বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা / ৬৯ · ৩০১৪০০ / ৬,৯৫৩

৩০১.
চাকরির জন্য যে পত্র লিখতে হয় তার নাম -
  1. আমন্ত্রণপত্ৰ
  2. দরখাস্ত
  3. ব্যক্তিগত পত্র
  4. মানপত্র
ব্যাখ্যা
• চাকরির জন্য যে পত্র লিখতে হয় তার নাম - দরখাস্ত

দরখাস্ত:
- স্কুল-কলেজে কিংবা বিভিন্ন অফিসে বা সংস্থায় প্রতিষ্ঠান প্রধান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অনুরোধ জানিয়ে পত্র লেখার প্রয়োজন হয়।
- এ ধরনের পত্রকে দরখাস্ত বা আবেদনপত্র বলে।
- আবেদনপত্রের আকার সাধারণত সংক্ষিপ্ত হয়। সেখানে মূল প্রসঙ্গটি যথাযথভাবে উপস্থাপন করাটাই লক্ষ্য।
- এ ধরনের পত্রে অনেক সময়ে প্ৰমাণ স্বরূপ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অনুলিপি সংযুক্ত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০২.
‘যিনি উপকার করেন, তাঁর সবাই শ্রদ্ধা করেন।’ - কোন ধরনের বাক্য?
  1. মিশ্র বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. প্রশ্নবোধক বাক্য
  4. সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
• যেমন:
- যে নির্বোধ, সে একাজ করে।
- যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০৩.
সারাংশ ও সারমর্মের ক্ষেত্রে শুদ্ধ নয় কোনটি?
  1. ভাষায় কোনো ধরনের কাব্যধর্মিতা রাখা যায় না।
  2. লেখার সময়ে নিজস্ব বক্তব্য, মন্তব্য বা মত প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই।
  3. পুনরাবৃত্তি পুরোপুরি বর্জনীয়।
  4. লেখার সময়ে উদাহরণ গ্রহণ করতে হয়।
ব্যাখ্যা
• সারাংশ ও সারমর্মের ক্ষেত্রে শুদ্ধ নয় - লেখার সময়ে উদাহরণ গ্রহণ করতে হয়
- সারাংশ বা সারমর্ম লেখার সময়ে উদাহরণ পুরোপুরি বাদ দিতে হয়।

সারাংশ ও সারমর্ম:
- সাধারণত গদ্যরচনার অন্তর্নিহিত বক্তব্যকে সংক্ষেপে লেখার নাম সারাংশ, আর কাব্যভাষায় লেখা কোনো রচনার মূলভাবকে সংক্ষেপে লেখার নাম সারমর্ম।
- সারাংশকে সারসংক্ষেপ এবং সারমর্মকে মর্মার্থও বলা হয়ে থাকে।
- একটি বিষয় সম্পর্কে সংক্ষেপে ধারণা পেতে সারাংশ ও সারমর্ম বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

সারাংশ ও সারমর্ম লেখার কিছু নিয়ম:
ক. প্রদত্ত রচনার বিবরণ ও ভাবকে অনুসরণ করে সারাংশ ও সারমর্ম লিখতে হয়।
খ. অনধিক চার বাক্য বা চল্লিশ শব্দের মধ্যে সারাংশ ও সারমর্ম সীমিত রাখা দরকার।
গ. প্রদত্ত রচনার মূল কথা যাতে সারাংশ ও সারমর্মে বাদ না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়।
ঘ. সারাংশ বা সারমর্ম লেখার সময়ে উদাহরণ, উদ্ধৃতি, পরিসংখ্যান, তথ্য-উপাত্ত ইত্যাদি পুরোপুরি বাদ দিতে হয়।
ত. সারাংশ ও সারমর্মের ভাষায় কোনো ধরনের কাব্যধর্মিতা রাখা যায় না। ভাষা হতে হয় দ্ব্যর্থহীন ও আবেগবর্জিত।
চ. সারাংশ ও সারমর্মে পুনরাবৃত্তি পুরোপুরি বর্জনীয়
ছ. সারাংশ বা সারমর্ম লেখার সময়ে নিজস্ব বক্তব্য, মন্তব্য বা মত প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০৪.
সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. নীরোগ
  2. নিরভিমানী 
  3. নিরপরাধ
  4. দিবারাত্র
ব্যাখ্যা

• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে 'নিরভিমানী' শব্দে।
শুদ্ধ প্রয়োগ: নিরভিমান।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ-কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়।

যেমন- নেই ধন যার নির্ধন; নেই গুণ যার নির্গুণ; নেই পাপ যার = নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
নিরপরাধী- নিরপরাধ;
অহর্নিশি - অহর্নিশ;
নির্দোষী - নির্দোষ;
পিতাহারা - পিতৃহারা;
অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
নিরভিমানী - নিরভিমান;
দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩০৫.
ভাষার বিচারে বাক্যের গুণ কয়টি?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই।
যেমন:
(১) আকাঙ্ক্ষা,
(২) আসত্তি এবং
(৩) যোগ্যতা।

আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।

যেমন:
- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি। মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।

যেমন:
- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন।

আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।

যেমন:
- ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলকখনের নাম যোগ্যতা।

যেমন:
- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। - এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩০৬.
`দেশের সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন‘। বাক্যটি কোন দোষে দুষ্ট?
  1. ক) বাহুল্য দোষ
  2. খ) উপমার ভুল প্রয়োগ
  3. গ) গুরুচন্ডালি দোষ
  4. ঘ) অপ্রচলিত শব্দের ব্যবহার
ব্যাখ্যা
"দেশের সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন"- বাক্যটিতে বাহুল্য দোষ রয়েছে। 

• বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
• যেমন- দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না।
দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
বাক্যটি হবে দেশের "দেশের আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন" অথবা "দেশের সকল আলেম সভায় উপস্থিত ছিলেন"।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৭.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. মুমুর্ষু
  2. মুমূর্ষু
  3. মুমুর্সু
  4. মুমুর্ষূ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধরূপ- 'মুমূর্ষু'।
মুমূর্ষু অর্থ- মৃত্যকাল আসন্ন এমন।

• কয়েকটি শুদ্ধ বানান:
- কৌতূহল,
- মন্ত্রিসভা,
- মুমূর্ষু,
- সমীচীন,
- স্বায়ত্তশাসন,
- প্রতিযোগিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩০৮.
বিশেষণ জাতীয় শব্দ গুচ্ছের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
  2. খ) আমার ভাই পড়তে বসেছে।
  3. গ) ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।
  4. ঘ) তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম।
ব্যাখ্যা
বাক্যের বর্গ: বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে। বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।

বিশেষ্য বর্গ: বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন,
অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
আমার ভাই পড়তে বসেছে।

বিশেষণ বর্গ: বিশেষণ জাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন-
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।

ক্রিয়া বিশষেণ-বর্গ: যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন,
সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম।

ক্রিয়াবর্গ: বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন,
সে লিখছে আর  হাসছে।
সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০৯.
"A burnt child dreads the fire” এর সঠিক বাংলা অনুবাদ কোনটি? 
  1. ঘষতে ঘষতে পাথরও ক্ষয় হয়
  2. কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা
  3. ডোল ভরা আশা আর কুলো ভরা ছাই
  4. ঘরে পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়
ব্যাখ্যা

- “A burnt child dreads the fire” এর সঠিক বাংলা অর্থ-
- ঘরে পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়। 

- এর অর্থ হচ্ছে-
- একবার খারাপ অভিজ্ঞতা ভোগ করলে মানুষ ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা বা পরিস্থিতি দেখলেই শঙ্কিত হয়ে যায়, যদিও সেই সময়ে প্রকৃত কোনো বিপদ নাও থাকতে পারে।
--------------------------- 
- কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুবাদ:
তিনি গৌরবময় সাফল্য অর্জন করেছেন
= He came off with flying colours. 

এক হাতে তালি বাজে না।
= It takes two to make quarrel.

 উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে।
= One doth the scathe, another hath the scorn.

যার কোন গুণ নাই তার কপালে আগুন
= It is a pity, he is good for nothing.

আপন গায়ে কুকুর রাজা।
= Every dog is a lion at home.

ডোল ভরা আশা আর কুলো ভরা ছাই।
= Extravagant hopes lead to complete disappointment.

নিজের পায়ে কুড়াল মারা।
= To dig one’s own grave.

উলুবনে মুক্তো ছড়ানো।
= Pearls before swine.

একবার না পারিলে দেখ শতবার।
= If at first try you don’t succeed, try, try again!

কম পানির মাছ বেশ পানিতে উঠলে ও মাছে বেশ লাফালাফি করে।
= Being unnecessarily flashy is pointless

কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা।
= Using a thorn to remove a thorn.

কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে।
= To add insult to injury.

কানা গরুর ভিন্ন পথ।
= The fool strays from the safe path.

কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ।
= One’s harvest month, is another’s complete devastation.

বিপদ কখনও একা আসে না।
= Misfortune never comes alone.

আয়ের অধিক ব্যয় করো না।
= Do not live above your means.

কিনতে পাগল বেচতে ছাগল।
= Necessity never makes a bargain.

কুকুরের পেটে ঘি মজে না।
= Habit is the second nature.

কুমিরের সঙ্গে বিবাদ করে জলে বাস।
= It is hard to sit at Rome and strike with the Pope.

ঘষতে ঘষতে পাথরও ক্ষয় হয়।
= Constant dripping wears out the stone.

গাইতে গাইতে গায়েন।
= Practice makes a man perfect.

ঘরে পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়।
= A burnt child dreads the fire.

অধীনতা অপেক্ষা মৃত্যু শ্রেয়।
= Even death is preferable to bondage.

সে হাড়ে হাড়ে দুষ্ট।
= He is wicked to the backbone.

ভাই ভাই ঠাঁই ঠাঁই।
= Brothers will part.

ঘুঘু দেখেছ, ফাঁদ দেখ নি।
= You must not see things with half an eye.

চেনা বামুনের পৈতার দরকার হয় না।
= Good wine needs no bush.

চোখের আড়াল হলেই মনের আড়াল হয়।
= Out of sight, out of mind.

চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে।
= To lock the stable when the mare is stolen.

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 

৩১০.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. মূল্যায়ণ
  2. বিথী
  3. মনীষী
  4. বিপনী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'মনীষী'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ: 
- প্রতিভাসম্পন্ন,
- বিদ্বান।

অন্যদিকে,
বিপনী – বিপণি, 
বিথী – বীথি, 
মূল্যায়ণ – মূল্যায়ন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩১১.
রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা। - 'দুয়ারে' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণ সপ্তমী
  2. সম্প্রদান চতুর্থী
  3. অপাদান সপ্তমী
  4. করণ সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’ ‘য়’ ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আকাশে চাঁদ উঠেছে। (কোথায় উঠেছে? আকাশে)।
- রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা। (কোথায় বাঁধা? দুয়ারে) - অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- সজিব ব্যাকরণে ভাল। (কী বিষয়ে ভাল? ব্যাকরণে)।
- সকালে সূর্য ওঠে। (কখন ওঠে? সকালে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩১২.
কোন্ বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. আপনি স্বস্ত্রীক আসবেন।
  2. সশরীরে উপস্থিত থাকবে।
  3. কথার মাধুর্যে পাগল হয়েছি।
  4. আমার কথাই প্রমাণিত হলো।
ব্যাখ্যা

আপনি স্বস্ত্রীক আসবেন - এই বাক্যটি অশুদ্ধ।
স্ব = নিজ
স = সহ, সঙ্গে, সাথে, সহিত
সুতরাং বাক্যটি হবে :
- আপনি সস্ত্রীক আসবেন।
এর মানে হলো আপনি স্ত্রীসহ আসবেন।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ

৩১৩.
সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. যুবরাজ
  2. অহর্নিশ
  3. মাতৃজাতি
  4. নির্দোষী
  5. নিরভিমান
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে ‘নির্দোষী’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: নির্দোষ।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার= নির্ধন, নেই গুণ যার = নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- মাতাজাতি - মাতৃজাতি;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি;
- যুবরাজা - যুবরাজ;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩১৪.
এ গ্রামে যে দরগাহ আছে, সেটি পাঠান যুগে নির্মিত হয়েছে। বাক্যের ধরণ নির্ণয় করুন।
  1. ক) সরল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
যৌগিকঃ এ গ্রামে একটি দরগাহ আছে, সেটি পাঠানযুগে নির্মিত হয়েছে।
মিশ্র / জটিলঃ এ গ্রামে যে দরগাহ আছে, সেটি পাঠান যুগে নির্মিত হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
৩১৫.
প্রমিত বানানের নিয়ম অনুসারে কোনটি শুদ্ধ?
  1. নির্দ্দিষ্ট 
  2. নির্দিষ্ট
  3. নিদ্দিষ্ট 
  4. কোনোটিই নয়  
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- নির্দিষ্ট।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
- শব্দটি বিশেষণ পদ।  
অর্থ:
- নির্দেশ করা হয়েছে এমন।
-  স্থিরীকৃত, নির্ধারিত।

-------------------
• বানানের নিয়ম:
রেফ এর পর তৎসম, অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন:
- কার্য্যালয় হবে না, সঠিক বানান হবে কার্যালয়।
- নির্দ্দিষ্ট হবে না, সঠিক বানান নির্দিষ্ট।
- ধর্ম্মসভা বানানটি ভুল, সঠিক বানান হবে ধর্মসভা।
- তেমনি ভাবে পর্ব্বত হবে না , সঠিক বানান হবে পর্বত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩১৬.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. ক) পরিস্কার
  2. খ) নষ্ট
  3. গ) ভাসণ
  4. ঘ) উষা
ব্যাখ্যা

ট–বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়৷
যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

আবার কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়৷
যথা: ষড়ঋতু, ভাষণ, ঊষা, ভূষণ, ঔষধ ইত্যাদি৷

র-ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধনি থাকে, তবে তার পরে 'ষ' বসে। যেমন - পরিষ্কার।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি

৩১৭.
কামাল বলল, "বাহ! পাখিটি তো চমৎকার।" - বাক্যটির পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. কামাল বলল, পাখিটি চমৎকার।
  2. কামাল আনন্দের সাথে বলেছিল, পাখিটি অনেক চমৎকার।
  3. কামাল বলল, পাখিটি খুব চমৎকার।
  4. কামাল আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।
ব্যাখ্যা
• কামাল বলল, "বাহ! পাখিটি তো চমৎকার।" - এর সঠিক পরোক্ষ উক্তি - কামাল আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।

• আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তিত করার সময় নিম্নলিখিত বাক্যাংশগুলো ব্যবহার করতে হয়।
যেমন- আনন্দের সাথে/ আক্ষেপের সাথে/ দুঃখের সাথে/বিরক্তিভরে/বিস্ময়ের সাথে + বলল/বললেন/ বললাম + যে।

• অতপর খণ্ড বাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন-
প্রত্যক্ষ : লোকটি বলল, “বাঃ! পাখিটি তো চমৎকার।”
পরোক্ষ : লোকটি আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১৮.
'সেমিকোলন' ব্যবহৃত হয় না -
  1. শব্দ বা পদের পরে
  2. একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একবাক্যে লিখতে
  3. কমা অপেক্ষা অধিক বিরতির প্রয়োজন হলে
  4. উপরের সবগুলো কাজে 'সেমিকোলন' ব্যবহৃত হয়
ব্যাখ্যা

সেমিকোলন (;):
- কমা অপেক্ষা বেশি কিন্তু দাঁড়ির চেয়ে কম সময়ের বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
- শব্দ বা পদের পরে সেমিকোলন বসে না। সাধারণত বাক্যাংশের পরে বসে।
যেমন:
- চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে; পৃথিবী সূর্যের চারদিকে।

সেমিকোলন চিহ্নের ব্যবহার:
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি স্বাধীন বাক্যে লিখতে সেগুলোর মাঝে সেমিকোলন বসে।
- কমা’র বারংবার ব্যবহারের পর কিন্তু দাঁড়ির আগে সেমিকোলন বসে।
- কমা অপেক্ষা অধিক বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
- কোনো তালিকায় বিদ্যমান একাধিক ব্যক্তির নাম ও পদের তালিকা অনুধাবনের সুবিধার্থে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
যেমন- গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ; সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন; সাধারণ সম্পাদক, হামেদ আলি প্রমুখ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩১৯.
'Indolence is the mother poverty' এর সঠিক অনুবাদ কোনটি?
  1. নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করা।
  2. নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা।
  3. ন্যাংটার নেই বাটপারের ভয়।
  4. আলস্যই দারিদ্র্যের মূল।
ব্যাখ্যা
• 'Indolence is the mother proverty' এর সঠিক অনুবাদ - আলস্যই দারিদ্র্যের মূল।

অন্যদিকে,
- 'A beggar may sing before a pickpocket' এর সঠিক অনুবাদ - ন্যাংটার নেই বাটপারের ভয়।
- 'A bad workman quarrels with his tools' এর সঠিক অনুবাদ - নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা।
- 'Cut off one's nose to spite one's face' এর সঠিক অনুবাদ - নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২০.
নিচের কোন বানাটি শুদ্ধ?
  1. অন্যপুর্বা
  2. বয়োজ্যেষ্ঠ
  3. নিরিক্ষন
  4. আদ্যক্ষর
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'বয়োজ্যেষ্ঠ'।
অর্থ: বয়সে বড়।

অন্যদিকে,
- 'নিরিক্ষন' এর শুদ্ধ বানানটি হচ্ছে নিরীক্ষণ।
- 'আদ্যক্ষর' এর শুদ্ধ বানানটি হচ্ছে আদ্যাক্ষর।
- অন্যপুর্বা এর শুদ্ধ বানান - অন্যপূর্বা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩২১.
'পূজার কঠোর পরিশ্রম করতে হয়' কর্মবাচ্যের এই বাক্যটি কর্তাবাচ্যে কী হবে?
  1. পূজার কর্তৃক কঠোর পরিশ্রম হয়।
  2. পূজা কঠোর পরিশ্রম করে।
  3. পূজার দ্বারা কঠোর পরিশ্রম হয়।
  4. পূজার কঠোর পরিশ্রম করতেই হবে।
ব্যাখ্যা
- কর্মবাচ্য: পূজার কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
- কর্তাবাচ্য: পূজা কঠোর পরিশ্রম করে।

• কর্মবাচ্য থেকে কর্তাবাচ্য:
কর্মবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে কর্তার সঙ্গে যুক্ত দ্বারা, দিয়ে,কর্তৃক প্রভৃতি অনুসর্গ বাদ দিতে হয় এবং ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।
যেমন
- কর্মবাচ্য: প্রধানশিক্ষক কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়েছে।
- কর্তাবাচ্য: প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।

উল্লেখ্য: 
• কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন: ঝরনা ছবি আঁকে।

• কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৩২২.
আশ্রিত বাক্যের দেখা পাওয়া যায় কোন বাক্যে?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ পাওয়া যায় জটিল বাক্যে। 
গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩২৩.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ভ্রাতুষ্পুত্র
  2. ভদ্রোচিত
  3. অভিভুত
  4. কঙ্কাল
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - 'অভিভুত'

- শব্দটির শুদ্ধ বানান - 'অভিভূত'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
এর অর্থ:
- বিহ্বল, ভাবাবিষ্ট এবং পরাভূত।

অন্যদিকে,
- ভ্রাতুষ্পুত্র, ভদ্রোচিত এবং কঙ্কাল - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩২৪.
কোন বানানটি শুদ্ধ নিয়মে গঠিত?
  1. ক) বর্ন
  2. খ) ভীষন
  3. গ) বর্ননা
  4. ঘ) ভাষণ
ব্যাখ্যা
-  ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। তাই 'ভাষণ' বানানটি শুদ্ধ নিয়মে গঠিত।
- অন্যান্য অপশনের বানানে নিয়ম অনুযায়ী 'ণ' বসলে শুদ্ধ হতো।

• ণ-ত্ব বিধান:
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় না।
- বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২৫.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. মনোমোহন
  2. স্নেহাশিস
  3. নিক্কণ
  4. হীনম্মন্যতা
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - নিক্কণ
- শুদ্ধ বানান - নিক্বণ।
- ‘নিক্বণ’ শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- ‘নিক্বণ’ অর্থ: নূপুর, বীণা প্রভৃতির ঝংকার।

অন্যদিকে,
বাকি শব্দগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩২৬.
নিচের আসত্তি সম্পন্ন বাক্যটি শনাক্ত করুণ।
  1. ক) কাল আমাদের স্কুলে পুরষ্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে
  2. খ) কাল স্কুলে পুরষ্কার উৎসব বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে আমাদের
  3. গ) কাল স্কুলে আমাদের বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে পুরষ্কার
  4. ঘ) কাল আমাদের স্কুলে উৎসব পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে
ব্যাখ্যা
কাল আমাদের স্কুলে পুরষ্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
৩২৭.
নিচের কোন শব্দটির বানান অশুদ্ধ?
  1. ষাণ্মাসিক
  2. প্রতিদ্বন্দী
  3. মহিরুহ
  4. রৌদ্রকরোজ্জ্বল
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - প্রতিদ্বন্দী
- শুদ্ধ বানান - প্রতিদ্বন্দ্বী।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- প্রতিদ্বন্দ্বকারী; প্রতিপক্ষ, প্রতিযোগী।

অন্যদিকে,
- রৌদ্রকরোজ্জ্বল।
- মহিরুহ। 
- ষাণ্মাসিক। 
উপরিউক্ত শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩২৮.
নিচের কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. ক) অভিশংসন
  2. খ) অভ্যুদয়
  3. গ) কর্তব্যনিষ্ট
  4. ঘ) কর্ণশূল
ব্যাখ্যা
কর্তব্যনিষ্ট বানানটি অশুদ্ধ।
এর শুদ্ধ বানান কর্তব্যনিষ্ঠ।   
কর্তব্যনিষ্ঠ- সংস্কৃত শব্দ।  
'কর্তব্যনিষ্ঠ' শব্দের অর্থ- কর্তব্য পালনে নিষ্ঠা আছে এমন। 

তাছাড়া, 
অভিশংসন শব্দের অর্থ- সাংবিধানিক পদে নিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অভিযোগ আনয়ন। 
অভ্যুদয় শব্দের অর্থ- উদয়, উদ্ভব। 
কর্ণশূল শব্দের অর্থ- কানের ব্যথা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান। 
৩২৯.
অশুদ্ধ বানান -
  1. নৃশংস
  2. নিরহংকার
  3. দ্বন্দ্ব
  4. দুরবস্থা
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অপশনের সব গুলোই শুদ্ধ বানান তাই কোনটি উত্তর হবে।

নৃসংশ - নৃশংস।
দূরাবস্থা – দুরবস্থা,
দ্বন্দ – দ্বন্দ্ব,
নিরহঙ্কারী – নিরহংকার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৩০.
অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত নয় কোনটি?
  1. সুবুদ্ধিমান
  2. মহিমামণ্ডিত
  3. মৈত্রতা
  4. বিপদুদ্ধার
ব্যাখ্যা

• 'বিপদুদ্ধার' - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ। 
- 'বিপদুদ্ধার' শব্দের অর্থ - বিপদ থেকে রক্ষা, বিপন্মুক্তি। 

অন্যদিকে,
• 'সুবুদ্ধিমান', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
- এর শুদ্ধরূপ: সুবুদ্ধি, বুদ্ধিমান। 

• 'মৈত্রতা', প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: মিত্রতা/ মৈত্র।

• 'মহিমামণ্ডিত', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: মহিমমণ্ডিত 

উৎস:
১) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
২) বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৩১.
"ছাত্ররা বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক? 
  1. করণ
  2. অধিকরণ
  3. কর্ম
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: আমার ভাত খাওয়া হলো না।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছাত্ররা বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৩৩২.
‘জগতে অসম্ভব বলে কিছু নেই।’- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক
  2. খণ্ড
  3. জটিল
  4. সরল
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি কর্তা বা উদ্দেশ্য ও একটি সমাপিকা ক্রিয়া বা বিধেয় থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- খোকন বই পড়ছে।
- আমি বহু কষ্টে সাঁতার শিখেছি।
- জগতে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

অন্যদিকে,
জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি স্বাধীন বাক্য এবং এক বা একাধিক অধীন বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন:
- যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
- কোথাও পথ না পেয়ে তোমার কাছে এসেছি।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করে আছি।

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা তার অধিক সরল বা জটিল বাক্য মিলিত হয়ে যদি একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তবে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
যেমন:
- ছেলেটি গরিব কিন্তু মেধাবী।
- দুঃখ এবং বিপদ এক সাথে আসে।
- এতক্ষণ অপেক্ষা করলাম কিন্তু গাড়ি পেলাম না।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৩৩.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. অতিথি
  2. সমিচীন
  3. কৌতূহল
  4. তিরস্কার
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ - সমিচীন। 
• শুদ্ধ - সমীচীন (বিশেষণ),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: সংগত, উপযুক্ত, উওম, যথার্থ, সত্য, উচিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৩৪.
'তাকলামাকান মরুভূমি' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) পাকিস্তান
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) চীন
ব্যাখ্যা
তাকলামাকান মরুভূমি মধ্য এশিয়ার অন্তর্গত চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে অবস্থিত এবং বিশ্বের বৃহত্তম বালুকাময় মরুভূমিগুলির মধ্যে অন্যতম।
•বিখ্যাত কিছু মরুভূমির অবস্থান - 
- থর মরুভূমি : ভারত ও পাকিস্তান।
- গোবি মরুভূমি : চীন ও মঙ্গোলিয়া
- মোজাবে মরুভূমি : যুক্তরাষ্ট্র
- সাহারা মরুভূমি : আফ্রিকা

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
৩৩৫.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অদ্ভুত
  2. ভুতপূর্ব
  3. উদ্ভুত
  4. ঘনীভুত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- অদ্ভুত। 
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ। 


• বানানের নিয়ম:
অদ্ভুত শব্দটি ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে ভূত বানানে ঊ-কার হবে।
যেমন:
- ভূতুড়ে,
- উদ্ভূত,
- ভূতপূর্ব,
- পুঞ্জীভূত,
- ঘনীভূত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৩৬.
প্রবাদ-প্রবাচনের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. আষাঢ়ের তর্জনগর্জন।
  2. দশচক্রে ভগবান ভূত।
  3. খালি কলসির গর্জন বেশি।
  4. ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়ানো।
ব্যাখ্যা
• সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।

যেমন:
অশুদ্ধ: খালি কলসির গর্জন বেশি।
শুদ্ধ প্রয়োগ: খালি কলসির বাজনা বেশি।

অশুদ্ধ: দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
শুদ্ধ প্রয়োগ: দশচক্রে ভগবান ভূত।

অশুদ্ধ: ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়ানো।
শুদ্ধ প্রয়োগ: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো।

অশুদ্ধ: আষাঢ়ের তর্জনগর্জন।
শুদ্ধ বাক্য: অসারের তর্জনগর্জন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৩৭.
কোন শব্দগুচ্ছ শুদ্ধ?
  1. ক) অত্যাধিক, ব্যাতিক্রম
  2. খ) সখ্যতা, মৌন
  3. গ) লাবণ্য, পন্য
  4. ঘ) ঘনিষ্ঠ, তিরস্কার
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ শব্দঃ অত্যধিক, ব্যতিক্রম, সখ্য, পণ্য।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
৩৩৮.
নিচের কোনটি সরল বাক্য নয়?
  1. স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালবাসেন।
  2. মা ছিলনা বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।
  3. তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম।
  4. মিথ্যা কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।
ব্যাখ্যা

যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন-
স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালবাসেন;
‘তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম’;
‘মা ছিলনা বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’।
‘মিথ্যা কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি’ এটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।
[সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি : ড. হায়াৎ মাহমুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি]

৩৩৯.
”বিপদ এবং দুঃখ এক সময়ে আসে”- কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. মিশ্র বাক্য
  4. জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা,কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (_) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- বিপদ এবং দুঃখ এক সময়ে আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
৩৪০.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. শষাঙ্ক
  2. শশাঙ্ক
  3. শসাঙ্ক
  4. শসাংক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - শশাঙ্ক
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- চন্দ্র, চাঁদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৪১.
'তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সখিনা বিবির কপাল ভাঙল।' এটি কোন বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) মিশ্র বা জটিল
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) সংযুক্ত
ব্যাখ্যা
একটি প্রধান বাক্যের সঙ্গে অঙ্গীভূত এক বা একাধিক খন্ড বাক্য সাধারণভাবে বা কোনো অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষে সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যাবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর
৩৪২.
"আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।" বাক্যটি কোন ধরনের?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
"আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।" বাক্যটি  যৌগিক বাক্য।

- এই বাক্যের সরলরূপ: আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।

• যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি, ফলে প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

• গঠন অনুযায়ী বাক্য তিন প্রকার:
(১) সরল বাক্য,
(২) মিশ্র বা জটিল বাক্য,
(৩) যৌগিক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৪৩.
অশুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  3. আমি সন্তোষ হলাম।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - সবগুলোই। উপরিউক্ত সবগুলো বাক্যই অশুদ্ধ।

অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তোষ হলাম।
শুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তুষ্ট হলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৪৪.
সাধারণ বাক্যের প্রধান অংশ কয়টি?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
• এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবােধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
- সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ: কর্তা, কর্ম ও ক্রিয়া।

• বাক্যের ক্রিয়াকে যে চালায়, সে হলাে কর্তা। যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে বলে কর্ম।
- আর বাক্যের মধ্যে যে অংশ দিয়ে কোনাে কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বােঝায় তাকে বলে ক্রিয়া।
যেমন- “সজল ও লতা বই পড়ে।” – এটি একটি বাক্য।
- বাক্যে ‘সজল ও লতা’ হলাে কর্তা, ‘বই’ হলাে কর্ম এবং ‘পড়ে’ হলাে ক্রিয়া। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৪৫.
কমা-র চেয়ে বেশি কিন্তু দাঁড়ি-র চেয়ে কম বিরতি দেয়ার জন্য কোন যতি-চিহ্নটি ব্যবহার করা হয়?
  1. হাইফেন
  2. সেমিকোলন
  3. ড্যাস
  4. উদ্ধরণ বা উদ্ধৃতি চিহ্ন
ব্যাখ্যা

কমা-র চেয়ে বেশি কিন্তু দাঁড়ি-র চেয়ে কম বিরতি দেয়ার জন্য সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-
আমরা সবাই সবাইকে ভালবাসি; আসলেই কি সবাই ভালবাসি?

যতি চিহ্ন ও সময়কালঃ
কমা - ১ বলতে যে সময় লাগে
দাঁড়ি/ পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড
জিজ্ঞাসা বা প্রশ্নসূচক চিহ্ন - এক সেকেন্ড
বিস্ময়সূচক বা আশ্চর্যবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড
ড্যাস - এক সেকেন্ড
কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড
সেমি কোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়
উদ্ধরণ বা উদ্ধৃতি চিহ্ন - এক সেকেন্ড
হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, নবম - দশম শ্রেণি।

৩৪৬.
সম্বন্ধ কারকের প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. কপালের লিখন না যায় খণ্ডন।
  2. তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতাে মাইলের পর মাইল।
  3. তােমার দেখা পেলাম না।
  4. নিজের চেষ্টায় বড় হও।
ব্যাখ্যা
• কারক ছয় প্রকার। যথা:
- কর্তা কারক
- কর্ম কাবক
- করণ কারক
- অপাদান কারক
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘র’, -এর’, -য়ের’, ‘কার’, ‘কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতাে মাইলের পর মাইল

অন্যদিকে, 
- কপালের লিখন না যায় খণ্ডন = অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- তােমার দেখা পেলাম না = কর্ম কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- নিজের চেষ্টায় বড় হও = করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৪৭.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) জবা কুসুম
  2. খ) তিমির বিদারী
  3. গ) সলীল সমাধী
  4. ঘ) যৌবন সূর্য
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের অপশগুলোর মধ্যে সলীল সমাধী বানানটি অশুদ্ধ। এর সঠিক বানান হচ্ছে সলিল সমাধি।
- অপশনের বাকি বানানগুলো সঠিক।

• 'Watery grave'-এর অর্থ = সলিল সমাধি।
সলিল অর্থ হচ্ছে  পানি, water.
সলিল সমাধি (noun) watery grave; drowning; (figurative) utter/ irrevocable loss.
'সলিল' 'পানি' এর প্রতিশব্দ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩৪৮.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) শকট
  2. খ) শকোট
  3. গ) সকোট
  4. ঘ) সকট
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান = শকট 
• শকট
(বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √শক্‌+অট
অর্থ: 
- গাড়ি, যান। 
- কংসের অনুচর অসুর

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩৪৯.
বাড়ী বা রাস্তার নম্বরের পর কোন চিহ্নটি বসে?
  1. দাঁড়ি
  2. কমা
  3. কোলন
  4. সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন কমা (,) এর ব্যবহার: 
১) ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর 'কমা' বসে। 
যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা- ১০০০। 

২) পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে 'কমা' বসে। 
যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে। 

৩) সম্বোধনের পরে 'কমা' বসে। 
যেমন- রশিদ, এদিকে এসো। 

৪) জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খন্ডবাক্যের পরে 'কমা' বসে।
যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে। 

৫) কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খন্ডবাক্যের শেষে 'কমা' বসে। 
যেমন- আহমদ ছফা বলেন, ‘মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ’। 

৬) মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর 'কমা' বসে। 
যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার। 

৭) বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে 'কমা' বসে। 
যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে। 

৮) ডিগ্রী পদবি লেখার সময় 'কমা' ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম,এ, পি-এইচ,ডি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫০.
বিপদে যেন করিতে পারি জয়- বাক্যটিতে ‘বিপদে’ কোন কারক?
  1. ক) কর্ম কারকে ৭মী
  2. খ) সম্প্রদান কারকে চতুর্থী
  3. গ) অপাদান কারকে ষষ্ঠী
  4. ঘ) করণ কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা
• বিপদে যনে করিতে পারি জয়- বাক্যটিতে ‘বিপদে’ কর্ম কারকে সপ্তমীর এ বিভক্তি।

•  কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বল হয় কর্মকারক।
যেমন: সেলিম বই পড়ে। - এ বাক্যের কর্ম হলাে বই। কারণ বইকে আশ্রয় করে কর্তা এখানে কাজ সম্পাদন করেছে।

•  কর্মকারকের বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার।
ক) প্রথমা বা শূন্য অ বিভক্তি : ডাক্তার ডাক।
খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি : তাকে বল।
রে বিভক্তি : ‘আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মাের প্রার্থনা।
গ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি : তােমার দেখা পেলাম না।
ঘ) সপ্তমীর এ বিভক্তি : জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫১.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. গড্ডালিকা
  2. ত্রিভূজ
  3. দুরবস্থা
  4. দ্বন্দ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'দুরবস্থা' বানানটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- 'গড্ডালিকা' এর সঠিক বানান হবে 'গড্ডলিকা'।
- 'ত্রিভূজ' এর সঠিক বানান হবে 'ত্রিভুজ'।
- 'দ্বন্দ'  এর সঠিক বানান হবে 'দ্বন্দ্ব'।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৫২.
'তিনি ব্যাকরণে পন্ডিত'- কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. অধিকরণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
- অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়
সেটিই অধিকরণ কারক।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।

প্রশ্নে প্রদত্ত বাক্যটি-
- 'তিনি ব্যাকরণে পণ্ডিত।'- বাক্যকে 'কোন বিষয়ে পণ্ডিত?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ব্যাকরণে'। এখানে 'ব্যাকরণে' তিনি পণ্ডিত হওয়ার বিষয় বা ক্ষেত্র নির্দেশ করছে, তাই এটি অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৫৩.
নিচের কোন বাক্যটি ঠিক নয়?
  1. ক) তার কথা প্রমাণিত হয়েছে
  2. খ) তোমার সঙ্গে কিছু গোপনীয় পরামর্শ আছে
  3. গ) শুধুমাত্র গায়ের জোরে কাজ হয় না
  4. ঘ) আমার টাকার আবশ্যকতা নাই
ব্যাখ্যা
শুধুমাত্র গায়ের জোরে কাজ হয় না- বাক্যটি সঠিক নয়। 
এর শুদ্ধ বাক্য হবে- 'শুধু গায়ের জোরে কাজ হয় না।'


উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৫৪.
ছেলেরা ক্রিকেট খেলে- বাক্যে 'ক্রিকেট' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) করণে শূন্য
  2. খ) অপাদানে শূন্য
  3. গ) কর্মে শূন্য
  4. ঘ) অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক: 
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।
যেমন:
সে রােজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
শিক্ষককে জানাও।

"ছেলেরা ক্রিকেট খেলে" এখানে 'ক্রিকেট'-কে আশ্রয় করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয়েছে। 
- এবং এতে কোনো বিভক্তি ব্যবহৃত হয় নি। 
- তাই এটি কর্মে শূন্য। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
৩৫৫.
প্রমিত নিয়ম অনুযায়ী 'আলি' প্রত্যয়যুক্ত শব্দে কোন কার-চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. ঈ-কার
  2. ই-কার
  3. এ-কার
  4. উ-কার
ব্যাখ্যা

- আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন- সোনালি, মিতালি, বর্ণালি, খেয়ালি, রুপালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

[ তবে ‘সোনালী ব্যাংক’ এর (সোনালী) বানানটি ব্যাংক কর্তৃক এভাবেই নিবন্ধিত। তাই সোনালী ব্যাংক লিখতে সোনালী শব্দটিই ব্যবহৃত হবে। যদিও বানানের নিয়ম অনুসারে (সোনালী) শব্দের সঠিক বানান সোনালি।]

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৫৬.
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. সহযোগীতা
  2. মন্ত্রীত্ব
  3. কৃতিত্ব
  4. কৃতি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
•'কৃতিত্ব' বানানটি সঠিক। 

• সংস্কৃত ইন্-প্রত্যয়ান্ত শব্দের দীর্ঘ ঈ-কারান্ত রূপ সমাসবদ্ধ হলে সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম-অনুযায়ী সেগুলিতে হ্রস্ব ই-কার হয়। যেমন:
- গুণী >গুণিজন, প্রাণী >প্রাণিবিদ্যা, মন্ত্রী> মন্ত্রিপরিষদ।
- তবে এগুলির সমাসবদ্ধ রূপে ঈ-কারের ব্যবহারও চলতে পারে। যেমন:
- গুণী >গুণীজন, প্রাণী >প্রাণীবিদ্যা, মন্ত্রী >মন্ত্রীপরিষদ।
• ইন্-প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে-ত্ব ও-তা প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার হবে। যেমন:
- কৃতী >কৃতিত্ব,
- দায়ী >দায়িত্ব,
- প্রতিযোগী > প্রতিযোগিতা
- মন্ত্রী >মন্ত্রিত্ব,
- সহযোগী >সহযোগিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম। 
৩৫৭.
কোন বাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়। যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

অন্যদিকে,
• কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন: 
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

কর্মকর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
বিষয়টি ভালো শোনায় না।
বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫৮.
যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত যোজক কোনটি?
  1. যেহেতু 
  2. যদিও 
  3. সেজন্য
  4. যত-তত 
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে, বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি, এতে দোষের কিছু নেই।

অন্যদিকে, 
• যেহেতু, যদিও, যত-তত যোজকগুলো জটিল বাক্যে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৫৯.
বাংলা ভাষার অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত -
  1. ঐক্যমত
  2. শ্রেষ্ঠতর
  3. অধীনস্থ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত হলো- ঐক্যমত।
এর সঠিক রূপ হলো: ঐকমত্য বা ঐক্যমত্য।

• 'শ্রেষ্ঠতর', উৎকর্ষবাচক '-তর' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: শ্রেষ্ঠ।

• 'অধীনস্থ' শব্দটিতে অপ-প্রয়োগ ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে অধীন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬০.
বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।
  2. সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী।
  3. অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
  4. অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
শুদ্ধ বাক্য: অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

[বাক্যে ব্যবহৃত অন্যান্য শব্দটি বহুবচন প্রকাশক। ‘বিষয়’ শব্দের সঙ্গে পুনরায় ‘গুলোর’ বহুবচন লগ্নক যুক্ত হওয়ায় বহুবচনের দ্বিত্ব প্রয়োগ বা অপ্রয়োগ ঘটেছে।]

⇒ সূত্র:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এর ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা ইত্যাদি যুক্ত হবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬১.
প্রবাদ-প্রবচনের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. তার পরিস্থিতি যেন জলে কুমির ডাঙায় সিংহ। 
  2. দেখায় তো যাচ্ছে কারো ফাল্গুন মাস কারো সর্বনাশ।
  3. গফুর মিয়া কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরালে হাজী। 
  4. ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
ব্যাখ্যা
• প্রবাদ-প্রবচনের শুদ্ধ প্রয়োগ- ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।

-----------
অন্যদিকে, অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-

• অশুদ্ধ: তার পরিস্থিতি যেন জলে কুমির ডাঙায় সিংহ। 
• শুদ্ধরূপ: তার পরিস্থিতি যেন জলে কুমির ডাঙায় বাঘ।

• অশুদ্ধ: গফুর মিয়া কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরালে হাজী। 
• শুদ্ধরূপ: গফুর মিয়া কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি। 

• অশুদ্ধ: দেখায় তো যাচ্ছে কারো ফাল্গুন মাস কারো সর্বনাশ।
• শুদ্ধরূপ: দেখায় তো যাচ্ছে কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬২.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
  2. আমি সাক্ষী দিব না।
  3. এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
  4. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
• শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।

এমনকিছু অশুদ্ধ ও শুদ্ধ বাক্য হলো-

• অশুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষী দিব না।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।

• অশুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

• অশুদ্ধ বাক্য: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
• শুদ্ধ বাক্য: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬৩.
নিচের কোন শব্দটি অশুদ্ধ?
  1. ক) নিষ্পন্ন
  2. খ) নিষ্ফল
  3. গ) নিস্পৃহ
  4. ঘ) নিষ্পন্দ
ব্যাখ্যা
নিষ্পন্দ এর শুদ্ধরূপ নিস্পন্দ।
৩৬৪.
'মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।' - কে বলেছেন?
  1. কাজী আব্দুল ওদুদ
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকু্র
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মোতাহের হোসেন চৌধুরীর মৃত্যুর পর সিকান্দার আবু জাফরের সমকাল প্রকাশনী কতৃক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রবন্ধগুলো নিয়ে প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'সংস্কৃতি কথা'।
- ত্রিশটি প্রবন্ধ একত্রিত করে 'সংস্কৃতি কথা' শিরোনামে তাঁর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ বের করে বাংলা একাডেমি ১৯৭০ সালে।

'সংস্কৃতির কথা' প্রবন্ধগ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি:
- 'মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।',
- 'ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৬৫.
কোনটি সমাসঘটিত অপপ্রয়োগ? 
  1. পৌরুষত্ব
  2. নিরভিমানী
  3. অর্ধরাত্র
  4. সমূল
ব্যাখ্যা

• সমাসঘটিত অপপ্রয়োগ - নিরভিমানী
- শুদ্ধ প্রয়োগ - নিরভিমান।

অন্যদিকে,
- পৌরুষত্ব,
- অর্ধরাত্র,
- সমূল,
শব্দগুলো সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৬৬.
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য কোনটি?
  1. সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।
  2. গুরুজনদের মান্য করা উচিত।
  3. দেশের সেবা করা কর্তব্য।
  4. বিপদে ধৈর্য ধরা উচিত।
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞাসূচক বাক্য: সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।

অন্যদিকে, 
নির্দেশাত্মক বাক্যের কতিপয় উদাহরণ-
- গুরুজনদের মান্য করা উচিত।
- দেশের সেবা করা কর্তব্য।
- বিপদে ধৈর্য ধরা উচিত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬৭.
মানুষের ________ বাইরে থেকে বোঝা যায় না।
  1. অন্তঃস্থল
  2. অন্তস্থল
  3. অন্তস্তল
  4. অন্তঃস্তল
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - 'অন্তস্তল'।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- মনো-মধ্য;
- মন, হৃদয়।

সুতরাং, 
সঠিক বাক্যটি হবে- মানুষের অন্তস্তল বাইরে থেকে বোঝা যায় না।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৬৮.
'আমার ভাত খাওয়া হলো না।' - বাক্যে 'ভাত' কোন কারক?
  1. করণ
  2. অপাদান
  3. কর্ম
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।

যেমন:
কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ
প্রথমা বিভক্তি: পুলিশ ডাক। আমার ভাত খাওয়া হলো না।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৩৬৯.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. মুহর্মুহু
  2. বহ্ণি
  3. জাজ্বল্যমান
  4. আশ্বস্থ
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'জাজ্বল্যমান'- শুদ্ধ বানান।

এর অর্থ:
- অতিশয় উজ্জ্বল।

• অশুদ্ধ বানান - 'জাজ্জ্বল্যমান'।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বানানগুলো হলো:
• মুহর্মুহু - মুহুর্মুহু। 
• আশ্বস্থ - আশ্বস্ত।
• বহ্ণি - বহ্নি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৭০.
নিচের কোন শব্দটি সঠিক নয়?
  1. শ্রদ্ধাঞ্জলি
  2. অভ্যন্তরীণ
  3. মুহুর্মুহু
  4. ফনীভূষণ
ব্যাখ্যা
ফনীভূষণ শব্দটি সঠিক নয়। শব্দটির শুদ্ধরূপ হবে- ফণিভূষণ।
৩৭১.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. ক) বর্ষার রৌদ্রে প্লাবনের সৃষ্টি হয়
  2. খ) চাঁদ পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে
  3. গ) তোমাকে দেখে সে আশ্চার্যান্বিত হয়েছে
  4. ঘ) পাখিগুলো আকাশে উড়ছে
ব্যাখ্যা
ভাষার বিচারে একটি স্বার্থক বাক্যের ৩টি গুণ থাকা আবশ্যক। যথা :

১. আকাঙ্খা : বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে আগ্রহ তাকে আকাঙ্খা বলে।

২. আসত্তি : বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর মাঝে অর্থের সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য পদগুলোর সুশৃঙ্খলভাবে পদ  বিন্যাসই আসত্তি।

৩. যোগ্যতা : বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মেলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।

‘বর্ষার রৌদ্রে প্লাবনের সৃষ্টি হয়’ কাব্যটিতে ভাবগত মেলবন্ধন না থাকায় বাক্যটি যোগ্যতা হারিয়েছে।   
- সঠিক বাক্যটি হবে ‘বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়’


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭২.
'আমি ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে আছি। - নিম্নরেখ অংশটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. করণ কারক 
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
----------------------------------------
• 'আমি ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে আছি।' - বাক্যের ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ছাতার নিচে'।
তাই,
নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ। 

উৎস:
- মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৭৩.
নিচের কোনটি অপ-প্রয়োগের দৃষ্টান্ত?
  1. ক) বিপদগ্রস্ত
  2. খ) নিষ্পাপী
  3. গ) অভাবগ্রস্ত
  4. ঘ) মুখস্থ
ব্যাখ্যা

- নিষ্পাপী হচ্ছে অপ-প্রয়োগের দৃষ্টান্ত।
- এর সঠিক প্রয়োগ হবে নিষ্পাপ, পাপ, পাপী।
উৎসঃ প্রমিত বাংলা বানান রীতি।

৩৭৪.
অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তির ব্যবহার রয়েছে কোনটি?
  1. পাখিতে বাসা বেঁধেছে।
  2. সবুজ ঘাসে ছেয়ে গেছে মাঠ।
  3. এই মেঘে বৃষ্টি হবে।
  4. তুমি যে আমার কবিতা।
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক। যেমন -
→ বিচ্যুত: এই মেঘে বৃষ্টি হবে। (অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি)।
→ গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
→ জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
→ বিরত: পাপে বিরত হও।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
- পাখিতে বাসা বেঁধেছে। (কর্তা কারকে সপ্তমী)।
- তুমি যে আমার কবিতা। (কর্তা কারকে ষষ্ঠী)।
- সবুজ ঘাসে ছেয়ে গেছে মাঠ। (করণে কারকে সপ্তমী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৫.
সাধু ও চলিত রীতির শব্দ একই বাক্যে ব্যবহার করলে তাকে কি বলে
  1. গুরুদোষ
  2. লঘুদোষ
  3. মিশ্রদোষ
  4. গুরুচণ্ডালী
ব্যাখ্যা
• বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে।
---------------------- 
গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
- বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে।
যেমন-
গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা ও শিক্ষা - ড হায়াৎ মামুদ। 
৩৭৬.
নিচের কোন শব্দে প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. পূজনীয়
  2. গণ্যনীয়
  3. দূষণীয়
  4. পুষ্করিণী
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

• অশুদ্ধ ⇒ শুদ্ধ:
- আবশ্যকীয় ⇒ আবশ্যক;
- একত্রিত ⇒ একত্র;
- পুজ্য ⇒ পূজ্য;
- বাহ্যিক ⇒ বাহ্য;
- গণ্যনীয় ⇒ গণনীয়;
- পুজ্যনীয় ⇒ পূজনীয়
- দোষণীয় ⇒ দূষণীয়
- পুষ্কর্ণী  ⇒ পুষ্করিণী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৭৭.
নিচের কোনটি ভিন্ন?
  1. প্রতীচী
  2. উদীচী
  3. বাল্মীকী
  4. বাল্মীকি
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান: 
♠ বাল্মীকি: 
• বিশেষ্য পদ। 
• তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 
• অর্থ: সংস্কৃত রামায়ণ রচয়িতা কবি ও মুনি; আদিকরি। 
• উচ্চারণ: বাল্‌মিকি।  
• প্রকৃতি-প্রত্যয়: বল্মীক + ই।    

♠ উদীচী:
• বিশেষ্য পদ। 
• তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 
• অর্থ: উত্তর দিক।
• উচ্চারণ: উদিচি।
• প্রকৃতি-প্রত্যয়: উদচ্+ঈ।   

♠ প্রতীচী: 
• বিশেষ্য পদ। 
• তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 
• অর্থ: পশ্চিম দিক। 
• উচ্চারণ: প্রোতিচি। 
• প্রকৃতি-প্রত্যয়: প্রত্যচ্‌ +ঈ।   

বাল্মীকী - বানান ভুল। অন্য সকল অপশনের বানান সঠিক। তাই গ) অপশনটি ভিন্ন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৭৮.
শুদ্ধ বাক্য নয় কোনটি?
  1. বিদ্বান হলেও তার কোনাে অহংকার নেই।
  2. ইশ! যদি পাখির মত পাখা পেতাম।
  3. অকারণে ঋণ করিও না।
  4. হয়তাে সােহমা আসতে পারে।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: অকারণে ঋণ করিও না।- বাক্যটি গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হওয়ায় যােগ্যতা হারিয়েছে।
- এর শুদ্ধরূপ হবে- অকারণে ঋণ করো না।

-----------------
• গুরুচণ্ডালী দোষ:

- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
যেমন-
গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই।
- কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৯.
"যে গাছটি আমি লাগিয়েছি, সেটি দ্রুত বড় হচ্ছে।" — এই জটিল বাক্যের সরল রূপ কী হবে?
  1. গাছটি দ্রুত বড় হচ্ছে।
  2. আমি গাছটি লাগিয়েছি, সেটি দ্রুত বড় হচ্ছে।
  3. আমার লাগানো গাছটি দ্রুত বড় হচ্ছে।
  4. সে গাছটি দ্রুত বড় হচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• "যে গাছটি আমি লাগিয়েছি, সেটি দ্রুত বড় হচ্ছে।" - এই জটিল বাক্যের সরল বাক্যের রূপ হলো: "আমার লাগানো গাছটি দ্রুত বড় হচ্ছে।"

সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
----------------------------- 
• জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময় সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজককে বাদ দিতে হয়।
যেমন:
জটিল বাক্য: যে অন্ধ তাকে আলো দাও।
সরল বাক্য: অন্ধকে আলো দাও।

জটিল বাক্য: যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
সরল বাক্য: বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৮০.
'তারা দুজনে আড়ি পেতে ছিল, নইলে চোর ধরা পড়ত না।' - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. বিস্ময়বোধক বাক্য
ব্যাখ্যা
• ‘তারা দুজনে আড়ি পেতে ছিল, নইলে চোর ধরা পড়ত না।’ - যৌগিক বাক্য

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন -
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্র মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
- তারা দুজনে আড়ি পেতে ছিল, নইলে চোর ধরা পড়ত না

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৮১.
প্রায়ই বাংলা কবিতা পাঠ করার সময় পর্বের প্রথম অক্ষরের উপর একটা আলাদা জোর দিয়ে পড়তে হয়। এই অতিরিক্ত জোর দিয়ে পাঠ করা বা আবৃত্তি করাকেই বলা হয় - 
  1. শ্বাসাঘাত
  2. স্তবক
  3. মাত্রা
  4. অক্ষর
ব্যাখ্যা

শ্বাসাঘাত: 
প্রায়ই বাংলা কবিতা পাঠ করার সময় পর্বের প্রথম অক্ষরের উপর একটা আলাদা জোর দিয়ে পড়তে হয়। এই অতিরিক্ত জোর দিয়ে পাঠ করা বা আবৃত্তি করাকেই বলা হয় শ্বাসাঘাত বা প্রস্বর।
যেমন-
আমরা আছি ∣ হাজার বছর ∣ ঘুমের ঘোরের ∣ গাঁয়ে ∣∣
আমরা ভেসে ∣ বেড়াই স্রোতের ∣ শেওলা ঘেরা ∣ নায়ে ∣∣ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

এখানে,
প্রতিটি পর্বের প্রথম অক্ষরই একটু ঝোঁক দিয়ে, জোর দিয়ে পড়তে হয়। এই অতিরিক্ত ঝোঁক বা জোরকেই শ্বাসাঘাত বলে।

স্তবক:
অনেকগুলো চরণ নিয়ে একটি স্তবক গঠিত হয়। সাধারণত, একটি স্তবকে একটি ভাব প্রকাশিত হয়।

মাত্রা:
একটি অক্ষর উচ্চারণে যে সময় প্রয়োজন হয়, তাকে মাত্রা বলে।

অক্ষর:
(বাগযন্ত্রের) স্বল্পতম প্রয়াসে বা এক ঝোঁকে শব্দের যে অংশটুকু উচ্চারিত হয়, তাকে অক্ষর বা দল বলে। এই অক্ষর অনেকটাই ইংরেজি Syllable-র মত।
যেমন- 'বিদ্যালয়’ শব্দে ৩ টি অক্ষর রয়েছে (বিদ্‌ + দা + লয়)।
 
উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৮২.
‘তার কথা যেন মধুতে মাখা।’- বাক্যে ‘মধুতে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. অপাদানে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক: 
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
 
- 'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।'- নীলু কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।'- কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।
 
করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 

তার কথা যেন মধুতে মাখা।- বাক্যটিকে কার দ্বারা জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মধু’। তাই ‘মধুতে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
 
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৩.
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে কোন ধরনের ভুল হয়ে থাকে?
  1. গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে 
  2. উপমার ভুল প্রয়োগ
  3. বাহুল্য দোষ ঘটে
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
• যেমন,
- দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।

• বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না।
- দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
বাক্যটি হবে দেশের সব শিক্ষক এখানে উপস্থিত হয়েছেন অথবা দেশের শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।

অন্যদিকে,
গুরুচণ্ডালী দোষ:
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।

- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
যেমন:
গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ।

• উপমার ভুল প্রয়োগ:
- সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
- যেমনঃ 'এক পৌষে শীত যায় না' বাক্যটি ভুল৷ এতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ বাক্যটি হলো- এক মাঘে শীত যায় না (বিপদ বা প্রতিকূল অবস্থা সবসময় থাকে না)।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৮৪.
নিম্নের কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. ক) ইহা আমার পক্ষে সম্ভবপর নয়।
  2. খ) তিনি আরোগ্য লাভ করিয়াছেন।
  3. গ) গৌরব লোপ হইয়াছে।
  4. ঘ) দেবী অন্তর্ধান হইয়াছেন
ব্যাখ্যা

- অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধরূপ গুলো হচ্ছে -
দেবী অন্তর্হিত হইয়াছেন 
উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৮৫.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. মুমূর্ষু
  2. কৃচ্ছসাধন
  3. তিতিক্ষা
  4. সমীচীন
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - 'কৃচ্ছসাধন'

- শব্দটির শুদ্ধ বানান 'কৃচ্ছ্রসাধন'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- কৃচ্ছ্রসাধনা।

অন্যদিকে,
- সমীচীন, তিতিক্ষা, এবং মুমূর্ষু শব্দ গুলোর বানান সঠিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৮৬.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. হাসান আমার ভ্রাতুষ্পুত্র।
  2. ’গীতাঞ্জলী’ কি পড়েছ?
  3. রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকা।
  4. ইহার আবশ্যকতা নেই।
ব্যাখ্যা
- ’গীতাঞ্জলী’ কি পড়েছ? বাক্যটি অশুদ্ধ।
বাক্যটির শুদ্ধরূপ = ’গীতাঞ্জলি’ কি পড়েছ?

অন্যদিকে,
অপশনে উল্লেখিত অন্য বাক্যগুলো শুদ্ধ।
- হাসান আমার ভ্রাতুষ্পুত্র।
- রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকা।
- ইহার আবশ্যকতা নেই।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৮৭.
"এক যে ছিল চাঁদেরকোনায় চরকা কাটা বুড়ি।" - বাক্যে 'চাঁদেরকোনায়' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. করণ
  3. অপাদান
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা-
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই।
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: বাবা বাড়ি নেই।

তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।

পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।

সপ্তমী বা তে বিভক্তি:বাড়িতে কেউ নেই। এক যে ছিল চাঁদেরকোনায় চরকা কাটা বুড়ি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮৮.
হইতে, থেকে, চেয়ে - বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী কোন বিভক্তি? 
  1. পঞ্চমী বিভক্তি
  2. দ্বিতীয়া বিভক্তি
  3. তৃতীয়া বিভক্তি
  4. সপ্তমী বিভক্তি
ব্যাখ্যা

বিভক্তি:  
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা: 
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি:  ০, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি : কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি : দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি : কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি : হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে
- ষষ্ঠী বিভক্তি : র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি:  এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৮৯.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. কুপমন্ডুক
  2. বয়ঃকনিষ্ঠ
  3. আত্নস্থ
  4. কৃচ্ছ্বসাধন
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'বয়ঃকনিষ্ঠ' শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: কুপমন্ডুক
শুদ্ধ: কূপমণ্ডূক

অশুদ্ধ: আত্নস্থ
শুদ্ধ: আত্মস্থ

অশুদ্ধ: কৃচ্ছ্বসাধন
শুদ্ধ: কৃচ্ছ্রসাধন

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৯০.
নিচের কোন শব্দটি শুদ্ধ বানানে লেখা হয়েছে?
  1. শূণ্য
  2. ত্রিভূজ
  3. পূন্য
  4. ভুবন
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান 'ভুবন'।
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √ভূ + অন।
 অর্থ:
- পৃথিবী,
- জগৎ।

অন্যদিকে, 
• শুদ্ধ বানান 'ত্রিভুজ'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
 অর্থ:
- তিনটি সরলরেখা-পরিবেষ্টিত ক্ষেত্র।


• শুদ্ধ বানান 'শূন্য'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √শ্বন্‌ + য।
  অর্থ: 
- পরিমাণ বা আয়তনের অভাব।

• শুদ্ধ বানান 'পুণ্য'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √পূ + উন্য।
 অর্থ:
- সৎকর্ম,
- সওয়াব।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৯১.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. হিনম্ন্যন্যতা
  2. হীনোম্মন্যত
  3. হীনম্মন্যতা
  4. হীনোম্নন্যতা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'হীনম্মন্যতা'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- নিজের সম্বন্ধে হীন ধারণা পোষণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৯২.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. কৃষিজীবী
  2. রাজমিস্ক্রি
  3. বিভীষিকা
  4. সমীচীন
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: রাজমিস্ক্রি।

• শুদ্ধ বানান: রাজমিস্ত্রি (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি দেশি শব্দ।
অর্থ:
- অট্টালিকা নির্মাণ যার পেশা।

অন্যদিকে,
• শুদ্ধ বানান: বিভীষিকা (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত থেকে আগত শব্দ।
অর্থ: আতঙ্ক, ভীতিকর ঘটনা।

• শুদ্ধ বানান: কৃষিজীবী (বিশেষণ):
অর্থ: চাষি; কৃষক; কৃষিকর্ম দ্বারা জীবিকা নির্বাহকারী।

• শুদ্ধ বানান: সমীচীন (বিশেষণ),
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
- এর অর্থ হচ্ছে: সংগত, উপযুক্ত, উত্তম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৯৩.
শ্বাসাঘাতপ্রধান ছন্দ কোনটি?
  1. ক) অক্ষরবৃত্ত
  2. খ) মাত্রাবৃত্ত
  3. গ) স্বরবৃত্ত
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- উচ্চারণে দ্রুততা ও সবলতা স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রতি পর্বের প্রথমে প্রবল শ্বাসাঘাত যেমন এ ছন্দের দ্রুততার প্রধান কারণ, তেমনি শ্বাসাঘাতের শক্তিই একে করে তুলেছে সবল ও প্রাণবান।
- আবার স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান পর্ব যেহেতু চার মাত্রার এবং তার পরেই থাকে একটি ক্ষুদ্র পর্ব, সেজন্যও এ ছন্দ দ্রুত উচ্চারিত হয়।
- স্বরবৃত্ত ছন্দের পর্বের এ স্থিতিস্থাপক গুণ বাংলা কাব্যে বিভিন্ন সময়ে পরিলক্ষিত হয়েছে।
- দ্রুততা ও প্রবল শ্বাসাঘাতের জন্যই স্বরবৃত্ত ছন্দ অধিকতর প্রাণবন্ত এবং কথ্যভাষার উপযোগী হয়ে উঠেছে।

অর্থাৎ, শ্বাসাঘাতপ্রধান ছন্দ হলো স্বরবৃত্ত ছন্দ।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

৩৯৪.
‘গরুতে দুধ দেয়‘ বাক্যে ‘গরুতে‘ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে সপ্তমী
  2. কর্তৃকারকে সপ্তমী
  3. অপাদানে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
‘গরুতে দুধ দেয়‘ - বাক্যে কর্তৃকারকে/কর্তাকারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 

বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)

কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ- 
- পাখি সব করে রব = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির
- আমার দ্বারা এ কাজ হবে না সাধন = কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তির 
- পাছে লােকে কিছু বলে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির
- ঘােড়ায় গাড়ি টানে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির 
- মানুষ ভাবে এক হয় আর এক = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির
- সবাইকে একদিন মরতে হবে = কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তির। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) উৎকণ্ঠা
  2. খ) লুণ্ঠন
  3. গ) ভূষণ
  4. ঘ) অভ্যন্তরীন
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- তৎসম শব্দে ট- বর্গের (ট, ঠ, ড, ঢ) সঙ্গে যুক্ত 'দন্ত-ন' পরিবর্তিত হয়ে 'মূর্ধন্য-ণ' হয়ে যায়। 
যেমন- মণ্ড, উৎকণ্ঠা , লুণ্ঠন, বণ্টন, খণ্ড, ভণ্ড, কাণ্ড ইত্যাদি।
 
• ঋ, র, ষ—এই তিনটি বর্ণের পর তৎসম শব্দের দন্ত্য ‘ন’ মূধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: ঋণ, ঘৃণা, রণ, বর্ণ, ভূষণ ইত্যাদি।

• অভ্যন্তরীণ বানানের নিয়ম: 
তৎসম শব্দে ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন: অভ্যন্তরীণ, তৃণ, ঋণ ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩৯৬.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. সরসতী
  2. স্বরস্বতী
  3. সরস্বতী
  4. স্বরসতী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'সরস্বতী'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- বিদ্যা ও কলার দেবী,বাণী, বীণাপাণি, ভারতী, বাগ্‌দেবী, মহাশ্বেতা; প্রাচীন নদীবিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৯৭.
সংস্কৃত বা তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে সর্বদা কী হবে?
  1. ই-কার
  2. ঈ-কার
  3. রেফ
  4. বিসর্গ
ব্যাখ্যা
• বানান-সূত্র:
- দেশ, ভাষা ও জাতির নাম লিখতে ই/ঈ-কার দেয়ার প্রশ্ন এলে তাতে নিশ্চিন্তে ই-কার (ি) দেয়া যাবে।
যেমন:
- দেশ: গ্রিস, জার্মানি, ইতালি, হাঙ্গেরি ইত্যাদি। (ব্যতিক্রম: চীন, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ)
- ভাষা: হিন্দি, সাঁওতালি, আরবি, পারসি ইত্যাদি।
- জাতি: বাঙালি, ইত্যাদি। পর্তুগিজ, তুর্কি ইত্যাদি।

২. অপ্রাণিবাচক শব্দ ও ইতরপ্রাণিবাচক অতৎসম শব্দের শেষে ই/ঈ-কারের মধ্যে ই-কার হবে। যেমন:
• অপ্রাণিবাচক শব্দ: বাড়ি, গাড়ি, শাড়ি, চাবি ইত্যাদি।
• ইতরপ্রাণিবাচক শব্দ: পাখি, হাতি, চড়ুই, মুরগি ইত্যাদি।

৩. সংস্কৃত বা তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে সর্বদা ঈ-কার হবে।
যেমন: জননী, স্ত্রী, নারী, সাধ্বী ইত্যাদি।

৪. বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো 'ষ' লেখা যাবে। না।
যেমন: ষ্টেশন হবে না, হবে স্টেশন; ষ্টুডিও হবে না, হবে স্টুডিও; ফটোষ্ট্যাট হবে না, হবে ফটোস্ট্যাট ইত্যাদি।

৫. তৎসম বা সংস্কৃত কতিপয় শব্দ ছাড়া অন্য সব শব্দের বানানে 'ণ' হবে না, হবে 'ন'।
যেমন: কর্ণার হবে না, হবে কর্নার; কর্ণেল হবে না, হবে কর্নেল; বামুণ হবে না, হবে বামুন ইত্যাদি।

৬. বানানে যে বর্ণের উপর রেফ থাকবে, সেই বর্ণে দ্বিত্ব হবে না।
যেমন: কাৰ্য্যালয় হবে না, হবে কার্যালয়; নির্দ্দিষ্ট হবে না, হবে নির্দিষ্ট, পৰ্ব্বত হবে না, হবে পর্বত ইত্যাদি।

৭. বিস্ময়সূচক অব্যয় (যেমন: বাঃ / ছিঃ / উঃ ইত্যাদি) ছাড়া বাংলা কোনো শব্দের শেষে বিসর্গ রাখা যাবে না।
যেমন: প্রায়শঃ / বিশেষতঃ / কার্যতঃ / প্রথমতঃ ইত্যাদি লেখা যাবে না, লিখতে হবে প্রায়শ / বিশেষত / কার্যত / প্রথমত ইত্যাদি।

৮. শব্দে ঊর্ধ্বকমা লেখা যাবে না।
যেমন: আগে লেখা হতো (হ'লো) এখন (হলো); আগে (দু'টি) এখন (দুটি); আগে (তা'র) এখন (তার) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৮.
"পাদচ্ছেদ" থাকলে থামার সময় কতটুকু?
  1. দুই সেকেন্ড
  2. ‘এক’ উচ্চারণে যত সময় লাগে
  3. থামার প্রয়োজন নেই
  4. এক সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ -
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- এক সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৩৯৯.
'বইখানা বাজারে বেশ কাটছে।' এখানে কাটা কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিক্রি হওয়া
  2. সামঞ্জস্যহীনতা
  3. অতিবাহিত হওয়া
  4. মুক্ত হওয়া
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'কাটা' শব্দের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- অতিবাহিত হওয়া - দেখতে দেখতে একমাস কেটে গেল।
- ক্ষত হওয়া - শামুকে পা কেটে গেছে।
- রচনা করা - তুমি তো বেশ ছড়া কাটতে পার।
- কামড়ানো - ছেলেটাকে সাপে কেটেছে।
- বিক্রি হওয়া - বইখানা বাজারে বেশ কাটছে।
- ঝগড়া করা - তোমাদের কথা কাটাকাটি ভালো লাগছে না।
- সামঞ্জস্যহীনতা - শুরুতেই গানের তাল কেটে গেল।
- লেখা - একশ টাকার চেক কেটে দিলাম।
- মুক্ত হওয়া - বিপদ কেটে গেছে।
- লজ্জিত হওয়া - তোমার ব্যাপারে আমার মাথা কাটা গেছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৪০০.
'বাল্মীকি রামায়ণ রচনা করেছেন।' - কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্তাবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তাবাচ্য:  
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
- যেমন:  
• তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
• প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। 
• আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
• একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
• বাল্মীকি রামায়ণ রচনা করেছেন।

অন্যদিকে,
 ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে। 
- যেমন:  
• আমার যাওয়া হল না। 
• কোথা থেকে আসা হলো।
• এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।

কর্মবাচ্য: 
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
- যেমন: 
• পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে। 
• চিঠিটা পড়া হয়েছে । 
• তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে। 
• আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।   
• আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।    

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।