বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

মোট প্রশ্ন২,৪০৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

PrepBank · পাতা ১৭ / ২৪ · ১,৬০১১,৭০০ / ২,৪০৪

১,৬০১.
নিচের কোনটি তাপমাত্রার একক?
  1. ক) সেলসিয়াস
  2. খ) কেলভিন
  3. গ) ডিগ্রী 
  4. ঘ) ফারেনহাইট
ব্যাখ্যা
SI এককে তাপমাত্রার একক হল কেলভিন। ইহার সংকেত হল K.
তাপমাত্রা হচ্ছে কোনো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তুটিকে অন্য বস্তুর সংস্পর্শে আনলে বস্তুটি তাপ গ্রহণ করবে না বর্জন করবে তা নির্ধারণ করে।
তাপমাত্রাকে তরলের মুক্ত তলের সাথে তুলনা করা যেতে পারে।
তরল যেমন তার পরিমাণের উপর নির্ভরশীল না হয়ে উঁচু স্থান থেকে নিচু স্থানে প্রবাহিত হয়, তাপও তার পরিমাণের উপর নির্ভরশীল না হয়ে উঁচু তাপমাত্রা থেকে নিচু তাপমাত্রার দিকে প্রবাহিত হয়।

সূত্র: একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
১,৬০২.
ফোটনের সর্বোচ্চ শক্তি বিদ্যমান নিম্নের কোন বর্ণালীতে?
  1. ক) ইনফ্রারেড
  2. খ) বেগুনি
  3. গ) লাল
  4. ঘ) নীল
ব্যাখ্যা

সমীকরণ অনুযায়ী: E = hc/λ
শক্তি হলো তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ব্যাস্তানুপাতিক। যেহেতু বেগুনি বর্ণালীতে ফোটনের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সর্বনিম্ন, সেহেতু তার ফোটনের শক্তি হবে সর্বোচ্চ।

১,৬০৩.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত সমস্ত প্রক্রিয়া ঘটে? 
  1. তাপমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল 
  3. ট্রপোমণ্ডল 
  4. স্ট্রাটোমণ্ডল 
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল: 
- বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়। 
যথা- ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল। 

ট্রপোমণ্ডল: 
- ভূ-পৃষ্ঠের নিকটতম বায়ুস্তরকে ট্রপোমণ্ডল বলে। 
- আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত যাবতীয় প্রক্রিয়ার বেশির ভাগ বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে ঘটে। 
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড় ও কুয়াশা সবকিছুই সৃষ্টি হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬০৪.
টেলিভিশনে ব্যবহৃত মৌলিক রং নয় কোনটি?
  1. লাল
  2. হলুদ
  3. নীল
  4. সবুজ
ব্যাখ্যা
টেলিভিশন: 
- টেলিভিশন এমন একটি যন্ত্র, যেখানে দূরবর্তী কোনো টেলিভিশন সম্প্রচার স্টেশন থেকে শব্দের সাথে সাথে ভিডিও বা চলমান ছবিও দেখা যায়। 
- ১৯২৬ সালে জন লজি বেয়ার্ড প্রথম টেলিভিশনের মাধ্যমে ভিডিও বা চলমান ছবি পাঠিয়েছিলেন। 
- টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি আলাদা সিগন্যাল হিসেবে পাঠানো হয়। 
- চলমান ছবি বা ভিডিও পাঠাতে হলে প্রতি সেকেন্ডে ২৫টি স্থিরচিত্র পাঠাতে হয় এবং আমাদের চোখে তখন সেগুলোকে আলাদা আলাদা স্থিরচিত্র মনে না হয়ে একটি চলমান ছবি বলে মনে হয়। 
- টেলভিশনে রঙিন ছবি পাঠানোর জন্য টেলিভিশন ক্যামেরা প্রতিটি ছবিকে লাল, সবুজ ও নীল (RGB) এই তিনটি মৌলিক রং এ ভাগ করে তিনটি আলাদা ছবি তুলে দেয়। 
- টেলিভিশন ক্যামেরার ভেতরে আলো CCD ( Charge Coupled Device) ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তরিত করা হয়। এই বৈদ্যুতিক সিগন্যালকে উচ্চ কম্পাঙ্কের বাহক তরঙ্গ ব্যবহার করে এন্টেনার ভেতর দিয়ে পাঠানো হয়। 
- বর্তমানে ইলেকট্রন গান দিয়ে স্ক্রিনে ছবি তৈরি না করে লাল, সবুজ ও নীল রংয়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলইডি ( Light Emitting Diode) -তে বিদ্যুৎ প্রবাহ করে ছবি তৈরি করা হয়। এলইডি টেলিভিশনের ছবির ঔজ্জ্বল্য অনেক বেশি এবং গুণগত মানও অনেক ভালো। 
- এন্টেনার সাহায্যে টেলিভিশনের সিগন্যাল পাঠানো ছাড়াও কো-এক্সিয়াল ক্যাবল দিয়েও সিগন্যাল পাঠানো যায়। এই ধরনের সম্প্রচার ক্যাবল টিভি নামে পরিচিত। 
- এ ছাড়াও স্যাটেলাইট টিভি নামে এক ধরনের টিভি অনুষ্ঠানের সম্প্রচার করা হয়, এটি মহাকাশে পাঠানো উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট থেকে সরাসরি পৃথিবীতে পাঠানো হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬০৫.
গামা রশ্মির ক্ষেত্রে কোনটি সত্য -
  1. ক) ধনাত্মক চার্জযুক্ত
  2. খ) ঋণাত্মক চার্জযুক্ত
  3. গ) এর ভর ইলেক্ট্রনের ভরের সমান
  4. ঘ) এর বেগ আলোর বেগের সমান
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি:

১। গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ।
২। এই রশ্মি আলোর ন্যায় বেগে গতিশীল
৩। এর কোনো চার্জ ও ভর নাই।
৪। এই রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
৫। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
৬। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম।
৭। জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভ সৃষ্টি করে।
৮। গামা রশ্মির প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৬০৬.
মঙ্গলের উপগ্রহ কোনটি?
  1. ইউরোপা
  2. ক্যালিস্টো
  3. হাইপেরিয়ন
  4. ফোবোস
ব্যাখ্যা
মঙ্গল (Mars):
- সূর্য থেকে মঙ্গলের গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭ কিলোমিটার।
- সূর্যের চতুদিকে একবার প্রদক্ষিণ করতে মঙ্গলের সময় লাগে প্রায় ৬৮৭ দিন।
- ডিমোস এবং ফোবোস নামক মঙ্গলের দুটি উপগ্রহ রয়েছে।
- বৃত্তাকার কক্ষপথে ডিমোস প্রতি ৩০ ঘণ্টা ১৭ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড এবং ফোবস ৭ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে মঙ্গলকে একবার আবর্তন করে।
- মঙ্গলে রয়েছে সৌরজগতের বৃহত্তম আগ্নেয়গিরি নিকস অলিম্পিকা।
- মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, আর্গন প্রভৃতি গ্যাস রয়েছে। মঙ্গলের আকাশ নীল, মাটি লাল ও শুষ্ক । মঙ্গলের তাপমাত্রা ২০" সেলসিয়াস এর অধিক হয় না। তাপমাত্রা রাতে হিমাছের বহু নিচে নেমে যায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬০৭.
GIS এর ব্যবহার সর্বপ্রথম কোথায় শুরু হয়?
  1. জাপানে
  2. কানাডায়
  3. যুক্তরাষ্ট্রে
  4. যুক্তরাজ্যে
ব্যাখ্যা

জিআইএস (Geographical Information System):
- ভৌগোলিক তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থাকে সংক্ষেপে জিআইএস বলে।
- এটি একটি কম্পিউটার হিসাবে সফ্টওয়ারের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থা যার মধ্য দিয়ে ভৌগোলিক তথ্যগুলোর সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্থানিক ও পারস্পরিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ, মানচিত্রায়ণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করে থাকে।
- ১৯৬৪ সালে কানাডায় সর্বপ্রথম এই কৌশলের ব্যবহার আরম্ভ হয়।
- ১৯৮০ সালের দিক থেকে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে।
- বর্তমানে ভূমি ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়ন, পানি গবেষণা, আঞ্চলিক গবেষণা, নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা, জনসংখ্যা বিশ্লেষণ, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বিশ্লেষণ প্রভৃতি বহুবিধ কাজে জিআইএস ব্যবহার হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬০৮.
ট্রানজিস্টরে কয়টি টার্মিনাল থাকে? 
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে। 
যথা: এমিটার, বেস এবং কালেক্টর। 
- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)। 
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়। 
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে। 
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। 
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক। 
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে। 
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬০৯.
তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট ঋণাত্মক ইলেকট্রনের স্রোত কোনটি?
  1. আলফা রশ্মি
  2. রঞ্জন রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. বিটা রশ্মি
ব্যাখ্যা
- তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের ফলে যে বিটা রশ্মি নির্গত হয়, তা আসলে ঋণাত্মক ইলেকট্রনের স্রোত। 
অন্যদিকে,
- তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের ফলে যে আলফা রশ্মি নির্গত হয়, তা আসলে দ্বি-ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট হিলিয়াম নিউক্লিয়াস এবং নির্গত গামা রশ্মি হলো তড়িৎ নিরপেক্ষ তরঙ্গ। 
- এক্স-রে একটি তড়িৎ নিরপেক্ষ তড়িচ্চুম্বকীয় তরঙ্গ। 

সূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 
১,৬১০.
পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্রের নাম কী?
  1. প্রক্সিমা সেন্টারাই
  2. সূর্য 
  3. চাঁদ
  4. আলফা সেন্টারাই
ব্যাখ্যা

সূর্য:
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)।
- পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ।

এছাড়া,
- প্রক্সিমা সেন্টারাই: এটি সূর্যের পর পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি নক্ষত্র, যা ৪.২ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
- চাঁদ: এটি নক্ষত্র নয়। এটি পৃথিবীর প্রাকৃতিক উপগ্রহ। 
- আলফা সেন্টারাই, ট্রিপল স্টার সিস্টেম, যার সবচেয়ে ক্ষীণ উপাদান।
- সবচেয়ে উজ্জ্বল উপাদান নক্ষত্র, আলফা সেন্টারাই A,
- দ্বিতীয় উজ্জ্বল উপাদান, আলফা সেন্টারাই B, 
- তৃতীয় উপাদান প্রক্সিমা সেন্টারাই।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

১,৬১১.
কখন চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সমকোণে অবস্থান করে?
  1. অমাবস্যা তিথি
  2. পূর্ণিমা তিথি
  3. অষ্টমী তিথি
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা

অমাবস্যা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই পাশে এবং পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর এক পাশে চাঁদ ও অপর পাশে সূর্য অবস্থান করে। ফলে এ দুই তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমসূত্রে থাকে এবং উভয়ের মিলিত আকর্ষণে যে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বলে।
সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সমকোণে অবস্থান করার ফলে চন্দ্রের আকর্ষণে এ সময়ে চাঁদের দিকে জোয়ার হয়। সূর্যের আকর্ষণের জন্য এ জোয়ারের বেগ তত প্রবল হয় না। এ রূপ জোয়ারকে মরা কটাল বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।

১,৬১২.
বন্যার জন্য দায়ী মানব সৃষ্ট কারণ কোনটি?
  1. মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব
  2. অপরিকল্পিত নগরায়ন
  3. মূল নদীসমূহের গভীরতা হ্রাস পাওয়া
  4. হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
• বন্যার জন্য দায়ী মানব সৃষ্ট কারণ - অপরিকল্পিত নগরায়ন।

• বন্যা:
- নদীমাতৃক ও বৃষ্টিবহুল বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বর্ষা মৌসুমে সংঘটিত বন্যা অন্যতম।
- ব্যাপকতার ভিত্তিতে বাংলাদেশে সাধারণ ও ভয়াবহ-এই দুই ধরনের বন্যা হয়ে থাকে।
- বন্যায় প্লাবিত এলাকার জন-জীবন ও সম্পদের বিপুল ক্ষতি সাধিত হয়।

• বন্যার কারণসমূহ:
• প্রাকৃতিক কারণ:
- বর্ষাকালে উত্তরাঞ্চলে নদীর উজানে প্রচুর বৃষ্টি।
- মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব।
- মূল নদীসমূহের গভীরতা হ্রাস পাওয়া।
- শাখা নদীগুলো পলি দ্বারা ভরাট হয়ে যাওয়া।
- হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ।
- বঙ্গোপসাগরে ভরা জোয়ার।

• মানব সৃষ্ট কারণ:
- গঙ্গা নদীর উপর ফারাক্কা ও তিস্তা নদীর উপর নির্মিত বাঁধের প্রভাব।
- বালু ভরাট করে নদীসমূহের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা দান।
- অপরিকল্পিত নগরায়ন ও জলাধার ভরাট করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্ন করা।
- অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬১৩.
সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ কোনটি?
  1. ক) পৃথিবী
  2. খ) বুধ
  3. গ) মঙ্গল
  4. ঘ) শুক্র
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ শুক্র।
- শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন ডাই অক্সাইডের তৈরি।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ।
- পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে।
- বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ।
- সৌরজগতে পৃথিবীর পরেই মঙ্গল গ্রহের অবস্থান।
- খালি চোখে মঙ্গল গ্রহকে লালচে দেখায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ।
১,৬১৪.
‘টিওআই ১৮৪৬ বি (TOI-1846 b)’ কী? [জুলাই, ২০২৫]
  1. যুদ্ধ জাহাজ
  2. ব্যালিস্টিক মিসাইল
  3. আবিষ্কৃত নতুন গ্রহ
  4. আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
টিওআই ১৮৪৬ বি:
- ‘টিওআই ১৮৪৬ বি’ নামে পৃথিবীর মতো বড় আকারে গ্রহ (সুপার আর্থ) আবিষ্কার করেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।
- পৃথিবী থেকে ১৫৪ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত গ্রহটি থেকে রহস্যময় আলোর সংকেতও শনাক্ত করেছেন তাঁরা।
- বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, নাসার টেস স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে গ্রহটি শনাক্ত করা হয়েছে।
- আকার ও গ্রহের বৈশিষ্ট্যের কারণে গ্রহটিকে পৃথিবী ও নেপচুনের মতো বৃহত্তর গ্যাসসমৃদ্ধ গ্রহের মধ্যবর্তী স্থানে রাখা হয়েছে।
- বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ‘টিওআই ১৮৪৬ বি’ গ্রহের হোস্ট নক্ষত্র একটি লাল বামনকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
- বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের মাধ্যমে ইনফ্রারেড আলো ব্যবহার করে গ্রহটির বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন তথ্য জানা যাবে।
- ফলে গ্রহটিতে থাকা জলীয় বাষ্প, মিথেন, কার্বন ডাই–অক্সাইড বা অন্যান্য গ্যাসের লক্ষণ বা পরিমাণ শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা প্রতিবেদন। [Link]
১,৬১৫.
বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ শতকরা কত?
  1. ৮০%
  2. ৭৫.৫%
  3. ৭৮.১%
  4. ৭১%
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডল: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল। 
- বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere; বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর অপরিহার্য অংশ। 
- বায়ুমণ্ডল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে পৃথিবীর গায়ের সাথে লেগে থাকে এবং আবর্তন করে। তবে বায়ু কঠিন ভূমির সাথে সমানভাবে চলতে না পারায় সামান্য পশ্চাতে পড়ে থাকে। 
- বিজ্ঞানীগণের ধারণা, বায়ুমণ্ডলের বয়স প্রায় ৩৫০ কোটি বছর। 
- বায়ুমণ্ডলভূ-অভ্যন্তরের নির্গত গ্যাস থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে মাত্র ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে বায়ুমণ্ডলের ৯০ শতাংশ অবস্থান করছে। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত। 

বায়ুমণ্ডলের উপাদানের শতকরা পরিমাণ: 
• নাইট্রোজেন ⇒ ৭৮.০২, 
• অক্সিজেন ⇒ ২০.৭১, 
• আর্গন ⇒ o.৮০, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড ⇒ ০.০৩, 
• ওজোন ⇒ ০.০০০১, 
• অন্যান্য গ্যাস ⇒ ০.০১৯৯, 
• জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১ এবং 
• ধূলিকণা ও কনিক্স ⇒ ০.০১। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬১৬.
'কসমিক রে' আবিষ্কার করে হেস কত সালে নোবেল পুরস্কার পান?
  1. ক) ১৯৩০ সালে
  2. খ) ১৯৩৬ সালে
  3. গ) ১৯৪২ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৩ সালে
ব্যাখ্যা

- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চশক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমুহ প্রবেশ করে তাদের সমষ্টিকে কসমিক রে বা মহাজাগতিক রশ্মি বলে।
- বিজ্ঞানী ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস 'কসমিক রে' আবিষ্কারের জন্য ১৯৩৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।

১,৬১৭.
বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা কত ভাগ?
  1. ০.০১ ভাগ
  2. ০.০৮ ভাগ
  3. ০.৪১ ভাগ
  4. ০.০৩ ভাগ
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল। 
- বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere। বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর অপরিহার্য অংশ। 
- বায়ুমণ্ডল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে পৃথিবীর গায়ের সাথে লেগে থাকে এবং আবর্তন করে। তবে বায়ু কঠিন ভূমির সাথে সমানভাবে চলতে না পারায় সামান্য পশ্চাতে পড়ে থাকে। 
- বিজ্ঞানীগণের ধারণা, বায়ুমণ্ডলের বয়স প্রায় ৩৫০ কোটি বছর। 
- বায়ুমণ্ডলভূ-অভ্যন্তরের নির্গত গ্যাস থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে মাত্র ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে বায়ুমণ্ডলের ৯০ শতাংশ অবস্থান করছে। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত। 

বায়ুমণ্ডলের উপাদানের পরিমাণ: 
উপাদানের নাম ⇒ শতকরা অংশ: 
• নাইট্রোজেন (N2) ⇒ ৭৮.০২,
• অক্সিজেন (O2) ⇒ ২০.৭১,
• আর্গন (Ar )⇒ o.৮০,
• কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)⇒ ০.০৩,
• ওজোন (O3) ⇒ ০.০০০১,
• অন্যান্য গ্যাস ⇒ ০.০১৯৯,
• জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১ এবং
• ধূলিকণা ও কনিক্স ⇒ ০.০১।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬১৮.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে 'বজ্রপাত' সৃষ্টি হয়?
  1. ক) স্ট্রাটোমন্ডল
  2. খ) ট্রপোমন্ডল
  3. গ) মেসোমন্ডল
  4. ঘ) তাপমন্ডল
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়। যথা- ট্রপোমন্ডল, স্টার স্ট্রাটোমন্ডল, মেসোমন্ডল, তাপমন্ডল ও এক্সোমন্ডল। ভূ-পৃষ্ঠের নিকটতম বায়ুস্তরকে বলে ট্রপোমন্ডল। আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত যাবতীয় প্রক্রিয়ার বেশির ভাগ বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে ঘটে। মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড় ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬১৯.
নিচের কোনটির মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের ধীর পরিবর্তন সংঘটিত হয়?
  1. ভূমিকম্প
  2. হিমবাহ
  3. অগ্ন্যূৎপাত
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- যে সমস্ত কার্যাবলীর দ্বরা প্রাকৃতিকভাবে ভূমিরূপের পরিবর্তন সাধিত হয় তা ভূপ্রক্রিয়া নামে পরিচিত।
- ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন আকস্মিক ও ধীর দুভাবে সংঘটিত হয়।
আকস্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়াসমূহ:
- ভূমিকম্প
- আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যূৎপাত
- সুনামি প্রভৃতি।
ধীর পরিবর্তন প্রক্রিয়াসমূহ:
- হিমবাহ
- বৃষ্টিপাত
- বায়ুপ্রবাহ
- সূর্যতাপ
- নদী প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি)
১,৬২০.
নাসার চাঁদে প্রেরণকৃত প্রথম বাণিজ্যিক নভোযানের নাম কী? [জানুয়ারি,২০২৫]
  1. ব্লু ঘোস্ট
  2. চন্দ্রযান-৩
  3. স্পেসশিপ ২
  4. অ্যাপোলো ১১
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]
-----------------
নাসার বাণিজ্যিক নভোযান: 
- নাসার চাঁদে প্রেরণকৃত প্রথম বাণিজ্যিক নভোযানের নাম "ল্যান্ডার ব্লু ঘোস্ট"।
- এটি ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেস দ্বারা তৈরি এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে উৎক্ষেপণ করা হয়।
- এটি নাসার CLPS প্রকল্পের অংশ হিসেবে চাঁদের উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে।
- উৎক্ষেপণ স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটে হবে এবং কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে শুরু হবে।
- মিশনটি ৪৫ দিন পর চাঁদে অবতরণ করবে এবং ১০টি বৈজ্ঞানিক গবেষণা করবে।
- গবেষণাগুলি চাঁদের পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবে।
- মিশনটি চন্দ্র ভূপৃষ্ঠে ড্রিলিং, স্যাম্পল কালেকশন এবং চন্দ্র ধুলা নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা করবে।

তথ্যসূত্র: নাসার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
১,৬২১.
পৃথিবী কোন দিক থেকে কোন দিকে আবর্তন করে?
  1. পশ্চিম থেকে পূর্ব
  2. পূর্ব থেকে পশ্চিম
  3. উত্তর থেকে দক্ষিণ
  4. দক্ষিণ থেকে উত্তর
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর আবর্তন:
- পৃথিবী নিজ অক্ষের চারদিকে দিনে একবার নির্দিষ্ট গতিতে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে। 
​- পৃথিবীর এই আবর্তন গতিই দৈনিক গতি বা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত। 
​- নিজ অক্ষের চারদিকে আবর্তন করতে পৃথিবীর সময় লাগে ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘণ্টা অর্থাৎ এক দিন। এটিকে সৌর দিন বলে।

⇒ পৃথিবীর আহ্নিক গতি একেক জায়গায় একেক রকম হয়।
- পৃথিবীপৃষ্ঠ পুরোপুরি গোল না হওয়ায় এর পৃষ্ঠ সর্বত্র সমান নয়।
- সে কারণে পৃথিবীপৃষ্ঠের সব স্থানের আবর্তন বেগও সমান নয়।
- নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর পরিধি সবচেয়ে বেশি।
- এ জন্য নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর আবর্তনের বেগও সবচেয়ে বেশি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬২২.
সূর্য পৃষ্ঠের উত্তাপ কত?
  1. ক) ৬০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
  2. খ) ৮০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
  3. গ) ১০০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
  4. ঘ) ১২০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
ব্যাখ্যা
- Although there are no fires on the surface of the Sun, the photosphere seethes and roils, displaying the effects of the underlying convection.
- Photons flowing from below, trapped by the underlying layers, finally escape.
- This produces a dramatic drop in temperature and density.
- The temperature at the visible surface is about 5,800 K but drops to a minimum about 4,000 K at approximately 500 kilometres above the photosphere.
- The density, about 10−7 gram per cubic centimetre (g/cm3), drops a factor of 2.7 every 150 kilometres.
- The solar atmosphere is actually a vacuum by most standards; the total density above any square centimetre is about 1 gram, about 1,000 times less than the comparable mass in the atmosphere of Earth.
- One can see through the atmosphere of Earth but not through that of the Sun because the former is shallow, and the molecules absorb only radiation that lies outside of the visible spectrum.

Source: Britannica

এই প্রশ্নের ক্ষেত্রে ৬০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড সথিক উত্তর।
১,৬২৩.
‘এনডব্লিউএ ১৫৯১৫ (NWA 15915)’ কী?
  1. অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান
  2. বিরল উল্কাপিণ্ড
  3. সামরিক গোয়েন্দা ড্রোন
  4. দুর্লভ প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী
ব্যাখ্যা
‘এনডব্লিউএ ১৫৯১৫':
- বিরল উল্কাপিণ্ডটির পুরো নাম নর্থওয়েস্ট আফ্রিকা ১৫৯১৫।
- উল্কাপিণ্ডটি পাথুরে অ্যাকনড্রাইট দিয়ে তৈরি, যা অন্য কোনো উল্কাপিণ্ড বা গ্রহের মধ্যে দেখা যায়নি।
- ২০২৩ সালে আলজেরিয়ায় আবিষ্কৃত উল্কাপিণ্ডটির বিভিন্ন উপাদান বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ২.৮৪ কিলোগ্রাম ওজনের এই শিলা সম্ভবত অন্য কোনো গ্রহের অংশ ছিল। 
- বিজ্ঞানীদের ধারণা, এনডব্লিউএ ১৫৯১৫ নামের উল্কাপিণ্ডটি সম্ভবত বুধ গ্রহের মতো অন্য কোনো গ্রহ থেকে এসেছে।
- এই বিরল উল্কাপিণ্ডটি সৌরজগতের প্রাথমিক সময়কার বিশৃঙ্খল অবস্থা সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট। [Link]
১,৬২৪.
সৌরজগতে গ্রহের সংখ্যা -
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ এবং গ্রহসমূহ:
- মহাকাশের অসংখ্য জ্যোতিষ্ক নিয়ে যে জগতের সৃষ্টি হয়েছে তাকে বিশ্বজগৎ বা বিশ্বভ্রহ্মান্ড বলে।
- সূর্য বিশ্বজগতের কোটি কোটি নক্ষত্রের মধ্যে একটি উজ্জ্বলতম নক্ষত্র।
- সূর্য ও এর চতুর্দিকে ঘূর্ণনরত জ্যোতিষ্কমন্ডলীকে একত্রে সৌরজগৎ (Solar System) বলে।
- মহাকাশে সূর্যকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট গতিতে, নির্দিষ্ট দূরত্বে, একই সমতলে একইদিকে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘূনর্ণরত সকল গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, ধুমকেতু ও উল্কাপিন্ডের সমন্বয়ে সৌরজগত গঠিত হয়েছে।
- সৌরজগতে মোট ৮টি গ্রহ।
- যথা: বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন।

উল্লেখ্য,
- প্লুটো গ্রহকে বর্তমানে গ্রহ হিসেবে গণ্য করা হয় না, কারণ প্লুটো গ্রহের সাথে গ্রহের বৈশিষ্ট্যের মিল নেই।

উৎস: i) NASA (.gov).
         ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬২৫.
নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে সমান দুই ভাগে বিভক্ত করে-
  1. পূর্বে - দক্ষিণে
  2. উত্তর - দক্ষিণে
  3. পূর্ব-পশ্চিমে
  4. পশ্চিম-দক্ষিণে
ব্যাখ্যা
• অক্ষরেখা (Latitude)
- পৃথিবীর গোলাকৃতি কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে অক্ষ (Axis) বা মেরুরেখা বলে।
- এই অক্ষের উত্তর-প্রান্ত বিন্দুকে উত্তর মেরু বা সুমেরু এবং দক্ষিণ-প্রান্ত বিন্দুকে দক্ষিণ মেরু বা কুমেরু বলে।
- দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে একটি রেখা কল্পনা করা হয়েছে।
- একে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখার উত্তর-দক্ষিণে পৃথিবীকে সমান দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে
- উত্তর নিরক্ষরেখার উত্তর দিকের পৃথিবীর অর্ধেককে উত্তর গোলার্ধ ও দক্ষিণ দিকের অর্ধেককে দক্ষিণ গোলার্ধ বলে।
- এই নিরক্ষরেখাকে ০° ধরে উত্তর দিকে ও দক্ষিণ দিকে দুই মেরু পর্যন্ত ৯০° বা এক সমকোণ ধরা মেকরেখা হয়।
- পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির জন্য নিরক্ষরেখা বৃত্তাকার, তাই এ রেখাকে নিরক্ষবৃত্তও বলে।
- নিরক্ষরেখার সমান্তরাল যে রেখাগুলো নিক্ষ পশ্চিম পূর্ব রয়েছে সেগুলো হলো অক্ষরেখা। এই অক্ষরেখাগুলো আসলে কল্পনা রেখ করা হয়েছে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,৬২৬.
দুটি একই ধরনের অর্ধপরিবাহীর মাঝখানে এদের বিপরীত ধরনের অর্ধপরিবাহী বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে যুক্ত করে যে যন্ত্র বা কৌশল তৈরি করা হয় তাকে বলা হয় -
  1. ক) রেক্টিফায়ার
  2. খ) ট্রান্সফরমার
  3. গ) ট্রানজিস্টর
  4. ঘ) এলইডি
ব্যাখ্যা
দুটি একই ধরনের অর্ধপরিবাহীর (n-টাইপ অথবা p-টাইপ) মাঝখানে এদের বিপরীত ধরনের (p-টাইপ অথবা n-টাইপ) অর্ধপরিবাহী বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে যুক্ত করে যে যন্ত্র বা কৌশল তৈরি করা হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।

সুতরাং একটি জাংশন ট্রানজিস্টর দুটি p-n জাংশনের সমন্বয়ে গঠিত এবং এর তিনটি প্রান্ত রয়েছে।
গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে জাংশন ট্রানজিস্টর দুই প্রকারঃ
(১) p-n-p ট্রানজিস্টর এবং
(২) n-p-n ট্রানজিস্টর।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬২৭.
উল্কা ও কসমিক কনার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে-
  1. ক) স্ট্রাটোমন্ডল এর ঊর্ধ্বস্তরে
  2. খ) আয়নমন্ডল এর ঊর্ধ্বস্তরে
  3. গ) ট্রপোমন্ডলের ঊর্ধ্বস্তরে
  4. ঘ) উপরের কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ওজোন স্তরের উপরে প্রায় ২২ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত যে স্তর সেটিই আয়ন স্তর নামে পরিচিত। এই স্তর কতগুলো আধানযুক্ত কণা সমষ্টি। বেতারতরঙ্গ আয়ন স্তর থেকে প্রতিফলিত হয়। এ স্তরের মাধ্যমেই বেতার সংবাদ আদান-প্রদান করা হয়ে থাকে। এ স্তরে উল্কা, কসমিক রে পাওয়া যায়।
১,৬২৮.
নিচের কোন এমপ্লিফায়ারের কার্যক্ষমতা সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) ক্লাস-বি এমপ্লিফায়ার
  2. খ) ক্লাস-সি এমপ্লিফায়ার
  3. গ) ক্লাস-এ এমপ্লিফায়ার
  4. ঘ) ক্লাস-ডি এমপ্লিফায়ার
ব্যাখ্যা
যে যন্ত্র এর অন্তর্গামীতে প্রদত্ত সংকেতকে বহির্গামীতে বিবর্ধিত করে তাকে এমপ্লিফায়ার বলে। কার্যক্ষমতার উপর নির্ভর করে তিন শ্রেণীর অ্যামপ্লিফায়ার আছে। যথা- এ-শ্রেণী, বি-শ্রেণী এবং সি-শ্রেণী এমপ্লিফায়ার। এ-ক্লাস বা শ্রেণি এমপ্লিফায়ারের কার্যক্ষমতা সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৯০%। উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬২৯.
শুক্র গ্রহের বায়ুমণ্ডল প্রধানত কোন গ্যাস দ্বারা গঠিত? 
  1. নাইট্রোজেন
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড 
  3. অক্সিজেন 
  4. হিলিয়াম 
ব্যাখ্যা

শুক্র (Venus): 
- বুধের মতো শুক্র গ্রহকেও ভোরের আকাশে শুকতারা এবং সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যাতারা হিসেবে দেখা যায়। 
- শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে কোনো তারা নয়। কিন্তু নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে বলেই একে ভুল করে তারা বলা হয়। 
- শুক্র গ্রহটি ঘন মেঘে ঢাকা, তাই এর উপরিভাগ থেকে সূর্যকে কখনই দেখা যায় না। 
- শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন ডাই-অক্সাইডের তৈরি
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ। 
- সূর্য থেকে শুক্র গ্রহের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার। 
- এর দিন ও রাতের মধ্যে আলোর বিশেষ কোনো তারতম্য হয় না, এখানে বৃষ্টি হয় তবে এসিড বৃষ্টি। 
- শুক্রের ব্যাস ১২,১০৪ কিলোমিটার। 
- সূর্যকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন। সুতরাং শুক্রে ২২৫ দিনে এক বছর। 
- শুক্রের কোনো উপগ্রহ নেই। 
- সকল গ্রহ এদের নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বে পাক খেলেও একমাত্র শুক্র গ্রহ পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাক খায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৩০.
ব্যাকটেরিওলজির জনক কে?
  1. লুই পাস্তুর
  2. এহরেনবার্গ
  3. রবার্ট কচ
  4. লিউয়েন হুক
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড।
- ব্যাকটেরিয়া (এক = বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়।
- ব্যাক্টেরিওলজির জনক হলেন রবার্ট কচ (Robert Koch)।
- রবার্ট কচ (১৮৪৩–১৯১০) ছিলেন একজন জার্মান চিকিৎসক এবং ব্যাক্টেরিওলজির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করেন যে নির্দিষ্ট রোগের জন্য নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া দায়ী।
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব।
- ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়।

উৎস:
১। উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা। 

১,৬৩১.
ধ্রুবতারা সাধারণত দেখা যায়-
  1. পূর্ব গোলার্ধ
  2. পশ্চিম গোলার্ধ
  3. উত্তর গোলার্ধ
  4. দক্ষিণ গোলার্ধ
ব্যাখ্যা
• ধ্রুবতারা (Polaris):
- Ursa Minor (Little Bear) নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত।
- এটি উত্তর গোলার্ধে দেখা যায়।
- এটি পৃথিবীর উত্তর মেরুর ঠিক উপরে অবস্থান করার কারণে স্থির মনে হয় এবং এটি উত্তর দিক নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়।
- ধ্রুবতারা প্রাচীনকাল থেকে নাবিক এবং অভিযাত্রীদের দিক নির্ধারণে সাহায্য করে আসছে।
- এর দিকে তাকিয়ে থাকা মানে আপনার ডানে পূর্ব, বাঁয়ে পশ্চিম আর পেছনে দক্ষিণ।
- এটি সারা বছর উত্তর গোলার্ধে দেখা যায় এবং বিশেষভাবে গ্রীষ্মকালে এটি সবচেয়ে ভালোভাবে দৃশ্যমান হয়​।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৬৩২.
মঙ্গল গ্রহের কতটি উপগ্রহ রয়েছে? 
  1. ৫টি
  2. ১১টি
  3. ২টি
  4. ৩টি
ব্যাখ্যা

- মঙ্গল গ্রহের 'ফোবস' ও 'ডিমোস' নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।

মঙ্গল গ্রহ (Mars):

- মঙ্গল গ্রহ পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ।
- খালি চোখে মঙ্গল গ্রহকে লালচে দেখায়।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭ কিলোমিটার এবং পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় অর্ধেক।
- এই গ্রহে দিনরাত্রির পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সমান।
- সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন।
- মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি।
- এ গ্রহেঅক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ৯৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
- মঙ্গল গ্রহের 'ফোবস' ও 'ডিমোস' নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।

উৎস:  NASA ওয়েবসাইট এবং  ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

১,৬৩৩.
জোয়ার-ভাটা তৈরিতে মূখ্য ভূমিকা রাখে কোনটি?
  1. চাঁদ
  2. সূর্য
  3. কেন্দ্রাতিক শক্তির প্রভাব
  4. গ্রহ-নক্ষত্রের আকর্ষণ
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর সকল পদার্থ একটি অপরটিকে আকর্ষণ করছে। এ আকর্ষণকে মহাকর্ষ (gravitation) বলে। মহাকর্ষের প্রভাবে পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারদিকে এবং চন্দ্র সর্বদা পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে।
- আর এই কারণেই পৃথিবীর জলরাশি কখনো বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। মহাকাশে অবস্থিত সব নক্ষত্র, গ্রহ ও উপগ্রহের এ আকর্ষণের পরিমাণ সমান না। বড় পদার্থের আকর্ষণ ক্ষমতা ছোট পদার্থ অপেক্ষা বেশি।
- চন্দ্র অপেক্ষা সূর্য ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুণ বড় এবং পৃথিবী অপেক্ষা সূর্য প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ বড় হলেও পৃথিবী থেকে সূর্য গড়ে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং পৃথিবী থেকে চন্দ্র গড়ে প্রায় ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
- এ কারণেই পৃথিবীর ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ ক্ষমতা সূর্য অপেক্ষা বেশি। ফলে জোয়ার ভাঁটায় চন্দ্রের প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়।
- জোয়ার-ভাঁটার ক্ষেত্রে চন্দ্র ও সূর্য উভয়ই পৃথিবীর ওপর নিজ নিজ শক্তি প্রয়োগ করলেও চন্দ্রের শক্তির অধিকতর প্রয়োগ হয়।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর ভূগোল প্রথম পত্র বই (উন্মুক্ত)।
১,৬৩৪.
নিচের কোনগুলো গ্রীনহাউস গ্যাস হিসেবে পরিচিত? 
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেন
  2. অক্সিজেন ও ধূলিকণা
  3. নাইট্রোজেন ও সালফার
  4. পানি ও ইথেন
ব্যাখ্যা

গ্রীনহাউস গ্যাস:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warning) এর হার বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- আমরা জানি, যে বায়ুমন্ডল পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- এ ক্ষেত্রে বায়ুমন্ডল হলো গ্রীনহাউস বা কাঁচ ঘরের কাঁচের দেয়াল বা ছাদ এবং সূর্যালোক ভূ-পৃষ্ঠ শোষণ করে ও বায়ুমন্ডলকে উত্তপ্ত করে তোলে।
- মানুষ যখন গাছ-পালা কেটে, কাঠ-কয়লা পুড়িয়ে, কারখানার ধোঁয়া ইত্যাদির দ্বারা মিথেন, ওজোন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি গ্যাস তৈরি করছে তখন তাকে বলা হয় গ্রীনহাউস গ্যাস।
- বায়ুমন্ডলে তাই গ্রীনহাউস গ্যাসের পুরু চাদর তৈরি হয়েছে কারণ এই সব গ্যাস আর ফিরে যেতে পারে না।
- এই তাপ শোষণের মাত্রা যত বাড়বে পৃথিবীর উষ্ণতা ততই বাড়বে।
- উষ্ণতা বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াই হলো গ্রীনহাউস প্রভাব।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৩৫.
ওজোন স্তর ক্ষয়ের প্রধান কারণ কোনটি? 
  1. মিথেন 
  2. কার্বন ডাই–অক্সাইড 
  3. সিএফসি 
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

ওজোন স্তর সংরক্ষণ: 
- বায়ুমণ্ডলের গুরুত্বপূর্ণ স্তরটি হলো ওজোন স্তর।
- ওজোন স্তর ক্ষয় হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সিএফসি (ক্লোরোফ্লোরো কার্বন)। 
- বৈশ্বিক সেক্টর থেকে সিএফসি এর ব্যবহার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে হবে। 
- ২০১২ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী ঔষধ শিল্প ব্যতীত সকল সেক্টরে সিএফসি ব্যবহার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হয়েছে। 
- মন্ট্রিল প্রোট্রোকলের শর্তানুযায়ী বাংলাদেশ একটি 'ওজোন সেল' গঠন করেছে যা ওজোন স্তর রক্ষায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। 
- বাংলাদেশ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পরিবেশ সংক্রান্ড বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দিবস গুরুত্বের সাথে পালন করছে।
যেমন-৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস, ১৪ অক্টোবর বিশ্ব মরুময়তা দিবস, ১৬ সেপ্টেম্বর ওজোন দিবস ইত্যাদি। 
- টেকসই উন্নয়নের জন্য আমাদেরকে মৃত্তিকা, পানি, বায়ু, বনভূমি, জীববৈচিত্র্য প্রভৃতির স্থায়িত্ব এবং পারিবেশিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। 
- যে কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়নের পূর্বে পারিবেশিক প্রভাব মূল্যায়ন (Environmental Impact Assesment) করতে হবে এবং বিভিন্ন আইন ও নীতিমালার সুষ্ঠু প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৩৬.
তড়িৎ নিরপেক্ষ রশ্মি কোনটি?
  1. গামা
  2. আলফা
  3. বিটা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় বিকিরণের বৈশিষ্ট্য: 
-  বিখ্যাত বিজ্ঞানী মাদাম কুরী একটি সহজ পরীক্ষা দ্বারা তেজস্ক্রিয় বিকিরণে তিন ধরণের রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে তিন ধরণের রশ্মি নির্গত হয়। 
- যে রশ্মিটি ধনাত্মক পাতের দিকে বেঁকে গেছে সেটি ঋণাত্মক আধান গ্রস্থ। 
- যে রশ্মিটি ঋণাত্মক পাতের দিকে বেঁকে গেছে সেটি ধনাত্মক আধান গ্রস্থ। 
- আর যে রশ্মিটি কোনো দিকেই বিচ্যুত হয়নি সেটি তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
- ধনাত্মক আধান গ্রস্থ রশ্মিকে আলফা রশ্মি, ঋণাত্মক আধান গ্রস্থ রশ্মিকে বিটা রশ্মি এবং তড়িৎ নিরপেক্ষ রশ্মিকে গামা রশ্মি বলে। 
- আলফা ও বিটা রশ্মি হলো কণা প্রবাহ কিন্তু গামা রশ্মি হলো তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যর চেয়ে অনেক কম। একে চেখে দেখা যায় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৩৭.
সূর্য থেকে দূরত্বের ক্রমানুসারে তৃতীয় গ্রহ কোনটি?
  1. বুধ
  2. শুক্র
  3. পৃথিবী
  4. মঙ্গল
ব্যাখ্যা

• বুধ–শুক্র–পৃথিবী এই ক্রমে গ্রহগুলো অবস্থিত।

• প্রাকৃতিক গ্রহ ও উপগ্রহ:

- আমরা যে গ্যালাক্সি বা ছায়াপথে বাস করি, তার নাম আকাশগঙ্গা (Milky Way)।
- এই ছায়াপথে আমাদের সূর্য ও তার পরিবার অবস্থিত, যাকে সৌরজগৎ বলা হয়।

• সৌরজগৎ:

- সৌরজগতের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে সূর্য।
- সূর্যের চারদিকে আবর্তনশীল মোট ৮টি গ্রহ রয়েছে।
- গ্রহগুলো সূর্যের চারদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তন করে।

- সূর্য থেকে দূরত্বের ক্রমানুসারে গ্রহগুলো হলো—

- বুধ,
- শুক্র,
- পৃথিবী,
- মঙ্গল,
- বৃহস্পতি,
- শনি,
- ইউরেনাস,
- নেপচুন।
 
• গ্রহ (Planet):

- যেসব বৃহৎ বস্তু সূর্যের চারদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে, সেগুলোকে গ্রহ বলা হয়।
- গ্রহগুলো নিজস্ব আলো উৎপন্ন করতে পারে না; তারা সূর্যের আলো প্রতিফলন করে।

 
• উপগ্রহ (Satellite):

- যে বস্তু কোনো গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘুরে, তাকে সেই গ্রহের উপগ্রহ বলা হয়।

উদাহরণ—

- চাঁদ পৃথিবীর উপগ্রহ।
- সুতরাং, পৃথিবী সূর্যের একটি গ্রহ এবং চাঁদ পৃথিবীর উপগ্রহ।
 
• গ্রহ ও উপগ্রহের গতি:

- গ্রহ সূর্যের চারদিকে এবং উপগ্রহ গ্রহের চারদিকে ঘোরে।
- এই গতির ফলেই দিন-রাত, মাস ও বছর নির্ধারিত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি।

১,৬৩৮.
সর্বপ্রথম সুনামির কথা লিপিবদ্ধ হয় কত খ্রিস্টপূর্বে?
  1. খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে
  2. খ্রিস্টপূর্ব ১৩০০ অব্দে
  3. খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দে
  4. খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ অব্দে
ব্যাখ্যা
সুনামি:
- সুনামির (Tsunami) কারন হলো সমুদ্রতলের ভূমিকম্প।
- সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ। 
- এর শাব্দিক অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
- এখানে 'tsu' অর্থ বন্দর বা harbour এবং 'nami' অর্থ সামুদ্রিক ঢেউ।
- সুনামির উৎপত্তি সমুদ্রতলে।
- সমুদ্র তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সমুদরপৃষ্ঠে বিশাল যে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তাকে সুনামি বলে।
- সর্বপ্রথম সুনামির কথা লিপিবদ্ধ হয় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৩৯.
২০১৩ সালে হিগস বোসন তত্ত্বের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার যৌথভাবে লাভ করেন-
  1. পিটার হিগস ও ফ্রাঁসোয়া এঙ্গলেয়ার
  2. পিটার হিগস ও স্টিফেন হকিং
  3. মারে গেল-ম্যান ও রিচার্ড ফাইনম্যান
  4. স্টিফেন হকিং ও ফ্রাঁসোয়া এঙ্গলেয়ার
ব্যাখ্যা

• ২০১৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার যৌথভাবে প্রদান করা হয় পিটার হিগস ও ফ্রাঁসোয়া এঙ্গলেয়ারকে, মৌলিক কণার ভর উৎপত্তি ব্যাখ্যাকারী হিগস বোসন তত্ত্বের জন্য, যা ২০১২ সালে CERN–এর লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে পরীক্ষামূলকভাবে নিশ্চিত হয়।

• হিগস বোসন তত্ত্ব:

- হিগস বোসন তত্ত্ব স্ট্যান্ডার্ড মডেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- এটি ব্যাখ্যা করে কীভাবে মৌলিক কণাসমূহ ভর অর্জন করে।
- তত্ত্বটি হিগস ক্ষেত্রের ধারণার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
- কণাসমূহ হিগস ক্ষেত্রের সাথে পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে ভর লাভ করে।
- হিগস বোসন হলো সেই ক্ষেত্রের কোয়ান্টাম কণা।

• ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
- ১৯৬৪ সালে পিটার হিগসসহ একাধিক বিজ্ঞানী ভর উৎপত্তি সম্পর্কিত তত্ত্ব প্রস্তাব করেন।
- ২০১২ সালে সুইজারল্যান্ডের সার্ন (CERN) গবেষণাগারে লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারের মাধ্যমে হিগস বোসনের অস্তিত্ব পরীক্ষামূলকভাবে নিশ্চিত হয়।
- ২০১৩ সালে পিটার হিগস এবং ফ্রাঁসোয়া এঙ্গলেয়ার পদার্থবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

• বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব:
- হিগস বোসনের আবিষ্কার স্ট্যান্ডার্ড মডেলকে পূর্ণতা প্রদান করে।
- এটি মৌলিক কণাতত্ত্বের দীর্ঘদিনের একটি তাত্ত্বিক সমস্যার সমাধান করে।
- একে কখনও কখনও জনপ্রিয়ভাবে “গড পার্টিকল” বলা হয়, যদিও এটি বৈজ্ঞানিক নাম নয়।

• অন্যান্য অপশন:
- স্টিফেন হকিং → ব্ল্যাক হোল বিকিরণ ও মহাকাশতত্ত্বে অবদানের জন্য পরিচিত।
- মারে গেল-ম্যান → কোয়ার্ক তত্ত্ব প্রবর্তনের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- রিচার্ড ফাইনম্যান → কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রোডাইনামিক্সে অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: Nobel Prize in Physics 2013 – Official Summary.

১,৬৪০.
কেমোথেরাপির ভিত্তি কী?
  1. আলোর প্রতিসরণ
  2. কোষ বিভাজন
  3. চৌম্বকক্ষেত্র
  4. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
ব্যাখ্যা
কোমোথেরাপি (Camotherapy):
- কেমোথেরাপি হলো এমন এক ধরনের চিকিৎসা যেখানে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক ঔষধ ব্যবহার করে শরীরের জন্য ক্ষতিকর দ্রুত বিভাজনরত কোষ ধ্বংস করা হয়। এটি ক্যান্সার চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি।
- ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর শরীরের কিছু কোষ বিভাজনের গতি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। জীবদেহের কোষ বিভাজনের উপর ভিত্তি করে কেমোথেরাপি গঠিত।
- কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক ঔষধ কোষ বিভাজনের নির্দিষ্ট ধাপে প্রয়োগ করা হয়। কোষ বিভাজনের কোন ধাপে প্রয়োগ করা হবে তার উপর নির্ভর করে রাসায়নিক ঔষধ ঠিক করা হয়। এটি একটি নির্দিষ্ট সময় জুড়ে থাকে।
- যেমন প্রতিদিনে একবার, সপ্তাহে একবার বা মাসে একবার প্রভৃতি। সাধারণত এভাবে প্রায় ছয়বার ঔষধ প্রয়োগ করা হয়।

রেডিওথেরাপি (Radio Therapy) :
- রেডিওথেরাপি হলো ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল যার মাধ্যমে শরীরের ক্যান্সার আক্রান্ত অঙ্গের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়।
- রেডিও থেরাপি একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া যা ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হয়।
- রেডিও থেরাপি শব্দটি ইংরেজি Radiation Therapy এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- এটি ব্যবহার করে ক্যান্সার, থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক প্রকৃতি, রক্তের কিছু ব্যধির চিকিৎসা করা হয়।
- সাধারণত রেডিওথেরাপি উচ্চ শক্তি সম্পন্ন এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে। শরীরের যে অঙ্গে ক্যানসার হয়েছে সে অঙ্গের আক্রান্ত স্থানে রশ্মি প্রয়োগ করা হয় এর ফলে কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়।
- এ প্রক্রিয়ায় কিছু সংখ্যক সুস্থ কোষও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবুও আমাদের উদ্দেশ্য হলো যত কম সংখ্যক সুস্থ কোষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে বহু সংখ্যক ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা। ক্ষতিগ্রস্থ অধিকাংশ সুস্থ কোষ নিজ থেকেই এই ক্ষয়পূরণ করতে পারে।
- দুই ধরনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষের DNA ধ্বংস করা হয় একটি হলে ফোটন কণাকে কাজে লাগিয়ে অন্যটি তেজস্ক্রিয় কণার মাধ্যমে।

উৎস: মাধ্যমিক বিজ্ঞান, SSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদায়লয়।
১,৬৪১.
মহাবিশ্বের উৎপত্তি সংক্রান্ত প্রধান তত্ত্বটি কী?
  1. বিগব্যাং তত্ত্ব
  2. ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব
  3. আপেক্ষিক তত্ত্ব
  4. নিউটনের গতি সূত্রীয় তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• মহাবিশ্বের উৎপত্তি বোঝানোর প্রধান তত্ত্ব হলো বিগব্যাং তত্ত্ব। এই তত্ত্ব অনুসারে, প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে মহাবিশ্ব অত্যন্ত ঘন ও উত্তপ্ত অবস্থায় সংকুচিত ছিল। এক মুহূর্তে এটি একটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে সম্প্রসারিত হতে শুরু করে, যা থেকে সময়, স্থান ও পদার্থের সৃষ্টি হয়। বিগব্যাং তত্ত্বের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ, কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন এবং গ্যালাক্সি গঠনের প্রমাণগুলি ব্যাখ্যা করা যায়। তাই মহাবিশ্বের উৎপত্তি বোঝার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য তত্ত্ব।

- সঠিক উত্তর: ক) বিগব্যাং তত্ত্ব।

মহাবিশ্ব: 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

মহাবিশ্বের উৎপত্তি: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১,৬৪২.
নিচের কোন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই?
  1. অ্যালকোহল
  2. কেরোসিন
  3. পারদ
  4. অ্যামোনিয়া
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও  নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৪৩.
In 2020, astronomers observed the first direct image of a black hole, Which black hole was the subject of this historic image?
  1. Sagittarius A*
  2. Cygnus X-1
  3. Messier 87 (M87)
  4. V404 Cygni
ব্যাখ্যা
মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে ব্ল্যাক হোলের প্রথম ছবি:

- জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা Sagittarius A* ব্ল্যাক হোলের প্রথম প্রত্যক্ষ চিত্রটি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।
- এটি ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ (EHT) দ্বারা সংগ্রহ করা হয়েছিল।
- ‘স্যাজিটেরিয়াস এ’ আদতে একটি দানবাকৃতি ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর।
- ২০১৯ সালের মে মাসে কয়েক দিন ধরে অদ্ভুত একটা আলোর ঝলসানি দেখে তার সক্রিয়তাকে চিহ্নিত করেছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। - পৃথিবী থেকে ২৭ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত, সূর্যের চেয়ে ৪০ লক্ষ গুণ বেশি ভরের ওই ব্ল্যাক হোলটি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র - Event Horizon Telescope.
১,৬৪৪.
পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র হিসেবে কোনটি পরিচিত?
  1. সূর্য
  2. সিরিয়াস
  3. প্রক্সিমা সেন্টরা
  4. আলফা সেন্টরা
ব্যাখ্যা

◉ পৃথিবীর একেবারে নিকটতম নক্ষত্র হলো সূর্য। এর গড় দূরত্ব পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার (1 Astronomical Unit, AU)।

নক্ষত্র (Star): 
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে। 
- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে। 
- খালি চোখে মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখা যায়। 
- এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়। 
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে। 
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না। 

- পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে, কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে। 
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না। 
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়। 
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। 
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে। 
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)। 
- পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৪৫.
বাংলাদেশে প্রথম ডিজিটাল টেলিফোন ব্যবস্থা চালু হয় কবে?
  1. ক) ১৯৯০ সালে
  2. খ) ১৯৯১ সালে
  3. গ) ১৯৯২ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রথম ডিজিটাল টেলিফোন ব্যবস্থা চালূ হয় ৪ জানুয়ারী, ১৯৯০।
বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার চালু হয় ১৯৯৩ সালে।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
১,৬৪৬.
১৯৮২ সালের সমুদ্র আইন সংক্রান্ত কনভেনশন অনুযায়ী একটি উপ-কূলীয় রাষ্ট্রের মহীসোপানের ( Continental shelf) সীমা হবে ভিত্তি রেখা হতে-
  1. ক) ৩৫০ নটিক্যাল
  2. খ) ৪০০ নটিক্যার মাইল
  3. গ) ২০০ নটিক্যাল মাইল
  4. ঘ) ৩০০ নটিকেল মাইল
ব্যাখ্যা
১৯৮২ সালের সমুদ্র আইন সংক্রান্ত কনভেনশন অনুযায়ী একটি উপকূলীয় রাষ্ট্রের মহীসোপানের (Continental Shelf) সীমা হবে ভিত্তি রেখা হতে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল।
Source: britannica.com
১,৬৪৭.
সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ কোনটি?
  1. ইউরেনাস
  2. বুধ
  3. মঙ্গল
  4. শুক্র
ব্যাখ্যা
- সৌরজগতে মোট আটটি গ্রহ রয়েছে।
এগুলো হলো:
- বুধ
- শুক্র
- পৃথিবী
- মঙ্গল
- শনি
- বৃহস্পতি
- ইউরেনাস এবং
- নেপচুন।
- সবচেয়ে বড় গ্রহ হলো বৃহস্পতি।
- সবচেয়ে ছোট গ্রহ বুধ।
- বুধ ও শুক্র গ্রহের কোন উপগ্রহ নেই।
- সর্বাধিক ৮২টি উপগ্রহ রয়েছে শনি গ্রহের।
- শুক্র গ্রহের কোন বায়ুমণ্ডল নেই।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং নাসা)
১,৬৪৮.
সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা কত (প্রায়)? 
  1. ১০০০° সেলসিয়াস
  2. ৬০০০° সেলসিয়াস
  3. ৩৬০০০° সেলসিয়াস
  4. ৬০০০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
সূর্য (Sun): 
- সূর্য একটি নক্ষত্র। 
সূর্যের পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস। 
- এটি হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড। 
- হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের। 
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। 
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। 
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৪৯.
নিচের কোন কণার অস্তিত্ব লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার যন্ত্রের মাধ্যমে ধরা পরে? 
  1. লেপটন কণা
  2. পজিট্রন কণা
  3. হ্যাড্রন কণা
  4. হিগস কণা
ব্যাখ্যা
হিগস কণা: 
- ‘হিগস কণা’ পদার্থবিদ্যার স্ট্যান্ডার্ড মডেলের একটি মৌলিক কণা। 
- সুইজারল্যান্ডের সার্ন এর লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার যন্ত্রে ২০১২ সালে এই হিগস কণার অস্তিত্ব ধরা পড়ে। 
- পদার্থবিজ্ঞানী লিওন লেডারম্যান ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে 'ঈশ্বর কণা' নামে চিহ্নিত করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও CERN ওয়েবসাইট।
১,৬৫০.
মহীসোপানের সমুদ্রের পানির সর্বোচ্চ গভীরতা -
  1. ক) ৫০ মিটার
  2. খ) ১৫০ মিটার
  3. গ) ৩২০ মিটার
  4. ঘ) ৪২০ মিটার
ব্যাখ্যা
মহীসোপানঃ পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিছু অংশ ঢালু হয়ে সমুদ্রে নেমে গেছে। এরূপে সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে। মহীসোপানের সমুদ্রের পানির সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার। এটি ১° কোণে সমুদ্রের তলদেশে নিমজ্জিত থাকে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল বোর্ড বই
১,৬৫১.
সৌরজগতের প্রাচীনতম গ্রহ কোনটি?
  1. শনি
  2. বুধ
  3. বৃহস্পতি 
  4. মঙ্গল
ব্যাখ্যা

• বৃহস্পতি :
- রোমান পুরাণে দেবতাদের রাজা বৃহস্পতির নামে গ্রহের রাজার নামকরণ করা হয়েছিল।
- বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় এবং প্রাচীনতম গ্রহ।
- এটি সবচেয়ে প্রাচীন গ্রহ, যা ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে সূর্যের সৃষ্টির সময় অবশিষ্ট ধুলো এবং গ্যাস থেকে তৈরি হয়েছিল।
- বৃহস্পতির গঠন সূর্যের মতোই - বেশিরভাগ হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম। 
- এটি তার অক্ষের উপর একবার ঘুরতে প্রায় ৯.৯ ঘন্টা সময় নেয়।
- ৪৮৪ মিলিয়ন মাইল (৭৭৮ মিলিয়ন কিলোমিটার) গড় দূরত্ব থেকে, বৃহস্পতি গ্রহ সূর্য থেকে ৫.২ জ্যোতির্বিদ্যাগত একক দূরে।
- বৃহস্পতির ৯৫টি উপগ্রহ রয়েছে যা আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত। 
- বৃহস্পতি সূর্যের চারপাশে একটি সম্পূর্ণ কক্ষপথ (জোভিয়ান সময়ের এক বছর) প্রায় ১২ পৃথিবী বছরে (৪,৩৩৩ পৃথিবী দিন) পূর্ণ করে।

উৎস: NASA.

১,৬৫২.
সেমিকন্ডাক্টর চিপের সর্ববৃহৎ উৎপাদনকারি দেশ কোনটি?
  1. দ. কোরিয়া
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. জার্মানি
  4. তাইওয়ান
  5. ফিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা
• বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টর চিপের সর্ববৃহৎ উৎপাদনকারী দেশ হলো তাইওয়ান।
- তাইওয়ানের TSMC (Taiwan Semiconductor Manufacturing Company) বিশ্বের সবচেয়ে বড় সেমিকন্ডাক্টর ফাউন্ড্রি, যা বিশ্বের প্রায় 60% উন্নত চিপ উৎপাদন করে।
- Apple, AMD, NVIDIA সহ বড় টেক কোম্পানিগুলোর জন্য চিপ তৈরি করে থাকে TSMC.
- 3nm থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাইজের চিপ উৎপাদনে সক্ষম TSMC।

অন্যদিকে,
- দ. কোরিয়া, Samsung এর মাধ্যমে একটি বৃহৎ উৎপাদনকারী দেশ।
- যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ সেমিকন্ডাক্টর চিপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান Intel প্রধানত নিজেদের চিপ উৎপাদন করে।
- জার্মানি ও ফিনল্যান্ড তুলনামূলকভাবে ছোট স্কেলে উৎপাদন করে।

উৎস: 
১. TSMC-এর বার্ষিক রিপোর্ট।
২. Semiconductor Industry Association-এর রিপোর্ট।
৩. INDEPENDENT নিউজ রিপোর্ট। [লিঙ্ক]
১,৬৫৩.
কোন গ্যাস গ্রীনহাউস প্রভাবের জন্য প্রধানত দায়ী?
  1. নাইট্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. হিলিয়াম
ব্যাখ্যা

• গ্রীনহাউস প্রভাব হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের তাপ আটকে রাখে। কার্বন ডাই-অক্সাইড হলো সর্বাধিক প্রভাবশালী মানবসৃষ্ট গ্রীনহাউস গ্যাস।

• গ্রীনহাউস প্রভাব কী?
- গ্রীনহাউস প্রভাব হলো বায়ুমণ্ডলের নির্দিষ্ট কিছু গ্যাসের এমন ক্ষমতা, যা সূর্যের বিকিরিত তাপ পৃথিবীর পৃষ্ঠে ধরে রাখে।
- এই গ্যাসগুলো পৃথিবীকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে, ফলে জীবনধারণ সম্ভব হয়।
- কিন্তু যখন এসব গ্যাসের পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়ে যায়, তখন পৃথিবীর তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে, যা ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ নামে পরিচিত।

• গ্রীনহাউস গ্যাসে CO2 প্রভাব:
- শিল্পায়ন, যানবাহনের জ্বালানি পোড়ানো, বিদ্যুৎ উৎপাদন, বন উজাড়, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে CO2 এর পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- CO2 বায়ুমণ্ডলের এমন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তাপ শোষণ করে যা পৃথিবী থেকে মহাশূন্যে ফিরে যাওয়ার কথা।
- ফলে তাপ আটকে যায় এবং পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ে।
- বর্তমানে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রায় ৭৫% মানুষের তৈরি গ্রীনহাউস প্রভাবের জন্য CO2 একাই দায়ী।

- যদিও মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ও জলীয় বাষ্পও গ্রীনহাউস গ্যাস, তবু প্রধান অবদানকারী গ্যাস হলো CO2

তথ্যসূত্র:
- NCTB সাধারণ বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি।
- Britannica [লিংক]।

১,৬৫৪.
জেমস্ ওয়েব টেলিস্কোপ কোন ধরনের রেডিয়েশন ব্যবহার করে?
  1. Ultra-violet
  2. Infrared
  3. Visible
  4. X-ray
ব্যাখ্যা
• জেমস্ ওয়েব টেলিস্কোপ Infrared রেডিয়েশন ব্যবহার করে। 
 
জেমস্ ওয়েব টেলিস্কোপ: 
- বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচাইতে শক্তিশালী টেলিস্কোপ বা দূরবীক্ষণ যন্ত্রের একটি হচ্ছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। 
- নাসার দূরবীক্ষণ যন্ত্র জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি বা জুপিটারের কিছু বিস্ময়কর ছবি তুলেছে। 
- এসব ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বৃহস্পতি গ্রহের অরোরা বা বর্ণচ্ছটা, দানবীয় ঝড়, বৃহস্পতির চাঁদ এবং গ্রহটিকে ঘিরে থাকা বলয়। 
- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ একটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ অভিযান প্রকল্প।
- মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার নেতৃত্বে এটির অন্যান্য অংশীদার হচ্ছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি। 
- এটা ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে উৎক্ষেপণ করা হয়।
- এটি এখন পৃথিবী থেকে ১৬ লাখ (ষোল লাখ) কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে। 
- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের প্রথম পূর্ণাঙ্গ রঙিন ছবি প্রকাশ করা হয় ২০২২ সালের ১২ই জুলাই। 
- বলা হয় এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তারিত "অবলোহিত (ইনফ্রারেড)" চিত্র এটি যাতে এমন সব ছায়াপথ দেখা যাচ্ছে, যেখান থেকে পৃথিবী পর্যন্ত আলো পৌঁছাতে বিলিয়ন বিলিয়ন বছর সময় লাগে। 
- তখন থেকেই মহাবিশ্বের নিত্যনতুন দৃশ্য দেখে আসছে হাবল টেলিস্কোপের এই উত্তরসূরী। 
- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে তোলা এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে ক্যারিনা নেবুলা নিহারীকার নক্ষত্রপুঞ্জ এবং কিছু তারকা। 
- ক্যারিনা নেবুলা মহাকাশের বৃহত্তম এবং উজ্জ্বলতম নিহারীকাগুলোর একটি। 
- এটির অবস্থান পৃথিবী থেকে কম বেশি ৭ হাজার ৬শ আলোকবর্ষ দূরে। 

উৎস: NASA [লিঙ্ক], BBC NEWS বাংলা, ২৪ আগস্ট, ২০২২ [লিঙ্ক] এবং ব্রিটানিকা। 
১,৬৫৫.
জার্মান ভূগোলবিদ কার্ল রিটার ভূগোলকে কী বলেছেন? 
  1. পৃথিবীর বিবরণ
  2. পৃথিবীর বিজ্ঞান
  3. পৃথিবীর চিত্র
  4. পৃথিবীর ইতিহাস
ব্যাখ্যা

• ভূগোলের ধারণা (Concept of Geography):
- মানুষের আবাসভূমি হিসেবে পৃথিবীর বর্ণনা হলো ভূগোল।
- ইংরেজি 'Geography' শব্দটি থেকে ভূগোল শব্দ এসেছে।
- প্রাচীন গ্রিসের ভূগোলবিদ ইরাটোসথেনিস প্রথম 'Geography' শব্দ ব্যবহার করেন।
- 'Geo' ও 'graphy' শব্দ দু'টি মিলে হয়েছে 'Geography' 'Geo' শব্দের অর্থ 'ভূ' বা পৃথিবী এবং 'graphy' শব্দের অর্থ বর্ণনা।
- সুতরাং 'Geography' শব্দটির অর্থ পৃথিবীর বর্ণনা।
- জার্মান ভূগোলবিদ কার্ল রিটার (Professor Carl Ritter) ভূগোলকে বলেছেন পৃথিবীর বিজ্ঞান।
- বৃটিশ ভূগোলবিদ ডাডলি স্ট্যাম্পের (Professor L. Dudley Stamp)মতে, পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের বর্ণনাই হলো ভূগোল।
 কোনো কোনো ভূগোলবিদ ভূগোলকে বলেছেন পৃথিবীর বিবরণ,কেউ বলেছেন পৃথিবীর বিজ্ঞান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

১,৬৫৬.
বায়োইনফরমেটিক্সের প্রথম বড় সাফল্য কোনটি?
  1. ডিএনএ ক্লোনিং
  2. ক্যান্সার নিরাময়
  3. প্রোটিন সংশ্লেষণ 
  4. মানব জিনোম সিকোয়েন্সিং
ব্যাখ্যা

- মানব জিনোম সিকোয়েন্সিং বায়োইনফরমেটিক্সের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। হিউম্যান জিনোম প্রজেক্ট (HGP) ছিল একটি বিশাল আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা, যা জীববিজ্ঞানের বিশাল পরিমাণ ডেটা তৈরি করেছিল, এবং এই ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, এবং সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করার জন্যই বায়োইনফরমেটিক্স প্রযুক্তির প্রয়োজন বিশেষভাবে অনুভূত হয় এবং এর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় 

বায়োইনফরমেটিক্স (Bioinformatics): 

- বায়োইনফরমেটিক্স একটি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় শাখা, যা জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত এবং পরিসংখ্যানের সমন্বয়ে গঠিত। এটির উদ্দেশ্য হলো বিশাল পরিমাণ জীববৈজ্ঞানিক ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণ করা।
- বায়োইনফরমেটিক্সের প্রথম বড় সাফল্য ছিলো মানব জিনোম সিকোয়েন্সিং, যা ১৩ বছর পর অনলাইনে প্রকাশিত হয় এবং বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের জন্য সহজলভ্য হয়। এই শাখাটি ক্যান্সার গবেষণা এবং প্রোটিন গঠন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কাজেও অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে, বায়োইনফরমেটিক্স ব্যক্তিগত চিকিৎসা ও ওষুধের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
- সাধারণত নিচের চারটি ভিন্ন ভিন্ন শাখার উপাদান ও কৌশলের সমন্বয়ে বায়োইনফরমেটিক্স পদ্ধতি কাজ করে থাকে। 
যেমন- 
১. আণবিক জীববিদ্যা ও মেডিসিন: ডেটা উৎস বিশ্লেষণের কাজ করে। 
২. ডেটাবেজ: নিরাপদ ডেটা সংরক্ষণ ও ডেটা রিট্রিভ (Retrive) করা। 
৩. প্রোগ্রাম: উপাত্ত বিশ্লেষণ অ্যালগরিদম যার মাধ্যমে বায়োইনফরমেটিক্স কঠোরভাবে সুনির্দিষ্ট করা হয়। 
৪. গণিত ও পরিসংখ্যান: এর সাহায্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। 

বায়োইনফরমেটিক্সের ব্যবহার: 
- মূলত জৈবিক পদ্ধতি বিশ্লেষণ সম্পর্কে সম্যক এবং সঠিক ধারণা অর্জন করার ক্ষেত্রে বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহৃত হয়। আর এই জৈবিক তথ্য হিসাব-নিকাশ এবং এ সম্পর্কিত যাবতীয় সমস্যার সমাধানে কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহারও অপরিহার্য। 
- তবে জিনোম সিকোয়েন্স, প্রোটিন সিকোয়েন্স ইত্যাদি গঠন উপাদানের ইলেকট্রনিক ডেটাবেজ গঠনে কম্পিউটার প্রযুক্তি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়।এছাড়াও মলিকুলার মেডিসিন, জিনথেরাপি, ওষুধ তৈরিতে, বর্জ্য পরিষ্কারকরণে, জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণায়, বিকল্প শক্তির উৎস সন্ধানে, জীবাণু অস্ত্র তৈরিতে, ডিএনএ ম্যাপিং ও অ্যানালাইসিস, জিন ফাইন্ডিং, প্রোটিনের মিথষ্ক্রিয়া পর্যবেক্ষণে বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১,৬৫৭.
‘সিএফসি’ কী ক্ষতি করে?
  1. ওজোন স্তর ধ্বংস করে
  2. বায়ুর তাপ বৃদ্ধি করে
  3. এসিড বৃষ্টিপাত ঘটায়
  4. রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা হ্রাস করে
ব্যাখ্যা
CFC গ্যাস: 
-  CFC গ্যাস হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বন। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে কিন্তু এর মধ্যে ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (সিএফসি) গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে। 
- সিএফসি এর মধ্যে CFC12 এবং CFC13 সর্বাধিক ক্ষতিকর। 
- CFC12 এবং CFC13 এর কার্বন যৌগপ্তলো জায়মান দশায় ক্লোরিন উৎপাদন করে। 
- উৎপন্ন ক্লোরিন ওজোনের সাথে বিক্রিয়া করে ওজোনের অণু ধ্বংস করে।
- এক লক্ষ ওজোনের অণু ধ্বংসের জন্য একটি ক্লোরিনের অণুই যথেষ্ট।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৫৮.
রেকটিফায়ার নিচের কোন কাজটি করে?
  1. ক) Direct current কে Alternating current এ রূপান্তর।
  2. খ) Alternating current কে Direct current এ রূপান্তর।
  3. গ) Input এর প্রদত্ত সংকেতকে Output এ বিবর্ধন।
  4. ঘ) উপরের সবগুলো।
ব্যাখ্যা
- ব্যাটারি বা শুষ্ক কোষ হলো ডিসি প্রবাহের প্রধান উৎস। কিন্তু এদের ভোল্টেজ বেশ কম এবং এগুলো প্রায়ই পরিবর্তন করতে হয় বলে বেশ ব্যয়বহুল। 

- অর্থাৎ ব্যাটারি দ্বারা আমাদের সব প্রয়োজন মিটানো সম্বব নয়। তাই আমাদের প্রয়োজন বৈদ্যুতিক সরবরাহ লাইনের দিক পরিবর্তী তথা এসি ভোল্টেজকে একমুখী তথা ডিসি ভোল্টেজ রূপান্তরিত করা।
 
- যে প্রক্রিয়ায় এই রূপান্তরের কাজটি সম্পন্ন করা হয় তাকে বলে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণ।
- যে প্রক্রিয়ায় পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating current) বা ভোল্টেজকে একমুখী প্রবাহ ((Direct current-) বা ভোল্টেজে রূপান্তর করা হয় তাকে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণ বলে।
- একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে রেফটিফায়ার বলে।
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৬৫৯.
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে পৃথিবীর অবস্থান কোথায়?
  1. সেগিতারিয়াস বাহু
  2. ওরিয়ন-সিগনাস বাহু
  3. পারসেউস বাহু
  4. কারিনা বাহু
ব্যাখ্যা

• পৃথিবী (Earth):
- পৃথিবী আমাদের বাসভূমি।
- এটি সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার।
- পৃথিবী একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।
- তাই এখানে ৩৬৫ দিনে এক বছর। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।
- পৃথিবী মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি এর ওরিয়ন-সিগনাস বাহুতে অবস্থিত, যা মিল্কিওয়ের চারটি সর্পিল বাহুর মধ্যে একটি , যা গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দূরে অবস্থিত।
- পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমন্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী।
- সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে।

উৎস: NASA, ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

১,৬৬০.
এক্স-রে এর একক হলো-
  1. ক) ব্যাকেরেল
  2. খ) নিউটন
  3. গ) রনজেন
  4. ঘ) ভােল্ট
ব্যাখ্যা

এক্স-রে বিকিরণ পরিমাপ করার জন্য যে একক ব্যবহার করা হয় তাকে রনজেন বলা হয়। এক রনজেন বলতে আমরা সেই পরিমাণ এক্স-রে বিকিরণ বুঝি যা সাধারণ চাপ এবং তাপমাত্রায় 1x 10-3 m বায়ুতে 3.33 x 10-10C চার্জের সমান চার্জ উৎপন্ন করতে পারে।
জানার বিষয় :
১) কোমল এক্স-রে এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি, ভেদনক্ষমতা অত্যন্ত কম।
২) কঠিন এক্স-রে এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম, ভেদনক্ষমতা অত্যন্ত বেশি।
(উৎসঃ  ১১-১২শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)

১,৬৬১.
রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত নিম্নের কোন যন্ত্রটির তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি নেই?
  1. সিটিস্ক্যান
  2. এমআরআই
  3. এক্স-রে
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
- এমআরআই যন্ত্রটি দেখতে সিটিস্ক্যান যন্ত্রের মতো কিন্তু এর কার্যপ্রণালি সম্পূর্ণ ভিন্ন। 
- সিটিস্ক্যান যন্ত্রে এক্স-রে পাঠিয়ে প্রতিচ্ছৰি নেওয়া হয়, এমআরআই যন্ত্রে একজন রোগীকে অনেক শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্রে রেখে তার শরীরে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ দেওয়া হয়। 
- শরীরের পানির অণুর ভেতরকার হাইড্রোজেনের প্রোটন থেকে ফিরে আসা সংকেতকে কম্পিউটার দিয়ে বিশ্লেষণ করে শরীরের ভেতরকার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়।
- এম আর আই করার যন্ত্র সিটিস্ক্যান দিয়ে যা কিছু করা সম্ভব, এমআরআই দিয়েও সেগুলো করা সম্ভব। 
- তবে এমআরআই দিয়ে শরীরের ভেতরকার কোমল টিস্যুর ভেতরকার পার্থক্যগুলো ভালো করে বোঝা সম্ভব। 
- সিটিস্ক্যান করতে পাঁচ থেকে দশ মিনিটের বেশি সময়ের দরকার হয় না, সেই তুলনায় এমআরআই করতে একটু বেশি সময় নেয়। 
- সিটিস্ক্যানে এক্স-রে ব্যবহার করা হয় বলে যত কমই হোক তেজস্ক্রিয়তার একটু ঝুঁকি থাকে এমআরআইয়ে সেই ঝুঁকি নেই।
 
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান বোর্ড বই। 
১,৬৬২.
পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ‘থ্রি আর’ (3R) কী বোঝায়?
  1. Reduce, Reuse, Recycle
  2. Restore, Remove, Rotate
  3. Raise, Return, Replant
  4. Repair, Renew, Reconnect
ব্যাখ্যা
থ্রি আর (3R) বলতে বোঝায় —
-  Reduce (হ্রাস করো)
-  Reuse (পুনঃব্যবহার করো)
- Recycle (পুনঃচক্রায়ন করো)

• এগুলো পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সর্বাধিক ব্যবহৃত একটি টেকসই পরিবেশনীতি বা sustainable environmental strategy, যা মানুষের উৎপাদন ও ব্যবহার-সংক্রান্ত অভ্যাসকে সচেতন ও পরিবেশবান্ধব করতে সাহায্য করে।

3R এর উদ্দেশ্য- 
- Reduce
→ অপচয় হ্রাস করো।
→ অপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবহার কমাও।
 উদাহরণ: প্লাস্টিক ব্যাগের পরিবর্তে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার।

- Reuse
→ কোনো বস্তু বারবার ব্যবহার করো।
 উদাহরণ: কাচের বোতল বা কৌটা আবার ব্যবহার করা।

- Recycle
→ পুরাতন বস্তু পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে নতুনভাবে ব্যবহার করো।
 উদাহরণ: পুরাতন কাগজ দিয়ে নতুন কাগজ তৈরি। 

তথ্যসূত্র:
- United Nations Environment Programme (UNEP).
১,৬৬৩.
সবচেয়ে স্পষ্ট ও দর্শনীয় বলয় রয়েছে কোন গ্রহের?
  1. ক) বুধ
  2. খ) বৃহস্পতি
  3. গ) শনি
  4. ঘ) পৃথিবী
ব্যাখ্যা
শনি গ্রহ:

- সবচেয়ে স্পষ্ট ও দর্শনীয় বলয় রয়েছে শনি গ্রহের।
- শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- সূর্য থেকে শনি গ্রহের দূরত্ব প্রায় ১৪৩ কোটি কিলোমিটার।
- এটি গ্যাসের তৈরি একটি বিশাল গোলক।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম।
১,৬৬৪.
কোনো স্থানে সময় যখন শনিবার সকাল ৯টা তখন এর ১৮০ ডিগ্রী পূর্বদিকে অবস্থিত স্থানের সময় হবে-
  1. ক) শনিবার রাত্রি ৯টা
  2. খ) শনিবার দুপুর ৩টা
  3. গ) শুক্রবার রাত্রি ৯টা
  4. ঘ) শনিবার ভোর ৩টা
ব্যাখ্যা

পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
∴ ১৮০ ডিগ্রি = ১৮০ X ৪ = ৭২০ মিনিট = ১২ ঘন্টা।
কোন স্থান থেকে পশ্চিমে গেলে সময় কমবে আর পূর্বে গেলে সময় বাড়বে।
কোন স্থানে সময় যখন শনিবার সকাল ৯ টা তখন-
১) ১৮০ ডিগ্রি পশ্চিমে সময় হবে শুক্রবার রাত্রি ৯ টা।
এবং ২) ১৮০ ডিগ্রি পূর্বে সময় হবে শনিবার রাত্রি ৯ টা।

১,৬৬৫.
সামুদ্রিক মাছে কোনটি বেশি পাওয়া যায়?
  1. আয়োডিন
  2. ফসফরাস
  3. ক্যালসিয়াম
  4. পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
- খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়াম, লৌহ ও আয়োডিন উল্লেখযোগ্য।
- দুধ, পনির, ছোট মাছের কাঁটা, কলমী শাক ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।
- কলিজা, ডিম, মাংস ইত্যাদিতে লৌহ এবং লবণ, সামুদ্রিক শৈবাল ও সামুদ্রিক মাছে আয়োডিন পাওয়া যায়।
- এ সমস্ত উপাদান দেহের বৃদ্ধির কাজে সাহাজ্য করে।
- আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়।
- লৌহের অভাবে রক্তশূণ্যতা দেখা দেয়।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৬৬.
গ্রীনিচ মানমন্দির অবস্থিত-
  1. যুক্তরাজ্য
  2. যুক্তরাষ্ট্রে
  3. ফ্রান্সে
  4. জার্মানিতে
ব্যাখ্যা
• গ্রীনিচ মানমন্দির:
- গ্রীনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গেছে।
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয়।
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়।
- গ্রীনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

- যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের সময় অপেক্ষা বাংলাদেশের সময় ৬ ঘন্টা বেশি।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০×৪=৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং গ্রীনিচ মানমন্দির ওয়েবসাইট।
১,৬৬৭.
সুনামি সংগঠিত হওয়ার কারণ কোনটি?
  1. ক) জোয়ার ভাটা
  2. খ) আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  3. গ) সমুদ্রের ঢেউ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুনামি অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। সমুদ্রতলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধ্বস এবং নভোজাগতিক ঘটনা সুনামির সৃষ্টি করতে পারে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল বই
১,৬৬৮.
পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্রের নাম কী?
  1. হাইগ্রোমিটার
  2. ব্যারোমিটার
  3. গ্রাভিমিটার
  4. ম্যানোমিটার
ব্যাখ্যা
- বাতাসের আদ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম হাইগ্রোমিটার।
- বায়ুচাপ মাপার যন্ত্র ব্যারোমিটার।
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র হলো গ্রাভিমিটার।
- চাপ পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র হলো ম্যানোমিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৬৬৯.
থিওরী অব রিলেটিভিটি এর প্রবক্তা কে?
  1. ক) আইনস্টাইন
  2. খ) নিউটন
  3. গ) হাইজেনবার্গ
  4. ঘ) ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা
আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব Einstein's Theory of Relativity.
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিজ্ঞান জগতে এক নতুন যুগের সূচনা হয় । আর এ নতুন যুগের সূচনা করেন বিজ্ঞানী আইনস্টাইন তাঁর আপেক্ষিকতা তত্ত্ব প্রবর্তনের মাধ্যমে।

চিরায়ত বলবিজ্ঞানের মতে স্থান, কাল এবং ভর ধ্রুব।
আইনস্টাইন এগুলো সম্পর্কে চিরায়ত বলবিজ্ঞানের ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, স্থান, কাল এবং ভর এগুলো পরম কিছু নয়; এগুলো আপেক্ষিক। সুতরাং আইনস্টাইনের এ তত্ত্বকে বলা হয় আপেক্ষিকতা তত্ত্ব।

আপেক্ষিকতা তত্ত্বটি দুটো ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো:
(ক) আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব (Special theory of relativity) এবং
(খ) আপেক্ষিকতার সার্বিক তত্ত্ব (General theory of relativity)


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র; একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
(ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী)
১,৬৭০.
পাললিক শিলার উদাহরণ কোনটি?
  1. ল্যাকোলিথ
  2. মার্বেল
  3. চুনাপাথর
  4. গ্রানাইট
ব্যাখ্যা

• পাললিক শিলা (Sedimentary Rocks):
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তাকে পাললিক শিলা বলে।
যেমন: বেলেপাথর, কয়লা, শেল, চুনাপাথর, কাদাপাথর ও কেওলিন পাললিক শিলার।

• আগ্নেয় শিলা (Igneous Rocks) উদাহরণ- ব্যাসন্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট, গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ,।

• রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks)উদাহরণ- : মার্বেল, কোয়ার্টজাইট, স্লেট, নিস

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

১,৬৭১.
কন্টিনেন্টাল ড্রিফট তত্ত্ব অনুসারে প্রাচীনকালে পৃথিবীর সমস্ত মহাদেশ মিলিত হয়ে একটি মহাদেশ গঠন করেছিল, যার নাম ছিল-
  1. গন্ডোয়ানা
  2. ইউরেশিয়া
  3. প্যানজিয়া
  4. অ্যাবাকাস
ব্যাখ্যা
• টেকটোনিক প্লেট:
- টেকটোনিক প্লেট হচ্ছে পাথরের একটি স্তর যা পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত অংশটির সবচেয়ে বাইরের আবরণ।
- টেকটোনিক প্লেট এর উপরে পৃথিবীর সবকিছু অবস্থান করছে।
- ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে আবহাওয়াবিদ আলফ্রেড ওয়েগেনারের মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব বা কন্টিনেন্টাল ড্রিফট থেকে টেকটোনিক প্লেট ধারণার জন্ম হয়।
- মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব অনুসারে কোনো একসময় সবগুলো মহাদেশ মিলে একটি মহাদেশ ছিল যাকে প্যানজিয়া বলা হয়।
- এই মতবাদ অনুসারে ভূ-ত্বক প্রধানত ৭টি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত।
- প্লেটগুলো হলো:
• ইউরেশীয় প্লেট (Eurasian Plate),
• উত্তর আমেরিকান প্লেট (North American Plate),
• দক্ষিণ আমেরিকান প্লেট (South American Plate),
• আফ্রিকান প্লেট (African Plate),
• অ্যান্টার্কটিক প্লেট (Antarctic Plate),
• ভারত-অস্ট্রেলীয় প্লেট (Indo-Australian Plate) ও
• প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট (Pacific Plate)

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৬৭২.
ব্যান্ড তত্ত্বের আলোকে পদার্থকে কতটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
ব্যান্ড তত্ত্বের আলোকে পদার্থকে তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। অপরিবাহী, অর্ধপরিবাহী এবং অন্তরক।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৬৭৩.
ফোটন কণার প্রথম ধারণা পাওয়া যায় আইনস্টাইনের কোন তত্ত্বে?
  1. ক) স্পেসাল থিউরি অফ রিলেটিভিটি
  2. খ) জেনেরাল থিউরি অফ রিলেটিভিটি
  3. গ) ফটো ইলেক্ট্রিক ইফেক্ট
  4. ঘ) কোয়ান্টাম থিউরি
ব্যাখ্যা

ফোটন কণার ধারনাটি প্রথম পাওয়া যায় ১৯০৫ সালে যখন আইন্সটাইন ফটো ইলেক্ট্রিক ইফেক্টের ব্যাখ্যা দেন।
সোর্সঃ ব্রিটানিকা।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র (HSC Programm), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৭৪.
নদীর একপাশ থেকে গুণ টেনে নৌকাকে মাঝ নদীতে রেখেই সামনের দিকে নেয়া সম্ভব হয় কিভাবে?
  1. ক) যথাযথভাবে হাল ঘুরিয়ে
  2. খ) নদী স্রোতের সুকৌশল ব্যবহারে
  3. গ) গুণ টানার সময় টানটি সামনের দিকে রেখে
  4. ঘ) পাল ব্যবহার করে
ব্যাখ্যা
বলের অনুভূমিক উপাংশ নৌকাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং উল্লম্ব উপাংশ নৌকাটিকে পাড়ের দিকে টানে। কিন্তু নৌকার হাল দ্বারা উল্লম্ব উপাংশ প্রতিহত করা হয়। গুণ যত লম্বা হয়, নৌকা তত তাড়াতাড়ি নৌকা সামনে এগিয়ে যায়।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৬৭৫.
বায়ুমন্ডলে যে স্তরে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়-
  1. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  2. ট্রাপোস্ফিয়ার
  3. আয়োনোস্ফিয়ার
  4. ওজোন স্তর
ব্যাখ্যা
• তাপমণ্ডল:
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে ৮০ কিলোমিটার ঊর্ধ্বসীমা থেকে অর্থাৎ মেসোবিরতি থেকে তাপমন্ডলের শুরু।
- এ স্তরের উপরের সীমা ৫০০ কি.মি পর্যন্ত।
- এখানে বায়ুমন্ডল অত্যন্ত হালকা এবং বায়ুচাপ ক্ষীণ।
- তাপমন্ডলের ১০০ থেকে ৩০০ কি.মি উচ্চতায় অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন পরমাণু অত্যন্ত ছোট তরঙ্গমাপের সৌরশক্তি শোষণ করায় উষ্ণতা প্রায় ১০০০° সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
- তাপমন্ডলে আয়নিত এ অংশ আয়নমন্ডল (Ionosphere) নামে পরিচিত।
- আয়নমন্ডল মূলত মেসোমন্ডলের ঊর্ধ্বাংশ থেকে তাপমন্ডলের নিম্নাংশ (৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার) পর্যন্ত সম্প্রসারিত।
- আয়নমন্ডলে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৭৬.
বায়ুমণ্ডলের আর্গনের শতকরা অংশ কত? 
  1. o.৮০ 
  2. ০.০৩ 
  3. ০.৪১ 
  4. ০.০০০১
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল। 
- বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere; বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর অপরিহার্য অংশ। 
- বায়ুমণ্ডল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে পৃথিবীর গায়ের সাথে লেগে থাকে এবং আবর্তন করে। তবে বায়ু কঠিন ভূমির সাথে সমানভাবে চলতে না পারায় সামান্য পশ্চাতে পড়ে থাকে।

বায়ুমণ্ডলের উপাদানের পরিমাণ: 
উপাদানের নাম ⇒ শতকরা অংশ: 
• নাইট্রোজেন ⇒ ৭৮.০২, 
• অক্সিজেন ⇒ ২০.৭১, 
আর্গন ⇒ o.৮০
• কার্বন ডাই-অক্সাইড ⇒ ০.০৩, 
• ওজোন ⇒ ০.০০০১, 
• অন্যান্য গ্যাস ⇒ ০.০১৯৯, 
• জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১ এবং 
• ধূলিকণা ও কনিক্স ⇒ ০.০১। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৭৭.
স্টারশিপ রকেটের জন্য কোন মহাকাশ কোম্পানি প্রথমবারের মত "capture on return" মাইলফলক অর্জন করেছে?
  1. NASA
  2. Blue Origin
  3. Virgin Galactic
  4. SpaceX
ব্যাখ্যা
১. SpaceX:
- এটি ইলন মাস্ক দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি বেসরকারি মহাকাশ কোম্পানি।
- সম্প্রতি (অক্টোবর, ২০২৪) স্টারশিপ রকেটের একটি অংশ সফলভাবে তার লঞ্চ প্যাডে ফেরার সময় ধরা পড়েছে, যা একটি নতুন মাইলফলক।

২. NASA:
- যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মহাকাশ সংস্থা, কিন্তু তাদের স্টারশিপ রকেটের সাথে সরাসরি সম্পর্ক নেই।
- তারা বিভিন্ন মহাকাশ মিশনে কাজ করে, কিন্তু এই বিশেষ মাইলফলকে নেই।

৩. Blue Origin:
- জেফ বেজোস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি মহাকাশ কোম্পানি, যা রকেট উৎক্ষেপণ এবং মহাকাশ পর্যটন নিয়ে কাজ করে।
- তারা এই মাইলফলক অর্জন করেনি, বরং তাদের নিজস্ব প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে।

৪. Virgin Galactic:
- রিচার্ড ব্র্যানসনের প্রতিষ্ঠিত একটি কোম্পানি, যা মহাকাশ পর্যটন নিয়ে কাজ করছে।
- তাদের লক্ষ্য মহাকাশে পর্যটন সেবা প্রদান করা, কিন্তু তারা স্টারশিপ রকেটের সাথে সম্পর্কিত নয়।

সারসংক্ষেপ:
- SpaceX একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছে যেখানে তাদের স্টারশিপ রকেটের একটি অংশ সফলভাবে লঞ্চ প্যাডে ফেরার সময় ধরা পড়ে। অন্যান্য কোম্পানিগুলি এই অর্জনে ভূমিকা রাখেনি।

সূত্র: BBC [লিংক]
১,৬৭৮.
দুটি স্থানের মধ্যে দ্রাঘিমাংশের পার্থক্য ৯০ ডিগ্রি হলে সময়ের পার্থক্য কত?
  1. ক) ৪ মিনিট
  2. খ) ৪ ঘন্টা
  3. গ) ৫ ঘন্টা
  4. ঘ) ৬ ঘন্টা
ব্যাখ্যা

পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে। সেজন্যেই বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০×৪=৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।
(সূত্রঃ মাধ্যমিক ভূগোল)

১,৬৭৯.
'Imagination is more important than knowledge' বলেছেন-
  1. ক) উইনস্টন চার্চিল
  2. খ) আইনস্টাইন
  3. গ) চার্লস ডারউইন
  4. ঘ) এরিস্টোটল
ব্যাখ্যা
জার্মান বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বিশ্বাস করতেন, 'Imagination is more important than knowledge' অর্থাৎ কল্পনাশক্তি জ্ঞান অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। উৎস: আইনস্টাইন বিখ্যাত উক্তি সমূহ।
১,৬৮০.
বিবর্তন শব্দটি এসেছে -
  1. ক) Evolveri থেকে
  2. খ) Evolver থেকে
  3. গ) Evolvers থেকে
  4. ঘ) Evolution থেকে
ব্যাখ্যা
- সময়ের সাথে কোন জীবের পরিবর্তনের ফলে নতুন কোন প্রজাতি সৃষ্টি হলে তাকে জৈব বিবর্তন বলে। 
- ইংরেজ দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ হার্বার্ট স্পেন্সার প্রথম ইভোলিউশন কথাটি ব্যবহার করেন।
- Evolution অর্থ বিবর্তন বা অভিব্যক্তি। 
 -বিবর্তন শব্দটি এসেছে Evolveri থেকে।

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
১,৬৮১.
সর্বপ্রথম পারমাণবিক সংখ্যা নির্ণয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন কে? 
  1. মোসলে 
  2. রাদারফোর্ড 
  3. থমসন
  4. চ্যাডউইক 
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক সংখ্যা: 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটনের অবস্থান। 
- কোনো একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যত সংখ্যক প্রোটন থাকে, প্রোটনের সেই সর্বমোট সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে। 
- একে 'Z' দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী মোসলে সর্বপ্রথম পারমাণবিক সংখ্যা নির্ণয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। 
- অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা, Z = ৮। 
সুতরাং, অক্সিজেন নিউক্লিয়াসে ৮টি প্রোটন আছে। 
- পারমাণবিক সংখ্যা প্রোটন সংখ্যার সমান।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৮২.
ভুমিকম্পের উৎসস্থল কে কি বলা হয়?
  1. ক) ফাটল
  2. খ) ভুকম্পন তরঙ্গ
  3. গ) উপকেন্দ্র
  4. ঘ) কম্পকেন্দ্র
ব্যাখ্যা
ভূ-আলোড়নের সময়ে বা অন্যকোন কারণে ভূপৃষ্ঠের কিছু অংশ ক্ষণিকের জন্য কেঁপে উঠলে, তখন তাকে ভূ-কম্পন বলে।
ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র বলে। 
কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূপৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে, তাকে উপকেন্দ্র বলে।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৬৮৩.
নিচের কোনটি তেজস্ক্রিয় মৌল নয়?
  1. ক্যালিফোর্নিয়াম
  2. কুরিয়াম
  3. ফ্র্যান্সিয়াম
  4. জিরকোনিয়াম
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় পদার্থ:
- ভারি মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- সাধারণত যে সকল মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২ এর বেশি সেই সকল পরমাণু তেজস্ক্রিয়তা প্রদর্শন করে।
- তবে ৮২ থেকে কম পারমাণবিক সংখ্যা বিশিষ্ট কিছু মৌলের আইসোটোপের ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তা পরিলক্ষিত হয়।
……………….
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকেরেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- তেজস্ক্রিয়তার এসআই লব্ধ একক হলো বেকেরেল (Bq), যা আবিষ্কারকের নামানুসারে করা হয়।

কয়েকটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ হল:
- রেডন (Rn) - (পারমাণবিক সংখ্যা ৮৬),
- ফ্র্যান্সিয়াম (Fr) - (পারমাণবিক সংখ্যা ৮৭),
- রেডিয়াম (Ra) - (পারমাণবিক সংখ্যা ৮৮),
- থোরিয়াম (Th) - (পারমাণবিক সংখ্যা ৯০),
- ইউরেনিয়াম (U) - (পারমাণবিক সংখ্যা ৯২),
- কুরিয়াম (Cm) - (পারমাণবিক সংখ্যা ৯৬) - মেরি কুরি ও পিয়েরে কুরির নাম অনুযায়ী নামকরণ
- ক্যালিফোর্নিয়াম (Cf) - (পারমাণবিক সংখ্যা ৯৮) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- জিরকোনিয়াম (Zr) এর পারমাণবিক সংখ্যা ৪০ যা ৮২ থেকে কম তাই এটি তেজস্ক্রিয় মৌল নয়

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য:
বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায় -
(১) তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও অবিরাম ঘটনা । তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
(২) তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
(৩) তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তিস্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
(৪) উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণিদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস:
১) বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৮৪.
বাতাসের অক্সিজেনের শতকরা হার কত?
  1. ৭৬%
  2. 8%
  3. .০০২%
  4. ২১%
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডল: 
- ভূ-পৃষ্ঠের চারপাশ যে বায়বীয় আবরণ দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে তাকেই সহজ ভাষায় বলা হয় বায়ুমণ্ডল। 
- বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি। 

বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানসমূহ:
- নাইট্রোজেন : ৭৮.০২ শতাংশ, 
- অক্সিজেন : ২০.৭১ শতাংশ (প্রায় ২১%)
- আরগন : ০.৮০ শতাংশ, 
- জলীয়বাষ্প ০.৪১ শতাংশ, 
- কার্বন ডাই-অক্সাইড ০.০৩ শতাংশ, 
- অন্যান্য গ্যাস ০.০২ শতাংশ, 
- ধূলিকণা ও কণিকা ০.০১ শতাংশ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৮৫.
নিচের কোনটি ভূমিকম্পের প্রভাব বা ফলাফল নয়?
  1. তাপমাত্রা বৃদ্ধি
  2. ফাটল ও চ্যুতির সৃষ্টি
  3. সমুদ্রতলের পরিবর্তন
  4. নদীর গতিপথ পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
• ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ শক্তির কারণে সৃষ্ট হয় এবং এটি বিভিন্ন ধরনের প্রভাব ফেলে। ভূমিকম্পের ফলে মাটিতে ফাটল ও চ্যুতি সৃষ্টি হয়, যা ভবন ধ্বংস, রাস্তা ভাঙন ইত্যাদি ঘটায়। এছাড়া, সমুদ্রতলে পরিবর্তন হয়ে সুনামি সৃষ্টি হতে পারে এবং নদীর গতিপথও পরিবর্তিত হতে পারে। তবে, ভূমিকম্পের কারণে সরাসরি তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঘটে না। তাপমাত্রা পরিবর্তনের সঙ্গে ভূমিকম্পের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তাই উল্লিখিত বিকল্পগুলোর মধ্যে “ক) তাপমাত্রা বৃদ্ধি” ভূমিকম্পের একটি প্রভাব বা ফলাফল নয়।

• ভূমিকম্পের ফলাফল ও প্রভাব (Results and Effects of Earthquake):
• ফাটল ও চ্যুতির সৃষ্টি:
- ভূমিকম্পের দরুন ভূ-ত্বকে অসংখ্য ফাটল ও চ্যুতির সৃষ্টি হয়।
- ভূ-ত্বকে চ্যুতি সৃষ্টির ফলে চ্যুতির মধ্যবর্তী ভূ-ভাগ নিচের দিকে নেমে যায়, যাকে স্রস্ত উপত্যকা (Rift Valley) বলে এবং যখন উপরের দিকে ওঠে যায় তখন তাকে হর্স্ট (Horst) বা স্তূপ পর্বত বলে।

• সমুদ্রতলের পরিবর্তন:
- ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্রতলের অনেক স্থান ওপরে উত্থিত হয় এবং স্থলভাগের অনেক স্থান সমুদ্রতলে ডুবে যায়।
যেমন- ১৯২১ সালের ভূমিকম্পের ফলে টোকিও উপসাগরের তলদেশ ৬০ মিটার উঁচু হয়।
- এছাড়া সমুদ্রগর্ভ হতে হিমালয় পর্বত উত্থিত হয়েছে।
- অপরদিকে ১৮৯৯ সালে ভারতে কচ্ছ উপসাগরের ৫০০০ বর্গকিলোমিটার স্থান সমুদ্রগর্ভে নিমজ্জিত হয়।

• নদীর গতিপথ পরিবর্তন:
- ভূমিকম্পের ফলে নদীর গতি পরিবর্তিত হয়, নদী শুঁকিয়ে যায় কখনও জলাভূমির সৃষ্টি হয়।
যেমন- ১৯৫০ সালে আসামের ভূমিকম্পে দিবং নদীর গতি পথ পরিবর্তিত হয়।
- এছাড়া ১৭৮৭ সালে ভারতের আসাম রাজ্যে যে ভূমিকম্প হয় তার ফলে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যায়।
- এজন্য ব্রহ্মপুত্র নদীটি তার গতিপথ পরিবর্তন করে বর্তমান যমুনা খাত দিয়ে প্রবাহিত হয়।

আরো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ফলাফল হলো:
- ভূমির উত্থান ও অবনমন;
- ভাঁজের সৃষ্টি;
- ভূ-পাত;
- বন্যার সৃষ্টি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৮৬.
কাচের গ্লাসে গরম পানি ঢাললে কাচের গ্লাসের কী হবে?
  1. ক) ফেটে যাবে
  2. খ) গলে যাবে
  3. গ) পুড়ে যাবে
  4. ঘ) উড়ে যাবে
ব্যাখ্যা
কাচের গ্লাসে গরম পানি ঢাললে তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে কোথাও প্রসারণ বেশি, কোথাও কম হওয়ার কারণে গ্লাস ফেটে যায়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৬৮৭.
ই-মেইল আবিষ্কারের পেছনে কাকে পাইওনিয়ার বা পুরোধা ব্যক্তি বলে ধারণা করা হয়?
  1. বিল গেটস
  2. স্টিভ জবস
  3. রে টমলিনসন
  4. ইলন মাস্ক
ব্যাখ্যা
- রে টমলিনসনকে ই-মেইল আবিষ্কারের পেছনে যে অ্যামেরিকানকে পাইওনিয়ার বা পুরোধা ব্যক্তি বলে ধারণা করা হয়। 
- তিনি ইলেকট্রনিক মেসেজ পাঠানোর প্রক্রিয়া প্রথম চালু করেন ১৯৭১ সালে ।
- সেসময় তিনি কাজ করতেন বোস্টনে, একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী হিসেবে।
- ইমেইলের ঠিকানায় আমরা যে অ্যাট (@) চিহ্নটা ব্যবহার করি তারও প্রচলন করেছিলেন এই রে টমলিনসন।

উৎস: বিবিসি বাংলা।
১,৬৮৮.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য কতটি? 
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: 
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অর্থ হলো, যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য: 
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য তিনটি। 
যেমন: 
(ক) দুর্যোগকালিন সময়ে জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো বা পরিমাণ হ্রাস করা। 
(খ) দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে দ্রুত প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছানো ও পূর্ণবাসন নিশ্চিত করা এবং
(গ) দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ সুষ্ঠুরূপে সম্পন্ন করা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৮৯.
নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে সর্বপ্রথম ধারণা দেন-
  1. ক) বোর
  2. খ) ডাল্টন
  3. গ) নিউটন
  4. ঘ) রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
১৯১১ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন। রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করা হয়েছে বলে এ মডেলটিকে সােলার সিস্টেম মডেল বা সৌর মডেল বলে। আবার, এ মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ধারণা দেন বলে এ মডেলটিকে নিউক্লিয়ার মডেলও বলা হয়। রাদারফোর্ডই সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে ধারণা দেন।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৯০.
বোসন কোন ধরনের কণা? 
  1. দুর্বল কণা
  2. জটিল কণা
  3. যৌগিক কণা
  4. মৌলিক কণা
ব্যাখ্যা
কণা: 
- কণাকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- মৌলিক কণা এবং যৌগিক কণা। 
- মৌলিক কণা হলো এমন কণা যার ভিতরে আর কোনও কণা নেই। 
- যৌগিক কণা হলো এমন কণা যা দুটি বা ততোধিক মৌলিক কণার সমন্বয়ে গঠিত। 

বোসন: 
- বোসন হল মৌলিক কণা যেগুলো পূর্ণসংখ্যার মান (0, 1, 2, ইত্যাদি) স্পিন করে। 
- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন। 
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি। 
- স্পিন হল কণার চৌম্বকীয় বৈশিষ্ট্যের একটি পরিমাপ। 
- স্পিন পূর্ণসংখ্যা থাকার কারণে, বোসনরা পাউলির বর্জন নীতি মেনে চলে না। 
- পাউলির বর্জন নীতি অনুসারে, একই শক্তিস্তরে একই কোয়ান্টাম সংখ্যা বিশিষ্ট দুটি কণা একই স্থান দখল করতে পারে না। 
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই। এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা। 
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দুই ধরনের। 
যথা: 
১। গেজ বোসন ও 
২। হিগস বোসন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৯১.
‘পার্কার সোলার প্রোব’ কী?
  1. নৌযান
  2. মহাকাশযান
  3. নতুন আবিষ্কৃত গ্রহ
  4. নতুন আবিষ্কৃত উপগ্রহ
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]
--------------------
→ ‘পার্কার সোলার প্রোব’ এক প্রকার মহাকাশযান।


পার্কার সোলার প্রোব:
- মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার তৈরি ‘পার্কার সোলার প্রোব’ নামের এই মহাকাশযান সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।
- ২০১৮ সালে সৌরজগতের কেন্দ্রভাগ লক্ষ্য করে মহাকাশযানটি ওড়ানো হয়।
- এটি ঘণ্টায় ৪ লাখ ৩০ হাজার মাইল গতিতে চলতে পারে।
- ইতিমধ্যে এটি ২১ বার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় এর আরও নিকটবর্তী হয়েছে।
- ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪, নাসার মহাকাশযান ‘পার্কার সোলার প্রোব’ সফলভাবে সূর্যের কাছে পৌঁছেছে, যা পূর্বে কোনো মহাকাশযান করতে পারেনি।
- প্রোবটি সূর্যের প্রায় ৩৮ লাখ মাইল কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
- এটি গত ২৪ ডিসেম্বর সূর্যের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং ৯৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করেছে।
- মহাকাশযানটি সূর্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর একটি আলোক সংকেত পাঠিয়েছে, যা তার নিরাপত্তা ও কার্যক্রমের সাফল্যের সংকেত।
- ১ জানুয়ারি ২০২৫-এ এটি সূর্যের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য পাঠাবে।
- এর মাধ্যমে সূর্যের চারপাশের অতি উত্তপ্ত অঞ্চল এবং সৌরবায়ুর উৎস সম্পর্কে নতুন তথ্য জানা যাবে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো নিউজ। [লিঙ্ক]
১,৬৯২.
শ্বেত বামন কি?
  1. মৃততারা
  2. একটি উপন্যাস
  3. একটি পাহাড়ের নাম
  4. একটি উপজাতির নাম
ব্যাখ্যা
শ্বেত বামন:
- মহাবিশ্বের অধিকাংশ তারারই শেষ দশা হচ্ছে শ্বেত বামন।
- কারণ অধিকাংশ তারার ভর সূর্যের সমান বা তার কাছাকাছি হয়।
- আর এই ভরের তারাদের মৃত্যু ঘটে শ্বেত বামন সৃষ্টির মাধ্যমে।
- শ্বেত বামনের জীবনকাল প্রায় ১,৫০০ কোটি বছর হয়, যা আমাদের মহাবিশ্বের বর্তমান বয়সের চেয়েও বেশি।
- শ্বেত বামন এর জীবনকাল শেষে কৃষ্ণ বামনে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হয়।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।
১,৬৯৩.
নিচের কোনটি জলবায়ুর নিয়ামক নয়?
  1. অক্ষাংশ
  2. বনভূমি
  3. বারিপাত
  4. সমুদ্রস্রোত
ব্যাখ্যা
- বারিপাত জলবায়ুর নিয়ামক নয়।

জলবায়ু:
- জলবায়ু হলো কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থা।
- অর্থাৎ জলবায়ু হলো কোনো একটি অঞ্চলের অনেক বছরের বায়ুমন্ডলের নিম্নস্তরের সামগ্রিক গড় অবস্থা।
- জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হলো এটি নিয়ত পরিবর্তনশীল নয়।
- আবহাওয়ার থেকে জলবায়ুর পার্থক্য হলো আবহাওয়া কোনো দেশ বা মহাদেশের বায়ুমণ্ডলের স্বল্পস্থায়ী অবস্থাকে বুঝায়।
- জলবায়ু বলতে কোনো দেশ বা মহাদেশের বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থাকে বুঝায়।
- জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকগুলো হলো- অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, বনভূমি, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল ও মৃত্তিকা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৯৪.
নিচের কোনটি সুনামি সৃষ্টির কারণ নয়? 
  1. পানির নিচে বিস্ফোরণ
  2. হিমবাহ গলন
  3. সমুদ্রতলের ভূমিকম্প
  4. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
ব্যাখ্যা
সুনামি (Tsunami): 
- সুনামি (Tsunami) একটি জাপানি শব্দ, জাপানি ভাষায় এর অর্থ হলো 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'। 
- সুনামির পানির ঢেউ সমুদ্রের স্বাভাবিক ঢেউয়ের মতো নয়, এটা সাধারণ ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বিশালাকৃতির। 
- অতি দ্রুত ফুঁসে ফুলে ওঠা জোয়ারের মতো, যা উপকূল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে। 
- সুনামির পানির ঢেউগুলো একের পর এক উঁচু হয়ে আসতেই থাকে তাই একে ঢেউয়ের রেলগাড়ি বা 'ওয়েভ ট্রেন' বলে। 
- সুনামি হলো পানির এক মারাত্মক ঢেউ যা সমুদ্রের মধ্যে বা বিশাল হ্রদে ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে। 
- পানির নিচে কোনো পারমাণবিক বা অন্য কোনো বিস্ফোরণ, ভূপাত ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে। 
- সুনামির ক্ষয়ক্ষতি সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এর আশেপাশে সুনামির ধ্বংসাত্মক লীলা সংঘটিত হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে যে সুনামি সৃষ্টি হয় তা এই মহাসাগরের আশেপাশে ১৪টি দেশে আঘাত হানে এবং মারাত্মক একটি দুর্যোগ সৃষ্টি করে। 

অন্যদিকে, 
- হিমবাহ গলন মূলত ধীরগতির একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া এবং তা সরাসরি সুনামির মতো আকস্মিক ও বিশাল ঢেউয়ের সৃষ্টি করে না। তাই এটি সুনামি সৃষ্টির কারণ নয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৯৫.
জ্যাক কেলবি কোনটির সাহায্যে আইসি তৈরি করেন?
  1. ক) ট্রানজিস্টর
  2. খ) রেজিস্টর
  3. গ) ক্যাপাসিটর
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।
- আইসি আবিষ্কারের সাথে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৬৯৬.
বাংলাদেশের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব-
  1. মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তি
  2. জনসংখ্যা বৃদ্ধি
  3. কৃষি জমির পরিমাণ হ্রাস
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর প্রভাব:

• জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নিম্নে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও যেসব প্রভাব পড়বে সেগুলো উল্লেখ করা হলো।

১. উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি,
২. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস,
৩. অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
৪. দেশের উত্তরাংশসহ বিস্তীর্ণ এলাকা খরায় আক্রান্ত হওয়া,
৫. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া,
৬. আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়া,
৭. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ যেমন- অতিরিক্ত লবনাক্ততায় মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তি দেখা যাচ্ছে।
৮. যে হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই হারে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রায় ১৫% স্থলভাগ হারানোর সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩কোটি) মানুষ ও নানা প্রজাতির জীবজন্তু, সম্পদ প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
৯. এদেশের স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সুন্দরবন, সেখানে প্রাণি বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।
১০. বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৬৯৭.
কোন গ্রহের আকার এবং আকৃতি অনেকটা পৃথিবীর সাথে মেলে?
  1. মঙ্গল
  2. শুক্র
  3. ইউরেনাস
  4. নেপচুন
ব্যাখ্যা
শুক্র (Venus):
- শুক্র গ্রহকে পৃথিবীর যমজ গ্রহ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- কারণ এটির আকার এবং আকৃতি অনেকটা পৃথিবীর সাথে মেলে।
- এটির গঠনও অনেকটা একই রকমের।
- শুক্র গ্রহে বিশাল পাহাড়, সমতল ভূমি ও অনেক আগ্নেয়গিরি রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন।

উল্লেখ্য,
- সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- ভোর রাতে পূর্ব আকাশে শুক্র গ্রহকে বলা হয় শুকতারা।
- সন্ধ্যাবেলায় পশ্চিম আকাশে একে বলা হয় সন্ধ্যাতারা।
- শুক্র গ্রহেরও কোনো উপগ্রহ নেই।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
        ii) প্রথম আলো।
১,৬৯৮.
পৃথিবীকে উত্তর গোলার্ধ ও দক্ষিণ গোলার্ধ দুটি সমান অংশে ভাগ করেছে কোন রেখা? 
  1. মেরুরেখা 
  2. বিষুবরেখা
  3. কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. গ্রিনিচ রেখা
ব্যাখ্যা

নিরক্ষরেখাঃ 
- দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে একটি রেখা কল্পনা করা হয়েছে। একে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা।
- বিষুবরেখা পৃথিবীকে উত্তর গোলার্ধ ও দক্ষিণ গোলার্ধ দুটি সমান অংশে ভাগ করেছে।

মেরুরেখাঃ
- পৃথিবীর গোলাকৃতি কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে অক্ষ বা মেরুরেখা বলে।
- এই অক্ষের উত্তর প্রান্তবিন্দু হলো উত্তর মেরু বা সুমেরু এবং দক্ষিণ প্রান্তবিন্দু হলো দক্ষিণ মেরু বা কুমেরু।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং  ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

১,৬৯৯.
বায়ুতে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে কী বলা হয়?
  1. ক) নিম্নচাপ
  2. খ) আর্দ্রতা
  3. গ) মেঘ
  4. ঘ) শিশির
ব্যাখ্যা
- বায়ুতে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে বলা হয় আর্দ্রতা। বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ০.৪১ শতাংশ।
- জলীয়বাষ্পহীন বায়ু শুষ্ক বায়ু নামে পরিচিত।
- কোন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোন বায়ু যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প ধারণ করতে বায়ুতে সেই পরিমাণ জলীয়বাষ্প থাকলে তাকে পরিপৃক্ত ও সম্পৃক্ত বায়ু বলে।
- ভূপৃষ্ঠের তাপ বিকিরণের ফলে ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুর জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে জলবিন্দুতে পরিণত হয় যা শিশির নামে পরিচিত।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৭০০.
গ্রিনিচ মান সময়ের সঙ্গে আমাদের সময়ের পার্থক্য-
  1. ক) ৬ ঘন্টা
  2. খ) ৮ ঘন্টা
  3. গ) ১০ ঘন্টা
  4. ঘ) ৫ ঘন্টা
ব্যাখ্যা
Bangladesh Standard Time is 6 hours ahead of Greenwich Mean Time ( GMT+6 ). Bangladesh Daylight Saving Time is 7 hours ahead of Greenwich Mean Time ( GMT+7 ).
Source: greenwichmeantime.com