বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৩৮ / ৬৯ · ৩,৭০১৩,৮০০ / ৬,৯৫৩

৩,৭০১.
‘বাহুলতা এবং উপমার অশুদ্ধ ব্যবহার’ বাক্যের কোন গুণের অভাব প্রকাশ করে?
  1. আসত্তি
  2. যােগ্যতা
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. আসক্তি
ব্যাখ্যা
• ‘বাহুলতা এবং উপমার অশুদ্ধ ব্যবহার’ বাক্যের যোগ্যতা গুণের অভাব প্রকাশ করে।

------------------------------
• একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকতে হয়৷ যথা- আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, ও যোগ্যতা।

• যােগ্যতা:
বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষাকালে জলপথে নৌকা চলে। এটি একটি যােগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারণ বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মিল রয়েছে।

[ কিন্তু যদি বলা হয়- “বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে” তবে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যােগ্যতা হারাবে। কারণ নৌকা আকাশ পথে চলে না। সার্থক বাক্যের জন্য অর্থ সংগতি বা যােগ্যতা থাকতে হবে।]

শব্দের যোগ্যতার সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত থাকতে পারে। তবে প্রধানত সাতটি বিষয় জড়িত থাকে। যেমন:
• রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা;
• বাহুল্য বর্জন;
• দুর্বোধ্যতা পরিহার;
• উপমা বা অলংকারের সঠিক প্রয়োগ বা ব্যবহার;
• বাগ্‌ধারার সঠিক প্রয়োগ;
• গুরুচণ্ডলী দোষ পরিহার ও
• যথার্থ শব্দ প্রয়োগ।

---------------------
• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
- উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।
- বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• আসত্তি:
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি।
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়।
- পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদ্গুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৭০২.
‘গাড়িঘোড়া চড়লে লেখাপড়া কর’ এই সরল বাক্যটির যৌগিকরূপ কোনটি?
  1. লেখাপড়া কর, তাহলে গাড়িঘোড়ায় চড়তে পারবে
  2. লেখাপড়া করে গাড়িঘোড়ায় চড়তে পারবে
  3. লেখাপড়া করে যেই, গাড়িঘোড়া চড়ে সেই
  4. গাড়িঘোড়ায় চড়ার জন্য প্রয়োজন লেখাপড়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
- লেখাপড়া কর, তাহলে গাড়িঘোড়ায় চড়তে পারবে।
- এখানে 'লেখাপড়া কর' একটি স্বাধীন বাক্য।
- অন্যদিকে 'গাড়িঘোড়ায় চড়তে পারবে' এটিও একটি স্বাধীন।
- দুটি স্বাধীন বাক্য কে 'তাহলে' যোজক দ্বারা যুক্ত করেছে।
- তাই এটি একটি যৌগিক বাক্য।  

জটিল বাক্য:

- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
 যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখনতখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
 যেমন:
- লেখাপড়া করে যেই, গাড়িঘোড়া চড়ে সেই। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৭০৩.
"যদি সে কাল আসে তাহলে আমি যাব।" - কোন জাতীয় বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. সাপেক্ষ বাক্য 
ব্যাখ্যা

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল/মিশ্র বাক্য তৈরি হয়।

- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে । যেমন –
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যদি সে কাল আসে তাহলে আমি যাব।
- যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ৯২০১৯- সংস্করণ)।

৩,৭০৪.
জটিল বাক্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
  2. হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে। 
  3. যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম। 
  4. তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি – এতে দোষের কিছু নেই। 
ব্যাখ্যা
গঠন-বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বাংলা বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন - 

সরল বাক্য: 
- যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। 
যেমন – 
• পাখিগুলাে নীল আকাশে উড়ছে। 
তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। 

- সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে। 
যেমন – 
• আমরা তিন ভাইবােন। 

- বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়। 
যেমন – 
• তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন। 

জটিল বাক্য: 
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যারা-তাবা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলাে যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে। 
যেমন – 
• যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই। 
• যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে। 
যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম। 

যৌগিক বাক্য: 
- দুই বা ততােধিক স্বাধীন বাক্য যখন যােজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। 
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যােজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 
- কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যােজকের কাজ করে। 
যেমন – 
হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে। 
• সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল। 
• অন্ধকার হয়ে এসেছে – বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল। 
তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি – এতে দোষের কিছু নেই। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
৩,৭০৫.
 শুদ্ধ বাক্যটি চিহ্নিত করুন-
  1.  বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর।
  2. বিদ্যান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর।
  3. বিদ্যান মুর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
  4.  বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
ব্যাখ্যা

• বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। বাক্যটি শুদ্ধ।

• তৎসম শব্দের অতিশায়নে দুয়ের মধ্যে তুলনায় 'ঈয়স্' প্রত্যয় এবং বহুর মধ্যে তুলনায় 'ইষ্ঠ' প্রত্যয় যুক্ত হয়। বাংলায় সাধারণত 'ঈয়স্' প্রত্যয়ান্ত শব্দগুলো ব্যবহৃত হয় না। যেমন-
- মূল বিশেষণ- দুয়ের তুলনায়- বহুর তুলনায়
- লঘু - লঘিয়ান - লঘিষ্ঠ।
- অল্প - কনীয়ান (বাংলায় ব্যবহার নেই) - কনিষ্ঠ।
- বৃদ্ধ - জ্যায়ান - জ্যেষ্ঠ।
- শ্রেয় - শ্রেয়ান - শ্রেষ্ঠ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।

৩,৭০৬.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) স্বত্ত্বাধিকারী
  2. খ) অন্তস্বত্তা
  3. গ) স্বায়ত্ত্বশাসন
  4. ঘ) প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা

• সঠিক বানানটি হচ্ছে প্রায়শ্চিত্ত।
• স্বত্ত্বাধিকারী, অন্তস্বত্তা ও স্বায়ত্ত্বশাসন বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হচ্ছে যথাক্রমে স্বত্বাধিকারী, অন্তঃসত্ত্বা ও স্বায়ত্তশাসন।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৩,৭০৭.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. শারীরীক
  2. শারিরিক
  3. শারীরিক
  4. শারিরীক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - শারীরিক
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- শরীর-বিষয়ক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৭০৮.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. ক) পিপীলিকা
  2. খ) নিশীথীনি
  3. গ) শ্রদ্ধাঞ্জলি
  4. ঘ) আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানান = নিশীথীনি
শুদ্ধ বানান = নিশীথিনী

নিশীথিনী (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = নিশীথ+ইন্‌+ঈ
অর্থ: 
- গভীর রাত
- রজনি

বাকি শব্দগুলো শুদ্ধ = শ্রদ্ধাঞ্জলি, পিপীলিকা, আকাঙ্ক্ষা 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,৭০৯.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. অহঙ্ককার
  2. হৃদয়ংগম
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. সংগীত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - অহঙ্ককার
- শুদ্ধরূপ - অহংকার।

নিয়ম:
- সন্ধির ক্ষেত্রে ক খ গ ঘ পরে থাকলে পূর্ব পদের অন্তস্থিত ম্ স্থানে অনুস্বার (ং) হবে।
যেমন:
- অহম্ + কার = অহংকার।

• এরূপ- ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন।

- সন্ধিবদ্ধ না হলে ‘ঙ’ স্থানে ‘ং’ হবে না।
যেমন:
অঙ্ক, অঙ্গ, আকাঙ্ক্ষা, আতঙ্ক, কঙ্কাল, গঙ্গা, বঙ্কিম, বঙ্গ, লঙ্ঘন, শঙ্কা, শৃঙ্খলা, সঙ্গে, সঙ্গী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৭১০.
সম্বন্ধ ও সম্বোধন পদ কারক নহে। কারণ -
  1. ক) বিভক্তি যুক্ত হয় না
  2. খ) কর্তার সাথে সম্পর্ক থাকে না
  3. গ) কর্তা নিজে ক্রিয়া সমাধান করেন
  4. ঘ) ক্রিয়ার সাথে সম্পর্ক থাকে না
ব্যাখ্যা

ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে যে নামপদ বাক্যস্থিত অন্য পদের সাথে সম্পর্কযুক্ত হয় তাকে সম্বন্ধ পদ বলে।
সম্বন্ধ ও সম্বোধন পদের ক্রিয়ার সাথে কোনো সম্পর্ক না থাকার কারণে সম্বন্ধ ও সম্বোধন পদকে কারক বলা হয় না।
যেমন: মতিনের ভাই বাড়ি যাবে। এখানে ‘মতিনের’ সঙ্গে ‘ভাই’-এর সম্পর্ক আছে, কিন্তু ‘যাবে’ ক্রিয়ার সাথে সম্বন্ধ নেই।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।

৩,৭১১.
“স্কুল পালিয়ে কেউ রবীন্দ্রনাথ হয় না” - কোন কারকে কী বিভক্তি?
  1. ক) কর্মে ষষ্ঠী
  2. খ) করণে তৃতীয়া
  3. গ) অপাদানে সপ্তমী
  4. ঘ) অধিকরণে শূণ্য
ব্যাখ্যা
কোথা থেকে / কী হতে / কীসের হতে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তরে পাওয়া যায় অপাদান কারক। “স্কুল পালিয়ে কেউ রবীন্দ্রনাথ হয় না” এই বাক্যে কোথা থেকে পালায় প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বলে তা আপাদান কারক। এবং পালায় এর সাথে এ যুক্ত হওয়ায় তা সপ্তমী বিভক্তি। অপাদানে সপ্তমীর আরেকটি উদাহরণঃ কত ধানে কত চাল হয় তা আমি জানি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৭১২.
‘পাগলে কি না বলে, ছাগলে কি না খায়।’- এখানে ‘পাগলে’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্তৃ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কে তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)
- পাগলে কি না বলে, ছাগলে কি না খায়। (কে বলে? পাগলে- কর্তায় সপ্তমী)

এরূপ-
- গরুতে গাড়ি টানে।- এই বাক্যে ‘গরুতে’ কর্তৃকারক।
[কারণ গাড়ি টানার কাজ গরু নিজেই করছে। সুতরাং এখানে ‘গরুতে’ কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭১৩.
'অধ্যয়নে বিরত হতে নেই।' এখানে 'অধ্যয়নে' কোন কারক?
  1. করণ কারক 
  2. অধিকরণ কারক 
  3. কর্মকারক 
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।
[বাক্যে 'স্টেশন' থেকে রেলগাড়িটি বিচ্যুত হয়েছে। এবং এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি। তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।]

এরূপ-
- অধ্যয়নে বিরত হতে নেই।  
[কি/কিসের থেকে বিরত হতে নেই? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'অধ্যয়নে'। সুতরাং 'অধ্যয়নে' অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।

৩,৭১৪.
কোন ত্রয়ীর বানান শুদ্ধ?
  1. ক) সত্তেও, সাত্বিক, সত্তা
  2. খ) বিঘূর্ণন, বিঘঘাষণ, বিমর্দণ
  3. গ) জায়মান, জম্বুমান, ভ্রাম্যমান
  4. ঘ) বিমর্ষ, মুমূর্ষু, সংঘর্ষ
ব্যাখ্যা

বিমর্ষ (বিশেষ্য) = অসহন; অসন্তোষ।
মুমূর্ষু (বিশেষণ) = মরণাপন্ন; মরণোন্মুখ; মৃত্যুকাল আসন্ন এমন।
সংঘর্ষ (বিশেষ্য) = পরস্পর ঠোকাঠুকি; মর্দন; ধাক্কা।

অন্যান্য অপশনের শুদ্ধ বানানগুচ্ছ-
অপশন ‘ক’- সত্ত্বেও, সাত্ত্বিক, সত্তা
অপশন ‘খ’- বিঘূর্ণন, বিঘোষণ, বিমর্দন
অপশন ‘গ’- জায়মান, জাম্ববান, ভ্রাম্যমাণ।

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

৩,৭১৫.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. বিবিধ
  2. কনিষ্ঠ
  3. পৌরুষত্ব
  4. নিরভিমান
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ শব্দ- পৌরুষত্ব।
- 'পুরুষত্ব' শব্দটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
'কনিষ্ঠতর' শব্দটিতে প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে কনিষ্ঠ।

'বিবিধপ্রকার' - সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে বিবিধ।

'নিরভিমানী'- সমাস ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে নিরভিমান। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৭১৬.
অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. দাঁড়ি
  2. ড্যাশ
  3. হাইফেন
  4. কমা
ব্যাখ্যা
দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে। বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি। বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়। অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।

অন্যদিকে,
কমা:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন,
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, ও বসন্ত - বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যাবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।

হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

ড্যাশ:
- সাধারণত দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে এবং ব্যাখ্যাযোগ্য বাক্যাংশের আগে-পরে ড্যাস ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাংলাদেশ দল জয়লাভ করেছে - বিজয়ের আনন্দে দেশের জনগণ উচ্ছ্বসিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৭১৭.
‘পরিমল মনকষ্টে কাল কাটাচ্ছে।’ বাক্যটিতে কী ধরণের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বানান জনিত
  2. খ) পদক্রম জনিত
  3. গ) কারক জনিত
  4. ঘ) যোগ্যতা জনিত
ব্যাখ্যা
‘পরিমল মনকষ্টে কাল কাটাচ্ছে।’ বাক্যটি বানান জনিত অশুদ্ধ। 
শুদ্ধ রূপ: পরিমল মনঃকষ্টে কাল কাটাচ্ছে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্ধির বিসর্গ লোপ পায় না। যেমন-
প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল,
মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট,
শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭১৮.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. কৃচ্ছ্র্যসাধন
  2. কৃচ্ছসাধন
  3. কৃচ্ছ্বসাধন
  4. কৃচ্ছ্রসাধন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'কৃচ্ছ্রসাধন'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: কৃচ্ছ্র + √ সাধ্‌ + অন।

অর্থ:
- কৃচ্ছ্রসাধনা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৭১৯.
নিচের কোনটি কর্মকর্তৃবাচ্যের উদাহরণ?
  1. লিপির কি অঙ্ক কষা হয়েছে?
  2. কামাল বই পড়ছে।
  3. হুহইসে বাজে।
  4. চোরটিকে জরিমানা করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• কর্মকর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মপদ মুখ্য এবং কর্তৃত্বস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- হুহইসে বাজে।
[এই বাক্যে 'হুইসেল' প্রকৃতপক্ষে কর্ম। 'বাজে' ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বিচারে মনে হয় 'হুইসেল' কর্তা।]

কর্মকর্তৃবাচ্যের বৈশিষ্ট্য:
ক. কর্মপদ মুখ্য ও কর্তৃত্বশীল হয়ে বাক্য গঠিত হয়।
খ. কর্মপদের সঙ্গে অন্যান্য পদের যে সম্পর্ক তা কর্মপদ নিয়ন্ত্রণ করে।
গ. সাধারণ কর্ম কর্তাকে নিয়ন্ত্রণ করে।

অন্যদিকে,
- কর্তৃবাচ্য: কামাল বই পড়ছে।
- কর্মবাচ্য: লিপির কি অঙ্ক কষা হয়েছে?
- কর্মবাচ্য: চোরটিকে জরিমানা করা হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭২০.
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে বলে -
  1. ক) কর্তাবাচ্য
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) ভাববাচ্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাচ্য তিন প্রকার:

কর্মবাচ্য: যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন,
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
- চিঠিটা পড়া হয়েছে।

কর্তাবাচ্য: যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন-
আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।

ভাববাচ্য: যে বাক্যের ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন-
কোথা থেকে আসা হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৭২১.
কোন বাক্যটিতে ভাষার অপ-প্রয়োগ আছে?
  1. ক) তোমার এত বিলম্ব কেন?
  2. খ) বুঝেছি, তুমি এ কাজ পারবে না।
  3. গ) কোথায় আমরা একত্র হবো?
  4. ঘ) তিনি আমার বইটি প্রকাশিত করেছেন।
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত অপশন গুলোতে 'তিনি আমার বইটি প্রকাশিত করেছেন।' এই বাক্যটিতে ভাষার অপ-প্রয়োগ আছে। এর সঠিক প্রয়োগ হবে- তিনি আমার বইটি প্রকাশ করেছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭২২.
'পূজা ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।'- এই বাক্যে ‘ফুল দিয়ে’ কোন কারক?
  1. ক) কর্ম কারক
  2. খ) করণ কারক
  3. গ) অপাদান কারক
  4. ঘ) সম্প্রদান কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক
 
যেমন:
- 'পূজা ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - পূজা কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' – কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি – রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি – গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি – টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি – তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭২৩.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. তদানুসারে
  2. দুরাবস্থা
  3. বয়োজ্যেষ্ঠ
  4. ভূবন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'বয়োজ্যেষ্ঠ'
- এটি বিশেষণ পদ।
এর অর্থ
- বয়সে বড়।

অন্যদিকে,
- 'ভূবন' শব্দের শুদ্ধ বানান - ভুবন।  
- 'দুরাবস্থা ' শব্দের শুদ্ধ বানান - দুরবস্থা।
- 'তদানুসারে ' শব্দের শুদ্ধ বানান - তদনুসারে।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,৭২৪.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. চক্ষুস্মান
  2. চক্ষুষ্মান
  3. চক্ষুশ্মান
  4. চক্ষুষ্মাণ
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানানটি হলো চক্ষুষ্মান।
সূত্রঃ বাংলা একাডেমি প্রণীত অভিগম্য অভিধান।
৩,৭২৫.
'গুরু' দক্ষিণা দাও। - বাক্যে 'গুরু' কোন কারক?
  1. সম্প্রদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সম্প্রদান কারক:
- 'সম্প্রদান' অর্থ স্বেচ্ছায় দান।
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কোনো কিছু দান করা হয়, সেই দান গ্রহীতাকে সম্প্রদান কারক বলে।

সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: গুরু দক্ষিণা দাও।
চতুর্থী বিভক্তি: দরিদ্রকে দান কর।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ভিক্ষুকদের ভিক্ষা দাও।
সপ্তমী বিভক্তি: দীনে দয়া কর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৩,৭২৬.
'অন্ধজনে দেহ আলাে।' - এখানে 'অন্ধজনে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. সম্প্রদানে ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক।
- দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে।
- তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্পদান কারক হয় না।
যেমন: 
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।  
- সমিতিতে চাঁদা দাও। 
- অন্ধজনে দেহ আলাে। (সম্প্রদানে ৭মী)।

অন্যদিকে, 
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।

অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭২৭.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. ক) অশ্রুজলে ভেসে যায় দুইটি নয়ন।
  2. খ) তারা একত্রে গমন করলো।
  3. গ) আবাল্য হতে তিনি কাব্য প্রিয়।
  4. ঘ) এ মামলায় আমি সাক্ষ্যি দেব না।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য: অশ্রুজলে ভেসে যায় দুইটি নয়ন।

বাক্যটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'যেতে নাহি দিব' কবিতা থেকে চয়নকৃত।
"একটি নিশ্বাসে তার আদরের ধন,—
অশ্রুজলে ভেসে যায় দুইটি নয়ন,"

অশ্রু/অশ্রুজল/অশ্রুবারি:
তিনটি শব্দই শুদ্ধ। অশ্রু শব্দের অর্থ চোখের জল বা চোখের বারি। বাংলা একাডেমি বাংলা অভিধানমতে, সংস্কৃত অশ্রুজল (অশ্রু + জল) ও সংস্কৃত অশ্রুবারি (অশ্রু + বারি) শব্দের অর্থ নয়নবারি। শব্দ দুটি অশ্রুর সমার্থক।

অনেকে মনে করেন ‘অশ্রুবারি’ ও ‘অশ্রুজল’ বাহুল্য। তাদের যুক্তি, যেখানে অশ্রু অর্থ চোখের জল, সেখানে অশ্রুর সঙ্গে পুনরায় জল ও বারি লেখা হলে ‘অশ্রুজল/অশ্রুবারি' শব্দের অর্থ হয়ে যায় : চোখের জল জল। এ যুক্তি ঠিক নয়, ঠিক হতো যদি ‘অশ্রু ও বারি’ এবং ‘অশ্রু ও জল' পরস্পর ফাঁক রেখে যথাক্রমে ‘অশ্রু জল', ‘অশ্রু বারি’ লেখা হতো ।

-------------------------
অন্য বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ -
- তারা একত্র গমন করলো।
- বাল্য হতেই তিনি কাব্য প্রিয়।
- এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।

[বি.দ্র. আমাদের আর্কাইভে অনেকবার "অশ্রুজল" শব্দটি অপপ্রয়োগ হিসেবে দেয়া আছে, যা সঠিক নয়। ‘অশ্রুজল’ বাংলা একাডেমির অভিধানে প্রমিত হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অতএব, অশ্রুজল অশুদ্ধ নয়।]

সূত্র: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা একাডেমি।

৩,৭২৮.
বাক্যের যোগ্যতা -
  1. ক) কাব্যের ক্ষেত্রে বিচার করা হয় না।
  2. খ) গদ্যের ক্ষেত্রে বিচার করা হয় না।
  3. গ) সর্বক্ষেত্রেই বিচার করা হয়।
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা

বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম যোগ্যতা। সাধারণত গদ্যের ক্ষেত্রে যোগ্যতা বিচার হয়, কাব্যের ক্ষেত্রে নয়।
“হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে” - এ পঙ্‌ক্তি কবিতায় মান্য হলেও গদ্যে যোগ্যতাহীন বলে বিবেচিত।
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৭২৯.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অনুসঙ্গ
  2. অনিন্দসুন্দর
  3. অনন্যোপায়
  4. অনুদিত
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান: অনন্যোপায়।
- বিশেষণ পদ। 
- সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- অন্য কোনও উপায় নেই এমন। 
- নিরাশ্রয়। 


অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ- 
• অনিন্দসুন্দর - অনিন্দ্যসুন্দর। 
• অনুসঙ্গ - অনুষঙ্গ। 
• অনুদিত - অনূদিত। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৭৩০.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) সমিচীন
  2. খ) পাণিনী
  3. গ) সামর্থ্য
  4. ঘ) প্রতিচী
ব্যাখ্যা
সমীচীন (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = সম্যচ্‌+ঈন্‌
অর্থ: - সংগত, উপযুক্ত, উত্তম, যথার্থ, সত্য, উচিত।

পাণিনি (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = পণিন্‌+অ 
অর্থ: খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকের সংস্কৃত ব্যকরণপ্রণেতা।

প্রতীচী (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রত্যচ্‌+ঈ 
অর্থ: পশ্চিম দিক, পশ্চিম দিকে অবস্থিত দেশসমূহ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,৭৩১.
লোকমুখে এই কথা শুনেছি’। কোন কারক?
  1. করণ
  2. কর্ম
  3. অপাদান
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।
উদাহরণ
বিচ্যুত : ছাদ থেকে পানি পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় ইত্যাদি।
গৃহীত : দুধ থেকে দই হয়। বিশ্বাস থেকে বস্তু মেলে।
জাত : জমি থেকে আমরা ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
বিরত : পাপে বিরত হও। মিথ্যা বলা ছাড়।
দূরীভূত : দেশ থেকে পাপাচার দূর করতে হবে।
রক্ষিত : বিপদ থেকে আমায় বাঁচাও।
আরম্ভ : বুধবার থেকে দুর্নীতিবিরােধী অভিযান চলবে।
ভীত : বাঘে ভীত হয়।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়ে, দিয়া ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি : বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।                                         
(খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি : বাবাকে বড় ভয় পাই।
(গ) ষষ্ঠী বা এর বিভক্তি : যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়।
(ঘ) সপ্তমী বা এ বিভক্তি : বিপদে মােরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মাের প্রার্থনা।
---------------------------- 
⇒ অনুরূপভাবে, 'লোকমুখে এই কথা শুনেছি।' - এখানে কোথা হতে প্রশ্ন করলে পাওয়া যায় লোকমুখে। অতএব ‘লোকমুখ’ এ বিভক্তিযোগে অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৩২.
আলংকারিক প্রয়োগ বর্জনীয় যে ক্ষেত্রে-
  1. ক) পত্র লিখন
  2. খ) ভাবসম্প্রসারণ
  3. গ) প্রবন্ধ রচনা
  4. ঘ) সারাংশ লিখন
ব্যাখ্যা

কোনো কবিতা পদ্য রচনার মূল ভাব বা বক্তব্যকে অল্প কথায় প্রকাশ করার নাম সারমর্ম বা সারাংশ।
- সারমর্ম এবং সারাংশ যথাসম্ভব সহজ ভাষায় এবং সরল বাক্যে লিখতে হবে।
- বক্তব্যের বর্ণনায় মূল কথার বাইরে কোনো কথা লিখা যাবে না, বক্তব্যে কোনো প্রকার ছন্দ, অলঙ্কার, উপমা, রূপক, উদ্ধৃতির ব্যবহার করা যাবে না

তবে পত্র, ভাব সমপ্রসারণ এবং প্রবন্ধ রচনায় আলঙ্কারিক প্রয়োগ করা যায়।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ

৩,৭৩৩.
'এবার একটি গান করা হোক।' কোন ধরনের বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্মকর্তৃবাচ্য
  3. কর্তৃবাচ্য
  4. ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।

ভাববাচ্যের বৈশিষ্ট্য:
ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
-আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)
• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন:
- এ পথে চলা যায় না;
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।

• কর্তায় প্রথমা বিভক্তি প্রযুক্ত হয় এবং ক্রিয়া কর্তার অনুসারী হয়।
যেমন:
- তোমাকে হাঁটতে হবে।
- তুমি হাঁটবে।
- এবার একটি গান করা হোক।

• মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
-এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭৩৪.
গগণে গরজে মেঘ। 'মেঘ' কোন কারক?
  1. ক) কর্মকারক
  2. খ) অপাদান কারক
  3. গ) করণকারক
  4. ঘ) কর্তৃকারক 
ব্যাখ্যা
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
উপরোক্ত বাক্যটিতে 'মেঘ' হলো কর্তৃকারক। এখানে বাক্যটিতে 'মেঘ' ক্রিয়া সম্পাদন করছে। 

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৩৫.
কর্মকর্তৃবাচ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. কাজটা ভালো দেখায় না।
  2. বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
  3. তুমিই ঢাকা যাবে।
  4. তোমরা এখন এলে?
ব্যাখ্যা
• কর্মকর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলা হয়।
যেমন -
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

অন্যদিকে,
ভাববাচ্য: 
- বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
- তুমিই ঢাকা যাবে।
- তোমরা এখন এলে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭৩৬.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. বয়ঃকনিষ্ঠ
  2. বয়োকনিষ্ট
  3. বয়কনিষ্ঠ
  4. বয়োকনিস্ট
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'বয়ঃকনিষ্ঠ'।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- বয়সে ছোটো।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৭৩৭.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. বন্দরে কয়েকটি ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর আছে।
  2. মেয়েটি বিদুষী কিন্তু ঝগড়াটে।
  3. বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।
  4. শিক্ষক অন্যান্য বিষয় আলোচনা করলেন।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: বন্দরে কয়েকটি ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর আছে।
শুদ্ধ: বন্দরে কয়েকটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর আছে।

অন্যদিকে,
- শিক্ষক অন্যান্য বিষয় আলোচনা করলেন।
- বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।
- মেয়েটি বিদুষী কিন্তু ঝগড়াটে।
উপরিউক্ত বাক্যগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৭৩৮.
শুদ্ধ বাক্য নয় কোনটি?
  1. বিদ্বান হলেও তার কোনাে অহংকার নেই।
  2. ইশ! যদি পাখির মত পাখা পেতাম।
  3. অকারণে ঋণ করিও না।
  4. হয়তাে সােহমা আসতে পারে।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: অকারণে ঋণ করিও না।- বাক্যটি গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হওয়ায় যােগ্যতা হারিয়েছে।
- এর শুদ্ধরূপ হবে- অকারণে ঋণ করো না।

-----------------
• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
যেমন-
গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই।
- কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৩৯.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. কৃতিত্ব
  2. প্রতিযোগিতা
  3. মন্ত্রি
  4. প্রাণী
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত ইন্‌-প্রত্যয়ান্ত শব্দের দীর্ঘ ঈ-কারান্ত রূপ সমাসবদ্ধ হলে সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম-অনুযায়ী সেগুলিতে হ্রস্ব ই-কার হয়।
যেমন:
- গুণী → গুণিজন, প্রাণী →প্রাণিবিদ্যা, মন্ত্রী → মন্ত্রিপরিষদ।

• তবে এগুলির সমাসবদ্ধ রূপে ঈ-কারের ব্যবহারও চলতে পারে। 
যেমন:
- গুণী → গুণীজন, প্রাণী → প্রাণীবিদ্যা, মন্ত্রী → মন্ত্রীপরিষদ।

• ইন্‌-প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে-ত্ব ও-তা প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার হবে। 
যেমন:
- কৃতী → কৃতিত্ব, দায়ী → দায়িত্ব, প্রতিযোগী→ প্রতিযোগিতা, সহযোগী → সহযোগিতা, মন্ত্রী → মন্ত্রিত্ব।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

৩,৭৪০.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. নীর্নিমেষ
  2. নিরীক্ষণ
  3. তেজস্ক্রিয়তা
  4. কণ্টক
ব্যাখ্যা
⇒ অশুদ্ধ বানান: নীর্নিমেষ।

• শুদ্ধরূপ: নির্নিমেষ।
- নির্নিমেষ (বিশেষণ পদ)।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
 অর্থ:
- নিমেষহীন,
- অপলক।

অন্যদিকে,
• শুদ্ধ বানান - নিরীক্ষণ।
- ‘নিরীক্ষণ’ শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- ‘নিরীক্ষণ’ অর্থ: যত্ন সহকারে অবলোকন, গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ।

• শুদ্ধ বানান - তেজস্ক্রিয়তা।
- ‘তেজস্ক্রিয়তা’ শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- ‘তেজস্ক্রিয়তা’ অর্থ: (পদার্থ) নিউক্লিয়াস বিভাজনের ফলে পরমাণুকেন্দ্র থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আলফা, বিটা বা গামা রশ্মির বিকিরণ।

• শুদ্ধ বানান: কণ্টক।
-‘কণ্টক’ শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- যার অর্থ: লতাগুল্ম বা গাছের সুচালো অংশ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৭৪১.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. স্থা + অন = স্থান
  2. গম + অ = গমন
  3. শ্রু + অন = শ্রবণ
  4. দৃশ্ + অন = দর্শন
ব্যাখ্যা

সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়ঃ √গম্ + অন = গমন।
এরূপ:
√স্থা + অন = স্থান
√শ্রু + অন = শ্রবণ
√নী + অন্ = নয়ন
√দৃশ্ + অন = দর্শন

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷

৩,৭৪২.
'গাড়ি স্টেশন ছাড়ে' এখানে 'স্টেশন' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে শূন্য
  2. কর্তাকারকে শূন্য
  3. অধিকরণে শূন্য
  4. অপাদানে শূন্য
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

• 'রেলগাড়িটি স্টেশন ছেড়েছে' বাক্যে-
'স্টেশন' থেকে রেলগাড়িটি বিচ্যুত হয়েছে বোঝায়। 
- এবং এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি। 
- তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭৪৩.
'কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।' - এখানে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্মকারক
ব্যাখ্যা
• 'কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।'- এখানে নিম্নরেখ শব্দটি অপাদান কারকের উদাহরণ। 
----------------------- 
অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।
যেমন:
জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।

অন্যদিকে:
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।
 
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি  অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
 
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।
যেমন:
 শিক্ষককে জানাও।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৪৪.
বাংলা ব্যাকরণে 'বর্গ' কী?
  1. ক) বাক্যের বিন্যাস
  2. খ) ধ্বনিগুচ্ছ
  3. গ) বর্ণের সমষ্টি
  4. ঘ) শব্দের গুচ্ছ
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
- বর্গ হলাে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।
- বর্গকে বলা যায় বাক্যের একক, কেননা মানুষ কথা বলতে গিয়ে শব্দের পরে শব্দ না বসিয়ে প্রায়ই বর্গের পরে বর্গ বসায়।
যেমন -
- মালা ও মায়া খুব সকালে বাড়ির সামনে থাকা বাসে উঠে পড়ল। এই বাক্যে মালা ও মায়া’, ‘খুব সকালে', বাড়ির সামনে থাকা’, ‘স্কুল-বাসে', ‘উঠে পড়ল' প্রভৃতি শব্দগুচ্ছ এক একটি বর্গ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৭৪৫.
বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে কোনটি সঠিক?
  1. ভাঙা
  2. ভাংগা
  3. ভাঙ্গা
  4. ভাঙ্ঘা
ব্যাখ্যা
বানানের নিয়ম:
- শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং।

- তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ঙ হবে।
যেমন :
বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের।

- ব্যতিক্রম: বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৭৪৬.
নিচের যে বাক্যটিতে ভাষার অপপ্রয়োগ ঘটেনি-
  1. ক) ছেলেটি মারাত্মক মেধাবী।
  2. খ) দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার সম্ভাবনা প্রচুর।
  3. গ) আজ তার পঞ্চাশতম জন্মবার্ষিক।
  4. ঘ) সে পান্তাভাত খেয়ে মাঠে গেল।
ব্যাখ্যা
আজ তার পঞ্চাশতম জন্মবার্ষিক - এই বাক্যটি শুদ্ধ।

অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধরূপ-
ছেলেটি মারাত্মক মেধাবী। - ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রচুর। - দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়ার আশংকা প্রচুর।
সে পান্তাভাত খেয়ে মাঠে গেলো। - সে পান্তা/ভাত খেয়ে মাঠে গেল।
৩,৭৪৭.
টাকাগুলো হাত ছাড়া করো না - বাক্যে 'হাত ছাড়া' কী অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে?
  1. ক) কার্যে বিরতি
  2. খ) আয়ত্তে আনা
  3. গ) হস্তচ্যুত
  4. ঘ) প্রভাব
ব্যাখ্যা
হাত শব্দের ভিন্নার্থক প্রয়োগ: 
- কাজ করতে করতেই কাজে হাত আসবে। (দক্ষতা)
- হাত গুটিয়ে বসে আছ কেন? (কার্যে বিরতি)
- সাহেবকে হাত করতে পারলেই কাজ হবে। (আয়ত্তে আনা)
- টাকাগুলো হাত ছাড়া করো না। (হস্তচ্যুত)
- এ ব্যাপারে আমার কোনো হাত নেই। (প্রভাব)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
৩,৭৪৮.
'দরিদ্রতা' শব্দটি ব্যাকরণের কোন নিয়মে গঠিত হয়েছে?
  1. উপসর্গযোগে
  2. প্রত্যয়যোগে
  3. বচনের সাহায্যে
  4. সন্ধিযোগে
ব্যাখ্যা
'-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
- '-তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো '-তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন -
'ধীর' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে '-তা' যোগ করে বিশেষ্যবাচক শব্দ ‘ধীরতা' হয়।
- কিন্তু 'ধীর' এর সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'ধৈর্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়।
- ‘ধৈর্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘-তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
এরকম -
অশুদ্ধ শুদ্ধ
ঐক্যতা ⇒ ঐক্য, একতা
দারিদ্র্যতা ⇒ দারিদ্র্য, দরিদ্রতা
মৈত্রতা ⇒ মৈত্র, মিত্রতা
পৌরুষত্বব⇒ পৌরুষ, পুরুষত্ব

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৭৪৯.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. বিভীষীকা
  2. কৃপন
  3. রূপায়ণ
  4. অপরাহ্ন
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান: রূপায়ণ।
অর্থ: মূর্তি বা আকার দান,  রূপদান, বাস্তবে পরিণতকরণ।
-----------------
অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধ রূপ হলো:
• শুদ্ধ বানান: বিভীষিকা (বিশেষ্য),
অর্থ: আতঙ্ক, ভীতিকর ঘটনা।

• শুদ্ধ বানান: অপরাহ্ণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: মধ্যাহ্ন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়, বিকেল।

• শুদ্ধ বানান: কৃপণ।
অর্থ: অত্যন্ত ব্যয়কুণ্ঠ, অনুদার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৭৫০.
নিচের কোনটি মিশ্র বাক্য?
  1. ক) আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।
  2. খ) যদিও তিনি অত্যন্ত দরিদ্র, তথাপি তাঁর অন্তঃকরণ অতিশয় উচ্চ।
  3. গ) দোষ স্বীকার কর, তোমাকে কোনো শাস্তি দেব না।
  4. ঘ) সত্য কথা বলি নি, তাই বিপদে পড়েছি।
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত পরস্পর নিরপেক্ষ বাক্য দুটোর প্রথমটির পূর্বে ‘যদি’ কিংবা ‘যদিও’ এবং দ্বিতীয়টির পূর্বে ‘তা হলে’ (তাহা হইলে) কিংবা ‘তথাপি’ অব্যয় গুলো ব্যবহার করতে হয়। যেমন-
যৌগিক বাক্যঃ তিনি অত্যন্ত দরিদ্র কিন্তু তাঁর অন্তঃকরণ অতিশয় উচ্চ।
মিশ্র বাক্যঃ যদিও তিনি অত্যন্ত দরিদ্র, তথাপি তাঁর অন্তঃকরণ অতিশয় উচ্চ।
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

৩,৭৫১.
শুদ্ধ বানান গুচ্ছ নির্ণয় করুন-
  1. ক) শষ্য, ভুবন, শ্রদ্ধাঞ্জলি
  2. খ) সমীচীন, সুষ্ঠ, সাক্ষরতা
  3. গ) আকাঙ্ক্ষা, গ্রামীণ, দারিদ্র্য
  4. ঘ) মুখস্থ, মন্ত্রীসভা, ব্রাহ্মন
ব্যাখ্যা
•  বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে: আকাঙ্ক্ষা, গ্রামীণ, দারিদ্র্য বানান গুচ্ছগুলো সঠিক।

• আকাঙ্ক্ষা (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = আ+√কাঙ্ক্ষ্‌+অ+আ 
অর্থ: ইচ্ছা, বাসনা, অভিলাষ। 

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে দরিদ্র, দারিদ্র্য, দারিদ্র, দরিদ্রতা বানানগুলো শুদ্ধ।
৩,৭৫২.
নিচের কোন শব্দে প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ হয়েছে?
  1. চঞ্চলতা
  2. গাম্ভীর্যতা
  3. কৃপণতা
  4. ধীরতা
ব্যাখ্যা

• 'গাম্ভীর্যতা' শব্দে 'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ হয়েছে।

অন্যদিকে,
চঞ্চলতা, কৃপণতা, ধীরতা শব্দগুলো শুদ্ধ।

• '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
 'তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন 'ধীর' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে 'তা' যোগ করে বিশেষ্যবাচক শব্দ 'ধীরতা' হয়। কিন্তু 'ধীর' এর সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'ধৈর্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে 'ধৈর্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে। এরকম-

শুদ্ধ: অপকর্ষ, অপকৃষ্টতা
অশুদ্ধ:অপকর্ষতা

শুদ্ধ: আলস্য, অলসতা
অশুদ্ধ: আলস্যতা

শুদ্ধ: উৎকর্ষ, উৎকৃষ্টতা
অশুদ্ধ:উৎকর্ষতা

শুদ্ধ: কার্পণ্য, কৃপণতা
অশুদ্ধ: কার্পণ্যতা

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৩,৭৫৩.
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাকে কোন কারক বলে?
  1. কর্তৃ
  2. করণ
  3. কর্ম
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

​কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: এক যে ছিলো রাজা
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৩,৭৫৪.
সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. নির্ধনী
  2. তরুছায়া
  3. শ্রেষ্ঠতম
  4. সুবুদ্ধিমান
ব্যাখ্যা
• 'তরুছায়া' সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: তরুচ্ছায়া।

অন্যদিকে,
• 'নির্ধনী' সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োেগ।
এর শুদ্ধরূপ: নির্ধন।

• 'শ্রেষ্ঠতম' উৎকর্ষবাচক '-তম' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: শ্রেষ্ঠ, সর্বশ্রেষ্ঠ।

• 'সুবুদ্ধিমান' সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: সুবুদ্ধি, বুদ্ধিমান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৭৫৫.
'বাচ্যার্থ' শব্দের কোন ধরনের অর্থ প্রকাশ করে?
  1. মূখ্য
  2. গৌণ
  3. প্রত্যক্ষ
  4. পরোক্ষ
ব্যাখ্যা
• বাগর্থ: 
- ভাষা ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য মনের ভাব প্রকাশ করা।
- মনের ভাব প্রকাশ করতে মানুষ শব্দ ও শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে।
- এগুলাের অর্থই মূলত বক্তা ও শ্রোতার মধ্যে সংযোেগ ঘটায়।
- শব্দ ও শব্দগুচ্ছের অর্থকে বাগর্থ বলে।

• অর্থের শ্রেণিবিভাগ: 
- অনুসারে শব্দের অর্থ অন্তত দুই রকমের।
-কোথাও শব্দের গাঠনিক উপাদানগুলাের অর্থ প্রাধান্য পায়, আবার কোথাও গাঠনিক অর্থ ছাপিয়ে শব্দের ভিন্ন অর্থ তৈরি হয়।
- এই দুই ধরনের অর্থের নাম - বাচ্যার্থ ও লক্ষ্যার্থ।

• বাচ্যার্থ:
- একটি শব্দ শােনার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনে যে ছবি বা বােধ জেগে ওঠে, সেটাই শব্দটির বাচ্যার্থ।
- অভিধানে অর্থ গ্রহণের বেলায় শব্দের বাচ্যার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
- 'মাথা' শব্দটি শােনার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের যে ছবি মনে ভেসে ওঠে, তা-ই ‘মাথা’ শব্দের বাচ্যার্থ।
- বাচ্যার্থ হলাে শব্দের মুখ্য অর্থ।
- এই অর্থকে আক্ষরিক অর্থও বলা হয়ে থাকে।

• লক্ষ্যার্থ:
- একটি শব্দের বাচ্যার্থের বাইরেও আলাদা অর্থ তৈরি হতে পারে।
- এই আলাদা অর্থের নাম লক্ষ্যার্থ।
- যেমন: 'তিনি গ্রামের মাথা'। 
- এখানে মাথা’ শব্দ শােনার পরে শ্রোতার মনে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের কোনাে ছবি ভেসে ওঠে না, মাননীয় কোনাে ব্যক্তির ছবি ভেসে ওঠে।
- লক্ষ্যার্থকে গৌণার্থ বা লাক্ষণিক অর্থ বলা হয়ে থাকে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৭৫৬.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. চিকীষ্যা 
  2. চিকির্ষা
  3. চীকির্ষা
  4. চিকীর্ষা
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান: চিকীর্ষা। 
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: 
- করার ইচ্ছা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৩,৭৫৭.
নিচের কোন বাক্যটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ আছে?
  1. ক) চোরটাকে পূর্ণচন্দ্র দিয়ে বিদায় কর।
  2. খ) যাবতীয় প্রাণীকুল এই গ্রহের বাসিন্দা।
  3. গ) সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলাম।
  4. ঘ) পাহাড়ের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য আমাদের মুগ্ধ করে।
ব্যাখ্যা

বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো :
চোরটাকে অর্ধচন্দ্র দিয়ে বিদায় করো।
যাবতীয় প্রাণী এই গ্রহের বাসিন্দা।
সারা জীবনে ভূতের বেগার খেটে গেলাম।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৩,৭৫৮.
’এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।’-কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• ’এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।’ ভাব বাচ্যের উদাহরণ।
---------------------------------
উল্লেখ্য,
• ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন
- আমার যাওয়া হলো না।
- কোথা থেকে আসা হলো।
এখানে 'যাওয়া', 'আসা'- এগুলো হলো ক্রিয়া-বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৩,৭৫৯.
'গৌরবির ভেতরটা ভয়ে শুকিয়ে গেল।' বাক্যে 'ভয়ে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।

এরূপ,
- গৌরবির ভেতরটা ভয়ে শুকিয়ে গেল। 
[যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। সুতরাং ভয়ে অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি।] 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৬০.
'মাত্র' এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. মনুষ্যমাত্র
  2. একমাত্র
  3. বলামাত্র
  4. কেবলমাত্র
ব্যাখ্যা

সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
সময়কাল - সময়/কাল। 
বিবিধপ্রকার - বিবিধ। 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান। 
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন। 
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র। 
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র। 

----------------------
• 'মাত্র' শব্দের ব্যবহার: 
মাত্র শব্দে প্রত্যেক/ শুধু/ পর্যন্ত/ তখনই ইত্যাদি অর্থ বোঝালে এর পূর্ববর্তী শব্দ পৃথক বসবে না।
যেমন: আসামাত্র, এইমাত্র, একমাত্র, একটিমাত্র, কিছুমাত্র, প্রাণিমাত্র, বলামাত্র, মনুষ্যমাত্র ইত্যাদি।

লক্ষণীয়,  মাত্র দশ টাকা, মাত্র পাঁচ মিনিট, মাত্র একটা কলম ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে মাত্র আলাদাভাবে বসছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৭৬১.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. গভর্ণর
  2. অঘ্রাণ
  3. ঝরণা
  4. পরাণ
ব্যাখ্যা
• অঘ্রাণ বানানটি শুদ্ধ।

• অতৎসম শব্দের বানানে ক্ষেত্রে ‘ণ’ ব্যবহার করা যাবে না।
যেমন:
- অতৎসম শব্দ ঝরণা, গভর্ণর বানানগুলো ভুল, সঠিক বানান ঝরনা, গভর্নর।

তেমনভাবে অতৎসম শব্দ ইরান, কান, কোরান, গুনতি, গোনা, ধরন, পরান, রানি, সোনা, হর্ন বানানগুলো সঠিক।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৭৬২.
নিম্নের কোনটি সরল বাক্য?
  1. ক) আকাশে মেঘ না থাকা সত্ত্বেও বজ্রপাত হলাে।
  2. খ) তুমি যদি না খাও তবে আমিও খাব না।
  3. গ) ছেলেটি গরিব কিন্তু মেধাবী।
  4. ঘ) সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সূত্র :
১. বাক্য পরিবর্তন হলেও বাক্যের মূল অর্থের পরিবর্তন হয় না।
২. বাক্যটিকে একটি অংশে পরিণত করতে হয়।
৩. প্রধান খণ্ডবাক্যের সমাপিকা ক্রিয়াকে অপরিবর্তিত রাখতে হয়।
৪. আশ্রিত খণ্ডবাক্যের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় পরিণত করতে হয়।
৫. সংযােজক, বিয়ােজক ও ব্যতিরেকাত্মক ইত্যাদি অব্যয় পদ থাকলে তা বর্জন করতে হয়।
যেমন: যৌগিক বাক্য: সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।
          সরল: সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।

          যৌগিক বাক্য: তুমি আসবে এবং আমি যাবাে।
          সরল বাক্য: তুমি এলে আমি যাব।

          যৌগিক: ছেলেটি গরিব কিন্তু মেধাবী।
          সরল: ছেলেটি গরিব হলেও মেধাবী।

          যৌগিক: আকাশে মেঘ ছিল না, কিন্তু বজ্রপাত হলাে।
          সরল: আকাশে মেঘ না থাকা সত্ত্বেও বজ্রপাত হলাে।


উৎস:
উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৬৩.
যে সব পদের সাহায্যে মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় তাকে কি বলে?
  1. কারক
  2. শব্দ
  3. বাক্য
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা
বাক্য:
যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, 'যে পদ বা শব্দ-সমষ্টির দ্বারা কোনও বিষয়ে বক্তার ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকটিত হয়,
সেই পদ বা শব্দ-সমষ্টিকে বাক্য (sentence) বলে।'
ভাষাবিদ জ্যোতিভূষণ চাকী বলেছেন, 'যথাযথ বিন্যস্ত শব্দসমষ্টি যদি একটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে তাকে বাক্য বলে।'

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৭৬৪.
নিচের কোটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. একতা
  2. চতুরতা
  3. মৈত্রতা
  4. কার্পণ্য
ব্যাখ্যা
- একতা, চতুরতা, কার্পণ্য শুদ্ধ রূপ হলেও মৈত্রতা শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- মিত্র থেকে মিত্রতা/ মৈত্র। মৈত্র শব্দটি নিজেই বিশেষ্য, এর সঙ্গে নতুন করে তা যুক্ত করে বিশেষ্য করার প্রয়োজন নেই।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৭৬৫.
কোনটি ভাববাচ্যের উদাহরণ?
  1. ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
  2. আমাকে এখন যেতে হবে।
  3. আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
  4. চোরটা ধরা পড়েছে।
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন: 
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য: - ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
কর্মবাচ্য: - আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়। চোরটা ধরা পড়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৭৬৬.
''লোকটি যদিও ধনী, তবুও সে কৃপণ” কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) যৌগিক
  2. খ) সরল
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) খন্ড
ব্যাখ্যা

যে বাক্যে একটি প্রধান খন্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
জটিল বাক্যে একাধিক খণ্ডবাক্য থাকে।
এদের মধ্যে একটি প্রধান থাকে, এবং অন্যগুলো সেই বাক্যের উপর নির্ভর করে।
যেমন-
লোকটি যদিও ধনী, তবুও সে কৃপণ।
যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে।
সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৭৬৭.
কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. আরক্ত
  2. স্বাগত
  3. সুস্বাস্থ্য
  4. সমূল
ব্যাখ্যা
• 'সুস্বাস্থ্য' - শব্দটি অপপ্রয়োগ। এটি সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হচ্ছে - স্বাস্থ্য।

অন্যদিকে,
- সমূল,
- স্বাগত,
- আরক্ত।
→ উপরিউক্ত শব্দগুলো প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৭৬৮.
A beggar must not be a chooser. বাক্যটির সঠিক বাংলা অনুবাদ কোনটি?
  1. ন্যাংটার নেই বাটপারের ভয়
  2. ভিক্ষাবৃত্তি ভালো নয়।
  3. ভিক্ষার চাল কাঁড়া আর আকাঁড়া।
  4. মাথা নেই, আবার মাথা ব্যথা।
ব্যাখ্যা

A beggar must not be a chooser. বাক্যটির সঠিক বাংলা অনুবাদ: ভিক্ষার চাল কাঁড়া আর আকাঁড়া।

অন্যদিকে,
- 'A beggar can never be bankrupt' এর সঠিক অনুবাদ - মাথা নেই, আবার মাথা ব্যথা।
- A beggar may sing before a pickpocket. এর সঠিক অনুবাদ =ন্যাংটার নেই বাটপারের ভয়।

• কিছু গুরত্বপূর্ণ প্রবাদ বাক্যের অনুবাদ:
- Culture is constantly evolving বাক্যটির সঠিক বাংলা অনুবাদ: সংস্কৃতি সর্বদা বিবর্তিত হচ্ছে।
- Breaking a butterfly on the wheel. বাক্যটির সঠিক বাংলা অনুবাদ: মশা মারতে কামান দাগা।
- Run with the here and hunt with the hounds.বাক্যটির বাংলা অনুবাদ: চোরকে বলে চুরি করতে, গৃহস্থকে বলে সজাগ থাকতে।
- Self-Preservation is the first law of nature.বাক্যটির সঠিক বাংলা অনুবাদ: চাচা আপন প্রাণ বাঁচা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৭৬৯.
"উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।" - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. আশ্রিত খণ্ডবাক্য
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য:
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করার নিয়ম:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

সরল বাক্য: এখন পরকালের কর্ম না করিলে কবে করিব?
যৌগিক বাক্য: এখন পরকালের কর্ম করিব, নাতো কবে করিব?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৭০.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. তোমার তিরষ্কার বা পুরস্কার কিছুই চাই না।
  2. আকণ্ঠ ভোজন ভাল নয়।
  3. তোমার সঙ্গে আমার একটি গোপনীয় পরামর্শ আছে।
  4. তুমি নির্দোষ নও।
ব্যাখ্যা
• তোমার তিরষ্কার বা পুরস্কার কিছুই চাই না; বাক্যটি অশুদ্ধ। 
বাক্যটির শুদ্ধরূপ: তোমার তিরস্কার বা পুরস্কার কিছুই চাই না। 

• এই বাক্যে বানানজনিত ভুল ছিল। 
- এখানে তিরষ্কার বানানটি ভুল ছিল; এর শুদ্ধ বানান হচ্ছে- তিরস্কার।

- বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে, র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'স' হবে।
যেমন: পুরস্কার, তিরস্কার ইত্যাদি। 

তাছাড়া, অপশনের অন্য উত্তরগুলো সঠিক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৭১.
"আমাকে একটি কলম দাও।" কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  2. বিবৃতিবাচক বাক্য
  3. আদেশাত্মক বাক্য
  4. আবেগবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
• আমাকে একটি কলম দাও।
• দয়া করে আমার একটা কাজ করে দিন।
• তার মঙ্গল হােক।
• সৎপথে তার মতি হোক।
• সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৭৭২.
‘যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ড
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার:
১) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
২) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
৩) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য। 

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য (Adverbial clause ):
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন:
- ‘যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।’
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭৭৩.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. কৌতুহল
  2. শিরচ্ছেদ
  3. দুরন্ত
  4. আকাঙ্খা
ব্যাখ্যা
• দুরন্ত (বিশেষণ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [দুঃ + অন্ত]
অর্থ: দামাল, ভীষণ, উগ্র ইত্যাদি।

অন্যান্য অপশনগুলোর শুদ্ধ রূপ হলো:
• কৌতূহল (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [কুতূহল + অ]
অর্থ: অজ্ঞাত বিষয়ে জানার আগ্রহ।

• শিরশ্ছেদ (বিশেষ্য),
-  এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [শিরস্‌ + ছেদ] 
অর্থ: মাথা কেটে ছিন্নকরণ। 

• আকাঙ্ক্ষা (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [আ + √কাঙ্ক্ষ্‌ + অ + আ]
অর্থ: ইচ্ছা, বাসনা, অভিলাষ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৭৭৪.
'দেশ থেকে অতিথি পাখি চলে গেছে।' এখানে 'দেশ' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্তা কারক
  3. কর্ম কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন-
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত : জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত : পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ : সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৭৭৫.
কোন শব্দটির প্রয়োগ অশুদ্ধ?
  1. ক) চোষ্য
  2. খ) বিশিষ্টতা
  3. গ) রাজগণ
  4. ঘ) প্রাতরাশ
ব্যাখ্যা
‘চোষ্য’ শব্দটির প্রয়োগ অশুদ্ধ। এর সঠিক প্রয়োগ - ‘চূষ্য’।
সূত্র: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৭৭৬.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. তৎকালীন
  2. ততকালীন
  3. তৎকালীণ
  4. ততকালিণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'তৎকালীন'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষণ পদ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: তৎকাল + ঈন।
অর্থ: 
- সেই সময়,
- তদানীন্তন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৭৭৭.
'কমা' চিহ্নের জন্য কতক্ষণ থামতে হয়?
  1. থামার দরকার নেই
  2. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  3. ১ বলার সময়
  4. ১ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
বিরাম চিহ্ন:
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
• কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
• সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
• প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
• বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
• কোলন - এক সেকেন্ড।
• ড্যাস - এক সেকেন্ড।
• কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
• হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
• ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
• একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
• যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
• ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।
• ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৭৭৮.
কর্মবাচ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
  2. এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
  3. এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
  4. রোগী পথ্য সেবন করে।
ব্যাখ্যা
• 'আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।'- বাক্যটি কর্মবাচ্যের উদাহরণ।

• কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে। যেমন-শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।

• কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়। যথা- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়। চোরটা ধরা পড়েছে।
• কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে। যথা- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই। ও এবার ট্রেনে ওঠা যাক।- ভাববাচ্যের উদাহরণ।
- রোগী পথ্য সেবন করে।- কর্তৃবাচ্যের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৭৭৯.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. বূৎপত্তি
  2. ব্যূপত্তি
  3. ব্যুৎপত্তি
  4. বুৎপত্তি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'ব্যুৎপত্তি'
- বিশেষ্য শব্দ। 
 অর্থ:
- শাস্ত্রে বিশেষ পাণ্ডিত্য। 
- জ্ঞান; বোধ; অভিজ্ঞতা। 
- পারদর্শিতা। 
- বিশেষ উৎপত্তি। 
- (ব্যাকরণ) শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয়াদি বিশ্লেষণপূর্বক গঠন বিচার। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৭৮০.
’তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।’ কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. মৌলিক বাক্য
ব্যাখ্যা
’তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।’ এটি একটি যৌগিক বাক্য।
-------------------------------------------
• যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা,কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক
বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (:), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল।
- অন্ধকার হয়ে এসেছে- বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৩,৭৮১.
অসমাপিকা ক্রিয়াপদ বাক্যের কোথায় বসে?
  1. ক) প্রথমে
  2. খ) শেষে
  3. গ) বিশেষণের পূর্বে
  4. ঘ) বিশেষ্যের পর
ব্যাখ্যা
• অসমাপিকা ক্রিয়াপদ- 'বিশেষণের পূর্বে' বাক্যের বসে। 
যেমন: 
লোকটি ব্যবহারে  খুবই ভদ্র। 
রাজশাহীর আম খেতে চমৎকার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩,৭৮২.
‘একটি গান শোনাও।’- বাক্যে ‘গান’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে ক্রিয়ার কর্ম বা কর্ম কারক বলে। ক্রিয়াকে কি/কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই কর্ম কারক।
যেমন:
- একটি গান শোনাও।
[বাক্যে শোনানোর ক্রিয়া গানকে কেন্দ্র করে সম্পাদন করা হয়েছে। সুতরাং গান কর্ম কারকে শূন্যবিভক্তি।]

এরূপ,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
[এখানে, 'কাকে সাহায্য করো?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'অসহায়কে'। সুতরাং, 'অসহায়কে' এখানে কর্ম কারক।]

• কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন:
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৮৩.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. প্রত্যুদগমণ
  2. প্রত্যুদ্গমন
  3. প্রত্যুতগমন
  4. প্রত্যুৎগমন
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - প্রত্যুদ্‌গমন
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
-  মান্য ব্যক্তিকে অভ্যর্থনাকালে কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে বা বিদায়কালে কিছুদূর সঙ্গে গিয়ে সৌজন্য প্রদর্শন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৭৮৪.
কর্তা সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বলে-
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. উদ্দেশ্য
  3. বিধেয়
  4. আসক্তি
ব্যাখ্যা
একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে। যথা:
১. উদ্দেশ্য,
২. বিধেয়।

উদ্দেশ্য: বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
[এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে। অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।]

বিধেয়: কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
[এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৭৮৫.
শব্দের পদ হতে হলে এতে যোগ করার প্রয়োজন হয় -
  1. ক) প্রত্যয়
  2. খ) বিভক্তি
  3. গ) উপসর্গ
  4. ঘ) অনুসর্গ
ব্যাখ্যা

- বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে৷
যেমন:
- দুঃসাহসী অভিযাত্রীরা মানুষের চিরন্তন কল্পনার রাজ্য চাঁদের দেশে পৌঁছেছেন এবং মঙ্গলগ্রহেও যাওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত হচ্ছেন।
- ওপরের বাক্যটিতে ‘রা’ (অভিযাত্রী + রা), 'এর’ (মানুষ + এর), ‘র’ (কল্পনা + র), ‘এ’ (মঙ্গলগ্রহ + এ) প্রভৃতি চিহ্নগুলােকে বিভক্তি বলা হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭৮৬.
কোনটি বাক্যের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) আকাঙক্ষা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) অভিপ্রায়
  4. ঘ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
• একটি বাক্যকে সার্থক ও শুদ্ধ হতে হলে কতগুলাে গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার।
এগুলাে হচ্ছে- 
- আকাঙ্ক্ষা,
- আসত্তি এবং
- যােগ্যতা।

• আকাঙ্ক্ষা: ‘আকাঙক্ষা' শব্দের আভিধানিক অর্থ- ইচ্ছা, বাসনা। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে স্পষ্টভাবে বােঝার জন্য একপদের পর অন্য পদ শােনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।

• আসত্তি: আসত্তি শব্দের অর্থ নৈকট্য। মনােভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলি এমনভাবে পরপর সাজাতে হবে যাতে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক থাকে এবং ভাষার নিয়ম অনুযায়ী নৈকট্য থাকে।
- ‘আগামী কাল একটি বিজয় দিবস সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ১৬ই ডিসেম্ব হবে আমাদের স্কুলে উপলক্ষে’- বাক্যটিতে পদবিন্যাস সঠিক বা সুশৃঙ্খল না হওয়ায় বাক্যটি  আসত্তি গুণ হারিয়েছে।
• শুদ্ধরূপ: আগামী কাল ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আমাদের স্কুলে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।

• যােগ্যতা: বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ।
৩,৭৮৭.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. সহপাঠিনী
  2. সহপাঠিনি
  3. সহপাঠীনী
  4. সহপাঠীনি
ব্যাখ্যা

• সহপাঠী (বিশেষ্য পদ),
এর অর্থ:
- একই বিদ্যায়তনে ও শ্রেণিতে অধ্যায়নকারী।

• ‘সহপাঠী’ শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ- সহপাঠিনী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৭৮৮.
একটি ব্যক্তিগত পত্রে কয়টি অংশ বিদ্যমান থাকে?
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. ছয়টি
  4. সাতটি
ব্যাখ্যা
• সাধারণত একটি ব্যক্তিগত পত্রে ছয়টি অংশ বিদ্যমান থাকে। যথা:
১. মঙ্গলসূচক শব্দ।
২. স্থান ও তারিখ।
৩. সম্বোধন ও সম্ভাষণ।
৪. চিঠির বক্তব্য।
৫. লেখকের স্বাক্ষর, বিদায় সম্ভাষণ।
৬. শিরোনাম- প্রেরক ও প্রাপকের নাম ঠিকানা।

• একটি পত্রের প্রধান অংশ দুইটি। যথা:
১. বাইরের অংশ বা শিরোনাম ও
২. ভেতরের অংশ বা পত্রগর্ভ।

শিরোনাম: পত্রের খাম বা পোস্টকার্ডে প্রেরক ( যিনি চিঠি লিখেন ) ও প্রাপকের ( যার উদ্দেশ্য চিঠি লেখা হয় ) নাম ও ঠিকানা লেখা হয়। একেই শিরোনাম বলা হয়। পোস্টকার্ড বা খামের বাম দিকে থাকে প্রেরকের নাম ও ঠিকানা আর ডানদিকে থাকে প্রাপকের নাম ও ঠিকানা।

পত্রগর্ভ: একটি পত্রের বিষয় অনুসারে কয়েকটি ভাগ থাকে।
যেমন: 
১. পত্রের উপরে ডান দিকে প্রেরকের ঠিকানা লিখতে হয়।
- ঠিকানার নিচে পত্র লেখার তারিখ লিখতে হয়।
২. পত্রের উপরে বাম দিকে প্রাপকের প্রতি সম্ভাষণ থাকে।
- বয়স ও সম্পর্ক অনুযায়ী সম্ভাষণের ভাষায় পার্থক্য থাকে।
- গুরুজনদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধেয় আব্বা, শ্রদ্ধেয় খালা, শ্রদ্ধাভাজনীয়াষু মা ইত্যাদি লেখা হয়।
- সমবয়সী বন্ধুদের প্রতি প্রিয় পাভেল, প্রীতিভাজনেষু, প্রীতিভাজনাষু, বন্ধুবরেষু ইত্যাদি লেখা হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ড. হায়াৎ মামুদ ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৭৮৯.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. উত্তরসুরী
  2. উত্তরসুরি
  3. উত্তরসূরি
  4. উত্তরসূরী
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
উত্তরসূরি- বানানটি শুদ্ধ।

• 'উত্তরসূরি' শব্দের অর্থ :
- পরবর্তীকালের জ্ঞানী গুণী; উত্তরকালের পণ্ডিত।
- উত্তরাধিকারী।  

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।  
৩,৭৯০.
কে প্রথম যতিচিহ্নের সার্থক প্রয়োগ ঘটান?
  1. ক) রাজা রামমোহন রায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

১৮৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ‘বেতালপঞ্চবিংশতি’ গ্রন্থে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রথম যতিচিহ্নের সার্থক প্রয়োগ ঘটান।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৩,৭৯১.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. ক) নিঃশোষিত
  2. খ) নীরস
  3. গ) মাধুরিয়া
  4. ঘ) অধীনী
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

নীরস ( বিশেষণ)

- সংস্কৃত শব্দ।
প্রকৃতি - প্রত্যয়: নির + রস্‌
অর্থ:
- রসহীন,
- বৈচিত্র্যহীন,
- অপ্রসন্ন,
- ম্লান,
- রসবোধশূণ্য,
- বেরসিক,
- রুক্ষ,
- কর্কশ।

অন্যান্য অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ:
নিঃশেষিত (বিশেষণ)

- সংস্কৃত শব্দ
অর্থ:
- সম্পূর্ণ ফুরিয়ে গেছে এমন,
- সমাপ্ত।

মাধুরী (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
প্রকৃতি - প্রত্যয়: মধুর+অ +ঈ।
অর্থ:
- কোমল ও মধুর ভাব,
- মধুরতা,
- মাধুর্য
- লাবন্য,
- শোভা।

অধীন (বিশেষণ)
- সংস্কৃত  শব্দ।
অর্থ:
- আয়ত্ত,
- বশীভূত,
- অন্তর্গত,
- অন্তর্ভুক্ত,
- অনুগত,
- অন্তর্ভুক্ত
- অনুগত,
- বাধ্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে।
৩,৭৯২.
'পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।' - 'পাতায় পাতায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।
(খ) তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।
(গ) পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
(ঘ) সপ্তমী বিভক্তি:
- এ বাড়িতে কেউ নেই।
- পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির

• অধিকরণে অনুসর্গের ব্যবহার - ঘরের মধ্যে কে রে? তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।

• ক্রিয়াকে কখন / কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
- 'পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।' - এখানে 'কোথায় পড়ে নিশির শিশির?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় - 'পাতায় পাতায়'। তাই 'পাতায় পাতায়' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭৯৩.
হাইফেন কোন পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত হয় না?
  1. সমাসবদ্ধ শব্দ গঠনে
  2. বাক্যের মধ্যে বিরামচিহ্ন হিসেবে
  3. পদ সংযোজনে
  4. সমাসে বিভক্তির পরিবর্তে
ব্যাখ্যা
• হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইফেন মূলত পদ সংযোজক চিহ্ন।
- সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৭৯৪.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. আমি সাক্ষী দিব না।
  2. একটা গোপন কথা বলি।
  3. এখানে প্রবেশ নিষেধ।
  4. সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ আমাদের একান্ত কাম্য।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ আমাদের একান্ত কাম্য

তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষী দিব না।
শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।

অশুদ্ধ বাক্য: একটা গোপন কথা বলি।
শুদ্ধ বাক্য: একটা গোপনীয় কথা বলি।

অশুদ্ধ বাক্য: এখানে প্রবেশ নিষেধ।
শুদ্ধ বাক্য: এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৭৯৫.
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে কী বলে?
  1. প্রাতিপাদিক
  2. প্রতিপাদিক
  3. নৃপাদিক
  4. ধাপাদিক
ব্যাখ্যা

[উল্লেখ্য, মূল পরীক্ষার অপশনে 'প্রাতিপদিক' এর পরিবর্তে 'প্রাতিপাদিক' ছিল। বিষয়টি স্পেলিং মিস্টেক বিধায় উত্তর হিসেবে অপশন-ক রাখা হয়েছে।] 

প্রাতিপদিক:
বিভক্তিহীন নামশব্দকে প্রাতিপদিক বলে। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে 'নাম প্রকৃতি' ও বলা
হয়ে থাকে। নামপদের যেই অংশকে আর বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, তাই প্রাতিপদিক।
যেমন:
হাত, বই, কলম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ)।

৩,৭৯৬.
কাচের জিনিস অতি সহজে ভাঙে। - এখানে 'কাচের' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৬ষ্ঠী
  2. কর্মে ৬ষ্ঠী
  3. করণে ৬ষ্ঠী
  4. অধিকরণে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন -
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
- কাচের জিনিস অতি সহজে ভাঙে। (করণে ৬ষ্ঠী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৩,৭৯৭.
কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. অপমানিত হবার ভয় নেই।
  2. তারা একত্র গমন করলো।
  3. লোকটি নিরাপরাধী কিন্তু নিরহংকারী নয়।
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বাক্য- লোকটি নিরাপরাধী কিন্তু নিরহংকারী নয়।
[এখানে "নিরাপরাধী" শব্দটি অশুদ্ধ, এবং এর শুদ্ধ রূপ হবে "নিরাপরাধ"।]

• শুদ্ধ বাক্যটি হলো: লোকটি নিরাপরাধ; কিন্তু নিরহংকারী নয়।

অন্যদিকে,  
শুদ্ধ: শুধু/মাত্র এই কটা টাকা দিলে?
শুদ্ধ: অপমানিত হবার ভয় নেই।
শুদ্ধ: তারা একত্র গমন করলো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৭৯৮.
কর্মবাচ্যে কর্তায় কোন বিভক্তি হয়?
  1. দ্বিতীয়া
  2. প্রথমা
  3. ষষ্ঠী
  4. তৃতীয়া
ব্যাখ্যা
• কর্মবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।

১. কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়।
যথা:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

২. কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে।
যথা:
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭৯৯.
নিম্নের কোনটি সঠিক বানান?
  1. ঐক্যমত
  2. কর্পদকশূন্য
  3. পার্শ্ববর্তী
  4. দুঃশাহস
ব্যাখ্যা
পার্শ্ববর্তী বানানটি শুদ্ধ।
- এটি একটি বিশেষণ জাতীয় শব্দ।
- অর্থ - পাশে আছে এমন।

অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ- 

ঐকমত্য (বিশেষ্য):

অর্থ - একমত, মতের অভিন্নতা, মতের মিল বা ঐক্য।

কপর্দকশূন্য (বিশেষণ):
অর্থ - নিঃসম্বল।

দুঃসাহস (বিশেষণ):
অর্থ - অতিরিক্ত সাহস

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৮০০.
সর্বাপেক্ষা গ্রহণযোগ্য বাক্যটি চিহ্নিত করুন।
  1. করিম আদালতে মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছে।
  2. আদালতে মিথ্যা সাক্ষী দেওয়া অন্যায়।
  3. মিথ্যা সাক্ষী দিলে বিচারকার্য বিঘ্নিত নয়।
  4. মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া অপরাধের কাজও বটে।
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• ‘সাক্ষী’ শব্দের অর্থ: কোনো ঘটনা বা বিষয় প্রত্যক্ষকারী; প্রত্যক্ষদর্শী।

আবার,
• ‘সাক্ষ্য’ শব্দের অর্থ: আদালতে প্রদত্ত প্রত্যক্ষ বিবরণ; সাক্ষীর কাজ।

⇒ সুতরাং ‘সাক্ষ্য’ ও ‘সাক্ষী’ শব্দের অর্থ অনুসারে সর্বাধিক সঠিক বাক্য হচ্ছে- মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া অপরাধের কাজও বটে।