ব্যাখ্যা
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে শক্তির উৎস হচ্ছে নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া।
- নিউক্লিয় ফিউশন নীতির উপর ভিত্তি করে হাইড্রোজেনের আইসোটোপ- ডিউটেরিয়াম, ট্রিটিয়াম ব্যবহার করে হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করা হয়।
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১১ / ২৪ · ১,০০১–১,১০০ / ২,৪০৪
• জোয়ার-ভাঁটার তেজ সবচেয়ে বেশি হয় অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময়, কারণ তখন সূর্য ও চন্দ্র এক রেখায় থাকে। সুতরাং সঠিক উত্তর: ক) অমাবস্যার তিথিতে।
পানির উচ্চতা ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ:
- পানির উচ্চতার উপর ভিত্তি করে জোয়ার ভাঁটাকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. তেজ কটাল বা ভরা কটাল এবং
২. মরা কটাল।
তেজ কটাল বা ভরা কটাল (Spring Tide):
- চন্দ্রের মত সূর্যও জোয়ার ভাঁটা সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
- যখন অমাবস্যার সৃষ্টি হয় তখন সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে।
- অন্যদিকে পূর্ণিমার সময় পৃথিবীর একপাশে সূর্য ও অন্যপাশে চন্দ্র অবস্থান করে। এই সময় চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। এ সময় সূর্যের আকর্ষণ চন্দ্রের আকর্ষণকে সাহায্য করে।
- মূলত পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণে জোয়ারের পানি ফুলে উঠে। এই জোয়ারকেই বলা হয় ভরা কটাল বা তেজ কটাল।
- পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী পৃষ্ঠের যে স্থানে চন্দ্রের প্রভাবে মুখ্য জোয়ার হয়, সে স্থানে সূর্যের প্রভাবে গৌণ জোয়ার হয়।
- আবার চন্দ্রের প্রভাবে যে স্থানে গৌণ জোয়ার হয় ঐ স্থানে সূর্যের আকষর্ণে মুখ্য জোয়ার হয়।
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
◉ ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের কেন্দ্রকে "চোখ" (Eye) বলা হয়। এই কেন্দ্রে বায়ুচাপ অত্যন্ত নিম্ন থাকে, যা আশপাশের উচ্চ বায়ুচাপবিশিষ্ট বাতাসকে কেন্দ্রের দিকে টেনে আনে।
ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone।
- ঘূর্ণিঝড়ের বাতাস কুণ্ডলি পাকানো সাপের আকার ধারণ করে বলে এরূপ নামকরণ করা হয়েছে।
- বায়ুর অনিয়মিত প্রবাহের দরুন ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়। সমুদ্রের পানিপৃষ্ঠের বায়ুপুঞ্জের মধ্যে নিম্নস্তরের বায়ু উষ্ণ ও আদ্র হয় এবং ওপরের দিকের বায়ু শীতল ও শুষ্ক হয়।
- বায়ুর প্রবাহের সময় নিম্নের উষ্ণ ও আদ্র বায়ু ওপরে ওঠে ওপরের শীতল বায়ুর সাথে ঘনীভূত হয়ে আদ্রতা বাড়ে এবং বৃষ্টিপাত হয়।
- ঘূর্ণিঝড় সাধারণত সমুদ্রের ওপর সংঘটিত হয়ে সমুদ্রের পাশ্ববর্তী এলাকায় ক্ষতিসাধন করে।
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় বায়ু প্রবাহের গতিবেগ থাকে ৬৫ কি.মি বা এরও বেশি।
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলে।
- ঘূণিঝড়ের জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি নিকটবর্তী এলাকায় অন্তত ২৭ ডিগ্রি সেলিসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আদ্র বায়ু প্রয়োজন হয়।
উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays):
- মহাজগতিক রশ্মি ইংরেজি হলো Cosmic rays.
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বা Cosmic rays বলা হয়।
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হলো মহাজাগতিক।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি প্রভৃতি কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর এক জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য জায়গায় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এভাবে ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা হয়। উপকূলের কোনো স্থানে পর পর দুইটি জোয়ার কিংবা পর পর দুইটি ভাটার মধ্যবর্তী সময় ব্যবধান ১২ ঘন্টা। জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা পরে হয় ভাটা।
সূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
ভূমিকম্প:
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ-পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে, তাকে উপকেন্দ্র বলা হয়।
- সাধারণত ভূ-ত্বকের ৩২ কি.মি. এর মধ্যে ভূমিকম্পের উৎস স্থান থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গভীরতা আরও বেশি হতে পারে।
- কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ-এর মত ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে।
- ভূমিকম্প মাপন যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার, ভূমিকম্পনের রেখা যে কাগজে অংকিত হয়, তাকে সিসমোগ্রাফ বলে।
ভূমিকম্পের কারণসমূহ:
১. ভূ-ত্বক কতকগুলো প্লেট দ্বারা গঠিত। এই প্লেটসমূহ বিভিন্ন দিকে যেমন: একে অপরের বিপরীত দিকে, একে অপরের অভিমুখে এবং পরস্পর সমান্তরালভাবে সঞ্চালিত হয়। এইরূপ সঞ্চালনের ফলে সৃষ্ট চাপ থেকে আকস্মিকভাবে প্রচন্ড কম্পন সৃষ্টি হয়। ভূ-পৃষ্ঠে এই কম্পন ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে।
২. ভূ-গর্ভস্থ তাপের ফলে বিপুল পরিমাণ বাষ্প সৃষ্টি হলে, ঐ বাষ্প ভূ-ত্বকের নিচের অংশে প্রবল বেগে ধাক্কা দেয়। ফলে ভূ-পৃষ্ঠে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।
৩. ভূ-ত্বকের বিভিন্ন অংশে তাপ বিকিরণের ফলে সংকুচিত হলে সংলগ্ন এলাকার ভূ-ত্বকের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে ভূ-অভ্যন্তরে বিভিন্ন শিলারাশির মধ্যে টান সৃষ্টির হয়, ফলে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।
৪. অনেক ক্ষেত্রে আগ্নেগিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময়ে ঐ এলাকা কেঁপে উঠে ভূমিকম্প হয়।
- অন্যান্য আরও কতিপয় কারণ যেমন: ভূ-গর্ভস্থ চাপের হ্রাস-বৃদ্ধি, শিলাচ্যুতি, ভূমিধ্বস, হিমবাহের চলাচল ইত্যাদি কারণে ভূমিকম্প সংঘটিত হতে পারে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• দুর্যোগ:
- যে অবস্থা অস্বাভাবিক ও অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, পরিবেশের ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটে তাই দুর্যোগ।
- এর ফলে বাহ্যিকভাবে ক্ষতিসাধন, জীবনহানি কিংবা পরিবেশগতভাবে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয়।
দুর্যোগ বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। প্রধানত দুর্যোগ দুই ধরনের-
১/ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও
২/ মানবসৃষ্ট দুর্যোগ।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- প্রাকৃতিক কারণে যে সকল দুর্যোগ সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং সাধারণত এর উপর মানুষের কোন নিয়ন্ত্রন থাকে না।
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ।
মানবসৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
- মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
- যেমন- যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়; অষ্টম শ্রেণীর বোর্ড বই।
কৃষ্ণবিবরের অসীম ভর, অসীম ঘনত্ব, অসীম মুক্তিবেগ, অসীম অভিকর্ষজ ত্বরণ হলেও এর আয়তন সসীম।
অর্থাৎ ক্ষুদ্র একটি অংশে বিশাল পরিমাণ ভর কেন্দ্রীভূত অবস্থায় থাকে।
কৃষ্ণবিবরের মহাকর্ষ বল এতই প্রবল যে আলোর কণা ফোটনও এই মহাকর্ষ বলকে অতিক্রম করে দৃষ্টিগ্রাহ্য হতে পারে না।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল; হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটা বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। জি ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী।
অন্যদিকে,
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন – স্টিফেন হকিং।
- স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন প্রথিতযশা পদার্থবিজ্ঞানী।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – A Brief History of Time।
সুতরাং বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।
উৎস: ব্রিটানিকা
বাংলাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে সাড়ে তেইশ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা বা কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করে এবং এখানকার জলবায়ু ক্রান্তিয় জলবায়ুর অন্তর্গত।
(সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি)
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অবদান:
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে।
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন।
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়।
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী জি. মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন।
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান।
- পরবর্তীতে বিজ্ঞানী জি. মার্কনী বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• কেপলারের তৃতীয় সূত্রকে সাধারণত পর্যায়কালের সূত্র বা লক্ষ্যকালের সূত্র (Law of Periods) বলা হয়। এটি গ্রহগুলোর কক্ষপথের আকার ও তাদের সূর্যের চারপাশে আবর্তনের সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। সূত্রটি অনুযায়ী, কোনো গ্রহের কক্ষপথের অর্ধ-প্রধান অক্ষের ঘনের মান (a3) এবং তার কক্ষপথ সম্পূর্ণ করতে লাগা সময়ের বর্গের মান (T2) এর মধ্যে একটি ধ্রুবক অনুপাত থাকে। সহজভাবে বলতে গেলে, বড় কক্ষপথের গ্রহের কক্ষকাল বেশি হয় এবং ছোট কক্ষপথের গ্রহের কক্ষকাল কম হয়। এই সূত্র সৌরজগতে গ্রহের গতিবিধি ও কক্ষপথ বিশ্লেষণে বিশেষ গুরুত্ব রাখে। তাই সঠিক উত্তর হলো: ক) পর্যায়কালের সূত্র।
কেপলারের সূত্র:
- ডেনমার্কের জ্যোতির্বিদ জোহান কেপলারের (Johann Kepler) গ্রহ সম্পর্কিত সূত্র সূর্যের চারদিকে গ্রহগুলোর গতি ব্যাখ্যা করে।
- ১৬১৮ সালে কেপলার বলেন, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- এই সম্পর্কে তিনি তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- তার নাম অনুসারে এই তিনটি সূত্রকে কেপলার এর গ্রহ সম্পর্কীয় গতিসূত্র বলা হয়।
- সূত্র তিনটি:
প্রথম সূত্র (উপবৃত্ত সূত্র):
- সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
দ্বিতীয় সূত্র (ক্ষেত্রফল সূত্র):
- প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্র সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
তৃতীয় সূত্র (আবর্তনকালের সূত্র বা, পর্যায়কালের সূত্র):
- সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক।
উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাঃ
- ১৮০° পূর্ব দ্রাঘিমা এবং ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা মূলত একই। একেই বলে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা।
- আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রমের সময় পশ্চিমগামী যানের ক্ষেত্রে একদিন যোগ এবং পূর্বগামী যানের ক্ষেত্রে একদিন বিয়োগ হবে।
• মূল মধ্যরেখাঃ
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের কাছে গ্রিনিচ (Greenwich) মান মন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত কল্পিত রেখাকে ০০ দ্রাঘিমা বা মূল মধ্যরেখা বলা হয়।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমের কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বই হলো সেই স্থানের দ্রাঘিমাংশ।
- প্রতি ১০ দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য ৪ মিনিট সময় ব্যবধান হয়।
উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
• শুক্র (Venus):
- বুধের মতো শুক্র গ্রহকেও ভোরের আকাশে শুকতারা এবং সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যাতারা হিসেবে দেখা যায়।
- শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে কোনো তারা নয়।
- কিন্তু নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে বলেই আমরা একে ভুল করে তারা বলি।
- শুক্র গ্রহটি ঘন মেঘে ঢাকা। তাই এর উপরিভাগ থেকে সূর্যকে কখনই দেখা যায় না।
- শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন ডাইঅক্সাইডের তৈরি।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ।
- সূর্য থেকে শুক্র গ্রহের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর দিন ও রাতের মধ্যে আলোর বিশেষ কোনো তারতম্য হয় না।
- এখানে বৃষ্টি হয় তবে এসিড বৃষ্টি।
- শুক্রের ব্যাস ১২,১০৪ কিলোমিটার।
- সূর্যকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সুতরাং শুক্রে ২২৫ দিনে এক বছর।
- শুক্রের কোনো উপগ্রহ নেই।
- সকল গ্রহ এদের নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বে পাক খেলেও শুক্র গ্রহ পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাক খায়। (বোর্ড বই)
উল্লেখ্য নাসার তথ্য মতে,
- শুক্রের মতো, ইউরেনাসও পূর্ব থেকে পশ্চিমে ঘূর্ণন করে।
- তবে ইউরেনাসের বিশেষত্ব হলো এটি পার্শ্বাভিমুখে ঘূর্ণন করে, যা একে অনন্য করে তুলেছে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯০° পূর্ব-শৈলশিরা (Ninety Degree East Ridge):
- এই শৈলশিরাটি বঙ্গোপসাগরের মাঝ বরাবর উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা বরাবর বিস্তৃত বলে একে ৯০° পূর্ব শৈলশিরা বলে।
- এটি বেঙ্গল শৈলশিরা নামেও পরিচিত।
- এই শৈলশিরা ১৫০° উত্তর অক্ষাংশ থেকে শুরু করে ৩০° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ।
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উস্কা (Meteor):
- রাতের আকাশে “ছুটন্ত তারা” হিসেবে দেখা জ্বলন্ত বস্তুর নাম- উল্কা।
- রাতের মেঘমুক্ত আকাশে অনেক সময় মনে হয় যেন নক্ষত্র ছুটে যাচ্ছে বা কোনো নক্ষত্র যেন এই মাত্র খসে পড়ল।
- এই ঘটনাকে নক্ষত্রপতন বা তারা খসা বলে।
- এরা কিন্তু আসলে কোনো নক্ষত্র নয়, এদের নাম উল্কা ।
- মহাশুন্যে অজস্র জড়পিন্ড ভেসে বেড়ায়।
- এই জড়পিণ্ডগুলো অভিকর্ষ বলের আকর্ষণে প্রচণ্ড গতিতে (সেকেন্ডে প্রায় ৩ কিলোমিটার) পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে।
- বায়ুর সংস্পর্শে এসে বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে এরা জ্বলে ওঠে।
- ফলে এদের ছুটন্ত তারা বলে মনে হয়।
- বেশিরভাগ উল্কাপিন্ডই আকারে বেশ ক্ষুদ্র।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
পানির উচ্চতা ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ:
- পানির উচ্চতার উপর ভিত্তি করে জোয়ার ভাঁটাকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. তেজ কটাল বা ভরা কটাল এবং
২. মরা কটাল।
তেজ কটাল বা ভরা কটাল (Spring Tide):
- চন্দ্রের মত সূর্যও জোয়ার ভাঁটা সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
- যখন অমাবস্যার সৃষ্টি হয় তখন সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে।
- অন্যদিকে পূর্ণিমার সময় পৃথিবীর একপাশে সূর্য ও অন্যপাশে চন্দ্র অবস্থান করে। এই সময় চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। এ সময় সূর্যের আকর্ষণ চন্দ্রের আকর্ষণকে সাহায্য করে।
- মূলত পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণে জোয়ারের পানি ফুলে উঠে। এই জোয়ারকেই বলা হয় ভরা কটাল বা তেজ কটাল।
- পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী পৃষ্ঠের যে স্থানে চন্দ্রের প্রভাবে মুখ্য জোয়ার হয়, সে স্থানে সূর্যের প্রভাবে গৌণ জোয়ার হয়।
- আবার চন্দ্রের প্রভাবে যে স্থানে গৌণ জোয়ার হয় ঐ স্থানে সূর্যের আকষর্ণে মুখ্য জোয়ার হয়।
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• পৃথিবীতে দিন-রাত্রি সংঘটিত হয় আহ্নিক গতির কারণে। আহ্নিক গতি বলতে পৃথিবী তার অক্ষের চারপাশে ঘূর্ণনকে বোঝায়। এই ঘূর্ণনের ফলে পৃথিবীর এক পাশ সূর্যের দিকে থাকে, যা দিন, আর বিপরীত পাশ অন্ধকারে থাকে, যা রাত সৃষ্টি করে। পৃথিবী একবার পূর্ণ ঘূর্ণন করতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। তাই প্রতিদিন এই ঘূর্ণনের কারণে সূর্য উঠা ও অস্ত যাওয়ার পরিবর্তন ঘটে এবং দিন-রাত্রির পর্যায়বতী চক্র চলতে থাকে। মধ্যাকর্ষণ শক্তি, দোলন গতি বা বার্ষিক গতি দিন-রাত্রির জন্য নয়, বরং অন্যান্য প্রাকৃতিক ঘটনা ও ঋতু পরিবর্তনের জন্য দায়ী। তাই দিন-রাত্রির জন্য সঠিক কারণ হলো আহ্নিক গতি।
আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলাফল সমূহ-
• দিন-রাত্রি সংঘটন,
• জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি,
• বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি,
• তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি,
• জীব জগতের সৃষ্টি ও বংশবিস্তার প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর অবিরাম ঘূর্ণনের সাথে সাথে নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে) নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে যা পৃথিবীর বার্ষিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে ঋতু পরিবর্তন ও দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি হয়ে থাকে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১। কঠিন আবর্জনা (Solid Wastes):
- যে সকল কঠিন পদার্থ পরিবেশের দূষণ ঘটায় সেগুলো কঠিন আবর্জনার অন্তর্ভুক্ত।
- যেমন- গৃহস্থালি ও জবাইখানার কঠিন বর্জ্য (সবজির অব্যবহৃত অংশ, মাছ, মুরগির ময়লা) পরিবেশকে দূষিত করে।
- এছাড়াও নির্মাণ কাজের পর অবশিষ্ট কঠিন পদার্থ বাতাসের সাথে মিশে পরিবেশ দূষণ ঘটায়।
- রান্নার পরে অব্যবহৃত ছাই (Ashes) বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবেশে দূষণ ঘটায়।
- শিল্পজ আবর্জনাও নদী ও সাগরের পানিকে দূষিত করে এবং নির্গত ধোঁয়া বায়ুদূষণও ঘটায়।
- যেমন চিনি কারখানা, সার কারখানা, লৌহ ও ইস্পাত নির্মাণ কারখানা, ইটের ভাঁটা ও চামড়া শিল্পের কারখানা থেকে কঠিন বর্জ্য ও ধোঁয়া পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে।
২। তরল আবর্জনা (Liquid Wastes):
- পরিবেশের তরল দূষকসমূহ হলো- তেল, অ্যাসিড, অ্যাসিড বৃষ্টি, তরল কীটনাশক ও অন্যান্য বিষাক্ত তরল পদার্থ।
- বর্তমানে বাংলাদেশের হাওড়, বাওড়, নদীতে ইঞ্জিন চালিত নৌকা, লঞ্চ, স্টিমারের চলন চালু হওয়ার কারণে তেল নিঃসারণের ফলে জলজ প্রতিবেশ দূষিত হচ্ছে।
- এছাড়া তেলবাহী জাহাজ এর দুর্ঘটনার ফলে সামুদ্রিক প্রতিবেশও দূষিত হয়।
- পানিতে অ্যাসিডের পরিমাণ অধিক হলে এটি জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর জন্য হুমকি হয়ে যায়।
- কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত তরল কীটনাশক মাটির উর্বরতা হ্রাস করে এবং বৃষ্টির পানির সাথে মিশে নদী ও সাগরের পানিতে মিশে ও জলজ প্রতিবেশের ক্ষতি করে।
- কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত জীবানুনাশক, কীটনাশক যেমন- D.D.T. এলড্রিন, ক্লোরোডেন ব্যবহৃত হচ্ছে, যা পরিবেশ এবং মানুষের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
৩। গ্যাসীয় অবর্জনা (Gaseous Wastes):
- উদ্ভিদ ও প্রাণিকূলের অস্তিত্বের জন্য বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য অত্যন্ত প্রয়োজন।
- প্রাণী শ্বাসপ্রশ্বাস তথা জীবনধারণের জন্য অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং উদ্ভিদ সূর্যালোকের সাহায্যে পানি ও ক্লোরোফিল ব্যবহার করে কার্বন ডাই অক্সাইডের সাহায্যে প্রস্তুত করে এবং অক্সিজেন (O2) ত্যাগ করে।
- কিন্তু বর্তমানে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং নগরায়নের কারণে বাতাসে কার্বন মনো অক্সাইড (CO), নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2), সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), ওজোন (O3) প্রভৃতি গ্যাসের মাত্রা বেড়ে গিয়ে পরিবেশকে দূষিত করছে।
- এই সব গ্যাসকে পরিবেশের গ্যাসীয় দূষক হিসেবে ধরা হয়।
৪। ওজনহীন প্রভাবক (Waste without weight):
- পরিবেশের ওজনহীন প্রভাবক হিসেবে ধরা হয় এক্সরে রশ্মি, আলফা রশ্মি ও গামা রশ্মিকে।
- এই সকল রশ্মির কারণে ক্যান্সার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া শব্দকে ওজনহীন দূষক হিসেবে ধরা হয়।
উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
পানির উচ্চতা ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ:
- পানির উচ্চতার উপর ভিত্তি করে জোয়ার ভাঁটাকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. তেজ কটাল বা ভরা কটাল এবং
২. মরা কটাল।
তেজ কটাল বা ভরা কটাল (Spring Tide):
- চন্দ্রের মত সূর্যও জোয়ার-ভাঁটা সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
- যখন অমাবস্যার সৃষ্টি হয় তখন সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে।
- অন্যদিকে পূর্ণিমার সময় পৃথিবীর একপাশে সূর্য ও অন্যপাশে চন্দ্র অবস্থান করে। এই সময় চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। এ সময় সূর্যের আকর্ষণ চন্দ্রের আকর্ষণকে সাহায্য করে।
- মূলত পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণে জোয়ারের পানি ফুলে উঠে, এই জোয়ারকেই বলা হয় ভরা কটাল বা তেজ কটাল।
- পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী পৃষ্ঠের যে স্থানে চন্দ্রের প্রভাবে মুখ্য জোয়ার হয়, সে স্থানে সূর্যের প্রভাবে গৌণ জোয়ার হয়।
- আবার চন্দ্রের প্রভাবে যে স্থানে গৌণ জোয়ার হয় ঐ স্থানে সূর্যের আকষর্ণে মুখ্য জোয়ার হয়।
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
◉ এল নিনো হলো একটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় জলবায়ু ঘটনা, যা ঘটে যখন পূর্ব-মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। সাধারণত প্রতি ২–৭ বছর অন্তর ঘটে এবং কয়েক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
এল নিনো:
- এল নিনো এক প্রকার উষ্ণ স্রোত।
- 'এল নিনো' (El Nino) একটি 'স্প্যানিশ' শব্দ।
- এল নিনো প্রতি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর ঘটে।
- তা বিরাজমান থাকে প্রায় ১ বছর কখনো কখনো ১৮ মাস পর্যন্ত যখন, সমুদ্র পৃষ্ঠ’র তাপমাত্রা বিস্তর পার্থক্য হয় (প্রায় ০.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস)।
- এল নিনোর কারণে অস্ট্রেলিয়াতে খড়া দেখা দিতে পারে।
- এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে অতিবর্ষণ ও ভারতে বর্ষাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
- চলমান এল নিনো বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে আটকে রাখার লক্ষ্যমাত্রাকে অতিক্রম করে যেতে পারে।
- সাধারণত যে বছর এল নিনো শুরু হয়, তার পরের বছরটিতে তীব্র গরম অনুভূত হয়।
- এর আগে ২০১৫ সালে এল নিনো হয়েছিল বলে ২০১৬ সালে বিশ্বে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা দেখা গিয়েছিল।
অপরদিকে, 'লা নিনো' শব্দটিও ''স্প্যানিশ' যার অর্থ বালিকা। এল নিনো প্রভাবে সাগরে উষ্ণ পানির স্রোত প্রবাহিত হবার পর পরবর্তীতে সাগরের পানির উষ্ণতা কমে আসে। সাগরের পানির এ উষ্ণতা কমে আসাই লা নিনো নামে পরিচিত। লা নিনোর প্রভাবে অতিবৃষ্টি ও বন্যা হয়।
উৎস: National Geographic Society.
সব প্লেনেই ব্ল্যাকবক্স থাকে। এসব বক্স প্লেন চলার সময় বিভিন্ন তথ্য ধারণ করে রাখে।
ব্ল্যাকবক্সের সংখ্যা এক বা ক্ষেত্রবিশেষে দুটি হয়।
একটি ককপিটে পাইলটদের কথোপকথন ধারণ করে, যা ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) নামে পরিচিত।
অপরটি প্লেন চলাচলের বিভিন্ন তথ্য ধারণ করে, যা ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (এফডিআর) নামে অভিহিত।
সূত্রঃ প্রথম আলো
বায়ুমণ্ডল:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল।
- বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere; বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর অপরিহার্য অংশ।
- বায়ুমণ্ডল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে পৃথিবীর গায়ের সাথে লেগে থাকে এবং আবর্তন করে। তবে বায়ু কঠিন ভূমির সাথে সমানভাবে চলতে না পারায় সামান্য পশ্চাতে পড়ে থাকে।
বায়ুমণ্ডলের উপাদানের পরিমাণ:
উপাদানের নাম ⇒ শতকরা অংশ:
• নাইট্রোজেন ⇒ ৭৮.০২,
• অক্সিজেন ⇒ ২০.৭১,
• আর্গন ⇒ o.৮০,
• কার্বন ডাই-অক্সাইড ⇒ ০.০৩,
• ওজোন ⇒ ০.০০০১,
• অন্যান্য গ্যাস ⇒ ০.০১৯৯,
• জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১ এবং
• ধূলিকণা ও কনিক্স ⇒ ০.০১ ।
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- পৃথিবী গতিশীল।
- পৃথিবীর আহ্নিক গতি বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম।
- নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর পরিধি সবচেয়ে বেশি।
- এজন্য নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর আবর্তন বেগ সবচেয়ে বেশি।
- যা ঘণ্টায় প্রায় ১৭০০ কিলোমিটার।
- ঢাকায় পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগ ১৬০০ কিলোমিটার।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
- পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘোরে, তাই সূর্য সবসময় পূর্ব দিকে আগে উদিত হয়। বাংলাদেশের চেয়ে পূর্ব দিকে অবস্থিত দেশগুলো (যেমন: থাইল্যান্ড, জাপান) ভূ-পৃষ্ঠের ঘূর্ণন অনুযায়ী সূর্যের সামনে আগে আসে। তাই পূর্ব দিকের দেশগুলোর সময় বাংলাদেশের সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, জাপানের অবস্থান বাংলাদেশের পূর্বে হওয়ায় সেখানে বাংলাদেশের অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে দিন শুরু হয়।
স্থানভেদে সময়ের পার্থক্য:
- প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট।
- পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘুরছে, এজন্যই পূর্ব দিকের স্থানগুলোতে আগে দিন হচ্ছে এবং পশ্চিম দিকের স্থানগুলোতে পরে দিন হচ্ছে। এতে বুঝা যায়, বাংলাদেশ থেকে যেসব দেশ পূর্ব দিকে অবস্থিত, সেসব দেশে আগে সকাল হবে এবং পশ্চিম দিকের দেশগুলোতে পরে সকাল হবে।
- প্রতি ডিগ্রি দূরত্বের জন্য সময়ের ব্যবধান হচ্ছে ৪ মিনিট। এই প্রতিটি ডিগ্রিকে ৬০ মিনিটে ভাগ করা হয় এবং প্রতি ১ মিনিট দূরত্বের জন্য ৪ সেকেন্ড সময়ের পার্থক্য হয়।
- এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করতে হবে দূরত্বের ব্যবধানের মিনিটকে অনেকে সময়ের মিনিট হিসেবে ধরে ভুল করে। আসলে দূরত্বের মিনিটের ক্ষেত্রে ১ ডিগ্রিকে ৬০ মিনিটে ভাগ করা হয়। এই দূরত্বের ৬০ মিনিটের প্রতি মিনিটের জন্য সময়ের ৪ সেকেন্ড লাগে। এভাবে দূরত্বের ব্যবধানের ৬০ মিনিটের জন্য লাগে ৬০ × ৪ = ২৪০ সেকেন্ড অর্থাৎ ৪ মিনিট সময়।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
- ইউরেনাসকে সবুজ গ্রহ' বলা হয়।
ইউরেনাস:
- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই ইউরেনাস কে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ।
• সৌরজগৎ (Solar System):
- সূর্য ও এর চতুর্দিকে ঘূর্ণনরত জ্যোতিষ্কমন্ডলীকে একত্রে সৌরজগৎ (Solar System) বলে।
- বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ এবং এটির সূর্যের নিকটতম গ্রহ।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে এর ৮৮ দিন সময় লাগে।
- সৌরজগতের উষ্ণতম গ্রহের নাম শুক্র।
- শুক্র পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ।
- পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দুরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- পৃথিবীকে নীল গ্রহ বলা হয়।
- মঙ্গল গ্রহকে লাল গ্রহ বলা হয়। মঙ্গলের ২টি উপগ্রহ হলো: ডিমোস ও ফোবস।
- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি। একে গ্রহরাজ বলা হয়।
উৎস: NASA ওয়েবসাইট।
বায়ুর চাপ সব জায়গায় একরকম থাকে না। কোনো স্থানে বায়ুর তাপ বেড়ে গেলে বায়ু আয়তনে বেড়ে যায় ও প্রসারিত হয়। ফলে বায়ুহালকা হয় এবং ওজন কমে যায়। তখন সেখানকার বায়ুর চাপ কমে যায়। আবার কোথাও বায়ুর তাপ কমে গেলে সেখানকার বায়ুর ওজন বেড়ে যায়। ফলে বায়ুর চাপও বেড়ে যায়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বায়ুর তাপ কমলে চাপ বাড়ে এবং বায়ুর তাপ বাড়লে, চাপ কমে।
এছাড়া জলীয়বাষ্প বায়ুর চেয়ে হালকা। এ কারণে বায়ুতে যদি জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হয় তখন সেই বায়ুর ওজন অনেক কমে যায়। ফলে বায়ুর চাপও কম থাকে। বায়ুর চাপ বেশি থাকলে তাকে উচ্চচাপ বলে। আবার বায়ুর চাপ কম থাকলে তাকে নিম্নচাপ বলে।
নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ঃ
নিরক্ষরেখা থেকে ৫ ডিগ্রি উত্তর ও ৫ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে এই নিæচাপ বলয় বিস্তৃত। নিরক্ষরেখার উপর সূর্য বৎসরে দুইবার লম্বভাবে কিরণ দেয়। তাই এ অঞ্চল ভ‚-পৃষ্ঠের উষ্ণতম অঞ্চল। অত্যধিক তাপের জন্য এ অঞ্চলের বায়ুঅত্যন্ত হালকা ও প্রসারিত হয়ে উর্ধ্বমূখী হয়। ফলে বায়ুর ওজন কমে যায় এবং নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। এভাবেই নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
ক্রান্তিয় উচ্চচাপ বলয়ঃ
নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে উত্তপ্ত বায়ুউর্ধ্বমুখী হয় এবং যতই উপরে ওঠে ততই ধীরে ধীরে শীতল হয়। শীতল বায়ু ভারী হওয়ার ফলে ভ‚-পৃষ্ঠে নেমে আসে এবং ক্রান্তীয় অঞ্চলে (কর্কটক্রান্তী ও মকরক্রান্তীর কাছাকাছি) স্থান করে নেয়। এভাবে ২৫ ডিগ্রি থেকে ৩৫ ডিগ্রি উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চলে দুইটি উচ্চচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়। উত্তর গোলার্ধে এর নাম কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয় এবং দক্ষিণ গোলার্ধে এর নাম মকরীয় উচ্চচাপ বলয়।
উৎসঃ ভূগোল, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
রেডিও কার্বনের ((carbon-14) অর্ধায়ু 5700 ± 30 বছর।।
কোনো কোনো পদার্থের স্বাভাবিক পরমাণু তেজষ্ক্রিয় না হলে এদের আইসোটোপসমূহ তেজষ্ক্রিয় পদার্থরূপে আচরণ করতে পারে। এ সকল আইসোটোপকে রেডিও আইসোটোপ বলে।
যে সময়ে কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থের মোট পরমাণুর ঠিক অর্ধেক পরিমাণ ভেঙ্গে যায় তাকে ঐ পদার্থের অর্ধায়ু বলে।
অর্থাৎ, যে সময় কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থের 'N' সংখ্যক অণু ভেঙ্গে N/2 সংখ্যক হয়, সেই সময় হলো অর্ধায়ু।
The half-life of radiocarbon (14C) is 5700 ± 30 yr, which makes it particularly useful for dating in archaeology.
আবার,
ব্রিটানিকা অনুসারে, অর্ধায়ু 5,730 ± 40 বছর।
উৎস: U.S. Department of Health & Human Services Website and Cambridge ডিকশনারি।