বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য ইতিহাস

মোট প্রশ্ন৭০৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য ইতিহাস

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৭০৪

৩০১.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় কোন দেশে ভেটো প্রয়োগ করেছিল?
  1. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  2. চীন
  3. যুক্তরাজ্য
  4. সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়।
- এই প্রস্তাব তিনবার উত্থাপিত হয়।
- কিন্তু প্রতিবারই সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় সেই প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করে।
- ফলে পাকিস্তানপন্থী প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি।

৩০২.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট -
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) মুহম্মদ উল্লাহ
  3. গ) আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. ঘ) শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তিনি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি (তাঁর অনুপস্থিতি ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১১ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত)।

এছাড়াও,
- স্বাধীন দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেন।
- তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২ সালের ৩০ জুন একই সঙ্গে ১৯৭১-৭২ ও ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছিলেন।
- তাজউদ্দীন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট দিয়েছিলেন; সেই বাজেটের আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা।

উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩০৩.
'বঙ্গবন্ধু হত্যা' মামলা দায়ের করা হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭৫ সালে
  2. খ) ১৯৯০ সালে
  3. গ) ১৯৮৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচারের দ্বার উন্মুক্ত হয়।
- ২ অক্টোবর, ১৯৯৬ সালে হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকার সময় তাঁর রিসেপসনিস্ট কাম রেসিডেন্ট পিএ আ ফ ম মুহিতুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় ২৪ আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ৷
- ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর ১২ আসামিকে মৃত্যদন্ড প্রদান করে আদালত রায় প্রদান করে।
- অবশেষে হত্যাকাণ্ডের ৩৪ বছর পর ১৯ নভেম্বর ২০০৯ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মামলাটির চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে ৷
- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির আপিল আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ৷ ফলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোট ১২ আসামিরই মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে৷

তথ্যসূত্র:- দৈনিক প্রথম আলো।

৩০৪.
২০২৩ সালের মার্চ মাসে কোন বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধুকে ‘ডক্টর অব লজ’ (মরণোত্তর) ডিগ্রি প্রদান করবে?
  1. ক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খ) চট্রগ্রাম  বিশ্ববিদ্যালয় 
  3. গ) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় 
  4. ঘ) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু:
-  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সম্মান সূচক ‘ডক্টর অব লজ ডিগ্রি’ প্রদান করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
-  মুজিববর্ষ উপলক্ষে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মরণোত্তর এ ডিগ্রি প্রদান করা হবে। 
- এতে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ ব্যানার্জি।
 
এছাড়াও
- মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন, রচনা প্রতিযোগিতা, প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ, ‘বঙ্গবন্ধু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক গ্রন্থ প্রকাশ করা হবে।

উৎস:দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা।
৩০৫.
বঙ্গবন্ধুর সরকার কতজন মুক্তিযােদ্ধাকে 'বীর বিক্রম' খেতাবে ভূষিত করে?
  1. ক) ১৭৫ জন
  2. খ) ১৭৪ জন
  3. গ) ১৭৬ জন
  4. ঘ) ১৭২ জন
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন
- বীর উত্তম - ৬৮ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন

তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী]
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)

∴ বর্তমানে (২০২১) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
৩০৬.
মুক্তিযুদ্ধে ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলা সদস্যরা কোন এলাকায় অপারেশন পরিচালনা করত?
  1. সীমান্ত এলাকায়
  2. চট্টগ্রাম
  3. ঢাকায়
  4. নদী অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
'ক্র্যাক প্লাটুন':
- মুক্তিযুদ্ধে স্বতন্ত্র গেরিলা দল যারা মূলত গণবাহিনীর অংশ।
- এই বাহিনী স্বাধীনতা যুদ্ধে ২ নং সেক্টরের অধীন অংশ নেয়।
- ক্র্যাক প্লাটুন গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন খালেদ মোশাররফ এবং এটিএম হায়দার।
- ঢাকা শহরে এটি ৮২ টি অপারেশন পরিচালনা করে।
- এরা "হিট এন্ড রান" পদ্ধতিতে তাঁদের অপারেশন পরিচালনা করতো।
- এই প্লাটুনের অন্যতম সদস্য ছিলেন:
- শহীদ জননী জাহানার ইমাম, শহীদ রুমি ইমাম, আলতাফ মাহমুদ, পপ সম্রাট আজম খান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, 
- মুক্তিযুদ্ধ ২ নং সেক্টর  ঢাকা, ফরিদপুর ।
- নদী অঞ্চল ১০ নং সেক্টর।
- চট্টগ্রাম ছিল ১ নং সেক্টর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভস, দ্যা দেইলি স্টার বাংলা।
৩০৭.
বিশ্ব শান্তি পরিষদ বঙ্গবন্ধুকে কোন পদকে ভূষিত করে?
  1. বিশ্ব সংহতি পুরস্কার
  2. ম্যাগসেসে পুরস্কার
  3. জুলিও কুরি পুরস্কার
  4. মাদামকুরি পুরস্কার
ব্যাখ্যা
জুলিও কুরি শান্তি পদক:
 
- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।
 
তথ্যসুত্র - কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
৩০৮.
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কোন দেশ পাকিস্তানের পক্ষে জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে?
  1. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  2. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  3. চীন
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধকালীন বৃহৎশক্তি সমূহ:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়।

- এই প্রস্তাব তিনবার উত্থাপিত হয়।
- কিন্তু প্রতিবারই সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় সেই প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করে।
- ফলে পাকিস্তানপন্থী প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি।

৩০৯.
'বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল স্বাধীনতার মূল দলিল'- উক্তিটি কে করেছেন?
  1. মার্শাল টিটো
  2. ফিদেল ক্যাস্ট্রো
  3. নেলসন ম্যান্ডেলা
  4. এডওয়ার্ড হীথ
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণ:
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেয়।
- উক্ত ভাষণ ১৮ মিনিট স্থায়ী হয়।
- এই ভাষণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
- ভাষণে মূলত চার দফা দাবি তোলা হয়:
১। মার্শাল ল প্রত্যাহার,
২। সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
৩। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
৪। জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ।
- বিশ্ব ইতিহাসে যে ভাষণগুলো বিখ্যাত হয়ে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক এই ভাষণটি সেগুলোর অন্যতম।
- বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ Jacob F. Field এর বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা 'We shall Fight on the beaches: The Speeches that Inspired History' শীর্ষক গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি স্থান পেয়েছে।
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে 'World's Documentary Heritage' এর মর্যাদা দিয়ে 'International Memory of the World Register'- এ অর্ন্তভুক্ত করেছে।
- বঙ্গবন্ধুর সেই অমর ভাষণকে  ইউনেস্কো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উল্লেখ্য,
- 'বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল স্বাধীনতার মূল দলিল'- উক্তিটি করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা।

অন্যদিকে -
- যুগো-স্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটো বঙ্গবন্ধুর ভাষণের তাৎপর্যপূর্ণ দিক তুলে ধরে বলেছিলেন, এই ভাষণের মাধ্যমে শেখ মুজিব প্রমাণ করেছেন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানিদের কোনো রকম বৈধতা নেই। 
- কিউবার অবিসংবাদিত নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো বলেছেন, ৭ই মার্চের শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ শুধুমাত্র ভাষণ নয়, এটি একটি অনন্য রণকৌশলের দলিল।
- ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথ বলেছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে যতদিন পরাধীনতা থেকে মুক্তির জন্য সংগ্রাম থাকবে, ততদিন শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণটি মুক্তিকামী মানুষের মনে অন্যতম প্রেরণা হয়ে থাকবে। 

উৎস: i) সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ওয়েবসাইট।
৩১০.
প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ বর্তমানে কী নামে পরিচিত?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
চন্দ্রদ্বীপ:
- প্রাচীন যুগে বাংলা কোন একক রাজ্য ছিল না।
- বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন অনেকগুলো ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল।
- যেমন: পুণ্ড্র, বরেন্দ্র, বঙ্গ, সমতট, চন্দ্রদ্বীপ, হরিকেল, রাঢ় ইত্যাদি।
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- মধ্যযুগে চন্দ্রদ্বীপ বেশ সমৃদ্ধ ছিল।
- এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।

অন্যদিকে -
- সিলেটের প্রাচীন নাম হরিকেল।
- কুমিল্লা ও নোয়াখালী সমতট জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩১১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়?
  1. ক) ৮টি
  2. খ) ৯টি
  3. গ) ১০টি
  4. ঘ) ১১টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।
- এতে মোট ১২টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল। বাংলাদেশের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের জন্য মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে।
-  ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধাবাহিনী গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- যুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশকে প্রথমে ১০ এপ্রিল ৪টি এবং পরবর্তীকালে ১১ এপ্রিল ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল।
- যারা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল। এসব বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, কৃষক, নারী, রাজনৈতিক দলের কর্মী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
- নিয়মিত সেনা ব্যাটেলিয়ান পরে তিনটি বিগ্রেডে পরিণত হয় এবং বিগ্রেড কমান্ডার মেজর কে এম শফিউল্লাহ, মেজর জিয়াউর রহমান এবং মেজর খালেদ মোশাররফের নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর অনুসারে বিগ্রেড তিনটির নামকরণ করা হয় যথাক্রমে এস ফোর্স, জেড  এবং কে ফোর্স।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার  সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- এতে অস্থায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
- পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় সম্পন্ন হয়।

উৎস:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
 
৩১২.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য হিসেবে অন্যগুলোর চেয়ে আলাদা?
  1. ক) আগুনের পরশমণি
  2. খ) ১৯৭১
  3. গ) স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
  4. ঘ) অনিল বাগচীর একদিন
ব্যাখ্যা

দুইভাবে আলাদা করা যেতে পারে।
১)  'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' মমতাজ উদ্দিন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক এবং বাকিগুলো উপন্যাস।
২) গ অপশনটি ছাড়া বাকী তিনটির (উপন্যাস) রচয়িতা হুমায়ূন আহমেদ।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস -
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩১৩.
মুজিবনগর সরকার শপথ নেয় -
  1. ক) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  2. খ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ঘ) ৭ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 
- এ সরকারের সদর দপ্তর প্রথম স্থাপিত হয় মুজিবনগরে (মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা)।
-পরবর্তীকালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রধানত নিরাপত্তা এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানের সুবিধার্থে এ সরকারের প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তর হয়।
- এ সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে বৈদ্যনাথতলার নতুন নামকরণ হয় মুজিবনগর এবং অস্থায়ী সরকারও পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।

তথ্যসূত্র: - ইতিহাস তৃতীয় পত্র, BA & BSS প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৪.
সর্বশেষ কোন ভাষায় 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' গ্রন্থটি অনূদিত হয়েছে?
  1. ভুটানি ভাষা
  2. নেপালি ভাষা
  3. তিব্বতি ভাষা
  4. বর্মী ভাষা
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

অসমাপ্ত আত্মজীবনী:

- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের লেখা প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
- প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- বইটি লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। 
- বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি ভুটানের জংখা ভাষায় অনূদিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। 
- ভুটানের প্রিন্সেস ডেচেন ইয়াংজোম ওয়াংচুক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক এবং জাতির পিতার দৌহিত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র ভুটানিজ সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করেন।

উৎস: i) ৩১ মার্চ ২০২৪, প্রথম আলো। 
         ii) অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
৩১৫.
লাহােরে অনুষ্ঠিত OIC শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু কবে যােগদান করেন?
  1. ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
  2. ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
  3. ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪
  4. ২০-২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
ব্যাখ্যা
১৯৭৪ সালের ২২ - ২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (OIC) দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই সম্মেলনে বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যপদ (৩২-তম) লাভ করে।

ওআইসি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুঃ
- ১৯৭৪ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ওআইসি মহাসচিবের কাছ থেকে একটি বার্তা এলো বঙ্গবন্ধুর জন্য। আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ারি বুমেদিন তাঁর বিশেষ বিমান পাঠিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকে লাহোরে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
- বিমানে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বুতেফলিকার নেতৃত্বে আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি দল রয়েছে। দলে কুয়েতের আমিরের বিশেষ দূত হিসেবে আছেন কুয়েতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁরা বঙ্গবন্ধুকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে চান।

- ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রতিনিধিদল ঢাকা এলো ২২ ফেব্রুয়ারি। বঙ্গবন্ধু আলোচনায় জানালেন, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে লাহোর সম্মেলনে যোগদান সম্ভব নয়। আলাপ-আলোচনার পর প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের সঙ্গে ঐকমত্যে উপনীত হলো যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একই সময়ে একযোগে পারস্পরিক স্বীকৃতি দেবে এবং লাহোর ও ঢাকা থেকে এ ঘোষণা একসঙ্গে প্রচার করা হবে—এটাও সিদ্ধান্ত হলো। ২৩ ফেব্রুয়ারি ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল লাহোর যাবে।

- পরবর্তীতে, ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখেই পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং বঙ্গবন্ধু ২৩ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনে যোগ দিতে লাহোর যান।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু ওআইসি সম্মেলনে ভাষণ প্রদান করেন।

উৎসঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও ওআইসি ওয়েবসাইট।
৩১৬.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো কোন তারিখে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে?
  1. ক) ৩০ জুলাই
  2. খ) ৩০ আগষ্ট
  3. গ) ৩০ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ৩০ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ’কে বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা, ইউনেস্কো (UNESCO)।
- ভাষণটি ইউনেস্কো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য “Memory of the World International Heritage Register'-এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
- এ পর্যন্ত এসব স্বীকৃতির মধ্যে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকেই প্রথম পাণ্ডুলিপিবিহীন এবং অলিখিত ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)
৩১৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ’তেলিয়াপাড়া রণকৌশল’ কোন জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. সুনামগঞ্জ
  2. হবিগঞ্জ
  3. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  4. ফেনী
ব্যাখ্যা
• তেলিয়াপাড়া রণকৌশল:
 - তেলিয়াপাড়া বাংলোয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- মুজিবনগর সরকার গঠনের পূর্বে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তৎকালীন সিলেট জেলার (বর্তমান হবিগঞ্জ জেলা) তেলিয়াপাড়ায় এক চা বাগানের ব্যবস্থাপকের বাংলোতে কর্নেল ওসমানীর নেতৃত্বে ২৭ জন সেনা কর্মকর্তা, আনসার, পুলিশ, সিএসপি অফিসার এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের নিয়ে যে যুদ্ধ কৌশল প্রস্তুত করা হয়েছিল, সেটি 'তেলিয়াপাড়া রণকৌশল' নামে পরিচিত।

উৎস: মাধবপুর উপজেলা ওয়েবসাইট।
৩১৮.
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে নিচের কোন দাবিটি ছিলো না?
  1. ক) সামরিক আইন প্রত্যাহার
  2. খ) শাসনতন্ত্র কার্যকর করা
  3. গ) গণহত্যার তদন্ত করা
  4. ঘ) নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর
ব্যাখ্যা
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের টালবাহানার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে বঙ্গবন্ধু এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন।
এ ভাষণে তিনি চারটি দাবি উত্থাপন করেন। এগুলো হলোঃ
চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার
সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া
গণহত্যার তদন্ত করা এবং
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
৭ই মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং দৈনিক ইত্তেফাক)
৩১৯.
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত ২০২০ সালে ২রা ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত গ্রন্থটির নাম -----
  1. ক) আমার দেখা নয়াচীন
  2. খ) অসমাপ্ত আত্মজীবনী
  3. গ) কারাগারের রোজনামচা
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস
ব্যাখ্যা
• “আমার দেখা নয়াচীন” জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর চীন ভ্রমণের উপর লেখা গ্রন্থ।
- এই গ্রন্থটি তার প্রকাশিত তৃতীয় গ্রন্থ।
- ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ বাংলা একাডেমি এটি প্রকাশ করে।
- ১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া চীন যান বঙ্গবন্ধু।
- তার এ সফরের অভিজ্ঞতাই এ গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে।

সূত্র: আমার দেখা নয়াচীন : বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান। 
৩২০.
বঙ্গবন্ধু কবে আতাউর রহমান খানের মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন?
  1. ১৯৫৬ সালের ৩১ আগস্ট
  2. ১৯৫৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর
  3. ১৯৫৭ সালের ৩০ মে
  4. ১৯৫৭ সালে ১১ জুলাই
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তানে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।
- বঙ্গবন্ধু ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬ এই মন্ত্রিসভায় শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন।
- কিন্তু ১৯৫৭ সালের ৩০ মে দলীয় কাজে মনোনিবেশের জন্যে স্বেচ্ছায় তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী)
৩২১.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত সশস্ত্রবাহিনী কী নামে যুদ্ধ শুরু করে?
  1. মুক্তিফৌজ
  2. মুক্তিকামী
  3. মুক্তফৌজ
  4. স্বাধীন ফৌজ
ব্যাখ্যা
• মুক্তিবাহিনী:
- মুক্তিবাহিনী  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত সশস্ত্রবাহিনী।
- শুরুতে এর নাম ছিল মুক্তিফৌজ।
১৯৭১ সালের মার্চের শুরু থেকে দেশের শহর ও গ্রাম এলাকায় ছাত্র ও যুব নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে গঠিত সংগ্রাম পরিষদের কর্মীরাই পরবর্তী সময়ে সংগঠিত হয়ে মুক্তিফৌজ ও মুক্তিবাহিনী গঠন করে।
তবে কখন কিভাবে এর সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে ওঠে এবং কিভাবে এর নাম মুক্তিবাহিনী হয়, সেসব বিষয়ে সুস্পষ্ট দালিলিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের মূলত দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:
প্রথম শ্রেণীর সদস্যরা ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয়তাবাদী সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ, অন্যভাগ আসে ইতিপূর্বে শহর ও গ্রামে সংগঠিত সংগ্রাম পরিষদের বিভিন্ন শাখার সদস্য ও তাদের অনুসারী বেসামরিক জনগণ থেকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩২২.
মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হয় কবে থেকে?
  1. ক) ১৭ মার্চ ২০১৯
  2. খ) ১ জানুয়ারি ২০২০
  3. গ) ১০ জানুয়ারি ২০২০
  4. ঘ) ২ ফেব্রুয়ারি ২০২০
ব্যাখ্যা
মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হয় ১০ জানুয়ারি ২০২০ থেকে।
সরকার বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ২০২১ সময়কে ‍মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
(সূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৩২৩.
বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন কে?
  1. ইন্দিরা গান্ধী
  2. জন এলেন
  3. লুইসি ফ্রেশেট
  4. রমেশ চন্দ্র
ব্যাখ্যা
জুলিও কুরি পদক:
- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' কর্তৃক 'জুলিও কুরি' শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ২৩ মে, ১৯৭৩ সালে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

উল্লেখ্য,
- তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’ হয়েছিলেন, সেই ১৯৬৯ সালে।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ তাঁকে করেছে বাঙালির ‘অবিসংবাদিত নেতা’।
-  বিশ্বশান্তি পরিষদের প্রেসিডেনশিয়াল কমিটির সভায় ১৪০টি দেশের প্রায় ২০০ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। 

উৎস: i) কারাগারের রোজনামচা।
         ii) আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
৩২৪.
সম্প্রতি কোন শহরে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয়?
  1. বেলগ্রেড
  2. আঙ্কারা
  3. ইস্তান্বুল
  4. আলজিয়ার্স
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিক উদযাপনের অংশ হিসেবে গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধুর একটি আবক্ষ ভাস্কর্য এবং বঙ্গবন্ধুর নামে একটি পার্কের নামকরণ করা হয়।
- ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
(তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার)
৩২৫.
১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ এ ঢাকার রেসকোর্সে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন-
  1. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা ও জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী
  2. জেনারেল জেকব সিং ও জেনারেল নিয়াজী
  3. জেনারেল বলবীর সিং অরোরা ও জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী
  4. জেনারেল মানেকশ ও জেনারেল নিয়াজী
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে।
- তাদের এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।
- ১৫ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সংবরণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। 
- ১৬ ডিসেম্বর সকাল সোয়া নয়টার সময় মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান।
- অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের জয়ী ও পরাজিত দুই পক্ষের মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দলিল স্বাক্ষরিত হয়। 
- শেষ পর্যন্ত জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্সের যে স্থানে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানে ৯৩ হাজার সৈন্য ও অফিসারসহ আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, জিওসি এবং পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় বাহিনী ও বাংলাদেশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণি এবং  প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৩২৬.
মুক্তিযুদ্ধে ক্র্যাক প্লাটুনের অন্যতম সদস্য ছিলেন- 
  1. শহীদ রুমি ইমাম
  2. আলতাফ মাহমুদ
  3. পপ সম্রাট আজম খান
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা

'ক্র্যাক প্লাটুন':
- মুক্তিযুদ্ধে স্বতন্ত্র গেরিলা দল যারা মূলত গণবাহিনীর অংশ।
- এই বাহিনী স্বাধীনতা যুদ্ধে ২ নং সেক্টরের অধীন অংশ নেয়।
- ক্র্যাক প্লাটুন গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন খালেদ মোশাররফ এবং এটিএম হায়দার।
- ঢাকা শহরে এটি ৮২ টি অপারেশন পরিচালনা করে।
- এরা "হিট এন্ড রান" পদ্ধতিতে তাঁদের অপারেশন পরিচালনা করতো।
- এই প্লাটুনের অন্যতম সদস্য ছিলেন:
- শহীদ জননী জাহানার ইমাম, শহীদ রুমি ইমাম, আলতাফ মাহমুদ, পপ সম্রাট আজম খান প্রমুখ।
 
 উৎস:  বাংলাপিডিয়া, মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভস, দ্যা দেইলি স্টার বাংলা।

৩২৭.
শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য মূল দাবি ছিল না-
  1. ক) সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া
  2. খ) গণহত্যার তদন্ত করা
  3. গ) চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার করা
  4. ঘ) পুনরায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এই ভাষণে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান এবং দেশকে মুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণে জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য মূল দাবি ছিল- ৪টি। যথা:
১. চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার,
২. সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া,
৩. গণহত্যার তদন্ত করা এবং
৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
[সূত্রঃ বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)]
৩২৮.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কোন দেশ পাকিস্তানের পক্ষে জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল?
  1. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  2. পোল্যান্ড
  3. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়।
- এই প্রস্তাব তিনবার উত্থাপিত হয়।
- কিন্তু প্রতিবারই সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় সেই প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করে।
- ফলে পাকিস্তানপন্থী প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি।

৩২৯.
মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য সংখ্যা ছিলো কতজন?
  1. ক) ৪ জন
  2. খ) ৫ জন
  3. গ) ৬ জন
  4. ঘ) ৭ জন
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।
- কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী।
অন্য  সদস্যরা হলেন -
(১) ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ
(২) ড. মোশাররফ হোসেন
(৩) ড. এস. আর. বোস এবং 
(৪) ড. আনিসুজ্জামান।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩০.
মুক্তিযুদ্ধে "ক্র্যাক প্লাটুন” কোন শহরে সক্রিয় ছিলো?
  1. ঢাকা
  2. খুলনা
  3. চট্টগ্রাম
  4. যশোর
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধে "ক্র্যাক প্লাটুন” ঢাকা শহরে সক্রিয় ছিলো।

• 'ক্র্যাক প্লাটুন':

- মুক্তিযুদ্ধে স্বতন্ত্র গেরিলা দল যারা মূলত গণবাহিনীর অংশ।
- এই বাহিনী স্বাধীনতা যুদ্ধে ২ নং সেক্টরের অধীন অংশ নেয়।
- ক্র্যাক প্লাটুন গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন খালেদ মোশাররফ এবং এটিএম হায়দার।
- ঢাকা শহরে এটি ৮২ টি অপারেশন পরিচালনা করে।
- এরা "হিট এন্ড রান" পদ্ধতিতে তাঁদের অপারেশন পরিচালনা করতো।
- এই প্লাটুনের অন্যতম সদস্য ছিলেন:
- শহীদ জননী জাহানার ইমাম, শহীদ রুমি ইমাম, আলতাফ মাহমুদ, পপ সম্রাট আজম খান প্রমুখ।
 
 উৎস: বাংলাপিডিয়া, মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভস, দ্যা দেইলি স্টার বাংলা।

৩৩১.
বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন কেন?
  1. আইয়ুব খানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে
  2. বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করার প্রতিবাদে
  3. জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন:

• ৩ মার্চ (১৯৭১) অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ ঢাকায় এবং পরদিন সারাদেশে হরতাল ডাকেন। 
• ২ মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তানে লাগাতার অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।
• ২ এবং ৩ মার্চ হরতালের ফলে সকল সরকারি কর্মকাণ্ড অচল হয়ে পড়ে। 
• পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ৩ মার্চ ১৯৭১ ঢাকায় পল্টন ময়দানে আয়োজিত জনসভায় স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গ্রহণ করে। 
• সভায় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে 'স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষণা ও কর্মসূচি' শীর্ষক একটি ইশতেহার প্রচার করা হয়। ইশতেহারে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের তিনটি লক্ষ্য চিহ্নিত করা হয়।
• ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণে পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩২.
’শহিদ নূর হোসেন’ কোন আন্দোলনে শহিদ হন?
  1. ভাষা আন্দোলনে
  2. নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে
  3. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে
  4. বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনে
ব্যাখ্যা

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন:
- জেনারেল এরশাদের ৯ বছরের শাসনামাল ছিল।
- ১৯৯০ সালে উত্তাল এবং রক্তাক্ত সপ্তাহে সেনাবাহিনী ও পুলিশের হাতে ৭০ জনের বেশি লোক নিহত হয়েছিলেন।
- শহিদ নূর হোসেন নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহিদ হন।
- কিন্তু তারও তিন বছর আগে আরেকটি গণআন্দোলন তিনি নিষ্ঠুরভাবে দমন করেছিলেন।
- সেই আন্দোলনের সময় গণতন্ত্রের দাবিতে বুকে-পিঠে শ্লোগান লিখে রাস্তায় নামা এক তরুণ নূর হোসেন পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন শহীদ হন।
- নূর হোসেনের লেখা শ্লোগান বুকে 'স্বৈরাচার নীপাত যাক' এবং পিঠে 'গণতন্ত্র মুক্তি পাক'।
- ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর এক তীব্র গণআন্দোলনের মুখে বাংলাদেশে জেনারেল এরশাদের নয় বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

উল্লেখ্য,
- শহিদ আবুসাঈদ ২৪ গণঅভূত্থানে শহিদ হন।
- '১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ দেয়।

উৎস: বিসিসি বাংলা নিউজ।

৩৩৩.
বঙ্গবন্ধু সর্বপ্রথম কোন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ক) জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন
  2. খ) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশন
  3. গ) ওআইসি সম্মেলন
  4. ঘ) কমনওয়েলথ সম্মেলন
ব্যাখ্যা
প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের ২-১০ আগস্ট কানাডার অটোয়ায় অনুষ্ঠিত ১৯তম কমনওয়েলথ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সম্মেলন হিসেবে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে ৬ মে ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র জ্যামাইকার কিংস্টনে ২০তম কমনওয়েলথ সরকার প্রধান সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু এই সম্মেলনে যোগ দিতে ২৬ এপ্রিল থেকে ৮ মে পর্যন্ত জ্যামাইকা সফর করেন যা ছিলো বঙ্গবন্ধুর সর্বশেষ কোন সম্মেলনে যোগদান ও বিদেশ সফর

এছাড়াও বঙ্গবন্ধু আরো তিনটি সম্মেলনে যোগ দেন।
এগুলো হলো:
- জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, আলজিয়ার্স : ৫-৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩
- লাহোর ওআইসি সম্মেলন : ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশন, নিউইয়র্ক : ২৩ সেপ্টম্বর-৭ অক্টোবর ১৯৭৪।

(তথ্যসূত্র: জাতীয় দৈনিক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট)
৩৩৪.
বঙ্গবন্ধু রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ কারাগারের রোজনামচা কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ২০১৯ সালে
  2. খ) ২০১২ সালে
  3. গ) ২০১৭ সালে
  4. ঘ) ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নামকরণ করেন শেখ রেহেনা। প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।
- তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

উৎস: কারাগারের রোচনামচা।
৩৩৫.
বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন ঘটনাটি আগে ঘটে?
  1. ক) ছয় দফা ঘোষণা
  2. খ) আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলা
  3. গ) গণ-অভ্যুত্থান
  4. ঘ) ভারত- পাকিস্তান দ্বিতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

অপশনে উল্লেখিত ঘটনাগুলোর মধ্যে,
১. ভারত পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিতীয় যুদ্ধটি আগে সংঘটিত হয়। ১৯৬৫ সালে এই যুদ্ধ হয়।
তার আগে ১৯৪৭ - ৪৯ সময়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

২. ছয়দফা - ১৯৬৬ সালে ঘোষণা করা হয়।
৩. আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ১৯৬৮ সালে দায়ের করা হয়েছিলো।
৪. গণ-অভ্যুত্থান বলতে এখানে বাংলাদেশ ভূখন্ডে ১৯৬৯ সালের আন্দোলন সংগ্রামকে বোঝানো হয়েছে।

৩৩৬.
‘তমদ্দুন মজলিশ' প্রতিষ্ঠিত হয় -
  1. ক) ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর
  2. খ) ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর
  3. গ) ১৯৪৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

তমদ্দুন মজলিশের গঠনতন্ত্রে বিধৃত এই সংগঠনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিম্নরূপ:
১. কুসংস্কার, গতানুগতিকতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতা দূর করে ‘সুস্থ ও সুন্দর’ তমদ্দুন গড়ে তোলা;
২. যুক্তিবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত সর্বাঙ্গ সুন্দর ধর্মভিত্তিক সাম্যবাদের দিকে মানবসমাজকে এগিয়ে নেওয়া;
৩. মানবীয় মূল্যবোধ ভিত্তিক সাহিত্য ও শিল্পের মাধ্যমে নতুন সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা;
৪. নিখুঁত চরিত্র গঠন করে গণজীবনের উন্নয়নে সহায়তা করা।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
উক্ত পুস্তিকায় নিম্ন লিখিত বিষয়গুলো প্রস্তাব করা হয় -

পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?
- তমদুন মজলিশ

১. বাংলা ভাষাই হবে:
(ক) পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার বাহন।
(খ) পূর্ব পাকিস্তানের আদালতের ভাষা।
(গ) পূর্ব পাকিস্তানের অফিসাদির ভাষা।
২. পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষা হবে দুটি - উর্দু ও বাংলা।
৩. বাংলাই হবে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা বিভাগের প্রথম ভাষা। ইহা পূর্ব পাকিস্তানের শতকরা একশতজনই শিক্ষা করবেন।
(খ) উর্দু হবে দ্বিতীয় ভাষা। যারা পাকিস্তানের অন্যান্য অংশে চাকরী ইত্যাদি কাজে লিপ্ত হবেন, তারাই শুধু এ-ভাষা শিক্ষা করবেন। ইহা পূর্ব পাকিস্তানের শতকরা ৫ হইতে ১০ জন শিক্ষা করলেও চলবে। মাধ্যমিক স্কুলের উচ্চতর শ্রেণীতে এই ভাষা দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে শিক্ষা দেওয়া যাবে।
(গ) ইংরেজী হবে পূর্ব পাকিস্তানের তৃতীয় ভাষা বা আন্তর্জাতিক ভাষা। পাকিস্তানের কর্মচারী হিসাবে যাঁরা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে চাকরী করবেন বা যারা উচ্চতর বিজ্ঞান শিক্ষায় নিয়ােজিত হবেন তাঁরাই শুধু ইংরেজী শিক্ষা করবেন। তাদের সংখ্যা পূর্ব পাকিস্তানের হাজারকরা ১ জনের চেয়ে কখনাে বেশী হবে না। ঠিক একই নীতি হিসাবে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রদাশেগুলিতে ওখানের স্থানীয় ভাষা বা উর্দু ১ম ভাষা, বাংলা ২য় ভাষা, আর ইংরেজী ৩য় ভাষার স্থান অধিকার করবে।
৪. শাসনকার্য ও বিজ্ঞান-শিক্ষার সুবিধার জন্য আপাততঃ কয়েক বৎসরের জন্য ইংরেজী ও বাংলার উভয় ভাষাতেই পূর্ব পাকিস্তানের শাসনকার্য চলবে। ইতিমধ্যে প্রয়ােজন অনুযায়ী বাংলা ভাষার সংস্কার সাধন করতে হবে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

৩৩৭.
'এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলব না।' গানটির রচয়িতা-
  1. ক) গোবিন্দ হালদার
  2. খ) আবদুল লতিফ
  3. গ) আব্দুল জব্বার
  4. ঘ) নজরুল ইসলাম বাবু
ব্যাখ্যা
গোবিন্দ হালদার রচিত কয়েকটি বিখ্যাত গান:
- 'মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি....'
- 'এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলব না।'
- 'পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে.....' 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৩৮.
বর্তমানে বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কয়জন?
  1. ৪২৬ জন
  2. ৪২৪ জন
  3. ১৭৪ জন
  4. ৬৭ জন
ব্যাখ্যা
বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
৩৩৯.
বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল জন্মগ্রহণ করেন-
  1. ক) নোয়াখালী
  2. খ) নড়াইল
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) ভোলা
ব্যাখ্যা
- বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল ১৯৪৭ সালে ভোলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সেনাবাহিনীর সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- তিনি ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে শহীদ হন।
- তাঁর সমাধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়ায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৪০.
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ২২টি ভাষায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অনুবাদ করেছে কোন সংস্থা?
  1. সামার ইনস্টিটিউট অব লিঙ্গুইস্টিকস (সিল)
  2. ইউনেস্কো
  3. মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
  4. Liberation War Museum
ব্যাখ্যা

- দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ২২টি ভাষায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অনুবাদ হয়েছে। এ কাজ করেছে আন্তর্জাতিক সংগঠন সামার ইনস্টিটিউট অব লিঙ্গুইস্টিকস (সিল)।
- সামার ইনস্টিটিউট অব লিঙ্গুইস্টিকস,অস্ট্রেলিয়া (সিল) ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষার সুরক্ষায় গবেষণার কাজ করে।
- বিশেষ করে যেসব ভাষা বিপন্ন, সেগুলোর প্রয়োজনমতো বর্ণমালা বা ব্যাকরণ তৈরির কাজও করে প্রতিষ্ঠানটি।
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো ৭ মার্চের ভাষণটিকে World’s Documentary Heritage এর মর্যাদা দিয়ে International Memory of the World Register-এ অর্ন্তভুক্ত করেছে।

তথ্যসূত্র:- প্রথম আলো।

৩৪১.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রচারণার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কোন শহরটি পরিচিত ছিল?
  1. কলকাতা
  2. বার্মিংহাম
  3. লন্ডন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
গ্রেট ব্রিটেনের ভূমিকা:
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে ব্রিটেনের প্রচার মাধ্যম বিশেষ করে বিবিসি এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকা বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম নির্যাতন এবং বাঙালিদের সংগ্রাম ও প্রতিরোধ, ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের করুণ অবস্থা, পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা এবং মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি সম্পর্কে বিশ্ব জনমতকে জাগ্রত করে তোলে।
- ব্রিটিশ সরকারও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে খুবই সহানুভূতিশীল ছিল।
- লন্ডন ছিল বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪২.
ভারত-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের নাম কী?
  1. চিরঞ্জীব মুজিব
  2. টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই
  3. মুজিব আমার পিতা
  4. মুজিব: একটি জাতির রূপকার
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত সিনেমা:
- ভারত-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে জাতির পিতার বায়োপিক ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’। 
- পরিচালনা করেছেন বলিউডের বিখ্যাত পরিচালক শ্যাম বেনেগাল।
- এ সিনেমায় বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ।
- বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত আরেক সিনেমা ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘চিরঞ্জীব মুজিব’। 
- ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে নির্মিত সিনেমাটিতে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আহমেদ রুবেল।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা বই ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ অবলম্বনে তৈরি হয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য টু-ডি অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘মুজিব আমার পিতা’। 
- এটি পরিচালনা করেছেন সোহেল মোহাম্মদ রানা। ২০২১ সালে সিনেমাটি মুক্তি পায়।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে ‘তর্জনী’।
 
উৎস: দৈনিক যুগান্তর, ১৮ ই মার্চ ২০২৩। 
৩৪৩.
কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশ নেওয়া জর্জ হ্যারিসন বিশ্বখ্যাত ব্যান্ডের সদস্য ছিলেন?
  1. দ্য বিটলস
  2. পিংক ফ্লয়েড
  3. দ্য রোলিং স্টোন
  4. নির্‌ভানা
ব্যাখ্যা

• কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- পণ্ডিত রবিশংকর মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্বজনমত গড়ে তোলা এবং শরণার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তাঁর শিষ্য-বন্ধু বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটলসের শিল্পী জর্জ হ্যারিসনকে নিয়ে এই অবিস্মরণীয় কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন।
- তাতে মোট ৪০,০০০ দর্শক উপস্থিত হয়েছিলেন। কনসার্টটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।

- কনসার্ট ফর বাংলাদেশে আয়োজক দুই তারকা ছাড়াও অংশ নেন বিটলসের রিংগো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেসটন, লিয়ন রাসেল। রবি শঙ্কর ছাড়াও সরোদ শিল্পী আলী আকবর খান অংশ নিয়েছিলেন এই কনসার্টে।
- এই কনসার্টটি পরিচালনা করেন পল সুইমার। 

- রবি শঙ্কর শুরুতে উদ্যোগটি থেকে বাংলাদেশের জন্য মাত্র ২৫,০০০ ডলার সংগ্রহের আশা করেছিলেন। তবে কনসার্টের টিকিট বিক্রি থেকেই সে সময়ে প্রায় আড়াই লক্ষ ডলারের কাছাকাছি আয় হয়েছিল।
- পরবর্তীতে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ লাইভ' নামে একটি অ্যালবামও প্রকাশ করা হয়।
- সংগৃহীত অর্থ ইউনিসেফের মাধ্যমে শরণার্থীদের প্রদান করা হয়। 

উৎস: প্রথম আলো এবং বিবিসি।

৩৪৪.
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের পর পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে যাওয়া হয় কবে?
  1. ক) ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
  2. খ) ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ
  3. গ) ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ দিবাগত রাত একটা থেকে দেড়টার মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে প্রথমে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায়।
- এর তিনদিন পর ২৯শে মার্চ বঙ্গবন্ধুকে পশ্চিম পাকিস্তানে (করাচি) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বঙ্গবন্ধুকে লায়ালপুরে (বর্তমান ফয়সালাবাদ) মিয়ানওয়ালি জেলে আটক রাখা হয়।
- ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বিবিসি বাংলা আর্কাইভ।)
৩৪৫.
প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে কবে?
  1. ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর
  2. ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর
  3. ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি
  4. ১৯৭২ সালের ২৫ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি:
- ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান এবং দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- বিশ্বের তৃতীয় দেশ ও প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- একইদিনে চতুর্থ দেশ হিসেবে বুলগেরিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- পোল্যান্ড বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি।
- যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ সালে।
- ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ সালে।
- স্পেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ১২ মে, ১৯৭২ সালে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, প্রথম আলো এবং নিউইয়র্ক টাইমস।

৩৪৬.
মুক্তিযুদ্ধকালীন এস ফোর্স এর নেতৃত্বে কে ছিলেন?
  1. মেজর কে.এম. সানাউল্লাহ
  2. মেজর শামসুল আলম
  3. মেজর সফিকুর রহমান
  4. মেজর কে.এম. সফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- জেড ফোর্স, কে ফোর্স, এস ফোর্স।

• জেড ফোর্স:
- মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- 'জেড ফোর্স' নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

- এস ফোর্স:
- মেজর কে.এম. সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- 'এস ফোর্স' নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

• কে ফোর্স:
- মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে অক্টোবর মাসে কে ফোর্স গঠিত হয়।
- 'কে ফোর্স' গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ঢাকা জেলা প্রসাশন ওয়েবসাইট।

৩৪৭.
'আমার কিছু কথা' বইটির লেখক কে?
  1. কর্নেল সিদ্দিক মালিক
  2. জহির রায়হান
  3. শেখ মুজিবুর রহমান
  4. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
আমার কিছু কথা:
- 'আমার কিছু কথা' বইটির লেখক শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রকাশনী: শিখা প্রকাশনী।
 
উল্লেখ্য,
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আরো তিনটি গ্রন্থ হলো: ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী', 'কারাগারের রোজনামচা’, ‘আমার দেখা নয়াচীন'।
 
অন্যদিকে -
- মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র  'নাইন মান্থস টু ফ্রিডম'। 
- বিখ্যাত মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কবিতার একটি লাইন Millions of babies in pain।
 
উৎস: আমার কিছু কথা -শেখ মুজিবুর রহমান।
৩৪৮.
অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন -
  1. ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খ) খাজা নাজিম উদ্দিন
  3. গ) মওলানা আবুল কালাম আজাদ
  4. ঘ) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক।
- শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলায় সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন মুসলিমলীগ ১১৪টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে এবং সোহরাওয়ার্দী মুখ্যমন্ত্রী হন।
- ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টি হলে খাজা নাজিম উদ্দিন পূর্ব বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪৯.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ সংবলিত বই কোনটি?
  1. ভাইয়েরা আমার
  2. ভাষণ
  3. মুক্তির পথ
  4. কল-রেডি
ব্যাখ্যা
ভাইয়েরা আমার:

- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ২০০টি ভাষণ সংবলিত বই 'ভাইয়েরা আমার'।
- ১২ জুন, ২০২৩ সালে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- বইটির ভূমিকা ও নামকরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- ভাষণসমগ্রটির সংগ্রহ, সংকলন ও সম্পাদনা করেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম।
- বইটি প্রকাশ করে জিনিয়াস পাবলিকেশন।
- বইটিতে প্রতিটি ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হাইলাইট করে আলাদাভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে।
- এ ছাড়া সূচিতে ভাষণের বিষয়বস্তু, সাল ও তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ১২ জুন, ২০২৩।
৩৫০.
মুক্তিযুদ্ধে কোন দুজন নারী মুক্তিযোদ্ধা ’বীর প্রতীক’ খেতাব পান?
  1. তারামন বিবি ও লায়লা নাজনীন
  2. ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম ও তারামন বিবি
  3. শিরিন বেগম ও তারামন বিবি
  4. ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম ও ফাতেমা বেগম
ব্যাখ্যা

​মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান:
- ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নিয়েছেন
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রকৃত অর্থেই ছিল জনযুদ্ধ।
- নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বাত্মক এই যুদ্ধে শামিল হয়েছিল সমানভাবে।
- মোট গেজেটভুক্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২০৩ জন।
- বর্তমানে মোট বীরাঙ্গনা নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪৪৮ জন।
- এদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২ জন।
- ২ জন নারী বীর প্রতীক: ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং তারামন বিবি।

উৎস: বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ওয়েবসাইট।

৩৫১.
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সোভিয়েত ইউনিয়ন পাঠিয়েছিল-
  1. সপ্তম নৌবহর
  2. অষ্টম নৌবহর
  3. নবম নৌবহর
  4. ষষ্ঠ নৌবহর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তির ভূমিকা:
- মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল- ভারত এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন, কিউবা, যুগোশ্লাভিয়া, পোল্যান্ড, হাজেরি, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, পূর্ব জার্মানি প্রভৃতি তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো।
- পাকিস্তানের পক্ষে ছিল- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন।
- জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন ৩ বার ভেটো প্রদান করে।
- যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সমর্থনে ভারত মহাসাগরে মূল ভূখণ্ডের বাইরে সবচেয়ে বড় নেভাল ফোর্স সপ্তম নৌক পাঠায়।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন পাঠিয়েছিল- অষ্টম নৌবহর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৩৫২.
কোন দুই রাষ্ট্রপ্রধান বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি প্রথম স্বাক্ষর করে?
  1. ক) মনমোহন সিং ও শেখ হাসিনা
  2. খ) শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী
  3. গ) শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধী
  4. ঘ) লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ও শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি (ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি) প্রথম স্বাক্ষরিত হয় ১৬ মে, ১৯৭৪ সালে।
- বাংলাদেশ অনুমোদন করে ১৯৭৪ সালে কিন্তু ভারত তখন অনুমোদন করেনি‌।
- ৬ মে ২০১৫ সালে ভারতীয় রাজ্যসভায় বিলটি পাশ হয় এবং ৭ মে ২০১৫ সালে ভারতীয় সংসদের লোকসভায় বিলটি পাস হয়।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ১ আগস্ট ২০১৫ সালে। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ছিট মহল বিনিময় হয়।

উৎসঃ দৈনিক পত্রিকা রিপোর্ট ।
৩৫৩.
'ইউনেস্কো' কত তারিখে ৭ই মার্চের ভাষণকে 'International Memory of the World Register'- এ অর্ন্তভুক্ত করেছে?
  1. ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর
  2. ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর
  3. ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর
  4. ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণ:
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেয়।
- উক্ত ভাষণ ১৮ মিনিট স্থায়ী হয়।
- এই ভাষণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
- ভাষণে মূলত চার দফা দাবি তোলা হয়:
১। মার্শাল ল প্রত্যাহার,
২। সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
৩। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
৪। জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ।
- বিশ্ব ইতিহাসে যে ভাষণগুলো বিখ্যাত হয়ে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক এই ভাষণটি সেগুলোর অন্যতম।
- বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ Jacob F. Field এর বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা 'We shall Fight on the beaches: The Speeches that Inspired History' শীর্ষক গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি স্থান পেয়েছে।
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে 'World's Documentary Heritage' এর মর্যাদা দিয়ে 'International Memory of the World Register'- এ অর্ন্তভুক্ত করেছে।
- বঙ্গবন্ধুর সেই অমর ভাষণকে  ইউনেস্কো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৪.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?
  1. জিমি কার্টার
  2. রিচার্ড নিক্সন
  3. জন এফ কেনেডি
  4. বিল ক্লিনটন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব:
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- রিচার্ড নিক্সন।

- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- ইন্দিরা গান্ধী।
- সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিলেন- নিকোলাই পদগর্নি।
- এই সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- আলেক্সেই কোসিগিন।
- জাতিসংঘের মহাসচিব ছিলেন- উ থান্ট।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, সপ্তম শ্রেণি।
৩৫৫.
কোন সময়কালকে মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ?
  1. ২০১৯ - ২০ সালকে
  2. ২০২০ - ২১ সালকে
  3. ২০২১ - ২২ সালকে
  4. ২০২২ - ২৩ সালকে
ব্যাখ্যা
- ‘মুজিব বর্ষ’ হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী (জন্ম ১৭ মার্চ, ১৯২০)।
- মুজিব বর্ষের সময়কাল ১৭ মার্চ ২০২০—১৭ মার্চ ২০২১
- ‘মুজিব বর্ষ’ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- এর ক্ষণগণনা শুরু হয় ১০ জানুয়ারি ২০২০ থেকে।
- ২০২০ সাল বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ।
- সরকারিভাবে বছরটি মুজিব বর্ষ হিসেবে উদ্‌যাপিত হচ্ছে। অত্যন্ত আনন্দের কথা যে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ শুধু বাংলাদেশে উদ্‌যাপিত হচ্ছে না, জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থাও (ইউনেসকো) বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 
এর ফলে বাংলাদেশ ইউনেসকোর সদস্যভুক্ত যেকোনো দেশের সঙ্গে যৌথভাবে কিংবা ইউনেসকো সদস্যভুক্ত যেকোনো দেশ আলাদাভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপন করতে পারবে।

সূত্রঃ প্রথম আলো।
৩৫৬.
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা দায়ের করেন কে?
  1. ক) শেখ হাসিনা
  2. খ) আবদুল কাহার আকন্দ
  3. গ) আ ফ ম মহিতুল ইসলাম
  4. ঘ) শেখ রেহানা
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচারের দ্বার উন্মুক্ত হয়।
- ২ অক্টোবর, ১৯৯৬ সালে হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকার সময় তাঁর রিসেপসনিস্ট কাম রেসিডেন্ট পিএ আ ফ ম মুহিতুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় ২৪ আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ৷
- ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর ১২ আসামিকে মৃত্যদন্ড প্রদান করে আদালত রায় প্রদান করে।
- অবশেষে হত্যাকাণ্ডের ৩৪ বছর পর ১৯ নভেম্বর ২০০৯ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মামলাটির চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে ৷
- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির আপিল আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ৷ ফলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোট ১২ আসামিরই মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে৷

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো।

৩৫৭.
কোন শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধু 'জুলিও কুরি' শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত হন?
  1. ক) কিংস্টন
  2. খ) কেপটাউন
  3. গ) সান্টিয়াগো
  4. ঘ) জেনেভা
ব্যাখ্যা
- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

সূত্রঃ কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামী-লীগ ওয়েবসাইট।
৩৫৮.
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা বাণী কার নিকট প্রেরণ করা হয়?
  1. ক) এম. এ রব
  2. খ) এম.এ জি ওসমানী
  3. গ) এম. এ হান্নান
  4. ঘ) তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ২৫ মার্চ (১৯৭১) পাকিস্তান বাহিনী ঢাকার গণহত্যা শুরু করলে তাৎক্ষনিকভাবে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়।
- মুজিবনগর সরকার ১০ এপ্রিল সারাদেশকে ৮টি রণাঙ্গনে বিভক্ত করেন।
- ১১ থেকে ১৭ জুলাই উক্ত ৮টি রণাঙ্গনের কমান্ডারদের এক সভা কোলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়।
- সেই সভায় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। সেক্টরগুলোকে সাবসেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় কাদেরিয়া বাহিনী, হেমায়েত বাহিনী, আকবর বাহিনী, কুদ্দুস বাহিনী, আফসার বাহিনী প্রভৃতি।
- ভারতে আলাদাভাবে গঠিত হয় মুজিব বাহিনী। ভারত সরকার বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদেরকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে।
- ২৬ মার্চ (১৯৭১) প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চট্টগ্রামস্থ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  জনাব এম.এ. হান্নানের নিকট বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা বাণী প্রেরণ করেন। গোটা বাঙালি জাতির হৃদয়ে তখন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঘোষণা: ‘এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৯.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান থেকে মুক্তিলাভ করেন-
  1. ক) ২৮ ডিসেম্বর
  2. খ) ৪ জানুয়ারি
  3. গ) ৮ জানুয়ারি
  4. ঘ) ১০ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করলে বিশ্বসম্প্রদায়ের চাপে পাকিস্তান সরকার ৮ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। বঙ্গবন্ধু ৮ জানুয়ারি মুক্তিপেয়ে লন্ডন যান। সেখান থেকে ৯ জানুয়ারি হওয়ানা হয়ে ১০ জানুয়ারি তিনি ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের বিমানে করে দিল্লি হয়ে দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে ঢাকায় আসেন। (সূত্রঃ বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট)
৩৬০.
'বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. মোনায়েম সরকার
  3. শওকত ওসমান
  4. মুকুল আখতার
ব্যাখ্যা
মোনায়েম সরকার:
- মোনায়েম সরকার একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, কলাম লেখক ও গবেষক।
- মোনায়েম সরকার গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চের (বিএফডিআর) মহাপরিচালক।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত পদার্থ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর (১৯৬৭) ডিগ্রি লাভ করেন।
- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি উদীচীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
- বঙ্গবন্ধুর উপর গবেষণামূলক গ্রন্থ রচনা এবং সংস্কৃতি আন্দোলনে তার অবদানের জন্য ২০১৩ সালে বাংলা একাডেমি তাকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করেছে।

মোনায়েম সরকার রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থসমূহ:
- বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্র বিকাশে ঐক্য অপরিহার্য, বাঙালি বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ও শেখ হাসিনা ইত্যাদি।

উৎস: i) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৬১.
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে কোন দিবস পালিত হয়?
  1. শিশু দিবস
  2. নারী দিবস
  3. শিক্ষা দিবস
  4. স্বাস্থ্য দিবস
ব্যাখ্যা
জাতীয় শিশু দিবস:
- ১৭ই মার্চ জাতীয় শিশু দিবস।
- ১৯৯৭ সালে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মদিনকে জাতীয় শিশু দিবস ঘোষণা করে।
- সেই থেকে ১৭ই মার্চ জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৩৬২.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্ব অবদানে কতজন নারীকে বীর প্রতীক উপাধি দেওয়া হয়?
  1. ২ জন
  2. ৫ জন
  3. ১ জন
  4. ৪ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান:
- ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নিয়েছেন
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রকৃত অর্থেই ছিল জনযুদ্ধ।
- নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বাত্মক এই যুদ্ধে শামিল হয়েছিল সমানভাবে।
- মোট গেজেটভুক্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২০৩ জন।
- বর্তমানে মোট বীরাঙ্গনা নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪৪৮ জন।
- এদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২ জন।
- ২ জন নারী বীর প্রতীক: ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং তারামন বিবি।

উৎস: বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ওয়েবসাইট।
৩৬৩.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকায় কয়টি রং আছে?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকায় দুটি রং রয়েছে। আয়তাকার গাঢ় সবুজের মাঝে লাল বৃত্তের সমন্বয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। এটি পৃথিবীর যে কোন দেশের জাতীয় পতাকার তুলনায় অনন্য।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৩৬৪.
জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয় কোথায়?
  1. শহীদ মিনার
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
  4. রমনা পার্ক
ব্যাখ্যা
• জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন:
- ১৯৭১ সালের ২ মার্চ, ছাত্র সংগঠনগুলো 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করে।
- একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের বটতলায় একটি ছাত্রসভায় ডাকসু ভিপি আ.স.ম আবদুর রব প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন
- এই ঘটনাটি স্মরণীয় হয়ে থাকে, তাই ২ মার্চ 'জাতীয় পতাকা দিবস' হিসেবে পালন করা হয়।

• জাতীয় পতাকা:
- জাতীয় পতাকা অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও জাতীয় পতাকার আকৃতি, গড়ন, রং ও পতাকা উত্তোলনের ধরনের কিছু অনুমোদিত নিয়মকানুন অনুসরণ করে।
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং হবে গাঢ় সবুজ এবং ১০:৬ অনুপাতে আয়তাকার।
- তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দুর অবস্থান হবে পতাকার দৈর্ঘের ৯/২০ অংশ থেকে টানা লম্বের এবং প্রস্থের মাঝখান দিয়ে টানা আনুভূমিক রেখার ছেদবিন্দুতে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৬৫.
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত ‘চরমপত্র’ পাঠ করতেন কে?
  1. ক) আবদুল মান্নান
  2. খ) কামাল লোহানী
  3. গ) এম আর আখতার মুকুল
  4. ঘ) বেলাল আহমেদ
ব্যাখ্যা
- চরমপত্র হলো একটি কথিকা যা ১৯৭১ সালের ২৫ মে থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত হতো।
- এটির পরিচালক, লেখক ও কথক ছিলেন এম আর আখতার মুকুল।
- ঢাকাইয়া ভাষায় তার এ অনুষ্ঠানটি মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
(তথ্যসূত্র: দৈনিক ভোরের কাগজ)
৩৬৬.
"আমার দেখা নয়াচীন” কে লিখেছেন?
  1. মওলানা ভাসানী
  2. আবুল ফজল
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
আমার দেখা নয়াচীন:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা তৃতীয় বই আমার দেখা নয়াচীন।
- প্রকাশিত হয় ২০২০ সালে।
- এই বইটিও কারাগারে রাজবন্দী থাকার সময়ে রচিত।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে চীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন।
- সে সময় নয়াচীন দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচিত।

উৎস: ১৪ আগস্ট ২০২০,  প্রথম আলো। 
৩৬৭.
মুক্তিবাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি কী নামে পরিচিত?
  1. ​এস ফোর্স
  2. কে ফোর্স
  3. এন ফোর্স
  4. জেড ফোর্স
ব্যাখ্যা

জেড ফোর্স:
- জেড ফোর্স নামে পরিচিত মুক্তিবাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- এই ব্রিগেডের কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর ‘জেড’ অনুসারে ব্রিগেডটির নামকরণ করা হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

​এস ফোর্স:
‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন সফিউল্লাহ।

​কে ফোর্স:
-‘কে ফোর্স’ ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে ৭ই অক্টোবর গঠিত হয়।
- এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন খালেদ মোশাররফ।
- এই ব্রিগেডের কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর ‘কে’ অনুসারে ব্রিগেডটির নামকরণ করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩৬৮.
'জয় বাংলা’ কে জাতীয় স্লোগান হিসাবে মন্ত্রিসভায় কত তারিখে অনুমোদন করা হয়?
  1. ক) ২ মার্চ, ২০২২
  2. খ) ৩ মার্চ, ২০২২
  3. গ) ৪ মার্চ, ২০২২
  4. ঘ) ৫ মার্চ, ২০২২
ব্যাখ্যা
‘জয় বাংলা’ স্লোগান:
-  'জয় বাংলা’ কে জাতীয় স্লোগান হিসাবে মন্ত্রিসভায়  অনুমোদন করা হয় - ২ মার্চ, ২০২২
- ২০২০ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্ট এক রায়ে ‘জয় বাংলা’কে বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে 'জয় বাংলা’ কে জাতীয় স্লোগান হিসাবে মন্ত্রিসভায়  অনুমোদন করা হয় - ২ মার্চ, ২০২২

প্রজ্ঞাপনে বলা হয় - 
- ‘জয় বাংলা” বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান হবে।
- সাংবিধানিক পদাধিকারীগণ, দেশে ও দেশের বাইরে কর্মরত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ সকল জাতীয় দিবস উদ্‌যাপন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় ও সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শেষে “জয় বাংলা” স্লোগান উচ্চারণ করিবেন।
- সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাত্যহিক সমাবেশ সমাপ্তির পর এবং সভা-সেমিনারে বক্তব্যের শেষে শিক্ষকগণ ও ছাত্রছাত্রীবৃন্দ 'জয় বাংলা' স্লোগান উচ্চারণ করিবেন।

তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
৩৬৯.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদের নাম কী? 
  1. রিফাত
  2. আহাদ
  3. নাঈম
  4. সাদ
ব্যাখ্যা

• জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ:
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ আব্দুল আহাদ।
- ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিহত হয় ৪ বছরের শিশু আব্দুল আহাদ।
- শহীদ আব্দুল আহাদ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের আবুল হাসান ও মা সুমি আক্তারের পুত্র।
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকায় ৮ তলার উপর তার বাবা-মায়ের মাঝে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল আব্দুল আহাদ।
- এ সময় বাসার নিচে ছাত্রলীগ ও পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নিহত হয় আহাদ।
- সে 'জুলাই সর্বকনিষ্ঠ যোদ্ধা' হিসেবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: i) জুলাই আর্কাইভ।
ii) যুগান্তর।

৩৭০.
Bangabandhu's historic speech on March 7 has been included in which schedule of the constitution?
  1. ক) Fourth Schedule
  2. খ) Fifth Schedule
  3. গ) Sixth Schedule
  4. ঘ) Seventh Schedule
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে আরও ৩টি তফসিল সংযোজন করা হয়।
১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ সংবিধানের পঞ্চম তফসিলে সংযোজন করা হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।
- প্রথম তফসিলঃ অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিলঃ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।
- তৃতীয় তফসিলঃ শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিলঃ ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- পঞ্চম তফসিলঃ ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিলঃ স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিলঃ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

[উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।]
৩৭১.
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব-এর ভাষণ’ বইটি সংকলন করেছেন কে?
  1. আকরাম আল হোসেন
  2. হাসানুজ্জামান সোহেল
  3. আকরাম হোসেন সামি
  4. শেখ রেহানা
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব-এর ভাষণ:
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫৮টি ভাষণের সংকলন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব-এর ভাষণ’ শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন।
- বইটির ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী।
- এতে প্রতিটি বক্তৃতার সম্পূর্ণ অডিও সংস্করণের কিউআর কোড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- বইটি প্রকাশ করেছে মাওলা ব্রাদার্স।
- বইটি সংকলন করেছেন আকরাম-আল-হোসেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা। [ লিঙ্ক]
৩৭২.
‘আমার দেখা নয়াচীন' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ২০১২
  2. ২০১৭
  3. ২০২০
  4. ২০২২
ব্যাখ্যা
আমার দেখা নয়াচীন:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা তৃতীয় বই আমার দেখা নয়াচীন।
- প্রকাশিত হয় ২০২০ সালে।
- এই বইটিও কারাগারে রাজবন্দী থাকার সময়ে রচিত।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে চীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন।
- সে সময় নয়াচীন দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচিত।
--------------------
বঙ্গবন্ধুর লেখা বইসমূহ:
• অসমাপ্ত আত্মজীবনী:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের লেখা প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
- প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- বইটি লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। 
- বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
 
কারাগারের রোজনামচা:
- বঙ্গবন্ধুর লেখা দ্বিতীয় বই কারাগারের রোজনামচা।
- প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালে।
- এই গ্রন্থের নামকরণ করেছেন শেখ রেহানা।
- এই বইও বঙ্গবন্ধু কারাগারে বসে রচনা করেন।

উৎস: ১৪ আগস্ট ২০২০,  প্রথম আলো। 
৩৭৩.
১৯৭২ সালের ১২ই জানুয়ারি 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান' কার নিকট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন?
  1. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  2. বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  3. বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
  4. তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
♣ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন:  
- ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি দেশে ফেরার আগে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি বাহিনীর বিশেষ বিমানে লন্ডন নিয়ে যাওয়া হয়।
- অতঃপর ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানে দিল্লি হয়ে তিনি ঢাকায় আসেন।   
- ঢাকায় মহান নেতাকে জানানো হয় অভূতপূর্ব অভিনন্দন। 

- মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরদিনই ১৯৭২ সালের ১১ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভায় দীর্ঘ আলোচনার পর ‘অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারির মাধ্যমে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।

- ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হন। নতুন রাষ্ট্রপতি হন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।

ঘটনাপ্রবাহ:
বঙ্গবন্ধু প্রথমে রাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দেন। নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে শপথ করান প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। এরপর রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধু ও তাঁর মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে তাজউদ্দীন আহমদ নতুন রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণকালে তাজউদ্দীন আহমদ ও তাঁর সহকর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন নতুন রাষ্ট্রপতি। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান এবং তাঁকে জাতির জনক হিসেবে অভিহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট। [লিঙ্ক]
৩৭৪.
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ কোন তারিখে ইউনেস্কোর “মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল” রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
  1. ২০ অক্টোবর, ২০১৭
  2. ২৫ অক্টোবর, ২০১৭
  3. ৩১ অক্টোবর, ২০১৭
  4. ৩০ অক্টোবর, ২০১৭
ব্যাখ্যা
- ৩০ অক্টোবর ২০১৭ খিস্টাব্দে ইউনেস্কো কর্তৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো কর্তৃক মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্তিকরণে ওয়ার্ল্ড ডেমোক্রেসি হেরিটেজের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অনন্য এবং অসাধারণ এই কারণে যে, এই ভাষণ সমগ্র বাঙালি জনগোষ্ঠীকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে একতাবদ্ধ করেছিল।

Source: Jugantor
৩৭৫.
মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা সাইমন ড্রিং কোন পত্রিকায় বাংলাদেশের গণহত্যার প্রতিবেদন প্রকাশ করেন?   
  1. ডেইলি টেলিগ্রাফ
  2. ডেইলি মেইল
  3. নিউজ উইকস
  4. রয়টার্স
ব্যাখ্যা

• অপারেশন সার্চলাইট ও সাইমন ড্রিং:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা চালায়।
- ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এ গোপনে অবস্থান করে এই ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন।
- পরে ৩০ মার্চ, ১৯৭১ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় 'ট্যাংকস ক্রাশ রিভোল্ড ইন পাকিস্তান' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে পাকবাহিনীর এর বর্বরতা বহির্বিশ্বে প্রকাশ করেন।
- ২০২১ সালের ১৬ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
ii) দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা।
iii) সংগ্রামের নোটবুক।

৩৭৬.
'আমি শেখ মুজিব' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আনিসুর রহমান
  2. আনিসুল হক
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. ড. মযহারুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
আমি শেখ মুজিব:
- 'আমি শেখ মুজিব' গ্রন্থটির রচয়িতা আনিসুর রহমান।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি জাতির আধুনিক রূপকার, একটি রাষ্ট্রের স্থপতি।
- প্রত্যন্ত জনপদ টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নিয়ে কিভাবে তিনি ধাপে ধাপে বাঙালির জাতিরাষ্ট্রের স্থপতি হলেন, দেশ ও দেশের মানুষকে মুক্তির পথ দেখালেন, তার অনেকটা নানাভাবে উঠে এসেছে।
- বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তাঁর মনের কি অবস্থা, তা কিছুটা ঘটনা পরস্পরায়, কিছুটা কল্পনায়, গদ্যে পদ্যে মিলিয়ে লেখা এপিক মনোলগ ’আমি শেখ মুজিব।
- মহাকাব্য ও মঞ্চনাটকের বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন রেখে স্বগতসংলাপটিতে ভারতবর্ষের বিশ শতকের ইতিহাসের ঘটনাক্রম এবং বাংলাদেশের জন্মের গল্প উপজীব্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন লেখক আনিসুর রহমান।
- তিনি জানান, মহাকাব্যের নায়ক বঙ্গবন্ধুর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে স্বগতসংলাপটি শেষ হয়েছে।
- এপিক মনোলগটির মূল বাংলা ভাষ্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আর্টস বিভাগ ২০১৬ সালে প্রথম প্রকাশ করে।
- বাংলাদেশের অনন্যা প্রকাশনী পরে এটি বই আকারে প্রকাশ করে।
- ইতোমধ্যে ‘এপিক মনোলগটি কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে, নাট্যকলার পাঠ্যসূচিত অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং মঞ্চায়িত হয়েছে।

উৎস: i) আমি শেখ মুজিব।
         ii) ১৪ ডিসেম্বর ২০২২, বাসস।
৩৭৭.
এস ফোর্স ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন-
  1. মেজর খালেদ মোশাররফের
  2. মেজর জিয়াউর রহমান
  3. মেজর জেনারেল চিত্ত রঞ্জন দত্ত
  4. মেজর কেএম সফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• জেড ফোর্স : 
• ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় এবং ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান।

• এস ফোর্স :
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন মেজর কেএম সফিউল্লাহ।

• কে ফোর্স :
- ৪র্থ, ৯ম এবং ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে কে ফোর্স গঠিত।
- মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয়।

উৎস : বাংলাপিডিয়া।
৩৭৮.
How many economic points were there in the historical six points?
  1. ক) 2
  2. খ) 3
  3. গ) 4
  4. ঘ) 5
ব্যাখ্যা
–পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ থেকে পূর্ব বংলার জনগণকে মুক্ত করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী লাহোরে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
 -- ছয় দফার অর্থনীতি বিষয়ক দফা ছিল ৩ টি
দফাগুলো নিম্নরুপ:

১. দেশের দুই অংশে সহজেই বিনিময়যোগ্য অথচ পৃথক দুটো মুদ্রা থাকবে। অথবা ফেডারেল ব্যাংকের অধীনে দুই দেশের দুটি রিজার্ভ ব্যাংক ব্যবস্থাসহ একই ধরনের মুদ্রা চালু থাকবে।
২. আঞ্চলিক সরকারে হাতে থাকবে সকল প্রকার কর ধার্য করার ও আদায়ের ক্ষমতা। আদায়কৃত রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া হবে।
৩. দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা আলাদা হিসেব থাকবে। প্রয়োজনে দুই অঞ্চল থেকে সমানভাবে অথবা সংবিধানে নির্ধারিত হারে কেন্দ্র বৈদেশিক মুদ্রা পাবে।

তথ্যসূত্র:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণী।
৩৭৯.
বঙ্গবন্ধুকে ‘Poet of Politics' হিসেবে আখ্যায়িত করেন -
  1. লোবেন জেঙ্কিন্স
  2. ব্রিটন হেডেন
  3. হেনরি রবিনসন লুস
  4. মুরাত সাবুনজো
ব্যাখ্যা
Poet of Politics:
- রাজনীতির কবি ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’।
- তিনি শুধু বাঙালির বঙ্গবন্ধু নয়, বিশ্ববরেণ্য রাজনীতিক 'বিশ্ববন্ধু' উপাধিতেও বিশ্বনন্দিত।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। 
- ৫ এপ্রিল, ১৯৭১ সাংবাদিক লোবেন জেঙ্কিন্স সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন Newsweek পত্রিকায় তার প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'রাজনীতির কবি' বা Poet of Politics বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
-  সকল শ্রেণী ও আদর্শের অনুসারীদের একতাবদ্ধ করার জন্য সম্ভবত তাঁর 'স্টাইল' সবচেয়ে বেশি উপযোগী ছিল।
- এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ৭ মার্চের ভাষণকে এক অনবদ্য কবিতা এবং বঙ্গবন্ধুকে মহাকবি হিসেবে ভূষিত করার অবারিত যুক্তি রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- নিউজউইক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন।
- ১৯৩৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়।
          ii) ১৫ আগস্ট ২০১৮, দৈনিক জনকণ্ঠ।
৩৮০.
মুক্তিযুদ্ধে নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে গঠিত হয় কোন সেক্টর?
  1. ৮ নং সেক্টর
  2. ৫ নং সেক্টর
  3. ২ নং সেক্টর
  4. ১০ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

• ১০ নং সেক্টরের নৌ-কমান্ডো বাহিনী : 

- ১০ নং সেক্টর মূলত নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে গঠিত হয়।
- উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আটজন বাঙালি কর্মকর্তা:
গাজী মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ, সৈয়দ মোশাররফ হোসেন, আমিন উল্লাহ শেখ, আহসান উল্লাহ, এ.ডব্লিউ. চৌধুরী, বদিউল আলম, এ.আর. মিয়া ও আবেদুর রহমান।

- ভারতীয় নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় দিল্লির যমুনা নদীতে তাদের বিশেষ নৌ-প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
- পরবর্তীতে পাকিস্তান নৌবাহিনীর কিছু বাঙালি সেনা ও প্রায় ১৫০ জন ছাত্র ভলান্টিয়ার যোগ দেন।
- প্রশিক্ষণে শিখানো হয় বোমা নিক্ষেপ ও লিম্পেট মাইন ব্যবহার করে জাহাজ ধ্বংসের কৌশল।
- আগস্টের প্রথম সপ্তাহে তাদের চারটি দলে ভাগ করে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, দাউদকান্দি ও মংলা বন্দরে পাঠানো হয়।

- ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে একযোগে আক্রমণ চালিয়ে বহু জাহাজ ধ্বংস করা হয়।
- এ.ডব্লিউ. চৌধুরীর নেতৃত্বে চট্টগ্রামে এমডি ওহ্রমাজ্দ, এমভি আল-আব্বাসসহ সাতটি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়।
- অক্টোবর-নভেম্বরে দেশের বিভিন্ন বন্দরে আরও সফল অভিযান পরিচালিত হয়।

​উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩৮১.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৫০ বছর পূর্তি হয় কবে?
  1. ১০ জানুয়ারি ২০১৯
  2. ১০ জানুয়ারি ২০২০
  3. ১০ জানুয়ারি ২০২১
  4. ১০ জানুয়ারি ২০২২
ব্যাখ্যা
- ১০ জানুয়ারি ২০২২ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৫০ বছর পূর্তি হয়।

- ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আন্তর্জাতিক চাপে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি দেয়।
- সেদিনই বঙ্গবন্ধুকে ঢাকার উদ্দেশ্যে লন্ডন পাঠানো হয়।
- লন্ডন থেকে ঢাকা আসার পথে বঙ্গবন্ধু দিল্লিতে যাত্রাবিরতি করেন।
- বিমানবন্দরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি. ভি. গিরি ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানান।
- পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছলে তাকে অবিস্মরণীয় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
- সেই দিনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হয়।

তথ্যসূত্র:- Live MCQ বিশেষ সাম্প্রতিক সমাচার: এপ্রিল, ২০২১ – এপ্রিল, ২০২২ এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৮২.
নিচের কোনটি ‍মুক্তিবাহিনীর ব্রিগেড ছিল না?
  1. জেড ফোর্স
  2. এস ফোর্স
  3. কে ফোর্স
  4. এন ফোর্স
ব্যাখ্যা

• নিচের কোনটি ‍মুক্তিবাহিনীর ব্রিগেড ছিল না- এন ফোর্স।

• জেড ফোর্স:

- জেড ফোর্স  নামে পরিচিত মুক্তিবাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- এই ব্রিগেডের কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর ‘জেড’ অনুসারে ব্রিগেডটির নামকরণ করা হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

•এস ফোর্স:
‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন সফিউল্লাহ।

• কে ফোর্স:
 -‘কে ফোর্স’ ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়।
- এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন খালেদ মোশাররফ।
- এই ব্রিগেডের কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর ‘কে’ অনুসারে ব্রিগেডটির নামকরণ করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩৮৩.
প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর আসন ছিল কোনটি?
  1. ঢাকা-১২
  2. ঢাকা-১৮
  3. গোপালগঞ্জ-১
  4. গোপালগঞ্জ-৭
ব্যাখ্যা
প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- সে সময় ৩০০ আসনে সরাসরি নির্বাচন হয়।
- সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ছিল ১৫টি।
- বিচারপতি এম ইদ্রিস কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয়।
- নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি তে জয়লাভ করে।
- বঙ্গবন্ধু সে সময় ঢাকা-১২ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন।
- প্রথম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন মুহম্মদুল্লাহ।
- ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন বায়তুল্লাহ।
- পরে মুহম্মদুল্লাহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে আবদুল মালেক উকিল স্পিকার নির্বাচিত হন।
 
উল্লেখ্য,
- ২য় সংসদ নির্বাচন ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হয়।
- সেবার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ছিল ৩০টি।
- ঐ সংসদেই প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ ভোটে একজন নারী সাংসদ সৈয়দা রাজিয়া ফয়েজ খুলনা-১৪ থেকে নির্বাচিত হন।
- প্রথম অধিবেশন বসেছিল ২ এপ্রিল।
- জাতীয় সংসদের প্রতীক শাপলা ফুল।
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৪.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত বছর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন?
  1. ১০ বছর
  2. ১১ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ১৩ বছর
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ গঠনে প্রধান সংগঠকদের একজন ছিলেন শেখ মুজিব। 
- বস্তুত জেলে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় নবগঠিত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের (১৯৪৯) যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবের সক্রিয় রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। 
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। 
- ১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন। 
- দলকে ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র দেওয়ার জন্য ১৯৫৫ সালে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে দলের নাম হতে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৮৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে কোন দেশ বাংলাদেশের পক্ষে 'ভেটো' প্রদান করেছিল?
  1. ক) চীন
  2. খ) ফ্রান্স
  3. গ) যুক্তরাষ্ট্র
  4. ঘ) সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে 'ভেটো' প্রদান করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন।
- তখন জাতিসংঘে সোভিয়েত ইউনিয়নের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন ইয়াকফ মালিক।
-তিনিই প্রথম সোভিয়েত রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি, যিনি বিশ্বসভায় বাংলাদেশ নামটি উচ্চারণ করেন।
- বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার প্রাক্কালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এতে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে।
- তখন তিনবার ই সোভিয়েত ইউনিয়ন সেখানে ভেটো প্রদান করে।
- চীন ও যুক্তরাষ্ট্র তখন বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল তখন ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) প্রথম আলো, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬।
৩৮৬.
ভাষা আন্দোলনের পেক্ষাপটে রচিত নাটক কোনটি?
  1. আর্তনাদ
  2. বিবাহ
  3. নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
  4. জীবন থেকে নেওয়া
ব্যাখ্যা

• 'বিবাহ' নাটক:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে মমতাজউদদীন আহমদের লেখা প্রথম নাটক 'বিবাহ'।
- নাটকটি ১৯৮৫ সালে প্রকাসজিত হয়। 

- বিবাহ নাটকে আমরা দেখি সখিনাকে। যে কিনা স্বপ্ন দেখেছিল তার একটি সংসার হবে, যে কিনা বধূবেশে বসার স্বপ্ন দেখেছিল, বসেছিলও। গায়ে হলুদের দিন মেহেদী মেখেছিল হাতে। কিন্তু যার সাথে তার বিয়ে হবে সেই বর ছুটে গেল মিছিলে। বায়ান্নর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মিছিলে। পুলিশের গুলি খেয়ে পড়ে ছিল রাজপথে। যার রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হলো বাংলা ভাষা। সখিনার অস্ফুট স্বরে আর্তনাদ তাইতো বুক ভেঙে আসে।

অন্যদিকে, 
------------------
• ভাষা আন্দোলনের ভিত্তিতে শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস ’আর্তনাদ’। 
• সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস ”নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি”। 
• জহির রায়হানের পরিচালিত চলচ্চিত্র 'জীবন থেকে নেওয়া'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; The Daily Star Bangla এবং বাংলাপিডিয়া। 

৩৮৭.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারি করেন কবে?
  1. ক) ২৩ মার্চ, ১৯৭২
  2. খ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭২
  3. গ) ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
  4. ঘ) ১১ এপ্রিল, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
- ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন ।
- ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গণ পরিষদ আদেশ জারি করা হয়।
- রাষ্ট্রপতি ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন আহবান ও উদ্বোধন করেন।
- রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাহ আব্দুল হামিদ ও মােহাম্মদ উল্লাহ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গণপরিষদের যথাক্রমে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।
- প্রথম অধিবেশনে সভাপতি ছিলেন মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ।
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হােসেনকে আহবায়ক করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- কমিটিতে একমাত্র বিরােধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগু ।
- একমাত্র  মহিলা সদস্য  রাজিয়া বানু ।
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭২ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- আইনমন্ত্রী ড. কামাল হাসেনে ১২ অক্টোবর গণপরষিদে পেশ করনে।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বেলা ১ঃ১০ মিনিটে গণপরিষদে সংবিধান বিল পাস হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২ স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ ও গণপরিষদ সদস্যগণ সংবিধানের বাংলা ও ইংরেজি অনুলিপিতে(৩৯৯ জন) স্বাক্ষর দান করেন। 
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধান বইতে স্বাক্ষরদানে বিরত থাকেন।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
 
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান: আরিফ খান এবং পৌরনীতি ও সুশাসন প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক
৩৮৮.
বঙ্গবন্ধু জােট নিরপেক্ষ আন্দোলনের কততম শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ক) ১ম
  2. খ) ২য়
  3. গ) ৩য়
  4. ঘ) ৪র্থ
ব্যাখ্যা

- বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালের ৫-৯ সেপ্টেম্বর আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) চতুর্থ সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও সদস্যপদ লাভ করে।
- ন্যামের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৬১ সালের ১-৬ সেপ্টেম্বর বর্তমান সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড শহরে।
- সর্বশেষ ন্যাম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ২৫-২৬ অক্টোবর আজারবাইজানের রাজধানী বাকু শহরে।

(সূত্র: ন্যাম ওয়েবসাইট)

৩৮৯.
‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করা হয় কবে?
  1. ১১ জানুয়ারি, ২০১৯
  2. ১২ জানুয়ারি, ২০১৯
  3. ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯
  4. ২১ জানুয়ারি, ২০১৯
ব্যাখ্যা
মুজিববর্ষ:
- মুজিববর্ষ হলো বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনের জন্য ঘোষিত বর্ষ।
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- ২০২০ সালের ১৭ই মার্চ তাঁর জন্মের ১০০ বছর পূর্তি হয়।
- তাই তাঁর এই জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের জন্যই 'মুজিববর্ষ' পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- এছাড়াও ২০২১ সালের ২৬শে মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীনতার অর্ধ-শত বার্ষিকীতে পদার্পণ করে।
- ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় মুজিব বর্ষ উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল।  
- তাই ২০২০ ও ২০২১ সাল দুটি বাঙালির জাতীয় জীবনের দুটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে থাকছে।
- মুজিববর্ষের সময়কাল ১৭ মার্চ, ২০২০ থেকে ১৬ ডিসেম্বর, ২০২১ সাল পর্যন্ত।
- প্রথমে ১৭ মার্চ, ২০২০ থেকে ২৬শে মার্চ, ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়কে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে, বৈশ্বিক করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি ‘মুজিববর্ষ' এর সময়সীমা পুনঃনির্ধারণ করে।
- মুজিববর্ষের লোগোর নকশাকার সব্যসাচী হাজরা।

উৎস: i) শ্রম অধিদপ্তর এর ওয়েবসাইট।
         ii) ১০ জানুয়ারি ২০২০, প্রথম আলো।
৩৯০.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'বীর বিক্রম' খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা কে?
  1. সাইথুই মারমা
  2. ইউ. কে. চিং মারমা
  3. মং চিং সাইন
  4. রতন চাকমা
ব্যাখ্যা

• ইউ. কে. চিং মারমা:
- ইউ. কে. চিং মারমা ছিলেন মারমা সম্প্রদায়ের এক বীর মুক্তিযোদ্ধা।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি একমাত্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত “বীর বিক্রম” খেতাব অর্জন করেন।
-  তিনি তৎকালীন East Pakistan Rifles (বর্তমানে Border Guards Bangladesh)-এর সদস্য ছিলেন।
-  মুক্তিযুদ্ধের সময় উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও লালমনিরহাট অঞ্চলে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেন।
-  বাংলাদেশ সরকার তাঁর বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে “বীর প্রতীক” খেতাবে ভূষিত করে।
-  তিনি মৃত্যুবরণ করেন ২৫ জুলাই ২০১৪ সালে।

তথ্যসূত্র: 
১. বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (নবম–দশম শ্রেণি), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB), ঢাকা।
২. ডে৪ইলি স্টার । (Link) 

৩৯১.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেলখানার জীবনের ওপর লেখা বই কোনটি?
  1. ৩০৫৩ দিন
  2. ৩১৭২ দিন
  3. ৩২৩৭ দিন
  4. ৩৪৬৩ দিন
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর লেখা বইসমূহ:
- ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের লেখা বই।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- বঙ্গবন্ধুর বই কারাগারের রোজনামচা ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের নামকরণ করেছেন শেখ রেহানা। এই বইও বঙ্গবন্ধু কারাগারে বসে রচনা করেন।
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেলখানার জীবনের ওপর লেখা বইয়ের নাম ‘৩০৫৩ দিন’।
- বইটি প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালে।
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কারা অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনা এবং জননিরাপত্তা বিভাগের তদারকিতে বইটি প্রকাশিত হয়েছে।
- বঙ্গবন্ধুর লেখা বই আমার দেখা নয়াচীন ২০২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই বইটিও কারাগারে রাজবন্দী থাকার সময়ে রচিত।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে চীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। সে সময় নয়াচীন দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচিত।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন, দৈনিক প্রথম আলো, ১৪ই আগস্ট ২০২০ ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ৩০ জুলাই, ২০১৮।
৩৯২.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. আটটি
  2. সাতটি
  3. এগারটি
  4. দশটি 
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা:
- ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- তখন সরকার ৪টি সামরিক জোনে বাংলাদেশকে ভাগ করে ৪ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করে।
- ১১ই এপ্রিল তা পুনর্গঠিত করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- এ ছাড়াও ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়।
​- এ​গুলো হলো জেড ফোর্স, কে ফোর্স এবং এস ফোর্স।
- এই তিনটি ব্রিগেড ফোর্সের নামকরণ করা হয়েছিল তাদের নিজ নিজ অধিনায়কদের নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে।
​- জেড ফোর্স-এর নেতৃত্বে ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান,
​- কে ফোর্সের নেতৃত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল খালেদ মোশাররফ।
​- এবং এস ফোর্সের নেতৃত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল কে এম শফিউল্লাহ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৯৩.
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস কবে পালন করা হয়?
  1. ১৪ ডিসেম্বর
  2. ১৩ ডিসেম্বর
  3. ১২ ডিসেম্বর
  4. ১১ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
• শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস: 
- শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ১৪ ডিসেম্বর পালন করা হয়।
- বুদ্ধিজীবী হত্যা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ।
- ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুইশর বেশি বুদ্ধিজীবীকে তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হয়।
- শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির উদ্দেশে বাংলাদেশে শোকাবহ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৩৯৪.
কোন বইয়ের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'FOSWAL সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেন?
  1. অসমাপ্ত আত্মজীবনী
  2. কারাগারের রোজনামচা
  3. আমার দেখা নয়াচীন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ ও ‘আমার দেখা নয়াচীন ১৯৫২’- এই তিনটি বইয়ের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'FOSWAL সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেন।

FOSWAL সাহিত্য পুরস্কার:
- সার্ক সাহিত্য পুরস্কার সার্ক লেখক ও সাহিত্য প্রতিষ্ঠান (ফসওয়াল) কর্তৃক প্রবর্তিত বার্ষিক পুরস্কারবিশেষ।
- ২০০১ সাল থেকে অনিয়মিতভাবে এ পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য,
- ২০২৩ সালে সার্ক সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- ২৬ মার্চ, ২০২৩ তারিখে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ ও ‘আমার দেখা নয়াচীন ১৯৫২’- এই তিনটি বইয়ের জন্য বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এই বিশেষ সাহিত্য পুরস্কার দিয়েছে ফাউন্ডেশন অফ সার্ক রাইটার্স অ্যান্ড লিটারেচার।

অন্যদিকে -
- নেপালি কবি, গীতিকার এবং অনুবাদক সুমন পোখরেল একমাত্র লেখক যিনি দুবার এই পুরস্কার পেয়েছেন।

উৎস: ৩ এপ্রিল, ২০২৩, প্রথম আলো।
৩৯৫.
বাংলাদেশ 'জাতীয় শিশু দিবস' পালিত হয় কত তারিখ?
  1. ক) ৮ মার্চ
  2. খ) ২ মার্চ
  3. গ) ১৭ মার্চ
  4. ঘ) ২৬ মার্চ
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর জাতির জনক এবং বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতিল।
- শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা শেখ লুৎফর রহমান ছিলেন গোপালগঞ্জ দেওয়ানি আদালতের সেরেস্তাদার।
- মুজিব ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন। তিনি স্থানীয় গীমাডাঙ্গা স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন।
- চোখের সমস্যার কারণে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা চার বছর ব্যাহত হয়।
- ১৯৪২ সালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বি.এ পাশ করেন।
- স্কুল জীবন থেকেই মুজিবের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলীর বিকাশ ঘটে।  
- অস্থিতিশীল অবস্থার সুযোগ নিয়ে একদল সংক্ষুব্ধ সেনাসদস্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁকে এবং পরিবারের অন্য যেসব সদস্য তাঁর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন তাদের সবাইকে হত্যা করে। 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম দিনকে কেন্দ্র করে ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস পালিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৯৬.
২০২১ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয় -
  1. ক) মুজিবনগর দিবস ১৭ এপ্রিল
  2. খ) স্বাস্থ্য দিবস ৭ এপ্রিল
  3. গ) ঐতিহাসিক ৭ ই মার্চ
  4. ঘ) অনশন ধর্মঘট দিবস ১৩ ই মার্চ
ব্যাখ্যা
• ৭ ই মার্চ:
- ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয় ঐতিহাসিক ৭ ই মার্চ
- প্রতি বছর ৭ মার্চ তারিখকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে পরিপত্র জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
- জাতীয় পর্যায়ের দিবস পালনের তালিকায় ৭ মার্চকে ‘ক’ ক্যাটাগরিভূক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এদেশের স্বাধীনতার মূল প্রেরণা। বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে এর স্বীকৃতি দিয়ে ইউনেস্কো ভাষণটিকে ‘মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড’ রেজিস্টারে অন্তর্ভূক্ত করেছে।

উৎস: বিবিসি বাংলা ও প্রথম আলো এবং বাংলাপিডিয়া লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার মার্চ-এপ্রিল, ২০২১। 
৩৯৭.
বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে নিহত সেনাসদস্য -
  1. সৈয়দ মাহবুবুল হক
  2. নঈম খান
  3. আবুল কালাম
  4. মকবুল হোসেন
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু হত্যা:
- বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে নিহত হয় দুই সেনাসদস্য - কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করে।
- বঙ্গবন্ধু ছাড়াও সেই রাতে তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তাঁর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করা হয়।
- ওই কালরাতেই বিপথগামী সেনাসদস্যদের আরেকটি দল বঙ্গবন্ধুর ভাগনে যুবলীগের নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাঁকে এবং তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করে।
- এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তাঁর কন্যা বেবি, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় আবদুল নঈম খানকেও হত্যা করা হয়।
- ওই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থান করায় বেঁচে যান।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৫ আগস্ট ২০২২।
৩৯৮.
বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি হয় কবে?
  1. ১৬ জুন, ২০২১
  2. ০৬ জুন, ২০২১
  3. ২৬ জুন, ২০২১
  4. ৩০ জুন, ২০২১
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিল:
• জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার খুনির মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিল করেছে সরকার।
এ বিষয়ে ০৬ জুন, ২০২১ রোজ রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

♣ যাঁদের খেতাব বাতিল হলো তাঁরা হলেন;
 • লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫),  
• লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০),
• লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং
• নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো (০৬ জুন, ২০২১)।
৩৯৯.
ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনায় মূল দায়িত্ব পায়-
  1. জেনারেল আবরার হোসেন
  2. রাও ফরমান আলী
  3. নিয়াজি খান
  4. গোলাম মুহাম্মদ
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট: 
- ১৮ই মার্চ টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চলাইট' পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করেন।
- ১৯শে মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্রীকরণ শুরু হয়।
- ২০শে মার্চ সরকার অস্ত্র জমা দেয়ার নির্দেশ জারি করে।
- ঐ দিন জেনারেল ইয়াহিয়া খান তার সামরিক উপদেষ্টা হামিদ খান, জেনারেল টিক্কা খান, জেনারেল পিরজাদা, জেনারেল ওমর প্রমুখকে নিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সামরিক প্রস্তুতিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন।
- এ সময় প্রতিদিন ৬টি থেকে ১৭টি পর্যন্ত পিআইএ ফ্লাইট বোয়িং ৭০৭ বিমান সৈন্য ও রসদ নিয়ে ঢাকা আসে এবং অসংখ্য সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র বোঝাই হয়ে আসা জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে অপেক্ষা করে।
- ২৪শে মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে এম ভি সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র ও রসদ খালাস শুরু হয়।
- ২৫শে মার্চ গণহত্যার জন্য বেছে নেওয়া হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইটের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম, শ্রেণি।


৪০০.
বঙ্গবন্ধুসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় মোট আসামির সংখ্যা কত ছিলো?
  1. ৩২জন
  2. ৩৪জন
  3. ৩৫জন
  4. ৩৬জন
ব্যাখ্যা
১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ এই মামলার মোট আসামি ছিলো ৩৫ জন

অন্য অভিযুক্তরা হলেন:
- কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন
- স্টুয়ার্ড মুজিবুর রহমান
- প্রাক্তন এলএস সুলতান উদ্দিন আহমেদ
- সিডিআই নূর মোহাম্মদ
- আহমেদ ফজলুর রহমান সিএসপি
- ফ্লাইট সার্জেন্ট মাহফিজউল্লাহ
- প্রাক্তন কর্পোরাল আবুল বাশার
- মোহাম্মদ আবদুস সামাদ
- প্রাক্তন হাবিলদার দলিল উদ্দিন
- রুহুল কুদ্দুস সিএসপি
- ফ্লাইট সার্জেন্ট মো. ফজলুল হক
- ভূপতিভুষণ চৌধুরী ওরফে মানিক চৌধুরী
- বিধানকৃষ্ণ সেন
- সুবেদার আব দুর রাজ্জাক
- প্রাক্তন হাবিলদার ক্লার্ক মুজিবুর রহমান
- প্রাক্তন ফ্লাইট সার্জেন্ট মো. আবদুর রাজ্জাক
- সার্জেন্ট জহুরুল হক
- মো. খুরশীদ
- খান মোহাম্মদ শামসুর রহমান সিএসপি
- হাবিলদার আজিজুল হক
- মাহফুজুল বারী
- সার্জেন্ট শামসুল হক
- শামসুল আলম এএমসি
- ক্যাপ্টেন মো. আবদুল মোতালেব
- ক্যাপ্টেন এ শওকত আলী মিয়া
- ক্যাপ্টেন খন্দকার নাজমুল হুদা এএমসি
- ক্যাপ্টেন এ.এন.এম নুরুজ্জামান
- সার্জেন্ট আবদুল জলিল
- মো. মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী
- লে. এস.এম.এম রহমান
- প্রাক্তন সুবেদার এ.কে.এম তাজুল ইসলাম
- মোহাম্মদ আলী রেজা
- ক্যাপ্টেন খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ এএমসি এবং
- লে. আবদুর রউফ।

ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
মামলার বিচারের জন্যে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি এস এ রহমান। অপর দুই সদস্য হলেন এম আর খান এবং মুকসুমুল হাকিম

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কৌশুলী ছিলেন ব্রিটিশ আইনজীবী টমাস উইলিয়াম, আব্দুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
সরকার পক্ষের কৌশুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল টি এইচ খান।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এতে করে আন্দোলন আরো প্রবল হয় এবং এর ফলে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাপিডিয়া)