বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

মোট প্রশ্ন২,৪০৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

PrepBank · পাতা / ২৪ · ৪০১৫০০ / ২,৪০৪

৪০১.
গাছপালা বায়ুমণ্ডলে কি ত্যাগ করে?
  1. অক্সিজেন
  2. হিলিয়াম
  3. নাইট্রোজেন
  4. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
আমাদের দেশের জন্য বনায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
কেননা - 
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কোনো দেশের মোট আয়তনের ন্যূনতম ২৫ ভাগ বনভূমি থাকতে হয়। 
- বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের শতকরা ১৭ ভাগ। 
- গাছপালা অক্সিজেন ত্যাগ করে পরিবেশকে নির্মল রাখে ও জীব জগতকে বাঁচায়। 
- গাছপালা বিভিন্ন ছোট জীবজন্তু ও পাখির আশ্রয়স্থল হিসাবে কাজ করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- গাছপালা বিভিন্ন দুর্যোগ থেকে জীবজগতকে রক্ষা করে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০২.
তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করা হয়? 
  1. নিয়ন
  2. আর্গন
  3. রেডন
  4. জেনন
ব্যাখ্যা
আর্গন গ্যাস: 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৩.
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রধানত কোন বিক্রিয়া ব্যবহৃত হয়?
  1. ফটোইলেকট্রিক ইফেক্ট
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. নিউক্লিয় ফিশন
  4. নিউক্লিয় ফিউশন
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিউশন হল সেই প্রক্রিয়া যেখানে দুটি হালকা নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করে। 
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- ফিউশন বিক্রিয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়, যা সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের শক্তির মূল উৎস। 
- হাইড্রোজেন বোমার কার্যপ্রক্রিয়া নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে। 

নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিশন হল এমন একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। 
- একে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন (নবম-দশম শ্রেণি)।
৪০৪.
মহাশূন্যে পাঠানো প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ কোনটি?
  1. ক) কসমস
  2. খ) এস্ট্রোলার
  3. গ) স্কোর
  4. ঘ) আর্লিবার্ড
ব্যাখ্যা
মহাশূন্যে পাঠানো প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ স্কোর। বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য পাঠানো প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ আর্লি বার্ড। পরবর্তীতে নামকরণ করা হয় INTEL SAT-1।
৪০৫.
বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচ মান মন্দিরের সময়ের পার্থক্য কত? 
  1. - ৬ ঘণ্টা
  2. + ৬ ঘণ্টা
  3. + ৪ ঘণ্টা
  4. - ৪ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
গ্রিনিচ মান: 
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত। 
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে। 
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷ 
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়। 
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মান মন্দিরের সময়ের পার্থক্য +৬ ঘণ্টা অর্থাৎ, ৬ ঘণ্টা আগে। 
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে। 
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘণ্টা। 
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০৬.
“সুনামি” সৃষ্টি হয় কেন?
  1. ক) সমুদ্রের তলদেশে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে
  2. খ) ঝড়ের কারণে
  3. গ) উষ্ণায়ণের কারণে
  4. ঘ) বৃষ্টিহীনতার কারণে
ব্যাখ্যা
সুনামি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এটি মূলত জাপানি শব্দ, এর অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
সমুদ্র তলদেশে প্রচণ্ড মাত্রার ভূকম্পন বা অগ্ন্যুৎপাতের ফলে কিংবা অন্য কোনো কারণে ভূ-আলোড়নের সৃষ্টি হলে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে প্রবল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। ভূকম্পনে সৃষ্ট এ সমুদ্র ঢেউ সুনামি নামে পরিচিত।
এই সামুদ্রিক ঢেউয়ের গতিবেগ ঘন্টায় ৮০০ থেকে ১৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে৷
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি
৪০৭.
পদার্থের অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম কণার নাম এটম দিয়েছিলেন-
  1. ক) ডেমোক্রিটাস
  2. খ) জন ডাল্টন
  3. গ) নীলস বোর
  4. ঘ) মেন্ডেলিফ
ব্যাখ্যা
পদার্থের অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম কণার নাম এটম দিয়েছিলেন গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৪০৮.
সৌরজগতের গ্রহ কয়টি?
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
- সৌরজগতে মোট গ্রহের সংখ্যা ৮টি
যেমন:
- বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুন।
- এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতি। 
- সবচেয়ে ছোট ও সূর্যের নিকটতম গ্রহ বুধ। 
- বুধ ও শুক্র গ্রহের কোন উপগ্রহ নেই। 
- শুক্র গ্রহের বায়ুমন্ডল নেই।
- প্লুটো বর্তমানে সৌরজগতের গ্রহ নয়। এটি বামন গ্রহের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪০৯.
বারিমন্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?
  1. Biosphere
  2. Hydrosphere
  3. Aerosphere
  4. Atmosphere
ব্যাখ্যা

বারিমন্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Hydrosphere.
‘Hydro’ শব্দের অর্থ পানি এবং 'Sphere’ শব্দের অর্থ মন্ডল।
পৃথিবীর সকল স্থানেই বারিমন্ডলের অস্তিত্ব রয়েছে। যেমন-বায়ুমন্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসাবে, ভূ-পৃষ্ঠে পানি রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূ-গর্ভে রয়েছে ভূ-গর্ভস্থ তরল পানি হিসাবে। পৃথিবীর মোট জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগ রয়েছে সমুদ্রে। মাত্র ৩ ভাগ রয়েছে নদী, হিমবাহ, ভ‚-গর্ভস্থ, হ্রদ, মৃত্তিকা জীবমন্ডল ও বায়ুমন্ডলে। মহাসাগর, সাগর ওউপসাগরের জলরাশি লবনাক্ত এবং নদী, হ্রদ ও ভ‚-গর্ভের পানি, বৃষ্টির পানি ও ঝর্ণার পানি মিঠা। আয়তন এবং গভীরতার ভিত্তিতে বারিমন্ডলকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা :
১। মহাসাগর (Ocean),
২। সাগর (Sea),
৩। উপসাগর (Bay),
৪। হ্রদ (Lake)।

৪১০.
কোন প্রকার কণার পারস্পারিক বিনিময়ের দ্বারা সবল নিউক্লীয় বল ক্রিয়াশীল হয়?
  1. গ্রাভিটন
  2. ফোটন
  3. বোসন
  4. মেসন
ব্যাখ্যা
- 'মেসন' কণার পারস্পারিক বিনিময়ের দ্বারা সবল নিউক্লীয় বল ক্রিয়াশীল হয়। 

মৌলিক বল: 

- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বরং অন্যান্য বল এ সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
মৌলিক বলগুলো হলো - 
১. মহাকর্ষ বল (Gravitational Force), 
২. তাড়িতচৌম্বক বল (Electromagnetic Force), 
৩. সবল নিউক্লিয় বল (Strong Nuclear Force) এবং 
৪. দুর্বল নিউক্লিয় বল (Weak Nuclear Force) । 

সবল নিউক্লিয় বল: 
- সবল নিউক্লিয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল। 
- এটি তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশ গুণ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু এটা খুবই অল্প দূরত্বে (10-15m) কাজ করে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার ভেতরকার প্রোটন এবং নিউট্রনের নিজেদের মাঝে এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বল কাজ করে নিজেদের আটকে রাখে। 
- প্রচণ্ড বলে আটকে থাকার কারণে এর মাঝে অনেক শক্তি জমা থাকে। 
- তাই বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা ছোট নিউক্লিয়াসকে জোড়া দিয়ে এই বলের কারণে অনেক শক্তি তৈরি করা সম্ভব। 
- নিউক্লিয়ার বোমা সে জন্য এত শক্তিশালী। 
- সূর্য থেকে আলোর তাপও এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

 
উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪১১.
মহাবিশ্বের বয়স কত?
  1. প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর
  2. প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর
  3. প্রায় ৮ বিলিয়ন বছর
  4. প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা
- মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর। 
- আমাদের সৌরজগৎ ৪.৬ বিলিয়ন বছর, পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর ধরে, এবং মানুষ মাত্র কয়েক লক্ষ বছর ধরে অস্তিত্বে রয়েছে।
- অন্য কথায়, মহাবিশ্ব আমাদের প্রজাতির চেয়ে প্রায় ৫৬,০০০ গুণ বেশি সময় ধরে অস্তিত্বে রয়েছে।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।
৪১২.
আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে -
  1. ক্যাপাসিটর
  2. বায়ুশূন্য টিউব
  3. ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট
  4. পাঞ্চ কার্ড
ব্যাখ্যা

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি): 
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি)।
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে।
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।
- যার ফলে সাথে সাথে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪১৩.
সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থান করছে-
  1. গ্রহ
  2. ধূমকেতু
  3. সূর্য
  4. উল্কা
ব্যাখ্যা
• সৌরজগৎ (Solar System):
- সূর্য এবং তার গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, অসংখ্য ধূমকেতু ও অগণিত উল্কা নিয়ে সৌরজগৎ গঠিত।
- সূর্য সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

- গ্রহগুলো মহাকর্ষ বলের প্রভাবে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে।
- সৌরজগতের যাবতীয় গ্রহ-উপগ্রহের নিয়ন্ত্রক হলো সূর্য।
- সূর্যকে ভিত্তি করে সৌরজগতের যাবতীয় কাজ-কর্ম চলে।
- এই মহাবিশ্বের বিশালতার মধ্যে সৌরজগৎ নিতান্তই ছোট।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৪১৪.
এক্স-রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কোন মানটির কাছাকাছি হয়?
  1. ক) 10-7 m
  2. খ) 10-8 m
  3. গ) 10-9 m
  4. ঘ) 10-10 m
ব্যাখ্যা
এক্সরে রশ্মি
- এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক কম। 
- এই রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-10 m এর কাছাকাছি। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্সরে আবিস্কার করেন। 
- এক্সরে রঞ্জনরশ্মি নামেও পরিচিত। 

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্সরের অবদান
১. স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙে যাওয়া হাড় ইত্যাদি এক্সরের সাহায্যে খুব সহজেই সনাক্ত করা যায়। 
২. মুখমন্ডলীর যে কোনো ধরনের রোগ নির্ণয়ে এক্সরের ব্যবহার অনেক যেমন- দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়ে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
৩. পেটের এক্সরের সাহায্যে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করা যায়। 
৪. এক্সরের সাহায্যে পিত্ত থলি ও কিডনির পাথরকে সনাক্ত করা যায়। 
৫. বুকের এক্সরের সাহায্যে ফুসফুসের রোগ যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়। 
৬. চিকিৎসার কাজেও এক্সরে ব্যবহার করা যায়। এটি ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে পারে। রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৪১৫.
ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি -
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. একই থাকে
  3. হ্রাস পায়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিূকম্প বলে।
- একটি শান্ত পুকুরে টিল ছুড়লে যেভাবে ঢেউ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তেমনি পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেখানে তরঙ্গ শক্তি উৎপত্তি হয় সেখানে থেকে মুক্ত শক্তি টেউয়ের মত শিলায় তরঙ্গের সৃষ্টি করে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র বলে।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র বলে।
- ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৬.
পৃথিবীর একপাশে চাঁদ ও অপর পাশে সূর্য অবস্থান করে কখন?
  1. ক) অমাবস্যা তিথি
  2. খ) পূর্নিমা তিথি
  3. গ) সপ্তমী তিথি
  4. ঘ) অষ্টমী তিথি
ব্যাখ্যা
অমাবস্যা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই পাশে এবং পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর এক পাশে চাঁদ ও অপর পাশে সূর্য অবস্থান করে। ফলে এ দুই তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমসূত্রে থাকে এবং উভয়ের মিলিত আকর্ষণে যে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বলে।
সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সমকোণে অবস্থান করার ফলে চন্দ্রের আকর্ষণে এ সময়ে চাঁদের দিকে জোয়ার হয়। সূর্যের আকর্ষণের জন্য এ জোয়ারের বেগ তত প্রবল হয় না। এ রূপ জোয়ারকে মরা কটাল বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।
৪১৭.
চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায় কেন?
  1. বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণে
  2. আলোর বিচ্ছুরণে
  3. অপাবর্তনে
  4. দৃষ্টিভ্রমে
ব্যাখ্যা
- চাঁদ থেকে আলোক রশ্মি পৃথিবীপৃষ্ঠে আসার সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আলোর প্রতিসরণ ঘটে অর্থাৎ আলোক রশ্মি বেঁকে যায়। 
- চাঁদ যখন দিগন্তের কাছে থাকে তখন আলোক রশ্মি তুলনামূলকভাবে অধিক পরিমাণে বেঁকে যায়।
- বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণের কারণে দিগন্তের নিকটে চাঁদ ও সূর্যকে ডিম্বাকৃতি এবং তুলনামূলকভাবে বড় দেখা যায়। 

উৎস: scientificamerican.com
৪১৮.
E = mc2 সূত্রে m দ্বারা কি বুঝায়?
  1. ক) শক্তি
  2. খ) আলোর দ্রুতি
  3. গ) বস্তুর ভর
  4. ঘ) বস্তুর ওজন
ব্যাখ্যা

E = mc2
এখানে,
E (energy) = শক্তি
M (mass) = ভর
C (Light-velocity) = আলোর বেগ = 3×108 (মি./সে.)
আইনস্টাইনের বিখ্যাত E = mc2 সূত্র দ্বারা, শক্তি ও ভর যে অভিন্নতা নির্দেশ করে।
এই সূত্র অনুসারে m ভরের কোন বস্তুতে সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ ঐ ভরের সাথে আলোর বেগ (c) এর বর্গের গুনফল এর সমান।

৪১৯.
উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন কোনটি?
  1. ২৩ জুন
  2. ২১ জুন
  3. ২৪ জুলাই
  4. ২৩ মার্চ
ব্যাখ্যা

• উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল:
​ - ২১ এ মার্চের পর থেকে পৃথিবী তার নিজ কক্ষপথে এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর মেরু ক্রমশ সূর্যের দিকে হেলতে থাকে।
-​ এর সঙ্গে সঙ্গে যত দিন যায় তত উত্তর মেরুতে আলোকিত অংশ বাড়তে থাকে।
​- এভাবে ২১ এ জুনে গিয়ে সূর্যকর্কটক্রান্তি রেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে।
-​ ফলে ২১ এ জুন উত্তর গোলার্ধে বড় দিন এবং ছোট রাত হয়। 

- ​ঐ দিনই সূর্যের উত্তরায়ণের শেষ এবং তার পরের দিন থেকে পুনরায় সূর্য দক্ষিণ দিকে আসতে থাকে।
​ - দিন বড় হওয়ার কারণে উত্তর গোলার্ধে ২১ এ জুনের দেড় মাস পূর্ব থেকেই গ্রীষ্মকাল শুরু হয় এবং পরের দেড় মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল স্থায়ী হয়।

​- এই সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধে ঠিক বিপরীত অবস্থা দেখা যায় অর্থাৎ শীতকাল অনুভূত হয়।
-​ এ সময় সূর্য হেলে থাকার কারণে এ গোলার্ধে সূর্য কম সময় ধরে কিরণ দেয়। ফলে দিন ছোট এবংরাত বড় হয়। 
​- দিনে ভূপৃষ্ঠ যতটুকু উত্তপ্ত হয়, রাতে তাপ বিকিরণের ফলে তা ঠান্ডা হয়ে যায়।
​-  এখানে তখন শীতের আবহাওয়া বিরাজ করে। দক্ষিণ গোলার্ধে এ সময়কে শীতকাল বলে।

​উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪২০.
পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ কোনটি? 
  1. চাঁদ
  2. শুক্র
  3. প্লুটো
  4. ইউরেনাস
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক গ্রহ ও উপগ্রহ: 
- যে গ্যালাক্সি বা ছায়াপথে বাস করা হয় তার নাম আকাশ গঙ্গাঁ (Milky Way), এই ছায়াপথে রয়েছে সূর্য ও এর পরিবার, যাকে সৌরজগৎ বলা হয়। 
- সৌরজগতে রয়েছে সূর্য ও একে ঘিরে আবর্তনশীল ৮টি গ্রহ। 
- যেসব বৃহৎ বস্তু সূর্যের চারদিকে ঘুরে তাদের বলা হয় গ্রহ। 
- সূর্যকে ঘিরে আবর্তনশীল আটটি গ্রহ হলো বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন। 
- কোনো কোনো গ্রহের রয়েছে একাধিক উপগ্রহ, যারা গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘুরে এদের বলা হয় উপগ্রহ। 
যেমন- পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে চাঁদ, তাই চাঁদ পৃথিবীর উপগ্রহ। সুতরাং, পৃথিবী সূর্যের একটি গ্রহ এবং চাঁদ পৃথিবীর উপগ্রহ। 

- জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা, গ্রহের জন্মের সময় কোনো নক্ষত্রকে ঘিরে কয়েকটি মহাজাগতিক মেঘ আবর্তিত হতো। এরা মহাকর্ষ বলের কারণে ঘনীভূত হয়ে অবশেষে জমাট বেঁধে গ্রহে রূপান্তরিত হয়। এভাবেই আবার গ্রহের চারপাশে জমা হয়ে উপগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে, এসব উপগ্রহ হলো প্রাকৃতিক উপগ্রহ। 
- গ্রহ ও উপগ্রহের কোনো আলো ও উত্তাপ নেই, এদের উপর সূর্যের যে আলো পড়ে তা প্রতিফলিত হয়। 
- উপগ্রহগুলো এদের গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে গ্রহের চারদিকে ঘুরে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৪২১.
মেরু রেখা বা অক্ষের উত্তর প্রান্ত বিন্দুকে বলা হয়-
  1. কুমেরু
  2. বিষুব রেখা
  3. সুমেরু
  4. দ্রাঘিমা রেখা
ব্যাখ্যা
- ভূ-পৃষ্ঠের যেকোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে এবং যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে একে প্রকাশ করা হয়, তাকে অক্ষরেখা বলে। 
- পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে বিভক্তকারী বৃত্তাকার রেখাটিকে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে। 
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা বলা হয়। 
- দক্ষণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলা হয়। 
- ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরু বৃত্ত বলা হয়। 
- ৬৬.৫° দক্ষিণ  অক্ষরেখাকে কুমেরু বৃত্ত বলা হয়। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩.৫° কোণে হেলে আছে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২২.
চারটি মৌলিক বল তার বর্তমান রূপ লাভ করে কখন?
  1. ক) ল্যাপটন কাল
  2. খ) হ্যাড্রন কাল
  3. গ) কোয়ার্ক কালে
  4. ঘ) প্ল্যাঙ্ক কালে
ব্যাখ্যা
বিগ ব্যাং এর পরে

10-12s থেকে 10-6s

সময়কালকে কোয়ার্ক কাল বলে, এই সময়েই চারটি মৌলিক বল তাদের বর্তমান রুপ লাভ করে৷
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৪২৩.
গ্রিন হাউজ কী?
  1. ক) সবুজ আলোর আলোকিত ঘর
  2. খ) সবুজ গাছপালা
  3. গ) কাঁচের তৈরি ঘর
  4. ঘ) সবুজ ভবনের নাম
ব্যাখ্যা
• গ্রিন হাউজ হলো কাঁচের তৈরি ঘর। 

গ্রিন হাউজ:
- শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।
- গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট বলে।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো- কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC)।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৪.
মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. সবুজ গ্রহ নামে অভিহিত
  2. উপগ্রহের সংখ্যা দুইটি
  3. এর আকার পৃথিবীর আকারের অর্ধেক
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মঙ্গল গ্রহ:
- মঙ্গল হলো সূর্য থেকে চতুর্থ দূরবর্তী গ্রহ।
- বুধের পরেই সৌরজগতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম গ্রহ।
- এই গ্রহটিকে ‘লাল গ্রহ’ নামে অভিহিত করা হয়।
- সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহের দূরত্ব ২২৮ মিলিয়ন কিলোমিটার।
- এটি একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে ৬৮৭ দিন সময় নেয়।
- এর ব্যাসার্ধ প্রায় ৩৩৯০ কিলোমিটার (২১০৬ মাইল)। 
- এর আকার পৃথিবীর আকারের অর্ধেক।
- সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহে আলো পৌছাতে সময় লাগে ১৩ মিনিট।
- নিজ কক্ষপথে একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২৪ ঘন্টা।

⇒ মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা দুইটি: ফোবোস ও ডিমোস।

অন্যদিকে,
- ইউরেনাসকে সবুজ গ্রহ বলা হয়।

উৎস: i) NASA (.gov).
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২৫.
'Spring Tide' কোন সময় সংঘটিত হয়?
  1. পূর্ণিমা তিথিতে
  2. সপ্তমী তিথিতে
  3. অষ্টমী তিথিতে
  4. নবমী তিথিতে
ব্যাখ্যা
তেজ কটাল বা ভরা কটাল (Spring Tide): 
- চন্দ্রের মত সূর্যও জোয়ার ভাঁটা সৃষ্টিতে সাহায্য করে। 
- যখন অমাবস্যার সৃষ্টি হয় তখন সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। 
- অন্যদিকে পূর্ণিমার সময় পৃথিবীর একপাশে সূর্য ও অন্যপাশে চন্দ্র অবস্থান করে। এই সময় চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। 
- এ সময় সূর্যের আকর্ষণ চন্দ্রের আকর্ষণকে সাহায্য করে। 
- মূলত পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণে জোয়ারের পানি ফুলে উঠে। এই জোয়ারকেই বলা হয় ভরা কটাল বা তেজ কটাল। 
- পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী পৃষ্ঠের যে স্থানে চন্দ্রের প্রভাবে মুখ্য জোয়ার হয়, সে স্থানে সূর্যের প্রভাবে গৌণ জোয়ার হয়। 
- আবার চন্দ্রের প্রভাবে যে স্থানে গৌণ জোয়ার হয় ঐ স্থানে সূর্যের আকষর্ণে মুখ্য জোয়ার হয়। 
- সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে মরা কটাল সংগঠিত হয়। 
 
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৬.
কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. ক) ম্যাক্স প্লাঙ্ক
  2. খ) আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. গ) হাইগেন
  4. ঘ) রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা

কোন কোন ধাতুর উপর আলাে পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেকট্রন নির্গত হয়, একে ফটোতড়িৎ ক্রিয়া বলে।
আলাের তরঙ্গ ধর্মের সাহায্যে এই ঘটনার ব্যাখ্যা করা যায় না।
১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আলাের কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দেন।
সেজন্য তাঁকে ১৯২১ সালে নােবেল পুরস্কার দেয়া হয়।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪২৭.
মহাবিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপাদান কোনটি?
  1. অক্সিজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. হিলিয়াম
ব্যাখ্যা
- বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বেশি গ্যাস হলো- হাইড্রোজেন। 
- হাইড্রোজেন গ্যাস মহাবিশ্বের মৌলিক গঠনের প্রায় 75% (ভর) তৈরি করে। 
- এটি আমাদের সূর্য সহ নক্ষত্রগুলিতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এবং এটি পারমাণবিক ফিউশন প্রতিক্রিয়াগুলির জন্য প্রাথমিক জ্বালানী উৎস। 
- হাইড্রোজেন আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশেও প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত থাকে এবং এটি আণবিক মেঘের একটি মূল উপাদান যেখানে নতুন তারকা গঠিত হয়। 
- মহাবিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপাদান হচ্ছে হিলিয়াম। 
- হাইড্রোজেন ও হিলিমায় যৌথভাবে মহাবিশ্বের ৯৯.৯% উপাদান গঠন করেছে। 
- এই সারিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অক্সিজেন। 

উৎস: The University of Texas; LiveScience and Nature Journal.

অন্যদিকে, 
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে নাইট্রোজেন গ্যাস। 
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন গ্যাসের শতকরা হার: 
• নাইট্রোজেন - ৭৮.০২%, 
• অক্সিজেন - ২০.৭১%, 
• আরগন - ০.৮০%, 
• কার্বন ডাই অক্সাইড - ০.০৩%, 
• জলীয় বাষ্প - ০.৪১%, 
• অন্যান্য গ্যাসসমূহ - ০.০২%, 
• ধূলিকণা ও কণিকা - ০.০১%। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২৮.
নিচের কোন সমুদ্রের পানি সবচেয়ে বেশি লবনাক্ত?
  1. কৃষ্ণ সাগর
  2. মৃত সাগর
  3. বাল্টিক সাগর
  4. লোহিত সাগর
ব্যাখ্যা
স্থলবেষ্টিত মৃত সাগর হলো পৃথিবীর অন্যতম লবনাক্ত সাগর যেখানে লবনাক্তের পরিমাণ ৩৩.৭%।
৪২৯.
এক্স-রে হচ্ছে মূলত - 
  1. উচ্চ শক্তির ইলেকট্রন প্রবাহ
  2. উচ্চ শক্তির প্রোটন প্রবাহ
  3. উচ্চ শক্তির নিউট্রন প্রবাহ
  4. উচ্চ শক্তির পজিট্রন প্রবাহ
ব্যাখ্যা
এক্স-রে: 
- দ্রুতগতি সম্পন্ন  ইলেকট্রন কোন ধাতুতে আঘাত করলে তা থেকে উচ্চভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন যে বিকিরণ উৎপন্ন হয়, তাকে X-Ray বলে। 
- সুতরাং এক্স-রে হচ্ছে মুলত উচ্চ শক্তির ইলেকট্রন প্রবাহ। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এই রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মি চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- 
• এক্স-রশ্মির সাহায্যে ফটোগ্রাফিক প্লেটে হাত, পা বা দেহের হাড়ের ছবি পাওয়া যায়। এজন্য শল্য চিকিৎসায় এক্স-রশ্মি অপরিহার্য। 
• এক্স-রশ্মির জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার, টিউমার প্রভৃতি রোগের চিকিৎসায় এই রশ্মি ব্যবহৃত হয়। একে এক্স-রে থেরাপি বলে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩০.
আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে নিচের কোনটি আপেক্ষিক নয়?
  1. আলোর দ্রুতি
  2. সময়
  3. ভর
  4. স্থান
ব্যাখ্যা
• আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
- আইনস্টাইনের তত্ত্ব অনুসারে,
- স্থান,
- ভর ও
- সময় হলো আপেক্ষিক।

- আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে, আলোর দ্রুতি আপেক্ষিক নয় অর্থাৎ এটি ধ্রুব।
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়।
- কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ।

- উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়।
- আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়।
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩১.
হিগের কণার (Higgs Particle) প্রকৃতির সাথে কোন বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর নাম জড়িয়ে আছে?
  1. স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু
  2. সত্যেন্দ্র নাথ বসু
  3. প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম
  4. ড. কুদরত-ই-খুদা
ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু 1924 সালে কোয়ান্টাম তত্ত্বের ধারণা ব্যবহার করে বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রদান করেন। এজন্য বিজ্ঞানী বসুকে কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়, এবং তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একশ্রেণির মৌলিক কণাকে বোসন (Boson) নাম দেওয়া হয়। 1900 থেকে 1930 সাল পর্যন্ত এই সময়টিতে হাইজেনবার্গ, শ্রোডিঙ্গার, ডিরাকসহ অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী মিলে পদার্থের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন।
-----------------------

বোসন (Boson): 
- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন। 
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি। 
- বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না। 
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই। 
- এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা। 
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দুই ধরনের। 
যথা- 

(i) গেজ বোসন (Gauge Boson): 
- এদের স্পিন হলো 1 । 
- এই কণাগুলো হলো- গণ্ডুওন (g), ফোটন (γ) এবং W ও Z বোসন। 
• গণ্ডুণ্ডন: গণ্ডুওন কণা হলো সবল নিউক্লিয় বলবাহী কণা। এর নিশ্চল ভর শূন্য। 
• ফোটন: এই কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। এর নিশ্চল ভর শূন্য। 
• W ও Z বোসন: W+, W- এবং W0 এই তিনটি বোসন কণা দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক। এ কণাগুলোর ভর আছে।

(ii) হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে। হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা। 
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়। 
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্তানান্তরিত হয়। হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্তানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে। 
- এই হিগস বোসনই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩২.
ইলেক্ট্রন -
  1. ক) আধান নিরপেক্ষ
  2. খ) ধণাত্মক আধান যুক্ত
  3. গ) ঋণাত্মক আধান যুক্ত
  4. ঘ) এর কোনো আধান নেই
ব্যাখ্যা
ইলেক্ট্রন পরমাণুর একটি মূল কণিকা যার আধান বা চার্জ ঋণাত্মক বা নেগেটিভ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৪৩৩.
ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক্যাপাসিটর
  2. অ্যামপ্লিফায়ার
  3. রেজিস্টর
  4. ডায়োড
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টর p এবং n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর দিয়ে তৈরি এক ধরনের ডিভাইস, যেটি তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 
- n-p-n এবং p-n-p দুই ধরনের ট্রানজিস্টর আছে। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের যে দিক দিয়ে কারেন্ট ঢোকে তার নাম কালেক্টর এবং যেদিক দিয়ে কারেন্ট বের হয় তার নাম অ্যামিটার (Emitter)। 
- মাঝখানে রয়েছে বেস, এই বেসটি পানির ট্যাপের মতো। 
- এই বেসে অল্প একটু কারেন্ট দিলেই যেন ট্যাপটি খুলে যায় অর্থাৎ অনেক বিদ্যুতের প্রবাহ হতে থাকে। আবার এই অল্প কারেন্ট বন্ধ করে দিলেই বিদ্যুতের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। 
- এই ট্রানজিস্টর দিয়ে অসংখ্য ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়। 
- ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়, যেটাকে বলা হয় অ্যামপ্লিফায়ার। 
- নানা ধরনের সিগন্যালকে প্রক্রিয়া করার জন্যও ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪৩৪.
একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে জুপ্ল্যাঙ্কটন ভক্ষণকারী ছোট মাছ কোন স্তরের খাদক?
  1. উৎপাদক স্তর
  2. প্রথম স্তরের খাদক
  3. দ্বিতীয় স্তরের খাদক
  4. তৃতীয় স্তরের খাদক
ব্যাখ্যা

• দ্বিতীয় স্তরের খাদক হলো সেই সকল জীব, যারা প্রথম স্তরের খাদকের ওপর নির্ভর করে খাদ্য গ্রহণ করে; যেমন পুকুরে ছোট মাছ, ব্যাঙ ও কিছু জলজ পতঙ্গ।

• বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem):
- নির্দিষ্ট পরিবেশে সজীব ও নির্জীব উপাদানের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার গতিময় ব্যবস্থাকে বাস্তুতন্ত্র বলে।
- এখানে জীব ও পরিবেশ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।

• বাস্তুতন্ত্রের উপাদান:
- বাস্তুতন্ত্র মূলত দুই প্রকার উপাদান নিয়ে গঠিত—অজৈব উপাদান ও জৈব উপাদান।

• অজৈব উপাদান:
- পানি, মাটি, কার্বন ডাইঅক্সাইড, অক্সিজেন, আলো, তাপ, আর্দ্রতা, খনিজ লবণ প্রভৃতি অজৈব উপাদান।
- এগুলো জীবের বেঁচে থাকা ও খাদ্য উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য।

• জৈব উপাদান:
- জৈব উপাদান তিন প্রকার—উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক।

• উৎপাদক (Producer):
- সবুজ উদ্ভিদ ও শৈবাল সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে।
- এরা স্বভোজী (Autotroph)।
- উদাহরণ: শৈবাল, জলজ উদ্ভিদ, প্ল্যাঙ্কটন।

• খাদক (Consumer):
- যারা নিজে খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে না এবং উৎপাদক বা অন্যান্য জীবের ওপর নির্ভর করে তাদের খাদক বলে।
- খাদক তিন প্রকার—
- প্রথম স্তরের খাদক: উৎপাদককে সরাসরি খায়।
- উদাহরণ: মশার লার্ভা, ভাসমান ক্ষুদ্র প্রাণী (জুপ্ল্যাঙ্কটন), কিছু জলজ পোকা।
- দ্বিতীয় স্তরের খাদক: প্রথম স্তরের খাদককে খায়।
- উদাহরণ: ছোট মাছ, ব্যাঙ, কিছু জলজ পতঙ্গ।
- তৃতীয় স্তরের খাদক: দ্বিতীয় স্তরের খাদককে খায়।
- উদাহরণ: বড় মাছ (শোল, বোয়াল), বক, পানকৌড়ি।

• বিয়োজক (Decomposer):
- মৃত জীবদেহ ভেঙে সরল পদার্থে পরিণত করে।
- উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক।
- বিয়োজিত পদার্থ পুনরায় উৎপাদক ব্যবহার করে।
 
• অন্যান্য অপশন:
- উৎপাদক → সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদনকারী স্বভোজী জীব।
- প্রথম স্তরের খাদক → সরাসরি উৎপাদক ভক্ষণকারী তৃণভোজী প্রাণী।
- তৃতীয় স্তরের খাদক → দ্বিতীয় স্তরের খাদকের ওপর নির্ভরশীল উচ্চস্তরের মাংসাশী প্রাণী।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৫.
মহীসোপানের সবচেয়ে উপরের অংশকে কী বলে?
  1. ক) উপকূলীয় ঢাল
  2. খ) মহীঢাল
  3. গ) উত্থিত মহীসোপান
  4. ঘ) নিমজ্জিত শৈলশিরা
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিছু অংশ ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে। এরূপে সমুদ্রের উপকূল রেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে।
মহীসোপানের সমুদ্রের পানির গড় উচ্চতা ১৫০ মিটার। মহীসোপানের সবচেয়ে উপরের অংশকে উপকূলীয় ঢাল বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, ভূগোল ও পরিবেশ।
৪৩৬.
জোয়ার-ভাঁটার তেজকটাল কখন ঘটে?
  1. অষ্টমীতে
  2. অমাবস্যায়
  3. পঞ্চমীতে
  4. একাদশীতে
ব্যাখ্যা
• জোয়ার-ভাঁটা: 
- মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে  ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাঁটা বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাঁটা সংঘটিত হয়। 
- জোয়ার ভাঁটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

১. মুখ্য জোয়ার: 
- চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরুপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। 

২. গৌণ জোয়ার: 
- চাঁদ পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক থেকে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে। 

৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল: 
- অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে। 

৪. মরা কটাল: 
- চন্দ্র ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে তখন চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। এই ধরনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৭.
শূন্যস্থানে আলোর বেগ কত?
  1. ক) 3×108ms-2
  2. খ) 3×106ms-1
  3. গ) 3×109ms-2
  4. ঘ) 3×108ms-1
ব্যাখ্যা
শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ ৩০০০০০ কিলোমিটার/সেকেন্ড অর্থাৎ ৩০০০০০০০০ মিটার/সেকেন্ড বা 3×108 ms-1.
ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি- ড. আমির হোসেন
৪৩৮.
পাথফাইন্ডার-এর মঙ্গলে অবতরণ সাল-
  1. ক) ১৯৯০
  2. খ) ১৯৯৫
  3. গ) ১৯৯৭
  4. ঘ) ২০০০
ব্যাখ্যা

Quick Facts from NASA

Mars Pathfinder

MISSION TYPE
Rover: ''Sojourner''

LAUNCH
December 4, 1996 UTC

LAUNCH VEHICLE
Delta II

LAUNCH LOCATION
Cape Canaveral Air Force Station, Florida

LANDING
July 4, 1997

LANDING SITE
Ares Vallis, Mars

END OF MISSION
September 27, 1997

৪৩৯.
ফ্যাক্স মেশিন কে, কোন সালে আবিষ্কার করেন? 
  1. থমাস এডিসন, ১৮৭৯ সালে 
  2. মাইকেল ফ্যারাডে, ১৮৩১ সালে 
  3. আলেকজান্ডার বেইন, ১৮৪২ সালে 
  4. আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল, ১৮৭৬ সালে
ব্যাখ্যা

ফ্যাক্স (Fax): 
- বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার বেইন ১৮৪২ সালে ফ্যাক্স মেশিন আবিস্কার করেন। 
- ফ্যাক্সের পুরো নাম হলো ফ্যাক্সিমিল। 
- কোনো ডকুমেন্টকে হুবহু কপি করে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্রাপকের কাছে পাঠাতে ফ্যাক্স ব্যবহার করা হয়। 
- প্রেরক যে ডকুমেন্ট যেমন দলিল, সার্টিফিকেট, ছবি, ডায়াগ্রাম ইত্যাদি প্রাপকের কাছে পাঠাতে চান সে ডকুমেন্ট তার ফ্যাক্স মেশিনের সাহায্যে হুবহু কপি তৎক্ষণাৎ প্রাপকের ফ্যাক্স মেশিনে পাঠাতে পারেন এবং প্রাপক তার মেশিন থেকে সেই ডকুমেন্টের প্রিন্ট কপি পেয়ে যান। 

ফ্যাক্সের মূলনীতি: 
- ফ্যাক্স মেশিন হলো মূলত টেলিফোন, স্ক্যানার, প্রিন্টার ও মোডেম সম্মিলিত একটি যন্ত্র। প্রেরক কোনো ডকুমেন্ট পাঠাতে চাইলে তিনি প্রথমে টোলফোনে ডায়াল করে প্রাপকের ফ্যাক্স মেশিনের সাথে টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করেন। তারপর তার ডকুমেন্টটি ফ্যাক্স মেশিনে রাখলে ডকুমেন্টের যাবতীয় লেখা বা ছবি স্ক্যানারের মাধ্যমে ডিজিটাল ছবিতে রূপান্তর হয়। সেই ছবি মোডেমের সাহায্যে এনালগ সংকেতে রূপান্তর করে টেলিফোন লাইনের সাহায্যে প্রাপকের মোডেমে পাঠায়। প্রাপকের মোডেম সেই এনালগ সংকেতকে পুনরায় ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর করে ফ্যাক্স মেশিনের প্রিন্টারে পাঠায় এবং প্রিন্টারে সাহায্যে প্রেরকের পাঠানো ডকুমেন্টের হুবহু কপি প্রাপক পেয়ে যান। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪০.
ছায়াপথের অন্য নাম কী? 
  1. অ্যান্ড্রোমেডা
  2. আকাশগঙ্গা
  3. নক্ষত্রপথ
  4. সৌরপথ
ব্যাখ্যা

ছায়াপথ (Milky Way):
- আমরা যে গ্যালাক্সিতে অবস্থান করি তার নাম ছায়াপথ বা আকাশ গঙ্গা।
- অন্ধকার আকাশে এদের উজ্জ্বল দীপ্তি দীর্ঘপথের মতো দেখায়।
- একটি ছায়াপথ লক্ষ কোটি নক্ষত্রের সমষ্টি।
- শীতকালে রাত্রিবেলা পরিষ্কার আকাশে লক্ষ করলে উত্তর-দক্ষিণে বেশ বড় পরিসরযুক্ত তেজোদ্দীপ্ত স্বচ্ছ দীর্ঘ আলোর রেখা দেখা যায়। তারকা খচিত এই আলোর পথই হলো ছায়াপথ।
- বিজ্ঞানীরা একে বিরাট চক্রাকার মণ্ডল বলে অনুমান করেন।
- সৌরজগৎ ছায়াপথের অন্তর্গত।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

৪৪১.
ভূত্বকের গভীরতা (প্রায়) -
  1. ক) ১৬ কিমি
  2. খ) ১২ কিমি
  3. গ) ১০ কিমি
  4. ঘ) ২০ কিমি
ব্যাখ্যা
ভূত্বকের গভীরতা ১৬ কিমি (প্রায়)।

- পৃথিবীর বিভিন্ন স্তরকে বলে মণ্ডল।
- ভূগর্ভের রয়েছে তিনটি স্তর—অশ্মমণ্ডল, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল।
- এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ওপরের স্তরটি হলো অশ্মমণ্ডল। আর অশ্মমণ্ডলের ওপরের অংশই ভূত্বক।
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক। ভূতত্ত্ববিদগণের মতে, দুই বা ততোধিক খনিজ দ্রব্যের সংমিশ্রণে শিলার সৃষ্টি হয়।
- সাধারণত পাথর, নুড়ি, কাঁকর, গ্রানাইট, কাদা, বালু ইত্যাদি দিয়ে ভূত্বক গঠিত।
- মহাদেশীয় ভূত্বকের স্তরকে সিয়াল স্তর বলে, যা সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে গঠিত।

সূত্র: ভূমিরূপ বিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪২.
কেপলারের প্রথম সূত্র অনুসারে, গ্রহগুলো সূর্যের চারপাশে কীভাবে ঘোরে?
  1. একটি বৃত্তাকার কক্ষপথে
  2. একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে
  3. একটি পরাবৃত্তাকার কক্ষপথে
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলারের সূত্র (Kepler's Law of Planetary Motion):
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- এ সম্পর্কে তিনি কয়েকটি সূত্র উপস্থাপন করেন।
- তার নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। 

• ১ম সূত্র: সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।

• ২য় সূত্র: প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্র সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।

• ৩য় সূত্র: সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের' (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৩.
প্রতিসরণের সূত্র কে প্রণয়ন করেন?
  1. নিউটন
  2. ম্যাক্সওয়েল
  3. আইনস্টাইন
  4. স্নেল
ব্যাখ্যা

প্রতিসরণ (Refraction):
- এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে তীর্যকভাবে আপতিত আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
অর্থাৎ, দুটি স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদ তলে আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
- বিভেদ তলের উপর আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত লম্বকে অভিলম্ব বলে।
- আপতন বিন্দুতে আপতিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে আপতন কোণ এবং প্রতিসরিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে প্রতিসরণ কোণ বলে।

প্রতিসরণের সূত্র:
- আলোর প্রতিসরণ দু'টি সূত্র মেনে চলে এদের প্রতিসরণের সূত্র বলে।
- ১৬২০ সালে বিজ্ঞানী স্নেল (Willebrord Snellius) সর্বপ্রথম এ সূত্র প্রকাশ করেন, তাই এ সূত্রটিকে স্নেলের সূত্রও বলা হয়
যেমন-
(১) দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব এবং প্রতিসরিত রশ্মি একই সমতলে অবস্থান করে।
(২) এক জোড়া নির্দিষ্ট মাধ্যম এবং নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত সর্বদা ধ্রুব।
অর্থাৎ, sin i/sin r = একটি ধ্রুব (সংখ্যা)।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৪.
সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সামুদ্রিক ঢেউকে কী বলে?
  1. সুনামি
  2. হারিকেন
  3. টর্নেডো
  4. জলোচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা

• সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সামুদ্রিক ঢেউকে সুনামি বলে।

• সুনামি:
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সমুদ্রতলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা সুনামি সৃষ্টি করতে পারে।
- সুনামিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়।
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে।
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প।
- ইউরেশিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে সৃষ্টি হওয়া এই মারাত্মক ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে নয় মাত্রার।
- এই জলোচ্ছাসে তিন লাখের মতো মানুষ নিহত হয় যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার আচেহ প্রদেশেই নিহত হয়েছে এক লাখ মানুষ।
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায়।
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে।
- ১৭৬২ সালের ২ এপ্রিল বঙ্গোপসাগরের আরাকান অঞ্চলে সংঘটিত একটি ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামি বাংলাদেশে আঘাত এনেছিল।

অন্যান্য অপশন:
- হারিকেন হলো মূলত গ্রীষ্মমন্ডলীয় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় যা বায়ুমণ্ডলীয় চাপের পার্থক্যের কারণে সমুদ্রের উপরে তৈরি হয়।
- টর্নেডো হলো স্থলভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক সংকীর্ণ ও ঘূর্ণায়মান বায়ুস্তম্ভ যা মেঘ থেকে মাটির দিকে বিস্তৃত হয়।
- জলোচ্ছ্বাস হলো ঘূর্ণিঝড় বা বায়ুমণ্ডলীয় নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্রের পানির অস্বাভাবিক স্ফীতি যা উপকূলে আছড়ে পড়ে কিন্তু এটি ভূমিকম্প সৃষ্ট নয়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৪৫.
নিচের কোনটি নক্ষত্রমণ্ডলী?
  1. সপ্তর্ষিমন্ডল
  2. কালপুরুষ
  3. ক্যাসিওপিয়া
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• নক্ষত্রমণ্ডলী (Constellation):
- মেঘমুক্ত অন্ধকার রাতে আকাশের দিকে তাকালে মনে হয় কয়েকটি নক্ষত্র বিশেষ আকৃতিতে মিলে জোট বেঁধেছে।
- এভাবে আমাদের পরিচিত আকৃতিতে দেখা নক্ষত্রদলকে নক্ষত্রমণ্ডলী বলে।
- প্রাচীনকালে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এক একটি নক্ষত্রদলকেকাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করেবিভিন্ন আকৃতি কল্পনা করে বিভিন্ন নামদিয়েছেন।
- এদের কোনোটা দেখতে ভল্লুকের মতো, কোনোটা শিকারির মতো।
- এদের মধ্যে সপ্তর্ষিমন্ডল (GreatBear), কালপুরুষ (Orion), ক্যাসিওপিয়া (Cassiopeia), লঘুসপ্তর্ষি (Little Bear), বৃহৎ কুকুরমণ্ডল (Canis Major) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৪৪৬.
নিচের কোনটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নির্দেশ করে?
  1. ০° দ্রাঘিমারেখা
  2. ১২০° দ্রাঘিমারেখা
  3. ৯০° দ্রাঘিমারেখা
  4. ১৮০° দ্রাঘিমারেখা
ব্যাখ্যা
• আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা:
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অংকিত এই রেখা স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।
- ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমা মূলত একই দ্রাঘিমা রেখা।
- ফলে একই দ্রাঘিমা রেখায় সময়ের ব্যবধান হয়ে যাচ্ছে ২৪ ঘন্টা এবং তারিখের ক্ষেত্রে দুইটি তারিখ হয়ে যাচ্ছে।
- তারিখ, সময় ও সাপ্তাহিক দিন নির্ধারনের এই সমস্যা সমাধানের উদেশ্যে ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন-এ 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাকে 'আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা' হিসাবে স্থির করা হয়।
- আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয় এবং রেখাটি সাইবেরিয়ার উত্তর-পূর্বাংশ এবং এ্যালিউশয়ান, ফিজি ও চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জের স্থলভাগকে এড়িয়ে ১১° পূর্ব দিয়ে বেঁকে এবং বেরিং প্রণালিতে ১২° পূর্ব দিকে বেঁকে কল্পনা করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৭.
ভূত্বক প্রধানত কয়টি বড় টেকটোনিক্স প্লেট দ্বারা গঠিত?
  1. ক) ৩ টি
  2. খ) ৫ টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৮ টি
ব্যাখ্যা

প্লেট টেকটোনিক্স (Plate Tectonics): ভূতাত্ত্বিক মতবাদ অনুসারে ভূত্বক প্রধানত আটটি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত, যেগুলি নিম্নস্থ ভ্রাম্যমান উষ্ণ গুরুমন্ডলীয় পদার্থের ওপর ভাসছে। প্লেটের বিচলন (movement) ও পারস্পরিক ক্রিয়া ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, পর্বত সৃষ্টি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ভূতাত্ত্বিক ঘটনাবলীর নিয়ন্ত্রক বলে ধারণা করা হয়।

তিন ধরনের পারস্পরিক প্লেট সীমানার কথা জানা যায়। যথা: সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা, অপসারী সীমা ও পরিবর্তক চ্যুতি সীমা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়,নবম দশম শ্রেনি।

৪৪৮.
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট সম্পর্কে প্রথম আলোচনা হয়-
  1. ক) ১৯৪৭ সালে
  2. খ) ১৯৪৮ সালে
  3. গ) ১৯৫২ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৭ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৫২ এর দিকেই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট সম্পর্কে আলোচনা শুরু হলেও সত্যিকার ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরি হয় ষাটের দশকে।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪৯.
হার্প (HAARP) বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর নিয়ে গবেষণা করে?
  1. ক) আয়নমণ্ডল
  2. খ) ট্রপোমণ্ডল
  3. গ) স্ট্রাটোমণ্ডল
  4. ঘ) মেসোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
হার্প (HAARP)
- HAARP এর পূর্ণরূপ হচ্ছে High-frequency Active Auroral Research Program.
- হার্প আয়নোস্ফিয়ার বা আয়নমন্ডলের বৈশিষ্ট্য এবং আচরণ নিয়ে গবেষণা করে।
- আয়নোস্ফিয়ার হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০ মাইল থেকে ৪০০ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুমন্ডলীয় এলাকা।
- আয়নোস্ফিয়ারে উচ্চ কম্পাঙ্কের রেডিও তরঙ্গ পাঠানো হয় এবং এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হয়।
- হার্প এর অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায়।
- এটি ইউএস এয়ার ফোর্স, নেভি, ইউনিভার্সিটি অফ আলাস্কা ফেয়ারব্যাংকস এবং ডিফেন্স এডভান্সড রিসার্চ প্রোজেক্টস এজেন্সির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চলে।
- ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট স্থান পরিবর্তন করে এটিকে ইউনিভার্সিটি অফ আলাস্কা ফেয়ারব্যাংকসে নিয়ে আসা হয়।

সূত্র: https://haarp.gi.alaska.edu
৪৫০.
পৃথিবীর মিঠা পানির প্রধান উৎস কোনটি?
  1. সমুদ্র 
  2. মহাসমুদ্র
  3. নদী ও হ্রদ 
  4. বায়ুমণ্ডল 
ব্যাখ্যা

বারিমণ্ডল: 
- 'Hydrosphere'-এর বাংলা প্রতিশব্দ বারিমণ্ডল। 
- 'Hydro' শব্দের অর্থ পানি এবং 'Sphere' শব্দের অর্থ মণ্ডল। 
- পৃথিবীর সর্বত্র রয়েছে পানি, এ বিশাল জলরাশি পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় থাকে যেমন- কঠিন (বরফ), গ্যাসীয় (জলীয়বাষ্প) এবং তরল। বায়ুমণ্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসেবে, ভূপৃষ্ঠে রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূপৃষ্ঠের তলদেশে রয়েছে ভূগর্ভস্থ তরল পানি। 
- বারিমণ্ডল বলতে বোঝায় পৃথিবীর সকল জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ। 
- পৃথিবীর সকল জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগ পানি রয়েছে সমুদ্রে (মহাসাগর, সাগর ও উপসাগর) এবং মাত্র ৩ ভাগ পানি রয়েছে নদী, হিমবাহ, ভূগর্ভস্থ, হ্রদ, মৃত্তিকা, বায়ুমণ্ডল ও জীবমণ্ডলে। 
- পৃথিবীর সমস্ত পানিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- লবণাক্ত ও মিঠা পানি। 
- পৃথিবীর সকল মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের জলরাশি লবণাক্ত এবং নদী, হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ পানি মিঠা পানির উৎস। 

- জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ ও শতকরা হার হচ্ছে- 
• সমুদ্র = ৯৭.২৫, 
• হিমবাহ = ২.০৫, 
• ভূগর্ভস্থ পানি = ০.৬৮, 
• হ্রদ = ০.০১, 
• মাটির আর্দ্রতা = ০.০০৫, 
• বায়ুমণ্ডল = ০.০০১, 
• নদী = ০.০০০১ এবং 
• জীবমণ্ডল = ০.০০০০৪ ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৫১.
বায়ুমণ্ডলে ওজোনের পরিমাণ কত?
  1. ০.০০০২%
  2. ০.০০০৩%
  3. ০.০০০৪%
  4. ০.০০০১%
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে গঠিত। 
- বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং অক্সিজেন (২০.৭১%), যা মোট উপাদানগুলোর প্রায় ৯৯%। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলো প্রায় একই রকম থাকে যা সমমণ্ডল (Homosphere) নামে পরিচিত। 
- আর ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন এই ৯০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে বায়ুমণ্ডলের যে অংশ রয়েছে সেখানে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত সমান থাকে না বলে তাকে বিষমমণ্ডল (Heterosphere) বলে। 

বায়ুমণ্ডলের উপাদানের পরিমাণ: 
উপাদানের নাম ⇒ শতকরা অংশ 
• নাইট্রোজেন (N2) ⇒ ৭৮.০২,
• অক্সিজেন (O2) ⇒ ২০.৭১, 
• আর্গন (Ar )⇒ o.৮০, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)⇒ ০.০৩, 
 ওজোন (O3) ⇒ ০.০০০১, 
• অন্যান্য গ্যাস ⇒ ০.০১৯৯, 
• জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১, 
• ধূলিকণা ও কনিক্স ⇒ ০.০১। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫২.
নিচের কোনটি ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্র?
  1. থার্মোমিটার
  2. পাইরোমিটার
  3. রিখটার স্কেল
  4. ব্যারোমিটার
ব্যাখ্যা
পরিমাপক যন্ত্র:

- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্র রিখটার স্কেল।
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ম্যানোমিটার।
- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র হাইগ্রোমিটার।
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার।
- তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র থার্মোমিটার।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৪৫৩.
নিচের কোনটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি?
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. এলএনজি
  3. জিওথার্মাল
  4. খনিজ তেল
ব্যাখ্যা
- যেসব শক্তি বা জ্বালানি পুনরায় ব্যবহার করা যায় কিংবা যে সব শক্তি বা জ্বালানির উৎস ব্যবহারে নিঃশেষ হয়ে যায় না তাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা শক্তি বলে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে রয়েছে:
- সৌরতাপ
- বায়ু
- জিওথার্মাল বা ভূ-তাপ শক্তি
- জলবিদ্যুৎ
- বায়োগ্যাস ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- খনিজ তেল, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস/এলএনজি হলো অনবায়নযোগ্য জ্বালানি। অর্থাৎ এসব জ্বালানির উৎস অফুরন্ত নয়।
(তথ্যসূত্রঃ ব্রিটানিকা)
৪৫৪.
ভরা কটাল প্রধানত কোন দুটি দিনে বেশি দেখা যায়? 
  1. অমাবস্যা ও পূর্ণিমা
  2. প্রতিপদ ও চতুর্দশী
  3. অষ্টমী ও একাদশী
  4. ষষ্ঠী ও নবমী
ব্যাখ্যা
জোয়ার-ভাটা: 
- মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়। 
- জোয়ার ভাটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
১. মুখ্য জোয়ার: 
- চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরূপ সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। 

২. গৌণ জোয়ার: 
- চাঁদ পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক থেকে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে। 

৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল: 
- অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে

৪. মরা কটাল: 
- চন্দ্র ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে তখন চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। এই ধরনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৫.
আগ্নেয়গিরিকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরিকে প্রধানত ৩ ভাগে ভাগ করা যায় । 
১) সক্রিয় আগ্নেয়গিরিঃ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হলো সেসব আগ্নেয়গিরি যেখান থেকে এখনো অগ্ন্যুৎপাত হয়। উদাহরণঃ ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি
২) সুপ্ত আগ্নেয়গিরিঃ সুপ্ত আগ্নেয়গিরি থেকে বহু বছর অগ্ন্যুৎপাত না হলেও যে কোনো সময় অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে। উদাহরণঃ জাপানের ফুজিয়ামা
৩) মৃত আগ্নেয়গিরিঃ মৃত আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা নেই। উদাহরণঃ পোপো আগ্নেয়গিরি

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪৫৬.
Photoelectric Effect ব্যাখ্যার জন্য কোন তত্ত্ব প্রস্তাব করা হয়েছে?
  1. কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  2. কণিকা তত্ত্ব
  3. তরঙ্গ তত্ত্ব
  4. তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• Photoelectric Effect বা আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যার জন্য কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাব করা হয়েছে। এই তত্ত্ব প্রথম দেন আলবার্ট আইনস্টাইন। কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী আলো ধারাবাহিক তরঙ্গ নয়, বরং শক্তির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্যাকেট বা কণা আকারে নির্গত হয়, যাদের ফোটন বলা হয়। যখন নির্দিষ্ট ন্যূনতম কম্পাঙ্কের আলো কোনো ধাতুর পৃষ্ঠে আপতিত হয়, তখন ফোটন ধাতুর ইলেকট্রনকে শক্তি সরবরাহ করে। পর্যাপ্ত শক্তি পেলে ইলেকট্রন ধাতুর পৃষ্ঠ ত্যাগ করে বেরিয়ে আসে। তরঙ্গ তত্ত্ব দিয়ে এই ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি, তাই কোয়ান্টাম তত্ত্বই সঠিক উত্তর।
 
কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। 
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। 
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়। 
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। 
- এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

কণা তত্ত্ব: 
- এই তত্ত্বানুসারে আলো বস্তু কণা দ্বারা গঠিত, উৎস থেকে যা সব দিকে নিঃসৃত হয় এবং সরলরেখায় চলে। 
- এই তত্ত্ব আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি বৈশিষ্টের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 

তরঙ্গ তত্ত্ব: 
- আলো তরঙ্গাকারে ইথার নামের একটি কাল্পনিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সব দিকে নির্গত হয়। 
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিভিন্নতার জন্য আলোর বর্ণ বিভিন্ন হয়। 
- এই তত্ত্ব আলোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা দিতে সমর্থ হলেও মাইকেলসন-মর্লির পরীক্ষায় ইথারের অস্তিত্ব নাই প্রমাণিত হওয়ায় এই তত্ত্ব বিতর্কিত হয়। 

তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব: 
- এই তত্ত্ব অনুসারে গতিশীল তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্রের দ্রুত পর্যাবৃত্ত পরিবর্তনের ফলে দৃশ্য অদৃশ্য শক্তির বিকিরণ হয় এবং অনুপ্রস্থ তরঙ্গাকারে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- এর দৃশ্য তরঙ্গই আলো। 
- এর জন্য কোন মাধ্যম প্রয়োজন হয় না। 
- এই তত্ত্ব ফটো তড়িৎ প্রতিক্রিয়া, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ বা ব্ল্যাক বডি রেডিয়েশনের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫৭.
রাসায়নিক বিচূর্নিভবন প্রক্রিয়ার উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. Hydration
  2. Exfoliation
  3. Hydrolysis
  4. Acid reaction
ব্যাখ্যা
- রাসায়নিক বিচূর্নিভবন প্রক্রিয়ার উদাহরণ নয়- Exfoliation, কারণ এটি একটি ভৌত বিচূর্নিভবন প্রক্রিয়ার উদাহরণ। 

বিচূর্নিভবন (Weathering): 

- প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা শিলার দুর্বল ও ক্ষয় হওয়ার প্রক্রিয়াকে বিচূর্নিভবন (Weathering) বলে। 
- প্রথমে ভূপৃষ্ঠের শিলা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে এজেন্ট দ্বারা অন্য স্থানে অপসারিত হয়। 
- তিন প্রক্রিয়ায় বিচূর্নিভবন হতে পারে। 
যেমন- 
১। ভৌত বিচুর্নিভবন (Physical Weathering): 
- এই প্রক্রিয়ায় শিলা বিভিন্ন ভৌত শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং খণ্ড বিখণ্ড হয়ে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়। 
- এক্ষেত্রে শিলার গঠনকারী খনিজসমূহের রাসায়নিক গঠন অক্ষুণ্ণ থাকে, শুধু শিলার আকার এবং আকৃতির পরিবর্তন হয়। 
যেমন- একটি বড় গ্রানাইট (এক ধরনের আগ্নেয় শিলা) পাথর ভৌত বিচূর্নিভবনের দ্বারা অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নুড়ি পাথরে পরিণত হয়ে থাকে। 
- বিভিন্ন ধরনের ভৌত বিচূর্নিভবন প্রক্রিয়ার মাঝে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- 
যেমন- 
• হিমজনিত প্রক্রিয়া (Frost action), 
• লবণ স্ফটিক গঠনজনিত (Salt crystal growth), 
• তাপের পরিবর্তন জনিত (Thermal Action) এবং 
এক্সফলিয়েসন (Exfoliation)। 

২। রাসায়নিক বিচূর্নিভবন (Chemical Weathering): 
- রাসায়নিক প্রক্রিয়া দ্বারা শিলা বিচূর্ণ হলে তা রাসায়নিক বিচূর্নিভবন সংঘটিত করে, এক্ষেত্রে শিলা শুধু আকারে নয়, রাসায়নিক গঠনেও পরিবর্তিত হয়। 
- বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বিচূর্নিভবন প্রক্রিয়ার মাঝে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- 
যেমন- 
• জারণ (Oxidation), 
পানিযোজন (Hydration)
আর্দ্রবিশ্লেষণ (Hydrolysis) এবং 
অম্লীয় বিক্রিয়াজনিত (Acid reaction)। 

৩। জৈব বিচূর্নিভবন (Biological Weathering): 
- উদ্ভিদ এবং প্রাণীর কার্যক্রমের দ্বারা অনেক ক্ষেত্রে শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হতে পারে। 
যেমন- কিছু কিছু উদ্ভিদ পাথরে জন্মাতে পারে। 
- এসব উদ্ভিদের শিকড় পাথরের গায়ে চাপ সৃষ্টি করে আরও গভীরে প্রবেশ করে এবং এর ফলে পাথরে ফাটলের সৃষ্টি হয়, সময়ের পরিক্রমায় সেই পাথর ক্ষয় হয়ে আরও ছোটো টুকরায় পরিণত হয়। 
- আমরা অনেকেই বিভিন্ন দালানের গায়ে বট বা পাকুর গাছ জন্মাতে দেখেছি, এসব গাছের শিকড়ের কারণে ভবনের দেয়ালে বা ছাদে ফাটল সৃষ্টি হয়। 
- ছোটো ছোটো অণুজীব দ্বারাও শিলা ক্ষয় হতে পারে, এক্ষেত্রে সে সকল অনুজীব থেকে নিঃসৃত রাসায়নিক শিলা ক্ষয়ে সাহায্য করে। 

উৎস: বিজ্ঞান (অনুসন্ধানী পাঠ), নবম শ্রেণি।
৪৫৮.
সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে শনি গ্রহের কতদিন সময় লাগে?
  1. ৭ মাস
  2. ১২ বছর
  3. ১৮ বছর
  4. ২৯.৪ বছর
ব্যাখ্যা
শনি গ্রহ:
- শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- সূর্য থেকে এর দূরত্ব ১৪৩ কোটি কিলোমিটার।
- শনি গ্রহ উজ্জ্বল বলয় দ্বারা বেষ্টিত এবং এর ভূ-ত্বক বরফে ঢাকা।
- সূর্যের চারদিকে শনির একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২৯.৪ বছর।
- গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৯ গুণ বড়।
- এর উপগ্রহ রয়েছে ১৪৬টি।

উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৯.
ট্রানজিস্টরে কয়টি টার্মিনাল থাকে?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টর:
- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে। যথা: এমিটার, বেস এবং কালেক্টর।
- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)।
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়।
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে।
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
- বিবর্ধক হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক।
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে।
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬০.
রঙিন টেলিভিশন হতে ক্ষতিকর কোন রশ্মি বের হয়?
  1. ক) মৃদু রঞ্জন রশ্মি
  2. খ) বিটা রশ্মি
  3. গ) গামা রশ্মি
  4. ঘ) কসমিক রশ্মি
ব্যাখ্যা
রঙ্গিন টেলিভিশন হতে ক্ষতিকর রঞ্জন রশ্মি (X-Ray) বের হয়।
Source: Massachusetts Institute of Technology (MIT)।

Gamma rays are often considered the most dangerous type of radiation to living matter.
Source: energy.chem.libretexts.org

গামা রশ্মি চার্জ নিরপেক্ষ অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ। এই রশ্মি আলফা ও বিটা রশ্মির চেয়ে এই রশ্মির ভেদন ক্ষমতা খুব বেশি, স্বল্প আয়নায়ন ক্ষমতা সম্পন্ন, এই রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে ও ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এর কোন ভর নেই।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৪৬১.
নিচের কোন কার্যক্রমটি সাড়াদান ব্যবস্থাপনার অন্তর্ভূক্ত?
  1. তল্লাশি ও উদ্ধার
  2. ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা
  3. নিরাপদ স্থানে অপসারণ
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- ’দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে ও সংঘটনের পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।

সাড়াদান (Response):
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।

- সাড়াদানের আওতাভূক্ত কার্যক্রমগুলো হলো:
• নিরাপদ স্থানে অপসারণ,
• তল্লাশি ও উদ্ধার,
• ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং
• ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৬২.
সাধারণত সাইক্লোন তৈরি হতে সাগরের তাপমাত্রা কত হওয়া প্রয়োজন?
  1. ক) ২০° ফারেনহাইটের বেশি
  2. খ) ২৭° সেলসিয়াসের বেশি
  3. গ) ১৫ কেলভিনের বেশি
  4. ঘ) ৩৬° সেলসিয়াসের বেশি
ব্যাখ্যা

নিম্নচাপ ও উচ্চ তাপমাত্রা সাইক্লোন সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত সাইক্লোন তৈরিতে সাগরের তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসের বেশি হওয়া প্রয়োজন। দুর্ভাগ্যবশত বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারা বছরই এই তাপমাত্রার চেয়ে বেশি থাকে।

সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৪৬৩.
পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে দূরত্ব কোন এককে মাপা হয়?
  1. কিলোমিটার
  2. নটিক্যাল মাইল
  3. আলোক বর্ষ
  4. আলোক মাইল
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৬৪.
কোন বিজ্ঞান শাখা মহাবিশ্বের সৃষ্টি, গঠন ও বিবর্তন নিয়ে গবেষণা করে? 
  1. Astronomy
  2. Cosmology
  3. Geology
  4. Meteorology
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য: 
- মহাবিশ্ব কেন সৃষ্টি হলো, কিভাবে সৃষ্টি হলো, কেনইবা এটি টিকে আছে এ সম্পর্কে আমাদের কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। তবে এটি কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে এর বিবর্তনের ধারা সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা হয়েছে। 
- রাতের আকাশে অসংখ্য তারা বা নক্ষত্র দেখতে পাওয়া যায়, এমন অসংখ্য নক্ষত্র নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি গ্যালাক্সি। 
- সপ্তদশ শতাব্দীতে টেলিস্কোপের ব্যবহার থেকে জানা যায়, সূর্য ছায়াপথ গ্যালাক্সির (Milky way) অন্যান্য নক্ষত্রের মতোই একটি সাধারণ নক্ষত্র। তখন মনে করা হতো, সূর্য হচ্ছে গ্যালাক্সির কেন্দ্রবিন্দু। 
- বিংশ শতাব্দীতে এসে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, সূর্যের অবস্থান গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে অনেক অনেক দূরে। 
- এরূপ কোটি কোটি গ্যালাক্সি নিয়ে গঠিত হয়েছে এ মহাবিশ্ব। 
- ছায়াপথ গ্যালাক্সিতে নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় 1011 । মহাবিশ্বে এরকম প্রায় 1011 সংখ্যক গ্যালাক্সি রয়েছে। আর প্রত্যেকটি গ্যালাক্সিতে রয়েছে গ্যালাক্সির প্রায় সমসংখ্যক নক্ষত্র। 

- পৃথিবী মহাবিশ্বের তুলনায় অতি ক্ষুদ্র। পৃথিবী থেকে মহাকাশে নক্ষত্রদের দেখতে কাছাকাছি মনে হলেও এদের পরস্পরের মধ্যে রয়েছে অনেক আলোক বর্ষের ব্যবধান। 
- সভ্যতার সেই শুরু হতেই বিজ্ঞানীগণ এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য এবং পরিণতি সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা পোষণ করে আসছেন। এসব ধারণা এবং বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে বিজ্ঞানের একটি শাখা সৃষ্টি হয়েছে, যা কসমোলজি (Cosmology) বা 'মহাজাগতিক বিজ্ঞান' নামে পরিচিত। 
- বিংশ শতাব্দীতে দুই জন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিকের দ্বারা দুটি পরীক্ষা সংঘটিত হয়, যেগুলোর মাধ্যমে মহাবিশ্ব সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ধারণা প্রায় সকল পদার্থ বিজ্ঞানীদের মাঝে গৃহীত হয়েছে। পরীক্ষা দুটি হলো- 
১। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ এবং 
২। মহাজাগতিক পশ্চাৎপট বিকিরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৫.
সাধারণত কত তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়?
  1. ক) ৩০০-৩৮০ ন্যানোমিটার
  2. খ) ৩৫০-৪০০ ন্যানোমিটার
  3. গ) ৪০০-৪৮০ ন্যানোমিটার
  4. ঘ) ৪৫০-৫০০ ন্যানোমিটার
ব্যাখ্যা
লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতেই সালোকসংশ্লেষ ভালো হয় আর সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষ ভালো হয় না। একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলোর পরিমাণ বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হারও বেড়ে যায়। কিন্তু আলোর পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরোফিল উৎপাদন কম হয়। ফলে সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়। সাধারনত ৪০০-৪৮০ ন্যানোমিটার এবং ৬৮০ ন্যানোমিটার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬৬.
নিম্নের কোনটির সাহায্যে গ্রীনিচ সময়ের পার্থক্য নির্ণয় করা যায়?
  1. স্ফিগমোমিটার
  2. হাইগ্রোমিটার
  3. সেক্সট্যান্ট
  4. ক্রনোমিটার
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমা নির্ণয়:
১। যেহেতু ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য দুটি স্থানের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট।
- এ কারণে স্থান দুটির সময়ের পার্থক্য যা হয় তাকে ৪ দিয়ে ভাগ করে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।

২। যে কোনো স্থানের সময় গ্রীনিচের সময় অপেক্ষা অধিক হলে বুঝতে হবে স্থানটি গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত এবং কম হলে স্থানটি গ্রীনিচের পশ্চিমে অবস্থিত।
- গ্রীনিচের দ্রাঘিমাকে ০° ধরে সময়ের পার্থক্য অনুযায়ী অন্যান্য স্থানের দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।
- ক্রনোমিটার নামক ঘড়ি গ্রীনিচ সময় অনুসারে চলে।
- তাই এই ঘড়ি দেখে কোনো স্থানের স্থানীয় সময়ের সাথে গ্রীনিচ সময়ের পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬৭.
মৌসুমি জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী? 
  1. বায়ুর তাপমাত্রা সব সময় সমান থাকে
  2. বায়ুর চাপ সবসময় স্থির থাকে
  3. কোনো ঋতুতে বৃষ্টি হয় না
  4. ঋতু পরিবর্তনের সাথে বায়ুর প্রবাহ দিক পরিবর্তন হয়
ব্যাখ্যা
মৌসুমি জলবায়ু: 
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ “মওসুম” থেকে যার অর্থ ঋতু। 
- ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয় বলে একে মৌসুমি জলবায়ু বলা হয়। 
- কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির নিকটবর্তী অঞ্চল জুড়ে যে জলবায়ু বিস্তৃত তা মৌসুমি জলবায়ু। 

মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য: 
- গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার উপর দিয়ে লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং এই সময় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত প্রভৃতি স্থানে বায়ুর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।  
- দক্ষিণ গোলার্ধের উচ্চচাপ বলয় থেকে আসা দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ুএশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যায়। 
- এই বায়ুকেই বলা হয় উত্তর গোলার্ধের মৌসুমি বায়ু। 
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলা হয়, কারণ নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ডানদিকে বেঁকে দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ু দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে উত্তর পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৮.
নিচের কোনটি গ্রিন হাউস গ্যাস নয়?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. নাইট্রাস অক্সাইড
  3. মিথেন
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) নাইট্রোজেন

- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো সেই গ্যাস যারা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তাপ ধরে রেখে গ্রিন হাউস প্রভাব সৃষ্টি করে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে।
- প্রধান গ্রিন হাউস গ্যাসগুলো হলো:
⋅ কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)
⋅ মিথেন (CH4)
⋅ নাইট্রাস অক্সাইড (N2O)
⋅ ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC)
⋅ ওজোন (O3) ইত্যাদি

অন্যদিকে,
- নাইট্রোজেন (N2) এবং অক্সিজেন (O2) বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকলেও (নাইট্রোজেন ≈ ৭৮% এবং অক্সিজেন ≈ ২১%) এরা গ্রিন হাউস গ্যাস নয়। এদের তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা খুবই কম, তাই এরা গ্রিন হাউস প্রভাব সৃষ্টি করে না।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৪৬৯.
সূর্য কোন ধরনের পদার্থ দ্বারা তৈরী?
  1. ক) কঠিন
  2. খ) তরল
  3. গ) গ্যাসীয়
  4. ঘ) প্লাজমা
ব্যাখ্যা
আপনার বিবেচনা থেকে মূল পরীক্ষায় উত্তর করতে পারেন। আমরা শুধু তথ্যগুলো দিয়ে দিচ্ছি।

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বই সহ নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন রেফারেন্স বই অনুসারে, সূর্য তৈরি হয়েছে হাইড্রোজেন (৯১%), হিলিয়াম (৮.৭%) সহ আরো বেশ কয়েকটি গ্যাসের সমন্বয়ে। কিন্তু বিভিন্ন বিক্রিয়ার মাধ্যমে সূর্যের মধ্যের প্রচুর তাপ সৃষ্টি হওয়াও গ্যাস গুলো প্লাজমাতে রূপান্তরিত হয়।
প্রশ্নকর্তা যেহেতু একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বই থেকে প্রশ্নটি করেছেন। তাই উৎস অনুযায়ী সঠিক উত্তর “গ্যাসীয় পদার্থ”।
লক্ষ্য করুন, নাসার ওয়েবসাইটেও প্রায় একই ধরনের কথা বলা হয়েছে। সূর্য গ্যাসীয় পদার্থ দিয়ে তৈরী। তবে গ্যাসীয় পদার্থগুলো মূলত প্লাজমা যা পদার্থের চতুর্থ অবস্থা।
The Sun is our nearest star. It is, as all stars are, a hot ball of gas made up mostly of Hydrogen. The Sun is so hot that most of the gas is actually plasma, the fourth state of matter. Source: https://www.nasa.gov/

৪৭০.
কোয়াসারের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি নয়? 
  1. সৌরজগতের চেয়ে ছোট 
  2. দেখতে নক্ষত্রের মতো 
  3. লোহিত সরণ খুব বেশি 
  4. তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস
ব্যাখ্যা

- কোয়াসারের প্রধান বৈশিষ্ট্য নয়- সৌরজগতের চেয়ে ছোট। 

কোয়াসার (Quasar): 

- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়সার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি। অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি আমাদের সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান বঢ্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 
সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস বঢ্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। 
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উলেখযোগ্য হলো- কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭১.
সৌরজগতের উৎপত্তি আজ থেকে কত বছর পুর্বে সংগঠিত হয়েছে?
  1. ক) ৪.৫ থেকে ৫ বিলিয়ন বছর
  2. খ) ৮.৫ বিলিয়ন বছর
  3. গ) ৯ বিলিয়ন বছর
  4. ঘ) ১৩.৮ বিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা
সৌরজগতের উৎপত্তি বিগ ব্যাং এর প্রায় ৮.৫ থেকে ৯ বিলিয়ন বছর পরে এবং আজ থেকে ৪.৫ থেকে ৫ বিলিয়ন বছর পূর্বে৷ গত ১৩.৮ বিলিয়ন বছর ধরে তারকার জন্মমৃত্যু চক্রাকারে চলে আসছে।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৪৭২.
NASA-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. National Aeronautics and Space Agency
  2. North American Space Administration
  3. National Aeronautics and Space Administration
  4. National Aerospace Space Agency
ব্যাখ্যা

NASA:
- NASA মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।
- NASA-এর পূর্ণরূপ হলো: National Aeronautics and Space Administration.
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৯ জুলাই, ১৯৫৮।
- বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু: ১ অক্টোবর, ১৯৫৮।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডি.সি, যুক্তরাষ্ট্র।
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা হিসেবে মহাকাশ গবেষণা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি উন্নয়ন, এবং মহাকাশ অনুসন্ধানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করে।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।

৪৭৩.
ক্যান্সার চিকিৎসায় যে বিকিরণ ব্যবহার করা হয় তা হলো ---
  1. ক) আলফা রে (Alpha rays)
  2. খ) বিটা রে (Beta rays)
  3. গ) গামা রে (Gama rays)
  4. ঘ) এক্স রে (X-rays)
ব্যাখ্যা
চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের প্রধানত দু’ধরনের ব্যবহার আছে।
যেমন -
ক) রোগ নিরাময়ে ও
খ) কোন রোগ বা রোগাক্রান্ত স্থান নির্ণয়।

১. শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য Co - 60 থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।

২. থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 ( 131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে।

৩. শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leukemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-32 ( 32P ) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।

৪. দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99Tc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

৫. প্লুটোনিয়াম -২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বই (উন্মুক্ত)।
৪৭৪.
নিচের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি?
  1. ক) ভূ-তাপ
  2. খ) পারমাণবিক শক্তি
  3. গ) খনিজ তেল
  4. ঘ) জলবিদ্যুৎ
ব্যাখ্যা
- জীবাশ্ম জ্বালানি হল এক প্রকার জ্বালানি যা বায়ুর অনুপস্থিতিতে অবাত পচন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়।
- মৃত গাছের পাতা, মৃতদেহ ইত্যাদি জীবনের উপাদান হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে এ জ্বালানি তৈরি হয়।

বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে রয়েছে:
- খনিজ তেল
- কয়লা
- প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি।

- জীবাশ্ম জ্বালানিসমূহ অনবায়নযোগ্য। অর্থাৎ এসব জ্বালানি পুনরায় ব্যবহার করা যায় না এবং এদের মজুদ সীমিত।

অন্যদিকে,
পারমাণবিক শক্তি, জিও থার্মাল বা ভূ-তাপ শক্তি, জলবিদ্যুৎ হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক)
৪৭৫.
What is the primary greenhouse gas responsible for long-term global warming?
  1. Methane (CH4)
  2. Nitrous oxide (N₂O)
  3. Carbon dioxide (CO2)
  4. Ozone (O3)
ব্যাখ্যা

⇒ কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নে সর্বাধিক ভূমিকা রাখে।

গ্রিনহাউস গ্যাস:
- যেসব গ্যাস পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থেকে তাপ শোষণ করে এবং তা পুনরায় বিকিরণ করে, ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় সেসব গ্যাস কে গ্রিনহাউস গ্যাস বলা হয়।
- গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির মধ্যে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO) হলো অন্যতম প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস।
- জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। প্রতি বছর জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে ২১.৩ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়।
- এছাড়া এটি বন উজাড়ের কারণে ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত গ্যাসের কারণেও সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র - মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ও ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

৪৭৬.
নিচের কোন পদ্ধতিতে দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় করা হয়?
  1. সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে
  2. স্থানীয় সময়ের পার্থক্য দ্বারা
  3. ধ্রুবতারার সাহায্যে
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ের পদ্ধতিঃ
অক্ষাংশ নির্ণয় করা হয়: (উন্নতি কোণ ব্যবহার করে)
১। সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে 
২। ধ্রুবতারার সাহায্যে 

দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় করা হয়: (সময়ের পার্থক্য ব্যবহার করে)
১। স্থানীয় সময়ের পার্থক্য দ্বারা
২। গ্রিনিচের সময় দ্বারা

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৭৭.
প্রক্সিমা সেন্টারাই হচ্ছে সূর্যের নিকটতম -
  1. গ্রহ
  2. নক্ষত্র
  3. ধূমকেতু
  4. কৃষ্ণগহ্বর
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)।
- পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৭৮.
পৃথিবীর প্রায় কত শতাংশ বারিমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) এক-চতুর্থাংশ
  2. খ) দুই-চতুর্থাংশ
  3. গ) দুই-্তৃতীয়াংশ
  4. ঘ) তিন-চতুর্থাংশ
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বারিমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত।
- বারিমন্ডল হলো ভূ-ত্বকের অবনমিত অংশে অবস্থিত বিশাল পানিরাশি।
- এই বিশাল পানিরাশির সবচেয়ে বড় আধার মহাসাগর এবং সাগর।
- এছাড়া রয়েছে অসংখ্য নদ-নদী, হ্রদ, খাল, বিল ও জলাশয়। 

বারিমণ্ডলের জলের পরিমাণ ভিত্তিক বন্টনঃ
• সমুদ্র (৯৭.২৫%),
• হিমবাহ (২.০৫%),
• ভূগর্ভস্থ পানি (০.৬৮%),
• হৃদ (০.০১%),
• মাটির আর্দ্রতা (০.০০৫%),
• বায়ুমণ্ডল (০.০০১%),
• নদী(০.০০০১%),
• জীবমণ্ডল (০.০০০০৪%)।

তথ্যসূত্র:-
ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ভূগোল প্রথম পত্র , এইচ এস সি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭৯.
বৃহস্পতি গ্রহের বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসের অস্তিত্ব নেই?
  1. হাইড্রোজেন
  2. মিথেন
  3. হিলিয়াম
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
⇒ বৃহস্পতি গ্রহের বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের অস্তিত্ব নেই।

বৃহস্পতি (Jupiter):
- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বলে একে গ্রহরাজ বলা হয়।
- পৃথিবীর তুলনায় বৃহস্পতি প্রায় ১৩০০ জন বড়।
- সূর্য থেকে গড় দূরত্ব ৭৭ কোটি কিলোমিটার।
- বৃহস্পতির সূর্যের চারিদিকে একবার আবর্তন করতে সময় লাগে প্রায় ১২ বছর।
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলে হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া, মিথেন এবং হিলিয়াম রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮০.
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের অবস্থান থেকে পৃথিবীর দূরত্ব কত?
  1. ২৬,০০০ আলোকবর্ষ
  2. ৩১,০০০ আলোকবর্ষ
  3. ৩৯,০০০ আলোকবর্ষ
  4. ৪৩,০০০ আলোকবর্ষ
ব্যাখ্যা
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি:
- পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ।
- এটি মাত্র এক লক্ষ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি একটি স্পাইরাল বা সর্পিল গ্যালাক্সি।
- আমাদের সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় প্রায় ২৪০ মিলিয়ন বছর।
- মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রটি আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ২৬,০০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
- অর্থাৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে পৃথিবীতে আলো এসে পৌঁছাতে সময় লাগে ২৬ হাজার বছর।
- গ্যালাক্সির কেন্দ্রটি অত্যন্ত উজ্জ্বল। এর বেশির ভাগ অংশই ঢাকা পড়ে আছে হাইড্রোজেন গ্যাসে।

তথ্যসূত্র - Space.com & NASA (.gov).
৪৮১.
গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত দ্রাঘিমারেখাটি কোন সালে মূল মধ্যরেখা হিসেবে চিহ্নিত হয়?
  1. ১৬৮৪
  2. ১৭৮৪
  3. ১৮৮৪
  4. ১৯৮৪
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমারেখাটি আর্ন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অংকিত এই রেখা স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।
- তারিখ, সময় ও সাপ্তাহিক দিন নির্ধারণের এই সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন-এ 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত এক আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে ‘আর্ন্তর্জাতিক তারিখ রেখা' হিসাবে স্থির করা হয়। 
- আর্ন্তর্জাতিক তারিখ রেখাটি প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয় এবং রেখাটি সাইবেরিয়ার উত্তর-পূর্বাংশ এবং এ্যালিউশয়ান, ফিজি ও চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জের স্থলভাগকে এড়িয়ে ১১° পূর্ব দিয়ে বেঁকে এবং বেরিং প্রণালিতে ১২° পূর্ব দিকে বেঁকে কল্পনা করা হয়।
- মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্বে বা পশ্চিমে অগ্রসর হলে প্রতিটি দ্রাঘিমার জন্য ৪ মিনিট সময়ের ব্যবধান ঘটে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮২.
'ফ্যাক্স' শব্দটির পূর্ণরূপ কোনটি? 
  1. Fascimili
  2. Faximili
  3. Facsimile
  4. Faximile
ব্যাখ্যা
ফ্যাক্স (Fax): 
- বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার বেইন ১৮৪২ সালে ফ্যাক্স মেশিন আবিস্কার করেন। 
- ফ্যাক্সের পুরো নাম হলো ফ্যাক্সিমিল (Facsimile)। 
- কোনো ডকুমেন্টকে হুবহু কপি করে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্রাপকের কাছে পাঠাতে ফ্যাক্স ব্যবহার করা হয়। 
- প্রেরক যে ডকুমেন্ট যেমন দলিল, সার্টিফিকেট, ছবি, ডায়াগ্রাম ইত্যাদি প্রাপকের কাছে পাঠাতে চান সে ডকুমেন্ট তার ফ্যাক্স মেশিনের সাহায্যে হুবহু কপি তৎক্ষণাৎ প্রাপকের ফ্যাক্স মেশিনে পাঠাতে পারেন এবং প্রাপক তার মেশিন থেকে সেই ডকুমেন্টের প্রিন্ট কপি পেয়ে যান। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৩.
বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপাদান কোনটি? 
  1. অক্সিজেন 
  2. আর্গন 
  3. নাইট্রোজেন 
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড 
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে গঠিত। 
- বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং অক্সিজেন (২০.৭১%), যা মোট উপাদানগুলোর প্রায় ৯৯%। অবশিষ্ট ১% অন্যান্য উপাদান। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলো প্রায় একই রকম থাকে যা সমমণ্ডল (Homosphere) নামে পরিচিত। 
- আর ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন এই ৯০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে বায়ুমণ্ডলের যে অংশ রয়েছে সেখানে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত সমান থাকে না বলে তাকে বিষমমণ্ডল (Heterosphere) বলে। 
 
বায়ুমণ্ডলের উপাদান ও এর শতকরা সংযুক্তি: 
১. নাইট্রোজেন (N2) ⇒ ৭৮.০২%, 
২. অক্সিজেন (O2) ⇒ ২০.৭১%
৩. আর্গন (Ar) ⇒ o.৮০%, 
৪. কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) ⇒ ০.০৩%, 
৫. ওজোন (O3) ⇒ ০.০০০১%, 
৬. অন্যান্য গ্যাস ⇒ ০.০১৯৯%, 
৭. জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১% এবং 
৮. ধূলিকণা ও কনিক্স ⇒ ০.০১%। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮৪.
ভূ-পৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়?
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. কার্বন
ব্যাখ্যা
ভূ-পৃষ্ঠের গঠন: 
- ভূ-পৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক। 
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম। 
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন। 
- ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ- ৪২.৭%, 
- সিলিকনের পরিমাণ- ২৭.৭%, 
- অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ- ৮.১%, 
- লোহা বা আয়রনের পরিমাণ- ৫.১%, 
- ক্যালসিয়ামের পরিমাণ- ৩.৭%, 
- সোডিয়ামের পরিমাণ- ২.৮%, 
- পটাসিয়ামের পরিমাণ- ২.৬% এবং 
- ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ- ২.১%। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৫.
বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা প্রায় কত ডিগ্রি সেলসিয়াস? 
  1. ৩০° সেলসিয়াস
  2. ২৮° সেলসিয়াস
  3. ৩২° সেলসিয়াস
  4. ৩৯° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি সমভাবাপন্ন।
- কর্কটক্রান্তি রেখা এ দেশের প্রায় মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করায় এখানে ক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজমান।
- তবে বিভিন্ন ঋতুর আবির্ভাব থাকায় এদেশের সামগ্রিক জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমিন জলবায়ু বলা হয়।
-  শীতকালে তাপমাত্রা ৭০ সেলসিয়াস পর্যন্ত নামে অপর দিকে গ্রীস্মকালে কখনও কখনও তাপমাত্রা ৪০° সেলসিয়াসের উপরেও উঠে।
- কিন্তু বার্ষিক গড় তাপমাত্রা কম বেশী ২৪° সেলসিয়াস।
- কিন্তু গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮° সেলসিয়াস।
- শীত ও গ্রীষ্মের উত্তাপের পার্থক্য খুবই কম। এ মাসের গড় তাপমাত্রা থাকে ১৭° সেলিসিয়াসের কাছাকাছি।
- মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টি হয়।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় সিলেট অঞ্চলে।
- উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল এদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

উৎস: ভূগোল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮৬.
একটি মোবাইল ফোনের ব্যাটারির ক্ষমতা কোন এককে প্রকাশ করা হয়?
  1. Ah
  2. mAh
  3. mVA
  4. mW
ব্যাখ্যা
একটি মোবাইল ফোনের ব্যাটারির ক্ষমতা mAh এককে প্রকাশ করা হয়। 
 
- A common way to measure battery (including cellular) capacity is through mAH.
- It stands for a milliampere hour, and it measure the rate of electron flow through the electrical conductor. In other words, it measures the amount of power your phone battery or power bank can hold.
For example, if a battery has 250 mAH capacity and provides 2 mA average current to a load, in theory, the battery will last 125 hours.
 
উৎস: sciencedirect.com/
৪৮৭.
একটি তরঙ্গের পিরিয়ড 20 milisecond। এটার frequency হচ্ছে-
  1. 50Hz
  2. 100Hz
  3. 60Hz
  4. 314Hz
ব্যাখ্যা
• যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন কোনো জড় মাধ্যমের একস্থান থেকে অন্যস্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলোকে স্থানান্তরিত করে না তাকে তরঙ্গ (Wave) বলে।
- তরঙ্গ দুই প্রকার। যথা:
১) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
২) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।

কম্পাঙ্ক (Frequency):
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে।
কম্পাঙ্ককে সাধারণত f দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
কম্পাঙ্কের একক হার্জ। সংক্ষেপে লেখা হয়, Hz.
1 Hz= 1s-1

পর্যায়কাল বা দোলনকাল (Period) :
তরঙ্গের উপর অবস্থিত কোনাে কম্পনশীল কণার একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল T বলে।

কোনো তরঙ্গের কম্পাংক f এবং পর্যায়কাল T হলে এদের মধ্যে সম্পর্ক:  f = 1/T

এখানে,
T = 20 milisecond = 20 × 10- 3 second

∴ f = 1/(20 × 10- 3) Hz
= 50 Hz
৪৮৮.
মৌসুমি বায়ু সৃষ্টির মূল কারন -
  1. ক) বায়ুচাপ
  2. খ) আহ্নিক গতি
  3. গ) সূর্যের উত্তর আয়ন ও দক্ষিন আয়ন
  4. ঘ) সমুদ্রস্রোত
ব্যাখ্যা
- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে মৌসুমি বায়ু বলে।
- সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে শীত-গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য ঘটে।
- সেজন্য মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়।
- মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বত্র মৌসুমি বায়ু দ্বারা বৃষ্টিপাত ঘটে।

তথ্যসুত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৯.
বায়ুমণ্ডলের ওজন স্তর অবক্ষয়ের জন্য কোন গ্যাসের ভূমিকা সর্বোচ্চ?
  1. সিএফসি
  2. মিথেন
  3. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
 
বায়ুমণ্ডলের ওজন স্তর অবক্ষয়ের জন্য সিএফসি গ্যাসের ভূমিকা সর্বোচ্চ। 
- CFC-এর পূর্ণরূপ হলো ক্লোরো-ফ্লুরো-কার্বন। মূলত মিথেন বা ইথেনের ক্লোরিন ও ফ্লোরিনের জাতকসমূহকে সিএফসি বলা হয়।
- গন্ধহীন, অদাহ্য, অবিষাক্ত এবং নিম্ন গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট এসব যৌগের বাণিজ্যিক নাম ফ্রেয়ন।

সিএফসি (CFC) এর ব্যবহার- 
১। কীটনাশক ও পােকামাকড় দমনের জন্য বিষাক্ত দ্রবণ তৈরিতে দ্রাবক হিসাবে CFC ব্যবহার করা হয়।
২। শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ইনহেলার, মেডিক্যাল স্প্রে-প্রভূতি ক্ষেত্রে CFC ব্যবহার করা হয়।
৪। সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করার কাজে CFC ব্যবহার করা হয়।
৫। CFC এর ফুটনাংক কম হওয়ায় বিভিন্ন ধরণের রেফ্রিজারেশন এবং শীতাতাপ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হয়।
৬। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে CFC যৌগের ব্যবহার রয়েছে।

সূত্র: United States Environmental Protection Agency [লিঙ্ক]
৪৯০.
কোন্ গ্যাস গ্রিন হাউস ইফেক্ট ঘটায়?
  1. হাইড্রোজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. মিথেন
ব্যাখ্যা

- অপশনে উল্লিখিত গ্যাসসমূহের মধ্যে মিথেন গ্যাস গ্রিন হাউস ইফেক্ট ঘটায়। 

গ্রিন হাউজ প্রভাব: 

- শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।
- গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect) বলে।
- গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট কথাটি সর্বপ্রথম সোভানটে আরহেনিয়াস প্রথম ব্যবহার করেন।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC) ইত্যাদি। 

- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান নিয়ামক হিসেবে নিম্নে গ্রিন হাউস গ্যাস সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- 
গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ (Green House Gases): 
১। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2): 
- কার্বন ডাই-অক্সাইড বর্ণহীন, সামান্য গন্ধযুক্ত কার্বন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত একটি গ্যাস। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ০.০৩ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড। জীবের প্রশ্বাসের সাথে কার্বন ডাই-অক্সাইড, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে, উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহের পচন, মোটরযান ও শিল্প কারখানার জ্বালানি (কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তৈল) পোড়ানো থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে যোগ হয়। বর্তমানে তরল ও কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড রেফ্রিজারেন্ট হিসেবে আইসক্রিম, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। সবুজ উদ্ভিদ এর খাদ্য প্রস্তুতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও বন উজাড় বৃদ্ধি পাওয়ায়, অধিক হারে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার, মোটরযানের সংখ্যা প্রভৃতি বৃদ্ধির কারণে বায়ুমণ্ডলে বিশ্বব্যাপী কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করছে। 

২। মিথেন (CH4): 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন। এছাড়াও জলাভূমিতে পানির নিচে পানা পচনের মাধ্যমে, ধানের বর্জ্য অবশিষ্টাংশের পচন থেকে মিথেন পাওয়া যায়। তাপ ধারণ ক্ষমতার ক্ষেত্রে মিথেন কার্বন ডাই-অক্সাইডের চাইতে ২০ গুণ বেশি তাপ ধারণ করে। 

৩। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC): 
- সিএফসি সাধারণত বিষমুক্ত, নিষ্ক্রিয় এবং ফ্লোরিন ও কার্বনের সমন্বয়ে গঠিত যৌগ। সিএফসি হিমায়নে (ফ্রিজ, এসি) ও স্প্রে-ক্যানে (অ্যারেসোল), মাইক্রো ইলেকট্রিক সার্কিট ও প্লাস্টিক ফোমে ব্যবহৃত হয়। 

৪। নাইট্রাস অক্সাইড (N2O): 
- অক্সিজেনের সাথে নাইট্রোজেন যুক্ত হয়ে নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ তৈরি করে। এটিও বর্ণহীন, সামান্য মিষ্টিগন্ধযুক্ত। এই গ্যাসের উৎসসমূহ হলো মোটরযান, শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার, কারখানা। 

অন্যদিকে,
- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন গ্রীন হাউজ গ্যাস নয়, এই গ্যাসগুলো বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে। 
- হাইড্রোজেন সবচেয়ে হালকা গ্যাস যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় একটি রংহীন, গন্ধহীন ও স্বাদহীন গ্যাস।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯১.
নাসা কোন দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা?
  1. ক) জাপান।
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্র
  3. গ) যুক্তরাজ্য
  4. ঘ) রাশিয়া
ব্যাখ্যা
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার নাম নাসা (NASA)। ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংস্থার সদর দফতর ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত।
৪৯২.
বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদানগুলোর শতকরা পরিমাণের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কোনটি?
  1. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. নাইট্রোজেন
  3. আর্গন
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
• বায়ুমণ্ডল:
- বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere.
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল।
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয়বাষ্পের সংমিশ্রনে গঠিত।

• বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদানগুলোর শতকরা পরিমাণ:
- নাইট্রোজেন ৭৮.০১%, [সর্বোচ্চ]
- অক্সিজেন ২০.৭১%, [দ্বিতীয় সর্বোচ্চ]
- আর্গন ০.৮০%,
- জলীয়বাষ্প ০.৪১%,
- কার্বন-ডাই-অক্সাইড ০.০৩% ইত্যাদি।

উৎস:
১. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২. ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।।
৪৯৩.
সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা কত ডিগ্রীর বেশি হলে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়? 
  1. ক) ২২.৫ 
  2. খ) ২৫.৫ 
  3. গ) ২৬.৫ 
  4. ঘ) ২৮.৫ 
ব্যাখ্যা
বায়ুর নিম্নচাপ যে ঝড়কে জন্ম দেয় তাই হলো ঘূর্ণিঝড়। সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২৬  ডিগ্রির বেশী হলেই সেই অঞ্চলে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে সমুদ্রের জল বাষ্পিভূত হয়ে উপরে উঠে যায় এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের উপর একটি বায়ুশূন্য স্থানের সৃষ্টি হয়। সেই শূন্যস্থানকে পূরণ করতে পারিপার্শ্বিক শীতল ও ভারী বাতাস সেই অঞ্চলে ছুটে আসে। এই দ্রুত ছুটে আসা ঠান্ডা বাতাস ঘূর্ণিঝড়ের জন্ম দেয়।

Source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
৪৯৪.
পৃথিবীর ভূ-অভ্যন্তরের কোন স্তরকে সিমা (Sima) বলা হয়?
  1. ক) গুরুমন্ডল
  2. খ) কেন্দ্রমন্ডল
  3. গ) অশ্মমন্ডল
  4. ঘ) তাপমন্ডল
ব্যাখ্যা
গুরুমন্ডল (Bryosphere)
- কেন্দ্রমন্ডলের বহি:ভাগ থেকে ভূ-ত্বকের নিম্নস্তর পর্যন্তপ্রায় ৭০০-২৯০০ কিলোমিটার বিস্তৃত স্তরকে গুরুমন্ডল বলে।
- এটি মূলত ব্যাসল্ট, শিলা, সিলিকা, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা, কার্বন ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ দ্বারা গঠিত।
- তবে সিলিকা ও ম্যাগনেসিয়াম উপাদানের আধিক্যের কারণে এটি সিমা(Sima) নামে পরিচিত।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৫.
আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে নিচের কোনটি ধ্রুব?
  1. ক) স্থান
  2. খ) বস্তুর ভর
  3. গ) সময়
  4. ঘ) শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক তত্ত্ব
- আপেক্ষিক তত্ত্ব পদার্থবিজ্ঞানে এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী তত্ত্ব। এই তত্ত্বের প্রবর্তক আলবার্ট আইনস্টাইন।
- আপেক্ষিক তত্ত্বের মতে স্থান, কাল ও জড় বা ভর পরম কিছু নয়, আপেক্ষিক।
- বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এই তত্ত্বের সূচনা করেন ১৯০৫ সালে বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব (special theory of relativity) প্রবর্তনের মাধ্যমে।
- ভরের আপেক্ষিকতা ও ভরকে শক্তিতে রূপান্তর, এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করে পারমাণবিক যুগের সূচনা হয়।

আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য:
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- প্রথম স্বীকার্য: স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে।
- দ্বিতীয় স্বীকার্য: শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী)।
৪৯৬.
'Geography' শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন-
  1. স্ট্রাবো
  2. কার্ল রিটার
  3. ডাডলি স্ট্যাম্প
  4. ইরাটসথেনিস
ব্যাখ্যা
‘Geography':

- ‘Geography' শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন প্রাচীন গ্রিসের ভূগোলবিদ ইরাটসথেনিস।
- ভূগোল হলো এমন একটি বিষয়/শাস্ত্র যেখানে স্থানীক ও কালীক পর্যায়ে মানুষ ও পরিবেশের মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা হয়।
- সংক্ষেপে মানুষের বাসভূমি হিসাবে পৃথিবীর বর্ণনা হলো ভূগোল।
- ইংরেজি 'Geography' শব্দটি থেকে ভূগোল শব্দটির উৎপত্তি। ‘Geo' শব্দের অর্থ ‘ভূ’ বা পৃথিবী এবং ‘graphy' শব্দের অর্থ বর্ণনা। সুতরাং Geography শব্দটির অর্থ পৃথিবীর বর্ণনা।
- কোনো কোনো ভূগোলবিদ ভূগোলকে বলেছেন পৃথিবীর বিবরণ, কেউ কেউ বলেছেন পৃথিবীর বিজ্ঞান।
- অধ্যাপক কার্ল রিটার (Professor Carl Ritter) ভূগোলকে বলেছেন, পৃথিবীর বিজ্ঞান।
- অধ্যাপক ডাডলি স্ট্যাম্প (Professor Dudley Stamp) আরও সহজভাবে বলেছেন, পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের বর্ণনাই হলো ভূগোল।
- অধ্যাপক রিচার্ড হার্টশোন (Professor Richard Hartshorne) বলেন, পৃথিবী পৃষ্ঠের পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্যের যথাযথ, যুক্তিসংগত ও সুবিন্যস্ত বিবরণের সঙ্গে সংশিষ্ট বিষয় হলো ভূগোল।
- আলেকজান্ডার ফন হামবোল্টের (Alexander Von Hambolt) মতে, ভূগোল হলো প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিজ্ঞান। প্রকৃতিতে যা কিছু আছে তার বর্ণনা ও আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৯৭.
১৯২৪ সালে বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু কী তত্ত্ব প্রদান করেন? 
  1. নিউক্লিয়াস তত্ত্ব
  2. কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  3. কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব
  4. থিওরি অব রিলেটিভিটি
ব্যাখ্যা
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয়। 
- 1803 সালে ডাল্টন পারমাণবিক তত্ত্ব দিয়েছেন, 1897 সালে থমসন সেই পরমাণুর ভেতর ইলেকট্রন আবিষ্কার করেছেন, 1911 সালে রাদারফোর্ড দেখিয়েছেন, পরমাণুর কেন্দ্রে খুবই ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসে পজিটিভ চার্জগুলো থাকে। 
- কিন্তু দেখা গেল নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরন্ত ইলেকট্রনের মডেলটি কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না, কারণ বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় সূত্র অনুযায়ী এই অবস্থায় ইলেকট্রন তার শক্তি বিকিরণ করে নিউক্লিয়াসের ভেতর পড়ে যাবে; কিন্তু বাস্তবে তা কখনো ঘটে না। 
- 1900 সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন, যা ব্যবহার করে কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়। 
- পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানী বোর পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করার জন্য কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করেন। 
- বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু 1924 সালে কোয়ান্টাম তত্ত্বের ধারণা ব্যবহার করে বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রদান করেন। এজন্য বিজ্ঞানী বসুকে কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়, এবং তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একশ্রেণির মৌলিক কণাকে বোসন (Boson) নাম দেওয়া হয়। 
- 1900 থেকে 1930 সাল পর্যন্ত এই সময়টিতে হাইজেনবার্গ, শ্রোডিঙ্গার, ডিরাকসহ অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী মিলে পদার্থের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন। 

- বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের বাহক হিসেবে ইথার নামে একটি বিষয় কল্পনা করে নেওয়া হয়েছিল এবং 1887 সালে মাইকেলসন ও মোরলি তার অস্তিত্ব আবিষ্কার করার চেষ্টা করে দেখান যে প্রকৃতপক্ষে ইথার বলে কিছু নেই এবং আলোর বেগ স্থির কিংবা গতিশীল সব মাধ্যমে সমান। 
- 1905 সালে আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে এই বিষয়টির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকেই সর্বকালের সবচেয়ে চমকপ্রদ সূত্র E = mc2 বের হয়ে আসে, যেখানে দেখানো হয় বস্তুর ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাথে থিওরি অব রিলেটিভিটি ব্যবহার করে ডিরাক 1931 সালে প্রতি কণা (Anti Particle) অস্তিত্ব ঘোষণা করেন, যেটি পরের বছরেই আবিষ্কৃত হয়ে যায়।
- 1895 সালে রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। 
- 1896 সালে বেকেরেল দেখান যে পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হচ্ছে। 
- 1899 সালে পিয়ারে ও মেরি কুরি রেডিয়াম আবিষ্কার করেন এবং বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন পরমাণুগুলো আসলে অবিনশ্বর নয়, সেগুলো ভেঙে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯৮.
সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্রের নাম-
  1. ক) সেক্সট্যান্ট
  2. খ) হাইড্রোমিটার
  3. গ) ম্যানোমিটার
  4. ঘ) সিসমোগ্রাফ
ব্যাখ্যা
সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্রের নাম সেক্সট্যান্ট। হাইড্রোমিটার এর সাহায্যে তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণয় করা হয়। ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম সিসমোগ্রাফ এবং গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম ম্যানোমিটার।
৪৯৯.
'গ্যালাকটিক ইয়ার' বলতে কী বুঝায়?
  1. পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তন কাল
  2. নক্ষত্রের নিজ অক্ষে আবর্তন কাল
  3. ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তন কাল
  4. সূর্যের নিজ অক্ষে আবর্তন কাল
ব্যাখ্যা
সৌরজগতের গ্রহসমূহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, আর সূর্য মিল্কি-ওয়ে গ্যালাক্সির মধ্যবিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
এই মধ্যবিন্দুর চারদিকে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর ২২৫-২৫০ মিলিয়ন বছর সময় লাগে, এই সময়টাকেই কসমিক ইয়ার বা গ্যালাকটিক ইয়ার বলে।
অর্থ্যাৎ ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তনকালকে কসমিক ইয়ার বলে।

উৎস:  ব্রিটানিকা
৫০০.
উপকূলে কোনো একটি স্থানে জোয়ারের কত সময় পর ভাটার সৃষ্টি হয়? 
  1. ১২ ঘণ্টা ২৮ মিনিট
  2. ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট 
  3. ৮ ঘণ্টা ১২ মিনিট
  4. ১৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিট
ব্যাখ্যা

জোয়ার-ভাটা: 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়। সমুদ্রের পানি এভাবে ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। 
- উপকূলে কোনো একটি স্থানে একটি জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট পর ভাটা হয়। 
- উপকূলে কোনো একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ার বা দুটি ভাটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট। 
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তি প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়। 
অর্থাৎ, সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দু’বার জোয়ার ও দু’বার ভাটা হয়। 
- সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলোর স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার ভাটা বেশি অনুভূত হয়। 
- সমুদ্রের মধ্যভাগ থেকে উপকূলের কাছে পানির অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি থাকে। 
- তবে বিভিন্ন নদীপথে দেশের ভিতরে সমুদ্রের পানি যখন প্রবেশ করে এবং নেমে যায় তাকে জোয়ার ভাটা বলে না। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।