বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

মোট প্রশ্ন২,৪০৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

PrepBank · পাতা ১০ / ২৪ · ৯০১১,০০০ / ২,৪০৪

৯০১.
কোনটি মডারেটর হিসাবে ব্যবহৃত হয়? 
  1. কয়লা
  2. গ্রাফাইট
  3. সীসা
  4. বোরন
ব্যাখ্যা
মডারেটর: 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। 
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন। 
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে আবার পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়। 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর। 
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হল: 
১। ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং 
২। গ্রাফাইট। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০২.
ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী বায়ুপ্রবাহের দিক কোনটি? 
  1. পূর্ব গোলার্ধের বাম দিকে ও পশ্চিম গোলার্ধের বাম দিকে
  2. উত্তর গোলার্ধের বাম দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের ডান দিকে
  3. উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে
  4. উত্তর গোলার্ধের বাম দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের পশ্চিম দিকে
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন প্রকার বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা- 
• নিয়ত বায়ু, 
• সাময়িক বায়ু, 
• স্থানীয় বায়ু ও 
• অনিয়মিত বায়ু। 

নিয়ত বায়ু (Planatary Winds): 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
• অয়ন বায়ু, 
• পশ্চিমা বায়ু ও 
• মেরু বায়ু। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯০৩.
একটি বড় দেয়াল থেকে কমপক্ষে কতটুকু দুরত্বে দাড়ালে শব্দের প্রতিধ্বনি শুনা যাবে?
  1. ক) ৩৩ মি
  2. খ) ১৬.৫ মি
  3. গ) ১৬৫ মিটার
  4. ঘ) ০.১ মিটার
ব্যাখ্যা
শব্দের প্রতিধ্বনি তৈরী হতে সর্বনিম্ন ০.১ সেকেন্ড লাগে। এই সময়ে শব্দ অতিক্রম করে ৩৩ মিটার৷ শব্দের যাওয়া আসা মিলিয়ে ৩৩ মিটার অতিক্রম করতে হলে বড় দেয়ালের কমপক্ষে ১৬.৫ মিটার দুরত্বে দাড়াতে হবে৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৯০৪.
ফোটনের চার্জ সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. ক) ধনাত্মক চার্জযুক্ত
  2. খ) চার্জ নিরপেক্ষ
  3. গ) ঋনাত্মক চার্জযুক্ত
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ অর্থাৎ এর কোনো চার্জ নেই। ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ হওয়ায় এর উপর তড়িৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্র প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। ফোটনের আচরণ কখনও কণার মতো আবার কখনও তরঙ্গের মতো। কোয়ান্টাম তত্ত্বের অপর নাম ফোটন তত্ত্ব।
৯০৫.
বাংলাদেশের অধিকসংখ্যক সাইক্লোন সংঘটিত হওয়ার কারণ-
  1. ক) দক্ষিণের ফানেলাকার আকৃতি
  2. খ) দ্রুত হারে বন উজাড়
  3. গ) বাংলাদেশের ব-দ্বীপ আকৃতি
  4. ঘ) কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেলাকার আকৃতির কারণে এ দেশে অধিকসংখ্যক সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
৯০৬.
বায়ুমন্ডলের মোট শক্তির কত শতাংশ সূর্য থেকে আসে?
  1. ৯৯.৯৭%
  2. ৯৮%
  3. ৯৪%
  4. ৯০%
ব্যাখ্যা
- বায়ুর তাপের প্রধান উৎস সূর্য। 
- বিকিরণ প্রক্রিয়ায় সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে। 
- বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির ৯৯.৯৭% আসে সূর্য থেকে। 
- পৃথিবী তাপ হারিয়ে শীতল হয় বিকিরণ পদ্ধতি। 
- ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয় পরিবহন প্রক্রিয়া। 
- পানি ও বায়ুমণ্ডলের উত্তাপের বিনিময় হয় পরিচলন প্রক্রিয়ায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯০৭.
গত তিন দশকে বাংলাদেশের কোন অংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে?
  1. পূর্বাংশে
  2. পশ্চিমাঞ্চলে
  3. মধ্যাঞ্চলে
  4. উত্তরাঞ্চলে
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): 
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচণ্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযোগ্য। স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেল আকৃতির কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় একটি সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯০৮.
নিচের কোনটিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে?
  1. সাইক্লোন
  2. টাইফুন
  3. সুনামি
  4. বন্যা
ব্যাখ্যা
• "সুনামিকে" পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

• সুনামি:

- সুনামি শব্দটি একটি জাপানি শব্দ, যেখানে "সু" অর্থ বন্দর এবং "নামি" অর্থ ঢেউ।
- তাই সুনামির অর্থ হলো "বন্দরের ঢেউ"।
- এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা ইত্যাদির কারণে সৃষ্টি হয়।
- এই প্রাকৃতিক দুর্যোগটি সাধারণত সাগরে সংঘটিত হয় এবং সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প হলে এটি তৈরি হয়।
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর একটি ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হয়, যা স্বরণকালের অন্যতম।
- এই দুর্যোগটি ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে একটি ট্রাক্টনিক ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হয়।
- সুনামি সাধারণত অগভীর পানিতে প্রবেশের সময় তার শক্তি হারায়।
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯০৯.
পৃথিবীর বারিমণ্ডলের জলরাশির শতকরা কতভাগ জল বায়ুমণ্ডল ধারন করে?
  1. ৯৭.২৫%
  2. ২.০৫%
  3. ০.০১%
  4. ০.০০১%
ব্যাখ্যা
বারিমন্ডলের জলের পরিমাণ ভিত্তিক বন্টন নিম্নরুপ-
সমুদ্র (৯৭.২৫%),
হিমবাহ (২.০৫%),
ভূগর্ভস্থ পানি (০.৬৮%),
হৃদ (০.০১%)
মাটির আর্দ্রতা (০.০০৫%),
বায়ুমণ্ডল (০.০০১%),
নদী(০.০০০১%),
জীবমন্ডল (০.০০০০৪%)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯১০.
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে পৃথিবীর অবস্থান কোথায়?
  1. সেগিতারিয়াস বাহু
  2. ওরিয়ন-সিগনাস বাহু
  3. পারসেউস বাহু
  4. কারিনা বাহু
ব্যাখ্যা

• পৃথিবী (Earth):
- পৃথিবী আমাদের বাসভূমি।
- এটি সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার।
- পৃথিবী একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।
- তাই এখানে ৩৬৫ দিনে এক বছর। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।
- পৃথিবী মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি এর ওরিয়ন-সিগনাস বাহুতে অবস্থিত, যা মিল্কিওয়ের চারটি সর্পিল বাহুর মধ্যে একটি , যা গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দূরে অবস্থিত।
- পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমন্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী।
- সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে।

উৎস: NASA, ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৯১১.
রিখটার স্কেলে কত মাত্রার বেশি ভূমিকম্প আমরা অনুভব করতে পারি?
  1. ২ মাত্রা
  2. ৩ মাত্রা
  3. ৪ মাত্রা
  4. ৫ মাত্রা
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প: 
- পৃথিবীর ভেতরে হঠাৎ সৃষ্ট কোনো কম্পন যখন ভূপৃষ্ঠে আকস্মিক আন্দোলন সৃষ্টি করে, সেটাকেই ভূমিকম্প বলে।
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড থেকে মিনিট খানেক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে একাধিকবার ঘটতে পারে। 
- ভূমিকম্প একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি দেশ বা অঞ্চল পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে। 
- বড় ধরনের ভূমিকম্প নদীর গতিপথও পরিবর্তন করতে পারে। 
- ভূমিকম্পের ফলে আমাদের অন্যতম প্রধান নদী ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ বদলে গিয়েছিল। 
- পৃথিবীর মাঝে জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত।
- ২০১০ সালে হাইতিতে, ২০১১ সালে জাপানে এবং ২০১৫ সালে নেপালের ভূমিকম্প ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল।
- জাপানের ভূমিকম্পের পর সেখানে সৃষ্ট সুনামি নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রে আঘাত করে একটি নিউক্লিয়ার দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিল। 
- ভুমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ করা হয় রিখটার স্কেলে। 
- রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প আমরা অনুভব করতে পারি। 
- এই স্কেলে এক মাত্রা বেড়ে যাওয়া মানে তার শক্তি ৩০গুন বেড়ে যাওয়া। 
- ১৮৮৪ সালে মানিকগঞ্জ এলাকায় রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার বড় একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯১২.
কিসের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়?
  1. ক) প্রতিফলন
  2. খ) প্রতিধ্বনি
  3. গ) প্রতিসরণ
  4. ঘ) প্রতিসরাঙ্ক
ব্যাখ্যা
প্রতিধ্বনির সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়।
- কোন শব্দ উৎস থেকে শব্দ করা হলে তা কোন কঠিন তলে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আবার যদি শব্দের উৎসের নিকট ফিরে আসে, তখন সেই শব্দের পুনরাবৃত্তি শোনা যায়, শব্দের এই পুনরাবৃত্তিকে শব্দের প্রতিধ্বনি বলে।
- ফ্যাদোমিটার যন্ত্র ব্যবহার করে সমুদ্রের গভীরতা মাপা হয়। 
- প্রতিধ্বনির সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা, কূপের গভীরতা ইত্যাদি নির্ণয় করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৩.
কোন গ্যাসটি গ্রিন হাউজ ইফেক্টের জন্য কম দায়ী?
  1. CO2
  2. CFC
  3. N2O
  4. CH4
ব্যাখ্যা
- গ্রিন হাউজ ইফেক্টের জন্য কম দায়ী হচ্ছে- N2O যা বায়ুতে শতকরা ৬ ভাগ।
 
গ্রিন হাউজ গ্যাস: 
- যে সব গ্যাস ভূপৃষ্ঠের বিকিরিত IR রশ্মিকে শোষণ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, তাদেরকে গ্রিন হাউজ গ্যাস বলে। 
- CO2 গ্যাসকে প্রধান গ্রিন হাউজ গ্যাস বলা হয়। 
- এছাড়া জলীয় বাষ্প, মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ফ্রিয়ন বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) ও ওজোন গ্যাস (O3) গ্রিন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে থাকে। 
- শেষের গ্যাসগুলোর ঘনত্ব বায়ুমণ্ডলে CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক কম হলেও এদের IR রশ্মি শোষণ ও বিকিরণ ক্ষমতা CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক বেশি। তাই গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এ এদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। 


উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৯১৪.
মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয়ে কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
  1. আলফা রশ্মি
  2. রঞ্জন রশ্মি
  3. মৃদু রশ্মি
  4. অতিবেগুনি রশ্মি
ব্যাখ্যা
এক্সরে বা রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার (Uses of X-ray): 
- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১। চিকিৎসা ক্ষেত্রে: 
- রোগ নির্ণয় এবং নিরাময়ের ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে সর্বাধিক ব্যবহারের কারণেই এক্সরে জনসাধারণের কাছে বহুল পরিচিত। 
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়। 
- কোমল এক্সরে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করে যেতে পারে না। 
- কোমল এক্সরে ব্যবহার করে দেহের হাড় ভাঙলে, কোনো অবাঞ্ছিত বস্তু যেমন বন্দুকের গুলি, দুর্ঘটনায় কোনো ধাতব বস্তু দেহে প্রবেশ করলে, পাকস্থলি বা মুত্রথলিতে পাথর সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা সনাক্ত ও অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। 
- এছাড়াও ফুসফুসের কোনো ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের গোড়ায় আলসার ইত্যাদি নির্ণয়ে এক্সরে সর্বদাই ব্যবহার হচ্ছে। 
- বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় এবং কোনো কোনো চর্মরোগ নিরাময়ে এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

২. গোয়েন্দা বিভাগে: 
- চোরাচালান ধরার জন্য কাঠের, ধাতব বাক্সে বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক, নিষিদ্ধ বস্তু লুকানো থাকলে কিংবা কেউ গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ করলে তা সন্ধানের জন্য এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 
- এমনকি হত্যাকান্ড অনুসন্ধানেও এক্সরে প্রয়োগ করা হয়। 

৩। শিল্প ক্ষেত্রে: 
- শিল্প ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ঢালাই করা ধাতুর ভিতরের ত্রুটি নির্ণয়, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি নির্ণয়, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান করা, ঝালাই-এর ত্রুটি নির্ণয়, মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয় ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- টফি, লজেন্সে কোনো ক্ষতিকর বস্তু আছে কিনা তা সনাক্ত করার জন্য এবং টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের জন্যও এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

৪। বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে: 
- কেলাসের গঠণ সংক্রান্ত পরীক্ষায়, অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় এক্সরের ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৫.
প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ উড্ডয়ন করে কোন দেশ?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) ফ্রান্স
  3. গ) রাশিয়া
  4. ঘ) চীন
ব্যাখ্যা
৪ অক্টোবর ১৯৫৭ সালে স্পুটনিক-১ নামে রাশিয়া মহাশূন্যে প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠায়।
৯১৬.
ইউরি গ্যাগারিন মহাশূন্যে যান-
  1. ক) ১৯৫৬ সালে
  2. খ) ১৯৬১ সালে
  3. গ) ১৯৬৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
Yuri Gagarin, Soviet cosmonaut who on April 12, 1961, became the first man to travel into space.Neil Armstrong is the first person to set foot on the Moon during the afternoon of July 20, 1969.
Source: britannica.com
৯১৭.
কোন রূপান্তরিত শিলাটি বেলেপাথর থেকে সৃষ্টি হয়?
  1. ক) নিস
  2. খ) ব্যাসল্ট
  3. গ) রায়োলাইট
  4. ঘ) কোয়ার্টজাইট
ব্যাখ্যা
রূপান্তরিত শিলা
ভূ-আন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত , ভূমিকম্পসহ অন্যান্য রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে আগ্নেয় ও পাললিক শিলা অত্যধিক তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে এক নতুন ধরনের শিলার সৃষ্টি করে, যাকে রূপান্তরিত শিলা বলা হয়। যেমন - কাঁদা রূপান্তরিত হয়ে স্লেট, গ্রানাইট
রূপান্তরিত হয়ে নিসে পরিণত হয়।

রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্যসমূহ
১। রূপান্তরিত শিলা স্ফটিক যুক্ত;
২। এই শিলা অত্যন্ত কঠিন;
৩। এই শিলায় জীবাশ্ম নেই;
৪। কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়। 

রূপান্তরিত শিলার প্রকারভেদ
• উৎস ও গঠন প্রণালি অনুসারে রূপান্তরিত শিলা দুই প্রকার। যথা -
ক. আগ্নেয়শিলা প্রচন্ড তাপে ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে আগ্নেয়শিলা থেকে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়। যেমন: গ্রানাইট থেকে নিস  (Gneiss) তৈরি হয়।
খ. পাললিক শিলা প্রচন্ড তাপে ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে, পাললিক শিলা থেকে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়। যেমন: বেলেপাথর থেকে কোয়ার্টজাইট (Quartzite) তৈরি হয়।  

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৮.
কোনটি ‘ঈশ্বর কণা’ নামে পরিচিত?
  1. Higgs Boson
  2. Electron
  3. Neutron
  4. Proton
ব্যাখ্যা
• হিগের কণা:
- ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে এমন একটি কণার ধারনা দেন, যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে এবং এর ফলে মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে। এই কণাটিকে হিগের কণা বলা হয়।
- হিগস কণা একটি বোসন কণা।
- হিগস বোসন কণাটি - (Higgs Boson) ঈশ্বর কণা নামে পরিচিত।
- পদার্থবিজ্ঞানী লিওর লেডারম্যান ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে ঈশ্বর কণা নামে চিহ্নিত করেন।
- ৪ই জুলাই ২০১২ সালে এই বোসন কণাটি আবিষ্কৃত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৯১৯.
সামুদ্রিক মাছ আর শৈবালের মধ্যে কোনটির প্রাচুর্য বেশি?
  1. Potassium
  2. Iodine
  3. Magnesium
  4. Iron
ব্যাখ্যা
• সামুদ্রিক মাছ এবং শৈবাল—উভয়েই পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও আয়োডিনের (Iodine) প্রাচুর্য শৈবালে সবচেয়ে বেশি। শৈবাল প্রাকৃতিকভাবে আয়োডিন শোষণ করে এবং সংরক্ষণ করে, যা আমাদের থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে সহায়তা করে। সামুদ্রিক মাছেও আয়োডিন থাকে, তবে পরিমাণে তা শৈবালের তুলনায় কম। পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং আয়রন উভয় উৎসেই থাকতে পারে, তবে আয়োডিনের আধিক্য তুলনামূলকভাবে শৈবালেই বেশি লক্ষ্য করা যায়। তাই আয়োডিন উপাদানের দিক থেকে শৈবাল বেশি সমৃদ্ধ।
- সঠিক উত্তর: খ) Iodine.

- খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়াম, লৌহ ও আয়োডিন উল্লেখযোগ্য।
- দুধ, পনির, ছোট মাছের কাঁটা, কলমী শাক ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।
- কলিজা, ডিম, মাংস ইত্যাদিতে লৌহ এবং লবণ, সামুদ্রিক শৈবাল ও সামুদ্রিক মাছে আয়োডিন পাওয়া যায়।
- এ সমস্ত উপাদান দেহের বৃদ্ধির কাজে সাহাজ্য করে।
- আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়।
- লৌহের অভাবে রক্তশূণ্যতা দেখা দেয়।

সূত্র: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৯২০.
মহাবিশ্বের সৃষ্টি, গঠন ও বিবর্তন নিয়ে বিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়? 
  1. Astronomy
  2. Meteorology
  3. Geology
  4. Cosmology
ব্যাখ্যা

মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য: 
- মহাবিশ্ব কেন সৃষ্টি হলো, কিভাবে সৃষ্টি হলো, কেনইবা এটি টিকে আছে এ সম্পর্কে আমাদের কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। তবে এটি কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে এর বিবর্তনের ধারা সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা হয়েছে। 
- রাতের আকাশে অসংখ্য তারা বা নক্ষত্র দেখতে পাওয়া যায়, এমন অসংখ্য নক্ষত্র নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি গ্যালাক্সি। 
- সপ্তদশ শতাব্দীতে টেলিস্কোপের ব্যবহার থেকে জানা যায়, সূর্য ছায়াপথ গ্যালাক্সির (Milky way) অন্যান্য নক্ষত্রের মতোই একটি সাধারণ নক্ষত্র। তখন মনে করা হতো, সূর্য হচ্ছে গ্যালাক্সির কেন্দ্রবিন্দু। 
- বিংশ শতাব্দীতে এসে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, সূর্যের অবস্থান গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে অনেক অনেক দূরে। 
- এরূপ কোটি কোটি গ্যালাক্সি নিয়ে গঠিত হয়েছে এ মহাবিশ্ব। 
- ছায়াপথ গ্যালাক্সিতে নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় 1011 । মহাবিশ্বে এরকম প্রায় 1011 সংখ্যক গ্যালাক্সি রয়েছে। আর প্রত্যেকটি গ্যালাক্সিতে রয়েছে গ্যালাক্সির প্রায় সমসংখ্যক নক্ষত্র। 

- পৃথিবী মহাবিশ্বের তুলনায় অতি অতি ক্ষুদ্র। পৃথিবী থেকে মহাকাশে নক্ষত্রদের দেখতে কাছাকাছি মনে হলেও এদের পরস্পরের মধ্যে রয়েছে অনেক আলোক বর্ষের ব্যবধান। 
- সভ্যতার সেই শুরু হতেই বিজ্ঞানীগণ এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য এবং পরিণতি সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা পোষণ করে আসছেন। এসব ধারণা এবং বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে বিজ্ঞানের একটি শাখা সৃষ্টি হয়েছে, যা কসমোলজি (Cosmology) বা 'মহাজাগতিক বিজ্ঞান' নামে পরিচিত। 
- বিংশ শতাব্দীতে দুই জন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিকের দ্বারা দুটি পরীক্ষা সংঘটিত হয়, যেগুলোর মাধ্যমে মহাবিশ্ব সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ধারণা প্রায় সকল পদার্থ বিজ্ঞানীদের মাঝে গৃহীত হয়েছে। পরীক্ষা দুটি হলো- 
১। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ এবং ২। মহাজাগতিক পশ্চাৎপট বিকিরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২১.
কতটি আঞ্চলিক টুকরা নিয়ে টেকটনিক প্লেট গঠিত?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৫
  3. গ) ৬
  4. ঘ) ৭
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর ব্যবচ্ছেদে দেখা যায় যে ভূ-ত্বক ৮টি বড় বড় টুকরা এবং ৬টি আঞ্চলিক টুকরা দ্বারা বিভক্ত।
এগুলো টেকটনিক প্লেট নামে পরিচিত। ভূ-পৃষ্ঠে যেসব কারণে ভূমিকম্প হয়ে থাকে তার মধ্যে অন্যতম হলো এই প্লেটগুলোর বিভিন্ন রকমের স্থানান্তর বা বিচ্যুতি।



উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।

৯২২.
কোন মৌলিক পদার্থটি পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি আছে?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) লৌহ
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
৯২৩.
ডোপিং এর জন্য অপদ্রব্য হিসেবে পর্যায় সারণির কোন সারির মৌল ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) প্রথম সারির
  2. খ) দ্বিতীয় সারির
  3. গ) চতুর্থ সারির
  4. ঘ) পঞ্চম সারির
ব্যাখ্যা
ডোপিং (Doping):
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে ।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় ।
- ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যথা-
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৪.
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সুনামির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হওয়ার কারণ কী?
  1. রিং অফ ফায়ার (Ring of Fire)-এ অবস্থিতি
  2. অতিরিক্ত দ্বীপের উপস্থিতি
  3. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
  4. সমুদ্রের তলদেশে শৈবাল স্তরের আধিক্য
ব্যাখ্যা

• প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকাটি রিং অফ ফায়ার নামক একটি ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত। এটি মূলত টেকটোনিক প্লেটের একটি অতি সক্রিয় সীমানা যেখানে পৃথিবীর অধিকাংশ ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত ঘটে।সমুদ্রের তলদেশে এই প্রবল ভূ-আলোড়নের কারণেই এখানে সুনামির হার পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি।

• রিং অফ ফায়ারের বৈশিষ্ট্য:
- এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় বেসিন জুড়ে বিস্তৃত একটি ঘোড়ার খুরের মতো আকৃতির অঞ্চল।
- বিশ্বের সক্রিয় আগ্নেয়গিরির প্রায় ৭৫ শতাংশই এই বলয়ে অবস্থিত।
- এই অঞ্চলে প্লেট টেকটোনিকসের কারণে প্রায়ই সমুদ্রতলদেশীয় ভূমিকম্প হয়।
- জাপান, ইন্দোনেশিয়া এবং চিলির মতো দেশগুলো এই বলয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি সুনামির ঝুঁকিতে থাকে।

• সুনামি (Tsunami):
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে সুনামি সংঘটিত হয়।
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সুনামি সংঘটনের সম্ভাবনা কম।
- ১৭৬২ সালের ২রা এপ্রিল কক্সবাজার এবং সন্নিহিত অঞ্চলে সুনামির প্রভাব দেখা যায়।
- ১৯৪১ সালে আন্দামান সাগরে ভূমিকম্পের ফলে বঙ্গোপসাগরে সুনামি সংঘটিত হয়। তবে এর ফলে প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয় ভারতের পূর্ব উপকূল। যার পরিণতিতে ৫,০০০ মানুষ প্রাণ হারায়।
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সিনুয়েলেষু দ্বীপে সংঘটিত ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামির আঘাতে সমগ্র ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় বহু সংখ্যক লোকের মৃত্যু ঘটে।

তথ্যসূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২৫.
মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা

মঙ্গল গ্রহ (Mars):
- মঙ্গল গ্রহ পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী।
- বছরের অধিকাংশ সময় একে দেখা যায়। খালি চোখে মঙ্গল গ্রহকে লালচে দেখায়।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার। এর ব্যাস ৬,৭৮৭কিলোমিটার এবং পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় অর্ধেক।
- এই গ্রহে দিনরাত্রির পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সমান।
- সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন।
- মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি।
- এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং
- কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ৯৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
- মঙ্গলে ফোবস ও ডিমোস নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯২৬.
মহাকাশ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা হয়েছিল কত সালে?
  1. ক) ১৯৫৫
  2. খ) ১৯৫৬
  3. গ) ১৯৫৭
  4. ঘ) ১৯৫৮
ব্যাখ্যা

- মহাকাশ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা হয়েছিল ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর।
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এই যাত্রার সূচনা করেছিলেন স্পুটনিক-১ কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে।
- স্পুটনিক শব্দের অর্থ হল- ভ্রমণসঙ্গী
- ১৯৫৭ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক-২ কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেন।

উৎস: অষ্টম শ্রেণি বিজ্ঞান

৯২৭.
বিগব্যাং কত বছর আগে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ১০.৮ বিলিয়ন বছর
  2. ১৩.৮ বিলিয়ন বছর
  3. ১৬.৮ বিলিয়ন বছর
  4. ১৭.৮ বিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা
বিগ ব্যাং:
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)।
- কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাং বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির 'শুরু' বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়।
- বিগ ব্যাং সিদ্ধান্ত অনুসারে, মহাবিশ্বের উৎপত্তি ঘটেছে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে।
- এই সিদ্ধান্তে বলা হয় যে, মহাবিশ্ব একটি একটি সুপারনোভা বা মহাস্থির বিস্ফোরণের ফলে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে গ্রহাণুগুলি আরম্ভিক অবস্থায় ছিল।  
- এটাই মহাবিশ্বের বয়স।

 উৎস: i) Las Cumbres Observatory.
          ii) পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৮.
পরিমাণের দিক থেকে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের অবস্থান কত?
  1. প্রথম
  2. দ্বিতীয়
  3. তৃতীয়
  4. চতুর্থ
ব্যাখ্যা
- বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- অক্সিজেনের পরিমাণ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
- বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলোর শতকরা হারঃ
• নাইট্রোজেন ৭৮.০১%,
অক্সিজেন ২০.৭১%,
• আর্গন ০.৮০%,
• জলীয়বাষ্প ০.৪১%,
• কার্বন-ডাই-অক্সাইড ০.০৩% ইত্যাদি।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯২৯.
টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে সাধারণত কী ঘটে? 
  1. তুষারপাত
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. বৃষ্টিপাত
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব: 
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব অনুসারে, পৃথিবীর শিলামণ্ডল কয়েকটি পৃথক প্লেটে বিভক্ত, যা গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের ওপরে ভাসমান অবস্থায় থাকে।
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছর কয়েক সেন্টিমিটার করে সরে যায়, কখনো একে অপরের থেকে দূরে সরে, আবার কখনো পরস্পরের দিকে আসে বা পরস্পরের সঙ্গে ঘষা খায়।
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলেই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা বেশি ঘটে, বিশেষত যেখানে উঁচু পর্বতশ্রেণী বিদ্যমান
- প্লেটগুলোর সংঘর্ষ ও ঘর্ষণের ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, যা ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলিয়ে ফেলে।
- এই গলিত পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত এবং চাপের ফলে ভূপৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে এলে তা লাভা নামে পরিচিত হয় এবং এই প্রক্রিয়াকে আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলা হয়।
- প্লেটগুলোর সংঘর্ষের ফলে যখন পৃথিবী কেঁপে ওঠে, তখন ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৯৩০.
'বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব' প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯২১ সালে
  2. খ) ১৯০৫ সালে
  3. গ) ১৯১৬ সালে
  4. ঘ) ১৯১১ সালে
ব্যাখ্যা
- আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত দুইভাগে বিভক্ত, যথা- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব এবং আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব।
- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব পরস্পরের তুলনায় ঊর্ধ্ব বা নিম্নগতিশীল বস্তুসমূহ বা সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করেছে। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে।
- পক্ষান্তরে আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব শুধু পরস্পরের তুলনায় সমগতিতে সঞ্চরণশীল বা অসঞ্চরণশীল বস্তু বা সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- এটি সাধারণ তত্ত্বের একটি বিশেষ রূপ। এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯০৫ সালে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯৩১.
ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরী কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মেক্সিকো
  2. খ) গুয়েতেমালা
  3. গ) ইতালি
  4. ঘ) রাশিয়া
ব্যাখ্যা

ভিসুভিয়াস হচ্ছে আগ্নেয় পর্বত, এর অবস্থান ইতালিতে।  

নিচে বিভিন্ন প্রকার পর্বত সম্পর্কে আলোচনা করা হলো -

পর্বতের প্রকারভেদঃ

পর্বত নানা প্রকারে গঠিত হয়। উৎপত্তির কারণ ও গঠন অনুসারে পর্বতকে পাঁচ শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ভঙ্গিল বা ভাঁজ পর্বত (Fold Mountain):
বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে শিলায় ঢেউ এর মতো ভাঁজ পড়ে যে পর্বতের সৃষ্টি হয় তাকে ভঙ্কিল পর্বত বলে।
- 'পাত ভূগঠন তত্ত্ব' ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টির কারণ।
যেমন - হিমালয়, আন্দিজ, আল্পস, রকি ইত্যাদি।

২. স্তূপ পর্বত (Block Mountain):
প্রবল ভূ-আলোড়নের ফলে শিলাস্তরের সংকোচন ও প্রসারণ চাপের সৃষ্টি হয়। এতে কখনো কখনো ভূত্বক খাড়াভাবে ফেটে যায়, যে রেখা বরাবর ফাটল হয় তাকে চ্যুতিরেখা বলে।
- কখনো কখনো দেখা যায়, দুটি সমান্তরাল ফাটলের মধ্যবর্তী অংশটি চাপের ফলে পাশ্ববর্তী স্থান অপেক্ষা ঊর্ধ্বে উত্থিত হয়।
- এই উত্থিত অংশ ভূমির উপর স্তূপ আকারে দাঁড়িয়ে থাকে বলে এধরনের পর্বতকে স্তূপ পর্বত বলে।
যেমন - জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট, ফ্রান্সের ভোজ পর্বত ইত্যাদি।

৩. ল্যাকোলিথ পর্বত (Lacolith Mountain):
পৃথিবীর অভ্যন্তরে ম্যাগমা বা গলিত শিলার উপাদানসমূহের সাথে বিবিধ গ্যাস মিশ্রিত অবস্থায় থাকে।
- এ গ্যাস অনেক সময় ঊর্ধ্বপ্রবাহী হয়ে ভূপৃষ্টের দিকে আসার চেষ্টা করে। এ গ্যাসের সাথে প্রচুর ম্যাগমাও থাকে।
- কিন্তু প্রায়ই তা ভূত্বকে আসার পথে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ভূত্বকের নিচেই সঞ্চিত থাকে। আস্তে আস্তে এই ম্যাগমা কঠিন আকার ধারন করে।
- এই ধরণের পর্বতকে ল্যাকোলিথ বা গম্বুজ পর্বত বলে। ভূআলোড়ন এ জাতীয় পর্বত গঠনে প্রভাব বিস্তার করে।
যেমন - যুক্তরাষ্ট্রের ব্ল্যাক হিলস্‌ ও হেনরী পর্বত

৪. আগ্নেয় বা সঞ্চয়জাত পর্বত (Volcanic Mountain):
কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভূআলোড়নের ফলে ভূত্বকের দুর্বল অংশ ফেটে যায়। ঐ ফাটলের মধ্য দিয়ে ভূগর্ভস্থ উত্তপ্ত লাভা, নানা প্রকার গ্যাস ও বাষ্প, ছাই ইত্যাদি প্রবল বেগে নির্গত হয়ে ফাটলের চারদিকে সঞ্চিত হয়।
- এরূপে বার বার ঐসব পদর্থ ফাটলের চারদিকে সঞ্চিত হতে হতে উঁচু পর্বতের সৃষ্টি হয়।
- আগ্নেয় পদার্থ সঞ্চিত হয়ে এ প্রকার পর্বত গঠিত হয় বলে একে আগ্নেয় বা সঞ্চয়জাত পর্বত বলে।
যেমন - ইতালির ভিসুভিয়াস, কেনিয়ার কিলিমানজারো, হাওয়ায় দ্বীপের মোনালোয়া ইত্যাদি।

৫. ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট পর্বত (Erosional or Residual Mountain):
সৌরতাপ, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, হিমবাহ ইত্যাদি প্রাকৃতিক শক্তিসমূহের ফলে ভূত্বকের নরম অংশ ক্ষয় হতে হতে অপসারিত হয়।
- কঠিন শিলাগুলো অল্প ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে পর্বতরূপে থেকে যায়। এরূপ সৃষ্ট পর্বতকে ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট পর্বত বলে।
যেমন - ভারতের আরাবল্লী, ইউরোপের সিয়েরা নেভেদা, উত্তর আমেরিকার অ্যাপালেশিয়ান ইত্যাদি।

উৎসঃ উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল (১ম পত্র) বোর্ড বই।

৯৩২.
সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহের গতি প্রকৃতি ও কক্ষপথ সংক্রান্ত সূত্র প্রদান করেন- 
  1. স্যার আইজ্যাক নিউটন
  2. জোহানেস কেপলার
  3. গ্যালিলিও গ্যালিলি
  4. নিকোলাস কপারনিকাস
ব্যাখ্যা

সূর্যের চারিদিকে গ্রহের গতি: 
- সূর্যের চারদিকে পৃথিবীসহ মোট আটটি গ্রহ প্রদক্ষিণ করছে।
- সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহের গতি প্রকৃতি ও কক্ষপথ সংক্রান্ত সূত্র প্রদান করেন ডেনমার্কের জ্যোতির্বিদ জোহান কেপলার (Johann Keplar) ১৬১৮ খ্রিস্টাব্দে।

• গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলারের সূত্র ৩টিঃ
- ১ম সূত্রঃ (কক্ষপথের সূত্র),
- ২য় সূত্রঃ (ক্ষেত্রফলের সূত্র),
- ৩য় সূত্রঃ (আবর্তনকালের সূত্র),

উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং  ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

৯৩৩.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরটির বিস্তৃতি সবচেয়ে বেশি?
  1. ট্রপোমন্ডল
  2. স্ট্র‍্যাটোমন্ডল
  3. মেসোমন্ডল
  4. তাপমন্ডল
ব্যাখ্যা

- The troposphere is the lowest layer of our atmosphere. Starting at ground level, it extends upward to about 10 km (6.2 miles or about 33,000 feet) above sea level.
- The next layer up is called the stratosphere. The stratosphere extends from the top of the troposphere to about 50 km (31 miles) above the ground.
Above the stratosphere is the mesosphere. It extends upward to a height of about 85 km (53 miles) above our planet.
- The layer of very rare air above the mesosphere is called the thermosphere. High-energy X-rays and UV radiation from the Sun are absorbed in the thermosphere, raising its temperature to hundreds or at times thousands of degrees.
However, the air in this layer is so thin that it would feel freezing cold to us! In many ways, the thermosphere is more like outer space than a part of the atmosphere. Many satellites actually orbit Earth within the thermosphere! Variations in the amount of energy coming from the Sun exert a powerful influence on both the height of the top of this layer and the temperature within it. Because of this, the top of the thermosphere can be found anywhere between 500 and 1,000 km (311 to 621 miles) above the ground.

সূত্র: Encyclopedia Britannica

৯৩৪.
নিচের কোনটির কারণে নদীখাত গভীর হয়?
  1. ক) সমুদ্রস্রোত    
  2. খ) নদীস্রোত
  3. গ) জলোচ্ছ্বাসের স্রোত
  4. ঘ) জোয়ার-ভাটার স্রোত
ব্যাখ্যা
সমুদ্র এবং উপকূলবর্তী নদীর জলরাশি প্রতিদিনই কোনো একটি সময়ে ঐ জলরাশি ধীরে ধীরে ফুলে উঠছে এবং কিছুক্ষণ পরে আবার তা ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে। জলরাশির এরকম নিয়মিত স্ফীতি বা ফুলে ওঠাকে জোয়ার বা নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দু'বার ভাটা হয়। উপকূলে কোন একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ার বা পর পর দুটি ভাটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা। জোয়ার ভাটায় নদীখাত গভীর হয় 

Source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম 
৯৩৫.
পূর্ণিমা ঘটে তখনই, যখন- 
  1. চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে থাকে
  2. চাঁদ সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়
  3. সূর্য পৃথিবীর এক পাশে এবং চাঁদ তার উল্টো পাশে থাকে
  4. পৃথিবী সূর্যকে ঢেকে ফেলে
ব্যাখ্যা
চন্দ্ৰগ্ৰহণ: 
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান। 
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়। 
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া। 

সূর্যগ্রহণ: 

- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ সরলরেখায় অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ। 
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। 
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। 
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে। 

অমাবস্যা: 
- চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে। 
- চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। 

পূর্ণিমা: 
- পূর্ণিমা তখনই হয়, যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে। 

উৎস: ৪ ডিসেম্বর ২০২১, বিবিসি বাংলা। [লিঙ্ক]।
৯৩৬.
ইউরেনাসের উপগ্রহ নয় কোনটি?
  1. মিরান্ডা
  2. এরিয়েল
  3. আমব্রিয়েল
  4. ডিমোস
ব্যাখ্যা
ইউরেনাস:
- ইউরেনাসের বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ অনেক শীতল।
- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই একে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ।
- ইউরেনাসে একদিন সময় লাগে প্রায় ১৭ ঘন্টা।
- উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮১ সালে গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন।
- ইউরেনাস গ্রহের উপগ্রহ ২৮টি।
• এর মধ্যে প্রধান পাঁচটি চাঁদ: মিরান্ডা, এরিয়েল, আমব্রিয়েল, টাইটানিয়া এবং ওবেরন।

অন্যদিকে,
- মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহ দুইটি: ডিমোস ও ফোবোস।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com & NASA ওয়েবসাইট।
৯৩৭.
সেক্সট্যাণ্ট নামক যন্ত্রের সাহায্যে কি পরিমাপ করা হয়?
  1. ক) উষ্ণতা
  2. খ) অক্ষাংশ
  3. গ) সময়
  4. ঘ) দ্রাঘিমাংশ
ব্যাখ্যা
অক্ষাংশ নির্ণয় করার পদ্ধতি
• প্রধানত দুইটি পদ্ধতিতে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়। যথা:-
১। ধ্রুবতারার অবস্থান : আকাশে ধ্রুবতারার সাহায্যে দিনের বেলায় কিংবা দক্ষিণ গোলার্ধে অক্ষাংশ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। উত্তর গোলার্ধের কোনো স্থানে ধ্রুবতারা যত ডিগ্রি কোণে অবস্থান করে সেই মানই উক্ত স্থানের অক্ষাংশ।
২। সূর্যের অবস্থান : আকাশে সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী সেক্সট্যান্ট নামক যন্ত্র ব্যবহার করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৮.
পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিক যোগাযোগ কৃত্রিম উপগ্রহ কোনটি?
  1. ক) আর্লিবার্ড
  2. খ) এস্ট্রোলার
  3. গ) ওবেরী হল
  4. ঘ) কসমস
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিক যােগাযােগ কৃত্রিম উপগ্রহ হলো ইন্টেলসেট 1 (Intelsat-I)।
৬ এপ্রিল ১৯৬৫ এটি মহাকাশের উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপণ করা হয়। এর ডাকনাম ছিল - আর্লিবার্ড।
উৎস: ব্রিটানিকা।
৯৩৯.
গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত দ্রাঘিমা রেখাটি মূল মধ্যরেখা হিসেবে চিহ্নিত হয় কত সালে? 
  1. ১৮৮২ সালে
  2. ১৮৮৪ সালে
  3. ১৯৮৪ সালে
  4. ১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International Date Line):
- দ্রাঘিমারেখার নিয়মানুসারে মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব ও পশ্চিমে অগ্রসর হলে প্রতি ১দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য ৪ মিনিট সময়ের ব্যবধান হয়। - আমরা জানি ০° দ্রাঘিমার ঠিক উল্টো দিকে ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা।
- যেহেতু প্রতি ১ এর জন্য ৪ মিনিট সেহেতু ১৮০ এর জন্য delta*bo * 8 = 9% মিনিট অর্থাৎ ১২ ঘণ্টার পার্থক্য হয়।
- এভাবে দুই দিকে, পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ১২ ঘণ্টা করে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধান হয়।
- পূর্ব দিকে গেলে ১২ ঘণ্টা বাড়ে আর পশ্চিম দিকে গেলে ১২ ঘণ্টা কমে অর্থাৎ একই দ্রাঘিমায় ১৮০° তে সময়ের ব্যবধান দেখা দেয় ২৪ ঘণ্টা।
- এর জন্য তারিখ ও বারের যে সমস্যা হয় তার সমাধানকল্পে ১৮৮৪ সালে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে integrate b - 0 deg db দ্রাঘিমারেখাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হিসেবে স্থির করা হয় ।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

৯৪০.
'বঙ্গোপসাগর' হলো একটি -
  1. হ্রদ
  2. সাগর
  3. উপসাগর
  4. মহাসাগর
ব্যাখ্যা
- আয়তন এবং গভীরতার ভিত্তিতে বারিমণ্ডলকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা - 
১। মহাসাগর (Ocean), 
২। সাগর (Sea), 
৩। উপসাগর (Bay), 
৪। হ্রদ (Lake)। 

মহাসাগর (Ocean): 
- উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ জলরাশি বা পানি রাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে। 
- পৃথিবীতে মোট পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে। 
যথা: প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean), আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean), ভারত মহাসাগর (Indian Ocean), উত্তর মহাসাগর (North Ocean), দক্ষিণ মহাসাগর (South Ocean)। 

সাগর (Sea): 
- সাগর হচ্ছে মহাদেশের উপকূলভাগে মহাসাগরের প্রান্তে অবস্থিত জলভাগ যা প্রাকৃতিক ভূ-প্রকৃতি দ্বারা মহাসাগর থেকে আংশিকভাবে বিচ্ছিন্ন। 
- সংক্ষেপে মহাসাগর অপেক্ষা স্বল্প আয়তন বিশিষ্ট জলরাশিকে সাগর (Sea) বলে। 
যেমন- জাপান সাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর, লোহিত সাগর, ভূ-মধ্যসাগর। 

উপসাগর (Bay): 
- শুধুমাত্র একদিকে জল এবং বাকী তিনদিক স্থলভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত জলরাশিকে উপসাগর (Bay) বলে। 
যেমন- মেক্সিকো উপসাগর, পারস্য উপসাগর, বঙ্গোপসাগর। 

হ্রদ (Lake): 
- চারদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক জলরাশিকে হ্রদ (Lake) বলে। 
যেমন- রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ, আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদ। 
- যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত সুপিরিয়র হ্রদ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৪১.
এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি কোন গ্যাসের কারণে হয় না?
  1. Sulfur Dioxide
  2. Nitrogen Dioxide
  3. Carbon Dioxide
  4. Nitric Oxide
ব্যাখ্যা
• এসিড বৃষ্টি:
- বায়ুমণ্ডলে অধঃক্ষেপণ বৃষ্টিতে pH এর মান 5.6 এর কম হলেই ঐ অধঃক্ষেপণকে এসিড বৃষ্টি বলে।
- এসিড বৃষ্টির কারণ হচ্ছে মনুষ্যসৃষ্ট বায়ু দূষণ ক্রিয়া।
- সাধারণত কলকারখানা অঞ্চলের এসিড বৃষ্টির পানির pH এর মান 5.6 থেকে 3.5 এর মধ্যে থাকে।
- এই এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস বা এসিড বৃষ্টির কারণ মূলত সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (যেমন- NO, NO2).
- এর মূলে তিনটি এসিডের (H2SO3, H2SO4, HNO3 এর) ভূমিকা রয়েছে; যা প্রাইমারি বায়ুদূষক SO2 গ্যাস ও নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (NOx) হতে উৎপন্ন হয়।

• কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), কার্বন মনোঅক্সাইড (CO) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) এসিড বৃষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় বা এসিড বৃষ্টির কারণ নয়।

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (ড. হাজারী ও নাগ)।
৯৪২.
নাসার মহাকাশযান Perseverance কোন গ্রহে অবতরণ করে?
  1. চন্দ্র
  2. মঙ্গল
  3. বুধ
  4. শত্রু
ব্যাখ্যা
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সালে নাসার মহাকাশযান Perseverance সাফল্যের সাথে মঙ্গল গ্রহে অবতরণ করে।

উৎস: দৈনিক পত্রিকা
৯৪৩.
“The origin of species by means of natural selection” বইটির লেখক কে?
  1. ক) ডারউইন
  2. খ) ম্যালথাস
  3. গ) লিনিয়াস
  4. ঘ) ওয়ালেস
ব্যাখ্যা
১৯৫৯ সালে ডারউইনের The origin of species by means of natural selection বইটি প্রকাশিত হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৪৪.
জিপিএস দ্বারা কোনটি জানা যায়?
  1. অক্ষাংশ
  2. দ্রাঘিমাংশ
  3. উচ্চতা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
মানচিত্রে জিপিএস ও জিআইএস (GPS and GIS in Maps): 
- বর্তমানে মানচিত্র তৈরি, পঠন এবং ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে আধুনিক ব্যবহার হচ্ছে জিপিএস এবং জিআইএস।
- জিপিএস-এর ইংরেজি হলো Global Positioning System (GPS)।
- কোনো একটি স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান জানতে চাইলে সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে জিপিএস-এর মাধ্যমে জানা।
- জিপিএস দ্বারা কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, উচ্চতা ও দূরত্ব জানা যায়।
- এছাড়া ঐ স্থানের উত্তর দিক, তারিখ ও সময় জানা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯৪৫.
নদী প্রবাহের প্রাথমিক পর্যায় কোনটি?
  1. ক) নিম্নগতি
  2. খ) উর্ধ্বগতি
  3. গ) মধ্যগতি
  4. ঘ) চক্রগতি
ব্যাখ্যা
- পর্বতের উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর প্রবাহকে তিনভাগে ভাগ করা হয়।
- উর্ধ্বগতি হলো প্রাথমিক অবস্থা যেখানে ক্ষয় সাধন হলো প্রধান কাজ এবং এতে নদীর স্রোতের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি থাকে।
- মধ্যগতি শুরু হয় যখন নদী সমভূমি দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় সঞ্চয় সাধন প্রধান কাজ। স্রোতের বেগ পূর্বের তুলনায় অনেক কমে যায়।
- সর্বশেষ হলো নিম্নগতি যেখানে স্রোতের বেগ একেবারেই কমে যায়।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৯৪৬.
শতকরা সংযুক্তির দিক থেকে বায়ুতে কোনটির পরিমান সবচেয়ে কম?
  1. ক) ধূলিকণা
  2. খ) আর্গন
  3. গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) জলীয় বাষ্প
ব্যাখ্যা
- বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাস ও বাষ্পের সমন্বয়ে গঠিত হলেও এর প্রধান উপাদান দুইটি হলো- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
- বায়ুমণ্ডলে আয়তনের দিক থেকে এ দুটি গ্যাস একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ এবং বাকিগুলো শতকরা ১.২৭ ভাগ।

বায়ুর উপাদানের শতকরা হার:
• নাইট্রোজেন- ৭৮.০২%
• অক্সিজেন- ২০.৭১%
• আর্গন- ০.৮০%
• কার্বন ডাই অক্সাইড- ০.০৩%
• জলীয় বাষ্প- ০.৪১%
• অন্যান্য গ্যাসসমূহ- ০.০২%
• ধূলিকণা ও কণিকা- ০.০১%

অর্থাৎ, শতকরা সংযুক্তির দিক থেকে বায়ুতে ধূলিকণার পরিমান সবচেয়ে কম।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৪৭.
ফেরেলের সূত্রানুসারে বায়ু প্রবাহ নিরক্ষরেখা অতিক্রম করার পর উত্তর গোলার্ধে কোন দিকে বেঁকে যায়?
  1. ক) পূর্বদিকে
  2. খ) পশ্চিমদিকে
  3. গ) বামদিকে
  4. ঘ) ডানদিকে
ব্যাখ্যা
পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে আবর্তনশীল হওয়ায় এবং নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে আবর্তনের কারণে গতিবেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। এর ফলে ঘূর্ণায়মান ভূপৃষ্ঠে বায়ু প্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতসহ যেকোন গতিশীল পদার্থ সরাসরি উত্তর-দক্ষিণে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়।

মার্কিন আবহাওয়াবিদ উইলিয়াম ফেরেল ১৮৫৯ সালে এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং ব্রিটানিকা)
৯৪৮.
এক মাসে মোট কতবার ভরা কটাল ও মরা কটাল হয়?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা

অমাবস্যা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই পাশে এবং পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর এক পাশে চাঁদ ও অপর পাশে সূর্য অবস্থান করে। ফলে এ দুই তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমসূত্রে থাকে এবং উভয়ের মিলিত আকর্ষণে যে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বলে।
সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সমকোণে অবস্থান করার ফলে চন্দ্রের আকর্ষণে এ সময়ে চাঁদের দিকে জোয়ার হয়। সূর্যের আকর্ষণের জন্য এ জোয়ারের বেগ তত প্রবল হয় না। এ রূপ জোয়ারকে মরা কটাল বলে। এক মাসে দু’বার ভরা কটাল এবং দু’বার মরা কটাল হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।

৯৪৯.
ছায়াপথ তার নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘুরে আসতে যে সময় লাগে তাকে কি বলে?
  1. ক) পলিসার
  2. খ) কসমিক ইয়ার
  3. গ) আলোক বর্ষ
  4. ঘ) সৌর বছর
ব্যাখ্যা
ছায়াপথ:

- সৌরজগতের গ্রহসমূহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, আর সূর্য মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির মধ্যবিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
- এই মধ্যবিন্দুর চারদিকে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর ২২৫-২৫০ মিলিয়ন বছর সময় লাগে।
- এই সময়টাকেই কসমিক ইয়ার বা গ্যালাকটিক ইয়ার বলে।
- ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তনকালকে কসমিক ইয়ার বলে।

তথ্যসুত্র - Britannica.com
৯৫০.
বিশ্বব্যাপী জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনার প্রধান কারণ কোনটি?
  1. অর্থনৈতিক সুবিধা
  2. রপ্তানি সমস্যা
  3. পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন
  4. উৎপাদন সমস্যা
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাপী জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনার প্রধান কারণ হলো পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা। 

• জীবাশ্ম জ্বালানি:

- জীবাশ্ম জ্বালানি হল কার্বন-ভিত্তিক দাহ্য উপাদান যা পৃথিবীর ভূত্বকের মধ্যে প্রাগৈতিহাসিক জীবের (উদ্ভিদ বা প্রাণী) অবশিষ্টাংশ থেকে গঠিত হয়।

• জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস) পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4) ও নাইট্রাস অক্সাইড (N2O)-এর মতো গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়।
- এই গ্যাসগুলো বায়ুমণ্ডলে জমে গিয়ে গ্রিনহাউস প্রভাব সৃষ্টি করে, ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে যায় — এটিকেই বলা হয় গ্লোবাল ওয়ার্মিং।

• এর ফলাফল:
- হিমবাহ গলা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। 
- খরা, বন্যা, ঝড়–ঝঞ্ঝার বৃদ্ধি। 
- কৃষিতে বিপর্যয়। 
- জীববৈচিত্র্যের হুমকি। 

• এর ফলে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তি (যেমন সৌর, বায়ু, জলশক্তি) ব্যবহার বাড়ানোর প্রতি জোর দেওয়া হচ্ছে।

তথ্যসূত্র:
- সাধারন বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- IPCC Reports (Intergovernmental Panel on Climate Change).
- ব্রিটানিকা।
৯৫১.
আইনস্টাইন কোন সূত্র দিয়ে ভর ও শক্তিকে এক জায়গায় নিয়ে আসেন?
  1. ক) E = mc2
  2. খ) E = 1/2 mc2
  3. গ) E = 1/2 mv2
  4. ঘ) E = mv2
ব্যাখ্যা

পদার্থ ও শক্তির অভিন্নতা বিষয়ক সূত্র E=mc2 যেখানে আইনস্টাইন ভর ও শক্তিকে এক জায়গায় নিয়ে আসেন।
E=mc2 হলো থিউরি অফ রিলেটিভিটি থেকে আগত একটি সূত্র।

৯৫২.
উত্তর গোলার্ধে কোন দিনটিকে ‘মহাবিষুব’ বলা হয়?
  1. ২১ মার্চ
  2. ২২ জুন
  3. ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ২৩ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

উত্তর গোলার্ধে ২১ মার্চ দিনটিকে ‘মহাবিষুব’ বলা হয়।

মহাবিষুব:

- ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্য ঠিক পূর্বদিকে ওঠে এবং ঠিক পশ্চিমদিকে অস্ত যায়। বছরে মাত্র এই দুটি দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়।
- ২১ শে মার্চ দিনটিকে উত্তর গোলার্ধে মহাবিষুব বলে।
- ২৩ শে সেপ্টেম্বর দিনটিকে বলে জলবিষুব।

উল্লেখ্য,
উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল:
- পৃথিবী তার কক্ষপথে চলতে চলতে ২২ ডিসেম্বরের পর থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত এমন স্থানে ফিরে আসে যখন সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে।
- ফলে ২১ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয়।
- দিনের বেলায় সূর্যকিরণের কারণে ভূপৃষ্ঠের বায়ুস্তর গরম হয় এবং রাত্রিবেলায় বিকিরিত হয়ে ঠান্ডা হয়।
- এই সময় উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল।
- ২১ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয় এবং ঐ দিনটিকে বাসন্ত বিষুব বা মহাবিষুব বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৫৩.
আলোক তড়িৎ ক্রিয়ায় নির্গত ইলেকট্রনকে কী বলা হয়? 
  1. নিউট্রন
  2. প্রোটন
  3. ফটোইলেকট্রন
  4. হাইড্রনিয়াম আয়ন
ব্যাখ্যা
আলো তড়িৎ ক্রিয়া (Photo Electric Effect): 
- কোনো ধাতব পৃষ্ঠে উপযুক্ত তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো ফেললে তার থেকে ইলেকট্রন নির্গত হয়, এই ঘটনাকে আলোক তড়িৎ ক্রিয়া বলে। 
- আলো তড়িৎ ক্রিয়ায় নিঃসৃত ইলেকট্রনগুলোকে ফটোইলেকট্রন (Photoelectron) বলে। 
- উপযুক্ত ব্যবস্থার সাহায্যে ফটোইলেকট্রনগুলোর একমুখী স্রোত তৈরি করা যায়, এর ফলে যে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে আলোতড়িৎ প্রবাহ (Photoelectric current) বলে। 
- আলোক তড়িৎ প্রবাহ নিম্নলিখিত বিষয়ের উপর নির্ভর করে। 
যেমন- 
(ক) আপতিত বিকিরণের প্রাবল্য, 
(খ) আপতিত বিকিরণের কম্পাংক, 
(গ) দুই তড়িৎ দ্বারের বিভব পার্থক্য এবং 
(ঘ) ফটোইলেকট্রন নির্গতকারী পাতের প্রকৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৪.
কোন গ্রহের কোনো উপগ্রহ নেই?
  1. Earth
  2. Mercury
  3. Jupiter
  4. Mars
ব্যাখ্যা
• Mercury - বুধ হলো সৌরজগতের এমন একটি গ্রহ যার কোনো প্রাকৃতিক উপগ্রহ বা চাঁদ নেই। এটি সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ এবং আকারেও সবচেয়ে ছোট। সূর্যের অত্যন্ত নিকটে অবস্থিত হওয়ায়, সূর্যের মহাকর্ষ বলের কারণে কোনো উপগ্রহ তার চারপাশে স্থায়ীভাবে অবস্থান করতে পারে না। এ ছাড়া, নিজস্ব মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ায় কোনো চাঁদ আকর্ষণ করে রাখতে পারে না। ফলে মার্কিউরি একা ভ্রমণ করে তার কক্ষপথে। অপরদিকে, পৃথিবীর একটি, মঙ্গলের দুটি এবং বৃহস্পতির অসংখ্য উপগ্রহ রয়েছে। সুতরাং সঠিক উত্তর: খ) Mercury.

বুধ গ্রহ:

- সৌরজগতের গ্রহ ৮টি।
- সূর্যের নিকটতম ও ক্ষুদ্রতম গ্রহ হলো বুধ।
- সূর্য থেকে বুধ গ্রহের গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার।
- বুধ গ্রহের ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন।
- বুধ গ্রহে মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস বা পানি কোনো কিছু নেই।
- বুধ ও শুক্র গ্রহের কোন উপগ্রহ নেই।

অন্যদিকে,
- পৃথিবীর উপগ্রহ ১টি (চাঁদ)।
- সবচেয়ে বেশি উপগ্রহ রয়েছে শনি গ্রহের।
- বৃহস্পতি গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা ৮০টি।

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৫৫.
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে সমুদ্রবন্দরের জন্য কয়টি সংকেত প্রচার করা হয়?
  1. ক) ৪
  2. খ) ১০
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ১১
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নদীবন্দরের জন্য ১ থেকে ৪ নম্বর এবং সমুদ্রবন্দরের জন্য ১ থেকে ১১ নম্বর পর্যন্ত হুঁশিয়ারি সংকেত প্রচার করা হয়। উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৫৬.
'পৃথিবীর উৎপত্তি' সম্পর্কে ভূগোলের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. Geomorphology
  2. Climatology
  3. Bio-Geography
  4. Soil Geography
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক ভূগোল (Physical Geography):
- ভূগোলের যে শাখা পৃথিবীর জন্ম, ভূ-প্রকৃতি অর্থাৎ পাহাড়, পর্বত, বায়ুমন্ডল ও বারিমন্ডল প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এবং ভৌত পরিবেশ ও এর মধ্যে কার্যরত বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে।

⇒ প্রাকৃতিক ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ নিম্নরূপ:
• ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology):
- ভূমিরূপবিদ্যা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, পৃথিবীর উৎপত্তি, ভূ-আলোড়ন, বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ, নদ-নদীর উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, ভূ-ত্বকের পরিবর্তন, খনিজ ও শিলা এবং পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করে।

• জলবায়ুবিদ্যা (Climatology):
- এ শাখায় বায়ুর গঠন, উপাদান, বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুপুঞ্জ, বায়ুপ্রাচীর, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে আলোচনা করে।

• সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography):
- পৃথিবীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সমুদ্র।
- এ শাখায় সাগর মহাসাগরের তলদেশের ভূমিরূপ, সমুদ্রস্রোত, মানব জীবনের উপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব, বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে সমুদ্র পথে যোগাযোগ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।

• মৃত্তিকা ভূগোল (Soil Geography):
- মৃত্তিকা ভূগোল অশ্মমন্ডলের উপরিভাগের মৃত্তিকার গঠন, উপাদান, বন্টন ও বিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করে।

• জীব ভূগোল (Bio-Geography):
- এ শাখা পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রাণিজগৎ ও উদ্ভিদের বন্টন নিয়ে আলোচনা করে।

• গাণিতিক ভূগোল (Mathematical Geography):
- গাণিতিক ভূগোলে জ্যোতিষ্কমন্ডলী, সৌরজগৎ, পৃথিবী ও এর আকৃতি, গতি, আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা ও সময়, আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির ফলাফল প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৫৭.
নিচের কোনটি গ্রিন হাউজ গ্যাস?
  1. CO2
  2. N2O
  3. CFC
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• গ্রিন হাউজ: 
- শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। 
- গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস এফেক্ট বলে। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ওজোন (O3), ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC) ইত্যাদি। 
- গ্রিন হাউজ গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে গেলে- 
• পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, 
• জলবায়ু পরিবর্তন হয়, 
• সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ে, 
• জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে ইত্যাদি। 

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা। 

৯৫৮.
ব্ল্যাক হোলের ভর -
  1. ক) প্রায় শূন্য
  2. খ) শূন্য
  3. গ) সসীম
  4. ঘ) অসীম
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর আবিষ্কার করেন মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার।
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম।
- ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
৯৫৯.
‘Plum Pudding Model’ কার সাথে সম্পর্কিত?
  1. জন ডাল্টন
  2. রাদারফোর্ড
  3. নিলস বোর
  4. জে. জে. থমসন
ব্যাখ্যা

- 'প্লাম পুডিং মডেল' (Plum Pudding Model) হলো পরমাণুর গঠনের একটি প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক মডেল, যা ১৯০৪ সালে ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী জে. জে. থমসন প্রস্তাব করেন। 

পরমাণুর মৌলিক ধারণা: 
- সর্বপ্রথম খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০ অব্দে গ্রিক দার্শনিক লুসিপাস এবং ডেমোক্রিটাস হামান দিস্তার সাহায্যে পদার্থকে অতি সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করেন। তিনি এ সূক্ষ্ম কণার নাম দেন অ্যাটমা যার অর্থ অবিভাজ্য অর্থাৎ পদার্থ অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত। 
- প্রায় একই সময়ে ভারতের বিজ্ঞানী আচার্য কণাদ ডেমোক্রিটাসের মতবাদকে সমর্থন করেন। 
- ১৮০৩ সালে ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক জন ডাল্টন বলেন পরমাণু অবিভাজ্য একে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না। ১৮০৮ সালে জন ডাল্টন প্রস্তাব করেন যে, মৌলিক পদার্থগুলো অবিভাজ্য। যা অতিশয় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত, এ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাকে পরমাণু বলে। 
- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে জোসেফ জন থমসন পরমাণুর গঠন সম্পর্কে প্রস্তাব করেন যে, পরমাণু একটি গোলক বিশেষ যার সবদিকে সমানভাবে ধনাত্মক আধান বিস্তৃত। ইলেকট্রনসমূহ এ গোলকের অভ্যন্তরে এমনভাবে সজ্জিত থাকে যে, গোলকের কেন্দ্রের প্রতি এদের আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ পরস্পর সমান। 
- ১৯০৪ সালে থমসন তাঁর প্রস্তাবিত পরমাণুর গঠন সম্পর্কিত ধারণাকে আরও উন্নত করেন এবং বলেন যে, “পরমাণু ইলেকট্রনের সমন্বয়ে গঠিত যা স্থিতিস্থাপক গোলকের স্যুপে অবস্থিত ধনাত্মক চার্জকে প্রশমিত করে, যা Plum Pudding Model নামে পরিচিত। 
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড বলেন যে, পরমাণু বিভাজ্য, একে বিভাজিত করলে ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি কণিকা পাওয়া যায়। তিনি স্বর্ণপাতের উপর α-কণার বিক্ষেপণের মাধ্যমে পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি প্রমাণ করেন। 
- সর্বশেষ ১৯১৩ সালে নিলস বোর রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের আরও উৎকর্ষ সাধন করেন। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬০.
কোনটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ নয়?
  1. ক) প্লুটোনিয়াম
  2. খ) নেপচুনিয়াম
  3. গ) টাইটেনিয়াম
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
প্রকৃতপক্ষে যেসব মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২-এর চেয়ে বেশি তাদেরকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ বলা হয়।
যেমন- ইউরেনিয়াম-৯২, নেপচুনিয়াম-৯৩, প্লুটোনিয়াম-৯৪ ইত্যাদি।

টাইটেনিয়াম তেজস্ক্রিয় মৌল নয়। এর পারমাণবিক সংখ্যা - ২২।

৯৬১.
জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলে কত শতাংশ থাকে?
  1. ০.৪১%
  2. ৭৮.০১%
  3. ০.০৩%
  4. ২০.৭১%
ব্যাখ্যা
• বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় ০.৪১% থাকে। এটি বায়ুমণ্ডলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা বায়ুর আর্দ্রতা সৃষ্টি করে এবং জলচক্রের অংশ হিসেবে কাজ করে। জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং বৃষ্টির সৃষ্টি ও জলবাষ্পীয় মেঘ গঠনে ভূমিকা রাখে। 
- তাই সঠিক উত্তর হলো (ক) ০.৪১%।


বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 
• বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
• অক্সিজেনের পরিমাণ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

• বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলোর শতকরা হার:
- নাইট্রোজেন ৭৮.০১%,
- অক্সিজেন ২০.৭১%,
- আর্গন ০.৮০%,
- জলীয়বাষ্প ০.৪১%,
- কার্বন-ডাই-অক্সাইড ০.০৩% ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৬২.
সূর্য অপেক্ষা পৃথিবীর উপর চন্দ্রের আকর্ষণ শক্তি প্রায়-
  1. ক) দ্বিগুণ
  2. খ) তিনগুণ
  3. গ) চারগুণ
  4. ঘ) ছয়গুণ
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর উপর চন্দ্র ও সূর্য উভয়রই আকর্ষণ রয়েছে। এই আকর্ষনের সাথে পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিক শক্তির প্রভাবে জোয়ার-ভাঁটা হয়।
- সূর্য ও চন্দ্র পৃথিবীর সকল বস্তুকেই সর্বদা কম-বেশি আকর্ষন করছে।
- সূর্য চন্দ্র অপেক্ষা ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুণ বড় এবং পৃথিবী অপেক্ষা ১৩ লক্ষ গুণ বড়।
- কিন্তু আবার সূর্য পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আর চন্দ্র মাত্র ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার।
- উপর্যুক্ত কারনে পৃথিবীর উপর চাঁদের আকর্ষণ ক্ষমতা বেশি; প্রায় দ্বিগুণ।
- জোয়ার-ভাঁটা তৈরির ক্ষেত্রে সূর্যের ক্ষমতা চাঁদের ক্ষমতার ৪/৯ ভাগ।

উৎস: ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৩.
নিচের কোনটি কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Hazard)?
  1. ভূমিধস
  2. জলোচ্ছ্বাস 
  3. ভূমিকম্প 
  4. খরা
ব্যাখ্যা

• কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Hazard) হচ্ছে- খরা।

খরা ( Drought):
- কোনো এলাকা দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে উক্ত এলাকাটির মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে।
- উক্ত এলাকার মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় ও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। মাটির এরূপ অবস্থাকে খরা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উওর-পশ্চিমাঞ্চল অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
- খরা উপদ্রুত অঞ্চলে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- উপদ্রুত অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে পানির অভাব দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল পর্যাপ্ত ফসলের অভাবে খাদ্যদ্রব্যের অভাব প্রকট হয়ে পড়ে।
- গাছপালা বিহীন শুষ্ক প্রকৃতি ও তীব্র গরমে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
 
অন্যদিকে: 
- ভূমিকম্প, ভূমিধস, জলোচ্ছ্বাস ,কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Hazard) নয়। 

 উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬৪.
অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা কেমন পরিবর্তন হয়?
  1. ক) কমে
  2. খ) বাড়ে
  3. গ) শূন্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে । যেমন— জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
- অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্ধ্রকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm ক্রমের।
- কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই অর্ধপরিবাহী চিহ্নিত করা যায় না। কেননা এমন কিছু সংকর ধাতু ও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু এগুলো অর্ধপরিবাহী নয়।

অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য:
১। পরম শূন্য তাপমাত্রায় (0 K) এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে।
২। কক্ষ তাপমাত্রায় সাধারণত আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm  এর মধ্যে থাকে ।
৩। অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়
৪ । একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পোঁছা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়। 
৫। এদের পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর চেয়ে কম।
৬। কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে।  

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৫.
ইউরেনাস গ্রহের উপগ্রহ কয়টি?
  1. ২২টি
  2. ২৭টি
  3. ৬২টি
  4. ৮৭টি
ব্যাখ্যা
ইউরেনাস:
- ইউরেনাসের বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ অনেক শীতল।
- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই একে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ।
- এটিতে শনির মতো একটি বলয় রয়েছে।
- উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮১ সালে গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন।
- ইউরেনাস গ্রহের উপগ্রহ ২৭টি।
- এগুলো হলো: অ্যামব্রিয়েল, অ্যারিয়েল, ওফেলিয়া, ওবেরন, কর্ডেলিয়া, কিউপিড, ক্যালিবান, ক্রেসিডা, জুলিয়েট, টাইটানিয়া, ট্রিন্কুলো, ডেসডিমোনা, প্যাদ্রিতা, পুক, পোর্শিয়া, প্রোসপেরা, ফ্রান্সিসকো, ফার্ডিনান্দ, বিয়ান্কা, বেলিন্দা, মার্গারেট, মিরান্ডা, ম্যাব, রোসালিন্ড, সাইকোরাক্স, সেটেবস, স্টেফানো।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) NASA ওয়েবসাইট।
৯৬৬.
যখন দুটি প্লেট একে অপরকে অতিক্রম করে যায়, তখন তাকে কী বলে?
  1. ক) সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা
  2. খ) অপসারী সীমা
  3. গ) পরিবর্তক চ্যুতি সীমা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

প্লেট টেকটোনিক্স (Plate Tectonics) ভূতাত্ত্বিক মতবাদ অনুসারে ভূত্বক প্রধানত সাতটি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত, যেগুলি নিম্নস্থ ভ্রাম্যমান উষ্ণ গুরুমন্ডলীয় পদার্থের ওপর ভাসছে। প্লেটের বিচলন (movement) ও পারস্পরিক ক্রিয়া ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, পর্বত সৃষ্টি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ভূতাত্ত্বিক ঘটনাবলীর নিয়ন্ত্রক বলে ধারণা করা হয়।
তিন ধরনের পারস্পরিক প্লেট সীমানার কথা জানা যায়। যথা: সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা, অপসারী সীমা ও পরিবর্তক চ্যুতি সীমা।

সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা যখন একে অপরের দিকে অগ্রসরমান দুটি প্লেট কেন্দ্রাভিমুখী হয়ে অবশেষে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন একটি প্লেট অপরটির নিচে চাপা পড়ে। এই ধরনের প্লেট সংঘর্ষের ফলে পর্বতমালার সৃষ্টি হয় এবং প্লেট প্রান্তিকের আশেপাশে আগ্নেয়গিরির কর্মকান্ড সংঘটিত হয়।
অপসারী সীমা এই ক্ষেত্রে দুটি প্লেট একে অপরের থেকে সরে যেতে থাকে। এই ধরনের প্লেট সীমানার ফলে নতুন সমুদ্র তলদেশের এবং সামুদ্রিক আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়।
পরিবর্তক চ্যুতি সীমা যখন দুটি প্লেট একে অপরকে অতিক্রম করে যায়, তখন তাকে পরিবর্তক চ্যুতি সীমা বলে। তিন ধরনের প্লেট বিচলনেই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৯৬৭.
কোনটি পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফলাফল?
  1. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি
  2. দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি
  3. দিন-রাত্রি সংঘটন
  4. জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
বার্ষিক গতি
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর অবিরাম ঘূর্ণনের সাথে সাথে নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে) নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে যা পৃথিবীর বার্ষিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে ঋতু পরিবর্তন ও দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
আহ্নিক গতি

- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলাফল সমূহ:
• দিন-রাত্রি সংঘটন,
• জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি,
• বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি,
• তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৬৮.
আগ্নেয়গিরির উদগীরণের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসকে কী বলে?
  1. ক) ভুমিকম্প
  2. খ) সুনামি
  3. গ) বন্যা
  4. ঘ) ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরির উদগীরণের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসকে সুনামি বলে। 

সুনামি (Tsunami)  ‘সুনামি’  জাপানি শব্দ। বাংলায় এর অর্থ ‘পোতাশ্রয় ঢেউ’। সাগর বা নদী বা অন্য কোন জলক্ষেত্রে ভূমিকম্পের, ভূমিধ্বসের কিংবা আগ্নেয়গিরির উদগীরণের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসকেই বলা হয় সুনামি।

সমুদ্রতলের ২০-৩০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্প হলে তা সমুদ্র তলদেশের মাটিকে যেমন নাড়া দেয়, তেমনি স্বাভাবিকভাবেই পানিতেও কম্পন সৃষ্টি হয়। ভূমির কম্পন যখন পানিতে সঞ্চালিত হয়, তখন তার ফলে সুনামির উৎপত্তি হতে পারে। গভীর জলে সুনামি প্রতি ঘন্টায় ৬০০ মাইল (১০০০ কিলোমিটার) গতির হতে পারে। সুনামির ঢেউ সাধারণত হয় ধারাবাহিক এবং একটি ঢেউয়ের চূঁড়া থেকে আরেকটি ঢেউয়ের চূড়ার দূরত্ব ১০০ মাইলের (১৬০ কিলোমিটার) মতো হতে পারে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
৯৬৯.
সুনামি সংঘটিত হওয়ার সম্ভাব্য স্থান কোথায়?
  1. সমুদ্রের তলদেশে
  2. পাহাড়ে
  3. মরুভূমিতে
  4. মেরু অঞ্চলে 
ব্যাখ্যা

• সুনামি প্রধানত সমুদ্র বা মহাসাগরের তটে সংঘটিত হয়। এটি সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট বিশাল জলোচ্ছ্বাস। তাই সুনামি সংঘটিত হওয়ার সম্ভাব্য স্থান হলো সমুদ্রের তলদেশে। পাহাড়, মরুভূমি বা মেরু অঞ্চলে সুনামি সৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয়, কারণ এগুলোতে বড় জলোচ্ছ্বাসের উৎস থাকে না। সুনামি সাধারণত উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে এবং সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্প বা অগ্ন্যুৎপাতের ফলে পানি স্থানান্তরিত হয়ে বিশাল তরঙ্গ তৈরি করে। এই তরঙ্গ উপকূলে পৌঁছালে ব্যাপক ধ্বংস ঘটায়। তাই সমুদ্রতট এবং তলদেশই মূল সুনামি সংঘটনের সম্ভাব্য স্থান।

- সঠিক উত্তর: ক) সমুদ্রের তলদেশে।

সুনামি:
- সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ। 
- এর শাব্দিক অর্থ 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'।
- এখানে 'tsu' অর্থ বন্দর বা harbour এবং 'nami' অর্থ সামুদ্রিক ঢেউ।
- সমুদ্র তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সমুদরপৃষ্ঠে বিশাল যে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তাকে সুনামি বলে।
- সুনামির সৃষ্টির প্রধান কারণ সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্প।
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণেও সুনামি সৃষ্টি হয়ে থাকে। এছাড়া পারমানবিক বিস্ফোরণ, ভূমিধ্বস, উল্কাপিন্ডের পতন ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে।
- সর্বপ্রথম সুনামির কথা লিপিবদ্ধ হয় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭০.
বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে বায়ুচাপের কি পরিবর্তন হয়?
  1. ক) বায়ুচাপ বেড়ে যায়
  2. খ) বায়ুচাপ কমে যায়
  3. গ) বায়ুচাপ স্থির থাকে
  4. ঘ) বায়ুচাপ কখনো বাড়ে কখনো কমে
ব্যাখ্যা
• বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে বায়ুচাপ কমে যায়
- বায়ুতে তাপমাত্রা বাড়লে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যায়।
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে অবস্থিত জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাপকে তুল্য আর্দ্রতা বলে।
- তুল্য আর্দ্রতার সাথে শিশিরাঙ্কের সম্পর্ক রয়েছে।
- যে তাপমাত্রার বায়ু জলীয়বাষ্পে সম্পৃক্ত হয় তা শিশিরাঙ্ক নামে পরিচিত।
- অর্থাৎ বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্প দ্বারা ঐ বায়ুতে সম্পৃক্ত করতে হলে যে তাপমাত্রা পর্যন্ত শীতল করা প্রয়োজন সেই তাপমাত্রাকে শিশিরাঙ্ক বলে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭১.
টেলিস্কোপ আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) গ্যালিলিও
  2. খ) আর্কিমিডিস
  3. গ) হ্যান্স লিপারহে
  4. ঘ) আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা

১৬১০ সালে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও প্রথম জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক টেলিস্কোপ আবিষ্কার করেন এবং এর সাহায্যে বৃহস্পতির চারটি উপগ্রহ এবং চাঁদের পিঠে পাহাড় আবিষ্কার করেন।
সূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, শাহজাহান তপন

৯৭২.
'প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্ৰ সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।' সূত্রটি-
  1. কেপলারের প্রথম সূত্র
  2. কেপলারের দ্বিতীয় সূত্র
  3. কেপলারের তৃতীয় সূত্র
  4. নিউটনের ১ম সূত্র
ব্যাখ্যা
• কেপলারের সূত্র:
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন।
- বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন।
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে।
- ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- জন কেপলার সৌরজগতের গ্রহগুলির গতি সংক্রান্ত তিনটি সূত্র উপস্থাপন করেন, তার নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত।

• কেপলারের সূত্রসমূহ:
• প্রথম সূত্র: সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
• দ্বিতীয় সূত্র: প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্ৰ সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
• তৃতীয় সূত্র: সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৩.
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল -
  1. দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল
  2. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
  3. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
  4. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- এই অঞ্চলের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণি। 
৯৭৪.
গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কোন দেশে বৃষ্টিপাত ঘটে?
  1. ভারত
  2. নরওয়ে
  3. আর্জেন্টিনা
  4. দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাখ্যা

মৌসুমি বায়ু:
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়।
- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে বলা হয় মৌসুমি বায়ু।
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি ভাষায় "মত্তসুম” শব্দ থেকে যার অর্থ হলো ঋতু। এটি একটি আঞ্চলিক বায়ু।
- সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে শীত ও গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য হয় বলেই মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়।
- প্রধাণত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ দেখা যায়।
- এছাড়াও কর্কটক্রান্তি অঞ্চলে যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার কিছু অংশ, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত ইত্যাদি অঞ্চল এই বায়ুপ্রবাহের অন্তর্গত।
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হওয়ার জন্য কর্কটক্রান্তির বায়ুর চাপ কমে যায় ও সুবৃহৎ নিম্নচাপ কেন্দ্র সৃষ্টি হয়।
- এ অবস্থায় দক্ষিণ গোলার্ধের ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে আগত দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে।
- এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যাওয়া এই বায়ুকে তাই বলা হয় উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের মৌসুমি বায়ু।
- মধ্য এশিয়ায় নিম্নচাপের দ্বারা দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু উৎপন্ন হয়। ফলে চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, জাপান, কম্বোডিয়া, লাওস ইত্যাদি দেশে বৃষ্টিপাত ঘটে।
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পাকিস্তান, মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- অপরদিকে শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে এবং মকরক্রান্তিতে তখন নিম্নচাপ সৃষ্ট হয়।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ শীতল হয় বলে তখন ঐ স্থানে উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়।
- এই সময় বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বলে এবং এই বায়ু শুষ্ক থাকে।
- মৌসুমি বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বাম দিকে বেঁকে যায় এবং উত্তর-পশ্চিমে মৌসুমি বায়ুরূপে উত্তর অস্ট্রেলিয়ার দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭৫.
দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন কোনটি?
  1. ২১ মার্চ
  2. ২১ জুন
  3. ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ২২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

• উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত - ২২ ডিসেম্বর।
• দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত - ২২ ডিসেম্বর।
• উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত - ২১ জুন।
• দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত - ২১ জুন।
• পৃথিবীর দিনরাত্রি সর্বত্র সমান - ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।

৯৭৬.
মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস কত সালে নোবেল পুরস্কার পান?
  1. ১৯২৬ সাল
  2. ১৯৩৬ সাল
  3. ১৯৪৬ সাল
  4. ১৯৫৬ সাল
ব্যাখ্যা
• মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays):
- মহাজাগতিক রশ্মি হচ্ছে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার স্রোত। বহির্বিশ্ব থেকে এসব কণা এসে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে ৮৯ ভাগ প্রোটন, ৯ ভাগ নিউট্রন এবং ২ ভাগ কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারী নিউক্লিয়াস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
৯৭৭.
Rover Sojourner কত সালে মঙ্গল গ্রহে অবতরণ করে?
  1. ১৯৯৯
  2. ১৯৯৫
  3. ১৯৯৭
  4. ১৯৯৩
ব্যাখ্যা
- Mars Pathfinder was launched December 4, 1996 and landed on Mars' Ares Vallis on July 4, 1997. 
- It was designed as a technology demonstration of a new way to deliver an instrumented lander and the first-ever robotic rover to the surface of the red planet. 
- Pathfinder not only accomplished this goal but also returned an unprecedented amount of data and outlived its primary design life.
 
- Sojourner is a rover that landed on Mars in 1997 in a location called Ares Vallis where it explored and took many photos.
- In 1997, NASA scientists did something pretty amazing. For the first time, they used a small wheeled robot to study the surface of Mars. This robotic explorer, called a rover, was named Sojourner. It was only about the size of a microwave oven. However, it went on to share lots of important new information with scientists.
 
Source: Nasa Website
৯৭৮.
শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে-
  1. নক্ষত্রমণ্ডলী
  2. শুক্র গ্রহ
  3. বুধ গ্রহ
  4. মঙ্গলগ্রহ
ব্যাখ্যা

শুক্র (Venus):
- শুক্র গ্রহকে ভোরের আকাশে শুকতারা এবং সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যাতারা হিসেবে দেখা যায়।
- শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে কোনো তারা নয়, শুক্র গ্রহ।
- কিন্তু নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে বলেই আমরা একে ভুল করে তারা বলি।
- শুক্র গ্রহটি ঘন মেঘে ঢাকা। তাই এর উপরিভাগ থেকে সূর্যকে কখনই দেখা যায় না।
- শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন ডাইঅক্সাইডের তৈরি।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ।
- সূর্য থেকে শুক্র গ্রহের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর দিন ও রাতের মধ্যে আলোর বিশেষ কোনো তারতম্য হয় না।
- এখানে বৃষ্টি হয় তবে এসিড বৃষ্টি।
- শুক্রের ব্যাস ১২,১০৪ কিলোমিটার।
- সূর্যকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সুতরাং শুক্রে ২২৫ দিনে এক বছর।
- শুক্রের কোনো উপগ্রহ নেই।
- সকল গ্রহ এদের নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বে পাক খেলেও শুক্র গ্রহ পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাক খায়। (বোর্ড বই)

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৭৯.
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে কোন অবস্থা বিরাজ করে? 
  1. উচ্চচাপ
  2. নিম্নচাপ
  3. নিম্ন তাপ
  4. শুষ্ক আবহাওয়া
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): 
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযোগ্য। 
- স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেল আকৃতির কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় একটি সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৮০.
নিচের কোনটির জলরাশি পৃথিবীর মোট পানির মধ্যে সবচেয়ে কম? 
  1. হ্রদ 
  2. নদী 
  3. হিমবাহ 
  4. ভূগর্ভস্থ পানি 
ব্যাখ্যা

- জলরাশির পৃথিবীর মোট পানির মধ্যে সবচেয়ে কম আছে নদীর মধ্যে যা শতকরা ০.০০০১ ভাগ । 

বারিমণ্ডল: 
- 'Hydrosphere'-এর বাংলা প্রতিশব্দ বারিমণ্ডল। 
- 'Hydro' শব্দের অর্থ পানি এবং 'Sphere' শব্দের অর্থ মণ্ডল। 
- পৃথিবীর সর্বত্র রয়েছে পানি, এ বিশাল জলরাশি পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় থাকে যেমন- কঠিন (বরফ), গ্যাসীয় (জলীয়বাষ্প) এবং তরল। বায়ুমণ্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসেবে, ভূপৃষ্ঠে রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূপৃষ্ঠের তলদেশে রয়েছে ভূগর্ভস্থ তরল পানি। 
- বারিমণ্ডল বলতে বোঝায় পৃথিবীর সকল জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ। 
- পৃথিবীর সকল জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগ পানি রয়েছে সমুদ্রে (মহাসাগর, সাগর ও উপসাগর) এবং মাত্র ৩ ভাগ পানি রয়েছে নদী, হিমবাহ, ভূগর্ভস্থ, হ্রদ, মৃত্তিকা, বায়ুমণ্ডল ও জীবমণ্ডলে। 
- পৃথিবীর সমস্ত পানিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- লবণাক্ত ও মিঠা পানি। 
- পৃথিবীর সকল মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের জলরাশি লবণাক্ত এবং নদী, হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ পানি মিঠা পানির উৎস। 

- জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ ও শতকরা হার হচ্ছে- 
• সমুদ্র = ৯৭.২৫, 
• হিমবাহ = ২.০৫, 
• ভূগর্ভস্থ পানি = ০.৬৮, 
• হ্রদ = ০.০১, 
• মাটির আর্দ্রতা = ০.০০৫, 
• বায়ুমণ্ডল = ০.০০১, 
নদী = ০.০০০১ এবং 
• জীবমণ্ডল = ০.০০০০৪ ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৮১.
পৃথিবী বৃত্তের কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণ কত ডিগ্রী?
  1. ১৮০°
  2. ৯০°
  3. ৩৬০°
  4. ২৭০°
ব্যাখ্যা
• অক্ষাংশ নির্ণয় (Determining latitude)
- একজন ভূগোলবিদের জন্য অক্ষাংশ নির্ণয় করতে জানা খুবই জরুরি।
- আমরা জানি পৃথিবী বৃত্তের কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণ ৩৬০°।
- অক্ষাংশ নির্ণয় করার জন্য গ্লোবটিকে আমরা যদিমাঝখান দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে কেটে নেই, তাহলে এর মধ্যে আমরা পৃথিবীর ঠিক মধ্যকিন্দু পাব। এখন যদি আমরা কোনো একটি স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করতে চাই, তাহলে সেই মধ্যবিন্দুর সঙ্গে নির্ণেয় স্থানটির নিরক্ষরেখার (০°) পরিপ্রেক্ষিতে যে কোণ উৎপন্ন হয় তা নির্ণয় করতে হবে। এই কোণই হলো সেই স্থানের অক্ষাংশ।

অক্ষাংশ নির্ণয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে।
সেগুলো হলো –

•  সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে:
যে যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি পরিমাপ করা যায় তাকে সেক্সট্যান্ট যন্ত্র বলে। সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি কোণ নির্ণয় করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
কোনো স্থানের অক্ষাংশ = ৯০০– (মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি বিযুবলম্ব)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৯৮২.
'এল নিনো' (El Nino) একটি-
  1. 'ইতালিক' শব্দ
  2. 'রুশ' শব্দ
  3. 'স্প্যানিশ' শব্দ
  4. 'ইংরেজি' শব্দ
ব্যাখ্যা
এল নিনো:

- এল নিনো এক প্রকার উষ্ণ স্রোত।
- 'এল নিনো' (El Nino) একটি 'স্প্যানিশ' শব্দ।
- এল নিনো প্রতি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর ঘটে।
- তা বিরাজমান থাকে প্রায় ১ বছর কখনো কখনো ১৮ মাস পর্যন্ত যখন, সমুদ্র পৃষ্ঠ’র তাপমাত্রা বিস্তর পার্থক্য হয় (প্রায় ০.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস)। 
- এল নিনোর কারণে অস্ট্রেলিয়াতে খড়া দেখা দিতে পারে।
- এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে অতিবর্ষণ ও ভারতে বর্ষাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
- চলমান এল নিনো বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে আটকে রাখার লক্ষ্যমাত্রাকে অতিক্রম করে যেতে পারে।
- সাধারণত যে বছর এল নিনো শুরু হয়, তার পরের বছরটিতে তীব্র গরম অনুভূত হয়।
- এর আগে ২০১৫ সালে এল নিনো হয়েছিল বলে ২০১৬ সালে বিশ্বে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা দেখা গিয়েছিল।


Image Source: ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, যুক্তরাষ্ট্র
• অপরদিকে, 'লা নিনো' শব্দটিও ''স্প্যানিশ' যার অর্থ বালিকা। এল নিনো প্রভাবে সাগরে উষ্ণ পানির স্রোত প্রবাহিত হবার পর পরবর্তীতে সাগরের পানির উষ্ণতা কমে আসে। সাগরের পানির এ উষ্ণতা কমে আসাই লা নিনো নামে পরিচিত। লা নিনোর প্রভাবে অতিবৃষ্টি ও বন্যা হয়।  

উৎস: National Geographic Society.
৯৮৩.
বিগ ব্যাং কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ক) পৃথিবীতে
  2. খ) সূর্যে
  3. গ) মহাকাশে
  4. ঘ) সর্বত্র
ব্যাখ্যা
বিগ ব্যাং মহাবিশ্বের সর্বত্রই সংঘটিত হয়েছিল। নির্দিষ্ট কোন জায়গায় সংঘটিত হয়নি। 

একসময় এই মহাবিশ্বের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। এক বিরাট কসমিক বিস্ফোরণের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় সকল প্রকার কণা, প্রতিকণা ও পদার্থ। সৃষ্টি হয় ছায়াপথ, গ্রহ, উপগ্রহ। মহাজগৎ সৃষ্টির এই তত্ত্বকে বলা হয় ‘দ্য বিগ ব্যাং থিওরি’। 

স্টিফেন হকিং বিগ ব্যাং তত্ত্ব এর ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন। 

সূত্র- BBC Science Focus Website [লিঙ্ক]
৯৮৪.
আপেক্ষিক তত্ত্বের ভিত্তিতে নিচের কোনটি ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়?
  1. মহাকর্ষ
  2. নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি
  3. সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা
  4. উল্লিখিত সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক তত্ত্ব: 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশ করেন। 
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়, এগুলো সকলই আপেক্ষিক। 
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়। 
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। 
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়। 
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বকে দু'ভাগে ভাগ করেন। 
যথা- বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব এবং সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব। 

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই দুটি স্বীকার্য প্রদান করেন। 
যথা- 
প্রথম স্বীকার্য: 
- স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 

দ্বিতীয় স্বীকার্য: 
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৫.
অক্ষাংশ হিসেবে গর্জনশীল চল্লিশের অবস্থান কোনটি?
  1. ৪০° উত্তর থেকে ৪৭°
  2. ৪০° দক্ষিণ থেকে ৪৭°
  3. ৪১° উত্তর থেকে ৪৩°
  4. ৪৩° দক্ষিণ থেকে ৪৯°
ব্যাখ্যা
পশ্চিমা বায়ু: 
- উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে পশ্চিম বায়ু প্রবাহিত হয়। 
- ৩০° অক্ষাংশে কিছু বায়ু পৃথিবীর গা-ঘেঁষে মেরুর দিকে ৬০° অক্ষাংশ পর্যন্ত পৌঁছালে মেরু এলাকা থেকে আগত শীতল ও ভারী বায়ু মুখোমুখি হয়। 
- এসময় অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরের দিকে উঠে গেলেও এর এক অংশ মেরুবৃত্তের নিম্নচাপে প্রবাহিত হয় বলেই একে পশ্চিমা বায়ু বলা হয়। 
- উত্তর গোলার্ধের বিশাল স্থলভাগের জন্য স্থানীয়ভাবে পশ্চিমা বায়ু পরিবর্তনশীল। 
- আবার দক্ষিণ গোলার্ধে জলাবিস্তৃতি ভূমিরূপের কারণেই পশ্চিমা বায়ু প্রবলভাবে প্রবাহিত হয় এবং এ কারণেই এই বায়ুপ্রবাহের ধরণকে তখন বলা হয় প্রবল পশ্চিমা বায়ু। 
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সব থেকে বেশি বলেই এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring Forties)। 

- নিরক্ষীয় শান্ত বলয়ের মত ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়েও দুটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়। 
- ৩০° থেকে ৫০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে দুটি ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়ের অবস্থান রয়েছে। 
- বায়ু নিম্নদিকে প্রবাহিত হয় বলেই এই অঞ্চলে আনুভূমিক বায়ু অনুভব করা যায় না। 
- প্রাচীনকালে আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে জাহাজ প্রবাহিত হবার সময় ইউরোপ থেকে আমেরিকায় অশ্ব ও অন্যান্য পশু রপ্তানি করে নিয়ে যেত। 
- কিন্তু এই অঞ্চলের বায়ু প্রবাহের জন্য বাতাসের গতি যখন মন্থর হয়ে যেতো নাবিকরা তখন খাদ্য ও পানীয় জলের অনেক অভাবে তাদের অশ্বগুলো সমুদ্রে ফেলে দিতো। এ জন্য আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় শান্ত বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitude) বলে। 
- উত্তর গোলার্ধে ৩০° থেকে ৩৫° উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত অঞ্চলটিতে শীতকালেও পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৮৬.
নিচের কোনটি বায়ুর উপাদান নয়?
  1. হিলিয়াম
  2. আর্গন
  3. নিয়ন
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
• বায়ুর উপাদান নয় - ফসফরাস।

• বায়ুর উপাদান:
- বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাস ও বাষ্পের সমন্বয়ে গঠিত হলেও এর প্রধান উপাদান দুইটি হলো- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
- বায়ুমণ্ডলে আয়তনের দিক থেকে এ দুটি গ্যাস একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ এবং বাকিগুলো শতকরা ১.২৭ ভাগ।

• বায়ুর উপাদানের শতকরা হার:
- নাইট্রোজেন- ৭৮.০২%
- অক্সিজেন- ২০.৭১%
- আর্গন - ০.৮০%
- কার্বন ডাই অক্সাইড- ০.০৩%
- জলীয় বাষ্প- ০.৪১%
- অন্যান্য গ্যাস (যেমন- নিয়ন, হিলিয়াম, ক্রিপটন, জেনন, নাইট্রাস অক্সাইড)- ০.০২%
- ধূলিকণা ও কণিকা- ০.০১%

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৮৭.
কখন চন্দ্রগ্রহণ ঘটে?
  1. পৃথিবী সূর্য ও চন্দ্রের মাঝে এলে
  2. চন্দ্র সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে এলে
  3. সূর্য পৃথিবী ও চন্দ্রের মাঝে এলে
  4. পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় এলে
ব্যাখ্যা

চন্দ্ৰগ্ৰহণ:
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান।
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়।
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া।
- এই সময় চাঁদ গাঢ় লাল বা তামাটে রং ধারণ করে, যা সাধারণত 'রক্তচাঁদ' নামে পরিচিত।

⇒ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ: এই চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ার আড়ালে চলে যায়। এ সময় চাঁদ লালচে রং ধারণ করে।

⇒ আংশিক চন্দ্রগ্রহণ: চাঁদের একটি অংশের ওপর যখন পৃথিবীর ছায়া পড়ে, তখন আংশিক চন্দ্রগ্রহণ হয়। চাঁদের পৃষ্ঠের ওপর পৃথিবীর ছায়া ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং পরে তা কমে যায়। তবে পুরো চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার আড়ালে চলে যায় না।

⇒ উপচ্ছায়া চন্দ্রগ্রহণ: এই চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ সরাসরি পৃথিবীর মূল ছায়ার ভেতরে থাকে না। বরং ছায়ার বাইরের অংশ বা উপচ্ছায়ার ভেতর দিয়ে যায়। এর ফলে চাঁদ স্বাভাবিকের চেয়ে কম উজ্জ্বল দেখায়।

এছাড়াও,
- সূর্যগ্রহণ: যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ। চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে।

- পূর্ণিমা: পূর্ণিমা তখনই হয়, যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে।

- অমাবস্যা: চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে। চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। 

উৎস: i) বিবিসি বাংলা।
ii) প্রথম আলো

৯৮৮.
কিসের তারতম্য থেকে আবহাওয়ার অবস্থা জানা যায়?
  1. ক) জলবায়ু
  2. খ) আর্দ্রতা
  3. গ) বৃষ্টিপাত
  4. ঘ) বায়ুচাপ
ব্যাখ্যা
বায়ু তার ওজনের কারণে ভূপৃষ্ঠের ওপর যে চাপ প্রয়োগ করে তাকে বায়ুচাপ বলে। বায়ুচাপের তারতম্য থেকে আবহাওয়ার অবস্থা জানা যায়।
৯৮৯.
নীহারিকার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য?
  1. গ্যাস, ধুলা ও প্লাজমা দ্বারা নীহারিকা গঠিত
  2. নীহারিকায় শতকরা ৯০ ভাগ হাইড্রোজেন বিদ্যমান
  3. শতকরা ১ ভাগ কার্বন বিদ্যমান
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
নীহারিকার:
- প্রধানত গ্যাস, ধুলা ও প্লাজমা দ্বারা নীহারিকা গঠিত।
- বেশির ভাগ নীহারিকায় শতকরা ৯০ ভাগ হাইড্রোজেন, শতকরা ৯ ভাগ হিলিয়াম আছে।
- এ ছাড়া বাকি শতকরা ১ ভাগ হিসেবে রয়েছে কার্বন, নাইট্রোজেন, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও পটাসিয়াম।
- নীহারিকাগুলো মূলত অবস্থিত আন্ত নাক্ষত্রিক শূন্যস্থান বা interstellar medium (ISM)-এ।
- এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে ছোটো নীহারিকা NGC 7027 মাত্র ০.১ আলোকবর্ষ।
- আবিষ্কৃত সর্ববৃহৎ ট্যারান্টুলা নেবুলা প্রায় ১৮৬২ আলোকবর্ষ।

তথ্যসুত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ, ২ জুন ২০২৩।
৯৯০.
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে বায়ুচাপ কেমন বিদ্যমান থাকে?
  1. নিম্নচাপ
  2. উচ্চচাপ
  3. চারপাশের সমান 
  4. বায়ুচাপ অনুপস্থিত থাকে 
ব্যাখ্যা

◉ ঘূর্ণিঝড় মূলত অতিমাত্রায় নিম্নচাপের কেন্দ্রকে ঘিরে সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রে চাপ কমে গেলে আশেপাশের এলাকা থেকে বাতাস প্রবল বেগে ভেতরের দিকে ধাবিত হয়।

ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): 
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচণ্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযোগ্য। স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেল আকৃতির কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় একটি সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৯১.
মহাবিশ্বে কয় ধরনের বল হয়েছে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্বের চার ধরনের বল রয়েছে। যথা-মহাকর্ষ, তাড়িৎচৌম্বকীয়, দুর্বল নিউক্লিয়ার বল এবং শক্তিশালী নিউক্লিয়ার বল। উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৯২.
‘ইকোলজি’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন -
  1. আর্নেস্ট হেকেল
  2. লেস্টার ব্রাউন
  3. নরম্যান বোরল্যাগ
  4. আরহেনিয়াস
ব্যাখ্যা
বাস্তুবিদ্যা (Ecology):

- জীববিজ্ঞানের যে বিশিষ্ট শাখায় পরিবেশে বিন্যস্ত বিভিন্ন জীব ও তার পারিপার্শ্বিক জড় উপাদান এবং তাদের পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়া, নির্ভরশীলতা ও মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয় তাকে বাস্তুবিদ্যা বা ইকোলজি বলে।
- প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রধান নিয়ামক : পানি, গাছপালা ইত্যাদি।
- পরিবেশবিজ্ঞানের ইংরেজি পরিভাষা Ecology ইকোলজি। 
- গ্রিক  ওইকোস অর্থাৎ "বাসস্থান" এবং লোগোস অর্থাৎ "বিদ্যা" ইংরেজি Ecology পরিভাষাটি এসেছে।
- ইকোলজি শব্দটি জার্মান বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল ১৮৬৯ সালে সর্বপ্রথম প্রণয়ন করেন।
- ‘ইকোলজি’ হলো পরিবেশের সাথে প্রাণীজগতের সম্পর্ক বিষয়ক বিদ্যা।
- সুইডিশ বিজ্ঞানী সুভনটে আরহেনিয়াস ১৮৯৬ সালে সর্বপ্রথম ‘গ্রিনহাউজ’ শব্দটি ব্যবহার করেন।
- লেস্টার ব্রাউন প্রথম ‘জলবায়ু শরনার্থী’ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন।
- নরম্যান বোরলগ সবুজ বিপ্লবের জনক হিসেবে অভিহিত।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং অ্যাকাডেমিয়া। 
৯৯৩.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়?
  1. এক্সোস্ফিয়ার
  2. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. ট্রপোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

• এক্সোস্ফিয়ার (Exosphere): 
- তাপমণ্ডলের (থার্মোস্ফিয়ার) উপরে প্রায় ৯৬০ কিলােমিটার পর্যন্ত যে বায়ুস্তর আছে তাকে এক্সোস্ফিয়ার বলে। 
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়। 

• এক্সোস্ফিয়ারের বৈশিষ্ট্য: 
- এক্সোস্ফিয়ার, তাপমণ্ডল (থার্মোস্ফিয়ার) অতিক্রম করে ৯৬০ কিলােমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়। এটি ক্রমান্বয়ে ইন্টারপ্লানেটারি স্পেসে প্রবেশ করে। 
- এ স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়। 
- এ স্তরে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস যেমন অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন এবং হিলিয়াম ধারণ করে, কেননা মাধ্যাকর্ষণের ঘাটতির কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলাে সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৯৪.
WWF এর পূর্ণরূপ কোনটি?
  1. ক) World Wide Federation for Nature
  2. খ) World Wide Fund for Nature
  3. গ) World Warming Federation for Natural  
  4. ঘ) Wild World Fund for Nature
ব্যাখ্যা
WWF এর পূর্ণরূপ হচ্ছে World Wide Fund for Nature.

- ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার ( ডব্লিউডবিএফ ) হল একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারী সংস্থা।
- ইহা ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, মরুভূমি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কাজ করে এবং পরিবেশের উপর মানবিক প্রভাব হ্রাস পায়।
- এটি পূর্বে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের নামকরণ করা হয়েছিল, যা কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অফিসিয়াল নাম।
- লিভিং প্ল্যানেট রিপোর্ট ডব্লিউডএফএফ দ্বারা ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতি দুই বছর প্রকাশিত হয়; এটি একটি লিভিং প্ল্যানেট সূচক এবং পরিবেশগত পদাঙ্ক হিসাব উপর ভিত্তি করে।  
- বিশ্বের বৃহত্তম সংরক্ষণ সংস্থা (ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার, সংক্ষেপে নাম) যেটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য তহবিল সংগ্রহ করে, এটি বিভিন্ন দেশগুলিতে বিতরণ করে, প্রাকৃতিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি উন্নীত করে, বিভিন্ন প্রচারাভিযান, শিক্ষা এবং সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে WWF. 

সূত্র- WWF Website [লিঙ্ক]
৯৯৫.
ব্যারোমিটার আবিষ্কার করেন-
  1. এডিসন
  2. গ্যালিলিও
  3. টরেসিলি
  4. জর্জ কেলী
ব্যাখ্যা
ব্যারোমিটার: 
- টরেসিলি ১৬৪৩ সালে তরল তলের উচ্চতা ও বায়ুচাপের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে প্রথম বায়ুমন্ডলীয় চাপ পরিমাপের যন্ত্র আবিস্কার করেন। এর নাম ব্যারোমিটার। - যে যন্ত্র দিয়ে বাতাসের চাপ মাপা হয় সে যন্ত্রকে বলা হয় ব্যারোমিটার। 
- বায়ুমণ্ডলের চাপ মাপার জন্য এখনো নির্ভরতার সঙ্গে ব্যারোমিটার ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- ব্যারোমিটারে পারদ স্তভের উচ্চতাকে বায়ুমন্ডলীয় চাপের আদর্শ ধরা হয়। 
- আদর্শ বায়ু চাপ 76cm পারদ স্তম্ভের ওজনের সমান। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৯৬.
রকেট আবিষ্কার করেন কে?
  1. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
  2. থিওডর মাইম্যান
  3. উইলিয়াম গিলবার্ট
  4. ডব্লিউ কনগ্রিড
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন আবিষ্কার:
- ডব্লিউ কনগ্রিড রকেট আবিষ্কার করেন।

- মাইকেল ফ্যারাডে ডায়নামো আবিষ্কার করেন।
- উইলিয়াম গিলবার্ট বিদ্যুৎ আবিষ্কার করেন।
- ডিনামাইট আবিষ্কার করেন আলফ্রেড নোবেল।
- ওপেনহেইমার আবিষ্কার করেন পারমাণবিক বোমা; 
- থিওডর মাইম্যান আবিষ্কার করেন লেজার রশ্মি;
- টমাস আলভা এডিসন আবিষ্কার করেন গ্রামোফোন, ফনোগ্রাফ, সিনেমা প্রজেক্টর, ভিডিও ক্যামেরা এবং দীর্ঘস্থায়ী বৈদ্যুতিক বাতি (বাল্ব) সহ বহু যন্ত্র।
- পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং। 

উৎস: Britannica.
৯৯৭.
শহরের রাস্তায় ট্রাফিক লাইট যে ক্রম অনুসারে জ্বলে তা হলো-
  1. লাল-সবুজ-হলুদ-লাল-সবুজ
  2. লাল-সবুজ-হলুদ-সবুজ-লাল
  3. লাল-হলুদ-সবুজ- হলুদ -লাল 
  4. লাল-হলুদ-লাল-সবুজ-হলুদ
ব্যাখ্যা
শহরের রাস্তায় ট্রাফিক লাইট যে ক্রম অনুসারে জ্বলে তা হলো:
লাল-হলুদ-সবুজ- হলুদ -লাল 
ট্রাফিক সিগন্যালে লাল মানে থামতে হবে।
হলুদ বাতি জ্বলে উঠলে নিতে হবে যাত্রার প্রস্তুতি। অর্থাৎ আরও কিছু সময় অপেক্ষা করার পরই যাত্রা শুরু নির্দেশক হলুদ আলো।
আর সবুজ বাতি জ্বলে উঠলেই এগিয়ে যেতে হবে।

উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট।
৯৯৮.
ধুমকেতু সুমেকার লেভী-৯ এর প্রথম ভাঙ্গা টুকরাটি কবে বৃহস্পতি গ্রহে আঘাত হানে?
  1. ১৫ জুলাই, ১৯৯৪
  2. ১৬ জুলাই, ১৯৯৪
  3. ১৭ জুলাই, ১৯৯৪
  4. ১৮ জুলাই, ১৯৯৪
ব্যাখ্যা
ধুমকেতু সুমেকার লেভী-৯:
- ধুমকেতু সুমেকার লেভী-৯ থেকে টুকরো টুকরো অংশ বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলে 221,000 কি.মি (137,300 মাইল) বেগে প্রতি ঘন্টায় ১৬ জুলাই, ১৯৯৪ সালে আঘাত আনতে শুরু করেছিল। 
- পৃথিবী-ভিত্তিক পর্যবেক্ষকদের জন্য গ্রহের 9.92-ঘন্টা ঘূর্ণন সময় দ্রুত প্রতিটি প্রভাবের স্থানকে দৃশ্যমান করে তুলেছিল। 
- গড়ে সাত থেকে আট ঘণ্টা সময়ের মধ্যে আলাদা হয়ে প্রতিটি খণ্ড জোভিয়ান বায়ুমণ্ডলের গভীরে নিমজ্জিত হয় এবং প্রচণ্ড শক্তিতে বিস্ফোরিত হয় এবং "ফায়ারবল" নামক অতি-গরম গ্যাসের বুদবুদ তৈরি করে।

উৎস: Britannica.
৯৯৯.
ভূমিকম্পের সংগে নিচের কোনটি সংঘটনের সম্পর্ক আছে?
  1. ক) নদীভাঙ্গা
  2. খ) বন্যা
  3. গ) খরা
  4. ঘ) সুনামি
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্পের ফলেই সুনামি সংঘটিত হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
১,০০০.
সেলুলার ফোনের জনক কে?
  1. স্টিভ জবস
  2. টমাস এডিসন
  3. মার্টিন কুপার
  4. আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল
ব্যাখ্যা
মোবাইল ফোন বা সেলুলার ফোন (Mobile Phone): 
- মোবাইল ফোন বা সেলফোন বর্তমান বিশ্বে সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং ব্যবহৃত যোগাযোগ মাধ্যম।
- এটি প্রকৃত পক্ষে একটি ট্রান্সমিটার ও রিসিভার অর্থাৎ একে এক কথায় ট্রান্সসিভার বলে।
- প্রথম দিকে এটি শুধু যোগাযোগ মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি বিনোদন থেকে শুরু করে ইন্টারনেট ব্যবহার পর্যন্ত সকল কাজেই ব্যবহার করা যায়।
- মোবাইল ফোন এখন একটি ছোটো খাটো কম্পিউটারের ন্যায় কাজ করে।
- এর সাহায্যে গেইম খেলা, গানশুনা, গান ডাইনলোড করা, সিনেমা দেখা, ভিডিও কনফারেন্স করা, ইন্টারনেট ব্যবহার করা, চিঠি-পত্র আদান প্রদান করা, স্থির ও ভিডিও চিত্র গ্রহন ও প্রেরণ ইত্যাদি কাজ সম্পন্ন করা যায়।
- তাছাড়াও মোবাইল ফোন দিয়ে ক্যাশ পেমেন্ট, বিল পরিশোধ, এয়ারপোর্টে চেক-ইন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির দরখাস্ত করা যায়।

 
মার্টিন কুপার:
- মার্টিন কুপার (জন্ম: ২৬ ডিসেম্বর, ১৯২৮, শিকাগো, ইলিনয়, যুক্তরাষ্ট্র) একজন আমেরিকান প্রকৌশলী।
- তিনি ১৯৭২–৭৩ সালে প্রথম মোবাইল সেল ফোন তৈরি করার দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। 
- তিনি প্রথম মোবাইল ফোন কল করেন।
- তিনি ব্যাপকভাবে সেলুলার ফোনের জনক হিসেবে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
Britannica.