বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

মোট প্রশ্ন২,৪০৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

PrepBank · পাতা / ২৪ · ৩০১৪০০ / ২,৪০৪

৩০১.
দিবারাত্রি সংঘটিত হয় -
  1. মধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে
  2. বার্ষিক গতির জন্য
  3. আহ্নিক গতির জন্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলাফল সমূহ - 
দিন-রাত্রি সংঘটন
• জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি, 
• বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি, 
• তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি, 
• সময় গণনা বা সময় নির্ধারণ প্রভৃতি। 

অন্যদিকে, 
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর অবিরাম ঘূর্ণনের সাথে সাথে নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে) নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে যা পৃথিবীর বার্ষিক গতি নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে ঋতু পরিবর্তন ও দিন-রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি হয়ে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩০২.
দূষিত বাতাসের কোন গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা খর্ব করে?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. কার্বন মনোঅক্সাইড
  3. সালফার ডাই-অক্সাইড
  4. নাইট্রিক অক্সাইড
ব্যাখ্যা
কার্বন মনোক্সাইড: 
- দূষিত বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট করে। 
- কার্বন মনোক্সাইড (Carbon Monoxide) এর রাসায়নিক সংকেত হলো CO যা একপ্রকার রঙ, গন্ধ এবং স্বাদহীন গ্যাস, যার ঘনত্ব বাতাসের তুলনায় কিছুটা কম। 
- এক পরমাণু কার্বন ও এক পরমাণু অক্সিজেন যুক্ত হয়ে এক অণু কার্বন মনোক্সাইড গঠন করে। 
- আন্তর্জাতিকভাবে এটি বিষাক্ত গ্যাস হিসেবে চিহ্নিত। 
- কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় মানবদেহে যে সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে- 
• দুর্বলতা, 
• বমি বমি ভাব, 
• মাথা ঘোরানো, 
• ক্লান্তি, 
• ক্ষুধা, 
• মাথা ব্যাথা, 
• অজ্ঞান হওয়া, 
• খিঁচুনি ইত্যাদি। 

উৎস: Centers of Disease Control and Prevention website [লিঙ্ক]।
৩০৩.
ভূপৃষ্ঠে যে ধাতু সবচেয়ে বেশি পরিমানে আছে -
  1. ক) তামা
  2. খ) লোহা
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু (৮.১%)।
লোহার পরিমাণ ৫%, ক্যালসিয়াম ৩.৬%।

Source: space.com
৩০৪.
নিচের কোনটি আগ্নেয়গিরি?
  1. ক) মাওনালেয়া
  2. খ) কোটোপ্যাক্সি
  3. গ) ভিসুভিয়াস
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন সাধনকারী প্রক্রিয়া বা শক্তিগুলোর মধ্যে অগ্নুৎপাত অন্যতম।
- যে আগ্নেয়গিরি থেকে মাঝে মাঝে বা সবসময় অগ্নুৎপাত হয় তাকে সক্রিয় বা জীবন্ত আগ্নেয়গিরি বলে।
যেমন:
• ইতালির ভিসুভিয়াস,
• হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া ও মাওনাকেয়া,
• কোটোপ্যাক্সি ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০৫.
কসমিক রে মূলত কী?
  1. মহাকাশ থেকে আগত উচ্চশক্তির কণা
  2. সূর্য থেকে নির্গত আলোক রশ্মি
  3. রেডিও তরঙ্গ
  4. এক ধরনের গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
• মহাজাগতিক রশ্মি:
- মহাজাগতিক রশ্মি বা কসমিক রে হলো মহাকাশ (আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যম) থেকে আগত উচ্চ-শক্তির আধানযুক্ত কণা। 

• মহাজাগতিক রশ্মি সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী ভিকটর হেস।
- এই আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

• মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ প্রোটন, প্রায় ৯ ভাগ বিকিরণ এবং বাকি অংশে থাকে কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারি নিউক্লিয়াস।
- এগুলোই হলো প্রাইমারি মহাজাগতিক রশ্মি। এসব রশ্মি  প্রায় আলোর বেগে ছুটে চলে।

• সেকেন্ডারি মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে প্রধানত পজিট্রন, নিউট্রন, মেসন, নিউট্রিনো ইত্যাদি। এ সব কণাদের বলা হয় প্রাথমিক বা মৌলিক কণা।

অন্যদিকে,
সূর্য থেকে নির্গত আলোকরশ্মি, রেডিও তরঙ্গ, গামা রশ্মি হলো আধানশূন্য । 

তথ্যসূত্র: 
- ব্রিটানিকা।
৩০৬.
পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ কোনটি?
  1. টাইটান
  2. চন্দ্র
  3. ডিমোস
  4. গ্যানিমেড
ব্যাখ্যা
পৃথিবী (Earth): 
- সৌরজগতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রহ হলো 'পৃথিবী'। 
- এটি সৌরজগতের মাঝারী আকারের একটি গ্রহ (গড় ব্যাস হলো ১২,৭৩৪.৫ কি. মি. প্রায়)। 
- পৃথিবী নিজ কক্ষপথটি ডিম্বাকৃতির ও মোট ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বা এক বছরে সূর্যকে প্রদক্ষিন করে থাকে। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা এক দিনে আর্বতন করে। 
- পৃথিবীর একটি মাত্র উপগ্রহ হলো চন্দ্র। 
- সৌরজগতের সকল গ্রহের মধ্যে কেবল পৃথিবী জীব ও উদ্ভিদের বসবাস উপযোগী গ্রহ। 

চন্দ্র (Moon): 
- চন্দ্র পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
- প্রায় ৩৭.৯ মিলিয়ন বর্গ কি. মি. আয়তন বিশিষ্ট চন্দ্র মোট ২৯ দিন ১২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট বা এক চন্দ্র মাসে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। 
- চন্দ্রের নিজস্ব কোনো আলো নাই, সূর্যের আলোকে এটি আলোকিত হয়। 
- এই আলো বিচ্ছুরিত হয়ে পৃথিবীকে রাতের বেলা আলো দিয়ে থাকে। 

অন্যদিকে, 
- ডিমোস মঙ্গল গ্রহের একটি উপগ্রহ। 
- টাইটান শনি গ্রহের একটি উপগ্রহ। 
- গ্যানিমেড বৃহস্পতি গ্রহের একটি উপগ্রহ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৭.
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কত?
  1. ক) ২৯০৩৫ ফুট
  2. খ) ৩৫০৩৫ ফুট
  3. গ) ৪১০৪১ ফুট
  4. ঘ) ২১০২১ ফুট
ব্যাখ্যা
মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৯০৩৫ ফুট৷
Source: Britannica
৩০৮.
কোনটি উভমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়?
  1. ক) মোবাইল
  2. খ) রেডিও
  3. গ) টেলিফোন
  4. ঘ) ফ্যাক্স
ব্যাখ্যা
রেডিও (Radio):
- রেডিও এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গে রূপান্তরিত করে একস্থান হতে অন্য স্থানে পাঠানো হয়।
- রেডিও আবিষ্কারে করেছেন ইতালির মার্কনী ও বাংলাদেশের জগদীশ চন্দ্ৰ বসু।
- রেডিও এর সাহায্যে আমরা দূর-দূরান্ত হতে সম্প্রচারিত বিভিন্ন ধরনের খবর, বিতর্ক অনুষ্ঠান, গান, নাটক, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি শুনতে পাই।
- রেডিও হচ্ছে একমুখী গ্রাহক যন্ত্র
- রেডিওতে শুধু শোনা যায় কিন্তু শোনার পরে কোন মন্তব্য বলে পাঠানো সম্ভব নয়।
- অপরপক্ষে যদিও মোবাইল বা টেলিফোনে রেডিও যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা হয়, তারপরও মোবাইল বা টেলিফোন উভয়মুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩০৯.
CFC গ্যাস কী?
  1. ক) ক্লোরোফ্লুরো কার্বন
  2. খ) কমপ্লেন্ড ফ্লুরো কার্বন
  3. গ) কমন ফ্লুরোকার্বন
  4. ঘ) ক্লোরোফেরিক কার্বন
ব্যাখ্যা
CFC গ্যাস:
-  CFC গ্যাস হলো ক্লোরোফ্লুরো কার্বন
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে কিন্তু এর মধ্যে ক্লোরোফ্লুরো কার্বন (সিএফসি) গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে।
- সিএফসি এর মধ্যে CFC12 এবং CFC13 সর্বাধিক ক্ষতিকর।
- CFC12 এবং CFC13 এর কার্বন যৌগপ্তলো জায়মান দশায় ক্লোরিন উৎপাদন করে। 
- উৎপন্ন ক্লোরিন ওজোনের সাথে বিক্রিয়া করে ওজোনের অণু ধ্বংস করে।
- এক লক্ষ ওজোনের অণু ধ্বংসের জন্য একটি ক্লোরিনের অণুই যথেষ্ট।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৩১০.
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ট্যাকোমিটার 
  2. অডিওমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. অ্যালটিমিটার 
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র। 
- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৩১১.
কোন দূষক পদার্থটি সরাসরি কোনো উৎস থেকে পরিবেশে আসে না?
  1. নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2)
  2. সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO3)
  3. সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2)
  4. অ্যামোনিয়া (NH3)
ব্যাখ্যা
• প্রাইমারি দূষক:
যে সকল দূষক পদার্থ কোনো উৎস থেকে নির্গত হয়ে অপরিবর্তিত অবস্থায় পরিবেশে বিদ্যমান থাকে এবং পরিবেশের দূষণ ঘটায় তাদেরকে প্রাইমারি দূষক বলে।
যেমন:
- নাইট্রিক অক্সাইড (NO)
- নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2)
- কার্বন মনোক্সাইড (CO)
- কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2)
- সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2)
- অ্যামোনিয়া (NH3)
- ছাই, ধুলিকণা
- Volatile organic compounds (VOCs)

• সেকেন্ডারি দূষক:
যে সকল দূষক পদার্থ সরাসরি কোনো উৎস থেকে পরিবেশে আসে না, বরং বায়ুমণ্ডলে নির্গত হওয়া প্রাথমিক দূষকগুলো থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে সেকেন্ডারি দূষক বলে।
যেমন:
- সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO3)
- নাইট্রিক এসিড (HNO3)
- নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2)
- সালফিউরিক এসিড (H2SO4)
- হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H2O2)
- অ্যামোনিয়াম (NH4+)
- ওজোন (O3)

উল্লেখ্য - কিছু দূষণকারী পদার্থ প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি উভয় দূষকই হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ: নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড জীবাশ্ব-জালানী থেকে এবং বজ্রপাত থেকে সৃষ্টি হয়, আবার এটি অন্যান্য রাসায়নিক থেকেও বায়ুমণ্ডলে তৈরি হতে পারে।

সূত্র: University of California এবং Energy Education
৩১২.
বায়োমে বাসকারী জীবেরা কীভাবে একে অপরকে প্রভাবিত করে?
  1. পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে
  2. আলাদা বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলে
  3. শিকার করে
  4. একে অপরকে এড়িয়ে চলে
ব্যাখ্যা
• বায়োম:
- পৃথিবীর কোনো বিশাল অঞ্চলে প্রায় একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব সম্প্রদায় একত্রে যে সুসংহত জীবন গড়ে তুলে তাকে বায়োম বলে।
- বায়োমে যারা বাস করে তারা পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে একে অন্যকে প্রভাবিত করে।
- পৃথিবীর সকল বায়োম বা সজীব বস্তু মিলে গড়ে উঠে জীবমন্ডল।
- জীবমন্ডল হলো এক বিশাল বাস্তুসংস্থান যেখানে জীবের সম্মিলিত অস্তিত্ব গড়ে তুলে এক নতুন পরিবেশ।
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে নানারকম আবহাওয়া, জলবায়ু ও প্রাকৃতিক পরিবেশের বৈশিষ্ট্যের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বায়োম গড়ে উঠে। যেমন- অরণ্য, মরুভূমি, তৃণভূমি ইত্যাদি।
- বায়োমে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি সদস্যের মধ্যে সমতা বজায় থাকে।

• বায়োমের বৈশিষ্ট্য:
 ১. বায়োমে বৈশিষ্ট্যসূচক উদ্ভিদ ও প্রাণি বিদ্যমান থাকে।
২. সকল বায়োম ক্রমবর্ধমান পর্যায়ে সিরিজ অতিক্রম করে বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে।
৩. আঞ্চলিক পরিবেশে এগুলোর প্রত্যেকটি মোটামুটি ভারসাম্য অবস্থা বহন করে।
৪. প্রত্যেক বায়োম প্রাকৃতিক অবস্থায় নিজস্ব ভারসাম্য প্রকাশ করে এবং এই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য অন্য বায়োম হতে পৃথক।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৩.
গ্রীন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে এমন গ্যাসগুলোর মধ্যে কোনটির পরিমাণ বায়ুমণ্ডলে সর্বাধিক?
  1. ওজোন
  2. মিথেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. নাইট্রাস অক্সাইড
ব্যাখ্যা

- গ্রীন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে এমন গ্যাসগুলোর মধ্যে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)-এর পরিমাণ সর্বাধিক। 

গ্রীন হাউজ গ্যাস: 
- যে সব গ্যাস ভূপৃষ্ঠের বিকিরিত IR রশ্মিকে শোষণ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, তাদেরকে গ্রীন হাউজ গ্যাস বলে। 
- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাসকে প্রধান গ্রীন হাউজ গ্যাস বলা হয়। 
- এছাড়াও জলীয় বাষ্প (H2O), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ফ্রিয়ন বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) ও ওজোন গ্যাস (O3) গ্রীন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে থাকে। 
- শেষের গ্যাসগুলোর ঘনত্ব বায়ুমণ্ডলে CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক কম হলেও এদের IR রশ্মি শোষণ ও বিকিরণ ক্ষমতা CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক বেশি, তাই গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এ এদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। 

গ্রিন হাউজ গ্যাস ⇔ বায়ুতে % পরিমাণ:
১। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাস ⇔ 49%, 
২। মিথেন (CH4) গ্যাস ⇔ 18%, 
৩। নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) গ্যাস ⇔ 6%, 
৪। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) গ্যাস ⇔ 14%, 
৫। ওজোন (O3) গ্যাস ⇔ 8% এবং 
৬। জলীয় বাষ্প ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।

৩১৪.
নিচের কোনটির প্রভাবে তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না? 
  1. তাপ
  2. তড়িৎক্ষেত্র
  3. চৌম্বকক্ষেত্র
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। 
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল (Henry Becquerel) আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”। 
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার।
যথা- 
১। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা:
- কোনো পদার্থ হতে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

২। কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা:
- কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য: 
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায়। 
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। 
- তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা (α), বিটা কণিকা (β) ও গামা রশ্মি (γ)নির্গত হয়। 
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
৪। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৫.
নিচের কোন গ্রহটিকে 'Red Planet' বলা হয়?
  1. শনি
  2. মঙ্গল
  3. বুধ
  4. বৃহস্পতি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মঙ্গল গ্রহকে 'Red Planet' বলা হয়।

মঙ্গল গ্রহ:
- সূর্য থেকে চতুর্থ দূরবর্তী গ্রহ মঙ্গল।
- বুধের পরেই সৌরজগতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম গ্রহ।
- সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহের দূরত্ব ২২৮ মিলিয়ন কিলোমিটার।
- এটি একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে ৬৮৭ দিন সময় নেয়।
- এর ব্যাসার্ধ প্রায় ৩৩৯০ কিলোমিটার (২১০৬ মাইল)।
- এর আকার পৃথিবীর আকারের অর্ধেক।
- সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহে আলো পৌছাতে সময় লাগে ১৩ মিনিট।
- নিজ কক্ষপথে একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২৪ ঘন্টা।
- মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা দুইটি: ফোবোস ও ডিমোস।

উল্লেখ্য,
- এই গ্রহটিকে ‘লাল গ্রহ’ নামে অভিহিত করা হয়।
- মঙ্গলের লালাভ হওয়ার পেছনে মূল কারণ এর পৃষ্ঠে প্রচুর আয়রন অক্সাইড আছে।
- নাসার বিজ্ঞানীদের ধারণা, মঙ্গলের কেন্দ্রেও লোহা আছে, তবে পরিমাণে অঢেল হওয়ায় গ্রহটির পৃষ্ঠেও লোহার একটি আবরণ তৈরি হয়েছে। সে কারণেই লাল দেখায়।

উৎস: i) NASA (.gov).
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩১৬.
বায়ুমণ্ডলের উৎপত্তি হয়েছে প্রধানত- 
  1. মহাকাশীয় ধূলিকণা থেকে
  2. সৌর বিকিরণ থেকে
  3. সমুদ্রের জলীয় বাষ্প থেকে 
  4. ভূ-অভ্যন্তরের নির্গত গ্যাস থেকে
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উৎপত্তি মূলত ভূ-অভ্যন্তর থেকে নির্গত গ্যাসের (outgassing) কারণে হয়েছে, যা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং অন্যান্য ভূ-তাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটেছে। 

বায়ুমণ্ডল: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল। 
- বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere; বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর অপরিহার্য অংশ। 
- বায়ুমণ্ডল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে পৃথিবীর গায়ের সাথে লেগে থাকে এবং আবর্তন করে। তবে বায়ু কঠিন ভূমির সাথে সমানভাবে চলতে না পারায় সামান্য পশ্চাতে পড়ে থাকে। 
- বিজ্ঞানীগণের ধারণা, বায়ুমণ্ডলের বয়স প্রায় ৩৫০ কোটি বছর। 
- বায়ুমণ্ডল ভূ-অভ্যন্তরের নির্গত গ্যাস থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে মাত্র ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে বায়ুমণ্ডলের ৯০ শতাংশ অবস্থান করছে। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত।
- বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলোর মধ্যে নাইট্রোজেন ⇒ ৭৮.০২ এবং অক্সিজেন ⇒ ২০.৭১ এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৭.
মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু কোনটি?
  1. Sirius
  2. Crab Nebula
  3. J0529-4351
  4. Sun
ব্যাখ্যা
• J0529-4351 একটি কোয়াসার, অথবা একটি গ্যালাক্সির উজ্জ্বল কেন্দ্র, যা এখন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু।

• কোয়াসার (Quasar): 

- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়সার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি। 
- অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি আমাদের সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান বণ্ঢ্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 

- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস বণ্ঢ্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। 
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৮.
মহাজাগতিক রশ্মিতে সবচেয়ে বেশি থাকে-
  1. নিউট্রন
  2. প্রোটন
  3. কার্বন
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
• মহাজাগতিক রশ্মিতে সবচেয়ে বেশি থাকে প্রোটন (৮৯ ভাগ)।

• মহাজাগতিক রশ্মি:
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীতে আগত রশ্মিকে বলে মহাজাগতিক রশ্মি বা কসমিক রে।
- বহির্বিশ্ব থেকে এসব কণা এসে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে ৮৯ ভাগ প্রোটন, ৯ ভাগ নিউট্রন এবং ২ ভাগ কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারী নিউক্লিয়াস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা। 
৩১৯.
জাপানের টোকিও শহর ও ঢাকা শহরের দ্রাঘিমার পার্থক্য ৪৫° হলে এই দুই শহরের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য কত?
  1. ১.৫ ঘণ্টা
  2. ২.৫ ঘণ্টা
  3. ৩ ঘণ্টা
  4. ৩.৫ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমা নির্ণয়:
১। যেহেতু ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য দুটি স্থানের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট। এ কারণে স্থান দুটির সময়ের পার্থক্য যা হয় তাকে ৪ দিয়ে ভাগ করে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।
-একই ভাবে দুই স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্যের সাথে ৪ গুণ করে দুই স্থানের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।

সমাধান:
আমরা জানি, পৃথিবীতে প্রতি ১ ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট।
∴৪৫° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হবে (৪৫ × ৪)=১৮০ মিনিট বা ৩ ঘণ্টা।

অর্থাৎ জাপানের টোকিও শহর ও ঢাকা শহরের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য ১৮০ মিনিট বা ৩ ঘণ্টা।

উত্তর: এই দুই শহরের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য ৩ ঘণ্টা।
৩২০.
তিনদিকে মাটিতে ঘেরা এবং একদিকে সমুদ্রের সঙ্গে সংযুক্ত জলভাগকে কী বলা হয়?
  1. সাগর
  2. হ্রদ
  3. নদী
  4. উপসাগর
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: ঘ) উপসাগর। 

উপসাগর হলো এমন জলভাগ যা তিন দিকে মাটিতে ঘেরা এবং একদিকে সমুদ্রের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।

মহাসাগর:  
- বারিমণ্ডলের উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ বিশাল লবণাক্ত জলরাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে। 
- পৃথিবীতে পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে। যেমন- প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, উত্তর মহাসাগর এবং দক্ষিণ মহাসাগর। 
- এর মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগর বৃহত্তম ও গভীরতম। 
- আটলান্টিক মহাসাগর ভগ্ন উপকূলবিশিষ্ট এবং এটি অনেক আবদ্ধ সাগরের (Enclosed sea) সৃষ্টি করেছে। 
- ভারত মহাসাগর এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত। 
- ৬০° দক্ষিণ অক্ষাংশ থেকে এন্টার্কটিকার হিমভাগ পর্যন্ত দক্ষিণ মহাসাগরের অবস্থান। দক্ষিণ মহাসাগরের দক্ষিণে এন্টার্কটিকা মহাদেশ বছরের সকল সময় বরফে আচ্ছন্ন থাকে। 
- উত্তর গোলার্ধের উত্তর প্রান্তে উত্তর মহাসাগর অবস্থিত এবং এর চারদিক স্থলবেষ্টিত। 

সাগর: 
- মহাসাগর অপেক্ষা স্বল্প আয়তনবিশিষ্ট জলরাশিকে সাগর (Sea) বলে। 
যথা- ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর, ক্যরিবিয়ান সাগর, জাপান সাগর ইত্যাদি। 

উপসাগর: 
- তিনদিকে স্থলভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং একদিকে জল তাকে উপসাগর (Bay) বলে। 
যথা- বঙ্গোপসাগর, পারস্য উপসাগর ও মেক্সিকো উপসাগর ইত্যাদি। 

হ্রদ: 
- চারদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত জলভাগকে হ্রদ (Lake) বলে। 
যথা- রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ, আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত সুপিরিয়র হ্রদ ও আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদ ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩২১.
পৃথিবীতে ব্যবহার উপযোগী কত শতাংশ পানি রয়েছে? 
  1. ১% 
  2. ৫%
  3. ১০%
  4. ২০%
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীপৃষ্ঠের শতকরা ৭৫ ভাগই হচ্ছে পানি। 
- মানুষের বেঁচে থাকার জন্য পানি অপরিহার্য, তাই পানির অপর নাম হচ্ছে জীবন। 
- পানির সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে সাগর, মহাসাগর বা সমুদ্র। 
- পৃথিবীতে যত পানি আছে, তার প্রায় শতকরা ৯০ ভাগেরই উৎস হচ্ছে সমুদ্র। 
- সমুদ্রের পানিতে প্রচুর লবণ থাকে এজন্য সমুদ্রের পানিকে লোনা পানিও (Marine water) বলে। 
- লবণের কারণে সমুদ্রের পানি পানের অনুপযোগী, এমনকি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অন্য কাজেও সমুদ্রের পানি ব্যবহার করা যায় না। 
- পানির আরেকটি বড় উৎস হলো হিমবাহ তুষার স্রোত, যেখানে পানি মূলত বরফ আকারে থাকে, এই উৎসে প্রায় শতকরা ২ ভাগের মতো পানি আছে। 
- পৃথিবীতে ব্যবহারের উপযোগী পানি মাত্র শতকরা ১ ভাগ। 
- ব্যবহার উপযোগী মিঠা পানির উৎস হলো নদ-নদী, খাল-বিল, হ্রদ, পুকুর কিংবা ভূগর্ভস্থ পানি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩২২.
‘গ্রীন হাউজ ইফেক্ট’ বলতে বুঝায়-
  1. তাপ আটকা পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
  2. উপগ্রহের সাহায্যে দূর থেকে ভূ-মণ্ডলের অবলোকন।
  3. সূর্যালোকের অভাবে সালোকসংশ্লেষণে ঘাটতি।
  4. প্রাকৃতিক চাষের বদলে ক্রমবর্ধমানভাবে কৃত্রিম চাষের প্রয়োজনীয়তা।
ব্যাখ্যা
গ্রীন হাউস ইফেক্ট: 
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার প্রক্রিয়াকে গ্রীন হাউস ইফেক্ট বলে। 
- বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত যেসব গ্যাসীয় CO2, CFC, N2O2, CO, O3 ইত্যাদি পদার্থের আবরণ পৃথিবীকে আচ্ছাদন রূপে ঢেকে রেখে পৃথিবী পৃষ্ঠ হতে বিকিরিত তাপকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাঁধা দেয় এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত রাখে তাদেরকে গ্রীন হাউজ গ্যাস বলে। 
- পরিবেশ দূষণ এবং গাছপালা কেটে ফেলার ফলে গ্রীন হাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে, ফলে সূর্য থেকে তাপ বিকিরিত হয়ে পৃথিবীতে ঢোকার পর যতটা আবার পৃথিবীর বাইরে বিকিরিত হওয়া উচিত তা হচ্ছে না, ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। 
- গ্রীন-হাউজ ইফেক্ট এর ফলে তাপ আটকে পড়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
৩২৩.
কোন ধরনের ভূখণ্ডে মেঘ বিস্ফোরণের ফলে আকস্মিক বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি?
  1. সমতল, নিচু এলাকা
  2. শহুরে এলাকা
  3. উপকূলীয় অঞ্চল
  4. পাহাড়ি এলাকা
ব্যাখ্যা
• মেঘ বিস্ফোরণ (Cloudburst):
- মেঘ বিস্ফোরণ (Cloudburst) হলো একটি তীব্র এবং হঠাৎ ঘটে যাওয়া ভারী বৃষ্টিপাত, যা সাধারণত একটি ছোট অঞ্চলজুড়ে ঘটে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়।
- এই ধরনের ঘটনা বিশেষত পার্বত্য অঞ্চলে ঘটে থাকে এবং এটি বিপজ্জনক বন্যার কারণ হতে পারে।
- মেঘ বিস্ফোরণের সময় বৃষ্টির পরিমাণ সাধারণত প্রতি ঘন্টায় ১০০ মিলিমিটার বা তারও বেশি হতে পারে।

মেঘ বিস্ফোরণের বৈশিষ্ট্য:
- হঠাৎ ঘটে: মেঘ বিস্ফোরণ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং খুব কম সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- সংকীর্ণ এলাকা: এটি সাধারণত খুব ছোট এলাকা জুড়ে ঘটে। মেঘ বিস্ফোরণের পরিধি কয়েক বর্গ কিলোমিটারের বেশি হয় না।
- ভারী বৃষ্টিপাত: মেঘ বিস্ফোরণের ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয়। কখনও কখনও এটি এতটাই প্রবল হয় যে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় নদী এবং জলাশয়গুলো পানিতে ভরে যায়, যা বন্যার সৃষ্টি করে।
- বিপজ্জনক প্রভাব: মেঘ বিস্ফোরণ কারণে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, এবং সম্পত্তি ও জীবনের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে পার্বত্য এলাকায় এর প্রভাব আরও মারাত্মক হতে পারে, কারণ সেখানে পানির প্রবাহ দ্রুত হয়ে থাকে।

মেঘ বিস্ফোরণের কারণ:
মেঘ বিস্ফোরণের মূল কারণ হলো বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীল অবস্থা। গরম ও আর্দ্র বায়ু যখন দ্রুত উপরে উঠতে থাকে এবং ঠান্ডা বাতাসের সাথে মিশ্রিত হয়, তখন বৃহৎ মেঘ গঠন হতে শুরু করে। এই মেঘগুলি পানির বিশাল পরিমাণ ধারণ করে। যখন মেঘের অভ্যন্তরে এই জলীয় বাষ্প হঠাৎ ঘনীভূত হয়ে পড়ে, তখন প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত শুরু হয়, যা মেঘ বিস্ফোরণের রূপ নেয়।

মেঘ বিস্ফোরণ প্রতিরোধ এবং সতর্কতা:
- মেঘ বিস্ফোরণের ঘটনা পূর্বাভাস দেয়া বেশ কঠিন, তবে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বৃষ্টিপাত এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে কিছুটা পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব। - পার্বত্য অঞ্চলে মেঘ বিস্ফোরণের সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে এইসব স্থানে অবকাঠামো তৈরি এবং বাসস্থানের জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। 
- তাছাড়া, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং জরুরি সেবা ও উদ্ধার তৎপরতার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

- সম্প্রতি আগস্ট, ২০২৪-এ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভয়াবহ মেঘ বিস্ফোরণের জন্য ত্রিপুরা সংলগ্ন বাংলাদেশের কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী সহ ১১ টি জেলাইয় ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

সূত্র:
১) Britannica [লিংক]
২) The Business Standard [লিংক]
৩) prothomalo [লিঙ্ক]
৩২৪.
মহাকাশে পাঠানো কৃত্রিম উপগ্রহ বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে অবস্থান করে?
  1. ক) স্ট্রাটোমন্ডল 
  2. খ) তাপমন্ডল
  3. গ) মেসোমন্ডল
  4. ঘ) ট্রপোমন্ডল
ব্যাখ্যা
তাপমন্ডল
- তাপমন্ডল বায়ুমন্ডলের চতুর্থ স্তর যার বিস্তৃতি ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে ৮০ কি.মি. থেকে ৫০০ কি.মি. এর মধ্যে।
- মহাকাশে পাঠানো কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটসমূহ তাপমন্ডলে অবস্থান করে।
- রকেটও এ স্তর দিয়ে চলাচল করে। মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা উল্কাপিণ্ড এই স্তরে এসে পুড়ে যায়।
- তাপমন্ডলের নিচের অংশ আয়নমন্ডল নামে পরিচিত যেখানে পৃথিবী থেকে প্রেরিত বেতার তরঙ্গ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে আসে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩২৫.
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে নিচের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও পরিমাণ বাড়ে?
  1. খরা ও তুষারপাত
  2. জলোচ্ছ্বাস
  3. ভূমিকম্প 
  4. আগ্নেয়ুৎপাত
ব্যাখ্যা

- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে মূলত জলোচ্ছ্বাস-এর মাত্রা ও পরিমাণ বাড়ে, যা উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাবন, নদীভাঙন এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধি করে এবং শক্তিশালী ঝড়ের প্রভাব বাড়ায়। এটি সরাসরি খরা বা তুষারপাত (যা বিপরীত) এবং ভূমিকম্প বা আগ্নেয়ুৎপাতের (যা ভিন্ন ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া) কারণ নয়, বরং উপকূলীয় দুর্যোগের কারণ। 

সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ফসল উৎপাদনে প্রভাব: 
- সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এশিয়ার দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেয়। 
- প্রায়শই বন্যা, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততা সৃষ্টি হয়। 
- অধিকন্তু ঋতু পরিবর্তনের স্বাভাবিক নিয়মে বৈচিত্র্য দেখা দিচ্ছে। 
- বিশ্বব্যাংক বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে টার্ন ডাউন দ্য হিট: ক্লাইমেট রিজিওনাল ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড কেস ফর রেজিলিয়ান্স শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে উল্লেখ করেছে- প্রতি তিন থেকে পাঁচ বছর পরপর বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা বন্যায় ডুবে যাবে। 
- তাপমাত্রা আড়াই ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বন্যায় প্লাবিত এলাকার পরিমাণ ২৯ শতাংশ বাড়বে। 
- ২০৮০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উপকূলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ৬৫ সেন্টিমিটার বাড়লে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৪০ শতাংশ ফসলি জমি হারিয়ে যাবে। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৬.
Which of the following ecosystems covers the largest area of the earth's surface?
  1. Desert Ecosystem
  2. Mountain Ecosystem
  3. Freshwater Ecosystem
  4. Marine Ecosystem
ব্যাখ্যা
- The Marine Ecosystem is the largest existing ecosystem on our planet
- Covering over 71% of the Earth’s surface, it’s a source of livelihood for over 3 billion people. 
- The ocean also works as the main “lung” of our planet, releasing more oxygen into the atmosphere, notably through marine plants, than all the forests in the world, and absorbing 30% of the carbon dioxide produced by humans. 

উৎস: un.org
৩২৭.
ধ্রুবতারা ঠিক মাথার উপর অবস্থান করে-
  1. কুমেরু বিন্দুতে
  2. সুমেরু বিন্দুতে
  3. অক্ষরেখায়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ধ্রুবতারার সাহায্যে অক্ষাংশ নির্ণয়:
- ধ্রুবতারার উন্নতি জেনে কোনো স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
- তবে এটি শুধুমাত্র উত্তর গোলার্ধে সম্ভব।
- নিরক্ষরেখায় ধ্রুবতারার উন্নতি শুন্য ডিগ্রি এবং উত্তর মেরুতে ঠিক মাথার উপর ধ্রুবতারার উন্নতি ৯০ ডিগ্রি।
- উত্তর মেরুকে সুমেরু ও বলা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেনী, NCTB।
৩২৮.
ট্রানজিস্টরে সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. জার্মেনিয়াম
  2. আর্সেনিক
  3. মাঙ্গানিজ
  4. টাংস্টেন
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টার হলো এমন একটি ব্যবস্থা যাতে দুটি চওড়া p-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু n-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে অথবা দুটি চওড়া -টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু p-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে।
- প্রকৃত পক্ষে একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে তিনযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে p-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে p-n-p নিঃসারক ভূমি সংগ্রাহক ট্রানজিস্টার তৈরি করা হয়
- ট্রানজিস্টরে সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে ব্যবহৃত হয় সিলিকন ও জার্মেনিয়াম।

- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে। 
- যথা: এমিটার, বেস এবং কালেক্টর। 
- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)। 
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়। 
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে। 
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। 
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক। 
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে। 
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৯.
নিচের কোনটির মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের আকস্মিক পরিবর্তন সংঘটিত হয়?
  1. ক) নদীপ্রবাহ
  2. খ) হিমবাহ
  3. গ) সুনামি
  4. ঘ) সূর্যতাপ
ব্যাখ্যা
- যে সমস্ত কার্যাবলীর দ্বরা প্রাকৃতিকভাবে ভূমিরূপের পরিবর্তন সাধিত হয় তা ভূপ্রক্রিয়া নামে পরিচিত।
- ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন আকস্মিক ও ধীর দুভাবে সংঘটিত হয়।
আকস্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়াসমূহ:
- ভূমিকম্প
- আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যূৎপাত
- সুনামি প্রভৃতি।
ধীর পরিবর্তন প্রক্রিয়াসমূহ:
- হিমবাহ
- বৃষ্টিপাত
- বায়ুপ্রবাহ
- সূর্যতাপ
- নদী প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি)
৩৩০.
পটুয়াখালীর জলবায়ুকে কেমন জলবায়ু বলা হয়?
  1. নিয়তভাবাপন্ন
  2. মৃদুভাবাপন্ন
  3. চরমভাবাপন্ন
  4. সমভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা

মৃদুভাবাপন্ন:
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে।
- যেমন: কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন।
- সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন বা মৃদুভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।

অন্যদিকে,
- সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়।
- এ কারণে সমুদ্রের দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয়।
- স্থলভাগের চেয়ে জলভাগ অনেক ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়।
- কারণ পানির আপেক্ষিক তাপ ধারণ ক্ষমতা বেশি।
- তবে সৌরতাপ ভূমি অপেক্ষা সমুদ্রের অনেক গভীরে প্রবেশ করে তাপ বিস্তার করে।
- এ কারণেই অনেক দীর্ঘ সময়ে সমুদ্র উত্তপ্ত হয়।
- আবার তাপ বিকিরণের ক্ষেত্রে সমুদ্র পুনরায় ধীরে ধীরে তাপ হারায় যা ভূমির ক্ষেত্রে আরও দ্রুত হয়।
- ফলে সমুদ্র ঠান্ডা হতেও দীর্ঘ সময় লাগে।
- মূলত এ কারণেই গ্রীষ্মকালে উপকূলীয় এলাকা ভূ-ভাগের অভ্যন্তরের তুলনায় শীতল হয় এবং শীতকালে তুলনামূলকভাবে উষ্ণ থাকে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩১.
নিচের কোনটি আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান নয়?
  1. ক) বায়ুর আর্দ্রতা
  2. খ) অক্ষরেখা
  3. গ) বারিপাত
  4. ঘ) বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহ:
- বায়ুর তাপ
- বায়ুর চাপ
- বায়ু প্রবাহ
- বায়ুর আর্দ্রতা এবং
- বারিপাত বা বৃষ্টিপাত।
আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ হলো:
- অক্ষাংশ
- উচ্চতা
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব
- বায়ুপ্রবাহ
- সমুদ্রস্রোত
- পর্বতের অবস্থান
- ভূমির ঢাল
- ‍মৃত্তিকার গঠন
- বনভূমির অবস্থান প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৩২.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultral Violet Rays) শোষণ করে?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. ওজোনস্ফিয়ার
  3. থার্মোস্ফিয়ার
  4. মেসোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমন্ডল (Stratosphere): 
বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমন্ডল। 
যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 
এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)। 
এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়। এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম।

স্ট্রাটোমন্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে। এ স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা। বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়। 
স্ট্রাটোমন্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে। 
 
স্ট্রাটোমন্ডলের উপরের দিকে ওজোন (Ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মন্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত। এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার। 
 
ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultral Violet Rays) শোষণ করে। জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর। তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌছাতে পারে না। এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬° সেলসিয়াস) অনেক বেশি।
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৩৩.
একটি আদর্শ ব্যাটারির অভ্যন্তরীণ রােধ কত?
  1. শূন্য
  2. অসীম
  3. অতিক্ষুদ্র
  4. যে কোনাে মান
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ কারেন্ট সোর্সের (Ideal Current Source) প্রতিরোধ অসীম (infinite) হয়।

একটি আদর্শ কারেন্ট সোর্স সবসময় নির্দিষ্ট পরিমাণ কারেন্ট সরবরাহ করে, যেটি লোড বা ভোল্টেজের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে না। এর জন্য সোর্সের অভ্যন্তরীণ রোধ অসীম হতে হবে, যাতে কোনো ভোল্টেজ পরিবর্তন হলেও কারেন্ট অপরিবর্তিত থাকে।
যদি রোধ শূন্য (zero) হতো, তাহলে ওহমের সূত্র (V = IR) অনুযায়ী, সামান্য ভোল্টেজ পরিবর্তনেও বিশাল কারেন্ট প্রবাহিত হতে পারত, যা বাস্তবে সম্ভব নয়।
তাই, একটি আদর্শ কারেন্ট সোর্সের রোধ অসীম হতে হয়, যাতে এটি যেকোনো লোডের জন্য নির্দিষ্ট কারেন্ট সরবরাহ করতে পারে।

Source:
"Fundamentals of Electric Circuits" – Charles K. Alexander & Matthew N. O. Sadiku.
2. "Basic Engineering Circuit Analysis" – J. David Irwin & R. Mark Nelms.
৩৩৪.
পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain) হয় কোন অঞ্চলে?
  1. আর্কটিক অঞ্চল
  2. নাতিশীতষ্ণ অঞ্চল
  3. মেরিটাইম অঞ্চল
  4. ট্রপিকাল অঞ্চল
ব্যাখ্যা
• পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain) হয় ট্রপিকাল বা নিরক্ষীয় অঞ্চলে।

• পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain):

- পরিচলন বৃষ্টি তখন ঘটে যখন পৃথিবীর একটি অঞ্চলে তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে এবং মাটি গরম হয়ে ওঠে।
- এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে বাতাসের মধ্যে তাপ স্থানান্তর ঘটায়, যা বাতাসকে উপরে উঠতে বাধ্য করে।
- উপরের দিকে উঠতে গিয়ে এই গরম বাতাসে জলীয় বাষ্প কনডেন্স (ঘনীকৃত) হয়ে বৃষ্টি সৃষ্টি করে।
- সাধারণত ট্রপিকাল(নিরক্ষীয়) অঞ্চলে (বিশেষত ইকুয়েটর অঞ্চল) এই ধরনের বৃষ্টি বেশি ঘটে, কারণ এখানে সূর্যের তাপ সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং দিনের বেলা তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে।
- এই ধরনের বৃষ্টির জন্য অপেক্ষাকৃত তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বাতাসের ওঠানামার প্রয়োজন, যা ট্রপিকাল অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৩৩৫.
ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য কোন বিজ্ঞানীরা নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন? 
  1. নিউটন, জন বারডিন ও গ্যালিলিও
  2. ওয়াল্টার ব্রাটেইন, আইনস্টাইন ও ফ্রেমিং
  3. উইলিয়াম শকলি, ম্যারি কুরি ও পিয়েরে কুরি
  4. জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- 1947 সালে বেল ল্যাবরেটরিতে প্রথম ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর কত দ্রুত এবং কত ব্যাপকভাবে পুরো পৃথিবীকে পাল্টে দেবে সেটি তখনো কেউ অনুমান করতে পারেনি। 
- ট্রানজিস্টর ভ্যাকুয়াম টিউবের মতোই কাজ করতে পারে কিন্তু ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় এটি অতি ক্ষুদ্র এবং ওজন খুবই কম, এটি ব্যবহার করতে খুব অল্প বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, এটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য এবং সবচেয়ে বড় কথা এটি অনেক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব। 
- কাজেই ট্রানজিস্টর খুব দ্রুত ভ্যাকুয়াম টিউবকে সরিয়ে তার স্থান দখল করে নিতে শুরু করল এবং পৃথিবীর মানুষ স্বল্প মূল্যে ট্রানজিস্টর ব্যবহার করে তৈরি নানা ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি পেতে শুরু করল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৩৬.
নিয়ত বায়ুপ্রবাহ কোন উপাদান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়?
  1. গ্রাভিটি
  2. সমুদ্রস্রোত
  3. পৃথিবীর চাপ বলয়
  4. পাহাড়ের উচ্চতা
ব্যাখ্যা
নিয়ত বায়ু (Planatary Winds): 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই নিয়ত বায়ু বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু। 

অয়ন বায়ু (The Trade Wind): 
- বিষুবীয় অঞ্চলে সূর্যকিরণ লম্বভাবে পতিত হয় বলে বায়ুর চাপ কম থাকে তাতে বায়ু উপরে উঠে ছড়িয়ে যায়। 
- এই বায়ু ক্রমাগত শীতল হয়ে নিচে নামতে না পেরে উত্তর ও দক্ষিণে ছড়িয়ে যায়। 
- প্রায় ৩০° অক্ষাংশ বরাবর এই বায়ু নিচে নেমে তা আবার বিষুবীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। 
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে এই বায়ু প্রবাহিত হয়। এই বায়ুকেই বলা হয় অয়ন বায়ু। 
- উত্তর গোলার্ধের অয়ন বায়ুকে উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু ও দক্ষিণ গোলার্ধের অয়ন বায়ুকে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু বলা হয়। 
- প্রাচীনকালে বাণিজ্য জাহাজগুলো এই বায়ুপ্রবাহ অনুসরণ করতো বলে একে বাণিজ্য বায়ুও বলা হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৭.
৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে বলা হয় -
  1. বিষুব রেখা
  2. কুমেরু
  3. দ্রাঘিমা রেখা
  4. সুমেরু
ব্যাখ্যা
- ভূ-পৃষ্ঠের যেকোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে এবং যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে একে প্রকাশ করা হয়, তাকে অক্ষরেখা বলে। 
- পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে বিভক্তকারী বৃত্তাকার রেখাটিকে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে। 
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা বলা হয়। 
- দক্ষণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলা হয়। 
- ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরু বৃত্ত বলা হয়। 
- ৬৬.৫° দক্ষিণ  অক্ষরেখাকে কুমেরু বৃত্ত বলা হয়। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩.৫° কোণে হেলে আছে। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৮.
তিনদিকে স্থলবেষ্টিত এবং একদিকে জলপথ খোলা জলভাগকে কী বলে? 
  1. সাগর
  2. উপসাগর
  3. হ্রদ
  4. নদী
ব্যাখ্যা

মহাসাগর:  
- বারিমণ্ডলের উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ বিশাল লবণাক্ত জলরাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে। 
- পৃথিবীতে পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে। যেমন- প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, উত্তর মহাসাগর এবং দক্ষিণ মহাসাগর। 
- এর মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগর বৃহত্তম ও গভীরতম। 
- আটলান্টিক মহাসাগর ভগ্ন উপকূলবিশিষ্ট এবং এটি অনেক আবদ্ধ সাগরের (Enclosed sea) সৃষ্টি করেছে। 
- ভারত মহাসাগর এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত। 
- ৬০° দক্ষিণ অক্ষাংশ থেকে এন্টার্কটিকার হিমভাগ পর্যন্ত দক্ষিণ মহাসাগরের অবস্থান। দক্ষিণ মহাসাগরের দক্ষিণে এন্টার্কটিকা মহাদেশ বছরের সকল সময় বরফে আচ্ছন্ন থাকে। 
- উত্তর গোলার্ধের উত্তর প্রান্তে উত্তর মহাসাগর অবস্থিত এবং এর চারদিক স্থলবেষ্টিত। 

সাগর: 
- মহাসাগর অপেক্ষা স্বল্প আয়তনবিশিষ্ট জলরাশিকে সাগর (Sea) বলে। 
যথা- ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর, ক্যরিবিয়ান সাগর, জাপান সাগর ইত্যাদি। 

উপসাগর: 
- তিনদিকে স্থলভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং একদিকে জল তাকে উপসাগর (Bay) বলে। 
যথা- বঙ্গোপসাগর, পারস্য উপসাগর ও মেক্সিকো উপসাগর ইত্যাদি। 

হ্রদ: 
- চারদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত জলভাগকে হ্রদ (Lake) বলে। 
যথা- রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ, আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত সুপিরিয়র হ্রদ ও আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদ ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৩৯.
সর্বপ্রথম বিগ ব্যাঙ মতবাদ কে প্রদান করেন?
  1. ক) স্টিফেন হকিং
  2. খ) জি.লেমেটার
  3. গ) টলেমী
  4. ঘ) আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
বেলজিয়ামের নাগরিক জি.লেমেটার, যিনি একজন ধর্মযাজক ছিলেন সর্বপ্রথম বিগ ব্যাঙ মতবাদ প্রদান করেন ১৯২০ সালে। 

বর্তমান থেকে প্রায় ১৩৭০ কোটি বছর আগে মহাবিশ্ব এক অতি ঘন ও উত্তপ্ত বিন্দুর মতো অবস্থা থেকে প্রচন্ড বিস্ফোরণের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। এক অকল্পনীয় ক্ষুদ্র বিন্দুর প্রকান্ড বিস্ফোরণের মাধ্যমে সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় বলে এই মতবাদ বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব নামে পরিচিত।

স্টিফেন হকিং-এর মতে, মহাবিস্ফোরণের সেই মুহূর্তকে ‘সময়ের সূচনা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। শুরুর মুহূর্তে মহাবিশ্বের যাবতীয় পদার্থ এক অতি ক্ষুদ্র বিন্দুর মধ্যে কেন্দ্রীভূত ছিল যার উষ্ণতা ও ঘনত্ব ছিল অসীম। সেই প্রচন্ড উষ্ণতায় ছিল শুধু বিশুদ্ধ শক্তি ও ধূলির মতো কিছু কণা। তারপর মহাবিস্ফোরণের বহির্মুখী চাপে মহাবিশ্ব যতই সম্প্রসারিত হয়েছে তার ফলে ক্রমশ শীতল হয়েছে। 

সূত্র: National Geographic Website 
৩৪০.
নিচের কোনটি গ্রীনহাউজ গ্যাস নয়?
  1. জলীয় বাষ্প (H2O)
  2. কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2)
  3. মিথেন (CH4)
  4. নাইট্রিক অক্সাইড (NO)
ব্যাখ্যা
- গ্রীনহাউজ গ্যাস নয়- নাইট্রিক অক্সাইড (NO), এটি মূলত এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী একটি গ্যাস।

গ্রীন হাউজ গ্যাস ও গ্রীন হাউজ প্রভাব:
- শীতপ্রধান দেশে তাপমাত্রা প্রায় 0°C এর কাছাকাছি থাকে, এত কম তাপমাত্রায় শাকসব্জি চাষ চলে না। ফলে কাঁচের ছাউনিযুক্ত ঘর তৈরি করে এর মধ্যে সবুজ (green) শাকসজির চাষ করা হয়।
- সবুজ উদ্ভিদের ঐ কাঁচের ঘরকে গ্রীন হাউজ বলা হয়।
- গ্রীন হাউজের মধ্যে তাপমাত্রা 38°C থেকে 39°C এর মধ্যে থাকে।
- এটি সম্ভব হয় দৃশ্যমান আলোর সব তরঙ্গ গ্রীন হাউজের কাঁচকে ভেদ করে ভেতরে ঢুকতে পারে।
- ভূপৃষ্ঠ দৃশ্যমান আলো তরঙ্গ (VIBGYOR) দ্বারা উত্তপ্ত হয়, কিন্তু উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠ বৃহৎ তরঙ্গযুক্ত ইনফ্রারেড (IR) রশ্মি বিকিরণ করে, IR রশ্মি কাঁচ ভেদ করতে পারে না।

গ্রীন হাউজ গ্যাস:
- যে সব গ্যাস ভূপৃষ্ঠের বিকিরিত IR রশ্মিকে শোষণ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, তাদেরকে গ্রীন হাউজ গ্যাস বলে।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাসকে প্রধান গ্রীন হাউজ গ্যাস বলা হয়।
- এছাড়াও জলীয় বাষ্প (H2O), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ফ্রিয়ন বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) ও ওজোন গ্যাস (O3) গ্রীন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে থাকে।
- শেষের গ্যাসগুলোর ঘনত্ব বায়ুমণ্ডলে CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক কম হলেও এদের IR রশ্মি শোষণ ও বিকিরণ ক্ষমতা CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক বেশি। তাই গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এ এদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
• গ্রিন হাউজ গ্যাস ⇔ বায়ুতে % পরিমাণ
১। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাস ⇔ 49%,
২। মিথেন (CH4) গ্যাস ⇔ 18%,
৩। নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) গ্যাস ⇔ 6%,
৪। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) গ্যাস ⇔ 14%,
৫। ওজোন )=(O3) গ্যাস ⇔ 8% এবং
৬। জলীয় বাষ্প।

অন্যদিকে,
- নাইট্রিক অক্সাইড (NO) এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস।
- এসিড বৃষ্টির কারণ মূলত সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (NO, NO2) ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৩৪১.
এই শতাব্দীর সবচেয়ে উজ্জ্বল ধূমকেতু কোনটি?
  1. হেলির ধূমকেতু
  2. হেলবপ ধূমকেতু
  3. শুমেকার-লেভী ধূমকেতু
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
এই শতাব্দীর সবচেয়ে উজ্জ্বল ধূমকেতু হল NEOWISE (C/2020 F3)। NEOWISE ২০২০ সালের জুলাই মাসে দৃশ্যমান হয়েছিল এবং এটি ছিল গত ২৫ বছরের মধ্যে উত্তর গোলার্ধে দেখা সবচেয়ে উজ্জ্বল ধূমকেতু।

- ধূমকেতু হলো ধুলো, বরফ ও গ্যাসের তৈরি এক ধরনের মহাজাগতিক বস্তু।
- এই বস্তু মূলত সৌরজগতের একটি ছোট্ট অংশ, যেটি সূর্যকে কেন্দ্র করেই ঘোরে।
- মহাকাশে ধূমকেতুর সংখ্যা ৩ হাজার ৭৪৩টি।
- ক্ষণস্থায়ী ধূমকেতুর প্রতি ঘূর্ণনকাল ২০০ বছরের নিচে হয়, আর দীর্ঘস্থায়ী ধূমকেতুর ক্ষেত্রে সেটা ২০০ বছরেরও অধিক।
- হ্যালির ধূমকেতু হলো বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ধূমকেতু।
- ২০৬১ সালের ২৮  জুলাই আবার হ্যালির ধূমকেতুটি দেখা যাবে।

উৎস:
১. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২. [skyandtelescope.org]
৩৪২.
উচ্চ ক্ষমতার এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা হয় কোন পদ্ধতির মাধ্যমে-
  1. ক) রেডিওথেরাপি
  2. খ) কেমোথেরাপি
  3. গ) এনজিওগ্রাম
  4. ঘ) এন্ডোসকপি
ব্যাখ্যা

রেডিও থেরাপি (Radio Therapy)
রেডিও থেরাপি একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া যা ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হয়। রেডিওথেরাপি শব্দটি ইংরেজি জধফরধঃরড়হ ঞযবৎধঢ়ু এর সংক্ষিপ্ত রূপ। রেডিওথেরাপি হলো ক্যানসার আরোগ্য বা নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল। এটি ব্যবহার করে ক্যান্সার, থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক প্রকৃতি, রক্তের কিছু ব্যধির চিকিৎসা করা হয়। সাধারণত রেডিওথেরাপি উচ্চ শক্তি সম্পন্ন এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে। শরীরের যে অঙ্গে ক্যানসার হয়েছে সে অঙ্গের আক্রান্ত স্থানে রশ্মি প্রয়োগ করা হয় এর ফলে কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়। এ প্রক্রিয়ায় কিছু সংখ্যক সুস্থ কোষও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবুও আমাদের উদ্দেশ্য হলো যত কম সংখ্যক সুস্থ কোষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে বহু সংখ্যক ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা। ক্ষতিগ্রস্থ অধিকাংশ সুস্থ কোষ নিজ থেকেই এই ক্ষয়পূরণ করতে পারে। দুই ধরনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষের DNA ধ্বংস করা হয় একটি হলে ফোটন কণাকে কাজে লাগিয়ে অন্যটি তেজস্ক্রিয় কণার মাধ্যমে।
DNA একটি কোষের সকল বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এবং এটি সকল কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে DNA ধ্বংস করলে কোষটি সাথে সাথেই ধ্বংস হয়। এক্ষেত্রে তেমন সময়ের প্রয়োজন হয় না। এজন্য যে সকল রোগীর ক্যান্সার নিরাময়ে বা সামান্য সময় পাওয়া যায় তাদের ক্ষেত্রে রেডিও থেরাপিই একমাত্র ভরসা। অন্যথায় রোগীর মৃত্যু অনিবার্য।
রেডিও থেরাপিকালে রোগীর কিছু ঝুঁকি দেখা দেয়। যেমন রোগীর চুল পড়ে যায়, চামড়া ঝুলে যায়, মুখের ভিতরের অংশ ও গলা শুকিয়ে যায়, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া বা বদ হজমে দেখা দেয়। রোগী ক্লান্তি ও অবসাদে ভোগে। তাই রেডিও থেরাপি দেয়ার সময় রোগীকে প্রতিবার একই জায়গায় একই অবস্থানে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে। থেরাপি চলাকালে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক চলা উচিৎ।
সুত্রঃ এসএসসি পদার্থবিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৩.
নিচের কোনটি গ্রীন হাউজ গ্যাস নয়?
  1. মিথেন
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রাস
  4. কার্বন ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা

• অক্সিজেন গ্রীন হাউস গ্যাস নয়।

• গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে -
- জলীয় বাষ্প,
- কার্বন ডাই অক্সাইড,
- নাইট্রাস অক্সাইড, 
- মিথেন,
- ওজোন,
- ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি।

- কার্বন ডাই সালফাইড (CS2) এবং কার্বনিল সাইফাইড (COS) পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস।

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি - বোর্ড বই, ব্রিটানিকা এবং Royal Society of Chemistry.

৩৪৪.
বিভিন্ন রঙয়ের আলোকরশ্মি পাওয়ার জন্য LED তৈরিতে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) পরিবাহী পদার্থ
  2. খ) অর্ধপরিবাহী পদার্থ
  3. গ) অপরিবাহী পদার্থ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন রঙয়ের আলোকরশ্মি পাওয়ার জন্য LED তৈরিতে অর্ধপরিবাহী পদার্থ  ব্যবহৃত হয়। 

- LED এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Light Emitting Diode।
- এলইডি হচ্ছে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্রাংশ যার ভেতর দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বা তরঙ্গ প্রবাহের মাধ্যমে আলোক নিঃসরণ হয়।
- এটি এমন এক প্রকার পিএন(P-N) জাংশন ডায়োড যা  সম্মুখ ঝোঁকে কাজ করে এবং আলোক নিঃসরণ করে।
- এলইডি হচ্ছে  একটি সম্মুখ ঝোঁক বিশিষ্ট P-N জাংশন ডায়োড। 
- এটি GaAs(গ্যালিয়াম-আর্সেনাইড) GaP(গ্যালিয়াম ফসফাইড) ধরনের অর্ধপরিবাহী যৌগ দ্বারা প্রস্তুত করা হয় যাতে তাদের বেশিরভাগ শক্তি আলো হিসেবে নির্গত হয়।

LED লাইটের ব্যবহারের দিকসমূহ-
১. ইলেকট্রনিক্স মিটারে এলইডি ব্যবহার করা হয়। 
২.  অডিও সিস্টেম বা অডিও  এনালাইজার হিসেবে। 
৩. মনিটরের ব্যাকলাইট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৪. বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে ইন্ডিকেটর হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৫. রিমোট কন্ট্রোল ট্রান্সমিটার এন্ড রিসিভার ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: ৩৫২ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৪৫.
220V-60W এর বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) ২২০ বিভব পার্থক্যে বাল্বটিতে সংযুক্ত করলে বাল্বটি সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বলভাবে জ্বলবে
  2. খ) প্রতি সেকেন্ডে ৬০ জুল বৈদ্যুতিক শক্তি আলাে ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হবে
  3. গ) প্রতি মিনিটে ৬০ জুল বৈদ্যুতিক শক্তি আলাে ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হবে
  4. ঘ) ক+খ
ব্যাখ্যা
220V -60W-এর অর্থ: তড়িৎ আলাে পাওয়ার জন্য আমরা যে বাল্ব ব্যবহার করি তার গায়ে দুটি সংখ্যার পাশে V এবং W লেখা থাকে। কোনাে বাল্বের গায়ে 220 এবং 60W লেখা থাকলে বােঝা যায় ২২০ বিভব পার্থক্য বালবটিতে সংযুক্ত করলে বাল্বটি সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বলভাবে জ্বলবে এবং তখন প্রতি সেকেন্ডে ৬০ জুল বৈদ্যুতিক শক্তি আলাে ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হবে। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
৩৪৬.
বিপর্যয় উপদ্রুত এলাকার জনসাধারণ যখন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন তাকে কী বলা হয়?
  1. বিপদাপন্নতা
  2. প্রতিকূলতা
  3. দুর্যোগ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ:
- একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে।
- দুর্যোগ একটি এলাকার স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচন্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
- ক্ষতিগ্রস্থ সমাজের পক্ষে নিজস্ব সম্পদ দিয়ে এই ক্ষতি মোকাবিলা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
- দুর্যোগ কোনো স্থানের জনবসতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে ঐ জনবসতি সহজে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৭.
যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে বলা হয়-
  1. আয়ন বায়ু
  2. প্রত্যয়ন বায়ু
  3. মৌসুমী বায়ু
  4. নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন প্রকার বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা- 
• নিয়ত বায়ু, 
• সাময়িক বায়ু, 
• স্থানীয় বায়ু ও 
• অনিয়মিত বায়ু। 

নিয়ত বায়ু: 
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে। 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
• অয়ন বায়ু, 
• পশ্চিমা বায়ু ও 
• মেরু বায়ু। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৮.
সাইক্লোন শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) হাতির শুঁড়ের ন্যায়
  2. খ) কুন্ডলী পাকানো সাপ
  3. গ) প্যাঁচানো সাপ
  4. ঘ) এক চোখা প্রাণী
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘সাইক্লোন’ গ্রিক শব্দ ‘কাইক্লোস’ (Kyklos) থেকে এসেছে। কাইক্লোস শব্দের অর্থ কুন্ডলী পাকানো সাপ। ঘূর্ণিঝড়ের উপগ্রহ চিত্র থেকে এমনতর নামকরণের যথার্থতা বোঝা যায়। ব্রিটিশ-ভারতীয় বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদ  হেনরী পিডিংটন ১৮৪৮ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত সামুদ্রিক দুর্যোগ বিষয়ক পুস্তক The Sailor’s Horn-book for the Law of Storms -এ প্রথমবারের মতো সাইক্লোন শব্দটি ব্যবহার করেন। 

ঘূর্ণিঝড় (Cyclone)  ঘূর্ণিঝড় হলো গ্রীষ্মমন্ডলী ঝড় বা বায়ুমন্ডলীয় একটি উত্তাল অবস্থা যা বাতাসের প্রচন্ড ঘূর্ণায়মান গতির ফলে সংঘটিত হয়। এটি সাধারণ  প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের একটি। ঘূর্ণিঝড় হলো গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড় (Tropical cyclone) বা বায়ুমন্ডলীয় একটি উত্তাল অবস্থা যা বাতাসের প্রচন্ড ঘূর্ণায়মান গতির ফলে সংঘটিত হয়। পৃথিবীর ৩০º উত্তর এবং ৩০º দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চল গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। দক্ষিণ আটলান্টিক এবং দক্ষিণ-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ব্যতীত পৃথিবীর বাদবাকি গ্রীষ্মমন্ডলীয় সাগরাঞ্চল যে মারাত্মক বায়ুমন্ডলীয় দুর্যোগসমূহ জন্ম দিচ্ছে তা সাধারণভাবে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর পৃথিবী জুড়ে গড়ে ৮০টি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
৩৪৯.
'কসমিক ইয়ার' বলতে বুঝায়-
  1. ক) পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তন কাল
  2. খ) নক্ষত্রের নিজ অক্ষে আবর্তন কাল
  3. গ) সূর্যের নিজ অক্ষে আবর্তন কাল
  4. ঘ) ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তন কাল
ব্যাখ্যা
সৌরজগতের গ্রহসমূহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, আর সূর্য মিল্কি-ওয়ে গ্যালাক্সির মধ্যবিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
এই মধ্যবিন্দুর চারদিকে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর ২২৫-২৫০ মিলিয়ন বছর সময় লাগে, এই সময়টাকেই কসমিক ইয়ার বা গ্যালাকটিক ইয়ার বলে।
অর্থাৎ, ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তনকালকে কসমিক ইয়ার বলে।

সোর্সঃ ব্রিটানিকা
৩৫০.
কোন যুগে মানুষের আবির্ভাব ঘটেছে?
  1. ক) ক্রিটেসাস যুগে
  2. খ) ট্রায়াসিক যুগে
  3. গ) প্রোটেরোজোয়িক যুগে
  4. ঘ) সিনোজোয়িক যুগে
ব্যাখ্যা

মেসোজোয়িক যুগ শেষ হয় ৬৬ মিলিয়ন বছর পূর্বে, এ যুগের দুটো ভাগ হচ্ছে ট্রায়াসিক এবং ক্রিটেসাস।
মেসোজোয়িক যুগের শেষভাগ "ক্রিটেসাস যুগে"ই আদি মানুষদের আবির্ভাব ঘটে।
এই সময়ের কিছু বৈশিষ্ঠ্যঃ
ক্রেটাসিয়াস অধিযুগের প্রথমার্ধের তাপমাত্রা যথেষ্ঠ উষ্ণ ছিল। ফলে এই সময়ে মেরু অঞ্চলে কোন বরফ ছিল না। এই কারণেই সাধারণ সমতল ভূভাগের বিচারে সমুদ্রের উপরিভাগ বেশ উচ্চ ছিল। অধিকাংশ ভূভাগের উপরিভাগে তখনও সমুদ্রের পানি ছিল। এই জলাভূমিতে সৃষ্টি হয়েছিল বিশাল বনভূমি। মূলত এই অধিযুগে সপুষ্পক উদ্ভিদ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।

জিওলজিকাল যুগ বিভাজনের সর্বশেষ পর্যায় হচ্ছে সিনোজোয়িক যুগ। যা ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে শুরু হয়ে বর্তমান কাল পর্যন্ত বিস্তৃত। আধুনিক মানুষের শ্রেণিটি (Homo Sapiens) - এই সময়ে বিস্তার লাভ করে।


৩৫১.
আমাদের সৌরজগৎ কোন গ্যালাক্সিতে অবস্থিত?
  1. অ্যান্ড্রোমিডা
  2. প্রক্সিমা সেন্টোরি
  3. সোমব্রেরো গ্যালাক্সি
  4. মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
ব্যাখ্যা

• আমাদের সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ গ্যালাক্সিতে অবস্থিত। মিল্কিওয়ে একটি বিশাল স্পাইরাল আকারের গ্যালাক্সি, যার ব্যাস প্রায় ১,০০,০০০ আলোকবর্ষ এবং এতে কয়েকশ কোটি তারা রয়েছে। আমাদের সৌরজগৎ এই গ্যালাক্সির এক বাহ্যিক কক্ষপথে অবস্থান করছে, যা কেন্দ্রে থাকা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল থেকে প্রায় ২৭,০০,০০০ আলোকবর্ষ দূরে। মিল্কিওয়ে ছায়াপথ হিসেবে পরিচিত, কারণ প্রাচীন মানুষ আকাশে এর আলোকিত রেখার মতো চিহ্ন দেখতে পেত। গ্যালাক্সিটি বিভিন্ন ধরনের তারা, গ্যাস ও ধূলিকণার সমন্বয়ে গঠিত। তাই সৌরজগৎ কোন অনন্য বা ছোট গ্যালাক্সির অংশ নয়, বরং এই বিশাল মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির অন্তর্গত। উত্তর: ঘ) মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ।
 
• মহাবিশ্ব (Universe): 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- মহাবিশ্ব যে কত বড় তা কেউ জানে না এবং কেউ জানে না মহাবিশ্বের আকার বা আকৃতি কেমন। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। 
- গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

• মহাবিশ্বের উৎপত্তি যেভাবে হয়েছে: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

• অন্যান্য অপশন:
- সোমব্রেরো গ্যালাক্সি: এটি একটি বিখ্যাত সর্পিলাকার গ্যালাক্সি, যা আমাদের মিল্কিওয়ে থেকে প্রায় ২৮ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
- অ্যান্ড্রোমিডা: এটি আমাদের নিকটতম বৃহৎ প্রতিবেশী গ্যালাক্সি।
- প্রক্সিমা সেন্টোরি: এটি কোনো গ্যালাক্সি নয়, বরং আমাদের নিকটতম নক্ষত্র (সূর্য ছাড়া)।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

৩৫২.
মঙ্গলগ্রহ কত দিনে সূর্যকে আবর্তন করে?
  1. ৩৬৫
  2. ৪২৭
  3. ৬৬৭
  4. ৬৮৭
ব্যাখ্যা
মঙ্গল (Mars):

- সূর্য থেকে মঙ্গলের গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭ কিলোমিটার।
- মঙ্গলগ্রহ ৬৮৭ দিনে সূর্যকে আবর্তন করে।
- ডিমোস এবং ফোবোস নামক মঙ্গলের দুটি উপগ্রহ রয়েছে।
- বৃত্তাকার কক্ষপথে ডিমোস প্রতি ৩০ ঘণ্টা ১৭ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড এবং ফোবস ৭ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে মঙ্গলকে একবার আবর্তন করে।
- মঙ্গলে রয়েছে সৌরজগতের বৃহত্তম আগ্নেয়গিরি নিকস অলিম্পিকা।
- মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, আর্গন প্রভৃতি গ্যাস রয়েছে।
- মঙ্গলের আকাশ নীল, মাটি লাল ও শুষ্ক।
- মঙ্গলের তাপমাত্রা ২০° সেলসিয়াস এর অধিক হয় না। 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৩.
সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ -
  1. ক) জুপিটার
  2. খ) ভেনাস
  3. গ) মার্কারী
  4. ঘ) নেপচুন
ব্যাখ্যা
বুধ বা মার্কারি হলো সূর্যের নিকটতম এবং ক্ষুদ্রতম গ্রহ। সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ হলো জুপিটার। পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ হলো ভেনাস। উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বোর্ড বই
৩৫৪.
নিরক্ষীয় অঞ্চলে বছর জুড়ে কোন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টি হয়?
  1. ক) পরিচলন বৃষ্টি
  2. খ) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  3. গ) বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি
  4. ঘ) ঘূর্ণি বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
দিনের বেলায় সূ্র্যকিরণের জন্যে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে উপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে পরিচলন বৃষ্টি বলে। নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগ অপেক্ষা জলভাগের বিস্তৃতি অধিক এবং এখানে সূর্য সর্বদা লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় এখানকার বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ সব সময় বেশি থাকে। ফলে এই হালকা জলীয়বাষ্প উপরে উঠে শীতল বায়ু সংস্পর্শে এসে নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর বিকেল অথবা সন্ধ্যায় পরিচলন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টি ঘটায়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল বোর্ড বই
৩৫৫.
'গ্রে-হাইড্রোজেন'-এর তুলনায় 'গ্রীন-হাইড্রোজেনের' সুবিধা হল -
  1. এটি উৎপাদন করা সস্তা
  2. এতে কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য হয়
  3. এটি সংরক্ষণ এবং পরিবহন করা সহজ
  4. প্রতি একক আয়তনে এর শক্তি ঘনত্ব বেশি
ব্যাখ্যা

- গ্রে-হাইড্রোজেনের তুলনায় গ্রীন-হাইড্রোজেনের প্রধান সুবিধা হলো এর উৎপাদন ও ব্যবহারে কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য হয়, যা পরিবেশবান্ধব, যদিও বর্তমানে এটি উৎপাদন করা ব্যয়বহুল। 

হাইড্রোজেনের রঙভিত্তিক শ্রেণীবিভাগ: 
- ক্রমবর্ধমান বিশ্বব্যাপী সমর্থন, ব্যবহারের বহুমুখীতা এবং উচ্চ শক্তির ঘনত্ব হাইড্রোজেনকে জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পের জন্য একটি সম্ভাব্য বিঘ্নকারী প্রযুক্তিতে পরিণত করে। এই ভূমিকা পালনকারী হাইড্রোজেন শক্তিকে সহজতর করার জন্য এমন একটি শ্রেণীবিন্যাস প্রবর্তন করা প্রয়োজন যা ব্যবহৃত হাইড্রোজেনের কার্বন পদচিহ্নকে আলাদা করে। 

হাইড্রোজেনের প্রকারভেদ:
- ন্যাশনাল গ্রিড গ্রুপ বাদামী হাইড্রোজেন এবং গোলাপী হাইড্রোজেন সহ নয় ধরণের হাইড্রোজেনের নামকরণ করেছে।
- তবে সবচেয়ে সাধারণ তিনটি হলো- ধূসর হাইড্রোজেন (Grey Hydrogen), নীল হাইড্রোজেন (Blue Hydrogen) এবং সবুজ হাইড্রোজেন (Green Hydrogen)। 
- হাইড্রোজেনকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করার একটি প্রধান কারণ হলো সবুজ ধোয়ার সুযোগ সীমিত করা। কারণ বর্তমানে উৎপাদিত বেশিরভাগ হাইড্রোজেন দূষণকারী এবং জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভর করে।
- সাধারণ তিনটি হাইড্রোজেন সম্পর্কে নিম্নে বর্ণনা দেওয়া হলো- 
১. ধূসর হাইড্রোজেন (Grey Hydrogen):
- ধূসর হাইড্রোজেন হলো হাইড্রোজেনের সবচেয়ে সাধারণ ধরণ। এটি মূলত বাষ্প মিথেন সংস্কার (SMR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয় যেখানে প্রাকৃতিক গ্যাস বা অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানি শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্বভাবতই, জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা এটিকে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং গ্রিনহাউস গ্যাস-ভারী করে তোলে। প্রকৃতপক্ষে, হাইড্রোজেন উৎপাদনের সরাসরি ফলাফল হিসেবে বার্ষিক ৮৩০ মিলিয়ন টনেরও বেশি CO2 উৎপন্ন হয়।

২. নীল হাইড্রোজেন (Blue Hydrogen): 
- নীল হাইড্রোজেন হলো ধূসর হাইড্রোজেন উৎপাদনকে কার্বনমুক্ত করার প্রচেষ্টার ফলাফল। CCS (কার্বন ক্যাপচার এবং স্টোরেজ) প্রযুক্তি এবং CCU (কার্বন ক্যাপচার এবং ব্যবহার) উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে একত্রিত হয়ে মোট কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমায়। তবে, নীল কার্বন প্রকল্পের কার্বন ক্যাপচারের হার ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। 

৩. সবুজ হাইড্রোজেন (Green Hydrogen): 
- সবুজ হাইড্রোজেন হলো কম কার্বন হাইড্রোজেন উৎপাদনের একমাত্র রূপ। এটি সৌর, বায়ু এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস থেকে শক্তির উপর নির্ভর করে, যা তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হাইড্রোজেন উৎপাদন করে। প্রক্রিয়াটি সহজ এবং কোনও CO2 নির্গত করে না, যার ফলে সবুজ হাইড্রোজেন সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত প্রকার।

বিশ্বব্যাপী, সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন মোট উৎপাদিত হাইড্রোজেনের ১% এরও কম। সবুজ হাইড্রোজেনকে পিছনে রাখার প্রধান বাধা হল দাম। ২০২১ সালের হিসাবে, সবুজ হাইড্রোজেনের দাম ধূসর হাইড্রোজেনের চেয়ে তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি এবং নীল হাইড্রোজেনের দামের দ্বিগুণ। এই দাম সম্ভবত এটিকে শক্তির জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে এবং ধূসর হাইড্রোজেনের সাথে খরচ-প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে, যার ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

উৎস: International Energy Week Report [লিঙ্ক]।

৩৫৬.
বুধ গ্রহের ক্ষেত্রে সত্য নয় কোনটি?
  1. ক) বুধ গ্রহের উপগ্রহ আছে।
  2. খ) সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ।
  3. গ) সূর্যের নিকটতম গ্রহ।
  4. ঘ) সৌরজগতের দ্রুততম গ্রহ।
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ:

- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি।
- সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ বুধ।
- সূর্যের নিকটতম গ্রহ বুধ।
- সৌরজগতের দ্রুততম গ্রহ বুধ।
- পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ শুক্র।
- সৌরজগতের বুধ ও শুক্র গ্রহের উপগ্রহ নেই।
- সৌরজগতের শনি গ্রহের উপগ্রহ সবচেয়ে বেশি।
- বুধ ৮৮ দিনে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮।
৩৫৭.
কসমিক-রে এর আবিষ্কারক -
  1. উইলিয়াম রাদারফোর্ড
  2. ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস
  3. রন্টজেন
  4. স্টিফেন হকিং
ব্যাখ্যা
মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays):

• বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
• ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
কসমিক-রে  বা মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক-  ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস।
• মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 
• ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।
• বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
৩৫৮.
একবিংশ শতাব্দীর প্রথম ‍ধূমকেতুর নাম কি?
  1. হ্যালি
  2. লারা
  3. উল্কা
  4. লাইনিয়ার
ব্যাখ্যা
- একুশ শতকের প্রথম ধূমকেতুটির নাম ছিল C/1999 S4 (LINEAR)। 
- এটি 27 সেপ্টেম্বর, 1999 -এ লিঙ্কন নিয়ার-আর্থ অ্যাস্টেরয়েড রিসার্চ (LINEAR) প্রকল্প দ্বারা আবিষ্কৃত হয়েছিল, যা নিউ মেক্সিকোতে স্বয়ংক্রিয় টেলিস্কোপের একটি সিস্টেম ছিল যার লক্ষ্য ছিল ধূমকেতু এবং গ্রহাণু সহ পৃথিবীর কাছাকাছি বস্তুগুলি সনাক্ত করা। 
- এই ধূমকেতুটি সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল কারণ এটি সূর্যের কাছে আসার সাথে সাথে দিনের বেলাও খালি চোখে দৃশ্যমান হয়েছিল। 
- এটি 2000 সালের জুলাই মাসে সূর্যের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে এটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 

উৎস: [লিঙ্ক]।
৩৫৯.
সবুজ আলোতে গোলাপ ফুলকে কেমন দেখাবে?
  1. ক) লাল
  2. খ) সবুজ
  3. গ) গোলাপী
  4. ঘ) কালো
ব্যাখ্যা
সবুজ আলোতে গোলাপ ফুল থেকে কোনো রঙই প্রতিফলিত হয় না বলে গোলাপ ফুলকে কালো দেখায়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৩৬০.
আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুযায়ী স্থান, ভর ও সময় সম্পর্কে কী বলা হয়েছে? 
  1. সবগুলো ধ্রুব রাশি
  2. স্থান, ভর ও সময় আপেক্ষিক
  3. কেবল ভর পরিবর্তন হয়, স্থান ও সময় অপরিবর্তিত থাকে
  4. এগুলো কেবল কম গতিসম্পন্ন বস্তুর জন্য পরিবর্তিত হয়
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিকতার নীতি (Principle of Relativity): 
- যখন কোনো বস্তুর অবস্থান বা বেগ পরিমাপ করা হয় তখন কোনো স্থির বিন্দুকে প্রসঙ্গ কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা হয়। 
- ঐ প্রসঙ্গ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুটির রৈখিক দূরত্বকে তার অবস্থান বলা হয় এবং প্রসঙ্গ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুটির রৈখিক দ্রতিকে বেগ বলা হয়। কিন্তু এই মহাবিশ্বে কোনো কিছুই স্থির নয়। 
- সুতরাং পরম স্থির বলে কোনো অবস্থান পাওয়া সম্ভব নয় যাকে স্থির প্রসঙ্গ কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা যায়। তাই প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে যা পরিমাপ করা হয় তা পরম নয়। 
অর্থাৎ, সব সময় অবস্থান বা বেগকে আপেক্ষিকভাবে পরিমাপ করা হয়। 

- চিরায়ত বল বিদ্যার মতে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি।
- কিন্তু ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটান। তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়, এগুলো সকলই আপেক্ষিক। 
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে এদের পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। 
- উচ্চ গতিশীল (আলোর কাছাকাছি বেগে) বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়, আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক বলা হয়। 
- পরমাণবিক ও নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞানে এই তত্ত্বের গুরত্ব অপরিসীম। 
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বে বলেন প্রাকৃতিক নিয়মাবলীর গাণিতিক সূত্রসমূহ সকল জড় কাঠামোতে অভিন্ন, এটাই আপেক্ষিকতার নীতি। 
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। 
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬১.
অতিবেগুনি রশ্মি কোথা থেকে আসে?
  1. চন্দ্র
  2. তারকা
  3. সূর্য
  4. ব্লাক হোল
ব্যাখ্যা
- জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি হলাে গামা রশ্মি। 
- গামা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা অন্যান্য তেজস্ক্রিয় রশ্মি আলফা ও বিটা রশ্মির চেয়ে অনেক বেশি। 
- গামা রশ্মি প্রায় কয়েক সেন্টিমিটার পর্যন্ত সীসা ভেদ করতে পারে। 
- আলট্রাভায়ােলেট বা অতিবেগুনি রশ্মি সূর্য থেকে আসে যা তেজস্ক্রিয় রশ্মি থেকে কম ক্ষতিকর। 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম হওয়ায় এর ভেদন ক্ষমতাও সবচেয়ে বেশি। 
- পারমাণবিক বিস্ফোরণে গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- বিটা ও আলফা রশ্মি গামা রশ্মির তুলনায় কম ক্ষতিকর। 

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট।
৩৬২.
তড়িৎ বিশ্লেষণের ব্যাখ্যা প্রদান করেন কে?
  1. ক) ম্যাক্সপ্লাঙ্ক
  2. খ) কুলম্ব
  3. গ) আরহেনিয়াস
  4. ঘ) আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা

বিখ্যাত বিজ্ঞানী আরহেনিয়াস ১৮৮১ সালে প্রথম তড়িৎ বিশ্লেষণের ব্যাখ্যা দেন।
তিনি দেখিয়েছিলেন এসিড, ক্ষার বা লবণজাতীয় যৌগিক পদার্থকে তরলে দ্রবীভূত করলে সেগুলো আয়নায়িত হয়ে সম-পরিমাণ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আধানে ভাগ হয়ে যায়।

উৎসঃ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬৩.
বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত কত?
  1. ক) ২৩০০ মিমি
  2. খ) ১৭০০ মিমি
  3. গ) ২৪০০ মিমি
  4. ঘ) ২১০০ মিমি
ব্যাখ্যা

নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বই (পৃষ্ঠা নং ২০৯, ২০২০ বর্ষ) অনুসারে, বাংলাদেশের গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৩০০ মিমি।
কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস), গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার (ais.gov.bd) অনুসারে, বাংলাদেশের গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৩০০ মিমি।
---------
নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বই (পৃষ্ঠা নং ১৫৬, ২০২০ বর্ষ) অনুসারে, বাংলাদেশের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২৬.০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় সিলেট অঞ্চলে।

৩৬৪.
প্রথম মহাকাশচারী ব্যক্তি কে?
  1. নীল আর্মস্ট্রং
  2. ইউরি গ্যাগারিন
  3. ভেলেন্টিনা তেরেসকোভা
  4. স্টিফেন হকিং
ব্যাখ্যা
ইউরি গ্যাগারিন:
- মহাকাশে প্রথম ভ্রমণকারী ইউরি গ্যাগারিন
- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মহাকাশ অভিযাত্রী ইউরি গ্যাগারিন। 
- মহাকাশে তিনিই হলেন প্রথম মানব অভিযাত্রী।
- ১৯৬১ সালের ১৯ এপ্রিল তিনি মহাকাশে পৃথিবীর কক্ষপথ পরিভ্রমণ করেন। 
- ভস্টক–১ নভোযানে তিনি মহাকাশে যান।
- গ্যাগারিন মহাকাশে ছিলেন ১০৮ মিনিট।
- মাত্র দেড় ঘণ্টার মতো সময়ে তিনি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন।

উৎস: Britannica.
৩৬৫.
The largest planet in the solar system is-
  1. ক) Mars
  2. খ) Jupiter
  3. গ) Venus
  4. ঘ) Saturn
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ:

- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি।
- সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ বুধ।
- সূর্যের নিকটতম গ্রহ বুধ।
- সৌরজগতের দ্রুততম গ্রহ বুধ।
- পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ শুক্র।
- সৌরজগতের বুধ ও শুক্র গ্রহের উপগ্রহ নেই।
- সৌরজগতের শনি গ্রহের উপগ্রহ সবচেয়ে বেশি।
- বুধ ৮৮ দিনে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮।
৩৬৬.
কোষের তড়িচ্চালক বল পরিমাপ করার যন্ত্রের নাম-
  1. ক) গ্যালভানােমিটার
  2. খ) মিটার ব্রীজ
  3. গ) অ্যামিটার
  4. ঘ) পােটেনশিওমিটার
ব্যাখ্যা
বিভব পতন পদ্ধতিতে যে যন্ত্রের সাহায্যে ছোট মানের বিভব বৈষম্য ও বিদ্যুচ্চালক শক্তি সূক্ষ্মভাবে নির্ণয় করা যায় তাকে পােটেনশিওমিটার বলে। এর সাহায্যে বিদ্যুৎ প্রবাহমাত্রা এবং রােধও নির্ণয় করা যায়। (উৎসঃ ১১-১২শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
৩৬৭.
পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রবাল প্রাচীর কোন দেশে অবস্থিত?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. কানাডা
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা
গ্রেট বেরিয়ার রিফ:

- এটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- গ্রেট বেরিয়ার রিফ হলো পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রবাল প্রাচীর।
- এটি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যে অবস্থিত।
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৪৪,৪০০০ কিলোমিটার। 
- গ্রেট বেরিয়ার রিফ পৃথিবীর প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের একটি এবং ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐহিত্য।

তথ্যসূত্র - গ্রেট বেরিয়ার রিফ অর্গানাইজেশন ওয়েবসাইট।
৩৬৮.
কোন এলাকাগুলো গ্রীন হাউজ ইফেক্টের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবে? 
  1. পাহাড়ি এলাকা 
  2. অরণ্য
  3. সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল 
  4. মরুভূমি 
ব্যাখ্যা

পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব: 
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় উদ্ভিদ ও প্রাণীকূল একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে আবদ্ধ। 
- লক্ষ লক্ষ প্রজাতির উদ্ভিদ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, মানুষ ইত্যাদি নিয়ে গড়ে উঠেছে জীববৈচিত্র্য। 
- অরণ্য, পাহাড়, জলাভূমি, সমুদ্র জীববৈচিত্র্যের অতীব প্রয়োজনীয় আঁধার। তাই পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে মানুষের মৌলিক চাহিদাসমূহ যেমন- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধ, জ্বালানি প্রয়োজনীয় উপকরণ নিরবিচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে।
- পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হলে বিশেষ করে বনাঞ্চল ধ্বংস হলে বৃষ্টিপাতের হার কমে যাবে, ফলে চাষাবাদের যথেষ্ট ক্ষতি হবে।
- গ্রীন হাউজ অর্থ সবুজ ঘর, এটি কাচ দিয়ে তৈরি ঘর। প্রয়োজনমত তাপমাত্রা সৃষ্টি করে সবুজ গাছ পালা জন্মানো হয়। 
- সাধারণত শীত প্রধানদেশে এ ধরনের কাচের ঘর তৈরি করে শসা, টমেটো, কপি, লেটুস, ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের শাকসব্জি চাষ করা হয়। সূর্য্যের দৃশ্যমান আলো গ্রীন হাউজের কাচের প্রাচীর ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে কিন্তু বিকিরিত আলোকরশ্মি কাচ ভেদ করে বাইরে আসতে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে তাপ ভেতরে থেকে যায়, কাচের ঘর গরম হয় এবং গাছ জন্মানোর জন্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়। 

- গ্রীন হাউজ প্রভাব বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রার সাথে সংযুক্ত। 
- সূর্য থেকে আগত দৃশ্যমান আলোক রশ্মি ভূপৃষ্ঠ থেকে ইনফ্রারেড রশ্মি বিকিরণের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে বাইরে চলে যাবার চেষ্টা করে। কিন্তু বায়ুমণ্ডলের কিছু গ্যাস (CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) ইনফ্রারেড রশ্মিকে শোষণ করে। ফলে বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে ইনফ্রারেড রশ্মি যেতে পারে না। বায়ুমণ্ডলের গ্যাসসমূহ গ্রীন হাউজের কাচের দেয়ালের ন্যায় কাজ করে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। বৃদ্ধি পাবার ফলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যাকে গ্রীন হাউজ ইফেক্ট বলা হয়। 
- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল। এছাড়া সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে যাবে, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এর তীব্রতা বেড়ে যাবে, বনাঞ্চল ধ্বংস হবে। 
- কিন্তু পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে গ্রীন হাউজের তীব্রতা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। 
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বেশি বেশি গাছপালা ধ্বংস করা এবং শিল্পায়নের ফলে বায়ুমণ্ডলে CO2 গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৯.
Biotechnology শব্দটি প্রথম কে, কোন বছর প্রবর্তন করেন?
  1. গ্রেগর মেন্ডেল, 1863 সালে 
  2. ওয়াটসন ও ক্রিক, 1953 সালে
  3. স্ট্রাসবুর্গার, 1953 সালে
  4. কার্ল এরেকি, 1919 সালে 
ব্যাখ্যা

- হাঙ্গেরীয় কৃষি প্রকৌশলী কার্ল এরেকি (Karl Ereky) সর্বপ্রথম ১৯১৯ সালে "Biotechnology" বা "জৈবপ্রযুক্তি" শব্দটি প্রবর্তন করেন।

জীবপ্রযুক্তি বা বায়োটেকনোলজি (Biotechnology): 

- জীবপ্রযুক্তি দুটি শব্দ Biology এবং Technology-এর সমন্বয়ে গঠিত। Biology শব্দের অর্থ জীব সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান এবং Technology শব্দের অর্থ প্রযুক্তি। 
অর্থাৎ, Biology এবং Technology-এর আন্তঃসম্পর্কিত বিষয়ই হলো জীবপ্রযুক্তি। 
- 1919 সালে হাঙ্গেরীয় প্রকৌশলী কার্ল এরেকি (Karl Ereky) প্রথম Biotechnology শব্দটি প্রবর্তন করেন। 
- এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করে কোনো জীবকোষ, অণুজীব বা তার অংশবিশেষ ব্যবহার করে নতুন কোনো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের (উদ্ভিদ বা প্রাণী বা অণুজীব) উদ্ভাবন বা সেই জীব থেকে প্রক্রিয়াজাত বা উপজাত দ্রব্য প্রস্তুত করা হয়। 

- বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় জীবপ্রযুক্তি কোনো নতুন সংযোজন নয়, মানব সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকেই জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ শুরু হয়েছে। গাঁজন এবং চোলাইকরণের (Fermentation and brewing) মতো প্রযুক্তিজ্ঞান মানুষ প্রায় ৪০০০ বছর আগেই রপ্ত করেছে। 
- 1863 সালে গ্রেগর জোহান মেন্ডেল কৌলিতত্ত্ব বা জেনেটিক্স-এর সূত্রগুলো আবিষ্কারের পর থেকে জীবপ্রযুক্তি নতুনরূপে অগ্রযাত্রা শুরু করে। 
- 1953 সালে Watson এবং Crick কর্তৃক ডিএনএ ডাবল হেলিক্স মডেল আবিষ্কারের ধারাবাহিকতায় আজকের আধুনিক জীবপ্রযুক্তির শুরু। 
- জীবপ্রযুক্তির অনেক পদ্ধতির মধ্যে বর্তমানে টিস্যু কালচার (Tissue culture) ও জিন প্রকৌশল (Genetic engineering) পদ্ধতি কৃষি উন্নয়ন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৭০.
মহাকাশের শুরু কোথা থেকে?
  1. ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬০ কিলোমিটার উচ্চতায়
  2. ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৬০ কিলোমিটার উচ্চতায়
  3. ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৬০ কিলোমিটার উচ্চতায়
  4. ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৪০ কিলোমিটার উচ্চতায়
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর মত এর বায়ুমন্ডলও মহাকাশে ঘুরছে। এজন্য বায়ুমন্ডলকে মহাকাশের অংশ হিসাবে বিবেচনা করা হয় না। একে পৃথিবীর অংশ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে দূরত্ব যত বাড়তে তগাকে বায়ুমন্ডল তত হালকা হতে থাকে এবং ১৬০ কিলোমিটারের পর বায়ুমন্ডল থাকে না বললেই চলে। অধিকাংশ বিজ্ঞানী মনে করেন যে, পৃথিবী থেকে ১৬০ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ুমন্ডলের শেষ এবং মহাকাশের শুরু।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি

৩৭১.
পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই কোন দুর্যোগ সংঘটিত হয়?
  1. বন্যা
  2. খরা
  3. ভূমিকম্প
  4. ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
• পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়- ভূমিকম্প। 
----------------- 
• ভূমিকম্প:
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলে।
- কোন ধরনের আগাম সতর্ক সংকেত ব্যতীত অর্থাৎ কার্যকর পূর্বাভাস ছাড়া সংঘটিত দুর্যোগ হলো ভূমিকম্প।
- ভূমিকম্প সংঘটনের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও ভূমিকম্প সংঘটনের পূর্বে সতর্কতা প্রাপ্তি এখনো সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে,
- বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও শৈত্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে পূর্বাভাস পাওয়া যায়।
---------------------------------- 
• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ (উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল), মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ (মধ্য অঞ্চল) এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ (দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল)।
- ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় নদীর গতিপথ পাল্টে যায়।
যেমন, ১৭৮৭ সালে আসামে (ডাউকি ফন্ট) যে ভূমিকম্প হয় তাতে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ কিছুটা উচু হয় ফলে তার গতিপথ পাল্টে গিয়ে যমুনা নদী দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে।
- ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম রিখটার স্কেল।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭২.
গ্রিনিচের মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে যে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের কী বলা হয়?
  1. মূল মধ্যরেখা
  2. দ্রাঘিমা
  3. অক্ষাংশ
  4. নিরক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian): 
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উপকণ্ঠে গ্রিনিচ (Greenwich) মানমন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে তাকে মূল মধ্যরেখা বলে।
- এই রেখার মান ০ ডিগ্রি ধরা হয়েছে।
- মূল মধ্যরেখা থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণের সাহায্যে অপরাপর দ্রাঘিমারেখাগুলো অঙ্কন করা যায়।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে ৪৫ ডিগ্রি পূর্বে যে মধ্যরেখা বা দ্রাঘিমারেখা তার উপর সকল স্থানের দ্রাঘিমা ৪৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে যে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের দ্রাঘিমা বলা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৩৭৩.
নিকোলাস কোপার্নিকাস ছিলেন মূলত একজন - 
  1. রসায়নবিদ
  2. জ্যোর্তিবিজ্ঞানী
  3. গণিতবিদ
  4. দার্শনিক
ব্যাখ্যা
নিকোলাস কোপার্নিকাস: 
- তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৪৭৩ সালে পোল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন। 
- তিনিই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। 
- তিনি ২৪ মে, ১৫৪৩ সালে ইতালির রোমে মৃত্যুবরণ করেন। 

অন্যদিকে, 
- পরবর্তীতে জোহান কেপলার গ্রহের গতি সম্পর্কিত সূত্র আবিস্কার করেন যা কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। 
- তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৩৭৪.
দুটি স্থানের মধ্যে দ্রাঘিমাংশের পার্থক্য ১° হলে সময়ের পার্থক্য হবে-
  1. ৪ মিনিট
  2. ৬ মিনিট
  3. ৮ মিনিট
  4. ১০ মিনিট
ব্যাখ্যা
গ্রীনিচ মানমন্দির: 
- পৃথিবীর দুটি স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য ১° হলে ঐ দুটি স্থানের সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট। 
- তাহলে ১ ঘন্টা বা ৬০ মিনিটের জন্য দ্রাঘিমা পার্থক্য হবে (৬০/৪)= ১৫ ডিগ্রি। 
- বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বে অবস্থিত হওয়ায়, 
বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য (৯০ × ৪) = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা। 

- গ্রীনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত। 
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গেছে। 
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয়। 
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়। 
- গ্রীনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি এবং গ্রীনিচ মানমন্দির ওয়েবসাইট।
৩৭৫.
একটি টেলিফোনে কতটি উপাংশ থাকে?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
- ১৮৭৫ সালে আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল টেলিফোন আবিষ্কার করেন, যা নানা ধরনের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান আধুনিক টেলিফোনে রূপ নিয়েছে। 
- টেলিফোনের পাঁচটি উপাংশ থাকে। 
যথা - 
১। সুইচ: যেটি মূল টেলিফোন নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত অথবা বিচ্ছিন্ন করে। 
২। রিংগার: যেটি শব্দ করে জানিয়ে দেয় যে কেউ একজন যোগাযোগ করছে। 
৩। কি-প্যাড: যেটি ব্যবহার করে একজন অন্য একজনকে ডায়াল করতে পারে। 
৪। মাইক্রোফোন: যেটি আমাদের কণ্ঠস্বরকে বৈদ্যুতিক সিগন্যালে পরিবর্তন করে। 
৫। স্পিকার: যেটি বৈদ্যুতিক সিগন্যালকে শব্দে রূপান্তর করে শোনার ব্যবস্থা করে দেয়। 

- প্রতিটি টেলিফোনেই তামার তার দিয়ে আঞ্চলিক অফিসের সাথে যুক্ত থাকে। আমরা যখন কথা বলার জন্য কোন নম্বরে ডায়াল করি, তখন আঞ্চলিক অফিসে সেই তথ্যটি পৌঁছে যায়। সেখানে একটি সুইচ বোর্ড থাকে যেটি নির্দিষ্ট গ্রাহকের টেলিফোনের সাথে যুক্ত করে দেয়। 
- বর্তমানে একটি অপটিক্যাল ফাইবারে একই সাথে আক্ষরিক অর্থে লক্ষ লক্ষ মানুষের কতাবার্তা পাঠানো সম্ভব তাই টেলিফোনে কথাবার্তা বলার বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে যা আগে অনেক খরচ সাপেক্ষ ছিল। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭৬.
'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক' কোন উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়?
  1. সামাজিক বনায়ন জোরদার করা
  2. দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা
  3. বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ করা
  4. রাসায়নিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ
ব্যাখ্যা
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- ১৪ মার্চ - ১৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্থির করা হয়।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

• সাতটি লক্ষ্য:
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাথে সরাসরি দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুতর অবকাঠামোর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধাগুলির মধ্যে মৌলিক পরিষেবাগুলির ব্যাঘাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় এবং স্থানীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশলসহ দেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তাদের জাতীয় কর্মের পরিপূরক করার জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বহু-বিপদ প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্য এবং মূল্যায়নের প্রাপ্যতা এবং অ্যাক্সেস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট।
৩৭৭.
কোন বিজ্ঞান শাখা মহাবিশ্বের সৃষ্টি, গঠন ও বিবর্তন নিয়ে গবেষণা করে?
  1. কসমোলজি 
  2. জিওলজি 
  3. অ্যাস্ট্রোফিজিক্স 
  4. অ্যাস্ট্রোনমি 
ব্যাখ্যা

মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য: 
- মহাবিশ্ব কেন সৃষ্টি হলো, কিভাবে সৃষ্টি হলো, কেনইবা এটি টিকে আছে এ সম্পর্কে আমাদের কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। তবে এটি কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে এর বিবর্তনের ধারা সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা যায়। 
- রাতের আকাশে আমরা অসংখ্য তারা বা নক্ষত্র দেখা যায়, এমন অসংখ্য নক্ষত্র নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি গ্যালাক্সি। 
- সপ্তদশ শতাব্দীতে টেলিস্কোপের ব্যবহার থেকে জানা যায়, সূর্য আমাদের ছায়াপথ গ্যালাক্সির (Milky way) অন্যান্য নক্ষত্রের মতোই একটি সাধারণ নক্ষত্র। তখন মনে করা হতো, সূর্য হচ্ছে গ্যালাক্সির কেন্দ্রবিন্দু। 
- বিংশ শতাব্দীতে এসে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, সূর্যের অবস্থান গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে অনেক অনেক দূরে। এরূপ কোটি কোটি গ্যালাক্সি নিয়ে গঠিত হয়েছে এ মহাবিশ্ব। 
- আমাদের ছায়াপথ গ্যালাক্সিতে নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় 1011  । মহাবিশ্বে এরকম প্রায় 1011 সংখ্যক গ্যালাক্সি রয়েছে। আর প্রত্যেকটি গ্যালাক্সিতে রয়েছে গ্যালাক্সির প্রায় সমসংখ্যক নক্ষত্র। 

- পৃথিবী মহাবিশ্বের তুলনায় অতি অতি ক্ষুদ্র। পৃথিবী থেকে মহাকাশে নক্ষত্রদের দেখতে কাছাকাছি মনে হলেও এদের পরস্পরের মধ্যে রয়েছে অনেক আলোক বর্ষের ব্যবধান। 
- সভ্যতার সেই শুর হতেই বিজ্ঞানীগণ এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য এবং পরিণতি সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা পোষণ করে আসছেন। এ সব ধারণা এবং বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে বিজ্ঞানের একটি শাখা সৃষ্টি হয়েছে, যা কসমোলজি (Cosmology) বা 'মহাজাগতিক বিজ্ঞান' নামে পরিচিত। 
- বিংশ শতাব্দীতে দুই জন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিকের দ্বারা দুটি পরীক্ষা সংঘটিত হয়, যেগুলোর মাধ্যমে মহাবিশ্ব সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ধারণা প্রায় সকল পদার্থ বিজ্ঞানীদের মাঝে গৃহীত হয়েছে।
- পরীক্ষা দুটি হলো- ১। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ এবং ২। মহাজাগতিক পশ্চাৎপট বিকিরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭৮.
আহ্নিক গতি বলতে কী বোঝায়?
  1. পৃথিবীর কক্ষপথ পরিবর্তন
  2. সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর আবর্তন
  3. পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তন
  4. চাঁদের চারপাশে পৃথিবীর আবর্তন
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর আহ্নিক গতি:
- পৃথিবীর আহ্নিক গতি বলতে পৃথিবীর নিজ অক্ষে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তনকে বোঝানো হয়।
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘণ্টা সময়ে অনবরত পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে। 
- এই সময়কে সৌরদিন এবং আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়। 
- আহ্নিক গতির মূল কারণ হলো-পৃথিবীর আবর্তন এবং পৃথিবীর আকৃতি। 

আহ্নিক গতির ফলাফল:
১. দিবা-রাত্রির সংঘটন: পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তনের দরুন আহ্নিক গতি বা দিবা-রাত্রি সংঘটিত হয়। আবর্তনরত পৃথিবীর যে অংশে সূর্যের আলো পড়ে সেই অংশ আলোকিত হয় অর্থাৎ সেই অংশে দিন এবং অপর অংশে অন্ধকারাচ্ছন্ন বা রাত থাকে।

২. জোয়ার-ভাটা: নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে আহ্নিক গতির জন্য সমুদ্রে প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়।

৩. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি: ফেরেলের কোরিওলিস সূত্রানুসারে, আহ্নিক গতির কারণে বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭৯.
কোন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মঙ্গোলয়েড ও নিগ্রয়েড মানুষের মধ্যে তফাৎ লক্ষ্য করা যায়?
  1. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
  2. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
  3. স্বভাবগত বৈচিত্র্য
  4. জিনগত বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা

• মঙ্গোলয়েড ও নিগ্রয়েড মানুষের মধ্যে তফাৎ প্রধানত জিনগত বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে লক্ষ্য করা যায়। এটি শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও বংশগত বৈচিত্র্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
 
জীব-বৈচিত্র্য: 
- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়। 
- প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনোটি এতোই ছোট যে এদের খালি চোখে দেখা যায় না, আবার কোনোটি আকারে বড় তাই খালি চোখে দেখা যায়। 
- এদের মধ্যে কোনোটি মানুষের জন্য উপকারি, কোনোটি ক্ষতিকর। 
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়। 
- তাই প্রাণিদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান থাকা অতীব প্রয়োজনীয়। 
 
প্রাণিজগতের বিভিন্নতা বা প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity): 
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে। 
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।
যথা- 

১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity): 
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। 
 
২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। 
যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে। 
 
৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। 
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি । 
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। 
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮০.
ডায়োড এর দুইটি প্রান্ত হলো-
  1. গেট এবং ড্রেন
  2. পেনট্রোড এবং ট্রায়োড
  3. ড্রেন এবং উৎস
  4. অ্যানোড এবং ক্যাথোড
ব্যাখ্যা

- ডায়োড শব্দটি দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত, ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’। তাই সাধারণ ভাবে বলা যায় যে, দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিক্স কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড।
- ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড যার এক দিকে নেগেটিভ অপর দিকে পজেটিভ টার্মিনাল থাকে।
- সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়।
- ডায়োড একটি দুই প্রান্ত বিশিষ্ট ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ যা বর্তনীতে একমুখী তড়িৎ প্রবাহ তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়।



সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩৮১.
নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানির বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. শীতল ও ভারী
  2. উষ্ণ ও ভারী
  3. উষ্ণ ও হালকা
  4. শীতল ও হালকা
ব্যাখ্যা

নিরক্ষীয় অঞ্চল: 
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়। 
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানি উষ্ণ ও হাল্কা হয়।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় ফলে নিরক্ষীয় অঞ্চলের উষ্ণ পানি আয়তনে বৃদ্ধি পায় ও হালকা বলে সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়। 
- অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি।
- এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৭০০-২৫০০ মিলিমিটার।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৮২.
গ্রিন হাউস এফেক্টের ফলে নিচের কোনটি সংঘটিত হবে না? 
  1. আবহাওয়ার পরিবর্তন হওয়া  
  2. ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাওয়া 
  3. সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে যাওয়া 
  4. সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়া 
ব্যাখ্যা

- গ্রিন হাউস এফেক্টের ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে না, বরং বেড়ে যায়। 

গ্রিন হাউস এফেক্ট: 

- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধ, জ্বালানি, পানিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণাদি পরিবেশ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে। 
- পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশেষ করে বনাঞ্চল ধ্বংস হলে বৃষ্টিপাতের হার কমে যায়, চাষাবাদের যথেষ্ট ক্ষতি হয়। 
- গ্রিনহাউস গ্যাস (যেমন- CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যাকে গ্রিন হাউস এফেক্ট (Green house effect) বলে। 
- গ্রিনহাউস এফেক্টের কারণে- 
• সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে এবং উপকূল অঞ্চল তলিয়ে যাবে, 
• আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে, 
• বনাঞ্চল ধবংস হবে, 
• বিভিন্ন রোগবালাইয়ের প্রভাবে ফসলের ক্ষতি হবে, 
• মানুষের মধ্যে নতুন সব রোগের প্রকোপ দেখা দিবে, 
• ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাবে।
- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে গ্রিনহাউস এফেক্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তাই এখন থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৮৩.
মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু কোনটি?
  1. সুপারনোভা
  2. হোয়াইট ডোয়ার্ক
  3. নিউট্রন তারা 
  4. কোয়াসার 
ব্যাখ্যা

কোয়াসার (Quasar): 
- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়াসার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়াসারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি, অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি এই সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন, কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান ব্ল্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। সুতরাং, কোয়াসারের শক্তির উৎস ব্ল্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উলেখযোগ্য হলো- 
• কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, 
• কোয়াসারের রং নীলাভ, 
• কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস এবং 
• কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৪.
The South Pole is located in the-
  1. ক) Arctic
  2. খ) Antarctic
  3. গ) Antipodes
  4. ঘ) Occident
ব্যাখ্যা
South Pole, southern end of the Earth’s axis, lying in Antarctica.
- ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে রাণী এলিজাবেথের পারিবারিক চিকিৎসক ড. গীলবার্ট বিভিন্ন পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করেন যে পৃথিবী একটি চুম্বক।
- এই ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু কানাডার উত্তর দিকে বুথিয়া উপদ্বীপে এবং উত্তর মেরু এন্টার্কটিকা মহাদেশের ভিক্টোরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত।
- প্রকৃতপক্ষে ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু ভৌগলিক উত্তর মেরু থেকে প্রায় ২৫০০ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরু ভৌগলিক দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ২২০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৩৮৫.
কয়লার দহনের সময় কোন গ্যাস বায়ুতে মিশে এসিড বৃষ্টি সৃষ্টি করে? 
  1. মিথেন
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. কার্বন মনোক্সাইড
  4. সালফার ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
জ্বালানি বিশুদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব: 
- জীবাশ্ম জ্বালানির দহনের ফলে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস, পানি ও তাপের সৃষ্টি হয়। 
- স্বল্প বায়ুতে জ্বালানি দহন করলে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের সাথে কিছু পরিমাণ কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসও উৎপন্ন হয়। 
- কার্বন মনোক্সাইড (CO) খুব বিষাক্ত গ্যাস, এটি নীরব ঘাতক গ্যাস নামে পরিচিত এবং স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। 
- জীবাশ্ম জ্বালানি কয়লার মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ বর্জ্য সালফার ও নাইট্রোজেন থাকে। 
- কয়লার দহনের সময় বর্জ্য সালফার পরিবর্তিত হয়ে সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2) এবং নাইট্রোজেন তার বিভিন্ন অক্সাইড যৌগ হিসেবে বায়ুতে মিশে থাকে। সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস বায়ুতে মিশে বায়ুর ঘনত্ব বৃদ্ধি করে এবং জলীয় বাষ্পের সাথে যুক্ত হয়ে সালফিউরিক এসিড উৎপন্ন করে থাকে। সালফিউরিক এসিড, এসিড বৃষ্টি সৃষ্টি করে। 
- নাইট্রোজেন অক্সাইডও একইভাবে জলীয় বাষ্পের সাথে যুক্ত হয়ে নাইট্রিক এসিড, নাইট্রাস এসিড উৎপন্ন করে যা এসিড বৃষ্টি সৃষ্টিকারী উপাদান। 

- ইঞ্জিনের নকিং ক্ষমতা কমানোর জন্য জ্বালানি তেলের সাথে টেট্রাইথাইল লেড (TEL) মিশ্রিত করে দেয়া হয়। 
- এ ধরনের জ্বালানির দহনের ফলে লেড অক্সাইড (PbO) ও লেড ডাই অক্সাইড (PbO2) যৌগের সৃষ্টি হয় যা মারাত্মক বিষাক্ত উপাদান। এটি শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটাতে বাঁধা সৃষ্টি করে। 
- এছাড়া যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইড (CO), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), অদগ্ধ গ্যাসীয় জ্বালানি বিশেষত মিথেন বায়ুতে মিশে থাকে। 
- এসব বর্জ্য উপাদান বায়ুতে এসে সূর্য্যের আলোর উপস্থিতিতে বিভিন্ন পরিবর্তনের মাধ্যমে বিষাক্ত ধোঁয়ার সৃষ্টি করে যা 'ফটোকেমিক্যাল ধোঁয়া' হিসেবে পরিচিত। এ ধোঁয়া বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরকে ক্ষয় করে এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষেত্রে মারাত্মক ভূমিকা রাখে। এই সবকিছু বিবেচনা করে আমাদেরকে পরিবেশ বান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত বিশুদ্ধ জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৬.
জোয়ার-ভাটার ওপর কোন মহাজাগতিক বস্তুর আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে? 
  1. সূর্য 
  2. চন্দ্র 
  3. পৃথিবী 
  4. নক্ষত্র 
ব্যাখ্যা

জোয়ার-ভাটা: 
- মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়। 
- চন্দ্র অপেক্ষা সূর্য ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুণ বড় এবং পৃথিবী অপেক্ষা সূর্য প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ বড় হলেও পৃথিবী থেকে সূর্য গড়ে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং পৃথিবী থেকে চন্দ্র গড়ে প্রায় ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এ কারণেই পৃথিবীর ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ ক্ষমতা সূর্য অপেক্ষা বেশি। 
- ফলে জোয়ার-ভাটায় চন্দ্রের প্রভাব বা চাঁদের আকর্ষণ বেশি লক্ষ্য করা যায়। 
- জোয়ার ভাটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
১. মুখ্য জোয়ার: 
- চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরূপ সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। 

২. গৌণ জোয়ার: 
- চাঁদ পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক থেকে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে। 

৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল: 
- অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে।

৪. মরা কটাল: 
- চন্দ্র ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে তখন চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। এই ধরনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৭.
কোন সময়ে চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী সমকোণে অবস্থান করে?
  1. সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে
  2. অষ্টমী ও একবিংশ তিথিতে
  3. সপ্তমী ও অমাবস্যা তিথিতে
  4. অষ্টমী ও অমাবস্যা তিথিতে
ব্যাখ্যা
- অষ্টমী ও একবিংশ তিথিতে চন্দ্র  ও সূর্য সমান্তরাল না থেকে উভয়ই পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে।
- তখন চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়।
- সূর্যের আকর্ষণের কারণে চন্দ্রের দিকে পানি অধিক স্ফীত হতে পারে না।
- এই ধরনের জোয়ারকে মরা জোয়ার বা মরা কটাল (Neap Tide) বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৮.
এক মুখ্য জোয়ারের প্রায় কত সময় পর গৌণ জোয়ার ঘটে? 
  1. ২৪ ঘন্টা
  2. ১৮ ঘন্টা ২৬ মিনিট
  3. ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট
  4. ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট
ব্যাখ্যা
জোয়ার ভাঁটার সময়: 
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণে বিভিন্ন অংশে প্রতিদিন দু'বার করে জোয়ার ও দু'বার করে ভাঁটা হয়ে থাকে। 
- পশ্চিম থেকে পূর্বে পৃথিবী ২৪ ঘন্টায় একবার নিজ অক্ষের ওপর ঘোরে। চন্দ্রও নিজ কক্ষপথে অবস্থান করে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘোরে এবং পৃথিবীর চারদিকে পরিক্রমণ করে। 
- চন্দ্র যদি স্থির থাকত তবে পৃথিবীর প্রত্যেক স্থান ২৪ ঘন্টা অন্তর একবার চাঁদের সামনে আসত এবং ঐ স্থানে মুখ্য জোয়ার হতো। 
- চন্দ্র যেহেতু নিজ কক্ষপথে সাড়ে ঊনত্রিশ দিনে পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে, সেহেতু এটি একদিনে তার কক্ষের সাড়ে উনত্রিশ ভাগের একভাগ অগ্রসর হয়। কাজেই পৃথিবীর একবার আর্বতন সময়ে অর্থাৎ ২৪ ঘন্টায় চন্দ্র নিজ কক্ষের প্রায় ১৩° পথ অগ্রসর হয়। 
- সম্পূর্ণ একবার ঘুরে আসার পর ভূ-পৃষ্ঠের কোণ মধ্যরেখায় পুনরায় চাঁদের ঠিক নিচে আসতে ঐ ১৩° পথ বেশি অগ্রসর হতে হয়। এই ১৩° পথ অগ্রসর হতে পৃথিবীর আরো ১৩ × ৪=৫২ মিনিট সময় লাগে। তাই আজ যে জায়গায় মুখ্য জোয়ার হলো, আগামীকাল সেই জায়গায় মুখ্য জোয়ার ঠিক ২৪ ঘন্টা পর না এসে ২৪ ঘন্টা ৫২ মিনিট অর্থাৎ প্রায় ২৫ ঘন্টা পরে আসে। 
- এক মুখ্য জোয়ার চলে যাবার ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট অর্থাৎ প্রায় সাড়ে বার ঘন্টা পরে সেই জায়গায় গৌণ জোয়ার এবং ঐ স্থানের প্রত্যেক জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট অর্থাৎ প্রায় সোয়া ছয় ঘন্টা পরে ভাঁটা হয়। 
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৯.
ডাউকি ফল্ট বরাবর একটি প্রচন্ড ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশের কোন নদী এর গতিপথ পরিবর্তন করে?
  1. ব্রহ্মপুত্র নদ
  2. পদ্মা নদী
  3. কর্ণফুলী নদী
  4. মেঘনা নদী
ব্যাখ্যা
- ভূমিকম্প ভূ-পৃষ্ঠে সংঘটিত আকস্মিক ও অস্থায়ী কম্পন। 
- ভূমিকম্প পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়। 
- ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় নদীর গতিপথ পাল্টে যায়। 
যেমন- ১৭৮৭ সালে আসামে (ডাউকি ফন্ট) যে ভূমিকম্প হয় তাতে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ কিছুটা উঁচু হয় ফলে তার গতিপথ পাল্টে গিয়ে যমুনা নদী দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯০.
ধূমকেতু কী দিয়ে তৈরী?
  1. গ্যাস, ধূলিকণা ও শিলা
  2. গ্যাস, পাথর ও পানি
  3. পাথর, আগুন ও ধূলিকণা
  4. পাথর, বরফ ও ধূলিকণা
ব্যাখ্যা
ধূমকেতু:

- ধূমকেতু হলো পাথর, বরফ ও ধূলিকণা তৈরি এক ধরনের মহাজাগতিক বস্তু।
- এই বস্তু মূলত সৌরজগতের একটি ছোট্ট অংশ, যেটি সূর্যকে কেন্দ্র করেই ঘোরে।
- মহাকাশে ধূমকেতুর সংখ্যা ৩ হাজার ৭৪৩টি।
- ক্ষণস্থায়ী ধূমকেতুর প্রতি ঘূর্ণনকাল ২০০ বছরের নিচে হয়, আর দীর্ঘস্থায়ী ধূমকেতুর ক্ষেত্রে সেটা ২০০ বছরেরও অধিক।
- হ্যালির ধূমকেতু হলো বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ধূমকেতু।
- ২০৬১ সালের ২৮  জুলাই আবার হ্যালির ধূমকেতুটি দেখা যাবে।

তথ্যসূত্র - সময় নিউজ,১৫ জানুয়ারী ২০২২।
৩৯১.
পৃথিবী যেই গ্যালাক্সির মধ্যে অবস্থিত, তার নাম কী?
  1. Sombrero
  2. Milkyway
  3. Andromeda
  4. Whirlpool
ব্যাখ্যা
• মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি:
- সুদূর আকাশে বায়বীয় পদার্থ ও গ্যাসপূর্ণ স্বল্পালোকিত মেঘের মত আস্তরণকে গ্যালাক্সি বলা হয়।
- পৃথিবী, গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালক্সি সবকিছু নিয়েই গঠিত হয় মহাবিশ্ব।
- গ্যালাক্সি মহাবিশ্বের অংশ।
- এখানে রয়েছে হাজার হাজার কোটি নক্ষত্র ও গ্রহ, উপগ্রহ।

- পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ।
- এটি মাত্র এক লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির সবচেয়ে কাছের গ্যালাক্সির নাম ‘আন্ড্রোমিডা’ (Andromeda).

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৩৯২.
দুটি প্লেটের সংযোগস্থলে মূলত কোন দুর্যোগের ঘটনা বেশি ঘটে?
  1. সুনামি
  2. জলোচ্ছ্বাস
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. ভূমিকম্প 
ব্যাখ্যা

- ভূমিকম্প হলো দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে সবচেয়ে বেশি ঘটা একটি দুর্যোগ। যখন এই প্লেটগুলো একে অপরের সাথে ধাক্কা খায়, একে অপরের নিচ দিয়ে চলে যায় বা পাশ কাটিয়ে যায়, তখন তাদের মধ্যে চাপ তৈরি হয়। যখন এই সঞ্চিত চাপ হঠাৎ মুক্ত হয়, তখন কেঁপে ওঠে এবং ভূমিকম্প হয়। 

প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব: 
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্বের মূল ধারণা হলো ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত যাদেরকে প্লেট বলা হয়। এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে। 
- টেকটোনিক প্লেটগুলো প্রতি বছরে কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়। প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়, আবার কখনো কখনো একে অন্যের দিকে আসে। প্লেটগুলো কখনো কখনো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে আবার নিচে নামে। 
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব দ্বারা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ ব্যাখ্যা করা যায়। 

- দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বেশি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটে।
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা আরও বাড়ে। ধারণা করা হয়, প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয়। তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়, এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে, একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে। 
- বেরিয়ে আসা গলিত তরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত। 
- একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে যা ভূমিকম্প নামে পরিচিত। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৩৯৩.
দৈর্ঘ্য পরিমাপের সবচেয়ে বড় একক কোনটি?
  1. নটিক্যাল মাইল
  2. আলোকবর্ষ
  3. পারসেক
  4. অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট
ব্যাখ্যা
পারসেক:
- মহাকাশের বিশাল পরিসরে দৈর্ঘ্য পরিমাপের জন্য আমরা বিভিন্ন একক ব্যবহার করি। এর মধ্যে পারসেক (Parsec) হলো সবচেয়ে বড় একক।
- মহাকাশে দূরত্ব পরিমাপের জন্য পারসেক (Parsec) ব্যবহৃত হয়।
- ১ পারসেক (Parsec) = ৩.২৬ আলোকবর্ষ। 

অন্যদিকে, 
• নটিক্যাল মাইল:
- সাধারণত সমুদ্র বা আকাশপথে নটিক্যাল মাইল ব্যবহৃত হয়।
- ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার।

• আলোকবর্ষ (Light Year):
- আলোকবর্ষ দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক। আলো ১ বছরে যে দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে তাই আলোকবর্ষ।
- এক আলোকবর্ষ (Light Year) = প্রায় ৯.৪ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার (9.46073 × 1012 কিমি)। 

• অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট (AU):
- সূর্য এবং পৃথিবীর গড় দূরত্ব হলো অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট (AU)।
- ১ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট (Astronomical Unit - AU) = ১৫০ মিলিয়ন কিলোমিটার।

উৎস: Britannica.
৩৯৪.
'হিগস বোসন কণা' নামটির সাথে জড়িত বাঙালী কে?
  1. ক) জগদীশচন্দ্র বসু
  2. খ) সত্যজিৎ বসু
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ বসু
  4. ঘ) সুরেঞ্জিত বসু
ব্যাখ্যা
• মহাবিশ্বের সকল কণাকে দুভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা:
(১) ফার্মিওন ও
(২) বোসন।
তন্মধ্যে, "বোসন" নামটি এসেছে সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নাম অনুসারে।

• স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দুই ধরনের। যথা: গেজ বোসন ও হিগস বোসন।

• হিগস বোসন (Higgs Boson):

- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে।
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে।
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা।
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।
- এই হিগস বোসনই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৫.
মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা কত? 
  1. ১-১০০ ডেসিবল
  2. ১-৯০ ডেসিবল
  3. ১-১২০ ডেসিবল
  4. ১-৭৫ ডেসিবল
ব্যাখ্যা
শব্দ দূষণ: 
- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার অতিরিক্ত আওয়াজই শব্দ দূষণ। 
- মানুষের শ্রবণযন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা ১-৭৫ ডেসিবল। 
- কিন্তু ৮৫ ডেসিবল অথবা তার অধিক হলে একজন মানুষ শ্রবণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। 
- শব্দ দূষণ প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট উভয় কারণেই হতে পারে। 
- তবে মানবসৃষ্ট কারণই মুখ্য। 
- শব্দ দূষণের ফলে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয়। 
- সাধারণত শহরাঞ্চলে পরিবেশগত এই সমস্যা অধিক হয়ে থাকে। 


উৎস: ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৬.
সম্প্রতি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর নিকটতম ব্ল্যাকহোল খুজে পেয়েছে কোনটি?
  1. ক) ইউনিকর্ণ
  2. খ) টন ৬১৮
  3. গ) হোল্মবার্গ ১৫এ
  4. ঘ) এনজিসি ১২৭০
ব্যাখ্যা
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি পৃথিবীর নিকটতম যে ব্ল্যাকহোল খুঁজে পেয়েছেন, তার নাম ইউনিকর্ণ। এটি পৃথিবী থেকে মাত্র 1,500 আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এবং সূর্যের চেয়ে তিনগুণ বেশি বিশাল।
উৎস: www.space.com
৩৯৭.
বায়ুপ্রবাহ সাধারণত কোন দিক থেকে কোন দিকে যায়? 
  1. দক্ষিণ থেকে উত্তর 
  2. পূর্ব থেকে পশ্চিম 
  3. নিম্নচাপ থেকে উচ্চচাপ 
  4. উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপ 
ব্যাখ্যা

বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়।
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা- নিয়ত বায়ু, সাময়িক বায়ু, স্থানীয় বায়ু ও অনিয়মিত বায়ু। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯৮.
পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর দাড়িয়ে কোন দিক থেকে কোন দিকে আবর্তন করছে?
  1. পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে
  2. উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে
  3. পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে
  4. দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের চারদিকে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে অবিরাম আবর্তন করছে। একবার আবর্তন করতে পৃথিবী সময় নেয় ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড যা এক সৌরদিন নামে অভিহিত।
- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে আবর্তনের এই গতিকে আহ্নিক গতি বলা হয়।
পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলে সংঘটিত পরিবর্তন সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- দিবা-রাত্রি সংঘটন
- জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি
- সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি
- বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি
- তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি
- সময় নির্ধারণ
- উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের সৃষ্টি প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৯৯.
Nife (নাইফ) নামে পরিচিত নিচের কোন স্তর? 
  1. ম্যান্টল
  2. লিথোস্ফিয়ার
  3. সেন্ট্রোস্ফিয়ার
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রমন্ডল (Centrosphere/Core):

• পৃথিবীর কেন্দ্রের চারিদিকে প্রায় ৩,৪৮৬ কি.মি. ব্যাসার্ধের যে গোলক অবস্থিত এর নাম কেন্দ্রমন্ডল বা সেন্ট্রোস্ফিয়ার।
• অন্তঃকেন্দ্র ও বহিঃকেন্দ্রকে একত্রে কেন্দ্রমন্ডল বলে। 
• এই স্তরের ঘনত্ব প্রায় ১০.৭৮ গ্রাম/সে.মি., যা গুরুমন্ডলের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন।
• কেন্দ্রমন্ডল লৌহ, নিকেল, পারদ, সীসা প্রভৃতি কঠিন ও ভারী পদার্থ দ্বারা - গঠিত। 
• এই স্তরে নিকেল (Ni) ও লৌহের (Fe) পরিমাণ বেশি থাকায় একে নাইফ (Nife) বলা হয়।
• এটি পানি অপেক্ষা ১০/১২ গুণ এবং পৃথিবীর অন্যান্য অংশ অপেক্ষা দ্বিগুণের অধিক ঘন। 
• এর বহিঃকেন্দ্রের পুরুত্ব আনুমানিক ২,২৭০ কি.মি. এবং অন্তঃকেন্দ্রের পুরুত্ব ১,২১৬ কি.মি.। 
• কেন্দ্রমন্ডলের বাইরের অংশ তরল এবং ভেতরের অংশ কঠিন অবস্থায় আছে । 

উৎস: ভুমিরূপবিদ্যা, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪০০.
থিওরি অব রিলেটিভিটি কয়টি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা
আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই দুটি স্বীকার্য প্রদান করেন।
প্রথম স্বীকার্যঃ- স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে।
দ্বিতীয় স্বীকার্যঃ- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)