ব্যাখ্যা
- ‘সরীসৃপ’ শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- ‘সরীসৃপ’ অর্থ: বুকে ভর দিয়ে চলে এমন ডিম্বজ মেরুদণ্ডী প্রাণী (সাপ, টিকটিকি, কুমির প্রভৃতি)।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৬৬ / ৬৯ · ৬,৫০১–৬,৬০০ / ৬,৯৫৩
বাক্যের গুণ ৩ টি।
যথা -
- আকাঙ্খা
- যোগ্যতা
- আসত্তি।
১. বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণের জন্য এক পদের পর অন্য পদের যে সংস্থাপন , বাক্য পূর্ন না হওয়া পর্যন্ত শ্রোতার যে না-মেটা কৌতূহল, তাকে বাক্যের আকাঙ্খা বলে।
২. বাক্যের পদগুলি অর্থের সঙ্গতিক্রমে পূর্বাপর সন্নিবিষ্ট করার নাম আসত্তি।
৩. বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাব সম্মিলনের নাম যোগ্যতা ।
আলোচ্য বাক্যে বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলন লোপ পেয়েছে। তাই বাক্যটি যোগ্যতা হারিয়েছে।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
• যেসব যতিচিহ্নের বিরতিকালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড':
- দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস।
• থামার প্রয়োজন নেই -
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।
উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
শুদ্ধ বাক্যঃ
- বিপদগ্রস্তকে সাহায্য কর।
- তাহার অপরিসীম আনন্দ হইল।
- তিনি মনঃকষ্টে কাল কাটাচ্ছেন।
- দরিদ্রকে দয়া কর।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
• 'রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।'- বাক্যটি সঠিক নয়।
বাক্যটিতে প্রত্যয়জনিত ভুল হয়েছে।
• 'উৎকর্ষতা' প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধরূপ: উৎকর্ষ, উৎকৃষ্টতা।
• তাই, বাক্যটি হবে- রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য।
• '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
- '-তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো '-তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন -
• 'উৎকর্ষ' শব্দটি বিশেষ্য।
- ‘উৎকর্ষ' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘-তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
অর্থাৎ 'উৎকর্ষতা' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বানান- জগৎজ্জয়ী।
• শুদ্ধ রূপ- জগজ্জয়ী।
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- বিশ্ববিজয়ী;
- দিগবিজয়ী।
অন্যদিকে,
জগদ্বাসী, জগৎপিতা, জগন্নাথ শব্দগুলো শুদ্ধ বানানে লেখা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে-
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।
যেমন:
• সরল বাক্য: সে পরিশ্রমী হলেও নির্বোধ।
• যৌগিক বাক্য: সে পরিশ্রমী বটে, কিন্তু নির্বোধ।
• সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
• যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
• সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
• যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
• সরল বাক্য: সৎ ব্যক্তি বলে সকলে তাকে সম্মান করে।
• যৌগিক বাক্য: লোকটি সৎ, তাই সকলে তাকে সম্মন করে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমনঃ
- তার বয়স বাড়লেও বুদ্ধি বাড়েনি।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে,
- ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে,
“যেমন কাজ করবে তেমন ফল পাবে”- বাক্যটির সরল রূপঃ কাজ অনুযায়ী ফল পাবে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
শুদ্ধ বানান- অমীমাংসিত।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
অর্থ:
- মীমাংসা হয়নি এমন, অনিষ্পন্ন।
অন্যান্য বানানগুলোর শুদ্ধরূপ- অনস্বীকার্য, অর্ধস্ফুট, অর্থসিদ্ধি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমনঃ
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
- রক্ষকই ভক্ষক।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি
• 'আলিফ অর্থনীতিতে ভালো।'এখানে 'অর্থনীতিতে' শব্দটি ক্রিয়ার বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
• বৈষয়িক আধারাধিকরণ :
বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন:
- রাকিব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
- আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।
উল্লেখ্য,
আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত: ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।
১. ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
- পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
- বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
- আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)
সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়। যেমন-
- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)। 'দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী,
- ভিক্ষা দেহ তারে (দুয়ারের কাছে), রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।
২. অভিব্যাপক:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপকআধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে।)
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন -
- জমি থেকে ফসল পাই।
- সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।
অন্যদিকে,
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
যেমন:
- বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়৷
- তিলে তৈল আছে।
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন,
-ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
যেমন:
অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: ট্রেনটি ঢাকা ছাড়ল।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
তৃতীয়া বিভক্তি: তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
পঞ্চমী বিভক্তি: জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরছে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: বাঘের ভয়ে সকলে ভীত।
সপ্তমী বিভক্তি: দুধে দই হয়।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
• আপনি আমায় অবিশ্বাস করেছেন - অস্তিবাচক বাক্যের উদাহরণ।
------------
• অস্তিবাচক বাক্য/ হাঁ বাচক বাক্য:
- যে বাক্যে সমর্থনের মাধ্যমে কোন কিছু বর্ণনা করা হয়, তাকে অস্তিবাচক বাক্য বা হাঁ বাচক বলে।
- যে বাক্যে হাঁ বাচক শব্দ থাকে, তাকে হাঁ বাচক বা অস্তিবাচক বাক্য বলে।
যেমন -
তুমি কালকে আসবে।
আপনি আমায় অবিশ্বাস করেছেন।
-------------
অন্যদিকে,
• নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বা না-বাচক বাক্য:
- যে বাক্যে কোনো ঘটনায়, কাজে, বা ভাবে অস্বীকৃতি, অনস্তিত্ব, নিষেধ বা না-সূচক অর্থ বোঝায় তাকে নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন -
- 'হৈমন্তী কোন কথা বলিল না।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।'
----------
নেতিবাচক বাক্যের সংজ্ঞা অনুসারে,
সে কিছুতেই সন্তুষ্ট নয়, দুবারের বেশী ফোন করিনি, আমি অন্য কোথাও যাব না - বাক্যগুলো নেতিবাচক বাক্য।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
তৎসম শব্দে 'অপর, পরা, পূর্ব, প্রা' ইত্যাদি উপসর্গের সঙ্গে 'অহ্ন' প্রত্যয় যুক্ত হলে 'অহ্ন' শব্দের 'দন্ত- ন' পরিবর্তিত হয়ে 'মূর্ধন্য- ণ' হয়।
যেমন,
- অপরাহ্ণ, পরাহ্ণ, প্রাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ ইত্যাদি।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
- পূর্বাহ্ন শুদ্ধ নয়, এর শুদ্ধ বানান- 'পূর্বাহ্ণ'।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন:
- ‘পৃথিবী সূর্যের চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে।
- বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।
- এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
সঠিক উত্তর: ঘ) অর্থ-সামঞ্জস্যহীন পদের ব্যবহারের কারণে।
ব্যাখ্যা:
- "ইক্ষুর চারা বপন করা হইল" - এখানে ভুল ক্রিয়াপদ ব্যবহার করা হয়েছে।
কারণ:
- 'বপন' শব্দটি বীজ রোপণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
আবার, ইক্ষু (আখ) বীজ থেকে জন্মায় না, চারা রোপণ করা হয়। চারা রোপণের জন্য রোপণ ক্রিয়া ব্যবহার করতে হয়।
শুদ্ধ বাক্য:
"ইক্ষুর চারা রোপণ করা হইল।"
উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অধিকরণ কারক:
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।
- মাঝরাত্রে শংকরের ঘুম ভেঙ্গে গেল।
এরূপ-
• পণ্ডিতমশাই গণিতে পাকা।
[বাক্যকে 'কোন বিষয়ে পাকা?' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গণিতে'। এখানে 'গণিতে' অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি। এটা বিষয়াধিকরণ কারক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
“আমার হৃদয় মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হল”- বাক্যে উপমার ভুল প্রয়োগ ঘটেছে। কারন বীজ মন্দিরে বপন হয় না। বপন হয় ক্ষেতে।
সঠিক বাক্যটি হবে আমার হৃদয় ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হল।
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের মিশ্রণ ঘটলে তা গুরুচণ্ডালী দোষ হয়।
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাহুল্য দোষ ঘটে।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• 'লুন্ঠন' বানানটি অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ বানান হবে- 'লুণ্ঠন'।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- তৎসম শব্দে ট- বর্গের (ট, ঠ, ড, ঢ) সঙ্গে যুক্ত 'দন্ত-ন' পরিবর্তিত হয়ে 'মূর্ধন্য-ণ' হয়ে যায়।
যেমন- মণ্ড, উৎকণ্ঠা , লুণ্ঠন, বণ্টন, খণ্ড, ভণ্ড, কাণ্ড ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
• অশুদ্ধ বানান - পিপিলীকা।
- শুদ্ধ বানান 'পিপীলিকা'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- পিঁপড়া,
- পিঁপড়ে।
অন্যদিকে,
- অন্যূন, প্রজ্বলিত এবং মুহূর্ত - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা বানান অভিধান, বাংলা একাডেমি।
অপশন ক তে ‘বিদ্যান ও শিরচ্ছেদ’ বানানটি ভুল। এর শুদ্ধরূপ যথাক্রমে ‘বিদ্বান ও শিরশ্ছেদ‘।
অপশন খ তে ‘আকাঙ্খা’ বানানটি ভুল। এর শুদ্ধরূপ হচ্ছে ‘আকাঙ্ক্ষা‘।
অপশন গ তে ‘পিপিলিকা’ বানানটি ভুল। এর শুদ্ধরূপ হচ্ছে ‘পিপীলিকা‘। ( পিপীলিক + আ = পিপীলিকা )
অপশন ঘ এর ‘সত্তা’ শব্দের অর্থ অস্তিত্ব/ স্থিতি/বিদ্যমানতা/বর্তমানতা। এটি সঠিক শব্দ। এর বানান ‘সত্ত্বা‘ লিখা ভুল।
’মরীচিকা’ শব্দটিও সঠিক বানানেই আছে। ( মরীচি + কন্ + আ = মরীচিকা )
তথ্যসূত্র: বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান।
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
অন্যদিকে,
- লোকটির সবই আছে কিন্তু সুখী নয়।- এটি একটি যৌগিক বাক্য।
- গরিব হলেও লোকটি সৎ।- -এটি একটি সরল বাক্য।
- তিনি আসতে পারলেন না, কারণ তিনি অসুস্থ।- এটি একটি যৌগিক বাক্য।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• স্বায়ত্তশাসন বানানটি সঠিক।
- উৎপত্তি: [স্বায়ত্ত+ শাসন]
- অর্থ: স্বশাসিত রাষ্ট্র (একনায়ক-শাসিত নয়)।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
•"মহারাজের জয় হোক।"- এটি প্রার্থনাসূচক বাক্য।
ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে ইচ্ছা, প্রার্থনা, উচ্ছ্বাস ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য বলে।
- একে ইচ্ছাসূচক, ইচ্ছাবোধক বাকাও বলা হয়।
যেমন -
→ মহারাজের জয় হোক।
→ আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
• শুদ্ধ বাক্য: ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাতী নষ্ট।
শুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।
অশুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষী দিব না।
শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।
অশুদ্ধ বাক্য: ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে দান, অর্চনা, সাহায্য ইত্যাদি করা হয় তাকে ( সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী) সম্প্রদান কারক বলে। বস্তু নয়-ব্যক্তিই সম্প্রদান কারক।
চতুর্থী বা কে, রে, এরে বিভক্তিযুক্ত কতগুলো সম্প্রদান কারকের উদাহরণ হলো : ভিখারিকে পয়সা দাও। শীতার্তকে বস্ত্র দাও। সৎপাত্রকে কন্যা দাও।
সপ্তমী বা এ, য়, তে বিভক্তিযুক্ত কতগুলো সম্প্রদান কারকের উদাহরণ হলো : সৎপাত্রে কন্যা দান কর, সমিতিতে চাঁদা দাও, অন্ধজনে দেহ আলো।
'আপমর' বানানটি ভুল।
শুদ্ধ বানান - আপামর।
অন্যদিকে,
সঠিক বানান :
- ম্লানত্ব,
- বাজিকর
- আপিস
উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।
প্রতীক্ষা [প্রোতিক্খা] (বিশেষ্য) {(তৎসম বা সংস্কৃত) প্রতি+ঈক্ষা}
১। অপেক্ষা; ইনতিজার।
২। আশা; প্রত্যাশা।
৩। যা ঘটতে পারে সে বিষয়ের জন্য অপেক্ষা।
(অধীর চিত্তে প্রতীক্ষা করিতে লাগিল-শামসুর রাহমান)।
প্রতীক্ষমাণ (বিশেষণ) প্রতীক্ষাকারী; প্রত্যাশা করে এমন।
প্রতীক্ষামাণা (বিশেষণ) (স্ত্রীলিঙ্গ)।
প্রতীক্ষিত (বিশেষণ) প্রতীক্ষা করা হয়েছে বা হচ্ছে এমন।
প্রতীক্ষ্য (বিশেষণ) ১ প্রতীক্ষার উপযুক্ত।
২। পূজ্য।
প্রতীক্ষ্যমাণ (বিশেষণ) অপেক্ষা করা হচ্ছে এমন; অপেক্ষমাণ।
প্রতীক্ষ্যমাণা (বিশেষণ) (স্ত্রীলিঙ্গ)।
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
• সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থওমূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে-
• সূত্র: বাক্য পরিবর্তিত হলেও মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন:
- সরল: 'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
- জটিল: 'ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
• সূত্র: সরল বাক্যের উদ্দেশ্য বা কর্তা ও বিধেয় বা সমাপিকা ক্রিয়াকে পরিবর্তন না করে সাধারণত জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যটি গঠিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হয়।
যেমন:
- সরল: 'তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা হওয়া সত্ত্বেও তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'
- জটিল: 'যদিও তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা, তথাপি তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'
• সূত্র: সরল বাক্যের বাকি অংশ বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্যে পরিণত হয়।
যেমন:
- সরল: 'ভূস্বামী স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করিলে প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'
- জটিল: 'ভূস্বামী যখন স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করেন, তখন প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'
• সূত্র: প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্য সাপেক্ষ সর্বনাম (যা, তা) কিংবা যোজক শব্দ (যদি, তবে) দ্বারা যুক্ত হয়।
যেমন:
- সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
- জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
- সরল: 'কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করাই তাহার একমাত্র প্রয়োজন।'
- জটিল: 'যাহা তাঁহার একমাত্র প্রয়োজন, তাহা হইল কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করা।'
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।