ব্যাখ্যা
----------------------------------
• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন
- সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
• কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
• প্রথমা/শূন্য/অ-বিভক্তি:
⇒ এখানে কোনো বিভক্তি যোগ করা হয় না — তাই একে শূন্য বিভক্তি বা অ-বিভক্তিও বলা হয়।
⇒ সাধারণত যখন কর্মটি সরাসরি ক্রিয়াপদের পরে আসে এবং নির্দিষ্ট হয় না, তখন এই বিভক্তি ব্যবহার হয়।
উদাহরণ:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (এখানে "বই" দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম, তাই শূন্য বিভক্তি)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম। (এখানে গ্রন্থ অর্থে, শূন্য বিভক্তি ব্যবহৃত হয়েছে)
• দ্বিতীয়া বিভক্তি ("কে"):
কর্মকার নির্দিষ্ট হলে সাধারণত "কে" বিভক্তি ব্যবহার হয়।
উদাহরণ:
- তাকে বল।
- আমায় দেখো।
• ’রে’ বিভক্তি:
উদাহরণ:
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা। (— রবীন্দ্রনাথ)
• ষষ্ঠী বিভক্তি ("র"):
- এটি সাধারণত কর্তাসূচক বা অধিকার বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, তবে কোনো-কোনো ক্ষেত্রে কর্মকারেও প্রয়োগ হয়।
উদাহরণ:
- তোমার দেখা পেলাম না। (এখানে "তোমার দেখা" — কর্মের রূপ, ষষ্ঠী বিভক্তি)
• সপ্তমী বিভক্তি ("এ"):
উদাহরণ:
- জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।
(— এখানে "জনে জনে" বলার মাধ্যমে সবার প্রতি কর্মপ্রয়োগ বোঝানো হয়েছে; ব্যাপকতা বা 'বীপ্সা' বোঝাতে)
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।