বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

মোট প্রশ্ন২,৪০৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

PrepBank · পাতা ২০ / ২৪ · ১,৯০১২,০০০ / ২,৪০৪

১,৯০১.
ভূ-পৃষ্ঠের সৌরদীপ্ত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশের সংযোগ স্থলকে কী বলে?
  1. ছায়াবৃত্ত
  2. গুরুবৃত্ত
  3. ঊষা
  4. গোধূলি
ব্যাখ্যা
• ছায়াবৃত্ত:
- পৃথিবীর আলোকিত এবং অন্ধকার অংশের মধ্যবর্তী বৃত্তাকার অংশকে ছায়াবৃত্ত বলে।
- আবর্তনের ফলে পৃথিবীর যে অংশ অন্ধকার থেকে ছায়াবৃত্ত পার হয়ে সবেমাত্র আলোকিত অংশ পৌঁছায় সেখানে প্রভাত হয়।
- প্রভাতের কিছু পূর্বে যে সময় ক্ষীণ আলো থাকে সেখানে ঊষা এবং সন্ধ্যার কিছু পূর্বে যে সময় ক্ষীণ আলো থাকে সে সময়কে গোধূলি বলে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯০২.
শনি গ্রহ প্রধানত কোন উপাদান দ্বারা গঠিত?
  1. হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম
  2. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  3. লোহা ও সিলিকন
  4. তামা ও দস্তা
ব্যাখ্যা

• শনি:
- শনি গ্রহ সূর্য থেকে ষষ্ঠ গ্রহ এবং আমাদের সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- শনি গ্রহটি বেশিরভাগ হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম দিয়ে তৈরি। ।
-এই গ্রহের নামকরণ করা হয়েছে কৃষি ও সম্পদের রোমান দেবতার নামে, যিনি বৃহস্পতিরও পিতা ছিলেন।
- নিরক্ষীয় ব্যাস প্রায় ৭৪,৮৯৭ মাইল (১২০,৫০০ কিলোমিটার) হওয়ায়, শনি গ্রহ পৃথিবীর চেয়ে ৯ গুণ প্রশস্ত। 
-  শনির একদিন মাত্র ১০.৭ ঘন্টা সময় নেয় (শনির একবার ঘুরতে বা ঘুরতে যে সময় লাগে),
- শনি সূর্যের চারপাশে একটি সম্পূর্ণ কক্ষপথ ঘুরে আসতে (শনির সময়ে এক বছর) প্রায় ২৯.৪ পৃথিবী বছরে (১০,৭৫৬ পৃথিবী দিন) পূর্ণ করে।
- ৮ জুন, ২০২৩ পর্যন্ত, শনির কক্ষপথে ১৪৬টি উপগ্রহ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন (IAU) কর্তৃক তাদের আবিষ্কার

তথ্যসূত্র: NASA. 

১,৯০৩.
কোন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না?
  1. বোসন কণা
  2. প্রোটন কণা
  3. ইলেকট্রন কণা
  4. নিউট্রন কণা
ব্যাখ্যা
বোসন: 
- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন। 
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি। 
- বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না। 
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই। এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা। 
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দুই ধরনের। 
যথা: গেজ বোসন ও হিগস বোসন। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০৪.
P-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরিতে কয়টি যোজন ইলেকট্রন প্রয়োজন?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
যে সব মৌলের (যেমন- অ্যালুমিনিয়াম, বোরন, গ্যালিয়াম বা ইনডিয়াম) তিনটি যোজন ইলেকট্রন থাকে তাদের ভেজাল হিসেবে ব্যবহার করা হলে সিলিকন বা জার্মেনিয়াম P-টাইপ বস্তুতে বা P-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে পরিণত হয়। যে সকল মৌলের (যেমন- ফসফরাস, আর্সেনিক বা অ্যান্টিমনি) বহির্খোলকে পাঁচটি ইলেকট্রন থাকে তাদের ভেজাল হিসেবে ব্যবহার করা হলে সিলিকন বা জার্মেনিয়াম n-টাইপ বস্তুতে বা n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে পরিণত হয়। উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান।
১,৯০৫.
ছায়াপথ তার নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে একবারপূর্ণ পরিক্রমণ করতে যে সময় লাগে তাকে কী বলে?
  1. সৌর বছর
  2. গ্যালাক্টিক ইয়ার
  3. আলোক বর্ষ
  4. অ্যাস্ট্রোনমিক সাইকেল
ব্যাখ্যা
• গ্যালাকটিক ইয়ার (Galactic Year) বা কসমিক ইয়ার (Cosmic Year):
- একটি ছায়াপথ (যেমন, আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি) তার কেন্দ্রকে ঘিরে একবার পূর্ণ পরিক্রমণ করতে যে সময় নেয়, তাকে গ্যালাকটিক ইয়ার (Galactic Year) বা কসমিক ইয়ার (Cosmic Year) বলা হয়।
- সৌরজগতের গ্রহসমূহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আর সূর্য মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির মধ্যবিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
- আমাদের সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের চারপাশে ঘূর্ণন করছে।
- গ্যালাক্সির কেন্দ্রের চারপাশে একবার ঘূর্ণন সম্পূর্ণ করতে প্রায় ২২৫ থেকে ২৫০ মিলিয়ন বছর (২২.৫ থেকে ২৫ কোটি বছর) লাগে!

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৯০৬.
'কেপলার-৪৫২বি' কী?
  1. একটি মহাকাশযান
  2. পৃথিবীর মতো একটি গ্রহ
  3. সূর্যের মতো একটি নক্ষত্র
  4. NASA-এর অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ
ব্যাখ্যা
- 'কেপলার-৪৫২ বি' পৃথিবীর মত একটি গ্রহ। 
- নাসার কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে এই গ্রহটিতে খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। 
- এটির নাম দিয়েছেন ‘কেপলার ৪৫২ বি’। 
- ২০০৯ সাল থেকে জীবনধারণের উপযোগী পৃথিবী সদৃশ গ্রহ শনাক্ত করতে কাজ করছে কেপলার। 
- এক বিবৃতিতে নাসার গবেষকরা দাবি করেন, কেপলার ৪৫২ বি আমাদের সূর্যের মতো একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, কিন্তু ওই নক্ষত্রটি ১৫০ কোটি বছরের পুরনো যা সূর্যের চেয়ে চার শতাংশ বড় ও ১০ শতাংশ উজ্জ্বল। 

উৎস: NASA Website.
১,৯০৭.
আলোর ক্ষুদ্রতম একক -
  1. ক) গ্রাভিটন
  2. খ) ফোটন
  3. গ) ইলেক্ট্রন
  4. ঘ) চির
ব্যাখ্যা
ফোটন হচ্ছে আলোর কণা বা ক্ষুদ্রতম একক।
প্লাঙ্কের তত্ত্ব অনুসারে - আলোকরশ্মি কোন শক্তি হতে অনবরত বের না হয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন প্যাকেট বা শক্তি বের হয়। প্রত্যেক বর্ণের আলোর জন্য এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটের শক্তির নির্দিষ্ট মান রয়েছে। এই এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটকে কোয়ান্টাম বা ফোটন বলে।
ফোটনের কিছু ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য দেয়া হলো-
১. পদার্থের ক্ষুদ্র অংশ কে যেমন পরমাণু বলে, তেমনি আলোর ক্ষুদ্র অংশকে ফোটন বলে।
২. ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
৩. ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
৪. প্রতি ফোটনের নির্দিষ্ট শক্তি এবং নির্দিষ্ট রৈখিক ভরবেগ আছে।
৫. ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ। এর কোন চার্জ নেই।
৬. ফোটন এর কণা-তরঙ্গ দ্বৈত রুপ আছে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১,৯০৮.
গোয়েন্দা বিভাগে কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
  1. বেকেরেল রশ্মি
  2. এক্স রশ্মি
  3. বিটা রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
এক্সরে (রঞ্জন রশ্মি): 
- জার্মান পদার্থবিদ উইলহেলম রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- ১৮৯৫ সালে এক্স-রশ্মি আবিষ্কৃত হয়। 
- এক্স-রশ্মি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রন্টজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। 
- এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m পর্যন্ত। 
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন। 

এক্সরে এর ব্যবহার: 

- হীরক সনাক্তকরণ, 
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল শনাক্ত করা, 
- শরীরের ভিতরের কোন বস্তুর বা ফুসফুসে কোন ক্ষতের অবস্থান নির্ণয়, 
- গোয়েন্দা বিভাগে কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক রাখলে তা খুঁজে বের করতে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০৯.
নাসা প্রথম কত সালে ব্ল্যাক হোলের ছবি প্রকাশ করে?
  1. ক) ২০১২
  2. খ) ২০১৫
  3. গ) ২০১৯
  4. ঘ) ২০২১
ব্যাখ্যা
নাসা ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো ব্ল্যাক হোলের ছবি প্রকাশ করে।

একটি কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাক হোল হল মহাকাশের এমন একটি স্থান যেখানে মধ্যাকর্ষণ বল এতটাই শক্তিশালী যে সেখান থেকে কোন কিছুই বের হতে পারে না। এমনকি আলোর মত তড়িৎ-চৌম্বকীয় বিকিরণও এই প্রচন্ড আকর্ষণ বল ভেদ করে বের হয়ে আসতে পারে না। ব্ল্যাক হোলে পদার্থের অত্যাধিক ঘনত্বের কারণে এটি এর চার দিকে এই অস্বাভাবিক মধ্যাকর্ষণ বল তৈরি করতে পারে। 

সূত্র: NASA Website. 
১,৯১০.
গঠন প্রক্রিয়া অনুযায়ী শিলা কয় প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. আট
ব্যাখ্যা

- ভূত্বক গঠিনকারী উপাদানসমূহ শিলা নামে পরিচিত
- গঠন অনুসারে শিলা তিন প্রকার। যথা:-
১। আগ্নেয় শিলা,
২। পাললিক শিলা ও
৩। রূপান্তরিত শিলা ।

আগ্নেয় শিলা:
- পৃথিবী সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ের উত্তপ্ত ও গলিত অবস্থা হতে ক্রমান্বয়ে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তা আগ্নেয় শিলা নামে পরিচিত।
- আগ্নেয় শিলা দুপ্রকার। যথা: অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা এবং বহিঃজ আগ্নেয় শিলা।

অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা:
- গ্রানাইট
- গ্যাব্রো
- ডলোরাইট
- ল্যাকোলিথ
- ব্যাথোলিথ
- ডাইক
- সিল প্রভৃতি।

বহিঃজ আগ্নেয় শিলা:
- ব্যাসল্ট
- রায়োলাইট
- অ্যান্ডিসাইট।

পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে পাললিক শিলা বলে।
- পাললিক শিলায় জীবাশ্ম ও স্তর লক্ষ্য করা যায় ।
- পাললিক শিলা নরম, ভঙ্গুর ও সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয় ৷
- বেলেপাথর, চুনাপাথর, কাঁদাপাথর, কয়লা, কেওলিন, শেল প্রভৃতি পাললিক শিলার উদাহরণ।

রূপান্তরিত শিলা: 
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা প্রচন্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে রূপান্তরিত শিলা গঠন করে।
- রূপান্তরিত শিলা স্ফটিকযুক্ত এবং খুব কঠিন হয়।
- এতে জীবাশ্ম দেখা যায় না।
- গ্রানাইট থেকে নিস বা নাইস, কয়লা থেকে গ্রাফাইট, চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট ইত্যাদি রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি ৷

১,৯১১.
কীসের সাহায্যে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়?
  1. সেক্সট্যান্ট
  2. মাল্টিমিটার
  3. ওডোমিটার
  4. ওহমমিটার
ব্যাখ্যা
• অক্ষাংশ নির্ণয় (Determining latitude)
- একজন ভূগোলবিদের জন্য অক্ষাংশ নির্ণয় করতে জানা খুবই জরুরি।
- আমরা জানি পৃথিবী বৃত্তের কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণ ৩৬০০।
- অক্ষাংশ নির্ণয় করার জন্য গ্লোবটিকে আমরা যদিমাঝখান দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে কেটে নেই, তাহলে এর মধ্যে আমরা পৃথিবীর ঠিক মধ্যকিন্দু পাব। এখন যদি আমরা কোনো একটি স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করতে চাই, তাহলে সেই মধ্যবিন্দুর সঙ্গে নির্ণেয় স্থানটির নিরক্ষরেখার (০°) পরিপ্রেক্ষিতে যে কোণ উৎপন্ন হয় তা নির্ণয় করতে হবে। এই কোণই হলো সেই স্থানের অক্ষাংশ।

অক্ষাংশ নির্ণয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে।
সেগুলো হলো –

•  সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে:
যে যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি পরিমাপ করা যায় তাকে সেক্সট্যান্ট যন্ত্র বলে। সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি কোণ নির্ণয় করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
কোনো স্থানের অক্ষাংশ = ৯০০– (মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি বিযুবলম্ব)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,৯১২.
অর্ধপরিবাহীর যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তির পার্থক্য কোনটি?
  1. ক) প্রায় 1.1 eV
  2. খ) প্রায় 15.0 eV
  3. গ) প্রায় 25.1 eV
  4. ঘ) প্রায় 50.1 eV
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। যেমন— জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ ।
- অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি।
- এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm ক্রমের।
- কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই অর্ধপরিবাহী চিহ্নিত করা যায় না।
- কেননা এমন কিছু সংকর ধাতু ও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু এগুলো অর্ধপরিবাহী নয়।

অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য:
১। পরম শূন্য তাপমাত্রায় (0 K) এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে।  
২। কক্ষ তাপমাত্রায় সাধারণত আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm এর মধ্যে থাকে। 
৩। অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার উঠা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়।  
৫। অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তির পার্থক্য 1.1 eV বা এর চেয়ে কম।  
৬। কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৯১৩.
বর্তমান বৈজ্ঞানিক হিসেবে মহাবিশ্বের আনুমানিক বয়স কত?
  1. ৫.৭৫ বিলিয়ন বছর
  2. ১০.৫০ বিলিয়ন বছর
  3. ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর
  4. ২০.৫০ বিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা

• বিগ ব্যাং প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) আগে সংঘটিত হয়েছিল।

• মহাবিশ্বের উৎপত্তি:

- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে যেসব তত্ত্ব প্রচলিত আছে, তার মধ্যে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য হলো বিগ ব্যাং তত্ত্ব—বাংলায় যাকে মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বলা হয়।

 
• বিগ ব্যাং তত্ত্বের মূল ধারণা:

- এই তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাবিশ্ব একসময় ছিল অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত এবং অসীম ঘনত্বের (Infinitely Dense) অবস্থায়।
পরবর্তীতে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্ব অত্যন্ত দ্রুত প্রসারিত হতে শুরু করে।

- এই দ্রুত প্রসারণের ফলেই—

- মহাবিশ্ব ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়,
- এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়।
 
• সময়কাল ও বয়স:

- আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী,

- বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) আগে।
- এটিকেই বর্তমানে মহাবিশ্বের আনুমানিক বয়স হিসেবে ধরা হয়।
 
• বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতা:

- বিগ ব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব।
- জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষণে প্রাপ্ত প্রায় সব তথ্য এই তত্ত্বকে সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম।

- বর্তমান সময়ে অধিকাংশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী—

- এই তত্ত্বের পক্ষে ঐকমত্য প্রকাশ করেছেন,
- এবং মহাবিশ্বের উৎপত্তি ব্যাখ্যায় এটিকেই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মডেল হিসেবে মান্যতা দিয়েছেন।

উৎস: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি।

১,৯১৪.
ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ সবচেয়ে বেশি ঘটে কোথায়?
  1. টেকটোনিক প্লেটের মধ্যভাগে 
  2. সমুদ্রের গভীরে 
  3. মেরু অঞ্চলে 
  4. টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে 
ব্যাখ্যা

প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব: 
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব অনুসারে, পৃথিবীর শিলামণ্ডল কয়েকটি পৃথক প্লেটে বিভক্ত, যা গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের ওপরে ভাসমান অবস্থায় থাকে।
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছর কয়েক সেন্টিমিটার করে সরে যায়, কখনো একে অপরের থেকে দূরে সরে, আবার কখনো পরস্পরের দিকে আসে বা পরস্পরের সঙ্গে ঘষা খায়। 
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলেই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা বেশি ঘটে, বিশেষত যেখানে উঁচু পর্বতশ্রেণী বিদ্যমান। 
- প্লেটগুলোর সংঘর্ষ ও ঘর্ষণের ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, যা ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলিয়ে ফেলে। 
- এই গলিত পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত এবং চাপের ফলে ভূপৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে এলে তা লাভা নামে পরিচিত হয় এবং এই প্রক্রিয়াকে আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলা হয়। 
- প্লেটগুলোর সংঘর্ষের ফলে যখন পৃথিবী কেঁপে ওঠে, তখন ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১,৯১৫.
গ্রীণ হাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে পৃথিবীতে কী ঘটছে?
  1. ক) পৃথিবীতে বনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
  2. খ) ওজন স্তর ধ্বংস হচ্ছে।
  3. গ) বিলুপ্ত প্রাণীর প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
  4. ঘ) শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়া।
ব্যাখ্যা
গ্রীণ হাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে পৃথিবীতে ওজন স্তর ধ্বংস হচ্ছে

বাংলাদেশে সম্ভাব্য গ্রীণ হাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলাফল-
১. ভূপৃষ্ঠের নিচু এলাকায় প্লাবন
২. প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি
৩. লবণাক্ততার বিস্তার
৪. বন্যা ঝড় জলােচ্ছাস
৫. আবহাওয়াগত বিপর্যয়
৬. এসিড বৃষ্টি

সূত্র: NASA Website [লিঙ্ক]
১,৯১৬.
পৃথিবী কোন দিক থেকে কোন দিকে আবর্তন করে?
  1. পশ্চিম থেকে পূর্ব
  2. পূর্ব থেকে পশ্চিম
  3. দক্ষিণ থেকে উত্তর 
  4. উত্তর থেকে দক্ষিণ
ব্যাখ্যা

পৃথিবী (Earth) :
- পৃথিবী আমাদের বাসভূমি। এটি সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- পৃথিবী পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে।
- অর্থাৎ, পৃথিবী তার নিজস্ব অক্ষে পশ্চিম → পূর্ব দিকে ঘুরে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার।
- পৃথিবী একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।
- তাই এখানে ৩৬৫ দিনে এক বছর। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।
- পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমণ্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী।
- সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং NASA ওয়েবসাইট। 

১,৯১৭.
প্রথম মনুষ্যবাহী মহাকাশ অভিযান -
  1. ক) CALIPSO
  2. খ) Apollo 11
  3. গ) CALIPSO
  4. ঘ) Dawn
ব্যাখ্যা
প্রথম মনুষ্যবাহী মহাকাশ অভিযানটির নাম হচ্ছে  Apollo 11

- এপোলো-১১ , মহাকাশ অভিযানের এক মাইলফলক।
- ১৯৬৯ সালের ২১শে জুলাই নেইল আর্মস্ট্রং প্রথম মানব হিসেবে চাঁদে পদার্পণ করেন, তার প্রায় ২০ মিনিট পর বাজ অল্ড্রিন চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করেন। - তাদের আরেক সঙ্গী মাইকেল কলিন্স তখন চাঁদের কক্ষপথে সার্ভিস মডিওল (Service Module) “কলাম্বিয়া”  পরিচালনা করছিলেন।
- নভোচারীরা চাঁদের মাটিতে প্রায় ২১ ঘণ্টা ছিলেন ।
- অতঃপর অভিযান শেষে সকল নভিচারিরা ২৪শে জুলাই নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসেন।

সূত্র: NASA Website [লিঙ্ক]
১,৯১৮.
সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন স্তর
  2. ট্রপোস্ফিয়ার
  3. ওজোন স্তর
  4. জলীয়বাষ্প
ব্যাখ্যা

• সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি থেকে পৃথিবীকে ওজোন স্তর রক্ষা করে।

• বায়ুমণ্ডলের ধারণা:
- পৃথিবীকে চারদিক থেকে ঘিরে রাখা বায়বীয় আবরণকে বায়ুমণ্ডল বলা হয়।
- বায়ুমণ্ডল মূলত নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে গঠিত।
- এছাড়াও এতে জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা, আর্গন, কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ অন্যান্য গ্যাস থাকে।
 
• বায়ুমণ্ডলের গুরুত্ব:
- বায়ুমণ্ডলের গ্যাসসমূহ পৃথিবীর পৃষ্ঠে ভারসাম্য বজায় রাখে।
- পৃথিবীর সকল বস্তু ও প্রাণকে বায়ুমণ্ডল নিজের দিকে ধরে রাখে।
- বায়ুমণ্ডল না থাকলে পৃথিবীতে কোনো কিছুই স্থির থাকত না এবং জীবন সম্ভব হতো না।
 
• উচ্চতার সাথে বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তন:
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে গেলে বায়ুমণ্ডল ক্রমশ পাতলা হয়।
- উচ্চতার সাথে সাথে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়।
- পাহাড়ের চূড়ায় উঠলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, কারণ সেখানে অক্সিজেন কম থাকে।
 
• বায়ুমণ্ডলের স্তরসমূহ:
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত অংশকে ট্রপোস্ফিয়ার বলা হয়।
- ট্রপোস্ফিয়ারে বায়ুমণ্ডলের অধিকাংশ গ্যাস ও মেঘ অবস্থান করে।
- ট্রপোস্ফিয়ারের ওপরের স্তরকে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার বলা হয়।
- স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে রয়েছে ওজোন গ্যাস।
 
• ওজোন স্তরের ভূমিকা:
- স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি (UV) রশ্মি শোষণ করে।
- এর ফলে পৃথিবীর মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদ ক্ষতিকারক রশ্মির প্রভাব থেকে রক্ষা পায়।
- ওজোন স্তর না থাকলে পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ত।
  
• অন্যান্য অপশনসমূহ:
- নাইট্রোজেন স্তর → বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি (৭৮%) নাইট্রোজেন আছে।
- ট্রপোস্ফিয়ার → এটি বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তর (যেখানে আমরা বাস করি)।
- জলীয়বাষ্প → পানির বাষ্প আবহাওয়া ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
 
উৎস: বিজ্ঞান, ৬ষ্ঠ শ্রেণি।

১,৯১৯.
হিগস্-বোসন কণা কত সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল?
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৪ সালে
  4. ২০১৬ সালে
ব্যাখ্যা
• হিগস বোসন (Higgs Boson):
- হিগস বোসন কণা আবিষ্কৃত হয় ৪ জুলাই ২০১২ সালে। 
- সুইজারল্যান্ডের ইউরোপীয় কণা পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগার CERN-এ অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কণা ত্বরক 'লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার' (LHC)-এর গবেষকদের দ্বারা।
- এই হিগস বোসনই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত।

• হিগস বোসন কণার বৈশিষ্ট্য:
- হিগস বোসন এর স্পিন ০, তবে এর ভর আছে।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও  Space.com website।
১,৯২০.
কে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সূচনা করেন?
  1. নিউটন
  2. আইনস্টাইন
  3. গ্যালিলিও
  4. কোপার্নিকাস
ব্যাখ্যা
গ্যালিলিও:
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি একজন ইতালিয়ান পদার্থবিজ্ঞানী,জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং দার্শনিক।
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গাণিতিক সূত্র দেওয়ার পর পরীক্ষা করে সেই সূত্রটি প্রমাণ করার বৈজ্ঞানিক ধারার সূচনা করেন।
- গ্যালিলিওকে আধুনিক বিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- তিনি আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সূচনা করেন।
- ১৬০৯ সালে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও একটি উন্নত ধরণের দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন।
- গ্যালিলিও মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর জন্য তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- সূত্রগুলো স্থির অবস্থান থেকে মুক্তভাবে পড়ন্ত যেকোনো বস্তুর পরিমাপের বেলায় ব্যবহার করা যায়।

অন্যদিকে -
- ১৫৪৩ সালে কোপার্নিকাস সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ব্যাখ্যা দেন।
- নিউটন বলবিদ্যা ও গতিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করেন।
- আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার সূত্র প্রদান করেন।

উৎস: i) পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।  
          ii) Britannica.
১,৯২১.
পানির তলায় শব্দ নির্ধারণের যন্ত্র-
  1. ক) অডিওমিটার
  2. খ) অডিওফোন
  3. গ) ফ্যাদোমিটার
  4. ঘ) হাইড্রোফোন
ব্যাখ্যা
• পানির তলায় শব্দ নির্ধারণের যন্ত্র হাইড্রোফোন
- হাইড্রোফোন হল একটি পানির নিচের যন্ত্র যা সমস্ত দিক থেকে সমুদ্রের শব্দ সনাক্ত করে এবং রেকর্ড করে।
- অসংখ্য সামুদ্রিক জীব যোগাযোগ, প্রজনন এবং শিকার খোঁজার জন্য শব্দ ব্যবহার করে। যা হাইড্রোফোনের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৯২২.
কোথায় আলোর প্রতিফলন ও প্রতিসরণ হয়না কিন্তু আলোর শোষণ হয়?
  1. পৃথিবী
  2. ব্লাক হোল
  3. চাঁদ
  4. নক্ষত্র
ব্যাখ্যা
ব্লাক হোল বা কৃষ্ণবিবর মহাবিশ্বের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি বিষয়ক একটি বহুল প্রচলিত ধারণা। এই ধারণা অনুযায়ী কৃষ্ণ বিবর মহাবিশ্বের এমন একটি বস্তু যা এত ঘন সন্নিবিষ্ট বা অতি ক্ষুদ্র আয়তনে এর ভর এত বেশি যে এর মহাকর্ষীয় শক্তি কোন কিছুকেই তার ভিতর থেকে বের হতে দেয় না, এমনকি তাড়িত চৌম্বক বিকিরণকেও (যেমন: আলো) নয়। প্রকৃতপক্ষে এই স্থানে সাধারণ মহাকর্ষীয় বলের মান এত বেশী হয়ে যায় যে এটি মহাবিশ্বের অন্য সকল বলকে অতিক্রম করে। ফলে এ থেকে কোন কিছুই বের হতে পারে না। মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার ১৯৬৯ সালে ব্লাক হোল আবিষ্কার করেন।
১,৯২৩.
রিখটার স্কেল কোন বিষয় পরিমাপে ব্যবহৃত হয়? 
  1. ভূমিকম্পের মাত্রা
  2. আগ্নেয়গিরির তাপমাত্রা
  3. বৃষ্টিপাতের পরিমাণ
  4. বাতাসের চাপ
ব্যাখ্যা
রিখটার স্কেল: 
- ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ করা হয় রিখটার স্কেলে। 
- 1935 সালে আমেরিকার ভূকম্প বিশারদ চার্লস ফ্রান্সিস রিখটার ভূমিকম্পের যে মাত্রামাপক স্কেল প্রণয়ন করেন সেই স্কেলকে রিখটার স্কেল বলে। 
- রিখটার পরিমাপক স্কেল হলো কোন ভূমিকম্পের প্রাবল্যকে সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা, এটি একটি 10 মাত্রা ভিত্তিক লগারিদম পরিমাপ। 
অর্থাৎ এই পরিমাপে যে কোন সংখ্যার ভূমিকম্প- পূর্ববর্তী সংখ্যার চাইতে 10 গুণ বেশি শক্তিশালী।যেমন তিন মাত্রার ভূমিকম্পের চেয়ে চার মাত্রার ভূমিকম্প দশগুণ বেশি শক্তিশালী। 

ভূমিকম্প: 
- পৃথিবীর ভেতরে হঠাৎ সৃষ্ট কোনো কম্পন যখন ভূপৃষ্ঠে আকস্মিক আন্দোলন সৃষ্টি করে, সেটাকেই ভূমিকম্প বলে। 
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড থেকে মিনিট খানেক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে একাধিকবার ঘটতে পারে। 
- ভূমিকম্প একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি দেশ বা অঞ্চল পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১,৯২৪.
কৃষ্ণ বিবরের ভর -
  1. ক) শূন্য
  2. খ) প্রায় শূন্য
  3. গ) প্রায় অসীম
  4. ঘ) সসীম
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর আবিষ্কার করেন মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার।
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম।
- ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
১,৯২৫.
নীহারিকা কী? 
  1. সূর্যের কাছাকাছি এক ধূমকেতু
  2. মহাকাশে গ্রহ ও উপগ্রহের সমষ্টি
  3. মহাকাশে অসংখ্য স্বল্পালোকিত তারকার আস্তরণ 
  4. পৃথিবীর নিকটে আলো উৎপন্ন করা জ্যোতিষ্ক
ব্যাখ্যা

- নীহারিকা (nebula) হলো ধূলিকণা, হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস এবং প্লাজমা দ্বারা গঠিত এক ধরনের বিশাল আন্তঃনাক্ষত্রিক মেঘ। দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে এদেরকে মহাকাশে অসংখ্য স্বল্পালোকিত তারকার আস্তরণ বা মেঘের মতো দেখায়। 

নীহারিকা (Nebula): 
- নীহারিকা হলো মহাকাশে অসংখ্য স্বল্পালোকিত তারকার আস্তরণ। 
- এদের আকার বিচিত্র। কিছু নীহারিকার দেহ গ্যাসীয় পদার্থে পূর্ণ, তাই এদেরকে গ্যাসীয় নীহারিকা বলে। 
- এক একটি নীহারিকার মধ্যবর্তী দূরত্ব ব্যাপক। 
- এক একটি নীহারিকার মাঝে কোটি কোটি নক্ষত্র থাকতে পারে। 
- এরা যেহেতু পৃথিবী থেকে কোটি কোটি আলোক বর্ষ দূরে রয়েছে, তাই এদের মাঝে যেসব নক্ষত্র রয়েছে তাদের পৃথকভাবে শনাক্ত করা যায় না। 

ছায়াপথ (Milky Way): 
- কোনো একটি গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশকে ছায়াপথ বা আকাশ গঙ্গা বলে। 
- অন্ধকার আকাশে এদের উজ্জ্বল দীপ্তি দীর্ঘপথের মতো দেখায়। একটি ছায়াপথ লক্ষ কোটি নক্ষত্রের সমষ্টি। 
- শীতকালে রাত্রিবেলা পরিষ্কার আকাশে লক্ষ্য করলে উত্তর-দক্ষিণে বেশ বড় পরিসরযুক্ত তেজোদ্দীপ্ত স্বচ্ছ দীর্ঘ আলোর রেখা দেখা যায়, তারকা খচিত এই আলোর পথই হলো ছায়াপথ। 
- বিজ্ঞানীরা একে বিরাট চক্রাকার মণ্ডল বলে অনুমান করেন। 
- সৌরজগৎ এরকম একটি ছায়াপথের অন্তর্গত। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯২৬.
মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ও মহাজাগতিক পশ্চাৎপট বিকিরণ কোন বৈজ্ঞানিক শাখার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক্রিপ্টোলজি 
  2. কসমোলজি
  3. জ্যোতির্বিজ্ঞান
  4. অ্যাস্ট্রোফিজিক্স
ব্যাখ্যা

- কসমোলজি মহাবিশ্বের উৎপত্তি, বিকাশ, ইতিহাস, ভবিষ্যৎ এবং বৃহৎ আকারের গঠন ও বিবর্তন নিয়ে অধ্যয়ন করে। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ (expansion) এবং মহাজাগতিক পটভূমি বিকিরণের মতো বিষয়গুলো কসমোলজির মূল আলোচ্য বিষয়।

মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য: 

- মহাবিশ্ব কেন সৃষ্টি হলো, কিভাবে সৃষ্টি হলো, কেনইবা এটি টিকে আছে এ সম্পর্কে আমাদের কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। তবে এটি কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে এর বিবর্তনের ধারা সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা হয়েছে। 
- রাতের আকাশে অসংখ্য তারা বা নক্ষত্র দেখতে পাওয়া যায়, এমন অসংখ্য নক্ষত্র নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি গ্যালাক্সি। 
- সপ্তদশ শতাব্দীতে টেলিস্কোপের ব্যবহার থেকে জানা যায়, সূর্য ছায়াপথ গ্যালাক্সির (Milky way) অন্যান্য নক্ষত্রের মতোই একটি সাধারণ নক্ষত্র, তখন মনে করা হতো, সূর্য হচ্ছে গ্যালাক্সির কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু বিংশ শতাব্দীতে এসে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, সূর্যের অবস্থান গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে অনেক অনেক দূরে। এরূপ কোটি কোটি গ্যালাক্সি নিয়ে গঠিত হয়েছে এই মহাবিশ্ব। 
- ছায়াপথ গ্যালাক্সিতে নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় 1011 । মহাবিশ্বে এরকম প্রায় 1011 সংখ্যক গ্যালাক্সি রয়েছে আর প্রত্যেকটি গ্যালাক্সিতে রয়েছে গ্যালাক্সির প্রায় সমসংখ্যক নক্ষত্র। 

- পৃথিবী মহাবিশ্বের তুলনায় অতি অতি ক্ষুদ্র। পৃথিবী থেকে মহাকাশে নক্ষত্রদের দেখতে কাছাকাছি মনে হলেও এদের পরস্পরের মধ্যে রয়েছে অনেক আলোক বর্ষের ব্যবধান। 
- সভ্যতার সেই শুরু হতেই বিজ্ঞানীগণ এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য এবং পরিণতি সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা পোষণ করে আসছেন। এসব ধারণা এবং বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে বিজ্ঞানের একটি শাখা সৃষ্টি হয়েছে, যা কসমোলজি (Cosmology) বা 'মহাজাগতিক বিজ্ঞান' নামে পরিচিত। 
- বিংশ শতাব্দীতে দুই জন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিকের দ্বারা দুটি পরীক্ষা সংঘটিত হয়, যেগুলোর মাধ্যমে মহাবিশ্ব সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ধারণা প্রায় সকল পদার্থ বিজ্ঞানীদের মাঝে গৃহীত হয়েছে।
- পরীক্ষা দুটি হলো- ১। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ এবং ২। মহাজাগতিক পশ্চাৎপট বিকিরণ। 

অন্যদিকে, 
- ক্রিপ্টোলজি (Cryptology): এটি গোপন তথ্য বা বার্তা সংরক্ষণ এবং নিরাপদ প্রেরণের বিজ্ঞান।
- জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy): এটি মহাকাশের বস্তু (গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ) এবং তাদের ঘটনা নিয়ে অধ্যয়ন করে, তবে কসমোলজি মহাবিশ্বের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কাজ করে। 
- অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (Astrophysics): এটি মহাজাগতিক বস্তু ও ঘটনার ভৌত প্রক্রিয়াগুলো ব্যাখ্যা করে, যা কসমোলজির একটি অংশ হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯২৭.
সূর্য কী?
  1. গ্রহ
  2. নক্ষত্র
  3. উপগ্রহ
  4. ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
সূর্য (Sun): 
- সূর্য একটি নক্ষত্র। 
- সূর্যের পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস। 
- এটি হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড। 
- হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের। 
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। 
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। 
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯২৮.
রিখটার স্কেল ব্যবহার করা হয় কী পরিমাপের জন্য?
  1. ক) সুনামি
  2. খ) ভূমিকম্প
  3. গ) টর্নেডো
  4. ঘ) সাইক্লোন
ব্যাখ্যা

- রিকটার স্কেল ও সিসমোগ্রাফ দুটাই ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
- ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপা হয় রিকটার স্কেলে মাধ্যমে।
- অপরদিকে, সিসমােগ্রাফ ভূপৃষ্ঠের আন্দোলন পরিমাপনের এবং ভূমিকম্পের উৎস খুঁজে বের করার যন্ত্র। এর সাহায্যে অন্যান্য বিস্ফোরণ, প্রচণ্ড ঝড় ইত্যাদির খোঁজ পাওয়া যায়। এছাড়া মেরু অঞ্চলের বরফের গভীরতা, খনিজ তেল ভাণ্ডার ইত্যাদিও এর সাহায্যে বের করা সম্ভব।

তথ্যসূত্র : ব্রিটানিকা

১,৯২৯.
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে উপরের স্তর কোনটি?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. এক্সোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
• বায়ুমণ্ডল:
- যে গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে বায়ুমণ্ডল বল হয়। 

• বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
যথা-
- ট্রপোমণ্ডল,
- স্ট্রাটোমণ্ডল,
- মেসোমণ্ডল,
- তাপমণ্ডল ও
- এক্সোমণ্ডল।

এর মধ্যে ট্রপোমণ্ডল হলো বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর এবং এক্সোমণ্ডল হলো সবচেয়ে উপরের স্তর। 

• এক্সোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of the Exosphere:
-  এক্সোমণ্ডল, তাপমন্ডল অতিক্রম করে ৯৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি ক্রমান্বয়ে আন্ত:গ্রহ স্থান (Interplanetary Space) এ প্রবেশ করে। 
-  এ স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
-  এ স্তরে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন এবং হিলিয়াম ধারণ করে, কেননা মাধ্যাকর্ষণের ঘাটতির কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলো সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,৯৩০.
মুখ্য জোয়ার পৃথিবীর কোন অংশে সংঘটিত হয়?
  1. পৃথিবীর যে পাশে সূর্য অবস্থান করে
  2. সূর্যের বিপরীত পার্শ্বে অবস্থিত পৃথিবীর অংশে
  3. পৃথিবীর যে পাশে চন্দ্র অবস্থান করে
  4. চন্দ্রের বিপরীত পার্শ্বে অবস্থিত পৃথিবীর অংশে
ব্যাখ্যা

• জোয়ার-ভাঁটা: 
- মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে  ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাঁটা বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাঁটা সংঘটিত হয়। 
- জোয়ার ভাঁটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

১. মুখ্য জোয়ার: 
- চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরুপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। 

২. গৌণ জোয়ার: 
- চাঁদ পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক থেকে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে। 

৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল: 
- অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে। 

৪. মরা কটাল: 
- চন্দ্র ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে তখন চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। এই ধরনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৩১.
সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ কোনটি?
  1. মহীসোপান ও মহীঢালের অবস্থান
  2. সূর্যরশ্মি
  3. চন্দ্রকিরণ
  4. বায়ু প্রবাহ
ব্যাখ্যা
• সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ হলো বায়ু প্রবাহ। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বায়ুর চাপ ও তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বায়ু এক স্থান থেকে আরেক স্থানে প্রবাহিত হয়। এই বায়ু যখন সমুদ্রের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তা জলপৃষ্ঠকে ঠেলে দিয়ে একটি নির্দিষ্ট দিকে স্রোত সৃষ্টি করে। বিশেষ করে, বাণিজ্যিক বায়ু ও পশ্চিমlies বায়ু সমুদ্রস্রোতের গঠনে মুখ্য ভূমিকা রাখে। যদিও সূর্যরশ্মি ও চন্দ্রের আকর্ষণ কিছুটা প্রভাব ফেলে, মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে বায়ু প্রবাহ।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: ঘ) বায়ু প্রবাহ।


বায়ুপ্রবাহ (Wind Movement ):

- বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ।
- প্রধান বায়ুপ্রবাহের গতি অনুসরণ করে সমুদ্রের প্রধান স্রোতগুলো প্রবাহিত হয়।
- অয়ন বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে সমুদ্রস্রোত পূর্ব হতে পশ্চিম দিকে এবং প্রত্যয়ন বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়।
- মৌসুমী বায়ুপ্রবাহের গতিপথ অনুসরণ করে ভারত মহাসাগরের স্রোতসমূহ প্রবাহিত হয়।
- ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে মৌসুমী বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হলে সমুদ্রস্রোতের গতি ও দিক পরিবর্তিত হয়।
- যেমন: উত্তর পূর্ব অয়ন বায়ু ও দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে নিরক্ষীয় অঞ্চলে যথাক্রমে উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত এবং দক্ষিণ নিরীক্ষীয় স্রোতের উৎপত্তি হয়।
- অপরদিকে দক্ষিণ পশ্চিম প্রত্যয়ন বায়ুর প্রভাবে উত্তর আটলান্টিক ও প্রশান্তমহাসাগরে যথাক্রমে উপসাগরীয় স্রোত ও কুরোশিও স্রোত উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৩২.
বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক হিসেবে কাকে অভিহিত করা হয়? 
  1. জর্জ গ্যামো 
  2. স্টিফেন হকিং 
  3. এডউইন হাবল 
  4. জর্জ লেমাইটার 
ব্যাখ্যা

বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব (Big Bang Theory): 
- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রান্ত তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়। 
- ১৯৩১ সালে তিনি আরো প্রস্তাব করেন যে, প্রসারণশীল বিশ্বকে যদি সময়ের সাথে পিছিয়ে নেয়া হয়, তাহলে একটা বিন্দুতে উপনীত হতে পারা যায়, যেখানে মহাবিশ্বের সমস্ত ভর পুঞ্জীভূত ছিল, যাকে আদিম পরমাণু বলা যেতে পারে এবং এখান থেকেই স্থান-কালের উদ্ভব। 
- তাই জর্জ লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে
- জর্জ গ্যামো মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন যে, যেহেতু গ্যালাক্সিসমূহ পরষ্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তাই সুদূর অতীতে নিশ্চয়ই তারা পরষ্পরের খুব কাছাকাছি ছিল। 
অর্থাৎ, কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব। 

- বিগ ব্যাংগ বা মহাবিস্ফোরণ পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা। সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুর করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে অর্থাৎ সর্বত্র ঘটেছিল। 
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির শুরু বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ, বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না। 
- বিগ ব্যাগ-এর পর 10-43 s পর্যন্ত কী ঘটেছিল তা কেউ জানতে পারেনি, কিছুটা ধারণা পেয়েছে মাত্র। 
- মহাবিশ্ব শুরু হয়েছিল একটি অপরিমেয় ক্ষুদ্র, অসীম তাপ ও অসীম ঘনত্ববিশিষ্ট শক্তির উৎস থেকে। একে বলা হয় অনন্যতা বা অদ্বৈত বিন্দু (Singularity)। এতে সব মৌলিক বলগুলো একত্রে একীভূত বল হিসেবে ছিল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৩৩.
হিগস-বোসন কণার অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য ২০১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান কে?
  1. স্টিফেন হকিং
  2. আইনস্টাইন
  3. ফ্রাঁসোয়া ইংলার্ট
  4. জি. লেমেটার
ব্যাখ্যা
• হিগের কণা:
- ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে এমন একটি কণার ধারনা দেন, যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে এবং এর ফলে মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে। এই কণাটিকে হিগের কণা বলা হয়।
- হিগস কণা একটি বোসন কণা।
- হিগস বোসন কণাটি ঈশ্বর কণা (God particle) নামে পরিচিত।
- পদার্থবিজ্ঞানী লিওর লেডারম্যান ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে ঈশ্বর কণা নামে চিহ্নিত করেন।
- ৪ই জুলাই ২০১২ সালে এই বোসন কণাটি আবিষ্কৃত হয়।
- হিগস-বোসন কণার অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য ২০১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান 'পিটার ডব্লিউ হিগস ও ফ্রাঁসোয়া ইংলার্ট'।
- হিগের কণা সৃষ্টিতে অবদান রাখেন বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর 'কণা পরিসংখ্যান তত্ত্ব'।
- বিজ্ঞানী হিগের সাথে সতেন্দ্রনাথকে জড়িয়ে হিগের কণার নাম দেন- হিগস বোসন কণা।

উৎস:
১. ব্রিটানিকা।
২. দার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩. CERN ওয়েবসাইট।
১,৯৩৪.
চন্দ্রে অবতরণকারী প্রথম চন্দ্রযানের নাম-
  1. ক) ভয়েজার-১
  2. খ) অ্যাপোলো-১১
  3. গ) ভয়েজার-২
  4. ঘ) চ্যালেঞ্জার
ব্যাখ্যা
মানুষ প্রথম চাঁদে পা রাখে ২০ জুলাই, ১৯৬৯ সালে।
- যুক্তরাষ্ট্র চন্দ্রবিজয়ী বিশ্বের প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র দেশ।
- এপোলো-১১ নামক চন্দ্রযানে করে নীল আর্মস্ট্রং ও এডউইন অলড্রিন চাঁদে অবতরণ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা.কম
১,৯৩৫.
বায়ুমণ্ডলে শতকরা কতভাগ আর্গন বিদ্যমান?
  1. ৭৮.০
  2. ০.৮
  3. ০.৪১
  4. ০.৩
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডল: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল। 
- বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere। বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর অপরিহার্য অংশ। 
- বায়ুমণ্ডল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে পৃথিবীর গায়ের সাথে লেগে থাকে এবং আবর্তন করে। তবে বায়ু কঠিন ভূমির সাথে সমানভাবে চলতে না পারায় সামান্য পশ্চাতে পড়ে থাকে। 
- বিজ্ঞানীগণের ধারণা, বায়ুমণ্ডলের বয়স প্রায় ৩৫০ কোটি বছর। 
- বায়ুমণ্ডল ভূ-অভ্যন্তরের নির্গত গ্যাস থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে মাত্র ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে বায়ুমণ্ডলের ৯০ শতাংশ অবস্থান করছে। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত। 

বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে গঠিত। 
- বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং অক্সিজেন (২০.৭১%), যা মোট উপাদানগুলোর প্রায় ৯৯%। অবশিষ্ট ১% অন্যান্য উপাদান। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলো প্রায় একই রকম থাকে যা সমমণ্ডল (Homosphere) নামে পরিচিত। 
- আর ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন এই ৯০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে বায়ুমণ্ডলের যে অংশ রয়েছে সেখানে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত সমান থাকে না বলে তাকে বিষমমণ্ডল (Heterosphere) বলে। 

বায়ুমণ্ডলের উপাদান ও এর শতকরা সংযুক্তি: 
১. নাইট্রোজেন ⇒ ৭৮.০২%, 
২. অক্সিজেন ⇒ ২০.৭১%, 
৩. আর্গন ⇒ o.৮০%, 
৪. কার্বন ডাই-অক্সাইড ⇒ ০.০৩%, 
৫. ওজোন ⇒ ০.০০০১%, 
৬. অন্যান্য গ্যাস ⇒ ০.০১৯৯%, 
৭. জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১% এবং 
৮. ধূলিকণা ও কনিক্স ⇒ ০.০১%। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৩৬.
GPRS এর Full Meaning কী?
  1. ক) General Packet Radio Services
  2. খ) Global Packet Radio Services
  3. গ) Global Package Radio Services
  4. ঘ) General Package Radio Services
ব্যাখ্যা
মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত GPRS প্রযুক্তির পূর্ণরূপ General Packet Radio Service। ইন্টারনেটের জন্য প্রথমে GPRS এবং পরে EDGE প্রযুক্তি চালু হয়। GPRS এর স্পিড 50Kbit/s এবং EDGE এর স্পিড 250Kbit/s।
১,৯৩৭.
মহাবিশ্বের বর্তমান বয়স কত?
  1. প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর
  2. প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর
  3. প্রায় ৮ বিলিয়ন বছর
  4. প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা

• মহাবিশ্ব:
- মহাবিশ্বের বয়স ১৩.৭ বিলিয়ন প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর। 
- আমাদের সৌরজগৎ ৪.৬ বিলিয়ন বছর, পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর ধরে, এবং মানুষ মাত্র কয়েক লক্ষ বছর ধরে অস্তিত্বে রয়েছে।
- অন্য কথায়, মহাবিশ্ব আমাদের প্রজাতির চেয়ে প্রায় ৫৬,০০০ গুণ বেশি সময় ধরে অস্তিত্বে রয়েছে।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট

১,৯৩৮.
স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবােজাহাজ থেকে দেখার জন্য কী ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) টেলিস্কোপ
  2. খ) পেরিস্কোপ
  3. গ) নভোবীক্ষণ যন্ত্র
  4. ঘ) আল্ট্রাসাউন্ড
ব্যাখ্যা
পেরিস্কোপ তৈরি হয় একটি লম্বা সরু টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের (আয়না) দুটি ফালি বা সট্রিপ স্থাপন করে। দর্পণ দুটিকে টিউবের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। এরা পরস্পরের সাথে সমান্তরাল থাকে এবং ৯০° কোণে আলাের বিসরণঘটায় বা বাঁকিয়ে দেয়। স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবােজাহাজ থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
১,৯৩৯.
ভূ-ত্বক গঠনকারী প্রধান ধাতু কোনটি?
  1. অক্সিজেন
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. আয়রন
  4. অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

ভূ-ত্বক গঠনকারী প্রধান উপাদান হলো অক্সিজেন। এটি হলো অধাতু।
ভূ-ত্বক গঠনকারী প্রধান ধাতু হলো অ্যালুমিনিয়াম। এর পরে পরিমাণের দিক দিয়ে রয়েছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৯৪০.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ওজোন গ্যাসের স্তর অবস্থান করে?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. থার্মোমণ্ডল
  3. স্ট্র্যাটোমণ্ডল
  4. মেসোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

◉ বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোমণ্ডলে ওজোন গ্যাসের স্তর অবস্থান করে।

• স্ট্রাটোমণ্ডল: 

- ট্রপোমণ্ডলের ঠিক উপরেই শুরু হয়েছে স্ট্রাটোমণ্ডল। 
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তর ট্রপোমণ্ডল থেকে শুরু করে প্রায় ৫০ কিলোমিটার বিস্তৃত। 
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে ওজোন নামের একটি গ্যাসের স্তর রয়েছে, এই গ্যাস সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে আমাদের রক্ষা করে। 
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তর এবং এর উপরের দিকে বায়ুমণ্ডলের অন্যান্য গ্যাস খুব কম পরিমাণে আছে। 

• ট্রপোমণ্ডল: 
- ভূপৃষ্ঠ থেকে বারো কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলকে বলা হয় ট্রপোমণ্ডল। 
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে বায়ুর বেশির ভাগ প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহ যেমন অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প থাকে। 
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে মানুষ ও অন্যান্য জীবের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সব ঘটনা ঘটে। 
যেমন- এই স্তরে মেঘ, বৃষ্টি, বায়ু প্রবাহ, ঝড়, কুয়াশা এসব হয়; তাই ট্রপোমণ্ডল বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর। 

• মেসোমণ্ডল: 
- স্ট্রাটোমণ্ডল শেষ হয়ে বায়ুমণ্ডলের এই স্তর শুরু হয়। 
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তর প্রায় ৮০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরের উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে বায়ুর তাপমাত্রা কমতে থাকে। 

• তাপমণ্ডল: 
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তর প্রায় বায়ুশুন্য। 
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে বায়ুর তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ে, তাই এর নাম তাপমণ্ডল। 
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১,৯৪১.
চাঁদে প্রথম অবতরণ করে কোন মিশন?
  1. ভোস্টক-১
  2. অ্যাপোলো-১১
  3. লুনা-২
  4. চন্দ্রযান
ব্যাখ্যা

• অ্যাপোলো-১১ (Apollo-11) ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা NASA পরিচালিত একটি ঐতিহাসিক মিশন, যার মাধ্যমে মানবজাতি প্রথমবার চাঁদে অবতরণ করে।

সময় ও উদ্দেশ্য:
- প্রেরণ তারিখ: ১৬ জুলাই, ১৯৬৯।
- চাঁদে অবতরণ: ২০ জুলাই, ১৯৬৯। 
- ফেরত আসে: ২৪ জুলাই, ১৯৬৯। 
- উদ্দেশ্য: মানুষকে চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করানো এবং নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা।
 
প্রধান নভোচারী:
- নিল আর্মস্ট্রং (Neil Armstrong)- প্রথম ব্যক্তি যিনি চাঁদে পদার্পণ করেন।
- বাজ অলড্রিন (Buzz Aldrin)- দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি চাঁদের মাটিতে হাঁটেন।
- মাইকেল কলিন্স (Michael Collins)- চাঁদের কক্ষপথে কমান্ড মডিউল পরিচালনা করেন।

ঐতিহাসিক উক্তি:
- চাঁদের মাটিতে প্রথম পা রেখে নিল আর্মস্ট্রং বলেন “That's one small step for man, one giant leap for mankind.”
- (বাংলা অনুবাদ: “মানুষের জন্য এটি এক ক্ষুদ্র পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য এক বিশাল অগ্রগতি।”)
 
মিশনের মূল সাফল্য:
- প্রথমবার চাঁদের মাটিতে মানুষের পদচিহ্ন।
- প্রায় ২১ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট চাঁদের পৃষ্ঠে অবস্থান।
- প্রায় ২১.৫ কেজি চাঁদের শিলা ও ধুলা সংগ্রহ।
- পৃথিবীতে ফিরে এসে নিরাপদ অবতরণ।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]
- নাসা অফিশিয়াল ওয়েবসাইট

১,৯৪২.
কোন মৌল থেকে প্রথম তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করা হয়েছিল? 
  1. থোরিয়াম
  2.  প্লুটোনিয়াম
  3. রেডন
  4. ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে সেটাকে স্থিতিশীল রাখার জন্য নিউট্রনের সংখ্যাও বেড়ে যেতে থাকে, কিন্তু তারপরও নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করার পর থেকে নিউক্লিয়াসগুলো অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। এই অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াসগুলো কোনো এক ধরনের বিকিরণ করে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে এবং এই প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় তেজস্ক্রিয়তা। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে যে বিকিরণ বের হয়ে আসে তাকে বলে তেজস্ক্রিয় রশ্মি। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করলেই (পারমাণবিক সংখ্যা ৪2 থেকে বেশি) যে নিউক্লিয়াসগুলো তেজস্ক্রিয় হয়ে থাকে তা নয়, অন্য পরমাণুর নিউক্লিয়াসও তেজস্ক্রিয় হতে পারে। 
- একটি মৌলের বাহ্যিক ধর্ম, প্রকৃতি, এবং রাসায়নিক গুণাগুণ নির্ভর করে বাইরের ইলেকট্রনের শ্রেণিবিন্যাসের ওপর। 
- 1896 সালে হেনরি বেকেরেল (Henri Becquerel) প্রথম ইউরেনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। 
- পরবর্তীতে আরনেস্ট রাদারফোর্ড, পিয়ারে কুরি, মেরি কুরি এবং অন্যা বিজ্ঞানীরা অন্যান্য মৌলের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- এটি বাইরের চাপ, তাপ, বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে কোনোভাবে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কাজেই এটি একটি নিউক্লী ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার কারণে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়ে নিউক্লিয়াসের গঠন পরিবর্তিত হয়ে সেটিও ভিন্ন একটি মৌলে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে। 
- নিউক্লিয়াস থেকে যে তিনটি প্রধান তেজস্ক্রিয় রশ্মি বের হয়, সেগুলো হচ্ছে আলফা, বিটা এবং গামা রশ্মি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৪৩.
লা নিনা বলতে বুঝায়? 
  1. ক) বালক 
  2. খ) বালিকা 
  3. গ) পুরুষ 
  4. ঘ) কন্যা 
ব্যাখ্যা
এল নিনো একটি স্পেনিশ শব্দ যার অর্থ বালক। বিষুবরেখার অপরপাশ থেকে নেমে আসা উষ্ণ পানির স্রোতের কারণে সৃষ্ট জলবায়ুর প্রতিক্রিয়াকে ব্যক্ত করার জন্য ইকুয়েটর ও পেরুর জেলেরা এল নিনো শব্দের ব্যবহারের প্রচলন করে।

লা নিনো শব্দটিও স্পেনিশ যার অর্থ বালিকা। এল নিনো প্রভাবে সাগরে উষ্ণ পানির স্রোত প্রবাহিত হবার পর পরবর্তীতে সাগরের পানির উষ্ণতা কমে আসে। সাগরের পানির এ উষ্ণতা কমে আসাই লা নিনো নামে পরিচিত। লা নিনোর প্রভাবে অতিবৃষ্টি ও বন্যা হয়। 

Source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম 
১,৯৪৪.
মহাবিশ্বের সকল কণাকে কয়ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্বের সকল কণাকে দুভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যথাঃ (ক) ফার্মিওন ও (খ) বোসন।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)
১,৯৪৫.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য কোনটি? 
  1. পুনরুদ্ধার কাজ সুষ্ঠুরূপে সম্পন্ন করা
  2. ত্রাণ ও পূর্ণবাসন নিশ্চিত করা
  3. ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্ৰান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য তিনটি।

- এগুলো হলো:
(ক) দুর্যোগকালিন সময়ে জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো বা পরিমাণ হ্রাস করা;
(খ) দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে দ্রুত প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছানো ও পূর্ণবাসন নিশ্চিত করা এবং
(গ) দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ সুষ্ঠুরূপে সম্পন্ন করা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৪৬.
বারিমন্ডলে ভূগর্ভস্থ পানির পরিমাণ কত?
  1. ক) ২.০৫%
  2. খ) ০.৬৮%
  3. গ) ৫.৫০%
  4. ঘ) ০.০৩%
ব্যাখ্যা
বারিমন্ডলের পানির প্রধান উৎসসমূহ:
সমুদ্র - ৯৭.২৫%
হিমবাহ - ২.০৫%
ভূগর্ভস্থ পানি - ০.৬৮%
হ্রদ - ০.০১%
নদী - ০.০০০১%

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৪৭.
পৃথিবীর প্রায় কত শতাংশ বারিমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) এক-চতুর্থাংশ
  2. খ) দুই-চতুর্থাংশ
  3. গ) দুই-তৃতীয়াংশ
  4. ঘ) তিন-চতুর্থাংশ
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বারিমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত।
- বারিমন্ডল হলো ভূ-ত্বকের অবনমিত অংশে অবস্থিত বিশাল পানিরাশি।
- এই বিশাল পানিরাশির সবচেয়ে বড় আধার মহাসাগর এবং সাগর।
- এছাড়া রয়েছে অসংখ্য নদ-নদী, হ্রদ, খাল, বিল ও জলাশয়। 

বারিমণ্ডলের জলের পরিমাণ ভিত্তিক বন্টন:
• সমুদ্র (৯৭.২৫%),
• হিমবাহ (২.০৫%),
• ভূগর্ভস্থ পানি (০.৬৮%),
• হৃদ (০.০১%),
• মাটির আর্দ্রতা (০.০০৫%),
• বায়ুমণ্ডল (০.০০১%),
• নদী(০.০০০১%),
• জীবমণ্ডল (০.০০০০৪%)।

সূত্র:
১. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২. ভূগোল প্রথম পত্র , এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৪৮.
নক্ষত্রের ব্যাপারে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. এরা জ্বলন্ত গ্যাসপিণ্ড
  2. এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসে তৈরি
  3. এরা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলছে
  4. দিনের বেলায় নক্ষত্রগুলোর অস্তিত্ব থাকে না
ব্যাখ্যা
যেসব জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে৷ নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাস পিণ্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি৷ এই গ্যাস অতি উচ্চ তাপমাত্রায় (৬০০০° সেলসিয়াস) জ্বলছে৷ সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি
১,৯৪৯.
জমিতে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. কীটনাশক
  2. তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ
  3. রাসায়নিক সার
  4. গাইগার মুলার কাউন্টার
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ: 
- কিছু কিছু আইসোটোপ আছে যাদের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে (নিজে নিজেই) ভেঙে আলফা, বিটা, গামা ইত্যাদি তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত করে। 
- একটি মৌলের যে সকল আইসোটোপ তেজস্ক্রিয় রশ্মি নিঃশরণ করে তাদেরকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে। 
- এখন পর্যন্ত এ ধরনের আইসোটোপের সংখ্যা ৩০০০ থেকে বেশি। এদের মধ্যে কিছু প্রকৃতিতে পাওয়া গেছে, অন্যগুলো গবেষণাগারে তৈরি করা হয়েছে। 
- তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ এর নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার দিয়ে মানুষ অনেক কিছু করতে পারে যেটি অন্যভাবে করা দুঃসাধ্য ছিল। 
- বর্তমানে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ চিকিৎসাক্ষেত্রে, কৃষিক্ষেত্রে, খাদ্য ও বীজ সংরক্ষণে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে, কোনো কিছুর বয়স নির্ণয়সহ আরও অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। 

কৃষিক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 
১। ফসলের পুষ্টিতে: 
- ফসলের পুষ্টির জন্য জমিতে পরিমাণমতো সার ব্যবহার করতে হয়। 
- সার মূল্যবান বস্তু, তাই অতিরিক্ত ব্যবহার করা আর্থিক ক্ষতির কারণ। 
- একদিকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার ব্যবহার পরিবেশের ক্ষতির কারণ, অপরদিকে প্রয়োজনের চেয়ে কম পরিমাণ সার ব্যবহার করা হলে ফসলের উৎপাদন কম হয়। 
- তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করে জমিতে কী পরিমাণ নাইট্রোজেন ও ফসফরাস আছে তা জানা যায়। আর তা জেনে জমিতে আরও কী পরিমাণ নাইট্রোজেন ও ফসফরাস দিতে হবে তারও হিসাব করা যায়। 
- উদ্ভিদ মূলের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় নাইট্রোজেন ও তেজস্ক্রিয় ফসফরাস গ্রহণ করে এবং তা উদ্ভিদের শরীরের বিভিন্ন অংশে শোষিত হয়। এসব তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। গাইগার মুলার কাউন্টার ব্যবহার করে এ তেজস্ক্রিয় রশ্মি শনাক্ত ও পরিমাপ করা হয়। 

২। ক্ষতিকারক পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করতে: 
- ফসলের জন্য ক্ষতিকারক পোকামাকড় সব সময়ই মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এগুলো যেমন ফসলের উৎপাদন কমায় তেমনই এদের মাধ্যমে রোগজীবাণুও উদ্ভিদে প্রবেশ করে। 
- এসব পোকামাকড় ধ্বংস করার জন্য ফসলে এবং জমিতে কীটনাশক দেওয়া হয়। এ কীটনাশক পরিবেশ ও আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 
- শুধু তাই নয়, এ কীটনাশক ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের সাথে সাথে অনেক উপকারী পোকামাকড়ও ধ্বংস করে। 
- তেজস্ক্রিয় আইসোটোপসমৃদ্ধ কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে জানা সম্ভব হয়েছে সর্বনিম্ন কতটুকু পরিমাণ কীটনাশক একটি ফসলের জন্য ব্যবহার করা যাবে। 

৩। ফসলের মানোন্নয়নে: 
- বিভিন্ন ধরনের তেজস্ক্রিয় রশ্মির নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্ভিদ কোষের জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে উন্নত মানের ফসল উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৫০.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা -
  1. ০.০১ মিলিগ্রাম
  2. ০.৩ মিলিগ্রাম
  3. ০.১ মিলিগ্রাম
  4. ০.০৩ মিলিগ্রাম
ব্যাখ্যা

আর্সেনিক:
- বাংলাদেশে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ০.০৫ মিলিগ্রাম।
- ধূসর আভাযুক্ত সাদা রংবিশিষ্ট ভঙ্গুর প্রকৃতির একটি অর্ধধাতু বা উপধাতু হচ্ছে আর্সেনিক (Arsenic)।
- প্রকৃতিতে আর্সেনিক বিভিন্ন যৌগ আকারে পাওয়া যায়।
- ৩৩ আণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট আর্সেনিকের আণবিক ভর ৭৪.৯২।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত আর্সেনিক একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা হলো ০.০১ মিলিগ্রাম।
- তবে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ দেশের মাত্রা নির্ধারণ করে থাকে।
- চাঁদপুর জেলা দেশের মধ্যে সবচেয়ে আর্সেনিক দূষণপ্রবণ জেলা হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৯৩ সালে চাপাইনবাবগঞ্জে দেশে প্রথম নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি চিহ্নিত হয়।

উৎস: ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

১,৯৫১.
‘গ্রীন হাউজ ইফেক্ট’ বলতে বুঝায়- 
  1. তাপ আটকা পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
  2. সূর্যালোকের অভাবে সালোকসংশ্লেষণে ঘাটতি।
  3. উপগ্রহের সাহায্যে দূর থেকে ভূ-মণ্ডলের অবলোকন।
  4. প্রাকৃতিক চাষের বদলে ক্রমবর্ধমানভাবে কৃত্রিম চাষের প্রয়োজনীয়তা।
ব্যাখ্যা
গ্রীন হাউস ইফেক্ট: 
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার প্রক্রিয়াকে গ্রীন হাউস ইফেক্ট বলে। 
- বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত যেসব গ্যাসীয় CO2, CFC, N2O2, CO, O3 ইত্যাদি পদার্থের আবরণ পৃথিবীকে আচ্ছাদন রূপে ঢেকে রেখে পৃথিবী পৃষ্ঠ হতে বিকিরিত তাপকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাঁধা দেয় এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত রাখে তাদেরকে গ্রীন হাউজ গ্যাস বলে। 
- পরিবেশ দূষণ এবং গাছপালা কেটে ফেলার ফলে গ্রীন হাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে, ফলে সূর্য থেকে তাপ বিকিরিত হয়ে পৃথিবীতে ঢোকার পর যতটা আবার পৃথিবীর বাইরে বিকিরিত হওয়া উচিত তা হচ্ছে না, ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। 
- গ্রীন-হাউজ ইফেক্ট এর ফলে তাপ আটকে পড়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৫২.
এক্সরের (x-ray) আবিষ্কারক-
  1. ক) আলফ্রেড নোবেল
  2. খ) মাইকেল ফ্যারাডে
  3. গ) উইলিয়াম রন্টজেন
  4. ঘ) হেনরি বেকেরেল
ব্যাখ্যা

- ক্যাথোড রশ্মি হচ্ছে এক রাশি ইলেকট্রন।
- ১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম রন্টজেন আবিষ্কার করেন যে, তড়িৎক্ষরণ নল থেকে যখন ক্যাথোড রশ্মি নলের দেয়ালে পড়ে তখন এক্সরে উৎপন্ন হয়।
- এক্সরের একক রন্টজেন।
- এক্সরে উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন।
- তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন হেনরি বেকেরেল।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৫৩.
‘গ্রীন হাউজ ইফেক্ট’ বলতে কী বুঝায়?
  1. বৃষ্টিপাতের হ্রাসের প্রক্রিয়া
  2. পৃথিবীর চারপাশে ওজোন স্তর গঠনের প্রক্রিয়া
  3. সূর্যালোকের অভাবে সালোকসংশ্লেষণে ঘাটতি
  4. তাপ আটকা পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
গ্রীন হাউস ইফেক্ট: 
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার প্রক্রিয়াকে গ্রীন হাউস ইফেক্ট বলে। 
- বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত যেসব গ্যাসীয় CO2, CFC, N2O2, CO, O3 ইত্যাদি পদার্থের আবরণ পৃথিবীকে আচ্ছাদন রূপে ঢেকে রেখে পৃথিবী পৃষ্ঠ হতে বিকিরিত তাপকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাঁধা দেয় এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত রাখে তাদেরকে গ্রীন হাউজ গ্যাস বলে। 
- পরিবেশ দূষণ এবং গাছপালা কেটে ফেলার ফলে গ্রীন হাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে, ফলে সূর্য থেকে তাপ বিকিরিত হয়ে পৃথিবীতে ঢোকার পর যতটা আবার পৃথিবীর বাইরে বিকিরিত হওয়া উচিত তা হচ্ছে না, ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। 
- গ্রীন-হাউজ ইফেক্ট এর ফলে তাপ আটকে পড়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৫৪.
বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. অক্সিজেন
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড 
  3. আর্গন
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

- বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান হচ্ছে- নাইট্রোজেন। 

বায়ুমণ্ডল: 

- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল। 
- বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere; বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর অপরিহার্য অংশ। 
- বায়ুমণ্ডল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে পৃথিবীর গায়ের সাথে লেগে থাকে এবং আবর্তন করে। তবে বায়ু কঠিন ভূমির সাথে সমানভাবে চলতে না পারায় সামান্য পশ্চাতে পড়ে থাকে। 
- বিজ্ঞানীগণের ধারণা, বায়ুমণ্ডলের বয়স প্রায় ৩৫০ কোটি বছর। 
- বায়ুমণ্ডলভূ-অভ্যন্তরের নির্গত গ্যাস থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে মাত্র ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে বায়ুমণ্ডলের ৯০ শতাংশ অবস্থান করছে। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত। 

বায়ুমণ্ডলের উপাদানের নাম ⇒ শতকরা অংশ: 
• নাইট্রোজেন ⇒ ৭৮.০২, 
• অক্সিজেন ⇒ ২০.৭১, 
• আর্গন ⇒ o.৮০, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড ⇒ ০.০৩, 
• ওজোন ⇒ ০.০০০১, 
• অন্যান্য গ্যাস ⇒ ০.০১৯৯, 
• জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১ এবং 
• ধূলিকণা ও কনিক্স ⇒ ০.০১। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৫৫.
গ্রীনহাউস এফেক্টের প্রভাবে নিচের কোনটি ঘটে না? 
  1. সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়া
  2. আবহাওয়ার পরিবর্তন হওয়া
  3. ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাওয়া
  4. সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে যাওয়া
ব্যাখ্যা
গ্রীনহাউস এফেক্ট: 
- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধ, জ্বালানি, পানিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণাদি পরিবেশ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে। 
- পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশেষ করে বনাঞ্চল ধ্বংস হলে বৃষ্টিপাতের হার কমে যায়, চাষাবাদের যথেষ্ট ক্ষতি হয়। 
- গ্রীনহাউস গ্যাস (যেমন- CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যাকে গ্রীনহাউস এফেক্ট (Green house effect) বলে। 

গ্রীনহাউস এফেক্টের কারণে- 
সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে এবং উপকূল অঞ্চল তলিয়ে যাবে, 
আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে
• বনাঞ্চল ধবংস হবে, 
• বিভিন্ন রোগবালাইয়ের প্রভাবে ফসলের ক্ষতি হবে, 
• মানুষের মধ্যে নতুন সব রোগের প্রকোপ দেখা দিবে, 
ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাবে। 
- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে গ্রীনহাউস এফেক্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তাই এখন থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৫৬.
ট্রানজিস্টারের টার্মিনাল নয়-
  1. ক) কালেক্টর
  2. খ) ট্যাপ
  3. গ) বেস
  4. ঘ) অ্যাামিটার
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টারের টার্মিনাল ৩ টি। যথা- কালেক্টর, বেস এবং অ্যামিটার।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৫৭.
বাংলাদেশের অবস্থান গ্রিনিচের কত ডিগ্রি পূর্বে?
  1. ৯০°
  2. ৭৫°
  3. ৪৫°
  4. ৬০° 
ব্যাখ্যা

• গ্রিনিচ মান সময়: 
- গ্রীনিচ মান সময় অপেক্ষা বাংলাদেশ সময় — ৬ ঘণ্টা আগে। 
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে। 
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা। 
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে। 
- গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৫৮.
চাঁদ, সূর্য এবং পৃথিবী কখন একে অপরের সাথে সমকোণে থাকে?
  1. ভরা কটালের সময়
  2. মরা কটালের সময়
  3. পূর্ণিমার সময়
  4. মুখ্য জোয়ারের সময়
ব্যাখ্যা
• জোয়ার-ভাঁটা: 
- সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। 
- এর কারণ মূলত দুটি যা চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণ শক্তি (যা মূলত মহাকর্ষ শক্তি) এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি। 
- সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাঁটা বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাঁটা সংঘটিত হয়। 

জোয়ার-ভাঁটার কারণ: 
- জোয়ার-ভাটার প্রধান দুটি কারণ হলো- 
(ক) মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব এবং 
(খ) কেন্দ্রাতিগ/বহির্মুখী শক্তি। 

জোয়ার-ভাঁটার শ্রেণিবিভাগ: 
- জোয়ার-ভাঁটাকে নিম্নলিখিত চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১. মুখ্য জোয়ার, 
২. গৌণ জোয়ার, 
৩. ভরা কটাল এবং 
৪. মরা কটাল। 

মরা কটাল: 
- অষ্টমী ও একবিংশ তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমান্তরাল না থেকে উভয়ই পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে।
- তখন চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাঁটা হয়।
- সূর্যের আকর্ষণের কারণে চন্দ্রের দিকে পানি অধিক স্ফীত হতে পারে না, এই ধরনের জোয়ারকে মরা জোয়ার বা মরা কটাল বলে। 
- অর্থাৎ, এই মরা কটালের সময় চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী সমকোণে অবস্থান করে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৫৯.
কোন সালের বন্যা সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল? 
  1. ১৯৭৪ সালে 
  2. ১৯৮৪ সালে 
  3. ১৯৯৮ সালে 
  4. ২০০৪ সালে 
ব্যাখ্যা

বন্যা (Flood): 
- নদীমাতৃক ও বৃষ্টিবহুল বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বর্ষা মৌসুমে সংঘটিত বন্যা অন্যতম। 
- ব্যাপকতার ভিত্তিতে বাংলাদেশে সাধারণ ও ভয়াবহ-এই দুই ধরনের বন্যা হয়ে থাকে। 
- বন্যায় প্লাবিত এলাকার জন-জীবন ও সম্পদের বিপুল ক্ষতি সাধিত হয়। 

বন্যার প্রভাব: 
- বাংলাদেশের বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক। 
- অধিক বৃষ্টিপাতের দরুণ ২০১২ সালে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটে আকষ্মিক বন্যায় ১০০ মানুষ নিহত হয় ও প্রায় ২,৫০,০০০ লোক পানিবন্দী হয়ে পড়ে। 
- ২০০৭ সালের বন্যায় বাংলাদেশের ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটসহ দেশের সকল বিভাগে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে, বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদসহ মোট ৫০০ লোকের প্রাণহানি হয়। 
- বন্যার পানিতে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়ে বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি, মানুষসহ অন্যান্য প্রাণির প্রাণহানি, অর্থ-সম্পদ ধ্বংস এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে। 
- বাংলাদেশে বিগত শতাব্দীতে বড় ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়েছে। 
- ১৯৫৪ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮৪, ১৯৮৮, ২০০৪ সালের বন্যা ছিল ভয়াবহ। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৬০.
কোন যন্ত্র বা পদ্ধতিতে অক্ষাংশ নির্ণয় করা সম্ভব?
  1. ওহমমিটার
  2. সেক্সট্যান্ট
  3. ওডোমিটার
  4. মাল্টিমিটার
ব্যাখ্যা

• অক্ষাংশ নির্ণয়ের জন্য সেক্সট্যান্ট (খ) ব্যবহার করা হয়। সেক্সট্যান্ট একটি নৌযানের বা নক্ষত্র পর্যবেক্ষণের যন্ত্র, যা সূর্য, চাঁদ বা তারা থেকে কোনো বস্তুর কোণ পরিমাপ করতে সক্ষম। মূলত এটি জ্যোতির্বিদ্যা ও নৌপথ নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়। সমুদ্রপথে অবস্থান নির্ধারণের জন্য সেক্সট্যান্ট দিয়ে সূর্য বা তারা এবং দিগন্তের মধ্যে কোণ পরিমাপ করে ভৌগোলিক অক্ষাংশ নির্ধারণ করা যায়। অন্যদিকে, ওহমমিটার, ওডোমিটার ও মাল্টিমিটার  যথাক্রমে বিদ্যুৎ বা গাড়ির দূরত্ব মাপার জন্য ব্যবহৃত হয়; এগুলি অক্ষাংশ নির্ণয়ের কাজে আসে না। তাই অক্ষাংশ নির্ণয়ের জন্য সঠিক যন্ত্র হলো সেক্সট্যান্ট।

• অক্ষাংশ নির্ণয় (Determining latitude):
- একজন ভূগোলবিদের জন্য অক্ষাংশ নির্ণয় করতে জানা খুবই জরুরি।
- আমরা জানি পৃথিবী বৃত্তের কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণ ৩৬০০।
- অক্ষাংশ নির্ণয় করার জন্য গ্লোবটিকে আমরা যদিমাঝখান দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে কেটে নেই, তাহলে এর মধ্যে আমরা পৃথিবীর ঠিক মধ্যকিন্দু পাব। এখন যদি আমরা কোনো একটি স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করতে চাই, তাহলে সেই মধ্যবিন্দুর সঙ্গে নির্ণেয় স্থানটির নিরক্ষরেখার (০°) পরিপ্রেক্ষিতে যে কোণ উৎপন্ন হয় তা নির্ণয় করতে হবে। এই কোণই হলো সেই স্থানের অক্ষাংশ।

- অক্ষাংশ নির্ণয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে।
সেগুলো হলো –

• সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে:
যে যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি পরিমাপ করা যায় তাকে সেক্সট্যান্ট যন্ত্র বলে। সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি কোণ নির্ণয় করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
কোনো স্থানের অক্ষাংশ = ৯০০– (মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি বিযুবলম্ব)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,৯৬১.
’সার্ক জ্বালানি কেন্দ্র‘  কোথায় অবস্থিত? 
  1. কাঠমান্ডু, নেপাল
  2. ইসলামাবাদ, পাকিস্তান
  3. গান্ধীনগর, ভারত
  4. কলম্বো, শ্রীলঙ্কা
ব্যাখ্যা

- সার্ক জ্বালানি কেন্দ্র: ইসলামাবাদ, পাকিস্তান

​​SAARC:

- এর পূর্ণরূপ: South Asian Association for Regional Cooperation.
- এটি প্রতিষ্ঠত হয়: ৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৫ সালে ঢাকায়।
- SAARC ৮টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। যথা:
- বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তান।
- সার্ক এর মালদ্বীপ ও শ্রীলংকা দ্বীপ রাষ্ট্র।
- SAARC এর সচিবালয় কাঠমান্ডু, নেপালে অবস্থিত।
- সচিবালয়: ১৯৮৭ সালের ১৭ জানুয়ারী নেপালের কাঠমান্ডু-তে।
- এর সর্বশেষ সদস্য হলো আফগানিস্তান।

​• SAARC এর আঞ্চলিক কেন্দ্র:
- সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র: গুজরাট, গান্ধীনগর, ভারত।
- সার্ক কৃষি কেন্দ্র: ঢাকা, বাংলাদেশ।
- সার্ক যক্ষা ও এইডস কেন্দ্র: কাঠমান্ডু, নেপাল।
- সার্ক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র: কলম্বো, শ্রীলঙ্কা।
- সার্ক জ্বালানি কেন্দ্র: ইসলামাবাদ, পাকিস্তান।

উৎস: SAARC ওয়েবসাইট।

১,৯৬২.
পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তন করে-
  1. দক্ষিণ হতে উত্তর দিকে
  2. পূর্ব হতে পশ্চিম দিকে
  3. উত্তর হতে দক্ষিণ দিকে
  4. পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তন:
- পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তনের দিক পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে। 
- সৌরজগতের মাঝারী আকারের একটি গ্রহ। 
- পৃথিবী নিজ কক্ষপথটি ডিম্বাকৃতি ও মোট ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বা এক বছরে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে থাকে।
- পৃথিবী নিজ অক্ষে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড সময়ে আবর্তন করে।
- পৃথিবীর একটি মাত্র উপগ্রহ হলো চন্দ্র।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৬৩.
কোনটি গ্রীন হাউস গ্যাস নয়?
  1. অক্সিজেন
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. ওজোন
  4. মিথেন
ব্যাখ্যা

- অক্সিজেন গ্রীন হাউস গ্যাস নয়। 

গ্রীন হাউস গ্যাস: 
- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে- 
• জলীয় বাষ্প, 
• কার্বন ডাই অক্সাইড, 
• নাইট্রাস অক্সাইড, 
• মিথেন, 
• ওজোন, 
• ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, ব্রিটানিকা এবং Royal Society of Chemistry.

১,৯৬৪.
নিচের কোনটি কৃত্রিম গ্রিনহাউস গ্যাস?
  1. মিথেন
  2. নাইট্রাস অক্সাইড
  3. ক্লোরোফ্লোরোকার্বন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা

◉ সঠিক উত্তরটি হলো গ) ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFCs), এটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম গ্যাস, মানুষের তৈরি। ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার, অ্যারোসল স্প্রে ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।

​গ্রিনহাউস গ্যাস:
- যেসব গ্যাস পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থেকে তাপ শোষণ করে এবং তা পুনরায় বিকিরণ করে, ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় সেসব গ্যাস কে গ্রিনহাউস গ্যাস বলা হয়।

​কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) হলো অন্যতম প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস।
- জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। প্রতি বছর জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে ২১.৩ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়।
- এছাড়া এটি বন উজাড়ের কারণে ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত গ্যাসের কারণেও সৃষ্টি হয়।

​কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়া অন্য গ্রিনহাউস গ্যাস গুলো হলো -
- মিথেন (CH4),
- নাইট্রাস অক্সাইড (N2O),
- জলীয় বাষ্প (H2O vapor),
- ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFCs)।

উৎস:
১। মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২। ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

১,৯৬৫.
নিচের কোনটি বারিমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত নয়? 
  1. পর্বত
  2. নদী
  3. সাগর
  4. মহাসাগর
ব্যাখ্যা
বারিমণ্ডল: 
- আমরা জানি, পৃথিবীর আকৃতি বর্তুলাকার। 
- এই ভূ-ভাগের উপরিভাগকে দুইটি অংশে বিভক্ত করা যায়। 
যথা- স্থলভাগ এবং জলভাগ। 
- পৃথিবীর জলভাগই হলো বারিমণ্ডল। 
- বারিমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Hydrosphere। Hydro অর্থ পানি এবং Sphere অর্থ ক্ষেত্র। অর্থাৎ আভিধানিক অর্থে Hydrosphere এর অর্থ পানির ক্ষেত্র বা আধার। 
- সুতরাং বারিমণ্ডল বলতে ভূ-ত্বকের অবনমিত অংশে অবস্থিত যে বিশাল পানিরাশি রয়েছে তাকে বুঝায়। 
- পানি একটি যৌগিক পদার্থ। অক্সিজেন (O) এবং হাইড্রোজেন (H) এর সমন্বয়ে পানি (H2O) গঠিত। 
- মহাসাগর, সাগর, উপসাগর, হ্রদ, নদীসহ অন্যান্য জলাধার নিয়ে বারিমণ্ডল গঠিত। 
- নিম্নে বারিমণ্ডলের অর্ন্তভুক্ত আধারগুলোর সংজ্ঞা উল্লেখ করা হলো- 
• মহাসাগর (Ocean): 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর অবস্থিত বিশাল আকৃতির পানির আধারকে মহাসাগর বলে। যেমন- প্রশান্ত মহাসাগর। 

• সাগর (Sea): 
- স্বল্প আয়তনবিশিষ্ট উন্মুক্ত পানিরাশিকে সাগর বলে। এগুলো মহাসাগর অপেক্ষা ছোট। যেমন- আরব সাগর। 

• উপসাগর (Bay or Gulf): 
- তিনদিকে স্থল দ্বারা বেষ্টিত পানিরাশিকে উপসাগর বলে। যেমন- বঙ্গোপসাগর। 

• হ্রদ (Lake): 
- চারদিকে স্থল দ্বারা বেষ্টিত পানিরাশিকে হ্রদ বলে। যেমন- বৈকাল হ্রদ। 

• নদী (River): 
- উঁচু পর্বত বা মালভূমি থেকে হিমবাহ, প্রস্রবণ, বরফগলা পানি বা বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট কোনো জলধারা যখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে ভূমির ঢাল বরাবর অগ্রসর হয়ে সমভূমি ও নিম্নভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিশাল জলাশয়, হ্রদ বা সমুদ্রে গিয়ে পতিত হয় তখন তাকে নদী বলে। যেমন-পদ্মা নদী। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৬৬.
ফোটন কণার ধর্ম কী?
  1. তড়িৎ নিরপেক্ষ
  2. ঋণাত্মক চার্জযুক্ত
  3. ধনাত্মক চার্জযুক্ত 
  4. তড়িৎ চার্জযুক্ত
ব্যাখ্যা

- ফোটন হলো আলোর মৌলিক কণা এবং এটি তড়িৎ নিরপেক্ষ, অর্থাৎ এর কোনো বৈদ্যুতিক চার্জ নেই। এই কারণে এটি তড়িৎ ক্ষেত্র বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত বা বিচ্যুত হয় না। 

ফোটন কণা: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টাম আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 

ফোটন কণার ধর্মসমূহ: 
১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C = 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। ৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf (যেখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক)। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশি হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশি হয়, ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৬৭.
কোনটি নিউট্রন তারার বৈশিষ্ট্য?
  1. অতি উচ্চ ঘনত্ব
  2. নিম্ন তাপমাত্রা
  3. নিম্ন চৌম্বকক্ষেত্র
  4. গ্যাসীয় অবস্থা
ব্যাখ্যা
• নিউট্রন তারা:
- নিউট্রন তারা (Neutron Star) হলো একটি অত্যন্ত ঘন, মৃত তারা যা একটি সুপারনোভা বিস্ফোরণের পর সৃষ্টি হয়।

• নক্ষত্রটি যখন সুপারনোভা হিসেবে বিস্ফোরিত হয়, তখন এর কোর বা মূলবস্তুর চাপ এত বেশি হয় যে, প্রোটন ও ইলেকট্রন একত্রিত হয়ে নিউট্রন গঠন করে। একে তাই বলা হয় নিউট্রন স্টার বা নিউট্রন নক্ষত্র।
• একটি ঘূর্ণায়মান নক্ষত্র যখন চুপসে গিয়ে নিউট্রন নক্ষত্রে পরিণত হয়, তখন কৌণিক ভরবেগ সংরক্ষণ করার জন্যে নক্ষত্রের কৌণিক বেগ অনেক বৃদ্ধি পায়। 

• মূল বৈশিষ্ট্য:
⇒  ঘনত্ব:
- একটি নিউট্রন তারার ঘনত্ব অনেক বেশি হয়ে থাকে। 
⇒ আয়তন:
- সাধারণত আয়তন খুব কম, অথচ এর ভর প্রায় সূর্যের সমান।
⇒ চৌম্বক ক্ষেত্র:
- এদের শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র থাকে।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি; ড. শাহজাহান তপন।
১,৯৬৮.
বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা নির্ধারণে মূল ভূমিকা কার?
  1. বায়ুর আর্দ্রতা
  2. বায়ুর প্রকৃতি
  3. বায়ুর ঘনত্ব
  4. বায়ুর চাপ
ব্যাখ্যা
• বায়ুর আর্দ্রতা:
- বায়ুতে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা।
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প ধারণ করা না হলে পানিচক্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত না।
- বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করাকে বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা।
- বায়ুর আর্দ্রতার উপর বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা নির্ভর করে।
- বায়ুমন্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম।

- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ বেশি থাকে।
- বায়ুর আর্দ্রতা মূলত দুই প্রকার। যথা- পরম আর্দ্রতা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা।
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে বলা হয় পরম আর্দ্রতা।
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা হলো কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণ আর একই আয়তনের বায়ুতে একই উষ্ণতায় পরিপৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প প্রয়োজন এ দুটির অনুপাত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৬৯.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত?
  1. ট্রপোমন্ডল
  2. স্ট্র্যাটোমন্ডল
  3. আয়নোস্ফিয়ার
  4. এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা
• বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল।

• বায়ুমন্ডল:

- ভূ-পৃষ্ঠের চারপাশ যে বায়বীয় আবরণ দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে তাকেই সহজ ভাষায় বলা হয় বায়ুমন্ডল।
- বায়ুমন্ডলের গঠনকারী উপাদানসমূহের প্রকৃতি, উষ্ণতার পার্থক্য ও অন্যান্য গ্যাসীয় উপাদানের তারতম্যের জন্য বায়ুমন্ডলকে ৫টি স্তরে ভাগ করা যায়।
- ভূ-পৃষ্ঠ হতে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে এই পাঁচটি স্তর হলো- ট্রপোমন্ডল, স্ট্রাটোমন্ডল,মেসোমন্ডল, তাপমন্ডল ও এক্সোমন্ডল।
- ভূ-পৃষ্ঠ হতে ৮০ কিলোমিটারর মধ্যে সমমন্ডল অবস্থিত যা তিনটি স্তর অর্থাৎ ট্রপোমন্ডল, স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডল নিয়ে গঠিত।
- বিষমমন্ডল প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত যা ২টি স্তর নিয়ে গঠিত।
- এগুলো হলো- তাপমন্ডল ও এক্সোমন্ডল।
- বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল।
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৭০.
ধূমকেতু কী? 
  1. একটি চন্দ্র 
  2. একটি জ্যোতিষ্ক 
  3. একটি গ্রহ 
  4. একটি উপগ্রহ 
ব্যাখ্যা

ধূমকেতু (Comet): 
- ধূমকেতু এক ধরনের জ্যোতিষ্ক। 
- ধূমকেতুর দুইটি অংশ রয়েছে। 
যেমন: মস্তক (Head) বা কেন্দ্র ও পুচ্ছ (Tail)। 
- কোনো কোনো ধূমকেতুর মস্তক বা কেন্দ্র গ্রহ অপেক্ষা বড় হয়ে থাকে। 
- ধূমকেতুর রয়েছে গ্যাসীয় পদার্থের তৈরি সুদীর্ঘ পুচ্ছ। 
- অধিকাংশ ধূমকেতু উপবৃত্তাকার কক্ষপথে গ্রহসমূহের আবর্তন পথের উল্টোদিকে ছুটে চলে। 
- হ্যালির ধূমকেতু (Hally's Comet) প্রতি ৭৬ বছর অন্তর পৃথিবীর আকাশে দৃষ্টিগোচরীভূত হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৭১.
একটি সাধারণ ব্যাটারি সেলের বিভব পার্থক্য মাত্র -
  1. ২.৫V
  2. ১.০V
  3. ১.৫V
  4. ২.০V
ব্যাখ্যা
ব্যাটারি: 
- ব্যাটারি বলতে একাধিক কোষের (Cell) সমন্বয়কে বুঝানো হয়। একটি তড়িৎ ব্যাটারি বলে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাটারি হলো একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়। ব্যাটারি সেলে ব্যবহারের জন্য তড়িৎ শক্তি জমা থাকে। 
- ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। 
যেমন- অ্যানোড, ক্যাথোড এবং মাঝখানে থাকে ইলেকট্রোলাইট। 

- ব্যাটারি সেলের বিভব পার্থক্য সবসময় সমান থাকে বলে এগুলোকে ডিসি সাপ্লাই বলা হয়।
- আমাদের বাসায় যে বৈদ্যুতিক সাপ্লাই দেওয়া হয়, সেগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৫০বার ধনাত্মক থেকে ঋণাত্মক বিভবে পরিবর্তিত হয় বলে সেগুলোকে এসি (Alternating Current) বলা হয়। 
- একটি সাধারন ব্যাটারি সেলে বিভব পার্থক্য মাত্র ১.৫V । সেই তুলনায় আমাদের বাসার বিদ্যুৎ সাপ্লাই ২২০V । 
- বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০V থেকে বেশি হলে আমরা সেটি অনুভব করতে পারি। আবার ২২০V সাপ্লাই থেকে অনেক বড় ইলেকট্রিক শক খাওয়া সম্ভব এবং এই ইলেকট্রিক শকের কারণে শরীরের ভেতর দিয়ে যথেষ্ট বিদ্যুৎ প্রবাহ হয় বলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৯৭২.
কোন বিজ্ঞানীর মতে 'পরিবেশের প্রভাবের ফলেই বিবর্তন সংঘটিত হতে পারে'? 
  1. ডারউইন
  2. ল্যামার্ক
  3. ভাইসম্যান
  4. জেনোফেন
ব্যাখ্যা
ল্যামার্কিজম (Lamarckism): 
- ফরাসী প্রকৃতি বিজ্ঞানী Jcan Baptist Lamarck (১৭৪৪-১৮২৯), ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে ফিলোসফিক জুলজিক (Philosophic Zoologique) গ্রন্থে অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশগতি (theory of inheritance of acquired character) নামক বিবর্তন সম্পর্কীত মতবাদ প্রকাশ করেন। 
- ল্যামার্কের মতবাদের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, পরিবেশের প্রভাবের ফলেই বিবর্তন সংঘটিত হতে পারে। 
- পরিবেশের প্রভাবে জীবের দৈহিক গঠনের পরিবর্তন হয়। 
- তাঁর মতে বিবর্তন কতিপয় রীতি-নীতি মেনে চলে। এই রীতি-নীতিগুলোই বিবর্তনের ক্রম ও বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। 
- ল্যামার্ক তাঁর বিবর্তন তত্ত্বেও এ রীতি-নীতিগুলোই ব্যাখ্যা করেছেন। 
- আধুনিক বিজ্ঞানীদের মধ্যে Dodson, 1960 ল্যামার্কের একজন বিশিষ্ট সমর্থক। 
- Dodson ল্যামার্কবাদকে চারটি সূত্রে ব্যাখ্যা করেছেন যা ল্যামার্কীয় সুত্র বলেও পরিচিত। 
সূত্র ১. জীবদেহ এবং দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আকারে ক্রমবর্ধিত হওয়ার একটি লক্ষণ সর্বদাই পরিলক্ষিত হয়। 
সূত্র ২. জীবন ধারণের প্রয়োজনে কোন নতুন চাহিদা এবং এ চাহিদার ফলে জীবন অভ্যাসের যে পরিবর্তন হয় তার ফলেই নতুন প্রত্যঙ্গের উৎপত্তি হয়। 
সূত্র ৩. কোন একটি অঙ্গ প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত হলে তা উন্নত এবং সুগঠিত হয়, কিন্তু ব্যবহৃত না হলে ক্রমান্বয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে হতে অবশেষে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এ সুত্রটি ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র ৪. কোন একটি জীবের দেহে উন্নতি বা ক্ষয়প্রাপ্তির মাধ্যমে যে সকল পরিবর্তন সাধিত হয় তা অর্জিত বৈশিষ্ট্যরূপে অঙ্গীভূত হয় এবং পরবর্তী প্রজন্মে (Generation) সঞ্চারিত ও বিকশিত হয়। এ সূত্রটি অর্জিত বৈশিষ্ট্য সঞ্চারণের সূত্র (Law of inhertance of acquired character) নামে অভিহিত। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৭৩.
হিগস বোসন কণার অস্তিত্ব কত সালে ধরা পড়ে?
  1. ২০০০
  2. ২০১৩
  3. ২০১৫
  4. ২০২০
ব্যাখ্যা
• হিগস বোসন কণা:
- হিগস বোসন (Higgs boson) একটি মৌলিক কণা যা কণা পদার্থবিজ্ঞানের স্ট্যান্ডার্ড মডেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 

• ১৯৬৪ সালে পিটার হিগস এবং তাঁর পাঁচ সহযোগী মিলে সর্বপ্রথম এ কণা সম্পর্কিত তত্ত্ব প্রদান করেন।
- এটি কণা পদার্থবিদ্যার স্ট্যান্ডার্ড মডেলে (Standard Model) উল্লেখিত ১৭টি মৌলিক কণার একটি।
- সুইজারল্যান্ডের সার্ন (European Organization for Nuclear Research, CERN) এর লার্জ হ্যাডরন কোলাইডার (Large Hadron Collider) বা LHC যন্ত্রে ২০১৩ সালে এ কণার অস্তিত্ব ধরা পড়ে। 
- বছরই পিটার হিগস (Peter Higgs) ও ফ্রানকোসিস এঙ্গলার্ট (Francosis Englert) এ কাজের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- পদার্থবিজ্ঞানী লিওন লেডারম্যান (Leon Lederman) ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে ঈশ্বর কণা বা God particle নামে অভিহিত করেন।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
১,৯৭৪.
এক আলোকবর্ষ = কত কিলোমিটার?
  1. 3.0857 × 1013 km
  2. 9.468 × 1012 km
  3. 1495 × 108 km
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- আলো একবছর সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোকবর্ষ বলে।
- এটি দূরত্বের একক।
- এক আলোকবর্ষ = 9.4607 × 1015 m = 9.468 × 1012 km.
- সূর্য ও পৃথিবীর 
- এক অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট = 1495 × 108 km.
- এক পারসেক = 3.0857 × 1013 km.
- এক পারসেক বলতে বোঝায় ১ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল দৈর্ঘ্যের চাপ যে দূরত্বে এক সেকেন্ড কোণ উৎপন্ন করে।

উৎস:
১. পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. Live MCQ লেকচার শীট।
১,৯৭৫.
কয়লা রূপান্তরিত হয়ে নিচের কোন শিলায় পরিণত হয়? 
  1. নিস
  2. মার্বেল
  3. স্লেট
  4. গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা
শিলা: 
- ভূত্বক যেসব উপাদান দ্বারা গঠিত তাদের সাধারণ নাম শিলা। 
- ভূতত্ত্ববিদগণের মতে দুই বা ততোধিক খনিজ দ্রব্যের সংমিশ্রণে এসব শিলার সৃষ্টি হয়। 
- ভূত্বক গঠনকারী সকল কঠিন ও কোমল পদার্থই শিলা। 
উদাহরণস্বরূপ নুড়ি, কাঁকর, গ্রানাইট, কাদা, বালি প্রভৃতি। 
- গঠনপ্রণালি অনুসারে শিলাকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- (১) আগ্নেয় শিলা, (২) পাললিক শিলা ও (৩) রূপান্তরিত শিলা। 

রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks): 
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচন্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে। 
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে। 
যেমন- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট, গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস এবং কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়। 
- রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই শিলা স্ফটিকযুক্ত, খুব কঠিন হয়; এতে জীবাশ্ম দেখা যায় না; কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৭৬.
কোনটির মাধ্যমে বায়ুর আর্দ্রতা পরিমাপ করা যায়? 
  1. পাইরোমিটার 
  2. ম্যানোমিটার 
  3. ব্যারোমিটার
  4. হাইগ্রোমিটার 
ব্যাখ্যা

বায়ুর আর্দ্রতা (Humidity): 
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প ধারণ করা না হলে পানিচক্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত না। 
- বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করাকে তাই বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা। 
অর্থাৎ, বায়ুর আর্দ্রতার উপর বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা নির্ভর করে। 
- বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম। 
- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ বেশি থাকে। 
- বায়ুর এই আর্দ্রতা হাইগ্রোমিটার দ্বারা পরিমাপ করা যায়। 
- বায়ুর আর্দ্রতা মূলত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। পরম আর্দ্রতা: 
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে বলা হয় পরম আর্দ্রতা। 

২। আপেক্ষিক আর্দ্রতা: 
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণ আর একই আয়তনের বায়ুতে একই উষ্ণতায় পরিপৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প প্রয়োজন এ দুটির অনুপাতকে বলা হয় আপেক্ষিক আর্দ্রতা। 

অন্যদিকে, 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ম্যানোমিটার। 
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার। 
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

১,৯৭৭.
জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গতত্ত্ব কোন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়?
  1. রন্টজেন এক্স-রের মাধ্যমে 
  2. হেনরিখ হার্জের পরীক্ষার মাধ্যমে 
  3. জে. জে. থমসনের ইলেকট্রন আবিষ্কারের মাধ্যমে 
  4. মার্কনীর বেতার পরীক্ষার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

- জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গতত্ত্ব হেনরিখ হার্জের পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। ১৮৮০-এর দশকের শেষের দিকে হার্জ পরীক্ষামূলকভাবে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ উৎপাদন ও শনাক্তকরণ করেন, যা আলোর গতি ও প্রকৃতির সাথে ম্যাক্সওয়েলের ভবিষ্যদ্বাণীকে সঠিক বলে প্রমাণ করে। 

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে।
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়।
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান, পরবর্তীতে বেতার যন্ত্র আবিষ্কার হয়। 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানের উদ্ভব ঘটে। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্স-রে এবং বেকেরেল আবিষ্কার করেন যে, কিছু কিছু পদার্থ থেকে স্বত:স্ফূর্ত ভাবে রশ্মি নির্গমনের মাধ্যমে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। 
- মেরী কুরী (১৮৬৭-১৯৩৪) এবং পিয়েরে কুরী (১৮৫৯-১৯০৬) এ ঘটনার নাম দেন তেজস্ক্রিয়তা। 
- ১৮৯৭ সালে জে.জে. থমসন ইলেক্ট্রন আবিষ্কার করেন যা থেকে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৭৮.
শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে -
  1. নক্ষত্রমণ্ডলী
  2. শুক্র গ্রহ
  3. বুধ গ্রহ
  4. নীহারিকা
ব্যাখ্যা
শুক্র (Venus):
- শুক্র গ্রহকে ভোরের আকাশে শুকতারা এবং সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যাতারা হিসেবে দেখা যায়।
- শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে কোনো তারা নয়, শুক্র গ্রহ।
- কিন্তু নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে বলেই আমরা একে ভুল করে তারা বলি।
- শুক্র গ্রহটি ঘন মেঘে ঢাকা। তাই এর উপরিভাগ থেকে সূর্যকে কখনই দেখা যায় না।
- শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন ডাইঅক্সাইডের তৈরি।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ।
- সূর্য থেকে শুক্র গ্রহের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর দিন ও রাতের মধ্যে আলোর বিশেষ কোনো তারতম্য হয় না।
- এখানে বৃষ্টি হয় তবে এসিড বৃষ্টি।
- শুক্রের ব্যাস ১২,১০৪ কিলোমিটার।
- সূর্যকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সুতরাং শুক্রে ২২৫ দিনে এক বছর।
- শুক্রের কোনো উপগ্রহ নেই।
- সকল গ্রহ এদের নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বে পাক খেলেও শুক্র গ্রহ পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাক খায়। (বোর্ড বই)

উল্লেখ্য নাসার তথ্য মতে,
- শুক্রের মতো, ইউরেনাসও পূর্ব থেকে পশ্চিমে ঘূর্ণন করে।
- তবে ইউরেনাসের বিশেষত্ব হলো এটি পার্শ্বাভিমুখে ঘূর্ণন করে, যা একে অনন্য করে তুলেছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৯৭৯.
কোন বল দ্বারা মহাবিশ্বের প্রত্যেক বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে?
  1. তাড়িতচৌম্বক বল
  2. সবল নিউক্লিয় বল
  3. মহাকর্ষ বল
  4. দুর্বল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বরং অন্যান্য বল এ সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
মৌলিক বলগুলো হলো - 
১. মহাকর্ষ বল (Gravitational Force), 
২. তাড়িতচৌম্বক বল (Electromagnetic Force), 
৩. সবল নিউক্লিয় বল (Strong Nuclear Force) এবং 
৪. দুর্বল নিউক্লিয় বল (Weak Nuclear Force) । 

মহাকর্ষ বল: 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেক বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। 
- বস্তুর ভরের কারণে এ আকর্ষণ ঘটে। 
- এ বলের কারণে গ্রহসমূহ নক্ষত্রের চারদিকে ঘুরে, পৃথিবীর যাবতীয় প্রাণী ও বস্তু ভূ-পৃষ্ঠের সংলগ্ন থাকে, বস্তুর ওজন অনুভূত হয় ইত্যাদি। 
- দুটি বস্তুর মধ্যে গ্রাভিটন নামক এক প্রকার কণার পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে এ বল কার্যকর হয়। 
- অবশ্য গ্রাভিটনের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। 
- মহাকর্ষ বলের পাল্লা অসীম। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৮০.
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন (IAU) -এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিচের কোনটি গ্রহের মর্যাদা হারায়?
  1. শনি
  2. ইউরেনাস
  3. নেপচুন
  4. প্লুটো
ব্যাখ্যা

প্লুটো:
- প্লুটো একসময় নবম গ্রহ হিসেবে স্বীকৃত ছিল।
- ২০০৬ সালে IAU এর সংজ্ঞা অনুযায়ী প্লুটো গ্রহের মর্যাদা হারায়।
- এখন এটি একটি বামন গ্রহ (dwarf planet) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ।

উল্লেখ্য,
- একটি বস্তুকে গ্রহ হিসেবে চিহ্নিত করতে বিজ্ঞানীরা সাধারণত কিছু শর্ত আরোপ করেন।
১. এটি যথেষ্ট বড় হতে হবে (সাধারণত ১,০০০ কিমি বা তার বেশি)। 
২. নিজের মাধ্যাকর্ষণের কারণে এটি গোলাকার (আনুমানিক ৭০০ কিমি ব্যাস) আকৃতি ধারণ করতে সক্ষম হতে হবে।
৩. এর ভর এমন হতে হবে যাতে কেন্দ্রস্থলে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু না হয়।

• আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন (IAU) অনুসারে, আমাদের সৌরজগতের ৮টি গ্রহ। যথা-
- বুধ,
- শুক্র,
- পৃথিবী,
- মঙ্গল,
- বৃহস্পতি,
- শনি,
- ইউরেনাস, এবং
- নেপচুন।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১,৯৮১.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন কে? 
  1. জর্জ গ্যামো
  2. এডুইন হাবল
  3. স্টিফেন হকিং 
  4. জি. ল্যামেটার 
ব্যাখ্যা

বিগ ব্যাং তত্ত্ব: 
- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল; হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটা বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। 
- জি. ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই ‘A Brief History of Time’. 
-  বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১,৯৮২.
জীবাশ্মগত বিদ্যাকে বলা হয় -
  1. Helminthology
  2. Paleontology
  3. Parasitology
  4. Ophthalmology
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম: 
- জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil) ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি। 
- Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুঁড়ে তোলা। 
- পূর্বে মাটি খুঁড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো। 
- বর্তমানে পৃথিবীর ভূ-ত্বকে প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil ) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পুরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়। 
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (Paleontology) বলা হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৮৩.
'কসমিক রে' কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) ১৯০৮
  2. খ) ১৯১২
  3. গ) ১৯২৩
  4. ঘ) ১৯৩৬
ব্যাখ্যা
Cosmic rays were discovered in 1912 by Victor Hess, when he found that an electroscope discharged more rapidly as he ascended in a balloon. He attributed this to a source of radiation entering the atmosphere from above, and in 1936 was awarded the Nobel prize for his discovery.
Source: srl.caltech.edu
১,৯৮৪.
বিজ্ঞানীরা কোন কণাটিকে “গডস পার্টিকল” নামে অভিহিত করেন?
  1. হিগস বোসন কণা
  2. গেজ বোসন কণা
  3. গ্রাভিটন কণা
  4. লেপটন কণা
ব্যাখ্যা

• বিজ্ঞানীরা “গডস পার্টিকল” বা ঈশ্বর কণা হিসেবে হিগস বোসন কণাকে অভিহিত করেন। এটি একটি মৌলিক কণা, যা হিগস ক্ষেত্রের সাথে যুক্ত এবং অন্যান্য কণাগুলোর ভর উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। হিগস বোসন না থাকলে, মৌলিক কণাগুলি ভরহীন থাকত এবং মহাবিশ্বে পারমাণবিক কাঠামো তৈরি হতো না। ২০১২ সালে সিএমএস ও এটিএলএস এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারে (LHC) এই কণার অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়। এর মাধ্যমে স্ট্যান্ডার্ড মডেল তত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরীক্ষা ও সমর্থিত হলো। তাই হিগস বোসনকে “গডস পার্টিকল” বলা হয়।

- সঠিক উত্তর: ক) হিগস বোসন কণা।

হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে। 
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা। 
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়। 
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়। 
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে। 
- এই হিগস বোসনই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৮৫.
নিচের কোনটি প্লাজমা তৈরির প্রক্রিয়া বা উপায় নয়?
  1. ক) প্রচণ্ড তাপ প্রদান
  2. খ) বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে
  3. গ) শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়ােগ করে
  4. ঘ) নিওন লাইটের উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন
ব্যাখ্যা

প্লাজমা তৈরির উপায়:

  1. প্রচণ্ড তাপ দিয়ে গ্যাসকে প্লাজমা করা যায়।
  2. শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়ােগ করেও প্লাজমা করা যায়।
  3. টিউবলাইটের ভেতর প্লাজমা তৈরি হয়।
  4. নিওন লাইটের যে উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন দেখা যায় সেগুলাের ভেতরে প্লাজমা তৈরি হয়
  5. বজ্রপাত হলে যে বিজলির আলাে দেখা যায় সেটিও প্লাজমা আবার দূর নক্ষত্রের মাঝে যে পদার্থ সেটিও প্লাজমা অবস্থায় আছে।

(উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)

১,৯৮৬.
কোন ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ঝুঁকিতে অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা
  2. খ) ভূমিকম্প
  3. গ) সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
  4. ঘ) মরুকরণ
ব্যাখ্যা
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করে।
এগুলো হলো:
- মরুকরণ
- বন্যা
- ঝড়
- সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং
- কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা।

- এর মধ্যে বন্যা ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১ নম্বরে।
- ঝড়ের ঝুঁকিতে ২ নম্বর এবং সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ১০ নম্বর।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৯৮৭.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন‌ কে? 
  1. স্টিফেন হকিং
  2. জি. লেমেটার
  3. জন হুইলার
  4. আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
স্টিফেন হকিং: 
- স্টিফেন হকিং একজন পদার্থবিদ ও গণিতজ্ঞ। 
- স্টিফেন হকিং মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন‌। 
- তাঁর রচিত বইসমূহ- 
• A Brief History of Time, 
• The Universe in a Nutshell এবং 
• The Grand Design ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিজ্ঞানী জি. লেমেটার। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৮৮.
কেন্দ্রমণ্ডলে কোন দুটি উপাদানের আধিক্য বিদ্যমান?
  1. সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম
  2. ম্যাগনেসিয়াম ও সিলিকন
  3. লোহা ও নিকেল
  4. সিলিকন ও লোহা
ব্যাখ্যা
- কেন্দ্রমণ্ডল ভূ-অভ্যন্তরের সবচেয়ে ভেতরের স্তর। এই স্তরের পুরত্ব প্রায় ৩,৪৮৬ কিলোমিটার।
- কেন্দ্রমণ্ডলের উপাদান সমূহের মধ্যে লোহা ও নিকেল প্রধান।
- অন্যান্য উপাদানের মধ্যে পারদ ও সীসা উল্লেখযোগ্য।
(সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৯৮৯.
কোনটি কেপলারের সূত্র নয়?
  1. ক্ষেত্রফল সূত্র
  2. উপবৃত্ত সূত্র
  3. অক্ষের সূত্র
  4. আবর্তনকালের সূত্র
ব্যাখ্যা
কেপলারের সূত্র:
- ডেনমার্কের জ্যোতির্বিদ জোহান কেপলারের (Johann Kepler) গ্রহ সম্পর্কিত সূত্র সূর্যের চারদিকে গ্রহগুলোর গতি ব্যাখ্যা করে।
- ১৬১৮ সালে কেপলার বলেন, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- এই সম্পর্কে তিনি তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- তার নাম অনুসারে এই তিনটি সূত্রকে কেপলার এর গ্রহ সম্পর্কীয় গতিসূত্র বলা হয়।
- সূত্র তিনটি:

প্রথম সূত্র (উপবৃত্ত সূত্র):
- সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
দ্বিতীয় সূত্র (ক্ষেত্রফল সূত্র):
- প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্র সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
তৃতীয় সূত্র (আবর্তনকালের সূত্র):
- সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৯০.
হীরক উজ্জ্বল দেখার কারণ -
  1. ক) পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য
  2. খ) প্রতিসরণের জন্য
  3. গ) প্রতিফলনের জন্য
  4. ঘ) অপবর্তনের জন্য
ব্যাখ্যা
A diamond sparkles(জ্বলজ্বল করে) as when the rays of light enter the diamond they suffer total internal reflection (পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন) at its various faces.
১,৯৯১.
স্কাইল্যাব কি?
  1. ক) একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান
  2. খ) একটি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র
  3. গ) একটি মহাকাশ স্টেশন
  4. ঘ) একটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র
ব্যাখ্যা
স্কাইল্যাব (Skylab) হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উৎক্ষেপিত প্রথম মহাকাশ স্টেশন যা ১৪ মে ১৯৭৩ সালে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানো হয়।
সূত্র: ব্রিটানিকা
১,৯৯২.
পানিতে শব্দের বেগ কত?
  1. ক) ১২৩৯ মি/সে
  2. খ) ১৩৩৯ মি/সে
  3. গ) ১৪৩৯ মি/সে
  4. ঘ) ১৫৩৯ মি/সে
ব্যাখ্যা

নবম দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বই অনুসারে,
১৯৩ পৃষ্ঠাতে,
পানিতে শব্দের বেগ - ১,৪৯৩ মি/সে

২০৩ পৃষ্ঠাতে,
প্রমাণ তাপমাত্রা ও বায়ুচাপে বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগ -
বায়ু মাধ্যম -- ৩৩০ মি/সে
পানি মাধ্যম -- ১,৪৯৩ মি/সে
কঠিন মাধ্যম /লোহায় -- ৫,১৩০ মি/সে

নবম - দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত) বই অনুসারে,
প্রমাণ তাপমাত্রা ও বায়ুচাপে বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগ -
বায়ু মাধ্যম -- ৩৩২ মি/সে
পানি মাধ্যম -- ১,৪৫০ মি/সে
কঠিন মাধ্যম /লোহায় -- ৫,২২০ মি/সে

অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই অনুসারে,
প্রমাণ তাপমাত্রা ও বায়ুচাপে বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগ -
বায়ু মাধ্যম -- ৩৪৩ মি/সে
পানি মাধ্যম -- ১,৪৯৬ মি/সে
অ্যালুমিনিয়ামে -- ৬,৪২০ মি/সে

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান প্রথম পত্র বই অনুসারে,
প্রমাণ তাপমাত্রা ও বায়ুচাপে বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগ -
বায়ু মাধ্যম -- ৩৩২ মি/সে
পানি মাধ্যম -- ১,৪৫০ মি/সে
কঠিন মাধ্যম /লোহায় -- ৫,১২১ মি/সে

আমরা সকল পাঠ্য বইয়ের তথ্য আপনাদের দিলাম, আপনারা বিবেচনা করে উত্তর করবেন।

১,৯৯৩.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম?
  1. ক) Pinus
  2. খ) Genetum
  3. গ) Cycas
  4. ঘ) Wolffia
ব্যাখ্যা
• Cycas একটি জীবন্ত জীবাশ্ম।

• জীবন্ত জীবাশ্ম :
বর্তমান কালের কোন জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোন জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

Cycas কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ: এটি Cycadales বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে Cycadales বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপি বিস্তৃত ছিল।
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত। এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে।
- এ বর্গের Cycas সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে।
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদি কালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাড্স এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির।
- এজন্যই Cycas সহ বর্তমানকালের সকল সাইকাড্সকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
- Cycadales বর্গের সদস্যদেরকে সাইকাড্স বলে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৯৪.
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাটি কোন মহাসাগর বরাবর কল্পনা করা হয়?
  1. আটলান্টিক মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. আরব মহাসাগর
  4. প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমারেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অঙ্কিত আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাটি স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।
- প্রতি ১° দ্রাঘিমান্তরে মোট সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট।
- বাংলাদেশের প্রমাণ সময় হিসেবে গণনা করা হয় ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৯৫.
সামুদ্রিক জীব বায়ুমণ্ডল থেকে কোন গ্যাস শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. কার্বন ডাই–অক্সাইড
  4. ওজোন
ব্যাখ্যা

সামুদ্রিক জীবন: 
- সায়েন্স অ্যাডভান্সেসে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হচ্ছে, মানবজাতি এখন পর্যন্ত গভীর সমুদ্রতলের মাত্র ০.০০১ শতাংশ কম এলাকা সম্পর্কে জানে। এই এলাকার আকার রোড আইল্যান্ডের প্রায় সমান বা বেলজিয়ামের প্রায় এক-দশমাংশ। এই সীমিত অনুসন্ধান আমাদের গ্রহের বৃহত্তম বাস্তুতন্ত্রকে সঠিকভাবে বোঝা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। 
- ২০০ মিটারের বেশি গভীরতা থেকে গভীর মহাসাগর শুরু হয়, যা পৃথিবীপৃষ্ঠের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশজুড়ে বিস্তৃত। বিশালতা সত্ত্বেও সমুদ্র সবচেয়ে কম অন্বেষণ করা অংশ। 
- গভীর মহাসাগর বিভিন্ন ধরনের জীবের আবাসস্থল, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, অক্সিজেন উৎপাদন আর খাদ্য ও ওষুধের মতো মূল্যবান সম্পদ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমুদ্রপৃষ্ঠে বসবাসকারী ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন পৃথিবীর প্রায় ৮০ ভাগ অক্সিজেন উৎপন্ন করে। এসব জীব গভীর সমুদ্রস্রোত থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে। 
- সামুদ্রিক জীব উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বায়ুমণ্ডলীয় কার্বন ডাই–অক্সাইড শোষণে সহায়তা করছে। জলবায়ু স্থিতিশীলতায় সমুদ্রের অবদান অনেক। 

- প্রতিবছর ২০ কোটি টন সামুদ্রিক খাবার সরবরাহ করা হয় সমুদ্র থেকে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬ কোটি মানুষকে কর্মসংস্থান দিচ্ছে সমুদ্র। এছাড়া স্পঞ্জ ও ব্যাকটেরিয়ার মতো সামুদ্রিক জীব এইচআইভি, স্তন ক্যানসার ও কোভিড-১৯ সহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ভূমিকা রাখছে। পাঁচ দশক ধরে বিজ্ঞানীরা সম্ভাব্য চিকিৎসার জন্য হাজার হাজার নতুন সামুদ্রিক যৌগ খুঁজে যাচ্ছেন। 
- গবেষকেরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, সমুদ্রে মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপ ও উষ্ণায়নের কারণে ভবিষ্যতে ক্ষতিকর প্রভাব প্রায় দ্বিগুণ হবে। মহাসাগর ইতিমধ্যে মানুষের কার্যকলাপ থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ অতিরিক্ত তাপ ও ৩০ শতাংশ কার্বন ডাই–অক্সাইড শোষণ করেছে। এর ফলে উষ্ণ তাপমাত্রা, অক্সিজেনের মাত্রা হ্রাস ও সমুদ্রের অম্লতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের পরিবর্তন গভীর সমুদ্রের আবাসস্থলকে অযোগ্য করে তুলছে। বিভিন্ন গভীরতায় সামুদ্রিক জীবনকে ব্যাহত করছে। বিশ্বব্যাপী জীববৈচিত্র্য ও উৎপাদনশীলতাকে প্রভাবিত করছে। 

উৎস: সায়েন্স অ্যালার্ট এবং দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (৬ জুন, ২০২৫) [লিঙ্ক]।

১,৯৯৬.
পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে চাঁদ-এর সময় লাগে-
  1. ক) ২৭ দিন ৮ ঘণ্টা
  2. খ) ২৭ দিন ১৭ ঘণ্টা
  3. গ) ২৮ দিন ২ ঘণ্টা
  4. ঘ) ২৮ দিন ৫ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ।
চাঁদ ২৭ দিন ৮ ঘন্টায় পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে।
এটি পৃথিবীর আয়তনের ৫০ ভাগের একভাগ।
সূত্রঃ বিজ্ঞান ৬ষ্ঠ শ্রেণি।

১,৯৯৭.
কোন গ্রহের তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে অধিক?
  1. শুক্র
  2. পৃথিবী
  3. মঙ্গল
  4. বুধ
ব্যাখ্যা
সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহের তাপমাত্রা: 
- প্রতিটি গ্রহের গড় তাপমাত্রা একটি গ্রহ সূর্য থেকে যত দূরে থাকে গ্রহের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ততই শীতল হতে থাকে। 
- শুক্র ব্যতিক্রম, কারণ সূর্যের সান্নিধ্য এবং এর ঘন বায়ুমণ্ডল এটিকে আমাদের সৌরজগতের উষ্ণতম গ্রহ করে তোলে। 
- পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ শুক্র। 
- শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন ডাই অক্সাইডের তৈরি। 
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ। 
- পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ। 
- আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলির গড় তাপমাত্রা হলো- 
• বুধ: ১৬৭° সেলসিয়াস, 
শুক্র: ৪৬৪° সেলসিয়াস, 
• পৃথিবী: ১৫° সেলসিয়াস, 
• মঙ্গল: -৬৫° সেলসিয়াস, 
• বৃহস্পতি: -১১০° সেলসিয়াস, 
• শনি: -১৪০° সেলসিয়াস, 
• ইউরেনাস: -১৯৫° সেলসিয়াস এবং 
• নেপচুন: -২০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং NASA ওয়েবসাইট।
১,৯৯৮.
মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত হচ্ছে- এ মতবাদটি কার?
  1. ক) আইনস্টাইন
  2. খ) এডউইন হাবল
  3. গ) স্টিফেন হকিং
  4. ঘ) কোপার্নিকাস
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত হচ্ছে- এ মতবাদটি এডউইন হাবল সর্বপ্রথম প্রদান করেন। 

- সর্বপ্রথম ১৯২০ সালে আমেরিকান জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল পর্যবেক্ষণ করেন যে, পৃথিবী থেকে দূরবর্তী নক্ষত্র এবং ছায়াপথগুলি ক্রমশই সরে যাচ্ছে। 
- আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার তত্ত্ব মতবাদ প্রদান করেন। 
- স্টিফেন হকিং আধুনিক বিগ ব্যাঙ মতবাদের প্রবক্তা। 
- কোপার্নিকাস সর্বপ্রথম প্রমাণ করেন যে, সূর্য নয়, পৃথিবীই সূর্যের চারদিকে ঘোরে, যে পথে পৃথিবী ঘোরে সেটা পৃথিবীর কক্ষপথ আর এই কক্ষপথ বৃত্তাকার।
- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রান্ত তত্ত্ব প্রদান করেন, যা হাবলের সাথে মিলে যায়।

সূত্র- ৪১৪ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৯৯.
আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার নীতি অনুসারে কোনটি ব্যাখ্যা করা যায় না?
  1. মহাকর্ষ
  2. নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি
  3. সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা
  4. চৌম্বক ধর্ম
ব্যাখ্যা
• আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার নীতি অনুসারে চৌম্বক ধর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না। 

• আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- আইনস্টাইনের মতে স্থান, কাল ও ভর পরম নয়,সবই আপেক্ষিক। আইনস্টাইনের এই তত্ত্বই আপেক্ষিক তত্ত্ব (Theory of relativity) নামে পরিচিত।

• আপেক্ষিক তত্ত্ব (Theory of Relativity) মূলত দুভাগে বিভক্ত, যথা-
- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব (The general theory of relativity) এবং
- আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব (The special theory of relativity)।

• আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব (১৯০৫) ও সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব (১৯১৫) নিম্নলিখিত বিষয়গুলি ব্যাখ্যা করে:
- মহাকর্ষ।
- নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি।
- সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব ধারণা।

অন্যদিকে,
- চৌম্বকত্ব বা পদার্থের চৌম্বক ধর্ম ব্যাখ্যার জন্য কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রোডাইনামিক্স (QED) বা ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণ ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০০০.
সমুদ্রের এক স্থানে প্রতিদিন কয়টি জোয়ার সংঘটিত হয়?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ১টি
  4. ঘ) ২টি
ব্যাখ্যা
জোয়ার-ভাটা
সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়। উপকূলে কোন একটি স্থানে একটি জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট পর ভাটা হয়। অর্থাৎ একটি জোয়ার অথবা একটি ভাটার স্থিতিকাল হচ্ছে ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট।

যখন ‘জোয়ার-ভাটা’ একইসাথে এভাবে স্থিতিকাল জানতে চাইবে তখন একটি জোয়ার অথবা ভাটার স্থিতিকাল গণনা করবেন। প্রশ্নে ভাষাগত একটু জটিলতা আছে। এখানে মূলত একটি জোয়ার অথবা একটি ভাটার স্থিতিকাল জানতে চাওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে উত্তর হবে ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট।

আবার উপকূলে কোন একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ার বা দুটি ভাঁটার মধ্যে ব্যবধান বললে উত্তর হবে ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট।

কয়েকটি স্যাম্পল প্রশ্ন দেখুন:

- জোয়ার ভাটার মধ্যকার ব্যবধান প্রায় কত?
উত্তর: ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট।

- জোয়ারের কত সময় পর ভাঁটা হয়?
উত্তর: ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট।

- জোয়ার-ভাটার স্থিতিকাল কত?
উত্তর: ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট।

- পর পর দুটি জোয়ারের মধ্যে ব্যবধান কত?
উত্তর: ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট।

[বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়) বইয়ে ৬ ঘণ্টা ৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড দেওয়া আছে যা ভুল। প্রকৃতপক্ষে এটা হবে ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট।]