বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৩৬ / ৬৯ · ৩,৫০১৩,৬০০ / ৬,৯৫৩

৩,৫০১.
‘বেদেয় চেনে সাপের হাঁচি।’ - বাক্যে ‘বেদে’ কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্তা কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
কর্তা বা কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ে।

কর্তায় ‘এ’ বিভক্তির প্রয়োগ:
- লোকে তো কত কথাই বলে।
- পাগলে কী না বলে।

স্বারন্ত শব্দের পর ‘এ’ ‘য়’-তে রূপান্তরিত হয়।
যেমন:
- বেদেয় চেনে সাপের হাঁচি।
- মায়ে বলে, ব্যাটায় শোনে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
৩,৫০২.
‘বিপদে মোরে রক্ষা করো’ - এখানে 'বিপদে" কোন্ কারকে কোন্ বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে ৭মী
  2. করণ কারকে ৭মী
  3. অপাদান কারকে ৭মী
  4. অধিকরণ কারকে ৭মী
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যূত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- দুধ থেকে দই হয়।
- পাপে বিরত হও।

- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।
প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি: বোটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
ষষ্ঠী বা এর বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়।
সপ্তমী বা এ বিভক্তি: বিপদে মোরে রক্ষা করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫০৩.
"রাজায় রাজায় লড়াই করছে" - এ বাক্যতে 'রাজায় রাজায়' কী?
  1. মুখ্য কর্তা
  2. প্রযোজক কর্তা
  3. ব্যতিহার কর্তা
  4. ণিজন্ত কর্তা
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকার হয়ে থাকে।
যথা- 
-মূখ্য কর্তা;
- প্রযোজক কর্তা; 
- প্রযোজ্য কর্তা;
- ব্যতিহার কর্তা।

• ব্যতিহার কর্তা:
কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন: রাজায়-রাজায় লড়াই, বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫০৪.
কোন বাক্যে ভাববাচ্যে কর্তার উদাহরণ দেওয়া হয়েছে?
  1. ক) ছুটি হলে ঘণ্টা বাজে
  2. খ) তাকে গ্রামে যেতে হবে
  3. গ) আমার যাওয়া হবে না
  4. ঘ) সে গ্রামে যাবে
ব্যাখ্যা

বাক্যের বাচ্য বা প্রকাশভঙ্গি অনুসারে কর্তা ৩ রকম হতে পারে।
যেমন-
১/ কর্মবাচ্যের কর্তা (পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে),
২/ ভাববাচ্যের কর্তা (আমার যাওয়া হবে না) এবং
৩/ কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা (কলমটা লেখে ভালো)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

৩,৫০৫.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. ক) তার সব ছেলেই কৃতী।
  2. খ) এক মাঘে শীত যায় না।
  3. গ) ইহা একটি কিংবদন্তি।
  4. ঘ) কালীদাস বিখ্যাত কবি।
ব্যাখ্যা
'কালীদাস বিখ্যাত কবি।' বাক্যটি অশুদ্ধ। এর শুদ্ধরূপ হবে- কালিদাস বিখ্যাত কবি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫০৬.
‘খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।’ কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. আশ্রিত বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।
[বাক্যে খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, (আশ্রিত বাক্য)  আমার দেশের মাটি। (প্রধান খণ্ডবাক্য)]

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
৩,৫০৭.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ব্যতিত
  2. প্রাণিবিদ্যা
  3. নুন্যতম
  4. আইনজীবি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'প্রাণিবিদ্যা'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- প্রানীবিষয়ক শাস্ত্র।

অন্যদিকে,
- 'আইনজীবি' এর শুদ্ধরূপ - আইনজীবী।
- 'নুন্যতম' এর শুদ্ধরূপ - ন্যূনতম।
- 'ব্যতিত' এর শুদ্ধরূপ - ব্যতীত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৫০৮.
বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কোন চিহ্ন ব্যবহার হয়?
  1. কমা
  2. কোলন
  3. সেমিকোলন
  4. দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
কমা:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়

যেমন,
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, ও বসন্ত - বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যাবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৫০৯.
'তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা

• গঠন অনুসারে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।

বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়।
যেমন:
- তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।

--------------------
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল. সে আমার ভাই ।

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৩,৫১০.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অবমাননিয় 
  2. নিরবিচ্ছিন্ন
  3. অবচ্ছিন্ন 
  4. অবঞ্ছিত 
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানন- অবচ্ছিন্ন। 
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- বিশিষ্ট। 
- মিলিত, সংযুক্ত।
- বিচ্ছিন্ন (নিরবচ্ছিন্ন); বিভক্ত।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো- অবমাননীয়, নিরবচ্ছিন্ন, অবাঞ্ছিত। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৫১১.
"শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।" এখানে "শিক্ষক" কোন ধরনের কর্তা?
  1. প্রযোজক
  2. মুখ্য
  3. ব্যতিহার
  4. প্রযোজ্য
ব্যাখ্যা

প্রযোজক কর্তা:
- মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।

প্রযোজ্য কর্তা:
মূল কর্তার করণীয় কার্য যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়।
যেমন -
শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।
এ বাক্যে 'ছাত্র' প্রযোজ্য কর্তা।
তদ্রুপ - রাখাল (প্রযোজক) গরুকে (প্রযোজ্য কর্তা) ঘাস খাওয়ায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৫১২.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. তার জীবন সংশয়পূর্ণ
  2. তার জীবন সংশয়াময়
  3. তার জীবন সংশয়াপূর্ণ
  4. তার জীবন সংশয়ভরা
ব্যাখ্যা

• সংশয় (বিশেষ্য):
১. সন্দেহ; দ্বিধা; দ্বৈধবোধ (সংশয় চিত্তের দুর্বলতা প্রকাশক)।
২. ভবিষ্যতের ব্যাপারে ভয় (জীবন সংশয়)।
৩. অনিশ্চয়তাবোধ (ভিতরে একটা শব্দ শুনিয়া কেমন যেন সংশয় হইল-শামসুর রাহমান)।

'সংশয়' শব্দটির বিশেষণরূপ- সংশয়িত, সংশয়াকুল, সংশয়পূর্ণ।
'সংশয়পূর্ণ' শব্দটির অর্থ সন্দেহপূর্ণ বা দ্বিধাপূর্ণ।

সুতরাং, শুদ্ধ বাক্যটি হবে- তার জীবন সংশয়পূর্ণ। 
এর দ্বারা গভীর অনিশ্চয়তা প্রকাশ পেয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৫১৩.
"রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।" বাক্যে 'দুয়ার' কোন কারক?
  1. অপাদান
  2. কর্ম
  3. অধিকরণ
  4. করণ
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’ ‘য়’ ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

যেমন: 
- আকাশে চাঁদ উঠেছে। (কোথায় উঠেছে? আকাশে) - অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা। (কোথায় বাঁধা? দুয়ারে) - অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- সজিব ব্যাকরণে ভাল। (কী বিষয়ে ভাল? ব্যাকরণে) - অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- সকালে সূর্য ওঠে। (কখন ওঠে? সকালে) - অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।

৩,৫১৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অভিভূত
  2. অভিভৃত
  3. অভীভুত
  4. অভীভূত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - অভিভূত
- এতয়ই একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- বিহ্বল।
- ভাবাবিষ্ট।
- পরাভূত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৫১৫.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. বাল্মিকী
  2. ব্যাত্যয়
  3. প্রোজ্জল
  4. কুজ্ঝটিকা
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান- 'কুজ্ঝটিকা'।
- 'কুজ্ঝটিকা' শব্দের অর্থ: কুহেলিকা, কুয়াশা।
- সন্ধিবিচ্ছেদ: কুৎ + ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা।

অন্যদিকে,
- 'প্রোজ্জল' শব্দের শুদ্ধ বানান - প্রোজ্জ্বল।
- 'বাল্মিকী' শব্দের শুদ্ধ বানান - বাল্মীকি।
- 'ব্যতয়' শব্দের শুদ্ধ বানান - ব্যত্যয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৫১৬.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) শুচিস্মিতা
  2. খ) মুহূর্ত
  3. গ) মর্ত্য
  4. ঘ) দৌরাত্য
ব্যাখ্যা

সঠিক বানানগুলো হলো:
- শুচিস্মিতা
- মুহূর্ত
- মর্ত্য
- দৌরাত্ম্য

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৩,৫১৭.
শুদ্ধ বানানের গুচ্ছ কোনটি? 
  1. শিরশ্ছেদ, দরিদ্রতা, সমীচীন
  2. শিরোশ্ছেদ, দারিদ্র্য, সমীচিন 
  3. শিরঃশ্ছেদ, দরিদ্রতা, সমিচীন
  4. শিরচ্ছেদ, দরিদ্রতা, সমীচীন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানানগুচ্ছ- শিরশ্ছেদ, দরিদ্রতা, সমীচীন। 

• শিরশ্ছেদ (বিশেষ্য):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে শিরোশ্‌ছেদ।
অর্থ: দেহ থেকে মাথা ছিন্নকরণ।

• দরিদ্রতা (বিশেষ্য):
অর্থ:
- অসচ্ছলতা,
- নির্ধনতা ইত্যাদি।

• সমীচীন (বিশেষণ):
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- সংগত,
- উপযুক্ত,
- উত্তম।

অন্যদিকে, 
অপশন (খ) এর দারিদ্র্য বানান শুদ্ধ হলেও অন্য দুটি বানান অশুদ্ধ।
অপশন (গ) দরিদ্রতা শুদ্ধ হলেও অন্য দুটি বানান অশুদ্ধ।
অপশন (ঘ) দরিদ্রতা ও সমীচীন - শুদ্ধ হলেও অন্য বানানটি অশুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৫১৮.
ভাইয়ে ভাইয়ে বেশ মিল- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ১মা
  2. কর্তায় ২য়া
  3. কর্মে ২য়া
  4. কর্তায় ৭মী
ব্যাখ্যা
ভাইয়ে ভাইয়ে বেশ মিল - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কর্তায় ৭মী বিভক্তি।

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন -
→ খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
→ মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

• কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকার। যথা:
১. মুখ্য কর্তা,
২. প্রযোজক কর্তা,
৩. প্রযোজ্য কর্তা,
৪. ব্যতিহার কর্তা।

ব্যতিহার কর্তা:
কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন -
- বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়।
- রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।
- ভাইয়ে ভাইয়ে বেশ মিল। - বাক্যে 'ভাইয়ে ভাইয়ে' - তে ৭মী বিভক্তি ব্যবহার হওয়ায়, এটি কর্তায় ৭মী বিভক্তি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫১৯.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. রুপালী
  2. রূপালি
  3. রুপালি
  4. রুফালী
ব্যাখ্যা

• বানানের নিয়ম অনুসারে শুদ্ধরূপ: রুপালি।

নিয়ম:
আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন- সোনালি, মিতালি, বর্ণালি, খেয়ালি, রুপালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

[ তবে ‘সোনালী ব্যাংক’ এর (সোনালী) বানানটি ব্যাংক কর্তৃক এভাবেই নিবন্ধিত। তাই সোনালী ব্যাংক লিখতে সোনালী শব্দটিই ব্যবহৃত হবে। যদিও বানানের নিয়ম অনুসারে (সোনালী) শব্দের সঠিক বানান সোনালি।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৫২০.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অর্চ্ছনা
  2. হেঁয়ালী
  3. বাধাগ্রস্থ
  4. দূরীকরণ
ব্যাখ্যা
বাংলা প্রমিত বানানের নিয়ম  অনুসারে,

• দূরত্ব বোঝায় এমন শব্দে ঊ-কার যোগে ‘দূর’ হবে। 
যেমন— দূর, দূরবর্তী, দূর-দূরান্ত, দূরীকরণ, অদূর, দূরত্ব, দূরবীক্ষণ ইত্যাদি।

• রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না৷ 
যেমন— অর্চনা, অর্জন, অর্থ, অর্ধ, কর্দম, কর্তন, কর্ম, কার্য, গর্জন, মূর্ছা, কার্তিক, বার্ধক্য, বার্তা, সূর্য৷

• বিশেষণবাচক আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার হবে। 
যেমন— সোনালি, রুপালি, বর্ণালি, হেঁয়ালি, খেয়ালি, মিতালি ইত্যাদি।

• পদের শেষে’-গ্রস্থ’ নয় ‘-গ্রস্ত’ হবে। 
যেমন— বাধাগ্রস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত, হতাশাগ্রস্ত, বিপদগ্রস্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, প্রমিত বাংলা বানানরীতি (বাংলা একাডেমি)।
৩,৫২১.
কোনটি মিথ্যা?
  1. সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয় না। 
  2. বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য ষ লেখার প্রয়োজন হয়না। 
  3. রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
  4. ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ন' হয়। 
ব্যাখ্যা

ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ন' হয়। - উক্তিটি মিথ্যা।
কারণ, ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
যেমনঃ অর্জ্জন, কর্ম্ম, কার্য্য, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন, কর্ম, কার্য, মূর্ছা ইত্যাদি হবে।

• বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয়না।  
যেমন- পোশাক, মাস্টার। 

• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। 
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৫২২.
"চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা" - পঙক্তিটি  কোন অলঙ্কার দ্বারা গঠিত?
  1. যমক  
  2. শব্দালঙ্কার
  3. সরল অনুপ্রাস
  4. অনুপ্রাস
ব্যাখ্যা

- "চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা" পঙক্তিটি  অনুপ্রাস অলঙ্কার দ্বারা গঠিত।

• অনুপ্রাস: 
- একই রকম বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বারবার ব্যবহৃত হয়ে যে শব্দসাম্য সৃষ্টি করে তাকে অনুপ্রাস বলে।
- অনুপ্রাস অলংকার সাধারণত বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধ্বনিগত অলংকার, যার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো একটি নির্দিষ্ট ব্যঞ্জনবর্ণ বা বর্ণগুচ্ছের বারবার পুনরাবৃত্তি, যা কবিতার বা গদ্যের শ্রুতিমাধুর্য এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
- চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা" - এখানে 'অন্ধকার' এবং 'নিশা' শব্দ দুটির মধ্যে একই ধরনের ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছের ('ন' ধ্বনি) পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে শব্দের মধ্যে এক ধরনের মাধুর্য সৃষ্টি হয়েছে, যা অনুপ্রাস অলংকারের বৈশিষ্ট্য।

• প্রয়োগের ধরন অনুযায়ী অনুপ্রাস বিভিন্ন প্রকারের হয়, যেমন:
- বৃত্ত্যনুপ্রাস: একটি ব্যঞ্জনধ্বনি একাধিকবার ধ্বনিত হলে।
- ছেকানুপ্রাস: দুই বা ততোধিক ব্যঞ্জনধ্বনি যুক্ত বা বিযুক্তভাবে একই ক্রমে মাত্র দু'বার ধ্বনিত হলে।
- আদ্যানুপ্রাস: শব্দের শুরুতে একই ধ্বনির মিল থাকলে।
- অন্ত্যানুপ্রাস: পঙক্তির শেষে একই ধ্বনির মিল থাকলে।
- লাটানুপ্রাস: একই শব্দ বা বাক্য পরপর একাধিকবার ব্যবহৃত হলে, কিন্তু অন্বয় বা অর্থ ভিন্ন হলে। 

অন্যদিকে, 
- যমক:
- যমক হল শব্দালঙ্কারের একটি প্রকারভেদ।
-যমক এমন এক ধরনের অলঙ্কার যেখানে একই শব্দ একই স্বরধ্বনিসহ একাধিকবার ব্যবহৃত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে।
- যেমন: 'ভারত, ভারত খ্যাত আপনার গুণে'।

- শব্দালঙ্কার:
- চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা" - এই পঙক্তিটি অনুপ্রাস নামক শব্দালঙ্কারের একটি উদাহরণ।
- শব্দের ধ্বনি প্রকাশে যে অলঙ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে তাই শব্দালঙ্কার, শব্দের ধ্বনিরূপের আশ্রয়ে এর সৃষ্টি। 
- শব্দালঙ্কারের  বৈশিষ্ট্য এই যে সৃষ্ট শব্দের ধ্বনিরূপ পালটে গেলে বা বদলে দিলে এর অঙ্গহানি ঘটে।
- যেমন: বাঘের বিক্রমসম মাঘের রজনী। 

- সরল অনুপ্রাস:
- একটি বা দুইটি বর্ণ বারবার ধ্বনিত হলে তাকে বলে সরল অনুপ্রাস, এটি অনুপ্রাস এর একটি প্রকারভেদ।
- এর উদাহরণ: ঝুলিছে ঝলি ঝালরে মুকুতা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৫২৩.
নিচের কোনটি পরোক্ষ উক্তি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. এখানে 
  2. গতকল্য 
  3. সেদিন
  4. এটা 
ব্যাখ্যা
• 'সেদিন'- পরোক্ষ উক্তির শব্দ। 

• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ রূপ:
• এই  -  সেই।
• ইহা  -  তাহা/উহা।
এখানে  -  ওইখানে।
• আগামীকাল  -  পরদিন।
গতকল্য  -  পূর্বদিন।
• এটা  - ওটা/সেটা।
• এ  -  সে।
• আজ  - সেদিন।
• গতকাল  -  আগেরদিন।
• এখন  -  তখন।

উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫২৪.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) উচ্ছ্বাস
  2. খ) বুৎপত্তি
  3. গ) মণোমোহন
  4. ঘ) মৃনাল
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
উচ্ছ্বাস- বানানটি শুদ্ধ। 

 • 'উচ্ছ্বাস' শব্দটির অর্থ- উল্লাস। 

তাছাড়া,
 • 'বুৎপত্তি' এর শুদ্ধরূপ: ''ব্যুৎপত্তি',
 • 'মণোমোহন' এর শুদ্ধরূপ: 'মনোমোহন', 
 • 'মৃনাল' এর শুদ্ধরূপ: 'মৃণাল'।  

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৫২৫.
সন্ধি জনিত অশুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ক) অনূর্ধ্ব
  2. খ) লঘুর্মি
  3. গ) বধূৎসব
  4. ঘ) প্রত্যুত্তর
ব্যাখ্যা
ই + উ = য্‌ + উ > অতি + উক্তি = অত্যুক্তি; প্রতি + উত্তর = প্রত্যুত্তর।
উ + উ = ঊ > কটু + উক্তি = কটূক্তি; মরু + উদ্যান = মরূদ্যান।
উ + ঊ = ঊ > লঘু + ঊর্মি = লঘূর্মি; অনু + ঊর্ধ্ব = অনূর্ধ্ব।
ঊ + উ = ঊ > বধূ + উৎসব = বধূৎসব।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৩,৫২৬.
নিম্নের কোন বানানটি সঠিক?
  1. ক) বৈদ্যুতীকরণ
  2. খ) বৈদ্যুতিকরণ
  3. গ) বিদ্যুতকরণ
  4. ঘ) বিদ্যুতিকরণ
ব্যাখ্যা
• বৈদ্যুতিক
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [কিদ্যুৎ+ইক]
অর্থ: বিদ্যুৎপূর্ণ, বিদ্যুচ্চালিত।

অতএব,  বৈদ্যুতিক থেকে তৈরি শুদ্ধ বানান বৈদ্যুতিকরণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৫২৭.
অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. অন্ধকারে জেগে ওঠা।
  2. অহংকারে পতন ঘটে।
  3. আমারে করহ তোমার বীণা।
  4. আচার ব্যবহারে ভদ্র-অভদ্র চেনা যায়।
ব্যাখ্যা
আচার ব্যবহারে ভদ্র-অভদ্র চেনা যায়। - অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি

অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। যেমন -
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। 
- জাত: জমি থেকে ফসল পাই। 

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।'
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

(খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি:
- বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

(গ) ষষ্ঠী বা এর বিভিক্ত:
- যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

(ঘ) সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- লোকমুখে শুনেছি।
- তিলে তৈল হয়।
- আচার ব্যবহারে ভদ্র-অভদ্র চেনা যায়

অন্যদিকে, 
- অন্ধকারে জেগে ওঠা। = অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- অহংকারে পতন ঘটে। = করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি। 
- আমারে করহ তোমার বীণা। = কর্ম কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫২৮.
সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. ক) উপর্যুক্ত
  2. খ) উপর্যপরি
  3. গ) অদ্যাবধি
  4. ঘ) মুখচ্ছবি
ব্যাখ্যা
উপর্যপরি শব্দে সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে। এর শুদ্ধরূপ হচ্ছে উপর্যুপরি
- অপশনের বাকি শব্দগুলো শুদ্ধ নিয়মে গঠিত।

• সন্ধিজাত কয়েকটি শুদ্ধ শব্দ:
- অধোগতি, অত্যধিক, অদ্যাবধি, উপর্যুক্ত, অনটন, দুরবস্থা, দূরদৃষ্টি, তরুচ্ছায়া, মুখচ্ছবি, যশ-ইচ্ছা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩,৫২৯.
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে বাক্য কোন গুণটি হারায়?
  1. ক) বাহুল্য
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) আসত্তি
  4. ঘ) আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
ভাষার বিচারে বাক্যের আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা এই তিনটি গুন থাকা চাই। প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং এর ফলে শব্দ তার যোগ্যতাগুণ হারিয়ে থাকে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৩০.
‘কে বলে ঈশ্বর গুপ্ত ব্যাপ্ত চরাচর, / যাহার প্রভায় প্রভা পায় প্রভাকর।’ - ‍এখানে কী জাতীয় অলঙ্কার ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপমা
  2. বক্রোক্তি
  3. যমক
  4. শ্লেষ
ব্যাখ্যা
• ‘কে বলে ঈশ্বর গুপ্ত ব্যাপ্ত চরাচর, / যাহার প্রভায় প্রভা পায় প্রভাকর।’ - ‍এখানে শ্লেষ অলঙ্কার ব্যবহৃত হয়েছে?।

শ্লেষ:
একটি শব্দ একবার মাত্র ব্যবহৃত হয়ে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করলে তাকে শ্লেষ অলঙ্কার বলে। 
যেমন -
কে বলে ঈশ্বর গুপ্ত ব্যাপ্ত চরাচর, / যাহার প্রভায় প্রভা পায় প্রভাকর।

⇒ এখানে সমগ্র বাক্যের দুটি অর্থ।
- এক অর্থে ঈশ্বর চরাচরে ব্যাপ্ত, তাঁর আলোকে সূর্য আলোকিত হয়। 
- অন্য অর্থে যাঁর প্রতিভায় ‘সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা উজ্জ্বলরূপে প্রকাশিত হয় সেই ঈশ্বর গুপ্তকে অখ্যাতনামা কে বলবে? তাঁর খ্যাতি চরাচরে ব্যাপ্ত। 
এটা শ্লেষ অলঙ্কার।
যেমন -
→ আছিলাম একাকিনী বসিয়া কাননে। / আনিলা তোমার স্বামী বাঁধি নিজ গুণে।। 

⇒ এখানে ‘গুণে' অর্থ -
১. ধনুকের ছিলায়, 
২. স্বভাবের উৎকর্ষে।

অন্যদিকে,
উপমা:
- একই বাক্যে সাধারণ ধর্মবিশিষ্ট দুই ভিন্ন জাতয়ি পদার্থের মধ্যে সাদৃশ্য করা হলে তাকে উপমা বলে। 
- উপমার চারটি অঙ্গ। যথা:
১. উপমেয়: যাকে তুলনা করা হয়।
২. উপমান: যার সঙ্গে তুলনা করা হয়।
৩. সাধারণ ধর্ম: যে বৈশিষ্ট্যের জন্য তুলনা দেওয়া হয়।
৪. সাদৃশ্যবাচক শব্দ: মতো, সম, হেন, সদৃশ, প্রায়, ন্যায় ইত্যাদি।
যেমন -
→ ‘পদ্মের কলিকাসম ক্ষুদ্র তব মুষ্টিখানি।’
এ বাক্যে উপমেয় - মুষ্টি; উপমান - পদ্মের কলিকা; সাধারণ ধর্ম - ক্ষুদ্র; সাদৃশ্যমূলক শব্দ - সম।

বক্রোক্তি:
- রচনার সৌন্দর্য প্রকাশের জন্য বক্রতা বা মনোহর ভঙ্গি দ্বারা উক্তি সম্পন্ন হলে তাকে বক্রোক্তি বলে। সোজাসুজি না বলে বাঁকাভাবে কোনো বক্তব্য প্রকাশ পেলে তা হয় বক্রোক্তি। 
যেমন -
→ গৌরী সেনের আবার টাকার অভাব কী। 
এখানে টাকার অভাব নেই ভাবটি বাঁকাভাবে ব্যক্ত হয়েছে।
- বক্রোক্তি দুই ধরনের।যথা:
১. শ্লেষ বক্রোক্তি ও 
২. কাকু বক্রোক্তি।

যমক:
- একই শব্দ একই স্বরধ্বনিসমেত একই ক্রমানুসারে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে একাধিকবার ব্যবহৃত হলে তাকে যমক অলঙ্কার বলে।
- যমক শব্দের অর্থ যুগ্ম।
- এতে একই শব্দ বা প্রায় এক রকমের উচ্চার্য শব্দ দু বার বা বেশি বার উচ্চারিত হয়।
- শব্দের অর্থও আলাদা হতে হবে।
যেমন -
→ মাটির ভয়ে রাজ্য হবে মাটি / দিবস রাতি রহিলে আমি বন্ধ।
→ ভারত ভারত খ্যাত আপনার গুণে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৫৩১.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. সে তাহার শিক্ষকের একান্ত বাধ্য।
  2. অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
  3. অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।
  4. 'গীতাঞ্জলি' একখানা কাব্যগ্রন্থ।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
• শুদ্ধ: অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।

অন্যদিকে, 
শুদ্ধ: সে তাহার শিক্ষকের একান্ত বাধ্য। 
শুদ্ধ: অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।
শুদ্ধ 'গীতাঞ্জলি' একখানা কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৫৩২.
'যদিও শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোল হইল, তবে সেটা স্বভাবের ষোল।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়। তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

জটিল বাক্যে ব্যবহৃত সাপেক্ষ সর্বনাম ও যোজক/অব্যয়গুলো হলো:
• যে - সে, যা - তা, যিনি - তিনি, যাঁরা - তাঁরা ইত্যাদি।

• নিত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন - তখন, যেমন- তেমন, বরং - তবু, যেইনা - অমনি, যেহেতু - সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি।

যেমন:
- যদিও শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোল হইল, তবে সেটা স্বভাবের ষোল।
- রোদে যে বাইরের আকাশ পুড়ছে, তা আমাদের অজানা নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৫৩৩.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. খানা দুই কম্বল চেয়েছিলাম।
  2. দেশ গোটা ছারখার হয়ে গেছে।
  3. গোটা সাতেক আম এনো।
  4. কমলালেবু গোটা দুই আছে।
ব্যাখ্যা
'গোটা সাতেক আম এনো।'- বাক্যটি সঠিক। 

• 'গোটা’ বচনবাচক শব্দের আগে বসে এবং খানা, খানি পরে বসে।
এগুলো নির্দেশক ও অনির্দেশক দুই অর্থেই প্রযোজ্য।
‘গোটা’ শব্দ আগে বসে এবং সংশ্লিষ্ট পদটি নির্দিষ্টতা না বুঝিয়ে অনির্দিষ্টতা বোঝায়।
যেমন-
- গোটাসাতেক আম এনো।
- গোটা দেশই ছারখার হয়ে গেছে।
- গোটাদুই কমলালেবু আছে (অনির্দিষ্ট)।
- দুখানা কম্বল চেয়েছিলাম (নির্দিষ্ট)।
- একখানা বই কিনে নিও (অনির্দিষ্ট)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৩,৫৩৪.
‘এ কাগজে ভালো লেখা হবে না।’ - এই বাক্যে 'কাগজে' কোন কারক?  
  1. কর্ম কারক 
  2. কর্তা কারক 
  3. সম্বন্ধ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
কারক:
- কারক শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘যে ক্রিয়া সম্পন্ন করে’। 
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ, √কৃ + অক(ণক)।
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে। কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে। 

♣ করণ কারক: 
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়। 
- যেমন: 
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
• চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে। 
চেষ্টায় সব হয়। 
• এ কাগজে ভালো লেখা হবে না।
• দস্যুদল গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে।    

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৫৩৫.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) তিনি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন।
  2. খ) অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।
  3. গ) সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত।
  4. ঘ) তাহারা বাড়ি যাইবে।
ব্যাখ্যা

• প্রদত্ত অপশনগুলোতে 'সকল আলেমগণ আজ উপস্থিত' বাক্যটি বাহুল্য দোষে দুষ্ট।
• বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবে- 'সকল আলেম আজ উপস্থিত' বা 'আলেমগণ আজ উপস্থিত'।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৫৩৬.
অনুবাদ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
• অনুবাদ: 
- অনুবাদের অর্থ- ভাষান্তরকরণ। 
- অনুবাদ হলো কোনো বক্তব্য বা রচনাকে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায়  রূপান্তরিত করা। 
- রচনার বক্তব্য বিষয়ের পরিবর্তন না করে ভাষাগত পরিবর্তনই অনুবাদ বা তর্জমা বলে বিবেচিত। 
- অনুবাদে পারদর্শিতা মূলত অভ্যাসের ওপর নির্ভরশীল।

অনুবাদ কাজকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
- আক্ষরিক অনুবাদ,  
- ভাবানুবাদ।  
---------------------- 
• আক্ষরিক অনুবাদ:
মূল ভাষার প্রতিটি শব্দের প্রতিশব্দ ব্যবহার করে যে  অনুবাদ করা হয় তাকে আক্ষরিক অনুবাদ বলা হয়। যেমন:`Many men many mind'  এই বাক্যের অর্থ যদি এমন করা যায় ‘অনেক মানুষ অনেক মন’ তাহলে তাকে আক্ষরিক অনুবাদ বলা যেতে পারে।

• ভাবানুবাদ:
যে অনুবাদের মাধ্যমে মূল ভাষার স্থিত মূল ভাব অক্ষুন্ন রেখে নিজের ভাষার বিষয়বস্তু উপস্থাপিত হয়, এবং মূল ভাষায় ব্যবহৃত শব্দ, বাক্যগঠন ইত্যাদিকে উপেক্ষা করে অপর ভাষার মূলভাবকে তুলে ধরা হয় বা অনুবাদ করা হয় তাকে ভাবানুবাদ বলে। যেমন: ‘Many men many mind' এই বাক্যের অর্থ যদি এমন করা যায় ‘নানা মুনির নানা মত’ তাহলে তাকে ভাবানুবাদ বলা হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৩৭.
'মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নিত্য করে।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) জটিল বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) সরল বাক্য
  4. ঘ) সাধারণ বাক্য
ব্যাখ্যা

• পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
• যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে। যেমনঃ
- তার বয়স বেড়েছে কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি।
- তিনি সৎ কিন্তু কৃপণ।
- সত্য কথা বলিনি তাই বিপদে পড়েছি।
- তার বয়স হয়েছে কিন্তু বুদ্ধি হয়নি।
- মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নিত্য করে।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৫৩৮.
‘হৃদয়ের মাঝে মেঘ উদয় করি। নয়নের মাঝে ঝরিল বারি।’ এখানে কি ধরনের অলঙ্কার এর প্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) অসঙ্গতি
  2. খ) বিভাবনা
  3. গ) বিরোধাভাস
  4. ঘ) বিষম
ব্যাখ্যা
কার্য এবং কারণের ঘটনাস্থান যদি ভিন্ন হয় অর্থাৎ একস্থানে কারণ ঘটেছেএবং অপর স্থানে তার ফল দেখা যাচ্ছে, তখন তাকে অসঙ্গতি অলঙ্কার বলে।
যেমনঃ হৃদয়ের মাঝে মেঘ উদয় করি। নয়নের মাঝে ঝরিল বারি।
‘শ্রাবণের কালো মেঘ ছাইল গগনে / আঁখি জল বরষিল রাধিকা নয়নে।’
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৩৯.
উৎসবের দিনগুলোতে শহরের মানুষদের ______ আর উত্তেজনা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
  1. উচ্ছ্বাষ
  2. উচ্ছাস
  3. উচ্ছ্বাশ
  4. উচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা
• এখানে "উচ্ছ্বাস" শব্দটি সঠিক বানান এবং এর অর্থ হলো আনন্দ, উৎসাহ বা উদ্দীপনা, যা বাক্যের প্রেক্ষিতে পুরোপুরি মানানসই।

• তাই বাক্যটি হবে- 
উৎসবের দিনগুলোতে শহরের মানুষদের উচ্ছ্বাস আর উত্তেজনা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

অন্যদিকে:
উচ্ছ্বাষ, উচ্ছাস, উচ্ছ্বাশ – এগুলো বানানগত অশুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৫৪০.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. শুধুমাত্র গায়ের জোরে সব হয় না।
  2. নদীর জল হ্রাস হয়েছে।
  3. বমাল চোর ধরা পড়েছে।
  4. যার লাঠি, তার ঘাঁটি।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য: বমাল চোর ধরা পড়েছে।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: শুধুমাত্র গায়ের জোরে সব হয় না।
শুদ্ধ বাক্য: শুধু গায়ের জোরে সব হয় না।

অশুদ্ধ বাক্য: যার লাঠি, তার ঘাঁটি।
শুদ্ধ বাক্য: যার লাঠি, তার মাটি।

অশুদ্ধ বাক্য: নদীর জল হ্রাস হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: নদীর জল হ্রাস পেয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৫৪১.
তুমি পড়াশোনা করে অনেক বড়ো হও এই আমি চাই। - এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) মিশ্র
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য + সর্বনাম (এ/এই) + সরল বাক্য = জটিল বাক্য
- তুমি পড়াশোনা করে অনেক বড়ো হও এই আমি চাই। 
- বাংলাদেশ হেরে যাক এ আমি চাই না। 
- বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
৩,৫৪২.
'আসরে নামা' বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. বিপর্যস্ত অবস্থা
  2. আবির্ভূত হওয়া
  3. হতবুদ্ধি হওয়া
  4. সচেতন হওয়া
ব্যাখ্যা

• 'আসরে নামা' বাগ্‌ধারার অর্থ - আবির্ভূত হওয়া

অন্যদিকে,
আক্কেল গুড়ুম - হতবুদ্ধি হওয়া।
টনক নড়া - সচেতন হওয়া।
ঝড়ো কাক - বিপর্যস্ত অবস্থা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৫৪৩.
'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) জটিল
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) খণ্ড
ব্যাখ্যা
• দুটি বাক্যের মাঝে কমা হলে যৌগিক ও জটিল বাক্য হতে পারে। তবে জটিল বাক্যে দুটি বাক্য সাপেক্ষ অবস্থায় থাকবে, একটি আরেকটির ওপর নির্ভর করবে, বা কোনো শর্তের অধীন থাকবে। যেমন: 

- তিনি বাড়ি আছেন কি না, আমি জানি না। 
- ‘খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।’
- ‘ধনধান্যে পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা।

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ।
৩,৫৪৪.
'হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলুদ ফুল দেখছি।'
উপরের বাক্যটিতে কি ধরনের ভুল প্রয়োগ রয়েছে?
  1. ক) যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করা
  2. খ) প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল
  3. গ) উপমার ভুল প্রয়োগ
  4. ঘ) বাহুল্য দোষ
ব্যাখ্যা
সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
যেমন- 'হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলুদ ফুল দেখছি' -বাক্যটিতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
সঠিক বাক্যটি হবে - 'হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সর্ষে ফুল দেখছি'।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৫৪৫.
বিশেষণের অপপ্রোয়গ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকা।
  2. ইহার আবশ্যকতা নাই।
  3. বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
  4. অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
ব্যাখ্যা
- ’অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়’ বাক্যটিতে বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল।

• বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণকে বিশেষ্য ভেবে প্রয়োগ করায় এ ধরনের ভুল হয়।

• অশুদ্ধবাক্য : অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• শুদ্ধবাক্য : অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

এখানে,
- আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহার হয়। এর পরিবর্তে ঈয়- প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়।

অন্যদিকে,
- অপশনে প্রদত্ত অন্যান্য বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৫৪৬.
যদি-তবে, যেমন-তেমন, যত-তত ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যুক্ত অধীন বাক্যকে কী ধরনের বাক্য বলে?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) বিবৃতিবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য: যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন,
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৪৭.
বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়ার থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে কয় ভাগে বিভক্ত করা যায়?
  1. দুই 
  2. তিন 
  3. চার 
  4. পাঁচ 
ব্যাখ্যা

• ভবাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়:
১. সক্রিয় বাক্য।,
২. অক্রিয় বাক্য।

সক্রিয় বাক্য:
- যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে সেগুলােকে সক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন - আমার মা চাকরি করেন।

অক্রিয় বাক্য:
- যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলােকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন- তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
- তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়ােগে এগুলাে সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন- 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন’ বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩,৫৪৮.
শুদ্ধ বানান -
  1. বয়োকনিস্ট
  2. তদনুসারে
  3. পরিনাম
  4. ধুমপান
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান – তদনুসারে
- এটি একটি ক্রিয়া বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- সেই প্রকারে, তরূপে।

অন্যদিকে,
ধুমপান – ধূমপান। 
পরিনাম – পরিণাম। 
বয়োকনিস্ট – বয়ঃকনিষ্ঠ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৫৪৯.
‘সে ভাত খেয়েছে।’ বাক্যে ‘ভাত’ কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' দ্বিতীয় বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
শিক্ষককে জানাও।
অসহায়কে সাহায্য করো।

• সাধারণত পশুপাখি বা সচেতন পদার্থের ক্ষেত্রে কর্মে শূন্য বিভক্তি হয়:
- দুটো পাখি দেখছি।
- সে ভাত খেয়েছে।
দাঁত মাজো।

অন্যদিকে,
• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ে। 

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
৩,৫৫০.
‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. অপকৃষ্টতা
  2. দুর্বলতা
  3. দ্বৈততা
  4. কৃপণতা
ব্যাখ্যা
• ‘দ্বৈততা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: দ্বৈত।

• নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।
• অপকর্ষতা - অপকর্ষ, অপকৃষ্টতা।
• চাপল্যতা - চাপল্য, চপলতা।
• দ্বৈততা - দ্বৈত।
• দৌর্বল্যতা - দৌর্বল্য, দুর্বলতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৫৫১.
কারক ও বিভক্তি নির্ণয় কর: পাপে বিরত হও।
  1. ক) কর্মে ৭মী
  2. খ) করণে ৫মী
  3. গ) অপাদানে ৭মী
  4. ঘ) অধিকরণে ৫মী
ব্যাখ্যা
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমনঃ
- গাছ থেকে পাতা পড়ে,
- পাপে বিরত হও,
- সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু ইত্যাদি।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
৩,৫৫২.
প্রকাশ ভঙ্গির ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য কয় প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
বাচ্য:  
- বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে।
- প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার:  
১. কৰ্তাবাচ্য, 
২. কর্মবাচ্য ও 
৩. ভাববাচ্য। 

কর্তাবাচ্য:  
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন:  
- তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
- প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। 
- আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
- একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি। 

- অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে।
যেমন:
- ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে। 
- শরতে শিউলি ফোটে।  

কর্মবাচ্য: 
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন: 
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে। 
- চিঠিটা পড়া হয়েছে। 
- তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে। 
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।   
- আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।    

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:  
- আমার যাওয়া হল না। 
- কোথা থেকে আসা হলো।
- এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।   
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫৫৩.
বিষয়ের স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হয় কোন পত্রে?
  1. সামাজিক পত্রে
  2. ব্যক্তিগত পত্রে
  3. বাণিজ্যিক পত্রে
  4. অভিনন্দন পত্রে
ব্যাখ্যা
• বিষয়ের স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হয় - বাণিজ্যিক পত্রে

বাণিজ্যিক পত্র:
- বাবসায়-বাণিজ্যের জন্যে যেসব পত্র লেখা হয় তাদের ব্যবসায়-বাণিজ্য-সংক্রান্ত পত্র বলা হয়।
- বাণিজ্যিকপত্র লেনদেনকারীর মধ্যে চুক্তিপত্রের মতো কাজ করে বলে মানবজীবনে ব্যবসায়-বাণিজ্য-সংক্রান্ত পত্রের পুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
- বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ব্যাংক, বিমা ও অন্যান্য ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক লেন্দেনের জন্য এ ধরনের চিঠির আদান-প্রদান হয়ে থাকে।

• ব্যবসায়-বাণিজ্য সংক্রান্ত পত্র লেখার সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ রাখতে হবে:
১. বাণিজ্যিকপত্রে পত্রপ্রাপকের উদ্দেশে বিশেষ প্রয়োজনে চিঠি লেখা হয় বলে এধরনের চিঠির আকার হবে সংক্ষিপ্ত।
২. প্রয়োজনীয় কথা ছাড়া অতিরিক্ত কোনো কথা বলার সুযোগ এধরনের চিঠিতে নেই। তাই সর্বক্ষেত্রে বাহুল্য বর্জনীয়।
৩. বাণিজ্যিকপত্রে-পত্রের বিষয় বা কী কারণে চিঠি লেখা হয়েছে, পণ্য-সরবরাহের জন্যে হলে অবশ্যই চিঠিতে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে
৪. বাণিজ্যিক পত্র রচনার সময় ভাষা ব্যবহারের দিকে লক্ষ রাখতে হবে, সহজ-সরল ও প্রাঞ্জল ভাষা ব্যবহার করাই উত্তম। ভাষা হবে মার্জিত এবং আবেদন হবে বিনীত।
৫. বাণিজ্যিক পত্রে প্রতিষ্ঠানের মালিক-কর্মচারী, পণ্যদ্রব্যের গ্রাহক-অনুগ্রাহক ও ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে পত্রের বিনিময় হয়ে থাকে বলে চিঠির লেখায় স্পষ্টতা ও সৌজন্যবোধ থাকতে হবে, যাতে করে কোনো ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৫৫৪.
কোনটি শুদ্ধ নয়?
  1. যন্ত্রনা
  2. শূদ্র
  3. সহযােগিতা
  4. স্বতঃস্ফূর্ত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• অশুদ্ধ বানান: যন্ত্রনা।

• শুদ্ধ বানান: যন্ত্রণা (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- পীড়া;
- যাতনা।

অন্যদিকে,
• শূদ্র (বিশেষ্য পদ),
অর্থ: নিগৃহীত ও অবহেলিত জাতিবিশেষ।

• সহযােগিতা (বিশেষ্য পদ),
অর্থ: সহায়তা, সাহায্য।

• স্বতঃস্ফূর্ত (বিশেষণ পদ),
অর্থ: আপনা থেকে প্রকাশিত, স্বতঃপ্রণোদিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৫৫৫.
'শাক দিয়ে মাছ ঢেকো না।' - বাক্যে 'শাক দিয়ে' কোন কারক?
  1. কর্মে তৃতীয়া
  2. করণে তৃতীয়া
  3. অপাদানে তৃতীয়া
  4. অধিকরণে তৃতীয়া
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। 'করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- শাক দিয়ে মাছ ঢেকো না।
[বাক্যকে কী দিয়ে মাছ ঢেকো না? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'শাক দিয়ে'। সুতরাং 'শাক দিয়ে' করণে তৃতীয়া বিভক্তি।] 

- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োেগ রয়েছে-
• করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
• করণ কারকে 'দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
• করণ কারকে 'দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
• করণ কারকে এ-বিভক্তি- গ্যাসে গাড়ি চলে।
• করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৫৬.
শুদ্ধ বানান -
  1. প্রাঙ্গন
  2. নিষ্পৃহ
  3. গ্রীস্ম
  4. কিরীট
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধ বানান - 'কিরীট'।

• 'কিরীট':
- মুকুট, শিরোভূষণ।

অন্যদিকে, 
• প্রাঙ্গন - প্রাঙ্গণ (উঠান);
• নিষ্পৃহ - নিস্পৃহ (বাসনাহীন);
• গ্রীস্ম - গ্রীষ্ম (গরমকাল)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৫৫৭.
'যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৫৫৮.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. উপরিউক্ত 
  2. উপরান্ত 
  3. উপক্রান্ত 
  4. উপর্যুপরি
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বানান- উপরান্ত। 

শুদ্ধরূপ- উপরন্তু।
- শব্দটি অব্যয় পদ। 
- এটি একটি বাংলা শব্দ। 
অর্থ:
- এছাড়াও,অধিকন্তু।

অন্যদিকে, 
উপরিউক্ত, উপক্রান্ত ও উপর্যুপরি শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৩,৫৫৯.
শুদ্ধ বানানটি নির্দেশ করুন-
  1. মুহুর্মুহু
  2. মূহুর্মুহু
  3. মুর্হুমূর্হু
  4. মুর্হুর্মূহু
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: মুহুর্মুহু (অব্যয় পদ)।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় - মুহুঃ + মুহুঃ।
- অর্থ: বারবার, ঘনঘন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৫৬০.
শুদ্ধ বানান -
  1. শ্রদ্ধাঞ্জলী
  2. মনমোহন
  3. মনঃক্ষুণ্ণ
  4. সম্বলিত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - মনঃক্ষুণ্ণ
- এটি একটি বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- মানসিকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে এমন, বিষণ্ণ; হতাশ।

অন্যদিকে, 
সম্বলিত – সংবলিত, 
মনমোহন – মনোমোহন, 
শ্রদ্ধাঞ্জলী – শ্রদ্ধাঞ্জলি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৫৬১.
করণ কারকে এ-বিভক্তি এর উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) টাকায় টাকা হয়
  2. খ) গ্যাসে গাড়ি চলে
  3. গ) রফিক তাশ খেলে
  4. ঘ) তার কথা যেন মধুতে মাখা
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
 যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে - 
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৬২.
নিচের কোনটি কর্তৃবাচ্যের উদাহরণ?
  1. জহির পুস্তক পাঠ করছে।
  2. বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
  3. বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্টি হয়েছে।
  4. চোরটা ধরা পড়েছে।
ব্যাখ্যা
• 'জহির পুস্তক পাঠ করছে।'- কর্তৃবাচ্যের উদাহরণ। 

• প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার: 
১. কর্তাবাচ্য, 
২. কর্মবাচ্য ও 
৩. ভাববাচ্য।

১. কর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।

- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয় ।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যথা:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

২. কর্মবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।

- কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়।
যথা:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
- চোরটা ধরা পড়েছে।
- বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্টি হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫৬৩.
কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) স্বরস্বতী
  2. খ) সুষ্ঠু
  3. গ) সূচিপত্র
  4. ঘ) স্টেশন
ব্যাখ্যা

- স্বরস্বরতী শব্দটি শুদ্ধ বানানে লেখা নয়।
- সেক্ষেত্রে শুদ্ধরূপ হবে, সরস্বতী।
- সুষ্ঠু , সূচিপত্র, স্টেশন শুদ্ধ বানানে লেখা।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।

৩,৫৬৪.
'বিপদে মোরে রক্ষা করো।'- এখানে 'বিপদে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- পাপে বিরত হও।
- বিপদ থেকে বাঁচাও।
- তিলে তেল হয়।
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- জমি থেকে ফসল পাই। 
 
অপাদান কারক নির্ণয়ের জন্যে ক্রিয়াপদ ধরে 'কোথা থেকে', 'কী থেকে' 'কীসের থেকে' এসব প্রশ্ন করতে হয় এবং তার উত্তরে অপাদান কারক জানতে পারা যায়।
যেমন:
- বিপদে মোরে রক্ষা করো।
[কোথা থেকে? বিপদে (বিপদ থেকে), তাই 'বিপদে' অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৫৬৫.
দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবগত বা অর্থগত সম্পর্ক প্রকাশ করতে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয়? 
  1. সেমিকোলন
  2. হাইফেন
  3. কোলন
  4. কোলন ড্যাস
ব্যাখ্যা

• সেমিকোলন (;):
- একাধিক বাক্যের মধ্যে নিকট সম্পর্ক থাকলে তাদের মাঝে যোগসূত্র রক্ষার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।

১. দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
- কথাটা বলা সহজ; করা কঠিন।

২. একাধিক বাক্য সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত না হলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- আগে স্কুলের পড়া; পরে গল্পের বই।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৩,৫৬৬.
"ছোট কিন্তু রসে ভরা।" - কোন ধরনের বাক্য? 
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা

• "ছোট কিন্তু রসে ভরা।" - যৌগিক বাক্য।

• যৌগিক বাক্য:

দুই বা ততােধিক স্বাধীন বাক্য যখন যােজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যােজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 
কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (;), ড্যাশ (5) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যােজকের কাজ করে।

যেমন -
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- ছোট কিন্তু রসে ভরা।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছলো, তারপর পড়তে বসল।
- অন্ধকার হয়ে এসেছে- বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি - এতে দোষের কিছু নেই।
- সত্য কথা বলনি, তাই বিপদে পড়েছ। 
- সে দরিদ্র, কিন্তু তার মন ছোটো নয়। 
- তিনি ধনী ছিলেন,কিন্তু সুখী ছিলেন না।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১), ভাষা- শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ]

৩,৫৬৭.
'তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা হচ্ছে না, আর তাই তাঁদের দুরবস্থা ঘুচছে না।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. প্রযোজক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. সাধিত বাক্য
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

[এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।]

যেমন:
- তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা হচ্ছে না, আর তাই তাঁদের দুরবস্থা ঘুচছে না।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল।
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,৫৬৮.
'সেমিকোলন’ এর বাংলা অর্থ কী?
  1. পাদচ্ছেদ
  2. দৃষ্টান্তচ্ছেদ
  3. অর্ধচ্ছেদ
  4. পূর্ণচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
• 'সেমিকোলন’- এর বাংলা অর্থ - অর্ধচ্ছেদ।

• 'সেমিকোলন’:
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাযে অথবা একই ধরণের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ( ; ) ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।

• সেমিকোলন চিহ্নের ব্যবহার:
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি স্বাধীন বাক্যে লিখতে সেগুলোর মাঝে সেমিকোলন বসে।
- কমা’র বারংবার ব্যবহারের পর কিন্তু দাঁড়ির আগে সেমিকোলন বসে।
- কমা অপেক্ষা অধিক বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
- কোনো তালিকায় বিদ্যমান একাধিক ব্যক্তির নাম ও পদের তালিকা অনুধাবনের সুবিধার্থে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
যেমন- গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ; সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন; সাধারণ সম্পাদক, হামেদ আলি প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৫৬৯.
‘মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।’- বাক্যেটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কর্মবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।

১. কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়।
যথা:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

এরূপ-
- মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

২. কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে।
যথা:
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫৭০.
'আকাশের ঐ তারার সনে কইব কথা নাই বা তুমি এলে' - বাক্যে 'তারার' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৬ষ্ঠী
  2. সম্প্রদানে ৬ষ্ঠী
  3. অপাদানে ৪র্থী
  4. কর্মে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
যেমন:
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
- ঐ দেখা যায় তালগাছ, ঐ আমাদের গাঁ।
- আকাশের ঐ তারার সনে কইব কথা নাই বা তুমি এলে। (কর্মে ৬ষ্ঠী)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৭১.
"সে লোকটিকে খুন করেছিল এবং তার মাথা ঠাণ্ডা ছিল।" - বাক্যটির সরল রূপ কোনটি?
  1. সে যে লোকটিকে খুন করেছিলো তার মাথা ঠাণ্ডা ছিলো।
  2. সে ঠাণ্ডা মাথায় লোকটিকে খুন করেছিল।
  3. সে ঠাণ্ডা মাথার কারণে লোকটিকে খুন করেছিল।
  4. সে লোকটিকে খুন করেছিল কিন্তু তার মাথা ঠাণ্ডা ছিল।
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।

যেমন:
যৌগিক বাক্য: সে লোকটিকে খুন করেছিল এবং তার মাথা ঠাণ্ডা ছিল।
সরল বাক্য: সে ঠাণ্ডা মাথায় লোকটিকে খুন করেছিল।

যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৫৭২.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) আক্কৃষ্ঠ
  2. খ) একৃশস্ত
  3. গ) আক্কৃষ্ট
  4. ঘ) আকৃষ্ট
ব্যাখ্যা

আকৃষ্ট [আকৃশ্‌টো] (বিশেষণ)
অর্থঃ ১ আকর্ষণ করা হয়েছে এমন।
২ প্রলুব্ধ।
৩ মুগ্ধ।
আকৃষ্টি (বিশেষ্য)।

{(তৎসম বা সংস্কৃত) আ+√কৃষ্ + ত(ক্ত)}

৩,৫৭৩.
'গৃহহীন চিরদিন থাকে পরাধীন।' এই বাক্যে 'গৃহহীন' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে শূণ্য
  2. কর্মকারকে শূণ্য
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অধিকরণে শূণ্য
ব্যাখ্যা
• 'গৃহহীন চিরদিন থাকে পরাধীন।' এই বাক্যে 'গৃহহীন' কর্তৃকারকে শূণ্য বিভক্তি।

• কর্তৃকারক:

- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
- যেমন – খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা কর্তৃকারক)। মেয়েরা ফুল তোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৫৭৪.
যথার্থ শব্দ প্রয়োগ হয়নি কোন বাক্যে?
  1. ক) তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন
  2. খ) আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত
  3. গ) পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
যথার্থ শব্দ প্রয়োগ হয়নি - ‘আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত’ বাক্যে।

“আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত” - বাক্যের যথার্থ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - “আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত”
 
অন্যদিকে, 
- “তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন” বাক্যটির অশুদ্ধ বাক্য ⇒ “তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন”।

- “পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান” বাক্যটির অশুদ্ধ বাক্য ⇒ “পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে  ঘূর্ণায়মান”।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৫৭৫.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. অপরাহ্ণ লিখতে অনেকেই ভুল করে।
  2. ষড়ঋতুর সমাহারের দেশ বাংলাদেশ।
  3. প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বীতা থাকবেই।
  4. আমি সাক্ষী দিব না।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ: অপরাহ্ণ লিখতে অনেকেই ভুল করে।

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• অশুদ্ধ: ষড়ঋতুর সমাহারের দেশ বাংলাদেশ।
• শুদ্ধ: ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ।

• অশুদ্ধ: প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বীতা থাকবেই।
• শুদ্ধ: প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই।

• অশুদ্ধ আমি সাক্ষী দিব না।
• শুদ্ধ: আমি সাক্ষ্য দিব না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৫৭৬.
অভ্যন্তর যতিচিহ্ন নয় কোনটি?
  1. প্রশ্নচিহ্ন
  2. ড্যাশ
  3. সেমিকোলন
  4. কমা
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝাবার জন্য বাক্যের মধ্যে বা বাক্যের শেষে কিংবা বাক্যের আবেগ (আনন্দ, বেদনা, দুঃখ), জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশের উদ্দেশে বাক্যগঠনে যেভাবে বিরতি দিতে হয়। লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখানোর জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, সেগুলোই বিরামচিহ্ন বা যতিচিহ্ন বা ছেদচিহ্ন।

বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হলো:
• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)। 

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;),
৭. হাইফেন (-),
৮. ড্যাশ (_),
৯. কোলন (:), 
১০. কোলন-ড্যাশ (:-), 
১১. বিন্দু (.)। 

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('), 
১৩. ত্রিবিন্দু (...), 
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/"..."), 
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})), 
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)।
৩,৫৭৭.
নিচের কোন শব্দে ‘ষ’ এর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) কল্যাণীয়াষু
  2. খ) সুচরিতাষু
  3. গ) কল্যাণীয়েষু
  4. ঘ) সুপ্রিয়াষু
ব্যাখ্যা
সম্ভাষণসূচক শব্দে এ-কারের পর মূর্ধন্য-ষ হয়। যেমনঃ কল্যাণীয়েষু, শ্রদ্ধাস্পদেষু, স্নেহাস্পদেষু, বন্ধুবরেষু ইত্যাদি।
সম্ভাষণসূচক শব্দে আ কারের পর স হয়। যেমনঃ কল্যাণীয়াসু, মাননীয়াসু, সুচরিতাসু, সুপ্রিয়াসু।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩,৫৭৮.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) সঙ্গিনী
  2. খ) মন্ত্রীপরিষদ 
  3. গ) গীতাঞ্জলী
  4. ঘ) প্রশ্নাতিত
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান = সঙ্গিনী 

অন্যান্য শব্দের শুদ্ধ বানান সমূহ- 
মন্ত্রিপরিষদ  (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মন্ত্রি+পরিষদ
অর্থ: মন্ত্রীসভা 

গীতাঞ্জলি  (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = গীতা+অঞ্জলি
অর্থ: সংগীতাঞ্জলী, রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ। 

প্রশ্নাতীত (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রশ্ন+অতীত 
অর্থ: সন্দেহ বা প্রশ্নের অবকাশ নেই এমন। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,৫৭৯.
'ত্যাগে তিনি নিরহঙ্কার।' - বাক্যে ‘ত্যাগে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার। (অধিকরণে সপ্তমী)।

অন্যদিকে:
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম),
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা),
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৮০.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. শুভঙ্কর
  2. কঙ্কাল
  3. লঙ্ঘন
  4. শৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: শুভঙ্কর।
• শুদ্ধরূপ: শুভংকর।

• বানানের নিয়ম:
- সন্ধির ক্ষেত্রে ক, খ, গ, ঘ পরে থাকলে পূর্ব পদের অন্তস্থিত ম্ স্থানে অনুস্বার (ং) হবে।
যেমন:
- অহম্ + কার = অহংকার।

• এরূপ- ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন।

- সন্ধিবদ্ধ না হলে ‘ঙ’ স্থানে ‘ং’ হবে না।
যেমন:
অঙ্ক, অঙ্গ, আকাঙ্ক্ষা, আতঙ্ক, কঙ্কাল, গঙ্গা, বঙ্কিম, বঙ্গ, লঙ্ঘন, শঙ্কা, শৃঙ্খলা, সঙ্গে, সঙ্গী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৫৮১.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. প্রচণ্ড
  2. রাণী
  3. গুনতী
  4. ঠাণ্ডা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - প্রচণ্ড

মূর্ধন্য-ণ ও দন্ত্য-ন এর ব্যবহার:
- অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।
যেমন:
- ইরান, কান, কোরান, গভর্নর, গুনতি, গোনা, ঝরনা, ধরন, পরান, রানি, সোনা, হর্ন।

- তৎসম শব্দে ট, ঠ, ড, ঢ-য়ের পূর্বে যুক্ত নাসিক্যবর্ণ ণ হয়।
যেমন:
কণ্টক, প্রচণ্ড, লুণ্ঠন।

- কিন্তু অতৎসম শব্দের ক্ষেত্রে ট ঠ ড ঢ-য়ের আগে কেবল ন হবে।
যেমন:
গুন্ডা, ঝান্ডা, ঠান্ডা, ডান্ডা, লন্ঠন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৫৮২.
অশুদ্ধ বানানে লেখা হয়েছে কোনটি?
  1. স্বৈরসাশক
  2. অপেক্ষমাণ
  3. ইতঃপূর্বে
  4. শুভংকর
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: স্বৈরসাশক।

• স্বৈরশাসক (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: একনায়ক।

অন্যদিকে,
অপেক্ষমাণ, ইতঃপূর্বে ও শুভংকর শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৫৮৩.
'আয়ু যেন পদ্ম পাতায় নীর' বাক্যে 'পদ্ম পাতায়' কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

• ‘আয়ু যেন পদ্ম পাতায় নীর’ এই বাক্যে ‘পদ্ম পাতায়’ হচ্ছে অধিকরণ কারক। 
এখানে 'পদ্ম পাতায়' দ্বারা আধার অর্থ প্রকাশ পেয়েছে তাই এটি অধিকরণ কারক।

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ' 'য়' 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। যথা-
আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। এ বাড়িতে কেউ নেই।
কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
অধিকরণ তিন প্রকার
১. কালাধিকরণ।
২. আধারাধিকরণ।
৩. ভাবাধিকরণ।

• ভাবাধিকরণ:
যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে। ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।
যেমন:
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
- কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত:
১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।
• ঐকদেশিক:
বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন –
- পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
- বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
- আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)
- সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়। যেমন-
ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)। 'দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে (দুয়ারের কাছে), রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।

• অভিব্যাপক:
উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক বলে।
যেমন:
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে।)

• বৈষয়িক :
বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন:
রাকিব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩,৫৮৪.
শুদ্ধরূপে লেখা বানান কোনটি?
  1. শুশ্রুসা
  2. শুশ্রুষা
  3. শুশ্রষা
  4. শুশ্রূষা
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানানটি হলো: শুশ্রূষা(বিশেষ্য)
শুশ্রূষা এর অর্থ - পরিচর্যা বা সেবা।

[উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি]
৩,৫৮৫.
'চৌহদ্দি'
  1. ক) চালাক
  2. খ) সীমানা
  3. গ) শকট
  4. ঘ) চৌকো
ব্যাখ্যা
• চৌহদ্দি (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [চৌ+ফা. হদ্দি]
অর্থ: চারদিকের সীমানা, চতুঃসীমা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৫৮৬.
'মিছিলে অনেক লোকেরা উপস্থিত ছিলেন।' বাক্যটিতে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বিশেষ্যের অপপ্রয়োগ
  2. উপমার অপপ্রয়োগ
  3. বানানের অপপ্রয়োগ
  4. বহুবচনের অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা

'মিছিলে অনেক লোকেরা উপস্থিত ছিলেন।' বাক্যটিতে বহুবচনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে। 

 
• নিয়ম:
• বহুবচনের অপ্রপ্রয়োগজনিত ভুল:
- বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়।
- বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুবচন অপ্রয়োজনীয়।
- তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুবচক পদ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
- যেমন:
- অশুদ্ধ: মিছিলে অনেক লোকেরা উপস্থিত ছিলেন।
- শুদ্ধ: মিছিলে অনেক লোক উপস্থিত ছিলেন।
---------------
বহুবচনের অপ্রপ্রয়োগজনিত কিছু অশুদ্ধি:

- অশুদ্ধ: সকল ছাত্ররা ক্লাসে উপস্থিত।
শুদ্ধ: সকল ছাত্র ক্লাসে উপস্থিত / ছাত্ররা ক্লাসে উপস্থিত।

- অশুদ্ধ: সকল সভ্যগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
শুদ্ধ: সকল সভ্য সভায় উপস্থিত ছিলেন।

- অশুদ্ধ: শিক্ষক সকল সমস্যাগুলোর সমাধান করলেন।
শুদ্ধ: শিক্ষক সকল সমস্যার সমাধান করলেন।

- অশুদ্ধ: একে একে সব দর্শকেরা উপস্থিত হলো।
শুদ্ধ: একে একে সব দর্শক উপস্থিত হলো।

- অশুদ্ধ: রাতের আকাশে অসংখ্য তারকাবৃন্দের সমাহার।
শুদ্ধ: রাতের আকাশে অসংখ্য তারকার সমাহার।

- অশুদ্ধ: সকল সমস্যা সমূহের সমাধান হয়েছে।
শুদ্ধ: সকল সমস্যার সমাধান হয়েছে / সমস্যা সমূহের সমাধান হয়েছে।

- অশুদ্ধ: প্রধান শিক্ষক সকল বিষয়সমূহের আলোচনা করবেন।
শুদ্ধ: প্রধান শিক্ষক সকল বিষয়ের আলোচনা করবেন।

- অশুদ্ধ: অনুষ্ঠানে অনেক দর্শকেরা সমাগত হয়েছিল।
শুদ্ধ: অনুষ্ঠানে অনেক দর্শক সমাগত হয়েছিল।

- অশুদ্ধ: সকল শিক্ষার্থীগণ শিক্ষা সফরে গিয়েছিল।
শুদ্ধ: সকল শিক্ষার্থী শিক্ষা সফরে গিয়েছিল।

উৎস:
বাংলা ভাষা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৩,৫৮৭.
অনুবাদের পারদর্শিতা কীসের ওপর নির্ভরশীল?
  1. ক) পড়াশোনার ওপর
  2. খ) ভাষান্তরের ওপর
  3. গ) নির্ধারণের ওপর
  4. ঘ) অভ্যাসের ওপর
ব্যাখ্যা
অনুবাদে পারদর্শিতা মূলত অভ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। 

অনুবাদ: 
- অনুবাদের অর্থ- ভাষান্তরকরণ। 
- অনুবাদ হলো কোনো বক্তব্য বা রচনাকে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায়  রূপান্তরিত করা। 
- রচনার বক্তব্য বিষয়ের পরিবর্তন না করে ভাষাগত পরিবর্তনই অনুবাদ বা তর্জমা বলে বিবেচিত। 
- অনুবাদে পারদর্শিতা মূলত অভ্যাসের ওপর নির্ভরশীল।

অনুবাদ কাজকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
- আক্ষরিক অনুবাদ 
- ভাবানুবাদ 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৫৮৮.
বাংলা একাডেমীর প্রমিত বানানবিধি অনুসারে শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) উনত্রিশ
  2. খ) ঊনচল্লিশ
  3. গ) উনবিংশ
  4. ঘ) ঊনিশ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমীর প্রমিত বানানবিধি অনুসারে শুদ্ধ বানান - উনত্রিশ।
উনত্রিশ  = ২৯ সংখ্যা, ২৯ সংখ্যক।

অন্যান্য শব্দগুলোর শুদ্ধরূপ:
- উনচল্লিশ
- উনিশ
- ঊনবিংশ (শুধু ১৯ লেখার ক্ষেত্রে উনিশ)

উৎসঃ আধুনিক বাংলা একাডেমি অভিধান।
৩,৫৮৯.
কোনটি অশুদ্ধ বানানে লেখা?
  1. ঘ্রাণ
  2. গণ্যমান্য
  3. চাতুর্যতা
  4. চিত্রাঙ্কন
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ- চাতুর্যতা। 

• চাতুর্য (বিশেষ্য পদ),
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: 
- চতুরতা। 
- নৈপুণ্য; দক্ষতা; কুশলতা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৩,৫৯০.
'প্রধান শিক্ষক কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়েছে' - কর্মবাচ্যের বাক্যটির কর্তাবাচ্যের রূপ কোনটি?
  1. ক) প্রধান শিক্ষক কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল।
  2. খ) প্রধান শিক্ষক থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
  3. গ) প্রধান শিক্ষক দ্বারা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
  4. ঘ) প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত প্রশ্নের কর্মবাচ্যের বাক্যটির কর্তাবাচ্যের রূপ হচ্ছে প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন

• কর্মবাচ্য থেকে কর্তাবাচ্য:
- কর্মবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে কর্তার সঙ্গে যুক্ত দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক প্রভৃতি অনুসর্গ বাদ দিতে হয় এবং ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়। যেমন:
কর্মবাচ্য: প্রধান শিক্ষক কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়েছে।
কর্তাবাচ্য: প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।

কর্মবাচ্য: আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
কর্তাবাচ্য: আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৯১.
নিম্নের কোনটি অশুদ্ধ শব্দ?
  1. ক) প্রত্যাহিক
  2. খ) প্রাতঃকৃত্য
  3. গ) প্রাতরাশ
  4. ঘ) প্রাতর্ভ্রমণ
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ- 

প্রাত্যহিক (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রাত্যহ+ইক
অর্থ: 
- প্রতিদিনের।
- প্রত্যহ সংঘটিত হয় এমন; প্রত্যহ পালনীয় 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,৫৯২.
নিচের কোন বাক্যে বিশেষ্য পদের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে?
  1. ক) ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
  2. খ) সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  3. গ) শুধুমাত্র এই কটা টাকা দিলে?
  4. ঘ) যুক্তি খন্ডিত হয়েছে, মুক্তি মেলে নি।
ব্যাখ্যা

বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ বা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়।
যেমনঃ সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
শুদ্ধ রূপঃ সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।

- অপশন ক) তে বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে।
এর সঠিক রূপঃক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।
- অপশন গ) তে হুল্যজনিত অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি রয়েছে।
এর শুদ্ধরূপ হবেঃ শুধু এই কটা টাকা দিলে?
- অপশন ঘ) তে বাচ্যজনিত অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি রয়েছে।
এর শুদ্ধরূপ হবেঃ যুক্তি খন্ডন হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৫৯৩.
নিম্নের কোন শব্দজোড়ের উভয়টিই শুদ্ধ?
  1. ক) দূর্বা, দূর্বল
  2. খ) বহুদূর, দুতাবাস,
  3. গ) দুর্বিষহ, দূষনীয়
  4. ঘ) দূরবীক্ষন, দুরবিন
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান সমূহ- 
- বহুদূর, দূরবীক্ষন, দূতাবাস, দূরদর্শিতা, দূর্বা, দূষণীয় 
- দুর্নাম, দুর্বিষহ, দুর্বল, দুর্জয়, দুরবিন।

[দূরত্ব সম্পর্কিত কিছু বোঝাতে 'দূর-'] ব্যতিক্রম - দূরীকরণ, দূর্বা, দূন, দূষক, দূষিত, দূষণীয়, 
[দুরত্ব সম্পর্কিত কিছু না বোঝাতে 'দুর-'] ব্যতিক্রম - দুরবিন।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,৫৯৪.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. শশিভূষন
  2. কুজ্ঝটীকা
  3. ইন্দ্রীয়
  4. দৌরাত্ম্য
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান-  দৌরাত্ম্য।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ- 
-  দুরাত্মার কাজ, উৎপীড়ন, পাপাচার।

অন্যদিকে,
- ’শশিভূষন’ শব্দের শুদ্ধরূপ- শশিভূষণ।
- ’কুজ্ঝটীকা’ শব্দের শুদ্ধরূপ- কুজ্ঝটিকা।
- ’ইন্দ্রীয়’ শব্দের শুদ্ধরূপ- ইন্দ্রিয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৫৯৫.
সাক্ষরতা সম্পর্কিত কোন বক্তব্যটি সঠিক?
  1. ক) সাক্ষরতা আর শিক্ষা একই
  2. খ) ব্যক্তির পড়তে পারার দক্ষতা
  3. গ) পড়ে বোঝা, লিখে প্রকাশ করা
  4. ঘ) শুনে বুঝতে পারা
ব্যাখ্যা
৯৭৪ সালের আদমশুমারিতে সাক্ষরতার সংজ্ঞা ছিল, যেকোন ভাষায় যুগপৎ পড়তে ও লিখতে পারার ক্ষমতা। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৯৬.
সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. নির্দোষ
  2. অহর্নিশি
  3. অর্ধরাত্র
  4. নিরহঙ্কার
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে ‘অহর্নিশি’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: অহর্নিশ।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়।
যেমন- নেই ধন যার = নির্ধন; নেই গুণ যার = নির্গুণ; নেই পাপ যার = নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৫৯৭.
অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) তিলে তৈল আছে
  2. খ) ছাদে পানি আছে
  3. গ) কপালের লিখন যায় না খণ্ডন
  4. ঘ) বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

অধিকরণ কারকের উদাহরণ - 
- তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি 
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি 
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে  - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি 
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি 
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি 
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৯৮.
কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া কী হলে কর্মবাচ্য হয় না?
  1. সমাপিকা
  2. অসমাপিকা
  3. অকর্মক
  4. সকর্মক
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে রূপান্তরের নিয়ম:
- কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে- কর্তায় তৃতীয়া, কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।

উল্লেখ্য, 
কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে সেই বাক্যের কর্মবাচ্য হয় না।

উদাহরণ:
• কর্তৃবাচ্য: বিদ্বানকে সকলেই আদর করে। 
• কর্মবাচ্য: বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।

• কর্তৃবাচ্য: খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
• কর্মবাচ্য: বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।

• কর্তৃবাচ্য: মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।
• কর্মবাচ্য: মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

[লক্ষণীয়: কর্তৃবাচ্যে ব্যবহৃত তৎসম মিশ্রক্রিয়াটি কর্মবাচ্যে যৌগিক ক্রিয়াজাত ক্রিয়াবিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫৯৯.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. আকাংখা
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. আকাঙ্খা
  4. আকাংক্ষা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - আকাঙ্ক্ষা। 

• আকাঙ্ক্ষা (বিশেষ্য পদ),
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = আ+√কাঙ্ক্ষ্‌+অ+আ। 
অর্থ: ইচ্ছা, বাসনা, অভিলাষ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৬০০.
He lives from hand to mouth.
  1. সে হাত দিয়ে খায়
  2. সে হাত দিয়ে খাইয়ে দিল
  3. সে সব সময় আহার করে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'He lives from hand to mouth.' এর বাংলা অনুবাদ - সে দিন আনে দিন খায়
অপশনে 'সে দিন আনে দিন খায়' না থাকায় কোনটিই নয় উত্তর হবে।