বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শামসুর রাহমান

মোট প্রশ্ন২০২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শামসুর রাহমান

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ২০২

১০১.
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বন্দি শিবির থেকে
  2. নেকড়ে অরণ্য
  3. জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
  4. প্রিয়যোদ্ধা প্রিয়তম
ব্যাখ্যা

• 'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ:
- শামসুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন। সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তার লেখা "বন্দী শিবির থেকে" কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে 'পূর্বলেখ' শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো-
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি,
- মধুস্মৃতি,
- রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'নেকড়ে অরণ্য' হলো শওকত ওসমান রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস, যা ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি মুক্তিযুদ্ধের সময়কার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও নারীর ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের ভয়াবহতা তুলে ধরেছে।

• 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' উপন্যাসের রচয়িতা শহীদুল জহির। এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। দর্শনের প্রয়োগ এবং কর্মের নতুনত্বের সাথে টানাগদ্যে রচিত ভিন্নমাত্রার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটিকে অনেকে প্রবন্ধ ভেবে ভুল করেন।

• হারুন হাবীব তার 'প্রিয়যোদ্ধা প্রিয়তম' (১৯৮২) উপন্যাসে বাংলাদেশ এবং যুগশ্লাভিয়ার মুক্তি সংগ্রামকে অভিন্ন বোধ-বিশ্বাস ও ভাবনার প্রতীকরূপে উপস্থাপন করেছেন।

-------------
• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত। তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

তাঁর রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- অন্ধকার থেকে আলোয়,
- হরিণের হাড়,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০২.
'আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে'- চরণটি জাতীয় জীবনের কোন দিকটি তুলে ধরেছে?
  1. স্বাধীনতা সংগ্রাম
  2. বঙ্গভঙ্গ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতা:
- কবিতাটি শামসুর রাহমান রচিত 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- “ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯” সংগ্রামী চেতনার কবিতা, দেশপ্রেমের কবিতা, গণজাগরণের কবিতা।
- কবিতাটি গদ্যছন্দে ও প্রবহমান ভাষায় রচিত।
- ১৯৬৯-এ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে যে গণআন্দোলনের সূচনা ঘটেছিল, কবিতাটি সেই গণজাগরণের পটভূমিতে রচিত। তবে কবিতাটিতে একুশের রক্তঝরা দিনগুলোতে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এদেশের সংগ্রামী মানুষের আত্মাহুতির মাহাত্ম্যে কথারও উল্লেখ রয়েছে। 
- 'আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে'- চরণটি আমাদের জাতীয় জীবনের ভাষা আন্দোলনের দিকটি তুলে ধরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতা।
১০৩.
শামসুর রাহমানের আত্মজীবনীমূলক রচনা কোনটি?
  1. রোদ্র করোটিতে
  2. প্রেমের কবিতা
  3. কালের ধূলোয় লেখা 
  4. প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমানের আত্মজীবনীমূলক রচনা হচ্ছে কালের ধূলোয় লেখা। 

শামসুর রাহমান
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর, পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ছিল ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রাহমানের প্রথম কবিতা 'উনিশ শ'উনপঞ্চাশ' ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।
- তিনি ১৮ আগস্ট ২০০৬ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
- মৃত্যুর পূর্বে তার মোট ৬৫টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (১৯৬০),
- রোদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- শূন্যতায় তুমি শোকসভা,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- প্রেমের কবিতা,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়, ইত্যাদি। 

উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়। 

আত্মস্মৃতি:
- স্মৃতির শহর,
- কালের ধূলোয় লেখা। 

প্রাপ্ত পুরস্কার:
শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য নিম্নলিখিত সম্মান লাভ করেন:
- আদমজী পুরস্কার (১৯৬৩),
- বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬৯),
- একুশে পদক (১৯৭৭)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৪.
শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. এলো সে অবেলায়
  2. বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. নিয়ত মন্তাজ
  4. অক্টোপাস
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ - বিধ্বস্ত নীলিমা

শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- অন্ধকার থেকে আলোয়,
- হরিণের হাড়,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১০৫.
‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি শামসুর রহমান কোন কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেছেন?
  1. রৌদ্র করোটিতে
  2. বন্দি শিবির থেকে
  3. বিধ্বস্ত নীলিমা
  4. অন্ধকার থেকে আলোয়
ব্যাখ্যা

• 'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ:
- শামসুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন। সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তার লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা-  
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি, 
- মধুস্মৃতি,
- আমরাও সৈনিক হবো,
- প্রতিশ্রুতি, 
- গেরিলা, 
- রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি।

----------------------
• শামসুর রহমান রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- অন্ধকার থেকে আলোয়,
- হরিণের হাড়,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

১০৬.
শামসুর রাহমান রচিত কবিতা নয় কোনটি?
  1. তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা
  2. স্বাধীনতার জন্য
  3. তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা
  4. স্বাধীনতা তুমি
ব্যাখ্যা
⇒ শামসুর রাহমান রচিত কবিতা নয়  ‘স্বাধীনতার জন্য’।
⇒ ‘স্বাধীনতার জন্য’
আবু সাইদ কামাল রচিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটি উপন্যাস।

===============
⇒ শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

• আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ 'শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত 'সোনার বাংলা' পত্রিকায়। 
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য - "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’।

• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থের একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো- ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা’।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’ কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রােদ্র করােটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালােকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- শূন্যতায় তুমি শােকসভা,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- প্রেমের কবিতা,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০৭.
"অক্টোপাস" উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. মুনির চৌধুরী
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০৮.
শামসুর রহমানের রচনা কোনটি?
  1. ক) নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  2. খ) কয়েকটি কবিতা
  3. গ) নিরালোকে দিব্যরথ
  4. ঘ) উত্তরাধিকার
  5. ঙ) পদাতিক
ব্যাখ্যা
নিরালোকে দিব্যরথ কাব্য কবি শামসুর রহমানের। এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়। নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি, কয়েকটি কবিতা, উত্তরাধিকার ও পদাতিক গ্রন্থসমুহ যথাক্রমে সেলিনা হোসেন, সত্যেন সেন, শহীদ কাদরি এবং সুভাষ মুখোপাধ্যায় রচিত।(সূত্র: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য- মোহসীনা নাজিলা)
১০৯.
"কালের ধুলোয় লেখা" — আত্মস্মৃতিটি কে লিখেছেন?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. শওকত আলী 
ব্যাখ্যা

• 'কালের ধুলোয় লেখা’ আত্মস্মৃতি:
- 'কালের ধুলোয় লেখা' (২০০৪) শামসুর রাহমান রচিত একটি — আত্মস্মৃতি।
- 'কালের ধুলোয় লেখা' তাঁর আত্মজীবনীতে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি শুধু নয়, বৈশ্বিক পটভূমিতে কাছ থেকে দেখা বাঙালির গণ-সংস্কৃতির ইতিহাস যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনি প্রতিভাত হয়েছে তার কাব্যসত্তার ভেতর- বাহির।
- এই গ্রন্থে জীবনে ঘটেছে এমন কোনো ঘটনাকে লুকোতে চান নি তিনি। মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।
- বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুর রাহমান অনেক অজানা ইতিহাসকে খোলসা করেছেন স্পষ্টভাবে যার মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ সত্যাশ্রয়ী আত্মজীবনী লেখার একটি সংস্কৃতি চালু করেন।

শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১১০.
শামসুর রহমানকে কোন উপাধিতে অভিহিত করা হয়?
  1. তিমির হননের কবি 
  2. প্রকৃতির কবি
  3. ধূসরতার কবি 
  4. নাগরিক কবি
ব্যাখ্যা

শামসুর রহমানকে নাগরিক কবি উপাধিতে অভিহিত করা হয়।

• শামসুর রাহমান:

- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমানের জন্ম তার নানাবাড়িতে।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তার পিতা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী এবং মাতা আমেনা বেগম।
- শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল- বাচ্চু।
- শামসুর রাহমানকে প্রধানত “নাগরিক কবি” বলা হয়।
- কারণ তার কবিতায় নগর জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
-  তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় সাধারণ মানুষ কীভাবে জীবন যাপন করে, শহরের মানুষদের দৈনন্দিন সমস্যা, সুখ–দুঃখ ও সমাজের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন।
- এই অনন্য কবি-কীর্তি ও সত্যনিষ্ঠ কাব্যচর্চার জন্য তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।
- তিনি ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে, 
- জীবনানন্দ দাশকে বলা হয়- তিমির হননের কবি, প্রকৃতির কবি ও ধূসরতার কবি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১১১.
শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. অক্টোপাস
  2. অদ্ভুত আঁধার এক
  3. নিরালোকে দিব্যরথ
  4. এলো সে অবেলায়
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

'অক্টোপাস' উপন্যাস:
- 'অক্টোপাস' উপন্যাসের রচয়িতা - শামসুর রাহমান। ১৯৮৩ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- অক্টোপাস উপন্যাসজুড়ে রয়েছে দাম্পত্য সংকট, প্রেম, পরকীয়া ও ব্যক্তি অস্তিত্বের জলন্ত স্ফূরণ।

• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ উপন্যাস:
- ‘অদ্ভুত আঁধার এক’  শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

‘এলো সে অবেলায়’ উপন্যাস:
- ‘এলো সে অবেলায়’ শামসুর রাহমান রচিত একটি - উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• শামসুর রাহমানের রচিত 'নিরালোকে দিব্যরথ' একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১২.
শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা
  2. খ) নিরালোকে দিব্যরথ
  3. গ) রৌদ্র করোটিতে
  4. ঘ) পারাপার
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও একজন নাগরিক কবি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম প্রকাশিত),
- বন্দী শিবির থেকে (স্বাধীনতা তুমি, তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা কবিতা দুটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত)
- রৌদ্র করোটিতে,
- আমি অনাহারী,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- দুঃসময়ের মুখোমুখি,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- এক ধরনের অহংকার,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড় ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১৩.
"তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,
সকিনা বিবির কপাল ভাঙলো," পঙক্তিদ্বয় কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 

  1. ক) তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা
  2. খ) বন্দী শিবির থেকে
  3. গ) আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি
  4. ঘ) বিধ্বস্ত নীলিমা
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিদ্বয় কবি শামসুর রাহমান রচিত 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার অন্তর্গত। 
- ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- ৩৮ টি কবিতা এ গ্রন্থে সংযোজন করা হয়েছে। 
কবিতাটি নিম্নরূপ-  

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা,
তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?
আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন?

তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,
সকিনা বিবির কপাল ভাঙলো,
সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল হরিদাসীর।
তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা,
শহরের বুকে জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক এলো
দানবের মত চিৎকার করতে করতে,
তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা,
ছাত্রাবাস, বস্তি উজাড় হল। রিকয়েললেস রাইফেল
আর মেশিনগান খই ফোটালো যত্রতত্র।
তুমি আসবে বলে ছাই হল গ্রামের পর গ্রাম।
তুমি আসবে বলে বিধ্বস্ত পাড়ায় প্রভুর বাস্তুভিটার
ভগ্নস্তূপে দাঁড়িয়ে একটানা আর্তনাদ করল একটা কুকুর।
তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা
অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের উপর।
তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা, তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?
আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন? (সংক্ষিপ্ত) 

উৎস: বন্দী শিবির থেকে, শামসুর রাহমান।
১১৪.
শামসুর রাহমান রচিত ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. বিধ্বস্ত নীলিমা
  2. বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
  3. বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়
  4. নিজ বাসভূমে
ব্যাখ্যা
• নিজ বাসভূমে:
- কাব্যটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
- কবিতাটি গদ্যছন্দে ও প্রবহমান ভাষায় রচিত।
- ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি সংগ্রামী চেতনার কবিতা, দেশ প্রেমের কবিতা, গণজাগরণের কবিতা।

• শামসুর রাহমান:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তাঁর ডাক নাম ‘বাচ্চু’।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়। 
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল, 
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১৫.
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটির কবি কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯:
- কবিতাটি শামসুর রাহমান রচিত 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- কবিতাটি গদ্যছন্দে ও প্রবহমান ভাষায় রচিত।
- 'আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে' - চরণটি আমাদের জাতীয় জীবনের ভাষা আন্দোলনের দিকটি তুলে ধরে।

শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তাঁর ডাক নাম ‘বাচ্চু’।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়। 
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল, 
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১৬.
‘এ আমার ছোট ছেলে, যে নেই এখন,
পাথরের টুকরোর মতন
ডুবে গেছে আমাদের গ্রামের পুকুরে
বছর - তিনেক আগে কাক - ডাকা গ্রীষ্মের দুপুরে’। ___ পঙ্ক্তিগুলো কোন কবির রচনা?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. শামসুর রাহমান
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
‘এ আমার ছোট ছেলে, যে নেই এখন,
পাথরের টুকরোর মতন
ডুবে গেছে আমাদের গ্রামের পুকুরে
বছর - তিনেক আগে কাক - ডাকা গ্রীষ্মের দুপুরে’। ___ পঙ্ক্তিগুলো শামসুর রাহমানের 'একটি ফটোগ্রাফ' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে

শামসুর রাহমান: 

- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১১৭.
শামসুর রাহমান রচিত কোন কবিতাটি মুক্তিযুদ্ধ নির্ভর?
  1. ক) টানাপোড়েন
  2. খ) স্বাধীনতা তুমি
  3. গ) ভালোবাসা তুমি
  4. ঘ) আসাদের শার্ট
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমানের মুক্তিযুদ্ধের কবিতার মধ্যে বহুল প্রচারিত দুটো কবিতা হচ্ছে ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ এবং ‘স্বাধীনতা তুমি’। এছাড়াও কবির মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক আরেকটি বিখ্যাত কবিতা হচ্ছে ‘তুমি বলেছিলে’
‘তুমি বলেছিলে’ কবিতায় বর্বর হানাদার বাহিনীর অত্যাচারের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে নিঃসংকোচে। নয়াবাজার, ঘরবাড়ি, দোকানপাট, মসজিদ, মন্দির, মানচিত্র, পুরনো দলিল ইত্যাদি ঘাতকের হাত থেকে রেহাই পায়নি। একে-একে তারা সব ধ্বংস করেছে। ঘাতকদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শহর ছেড়ে পালাচ্ছে সবাই দিকবিদিক। বনপোড়া হরিণী যেমন বন থেকে পালায়, তেমনি নবজাতককে বুকে নিয়ে উদ্ভ্রান্ত জননী শহর ছেড়ে পালাচ্ছে।
উৎসঃ কালি ও কলম (মাসিক পত্রিকা)।
১১৮.
শামসুর রাহমান রচিত কোন কবিতাটি মুক্তিযুদ্ধ নির্ভর?
  1. ক) তুমি বলেছিলে
  2. খ) টানাপোড়েন
  3. গ) ভালোবাসা তুমি
  4. ঘ) আসাদের শার্ট
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান রচিত 'তুমি বলেছিলে' কবিতাটি মুক্তিযুদ্ধ নির্ভর।  

• ‘তুমি বলেছিলে’ কবিতার ভাবার্থ: 
- ‘তুমি বলেছিলে’ কবিতায় বর্বর হানাদার বাহিনীর অত্যাচারের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে নিঃসংকোচে।
- নয়াবাজার, ঘরবাড়ি, দোকানপাট, মসজিদ, মন্দির, মানচিত্র, পুরনো দলিল ইত্যাদি ঘাতকের হাত থেকে রেহাই পায়নি।
- একে-একে তারা সব ধ্বংস করেছে। ঘাতকদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শহর ছেড়ে পালাচ্ছে সবাই দিকবিদিক।
- বনপোড়া হরিণী যেমন বন থেকে পালায়, তেমনি নবজাতককে বুকে নিয়ে উদ্ভ্রান্ত জননী শহর ছেড়ে পালাচ্ছে।

তুমি বলেছিলে – কবিতা
শামসুর রাহমান
----------------
দাউ দাউ পুড়ে যাচ্ছে নতুন বাজার।
পুড়ছে দোকান-পাট, কাঠ,
লোহা-লক্কড়ের স্তূপ, মসজিদ এবং মন্দির।
দাউ দাউ পুড়ে যাচ্ছে নতুন বাজার।

বিষম পুড়ছে চতুর্দিকে ঘর-বাড়ি।
পুড়ছে টিয়ের খাঁচা, রবীন্দ্র রচনাবলি, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার,
মানচিত্র, পুরনো দলিল।
মৌচাকে আগুন দিলে যেমন সশব্দে
সাধের আশ্রয় ত্যাগী হয়
মৌমাছির ঝাঁক,
তেমনি সবাই
পালাচ্ছে শহর ছেড়ে দিগ্বিদিক। নবজাতককে
বুকে নিয়ে উদ্ভ্রান্ত জননী
বনপোড়া হরিণীর মত যাচ্ছে ছুটে।
অদূরে গুলির শব্দ, রাস্তা চষে জঙ্গী জীপ। আর্ত
শব্দ সবখানে। আমাদের দু’জনের
মুখে খরতাপ। আলিঙ্গনে থরো থরো
তুমি বলেছিলে,
’আমাকে বাঁচাও এই বর্বর আগুন থেকে, আমাকে বাঁচাও,
আমাকে লুকিয়ে ফেলো চোখের পাতায়
বুকের অতলে কিংবা একান্ত পাঁজরে
আমাকে নিমেষে শুষে নাও
চুম্বনে চুম্বনে।’

উল্লেখ্য, 
শামসুর রাহমানের মুক্তিযুদ্ধের কবিতার মধ্যে বহুল প্রচারিত দুটো কবিতা হচ্ছে ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ এবং ‘স্বাধীনতা তুমি’। 

উৎস: কালি ও কলম (মাসিক পত্রিকা)। তুমি বলেছিলে – কবিতা, শামসুর রাহমান। 
১১৯.
'স্মৃতির শহর' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
কালের ধুলোয় লেখা ও স্মৃতির শহর শামসুর রাহমান রচিত আত্মকাহিনী।
অক্টোপাস, অদ্ভূত আঁধার এক, নিয়ত মন্তাজ, এলো সে অবেলায় - ইত্যাদি শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস।
এলাটিং বেলাটিং, ধান ভানলে কুঁড়ো দেব, গোলাপ ফুটে খুকীর হাতে, আমের কুঁড়ি জামের কুঁড়ি - তাঁর রচিত শিশু-কিশোর সাহিত্য।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১২০.
'দুঃসময়ের মুখোমুখি’ কার লেখা?
  1. ক) সানাউল হক
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) আহসান হাবিব
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

- শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও একজন নাগরিক কবি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম প্রকাশিত),
- বন্দী শিবির থেকে (স্বাধীনতা তুমি, তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা কবিতা দুটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত)
- রৌদ্র করোটিতে,
- আমি অনাহারী,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- দুঃসময়ের মুখোমুখি,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- এক ধরনের অহংকার,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়

 

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১২১.
শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে -
  1. এলো সে অবেলায়
  2. উদ্ভট উঠের পিঠে চলেছে স্বদেশ
  3. অদ্ভুত আঁধার এক
  4. অক্টোপাস
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে - 'উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ'।

• 'উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ' কাব্যগ্রন্থ:
- ২৩টি কবিতার সমাহারে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে।
- কবিতাগুলোতে আছে স্বদেশ চেতনার পরিচয়, দুঃসময়ে দীর্ণ হৃদয়ের হাহাকার ও অস্থিরতা।
- গ্রন্থটিতে সামরিক অভ্যুত্থান ও সামরিক শাসনের প্রতিফলন রয়েছে।

এই কাব্যগ্রন্থের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- চাঁদ সদাগর,
- উদ্ভট উঠের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- খাঁচা,
- একদা তোমাকে আমি,
- তুমি কি আসবে ফের।
-------------
• শামসুর রাহমান:
- তিনি মূলত আধুনিক কবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে' ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম গ্রন্থেই তিনি তাঁর কবিপ্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শামসুর রাহমান ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ :
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২২.
'রূপালি স্নান' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. শামসুর রাহমান
  3. সুফিয়া কামাল
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• 'রূপালি স্নান' কবিতা:
- রচয়িতা: শামসুর রাহমান।
- কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত 'কবিতা' পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।
- সংকলিত হয় প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে কাব্যগ্রন্থে।

রূপালি স্নান- কবিতা, 
- শামসুর রাহমান

শুধু দু’টুকরো শুকনো রুটির নিরিবিলি ভোজ
অথবা প্রখর ধু-ধু পিপাসার আঁজলা ভরানো পানীয়ের খোঁজ
শান্ত সোনালি আল্পনাময় অপরাহ্নের কাছে এসে রোজ
চাইনি তো আমি। দৈনন্দিন পৃথিবীর পথে চাইনি শুধুই
শুকনো রুটির টক স্বাদ আর তৃষ্ণার জল। এখনো যে শুই
ভীরু-খরগোশ-ব্যবহৃত ঘাসে, বিকেলবেলার কাঠবিড়ালিকে
দেখি ছায়া নিয়ে শরীরে ছড়ায়,- সন্ধ্যা নদীর আঁকাবাঁকা জলে (সংক্ষেপিত)।
----------------------- 
• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়, 
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া, পত্রিকা রিপোর্ট।
১২৩.
বাংলা সাহিত্যের নাগরিক কবি কে?
  1. ক) সৈয়দ আলী আহসান
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) হুমায়ুন আহমেদ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। আধুনিক যুগের নাগরিক কবি শামসুর রাহমান। কাজী নজরুল ইসলাম জাতীয় কবি, বিদ্রোহী কবি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২৪.
'বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. বন্দী শিবির থেকে
  2. বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
  3. নিজ বাসভূমে
  4. রোদ্র করোটিতে
ব্যাখ্যা
• 'বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা' কবিতাটি 'নিজ বাসভূমে'  কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- ছদ্মনাম: মজলুম আদিব।
- তিনি 'নাগরিক কবি' হিসেবে খ্যাত।

•  তার বিখ্যাত কিছু কবিতা:
-  হাতির শুড় -  স্বৈরশাসক আয়ুব খানকে বিদ্রুপ করে লেখা। 
- টেলেমেকাস -  ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু কারাবন্দী হলে তাকে উদ্দেশ্য করে লেখা। 
- বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা -  ১৯৬৮ সালে অভিন্ন রোমান হরফে পাকিস্তানের সব ভাষার বর্ণমালা লেখার প্রস্তাব করার প্রেক্ষিতে লেখা।
- আসাদের শার্ট -  গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে গুলিতে আসাদ নিহত হলে তার রক্তমাখা শার্ট নিয়ে মিছিল দেখে। 
-  স্বাধীনতা তুমি - মুক্তিযুদ্ধ।
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা - মুক্তিযুদ্ধ ।ইত্যাদি।

• তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ),
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১২৫.
"স্বাধীনতা তুমি" কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
  2. বন্দি শিবির থেকে
  3. রাখালী
  4. নিজ বাসভূমে
ব্যাখ্যা

'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ:
- শামসুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তার লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি, 
- মধুস্মৃতি,
- রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জসীম উদ্‌দীন  রচিত কাব্যগ্রন্থ: রাখালী।

শামসুর রাহমান: 
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১২৬.
'উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ’ এর রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. আবুল হাসান
  3. শামসুর রাহমান
  4. শহীদ কাদরী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ:
- কবি শামসুর রাহমান রচিত 'উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ' হচ্ছে কাব্যগ্রন্থ।
- ২৩টি কবিতার সমাহারে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে।
- কবিতাগুলোতে আছে স্বদেশ চেতনার পরিচয়, দুঃসময়ে দীর্ণ হৃদয়ের হাহাকার ও অস্থিরতা।
- গ্রন্থটিতে সামরিক অভ্যুত্থান ও সামরিক শাসনের প্রতিফলন রয়েছে।

• শামসুর রাহমান:
- তিনি মূলত আধুনিক কবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম গ্রন্থেই তিনি তাঁর কবিপ্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শামসুর রাহমান ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২৭.
'স্বাধীনতা তুমি' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. রৌদ্র করোটিতে
  2. বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. বন্দী শিবির থেকে
  4. বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
ব্যাখ্যা

• 'স্বাধীনতা তুমি':
- 'স্বাধীনতা তুমি' কবিতাটি শামসুর রাহমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ 'বন্দী শিবির থেকে' এর অন্তর্ভুক্ত।
- গ্রন্থটি  ১৯৭১ সালের শহিদদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে।

স্বাধীনতা তুমি
শামসুর রাহমান
 
স্বাধীনতা তুমি
রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।
স্বাধীনতা তুমি
কাজী নজরুল ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো
মহান পুরুষ, সৃষ্টিসুখের উল্লাসে কাঁপা-
স্বাধীনতা তুমি
শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা
স্বাধীনতা তুমি
পতাকা-শোভিত শ্লোগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল।
স্বাধীনতা তুমি
ফসলের মাঠে কৃষকের হাসি।
স্বাধীনতা তুমি
রোদেলা দুপুরে মধ্যপুকুরে গ্রাম্য মেয়ের অবাধ সাঁতার।
(সংক্ষিপ্ত)

• শামসুর রাহমানের  উল্লেখযোগ্য কবিতা : 
- তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা, 
- স্বাধীনতা তুমি, 
- আসাদের শার্ট,
- ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯,
- মধুস্মৃতি, 
- রক্তাক্ত প্রান্তরে, ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২৮.
'আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. নাটক 
  2. উপন্যাস 
  3. প্রবন্ধ
  4. কাব্যগ্রন্থ 
ব্যাখ্যা

'আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি' কাব্যগ্রন্থ:
- শামসুর রাহমানের নবম কাব্যগ্রন্থ এটি। প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ৪৬টি কবিতা সংকলিত হয়েছে। কবিতাগুলোতে আছে স্বপ্নলোক, প্রতিবেশ ও সমকালের অন্তর্গত নানা অনুষঙ্গ, নিঃসঙ্গতা, ব্যর্থতা, যুদ্ধোত্তর হতাশা ইত্যাদি বিষয়।
- গ্রন্থটিতে টানা গদ্যে লেখা কবিতা যেমন আছে তেমনি আছে অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও স্বরবৃত্ত ছন্দের ব্যবহার।

--------------------------
• শামসুর রাহমান রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- দুঃসময়ের মুখোমুখি,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি,
- শূন্যতার শোকসভা,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২৯.
বাংলা সাহিত্যে ‘শামসুর রহমান’ এর পরিচয় কী?
  1. কবি
  2. সাহিত্যিক
  3. উপন্যাস রচয়িতা
  4. প্রবন্ধ রচিয়তা
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান: 
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস, 
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়, 
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।   

• শামসুর রাহমানের মুক্তিযুদ্ধের কবিতার মধ্যে বহুল প্রচারিত দুটো কবিতা হচ্ছে ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ এবং ‘স্বাধীনতা তুমি’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৩০.
"গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
উড়ছে হাওয়ায়, নীলিমায়।”- কবিতাংশের রচয়িতা কে?
  1. মহাদেব সাহা  
  2. আল মাহমুদ 
  3. শামসুর রাহমান
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ 
ব্যাখ্যা

"গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
উড়ছে হাওয়ায়, নীলিমায়।”- কবিতাংশের রচয়িতা শামসুর রাহমান। 
-------------------------------------------
আসাদের শার্ট
  —শামসুর রাহমান।

"গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
উড়ছে হাওয়ায়, নীলিমায়।

বোন তার ভায়ের অম্লান শার্টে দিয়েছে লাগিয়ে
নক্ষত্রের মতো কিছু বোতাম কখনো
হৃদয়ের সোনালি তন্তুর সূক্ষ্মতায়;
বর্ষিয়সী জননী সে-শার্ট
উঠোনের রৌদ্রে দিয়েছেন মেলে কতদিন স্নেহের বিন্যাসে।

ডালিম গাছের মৃদু ছায়া আর রোদ্দুর-শোভিত
মায়ের উঠোন ছেড়ে এখন সে-শার্ট
শহরের প্রধান সড়কে
কারখানার চিমনি-চূড়োয়
গমগমে এভেন্যুর আনাচে-কানাচে
উড়ছে, উড়ছে অবিরাম
আমাদের হৃদয়ের রৌদ্র-ঝলসিত প্রতিধ্বনিময় মাঠে,
চৈতন্যের প্রতিটি মোর্চায়।

আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।" 
---------------------------------------------
শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমানের জন্ম তার নানাবাড়িতে।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তার পিতা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী এবং মাতা আমেনা বেগম।
- শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল- বাচ্চু।
- শামসুর রাহমানকে প্রধানত “নাগরিক কবি” বলা হয়।
- কারণ তার কবিতায় নগর জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
-  তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

- শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় সাধারণ মানুষ কীভাবে জীবন যাপন করে, শহরের মানুষদের দৈনন্দিন সমস্যা, সুখ–দুঃখ ও সমাজের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন।
- এই অনন্য কবি-কীর্তি ও সত্যনিষ্ঠ কাব্যচর্চার জন্য তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।
- তিনি ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• শামসুর রাহমানের অসংখ্য কবিতা রয়েছে।
• উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো:
- তিনি এসেছেন ফিরে, 
- এই মাতোয়ালা রাইত, 
- আসাদের শার্ট, 
- মাস্টারদার হাতঘড়ি, 
- স্বাধীনতা তুমি, 
- কখনো আমার মাকে, 
- একটি কবিতার জন্য, 
- এ লাশ আমরা রাখবো কোথায়?
- উদ্ধার, 
- তুমি বলেছিলে, 
- অভিশাপ দিচ্ছি, 
- বন্দী-শিবির থেকে, 
- তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা, 
- বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা।
--------------------------------------------- 
• “আসাদের শার্ট” কবিতা:
"গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
উড়ছে হাওয়ায়, নীলিমায়।”

- “আসাদের শার্ট” কবিতা লিখেছেন শামসুর রাহমান।
- এটি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ আসাদের রক্তাক্ত শার্ট দেখে রচিত।
- কবিতায় শহীদ আসাদের শার্টকে কবি শোষকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে চিত্রিত করেছে।

উৎস:
“আসাদের শার্ট” কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৩১.
শামসুর রাহমান রচিত ''ইলেক্ট্রার গান'' কবিতায় মিথের আড়ালে দ্যোতিত হয়েছে -
  1. ক) পিতৃহারা বঙ্গবন্ধুকন্যার আবেগ
  2. খ) সন্তানহারা জননীর বেদনা
  3. গ) অপরিসীম অপত্যস্নেহ
  4. ঘ) শিশুপুত্র রাসেল - হত্যার করুণ কাহিনি
ব্যাখ্যা

কবি শামসুর রহমান রচিত ''ইলেক্ট্রার গান'' কবিতায় মিথের আড়ালে দ্যোতিত হয়েছে পিতৃহারা বঙ্গবন্ধুকন্যার আবেগ।

কবিতার নিম্নোক্ত চরণগুলো পড়লেই এ ব্যাপারটি পরিষ্কার ভাবে বোধগম্য হয়। 

''নিহত জনক, ত্র্যাগামেমনন্‌, কবরে শায়িত আজ।
সেইদিন আজো জ্বলজ্বলে স্মৃতি, যেদিন মহান
বিজয়ী সে বীর দূর দেশ থেকে স্বদেশে এলেন ফিরে।
শুনেছি সেদিন জয়ঢাক আর জন-উল্লাস;
পথে-প্রান্তরে তাঁরই কীর্তন, তিনিই মুক্তিদূত।

নন্দিত সেই নায়ক অমোঘ নিয়তির টানে
গরীয়ান এক প্রাসাদের মতো বিপুল গেলেন ধ্বসে।
বিদেশী মাটিতে ঝরেনি রক্ত; নিজ বাসভূমে,
নিজ বাসগৃহে নিরস্ত্র তাঁকে সহসা হেনেছে ওরা।''

১৩২.
মেঘনা নদী দেবো পাড়ি
কল-অলা এক নায়ে।
আবার আমি যবো আমার ।-
উপরোক্ত পঙক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. জসীমউদ্দীন
  3. আহসান হাবীব
  4. শামসুর রহমান
ব্যাখ্যা
• আলোচ্য পঙক্তিটি কবি শামসুর রাহমান রচিত 'প্রিয় স্বাধীনতা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 
- কবিতায় উল্লেখিত এই 'পাড়াতলী গাঁয়ে' জন্মগ্রহণ করেন - শামসুর রাহমান। 

প্রিয় স্বাধীনতা
– শামসুর রাহমান
মেঘনা নদী দেব পাড়ি
কল-অলা এক নায়ে।
আবার আমি যাব আমার
পাহাড়তলী গাঁয়ে।

==============
⇒ শামসুর রাহমান:
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

- প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত 'সোনার বাংলা' পত্রিকায়। 
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য - "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।

- যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রােদ্র করােটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালােকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- শূন্যতায় তুমি শােকসভা,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- প্রেমের কবিতা,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩৩.
শামসুর রাহমান কত সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ১৯৬৯ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৬৩ সালে
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান  ছিলেন কবি, সাংবাদিক। 
তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা 
- স্বাধীনতা তুমি 
- তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা

- তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন ১৯৬৩ সালে।
- তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন ১৯৬৯ সালে 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর]
১৩৪.
কোনটি শামসুর রাহমানের রচনা?
  1. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  2. নির্জন স্বাক্ষর
  3. নিরালোকে দিব্যরথ
  4. নির্বাণ
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমানের রচিত 'নিরালোকে দিব্যরথ' একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- ‘নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি’ উপন্যাসটির লেখক সেলিনা হোসেন।
- 'নির্জন স্বাক্ষর' জীবনানন্দ দাশ রচিত কবিতা। 

------------------
• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৩৫.
'মৈনাক' ছদ্মনামে পত্রিকায় কলাম লিখতেন-
  1. শামসুর রাহমান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
⇒ নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানা থেকে আরেকটু ভেতরে মেঘনাপাড়ের গ্রাম পাড়াতলী- কবি শামসুর রাহমানের পৈতৃক নিবাস। তবে জন্মেছিলেন ঢাকা শহরের ৪৬ নম্বর মাহুতটুলির বাড়িতে। দশ ভাইবোনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ তিনি।

⇒ ১৯৪৮ সালে যখন তার বয়স মাত্র ১৯ বছর তখন মননের গহীন তলাটে কবিতার যে আবাদভূমি গড়ে উঠেছিল- তা কেবল উর্বরই হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে নলিনীকিশোর গুহের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় প্রথম কবিতা- তারপর দে ছুট। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। এখন গদ্য-পদ্য মিলিয়ে তার গ্রন্থসংখ্যা প্রায় একশ'র কোঠা ছুঁই ছুঁই।

⇒ 'মর্নিং নিউজ'-এ সাংবাদিকতার মধ্যদিয়ে ১৯৫৭ সালে যে চাকরি জীবন শুরু করেছিলেন, একই পেশায় থেকে ১৯৮৭ সালে দৈনিক বাংলার সম্পাদক পদ থেকে তিনি চাকরিতে ইস্তফা দেন।
⇒ মূলত কবি হলেও সাহিত্যে তার কাজ বহুমাত্রিক। অনুবাদ সাহিত্য থেকে গদ্যের বিভিন্ন প্রশাখায় বিচরণ করেছেন তিনি।
⇒ 'মৈনাক' ছদ্মনামে কলামও লিখেছেন নিয়মিত। 

• তিনি একাধিক পুরস্কার ও উপাধিকে ভূষিত হন:
- পেয়েছেন আদমজী পুরস্কার (১৯৬৩), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৯), একুশে পদক (১৯৭৭)।
- সাংবাদিকতার জন্যে পেয়েছেন জাপানের মিৎসুবিশি পদক (১৯৯২), ভারতের আনন্দ পুরস্কার (১৯৯৪) ছাড়াও বহু পুরস্কারে ভূষিত কবি শামসুর রাহমান।
- ভারতের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি লিট উপাধিতেও ভূষিত।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর: ‘কালের ধুলোয় লেখা’ শামসুর রাহমান।
১৩৬.
'অক্টোপাস' শামসুর রাহমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'অক্টোপাস':
- শামসুর রাহমান রচিত 'অক্টোপাস' একটি উপন্যাস।
- ১৯৮৩ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- অক্টোপাস উপন্যাসজুড়ে রয়েছে দাম্পত্য সংকট, প্রেম, পরকীয়া ও ব্যক্তি অস্তিত্বের জলন্ত স্ফুরণ।

-----------------
• শামসুর রাহমান:
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা 'স্বাধীনতা তুমি' ও 'তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা'।
- যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে 'বন্দী শিবির থেকে' নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে 'বন্দী শিবির থেকে'র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩৭.
'এ লাশ আমরা রাখব কোথায়' কবিতাটি শামসুর রাহমানের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
  2. বন্দী শিবির থেকে
  3. নিজ বাসভূমে
  4. বিধ্বস্ত নীলিমা
ব্যাখ্যা

• 'এ লাশ আমরা রাখব কোথায়' শামসুর রাহমান রচিত একটি কবিতা। এই কবিতার মাধ্যমে কবি তৎকালীন সমাজের অস্থিরতা, রাজনৈতিক সংকট এবং মানুষের অসহায়ত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন।
- ১৯৭০ সালে শামসুর রাহমানের 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থে কবিতাটি ছাপা হয়।

'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কিছু কবিতা হলো-
- বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা,
- ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯,
- পুলিশ রিপোর্ট,
- হরতাল,
- এ লাশ আমরা রাখব কোথায়?,
- আসাদের শার্ট ইত্যাদি।

------------------------
শামসুর রাহমান রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থ।

১৩৮.
শামসুর রহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি? 
  1. প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
  2. রৌদ্র করোটিতে
  3. অদ্ভুত আঁধার এক
  4. বন্দী শিবির থেকে
ব্যাখ্যা

শামসুর রহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে।
--------------------
শামসুর রহমান:
-  শামসুর রহমান  (১৯২৯-২০০৬) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- শামসুর রহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• শামসুর রহমানের অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
• প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
• রৌদ্র করোটিতে;
• বিধ্বস্ত নীলিমা;
• বন্দী শিবির থেকে;
• নিজ বাসভূমে;
• বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়;
• এবং উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। 

• এছাড়া তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থ-
- এলাটিং বেলাটিং;
- ধান ভানলে কুঁড়ো দেব। 

• তাঁর উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক;
- অক্টোপাস,
- এলো সে অবেলায়,
- নিয়ত মন্তাজ।

উৎস: 
কবিতা, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
বাংলাপিডিয়া।

১৩৯.
‘কালের ধুলোয় লেখা’ শামসুর রাহমান রচিত কোন ধরনের রচনা?
  1. ভ্রমণকাহিনি
  2. প্রবন্ধ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. আত্মস্মৃতি
ব্যাখ্যা
⇒ 'কালের ধুলোয় লেখা’ আত্মস্মৃতি:
• 'কালের ধুলোয় লেখা' (২০০৪) শামসুর রাহমান রচিত একটি আত্মস্মৃতি।
• 'কালের ধুলোয় লেখা' তাঁর আত্মজীবনীতে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি শুধু নয়, বৈশ্বিক পটভূমিতে কাছ থেকে দেখা বাঙালির গণ-সংস্কৃতির ইতিহাস যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনি প্রতিভাত হয়েছে তার কাব্যসত্তার ভেতর- বাহির।
• এই গ্রন্থে জীবনে ঘটেছে এমন কোনো ঘটনাকে লুকোতে চান নি তিনি। মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।
• বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুর রাহমান অনেক অজানা ইতিহাসকে খোলসা করেছেন স্পষ্টভাবে যার মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ সত্যাশ্রয়ী আত্মজীবনী লেখার একটি সংস্কৃতি চালু করেন।

⇒ শামসুর রাহমান:

• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য - "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’ কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর: ‘কালের ধুলোয় লেখা’ শামসুর রাহমান।
১৪০.
'এলাটিং বেলাটিং' গ্রন্থের প্রণেতা কে?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. গ) হুমায়ূন আজাদ
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল
  5. ঙ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

- শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও একজন নাগরিক কবি।

তাঁর রচিত শিশু-কিশোর সাহিত্যঃ
- এলাটিং বেলাটিং,
- ধান ভানলে কুঁড়ো দেব,
- গোলাপ ফুটে খুকীর হাতে,
- আমের কুঁড়ি জামের কুঁড়ি ইত্যাদি।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪১.
'ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. রফিক আজাদ
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা' শামসুর রাহমান রচিত কাব্যের গ্রন্থ।

-----------------------
• শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪২.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর রচিত শামসুর রাহমানের কবিতা কোনটি?
  1. এক ফোঁটা কেমন অনল
  2. বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
  3. বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়
  4. শূন্যতায় তুমি শোকসভা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে কবিতা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর রচিত 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে' চিত্রকল্পের ঔজ্জ্বল্যে, প্রচুরতায় ও জটিলতায় একটি প্রতিনিধিস্থানীয় কবিতা।
- সমকাল ও সমকালীন ঘটনা কী রহস্যময় পথে কবিতার পরোক্ষতায় ও প্রতীকতায় উতচে যায়, কবিতা কীভাবে দৃশ্যকে আড়াল করে, অব্যক্তকে ব্যক্ত করে, প্রতীকের ঘন অরণ্যে কবির পথ রেখা অনুসরণ কীভাবে একই সঙ্গে উচ্চকিত ও বিমূঢ় করে পাঠককে এবং আরও অনেক প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে এ কবিতায়।
- এ কবিতায় অসুস্থ নৃপতি ও তৃতীয় রাজকুমার এসেছে দেশীয় রূপকথার জগৎ থেকে।
- কিন্তু দেশীয় রূপকথা বা পুরাণ কাহিনীর মধ্যে আবদ্ধ থাকেননি কবি। ইউরোপীয় সাহিত্যের ইলেকট্রা, হ্যামলেট, অ্যাগামেমনন, টেলিমেকাস, ইউরোপীয় পুরাণের ইকারুস ডিডেলাস প্রতীকে রূপান্তরিত হয় তাঁর কবিতার উপজীব্য।

শামসুর রাহমান:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়। 
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- সাহিত্য রসযোদ্ধা ও সমালোচক শামসুর রাহমানের পরিচয় বিধৃত আছে তাঁর 'আমৃত্যু তার জীবনানন্দ' (১৯৮৬) ও 'কবিতা এক ধরনের আশ্রয়' (২০০২) গ্রন্থ দুটিতে।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল, 
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪৩.
‘উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ’ কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ 
ব্যাখ্যা

‘উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ’ একটি কাব্যগ্রন্থ। 

উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ:
- ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ’ হলো শামসুর রাহমান রচিত একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ২৩টি কবিতা রয়েছে।
- এই কবিতাগুলোতে মূলত স্বদেশ চেতনার পরিচয়, দুঃসময়ে দীর্ণ হৃদয়ের হাহাকার এবং অস্থিরতা ফুটে উঠেছে।

--------------------
শামসুর রাহমান:

- শামসুর রাহমান জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর, পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ছিল নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তিনি দেশ পত্রিকায় “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন।
- তার ডাক নাম ছিল বাচ্চু।

উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন, ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪৪.
শামসুর রাহমানের একটি উপন্যাস হলো -
  1. ক) নিজ বাসভূমে
  2. খ) নিয়ত মন্তাজ
  3. গ) আমি অনাহারী
  4. ঘ) গৃহযুদ্ধের আগে
ব্যাখ্যা

নিয়ত মন্তাজ - শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস।
তার অন্যান্য উপন্যাস -
- অক্টোপাস,
- অদ্ভুত আঁধার এক, 
- এলো সে অবেলায়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪৫.
শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. অদ্ভুত আঁধার এক
  2. নিয়ত মন্তাজ
  3. এলো সে অবেলায়
  4. বিধ্বস্ত নীলিমা
ব্যাখ্যা

• 'বিধ্বস্ত নীলিমা' (১৯৬৬) শামসুর রাহমানের তৃতীয় কাব্য। এ কাব্যের কবিতাগুচ্ছ বক্তব্যপ্রোজ্জ্বল ও সমকালস্পৃষ্ট। বলা যায়, সমকালমগ্নতা ও সময়চেতনা এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। 

--------------------
• শামসুর রাহমান:

- শামসুর রাহমান ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। তাঁর প্রথম কবিতা 'উনিশ শাউনপঞ্চাশ' প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।

- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।

- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।
- ১৯৭০ সালে প্রকাশিত তাঁর নিজ বাসভূমে কাব্য তিনি উৎসর্গ করেন আবহমান বাঙলার শহীদদের উদ্দেশ্যে।

তাঁর রচিত আত্মস্মৃতি:
- স্মৃতির শহর,
- কালের ধুলোয় লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস।
- অক্টোপাস,
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪৬.
'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন কোন সাংবাদিক?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. শামসুদ্দীন আবুল কামাল
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।

- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।

- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর ‘রূপালি স্নান’ প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। ‘রূপালি স্নান’ কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।

- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।
- ১৯৭০ সালে প্রকাশিত তাঁর নিজ বাসভূমে কাব্য তিনি উৎসর্গ করেন আবহমান বাঙলার শহীদদের উদ্দেশ্যে।

----------------------
• তাঁর রচিত আত্মস্মৃতি:
- স্মৃতির শহর,
- কালের ধুলোয় লেখা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
-আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ,
- কবিতা এক ধরনের আশ্রয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৭.
'বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা' বিখ্যাত কবিতাটি কার রচনা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
•  শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।

- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'উনিশ শ'উনপঞ্চাশ' প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।

- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।

- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।
- 'বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা' নামে বিখ্যাত কবিতা লিখেন তিনি। "বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা" ১৯৬৮ সালে অভিন্ন রোমান হরফে পাকিস্তানের সব ভাষার বর্ণমালা লেখার প্রস্তাব করার প্রেক্ষিতে লেখা।

•  শামসুর রাহমান রচিত বিখ্যাত কিছু কবিতা:
- "হাতির শুড়" স্বৈরশাসক আয়ুব খানকে বিদ্রূপ করে লেখা। 
- "টেলেমেকাস" ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু কারাবন্দী হলে তাকে উদ্দেশ্য করে লেখা। 
- "আসাদের শার্ট" গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে গুলিতে আসাদ নিহত হলে তার রক্তমাখা শার্ট নিয়ে মিছিল দেখে লেখা। 
- "স্বাধীনতা তুমি", "তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা" ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- অন্ধকার থেকে আলোয়,
- হরিণের হাড়,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: শামসুর রাহমান এর কবিতা সংকলন; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৮.
শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস- 
  1. রৌদ্র করোটিতে
  2. নিরালোকে দিব্যরথ
  3. অদ্ভুত আঁধার এক
  4. নিজ বাসভূমে 
ব্যাখ্যা

• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’  শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।

• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’:
- ‘অদ্ভুত আঁধার এক’  শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 
২. বাংলাপিডিয়া।

১৪৯.
শামসুর রাহমান কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. রামপুরা, ঢাকা
  2. টাঙ্গাইল সদর
  3. মাহুতটুলী, ঢাকা
  4. রায়পুর, নরসিংদী
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তাঁর ডাক নাম ‘বাচ্চু’। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়।
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫০.
'নিয়ত মন্তাজ' শামসুর রাহমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস 
  2. কাব্যগ্রন্থ 
  3. কাব্যনাট্য 
  4. প্রবন্ধ 
ব্যাখ্যা

• 'নিয়ত মন্তাজ' শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি  ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
 
- শামসুর রাহমান উপন্যাস লিখেছেন চারটি। অক্টোপাস (১৯৮৩), অদ্ভুত আঁধার এক (১৯৮৫), নিয়ত মন্তাজ (১৯৮৫) এবং এলো সে অবেলায় ১৯৯৪ চারটি উপন্যাসেই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অস্থিতিশীলতার পাশাপাশি, তৎকালীন সমাজ ও নগরকেন্দ্রিক মধ্যবিত্ত নাগরিকদের জীবনভাষ্য এক অন্তহীন অসঙ্গতি নবতর সৃজনী ব্যঞ্জনায় উঠে এসেছে। 

---------------------
• শামসুর রাহমান:
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাবা "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা 'স্বাধীনতা তুমি' ও 'তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা'।
- যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে 'বন্দী শিবির থেকে' নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে 'বন্দী শিবির থেকে' কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিতা জিজ্ঞাসা; 'নিয়ত মন্তাজ' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫১.
শামসুর রাহমান কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

তাঁর রচিত আত্মস্মৃতি:
- কালের ধুলোয় লেখা,
- স্মৃতির শহর।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫২.
"মেঘনা নদী দেব পাড়ি
কল-অলা এক নায়ে।
আবার আমি যাব আমার
পাড়াতলী গাঁয়ে।"- উল্লেখিত এই 'পাড়াতলী গাঁয়ে' জন্মগ্রহণ করেন কোন সাহিত্যিক?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) ইমদাদুল হক মিলন
  3. গ) আল মাহমুদ
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• আলোচ্য পঙক্তিটি কবি শামসুর রাহমান রচিত 'প্রিয় স্বাধীনতা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 
উল্লেখিত এই 'পাড়াতলী গাঁয়ে' জন্মগ্রহণ করেন - শামসুর রাহমান। 
- কবিতাটি নিম্নরূপ-

প্রিয় স্বাধীনতা
শামসুর রাহমান

মেঘনা নদী দেব পাড়ি
কল-অলা এক নায়ে।
আবার আমি যাব আমার
পাড়াতলী গাঁয়ে।

গাছ-ঘেরা ঐ পুকুরপাড়ে
বসব বিকাল বেলা।
দু-চোখ ভরে দেখব কত
আলো-ছায়ার খেলা।(সংক্ষিপ্ত) 
----------
শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬)  কবি, সাংবাদিক:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- কবির পিতা মোখলেসুর রহমান চৌধুরী এবং মাতা আমেনা খাতুন।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত শামসুর রাহমান ৬৫টি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন।
- তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ - প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (১৯৬০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫৩.
''ইলেক্ট্রার গান'' কোন ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. কবিতা
  3. গীতিকাব্য
  4. ছোট গল্প
ব্যাখ্যা
- কবি শামসুর রহমান রচিত ''ইলেক্ট্রার গান'' হলো কবিতা। 
- 'ইলেক্ট্রার গান'' কবিতায় ফুটে উঠেছে পিতৃহারা বঙ্গবন্ধুকন্যার আবেগ।

কবিতার নিম্নোক্ত চরণগুলো হলো:
''নিহত জনক, ত্র্যাগামেমনন্‌, কবরে শায়িত আজ।
সেইদিন আজো জ্বলজ্বলে স্মৃতি, যেদিন মহান
বিজয়ী সে বীর দূর দেশ থেকে স্বদেশে এলেন ফিরে।
শুনেছি সেদিন জয়ঢাক আর জন-উল্লাস;
পথে-প্রান্তরে তাঁরই কীর্তন, তিনিই মুক্তিদূত।

নন্দিত সেই নায়ক অমোঘ নিয়তির টানে
গরীয়ান এক প্রাসাদের মতো বিপুল গেলেন ধ্বসে।
বিদেশী মাটিতে ঝরেনি রক্ত; নিজ বাসভূমে,
নিজ বাসগৃহে নিরস্ত্র তাঁকে সহসা হেনেছে ওরা।''
----------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে শামসুর রাহমানের কবিতাগুলো হলো:
-‘ইলেক্ট্রার গান’, 
- ‘ধন্য সেই পুরুষ’, 
- ‘বাইবেলের কালো অক্ষরগুলো’। ‘
 
উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট 
১৫৪.
কোনটি শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) হরিণের হাড়
  2. খ) বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. গ) ছায়া হরিণ
  4. ঘ) আমি অনাহারী
ব্যাখ্যা
• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান।
• তিনি একজন নাগরিক কবি ছিলেন।
• তিনি পুরান ঢাকার মাহুতটুলী নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলী গ্রামে।
• পেশায় তিনি সাংবাদিক ছিলেন।
• মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি মজলুম আদিব (বিপন্ন লেখক) ছদ্মনামে লিখতেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- আমি অনাহারী,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- দুঃসময়ের মুখোমুখি,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি,
- এক ধরনের অহংকার,
- শূন্যতার শোকসভা,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,  
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,  
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে ইত্যাদি।

• 'ছায়া হরিণ' আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।
১৫৫.
'স্বাধীনতা তুমি, শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা'- পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. রফিক আজাদ 
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• প্রশ্নে প্রদত্ত পঙ্‌ক্তিটি শামসুর রাহমানের 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের 'স্বাধীনতা তুমি' কবিতার অন্তর্গত। 

স্বাধীনতা তুমি
- শামসুর রাহমান
স্বাধীনতা তুমি
রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।
স্বাধীনতা তুমি
কাজী নজরুল, ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো
মহান পুরুষ, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে কাঁপা-
স্বাধীনতা তুমি
শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা,
স্বাধীনতা তুমি
পতাকা-শোভিত স্লোগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল,
স্বাধীনতা তুমি ফসলের মাঠে কৃষকের হাসি।

---------------------
• 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ:

- শামসুর রাহমানের খ্যাতি ও পরিচিতি আগেও কিছুটা ছিল তবে প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করে তাঁর 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থটি।
- শামসুর রাহমানের 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতা মুক্তিযুদ্ধকালে অবরুদ্ধ বাংলাদেশে এপ্রিল- ডিসেম্বর, ১৯৭১ সময়ে রচিত।
- ১৯৭২ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থের শুরুতে 'পূর্বলেখ' শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।
- ৩৮টি কবিতা এ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা: 'তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা', 'স্বাধীনতা তুমি', 'মধুস্মৃতি', 'রক্তাক্ত প্রান্তরে' ইত্যাদি।
- প্রতিটি কবিতায় স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন আবেগ ও প্রত্যাশা ব্যক্ত। গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের শহিদদের উদ্দেশ্যে।

-------------------
• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন কবি ও  সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। তাঁর প্রথম কবিতা 'উনিশ'শ উনপঞ্চাশ' প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত 'সোনার বাংলা' পত্রিকায়।
- 'স্বাধীনতা তুমি' ও 'তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা' তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫৬.
‘অদ্ভুত আঁধার এক’ শামসুর রাহমান রচিত -
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

-------------------------
• শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৈামিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫৭.
‘নিজ বাসভূমে ও হরিণের হাড়’ কাব্যগ্রন্থদ্বয় কার রচনা?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শামসুর রাহমান
  3. শামসুজ্জামান খান
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• ‘নিজ বাসভূমে ও হরিণের হাড়’ শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ।

--------------------------
• শামসুর রাহমান:

• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।
• মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি মজলুম আদিব ছদ্মনামে লিখতেন।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫৮.
কোন কাব্যটি শামসুর রাহমানের রচনা নয়?
  1. ক) রৌদ্র করোটিতে
  2. খ) বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. গ) বন্দী শিবির থেকে
  4. ঘ) পাখির কাছে ফুলের কাছে
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমানের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (১৯৬০), রৌদ্র করোটিতে (১৯৬৩), বিধ্বস্ত নিলীমা (১৯৬৭), নিরালোকে দিব্যরথ (১৯৬৮), নিজ বাসভূমে (১৯৭০), বন্দী শিবির থেকে (১৯৭২), দুঃসময়ে মুখোমুখি (১৯৭৩), ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাটা (১৯৭৪), আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি (১৯৭৪), এক ধরনের অহংকার (১৯৭৫), আমি অনাহারী (১৯৭৬), শূন্যতায় তুমি শোকসভা (১৯৭৭), বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে (১৯৭৭), প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে (১৯৭৮), প্রেমের কবিতা (১৯৮১), ইকারুসের আকাশ (১৯৮২), উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে (১৯৮৩), কবিতার সঙ্গে গেরস্থালি (১৯৮৩), নায়কের ছায়া (১৯৮৩)।
১৫৯.
আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয় কাকে?
  1. সমর সেন 
  2. বিষ্ণু দে
  3. শামসুর রাহমান
  4. ক ও গ 
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক। শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত। তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।

- শামসুর রাহমানকে প্রধানত “নাগরিক কবি” বলা হয়। কারণ তার কবিতায় নগর জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় সাধারণ মানুষ কীভাবে জীবন যাপন করে, শহরের মানুষদের দৈনন্দিন সমস্যা, সুখ–দুঃখ ও সমাজের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন।

আবার, 
• সমর সেন:
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন। তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
• মার্ক্সবাদী কবি- বলা হয় বিষ্ণু দে'কে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসার।

১৬০.
'রূপালি স্নান' কবিতাটি কার রচনা?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কামাল
  2. শামসুর রাহমান
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'উনিশ শ'উনপঞ্চাশ' প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।
- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।
- ১৯৭০ সালে প্রকাশিত তাঁর নিজ বাসভূমে কাব্য তিনি উৎসর্গ করেন আবহমান বাঙলার শহীদদের উদ্দেশ্যে।

তাঁর রচিত আত্মস্মৃতি:
- স্মৃতির শহর,
- কালের ধুলোয় লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ,
- কবিতা এক ধরনের আশ্রয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬১.
'আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শামসুর রাহমান
  3. রফিক আজাদ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি' কাব্যগ্রন্থ:
- শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ। 
- গ্রন্থটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটিতে টানা গদ্য লেখা কবিতা যেমন আছে তেমনি আছে অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও স্বরবৃত্ত ছন্দের ব্যবহার।
-----------------------
• শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬২.
শামসুর রাহমান কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. দৈনিক পূর্বদেশ
  2. দৈনিক বাংলা
  3. দৈনিক ইত্তেফাক
  4. দৈনিক আজকাল
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
-----------------------------------------
শামসুর রাহমান:
-  শামসুর রাহমান  (১৯২৯-২০০৬) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত। 
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শামসুর রাহমানের অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। 

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
• রৌদ্র করোটিতে;
• বিধ্বস্ত নীলিমা;
• বন্দী শিবির থেকে;
• নিজ বাসভূমে;
• বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়;
• এবং উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। 

এছাড়া তাঁর বিখ্যাত শিশুতোষ গ্রন্থ- এলাটিং বেলাটিং।

তাঁর উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক;
- অক্টোপাস,
- এলো সে অবেলায়,
- নিয়ত মন্তাজ।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৬৩.
কোনটি শামসুর রাহমান রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ?
  1. চাচা-কাহিনী
  2. ডানপিটে শওকত
  3. এলাটিং বেলাটিং
  4. টুনি মেম
ব্যাখ্যা
⇒ ‘এলাটিং বেলাটিং’ শামসুর রাহমান রচিত একটি শিশুতোষ গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

⇒ শামসুর রাহমান:

• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। 

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এলাটিং বেলাটিং,
- ধান ভানলে কুঁড়ো দেবো,
- স্মৃতির শহর,
- লাল ফুলকির ছড়া। 

অন্যদিকে,
• শিশুতোষ গ্রন্থ 'ডানপিটে শওকত' এর রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
• সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ দুটি ‘চাচা-কাহিনী’ ও ‘টুনি মেম’।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬৪.
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. নিজ বাসভূমে
  2. বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
  4. বন্দী শিবির থেকে
ব্যাখ্যা

'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতাটি ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থ:
- এ গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের শহীদদের প্রতি।
- ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ৩৮ টি কবিতা এ গ্রন্থে সংযোজন করা হয়েছে।

• শামসুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ ‘বন্দী শিবির থেকে’ এর উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি,
- মধুস্মৃতি,
- কাঁটা তার,
- প্রবেশাধিকার নেই।
- রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি।


'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা'
- শামসুর রাহমান।

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা,
তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?
আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন?

 শামসুর রহমান:
- শামসুর রহমান  (১৯২৯-২০০৬) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- শামসুর রহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,, 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতা- শামসুর রাহমান।

১৬৫.
'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেন কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধকালে কবি শামসুর রাহমান 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

• ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে কবি শামসুর রাহমান ‘বন্দী শিবির থেকে’ (১৯৭২) কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থের অধিকাংশ কবিতা মুক্তিযুদ্ধকালীন অবরুদ্ধ সময়ে রচিত।
- গ্রন্থটি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়।
- মোট ৩৮ টি কবিতা রয়েছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’, ’স্বাধীনতা তুমি’।

অন্যদিকে,
• হাসান আজিজুল হক ও শওকত ওসমানের ছদ্মনাম ব্যবহারে কোনো সাহিত্য রচনা করেননি। 

• সৈয়দ মুজতবা আলীর অন্য ছদ্মনাম:
- মুসাফির,
- ওমর খৈয়াম,
- প্রিয়দর্শী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬৬.
'প্রিয় স্বাধীনতা' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. আহমদ ছফা
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• 'প্রিয় স্বাধীনতা' কবিতাটির রচয়িতা - 'শামসুর রাহমান'। 
==============
⇒ শামসুর রাহমান:
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত 'সোনার বাংলা' পত্রিকায়। 
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য - "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
- যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রােদ্র করােটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালােকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- শূন্যতায় তুমি শােকসভা,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- প্রেমের কবিতা,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় ইত্যাদি।
=================

প্রিয় স্বাধীনতা -কবিতা,
– শামসুর রাহমান।
মেঘনা নদী দেব পাড়ি
কল-অলা এক নায়ে।
আবার আমি যাব আমার
পাহাড়তলী গাঁয়ে।

গাছ-ঘেরা ঐ পুকুরপাড়ে
বসব বিকাল বেলা।
দু-চোখ ভরে দেখব কত
আলো-ছায়ার খেলা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, প্রিয় স্বাধীনতা -কবিতা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬৭.
'মর্নিং নিউজ' পত্রিকার সাংবাদিকতার মধ্যদিয়ে চাকরি জীবন শুরু করেন কে?
  1. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শামসুর রাহমান
  3. আহমদ ছফা
  4. ইমদাদুল হক মিলন
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
⇒ নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানা থেকে আরেকটু ভেতরে মেঘনাপাড়ের গ্রাম পাড়াতলী- কবি শামসুর রাহমানের পৈতৃক নিবাস। তবে জন্মেছিলেন ঢাকা শহরের ৪৬ নম্বর মাহুতটুলির বাড়িতে। দশ ভাইবোনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ তিনি।

⇒ ১৯৪৮ সালে যখন তার বয়স মাত্র ১৯ বছর তখন মননের গহীন তলাটে কবিতার যে আবাদভূমি গড়ে উঠেছিল- তা কেবল উর্বরই হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে নলিনীকিশোর গুহের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় প্রথম কবিতা- তারপর দে ছুট। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। এখন গদ্য-পদ্য মিলিয়ে তার গ্রন্থসংখ্যা প্রায় একশ'র কোঠা ছুঁই ছুঁই।

⇒ 'মর্নিং নিউজ'-এ সাংবাদিকতার মধ্যদিয়ে ১৯৫৭ সালে যে চাকরি জীবন শুরু করেছিলেন, একই পেশায় থেকে ১৯৮৭ সালে দৈনিক বাংলার সম্পাদক পদ থেকে তিনি চাকরিতে ইস্তফা দেন।
⇒ মূলত কবি হলেও সাহিত্যে তার কাজ বহুমাত্রিক। অনুবাদ সাহিত্য থেকে গদ্যের বিভিন্ন প্রশাখায় বিচরণ করেছেন তিনি।
⇒ 'মৈনাক' ছদ্মনামে কলামও লিখেছেন নিয়মিত। 

• তিনি একাধিক পুরস্কার ও উপাধিকে ভূষিত হন:
- পেয়েছেন আদমজী পুরস্কার (১৯৬৩), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৯), একুশে পদক (১৯৭৭)।
- সাংবাদিকতার জন্যে পেয়েছেন জাপানের মিৎসুবিশি পদক (১৯৯২), ভারতের আনন্দ পুরস্কার (১৯৯৪) ছাড়াও বহু পুরস্কারে ভূষিত কবি শামসুর রাহমান।
- ভারতের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি লিট উপাধিতেও ভূষিত।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর: ‘কালের ধুলোয় লেখা’ শামসুর রাহমান।
১৬৮.
১৯৭১ সালের শহিদদের উৎসর্গ করে শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. বিধ্বস্ত নীলিমা
  2. রৌদ্র করোটিতে
  3. বন্দী শিবির থেকে
  4. আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি
ব্যাখ্যা
⇒ ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থ:
- শামসুর রাহমানের খ্যাতি ও পরিচিতি আগেও কিছুটা ছিল তবে প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করে তাঁর ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থটি।
- শামসুর রাহমানের ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতা মুক্তিযুদ্ধকালে অবরুদ্ধ বাংলাদেশে এপ্রিল- ডিসেম্বর, ১৯৭১ সময়ে রচিত।
- ১৯৭২ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পূর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।
- ৩৮টি কবিতা এ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা: তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা; স্বাধীনতা তুমি; মধুস্মৃতি, রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি।
- এ গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের শহিদদের উদ্দেশ্যে।

⇒ শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬৯.
‘একুশে পদক’ ও ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ উভয় পুরস্কার লাভ করেছেন কে?
  1. শওকত আলী
  2. সানাউল হক
  3. শামসুজ্জামান খান
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমান:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তাঁর ডাক নাম ‘বাচ্চু’।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়। 
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল, 
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস, 
- অদ্ভুত আঁধার এক, 
- নিয়ত মন্তাজ, 
- এলো সে অবেলায়।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ, 
- কবিতা এক ধরনের আশ্রয়।

• তাঁর রচিত আত্মস্মৃতি:
- স্মৃতির শহর, 
- কালের ধুলোয় লেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১৭০.
'অক্টোপাস' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. গ) শামসুর রহমান
  4. ঘ) আলাউদ্দীন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
'অক্টোপাস' উপন্যাসের রচয়িতা- 'শামসুর রহমান'

শামসুর রহমান ৪ টি উপন্যাস লিখেছেন।
তার রচিত উপন্যাস -
- অক্টোপাস,
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭১.
নিচের কোনটি শামসুর রাহমানের সঙ্গে সম্পৃক্ত?
  1. মজলুম আদিব
  2. মৈনাক
  3. বাচ্চু
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান:
- মূলত আধুনিক কবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম গ্রন্থেই তিনি তাঁর কবিপ্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। তার ডাক নাম ছিল বাচ্চু
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শামসুর রাহমান ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন। 'মৈনাক' হচ্ছে কবি শামসুর রাহমানের ছদ্মনাম।

শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৭২.
নিচের কোনটি শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. রৌদ্র করোটিতে
  2. হরিণের হাড়
  3. বন্দী শিবির থেকে
  4. এলো সে অবেলায়
ব্যাখ্যা
• 'এলো সে অবেলায়' শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
-
অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- অদ্ভুত আঁধার এক।

• শামসুর রাহমান:

- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তাঁর ডাক নাম বাচ্চু।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
-  প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭৩.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. কালের ধুলোয় লেখা (আত্মস্মৃতি)
  2. কৃষ্ণকুমারী (উপন্যাস)
  3. গো-জীবন (নাটক)
  4. বৃত্তায়ন (গল্পগ্রন্থ)
ব্যাখ্যা
কালের ধুলোয় লেখা:
- শামসুর রাহমান রচিত আত্মস্মৃতি।
- এটি ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
কৃষ্ণকুমারী:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক।
- এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।

গো-জীবন:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এটি ১৮৮৯ সালে প্রকাশিত হয়।

বৃত্তায়ন:
- হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস।
- এটি ১৯৯১ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭৪.
‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতার লেখক কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. শামসুর রাহমান
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. শামসুল হক 
ব্যাখ্যা

 ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতার লেখক হচ্ছেন শামসুর রাহমান। 

শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পৈত্রিক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শৈশবে তাঁর ডাক নাম ছিল ‘বাচ্চু’।
- মাত্র আঠারো বছর বয়সে প্রথম কবিতা লেখা শুরু করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়।
- তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা হলো "স্বাধীনতা তুমি" এবং "তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা"।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন।
- তিনি প্রাপ্ত পুরস্কারসমূহ: আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার।
- শামসুর রাহমান ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

কবিতা সমূহ:
- প্রথম গান,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া। 

১৭৫.
‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত?
  1. উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ
  2. বন্দী শিবির থেকে 
  3. বিধ্বস্ত নীলিমা
  4. রৌদ্র করোটিতে
ব্যাখ্যা

‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা’ কবিতাটি বন্দী শিবির থেকে কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

• ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থ:
- এ গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের শহীদদের প্রতি।
- ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ৩৮ টি কবিতা এ গ্রন্থে সংযোজন করা হয়েছে।

• শামসুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ ‘বন্দী শিবির থেকে’ এর উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি,
- মধুস্মৃতি,
- রক্তাক্ত প্রান্তরে, ইত্যাদি। 

শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পৈত্রিক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শৈশবে তাঁর ডাক নাম ছিল ‘বাচ্চু’।
- মাত্র আঠারো বছর বয়সে প্রথম কবিতা লেখা শুরু করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়।
- তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা হলো "স্বাধীনতা তুমি" এবং "তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা"।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন।
- তিনি প্রাপ্ত পুরস্কারসমূহ: আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার।
- শামসুর রাহমান ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ সমূহ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া। 

১৭৬.
শামসুর রহমান রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'বন্দি শিবির থেকে' কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. কলকাতা
  2. ঢাকা
  3. রাজশাহী
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ: 
- শামসুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তার লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

শামসুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:

- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- অন্ধকার থেকে আলোয়, 
- হরিণের হাড়, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭৭.
'গেরিলা' কবিতাটি রচনা করেন কে?
  1. সামসুদ্দিন আবুল কালাম
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. শামসুর রাহমান
  4. মাহবুবুল আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'গেরিলা' কবিতাটি শামসুর রাহমানের 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা', 'স্বাধীনতা তুমি' এবং 'রক্তাক্ত প্রান্তরে' বিখ্যাত কবিতাগুলো এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

গেরিলা,
- শামসুর রাহমান

দেখতে কেমন তুমি?কী রকম পোশাক-আশাক
প'রে করো চলাফেরা? মাথায় আছে কি জটাজাল?
পেছনে দেখাতে পারো জ্যোতিশ্চক্র সন্তের মতন?
টুপিতে পালক গুঁজে অথবা জবরজং, ঢোলা
পাজামা কামিজ গায়ে মগডালে এক শিস দাও
পাখির মতোই; কিংবা চা-খানায় বসো ছায়াচ্ছন্ন?

শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।  তাঁর ডাক নাম ‘বাচ্চু’।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়। 
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল, 
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৭৮.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা কাব্যগ্রন্থ- 
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. নেকড়ে অরণ্য
  3. বন্দী শিবির থেকে
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন শামসুর রহমান।
- সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তার লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

• এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি,
- মধুস্মৃতি,
- রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - নিষিদ্ধ লোবান, দ্বিতীয় দিনের কাহিনী।
- 'নেকড়ে অরণ্য' শওকত ওসমানের উপন্যাস।
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' - সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধের কাব্যনাটক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৭৯.
'একটি ফটোগ্রাফ' কবিতার লেখক কে ?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. আল-মাহমুদ
  3. শামসুর রাহমান
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
‘এ আমার ছোট ছেলে, যে নেই এখন,
পাথরের টুকরোর মতন
ডুবে গেছে আমাদের গ্রামের পুকুরে
বছর - তিনেক আগে কাক - ডাকা গ্রীষ্মের দুপুরে’। ___ পঙক্তিগুলো শামসুর রাহমানের 'একটি ফটোগ্রাফ' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

শামসুর রাহমান: 
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৮০.
‘এলো সে অবেলায়’ শামসুর রাহমান রচিত একটি -
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
- ‘এলো সে অবেলায়’ শামসুর রাহমান রচিত একটি - উপন্যাস
- উপন্যাসটি ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।

শামসুর রাহমান:

- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৮১.
’একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং’-এই চরণটি কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. রক্তে আমার অনাদি অস্থি
  2. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
  3. ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯
  4. একুশে ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
• ’একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং’-এই চরণটি কবি শামসুর রাহমানের 'ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯' কবিতার অন্তর্ভুক্ত। 

'ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯' কবিতা,
---------শামসুর রাহমান।   

আবার ফুটেছে দেখো কৃষ্ণচূড়া  থরে থরে শহরের পথে
কেমন নিবিড় হয়ে। কখনো মিছিলে কখনো বা
একা হেঁটে যেতে যেতে মনে হয় ওরা
শহিদের  ঝলকিত রক্তের  বুদ্বদ স্মৃতিগন্ধে ভরপুর।
একুশর কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং।
এ রংয়ে র বিপরীত আছে অন্য রং,
যে রং লাগে না ভালো চোখে, যে রং সন্ত্রাস আনে
প্রাত্যহিকতায় আমাদের মনে সকাল-সন্ধ্যা
 এখন সে রঙে  গেছে পথ- ঘাট সারা দেশ
ঘাতকের অশুভ আস্তানা।

'ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯’ কবিতা সম্পর্কিত আলোচনা: 
- 'ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯’ কবিতাটি নেয়া হয়েছে কবি শামসুর রহমান এর ‘নিজ বাসভূমে’ কাব্যগ্রন্থ থেকে।
- এ কবিতার পটভূমি  পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ১৯৬৯ এ সূচিত পূর্ববঙ্গের মানুষের গণ আন্দোলন। 
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালির পরবর্তী আন্দোলন সংগ্রামের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
- ১৯৫২ তে ভাষা শহিদ সালামের রক্তে অর্জিত বাংলা ভাষাই ৬৯ সালের আন্দোলনে প্রতিবাদীদের মুখে ধ্বনিত হয়েছে।
- কবি দেখেছেন যে, ১৯৫২ সালের সংগ্রামের অর্জন ১৯৬৯ সালের আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯' কবিতা, উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮২.
'আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে' - চরণটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. শামসুর রাহমান
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
'আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে'  চরণটির রচয়িতা - শামসুর রাহমান। এটি তাঁর 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতা থেকে নেওায় হয়েছে।

কবিতার কয়েকটি চরণ নিম্নরূপ:

জীবন মানেই ...

আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে
কেমন নিবিড় হ'য়ে। কখনো মিছিলে কখনো-বা
একা হেঁটে যেতে যেতে মনে হয় ফুল নয়, ওরা -
শহীদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ, স্মৃতিগন্ধে ভরপুর।
একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রঙ

শামসুর রাহমান:
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮৩.
‘অদ্ভুত আঁধার এক’ — উপন্যাসটির লেখক কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. শামসুর রাহমান
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ — শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ’ জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি কবিতা।

-------------------
• শামসুর রাহমান:
শামসুর রাহমান ছিলেন বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে” প্রকাশের মাধ্যমে কবিতায় তাঁর আসন দৃঢ় হয়।

• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৮৪.
কবি শামসুর রাহমানের জন্ম কত সালে?
  1. ক) ১৯২৭
  2. খ) ১৯২৯
  3. গ) ১৯২৮
  4. ঘ) ১৯৩০
ব্যাখ্যা

• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬)।
• তিনি একজন নাগরিক কবি ছিলেন।
• পেশায় তিনি সাংবাদিক ছিলেন।
• মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি মজলুম আদিব (বিপন্ন লেখক) ছদ্মনামে লিখতেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- আমি অনাহারী,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- দুঃসময়ের মুখোমুখি,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি,
- এক ধরনের অহংকার,
- শূন্যতার শোকসভা,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে।

তাঁর রচিত উপন্যাস-
- অক্টোপাস,
- অদ্ভূত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার

১৮৫.
কোনটি শামসুর রাহমানের প্রবন্ধ ?
  1. ক) কালের ধুলোয় লেখা
  2. খ) কবিতা এক ধরনের আশ্রয়
  3. গ) এলো সে অবেলায়
  4. ঘ) বিধ্বস্ত নীলিমা
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তাঁর ৬৫টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
- রৌদ্র করোটিতে
- বিধ্বস্ত নিলীমা 
- বন্দী শিবির থেকে
- এক ধরনের অহংকার 
- শূন্যতায় তুমি শোকসভা
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ
- যে অন্ধ সুন্দরী কাঁদে 
- অবিরল জলাভূমি 
- এক ফোঁটা কেমন অনল
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় 
- হরিণের হাড়
- উজাড় বাগানে 
- হেমন্ত সন্ধ্যায় কিছুকাল 
- সৌন্দর্য আমার ঘরে 
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি 
- শুনি হৃদয়ের ধ্বনি 
- হৃদপদ্মে জ্যোৎস্না দোলে
- ভগ্নস্তূপে গোলাপের হাসি 
- ভাঙাচোরা চাঁদ মুখ কালো করে ধুঁকছে
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে 
- গোরস্থানে কোকিলের করুণ আহবান 
- অন্ধকার থেকে আলোয় 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- এগুলো হল:
- অক্টোপাস 
- অদ্ভুত আঁধার এক
- নিয়ত মন্তাজ 
- এলো সে অবেলায় 

তাঁর প্রবন্ধ: 
- আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ
- কবিতা এক ধরনের আশ্রয় 

তাঁর আত্মস্মৃতি:
- কালের ধুলোয় লেখা
- স্মৃতির শহর 

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৮৬.
শামসুর রাহমান কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ২০০২ সালে
  2. ২০০৬ সালে
  3. ২০০৪ সালে
  4. ২০০৫ সালে
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।  তাঁর ডাক নাম ‘বাচ্চু’। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল, 
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৮৭.
শামসুর রাহমানের পৈতৃক নিবাস কোন জেলায়?
  1. নরসিংদী
  2. গাইবান্ধা
  3. মানিকগঞ্জ
  4. নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- ছদ্মনাম: মজলুম আদিব।
- তিনি 'নাগরিক কবি' হিসেবে খ্যাত।

• তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ),
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

তাঁর কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- অদ্ভুত এক আধার,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৮৮.
কোন উপন্যাসটি শামসুর রাহমান রচনা করেছেন?
  1. নিজ বাসভূমে
  2. নিরালোকে দিব্যরথ
  3. উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ
  4. অদ্ভুত আঁধার এক
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তাঁর ডাকনাম ছিল বাচ্চু। 
- তিনি  ১৮ আগস্ট ২০০৬ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- অক্টোপাস ,
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে(প্রথম কাব্যগ্রন্থ), 
- রোদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- শূন্যতায় তুমি শোকসভা,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- প্রেমের কবিতা,
- ইকারুসের আকাশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় ইত্যাদি।

• আত্মস্মৃতি: 
- স্মৃতির শহর,  
- কালের ধূলোয় লেখা। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর বাংলাপিডিয়া।
১৮৯.
‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়’ - কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. আবুল মনসুর আহমদ 
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শামসুর রাহমান
  4. হাসান আজিজুল হক 
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমান:
- ১৯২৯ সালের  ২৪শে অক্টোবর মাতুতালয় ঢাকার মাহুতটুলিতে তিনি জন্মগ্রহন করেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনে ১৩জন তরুণ কবির কবিতার সঙ্কলন, নতুন কবিতা-য় তাঁর পাঁচটি কবিতাতাঁর কবি পরিচয়কে সুধী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়’ কবিতার রচয়িতা হলেন - বিশিষ্ট কবি শামসুর রাহমান। এটি তাঁর একটি বিখ্যাত দেশপ্রেমমূলক রচনা। এটি ‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়’ কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা।

কবিতার অংশবিশেষ:
সারারাত নূর হোসেনের চোখে এক ফোঁটা ঘুমও
শিশিরের মতো
জমেনি, বরং তার শিরায় শিরায়
জ্বলেছে আতশবাজি সারারাত, কী এক ভীষণ
বিস্ফোরণ সারারাত জাগিয়ে রেখেছে
ওকে, ওর বুকে ঘন ঘন হরিণের লাফ,
কখনো অত্যন্ত ক্ষিপ্র জাগুয়ার তাকে
প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে জ্বলজ্বলে
চোখে খর তাকিয়ে রয়েছে ওর দিকে,
এতটুকু ঘুমোতে দেয়নি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- অন্ধকার থেকে আলোয়,
- হরিণের হাড়,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- অবিরল জলাভূমি। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস
- নিয়ত মন্তাজ
- এলো সে অবেলায়
- অদ্ভুত আঁধার এক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১৯০.
নিচের কোনটি শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
  2. বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. প্রতিদিন গৃহহীন ঘরে
  4. সবকটি কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থের নাম হলো — “প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে”।
 “প্রতিদিন গৃহহীন ঘরে” নামে তাঁর কোনো কাব্য নেই।

“ঘরহীন” শব্দটাই সঠিক, কারণ এটি শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থের মূল শিরোনাম। “গৃহহীন” শব্দটা ব্যবহার করলে নামটি ভুল হয়ে যাবে।

অন্যদিকে,
শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে;
- বিধ্বস্ত নীলিমা।
---------------------
শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৯১.
‘স্মৃতির শহর’ শামসুর রাহমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. আত্মস্মৃতি
  3. ভ্রমণকাহিনি
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• ‘স্মৃতির শহর’ আত্মস্মৃতি:
• শামসুর রাহমানের শৈশব-কৈশোরে বেড়ে উঠার আনন্দ বেদনার স্মৃতিনিয়ে রচিত গদ্য ‘স্মৃতির শহর’।

• কবি শামসুর রাহমান জন্মেছিলেন ঢাকা শহরে (জন্ম: ২৩ অক্টোবর ১৯২৯)। ঢাকা তখন ছিল ফাঁকা ফাঁকা।
মানুষের এমন দমবন্ধ অবস্থার কথা তখন কল্পনাও করা যেত না। এত দালানকোঠা আর পিঁপড়ের সারির মতো গাড়ি ছিল না। ছিল পাড়ায় পাড়ায় আস্তাবল, ঘোড়ার গাড়ি, গাড়োয়ান, বাতিওয়ালা, ভিস্তিওয়ালা, ফেরিওয়ালা। গলির ভেতরে ছোটবড় বাড়িতে ছিল মানুষের বাস। স্কুল ছিল, মসজিদ-মন্দির ছিল, আর ছিল পালা-পার্বণে নানা আনন্দ-উৎসব। এসবের ভেতর দিয়ে শৈশব-কৈশোরে বেড়ে উঠেছেন কবি। সেই সব দিনের আনন্দ-বেদনার স্মৃতিকথা লিখেছেন এই গদ্যে।

----------------------------
• শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

তাঁর রচিত আত্মস্মৃতি:
- কালের ধুলোয় লেখা,
- স্মৃতির শহর।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; ‘স্মৃতির শহর’ আত্মস্মৃতি শামসুর রাহমান এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯২.
"প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে" - কোন ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ 
  2. নাটক
  3. উপন্যাস 
  4. আত্মজীবনী 
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম - প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে।
- কাব্যটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।

--------------------------
• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১৯৩.
’নিজ বাসভূমে’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. শামসুর রহমান
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল- বাচ্চু।
- শামসুর রাহমানকে প্রধানত “নাগরিক কবি” বলা হয়।
- কারণ তার কবিতায় নগর জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
-  তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস, 
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়, 
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।   

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৯৪.
কোনটি সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস?
  1. ক) বাংলার মাটি বাংলার জল
  2. খ) পরানের গহীন ভিতর
  3. গ) বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা
  4. ঘ) সীমানা ছাড়িয়ে
ব্যাখ্যা
নিষিদ্ধ লোবান, সীমানা ছাড়িয়ে, এক মহিলার ছবি, অনুমপ দিন, নীল দংশন, দ্বিতীয় দিনের কাহিনী, আয়না বিবির পালা, স্তব্ধতার অনুবাদ, ত্রাহী, বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ, 'দেয়ালের দেশ', 'খেলারাম খেলে যা', তুমি সেই তরবারী, মৃগয়ার কালখেপ ইত্যাদি সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস।
একদা এক রাজ্যে, পরানের গহীন ভিতর, বিরতিহীন উৎসব, বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা, প্রতিধ্বনিগণ, ধ্বংসস্তূপে কবি ও নগর ইত্যাদি সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যগ্রন্থ।
তাঁর রচিত কাব্যনাট্যগুলো হলো- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, গণনায়ক, নুরুলদীনের সারাজীবন, এখানে এখন, বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৯৫.
শামসুর রাহমান কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. মাহুতটুলী
  2. ওয়ারী
  3. হাজারীবাগ
  4. শাখারিবাজার
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান:
-  শামসুর রাহমান  (১৯২৯-২০০৬) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার মাহুতটুলীতে তাঁর নানাবাড়িতে  জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শামসুর রাহমানের অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
• প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
• রৌদ্র করোটিতে;
• বিধ্বস্ত নীলিমা;
• বন্দী শিবির থেকে;
• নিজ বাসভূমে;
• বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়;
• এবং উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। 

• এছাড়া তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থ- এলাটিং বেলাটিং।

• তাঁর উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক;
- অক্টোপাস,
- এলো সে অবেলায়,
- নিয়ত মন্তাজ।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

১৯৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় শামসুর রাহমান কি ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন?
  1. ক) সনাতন পাঠক
  2. খ) অল্পদর্শী
  3. গ) বঙ্গের রঙ্গ দর্শক
  4. ঘ) মজলুম আদিব
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধকালে কবি শামসুর রাহমান 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান।
- তিনি একজন নাগরিক কবি ছিলেন।
- পেশায় তিনি সাংবাদিক ছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি মজলুম আদিব (বিপন্ন লেখক) ছদ্মনামে লিখতেন।

• ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে কবি শামসুর রাহমান ‘বন্দী শিবির থেকে’ (১৯৭২) কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থের অধিকাংশ কবিতা মুক্তিযুদ্ধকালীন অবরুদ্ধ সময়ে রচিত।
- গ্রন্থটি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়।
- মোট ৩৮ টি কবিতা রয়েছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’, ’স্বাধীনতা তুমি’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯৭.
কোনটি শামসুর রাহমান রচিত আত্মস্মৃতি?
  1. এলো সে অবেলায়
  2. কালের ধুলোয় লেখা
  3. নিজ বাসভূমে
  4. প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
ব্যাখ্যা
⇒ 'কালের ধুলোয় লেখা’ আত্মস্মৃতি:
• 'কালের ধুলোয় লেখা' (২০০৪) শামসুর রাহমান রচিত একটি আত্মস্মৃতি।
• 'কালের ধুলোয় লেখা' তাঁর আত্মজীবনীতে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি শুধু নয়, বৈশ্বিক পটভূমিতে কাছ থেকে দেখা বাঙালির গণ-সংস্কৃতির ইতিহাস যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনি প্রতিভাত হয়েছে তার কাব্যসত্তার ভেতর- বাহির।
• এই গ্রন্থে জীবনে ঘটেছে এমন কোনো ঘটনাকে লুকোতে চান নি তিনি। মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।
• বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুর রাহমান অনেক অজানা ইতিহাসকে খোলসা করেছেন স্পষ্টভাবে যার মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ সত্যাশ্রয়ী আত্মজীবনী লেখার একটি সংস্কৃতি চালু করেন।

================
⇒ শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য - "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’ কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর: ‘কালের ধুলোয় লেখা’ শামসুর রাহমান।
১৯৮.
'বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শামসুর রাহমান
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
- ১৯২৯ সালের  ২৪শে অক্টোবর মাতুতালয় ঢাকার মাহুতটুলিতে তিনি জন্মগ্রহন করেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনে ১৩জন তরুণ কবির কবিতার সঙ্কলন, নতুন কবিতা-য় তাঁর পাঁচটি কবিতাতাঁর কবি পরিচয়কে সুধী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- রৌদ্র করোটিতে
- বিধ্বস্ত নীলিমা
- বন্দী শিবির থেকে
- অন্ধকার থেকে আলোয়
- হরিণের হাড়
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- অবিরল জলাভূমি। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস
- নিয়ত মন্তাজ
- এলো সে অবেলায়
- অদ্ভুত আঁধার এক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯৯.
নিচের কোনটি শামসুর রাহমান রচিত আত্মস্মৃতি?
  1. এলো সে অবেলায়
  2. বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. নিয়ত মন্তাজ
  4. কালের ধুলোয় লেখা
ব্যাখ্যা

• 'কালের ধুলোয় লেখা’ আত্মস্মৃতি:
- 'কালের ধুলোয় লেখা' (২০০৪) শামসুর রাহমান রচিত একটি আত্মস্মৃতি।
- 'কালের ধুলোয় লেখা' তাঁর আত্মজীবনীতে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি শুধু নয়, বৈশ্বিক পটভূমিতে কাছ থেকে দেখা বাঙালির গণ-সংস্কৃতির ইতিহাস যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনি প্রতিভাত হয়েছে তার কাব্যসত্তার ভেতর- বাহির।
- এই গ্রন্থে জীবনে ঘটেছে এমন কোনো ঘটনাকে লুকোতে চান নি তিনি। মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।
- বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুর রাহমান অনেক অজানা ইতিহাসকে খোলসা করেছেন স্পষ্টভাবে যার মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ সত্যাশ্রয়ী আত্মজীবনী লেখার একটি সংস্কৃতি চালু করেন।

--------------------
• শামসুর রাহমান:
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
- যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’ কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২০০.
‘অদ্ভুত আঁধার এক’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

শামসুর রাহমান:
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।