বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা ১০ / ৩১ · ৯০১১,০০০ / ৩,০২৪

৯০১.
'চাতুর্য' এর বিশেষণ কোনটি?
  1. চতুরালি
  2. চতুরতা
  3. চাতুরতা
  4. চতুর
ব্যাখ্যা
• 'চাতুর্য' শব্দের বিশেষণ = 'চতুর'।

চাতুর্য (বিশেষ্য):
- সংস্কৃত শব্দ;
অর্থ: চতুরতা। 

চতুর (বিশেষণ):
- সংস্কৃত শব্দ;
অর্থ:
- ধূর্ত, বুদ্ধিমান, নিপুন।
- ঠগ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৯০২.
স্থায়ী সত্য বা চিরসত্য প্রকাশে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) দুই আর তিন পাঁচ হয়।
  2. খ) কাশীরাম দাস ভণে শুনে পুণ্যবান।
  3. গ) ১৯৭১ সালে আমাদের দেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
  4. ঘ) কে জানে আজ ফেরি পার হতে পারব কিনা।
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
স্বাভাবিক বা অভ্যাস বােঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যেমন-
সকালে সূর্য ওঠে।-স্বাভাবিকতা, আমি রােজ সকালে চা খাই।- অভ্যাস।
নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ:
১. ঐতিহাসিক বর্তমান কাল: অতীতের কোনাে ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনায় যদি নিত্য বর্তমান কালের প্রয়ােগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে। যেমন: ১৯৭১ সালে আমাদের দেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
২. স্থায়ী সত্য বা চিরসত্য প্রকাশে: দুই আর তিন পাঁচ হয়।
৩, অনিশ্চয়তা প্রকাশে: কে জানে আজ ফেরি পার হতে পারব কিনা।
৪. কাব্যের ভণিতায়: “মহাভারতের কথা অমৃত সমান। | কাশীরাম দাস ভণে শুনে পুণ্যবান।'
৫. যদি, যখন, যেন প্রভৃতি শব্দের প্রয়ােগে: অতীত ও ভবিষ্যৎ কাল জ্ঞাপনের জন্য সাধারণ বর্তমান কালের ব্যবহার হয়।
যেমন- বিপদ যখন আসে, তখন এমনি করেই আসে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৩.
তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ হলো-
  1. ক) সংযোজক অব্যয়
  2. খ) বিয়োজক অব্যয়
  3. গ) সংকোচক অব্যয়
  4. ঘ) অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা

- সমুচ্চয়ী অব্যয় : যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
- সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথাঃ সংযোজক, বিয়োজক এবং সংকোচক।

- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি।

৯০৪.
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।- এ বাক্যে ‘ভালোভোবে’ কী ধরণের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) ধরণবাচক
  2. খ) কালবাচক
  3. গ) স্থানবাচক
  4. ঘ) নেতিবাচক
ব্যাখ্যা
• যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোন কাজ কীভাবে বা কেমন করে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে ধরনবাচক বা ভাবজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
য়েমন :
টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে।
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে।

কালবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে তাদেরকে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন:
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

স্থানবাচক: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
মিলেমিশে সামনে এগিয়ে যায়।

নেতিবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ না, নি, নেই ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায় তাকে নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পেছনে বসে।
যেমন:
সে এখন যাবে না

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯০৫.
'তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।'- কোন ধরনের অতীত কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত কাল
  2. পুরাঘটিত অতীত কাল
  3. ঘটমান অতীত কাল
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• অতীত কাল:
যে ক্রিয়া পুর্বে ঘটে গেছে, তাকে অতীত কাল বলে। অতীত কালের চারটি রূপ। যথা:

• সাধারণ অতীত কাল: যে ক্রিয়া সাধারণভাবে অতীত অর্থাৎ বর্তমান কালের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত।
যেমন:
- বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল।
- পুলিশ সন্ত্রাসী ছেলেটিকে মেরে ফেলল।
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।

• ঘটমান অতীত কাল: অতীতে কোনো কাজ চলছিল এবং তখনও কাজটি শেষ হয়নি; এরূপ অর্থে ঘটমান অতীত ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।

• পুরাঘটিত অতীত কাল: যে ক্রিয়া অতীতে ঘটেছে এবং এর প্রভাবও শেষ হয়ে গেছে। তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম।
- প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের বাড়ি গিয়েছিলেন।
- আমি ঐ কাজ করেছিলাম।
[বাক্যে কাজ গুলো অতীতে হয়ে গিয়েছে এবং এর রেশ এবং প্রভাবও শেষ হয়ে গিয়েছে]

• নিত্যবৃত্ত অতীত কাল: অতীতকালে যে ক্রিয়া সাধারণভাবে এবং সচরাচর ঘটতো তার কাল নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন:
- প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।
- তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৯০৬.
কোনটি অসমাপিকা ক্রিয়ার ধরন?
  1. ক) শর্ত
  2. খ) ভূত
  3. গ) ভাবী
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন – ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৯০৭.
‘যমুনা’ কোন ধরণের বিশেষ্য?
  1. ক) বস্তু-বিশেষ্য
  2. খ) স্থাননাম-বিশেষ্য
  3. গ) সৃষ্টিনাম-বিশেষ্য
  4. ঘ) কালনাম-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন -
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সােমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

বস্তু বিশেষ্য: কোনাে দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

সুতরাং, যমুনা স্থাননাম বিশেষ্য হবে।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

৯০৮.
'নিশ্চয়ই পারব।' এখানে 'নিশ্চয়ই' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. অনুকার অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
উচ্ছ্বাস প্রকাশে:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে:
হ্যাঁ, আমি যাব।
না, আমি যাব না।

সম্মতি প্রকাশে:
-আমি আজ আলবত যাব।
- নিশ্চয়ই পারব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৯০৯.
নিচের কোনটি মিশ্র ক্রিয়ার উদাহরণ নয়?
  1. ক) আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
  2. খ) এখন গোল্লায় যাও।
  3. গ) এখন যেতে পার।
  4. ঘ) ঝম্‌ ঝম্‌ করে বৃষ্টি পড়ছে।
ব্যাখ্যা
এখন যেতে পার- মিশ্র ক্রিয়ার উদাহরণ নয়। 
এটি  যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

মিশ্র ক্রিয়া
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, প্রভৃতি ধাতুযোগে
গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে, তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে।
যেমন–
বিশেষ্যের (পরে) : আমরা তাজমহল দর্শন করলাম; এখন গোল্লায় যাও। 
ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পরে : ঝম্‌ ঝম্‌ করে বৃষ্টি পড়ছে।  

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে একটি সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। 
যেমন:  এখন যেতে পার। 


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
৯১০.
ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।
  2. শীঘ্রই বৃষ্টি আসবে।
  3. আমরা মাঠে খেলতে যাব।
  4. তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। 
ব্যাখ্যা
• তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে।- এই বাক্যে সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে।

অন্যদিকে,
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।
- শীঘ্রই বৃষ্টি আসবে।
- আমরা মাঠে খেলতে যাব।
[বাক্যগুলো সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ।]

-----------------------
• ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলো ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ।নিচের বাক্য দুটির দিকে তাকানো যাক:
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম।
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি।

[প্রথম বাক্যে ক্রিয়ার কাল অতীত এবং ক্রিয়া ঘটার সময় অতীতের। কিন্তু দ্বিতীয় বাক্যে ক্রিয়ার কাল বর্তমান কালের এবং ক্রিয়া ঘটার সময় অতীতের। দ্বিতীয় বাক্যটি কালের বিশিষ্ট প্রয়োগের নমুনা।]

• সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)
- সবাই যেন সভায় হাজির থাকে। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

• ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

• সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল। (ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)
- 'যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।

• সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২২ সংস্করণ)।
৯১১.
"তুমি" সর্বনামবাচক শব্দটি কোন পুরুষ?
  1. উত্তম পুরুষ
  2. মধ্যম পুরুষ
  3. নাম পুরুষ
  4. ঘনিষ্ঠতা-জ্ঞাপক পুরুষ
ব্যাখ্যা
• সর্বনামের পুরুষ:
'পুরুষ' একটি পারিভাষিক শব্দ। বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়ারই পুরুষ আছে। বিশেষণ ও অব্যয়ের পুরুষ নেই। ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার।

১. উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।

২. মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাকে, তোমাদের, তোমাদিগকে, আপনি, আপনারা, আপনার, আপনাদের প্রভৃতি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।

৩. নাম পুরুষ:
অনুপস্থিত অথবা পরোক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণীই নাম পুরুষ। সে, তারা, তাহারা, তাদের, তাহাকে, তিনি, তাঁকে, তাঁরা, তাঁদের প্রভৃতি নাম পুরুষ। (সমস্ত বিশেষ্য শব্দই নাম পুরুষ)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৯১২.
যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাকে কী বলে?
  1. ক) ভাব বিশেষণ
  2. খ) ক্রিয়া বিশেষণ
  3. গ) বিশেষণের বিশেষণ
  4. ঘ) নাম বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাকে ভাব বিশেষণ বলে। অর্থাৎ এই পদ বিশেষণ পদকে বিশেষিত করে।
যেমন -
খুব ভালো ছাত্র।

নাম বিশেষণ:
যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দকে বিশেষিত করে তাকে নাম বিশেষণ বলে। বিশেশ্যকে বিশেষিত করলে তাকে বলা হয় বিশেষ্যের বিশেষণ; ার সর্বনামকে বিশেষিত করলে তাকে বলা হয় সর্বনামের বিশেষণ। তবে একই শব্দ বিশেষ্য কিংবা সর্বনামের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
উদাহরণ: 
বিশেষ্যের বিশেষণ: দুষ্ট ছেলেটা দৌড়ে পালালো।
সর্বনামের বিশেষণ: দুষ্ট, তোকে দিয়ে কোনো কাজ হবে না।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৯১৩.
”সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।” - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. নিত্য অতীত
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা
সাধারণ বর্তমান:
- যে ক্রিয়া বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন
- আমি স্কুলে যাই।
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।

উল্লেখ্য,
• বর্তমান কাল
- বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে।

• বর্তমান কাল চার প্রকার:
- সাধারণ বর্তমান,
- ঘটমান বর্তমান,
- পুরাঘটিত বর্তমান এবং;
- অনুজ্ঞা বর্তমান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৯১৪.
'গ্রামে ফিরে যাও কিংবা শহরে নতুন জীবন শুরু করো।' - এখানে 'কিংবা' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. অনুকার
  2. অনুসর্গ
  3. বিয়োজক
  4. সংযোজক
ব্যাখ্যা

• 'গ্রামে ফিরে যাও কিংবা শহরে নতুন জীবন শুরু করো।'- এখানে 'কিংবা' বিয়োজক অব্যয়।

• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

• বিয়োজক অব্যয়: 
- গ্রামে ফিরে যাও কিংবা শহরে নতুন জীবন শুরু করো।
এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 

এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

• সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

• অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়: 
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯১৫.
'ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর।' এখানে 'সনে' কী?
  1. উপসর্গ 
  2. বিশেষ্য 
  3. অনুসর্গ 
  4. বিভক্তি 
ব্যাখ্যা

• অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে, তাকে অনুসর্গ বলে।
অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
- সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯১৬.
'মা শিশুটিকে খাওয়াচ্ছেন' বাক্যটিতে 'খাওয়াচ্ছেন' কোন ক্রিয়াপদের উদাহরণ?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  3. গ) যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) অকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া: 
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।
যেমন: 'মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন'- বাক্যটিতে 'খাওয়াচ্ছেন' প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া, 'মা' প্রযোজক কর্তা এবং 'শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)। 
৯১৭.
'উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে।' - বাক্যে 'উঃ!' কী ধরনের অব্যয়?
  1. অনন্বয়ী
  2. সমুচ্চয়ী
  3. অনুসর্গ
  4. অনুকার
ব্যাখ্যা
অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনাে অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
- অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনােভাব প্রকাশে সহায়তা করে।
যেমন:
- মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।

কিছু অনন্বয়ী অব্যয়ের উদাহরণ হলো:
•  ‘হ্যাঁ’ আমি যাব না (স্বীকৃতি জ্ঞাপনে)।
•  উঃ!’ পায়ে বড্ড লেগেছে (যন্ত্রণা প্রকাশে)।
• ‘ওগো’ আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে' (সম্বোধন অর্থে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯১৮.
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে কী শব্দ বলে?
  1. ক্রিয়া
  2. অনুসর্গ
  3. বিশেষণ
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম:
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।
- যেমন: "শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।"
- দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।
- সর্বনাম মোট নয় প্রকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৯১৯.
জাতি বাচক বিশেষ্যের উদহারণ কোনটি?
  1. সৌরভ
  2. বই
  3. গাছ
  4. সমিতি
ব্যাখ্যা
জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনাে একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বােঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন - মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী, ইংরেজ।

দ্রব্যবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনাে উপাদানবাচক পদার্থের নাম বােঝায়, তাকে বহ্বাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্ত্র সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়।
যেমন - বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, লবণ, পানি।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বােঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যথা— সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল,  বহর, দল।

ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনাে বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বােঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা—মধুর মিষ্টত্বের গুণ মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ–তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ— তিক্ততা, তরুণের গুণ-তারুণ্য ইত্যাদি।
তদ্রপ : সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ]
 
৯২০.
নিচের কোন বাক্যে প্রযোজক ক্রিয়া আছে?
  1. ক) বাবা ছেলেকে পড়াচ্ছেন।
  2. খ) বাবা ছেলের জন্য বই এনেছেন।
  3. গ) শিক্ষক ছাত্রদের বেতাচ্ছেন। 
  4. ঘ) মা শিশুকে গান শোনাচ্ছেন।
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়া একজনের (কর্তার) প্রযোজনায় বা চালনায় অন্যের দ্বারা অনুষ্ঠিত হয় তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন : 
মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। 
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। 
সাপুড়ে সাপ খেলায়

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৯২১.
'গান করা' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. সংযোগ ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. নাম ক্রিয়া
  4. সরল ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়। করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা; কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা; হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া; দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া; ধরা ক্রিয়া যোগে: ভাঙন ধরা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা; পাওয়া ক্রিয়া যোগে: লজ্জা পাওয়া, কষ্ট পাওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া; খাওয়া ক্রিয়া যোগে: আছাড় খাওয়া, মার খাওয়া, ডিগবাজি খাওয়া; মারা ক্রিয়া যোগে: উঁকি মারা, পকেট মারা।

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

৯২২.
কোনটি পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ?
  1. সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আমরা মসজিদে পৌঁছেছিলাম।
  2. তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।
  3. তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
  4. আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত অতীত কাল:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।

​যেমন
- সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আমরা মসজিদে পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

অন্যদিকে,
ঘটমান অতীত - আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
সাধারন অতীত - তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
নিত্য অতীত - তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৯২৩.
"টিটু নাচে।" - বাক্যটি কোন বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. সাধারণ বর্তমান
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. অনুজ্ঞা বর্তমান
ব্যাখ্যা
সাধারণ বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সে ভাত খায়।
- আমি বাড়ি যাই।
- টিটু নাচে।

সাধারণ বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
(১) অনুমতি প্রার্থনায় (ভবিষ্যৎ কালের অর্থে): এখন তবে আসি।
(২) প্রাচীন লেখকের উদ্ধৃতি দিতে (অতীত কালের অর্থে): চণ্ডীদাস বলেন, 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'
(৩) বর্ণিত বিষয় প্রত্যক্ষীভূত করতে (অতীতের স্থলে): আমি দেখেছি, বাচ্চাটি রোজ রাতে কাঁদে।
( ৪) 'নেই', 'নাই' বা 'নি' শব্দযোগে অতীত কালের ক্রিয়ায়: তিনি গতকাল হাটে যাননি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯২৪.
যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ নিম্নের কোনটি?
  1. ক) ছেলেরা মাঠে খেলছে।
  2. খ) মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছে।
  3. গ) তোমার সাঁতার কাটা শেখা উচিত।
  4. ঘ) এগিয়ে চলতে হবে।
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।
'এগিয়ে চলতে হবে' তাই যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

ছেলেরা মাঠে খেলছে = সরল ক্রিয়া
মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছে = প্রযোজক ক্রিয়া 
তোমার  সাঁতার কাটা শেখা উচিত = সংযোগ ক্রিয়া 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৯২৫.
'বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।' - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত বর্তমান:
- যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।

যেমন:
- বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।
- এবার মা খেতে ডেকেছেন।
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৯২৬.
নিচের কোনটি বিদেশী অব্যয় শব্দ?
  1. ক) সদা
  2. খ) সুতরাং
  3. গ) বহুত
  4. ঘ) দৈবাৎ
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় (উত্স অনুযায়ী) তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে।
বাংলা অব্যয় শব্দঃ আর, আবার, ও, হাঁ, না ইত্যাদি।
তৎসম অব্যয় শব্দঃ যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি।
বিদেশী অব্যয় শব্দঃ আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

৯২৭.
নিচের কোন বাক্যটি অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করে?
  1. তারা বাড়ি যাবে।
  2. বৃষ্টি আসে আসুক।
  3. ভালো করে পড়লে সফল হবে।
  4. অন্যায় কাজ করো না।
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।

- ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।

⇒ নির্দেশক ভাব: সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক:
- আমরা বই পড়ি।
- তারা বাড়ি যাবে।

খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়:
- আপনি কি আসবেন?
- সে কি গিয়েছিল?

⇒ অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
• বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড়।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

⇒ সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

⇒ আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব: আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।
- তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯২৮.
“তুমি, তোমরা, আপনি” – কোন পুরুষের উদাহরণ?
  1. উত্তম পুরুষ
  2. মধ্যম পুরুষ
  3. নাম পুরুষ
  4. প্রথম পুরুষ
ব্যাখ্যা

• পুরুষ তিন প্রকার।
যেমন:
- উত্তম পুরুষ,
- মধ্যম পুরুষ,
- নাম পুরুষ।

• উত্তম পুরুষ:
ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে।
যেমন: আমি, আমরা ইত্যাদি।

• মধ্যম পুরুষ:
বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে।
যেমন: তুমি, তােমরা, আপনি ইত্যাদি।

• নাম পুরুষ:
বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে।
যেমন: সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯২৯.
সিক্ত নীলাম্বরী রেখাঙ্কিত পদের নাম কী?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• সিক্ত (বিশেষণ) - ভেজা; আর্দ্র।
• নীলাম্বরী (বিশেষ্য) - নীল শাড়ি; নীল বস্ত্র।

• কেবল 'সিক্ত' বা কেবল 'নীলাম্বরী' পদ যদি রেখাঙ্কিত থাকতো তাহলে এখানে নির্দিষ্ট করে বিশেষ্য বা বিশেষণ চিহ্নিত করা যেত। 
কিন্তু এখানে যেহেতু সম্পূর্ণ 'সিক্ত নীলাম্বরী' অংশ রেখাঙ্কিত রয়েছে তাই এটি বিশেষ্য পদ হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত। কেননা শব্দগুচ্ছ হিসেবে এটি বস্তু-বিশেষ্য নির্দেশ করছে।

• বিশেষ্য: কোন কিছুর নামকেই বিশেষ্য বলে।
- যে পদ কোন ব্যক্তি, বস্তু, প্রাণী, সমষ্টি, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম, গুণ ইত্যাদির নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
- কোন দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। 

উৎস: অভিগম্য অভিধান ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯৩০.
ক্রিয়ামূল, ক্রিয়ারকাল ও পুরুষ ইত্যাদি ব্যাকরণের কোন অংশের আলােচ্য বিষয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) বাক্যতত্ত্ব
  3. গ) পদভ্রম
  4. ঘ) রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্বঃ ব্যাকরণে শব্দ বা পদের আলোচনাকে বলে রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব।

এর আলোচ্য বিষয় হলোঃ
- শব্দগঠন,
- প্রত্যয়,
- উপসর্গ,
- পদপরিচয়,
- লিঙ্গ,
- পুরুষ,
- বচন,
- শব্দ ও ধাতুরূপ,
- সমাস,
- কারক।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৩১.
পদের শ্রেণিবিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. অনুসর্গ
  2. যোজক
  3. উপসর্গ
  4. আবেগ
ব্যাখ্যা

• পদের শ্রেণিবিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয়- উপসর্গ। 

-----------------
• পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:

শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ। বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা
করা যায়। 
যেমন:
১. বিশেষ্য,
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ,
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়াবিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক,
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৯৩২.
'সুশোভন' - কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. গুণবাচক বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়াবিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'সুশোভন' - বিশেষণ পদ।

বিশেষণ :
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন - 
রক্তাক্ত (বিশেষণ): রক্তে মাখা; রক্তরঞ্জিত।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯৩৩.
নিচের কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. অবধি
  2. প্রতি
  3. চেয়ে
  4. যদিও
ব্যাখ্যা
• যদিও - অনুসর্গ নয়। 
- "যদিও" একটি অব্যয়।
---------------- 
অনুসর্গ: 

- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন - 
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ। 

• কোন পর্যন্ত পড়েছ?
এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। 

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা - 
- সাধারণ অনুসর্গ ও 
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
৯৩৪.
কোনটি অনুসর্গের দৃষ্টান্ত?
  1. অপর - পর
  2. কাছে - পাশে
  3. যেমন - তেমন
  4. যারা - তারা
ব্যাখ্যা
• কাছে ও পাশে শব্দদুটি অনুসর্গ পদের উদাহরণ।

• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
- রুনা অপেক্ষা পুতুলের পরীক্ষা ভালো হয়েছে।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ?
[উপরের বাক্যে ব্যবহৃত ‘অপেক্ষা’ ও ‘পর্যন্ত’ অনুসর্গের উদাহরণ।]
 
• এরূপ আরো কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ হলো:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতিত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘কে’ ‘রে’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন:
- তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব!

অন্যদিকে,
- ‘যেমন - তেমন’ ‘যারা - তারা’ সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ।
- ‘অপর - পর’ অন্যবাচক সর্বনাম পদের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৯৩৫.
নিচের কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য?
  1. ক) মানুষ
  2. খ) পর্বত
  3. গ) নদী
  4. ঘ) সভা
ব্যাখ্যা

- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল।

অপরদিকে,
মানুষ, পর্বত ও নদী হলো জাতিবাচক বিশেষ্য৷

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯৩৬.
বিদেশি উৎস থেকে আগত অব্যয় -
  1. ক) যথা
  2. খ) সদা
  3. গ) শাবাশ
  4. ঘ) অর্থাৎ
ব্যাখ্যা

ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়। বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে--
বাংলা অব্যয়- আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।
তৎসম অব্যয়- যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, বৈদাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি।
বিদেশি অব্যয়- আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

৯৩৭.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. ক) জাত
  2. খ) গৈরিক
  3. গ) গাম্ভীর্য
  4. ঘ) উদ্ধত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
• জাত (বিশেষণ)- জন্মেছে এরূপ (নবজাত), উৎপন্ন; সঞ্জাত; উদ্ভূত।

• গাম্ভীর্য' (বিশেষ্য) গম্ভীর ভাব; গম্ভীরতা।

• গৈরিক  (বিশেষ্য)- গিরিমাটি।
তবে, গৈরিক এর বিশেষণ বাচক শব্দের অর্থ- পর্বতে উৎপন্ন।  

• উদ্ধত (বিশেষণ)- দুর্বিনীত; ধৃষ্ট; স্পর্ধিত, দুরন্ত; দুর্দান্ত; উগ্র।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৯৩৮.
ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে গঠিত হয়-
  1. নামপদ
  2. ক্রিয়াপদ
  3. বিশেষ্য পদ
  4. বিশেষণ পদ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ামুল বা ধাতুর সাথে বিভক্তি যুক্ত হয়ে গঠিত হয় - ক্রিয়াপদ।

• ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
 
• ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন -
পড়্‌ + ই = পড়ি,
পড়্‌ + এ = পড়ে,
পড়্‌ + ছে = পড়ছে,
পড়্‌ + বে = পড়বে 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৩৯.
"সে অত্যন্ত পরিশ্রমী" – এখানে "অত্যন্ত" কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষণীয় বিশেষণ
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন:

• নাম-বিশেষনের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

• ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

• ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।
এখানে "খুব" হলো ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ, কারণ এটি "দ্রুত" ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করছে।

উপরিউক্ত বাক্যটিতে,
"পরিশ্রমী" হলো একটি নাম-বিশেষণ, যা কোনো ব্যক্তির গুণ প্রকাশ করে।
আবার, "অত্যন্ত" শব্দটি "পরিশ্রমী" বিশেষণটিকে বিশেষিত করছে, অর্থাৎ এটি বিশেষণকে আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করছে।
যেহেতু, যেসব শব্দ বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাদের বিশেষণীয় বিশেষণ বলে। সুতরাং, এ বাক্যে 'অত্যন্ত' বিশেষণের বিশেষণ।

অন্য অপশন:
(ক) বিশেষ্য → "অত্যন্ত" বিশেষ্য নয়, কারণ এটি কোনো বস্তু বা ব্যক্তি নির্দেশ করে না।
(খ) ক্রিয়া → "অত্যন্ত" কোনো কাজ বা কর্ম বোঝাচ্ছে না, তাই এটি ক্রিয়া নয়।
 (ঘ) সর্বনাম → এটি কোনো ব্যক্তি বা বস্তু নির্দেশ করছে না, তাই সর্বনামও নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৪০.
নিচের কোনটি সাধারণ অতীত?
  1. পড়ছিলাম
  2. গেল
  3. উঠতাম
  4. পৌঁছেছিলাম
ব্যাখ্যা
সাধারণ অতীত:
- অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন -
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল

অন্যদিকে,
ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন -
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম

অন্যদিকে,
পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম। 

নিত্য অতীত:
- অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন -
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৪১.
'এখন বৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতি হবে।' -বাক্যে অসমাপিকা ক্রিয়াটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. কার্যপরম্পরতা বোঝাতে
  2. সম্ভাব্যতা অর্থে
  3. সাপেক্ষতা বোঝাতে
  4. বিধিনিষেধ বোঝাতে
ব্যাখ্যা
'ইলে' > 'লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার কয়েকটি ব্যবহার-
• বিধিনিষেধ বোঝাতে- এখানে ময়লা ফেললে শাস্তি হবে 
• প্রতিফল বোঝাতে- ইট মারলে পিটুনি খেতেই হয়।
• সাপেক্ষতা বোঝাতে --তুমি গেলে আমিও যাব। 
• সম্ভাব্যতা অর্থে - 'এখন বৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতি হবে।'
- প্রশ্ন বা বিস্ময় জ্ঞাপনে -- একবার 'মরলে' কি কেউ ফেরে?
- বিধিনির্দেশ অর্থে- এখানে প্রচারপত্র লাগালে ফৌজদারিতে সোপর্দ হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ। 
৯৪২.
'এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।'-বাক্যটি কোন ধরনের বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. বর্তমান অনুজ্ঞা
  2. ঘটমান বর্তমান কাল
  3. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  4. সাধারণ বর্তমান কাল
ব্যাখ্যা
• বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া দ্বারা বর্তমানের কোনো কাজ করা, অভ্যাস বা চিরসত্য বোঝায় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কালের চারটি রূপ। যথা:
১. সাধারণ বর্তমান কাল।
২. ঘটমান বর্তমান কাল।
৩. পুরাঘটিত বর্তমান কাল।
৪. বর্তমান অনুজ্ঞা।

সাধারণ বর্তমান কাল: যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তৃণা স্কুলে যায়।
- বর্ণ বই পড়ে।

• ঘটমান বর্তমান কাল: যে ক্রিয়ার কাল শেষ হয়নি, এখনও চলছে এরূপ অর্থ বোঝালে ঘটমান বর্তমান হয়।
যেমন:
- ছন্দা গান গাইছে।
- রাফিন ও রিজন বল খেলছে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অর্থে ঘটমান বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- চিন্তা করো না, কালই আসছি।

• পুরাঘটিত বর্তমান কাল: যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।

• বর্তমান অনুজ্ঞা: বর্তমানে কোনো ক্রিয়া সম্পাদনের আদেশ, উপদেশ, আশীবার্দ, অভিশাপ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝানোর জন্য বর্তমান অনুজ্ঞা ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সকলের মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য বলো।
- আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করুন।
- আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দান করুক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৪৩.
'কর্তব্য' এর বিশেষ্য রূপ কোনটি?
  1. ক) কাজ
  2. খ) ক্রিয়া
  3. গ) কার্য
  4. ঘ) করণীয়
ব্যাখ্যা
কর্তব্য (বিশেষণ) 
অর্থ: করণীয়, উচিত। 


কার্য  (বিশেষ্য) 
অর্থ: 
- কাজকর্ম 
- প্রয়োজন, নিমিত্ত
- উপকার, ফল
- শাস্ত্র বিহিত ক্রিয়াকর্ম ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৯৪৪.
নিচের কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. ক) মধ্যে
  2. খ) হতে
  3. গ) অবধি
  4. ঘ) নিম
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অনুসর্গ হলোঃ প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হতে, থেকে, চেয়ে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
• কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম প্রভৃতি ফারসি উপসর্গ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৪৫.
'পঞ্চায়েত' কোন প্রকার বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. জাতিবাচক বিশেষ্য
  2. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  3. ভাববাচক বিশেষ্য
  4. নামবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন-
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন-
- গমন, দর্শন, ভোজন, শয়ন, দেখা, শোনা।

নামবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোন ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান, বা গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নামবাচক বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন-
- নজরুল, ঢাকা, মেঘনা, হিমালয়, গীতাঞ্জলি, ফাল্গুন, বিজু, বৈসাবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯৪৬.
'বুদ্ধিমান' এর বিশেষ্য পদ কোনটি?
  1. বৃদ্ধিত্ব
  2. বুদ্ধিমত্তা
  3. বৃদ্ধি
  4. চাতুর্য
ব্যাখ্যা
বুদ্ধিমত্তা (বিশেষ্য) : 
- ধীশক্তি,
- বুদ্ধিশালিতা, 
- বিজ্ঞতা, 
- মনীষা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি। 
৯৪৭.
'তিনি বাড়ি গেলেন।' - ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে? 
  1. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  2. সাধারণ অতীত কাল
  3. পুরাঘটিত অতীত কাল 
  4. সাধারণ বর্তমান কাল 
ব্যাখ্যা

• তিনি বাড়ি গেলেন।' সাধারণ অতীত কাল নির্দেশ করে। 

​• সাধারণ অতীত কাল:

- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটনকালই  সাধারণ অতীত কাল।

যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
- আমি খেলা দেখে এলাম।
​- রাফি এসেছিল। 

​উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৯৪৮.
‘দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে।।’ - বাক্যে ‘সনে’ অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সমসূত্রে
  2. বিরুদ্ধগামিতা
  3. তুলনায়
  4. সহগামিতা
ব্যাখ্যা

• এখানে 'সহ" 'সহিত' 'সঙ্গে' 'সনে' -এগুলা একেক বাক্যে একেক অর্থ প্রকাশ করেছে।
যেমন:
 ১. তিনি পুত্র সহ উপস্থিত হলেন। (সহগামীতা অর্থে),
 ২. শত্রুর সহিত সন্ধি চাইনা। (সমসূত্রে অর্থে),
 ৩. মায়ের সঙ্গে এই মেয়ের তুলনা হয়না। (তুলনায় অর্থে),
 ৪. দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে। (বিরুদ্ধগামীতা অর্থে)।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯৪৯.
'সমুদয় সভ্যগণ আসিয়াছেন।' - বাক্যে 'সমুদয়' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. নির্দেশক সর্বনাম
  2. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  3. সাকুল্যবাচক সর্বনাম
  4. আত্মবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• 'সমুদয় সভ্যগণ আসিয়াছেন।' - বাক্যে 'সমুদয়' সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম।

সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম:

- ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৯৫০.
নিচের কোনটিতে অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ রয়েছে?
  1. সে গান গাইছে
  2. বাবা আমাকে বই দিলেন
  3. মেয়েটি হাসে
  4. সে কবিতা লিখছে
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া
বলে।
যেমন -
পাভেল খেলছে
বৃষ্টি হতে পারে

- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন -
পড় + ই = পড়ি, পড় + এ = পড়ে, পড় + ছে = পড়ছে, পড় + বে = পড়বে।
- পক্ষ (পুরুষ) এবং কাল ভেদে ক্রিয়ার রূপভেদ হয়।
যেমন -
পক্ষভেদ: আমি পড়ি, আমরা পড়ি, তুমি পড়ো, তোমরা পড়ো, সে পড়ে, তারা পড়ে।
কালভেদ: আমি পড়ি, আমি পড়ছি, আমি পড়েছি, আমি পড়েছিলাম, আমি পড়ছিলাম, আমি পড়ব।

• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার:
১. অকর্মক ক্রিয়া,
২. সকর্মক ক্রিয়া,
৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া।

• অকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন - মেয়েটি হাসে
এই বাক্যে কোনো কৰ্ম নেই।

অন্যদিকে,
সে গান গাইছে, সে কবিতা লিখছে - সকর্মক ক্রিয়া।
বাবা আমাকে বই দিলেন - দ্বিকর্মক ক্রিয়া। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৫১.
বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয় কোন অনুসর্গটি?
  1. চেয়ে
  2. ব্যতীত
  3. পর্যন্ত
  4. বিনা
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
[অনুসর্গগুলো কখনো প্রতিপাদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।]

বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে। এগুলো হলো-
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।

[এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক (তৃতীয়া বিভক্তি), হইতে, হতে, চেয়ে (পঞ্চমী বিভক্তি), অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৫২.
বিভক্তিযুক্ত শব্দকে কী বলে?
  1. পদ
  2. প্রাতিপাদিক
  3. অক্ষর
  4. বাক্য
ব্যাখ্যা
• বিভক্তিযুক্ত শব্দকে - পদ বলে। 

পদ: 
- শব্দে বিভক্তি যুক্ত হলেই তাকে পদ বলা হয়। অর্থাৎ, বিভক্তি যুক্ত শব্দকে পদ বলে।
- বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ বিভক্তিযুক্ত।
- যেসব শব্দে বিভক্তি দেখা যায় না সেসব শব্দে শূন্য বিভক্তি থাকে। তাই বাক্যের প্রতিটি শব্দই পদ।

পদগুলো প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা - সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৫৩.
'তাহিয়া গান গাইছে।' কোন ধরনের বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ
  2. নিত্যবৃত্ত
  3. পুরাঘটিত
  4. ঘটমান
ব্যাখ্যা

• ঘটমান বর্তমান কাল:
যে কাজ শেষ হয়নি, এখনও চলছে, সে কাজ বোঝানোর জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়,
যথা:
- হাসান বই পড়ছে।
- তাহিয়া গান গাইছে।
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৯৫৪.
“ছেলেরা স্টেশন বরাবর দৌড়ে যাচ্ছে” এখানে অলগ্নক পদ কোনটি?
  1. ক) ছেলেরা
  2. খ) স্টেশন
  3. গ) দৌড়ে
  4. ঘ) যাচ্ছে
ব্যাখ্যা

শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে বলে হয় পদ। পদে পরণত হবার সময় শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়। তাকে লগ্নক বলে। লগ্নক ৪ প্রকার -
বিভক্তি
নির্দেশক
বচন
বলক

বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক এবং বাক্যের যেসকল পদে লগ্নক থাকে না তাকে অলগ্নক পদ বলে।
“ছেলেরা স্টেশন বরাবর দৌড়ে যাচ্ছে” বাক্যটিতে 'ছেলেরা', 'দৌড়ে' 'যাচ্ছে' সলগ্নক পদ। অন্যদিকে 'স্টেশন', 'বরাবর' অলগ্নক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)

৯৫৫.
কোনটি বিশেষণ?
  1. সৎ
  2. একতা
  3. দর্শন
  4. জনতা
ব্যাখ্যা

উত্তর: ক) সৎ।

বিশেষণ:
বাংলা ব্যাকরণে বিশেষণ হলো এমন শব্দ যা বিশেষ্য বা সর্বনামের গুণ, পরিমাণ, পরিমাপ, অবস্থা, বা পরিচয় বোঝায় এবং তাকে বিশেষিত করে। বিশেষণ সাধারণত বিশেষ্যের পূর্বে বা পরে ব্যবহৃত হয়।

নিচে অপশনগুলোর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

ক) সৎ:
অর্থ: নৈতিকভাবে ভালো, সত্যবাদী।
- এটি একটি বিশেষণ, কারণ এটি বিশেষ্যের গুণ বা অবস্থা বোঝায়।
উদাহরণ: সৎ মানুষ (মানুষ বিশেষ্যকে সৎ বিশেষিত করছে)।

খ) একতা:
অর্থ: ঐক্য বা মিলন।
- এটি গুণবাচক বিশেষ্য।

গ) দর্শন:
অর্থ: দৃষ্টি, দর্শনশাস্ত্র, বা দেখা।
- এটি ভাববাচক বিশেষ্য।

ঘ) জনতা:
অর্থ: জনসাধারণ বা মানুষের সমষ্টি।
- এটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯৫৬.
অলংকার আবেগের প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. আরে! তুমি আবার কখন এলে?
  2. জ্বালা! তোমাকে নিয়ে আর পারি না!
  3. দুর! এ কথা কি বলতে আছে?
  4. শাবাশ! এমন খেলাই তো চেয়েছিলাম।
ব্যাখ্যা
• অলংকার আবেগের প্রয়োগ ঘটেছে - দুর! এ কথা কি বলতে আছে?

আবেগ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ বলে।
- এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

অলংকার আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয়, অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 
- দুর! এ কথা কি বলতে আছে?

অন্যদিকে,
• বিস্ময় আবেগ - আরে! তুমি আবার কখন এলে?
• বিরক্তি আবেগ - জ্বালা! তোমাকে নিয়ে আর পারি না!
• প্রশংসা আবেগ - শাবাশ! এমন খেলাই তো চেয়েছিলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৫৭.
পানি ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ফোটে- এটি কোন কালের উদাহরণ?  
  1. নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল। 
  2. পুরাঘটিত বর্তমান কাল। 
  3. ঘটমান বর্তমান কাল।  
  4. অনুজ্ঞা বর্তমান কাল।  
ব্যাখ্যা

পানি ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ফোটে- এটি নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের উদাহরণ। 
----------------------------
• নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
- নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল মূলত সাধারণ বর্তমান কালেরই একটি বিশেষ প্রয়োগ।
- নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল হলো বর্তমান কালের সেই রূপ, যার মাধ্যমে কোনো কাজ নিয়মিতভাবে ঘটে, অভ্যাসগতভাবে করা হয় বা চিরন্তন সত্য হিসেবে প্রকাশ পায়।
- অর্থাৎ যে কাজ প্রতিদিন, বারবার বা সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ঘটে—তা বোঝাতে এই কাল ব্যবহৃত হয়।
- যেমন—
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে,
- আমি রোজ সকালে হাঁটি।

- নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো:
• প্রথমত চিরন্তন সত্য প্রকাশ পায়, যা কখনো পরিবর্তিত হয় না—
- যেমন-
- পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে,
- মানুষ মরণশীল। দ্বিতীয়ত।

• অভ্যাসগত কর্ম বোঝাতে ব্যবহৃত হয়—
- যেমন- 
- মা প্রতিদিন সকালে কোরআন পড়েন,
- সে নিয়মিত ব্যায়াম করে।

• তৃতীয়ত, সাধারণ সত্য বা নিয়ম প্রকাশ করে—
- যেমন- 
- চার আর তিনে সাত হয়,
- পানি ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ফোটে।
----------------------------
অন্যদিকে,
- পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
- পুরাঘটিত বর্তমান কাল তখন ব্যবহৃত হয়, যখন কোনো কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছে কিন্তু তার ফল বা প্রভাব এখনো বর্তমান আছে।
- অর্থাৎ কাজ শেষ হলেও তার ছাপ বর্তমান কালে টিকে থাকে।
- যেমন—
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি,
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।

- ঘটমান বর্তমান কাল:
- ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয় সেই কাজ বোঝাতে, যা এই মুহূর্তে চলমান।
- যেমন—
- আমি স্কুলে যাচ্ছি,
- আমাদের পরীক্ষা চলছে। 

- অনুজ্ঞা বর্তমান কাল:
- অনুজ্ঞা বর্তমান কাল দ্বারা বর্তমান কালে আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, উপদেশ, প্রার্থনা, আশীর্বাদ বা অভিশাপ প্রকাশ করা হয়।
- যেমন—
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো,
- সকলের মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৯৫৮.
বিভক্তিহীন অনুসর্গ কোনটি?
  1. ভেতরে
  2. মতো
  3. পরে
  4. মাঝে
ব্যাখ্যা

বিভক্তিহীন অনুসর্গ:
কিছু অনুসর্গ গঠনের দিক থেকে বিভক্তিহীন।
যেমন: অপেক্ষা, অবধি, কর্তৃক, ছাড়া, দ্বারা, নাগাদ, পর্যন্ত, প্রতি, বিনা, ব্যতীত, মতো। ফারসি অনুসর্গ বিভক্তিহীন দরুন, বনাম, বরাবর, বাবদ।

অন্যদিকে,
বিভক্তিযুক্ত অনুসর্গ:
এ জাতীয় অনুসর্গের অধিকাংশই নাম অনুসর্গ'-এ' বিভক্তিযুক্ত।
যেমন: আগে, পরে, কাছে, কারণে, দিকে, নিচে, পাশে, পেছনে, বাইরে, ভেতরে, মধ্যে, মাঝে, সঙ্গে, সাথে, সামনে, সম্মুখে।

- ক্রিয়া অনুসর্গগুলো '-ইয়া জাত-এ' বিভক্তিযুক্ত।
যেমন-করে, চেয়ে, থেকে, দিয়ে, লেগে, হতে। কোনে কোনো ফারসি অনুসর্গ 'এ' বিভক্তি যোগে গঠিত। যেমন-বদলে, বাদে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯৫৯.
ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা আনাে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কোন ক্রিয়া গঠিত হয়?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) সংযোগ ক্রিয়া
  3. গ) যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) নাম ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। 
- সরল ক্রিয়া 
- প্রযোজক ক্রিয়া 
- নাম ক্রিয়া
- সংযোগ ক্রিয়া
- যৌগিক ক্রিয়া

নমিক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা আনাে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন – বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে অনাে যুক্ত হয়ে হয় চমকানাে আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়;
- বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে -আ যুক্ত হয়ে হয় কম: বাজারে সবজির দাম কমছে না;
- ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে আনাে যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৯৬০.
ভাব প্রকাশের সম্পূর্ণতা অনুসারে ক্রিয়াকে ২ ভাগে ভাগ করা হয়। সেগুলো হলো -
  1. ক) সর্মক ক্রিয়া ও অকর্মক ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া ও মিশ্র ক্রিয়া
  3. গ) মৌলিক ক্রিয়া ও যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) সমাপিকা ক্রিয়া ও অসমাপিকা ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
ভাব প্রকাশের সম্পূর্ণতা অনুসারে ক্রিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
সমাপিকা ক্রিয়া 
অসমাপিকা ক্রিয়া
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৯৬১.
অনুসর্গ নয় কোনটি?
  1. মাঝে
  2. ব্যতীত
  3. পর্যন্ত
  4. এবং
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ নয়- এবং। 
- 'এবং' যোজক পদের উদাহরণ। 

-----------------
• অনুসর্গ:

বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
[অনুসর্গগুলো কখনো প্রতিপাদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।]

বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে। যেমন-
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।

[এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক (তৃতীয়া বিভক্তি), হইতে, হতে, চেয়ে (পঞ্চমী বিভক্তি), অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৬২.
'তাগিদ' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য 
  2. বিশেষণ 
  3. ক্রিয়া 
  4. অব্যয় 
ব্যাখ্যা
• 'তাগিদ' শব্দটি বিশেষ্য পদ।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯৬৩.
নিম্নলিখিত কোন বাক্যে ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ রয়েছে?
  1. ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।
  2. বাগানটি সুন্দর।
  3. বই টেবিলে আছে।
  4. রাস্তা সংকীর্ণ।
ব্যাখ্যা
• বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন:

• নাম-বিশেষনের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

• ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।
এখানে "খুব" হলো ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ, কারণ এটি "দ্রুত" ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করছে।

অন্যদিকে,
খ) "বাগানটি সুন্দর।"
এখানে "সুন্দর" একটি বিশেষণ (adjective) যা বাগান শব্দটিকে বর্ণনা করছে। এটি কোনো ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নয়, কারণ এটি সরাসরি একটি বিশেষণ। তাই এখানে ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নেই।

গ) "বই টেবিলে আছে।"
এখানে কোনো ক্রিয়া বিশেষণ বা ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নেই।

ঘ) "রাস্তা সংকীর্ণ।"
এখানে "সংকীর্ণ" একটি বিশেষণ (adjective) যা রাস্তা শব্দটিকে বর্ণনা করছে। এটি ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নয়, কারণ এখানে কোনো ক্রিয়া বিশেষণ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৬৪.
সামীপ্যবাচক সর্বনাম পদ কোনটি?
  1. নিজে
  2. কাহার
  3. যাহারা
  4. ইহারা
ব্যাখ্যা
সর্বনাম পদ: 
- বিশেষ্যর পরিবর্তে যে শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে। 
যেমন- রাহাত ভালো ছেলে, সে নিয়মিত স্কুলে যায়। 
- উপরোক্ত উদাহরণের দ্বিতীয় বাক্যটিতে ‘সে' শব্দটি রাহাতের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই ‘সে’ হলো সর্বনাম পদ। 
- সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ বাক্যে বিভিন্নরূপে সর্বনাম পদের ব্যবহার হয়। 

- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন - 
• ব্যক্তি বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা ইত্যাদি। 
• আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি ইত্যাদি। 
সামীপ্যবাচক: এ, এই, ইহারা, ইনি ইত্যাদি। 
• দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব, সব ইত্যাদি। 
• সাকল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ ইত্যাদি। 
• প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে ইত্যাদি। 
• অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু ইত্যাদি। 
• ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, পরস্পর ইত্যাদি। 
• সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি। 
• অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৬৫.
'সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম ' - বাক্যটিতে কোন কালের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. নিত্যবৃত্ত অতীত
  2. সাধারণ অতীত
  3. ঘটমান অতীত
  4. পুরাঘটিত অতীত
ব্যাখ্যা
ঘটমান অতীত কাল :
অতীত কালে যে কাজ চলছিল। এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার
ঘটমান অতীত কাল হয়। যেমন :
- কাল সান্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

সাধারণ অতীত কাল:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল। যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

নিত্যবৃত্ত অতীত: অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে। যেমন:
আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

পুরাঘটিত অতীত কাল :
যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৬.
"শাহিন কিংবা রনি এই কাজের জন্য দায়ী।" কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয় 
  2. পদান্বয়ী অব্যয়
  3.  অনন্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• "শাহিন কিংবা রনি এই কাজের জন্য দায়ী।" - সমুচ্চয়ী অব্যয়।

সমুচ্চয়ী অব্যয় :

- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথা: সংযোজক, বিয়োজক এবং সংকোচক।

সংযোজক অব্যয় :
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়। তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।
বিয়োজক অব্যয় :
ক. হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। বাক্যে ‘কিংবা’ বিয়োজক অব্যয়।
খ. আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। ‘কিন্তু’ অব্যয়টি দুটি বাক্যের বিয়োজক। তাছাড়া বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, বিয়োজক অব্যয়।
সংকোচক অব্যয় :
তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

অন্যদিকে,
• অনুসর্গ/ পদান্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
- যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
- অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:  মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

• অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। 
যেমন- ঝম ঝম, গুড় গুড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)

৯৬৭.
'বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।' কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. ঘটমান অতীত
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. নিত্য অতীত
ব্যাখ্যা

• পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

উল্লেখ্য,
 • অতীত কাল:
- অতীতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হতো তাকে অতীত কাল বলে।

• অতীত কাল চার প্রকার:
- সাধারণ অতীত,
- ঘটমান অতীত,
- পুরাঘটিত অতীত 
- নিত্য অতীত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৯৬৮.
এখনো দেখনি তুমি? এখানে ‘নি’ কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) না-বাচক ক্রিয়া বিশেষণ
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা

না-বাচক ক্রিয়া বিশেষণঃ
নি-
এখনো দেখ নি তুমি?
ফুল কি ফোটে নি শাখে?
পুষ্পারতি লভে নি কি ঋতুর রাজন? রাখি নি সন্ধান
রহে নি, সে ভুলে নি তো
না-
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?
রচিয়া লহ না আজও গীতি।
ভুলিতে পারি না কোন মতে।
নাই-
শুনি নাই, রাখি নি সন্ধান
নাই হল, না হোক এবারে
করে নাই অর্ঘ্য বিরুন?

৯৬৯.
বিভক্তিযুক্ত অনুসর্গ কোনটি?
  1. অপেক্ষা
  2. কর্তৃক
  3. সামনে
  4. অবধি
ব্যাখ্যা
• বিভক্তিযুক্ত অনুসর্গের উদাহরণ- সামনে।

--------------------------
• বিভক্তির ভিত্তিতে বাংলা ব্যাকরণের অনুসর্গ গুলোকে বিভক্তিহীন ও বিভক্তিযুক্ত এ দুই অবস্থায় দেখা যায়। যথা:

• বিভক্তিহীন অনুসর্গ:
কিছু অনুসর্গ গঠনের দিক থেকে বিভক্তিহীন। যেমন: অপেক্ষা, অবধি, কর্তৃক, ছাড়া, দ্বারা, নাগাদ, পর্যন্ত, প্রতি, বিনা, ব্যতীত, মতো। ফারসি অনুসর্গ বিভক্তিহীন : দরুন, বনাম, বরাবর, বাবদ।]

• বিভক্তিযুক্ত অনুসর্গ:
এ জাতীয় অনুসর্গের অধিকাংশই নাম অনুসর্গ '-এ' বিভক্তিযুক্ত। যেমন: আগে, পরে, কাছে, কারণে, দিকে, নিচে, পাশে, পেছনে, বাইরে, ভেতরে, মধ্যে, মাঝে, সঙ্গে, সাথে, সামনে, সম্মুখে।

- ক্রিয়া অনুসর্গগুলো '-ইয়া জাত-এ' বিভক্তিযুক্ত। যেমন-করে, চেয়ে, থেকে, দিয়ে, লেগে, হতে। কোনে কোনো ফারসি অনুসর্গ 'এ' বিভক্তি যোগে গঠিত। যেমন-বদলে, বাদে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৭০.
মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!' বাক্যে 'মরি মরি' কোন শ্রেণির অব্যয়?
  1. সমুচ্চয়ী
  2. অনন্বয়ী
  3. পদান্বয়ী
  4. অনুকার
ব্যাখ্যা
অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীন ভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ! (উচ্ছ্বাস প্রকাশে)। 
- আজ আমি আলবত যাবো। (সম্মতি অর্থে)। 
- 'ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে' (সম্বোধন অর্থে)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৭১.
অনুসর্গ কোথায় বসে?
  1. ক) প্রাতিপদিকের পরে
  2. খ) বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে
  3. গ) ক ও খ উভয়ই
  4. ঘ) বাক্যের পূর্বে
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ গুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো ‘কে’ এবং ‘র’ বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
৯৭২.
'আজ তটিনীর ২৫তম জন্মবার্ষিকী।' বাক্যে '২৫তম' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
  2. পরিমাণবাচক বিশেষণ
  3. পূরণবাচক বিশেষণ
  4. গুণবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
'আজ তটিনীর ২৫তম জন্মবার্ষিকী।' বাক্যে '২৫তম' পূরণবাচক বিশেষণ।

• পূরণবাচক বিশেষণ:

- যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন- তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে 'তৃতীয়' ও '৩৪তম' পূরণবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
• নির্দিষ্টতাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- এই দিনে, সেই সময় এখানে 'এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

• গুণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

• পরিমাণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৯৭৩.
নিচের কোনটি পদান্বয়ী অব্যয়?
  1. মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ! 
  2. উচ্চপদ সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।
  3. ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
  4. ঝম ঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে।
ব্যাখ্যা

• 'সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে।' - এখানে 'জন্য' পদান্বয়ী অব্যয়।

• অনুসর্গ/ পদান্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
- যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
- অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।

অন্যদিকে,
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
যেমন: উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:  মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

• অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। 
যেমন- ঝম ঝম, গুড় গুড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)

৯৭৪.
'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।' বাক্যে ‘আমাদের’ কোন ধরনের সর্বনামের উদাহরণ?
  1. মানী পক্ষের সর্বনাম
  2. শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম
  3. বক্তা পক্ষের সর্বনাম
  4. অন্য পক্ষের সর্বনাম
ব্যাখ্যা
'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।' বাক্যে ‘আমাদের’ বক্তা পক্ষের সর্বনাম।

⇒ ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:

• বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যাদি।
• শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
• অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

⇒ শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: 
• সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে), 
• মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও
• ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, ও)।

----------------------------
⇒ সর্বনাম পদ:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। যেমন- "শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।" দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে। বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

সর্বনামকে নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম,
২. আত্মবাচক সর্বনাম,
৩. নির্দেশক সর্বনাম,
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম,
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম,
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম,
৭. পারস্পরিক সর্বনাম,
৮. সকলবাচক সর্বনাম,
৯. অন্যবাচক সর্বনাম।

- তবে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির পুরাতন সংস্করণ অনুসারে সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৭৫.
কোনটি গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. দর্শন
  2. শয়ন
  3. স্বাস্থ্য
  4. ভোজন
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।

যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষ্য - ভোজন, শয়ন, দর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৯৭৬.
'নদী' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. বস্তু-বিশেষ্য
  4. গুণ-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৯৭৭.
নিচের কোনটি অব্যয়টি নাম বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ক) অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ
  2. খ) আবার যেতে হবে
  3. গ) অন্যত্র চলে যায়
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- অব্যয়ের নাম বিশেষণের উদাহরণ হচ্ছে- অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।  

অব্যয় বিশেষণ:
- কতগুলো অব্যয় বাক্যে ব্যবহৃত হলে নাম-বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ এবং বিশেষণীয় বিশেষণের অর্থবাচকতা প্রকাশ করে থাকে। এদের অব্যয় বিশেষণ বলা হয়। যথা- 
• নাম-বিশেষণ- অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ। 
• ভাব-বিশেষণ- আবার যেতে হবে। 
• ক্রিয়া- বিশেষণ- অন্যত্র চলে যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৭৮.
নিচের কোনটি অনুবর্ণ নয়?
  1. ফলা
  2. রেফ
  3. বর্ণসংক্ষেপ
  4. সংখ্যা বর্ণ
ব্যাখ্যা
অনুবর্ণ: ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

ফলা: ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলােকে ফলা বলে।
যেমন – ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র-ফলা, ল-ফলা।

রেফ: র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

বর্ণসংক্ষেপ: যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়ােজন হয়। এগুলাে বর্ণসংক্ষেপ।
এছাড়া ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

সংখ্যাবর্ণ: বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশের জন্য দশটি সংখ্যাবর্ণ রয়েছে। 
যথা- ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ০

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
৯৭৯.
"আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য 
  2. বিশেষণ 
  3. যোজক 
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) বিশেষণ।

ব্যাখ্যা:
বিশেষণের সংজ্ঞা:
বিশেষণ = যে পদ বিশেষ্য বা সর্বনামকে বিশেষিত (গুণ, অবস্থা, পরিমাণ নির্দেশ) করে।

বাক্য বিশ্লেষণ: "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।"
- এখানে 'সোনার' শব্দটি বিশেষণ পদ।

কারণ, এই বাক্যে:
বাংলা = বিশেষ্য (দেশের নাম)। এবং, সোনার = বিশেষণ (বাংলাকে বিশেষিত করছে)
'সোনার' শব্দটি 'বাংলা' বিশেষ্যের গুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করছে।
 
'সোনার' শব্দের অর্থ:
- সোনার মতো মূল্যবান; সুন্দর, মনোরম।
এটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে বাংলাদেশের সৌন্দর্য ও প্রিয়তা বোঝাতে।

 উৎস: ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।

৯৮০.
'সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।' বাক্যে 'শিখতে' শব্দটি কোন ধরনের ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সমাপিকা ক্রিয়া
  2. অকর্মক ক্রিয়া
  3. সকর্মক ক্রিয়া
  4. অসমাপিকা ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
- ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
- ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
- শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

অন্যদিকে:
সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- ভালাে করে পড়াশােনা করবে।

অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়।
- এই বাক্যে কোনো কৰ্ম নেই ৷

সকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে ৷
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
- এই বাক্যে ‘পড়ছে’ হলো সকর্মক ক্রিয়া।
- ‘বই’ হলো ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯৮১.
গুণ- বিশেষ্য কোনটি?
  1. লবণ
  2. গীতাঞ্জলি
  3. গুরুত্ব
  4. ঝাঁক
ব্যাখ্যা

• 'গুরুত্ব'- গুণ- বিশেষ্যের উদাহরণ। 

-----------------
বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৯৮২.
'মাথা ঝিম ঝিম্ করছে' এটি কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) যৌগিক ক্রিয়া
  2. খ) নামধাতুর ক্রিয়া
  3. গ) মিশ্র ক্রিয়া
  4. ঘ) ণিজন্ত ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• মিশ্র ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ঋনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে ক, হ, দে, পা, যা, কাট, গা, ছাড়, ধ, মার প্রভৃতি ধাতুযােগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে। যেমন
বিশেষ্যের পরে:
- আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
- ছেলেটি গােল্লায় গেছে। (এখন গোল্লায় যাও)

বিশেষণের পরে: তােমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।

ধনাত্মক অব্যয়ের পরে:

- মাথা ঝিম ঝিম্ করছে।
- ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৩.
বিশেষণ পদ কোনটি?
  1. কল্পনা
  2. চিরন্তন
  3. রাজ্য
  4. দেশ
ব্যাখ্যা
• চিরন্তন (বিশেষণ পদ),
- সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- চিরকালীন,
- নিত্য । 

অন্যদিকে, 
• দেশ, কল্পনা, রাজ্য বিশেষ্য পদ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯৮৪.
ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ কোনটি?
  1. দ্বারা
  2. বলে
  3. জন্য 
  4. কাছে
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. সাধারণ অনুসর্গ ও
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:
সাধারণ অনুসর্গ যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলােকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ তােমার দ্বারা হবে না।
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৮৫.
’এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।’ - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
  2. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  3. নিত্য ভবিষ্যৎ
  4. ঘটমান ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

’এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।’-  বাক্যটি ঘটমান ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ।

• ভবিষ্যৎ কাল
- ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে।

⇒ ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার:
- সাধারণ ভবিষ্যৎ,
- ঘটমান ভবিষ্যৎ
- অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।

সাধারণ ভবিষ্যৎ:
- ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন
- আমরা রংপুরে যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।

• ঘটমান ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

• অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৯৮৬.
‘কথা দেওয়া’- এখানে ‘দেওয়া’ কোন ধরনের ক্রিয়া পদের উদাহরণ?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সংযোগ ক্রিয়া
  3. সরল ক্রিয়া
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ রকম। যথা:

• সরল ক্রিয়া:
একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে লিখছে।
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।
[এখানে ‘লিখছে’ ও ‘খেলছে’ এগুলো সরল ক্রিয়া।]

• প্রযোজক ক্রিয়া:
কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
[এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।]

• নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে আ বা আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বাজারে সবজির দাম কমছে না; (বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে আ যুক্ত হয়ে হয় কমা)।
-  জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়; (ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে -আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো)।

• সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
• করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা।
• কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা।
• হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া;
• দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া ইত্যাদি।

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৯৮৭.
কোনগুলো সাকুল্যবাচক সর্বনাম?
  1. এরা, ইহারা, ইনি
  2. যে, যিনি, যারা
  3. সব, সকল, তাবৎ
  4. স্বয়ং, খোদ, আপনি
ব্যাখ্যা
• সাকুল্যবাচক সর্বনাম - সব, সকল, তাবৎ।

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

(১) ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
(২) আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
(৩) সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
(৪) দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব।
(৫) সাকুল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
(৬) প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
(৭) অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
(৮) ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
(৯) সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
(১০) অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৯৮৮.
অসমাপিকা ক্রিয়ার সাথে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে কোন ধরনের ক্রিয়া গঠন করে?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. নামক্রিয়া
  3. সংযোগ ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
যেমন: 
• রাজীব খেলছে;
• বৃষ্টি হতে পারে।

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া ৫ প্রকার।
যথা, 
১. সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন:
সে লিখছে; ছেলেরা মাঠে খেলছে।  

২. প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। 
যেমন:
তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়। 

৩. নামক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে আ বা আলো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে। 
যেমন:
চমকানো, চমকায়, কমা, ছটফটানো (আ বা আনো প্রত্যয় যোগে)।  

৪. সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
গান করা, গরম করা, সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা। 

৫. যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সাথে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যৌগিক ক্রিয়া গঠন করে।   
যেমন:
উঠে পড়া, বেঁধে দেওয়া, বলে ফেলা, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো।    

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৯৮৯.
"তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না।" - বাক্যটিতে কোন ধরনের যোজক ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সাধারণ যোজক
  2. বিকল্প যোজক
  3. বিরোধ যোজক
  4. সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
• যোজক: 
- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।
- যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।

• যোজকের প্রকারভেদ:
বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজক কে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

- সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে।
যেমন: করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।

- বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন: চা না-হয় কফি খান।

বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না।

- কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

- সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৯০.
নিচের কোনটি অনুসর্গ?
  1. ক) অনু
  2. খ) খাস
  3. গ) পরি
  4. ঘ) বিনা
ব্যাখ্যা
অনু, পরি সংস্কৃত উপসর্গ, খাস আরবি উপসর্গ।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অনুসর্গ হলো- প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হতে, থেকে, চেয়ে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি। অপরদিকে আম আরবি উপসর্গ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৯১.
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে কি বলে?
  1. প্রত্যয়
  2. পদ
  3. বিভক্তি
  4. শব্দ
ব্যাখ্যা

• পদ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য
২. সর্বনাম
৩. বিশেষণ
৪. ক্রিয়া
৫. ক্রিয়া বিশেষণ
৬. অনুসর্গ
৭. যোজক
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৯৯২.
'যেমন কর্ম তেমন ফল' - এখানে 'যেমন' ও 'তেমন' কোন ধরনের সর্বনাম পদ?
  1. পারস্পরিক সর্বনাম
  2. সাপেক্ষ সর্বনাম
  3. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  4. সকলবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
‘যেমন কর্ম তেমন ফল।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘যেমন-তেমন’ শব্দটি সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ।

• সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।
--------------- 
অন্যদিকে,
পারস্পরিক সর্বনাম:
- দুই পক্ষের সহযােগিতা বা নির্ভরতা বােঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন –
- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন -
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

সকলবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম হয়। যেমন – সবাই, সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত, সব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১ )।
৯৯৩.
"মিথ্যা কথা বলো না।" - কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. অনুজ্ঞা বর্তমান
  4. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা:
আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয়, তাকে অনুজ্ঞা বলে। যেমন:

বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
• তোমরা কাজ করো।
• রোহান লিখুক।
• মিথ্যা কথা বলো না।
• অঙ্কটা বুঝিয়ে দেবেন?
• আমাকে তুমি রক্ষা করো, প্রভু।
• আদেশ করুন জাহাপনা।

ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
• সব সময় সত্যি বলবে।
• বড় হও, বুঝতে পারবে।
• অসুস্থ হলে ওষুধ খাবে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৯৯৪.
কোন শব্দটি জাতি-বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. পরিবার
  2. জনতা
  3. বৈশাখ
  4. ফুল
ব্যাখ্যা
• জাতি-বিশেষ্যের উদাহরণ - ফুল। 

বিশেষ্য:

- যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন - নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।
- বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন - মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নাম-বিশেষ্য - বৈশাখ।
• সমষ্টি-বিশেষ্য - পরিবার, জনতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৯৫.
‘আমি রোজ আসতাম।’ - বাক্যটি কোন কালের দৃষ্টান্ত?
  1. পুরাঘটিত অতীত কাল
  2. ঘটমান অতীত কাল
  3. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  4. সাধারণ অতীত কাল
ব্যাখ্যা
⇒ অতীত কাল:
যে ক্রিয়া পুর্বে ঘটে গেছে, তাকে অতীত কাল বলে। অতীত কালের চারটি রূপ। যথা:

১. সাধারণ অতীত কাল: যে ক্রিয়া সাধারণভাবে অতীত অর্থাৎ বর্তমান কালের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত।
যেমন: 
- বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল।
- পুলিশ সন্ত্রাসী ছেলেটিকে মেরে ফেলল।

২. ঘটমান অতীত কাল: অতীতে কোনো কাজ চলছিল এবং তখনও কাজটি শেষ হয়নি; এরূপ অর্থে ঘটমান অতীত ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখছিলাম।

৩. পুরাঘটিত অতীত কাল: যে ক্রিয়া অতীতে ঘটেছে এবং এর প্রভাবও শেষ হয়ে গেছে। তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম।
- প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের বাড়ি গিয়েছিলেন।
- আমি ঐ কাজ করেছিলাম।

[বাক্যে কাজ গুলো অতীতে হয়ে গিয়েছে এবং এর রেশ এবং প্রভাবও শেষ হয়ে গিয়েছে]

৪.নিত্যবৃত্ত অতীত কাল: অতীতকালে যে ক্রিয়া সাধারণভাবে এবং সচরাচর ঘটতো তার কাল নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন:
- প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।
- আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।
- আমি রোজ আসতাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৯৬.
'কার কাছে যাবে?'- এখানে 'কার' কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. যোজক
  4. অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম পদ:
বাক্যে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক সর্বনাম: ঐ, ঐসব।
৫. সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
[প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন - কী দিয়ে ভাত খায়?]
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক সর্বনাম: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ]।
৯৯৭.
তদ্ধিতান্ত বিশেষণের উদাহরণ কোনটি?
  1. জাতীয় সম্পদ
  2. হৃত সম্পত্তি
  3. শনশনে হাওয়া
  4. কাঁদকাঁদ চেহারা
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিতান্ত বিশেষণের উদাহরণ - জাতীয় সম্পদ

বিভিন্নভাবে বিশেষণ গঠনের পদ্ধতি:
ক. ক্রিয়াজাত: হারানো সম্পত্তি, খাবার পানি, অনাগত দিন।
খ. অব্যয়জাত: আচ্ছা মানুষ, উপরি পাওনা, হঠাৎ বড়লোক।
গ. সর্বনাম জাত: কবেকার কথা, কোথাকার কে, স্বীয় সম্পত্তি।
ঘ. সমাসসিদ্ধ: বেকার, নিয়ম-বিরুদ্ধ, জ্ঞানহারা, চৌচালা ঘর।
ঙ. বীপ্সামূলক: হাসিহাসি মুখ, কাঁদকাঁদ চেহারা, ডুবুডুবু নৌকা।
চ. অনুকার অব্যয়জাত: কনকনে শীত, শনশনে হাওয়া, ধিকিধিকি আগুন, টসটসে ফল, তকতকে মেঝে।
ছ. কৃদন্ত: কৃতী সন্তান, জানাশোনা লোক, পায়ে-চলা পথ, হৃত সম্পত্তি, অতীত কাল।
জ. তদ্ধিতান্ত: জাতীয় সম্পদ, নৈতিক বল, মেঠো পথ।
ঝ. উপসর্গযুক্ত: নিখুঁত কাজ, অপহৃত সম্পদ, নির্জলা মিথ্যে।
ঞ. বিদেশি: নাস্তানাবুদ অবস্থা, লাওয়ারিশ মাল, লাখেরাজ সম্পত্তি, দরপত্তনি তালুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
৯৯৮.
ধান বানতে যারা শিবের গীত গায়, তারা স্থির লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না। - বাক্যে সর্বনাম পদ কোনটি?
  1. ক) ধান
  2. খ) শিব
  3. গ) যারা
  4. ঘ) স্থির
ব্যাখ্যা

- বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- ধান বানতে যারা শিবের গীত গায়, তারা স্থির লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না। - বাক্যে সর্বনাম পদ হলোঃ 'যারা', 'তারা'।

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণীর বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।

৯৯৯.
কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) ভোজন
  2. খ) জনতা
  3. গ) হিমালয়
  4. ঘ) যৌবন
ব্যাখ্যা

• যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমনঃ
- সভা,
- জনতা,
- সমিতি,
- পঞ্চায়েত,
- মাহফিল,
- ঝাঁক,
- বহর,
- দল।
• যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যেমনঃ
- গমন,
- দর্শন,
- ভোজন,
- শয়ন,
- দেখা,
- শোনা।
• যৌবন গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
• হিমালয় সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০০০.
মেট্রোরেল অতি দ্রুত চলে। এ বাক্যে ‘অতি’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণের বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
এ বাক্যে দ্রুত ক্রিয়া বিশেষণ আর দ্রুতকে অতি শব্দ বিশেষিত করেছে বলে অতি ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ব্যবহারিক বাংলা ব্যাকরণ।