বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

মোট প্রশ্ন২,৪০৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

PrepBank · পাতা ১৫ / ২৪ · ১,৪০১১,৫০০ / ২,৪০৪

১,৪০১.
গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বায়ুর নিম্নচাপ প্রধানত কোথায় সৃষ্টি হয়?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত
  2. আর্কটিক মহাসাগর 
  3. উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার উপর
  4. দক্ষিণ গোলার্ধের উচ্চচাপ বলয়
ব্যাখ্যা

- গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বায়ুর নিম্নচাপ মূলত উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার উপর (ভারতের উত্তর ও মধ্যভাগ) সৃষ্টি হয়। তীব্র সূর্যতাপে স্থলভাগ প্রচণ্ড গরম হওয়ায় সেখানে এই নিম্নচাপ তৈরি হয়, যার ফলে ভারত মহাসাগর থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু স্থলভাগের দিকে ছুটে আসে। 

মৌসুমি জলবায়ু: 
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ “মওসুম” থেকে যার অর্থ ঋতু। 
- ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয় বলে একে মৌসুমি জলবায়ু বলা হয়। 
- কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির নিকটবর্তী অঞ্চল জুড়ে যে জলবায়ু বিস্তৃত তা মৌসুমি জলবায়ু। 

মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য: 
- গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার উপর দিয়ে লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং এই সময় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত প্রভৃতি স্থানে বায়ুর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।  
- দক্ষিণ গোলার্ধের উচ্চচাপ বলয় থেকে আসা দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ুএশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যায়। 
- এই বায়ুকেই বলা হয় উত্তর গোলার্ধের মৌসুমি বায়ু। 
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলা হয়, কারণ নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ডানদিকে বেঁকে দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ু দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে উত্তর পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪০২.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে আয়নোস্ফিয়ার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বিরাজ করে?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্র‍্যাটোস্ফিয়ার
  3. থার্মোস্ফিয়ার
  4. এক্সোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
Atmosphere is gaseous envelope that surrounds the Earth. Near the surface it has a well-defined chemical composition. In addition to gases, the atmosphere contains solid and liquid particles in suspension.
Scientists divide the atmosphere into five main layers: in ascending order, the troposphere (surface to 6–8 mi, or 10–13 km); the stratosphere (4–11 mi, or 6–17 km, to about 30 mi, or 50 km); the mesosphere (31–50 mi, or 50–80 km); the thermosphere (50–300 mi, or 80–480 km); and the exosphere (from 300 mi and gradually dissipating).
Most of the atmosphere consists of neutral atoms and molecules, but in the ionosphere a significant fraction is electrically charged.
The ionosphere begins near the top of the stratosphere but is most distinct in the thermosphere.
সূত্র: Encyclopedia Britannica

১,৪০৩.
ভূত্বকের আকস্মিক কম্পনকে কী বলা হয়? 
  1. ভূমিকম্প
  2. অগ্ন্যুৎপাত
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. টর্নেডো
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্প (Earthquake): 
- পৃথিবীর কঠিন ভূত্বকের কোনো কোনো অংশ প্রাকৃতিক কোনো কারণে কখনো কখনো অল্প সময়ের জন্য হঠাৎ কেঁপে ওঠে, ভূত্বকের এরূপ আকস্মিক কম্পনকে ভূমিকম্প বলে। 
- ভূকম্পন সাধারণত কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয় আবার কখনো কিছু সময় পর পর অনুভূত হয়। 
- এ কম্পন কখনো অত্যন্ত মৃদু আবার কখনো অত্যন্ত প্রচন্ড হয়। 

ভূমিকম্পের প্রধান কারণ: 
- পৃথিবীর উপরিভাগ কতকগুলো ফলক/প্লেট দ্বারা গঠিত, এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে। 
- অগ্ন্যুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকম্পন সৃষ্টি হয়। 

ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ: 
১। শিলাচ্যুতি বা শিলাতে ভাঁজের সৃষ্টি: কোনো কারণে ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে বড় ধরনের শিলাচ্যুতি ঘটলে বা শিলাতে ভাঁজের সৃষ্টি হলে ভূমিকম্প হয়। ১৯৩৫ সালে বিহারে এবং ১৯৫০ সালে আসামে এ কারণেই ভূমিকম্প হয়। 
২। তাপ বিকিরণ: ভূত্বক তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হলে ফাটল ও ভাঁজের সৃষ্টি হয়ে ভূমিকম্প হয়। 
৩। ভূগর্ভস্থ বাষ্প: পৃথিবীর অভ্যন্তরে অত্যধিক তাপের কারণে বাষ্পের সৃষ্টি হয়। এই বাষ্প ভূত্বকের নিম্নভাগে ধাক্কা দেওয়ার ফলে প্রচন্ড ভূকম্পন অনুভূত হয়। 
৪। ভূগর্ভস্থ চাপের বৃদ্ধি বা হ্রাস: অনেক সময় ভূগর্ভে হঠাৎ চাপের হ্রাস বা বৃদ্ধি হলে তার প্রভাবে ভূমিকম্প হয়। 
৫। হিমবাহের প্রভাব: হঠাৎ করে হিমবাহ পর্বতগাত্র থেকে নিচে পতিত হলে ভূপৃষ্ঠ কেঁপে ওঠে এবং ভূমিকম্প হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪০৪.
বাংলাদেশের শীতলতম মাস কোনটি?
  1. ক) নভেম্বর
  2. খ) ডিসেম্বর
  3. গ) জানুয়ারি
  4. ঘ) ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে নভেম্বর মাসের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় শীতকাল। এই সময় তাপমাত্রা কমতে থাকে।
- জানুয়ারি মাসে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকে এবং এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।
- শীতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১° সেলসিয়াস।
-শুষ্ক শীতকাল এবং উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকায় সামান্য বৃষ্টিপাত এই দেশের শীতকালের বৈশিষ্ট্য।
-দেশের উত্তরাঞ্চলে তীব্র শীত অনুভূত হয়।
-এসময় বাতাসের সর্বনিম্ন আর্দ্রতা শতকরা প্রায় ৩৬ ভাগ থাকে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪০৫.
বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে শীতলতম স্তর হচ্ছে- 
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল
  3. তাপমন্ডল
  4. এক্সোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

• বায়ুমন্ডলের স্তরবিন্যাস:
- বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়। যথা- ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমন্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমন্ডল ও এক্সোমণ্ডল। উল্লিখিত স্তরগুলোর প্রথম তিনটি সমমণ্ডল (Homosphere) এবং পরবর্তী দুটি বিষমমণ্ডল (Hetrosphere)-এর অন্তর্ভুক্ত।

• মেসোমণ্ডল (Mesosphere):
- স্ট্রাটোবিরতির উপরে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে মেসোমণ্ডল বলে। এই স্তরের উপরে তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়া থেমে যায়। এই স্তরকে মেসোবিরতি (Mesopause) বলে।
- এই স্তরে ট্রপোমণ্ডলের মতোই উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কমতে থাকে। যা - ৮৩° সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা নিচে নেমে যায়। মেসোমণ্ডল বায়ুমন্ডলের সবচেয়ে শীতলতম তাপমাত্রা ধারণ করে
- মহাকাশ থেকে যেসব উল্কা পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে সেগুলোর অধিকাংশই এই স্তরের মধ্যে এসে পুড়ে যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ- নবম ও দশম শ্রেণি।

১,৪০৬.
ঢাকার স্থানীয় সময় থেকে রিয়াদের স্থানীয় সময় ৩ ঘণ্টা কম। ঢাকার দ্রাঘিমারেখা ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা হলে রিয়াদের দ্রাঘিমারেখা কত?
  1. ১৩৫° পূর্ব দ্রাঘিমা
  2. ৪৫° পশ্চিম দ্রাঘিমা
  3. ৯০° পশ্চিম দ্রাঘিমা
  4. ৪৫° পূর্ব দ্রাঘিমা
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমা নির্ণয়:
১। যেহেতু ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য দুটি স্থানের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট। এ কারণে স্থান দুটির সময়ের পার্থক্য যা হয় তাকে ৪ দিয়ে ভাগ করে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।

২। যে কোনো স্থানের সময় গ্রীনিচের সময় অপেক্ষা অধিক হলে বুঝতে হবে স্থানটি গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত এবং কম হলে স্থানটি গ্রীনিচের পশ্চিমে অবস্থিত। গ্রীনিচের দ্রাঘিমাকে ০° ধরে সময়ের পার্থক্য অনুযায়ী অন্যান্য স্থানের দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়। ক্রনোমিটার নামক ঘড়ি গ্রীনিচ সময় অনুসারে চলে। তাই এই ঘড়ি দেখে কোনো স্থানের স্থানীয় সময়ের সাথে গ্রীনিচ সময়ের পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।

সমাধান:
আমরা জানি, ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্য হলে দ্রাঘিমার পার্থক্য হবে ১° ।
৩ ঘণ্টা (১৮০ মিনিট) সময়ের পার্থক্য হলে দ্রাঘিমার পার্থক্য হবে (১৮০/৪)= ৪৫° ।

অর্থাৎ ঢাকার থেকে রিয়াদের দ্রাঘিমার পার্থক্য ৪৫°।
প্রশ্নে উল্লিখিত ঢাকার থেকে রিয়াদের স্থানীয় সময় ৩ ঘণ্টা কম দেখে আমরা বুঝতে পারি, রিয়াদ ঢাকার পশ্চিমে অবস্থিত। তাই ঢাকার দ্রাঘিমা থেকে ৪৫° দ্রাঘিমা বাদ দিলে রিয়াদের দ্রাঘিমারেখা পাওয়া যাবে। 
সুতরাং রিয়াদের দ্রাঘিমারেখা (৯০° - ৪৫°)= ৪৫° পূর্ব দ্রাঘিমা।

উত্তর: রিয়াদের দ্রাঘিমারেখা ৪৫° পূর্ব দ্রাঘিমা।

অন্যভাবে,
যে কোনো স্থানের সময় গ্রীনিচের সময় অপেক্ষা অধিক হলে বুঝতে হবে স্থানটি গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত এবং কম হলে স্থানটি গ্রীনিচের পশ্চিমে অবস্থিত। গ্রীনিচের দ্রাঘিমাকে ০° ধরে সময়ের পার্থক্য অনুযায়ী অন্যান্য স্থানের দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।
গ্রীনিচের সাথে ঢাকার দ্রাঘিমার পার্থক্য ৯০° এবং সময়ের পার্থক্য ৬ ঘণ্টা বেশি।(GMT+6)

প্রশ্নমতে, ঢাকার স্থানীয় সময় থেকে রিয়াদের স্থানীয় সময় ৩ ঘণ্টা কম, অর্থাৎ রিয়াদের স্থানীয় সময় গ্রীনিচের থেকে ৩ ঘণ্টা বেশি। (GMT+3)
∴ ৩ ঘণ্টা (১৮০ মিনিট) সময়ের পার্থক্য হলে দ্রাঘিমার পার্থক্য হবে (১৮০/৪)= ৪৫°।
অর্থাৎ ঢাকার থেকে রিয়াদের দ্রাঘিমার পার্থক্য ৪৫° কম আবার গ্রীনিচের থেকে রিয়াদের দ্রাঘিমার পার্থক্য ৪৫° বেশি।

এখানে, আমরা ঢাকার দ্রাঘিমা থেকে ৪৫° বিয়োগ করে বা গ্রীনিচের দ্রাঘিমার সাথে ৪৫° যোগ করে রিয়াদের দ্রাঘিমারেখা পাব।

সুতরাং রিয়াদের দ্রাঘিমারেখা (৯০° - ৪৫°)= ৪৫° পূর্ব দ্রাঘিমা। বা (০° + ৪৫°)=৪৫° পূর্ব দ্রাঘিমা।
( ঢাকার ও রিয়াদের সময় গ্রীনিচের সময় অপেক্ষা অধিক তাই বুঝতে হবে স্থানটি গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত বা GMT+)

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪০৭.
মঙ্গল গ্রহের নতুন নাম কি?
  1. নিউ আর্থ
  2. নিউ ওয়ার্ল্ড
  3. নিউ টাউন
  4. নিউ ভিশন
ব্যাখ্যা
• মঙ্গল গ্রহের নতুন নাম- নিউ ওয়ার্ল্ড।

মঙ্গল গ্রহ:
- ১৪৯২ সালে অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলম্বাস আমেরিকা মহাদেশে প্রথম পা রাখার পর থেকে আমেরিকাকে নতুন পৃথিবী বা নিউ ওয়ার্ল্ড নামে ডাকা শুরু হয়।
- তারপর কয়েক শতাব্দী ধরে আমেরিকাকে নতুন পৃথিবী নামেই ডাকা হতো।
- এইবার মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক মঙ্গল গ্রহকে নিউ ওয়ার্ল্ড হিসেবে নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছে।
- বিষ্যতে মানুষকে রক্ষার জন্য মঙ্গল গ্রহে স্বয়ংসম্পূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি মানববসতি স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে গ্রহটির নতুন নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছেন ইলন মাস্ক।
- মঙ্গল গ্রহের গেল ক্রেটার নামের খাদে অবস্থান করছে কিউরিওসিটি রোভার।
- মঙ্গল গ্রহে টেকসই মানববসতি তৈরির জন্য দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন ইলন মাস্ক।
- মানবপ্রজাতির দীর্ঘমেয়াদি বেঁচে থাকার জন্য মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন ইলন মাস্ক।
- আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মঙ্গল গ্রহে মানুষের বসতি গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইলন মাস্কের।
- বসতি গড়ার জন্য ১০ লাখ মানুষকে মঙ্গল গ্রহে নিয়ে যেতে চান তিনি, এ জন্য নিজের মালিকানাধীন মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স রকেটের সক্ষমতাও তুলে ধরেছেন।

উৎস: টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং প্রথম আলো পত্রিকা (২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪)।
১,৪০৮.
ট্রানজিস্টরের ক্ষেত্রে কোন কথাটি মিথ্যা?
  1. ক) ভ্যাকুয়াম টিউবের মতই কাজ করতে পারে
  2. খ) ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় আকারে ক্ষুদ্র
  3. গ) ব্যবহার করতে কোনো বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় না
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর ভ্যাকুয়াম টিউবের মতই কাজ করতে পারে কিন্তু ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় এটি অতি ক্ষুদ্র, এজন খুবই কম, এটি ব্যবহার করতে খুব অল্প বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৪০৯.
'বিগ-ব্যাং' সংঘটিত হয়েছিল -
  1. পৃথিবীতে
  2. সৌরজগতে
  3. ছায়াপথে
  4. সর্বত্র
ব্যাখ্যা
বিগ-ব্যাং:
- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রাড় তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়।
- কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুর করে। এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাং তত্ত্ব।
-  বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)।
- বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ আমাদের পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা।
- সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুরু করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে ঘটেছিল।
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাং বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির ‘শুরু' বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ‍ বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না।
- বিগ-ব্যাং সংঘটিত হয়েছিল সর্বত্র। 

তথ্যসুত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪১০.
নীহারিকার ক্ষেত্রে সত্য নয় কোনটি?
  1. ক) এর আভিধানিক অর্থ ‘কুয়াশা বা মেঘ’
  2. খ) নীহারিকা হলো নক্ষত্রের জন্মস্থান
  3. গ) নীহারিকায় শতকরা ৯০ ভাগ হাইড্রোজেন
  4. ঘ) এতে শতকরা ৫ ভাগ কার্বন রয়েছে
ব্যাখ্যা
নীহারিকার:

- প্রধানত গ্যাস, ধুলা ও প্লাজমা দ্বারা নীহারিকা গঠিত।
- বেশির ভাগ নীহারিকায়ই শতকরা ৯০ ভাগ হাইড্রোজেন, শতকরা ৯ ভাগ হিলিয়াম আছে।
- এ ছাড়া বাকি শতকরা ১ ভাগ হিসেবে রয়েছে কার্বন, নাইট্রোজেন, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও পটাসিয়াম।
- নীহারিকাগুলো মূলত অবস্থিত আন্ত নাক্ষত্রিক শূন্যস্থান বা interstellar medium (ISM)-এ।
- এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে ছোটো নীহারিকা NGC 7027 মাত্র ০.১ আলোকবর্ষ।
- আবিষ্কৃত সর্ববৃহৎ ট্যারান্টুলা নেবুলা প্রায় ১৮৬২ আলোকবর্ষ।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ২ জুন ২০২৩। [লিঙ্ক]
১,৪১১.
ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহার করে তৈরী করা হয়-
  1. ক) ENIAC
  2. খ) IBM
  3. গ) ORPANET
  4. ঘ) INTRANET
ব্যাখ্যা
1946 সালে 1800 ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহার করে ENIAC নামে প্রথম কম্পিউটার তৈরী হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৪১২.
GSM এর পূর্ণরূপ হলো-
  1. General System  for Mobile Communications
  2. Global Standard for Mobile Technology
  3. Global System for Mobile Communications
  4. General Standard for Mobile Technology
ব্যাখ্যা

• মোবাইল যোগাযোগ (Mobile Communications):
- একাধিক চলনশীল ডিভাইস অথবা একটি চলনশীল ও অন্যটি স্থির ডিভাইসের মধ্যে ডেটা/তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত কমিউনিকেশন সিস্টেমকে মোবাইল কমিউনিকেশন বলা হয়।
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ক্যাবল ছাড়া যোগাযোগের প্রযুক্তি ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমের উৎকর্ষতার ফসল হলো মোবাইল কমিউনিকেশন।
- এটি একটি ডুপ্লেক্স বা দ্বিমুখী কমিউনিকেশন সিস্টেম, যার সাহায্যে সুনির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক এরিয়ার মধ্যে স্থির বা চলমান উভয় অবস্থায় যে কোনো ধরনের ডেটা কমিউনিকেশন সম্ভব হয়ে থাকে। তবে চলমান অবস্থাতে ডেটা কমিউনিকেশনের বিশেষ সুবিধাটির জন্য এটি মোবাইল কমিউনিকেশন হিসেবেই ব্যাপকভাবে সুপরিচিত।
- বর্তমানে সারা পৃথিবীতে মোবাইল কমিউনিকেশন একটি অতি প্রয়োজনীয় এবং জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এর জন্য অসংখ্য দেশীয় বা আন্তর্জাতিক মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডার রয়েছে।
- কোনো মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডার যে ভৌগোলিক এলাকা জুড়ে তার স্থানীয় সেবাকে বিস্তৃত রাখে, তাকে ঐ মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারের নেটওয়ার্ক কাভারেজ এরিয়া বলা হয় অর্থাৎ মোবাইল কোম্পানিগুলোর স্থানীয় সার্ভিস প্রধানত দেশীয় সীমা দ্বারা নির্ধারিত।

• জিএসএম (GSM):
- GSM এর পূর্ণরূপ Global System for Mobile Communications হলো মোবাইল টেলিফোনি সিস্টেমের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্ট্যান্ডার্ড।
- একে দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন সিস্টেম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের মধ্যে রোমিং চুক্তি থাকার ফলে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো ব্যক্তি জিএসএম-এর আওতায় থাকা অবস্থায় নিজের মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করতে পারেন।
- স্বল্প মূল্যের শর্ট মেসেজ সার্ভিস (SMS)-এর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও জিএসএম পথিকৃৎ।
- সেলুলার নেটওয়ার্ক বিধায় নির্দিষ্ট এলাকাতে মোবাইল ফোনগুলো GSM-এর সাথে সংযুক্ত হয়। এর সর্বোচ্চ দূরত্ব হলো ৩৫ কিলোমিটার।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (একাদশ-দ্বাদশ)- মাহবুবুর রহমান।

১,৪১৩.
মহাজাগতিক রশ্মি কে আবিষ্কার করেন?
  1. ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস
  2. টলেমি
  3. ইয়োহান কেপলার
  4. গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
• মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic Rays):
- মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক হলেন ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস।

- উচ্চ-শক্তিসম্পন্ন আহিত কণাগুলো যখন মহাকাশ থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন তাদের সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ধারণা করা হয়, ছায়াপথের বাইরের নক্ষত্র বিস্ফোরণের ফলেই বেশিরভাগ মহাজাগতিক রশ্মি উৎপন্ন হয়।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- বেলুনের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিমাপযোগ্য যন্ত্র ব্যবহার করে হেস ও তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেন যে মহাজাগতিক রশ্মি বায়ুমণ্ডলকে আয়নিত করতে পারে এবং এর উৎস মহাজাগতিক বিকিরণ। 
 
উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
১,৪১৪.
বাংলাদেশের একমাত্র উষ্ণ পানির ঝরর্ণা কোথায় অবস্থিত?
  1. শুভলং
  2. হিমছড়ি
  3. কুলাউড়া
  4. সীতাকুণ্ড
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের একমাত্র উষ্ণ পানির ঝরণা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের একমাত্র শীতল পানির ঝরনা কক্সবাজার হিমছড়িতে অবস্থিত।
- শুভলং ঝরণা রাঙ্গামাটির বরকলে অবস্থিত।
- রিসাং ঝরণা খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- শৈলপ্রপাত ঝরণা বান্দরবানে অবস্থিত।
- তৈদুছড়া ঝরনা খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
উৎসঃ সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইট।
১,৪১৫.
জোয়ার-ভাটার জন্য কোনটির প্রভাব সবচেয়ে বেশি?
  1. আহ্নিক গতি
  2. সূর্য
  3. চন্দ্র
  4. সমান প্রভাব বিদ্যমান
ব্যাখ্যা
• জোয়ার-ভাটা: 
- মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে  ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়।

উল্লেখ্য,
- চন্দ্র অপেক্ষা সূর্য ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুণ বড় এবং পৃথিবী অপেক্ষা সূর্য প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ বড় হলেও পৃথিবী থেকে সূর্য গড়ে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং
- পৃথিবী থেকে চন্দ্র গড়ে প্রায় ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এ কারণেই পৃথিবীর ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ ক্ষমতা সূর্য অপেক্ষা বেশি।
- ফলে জোয়ার ভাটায় চন্দ্রের প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়।

জোয়ার ভাঁটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

১. মুখ্য জোয়ার: 
- চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরুপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। 

২. গৌণ জোয়ার: 
- চাঁদ পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক থেকে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে। 

৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল: 
- অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে। 

৪. মরা কটাল: 
- চন্দ্র ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে তখন চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। এই ধরনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪১৬.
নিচের কোনটির নিজস্ব আলো রয়েছে?
  1. গ্রহ
  2. নক্ষত্র
  3. উপগ্রহ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ ও ভূ-মন্ডল:
⇒ মহাবিশ্বের মহাকাশে গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, নীহারিকা, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ও উল্কা ইত্যাদিকে জ্যোতিষ্ক বলে।

নক্ষত্র:
- যে সকল জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো আছে, তাদেরকে নক্ষত্র বলে।
যেমন- সূর্য।

গ্রহ:
- আলোকবিহীন জ্যোতিষ্ককে গ্রহ বলে। যেমন-পৃথিবী, সূর্যের আলোতে আলোকিত হয়।

উপগ্রহ:
- গ্রহসমূহের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান নিজস্ব আলোকবিহীন জ্যোতিষ্ককে উপগ্রহ বলে। যেমন- চাঁদ, পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪১৭.
প্রাইমারি দূষক নয় কোনটি?
  1. SO2
  2. CO2
  3. NH3
  4. SO3
ব্যাখ্যা

প্রাইমারি দূষক:
- যে সকল দূষক পদার্থ কোনো উৎস থেকে নির্গত হয়ে অপরিবর্তিত অবস্থায় পরিবেশে বিদ্যমান থাকে এবং পরিবেশের দূষণ ঘটায় তাদেরকে প্রাইমারি দূষক বলে। যেমন:
- নাইট্রিক অক্সাইড (NO),
- নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2),  
- কার্বন মনোক্সাইড (CO), 
- কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2), 
- সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2), 
- অ্যামোনিয়া (NH3), 
- ছাই, ধুলিকণা, 
- Volatile organic compounds (VOCs).

• সেকেন্ডারি দূষক:
- যে সকল দূষক পদার্থ সরাসরি কোনো উৎস থেকে পরিবেশে আসে না, বরং বায়ুমণ্ডলে নির্গত হওয়া প্রাথমিক দূষকগুলো থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে সেকেন্ডারি দূষক বলে। যেমন:
- সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO3), 
- নাইট্রিক এসিড (HNO3),
- নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2), 
- সালফিউরিক এসিড (H2SO4), 
- হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H2O2), 
- অ্যামোনিয়াম (NH4+),  
- ওজোন (O3).

উল্লেখ্য: কিছু দূষণকারী পদার্থ প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি উভয় দূষকই হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ: নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড জীবাশ্ব-জালানী থেকে এবং বজ্রপাত থেকে সৃষ্টি হয়, আবার এটি অন্যান্য রাসায়নিক থেকেও বায়ুমণ্ডলে তৈরি হতে পারে।


image source: vibe and brie

তথ্যসূত্র: সূত্র: University of California এবং Energy Education

১,৪১৮.
পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড় কোনটি?
  1. ক) বুধ
  2. খ) বৃহস্পতি 
  3. গ) শনি
  4. ঘ) মঙ্গল
ব্যাখ্যা
বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ। তাই একে গ্রহরাজ বলা হয়। বৃহস্পতি গ্রহের ব্যাস ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার।
বৃহস্পতি আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়। সূর্য থেকে বৃহস্পতির দূরত্ব প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
১,৪১৯.
এক্সোমণ্ডলে প্রধানত কোন দুটি গ্যাস থাকে? 
  1. নাইট্রোজেন ও আর্গন
  2. হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন
  3. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  4. হিলিয়াম ও কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
এক্সোমণ্ডল (Exosphere): 
- তাপমণ্ডলের উপরে প্রায় ৯৬০ কিলােমিটার পর্যন্ত যে বায়ুস্তর আছে তাকে এক্সোমণ্ডল বলে। 
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়। 
এক্সোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য: 
- এক্সোমণ্ডল, তাপমণ্ডল অতিক্রম করে ৯৬০ কিলােমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়। এটি ক্রমান্বয়ে ইন্টারপ্লানেটারি স্পেসে প্রবেশ করে। 
- এ স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়। 
- এ স্তরে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস যেমন অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন এবং হিলিয়াম ধারণ করে, কেননা মাধ্যাকর্ষণের ঘাটতির কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলাে সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪২০.
কোন বিজ্ঞানী প্রমাণ করেছিলেন যে, মুমুর্ষ তারা থেকে ব্ল্যাক হোল গঠন সম্ভব?
  1. ক) হাইজেনবার্গ
  2. খ) জর্জ লেমেটার
  3. গ) রজার পেনরোজ
  4. ঘ) জন হুইলার
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী রজার পেনরোজ আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে প্রমাণ করেছিলেন যে, মুমুর্ষ তারা থেকে ব্ল্যাক হোল গঠন সম্ভব। তার স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি ২০২০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান।
সোর্সঃ nobelprize.org
১,৪২১.
সূর্যপৃষ্ঠের উত্তাপ কত ডিগ্রি সেলসিয়াস?
  1. ৫০০০° সেলসিয়াস
  2. ৬০০০° সেলসিয়াস
  3. ৭০০০° সেলসিয়াস
  4. ৮০০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
সূর্য (Sun):
- সূর্য একটি নক্ষত্র।
- এর পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস।
- এটি হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড।
- হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের।
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার।
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে।
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই।

তথ্যসূত্র - ভুগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪২২.
কোন স্থানে একটি জোয়ারের পর প্রায় কতক্ষণ পরে ভাটার সময় আসে?
  1. ১২ ঘন্টা ১৩ মিনিট
  2. ৮ ঘন্টা ২৬ মিনিট
  3. ৫ ঘন্টা ১৭ মিনিট
  4. ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর হলো: ঘ) ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট।

জোয়ার এবং ভাটার সময়ের মধ্যে গড়ে প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট ব্যবধান থাকে। এটি ঘটতে থাকে চাঁদের কক্ষপথ এবং পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে। চাঁদের আকর্ষণীয় শক্তি সমুদ্রের জলকে টানিয়ে জোয়ার সৃষ্টি করে, এবং যখন সমুদ্রের জল সবচেয়ে বেশি উঁচু থাকে, তখন সেটি জোয়ার। জোয়ার সর্বোচ্চ হওয়ার প্রায় ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পরে জল নেমে যায়, যা ভাটার সময়। এই সময়ের ব্যবধান প্রায় সমান থাকে, তবে স্থানভেদে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। তাই, জোয়ার শেষ হওয়ার প্রায় ছয় ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় পরে ভাটা শুরু হয়।

• জোয়ার ভাঁটা:
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তি প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়।
- সমুদ্রের পানি এভাবে ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাঁটা বলে।
- প্রতি ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট পরপর এই জোয়ার ভাঁটা সংঘঠিত হয়।
- সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাঁটা হয়।
- এক মুখ্য জোয়ার চলে যাবার ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট অর্থাৎ প্রায় সাড়ে বার ঘন্টা পরে সেই জায়গায় গৌণ জোয়ার এবং ঐ স্থানের প্রত্যেক জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট অর্থাৎ প্রায় সোয়া ছয় ঘন্টা পরে ভাঁটা হয়।

• জোয়ার ভাঁটার কারণ:
- বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে চন্দ্র ও সূর্যের প্রভাবেই এবং পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে জোয়ার ভাঁটা হয়।
- জোয়ার ভাঁটা সংঘটনের কারণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- 
১.মহাকর্ষণ শক্তির প্রভাব এবং
২. কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাব।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪২৩.
এক্সরে কে আবিষ্কার করেন?
  1. ‌‌হ্গ
  2. রন্টজেন
  3. স্টিফেন হকিং
  4. আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
1885 সালে উইল হেলোম রন্টজেন উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন এক ধরনের রশ্মি আবিষ্কার করেন তার নাম এক্সরে।
১,৪২৪.
ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে বায়ুমণ্ডলের বিস্তৃতি কতটুকু?
  1. ক) ৬০ কিলোমিটার
  2. খ) ৯৭ কিলোমিটার
  3. গ) ৫০০ কিলোমিটার
  4. ঘ) ১০০০০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত। বায়ুমণ্ডলের ব্যপ্তি যত বিশালই হোক না কেন এর ৯৭ ভাগ উপাদানই ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল বোর্ড বই
১,৪২৫.
টেলিফোনের আবিষ্কারকের নাম কী?
  1. ক) লজি বেয়ার্ড
  2. খ) গ্রাহাম বেল
  3. গ) ওপেন হেইমার
  4. ঘ) মাদাম কুরী
ব্যাখ্যা
১৮৭৫ সালে আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল টেলিফোন আবিষ্কার করেন। 

- টেলিফোনে পাঁচটি উপাংশ পাঁচটি। যথা- সুইচ, রিংগার, কী প্যাড, মাইক্রোফোন এবং স্পিকার। 
- টেলিফোন মানুষের মুখের কথা তাত্ক্ষণিক প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্র। 
- টেলিফোন একটি ইংরেজি শব্দ। টেলি অর্থ দূর এবং ফোন অর্থ ধ্বনি।

সূত্র- ৩৭৮ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৪২৬.
Who is the father of Big Bang model?
  1. Stephen Hawking
  2. Georges Lemaître
  3. Galileo Galilei
  4. Archimedes
ব্যাখ্যা
বিগ-ব্যাংগ:

- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রাড় তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়।
- জর্জ লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে।
- কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুর করে। এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব।
- বিগ ব্যাংগ বা মহাবিস্ফোরণ আমাদের পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা।
- বিগ-ব্যাংগ সংঘটিত হয়েছিল সর্বত্র। সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুরু করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির ‘শুর' বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ‍ বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না।

তথ্যসুত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪২৭.
'ভাইল ফার্মিয়ন' কণার অস্তিত্ব আবিস্কারের নেতৃত্ব দেন কোন পদার্থবিজ্ঞানী?
  1. জামান নজরুল ইসলাম
  2. সত্যেন্দ্রনাথ বসু
  3. এম জাহিদ হাসান
  4. আতাউল করিম
ব্যাখ্যা
- পঁচাশি বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১৫ সালে খুঁজে পাওয়া যায় বহুল প্রতীক্ষিত অধরা কণা ফার্মিয়ন, ভাইল ফার্মিয়ন। 
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে একদল গবেষক পরীক্ষাগারে এই কণা খুঁজে পান।
- এই আবিষ্কার এখনকার মুঠোফোন, কম্পিউটারের মতো ইলেকট্রনিক সামগ্রীর গতি বাড়াবে, হবে শক্তিসাশ্রয়ী। 
- ফার্মিয়নের অস্তিত্ব প্রমাণের মাধ্যমে দ্রুতগতির এবং অধিকতর দক্ষ নতুন যুগের ইলেকট্রনিকসের সূচনা হবে।
- এই আবিষ্কার কাজে লাগিয়ে তৈরি নতুন প্রযুক্তির মুঠোফোন ব্যবহারের সময় সহজে গরম হবে না। কারণ, এই কণার ভর নেই।
- এটি ইলেকট্রনের মতো পথ চলতে গিয়ে ছড়িয়ে পড়ে না।’
- গ্রহ-নক্ষত্র, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, গাছপালা, ফুল কিংবা মানুষ—সবই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার পিণ্ড। দু
- নিয়ার এসব বস্তুকণাকে বিজ্ঞানীরা দুই দলে ভাগ করেন। 
 - এসব কণার একটি ফার্মিয়ন, যার একটি উপদল হলো ভাইল ফার্মিয়ন।
-  ১৯২৯ সালে হারম্যান ভাইল এই কণার অস্তিত্বের কথা প্রথম জানিয়েছিলেন।
 - ২০১৫ সালে পরীক্ষামূলক প্রমাণ হাজির করলেন জাহিদ হাসান। 
- আরেক জাতের কণা হলো ‘বোসন’, যার নামের সঙ্গেই জড়িয়ে আছেন বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু। 
- তাঁর আবিষ্কারের ৯১ বছর পর ভাইল ফার্মিয়নের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়ে পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে যুক্ত হলেন আরেক বাঙালি জাহিদ হাসান।
 
উৎস: প্রথম আলো। 
১,৪২৮.
সৌরজগতের বৃহত্তম আগ্নেয়গিরি ‘অলিম্পাস মন্স’ কোন গ্রহে অবস্থিত?
  1. শনি
  2. বুধ
  3. মঙ্গল
  4. বৃহস্পতি
ব্যাখ্যা

‘অলিম্পাস মন্স’ আগ্নেয়গিরি:
- সৌরজগতের বৃহত্তম আগ্নেয়গিরি অলিম্পাস মন্স এর অবস্থান মঙ্গল গ্রহে।
- ১৯৭১ সালে নাসার মেরিনার ৯ মহাকাশযান এটি আবিষ্কার করে।
- অলিম্পাস মন্স প্রায় ২৭ কিলোমিটার উঁচু ও এর ভিত্তি ৬০০ কিলোমিটারের বেশি চওড়া।
- ধারণা করা হয়, মঙ্গল গ্রহের প্রাথমিক ভূতাত্ত্বিক যুগে, প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে অলিম্পাস মন্স গঠিত হয়।
- আগ্নেয়গিরিটি বর্তমানে সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা রিপোর্ট। [link]

১,৪২৯.
জেনারেটর হচ্ছে -
  1. ক) তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার যন্ত্র
  2. খ) যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করার যন্ত্র
  3. গ) রাসায়নিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করার যন্ত্র
  4. ঘ) তড়িৎ শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার যন্ত্র
ব্যাখ্যা

যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করার যন্ত্রকে জেনারেটর বলে।
তড়িৎ চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে জেনারেটর তৈরি করা হয়।
জেনারেটর দুই ধরনের হয়ে থাকে।
যেমন, ডি. সি. জেনারেটর ও এ. সি.জেনারেটর।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,৪৩০.
ঢাকাতে ২৪ মে দুপুর ১২ টার সময় লন্ডনে সময় হবে -
  1. ক) ২৪ মে সন্ধ্যা ৬ টা
  2. খ) ২৪ মে রাত ১২ টা
  3. গ) ২৫ মে রাত ১২ টা
  4. ঘ) ২৪ মে সকাল ৬ টা
ব্যাখ্যা
গ্রীনিচ মানমন্দির লন্ডন শহরে অবস্থিত। এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গেছে। বাংলাদেশের সময় গ্রিনিচ সময়ের চেয়ে ছয়ঘন্টা এগিয়ে থাকে। তাই ঢাকায় ২৪ মে দুপুর বারোটা হলে, লন্ডনে তখন সময় হবে ২৪ মে সকাল ছয়টা।
Source: Greenwich Mean Time website
১,৪৩১.
বায়ুমণ্ডলের কোন উপাদান উদ্ভিদ ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. ওজোন
  3. অক্সিজেন
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে এবং গাছকে সবুজ ও সতেজ করতে নাইট্রোজেন ব্যবহৃত হয়। 
- বাংলাদেশের কৃষিতে বহুল ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সার হচ্ছে ইউরিয়া। 
- সার ছাড়া বায়ু থেকে নাইট্রোজেন পাওয়া যায়। 
- বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ - ৭৮.০২%। 
- বায়ু থেকে নাইট্রোজেন মাটিতে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে নাইট্রোজেন চক্র বলে। 
- নাইট্রোজেন চক্র এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে নাইট্রোজেন বিভিন্নভাবে রূপান্তরিত হয়। 
 
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ভূগোল, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৩২.
আকাশে বিজলী চমকায়-
  1. ক) দুই খন্ড মেঘ পর পর এলে
  2. খ) মেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ কোষ তেরি হলে
  3. গ) মেঘ বিদ্যুৎ পরিবাহী অবস্থায় এলে
  4. ঘ) মেঘের অসংখ্য পানি ও বরফ কণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে
ব্যাখ্যা
- আকাশে বিজলী চমকায় মেঘের অসংখ্য পানি ও বরফ কণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে। 
- ধনাত্নক' ও ঋণাত্মক চার্জযুক্ত দুটি মেঘ কাছাকাছি আসলে আকর্ষণের ফলে চার্জ এক মেঘ থেকে অন্য মেঘে দ্রুত ছুটে যায়। 
- ফলে ইলেক্ট্রনের চার্জ গতিপথে যে তীব্র আলোক উৎপন্ন হয় তাকে বিজলী চমকানো বলে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণী, পদার্থ বিজ্ঞান, বোর্ড বই।
১,৪৩৩.
একক ক্ষেত্রফলের উপর বায়ু যে পরিমাণ চাপ প্রয়োগ করে, তাকে কী বলে?
  1. ক) আর্দ্রতা
  2. খ) বায়ুচাপ
  3. গ) স্থিরাঙ্ক
  4. ঘ) ফারেনহাইট
ব্যাখ্যা

বায়ু তার ওজনের কারণে ভূ-পৃষ্ঠের উপর যে চাপ প্রয়োগ করে তাই বায়ুচাপ।
একক ক্ষেত্রফলের উপর বায়ু যে পরিমাণ চাপ প্রয়োগ করে, তাকে বায়ুচাপ বলে।
বায়ুচাপের একক হল প্যাসকেল।

বায়ুচাপ দুই প্রকার। যথাঃ
১। বায়ুর নিম্নচাপ উষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়, ২। বায়ুর উচ্চচাপ সাধারণত ঠাণ্ডা এলাকায় দেখা যায়।
বায়ু উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়।

সূত্র: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান ও যুগান্তর পত্রিকা (ব্যাখ্যা)

১,৪৩৪.
ভূপৃষ্ঠের উপর অবস্থিত কোন স্থানের ঠিক বিপরীত স্থানকে ঐ স্থানের ________ স্থান বলে।
  1. সমতাপীয়
  2. প্রতিপাদ
  3. সমান্তরাল
  4. সমমণ্ডলীয়
ব্যাখ্যা

প্রতিপাদ স্থান (Antipodes):
- পৃথিবীর কেন্দ্র ভেদ করে একটি কল্পিত রেখা যা পৃথিবীর ঠিক বিপরীত দিকে টানা হয়, ওই কল্পিত রেখার উভয় বিন্দুই একটি অপরটির প্রতিপাদ স্থান।
- অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠের উপর অবস্থিত কোন স্থানের ঠিক বিপরীত স্থানকে ঐ স্থানের প্রতিপাদ স্থান বা Antipodes বলে।
- প্রতিপাদ স্থান সম্পূর্ণরূপে একে অন্যের বিপরীত দিকে থাকে।
- কোনো বিন্দুর অক্ষাংশ যত ডিগ্রি হবে, তার প্রতিপাদ স্থানের অক্ষাংশও তত ডিগ্রি হবে।
- তবে স্থান দুটি নিরক্ষরেখার দুই পাশে অবস্থান করে বিধায় একটি উত্তর অক্ষাংশ হলে অন্যটি দক্ষিণ অক্ষাংশ হবে।
- যেমন: ঢাকার প্রতিপাদ স্থান দক্ষিণ আমেরিকার অন্তর্গত চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪৩৫.
দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর-আয়নান্ত ঘটে কখন?
  1. ক) ২৩ জুন
  2. খ) ২২ ডিসেম্বর
  3. গ) ২৩ জুলাই
  4. ঘ) ২১ শে মে
ব্যাখ্যা
- ২২ ডিসেম্বর উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত এবং দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত।
- তাই ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর-আয়নান্ত ঘটে।

অন্যদিকে,
- ধ্রুবতারা: এটি সব সময়ই পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ থেকে সারা বছর উত্তর আকাশে দেখা যায়।
- নামের সাথে এর মিল আছে; এটি সবসময়ই স্থির থাকে উত্তর আকাশে; যা দেখে একসময় নাবিকেরা উত্তর দিক নিরূপণ করতেন।
- এর দিকে তাকিয়ে থাকা মানে আপনার ডানে পূর্ব, বাঁয়ে পশ্চিম আর পেছনে দক্ষিণ।

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, সপ্তম শ্রেণি । 
১,৪৩৬.
শক্তি তরঙ্গের বিস্তারের ________।
  1. ক) বর্গের সমানুপাতিক
  2. খ) সমানুপাতিক
  3. গ) ব্যস্তানুপাতিক
  4. ঘ) বর্গের ব্যস্তানুপাতিক
ব্যাখ্যা
তরঙ্গের ভেতর দিয়ে শক্তি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে। শক্তি যত বেশি হয় তরঙ্গের বিস্তার তত বেশি হয়। শক্তি তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। অর্থাৎ বিস্তার যদি দ্বিগুণ হয় শক্তি হয় চার গুণ। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
১,৪৩৭.
জড় পরিবেশের মূল উপাদান নয় কোনটি?
  1. পানি 
  2. মাটি
  3. উদ্ভিদ 
  4. বায়ু 
ব্যাখ্যা

পরিবেশের উপাদান: 
- পরিবেশকে প্রধানত দুটো ভাগে ভাগ করা যায়। 
- একটি হলো পরিবেশের সকল সজীব উপাদান, যা জীব উপাদান নামে পরিচিত। 
- এই জীব উপাদানকে বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সকল উপাদান নিয়ে আর একটি পরিবেশ গঠিত। যাকে বলা হয় জড় পরিবেশ বা অজীব পরিবেশ। 
- জীব পরিবেশের উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে সকল উদ্ভিদ ও প্রাণী। 
- পরিবেশের প্রাণহীন সব উপাদান নিয়ে জড় পরিবেশ গঠিত । এগুলো অজীব বা জড় উপাদান নামে পরিচিত। 
- জড় পরিবেশের মূল উপাদান হচ্ছে মাটি, পানি এবং বায়ু; কারণ এ উপাদানগুলো ছাড়া কোন জীবই বেঁচে থাকতে পারে না। 
- মাটি, পানি, বায়ু, আলো, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, জলবায়ু ইত্যাদি বিভিন্ন অজীব উপাদান বিভিন্নভাবে পরিবেশের প্রতিটি জীবের স্বভাব এবং বিস্তৃতিকে প্রভাবিত করে 
- এসব উপাদানের প্রাপ্যতার উপর নির্ভর করে পরিবেশের একটি নির্দিষ্ট স্থানে কোন ধরনের জীব উপাদান থাকবে।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১,৪৩৮.
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) মূলতঃ তড়িৎ-চুম্বকীয় বর্ণালীর কোন্ অংশে মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে?
  1. অবলোহিত অঞ্চল
  2. দৃশ্যমান এবং নিকট-অবলোহিত অঞ্চল
  3. অতিবেগুনী এবং দৃশ্যমান অঞ্চল
  4. এক্স-রে এবং গামা-রে অঞ্চল
ব্যাখ্যা

- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপটি (JWST) প্রাথমিকভাবে ইনফ্রারেড বা অবলোহিত আলো সনাক্ত করে যাতে প্রথম ছায়াপথ এবং প্রোটোস্টারের মতো উৎসগুলো পর্যবেক্ষণ করা যায় যা এই তরঙ্গদৈর্ঘ্যে বিকিরণ করে। যেহেতু ইনফ্রারেড উপগ্রহ পর্যবেক্ষণকে তাপীয় বিকিরণ থেকে রক্ষা করতে হবে , তাই প্রায় ১৫০ বর্গমিটার (১,৬০০ বর্গফুট) আয়তনের একটি সূর্যের ঢাল টেলিস্কোপটিকে রক্ষা করে। যেহেতু JWST কে তার স্থাপন করা অবস্থায় ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট প্রশস্ত কোনও রকেট নেই , তাই সূর্যের ঢাল এবং আয়না উভয়ই ভাঁজ করা হয়েছিল এবং মহাকাশে উন্মোচিত হয়েছিল

উল্লেখ্য, খ) অপশন আংশিক সত্য, কিন্তু অসম্পূর্ণ—কারণ JWST কেবল দৃশ্যমান+নিকট-অবলোহিত নয়,মিড-অবলোহিতসহ মোটামুটি 0.6–28.8 µm রেঞ্জে কাজ করার জন্য ডিজাইন। NASA স্পষ্টভাবে বলে Webb “optimized for infrared wavelengths”- অর্থাৎ মূল ফোকাস Infrared।
আর Webb-এর একটি প্রধান যন্ত্র MIRI পুরো mid-infrared (~5–28 µm) কভার করে, যা খ) অপশনে বাদ পড়ে যায়। 

Image Source: NASA Website.

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ: 
- জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (ইংরেজি: James Webb Space Telescope বা JWST) মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা, কানাডীয় মহাকাশ সংস্থা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় নির্মিত একটি মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র যা ২৫শে ডিসেম্বর, ২০২১ সালে উৎক্ষেপণ করা হয়। এটিকে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ-এর উত্তরসূরী হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছে।
- বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী স্পেস টেলিস্কোপ জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ।
- জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের আয়না ৬.৫ মিটার ব্যাসের (২১.৩ ফুট), যা হাবলের আয়নার তুলনায় প্রায় সাত গুণ বড়। আয়না বড় হওয়ার ফলে এটি অনেক বেশি আলো সংগ্রহ করতে সক্ষম, যা দূরবর্তী গ্যালাক্সি ও মহাবিশ্বের প্রাচীনতম ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণে সহায়তা করে।
- টেলিস্কোপটি পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সরাসরি ঘোরে না, বরং সূর্যকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ কক্ষপথে চলে—লিসাজু (Lissajous) প্যাটার্নে দ্বিতীয় ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্টে (L2)। এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার (৯.৩ লক্ষ মাইল) দূরে, পৃথিবীর রাতের দিকের অংশে অবস্থিত।
- ওয়েবের মূল লক্ষ্য হলো ছায়াপথের জন্ম ও বিবর্তন এবং নক্ষত্র ও গ্রহসমূহের সৃষ্টি সংক্রান্ত গবেষণা।
- সবচেয়ে পুরনো ব্ল্যাকহোলের সন্ধান পেয়েছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ।
- সূর্যের চেয়ে ষোলো লক্ষগুণ ভারী এই ব্ল্যাকহোলের বয়স প্রায় মহাবিশ্বের বয়সের কাছাকাছি, যেখানে মহাবিশ্বের বয়স ১৩৮০ কোটি বছর।
- এই ব্ল্যাকহোলটি নক্ষত্র-অর্থাৎ তারাদের জন্মের বিষয়ে আরো নিখুঁত তথ্য দেবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
- এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের দুটি ইনফ্রারেড ক্যামেরা ব্যবহার করেছেন। মিড-ইনফ্রারেড যন্ত্র (MIRI) এবং নিয়ার ইনফ্রারেড ক্যামেরা। 

উৎস: ব্রিটানিকা [লিঙ্ক] ওয়েবসাইট, নাসা ও স্পেস ডট কম ওয়েবসাইট।

১,৪৩৯.
নিরক্ষরেখার অপর নাম কোনটি?
  1. বিষুব রেখা
  2. মকরক্রান্তি রেখা
  3. কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা: 
- পৃথিবীর ঠিক মাঝখান দিয়ে যে রেখাটি পূর্ব-পশ্চিমে সমগ্র পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে নিরক্ষরেখা বলে। 
- নিরক্ষরেখার অপর নাম হলো- বিষুবরেখা (Equator), ০° অক্ষরেখা (০° Latitude), মহাবৃত্ত (Great circle)। 

কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখা: 
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলে। 
- আমাদের বাংলাদেশের উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। 
- এই দুটি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে সূর্যের আলো লম্বভাবে পৃথিবীতে পড়ে। 

সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত: 
- উত্তর গোলার্ধে ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরুবৃত্ত এবং ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরুবৃত্ত বলে। 

আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা: 
- দ্রাঘিমারেখার নিয়মানুসারে মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব ও পশ্চিমে অগ্রসর হলে প্রতি ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য ৪ মিনিট সময়ের ব্যবধান হয়। 
- আমরা জানি ০° দ্রাঘিমার ঠিক উল্টো দিকে ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৪০.
সমুদ্র স্রোতের অন্যতম কারণ-
  1. বায়ু প্রবাহের প্রভাব
  2. সমুদ্রের পানিতে তাপ পরিচালনা
  3. সমুদ্রের পানিতে ঘনত্বের তারতম্য
  4. সমুদ্রের ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
- সমুদ্র স্রোতের অন্যতম কারণ বায়ু প্রবাহের প্রভাব। 

বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রস্রোতের অন্যতম প্রভাব। 
- প্রধান বায়ুপ্রবাহের গতি অনুসরণ করে সমুদ্রের প্রধান শ্রোতগুলো প্রবাহিত হয়। 
- অয়ন বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে সমুদ্রস্রোত পূর্ব হতে পশ্চিম দিকে এবং প্রত্যয়ন বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ুর চলাচল নিয়ত পরিবর্তনশীল। 
- বায়ু সবসময়ই একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরাল অর্থাৎ আনুভূমিকভাবে বায়ুর এ সঞ্চালনকে বলা হয় বায়ুপ্রবাহ। 
- বায়ুচাপের পার্থক্যই বায়ুপ্রবাহের কারণ। 
- বায়ু সাধারণত কয়েকটি বিশেষ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়- 
(১) নিম্নচাপমন্ডলের উত্তপ্ত ও হালকা বায়ু যখন উপরে উঠে যায় তখন বায়ুমন্ডলে চাপের অসমতা সৃষ্টি হয়। ফলে উচ্চ তাপমন্ডল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু সবর্দা নিম্নচাপমন্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়। 
(২) পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তনশীল এবং নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে আবর্তনের কারণে গতিবেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৪১.
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে কী বলা হয়? 
  1. ঘূর্ণিচক্র
  2. চোখ
  3. মূলকেন্দ্র
  4. কেন্দ্রীয় তাপবিন্দু
ব্যাখ্যা
সাইক্লোন: 
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone। 
- এটি গ্রিক শব্দ Kyklos থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে যার অর্থ কুণ্ডলি পাকানো সাপ। 
- ঘূর্ণিঝড়ের বাতাস কুণ্ডলি পাকানো সাপের আকার ধারণ করে বলে এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির একটি আদর্শ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত। 

সাইক্লোন সৃষ্টির কারণ: 
- এই দুর্যোগ সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো উচ্চ তাপমাত্রা ও নিম্নচাপ। 
- সাইক্লোন সৃষ্টি হয় গভীর সমুদ্রে এবং আঘাত হানে উপকূলীয় এলাকায়। 
- সাধারণত এই তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশি হওয়া প্রয়োজন এবং ঝড়ের সময় বাযুপ্রবাহের গতিবেগ ৬৫ কিলোমিটার বা তারও বেশি হয়। 
- বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারা বছরই এইরূপ তাপমাত্রা বিদ্যমান। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 
- এসময় উচ্চচাপযুক্ত বায়ু প্রবলবেগে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগে যেখানে নিম্নচাপ থাকে সেদিকে ধাবিত হয়। এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়। 
- এটি উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠে উৎপত্তি লাভ করে মহাদেশীয় মূলভাগের দিকে অগ্রসর হয়। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে চোখ বলে। 
- এছাড়াও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৪২.
পৃথিবী নিজ অক্ষে কত সময়ে আবর্তন করে? 
  1. ২৩ ঘণ্টা ৬০ মিনিট ৩০ সেকেন্ড
  2. ২৩ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড
  3. ২৩ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৪০ সেকেন্ড 
  4. ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

পৃথিবী (Earth): 
- সৌরজগতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রহ হলো 'পৃথিবী'। 
- এটি সৌরজগতের মাঝারী আকারের একটি গ্রহ (গড় ব্যস হলো ১২,৭৩৪.৫ কি. মি. প্রায়)। 
- পৃথিবী নিজ কক্ষপথটি ডিম্বাকৃতির ও মোট ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বা এক বছরে সূর্যকে প্রদক্ষিন করে থাকে। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা এক দিনে আর্বতন করে। 
- পৃথিবীর একটি মাত্র উপগ্রহ হলো চন্দ্র। 
- সৌরজগতের সকল গ্রহের মধ্যে কেবল পৃথিবী জীব ও উদ্ভিদের বসবাস উপযোগী গ্রহ। 

চন্দ্র (Moon): 
- চন্দ্র পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
- প্রায় ৩৭.৯ মিলিয়ন বর্গ কি.মি. আয়তন বিশিষ্ট চন্দ্র মোট ২৯ দিন ১২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট বা এক চন্দ্র মাসে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। 
- চন্দ্রের নিজস্ব কোনো আলো নাই, সূর্যের আলোকে এটি আলোকিত হয়। 
- এই আলো বিচ্ছুরিত হয়ে পৃথিবীকে রাতের বেলা আলো দেয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৪৩.
সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট গ্রহ কোনটি?
  1. মার্কারি
  2. ভেনাস
  3. স্যাটার্ন
  4. নেপচুন
ব্যাখ্যা
• সৌরজগতে মোট ৮টি গ্রহ রয়েছে।
- এদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট গ্রহ বুধ (Mercury)।
- এটি সূর্যের সবচেয়ে নিকটতম গ্রহ।
- বুধের কোন উপগ্রহ নেই।
- সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতি।

• গ্রহগুলো  হলো:
- বুধ (Mercury)
- শুক্র (Venus)
- পৃথিবী (Earth)
- মঙ্গল (Mars)
- বৃহস্পতি (Jupiter)
- শনি (Saturn)
- ইউরেনাস (Uranus)
- নেপচুন (Neptune) I

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়: নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৪৪.
কোথায় সাঁতার কাটা সহজ?
  1. পুকুরে
  2. নীতে
  3. বিলে
  4. সাগরে
ব্যাখ্যা
সাগরে সাঁতার কাটা সহজ।
- পুকুরের পানির চেয়ে সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ, কারন সমুদ্রের পানির ঘনত্ব নদীর পানি বা পুকুরের পানির চেয়ে বেশি।
- যে পানির ঘনত্ব বেশি সে পানিতে সাঁতার কাটা সহজ।
- সমুদ্রের পানিতে ২.৫% থেকে ৩.৫% লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৪৪৫.
নিচের কোনটি পরিবেশের জড় উপাদান? 
  1. বায়ুমণ্ডল 
  2. গাছপালা 
  3. কীটপতঙ্গ 
  4. পশুপাখি 
ব্যাখ্যা

পরিবেশের উপাদান (Elements of Environment): 
- পরিবেশের প্রধান দুটি উপাদান হলো জড় ও জীব উপাদান। 
- যাদের জন্ম, মৃত্যু, বৃদ্ধি আছে অর্থাৎ যাদের জীবন আছে তারা হলো জীব। 
যেমন- গাছপালা, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণি হলো জীব; অর্থাৎ, এরা পরিবেশের জীব উপাদান। 
- অপরদিকে ভূমি, পানি, বায়ু, পাহাড়, পর্বত, নদী, সাগর, সৌরজগত, উষ্ণতা, আর্দ্রতা, বায়ুমণ্ডল হলো পরিবেশের জড় উপাদান এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রধান উপকরণ। 
- জীব এবং জড় এই প্রধান দুটি পরিবেশের উপাদান সম্মিলিতভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং সামাজিক পরিবেশ তৈরি করছে। 
- প্রাকৃতিক এবং সামাজিক এই উভয় পরিবেশের উপাদানসমূহই পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। 

পরিবেশের প্রকারভেদ (Types of Environment): 
- পরিবেশ মূলত দুই প্রকার। 
যথা- ভৌত বা প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামাজিক পরিবেশ। 
- প্রকৃতির জড় ও জীব উপাদান যে পরিবেশ তৈরি করে তাকে ভৌত বা প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে। 
- অপরদিকে মানুষের আচার-আচরণ, বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় উৎসব, সাংস্কৃতিক উৎসব, রীতি-নীতি, শিক্ষা, মূল্যবোধ, অর্থনীতি, রাজনীতি ইত্যাদি নিয়ে যে পরিবেশ গড়ে উঠে তা হলো সামাজিক পরিবেশ। 
- প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং সামাজিক পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করাই হলো ভূগোলের প্রধান আলোচ্য বিষয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৪৬.
প্রাকৃতিক ভূগোলের কোন শাখা বায়ুমন্ডল ও বায়ুমন্ডলের সাথে সম্পর্কিত সকল বিষয়ের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ প্রদান করে?
  1. ক) ভূমিরূপবিদ্যা
  2. খ) সমুদ্রবিদ্যায়
  3. গ) জলবায়ুবিদ্যা
  4. ঘ) জীব ভূগোলে
ব্যাখ্যা
- জলবায়ুবিদ্যা শাখাতে বায়ুমন্ডল ও বায়ুমন্ডলের সাথে সম্পর্কিত সকল বিষয়ের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ প্রদান করে।

• জলবায়ুবিদ্যা (Climatology):
- এই শাখা বায়ু, বায়ুস্তর, বায়ুর গঠন, বায়ুর ধর্ম, বায়ুর তাপ ও তাপমাত্ৰা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুপুঞ্জ, বায়ুপ্রাচীর, ঘূর্ণিবাত, প্রতীপ ঘূর্ণিবাত, বায়ুমন্ডলের জলীয়বাষ্প, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে আলোচনা করে।
- সংক্ষেপে বায়ুমন্ডল ও বায়ুমন্ডলের সাথে সম্পর্কিত সকল বিষয়ের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ প্রদান করে।
 
• প্রাকৃতিক ভূগোল:
- ভূগোল বিষয়ের যে অংশ পাঠ করলে পৃথিবীর জন্ম, ভূ-প্রকৃতি অর্থাৎ পাহাড়, পর্বত, বারিমন্ডল, বায়ুমন্ডল প্রভৃতি বিষয় ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা যায় তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে।
- প্রাকৃতিক ভূগোলের প্রধান প্রকৃতি হলো- প্রকৃতির সাথে সম্পর্কিত সকল বিষয়কে প্রাকৃতিক ভূগোল এককভাবে প্রকাশ করে।
- তাই প্রাকৃতিক ভূগোলের পরিধিও ব্যাপক এবং ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক ভূগোলের পরিধি আরো অধিক বিস্তৃত হবে।

১. ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology): প্রাকৃতিক ভূগোলের এই শাখায় পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, পৃথিবীর উৎপত্তি, ভূ-আলোড়ন বা ভূ-আন্দোলন, বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ, ভূ-তাত্ত্বিক সময় মাপনি, ভূ-ত্বকের পরিবর্তন, পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদ, খনিজ, শিলা প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হয়।
- মূলত অশ্মমন্ডল বা ভূ-ত্বকের সকল বিষয় ভূমিরূপবিদ্যার অন্তর্গত।
২. জলবায়ুবিদ্যা (Climatology): এই শাখা বায়ু, বায়ুস্তর, বায়ুর গঠন, বায়ুর ধর্ম, বায়ুর তাপ ও তাপমাত্ৰা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুপুঞ্জ, বায়ুপ্রাচীর, ঘূর্ণিবাত, প্রতীপ ঘূর্ণিবাত, বায়ুমন্ডলের জলীয়বাষ্প, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে আলোচনা করে। সংক্ষেপে বায়ুমন্ডল ও বায়ুমন্ডলের সাথে সম্পর্কিত সকল বিষয়ের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ প্রদান করে ।
৩. সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography): বারিমন্ডলের প্রধান উপাদান সাগর, মহাসাগরসমূহের উৎপত্তি, বিন্যাস, বিস্তরণ, সমুদ্রস্রোত, সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ, জোয়ার-ভাঁটা, মানব জীবনের উপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব ও বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে সমুদ্রপথে যোগাযোগ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ।
8. মৃত্তিকা ভূগোল (Soil Geography): মৃত্তিকা ভূগোল ভূ-ত্বকের বা অশ্মমন্ডলের উপরিভাগের অংশ অর্থাৎ মৃত্তিকার গঠন, উপাদান, বণ্টন ও বিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করে ।
৫. জীব ভূগোল (Biogeography): উদ্ভিদ বাস্তব্যবিদ্যা, উদ্ভিদের ক্রমবিকাশ, পরিবেশের উপর উদ্ভিদের প্রভাব প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ।
৬. প্রাণি ভূগোল (Zoogeography): এ শাখা পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রাণিজগৎ ও প্রাণিজগতের বণ্টন নিয়ে আলোচনা করে।
৭. গাণিতিক ভূগোল (Mathematical Geography): গাণিতিক ভূগোলে জ্যোতিষ্কমন্ডলী, সৌরজগৎ, পৃথিবী ও এর আকৃতি, গতি, আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা ও সময়, আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির ফলাফল প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৪৭.
বারিমন্ডলের আলোচ্য অংশ না কোনটি?
  1. ক) সমুদ্র স্রোত
  2. খ) জোয়ার ভাটা
  3. গ) মহাসাগর
  4. ঘ) নদী
ব্যাখ্যা
মহাসাগর, এর তলদেশ, সমুদ্রস্রোত, জোয়ার ভাটা হলো বারিমন্ডলের আলোচ্য বিষয়৷
উৎস: ভূগোল একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১,৪৪৮.
n-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরিতে ভেজাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) ফসফরাস
  2. খ) অ্যালুমিনিয়াম
  3. গ) বোরন
  4. ঘ) গ্যালিয়াম
ব্যাখ্যা
- যে সকল মৌলের (যেমন- ফসফরাস, আর্সেনিক বা অ্যান্টিমনি) বহির্খোলকে পাঁচটি ইলেকট্রন থাকে তাদের ভেজাল হিসেবে ব্যবহার করা হলে সিলিকন বা জার্মেনিয়াম n-টাইপ বস্তুতে বা n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে পরিণত হয়। 

- যে সব মৌলের (যেমন- অ্যালুমিনিয়াম, বোরন, গ্যালিয়াম বা ইনডিয়াম) তিনটি যোজন ইলেকট্রন থাকে তাদের ভেজাল হিসেবে ব্যবহার করা হলে সিলিকন বা জার্মেনিয়াম P-টাইপ বস্তুতে বা P-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে পরিণত হয়। 

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান।
১,৪৪৯.
RFID বলতে বােঝায়-
  1. ক) Random Frequency Identification
  2. খ) Random Frequency Information
  3. গ) Radio Frequency Information
  4. ঘ) Radio Frequency Identification
ব্যাখ্যা

Radio Frequency Identification (RFID) technology uses radio waves to identify people or objects. There is a device that reads information contained in a wireless device or “tag” from a distance without making any physical contact or requiring a line of sight.

RFID technology has been commercially available in one form or another since the 1970s. It is now part of our daily lives and can be found in car keys, employee identification, medical history/billing, highway toll tags and security access cards.

Source: Official website of the Department of Homeland Security, USA Govt.

বাংলায় বিস্তারিত জানতে এই পেজটি পড়তে পারেন। বেশ সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলা আছে। [পোস্ট লিঙ্ক]

১,৪৫০.
পৃথিবী সূর্যের চারপাশে প্রতি ঘন্টায় প্রায় কত বেগে ঘুরতে থাকে?
  1. ৫৭,০০০ মাইল
  2. ৬১,০০০ মাইল
  3. ৬৩,০০০ মাইল
  4. ৬৭,০০০ মাইল
ব্যাখ্যা
পৃথিবী:
- পৃথিবীর সুর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- একমাত্র পৃথিবী গ্রহেই উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার ।
- এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার।
- পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।
- পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ।
- পৃথিবী সূর্যের চারপাশে প্রায় ৬৭,০০০ মাইল (১,০৭,০০০ কিলোমিটার) বেগে প্রতি ঘন্টায় ঘুরতে থাকে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।

উৎস: i) NASA (.gov).
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৫১.
পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্ল্যাকহোল ইউনিকর্ন কত আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত?
  1. ১৫০০
  2. ১৬০০
  3. ১৭০০
  4. ১৮০০
ব্যাখ্যা
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি পৃথিবীর নিকটতম যে ব্ল্যাকহোল খুঁজে পেয়েছেন, তার নাম ইউনিকর্ণ।
এটি পৃথিবী থেকে মাত্র 1,500 আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
এটি সূর্যের চেয়ে তিনগুণ বেশি বিশাল।

উৎস: www.space.com
১,৪৫২.
সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান জ্যোতিষ্কমণ্ডলীকে বলা হয়-
  1. ক) সৌরজগৎ
  2. খ) পৃথিবী
  3. গ) বুধ
  4. ঘ) নক্ষত্র
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ:

- সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান জ্যোতিষ্কমণ্ডলীকে বলা হয় সৌরজগৎ।
- সৌরজগতে সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তনশীল গ্রহের সংখ্যা আটটি।
• বুধ।
• শুক্র।
• পৃথিবী।
• মঙ্গল।
• বৃহস্পতি।
• শনি।
• ইউরেনাস।
• নেপচুন।

তথ্যসূত্র - অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান।
১,৪৫৩.
মহাবিশ্ব গঠনকারী মূল উপাদান সমূহের মধ্যে ডার্ক এনার্জির পরিমাণ শতকরা কত?
  1. ৫%
  2. ১০%
  3. ২৫%
  4. ৭০%
ব্যাখ্যা
The Universe is thought to consist of three types of substance: normal matter, ‘dark matter’ and ‘dark energy’.

Normal matter consists of the atoms that make up stars, planets, human beings and every other visible object in the Universe.

As humbling as it sounds, normal matter almost certainly accounts for the smallest proportion of the Universe, somewhere between 1% and 10%.

In the currently popular model of the Universe, 70% is thought to be dark energy, 25% dark matter and 5% normal matter.

source: esa.int

১,৪৫৪.
বাংলাদেশে যখন দুপুর ১টা, লন্ডনে তখন কয়টা বাজে?
  1. ক) সকাল পাঁচটা
  2. খ) সকাল সাতটা
  3. গ) সন্ধ্যা সাতটা
  4. ঘ) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা
ব্যাখ্যা
গ্রীনিচ মানমন্দির লন্ডন শহরে অবস্থিত। এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গেছে। বাংলাদেশের সময় গ্রিনিচ সময়ের চেয়ে ছয়ঘন্টা এগিয়ে থাকে। অর্থাৎ, বাংলাদেশে দুপুর একটা বাজলে লন্ডনে তখন সকাল সাতটা বাজবে।
Source: Greenwich Mean Time website
১,৪৫৫.
কোনো উপকূলে পর পর দুটি ভাঁটার মধ্যে ব্যবধান হলো-
  1. প্রায় ৬ ঘণ্টা
  2. প্রায় ১২ ঘণ্টা
  3. প্রায় ১৮ ঘণ্টা
  4. প্রায় ২৪ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
• জোয়ার-ভাটা:
- সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর এক স্থানে ফুলে ওঠে এবং এক স্থানে নেমে যায়।
- পানির এরকম ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
- উপকূলের কোন একটি স্থানে প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়।
- সাধারণত একটি জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট পর ভাটা হয়।
- অতএব, পর পর দুটি জোয়ার বা দুটি ভাঁটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৫৬.
ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে সমুদ্রপৃষ্ঠের ন্যূনতম তাপমাত্রা কত হতে হয়?
  1. ২০° সেলসিয়াস
  2. ২৬.৫° সেলসিয়াস
  3. ৩০° সেলসিয়াস
  4. ৩৫° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

◉ ট্রপিক্যাল সাইক্লোন গঠনের জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের জলকে অন্তত ২৬.৫° সেলসিয়াস বা তার বেশি উষ্ণ হতে হয়।

সাইক্লোন সৃষ্টির কারণ:
- সাইক্লোন সৃষ্টি হয় গভীর সমুদ্রে এবং আঘাত হানে উপকূলীয় এলাকায়।
- এই দুর্যোগ সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো উচ্চ তাপমাত্রা ও নিম্নচাপ।
- সাধারণত এই তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশি হওয়া প্রয়োজন এবং ঝড়ের সময় বাযুপ্রবাহের গতিবেগ ৬৫ কিলোমিটার বা তারও বেশি হয়।
- বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারা বছরই এইরূপ তাপমাত্রা বিদ্যমান।
- এছাড়াও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৫৭.
লেজার রশ্মি কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
  1. বোর, ১৯৬৩
  2. রাদারফোর্ড, ১৯১৯
  3. হাইগ্যান, ১৯৬১
  4. মাইম্যান, ১৯৬০
ব্যাখ্যা
- LASER এর পূর্ণরূপ হচ্ছে- Light Amplification by Stimulated Emission Radiation. 
অর্থাৎ, উত্তেজিত বিকিরণের সাহায্যে আলোক বিবর্ধক। 
- ১৯৬০ সালে আমেরিকান পদার্থবিদ থিওডর মাইম্যান প্রথম লেজার রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- লেজারের বিবিধ ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে মৃদু শল্যচিকিৎসা এবং পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব পরিমাপ করা। 

উৎস: ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি ডট কম ওয়েবসাইট।
১,৪৫৮.
মানুষের শ্রবণযন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা কত?
  1. ১-৫০ ডেসিবল
  2. ১-৭৫ ডেসিবল
  3. ১-৪৫ ডেসিবল
  4. ১-৬০ ডেসিবল
ব্যাখ্যা
শব্দ দূষণ: 
- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার অতিরিক্ত আওয়াজই শব্দ দূষণ। 
- মানুষের শ্রবণযন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা ১-৭৫ ডেসিবল। 
- কিন্তু ৮৫ ডেসিবল অথবা তার অধিক হলে একজন মানুষ শ্রবণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। 
- শব্দ দূষণ প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট উভয় কারণেই হতে পারে। 
- তবে মানবসৃষ্ট কারণই মুখ্য। 
- শব্দ দূষণের ফলে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয়। 
- সাধারণত শহরাঞ্চলে পরিবেশগত এই সমস্যা অধিক হয়ে থাকে। 


উৎস: ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৫৯.
Milky Way কী?
  1. ক) সুপারনোভা
  2. খ) সৌরজগত
  3. গ) তারা
  4. ঘ) ছায়াপথ
ব্যাখ্যা
অন্ধকার রাতে পরিষ্কার আকাশে জ্যোতিষ্কমণ্ডলীর দিকে তাকালে আকাশে সাদা মেঘের মতো বিস্তীর্ণ এলাকা দেখা যায়, যা উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে চলে গেছে, একে ছায়াপথ বলে।
- ছায়াপথ  আসলে লক্ষকোটি নক্ষত্র ও তাদের গ্রহ-উপগ্রহ নিয়ে গঠিত।
-মহাজাগতিক বস্তুর দূরত্ব পরিমাপ করতে আলোকবর্ষ ব্যবহার করা হয়। 
-এক বছরে আলো যত দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে তাই হল আলোকবর্ষ এক আলোকবর্ষ সমান নয় লক্ষ কোটি কিলোমিটার। 

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
১,৪৬০.
মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু কোনটি? 
  1. বোসন
  2. কোয়াসার
  3. কৃষ্ণবিবর
  4. নিউট্রন স্টার
ব্যাখ্যা
কোয়াসার (Quasar): 
- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়সার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি। 
- অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি আমাদের সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান বণ্ঢ্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 
- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস বণ্ঢ্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। 
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৬১.
জোয়ারের কত সময় পর ভাঁটার সৃষ্টি হয়?
  1. ১৩ ঘণ্টা ১৭ মিনিট
  2. ১২ ঘণ্টা ২০ মিনিট
  3. ৮ ঘণ্টা ১২ মিনিট
  4. ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট
ব্যাখ্যা

জোয়ার-ভাঁটা: 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাঁটা হয়। 
- সমুদ্রের পানি এভাবে ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাঁটা বলে। 
- উপকূলে কোন একটি স্থানে একটি জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট পর ভাঁটা হয়। 
- উপকূলে কোন একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ার বা দুটি ভাঁটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট। 
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তি প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়। 
অর্থাৎ, সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দু’বার জোয়ার ও দু’বার ভাঁটা হয়। 
- সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলোর স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার ভাঁটা বেশি অনুভূত হয়। 
- সমুদ্রের মধ্যভাগ থেকে উপকূলের কাছে পানির অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি থাকে। 
- তবে বিভিন্ন নদীপথে দেশের ভিতরে সমুদ্রের পানি যখন প্রবেশ করে এবং নেমে যায় তাকে জোয়ার ভাঁটা বলে না। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৬২.
পৃথিবী থেকে পাঠানো বেতার তরঙ্গ কোন স্তরে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে পুনরায় ফিরে আসে?
  1. ক) মেসোমন্ডল
  2. খ) স্ট্রাটোমন্ডল
  3. গ) আয়নমন্ডল
  4. ঘ) এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা
- তাপমন্ডলের নিচের অংশ আয়নমন্ডল নামে পরিচিত।
- ভূপৃষ্ঠ থেকে ৮০ কিলোমিটার উর্ধ্বে এটির অবস্থান।
- পৃথিবী থেকে প্রেরিত বেতার তরঙ্গ আয়নমণ্ডলে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসে।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৪৬৩.
কোন তারিখে পৃথিবীতে দিন-রাত্রি সমান থাকে?
  1. ক) ২২ মার্চ
  2. খ) ২১ জুন
  3. গ) ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ২২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- ২১ মার্চ এবং ২৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর দিন-রাত্রি সমান থাকে।

অন্যদিকে,
- উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ২১ জুন ও সবচেয়ে ছোট রাত ২১ জুন।
- আবার, দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ২১ জুন ও সবচেয়ে বড় রাত ২১ জুন। 

- উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় রাত ২২ ডিসেম্বর ও সবচেয়ে ছোট দিন ২২ ডিসেম্বর।
- আবার, দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট রাত ২২ ডিসেম্বর ও সবচেয়ে বড় দিন ২২ ডিসেম্বর।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৬৪.
সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বৃহস্পতি গ্রহের কতদিন সময় লাগে?
  1. ২৯ বছর
  2. ১২ বছর
  3. ৮ বছর
  4. ৮৪ বছর
ব্যাখ্যা
বৃহস্পতি (Jupiter):
- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বলে একে গ্রহরাজ বলা হয়।
- পৃথিবীর তুলনায় বৃহস্পতি প্রায় ১৩০০ গুণ বড়।
- সূর্য থেকে গড় দূরত্ব ৭৭ কোটি কিলোমিটার।
- বৃহস্পতির সূর্যের চারিদিকে একবার আবর্তন করতে সময় লাগে প্রায় ১২ বছর।
- বৃহস্পতির উপগ্রহের সংখ্যা ১৬টি।
- বৃহস্পতির বায়ুমন্ডলে হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া, মিথেন এবং হিলিয়াম রয়েছে। 

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (এসএসসি প্রোগ্রাম)।
১,৪৬৫.
পৃথিবীর নিকটতম ব্ল্যাক হোল কোনটি?
  1. Cygnus X-1
  2. Gaia BH1
  3. Sagittarius A
  4. TON 618
ব্যাখ্যা

•  Gaia BH1 হলো পৃথিবীর নিকটতম ব্ল্যাক হোল।
- Gaia-BH3 হলো পৃথিবীর দ্বিতীয় নিকটতম ব্ল্যাক হোল।
- ১৯৬৯ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার সর্বপ্রথম ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর শব্দটি ব্যবহার করেন।
- একটি কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাক হোল হলো মহাকাশের এমন একটি স্থান যেখানে মধ্যাকর্ষণ বল এতটাই শক্তিশালী যে সেখান থেকে কোন কিছুই বের হতে পারে না।
- এমনকি আলোর মত তড়িৎ-চৌম্বকীয় বিকিরণও এই প্রচন্ড আকর্ষণ বল ভেদ করে বের হয়ে আসতে পারে না
- আইনস্টাইনের বিখ্যাত সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব ভবিষ্যদ্বাণী করে যে, মহাশূন্যে ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব থাকতে পারে।
- ব্ল্যাক হোলে পদার্থের অত্যাধিক ঘনত্বের কারণে এটি এর চার দিকে এই অস্বাভাবিক মধ্যাকর্ষণ বল তৈরি করতে পারে।

অন্যান্য অপশন:
- Cygnus X-1: এটি প্রথম আবিষ্কৃত ব্ল্যাক হোল যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৬,০০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
- Sagittarius A: এটি আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির একদম কেন্দ্রে অবস্থিত একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল, যার দূরত্ব প্রায় ২৬,০০০ আলোকবর্ষ।
- TON 618: এটি মহাবিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ব্ল্যাক হোল, কিন্তু এটি ১০ বিলিয়নেরও বেশি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।

উৎস:
১. NASA website.
২. [scientificamerican.com]
৩. [space.com]

১,৪৬৬.
রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য কতটি মৌলিক রং ব্যবহৃত হয়?
  1. ৪টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
রঙিন টেলিভিশন: 
- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। 
- তবে রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। 
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এ তিনটি রং-এর পৃথক পৃথক ইলেকট্রন টিউব থাকে। 
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়। 
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে। ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে। 
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৬৭.
পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রি সমান থাকে -
  1. ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর
  2. ২১ জুন ও ২৩ সেপ্টেম্বর
  3. ২১ মার্চ ও ২২ ডিসেম্বর
  4. ২১ জুন ও ২২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
• দিন-রাত্রি সমান:
- প্রতি বছর ৩৬৫ দিনের মধ্যে দুটি দিন পৃথিবীর দিন ও রাতের ব্যাপ্তি সমান হয়ে থাকে।
- এর একটি দিন হলো ২১ মার্চ এবং অন্যটি ২৩ সেপ্টেম্বর।
- সূর্য উত্তর আর দক্ষিণ অয়নান্তের মাঝামাঝি ঠিক বিষুব রেখা বরাবর কিরণ দেয়।
- সেই হিসেবে পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত সমান।
- পক্ষান্তরে ২১ জুন উত্তর গোলার্ধে দিন বড়, রাত ছোট আর ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে দিন বড়, রাত ছোট।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৬৮.
পারমাণবিক বোমার আবিষ্কারক -
  1. ক) আইনস্টাইন
  2. খ) মাইকেল ফ্যারাডে
  3. গ) রবার্ট ওপেনহাইমার
  4. ঘ) গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
রবার্ট ওপেনহাইমার পারমাণবিক বোমা আবিষ্কার করেন। 

- জুলিয়াস রবার্ট ওপেনহাইমার, (জন্ম 22 এপ্রিল, 1904, নিউ ইয়র্ক, নিউ ইয়র্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মৃত্যু 18 ফেব্রুয়ারি, 1967 সালে প্রিন্সটন, নিউ জার্সি)। 
- রবার্ট ওপেনহেইমার নিউ মেক্সিকোতে লস আলামোসের ল্যাবরেটরির পরিচালক ছিলেন যেখানে পরমাণু বোমার নকশা করা হয়েছিল। 
- তাকে 'Father of Atomic Bomb' হিসবেও অভিহিত করা হয়।
- পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয় ইউরেনিয়াম-২৩৫।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলার সময় জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে লিটলবয় ও ফ্যাটম্যান নামের যে দুটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল, ওই দুটি বোমা তৈরিতেই ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়েছিল। 

সূত্র: হিস্টোরি ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]
১,৪৬৯.
নিম্নের কোন বিষয়টি ভূ-রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব
  2. সমস্থিতি তত্ত্ব
  3. হার্টল্যান্ড তত্ত্ব
  4. ক্ষয়চক্র তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
হার্টল্যান্ড তত্ত্ব:
- স্যার হ্যালফোর্ড জন ম্যাকিন্ডার ছিলেন একজন ব্রিটিশ ভূগোলবিদ যিনি ১৯০৪ সালে "ইতিহাসের ভৌগলিক পিভট" নামে একটি গবেষণাপত্র লিখেছিলেন। ম্যাকিন্ডারের গবেষণাপত্রটি পরামর্শ দিয়েছে যে পূর্ব ইউরোপের নিয়ন্ত্রণ বিশ্বের নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যাবশ্যক ছিল।
- ম্যাকিন্ডার যা অনুমান করেছিলেন, তা হার্টল্যান্ড তত্ত্ব হিসাবে পরিচিত হয়েছিল:
- পূর্ব ইউরোপ কে শাসন করে হার্টল্যান্ডকে নির্দেশ করে,
- হার্টল্যান্ড কে শাসন করে বিশ্ব দ্বীপকে,
- বিশ্ব দ্বীপ কে শাসন করে বিশ্বকে,
- তিনি সমগ্র ইউরোপ এবং এশিয়াকে বিশ্ব দ্বীপ হিসাবে বিবেচনা করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
১,৪৭০.
হ্যালির ধূমকেতু কোন কক্ষপথে সূর্যকে আবর্তন করে?
  1. ক) পর্যাবৃত্তাকার
  2. খ) বৃত্তাকার
  3. গ) উপবৃত্তাকার
  4. ঘ) উল্লম্বাকার
ব্যাখ্যা
সূর্যকে ঘিরে হ্যালির ধূমকেতুর কক্ষপথ উপবৃত্তাকার যা একধরনের পর্যায়বৃত্ত গতি। সূর্যকে যারা প্রদক্ষিণ করে তারা সূর্যকে ঘিরে উপবৃত্তাকার বা Elliptical পথে ঘুরে৷
উৎসঃ নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৪৭১.
২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখার অপর নাম কী?
  1. কুমেরুবৃত্ত
  2. কর্কটক্রান্তি রেখা
  3. মকরক্রান্তি রেখা
  4. সুমেরুবৃত্ত
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা: ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা।
মকরক্রান্তি রেখা: ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা।

সুমেরুবৃত্ত: ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখা।
কুমেরুবৃত্ত: ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১,৪৭২.
আলফা কণায় থাকে ___। 
  1. ১ প্রোটন + ১ নিউট্রন 
  2. ২ ইলেকট্রন
  3. ১ প্রোটন + ২ নিউট্রন 
  4. ২ প্রোটন + ২ নিউট্রন
ব্যাখ্যা

• আলফা কণার সঠিক গঠন হলো ২ প্রোটন + ২ নিউট্রন।

আলফা কণা:
- আলফা কণা হলো একটি পারমাণবিক বিকিরণ (radioactive decay) কণার ধরণ।
- এটি মূলত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস (Helium nucleus)।

গঠন:
- প্রতিটি আলফা কণায় থাকে: ২টি প্রোটন (Proton), ২টি নিউট্রন (Neutron)
- এতে কোনো ইলেকট্রন নেই।

বৈশিষ্ট্য:
- ধনাত্মক চার্জযুক্ত (+2e)।
- ভারী এবং ধীরে চলমান, তাই কাগজ বা মানুষের ত্বক সহজেই আটকাতে পারে।
- পারমাণবিক বিকিরণ ও নিউক্লিয়ার প্রতিক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

১,৪৭৩.
n- টাইপ অর্ধপরিবাহকের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) গ্যালিয়াম
  2. খ) ইন্ডিয়াম
  3. গ) বোরন
  4. ঘ) বিসমাথ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহকে সামান্য পরিমাণে ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসাবে মেশানো হলে তাকে p- টাইপ অর্ধপরিবাহক বলে, যেমন- বোরন, এলুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম, ইন্ডিয়াম।
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহকে সামান্য পরিমাণে পঞ্চযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসাবে মেশানো হলে তাকে n- টাইপ অর্ধপরিবাহক বলে, যেমন- ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি, বিসমাথ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৪৭৪.
পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ কোনটি?
  1. চন্দ্র 
  2. সূর্য 
  3. ডিমোস 
  4. মঙ্গল
ব্যাখ্যা

পৃথিবী: 
- 'পৃথিবী' সৌরজগতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য একটি গ্রহ। 
- এটি সৌরজগতের মাঝারী আকারের একটি গ্রহ (গড় ব্যাস হলো ১২,৭৩৪.৫ কি. মি. প্রায়)। 
- পৃথিবী নিজ কক্ষপথটি ডিম্বাকৃতির ও মোট ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বা এক বছরে সূর্যকে প্রদক্ষিন করে থাকে। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা এক দিনে আর্বতন করে। 
- পৃথিবীর একটি মাত্র উপগ্রহ হলো চন্দ্র। 
- সৌরজগতের সকল গ্রহের মধ্যে কেবল পৃথিবী জীব ও উদ্ভিদের বসবাস উপযোগী গ্রহ। 

চন্দ্র: 
- চন্দ্র পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
- প্রায় ৩৭.৯ মিলিয়ন বর্গ কি. মি. আয়তন বিশিষ্ট চন্দ্র মোট ২৯ দিন ১২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট বা এক চন্দ্র মাসে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। 
- চন্দ্রের নিজস্ব কোনো আলো নাই, সূর্যের আলোকে এটি আলোকিত হয়। 
- এই আলো বিচ্ছুরিত হয়ে পৃথিবীকে রাতের বেলা আলো দিয়ে থাকে। 

অন্যদিকে, 
- মঙ্গল আলাদা একটি গ্রহ। 
- ডিমোস মঙ্গল গ্রহের একটি উপগ্রহ। 
- সূর্য একটি তারা এবং সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থিত, এটি কোনো গ্রহের উপগ্রহ নয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৭৫.
ক্লাউড সিডিং বলতে কি বোঝায়?
  1. ক) বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃত্রিম মাছ উৎপাদন
  2. খ) বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানো
  3. গ) বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃত্রিম বীজ উৎপাদন
  4. ঘ) বৈজ্ঞানিক উপায়ে সূর্যরশ্মি ব্যবহার
ব্যাখ্যা
ক্লাউড সিডিং বলতে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোকে বোঝায়। 

- ১৮৯১ সালে লুই গাথমান প্রথম কৃত্রিম বৃষ্টি সৃষ্টিতে তরল কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহারের প্রস্তাব করেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৬ সালের জুলাইতে তিনি কৃত্রিম বৃষ্টির মূলনীতি আবিষ্কার করেন।
- পরে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী আরভিং ল্যাংমুর সাথে যৌথভাবে কৃত্রিম বৃষ্টি সৃষ্টি করার পন্থা উদ্ভাবন করেন।
- ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিক গেমসের ঠিক আগে ক্লাউড সিডিংয়ের মাধ্যমে বৃষ্টি ঝরিয়েছিল চীন।
- ‘ক্লাউড সিডিং’ এর জনক বলা হয় মার্কিন রসায়নবিদ ভিনসেন্ট শায়েফারকে।
- যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল ইলেকট্রিকের গবেষণাগারে শায়েফার ১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের সফল ব্যবহারিক প্রয়োগ ঘটান। 

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
১,৪৭৬.
এনট্রপি হলাে-
  1. ক) শৃঙ্খলার পরিমাপ
  2. খ) শক্তির রূপান্তর ক্ষমতার পরিমাপ
  3. গ) রূপান্তরের জন্য শক্তি পাওয়ার পরিমাপ
  4. ঘ) তাপীয় মৃত্যুর সম্ভাবনার পরিমাপ
ব্যাখ্যা

এনট্রপির তাৎপর্য

তাপগতিবিদ্যায় এনট্রপির গুরুত্ব অপরিসীম। এর নিম্নলিখিত তাৎপর্য রয়েছে :
১) এনট্রপি একটি প্রাকৃতিক রাশি যার মান তাপ ও পরম তাপমাত্রার অনুপাতের সমান।
২) এটি বস্তুর একটি তাপীয় ধর্ম যা তাপ সঞ্চালনের দিক নির্দেশ করে।
৩) এটি বস্তুর তাপগতীয় অবস্থা নির্ধারণে সহায়তা করে।
৪) এটি তাপমাত্রা, চাপ, আয়তন, অন্তর্নিহিত শক্তি, চুম্বকীয় অবস্থার ন্যায় কোনাে বস্তুর অবস্থা প্রকাশ করে।
৫) এনট্রপি বৃদ্ধি পেলে বস্তু শৃঙ্খল অবস্থা (ordered state) হতে বিশৃঙ্খল অবস্থায় (disordered state) পরিণত হয়।
৬) তাপমাত্রা ও চাপের ন্যায় একে অনুভব করা যায় না।
(উৎসঃ  ১১-১২শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)

১,৪৭৭.
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে বাংলাদেশের কোন জেলা জলমগ্ন হয়ে পড়বে?
  1. রংপুর
  2. বগুড়া
  3. দিনাজপুর
  4. নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার পরিণতি: 
- সম্পদের অধিক ব্যবহারে জলজ, বনজ ও স্থলজ এই তিন ধরনের বাস্তুসংস্থান বিদ্যমান, প্রত্যেকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। 
- জলজ বাস্তুসংস্থান নষ্ট হওয়ার ফলে অনেক জলজ প্রাণী ও মাছ বিলুপ্ত। 
- বনজ সম্পদের অনেক বৃক্ষ বিলুপ্ত ও কিছু বৃক্ষ বিলুপ্তির মুখে, এমন কি অনেক বনজ প্রাণী ধ্বংস হয়েছে। বনজঙ্গল বেশি কেটে ফেলার ফলে শৃগাল, খরগোশ, বনবিড়াল প্রভৃতির বাসস্থান নষ্ট হয়েছে, যা খাদ্য শৃঙ্খলকে ভেঙে দিয়েছে। এর প্রভাব স্থলজ প্রাণীর বাস্তুসংস্থানের উপর তথা মানব সমাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। 
- অতিরিক্ত মাত্রায় সম্পদ ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে উত্তরাঞ্চলে উত্তপ্ততা এবং শৈত্যপ্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 
- উন্নত বিশ্বে অতিরিক্ত শিল্পায়নের কারণে গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে আমাদের দেশের সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে সাতক্ষীরা, বরিশাল ও নোয়াখালী জেলার অনেক অংশ সমুদ্রের জলমগ্ন হয়ে পড়বে। 
- এছাড়া ভূনিম্নস্থ পানিতে লোনা পানি প্রবেশ করছে। ফলে স্বাভাবিক উদ্ভিদ জন্মানোর পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে; পাহাড় ও ভূমিধস বৃদ্ধি পাচ্ছে ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। 
- পরোক্ষভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে মানুষের বিভিন্ন সংক্রমণ রোগ, শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও পেটের পীড়া। এভাবে চলতে থাকলে পুরো পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে, দেখা দেবে নানা বিপর্যয়। তাই সহনশীল টেকসই পরিবেশই সকলের কাম্য। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৭৮.
প্রজাতিগত জীববৈচিত্র্য দ্বারা কী বোঝানো হয়? 
  1. জীবনের বয়স
  2. মানুষের গায়ের রং
  3. জীবের গড় আকার
  4. ভিন্ন প্রজাতির জীবের বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা
জীববৈচিত্র্য: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের জল ও স্থলভাগে বসবাসকারী সকল প্রকার জীবের মধ্যে বিরাজমান জীনগত, প্রজাতিগত ও বাস্তুতান্ত্রিক বিভিন্নতা ও সংখ্যা প্রাচুর্যতা রয়েছে এবং কালের ক্রমধারায় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিজেদের বৈচিত্র্যময় অবস্থার পরিবর্তন ও বিকাশ ঘটানোকে বলা হয় জীববৈচিত্র্য। 
- ভৌগোলিক বৈচিত্র্যময় পরিবেশে বিভিন্ন প্রজাতিসমূহের মধ্যে আন্তঃগোষ্ঠিয় বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। 
- প্রাকৃতিক পরিবেশে মানবসৃষ্ঠ কারণে নানা রকম পরিবর্তনের সাথে সাথে তাই জীবজগত ও পরিবেশের বিকাশ, বসবাস, বংশবিস্তারের মধ্যেও ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। 
- পৃথিবীতে সময়ের সাথে সাথে হাজার হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণির আবির্ভাব হয়েছে। তবে জীবের প্রয়োজনে অন্য জীবের সৃষ্টি ও বিলুপ্তির প্রক্রিয়াও প্রচলিত রয়েছে। 

জীববৈচিত্র্যের প্রকারভেদ: 
- জীববৈচিত্র্যকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. বাস্তুতান্ত্রিক জীববৈচিত্র্য: 
- কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে বিরাজমান জীবের ভৌত ও পারিবেশগত বিভিন্নতাকে বাস্তুতান্ত্রিক জীববৈচিত্র্য বলে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের জলবায়ু ও প্রাকৃতিক পরিবেশ বিরাজমান। প্রত্যেকটি বাস্তুতন্ত্রে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যমন্ডিত বৈচিত্র্যময় জীবজগতের সৃষ্টি হয়। 

২. প্রজাতিগত জীববৈচিত্র্য: 
- ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্যতা বিদ্যমান তাকে প্রজাতিগত জীববৈচিত্র্য বলা হয়। এরূপ বৈচিত্র্য কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় বিরাজমান মোট প্রজাতির সংখ্যা দ্বারা পরিমাপিত হয়। 

৩. জীনগত জীববৈচিত্র্য: 
- উদ্ভিদ ও প্রাণির প্রতিটি সদস্যই তাদের জীনগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে পরস্পর আলাদা। জীবগোষ্ঠির এই জীনগত বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র্যতাই জীনগত জীববৈচিত্র্য। জীনগত ভিন্নতার কারণেই আমেরিকান শ্বেতাঙ্গ ও আফ্রিকান কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের গায়ের রং, চুলের প্রকৃতি, নাক ও ঠোঁটের আকৃতি, উচ্চতা ইত্যাদির অনেক পার্থক্য বিদ্যমান। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৭৯.
পৃথিবীর আলোকিত এবং অন্ধকার অংশের মধ্যবর্তী বৃত্তাকার অংশকে কী বলে?
  1. ক) উষা
  2. খ) গোধূলি
  3. গ) গুরুবৃত্ত
  4. ঘ) ছায়াবৃত্ত
ব্যাখ্যা
ছায়াবৃত্ত: পৃথিবীর আলোকিত এবং অন্ধকার অংশের মধ্যবর্তী বৃত্তাকার অংশকে ছায়াবৃত্ত বলে।
- আবর্তনের ফলে পৃথিবীর যে অংশ অন্ধকার থেকে ছায়াবৃত্ত পার হয়ে সবেমাত্র আলোকিত অংশ পৌঁছায় সেখানে প্রভাত হয়।
- প্রভাতের কিছু পূর্বে যে সময় ক্ষীণ আলো থাকে সেখানে ঊষা এবং সন্ধ্যার কিছু পূর্বে যে সময় ক্ষীণ আলো থাকে সে সময়কে গোধূলি বলে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৮০.
নিচের কোনটি মহাকাশের মধ্যে পড়ে না? 
  1. নক্ষত্র
  2. গ্যালাক্সি
  3. ধূমকেতু
  4. পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল
ব্যাখ্যা
মহাকাশ (Space): 
- আকাশের দিকে তাকালে দূর দূরান্তের অনেক বস্তু দেখা যায়। 
- দিনের আকাশের সূর্য আর রাতের আকাশের গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র ইত্যাদি চোখে পড়ে। 
- যদি দুরবীক্ষণ দিয়ে আকাশের দিকে দেখা হয়, তখন আরও অনেক কিছু দেখা যায়। যেমন- বৃহস্পতি গ্রহ তার উপগ্রহসহ জ্বলজ্বল করতে থাকে। 
- গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ইত্যাদির মাঝখানে যে খালি জায়গা, তাকে মহাকাশ বা মহাশূন্য বলে। 
- মহাকাশের দিকে তাকালে যেসব বস্তুকে দেখতে পাওয়া যায় তা হলো পদার্থ। 

মহাকাশ বা মহাশূন্যের শুরু যেখান থেকে: 
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সাথেই মহাকাশে ঘুরছে, এজন্য বায়ুমণ্ডলকে মহাকাশের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না; একে পৃথিবীর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- অধিকাংশ বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর বেশ কাছাকাছি। 
- পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে দূরত্ব যত বাড়তে থাকে, বায়ুমণ্ডল তত হালকা হতে থাকে এবং ১৬০ কিলোমিটারের পর বায়ুমণ্ডল থাকে না বললেই চলে। 
- অধিকাংশ বিজ্ঞানী মনে করেন যে, পৃথিবী থেকে ১৬০ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ুমণ্ডলের শেষ এবং মহাকাশের শুরু। 
- এক সময় মানুষ ভাবত যে, যত দূর পর্যন্ত সবচেয়ে দূরের বস্তুটি তারা দেখতে পায়, সে পর্যন্তই মহাকাশ বিস্তৃত এবং মহাকাশ বক্রাকৃতির। 
- পরবর্তীতে দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের পর মানুষ তার দৃষ্টিসীমার বাইরের অনেক গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু ও গ্যালাক্সি দেখতে পাই। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৪৮১.
চন্দ্রে অবতরণকারী ১ম মানুষ -
  1. ক) গ্যাগারিন
  2. খ) রিচার্ড এনড্রিন
  3. গ) জন প্লেন
  4. ঘ) নীল আর্মস্ট্রং
ব্যাখ্যা
বিশ্বের প্রথম মানুষ বহনকারী মহাকাশ যান হচ্ছে ভস্টক - ১। এতে করে রাশিয়ার ইউরি গ্যাগারিন পৃথিবীর প্রথম মানুষ হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। এপোলো-১১ এ করে নীল আর্মস্ট্রং ও এডউইন আলড্রিন চাঁদে অবতরণ করেন।
উৎসঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান
১,৪৮২.
পৃথিবী পৃষ্ঠের দীর্ঘতম কাল্পনিক রেখা কোনটি?
  1. নিরক্ষরেখা
  2. মেরুরেখা
  3. কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. মকরক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখা:
- পৃথিবীর দুই মেরু হতে সমান দূরত্বে (পৃথিবীর মাঝখানে) পূর্ব-পশ্চিমে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা কল্পিত বৃত্তকে বলা হয় নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখাকে বলা হয় মহাবৃত্ত বা গুরুবৃত্ত।
- নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর পরিধি সবচেয়ে বেশি।
- নিরক্ষরেখা পৃথিবী পৃষ্ঠের দীর্ঘতম কাল্পনিক রেখা।
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৮৩.
এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস কোনটি? 
  1. N2O
  2. SO2
  3. CO
  4. CO2
ব্যাখ্যা

এসিড বৃষ্টি: 
- বায়ুমণ্ডলে অধঃক্ষেপণ বৃষ্টিতে pH এর মান 5.6 এর কম হলেই ঐ অধঃক্ষেপণকে এসিড বৃষ্টি বলে। 
- এসিড বৃষ্টির কারণ হচ্ছে মনুষ্যসৃষ্ট বায়ু দূষণ ক্রিয়া। 
- সাধারণত কলকারখানা অঞ্চলের এসিড বৃষ্টির পানির pH এর মান 5.6 থেকে 3.5 এর মধ্যে থাকে। 
- এই এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস বা এসিড বৃষ্টির কারণ মূলত সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (যেমন: NO, NO2) । 

এসিড বৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাব: 
- বর্তমানে রিপোর্টে প্রকাশিত ভারতের 'মথুরা অয়েল রিফাইনারি' থেকে নির্গত SO2 বৃষ্টির পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এসিড বৃষ্টি ঘটাচ্ছে। 
- এ এসিড বৃষ্টি থেকে 'তাজমহল'-এর মার্বেল পাথর আক্রান্ত হচ্ছে। এসিড বৃষ্টিতে বিভিন্ন ধাতুর তৈরি ব্রিজ ও অট্টালিকার ক্ষতি হয়। 
- এসিড বৃষ্টির ফলে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ আক্রান্ত হয়। কম pH এর পানিতে মাছের ডিম হ্যাচিং (hatching) বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। অধিক অম্লত্বের কারণে জলাশয়ে সমগ্র বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে জলাশয় বন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে।
- এসিড বৃষ্টির প্রভাবে বৃষ্টি অরণ্য (rain forest)- এর বিশেষ ক্ষতি হতে পারে। বীজের অঙ্কুরোদ্গম এসিড বৃষ্টিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। 
- মাটির উপাদান ক্যালসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, জিংক ধাতুর ফসফরাস যৌগ এসিড বৃষ্টি ধুয়ে নিয়ে মাটিকে অনুর্বর করে দেয়। 

এসিড বৃষ্টির প্রতিকার: 
- এসিড বৃষ্টি হওয়ার পরে পুকুর ও হ্রদের পানিতে এবং কৃষি জমিতে চুন বা লাইম অথবা চুনাপাথর গুঁড়া ছিটানো দরকার। তখন অতিরিক্ত এসিড ক্যালসিয়াম লবণে পরিণত হয়। এরূপ লাইমিং কাজে অর্থ ব্যয় খুব বেশি। 
- দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো ট্রপোস্ফিয়ারকে SO2 গ্যাস ও নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা। 
- এজন্য শিল্পক্ষেত্রে FGD প্ল্যান্ট ও মোটর-কারে ক্যাটালাইটিক কনভার্টার ব্যবহার করে NOx গ্যাসকে বিজারিত করে N2 গ্যাসে পরিণত করা। 

অন্যদিকে, 
- কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), কার্বন মনোঅক্সাইড (CO) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) এসিড বৃষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় বা এসিড বৃষ্টির কারণ নয়। 
যেমন- কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) দূর্বল কার্বনিক এসিড (H2CO3) তৈরি করে যা এসিড বৃষ্টি তৈরি করতে পারে না। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।

১,৪৮৪.
ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশ কোনটির উপর অবস্থিত?
  1. ইউরেশিয়ান প্লেট
  2. বেঙ্গল প্লেট
  3. অস্ট্রেলিয়ান প্লেট
  4. ইন্ডিয়ান প্লেট
ব্যাখ্যা
- ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান টেকটনিক প্লেটের উপর অবস্থিত।
- তবে দেশের পূর্বাংশের কিছু অংশ বিশেষত চট্টগ্রাম অঞ্চল বার্মিজ সাব প্লেটের উপর অবস্থিত। এছাড়া বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তে ইউরেশিয়ান প্লেট অবস্থিত।
- যার কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় সক্রিয় অঞ্চলে অবস্থিত।
(তথ্যসূত্র: রিসার্চগেট ও প্রথম আলো)
১,৪৮৫.
কয়লা এক ধরনের__________ শিলা। 
  1. পাললিক
  2. জৈব
  3. আগ্নেয়
  4. রূপান্তরিত
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। যথা: অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস এবং লিগনাইট। 
- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৮৬.
নিচের কোনটির প্রভাবে সমুদ্রস্রোত সংঘটিত হয় না?
  1. বায়ুপ্রবাহ
  2. মহীসোপানের অবস্থান
  3. লবণাক্ততার তারতম্য
  4. সমুদ্রের গভীরতা
ব্যাখ্যা

সমুদ্রস্রোত: 
- একস্থান থেকে অন্যস্থানে মহাসাগর ও সাগরের পানির নির্দিষ্ট ও নিয়মিত প্রবাহকে মহাসাগরীয় স্রোত বা সমুদ্রস্রোত (Ocean Current) বলে।
- বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ তৈরি করে এবং ঘর্ষণের জন্য পানিতে ঘূর্ণন তৈরি করে এবং সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়।
- উষ্ণতার তারতম্য অনুযায়ী সমুদ্রস্রোতকে প্রধান দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা: (ক) উষ্ণ স্রোত ও (খ) শীতল স্রোত।

সমুদ্র স্রোতের কারণ: 
পানির স্বাভাবিক নিয়ম হচ্ছে তার উপরিভাগের সমতা রক্ষা করা। তাই সমুদ্রের একস্থানের পানি অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়।
নিম্নলিখিত কারণে সমুদ্রস্রোতের উৎপত্তি হয়। যথা:
১. বায়ুপ্রবাহ (Wind Movement) - প্রধান কারণ। 
২. পৃথিবীর আবর্তন (Rotation of Earth);
৩. তাপমাত্রার তারতম্য (Variation in Temperature);
৪. লবণাক্ততার তারতম্য (Variation in Salinity);
৫. স্থলভাগের অবস্থান (Presence of Landmasses);
৬. অসম বাষ্পীভবন (Unequal Evaporation);
৭. সমুদ্রের গভীরতা (Depth of the Ocean). 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৮৭.
বায়ুমণ্ডলে নিচের কোন উপাদানটির পরিমান কম থাকে?
  1. ক) আর্গন
  2. খ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  3. গ) জলীয় বাষ্প
  4. ঘ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
অপশনগুলোর মধ্যে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড এর পরিমাণ সবচেয়ে কম থাকে।

আয়তন অনুযায়ী বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন উপাদানের শতকরা পরিমাণ -
• নাইট্রোজেন - ৭৮.০২%
অক্সিজেন - ২০.৭১%
আর্গন - ০.৮০%
কার্বন ডাই অক্সাইড - ০.০৩%
জলীয় বাষ্প - ০.৪১%
• অন্যান্য গ্যাসসমূহ - ০.০২%
• ধূলিকণা ও কণিকা - ০.০১%

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৮৮.
বিগ ব্যাংগ তত্ত্বের সাথে কোন বিজ্ঞানীর নাম জড়িত? 
  1. জর্জ গ্যামো
  2. নিউটন
  3. মেন্ডেল
  4. গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব (Big Bang Theory): 
- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রান্ত তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়। 
- ১৯৩১ সালে তিনি আরো প্রস্তাব করেন যে, প্রসারণশীল বিশ্বকে যদি সময়ের সাথে পিছিয়ে নেয়া হয়, তাহলে একটা বিন্দুতে উপনীত হবে, যেখানে মহাবিশ্বের সমস্ত ভর পুঞ্জীভূত ছিল, যাকে আদিম পরমাণু বলা যেতে পারে এবং এখান থেকেই স্থান-কালের উদ্ভব। 
- তাই জর্জ লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে। 

- জর্জ গ্যামো মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন যে, যেহেতু গ্যালাক্সিসমূহ পরষ্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তাই সুদুর অতীতে নিশ্চয়ই তারা পরষ্পরের খুব কাছাকাছি ছিল। 
অর্থাৎ, কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব। 
- বিগ ব্যাংগ বা মহাবিস্ফোরণ পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা। 
- সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুরু করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে ঘটেছিল। 
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির 'শুর বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না। 
- মহাবিশ্ব শুরু হয়েছিল একটি অপরিমেয় ক্ষুদ্র, অসীম তাপ ও অসীম ঘনত্ববিশিষ্ট শক্তির উৎস থেকে, একে বলা হয় অনন্যতা বা অদ্বৈত বিন্দু (Singularity)। এতে সব মৌলিক বলগুলো একত্রে একীভূত বল হিসেবে ছিল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৮৯.
বায়ুমণ্ডলে ওজোন গ্যাসের প্রধান ভূমিকা কী? 
  1. অক্সিজেন উৎপাদন করা
  2. জলীয়বাষ্প সংরক্ষণ করা
  3. অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিফলিত করা
  4. অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করা
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের গঠন উপাদান: 
- জীবন ধারণের জন্য পৃথিবীর জীবকুলের কাছে যেসব জিনিস অপরিহার্য বায়ুমণ্ডল তাদের মধ্যে অন্যতম। 
- যে গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে বলে বায়ুমণ্ডল। 
- পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে বায়ুমণ্ডলও ভূপৃষ্ঠের চারদিকে জড়িয়ে থেকে অনবরত আবর্তন করছে। 
- বায়ুমণ্ডলের বর্ণ, গন্ধ, আকার কিছুই নেই, তাই একে খালি চোখে দেখা যায় না, কেবল অনুভব করা যায়। 
- ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত। 
- বায়ুমণ্ডলের ব্যাপ্তি যত বিশাল হোক না কেন, এর প্রায় ৯৭ ভাগ উপাদানই ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। 
- তাই মানুষ, উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর উপর এর প্রভাব অত্যন্ত বেশি। 
- বায়ুমণ্ডল প্রধানত বিভিন্ন প্রকার উপাদান দ্বারা গঠিত। 
যেমন- 
• নাইট্রোজেন (N2) ⇒ ৭৮.০২, 
• অক্সিজেন (O2) ⇒ ২০.৭১, 
• আর্গন (Ar) ⇒ ০.৮০, 
• কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) ⇒ ০.০৩, 
• অন্য গ্যাসসমূহ (নিয়ন, হিলিয়াম, ক্রিপটন, জেনন, ওজোন, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড) ⇒ ০.০২, 
• জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১, 
• ধূলিকণা ও কণিকা ⇒ ০.০১ । 

- বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাস ও বাষ্পের সমন্বয়ে গঠিত হলেও এর প্রধান উপাদান দুটি- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন। 
- বায়ুমণ্ডলে আয়তনের দিক থেকে এ দুটি গ্যাস একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ এবং বাকি শতকরা ১.২৭ ভাগ অন্যান্য গ্যাস, জলীয়বাষ্প ও কণিকাসমূহ জায়গা জুড়ে আছে। 
- জীবজগৎ পরস্পর অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের গ্রহণ ও ত্যাগের মাধ্যমে বেঁচে আছে। 
- ওজোন গ্যাসের স্তর সূর্য থেকে আসা অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করে। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৯০.
ফোটন কণার নিশ্চল ভর কত? 
  1. ২ 
  2. - ১ 
  3. ০ 
  4. ১ 
ব্যাখ্যা

ফোটন: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 
 
ফোটন কণার ধর্মসমূহ:   
১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে(C= 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। 
৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশি হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশি হয়, ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৯১.
পানির ফোঁটা গোলাকৃতি ধারণ করার কারণ কী?
  1. স্থিতিস্থাপকতা
  2. প্লবতা
  3. বায়ুচাপ
  4. পৃষ্ঠটান
ব্যাখ্যা
তলটান বা পৃষ্ঠটান: 
- তরলের একক দৈর্ঘ্যের উপর যে পরিমাণ আকর্ষণ থাকে তাকে এ তরলের পৃষ্ঠটান বলে।

পৃষ্ঠটান এর কারণে যেসব ঘটনা ঘটে তা হলো: 
১. নদীর তীরে ভেজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে বালু নিজ স্থানে চলে আসা। 
২. বৃষ্টির পানি গোলাকার বা কাঁচের উপর ছড়ানো একটু পারদ গোলাকার আকার ধারন করা। 
৩. সুঁচ পানিতে ভাসা। 
৪. পানির উপর তেল ছড়িয়ে পড়া। 

- পানির ছোট ফোঁটা পৃষ্ঠটানের কারণে গোলাকৃতির হয়। 
- পানির ফোঁটাগুলি পৃষ্ঠ স্তরের সমন্বিত শক্তি দ্বারা একটি গোলাকার আকৃতি হয়। 
- মাধ্যাকর্ষণ সহ অন্যান্য শক্তির অনুপস্থিতিতে, কার্যত সমস্ত তরলের ফোঁটাগুলি প্রায় গোলাকার হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৯২.
চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে কী বলে?
  1. মুখ্য জোয়ার
  2. গৌণ জোয়ার
  3. তেজ কটাল
  4. মরা কটাল
ব্যাখ্যা
• জোয়ার-ভাটা:
মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে  ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়।
- জোয়ার ভাটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। যথা -

১. মুখ্য জোয়ার:
চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরুপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। 

২. গৌণ জোয়ার:
চাঁদ পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক থেকে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে।

৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল:
অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে।

৪. মরা কটাল:
চন্দ্র ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে তখন চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। এই ধরনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৯৩.
ওজোন স্তর কিসের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
  1. জলীয় বাষ্প
  2. CFC গ্যাস
  3. নাইট্রোজেন
  4. কার্বন মনোক্সাইড
ব্যাখ্যা
• ওজোন স্তর হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে অবস্থিত একটি গ্যাসীয় স্তর, যেখানে ওজোন (O₃) গ্যাসের ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি।

- এই স্তরটি পৃথিবীর পৃষ্ঠকে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মি থেকে রক্ষা করে। UV-B রশ্মি ত্বক ক্যান্সার, চোখের ছানি এবং উদ্ভিদের DNA ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- ওজোন স্তর এই ক্ষতিকর রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে।

CFC:
- CFC বা ক্লোরোফ্লুরো-কার্বন  (Chlorofluorocarbon) হলো এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ যা প্রধানত রেফ্রিজারেটর, এসি, স্প্রে ক্যান এবং ফোম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- যখন CFC বায়ুমণ্ডলে পৌঁছে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে যায়, তখন সূর্যের UV রশ্মির কারণে তা ভেঙে যায় এবং ক্লোরিন (Cl) মুক্ত হয়।
- এই ক্লোরিন ওজোন অণুর (O₃) সাথে বিক্রিয়া করে তা ভেঙে ফেলে, যার ফলে ওজোন স্তরের ক্ষয় ঘটে।
- একটি CFC অণু প্রায় 1,00,000 ওজোন অণু ধ্বংস করতে পারে।
- এর ফলে ওজোন স্তর পাতলা হয়ে যায়, যার ফলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মি পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছে ত্বকের ক্যানসার, চোখের সমস্যা ও পরিবেশগত ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।
অর্থাৎ ওজন স্তর CFC গ্যাস এর কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর ভুগোল ও পরিবেশ (NCTB).
- DOE Bangladesh – পরিবেশ অধিদপ্তর।
- UNEP (United Nations Environment Programme)
১,৪৯৪.
সূর্যকিরণ নিরক্ষরেখায় সারাবছর কেমনভাবে পড়ে?
  1. কৌণিকভাবে 
  2. তির্যকভাবে 
  3. লম্বভাবে 
  4. কিছু সময় লম্ব ও কিছু সময় তির্যকভাবে 
ব্যাখ্যা

নিরক্ষরেখা: 
- সূর্যকিরণের মাত্রা অক্ষাংশভেদে বিভিন্ন রকম হয়। 
- নিরক্ষরেখার উপর সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। 
- নিরক্ষরেখা থেকে যতই উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়া যায়, সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে। 
- এর ফলে নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় মেরুর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

১,৪৯৫.
মানুষের নিঃশ্বাসে শব্দের পরিমাণ কত ডেসিবল হয়ে থাকে?
  1. 50 dB
  2. 10 dB
  3. 30 dB
  4. 40 dB
ব্যাখ্যা
শব্দের দূষণ: 
- শব্দ জীবনের খুব প্রয়োজনীয় একটি বিষয়, কিন্তু এর বাড়াবাড়ি জীবনকে অসহনীয় করে তুলতে পারে।
- যারা শহরে থাকে বিশেষ করে যারা বড় রাস্তার পাশে থাকে তারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছে রাস্তায় বাস, গাড়ি, ট্রাকের ইঞ্জিনের শব্দ এবং অনবরত হর্নের শব্দ প্রায়ই সহনশীল সীমার বাইরে চলে যায়।
- দীর্ঘদিন এই শব্দদূষণে থাকতে থাকতে অনেক সময় তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন শব্দদূষণহীন কোনো নিরিবিলি জায়গায় যাওয়ার সৌভাগ্য হলে হঠাৎ করে শব্দদূষণহীন জীবনের গুরুত্ব ধরা যায়।
- বিভিন্ন ধরনের শব্দের পরিমাণ নিচে দেখানো হয়েছে- 
• জেট ইঞ্জিন → 110-140 dB, 
• ট্রাফিক → 80-90 dB, 
• গাড়ি → 60-80 dB, 
• টেলিভিশন → 50-60 dB, 
• কথাবার্তা → 40-60 dB, 
নিঃশ্বাস → 10 dB এবং 
• মশার পাখার শব্দ → 0 dB । 

- শব্দদূষণের কারণে শোনার ক্ষমতা অনেকখানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 
- অনেকে অপ্রয়োজনেও কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শোনে, যাতে সমস্যাটি আরো জটিল হয়ে যায়।
- শব্দদূষণ কমানোর জন্য প্রথম প্রয়োজন দেশে এর বিরুদ্ধে আইন তৈরি করা যেন কেউ শব্দদূষণ সৃষ্টি করতে না পারে এবং করা হলে যেন তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
- এরপর প্রয়োজন জনসচেতনতা, যথাসম্ভব কম হর্ন ব্যবহার করে চলাচল, কলকারখানায় শব্দ শোষণের যন্ত্র চালু, মাইকের ব্যবহার কমিয়ে দেওয়া কিংবা বন্ধ করে দেওয়া, কম শব্দের যানবাহন ব্যবহার ইত্যাদি।
- একই সাথে শহরের ফাঁকা জায়গায় প্রচুর গাছ লাগিয়ে শব্দকে শোষণ করার মতো ব্যবস্থাও নেওয়া উচিত।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৯৬.
কৃষ্ণগহবরের ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য?
  1. ক) কৃষ্ণগহবরের মহাকর্ষীয় বল দুর্বল প্রকৃতির
  2. খ) কৃষ্ণগহবর হতে আলো বের হয় না
  3. গ) কৃষ্ণগহবর একটি বিশাল কালো আকৃতির গ্রহ
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ব্ল্যাক হোল হল মহাকাশের এমন একটি জায়গা যেখানে মাধ্যাকর্ষণ এত বেশি যে এর মহাকর্ষীয় বলের  টানে আলোও বের হতে পারে না।

মাধ্যাকর্ষণ এত শক্তিশালী কারণ পদার্থ একটি ক্ষুদ্র স্থানের মধ্যে চাপা পড়ে গেছে। একটি তারকা মারা গেলে এটি ঘটতে পারে। মানুষ ব্ল্যাক হোল দেখতে পায় না, কারণ ইহা অদৃশ্য। বিশেষ সরঞ্জাম সহ স্পেস টেলিস্কোপ ব্ল্যাক হোল খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে। 

ব্ল্যাক হোল বড় বা ছোট হতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন ক্ষুদ্রতম ব্ল্যাক হোল একটি পরমাণুর মতোই ছোট। এই ব্ল্যাক হোলগুলি খুব ছোট কিন্তু একটি বড় পাহাড়ের ভর রয়েছে। আরেক ধরনের ব্ল্যাক হোলকে বলা হয় ‘স্টেলার’। এর ভর সূর্যের ভরের চেয়ে ২০ গুণ বেশি হতে পারে।  পৃথিবীর ছায়াপথকে মিল্কিওয়ে বলা হয়। 

সবচেয়ে বড় ব্ল্যাক হোলকে বলা হয় "সুপারম্যাসিভ"। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন যে প্রতিটি বড় গ্যালাক্সির কেন্দ্রে একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল রয়েছে।

সূত্র: নাসা ওয়েবসাইট। 
১,৪৯৭.
নিচের কোনটি বাস্তুতন্ত্রের বিযোজক?
  1. ছত্রাক
  2. ব্যাঙ
  3. কচ্ছপ
  4. সবুজ উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা
বাস্তুতন্ত্র: 
- কোনো একটি পরিবেশের অজীব এবং জীব উপাদানসমূহের মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া, আদান-প্রদান ইত্যাদির মাধ্যমে পরিবেশে যে তন্ত্র গড়ে উঠে, তাই বাস্তুতন্ত্র নামে পরিচিত। 
- বাস্তুতন্ত্রের সকল উপাদানের মধ্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলছে।  

বাস্তুতন্ত্রের উপাদান: 
- অজীব এবং জীব এই দুটি প্রধান উপাদান নিয়ে বাস্তুতন্ত্র গঠিত। 
১। অজীব উপাদান: 
- বাস্তুতন্ত্রের প্রাণহীন সব উপাদান অজীব উপাদান নামে পরিচিত। 
- এই অজীব উপাদান আবার দুই ধরনের। 
(ক) অজৈব বা ভৌত উপাদান: অজৈব উপাদানের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার খনিজ লবণ, মাটি, আলো, পানি, বায়ু, তাপ, আর্দ্রতা ইত্যাদি। 
(খ) জৈব উপাদান: সকল জীবের মৃত ও গলিত দেহাবশেষ জৈব উপাদান নামে পরিচিত। 
- পরিবেশের জীব উপাদানের বেঁচে থাকার জন্য এসব অজৈব ও জৈব উপাদান অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। 

২। জীব উপাদান: 
- পরিবেশের সকল জীবন্ত অংশই বাস্তুতন্ত্রের জীব উপাদান। 
- বাস্তুতন্ত্রের সকল জীব ও অজীব উপাদানের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। 
- বাস্তুতন্ত্রকে কার্যকরী রাখার জন্য এ সকল জীব যে ধরনের ভূমিকা রাখে, তার উপর ভিত্তি করে এসব জীব উপাদানকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
(ক) উৎপাদক: 
- সবুজ উদ্ভিদ যারা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে, তারা উৎপাদক নামে পরিচিত। 
- যারা উৎপাদক তারা সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- যার উপর বাস্তুতন্ত্রের অন্যান্য সকল প্রাণী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 

(খ) খাদক বা ভক্ষক: 
- যে সকল প্রাণী উদ্ভিদ থেকে পাওয়া জৈব পদার্থ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে বা অন্য কোনো প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে, তারাই খাদক বা ভক্ষক নামে পরিচিত। 
- বাস্তুতন্ত্রে তিন ধরনের খাদক রয়েছে। 
প্রথম স্তরের খাদক: 
- যে সকল প্রাণী উদ্ভিদভোজী তারা প্রথম স্তরের খাদক, এরা তৃণভোজী নামেও পরিচিত। 
- তৃণভোজী প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে ছোট কীটপতঙ্গ থেকে শুরু করে অনেক বড় প্রাণী। 
যেমন- গরু, ছাগল ইত্যাদি। 

দ্বিতীয় স্তরের খাদক: 
- যারা প্রথম স্তরের খাদকদেরকে খেয়ে বাঁচে, তারাই দ্বিতীয় স্তরের খাদক, এরা মাংসাশী বলেও পরিচিত। 
যেমন- পাখি, ব্যাঙ, মানুষ ইত্যাদি। 

তৃতীয় স্তরের খাদক বা সর্বোচ্চ খাদক: 
- যারা দ্বিতীয় স্তরের খাদকদের খায়, তারাই তৃতীয় স্তরের খাদক বা সর্বোচ্চ খাদক। 
যেমন- কচ্ছপ, বক, ব্যাঙ, মানুষ ইত্যাদি। 
- এদের মধ্যে কোনো কোনো প্রাণী আবার একাধিক স্তরের খাবার খায়, এদেরকে বলা হয় সর্বভুক। 

(গ) বিযোজক: 
- এরা পচনকারী নামেও পরিচিত। 
- পরিবেশে কিছু অণুজীব আছে, বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক যারা মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহের উপর ক্রিয়া করে এবং বিযোজিত হয়। 
- এসময় মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, ফলে মৃতদেহ ক্রমশ বিযোজিত হয়ে নানা রকম জৈব ও অজৈব দ্রব্যাদিতে রূপান্তরিত হয়। 
- এসব দ্রব্যের কিছুটা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক নিজেদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। 
- মৃতদেহ থেকে তৈরি বাকি খাদ্য পরিবেশের মাটি ও বায়ুতে জমা হয়, যা উদ্ভিদ পুনরায় ব্যবহার করে। 
- এভাবে প্রকৃতিতে অজীব ও জীব উপাদানের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া হয়ে বাস্তুসংস্থান সচল থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৪৯৮.
নিম্নের কোনটি লবণাক্ত পানির উৎস? 
  1. উপসাগর
  2. বৃষ্টি
  3. ভূগর্ভস্থ পানি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• উপসাগর হলো সমুদ্র বা মহাসাগরের একটি অংশ যা স্থলভাগের দিকে প্রসারিত থাকে। সাগর বা উপসাগরের পানিতে সোডিয়াম ক্লোরাইড, ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইডসহ বিভিন্ন লবণের উপস্থিতির কারণে এটি লবণাক্ত হয়।

• বারিমণ্ডল: 
- 'Hydrosphere'-এর বাংলা প্রতিশব্দ বারিমণ্ডল। 
- 'Hydro' শব্দের অর্থ পানি এবং 'Sphere' শব্দের অর্থ মণ্ডল। 
- পৃথিবীর সর্বত্র রয়েছে পানি, এ বিশাল জলরাশি পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় থাকে যেমন- কঠিন (বরফ), গ্যাসীয় (জলীয়বাষ্প) এবং তরল। বায়ুমণ্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসেবে, ভূপৃষ্ঠে রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূপৃষ্ঠের তলদেশে রয়েছে ভূগর্ভস্থ তরল পানি। 
- বারিমণ্ডল বলতে বোঝায় পৃথিবীর সকল জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ। 
- পৃথিবীর সকল জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগ পানি রয়েছে সমুদ্রে (মহাসাগর, সাগর ও উপসাগর) এবং মাত্র ৩ ভাগ পানি রয়েছে নদী, হিমবাহ, ভূগর্ভস্থ, হ্রদ, মৃত্তিকা, বায়ুমণ্ডল ও জীবমণ্ডলে। 
- পৃথিবীর সমস্ত পানিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- লবণাক্ত ও মিঠা পানি। 
- পৃথিবীর সকল মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের জলরাশি লবণাক্ত এবং নদী, বৃষ্টির পানি, হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ পানি মিঠা পানির উৎস। 

- জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ ও শতকরা হার হচ্ছে- 
• সমুদ্র = ৯৭.২৫, 
• হিমবাহ = ২.০৫, 
• ভূগর্ভস্থ পানি = ০.৬৮, 
• হ্রদ = ০.০১, 
• মাটির আর্দ্রতা = ০.০০৫, 
• বায়ুমণ্ডল = ০.০০১, 
• নদী = ০.০০০১ এবং 
• জীবমণ্ডল = ০.০০০০৪ ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪৯৯.
কোন অবদানের জন্য রজার পেনরোজ নোবেল প্রাইজ পান?
  1. ক) বিগব্যাং থিউরি
  2. খ) স্ট্রিং থিউরি
  3. গ) ব্ল্যাক হোল
  4. ঘ) কোয়ান্টাম থিউরি
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী রজার পেনরোজ আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে প্রমাণ করেছিলেন যে, মুমুর্ষ তারা থেকে ব্ল্যাক হোল গঠন সম্ভব। তার স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি ২০২০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান।
সোর্সঃ nobelprize.org
১,৫০০.
ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের কোন জেলার উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে?
  1. ক) শেরপুর
  2. খ) টাঙ্গাইল
  3. গ) গোপালগঞ্জ
  4. ঘ) মুন্সীগঞ্জ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত। সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।

- এছাড়া বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।