বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

মোট প্রশ্ন২,৪০৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

PrepBank · পাতা ১৬ / ২৪ · ১,৫০১১,৬০০ / ২,৪০৪

১,৫০১.
কোন পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি?
  1. পুকুরের পানি
  2. লেকের পানি
  3. নদীর পানি
  4. সাগরের পানি
ব্যাখ্যা
- নদীর পানিতে সাধারণত অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে। কারণ নদীর পানি প্রবাহিত হয় এবং এতে ঢেউ ও স্রোতের কারণে বাতাসের সংস্পর্শে বেশি আসে। ফলে পানি বাতাস থেকে বেশি পরিমাণে অক্সিজেন শোষণ করতে পারে। 
- স্থির জলাশয়ের (যেমন পুকুর বা লেক) তুলনায় প্রবাহমান পানিতে গ্যাসের আদান-প্রদান বেশি কার্যকরভাবে ঘটে। 
- পুকুরের পানি ও লেকের পানি স্থির থাকে, ফলে সেখানে অক্সিজেন কম মিশতে পারে। 
- সাগরের পানি গভীরতা এবং লবণাক্ততার কারণে সাধারণত অক্সিজেনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হয়। 

উৎস: [লিঙ্ক]।
১,৫০২.
গ্রীনিচে যখন সময় রবিবার সকাল ৬টা তখন এর ৯০ ডিগ্রী পূর্বদিকে অবস্থিত স্থানের সময় হবে-
  1. ক) শনিবার রাত্রি ১২টা
  2. খ) শনিবার সন্ধ্যা ৬টা
  3. গ) রবিবার সন্ধ্যা ৬টা
  4. ঘ) রবিবার দুপুর ১২টা
ব্যাখ্যা

পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
∴ ৯০ ডিগ্রি = ৯০ X ৪ = ৩৬০ মিনিট = ৬ ঘন্টা।
কোন স্থান থেকে পশ্চিমে গেলে সময় কমবে আর পূর্বে গেলে সময় বাড়বে।
কোন স্থানে সময় যখন রবিবার সকাল ৬টা তখন-
১) ৯০ ডিগ্রি পশ্চিমে সময় হবে রবিবার রাত ১২ টা।
এবং ২) ৯০ ডিগ্রি পূর্বে সময় হবে রবিবার দুপুর ১২ টা।

১,৫০৩.
ট্রানজিস্টর তৈরিতে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. কন্ডাক্টর
  2. সেমিকন্ডাক্টর
  3. কপার
  4. সিলিকোন
ব্যাখ্যা
- দুটি অর্ধপরিবাহী ডায়ােডকে পাশাপাশি যুক্ত করে একটি অর্ধপরিবাহী ট্রায়ােড তৈরি করা হলে তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
- ১৯৪৭ সালে ট্রানজিস্টর প্রথম তৈরি করেন উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্ৰাটেইন।
- ট্রানজিস্টর তৈরি করতে প্রয়ােজন সেমিকন্ডাক্টর (সিলিকন, জার্মেনিয়াম)।
- ট্রানজিস্টরের অপর নাম অর্ধপরিবাহী ট্রায়ােড। ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয় বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে।
- ইলেকট্রনিক্সে বিপ্লব শুরু হয় ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের সময় থেকে।
- ট্রানজিস্টর প্রধানত ব্যবহার করা হয় এমপ্লিফায়ার বা বিবর্ধক হিসেবে।

- সিলিকোন হল পলিসিলোক্সেন যা সিলোক্সেন এর পলিমার।
১,৫০৪.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে-
  1. ৬ মিনিট ১৬ সেকেন্ড
  2. ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড
  3. ৭ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
  4. ৯ মিনিট ৩২ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট 20 সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)।
- পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

১,৫০৫.
ফোটন কণা শূন্য মাধ্যমে কোন বেগে চলে?
  1. শব্দের বেগে 
  2. আলোর বেগে 
  3. পৃথিবীর কক্ষপথের বেগে 
  4. শূন্য বেগে 
ব্যাখ্যা

ফোটন: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 
 
ফোটন কণার ধর্মসমূহ:   
১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C= 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। 
৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। 
- ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশী হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশী হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫০৬.
সাধারণত মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা কত এর বেশি হলে মৌলটি তেজষ্ক্রিয়তার ধর্ম প্রদর্শন করে? 
  1. ৭৮
  2. ৮৫
  3. ৮২
  4. ৮৮
ব্যাখ্যা
তেজষ্ক্রিয়তা: 
- ভারি মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজষ্ক্রিয়তা বলে। 
- সাধারণত যে সকল মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২ এর বেশি সেই সকল পরমাণু তেজষ্ক্রিয়তার ধর্ম প্রদর্শন করে। 
- তবে ৮২ থেকে কম পারমাণবিক সংখ্যা বিশিষ্ট কিছু মৌলের আইসোটোপের ক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয়তা পরিলক্ষিত হয়। 

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য: 
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায়- 
১. তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
২. তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
৩. তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তিস্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
৪. এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫০৭.
বাংলাদেশের প্রমাণ সময় গণনা করা হয় কত ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে?
  1. ৯০° পশ্চিম দ্রাঘিমাংশে
  2. ৬০° পশ্চিম দ্রাঘিমাংশে
  3. ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে
  4. ৬০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে
ব্যাখ্যা
• প্রমাণ সময়:
- একটি দেশে একাধিক দ্রাঘিমারেখার অবস্থান থাকতে পারে। এমতাবস্থায় একই দেশে একাধিক স্থানীয় সময় গণনা করা হলে, ঐ দেশের অভ্যন্তরীণ সকল প্রকার কর্মকান্ডে বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে। আর্ন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঐ দেশের সময় নিয়ে জটিলতা সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধরনের সমস্যা দূরীকরণের জন্যে প্রত্যেক দেশের মধ্যবর্তী একটি দ্রাঘিমারেখার স্থানীয় সময়কে ঐ দেশের প্রমাণ সময় হিসেবে গণ্য করা হয়।
- বাংলাদেশের প্রমাণ সময় গণনা করা হয় ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশের স্থানীয় সময় অনুসারে।
- এই দ্রাঘিমা রেখাটি (৯০° পূর্ব) ঢাকা বিভাগের অধীনস্থ মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলা হারুকান্দি ইউনিয়ন বরাবর কল্পনা করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রের মোট চারটি প্রমাণ সময় রয়েছে .

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫০৮.
নিচের কোনটির ভর অধিক?
  1. লাল বামন
  2. সূর্য
  3. পালসার
  4. কৃষ্ণগহ্বর
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণগহ্বর (Black hole):
যদিও তত্ত্ব অনুযায়ী সব ভরের ব্ল্যাক হোল থাকা সম্ভব, বাস্তবে আমরা চারটি প্রাথমিক ধরণের ব্ল্যাক হোল দেখতে পাই।

১. মিনি ব্ল্যাক হোল (Mini Black Hole):
- ভর: সূর্যের ভরের ৩ গুণের কম।
- অবস্থান: বিরল বা অনুপস্থিত।
- হকিং বিকিরণের কারণে দ্রুত বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- কোনো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় এদের উৎপত্তি দেখা যায়নি।

২. স্টেলার-মাস ব্ল্যাক হোল (Stellar-Mass Black Hole):
- ভর: সূর্যের ভরের ৩ থেকে ৫০ গুণ।
- গঠন: একক নক্ষত্রের মহাকর্ষীয় পতন বা দুটি নিউট্রন তারার সংঘর্ষ।
- এটি নক্ষত্রের মৃত্যুর একটি স্বাভাবিক ফল।

৩. ইন্টারমিডিয়েট ব্ল্যাক হোল (Intermediate Black Hole):
- ভর: সূর্যের ভরের ৫০ থেকে ৫০,০০০ গুণ।
- এই ভর পরিসরে ব্ল্যাক হোলের জন্য কোনো সাধারণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া নেই।
- সাম্প্রতিক গবেষণায় সম্ভাব্য অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

৪. সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল (Supermassive Black Hole):
- ভর: সূর্যের ভরের ৫০,০০০ থেকে বিলিয়ন গুণ।
- সাধারণ, প্রতিটি গ্যালাক্সির কেন্দ্রে বিদ্যমান।
- এটি গ্যালাক্সির কেন্দ্রের মূল কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত।

- স্টেলার-মাস ব্ল্যাক হোল এবং সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল সবচেয়ে সাধারণ।

পালসার: 
- পালসার এর ভর সূর্যের ১.১৮ থেকে ১.৯৭ গুণের মধ্যে, তবে বেশিরভাগ পালসারের ভর সূর্যের ১.৩৫ গুণ বেশি ।

লালবামন: 
- সূর্যের প্রায় ০.০৮ থেকে ০.৬ গুণ পর্যন্ত ভর রয়েছে। 

উৎস: Science Questions with Surprising Answers
Britannica.
১,৫০৯.
'ট্রিনিটি টেস্ট' কি?
  1. ক) আটলান্টিক মহাসাগরে ব্রিটিশদের প্রথম বোমা পরীক্ষা
  2. খ) প্রথম অ্যাটোমিক বোমা নিক্ষেপের ছদ্মনাম
  3. গ) প্রথম হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষার ছদ্মনাম
  4. ঘ) প্রথম পারমানবিক বোমা এক্সপ্লোশন
ব্যাখ্যা
১৯৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকোর আলামোগোর্ডোর নামক স্থানে বিশ্বের প্রথম পারমানবিক বোমা ট্রিনিটি এর সফল বিস্ফোরণ ঘটায়।
১,৫১০.
MRI তে ব্যবহৃত হয় ____। 
  1. এক্স-রে
  2. ম্যাগনেটিক ফিল্ড
  3. গামা রশ্মি
  4. আলফা কণা
ব্যাখ্যা

• MRI প্রযুক্তিতে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের অভ্যন্তরীণ গঠন দেখা হয়, কোনো বিকিরণ নয়।

MRI কী?
- MRI (Magnetic Resonance Imaging) হলো একটি আধুনিক চিকিৎসা ইমেজিং পদ্ধতি, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ও টিস্যুর বিস্তারিত ছবি তৈরি করে।
- এটি আয়নাইজিং বিকিরণ (যেমন এক্স-রে বা গামা রশ্মি) ব্যবহার করে না, তাই নিরাপদ।
 
কাজের মূলনীতি:
- MRI কাজ করে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) এবং রেডিও তরঙ্গ (Radio Waves) এর সাহায্যে।
- মানবদেহের হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াস (প্রোটন) এই চৌম্বক ক্ষেত্রে সারিবদ্ধ হয়।
- রেডিও তরঙ্গ প্রয়োগ করলে এই প্রোটনগুলো শক্তি শোষণ করে এবং ফিরে আসার সময় সংকেত দেয়।
- কম্পিউটার এই সংকেত বিশ্লেষণ করে ছবিতে রূপান্তরিত করে।

ব্যবহার:
- মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড, পেশী, ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের নির্ভুল ইমেজ তৈরি করতে।
- টিউমার, স্নায়ু সমস্যা ও ইনজুরি নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

১,৫১১.
ইভেন্ট হরাইজন নিচের কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. শ্বেত বামন
  2. লাল বামন
  3. কৃষ্ণগহ্বর
  4. ধুমকেতু
ব্যাখ্যা
ইভেন্ট হরাইজন (Event Horizon): 
- ইভেন্ট হরাইজন (Event Horizon) — এটি একটি সীমারেখা যা একটি ব্ল্যাক হোলের (কৃষ্ণগহ্বর) সীমানা নির্দেশ করে।
- এই সীমারেখায় পৌঁছালে পালানোর জন্য যেকোনো বস্তুর গতি আলোর গতির সমান হতে হয়।
- সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ (General Relativity) অনুসারে, আলোর চেয়ে দ্রুত কিছুই চলতে পারে না, তাই ইভেন্ট হরাইজনের ভেতর যে-ই ঢোকে না কেন, তা আর বাইরে বের হতে পারে না—এমনকি আলো-ও নয়।
- তাই এই সীমার ভেতরের কিছুই বাহির থেকে দেখা যায় না বা পর্যবেক্ষণ করা যায় না।
- যদি কোনো বস্তু বা বিকিরণ (radiation) ইভেন্ট হরাইজনের ভেতর উৎপন্ন হয়, তবে তা চিরতরে ব্ল্যাক হোলের মধ্যে আটকে যায়।
- একটি অঘূর্ণনশীল (non-rotating) ব্ল্যাক হোলের ইভেন্ট হরাইজন একটি গোলাকৃতি সীমানা—এটিকে শোয়ার্জশিল্ড ব্যাসার্ধ (Schwarzschild radius) বলা হয়।
- ঘূর্ণনশীল (rotating) ব্ল্যাক হোলের ক্ষেত্রে, এই সীমা কিছুটা বিকৃত বা অসমান হতে পারে।
- ইভেন্ট হরাইজন কোনো কঠিন বা দৃশ্যমান পৃষ্ঠ নয়।
- এটি কেবল একটি গাণিতিকভাবে নির্ধারিত সীমা, যার ভিতরে সবকিছু আটকে যায় এবং কিছুই আর ফিরে আসতে পারে না।

উৎস: Britannica.
১,৫১২.
ভূগর্ভের ভাগগুলোকে বলে-
  1. ক) টেকটোনিক প্লেট
  2. খ) লেয়ার
  3. গ) স্ট্রাটা
  4. ঘ) অশ্মমণ্ডল
ব্যাখ্যা

ভূগর্ভ বা ভূঅভ্যন্তর প্রধাণত ৩টি স্তরে তথা Layer এ বিভক্ত। প্রত্যেকটা স্তরকে কে বাংলায় মণ্ডল বলা হয়ে থাকে। ৩টি মণ্ডল নিয়ে ভূঅভ্যন্তর গঠিত, যথা, অশ্মমণ্ডল, গুরুমণ্ডল, কেন্দ্রমণ্ডল।
এর মধ্যে, অশ্মমণ্ডল বা ভূত্বক কতগুলো প্লেট দ্বারা গঠিত এগুলোকে টেকটোনিক প্লেট বলা হয়ে থাকে।
প্রশ্নানুসারে, সঠিক উত্তর হয়, Layer বা মণ্ডল।
সুত্রঃ মাধ্যমিক ভূগোল বোর্ড বই।

১,৫১৩.
নিচের কোনটি আগ্নেয় পর্বত?
  1. আন্দিজ
  2. কিলিমাঞ্জারো
  3. ব্ল্যাক ফরেস্ট
  4. হেনরী পর্বত
ব্যাখ্যা
- আগ্নেয়গিরি থেকে উদগিরিত পদার্থ সঞ্চিত ও জমাট বেঁধে সৃষ্ট পর্বত আগ্নেয় পর্বত নামে পরিচিত।
উদাহরণ:
- কিলিমাঞ্জারো (আফ্রিকা)
- ফুজিয়ামা (জাপান)
- ভিসুভিয়াস (ইতালি)
- পিনাটুবো (ফিলিপাইন) ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ : ভঙ্গিল পর্বত
- ব্ল্যাক ফরেস্ট (জার্মনি) : চ্যূতি-স্তূপ পর্বত
- হেনরী (যুক্তরাষ্ট্র) : ল্যাকোলিথ পর্বত।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৫১৪.
সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে কোনটি পরিমাপ করা হয়?
  1. সূর্যের উন্নতি
  2. ধ্রুবতারার উন্নতি
  3. সূর্যের অবনতি
  4. ধ্রুবতারার অবনতি
ব্যাখ্যা
অক্ষাংশ নির্ণয়ের পদ্ধতি: 
১। সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি পরিমাপ করা যায় তাকে সেক্সট্যান্ট যন্ত্র বলে।
- সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি কোণ নির্ণয় করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
- কোনো স্থানের অক্ষাংশ = ৯০° - (মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি ± বিষুবলম্ব)।

২। ধ্রুবতারার সাহায্যে অক্ষাংশ নির্ণয়:
- ধ্রুবতারার উন্নতি জেনে কোনো স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
- এর সাহায্যে শুধু উত্তর গোলার্ধের কোনো স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
- নিরক্ষরেখায় ধ্রুবতারার উন্নতি ০° এবং উত্তর মেরুতে ঠিক মাথার উপর ধ্রুবতারার উন্নতি ৯০° হয়।
- সুতরাং উত্তর গোলার্ধে কোনো স্থানের অক্ষাংশ ধ্রুবতারার উন্নতির সমান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৫১৫.
p-টাইপ জার্মেনিয়াম অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য নিচের কোনটি দিয়ে ডোপিং করতে হয়? 
  1. এন্টিমনি
  2. আর্সেনিক
  3. অ্যালুমিনিয়াম
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
p- টাইপ অর্ধপরিবাহী: 
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সামান্য পরিমাণ ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো হলে, তাকে p- টাইপ অর্ধপরিবাহী বলে। 
- বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে অপদ্রব্যকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় উচ্চতাপে মেশানো হয়। 
- অপদ্রব্যের পরিমাণ এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় যেন এর পরমাণুগুলো মূল অর্ধপরিবাহী কেলাসের গঠন কাঠামোর কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে কেলাস ল্যাটিসে অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে। 
- বিশুদ্ধ জার্মেনিয়ামের সাথে যদি উপযুক্ত মাত্রায় (দশ লক্ষে একটি) অ্যালুমিনিয়ামের মতো ত্রিযোজী মৌল মেশানো হয়, তা হলো ঐ কেলাসের গঠনের কোনো পরিবর্তন হয় না, কিন্তু পার্শ্ববর্তী চতুর্যোজী অর্ধপরিবাহীর সাথে সমযোজী বন্ধন গঠন করতে এর একটি ইলেকট্রনের ঘাটতি পড়ে। 
- এই ইলেকট্রন ঘাটতি মানেই 'হোল' সৃষ্টি হয়। প্রতিটি AI পরমাণু একটি করে হোল সৃষ্টি করে। এ হোলগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকে। 
- এ জন্য অ্যালুমিনিয়াম পরমানুকে 'গ্রাহক' পরমাণু বলে। 
- এভাবে প্রতিটি অ্যালুমিনিয়াম পরমাণু একটি করে হোল সৃষ্টি করে। 
- এখানে গরিষ্ঠ আধান বাহক হলো হোল এবং লঘিষ্ঠ আধান বাহক হলো ইলেকট্রন। 
- এ কারণে এ ধরনের অর্ধপরিবাহীকে টাইপ p- অর্ধপরিবাহী বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১৬.
হার্টে পেইসমেকার বসাতে কোন আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. কার্বন- 14
  2. ফসফরাস- 32
  3. আয়োডিন-131
  4. প্লুটোনিয়াম- 238
ব্যাখ্যা
চিকিৎসাক্ষেত্রে আইসোটোপের ব্যবহার: 
- চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপের প্রধানত দু'ধরনের ব্যবহার আছে। 
যেমন - 
ক) রোগ নিরাময়ে ও 
খ) কোন রোগ বা রোগাক্রান্ত স্থান নির্ণয়। 

- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। 
- আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131(131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে। 

- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of  Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 
- এ ছাড়াও শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১৭.
শান্ট হলাে যন্ত্রের সাথে-
  1. ক) সমান্তরালে যুক্ত উচ্চমানের রােধ
  2. খ) সমান্তরালে যুক্ত নিম্নমানের রােধ
  3. গ) শ্রেণিতে যুক্ত উচ্চমানের রােধ
  4. ঘ) শ্রেণিতে যুক্ত নিম্নমানের রােধ
ব্যাখ্যা
গ্যালভানােমিটার বা সুক্ষ্ম ও সুবেদী বৈদ্যুতিক যন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাতে উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ প্রবাহিত না হতে পারে তার জন্য যন্ত্রের সাথে সমান্তরালে স্বল্প মানের যে রােধ যুক্ত তা হয় তাতে শান্ট বলে। (উৎসঃ ১১-১২শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
১,৫১৮.
জেমস্ ওয়েব টেলিস্কোপ কোন ধরনের রেডিয়েশন ব্যবহার করে?
  1. Ultra-violet
  2. Infrared
  3. Visible
  4. X-ray
ব্যাখ্যা
• জেমস্ ওয়েব টেলিস্কোপ Infrared রেডিয়েশন ব্যবহার করে।

• জেমস্ ওয়েব টেলিস্কোপ:
- বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচাইতে শক্তিশালী টেলিস্কোপ বা দূরবীক্ষণ যন্ত্রের একটি হচ্ছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ।
- নাসার দূরবীক্ষণ যন্ত্র জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি বা জুপিটারের কিছু বিস্ময়কর ছবি তুলেছে।
- এসব ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বৃহস্পতি গ্রহের অরোরা বা বর্ণচ্ছটা, দানবীয় ঝড়, বৃহস্পতির চাঁদ এবং গ্রহটিকে ঘিরে থাকা বলয়।
- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ একটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ অভিযান প্রকল্প।
- মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার নেতৃত্বে এটির অন্যান্য অংশীদার হচ্ছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি।
- এটা ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে উৎক্ষেপণ করা হয়।
- এটি এখন পৃথিবী থেকে ১৬ লাখ (ষোল লাখ) কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে।
- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের প্রথম পূর্ণাঙ্গ রঙিন ছবি প্রকাশ করা হয় ২০২২ সালের ১২ই জুলাই।
- বলা হয় এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তারিত "অবলোহিত (ইনফ্রারেড)" চিত্র এটি যাতে এমন সব ছায়াপথ দেখা যাচ্ছে, যেখান থেকে পৃথিবী পর্যন্ত আলো পৌঁছাতে বিলিয়ন বিলিয়ন বছর সময় লাগে।
- তখন থেকেই মহাবিশ্বের নিত্যনতুন দৃশ্য দেখে আসছে হাবল টেলিস্কোপের এই উত্তরসূরী।
- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে তোলা এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে ক্যারিনা নেবুলা নিহারীকার নক্ষত্রপুঞ্জ এবং কিছু তারকা।
- ক্যারিনা নেবুলা মহাকাশের বৃহত্তম এবং উজ্জ্বলতম নিহারীকাগুলোর একটি।
- এটির অবস্থান পৃথিবী থেকে কম বেশি ৭ হাজার ৬শ আলোকবর্ষ দূরে।

উৎস: NASA,  BBC NEWS বাংলা, ২৪ আগস্ট, ২০২২ এবং ব্রিটানিকা।
১,৫১৯.
বায়ুমন্ডলের ওজোনস্তর অবক্ষয়ে কোন গ্যাসটির ভূমিকা সর্ব্বোচ্চ?
  1. ক) কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. খ) জলীয় বাষ্প
  3. গ) CFC বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
  4. ঘ) নাইট্রিক অক্সাইড
ব্যাখ্যা
সিএফসি হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বনের সংক্ষিপ্ত রুপ।
- এটি বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তরে পৌঁছে ওজোনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অক্সিজেনে পরিণত করে (CFC+O302+…..)।
- এর ফলে ওজোনস্তর হালকা বা ফুটো হয়ে যায়। এই ফাটল দিয়ে মহাজাগতিক বিভিন্ন রশ্মি পৃথিবীতে এসে জীবজগতের ক্ষতিসাধন করে।
উৎসঃ উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির রসায়ন বই।
১,৫২০.
বায়ুমণ্ডল না থাকলে কোনটি সম্ভব হতো না?
  1. শব্দ শোনা
  2. আলো দেখা
  3. তাপ উৎপন্ন হওয়া
  4. ছায়া পড়া
ব্যাখ্যা

• শব্দ তরঙ্গ চলাচলের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন; বায়ুমণ্ডল না থাকলে শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলিত ও পরিবাহিত হতো না, ফলে শব্দ শোনা সম্ভব হতো না।

• বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের গুরুত্ব (Importance of Different Atmospheric Layers):
- বায়ুমণ্ডল না থাকলে পৃথিবী থেকে প্রতিফলিত শব্দ তরঙ্গ ফিরে আসতে পারত না; ফলে কোনো শব্দ শোনা যেত না।
- ট্রপোস্ফিয়ার স্তর ছাড়া পৃথিবীতে কোনো আবহাওয়াজনিত ঘটনা ঘটত না; যেমন—মেঘ সৃষ্টি, বৃষ্টি, কুয়াশা, শিশির, ঝড়, শিলাবৃষ্টি ইত্যাদি সম্ভব হতো না, ফলে কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় বৃষ্টিও হতো না।
- বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের কারণে সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির বড় অংশ শোষিত বা প্রতিহত হয়; বিশেষ করে ওজোন স্তর না থাকলে এসব রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে পৌঁছে জীবজগতের মারাত্মক ক্ষতি করত।
- বায়ুমণ্ডলের স্তরসমূহ না থাকলে পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব থাকত না; তখন পৃথিবী চাঁদের মতো শুষ্ক, নিষ্প্রাণ ও বসবাসের অনুপযোগী হতো।

উৎস: ভূগোল, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১,৫২১.
বাংলাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর কোন রেখাটি অতিক্রম করেছে?
  1. ক) ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা
  2. খ) মকরক্রান্তি রেখা
  3. গ) মূল মধ্যরেখা
  4. ঘ) কর্কটক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
- সাড়ে ২৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা বা কর্কটক্রান্তি রেখা (ট্রপিক অব ক্যান্সার) দেশের মধ্যভাগ দিয়ে পূর্ব-পশ্চিম বরাবর অতিক্রম করেছে।
- রেখা দুটি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় পরস্পরকে অতিক্রম করেছে।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৫২২.
What is the division of the nucleus called?
  1. ক) mason
  2. খ) Fusion
  3. গ) Fission
  4. ঘ) Fusion and Mason
ব্যাখ্যা
• পরমাণুর নিউক্লিয়াস বিভাজনকে ফিশন বলে।

- পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়। প্রক্রিয়া দুটি হল:
১.  নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন।
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন।

১.  নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন: যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি খন্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে। 
- উচ্চ শক্তিসম্পন্ন প্রোটন, নিউট্রন বা ডিউটেরনের আঘাতের ফলে ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াস ৩টি নিউট্রনসহ দুটি তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াসে ভেঙ্গে পড়ে। 

২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন: যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে।
- অত্যধিক উচ্চ তাপে ফিউশন সংঘটিত হয়।
- চারটি হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস ফিউশন প্রক্রিয়াতে জড়িত হয়ে একটি করে হিলিয়াম নিউক্লিয়াস গঠিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫২৩.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ম্যানোমিটার 
  2. ক্রনোমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. অডিওমিটার 
ব্যাখ্যা

শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 

অন্যদিকে, 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 

আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১,৫২৪.
মহাকাশে পাঠানো স্যাটেলাইট অবস্থান করে কোন স্তরে ?
  1. স্ট্রাটোমন্ডল
  2. মেসোমন্ডল
  3. তাপমন্ডল
  4. এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা
- মহাকাশে পাঠানো স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহসমূহ তাপমন্ডলে অবস্থান করে।
- তাপমন্ডলের বিস্তৃতি ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে ৮০ কি.মি. থেকে ৫০০ কি.মি. এর মধ্যে। রকেটও এ স্তর দিয়ে চলাচল করে।
- তাপমন্ডলের নিচের অংশ আয়নমন্ডল নামে পরিচিত যেখানে পৃথিবী থেকে প্রেরিত বেতার তরঙ্গ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে আসে।
- পৃথিবীর দিকে ধেয়ে উল্কাপিণ্ড এই স্তরেই পুড়ে যায়। এটি বায়ুমন্ডলের চতুর্থ স্তর।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৫২৫.
সুনামি অগভীর জলের দিকে অগ্রসর হলে তার কী পরিবর্তন ঘটে?
  1. বিস্ফোরণ ঘটে
  2. এর গতি বাড়ে
  3. শক্তি হ্রাস পায়
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্রতলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা সুনামি সৃষ্টি করতে পারে।
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। 
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- ইউরেশিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে সৃষ্টি হওয়া এই মারাত্মক ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে নয় মাত্রার। 
- এই জলোচ্ছাসে তিন লাখের মতো মানুষ নিহত হয় যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার আচেহ প্রদেশেই নিহত হয়েছে এক লাখ মানুষ। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায় অর্থাৎ কমে। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫২৬.
ইউরেনাস-কে বলা হয় _______ গ্রহ।
  1. ক) বামন
  2. খ) প্রাচীন
  3. গ) নীলাভ
  4. ঘ) সবুজ
ব্যাখ্যা
• ইউরেনাস (Uranus):
- দূরত্বের দিক থেকে সৌরজগতের সপ্তম গ্রহ ও তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ ইউরেনাসকে সবুজ গ্রহ বলা হয়। 
- এটি সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ যার নাম গ্রীক পুরান থেকে নেয়া হয়েছে।
- সূর্য থেকে ইউরেনাস এর গড় দূরত্ব ২৯০ কোটি কিলোমিটার।
- ৮৪ বছরে এটি সূর্যের চতুর্দিকে নিজ কক্ষপথে ঘুরে।
- এ গ্রহেরও শনির মত বলয় রয়েছে। তবে বলয়গুলো উজ্জ্বল নয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫২৭.
ঋতু পরিবর্তনের সাথে বায়ুর যে দিক পরিবর্তন হয়, তাকে কী বলে? 
  1. স্থানীয় বায়ু
  2. অয়ন বায়ু
  3. মৌসুমী বায়ু
  4. প্রত্যয়ন বায়ু
ব্যাখ্যা
মৌসুমি জলবায়ু: 
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ “মওসুম” থেকে যার অর্থ ঋতু। 
ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয় বলে একে মৌসুমি জলবায়ু বলা হয়। 
- কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির নিকটবর্তী অঞ্চল জুড়ে যে জলবায়ু বিস্তৃত তা মৌসুমি জলবায়ু। 

মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য: 
- গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার উপর দিয়ে লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং এই সময় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত প্রভৃতি স্থানে বায়ুর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।  
- দক্ষিণ গোলার্ধের উচ্চচাপ বলয় থেকে আসা দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ুএশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যায়। 
- এই বায়ুকেই বলা হয় উত্তর গোলার্ধের মৌসুমি বায়ু। 
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলা হয়, কারণ নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ডানদিকে বেঁকে দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ু দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে উত্তর পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫২৮.
কয়লা রূপান্তরিত হয়ে কোন শিলা তৈরি হয়?
  1. গ্রাফাইট
  2. কোয়ার্টজাইট
  3. মার্বেল
  4. নিস
ব্যাখ্যা
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা অত্যধিক চাপ, তাপ ও রাসায়নিক ক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে যে নতুন রূপ ধারণ করে তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
যেমন:
- বেলপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইট
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস।
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৫২৯.
মহাকাশে প্রেরণকৃত প্রথম মহাকাশযান কোনটি?
  1. ক) লুনা-২
  2. খ) স্পুটনিক-১
  3. গ) আর্টেমিস-৩
  4. ঘ) লুনা-৯
ব্যাখ্যা
মহাকাশে প্রেরণকৃত প্রথম মহাকাশযানটির নাম হচ্ছে স্পুটনিক-১। 

- ১৯৫৭ সালে ৪ই অক্টোবর, সোভিয়েত রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা সর্বপ্রথম মহাকাশে স্পুটনিক-১ নামের কৃত্রিম উপগ্রহ প্রেরণ করেন।
- এ পর্যন্ত উৎক্ষিপ্ত কৃত্রিম উপগ্রহের সংখ্যা প্রায় ৬,৬০০। 
- উৎক্ষিপ্ত কৃত্রিম উপগ্রহের মধ্যে প্রায় ৩,৬০০টি বর্তমানে কক্ষ পথে অবস্থান করছে। 
- মানুষের পাঠানো যেসব বস্তু বা মহাকাশযান পৃথিবীকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে তাদের বলা হয় কৃত্রিম উপগ্রহ। 
- রকেটের সাহায্যে এদের উৎক্ষেপণ করা হয়। 
- পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ টানের প্রভাবে চাঁদের মতো এরা এদের কক্ষপথে ঘুরে। 
- কৃত্রিম উপগ্রহ চাঁদের তুলনায় অনেক ছোট এবং ছোট কক্ষপথ নিয়ে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে।
- একই বছরের ২ নভেম্বর স্পুটনিক-২ নামক আরেকটি কৃত্রিম উপগ্রহ রাশিয়া মহাকাশে পাঠায়।  

সূত্র- ১৭৭ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩০.
মানসিক চাপ, আলসার ও আন্ত্রিক পীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বাড়িয়ে দেয় নিচের কোনটি?
  1. শব্দ দূষণ
  2. পানি দূষণ
  3. বায়ু দূষণ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

শব্দ দূষণ:
-অতি উচ্চ শব্দ আমাদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়, মেজাজ খারাপ করে ফেলে এধরণের অতি শব্দ দ্বারা পরিবেশ নষ্ট হয়। এ অবস্থাকে বলা হয় শব্দ দূষণ।
- উচ্চ শব্দ মানুষের মস্তিষ্কে স্নায়বিক চাপ সৃষ্টি করে।
- অর্থাৎ স্নায়ুর স্বাভাবিক সংযোগ ব্যহত করে, কাজে মনোযোগ কমিয়ে দেয়, মেজাজ খিটখিটে করে, কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়, পরিপাক ক্রিয়া ব্যহত করে।
- পাকস্থলী ও পরিপাক তন্ত্রের পীড়া বা ব্যাধি সৃষ্টি করে।
- আলসার ও আন্ত্রিক পীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বাড়িয়ে দেয়।
- সারাক্ষণ কানে মাইক্রোফোন লাগিয়ে উচ্চ স্বরে গান শুনলে পেটের পীড়া ও কানের অসুখ দেখা দেয়, বিশেষ করে শ্রবণ শক্তি ধীরে ধীরে কমে যায়।
- ফলে অল্প বয়সেই বধিরতা আসতে পারে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৩১.
রিখটার স্কেলে প্রতি এক সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ভূমিকম্পের শক্তি কত গুন বেড়ে যায়?
  1. ৪০ গুন
  2. ২০ গুন
  3. ৩০ গুন
  4. ১৬ গুন
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র  (Centre বা Focus) বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ -পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে,তাকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে পড়ে।  
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে।
-  ভূমিকম্প মাপন যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার।
- ভূমিকম্প পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়।

- ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ করা হয় রিখটার স্কেলে। 
- রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প আমরা অনুভব করতে পারি। 
- এই রিখটার স্কেলে এক মাত্রা বেড়ে যাওয়া মানে তার শক্তি ৩০গুন বেড়ে যাওয়া। 

ভূমিকম্পের প্রধান কারণগুলো হলো:
• পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো ফলক/প্লেট দ্বারা গঠিত। এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে।
• আবার অগ্নুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকিম্পন সৃষ্টি হয়।

ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ:
• শিলাচ্যুতি,
• তাপ বিকিরণ,
• ভূগর্ভস্থ বাষ্প,
• ভূগর্ভস্থ চাপের বৃদ্ধি বা হ্রাস,
• হিমবাহের প্রভাব ইত্যাদি।

- অধিকাংশ ভূমিকম্প (শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ) পৃথিবীর অল্প কিছু জায়গায় সংঘটিত হয়। যেমন- পৃথিবীর বৃত্তচাপীয় দ্বীপমালা জাপান, ফিলিপাইন, নবীন ভঙ্গিল পর্বতমালা ও সামুদ্রিক শৈলশিরাসমূহ।
- ভূমিকম্পের সংখ্যার দিক থেকে জাপান বিশ্বে প্রথম।
- বছরে প্রায় গড়ে ৭,৫০০টি ভূমিকম্প হয় জাপানে।
- জাপানের পর সর্বাধিক ভূমিকম্প হয় ইতালিতে, গড়ে প্রায় ৫০০টি।
- এছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকার পেরু ও চিলি এবং আমেরিকার গুয়েতেমালায় অধিক ভূমিকম্প হয়।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি ১ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে জাপানে ৭.৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
- এরপর জাপানি কর্তৃপক্ষ ইশিকাওয়া, নিগাতা, নাগানো এবং তোয়ামা প্রশাসনিক অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করেছে।
- পৃথিবীর ভূ-ত্বক ৮টি বড় বড় টুকরা এবং ৬টি আঞ্চলিক টুকরা দ্বারা বিভক্ত। এগুলো টেকটনিক প্লেট নামে পরিচিত।

- ২০২০ সালে 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) প্রকাশিত রির্পোটে সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে বা
Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো -
১. খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল।) 
২. গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ- পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)। 
৩. মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)।
৪. কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি) ।

তথ্যসূত্র:  ১. ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. BNBC প্রকাশিত Seismic Design সমীক্ষার রিপোর্ট।
১,৫৩২.
ঈশ্বর কণা কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) স্টিফেন হকিং
  2. খ) পিটার হিগস
  3. গ) আইনস্টাইন
  4. ঘ) জি. লেমেটার
ব্যাখ্যা
পিটার হিগস একজন ব্রিটিশ পদার্থবিদ, যার পুরো নাম পিটার ওয়ার হিগস।

তিনি ২০১৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানের উপর নোবেল পুরস্কার পান। পিটার ওয়ার হিগস এবং তার সহকর্মী ১৯৬৪ সালে এই বসন কণা সম্পর্কে ধারণা দেন। পরবর্তীকালে, বিজ্ঞানীরা ২০১২ সালে এর অস্তিত্ব খুজে পান। 

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 
 
১,৫৩৩.
নিচের কোন জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো আছে?
  1. চাঁদ
  2. শুক্র
  3. ডিমোস
  4. লুব্ধক
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ ও ভূ-মন্ডল:
⇒মহাবিশ্বের মহাকাশে গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, নীহারিকা, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ও উল্কা ইত্যাদিকে জ্যোতিষ্ক বলে।
-যে সকল জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো আছে তাদেরকে নক্ষত্র বলে। যেমন: সূর্য, লুব্ধক, প্রক্সিমা সেন্টরাই।
- পৃথিবীর আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম হল লুব্ধক। লুব্ধক একটি জোড়া বা যুগ্মতারা।
উল্লিখিত প্রশ্ন অনুসারে শুধু লুব্ধক এর নিজস্ব আলো আছে,
-বাকি অপশনের শুক্র একটি গ্রহ এবং চাঁদ ও ডিমোস দুইটি উপগ্রহ যারদের  নিজস্ব আলো নেই।


উল্লেখ্য,
-আলোকবিহীন জ্যোতিষ্ককে গ্রহ বলে। যেমন-পৃথিবী, সূর্যের আলোতে আলোকিত হয়।
- গ্রহসমূহের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান নিজস্ব আলোকবিহীন জ্যোতিষ্ককে উপগ্রহ বলে। যেমন- চাঁদ, পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
- ডিমোস এবং ফোবোস নামক মঙ্গলের দুটি উপগ্রহ রয়েছে।
- মহাকাশে কখনও কখনও কোন জ্যোতিষ্ক কিছু দিনের জন্য দেখা যায় আবার অদৃশ্য হয়ে যায়। এসব জ্যোতিষ্ক কে ধূমকেতু বলে। যেমন- হ্যালির ধূমকেতু।
- সুদূর আকাশে স্বল্প আলোকিত মেঘের মত আস্তরণকে নীহারিকা বলে। এগুলো আসলে হালকা গ্যাসের অতিকায় পিণ্ড।
- একটি নীহারিকার মাঝে কোটি কোটি নক্ষত্র থাকতে পারে।
- মেঘমুক্ত রাতের আকাশে কোটি কোটি নক্ষত্রকে উত্তর দক্ষিণে বিস্তৃত দীপ্তমান পথের মত দেখায় বলে একে ছায়াপথ বলে।
- মহাশূন্যের কোটি কোটি নক্ষত্র, ধূলিকণা ও বিশাল বাষ্পকুন্ডসহ নীহারিকার এক একটি দলকে বলা হয় গ্যালাক্সি।
- একটিমাত্র গ্যালাক্সিতেই প্রায় ত্রিশ হাজার কোটি নক্ষত্র রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছেন।
- বিজ্ঞানীরা বিশ্বভ্রহ্মান্ডে কয়েক হাজার কোটি গ্যালাক্সির আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩৪.
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চিংড়ি চাষের জন্য কী করা হয়?
  1. মিঠা পানি সংরক্ষণ করা হয়
  2. গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়
  3. নালা কেটে লবণাক্ত পানি আনা হয়
  4. বৃষ্টির পানি পরিশোধন করা হয়
ব্যাখ্যা

• সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক জেলায় চিংড়ি চাষের জন্য নালা কেটে লবণাক্ত পানি আনা হয়।

• বাংলাদেশে বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব:
- বর্তমানে গ্রীষ্মকালে অনেক বেশি গরম পড়ে।
- মাঝে মাঝে বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ৪৭° সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়।
- গ্রীষ্ম ও শীত—উভয় ঋতুতেই আগের তুলনায় তাপমাত্রা বেশি থাকে।
- এটি বৈশ্বিক উষ্ণতার স্পষ্ট প্রমাণ।

• সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি:
- বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- পৃথিবীতে সঞ্চিত বরফ গলতে শুরু করে।
- সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়।
- এর ফলে বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানির নিচে চলে যেতে পারে।

• লবণাক্ততার বিস্তার:
- সাগরের লবণাক্ত পানি মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করে।
- নদনদী, খালবিল ও ভূগর্ভস্থ পানি লবণাক্ত হয়ে পড়ে।
- মিঠা পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়।

• দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাস্তব চিত্র:
- সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক জেলায় চিংড়ি চাষের জন্য নালা কেটে লবণাক্ত পানি আনা হয়।
- এর ফলে ঐ এলাকার ভূগর্ভস্থ পানিসহ অন্যান্য মিঠা পানির উৎস লবণাক্ত হয়েছে।
- অনেক স্থানে মিঠা পানির একমাত্র উৎস এখন বৃষ্টির পানি।
- ১০–১৫টি গ্রামের মানুষ একটি পুকুরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে সারা বছর ব্যবহার করে।
- পানি সংগ্রহের জন্য অনেক গৃহবধূকে ৭–৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়।

• আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট:
- মালদ্বীপ ও ভারতের কিছু অংশ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে আংশিকভাবে ডুবে গেছে।
- বহু মানুষ জলবায়ু শরণার্থী হয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১,৫৩৫.
কোথায় অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি?
  1. ক) হ্রদ
  2. খ) পাহাড়ি ঝরনা
  3. গ) পুকুর
  4. ঘ) সাগর
ব্যাখ্যা
আবদ্ধ পানি (যেমন: হ্রদের পানি, পুকুরের পানি) এর চেয়ে দ্রুত চলমান পানিতে (যেমন: পাহাড়ি ঝরনা, নদী) অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে। 
Rapidly moving water, such as in a mountain stream or large river, tends to contain a lot of dissolved oxygen, whereas stagnant water contains less.

Source: usgs.gov and others.
১,৫৩৬.
কোন বায়ু সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়? 
  1. সাময়িক বায়ু
  2. অনিয়মিত বায়ু
  3. স্থানীয় বায়ু
  4. নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন প্রকার বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়।
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা- 
• নিয়ত বায়ু, 
• সাময়িক বায়ু, 
• স্থানীয় বায়ু ও 
• অনিয়মিত বায়ু। 

নিয়ত বায়ু (Planatary Winds): 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
• অয়ন বায়ু, 
• পশ্চিমা বায়ু ও 
• মেরু বায়ু। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৩৭.
মাইটোকনড্রিয়া কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) বেনডা
  2. খ) রবার্ট হুক
  3. গ) ওয়াটসন ও ক্রিক
  4. ঘ) থ্রিওফাস্টাস
ব্যাখ্যা
শ্বসনে অংশগ্রহণকারী মাইটোকন্ড্রিয়া দুই স্তরবিশিষ্ট আবরণী বা ঝিল্লি দিয়ে ঘেরা। ১৮৯৮ সালে বেনডা (Benda) এ অঙ্গাণুটি আবিষ্কার করেন। জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। মাইটোকন্ড্রিয়া হলো কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বা পাওয়ার হাউস।
আবিষ্কার নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আছে। তবে, প্রচলিত উত্তর হিসেবে বেনডা ঠিক আছে।
রেফারেন্সঃ জীববিজ্ঞান বই, এসএসসি লেভেল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩৮.
রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রে কয়টি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়? 
  1. ১টি 
  2. ২টি 
  3. ৩টি 
  4. ৭টি 
ব্যাখ্যা

◉ রঙিন টেলিভিশনের (CRT) গ্রাহক যন্ত্রে সাধারণত ৩টি ইলেকট্রন গান ব্যবহার করা হয়। 
প্রতিটি প্রাথমিক রং (লাল, সবুজ, নীল - RGB) এর জন্য আলাদা ইলেকট্রন গান ব্যবহৃত হয়। এই তিনটি রঙের সমন্বয়ে সমস্ত রং তৈরি করা হয়।

রঙিন টেলিভিশন:
- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এই তিনটি মৌলিক রং ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়।
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে।
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি।

তথ্যসূত্র: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৩৯.
নিচের কোন উক্তিটি সঠিক?
  1. ক) বায়ু একটি যৌগিক পদার্থ
  2. খ) বায়ু একটি মৌলিক পদার্থ
  3. গ) বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ
  4. ঘ) বায়ু বলতে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনকেই বোঝায়
ব্যাখ্যা
বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ।

- অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন হল বায়ুর প্রধান দুইটি উপাদান।
- অক্সিজেন বায়ুর একটি সক্রিয় উপাদান যা, শ্বসনে এবং দহনে সহায়তা করে।
- নাইট্রোজেন উদ্ভিদ এবং জীবদেহে প্রোটিন গঠনের প্রদান উপাদান।
- এছাড়াও বায়ুতে সামান্য পরিমাণে জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাই অক্সাইড, ও নিষ্ক্রিয় গ্যাস আছে।

সূত্র- পরিবেশ শিক্ষা- বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৪০.
ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়-
  1. ইউরেনিয়াম আইসোটোপ
  2. আয়োডিন আইসোটোপ
  3. টেকনিশিয়াম আইসোটোপ
  4. ইরিডিয়াম আইসোটোপ
ব্যাখ্যা
- অস্থিতিশীল পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্নি বিকিরণের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ সালে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরি বেকেরেল আকস্মিকভাবে এই রশ্নি আবিষ্কার করেন। তার নামানুসারে এই রশ্নির নাম দেয়া হয় বেকেরেল রশ্নি। 
- তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষনার জন্যে তেজস্ক্রিয়তার আবিষ্কারক হেনরী বেকেরেল এবং ম্যারি কুরী ও তার স্বামী পিয়েরে কুরী যৌথভাবে ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক বেকেরেল।
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা- প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা।
- কিছু কিছু মৌলের আইসোটোপ রয়েছে যাদের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে আলফা, বিটা ও গামা রশ্নি নির্গত করে তাদেরকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে।
- লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় ফসফরাস -32 তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 
- থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে আয়োডিন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
১,৫৪১.
‘সিএফসি’ কী ক্ষতি করে?
  1. ওজোন স্তর ধ্বংস করে
  2. পানির আর্সেনিক দূষণ ঘটায়
  3. মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি করে
  4. বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতার পরিমাণ কমিয়ে দেয়
ব্যাখ্যা

• CFC গ্যাস: 
-  CFC গ্যাস হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বন। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে কিন্তু এর মধ্যে ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (সিএফসি) গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে। 
- সিএফসি এর মধ্যে CFC12 এবং CFC13 সর্বাধিক ক্ষতিকর। 
- CFC12 এবং CFC13 এর কার্বন যৌগপ্তলো জায়মান দশায় ক্লোরিন উৎপাদন করে। 
- উৎপন্ন ক্লোরিন ওজোনের সাথে বিক্রিয়া করে ওজোনের অণু ধ্বংস করে।
- এক লক্ষ ওজোনের অণু ধ্বংসের জন্য একটি ক্লোরিনের অণুই যথেষ্ট।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৪২.
পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থান করছে তার নাম কী?
  1. মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
  2. সৌরজগৎ
  3. আলফা সেন্টোরি
  4. অ্যান্ড্রোমিডা
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্ব (Universe): 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- মহাবিশ্ব যে কত বড় তা কেউ জানে না এবং কেউ জানে না মহাবিশ্বের আকার বা আকৃতি কেমন। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। 
- গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

মহাবিশ্বের উৎপত্তি যেভাবে হয়েছে: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৫৪৩.
নিচের কোনটি রূপান্তরিত শিলা নয়?
  1. ক) গ্রাফাইট
  2. খ) নিস
  3. গ) চুনাপাথর
  4. ঘ) মার্বেল
ব্যাখ্যা
• পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তা পাললিক শিলা। এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে। পাললিক শিলা নরম ও হালকা যা সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এর মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়। পাললিক শিলায় ছিদ্র দেখা যায়।

• পাললিক শিলার উদাহরণ:
- চুনাপাথর,
- কয়লা,
- নুড়িপাথর,
- বেলেপাথর,
- পলিপাথর,
- কর্দমপাথর,
- চক,
- কোকিনা,
- লবণ,
- জিপসাম,
- ডায়াটম,
- ডোলোমাইট ইত্যাদি।

• কিছু রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
- গ্রাফাইট (কয়লার রূপান্তরিত রূপ),
- মার্বেল (চুনাপাথরের রূপান্তরিত রূপ),
- নিস (গ্রানাইটের রূপান্তরিত রূপ) ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৪৪.
নিচের কোনটি জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব?
  1. মেঘলা আবহাওয়া।
  2. অস্থায়ী বৃষ্টি।
  3. মরুকরণ
  4. নদীতে মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি।
ব্যাখ্যা
জলবায়ু:  জলবায়ু (Climate) হলো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যমান আবহাওয়ার গড় অবস্থা। এর মধ্যে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, বাতাসের গতি ও দিক ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত ৩০ বছর বা তারও বেশি সময়ের আবহাওয়ার পরিসংখ্যান থেকে একটি অঞ্চলের জলবায়ু নির্ধারিত হয়।

জলবায়ু পরিবর্তন হলো পৃথিবীর জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন যা প্রাকৃতিক কারণ অথবা মানুষের কার্যকলাপের কারণে ঘটতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ের জলবায়ু পরিবর্তন মূলত গ্রীনহাউস গ্যাস (যেমন: কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন) বৃদ্ধির কারণে হচ্ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা (Global Warming) সৃষ্টি করছে।

• জলবায় পরিবর্তনের কারনসমুহ- 
-  জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো (কয়লা, গ্যাস, তেল)
-  বনভূমি ধ্বংস (Deforestation)
-  শিল্প ও যানবাহনের নির্গত গ্যাস
-  গবাদিপশু খামারের মিথেন গ্যাস
 
• জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
- মরুকরণ। 
- গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি । 
- হিমবাহ গলে যাওয়া। 
- জৈববৈচিত্র্যের ক্ষতি। 
- কৃষিজ উৎপাদনে বিঘ্ন। 
• মরুকরণ হলো এমন একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যেখানে উর্বর জমি ধীরে ধীরে অনুৎপাদনশীল, শুষ্ক ও অনুর্বর হয়ে পড়ে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের একটি গুরুতর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব।

অন্যদিকে,
- মেঘলা আবহাওয়া: এটি স্বল্পমেয়াদী জলবায়ুর আচরণ, দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন নয়।

- অস্থায়ী বৃষ্টি: এটি আবহাওয়ার একটি সাময়িক বৈচিত্র্য, জলবায়ুর নয়।

- নদীতে মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি: এটি জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাভাবিক বা প্রত্যাশিত প্রভাব নয়। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তথ্যসূত্র: 
- মাধ্যমিক শ্রেনীর ভুগোল ও পরিবেশ (NCTB)। 
- বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর (DOE) প্রকাশনা। 
- Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC) Reports
১,৫৪৫.
তুল্য আর্দ্রতার সাথে কীসের সম্পর্ক আছে?
  1. ক) শিশিরাঙ্কের
  2. খ) বায়ুর ঘনত্ব
  3. গ) বায়ুর তাপমাত্রা
  4. ঘ) কুয়াশা
ব্যাখ্যা
তুল্য আর্দ্রতার সাথে শিশিরাঙ্কের সম্পর্ক আছে।

• তুল্য আর্দ্রতা:
কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে অবস্থিত জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাপকে তুল্য আর্দ্রতা বলে।
- তুল্য আর্দ্রতা দুই পদ্ধতিতে পরিমাপ করা যায়। যথা- হাইগ্রোমিটার এবং সাইক্রোমিটার।
-উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ২৫০° সে. তাপমাত্রায় সম্পৃক্ত ১ কিলোগ্রাম বায়ুতে ২০ গ্রাম জলীয়বাষ্প থাকে।
- যদি কোনো সময়ের বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ১০ গ্রাম হয় তবে এ সময়ের তুল্য আর্দ্রতা হবে ১০/২০ অথবা ৫০ শতাংশ।
- তুল্য আর্দ্রতার সাথে শিশিরাঙ্কের সম্পর্ক রয়েছে।
- যে তাপমাত্রার বায়ু জলীয়বাষ্পে সম্পৃক্ত হয় তা শিশিরাঙ্ক নামে পরিচিত। 

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৪৬.
বর্ষাকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে কোন বায়ু প্রবাহিত হয়?
  1. ক) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
  2. খ) উত্তর-পূর্ব মহাদেশীয় বায়ু
  3. গ) উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু
  4. ঘ) দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমী বায়ু
ব্যাখ্যা
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে ফেরেলের সূত্রানুসারে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে বেঁকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু হিসেবে প্রবাহিত হয়।
- সমুদ্র থেকে আগত হওয়ায় এই বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকে। ফলে এই মৌসুমি বায়ু হিমালয় পর্বতে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এই প্রক্রিয়ায় বর্ষাকালে দেশের সারা বছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ বৃষ্টি হয়।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৫৪৭.
পৃথিবীর মোট জলভাগের মধ্যে হিমবাহের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ক) ০.০৩%
  2. খ) ০.৬৮%
  3. গ) ২.০৫%
  4. ঘ) ৫.৫০%
ব্যাখ্যা
জলরাশির অবস্থান ভিত্তিক শতকরা পরিমাণ:


উৎস: ভূগোল, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৫৪৮.
কোন বর্ণের রশ্মিকে মধ্যরশ্মি বলা হয়?
  1. ক) সবুজ
  2. খ) নীল
  3. গ) হলুদ
  4. ঘ) আসমানি
ব্যাখ্যা
হলুদ বর্ণের আলােক রশ্মির বিচ্যুতি লাল ও বেগুনি বর্ণের আলােক রশ্মির বিচ্যুতির মাঝামাঝি। এজন্য এর বিচ্যুতিকে গড় বিচ্যুতি (Mean deviation) এবং হলুদ বর্ণের রশ্মিকে মধ্য রশ্মি (Mean ray) বলা হয়। (উৎসঃ ১১-১২শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
১,৫৪৯.
পরিবেশ থেকে হঠাৎ কোন প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেলে কি ঘটবে?
  1. ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিবে
  2. খ) বাস্তুতন্ত্র স্থিতিশীল হবে
  3. গ) বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হবে
  4. ঘ) বাস্তুতন্ত্রের কোন পরিবর্তন হবে না
ব্যাখ্যা
মানুষের বসতবাড়িতে বসবাসকারী একজোড়া ইঁদুর বিনা বাঁধায় বংশ বিস্তার করলে বছর শেষে ইঁদুরের সংখ্যা দাড়াবে ৮৮০টিতে।
কিন্তু একটি পেঁচা দিনে কমপক্ষে তিনটি ইঁদুর খেয়ে হজম করতে পারে। চিল, কাক ও শকুন ময়লা পরিস্কারক হিসেবে কাজ করে। আর তা না হলে পৃথিবীতে রোগ জীবাণুর বিস্তার অনেকগুণ বেড়ে যেত।
এ সকল কারণে কোনও জীবকেই অপ্রয়োজনীয় বলা যায় না। পরিবেশ থেকে কোনও প্রজাতি বিলুপ্ত হলে বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়। তাই বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা রক্ষায় জীববৈচিত্র্যের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৫০.
শব্দেতর তরঙ্গের কম্পাঙ্ক কত?
  1. ক) ২০০০০ Hz এর চেয়ে কম
  2. খ) ২০০০০ Hz এর চেয়ে বেশি
  3. গ) ২০ Hz - ২০০০০ Hz
  4. ঘ) ২০ Hz এর কম
ব্যাখ্যা

উৎসের কম্পাঙ্ক ২০ Hz - ২০০০০ Hz এর মধ্যে থাকলেই কেবল তা শুনতে পায় মানুষ। একে শ্রাব্যতার পাল্লা বলে।
- যে শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ২০০০০ Hz এর চেয়ে বেশি- তাকে শব্দোত্তর তরঙ্গ বলে।
- আর যে শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ২০ Hz এর চেয়ে কম-তাকে শব্দেতর তরঙ্গ বলে।
সূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,৫৫১.
বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে কোন গ্যাস সবচেয়ে পরিমাণে পাওয়া যায়?
  1. হাইড্রোজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. হিলিয়াম
  4. আর্গন
ব্যাখ্যা
• বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বেশি গ্যাস হলো হাইড্রোজেন।
- হাইড্রোজেন গ্যাস মহাবিশ্বের মৌলিক গঠনের প্রায় 75% (ভর) তৈরি করে।
- এটি আমাদের সূর্য সহ নক্ষত্রগুলিতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এবং এটি পারমাণবিক ফিউশন প্রতিক্রিয়াগুলির জন্য প্রাথমিক জ্বালানী উৎস।
- হাইড্রোজেন আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশেও প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত থাকে এবং এটি আণবিক মেঘের একটি মূল উপাদান যেখানে নতুন তারকা গঠি হয়।

অন্যদিকে,
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে নাইট্রোজেন গ্যাস।
- মহাবিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপাদান হচ্ছে হিলিয়াম।
- হাইড্রোজেন ও হিলিমায় যৌথভাবে মহাবিশ্বের ৯৯.৯% উপাদান গঠন করেছে।
- এই সারিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অক্সিজেন।

উৎস: The University of Texas; LiveScience and Nature Journal.
১,৫৫২.
কম্পিউটারের মনিটরে কোন তিনটি রং প্রয়োজনীয় তীব্রতা দিয়ে অন্য সব রং তৈরি করে?
  1. ক) লাল, কমলা এবং সবুজ
  2. খ) লাল, আসমানী এবং হলুদ
  3. গ) লাল, নীল এবং সবুজ
  4. ঘ) লাল, বেগুনী এবং কমলা
ব্যাখ্যা
টেলিভিশন বা কম্পিউটারের মনিটরে কিংবা বইপুস্তকের রঙিন ছবির রংগুলো আসে লাল, নীল এবং সবুজ রংয়ের সূক্ষ্ম বিন্দু দিয়ে অর্থাৎ এই তিনটি রং প্রয়োজনীয় তীব্রতা দিয়ে অন্য সব রং তৈরি করে।
[সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
১,৫৫৩.
পারমাণবিক চুল্লিতে সাধারণত কোন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়?
  1. নিউক্লিয়ার ফিশন
  2. জারণ বিক্রিয়া
  3. নিউক্লিয়ার ফিউশন
  4. বিস্ফোরণ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।

• পারমাণবিক চুল্লি:
- নিউক্লিয়ার রিয়‍্যাক্টর (Nuclear Reactor) বা পারমাণবিক চুল্লি মূলত এক প্রকার তাপীয় যন্ত্র।
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম-২৩৫)-এর শৃঙ্খল বিক্রিয়া (chain reaction) ঘটিয়ে অত্যধিক তাপ শক্তি উৎপাদন করা হয়।
- মূলত ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) কে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়ার বিভাজনের (Nuclear Fission) মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লির মধ্যে প্রচুর পরিমাণ তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়।
- পারমাণবিক চুল্লি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৫৪.
নাইট্রোজেনের প্রধান উৎস-
  1. ক) মাটি
  2. খ) উদ্ভিদ
  3. গ) বায়ুমণ্ডল
  4. ঘ) প্রাণীদেহ
ব্যাখ্যা
• বায়ুমন্ডল:
- বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাস ও বাষ্পের সমন্বয়ে গঠিত হলেও এর প্রধান উপাদান দুইটি।
- যথা: নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
- বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- অক্সিজেনের পরিমাণ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

- বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলোর শতকরা পরিমাণ,
নাইট্রোজেন ৭৮.০১%,
• অক্সিজেন ২০.৭১%,
• আর্গন ০.৮০%,
• জলীয়বাষ্প ০.৪১%,
• কার্বন-ডাই-অক্সাইড ০.০৩% ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৫৫.
বঙ্গোপসাগরে কত কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে?
  1. ১২০ কিলোমিটার
  2. ১৬০ কিলোমিটার
  3. ১১০ কিলোমিটার
  4. ১৩০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্রতলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। 
- সুনামিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। 
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- ইউরেশিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে  সৃষ্টি হওয়া এই মারাত্মক ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে নয় মাত্রার। এই জলোচ্ছাসে তিন লাখের মতো মানুষ নিহত হয় যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার আচেহ প্রদেশেই নিহত হয়েছে এক লাখ মানুষ। তবে এ সময় বাংলাদেশের কোনো ধরনের ক্ষতি হয়নি। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায়। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 
- ১৭৬২ সালের ২ এপ্রিল বঙ্গোপসাগরের আরাকান অঞ্চলে সংঘটিত একটি ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামি বাংলাদেশে আঘাত এনেছিল। তখন কক্সবাজার এবং পার্শ্ববর্তী দ্বীপসমূহে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৫৫৬.
মহাশূন্য থেকে আগত রশ্মি বা কণাকে বলা হয়-
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. কসমিক রশ্মি
ব্যাখ্যা

- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে উচ্চশক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে, তাদের সমষ্টিকে মহাজগতিক রশ্মি বা কসমিক রশ্মি বলে।
- বিজ্ঞানী ভিক্টর হেস ১৯৩৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৫৫৭.
পদার্থের এটম নামক অবিভাজ্য একক রয়েছে- উক্তিটি কার?
  1. ক) ডেমোক্রিটাস
  2. খ) পিথাগোরাস
  3. গ) থেলিস
  4. ঘ) লোডস্টোন
ব্যাখ্যা

- পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানী ও দার্শনিকগণ নানারকম মতবাদ ব্যক্ত করেছেন।
- গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা হিসাবে মতবাদ পোষণ করেন। 
- তিনি সর্বপ্রথম ধারণা দেন যে, পদার্থের অবিভাজ্য একক রয়েছে, যার নাম এটম।

- তার মতে সকল পদার্থই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণা দ্বারা গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু বা এটম। এটম কথাটি তিনি নিয়েছিলেন গ্রিক শব্দ এটোমোস থেকে যার অর্থ হলো অবিভাজ্য। 


সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান; বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি। 

১,৫৫৮.
তুল্য আর্দ্রতা পরিমাপ পদ্ধতি হলো-
i. হাইক্রোমিটার
ii. হাইগ্রোমিটার
iii. সাইক্রোমিটার
iv. সাইট্রোমিটার
নিচের কোনটি সঠিক ?
  1. ক) i ও ii
  2. খ) ii ও iii
  3. গ) i ও iii
  4. ঘ) i ও iv
ব্যাখ্যা
• তুল্য আর্দ্রতা পরিমাপ পদ্ধতি হলো- ii. হাইগ্রোমিটার ও iii. সাইক্রোমিটার

• কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে অবস্থিত জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাপকে তুল্য আর্দ্রতা বলে।
- তুল্য আর্দ্রতা দুই পদ্ধতিতে পরিমাপ করা যায়। যথা- হাইগ্রোমিটার এবং সাইক্রোমিটার।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ২৫০° সে. তাপমাত্রায় সম্পৃক্ত ১ কিলোগাম বায়ুতে ২০ গ্রাম জলীয়বাষ্প থাকে।
- যদি কোনো সময়ের বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ১০ গ্রাম হয় তবে ঐ সময়ের তুল্য আর্দ্রতা হবে ১০/২০ অথবা ৫০ শতাংশ।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৫৯.
1000 Hz কম্পাঙ্কের কোনাে শব্দের শ্রুতির প্রারম্ভ সীমার তীব্রতা কত?
  1. ক) 1012 Wm-2
  2. খ) 1010 Wm-2
  3. গ) 10-12 Wm-2
  4. ঘ) 10-10 Wm-2
ব্যাখ্যা

কোনাে শব্দ শ্রাব্য হতে হলে শব্দের তীব্রতা এবং কম্পাঙ্ক একটা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হয়। শ্রাব্য শব্দের নিম্নতম তীব্রতাকে শ্রাব্যতার প্রারম্ভ (threshold of audibility) বলে। 1000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দের শ্রাব্যতার প্রারম্ভিক সীমা 10-12 Wm-2 তীব্রতার বা, 10-12 W ক্ষমতার সমান।
প্রমাণ তীব্রতা : 1000 Hz কম্পাঙ্কবিশিষ্ট 10-12 Wm-2 তীব্রতাকে প্রমাণ তীব্রতা বলে।
প্রমাণ ক্ষমতা : 1000 Hz কম্পাঙ্কবিশিষ্ট 10-12 W ক্ষমতাকে প্রমাণ ক্ষমতা বলে।

১,৫৬০.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণে কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়?
  1. আয়োডিন-131
  2. ফসফরাস-32
  3. কার্বন-14 
  4. কোবাল্ট-60
ব্যাখ্যা

- তেজস্ক্রিয় ফসফরাস-32 (P-32) ব্যবহার করে উদ্ভিদের মূল থেকে বিভিন্ন অংশে খাদ্যবস্তু পৌঁছানোর কৌশল এবং উদ্ভিদের পুষ্টি গ্রহণ ও বৃদ্ধির প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা যায়। 

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 

- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সব শাখায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
যেমন- 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণে ফসফরাস-৩২ (32P) তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- তেজস্ক্রিয় ফসফরাস (P-32, C-14, DNA, RNA) এবং কার্বন ব্যবহার করে ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড এবং রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড এর গঠনের হার পর্যালোচনা করে মানুষের জীবন রহস্য সম্পর্কে অনেক তথ্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে। 
- শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি প্রয়োগ করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে খাদ্যদ্রব্যকে রক্ষা করা হয়।

চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 (131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে। 
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৬১.
কক্ষ তাপমাত্রায় পদার্থ নিচের কোন অবস্থায় থাকে না?
  1. ক) কঠিন
  2. খ) প্লাজমা
  3. গ) গ্যাসীয়
  4. ঘ) তরল
ব্যাখ্যা
যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, কোনো কোনো পদার্থ তরল এবং কোনো কোনো পদার্থ গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
১,৫৬২.
ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যর শব্দের দ্বারা ইমেজিং হলো -
  1. ক) আলট্রাসনোগ্রাফি
  2. খ) সিটিস্ক্যান
  3. গ) ইসিজি
  4. ঘ) এক্স-রে
ব্যাখ্যা
আল্ট্রাসনোগ্রাফি
আল্ট্রাসনোগ্রাফি হলো রোগ নির্ণয় সংক্রান্ত একটি বিশেষ ধরণের প্রক্রিয়া যেখানে উচ্চ কম্পাংকের শব্দের প্রতিফলন বা প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগানো হয়।
উচ্চ কম্পাংকের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশী থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। সাধারণত শরীরের অভ্যন্তরের নরম পেশীজনিত সমস্যা নির্ণয়ে আল্ট্রাসাউন্ড কাজে লাগিয়ে তা সনাক্ত করা হয়। এছাড়াও হৃদপিন্ডে অথবা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য নরম অঙ্গ যেমন- যকৃৎ, পিত্তথলি, প্রধানরক্ত নালী সমূহে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়।

সুত্রঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৬৩.
সূর্যের আয়তন পৃথিবী অপেক্ষা বড়-
  1. ক) ১৩ মিলিয়ন গুণ
  2. খ) ১০ মিলিয়ন গুণ
  3. গ) ১.৩ মিলিয়ন গুণ
  4. ঘ) ১.০ মিলিয়ন গুণ
ব্যাখ্যা
- সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থিত মাঝারি আয়তনের নক্ষত্র সূর্য।
- পৃথিবীর ব্যাস প্রায় ১৩,০০০ কিলোমিটার এবং সূর্যের ব্যাস প্রায় ১৪,০০০০০ কিলোমিটার।
- সূর্যের আয়তন পৃথিবী অপেক্ষা প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ বড়।
- পৃথিরী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিলিয়ন কিলোমিটার।
- সূর্য তার নিজস্ব গ্যালাক্সির চতুর্দিকে বৃত্তাকার পথে ২০ কোটি বছরে একবার প্রদক্ষিণ করে এবং নিজ কক্ষপথে প্রায় ২৫ দিনে একবার আবর্তন করে।
- সূর্যের কেন্দ্রভাগে তাপমাত্রা ৮ মিলিয়ন থেকে ৪০ মিলিয়ন ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং পৃষ্ঠদেশের তাপমাত্রা প্রায় ৫,৭০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। যার দরুণ ভূ-পৃষ্ঠে উদ্ভিদ ও প্রাণী বেঁচে থাকে ।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৬৪.
বুধ গ্রহে প্রাণির অস্তিত্ব নেই কারণ- 
  1. পর্যাপ্ত বায়ুমণ্ডল ও পানি থাকার ফলে 
  2. সূর্য থেকে দূরত্ব অনেক বেশি
  3. তাপমাত্রা অত্যন্ত কম
  4. মাধ্যাকর্ষণ কম, তাই বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে না
ব্যাখ্যা

বুধ (Mercury): 
- বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ। 
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার এবং এর ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার।
- সূর্যের খুব কাছাকাছি থাকায় সূর্যের আলোর তীব্রতার কারণে সবসময় একে দেখা যায় না।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে আসতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন।
সুতরাং, বুধ গ্রহে ৮৮ দিনে এক বছর হয়।
- বুধের মাধ্যাকর্ষণ বল এত কম যে এটি কোনো বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে না। এখানে নেই মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস ও পানি, সুতরাং প্রাণির অস্তিত্ব নেই
- ১৯৭৪ সালে মার্কিন মহাশূন্যযান মেরিনার-১০ বুধের যে ছবি পাঠায় তা থেকে দেখা যায় যে, বুধের উপরিতল একদম চাঁদের মতো।
- ভূত্বক অসংখ্য গর্তে ভরা এবং এবড়ো-থেবড়ো। এখানে অসংখ্য পাহাড় ও সমতলভূমি আছে।
- বুধের কোনো উপগ্রহ নেই। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৬৫.
গ্রীণ হাউজে গাছ লাগানো হয় কেন?
  1. ক) উষ্ণতা থেকে রক্ষার জন্য
  2. খ) ঝড় – বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য
  3. গ) আলো থেকে রক্ষার জন্য
  4. ঘ) অত্যধিক ঠান্ডা থেকে রক্ষার জন্য
ব্যাখ্যা
• গ্রিন হাউজ:
- শীতপ্রধান অঞ্চলের অত্যধিক ঠান্ডা থেকে রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় তাপ ধরে রাখার জন্য কাঁচ নির্মিত ঘরের মধ্যে গাছ লাগানো হয়।
- এই কাঁচ নির্মিত ঘরকে গ্রীন হাউজ বলা হয়।
- গাছকে উষ্ণতা প্রদান করার জন্য গ্রিন হাউজে গাছ লাগানো হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৬৬.
জগদীশচন্দ্র বসু প্রথম কোন ক্ষেত্রে গবেষণা করেছিলেন এবং সফল হন?
  1. কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ
  2. নিউট্রন আবিষ্কার
  3. দূরবর্তী স্থানে বিনা তারে সংকেত প্রেরণ
  4. প্ল্যানেটের কক্ষপথ নির্ধারণ
ব্যাখ্যা

জগদীশচন্দ্র বসু: 
- ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপনা এবং গবেষণা শুরু করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু প্ৰথম বিনা তারে দুরবর্তী স্থানে সংকেত পাঠানো বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং সফল হন। 
- ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বারের মত দূরবর্তী স্থানে বিনা তারে রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তিনিই প্রথম তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার (৫ মিলিমিটার) পর্যায়ে পরিমাপের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসুই সর্বপ্রথম রেডিও সংকেত শনাক্ত করার কাজে অর্ধপরিবাহি জাংশন ব্যবহার করেন। এই আবিষ্কারকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর আবিষ্কারকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। 
- জীব পদার্থবিজ্ঞানে জগদীশচন্দ্র বসু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। 
- উদ্ভিদের শারীরিতত্বের উপর তাঁর গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হচ্ছে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ। তিনি উদ্ভিদের উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার কারণ ও প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করেন। তিনি দেখান যে বিভিন্ন উদ্দীপনায় উদ্ভিদেও সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি রাসায়নিক নয় বৈদ্যুতিক। 
- তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের একটি হচ্ছে ‘Response in the living and non-living'। 
- ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে উদ্ভিদ-শরীরিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য কলকাতায় বসু মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ নভেম্বর জগদীশচন্দ্র বসু পরলোকে গমন করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৬৭.
এক্স রে টিউবে কিসের ক্যাথোড ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) টিন
  2. খ) এলুমিনিয়াম
  3. গ) টাংস্টেন
  4. ঘ) কপার
ব্যাখ্যা
টাংস্টেনের ক্যাথোডে বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে যায় এবং তা থেকে ইলেকট্রন নির্গত হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৫৬৮.
FCDI কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. বন্যা
  3. বজ্রপাত
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
FCDI প্রকল্প:
• FCDI: Flood Control, Drainage and Irrigation Projects 
• বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প হলো বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্প। 
• উদ্দেশ্য: বন্যাপ্রবণ এলাকার ২০% ভূমিকে রক্ষা করা। 
• ১৯৬৪ সালে দেশজুড়ে ৫৮টি বন্যা প্রতিরোধ এবং নিষ্কাশন প্রকল্প সম্বলিত একটি মাস্টার প্ল্যান গৃহীত হয়েছিল।

• FCDI এর প্রধান প্রধান কয়েকটি সেচ প্রকল্প হলো:
- গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট);
- ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্প ;
- কর্ণফুলি বহুমুখী প্রকল্প ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর। 
১,৫৬৯.
নিচের কোনটি গ্রিন হাউস ইফেক্টের কারণে বৃদ্ধি পায়?
  1. মহাশূন্যের তাপমাত্রা
  2. সূর্যের শক্তি 
  3. মহাশূন্যে CO2-এর পরিমাণ
  4. পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা

- গ্রিন হাউস ইফেক্টের কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়

গ্রিন হাউস ইফেক্ট: 
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস ইফেক্ট বলে। 
- বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত যেসব গ্যাসীয় CO2, CFC, N2O2, CO, O3 ইত্যাদি পদার্থের আবরণ পৃথিবীকে আচ্ছাদন রূপে ঢেকে রেখে পৃথিবী পৃষ্ঠ হতে বিকিরিত তাপকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাধা দেয় এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত রাখে তাদেরকে গ্রিন হাউজ গ্যাস বলে। 
- পরিবেশ দূষণ এবং গাছপালা কেটে ফেলার ফলে গ্রিন হাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে, ফলে সূর্য থেকে তাপ বিকিরিত হয়ে পৃথিবীতে ঢোকার পর যতটা আবার পৃথিবীর বাইরে বিকিরিত হওয়া উচিত তা হচ্ছে না, ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। 
- গ্রিন-হাউজ ইফেক্টের ফলে তাপ আটকে পড়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৭০.
জগদীশচন্দ্র বসু রেডিও সংকেত শনাক্তকরণের কাজে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিলেন? 
  1. ট্রানজিস্টর 
  2. অর্ধপরিবাহী জাংশন 
  3. ভ্যাকুয়াম টিউব 
  4. ক্যাপাসিটার 
ব্যাখ্যা

জগদীশচন্দ্র বসু: 
- ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপনা এবং গবেষণা শুরু করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু প্ৰথম বিনা তারে দুরবর্তী স্থানে সংকেত পাঠানো বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং সফল হন। 
- ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বারের মত দূরবর্তী স্থানে বিনা তারে রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। 
- তিনিই প্রথম তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার (৫মিলিমিটার) পর্যায়ে পরিমাপের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসুই সর্বপ্রথম রেডিও সংকেত শনাক্ত করার কাজে অর্ধপরিবাহি জাংশন ব্যবহার করেন। 
- এই আবিষ্কারকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর আবিষ্কারকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। 
- জীব পদার্থবিজ্ঞানে জগদীশচন্দ্র বসু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। 

- উদ্ভিদের শারীরিতত্বের উপর তাঁর গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হচ্ছে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ। 
- তিনি উদ্ভিদের উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার কারণ ও প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করেন। 
- তিনি দেখান যে বিভিন্ন উদ্দীপনায় উদ্ভিদেও সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি রাসায়নিক নয় বৈদ্যুতিক। 
- তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের একটি হচ্ছে ‘Response in the living and non-living'। 
- ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে উদ্ভিদ-শরীরিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য কলকাতায় বসু মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ নভেম্বর জগদীশচন্দ্র বসু পরলোকে গমন করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৭১.
মৃদু পানির সবচেয়ে বড় উৎস হলো-
  1. ক) সমুদ্র
  2. খ) মহাসাগর
  3. গ) হ্রদ
  4. ঘ) বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা
মৃদু পানির সবচেয়ে বড় উৎস হলো বৃষ্টির পানি। সাগরের পানিতে লবণ থাকে বলে এটি মৃদু বা মিষ্টি পানির উৎস নয়। নদীর পানি ও বিলের পানি মৃদু হলেও এসব মূলত বৃষ্টিপাতের উপরে নির্ভরশীল। উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৭২.
টেলিভিশনে রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য কোন মৌলিক রঙ ব্যবহার করা হয়?
  1. লাল, সবুজ, হলুদ
  2. লাল, নীল, সবুজ
  3. নীল, হলুদ, কালো
  4. সবুজ, হলুদ, সাদা
ব্যাখ্যা

টেলিভিশনে রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল, সবুজ এই তিনটি মৌলিক রঙ ব্যবহার করা হয়।

• রঙিন টেলিভিশন:
- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- তবে রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এ তিনটি রং-এর পৃথক পৃথক ইলেকট্রন টিউব থাকে।
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়।
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে।
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৭৩.
কোন প্রাণি পানিতে বসবাস করা সত্ত্বেও বাতাসে নিশ্বাস নেয়?
  1. ক) হাঙর
  2. খ) জেলি ফিস
  3. গ) তিমি
  4. ঘ) চিংড়ি
ব্যাখ্যা
ডলফিন (শুশুক) ও তিমি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণি। কিন্তু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য এগুলো মানুষের মতই বাতাস ব্যবহার করে।
পানিতে এই প্রাণিগুলো নিঃশ্বাস নিতে পারে না, কারণ এগুলোর ফুলকা নেই।

Source: uk.whales.org
১,৫৭৪.
পারমাণবিক বোমা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় কোন বিক্রিয়া ব্যবহার করে?
  1. আয়নিক বিক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. ফিউশন বিক্রিয়া
  4. ফিশন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
ফিউশন বিক্রিয়া: 
- দুটি নিউক্লিয়াসের সংযোগে একটি নিউক্লিয়াস তৈরি হওয়াকে ফিউশন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া হাইড্রোজেন বোমা তৈরির ভিত্তি। 

ফিশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় একটি নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে ফিশন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া ব্যবহার করে পারমাণবিক বোমা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৭৫.
ডায়োড সম্পর্কে নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. ক) ব্যাটারির যে কোন ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।
  2. খ) AC কারেন্ট কে DC কারেন্টে রূপান্তর করা যায়।
  3. গ) জাংশন ডায়োড তৈরি করা যায়।
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযােগে হয় না।
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই। সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছােট ছােট আলো হল Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- এটি মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৭৬.
বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ ঘটেছিল প্রায় কত বছর আগে?
  1. ৩৭৫.০ কোটি বছর
  2. ১.৩৭৫ ট্রিলিয়ন বছর
  3. ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর
  4. ১৩.৭৫ মিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্ব: 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

মহাবিশ্বের উৎপত্তি: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৫৭৭.
হ্যালির ধূমকেতু কত বছর পরপর দেখা যায়?
  1. ৭০ বছর
  2. ৭৬ বছর
  3. ৮০ বছর
  4. ৮৬ বছর
ব্যাখ্যা
হ্যালির ধূমকেতু:
- পরবর্তী হ্যালির ধূমকেতু দেখা যাবে ২০৬২ সালে।
- জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি যে ধূমকেতু আবিষ্কার করেন তা হ্যালির ধূমকেতু নামে পরিচিত।
- হ্যালির ধূমকেতু ৭৬ বছর পরপর দেখা যায়।
- ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধুমকেতু সর্বশেষ দেখা গেছে। হ্যালির ধূমকেতু আবার দেখা যাবে ১৯৮৬+৭৬ = ২০৬২ সালে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৭৮.
পৃথিবীর সঙ্গে একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তাকে কী হিসেবে অভিহিত করা হয়? 
  1. পীড়ন
  2. অভিকর্ষ বল
  3. স্থিতিস্থাপকতা
  4. তাড়িতচৌম্বক বল
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষ: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে। 
- মূলত এই বলের প্রভাবে বস্তু পৃথিবীর দিকেই আকৃষ্ট হয়। 
- পৃথিবীর বিশালত্বের কারণে অন্য বস্তুটির বলের প্রভাব অনুভূত বা পরিলক্ষিত হয় না। 
- তাই পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে আকর্ষণ বা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যের আকর্ষণ মহাকর্ষ। 
- কিন্তু পৃথিবীর সঙ্গে এক খন্ড পাথরের বা একটুকরো ইটের বা একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বলে অভিহিত হয়। 
- মূলত অভিকর্ষ এক ধরণের মহাকর্ষ। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৭৯.
গ্যাসোলিন কোনটি?
  1. ক) পেট্রোল
  2. খ) ডিজেল
  3. গ) অকটেন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- পেট্রোল হচ্ছে এক ধরনের হাইড্রোকার্বন।
- এর স্ফুটনাঙ্ক ২১ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে ৭০ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
- একে গ্যাসোলিনও বলা হয়।
তথ্যসূত্র: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ২৬৬।

১,৫৮০.
পাহাড়ের উপরে কোন গ্যাসের আধিক্য বেশি?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) কার্বনডাই অক্সাইড
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) আর্গন
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাস ও বাষ্পের সমন্বয়ে গঠিত হলেও এর প্রধান উপাদান দুইটি।
যথা- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ৭৮.০১% ও অক্সিজেনের পরিমাণ ২০.৭১%।
পাহাড়ের উপরে গ্যাসের অনুপাতের পরিমানে সামান্য তারতম্য হলেও নাইট্রোজেনের পরিমাণই সবচেয়ে বেশি। 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি

১,৫৮১.
দুধের ঘনত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র-
  1. ম্যানোমিটার
  2. গ্র্যাভিমিটার
  3. পাইরোমিটার
  4. ল্যাক্টোমিটার
ব্যাখ্যা
- দুধের ঘনত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র হলো ল্যাক্টোমিটার। 

অন্যদিকে, 
- চাপ পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র হলো ম্যানোমিটার। 
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র হলো পাইরোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র হলো গ্রাভিমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র টেকোমিটার। 
- সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপক যন্ত্র ফ্যাদোমিটার। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১,৫৮২.
কাকে 'ফাদার অব মর্ডান অ্যাস্ট্রোফিজিক্স' বলা হয়?
  1. Angelo Secchi
  2. Carl Sagan
  3. Edwin Hubble
  4. Satyen Sen
ব্যাখ্যা
• অ্যাঞ্জেলো সেচ্চি(Angelo Secchi):
- তিনি ছিলেন একজন ইতালীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী।
- যিনি প্রথম তারাদের বর্ণালীবৈশিষ্ট্যের (spectral classification) ভিত্তিতে শ্রেণিবদ্ধ করার কাজ করেন।
- এটি ছিল আধুনিক জ্যোতির্পদার্থবিদ্যার (Astrophysics) ভিত্তিপ্রস্তর।
- এজন্য তাকে "Father of Modern Astrophysics" বলা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও স্প্রিনজার আর্টিকেল।
১,৫৮৩.
মাইক্রোওয়েভ কোথায় ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) রেডিওতে
  2. খ) টেলিফোনে
  3. গ) রাডারে
  4. ঘ) টেলিস্কোপে
ব্যাখ্যা
রাডার যন্ত্রে, নৌ ও বিমান চালনায়, রেডিও যােগাযােগ ব্যবস্থায়, শিল্প কারখানায় এই তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়। এছাড়া খাবার গরম করা ও রান্নার কাজে মাইক্রোওভেন ব্যবহৃত হয়। (উৎসঃ ১১-১২শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
১,৫৮৪.
বর্তমানে পরিবেশ-বান্ধব কোন গ্যাসটি রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসরে ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) টাইক্লোরোটাইফ্লুরো ইথেন
  2. খ) টেট্রাফ্লুরো ইথেন
  3. গ) ডাইক্লোরো ডাইফ্লুরো ইথেন
  4. ঘ) আর্গন
ব্যাখ্যা
- ১৯২৭ সালে প্রথম আধুনিক ব্যক্তিগত রেফ্রিজারেটর বাজারে আনে মার্কিন প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিক।
- আধুনিক রেফ্রিজারেটরগুলােতে ফ্রেয়ন এর বদলে টেট্রাফ্লুরােইথেন নামে একটি গ্যাস ব্যবহার করা হয়। যেটা পরিবেশ বান্ধব।
- ফ্রেয়ন ওজোন স্তর ধংসের জন্য দায়ী।
১,৫৮৫.
মধ্যম উচ্চতার মেঘ কোনটি?
  1. সিরাস
  2. নিম্বাস
  3. অল্টোকিউম্যুলাস
  4. স্ট্রেটাস
ব্যাখ্যা

• উঁচু উচ্চতার মেঘ:
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ।
উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস
- সিরোকিউম্যুলাস
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।

• মাঝারি উচ্চতার মেঘ:
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস
- নিম্বোস্ট্রেটাস

• নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
- কিউম্যুলাস
- কিউম্যুলোনিম্বাস।

সূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। 

১,৫৮৬.
পৃথিবীর বর্তমান বয়স কত?
  1. ৫.৬ বিলিয়ন বছর
  2. ৩.২ বিলিয়ন বছর
  3. ৪.৬ বিলিয়ন বছর
  4. ২.৩ বিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা

- It is widely accepted by both geologists and astronomers that Earth is roughly 4.6 billion years old.
- This age has been obtained from the isotopic analysis of many meteorites as well as of soil and rock samples from the Moon by such dating methods as rubidium–strontium and uranium–lead.
সূত্র: Encyclopedia Britannica

এছাড়া মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বইয়ে পৃথিবীর বয়স ৪.৫৪ বিলিয়িন বছর বলা হয়েছে।

১,৫৮৭.
ভূ-পৃষ্ঠের সৌরদীপ্ত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশের সংযোগ স্থলকে কি বলে?
  1. ছায়াবৃত্ত
  2. গুরুবৃত্ত
  3. গোধূলি
  4. ঊষা
ব্যাখ্যা
ছায়াবৃত্ত:
- পৃথিবীর আলোকিত এবং অন্ধকার অংশের মধ্যবর্তী বৃত্তাকার অংশকে ছায়াবৃত্ত বলে।
- আবর্তনের ফলে পৃথিবীর যে অংশ অন্ধকার থেকে ছায়াবৃত্ত পার হয়ে সবেমাত্র আলোকিত অংশ পৌঁছায় সেখানে প্রভাত হয়।
- প্রভাতের কিছু পূর্বে যে সময় ক্ষীণ আলো থাকে সেখানে ঊষা এবং সন্ধ্যার কিছু পূর্বে যে সময় ক্ষীণ আলো থাকে সে সময়কে গোধূলি বলে।
- প্রভাতের কিছু পূর্বে যে সময় ক্ষীণ আলো থাকে সেখানে ঊষা।
- সন্ধ্যার কিছু পূর্বে যে সময় ক্ষীণ আলো থাকে সে সময়কে গোধূলি বলে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৮৮.
সকল অধাতব পদার্থ মূলত-
  1. ক) পরিবাহী
  2. খ) অপরিবাহী
  3. গ) অর্ধপরিবাহী
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অপরিবাহী পদার্থ
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে, যেমন-কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি।
- মূলত প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী
- অপরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 1012Ωm ক্রমের। 
- অপরিবাহীতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না।
- তাই অপরিবাহীর দুই প্রান্তে অনেক বিভব পার্থক্য ঘটালেও তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি হয় না।
- অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৮৯.
নিচের কোনটি উৎপাদক?
  1. সবুজ উদ্ভিদ
  2. মাটি 
  3. শিকারি পোকা 
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

- সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সূর্যালোক, জল এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহার করে নিজেদের খাদ্য তৈরি করতে পারে, এই কারণে বাস্তুতন্ত্রে এদেরকে উৎপাদক বা প্রাথমিক উৎপাদক বলা হয়। খাদ্য শৃঙ্খল সবসময় একটি উৎপাদক দিয়েই শুরু হয়। 

ইকোলজি: 

- ইকোলজি হলো এমনই এক বিজ্ঞান যা জৈব ও অজৈব উপাদানসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক, পারস্পরিক মিথস্ত্রিয়া ব্যাখ্যা করে। 
- জীব ও জড় পরিবেশের এই পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ককেই বলা হয় বাস্তুসংস্থান। 
- পরিবেশ ও জীবের এই সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য এবং মানুষ, জীব ও পরিবেশ একে অন্যের জীবনধারণের প্রতিটি স্তরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। 

বাস্তুসংস্থানের উপাদান: 
- বাস্তুসংস্থানের উপাদান মূলত দুটি। 
যথা- 
ক. সজীব উপাদান: 
- সজীব সম্প্রদায় হলো বাস্তুসংস্থানের জীব উপাদান। 
- সজীব উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. উৎপাদক: সবুজ উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, খনিজ লবণ প্রভৃতি জীব উপাদান গ্রহণ করে সৌরশক্তির মাধ্যমে নিজেদের শর্করা জাতীয় খাদ্য নিজেরা তৈরি করে। এ সবুজ উদ্ভিদই উৎপাদক। 
২. খাদক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক কর্তৃক তৈরি খাদ্যের উপর নির্ভরশীল জীবগোষ্ঠিকে বলে খাদক। খাদক তিন প্রকার। যথা- প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক এবং তৃতীয় স্তরের খাদক। 
৩. বিয়োজক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক ও খাদকের মৃতদেহ মাটিতে মিশে ব্যাকটেরিয়া, ক্ষুদ্র পোকামাকড় ইত্যাদির দ্বারা বিয়োজক স্তর গড়ে উঠে। পরিশেষে উৎপাদক জীবগোষ্ঠি পুনরায় বিয়োজক স্তর হতে খাদ্য গ্রহণ করে দেহে পুষ্টি জোগায়। 

খ. জড় উপাদান: 
- পরিবেশের সকল অজৈব ও জৈব উপাদান হলো বাস্তুসংস্থানের জড় উপাদান। 
- জড় উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. অজৈব উপাদান: মাটি, পানি, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, খনিজ লবণ ইত্যাদি হচ্ছে বাস্তুসংস্থানের অজৈব উপাদান। 
২. জৈব উপাদান: উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহ হতে তৈরি হিউমাস ও ইউরিয়া হলো মাটির জৈব উপাদান। 
৩. ভৌত উপাদান: আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ বাস্তুসংস্থানের ভৌত উপাদান। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৯০.
'The Theory of Relativity' এর প্রণেতা-
  1. ক) চার্লস ডারউইন
  2. খ) কেরোলাস লিনিয়াস
  3. গ) আইজ্যাক নিউটন
  4. ঘ) আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দেখান যে, পদার্থ এবং শক্তি প্রকৃতপক্ষে অভিন্ন। E=mc^2, একে আইনস্টাইনের পদার্থ ও শক্তির অভিন্নতা বিষয়ক সূত্র বলা হয়। পদার্থকে শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়। থিওরি অফ রিলেটিভিটি বা আপেক্ষিকতাবাদের প্রণেতা আলবার্ট আইনস্টাইন। নিউটনীয় বলবিদ্যায় দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় ধ্রুব - গতি নির্ভর নয়। কিন্তু আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় আপেক্ষিক, যা বস্তু বা প্রসঙ্গ কাঠামোর উপর নির্ভরশীল একে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা বলে। আপেক্ষিকতা অর্থ কোন কিছুর সাপেক্ষে। যেমন- আপেক্ষিক ভর বলতে কোন প্রসঙ্গ কাঠামো থেকে কোন স্থির পর্যবেক্ষক কোন বস্তুর ভর পরিমাপ করেন তা বোঝায়। উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৫৯১.
পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ কোনটি?
  1. ক) এশিয়া
  2. খ) আফ্রিকা
  3. গ) উত্তর আমেরিকা
  4. ঘ) অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
এশিয়া মহাদেশ:

- আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ এশিয়া।
- এ মহাদেশের আয়তন ৪ কোটি ৫০ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৯২ বর্গকিলোমিটার।
- পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় এক তৃতীয়াংশের কাছাকাছি এশিয়া মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত।
- এ মহাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
- এ মহাদেশের সর্বোচ্চ স্থান মাউন্ট এভারেষ্ট (৮,৮৫০ মিটার)।
- মহাদেশটির উত্তরে উত্তর মহাসাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর, পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ-পশ্চিমে লোহিত সাগর ও আফ্রিকা মহাদেশ এবং পশ্চিমে ভ, -মধ্যসাগর ও ইউরোপ মহাদেশ অবস্থিত।
- এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশের মাঝ বরাবর ইউরাল পর্বতমালা অবস্থিত।
- এশিয়া মহাদেশে বিভিন্ন আয়তনের ৫০টি দেশ রয়েছে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯২.
পৃথিবীর বৃহত্তম ও সবচেয়ে শক্তিশালী কণা ত্বরক 'Large Hadron Collider' এর সাথে কোন সংস্থার নাম জড়িয়ে আছে?
  1. ROSCOSMOS
  2. NASA
  3. CERN
  4. ISRO
ব্যাখ্যা
The European Organization for Nuclear Research, known as CERN, is a European research organization that operates the largest particle physics laboratory in the world. Established in 1954, the organization is based in a northwest suburb of Geneva, Switzerland.

CERN এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্যের উল্লেখ করা যেতে পারেঃ

- The Higgs Boson
হিগস-বোসন কণার অস্তিত্বের ঘোষণা এই CERN এর The Large Hadron Collider এ করা ২টি পরীক্ষা থেকেই আসে।
The Nobel Prize in Physics 2013 was awarded jointly to François Englert and Peter W. Higgs "for the theoretical discovery of a mechanism that contributes to our understanding of the origin of mass of subatomic particles, and which recently was confirmed through the discovery of the predicted fundamental particle, by the ATLAS and CMS experiments at CERN's Large Hadron Collider."

- The Large Hadron Collider
The Large Hadron Collider (LHC) is the world’s largest and most powerful particle accelerator. It first started up on 10 September 2008, and remains the latest addition to CERN’s accelerator complex. The LHC consists of a 27-kilometre ring of superconducting magnets with a number of accelerating structures to boost the energy of the particles along the way.

- The Birth of the web (WWW এর সৃষ্টি)
The World Wide Web was invented by British scientist Tim Berners-Lee in 1989 while working at CERN.

- CERN এর অফিশিয়াল সাইটের তথ্যানুসারে।
১,৫৯৩.
ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ -
  1. ক) ৪৩.৯৮%
  2. খ) ৪২.৭%
  3. গ) ৪৪.৭৬%
  4. ঘ) ৪৯.০৭%
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম।
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন।
- ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ- ৪২.৭%,
- সিলিকনের পরিমাণ- ২৭.৭%,
- অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ- ৮.১%,
- লোহা বা আয়রনের পরিমাণ- ৫.১%,
- ক্যালসিয়ামের পরিমাণ- ৩.৭%
- সোডিয়ামের পরিমাণ- ২.৮%,
- পটাসিয়ামের পরিমাণ- ২.৬% এবং
- ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ- ২.১%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৯৪.
ওজোন স্তর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে অবস্থিত?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল
  3. তাপমণ্ডল
  4. ট্রপোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

◉ ওজোন স্তর (Ozone Layer) পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোমণ্ডলে (Stratosphere) অবস্থিত। ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মি শোষণ করে। এর ফলে পৃথিবীতে জীবজগত রক্ষা পায়।

​স্ট্রাটোমণ্ডল(Stratosphere):
- স্ট্রাটোমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমণ্ডল, যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)।
- এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়।
- এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম।
- স্ট্রাটোমণ্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে।
- এ স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা । বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়।

- স্ট্রাটোমণ্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে।
- স্ট্রাটোমণ্ডলের উপরের দিকে ওজোন (ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোনমণ্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত। এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার।
- ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultra Violet Rays) শোষণ করে। জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর। তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে না।
- এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬° সেলসিয়াস) অনেক বেশি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৯৫.
Nebula এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ-
  1. ক) নক্ষত্র
  2. খ) গ্রহ
  3. গ) নীহারিকা
  4. ঘ) তারা
ব্যাখ্যা
Nebula এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ নীহারিকা। উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৯৬.
বায়ু দূষণের প্রাকৃতিক কারণ নয় কোনটি?
  1. ক) তেজস্ক্রিয় পদার্থ
  2. খ) আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  3. গ) দাবানল
  4. ঘ) ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
- বায়ু দূষণের কারণসমূহকে দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
প্রাকৃতিক কারণ ও
মানব-সৃষ্ট কারণ। 

প্রাকৃতিক কারণ (Natural Causes):
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস প্রভৃতি বায়ুর সাথে মিশে বায়ুকে দূষিত করে।
জৈব ও অজৈব পদার্থ: বিভিন্ন প্রকার জৈব ও অজৈব পদার্থের স্বাভাবিক পচনের ফলে যে গ্যাস সৃষ্টি হয় তা বায়ুকে দূষিত করে ।
দাবানল ও ধূলিঝড়: বিস্তৃত বনাঞ্চলে দাবানল হলে তা ব্যাপক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বায়ুকে দূষিত করে। এছাড়া মরু এলাকায় ধূলিঝড়ও বায়ু দূষণ ঘটায়
গ্যাসক্ষেত্রের বিস্ফোরণ: গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে যে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে তা বায়ুকে দূষিত করে।

মানব-সৃষ্ট কারণ (Man-Made Causes)
তেজস্ক্রিয় পদার্থ: যুদ্ধক্ষেত্র অথবা পারমানবিক চুল্লিতে দুর্ঘটনার ফলে তেজস্ক্রিয় পদার্থের বিকিরণ হলে বায়ু দূষিত হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমানবিক বোমার বিস্ফোরণ।
- এছাড়াও জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, শিল্প-কারখানার নির্গত ধোঁইয়া, পরিত্যক্ত বর্জ্য পদার্থের দহন, বন উজার, ইটভাটা, কীটনাশক ইত্যাদি মানব-সৃষ্ট কারণসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯৭.
জাল টাকার নোট শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত হয় কোন রশ্মি?
  1. IR-Ray
  2. X-Ray
  3. y-Ray
  4. UV-Ray
ব্যাখ্যা
অতিবেগুনী রশ্মি: 
- দৃশ্যমান বেগুনি রশ্মির চেয়ে শক্তিশালী বিকিরিত রশ্মিকে অতিবেগুনী রশ্মি (UV রশ্মি) বলে। 
- অতিবেগুনী রশ্মি এক ধরনের তড়িৎ-চুম্বকীয় বিকিরণ যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর চেয়ে ছোটো এবং রঞ্জন রশ্মির চেয়ে বড়। 
- এই রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য ১০ ন্যানোমিটার থেকে ৪০০ ন্যানোমিটার এবং শক্তি ৩ ইলেকট্রন-ভোল্ট থেকে ১২৪ ইলেকট্রন-ভোল্ট। 
- প্রকৃত ব্যাংক নোট ও পাসপোর্টে প্রতিপ্রভ পদার্থ দিয়ে তৈরি নিরাপত্তা সুতা, জলছাপ, নকশা লুকায়িত থাকে, যা জাল টাকা বা জাল পাসপোর্টে থাকে না। 
 - প্রকৃত নোট বা পাসপোর্টে UV রশ্মি আপতিত করলে প্রতিপ্রভ পদার্থ দ্বারা ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি শোষিত হয় এবং বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের দৃশ্যমান আলো বিকিরিত হয়; কিন্তু জাল টাকা বা জাল পাসপোর্টে প্রতিপ্রভ পদার্থ দ্বারা তৈরি কোনো নকশা বা জলছাপ না থাকায় এটি কোনো দৃশ্যমান আলোকরশ্মি বিকিরণ করতে পারে না। এভাবে UV রশ্মি দিয়ে জাল টাকা বা জাল পাসপোর্ট শনাক্ত করা যায়। 
- আসল পাসপোর্ট বা নোটে UV সংবেদনশিল কালির দ্বারা নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপত্তা চিহ্ন ছাপা থাকে, যা স্বাভাবিক ভাবে সাধারণ আলোয় দৃশ্যমান নয়, কিন্তু UV আলোর নিচে ওইসব নিরাপত্তা চিহ্ন দৃশ্যমান হয়, ফলে সহজেই UV দ্বারা আমরা জাল পাসপোর্ট এবং আসল পাসপোর্ট ও জাল নোট এবং আসল নোট শনাক্ত করতে পারি। 
 
উৎস: দৈনিক কালেরকণ্ঠ পত্রিকা এবং ব্রিটানিকা।
১,৫৯৮.
সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব কত?
  1. ১.৫ কোটি কিলোমিটার
  2. ১৫ কোটি কিলোমিটার
  3. ২.৩ কোটি কিলোমিটার
  4. ২৩ কোটি কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

• পৃথিবী (Earth):
- পৃথিবী আমাদের বাসভূমি।
- এটি সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার।
- পৃথিবী একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।
- তাই এখানে ৩৬৫ দিনে এক বছর। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।
- পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমন্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী।
- সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি।

১,৫৯৯.
পৃথিবীকে উত্তর দক্ষিণে বিভক্ত করেছে-
  1. অক্ষরেখা
  2. নিরক্ষ রেখা
  3. পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা
  4. পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা
ব্যাখ্যা
দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে যে রেখা কল্পনা করা হয়েছে, তাকে নিরক্ষরেখা বলে। পৃথিবী গোলাকৃতির হওয়ায় এ রেখাও বৃত্তাকার।
নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুই ভাবে ভাগ করেছে।
এ রেখার উত্তরে পৃথিবীর অর্ধাংশকে উত্তর গোলার্ধ এবং দক্ষিণের অর্ধাংশকে দক্ষিণ গোলার্ধ বলা হয়।
এই রেখাটির মান ০ ডিগ্রি। এখানে দিন রাত সর্বত্র সমান।
নিরক্ষরেখার সাহায্যে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্ব স্থির করা হয়।
উৎসঃ ভূগোল, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬০০.
দূর অনুধাবন পদ্ধতি চালু হয় কত সালে?
  1. ১৯৬০ সালে
  2. ১৯৬৪ সালে
  3. ১৯৭০ সালে
  4. ১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা

দূর অনুধাবনের ধারণা: 
- দূর অনুধাবন এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Remote Sensing, যার অর্থ হলো দূর থেকে কোনো কিছু দেখার চেষ্টা করা।
- এটি এক ধরনের বিজ্ঞান যা ভূ-পৃষ্ঠে কোনো দৃশ্যমান বস্তু বা প্রপঞ্চ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। 
- দূর অনুধাবন এমন একটি যান্ত্রিক কৌশল (Device) যার মাধ্যমে কোনো লক্ষ্য বস্তু বা প্রপঞ্চের সাথে দূরত্ব বজায় রেখে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। 
অর্থাৎ, দূর অনুধাবন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো একটি বস্তু বা প্রপঞ্চকে স্পর্শ না করে দূর থেকে তথ্য সংগ্রহ করা যায়। 
- ১৯৪৬-১৯৫০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে দূর অনুধাবনের কাজ শুরু হয়। এ সময় V-2 রকেটে (Rocket) মহাশূন্যে যাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ছোট ক্যামেরার সাহায্যে রকেট, ব্যালিস্টিক মিসাইল, উপগ্রহ ও মানব বহনকারী মহাশূন্যযান থেকে প্রচুর আলোকচিত্র গ্রহণ করা হয়। 
- সে সময়কার আলোকচিত্র নিম্নমানের হলেও দূর অনুধাবন পদ্ধতির সম্ভাবনার সূচনা তৈরি করেছিল। 
- ১৯৬০ সালে দূর অনুধাবন পদ্ধতি চালু হয়। সত্তরের দশকে তা উন্নতি লাভ করে এবং পরবর্তীতে তা আরও বিকশিত হতে থাকে। 
- দূর অনুধাবনের কতকগুলো উপাদান রয়েছে। নিম্নে এগুলো উল্লেখ করা হলো- 
১. শক্তির উৎস, 
২. রেডিয়েশন এবং বায়ুমণ্ডল, 
৩. লক্ষ্যবস্তুর সাথে মিথষ্ক্রিয়া, 
৪. সেন্সর দ্বারা শক্তির রেকর্ড, 
৫. ট্রান্সমিশন, রিসিপসন এবং প্রসেসিং, 
৬. ইন্টার প্রিটেশন এবং বিশ্লেষণ এবং 
৭. এপ্লিকেশন। 

দূর অনুধাবনের সুবিধা-অসুবিধা: 
- দূর অনুধাবনের সুবিধা-অসুবিধাগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো- 
সুবিধা: 
১. দূর অনুধাবনের ব্যবহারিক দিক খুব বিস্তৃত। 
২. এর সাহায্যে সংগৃহীত তথ্যাবলী দ্বারা সহজেই মানচিত্র অঙ্কন করা যায়। 
৩. এটি প্রযুক্তিভিত্তিক পদ্ধতি হওয়ায় নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়। 
৪. এটি একটি একক ইমেজ (Image) যা থেকে অনেকগুলো তথ্য সংগ্রহ করা যায়। 
৫. দূরবর্তী বস্তু বা প্রপঞ্চ থেকে সহজেই তথ্য পাওয়া যায়। 
৬. দূর অনুধাবন চিত্র স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংগঠিত হয় বলে তা দিন-রাত্রি সবসময় সংগ্রহ করা যায়। 
৭. দূর অনুধাবন কৌশলের মাধ্যমে পৃথিবী পৃষ্ঠের পদার্থ যত সূক্ষ্ম হোক না কেন তা স্বতন্ত্রভাবে দেখা যায়। 

অসুবিধা: 
১. দূর অনুধাবনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ খুব ব্যয়বহুল। 
২. তথ্য বিশ্লেষণের জন্য এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। 
৩. যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পারস্পরিক ক্রিয়ার সঠিক ফলাফল নাও দিতে পারে। 
৪. শুধুমাত্র ভূ-পৃষ্ঠের তথ্যাদি পাওয়া যায়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।