বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৩৪ / ৬৯ · ৩,৩০১৩,৪০০ / ৬,৯৫৩

৩,৩০১.
‘মাঝরাতে শংকরের ঘুম ভেঙ্গে গেল।’- বাক্যে ‘মাঝরাতে’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কারণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আধার (স্থান: আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

• অধিকরণ কারকের উদাহরণ-
- তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

• ‘মাঝরাতে শংকরের ঘুম ভেঙ্গে গেল।’- বাক্যে ‘মাঝরাতে’ বাক্যটি ক্রিয়া সম্পাদন হওয়ার কাল কে নির্দেশ করতেছে। সুতরাং ‘মাঝরাতে’ শব্দটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩০২.
কোনাে অংশ বাদ দিতে চাইলে কোন চিহ্ন ব্যবহার হয়?
  1. ড্যাশ
  2. হাইফেন
  3. ত্রিবিন্দু
  4. কোলন
ব্যাখ্যা
ত্রিবিন্দু (...):
- কোনাে অংশ বাদ দিতে চাইলে ত্রিবিন্দুর ব্যবহার হয়।

যেমন:
- তিনি রেগে গিয়ে বললেন, “তার মানে তুমি একটা ...।”
- আমাদের ঐক্য বাইরের। ... এ ঐক্য জড় অকর্মক, সজীব সকর্মক নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৩০৩.
আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো। এই বাক্যে কী ধরনের ভুল আছে?
  1. ক) গুরুচণ্ডালী দোষ
  2. খ) উপমার ভুল প্রয়োগ
  3. গ) যথার্থ শব্দের প্রয়োগ
  4. ঘ) বাহুল্য দোষ
ব্যাখ্যা
উপমা বা অলংকার সঠিকভাবে প্রয়োগ না করলে বা যথাযথ না হলে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন : আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো। বাক্যটি সঠিক নয়। কেননা বীজ বপন করা হয় খেতে, মন্দিরে নয়।
বাক্যটির সঠিক রূপ হলো : আমার হৃদয়-ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হলো। 

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ।
৩,৩০৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. হোষ্টেল 
  2. হুকুমজারী 
  3. হুঁশিয়ার 
  4.  তীতিক্ষা
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- হুঁশিয়ার। 
- এটি একটি ফারসি শব্দ।
- শব্দটি বিশেষণ পদ। 
অর্থ:
- সতর্ক, সাবধান (দুর্গম গিরি, কান্তার মরু, দুস্তর পারাবার / লংঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে, যাত্রীরা হুঁশিয়ার নজরুল)।
- চতুর।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো- হোস্টেল, হুকুমজারি, তিতিক্ষা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৩০৫.
যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি শনাক্ত করুন।
  1. ক) বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে
  2. খ) তুমি আমার সঙ্গে প্রপঞ্চ করেছো
  3. গ) দেশের সব আলেমগণই এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন
  4. ঘ) আমার হৃদয়-ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হলো
ব্যাখ্যা
১ম বাক্যটি যোগ্যতা হারাবে কারণ বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে না। ২য় বাক্যটি যোগ্যতা হারাবে অপ্রচলিত শব্দ ব্যবহারের জন্য। ‘আলেমগণ’ বহু বচনবাচক শব্দ। ৩য় বাক্যটি যোগ্যতা হারাবে কারণ, ‘সব’ শব্দটির অতিরিক্ত ব্যবহার বাহুল্য-দোষ সৃষ্টি করেছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
৩,৩০৬.
পূর্ণযতি নয় কোনটি?
  1. কমা চিহ্ন 
  2. বিস্ময় চিহ্ন 
  3. প্রশ্নবোধক চিহ্ন 
  4. দাঁড়ি চিহ্ন 
ব্যাখ্যা

• কমা:
কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না। কমা চিহ্নের বাংলা নাম পাদচ্ছেদ।

'কমা' যতিচিহ্নের ব্যবহার:
• শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
• সম্বোধন পদের পরে সাধারণত কমা বসে।
যেমন:
- স্যার, আমাকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে দেবেন?
- রব, এদিকে এসো।

• বাক্যে একাধিক বিশেষ্য কিংবা বিশেষণ পদের বিবৃতি প্রকাশের ক্ষেত্রে কমা বসাতে হয়।
যেমন:
- জনি বুদ্ধিমান, সাহসী ও জ্ঞানী।
- মীম, সানি, হারুন ও রব কক্সবাজার গিয়েছে।

• তারিখ লিখতে বার ও মাসের পরে 'কমা' বসে।
যেমন:
- ১৯শে আশ্বিন, বৃহস্পতিবার, ১৪২৫ সালে মীম বান্দরবান জেলায় জন্মগ্রহণ করে।

অন্যদিকে, 
অপশনে উল্লেখিত অন্যান্য যতিচহ্নিগুলো বাক্যের শেষে বসে। এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন বলে। দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক এবং বিস্ময় এই যতি-চিহ্নগুলো বাক্যের শেষে বসে বাক্যের সমাপ্তি প্রকাশ করে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩,৩০৭.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ষাণ্মাসিক
  2. ভীস্ম
  3. হিরন্ময়
  4. নিস্ক্রিয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ষাণ্মাসিক'- বানানটি শুদ্ধ। 

• 'ষাণ্মাসিক' শব্দের অর্থ:
- ছয় মাস পর পর ঘটে বা প্রকাশিত হয় এমন।

অন্যান্য অপশনের অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধ বানান:
অশুদ্ধ বানান- শুদ্ধ বানান- 
ভীস্ম- ভীষ্ম, 
হিরন্ময় - হিরণ্ময়, 
নিস্ক্রিয় - নিষ্ক্রিয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩০৮.
শিক্ষক বললেন, 'তোমার নাম কী?'- বাক্যের পরোক্ষ উক্তি নিচের কোনটি?
  1. ক) শিক্ষক বললেন যে, আমার নাম কী?
  2. খ) শিক্ষক আমার নাম জানতে চাইলেন।
  3. গ) শিক্ষক বললেন যে, তার নাম কী?
  4. ঘ) শিক্ষক তার নাম জানতে চাইলেন।
ব্যাখ্যা
- বাক্যের পরোক্ষ উক্তি হচ্ছে শিক্ষক আমার নাম জানতে চাইলেন।

• সাধারণত প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তনের সময় প্রথম উদ্ধরণ চিহ্ন স্থানে 'যে' সংযোজক অব্যয় ব্যবহার করতে হয়। তবে প্রশ্নসূচক এবং অনুজ্ঞাসূচক বাক্যে 'যে' ব্যবহৃত হয় না।
যেমন:
প্রত্যক্ষ: শিক্ষক বললেন, 'তোমার নাম কী?
পরোক্ষ: শিক্ষক আমার নাম জানতে চাইলেন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩,৩০৯.
'স্বর্ণালী' শব্দটি কেন অশুদ্ধ?  
  1. রীতিসিদ্ধ কারণে 
  2. বাহুল্যজনিত কারণে 
  3. সন্ধিজনিত কারণে
  4. সমাসসাধিত কারণে 
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ-অশুদ্ধ: 
- বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বানানের নিয়ম অনুযায়ী, ‘আলি’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দ সাধারণত বিশেষণ পদ হয়।
- এই প্রত্যয় কোনো কিছুর বৈশিষ্ট্য বোঝায়। 
- এটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের একটি উদাহরণ। 
- ‘আলি’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দের শেষে সর্বদা ই-কার বসে, ঈ-কার নয়। 
- তাই 'স্বর্ণালী' শব্দটি অশুদ্ধ।
- অতিরিক্ত ‘ঈ’ যোগ করার কারণে 'স্বর্ণালী' শব্দটি অপ্রয়োজনীয় বা বাহুল্যজনিত কারণে অশুদ্ধ হয়েছে। 
- আলি’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দের কিছু উদাহরণ- 
- সোনালি, রূপালি, মায়ালি, স্বর্ণালি, মিতালি, বর্ণালি, খেয়ালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩১০.
' তিনি ধনী ছিলেন,কিন্তু সুখী ছিলেন না।' এটি কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. ক) যৌগিক বাক্য
  2. খ) সরল বাক্য
  3. গ) জটিল বাক্য
  4. ঘ) সংযুক্ত বাক্য
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততােধিক স্বাধীন বাক্য যখন যােজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যােজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (;), ড্যাশ (5) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যােজকের কাজ করে।
যেমন -
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছলো, তারপর পড়তে বসল।
- অন্ধকার হয়ে এসেছে- বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি - এতে দোষের কিছু নেই।
- সত্য কথা বলনি, তাই বিপদে পড়েছ। 
- সে দরিদ্র, কিন্তু তার মন ছোটো নয়। 
- তিনি ধনী ছিলেন,কিন্তু সুখী ছিলেন না।

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১ , ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ]
৩,৩১১.
“নেহাল অঙ্কে খুব কাঁচা”- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্মে ৭মী
  2. খ) করণে ৭মী
  3. গ) অপাদানে ৭মী
  4. ঘ) অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা

কোনো বিশেষ গুণে কারও দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমনঃ রাকিব অঙ্কে কাচা কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
তেমনিভাবে, নেহাল অঙ্কে খুব কাঁচা।
এবং, অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ 'এ' 'য়' 'তে' ইত্যাদি যুক্ত হয়।
সুতরাং, 'অঙ্কে' শব্দটি অধিকরণে সপ্তমী৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৩১২.
শুদ্ধ বানানগুচ্ছ হলো-
  1. ক) ব্যূহ, বিভীষিকা
  2. খ) ভুড়িওয়ালা, মর্ত্য
  3. গ) মন্বন্তর, মরুদ্যান
  4. ঘ) ইতিমধ্যে, ইতপূর্বে
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান:
- ব্যূহ, বিভীষিকা
- ভুঁড়িওয়ালা, মর্ত্য
- মন্বন্তর, মরূদ্যান
- ইতোমধ্যে, ইতঃপূর্বে

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৩,৩১৩.
কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. এটা লজ্জাকর ব্যাপার।
  2. নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
  3. সূর্য উদিত হয়েছে।
  4. দশচক্রে ভগবান ভূত।
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ: নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
• শুদ্ধ : নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।

• বিশ্লেষণ: "নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।" — এখানে "নতুন নতুন" শব্দ দুটি একসঙ্গে বসে অতিরিক্ত পুনরুক্তি বা বহুলতার অপপ্রয়োগ তৈরি করেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৩১৪.
'যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে৷' - সরল বাক্যে রূপান্তর করুন -
  1. তারা এ কথা বিশ্বাস করবে কারণ তাদের বুদ্ধি নেই।
  2. যেহেতু তাদের বুদ্ধি নেই, তাই তারা এ কথা বিশ্বাস করবে।
  3. বুদ্ধিহীনরা এ কথা বিশ্বাস করবে।
  4. যাদের বুদ্ধি নেই কিন্তু তারাই বিশ্বাস করবে এ কথা।
ব্যাখ্যা
মিশ্র বাক্য: যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে৷
সরল বাক্য: বুদ্ধিহীনরা এ কথা বিশ্বাস করবে।

সরল বাক্য:
- একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- আঁখি সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।

জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার জন্য কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩১৫.
শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
  2. তিনি স্বস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।
  3. অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
  4. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
ব্যাখ্যা
⇒ শুদ্ধ বাক্য: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।

• বাক্যে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় বাক্য গঠনে ভুল হয়। 
যেমন-
⇒ অশুদ্ধ: তিনি স্বস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।
⇒ শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।

⇒ অশুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
⇒ শুদ্ধ মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

⇒ অশুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
⇒ শুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩১৬.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় অর্থ অনুযায়ী বাক্যকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন?
ব্যাখ্যা
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় অর্থ অনুযায়ী বাক্যকে ৭ শ্রেণিতে ভাগ করেছেন - 
- নির্দেশসূচক বাক্য 
- প্রশ্নবাচক বাক্য 
- ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য 
- আজ্ঞাসূচক বাক্য 
- কার্যকারণাত্মক বাক্য 
- সন্দেহসূচক বাক্য 
- আবেগসূচক বাক্য 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩১৭.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অনূসূয়া
  2. অনুসুয়
  3. অনসূয়া
  4. অনুসূয়া
  5. অনুসুয়া
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
- 'অনসূয়' শব্দটি শুদ্ধ।  
- 'অনসূয়' এর স্ত্রী লিঙ্গ = 'অনসূয়া'। 

• অনসূয় (বিশেষণ): 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ন+অসূয়া। 
শব্দের অর্থ: ঈর্ষাশূন্য, বিদ্বেষহীন। 
- 'অনসূয়' এর স্ত্রী লিঙ্গ = 'অনসূয়া'। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩১৮.
কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. মরীচিকা
  2. তৃণভোজী
  3. নিরীক্ষণ
  4. নীশিথীনি
ব্যাখ্যা

- প্রদত্ত অপশনগুলোতে নীশিথীনি বানানটি ভুল।
- শুদ্ধ বানানটি হচ্ছে নিশীথিনী।
- যার অর্থ গভীর রাত।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৩,৩১৯.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. শোকোচ্ছ্বাস
  2. শোকচ্ছ্বাস
  3. শোকচ্ছাস
  4. শোকোচ্ছাস
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান- শোকোচ্ছ্বাস।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
অর্থ:
- শোকের প্রাবল্য বা আধিক্য, শোকের আবেগ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৩,৩২০.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. চিকিৎসিত
  2. নিরীক্ষণ
  3. চিকির্ষীত
  4. চিকিৎসাধীন
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান- চিকির্ষীত।

• শুদ্ধ বানান- চিকীর্ষিত (বিশেষণ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: অভিপ্রায়যুক্ত, অভিপ্রেত, অভিলষিত।

অন্যদিকে, নিরীক্ষণ, চিকিৎসিত ও চিকিৎসাধীন শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎ: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩২১.
"যে ভিক্ষা চায় তাকে দান করো।" - এটি কোন বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
- কোন কোন বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অর্থাৎ কর্তা ও সমাপিকা ক্রিয়া ছাড়া এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকতে পারে। এ অপ্রধান খণ্ডাংশ মূল বাক্যেরই অংশ। এ ধরনের বাক্যকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

যেমন -
- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
- যে ভিক্ষা চায় তাকে দান করো।
- যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩২২.
‘যে ছেলেটি এখানে এসেছিল সে আমার ভাই।’ কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ডিত বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যেমন দেখতে লোভনীয়, তেমন খেতেও মজা।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩২৩.
ফুলে ফুলে সাজিয়েছে ঘর- এখানে 'ফুলে ফুলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1.  অধিকরণে ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. করণে ৭মী
ব্যাখ্যা

• ‘ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে’ - করণ কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ। 

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

• ‘ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে’ - এ বাক্যে ক্রিয়াকে 'কী উপায়ে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়- ফুলে ফুলে। তাই 'ফুলে ফুলে' করণ কারক। এবং এর সাথে সপ্তমী বিভক্তি - 'এ' যুক্ত হয়েছে।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ: 
সপ্তমী বা এ বিভক্তি : ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
তে বিভক্তি : লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
য় বিভক্তি : চেষ্টায় সব হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৩২৪.
‘এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেনো তা মধুতে মাখা’ - এখানে মধুতে কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অপাদানে ৭মী
  2. খ) করণে ৭মী
  3. গ) অধিকরণে ৫মী
  4. ঘ) কর্মে ৫মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক
- ‘করণ’ শব্দটির অর্থ- যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে ‘কীসের দ্বারা’ বা ‘কী উপায়ে’ প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেনো তা মধুতে মাখা।
- এখানে ‘মধুতে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৩,৩২৫.
"তাকে বল।" বাক্যে 'তাকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় সপ্তমী
  2. কর্মে দ্বিতীয়া
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. কর্তায় দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:

(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- কপোল ভাসিয়া গেল নয়নের জলে।

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: তাকে বল।
- 'রে' বিভক্তি: 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'।

(গ) ষষ্ঠী বা 'র' বিভক্তি: তোমার দেখা পেলাম না।

(ঘ) সপ্তমীর 'এ' বিভক্তি: 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' (বীপ্সায়)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৩২৬.
'মহীয়ান' শব্দের স্ত্রী‘বাচক শব্দ কোনটি?
  1. ক) মহীয়সী
  2. খ) মহিয়সী
  3. গ) মহিয়সি
  4. ঘ) মহীয়শী
ব্যাখ্যা
মহীয়সী শব্দটির বানান শুদ্ধ।
- এটি 'মহীয়ান' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ।
অর্থ - অতি মহান, মহত্তর।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩২৭.
নিচের কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. নিরপরাধী
  2. সৌন্দর্যতা
  3. নীরোগী
  4. অচিন্তনীয়
ব্যাখ্যা

• 'অচিন্তনীয়' — শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ। অনীয় প্রত্যয়যোগে অচিন্তনীয় শব্দটি গঠিত হয়েছে।
এর অর্থ - অবিশ্বাস্য; অসামান্য; অদ্ভুত।

অন্য অপশনের অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ হলো:
- সৌন্দর্যতা - সৌন্দর্য,
- নিরপরাধী = নিরপরাধ।
- নীরোগী = নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৩২৮.
শুদ্ধ শব্দ কোনটি?
  1. ক) ব্যাকরণবিদ
  2. খ) বৈয়াকরণ
  3. গ) ব্যাকরণিক
  4. ঘ) বৈয়াকরণিক
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ শব্দ = বৈয়াকরণ 

বৈয়াকরণ (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ব্যাকরণ+অ 
অর্থ:
- ব্যাকরণবিদ 
- ব্যাকরণসম্পর্কিত 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,৩২৯.
’ছেলেটি বলে উঠলো, 'বাহ! কী সুন্দর বাড়ি।'- উক্তিটির পরোক্ষ উক্তি কী?
  1. ছেলেটি বললো যে, বাড়িটি খুব সুন্দর।
  2. ছেলেটি খুশিতে বললো বাড়িটি খুব সুন্দর।
  3. ছেলেটি আনন্দে বললো বাড়িটি খুব সুন্দর।
  4. ছেলেটি আনন্দের সঙ্গে বললো যে, বাড়িটি খুব সুন্দর।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তি:ছেলেটি বলে উঠলো, "বাহ! কী সুন্দর বাড়ি।"
• পরোক্ষ উক্তি:ছেলেটি আনন্দের সঙ্গে বললো যে, বাড়িটি খুব সুন্দর।
------------------------------
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে (প্রশ্ন, অনুজ্ঞা, আবেগ) পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তরের নিয়ম :
- পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের ভাব অনুযায়ী উপযুক্ত ক্রিয়া ব্যবহার করতে হয়।
- যেমন: বললেন, জানতে চাইলেন, অনুরোধ করলেন, আনন্দ প্রকাশ করলেন ব্যবহার করতে হয়।

• প্রশ্নবোধক বাক্য:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: মা আমাকে বললেন, "তোমাদের স্কুলে গ্রীষ্মের ছুটি হবে কবে?"
• পরোক্ষ উক্তি: মা আমার কাছে জানতে চাইলেন কবে আমাদের স্কুলে গ্রীষ্মের ছুটি হবে।

• অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
• প্রত্যক্ষ উক্তি:লোকটি আমাকে বললেন, "অনুগ্রহ করে আপনি সামনের আসনে বসুন।"
• পরোক্ষ উক্তি:লোকটি আমাকে সামনের আসনে বসতে অনুরোধ করলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৩,৩৩০.
'তোমার মহিমা জ্বলন্ত অক্ষরে লেখা।' - বাক্যে 'অক্ষরে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. কর্তায় ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
তোমার মহিমা জ্বলন্ত অক্ষরে লেখা। - করণ কারকে ৭মী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৩১.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অনুসূয়া
  2. স্বচ্ছল
  3. নিরীক্ষণ
  4. সম্পূর্ন
ব্যাখ্যা
• নিরীক্ষণ (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- দর্শন, মনোযোগ সহকারে দেখা।

অন্যদিকে, অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• শুদ্ধ বানান: অনসূয়া(বিশেষ্য পদ),
- অনসূয়া শব্দের অর্থ - হিংসাশূণ্যতা, ঈর্ষাহীনতা ইত্যাদি।
 
• শুদ্ধ বানান: সচ্ছল;
- যার অর্থ: অভাব নেই এমন।
 
• শুদ্ধ বানান: সম্পূর্ণ (বিশেষণ পদ])
অর্থ:
- সমাপ্ত, পরিপূর্ণ; সমস্ত; সমগ্র; পুরাপুরি; সমুদায়।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩৩২.
ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কী বলে?
  1. ক্রিয়ার কাল
  2. নির্দেশক
  3. কারক
  4. বচন
ব্যাখ্যা
• কারক:
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার।
যথা:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৩৩৩.
'এ জমিতে সোনা ফলে।' - বাক্যে 'জমিতে' কোন কারক?
  1. অপাদান
  2. করণ
  3. অধিকরণ
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- এ জমিতে সোনা ফলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৩,৩৩৪.
কোন বানানটি সঠিক?
  1. কংকাল
  2. ভয়ঙ্কর
  3. সঙ্গীত
  4. শঙ্কা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,

• সন্ধির ক্ষেত্রে ক খ গ ঘ পরে থাকলে পূর্ব পদের অন্তস্থিত ম্ স্থানে অনুস্বার (ং) হবে।
যেমন:
- অহম্ + কার = অহংকার
এভাবে ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন।

• সন্ধিবদ্ধ না হলে ঙ স্থানে ং হবে না। যেমন:
অঙ্ক, অঙ্গ, আকাঙ্ক্ষা, আতঙ্ক, কঙ্কাল, গঙ্গা, বঙ্কিম, বঙ্গ, লঙ্ঘন, শঙ্কা, শৃঙ্খলা, সঙ্গে, সঙ্গী।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম
৩,৩৩৫.
নিচের কোন শব্দটি শুদ্ধ?
  1. ক) অন্তকরন
  2. খ) অন্তকরণ
  3. গ) অন্তঃকরন
  4. ঘ) অন্তঃকরণ
ব্যাখ্যা
অন্তঃকরণ - হৃদয়, মন, দিল৷
উৎসঃ বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান
৩,৩৩৬.
'কলমের খোচা দিও না' এই বাক্যে 'কলমের' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্ম কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি
  2. করণ কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি
  3. কর্তৃ কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি
  4. অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• 'কলমের খোচা দিও না' এই বাক্যে 'কলমের' করণ কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি।

• করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

• ৬ষ্ঠী বিভক্তি - র, এর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৩৭.
'লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু'- এখানে 'লোভে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. অধিকরণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- তিলে তেল হয়।
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- জমি থেকে ফসল পাওয়া যায়। 
- পাপে বিরত হও।
- বিপদ থেকে বাঁচাও।

• অপাদান কারক নির্ণয়ের জন্যে ক্রিয়াপদকে 'কোথা থেকে', 'কী থেকে', 'কীসের থেকে' এসৰ প্রশ্ন করতে হয় এবং তার উত্তরে অপাদান কারক জানতে পারা যায়।
যেমন:
- বিপদে মোরে রক্ষা করো।
[(কোথা থেকে?- বিপদ থেকে)। তাই 'বিপদে' অপাদান কারক।]

যেমন:
- সুখের চেয়ে শান্তি ভালো।
- লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।
[বাক্যের ক্রিয়াপদকে (কী থেকে মৃত্যু?) প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'লোভে'। সুতরাং 'লোভে' অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।]

অপাদান কারকে বিভক্তির প্রয়োগ
প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- গাড়ি ঢাকা ছাড়ল।
- বাড়ি ঘুরে এসো।

দ্বিতীয়া বিভক্তি:
- সবাই বাঘকে ভয় করে।
- বাবাকে ভয় করি না।

সপ্তমী বিভক্তি:
- দুধে ছানা হয়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩৩৮.
শুদ্ধ বানান ‍কোনটি?
  1. ক) অপরাহ্ন
  2. খ) অপরাহ্ণ
  3. গ) অপরাণ্য
  4. ঘ) অপরান্য
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান ‍= অপরাহ্ণ

অপরাহ্ণ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = অপর + অহ্ণ 
অর্থ: মধ্যাহ্ন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কাল, বিকেল। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,৩৩৯.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নিশিথিনী
  2. নীশিথিনী
  3. নিশীথিনী
  4. নিশিথিনি
ব্যাখ্যা

• 'নিশীথিনী'- বানানটি শুদ্ধ।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে,
- 'নিশীথিনী' সংস্কৃত শব্দ।
- 'নিশীথিনী' (বিশেষ্য) শব্দের অর্থ- রাত্রি; রজনী।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।

৩,৩৪০.
ওখানে কেন গেলে? - এর ভাববাচ্য রূপ কোনটি?
  1. ওখানে কে যাবে?
  2. ওখানে কেন যাওয়া হলো?
  3. ওখানে কে যায়?
  4. ওখানে কেন যাও?
ব্যাখ্যা
কর্তাবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তর করার নিয়ম:
- কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে একটি ক্রিয়াবিশেষ্যকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় আসতে হয়।
যেমন:
কর্তাবাচ্য: তুমি কখন এলে?
ভাববাচ্য: কখন আসা হলো?

কর্তাবাচ্য: ওখানে কেন গেলে?
ভাববাচ্য: ওখানে কেন যাওয়া হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৩৪১.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ নয়?
  1. দুর্বিসহ বানানটি অধিকাংশ ব্যাক্তি ভূল লেখে।
  2. গাছে কাঠাল গোঁফে তেল।
  3. রবীন্দ্রনাথ বিখ্যাত কবি ছিলেন।
  4. দশচক্রে ভগবান ভূত।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: দুর্বিসহ বানানটি অধিকাংশ ব্যাক্তি ভূল লেখে।
শুদ্ধ বাক্য: দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভুল লেখে। 

• এখানে বানান জনিত ভুল ছিল।
- দুর্বিসহ এর শুদ্ধ বানান- দুর্বিষহ,
- ব্যাক্তি এর শুদ্ধ বানান- ব্যক্তি,
- ভূল এর শুদ্ধ বানান- ভুল।

• বাকি অপশন গুলোতে বাক্যের সঠিক প্রয়োগ হয়েছে। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩৪২.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. মুহর্মুহু
  2. শুশ্রুষা
  3. ফণিভূষণ
  4. বহ্ণি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ফণিভূষণ'- শুদ্ধ বানান।

• 'ফণিভূষণ' শব্দের অর্থ:
- সাপ যার গলার ভূষণ,
- সাপের আকৃতিবিশিষ্ট হাতের অলংকারবিশেষ। 

অন্য অপশনের শুদ্ধ বানানগুলো হলো:
• মুহর্মুহু - মুহুর্মুহু। 
• শুশ্রুষা - শুশ্রূষা।
• বহ্ণি - বহ্নি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩৪৩.
'Faults are thick where love is thin' যথাযথ অনুবাদ কোনটি?
  1. চাঁদেও কলঙ্ক আছে।
  2. নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা।
  3. নানা মুনির নানা মত।
  4. যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা।
ব্যাখ্যা
• 'Faults are thick where love is thin' যথাযথ অনুবাদ - যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা

অন্যদিকে,
• 'There are lees to every wine' যথাযথ অনুবাদ - চাঁদেও কলঙ্ক আছে।
• 'A bad workman quarrels with his tools' যথাযথ অনুবাদ - নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা।
• 'All feet thread not in one shoe' যথাযথ অনুবাদ - নানা মুনির নানা মত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৪৪.
'The authorities took him to task'  এর সঠিক বাংলা অনুবাদ কোনটি?
  1. কর্তৃপক্ষ তাকে কাজের কাছে নিয়ে গেছে।
  2. কর্তৃপক্ষ তাকে তিরস্কার করলো।
  3. কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
  4. কর্তৃপক্ষ তাকে নোটবইয়ে লিপিবদ্ধ করেছে।
ব্যাখ্যা

• Take someone to task এর অর্থ কাউকে তিরস্কার করা।
সুতরাং, "কর্তৃপক্ষ তাকে তিরস্কার করলো" এর ইংরেজি অনুবাদ হবে - The authorities took him to task.

• 'Take someone to task' অর্থ: তিরস্কার করা।

• Take someone to task
- English Meaning: reprimand/scold or criticize someone severely for a fault or mistake.
- Bangla Meaning: তিরস্কার করা; কঠোর ভর্ৎসনা করা।

• Ex. Sentence: He was taken to task for negligence of duty.
- Bangla Meaning: দায়িত্বে অবহেলার জন্য তাকে তিরস্কার করা হলো।

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Oxford Dictionary.

৩,৩৪৫.
‘যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।’- বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. যেমন বিপদ আসে তেমনই দুঃখও আসে।
  2. বিপদ আসলে দুঃখ আসে।
  3. বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
  4. বিপদ দুঃখ একসঙ্গে আসে।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
- সূত্র ক: আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে।
- সূত্র খ: জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
- সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।
যেমন:
• জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।

• জটিল: যদি পরিশ্রম কর, তাহলে ফল পাবে।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।

• জটিল: যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
• যৌগিক: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।

• জটিল:যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।

• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ।
• যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩৪৬.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. গুণতি
  2. ঝরণা
  3. ক্ষণ
  4. গোণা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: ক্ষণ।

--------------------
• নিয়ম:
বাংলা শব্দের বানানে দন্ত্য-ন এর পরিবর্তে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহার হওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। সাধারণভাবে ‘র, ষ, ক্ষ’ এই তিনটি অক্ষরের পর মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়।
• এখারে র অর্থ: র, ঋ, রেফ্, র-ফলা, ঋ-কার। উদাহরণ- কারণ, ঋণ, কর্ণ, তৃণ ইত্যাদি।
• ষ: ষণ্ড, ঘর্ষণ, বিষ্ণু, ভূষণ, দূষণ ইত্যাদি।
ক্ষ: ক্ষণ, ক্ষীণ, ক্ষুণ্ণ, ক্ষৌণি ইত্যাদি।

• মূর্ধন্য-ণ ও দন্ত্য-ন এর ব্যবহার:
- অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।
যেমন:
অঘ্রান, ইরান, কান, কোরান, গভর্নর, গুনতি, গোনা, ঝরনা, পরান, রানি, সোনা।

উৎস: বাংলা লেখার নিয়মকানুন, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩৪৭.
তার চোখে ছিল বিজয়ের _________।
  1. উচ্ছ্বাশ
  2. উচ্ছ্বাস
  3. উচ্ছাস
  4. উচ্ছ্বাষ
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: তার চোখে ছিল বিজয়ের _________।

সমাধান:
• এখানে "উচ্ছ্বাস" শব্দটি সঠিক বানান এবং এর অর্থ হলো আনন্দ, উৎসাহ বা উদ্দীপনা, যা বাক্যের প্রেক্ষিতে পুরোপুরি মানানসই।

• তাই বাক্যটি হবে- 
- তার চোখে ছিল বিজয়ের উচ্ছ্বাস।

অন্যদিকে:
উচ্ছ্বাষ, উচ্ছাস, উচ্ছ্বাশ – এগুলো বানানগত অশুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩৪৮.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. ক) সহযোগীতা
  2. খ) স্বশাসিত
  3. গ) ভূগোলিক
  4. ঘ) একাকীত্ব
ব্যাখ্যা

- সহযোগীতা শব্দের সঠিক বানান সহযোগিতা।
- ভূগোলিক শব্দের সঠিক বানান ভৌগোলিক।
- একাকীত্ব শব্দের সঠিক বানান একাকিত্ব।
উৎসঃ প্রমিত বাংলা বানান রীতি ও বাংলা একাডেমির অভিধান।

৩,৩৪৯.
কোন শব্দটিতে অপপ্রয়োগ জনিত ভুল নেই?
  1. স্বস্ত্রীক
  2. অশ্রুজল
  3. একত্র
  4. অধীনস্থ
ব্যাখ্যা

• স্বস্ত্রীক শব্দের সঠিক রূপ হবে সস্ত্রীক।
• অশ্রুজল শব্দের সঠিক রূপ হবে অশ্রু অথবা জল অথবা চোখের জল।
• আর অধীনস্থ শব্দের সঠিক রূপ হবে অধীন।
উৎসঃ বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি।

৩,৩৫০.
নিচের কোন শব্দে প্রত্যয় সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. দৌরাত্ম্য
  2. গণ্যনীয়
  3. জ্ঞানবান
  4. ঘূর্ণায়মান
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয় সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে- গণ্যনীয় শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ- গণনীয়।

---------------------
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:

প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

• অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
- ঐক্যতান - ঐকতান;
- দৌরাত্ম - দৌরাত্ম্য;
- অধীনস্থ - অধীন;
- করিতকর্মী - করিতকর্মা;
- গণ্যনীয় - গণনীয়;
- জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
- ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
- পুজ্য - পূজ্য;
- স্বত্ত্ব - স্বত্ব;
- বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩৫১.
বাক্যের প্রকাশভঙ্গি অনুসারে কর্তা কয় রকম হতে পারে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৪
  3. গ) ৬
  4. ঘ) ৩
ব্যাখ্যা
বাক্যের বাচ্য বা প্রকাশভক্তি অনুসারে কর্তা তিন রকম হতে পারে। যথা:
১.কর্মবাচ্যের কর্তা (কর্মের প্রাধান্যসূচক বাক্যে): পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে।
২. ভাববাচ্যের কর্তা (ক্রিয়ার প্রাধান্যসূচক বাক্য): আমার যাওয়া হবে না।
৩. কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা ( বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয়): বাঁশি বাজে। কলমটা লেখে ভালো।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
৩,৩৫২.
কোনটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্য?
  1. আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
  2. তারা তোমাদের ভোলেনি।
  3. আমাকে একটি কলম দাও।
  4. সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয় ।

যেমন:
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক ।

উল্লেখ্য,
বিবৃতিমূলক বাক্য - আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম। তারা তোমাদের ভোলেনি।
প্রশ্নবোধক বাক্য - তোমার নাম কী? সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
আবেগসূচক বাক্য - কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকান্ড।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩,৩৫৩.
নিচের কোন শব্দটির বানানে ‘ণ’ - এর ভুল প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বিপণি
  2. নিপুণ
  3. আপণ
  4. পিণ্ডারি
ব্যাখ্যা

• তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণ-ত্ব বিধান বলে।

• বিপণি- 
→ শুদ্ধ বানান: বিপণি (অর্থ: দোকান)
→ ‘ণ’ ব্যবহারে ভুল নেই।

• নিপুণ- 
→ শুদ্ধ বানান: নিপুণ (অর্থ: দক্ষ/কুশলী)
→ সঠিক প্রয়োগ।

• আপণ- 
→ আপণ একটি পুরনো তদ্ভব শব্দ, যার অর্থ: নিজের মালিকানাধীন বা দোকান।
→ যদিও অনেকেই আপন ভাবেন, আসলে আপণ বানানটিও অভিধানসম্মতভাবে স্বীকৃত।
→ উদাহরণ: “আপণ প্রতিষ্ঠানে সে কর্মরত।”

অন্যদিকে,
• 'পিণ্ডারি'  শব্দটির সঠিক বানান - পিন্ডারি।
• 'পিন্ডারি' অর্থ- মহারাষ্ট্রীয় অশ্বারোহী দস্যদল, বর্গি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।

৩,৩৫৪.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছের সব বানান শুদ্ধ?
  1. ক) বইঠা, অন্তরিন, স্বচ্ছল
  2. খ) ঠ্যালা, নির্ণিমেষ, বউ
  3. গ) কাঁচ, দরুন, ফরমুলা
  4. ঘ) দারুণ, বর্গি, গায়েবি
ব্যাখ্যা
অপশন ঘ) - এর সবগুলো বানান শুদ্ধ।

অপশন ক) - এর স্বচ্ছল বানানটি অশুদ্ধ। শুদ্ধরূপ - সচ্ছল
অপশন খ) - এর নির্ণিমেষ বানানটি অশুদ্ধ। শুদ্ধরূপ - নির্নিমেষ
অপশন গ) - এর কাঁচ বানান অশুদ্ধ। শুদ্ধরূপ - কাচ

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩৫৫.
নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না কোন ধরণের বাক্য?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) কোনটিই না
ব্যাখ্যা
 নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না এটি যৌগিক বাক্য

• যৌগিক বাক্য : পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
জ্ঞাতব্য : যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন –
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বসত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩৫৬.
'উৎকর্ষতা' কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. সন্ধিজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. উপসর্গজনিত
  4. বিভক্তিজনিত
ব্যাখ্যা

• 'উৎকর্ষতা' প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধ। 

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• উৎকর্ষ এটি বিশেষ্য পদ,
- (উৎ + √কৃষ্ + অ) প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

• আর এর সাথে 'তা’ (বিশেষ্য) প্রত্যয় যুক্ত করলে ‘উৎকর্ষতা’ হয় যা বিশেষ্যের দ্বিত্ব প্রয়োগ। অর্থাৎ ‘উৎকর্ষতা’ শব্দে তা-প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।

• ‘উৎকর্ষতা’ শব্দের এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে- 'উৎকর্ষ বা উৎকৃষ্টতা'।

• নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন: কৃপণ বিশেষণ শব্দের সাথে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কৃপণতা হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৩৫৭.
শুদ্ধ বানান -
  1. প্রোজল
  2. প্রোজ্জল
  3. প্রোজ্জ্বল
  4. প্রোজ্বল
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান: 'প্রোজ্জ্বল'।

• 'প্রোজ্জ্বল' শব্দের অর্থ:
- বিশেষভাবে উজ্জ্বল।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৩৫৮.
'যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।" কোন ধরনের বাক্যের দৃষ্টান্ত?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।
- যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যখন তিনি ভাত খাওয়া শেষ করলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে গেলেন।
- যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই একথা বিশ্বাস করবে।
- যে সকল পশু মাংস ভোজন করে তারা অত্যন্ত বলবান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩৫৯.
‘কবির কাজ হচ্ছে কাব্য সৃষ্টি করা’ - এখানে ‘কাব্য’ এর কারক বিভক্তি কোনটি?
  1. কর্মে শূন্য
  2. করণে শূন্য
  3. অধিকরণে শূন্য
  4. কর্তায় শূণ্য
ব্যাখ্যা

• কর্মকারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে৷ ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

উল্লেখিত বাক্যটিতে 'কী' বা 'কাকে' সৃষ্টি করা দিয়ে প্রশ্ন করলে, উত্তর পাওয়া যায় 'কাব্য'৷
অর্থাৎ বাক্যে ‘কাব্য' একটি কর্মকারক। 

প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি : বাক্যের কোন পদে যখন কোন বিভক্তি যুক্ত হয়না বা দৃশ্যমান হয়না, সেই আপাত বিভক্তিহীন শব্দে যে বিভক্তি থাকে তাই শূন্য বিভক্তি। একবচন শব্দের সাথে ০, অ,(য়) যুক্ত থাকলে শূন্য বিভক্তি হয়। যেমন - আমাকে এক খানা বই দাও।

• অতএব ‘কবির কাজ হচ্ছে কাব্য সৃষ্টি করা’ এই বাক্যে ‘কাব্য’ কর্ম কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৩৬০.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. গীতাঞ্জলী
  2. গিতাঞ্জলী
  3. গিতাঞ্জলি
  4. গীতাঞ্জলি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'গীতাঞ্জলি'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- সংগীতাঞ্জলি, রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থবিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩৬১.
'সাদা মেঘে বৃষ্টি হয় না'- এখানে 'সাদা মেঘে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. অধিকরণে শূন্য
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অপাদানে শূন্য
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।
• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
- লোকমুখে শুনেছি।
- তিলে তৈল হয়।
- বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- সাদা মেঘে বৃষ্টি হয় না।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

• ‘সাদা মেঘে বৃষ্টি হয় না।’- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কি থেকে বৃষ্টি হয় না' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মেঘে' (মেঘ থেকে)। তাই, 'মেঘে' অপাদানে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৬২.
“চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে” - বাক্যটিতে কী ধরনের ভুল আছে?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) গুরুচণ্ডালী দোষ
  5. ঙ) উপমার ভুল প্রয়োগ
ব্যাখ্যা

ভাষার বিচারে বাক্যের তিনটি গুণ থাকা আবশ্যক। যথা- আকাক্সক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা।
আকাঙ্ক্ষা : বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন: ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’ বলে শেষ করলে আরও শোনার আকাঙ্ক্ষা থাকে। বাক্যটি হবে ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে’।
আসত্তি : বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন: কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। বাক্যটি যথাযথ হয়নি কারণ, এখানে আসত্তির অভাব রয়েছে। বাক্যটি হবে ‘কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে’।
যোগ্যতা : বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি হয়-বাক্যটি যোগ্যতাসম্পন্ন। কিন্তু ‘বর্ষার রোদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’ বললে বাক্যটি যোগ্যতা হারাবে। কারণ, রোদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে না।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৩৬৩.
কোনটি সঠিক বানান?
  1. ক) পরিবেজ্য
  2. খ) পারিব্রজ্য
  3. গ) পারিব্রর্জ
  4. ঘ) পারিব্রর্জ্য
ব্যাখ্যা
সঠিক বানান - পারিব্রজ্য

পারিব্রজ্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = পরিব্রাজ+য
অর্থ: পরিব্রাজকের আচরণ বা ধর্মপালন; পরিব্রজ্যা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,৩৬৪.
"ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়ানো।" বাক্যটি কোন কারণে অশুদ্ধ?
  1. বানান ভুল আছে
  2. প্রত্যয়সাধিত শব্দের ভুল প্রয়োগ 
  3. প্রবাদের বিকৃতি
  4. বিশেষ্য-বিশেষণের অপপ্রয়োগ ঘটেছে
ব্যাখ্যা

• "ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়ানো" বাক্যটি অশুদ্ধ কারণ এটি একটি প্রচলিত প্রবাদের বিকৃত রূপ।

সঠিক প্রবাদ: "ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো"।

প্রবাদের অর্থ: "ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো" মানে নিজের ঘরে খাওয়া-দাওয়া করে অন্যের (বনের) কাজ করা - অর্থাৎ কৃতজ্ঞতা না দেখিয়ে অন্যের পক্ষে কাজ করা।

অশুদ্ধতার ধরন:
প্রাচীন প্রবাদের প্রচলিত রূপে পরিবর্তন ঘটিয়ে ভুল শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে অশুদ্ধি ঘটে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৩,৩৬৫.
কোনটি মিশ্র বাক্য?
  1. ক) তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা, সখিনা বিবির কপাল ভাঙলো
  2. খ) মিথ্যা কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি
  3. গ) মেঘ গর্জন করলে, তবে ময়ূর নৃত্য করে
  4. ঘ) তিনি ধনী হলেও দাতা নন
ব্যাখ্যা
'তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা, সখিনা বিবির কপাল ভাঙলো' এটি জটিল বা মিশ্র বাক্যের উদাহরণ। যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। যেমনঃ যে পরিশ্রম করে, সে ই সুখ লাভ করে। তিনি ধনি হলেও দাতা নন - এটি সরলবাক্য। 'মিথ্যা কথা বলি নি, তাই বিপদে পড়েছি' এবং 'মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে' বাক্য দুটি যৌগিক বাক্য। (সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৩,৩৬৬.
বাগ্‌ধারার অশুদ্ধ প্রয়োগ বাক্যের কোন গুণের অভাব প্রকাশ করে?
  1. যােগ্যতা
  2. আসত্তি
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. আসক্তি
ব্যাখ্যা

• 'বাগ্‌ধারার অশুদ্ধ প্রয়োগ’ বাক্যের যোগ্যতা গুণের অভাব প্রকাশ করে।

------------------------------
• একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকতে হয়৷ যথা- আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, ও যোগ্যতা।

• যােগ্যতা:
বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষাকালে জলপথে নৌকা চলে। এটি একটি যােগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারণ বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মিল রয়েছে।

[ কিন্তু যদি বলা হয়- “বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে” তবে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যােগ্যতা হারাবে। কারণ নৌকা আকাশ পথে চলে না। সার্থক বাক্যের জন্য অর্থ সংগতি বা যােগ্যতা থাকতে হবে।]

শব্দের যোগ্যতার সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত থাকতে পারে। তবে প্রধানত সাতটি বিষয় জড়িত থাকে। যেমন:
• রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা;
• বাহুল্য বর্জন;
• দুর্বোধ্যতা পরিহার;
• উপমা বা অলংকারের সঠিক প্রয়োগ বা ব্যবহার;
• বাগ্‌ধারার সঠিক প্রয়োগ;
• গুরুচণ্ডলী দোষ পরিহার ও
• যথার্থ শব্দ প্রয়োগ।

• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
- উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।
- বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• আসত্তি:
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি।
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়।
- পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদ্গুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৩৬৭.
'অনেক ছাত্রছাত্রীরা ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না'। উপরের বাক্যটি ভুল হওয়ার কারণ কী?
  1. ক) বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণ
  2. খ) বহুবচনের অপপ্রয়োগ
  3. গ) বানান জনিত ভুল
  4. ঘ) পদক্রম জনিত অশুদ্ধি
ব্যাখ্যা
কোন শব্দকে এক বার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
তাই উল্লিখিত বাক্যে 'ছাত্রছাত্রীরা' না হয়ে 'ছাত্রছাত্রী' হবে।
অর্থাৎ, সঠিক বাক্য- 'অনেক ছাত্রছাত্রী ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না'।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩৬৮.
জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ডবাক্যের পরে কোন চিহ্ন বসে?
  1. হাইফেন ( - )
  2. কমা ( , )
  3. সেমিকোলন ( ; )
  4. কোলন ( : )
ব্যাখ্যা

কমা {পাদচ্ছেদ ( , )} ব্যবহার:
ক) বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।
খ)পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি
সবগুলোর পরই কমা বসবে। যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।
গ) সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
ঘ) জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসবে। যেমন- কাল যে লোকটি এসেছিল, সে আমার পূর্বপরিচিত।
ঙ) উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে। যেমন- সাহেব বললেন, "ছুটি পাবেন না।”
চ) মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পর 'কমা' বসবে। যেমন- ১৬ই পৌষ, বুধবার, ১৩৯৯ সন।
ছ) বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসবে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।
জ) নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় সংযোজিত হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির পরে কমা বসবে। যেমনডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচ.ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩,৩৬৯.
নিচের কোনটি মিথ্যা?
  1. কমা - 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
  2. সেমিকোলন - 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
  3. দাঁড়ি - 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।
  4. হাইফেন - 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।
ব্যাখ্যা
• "হাইফেন - 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।" - বাক্যটি অশুদ্ধ।
"হাইফেন -এর ক্ষেত্রে থামার প্রয়োজন নেই।
------------------------ 
• নিম্নের উল্লেখিত যতিচিহ্নের বিরতিকালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড'-

- দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস।

অন্যদিকে,
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• থামার প্রয়োজন নেই-
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

• ‘কমা’ এর বিরতিকাল - ১ বলতে যে সময় প্রয়োজন।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩৭০.
পাপে বিরত হও।’ -কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'পাপে বিরত হও' - বাক্যে 'পাপে' - অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ। 

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
- বিচ্যুত: সাদা মেঘে (মেঘ থেকে) বৃষ্টি হয় না - অপাদানে ৭মী।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩৭১.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. মাতৃহীন শিশুর কী দুঃখ!
  2. মাতাহীন শিশুর কি দুঃখ।
  3. মাতৃহীন শিশুর কেমন দুঃখ।
  4. মাতাহীন শিশুর কী দুঃখ!
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য: "মাতৃহীন শিশুর কী দুঃখ"! 
-------------------------------------
• কেন বাক্যটি শুদ্ধ- 
- "মাতৃহীন শিশুর কী দুঃখ" বাক্যটি ব্যাকরণের দিক থেকে সঠিক। 
- এখানে ‘মাতৃহীন’ শব্দটি বিশেষণের কাজ করছে এবং সঠিকভাবে ভাব প্রকাশ করছে।
- এই বাক্যটি কেবল ‘মা নেই’ বোঝায় না;
- বরং মায়ের অভাবজনিত গভীর দুঃখ ও অসহায়ত্বকে প্রকাশ করে, যা একটি আবেগপূর্ণ বাক্যের জন্য উপযুক্ত।

অন্যদিকে,
- ‘মাতাহীন’ ব্যবহার ভুল, কারণ এটি শুধু ‘মা নেই’ বোঝায়।
- কিন্তু মূল অর্থ প্রকাশের জন্য ‘মাতৃহীন’ (যার মা নেই) ব্যবহার করাই সঠিক।
-----------------------------------------
- কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাক্যশুদ্ধি:
• অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নেই।
 শুদ্ধ: ইহার আবশ্যকতা নেই।

• অশুদ্ধ: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
 শুদ্ধ: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

• অশুদ্ধ: বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
 শুদ্ধ: বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।

উৎস: 
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; 
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৩৭২.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. উচ্ছৃঙ্খল
  2. উর্চ্ছঙ্খল
  3. উচ্ছৃঙ্মল
  4. উচ্ছৃক্ষল
ব্যাখ্যা
- বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান = উচ্ছৃঙ্খল।
-------------------------------------------
’উচ্ছৃঙ্খল’ শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ= উচ্ছৃংখল [স, উৎ-শৃঙ্খল]
অর্থ-
- বিশৃঙ্খল; অনিয়ন্ত্রিত।
- নিজের ইচ্ছায় চলে এমন; যথেচ্ছাচারী।
- অমিতাচারী।
- শৃঙ্খলহীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩৭৩.
'আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা' তিনটি কিসের গুণ?
  1. ক) শব্দের
  2. খ) পদের
  3. গ) বাক্যের
  4. ঘ) অর্থের
ব্যাখ্যা

• ভাষার বিচারে বাক্যের ৩টি গুণ থাকে।
• এগুলো হলোঃ
- আকাঙ্ক্ষা,
- আসত্তি ও
- যোগ্যতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৩৭৪.
শুদ্ধ বানানটি চিহ্নিত করুন।
  1. ক) রং
  2. খ) সঙ্গীত
  3. গ) ভয়ঙ্কর
  4. ঘ) সতীনাথ ভাদুড়ি
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ : সংগীত, ভয়ংকর, সতীনাথ ভাদুড়ী।
৩,৩৭৫.
কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দেবেন।
  2. অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
  3. শুধুমাত্র টাকার জোরে সব কিছু হয় না।
  4. আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: শুধুমাত্র টাকার জোরে সব কিছু হয় না।
শুদ্ধ: শুধু টাকার জোরে সব কিছু হয় না।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ: আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
শুদ্ধ: তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দেবেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩৭৬.
নিচের কোনটি প্রচলিত অশুদ্ধ?
  1. ধ্যানধারণা
  2. অনুকূল
  3. মরূদ্যান
  4. ইতিমধ্যে
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
প্রচলিত অশুদ্ধ বানান- ইতিমধ্যে।

'ইতোমধ্যে'-র অশুদ্ধ প্রচলিত রূপ = ইতিমধ্যে;

'ইতোমধ্যে' অর্থ: 
- ইত্যবসরে, এর মধ্যে।

অন্যদিকে,
’ধ্যাণধারণা’ শব্দের শুদ্ধরূপ = ধ্যানধারণা।
’অনূকুল’ শব্দের শুদ্ধরূপ = অনুকূল।
’মরুদ্যান’ শব্দের শুদ্ধরূপ = মরূদ্যান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩৭৭.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. শসিভূষণ
  2. শষিভূষণ
  3. শশিভূষণ
  4. শশিভুষণ
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান- শশিভূষণ।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- চন্দ্র যার অলংকার বা শিরোভূষণ।
- শিব।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৩,৩৭৮.
নিচের কোন বাক্যে ব্যতিহার কর্তা রয়েছে?
  1. মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।
  2. মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
  3. রাজায়-রাজায় লড়াই চলছে।
  4. আমার যাওয়া হবে না।
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকার হয়ে থাকে।
যথা
- মূখ্য কর্তা, 
- প্রযোজক কর্তা, 
- প্রযোজ্য কর্তা, 
- ব্যতিহার কর্তা। 

• ব্যতিহার কর্তা:
কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন:
- রাজায়-রাজায় লড়াই চলছে।
- বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩৭৯.
নিচের কোন বিপরীতার্থক শব্দযুগল সঠিক নয়?
  1. প্রাচ্য - পাশ্চাত্য
  2. বিন্দু - রাশি
  3. অনুগ্রহ - বিগ্রহ
  4. দার - স্বামী
ব্যাখ্যা
অনুগ্রহ - বিগ্রহ, বিপরীতার্থক শব্দযুগল সঠিক নয়। 
• সঠিক বিপরীতার্থক শব্দযুগল হবে: অনুগ্রহ - নিগ্রহ।
 
অন্যদিকে,
- প্রাচ্য - পাশ্চাত্য,
- বিন্দু - রাশি,
- দার - স্বামী।
এই বিপরীতার্থক শব্দযুগল সঠিক।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
৩,৩৮০.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অন্তঃপুর
  2. দৈন্যতা
  3. তিতীক্ষা
  4. জ্বরাজীর্ণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'অন্তঃপুর'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- অন্দরমহল,
- অবরোধ।

অন্যদিকে,
- জ্বরাজীর্ণ – জরাজীর্ণ, 
- তিতীক্ষা – তিতিক্ষা,
- দৈন্যতা – দৈন্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩৮১.
”গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল।“ - বাক্যটিতে ”গাঁয়ে” শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে শূন্য
  2. করণকারকে সপ্তমী
  3. কর্তৃকারকে সপ্তমী
  4. করণকারকে শূন্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃ কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।

• কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:

- প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি : হামিদ বই পড়ে।
- দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
- তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
- ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
- সপ্তমী বা এ বিভক্তি: গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
৩,৩৮২.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. সৌজন্নতা
  2. সৌজন্যতা
  3. সৌজন্ন
  4. সৌজন্য
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান - সৌজন্য

 • সৌজন্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = সুজন+য 
অর্থ: সুজনের ভাব বা আচরণ, সদাচরণ, ভদ্রতা, শিষ্টাচার। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,৩৮৩.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. সকল সভ্য সভায় উপস্থিত ছিলেন।
  2. বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।
  3. কালিদাস খ্যাতিমান কবি।
  4. একের লাঠি দশের বোঝা।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: একের লাঠি দশের বোঝা।
• শুদ্ধ: দশের লাঠি একের বোঝা।

অন্যদিকে, 
• শুদ্ধ: কালিদাস খ্যাতিমান কবি।
• শুদ্ধ: সকল সভ্য সভায় উপস্থিত ছিলেন।
• শুদ্ধ: বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩৮৪.
‘চাঁদে বসে মা শিশুকে ছাদ দেখাচ্ছেন’ বাক্যটিতে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) পদক্রমবিন্যাস জনিত
  2. খ) আসত্তি জনিত
  3. গ) যোগ্যতা জনিত
  4. ঘ) বাহুল্য জনিত
ব্যাখ্যা
‘চাঁদে বসে মা শিশুকে ছাদ দেখাচ্ছেন’ এই বাক্য গদ্যে যোগ্যতাহীন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৩৮৫.
নিচের কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. কষাকষি
  2. ষাণ্মাসিক
  3. কিষমিশ
  4. বিষয়ী
ব্যাখ্যা

⇒ বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো ‘ষ’ লেখা যাবে না।
যেমন: 
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।
তেমনইভাবে ষ্টেশন, ষ্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে, সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।

অন্যদিকে,
কষাকষি, ষাণ্মাসিক ও বিষয়ী শব্দগুলোতে ‘ষ’ এর ব্যবহার শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাশা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৩৮৬.
'সে চোখে হলুদ ফুল দেখছে' বাক্যটিতে কোন ধরনের ভুল রয়েছে?
  1. ক) বাচ্য প্রয়োগ
  2. খ) প্রবচনের প্রয়োগ
  3. গ) শব্দের অপপ্রয়োগ
  4. ঘ) বাহুল্য
ব্যাখ্যা
• সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।

যেমন- ''সে চোখে হলুদ ফুল দেখছে' -বাক্যটিতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
সঠিক বাক্যটি হবে - 'সে চোখে সরষে ফুল দেখছে'।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩৮৭.
বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্য কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. দুই 
  2. তিন 
  3. চার 
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা

• বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়:
- সক্রিয় বাক্য
- অক্রিয় বাক্য

• সক্রিয় বাক্য:
যে বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে.
যেমন:
- আমার মা চাকরি করেন।

• অক্রিয় বাক্য:
যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন:
- তিনি বাংলাদশের নাগরিক।
- তিনি জাতিতে বাঙ্গালি।
[এই বাক্যে কোনো কাজ বা ক্রিয়া কার্যকারিতা প্রকাশ পাচ্ছে না। এটি কেবল একটি বর্ণনা বা পরিচয় প্রকাশ করছে, যেখানে কোনো কর্ম বা কাজের সম্পাদন নেই।]

• তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়োগে এগুলো সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন:
- ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন’ বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৩,৩৮৮.
’বাংলাদেশ যেন জয়লাভ করে।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাসূচক
  2. বর্ণনাত্নক
  3. আবেগসূচক
  4. প্রার্থনাসূচক
ব্যাখ্যা
ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে ইচ্ছা, প্রার্থনা, উচ্ছ্বাস ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য বলে। একে ইচ্ছাসূচক, ইচ্ছাবোধক বাকাও বলা হয়।

যেমন:
- মমহারাজের জয় হোক।
- আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।
- বাংলাদেশ যেন জয়লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৩,৩৮৯.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. শ্রদ্ধাঞ্জলী
  2. উপরিউক্ত
  3. ইতঃপূর্বে
  4. উপর্যুক্ত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান- শ্রদ্ধাঞ্জলী।

• শুদ্ধ বানান: শ্রদ্ধাঞ্জলি (বিশেষ্য পদ)।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
এর অর্থ:
- শ্রদ্ধা নিবেদন।

অন্যদিকে,
উপরিউক্ত, ইতঃপূর্বে ও উপর্যুক্ত শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩৯০.
সাকিব বলল, "আমি এখানে থাকব"। - বাক্যটির পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তর কোনটি?
  1. সাকিব বলল যে, সে সেখানে থাকবে। 
  2. সাকিব বলল, "আমি সেখানে থাকব।"
  3. সাকিব বলল, "সে এখানে থাকবে।
  4. সাকিব জানাল যে আমি এখানে থাকব।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর — ক) সাকিব বলল যে, সে সেখানে থাকবে।

ব্যাখ্যা:
প্রত্যক্ষ উক্তি: বলল সাকিব, "আমি এখানে থাকব"।
সঠিক পরোক্ষ উক্তি: সাকিব বলল যে, সে সেখানে থাকবে।

উক্তি রূপান্তরের নিয়মসমূহ:
১. পুরুষের পরিবর্তন:
"আমি" → "সে" (প্রথম পুরুষ থেকে তৃতীয় পুরুষে)।

২. স্থানের পরিবর্তন:
"এখানে" → "সেখানে" (নিকট স্থান থেকে দূর স্থানে)।

৩. বাক্য গঠন:
উদ্ধৃতি চিহ্ন সরিয়ে "যে" সংযোজক অব্যয়।

৪. ক্রিয়ার রূপ:
"থাকব" → "থাকবে" (পুরুষ অনুযায়ী পরিবর্তন)।

অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল:
ক) এখনও প্রত্যক্ষ উক্তি (উদ্ধৃতি চিহ্ন আছে) এবং পুরুষ পরিবর্তন হয়নি।
গ) পুরুষ ও স্থান পরিবর্তন হয়নি ("আমি এখানে" রয়ে গেছে)।
ঘ) এখনও প্রত্যক্ষ উক্তি (উদ্ধৃতি চিহ্ন আছে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৩৯১.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. শ্রাদ্ধঞ্জলি
  2. শ্রদ্ধাঞ্জলি
  3. শ্রদ্ধাঞ্জলী
  4. শ্রদ্ধেয়াঞ্জলী
ব্যাখ্যা
• সঠিক বানান 'শ্রদ্ধাঞ্জলি'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- এর অর্থ: শ্রদ্ধা নিবেদন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩৯২.
'কুকর্মে বিরত হও।' -  বাক্যটিতে 'কুকর্মে' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্মকারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন: 
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- কুকর্মে বিরত হও।

অন্যদিকে:
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি  অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।

কর্মকারক: 
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৯৩.
কোন যতিচিহ্নের বিরতিকাল এক সেকেন্ড? 
  1. সেমিকোলন
  2. দাঁড়ি
  3. হাইফেন
  4. কমা
ব্যাখ্যা
দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
- বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়।
- এর বিরতিকাল এক সেকেন্ড।
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়। 
যেমন:
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।

অন্যদিকে, 
- হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
- কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
- সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩৯৪.
‘মাঠে ধান ফলেছে।’ - বাক্যে ‘মাঠে’ কোন কারক?
  1. ভাবাধিকরণ
  2. স্থানাধিকরণ
  3. বিষয়াধিকরণ
  4. কালাধিকরণ
ব্যাখ্যা
আধারাধিকরণ:
- আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়।

যেমন:
- তিলে তৈল আছে।
- নদীতে পানি আছে।
- মাঠে ধান ফলেছে।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯)।
৩,৩৯৫.
কোনটি অপাদান কারক?
  1. ক) গৃহহীনে গৃহ দাও
  2. খ) জিজ্ঞাসিব জনে জনে
  3. গ) ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে
  4. ঘ) বনে বাঘ আছে
ব্যাখ্যা
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

যেমনঃ
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- দুধ থেকে দই হয়।
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।
- পাপে বিরত হও।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩৯৬.
গরু এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ধেনু
  2. পয়স্বিনী
  3. মরুৎ
  4. গো
ব্যাখ্যা
পয়স্বিনী = নদীর সমার্থক শব্দ। আবার এটি দুগ্ধবতী গাভীর ও সমার্থক
অন্যদিকে,
মরুৎ = বাতাস/বায়ু
৩,৩৯৭.
‘মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে’- বাক্যটির সরল রূপ কোনটি? 
  1. যদি মেঘ গর্জন করে, তাহলে ময়ূর নৃত্য করে। 
  2. মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করবে। 
  3. মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।
  4. মেঘ গর্জন করে এবং ময়ূর নৃত্য করে।  
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
• সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছ। 
• পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে। 
• তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
 
যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক ব্যবহৃত হয়।
- কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে। 

• সূর্য উদিত হয়, তবে অন্ধকার দূর হয়। 
• সত্য কথা বলনি, তাই বিপদে পড়েছ। 
• হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।

♣ যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তর:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; আর সরল বাক্যে একটি।
- তাই যৌগিক থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময় মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়। 

• যৌগিক বাক্য: সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি। 
• সরল বাক্য: সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।   

• যৌগিক বাক্য: মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে। 
• সরল বাক্য: মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।  

• যৌগিক বাক্য: কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও।   
• সরল বাক্য: ভিক্ষুককে টাকা দাও।  

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩৯৮.
নিচের কোনগুলো শুদ্ধ বানানে লিখিত শব্দগুচ্ছ?
  1. ক) মনমোহন, রুপালি
  2. খ) মনযোগ, পশ্বধম
  3. গ) তিরষ্কার, বাগীশ্বরী
  4. ঘ) সুকেশিনী, স্বায়ত্তশাসন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান গুচ্ছ: সুকেশিনী, স্বায়ত্তশাসন

অপশন ক) -তে মনমোহন। 
অপশন খ) -তে  মনযোগ।
অপশন গ) -তে তিরষ্কার বানানগুলো অশুদ্ধ। 

•  ভুল বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:  মনোমোহন, মনোযোগ, তিরস্কার।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,৩৯৯.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ নয়?
  1. বিদ্বানকে সকলে শ্রদ্ধা করে।
  2. মুমূর্ষু রোগীকে শুশ্রূষা কর।
  3. তিনি সন্তুষ্ট হইলেন।
  4. রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য
ব্যাখ্যা
• 'রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য'- বাক্যটি শুদ্ধ নয়।  
বাক্যটির শুদ্ধরূপ: 'রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য'। 

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
‘উৎকর্ষ’ (উৎ + √কৃষ্ + অ) প্রত্যয় সাধিত শব্দ, এটি বিশেষ্য। 

আর এর সাথে 'তা’ (বিশেষ্য) প্রত্যয় যুক্ত করলে ‘উৎকর্ষতা’ হয় যা বিশেষ্যের দ্বিত্ব প্রয়োগ অর্থাৎ বাহুল্য দোষ। 
সুতরাং ’উৎকর্ষতা’ শব্দটি ভুল।

• তাই, বাক্যটি হবে- রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৪০০.
সাহিত্যে অলঙ্কার প্রধানত কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. ছয় প্রকার
ব্যাখ্যা
• অলঙ্কার:
কাব্যকে সৌন্দর্যমণ্ডিতও সহৃদয়হৃদয়সংবেদ্য করার জন্য কবি যেসব কৌশল অবলম্বন করেন, তাকে অলঙ্কার বলে।
সাহিত্যে অলঙ্কার প্রধানত দুই প্রকার।
 যথা:
১. শব্দালঙ্কার এবং
২. অর্থালঙ্কার।

শব্দালংকার:
শব্দের ধ্বনিরূপকে আশ্রয় করে যে অলংকারের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় শব্দালংকার। শব্দালংকারের নানা শ্রেণিবিভাগ রয়েছে। তন্মধ্যে প্রধান বিভাগগুলো হলো: অনুপ্রাস, যমক, শ্লেষ ও বক্রোক্তি।

অর্থালঙ্কার:
- যে অলঙ্কার একান্তভাবে শব্দের অর্থের উপর নির্ভর করে; অর্থ-প্রকাশক শব্দ বা শব্দাবলিকে পরিবর্তিত করে সেখানে সমার্থক অন্য শব্দ বসিয়ে দিলেও যে অলঙ্কার অক্ষুণ্ণ থাকে তাকে অর্থালঙ্কার বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।