ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: নির্দ্বিধচিত্ত।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
দ্বিধাহীন চিত্ত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৫৭ / ৬৯ · ৫,৬০১–৫,৭০০ / ৬,৯৫৩
• শুদ্ধ বানান: নির্দ্বিধচিত্ত।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
দ্বিধাহীন চিত্ত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান- জাজ্বল্যমান।
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অতিশয় উজ্জ্বল,
- সুস্পষ্ট।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
এমনকিছু অশুদ্ধ ও শুদ্ধ বাক্য হলো-
• অশুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষী দিব না।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।
অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
• অশুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তোষ হলাম।
- শুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তুষ্ট হলাম।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে নির্বোধ, সে একাজ করে।
- যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন-
- স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালবাসেন।
প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যটি একটি সরল বাক্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
• শুদ্ধ বানান- জিজীবিষা।
- এটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
অর্থ:
- বেঁচে থাকার ইচ্ছা।
অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• শুদ্ধ বানান- জিজীবিষু।
- এটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
অর্থ: বেঁচে থাকতে ইচ্ছুক।
• শুদ্ধ বানান- জিগমিষা।
- এটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
অর্থ: গমনের ইচ্ছা।
• শুদ্ধ বানান- জিগীষা।
- এটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
অর্থ: জয়লাভ করার ইচ্ছা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'হীনম্মন্যতা' বানানটি সঠিক।
অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: মধ্যাকর্ষণ।
- শুদ্ধ: মাধ্যাকর্ষণ।
- অশুদ্ধ: কার্য্যালয়।
- শুদ্ধ: কার্যালয়।
- অশুদ্ধ: প্রনয়িণী।
- শুদ্ধ: প্রণয়িনী।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
- 'তাঁর দুরাবস্থা দেখে দুঃখ হয়' বাক্যটি সন্ধি জনিত ভুল।
- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা হচ্ছে সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ।
- তাই শুদ্ধ বাক্যটি হবে তাঁর দুরবস্থা দেখে দুঃখ হয়।
- অপশনের বাকিগুলোতে সন্ধি জনিত ভুল নেই।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক।
• "মাটি দিয়ে কলসি তৈরি হয়।"
- এখানে 'কিসের দ্বারা' কলসি তৈরি হয় প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মাটি' দ্বারা।
- সে অনুসারে, এখানে 'মাটি' হচ্ছে করণ কারকের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
প্রশ্ন: নিচের কোন বানানটি সঠিক?
সমাধান:
- প্রদত্ত শব্দগুলোর মধ্যে সঠিক বানানটি হলো- কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
- কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর অর্থ: কর্তব্য স্থির করিতে অক্ষম এমন, হতবুদ্ধি।
অন্যদিকে,
- নৌর্ঋত এর সঠিক বানান হলো - নৈর্ঋত।
- প্রণয়িণি এর সঠিক বানান হলো - প্রণয়িনী।
- পুঙ্খানুপূঙ্খ এর সঠিক বানান হলো - পুঙ্খানুপুঙ্খ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সঠিক বানান = ত্রিবেণি
অর্থ:
- গঙ্গা যমুনা ও সরস্বতী নদীত্রয়ের সংগমস্থল, প্রয়াগ।।
অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ = চণ্ডালিক;
• শুদ্ধ = চণ্ডালিকা;
• অশুদ্ধ = বিদ্যান;
• শুদ্ধ = বিদ্বান;
• অশুদ্ধ = উৎকর্ষতা;
• শুদ্ধ = উৎকর্ষ;
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি ঘটেছে ‘তরুছায়া' শব্দে।
- শুদ্ধ রূপ- তরুচ্ছায়া।
--------------------------
• সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি:
শুদ্ধ - অশুদ্ধ:
- অনটন - অনাটন,
- অদ্যাবধি - অদ্যবধি,
- বাগীশ্বরী - বাগেশ্বরী,
- বক্ষ-উপরি - বক্ষোপরি,
- বিপদুদ্ধার - বিপদোদ্ধার,
- দুরদৃষ্ট - দুরাদৃষ্ট,
- মুখচ্ছবি - মুখছবি,
- উপর্যুক্ত - উপরোক্ত,
- উপর্যুপরি - উপর্যপরি ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
জটিল ও যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য রূপান্তর করার সময় অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার করা হয়।
প্রশ্নে উল্লিখিত বাক্যটি সরল বাক্য।
এর জটিল রূপ: পয়লা পয়লা/প্রথম প্রথম যারা কাজে নামে তারা সবাই ভিরমি খায়।
ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
- কোথায় থাকা হয়?
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• অপশনে কোনো শুদ্ধ বাক্য নেই। তাই সঠিক উত্তর - কোনোটিই নয়।
অশুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাতী নষ্ট।
শুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।
অশুদ্ধ বাক্য: গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারবো না।
শুদ্ধ বাক্য: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
অশুদ্ধ বাক্য: সব মাছগুলোর দাম কত।
শুদ্ধ বাক্য: মাছগুলোর দাম কত।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• উল্লেখিত বাক্যের শুদ্ধ রূপ: দৈন্য সর্বদা মহত্ত্বের পরিচায়ক নয়।
অন্যদিকে,
- দৈন্যতা সর্বদা মহত্বের পরিচায়ক নয়। - এ বাক্যে দৈন্য শব্দে তা-প্রত্যয়ের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে এবং মহত্ত্ব বানান অশুদ্ধ।
- দৈন্য সর্বদা মহত্বের পরিচায়ক নয়। - এ বাক্যে ‘মহত্বের’ বানানটি অশুদ্ধ। শুদ্ধ বানান হবে মহত্ত্বের।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'সাইফ অর্থনীতিতে ভালো।'এখানে 'অর্থনীতিতে' শব্দটি ক্রিয়ার বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
• বৈষয়িক আধারাধিকরণ :
বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন:
- রাকিব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
- আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।
উল্লেখ্য,
আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত: ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।
১. ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
- পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
- বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
- আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)
সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়। যেমন-
- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)। 'দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী,
- ভিক্ষা দেহ তারে (দুয়ারের কাছে), রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।
২. অভিব্যাপক:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপকআধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে।)
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: আগত শনিবারে তারা যাবে।
শুদ্ধ: আগামী শনিবারে তারা যাবে।
অশুদ্ধ বাক্য: সব মাছগুলোর দাম কত।
শুদ্ধ বাক্য: মাছগুলোর দাম কত।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• “সানিয়া টেনিস বল দিয়ে টেনিস খেলে।” - বাক্যটিতে ‘টেনিস’ কর্ম কারক নির্দেশ করে।
কর্মকারক চিহ্নিত করতে ক্রিয়াপদকে "কী" বা "কাকে" দিয়ে প্রশ্ন করতে হয়।
- “সানিয়া টেনিস বল দিয়ে টেনিস খেলে।” - বাক্যটিতে ‘টেনিস’ → কর্মকারক (ক্রিয়ার লক্ষ্যবস্তু)।
- যদি প্রশ্ন করা হয় কী খেলে তাহলে উত্তর আসবে টেনিস।
- টেনিস ক্রিয়ার লক্ষ্যবস্তু বিধায় টেনিস কর্মকারক।
---------------------------------------------
• কর্মকারক:
- কর্মকারক হলো সেই বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ, যার ওপর ক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
- অর্থাৎ, যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, সেটিই কর্মকারক।
- কর্মকারকের কিছু উদাহরণ-
- রিমা আপেল খাচ্ছে → "কী খাচ্ছে?" → আপেল (কর্মকারক)।
- শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন → "কাকে পড়াচ্ছেন?" → শিক্ষার্থীদের (কর্মকারক)।
- আমি জল পান করি → "কী পান করি?" → জল (কর্মকারক)
- কর্মকারকের প্রকারভেদ:
- মুখ্য কর্ম: বস্তুবাচক, যেমন আপেল।
- গৌণ কর্ম: ব্যক্তিবাচক, যেমন ছাত্রীদের।
- মুখ্য ও গৌণ উভয় ধরনের কর্মই কর্মকারক হিসেবে গণ্য হয়।
-------------------------------------
অন্যদিকে,
- কর্তৃকারক – কাজটি যে করে তাকে বোঝায় (এখানে সানিয়া)।
- করণকারক – কী দিয়ে কাজটি সম্পন্ন হচ্ছে → টেনিস বল দিয়ে; তাই টেনিস বল করণকারক।
- অধিকরণ কারক – কাজটি কোথায় বা কখন হয় তা বোঝায়।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।
আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন:
- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।
- লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি।
- তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।
- মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
যেমন:
- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
- বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- আমি যেহেতু বর ছিলাম, তাই বিবাহ সম্মন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল।
- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।
- যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
অন্যদিকে,
- পিতা তো আছেন, তাই পুত্রকে খোঁজ কেন?
- শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোল হইল, কিন্তু সেটা স্বভাবের ষোল।
- তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
[উপড়ে প্রদত্ত বাক্যগুলো যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।]
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• অশুদ্ধ বাক্য: বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।
এই বাক্যে মূল সমস্যা বাহুল্যদোষ এবং অনাবশ্যক শব্দ প্রয়োগ।
- শুদ্ধ বাক্য:
"সমূলসহ উৎপাঠিত" অংশে ভুল শব্দচয়ন আছে।এখানে বাক্যটি হবে- বৃক্ষটি মূলসহ/সমূলে উৎপাঠিত হইয়াছে।
ভুল অপশন:
ক) সমূলসহ = ভুল। "সমূল" মানেই "মূলসহ", তাই "সমূলসহ" বাহুল্য।
খ) সমুলে উৎপাটন = ভুল। বানান ভুল রয়েছে।
গ) সমুলসহ = ভুল। বানান ভুল রয়েছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
• ‘ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে’ - করণ কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
- সপ্তমী বা এ বিভক্তি : ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- তে বিভক্তি : লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- য় বিভক্তি : চেষ্টায় সব হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
- বাক্যসমূহের একটি সমাপিকা ক্রিয়াকে অপরিবর্তিত রাখতে হয়।
- অন্যান্য সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় পরিণত করতে হয় ।
- অব্যয় পদ থাকলে তা বর্জন করতে হয়।
- কোনো কোনো স্থলে একটি বাক্যকে হেতুবোধক বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়।
যথা:
১. যৌগিক বাক্য: সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।
সরল বাক্য: সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
২. যৌগিক বাক্য: তার বয়স হয়েছে, কিন্তু বুদ্ধি হয়নি।
সরল বাক্য: তার বয়স হলেও বুদ্ধি হয়নি।
৩. যৌগিক বাক্য: মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।
সরল বাক্য: মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
শুদ্ধ বানান- ভাগীরথী।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
শব্দটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- পুরাণমতে সূর্যবংশের নৃপতি ভগীরথ কঠোর তপস্যা করে গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে মর্ত্যে অবতরণ করান বলে) গঙ্গানদীর অন্য নাম,
- গঙ্গার শাখা নদীবিশেষ।
অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ- নিশীথিনী, শারীরিক, সমীচীন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান