বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৫৯ / ৬৯ · ৫,৮০১৫,৯০০ / ৬,৯৫৩

৫,৮০১.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. সবকিছু
  2. সবশেষে
  3. সারাগ্রাম
  4. সারাক্ষণ
ব্যাখ্যা

অপপ্রয়োগ- সারাগ্রাম। 
শুদ্ধ প্রয়োগ- সারা গ্রাম। 

• 'সব এবং সারা' এর ব্যবহার:

'সব' এবং 'সারা' উভয়ই সমগ্র। সঙ্গীত। সর্বত্র ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ করে। দুটি শব্দই সাধারণত পৃথক বসে থাকে।
যেমন:
সব অশান্তি, সব ঘটনা, সব লোক, সব সময়, সব সমস্যা; সারা অঙ্গ, সারা গ্রাম, সারা দিন, সারা দুনিয়া, সারা বাড়ি ইত্যাদি।
[ব্যতিক্রম: সবকিছু, সবশেষে, সারাক্ষণ।] 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৮০২.
বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল-
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) আসক্তি
  3. গ) আসত্তি
  4. ঘ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
-  বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল- যোগ্যতা।

আদর্শ বাক্যের জন্যে তিনটি গুণ থাকা থাকা জরুরি।
• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
ছেলেরা খেলে
কাজল নিয়মিত লেখাপড়া

উপরের দু'টি বাক্যই অসম্পূর্ন অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যগুলো এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- ছেলেরা ফুটবল খেলে।
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

• আসত্তি:
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হল-আসত্তি।  
‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’।
 
উপরের বাক্যে পদ সন্নিবেশ ঠিকঠাক না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। বাক্যটি এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। এখন বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন। 

• যোগ্যতা: 
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
‘বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’।

উপরের বাক্যটি ভাব প্রকাশে যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না। তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি-
‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,সৌমিত্র শেখর।
৫,৮০৩.
‘শবপোড়া’ শব্দটি অশুদ্ধ কেন?  
  1. উপমার ভুল প্রয়োগ  
  2. দুর্বোধ্যতা 
  3. বাহুল্য দোষ
  4. গুরুচণ্ডালী দোষ
ব্যাখ্যা

‘শবপোড়া’ শব্দটি অশুদ্ধ- গুরুচণ্ডালী দোষ এর কারণে। 
------------------------
• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সাথে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ গুরুচন্ডালি দোষ সৃষ্টি করে।
- যেমন- শবপোড়া শব্দটিতে- তৎসম + দেশি শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে।
- তাই এটি অশুদ্ধ।
- শুদ্ধ রূপটি হলো- শবদাহ (তৎসম + তৎসম)।  

- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশি শব্দের প্রয়োগে সৃষ্ট কিছু গুরুচন্ডালি দোষযুক্ত শব্দের উদাহরণ- 

• মড়াদাহ (দেশি + তৎসম) = অশুদ্ধ। 
- শুদ্ধ রূপ- মড়াপোড়া (দেশি + দেশি)। 

• গরুর শকট (দেশি + তৎসম) = অশুদ্ধ। 
- শুদ্ধ রূপ- গরুর গাড়ি (দেশি + দেশি)। 

-  আবার, সাধু ও চলিত ভাষাকে একসাথে ব্যবহার করে বাক্যের স্বাভাবিকতা নষ্ট করাকেও গুরুচণ্ডালী দোষ বলে। 
- এর উদাহরণ- তিনি বড় বজ্জাত ভদ্রলোক।
- ‘তিনি বড় বজ্জাত ভদ্রলোক’- বাক্যটিতে ‘বজ্জাত’ (চলিত ভাষা) আর ‘ভদ্রলোক’ (সাধুভাষা) একসাথে ব্যবহার করা হয়েছে।
- এখানে সাধু ও চলিত ভাষার অপ্রয়োজনীয় মিশ্রণ ঘটেছে, তাই বাক্যটি গুরুচণ্ডালী দোষযুক্ত হয়েছে। 
-------------------------- 
অন্যদিকে, 
• উপমার ভুল প্রয়োগ:
- উপমার ভুল প্রয়োগ ঘটে যখন তুলনা অপ্রাসঙ্গিক, বেমানান বা অযৌক্তিক হয়।
- উপমার ভুল প্রয়োগ বাক্যের স্বাভাবিকতা নষ্ট করে।
- উপমার ভুল প্রয়োগে অর্থ বোঝায় অসুবিধার সৃষ্টি হয়।
- যেমন, “বিরাট গরু-ছাগলের হাট"- বাক্যটিতে উপমার ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
- কারণ, বিরাট উপমাটি গরু-ছাগলের সাথে বেমানান তুলনা।
- সঠিক প্রয়োগ হবে যখন বলা হবে- 'গরু-ছাগলের বিরাট হাট'।
- 'গরু-ছাগলের বিরাট হাট'- এই বাক্যটিতে বিরাট উপমাটি হাটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। 

• দুর্বোধ্যতা: 
- দুর্বোধ্যতার কারণে বাক্য তার যোগ্যতা হারাতে পারে। 
- যদি বলা হয়- তুমি আমার সাথে প্রপঞ্চ করেছ তাহলে এখানে প্রপঞ্চ শব্দটি দুর্বোধ্যতার সৃষ্টি করে। 
- সঠিক প্রয়োগ হবে- তুমি আমার সাথে ধোঁকাবাজি করেছ।  

• বাহুল্য দোষ:
- বাহুল্য দোষ হলো বাক্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ বা একই অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করা।
- উদাহরণস্বরূপ, "সকল আলেমগণ আজ উপস্থিত", এতে বাহুল্য দোষ রয়েছে, কারণ "সকল" এবং "আলেমগণ" একই অর্থ প্রকাশ করে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৮০৪.
‘চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে।’ বাক্যটিতে ‘চণ্ডালে’ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে ২য়া
  2. অপাদান কারকে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অধিকরণে ২য়া
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে।' বাক্যটিতে 'চণ্ডালে' শব্দটি- কর্মে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।

• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

এখানে,
- চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে।
• উল্লেখিত বাক্যটিতে ক্রিয়াকে 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'চণ্ডালে (চণ্ডালকে)'। 
এবং এর সাথে সপ্তমী বিভক্তি 'এ' যুক্ত হয়েছে।
- সুতরাং 'চণ্ডালে' শব্দটি হবে কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
৫,৮০৫.
নিম্নের কোন বাক্যে শব্দের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) এমনকি হতে পারে না যে সে-ই খুন করেছে?
  2. খ) তার মতো নিরীহ লোক জনগনকে খেপিয়ে তুওলছে, এমনকি হওয়া সম্ভব?
  3. গ) এমনকি তার মতো দজ্জাল শাশুড়িকেও ঐ একরত্তি মেয়ে বস করে ফেলেছে!
  4. ঘ) বাপের সম্পত্তি তো খেয়েইছে , এখন এমন কি ঘরদোর বিক্রি করতে চাইছে, এমনই ছন্নছাড়া।
ব্যাখ্যা

বাক্যে শব্দের সঠিক প্রয়োগ গুলো নিম্নরূপ-
এমন কি
হতে পারে না যে সে-ই খুন করেছে?
তার মতো নিরীহ লোক জনগনকে খেপিয়ে তুওলছে, এমন কি হওয়া সম্ভব? 
বাপের সম্পত্তি তো খেয়েইছে , এখন এমনকি ঘরদোর বিক্রি করতে চাইছে, এমনই ছন্নছাড়া।

উৎস: বাংলা ভাষার নিয়ম কানুন, হায়াৎ মাহমুদ

৫,৮০৬.
নিচের কোন শব্দটির বানান অশুদ্ধ?
  1. ঊর্ধ্বগামী
  2. ঊর্ধ্বপাতন
  3. ঊর্ধ্বফনা
  4. ঊর্ধ্বস্থ
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- "ঊর্ধ্বফনা" বানানটি ভুল।
- এর শুদ্ধ বানান - ঊর্ধ্বফণা।

অন্যান্য শব্দগুলো সঠিক বানানে রয়েছে।
যেমন- 
- ঊর্ধ্বগামী;
- ঊর্ধ্বপাতন;
- ঊর্ধ্বস্থ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৮০৭.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ভ্রাতূষ্পুত্র
  2. ভ্রাতুস্পুত্র
  3. ভ্রাতুষ্পুত্র
  4. ভ্রাতূস্পুত্র
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
 • শুদ্ধ বানান - 'ভ্রাতুষ্পুত্র'

- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: ভ্রাতুঃ + পুত্র।
যার অর্থ:
- ভাইয়ের ছেলে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৮০৮.
মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন। - এই বাক্যে ‘মন দিয়া’ কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্তা কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত দ্বারা’, “দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালাে কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- কলমের খোঁচা দিও না। (করণ কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি)।
- মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮০৯.
‘গতকাল’ এর পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. আগামীকাল
  2. সেদিন
  3. পরদিন
  4. আগেরদিন
ব্যাখ্যা
• উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি। যেমন:

• প্রত্যক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
যেমন:
- ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

• পরােক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
যেমন:
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।- এটি পরােক্ষ উক্তি।

প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।
• উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষরূপ:
- এই - সেই।
- ইহা - তাহা।
- এ - সে
- এখন - তখন।
- আগামীকাল - পরদিন ।
- গতকাল - আগেরদিন।
- আজ - সেদিন।
- ওখানে - ঐখানে।
- গতকল্য - পূর্বদিন।
- এখানে - সেখানে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৫,৮১০.
'লােকটি অশিক্ষিত কিন্তু অভদ্র নয়' - বাক্যের সরল রূপ কোনটি?
  1. লােকটি শিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
  2. যদিও লোকটি শিক্ষিত কিন্তু সে অভদ্র নয়।
  3. লােকটি অশিক্ষিত এবং অভদ্র নয়।
  4. লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
- তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।
যেমন:
যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।
সরল বাক্য: সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।

যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৮১১.
বাচ্যজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. আমি অপমানিত হয়েছি।
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
  3. এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
  4. ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• ঘটনা বর্ণনা হয়েছে। - বাক্যে বাচ্যজনিত অপ্রয়োগ ঘটেছে।
শুদ্ধ: ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। 

• বাচ্যজনিত ভুল:
কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও করা ক্রিয়ার রূপ থাকলে কর্মবাচ্যে বিশেষণ ও হওয়া ক্রিয়ার রূপ হবে। যেমন:

অশুদ্ধ: আমি অপমান হয়েছি।
শুদ্ধ: আমি অপমানিত হয়েছি।

অশুদ্ধ: বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
শুদ্ধ: বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৮১২.
কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) সান্ত্বনা
  2. খ) উপর্যুক্ত
  3. গ) স্বত্ব
  4. ঘ) সম্ভ্রান্তশালী
ব্যাখ্যা
সম্ভ্রান্ত (বিশেষণ) - আশরাফ; অভিজাত (সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোক)।
সোর্সঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
৫,৮১৩.
'যদি নিয়মিত সাঁতার কাটো, তবে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।' বাক্যটিকে যৌগিক বাক্যে রুপান্তর করলে কী হবে?
  1. নিয়মিত সাঁতার কাটো স্বাস্থ্যের জন্যে ভালো ।
  2. নিয়মিত সাঁতার কাটলে, স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।
  3. নিয়মিত সাঁতার কাটো, স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।
  4. সাঁতার কাটলে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রুপান্তর:
- জটিল বাক্যের সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজক বাদ দিয়ে যৌগিক বাক্য তৈরি করতে হয়। যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।
যেমন

- জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
- যৌগিক বাক্য:বিপদ আসে এবং সঙ্গে দুঃখও আসে।

- জটিল বাক্য: যদি নিয়মিত সাঁতার কাটো, তবে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।
- যৌগিক বাক্য: নিয়মিত সাঁতার কাটো, স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৫,৮১৪.
অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর। - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দ দুটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন -
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
৫,৮১৫.
“তপবনে যেতে কেনা চায়?” বাক্যটি কোন কারণে অশুদ্ধ?
  1. ক) সন্ধিজনিত
  2. খ) বাচ্যজনিত
  3. গ) বিভক্তিজনিত
  4. ঘ) প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা
বাক্যটি সন্ধিজনিত কারণে অশুদ্ধ। এর শুদ্ধরূপ : তপোবনে যেতে কে-না চায়?
৫,৮১৬.
কোনটি কর্মবাচ্যের উদাহরণ?
  1. আমাকে আবৃত্তি করতে হয়েছে।
  2. কোথা থেকে আসা হলো।
  3. আমাকে আবৃত্তি করতে হবে।
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।

যেমন:
→ আমাকে আবৃত্তি করতে হয়েছে।
→ আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
→ আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

অন্যদিকে,
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন:
→ আমাকে আবৃত্তি করতে হবে।
→ আমার যাওয়া হল না।
→ কোথা থেকে আসা হলো।
→ এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৮১৭.
শুদ্ধ বাক্য- 
  1. তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  2. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
  3. সবিনয় পূর্বক নিবেদন করি।
  4. গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারবো না।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ

তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

অশুদ্ধ বাক্য: সবিনয় পূর্বক নিবেদন করি।
শুদ্ধ বাক্য: বিনয়পূর্বক নিবেদন করি।

অশুদ্ধ বাক্য: গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারবো না।
শুদ্ধ বাক্য: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৮১৮.
"যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।" - বাক্যটির সরল বাক্যের রূপ কোনটি?
  1. আমি যে বইটি কিনেছি, সেটি দামি।
  2. আমার কেনা বইটি খুব দামি।
  3. বইটি আমি কিনেছি এবং এটি খুব দামি।
  4. বইটি দামি।
ব্যাখ্যা
• "যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।" - এই জটিল বাক্যের সরল বাক্যের রূপ হলো: "আমার কেনা বইটি খুব দামি।"

সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
----------------------------- 
• জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময় সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজককে বাদ দিতে হয়।
যেমন:
জটিল বাক্য: যে অন্ধ তাকে আলো দাও।
সরল বাক্য: অন্ধকে আলো দাও।

জটিল বাক্য: যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
সরল বাক্য: বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৮১৯.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. শ্রদ্ধাঞ্জলি
  2. মনক্ষুণ্ণ
  3. মনোমোহন
  4. সংবলিত
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - মনক্ষুণ্ণ।
- শুদ্ধ বানান - মনঃক্ষুণ্ণ।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- মানসিকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে এমন, বিষণ্ণ; হতাশ।

অন্যদিকে, 
– সংবলিত, 
– মনোমোহন, 
– শ্রদ্ধাঞ্জলি।
- শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৮২০.
‘যদি তুমি চাও, তবে এনে দিব মেঘ।’- কোন ধরনের বাক্যের দৃষ্টান্ত?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘যদি তুমি চাও, তবে এনে দিব মেঘ।’ জটিল বাক্যের দৃষ্টান্ত।

⇒ জটিল বাক্য:

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

=============
⇒ সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন ৷

➤ সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে ৷ 
যেমন:
- আমরা তিন ভাইবোন।

➤ বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়। 
যেমন:
- তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।

⇒  যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে – বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৮২১.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. উপর্যুক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
  2. ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
  3. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  4. বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: উপর্যুক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।

তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৮২২.
কোন বানানটি সঠিক?
  1. জিপিষা
  2. জীপীষা
  3. জিগীষা
  4. জীগিষা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'জিগীষা'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √জি + সন্‌ + অ + আ।
অর্থ:
- জয়লাভ করার ইচ্ছা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৮২৩.
'সাপুড়ে সাপ খেলায়'- বাক্যটিতে প্রযোজ্য কর্তা কোনটি?
  1. ক) সাপুড়ে
  2. খ) সাপ
  3. গ) খেলায়
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অপরজন কর্তৃক সম্পাদিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- 'সাপুড়ে সাপ খেলায়'- বাক্যটিতে 'খেলায়' প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া, 'সাপুড়ে' প্রযোজক কর্তা এবং 'সাপ' প্রযোজ্য কর্তা।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি

৫,৮২৪.
‘পার হইয়া’ এর চলিত রূপ কোনটি?
  1. পার হয়ে
  2. পারি হয়ে
  3. পার হইয়ে
  4. পারিয়া
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর হবে ‘পেরিয়ে’
সঠিক উত্তর না থাকায় উত্তরটি বাতিল করা হলো।

বাংলা ভাষার ৩টি রীতি রয়েছে।
যথা -
১. সাধু রীতি
২. চলিত রীতি
৩. আঞ্চলিক কথ্য রীতি বা উপভাষা

১. সাধু রীতি:
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এই রীতি তৎসম শব্দ বহুল ও গুরুগম্ভীর। এটি শুধু লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বকৃতার জন্য অনুপযোগী।
- এই রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।

২. চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ - আলোচনার জন্য উপযোগী।

সাধু ও চলিত রীতির কিছু উদাহরণ-
সাধু ------------ চলিত 
দেন নি -------- দেননি
পার হইয়া ----- পেরিয়ে
পড়িল ---------- পড়ল/পড়লো
করিয়া ----------- করে
পূর্বেই আগেই। ইত্যাদি।
==================
প্রমিত নিয়ম অনুসারে, পার হইয়া এর চলিত রূপ পেরিয়ে হলেও;
অপশন বিবেচনায় সঠিক উত্তর হিসাবে এখানে পার হয়ে গ্রহণযোগ্য হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৮২৫.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. জাজ্বল্যমান
  2. জাজ্জ্বল্যমান
  3. জাজ্বলমান
  4. জাজল্যমান
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'জাজ্বল্যমান'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত শব্দ।
- শব্দটির প্রকৃতি-প্রত্যয়: জ্বল্‌ + য + মান।
এর অর্থ:
- অতিশয় উজ্জ্বল,
- সুস্পষ্ট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৮২৬.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. স্থাণু
  2. দুর্ণীতি
  3. কাণ্ড
  4. বর্ণনা
ব্যাখ্যা
• দুর্ণীতি বানানে ‘ণ’ এর ব্যবহার অশুদ্ধ।
• শুদ্ধ বানান: দুর্নীতি।

------------------------
• ণ-ত্ব বিধান:

বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৮২৭.
‘পিতা যখন আছেন তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?’ কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ডিত বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- পিতা যখন আছে তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
৫,৮২৮.
'মন্ত্রি' শব্দের বহুবচন কী?
  1. মন্ত্রিগণ
  2. মন্ত্রিবর্গ
  3. মন্ত্রিসব
  4. মন্ত্রিমণ্ডলী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:

→ গণ -দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
→ বৃন্দ -সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
→ মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৫,৮২৯.
গঠন অনুসারে বাংলা বাক্যকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. দুই ভাগে
  2. তিন ভাগে
  3. চার ভাগে
  4. পাঁচ ভাগে
ব্যাখ্যা
• গঠন অনুসারে বাংলা বাক্যকে — তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 

১. সরল বাক্য:
একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
 যেমন- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।

২. জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
 যেমন- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

৩. যৌগিক বাক্য:
এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
 যেমন- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৫,৮৩০.
বাংলাদেশ এক উন্নয়নশীল দেশ৷ বাক্যটিতে কোন ধরনের ভুল আছে?
  1. ক) নির্দেশক জনিত
  2. খ) প্রত্যয় জনিত
  3. গ) বিভক্তি জনিত
  4. ঘ) কারক জনিত
ব্যাখ্যা
এখানে নির্দেশক হিসেবে টি যুক্ত করা উচিত ছিলো।
শুদ্ধ বাক্য হবে - ''বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ৷''
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৮৩১.
"তার কাছে সকলেই প্রার্থিত বস্তু পেত।" - বাক্যটির জটিল রূপ কী হবে?
  1. সবাই তার কাছে প্রার্থিত বস্তু পায়।
  2. তার কাছে সকলেই প্রার্থিত বস্তু চাইতো এবং তা পেত।
  3. তার কাছে যে যা চাইত, সে তাই পেত।
  4. সবাই তার কাছে প্রার্থিত বস্তু পেতো বিধায় তার কাছেই সবসময় চাইতো।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে পরিবর্তন:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: তার কাছে সকলেই প্রার্থিত বস্তু পেত।
জটিল বাক্য: তার কাছে যে যা চাইত, সে তাই পেত।

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
৫,৮৩২.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. হে ত্রিনয়নী, আমাকে রক্ষা কর।
  2. তাহার ঔদ্ধতপূর্ণ আচরণে ব্যথিত হইয়াছি।
  3. আমি ঘটনা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করিয়াছি।
  4. শশীভূষন কি আসে নাই?
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপঃ
হে ত্রিনয়নী, আমাকে রক্ষা কর = হে ত্রিনয়না, আমাকে রক্ষা কর।
আমি ঘটনা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করিয়াছি = আমি ঘটনা চাক্ষুষ দেখিয়াছি/ আমি ঘটনা প্রত্যক্ষ করিয়াছি।
শশীভূষন কি আসে নাই = শশিভূষণ কি আসে নাই?
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৮৩৩.
'নেহাল অঙ্কে খুব কাঁচা।' বাক্যে অঙ্কে কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• 'নেহাল অঙ্কে খুব কাঁচা।' বাক্যে 'অঙ্কে' অধিকরণ কারক।

• কারক:

- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।
• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত'-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- ছেলেটি অঙ্কে কাঁচা অধিকরণ কারকে ৭মী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,৮৩৪.
'ঐ দেখা যায় তালগাছ ঐ আমাদের গাঁ।' - বাক্যে 'তালগাছ' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্তায় কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্মকারক
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার:
১) মুখ্য কর্ম,
২) গৌণ কর্ম।

প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও।
- শুক্রবার স্কুল বন্ধ।
- ঐ দেখা যায় তালগাছ ঐ আমাদের গাঁ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,৮৩৫.
কোন চিহ্নকে পূর্ণচ্ছেদ বলা হয়?
  1. কোলন
  2. কমা
  3. দাঁড়ি
  4. সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
- বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়।
- দাঁড়ি কে আবার পূর্ণচ্ছেদ বলা হয়।
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে ।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৫,৮৩৬.
নিচের কোন শব্দটি শুদ্ধ?
  1. ক) শূণ্য
  2. খ) ত্রিভুজ
  3. গ) ভূবন
  4. ঘ) পূণ্য
ব্যাখ্যা
- শুদ্ধ বানানটি হলো 'ত্রিভুজ'
- ত্রিভুজ সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
- 'ত্রিভুজ' অর্থ তিনটি সরলরেখা-পরিবেষ্টিত ক্ষেত্র।

অন্যান্য শব্দের শুদ্ধরূপ:
- ভুবন, 
- শূন্য, 
- পুণ্য। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ও অভিগম্য অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,৮৩৭.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. প্রতিনিধিত্ব
  2. প্রতিপত্ত্বিশীল
  3. প্রতিনিবৃত্ত 
  4. প্রতিদ্বন্দ্বী
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান: প্রতিপত্ত্বিশীল।

• শুদ্ধরূপ: প্রতিপত্তিশীল।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: (প্রতিপত্তি + √শীল্ + অ),
- যার অর্থ: প্রভাব বা প্রতিপত্তি আছে এমন।

অপশনে প্রদত্ত প্রতিনিধিত্ব, প্রতিনিবৃত্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বী শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৮৩৮.
"পরিবর্তনকে স্বাগত জানাতে অনেক ব্যক্তিরাই সহজেই রাজি হয়না।"- এখানে কী ধরনের ভুল ঘটেছে?
  1. বানান ও প্রত্যয়ের
  2. অর্থ ও প্রত্যয়ের
  3. বানান ও বচনের
  4. অর্থ ও বচনের
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) বানান ও বচনের।

ব্যাখ্যা:
বাক্যটি হলো: “সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিরাই চায়না।” এই বাক্যে দুটি প্রধান ভুল রয়েছে: বানান এবং বচন (number) সংক্রান্ত।

 ১. বচনের ভুল:
ভুল: "অনেক ব্যক্তিরাই";
সঠিক: "অনেক ব্যক্তিই"।
কারণ: "অনেক" শব্দটি ইতিমধ্যে বহুবচন বোঝায়। তাই পুনরায় "রা" (বহুবচন চিহ্ন) যোগ করা অনুচিত। এটি দ্বৈত বহুবচনের ভুল।

২. বানানের ভুল:
ভুল: "হয়না"।
সঠিক: "হয় না"।

বাংলা প্রমিত বানানে ক্রিয়াপদের নেতিবাচক রূপে "না" আলাদাভাবে লিখতে হয়।

সঠিক বাক্য: "পরিবর্তনকে স্বাগত জানাতে অনেক ব্যক্তিই সহজেই রাজি হয় না।"

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৮৩৯.
'দেশের সকল শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।' বাক্যটিতে কোন ধরনের অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. বানানের অশুদ্ধি 
  2. উপমার ভুল প্রয়োগ 
  3. বাহুল্য দোষ
  4. গুরুচণ্ডালী দোষ 
ব্যাখ্যা

•  বাহুল্য দোষ:
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যোগ্যতা গুণ হারায়।
যেমন:
অশুদ্ধ বাক্য: দেশের সকল শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
শুদ্ধ বাক্য হবে: 'দেশের সব শিক্ষক এখানে উপস্থিত হয়েছেন' অথবা 'দেশের শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন'।

বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না। দুইবার বহুবচনবাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে বাক্য বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৮৪০.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ঘূর্নায়মান
  2. ভূমিষ্ট
  3. পৌরোহিত্য
  4. মুষিক
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'পৌরোহিত্য' - শুদ্ধ বানান।

• 'পৌরোহিত্য' শব্দের অর্থ:
- পুরোহিতের বৃত্তি।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বানান:
• ঘূর্নায়মান - ঘূর্ণায়মান;
• ভূমিষ্ট - ভূমিষ্ঠ;
• মুষিক - মূষিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৮৪১.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. আকাঙ্ক্ষি
  2. আকাশচুম্বি
  3. চৌধুরি
  4. আকর্ষনীয়
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান: চৌধুরি (বিশেষ্য পদ),
- এটি হিন্দি শব্দ।
অর্থ:
- পদবিবিশেষ।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• শুদ্ধ: আকাঙ্ক্ষী।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- আকাঙ্ক্ষা করে এমন,
- অভিলাষী।

• শুদ্ধ: আকাশচুম্বী (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- গগনস্পর্শী,
- অত্যন্ত উঁচু।

• শুদ্ধ: আকর্ষণীয় (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- আকর্ষন করার যোগ্য,
- প্রীতিকর,
- মনোহর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৮৪২.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. ধর্মের কথা বাতাসে নড়ে
  2. এখানে সরিষার খাঁটি তেল পাওয়া যায়
  3. খাল কেটে সাপ আনা
  4. বিরাট গরু-ছাগলের হাট
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) এখানে সরিষার খাঁটি তেল পাওয়া যায়।

ব্যাখ্যা:
ক) "ধর্মের কথা বাতাসে নড়ে":
শুদ্ধ প্রবাদটি হলো "ধর্মের কল বাতাসে নড়ে"। "কথা" শব্দটি এখানে অপ্রাসঙ্গিক।

খ) "এখানে সরিষার খাঁটি তেল পাওয়া যায়": এটি একটি প্রমিত বাক্য।

গ) "খাল কেটে সাপ আনা":
শুদ্ধ প্রবাদটি হলো "খাল কেটে কুমির আনা" (অপ্রত্যাশিত সমস্যা ডেকে আনা)। "সাপ" শব্দটি এখানে ভুল।

ঘ) "বিরাট গরু-ছাগলের হাট": অশুদ্ধ। সঠিক প্রবাদটি হলো - "গরু-ছাগলের বিরাট হাট"।

প্রবাদগত ভুল: ক, গ, ও ঘ-তে প্রবাদের শব্দচয়ন বা অর্থ বিকৃত হয়েছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
 
৫,৮৪৩.
শুদ্ধ শব্দ কোনটি?
  1. ক) যোগীনি
  2. খ) মালীনি
  3. গ) মহীয়সী
  4. ঘ) মুরগী
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ শব্দ = মহীয়সী 

অন্যান্য অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ- 
যোগিনী (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √যুজ্‌+ইন্‌+ঈ 
অর্থ: 
- তপস্বিনী
- মায়াবিদ্যায় নিপুনা নারী 

মালিনী (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মালা+ইন্‌+ঈ
অর্থ:
- মালা গাঁথা বা ফুলের যোগান দেওয়া যে নারীর পেশা। 
- সংস্কৃত ছন্দবিশেষ। 

মুরগি (বিশেষ্য) 
- ফারসি শব্দ 
অর্থ: মেদহীন মাংস ও ডিমের উৎসরূপে পৃথিবীর প্রায় সকল দেশে বানিজ্যিক পণ্যরূপে পালন করা হয় এমনবিভিন্ন রঙের পালকাবৃত স্থলচর পাখি, কুক্কুট, কুক্কুটী। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,৮৪৪.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অন্যমনষ্ক
  2. মুহুর্মূহু
  3. পূণ্য
  4. অন্তঃসত্ত্বা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'অন্তঃসত্ত্বা' — শুদ্ধ বানান। 
- "অন্তঃসত্ত্বা" অর্থ = গর্ভবতী।

অন্যদিকে অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• 'মুহুর্মূহু' এর শুদ্ধ বানান - মুহুর্মুহু; 
• 'পূণ্য' এর শুদ্ধ বানান - পুণ্য;
• 'অন্যমনষ্ক' এর শুদ্ধ বানান - অন্যমনস্ক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৮৪৫.
'জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরছে।' - বাক্যে ' নদী থেকে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. করণ
  3. অপাদান
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।

যেমন:
অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: ট্রেনটি ঢাকা ছাড়ল।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
তৃতীয়া বিভক্তি: তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
পঞ্চমী বিভক্তি: জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরছে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: বাঘের ভয়ে সকলে ভীত।
সপ্তমী বিভক্তি: দুধে দই হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৫,৮৪৬.
“এবার আমার একটি বিচিত্র অভিজ্ঞতা হলাে” - এ বাক্য কোন ধরনের?
  1. অনুজ্ঞাবাচক
  2. নির্দেশাত্মক
  3. বিস্ময়বোধক
  4. প্রশ্নবোধক
ব্যাখ্যা
• বর্ণনা বা বিবরণমূলক বা বিবৃতিমূলক বা নির্দেশাত্মক বাক্য:
- যে বাক্যের সাহায্যে কোনো কিছু বর্ণনা বা বিবৃত করা হয়, সে বাক্যকে বলা হয় বর্ণনা বা বিবরণমূলক বা বিবৃতিমূলক বা নির্দেশাত্মক বাক্য।
- আবার এভাবেও বলা যায়, যে বাক্যে কোনো ঘটনার ভাব বা তথ্য থাকে এবং সেই বক্তব্যকে সাধারণভাবে বিবৃত বা নির্দেশ করা হয় তাকে বর্ণনাত্মক বা নির্দেশাত্মক বাক্য বলে।
যেমন:
- পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।
- লোকটি প্রতিদিন পুকুরে সাতার কাটে।
- সে কবিতা লিখছে ইত্যাদি।

প্রদত্ত বাক্য "এবার আমার একটি বিচিত্র অভিজ্ঞতা হলাে" যেকোনো একটি ঘটনার বর্ণনা সাধারণভাবে দেয়া হচ্ছে। সুতরাং, এটি একটি বর্ণনাত্মক বা নির্দেশাত্মক বাক্য।

• বর্ণনাত্মক বা নির্দেশাত্মক বাক্যকে আবার অস্তিবাচক বা হ্যাঁসূচক বাক্য ও নেতিবাচক বা না-সূচক বাক্য এ দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১. অস্তিবাচক বাক্য:
যে বাক্য দ্বারা কোনো কিছুর বর্ণনায় ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়, সে বাক্যকে বলা হয় অস্তিবাচক বাক্য।
যেমন:
- আমি প্রত্যদিন সকালে হাটি।
- ছাত্ররা নিয়মিত লেখাপড়া করে।
- ভালো লোক ভালো কাজের পরামর্শ দেন।

২. নেতিবাচক বাক্য:
যে বাক্যের সাহায্যে কোন কিছুর নেতিবাচক বর্ণনা দেয়া হয়, তাকে বলা হয় নেতিবাচক বাক্য।
যেমন:
- সে এখন আর গান গায় না।
- ছেলেটির অসুখ এখনও ভালো হয়নি।
- তিনি এবার গ্রামে যাবেন না ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৮৪৭.
কোন বানানটি ভুল?
  1. স্টেশন
  2. রেজিস্ট্রি
  3. কোরান
  4. ষ্টোর
ব্যাখ্যা
• 'ষ্টোর' শব্দটি অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধরূপ হল: স্টোর।
- ষত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশী শব্দের বানানে 'স' হয়।

অন্যদিকে,
- স্টেশন: ষত্ব- বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশী শব্দের বানানে 'স' হয়। তাই বানানটি শুদ্ধ।
- রেজিস্ট্রি: ষত্ব- বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশী শব্দের বানানে 'স' হয়। তাই বানানটি শুদ্ধ।
- কোরান: ণত্ব- বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশী শব্দের বানানে ণ' হয় না। তাই 'ন' হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৮৪৮.
যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা তার বেশি বাক্যের সমন্বয় বোঝাতে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ড্যাস চিহ্ন
  2. কোলন ড্যাস
  3. কমা
  4. কোলন
ব্যাখ্যা

ড্যাস চিহ্ন(__):
- যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা তার বেশি বাক্যের সমন্বয় বা সংযোগ বোঝাতে ড্যাস চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- তোমরা দরিদ্রের উপকার কর– এতে তোমাদের সম্মান যাবে না – বাড়বে।

অন্যদিকে,
সেমিকোলন (;): - স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বৰ্গকে পাশাপাশি সাজাতে
কোলন(:): - একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে অন্য একটি বাক্যের অবতারণা করতে হলে কোলন ব্যবহৃত হয়।
কোলন ড্যাস (:-): - উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাস চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৮৪৯.
'যদি তারে নাই চিনি গো, সে কি আমায় নেবে চিনে।'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. সংযুক্ত বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা

'যদি তারে নাই চিনি গো, সে কি আমায় নেবে চিনে'- এটি জটিল বাক্য। 
---------------------------------------- 
• জটিল বাক্য:
- একটি প্রধান বাক্যের সঙ্গে অধীনস্থ এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারণভাবে বা কোনো অনুসর্গী সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

- জটিল বাক্য গঠনের নিয়ম:
• জটিল বাক্য গঠিত হয় প্রধান বা স্বাধীন বাক্য এবং এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য এর সংযোগে।
• আশ্রিত বাক্য সাধারণত ‘যে’, ‘যিনি’, ‘যা’, ‘যখন’, ‘যেখানে’, ‘যদি’, ‘কারণ’ ইত্যাদি সংযোজক অব্যয় বা আপেক্ষিক সর্বনাম দ্বারা যুক্ত থাকে।
• আশ্রিত বাক্য প্রধান বাক্যের সাহায্য ছাড়া পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে সক্ষম নয়।
• জটিল বাক্যে প্রধান বাক্য ও আশ্রিত বাক্য পরস্পরের ওপর নির্ভরশীলভাবে ব্যবহার হয়।
 
- যেমন- “যদি তারে নাই চিনি গো, সে কি আমায় নেবে চিনে।”

• এখানে একটি স্বাধীন বাক্য এবং একটি নির্ভরশীল বাক্য আছে।
- প্রধান (Independent) বাক্য: “সে কি আমায় নেবে চিনে।”
- এটি স্বাধীনভাবে পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করছে।

• আশ্রিত/নির্ভরশীল (Dependent) বাক্য: “যদি তারে নাই চিনি গো”।
- এটি একাই পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না, তাই  প্রধান বাক্যের সাহায্য প্রয়োজন।

• সংযোগকারী: “যদি” → এটি আপেক্ষিক অব্যয়, যা প্রধান বাক্যের সঙ্গে আশ্রিত বাক্যকে যুক্ত করেছে।
----------------------------------
- মিশ্র বা জটিল বাক্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ তুলে ধরা হলো :
• যে পরিশ্রম করে, সেই সফলতা লাভ করে।
• যে ব্যক্তির মাথায় বুদ্ধি নেই, সে পরের সমালোচনায় উদ্ধত হয়।
• সবাই জানেন যে, কালো টাকার মালিকগণ সুখী হন না।
• লেখাপড়া বিষয়ে তার যে গভীর অনুরাগ ছিল, একথা বলা যায় না।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৫,৮৫০.
নিচের কোনটি ভুল বানান?
  1. ঊর্ধ্ব
  2. কার্তিক
  3. মূর্চ্ছা
  4. বার্ধক্য
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
- রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন:
অর্জ্জন, উর্দ্ধ, কর্ম্ম, কার্ত্তিক, কার্য্য, বার্দ্ধক্য, মূর্চ্ছা, সূর্য্য ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন, ঊর্ধ্ব, কর্ম, কার্তিক, কার্য, বার্ধক্য, মূর্ছা, সূর্য ইত্যাদি হবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

৫,৮৫১.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়।
  2. পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।
  3. নিরাপরাধী লোক কাউকে ভয় করে না।
  4. আমি অপমান হয়েছি।
ব্যাখ্যা
• "পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।" বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়।
- শুদ্ধ: দৈন্য প্রশংসনীয় নয়।

- অশুদ্ধ: নিরাপরাধী লোক কাউকে ভয় করে না।
- শুদ্ধ: নিরাপরাধ লোক কাউকে ভয় করে না।

- অশুদ্ধ: আমি অপমান হয়েছি।
- শুদ্ধ: আমি অপমানিত হয়েছি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৮৫২.
ধাতুর সঙ্গে কী যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়?
  1. প্রত্যয় 
  2. বিভক্তি 
  3. ক্রিয়ামূল
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা

• বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব -শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।

বিভক্তি দুই প্রকার:
১. ক্রিয়া-বিভক্তি ও
২. কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

• ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- পড়ু + ই = পড়ি,
- পড়ু + এ = পড়ে,
- পড়ছে পড়ছে,
- পড়বে পড়বে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১- সংস্করণ)।

৫,৮৫৩.
হাইফেন এর ক্ষেত্রে কোনটি শুদ্ধ?
  1. সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখানোর জন্য হাইফেনের ব্যবহার হয়।
  2. শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে হাইফেনের ব্যবহার হয়।
  3. যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা তার বেশি বাক্যের সমন্বয় বা সংযোগ বোঝাতে হাইফেনের ব্যবহার হয়।
  4. ক্রম নির্দেশের কাজে হাইফেনের ব্যবহার হয়।
ব্যাখ্যা
• হাইফেন এর ক্ষেত্রে শুদ্ধ - সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখানোর জন্য হাইফেনের ব্যবহার হয়

যতিচিহ্ন:
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

হাইফেন বা সংযোগ চিহ্ন (-):
সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখানোর জন্য হাইফেনের ব্যবহার হয়।
যেমন -
→ এ আমাদের শ্রদ্ধা-অভিনন্দন, আমাদের প্রীতি-উপহার।

অন্যদিকে,
• কমা ব্যবহৃত হয় - শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে।
• ড্যাস ব্যবহৃত হয় - যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা তার বেশি বাক্যের সমন্বয় বা সংযোগ বোঝাতে।
• বিন্দু ব্যবহৃত হয় - ক্রম নির্দেশের কাজে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৫,৮৫৪.
‘এই রাস্তা আমার চেনা নেই।’ কাব্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।
 
ভাববাচ্যের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
• ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না।
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে।
 
• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন:
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
 
• মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ।
৫,৮৫৫.
ফরিদা বলল, “বা”! ফুলটি খুব সুন্দর।” বাক্যের পরোক্ষ উক্তি কী?
  1. ক) ফরিদা বলল যে, ফুলটি খুব সুন্দর।
  2. খ) ফরিদা হেসে হেসে বলল যে, ফুলটি খুব সুন্দর।
  3. গ) ফরিদা উৎফুল্ল হয়ে বলল যে, ফুলটি খুব সুন্দর।
  4. ঘ) ফরিদা আনন্দের সঙ্গে বলল যে, ফুলটি খুব সুন্দর।
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত বাক্যের পরোক্ষ উক্তি হচ্ছে ফরিদা আনন্দের সঙ্গে বলল যে, ফুলটি খুব সুন্দর

• আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তিত করার সময় নিম্নলিখিত বাগ্ভঙ্গি ব্যবহার করতে হবে।
টেকনিক: আনন্দের সঙ্গে/আক্ষেপের সঙ্গে/দুঃখের সঙ্গে/বিরক্তির সঙ্গে/বিস্ময়ের সঙ্গে + বলল/বললেন/বললাম + যে...
প্রত্যক্ষ উক্তি: ফরিদা বলল, “বা”! ফুলটি খুব সুন্দর।”
পরোক্ষ উক্তি: ফরিদা আনন্দের সঙ্গে বলল যে, ফুলটি খুব সুন্দর।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৫,৮৫৬.
'মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।'- এখানে 'মেঘ' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:

• বিচ্যুত:
গাছ থেকে পাতা পড়ে।
মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
[কিসের থেকে বৃষ্টি পড়ে? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মেঘ থেকে'। সুতরাং  'মেঘ' অপাদান কারক।] 

• গৃহীত:
সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
দুধ থেকে দই হয়।

• জাত:
জমি থেকে ফসল পাই।
খেজুর রসে গুড় হয়।

• বিরত: পাপে বিরত হও।

• দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
• রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
• আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
• ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?
• নিক্ষেপ: বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছে।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫,৮৫৭.
"ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে” বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলো কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে সপ্তমী
  2. কর্মে শূন্য
  3. করণে শূন্য
  4. কর্মে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে” বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলো করণ কারকে সপ্তমী।
--------------------------------
• করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:

• প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি :
- ছাত্ররা বল খেলে।

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

• সপ্তমী বিভক্তি বা এ বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।

উল্লেখ্য,
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গযুক্ত হয়।
যেমন
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
৫,৮৫৮.
সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে? 
  1. নিরভিমান 
  2. অর্ধরাত্র
  3. নিরপরাধী
  4. অহর্নিশ 
ব্যাখ্যা

সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে 'নিরপরাধী' শব্দে।
- শুদ্ধ রূপ- নিরপরাধ।
--------------------------
• সমাস-ঘটিত শুদ্ধি ও অশুদ্ধি:

- শুদ্ধ – অশুদ্ধ
- নিরভিমান - নিরভিমানী,
- অর্ধরাত্র - অর্ধরাত্রি,
- অহর্নিশ - অহর্নিশি,
- অহোরাত্র -  অহোরাত্রি,
- দিবারাত্র - দিবারাত্রি,
- নিরহঙ্কার - নিরহঙ্কারী,
- নির্দোষ - নির্দোষী,
- ভ্রাতৃবৃন্দ - ভ্রাতাবৃন্দ,
- মহিমমণ্ডিত - মহিমামণ্ডিত,
- মাতৃজাতি - মাতাজাতি,
- নির্ধন - নির্ধনী,  
- নীরোগ - নীরোগী,
- যুবরাজ - যুবরাজা,
- রাজগণ - রাজাগণ,
- সুবুদ্ধি - সুবুদ্ধিমান। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৫,৮৫৯.
নিচের কোন বানানগুচ্ছের সবগুলো বানান শুদ্ধ?
  1. ক) ভগ্নস্তূপ, লবণ, সূর্য্য
  2. খ) অনূর্বর, ঊর্ধবগামী, ভৌগলিক
  3. গ) রামায়ণ, পরায়ণ, পলায়ন
  4. ঘ) নিক্কন, সূচ্যগ্র, অনুর্ধব
ব্যাখ্যা
রামায়ণ, পরায়ণ, পলায়ন গুচ্ছটি সঠিক বানান।

• সূর্য্য এর সঠিক বানান - সূর্য 
•  অনূর্বর, ঊর্ধবগামী, ভৌগলিক শব্দ গুচ্ছের সঠিক বানান - অনূর্বর ,ঊর্ধ্বগামী, ভৌগোলিক
•  নিক্কন, অনুর্ধব এর শুদ্ধ বানান - নিক্বণ, অনূর্ধ্ব ।

উৎস: বাংলা একাডেমি - আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৮৬০.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. চক্ষুস্মান
  2. চক্ষশ্মান
  3. চক্ষুষ্মান
  4. চক্ষুষ্মাণ
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - ‘চক্ষুষ্মান’।
--------------------------------------------------
‘চক্ষুষ্মান’ - শব্দটির সঠিক উচ্চারণ- চোক্খুশমান।

শব্দের অর্থ, ,
- চোখ আছে এমন; তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন।
- সত্যদ্রষ্টা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৮৬১.
কোনটি করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ?
  1. বনে বাঘ আছে।
  2. তারা বল খেলে।
  3. শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
  4. আমার যাওয়া হয়নি।
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’ ,’দিয়া’ , ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনসুর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ কর।
- শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়। করণে ৭মী বিভক্তি।

• শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়। - বাক্যে ক্রিয়াকে 'কী উপায়ে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গোঁফে'। এবং 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।
তাই, এখানে 'গোঁফে' করণকারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- বনে বাঘ আছে। - অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।
- তারা বল খেলে। - করণ কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।
- আমার যাওয়া হয়নি। - কর্তৃকারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৬২.
ব্যক্তিগত পত্রের প্রধান অংশ কয়টি?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
• সাধারণত একটি ব্যক্তিগত পত্রে ছয়টি অংশ বিদ্যমান থাকে। যথা:
১. মঙ্গলসূচক শব্দ।
২. স্থান ও তারিখ।
৩. সম্বোধন ও সম্ভাষণ।
৪. চিঠির বক্তব্য।
৫. লেখকের স্বাক্ষর, বিদায় সম্ভাষণ।
৬. শিরোনাম- প্রেরক ও প্রাপকের নাম ঠিকানা।

• একটি পত্রের প্রধান অংশ দুইটি। যথা:
১. বাইরের অংশ বা শিরোনাম ও
২. ভেতরের অংশ বা পত্রগর্ভ।

শিরোনাম: পত্রের খাম বা পোস্টকার্ডে প্রেরক ( যিনি চিঠি লিখেন ) ও প্রাপকের ( যার উদ্দেশ্য চিঠি লেখা হয় ) নাম ও ঠিকানা লেখা হয়। একেই শিরোনাম বলা হয়। পোস্টকার্ড বা খামের বাম দিকে থাকে প্রেরকের নাম ও ঠিকানা আর ডানদিকে থাকে প্রাপকের নাম ও ঠিকানা।

পত্রগর্ভ: একটি পত্রের বিষয় অনুসারে কয়েকটি ভাগ থাকে।
যেমন: 
১. পত্রের উপরে ডান দিকে প্রেরকের ঠিকানা লিখতে হয়।
- ঠিকানার নিচে পত্র লেখার তারিখ লিখতে হয়।
২. পত্রের উপরে বাম দিকে প্রাপকের প্রতি সম্ভাষণ থাকে।
- বয়স ও সম্পর্ক অনুযায়ী সম্ভাষণের ভাষায় পার্থক্য থাকে।
- গুরুজনদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধেয় আব্বা, শ্রদ্ধেয় খালা, শ্রদ্ধাভাজনীয়াষু মা ইত্যাদি লেখা হয়।
- সমবয়সী বন্ধুদের প্রতি প্রিয় পাভেল, প্রীতিভাজনেষু, প্রীতিভাজনাষু, বন্ধুবরেষু ইত্যাদি লেখা হয়।

অভিসম্বন্ধ: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ড. হায়াৎ মামুদ ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৮৬৩.
‘আপন পাঠেতে মন করহ নিবেশ।’- বাক্যে ‘পাঠেতে’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
  5. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সমাপদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।
 
অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।
- সারারাত বৃষ্টি ছিলো।
 
• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ঔষধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।
 
প্রশ্নে প্রদত্ত,
- আপন পাঠেতে মন করহ নিবেশ।
[বাক্যকে কোন বিষয়ে মন নিবেশ কর? দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া ‘পাঠেতে’। সুতরাং ‘পাঠেতে’ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভিক্তি।]
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৬৪.
নিচের কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. তাপদাহ
  2. দাবদাহ
  3. তাপপ্রবাহ
  4. তাপমান
ব্যাখ্যা
• ‘তাপদাহ’ শব্দটি অশুদ্ধ প্রয়োগ।
- তাপ ও দাহ শব্দ দুইটি আলাদা ভাবে লিখতে হবে।

অন্যদিকে,
• দাবদাহ (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- দাবানলের তাপ,
- প্রবল জ্বালা।

• তাপপ্রবাহ (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- প্রচণ্ড উত্তাপ,
- উষ্ণতার স্রোত।

• তাপমান (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- উষ্ণকার মাত্রা,
- উষ্ণতার পরিমাপক,
- থার্মোমিটার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৮৬৫.
কর্মকর্তৃবাচ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়ান।
  2. আমাকে এখন যেতে হবে।
  3. সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।
  4. এপথে চলা যায় না।
ব্যাখ্যা
• কর্মকর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলা হয়।
যেমন -
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

অন্যদিকে,
• ভাববাচ্য:
- এ পথে চলা যায় না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।

• কর্তৃবাচ্য: শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়ান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৮৬৬.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. ক) ঘটনা বর্ণনা হয়েছে
  2. খ) বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে
  3. গ) তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে
  4. ঘ) আমি অপমানিত হয়েছি
ব্যাখ্যা

• প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে ঘটনা বর্ণনা হয়েছে বাক্যটি অশুদ্ধ। এটি বাচ্যজনিত ভুল।
- এর শুদ্ধরূপ বাক্য হচ্ছে ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শুদ্ধ বাক্য হল:
- বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।
- তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
- আমি অপমানিত হয়েছি।
- এ কথা প্রমাণিত হয়েছি।
- যুক্তি খণ্ডিত হয়েছে, তবে মুক্তি মেলেনি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৮৬৭.
"ভুলোক দুলোক গোলোক ছাড়িয়া।" - পঙক্তিটি  কোন অলঙ্কার দ্বারা গঠিত?
  1. গুচ্ছানুপ্রাস
  2. অন্ত্যানুপ্রাস
  3. ছেকানুপ্রাস
  4. সরল অনুপ্রাস 
ব্যাখ্যা

"ভুলোক দুলোক গোলোক ছাড়িয়া।" - পঙক্তিটি  গুচ্ছানুপ্রাস অলঙ্কার দ্বারা গঠিত। 
-----------------------------------------
• অলঙ্কার:
- কাব্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য যা দ্বারা কাব্যকে সাজানো হয়, তাই অলঙ্কার।
- অলঙ্কারকে ধ্বনি ও অর্থগতভাবে ২ভাবে ভাগ করা যায়:
• শব্দালঙ্কার;
• অর্থালঙ্কার। 

• শব্দালঙ্কারকে আবার ৪ভাবে ভাগ করা যায়:
- অনুপ্রাস;
- যমক;
- শ্লেষ;
- বক্রোক্তি। 
----------------------------------
অনুপ্রাস:
- একই রকম বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বারবার ব্যবহৃত হয়ে যে শব্দসাম্য সৃষ্টি করে তাকে অনুপ্রাস বলে।
- অনুপ্রাস অলংকার সাধারণত বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধ্বনিগত অলংকার, যার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো একটি নির্দিষ্ট ব্যঞ্জনবর্ণ বা বর্ণগুচ্ছের বারবার পুনরাবৃত্তি, যা কবিতার বা গদ্যের শ্রুতিমাধুর্য এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
- যেমন:
- চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা" - এখানে 'অন্ধকার' এবং 'নিশা' শব্দ দুটির মধ্যে একই ধরনের ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছের ('ন' ধ্বনি) পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে শব্দের মধ্যে এক ধরনের মাধুর্য সৃষ্টি হয়েছে, যা অনুপ্রাস অলংকারের বৈশিষ্ট্য।

• প্রয়োগের ধরন অনুযায়ী অনুপ্রাস বিভিন্ন প্রকারের হয়, যেমন: গুচ্ছানুপ্রাস। 

গুচ্ছানুপ্রাস:
- ব্যঞ্জনবর্ণের গুচ্ছ বা একাধিক ব্যঞ্জনবর্ণ একই ক্রমে অনুক্রমবার ধ্বনিত হলে।
- যেমন :
 ক. ভুলোক দুলোক গোলোক ছাড়িয়া।
 খ. না মানে শাসন ব্যসন অশন আসন যত।
------------------------------------ 
• অনুপ্রাসের কিছু প্রকারভেদ- 

অন্ত্যানুপ্রাস: 
- কবিতার এক চরণের শেষে যে শব্দ ধ্বনি থাকে অন্য চরণের শেষে তার পুনরাবৃত্তি হলে।
- যেমন :
ক. সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,
খ. সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি।

ছেকানুপ্রাস:
- দুই বা ততোধিক ব্যঞ্জনধ্বনি সংযুক্ত বা বিযুক্ত অবস্থায় ক্রমানুসারে দুবার আবৃত্ত হলে।
- যেমন :
ক. ওরে বিজয় ওরে বিজয় মোর।
খ. এখনি অমন বন্ধ করো না পাখা।

 • সরল অনুপ্রাস: 
- একটি বা দুটি বর্ণ একাধিকবার ধ্বনিত হলে সরল অনুপ্রাস।
- যেমন :
ক. কানে কুসুম কলি সকলি ফুটিল।
খ. কেতকী কেশরে কেশপাশ কর সুরভি।

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৫,৮৬৮.
বিবৃতিমূলক বাক্য কোনটি?
  1. বাহ্‌! অনেক সুন্দর লাগছে প্রাকৃতিক দৃশ্য।
  2. আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
  3. আমাকে একটি কলম দাও।
  4. সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
ব্যাখ্যা
বিবৃতিমূলক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন:
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।

অন্যদিকে,
প্রশ্নবোধক বাক্য - সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য - আমাকে একটি কলম দাও।
আবেগসূচক বাক্য - বাহ্‌! অনেক সুন্দর লাগছে প্রাকৃতিক দৃশ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,৮৬৯.
কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. আমি এখন ভীষণ ব্যস্ত।
  2. শুধু গায়ের জোরে কাজ হয় না।
  3. শ্মশান ঘাট কোথায়?
  4. সে শৈশবেই মাতা-বাপ হারিয়েছে।
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বাক্য: সে শৈশবেই মাতা-বাপ হারিয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: সে শৈশবেই মা-বাপ হারিয়েছে।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ বাক্য: আমি এখন ভীষণ ব্যস্ত।
শুদ্ধ বাক্য: শুধু গায়ের জোরে কাজ হয় না।
শুদ্ধ বাক্য: শ্মশান ঘাট কোথায়?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৮৭০.
কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. চিকীর্ষা
  2. চকুস্মান
  3. মুমূর্ষু
  4. রুক্ষ
ব্যাখ্যা

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম: 
তৎসম শব্দে 'ক', 'র'- এর পরে সাধারণত 'দন্ত্য-স' বসে না, মূর্ষণ্য- ষ বসে।  
যেমন,
ক- এর পর: চক্ষু (ক্ষ= ক্‌ + ষ), চক্ষুষ্মান, রুক্ষ, ভিক্ষুক, ভিক্ষা।
র- এর পরে: মুমূর্ষু, চিকীর্ষা। 

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী,
'চকুস্মান' অশুদ্ধ, এর শুদ্ধ বানান হবে- 'চক্ষুষ্মান'। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।

৫,৮৭১.
নিচের কোন শব্দে সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. দিবারাত্র
  2. নীরোগী
  3. নিরহঙ্কার
  4. অহর্নিশ
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে ‘নীরোগী’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: নীরোগ।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার= নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৮৭২.
উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত বোঝাতে, কোন বিরামচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. সেমিকোলন
  2. কোলন
  3. ড্যাস
  4. ত্রিবিন্দু
ব্যাখ্যা

কোলন (:)
বাক্যে নানা কারণে কোলনচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
১. উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত বোঝাতে: বাংলা সন্ধি দু প্রকার: স্বরসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধি।

২. উদ্ধৃতির আগে: রবীন্দ্রনাথ বলেছেন: “মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে।"

৩. নাটকের সংলাপের আগে:

দুকড়ি: কী চাই?
কাঙালি: আজ্ঞে, মহাশয় হচ্ছেন দেশহিতৈষী।
দুকড়ি : তা তো সকলেই জানে কিন্তু আসল ব্যাপারটা কী?
কাঙালি: আপনি সাধারণের হিতের জন্য প্রাণপণ-

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৫,৮৭৩.
সঠিক উত্তর চিহ্নিত করুন।
'রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সমাজের নানা রকম অন্ধতা, গোঁড়ামি ও কুসংস্কারকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে গেছেন'
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।

যেম
- সে রোজ সকালে এক কাপ চা পান করে।
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সমাজের নানা রকম অন্ধতা, গোঁড়ামি, ও কুসংস্কারকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে গেছেন।

• বাক্যে ক্রিয়াকে 'কী' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা কর্ম কারক।
- এখানে, 'রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সমাজের' 'কী' 'সমালোচনা করে গেছেন?' এখানে উত্তর পাওয়া যায় 'নানা রকম অন্ধতা, গোঁড়ামি ও কুসংস্কারকে' 
- অর্থাৎ বাক্যে 'নানা রকম অন্ধতা, গোঁড়ামি ও কুসংস্কারক' কর্মকারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, (২০২১ সালের সংস্করণ)।

৫,৮৭৪.
ভিক্ষুকদেরকে ভিক্ষা দাও বাক্যটিতে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) প্রত্যয় জনিত
  2. খ) বিভক্তি জনিত
  3. গ) সন্ধি জনিত
  4. ঘ) পদ বিন্যাস জনিত
ব্যাখ্যা
ভিক্ষুককে(একবচন) / ভিক্ষুকদের(বহুবচন) ভিক্ষা দাও। একবচন হলে বিভক্তি রুপে যুক্ত হতো ‘কে’, বহুবচনে ‘দের’।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৮৭৫.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) অভ্যন্তরীন
  2. খ) অভ্যন্তরীণ
  3. গ) আভ্যন্তরীণ
  4. ঘ) আভ্যন্তরীন
ব্যাখ্যা
অভ্যন্তরীণ (অভ্যন্তর + ঈন):
১. মধ্যবর্তী
২. অভ্যন্তরে আছে এমন, ভেতরের
৩. মানসিক

উৎসঃ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৮৭৬.
'পাগলে কিনা বলে' - বাক্যে 'পাগলে' কোন কারকে কোন বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
  2. খ) কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি
  3. গ) কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তি
  4. ঘ) করণকারকে তৃতীয়া বিভক্তি
ব্যাখ্যা
'পাগলে কিনা বলে' - বাক্যে কর্তৃকারকে/কর্তাকারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 

কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ- 
- পাখি সব করে রব = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির
- আমার দ্বারা এ কাজ হবে না সাধন = কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তির 
- পাছে লােকে কিছু বলে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির
- ঘােড়ায় গাড়ি টানে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির 
- মানুষ ভাবে এক হয় আর এক = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির
- সবাইকে একদিন মরতে হবে = কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তির। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৮৭৭.
জটিল বাক্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) যারা মাতৃভাষার মূল্য দেয় না, তারা মায়ের মূল্য দিতে জানে না।
  2. খ) তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
  3. গ) তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।
  4. ঘ) আমরা তিন ভাইবোন ঘুরতে বের হলাম।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যারা মাতৃভাষার মূল্য দেয় না, তারা মায়ের মূল্য দিতে জানে না।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

অন্যান্য অপশন:
'তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।'- সরল বাক্য।
'তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।'- সরল বাক্য।
'আমরা তিন ভাইবোন ঘুরতে বের হলাম।'- সরল বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৫,৮৭৮.
‘যতই পরিশ্রম করবে, ততই ফল পাবে’ -এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. প্রশ্নবোধক
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
- একটি প্রধান বাক্যের সাথে এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারণভাবে বা কোন অনুগামি সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যেমন: 
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যতই পরিশ্রম করবে, ততই ফল পাবে।

অন্যদিকে: 
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য:
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৮৭৯.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) তিনি স্বস্ত্রীক বেড়াতে গেছেন
  2. খ) বিদ্যান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়
  3. গ) আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নাই
  4. ঘ) কোনো বাক্যই শুদ্ধ নয়
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপ- 
- তিনি সস্ত্রীক বেড়াতে গেছেন 
- বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।
- আমার আর বাঁচিবার সাধ নাই।
৫,৮৮০.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ব্যাথা
  2. ব্যতিক্রম
  3. বুৎপত্তি
  4. বৈয়াকরণিক
  5. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: ব্যতিক্রম। 
- বিশেষ্য পদ, 
- সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- ব্যত্যয়;
- নিয়ম-কানুনের অন্যথা। 
- কোনো কিছুর বৈপরীত্য। 

বিশেষণ অপদ হিসেবে অর্থ-
- ব্যতিক্রমবিশিষ্ট। 
-  ব্যতিক্রম বা লঙ্ঘন করা হয়েছে এমন। 

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• ব্যাথা - ব্যথা। 
• বুৎপত্তি - ব্যুৎপত্তি। 
• বৈয়াকরণিক - বৈয়াকরণ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৮৮১.
'যে ভিক্ষা চায় তাকে দান কর' এটি কোন বাক্যের উদাহরন?
  1. ক) যৌগিক বাক্য
  2. খ) খন্ড বাক্য
  3. গ) সরল বাক্য
  4. ঘ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
জটিল বা মিশ্র বাক্য : যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য ও তাকে আশ্রয় বা অবলম্বন করে একাধিক খণ্ডবাক্য থাকে, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে। জটিল বাক্যে একাধিক খণ্ডবাক্য থাকে। এদের মধ্যে একটি প্রধান থাকে, এবং অন্যগুলো সেই বাক্যের উপর নির্ভর করে। যেমনঃ যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে; যে ভিক্ষা চায় তাকে দান করো।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫,৮৮২.
কোন বানানটি শুদ্ধরূপে লেখা?
  1. তিতীক্ষা
  2. তীতিক্ষা
  3. তিতিক্ষা 
  4. তিতিখা
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান হলো: তিতিক্ষা 
'তিতিক্ষা' শব্দের অর্থ হলো- সহনশীলতা, সহিষ্ণুতা, অপরাধ মার্জনা 

[উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি]
৫,৮৮৩.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ঘুণাক্ষর
  2. ঘুনাক্ষর
  3. ঘূণাক্ষর
  4. ঘূনাক্ষর
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - ঘুণাক্ষর
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: ঘুণপোকা কাঠ বা কাগজ কুরে খাওয়ার ফলে সৃষ্ট অক্ষর সদৃশ ক্ষতচিহ্ন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৮৮৪.
'সকল অহংকার হে আমার ডুবাও চোখের জলে।' এটি একটি-
  1. জটিল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. আশ্রিত বাক্য
ব্যাখ্যা

যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন-
- সকল অহংকার হে আমার ডুবাও চোখের জলে।
- তার বয়স বাড়লেও বুদ্ধি বাড়েনি।
- আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে,
- ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে,
- ভিক্ষুককে দান করো,
- মাংসভোজী পশু অত্যন্ত বলবান ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৮৮৫.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. ক) কি ভয়ানক বিপদ!
  2. খ) কথাটা আমার স্মৃতিপটে অঙ্কিত আছে।
  3. গ) তাহার হৃদয় ক্ষেত্রে জ্ঞানের বীজ উপ্ত হইল।
  4. ঘ) আপনি আগামীকল্য আসিবেন।
  5. ঙ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
বিস্ময়সূচক বাক্যে ‘কী’ হবে।
৫,৮৮৬.
কোন বানানটি ঠিক নয়?
  1. পরিষেবা
  2. মরণ
  3. দরুন
  4. রুগ্ন
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: রুগ্ন।

• শুদ্ধরূপ: রুগ্ণ (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অসুস্থ ও দুর্বল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৮৮৭.
'আমার জ্বর জ্বর লাগছে'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. দ্বিরুক্ত
  2. সরল
  3. মিশ্র
  4. যৌগিক
  5. মৌলিক
ব্যাখ্যা
• গঠন অনুযায়ী বাক্য তিন প্রকার৷
যথা,
- সরল বাক্য,
- মিশ্র/জটিল বাক্য,
এবং যৌগিক বাক্য৷

সরল বাক্য:
বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তোমরা বাড়ি যাও।

একইভাবে, 'আমার জ্বর জ্বর লাগছে' বাক্যটিতে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকায় বাক্যটি সরল বাক্য হবে।
==================

জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা (, ), সেমিকোলন (ঃ), কোলন ( ; ), ড্যাশ ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

অন্যদিকে,
"দ্বিরুক্ত" বাক্যের কোন ধরন/প্রকারভেদ নয়। দ্বিরুক্ত বলতে বুঝায় দুই বার উচ্চারিত হয়েছে এমন শব্দ।
আমার জ্বর জ্বর লাগছে- বাক্যটিতে ‘জ্বর জ্বর’ হলো দ্বিরুক্ত শব্দ। যা সামান্যতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৮৮৮.
ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।- কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন,
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।

৫,৮৮৯.
নিচের ক্ষেত্রে "কমা (,)" ব্যবহার করতে হয়?
  1. বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে
  2. শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে
  3. বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করতে
  4. দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করতে
ব্যাখ্যা

কমা (,):
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
 যেমন:
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত – বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।

অন্যদিকে,
হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে
যেমন:
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

ড্যাশ (–):
- সাধারণত দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে এবং ব্যাখ্যাযোগ্য বাক্যাংশের আগে-পরে ড্যাশ ব্যবহৃত হয়। 
যেমন: 
- বাংলাদেশ দল জয়লাভ করেছে – বিজয়ের আনন্দে দেশের জনগণ উচ্ছ্বসিত। 
- ঐ লোকটি – যিনি গতকাল এসেছিলেন – তিনি আমার মামা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণির (২০২২ সংস্করণ)।

৫,৮৯০.
‘সে আমাকে অঙ্ক শেখাচ্ছে।’ এখানে ‘অঙ্ক‘ কোন কারক?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' দ্বিতীয় বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
- কৃপা করো দীনজনে।
সে আমাকে অঙ্ক শেখাচ্ছে।

অন্যদিকে,
• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।

• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ে। 

• সম্বন্ধ কারক: 
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে - র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 
যেমন:
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৮৯১.
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দেশের কোন জেলা জলমগ্ন হবে?
  1. ক) বরিশাল
  2. খ) সাতক্ষীরা
  3. গ) নোয়াখালী
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দেশের নিম্নভূমি তলিয়ে যাবার আশংকা রয়েছে।
• এক্ষেত্রে সাতক্ষীরা, বরিশালনোয়াখালী জেলা নিম্নাংশসহ উপকূলবর্তী নিম্নভূমি প্লাবিত হতে পারে।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৮৯২.
নিচের কোন বাক্যটি ‘যোগ্যতা’ হারিয়েছে?
  1. ক) বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।
  2. খ) পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।
  3. গ) বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।
  4. ঘ) কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব হবে।
ব্যাখ্যা

বাক্যের একটি অন্যতম গুণ হচ্ছে - যোগ্যতা।
বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা
যেমন - 'বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।'
এটি একটি যোগ্যতা সম্পন্ন বাক্য; কেননা - বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

কিন্তু, 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।' বললে বাক্যটি যোগ্যতা হারাবে। কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।

৫,৮৯৩.
অশুদ্ধ বানান -
  1. স্বায়ত্তশাসন
  2. মন্ত্রিসভা
  3. প্রোজ্জল
  4. কৌতূহল
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - প্রোজ্জল
- শুদ্ধ বানান - প্রোজ্জ্বল।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- বিশেষভাবে উজ্জ্বল।

অন্যদিকে,
- কৌতূহল, মন্ত্রিসভা এবং স্বায়ত্তশাসন - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৮৯৪.
'Manuscript' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ইশতেহার
  2. পরিপত্র
  3. পাণ্ডুলিপি
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 'Manuscript' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?

সমাধান:
'Manuscript' শব্দের বাংলা পরিভাষা: পাণ্ডুলিপি।

অন্যদিকে,
'Circular' অর্থ- পরিপত্র।
'Manifesto' অর্থ- ইশতেহার।
'Memorandum' অর্থ-স্মারকলিপি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

৫,৮৯৫.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. বাগ্নী
  3. প্রসূন
  4. সর্বাঙ্গীণ
ব্যাখ্যা
• বাগ্নী - বানানটি অশুদ্ধ। 

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'বাগ্মী' শব্দটি সঠিক।
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।  

• 'বাগ্মী' শব্দের অর্থ: 
- বাক্‌নিপুণ, বাক্‌পটু, সুবক্তা।

অন্যদিকে, 
দ্বন্দ্ব, প্রসূন, সর্বাঙ্গীণ - বানানগুলো সঠিক। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৫,৮৯৬.
"কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত" - বাক্যটিতে কোন গুণটির অভাব রয়েছ?
  1. আসক্তি
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. যোগ্যতা
  4. আসত্তি
ব্যাখ্যা
• আসত্তি :
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
- যেমন - কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত
- লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।
- মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
- যেমন - কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৫,৮৯৭.
কোন বাননটি শুদ্ধ?
  1. চিম্ময়
  2. চীন্ময়
  3. চিণ্ময়
  4. চিন্ময়
ব্যাখ্যা
• চিন্ময় (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = (√চিৎ + ময়ট্),
অর্থ: চিৎস্বরূপ, জ্ঞানময়, চৈতন্যস্বরূপ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৮৯৮.
বাক্যের এক পদের পর অন্যপদ শোনার ইচ্ছাকে কী বলে?
  1. ক) আসত্তি
  2. খ) আকাঙ্ক্ষা
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) আসক্তি
ব্যাখ্যা
• ভাষার বিচারে একটি আদর্শ সার্থক বাক্যে ৩টি গুণ থাকা আবশ্যক। যথা-
১. আকাঙ্ক্ষা,
২. আসত্তি এবং
৩. যোগ্যতা।

• বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তাই হচ্ছে আকাঙ্ক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৮৯৯.
‘সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা পলায়ন’ নিম্নরেখ অংশটি যে কারকের উদাহরণ -
  1. ক) কর্মকারক
  2. খ) অধিকরণ কারক
  3. গ) অপাদান কারক
  4. ঘ) একটিও নয়
ব্যাখ্যা

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমনঃ
- গাছ থেকে পাতা পড়ে,
- পাপে বিরত হও,
- সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু ইত্যাদি।

তেমনিভাবে, সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা পলায়ন; এখানে পাঠশালা পলায়ন মানে হলো পাঠশালা হতে পলায়ন, যা অপাদান কারক।

উৎস- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

৫,৯০০.
শুদ্ধ বানানটি চিহ্নিত করুন।
  1. ক) ভ্রাতৃত্ত
  2. খ) সান্তনা
  3. গ) সৌহার্দ
  4. ঘ) স্বাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
সৌহার্দ  (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = সুহৃদ+অ 
অর্থ: 
- বন্ধুত্ব, সখ্য, 
- প্রেম, ভালোবাসা
- সৌজন্য।

অন্যান্য অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ বানান- 
সান্ত্বনা 
ভ্রাতৃত্ব
স্বাতন্ত্র্য

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।