বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৪৪ / ৬৯ · ৪,৩০১৪,৪০০ / ৬,৯৫৩

৪,৩০১.
নিচের কোনটি সরল কাব্য?
  1. যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
  2. পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
  3. পড়াশোনা করলে জীবনে উন্নতি করতে পারবে।
  4. বাঙালির যে আত্মজাগরণ তা অভিনন্দনের দাবি রাখে।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- পড়াশোনা করলে জীবনে উন্নতি করতে পারবে।
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- চুল পাকলেও তার বুদ্ধি পাকেনি।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
- দারিদ্র হলেও তিনি সুখী।

 অন্যদিকে,
- পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।- যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।
- বাঙালির যে আত্মজাগরণ তা অভিনন্দনের দাবি রাখে।- জটিল বাক্যের উদাহরণ।
- যে রক্ষক সেই ভক্ষক।- জটিল বাক্যের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৩০২.
'তা' প্রত্যয়ের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. বিচিত্রতা
  2. মাধুর্যতা
  3. বিশিষ্টতা
  4. বহুলতা
ব্যাখ্যা
• 'তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের ব্যবহার:
-  'তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ 'দীন' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'দৈন্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে 'দৈন্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

কয়েকটি শুদ্ধ ও অশুদ্ধ প্রয়োগ হলো:
শুদ্ধ - অশুদ্ধ:
বৈচিত্র্য, বিচিত্রতা - বৈচিত্র্যতা;
বাহুল্য, বহুলতা - বাহুল্যতা;
বৈশিষ্ট্য, বিশিষ্টতা - বৈশিষ্ট্যতা;
বৈষম্য, বিষমতা - বৈষম্যতা;
ভারসাম্য, ভারসমতা - ভারসাম্যতা;
মাধুর্য, মধুরতা - মাধুর্যতা;
মৈত্র, মিত্রতা - মৈত্রতা; 
মৌন - মৌনতা;
লাঘব, লঘুতা - লাঘবতা; 
সারল্য, সরলতা - সারল্যতা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩০৩.
নিচের কোনটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ?
  1. অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে পারলেন না।
  2. শিশির খেলা দেখছে, আর সীমা রান্না করছে।
  3. যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
  4. পিতা যখন আছেন, তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
ব্যাখ্যা
• শিশির খেলা দেখছে, আর সীমা রান্না করছে। বাক্যটি যৌগিক বাক্য।

• যৌগিক বাক্য:

দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- দোষ স্বীকার কর, তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- এখনই যাও, নচেৎ তার দেখা পাবে না।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

অন্যদিকে,
- অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে পারলেন না।- সরল বাক্য।
- যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে। - জটিল বাক্য।
- পিতা যখন আছেন, তখন পুত্রকে খোঁজ কেন? - জটিল বাক্য।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩০৪.
নিম্নের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) নার্গিস আখতার একজন সহকারী শিক্ষক।
  2. খ) নমিতা রায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সভাপতি।
  3. গ) তাহমিনা আক্তার একজন জেলা প্রশাসক।
  4. ঘ) উপরের সবগুলো।
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় প্রাতিষ্ঠানিক পদমর্যাদাকে নারীবাচক করা হয় না। 
- যেমন নার্গিস আখতার একজন সহকারী শিক্ষক। 
- নমিতা রায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সভাপতি।
 
 
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
৪,৩০৫.
'কপোল ভাসিয়া গেল নয়নের জলে' বাক্যে 'কপোল' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে সপ্তমী
  2. কর্তায় শূন্য
  3. কর্মে শূন্য
  4. অপাদানে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• 'কপোল ভাসিয়া গেল নয়নের জলে' বাক্যে 'কপোল' কর্মে শূন্য বিভক্তি।

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।
 
কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- কপোল ভাসিয়া গেল নয়নের জলে।
 
(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: তাকে বল।
- 'রে' বিভক্তি: 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'।
 
(গ) ষষ্ঠী বা 'র' বিভক্তি: তোমার দেখা পেলাম না।
 
(ঘ) সপ্তমীর 'এ' বিভক্তি: 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' (বীপ্সায়)
 
• বাক্যস্থিত ক্রিয়াকে কী / কাদের / কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তাই কর্ম কারক।
- 'কপোল ভাসিয়া গেল নয়নের জলে’ - এখানে 'কী ভাসিয়া গেল নয়নের জলে?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় - 'কপোল'। তাই 'কপোল'  কর্মে শূন্য বিভক্তি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩০৬.
রুটিতে পেট ভরে। কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অপাদানে সপ্তমী
  2. খ) করণে সপ্তমী
  3. গ) ভাবাধিকরণে সপ্তমী
  4. ঘ) কর্মে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
এখানে রুটি একটি উপকরণ, যার সাহায্যে কাজটি হচ্ছে।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
 
 
৪,৩০৭.
'স্বর্ণালী' শব্দটি কেন শুদ্ধ নয়?    
  1. রীতিসিদ্ধ কারণে 
  2. বাহুল্যজনিত কারণে
  3. সন্ধিজনিত কারণে
  4. সমাসসাধিত কারণে 
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ-অশুদ্ধ: 
- বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বানানের নিয়ম অনুযায়ী, ‘আলি’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দ সাধারণত বিশেষণ পদ হয়।
- এই প্রত্যয় কোনো কিছুর বৈশিষ্ট্য বোঝায়। 
- এটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের একটি উদাহরণ। 
- ‘আলি’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দের শেষে সর্বদা ই-কার বসে, ঈ-কার নয়। 
- তাই 'স্বর্ণালী' শব্দটি অশুদ্ধ। 
- অতিরিক্ত ‘ঈ’ যোগ করার কারণে 'স্বর্ণালী' শব্দটি অপ্রয়োজনীয় বা বাহুল্যজনিত কারণে অশুদ্ধ হয়েছে। 
- আলি’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দের কিছু উদাহরণ- 
- সোনালি, রূপালি, মায়ালি, স্বর্ণালি, মিতালি, বর্ণালি, খেয়ালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৩০৮.
'আবশ্যকীয়' কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. উপসর্গজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. বিভক্তিজনিত
  4. সন্ধিজনিত
ব্যাখ্যা
• 'আবশ্যকীয়' প্রত্যয়জনিত কারণে অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধরূপ - বাহ্য।

প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:

- প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

অশুদ্ধ = শুদ্ধ
• আবশ্যকীয় - আবশ্যক,
• একত্রিত - একত্র,
• পুজ্য - পূজ্য,
• বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩০৯.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ঋণ
  2. বর্ণ
  3. ভাষন
  4. তৃণ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,

• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। 
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

সে অনুসারে,
ভাষন - অশুদ্ধ বানানা। এর শুদ্ধ বানান- ভাষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩১০.
বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. ড্যাশ
  2. কলন
  3. হাইফেন
  4. কমা
ব্যাখ্যা
• কমা বা পাদচ্ছেদ চিহ্ন (,):
অল্পক্ষণ বিরামের জন্যে কমার ব্যবহার হয়। এখানে 'এক' উচ্চারণ করার সমান সময় থামতে হয়। অল্প বিরাম বোঝাতে নিম্নলিখিত স্থানে কমা ব্যবহৃত হতে পারে-

১) বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।

২) পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে।
যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।

৩) সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।

৪) জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসবে। যেমন- কাল যে লোকটি এসেছিল, সে আমার পূর্বপরিচিত।

৫) উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে। যেমন- সাহেব বললেন, "ছুটি পাবেন না।”

৬) মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পর 'কমা' বসবে। যেমন- ১৬ই পৌষ, বুধবার, ১৩৯৯ সন।

৭) বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসবে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।

৮) নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় সংযোজিত হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির পরে কমা বসবে। যেমন-ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচ.ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৪,৩১১.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. কল্যাণিয়বর
  2. কল্যাণীয়বর
  3. কল্যাণীয়র
  4. কল্যণীয়বর
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান -'কল্যাণীয়বর'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: কল্যাণীয় + বর।
অর্থ:
- স্নেহভাজনকে লিখিত পত্রের সম্বোধনসূচক পাঠ।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩১২.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. মারনাস্ত্র
  2. মারণাস্ত্র
  3. মরনাস্ত্র
  4. মরণাস্ত্র
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - মারণাস্ত্র
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ: 
- হত্যা বা ধ্বংস করতে পারে এমন অস্ত্র।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৩১৩.
রাজীব বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।"- উক্তিটির পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. রাজীব বলে, সে বাগান করা পছন্দ করে।
  2. রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।
  3. রাজীব বলতেছে যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।
  4. রাজীব বাগান করতে পছন্দ করে।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।"
• পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।
---------------------------------------
• অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন
• প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।"
• পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

উল্লেখ্য,
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।

• উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

যেমন
- ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।" এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
- ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরোক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৪,৩১৪.
‘ভারসাম্যতা' শব্দটি অশুদ্ধ কেন?
  1. সমাসঘটিত কারণে
  2. প্রত্যয়জনিত কারণে
  3. উপসর্গজনিত কারণে 
  4. সন্ধিজনিত কারণে
ব্যাখ্যা

• 'ভারসাম্যতা' শব্দটি-  'অপপ্রয়োগ'। এটি  প্রত্যয়জনিত কারণে অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: 'সৌহার্দ'।

• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৩১৫.
"চেঙ্গিস খান যুদ্ধে অপরাজেয়" কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক 
  3. অপাদান কারক
  4.  সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা

• 'চেঙ্গিস খান যুদ্ধে অপরাজেয়'- বাক্যে ‘যুদ্ধে’ অধিকরণ কারক।

• বৈষয়িক অধিকরণ কারক :
- বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়। যেমন:
- রাকিব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
- আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

• অধিকরণ কারক:
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- মাঝরাত্রে শংকরের ঘুম ভেঙ্গে গেল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৪,৩১৬.
'মিথ্যাবাদীকে সবাই অপছন্দ করে'- বাক্যটিকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলে হয়-
  1. মিথ্যাবাদীকে সবাই পছন্দ করে
  2. মিথ্যাবাদীকে সবাই পছন্দ না করে পারে না
  3. মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না
  4. মিথ্যাবাদীকে কেউ অপছন্দ করে না
ব্যাখ্যা
• অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলেও বাক্যের অর্থ যেনো একই থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখলে বুঝা যায় যে “মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না” বাক্যটি সঠিকভাবে নেতিবাচক রূপ লাভ করেছে।

অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে পরিবর্তনের সূত্র:

১. বাক্যে না, নয়, নহে, নি, নেই, নাহি, নাই ইত্যাদি নঞর্থক অব্যয়যোগে অস্তিবাচক বাক্যের বিধেয় ক্রিয়াকে (সমাপিকা ক্রিয়া) নেতিবাচক করতে হবে।
২. হ্যাঁ-সূচক বাক্যকে না করতে হলে মুল অর্থ পরিবর্তন না করে বাক্য পরিবর্তন করতে হবে।
৩. বাক্যের বিশেষণ পদটিকে বিপরীত শব্দে রূপান্তর করতে হবে।
৪. প্রয়োজন মত বাক্যের অন্য শব্দকে 'না' সূচক বাক্যের প্রয়োগের আওতাভুক্ত করতে হবে।
৫. 'না' বাচক ক্রিয়া ও 'না' বাচক শব্দ বা 'না' বাচক অব্যয় মিলে বাক্যের অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-সূচক ভাবটি বজায় রাখতে হয়।

যেমন:
অস্তিবাচক: হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।
নেতিবাচক: হৈমন্তী চুপ না থাকিয়া পারিল না।

অস্তিবাচক: এমন দিনে তারে বলা যায়।
নেতিবাচক: এমন দিনে তারে না বলে পারা যায় না।

অস্তিবাচক: পাখিটা মরল।
নেতিবাচক: পাখিটা বাঁচল না।

অস্তিবাচক: এভাবে সমাজ অচল হয়ে পড়ে।
নেতিবাচক: এভাবে সমাজ চলে না।

অস্তিবাচক: অনুপমার উচিত কাজ হয়েছে।
নেতিবাচক: অনুপমার অনুচিত কাজ হয়নি।

অস্তিবাচক: বাড়িটা তারা দখল করেছে।
নেতিবাচক: বাড়িটা তারা দখল না করে ছাড়েনি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩১৭.
"আকাশে মেঘ জমেছে, তাই বৃষ্টি হতে পারে।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

যৌগিক বাক্য: 
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয় তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন-
- আমরা সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম, কারণ আজ ছুটি ছিল।
- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসলো।
- বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
-------------------
• "আকাশে মেঘ জমেছে, তাই বৃষ্টি হতে পারে।" - বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য।

কারণ:
যৌগিক বাক্য হল এমন বাক্য যেখানে দুটি বা ততোধিক স্বাধীন বাক্যাংশ যুক্ত থাকে সংযোজক (conjunction) দ্বারা।

- "আকাশে মেঘ জমেছে": এটি একটি স্বাধীন বাক্য।
- "বৃষ্টি হতে পারে": এটিও একটি স্বাধীন বাক্য।

এ দুটি বাক্যাংশকে "তাই" (কারণ এবং ফলাফল নির্দেশক সংযোজক) দ্বারা যুক্ত করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩১৮.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. পুরষ্কার
  2. বহিষ্কার
  3. আবিষ্কার
  4. নিষ্কলঙ্ক
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: পুরষ্কার।
• শুদ্ধ বানান: পুরস্কার।

• পুরস্কার (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদত্ত সম্মাননা।
- পারিতোষিক।

-------------------
• নিয়ম:
• বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)

• তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।

• অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩১৯.
'মন দিয়ে না পড়লে পাশ করা যায় না।' কোন ধরনের বাক্য? 
  1. ইচ্ছাসূচক
  2. কার্যকারণাত্মক
  3. নির্দেশাত্মক  
  4. সন্দেহাত্মক 
ব্যাখ্যা

• 'মন দিয়ে না পড়লে পাশ করা যায় না।'- এটি কার্যকারণাত্মক বাক্য।

• কার্যকারণাত্মক বাক্য:
- যদি কোনো বাক্যে ক্রিয়া নিষ্পত্তি কোনো বিশেষ শর্তের অধীনে এমন বোঝায়, তাহলে তাকে কার্যকারণাত্মক বাক্য বলে।
- এই ধরনের বাক্যের অন্য নাম শর্তসূচক, শর্তসাপেক্ষ বাক্য।
যেমন -
- মন দিয়ে না পড়লে পাশ করা যায় না।
- তুমি আসলে আমি যাব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা। 

৪,৩২০.
কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
  2. নতুন নতুন ছেলেগুলো কলেজে বড় উৎপাত করছে।
  3. গতকালের সভায় সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
  4. তোমার মতো বুদ্ধিমতী বালিকা আমি আর দেখিনি।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: নতুন নতুন ছেলেগুলো কলেজে বড় উৎপাত করছে।
শুদ্ধ নতুন নতুন ছেলে/নতুন ছেলেগুলো কলেজে বড় উৎপাত করছে।

অন্যদিকে,
- তোমার মতো বুদ্ধিমতী বালিকা আমি আর দেখিনি।
- অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
- গতকালের সভায় সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
উপরিউক্ত বাক্যগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩২১.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. কনীয়সী
  2. নুরানি
  3. নৈঋত
  4. প্রবহণ
  5. অন্তরিন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'নৈঋত' - অশুদ্ধ বানান।
  
• 'নৈঋত' এর শুদ্ধ বানান - নৈর্ঋত।

• 'নৈর্ঋত' শব্দের অর্থ: 
- দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকের মধ্যবর্তী কোণ,
- রাক্ষস।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩২২.
বাক্যে বিধেয় অংশের ক্রিয়া সাধারণত -
  1. সর্বনামবর্গ
  2. অব্যয়বর্গ
  3. ক্রিয়াবর্গ
  4. বিশেষণবর্গ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবর্গ:
- বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন:
- অস্ত্রসহ সৈন্যদল এগিয়ে চলেছে
- সে লিখছে আর হাসছে।

• বিশেষ্যবর্গ: 

- বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে যে শব্দগুচ্ছ তৈরি হয়, তাকে বিশেষ্যবর্গ বলে। আবার যোজক (যেমন: ও, এবং, কিংবা ইত্যাদি) দ্বারা দুটি বা ততোধিক বিশেষ্য একত্রিত হলেও তা বিশেষ্যবর্গ হয়।

উদাহরণ:
- অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
- আমার ভাই পড়তে বসেছে।
- রহিম ও করিম বৃষ্টিতে ভিজছে।

• বিশেষণবর্গ:
- বিশেষণ জাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বিশেষণবর্গ বলে। এটি কোনো বিশেষ্যকে বিশেষণ হিসেবে বর্ণনা করে।

উদাহরণ:
- আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
- ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।
- পোকায় খাওয়া কাঠ দিয়ে আসবাব বানানো ঠিক নয়।

• ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ:
- যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ কোনো ক্রিয়াকে বিশেষণ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।

উদাহরণ:
- সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।
- তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৪,৩২৩.
'Birds of a feather flock together.' এর বাংলা অনুবাদ -
  1. চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। 
  2. চাচা আপন প্রাণ বাঁচা। 
  3. চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

চোরে চোরে মাসতুতো ভাই - Birds of a feather flock together.

অন্যদিকে,
চাচা আপন প্রাণ বাঁচা - Every man is for himself.
চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে - When the cat is away the mice will play.
চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে - After death comes the doctor.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৩২৪.
'তার ভাই ঋণ করেছিলো, আর সে তা পরিশোধ করেছে।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য 
  3. যৌগিক বাক্য
  4. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য 
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন(:), ড্যাশ (_) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- তিনি ধনী, কিন্তু দাতা নন।
- তার ভাই ঋণ করেছিলো, আর সে তা পরিশোধ করেছে।
- বিপদ এবং দুঃখ একই সঙ্গে আসে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।

৪,৩২৫.
কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. সশঙ্কিত চিত্তে সে বলিল।
  2. অন্যায়ের প্রতিফল দুর্ণিবার।
  3. সমুদয় সভ্য আসিয়াছেন।
  4. তিনি আরোগ্য হইয়াছেন।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধবাক্য-  সমুদয় সভ্য আসিয়াছেন।

অন্যদিকে, 
• অশুদ্ধ বাক্য=সশঙ্কিত চিত্তে সে বলিল।
• শুদ্ধ বাক্য = সশঙ্কচিত্তে সে বলিল।

• অশুদ্ধ বাক্য = অন্যায়ের প্রতিফল দুর্ণিবার।
• শুদ্ধ বাক্য = অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার।

• অশুদ্ধ বাক্য =তিনি আরোগ্য হইয়াছেন।
• শুদ্ধ বাক্য = তিনি আরোগ্য লাভ করিয়াছেন।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩২৬.
ভাব-সম্প্রসারণের অংশ নয় কোনটি?
  1. ভাবের অর্থ
  2. ভাবের তাৎপর্য
  3. ভাবের পার্থক্য
  4. ভাবের ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা
• ভাব-সম্প্রসারণের অংশ নয় - ভাবের পার্থক্য।

⇒ ভাব-সম্প্রসার:

• ভাব-সম্প্রসারণে ভাবের সম্প্রসারণ ঘটে।
• ভাবের সার্থক ও সুসংগত প্রসারণই ভাব-সম্প্রসারণ।
• কোনো কবিতা বা গদ্যরচনার অংশকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করাকে ভাব-সম্প্রসারণ বলে। 

 ভাব-সম্প্রসারণ করার সময়ে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মনে রাখা প্রয়োজন:
- ভাব-সম্প্রসারণকে প্রধানত তিনটি অংশে বিভক্ত করা যায়: প্রথম অংশে ভাবের অর্থ, দ্বিতীয় অংশে ভাবের ব্যাখ্যা এবং তৃতীয় অংশে ভাবের তাৎপর্য।
- ভাব-সম্প্রসারণের এই অংশগুলোকে আলাদা তিনটি অনুচ্ছেদে উপস্থাপন করা যায়।
- ভাবের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যুক্তি দেখাতে হয়, উদাহরণ দিতে হয়, তুলনা করতে হয়।
- ভাব-সম্প্রসারণের বাক্যগুলো যাতে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।
- প্রয়োজনে সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি ব্যবহার করা যেতে পারে।
- ভাব-সম্প্রসারণে আলাদা কোনো শিরোনামের দরকার হয় না।
- মূল ভাবটি রূপক বা প্রতীকের আড়ালে থাকলে তাকে স্পষ্ট করতে হয়।
- ভাব-সম্প্রসারণ করার সময়ে প্রদত্ত অংশের রচয়িতার নাম উল্লেখ করতে হয় না।
- কমবেশি ২০০ শব্দ অথবা অনধিক ২০টি বাক্যের মধ্যে ভাব-সম্প্রসারণ সীমিত থাকা উচিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৩২৭.
"ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে।" - বাক্যে ঘাটে কোন ধরণের আধারাধিকরণ?
  1. অভিব্যাপক
  2. বৈষয়িক
  3. ঐকদেশিক 
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) ঐকদেশিক 
- এই বাক্যে 'ঘাটে' শব্দটি ঐকদেশিক আধারাধিকরণ কারক। এখানে 'ঘাট' স্থানটি একটি নির্দিষ্ট অংশকে বোঝায়, যেখানে নৌকাটি বাঁধা আছে। অর্থাৎ, এটি পুরো স্থান জুড়ে নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট অংশে (ঘাটের কাছে বা ঘাটে) সংঘটিত হয়েছে।  

আধারাধিকরণ
- আধারাধিকরণ হলো সেই ধরনের অধিকরণ যা কোনো স্থানের, বস্তু বা বিষয়ের অবস্থান, বিস্তৃতি বা গুণাবলীর সঙ্গে সম্পর্কিত।

আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক,
৩. বৈষয়িক। 

১. ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
- উদাহরণ:
  পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের কোনো এক স্থানে),
  বনে বাঘ আছে। (বনের কোনো এক অংশে),
  আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে),
- সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
  ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে।
  দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে।
  রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।

২. অভিব্যাপক:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
- উদাহরণ:
  তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী),
  নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)। 

৩. বৈষয়িক:
- বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক আধারাধিকরণ হয়।
- উদাহরণ:
  আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

৪,৩২৮.
'কাজটি শেষ করার জন্য সে আদা-কাঁচকলা খেয়ে নেমেছে'। বাক্যটি কী হারিয়েছে?
  1. ক) আকঙ্ক্ষা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) পদক্রম
ব্যাখ্যা
সার্থক বাক্যের গুণ বা বৈশিষ্ট্য: একটি বাক্যকে সার্থক ও শুদ্ধ হতে হলে কতগুলাে গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার।
এগুলাে হচ্ছে
১. আকাঙ্ক্ষা
২. আসত্তি এবং
৩. যােগ্যতা 

যােগ্যতা : বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা। যেমন- বর্ষাকালে জলপথে নৌকা চলে। এটি একটি যােগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারণ বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মিল রয়েছে। কিন্তু যদি বলা হয়- “বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে” তবে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যােগ্যতা হারাবে। কারণ নৌকা আকাশ পথে চলে । সার্থক বাক্যের জন্য অর্থ সংগতি বা যােগ্যতা থাকতে হবে।

বাগধারা ভাষার সম্পদ। বিশেষ অর্থে এসব শব্দ ব্যবহৃত হয়। বাগধারার গঠনের একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকে।
এ গঠনের যথেচ্ছ পরিবর্তন ঘটলে শব্দ তার যােগ্যতা হারায়
'কাজটি শেষ করার জন্য সে আদা-কাঁচকলা খেয়ে নেমেছে।' বাক্যে 'আদা-কাঁচকলা' একটি বাগ্‌ধারা। অর্থ ঘোর শত্রুভাবাপন্ন। তাই এই বাগ্‌ধারা প্রয়োগে বাক্যটি তার যোগ্যতা হারিয়েছে। 
সঠিক বাক্যটি হবে: কাজটি শেষ করার জন্য সে আদা-জল খেয়ে নেমেছে। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩২৯.
'লোকটির সবই আছে, কিন্তু সুখী নয়।'- বাক্যটির জটিলরূপ কোনটি?
  1. লোকটির সবই থাকায় সে সুখী নয়।
  2. লোকটির সবই থাকার পরও সে সুখী।
  3. যদিও লোকটির সবই আছে, তথাপি সে সুখী নয়।
  4. লোকটির সবই আছে এবং সে সুখী নয়।
ব্যাখ্যা
• 'লোকটির সবই আছে, কিন্তু সুখী নয়।' বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য।

• বাক্যটির জটিলরূপ: যদিও লোকটির সবই আছে, তথাপি সে সুখী নয়।

• যৌগিক বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করার সময় যৌগিক বাক্যের যোজক বাদ দিয়ে, এর বদলে সাপেক্ষ সর্বনাম বা সাপেক্ষ যোজক যুক্ত হয়।
- যৌগিক বাক্য: ছেলেটির বয়স অল্প কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান।
- জটিল বাক্য: যদিও ছেলেটির বয়স অল্প, তবু বেশ বুদ্ধিমান।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,৩৩০.
“কোথাও শান্তি ছিল না” - এর অস্তিবাচক রূপ কোনটি ?
  1. কোথাও শান্তি পাওয়া যায়নি 
  2. কোথাও শান্তি নেই
  3. সর্বত্র অশান্তি ছিল
  4. সর্বত্র শান্তি ছিল না 
ব্যাখ্যা

• “কোথাও শান্তি ছিল না” - এর অস্তিবাচক রূপ - “সর্বত্র অশান্তি ছিল”

নেতিবাচক বাক্য থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর:
নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলেমৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে।

সূত্র: ১
বাক্য পরিবর্তিত হলেও মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন -
নেতিবাচক: সেটা কখনোই সফল হতে পারে না। 
অস্তিবাচক: সেটা সর্বদাই অসফল হয়।

সূত্র: ২
'না', 'নয়', 'নি', 'নেই', 'নহে' ইত্যাদি নঞর্থক পদ তুলেদিতে হয় এবং শব্দের পরিবর্তন ঘটিয়ে হ্যা-বাচক ভাব ফুটিয়ে তুলতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: কোথাও শান্তি ছিল না
অস্তিবাচক: সর্বত্র অশান্তি ছিলো।

সূত্রঃ ৩
প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দদ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: শহিদের মৃত্যু নেই।
অস্তিবাচক: শহিদেরা অমর।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৩৩১.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. রণনিতী 
  2. রত্নজিবী 
  3. রাজরানী 
  4. রাজলক্ষ্মী 
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- রাজলক্ষ্মী। 
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- রাজ্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী,
- রাজশ্রী।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো- 
• রণনীতি (বিশেষ্য পদ)। 
অর্থ: যুদ্ধসংক্রান্ত নীতি।

• রত্নজীবী (বিশেষণ পদ)। 
অর্থ: রত্নব্যবসায়ী।

• রাজরানি (বিশেষ্য পদ)।
অর্থ: রাজার রানি, রাজ্ঞী; পাটরানি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৩৩২.
‘তারা যেন ভুল করার প্রতিযোগীতায় নেমেছে।’ বাক্যটিতে কোন ধরনের অশুদ্ধি আছে?
  1. ক) পদক্রম জনিত
  2. খ) কারক জনিত
  3. গ) যোগ্যতা জনিত
  4. ঘ) বানান জনিত
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য - তারা যেন ভুল করার প্রতিযোগীতায় নেমেছে। বাক্যটিতে বানান ভুল জনিত অশুদ্ধি আছে। এখানে প্রতিযোগিতা বানানটি অশুদ্ধ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৪,৩৩৩.
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কোন কারক বলে।
  1. করণকারক
  2. কর্তৃকারক
  3. কর্মকারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক: 
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে। 

উল্লেখ্য,
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। 
যেমন,
- ছেলেরা ফুটবল খেলে। (এখানে কে ফুটবল খেলে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়- 'ছেলেরা'। তাই, ছেলেরা কর্তৃকারক)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২২)। 
৪,৩৩৪.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. দর্পণ
  2. ত্বরিৎ
  3. দুর্বিষহ
  4. ত্বরান্বিত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ- ত্বরিৎ।

• শুদ্ধরূপ: ত্বরিত।
- বিশেষণ পদ,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- দ্রুত,
- ক্ষিপ্র,
- শীঘ্র,
- ত্বরান্বিত।

• দর্পণ, দুর্বিষহ ও ত্বরান্বিত শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং অভিগম্য অভিধান।
৪,৩৩৫.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. কিরীটিনী
  2. অনুরূপ
  3. শুশ্রুষা
  4. নূপুর
ব্যাখ্যা
• 'শুশ্রুষা' - বানানটি অশুদ্ধ।
এর শুদ্ধ বানান - শুশ্রূষা।

• 'শুশ্রূষা' শব্দের অর্থ:
- পরিচর্যা, সেবা।

আরো কিছু শুদ্ধ বানান:
• পেনসিল,
• তরণি,
• রীতিনীতি,
• মুহূর্ত,
• ঊর্মি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৩৬.
"যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে" কোন ধরনের বাক্যের দৃষ্টান্ত?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. আবেগবাচক বাক্য
  4. যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে। 
- যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যখন তিনি ভাত খাওয়া শেষ করলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে গেলেন।
- যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই একথা বিশ্বাস করবে।
- যে সকল পশু মাংস ভোজন করে তারা অত্যন্ত বলবান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৩৩৭.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ নয়?
  1. এই লেখার উৎকর্ষতা নেই।
  2. দারিদ্র্যতা প্রকাশ করো না।
  3. ভালো ভালো আমগুলো নিয়ে আসো।
  4. সমৃদ্ধ বাংলাদেশ কামনা করি।
ব্যাখ্যা

- সমৃদ্ধ বাংলাদেশ কামনা করি - বাক্যটি শুদ্ধ।
বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ :
- এই লেখার উৎকর্ষ নেই
- দারিদ্র্য/দরিদ্রতা প্রকাশ করো না
- ভালো ভালো আম/আমগুলো নিয়ে আসো
উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৩৩৮.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. রীতিনিতি
  2. রিতীনিতী
  3. রীতিনীতি
  4. রীতিনীতী
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'রীতিনীতি' - শুদ্ধ বানান।

• 'রীতিনীতি' শব্দের অর্থ:
- আচার-আচরণ, প্রথা, রেওয়াজ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৩৯.
বাগধারার শব্দ পরিবর্তন করা হলে - বাক্যের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি ঘটে?
  1. ক) আকাঙ্খা হারায়
  2. খ) দুর্বোধ্য হয়
  3. গ) উপমার ভুল প্রয়োগ ঘটে
  4. ঘ) যোগ্যতা হারায়
ব্যাখ্যা
বাক্যে বাগধারার শব্দ পরিবর্তন করলে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়।

• বাগধারা ভাষার মূল্যবান সম্পদ। এর মধ্যদিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য প্রকাশিত হয়। কিন্তু বাক্যে বাগধারার শব্দ পরিবর্তন করলে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়। যেমন— ‘অরণ্যে রোদন'-কে যদি ‘অরণ্যে ক্রন্দন' বলা হয়, তবে তা যোগ্যতা হারায় । কেননা এটি মুখে মুখে এত প্রচলিত যে, তার পরিবর্তন সহজেই ধরা পড়ে যায়। অনুরূপভাবে— ‘রথ দেখা ও আম বেচা’, ‘উলুবনে ছাই ছড়ানো”, “ডুবে ডুবে পানি খাওয়া' ইত্যাদি।

সঠিক রূপ হলো : 'রথ দেখা ও কলা বেচা’, ‘উলুবনে মুক্তা হুড়ানো', ‘ডুবে ডুবে জল খাওয়া' ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪,৩৪০.
'এইসব মিলিয়ে তৈরি হয় চিনি বা শর্করা।'- এখানে 'এইসব মিলিয়ে' বর্গ হলো-
  1. উদ্দেশ্য
  2. বিধেয়
  3. বিধেয়ের প্রসারক
  4. উদ্দেশ্যের প্রসারক
ব্যাখ্যা
• এইসব মিলিয়ে তৈরি হয় চিনি বা শর্করা।- বাক্যে,
উদ্দেশ্য' হলো- চিনি বা শর্করা।
বিধেয়ের প্রসারক- 'এইসব মিলিয়ে'। 
বিধেয়ের ক্রিয়া- 'তৈরি হয়'। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৪,৩৪১.
কোনটির বিরতিকাল কোলন ড্যাসের বিরতিকালের সমান?
  1. কমা
  2. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  3. সেমিকোলন
  4. উদ্ধরণ চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• কোলন ড্যাসের বিরতিকাল - এক সেকেন্ড।
• প্রশ্নবোধক চিহ্নের বিরতিকাল - এক সেকেন্ড।
 
কোলন ড্যাস (:-):
- উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাস চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
পদ পাঁচ প্রকার:-
বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।
 
অন্যদিকে,
- সেমিকোলনের বিরতিকাল - ১ বলার দিগুণ সময়।
- উদ্ধরণ চিহ্নের বিরতিকাল - 'এক' উচ্চারণের যে সময় লাগে।
- কমা'র বিরতিকাল - ১ বলতে যে সময় প্রয়োজন।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩৪২.
‘দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য’ বাক্যটিকে জটিল বাককে পরিণত করলে হবে ?
  1. ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
  2. খ) যে দুর্জন সেই পরিত্যাজ্য।
  3. গ) দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাজ্য
  4. ঘ) দুর্জন লোককে সকলে পরিত্যাগ করে।
ব্যাখ্যা

- যে - সে, যিনি - তিনি, যারা - তারা, যা - তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং 
- যদি - তবে, যেহেতু- সেহেতু, যখন - তখন, যত - তত , যেমন তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
- যেমন-
- সরল বাক্য : তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ। 
- জটিল বাক্য:যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১]

৪,৩৪৩.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. উচ্ছাস
  2. উজ্জল
  3. উল্লিখিত
  4. উশৃঙ্খল
ব্যাখ্যা
• উল্লিখিত (বিশেষণ পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- উপরে বা পূর্বে লিখিত।
- পূর্বে উক্ত।

----------
অপশনে প্রদত্ত অন্যান্য শব্দগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• উচ্ছাস - উচ্ছ্বাস। 
• উজ্জল - উজ্জ্বল। 
• উশৃঙ্খল - উচ্ছৃঙ্খল। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৪৪.
‘চোর ধৃত হয়েছে।’- বাক্যে ‘ধৃত’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে ক্রিয়ার কর্ম বা কর্ম কারক বলে। ক্রিয়াকে কি/কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই কর্ম কারক।
যেমন:
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
[এখানে, 'কাকে সাহায্য করো?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'অসহায়কে'। সুতরাং, 'অসহায়কে' এখানে কর্ম কারক।]

- চোর ধৃত হয়েছে।
[বাক্যকে ‘কি হয়েছে?’ দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘ধৃত’ হয়েছে। সুতরাং, ধৃত কর্ম কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।]

কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন:
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৪৫.
অপ্রাণিবাচক শব্দের ক্ষেত্রে কোন বিভক্তি হবে?
  1. কে
  2. রে
  3. শূন্য
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
বিভক্তি যোগের নিয়ম:
(ক) অপ্রাণী বা ইতর প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে 'রা' যুক্ত হয় না; গুলি, গুলো যুক্ত হয়।
যেমন: পাথরগুলো, গরুগুলি।

(খ) অপ্রাণিবাচক শব্দের উত্তর 'কে' বা 'রে' বিভক্তি হয় না, শূন্য বিভক্তি হয়।
যথা: কলম দাও।

(গ) স্বরাস্ত শব্দের উত্তর 'এ' বিভক্তির রূপ হয় – 'য়' বা 'য়ে'। 'এ' স্থানে 'তে' বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন – মা+এ = মায়ে, ঘোড়া + এ = ঘোড়ায়, পানি + তে = পানিতে।

(ঘ) অ-কারান্ত ও ব্যঞ্জনান্ত শব্দের উত্তর প্রায়ই 'রা' স্থানে 'এরা' হয় এবং ষষ্ঠী বিভক্তির 'র' স্থলে 'এর' যুক্ত হয়।
যেমন – লোক + রা = লোকেরা। বিদ্বান (ব্যঞ্জনান্ত) রা= বিদ্বানেরা। মানুষ এর = মানুষের।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩৪৬.
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে কোনটি সঠিক?
  1. ভাংগা
  2. ভাঙ্গা
  3. ভাঙা
  4. ভাঞগা
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

বানানের নিয়ম:
- শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার ( ং) ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং।

- তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ঙ হবে।
যেমন :
বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের।

- ব্যতিক্রম: বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৩৪৭.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অদ্যবধি
  2. অন্যোন্যপায়
  3. অধ্যাবসায়
  4. অত্যধিক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: অত্যধিক।
- বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অত্যন্ত বেশি;
- প্রয়োজনের অতিরিক্ত।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
অদ্যবধি - অদ্যাবধি। 
অধ্যাবসায় - অধ্যবসায়। 
অন্যোন্যপায় - অনন্যোপায়। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৪৮.
কোনটি ভুল বানান?
  1. যন্ত্রনা
  2. ভুবন
  3. মুহূর্ত
  4. স্বত্ব
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
•'যন্ত্রনা' বানানটি ভুল।

• সঠিক বানান: 'যন্ত্রণা'।

অন্যদিকে,
- ভুবন, মুহূর্ত, স্বত্ব বানানগুলো সঠিক।

• কিছু শুদ্ধ বানান:
- অপরাহ্ন - অপরাহ্ণ, 
- নিশিথীনি - নিশীথিনী, 
- মনকষ্ট - মনঃকষ্ট, 
- দ্বন্দ - দ্বন্দ্ব, 
- পিপিলিকা - পিপীলিকা, 
- মণিষী- মনীষী, 
- মূমূর্ষু - মুমূর্ষু।  

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৪৯.
শুদ্ধ বানান -
  1. নৈহৃত
  2. নৈর্ঋত
  3. নের্ঋত
  4. নৈঋত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - নৈর্ঋত
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- দক্ষিণ পশ্চিম দিকের মধ্যবর্তী কোণ।
- রাক্ষসবিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৩৫০.
কোন বাক্যে অবস্থিত পদমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম কী?
  1. ক) পূর্ণতা
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) আসত্তি
  4. ঘ) আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
সার্থক বাক্যের গুণ ৩ টি - 
- আকাঙ্ক্ষা
- আসত্তি 
- যোগ্যতা 

• বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যোগ্যতা। 
- যেমন- 'বর্ষাকালে জলপথে নৌকা চলে' এটি একটি যোগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারন বাক্যটির পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধন আছে। 
- কিন্তু 'বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে' - বাক্যটি ভাব প্রকাশে যোগ্যতা হারাবে। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৫১.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. সবিনয় পূর্বক নিবেদন করি।
  2. সব মাছগুলোর দাম কত।
  3. আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজন ভাল নয়।
  4. দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভুল লিখে।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভুল লিখে

তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: সবিনয় পূর্বক নিবেদন করি।
শুদ্ধ বাক্য: বিনয়পূর্বক নিবেদন করি।

অশুদ্ধ বাক্য: সব মাছগুলোর দাম কত।
শুদ্ধ বাক্য: মাছগুলোর দাম কত।

অশুদ্ধ বাক্য: আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজন ভাল নয়।
শুদ্ধ বাক্য: আকণ্ঠ ভোজন ভাল নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৫২.
সঠিক বাক্য কোনটি?
  1. ক) যাবতীয় লােকসমূহ সভায় উপস্থিত ছিল।
  2. খ) রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।
  3. গ) সে সমস্ত কথা বিস্তারিত বলল।
  4. ঘ) সশঙ্ক চিত্তে সে বলতে লাগল।
ব্যাখ্যা
ঘ) সশঙ্ক চিত্তে সে বলতে লাগল। - বাক্যটি সঠিক।

অন্যান্য বাক্যের সঠিক রূপ- 

- যাবতীয় লােক সভায় উপস্থিত ছিল।
- রচনাটির উৎকর্ষ (বা উৎকৃষ্টতা) অনস্বীকার্য।
- সে সব কথা বিস্তারিত বলল।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৫৩.
'দাঁড়ি' যতিচিহ্নের বিরতির সময়কাল-
  1. ১ মিনিট
  2. ১ বলার দ্বিগুণ
  3. ১ সেকেন্ড
  4. থামার প্রয়োজন নয়
ব্যাখ্যা
'দাঁড়ি' যতিচিহ্ন:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
- দাঁড়ি যতিচিহ্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিরতির সময়কাল ১ সেকেন্ড।
- বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়।
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাও।
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪,৩৫৪.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. পুঙ্খানুপঙ্খ
  2. পুঙ্খানুপুঙ্খ
  3. পুংক্ষানুপুঙ্ক
  4. পুঙ্খানুপুক্ষ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'পুঙ্খানুপুঙ্খ'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
এর অর্থ:
- তন্নতন্ন,
- সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৫৫.
বাহুল্য প্রয়োগজনিত অশুদ্ধি রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
  2. অপমানিত হবার ভয় নেই।
  3. তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।
  4. বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ। 
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়। যেমন : আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে -ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়। 

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো- 
• অশুদ্ধ : অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

• অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ। 
• শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

• অশুদ্ধ: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।

অন্যদিকে,
অপশনে প্রদত্ত অন্যান্য শুদ্ধবাক্য-
- অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
- অপমানিত হবার ভয় নেই।
- তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩৫৬.
'এ সুতায় কাপড় হয় না।' এই বাক্যে 'সুতায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি
  1. কর্ম কারকে সপ্তমী বিভক্তি
  2. করণে কারকে সপ্তমী বিভক্তি
  3. করণে কারকে প্রথমা বিভক্তি
  4. কর্ম কারকে প্রথমাবিভক্তি
ব্যাখ্যা
• 'এ সুতায় কাপড় হয় না।' এই বাক্যে 'সুতায়' করণ কারকে ৭মী বিভক্তি।

• করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
• প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া) ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে। (সকর্মক ক্রিয়া)। 

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

• সপ্তমী বিভক্তি বা এ বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে। শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
- তে বিভক্তি: 'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।' নজরুল। লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়। এ সুতায় কাপড় হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,৩৫৭.
তিলে তৈল আছে - কোন কারক?
  1. অভিব্যাপক
  2. বৈষয়িক
  3. ঐকদেশিক
  4. কালাধিকরণ
ব্যাখ্যা

প্রথাগত ব্যাকরণগুলােতে আধারাধিকরণ কারককে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন :

(ক) ঐকদেশিক : বিরাট স্থানের যে কোনাে অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ
বলে। যেমন : পুকুরে মাছ আছে।

(খ) অভিব্যাপক : উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক
আধারাধিকরণ বলে। যেমন : তিলে তৈল আছে (তিলের সারা অংশব্যাপী)।

(গ) বৈষয়িক : বিষয় বিশেষে কোনাে বিশেষ গুণে কারাে কোনাে দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়। যেমন : সফিক অঙ্কে কাঁচা।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

৪,৩৫৮.
'বাঁশি বাজে ঐ দূরে।' - বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

• কর্মকর্তৃবাচ্য:
এছাড়াও বাংলায় আরো এক ধরনের প্রকাশভঙ্গির বাক্য দেখা যায়। এ ধরনের বাক্যের বাচ্যকে বলা হয় কর্মকর্তৃবাচ্য।
- এ ধরনের বাক্যে কর্তাপদ উহ্য থাকে, তবে কর্মপদ থাকে। আর ওই কর্মপদই কর্তার কাজ করে।
- অর্থাৎ, যে বাক্যে কর্তা থাকে না, কর্মই কর্তার কাজ করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভাল দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ দূরে।

[এখানে কর্তা নেই। বাঁশি নিজেই কর্তার মতো বাক্যকে নেতৃত্ব দিচ্ছে বা বাজার কাজ সম্পন্ন করছে।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৩৫৯.
'যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) জটিল বাক্য
  2. খ) সরল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- 'যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।'- এটি জটিল বাক্যের উদাহরণ।
 
• জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
৪,৩৬০.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. স্বায়ত্ব
  2. স্বায়াত্ব
  3. স্বায়ত্ত
  4. স্বায়ত্ত্ব
ব্যাখ্যা
স্বায়ত্ত (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = স্ব+আয়ত্ত 
অর্থ - স্ববশ, স্বনিয়ন্ত্রিত 
 
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪,৩৬১.
বাচ্য কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
• বাচ্য:
বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে।
বাচ্য তিন প্রকার:
- কর্তাবাচ্য,
- কর্মবাচ্য ও
- ভাববাচ্য।

১. কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন-
- ঝরনা ছবি আঁকে।

২. কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন-
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।

৩. ভাববাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন-
- আমার যাওয়া হলো না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৪,৩৬২.
শুদ্ধ বানান -
  1. বাষ্পীয়
  2. ধ্যাণধারনা
  3. পিড়াপীড়ি
  4. পুনরজ্জীবন
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - বাষ্পীয়
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- বাষ্প-শক্তির সাহায্যে চলে এমন,
- বাষ্পসম্বন্ধীয়।

অন্যদিকে,
পুনরজ্জীবন - পুনরুজ্জীবন।
পিড়াপীড়ি - পীড়াপীড়ি।
ধ্যাণধারনা - ধ্যানধারণা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৬৩.
কোনটি সার্থক বাক্যের গুণ নয়?
  1. যোগ্যতা
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. আসত্তি
  4. আসস্তি
ব্যাখ্যা
• ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকে।
যেমন -
- আকাঙ্ক্ষা
- আসত্তি এবং
- যোগ্যতা

• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন-
'চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে'- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায়: চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

• আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি। মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
- যেমন- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

• যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা। যেমন বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। - এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে। কিন্তু 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।' বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যোগ্যতা হারাবে। কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৪,৩৬৪.
কোনটি সরল বাক্য? 
  1. যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।
  2. লোকটি সৎ, তাই সকলে তাকে সম্মান করে। 
  3. যদি পাশ করতে চাও, তাহলে পড়। 
  4. দরিদ্র হলেও সে সত্যবাদী।
ব্যাখ্যা
• 'দরিদ্র হলেও সে সত্যবাদী।' বাক্যটি একটি সরল বাক্য।

• সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।

অন্যদিকে,
- 'যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।'- জটিল বাক্য। 
- 'লোকটি সৎ, তাই সকলে তাকে সম্মান করে।' যৌগিক বাক্য।
- 'যদি পাশ করতে চাও, তাহলে পড়।', - জটিল বাক্য।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৪,৩৬৫.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) অনুযায়ি
  2. খ) অনুযোগি
  3. গ) অনুযোগিনী
  4. ঘ) অনুরনন
ব্যাখ্যা
অনুযোগিনী - শুদ্ধ বানান।
- এর পুরুষবাচক শব্দ 
অন্যান্য অপশনের শুদ্ধ বানান:
অনুযায়ি এর শুদ্ধ বানান - অনুযায়ী।
অনুযোগি এর শুদ্ধ বানান - অনুযোগী।
অনুরনন এর শুদ্ধ বানান - অনুরণন।

উৎস: বাংলা বানান অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪,৩৬৬.
শুদ্ধবাক্য নির্ণয় কর-
  1. ইক্ষুর চারা বপন করা হইল।
  2. আমি অপমান হয়েছি।
  3. আমি সন্তোষ হলাম।
  4. সূর্য উদিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য উদিত হয়েছে।' বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ বাক্য: আমি অপমান হয়েছি।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি অপমানিত হয়েছি।

• অশুদ্ধ বাক্য: ইক্ষুর চারা বপন করা হইল।
• শুদ্ধ বাক্য: ইক্ষুর চারা রোপন করা হইল।

• অশুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তোষ হলাম।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তুষ্ট হলাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৬৭.
বাংলা একাডেমির 'প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম' কত সালে প্রণীত হয়?
  1. ১৯৯০
  2. ১৯৯২
  3. ১৯৯৪
  4. ১৯৯৬
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি 'প্রমিত বানানের নিয়ম' প্রণয়ন করে ১৯৯২ সালে।

• বাংলা একাডেমি প্রমিত বানানের নিয়ম:
- বাংলা একাডেমি ড. আনিসুজ্জামানকে সভাপতি করে বানানের নিয়মগুলো সূত্রবদ্ধ করার জন্য কমিটি গঠন করে।
- এ কমিটি বিশ্বভারতী, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রবর্তিত পাঠ্য বইয়ের বানানরীতিকে সমন্বিত করে
- একটি অভিন্ন বানানের নিয়ম নির্ধারণ করেন, যা বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম' বলে পরিচিত।
- যার প্রথম প্রকাশ ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর এবং পরিমার্জিত সংস্করণ ১৯৯৪ সালের জানুয়ারি।
- উক্ত নিয়ম অনুসরণ করে একই কমিটির অন্যতম সদস্য জামিল চৌধুরী প্রণয়ন করেন 'বাংলা বানান-অভিধান'।
- ১৯৯৪ সালের জুনে বাংলা একাডেমি এটি প্রকাশ করে।
- বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত থাকার জন্য বাংলাদেশের সমসাময়িক সাহিত্য এবং পত্র-পত্রিকায় ওই বানানকে 'প্রমিত' হিসেবে গণ্য করা হয়।

-----------------------
উল্লেখ্য, 
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ১৯৮৮ সালে বাংলা বানানের নিয়ম প্রণয়ন করে।

• বাংলা একাডেমি অভিধান সংকলন: 
- বাংলা একাডেমি সূচনালগ্ন (১৯৫৫) থেকেই অভিধান রচনায় মনোনিবেশ করে এবং এই কাজে ব্রতী হয়েছিলেন স্বয়ং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয় পূর্ব পাকিস্তানী আঞ্চলিক ভাষার অভিধান (পরবর্তীকালে বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান, ১৯৬৫)।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (১৯৭৪) প্রণয়নের সূত্রপাত করেন আরেকজন বিখ্যাত পণ্ডিত ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
- এই অভিধানটি প্রকাশিত হয় অধ্যাপক শিবপ্রসন্ন লাহিড়ীর সম্পাদনায় (১৯৮৪)।

• বাংলা একাডেমি প্রণীত কয়েকটি অভিধান গ্রন্থ: 
- Bangla Academy English-Bangla Dictionary (1993),
- Bangla Academy Bengali-English Dictionary (1994),
- বাংলা একাডেমি বাংলা বানান অভিধান (১৯৯৪),
- বাংলা একাডেমী বাংলা উচ্চারণ অভিধান (১৯৯০),
- যথাশব্দ (১৯৭৪),
- বাংলা একাডেমী ছোটদের অভিধান (১৯৮৩) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ অভিধান।
৪,৩৬৮.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অনির্বান
  2. অর্ধাঙ্গি
  3. অন্তর্লীন
  4. অধ্যায়ন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: অন্তর্লীন। 
- বিশেষণ পদ। 
অর্থ:
- অন্তরে বা ভিতরে গুপ্ত। 

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• অর্ধাঙ্গি – অর্ধাঙ্গী। 
• অনির্বান – অনির্বাণ। 
• অধ্যায়ন – অধ্যয়ন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৬৯.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. দুরন্তপনা
  2. দুরুন্তপনা
  3. দুরনত্বপনা
  4. দূরন্তপনা
ব্যাখ্যা
দুরন্তপনা বানানটি সঠিক। 
দুরন্তপনা শব্দের অর্থ  অবাধ্যতা 


[উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান]
৪,৩৭০.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অনুবিক্ষণ
  2. অণুবীক্ষণ
  3. অনুবীক্ষণ
  4. অনুবীক্ষন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'অণুবীক্ষণ' - বানানটি শুদ্ধ।

• 'অণুবীক্ষণ' শব্দের অর্থ:
- খালি চোখে দেখা যায় না এমন অতি ক্ষুদ্র বস্তুকে বড়ো করে দেখার সরঞ্জামবিশেষ।

• আরো কয়েকটি শুদ্ধ বানান:
- শাশ্বত,
- প্রজ্বলিত,
- জাজ্বল্যমান,
- তিতীর্ষু,
- তিরস্কৃত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৭১.
‘চক্ষুতে জলের ধারা বহিল।’- বাক্যে ‘চক্ষুতে’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্মকারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
 যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।
যেমন:
- তিলে তৈল হয়।- বাক্যকে কি থেকে তেল হয়? দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘তিলে’। সুতরাং এ বিভক্তি যোগে ‘তিলে’ অপাদান কারকে সপ্তমী।

• অপাদান কারকের এরূপ কিছু উদাহরণ হলো: 
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি। 
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি। 

• ‘চক্ষুতে জলের ধারা বহিল।’-  প্রদত্ত বাক্যকে 'কোথা হতে জলের ধারা বহিল' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘চক্ষুতে’। সুতরাং 'চক্ষুতে' অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩৭২.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) তৃহায়ন
  2. খ) ত্রিহায়ণ
  3. গ) ত্রিহায়ন
  4. ঘ) তৃহায়ণ
ব্যাখ্যা
ত্রিহায়ণ, শব্দটির বানান মূর্ধন্য ণ দিয়ে; ঠিক যেভাবে অগ্রহায়ণ
[র-ফলার কারণে।] "শব্দের মধ্যে আগে ঋ, র বা ষ, একটু পরে ন, আর দুয়ের মাঝখানে যদি [কেবলা স্বরবর্ণ, ক-বর্গের বা প-বর্গের বর্ণ, য়, ব, হ বা অনুস্বার থাকে, তাহলেও ওই ন মূর্ধন্য ণ হয়ে যাবে।"
উদ্ধৃতিসূত্র: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ |
[প্রথম প্রকাশ: মাঘ ১৪২০/জানুয়ারি ২০১৪] | পৃ-৩২৮||
৪,৩৭৩.
"যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. আশ্রিত খণ্ডবাক্য 
ব্যাখ্যা
• 'যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।' একটি জটিল বাক্য।

• জটিল বাক্য:

- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।
- যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৪,৩৭৪.
‘অঘ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি।’- বাক্যে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. প্রত্যয় জনিত
  2. বানান জনিত
  3. বাচ্যজনিত
  4. বহুবচন জনিত
ব্যাখ্যা
⇒ ‘অঘ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি।’- প্রদত্ত বাক্যে বানান জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
⇒ শুদ্ধ বাক্য: অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি।

ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে,
• অতৎসম শব্দের বানানে ক্ষেত্রে 'ণ' ব্যবহার হয় না। অতৎসম শব্দের বানানে ‘ন’ ব্যবহৃত হয়।

• অঘ্রান (তদ্ভব শব্দ),
- এটি ‘অগ্রহায়ণ’ তৎসম শব্দের কথিত রূপ।

===========
⇒ ণ-ত্ব বিধান:
• বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৭৫.
বিবাহসভায় চারি দিকে হট্টগােল তাহারই মাঝখানে কন্যার কোমল হাতখানি আমার হাতের উপর পড়িল এমন আশ্চর্য আর কী আছে আমার মন বারবার করিয়া বলিতে লাগিল আমি পাইলাম আমি ইহাকে পাইলাম - অনুচ্ছেদটিতে কয়টি বিরামচিহ্ন বসবে?
  1. ক) ৫
  2. খ) ৬
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ৮
ব্যাখ্যা
বিরামচিহ্নযুক্ত অনুচ্ছেদটি নিম্নরূপ- 

বিবাহসভায় চারি দিকে হট্টগােল; তাহারই মাঝখানে কন্যার কোমল হাতখানি আমার হাতের উপর পড়িলএমন আশ্চর্য আর কী আছে আমার মন বারবার করিয়া বলিতে লাগিল, আমি পাইলাম, আমি ইহাকে পাইলাম।"

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৪,৩৭৬.
”এবার (তুমি) একটি গান কর।”- বাক্যটির ভাববাচ্য রূপ কী হবে?
  1. তোমার গান করা হোক।
  2. এবার একটি গান করা হোক।
  3. এবার গান করা যায়।
  4. এবার তুমি একটি গান গাও।
ব্যাখ্যা

• ভাববাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্য 
- কর্তায় প্রথমা বিভক্তি প্রযুক্ত হয় এবং ক্রিয়া কর্তার অনুসারী হয়।
যেমন-
- কর্তৃবাচ্য: তুমি হাঁটবে।
- ভাববাচ্য: তোমাকে হাঁটতে হবে।

- ভাববাচ্য: এবার একটি গান করা হোক।
- কর্তৃবাচ্য: এবার (তুমি) একটি গান কর।

- ভাববাচ্য: তার যেন আসা হয়।
- কর্তৃবাচ্য: সে যেন আসে।

উল্লেখ্য,
• কর্তৃবাচ্য: যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে।
• ভাববাচ্য: যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, (২০১৯ এবং ২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৪,৩৭৭.
অশুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
  2. দৈন্য প্রশংসনীয় নয়।
  3. সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  4. কালিদাস বিখ্যাত কবি।
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।

• সম্ভ্রান্তশালী বলে কোন শব্দ নেই।
• সঠিক শব্দ- সম্ভ্রান্ত বা সম্ভ্রমশীল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৩৭৮.
শুদ্ধ শব্দগুচ্ছ কোনটি?
  1. বনষ্পতি, নিস্কর, নমস্কার।
  2. নিষ্পন্দ, নিস্পাপ, বাচস্পতি।
  3. আবিস্কার, তিরষ্কার, নিষ্ফল।
  4. পুরস্কার, জ্যোতিষ্ক, পরিষ্কার।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ শব্দগুচ্ছ- পুরস্কার, জ্যোতিষ্ক, পরিষ্কার। 

অন্যদিকে, 
অপশন 'ক' এর অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধরূপ- আবিষ্কার, তিরস্কার। 
অপশন 'খ' এর অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধরূপ- নিস্পন্দ, নিষ্পাপ। 
অপশন 'ঘ' এর অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধরূপ- বনস্পতি, নিষ্কর। 

------------------
• বানানের নিয়ম:
বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।
তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৭৯.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ঊনিশ
  2. বস্তুঃত
  3. অন্তঃপুরবাসিনী
  4. মুহুর্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধ বানান - অন্তঃপুরবাসিনী।

• 'অন্তঃপুরবাসিনী' অর্থ- 
- অন্দরমহলে বাসকারিণী; গৃহের অভ্যন্তরভাগে বসবাসকারী নারী।



অন্যদিকে,
• ‘ঊনিশ’ - প্রমিত রূপে এর সঠিক বানান ‘ঊনবিংশ’।
• ‘বস্তুঃত’ শব্দটি বানানরীতির দিক থেকে ভুল, এর সঠিক রূপ- ‘বস্তুত’, যার অর্থ ‘আসলে’ বা ‘বাস্তবে’।
• আবার ‘মুহুর্ত’ বানানটি ভুল, এর সঠিক বানান ‘মুহূর্ত’।

অতএব, বিশ্লেষণ অনুযায়ী শুধুমাত্র ‘অন্তঃপুরবাসিনী’ শব্দটি প্রমিত বানানরীতিতে সঠিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, প্রমিত বাংলা বানানরীতি (বাংলা একাডেমি)।
 
৪,৩৮০.
স্বভাবতই 'ণ' ব্যবহৃত হয় কোন শব্দে?
  1. ক) ঘণ্টা
  2. খ) লবণ
  3. গ) হরিণ
  4. ঘ) উত্তরায়ণ
ব্যাখ্যা
• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে সংযুক্ত আকারে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য ণ’ যুক্ত হয়। যেমন-কণ্টক, ঘণ্টা, অকুষ্ঠ, কাণ্ড, খণ্ড ইত্যাদি।

• ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য় ব হং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে পৃ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ)।

• উত্তর, পর, পার, রবীন্দ্র, চন্দ্র, নার শব্দের পরে ‘অয়ন/আয়ন প্রত্যয় হলে দন্ত্য ন পাল্টে মূর্ধন্য ণ হয়।
যেমন- উত্তর+অয়ন = উত্তরায়ণ, পর+অয়ন = পরায়ণ, রবীন্দ্র+অয়ন = রবীন্দ্রায়ণ, চন্দ্র+অয়ন = চন্দ্রায়ণ, নর + অয়ন = নারায়ণ ইত্যাদি। 

• কতগুলাে শব্দে স্বভাবতই ণ হয়-  চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা ইত্যাদি। 


উৎস:
উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
 

৪,৩৮১.
কোনটি আবেগবাচক বাক্য?
  1. আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
  2. তারা তোমাদের ভোলেনি।
  3. আমাকে একটি কলম দাও।
  4. অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!
ব্যাখ্যা

আবেগবাচক বাক্য:
- কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।

যেমন:
- দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!

অন্যদিকে,
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য - আমাকে একটি কলম দাও।
বিবৃতিবাচক বাক্য - আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম। তারা তোমাদের ভোলেনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪,৩৮২.
অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. একটা গোপনীয় কথা বলি। 
  2. তদানীন্তনকালে বাঙালি ব্রিটিশদের অধীন ছিলো।
  3. সম্প্রতি কয়েকটি নদীতে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে।
  4. শিক্ষক অন্যান্য বিষয় আলোচনা করলেন।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: তদানীন্তনকালে বাঙালি ব্রিটিশদের অধীন ছিলো।
• শুদ্ধ: তৎকালে বাঙালি ব্রিটিশদের অধীন ছিলো।

অন্যদিকে, 
• শুদ্ধ: একটা গোপনীয় কথা বলি। 
• শুদ্ধ: সম্প্রতি কয়েকটি নদীতে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে।
• শুদ্ধ: শিক্ষক অন্যান্য বিষয় আলোচনা করলেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩৮৩.
কোনটি প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি?
  1. সৌন্দর্যতা
  2. জ্ঞানবান
  3. পূজ্য
  4. সৌন্দর্য
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি - সৌন্দর্যতা
- শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - সৌন্দর্য। এর প্রকৃতি-প্রত্যয় - সুন্দর + য।

অন্যদিকে,
- পূজ্য,
- জ্ঞানবান।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৩৮৪.
গুরুচণ্ডালী দোষ জনিত বাক্য কোনটি?
  1. ক) তাকে কলেজে যাইতে হইবে
  2. খ) এই কার্যে তাহার হস্ত পাকা
  3. গ) তাহাদের মধ্যে বেশ সখ্য দেখিতে পাই
  4. ঘ) স্বজনেরা শবদাহ করতে শ্মশানে গেছেন
ব্যাখ্যা
সাধু ও চলিত রীতির সংমিশ্রণে ভাষা দূষিত হয় । বাক্যে চলিত ও সাধু রীতির সংমিশ্রণ দেখা গেলে তাকে বাক্যের গুরুচণ্ডালী দোষ বলে।

গুরুচণ্ডালী দোষ মিশ্রিত বাক্য - তাকে কলেজে যাইতে হইবে।
শুদ্ধ বাক্য - তাহাকে কলেজে যাইতে হইবে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৮৫.
কোন ক্ষেত্রে পরোক্ষ উক্তির ক্রিয়ার কাল অপরিবর্তিত থাকে?
  1. অনুজ্ঞা ভাব
  2. প্রশ্ন জিজ্ঞাসা
  3. আবেগ প্রকাশ
  4. চিরন্তন সত্য
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তিতে কোনো চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।

যেমন-
- প্রত্যক্ষ উক্তি : শিক্ষক বললেন, "পৃথিবী গোলাকার।"
- পরোক্ষ উক্তি : শিক্ষক বললেন যে, পৃথিবী গোলাকার।

- প্রত্যক্ষ উক্তি: বৈজ্ঞানিক বললেন, "চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।"
- পরোক্ষ উক্তি : বৈজ্ঞানিক বললেন যে, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,৩৮৬.
অশুদ্ধ বানান -
  1. আশীষ
  2. উত্তরণ
  3. ক্রীড়া
  4. ঐকতান
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - আশীষ
- শব্দের শুদ্ধ বানান - আশিস।
শব্দের অর্থ:
- আশীর্বাদ,
- দোয়া,
- শুভেচ্ছা।

অন্যদিকে,
- ঐকতান, ক্রীড়া এবং উত্তরণ - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৮৭.
'বাপে না জিজ্ঞাসে মায়ে না সম্ভাষে'- এখানে 'মায়ে' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. সম্বন্ধ কারক
  4. কর্তৃ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।

• ক্রিয়াকে 'কে/ কারা' দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা কর্তৃকারক)।
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কে তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

এরূপ-
 - 'বাপে না জিজ্ঞাসে মায়ে না সম্ভাষে।' এই বাক্যে 'মায়ে' কর্তৃকারক।
[বাক্যটিকে "কে না সম্ভাষে?" প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়- 'মায়ে'। সুতরাং এখানে 'মায়ে' কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৩৮৮.
‘মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে’- এটি কোন ধরণের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) জটিল
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) মিশ্রবাক্য
ব্যাখ্যা
• মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে - বাক্যটি একটি সরল বাক্য।
- এটির জটিল রূপ হলো মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।

• সরল বাক্যে একটি মাত্র কর্তা বা উদ্দেশ্য এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী।
৪,৩৮৯.
উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে প্রসারিত করা হয় যেসব শব্দ ও বর্গ দিয়ে, তাকে কী বলে?
  1. বিধেয়
  2. পূরক
  3. যোজক
  4. প্রসারক
ব্যাখ্যা
• বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় – এই দুই অংশে ভাগ করা যায়।
- বাক্যে যাকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।
যেমন -
সুমন বল খেলে।
এই বাক্যে সুমনকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হচ্ছে। অতএব 'সুমন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।
- বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে।
- বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে। এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

• বাক্য দীর্ঘতর হলে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশের সঙ্গে নানা ধরনের শব্দ ও বর্গ যুক্ত হতে পারে।
- উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে এইসব শব্দ ও বর্গ প্রসারিত করে বলে এগুলোর নাম প্রসারক
- এছাড়া বিধেয় ক্রিয়ার বিশেষ্য অংশকে বলা হয় পূরক।
যেমন -
সেলিম সাহেবের ছেলে সুমন গাছতলায় বসে বই পড়ছে।
এখানে 'সুমন' উদ্দেশ্য, 'সেলিম সাহেবের ছেলে' উদ্দেশ্যের প্রসারক।
অন্যদিকে 'পড়ছে' বিধেয়ের ক্রিয়া, 'গাছতলায় বসে' বিধেয়ের প্রসারক এবং 'বই' হলো বিধেয়ের পূরক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৩৯০.
গুরুচন্ডালী দোষে দুষ্ট শব্দ নিচের কোনটি?
  1. গরুর গাড়ি
  2. শবপোড়া
  3. অশ্বশকট
  4. ঘোড়াগাড়ি
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ কখনও কখনও গুরুচন্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন- গরুর গাড়ি, ঘোড়াগাড়ি বা অশ্বশকট, শবদাহ, মড়াপোড়া প্রভৃতি স্থলে যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, ঘোড়াশকট, শবপোড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচন্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৪,৩৯১.
যে বাক্যে কর্মই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে থাকে, তাকে কোন বাচ্যের বাক্য বলে?
  1. কর্মকর্তৃবাচ্য
  2. কর্মপ্রবচনীয় অব্যয়
  3. কর্মবাচ্য
  4. ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।

অনুরূপ, জল পড়ে পাতা নড়ে। বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করেছে।

অন্যদিকে,
কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
• চিঠিটা পড়া হয়েছে ।

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
• আমার যাওয়া হল না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
৪,৩৯২.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অপরাহ্ন
  2. আহ্নিক
  3. পূর্বাহ্ন
  4. মধ্যাহ্ণ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- বাংলা একডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধবানান, ‘আহ্নিক’।

আহ্নিক অর্থ:
- প্রত্যহ করণীয় পূজা-আর্চা,
- প্রতিদিনের ধর্মকর্ম। 

অন্যদিকে,
’অপরাহ্ন’ এর শুদ্ধরূপ = অপরাহ্ণ।
“পূর্বাহ্ন” এর শুদ্ধরূপ =পূর্বাহ্ণ।
’মধ্যাহ্ণ’ এর শুদ্ধরূপ = মধ্যাহ্ন।

উৎস: বাংলা একডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৯৩.
নতুন পোশাকে সে ______ সজ্জিত হয়ে এসেছিল।
  1. আপদমস্তক
  2. আপাদামস্তক
  3. আপাদমস্তক
  4. অপাদমস্তক
  5. আপাদমস্থক
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'আপাদমস্তক' - শুদ্ধ বানান।

• 'আপাদমস্তক' শব্দের অর্থ: 
- পা থেকে মাথা পর্যন্ত।

সুতরাং,
বাক্যটি - নতুন পোশাকে সে আপাদমস্তক সজ্জিত হয়ে এসেছিল।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৯৪.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ভুতূড়ে
  2. ঘনীভূত
  3. পুঞ্জীভুত
  4. উদ্ভুত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - ঘনীভূত।

নিয়ম:

• 'অদ্ভুত' শব্দটি ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে ভূত বানানে ঊ-কার হবে।
যেমন:
- ভূতুড়ে,
- উদ্ভূত,
- ভূতপূর্ব,
- পুঞ্জীভূত,
- ঘনীভূত ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৩৯৫.
বিপদে যেন করিতে পারি জয়। এখানে 'বিপদে' কোন কারক?
  1. কর্তায় সপ্তমী
  2. কর্মে সপ্তমী
  3. অপাদানে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
ক্রিয়াকে কি/কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই কর্ম কারক।
যেমন: বিপদে যেন করিতে পারি জয়।  
এখানে জয় করার কাজ বিপদকে অবলম্বন করে সম্পাদিত হয়েছে। 
তাই বিপদে এখানে কর্মে সপ্তমী। 
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।
৪,৩৯৬.
'কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।'- 'কান্নায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণ কারকে ৭মী
  2. অধিকরণ কারকে ৭মী
  3. কর্ম কারকে ৭মী
  4. কর্তৃ কারকে ৭মী
ব্যাখ্যা

• ভাবাধিকরণ অধিকরণ কারক:
- যদি কোন ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিরকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।
যেমন:
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
- কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়। (ভাবাধিকরণে ৭মী)।

আধারাধিকরণ:
- আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়। যেমন: তিলে তৈল আছে। ছেলেটি অঙ্কে কাচা। নদীতে পানি আছে।
এটি তিন ভাগে বিভক্ত। যথা : - ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।

কালাধিকরণ:
- যে কালে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে কালাধিকরণ কারক বলে।
উদাহরণ-
ছেলেবেলায় আমি খুব দুষ্টু ছিলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৩৯৭.
কোনটি অভিব্যাপক আধারাধিকরণের উদাহরণ?
  1. আকাশে চাঁদ উঠেছে।
  2. পুকুরে মাছ আছে।
  3. বনে বাঘ আছে।
  4. তিলে তৈল আছে।
ব্যাখ্যা

অভিব্যাপক:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে,তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)।
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)।

অন্যদিকে,
ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,৩৯৮.
'সৌন্দর্যে কার না রুচি আছে।'- এখানে 'সৌন্দর্যে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. কর্তৃ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
- সৌন্দর্যে কার না রুচি আছে। 
[বাক্যকে 'কোনো বিষয়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সৌন্দর্যে'। তাই বাক্যে 'সৌন্দর্য' অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৩৯৯.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অনুসন্ধিসা
  2. অনুসন্ধিতসা
  3. অনুসন্ধিৎসা
  4. অনূসন্ধিৎসা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - "অনুসন্ধিৎসা"।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে।
এর অর্থ:
- অনুসন্ধান করার ইচ্ছা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৪০০.
‘কারক বিশ্লেষণ’ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্বে
  2. খ) শব্দতত্ত্বে
  3. গ) বাক্যতত্ত্বে
  4. ঘ) অর্থতত্ত্বে
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াপদের সঙ্গে অন্যান্য পদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে।
যেহেতু সবগুলো পদ নিয়েই একটা বাক্য এবং কারক নির্ণয় বা বিশ্লেষণে বাক্যের প্রয়োজন, বাক্যের অর্থ-পরিস্থিতি প্রয়োজন তাই কারক বিশ্লেষণ বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হওয়া অধিক যুক্তিসংগত।
যদিও মাধ্যমিক পুরাতন বইয়ে ও বিভিন্ন গাইডে কারককে শব্দতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় হিসেবে দেখানো হয়েছে।



উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’ (নতুন)