক নির্দেশ করেছে?
  1. সাধারণ যোজক
  2. বিকল্প যোজক
  3. বিরোধ যোজক
  4. সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
যোজক:
- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে।
যেমন - এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।

সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
- যত গর্জে তত বর্ষে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৩৭.
‘ততক্ষণ’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• ‘ততক্ষণ’ ক্রিয়াবিশেষণ পদ।
অর্থ:
- সেই সময় পর্যন্ত,
- সেই সময়ের মধ্যে।

------------------------
• ক্রিয়া বিশেষণ:

 যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

- অনেক সময়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে '-এ', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি এবং '-ভাবে', '-বশত', '-মতো' ইত্যাদি শব্দাংশ যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবিশেষণ তৈরি হয়।
যেমন - ততক্ষণে, দ্রুতগতিতে, শান্তভাবে, ভ্রান্তিবশত, আচ্ছামতো ইত্যাদি।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না
- তিনি বেড়াতে যাননি
- এমন কথা আমার জানা নেই।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?
- খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
- কখনো বা দেখা হবে।
- একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
- মরি তো মরব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৩৮.
নিম্নে কোনটি তৎসম অব্যয়?
  1. খুব
  2. বহুত
  3. আপাতত
  4. আবার
ব্যাখ্যা
তৎসম অব্যয় শব্দ:
- যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি। 'এবং' ও 'সুতরাং' তৎসম শব্দ হলেও বাংলায় এগুলোর অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে। সংস্কৃতে 'এবং' শব্দের অর্থ এমন, আর 'সুতরাং' অর্থ অত্যন্ত, অবশ্য। কিন্তু এবং ও (বাংলা), সুতরাং = অতএব (বাংলা)।

অন্যদিকে,
বিদেশি অব্যয় শব্দ:
- আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।

বাংলা অব্যয় শব্দ:
- আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৩৯.
কোনটি সাধারণ অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।
  2. মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
  3. ভালো করে খেয়ে নাও।
  4. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
ব্যাখ্যা
সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
• উপরে: মাথার উপরে নিল আকাশ।
• কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
• দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।

অন্যদিকে,
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
• করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
• ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
• দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
• বলে: তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৪০.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. সাহসী
  2. অজ্ঞাত
  3. বুদ্ধিমান
  4. জনতা
ব্যাখ্যা

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সাহসী, বুদ্ধিমান ও অজ্ঞাত- বিশেষণ পদের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,৫৪১.
‘এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।’ এ বাক্যে “অতিশয়” হল -
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণীয় বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়ের বিশেষণ
  4. ঘ) বাক্যের বিশেষণ
ব্যাখ্যা

‘এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।’ এখানে অতিশয় বিশেষণীয় বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়েছে।

যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যথা- সামান্য একটু দুধ দাও। রকেট অতি দ্রুত চলে। ঘিয়ের চেয়ে দুধ বেশি উপকারী।
(বাংলা শব্দে দুটি বস্তুর মধ্যে অতিশায়নে জোর দিতে হলে মূল বিশেষণের আগে অনেক, অধিক, অতিশয়, বেশি, অল্প, কম, অধিকতর প্রভৃতি বিশেষণীয় বিশেষণ যোগ করতে হয়।)

[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]

১,৫৪২.
'বিষণ্ণ' শব্দটির সঠিক বিশেষ্য রূপ কোনটি? 
  1. বিষাদ
  2. বিষণ্ণ
  3. বিষাক্ত
  4. বিষয়
ব্যাখ্যা

[বিষণ্ন এর শুদ্ধ বিশেষ্য-রূপ- বিষণ্নতা; তবে এটি অপশনে না থাকায় অর্থঘনিষ্ঠ বিশেষ্য হিসেবে বিষাদ গ্রহণযোগ্য।]

• বিষণ্ন শব্দের বিশেষ্য পদ- বিষাদ। 

•বিষণ্ন (বিশেষণ পদ), 
অর্থ:
- বিষাদ- যুক্ত; দুঃখিত; ক্ষুণ্ণ। 
- স্নান, মলিন। 

• বিষাদ (বিশেষ্য পদ),
অর্থ: 
- দুঃখ; বিষণ্ণতা। 
- আশাভঙ্গজনিত খেদ বা ক্ষোভ।






অন্যদিকে, 
----------------
• বিষাক্ত (বিশেষণ পদ), 
অর্থ:
- বিষযুক্ত,
- বিষমিশ্রিত। 

• বিষয় (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- যা ইন্দরিয়-সমূহকে আকষ্ট করে,
- ভোগ্য বস্তু। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১,৫৪৩.
'যেন, যদি' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন।
যেমন: এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

অন্যদিকে,
সংকোচক অব্যয়:
- যে অব্যয় দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করে, তাকে সংকোচক অব্যয় বলে।
- ‘অথচ’ কিন্তু, বরং শব্দগুলো সংকোচক অব্যয়।

সংযোজক অব্যয়:
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং।
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে।

বিয়োজক অব্যয়:
- বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।
যেমন: হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৪৪.
নিচের কোন শব্দটি ‘যোজক’?
  1. অতি
  2. অবশ্যই
  3. অনেক
  4. অথবা
ব্যাখ্যা
• যোজক:
- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।

যোজক এর উদাহরণ:
এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।

যেমন,
- কামাল অথবা জামাল এই কাজটা করবে।
- তুমি চা অথবা কফি নিতে পারো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৪৫.
বিশেষণ থেকে বিশেষ্যসাধিত শব্দ হলো -
  1. ক) অগ্রিম
  2. খ) জটিল
  3. গ) গ্রাম্য
  4. ঘ) ঘনত্ব
ব্যাখ্যা
'ঘন' শব্দটি বিশেষণ।
- এই শব্দটির প্রত্যয় সাধিত হয়ে 'ঘনত্ব' শব্দটি গঠিত যা একটি বিশেষ্য।
ঘনত্ব (বিশেষ্য): ঘনতা, নিবিড়তা, গাঢ়তা
{ঘন + ত্ব}

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৪৬.
নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ কোনটি?
  1. সেই
  2. চালাক
  3. ভালো
  4. কেমন
ব্যাখ্যা
নির্দিষ্টতাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খরব।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
- এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

প্রশ্নবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – কেমন গান? কতক্ষণ সময়? – এখানে ‘কেমন' ও 'কতক্ষণ' প্রশ্নবাচক বিশেষণ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৫৪৭.
'উচ্ছৃঙ্খল' শব্দটি কোন অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়েছে?
  1. অতিক্রান্ত অর্থে
  2. সামীপ্য অর্থে
  3. চিন্তিত অর্থে
  4. সাদৃশ্য অর্থে
ব্যাখ্যা

অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

যেমন:
অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: 
- বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত =  উচ্ছৃঙ্খল।

অন্যদিকে,
অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে:  
- রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস: 
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
- কূলের সমীপে = উপকূল ইত্যাদি।

সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- বনের সদৃশ = উপবন,
- শহরের সদৃশ = উপশহর।

ক্ষুদ্র অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস: 
- উপনদী,
- উপগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১,৫৪৮.
অনুজ্ঞাসূচক ভাব প্রকাশ পেয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. সে কি গিয়েছিল?
  2. মিথ্যা বলবে না।
  3. ভালো করে পড়লে, সফল হবে।
  4. আমি পড়ি।
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞাসূচক ভাব:
আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাবৰ হয়।
যেমন:
- চুপ করো (আদেশ)।
- মিথ্যা বলবে না (নিষেধ)।
- দয়া করে একবার দেখবেন ব্যাপারটা (অনুরোধ)।
- মন দিয়ে পড়ো (উপদেশ)।

----------------
• নির্দেশক ভাব: এতে কোনো কাজের সাধারণ নির্দেশ হয় বা কিছু জিজ্ঞেস করা হয়।
যেমন:
- আমি পড়ি।
- সে কি গিয়েছিল?

• সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সম্ভাবনায়: যদি বৃষ্টি হয়, ফসল ভালো হবে।
- উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে, সফল হবে।
- ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে, আমার এত কষ্ট হতো না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।
১,৫৪৯.
'দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ বর্তমান 
  2. ঘটমান ভবিষ্যৎ
  3. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  4. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

• ভবিষ্যৎ কাল:
ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে। ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার: সাধারণ ভবিষ্যৎ, ঘটমান ভবিষ্যৎ এবং অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।

সাধারণ ভবিষ্যৎ:
ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমরা রংপুরে যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।

ঘটমান ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১,৫৫০.
"আমি কোথাও যাচ্ছি না।" - এ বাক্যে কোন ধরনের সর্বনাম রয়েছে?
  1. নির্দেশক সর্বনাম
  2. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  3. আত্মবাচক সর্বনাম
  4. পারস্পরিক সর্বনাম
ব্যাখ্যা

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

• অর্থ্যাৎ, "আমি কোথাও যাচ্ছি না।" - এ বাক্যে অনির্দিষ্ট সর্বনাম রয়েছে।
-----------------
নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

পারস্পরিক সর্বনাম:
- দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,৫৫১.
কোনটি বিশেষণবাচক শব্দ?
  1. দহন
  2. জীবনী
  3. জীবাণু 
  4. জীবাশ্ম
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমির অভিধান অনুসারে,
 'জীবনী' — বিশেষণবাচক শব্দ।



অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
ক) দহন - বিশেষ্য (জ্বালানোর কাজ/প্রক্রিয়া)।
গ) জীবাণু - বিশেষ্য (ক্ষুদ্র জীব)।
ঘ) জীবাশ্ম - বিশেষ্য (প্রাচীন জীবের দেহাবশেষ)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা বানান প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ - ড. মোহাম্মদ আমীন।

১,৫৫২.
ক্রিয়ার রূপভেদ হয় কোনটির উপর ভিত্তি করে?
  1. ক) পুরুষ ভেদে
  2. খ) কাল ভেদে
  3. গ) বচন ভেদে
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়াপদ বলে।
যেমন –
রাজীব খেলছে।
পক্ষ (পুরুষ) এবং কাল ভেদে ক্রিয়ার রূপভেদ হয়।
যেমন –

- পক্ষভেদ: আমি পড়ি, আমরা পড়ি, তুমি পড়াে, তোমরা পড়ে, সে পড়ে, তারা পড়ে।
- কালভেদ: আমি পড়ি, আমি পড়ছি, আমি পড়েছি, আমি পড়েছিলাম, আমি পড়ছিলাম, আমি পড়ব।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৫৫৩.
‘তুমি কাল যেও।’- বাক্যটি ক্রিয়ার কোন ভাব নির্দেশ করে?
  1. আকাঙ্ক্ষা ভাব
  2. নির্দেশক ভাব
  3. অনুজ্ঞা ভাব
  4. সাপেক্ষ ভাব
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।

- ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।

• নির্দেশক ভাব: সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক: আমরা বই পড়ি। তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়: আপনি কি আসবেন? সে কি গিয়েছিল?

• অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
• বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড় ।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

• সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।
তার মঙ্গল হোক।

• আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব: আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৫৪.
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে একটি ক্রিয়া গঠিত হলে তাকে বলে-
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সংযোগ ক্রিয়া
  3. নাম ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। 
- সরল ক্রিয়া,
- প্রযোজক ক্রিয়া,
- নাম ক্রিয়া,
- সংযোগ ক্রিয়া,
- যৌগিক ক্রিয়া।

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,৫৫৫.
নিচের কোনটি ভাব বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) বাক্স
  2. খ) হাত
  3. গ) গোলাপ
  4. ঘ) ক্ষমা
ব্যাখ্যা
• ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার দিক থেকে সাধারণ বিশেষ্যকে দুটি উপশ্রেণিতে ভাগ করা যায় : 
 
মূর্ত বিশেষ্য :
এমন ব্যাক্তি বা বস্তুর নাম বোঝায় যা দেখা যায়, স্পর্শ করা, ঘ্রান নেওয়া কিংবা পরিমাপ করা যায়।
যেমন: গোলাপ, বাক্স, হাত ইত্যাদি।

ভাব বিশেষ্য:
নির্বস্তুক অবস্থা, মনোগত ভাব বা গুনগত বৈশিষ্ট্য ইত্যাদির নাম বোঝায়।
যেমন:
আনন্দ, ইচ্ছা, শান্তি, ক্ষমা, পাপ, যুক্তি, রাগ ইত্যাদি।

এ শ্রেণির বিশেষ্যের সঙ্গে বহুবচন প্রয়োগ খুব স্বাভাবিক নয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খন্ড)।
১,৫৫৬.
"প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।" - বাক্যটি কোন কালের দৃষ্টান্ত?
  1. সাধারণ অতীত কাল
  2. পুরাঘটিত অতীত কাল
  3. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  4. ঘটমান অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• অতীত কাল:
যে ক্রিয়া পুর্বে ঘটে গেছে, তাকে অতীত কাল বলে। অতীত কালের চারটি রূপ। যথা:

১. সাধারণ অতীত কাল:
যে ক্রিয়া সাধারণভাবে অতীত অর্থাৎ বর্তমান কালের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত।
যেমন:
- বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল।
- পুলিশ সন্ত্রাসী ছেলেটিকে মেরে ফেলল।

২. ঘটমান অতীত কাল:
অতীতে কোনো কাজ চলছিল এবং তখনও কাজটি শেষ হয়নি; এরূপ অর্থে ঘটমান অতীত ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখছিলাম।

৩. পুরাঘটিত অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতে ঘটেছে এবং এর প্রভাবও শেষ হয়ে গেছে। তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম।
- প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের বাড়ি গিয়েছিলেন।
- আমি ঐ কাজ করেছিলাম।

[বাক্যে কাজ গুলো অতীতে হয়ে গিয়েছে এবং এর রেশ এবং প্রভাবও শেষ হয়ে গিয়েছে]

৪. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল:
অতীতকালে যে ক্রিয়া সাধারণভাবে এবং সচরাচর ঘটতো তার কাল নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন:
- প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।
- আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।
- আমি রোজ আসতাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৫৭.
'চারিদিকে আগুন জ্বলছে।'- এটি কোন প্রকার কালের উদাহরণ?    
  1. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. সাধারণ বর্তমান
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা

• 'চারিদিকে আগুন জ্বলছে'- এটি ঘটমান বর্তমান কালের উদাহরণ।

• ঘটমান বর্তমান কাল:
• যে ক্রিয়ার কাজ বর্তমানে ঘটছে বা চলছে, এখনো শেষ হয়ে যায়নি, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলা হয়।
•  বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তিতে ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
- ধন সম্পদ লুণ্ঠিত হচ্ছে।
- দিকে দিকে আগুন জ্বলছে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।

১,৫৫৮.
‘সাইরেন বেজে উঠল’ বাক্যটি যৌগিক ক্রিয়ার কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. তাগিদ দেওয়া
  2. কার্যসমাপ্তি
  3. আকস্মিকতা
  4. নিরন্তরতা
ব্যাখ্যা

'সাইরেন বেজে উঠল' বাক্যটি যৌগিক ক্রিয়ার আকস্মিকতা অর্থ প্রকাশ করে। 

যৌগিক ক্রিয়া: একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

উদাহরণসমূহ:
ক. তাগিদ দেওয়া অর্থে: ঘটনাটা শুনে রাখ।
খ. নিরন্তরতা অর্থে: তিনি বলতে লাগলেন।
গ. কার্যসমাপ্তি অর্থে: ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল।
ঘ. আকস্মিকতা অর্থে: সাইরেন বেজে উঠল।
ঙ. অভ্যস্ততা অর্থে: শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
চ. অনুমোদন অর্থে: এখন যেতে পার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১,৫৫৯.
কোনটি ক্রমবাচক বিশেষণ?
  1. অর্ধেক সম্পত্তি
  2. সত্তর পৃষ্ঠা
  3. হাজার লোক
  4. এক কেজি চাল
ব্যাখ্যা

ক্রমবাচক বিশেষণ: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।

বিশেষণের প্রকারভেদ:

• রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
• গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
• অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
• সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
• পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
• অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
• উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
• প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
• নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৫৬০.
নিচের কোনটি 'সংযোগ ক্রিয়ার' উদাহরণ?
  1. ক্যাচ ধরা
  2. কমে আসা
  3. মরে যাওয়া
  4. সরে দাঁড়ানো
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
- যেমন: 
• রাজীব খেলছে;
• বৃষ্টি হতে পারে।  
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়। যেমন - পড়্‌ + ই = পড়ি।  

♣ ভাব প্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া ২ প্রকার:
১. সমাপিকা ক্রিয়া:  
- ভাব সম্পূর্ণ হয়। যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করবে। 
২. অসমাপিকা ক্রিয়া:
- ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না। যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে। 

♣ গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া ৫ প্রকার: 
১. সরল ক্রিয়া:
- যেমন: সে লিখছে; ছেলেরা মাঠে খেলছে। 

২. প্রযোজক ক্রিয়া:
- যেমন: তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়। 

৩. নামক্রিয়া:
- যেমন: চমকানো, চমকায়, কমা, ছটফটানো (আ বা আনো প্রত্যয় যোগে)।   

৪. সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
- যেমন: গান করা, গরম করা, সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা। 

৫. যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়। 
- যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১,৫৬১.
চণ্ডীদাস বলেন, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’ - এটি কোন কালের বাক্য?
  1. পুরাঘটিত অতীত
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. সাধারণ বর্তমান
  4. সাধারণ অতীত
ব্যাখ্যা
• সাধারণ বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন -
- সে ভাত খায়।
- আমি বাড়ি যাই।

সাধারণ বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:

ক. অনুমতি প্রার্থনায় (ভবিষ্যৎ কালের অর্থে): এখন তবে আসি।
খ. প্রাচীন লেখকের উদ্ধৃতি দিতে (অতীত কালের অর্থে): চণ্ডীদাস বলেন, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’।
গ. বর্ণিত বিষয় প্রত্যক্ষীভূত করতে (অতীতের স্থলে): আমি দেখেছি, বাচ্চাটি রোজ রাতে কাঁদে।
ঘ. ‘নেই’, ‘নাই’ বা ‘নি’ শব্দযোগে অতীত কালের ক্রিয়ায়: তিনি গতকাল হাটে যাননি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৬২.
বিদেশি উৎস থেকে আগত অব্যয় শব্দ হলো-
  1. ক) খুব
  2. খ) আবার
  3. গ) আর
  4. ঘ) যদি
ব্যাখ্যা
ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।

বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে-
- বাংলা অব্যয়- আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।
- তৎসম অব্যয়- যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, বৈদাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি।
- বিদেশি অব্যয়- আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৬৩.
'প্রলুব্ধ' শব্দের বিশেষ্য রূপ কোনটি?
  1. ক) প্রলিপ্ত
  2. খ) প্রলোভিত
  3. গ) প্রলোভন
  4. ঘ) প্রলেপক
ব্যাখ্যা
 প্রলুব্ধ/ প্রলোভিত' শব্দের বিশেষ্য রূপ = 'প্রলোভন'

• প্রলোভন (বিশেষ্য) 
অর্থ: লুব্ধকরণ, লোভজনক বিষয় 

• প্রলুব্ধ  (বিশেষণ) 
অর্থ: অতিশয় লোভাতুর,
- আকৃষ্ট

• প্রলোভ (বিশেষ্য) 
অর্থ: অতিরিক্ত লোভ 

• প্রলিপ্ত (বিশেষণ) 
অর্থ: উত্তমরূপে লেপন করা হয়েছে এমন। 

• প্রলেপক (বিশেষণ) 
অর্থ: প্রলেপকারী, লেপক। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৫৬৪.
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর। এখানে 'ভারী সুন্দর' কোন বর্গের উদাহরণ?
  1. ক) বিশেষ্যবর্গ
  2. খ) বিশেষণবর্গ
  3. গ) ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়া বর্গ
ব্যাখ্যা

আমটা দেখতে ভারী সুন্দর- এখানে 'ভারী সুন্দর' বিশেষণ বর্গের উদাহরণ।
- এখানে 'আম' বিশেষ্যের বিশেষণ রূপে ভারী সুন্দর ব্যবহৃত হয়েছে।  
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ নিয়ে গঠিত বাক্যাংশ কে বর্গ বলে। 

নিচে বিভিন্ন ধরনের বর্গের পরিচয় দেয়া হল- 
বিশেষ্যবর্গ:
বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধ পদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্যবর্গ তৈরি হয়। 
যেমন - অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি। 
             আমার ভাই পড়তে বসেছে।  
            রহিম ও করিম বৃষ্টিতে ভিজছে। 

বিশেষণবর্গ:
বিশেষণ জাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা হয় বিশেষণবর্গ।
যেমন- আমটা দেখতে ভারী সুন্দর। 
           ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ

ক্রিয়াবিশেষণ
বর্গ: যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ বলে। 
যেমন - সকাল আটটার সময় সে রওনা হলো।
            তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে  গিয়ে দাড়ালাম। 

ক্রিয়া বর্গ:
বাক্যের ইধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় সময় ক্রিয়া বর্গহিসেবেকাজকরে।
যেমন - সে লিখছে আর হাসছে। 
            সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।

১,৫৬৫.
সম্ভ্রমার্থে সর্বনামে কোনটি সংযোজিত হয়?
  1. ক) প্রত্যয়
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) চন্দ্রবিন্দু
  4. ঘ) বিসর্গ
ব্যাখ্যা
সম্ভ্রমার্থে সর্বনামে চন্দ্রবিন্দু সংযোজিত হয়।যেমনঃ তাদের(তুচ্ছার্থে)→তাঁদের(সম্ভ্রমার্থে)। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১,৫৬৬.
"ডাকাতরা নিশীথ রাতেই গ্রামের ঘরে হানা দিয়েছিল।" - এখানে 'নিশীথ' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বাক্যটি - "ডাকাতরা নিশীথ রাতেই গ্রামের ঘরে হানা দিয়েছিল।" - 

- 'নিশীথ' শব্দটি এখানে 'রাত' শব্দটির বিশেষণ হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
অর্থাৎ কেমন রাত? — নিশীথ রাত (রাত্রির গভীর সময়)।
তাই,
'নিশীথ' এখানে বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১,৫৬৭.
'ডাক্তার আসার পর রোগী মারা গেল।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. ঘটমান অতীত কাল
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. সাধারণ অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• অতীত কাল:
অতীতে কোনো ক্রিয়া সংঘটিত হলে তার কালকে বলা হয় অতীত কাল।

অতীত কালকে নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
• সাধারণ অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতে সাধারণ ভাবে সংঘটিত হয়েছে, তাকে বলা হয় সাধারণ অতীত কাল।
যেমন-
- তিনি কাল বাড়ি এসেছেন।
- লোকটি বেড়াতে গেলো।

• ঘটমান অতীত কাল:
যে ক্রিয়ার কাল অতীতে শুরু হয়েছিল বা চলছিল বোঝায় তাকে বলা হয় ঘটমান অতীত কাল।
যেমন-
- ইলা গান গাইছিলো,
- তিনি তখন বাড়ি আসছিলেন।

• পুরাঘটিত অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতে বহুপূর্বে সংঘটিত হয়েছে এবং পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটেছে তাকে বলা হয় পুরাঘটিত অতীত কাল।
যেমন-
- আমি বাড়ি যাওয়ার পূর্বেই মিম চলে গিয়েছিল।
- ডাক্তার আসার পর রোগী মারা গেল।
- বৃষ্টি শুরু হওয়ার পূর্বেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম ইত্যাদি।

• নিত্যবৃত্ত অতীত কাল:
যে ক্রিয়ার সাহায্যে অতীত কালের কোনো কাজের অভ্যস্ততা বোঝায়, তাকে বলা হয় নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন-
- লোকটি নিয়মিত নদীর ধারে হাটতেন।
- মিম প্রায়ই রাধুনী রেস্তোরায় খেতে যেত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৬৮.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. কথা দেওয়া
  2. দোষ দেওয়া
  3. বেঁধে দেওয়া
  4. মন দেওয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সংযোগ ক্রিয়া - কথা দেওয়া, দোষ দেওয়া, মন দেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৬৯.
'বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।' - এটি কোন অতীত কালের উদাহরণ?
  1. নিত্যবৃত্ত
  2. সাধারণ
  3. পুরাঘটিত
  4. ঘটমান
ব্যাখ্যা
ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি-ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।

যেমন-
কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৭০.
‘রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়’- বাক্যে ‘খাওয়ায়’ কোন ধরনের ক্রিয়াপদ?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. নামক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ রকম। যথা:

⇒ সরল ক্রিয়া: একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে লিখছে।
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।
[এখানে ‘লিখছে’ ও ‘খেলছে’ এগুলো সরল ক্রিয়া।]

⇒ প্রযোজক ক্রিয়া: কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
[এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।]

⇒ নামক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে আ বা আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বাজারে সবজির দাম কমছে না; (বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে আ যুক্ত হয়ে হয় কমা)।
-  জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়; (ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে -আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো)।

⇒ সংযোগ ক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়। • করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা;
• কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা;
• হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া; দেওয়া ক্রিয়া যোগে:
• কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া ইত্যাদি।

⇒ যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১,৫৭১.
'অপারাজেয় বাংলা’ কোন জাতীয় নাম-বিশেষ্য?
  1. ব্যক্তিনাম
  2. স্থাননাম
  3. কালনাম
  4. সৃষ্টিনাম
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
- যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
যেমন -
- নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন -
ব্যক্তিনাম: হাবিব, জুয়েল, লতা।
স্থাননাম: বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৭২.
'স্বাস্থ্য অমূল্য সম্পদ।' এ বাক্যে 'স্বাস্থ্য' কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• স্বাস্থ্য (বিশেষ্য পদ),
- সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- সুস্থতা। 
- স্বস্তি।
- শারীরিক অবস্থা।

• গুণবাচক বিশেষ্য:

যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন-
মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা,
তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য,
তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।

তদ্রুপ-
সৌরভ, সৌন্দর্য, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি বিশেষ্য পদের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৭৩.
কোনটি অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ?
  1. এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
  2. ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
  3. আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
  4. দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।

​যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো

​অন্যদিকে,​
​​সাধারণ ভবিষ্যৎ - দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।
ঘটমান ভবিষ্যৎ - আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব। এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,৫৭৪.
“তাজা মাছ” – এখানে “তাজা” কোন প্রকার বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক
  2. গুণবাচক
  3. বর্ণবাচক
  4. অংশবাচক
ব্যাখ্যা
“তাজা মাছ” - এখানে “তাজা” অবস্থাবাচক বিশেষণ।
বিশেষিত পদের অবস্থা প্রকাশ করে। যেমন: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।

• নাম-বিশেষণ:
- যে বিশেষণ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম শব্দকে বিশেষিত করে, তাকে নাম-বিশেষণ বলে।
- নাম-বিশেষণ নিম্নলিখিত কয়েক প্রকারের হতে পারে। যেমন-
- বর্ণবাচক: বিশেষিত পদের বর্ণ বা রং নির্দেশ করে। যেমন-সবুজ মাঠ, নীল আকাশ, কালো মেঘ ইত্যাদি।
- গুণবাচক: বিশেষিত পদের গুণ-বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। যেমন-চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া।
- অংশবাচক: বিশেষিত পদের অংশ প্রকাশ করে। যেমন অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।

আরও কিছু নাম-বিশেষণের প্রকারভেদ দেওয়া হলো- 
- সংখ্যাবাচক: বিশেষিত পদের সংখ্যা নির্দেশ করে। যেমন। হাজার লোক, দশ টাকা, শ টাকা, সাত দিন।
- ক্রমবাচক: বিশেষিত পদের সংখ্যা ক্রমিক অবস্থা নির্দেশ করে। যেমন: দশম শ্রেণি, দ্বিতীয় পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
- পরিমাণবাচক: বিশেষিত পদের পরিমাণ বা মাত্রা নির্দেশ করে। যেমন: বিষাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনি জাহাজ, এক কেজি চাল ইত্যাদি।
- উপাদানবাচক:বিশেষিত বস্তুর উপাদান নির্দেশ করে। যেমন: বেলে মাটি, মেটে কলসি।
- প্রশ্নবাচক: প্রশ্নবাচক পদের জবাব বিশেষণ হয়। যেমন: কত দূর পথ? কেমন অবস্থা। কতক্ষণ সময়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৭৫.
'ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।' বাক্যেটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. অনুজ্ঞা বর্তমান
  2. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. সাধারণ ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা
• ভবিষ্যৎ কাল:
ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে। ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার: সাধারণ ভবিষ্যৎ, ঘটমান ভবিষ্যৎ এবং অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।

সাধারণ ভবিষ্যৎ:
ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমরা রংপুরে যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।

ঘটমান ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১,৫৭৬.
যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে কী বলে?
  1. বিভক্তি
  2. প্রত্যয়
  3. উপসর্গ
  4. বলক
ব্যাখ্যা
বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- ‘তখনই’ বা ‘এখনও’ পদের ‘ই’ বা ‘ও’ হলো বলকের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- 'পরিচালক' শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।

প্রত্যয়:
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
- 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।

বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
১,৫৭৭.
'রোগা ছেলে' - এখানে 'রোগা' কোন জাতীয় বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  2. গুণবাচক বিশেষণ
  3. বিধেয় বিশেষণ
  4. ভাববাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'রোগা ছেলে' - এখানে 'রোগা' কোন অবস্থাবাচক বিশেষণ

বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন -
- চলন্ত ট্রেন,
- তরল পদার্থ,
- রোগা ছেলে
এখানে 'চলন্ত', 'তরল' ও 'রোগা' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৭৮.
কোন বাক্যটি প্রযোজক ক্রিয়া দ্বারা গঠিত?
  1. ক) আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
  2. খ) ঝম ঝম করে বৃষ্টি পড়ছে।
  3. গ) সাইরেন বেজে উঠলো।
  4. ঘ) মা শিশুটিকে চাঁদ দেখাচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটি ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)।
যেমন: মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

প্রযোজক কর্তা : যে ক্রিয়া প্রযোজন করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
প্রযোজ্য কর্তা : যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন : মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। বাক্যে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা, ‘শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।

অন্য অপশনে,
'সাইরেন বেজে উঠলো'- যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 
'আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।', ঝম ঝম করে বৃষ্টি পড়ছে।'- মিশ্র ক্রিয়ায়র উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১,৫৭৯.
নিচের কোনটি দ্বারা বিস্ময় আবেগের ভাব প্রকাশ করা যায়?
  1. উহ্‌ !
  2. হায় !
  3. বাহ্‌ !
  4. শাবাশ !
ব্যাখ্যা
বিস্ময় আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ করে।
যেমন -
- আরে ! তুমি আবার কখন এলে?
- আহ্‌, কী চমৎকার দৃশ্য!
- হায় ! আমি তো ভাবতেই পারিনি!

অন্যদিকে,
• উহ্‌ - আতঙ্ক আবেগ।
• বাহ্‌ - প্রশংসা আবেগ।
• শাবাশ ! - প্রশংসা আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৫৮০.
‘একজন এসে পত্রটা দেয়।’ বাক্যে ‘একজন’ কোন ধরনের সর্বনাম পদ?
  1. পারস্পরিক সর্বনাম
  2. আত্মবাচক সর্বনাম
  3. সাপেক্ষ সর্বনাম
  4. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।

• অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন ইত্যাদি।
- বাক্য: একজন এসে খবরটা দেয়।
- বাক্য: একজন এসে পত্রটা দেয়।
============== 
অন্যদিকে,
• আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।
বাক্য: সে নিজে অঙ্কটা করছে।

• সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।
বাক্য: যেমন কর্ম তেমন ফল।

• পারস্পরিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।
বাক্য: যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১,৫৮১.
নিচের কোন বাক্যে আকাঙ্ক্ষা ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
  1. তুমি কাল যেও।
  2. বৃষ্টি আসে আসুক।
  3. ছাতাটা দিন তো ভাই।
  4. আপনি কি আসবেন?
ব্যাখ্যা
আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব:
- যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।

অন্যদিকে,
নির্দেশক ভাব:
- সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক: তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়: আপনি কি আসবেন?

অনুজ্ঞা ভাব:
- আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন:
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
• বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড় ।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৮২.
কোনটি নাম-বিশেষ্য?
  1. মানুষ
  2. ছাগল
  3. নদী
  4. সঞ্চিতা
ব্যাখ্যা
নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

অন্যদিকে,
জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৫৮৩.
অনুসর্গ এক প্রকারের - 
  1. অব্যয়
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিভক্তি
  4. শব্দ বিভক্তি
ব্যাখ্যা

• অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
→ বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
→ সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
→ দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,৫৮৪.
'সে পাস করে গেল।' - এই বাক্যে কোন ধরনের ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. মিশ্র
  2. যৌগিক
  3. প্রযোজক
  4. দ্বিকর্মক
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
সে পাস করে গেল।
সাইরেন বেজে উঠল।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,৫৮৫.
'বেশ, তবে যাওয়াই যাক।' - এখানে কোন ধরনের আবেগ প্রকাশ পেয়েছে?
  1. সিদ্ধান্ত আবেগ
  2. বিরক্তি আবেগ
  3. বিস্ময় আবেগ
  4. আতঙ্ক আবেগ
ব্যাখ্যা

সিদ্ধান্ত আবেগ:
এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি ভাব প্রকাশ করা হয় ।

যেমন:
- হ্যাঁ, আমাদের জিততেই হবে।
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।

অন্যদিকে, 
বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন –
- ছি ছি! এরকম কথা তার মুখে মানায় না।
- জ্বালা! তোমাকে নিয়ে আর পারি না!

আতঙ্ক আবেগ:
এ ধরনের আবেগ-শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রণা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশ করে।
যেমন –
- উহ্, কী বিপদে পড়া গেল ৷
- বাপরে বাপ! কী ভয়ঙ্কর ছিল রাক্ষসটা।

বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ করে।
যেমন –
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- আহ্, কী চমৎকার দৃশ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,৫৮৬.
'আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে।' এখানে 'তো' কোন ধরনের অব্যয় পদ?
  1. ক) অনুকার অব্যয়
  2. খ) অনন্বয়ী অব্যয়
  3. গ) সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. ঘ) অনুসর্গ অব্যয়
ব্যাখ্যা

• যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশের ব্যবহৃত হয় তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
• 'আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে।'
•বাক্যটি 'তো' এর সাথে অন্য কোনো পদের মিল নেই।
• এটি ছাড়াও বাক্যটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে।
• তাই 'তো' এখানে অনন্বয়ী অব্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৮৭.
কোনটি সাধারণ বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. এবার মা খেতে ডেকেছেন।
  2. টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক দেখাচ্ছে।
  3. দুই আর দুইয়ে চার হয়।
  4. অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।
ব্যাখ্যা
সাধারণ বর্তমান:
- যে ক্রিয়ার কাজটি বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে বা হয়, তাকে সাধারণ বর্তমান বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
সকালে সূর্য ওঠে।
দুই আর দুইয়ে চার হয়।
আমি রোজ বিদ্যালয়ে পড়তে যাই।

অন্যদিকে,
- ঘটমান বর্তমান - টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক দেখাচ্ছে।
- পুরাঘটিত বর্তমান - এবার মা খেতে ডেকেছেন। এবং অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,৫৮৮.
ঘটমান বর্তমান কালের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) আমি রোজ স্কুলে যাই।
  2. খ) ইভা গান গাইছে।
  3. গ) আমি অঙ্কটি করেছি।
  4. ঘ) আমরা স্কুলে এসেছি।
ব্যাখ্যা
ঘটমান বর্তমান কাল:
যে কাজ শেষ হয়নি, এখনও চলছে, সে কাজ বোঝানোর জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়,
যথা:
- আরিফ বই পড়ছে।
- ইভা গান গাইছে।
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

অন্যদিকে,
'আমি রোজ স্কুলে যাই।'- সাধারণ বর্তমান কালের উদাহরণ।  
‘আমি অঙ্কটি করেছি।‘, আমরা স্কুলে এসেছি।' পুরাঘটিত বর্তমানের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৮৯.
কোনটি নাম বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. মানুষ
  2.  ফুল
  3. হিমালয়
  4. পর্বত
ব্যাখ্যা

• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

অন্যদিকে,
• জাতি-বিশেষ্য: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,৫৯০.
'কোন দেশেতে তরুলতা, সকল দেশের চাইতে শ্যামল’- ‘চাইতে’ ক্রিয়াটির ব্যবহার কোন ধরনের?
  1. ক) অনন্বয়ী অব্যয়
  2. খ) ক্রিয়াবাচক বিশেষণ
  3. গ) বিশেষণ বাচকতা
  4. ঘ) অনুসর্গ তৈরী
ব্যাখ্যা
- 'কোন দেশেতে তরুলতা, সকল দেশের চাইতে শ্যামল’- বাক্যে চাইতে শব্দটি ‘অপেক্ষা’ সংস্কৃত  অনুসর্গের ন্যায় ব্যবহৃত হয়েছে।
যেমন- প্রাণের অপেক্ষা প্রিয় আর কী আছে?

অনুসর্গ প্রধানত দুই প্রকার।
- নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ
- ক্রিয়া অনুসর্গ

নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

- সংস্কৃত অনুসর্গ: অপেক্ষা, অভিমুখ, উপরে, কর্তৃক, জন্য, দিকে ইত্যাদি।
- বিবর্তিত অনুসর্গ: আগে, কাছে, ছাড়া, তরে, পানে, পাশে, বই, ভেতর, মাঝে, সাথে, সামনে ইত্যাদি।
- ফারসি অনুসর্গ: দরুন, বদলে, বনাম,বাদে, বাবদ, বরাবর ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
১,৫৯১.
কোনটি পুরাঘটিত বর্তমান?
  1. অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।
  2. হাসান বই পড়ছে
  3. আমি বাড়ি যাই
  4. আমি রোজ বিদ্যালয়ে পড়তে যাই।
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত বর্তমান:
- ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলে এবং তার ফল এখনও বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।

​যেমন:
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
​- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

​​অন্যদিকে, 
সাধারণ বর্তমান - আমি বাড়ি যাই।, আমি রোজ বিদ্যালয়ে পড়তে যাই।
ঘটমান বর্তমান - হাসান বই পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৫৯২.
নিচের কোন বাক্যে ধ্বন্যাত্মক নামক্রিয়ার উদাহরণ আছে?
  1. ছেলেরা মাঠে খেলছে।
  2. জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।
  3. রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
  4. সে লিখছে।
ব্যাখ্যা
নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে আ বা আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন -
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে আনো যুক্ত হয়ে হয় চমকানো: আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।
- বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে -আ যুক্ত হয়ে হয় কমা: বাজারে সবজির দাম কমছে না।
- ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়

অন্যদিকে,
- ছেলেরা মাঠে খেলছে। এবং সে লিখছে। = সরল ক্রিয়া।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়। = প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৯৩.
'এখন গোল্লায় যাও' এটি কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) মিশ্র ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) ণিজন্ত ক্রিয়া
  4. ঘ) নামধাতুর ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
মিশ্র ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ঋনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে ক, হ, দে, পা, যা, কাট, গা, ছাড়, ধ, মার প্রভৃতি ধাতুযােগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে। যেমন
বিশেষ্যের পরে : আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। ছেলেটি গােল্লায় গেছে (এখন গোল্লায় যাও)
বিশেষণের পরে : তােমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
ঋনাত্মক অব্যয়ের পরে : মাথা ঝিম ঝিম্ করছে। ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯৪.
কর্মের উপস্থিতিতে ক্রিয়ার প্রকারভেদ নয় কোনটি?
  1. ক) দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  2. খ) সকর্মক ক্রিয়া
  3. গ) অকর্মক ক্রিয়া
  4. ঘ) যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার।  যথা:

১. অকর্মক ক্রিয়া: বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন - সে ঘুমায়। এই বাক্যে কোনাে কর্ম নেই।

২. সকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন - সে বই পড়ছে।
এই বাক্যে পড়ছে’ হলাে সকর্মক ক্রিয়া। বই’ হলাে ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন - শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।

উৎসঃ মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৯৫.
'যদি তোমার মতো ভাই পেতাম!'- বাক্যে ক্রিয়ার কোন ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
  1. নির্দেশক ভাব
  2. সাপেক্ষ ভাব
  3. অনুজ্ঞাসূচক
  4. আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
• আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব:
যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা-আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা-প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- যদি তোমার মতো ভাই পেতাম!
- যেন তাই হয়।

----------------
• নির্দেশক ভাব: এতে কোনো কাজের সাধারণ নির্দেশ হয় বা কিছু জিজ্ঞেস করা হয়।
যেমন:
- আমি পড়ি।
- সে কি গিয়েছিল?

• সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সম্ভাবনায়: যদি বৃষ্টি হয়, ফসল ভালো হবে।
- উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে, সফল হবে।
- ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে, আমার এত কষ্ট হতো না।

• অনুজ্ঞাসূচক ভাব:
আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাবৰ হয়।
যেমন:
- চুপ করো (আদেশ)।
- মিথ্যা বলবে না (নিষেধ)।
- দয়া করে একবার দেখবেন ব্যাপারটা (অনুরোধ)।
- মন দিয়ে পড়ো (উপদেশ)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।
১,৫৯৬.
সাধারণ অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে নিম্নে কোন বাক্যে?
  1. মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
  2. সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
  3. ভালো করে খেয়ে নাও।
  4. তোমার দ্বারা এমন কাজ হবে।
ব্যাখ্যা

সাধারণ অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে - তোমার দ্বারা এমন কাজ হবে।

• সাধারণ অনুসর্গ
⇒ যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন-
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
- বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
⇒ যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন-
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
- ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৬ সালের সংস্করণ)।

১,৫৯৭.
'সংশয়ে সংকল্প সদা টলে, পাছে লোকে কিছু বলে।' বাক্যটিতে যে অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে -
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. অনুসর্গ অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা
• 'সংশয়ে সংকল্প সদা টলে, পাছে লোকে কিছু বলে।' বাক্যটিতে যে অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে - অনন্বয়ী অব্যয়

অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন -
- উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
- স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে: হ্যাঁ, আমি যাব।
- সম্মতি প্রকাশে: আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব।
- অনুমোদনবাচকতায়: আপনি যখন বলছেন, বেশ তো আমি যাব।
- সমর্থনসূচক জবাবে: আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে।
- যন্ত্রণা প্রকাশে: উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে। নাঃ! এ কষ্ট অসহ্য।
- ঘৃণা বা বিরক্তি প্রকাশে: ছি ছি, তুমি এত নীচ! কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।
- সম্বোধনে: 'ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।'
- সম্ভাবনায়: 'সংশয়ে সংকল্প সদা টলে, পাছে লোকে কিছু বলে।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৯৮.
স্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে কী বলে?
  1. নিত্যবৃত্ত অতীত
  2. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. ঘটমান বর্তমান
ব্যাখ্যা

নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
- স্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে

নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
ক. স্থায়ী সত্য প্রকাশে : চার আর তিনে সাত হয়; সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়।
খ. ঐতিহাসিক বর্তমান : বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
গ. কাব্যের ভনিতায় : কাশীরাম দাস ভনে শুনে পুন্যবান।
ঘ. অনিশ্চয়তা প্রকাশে : কে জানে দেশে আবার সুদিন আসবে কি না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,৫৯৯.
"সে তার বাবার অর্ধেক সম্পত্তি পাবে" বাক্যে 'অর্ধেক সম্পত্তি' কোন পদ?
  1. ক) পরিমাণবাচক বিশেষণ
  2. খ) অংশবাচক বিশেষণ
  3. গ) নির্দিষ্টতা বিশেষণ
  4. ঘ) বিশেষণের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
বিশেষণের প্রকারভেদ
- বিশেষণ পদকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- নাম বিশেষণ এবং ভাব বিশেষণ।
- নাম বিশেষণকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- বিশেষ্যের বিশেষণ এবং সর্বনামের বিশেষণ।
- ভাব বিশেষণকে আবার চার ভাগে ভাগ করা যায়
যথা- ক্রিয়া বিশেষণ, বিশেষণের বিশেষণ, অব্যয়ের বিশেষণ এবং বাক্যের বিশেষণ।।

নাম বিশেষণ : যে বিশেষণ পদ কোনাে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।
যথা
- বিশেষ্যের বিশেষণ : সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালবাসে?
- সর্বনামের বিশেষণ : সে রূপবান ও গুণবান।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ: নাম বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা
⇒ রূপবাচক : কালাে মেঘ, নীল আকাশ, সবুজ মাঠ।
⇒ গুণবাচক : দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া, চৌকস লােক।
⇒ অবস্থাবাচক : মােটা মেয়ে, রােগা ছেলে, তাজা মাছ, খোঁড়া পা।
 ⇒ সংখ্যাবাচক : শ টাকা, হাজার লােক, দশ দশা। |
⇒ ক্রমবাচক : পঞ্চাশ পৃষ্ঠা, অষ্টম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা।
⇒ পরিমাণবাচক : এক কেজি চিনি, তিন কিলােমিটার রাস্তা, বিঘাটেক জমি, দশ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ।
⇒ অংশবাচক : ষােল আনা দখল, সিকি পথ, অর্ধেক সম্পত্তি।
⇒ উপাদানবাচক : কাঠের জানালা, পাথরের মূর্তি, বেলে মাটি, মেটে কলসি।
⇒ প্রশ্নবাচক : কেমন অবস্থা? কতদূর পথ? |
⇒ নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক : এই মেয়ে, ষােলই ডিসেম্বর ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬০০.
'আমরা তখন বই পড়ছিলাম।'- কোন ধরনের অতীত কালের উদাহরণ?
  1. ঘটমান অতীত কাল
  2. সাধারণ অতীত কাল
  3. পুরাঘটিত অতীত কাল
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• অতীত কাল:
যে ক্রিয়া পুর্বে ঘটে গেছে, তাকে অতীত কাল বলে। অতীত কালের চারটি রূপ। যথা:

• সাধারণ অতীত কাল: যে ক্রিয়া সাধারণভাবে অতীত অর্থাৎ বর্তমান কালের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত।
যেমন:
- বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল।
- পুলিশ সন্ত্রাসী ছেলেটিকে মেরে ফেলল।
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।

• ঘটমান অতীত কাল: অতীতে কোনো কাজ চলছিল এবং তখনও কাজটি শেষ হয়নি; এরূপ অর্থে ঘটমান অতীত ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।

• পুরাঘটিত অতীত কাল: যে ক্রিয়া অতীতে ঘটেছে এবং এর প্রভাবও শেষ হয়ে গেছে। তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম।
- প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের বাড়ি গিয়েছিলেন।
- আমি ঐ কাজ করেছিলাম।
[বাক্যে কাজ গুলো অতীতে হয়ে গিয়েছে এবং এর রেশ এবং প্রভাবও শেষ হয়ে গিয়েছে]

• নিত্যবৃত্ত অতীত কাল: অতীতকালে যে ক্রিয়া সাধারণভাবে এবং সচরাচর ঘটতো তার কাল নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন:
- প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।
- তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।