বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৬২ / ৬৯ · ৬,১০১৬,২০০ / ৬,৯৫৩

৬,১০১.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) দীর্ঘজীবি
  2. খ) দৌরাত্ম্য
  3. গ) নিশীথিনি
  4. ঘ) পরিনীত
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ- 
দীর্ঘজীবী (দির্‌ঘোজিবি) 

[স. দীর্ঘ+√জীব্‌+ইন্‌]
বিশেষণ
- দীর্ঘায়ু

নিশীথিনী (নিশিথিনি)
[স. নিশীথ+ইন্‌+ঈ]
বিশেষ্য
- গভীর রাত
- রজনি

পরিণীত (পোরিনিতো)
[স. পরি+ √নী+তৃ]
বিশেষণ
- বিবাহিত 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১০২.
'একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।'- বাক্যটির শুদ্ধ কর্তাবাচ্য কোনটি?
  1. একটু বাইরে বেড়িয়ে আসেছি।
  2. একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
  3. একটু বাইরে বেড়িয়ে আসুন।
  4. একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা হোক।
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য থেকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তর:
ভাবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।
যেমন:
ভাববাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।
কর্তাবাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

ভাববাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।
কর্তাবাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,১০৩.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) ভবিষ্যদ্বাণি
  2. খ) ভবিষ্যদ্বাণী
  3. গ) ভবিষ্যতবাণী
  4. ঘ) ভবিষ্যৎবানী
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমী অভিধান অনুসারে ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ শুদ্ধ বানান।
ভবিষ্যদ্বাণী - ভবিষ্যতে কী ঘটবে সে সম্বন্ধে উক্তি।
৬,১০৪.
'অন্যায় কাজ করো না।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন ভাব নির্দেশ করে?
  1. নির্দেশক ভাব
  2. অনুজ্ঞা ভাব
  3. সাপেক্ষ ভাব
  4. আকাঙক্ষা ভাব
ব্যাখ্যা

• 'অন্যায় কাজ করো না।' বাক্যটি ক্রিয়ার অনুজ্ঞা ভাব নির্দেশ করে। 

--------------------
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।

- ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।

• নির্দেশক ভাব: সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক: আমরা বই পড়ি। তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়: আপনি কি আসবেন? সে কি গিয়েছিল?

• অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড়।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

• সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।
তার মঙ্গল হোক।

• আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব: আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,১০৫.
বাংলা বাক্যেের শুরুতে বসে-
  1. বিধেয়ের পূরক
  2. বিধেয়ের ক্রিয়া
  3. বিধেয়ের প্রসারক
  4. বাক্যের  উদ্দেশ্য
ব্যাখ্যা

• বাংলা বাক্যে, উদ্দেশ্য বাক্যের শুরুতে বসে বাক্য গঠন করে।

-------------------
• একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে। যথা:
১. উদ্দেশ্য,
২. বিধেয়।

• উদ্দেশ্য: বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
[এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে। অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।]

• বিধেয়: কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে।
বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
[এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,১০৬.
বাঁশি বাজে। কোন কারক?
  1. ক) কর্তৃ
  2. খ) করণ
  3. গ) সম্প্রদান
  4. ঘ) কর্ম
ব্যাখ্যা
এটি কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা। অর্থাৎ কর্মই কর্তার মতো কাজ করছে।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৬,১০৭.
‘পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পরিবেশ এত অপরিস্কার।’ বাক্যটির নিম্নরেখ পদে ষ/স ব্যবহারে-
  1. ক) প্রথমটি অশুদ্ধ, দ্বিতীয়টি শুদ্ধ
  2. খ) দুটোই অশুদ্ধ
  3. গ) দুটোই শুদ্ধ
  4. ঘ) প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
ব্যাখ্যা

এখানে সমস্যা হচ্ছে যুক্তবর্ণে ‘স্ক’ হবে নাকি ‘ষ্ক’ হবে। আর এটি মূলত বিসর্গ সন্ধির নিয়মে হয়েছে।
বিসর্গ সন্ধির নিয়ম :
কোন শব্দে অ/আ স্বরধ্বনির পরে ঃ থাকলে এবং তারপর ক, খ, প, ফ থাকলে ঃ এর স্থানে স হয়। যেমন:
পুরঃ + কার = পুরস্কার
তিরঃ + কার = তিরস্কার
নমঃ + কার = নমস্কার
মনঃ + কামনা = মনস্কামনা
কোন শব্দে অ/আ স্বরধ্বনি ছাড়া অন্য কোন স্বরধ্বনির পরে ঃ থাকলে এবং তারপর ক, খ, প, ফ থাকলে ঃ এর স্থানে ষ হয়। যেমন:
আবিঃ + কার = আবিষ্কার
বহিঃ + কার = বহিষ্কার
নিঃ + পাপ = নিষ্পাপ
চতুঃ + কোণ = চতুষ্কোণ
চতুঃ + পদ = চতুষ্পদ
তথ্যসূত্র: প্রমিত বাংলা বানান-ড. মোহাম্মদ আমীন

৬,১০৮.
নিচের যে গুচ্ছে ভাষার অপপ্রয়ােগের কোনাে দৃষ্টান্ত নেই –
  1. ক) জন্মবার্ষিক, কেবল, স্বােপার্জিত
  2. খ) সর্বজনীন, অত্রস্থান, কর্তৃপক্ষ
  3. গ) সবিনয়ে, একত্র, সাম্প্রতিক
  4. ঘ) পরিবারবর্গ, স্বনামধন্য, ঐক্যবদ্ধ
ব্যাখ্যা

অপশন (গ) তে অপপ্রয়ােগের কোনাে দৃষ্টান্ত নেই।
অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধরূপঃ
জন্মবার্ষিকী, স্বোপর্জিত, অত্র/ এ স্থানে, সপরিবারে।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৬,১০৯.
বাক্যে প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. সশঙ্কিত
  2. চাপল্যতা
  3. সলজ্জ
  4. সমূল
ব্যাখ্যা

চাপল্যতা - অশুদ্ধ। এর শুদ্ধরূপ = চাপল্য, চপলতা।

- সশঙ্কিত (শঙ্কাযুক্ত/ভীত) শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
- সলজ্জ ও সমূল - শব্দগুলোও শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,১১০.
‘All feet thread not in one shoe' প্রবাদটির বাংলা অনুবাদ কোনটি?
  1. তিলকে তাল করা।
  2. দশের লাঠি একের বোঝা।
  3. নানা মুনির নানা মত।
  4. দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো।
ব্যাখ্যা
• ‘All feet thread not in one shoe' প্রবাদটির বাংলা অনুবাদ - নানা মুনির নানা মত।

অন্যদিকে,
• ‘To make a mountain of a molehill' প্রবাদটির বাংলা অনুবাদ - তিলকে তাল করা।
• ‘Many a little makes a mickle' প্রবাদটির বাংলা অনুবাদ - দশের লাঠি একের বোঝা।
• ‘Better an empty house than an ill tenant' প্রবাদটির বাংলা অনুবাদ - দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১১১.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. বেণু
  2. শোণিত
  3. মণি
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• তৎসম শব্দের বানানে ণ-ত্ব বিধানের শুদ্ধতা রক্ষা করতে হবে।
যেমন:
- মাণিক্য, গণ, লবণ, বেণু, কঙ্কণ, কল্যাণ, শোণিত, মণি ইত্যাদি।

• অতৎসম বানানে ণ হবে না। তার বদলে হবে ন। 
যেমন:
অঘ্রান, কান, গুনতি, ঝরনা, ইরান, কুরান ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি অভিধান।

৬,১১২.
'পারভেজ পাথরের ঘায়ে আহত হলো।' এখানে 'ঘায়ে' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটে।

তেমনিভাবে,
- পারভেজ পাথরের ঘায়ে আহত হলো। 
[প্রদত্ত বাক্যটিকে 'কী দ্বারা আহত হলো?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ঘায়ে বা আঘাতে'। সুতরাং এখানে ঘায়ে করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]
  
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১১৩.
'সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷' - এটা কোন ধরনের বাক্য?
  1. মিশ্র
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. সরল
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- তিনি আমাকে দশটি টাকা দিলেন, এবং বাড়ি যেতে বললেন।
- তার বয়স বেড়েছে, কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে, বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি, এতে দোষের কিছু নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,১১৪.
মৃত জনে দেহ প্রাণ’ নিম্নরেখ পদটি কোন কারেক কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্ম, দ্বিতীয়া
  2. খ) কর্ম সপ্তমী
  3. গ) সম্প্রদান চতুর্থ
  4. ঘ) সম্প্রদানে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• 'মৃত জনে দেহ প্রাণ' বাক্যে 'মৃত জনে' সম্প্রদানে সপ্তমী বিভক্তি।

• সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত ত্যাগ করে কিছুদেওয়া হয় তাকে সম্প্রদান কারক বলে ।
- কাকে দান করা হলো ? প্রশ্নের উত্তরে যা পাওয়া যায় সেটিই সম্প্রদান কারক ।
- সম্প্রদান কারকের নিয়ম অন্যান্য নিয়মের মতোই সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকেই এসেছে ।

• সম্প্রদান কারকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিভক্তির প্রয়োগ :
- ভিক্ষা দাও আসিলে ভিক্ষুক । (কাকে ভিক্ষা দাও? ভিক্ষুক) : এখানে ভিক্ষুক সম্প্রদান কারকে শূন্য বিভক্তি।
- অসহায়কে খাদ্য দাও । (কাকে দান করা হলো? অসহায়কে) : সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি।
- অন্ধজনে দেহ আলো । (কাকে দান করা হলো? অন্ধজনে) : সম্প্রদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- সমিতিতে চাঁদা দাও । (কাকে দান করা হলো? সমিতিতে) : সম্প্রদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন ।
৬,১১৫.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) প্ৰনয়িনী
  2. খ) প্রণয়িনি
  3. গ) প্রণয়িনী
  4. ঘ) প্রনয়ীনী
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
প্রণয়িনী বানানটি শুদ্ধ।
- এটি প্রণয়ী এর স্ত্রী রূপ।
প্রণয়ী (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।

অর্থ:
- প্রেমের পাত্র,
- অনুরক্ত ব্যক্তি,
- প্রণয়াসম্পদ (বিশেষণ)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১১৬.
অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।
  2. শুধু টাকার জোরে সব কিছু হয় না। 
  3. আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
  4. দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ: দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
• শুদ্ধ: দুর্বলতাবশত তিনি আসতে পারেননি।

শুদ্ধ বাক্যগুলো হলো-
• আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
• শুধু টাকার জোরে সব কিছু হয় না।
• এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,১১৭.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. স্পন্দন
  2. উক্তি
  3. ক্রটি
  4. ত্রাণ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: ক্রটি।

• শুদ্ধ বানান - ত্রুটি,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = (√ত্রুট্ + ই),
অর্থ: অপরাধ, দোষ, অভাব, ঘাটতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১১৮.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছের সবগুলো বানান শুদ্ধ?
  1. ক) অঘ্রান, অঘ্রাণ, অগ্রহায়ণ
  2. খ) রুপালি, রানি, আজি
  3. গ) বাড়ি, গাড়ি, শাড়ী
  4. ঘ) পত্নী, পেত্নী, যুবতি
ব্যাখ্যা
অপশন ক) -তে প্রদত্ত সবগুলো শব্দই শুদ্ধ বানানে লিখিত।

অপশন খ) - এর আজি, অপশন গ) -এর শাড়ী ও অপশন ঘ) - এর পেত্নী বানানগুলো অশুদ্ধ।
ভুল বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো: আজই, শাড়ি, পেতনি।

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক অভিধান।
৬,১১৯.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
  2. ইহার আবশ্যকতা নাই।
  3. তার সৌন্দর্যতায় সকলে মুগ্ধ।
  4. অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বাক্য: তার সৌন্দর্যতায় সকলে মুগ্ধ।
• শুদ্ধ বাক্য: তার সৌন্দর্যে সকলে মুগ্ধ।

⇒ ‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন: কৃপণ বিশেষণ শব্দের সাথে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কৃপণতা হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,১২০.
'ওখানে কেন গেলে?'- এর ভাববাচ্য রূপ কোনটি?
  1. কেন ওখানে যাওয়া হয়েছিল?
  2. ওখানে যাওয়া কেন হয়েছিল?
  3. কেন কেউ ওখানে গিয়েছিল?
  4. ওখানে কেন যাওয়া হলো?
ব্যাখ্যা
কর্তাবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তর করার নিয়ম:
- কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে একটি ক্রিয়াবিশেষ্যকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় আসতে হয়।

যেমন:
কর্তাবাচ্য: তুমি কখন এলে?
ভাববাচ্য: কখন আসা হলো?

কর্তাবাচ্য: ওখানে কেন গেলে?
ভাববাচ্য: ওখানে কেন যাওয়া হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,১২১.
কোনটি সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি?
  1. বাগেশ্বরী
  2. বিপদুদ্ধার
  3. অদ্যাবধি
  4. পৃথগন্ন
ব্যাখ্যা

• সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি - বাগেশ্বরী
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - বাগীশ্বরী। এর সন্ধিবিচ্ছেদ - বাক্ + ঈশ্বরী।

অন্যদিকে,
- পৃথগন্ন,
- অদ্যাবধি,
- বিপদুদ্ধার।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

৬,১২২.
‘শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে’। - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন্ কারকে কোন্ বিভক্তি?
  1. অধিকরণে সপ্তমী
  2. কর্মে সপ্তমী
  3. অপাদানে পঞ্চমী
  4. অধিকরণে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘–এ’, ‘–য়’, ‘-য়ে’, ‘-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে (অধিকরণে সপ্তমী)। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২) বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১২৩.
করণ কারকে অনুসর্গ ব্যবহারের পূর্বে মূল সর্বনাম শব্দের সঙ্গে কোন বিভক্তি যোগ করে নিতে হয়?
  1. র 
  2. এর 
  3. কে 
  4. উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
 যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• করণ কারকে অনুসর্গ ব্যবহারের পূর্বে মূল সর্বনাম শব্দের সঙ্গে — "র; এর; কে" বিভক্তি যোগ করে নিতে হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে - 
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,১২৪.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. ক) সকালে পান্তা ভাত খাওয়া যেতে পারে
  2. খ) তুমি নির্দোষ নও
  3. গ) একটা গোপনীয় কথা বলি
  4. ঘ) তিনি সত্য সাক্ষ্য দিলেন
ব্যাখ্যা
'সকালে পান্তা ভাত খাওয়া যেতে পারে' বাক্যটি ভুল। এখানে পান্তা শব্দের সাথে ভাত শব্দটি বাহুল্য। এর শুদ্ধরূপ হবে- সকালে পান্তা খাওয়া যেতে পারে।
(সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৬,১২৫.
জটিল বাক্য কোনটি বসে?
  1. বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত বাক্য
  2. বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত বাক্য
  3. ক্রিয়াবিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত বাক্য
  4. উপরেরর সবগুলো
ব্যাখ্যা
• জটিল বা মিশ্র বাক্য (complex sentence):
- যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন: যিনি পরের উপকার করেন (আশ্রিত বাক্য), তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে (খণ্ডবাক্য)।

• জটিল বাক্যে- ক. বিশেষ্য স্থানীয়, খ. বিশেষণ স্থানীয়, গ. ক্রিয়াবিশেষণ ও বিশেষণীয় বিশেষণস্থানীয় আশ্রিত বাক্য বসে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,১২৬.
কোনটি প্রথমা বিভক্তির বহুবচন?
  1. এর
  2. এরা
  3. দিগকে
  4. দিগের
ব্যাখ্যা
• প্রথমা বিভক্তির বহুবচন - এরা

বাংলা শব্দ-বিভক্তি:
- শূন্য (০) বিভক্তি (অথবা অ-বিভক্তি), এ, (য়), তে (এ), কে, রে,) র, (এরা) এ কয়টিই খাঁটি বাংলা শব্দ বিভক্তি।
- এ ছাড়া বিভক্তি স্থানীয় কয়েকটি অব্যয় শব্দও কারক-সম্বন্ধ নির্ণয়ের জন্য বাংলায় প্রচলিত রয়েছে।
যেমন - দ্বারা, দিয়ে, হতে, থেকে ইত্যাদি।

- বাংলা শব্দ-বিভক্তি সাত প্রকার: প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী এবং সপ্তমী।
- একবচন এবং বহুবচন ভেদে বিভক্তিগুলোর আকৃতিগত পার্থক্য দেখা যায়।

বিভক্তির আকৃতি:
একবচন:
- প্রথমা: ০, অ, এ, (য়), তে, এতে।
- দ্বিতীয়া: ০, অ, কে, রে (এরে), এ, য়, তে।

বহুবচন:
- প্রথমা: রা, এরা, গুলি (গুলো), গণ।
- দ্বিতীয়া: দিগে, দিগকে, দিগেরে, *দের।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১২৭.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) সমুদয় পক্ষীই নীড় বাঁধে।
  2. খ) সভায় অনেক ছাত্র এসেছে।
  3. গ) দর্শকমণ্ডলীকে স্বাগত জানাই।
  4. ঘ) অন্যান্য সকল বিষয়গুলোর আলোচনা হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত প্রশ্নানুসারে 'অন্যান্য সকল বিষয়গুলোর আলোচনা হয়েছে' বাক্যটি অশুদ্ধ। 
- বাক্যটির শুদ্ধরূপ হচ্ছে অন্যান্য বিষয়ের আলোচনা হয়েছে
- অপশনের অন্য বাক্যগুলো শুদ্ধ।

• অন্যান্য অপশনের শুদ্ধরূপ:
- সভায় অনেক ছাত্র এসেছে।
- দর্শকমণ্ডলীকে স্বাগত জানাই।
- সমুদয় পক্ষীই নীড় বাঁধে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,১২৮.
বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকার উপর ভিত্তি করে বাক্য কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৬ প্রকার
ব্যাখ্যা
• বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যথা - 
- সক্রিয় বাক্য। 
- অক্রিয় বাক্য। 

• সক্রিয় বাক্য:
- যে বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন - আমার মা চাকরি করেন।

• অক্রিয় বাক্য:
- যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে।
- যেমন - তিনি বাংলাদশের নাগরিক। 
• তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়োগে এগুলো সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন -
'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন' বা 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৬,১২৯.
পরোক্ষ প্রশ্নের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নের বদলে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. কোলন ড্যাশ
  2. দাঁড়ি
  3. ড্যাশ
  4. সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

দাঁড়ি বা পূর্ণছেদ:
- বাংলা ভাষায় দাঁড়ি একটি বহুল ব্যবহৃত যতিচিহ্ন। বাক্যের মধ্যে বক্তব্য সমাপ্ত হলে অথবা অর্থ সম্পূর্ণ হলে দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ বসে।

এর প্রয়োগ ক্ষেত্র হচ্ছে:
- অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- কাল একবার এসো।
- নির্দেশাত্মক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- সব সময় সত্য কথা বলবে।
- পরোক্ষ প্রশ্নের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নের বদলে দাড়ি ব্যবহার হয়। যেমন: সীমা জানতে চাইল রীমা কবে আসবে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,১৩০.
সময় বোঝাতে জটিল বাক্যের যোজকের কোন জোড় ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) যে-সে
  2. খ) যত-তত
  3. গ) যেটুকু-সেটুকু
  4. ঘ) যখন-তখন
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য: যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন,
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।



উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,১৩১.
শুদ্ধ রূপটি দেখান-
  1. ক) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
  2. খ) সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
  3. গ) সাহিত্য ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
  4. ঘ) সাহিত্য এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
ব্যাখ্যা

"সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান" বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ।
প্রশ্নের অন্যান্য বাক্যগুলো ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ।

৬,১৩২.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া
  2. অন্ত্যেষ্টিক্রীয়া
  3. অন্ত্যষ্টিক্রিয়া
  4. অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: অন্ত্যেষ্টি + ক্রিয়া।
 অর্থ:
- মৃতের সৎকার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১৩৩.
"যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।" কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খন্ডিত বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
- যেমন: যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।

অন্যদিকে,
• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
- যথা: পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- এখানে 'পদ্মফুল' উদ্দেশ্য এবং 'জন্মে' বিধেয়।

• যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
- যেমন- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১৩৪.
"যা কিছু হারায় গিন্নি বলে কেষ্টা বেটাই চোর।" এখানে 'হারায়' কোন ধাতুর প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) নাম ধাতু
  2. খ) ণিজন্ত ধাতু
  3. গ) কর্মবাচ্যের ধাতু
  4. ঘ) প্রযােজক ধাতু
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্যের ধাতু:
মৌলিক ধাতুর সঙ্গে আ প্রত্যয় যােগ করে কর্মবাচ্যের ধাতু গঠিত হয়।
- এটি বাক্যে ব্যবহারের সময় বাক্যের ক্রিয়াপদকে অনুসরণ করে ব্যবহৃত হয়।
যেমন
- দেখ + আ = দেখা, বাক্যে প্রয়ােগ- কাজটি ভালাে দেখায় না।
- হার + আ = হারা, বাক্যে প্রয়ােগ- যা কিছু হারায় গিন্নি বলে কেষ্টা বেটাই চোর।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৩৫.
বানানের নিয়ম অনুসারে কোনটি শুদ্ধ?
  1. সং
  2. ভাঙ্গা  
  3. গাঙ
  4. রঙ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান: সং।
- এটি বাংলা শব্দ। 

-----------------
• বানানের নিয়ম:
- শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার ( ং) ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং

- তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ঙ হবে।
যেমন :
বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের।

- ব্যতিক্রম: বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,১৩৬.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. আশংকা
  2. আসংকা
  3. আশঙ্কা
  4. আসঙ্কা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'আশঙ্কা'
- সংস্কৃত শব্দ। 
- বিশেষ্য পদ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: আ + √শঙ্ক্‌ + অ + আ। 
অর্থ: 
- সংশয়,
- সন্দেহ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১৩৭.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. সন্ধিহান
  2. সন্ন্যাসী
  3. সম্বল
  4. সূচিপত্র
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - 'সন্ধিহান'
- এর শুদ্ধ বানান - 'সন্দিহান'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
এর অর্থ:
- সন্দেহযুক্ত,
- সংশয়িত।

অন্যদিকে,
- সূচিপত্র, সম্বল এবং সন্ন্যাসী - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১৩৮.
বিশেষণীয় বিশেষণের প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) সে খুব তাড়াতাড়ি হাটল
  2. খ) অতিশয় মন্দ কথা।
  3. গ) বাতাস ধীরে বইছে।
  4. ঘ) ধিক্ তারে, শত ধিক নির্লজ্জ যে জন।
ব্যাখ্যা
ভাব বিশেষণ: যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তা-ই ভাব বিশেষণ।
ভাব বিশেষণ চার প্রকার। যথা-

১. ক্রিয়ার বিশেষণ: যে পদ ক্রিয়া সংগঠনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাই ক্রিয়া বিশেষণ।
যথা- বাতাস ধীরে বইছে। সে খুব তাড়াতাড়ি হাটল। পরে একবার এসাে।

২. বিশেষণীয় বিশেষণ: যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন- সামান্য একটু দুধ দাও। অতিশয় মন্দ কথা। রকেট অতি দ্রুত চলে।

৩. অব্যয়ের বিশেষণ: যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যেমন- ধিক্ তারে, শত ধিক নির্লজ্জ যে জন।

৪. বাক্যর বিশেষণ: কখনাে কখনাে কোনাে বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করতে পারে, তখন তাকে বাক্যে বিশেষণ বলা হয়। যেমন- দুর্ভাগ্যক্রমে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়ােজন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,১৩৯.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নীরিহ
  2. নীরীহ
  3. নিরিহ 
  4. নিরীহ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- নিরীহ। 
- এটি বিশেষণ পদ। 
- শব্দটি ক্তি সংস্কৃত শব্দ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,১৪০.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ নয়?
  1. ক) তিনি সপরিবার ঢাকায় থাকেন।
  2. খ) তিনি মোকাদ্দমায় সাক্ষী দেবেন।
  3. গ) বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধশালী দেশ।
  4. ঘ) ইহার আবশ্যক নাই।
ব্যাখ্যা

- 'তিনি সপরিবার ঢাকায় থাকেন।'- বাক্যটি শুদ্ধরূপে লিখিত।
- 'তিনি মোকাদ্দমায় সাক্ষী দেবেন।'- এর শুদ্ধরূপ, তিনি মোকাদ্দমায় সাক্ষ্য দেবেন।
- 'বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধশালী দেশ।'- এর শুদ্ধরূপ, বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধিশালী/সমৃদ্ধ দেশ।
- 'ইহার আব্যশক নেই।'- এর শুদ্ধরূপ, ইহার আব্যশকতা নাই।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,১৪১.
‘আমাদের একটি গল্প বলুন।’ বাক্যে 'আমাদের' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে শূন্য
  2. কর্মে ষষ্ঠী
  3. কর্মে ২য়া
  4. অপাদানে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
যেমন: 
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো। 
- আমাদের একটি গল্প বলুন। (কর্মে ষষ্ঠী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৬,১৪২.
জল পড়ে, পাতা নড়ে – নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তায় শূন্য
  2. খ) অপাদানে শূন্য
  3. গ) কর্মে শূন্য
  4. ঘ) করণে শূন্য
ব্যাখ্যা
• কর্তা কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তা কারক।
যেমন:
- টুম্পা বই পড়ে। কে পড়ে?-টুম্পা; 'টুম্পা' কর্তৃকারক।
- মীরা গান গায়।
- মিতা নাচে। (কাজটি যে করে, সেই কর্তৃকারক।)

- অপরের অধীন না হয়ে নিজে ক্রিয়া সম্পাদন করলে তাকে কর্তা বলে। কর্তৃকার নির্ণয়ের জন্যে প্রশ্ন হচ্ছে 'কে'?
যেমন-শিক্ষক পড়াচ্ছেন। কে পড়াচ্ছেন? শিক্ষক। এখানে 'শিক্ষক' কর্তৃকারক।

কর্তা কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

প্রথম বা শূন্য বিভক্তি: 
- বৃষ্টি পড়ে।
- সাপুড়ে সাপ খেলায়।
- রাজা প্রজা পালন করে ইত্যাদি।

• দ্বিতীয়া বিভক্তি:
- আমাকে যেতে হবে।
- তোমাকে বাড়ি যেতে হবে ইত্যাদি।

• তৃতীয় বিভক্তি: তাকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
• পঞ্চমী বিভক্তি: আমা হতে এ কাজ হবে না সাধন।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: তোমার যাওয়া উচিত।

• সপ্তমী বিভক্তি:
- পাগলে কিনা বলে।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে ইত্যাদি।

• প্রশ্নে প্রদত্ত ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ বাক্যে ‘জল’ কর্তা কারক। কারণ এখানে ‘জল’ পড়ার ক্রিয়া নিজেই সম্পাদন করছেন। সুতরাং জল কর্তা কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,১৪৩.
কোনটি ত্রিবিন্দু চিহ্ন?
  1. ...
  2. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ত্রিবিন্দু চিহ্ন: ( ... ) 

বিরাম চিহ্ন:

- লেখার সময়ও বাক্যের মধ্যে বিরতি বুঝিয়ে তা দেখানোর জন্য কিছু সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, যেগুলোকেই বিরতি চিহ্ন, যতি চিহ্ন, ছেদ চিহ্ন, বিরাম চিহ্ন বা ভাষা চিহ্ন বলে।

• ত্রিবিন্দু (...): 
- কোনাে অংশ বাদ দিতে চাইলে ত্রিবিন্দুর ব্যবহার হয়।
- যেমন -
- তিনি রেগে গিয়ে বললেন, “তার মানে তুমি একটা ...।”
- আমাদের ঐক্য বাইরের। ... এ ঐক্য জড় অকর্মক, সজীব সকর্মক নয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,১৪৪.
প্রমিত বানানরূপ-
  1. ক) গলাধঃকরণ
  2. খ) গলধকরণ
  3. গ) গলধঃকরণ
  4. ঘ) গলাধকরণ
ব্যাখ্যা
- অপশনে প্রদত্ত শব্দের মধ্য প্রমিত বানান হলো: গলাধঃকরণ

গলাধঃকরণ
উচ্চারণ – [গলাধোক্‌করোন্‌] (বিশেষ্য)
• {(তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ) গল+অধঃ+ √কৃ+অন(ল্যুট্‌)} 

শব্দের অর্থ 

১ গিলে ফেলা; গেলা। 
২ ভক্ষণ; গ্রাস (প্রত্যেক কদর্য এবং প্রত্যেক কালকূটকে গলাধঃকরণ করিয়া ফেলিল -মাওলানা মুহাম্মদ আকরম খাঁ)। 
৩ পান। 
৪ পরিপাক; হজম। 

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
৬,১৪৫.
'শিমুলকে যেতে হবে।' - বাক্যে 'শিমুলকে' কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্তৃকারক বলে। ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। তবে কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: শিহাব বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: শিমুলকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বিভক্তি: নজরুল কর্তৃক অগ্নিবীণা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: আমার খাওয়া হয় নি।
সপ্তমী বিভক্তি: ছাগলে কী না খায়।

উত্তর: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৬,১৪৬.
'নিরপরাধী' - শব্দে কোন কারণে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সমাস ঘটিত
  2. সন্ধি বিষয়ক
  3. বাহুল্যজনিত
  4. 'তা' প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা

• 'নিরপরাধী' - শব্দে সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ হয়েছে।
- শব্দটির শুদ্ধ প্রয়োগ - নিরপরাধ।

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,১৪৭.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) বর্ণালি
  2. খ) রুপালি
  3. গ) কার্য্য
  4. ঘ) পিশাচী
ব্যাখ্যা
• বিশেষণবাচক 'আলি' প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার হবে।
যেমন- বর্ণালি, রুপালি, সোনালি। 

• রেফ এর পর কোথাও (তৎসম, অতৎসম সকল শব্দে) ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন- কার্য, কর্ম, পূর্ব। 

• কয়েকটি স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে ঈ- কার হবে।  
যেমন- কিংকরী, পিশাচী, হরিণী। 

• উপরের আলোচনা অনুসারে, কার্য্য এর শুদ্ধ বানান হবে- 'কার্য'। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন। 
৬,১৪৮.
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কী ধরনের শব্দের পরিবর্তন হয়?
  1. কালবাচক
  2. স্থানবাচক
  3. ক এবং খ উভয়ই 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
→ পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।
- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

যেমন -
→ রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
→ কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
→ পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,১৪৯.
'এবার বাঁশিটি বাজানাে হােক।' - বাক্যটি কর্তাবাচ্যে কী হবে?
  1. এবার বাঁশিটি বাজাও।
  2. বাঁশিটি বাজাও তোমারা।
  3. তোমরা বাঁশিটি বাজাও।
  4. বাঁশিটি বাজানাে হােক।
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য থেকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তর:
- ভাবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।

যেমন:
ভাববাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।
কর্তাবাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

ভাববাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজানাে হােক।
কর্তাবাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬,১৫০.
বাক্যের তিনটি গুণ কী কী?
  1. আকাঙ্ক্ষা, আসক্তি ও বিধেয়
  2. আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা
  3. যোগ্যতা, উদ্দেশ্য ও বিধেয়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• একটি আদর্শ বাক্যের জন্যে ৩টি গুণ থাকা থাকা জরুরি।

• আকাঙ্ক্ষা: 
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ: কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
- উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।
- বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

• আসত্তি: 
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি। 
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়।
- পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদ্গুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

• যোগ্যতা: 
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
উদাহরণ: বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।
- বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না।
- তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- ‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৬,১৫১.
উৎপত্তির বিচারে অক্ষরবৃত্ত ছন্দ-
  1. খাঁটি বাংলা ছন্দ
  2. দেশি ছন্দ
  3. তৎসম ছন্দ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।

অক্ষরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য-
১. অক্ষরবৃত্ত ছন্দের মূল পর্ব দুটি- আট ও ছয় মাত্রার। 
২. এ-ছন্দে শব্দের আদি ও মধ্যের যুগ্মধ্বনি ঠাসা বা সংশ্লিষ্ট উচ্চারণে এক মাত্রার এবং শেষের যুগ্মধ্বনি বিশ্লিষ্ট উচ্চারণে দুই মাত্রার।
৩. এ-ছন্দে সাধুভাষা বা সাধু ক্রিয়াপদেরই ব্যবহার বেশি।
8. এ-ছন্দে লয় ধীর বা মধ্যম।
৫. এ-ছন্দের চরণস্থ পর্বসমূহে অক্ষর ধ্বনিকে আচ্ছন্ন করে একটা অতিরিক্ত সুরের তান বা তরঙ্গ নিয়ত প্রবহমান।
৬. এ-ছন্দ যেহেতু অক্ষর-সর্বষ; তাই, এর অক্ষর গুনে মাত্রা ঠিক করলেই চলে।
৭. এ-ছন্দে আদি ও মধ্যের যুগ্মধ্বনি বা বদ্ধাক্ষর চার জায়গায় (কথ্য-ক্রিয়াপদে, নির্দেশক প্রত্যয়যুক্ত শব্দে, সমাসবদ্ধ পদে, তৎসম ও তদ্ভব শব্দে) দ্বিমাত্রিক।
৮. এ-ছন্দে তানের প্রবাহে এর অন্তর্গত যুক্ত-ব্যঞ্জনের মাত্রা সংকুচিত হয়ে এক মাত্রার হয়।
৯. এ-ছন্দের ভাব ও ভাষা গভীর, গম্ভীর, বিপুল এবং বিশাল।
১০. এ-ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর অসাধারণ শোষণশক্তি যার ফলে যুক্তাক্ষরবিহীন পর্বকে যুক্তাক্ষরবহুল করলেও এর মাত্রা-সংখ্যার কোনো তারতম্য হয় না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।
৬,১৫২.
জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ডবাক্যের পরে কী বসবে?
  1. সেমিকোলন (;)
  2. কোলন (:)
  3. কমা (,)
  4. কোলন ড্যাস (:-)
ব্যাখ্যা

কমা (,)
- বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।
- পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে। যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।
- সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
- জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসবে। যেমন- কাল যে লোকটি এসেছিল, সে আমার পূর্বপরিচিত।
- উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে। যেমন- সাহেব বললেন, "ছুটি পাবেন না।”
- মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পর 'কমা' বসবে। যেমন- ১৬ই পৌষ, বুধবার, ১৩৯৯ সন।
- বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসবে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।
- নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় সংযোজিত হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির পরে কমা বসবে। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচ.ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,১৫৩.
টাকায় কি সব হয়? - এ বাক্যের নেতিবাচক রূপ কোনটি?
  1. ক) টাকায় সব হয় না।
  2. খ) টাকায় কি না হয়।
  3. গ) টাকায় সব হয়।
  4. ঘ) টাকায় সবই হয়।
ব্যাখ্যা
প্রশ্নবোধক বাক্য থেকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে -
বাক্যের মূল অর্থ ঠিক রেখে প্রশ্নবাচক বাক্যে কি তুলে দিতে হবে। 
না, নাই, নি, জানি না, বুঝি না ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।
প্রশ্ববোধক যতিচিহ্ন বাদ দিয়ে দাঁড়ি দিতে হবে।

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
৬,১৫৪.
শুদ্ধ বানানের শব্দ কোনটি?
  1. ক) সত্বা
  2. খ) মন্ত্রিত্ব
  3. গ) কৃতি
  4. ঘ) ব্যক্তিত্ত
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান = মন্ত্রিত্ব 

অন্যান্য শব্দের শুদ্ধ বানান সমূহ- 
• কৃতী (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = কৃত+ইন্‌
অর্থ:
- কার্যে সফলতা লাভ করেছে এমন। 
- কৃতকার্য
- নিপুন 
- কর্মকুশল
- পণ্ডিত 

• সত্তা (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = সৎ+তা
অর্থ: 
- অস্তিত্ব
- স্থিতি
- উৎপত্তি 
- নিত্যতা
- সাধুতা

• ব্যক্তিত্ব (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় =ব্যক্তি+ত্ব
অর্থ: ব্যক্তি বিশেষের বৈশিষ্ট্য 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,১৫৫.
কোনটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. যুবরাজা
  2. বলিষ্ঠতর
  3. সময়কাল
  4. মহিমময়
ব্যাখ্যা
• মহিমময় - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
- 'মহিমময়' শব্দের অর্থ - মহিমাপূর্ণ।

অন্যদিকে,
• 'যুবরাজা', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: যুবরাজ।

• 'সময়কাল', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: সময় / কাল।

• 'বলিষ্ঠতর', উৎকর্ষবাচক '-তর' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: বলিষ্ঠ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১৫৬.
প্রিয়জনে যাহ দিতে চাই তাই দিই দেবতারে। কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করুন-
  1. ক) কর্তায় সপ্তমী
  2. খ) কর্মে সপ্তমী
  3. গ) সম্প্রদানে ষষ্ঠী
  4. ঘ) অপাদানে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বল হয় কর্মকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।
যেমন: সেলিম বই পড়ে। - এ বাক্যের কর্ম হলাে বই। কারণ বইকে আশ্রয় করে কর্তা এখানে কাজ সম্পাদন করেছে।

•  কর্মকারকের বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার।
ক) প্রথমা বা শূন্য অ বিভক্তি : ডাক্তার ডাক।
খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি : তাকে বল।
রে বিভক্তি : ‘আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মাের প্রার্থনা।
গ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি : তােমার দেখা পেলাম না।
ঘ) সপ্তমীর এ বিভক্তি : জিজ্ঞাসিবে জনে জনে। 
------------------------------------------------
“প্রিয়জনে যাহা দিতে চাই তাই দিই দেবতারে'- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
৬,১৫৭.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. স্ফুরন
  2. চতুস্পদ
  3. নির্নিমেষ
  4. কৃপন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধ বানান- 'নির্নিমেষ'।

• শব্দের অর্থ: 
- নিমেষহীন, অপলক।

অন্যান্য অপশনের শুদ্ধ বানান:
• স্ফুরন - স্ফুরণ, 
• চতুস্পদ- চতুষ্পদ,
• কৃপন - কৃপণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১৫৮.
সমাসে বিভক্তির বদলে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
  1. কোলন
  2. ড্যাশ
  3. কমা
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা
• হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন।
- সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
-বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- স্কুল-পালানো ছেলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,১৫৯.
বাক্যে গৌণকর্মের সঙ্গে সাধারণত কোন বিভক্তি বসে?
  1. -য়ে বিভক্তি
  2. -রে বিভক্তি
  3. -য়ের বিভক্তি
  4. -র বিভক্তি
ব্যাখ্যা
বিভক্তি: 
• বাক্যের মধ্যে অন্য শব্দের সাথে সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে অর্থহীন কিছু লগ্নক যুক্ত হয়, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
 • যেমন: এ, -তে, য়, য়ে, কে, রে, -র, এর, -য়ের ইত্যাদি।  

♣ বিভক্তিগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করে দেখানো যায়। 
১. -এ, -তে, য়, -য়ে বিভক্তি; 
• সাধারণত ক্রিয়ার স্থান, কাল, ভাব বোঝাতে এ, -তে, য়, -য়ে ইত্যাদি বিভক্তির ব্যবহার হয়। কখনো কখনো বাক্যের কর্তার সঙ্গেও এসব বিভক্তি বসে। 
• যেসব শব্দের শেষে কারচিহ্ন নেই, সেসব শব্দের সঙ্গে -এ বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন: সকালে, দিনাজপুরে, ইমেইলে, কম্পিউটারে, ছাগলে, তিলে ইত্যাদি। 
• শব্দের শেষে ই-কার ও উ-কার থাকলে তে বিভক্তি হয়। যেমন: হাতিতে, রাত্রিতে, মধুতে,রামুতে ইত্যাদি। 
• আ-কারান্ত শব্দের শেষে -য় বিভক্তি হয়। যেমন – ঘোড়ায়, সন্ধ্যায়, ঢাকায় ইত্যাদি। 
• শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে -য়ে বিভক্তি হয়। যেমন – ছইয়ে, ভাইয়ে, বউয়ে।
•  ই-কারাপ্ত শব্দের শেষেও -য়ে বিভক্তি দেখা যায়। যেমন – ঝিয়ে, ঘিয়ে। 

২. -কে, -রে বিভক্তি; 
• বাক্যে গৌণকর্মের সঙ্গে সাধারণত -কে এবং -রে বিভক্তি বসে।
• ক্রিয়াকে 'কাকে' প্রশ্ন করলে যে শব্দ পাওয়া যায় তার সঙ্গে এই বিভক্তি যুক্ত হয়।
• যেমন: শিশুকে, দরিদ্রকে, আমাকে, আমারে ইত্যাদি। 

৩. -র, -এর, -য়ের বিভক্তি;
• বাক্যের মধ্যে পরবর্তী শব্দের সঙ্গে সম্বন্ধ বোঝাতে পূর্ববর্তী শব্দের সঙ্গে -র, -এর এবং -য়ের বিভক্তি যুক্ত হয়। 
• সাধারণত আ-কারান্ত, ই/ঈ-কারান্ত ও উ/ঊ-কারান্ত শব্দের শেষে -র বিভক্তি বসে। 
• যেমন: রাজার প্রজার, হাতির, বুদ্ধিজীবীর, তনুর, বধূর। 

• যেসব শব্দের শেষে কারচিহ্ন নেই, সেসব শব্দের শেষে -এর বিভক্তি হয়। যেমন – বলের, শব্দের, নজরুলের, সাতাশের ইত্যাদি। 
• শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে -য়ের বিভক্তি হয়। যেমন – ভাইয়ের বইয়ের, লাউয়ের, মৌয়ের ইত্যাদি।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,১৬০.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. স্নেহাস্পদ
  2. স্বত্ব
  3. অদ্ভূত
  4. দধীচি
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে,
'অদ্ভূত'- বানানটি অশুদ্ধ।
শুদ্ধ বানান- অদ্ভুত।

অর্থ- বিস্ময়কর; আশ্চার্যজনক; চমৎকার।

অন্যদিকে,
দধীচি, স্নেহাস্পদ, স্বত্ব - বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,১৬১.
কোনটি সঠিক বানান?
  1. কৃচ্ছ্র্যসাধন
  2. কৃচ্ছসাধন
  3. কৃচ্ছ্বসাধন
  4. কৃচ্ছ্রসাধন
ব্যাখ্যা

• সঠিক বানান - কৃচ্ছ্রসাধন। 
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- কৃচ্ছ্রসাধনা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,১৬২.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. শান্ত্বনা
  2. স্বান্তনা
  3. সান্ত্বনা
  4. সান্তনা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - সান্ত্বনা
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: আশ্বাস বা আশ দিয়ে শান্তকরণ, প্রবোধদান।।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১৬৩.
"জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।"- বাক্যটি কী ধরনের?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য 
  3. খণ্ডবাক্য 
  4. যৌগিক বাক্য 
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
• "জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।" একটি সরল বাক্য।
- এখানে একটি কর্তা(জ্ঞানী লোক) ও একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (শ্রদ্ধা) আছে তাই এটি একটি সরল বাক্য।
- এই বাক্যের জটিল রূপ: 'যিনি জ্ঞানী লোক তিনি সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।'
- এই বাক্যের যৌগিক রূপ: 'তিনি জ্ঞানী লোক,তাই সবার শ্রদ্ধার পাত্র।'

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,১৬৪.
'বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।' উপরের বাক্যটিতে যে ধরনের ভুল প্রয়োগ রয়েছে-
  1. ক) কারক জনিত
  2. খ) পুনরুক্তি জনিত
  3. গ) সন্ধি জনিত
  4. ঘ) বাচ্যজনিত
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও করা ক্রিয়ার রূপ থাকলে বিশেষণ ও হওয়া ক্রিয়ার রূপ হবে৷
উপরে উল্লিখিত বাক্যটির সঠিক রূপ হবে 'বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে'।
অর্থাৎ, বাক্যে বাচ্যজনিত ভুল ছিলো।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,১৬৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নির্বিরোধী
  2. সুলোচনী
  3. আত্মসাত
  4. সশংকিত
  5. মৃগনয়না
ব্যাখ্যা

• মৃগনয়না বানানটি শুদ্ধ।

অর্থ:
- হরিণের চোখের মতো সুন্দর চোখ বিশিষ্ট।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: নির্বিরোধী
- শুদ্ধ: নির্বিরোধ

- অশুদ্ধ: সুলোচনী
- শুদ্ধ: সুলোচন

- অশুদ্ধ:আত্মসাত
- শুদ্ধ: আত্মসাৎ

- অশুদ্ধ: সশংকিত।
- শুদ্ধ: সশঙ্কিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,১৬৬.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয়
  2. সূর্য পূর্বদিকে উদয় হয়
  3. সূর্য পূর্বদিকে উদয়মান হয়
  4. সূর্য পূর্বদিকে উদিয়ামান হয়
ব্যাখ্যা
'সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয়'  বাক্যটি শুদ্ধ।
- বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ ।
- কারণ, এখানে "পূর্বদিকে" শব্দের পরে "উদিত হয়" বলা হয়েছে, যা ক্রিয়া এবং ক্রিয়া বিশেষণের সঠিক ব্যবহার । 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৬,১৬৭.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. শামিয়ানা
  2. ষ্টিমার
  3. শরম
  4. কিশমিশ
ব্যাখ্যা
ষ্টিমার -অশুদ্ধ বানান।
- এর শুদ্ধ বানান হচ্ছে - স্টিমার

• বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে 'ষ' ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
যেমন:
- কিশমিশ, নাশতা, পোশাক, স্টিমার, বেহেস্ত, শখ, শয়তান, শরবত, শরম, শহর, শামিয়ানা, শার্ট, শৌখিন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।
৬,১৬৮.
'আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।' বাক্যে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বাচ্যজনিত ভুল 
  2. বহুবচনের অপপ্রয়োগ
  3. লিঙ্গ-সঙ্গতিজনিত ভুল
  4. বানানের অশুদ্ধি 
ব্যাখ্যা

• বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে এক বার বহুবচনে শেষরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক যদি আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
যেমন:
অশুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল। 

অশুদ্ধ: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ: অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
শুদ্ধ: অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

অশুদ্ধ: অনেক ছাত্রছাত্রীরা ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।
শুদ্ধ: অনেক ছাত্রছাত্রী ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।

অশুদ্ধ: অশুদ্ধ: আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
শুদ্ধ: আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.  হায়াৎ মামুদ।

৬,১৬৯.
বাংলা বানান রীতি অনুযায়ী একই শব্দের দুটি বানানই শুদ্ধ কোনটি?
  1. কলস/কলশ
  2. দিঘি/দীঘি
  3. সূচি/সূচী
  4. সব কটি
ব্যাখ্যা

অভিগম্য অভিধান অনুসারে সব কটি বানানই সঠিক।

• কলস, কলসি, কলসী, কলশ, কলশী (বিশেষ্য),
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: ঘড়া; গাগরি; জলপাত্র বিশেষ। 

• দিঘি, দীঘি, দিঘী (বিশেষ্য),
- তৎসম বা সংস্কৃত।
অর্থ: বড় পুকুর বা জলাশয় (দীঘির জলে ঝলক ঝলে-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)। 

• সূচি, সূচী।
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ,
অর্থ:
১.
- (বিশেষ্য) সুচ (সূচিকর্ম)। 
- (বিশেষণ) তীক্ষ্ন অগ্রভাগযুক্ত (সূচিমুখ)। 
২.
- জ্ঞাপনী, নির্ঘন্ট, পুস্তকের বিষয় নির্দেশক পৃষ্ঠাঙ্কযুক্ত তালিকা; অনুক্রমণিকা।


উৎস: অভিগম্য অভিধান ও English-Bangla Dictionary.

৬,১৭০.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে অর্থানুসারে বাক্য কত প্রকার?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৫
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ৮
ব্যাখ্যা
সাত ভাগে ভাগ করা যায়। 
১. বিবৃতিমূলক বা বর্ণনাত্মক বা নির্দেশাত্মক বাক্য 
২. প্রশ্নবোধক বা প্রশ্নাত্মক বাক্য
৩. অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য
৪. ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য
৫. কার্যকারণাত্মক বাক্য
৬. সংশয়সূচক বা সন্দেহদ্যোতক বাক্য
৭. বিস্ময় বা আবেগসূচক বাক্য 

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
৬,১৭১.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ? 
  1. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  2. আমি সন্তুষ্ট হলাম।
  3. অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
  4. অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোন বাক্যটি শুদ্ধ?

সমাধান:
আমি সন্তুষ্ট হলাম - বাক্যটি শুদ্ধ।

• অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
- শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

• অশুদ্ধ বাক্য: অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
- শুদ্ধ বাক্য: অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।

• অশুদ্ধ বাক্য: অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
- শুদ্ধ বাক্য: অন্নাভাবে প্রতি ঘরে হাহাকার।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,১৭২.
‘তারা তোমাদের ভোলেনি’ - এটি কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. আবেগবাচক বাক্য
  2. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  3. প্রশ্নবাচক বাক্য
  4. বিবৃতিবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
বিবৃতিবাচক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন,
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

অন্যদিকে,
প্রশ্নবাচক বাক্য:
- বক্তা কারো কাছে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন,
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন,
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।

আবেগবাচক বাক্য:
- কোনো কিছু দেখে বা শুনে আবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন,
- দারুণ ! আমরা জিতে গেছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি !

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,১৭৩.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগের দোষে দুষ্ট নয়?
  1. অধীনস্ত
  2. শবদাহ
  3. আয়ত্তাধীন
  4. উৎকর্ষতা
ব্যাখ্যা
• অপপ্রয়োগ-দোষে দুষ্ট নয় হচ্ছে - শবদাহ।

• 'শবদাহ' শব্দ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনাে কখনাে গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
- 'গরুর গাড়ি', 'শবদাহ', 'মড়াপােড়া' প্রভৃতির স্থলে যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ প্রভৃতির প্রয়ােগ গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- সুতরাং গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত শব্দ শবদাহ।

অন্যদিকে, 
- 'অধীনস্থ' এর শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - অধীন। 
- 'আয়ত্তাধীন' এর শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - আয়ত্ত / অধীন।
- ‘উৎকর্ষতা’ এর শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - উৎকর্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৬,১৭৪.
নিচের কোন বাক্যে যৌগিক ক্রিয়া রয়েছে?
  1. ক) এখন যেতে পার
  2. খ) তাজমহল দর্শন করলাম
  3. গ) তুলি ফুল তোলে
  4. ঘ) মাথাটা ঝিমঝিম করছে।
ব্যাখ্যা
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও আরেকটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলে যদি একটি ক্রিয়া গঠিত হয় তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন : সাইরেন বেজে উঠল।
এখানে বেজে অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে উঠল সমাপিকা ক্রিয়া মিলে একটি ক্রিয়া গঠিত হয়েছে।


উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (২০১৯)
৬,১৭৫.
'কাল বিতরনী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত'- বাক্যটিতে কিসের অভাব?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) সম্প্রসারন
ব্যাখ্যা

বাক্যের অর্থসংগতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদ বিন্যাসই হল আসত্তি।

'কাল বিতরনী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত'- বাক্যটিতে পদ সন্নিবেস ঠিকভাবে না হওয়াতে ভাবটি প্রকাশ পায়নি। তাই এটি বাক্য হয়নি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

৬,১৭৬.
নিচের কোনটি শুদ্ধ প্রয়োগ?
  1. ক) শ্রেষ্ঠ
  2. খ) শ্রেষ্ঠতম
  3. গ) গরিষ্ঠতম
  4. ঘ) লঘিষ্ঠতম
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা : 
শব্দগুলো শুদ্ধরূপ হলো :
শ্রেষ্ঠতম- শ্রেষ্ঠ
গরিষ্ঠতম- গরিষ্ঠ
লঘিষ্ঠতম- লঘিষ্ঠ
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৬,১৭৭.
কোন বানান জোড়টি অশুদ্ধ?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা, পূর্ণতা
  2. খ) মরুদ্যান, আয়ত্ব
  3. গ) পঞ্চনদ, শশিভূষণ
  4. ঘ) বিঘূর্ণন, বিমর্দন
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানান জোড়টির শুদ্ধরূপ- মরূদ্যান, আয়ত্ত।
উৎসঃ‌ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা এবং বাংলা একাডেমির ডিকশনারি।
৬,১৭৮.
নিচের কোনটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. ক) ঐক্যতা
  2. খ) মহাত্ম
  3. গ) অধীন
  4. ঘ) জন্মবার্ষিক
ব্যাখ্যা
-  প্রশ্নে উল্লেখিত 'অধীন' শব্দের শুদ্ধপ্রয়োগ ঘটেছে।

• ‘জন্মবার্ষিক’ শব্দটি অশুদ্ধ
- শুদ্ধ বানান হচ্ছে ‘জন্মবার্ষিকী’।
• ' ঐক্যতা' শব্দটিতে 'তা' প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগ হয়েছে।
- শব্দটির সঠিক বানান হবে ঐক্য বা একতা।
• মহাত্ম' শব্দটিতে প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- এর শুদ্ধ হবে মহত্ত্ব।

• অধীনস্থ শব্দটিতে অপ-প্ৰয়োগ ঘটেছে।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে অধীন।

উৎস- বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১৭৯.
নিচের কোনটি সরল বাক্য?
  1. আমি বহু কষ্ট করেছি ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।
  2. যিনি জ্ঞানী তিনিই সত্যিকার ধনী।
  3. সে পরিশ্রমী বটে কিন্তু নির্বোধ।
  4. তিনি দরিদ্র হলেও অসাধু নন।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তোমরা বাড়ি যাও।
- সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
- তিনি দরিদ্র হলেও অসাধু নন। [বাক্যে একটি মাত্র কর্তা ও একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া রয়েছে।]
 
অন্যদিকে,
- আমি বহু কষ্ট করেছি ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।- এটি একটি যৌগিক বাক্য।
- সে পরিশ্রমী বটে কিন্তু নির্বোধ।- এটি একটি যৌগিক বাক্য।
- যিনি জ্ঞানী তিনিই সত্যিকার ধনী।- এটি একটি জটিল বাক্য।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,১৮০.
সঠিক বানান নির্ণয় করুন:
  1. বয়সন্ধি
  2. মনক্ষুণ্ন
  3. সমিচিন
  4. অন্তঃসার
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'অন্তঃসার'
- এটি একটি  বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
এর অর্থ:
- ভেতরের সারবস্তু।

অন্যদিকে,
- 'বয়সন্ধি' শব্দের শুদ্ধ বানান - বয়ঃসন্ধি।
- 'মনক্ষুণ্ন' শব্দের শুদ্ধ বানান - মনঃক্ষুণ্ণ।
- 'সমিচিন' শব্দের শুদ্ধ বানান - সমীচীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১৮১.
তিনি বললেন, ‘দয়া করে ভিতরে আসুন।’ বাক্যটি কিসের উদাহরণ?
  1. বচন
  2. বাচ্য
  3. পরোক্ষ উক্তি
  4. প্রত্যক্ষ উক্তি
ব্যাখ্যা
উক্তি দুই প্রকার- প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

• প্রত্যক্ষ উক্তি: 
যে বাক্যে বক্তার কথা অবিকল উদ্ধৃত হয়, তাকে প্রত্যক্ষ উক্তি বলে।
প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার কথা উদ্ধরণ চিহ্ন (‘ ’/“ ”)-এর মধ্যে থাকে এবং বক্তার কথা ‍উদ্ধৃত করার আগে কমা (,) ব্যবহার করা হয়। এগুলো দেখে সহজেই প্রত্যক্ষ উক্তি চেনা যায়।
যেমন,
- খোকা বলল, 'আমার বাবা বাড়ি নেই'। 
- তিনি বললেন, ‘দয়া করে ভিতরে আসুন'। 
- লোকটি আমাকে বললেন, 'অনুগ্রহ করে আপনি সামনের আসনে বসুন।'

অন্যদিকে,
• বচন: 
- 'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। 
- এর অর্থ সংখ্যার ধারনা।
- ব্যাকরনের বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারনা প্রকাশের উপায়কে বচন বলে।
- কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

• বাচ্য: 
- বাক্যের বিভিন্ন ধরণের প্রকাশ ভঙ্গিকে বলা হয় বাচ্য।
- বাচ্য তিন প্রকার।
- যথা: কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য, ভাববাচ্য। 

• পরোক্ষ উক্তি: 
যে বাক্যে বক্তার কথা অন্যের জবানীতে পরিবর্তিত/রূপান্তরিত ভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে পরোক্ষ উক্তি বলে।
পরোক্ষ উক্তিতে কোনো উদ্ধরণ চিহ্ন থাকে না, এবং প্রথম উদ্ধরণ চিহ্নের স্থলে ‘যে’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
বেশিরভাগ পরোক্ষ উক্তিতেই ‘যে’ সংযোজক অব্যয়টি থাকে বলে একে দেখে পরোক্ষ উক্তি চেনা যেতে পারে। তবে ‘যে’ ছাড়াও অনেক পরোক্ষ উক্তি গঠিত হতে পারে।
যেমন, 
- খোকা বলল যে, তার বাবা বাড়ি ছিলেন না।
- লোকটি আমাকে সামনের আসনে বসতে অনুরোধ করলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৬,১৮২.
সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করার সময় বাক্যের মাঝখানে কোনটির পরিবর্তন করতে হয়?
  1. কর্তা 
  2. ক্রিয়া
  3. কর্ম 
  4. উদ্দেশ্য
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করার নিয়ম:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
• সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
• যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

• সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
• যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

• সরল বাক্য: এখন পরবালের কর্ম না করিলে কবে করিব?
• যৌগিক বাক্য: এখন পরকালের কর্ম করিব, নাতো কবে করিব?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৮৩.
কোন বাক্যাংশটি গুরুচণ্ডালী দোষ যুক্ত?
  1. ঘােড়ার গাড়ি
  2. শবদাহ
  3. শবপোড়া
  4. মড়াপােড়া
ব্যাখ্যা

গুরুচণ্ডালী দোষ : তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনাে কখনাে গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
‘গরুর গাড়ি’, ‘শবদাহ’, ‘মড়াপােড়া’ প্রভৃতি স্থলে যথাক্রমে ‘গরুর শকট’, ‘শবপােড়া’, ‘মড়াদাহ' প্রভৃতির ব্যবহার গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৬,১৮৪.
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগে বাক্য কোন দোষে দুষ্ট হয়?
  1. দুর্বোধ্যতা-দোষে
  2. বাহুল্য-দোষে
  3. গুরুচণ্ডালী দোষে
  4. উপমার ভুল প্রয়োগ-দোষে
ব্যাখ্যা
• গুরুচণ্ডালী দোষ:
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ কখনো কখনো গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়। 'গরুর গাড়ি', 'শবদাহ', 'মড়াপোড়া' প্রভৃতি স্থলে যথাক্রমে 'গরুর শকট', 'শবপোড়া', 'মড়াদাহ' প্রভৃতির ব্যবহার গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।

------------------
• দুর্বোধ্যতা:

অপ্রচলিত, দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যের যোগ্যতা বিনষ্ট হয়। যেমন- তুমি আমার সঙ্গে প্রপঞ্চ করেছো। (চাতুরী বা মায়া অর্থে, কিন্তু বাংলা 'প্রপঞ্চ' শব্দটি অপ্রচলিত)।

• উপমার ভুল প্রয়োগ:
ঠিকভাবে উপমা অলংকার ব্যবহার না করলে যোগ্যতার হানি ঘটে।
যেমন:
- আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো।
[বীজ ক্ষেতে বপন করা হয়, মন্দিরে নয়। কাজেই বাক্যটি হওয়া উচিত: আমার হৃদয়-ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হলো।]

• বাহুল্য-দোষ:
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং এর ফলে শব্দ তার যোগ্যতাগুণ হারিয়ে থাকে।
যেমন:
- দেশের সব আলেমগণই এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন।
['আলেমগণ' বহু বচনবাচক শব্দ। এর সঙ্গে 'সব' শব্দটির অতিরিক্ত ব্যবহার বাহুল্য-দোষ সৃষ্টি করেছে।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬,১৮৫.
ষষ্ঠী বিভক্তিযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. চুলার
  2. আজহারকে
  3. মদিনায়
  4. সকালে
ব্যাখ্যা

• 'চুলার' ষষ্ঠী বিভক্তিযোগে গঠিত শব্দ।
• চুলা + র = চুলার; এখানে র ষষ্ঠী বিভক্তি।

বিভক্তি:

- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি। বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।যথা:
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: ০, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি:কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,১৮৬.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1.  আশীষ
  2. কিরীট
  3. মন্ত্রিত্ব
  4. জাত্যভিমান
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
-  শুদ্ধ বানান - আশিস।
শব্দের অর্থ:
- আশীর্বাদ,
- দোয়া,
- শুভেচ্ছা।

অন্যদিকে,
- কিরীট, মন্ত্রিত্ব এবং জাত্যভিমান - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,১৮৭.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. জগবন্ধু
  2. চর্ব্যচূষ্য
  3. উন্মীলন
  4. ন্যূনাধিক
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - জগবন্ধু
- এর শুদ্ধ বানান - জগদ্‌বন্ধু।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- জগতের সকল জীবের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী; কৃষ্ণ।

অন্যদিকে,
- ন্যূনাধিক, উন্মীলন এবং চর্ব্যচূষ্য - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,১৮৮.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অনূসূয়া
  2. স্বাক্ষরতা
  3. গড্ডালিকা
  4. স্বতঃস্ফূর্ত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'স্বতঃস্ফূর্ত' বানানটি শুদ্ধ।
 
অন্যদিকে,
- 'অনূসূয়া' এর শুদ্ধ বানান 'অনসূয়া'।
- 'স্বাক্ষরতা' এর শুদ্ধ বানান 'স্বাক্ষর/ সাক্ষরতা'।
- 'গড্ডালিকা' এর শুদ্ধ বানান 'গড্ডলিকা'।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১৮৯.
পত্রের শিরোনামে কী থাকে না?
  1. ক) প্রেরকের ঠিকানা
  2. খ) পত্রসার
  3. গ) প্রাপকের নাম ঠিকানা
  4. ঘ) সবগুলো থাকে
ব্যাখ্যা
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ অনুসারে, 
শিরোনামের প্রধান অংশে প্রেরকের ঠিকানা এবং প্রাপকের নাম ঠিকানা থাকে। 

৬,১৯০.
'তিনি কথা দিয়া কথা রাখতে পারেনি।' - বাক্যটিতে যে/যেসব ত্রুটি রয়েছে -
  1. ক) দুই ভাষারীতির মিশ্রণ এবং কর্তা ও ক্রিয়াপদের সংগতি রক্ষিত হয়নি
  2. খ) দুই ভাষারীতির মিশ্রণ ঘটেছে
  3. গ) বর্ণাশুদ্ধি ঘটেছে
  4. ঘ) উপযুক্ত সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হয়নি
ব্যাখ্যা

'তিনি কথা দিয়া কথা রাখতে পারেনি।' - বাক্যটিতে দুই ভাষারীতির মিশ্রণ এবং কর্তা ও ক্রিয়াপদের সংগতি রক্ষিত হয়নি।
বাক্যের শুদ্ধরূপঃ
- তিনি কথা দিয়ে কথা রাখতে পারেননি।

৬,১৯১.
‘বাড়ির পুকুরের পাড়ে বড় ভাইয়ের কলার বাগান ‘ - বাক্যে পুকুর শব্দের সঙ্গে কোন বিভক্তি জড়িত ?
  1. ক) ‘-য়ের’
  2. খ) ‘-র’
  3. গ) ‘-এর’
  4. ঘ) ‘-রের’
ব্যাখ্যা
বাক্যে পুকুর শব্দের সাথে ‘-এর’ বিভক্তি জড়িত ।
• বাক্যের মধ্যে শব্দের সাথে সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে অর্থহীন কিছুলগ্নক যুক্ত হয় ,
সেগুলোকে বিভক্তি বলে ।
যেমন - - এ , -তে , -য় , -য়ে , -কে , - রে , -র , - এর , -য়ের ইত্যাদি ।
সাধারণত ক্রিয়ার স্থান, কাল, ভাব বোঝাতে -এ, -তে, -য়, -য়ে ইত্যাদি বিভক্তির ব্যবহার হয়। কখনো ,,
কখনো বাক্যের কর্তার সঙ্গেও এসব বিভক্তি বসে।
- যেসব শব্দের শেষে কারচিহ্ন নেই, সেসব শব্দের সঙ্গে -এ বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন – সকালে, দিনাজপুরে, ই-
মেইলে, কম্পিউটারে, ছাগলে, তিলে ইত্যাদি।
- শব্দের শেষে ই-কার ও উ-কার থাকলে -তে বিভক্তি হয়। যেমন – হাতিতে, রাত্রিতে, মধুতে, রামতেু ,, ইত্যাদি।
- আ-কারান্ত শব্দের শেষে -য় বিভক্তি হয়। যেমন – ঘোড়ায়, সন্ধ্যায়, ঢাকায় ইত্যাদি ।
- শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে -য়ে বিভক্তি হয়। যেমন – ছইয়ে, ভাইয়ে, বউয়ে ।
- ই-কারান্ত শব্দের শেষেও -য়ে বিভক্তি দেখা যায়। যেমন – ঝিয়ে, ঘিয়ে
বাক্যে গৌণকর্মে রর্মে সঙ্গে সাধারণত -কে এবং -রে বি ভক্তি বসে । ক্রি য়াকে 'কাকে ' প্রশ্ন করলে যে শব্দ
পাওয়া যায় তার সঙ্গে এই বি ভক্তি যুক্ত হয়। যে মন – শি শুকে , দরি দ্রকে , আমাকে , আমারে ইত্যাদি ।
বাক্যের মধ্যে পরবর্তী শব্দের সঙ্গে সম্বন্ধ বোঝাতে পূর্ববর্তী শব্দের সঙ্গে -র, -এর এবং -য়ের বিভক্তি যুক্ত হয় ।
সাধারণত আ-কারান্ত, ই/ঈ-কারান্ত ও উ/ঊ-কারান্ত শব্দের শেষে -র বিভক্তি বসে। যেমন – রাজার, প্রজার, হাতির, বুদ্ধিজীবির, তনরু, বধূর।
যেসব শব্দের শেষে কারচিহ্ন নেই, সেসব শব্দের শেষে -এর বিভক্তি হয়। যেমন – বলের, শব্দের, নজরুলের, সাতাশের ইত্যাদি।
শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে -য়ের বিভক্তি হয়। যেমন – ভাইয়ের, বইয়ের, লাউয়ের, মৌয়ের ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতির্মি ( নবম - দশম শ্রেণি )
৬,১৯২.
'লোকছন্দ' কোন ছন্দের প্রচলিত নাম?
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  3. পয়ার ছন্দ
  4. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ। এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।
- প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট, পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

অন্যদিকে, 
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:  উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।

• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ: উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'; যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।

• পয়ার ছন্দ: পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণীবিভাগ। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দোরীতিও বটে। মধ্যযুগে পয়ার ছন্দেই রামায়ণ ও মহাভারতের বঙ্গানুবাদ এবং মঙ্গলকাব্যসমূহ রচিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ; বাংলাপিডিয়া এবং প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
৬,১৯৩.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ? 
  1. তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে এই গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছে। 
  2. ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়।
  3. তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই। 
  4. মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
ব্যাখ্যা

• উদ্দেশ/উদ্দেশ্য: 
উদ্দেশ শব্দে বোঝায় হদিস, খোঁজ, লক্ষ্য।
যেমন:
ক. কার উদ্দেশে একথা বলা, হলো কেউ বুঝতে পারল না।
খ. 'নদী ধায় সাগর উদ্দেশে'।
গ. তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে এই গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছে।

অশুদ্ধ: তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই।
শুদ্ধ: তোমার মতো এমন হীনচরিত্র লোক আমার প্রয়োজন নেই।

অশুদ্ধ: ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়।
শুদ্ধ: ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।

অশুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
শুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৬,১৯৪.
’ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।’-কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তাবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
•  কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন
- ঝরনা ছবি আঁকে।
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।

• অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে।
যেমন
- ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
- শরতে শিউলি ফোটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৬,১৯৫.
'জেলে ভাই মাছ ধরে মেঘের ছায়ায়' বাক্যটিতে 'মাছ' কোন কারকে কোন বিভক্তি?  
  1. কর্তা কারকে শূন্য
  2. কর্ম কারকে শূন্য
  3. অধিকরণ কারকে শূন্য
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

- 'জেলে ভাই মাছ ধরে মেঘের ছায়ায়' বাক্যটিতে 'মাছ' শব্দটি কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি (০ বিভক্তি)। 
----------------------------
কর্মকারক-
- কর্মকারক বলতে বোঝায় সেই ব্যক্তি বা বস্তু, যার ওপর কর্তার করা কাজটি পড়ে।
- সহজভাবে বলা যায়, কর্তা যা করে—সেই কাজটি যাকে নিয়ে হয়, তাকেই কর্মকারক বলে।
- কর্মকারক নির্ণয়ের জন্য ক্রিয়াকে ধরে “কী?” বা “কাকে?” প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্মকারক।

- যেমন—
- “রিমা ফুল তুলছে” বাক্যে প্রশ্ন করলে কী তুলছে? উত্তর আসে ফুল—তাই ‘ফুল’ হলো কর্মকারক।
- আবার “ডাক্তার রোগীকে পরীক্ষা করছেন” বাক্যে কাকে পরীক্ষা করছেন? প্রশ্নের উত্তরে রোগীকে আসে—এটিও কর্মকারক।

- অর্থাৎ, কর্তার কাজের প্রভাব যার ওপর পড়ে বা যে ব্যক্তি/বস্তু সেই কাজের ফল ভোগ করে, তাকেই কর্মকারক বলা হয়।
-------------------------------
"জেলে ভাই মাছ ধরে মেঘের ছায়ায়"—
- বিশ্লেষণ:
• মাছ: 
- 'মাছ' হচ্ছে- ক্রিয়ার কর্ম, কারণ জেলে (কর্তা) যা ধরে তা হলো মাছ।
- যেহেতু ‘মাছ’ শব্দটির সঙ্গে কোনো বিভক্তি চিহ্ন নেই, তাই এটিকে শূন্য বিভক্তি (প্রথমা বিভক্তি) হিসেবে ধরা হয়।

• জেলে:
- জেলে নিজেই মাছ ধরার কাজটি করে তাই জেলে কর্তা, অর্থাৎ কর্তৃকারক।
- এখানে কোনো বিভক্তি চিহ্ন নেই, তাই 'জেলে'- কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি (প্রথমা বিভক্তি)।

• মেঘের ছায়ায়:
- মেঘের ছায়ায় স্থান নির্দেশ করছে। 
- ‘ছায়ায়’ অংশটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি (‘-য়’ যুক্ত)।
- ‘ছায়ায়’ অংশটি ‘ধরে’ ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত এবং কর্তা ‘জেলে’-এর সঙ্গে যুক্ত, তাই সরাসরি ক্রিয়ার সঙ্গে মিল রেখে অধিকরণ কারকের ভূমিকা পালন করছে।
---------------------------------
শূন্য বিভক্তি:
- যে বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হলেও কোনো চিহ্ন বা প্রত্যয় (যেমন -কে, -র, -এ) যোগ হয় না, কিন্তু বাক্যে স্পষ্ট ভূমিকা পালন করে তাকে শূন্য বিভক্তি বলা হয়।
- সহজ কথায়, শব্দটি নিজেই কারক হিসেবে কাজ করছে, কিন্তু কোনো চিহ্ন নেই।
- উদাহরণ:
• "জেলে মাছ ধরে" - "জেলে'' কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি , কারণ কোনো চিহ্ন নেই, কিন্তু এটি কর্তার কাজ করছে।

• "ধোপাকে কাপড় দাও" - 'কাপড়' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি, কারণ কোনো চিহ্ন নেই,
- এবং যদি প্রশ্ন করা হয় 'ধোপাকে কি দাও'- তাহলে উত্তর আসবে 'কাপড়'; 
- তাই 'কাপড়' কর্মকারক। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

৬,১৯৬.
"জ্ঞানে বিমল আনন্দ হয়।" - বাক্যটিতে 'জ্ঞানে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে দ্বিতীয়া
  2. সম্প্রদানে চতুর্থী
  3. করণে সপ্তমী
  4. কর্মে দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা–ই করণ কারক৷
- করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে।

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।

• দিয়া বিভক্তি:
- মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।

• সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- জ্ঞানে বিমল আনন্দ হয়।
- তে বিভক্তি: লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬,১৯৭.
তৎসম শব্দে 'ক' এবং 'র'- এর পরে সাধারণত- 
  1. 'দন্ত্য-স' বসে না
  2. 'দন্ত্য-স' বসে
  3. মূর্ষণ্য- ষ বসে
  4. ক এবং গ উভয়ই 
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম: 
তৎসম শব্দে 'ক', 'র'- এর পরে সাধারণত 'দন্ত্য-স' বসে না, মূর্ষণ্য- ষ বসে।  
যেমন,
ক- এর পর: চক্ষু (ক্ষ= ক্‌ + ষ), চক্ষুষ্মান, রুক্ষ, ভিক্ষুক, ভিক্ষা।
র- এর পরে: মুমূর্ষু, চিকীর্ষা। 

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী 'চকুস্মান' এর শুদ্ধ বানান হবে- 'চক্ষুষ্মান'। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।

৬,১৯৮.
কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. উৎকন্ঠা
  2. কাণ্ড
  3. বণ্টন
  4. লুণ্ঠন
ব্যাখ্যা

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- তৎসম শব্দে ট- বর্গের (ট, ঠ, ড, ঢ) সঙ্গে যুক্ত 'দন্ত-ন' পরিবর্তিত হয়ে 'মূর্ধন্য-ণ' হয়ে যায়। 
যেমন- মণ্ড, উৎকণ্ঠা , লুণ্ঠন, বণ্টন, খণ্ড, ভণ্ড, কাণ্ড ইত্যাদি।

• সে অনুসারে, 'উৎকন্ঠা' বানানটি অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ বানান হবে- 'উৎকণ্ঠা'। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।

৬,১৯৯.
'সুমাইয়া পুস্তক পাঠ করছে।' - বাক্যটিকে কর্মবাচ্যে পরিণত করলে কোনটি হবে?
  1. সুমাইয়া কর্তৃক পুস্তক পাঠ হচ্ছে।
  2. সুমাইয়া কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
  3. পুস্তক সুমাইয়া কর্তৃক পাঠ হচ্ছে।
  4. পুস্তক কর্তৃক সুমাইয়া পঠিত হচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য: কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে -
(১) কর্তায় তৃতীয়া,
(২) কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং
(৩) ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে সেই বাক্যের কর্মবাচ্য হয় না।
- কর্তৃবাচ্যে ব্যবহৃত তৎসম মিশ্রক্রিয়াটি কর্মবাচ্যে যৌগিক ক্রিয়াজাত ক্রিয়াবিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়।
 
→ কর্তৃবাচ্য → কর্মবাচ্য:
(ক) বিদ্বানকে সকলেই আদর করে। ⇒ (ক) বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
(খ) খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। ⇒ (খ) বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।
(গ) সুমাইয়া পুস্তক পাঠ করছে। ⇒ (গ) সুমাইয়া কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২০০.
'শিহাব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।' এখানে 'ব্যাকরণে' কোন কারক?
  1. করণ কারক 
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।

অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।
এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।

প্রশ্নে প্রদত্ত বাক্যটি-
• 'শিহাব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।'- বাক্যকে 'কোন বিষয়ে ভালো?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘ব্যাকরণে’। এখানে ‘ব্যাকরণে’ শিহাবের ভালো হওয়ার বিষয় বা ক্ষেত্র নির্দেশ করছে, তাই এটি অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।