ব্যাখ্যা
চাতুর্য (বিশেষ্য):
- সংস্কৃত শব্দ;
অর্থ: চতুরতা।
চতুর (বিশেষণ):
- সংস্কৃত শব্দ;
অর্থ:
- ধূর্ত, বুদ্ধিমান, নিপুন।
- ঠগ।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১০ / ৩১ · ৯০১–১,০০০ / ৩,০২৪
- সমুচ্চয়ী অব্যয় : যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
- সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথাঃ সংযোজক, বিয়োজক এবং সংকোচক।
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি।
নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন -
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সােমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।
বস্তু বিশেষ্য: কোনাে দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।
সুতরাং, যমুনা স্থাননাম বিশেষ্য হবে।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
উচ্ছ্বাস প্রকাশে:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে:
হ্যাঁ, আমি যাব।
না, আমি যাব না।
সম্মতি প্রকাশে:
-আমি আজ আলবত যাব।
- নিশ্চয়ই পারব।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• 'গ্রামে ফিরে যাও কিংবা শহরে নতুন জীবন শুরু করো।'- এখানে 'কিংবা' বিয়োজক অব্যয়।
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
• বিয়োজক অব্যয়:
- গ্রামে ফিরে যাও কিংবা শহরে নতুন জীবন শুরু করো।
এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়।
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।
• সংযোজক অব্যয়:
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।
• সংকোচক অব্যয়:
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।
• অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়:
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে, তাকে অনুসর্গ বলে।
অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
- সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়। করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা; কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা; হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া; দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া; ধরা ক্রিয়া যোগে: ভাঙন ধরা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা; পাওয়া ক্রিয়া যোগে: লজ্জা পাওয়া, কষ্ট পাওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া; খাওয়া ক্রিয়া যোগে: আছাড় খাওয়া, মার খাওয়া, ডিগবাজি খাওয়া; মারা ক্রিয়া যোগে: উঁকি মারা, পকেট মারা।
• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
পুরাঘটিত অতীত কাল:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন
- সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আমরা মসজিদে পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
অন্যদিকে,
ঘটমান অতীত - আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
সাধারন অতীত - তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
নিত্য অতীত - তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
পুরাঘটিত বর্তমান:
- যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।
- এবার মা খেতে ডেকেছেন।
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
বাংলা ভাষায় (উত্স অনুযায়ী) তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে।
বাংলা অব্যয় শব্দঃ আর, আবার, ও, হাঁ, না ইত্যাদি।
তৎসম অব্যয় শব্দঃ যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি।
বিদেশী অব্যয় শব্দঃ আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
• পুরুষ তিন প্রকার।
যেমন:
- উত্তম পুরুষ,
- মধ্যম পুরুষ,
- নাম পুরুষ।
• উত্তম পুরুষ:
ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে।
যেমন: আমি, আমরা ইত্যাদি।
• মধ্যম পুরুষ:
বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে।
যেমন: তুমি, তােমরা, আপনি ইত্যাদি।
• নাম পুরুষ:
বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে।
যেমন: সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• পদের শ্রেণিবিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয়- উপসর্গ।
-----------------
• পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ। বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা
করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য,
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ,
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়াবিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক,
৮. আবেগ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল।
অপরদিকে,
মানুষ, পর্বত ও নদী হলো জাতিবাচক বিশেষ্য৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়। বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে--
বাংলা অব্যয়- আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।
তৎসম অব্যয়- যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, বৈদাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি।
বিদেশি অব্যয়- আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অনুসর্গ হলোঃ প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হতে, থেকে, চেয়ে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
• কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম প্রভৃতি ফারসি উপসর্গ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
• তিনি বাড়ি গেলেন।' সাধারণ অতীত কাল নির্দেশ করে।
• সাধারণ অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটনকালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
- আমি খেলা দেখে এলাম।
- রাফি এসেছিল।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
• এখানে 'সহ" 'সহিত' 'সঙ্গে' 'সনে' -এগুলা একেক বাক্যে একেক অর্থ প্রকাশ করেছে।
যেমন:
১. তিনি পুত্র সহ উপস্থিত হলেন। (সহগামীতা অর্থে),
২. শত্রুর সহিত সন্ধি চাইনা। (সমসূত্রে অর্থে),
৩. মায়ের সঙ্গে এই মেয়ের তুলনা হয়না। (তুলনায় অর্থে),
৪. দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে। (বিরুদ্ধগামীতা অর্থে)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• ঘটমান বর্তমান কাল:
যে কাজ শেষ হয়নি, এখনও চলছে, সে কাজ বোঝানোর জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়,
যথা:
- হাসান বই পড়ছে।
- তাহিয়া গান গাইছে।
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে বলে হয় পদ। পদে পরণত হবার সময় শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়। তাকে লগ্নক বলে। লগ্নক ৪ প্রকার -
বিভক্তি
নির্দেশক
বচন
বলক
বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক এবং বাক্যের যেসকল পদে লগ্নক থাকে না তাকে অলগ্নক পদ বলে।
“ছেলেরা স্টেশন বরাবর দৌড়ে যাচ্ছে” বাক্যটিতে 'ছেলেরা', 'দৌড়ে' 'যাচ্ছে' সলগ্নক পদ। অন্যদিকে 'স্টেশন', 'বরাবর' অলগ্নক পদ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)
উত্তর: ক) সৎ।
বিশেষণ:
বাংলা ব্যাকরণে বিশেষণ হলো এমন শব্দ যা বিশেষ্য বা সর্বনামের গুণ, পরিমাণ, পরিমাপ, অবস্থা, বা পরিচয় বোঝায় এবং তাকে বিশেষিত করে। বিশেষণ সাধারণত বিশেষ্যের পূর্বে বা পরে ব্যবহৃত হয়।
নিচে অপশনগুলোর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
ক) সৎ:
অর্থ: নৈতিকভাবে ভালো, সত্যবাদী।
- এটি একটি বিশেষণ, কারণ এটি বিশেষ্যের গুণ বা অবস্থা বোঝায়।
উদাহরণ: সৎ মানুষ (মানুষ বিশেষ্যকে সৎ বিশেষিত করছে)।
খ) একতা:
অর্থ: ঐক্য বা মিলন।
- এটি গুণবাচক বিশেষ্য।
গ) দর্শন:
অর্থ: দৃষ্টি, দর্শনশাস্ত্র, বা দেখা।
- এটি ভাববাচক বিশেষ্য।
ঘ) জনতা:
অর্থ: জনসাধারণ বা মানুষের সমষ্টি।
- এটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• পানি ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ফোটে- এটি নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের উদাহরণ।
----------------------------
• নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
- নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল মূলত সাধারণ বর্তমান কালেরই একটি বিশেষ প্রয়োগ।
- নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল হলো বর্তমান কালের সেই রূপ, যার মাধ্যমে কোনো কাজ নিয়মিতভাবে ঘটে, অভ্যাসগতভাবে করা হয় বা চিরন্তন সত্য হিসেবে প্রকাশ পায়।
- অর্থাৎ যে কাজ প্রতিদিন, বারবার বা সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ঘটে—তা বোঝাতে এই কাল ব্যবহৃত হয়।
- যেমন—
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে,
- আমি রোজ সকালে হাঁটি।
- নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো:
• প্রথমত চিরন্তন সত্য প্রকাশ পায়, যা কখনো পরিবর্তিত হয় না—
- যেমন-
- পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে,
- মানুষ মরণশীল। দ্বিতীয়ত।
• অভ্যাসগত কর্ম বোঝাতে ব্যবহৃত হয়—
- যেমন-
- মা প্রতিদিন সকালে কোরআন পড়েন,
- সে নিয়মিত ব্যায়াম করে।
• তৃতীয়ত, সাধারণ সত্য বা নিয়ম প্রকাশ করে—
- যেমন-
- চার আর তিনে সাত হয়,
- পানি ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ফোটে।
----------------------------
অন্যদিকে,
- পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
- পুরাঘটিত বর্তমান কাল তখন ব্যবহৃত হয়, যখন কোনো কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছে কিন্তু তার ফল বা প্রভাব এখনো বর্তমান আছে।
- অর্থাৎ কাজ শেষ হলেও তার ছাপ বর্তমান কালে টিকে থাকে।
- যেমন—
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি,
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
- ঘটমান বর্তমান কাল:
- ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয় সেই কাজ বোঝাতে, যা এই মুহূর্তে চলমান।
- যেমন—
- আমি স্কুলে যাচ্ছি,
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।
- অনুজ্ঞা বর্তমান কাল:
- অনুজ্ঞা বর্তমান কাল দ্বারা বর্তমান কালে আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, উপদেশ, প্রার্থনা, আশীর্বাদ বা অভিশাপ প্রকাশ করা হয়।
- যেমন—
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো,
- সকলের মঙ্গল হোক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
বিভক্তিহীন অনুসর্গ:
কিছু অনুসর্গ গঠনের দিক থেকে বিভক্তিহীন।
যেমন: অপেক্ষা, অবধি, কর্তৃক, ছাড়া, দ্বারা, নাগাদ, পর্যন্ত, প্রতি, বিনা, ব্যতীত, মতো। ফারসি অনুসর্গ বিভক্তিহীন দরুন, বনাম, বরাবর, বাবদ।
অন্যদিকে,
বিভক্তিযুক্ত অনুসর্গ:
এ জাতীয় অনুসর্গের অধিকাংশই নাম অনুসর্গ'-এ' বিভক্তিযুক্ত।
যেমন: আগে, পরে, কাছে, কারণে, দিকে, নিচে, পাশে, পেছনে, বাইরে, ভেতরে, মধ্যে, মাঝে, সঙ্গে, সাথে, সামনে, সম্মুখে।
- ক্রিয়া অনুসর্গগুলো '-ইয়া জাত-এ' বিভক্তিযুক্ত।
যেমন-করে, চেয়ে, থেকে, দিয়ে, লেগে, হতে। কোনে কোনো ফারসি অনুসর্গ 'এ' বিভক্তি যোগে গঠিত। যেমন-বদলে, বাদে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• "শাহিন কিংবা রনি এই কাজের জন্য দায়ী।" - সমুচ্চয়ী অব্যয়।
সমুচ্চয়ী অব্যয় :
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথা: সংযোজক, বিয়োজক এবং সংকোচক।
সংযোজক অব্যয় :
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়। তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।
বিয়োজক অব্যয় :
ক. হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। বাক্যে ‘কিংবা’ বিয়োজক অব্যয়।
খ. আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। ‘কিন্তু’ অব্যয়টি দুটি বাক্যের বিয়োজক। তাছাড়া বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, বিয়োজক অব্যয়।
সংকোচক অব্যয় :
তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।
অন্যদিকে,
• অনুসর্গ/ পদান্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
- যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
- অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।
• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
• অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।
যেমন- ঝম ঝম, গুড় গুড়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)
• পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
উল্লেখ্য,
• অতীত কাল:
- অতীতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হতো তাকে অতীত কাল বলে।
• অতীত কাল চার প্রকার:
- সাধারণ অতীত,
- ঘটমান অতীত,
- পুরাঘটিত অতীত
- নিত্য অতীত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
না-বাচক ক্রিয়া বিশেষণঃ
নি-
এখনো দেখ নি তুমি?
ফুল কি ফোটে নি শাখে?
পুষ্পারতি লভে নি কি ঋতুর রাজন? রাখি নি সন্ধান
রহে নি, সে ভুলে নি তো
না-
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?
রচিয়া লহ না আজও গীতি।
ভুলিতে পারি না কোন মতে।
নাই-
শুনি নাই, রাখি নি সন্ধান
নাই হল, না হোক এবারে
করে নাই অর্ঘ্য বিরুন?
• 'সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে।' - এখানে 'জন্য' পদান্বয়ী অব্যয়।
• অনুসর্গ/ পদান্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
- যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
- অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।
অন্যদিকে,
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
যেমন: উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।
• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
• অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।
যেমন- ঝম ঝম, গুড় গুড়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)
বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে।
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।
২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।
৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।
৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
সঠিক উত্তর: খ) বিশেষণ।
ব্যাখ্যা:
বিশেষণের সংজ্ঞা:
বিশেষণ = যে পদ বিশেষ্য বা সর্বনামকে বিশেষিত (গুণ, অবস্থা, পরিমাণ নির্দেশ) করে।
বাক্য বিশ্লেষণ: "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।"
- এখানে 'সোনার' শব্দটি বিশেষণ পদ।
কারণ, এই বাক্যে:
বাংলা = বিশেষ্য (দেশের নাম)। এবং, সোনার = বিশেষণ (বাংলাকে বিশেষিত করছে)
'সোনার' শব্দটি 'বাংলা' বিশেষ্যের গুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করছে।
'সোনার' শব্দের অর্থ:
- সোনার মতো মূল্যবান; সুন্দর, মনোরম।
এটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে বাংলাদেশের সৌন্দর্য ও প্রিয়তা বোঝাতে।
উৎস: ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'গুরুত্ব'- গুণ- বিশেষ্যের উদাহরণ।
-----------------
বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে।
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।
২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।
৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।
৫. গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
’এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।’- বাক্যটি ঘটমান ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ।
• ভবিষ্যৎ কাল
- ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে।
⇒ ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার:
- সাধারণ ভবিষ্যৎ,
- ঘটমান ভবিষ্যৎ
- অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।
• সাধারণ ভবিষ্যৎ:
- ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন
- আমরা রংপুরে যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।
• ঘটমান ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
• অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।
• পদ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য
২. সর্বনাম
৩. বিশেষণ
৪. ক্রিয়া
৫. ক্রিয়া বিশেষণ
৬. অনুসর্গ
৭. যোজক
৮. আবেগ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
- বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- ধান বানতে যারা শিবের গীত গায়, তারা স্থির লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না। - বাক্যে সর্বনাম পদ হলোঃ 'যারা', 'তারা'।
উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণীর বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
• যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমনঃ
- সভা,
- জনতা,
- সমিতি,
- পঞ্চায়েত,
- মাহফিল,
- ঝাঁক,
- বহর,
- দল।
• যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যেমনঃ
- গমন,
- দর্শন,
- ভোজন,
- শয়ন,
- দেখা,
- শোনা।
• যৌবন গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
• হিমালয় সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।