ব্যাখ্যা
দীর্ঘজীবী (দির্ঘোজিবি)
[স. দীর্ঘ+√জীব্+ইন্]
বিশেষণ
- দীর্ঘায়ু
নিশীথিনী (নিশিথিনি)
[স. নিশীথ+ইন্+ঈ]
বিশেষ্য
- গভীর রাত
- রজনি
পরিণীত (পোরিনিতো)
[স. পরি+ √নী+তৃ]
বিশেষণ
- বিবাহিত
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৬২ / ৬৯ · ৬,১০১–৬,২০০ / ৬,৯৫৩
• 'অন্যায় কাজ করো না।' বাক্যটি ক্রিয়ার অনুজ্ঞা ভাব নির্দেশ করে।
--------------------
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।
- ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।
• নির্দেশক ভাব: সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক: আমরা বই পড়ি। তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়: আপনি কি আসবেন? সে কি গিয়েছিল?
• অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।
খ. নিষেধাত্মক-
• বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।
গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।
ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড়।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।
• সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।
তার মঙ্গল হোক।
• আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব: আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• বাংলা বাক্যে, উদ্দেশ্য বাক্যের শুরুতে বসে বাক্য গঠন করে।
-------------------
• একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে। যথা:
১. উদ্দেশ্য,
২. বিধেয়।
• উদ্দেশ্য: বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
[এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে। অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।]
• বিধেয়: কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে।
বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
[এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।]
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
এখানে সমস্যা হচ্ছে যুক্তবর্ণে ‘স্ক’ হবে নাকি ‘ষ্ক’ হবে। আর এটি মূলত বিসর্গ সন্ধির নিয়মে হয়েছে।
বিসর্গ সন্ধির নিয়ম :
কোন শব্দে অ/আ স্বরধ্বনির পরে ঃ থাকলে এবং তারপর ক, খ, প, ফ থাকলে ঃ এর স্থানে স হয়। যেমন:
পুরঃ + কার = পুরস্কার
তিরঃ + কার = তিরস্কার
নমঃ + কার = নমস্কার
মনঃ + কামনা = মনস্কামনা
কোন শব্দে অ/আ স্বরধ্বনি ছাড়া অন্য কোন স্বরধ্বনির পরে ঃ থাকলে এবং তারপর ক, খ, প, ফ থাকলে ঃ এর স্থানে ষ হয়। যেমন:
আবিঃ + কার = আবিষ্কার
বহিঃ + কার = বহিষ্কার
নিঃ + পাপ = নিষ্পাপ
চতুঃ + কোণ = চতুষ্কোণ
চতুঃ + পদ = চতুষ্পদ
তথ্যসূত্র: প্রমিত বাংলা বানান-ড. মোহাম্মদ আমীন
অপশন (গ) তে অপপ্রয়ােগের কোনাে দৃষ্টান্ত নেই।
অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধরূপঃ
জন্মবার্ষিকী, স্বোপর্জিত, অত্র/ এ স্থানে, সপরিবারে।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
চাপল্যতা - অশুদ্ধ। এর শুদ্ধরূপ = চাপল্য, চপলতা।
- সশঙ্কিত (শঙ্কাযুক্ত/ভীত) শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
- সলজ্জ ও সমূল - শব্দগুলোও শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• তৎসম শব্দের বানানে ণ-ত্ব বিধানের শুদ্ধতা রক্ষা করতে হবে।
যেমন:
- মাণিক্য, গণ, লবণ, বেণু, কঙ্কণ, কল্যাণ, শোণিত, মণি ইত্যাদি।
• অতৎসম বানানে ণ হবে না। তার বদলে হবে ন।
যেমন:
অঘ্রান, কান, গুনতি, ঝরনা, ইরান, কুরান ইত্যাদি।
উৎস: প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি অভিধান।
যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- তিনি আমাকে দশটি টাকা দিলেন, এবং বাড়ি যেতে বললেন।
- তার বয়স বেড়েছে, কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে, বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি, এতে দোষের কিছু নেই।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• অশুদ্ধ: দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
• শুদ্ধ: দুর্বলতাবশত তিনি আসতে পারেননি।
শুদ্ধ বাক্যগুলো হলো-
• আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
• শুধু টাকার জোরে সব কিছু হয় না।
• এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• অশুদ্ধ বাক্য: তার সৌন্দর্যতায় সকলে মুগ্ধ।
• শুদ্ধ বাক্য: তার সৌন্দর্যে সকলে মুগ্ধ।
⇒ ‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন: কৃপণ বিশেষণ শব্দের সাথে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কৃপণতা হয়েছে।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি - বাগেশ্বরী।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - বাগীশ্বরী। এর সন্ধিবিচ্ছেদ - বাক্ + ঈশ্বরী।
অন্যদিকে,
- পৃথগন্ন,
- অদ্যাবধি,
- বিপদুদ্ধার।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
• করণ কারকে অনুসর্গ ব্যবহারের পূর্বে মূল সর্বনাম শব্দের সঙ্গে — "র; এর; কে" বিভক্তি যোগ করে নিতে হয়।
• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে -
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
দাঁড়ি বা পূর্ণছেদ:
- বাংলা ভাষায় দাঁড়ি একটি বহুল ব্যবহৃত যতিচিহ্ন। বাক্যের মধ্যে বক্তব্য সমাপ্ত হলে অথবা অর্থ সম্পূর্ণ হলে দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ বসে।
এর প্রয়োগ ক্ষেত্র হচ্ছে:
- অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- কাল একবার এসো।
- নির্দেশাত্মক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- সব সময় সত্য কথা বলবে।
- পরোক্ষ প্রশ্নের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নের বদলে দাড়ি ব্যবহার হয়। যেমন: সীমা জানতে চাইল রীমা কবে আসবে।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
"সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান" বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ।
প্রশ্নের অন্যান্য বাক্যগুলো ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ।
• শুদ্ধ বানান: সং।
- এটি বাংলা শব্দ।
-----------------
• বানানের নিয়ম:
- শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার ( ং) ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং।
- তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ঙ হবে।
যেমন :
বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের।
- ব্যতিক্রম: বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান- নিরীহ।
- এটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি ক্তি সংস্কৃত শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
- 'তিনি সপরিবার ঢাকায় থাকেন।'- বাক্যটি শুদ্ধরূপে লিখিত।
- 'তিনি মোকাদ্দমায় সাক্ষী দেবেন।'- এর শুদ্ধরূপ, তিনি মোকাদ্দমায় সাক্ষ্য দেবেন।
- 'বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধশালী দেশ।'- এর শুদ্ধরূপ, বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধিশালী/সমৃদ্ধ দেশ।
- 'ইহার আব্যশক নেই।'- এর শুদ্ধরূপ, ইহার আব্যশকতা নাই।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'নিরপরাধী' - শব্দে সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ হয়েছে।
- শব্দটির শুদ্ধ প্রয়োগ - নিরপরাধ।
কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
→ পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।
- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
→ রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
→ কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
→ পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
ভাববাচ্য থেকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তর:
- ভাবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।
যেমন:
ভাববাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।
কর্তাবাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
ভাববাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজানাে হােক।
কর্তাবাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজাও।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
কমা (,)
- বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।
- পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে। যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।
- সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
- জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসবে। যেমন- কাল যে লোকটি এসেছিল, সে আমার পূর্বপরিচিত।
- উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে। যেমন- সাহেব বললেন, "ছুটি পাবেন না।”
- মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পর 'কমা' বসবে। যেমন- ১৬ই পৌষ, বুধবার, ১৩৯৯ সন।
- বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসবে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।
- নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় সংযোজিত হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির পরে কমা বসবে। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচ.ডি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে,
'অদ্ভূত'- বানানটি অশুদ্ধ।
শুদ্ধ বানান- অদ্ভুত।
অর্থ- বিস্ময়কর; আশ্চার্যজনক; চমৎকার।
অন্যদিকে,
দধীচি, স্নেহাস্পদ, স্বত্ব - বানানগুলো শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• সঠিক বানান - কৃচ্ছ্রসাধন।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- কৃচ্ছ্রসাধনা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• মৃগনয়না বানানটি শুদ্ধ।
অর্থ:
- হরিণের চোখের মতো সুন্দর চোখ বিশিষ্ট।
অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: নির্বিরোধী
- শুদ্ধ: নির্বিরোধ
- অশুদ্ধ: সুলোচনী
- শুদ্ধ: সুলোচন
- অশুদ্ধ:আত্মসাত
- শুদ্ধ: আত্মসাৎ
- অশুদ্ধ: সশংকিত।
- শুদ্ধ: সশঙ্কিত।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে এক বার বহুবচনে শেষরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক যদি আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
যেমন:
অশুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।
অশুদ্ধ: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।
অশুদ্ধ: অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
শুদ্ধ: অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
অশুদ্ধ: অনেক ছাত্রছাত্রীরা ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।
শুদ্ধ: অনেক ছাত্রছাত্রী ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।
অশুদ্ধ: অশুদ্ধ: আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
শুদ্ধ: আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
অভিগম্য অভিধান অনুসারে সব কটি বানানই সঠিক।
• কলস, কলসি, কলসী, কলশ, কলশী (বিশেষ্য),
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: ঘড়া; গাগরি; জলপাত্র বিশেষ।
• দিঘি, দীঘি, দিঘী (বিশেষ্য),
- তৎসম বা সংস্কৃত।
অর্থ: বড় পুকুর বা জলাশয় (দীঘির জলে ঝলক ঝলে-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।
• সূচি, সূচী।
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ,
অর্থ:
১.
- (বিশেষ্য) সুচ (সূচিকর্ম)।
- (বিশেষণ) তীক্ষ্ন অগ্রভাগযুক্ত (সূচিমুখ)।
২.
- জ্ঞাপনী, নির্ঘন্ট, পুস্তকের বিষয় নির্দেশক পৃষ্ঠাঙ্কযুক্ত তালিকা; অনুক্রমণিকা।
উৎস: অভিগম্য অভিধান ও English-Bangla Dictionary.
প্রশ্ন: কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
সমাধান:
আমি সন্তুষ্ট হলাম - বাক্যটি শুদ্ধ।
• অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
- শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
• অশুদ্ধ বাক্য: অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
- শুদ্ধ বাক্য: অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।
• অশুদ্ধ বাক্য: অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
- শুদ্ধ বাক্য: অন্নাভাবে প্রতি ঘরে হাহাকার।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাক্যের অর্থসংগতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদ বিন্যাসই হল আসত্তি।
'কাল বিতরনী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত'- বাক্যটিতে পদ সন্নিবেস ঠিকভাবে না হওয়াতে ভাবটি প্রকাশ পায়নি। তাই এটি বাক্য হয়নি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।
গুরুচণ্ডালী দোষ : তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনাে কখনাে গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
‘গরুর গাড়ি’, ‘শবদাহ’, ‘মড়াপােড়া’ প্রভৃতি স্থলে যথাক্রমে ‘গরুর শকট’, ‘শবপােড়া’, ‘মড়াদাহ' প্রভৃতির ব্যবহার গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
• 'চুলার' ষষ্ঠী বিভক্তিযোগে গঠিত শব্দ।
• চুলা + র = চুলার; এখানে র ষষ্ঠী বিভক্তি।
বিভক্তি:
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি। বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।যথা:
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: ০, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি:কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান - আশিস।
শব্দের অর্থ:
- আশীর্বাদ,
- দোয়া,
- শুভেচ্ছা।
অন্যদিকে,
- কিরীট, মন্ত্রিত্ব এবং জাত্যভিমান - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বানান - জগবন্ধু।
- এর শুদ্ধ বানান - জগদ্বন্ধু।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- জগতের সকল জীবের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী; কৃষ্ণ।
অন্যদিকে,
- ন্যূনাধিক, উন্মীলন এবং চর্ব্যচূষ্য - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
'তিনি কথা দিয়া কথা রাখতে পারেনি।' - বাক্যটিতে দুই ভাষারীতির মিশ্রণ এবং কর্তা ও ক্রিয়াপদের সংগতি রক্ষিত হয়নি।
বাক্যের শুদ্ধরূপঃ
- তিনি কথা দিয়ে কথা রাখতে পারেননি।
• উদ্দেশ/উদ্দেশ্য:
উদ্দেশ শব্দে বোঝায় হদিস, খোঁজ, লক্ষ্য।
যেমন:
ক. কার উদ্দেশে একথা বলা, হলো কেউ বুঝতে পারল না।
খ. 'নদী ধায় সাগর উদ্দেশে'।
গ. তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে এই গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছে।
অশুদ্ধ: তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই।
শুদ্ধ: তোমার মতো এমন হীনচরিত্র লোক আমার প্রয়োজন নেই।
অশুদ্ধ: ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়।
শুদ্ধ: ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।
অশুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
শুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
- 'জেলে ভাই মাছ ধরে মেঘের ছায়ায়' বাক্যটিতে 'মাছ' শব্দটি কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি (০ বিভক্তি)।
----------------------------
• কর্মকারক-
- কর্মকারক বলতে বোঝায় সেই ব্যক্তি বা বস্তু, যার ওপর কর্তার করা কাজটি পড়ে।
- সহজভাবে বলা যায়, কর্তা যা করে—সেই কাজটি যাকে নিয়ে হয়, তাকেই কর্মকারক বলে।
- কর্মকারক নির্ণয়ের জন্য ক্রিয়াকে ধরে “কী?” বা “কাকে?” প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্মকারক।
- যেমন—
- “রিমা ফুল তুলছে” বাক্যে প্রশ্ন করলে কী তুলছে? উত্তর আসে ফুল—তাই ‘ফুল’ হলো কর্মকারক।
- আবার “ডাক্তার রোগীকে পরীক্ষা করছেন” বাক্যে কাকে পরীক্ষা করছেন? প্রশ্নের উত্তরে রোগীকে আসে—এটিও কর্মকারক।
- অর্থাৎ, কর্তার কাজের প্রভাব যার ওপর পড়ে বা যে ব্যক্তি/বস্তু সেই কাজের ফল ভোগ করে, তাকেই কর্মকারক বলা হয়।
-------------------------------
• "জেলে ভাই মাছ ধরে মেঘের ছায়ায়"—
- বিশ্লেষণ:
• মাছ:
- 'মাছ' হচ্ছে- ক্রিয়ার কর্ম, কারণ জেলে (কর্তা) যা ধরে তা হলো মাছ।
- যেহেতু ‘মাছ’ শব্দটির সঙ্গে কোনো বিভক্তি চিহ্ন নেই, তাই এটিকে শূন্য বিভক্তি (প্রথমা বিভক্তি) হিসেবে ধরা হয়।
• জেলে:
- জেলে নিজেই মাছ ধরার কাজটি করে তাই জেলে কর্তা, অর্থাৎ কর্তৃকারক।
- এখানে কোনো বিভক্তি চিহ্ন নেই, তাই 'জেলে'- কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি (প্রথমা বিভক্তি)।
• মেঘের ছায়ায়:
- মেঘের ছায়ায় স্থান নির্দেশ করছে।
- ‘ছায়ায়’ অংশটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি (‘-য়’ যুক্ত)।
- ‘ছায়ায়’ অংশটি ‘ধরে’ ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত এবং কর্তা ‘জেলে’-এর সঙ্গে যুক্ত, তাই সরাসরি ক্রিয়ার সঙ্গে মিল রেখে অধিকরণ কারকের ভূমিকা পালন করছে।
---------------------------------
• শূন্য বিভক্তি:
- যে বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হলেও কোনো চিহ্ন বা প্রত্যয় (যেমন -কে, -র, -এ) যোগ হয় না, কিন্তু বাক্যে স্পষ্ট ভূমিকা পালন করে তাকে শূন্য বিভক্তি বলা হয়।
- সহজ কথায়, শব্দটি নিজেই কারক হিসেবে কাজ করছে, কিন্তু কোনো চিহ্ন নেই।
- উদাহরণ:
• "জেলে মাছ ধরে" - "জেলে'' কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি , কারণ কোনো চিহ্ন নেই, কিন্তু এটি কর্তার কাজ করছে।
• "ধোপাকে কাপড় দাও" - 'কাপড়' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি, কারণ কোনো চিহ্ন নেই,
- এবং যদি প্রশ্ন করা হয় 'ধোপাকে কি দাও'- তাহলে উত্তর আসবে 'কাপড়';
- তাই 'কাপড়' কর্মকারক।
উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
তৎসম শব্দে 'ক', 'র'- এর পরে সাধারণত 'দন্ত্য-স' বসে না, মূর্ষণ্য- ষ বসে।
যেমন,
ক- এর পর: চক্ষু (ক্ষ= ক্ + ষ), চক্ষুষ্মান, রুক্ষ, ভিক্ষুক, ভিক্ষা।
র- এর পরে: মুমূর্ষু, চিকীর্ষা।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী 'চকুস্মান' এর শুদ্ধ বানান হবে- 'চক্ষুষ্মান'।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- তৎসম শব্দে ট- বর্গের (ট, ঠ, ড, ঢ) সঙ্গে যুক্ত 'দন্ত-ন' পরিবর্তিত হয়ে 'মূর্ধন্য-ণ' হয়ে যায়।
যেমন- মণ্ড, উৎকণ্ঠা , লুণ্ঠন, বণ্টন, খণ্ড, ভণ্ড, কাণ্ড ইত্যাদি।
• সে অনুসারে, 'উৎকন্ঠা' বানানটি অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ বানান হবে- 'উৎকণ্ঠা'।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।
এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
প্রশ্নে প্রদত্ত বাক্যটি-
• 'শিহাব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।'- বাক্যকে 'কোন বিষয়ে ভালো?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘ব্যাকরণে’। এখানে ‘ব্যাকরণে’ শিহাবের ভালো হওয়ার বিষয় বা ক্ষেত্র নির্দেশ করছে, তাই এটি অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।