ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্যঃ
- তাহার অধ্যবসায় সত্যিই প্রশংসনীয়।
- কায়কোবাদ 'মহাশ্মশান' লেখেন।
- আমি এই ঘটনা চাক্ষুষ দেখিয়াছি৷
- তাহাদের মধ্যে বেশ সখ্য দেখিতে পাই।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৩৫ / ৬৯ · ৩,৪০১–৩,৫০০ / ৬,৯৫৩
শুদ্ধ বাক্যঃ
- তাহার অধ্যবসায় সত্যিই প্রশংসনীয়।
- কায়কোবাদ 'মহাশ্মশান' লেখেন।
- আমি এই ঘটনা চাক্ষুষ দেখিয়াছি৷
- তাহাদের মধ্যে বেশ সখ্য দেখিতে পাই।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরোক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।
উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রূপ:
আগামীকাল - পরদিন,
এই - সেই,
ইহা - তাহা,
গতকাল - আগেরদিন,
আজ - সেদিন,
গতকল্য - পূর্বদিন,
এখানে - সেখানে,
ওখানে - ঐখানে,
এখন - তখন,
এ- সে।
উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯ সংস্করণ)।
স্বত্ব, সত্ত্ব, সত্তা:
স্বত্ব: 'স্ব' মানে নিজে। শব্দটি বিশেষণ, এর সঙ্গে ত্ব যোগ করে একে বিশেষ্য পদে রূপান্তরিত করা হয়েছেমানে দাঁড়াল নিজত্ব, অর্থাৎ নিজের অধিকার যেখানে আছে; এক কথায় এর অর্থ 'মালিকানা'। যেমন- মনুজান নিজের সমস্ত বিষয়সম্পত্তি স্বত্ব ত্যাগ করে তাঁর ভাই হাজি মুহম্মদ মহসীনকে দিয়ে দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে,
সত্ত্ব: (< সৎ+ ত্ব)। ৎ আর ত সন্ধির ফলে ত্ত হয়েছে, সেইসঙ্গে ব-ফলা তার নিজের জায়গাতেই আছে।
এ কাজ করলে কেন।
ক. 'সৎ' শব্দের এক অর্থ হচ্ছে 'বিদ্যমান'। 'সত্ত্ব' শব্দের অর্থ এর ফলে- অস্তিত্ব বা বিদ্যমানতা। যে-মেয়ে মা হতে যাচ্ছে তাকে আমরা বলি, 'মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা', অর্থাৎ মেয়েটির 'অন্তঃ'তে (অভ্যন্তরে, ভেতরে) আরেকটি প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। 'সত্ত্বেও' কথাটা এখান থেকেই এসেছে; যেমন- নিষেধ সত্ত্বেও (অর্থাৎ নিষেধ বিদ্যমান থাকতেও)
খ. 'সত্ত্ব' শব্দের দ্বিতীয় অর্থ- প্রকৃতির তিনটি গুণের (সত্ত্ব রজঃ তমঃ) মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ। মানুষের মনের যে-সব শ্রেষ্ঠ অনুভূতি আছে, যেমন দয়া প্রেম ন্যায়নিষ্ঠা মনুষ্যত্ববোধ বিবেক ইত্যাদি সব সম্মিলিত করলে যা দাঁড়ায় তা-ই সত্ত্বগুণ। যাঁর এইগুণ আছে তাঁকে বলি 'সাত্ত্বিক' লোক। 'সাত্ত্বিক' বিশেষণ পদে তা যোগ করে (সাত্ত্বিক+তা=) 'সাত্ত্বিকতা' বিশেষ্য পদ তৈরি করা যায়।
গ. 'সত্ত্ব' শব্দের তৃতীয় অর্থ- রস, ফলের রস। 'আমসত্ত্ব' তো আসলেই আমের রস, তবে জ্বাল দিয়ে-দিয়ে ঘন করে তারপরে শুকিয়ে নেওয়া। ['সত্ত্ব' শব্দের মতো আরেকটি শব্দ তৈরি হয়েছে। তৎ+ ত্ব = তত্ত্ব। অর্থাৎ তার স্বরূপ বা প্রকৃতি। তত্ত্ব, তাত্ত্বিক, তত্ত্বীয়-এগুলো পরস্পরসম্পৃক্ত শব্দ।
সত্তা: (সৎ + তা)। 'সৎ' শব্দের এক অর্থ যে 'বিদ্যমান' তা আগেই বলেছি; 'তা' হলো বিশেষ্যে রূপান্তরিত হওয়ার চিহ্ন। মানে দাঁড়াল বিদ্যমানতা, অস্তিত্ব। যেমন- সত্তা হারিয়ে ফেলা। এই 'সত্তা' আর আগের ডালতা অর্থের দিক থেকে একই, তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে তফাত আছে। এই সত্তা থেকেই সততা শব্দের উৎপত্তি। সততা ব্যাকরণসিদ্ধ শব্দ নয়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অদ্যাবধি - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
অন্যদিকে,
নিম্নরূপ শব্দগুলোতে সন্ধিজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে:
শুদ্ধ: বিপদুদ্ধার।
অশুদ্ধ: বিপদোদ্ধার।
শুদ্ধ: দুরবস্থা।
অশুদ্ধ: দুরাবস্থা।
শুদ্ধ: বাগীশ্বরী।
অশুদ্ধ: বাগেশ্বরী।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
• উপরিউক্ত সবগুলো বাক্যই অশুদ্ধ।
অশুদ্ধ বাক্য: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ বাক্য: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।
অশুদ্ধ বাক্য: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
শুদ্ধ বাক্য: এটা কাঁচা হাতের লেখা।
অশুদ্ধ বাক্য: সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
শুদ্ধ বাক্য: সকল আলেম সভায় উপস্থিত ছিলেন।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞা বাক্য বলে। একে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাহক, অনুজ্ঞাসূচক বাক্যও বলা হয়। যেমনঃ
উপদেশ-
- সদা সত্য কথা বলবে।
- দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করবে।
আদেশ-
- কাছে এসো।
- চুপটি করে বসো।
- উঠে দাঁড়াও।
অনুরোধ-
- দয়া করে আমাকে কাজটা করে দেবেন/দিন।
- কাজটি করে দাও না ভাই।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাক্যের অত্যাশব্যকীয় গুণ তিনটি।
এগুলো হলো: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি এবং যোগ্যতা।
- এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছা হলো আকাঙ্ক্ষা।
- বাক্যে ব্যবহৃত পদসমূহের সুশৃঙ্খল পদবিন্যাস হলো আসত্তি।
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম হলো যোগ্যতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
বাক্যের অত্যাশব্যকীয় গুণ তিনটি।
এগুলো হলো: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি এবং যোগ্যতা।
- এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছা হলো আকাঙ্ক্ষা।
- বাক্যে ব্যবহৃত পদসমূহের সুশৃঙ্খল পদবিন্যাস হলো আসত্তি।
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম হলো যোগ্যতা।
- “বর্ষার রৌদ্র প্লানবনের সৃষ্টি করে” বাক্যটি তার ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারিয়েছে। কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
• কবিতা মুকুল কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ।
• কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত কবিতা আদর্শ ছেলে।
• তাঁর রচিত এই কবিতা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করায় সর্বাধিক পরিচিত।
কবিঃ কুসুমকুমারী দাশ
কবিতাঃ আদর্শ ছেলে
আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন
'মানুষ হইতে হবে'- এই তার পণ।
বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান
নাই কি শরীরে তব রক্ত, মাংস, প্রাণ?
হাত পা সবারই আছে, মিছে কেন ভয়?
চেতনা রয়েছে যার, সে কি পড়ে রয়?
সে ছেলে কে চাই বল, কথায় কথায়
আসে যার চোখে জল, মাথা ঘুরে যায়?
মনে প্রাণে খাট সবে, শক্তি কর দান,
তোমরা 'মানুষ' হলে দেশের কল্যাণ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
• সরল বাক্য:
বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- গণ্ডির বাইরে গেলেই বিষম বিপদ।
- শোনামাত্র তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তোমরা বাড়ি যাও।
- সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
এখানে "সত্যের পূজারি বলে" অংশটি কারণসূচক অব্যয়ী বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। কোনো কর্তা–ক্রিয়া-সম্পন্ন অধীন উপবাক্য নেই। বাক্যটিতে মাত্র একটি স্বাধীন কর্তা-ক্রিয়া সম্পর্ক আছে:
কর্তা: তিনি।
ক্রিয়া: আদৃত।
অতএব বাক্যটি সরল বাক্য।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই।
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
→ আমি প্রভাতে উঠেছিলাম।
এখানে,
"প্রভাতে" শব্দটি কাল বা সময় নির্দেশ করছে, অর্থাৎ অধিকরণ কারক (কালাধিকরণ)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
লাইভ পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে প্রশ্নের অপশনে ভুল ছিল।
পরবর্তীতে বিষয়টি নজরে আসায় সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে।
------------------
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
প্রমিত বানান = পঞ্চাঙ্ক ।
পঞ্চাঙ্ক শব্দের অর্থ: পাঁচ অঙ্কবিশিষ্ট (পঞ্চাঙ্ক নাটক)।
প্রমিত বানান = মুমূর্ষু।
মুমূর্ষু অর্থ: মৃত্যুকাল আসন্ন এমন, মরণাপন্ন, মৃতপ্রায়।
প্রমিত বানান = বারিধারা।
বারিধারা শব্দের অর্থ: জ;-প্রবাহ।
অন্যদিকে, 'নিরব' বানানটি অশুদ্ধ।
•’নিরব’ প্রমিত বানান = নীরব।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কালঃ
কমা- ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
সেমিকোলন- ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ- এক সেকেন্ড।
প্রশ্নবোধক চিহ্ন- এক সেকেন্ড।
বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন- এক সেকেন্ড।
কোলন- এক সেকেন্ড।
ড্যাস- এক সেকেন্ড।
কোলন ড্যাস- এক সেকেন্ড।
হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
ইলেক বা লোপ চিহ্ন- থামার প্রয়োজন নেই।
একক উদ্ধৃতি চিহ্ন- 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন- 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন)- থামার প্রয়োজন নেই।
ধাতু দ্যোতক চিহ্ন- থামার প্রয়োজন নেই।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
যতিচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য বাক্যের মধ্যে বা শেষে নিয়মিত বর্ণের পাশাপাশি সাংকেতিক চিহ্নকে যতিচিহ্ন বোঝায়।
- যতিচিহ্ন ছেদ বা বিরাম চিহ্ন নামেও পরিচিত।
বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরাম চিহ্ন ২ প্রকার:
- প্রান্তিক বিরামচিহ্ন: দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময়বোধক প্রভৃতি।
- বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন: কমা, সেমিকোলন, ড্যাস, হাইফেন ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
শুদ্ধ বাক্য-
- তিনি সাক্ষ্য দেবেন না।
- আমি প্রত্যক্ষ করেছি।
- তিনি সস্ত্রীক এসেছেন।
- তার কথায় মাধুর্য নেই।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- এ দেহে প্রাণ নেই।
অন্যদিকে,
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত দ্বারা”, “দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
যেমন:
- আমাদের বাড়ির দরজি নেয়ামত খলিফা।
• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'হতে', 'থেকে, ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় ভুল:
অশুদ্ধ: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
অশুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।
অশুদ্ধ: আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।
শুদ্ধ: আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত।
অশুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।
অশুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
শুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
সেমিকোলন (;):
- একাধিক বাক্যের মধ্যে নিকট সম্পর্ক থাকলে তাদের মাঝে যোগসূত্র রক্ষার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
- সেমিকোলনচিহ্ন কমার চেয়ে দ্বিগুণ সময় বিরতি নেয়।
যেমন:
১. দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
- কথাটা বলা সহজ; করা কঠিন।
২. একাধিক বাক্য সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত না হলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- আগে স্কুলের পড়া; পরে গল্পের বই।
৩. যেসব অব্যয় বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে, তাদের আগে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- মনোযোগ দিয়ে পড়; তাহলেই ভালো ফল করবে।
- ছেলেটি মেধাবী; কিন্তু ভারি অলস।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
সরল বাক্য: পরোপকারীকে সকলে শ্রদ্ধা করে।
জটিল বাক্য: যে পরোপকারী, তাকে সকলেই শ্রদ্ধা করে।
সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী,
- 'কৌতুহল' বানানটি অশুদ্ধ।
- শুদ্ধ রূপ- কৌতূহল।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ 'কুতূহল' থেকে আগত।
- 'কু' উপসর্গ এবং 'তূহল' শব্দের সন্ধি বা তৎসম নিয়মে 'কুতূহল' হয়ে পরে সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী দীর্ঘ-উ কার (কৌতূহল) ধারণ করে।
- 'কৌতূহল' শব্দের অর্থ হলো- কোনো কিছু জানার বা দেখার প্রবল ইচ্ছা, আগ্রহ, জিজ্ঞাসু মনোভাব, বা অনুসন্ধিৎসা।
---------------
অন্যদিকে,
- কৌসুলি, আইনজীবী, ঐকতান- শব্দগুলির বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'কোলন' বিরামচিহ্নের অপর নাম - দৃষ্টান্তচ্ছেদ।
অন্যদিকে,
• 'কমা' এর বাংলা অর্থ - পাদচ্ছেদ।
• 'দাড়ি' এর অপর নাম - পূর্ণচ্ছেদ।
• 'সেমিকোলন' এর অপর নাম - অর্ধচ্ছেদ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
- বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে।
যেমন-
গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপোড়া প্রভৃতি হলো তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপোড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা ও শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।
ব্রাক্ষ্মণ শব্দের শুদ্ধরূপ ‘ব্রাহ্মণ’
এই শব্দের যুক্ত বর্ণ হলো হ + ম = হ্ম
ব্রাহ্মণ (বিশেষ্য):
১. যিনি ব্রহ্মকে জানেন; হিন্দুমতে উচ্চবর্ণের লোক।
২. আর্যদের চারবর্ণের প্রথম বর্ণ।
৩. বিপ্র; বামুন।
৪. বেদের অংশবিশেষ।
৫. পুরোহিত ব্রাহ্মণ; পাচক ব্রাহ্মণ।
ব্রাহ্মণী (স্ত্রীলিঙ্গ)।
ব্রাহ্মণসমাজ (বিশেষ্য) - ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়।
(তৎসম বা সংস্কৃত) ব্রহ্মন্+অ(অণ্)
উৎস : মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান।
• বাক্যের মধ্যকার বিরতিকাল নির্দেশ করে- সেমিকোলন।
-------------
• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।
⇒ সেমিকোলন:
সেমিকোলনের স্থানে কমার চেয়ে বেশি কিন্তু দাঁড়ির চেয়ে কম থামতে হয়। অর্থ্যাৎ, এক বলার দ্বিগুণ সময় পরিমাণ থামতে হয়। বাক্যের ভেতরে শুধু থামার জন্য কমা-সেমিকোলন ব্যবহার করা হয় না। অর্থ প্রকাশেও কমা ও সেমিকোলন ভূমিকা পালন করে। যেমন:
সেমিকোলনের ব্যবহার:
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি স্বাধীন বাক্যে লিখতে সেগুলোর মাঝে সেমিকোলন বসে।
- কমা’র বারংবার ব্যবহারের পর কিন্তু দাঁড়ির আগে সেমিকোলন বসে।
- কমা অপেক্ষা অধিক বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
- কোনো তালিকায় বিদ্যমান একাধিক ব্যক্তির নাম ও পদের তালিকা অনুধাবনের সুবিধার্থে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
যেমন: গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ; সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন; সাধারণ সম্পাদক, হামেদ আলি প্রমুখ।
- আইনের কোনো ধারায় এক বা একাধিক উপধারা কিংবা শর্ত থাকলে তা পৃথককরণের জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
যেমন- ধরা যাক, সংবিধানের ৩৬ নং ধারা নিম্নোক্ত উপধারা (১) বয়স ১৮ বছর হতে হবে; (২) প্রকৃতিস্থ হতে হবে।
অন্যদিকে:
• থামার প্রয়োজন নেই যেসব যতিচিহ্নে-
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
ভুল বাক্যটির সঠিক রূপ -
তাহার উদ্ধত/ঔদ্ধতপূর্ণ আচরণে ব্যথিত হইয়াছি।
অপশনের অন্যান্য বাক্যগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• ন্যাংটার নেই বাটপাড়ের ভয় - A beg-gar may sing before a pick-pocket.
অন্যদিকে,
ধর্মের ঢাক আপনি বাজে - Virtue proclaims itself.
নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা - A bad workman quarrels with his tools.
নানা মুনির নানা মত - All feet thread not in one shoe.
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
- মূর্ছা- শুদ্ধ বানান।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন:
- অর্জ্জন, ঊর্দ্ধ, কার্ত্তিক, কর্ম্ম, মূর্চ্ছা, কার্য্য ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে- অর্জন, ঊর্ধ্ব, কার্তিক, কর্ম, মূর্ছা, কার্য ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।
• শুদ্ধ বানান- একত্রিত।
- এটি একটি বাংলা শব্দ।
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
অর্থ:
- একত্র করা হয়েছে এমন।
অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো- অভ্যন্তরস্থ, বিপর্যস্ত, কেবল/মাত্র।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।