বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য ইতিহাস

মোট প্রশ্ন৭০৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য ইতিহাস

PrepBank · পাতা / · ৪০১৫০০ / ৭০৪

৪০১.
বঙ্গবন্ধু সেতুতে যান চলাচল শুরু হয় কোন সালে?
  1. ১৯৯৮ সালে
  2. ১৯৯৭ সালে
  3. ২০০১ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু সেতু ১৯৯৮ সালের জুনে উন্মুক্ত করা হয়। 
- এই সেতুর যমুনা নদীর পূর্ব পাড়ের ভুয়াপুর এবং পশ্চিম পাড়ে সিরাজগঞ্জকে সংযুক্ত করেছে।
 - এটি ১৯৯৮ সালে নির্মাণকালীন সময়ে পৃথিবীর ১১তম বৃহত্তম সেতু এবং বর্তমানে এটি দক্ষিণ এশিয়ার ৬ষ্ঠ বৃহত্তম সেতু। 
- এটি যমুনা নদীর উপর দিয়ে নির্মিত যা বাংলাদেশের প্রধান তিনটি সেতুর একটি এবং পানি প্রবাহের উপর ভিত্তি করে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম।
- বঙ্গবন্ধু সেতু যা বাংলাদেশের পূর্ব এবং পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে কৌশলগত সেতুবন্ধন তৈরী করেছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
৪০২.
মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন তারিখে বুদ্ধিজীবীদের ওপর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়?
  1. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
  2. ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
  3. ২৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
  4. ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ড:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
- ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুই শতেরও বেশি বুদ্ধিজীবীকে তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হয়।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ।

উল্লেখ্য,
- ২৫ মার্চ গনহত্যা চালায় পাকিস্তানী বাহিনী।
- যা অপারেসন সার্চ লাইট নামে অভিযান পরিচালনা করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৪০৩.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কতজন মুক্তিযোদ্ধা বীর উত্তম খেতাব পেয়েছিলেন?
  1. ৬৩ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ৬৫ জন
  4. ৬৯ জন
ব্যাখ্যা

• বীরত্বসূচক খেতাব;
- বীরত্বসূচক খেতাব  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।

- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- এ পরিকল্পে চার পর্যায়ের খেতাব প্রদানের বিধান ছিল: (ক) সর্বোচ্চ পদ, (খ) উচ্চ পদ, (গ) প্রশংসনীয় পদ, (ঘ) বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্র।

• স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সভায় বীরত্বসূচক খেতাবের নতুন নামকরণ হয়:

- সর্বোচ্চ পদমর্যাদার খেতাব →  বীরশ্রেষ্ঠ।
- উচ্চ পদমর্যাদার খেতাব →  বীর উত্তম।
- প্রশংসনীয় পদমর্যাদার খেতাব →  বীর বিক্রম।
- বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্রের খেতাব →  বীর প্রতীক।

• ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়

• বীরশ্রেষ্ঠ- ৭ জন;
• বীর উত্তম- ৬৮ জন;
• বীর বিক্রম- ১৭৫ জন;
• বীর প্রতীক- ৪২৬ জন;

উল্লেখ্য,
- ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যাঁদের খেতাব বাতিল হলো তাঁরা হলেন লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫), লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
- বীর উত্তম ৬৭ জন,
- বীর বিক্রম ১৭৪ জন,
- বীর প্রতীক ৪২৪ জন।

উৎস:
ⅰ) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
iii)বাংলাপিডিয়া।

৪০৪.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত সালে এবং কোন শহরে জোট নিরপক্ষে আন্দোলনের শীর্ষ সম্মেলন যোগদান করেন?
  1. ক) ১৯৭৩, আলজিয়ার্স
  2. খ) ১৯৭৪, নয়াদিল্লী
  3. গ) ১৯৭৫, বেলগ্রেড
  4. ঘ) ১৯৭২, কায়রো
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালের ৫-৯ সেপ্টেম্বর আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) চতুর্থ সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও সদস্যপদ লাভ করে।
- ন্যামের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৬১ সালের ১-৬ সেপ্টেম্বর বর্তমান সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড শহরে।

(সূত্র: ন্যাম ওয়েবসাইট)
৪০৫.
মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন তারিখে বুদ্ধিজীবীদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়?
  1. ক) ২৫ মার্চ ১৯৭১
  2. খ) ২৬ মার্চ ১৯৭১
  3. গ) ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
  4. ঘ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুই শতেরও বেশি বুদ্ধিজীবীকে তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৪০৬.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন নিউজ উইকস বঙ্গবন্ধুকে ‘পয়েট অব পলিটিক্স’ হিসেবে অভিহিত করে -
  1. ক) ১৯৭১ সালের ৮ মার্চ
  2. খ) ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল
  3. গ) ১৯৭১ সালের ৮ মে
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ৫ জুন
ব্যাখ্যা
• মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন নিউজ উইকস ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর কভার স্টোরি প্রকাশ করে।
- এই স্টোরিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাজনীতির কবি বা পয়েট অব পলিটিক্স’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র:- mujib100.gov.bd
৪০৭.
শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয় -
  1. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  3. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  4. ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
•উপাধি:
- গণআন্দোলনের মুখে আইয়ুব সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবসহ সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হয়। 
- মুক্তির পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভায় শেখ মুজিবর রহমানসহ মামলায় অভিযুক্তদের এক গণসম্বর্ধনা দেয়া হয় এবং শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- এরপর থেকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বা ‘বঙ্গবন্ধু’ নামেই জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
 
উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, BA & BSS প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৮.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কত সালে জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রদান করা হয়?
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৭৩ সালে
  3. গ) ১৯৭৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:

- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' কর্তৃক 'জুলিও কুরি' শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ২৩ মে, ১৯৭৩ সালে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

তথ্যসূত্র - কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
৪০৯.
Bangabandhu Sheikh Mujibur Raman's mother's name is -
  1. ক) Sheikh Fazilatunnessa
  2. খ) Sayera Khatun
  3. গ) Amena Khatun
  4. ঘ) Ayesha Begum
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:

- ১৯৪৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে বি.এ পাশ করেন।
- ১৯৪২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ পাশ করেন।
- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান।
- তাঁর মায়ের নাম সায়েরা খাতুন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে আন্দোলন করার জন্যে ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন।১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪১০.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির ভূমিকা লিখেছেন কে?
  1. শমসের মবিন চৌধুরী
  2. এনামুল হক
  3. শেখ হাসিনা
  4. শেখ রেহানা
ব্যাখ্যা
অসমাপ্ত আত্মজীবনী:

- ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বই।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির ভূমিকা লিখেছেন শেখ হাসিনা।
- এই প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক এবং সাংবাদিকদের একটি দল।
- বাংলা ভাষা ছাড়াও ইংরেজি ভাষায়ও এই বইয়ের অনুবাদ হয়েছে। বাংলাদেশে এই বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড।
- এছাড়া ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে ভারতে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া থেকে এবং পাকিস্তানে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস পাকিস্তান থেকে। এছাড়া পাকিস্তানে উর্দু ভাষাতেও এর অনুবাদ বের হবার কথা রয়েছে।
- ইংরেজিতে এই বইয়ের ভাষান্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ফকরুল আলম।

তথ্যসূত্র - অসমাপ্ত আত্মজীবনী, দৈনিক প্রথম আলো, ১৪ই আগস্ট ২০২০ এবং বিবিসি বাংলা, ১৯ জুন ২০১২।
৪১১.
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের অডিও রেকর্ড ধারণ করেন কে?
  1. জেড এম এ মবিন
  2. এস এম তৌহিদ
  3. আমজাদ আলী খন্দকার
  4. সৈয়দ মইনুল আহসান
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণ:
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেয়।
- উক্ত ভাষণ ১৮ মিনিট স্থায়ী হয়।
- এই ভাষণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
- ভাষণে মূলত চার দফা দাবি তোলা হয়।
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে 'World's Documentary Heritage' এর মর্যাদা দিয়ে 'International Memory of the World Register'- এ অর্ন্তভুক্ত করেছে।
 
উল্লেখ্য,
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণটির শব্দ ধারণ করার দায়িত্ব পড়েছিল মইনুল আহসানের ওপর।
- ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের অডিও রেকর্ড ধারণ করেন সৈয়দ মইনুল। 
- ভাষণটি তৎকালীন সরকারের চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর ক্যামেরায় ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
- প্রখ্যাত অভিনেতা আবুল খায়ের ভাষণের ভিডিও ধারণ করেন। 
- ভাষণ ধারণ করতে দুটি ক্যামেরা ব্যবহৃত হয়। 
 
উৎস: i) সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ৮ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো। 
৪১২.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার কারাগার জীবনে লেখা দিনপঞ্জির নাম দিয়েছিলেন-
  1. কারাগারের রোজনামচা
  2. থালা বাটি কম্বল জেলখানার সম্বল
  3. অসমাপ্ত আত্মজীবনী
  4. কারাগারের রাতদিন
ব্যাখ্যা
কারাগারের রোজনামচা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার কারাগার জীবনে লেখা দিনপঞ্জির নাম দিয়েছিলেন থালা বাটি কম্বল জেলখানার সম্বল।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা কারাগারের রোজনামচা নামকরণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ১৭ মার্চ, ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে ।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন ।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উৎস: কারাগারের রোচনামচা এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৪১৩.
কোন বীরশ্রেষ্ঠের দেহাবশেষ বাংলাদেশে এনে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়?
  1. ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ
  2. ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
  3. সিপাহী মোস্তফা কামাল
  4. সিপাহী হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা

- মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত আছেন ২ জন বীরশ্রেষ্ঠ।
- বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান।
- বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান।

• বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান:
- তার জন্ম ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩, খদ্দখালিশপুর, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ।
- ১৯৭১ সালে আনসারে স্বল্প সময় কাজ করে ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ সেনাবাহিনীর ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন।
- অক্টোবর ১৯৭১, মৌলভীবাজার জেলার ধলই সীমান্ত চৌকি আক্রমণে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- সামনে থেকে যুদ্ধ করতে গিয়ে তিনি শহীদ হন।
- প্রথমে তাকে সমাহিত করা হয় আমবাসা গ্রাম, কমলপুর, ত্রিপুরা, ভারত।
- পরে তার দেহাবশেষ দেশে এনে ১১ ডিসেম্বর ২০০৭ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

অন্যদিকে, 
- বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান শহীদ হন ২০ আগস্ট ১৯৭১।
- তাকে প্রথমে সমাহিত করা হয় মাসরুর বিমান ঘাঁটি, করাচি, পাকিস্তান।
- পরবর্তীতে ২৪ জুন ২০০৬, ৩৫ বছর পর তার দেহাবশেষ দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪১৪.
বঙ্গবন্ধুকে ‘রাজনীতির নান্দনিক শিল্পী’ বলেছেন -
  1. ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খ) মাওলানা ভাসানী
  3. গ) তাজউদ্দিন আহমেদ
  4. ঘ) শেখ হাসিনা
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুকে ‘রাজনীতির নান্দনিক শিল্পী’ বলেছেন - শেখ হাসিনা। 
৪১৫.
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন না-
  1. ক) এএইচএম কামরুজ্জামান
  2. খ) খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  3. গ) এম মনসুর আলী
  4. ঘ) আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- মুজিবনগর মন্ত্রিসভার মোট সদস্য ছিলো ছয়জন।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : তৃতীয় খণ্ড।
৪১৬.
বর্তমানে বীর বিক্রম খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কয়জন?
  1. ১৭৩ জন
  2. ১৭৫ জন
  3. ১৭৪ জন
  4. ১৭২ জন
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ ধরনে বিভক্ত।

যথা -
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন (মর্যাদা অনুসারে প্রথম বীরত্বসূচক খেতাব),
বীর উত্তম ৬৭ জন (মর্যাদা অনুসারে দ্বিতীয় বীরত্বসূচক খেতাব),
বীর বিক্রম ১৭৪ জন (মর্যাদা অনুসারে তৃতীয় বীরত্বসূচক খেতাব),
• বীর প্রতীক ৪২৪ জন (মর্যাদা অনুসারে চতুর্থ বীরত্বসূচক খেতাব)।

উল্লেখ্য,
পূর্বে মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন ছিল, কিন্তু ৪ জনের খেতাব বাতিল হওয়ায় বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৪১৭.
ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলা সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে কত নং সেক্টরে অধীন অংশ নেয়?
  1. ১০নং
  2. ৪নং
  3. ২নং 
  4. ১নং
ব্যাখ্যা

'ক্র্যাক প্লাটুন':
- মুক্তিযুদ্ধে স্বতন্ত্র গেরিলা দল যারা মূলত গণবাহিনীর অংশ।
- এই বাহিনী স্বাধীনতা যুদ্ধে ২ নং সেক্টরের অধীন অংশ নেয়।
- ক্র্যাক প্লাটুন গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন খালেদ মোশাররফ এবং এটিএম হায়দার।
- ঢাকা শহরে এটি ৮২ টি অপারেশন পরিচালনা করে।
- এরা "হিট এন্ড রান" পদ্ধতিতে তাঁদের অপারেশন পরিচালনা করতো।
- এই প্লাটুনের অন্যতম সদস্য ছিলেন:
- শহীদ জননী জাহানার ইমাম, শহীদ রুমি ইমাম, আলতাফ মাহমুদ, পপ সম্রাট আজম খান প্রমুখ।
 
 উৎস:  বাংলাপিডিয়া, মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভস, দ্যা দেইলি স্টার বাংলা।

৪১৮.
বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের হাতে বন্দি করার অভিযানের নাম কী?
  1. Operation Close Door
  2. Operation Blitz
  3. Operation Big Bird
  4. Operation Searchlight
ব্যাখ্যা
অপারেশন বিগ বার্ড:

- ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের জন্য পরিচালিত অপারেশনটির নাম অপারেশন 'বিগ বার্ড'।
- ২৫ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান রাতের অন্ধকারে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন।
- সেই কালরাত্রিতেই জেনারেল রাও ফরমান আলী খানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সামরিক অভিযানের কোড ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে ঢাকায় ও দেশের অন্যান্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ব্যাপক তাণ্ডব ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো করা হয়।
- ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- রাত ১টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়।
- এর কয়েক মিনিটের মধ্যে ওয়্যারলেসে ৫৭ ব্রিগেডের মেজর জাফর জানায়-‘বিগ বার্ড ইন দ্য কেজ, অন্যান্য পাখিরা নীড়ে নেই, ওভার’ (সূত্র : উইটনেস টু স্যারেন্ডার; লেখক : সালিক সিদ্দিক)।
- অতঃপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঢাকা থেকে রাওয়ালপিন্ডির লয়ালপুর জেলে স্থানান্তর করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বে তিরান্নবই হাজার পাকিস্তানি সেনাসদস্য ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- ০৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান।

তথ্যসূত্র - যুগান্তর, ১০ জানুয়ারি ২০২২।
৪১৯.
মুজিবনগর দিবস কোনটি?
  1. ক) ১৭ মার্চ
  2. খ) ১৭ এপ্রিল
  3. গ) ১৭ মে
  4. ঘ) ১৭ জুন
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর দিবস:

- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার - ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত। 
- ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো, ১৭ এপ্রিল ২০১২।
৪২০.
প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে কোন দেশটি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ক) ইন্দোনেশিয়া
  2. খ) সেনেগাল
  3. গ) মালয়েশিয়া
  4. ঘ) ইরান
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশকে বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি:
- প্রথম দেশ : ভুটান (৬ ডিসেম্বর ১৯৭১)
- দ্বিতীয় দেশ : ভারত (৬ ডিসেম্বর ১৯৭১)
- প্রথম ইউরোপীয় দেশ : পূর্ব জার্মানি (১১ জানু ১৯৭২)
- প্রথম আফ্রিকান/মুসলিম দেশ : সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২)
- প্রথম আরব মুসলিম দেশ : ইরাক (৮ জুলাই ১৯৭২)
- ইরান : ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪
- মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া : ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২।
(তথ্যসূত্রঃ ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন)
৪২১.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৪৯ সালে
  3. ১৯৫০ সালে
  4. ১৯৫১ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান।
- ১৯৪২ সালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বি.এ পাশ করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে আন্দোলন করার জন্যে ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন।
- ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন।
- ১৯৭৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ তুলে দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা, ১০ আগস্ট, ২০১০।
৪২২.
কোন বইটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক?
  1. সূচনা
  2. Millions of babies in pain
  3. নাইন মান্থস টু ফ্রিডম
  4. আমার কিছু কথা
ব্যাখ্যা
আমার কিছু কথা:
- 'আমার কিছু কথা' বইটির লেখক শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রকাশনী: শিখা প্রকাশনী।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আরো তিনটি গ্রন্থ হলো: ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী', 'কারাগারের রোজনামচা’, ‘আমার দেখা নয়াচীন'।

অন্যদিকে -
- মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র  'নাইন মান্থস টু ফ্রিডম'। 
- বিখ্যাত মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কবিতার একটি লাইন Millions of babies in pain।

উৎস: আমার কিছু কথা -শেখ মুজিবুর রহমান।
৪২৩.
সরকারি কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ জারি করেন কে?
  1. মওলানা আবদুল রশীদ তর্কবাগীশ
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  3. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
শেখ মুজিবুর রহমান ও রাষ্ট্র ভাষা: 
- ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ৬-৭ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ ঢাকায় অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান কর্মী সম্মেলনে গণতান্ত্রিক যুবলীগ গঠিত হয়।
- এ সম্মেলনে ভাষা বিষয়ক কিছু প্রস্তাব গৃহীত হয়।
- এসব প্রস্তাব পাঠ করেন সেদিনের ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান।
- ভাষা সম্পর্কিত প্রস্তাব উত্থাপন করে তিনি বললেন, ‘পূর্ব পাকিস্তান কর্মী সম্মেলন প্রস্তাব করিতেছে যে, বাংলা ভাষাকে পূর্ব পাকিস্তানের লেখার বাহন ও আইন আদালতের ভাষা করা হউক। সমগ্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হইবে তৎসম্পর্কে আলাপ-আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার জনসাধারণের উপর ছাড়িয়া দেওয়া ইউক। এবং জনগণের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গৃহীত হউক।’ 

- এভাবেই ভাষার দাবি প্রথমে উচ্চারিত হয়েছিল।
- বঙ্গবন্ধু ভারত থেকে নিজের মাতৃভূমি তৎকালীন পূর্ব বাংলায় প্রত্যাবর্তন করার পর সরাসরি ভাষা আন্দোলনে শরিক হন।
- ভাষা আন্দোলনের শুরুতে তমদ্দুন মজলিসের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন সংক্রান্ত কার্যক্রমে তিনি অংশ নেন।
- সেই সময়ের তরুণ শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৭ সালে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে বাংলা ভাষার দাবির সপক্ষে স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।
- ৫ ডিসেম্বর ১৯৪৭ খাজা নাজিমুদ্দিনের বাসভবনে মুসলিম লীগ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক চলাকালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে অনুষ্ঠিত মিছিলে অংশগ্রহণ করেন এবং নেতৃত্বদান করেন তিনি।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে সমকালীন রাজনীতিবিদসহ ১৪ জন ভাষাবীর সর্বপ্রথম ভাষা আন্দোলনসহ অন্যান্য দাবি সংবলিত ২১ দফা দাবি নিয়ে একটি ইশতেহার প্রণয়ন করেছিলেন।
- এই ইশতেহারের দ্বিতীয় দাবি ছিল রাষ্ট্রভাষা সংক্রান্ত। ইশতেহারটি একটি ছোট পুস্তিকা আকারে প্রকাশিত হয়েছিল, যার নাম ‘রাষ্ট্রভাষা-২১ দফা ইশতেহার-ঐতিহাসিক দলিল’।
- পুস্তিকাটি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃত।
- এই ইশতেহার প্রণয়নে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ছিল অনস্বীকার্য এবং তিনি ছিলেন অন্যতম স্বাক্ষরদাতা।

সূত্র:
• ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা’,  গাজিউল হক; ‘ভাষা আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু’, বঙ্গবন্ধু গবেষণা কেন্দ্র, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪
• রাষ্ট্রভাষা-২১ ইশতেহার: ঐতিহাসিক দলিল, শায়খুল বারী, পুনঃপ্রকাশ, জানুয়ারি ২০০২।
৪২৪.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কর্তৃক ছয় দফা উত্থাপিত হয়-
  1. ক) রাওয়ালপিন্ডিতে
  2. খ) করাচিতে
  3. গ) ঢাকায়
  4. ঘ) লাহোরে
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ছয় দফা দাবী কে বাঙালির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা বলা হয়।
১৯৬৬ সালের ৫ - ৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয় দফা দাবী উত্থাপন করেন।
একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করেন।
৭ জুন ছয় দফা দিবস পালিত হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া
৪২৫.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত তারিখে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন?
  1. ক) ১০ডিসেম্বর
  2. খ) ১০ জানুয়ারি
  3. গ) ১০মার্চ
  4. ঘ) ১০জুন
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু লন্ডন যান। সেখান থেকে ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমানে করে ১০ জানুয়ারি দিল্লি হয়ে দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা আসেন। এ দিনটিকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী।

৪২৬.
১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়েছিলো কত তারিখে?
  1. ১ মার্চ
  2. ৪ মার্চ
  3. ৩ মার্চ
  4. ২ মার্চ
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন:
- ১৯৭১ সালের ৩মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে ২মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তানে লাগাতারভাবে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। [ বিস্তারিত জানতে তথ্যকল্পদ্রুম -৩১ দেখুন  (Link)]
- যা ইতিহাসে মার্চের অসহযোগ আন্দোলন নামে পরিচিত হয়ে আছে।
- বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ছাত্রলীগ ৩ মার্চ ঢাকার পল্টন ময়দানে ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষণা ও কর্মসূচি’ ঘোষণা করে।
- ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণে পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
- ১৫ মার্চ থেকে ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধুর সংগে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার অভিনয় করেন।
- ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান বাহিনী ঢাকার গণহত্যা চালায় এবং রাত ১.২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুকে বন্দি করে।
- বন্দি হওয়ার পূর্বে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২৭.
'বাংলাদেশের অস্থায়ী সাংবিধানিক আদেশ' জারি করেন-
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. আবু সাঈদ চৌধুরী
  3. শেখ মুজিবুর রহমান
  4. তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা

- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয়।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি বাংলাদেশের প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান।
- ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'বাংলাদেশের অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারি করেন।
- এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪২৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রিগেড আকারে কয়টি ফোর্স গঠন করা হয়েছিল?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৫ টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রিগেড আকারে ৩ টি ফোর্স গঠন করা হয়েছিল। ফোর্স তিনটি হলো- জেড ফোর্স, এস ফোর্স এবং কে ফোর্স। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
৪২৯.
১৯৭১ সালের রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণে মূলত কয়টি দাবি  উপস্থাপন করেন? 
  1. ৩টি 
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি 
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ: 

• ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সামরিক সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ জনতা সমাবেশের জন্য জড়ো হয়। 
এ সমাবেশে বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ দেন তাতে প্রধানত চারটি দাবি উপস্থাপন করেন। এগুলো হলো:
১. চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার;
২. সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া;
৩. গণহত্যার তদন্ত করা এবং
৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

• এর বাইরে আরও বেশ কিছু দাবি বঙ্গবন্ধুর ভাষণে উত্থাপন করা হয়।
• তিনি বাংলাদেশের সকল অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন।
• এই শর্তগুলো মানলেই যে বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ আহূত জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন এমন নিশ্চয়তা ভাষণে দেননি।
• ৭ মার্চের ভাষণে আন্দোলন চলতেই থাকবে বলে ঘোষণা দেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩০.
'আমরা আলােচনা করে ঠিক করেছি, যাই হোক না কেন, আমরা অনশন ভাঙব না। যদি এই পথেই মৃত্যু এসে থাকে তবে তাই হবে।' উক্তিগুলাে কার রচিত?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) মহিউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
'আমরা আলােচনা করে ঠিক করেছি, যাই হোক না কেন, আমরা অনশন ভাঙব না। যদি এই পথেই মৃত্যু এসে থাকে তবে তাই হবে।' উক্তিগুলাের রচয়িতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
উল্লিখিত উক্তিটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত "অসমাপ্ত আত্মজীবনী" থেকে নেওয়া।
উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
৪৩১.
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ তারিখে আহবানকৃত পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু কয়টি পূর্বশর্ত উল্লেখ করেন?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. ছয়টি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ৬ই মার্চ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ২৫শে মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের নতুন অধিবেশন আহবান করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভায় জাতীয় পরিষদের অধিশেনে যোগদানের পূর্বশর্ত হিসেবে চারটি দাবী উত্থাপন করেন।
এগুলো হলো:
- সামরিক আইন প্রত্যাহার
- ‍নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর
- সেনাবাহিনীর গণহত্যার তদন্ত
- সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-১৬)
৪৩২.
মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন কে?
  1. ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ
  2. ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী
  3. ড. মোশাররফ হোসেন
  4. ড. আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
পরিকল্পনা কমিশন:
- পরিকল্পনা কমিশন গঠন দেশ শত্রুমুক্ত করার পরপরই যেহেতু পুনর্গঠন একটি কাজ হবে এবং সে কাজে সরকারের পক্ষে কোনরূপ কালক্ষেপণ করা যাবে না।
- স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।
- কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী।
- সদস্য ছিলেন,
(১) ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ।
(২) ড. মোশাররফ হোসেন।
(৩) ড. এস. আর. বোস।
(৪) ড. আনিসুজ্জামান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৩.
বঙ্গবন্ধুকে কবে জুলিও কুরি পদক প্রদান করা হয়?
  1. ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর
  2. ১৯৭২ সালের ২৩ মে
  3. ১৯৭৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৭৩ সালের ২৩ মে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুরি পদক লাভ:
- ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী জঁ ফ্রেডেরিক জোলিও ক্যুরি ১৯৫৮ সালে মৃত্যুবরণ করলে বিশ্বশান্তি পরিষদ তাদের শান্তি পদকের নাম ১৯৫৯ সাল থেকে রাখে ‘জোলিও ক্যুরি’ যা বাংলায় জুলিও কুরি নামে পরিচিত।
- মূলত, সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদ বিরোধিতা এবং মানবতার ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় যাঁরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন, তাঁরা এই পদকে ভূষিত হয়ে আসছিলেন ১৯৫০ সাল থেকে।
- বিশ্বশান্তি পরিষদ ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর পদকপ্রাপক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নাম ঘোষণা করে। 
- পরের বছর ১৯৭৩ সালের ২৩ মে এশীয় শান্তি সম্মেলনের এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে সেই পদক বঙ্গবন্ধুকে পরিয়ে দেন পরিষদের তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল রমেশচন্দ্র। 
- সেই অনুষ্ঠানে রমেশচন্দ্র বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলার নন, তিনি বিশ্বের এবং তিনি বিশ্ববন্ধু।' 
- স্বাধীন বাংলাদেশে কোনো রাষ্ট্রনেতার সেটিই ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক পদক লাভ।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো, ২৩ মে ২০২১। [লিঙ্ক]
৪৩৪.
বঙ্গবন্ধু কোথায় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন?
  1. ক) পল্টন ময়দান
  2. খ) সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
  3. গ) ওসমানী উদ্যান
  4. ঘ) আরমানিটোলা মাঠ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১লা মার্চ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করলে পূর্ব পাকিস্তানে তার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- এর অংশ হিসেবে ৭ই মার্চ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান (সাবেক রেসকোর্স ময়দান) একটি জনসভার আয়োজন করা হয়।
- এই জনসভাতেই বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন। এই ভাষণে ২৫শে মার্চ পুনরায় ঘোষিত জাতীয় পরিষদের যোগদানের পূর্বশর্ত হিসেবে বঙ্গবন্ধু চারটি দাবী উত্থাপন করেন।
এগুলো হলো:
- সামরিক আইন প্রত্যাহার করা
- ‍নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা
- সেনাবাহিনীর গণহত্যার তদন্ত করা
- সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া।
- ৭ই মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্ট্রারে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-১৬ এবং দৈনিক ইত্তেফাক)
৪৩৫.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত 'কারাগারের রোজনামচা' এর গ্রন্থস্বত্ব কার?
  1. শেখ হাসিনা
  2. বন্ধবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট
  3. সিআরআই
  4. শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
কারাগারের রোজনামচা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ১৭ মার্চ, ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে ।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন ।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।
- প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।
- তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।
- 'কারাগারের রোজনামচা' এর গ্রন্থস্বত্ব - জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট।

উৎস: কারাগারের রোজনামচা।
৪৩৬.
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন এর লাশ কোন নদীর তীরে পাওয়া যায়?
  1. ইছামতি
  2. রূপসা
  3. সুরমা
  4. মেঘনা
ব্যাখ্যা

• বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিনের লাশ ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ  রূপসা নদীর তীরে পাওয়া যায়।

• বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন:
- বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন (১৯৩৫–১৯৭১) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন নৌ-সেনা ছিলেন।
- তিনি অসাধারণ সাহসিকতার জন্য সর্বোচ্চ সামরিক পদ ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।
- তিনি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বাঘপাঁচড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫৩ সালে তিনি পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পরিবারকে ছেড়ে ত্রিপুরা সীমান্ত অতিক্রম করে ২নং সেক্টরে যোগ দেন;
- এবং সেখানে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করেন।
- ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ ‘পিএনএস পলাশ’ জাহাজে রূপসা নদীতে যুদ্ধরত অবস্থায় আহত হয়ে স্থানীয় রাজাকার ও পাক বাহিনীর হাতে শহীদ হন।
- শাহাদাত বরণ করার পর তাঁকে রূপসা নদীর তীর সংলগ্ন বাগমারা গ্রামে সমাহিত করা হয়।
- খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছেই তাঁর সমাধিসৌধ সংরক্ষিত আছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।   

৪৩৭.
কলকাতায় পড়াকালীন বঙ্গবন্ধু কোন ছাত্রাবাসে ছিলেন?
  1. ইসলামিয়া ছাত্রাবাস
  2. বেকার হোস্টেল
  3. এডওয়ার্ড ছাত্রাবাস
  4. মিশনারি হোস্টেল
ব্যাখ্যা
বেকার হোস্টেল:
- ১৯১০ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় বেকার হোস্টেল।
- ছাত্রাবাসটি ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১০ সালে এডওয়ার্ড নরম্যান বেকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রাবাসটি পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার ৮ স্মিথ লেনে অবস্থিত।
- বঙ্গবন্ধু কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ডিগ্রি পড়ার সময় এই বেকার হোস্টেলে ছিলেন ১৯৪২-৪৭ সাল পর্যন্ত।
- উচ্চমাধ্যমিক পাস করে তিনি ১৯৪২ সালে ভর্তি হয়েছিলেন এ কলেজে।
- তিনি ছিলেন ২৪ নম্বর কক্ষে।
- এই ইসলামিয়া কলেজের নাম পরিবর্তন করে এখন নামকরণ করা হয়েছে মৌলানা আজাদ কলেজ।
- ১৯৪৬ সালে বঙ্গবন্ধু ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হন।
- ১৯৪৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এই ইসলামিয়া কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসে স্নাতক হয়েছিলেন।

উৎস: ২৯ আগস্ট ২০১৯, প্রথম আলো।
৪৩৮.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে একমাত্র ব্যতিক্রমী সেক্টর কোনটি?
  1. ক) ১১ নং
  2. খ) ৮ নং
  3. গ) ১০ নং
  4. ঘ) ৪ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় একমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী সেক্টর হল ১০ নং সেক্টর (নৌ সেক্টর)। একে ৩টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়। এ সেক্টরে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলেন না। এটি সরাসরি প্রধান সেনাপতির অধীনে ছিল।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৪৩৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ড গঠিত হয়েছিল কোন সেক্টরে?
  1. ১১ নং
  2. ৮ নং
  3. ১০ নং
  4. ৬ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাঞ্চলকে যে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- এর মধ্যে ১০নং সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ-কমান্ডো।
- সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা, নদী ও সমুদ্র বন্দরসহ বাংলাদেশের সমগ্র জলপথ নিয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়।
- নদীমাতৃক বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্রপথে পাকিস্তানের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া ছিল নৌ-কমান্ডো আক্রমণের উদ্দেশ্য।
- ১০নং সেক্টরের কোনো নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না।
- অপারেশনের সময় কমান্ডোদের কাজের নিয়ন্ত্রণ থাকত যে এলাকায় অপারেশন পরিচালিত হবে সে এলাকার সেক্টর কমান্ডারের ওপর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৪০.
বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ভাষণের সময়কালে পূর্ব পাকিস্তানে যে আন্দোলন চলছিল সেটি হলো :
  1. ক) ইসলামাবাদের সামরিক সরকার পদত্যাগের আন্দোলন
  2. খ) পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন
  3. গ) প্রেসিডেন্ট ইয়াহহিয়ার পদত্যাগ আন্দোলন
  4. ঘ) মার্শাল 'ল' পদত্যাগের আন্দোলন
ব্যাখ্যা
আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সারাদেশে হরতাল পালিত হয়। ৩ মার্চ পল্টন ময়দানের বিশাল জনসভায় তিনি সারা পূর্ব বাংলায় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই আন্দোলনের পটভূমিতে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে সমবেত উত্তাল জনসমুূদ্রে জাতির উদ্দেশ্যে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দান করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৪৪১.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ তুলে দেয়া হয় কত সালে?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১১ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৩ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান।
- ১৯৪২ সালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বি.এ পাশ করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে আন্দোলন করার জন্যে ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন।
- ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন।
- ১৯৭৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ তুলে দেয়া হয়।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা, ১০ আগস্ট, ২০১০।
৪৪২.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী' প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ২০১০
  2. ২০১১
  3. ২০১২
  4. ২০১৫
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রথম প্রকাশিত হয় — ২০১২ সালে।

• অসমাপ্ত আত্মজীবনী:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম বই 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বইটির ভূমিকা লিখেছেন শেখ হাসিনা।
- এই প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক এবং সাংবাদিকদের একটি দল।
- বাংলাদেশে এই বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড।
- এছাড়া ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে ভারতে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া থেকে এবং পাকিস্তানে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস পাকিস্তান থেকে। এছাড়া পাকিস্তানে উর্দু ভাষাতেও এর অনুবাদ বের হবার কথা রয়েছে।
- ইংরেজিতে এই বইয়ের ভাষান্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ফকরুল আলম।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী, শেখ মুজিবুর রহমান।
৪৪৩.
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ৪নং সেক্টর 
  2. ৮নং সেক্টর
  3. ৭নং সেক্টর
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েকমুন্সী আব্দুর রব- ১নং সেক্টর।
- সিপাহি মোস্তফা কামাল- ২নং সেক্টর।
- স্কোয়াড্রন ইন্জিনিয়ার রুহুল আমিন- ১০নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ- ৮নং সেক্টর।
- সিপাহি হামিদুর রহমান- ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গির- ৭নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান- কোনো সেক্টরে ছিলেন না।

উৎস: মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

৪৪৪.
জাতীয় শোক দিবস পালিত হয় -
  1. ১৫ আগস্ট
  2. ২১ আগস্ট
  3. ১৪ ডিসেম্বর
  4. ২৫ মার্চ
ব্যাখ্যা
• জাতীয় শোক দিবস:
- জাতীয় শোক দিবস বাংলাদেশে পালিত একটি জাতীয় দিবস।
- প্রতিবছরের ১৫ আগস্ট জাতীয় ও রাষ্ট্রীয়ভাবে এ দিবসটি শোকের সাথে পালন করা হয়।
- এ দিবসে কালো পতাকা উত্তোলন ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তারিখে বাংলাদেশ ও স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।
- তাই এই দিন জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়।

অন্যদিকে -
- ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস।
- ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৪৫.
কে পূর্ব বাংলার নামকরণ বাংলাদেশ করেন?
  1. ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খ) মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পূর্ব বাংলার নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ’।
তিনি বলেন, “একসময় এদেশের বুক হইতে, মানচিত্রের পৃষ্ঠা হইতে ‘বাংলা’ কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকুও চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। ... একমাত্র ‘বঙ্গোপসাগর’ ছাড়া আর কোন কিছুর নামের সঙ্গে ‘বাংলা’ কথাটির অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। ... জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছি- আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম পূর্ব পাকিস্তানের পরিবর্তে শুধুমাত্র বাংলাদেশ”।
সূত্রঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।

৪৪৬.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সর্বপ্রথম উত্তোলন করেন কে?
  1. আ ক ম আব্দুল রব
  2. সিরাজুল আলম খান
  3. আ স ম আব্দুর রব
  4. তোফায়েল আহমেদ
ব্যাখ্যা

জাতীয় পতাকা:
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কামরুল হাসান।
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং ১০:৬ অনুপাতে আয়তাকার, তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ছাত্রদের পক্ষে পতাকাটি উত্তোলন করেছিলেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আ স ম আব্দুর রব।
- শিবনারায়ণ দাস বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল নকশাকার।

সূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ২ মার্চ ২০২২ ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ২ মার্চ ২০২৩।

৪৪৭.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত বছর বয়সে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন?
  1. ১৮ বছর
  2. ১৯ বছর
  3. ২০ বছর
  4. ২১ বছর
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: 
- ১৯২০ শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ, ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা শেখ সায়েরা খাতুন। 
- ৪ কন্যা এবং ২ পুত্রসন্তানের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তৃতীয়। 
- মা-বাবা তাঁকে আদর করে ‘খোকা’ বলে ডাকতেন।
- ১৯২৭ সালে সাত বছর বয়সে শেখ মুজিবুর রহমান গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে তাঁর স্কুল জীবন আরম্ভ করেন। 
- নয় বছর বয়সে তিনি গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন। 
- পরবর্তীকালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুলে ভর্তি হন। 
- ছাত্র আন্দোলন এবং রাজনীতিতে পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে ওঠার আগে অন্য আরো দশজন কিশোরের মত শেখ মুজিবুর রহমান খেলার মাঠকেই বেশি ভালোবাসতেন।
- ফুটবল খেলার প্রতি ছিল তাঁর দুরন্ত টান। 
- একজন মেধাবী ফুটবলার হিসেবে কৈশোরে কুড়িয়েছিলেন অসামান্য খ্যাতি। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলাগুলোতে কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ মুজিবুর রহমান নিয়মিত পুরস্কৃত হতেন।
- ১৯৩৮ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ১৮ বছর বয়সে শেখ ফজিলাতুন্নেসা (রেনু)-কে বিয়ে করেন। 
- তাঁরা দুই কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা এবং তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এর জনক-জননী ছিলেন। 

উৎস: বঙ্গবন্ধুর জীবন ভিত্তিক তথ্য, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের সরকারি ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]।
৪৪৮.
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য কোন দুই নারীকে 'বীরপ্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. তারামন বিবি ও ময়মুনা বিবি
  2. সিতারা বেগম ও ময়মুনা বিবি
  3. তারামন বিবি ও সিতারা বেগম
  4. ময়মুনা বিবি ও তারামন বিবি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব: 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য যে দুই নারী ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব পেয়েছেন, তাঁদের একজন ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং অন্যজন তারামন বিবি। 
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর দীর্ঘ ২৫ বছর লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন তারামন বিবি। তাঁর নাম ছিল শুধু গেজেটের পাতায়।
- তারামন বিবি মুক্তিবাহিনীর ১১ নম্বর সেক্টরের একটি দলের সঙ্গে ছিলেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত বা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। এ রকম একটি হাসপাতাল ছিল ২ নম্বর সেক্টরে। নাম ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’। এখানে ডা. জাফরউল্লাহ, ডা. মোবিন, ডা. আখতার, ডা. সিতারা বেগমসহ আরও অনেক চিকিৎসক, মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রী ও সেবিকা নিয়োজিত ছিলেন।

উৎস: চিরন্তন ১৯৭১, প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৪৪৯.
শেখ মুজিবুর রহমান কত সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন?
  1. ১৯৫৪
  2. ১৯৫৩
  3. ১৯৫৫
  4. ১৯৪৯
ব্যাখ্যা
১৯৫৩
- ৯ জুলাই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে শেখ মুজিব দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
- পাকিস্তান গণপরিষদের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে মওলানা ভাসানী, এ কে ফজলুল হক ও শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে ঐক্যের চেষ্টা হয়।
- এই লক্ষ্যে ১৪ নভেম্বর দলের বিশেষ কাউন্সিল ডাকা হয় এবং এতে যুক্তফ্রন্ট গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়।

১৯৫৪
- ১০ মার্চ প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩ আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পায় ১৪৩টি আসন।
- বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জের আসনে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা ওয়াহিদুজ্জামানকে ১৩ হাজার ভোটে পরাজিত করে নির্বাচিত হন।
- ১৫ মে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক সরকারের কৃষি ও বন মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। ৩০ মে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা বাতিল করে দেয়।
- ৩০ মে বঙ্গবন্ধু করাচী থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং গ্রেফতার হন। ২৩ ডিসেম্বর তিনি মুক্তি লাভ করেন।

১৯৫৫
- ৫ জুন বঙ্গবন্ধু গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ১৭ জুন ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভা থেকে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দাবি করে ২১ দফা ঘোষণা করা হয়।
- ২৩ জুন আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা না হলে দলীয় সদস্যরা আইনসভা থেকে পদত্যাগ করবেন।

- ২১ অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ প্রত্যাহার করা হয় এবং বঙ্গবন্ধু পুনরায় দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
উৎস: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট
৪৫০.
বঙ্গবন্ধুর মায়ের নাম কী?
  1. ক) বেগম ফজিলাতুন্নেসা
  2. খ) সায়েরা খাতুন
  3. গ) শাহেদা আক্তার
  4. ঘ) রাবেয়া বেগম
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর মায়ের নাম : সায়েরা খাতুন
পিতার নাম : শেখ লুৎফর রহমান
দাদার নাম : শেখ আবদুল হামিদ
নানার নাম : শেখ আবদুল মজিদ
স্ত্রীর নাম : বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব (রেণু)।

(তথ্যসূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীবনী)
৪৫১.
ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলা সদস্যরা মূলত কোন এলাকায় অপারেশন পরিচালনা করত?
  1. সীমান্ত এলাকায়
  2. কক্সবাজারে
  3. চট্টগ্রামে
  4. ঢাকায়
ব্যাখ্যা
'ক্র্যাক প্লাটুন':
- মুক্তিযুদ্ধে স্বতন্ত্র গেরিলা দল যারা মূলত গণবাহিনীর অংশ।
- এই বাহিনী স্বাধীনতা যুদ্ধে ২ নং সেক্টরের অধীন অংশ নেয়।
- ক্র্যাক প্লাটুন গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন খালেদ মোশাররফ এবং এটিএম হায়দার।
- ঢাকা শহরে এটি ৮২ টি অপারেশন পরিচালনা করে।
- এরা "হিট এন্ড রান" পদ্ধতিতে তাঁদের অপারেশন পরিচালনা করতো।
- এই প্লাটুনের অন্যতম সদস্য ছিলেন:
- শহীদ জননী জাহানার ইমাম, শহীদ রুমি ইমাম, আলতাফ মাহমুদ, পপ সম্রাট আজম খান প্রমুখ।
 
 উৎস:  বাংলাপিডিয়া, মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভস, দ্যা দেইলি স্টার বাংলা।
৪৫২.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন-
  1. মেজর জিয়াউর রহমান
  2. জেনারেল এম এ জি ওসমানী
  3. কর্নেল এম এ রব 
  4. এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিব নগরের পূর্বনাম ছিলো - বৈদ্যনাথতলা।
-  শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন - অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি।
- রাষ্ট্রপতি হওয়ার কারণে পদাধিকারবলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন - শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রবাসী সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমদ।
- বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন - জেনারেল এম এ জি ওসমানী।
- মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ রব।
- এবং মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।

উৎস: সংগ্রামের নোটবুক, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া

৪৫৩.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ১০
  2. ১১
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে মোট ১১ টি সেক্টরে ও ৬৪ টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার (অধিনায়ক) নিয়োগ করা হয়।
- প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।
• সেক্টর নং ১: ৫টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।
• সেক্টর নং ২: এই সেক্টরে ৬টি সাব-সেক্টর ছিল।
• সেক্টর নং ৩: এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।
• সেক্টর নং ৪: এই সেক্টরে ছিল ৬টি সাব-সেক্টর।
• সেক্টর নং ৫: ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়ছিল।
• সেক্টর নং ৬: এই সেক্টরে ছিল ৫টি সাব-সেক্টর।
• সেক্টর নং ৭: এই সেক্টরে ছিল ৯টি সাব-সেক্টর। 
• সেক্টর নং ৮: এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।
• সেক্টর নং ৯: এই সেক্টরে ছিল ৩টি সাব-সেক্টর।
• সেক্টর নং ১০: এই সেক্টরে কোনো সাব-সেক্টর ছিল না এবং ছিল না নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার। প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ বাহিনী ছিল এটি।
• সেক্টর নং ১১: এই সেক্টরকে ৭টি সাব-সেক্টর ভাগ করা হয়েছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৪৫৪.
'কারাগারের রোজনমচা' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. মাওলানা ভাসানী
  3. জাহানারা ইমাম
  4. ড. কামাল হোসেন
ব্যাখ্যা
- কারাগারের রোজনামচা হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
- বাংলা একাডেমি ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বইটি প্রকাশ করে।
- এটির ভূমিকা লেখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু কারান্তরীন থাকালীকান তার জেল জীবনের ডায়েরিকে ‘কারাগারের রোজনামচা’ নামে বই আকারে প্রকাশ করা হয়।
 
১৯৬৬ সালে ৬ দফা দেবার পর বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা গ্রেফতার হন । ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত বন্দি থাকেন। সেই সময়ে কারাগারে প্রতিদিনের ডায়েরি লেখা শুরু করেন। ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত লেখাগুলি এই বইয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেন অধ্যাপক ড. ফকরুল আলম।

(তথ্যসূত্র: কারাগারের রোজনামচা)।
৪৫৫.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা কোথায় প্রথম উত্তোলিত হয়?
  1. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  2. পল্টন ময়দানে
  3. সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ সে পতাকাটিই ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তোলন করে।
- এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে পতাকা ওড়ান তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আ স ম আব্দুর রব।
- এই জাতীয় পতাকাটি প্রথম তৈরি করা হয়েছিল ১৯৭০ সালের ৬ জুন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ১১৬ নম্বর কক্ষে এই পতাকা তৈরি করেন কয়েকজন ছাত্রনেতা।
- জাতীয় পতাকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ছাত্রনেতা কাজী আরেফ আহমেদ, শিব নারায়ণ দাস সহ ২২ জন।
- বিদেশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয় ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল। 
- ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- স্বাধীনতার পর পতাকা থেকে মানচিত্র বাদ দেওয়া হয়। পতাকার মাপ ও রঙ নির্ধারণ করে পরিমার্জন করা হয় পতাকা।
- যা আজ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
- সবুজ আয়তক্ষেত্রের মাঝখানে লাল বৃত্ত, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।

উৎস:  বিডিনিউজ-২৪ এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪৫৬.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) অসমাপ্ত আজীবনী
  2. খ) আমার দেখা নয়াচীন
  3. গ) কারাগারের রোজনামচা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত তার প্রথম আত্মজীবনীমূলক বই। 
- ২০১২ সালের জুন মাসে বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
এটির ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইংরেজি অনুবাদ করেছেন ড. ফকরুল আলম।
প্রকাশক ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। বর্তমান পর্যন্ত বইটি ১৪টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু রচিত অপর দুটি বই হলো:
- ‘কারাগারের রোজনামচা’ (২০১৭)
- ‘আমার দেখা নয়াচীন’ (২০২০)।

(সূত্রঃ অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং দৈনিক ইত্তেফাক) 
৪৫৭.
কোন বিখ্যাত ম্যাগাজিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির কবি (Poet of Politics) আখ্যা দিয়েছিল?
  1. টাইম
  2. ইকোনোমিস্ট
  3. নিউজ উইকস
  4. ইকোনোমিক এন্ড পলিটিক্যাল উইক্লি
ব্যাখ্যা
◉ নিউজ উইক্‌স ম্যাগাজিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির কবি (Poet of Politics) আখ্যা দিয়েছিল।

Poet of Politics:
- রাজনীতির কবি ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’।
- তিনি শুধু বাঙালির বঙ্গবন্ধু নয়, বিশ্ববরেণ্য রাজনীতিক 'বিশ্ববন্ধু' উপাধিতেও বিশ্বনন্দিত।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের একজন স্বপ্নদ্রষ্টা।
- ৫ এপ্রিল, ১৯৭১ সাংবাদিক লোরেন জেঙ্কিন্স সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন নিউজ উইকস পত্রিকায় তার প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'রাজনীতির কবি' বা Poet of Politics বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
- সকল শ্রেণী ও আদর্শের অনুসারীদের একতাবদ্ধ করার জন্য সম্ভবত তাঁর 'স্টাইল' সবচেয়ে বেশি উপযোগী ছিল।
- এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ৭ মার্চের ভাষণকে এক অনবদ্য কবিতা এবং বঙ্গবন্ধুকে মহাকবি হিসেবে ভূষিত করার অবারিত যুক্তি রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- নিউজউইক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন।
- ১৯৩৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়।
         ii) ১৫ আগস্ট ২০১৮, দৈনিক জনকণ্ঠ।
৪৫৮.
মুক্তিযুদ্ধকালীন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের মিশনের প্রধান ছিলেন কে?
  1. এম আর সিদ্দিকী
  2. বিচারপতি আবু সায়েদ চৌধুরী
  3. আবুল হাসান মাহমুদ আলী
  4. হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের মিশন:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের মিশন প্রধান ছিলেন বিচারপতি আবু সায়েদ চৌধুরী।

-১৯৭১ সালেল ২৭ আগস্ট যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ২৪ পেমব্রিজ গার্ডেনসে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের কূটনীতিক মিশনের আনুষ্ঠানিক কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়।
- ভারতের বাইরে এটিই প্রথম বাংলাদেশের কূটনীতিক মিশন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু।

অন্যদিকে,
- ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ছিলেন এম আর সিদ্দিকী।
- হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী দিল্লীতে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এব ডেইলি স্টার বাংলা।

৪৫৯.
শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেয়া হয় কবে?
  1. ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  3. ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  4. ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
'বঙ্গবন্ধু' উপাধি:

- ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তি দেয়া হয় রাজবন্দীদেরও।
- শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি লাভে ঢাকায় আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দি উদ্যান) শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেয়া হয়।
- পাঁচ লক্ষ লোকের উপস্থিতিতে উক্ত সমাবেশে ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদের প্রস্তাবনায় শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- উক্ত সভাতেই ‘জয় বাংলা' স্লোগানের উদ্ভব ঘটে।
- সভায় ‘বঙ্গবন্ধু’ ছয়দফা ও এগার দফা দাবি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬০.
‘ডকুমেন্টারী হেরিটেজ’ ইউনেস্কো কর্তৃক ঘোষিত হয়েছে-
  1. ক) ছয় দফা কর্মসূচীর দলিল
  2. খ) বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ
  3. গ) জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলা ভাষণ
  4. ঘ) সব কয়টি
ব্যাখ্যা
• ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড (এমওডব্লিউ) কর্মসূচির উপদেষ্টা কমিটি ৭ মার্চের ভাষণসহ মোট ৭৮টি দলিলকে 'মেমোরি অফ দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে' যুক্ত করার সুপারিশ করেছে।
• 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ওয়ার্ল্ডস ডকুমেন্টারি হেরিটেজ-এ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
• ইউনেস্কো মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা ৩০শে অক্টোবর এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
• সেদিনের ১৮ মিনিটের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ''এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম"।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা।
৪৬১.
১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন- 
  1. তাজউদ্দীন আহমেদ 
  2. আ স ম আবদুর রব
  3. নূরুল ইসলাম
  4. জিয়াউর রহমান 
ব্যাখ্যা

পতাকা উত্তোলন:
- ২ মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়।
- একাত্তরে এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে প্রথমবার স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ মানচিত্রখচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- পতাকা উত্তোলন করেন ডাকসুর সহসভাপতি আ স ম আবদুর রব।
- এরপর ৩ মার্চ প্রথমবার জাতীয় সংগীত “আমার সোনার বাংলা” এর সঙ্গে পতাকা উত্তোলন করা হয়। 
- জাতীয় সংগীত এর সঙ্গে পতাকা উত্তোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসের প্রতিক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা গ্রহণ করা হয়।

উৎস:
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (নবম–দশম শ্রেণি); 
বাংলাপিডিয়া। 

৪৬২.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়  জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করে কোন দেশ?
  1. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  2. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  3. জাপান
  4. কানাডা
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধকালীন বৃহৎশক্তিসমূহের ভূমিকা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে 'ভেটো' প্রদান করেছিল।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করে।
- তবে প্রতিবারই সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় সেই প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করে, এর ফলে পাকিস্তানপন্থী প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি।

৪৬৩.
যুক্তরাজ্যের কোন শহরে ১৭ মার্চ ২০২০ ‘বঙ্গবন্ধু দিবস’ পালিত হয়?
  1. ক) গ্লাসগো
  2. খ) সারে
  3. গ) কার্ডিফ
  4. ঘ) উইলহেইম
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মক্ষণ স্মরণীয় করে রাখতে যুক্তরাজ্যের সারে শহরে ১৭ মার্চ ২০২০ ‘বঙ্গবন্ধু দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
(সূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৪৬৪.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. জেনারেল এম. এ. জি ওসমানী
  3. কর্নেল শফিউল্লাহ
  4. মেজর জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা
◉ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

মুক্তিযুদ্ধ:

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তিনি অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন।
- তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়।
- তিনিই স্বাধীনতার ঘোষণা করেন।

⇒ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন:
• পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য (১৯৪৮),
• পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদকদের একজন (১৯৪৯),
• আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (১৯৫৩-১৯৬৬) ),
• আওয়ামী লীগের সভাপতি (১৯৬৬-১৯৭৪),
• বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি (২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১১ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত অনুপস্থিতিতে),
• বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী (১২ জানুয়ারি ১৯৭২-২৪ জানুয়ারি ১৯৭৫),
• বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি (২৫ জানুয়ারী ১৯৭৫-১৫ আগস্ট ১৯৭৫)।
- তার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল অসন্তুষ্ট সেনা কর্মকর্তার হাতে নিহত হন।
- তার দুই কন্যা ছাড়া তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যা করা হয় যারা সে সময় বিদেশে অবস্থান করছিলেন।
- বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।

অন্যদিকে,
- জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- ৭ই জুলাই ১৯৭১ যুদ্ধের কৌশলগত কারণে সরকার নিয়মিত পদাতিক ব্রিগেড গঠনের পরিকল্পনায় 'জেড ফোর্স' ব্রিগেড গঠন করেন। এই জেড ফোর্সের অধিনায়ক হলেন জিয়াউর রহমান।
- একই ভাবে সেপ্টেম্বর মাসে 'এস ফোর্স' এবং ১৪ই অক্টোবর 'কে ফোর্স' গঠন করা হয়, এস ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল কে. এম. সফিউল্লাহ।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬৫.
Who served as the prime Minister of Bangladesh from 12 Jan, 1972 to 25 January 1975?
  1. Tajuddin Ahmad
  2. Sheikh Mujibur Rahman
  3. Muhammad Mansur Ali
  4. Abu Sayeed Chowdhury
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন:
• পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য (১৯৪৮),
• পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদকদের একজন (১৯৪৯),
• আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (১৯৫৩-১৯৬৬) ),
• আওয়ামী লীগের সভাপতি (১৯৬৬-১৯৭৪),
• বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি (২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১১ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত অনুপস্থিতিতে),
• বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী (১২ জানুয়ারি ১৯৭২-২৪ জানুয়ারি ১৯৭৫),
• বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি (২৫ জানুয়ারী ১৯৭৫-১৫ আগস্ট ১৯৭৫)।
- তার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল অসন্তুষ্ট সেনা কর্মকর্তার হাতে নিহত হন।
- তার দুই কন্যা ছাড়া তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যা করা হয় যারা সে সময় বিদেশে অবস্থান করছিলেন।
- বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। [link]
৪৬৬.
'অপারেশন সার্চলাইট' পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করেন-
  1. রাও ফরমান আলী
  2. ইয়াহিয়া
  3. ভুট্টো
  4. জেনারেল নিয়াজী
ব্যাখ্যা
• অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight):
- অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight) ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি পরিকল্পিত সামরিক অভিযান, যা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় শুরু হয়।
- এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমানে বাংলাদেশ) বাঙালিদের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে দমন করা।
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির তথা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরলতম এবং একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়, যা 'কালরাত্রি' নামে পরিচিত।
- সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ, স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনগণের ওপর ইতিহাসের নির্মমতম গণহত্যা চালায়।
- ১৮ই মার্চ টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চলাইট' বা বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
৪৬৭.
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের সময়কাল কত ছিল?
  1. ১৬ মিনিট
  2. ১৮ মিনিট
  3. ২০ মিনিট
  4. ২২ মিনিট
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণ:
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেয়।
- উক্ত ভাষণ ১৮ মিনিট স্থায়ী হয়।
- এই ভাষণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
- ভাষণে মূলত চার দফা দাবি তোলা হয়:
১। মার্শাল ল প্রত্যাহার,
২। সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
৩। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
৪। জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ।
- বিশ্ব ইতিহাসে যে ভাষণগুলো বিখ্যাত হয়ে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক এই ভাষণটি সেগুলোর অন্যতম।
- বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ Jacob F. Field এর বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা 'We shall Fight on the beaches: The Speeches that Inspired History' শীর্ষক গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি স্থান পেয়েছে।
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে 'World's Documentary Heritage' এর মর্যাদা দিয়ে 'International Memory of the World Register'- এ অর্ন্তভুক্ত করেছে।
- বঙ্গবন্ধুর সেই অমর ভাষণকে  ইউনেস্কো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৮.
বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা-
  1. ক) ৬৭৮ জন
  2. খ) ৬৭৬ জন
  3. গ) ৬৬৮ জন
  4. ঘ) ৬৭২ জন
ব্যাখ্যা
- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন। 
- মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত। যথা- বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন, বীর উত্তম ৬৮ জন, বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং বীর প্রতীক ৪২৬ জন। 
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন। 

- কিন্তু ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৬৯.
কোন শহরের একটি সড়কের নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে রাখা হয়েছে?
  1. ক) কলকাতা
  2. খ) দিল্লি
  3. গ) লন্ডন
  4. ঘ) কলম্বো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীর প্রাণকেন্দ্রের একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। কনট প্লেস-এর নিকটবর্তী এই স্থানটি ইতোপূর্বে ‘পার্ক স্ট্রিট’ নামে পরিচিত ছিল। উৎসঃ জাতীয় পত্র-পত্রিকা।
৪৭০.
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য মুজিবনগর সরকার ১০ই এপ্রিল বাংলাদেশকে কতটি সামরিক জোনে ভাগ করে?
  1. ১১টি
  2. ৪টি
  3. ৭টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

- ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা
বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- ১০ই এপ্রিল সরকার ৪টি সামরিক জোনে বাংলাদেশকে ভাগ করে ৪ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করে।
- পরবর্তীতে তা পুনর্গঠিত করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- এ ছাড়া বেশকিছু সাব-সেক্টর এবং জেড, কে এবং এস নামে তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়।
- এসব সেক্টরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সেনা কর্মকর্তা, সেনাসদস্য, পুলিশ, ইপিআর, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যগণ
যোগদান করেন।
- প্রতিটি সেক্টরেইনিয়মিত সেনা,গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল। এরা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল।
- এসব বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, নারী, কৃষক, রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল। 

- মুক্তিযুদ্ধে সরকারের অধীন বিভিন্ন বাহিনী ছাড়াও বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছিল।
- এসব সংগঠন স্থানীয়ভাবে পাকিস্তানি বাহিনী এবং রাজাকার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।
- যেমন: টাঙ্গাইলে কাদেরিয়া বাহিনী, মাগুরার আকবর বাহিনী ইত্যাদির কথা স্মরণীয় হয়ে আছে।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে দেশকে পাকিস্তানিদের দখলমুক্ত করার জন্য রণক্ষেত্রে যুদ্ধ করেছেন, অনেকে আহত হয়েছেন, অনেকে দেশের জন্যে প্রাণ দিয়েছেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৭১.
মুক্তিযুদ্ধের নৌ সেক্টর কোনটি ছিল?
  1. ক) ১নং
  2. খ) ১০নং
  3. গ) ১১নং
  4. ঘ) ৭নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় একমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী সেক্টর হল ১০ নং সেক্টর (নৌ সেক্টর)।

একে ৩টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়। এ সেক্টরে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলেন না।
এটি সরাসরি প্রধান সেনাপতির অধীনে ছিল।

উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

৪৭২.
মুক্তিযুদ্ধকালীন ২নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর আলমগীর
  2. মেজর নাজমুল হক
  3. মেজর এ.টি.এম হায়দার
  4. মেজর জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধকালীন ২নং সেক্টর এর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন দুজন।
- প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধকালীন ১নং সেক্টর এর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন-  মেজর জিয়াউর রহমান।
- মুক্তিযুদ্ধকালীন ৭নং সেক্টর এর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন- মেজর নাজমুল হক।

মুক্তিযুদ্ধকালীন ২ নং সেক্টর:
- ২ নং সেক্টর ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। 
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে। নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার। 
- এই সেক্টরের ছয়টি সাব-সেক্টর (কমান্ডারদের নামসহ) হচ্ছে: 
- গঙ্গাসাগর, আখাউড়া ও কসবা (মাহবুব এবং পরে লেফটেন্যান্ট ফারুক ও লেফটেন্যান্ট হুমায়ুন কবীর); 
- মন্দভাব (ক্যাপ্টেন গাফফার); 
- শালদানদী (আবদুস সালেক চৌধুরী); 
- মতিনগর (লেফটেন্যান্ট দিদারুল আলম); 
- নির্ভয়পুর (ক্যাপ্টেন আকবর এবং পরে লেফটেন্যান্ট মাহ্বুব); 
- এবং রাজনগর (ক্যাপ্টেন জাফর ইমাম এবং পরে ক্যাপ্টেন শহীদ ও লেফটেন্যান্ট ইমামুজ্জামান)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪৭৩.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন -
  1. ক) মহাত্মা গান্ধী
  2. খ) ইন্দিরা গান্ধী
  3. গ) সোনিয়া গান্ধী 
  4. ঘ) রাজীব গান্ধী
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম শুরু হলে ভারত সরকারের সাহায্যের বিষয় আলোচনা করার জন্য তাজউদ্দনি আহমেদ এবং ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারত যান।
- ১লা এপ্রিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সিনিয়র অফিসারদের সহায়তায় ভারতীয় গোয়েন্দা পরিবেষ্টিত অবস্থায় তারা দিল্লিতে পৌঁছেন। 
- সেসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মিসেস ইন্দিরা গান্ধী।
- সেখানে অতি সহজেই মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তাদের সাক্ষাত হয়।
- ইন্দিরা গান্ধী ২৭ মার্চ বাঙালিদের মুক্তিসংগ্রামের প্রতি তাঁর সরকারের পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করেন। 
- ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী অত্যাচরিত ও ভীতসন্ত্রস্ত বাঙালিদের নিরাপদ আশ্রয় প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত তখন উন্মুক্ত করে দেয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৪৭৪.
The last international conference attended by Bangabandhu was-
  1. ক) Commonwealth Conference
  2. খ) NAM conference
  3. গ) OIC Conference
  4. ঘ) UNESCO Conference
ব্যাখ্যা
The last international conference attended by Bangabandhu was the 20th Commonwealth Conference in Kingston, Jamaica.
source: daily newspaper
৪৭৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এ.কে. খন্দকারের পদবী ছিল - 
  1. মুক্তিবাহিনীর প্রধান
  2. সেক্টর প্রধান 
  3. মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ
  4. সেনাপ্রধান
ব্যাখ্যা

এ কে খন্দকার:
- এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আবদুল করিম খন্দকার যিনি এ. কে. খন্দকার নামে পরিচিত
- তার জন্ম: জানুয়ারি ১, ১৯৩০ সাল।
- তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান ছিলেন।
- মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে তিনি কঠোর মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে বিজয়ের দিকে পরিচালিত প্রচেষ্টাগুলোর  সমন্বয়সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- স্বাধীনতার পর তিনি প্রথম বিমান বাহিনী প্রধান নিযুক্ত হন এবং তাঁর যোগ্যতম পরিচালনায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত বিমান বাহিনী পুনর্গঠনে সক্ষম হন।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশাত্মবোধ ও সাহসিকতাপূর্ণ অবদানের জন্য এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারকে 'বীর উত্তম' খেতাবে ভূষিত করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪৭৬.
"The Cruel Birth of Bangladesh”- গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. হাওয়ার্ড ডাব্লিউ. ফ্রেঞ্চ
  2. আর্চার কে ব্লাড
  3. জন আপডাইক
  4. মার্ক টোয়েন
ব্যাখ্যা

আমেরিকান কূটনীতিক আর্চার কে ব্লাডের স্মৃতিকথা "দ্য ক্রুয়েল বার্থ অফ বাংলাদেশ: মেমোয়ার্স অফ অ্যান আমেরিকান ডিপ্লোম্যাট"  যা ২০০২ সালে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড দ্বারা প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।

⇒ আর্চার কে ব্লাড ছিলেন ঢাকায় আমেরিকান কনসাল জেনারেল, স্কট বুচার ছিলেন তার রাজনৈতিক কর্মকর্তা, এবং অ্যান্ডি কিলগোর ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগে ঢাকা ছেড়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। 

⇒ বইটি ১৯৭১ সালের যুদ্ধের অনেক অজ্ঞাত ঘটনার উপর আলোকপাত করে।

⇒ এরকম একটি ঘটনা ছিল যে, ঢাকায় নিযুক্ত আমেরিকান কূটনীতিককে প্রায় বন্দুকের নলের মুখে কূটনৈতিক ফোন করতে হয়েছিল। দমন-পীড়নের পর থেকে ব্লাড পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (সিএমএলএ) জেনারেল টিক্কা খানের সাথে দেখা করা থেকে বিরত ছিলেন। ২ এপ্রিল, যখন তিনি পদত্যাগ করছিলেন, তখন একজন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন তাকে থামিয়ে জানান যে সিএমএলএ সন্ধ্যা ৬ টায় ব্লাডকে তার বাসভবনে তার সাথে দেখা করতে চান। ব্লাডকে এই সাক্ষাৎ করতে হয়েছিল এবং তিনি এ সম্পর্কে নির্বিকার সুরে লেখেন যে ৪৫ মিনিটের কথোপকথন তাকে এবং আমেরিকান সম্প্রদায়কে যেকোনো সহায়তা করার প্রস্তাবের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই প্রকাশ করেনি। "পরের দিন সকালে, যেমনটি আমি আশা করেছিলাম, নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম প্রথম পৃষ্ঠায় একটি খবর প্রকাশ করেছিল যে আমেরিকান কনসাল জেনারেল প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের সাথে দেখা করেছেন," ব্লাড ব্যঙ্গ করে বলেন। 

উৎস: দ্যা ডেইলি স্টার।

৪৭৭.
জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শন সম্পর্কিত সংবিধানের অনুচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) ২ক নং
  2. খ) ৪ক নং
  3. গ) ৪ নং
  4. ঘ) ৫ নং
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৪ক নং অনুচ্ছেদে সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে অবস্থিত দূতাবাসসমূহে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।
২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ধারাটি সংবিধানে যুক্ত করা হয়।
অন্যদিকে,
- ২ক নং অনুচ্ছেদ : রাষ্ট্রধর্ম
- ৪ নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক
- ৫ নং অনুচ্ছেদ : রাজধানী।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
৪৭৮.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) ইংরেজি
  3. গ) সমাজবিজ্ঞান
  4. ঘ) রাষ্ট্রবিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
- প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয় বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী। 
- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্য বইয়ের অংশ হিসেবে পড়বেন ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’। 
- তবে বাংলায় নয়, আত্মজীবনীর ইংরেজি অনুবাদ 'দি আনফিনিশড মেমোরিজ'ই পড়বেন তারা। 
- বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়ানো হবে বইটি।
 
উৎস: বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইট
৪৭৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন দেশ থেকে ‘বাংলাদেশ নিউজ বুলেটিন’ নামক সংবাদ পত্র প্রকাশিত হয়?
  1. কানাডা
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. যুক্তরাজ্য 
  4. ভারত
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ নিউজ বুলেটিন। 

গণমাধ্যমঃ

- মুক্তিবাহিনীর তৎপরতা, বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম ও নির্দেশাবলী, নেত্রবৃন্দের বিবৃতি ও তৎপরতা, প্রবাসী বাঙ্গালীদের আন্দোলনের খবর ইত্যাদি প্রকাশিত হত। 
•  মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত জয় বাংলা, বাংলাদেশ, বঙ্গবাণী, স্বদেশ, রণাঙ্গন, স্বাধীন বাংলা, মুক্তিযুদ্ধ, সোনার বাংলা, বিপ্লবী বাংলাদেশ, জন্মভূমি, বাংলারবাণী, নতুন বাংলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

• মার্কিন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ নিউজ লেটার, বাংলাদেশ সংবাদ পরিক্রমা, 
• যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ নিউজ লেটার, বাংলাদেশ নিউজ বুলেটিন, শিক্ষা উল্লেখযোগ্য। 
• কানাডা থেকে বাংলাদেশ স্ফুলিঙ্গ নামক সংবাদপত্র প্রকাশিত হত।

উৎস: ঢাকা জেলা অফিস।[লিঙ্ক]

৪৮০.
মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
  1. তাজউদ্দিন আহমদ
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. এম মনসুর আলী
  4. শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 
- মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলের - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

সূত্র: - ইতিহাস তৃতীয় পত্র, BA & BSS প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮১.
'আমি হিমালয় দেখিনি, আমি শেখ মুজিবকে দেখেছি' উক্তিটি কার?
  1. ক) ইয়াসির আরাফাত
  2. খ) ফিদেল কাস্ত্রো
  3. গ) জেমস এলেন
  4. ঘ) ডেনিসন প্রেনটিস
ব্যাখ্যা
- ‘আমি হিমালয় দেখিনি কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতায় এই মানুষটি  হিমালয়’ - উক্তিটি বলেছেন ফিদেল কাস্ত্রো।
- তিনি কিউবা প্রজাতন্ত্রের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। 
- ফিদেল কাস্ত্রো ছিলেন একজন জগৎখ্যাত বিপ্লবী ও একজন মুক্তিদাতা। 
- তিনি তার দ্বীপ জাতিকে ঔপনিবেশিক শক্তি এবং মাফিয়া ডনদের হাত থেকে উদ্ধার করেছিলেন।
- ঔপনিবেশিক শক্তি যারা ১৬ শতকের অর্ধেক থেকে ২০ শতকের মধ্যে শাসন করেছিল।
- ফিদে,ল কাস্ত্রো ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকার অন্যান্য স্বাধীনতা আন্দোলনে অনুপ্রাণিত করেছেন। 

উৎস: যুগান্তর, ০৯ মার্চ, ২০২২
৪৮২.
বঙ্গবন্ধুর লেখা বই 'আমার দেখা নয়াচীন' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ২০১৭ সালে
  2. ২০১৮ সালে
  3. ২০১৯ সালে
  4. ২০২০ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর লেখা বইসমূহ:

- ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের লেখা বই।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- বঙ্গবন্ধুর বই কারাগারের রোজনামচা ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের নামকরণ করেছেন শেখ রেহানা। এই বইও বঙ্গবন্ধু কারাগারে বসে রচনা করেন।
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেলখানার জীবনের ওপর লেখা বইয়ের নাম ‘৩০৫৩ দিন’।
- বইটি প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালে।
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কারা অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনা এবং জননিরাপত্তা বিভাগের তদারকিতে বইটি প্রকাশিত হয়েছে।
- বঙ্গবন্ধুর লেখা বই আমার দেখা নয়াচীন ২০২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই বইটিও কারাগারে রাজবন্দী থাকার সময়ে রচিত।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে চীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। সে সময় নয়াচীন দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচিত।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৪ই আগস্ট ২০২০ ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ৩০ জুলাই, ২০১৮।
৪৮৩.
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ কত মিনিট স্থায়ী হয়?
  1. ১৬ মিনিট
  2. ১৮ মিনিট
  3. ২০ মিনিট
  4. ২২ মিনিট
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণ:
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেয়।
- উক্ত ভাষণ ১৮ মিনিট স্থায়ী হয়।
- এই ভাষণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
- ভাষণে মূলত চার দফা দাবি তোলা হয়:
১। মার্শাল ল প্রত্যাহার,
২। সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
৩। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
৪। জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ।
- বিশ্ব ইতিহাসে যে ভাষণগুলো বিখ্যাত হয়ে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক এই ভাষণটি সেগুলোর অন্যতম।
- বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ Jacob F. Field এর বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা 'We shall Fight on the beaches: The Speeches that Inspired History' শীর্ষক গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি স্থান পেয়েছে।
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে 'World's Documentary Heritage' এর মর্যাদা দিয়ে 'International Memory of the World Register'- এ অর্ন্তভুক্ত করেছে।
- বঙ্গবন্ধুর সেই অমর ভাষণকে  ইউনেস্কো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৪.
স্বাধীন বাংলা বেতারের 'চরমপত্র’ সিরিজটির উপস্থাপনা করেন- 
  1. এম আর আখতার মুকুল 
  2. আশফাকুর রহমান খান
  3. শামসুর রাহমান
  4. আবদুল মান্নান 
ব্যাখ্যা

- স্বাধীন বাংলা বেতারের 'চরমপত্র’ সিরিজটির উপস্থাপনা করেন- এম আর আখতার মুকুল।

স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র:

- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- বস্তুত, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
- স্বাধীন বাংলা বেতারের দুটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল 'চরমপত্র' এবং 'জল্লাদের দরবার'।
-'জল্লাদের দরবার' অনুষ্ঠানে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র এবং পাশবিক আচরণকে 'কেল্লা ফতেহ খান' চরিত্রের মাধ্যমে চিত্রিত করা হয়েছিল।'
- চরমপত্র' সিরিজটির পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদের সদস্য আবদুল মান্নান ।
- এবং এর স্ক্রিপ্ট লেখা ও উপস্থাপনা করেন এম আর আখতার মুকুল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪৮৫.
মুক্তিযুদ্ধের উপসেনাপতি কে ছিলেন?
  1. ক) কর্নেল এম এ জি ওসমানী
  2. খ) খালেদ মোশাররফ
  3. গ) এ কে খন্দকার
  4. ঘ) মেজর জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ জি ওসমানী।
মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।
মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ রব।
জেনারেল এম এ জি ওসমানীর বাড়ি সিলেট জেলায়।
সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির প্রধান ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।

৪৮৬.
বাংলাদেশের কয়টি স্থান রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে?
  1. চারটি
  2. তিনটি
  3. দুটি
  4. একটি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ ও রামসারঃ
- বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে।
- এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের দুটি স্থান রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে -
- সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেষ্ট (২১ মে ১৯৯২) ও
- টাঙ্গুয়ার হাওর (১০ জুলাই ২০০০) রামসার সাইটের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

• রামসার কনভেনশন:

- রামসার কনভেনশন হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি,
-'রামসার সাইট' বলতে বোঝায় এমন জলাভূমি (wetlands) যা আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিত এবং চুক্তিভুক্ত দেশগুলির দ্বারা সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়।
- এগুলি জলাভূমির সংরক্ষণ এবং তাদের সম্পদের বুদ্ধিমান ব্যবহারের জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক প্রদান করে।
- এটি ১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে স্বাক্ষরিত হয়।
-  এই কনভেনশন ২১ ডিসেম্বর, ১৯৭৫ সালে কার্যকর হয়।
- স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৭২টি।
- এর উদ্দেশ্য হলো জলাভূমি সংরক্ষণ করা।

উৎসঃ রামসার ওয়েবসাইট

৪৮৭.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কোনটি?
  1. ক) সৌদি আরব
  2. খ) ইরাক
  3. গ) ইরান
  4. ঘ) মিশর
ব্যাখ্যা

ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।

এটি মধ্যপ্রাচ্যের স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দেশ ছিল।
অন্যদিকে, ইরান ও কাতার বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় যথাক্রমে ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ও ৪ মার্চ এবং সৌদি আরব ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।

উৎসঃ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।


এছাড়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী কয়েকটি দেশঃ
প্রথম দেশ - ভুটান (৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১); দ্বিতীয় দেশ - ভারত
প্রথম ইউরোপীয় দেশ - পূর্ব জার্মানি; প্রথম আফ্রিকার দেশ - সেনেগাল।
প্রথম সমাজতান্ত্রিক দেশ - পূর্ব জার্মানি; প্রথম মুসলিম (অ-আরব) দেশ - সেনেগাল।
প্রথম উপসাগরীয় দেশ - কুয়েত।

৪৮৮.
সম্প্রতি কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী বাহিনীর হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে?
  1. ক) আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত
  2. খ) জেনোসাইট ওয়াচ
  3. গ) জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন
  4. ঘ) হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
ব্যাখ্যা
গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বে গণহত্যা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা জেনোসাইট ওয়াচ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশিদের উপর পাকিস্তানি বাহিনীর সংঘটিত হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষ্যে শহীদ সাংবাদিক সিরাজউদ্দিনের হোসেনের ছেলে তৌহিদ রেজা নূর এর আবেদনের প্রেক্ষিতে জোনোসাইট ওয়াচ এই স্বীকৃতি প্রদান করে।

(তথ্যসূত্র: দৈনিক যুগান্তর)
৪৮৯.
বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ কত দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন?
  1. ৪ দফা
  2. ৬ দফা
  3. ১০ দফা
  4. ১২ দফা
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
- এই ভাষণে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান এবং দেশকে মুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
- এই ভাষণে মোট ৪টি দাবি ও ১০টি নির্দেশনা বা কর্মসূচির উল্লেখ আছে।
-------------------
৭ মার্চ ভিন্ন এক ঘোষণায় বঙ্গবন্ধু পরবর্তী সাতদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য দশদফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন
যথা -
১. কর না দেওয়ার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে,
২. সকল অফিস ও আদালতে ধর্মঘট চলতে থাকবে,
৩. রেল ও বন্দরসমূহ চালু থাকবে। তবে সেনাবাহিনী চলাচলের কাজে শ্রমিক-কর্মচারীরা সহযোগিতা করবে না
৪. রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে গণআন্দোলনের সংবাদ গোপন রাখা যাবে না,
৫. কেবল স্থানীয় এবং আন্তঃজেলার মধ্যে ট্রাঙ্ক ও টেলিফোন যোগাযোগ চালু থাকবে,
৬. সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে,
৭. কোন মাধ্যমেই ব্যাংক পশ্চিম পাকিস্তানে টাকা পাঠাবে না,
৮. প্রতিদিন সব ভবনের উপর কালো পতাকা ওড়ানো হবে,
৯. অন্য সব ক্ষেত্রে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হল, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে ধর্মঘট আহবান করা হলে তা পালন করতে হবে,
১০. প্রতিটি মহল্লা, ইউনিয়ন, থানা, মহকুমা এবং জেলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ইউনিটের নেতৃত্বে একটি করে সংগ্রাম
পরিষদ গঠন করা হবে।
---------------
উক্ত ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়া খান কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে চারটি পূর্বশর্ত/দাবি আরোপ করেন,
যথা:
ক) অবিলম্বে সামরিক শাসন প্রত্যাহার করতে হবে,
খ) অবিলম্বে সৈন্যবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে,
গ) প্রাণহানি সম্পর্কে তদন্ত করতে হবে এবং
ঘ) (জাতীয় অধিবেশনের পূর্বেই) জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর কর

[তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।]
৪৯০.
বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন কবে?
  1. ক) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
  2. খ) ১০ জানুয়ারি ১৯৭২
  3. গ) ৮ জানুয়ারি ১৯৭২
  4. ঘ) ১১ জানুয়ারি ১৯৭২
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের কয়েকদিনের মধ্যেই মুজিবনগর প্রশাসনের সিনিয়র আমলাবৃন্দ (সচিব রুহুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে) ঢাকায় এসে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেন।
- ২২ ডিসেম্বর মুজিবনগর সরকারের সদস্যবৃন্দ ঢাকায় আসেন। ঢাকায় পৌছে তাজউদ্দীন আহমেদ তাঁর অবস্থান সুদৃঢ় করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তিলাভের পর লন্ডন-দিল্লি হয়ে ১০-০১-৭২ তারিখে বঙ্গবন্ধু ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তাজউদ্দিন আহমদ কর্তৃক প্রবাসী সরকার গঠনের সময়েই বঙ্গবন্ধু ঐ সরকারের প্রেসিডেন্ট মনোনীত হয়েছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস তাঁর অনুপস্থিতিতেও বঙ্গবন্ধু সেই পদে বহাল ছিলেন।
- বঙ্গবন্ধু ১০.১.১৯৭২ তারিখে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবেই নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন।
- ঢাকায় ফেরার পরদিন (১১.১.৭২ তারিখ রাতে) বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ‘অন্তবর্তীকালীন শাসনতন্ত্র আদেশ, ১৯৭২' জারি করেন।
- এই আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধান বিচারপতির কাছে প্রথমে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং পরে পদত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- এভাবেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সরকার প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন।
- তখন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
- প্রধান বিচারপতি মনোনীত হন বিচারপতি আবু সাদাত মোঃ সায়েম।
- ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ১২ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করেন ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯১.
১৯৭১ সালের ১৪ মার্চ বঙ্গবন্ধু কত দফা নির্দেশনা ঘোষণা করেন?
  1. ৭ দফা
  2. ১৪ দফা
  3. ২১ দফা
  4. ৩৫ দফা
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৪ মার্চ ইয়াহিয়া খানের ঢাকা আসার প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চলমান আন্দোলন বিষয়ে পূর্বের সকল নির্দেশনা বাতিল করে ৩৫ দফা নতুন নির্দেশনা প্রদান করেন।
- এসব নির্দেশনায় চলমান আন্দোলনের সময় পূর্ব পাকিস্তান কিভাবে চলবে সে সম্পর্কে দিকনির্দেশনা ছিলো।
(তথ্যসূত্র: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : দ্বিতীয় খন্ড : ৭৪০-৭৪৭ পৃষ্ঠা)
৪৯২.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ”যুদ্ধশিশু”এর পরিচালক কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় দেবব্রত
  2. জহির রায়হান
  3. মোরশেদ ইসলাম
  4. বাবুল চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “যুদ্ধশিশু”এর পরিচালকমৃত্যুঞ্জয় দেবব্রত। 

⇒ কয়েকটি বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র:
জয় বাংলা - ফখরুল আলম।
• বাঘা বাঙ্গালী - আনন্দ।
• রক্তাক্ত বাংলা - মমতাজ আলী।
• আমার জন্মভূমি - আলমগীর কুমকুম।
• শ্লোগান - কবীর আনোয়ার।
• কার হাসি কে হাসে - আনন্দ।
• নদীর নাম মধুমতী - তানভীর মোকাম্মেল।
• এখনো অনেক রাত - খান আতাউর রহমান।
• ’৭১–এর লাশ’- নাজিরউদ্দীন রিজভী।
• ইতিহাস কন্যা -শামীম আখতার।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো, ১৮ ডিসেম্বর ২০২১।
৪৯৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নারী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের জন্য 'গোবরা ক্যাম্প' কোথায় স্থাপন করা হয়েছিল?
  1. সিলেটে
  2. ঢাকায়
  3. কলকাতায়
  4. চট্টগ্রামে
ব্যাখ্যা

 মুক্তিযুদ্ধে নারী:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতার পার্ক সার্কাস ও পদ্মপুকুরের মাঝামাঝি গোবরা নামের স্থানে শুধু নারী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল।
- সেটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।
- নারী যোদ্ধাদের জন্য অনুরূপ আরো তিনটি ক্যাম্প প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে।
- গোবরা ক্যাম্পে মেয়েদের দেওয়া হতো তিন রকম ট্রেনিং: ১. সিভিল ডিফেন্স, ২. নার্সিং, ৩. অস্ত্র চালনা ও গেরিলা আক্রমণ।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন।
- আগরতলার লেম্বুচোরা ক্যাম্পে মহিলা গেরিলা স্কোয়াড-এর আধুনিক অস্ত্রের উচ্চতর ট্রেনিং হয়।

উল্লেখ্য
- রণাঙ্গনের যোদ্ধা তারামন বিবি বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত হন।
- চিকিৎসার কাজে মহিলা চিকিৎসকগণের গৌরবময় দৃষ্টান্ত ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম। তিনিও বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন।

উৎস: ।) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
     ।।) দৈনিক ইত্তেফাক।[লিঙ্ক]

৪৯৪.
মুজিব নগর সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. খ) অধ্যপক ইউসুফ আলী
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) ড. কামাল হোসেন
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- মেহেরপুর জেলায় মুজিব নগর অবস্থিত।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিব নগর সরকার গঠিত হয় -  ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- সরকার শপথ গ্রহন করে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যপক ইউসুফ আলী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করা হয়।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪৯৫.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য কতজনকে বীরউত্তম খেতাব দেওয়া হয়?
  1. ৬৭ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ৬৯ জন
  4. ৬৩ জন
ব্যাখ্যা

• বীরত্বসূচক খেতাব: 
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।

এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব হলো বীরশ্রেষ্ঠ- ৭ জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম- ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম- ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক- ৪২৬ জন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

৪৯৬.
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ সংবিধানের কোন তফসিলে অন্তর্ভু্ক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) চতুর্থ তফসিলে
  2. খ) ষষ্ঠ তফসিলে
  3. গ) সপ্তম তফসিল
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
•প্রদত্ত প্রশ্নের উত্তর কোনটি নয়।  

- বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ সংবিধানের পঞ্চম তফসিল তফসিলে অন্তর্ভু্ক্ত করা হয়েছে। 
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে আরও ৩টি তফসিল সংযোজন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ সংবিধানের পঞ্চম তফসিলে সংযোজন করা হয়।

• বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৯৭.
পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু সর্বপ্রথম কোন দেশে যান?
  1. ভারত
  2. যুক্তরাজ্য
  3. সুইজারল্যান্ড
  4. যুগোশ্লাভিয়া
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তির পর পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক চাপের কারণে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি প্রদানে বাধ্য হয়।

৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডন গমন করেন। সেখান থেকে ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমানে করে তিনি দিল্লিতে কিছু সময় অবস্থান করে ১০ জানুয়ারি ঢাকায় আসেন।
১০ জানুয়ারি দিনটিকে বাংলাদেশে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৯৮.
অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা কোথায় থেকে চূড়ান্ত করা হয়? 
  1. যশোর সেনানিবাস থেকে
  2. ঢাকা সেনানিবাস থেকে
  3. শিয়ালকোট সেনানিবাস থেকে
  4. রাওয়ালপিন্ডি সেনানিবাস থেকে
ব্যাখ্যা

অপারেশন সার্চলাইট:
- ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি:
পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

• ১৭ মার্চচীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন (১৮ মার্চ) ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এটি পাঁচ পৃষ্ঠার পরিকল্পনাটি রাও ফরমান আলী নিজ হাতে লিখেন।
- ২৪-২৫ মার্চপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেনারেল হামিদ, জেনারেল এ. ও. মিঠঠি এবং কর্নেল সাদউল্লাহ হেলিকপ্টারে করে বিভিন্ন সেনানিবাসে প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন।
- ২৫ মার্চ, রাত ১টাঅপারেশন সার্চলাইটের আওতায় অভিযান শুরু: - ঢাকায় নেতৃত্ব দেন জেনারেল রাও ফরমান আলী।
- দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নেতৃত্ব দেন জেনারেল খাদিম রাজা।
- লে. জেনারেল টিক্কা খান ৩১ ফিল্ড কমান্ডে উপস্থিত থেকে অপারেশনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।
- পূর্ব-প্রস্তুতি (ইতোমধ্যে)অভিযান সফল করার জন্য জেনারেল ইয়াহিয়া খানের দু’জন ঘনিষ্ঠ অফিসার—মেজর জেনারেল ইখতেখার জানজুয়া এবং মেজর জেনারেল এ.ও. মিঠঠি কে ঢাকায় আনা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪৯৯.
আওয়ামী লীগের কততম কাউন্সিলে শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি নির্বাচিত হন?
  1. ক) তৃতীয় কাউন্সিলে
  2. খ) ষষ্ঠ কাউন্সিলে
  3. গ) পঞ্চম কাউন্সিলে
  4. ঘ) দ্বিতীয় কাউন্সিলে
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৩ সালের ৫ জুলাই দ্বিতীয় কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবারের মতো আওয়ামী ‍মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত টানা চার মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৬ সালের ১৮-১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবারের মতো পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৭৪ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- আওয়ামী ‍মুসলিম লীগের প্রথম কমিটিতে বঙ্গবন্ধু কারাগারে বন্দি অবস্থায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং দৈনিক ইত্তেফাক)
৫০০.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত তারিখে জন্ম গ্রহণ করে?
  1. ক) ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৩২০
  2. খ) ৩ চৈত্র ১৩২৬
  3. গ) ১৬ বৈশাখ ১৩২২
  4. ঘ) ২৬ চৈত্র ১৩২৫
ব্যাখ্যা
• শেখ মুজিবুর রহমান:
- শেখ মুজিবুর রহমান জন্ম ১৭ মার্চ ১৯২০ (৩ চৈত্র ১৩২৬)।
- মৃত্যু ১৫ আগস্ট ১৯৭৫।
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ (৩ চৈত্র, ১৩২৬) জন্মগ্রহণ করেন।

- শেখ লুৎফর রহমান ও মোসাম্মৎ সাহারা খাতুনের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে তৃতীয় সন্তান শেখ মুজিব।
- বাবা-মা তাকে খোকা বলে ডাকতেন। খোকার শৈশবকাল কাটে টুঙ্গিপাড়ায়।
- ১৯২৭ সালে ৭ বছর বয়সে গিমাডাঙ্গা প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন।
- নয় বছর বয়সে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। পরে তিনি স্থানীয় মিশনারী স্কুলে ভর্তি হন।

- ১৯৩৪ সালে ১৪ বছর বয়সে বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হলে তার একটি চোখ কলকাতায় অপারেশন করা হয় এবং চক্ষুরোগের কারণে তার লেখাপড়ার সাময়িক বিরতি ঘটে।
- ১৯৩৭ সালে চক্ষুরোগে চার বছর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার পর শেখ মুজিব পুনরায় স্কুলে ভর্তি হন।
- ১৯৩৮সালে ১৮ বছর বয়সে বঙ্গবন্ধু ও বেগম ফজিলাতুননেছার আনুষ্ঠানিক বিয়ে সম্পন্ন হয়।
- তারা দুই কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেলের জনক-জননী।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।