বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

মোট প্রশ্ন২,৪০৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

PrepBank · পাতা ১৪ / ২৪ · ১,৩০১১,৪০০ / ২,৪০৪

১,৩০১.
'On the Origin of Species' বইটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৮৫৮
  2. খ) ১৮৫৯
  3. গ) ১৮৫৭
  4. ঘ) ১৮৬১
ব্যাখ্যা

On the Origin of Species, published on 24 November 1859, is a work of scientific literature by Charles Darwin that is considered to be the foundation of evolutionary biology.
Darwin's book introduced the scientific theory that populations evolve over the course of generations through a process of natural selection.
Source: Britannica.com

১,৩০২.
নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় সঞ্চিত জলরাশিতে কোন শক্তি জমা হয়?
  1. স্থিতি শক্তি
  2. গতি শক্তি
  3. ঘর্ষণ শক্তি
  4. যান্ত্রিক শক্তি
ব্যাখ্যা
জলবিদ্যুৎ

- পানি নবায়নযোগ্য শক্তির অন্যতম উৎস।
- পানির স্রোত ও জোয়ার-ভাটাকে ব্যবহার করে শক্তির উৎপাদন করা যায়।
- পানির স্রোতে আছে গতি শক্তি ও বিভব শক্তি। পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা যায়। একে জলবিদ্যুৎ বলা হয়।
- নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় জলরাশিতে জমা হয় স্থিতিশক্তি, কিন্তু যে শক্তি কাজে লাগানাে হয় তা হলাে গতিশক্তি।
- পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাাদন পৃথিবীতে খুবই জনপ্রিয়।
- বাংলাদেশে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩০৩.
পাটের জিনোম আবিষ্কারকের নাম কী?
  1. ড. রফিকুল ইসলাম
  2. ড. গোলাম মোস্তফা
  3. ড. মাকসুদুল আলম
  4. ড. এম আর খান
ব্যাখ্যা
• পাটের জীবন রহস্য:
- ২০১০ সালে পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার করে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে একটি গবেষণাদল।
- প্রথমে তোষা পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কৃত হয়।
- ২০১৩ সালে মাকসুদুল আলম দ্বিতীয় ধাপে দেশি পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার করেন।
- যার মাধ্যমে প্রাণী বা উদ্ভিদের জেনেটিক (জন্মগত) বৈশিষ্ট্যের বিন্যাস বা নকশা জানা যায়।
- ২০১২ সালে পাটের জন্য ক্ষতিকর ম্যাক্রোফমিনা ফাসিওলিনা নামের এক ধরনের ছত্রাকের জিনোম সিকোয়েন্স জীবনরহস্য উন্মোচন করা।
- যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই ইউনিভার্সিটির অণুজীববিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন মাকসুদুল আলম।
- ২০০৮ সালে এই গবেষণার সূত্রপাত হয়। স্বপ্নযাত্রা নামে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ১১ জন গবেষক ও ২০ জন তথ্য-প্রযুক্তিবিদ।

উৎস: বিবিসি নিউজ রিপোর্ট এবং কালের কণ্ঠ নিউজ রিপোর্ট, ১৯ জানুয়ারি ২০১১।
১,৩০৪.
বাংলাদেশে কয়টি ভূ-কম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র আছে?
  1. ক) ৮ টি
  2. খ) ১০ টি
  3. গ) ০২ টি
  4. ঘ) ০৪ টি
ব্যাখ্যা
বর্তমানে বাংলাদেশে ভূ-কম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে মোট ৪টি। যথা : ঢাকা, চট্রগ্রাম, রংপুর ও সিলেট।
১,৩০৫.
বায়ুমণ্ডলে CO2-এর উপস্থিতি কত শতাংশ?
  1. ৭৮.০২%
  2. ২০.৭১%
  3. ০.০৩%
  4. ০.৮০%
ব্যাখ্যা

• বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2)-এর পরিমাণ মোট গ্যাসের তুলনায় খুবই ছোট, তবে তা পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বায়ুমণ্ডলের প্রধান গ্যাস হলো নাইট্রোজেন, যার অংশ ৭৮.০২%, এবং অক্সিজেনের অংশ ২০.৭১%। CO2-এর পরিমাণ এই দুইটির তুলনায় খুব কম, মাত্র প্রায় ০.০৩%। অর্থাৎ, চারটি অপশনের মধ্যে সঠিক উত্তর হলো গ) ০.০৩%। যদিও CO2 মাত্রই থাকে, তাপ ধরে রাখার কারণে এটি গ্লোবাল ওয়ার্মিং ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। মানুষের ক্রিয়াকলাপ যেমন জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো CO2-এর পরিমাণ বাড়াচ্ছে, যা পরিবেশের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করছে।

বায়ুমণ্ডল: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল। 
- বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere। বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর অপরিহার্য অংশ। 
- বায়ুমণ্ডল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে পৃথিবীর গায়ের সাথে লেগে থাকে এবং আবর্তন করে। তবে বায়ু কঠিন ভূমির সাথে সমানভাবে চলতে না পারায় সামান্য পশ্চাতে পড়ে থাকে। 
- বিজ্ঞানীগণের ধারণা, বায়ুমণ্ডলের বয়স প্রায় ৩৫০ কোটি বছর। 
- বায়ুমণ্ডল ভূ-অভ্যন্তরের নির্গত গ্যাস থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে মাত্র ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে বায়ুমণ্ডলের ৯০ শতাংশ অবস্থান করছে। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত। 

বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে গঠিত। 
- বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং অক্সিজেন (২০.৭১%), যা মোট উপাদানগুলোর প্রায় ৯৯%। অবশিষ্ট ১% অন্যান্য উপাদান। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলো প্রায় একই রকম থাকে যা সমমণ্ডল (Homosphere) নামে পরিচিত। 
- আর ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন এই ৯০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে বায়ুমণ্ডলের যে অংশ রয়েছে সেখানে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত সমান থাকে না বলে তাকে বিষমমণ্ডল (Heterosphere) বলে। 

• আয়তন অনুযায়ী বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন উপাদানের শতকরা পরিমাণ-
নাইট্রোজেন- ৭৮.০২%
অক্সিজেন- ২০.৭১%
আর্গন - ০.৮০%
কার্বন ডাই অক্সাইড- ০.০৩%
জলীয় বাষ্প- ০.৪১%
অন্যান্য গ্যাসসমূহ- ০.০২%
ধূলিকণা ও কণিকা- ০.০১%

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩০৬.
সমুদ্রস্রোতের কারণ নয় কোনটি?
  1. অনিয়ত বায়ুপ্রবাহ
  2. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ
  3. পৃথিবীর আহ্নিক গতি
  4. সমুদ্রের গভীরতার তারতম্য
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রস্রোতের কারণ নয়- অনিয়ত বায়ুপ্রবাহ । 

সমুদ্রস্রোত (Ocean Currents): 

- সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ বায়ুপ্রবাহ। 
- বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ (Friction) তৈরি করে এবং ঘর্ষণের জন্য পানিতে ঘূর্ণন (Gyre/spiral pattern) তৈরি করে। 
- সমুদ্রের পানি একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে চলাচল করে, একে সমুদ্রস্রোত বলে। 
- সমুদ্রস্রোতকে উষ্ণতার তারতম্য অনুসারে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) উষ্ণ স্রোত: 
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় জলরাশি হালকা হয় ও হালকা জলরাশি সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে পৃষ্ঠপ্রবাহরূপে শীতল মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। এরূপ স্রোতকে উষ্ণ স্রোত (Warm currents) বলে। 

(খ) শীতল স্রোত: 
- মেরু অঞ্চলের শীতল ও ভারী জলরাশি জলের নিচের অংশ দিয়ে অন্তঃপ্রবাহরূপে নিরক্ষীয় উষ্ণমণ্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়। এরূপ স্রোতকে শীতল স্রোত (Cold currents) বলে। 

সমুদ্রস্রোতের কারণ: 
১। নিয়ত বায়ুপ্রবাহ: 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহই সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ। 
- এসব বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রস্রোতের দিক ও গতি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী প্রধান সমুদ্রস্রোতগুলোর সৃষ্টি হয়। 

২। পৃথিবীর আহ্নিক গতি: 
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলে ফেরেলের সূত্র অনুসারে বায়ুপ্রবাহের মতো সমুদ্রজলও উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। এর ফলে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। 

৩। সমুদ্রজলের তাপমাত্রার পার্থক্য: 
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে উষ্ণমণ্ডলের সমুদ্রের জল বেশি উষ্ণ বলে তা জলের উপরের অংশ দিয়ে পৃষ্ঠপ্রবাহ বা বহিঃস্রোতরূপে মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। 
- অন্যদিকে মেরু অঞ্চল থেকে শীতল ও ভারী জলরাশি জলের নিচের অংশ দিয়ে অন্তঃপ্রবাহ বা অন্তঃস্রোতরূপে নিরক্ষীয় উষ্ণমণ্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়। এইভাবে উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। 

৪। মেরু অঞ্চলের সমুদ্রে বরফের গলন: 
- মেরু অঞ্চলের সমুদ্রে বরফ কিছু পরিমাণ গলে গেলে জলরাশি স্ফীত হয় ও সমুদ্রজলের লবণাক্ততার পরিমাণ হ্রাস পায়। এর ফলে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। 

৫। সমুদ্রের গভীরতার তারতম্য: 
- সমুদ্রের গভীরতার তারতম্য অনুসারে তাপমাত্রার পার্থক্য হয়। 
- অগভীর সমুদ্রের জল দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উপরে ওঠে। তখন গভীরতর অংশের শীতল জল নিচে নেমে আসে। এজন্য ঊর্ধ্বগামী ও নিম্নগামী সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। 
- সমুদ্রের পৃষ্ঠে গতি সবচেয়ে বেশি। 
- সমুদ্রের ১০০ মিটার নিচ থেকে গতি কমতে থাকে। 

৬। সমুদ্রজলের লবণাক্ততার পার্থক্য: 
- সমুদ্রজলে লবণের পরিমাণ সর্বত্র সমান নয়। 
- অধিক লবণাক্ত জল বেশি ভারী বলে তার ঘনত্বও বেশি। 
- বেশি ঘনত্বের জল কম ঘনত্বের দিকে নিম্ন প্রবাহরূপে প্রবাহিত হয় ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি করে। 

৭। ভূখন্ডের অবস্থান: 
- সমুদ্রস্রোতের প্রবাহপথে কোনো মহাদেশ, দ্বীপ প্রভৃতি ভূখণ্ড অবস্থান করলে সমুদ্রস্রোত তাতে বাধা পেয়ে দিক ও গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। 
- অনেক সময় এর প্রভাবে সমুদ্রস্রোত একাধিক শাখায় বিভক্ত হয়। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩০৭.
বিগ ব্যাং এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে -
  1. ক) সময়
  2. খ) শক্তি
  3. গ) স্থান
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• অভ্যন্তরীণ বিপুল তাপ ও চাপের কারণে প্রচন্ড শব্দে ডিম্বাকার বস্তুর মহাবিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণের ফলেই সৃষ্টি হয়েছিল আমাদের এই মহাবিশ্ব আর এটাই বিগ ব্যাং তত্ত্ব‌।
এর ফলে সৃষ্টি হয় সময়, স্থান, শক্তি ও পদার্থ।
• এর কারণে সৃষ্ট খণ্ডগুলো হলো- গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, উল্কা, ধূমকেতু ইত্যাদির যা প্রতিনিয়ত পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
• ১৯২৭ সালে এই তত্ত্ব প্রকাশ করে বিজ্ঞানী জি ল্যামেটার।
• এইজন্য তাকে বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা বলা হয়।
• বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ও ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। তিনি একজন ব্রিটিশ পদার্থ বিজ্ঞানী।
১,৩০৮.
পৃথিবী সূর্যের কততম নিকটতম গ্রহ? 
  1. প্রথম
  2. দ্বিতীয়
  3. তৃতীয়
  4. চতুর্থ
ব্যাখ্যা
পৃথিবী (Earth): 
- পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- পৃথিবীর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার। 
- পৃথিবী একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড, তাই এখানে ৩৬৫ দিনে এক বছর ধরা হয়। 
- চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
- পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমণ্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী। 
- সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩০৯.
পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস কত কিলোমিটার?
  1. ১২,৭১৫ কি.মি.
  2. ১২,৭৫৭ কি.মি.
  3. ৬,৪০০ কি.মি.
  4. ১২,৮০০ কি.মি.
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর আকার ও আকৃতি (Size and Shape of the Earth):
- ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল, মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগারিন প্রথমবারের মতো মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখেন।
- তিনি বুঝতে পারেন যে পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়, বরং কিছুটা চাপা এবং স্ফীত। তার তোলা ছবিতেও পৃথিবীকে গোলাকার দেখা যায়।
- তবে বাস্তবে পৃথিবীর আকৃতি একদম নিখুঁত গোল নয়। বরং এটি কিছুটা চাপা ও স্ফীত হওয়ায় এর প্রকৃত আকৃতি হয় অভিগত গোলক (Oblate Spheroid)।

•  পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যাস:
- নিরক্ষীয় ব্যাস (পূর্ব-পশ্চিমে) = ১২,৭৫৭ কি.মি.।
- মেরুদেশীয় ব্যাস (উত্তর-দক্ষিণে) = ১২,৭১৪ কি.মি.
- পার্থক্য = ৪৩ কি.মি.।
- গড় ব্যাস = ১২,৭৩৪.৫ কিমি → প্রায় ১২,৮০০ কিমি (গণনার সুবিধার জন্য)।
- পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ও পরিধি:
- গড় ব্যাসার্ধ = ৬,৪০০ কি.মি.।
- নিরক্ষীয় পরিধি = ৪০,০৭৭ কি.মি.।
- মেরুদেশীয় পরিধি = ৪০,০০৯ কি.মি.।
- গড় পরিধি ≈ ৪০,০০০ কি.মি.।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,৩১০.
সূর্যের কয়টি গ্রহ আছে?
  1. ১০
  2. ১১
  3. ১২
ব্যাখ্যা
পূর্বে সৌরজগতের গ্রহের সংখ্যা ৯টি থাকলেও পরবর্তীতে প্লুটো গ্রহ তার গ্রহ হওয়ার যোগ্যতা হারায় যার ফলে বর্তমানে গ্রহের সংখ্যা ৮টি। 

- সৌরজগতের গ্রহ ৮টি। 
- বুধ ও শুক্র গ্রহের কোন উপগ্রহ নেই। 
- পৃথিবীর উপগ্রহ ১টি (চাঁদ)। 
- সবচেয়ে বেশি উপগ্রহ রয়েছে শনি গ্রহের। 
- শনি গ্রহের উপগ্রহের্ সংখ্যা  ৮৩টি। 
- অপরদিকে বৃহস্পতি গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা ৮০টি। 

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট।
১,৩১১.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায়?
  1. সমুদ্রস্রোত
  2. কয়লা
  3. খনিজ তেল
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
- 'সমুদ্রস্রোত' একটি নবায়নযোগ্য শক্তি যা পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তি বলা হয়। 
- এই 'সমুদ্রস্রোত' নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩১২.
অনিশ্চয়তা নীতি প্রবর্তন করেন কে?
  1. আর্থার কম্পটন
  2. লুই দ্য ব্রগলি
  3. নিলস বোর
  4. ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ
ব্যাখ্যা

• অনিশ্চয়তা নীতি (Uncertainty Principle):
- প্রবর্তন করেন Werner Heisenberg.
- এটি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের একটি মৌলিক নীতি।
- ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার (যেমন ইলেকট্রন) অবস্থান ও ভরবেগ একই সাথে নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায় না।
- কোনো কণার অবস্থান যত বেশি নির্ভুলভাবে জানা যাবে, তার ভরবেগ তত কম নির্ভুলভাবে জানা যাবে—এবং বিপরীতটিও সত্য।

• গুরুত্ব:
- এটি প্রমাণ করে যে ক্ষুদ্র জগতে (Quantum world) নির্ধারিত (deterministic) ধারণা প্রযোজ্য নয়।
- কণার আচরণ সম্ভাবনাভিত্তিক।
- শাস্ত্রীয় পদার্থবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এখানেই স্পষ্ট হয়।

• সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা (আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের বিকাশে অবদান):
- Max Planck — কোয়ান্টাম তত্ত্ব,
- Albert Einstein — আপেক্ষিকতা তত্ত্ব,
- Niels Bohr — পরমাণু মডেল,
- Louis de Broglie — বস্তু তরঙ্গ তত্ত্ব,
- Arthur Compton — কম্পটন প্রভাব।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩১৩.
আইভরি ব্ল্যাক কি?
  1. ক) রক্ত কয়লা
  2. খ) সক্রিয় কয়লা
  3. গ) কালো রঙ
  4. ঘ) অস্থিজ কয়লা
ব্যাখ্যা

'আইভরি ব্ল্যাক' হলো অস্থিজ কয়লা।

প্রাণিদেহের চর্বিমুক্ত হাড়ের বিধ্বংসী পাতনের ফলে উৎপন্ন হয় প্রাণীজ বা অস্থিজ কয়লা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কয়লার কার্বনের অনুপাত বাড়তে থাকে এবং কয়লার গুণগত মানও বৃদ্ধি পায়। এজন্য খনিজ কয়লার মধ্যেও শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে।
যেমন: পীট কয়লা, লিগনাইট, বিটুমিনাস এবং অ্যানথ্রাসাইট।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির রসায়ন পাঠ্যবই।

১,৩১৪.
অধিকাংশ ফটোকপি মেশিন কাজ করে-
  1. অফসেট মুদ্রণ পদ্ধতিতে
  2. পোলারয়েড ফটোগ্রাফি পদ্ধতিতে
  3. ডিজিটাল ইমেজিং পদ্ধতিতে
  4. স্থির বৈদ্যুতিক ইমেজিং পদ্ধতিতে
ব্যাখ্যা
ফটোকপি মেশিন কাজ করে বিপরীত আকর্ষণ নীতিতে। যা তৈরি হয় স্ট্যাটিক ইলেক্ট্রিসিটি অর্থাৎ স্থির বৈদ্যুতিক ইমেজিং পদ্ধতিতে। 
১,৩১৫.
কোন প্রকার সতর্কতা ছাড়াই কোন ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়?
  1. খরা
  2. ভূমিকম্প 
  3. সুনামি
  4. বন্যা
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প (Earthquake):
- ভূ-ত্বক সাতটি বৃহৎ এবং কতকগুলো ছোট প্লেট দ্বারা গঠিত।
- এই প্লেটসমূহ একে অপরের দিকে, একে অপরের বিপরীতে অথবা পরস্পর সমান্তরালভাবে সঞ্চালিত হয়।
- এইরূপ সঞ্চালনের ফলে সৃষ্ট চাপ থেকে আকস্মিকভাবে প্রচণ্ড কম্পন সৃষ্টি হয়। ভূ-পৃষ্ঠে এই কম্পন ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে।
- কোন প্রকার সতর্কতা ছাড়াই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।
 
উল্লেখ্য,
- ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভূ-গাঠনিক কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। 
- ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশকে তিনটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- দেশের কোন অঞ্চল কোন মাত্রার ভূমিকম্প ঝুঁকির অন্তর্ভুক্ত তা নিম্নে দেখানো হলো:
১. মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল: দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত।
২. মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল: দেশের মধ্যাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত।
৩. কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল: দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত।
 
উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩১৬.
পৃথিবী তাপমাত্রা বৃদ্ধির কোন গ্যাস সবচেয়ে বেশি দায়ী?
  1. কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. মিথেন
  3. কার্বন মনো অক্সাইড
  4. ওজোন
ব্যাখ্যা
• পৃথিবী তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) গ্যাস সবচেয়ে বেশি দায়ী।
- এটি গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে কাজ করে, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তাপ ধারণ করে।

• কার্বন ডাইঅক্সাইড পৃথিবী তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে কার্যকর কারণ এটি:
- দীর্ঘস্থায়ী: CO₂ বায়ুমণ্ডলে দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যায়, প্রায় ১০০ বছর বা তার বেশি।
- প্রধান উষ্ণায়নকারী গ্যাস: অন্যান্য গ্রীনহাউস গ্যাস যেমন মিথেন (CH₄) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O) এর তুলনায় CO₂ বেশি পরিমাণে বায়ুমণ্ডলে থাকে এবং এটি উষ্ণায়নে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে।
- নির্গমন বৃদ্ধি: শিল্পায়ন, যানবাহন, এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে CO₂ নির্গমন বৃদ্ধি পায়, যা পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও U.S. Environmental Protection Agency।
১,৩১৭.
কোন প্রকার শিলাতে জীবাশ্ম দেখা যায়?
  1. পাললিক শিলা
  2. রূপান্তরিত শিলা 
  3. আগ্নেয় শিলা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

পাললিক শিলা:
- পাললিক শিলা কথাটি এসেছে 'পলি' বা 'পলল' থেকে।
- পাললিক শিলা হলো এক প্রকারের শিলা যা ছোট ছোট কণা জমে বা জমা করে এবং পরবর্তীকালে পৃথিবীর পৃষ্ঠে সমুদ্রের তলে বা জলের অন্যান্য দেহের খনিজ বা জৈব কণার সিমেন্টেশন দ্বারা গঠিত হয়।
- কংগ্লোমারেট, ব্রেকসিয়া, গ্রেওয়েক, বেলেপাথর, কাদাপাথর, কোয়ার্টজ, ডলোমাইট, ক্যালসাইট, জিপসাম, কয়লা, চুনাপাথর ইত্যাদি পাললিক শিলার উদাহরণ। 

⇒ পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য:
- এই শিলায় স্তরায়ন এবং কাদার চির খাওয়া দাগ লক্ষ্য করা যায়।
- একমাত্র এই শিলাতেই জীবাশ্ম দেখা যায়।
- এই শিলায় সচ্ছিদ্রতা ও ভঙ্গুরতা দেখা যায়।
- এই শিলার প্রবেশ্যতা খুব বেশি।
- ক্ষয় প্রতিরোধের ক্ষমতা বিভিন্ন রকম হয়।
- কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডার এই শিলা।
- কাঠিন্য আগ্নেয় শিলার থেকে কম।
- দারণ, ফাটল বা কেলাসের গঠন থাকে না।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩১৮.
নিম্নে উল্লেখিত ভূমিরূপসমূহের মধ্যে কোনটি হিমবাহের ক্ষয় কার্যের দ্বারা গঠিত?
  1. পার্শ্ব গ্রাবরেখা
  2. শৈলশিরা
  3. ভি-আকৃতির উপত্যকা
  4. ইউ-আকৃতির উপত্যকা
ব্যাখ্যা
ইউ-আকৃতির উপত্যকা- হিমবাহের ক্ষয় কার্যের দ্বারা গঠিত হয়। 
-------------------- 
হিমবাহের ক্ষয় সাধনের ফলে অনেক নতুন নতুন ভূমির সৃষ্টি হয়।
বিভিন্ন প্রকার হিমবাহের বিভিন্ন ধরনের ক্ষয় সাধনের ফলে নিম্নোক্ত ক্ষয়জাত ভূমিরূপের সৃস্টি করে :
১) হৈমবাহিক উপত্যকা (ইউক আকৃতির উপত্যকা - Glaciated Valley), 
২) ঝুৃলন্ত উপত্যকা, 
৩) সার্ক বা কোরি, 
৪) এরিটি ও পিরামিডীয় শৃঙ্গ, 
৫) নুনাট্যাক, 
৬) রসে মতানো, 
৭) হিমসিড়ি ও প্যাটার্নস্টার হ্রদ, 
৮) শৈলময় পর্বত ও অনিয়মিত প্রস্তরখন্ড, 
৯) ক্রিভাসেস, 
১০) ঢিবি ও পুচ্ছ, 
১১) দানবীর সিঁড়ি, 
১২) ফিয়র্ড, 
১৩) কর্তিত স্পার। 

সুত্র: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যবই।
১,৩১৯.
গ্রিন হাউস প্রভাবের ফলে পৃথিবীতে কোন পরিবর্তন ঘটে?
  1. বায়ুমণ্ডলের চাপ বৃদ্ধি পায়
  2. রোদ কমে যায়
  3. মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যায় 
  4. সমুদ্রের রঙ পরিবর্তিত হয়
ব্যাখ্যা

গ্রিন হাউজ প্রভাব: 
- ওজোন স্তরে ক্ষত সৃষ্টি হলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে কৃষি ও পরিবেশের ওপর যে বিরুপ প্রভাব ফেলে একেই গ্রিন হাউজ প্রভাব (Green House Effect) বলা হয়। 
- গ্রিন হাউস ইফেক্টের ফলে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হচ্চে, ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ ক্রমে গলে যাচ্ছে। 
- গ্রিন হাউস ইফেক্টের ফলে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর নিম্নভূমি ক্রমশ নিমজ্জিত হবে। 
- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে- 
• জলীয় বাষ্প, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড, 
• নাইট্রাস অক্সাইড, 
• মিথেন, 
• ওজোন, 
• ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি। 
- কার্বন ডাই সালফাইড এবং কার্বনিল সাইফাইড পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩২০.
কোন পদার্থের বর্জ্য শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পেছনে দায়ী?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম
  2. খ) কাঁচ
  3. গ) প্লাস্টিক
  4. ঘ) পেপার
ব্যাখ্যা
- প্লাস্টিক সামগ্রী পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
- পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য অনুজীব দ্বারা আক্রান্ত হয় না বলে অপরিবর্তিত অবস্থায় বছরের পর বছর ধরে মাটিতে থেকে যায়।
- বর্জ্য প্লাস্টিক মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, নদীর নিচে তলানী হিসেবে জমা হয়ে নদীর নাব্যতা কমিয়ে দেয়, জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় ও পানি দূষণ ঘটায়।
- ব্যবহার অনুপোযোগী প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
- প্লাস্টিক রিসাইকেল করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ করা সম্ভব।

সূত্র: Plastics NZ Website [লিঙ্ক]
১,৩২১.
ফোটন কণা সম্পর্কিত যে তথ্যটি ভুল-
  1. ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
  2. ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ।
  3. ফোটনের নির্দিষ্ট শক্তি এবং নির্দিষ্ট রৈখিক ভরবেগ নেই।
  4. ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
ব্যাখ্যা
• ফোটন:
- ফোটন কণায় তাড়িতচৌম্বক বল বিদ্যমান।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।

• ফোটন কণার ধর্মসমূহ:
১. পদার্থের ক্ষুদ্র অংশ কে যেমন পরমাণু বলে, তেমনি আলোর ক্ষুদ্র অংশকে ফোটন বলে।
২. ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
৩. ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
৪. প্রতি ফোটনের নির্দিষ্ট শক্তি এবং নির্দিষ্ট রৈখিক ভরবেগ আছে।
৫. ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ। এর কোন চার্জ নেই।
৬. ফোটন এর কণা-তরঙ্গ দ্বৈত রুপ আছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩২২.
সমুদ্রস্রোত সংঘটিত হতে নিচের কোনটির প্রভাব পরিলক্ষিত হয় না?  
  1. লবণাক্ততার তারতম্য
  2. মহীসোপানের অবস্থান
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. সমুদ্রের গভীরতা
ব্যাখ্যা
- 'মহীসোপানের অবস্থান' সমুদ্রস্রোত সংঘটিত হতে কোনো প্রভাব ফেলে না। 

সমুদ্রস্রোত: 

- একস্থান থেকে অন্যস্থানে মহাসাগর ও সাগরের পানির নির্দিষ্ট ও নিয়মিত প্রবাহকে মহাসাগরীয় স্রোত বা সমুদ্রস্রোত (Ocean Current) বলে। 
- বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ তৈরি করে এবং ঘর্ষণের জন্য পানিতে ঘূর্ণন তৈরি করে এবং সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়। 
- উষ্ণতার তারতম্য অনুযায়ী সমুদ্রস্রোতকে প্রধান দুইভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: (ক) উষ্ণ স্রোত ও (খ) শীতল স্রোত।

সমুদ্রস্রোতের কারণ: 
- পানির স্বাভাবিক নিয়ম হচ্ছে তার উপরিভাগের সমতা রক্ষা করা। তাই সমুদ্রের একস্থানের পানি অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- নিম্নলিখিত কারণে সমুদ্রস্রোতের উৎপত্তি হয়- 
১. বায়ুপ্রবাহ (Wind Movement) যা সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ,
২. পৃথিবীর আবর্তন (Rotation of Earth),
৩. তাপমাত্রার তারতম্য (Variation in Temperature),
৪. লবণাক্ততার তারতম্য (Variation in Salinity),
৫. স্থলভাগের অবস্থান (Presence of Landmasses),
৬. অসম বাষ্পীভবন (Unequal Evaporation) এবং
৭. সমুদ্রের গভীরতা (Depth of the Ocean) ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩২৩.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় কত লাগে? 
  1. ৬ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড 
  2. ১০ মিনিট ৩০ সেকেন্ড 
  3. ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড 
  4. ১২ মিনিট ৫ সেকেন্ড 
ব্যাখ্যা

নক্ষত্র (Star): 
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে।
- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে, খালি চোখে মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখা যায়। এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়। 
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে। 
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না। পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে। কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে। 
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না। এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়। 
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে। 
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩২৪.
পৃথিবীতে চাঁদের আলো আসতে কতক্ষণ লাগে?
  1. ০.৬ সেকেন্ড
  2. ১.৩ সেকেন্ড
  3. ৮ সেকেন্ড
  4. ১.৬ মিনিট
ব্যাখ্যা
পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব ৩,৮৪,৪০০ কিমি আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩,০০,০০০ কিমি বেগে চলে।
তাই, চাঁদ থেকে পৃথিবীতে আলো পৌছাতে ১.৩ সেকেন্ড সময় লাগে।
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৫ম শ্রেণি
১,৩২৫.
হিগস বোসন (Higgs Boson) কণা সম্পর্কে নিচের কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. হিগস ক্ষেত্র মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করে।
  2. বোসন কণা সবসময় পাউলির বর্জন নীতি মেনে চলে।
  3. হিগস বোসনের স্পিন ঋণাত্মক।
  4. উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা

◉ বোসন (Boson): 
- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। 
- এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন। 
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি। 
- বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না। 
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই। 
- এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা। 
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দু'ধরনের। 
১। গেজ বোসন (Gauge Boson) এবং ২। হিগস বোসন (Higgs Boson) । 

হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে।
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে।
- এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা।
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।
- এই হিগস বোসন কণাই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩২৬.
'সুনামি' (Tsunami) কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) জাপানি    
  2. খ) ডাচ্
  3. গ) ফরাসী    
  4. ঘ) চীন 
ব্যাখ্যা
সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ।
এর শাব্দিক অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ। এখানে 'tsu' অর্থ বন্দর বা harbour এবং 'nami' অর্থ সামুদ্রিক ঢেউ। সুনামির উৎপত্তি সমুদ্রতলে। 

Source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম.
১,৩২৭.
স্টিফেন হকিং তাঁর কোন গ্রন্থে বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিকতম ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন?
  1. The Theory of Everything
  2. The Universe in a Nutshell
  3. A Brief History of Time
  4. The Grand Design
ব্যাখ্যা
• স্টিফেন হকিং (১৯৪২-২০১৮):
- স্টিফেন হকিং ছিলেন একজন ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী।
- তিনি মহাবিশ্বের উৎপত্তি এবং বিবর্তন, কৃষ্ণগহ্বর, কাল এবং মহাকর্ষের বিভিন্ন তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেন।
- স্টিফেন হকিং তার বিখ্যাত গ্রন্থ "A Brief History of Time" (১৯৮৮) বইতে বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিকতম ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন।
- এই বইতে তিনি মহাবিশ্বের সৃষ্টি, কাল, মহাকর্ষ, এবং কণিকা-তত্ত্বের নানা দিক সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
- পৃথিবীর মানুষের কাছে “The Scientist on a Wheelchair” হিসেবে পরিচিত।
- স্টিফেন হকিং এর জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র- ‘Theory of Everything.’

• তাঁর রচিত বইসমূহ-
- The Theory of Everything,
- The Universe in a Nutshell,
- The Grand Design,
- My Brief History ইত্যাদি।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৩২৮.
নিচের কোনটি দ্বারা দূষিত বাতাস বোঝায়?
  1. GAS
  2. FOG
  3. SMOG
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• SMOG বা ধোঁয়াশা: 
- SMOG হচ্ছে এক ধরণের দূষিত বাতাস।
- কতিপয় বিষাক্ত পদার্থ সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে ধোঁয়াশায় পরিণত হয় যা জীবের পক্ষে আরও ক্ষতিকর, একে আলোক রাসায়নিক ধোঁয়াশা বা ফটোকেমিক্যাল স্মগ (Photochemical smog) বলে।
- ধোঁয়া ও কুয়াশা মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- 'SMOG' শব্দটি SMOKE ও FOG শব্দ দুটো থেকে এসেছে।
- মোটরগাড়ি, কলকারখানার ধোঁয়া, কলকারখানার বর্জ্য, ধূলিকণা ইত্যাদি মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- SMOG অবস্থায় বেশিক্ষণ বিরাজ করলে ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়।
- এই ধোঁয়ায় অবস্থিত বিভিন্ন গ্যাস বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এসিড বৃষ্টি ঘটায় এবং মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি করে।
- মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পেলে তাতে উদ্ভিদ সহজে জন্মে না।
- SMOG শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং মানবদেহে ক্যানসার, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস প্রভৃতি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস:
১. পরিবেশ রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২. National Geographic Society.
১,৩২৯.
বৃহস্পতিকে কী বলা হয়?
  1. নক্ষত্র
  2. গ্রহরাজ
  3. সূর্য 
  4. উপগ্রহ
ব্যাখ্যা

- বৃহস্পতি হলো সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ। এর বিশাল আয়তন ও ভরের কারণে একে 'গ্রহরাজ' বা 'গ্রহদের রাজা' বলা হয় 

বৃহস্পতি (Jupiter): 

- বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ, তাই একে গ্রহরাজ বলে। 
- বৃহস্পতির ব্যাস ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার। আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়। 
- এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে। তাই পৃথিবীর সাতাশ ভাগের একভাগ তাপ পায়। 
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে তাপমাত্রা খুবই কম এবং অভ্যন্তরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি (প্রায় ৩০,০০০° সেলসিয়াস)। 
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বৃহস্পতির সময় লাগে ৪,৩৩১ দিন। 
- বৃহস্পতির গ্রহে জীবের অস্তিত্ব নেই। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৩০.
পৃথিবীর কেন্দ্রে কোন ধাতু সবচেয়ে বেশি?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. লোহা
  3. কপার
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল (Core) মূলত লোহা (Fe) দ্বারা গঠিত, সাথে কিছু পরিমাণ নিকেল (Ni) ও হালকা উপাদান (যেমন সালফার, অক্সিজেন ইত্যাদি) থাকে।

পৃথিবীর কেন্দ্র: 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে গভীরতার সাথে তাপমাত্রা ও চাপ বৃদ্ধি পায়।
- গড়ে প্রতি ১ কিলোমিটার গভীরতায় প্রায় ২৫° সেলসিয়াস (অথবা প্রতি ২১.৩ মিটার গভীরতায় ১° ফারেনহাইট) তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঘটে।
- পৃথিবীর কেন্দ্র প্রায় সম্পূর্ণই ধাতব; প্রধানত লোহা (Fe) ও নিকেল (Ni)। এজন্য কেন্দ্রকে সংক্ষেপে বলা হয় NiFe (Nickel + Iron)।
- পৃথিবীর মোট ভরের ৯০% গঠিত লোহা (Fe), অক্সিজেন (O), সিলিকন (Si), ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দ্বারা। এরা মূলত silicate minerals তৈরি করে।
- পৃথিবীর ভরের ৮৫–৯০% লোহা (Iron) মূলত কেন্দ্রে কেন্দ্রীভূত।

পৃথিবী গঠনের (প্রায় ৪.৫৬ বিলিয়ন বছর আগে) অল্প সময় পরই ভিন্ন ভিন্ন স্তরে বিভক্ত হয়েছিল—
Core (কেন্দ্র): ধাতব উপাদানে সমৃদ্ধ।
Mantle: সিলিকেট সমৃদ্ধ।
Crust: খনিজে বৈচিত্র্যময়, কিন্তু আয়তনে খুব পাতলা।

উৎস: 
১। ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 
২। National Geographic ওয়েবসাইট। 

১,৩৩১.
'Big Bang' তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন কে?
  1. আইজ্যাক নিউটন
  2. স্টিফেন হকিং
  3. রিচার্ড ফেইম্যান
  4. নীলস বোর
ব্যাখ্যা

• 'Big Bang' তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন – স্টিফেন হকিং।

- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল, হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটি বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। জি ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী।

• স্টিফেন হকিং:
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন – স্টিফেন হকিং।
- স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন প্রথিতযশা পদার্থবিজ্ঞানী।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – A Brief History of Time।
- তাই বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।

• তাঁর রচিত বইসমূহ:
- The Universe in a Nutshell,
- The Grand Design.

উৎস: ব্রিটানিকা

১,৩৩২.
উপগ্রহ কী? 
  1. সূর্যের অংশবিশেষ 
  2. গ্রহাণুপুঞ্জের বড় অংশ 
  3. গ্রহের চারদিকে আবর্তিত ক্ষুদ্র গোলাকার বস্তু 
  4. দূরবর্তী নক্ষত্রের প্রভাবাধীন বস্তু 
ব্যাখ্যা

সৌরজগত: 
- মহাকাশে মাঝারী এক নক্ষত্র হলো সূর্য। 
- সূর্যের মহাকর্ষ শক্তি (Gravitational Force) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে একে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আকারের গ্রহ-উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ ও উল্কাসমূহ একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে ও নির্দিষ্ট গতিতে অনবরত ঘুর্ণনরত অবস্থায় বিরাজ করছে। 
 - সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুর্ণনরত অবস্থায় সকল গ্রহ-উপগ্রহ, গ্রহানুপুঞ্জ ও উল্কাপিন্ডের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে সৌরজগৎ।
- সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থিত সূর্যের প্রবল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে বিভিন্ন আকারের গ্রহ (Planet) একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে, ডিম্বাকৃতির একটি পথে ক্রমাগত আবর্তিত হচ্ছে, এই পথটি কক্ষপথ নামে পরিচিত। 
- আবার গ্রহসমূহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রাকারের কিছু গোলাকার বস্তু, যা উপগ্রহ (Satellite) পরিচিত। 
যেমন: পৃথিবী নামক গ্রহটিকে ঘিরে আবর্তিত হয় চাঁদ নামক উপগ্রহ। 
- বুধ সূর্যের নিকটতম গ্রহ। 
- মঙ্গল ও বৃহস্পতি নামক গ্রহ দুইটির কক্ষপথের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে এক কিলোমিটার বা তার চেয়ে ক্ষুদ্রায়তনের হাজার হাজার গ্রহাণু (Asteroids), লক্ষ লক্ষ ধূমকেতু (Comet), উল্কা ও উল্কাপিন্ড (Meteoroids), সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও বিভিন্ন ধরনের গ্যাসীয় পদার্থসমূহের এক বলয়, যা গ্রহানুপুঞ্জ বলয় নামে অভিহিত। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৩৩.
প্রতি ১° দ্রাঘিমান্তরে মোট সময়ের পার্থক্য কত?
  1. ২ মিনিট
  2. ৪ মিনিট
  3. ২ সেকেন্ড
  4. ৪ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
- প্রতি ১° দ্রাঘিমান্তরে মোট সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট।
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমারেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অংকিত আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাটি স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়
- বাংলাদেশের প্রমাণ সময় হিসেবে গণনা করা হয় ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।   

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৩৪.
সূর্য প্রধানত কোন দুটি গ্যাস দিয়ে গঠিত? 
  1. হিলিয়াম ও কার্বন 
  2. হিলিয়াম ও অক্সিজেন 
  3. হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম
  4. হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

সূর্য (Sun): 
- সূর্য একটি নক্ষত্র। 
- সূর্যের পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস। 
- এটি হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড। 
- সূর্য প্রধানত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের। 
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। 
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। 
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৩৫.
আধুনিক ভূগোলের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় কাকে?
  1. জেমস গ্রেগরি
  2. জন ম্যাক্সওয়েল
  3. জি. মার্কনী
  4. কার্ল রিটার
ব্যাখ্যা
• হুমবোল্ট ও রিটারের ধারণা:
- আলেকজান্ডার ফন হুমবোল্ট এবং কার্ল রিটার হলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর দুই জার্মান মনীষী।
- এই দুইজনকে আধুনিক ভূগোলের প্রতিষ্ঠাতা বলা যেতে পারে।
- হুমবোল্টের বিভিন্ন রচনার মধ্যে ১৮৪৫ থেকে ১৮৬২ সালের মধ্যে পাঁচ খণ্ডে প্রকাশিত প্রাকৃতিক পৃথিবীর বর্ণনা সম্বলিত "The Cosmos" সর্বশ্রেষ্ঠ।
- এসব কাজে তিনি প্রাকৃতিক বিশ্বের "একত্ব" বা "সামগ্রিকত্ব” প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন।
- তাঁর মতে প্রাকৃতিক বিশ্বকে কতগুলি মৌলিক নীতির সৃষ্ট ফল বলে ব্যাখ্যা করা যায়।
- তাঁর রচনার সমগ্রভাগে প্রাকৃতিক ঘটনাবলি এবং মানবজাতির পারস্পরিক নির্ভরশীলতার উপর জোর দেয়া হয়েছে এবং তিনি প্রাকৃতিক বিশ্বকে ব্যাখ্যার জন্য সার্বজনীন তত্ত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়াস পেয়েছেন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি.এ/বি.এস.এস. প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৩৬.
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পান-
  1. ক) ১৯০০ সালে
  2. খ) ১৯০১ সালে
  3. গ) ১৯১৬ সালে
  4. ঘ) ১৯১৮ সালে
ব্যাখ্যা
কার্ল আর্নস্ট লুডভিগ ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক জার্মান তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ছিলেন, কোয়ান্টাম তত্ত্বের কারণে ১৯১৮ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।
১,৩৩৭.
১ ফ্যারাডে সমান কত কুলম্ব?
  1. ক) ৯৬৫০০
  2. খ) ৯৫০০০
  3. গ) ৯৫৬০০
  4. ঘ) ৯৫৫০০
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
১,৩৩৮.
স্ট্রাটোস্ফিয়ারে ওজোনস্তর ক্ষয়ের জন্য প্রধানত দায়ী -
  1. ক) কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) ক্লোরিন
  4. ঘ) মিথেন
ব্যাখ্যা

- স্ট্রাটোস্ফিয়ারে ওজোন স্তর হ্রাসের জন্য প্রধানত দায়ী ক্লোরিন এবং ব্রোমিন পরমাণু । 
- ক্লোরিন এবং ব্রোমিন পরমাণু যখন স্ট্রাটোস্ফিয়ারে ওজোনের সংস্পর্শে আসে তখন এই পরমাণুগুলো ওজোন অণু ধ্বংস করে।
- একটি ক্লোরিন পরমাণু ১ লক্ষ ওজোন অণু ধ্বংস করতে পারে।
- ওজোন প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়ার চেয়ে দ্রুত ধ্বংস হয়ে থাকে।
- রেফ্রিজারেশন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (সিএফসি) এবং হাইড্রোক্লোরোফ্লুরোকার্বন (এইচসিএফসি) ব্যবহারের মাধ্যমে ক্লোরিন ও ব্রোমিন পরমাণু বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়। 

উৎস :  এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি (ইপিএ) ওয়েবসাইট

১,৩৩৯.
নিচের কোন গ্যাস গ্রীনহাউস গ্যাস নয়?
  1. ক) কার্বন ডাইঅক্সাইড
  2. খ) নাইট্রাস অক্সাইড
  3. গ) সালফার ডাইঅক্সাইড
  4. ঘ) জলীয় বাষ্প
ব্যাখ্যা
সালফার ডাইঅক্সাইড গ্রীনহাউস গ্যাস নয়। 

গ্রীনহাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect):
- শীতপ্রধান দেশে গ্রীন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়। গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রীন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect) বলে।

গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ:
- কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2),
- মিথেন (CH4),
- নাইট্রাস অক্সাইড (N2O),
- ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC).
- ওজোন (O3)
- জলীয় বাষ্প

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং Royal Society of Chemistry.
১,৩৪০.
সূর্যগ্রহণ ঘটে কখন?
  1. যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চাঁদ অবস্থান করে
  2. যখন সূর্য ও শনির মাঝখানে পৃথিবী অবস্থান করে
  3. যখন চাঁদ পৃথিবীর ছায়ায় অবস্থান করে
  4. যখন চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে পৃথিবী অবস্থান করে
ব্যাখ্যা
সূর্যগ্রহণ: 
- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ সরলরেখায় অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ। 
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। 
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। 
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে। 

অমাবস্যা: 
- চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে। 
- চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। 

চন্দ্ৰগ্ৰহণ: 
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান। 
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়। 
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া। 

পূর্ণিমা: 
- পূর্ণিমা তখনই হয়, যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে। 

উৎস: ৪ ডিসেম্বর ২০২১, বিবিসি বাংলা। [লিঙ্ক]।
১,৩৪১.
আলোর কোয়ান্টাম তথ্যের প্রস্তাবনা করেন কে?
  1. ক) আলবার্ট আইনস্টাইন
  2. খ) ম্যাক্স প্লাঙ্ক
  3. গ) ম্যাক্সওয়েল
  4. ঘ) রন্টজেন
ব্যাখ্যা
• কোয়ান্টাম তত্ত্ব:
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন।
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়।
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে।
- এই সর্ব নিয় শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন।
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়।
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন।
- এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৪২.
রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিস্তৃতি কতটুকু? 
  1. 10–380 nm
  2. 0.01-10 nm
  3. 400-700 nm
  4. 0.0005-0.15 nm
ব্যাখ্যা
তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ: 
- যেসব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয় তাদের একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়। 
- দৃশ্যমান আলো হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। 
- এ সব তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় স্পেকট্রাম ( spectrum) বা বর্ণালি বলা হয়। 

তড়িচ্চুম্বকীয় বর্ণালির অঞ্চলসমূহ: 
- তড়িচ্চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মিসমূহকে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম বৃদ্ধি অনুসারে প্রধান সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। যথা- 

১. গামা (γ) রশ্মি অঞ্চল: 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.0005-0.15 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় এ তরঙ্গ অধিক শক্তিসম্পন্ন। 
- গামা রশ্মি জৈব যৌগের বিশ্লেষণে বর্ণালিমিতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। 

২. রঞ্জন রশ্মি (X-ray) অঞ্চল: 
- রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.01-10 nm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার ব্যাপক। 
যেমন- এক্সরে ক্রিস্টালোগ্রাফি, এক্সরে নিঃসরণ পদ্ধতিতে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

৩. অতিবেগুনি রশ্মি (UV) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10–380 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন, 300-320 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV-রশ্মি চিকিৎসাক্ষেত্রে লাইট থেরাপি, 270–360 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি প্রোটিন বিশ্লেষণের কাজে, 200-400 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি ড্রাগ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়। 

৪. দৃশ্যমান (Visible) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলটি 400-700 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চল VIBGYOR অঞ্চলরূপে চিহ্নিত। 
- পরমাণুর সর্ববহিঃস্তরের ইলেকট্রন এ অঞ্চলের রশ্মি শোষণ বা বিকিরণ করে বর্ণালি সৃষ্টি করে। 

৫. অবলোহিত অঞ্চল: 
- অবলোহিত অঞ্চলটি Near-IR; Middle-IR এবং Far-IR এ তিনটি অংশে বিভক্ত। 
- জৈব যৌগের গঠন নির্ণয়ে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর নিম্নরূপ: 
• Near-IR অঞ্চল: 0.8-2.5 µm, 
• Middle-IR অঞ্চল: 2.5-25 µm, 
• Far-IR অঞ্চল : 25-1000 µm (1µm = 1×10-6 m).  

৬. মাইক্রোওয়েভস (Microwaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 µm হতে 1.0 cm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 

৭. রেডিও ওয়েভস (Radiowaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 cm হতে 5 m পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রেডিও এন্টেনাতে উচ্চ কম্পাঙ্কের পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ (AC) প্রবাহ দ্বারা এসব তরঙ্গের সৃষ্টি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৪৩.
ইউরি গ্যাগারিন কোন মহাকাশযানে করে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন?
  1. ভস্টক- ৪
  2. ভস্টক- ৩
  3. ভস্টক- ১
  4. ভস্টক- ২
ব্যাখ্যা
ইউরি গ্যাগারিন:
- মহাকাশে প্রথম ভ্রমণকারী ইউরি গ্যাগারিন।
- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মহাকাশ অভিযাত্রী ইউরি গ্যাগারিন। 
- মহাকাশে তিনিই হলেন প্রথম মানব অভিযাত্রী।
- ১৯৬১ সালের ১৯ এপ্রিল তিনি মহাকাশে পৃথিবীর কক্ষপথ পরিভ্রমণ করেন। 
- ভস্টক–১ নভোযানে তিনি মহাকাশে যান।
- গ্যাগারিন মহাকাশে ছিলেন ১০৮ মিনিট।
- মাত্র দেড় ঘণ্টার মতো সময়ে তিনি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন।

উৎস: Britannica.
১,৩৪৪.
ভূগোলের কোন শাখায় বায়ুর গঠন, বায়ু প্রবাহ, আবহাওয়া ও জলবায়ু ইত্যাদি সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়?
  1. Geomorphology
  2. Regional Geography
  3. Climatology
  4. Urban Geography
ব্যাখ্যা
ভূগোলের শাখা: 
- ভূগোলের প্রধান দুইটি শাখা রয়েছে। 
যথা- 


প্রাকৃতিক ভূগোল: 
- ভূগোলের যে শাখা পৃথিবীর জন্ম, ভূ-প্রকৃতি অর্থাৎ পাহাড়, পর্বত, বায়ুমন্ডল ও বারিমন্ডল প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এবং ভৌত পরিবেশ ও এর মধ্যে কার্যরত বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে। 
- প্রাকৃতিক ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ নিম্নরূপ - 

১। ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology): 
- ভূমিরূপবিদ্যা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, পৃথিবীর উৎপত্তি, ভূ-আলোড়ন, বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ, নদ-নদীর উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, ভূ-ত্বকের পরিবর্তন, খনিজ ও শিলা এবং পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করে। 

২। জলবায়ুবিদ্যা (Climatology): 
- এ শাখায় বায়ুর গঠন, উপাদান, বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুপুঞ্জ, বায়ুপ্রাচীর, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে আলোচনা করে। 

৩। সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography): 
- পৃথিবীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সমুদ্র। এ শাখায় সাগর মহাসাগরের তলদেশের ভূমিরূপ, সমুদ্রস্রোত, মানব জীবনের উপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব, বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে সমুদ্র পথে যোগাযোগ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। 

৪। মৃত্তিকা ভূগোল (Soil Geography): 
- মৃত্তিকা ভূগোল অশ্মমন্ডলের উপরিভাগের মৃত্তিকার গঠন, উপাদান, বণ্টন ও বিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করে। 

৫। জীব ভূগোল (Bio-Geography): 
- এ শাখা পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রাণিজগৎ ও উদ্ভিদের বন্টন নিয়ে আলোচনা করে। 

৬। গাণিতিক ভূগোল (Mathematical Geography): 
- গাণিতিক ভূগোলে জ্যোতিষ্কমণ্ডলী, সৌরজগৎ, পৃথিবী ও এর আকৃতি, গতি, আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা ও সময়, আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির ফলাফল প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

মানব ভূগোল: 
- স্থান এবং কালের ভিত্তিতে মানুষ কীভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে, বিভিন্ন পরিবেশের সাথে জীবনযাত্রা নির্বাহ করছে তার কার্যকারণ অনুসন্ধান মানবিক ভূগোলের প্রধান আলোচ্য বিষয়। 
- মানব ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ নিম্নরূপ - 

১। অর্থনৈতিক ভূগোল (Economie Geography): 
- কৃষিকাজ, পশুপালন, বনজ সম্পদ, খনিজ সম্পদ, ব্যবসা- বাণিজ্য ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ভূগোলের যে শাখায় অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাকে অর্থনৈতিক ভূগোল বলে। 

২। জনসংখ্যা ভূগোল (Population Geography): 
- জনসংখ্যার বিভিন্ন বিষয় যেমন লিঙ্গ, জন্মহার, মৃত্যুহার, বয়স কাঠামো, বৈবাহিক অবস্থা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপের উপর জনসংখ্যার প্রভাব প্রস্তুতি জনসংখ্যা বিষয়ক বিষয়াদি ভূগোলের যে শাখায় আলোচনা করা হয় তাকে জনসংখ্যা ভূগোল বলে। 

৩। আঞ্চলিক ভূগোল (Regional Geography): 
- আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক বিষয়বস্তু অনুশীলন করা আঞ্চলিক ভূগোলের প্রধান বিষয়। 

৪। রাজনৈতিক ভূগোল (Political Geography): 
- রাজনৈতিক বিভাগ, পরিসীমা, বিবর্তন প্রভৃতি ভৌগোলিক বিষয় রাজনৈতিক ভূগোলের আলোচ্য বিষয়। 

৫। পরিবহন ভূগোল (Transport Geography): 
- পরিবহন ভূগোলে মানুষ ও পণ্যের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর এবং সরকারি-বেসরকারি সকল ধরনের পরিবহন ব্যবস্থা, সমস্যা ও এর সমাধান সম্পর্কে আলোচনা করে। 

৬। নগর ভূগোল (Urban Geography): 
- ভূগোলের যে শাখার নগরের উৎপত্তি, বিকাশ, নগর ও শহরের শ্রেণীবিভাগ, নগর পরিবেশ, নগরের কেন্দ্রীয় এলাকা, নগর বস্তি, প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে তাকে নগর ভূগোল বলে। 

৭। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management): 
- বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ ও দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস, দুর্যোগ থেকে পরিবেশ ও সম্পদ রক্ষার কৌশল প্রভৃতি বিষয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আলোচ্য বিষয়। 

৮। ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থাপনা ( Geographic Information System): 
- ভৌগোলিক তথ্য ও উপাত্ত ব্যবহার করে যে প্রক্রিয়ায় ডাটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং মানচিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয় তাকে বলা হয় ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থাপনা বা Geographic Information System (GIS)। এটি মূলত ভৌগোলিক তথ্য বিশ্লেষণের জন্য নির্মিত সফটওয়্যার। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৩৪৫.
কোন বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়? 
  1. নিয়ত বায়ু 
  2. সাময়িক বায়ু 
  3. স্থানীয় বায়ু 
  4. অনিয়মিত বায়ু 
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন প্রকার বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা- নিয়ত বায়ু, সাময়িক বায়ু, স্থানীয় বায়ু ও অনিয়মিত বায়ু।

নিয়ত বায়ু: 
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে। 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৪৬.
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) এর অবস্থান -
  1. পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ
  2. পৃথিবীর মধ্য কক্ষপথ
  3. পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথ
  4. ভূ-স্থির কক্ষপথ
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS):
- আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) হলো পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অবস্থিত একটি গবেষণাগার, যা যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA), জাপান ও অন্যান্য দেশের যৌথ প্রকল্প।
- ISS নির্মাণে নাসা (NASA), রাশিয়ার রসকসমস (Roscosmos), ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA), জাপান (JAXA) ও কানাডা (CSA) অবদান রেখেছে।
- এটি বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে।

ইতিহাস ও উন্নয়ন:
- ১৯৮০-এর দশকে এটি প্রথম "ফ্রিডম" নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে পরিকল্পিত হয়েছিল।
- ১৯৯০-এর দশকে, ব্যয় হ্রাস ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য প্রকল্পটি পুনরায় ডিজাইন করা হয় এবং ISS নামকরণ করা হয়।
- ১৯৯৩ সালে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া পৃথক মহাকাশ স্টেশন প্রকল্পগুলো একত্রিত করে ISS গঠনে একমত হয়।

উৎস: Britannica.
১,৩৪৭.
মিল্কিওয়ে ছায়াপথের কেন্দ্রে অবস্থিত ব্ল্যাকহোল আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন কে?
  1. রজার পেনরোজ
  2. আন্দ্রেয়া গেজ
  3. চার্লস রাইস
  4. মাইকেল হটন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর হল মহাকাশের এমন এলাকা যেখানে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এতটাই প্রচণ্ড যে সেখান থেকে কোনো কণা, এমনকি আলোর মত বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গও বেরিয়ে আসতে পারে না। বিরাট আকৃতির কোনো নক্ষত্র যখন তার আয়ুষ্কাল শেষে চুপসে যায়, এর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি প্রচণ্ড মাত্রা পায়, বিপুল পরিমাণ ভর সন্নিবেশিত হয় তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র আয়তনের ভেতরে, তখনই তা পরিণত হয় কৃষ্ণগহ্বরে।
জার্মান পদার্থবিদ আলবার্ট আইনস্টাইন ১৯১৫ সালে তার সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্বে মহাকর্ষীয় তরঙ্গের ধারণা দেন, যা স্থান-কালকে বাঁকিয়ে দেয়। তার ওই তত্ত্বেই ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্বের ধারণা আরো জোর পায়, যদিও আইনস্টাইন নিজেও এক সময় ওই তত্ত্ব ‘ভুল’ বলে ভাবতে শুরু করেন। তার মনে হয়েছিল, বাস্তবে ব্ল্যাক হোলের মত কিছু থাকা সম্ভব না।
আইনস্টাইনের মৃত্যুর ১০ বছর পর ১৯৬৫ সালে তার সেই সংশয় দূর করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গাণিতিক পদার্থবিদ রজার পেনরোজ।
গাণিতিকভাবে তিনি দেখিয়ে দেন ব্ল্যাক হোল সত্যিই থাকা সম্ভব। আর কীভাবে তা তৈরি হয়, তাও তিনি গাণিতিক সমাধানে দেখিয়ে দেন আইনস্টাইনের সেই সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদের পথ ধরেই।
আইনস্টাইনের তত্ত্বের পর পেনরোজের ওই গাণিতিক সমাধানকেই সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কাজ বলে বিবেচনা করা হয়।
- জার্মানির ম্যাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউট ফর এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল ফিজিক্সের গবেষক রাইনার্ড গেনসেল এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার আন্দ্রেয়া গেজ ১৯৯০ এর দশকে আলাদা দুই দল জ্যোতির্বিদকে নিয়ে নজর রাখছিলেন আমাদের ছায়াপথের ঠিক মাঝামাঝি এলাকার একটি অংশে, যাকে বলা হয় ‘স্যাগিটেরিয়াস এ’।
ওই এলাকার কাছাকাছি সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রটির কক্ষপথ পরিমাপ করতে গিয়ে দুই দলই এক অদৃশ বস্তুর সন্ধান পান, যা আকারে আমাদের সৌরজগতের চেয়ে ছোট, কিন্তু ভর আমাদের সূর্যের ভরের প্রায় ৪০ লাখ গুণ বেশি। আর অদৃশ্য সেই বস্তু প্রচণ্ড শক্তিতে আশপাশের নক্ষত্রগুলোকে টানছে।
আসলে তাদের ওই গবেষণার মধ্য দিয়েই আমাদের আকাশগঙ্গার ঠিক কেন্দ্রে বিপুল বিশাল এব ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়। এ আবিষ্কারের জন্য তাঁরা ২০২০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত হন।
সূত্র: www.nobelprize.org ওয়েবসাইট

১,৩৪৮.
হিগস বোসন কণার নামের সাথে কোন বাঙালীর নাম সম্পৃক্ত?
  1. ক) জগদীশ্চন্দ্র বসু
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ বসু
  3. গ) জামাল নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) মাকসুদুল আলম
ব্যাখ্যা
পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে শক্তি হিসেবে এমন একটি কণার ধারণা দেন যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে এবং যার ফলে এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে এ কণাটিই হলো হিগের কণা। হিগের কণা সৃষ্টিতে অবদান রাখেন বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর 'কণা পরিসংখ্যান তত্ত্ব'। বিজ্ঞানী হিগের সাথে সতেন্দ্রনাথকে জড়িয়ে হিগের কণার নাম দেন- হিগস বোসন কণা। হিগস বোসন কণার অপর নাম- ঈশ্বর কণা। হিগস বোসন কণা আবিষ্কৃত হয় ৪ জুলাই ২০১২ সালে।
১,৩৪৯.
জার্মেনিয়াম এক ধরণের-
  1. ক) পরিবাহী
  2. খ) অর্ধপরিবাহী
  3. গ) অপরিবাহী
  4. ঘ) অন্তরক
ব্যাখ্যা
কিছু কিছু পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তবে তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যায়। এই ধরনের পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। উদাহরণ: সিলিকন বা জার্মেনিয়াম সেমিকন্ডাক্টর। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
১,৩৫০.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন কে? 
  1. এডুইন হাবল
  2. স্টিফেন হকিং 
  3. জর্জ গ্যামো
  4. জি. ল্যামেটার 
ব্যাখ্যা

বিগ ব্যাং তত্ত্ব: 
- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল; হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটা বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। 
- জি. ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই ‘A Brief History of Time’. 
-  বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১,৩৫১.
তড়িৎ চৌম্বক আবেশ আবিষ্কার করেন কে?
  1. ওয়ারস্টেড
  2. মাইকেল ফ্যারাডে
  3. টমাস আল্ভা এডিসন
  4. মার্কনি
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ চৌম্বক আবেশ:
- ওয়েরস্টেড (১৮২০) তড়িৎ প্রবাহে চৌম্বকীয় ক্রিয়া আবিস্কারের পর থেকেই বিজ্ঞানীদের মাথায় চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টির কথা চিন্তা করেন।
- তখন তিন দেশের তিন জন বিজ্ঞানী ইংল্যান্ডে মাইকেল ফ্যারাডে, আমেরিকাতে জোসেফ হেনরী এবং রাশিয়ায় এইচ. এফ. ই. লেনজ পৃথক পৃথক ভাবে এ বিষয়ের উপর গবেষণা করে সফলতা অর্জন করেন।
- কিন্তু মাইকেল ফ্যারাডে ১৮৩১ সালে সর্বপ্রথম তাঁর গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রকাশ করেছিলেন।
- সেজন্য মাইকেল ফ্যারাডে তড়িৎ চৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক হিসাবে পরিচিত।
- ফ্যারাডের পরীক্ষাগুলো থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, কোনো বদ্ধ কুণ্ডলী এবং কোনো চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আপেক্ষিক গতি থাকলে ঐ কুণ্ডলীতে
একটি আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে তড়িৎ চৌম্বক আবেশ বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৫২.
বায়ুমন্ডলের মোট শক্তির কত শতাংশ সূর্য হতে আসে?
  1. ৯০ শতাংশ
  2. ৯৪ শতাংশ
  3. ৯৮ শতাংশ
  4. ৯৯.৭ শতাংশ
ব্যাখ্যা
- বায়ুর তাপের প্রধান উৎস সূর্য। 
- বিকিরণ প্রক্রিয়ায় সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে। 
- বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির ৯৯.৯৭% আসে সূর্য থেকে। 
- পৃথিবী তাপ হারিয়ে শীতল হয় বিকিরণ পদ্ধতি। 
- ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয় পরিবহন প্রক্রিয়া। 
- পানি ও বায়ুমণ্ডলের উত্তাপের বিনিময় হয় পরিচলন প্রক্রিয়ায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৫৩.
বিগ ব্যাং এর কত বছর পর সৌরজগতের উৎপত্তি হয়েছে?
  1. ক) ৪.৫ থেকে ৫ বিলিয়ন বছর
  2. খ) ৮.৫ - ৯ বিলিয়ন বছর
  3. গ) ১১.২ বিলিয়ন বছর
  4. ঘ) ১৩.৮ বিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা
সৌরজগতের উৎপত্তি বিগ ব্যাং এর প্রায় ৮.৫ থেকে ৯ বিলিয়ন বছর পরে এবং আজ থেকে ৪.৫ থেকে ৫ বিলিয়ন বছর পূর্বে৷ গত ১৩.৮ বিলিয়ন বছর ধরে তারকার জন্মমৃত্যু চক্রাকারে চলে আসছে।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৩৫৪.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র নিচের কোনটি? 
  1. অডিওমিটার 
  2. ম্যানোমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. ক্রনোমিটার 
ব্যাখ্যা

- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র হচ্ছে- অডিওমিটার। 

গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত কিছু পরিমাপক যন্ত্র: 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১,৩৫৫.
কৃষ্ণগহ্বর ও ঘটনা দিগন্তের মধ্যে সম্পর্ক কোনটি?
  1. কৃষ্ণগহ্বরের কেন্দ্র হলো ঘটনা দিগন্ত
  2. প্রত্যেক কৃষ্ণবিবরের দুইটি ঘটনা দিগন্ত থাকে
  3. কৃষ্ণবিবরের বাইরের সীমানাই ঘটনা দিগন্ত
  4. দুইটি পরস্পর সম্পর্কহীন
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণগহ্বর:
- কৃষ্ণগহ্বর বা কৃষ্ণ বিবর মহাবিশ্বের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি বিষয়ক একটি বহুল প্রচলিত ধারণা।
-  এই ধারণা অনুযায়ী কৃষ্ণগহ্বর মহাবিশ্বের এমন একটি বস্তু যা অতি ঘন সন্নিবিষ্ট।
- অতি ক্ষুদ্র আয়তনে এর ভর এত বেশি যে এর মহাকর্ষীয় শক্তি কোন কিছুকেই তার ভিতর থেকে বের হতে দেয় না, এমনকি তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণকেও (যেমন: আলো) নয়। 

• প্রত্যেক কৃষ্ণ বিবরের একটি ঘটনা দিগন্ত (Event horizon) থাকে। ঘটনা দিগন্ত হলো কৃষ্ণ বিবরের চারপাশের যে অঞ্চল থেকে কোনো প্রকার বিকিরণ বা সংকেত বেরিয়ে আসতে পারে না তার সীমানা। অর্থাৎ
- কৃষ্ণ বিবরকে ঘিরে নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের গোলকের পৃষ্ঠকে বা সীমানাকে বলা হয় ঘটনা দিগন্ত।
- সুতরাং কৃষ্ণ বিবরের কেন্দ্র থেকে ঘটনা দিগন্ত পর্যন্ত দূরত্বকে সোয়ার্জস্কাইল্ড ব্যাসার্ধ বলা হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৫৬.
ওজোন গ্যাসের রং কী?
  1. গাঢ় সবুজ
  2. গাঢ় নীল
  3. বেগুনী
  4. সাদা
ব্যাখ্যা
ওজোন গ্যাসের রং গাঢ় নীল ।
- ওজোন স্তর (Ozone layer) হচ্ছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি স্তর যেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি মাত্রায় ওজোন গ্যাস থাকে।
- এই স্তর থাকে প্রধানতঃ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের নিচের অংশে, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে কম বেশি ২০-৩০ কিমি উপরে অবস্থিত।
- এই স্তরের পুরুত্ব স্থানভেদে এবং মৌসুমী কম বেশি হয়।
- বায়ুমণ্ডলে ওজোনের প্রায় ৯০ শতাংশ স্ট্রাটোস্ফিয়ারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ওজোন কেন্দ্রীকরণ প্রায় ২০ এবং ৪০ কিলোমিটার (৬৬,০০০ এবং ১৩১,০০০ ফুট), তারা যেখানে মিলিয়ন প্রতি প্রায় ২ থেকে ৮ অংশ থেকে পরিসীমার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হয়।

সূত্র: Britannica.com
১,৩৫৭.
ওজোন স্তর নষ্ট হওয়ার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন অক্সাইড
  2. মিথেন
  3. ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
  4. কার্বন ডাইঅক্সাইড
ব্যাখ্যা

• ওজোন স্তর নষ্ট হওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFCs)। এটি বিভিন্ন এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ, এবং স্প্রে ক্যানের মধ্যে ব্যবহৃত হয়। যখন CFC বায়ুমণ্ডলে উঠে ওজোন স্তরে পৌঁছায়, সানলাইটের আলোর কারণে এটি ক্লোরিন আয়ন বের করে। এই ক্লোরিন আয়ন ওজোন অণুর সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে তাকে ভাঙতে শুরু করে, যার ফলে ওজোন স্তর পাতলা হয়। ওজোন স্তর আমাদেরকে সূর্যের ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট (UV) রশ্মি থেকে রক্ষা করে। CFC ছাড়া অন্য উপাদান যেমন নাইট্রোজেন অক্সাইড বা মিথেনও ওজোন ক্ষয় ঘটাতে পারে, তবে তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। তাই CFC কে ওজোন স্তর নষ্টের প্রধান দায়ী ধরা হয়।

• ওজোন স্তর:
- ওজোন স্তর হচ্ছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি স্তর যেখানে তুলনামুলকভাবে বেশি মাত্রায় ওজোন গ্যাস থাকে ।

• ওজোন স্তরের ভূমিকা- 
-  সূর্য থেকে বিচ্ছুরিত অতিবেগুনি রশ্মিকে (Ultra-Violet Ray) শোষণ করে ভূপৃষ্ঠে আসতে দেয় না, যার ফলে জীবজগৎ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায় ।
 - বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে ।
 - জীববৈচিত্র রক্ষা করে ।
 - ওজোন গ্যাস সূর্যের তাপ ও অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে, ফলে এই স্তরের তাপমাত্রা খুব বেশি হলেও তা বায়ুমন্ডলীয় তাপের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে ।

• CFC (Chlorofluorocarbons) হলো এমন রাসায়নিক যৌগ যা সাধারণত রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, স্প্রে ক্যান এবং ফোম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- এই যৌগগুলো বায়ুমণ্ডলে উঠে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে (stratosphere) পৌঁছে ওজোন (O3) গ্যাসকে ধ্বংস করে।

• ক্ষয় প্রক্রিয়া:
- CFC গ্যাস UV রশ্মিতে ভেঙে যায় → ক্লোরিন পরমাণু মুক্ত হয়।
- একটি ক্লোরিন পরমাণু → হাজার হাজার ওজোন অণু ধ্বংস করতে সক্ষম।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা।

১,৩৫৮.
সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন কতবার জোয়ার ও ভাটা ঘটে?
  1. একবার জোয়ার ও একবার ভাটা
  2. একবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা
  3. দুইবার জোয়ার ও একবার ভাটা
  4. দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা
ব্যাখ্যা

- অধিকাংশ সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়। এর প্রধান কারণ হলো পৃথিবী প্রতি চন্দ্র দিনে দুটি জোয়ারের স্ফীতির (tidal bulges) মধ্য দিয়ে ঘোরে। একটি জোয়ার ঘটে চাঁদের মহাকর্ষীয় আকর্ষণের কারণে এবং একই সময়ে পৃথিবীর বিপরীত পাশে কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে আরেকটি জোয়ার তৈরি হয়। এই দুটি জোয়ারের মধ্যবর্তী স্থানে ভাটা হয়। 

জোয়ার-ভাটা: 
- সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। 
- ফুলে ওঠে আবার নেমে যাওয়ার কারণ মূলত দুটি। 
যথা- চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণ শক্তি (যা মূলত মহাকর্ষ শক্তি) এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি। 
- সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার (Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা (Ebb or Low Tide) বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়।
- জোয়ার-ভাটার প্রধান দুটি কারণ হলো- 
(ক) মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব (The Force of Gravitational Attraction) এবং (খ) কেন্দ্রাতিগ/বহির্মুখী শক্তি (Centrifugal force) । 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

১,৩৫৯.
সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন -
  1. পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝে আসে
  2. চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে আসে
  3. সূর্য পৃথিবীর ছায়ায় পড়ে
  4. সূর্য ও চাঁদ বিপরীত দিকে থাকে
ব্যাখ্যা

সূর্যগ্রহণ:
- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ অবস্থান করে তখন  সূর্যগ্রহণ হয়।
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে।
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে।
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে। 

অন্যদিকে,
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান।
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়।
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া।

উৎস: i) বিবিসি বাংলা।
ii) প্রথম আলো

১,৩৬০.
ক্যালকুলাসের জনক কে?
  1. ক) আইনস্টাইন
  2. খ) নিউটন
  3. গ) কোপার্নিকাস
  4. ঘ) আর্কিমিডিস
ব্যাখ্যা

নিউটন ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক।
নিউটন প্রথমে ফ্লাক্সিওন নামে ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেছিলেন বটে, কিন্তু তিনি তার আবিষ্কার ঠিকমত প্রকাশও করেননি।
তবে ক্যালকুলাস আবিষ্কারের কৃতিত্ব নিউটন আর লিবনিজ দুজনকেই দেওয়া হয়।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান

১,৩৬১.
কোন প্রতিষ্ঠান টি বাংলাদেশের ভূকম্প বলয় সম্বলিত মানচিত্র টি তৈরি করেন?
  1. ক) ফরাসি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম
  2. খ) জাইকা
  3. গ) ইউএনডিপি
  4. ঘ) চায়না মেজর ব্রিজ কম্পানি
ব্যাখ্যা
১৯৮৯ সালে ফরাসি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসাের্টিয়াম বাংলাদেশের ভূমিকম্প বলয় সম্বলিত মানচিত্র তৈরি করেন। এতে ৩টি বলয় দেখানাে হয়েছে। প্রথম বলয়কে “প্রলয়ঙ্করী”; দ্বিতীয় বলয়কে ‘বিপজ্জনক’ এবং তৃতীয় বলয়কে ‘লঘু' বলে বর্ণনা করেছেন।
১,৩৬২.
তেজস্ক্রিয় রশ্মি পূর্বে কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. ক) কুরী রশ্মি
  2. খ) গামা রশ্মি
  3. গ) ইউ-ভি রশ্মি
  4. ঘ) বেকেরেল রশ্মি
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। - ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু।
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”।
- পরবর্তিতে মাদাম কুরী এবং তাঁর স্বামী পিয়ারে কুরী নানা পদার্থের তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত।

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
৪। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৩৬৩.
নিচের কোন Instrument টি very high resistance (Insulation resistance) পরিমাপে ব্যবহৃত হয়?
  1. Multimeter
  2. Meggar
  3. Wheatstone bridge
  4. Potentiometer
ব্যাখ্যা
• The Megger insulation tester is a small, portable instrument that gives you a direct reading of insulation resistance in ohms or megohms. For good insulation, the resistance usually reads in the megohm range.

• The Megger insulation tester is essentially a high-range resistance meter (ohmmeter) with a built-in direct-current generator. This meter is of special construction with both current and voltage coils, enabling true ohms to be read directly, independent of the actual voltage applied. This method is non- destructive; that is, it does not cause deterioration of the insulation.
১,৩৬৪.
উত্তর গোলার্ধ ও সূর্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব হয় কখন?
  1. ক) ২১ মার্চ
  2. খ) ২১ জুন
  3. গ) ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ২২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- ২২এ ডিসেম্বর এমনভাবে কোণ করে থাকে তাতে দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন এবং উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন হয়।
- ২২এ ডিসেম্বর সূর্য দক্ষিণায়নের শেষ সীমায় পৌঁছায়, একে মকরসংক্রান্তি বলে। এ সময় সূর্যের রশ্মি ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ অর্থাৎ মকরক্রান্তির উপর লম্বভাবে পতিত হয় ।
- উত্তর গোলার্ধ ও সূর্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব হয়  ২২ ডিসেম্বর। 

দক্ষিণ গোলার্ধ ও সূর্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব হয়- ২১ জুন। 

• ২১জুন:
→ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন।
→ পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন।
→ পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধ ও সূর্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 
১,৩৬৫.
প্রশান্ত মহাসাগরের গড় গভীরতা কত?
  1. ২৪৬০ মিটার
  2. ২৮৮০ মিটার
  3. ৩৯৩০ মিটার
  4. ৪২৭০ মিটার
ব্যাখ্যা
বারিমন্ডলের ধারণা: 
- বারিমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Hydrosphere, Hydro' শব্দের অর্থ পানি এবং 'sphere' শব্দের অর্থ মণ্ডল। 
- পৃথিবীর সকল স্থানেই বারিমণ্ডলের অস্তিত্ব রয়েছে। 
যেমন- বায়ুমণ্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসাবে, ভূ-পৃষ্ঠে পানি রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূ-গর্ভে রয়েছে ভূ-গর্ভস্থ তরল পানি হিসাবে। 
- পৃথিবীর মোট জলরাশির শতকরা ৯৭  ভাগ রয়েছে সমুদ্রে। মাত্র ৩ ভাগ রয়েছে নদী, হিমবাহ, ভূ-গর্ভস্থ, হ্রদ, মৃত্তিকা জীবমণ্ডল ও বায়ুমণ্ডলে। 
- মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের জলরাশি লবনাক্ত এবং নদী, হ্রদ ও ভূ-গর্ভের পানি, বৃষ্টির পানি ও ঝর্ণার পানি মিঠা। 
- আয়তন এবং গভীরতার ভিত্তিতে বারিমণ্ডলকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা - 
১। মহাসাগর (Ocean), 
২। সাগর (Sea), 
৩। উপসাগর (Bay), 
৪। হ্রদ (Lake)।

মহাসাগর (Ocean): 
- উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ জলরাশি বা পানি রাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে। 
- পৃথিবীতে মোট পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে। 
যথা: প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean), আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean), ভারত মহাসাগর (Indian Ocean), উত্তর মহাসাগর (North Ocean), দক্ষিণ মহাসাগর (South Ocean)। 
- মহাসাগরসমূহের মধ্যে আয়তন এবং গভীরতার দিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগর সবচেয়ে বড়। 


উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৩৬৬.
Cyclone engineering device এ ব্যবহৃত হয়
  1. ক) Transport materials
  2. খ) Segregate particles
  3. গ) Control switching device
  4. ঘ) Model particles
ব্যাখ্যা
Cyclone engineering device এ Segregate particles ব্যবহৃত হয়।
Source:worldwidescience.org
১,৩৬৭.
খরা এর ফলে কী ধরনের প্রাকৃতিক পরিবর্তন হয়?
  1. জমির মধ্যে পানি জমে যায়
  2. বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হয়
  3. মাটি শুকনো হয়ে ফেটে যায়
  4. শিলা বৃষ্টি হয়
ব্যাখ্যা
• খরা এর ফলে মাটি শুকনো হয়ে ফেটে যায়।

• অনাবৃষ্টি ও খরা:
- কোনো এলাকা দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে উক্ত এলাকাটির মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে, উক্ত এলাকার মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় ও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। মাটির এরূপ অবস্থাকে খরা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর- পূর্বাঞ্চলে অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
- খরা উপদ্রুত অঞ্চলে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- উপদ্রুত অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে পানির অভাব দেখা দেয়।
- পর্যাপ্ত ফসলের অভাবে খাদ্যদ্রব্যের অভাব প্রকট হয়ে পড়ে।
- গাছপালা বিহীন শুষ্ক প্রকৃতি ও তীব্র গরমে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
- বনজ সম্পদ বৃদ্ধি তথা অধিক বৃক্ষরোপন করে ও ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কিছুটা নিয়ন্ত্রন করা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৬৮.
গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলারের ২য় সূত্র কোনটি?
  1. উপবৃত্ত সূত্র
  2. ক্ষেত্রফল সূত্র
  3. অক্ষের সূত্র
  4. আবর্তনকালের সূত্র
ব্যাখ্যা
কেপলারের সূত্র:
- ডেনমার্কের জ্যোতির্বিদ জোহান কেপলারের (Johann Kepler) গ্রহ সম্পর্কিত সূত্র সূর্যের চারদিকে গ্রহগুলোর গতি ব্যাখ্যা করে।
- ১৬১৮ সালে কেপলার বলেন, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে এবং এই সম্পর্কে তিনি তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- তার নাম অনুসারে এই তিনটি সূত্রকে কেপলার এর গ্রহ সম্পর্কীয় গতিসূত্র বলা হয়।
- সূত্র তিনটি হলো:

• ১ম সূত্র (উপবৃত্ত সূত্র):
- সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।

• ২য় সূত্র (ক্ষেত্রফল সূত্র):
- প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্র সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।

• ৩য় সূত্র (আবর্তনকালের সূত্র):
- সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক।

তথ্যসূত্র: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৬৯.
বায়ু দূষণের জন্য প্রধানত দায়ী-
  1. ক) কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) কার্বন মনোক্সাইড
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
কার্বন মনো-অক্সাইড (CO)- মানুষের শ্বাসক্রিয়ার পক্ষে চূড়ান্ত ক্ষতিকারক এই গ্যাস বায়ুমণ্ডলের গ্যাসীয় ভারসাম্যের বিঘ্ন ঘটাতে পারদর্শী।
- মূলতঃ পুরনো যানবাহনের থেকে এই গ্যাসের উৎপত্তি। এই কারণে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলীতে বিভিন্ন দূষণ-নিয়ন্ত্রণজনিত বিধি করা হয়েছে।
- ইউরো স্টেজ এবং ভারত স্টেজ (ইঞ্জিন-এর রেটিং ব্যবস্থা) এই ধরণের দূষণকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে
১,৩৭০.
পৃথিবীর মোট জলরাশির কতভাগ ভূগর্ভ ধারণ করে?
  1. ০.৮০%
  2. ১.৭০%
  3. ৯৭.৫%
  4. ৭২.৫%
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর মোট জলরাশির একটি বড় অংশ মহাসাগর ও সমুদ্র দ্বারা গঠিত হলেও,
• ভূগর্ভস্থ জল (Groundwater) পৃথিবীর মোট জলরাশির প্রায় ১.৭% দখল করে।
- এই ভূগর্ভস্থ জল দুই ভাগে বিভক্ত:
- মিঠা ভূগর্ভস্থ জল (Fresh Groundwater) – প্রায় ০.৮%, যা পানীয় জল, কৃষি এবং শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
- লবণাক্ত ভূগর্ভস্থ জল (Saline Groundwater) – প্রায় ০.৯%, যা সাধারণত সরাসরি ব্যবহারের উপযোগী নয়।

অন্যদিকে,
- সাগর মহাসাগর মিলে ৯৭.৫% পানি রয়েছে।
- বাকি ২.৫% পানি মিঠা পানির উতসগুলোর মধ্যে পাওয়া যাতে নদী, খাল বিল, পুকুর ও ভূ-গর্ভস্থ পানি রয়েছে।



উৎস: USGS ওয়েবসাইট।[link]
১,৩৭১.
নিরক্ষরেখা অন্য কী নামে পরিচিত?
  1. বিষুবরেখা
  2. মকরক্রান্তি রেখা 
  3. রবিমার্গ
  4. কর্কটক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা

নিরক্ষরেখা :
- পৃথিবীর ঠিক মাঝখান দিয়ে যে রেখাটি পূর্ব-পশ্চিমে সমগ্র পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে নিরক্ষরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখার অপর নাম হলো- বিষুবরেখা (Equator),  অক্ষরেখা (০° Latitude), মহাবৃত্ত (Great circle)।

অপরদিকে, 
কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখা: 
- উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫০° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলে।
- বাংলাদেশের উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- এই দুটি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে সূর্যের আলো লম্বভাবে পৃথিবীতে পড়ে।
• সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত: উত্তর গোলার্ধে ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরুবৃত্ত এবং ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরুবৃত্ত বলে। 

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

১,৩৭২.
যানবাহন থেকে নির্গত কালো বিষাক্ত গ্যাসটির নাম কী?
  1. ক) মিথেন
  2. খ) ইথেন
  3. গ) কার্বন মনোক্সাইড
  4. ঘ) ফেরিক অক্সাইড
ব্যাখ্যা
যানবাহন থেকে নির্গত কালো বিষাক্ত গ্যাসটির নাম হচ্ছে কার্বন মনোক্সাইড। এই গ্যাসটি বায়ু দূষণের জন্য দায়ী। 

- যেসব সংক্রামক উপাদান বায়ু দেমিসে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে সেই সব উপাদান কে বলা হয় দূষক ।
- পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঘটনাকে বলা হয় দূষণ।

বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ- 
১. কার্বন মনোক্সাইড এর প্রভাবে মাথাধরা, ঝিমুনি, শারীরিক শক্তি হ্রাস পায়। 
২. সালফার অক্সাইড-এর প্রভাবে শ্বাসনালির জ্বালা, হাঁপানি, কাশি, নাকজ্বালা। 
৩.  নাইট্রোজেন অক্সাইড-এর প্রভাবে শ্বাসনালির স্ফীতি ও ফুসফুসের জ্বালা। 
৪. সূক্ষ্মণার প্রভাবে চোখ, নাক ও গলার জ্বালা, রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা হ্রাস। 

সূত্র: Texas Commission on Environmental Quality Website [লিঙ্ক]
১,৩৭৩.
'ব্লাক হোল' বা কৃষ্ণবিবর সম্পর্কে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. আবিষ্কারক জন হুইলার
  2. ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি।
  3. মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র অনেক শক্তিশালী
  4. ভর প্রায় শূন্য।
ব্যাখ্যা
• 'ব্লাক হোল' বা কৃষ্ণবিবর:
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অবস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে।
- সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না।
- তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না। নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Black hole) I
- ১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭৪.
মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার কবে দেওয়া হয়?
  1. ১৯২২ সালে 
  2. ১৯৩৬ সালে 
  3. ১৯৪৫ সালে 
  4. ১৯৫০ সালে 
ব্যাখ্যা
Cosmic rays (মহাজাগতিক রশ্মি): 
- Cosmic rays এর বাংলা হলো মহাজগতিক রশ্মি। 
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বা Cosmic rays বলা হয়। 
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। 
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হলো মহাজাগতিক। 
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
১,৩৭৫.
সাধারণত আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত সকল প্রক্রিয়া কোন স্তরে ঘটে?
  1. মেসোস্ফিয়ার 
  2. স্ট্রাটোফিয়ার 
  3. ট্রপোস্ফিয়ার 
  4. থার্মোস্ফিয়ার 
ব্যাখ্যা

ট্রপোমণ্ডল (Troposphere): 
- বায়ুমণ্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমণ্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার। 
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়। 
- ট্রপোমণ্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ। ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪° সেলসিয়াসের নিচে থাকে। 
- ট্রপোমণ্ডলের গভীরতা পৃথিবীর চারিদিকে সবসময় সমান থাকে না। ভিন্ন ভিন্ন অক্ষাংশে ও ঋতুভেদে এই গভীরতার পার্থক্য হয়। 

ট্রপোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য: 
- ট্রপোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্যগুলো এখানে তুলে ধরা হলো- 
ক) ট্রপোমণ্ডল ভূ-পৃষ্ঠ হতে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 
খ) ট্রপোস্ফিয়ারের উর্ধ্বসীমাকে ট্রপোপজ বলে যার গভীরতা অনেক কম। 
গ) এই স্তরে উচ্চতা যত বাড়তে থাকে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা ততই কমতে থাকে। এই উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপ কমে যাওয়ার প্রবনতাকে বলা হয় স্বাভাবিক তাপ হ্রাস। 
ঘ) ট্রপোমণ্ডলে সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে যায়। 
ঙ) ট্রপোমণ্ডলের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায় ও নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতি বেশি পাওয়া যায়। 
চ) এই স্তরেই আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত সকল প্রক্রিয়া সাধারণত ঘটে। 
ছ) ট্রপোমণ্ডলে ধূলিকণা থাকে এবং বায়ুমণ্ডলের ওজোনের শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৭৬.
সৌরজগতের গ্রহগুলোর গতি সংক্রান্ত সূত্র কে প্রদান করেন? 
  1. নিউটন
  2. কেপলার
  3. গ্যালিলিও
  4. কোপারনিকাস
ব্যাখ্যা
কেপলারের সূত্র: 
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন। 
- বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন। 
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে। 
- ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে। 
- জন কেপলার সৌরজগতের গ্রহগুলোর গতি সংক্রান্ত তিনটি সূত্র উপস্থাপন করেন, তার নাম অনুসারে এসূত্রগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। 
যেমন- 
• প্রথম সূত্র: সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। 
• দ্বিতীয় সূত্র: প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্ৰ সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে। 
 তৃতীয় সূত্র: সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭৭.
ফটো- ইলেকট্রিক কোষে শক্তির কীরূপ পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) তড়িৎশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  2. খ) আলোকশক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  3. গ) আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  4. ঘ) রাসায়নিক শক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা

- ফটো- ইলেকট্রিক কোষে আলোকশক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- ফটোগ্রাফিক কাগজের উপর আলোকক্রিয়ায় আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৩৭৮.
নিচের কোনটি গ্রীন হাউজ গ্যাস?
  1. ক) জলীয় বাষ্প
  2. খ) ওজোন
  3. গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলােকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস।
কয়েকটি উল্লেখযােগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে -
- জলীয় বাষ্প,
- কার্বন ডাই অক্সাইড,
- নাইট্রাস অক্সাইড,
- মিথেন,
- ওজোন,
- ক্লোরােফ্লোরাে কার্বন ইত্যাদি।
- কার্বন ডাই সালফাইড এবং কার্বনিল সাইফাইড পরােক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস।
উৎসঃ ভূগােল, নবম-দশম শ্রেণি - বাের্ড বই, ব্রিটানিকা এবং Royal Society of Chemistry।

১,৩৭৯.
ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে কোন উক্তিটি সত্য নয়?
  1. ক) নিচের সবগুলো উক্তি সত্য
  2. খ) এর মাধ্যাকর্ষণ বল খুব শক্তিশালী
  3. গ) এর থেকে আলো বিকিরণের মাধ্যমে নির্গত হয়
  4. ঘ) একটি তারকার মৃত্যুর সময় এর সৃষ্টি হয়
ব্যাখ্যা
A black hole is a place in space where gravity pulls so much that even light can not get out. The gravity is so strong because matter has been squeezed into a tiny space. This can happen when a star is dying.
Source: NASA
১,৩৮০.
পড়ন্ত বস্তুর তিনটি সূত্র কোন বিজ্ঞানী প্রদান করেন?
  1. ক) নিউটন
  2. খ) কেপলার
  3. গ) গ্যালিলিও
  4. ঘ) আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা

পড়ন্ত বস্তুর সূত্র (Laws of Falling Bodies): সমত্বরণের একটি চমকপ্রদ উদাহরণ হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ g, এর প্রভাবে যেকোনাে বস্তু উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি গতিশীল হয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। এ ধরনের পড়ন্ত বস্তু দেখে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র বের করেন। সূত্রগুলাে স্থির অবস্থা থেকে মুক্তভাবে পড়তে থাকা বস্তুর বেলায় ব্যবহার করা যায়। সূত্রগুলাে হচ্ছে:
প্রথম সূত্রঃ স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে।
দ্বিতীয় সূত্রঃ স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। অর্থাৎ, v ∞ t
তৃতীয় সূত্রঃ স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। অর্থাৎ, h ∞ t2
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৮১.
What does the word Tsunami mean?
  1. Earthquake
  2. Storm
  3. Cyclone
  4. Harbor wave
ব্যাখ্যা
• “Tsunami” শব্দটি এসেছে জাপানি ভাষা থেকে। এখানে —
- “Tsu” মানে বন্দর (harbor)
- “Nami” মানে ঢেউ (wave)

- এই শব্দের আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে “বন্দরের ঢেউ”। যদিও সুনামি সাধারণত সমুদ্রতলের ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্টি হয়, কিন্তু শব্দটির মানে ভূমিকম্প নয়। এটি এমন এক প্রাকৃতিক ঢেউ বোঝাতে ব্যবহৃত হয় যা গভীর সমুদ্রে ছোট মনে হলেও উপকূলে এসে বিশাল ও ধ্বংসাত্মক রূপ নিতে পারে।
- তাই, "Tsunami" শব্দের অর্থ হলো — বন্দরের ঢেউ।

• সুনামি (Tsunami):
- সুনামি’ জাপানি শব্দ। বাংলায় এর অর্থ পােতাশ্রয় ঢেউ'।
- সাগর বা নদী বা অন্য কোন জলক্ষেত্রে ভূমিকম্পের, ভূমিধ্বসের কিংবা আগ্নেয়গিরির উদগীরণের প্রভাবে সৃষ্ট জলােচ্ছ্বাসকেই বলা হয় সুনামি।
- বিভিন্ন কারণে সুনামির সৃষ্টি হতে পারে।
- কারণগুলাের মধ্যে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অন্নুৎপাত, ভূমিধ্বস অন্যতম।
- তন্মধ্যে দুটি কারণ উলেখযােগ্য হলাে সমুদ্রতলের ২০-৩০ কিলােমিটার গভীরে ভূমিকম্প সংঘটন এবং টেকটোনিক প্লেটের আকষ্মিক উত্থান-পতন।
- ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক সুনামি ছিল ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের সুনামি । ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা উপকূলে ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে ।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি , ব্রিটানিকা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৮২.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ওজোনের ঘনত্ব সর্বাধিক?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. ট্রপোমণ্ডল
  3. তাপমণ্ডল
  4. মেসোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

- বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলোর মধ্যে ওজোনের ঘনত্ব সর্বাধিক থাকে স্ট্রাটোমণ্ডলে। স্ট্রাটোমণ্ডল পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় বিস্তৃত। এই স্তরে সূর্য থেকে আসা অতিবেগুনী (UV) রশ্মি শোষিত হয় ওজোন দ্বারা, ফলে ওজোন স্তর গরম হয় এবং UV রশ্মি প্রতিরোধ করে পৃথিবীতে আসা ক্ষতিকারক বিকিরণ কমায়। ট্রপোমণ্ডলে ওজোনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম এবং মেসোমণ্ডল ও তাপমণ্ডলে ওজোন খুবই কমমাত্রায় থাকে। স্ট্রাটোমণ্ডলে ওজোনের ঘনত্বের এই বিশেষ বৃদ্ধি পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও আবহাওয়া স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ওজোন স্তর মূলত স্ট্রাটোমণ্ডলেই সর্বাধিক।

• স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere):
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল।
- ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমণ্ডল নামে পরিচিত।
- স্ট্রাটোমণ্ডল ও মেসোমণ্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause) বলে।

• স্ট্রাটোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of the Stratosphere):
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
- এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolate rays) শুষে নেয়। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা ৪° সেলিসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় ৷
- এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
- ঝড়বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে ।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পেতে শুরু করে। এটি স্ট্রাটোমণ্ডলের শেষ প্রান্ত নির্ধারণ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৮৩.
কত বিলিয়ন বছর ধরে তারকার জন্মমৃত্যু চক্রাকারে চলে আসছে?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৮.৫
  3. গ) ৯
  4. ঘ) ১৩.৮
ব্যাখ্যা
সৌরজগতের উৎপত্তি বিগ ব্যাং এর প্রায় ৮.৫ থেকে ৯ বিলিয়ন বছর পরে এবং আজ থেকে ৪.৫ থেকে ৫ বিলিয়ন বছর পূর্বে৷ গত ১৩.৮ বিলিয়ন বছর ধরে তারকার জন্মমৃত্যু চক্রাকারে চলে আসছে।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৩৮৪.
উপকূলে কোন একটি স্থানে একটি জোয়ারের প্রায় কত সময় পর ভাটা হয়?
  1. ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট
  2. ৮ ঘন্টা ১৩ মিনিট
  3. ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট
  4. ১৬ ঘন্টা ২৬ মিনিট
ব্যাখ্যা
• জোয়ার-ভাটা:
- সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর এক স্থানে ফুলে ওঠে এবং এক স্থানে নেমে যায়। পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
- এক স্থানে প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়।
- উপকূলে কোন একটি স্থানে একটি জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট পর ভাটা হয়।
- উপকূলে কোন একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ার বা দুটি ভাঁটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট।
- সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলো স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার-ভাটা অধিক হয়।
- সাধারণত সমুদ্রের মধ্যভাগ অপেক্ষা উপকূলের কাছে অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা অধিক থাকে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮৫.
বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসটির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি? 
  1. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. আর্গন
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল: 
- জীবন ধারণের জন্য পৃথিবীর জীবকুলের কাছে যেসব জিনিস অপরিহার্য বায়ুমণ্ডল তাদের মধ্যে অন্যতম। 
- যে গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে বলে বায়ুমণ্ডল। 
- পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে বায়ুমণ্ডলও ভূপৃষ্ঠের চারদিকে জড়িয়ে থেকে অনবরত আবর্তন করছে। 
- বায়ুমণ্ডলের বর্ণ, গন্ধ, আকার কিছুই নেই, তাই একে খালি চোখে দেখা যায় না, কেবল অনুভব করা যায়। 
- বায়ুমণ্ডলের বিশালতা এবং এর ক্রিয়াদি সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের গবেষণা নিরন্তর চলছে। 
- বিভিন্ন উপগ্রহ ও গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে, ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত। 
- বায়ুমণ্ডলের ব্যাপ্তি যত বিশাল হোক না কেন, এর প্রায় ৯৭ ভাগ উপাদানই ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই মানুষ, উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর উপর এর প্রভাব অত্যন্ত বেশি। 
- বায়ুমণ্ডল প্রধানত তিন প্রকার উপাদান দ্বারা গঠিত। যেমন- বিভিন্ন প্রকার গ্যাস, জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা ও কণিকা। 

বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদান: 
• নাইট্রোজেন (N2) ⇒ ৭৮.০২, 
• অক্সিজেন (O2) ⇒ ২০.৭১, 
• আর্গন (Ar) ⇒ ০.৮০, 
• কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) ⇒ ০.০৩, 
• অন্য গ্যাসসমূহ (নিয়ন, হিলিয়াম, ক্রিপটন, জেনন, ওজোন, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড) ⇒ ০.০২, 
• জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১ এবং 
• ধূলিকণা ও কণিকা ⇒ ০.০১ । 
- বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাস ও বাষ্পের সমন্বয়ে গঠিত হলেও এর প্রধান উপাদান দুটি- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন। 
- বায়ুমণ্ডলে আয়তনের দিক থেকে এ দুটি গ্যাস একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ এবং বাকি শতকরা ১.২৭ ভাগ অন্যান্য গ্যাস, জলীয়বাষ্প ও কণিকাসমূহ জায়গা জুড়ে আছে। 
- জীবজগৎ পরস্পর অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের গ্রহণ ও ত্যাগের মাধ্যমে বেঁচে আছে। 
- ওজোন গ্যাসের স্তর সূর্য থেকে আসা অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৮৬.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর দিয়ে জেট বিমানগুলো চলাচল করে?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. স্ট্র্যাটোমণ্ডল
  3. মেসোমন্ডল
  4. তাপমণ্ডল
ব্যাখ্যা
[সাধারণ বিমান/জেট বিমান স্ট্র্যাটোমণ্ডল দিয়ে চলাচল করে। তবে স্বল্প দূরত্বে চলাচলকারী কিছু বিমান ট্রপোমণ্ডল দিয়ে চলাচল করে থাকে। প্রশ্নটি সম্পর্কে কনফিউশন দূর করতে অ্যাাপ থেকে 'তথ্যকল্পদ্রুপ- Post-029' দেখুন।]

• স্ট্রাটোমন্ডল
• বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমন্ডল। যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি।
• এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়।
• এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম। স্ট্রাটোমন্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে। এ স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা। বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়।
• স্ট্রাটোমন্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে। স্ট্রাটোমন্ডলের উপরের দিকে ওজোন গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মন্ডল নামে পরিচিত। এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার।
• ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করে। জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর। তবে এটি
ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌছাতে পারে না।
• এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬০ সেলসিয়াস) অনেক বেশি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮৭.
সমুদ্রের কোথায় জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি থাকে?
  1. সমুদ্রের মধ্যভাগে
  2. গভীর সমুদ্রে
  3. উপকূলের অগভীর অংশে
  4. নদীর মোহনায় 
ব্যাখ্যা

জোয়ার-ভাটা: 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়। সমুদ্রের পানি এভাবে ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
- উপকূলে কোনো একটি স্থানে একটি জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট পর ভাটা হয়। 
- উপকূলে কোনো একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ার বা দুটি ভাটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট। 
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তি প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়। 
অর্থাৎ, সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দু’বার জোয়ার ও দু’বার ভাটা হয়। 
- সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলোর স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার ভাটা বেশি অনুভূত হয়। 
- সমুদ্রের মধ্যভাগ থেকে উপকূলের কাছে পানির অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি থাকে। 
- তবে বিভিন্ন নদীপথে দেশের ভিতরে সমুদ্রের পানি যখন প্রবেশ করে এবং নেমে যায় তাকে জোয়ার ভাটা বলে না। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৮৮.
কোনটি থেকে গ্রাফাইট উৎপন্ন হয়?
  1. চুনাপাথর
  2. কয়লা
  3. গ্রানাইট
  4. বেলেপাথর
ব্যাখ্যা
আগ্নেয় ও পাললিক শিলা অত্যধিক উত্তাপ, চাপ ও রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে পরিবর্তিত হয়ে নতুন যে শিলায় পরিণত হয় তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
রূপান্তরিত শিলা স্ফটিকযুক্ত, খুব কঠিন এবং এতে জীবাশ্ম দেখা যায় না।

বিভিন্ন প্রকার রূপান্তরিত শিলা:
- গ্রাফাইট (কয়লা থেকে উৎপন্ন)
- মার্বেল (চুনাপাথর থেকে উৎপন্ন)
- কোয়ার্টজাইট (বেলেপাথর থেকে উৎপন্ন)
- নিস (গ্রানাইট থেকে উৎপন্ন)
- স্লেট (কাঁদা ও শেল থেকে উৎপন্ন)।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৩৮৯.
কোবাল্ট-৬০ থেকে নির্গত রশ্মি নিচের কোনটি? 
  1. রঞ্জন রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. আলফা রশ্মি
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ এবং এর ব্যবহার: 
- আইসোটোপগুলো হলো একটি নির্দিষ্ট মৌলের রূপভেদ। 
- বিভিন্ন ভরসংখ্যা বিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে ঐ মৌলের আইসোটোপ বলে। 
- অর্থাৎ কোনো মৌলের আইসোটোপ সমূহে প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রোনের সংখ্যা বিভিন্ন হয়। 
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে ‘পরমাণু চিকিৎসায়' তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
- তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ প্ৰধানত রোগ নির্ণয়ের এবং রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। 
- রোগীর শরীরে কোনো স্থানে বা অঙ্গে ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমারের উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের সাহায্যে শনাক্ত করা যায়। 
- কোবাল্ট-60 (60Co) আইসোটোপ থেকে নির্গত শক্তিশালী গামা রশ্মি ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। 
- কোবাল্ট- 60 থেকে নির্গত গামা রশ্মির সাহায্যে অপারেশনের যন্ত্রপতি রোগ জীবাণুমুক্ত করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৩৯০.
গাছ খাদ্য উৎপাদনের সময় বায়ুমন্ডল থেকে কোন পদার্থ গ্রহণ করে?
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. আর্গন
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান ৪ টি।
পানি, কার্বন ডাই অক্সাইড (এই দুটি প্রধান), সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল।
- তার মধ্যে পানি ও ক্লোরোফিল আসে উদ্ভিদের কোষ থেকে, কার্বন ডাই অক্সাইড বায়ুমণ্ডল থেকে এবং সূর্যালোক গ্রহন করে সূর্য থেকে।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই।
১,৩৯১.
২১ শে মার্চ ও ২৩ শে সেপ্টেম্বর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য কেমন হয়? 
  1. দিন বড়, রাত ছোট 
  2. দিন ও রাত সমান 
  3. দিন ছোট, রাত বড় 
  4. দিন সর্বনিম্ন, রাত সর্বোচ্চ 
ব্যাখ্যা

দিবা-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি এবং ঋতু পরিবর্তন: 
- পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে প্রদক্ষিণ করার সময়ে ২১ শে মার্চ নিক্ষরেখার (০°) বরাবর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এরপর ক্রমশ আবর্তন করতে করতে ২১ শে জুন পৃথিবী সূর্যের সাথে এমন এক অবস্থানে আসে, যেখানে ভূ-পৃষ্ঠে ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ অর্থাৎ কর্কটক্রান্তি রেখা বরাবর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে এই সময়ে সূর্য উত্তর গোলার্ধের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধ থেকে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে থাকে। অতএব, উত্তর গোলার্ধে সূর্য ও পৃথিবীর নিকটতম দূরত্বে থাকায়, ২১ শে জুন তারিখে উত্তর গোলার্ধে সর্বাপেক্ষা বড় দিন (১৪ ঘন্টা) ও সর্বাপেক্ষা ছোট (১০ ঘন্টা) রাত হয়ে থাকে, সূর্যের এই অবস্থানকে সূর্যের উত্তরায়ন বলে। 
- সূর্য উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা বা কর্কটক্রান্তি রেখা পর্যন্ত লম্বভাবে কিরণ দিতে পারে। অতএব ২১ শে জুন ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখায় সূর্যের উত্তরায়ণকে কর্কট সংক্রান্তি বলা হয়। 

- ২১শে জুনের পর পৃথিবীর আবর্তনের অর্থাৎ বার্ষিক আবর্তনের ফলে সূর্যের অবস্থান ক্রমশঃ নিচের দিকে সরে আসতে থাকে। ২৩ শে সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখায় লম্বভাবে কিরণ দেয়। ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্যরশ্মি পৃথিবীর ঠিক মধ্যভাগ বরাবর কিরণ দেয় বলে ঐ দুইটি দিন সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান থাকে। 

- ২৩শে সেপ্টেম্বর এর পর থেকে বার্ষিক গতির কারণে সূর্যের অবস্থান ক্রমশ দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে আসতে থাকে। ২২শে ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ অর্থাৎ মকরক্রান্তি রেখা বরাবর লম্বভাবে কিরণ দেয়। দক্ষিণ গোলার্ধে লম্বভাবে সূর্য কিরণ পতিত হবার এই প্রক্রিয়াকে সূর্যের দক্ষিণায়ন বলে, দক্ষিণায়নের প্রক্রিয়াটি মকরসংক্রান্তি নামে অভিহিত। 
- সূর্যকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩৬৫ দিন বা ১ সৌর বছরে পৃথিবী তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে একবার পরিক্রমণ করে। 
- ডিম্বাকৃতির কক্ষপথে পরিভ্রমনকালে ৪ জুলাই পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যকার এই দূরত্ব সর্বাপেক্ষা বেশি থাকে (১৫২.১ মিলিয়ন কি.মি.), একে পৃথিবীর 'অপসূর' (Aphelion) বলা হয়। 
- ৩ জানুয়ারি পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যকার এই দূরত্ব সর্বাপেক্ষা কম থাকে (১৪৭.১ মিলিয়ন কি.মি.) যাকে পৃথিবীর 'অনুসূর' (Perihelion) অবস্থান বলা হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৯২.
এক্সোমণ্ডলের তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড থাকে?
  1. ক) ১০০° সেলসিয়াস থেকে ৫০০° সেলসিয়াস
  2. খ) ৫০° সেলসিয়াস থেকে ১৫০০° সেলসিয়াস
  3. গ) ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস
  4. ঘ) ৯০০° সেলসিয়াস থেকে ২০০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
এক্সোমণ্ডল (Exosphere):
- তাপমণ্ডলের উপরে প্রায় ৯৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত যে বায়ুস্তর আছে তাকে এক্সোমণ্ডল বলে।
- এই স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায় ৷

এক্সোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য:
- এক্সোমণ্ডল, তাপমণ্ডল অতিক্রম করে ৯৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়।
- এটি ক্রমান্বয়ে আন্তগ্রহ স্থান Interplanetary Space) এ প্রবেশ করে ৷
- এ স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
- এ স্তরে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস যেমন— অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন এবং হিলিয়াম ধারণ করে, কেননা মধ্যাকর্ষণের ঘাটতির কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলো সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৯৩.
উত্তর গোলার্ধে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু প্রবাহিত হয়-
  1. সোজা
  2. ঘড়ির কাটার বিপরীতে
  3. ঘড়ির কাটার দিকে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- একটি অঞ্চলে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলে একটি কেন্দ্রাভিমুখী ঘূর্ণায়মান প্রচন্ড বায়ুপ্রবাহ থেকেই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- উত্তর গোলার্ধে এ বায়ু ঘড়ির কাঁটার বিপরীতমুখী অর্থাৎ উত্তরাভিমুখী এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণাভিমুখী প্রবাহিত হয়।
- গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় এবং এ অঞ্চলের বাইরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় গ্রীষ্মমন্ডল বহির্ভূত ঘূর্ণিঝড়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯৪.
ট্রপোস্ফিয়ারে সাধারণত কোন ঘটনা ঘটে?
  1. তুষারপাত
  2. বৃষ্টিপাত
  3. কুয়াশা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: ঘ) সবগুলোই। 

ট্রপোস্ফিয়ারে বায়ুমণ্ডলের সব ধরনের আবহাওয়া ঘটনা ঘটে, যেমন বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, কুয়াশা।
 
ট্রপোমণ্ডল (Troposphere): 
- এই স্তরটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর, ভুপৃষ্ঠের সঙ্গে লেগে আছে। 
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়। 
- ট্রপোমণ্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি (Tropopause)। 
- এই স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 

ট্রপোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য: 
- ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা কমতে থাকে। সাধারণভাবে প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬.৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়। 
- উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায়। 
- নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে। 
- ধূলিকণার অবস্থানের ফলে সমগ্র বায়ুমণ্ডলের ওজনের প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে। 
- যে উচ্চতায় তাপমাত্রা বন্ধ হয়ে যায় তাকে ট্রপোবিরতি বলে। এখানে তাপমাত্রা - ৫৪° সেলসিয়াসের নিচে হতে পারে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৯৫.
দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমনের উদাহরণ কোনটি?
  1. বেড়িবাঁধ তৈরি
  2. জনগণকে সচেতন করা
  3. প্রশিক্ষণ দেওয়া
  4. পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। 

• প্রতিরোধ (Prevention)
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে।
- দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে।

কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

⇒ অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদিকার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

 উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এসএসসি, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৯৬.
ভূমিকম্প সংঘটন বিন্দুর সরাসরি উপরে ভূ-পৃষ্ঠের বিন্দুকে বলা হয়-
  1. এনডোসেন্টার
  2. এপিসেন্টার
  3. পিকপয়েন্ট
  4. মিডপয়েন্ট
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প: 
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়। 
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র বলা হয়। 
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র বা Centre বা Focus বলে। 
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলে। 
- সাধারণত ভূ-ত্বকের ৩২ কি.মি. এর মধ্যে ভূমিকম্পের উৎস স্থান থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গভীরতা আরও বেশি হতে পারে। 
• কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে পড়ে। 
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে।
- ভূমিকম্প মাপন যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার।
- ভূমিকম্পনের রেখা যে কাগজে অংকিত হয়, তাকে সিসমোগ্রাফ বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৯৭.
কত দিনে চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে নিজ কক্ষপথে একবার ঘুরে আসে?
  1. ২১ দিনে
  2. ২৪ দিনে
  3. ২৭ দিনে
  4. ২৯ দিনে
ব্যাখ্যা
চাঁদ (Moon):
- পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব ৩,৮১,৫০০ কিলোমিটার।
- চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে নিজ কক্ষপথে ২৯ দিনে একবার আর্বতন করে।
- চাঁদের ব্যাস ৩,৪৭৫ কিলোমিটার।
- ১৯৬৯ সালের ২১ শে জুলাই সর্বপ্রথম মানুষ চাঁদে অবতরণ করেন।
- চাঁদে পানি, বায়ু, উদ্ভিদ বা প্রাণী নেই। চাঁদে বহু সমতলভূমি, পাহাড় পর্বত ও বৃহদাকার গর্তের উপরিভাগ দেখা যায়। চাঁদের সবচেয়ে বড় গহ্বরটির নাম ক্লেভিউস।
- চাঁদের আকাশ দিনে-রাতে একই রকম কালো। চাঁদের নিজস্ব আলো নেই।
- সূর্যের আলোতে চাঁদ আলোকিত হয়।
- চাঁদের যে পৃষ্ঠে সূর্যালোক পড়ে সে পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১০০° সেলসিয়াস এর ওপরে এবং অন্ধকার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ১৫০° সেলসিয়াসের নীচে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৯৮.
‘মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েব বিকিরণ’ (Cosmic Microwave Background Radiation- CMB) - এর অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) এডউইন হাবল
  2. খ) অ্যান্থনি এডওয়ার্ড স্টার্ক
  3. গ) রবার্ট উইলসন
  4. ঘ) জর্জ গ্যামো
ব্যাখ্যা

মহাজাগতিক- মাইক্রোওয়েভ পশ্চাৎপট বিকিরণ (Cosmic Microwave Background Radiation- CMB):

যেহেতু গ্যালাক্সিগুলো পরষ্পর হতে দূরে সরে যাচ্ছে, সুতরাং অতীতে কোনো একসময় সেগুলো অবশ্যই একসাথে ছিল। প্রাথমিক অবস্থায় মহাবিশ্ব অকল্পনীয় ঘনত্বের বস্তু ও বিকিরণ দ্বারা গঠিত ছিল। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের ফলে, এই বস্তু ও বিকিরণ ততোই শীতল হতে থাকল। এর প্রেক্ষিতে বিকিরণের কণা বা ফোটনের তরঙ্গদৈর্ঘ্য ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকল।
মহাবিশ্বের বিকিরিত শক্তির একটি নির্দিষ্টমাত্রা বা পরিমাণ আছে এবং সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বে ঐ নির্দিষ্ট শক্তিও সম্প্রসারিত অংশে বিকিরিত হচ্ছে। এখনো, ঐ বিকিরিত অবশিষ্ট শক্তির অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়। এই বিকিরণকে মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ পশ্চাৎপট বিকিরণ বলে।

ষাটের দশকের মাঝামাঝি ১৯৬৫ সালে এই জাতীয় বিকিরণের প্রথম সন্ধান পান আর্নো অ্যালান পেনজিয়াস (Arno Allan Penzians) এবং রবার্ট উইলসন (Robert Wilson) নামের দুইজন মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।

উৎস: একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)

১,৩৯৯.
যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে রেখা অতিক্রম করেছে তাকে কী বলে?
  1. মূল মধ্যরেখা
  2. সমাক্ষরেখা
  3. ১৮০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা
  4. ১৮০ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা
ব্যাখ্যা
মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian): 
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উপকণ্ঠে গ্রিনিচ (Greenwich) মানমন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে তাকে মূল মধ্যরেখা বলে।
- এই রেখার মান ০ ডিগ্রি ধরা হয়েছে।
- মূল মধ্যরেখা থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণের সাহায্যে অপরাপর দ্রাঘিমারেখাগুলো অঙ্কন করা যায়।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে ৪৫ ডিগ্রি পূর্বে যে মধ্যরেখা বা দ্রাঘিমারেখা তার উপর সকল স্থানের দ্রাঘিমা ৪৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে যে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের দ্রাঘিমা বলা হয়।
- আমরা আরও জানি, গ্রিনিচের দ্রাঘিমা ০ ডিগ্রি।
- পৃথিবীর পরিধি দ্বারা উৎপন্ন কোণ ৩৬০ ডিগ্রি।
- মূল মধ্যরেখা এই ৩৬০ ডিগ্রিকে ১ ডিগ্রি অন্তর অন্তর সমান দুই ভাগে অর্থাৎ ১৮০ ডিগ্রি পূর্ব ও ১৮০ ডিগ্রি পশ্চিমে ভাগ করেছে।
- পৃথিবী গোলাকার বলে ১৮০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা ও ১৮০ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমা মূলত একই মধ্যরেখায় পড়ে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৪০০.
গ্রহের কোনটি থাকে না?
  1. নিজস্ব ভর
  2. গতিবেগ
  3. নিজস্ব আলো
  4. নিজস্ব উপগ্রহ
ব্যাখ্যা
- গ্রহের নিজস্ব আলো থাকে না। 

গ্রহ (Planet):

- গ্রহ (Planet) গ্রিক শব্দ "প্লানেটেস" (অর্থ: "ভ্রমণকারী") থেকে উদ্ভূত — এমন একটি প্রাকৃতিক বড় আকারের বস্তু, যা সূর্য বা অন্য কোনো নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান থাকে এবং যার ভেতর পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে নিজ থেকে শক্তি উৎপন্ন হয় না।
- আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন (IAU) অনুসারে, আমাদের সৌরজগতের ৮টি গ্রহ হলো (সূর্য থেকে দূরত্ব অনুযায়ী): বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, এবং নেপচুন।
- প্লুটো একসময় নবম গ্রহ হিসেবে স্বীকৃত ছিল, কিন্তু ২০০৬ সালে IAU এর সংজ্ঞা অনুযায়ী এটি গ্রহের মর্যাদা হারায় এবং এখন এটি একটি বামন গ্রহ (dwarf planet) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়।
- ২০শ শতকের শেষভাগ পর্যন্ত কেবল আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলোই পরিচিত ছিল।
- পরে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন যে, অন্য নক্ষত্রগুলোকেও কেন্দ্র করে গ্রহ ঘুরছে।

একটি বস্তুকে গ্রহ হিসেবে চিহ্নিত করতে বিজ্ঞানীরা সাধারণত কিছু শর্ত আরোপ করেন:
- এটি যথেষ্ট বড় হতে হবে (সাধারণত ১,০০০ কিমি বা তার বেশি),
- নিজের মাধ্যাকর্ষণের কারণে এটি গোলাকার (আনুমানিক ৭০০ কিমি ব্যাস) আকৃতি ধারণ করতে সক্ষম হতে হবে,
- এর ভর এমন হতে হবে যাতে কেন্দ্রস্থলে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু না হয়।

উৎস: Britannica.