বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৩৩ / ৬৯ · ৩,২০১৩,৩০০ / ৬,৯৫৩

৩,২০১.
কোন বাক্যটিতে কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি হয়েছে?
  1. শিক্ষককে জানাও।
  2. গুরুজনে কর নতি।
  3. বাঁশি বাজে।
  4. তাঁকে বল।
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।

যেমন:
- অসহায়কে সাহায্য করো। ( কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি)।
- শিক্ষককে জানাও। ( কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি)।
- বাঁশি বাজে। ( কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি)।
- তাঁকে বল। ( কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি)।

আরো কয়েকটি কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ- 
১। বাবা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ] 
২। আমি চিনি গাে চিনি তােমারে [ কর্মকারকে ২য়া বিভক্তি ] 
৩। ঈদের চাঁদ উঠেছে। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ] 
৪। কোন কাননে ফুটল ফুল। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ] 
৫। গুরুজনে কর নতি। [ কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি ] 
৬। বিপদে যেন করিতে পারি জয়। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ] 
৭। ডাক্তারকে ডাক। [ কর্মকারকে ২য়া বিভক্তি ]  
৮। গৃহহীনে গৃহ দিলে আমি থাকি ঘরে। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ]  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯ ও ২০২২)।
৩,২০২.
একটি পত্রের বাইরের অংশের উপর যেটা থাকে তাকে বলা হয় -
  1. পত্রগর্ভ
  2. শিরোনাম
  3. সম্ভাষণ
  4. মূলবক্তব্য
ব্যাখ্যা
• একটি পত্রের বাইরের অংশের উপর যেটা থাকে তাকে বলা হয় শিরোনাম।

সাধারণত একটি ব্যক্তিগত পত্রতে ছয়টি অংশ বিদ্যমান থাকে। যথা:
১. মঙ্গলসূচক শব্দ।
২. স্থান ও তারিখ।
৩. সম্বোধন ও সম্ভাষণ।
৪. চিঠির বক্তব্য।
৫. লেখকের স্বাক্ষর, বিদায় সম্ভাষণ।
৬. শিরোনাম- প্রেরক ও প্রাপকের নাম ঠিকানা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,২০৩.
সঠিক বানান নির্ণয় করুন।
  1. মুহুর্মুহু
  2. মূহুর্মুহু
  3. মুহুমূর্ছ
  4. মূহুর্মূহু
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - 'মুহুর্মুহু'।
- অব্যয় পদ।
-সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মুহুঃ + মুহুঃ।

অর্থ:
- বারবার,
- ঘনঘন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,২০৪.
'তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।' - এটি কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল
  2. যৌগিক
  3. জটিল
  4. খণ্ড
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য হলো—
যে বাক্যে একটি প্রধান বাক্য এবং এক বা একাধিক অধীন (নির্ভরশীল) বাক্য থাকে, এবং সেগুলো সাপেক্ষ যোজক (যেমন: যে, যদি, বলে, যখন, যেহেতু ইত্যাদি) দ্বারা যুক্ত থাকে।

বাক্যটি —
“তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।”

এখানে—
প্রধান বাক্য: আমি অপেক্ষা করছি।
অধীন বাক্য: তুমি আসবে।
সাপেক্ষ যোজক: বলে।
অধীন বাক্যটি প্রধান বাক্যের ওপর নির্ভরশীল, তাই এটি জটিল বাক্য।

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩,২০৫.
অধীন খণ্ডবাক্য কত প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
অধীন খণ্ডবাক্য তিন রকমের:

বিশেষ্যস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের যেকোনো পদের অধীন থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে। যেমন: আমি বাড়ি গিয়ে দেখলাম, সবার খাওয়া হয়ে গেছে।

বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ, অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন: যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে। (অধীন খণ্ডবাক্যটি 'সে-ই' সর্বনামের অবস্থা প্রকাশ করছে)

ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
যে অধীন খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন: 'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।'

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩,২০৬.
শুদ্ধ বানানগুচ্ছ কোনটি?
  1. ক) ব্যতীত, ব্যষ্টি
  2. খ) সত্ত্বা, স্বত্ব
  3. গ) সুষুপ্ত, ভষ্ম
  4. ঘ) আষীশ, কুশাসন
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানঃ
ব্যতীত, ব্যষ্টি
সত্তা, স্বত্ব
সুষুপ্ত, ভস্ম
আশিস, কুশাসন

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান

৩,২০৭.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) ক্ষীণজীবী
  2. খ) ক্ষীণজীবি
  3. গ) ক্ষীনজিবী
  4. ঘ) ক্ষীণজীবি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - ক্ষীণজীবী (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত প্রত্যয় = [ক্ষীণ+√জীব্+ইন্]
অর্থ: দীর্ঘজীবী নয় এমন, অল্পজীবী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,২০৮.
"দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।" এখানে 'দেশ থেকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণ কারকে ৫মী
  2. অধিকরণ কারকে ৫মী
  3. কর্ম কারকে ৫মী
  4. অপাদান কারকে ৫মী
ব্যাখ্যা
• "দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।" এখানে 'দেশ থেকে' অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।

• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। যেমন-

- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,২০৯.
'জমি থেকে ফসল পাই'- বাক্যে 'জমি থেকে' কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্তাকারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• 'জমি থেকে ফসল পাই'-  অপাদান কারকের উদাহরণ।
 
 অপাদান কারক: 
- যে কারকে কোনকিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ ও দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন: 
- জমি থেকে ফসল পাই। 
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,২১০.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অভীভুত
  2. অভিভুত
  3. অভীভূত
  4. অভিভূত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - অভিভূত
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ: 
- বিহ্বল।
- ভাবাবিষ্ট।
- পরাভূত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,২১১.
কলমটা লেখে ভালো। - বাক্যে 'কলমটা' কী?
  1. কর্ম-ভাববাচ্যের কর্তা
  2. কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা
  3. ভাববাচ্যের কর্তা
  4. কর্মবাচ্যের কর্তা
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন -
→ খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
→ মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

বাক্যের বাচ্য বা প্রকাশভঙ্গি অনুসারে কর্তা তিন রকম হতে পারে। 
যেমন -
১. কর্মবাচ্যের কর্তা (কর্মপদের প্রাধান্যসূচক বাক্যে): পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে।
২. ভাববাচ্যের কর্তা (ক্রিয়ার প্রাধান্যসূচক বাক্যে): আমার যাওয়া হবে না।
৩. কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা (বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয়): কলমটা লেখে ভালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,২১২.
কোনটি প্রান্তিক বিরামচিহ্ন?
  1. ড্যাস
  2. সেমিকোলন
  3. বিস্ময়বোধক
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য বাক্যের মধ্যে বা শেষে নিয়মিত বর্ণের পাশাপাশি সাংকেতিক চিহ্নকে যতিচিহ্ন বোঝায়। যতিচিহ্ন ছেদ বা বিরাম চিহ্ন নামেও পরিচিত।

বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরাম চিহ্ন ২ প্রকার:
প্রান্তিক বিরামচিহ্ন: দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময়বোধক প্রভৃতি।
বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন: কমা, সেমিকোলন, ড্যাস, হাইফেন ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,২১৩.
মালিকানা অর্থে কোন শব্দটির প্রয়োগ যথাযথ?
  1. ক) সত্ত্ব
  2. খ) স্বত্ব
  3. গ) স্বত্ত
  4. ঘ) স্বত্ত্ব
ব্যাখ্যা
স্বত্ব - (বিশেষ্য) ধনাদিতে অধিকার; মালিকানা
স্বত্বাধিকার (বিশেষ্য) - ভোগ দখল ও দান; বিক্রয়াদির অধিকার
স্বত্বাধিকারী (বিশেষণ) - মালিক; দখলকার
স্বত্বাধিকারিণী (স্ত্রীলিঙ্গ)।
সত্ত্ব (বিশেষ্য) - সত্তা; নিত্যতা; অস্তিত্ব।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৩,২১৪.
'তাতে সমাজজীবন চলে না।' - বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কোনটি?
  1. তাতে সমাজজীবন না চলে পারে না। 
  2. তাতে সমাজজীবন সচল হয়ে পড়ে।
  3. তাতে সমাজজীবন চলতে পারে না।
  4. তাতে সমাজজীবন অচল হয়ে পড়ে।
ব্যাখ্যা

মূলভাব বা অর্থ অপরিবর্তিত রেখে এক শ্রেণীর বাক্যকে অন্য শ্রেণীর বাক্যে পরিবর্তন কারার নামই হলো বাক্য রূপান্তর।

নেতিবাচক বাক্য থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর:
নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে।

সূত্র: ১
বাক্য পরিবর্তিত হলেও মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন -
নেতিবাচক: সেটা কখনোই সফল হতে পারে না।
নেতিবাচক: সেটা সর্বদাই অসফল হয়।

সূত্র: ২
'না', 'নয়', 'নি', 'নেই', 'নহে' ইত্যাদি নঞর্থক পদ তুলে দিতে হয় এবং শব্দের পরিবর্তন ঘটিয়ে হ্যা-বাচক ভাব ফুটিয়ে তুলতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: কোথাও শান্তি ছিল না
অস্তিবাচক: সর্বত্র অশান্তি ছিলো।

সূত্র: ৩
প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দ দ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: শহিদের মৃত্যু নেই।
অস্তিবাচক: শহিদেরা অমর।

তেমনিভাবে,
নেতিবাচক: তাতে সমাজজীবন চলে না।
অস্তিবাচক: তাতে সমাজজীবন অচল হয়ে পড়ে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,২১৫.
'এ বাড়িতে কেউ নেই।'- বাক্যে 'বাড়িতে' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়।

অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 

অধিকরণ কারকে অন্যান্য বিভক্তি
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি বরিশাল যাবো।
- বাবা বাড়ি নেই।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,২১৬.
'দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করবে।' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ইচ্ছাবোধক
  2. নির্দেশাত্মক
  3. অনুজ্ঞাবাচক
  4. বিস্ময়সূচক
ব্যাখ্যা

যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞা বাক্য বলে। একে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাহক, অনুজ্ঞাবাচক, অনুজ্ঞাসূচক বাক্যও বলা হয়।
যেমন-
উপদেশ-
- সদা সত্য কথা বলবে।
- দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করবে।
- ভালো ফলের চেষ্টা কর।

আদেশ-
- কাছে এসো।
- চুপটি করে বসো।
- উঠে দাঁড়াও।

অনুরোধ-
- দয়া করে আমাকে কাজটা করে দেবেন/দিন।
- কাজটি করে দাও না ভাই।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,২১৭.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নূন্যতম
  2. ন্যূনতম
  3. নুনতম
  4. ন্যূন্যতম
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ন্যূনতম।
- 'ন্যূনতম' মানে হলো সর্বনিম্ন বা কমপক্ষে।
বাক্য গঠন: এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে ন্যূনতম ৪০% নম্বর পেতে হবে।

অশুদ্ধ বানান- শুদ্ধ বানান:
মূর্ধণ্য- মূর্ধন্য, 
অতিথী- অতিথি,
নিরীক্ষন- নিরীক্ষণ,
শারিরীক- শারীরিক।  

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,২১৮.
‘ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ হাঁটিয়া চলিল’- বাক্যে ‘ঘোড়ায়’ কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সমাপদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।

অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।
- সারারাত বৃষ্টি ছিলো।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ঔষধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

প্রশ্নে প্রদত্ত ‘ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ হাঁটিয়া চলিল’- বাক্যেকে (কোথায় চড়িয়া?) দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘ঘোড়ায়’। সুতরাং ‘ঘোড়ায়’ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভিক্তির উদাহরণ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২১৯.
নিচের কোনটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ?
  1. তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিয়ে যেতে বললেন।
  2. যারা ভালো ছেলে, তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
  3. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত।
  4. তিনি আমকে পাঁচটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য:
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
- তিনি আমকে পাঁচটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।

অন্যদিকে,
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিয়ে যেতে বললেন।
- পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত।

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা:
- যারা ভালো ছেলে, তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,২২০.
নিচের কোনটি প্রমিত বানান?
  1. অর্জ্জন
  2. কর্ম্ম
  3. কার্য্য
  4. মূর্ছা
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,

• রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
যেমন:
- অর্জ্জন, কর্ম্ম, কার্য্য, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন, কর্ম, কার্য, মূর্ছা ইত্যাদি হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,২২১.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
  2. অন্যায়ের প্রতিফল দুনিবার্য।
  3. দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
  4. গাছটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধবাক্য: গাছটি সমূল/মূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।

অশুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল দুনিবার্য।
শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।

অশুদ্ধ: দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
শুদ্ধ: দশচক্রে ভগবান ভূত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,২২২.
'মেঘ করলে বৃষ্টি হয়' - বাক্যটির জটিল রূপ নিচের কোনটি?
  1. মেঘ করে, এবং তখন বৃষ্টি হয়।
  2. যখন মেঘ করে, বৃষ্টি হয়।
  3. যখন মেঘ করে, তখন বৃষ্টি হয়।
  4. যদি মেঘ করে তখন বৃষ্টি হয়।
ব্যাখ্যা
♠ সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
• তুমি এলে আমি যাব।
• দয়া করে সব খুলে বলুন।  
• সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূর হয়। 
• সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছ। 
• আমরা তিন ভাইবোন ( ক্রিয়া অনুপস্থিত)।

♠ জটিল বাক্য:  
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম;
- এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেমন-তেমন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।   
 
• যদিও তিনি ধনী, তথাপি তিনি সুখী না। 
•  যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব। 
• যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
• যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।  

♣ সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:  
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি তবে, যেহেতু সেহেতু, যখনতখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
- যেমন: 
• সরল বাক্য: মেঘ করলে বৃষ্টি হয়। 
• জটিল বাক্য: যখন মেঘ করে, তখন বৃষ্টি হয়।    

• সরল বাক্য: সূর্যোদয়ে পদ্মফুল ফোটে। 
• জটিল বাক্য: যখন সূর্য উদিত হয়, তখন পদ্মফুল ফোটে।  
• সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য। 
• জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য। 
• সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ। 
• জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।    

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,২২৩.
শুদ্ধ বানান - 
  1. প্রতিদন্দ্বীতা
  2. প্রতিদন্দ্বিতা
  3. প্রতিদ্বন্দ্বীতা
  4. প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
 • শুদ্ধ বানান - প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- পরস্পরের দ্বন্দ্ব বা বিরোধ।
- প্রতিযোগিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,২২৪.
কোন বানানটি ভুল?
  1. বাজিকর
  2. ম্লানত্ব
  3. আপমর
  4. আপিস
  5. অবমর্শ
ব্যাখ্যা

• 'আপমর' বানানটি ভুল।
শুদ্ধ বানান - আপামর।

অন্যদিকে,
সঠিক বানান :
- ম্লানত্ব, 
- বাজিকর
- আপিস 
- অবমর্শ।

উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,২২৫.
নিম্নের কোনটি সঠিক বানান?
  1. ঐকমত্য
  2. অগ্নাশয়
  3. আন্তরীক্ষ
  4. উৎকুলিত
ব্যাখ্যা
ঐকমত্য - বানানটি শুদ্ধ।
ঐকুমত্য (বিশেষ্য):
অর্থ - একমত, মতের অভিন্নতা।
------------
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ- 
অগ্ন্যাশয় (বিশেষ্য):
অর্থ - পাচনগ্রন্থি

আন্তরিক্ষ (বিশেষণ):
অর্থ - আকাশসমন্ধীয়।

উৎকূলিত (বিশেষণ):
অর্থ - কূলে উঠানো হয়েছে এমন, কূলে উৎক্ষিপ্ত।


উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,২২৬.
'টাকায় সবই হয়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণ কারকে ৭মী
  2. অপাদান কারকে ৭মী
  3. করণ কারকে ৭মী
  4. কর্ম কারকে ৭মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন-
- 'টাকায় সবই হয়' বাক্যে 'টাকায়' হচ্ছে সবকিছু হওয়ার উপায়।

একইভাবে,
- টাকায় বাঘের দুধ মিলে;
- সাধনায় সব হয়;
- ফলে বৃক্ষের পরিচয়;
- ব্যায়ামে শরীর ভালো থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,২২৭.
“ক্ষুদার্তকে খাদ্য দাও” - বাক্যে ‘ক্ষুদার্ত’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) সম্প্রদান কারকে শুণ্য বিভক্তি
  2. খ) সম্প্রদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি
  3. গ) সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
“ক্ষুদার্তকে খাদ্য দাও” - বাক্যে ‘ক্ষুদার্ত’ সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি

সম্প্রদান কারক:

যাকে স্বত ত্যাগ করে কিছু দেওয়া হয় তাকে সম্প্রদান কারক বলে । কাকে দান করা হলো ? প্রশ্নের উত্তরে যা পাওয়া যায় সেটই সম্প্রদান কারক।

• সম্প্রদান কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তির বদলে চতুর্থী বিভক্তি যুক্ত হয় । চতুর্থী বিভক্তি সাধারণত আর কোথাও যুক্ত হয় না । ‘কে/রে' বিভক্তি দুটি সম্প্রদান কারকের সঙ্গে থাকলে তা চতুর্থী বিভক্তি । 

• অন্য কোনো কারকের সঙ্গে থাকবে তা দ্বিতীয়া বিভক্তি হিসেবে গণ্য হয় । তবে কোথাও নিমিত্তার্থে 'কে' বিভক্তি যুক্ত হলে তা চতুর্থী বিভক্তি হিসেবে গণ্য করতে তার যেমন - বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল । (নিমিত্তার্থে চতুর্থী বিভক্তি)।

সম্প্রদান কারকে বিভক্তির প্রয়োগ :
- ভিক্ষা দাও আসিলে ভিক্ষুক। (কাকে ভিক্ষা দাও? ভিক্ষুক) : এখানে ভিক্ষুক সম্প্রদান কারকে শূন্য বিভক্তি। 
- ক্ষুদার্তকে খাদ্য দাও। (কাকে দান করা হলো? অসহায়কে) : সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি।
- অন্ধজনে দেহ আলো। (কাকে দান করা হলো? অন্ধজনে) : সম্প্রদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি। 
- সমিতিতে চাঁদা দাও। (কাকে দান করা হলো? সমিতিতে) : সম্প্রদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন ।
৩,২২৮.
‘শিমুল গাছটা বড় হলে চারদিকে তুলো ছড়িয়ে অস্থির করে দেবে।’- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. মিশ্র বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তোমরা বাড়ি যাও।
- শিমুল গাছটা বড় হলে চারদিকে তুলো ছড়িয়ে অস্থির করে দেবে।
- পয়লা পয়লা কাজে নেমে সবাই ভিমরি ভায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২২৯.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ন্যূন্যতম
  2. নূন্যতম
  3. নুনতম
  4. ন্যূনতম
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) ন্যূনতম।
--------------------
বাংলা একাডেমী আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধ বানান - ন্যূনতম।

• 'ন্যূনতম' মানে হলো সর্বনিম্ন বা কমপক্ষে।
বাক্য গঠন: এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে ন্যূনতম ৪০% নম্বর পেতে হবে।

অশুদ্ধ বানান- শুদ্ধ বানান:
মূর্ধণ্য- মূর্ধন্য, 
অতিথী- অতিথি,
নিরীক্ষন- নিরীক্ষণ,
শারিরীক- শারীরিক।  

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,২৩০.
ব্যাকরণের কোন অংশে 'যতিচিহ্ন' আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• 'যতিচিহ্ন' ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়। 

• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কিভাবে বিন্যস্ত থাকে বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া বাক্যের রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি এই অংশের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন ইত্যাদি বাক্যতত্ত্ব অংশে আলোচিত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,২৩১.
'এক সেকেন্ড' বিরতি কাল নয় কোন যতিচিহ্নের?
  1. কোলন ড্যাস চিহ্ন
  2. বিস্ময় চিহ্ন
  3. ব্র্যাকেট চিহ্ন
  4. ড্যাস চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• নিম্নের উল্লেখিত যতিচিহ্নের বিরতি কালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড'-
- দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস।

• থামার প্রয়োজন নেই-
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,২৩২.
‘অন্ধকার হয়ে এসেছে, বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।’ কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- তিনি আমাকে দশটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে, বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি, এতে দোষের কিছু নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,২৩৩.
“সাতাশ যদি হতো একশ সাতাশ” - এখানে কী বুঝাতে নিত্যবৃত্ত অতীত ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) কামনা
  2. খ) ইচ্ছা
  3. গ) সম্ভাবনা
  4. ঘ) অসম্ভব কল্পনায়
ব্যাখ্যা

নিত্যবৃত্ত অতীত কাল : অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে। যেমন : আমরা তখন রোজ সকালে নদীর তীরে ভ্রমণ করতাম।
নিত্যবৃত্ত অতীত কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ :
ক. কামনা প্রকাশে : আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতো।
খ. অসম্ভব কল্পনায় : সাতাশ যদি হতো একশ সাতাশ।
গ. সম্ভবনা প্রকাশে : তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২৩৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. প্রনিপাত
  2. প্রণিপাত
  3. প্রণীপাত
  4. প্রণিপত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'প্রণিপাত'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
প্রকৃতি প্রত্যয়: প্র + নি + √পত্‌ + অ।
অর্থ:
- নত হয়ে গুরুজনের পদধুলি গ্রহণ।
- অভিবাদন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৩,২৩৫.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. পুনরুজ্জীবন
  2. অন্তঃস্তল
  3. অদ্ভুত
  4. ধাঁধা
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - অন্তঃস্তল
- শুদ্ধ বানান - অন্তস্তল।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- মনো-মধ্য;
- মন, হৃদয়।

অন্যদিকে,
- পুনরুজ্জীবন,
- অদ্ভুত,
- ধাঁধা।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,২৩৬.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ না?
  1. ক) তোমার সঙ্গে আমার একটি গোপনীয় পরামর্শ আছে।
  2. খ) সুধীমন্ডলী উপস্থিত আছেন।
  3. গ) তারা যেন ভুল করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
  4. ঘ) আশাকরি তুমি নিরারোগ্য হয়েছো।
ব্যাখ্যা
তোমার সঙ্গে আমার একটি গোপনীয় পরামর্শ আছে।
সুধীমন্ডলী উপস্থিত আছেন।
তারা যেন ভুল করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
আশাকরি তুমি আরোগ্য লাভ করিয়াছো।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩,২৩৭.
বানানের নিয়ম অনুসারে ‘র, ষ, ক্ষ’ এই তিনটি অক্ষরের পরে বসে-
  1. ক) ণ
  2. খ) ঙ
  3. গ) ষ
  4. ঘ) শ
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলা শব্দের বানানে দন্ত্য-ন এর পরিবর্তে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহার হওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। সাধারণভাবে ‘র, ষ, ক্ষ’ এই তিনটি অক্ষরের পর মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়। 
• এখারে র অর্থ: র, ঋ, রেফ্, র-ফলা, ঋ-কার। উদাহরণ- কারণ, ঋণ, কর্ণ, তৃণ ইত্যাদি।
• ষ : ষণ্ড, ঘর্ষণ, বিষ্ণু, ভূষণ, দূষণ ইত্যাদি।
• ক্ষ : ক্ষণ, ক্ষীণ, ক্ষুণ্ন, ক্ষৌণী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা লেখার নিয়মকানুন, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,২৩৮.
‘বুলবুলিতে ধান খেয়েছে।’- বাক্যে ব্যবহৃত 'বুলবুলিতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে ২য়া বিভক্তি
  2. কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
  3. করণ কারকে শূণ্য বিভক্তি
  4. অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
⇒'বুলবুলিতে ধান খেয়েছে' - বাক্যে 'বুলবুলিতে' কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।

• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্তৃকারক বলে। ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
- তবে কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না।

• কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ-
- পাখি সব করে রব = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।
- আমার দ্বারা এ কাজ হবে না সাধন = কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তি।
- পাছে লােকে কিছু বলে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি।
- ঘােড়ায় গাড়ি টানে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৩৯.
নিচের কোনটি কর্তৃবাচ্যের উদাহরণ?
  1. রোগী পথ্য সেবন করে।
  2. চোরটা ধরা পড়েছে।
  3. এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
  4. এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।

• কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যথা -
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

অন্যদিকে,
--------------------
• কর্মবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,২৪০.
নিচের কোন বাক্যে বানানের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সে ক্রোধান্ধ হইয়াছে।
  2. নিস্ফল পরিশ্রম করলে।
  3. তাহার অপরিসীম আনন্দ হইল।
  4. মুমূর্ষু রোগীকে শুশ্রূষা করো।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: নিস্ফল পরিশ্রম করলে।
• শুদ্ধ বাক্য: নিষ্ফল পরিশ্রম করলে।

• নিয়ম:
⇒ বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।

⇒ তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায়: অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।

⇒ অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি।
⇒ (স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,২৪১.
‘কুকর্মে বিরত হও।’- এখানে ‘কুকর্মে‘ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. কর্তায় ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- বিরত: কুকর্মে বিরত হও। [কুকর্মে শব্দে অপাদান কারকে সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে]

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়। অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

• দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

• ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

• সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
- লোকমুখে শুনেছি।
- তিলে তৈল হয়।
- বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- জলে বাষ্প হয়।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৪২.
বাংলা ভাষার ব্যবহৃত কোলন চিহ্নটি হলো-
  1. :
  2. ;
  3. /
  4. " "
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে ব্যবহূত বিরামচিহ্নগুলো হচ্ছে:
- কমা (,),
- সেমিকোলন (;),
- কোলন (:),
- হাইফেন (-),
- ড্যাস (—),
- ঊর্ধ্বকমা (’),
- উদ্ধৃতিচিহ্ন (“ ”),
- বিকল্প চিহ্ন (/)।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ]
৩,২৪৩.
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্য কোন দোষে দুষ্ট হয়?
  1. গুরুচণ্ডালী দোষে
  2. বাচ্যজনিত দোষে 
  3. উপমার ভুল প্রয়োগে 
  4. বাহুল্য দোষে 
ব্যাখ্যা

• বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
যেমন:
- দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।

• বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না।
- দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
বাক্যটি হবে দেশের সব শিক্ষক এখানে উপস্থিত হয়েছেন অথবা দেশের শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।

অন্যদিকে,
• গুরুচণ্ডালী দোষ:
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।

- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
যেমন:
গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ।

• বাচ্যজনিত দোষ:
বাংলা ব্যাকরণে বাচ্যজনিত দোষ বলতে বাক্যে কর্মবাচ্য, কর্তৃবাচ্য বা ভাববাচ্যের ভুল প্রয়োগের ফলে বাক্যের অর্থের অস্পষ্টতা বা অশুদ্ধিকে বোঝায়। এটি সাধারণত বাক্যের গঠন ও শব্দের বাচ্য-সংক্রান্ত ত্রুটি, যার ফলে বাক্যটি শ্রুতিকটু বা ভাবপ্রকাশে অক্ষম হয়।

• উপমার ভুল প্রয়োগ:
- সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
- যেমনঃ 'এক পৌষে শীত যায় না' বাক্যটি ভুল৷ এতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ বাক্যটি হলো- এক মাঘে শীত যায় না (বিপদ বা প্রতিকূল অবস্থা সবসময় থাকে না)।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,২৪৪.
'লোকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।' বাক্যটির যৌগিকরূপ কোনটি?
  1. যদিও লোকটি অশিক্ষিত, তবে অভদ্র নয়।
  2. যদিও লোকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
  3. যেহেতু লোকটি অশিক্ষিত, তবে অভদ্র নয়।
  4. লোকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।

- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়। সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
সরল বাক্য: লোকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
যৌগিক বাক্য: লোকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,২৪৫.
গঠনগত ভাবে বাক্য কত প্রকার?
ব্যাখ্যা
• গঠনগত ভাবে বাক্য - ৩ প্রকার
যেমন:
১. সরল বাক্য,
২. জটিল বাক্য,
৩. যৌগিক বাক্য।

সরল বাক্য:
- একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।

জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

যৌগিক বাক্য:
- এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন:
- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,২৪৬.
'চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।' - বাক্যে 'চোর' কোন কারক?
  1. কর্তা
  2. কর্ম
  3. অপাদান
  4. করণ
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,২৪৭.
’যতই পরিশ্রম করবে ততই ফল পাবে’ -
  1. ক) নির্দেশক বাক্য
  2. খ) সরল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

জটিল বাক্য
একটি প্রধান বাক্যের সাথে এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারণভাবে বা কোন অনুগামি সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। যেমন: 
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যতই পরিশ্রম করবে ততই ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।
৩,২৪৮.
কোন শব্দে সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. নিরপরাধী
  2. সময়কাল
  3. বিবদমান
  4. দুরাবস্থা
ব্যাখ্যা
• 'সময়কাল'
- শব্দটির সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ হয়েছে। এর শুদ্ধরূপ: সময় / কাল

অন্যদিকে,
• 'দুরাবস্থা' - শব্দটির সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ হয়েছে। এর শুদ্ধরূপ: দুরবস্থা।
• বিবদমান - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
• 'নিরপরাধী' - শব্দটির সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ হয়েছে। এর শুদ্ধরূপ: নিরপরাধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,২৪৯.
নিচের কোনটি শুদ্ধ প্রয়োগ?
  1. প্রতিযোগী - প্রতিযোগীতা
  2. কৃতী - কৃতিত্ব
  3. দায়ী - দায়ীত্ব
  4. সহযোগী - সহযোগীতা
ব্যাখ্যা
• নিয়ম:
তৎসম শব্দে ইন্-প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে ‘ত্ব’ ও ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার হবে।
যেমন:
কৃতী - কৃতিত্ব,
দায়ী - দায়িত্ব,
প্রতিযোগী - প্রতিযোগিতা,
মন্ত্রী - মন্ত্রিত্ব,
সহযোগী - সহযোগিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,২৫০.
কোনটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ?
  1. লোকে কিনা বলে
  2. তুমি যে আমার কবিতা
  3. গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা
  4. জলে বাষ্প হয়
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’ ‘য়’ ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন: 
- আকাশে চাঁদ উঠেছে। (কোথায় উঠেছে? আকাশে) - অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা। (অধিকরণ কারকে সপ্তমী)।

অন্যদিকে,
- লোকে কিনা বলে। (কর্তা কারকে সপ্তমী)।
- তুমি যে আমার কবিতা। (কর্তা কারকে ষষ্ঠী)।
- জলে বাষ্প হয়। (করণে কারকে সপ্তমী)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৫১.
"বসন্তে কোকিল ডাকে।"- এ বাক্যে বসন্তে কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক 
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্মকারক
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

যেমন-
- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।
- বসন্তে (সময়) কোকিল ডাকে। 

• "বসন্তে নানা রকম কোকিল ডাকে।"
-এ বাক্যে ক্রিয়াকে 'কখন' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় - ‘বসন্তে’। 

সুতরাং, এখানে 'বসন্তে' অধিকরণ কারক এর উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৫২.
‘তোমার মঙ্গল হোক’ - এটা কি ধরনের বাক্য?
  1. ক) বিবৃতিমূলক বাক্য
  2. খ) ইচ্ছাসূচক বাক্য
  3. গ) আদেশ বাচক বাক্য
  4. ঘ) বিস্ময়সূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
উক্ত বাক্যটি ইচ্ছাসূচক বাক্য। এ ধরনের বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস, আকাঙ্খা করা হয়।
এধরনের আরো কয়েকটি বাক্য - ঈশ্বর তোমাকে জয়ী করুন। পরীক্ষায় সফল হও। দীর্ঘজীবী হও।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৫৩.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) পুরষ্কার
  2. খ) বহিষ্কার
  3. গ) রেজিষ্ট্রেশন
  4. ঘ) লজ্জাস্কর
ব্যাখ্যা
• পুরষ্কার, রেজিষ্ট্রেশন, লজ্জাস্কর  বানান গুলো সঠিক নয়। 
- এর সঠিক বানানগুলো হলো যথাক্রমে- পুরস্কার, রেজিস্ট্রেশন, লজ্জাকর। 

• 'বহিষ্কার ' বানানটি শুদ্ধ।  

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন। 
৩,২৫৪.
বাক্যের একক কোনটি?
  1. উক্তি
  2. বিভক্তি
  3. উপসর্গ
  4. শব্দ
ব্যাখ্যা
বাক্য: 
- এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
- যেমন: “সজল ও লতা বই পড়ে।” – এটি একটি বাক্য। পাঁচটি শব্দ দিয়ে গঠিত এই বাক্যে বক্তার মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশিত হয়েছে। 

- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।
- এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক। 

- গঠনগত দিক দিয়ে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়: 
১. সরল,
২. জটিল ও
৩. যৌগিক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
৩,২৫৫.
নিচের কোন শব্দে ‘বহুল’ এর প্রয়োগ অশুদ্ধ?
  1. ব্যয়বহুল
  2. কর্মবহুল
  3. বহুলপ্রয়োগ
  4. বিলাসবহুল
ব্যাখ্যা

বহুল শব্দের অপপ্রোয়গ ঘটেছে - বহুলপ্রয়োগ শব্দে।

• শুদ্ধ প্রয়োগ - বহুল প্রয়োগ।

‘বহুল’ শব্দ ব্যবহৃত কিছু শব্দ হলো:
- বহুল পরিমাণ,
- ব্যয়বহুল,
- বিলাসবহুল,
- কর্মবহুল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,২৫৬.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. অগ্রগণ্য
  2. দধীচি
  3. উচ্চৈঃস্বরে
  4. চন্ডালিকা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'চন্ডালিকা' বানানটি অশুদ্ধ। 
এর শুদ্ধ বানান- 'চণ্ডালিকা'।

• 'চণ্ডালিকা' অর্থ : একপ্রকার সেতার। 

অন্য অপশনের বানান,

অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
• অগ্রগন্য - অগ্রগণ্য;
• উচ্চৈস্বরে - উচ্চৈঃস্বরে;
• দধীচী- দধীচি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,২৫৭.
'কার্পণ্যতা' শব্দটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. বাহুল্যজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. বানানজনিত
  4. সমাসসাধিত
ব্যাখ্যা

• 'কার্পণ্যতা' শব্দটি-  'অপপ্রয়োগ'। 
-এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: 'কার্পণ্য'। 
এটি প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ। 
 
• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।
 
• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৩,২৫৮.
'ব প হ রি' শব্দটির সাথে কোন বর্ণটি যোগ করলে একটি অর্থবোধক শব্দ গঠিত হবে?
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 'ব প হ রি' শব্দটির সাথে কোন বর্ণটি যোগ করলে একটি অর্থবোধক শব্দ গঠিত হবে?

সমাধান:
'ব প হ রি' শব্দটির সাথে 'ণ' বর্ণটি যোগ করলে একটি অর্থবোধক শব্দ গঠিত হবে - পরিবহণ।

• পরিবহণ, পরিবহন
- স্থান থেকে স্থানান্তরে প্রাণী ও বস্তু বহন।
- (বিজ্ঞান) কোনো বস্তুর মধ্য দিয়ে তড়িৎ তাপ ইত্যাদির সঞ্চালন।

উৎস:
১. বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান
২. Accessible Dictionary by Bangla Academy

৩,২৫৯.
শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. বিদ্যান মুর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।
  2. আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নাই।
  3. কালীদাস খ্যাতমান কবি।
  4. আবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য উচিত নয়।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ: আবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য উচিত নয়।

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ: বিদ্যান মুর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।
শুদ্ধ: বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।

অশুদ্ধ: আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নাই।
শুদ্ধ : আমার আর বাঁচিবার সাধ নাই।

অশুদ্ধ কালীদাস খ্যাতমান কবি।
শুদ্ধ : কালিদাস খ্যাতিমান কবি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৩,২৬০.
খনিতে সোনা পাওয়া যায়।’- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তায় সপ্তমী
  2. খ) অপাদানে সপ্তমী
  3. গ) করণে ২য়া
  4. ঘ) কর্মে শূন্য
ব্যাখ্যা

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
প্রশ্নোক্ত বাক্যে ‘খনি’ থেকে ‘সোনা’ উৎপন্ন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই তা অপাদান কারক।
এতে 'এ' বিভক্তি যুক্ত আছে, তাই এটি অপাদানে সপ্তমী বিভক্তি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২৬১.
শুদ্ধ বাক্য চিহ্নিত করুন?
  1. ক) আইনগতভাবে তিনি একাজ করতে পারেন না।
  2. খ) অতিশয় দুঃখিত হলাম।
  3. গ) হাসিব, তুমি ও আমি আজ পড়তে যাব।
  4. ঘ) ভাইয়ে ভাইয়ে ঐক্যতা নাই।
ব্যাখ্যা

উপরিউক্ত বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ:
অপশন ক: আইনত তিনি একাজ করতে পারেন না।
অপশন খ: অতিশয় দুঃখ পেলাম।
অপশন ঘ: ভাইয়ে ভাইয়ে একতা নাই।
তথ্যসূত্র: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি-ড. হায়াৎ মাহমুদ, প্রমিত বাংলা বানান-ড. মোহাম্মদ আমীন

৩,২৬২.
'আলোয় আঁধার কাটিয়া যায়।'- এখানে 'আলোয়' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক।
যেমন:
- 'এ পেন্সিলে ভালো লেখা হয়।'
[এখানে 'কিসের দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পেন্সিলে'। সে অনুসারে এখানে 'পেন্সিলে' হচ্ছে করণ কারকের উদাহরণ।]

এরূপ-
- আলোয় আঁধার কাটিয়া যায়।
বাক্যটিকে 'কীসের দ্বারা আঁধার কাটিয়া যায়?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'আলোয়'। সুতরাং 'আলোয়' করণে শূন্য বিভক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,২৬৩.
যাকাতের টাকা ঠিকমত দিন' যাকাতের শব্দটি কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. সম্প্রদান
  3. কর্ম কারক
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা
• 'যাকাতের টাকা ঠিকমত দিন' বাক্যে 'যাকাতের' শব্দটি সম্প্রদান কারক। 

সম্প্রদান কারক:

- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক।
- দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে।
- তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্পদান কারক হয় না।
যেমন: 
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও। (সম্প্রদানে ৪র্থী)।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর। (সম্প্রদানে সপ্তমী)।
- সমিতিতে চাঁদা দাও। (সম্প্রদানে সপ্তমী)।
- অন্ধজনে দেহ আলাে। (সম্প্রদানে সপ্তমী)।
- যাকাতের টাকা ঠিকমত দিন। (সম্প্রদানে ষষ্ঠী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,২৬৪.
'তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য: যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে।
যেমন:
- আমরা তিন ভাইবোন।

• বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়।
যেমন:
-তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,২৬৫.
কোন বানানটি অশুদ্ধ ?
  1. চৈতালি
  2. চুড়ান্ত
  3. চৈত্যলিপি
  4. চূর্ণীভূত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - চুড়ান্ত।

• শুদ্ধ বানান: চূড়ান্ত (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = (চূড়া + অম+ ত),
অর্থ: চরম সীমা, পরাকাষ্ঠা, চরম উৎকর্ষ, সর্বশেষ।

অন্যদিকে,
চূর্ণীভূত, চৈতালি ও চৈত্যলিপি শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,২৬৬.
ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদা কোন পুরুষ হয়?
  1. উত্তম পুরুষ
  2. নাম পুরুষ
  3. কাল পুরুষ
  4. মধ্যম পুরুষ
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,২৬৭.
নিম্নের কোন শব্দ গুচ্ছের বানান শুদ্ধ?
  1. অঙ্গন, কঙ্কন
  2. উজ্জ্বল, মুমুর্ষু
  3. বাণী, বীণা
  4. স্বান্তনা, আয়ত্ব
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নে প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে -

অপশন ক) 'অঙ্গন' শুদ্ধ হলেও 'কঙ্কন' বানানটি অশুদ্ধ; যার শুদ্ধ রূপ - কঙ্কণ।
অপশন খ) 'উজ্জ্বল' শুদ্ধ হলেও 'মুমুর্ষু' বানানটি অশুদ্ধ; যার শুদ্ধ রূপ - মুমূর্ষু।
অপশন গ) 'বাণী' ও 'বীণা' দুটি বানানই শুদ্ধ
অপশন ঘ) 'স্বান্তনা' ও 'আয়ত্ব' দুটি বানানই অশুদ্ধ; যাদের শুদ্ধ রূপ - 'সান্ত্বনা' ও  'আয়ত্ত'।

বাণী:
- শব্দটি বিশেষ্য।
- অর্থ: শব্দ; ভাষা; উক্তি; ভাষণ।

বীণা:
- শব্দটি বিশেষ্য।
- অর্থ: টোকা দিয়ে বাজানো হয় এমন সাতটি তারের সেতারজাতীয় বাদ্যযন্ত্রবিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,২৬৮.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. ক) উৎকর্ষ
  2. খ) ভারসাম্য
  3. গ) দারিদ্রতা
  4. ঘ) চাতুর্য
ব্যাখ্যা
'দারিদ্রতা' শব্দটি প্রত্যয়ঘটিত অপপ্রয়োগের উদাহরণ।
এর সঠিক শব্দ: দারিদ্র্য, দরিদ্রতা। 

তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।  
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩,২৬৯.
'গাছ থেকে পাতা পড়ে।'- এখানে 'গাছ থেকে' কোন কারক?
  1. করণে পঞ্চমী
  2. অপাদানে পঞ্চমী
  3. কর্মে পঞ্চমী
  4. অধিকরণে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে।-অপাদান কারকে পঞ্চমী।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।- অপাদান কারকে পঞ্চমী।
- বিরত: পাপে বিরত হও। - অপাদান কারকে সপ্তমী।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
৩,২৭০.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ঘূর্ণন
  2. বিভীষিকা
  3. মহত্ব
  4. সমীচীন
ব্যাখ্যা
• 'মহত্ব'- বানানটি শুদ্ধ নয়। 
এর শুদ্ধ বানান হবে- 'মহত্ত্ব'। 
 
বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে,
'মহত্ত্ব' এর অর্থ- উদারতা, প্রকর্ষ।

অন্যদিকে,
• শুদ্ধ বানান: ঘূর্ণন (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
যার অর্থ: অনবরত আবর্তন, চক্রগতি।

• শুদ্ধ বানান: বিভীষিকা (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত থেকে আগত শব্দ।
অর্থ: আতঙ্ক, ভীতিকর ঘটনা।

• শুদ্ধ বানান: সমীচীন (বিশেষণ),
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
- এর অর্থ হচ্ছে: সংগত, উপযুক্ত, উত্তম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,২৭১.
সমন্ধ কারকের উদাহরণ আছে কোন বাক্যে?
  1. তোমার ঘড়িটা সুন্দর।
  2. আর কত চেষ্টা করবে?
  3. দ্রুত সেখানে যাও।
  4. চেষ্টায় কী না হয়।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ক) তোমার ঘড়িটা সুন্দর।

ব্যাখ্যা:
"তোমার ঘড়িটা সুন্দর" বাক্যে 'তোমার' শব্দটি সম্বন্ধ পদ (সম্পর্ক নির্দেশক)।

সম্বন্ধ পদ চিহ্নিতকরণ:
প্রশ্ন: কার ঘড়ি?
উত্তর: তোমার।
এখানে, 'তোমার' = সম্বন্ধ পদে ষষ্ঠী বিভক্তি ('র')।

সম্বন্ধ পদের বৈশিষ্ট্য:
- দুটি বিশেষ্যের মধ্যে সম্পর্ক প্রকাশ করে।
- সাধারণত র, এর বিভক্তি যুক্ত হয়।

অন্য বাক্যগুলোর বিশ্লেষণ:

খ) আর কত চেষ্টা করবে- 'কত' সংখ্যাবাচক বিশেষণ।
গ) দ্রুত সেখানে যাও- 'দ্রুত' ক্রিয়া বিশেষণ।
ঘ) চেষ্টায় - করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

তাই সঠিক উত্তর ক) তোমার ঘড়িটা সুন্দর।

 উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,২৭২.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. জ্ঞানী মানুষ অবশ্যই যশলাভ করেন।
  2. নিরপরাধী ব্যক্তিকে ক্ষমা কর।
  3. মৃত্যুভয়ে সে সশঙ্কিত হল।
  4. দুষ্কৃতকারী সমাজের শত্রু।
ব্যাখ্যা
• "দুষ্কৃতকারী সমাজের শত্রু।" - বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ বাক্য: জ্ঞানী মানুষ অবশ্যই যশলাভ করেন।
শুদ্ধ বাক্য: জ্ঞানী মানুষ অবশ্যই যশোলাভ করেন।

• অশুদ্ধ বাক্য: নিরপরাধী ব্যক্তিকে ক্ষমা কর।
শুদ্ধ বাক্য: নিরপরাধ ব্যক্তিকে ক্ষমা কর।

• অশুদ্ধ বাক্য: মৃত্যুভয়ে সে সশঙ্কিত হল।
শুদ্ধ বাক্য: মৃত্যুভয়ে সে শঙ্কিত হলো।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৭৩.
"তাহার উদ্ধতপূর্ণ আচরণে ব্যথিত হইয়াছি।" - বাক্যটিতে কোন ধরনের ভুল রয়েছে?
  1. বাচ্যজনিত ভুল
  2. উপমার ভুল প্রয়োগ
  3. শব্দের অপপ্রয়োগ
  4. ভুল নেই
ব্যাখ্যা

প্রদত্ত বাক্যে ‘উদ্ধতপূর্ণ’ শব্দটির প্রয়োগ সঠিক নয়। বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - উদ্ধত/ঔদ্ধত্য (বিশেষ্য);
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: দৃঢ়তা, স্পর্ধা, অবিনয়, উগ্রতা, দর্প, গর্ব।
 
• "তাহার উদ্ধতপূর্ণ আচরণে ব্যথিত হইয়াছি।" - ভুল বাক্যটির সঠিক রূপ -
- তাহার উদ্ধত/ঔদ্ধত আচরণে ব্যথিত হইয়াছি।

সঠিক উত্তর: গ) শব্দের অপপ্রয়োগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,২৭৪.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. নিজের ঘরসংসারের দিকে সে কোনো লক্ষই করে না। 
  2. নিজের ঘরসংসারের দিকে তার কোনো লক্ষ্য নেই। 
  3. আমার লক্ষ দেশের উন্নতি করা।
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ- আমার লক্ষ দেশের উন্নতি করা।
শুদ্ধ: আমার লক্ষ্য দেশের উন্নতি করা। 

লক্ষ/লক্ষ্য এর ব্যবহার: 

আমরা সকলেই জানি যে, 'লক্ষ' শব্দের অর্থ ১০০ হাজার এবং 'লক্ষ্য' মানে উদ্দেশ্য বা দেখা। আমরা যা জানি না তা হলো, উদ্দেশ্য বা দেখা অর্থে লক্ষ্য ও লক্ষ দুটো বানানই ঠিক, তবে বাক্যে এদের প্রয়োগ করার মধ্যে ভিন্নতা আছে।

যেমন:
(ক) আমার লক্ষ্য দেশের উন্নতি করা। (উদ্দেশ্য অর্থে)
(খ) নিজের ঘরসংসারের দিকে তার কোনো লক্ষ্য নেই। (দৃষ্টি, নজর অর্থে।
(গ) নিজের ঘরসংসারের দিকে সে কোনো লক্ষই করে না। (দৃষ্টি, নজর অর্থে।

অর্থাৎ, দৃষ্টিপাত করা, মনোযোগ দেওয়া অর্থে এই শব্দের বানান দু রকম হচ্ছে: বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহার করলে য-ফলা দিতে হবে (ক সংখ্যক এবং খ সংখ্যক উদাহরণ)। আর ক্রিয়াপদ হিসেবে ব্যবহার করলে য-ফলা লাগবে না (গ-সংখ্যক উদাহরণ)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.  হায়াৎ মামুদ। 

৩,২৭৫.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. গড্ডলিকা
  2. গড্ডালিকা
  3. গড্ডলীকা
  4. গড্ডালীকা
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - গড্ডলিকা
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- অগ্রবর্তী ভেড়াকে অনুসরণকারী ভেড়ার পাল।

উৎস: বাংলা একডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,২৭৬.
আমি বললাম আমি ভালো আছি- বাক্যটির যতিচিহ্ন সম্বলিত সঠিক রূপ কোনটি?
  1. ক) আমি বললাম, আমি ভালো আছি।
  2. খ) আমি বললাম "আমি ভালো আছি।"
  3. গ) আমি বললাম, "আমি ভালো আছি।"
  4. ঘ) আমি বললাম আমি ভালো আছি।
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন সম্বলিত সঠিক রূপ- আমি বললাম, "আমি ভালো আছি।"
- উদ্ধৃতি চিহ্নের আগে কমা বসে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,২৭৭.
’রিশাদকে নিহাল সাহায্য করেছে’- বাক্যটিতে কর্মসূচক শব্দ কোনটি?
  1. নিহাল
  2. সাহায্য
  3. রিশাদকে
  4. করেছে
ব্যাখ্যা

’রিশাদকে নিহাল সাহায্য করেছে’- বাক্যটিতে কর্মসূচক শব্দ = রিশাদকে।

• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়। 
যেমন-
শিক্ষককে জানাও।
রিশাদকে নিহাল সাহায্য করেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৩,২৭৮.
‘অহঙ্কার পতনের মূল‘ বাক্যে ‘অহঙ্কার‘ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে শূন্য
  2. করণে শূন্য
  3. অপাদানে শূন্য
  4. অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
‘অহঙ্কার পতনের মূল‘ বাক্যে ‘অহঙ্কার‘ শব্দটি করণ কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।

• করণ কারক
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক। 

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা' বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি – টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি – তার কথা যেন মধুতে মাখা। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৭৯.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নীরিহ
  2. নিরিহ
  3. নিরীহ
  4. নীরীহ
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান- নিরীহ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৩,২৮০.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. আমার আর বাচার স্বাদ নেই।
  2. আমার আর বাচিবার স্বাদ নেই।
  3. আমার আর বাচার সাধ নেই৷
  4. কোনোটিই নয়৷
ব্যাখ্যা
বাঁচা অর্থ জীবিত থাকা, সাধ অর্থ ইচ্ছা এবং স্বাদ অর্থ রসনা দ্বারা স্পর্শ করে প্রাপ্ত অনুভূতি। তাই এখানে কোন শুদ্ধ বাক্য নেই৷ উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমী অভিধান।
৩,২৮১.
'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'- বাক্যটির জটিলরূপ কোনটি?
  1. ইহাদের ন্যায় রূপবতী এবং রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
  2. ইহারা রূপবতী ও রমণী ইহাদের ন্যায় আমার অন্তঃপুরে কেউ নাই।
  3. ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
  4. ইহারা রূপবতী রমণী কিন্তু ইহাদের ন্যায় আমার অন্তঃপুরে নাই।
ব্যাখ্যা
• সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থওমূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে-

• সূত্র: বাক্য পরিবর্তিত হলেও মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন:
- সরল: 'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
- জটিল: 'ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'

• সূত্র: সরল বাক্যের উদ্দেশ্য বা কর্তা ও বিধেয় বা সমাপিকা ক্রিয়াকে পরিবর্তন না করে সাধারণত জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যটি গঠিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হয়।
যেমন:
- সরল: 'তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা হওয়া সত্ত্বেও তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'
- জটিল: 'যদিও তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা, তথাপি তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'

• সূত্র: সরল বাক্যের বাকি অংশ বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্যে পরিণত হয়।
যেমন:
- সরল: 'ভূস্বামী স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করিলে প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'
- জটিল: 'ভূস্বামী যখন স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করেন, তখন প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'

• সূত্র: প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্য সাপেক্ষ সর্বনাম (যা, তা) কিংবা যোজক শব্দ (যদি, তবে) দ্বারা যুক্ত হয়।
যেমন:
- সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
- জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'

- সরল: 'কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করাই তাহার একমাত্র প্রয়োজন।'
- জটিল: 'যাহা তাঁহার একমাত্র প্রয়োজন, তাহা হইল কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করা।'

সরল বাক্যকে জটিল বাক্যতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কতিপয় যোজক ও সর্বনাম:
• সাপেক্ষ যোজক: বটে-কিন্তু, যেই-সেই, বরঞ্চ-তথাপি, হয়-নয়, এত-যে, যেমন-তেমন, একে-তায়, যদি-তবু। তাহলে, এরূপ-যে-সে, যত-তত, যাই-তাই ইত্যাদিকে সাপেক্ষ যোজক বলে।

• সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল এক প্রকার সংযোগমূলক সর্বনামই সাপেক্ষ সর্বনাম। যেমন: যে-সে, যিনি-তিনি, যা-তা, যার-তার, যতক্ষণ-ততক্ষণ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,২৮২.
বর্ষার রোদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’-বাক্যটিতে কোন গুণের অভাব রয়েছে?
  1. ক) আসত্তি
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) উৎকর্ষতা
  4. ঘ) আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা

ভাষার বিচারে বাক্যের তিনটি গুণ থাকা আবশ্যক। যথা- আকাক্সক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা।
আকাঙ্ক্ষা : বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন: ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’ বলে শেষ করলে আরও শোনার আকাঙ্ক্ষা থাকে। বাক্যটি হবে ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে’।
আসত্তি : বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন: কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। বাক্যটি যথাযথ হয়নি কারণ, এখানে আসত্তির অভাব রয়েছে। বাক্যটি হবে ‘কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে’।
যোগ্যতা : বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি হয়-বাক্যটি যোগ্যতাসম্পন্ন। কিন্তু ‘বর্ষার রোদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’ বললে বাক্যটি যোগ্যতা হারাবে। কারণ, রোদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে না।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২৮৩.
'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে' বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অপাদানে সপ্তমী
  2. খ) কর্মে সপ্তমী
  3. গ) করণে পঞ্চমী
  4. ঘ) কর্তায় সপ্তমী
ব্যাখ্যা
জিজ্ঞাসিবে জনে জনে; এখানে 'জনে জনে' কর্মকারকে ৭মী । 

কর্ম কারক
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে ।
বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।

যেমন-
- সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায় ।
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো ।

কর্মকারকের বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার।
ক) প্রথমা বা শূন্য অ বিভক্তি : ডাক্তার ডাক।
- আমাকে এক খানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মূখ্য কর্ম)। 
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না।(গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট প্রয়ােগ)।
খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি : তাকে বল।
রে বিভক্তি : ‘আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মাের প্রার্থনা।
গ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি : তােমার দেখা পেলাম না।
ঘ) সপ্তমীর এ বিভক্তি: জিজ্ঞাসিবে জনে জনে। (বীপ্সায়)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩,২৮৪.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ঐন্দ্রজালীক
  2. ইন্দ্রজালিক
  3. ঈন্দ্রজালিক
  4. ঈন্দ্রজালীক
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান: ইন্দ্রজালিক
- শব্দটি বিশেষণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: ইন্দ্রজাল + ইক।
- অর্থ: ইন্দ্রজালসম্বন্ধীয়; কুহকী, মায়াবী।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,২৮৫.
'শরতে শিউলি ফোটে।' কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য 
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

• কর্তাবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন:
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
- শরতে শিউলি ফোটে।
- ঝরণা ছবি আঁকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩,২৮৬.
'শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।' নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
  2. করণ কারকে শূন্য বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি
  4. কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- করণ' শব্দটির অর্থ : যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ -কলম)
- ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া)
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।
- শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়। (করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,২৮৭.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. মাতৃহীন শিশুর কী দুঃখ!
  2. ফেলো টাকা মাখো তেল।
  3. কাব্যটির উৎকর্ষ প্রশংসনীয়।
  4. পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: ফেলো টাকা মাখো তেল।
শুদ্ধ: ফেলো কড়ি মাখো তেল।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ: পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।
শুদ্ধ: কাব্যটির উৎকর্ষ প্রশংসনীয়।
শুদ্ধ: মাতৃহীন শিশুর কী দুঃখ!

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,২৮৮.
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগে কোন দোষ ঘটে?
  1. ক) রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা
  2. খ) দুর্বোধ্যতা
  3. গ) বাহুল্য দোষ
  4. ঘ) গুরুচণ্ডালী দোষ
ব্যাখ্যা
গুরুচণ্ডালী দোষ - তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগে কখনো কখনো গুরুচণ্ডালী সৃষ্টি হয়।  এ দোষে দুষ্টু শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন - গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপোরা প্রভৃতির স্থলে গরুর শকট, শবপোড়া, মড়াদাহ এর ব্যবহার গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,২৮৯.
অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  2. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
  3. অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
  4. মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
ব্যাখ্যা
• বাক্যে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় বাক্য গঠনে ভুল হয়। 
যেমন-
⇒ অশুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
⇒ শুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

অন্যদিকে,
⇒ মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
⇒ তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
⇒ অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।

বাক্যে শব্দের গঠন অনুসারে উপরিউক্ত বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,২৯০.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. সরোবরে
  2. চশমা
  3. সরোজ
  4. চম্পক
ব্যাখ্যা
• সরোবর (বিশেষ্য পদ),
অর্থ: বড় পুষ্করিণী; দিঘি; হ্রদ; পদ্ম, শাপলা প্রভৃতি ফুলযুক্ত পুষ্করিণী (ফুটিয়াছে সরোবরে কমলনিকর)।

• ‘সরোবর’ শব্দে ‘এ’ সপ্তমী বিভক্তিযুক্ত হয়ে গঠিত শব্দ ‘সরোবরে’।

-----------------
• বিভক্তি:
যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।

• বাংলা শব্দে বিভক্তি ৭ প্রকার। যথা:
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: শূণ্য, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।
৩,২৯১.
বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায় - এই বাক্যে 'বাঘে - মহিষে' কোন ধরনের কর্তা?
  1. মুখ্য কর্ত
  2. প্রযোজক কর্তা
  3. প্রযোজ্য কর্তা
  4. ব্যতিহার কর্তা
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকার হয়ে থাকে।
যথা
-মূখ্য কর্তা 
- প্রযোজক কর্তা 
- প্রযোজ্য কর্তা 
- ব্যতিহার কর্তা 

ব্যতিহার কর্তা:
- কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন:
- রাজায়-রাজায় লড়াই,
- বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,২৯২.
'Physicians heal thyself' এর সঠিক বাংলা অনুবাদ কী?
  1. আপ ভালা তো জগৎ ভালা।
  2. চাচা আপন প্রাণ বাচা।
  3. পরিশ্রমই সৌভাগ্যের মূল বা প্রসূতি।
  4. তিলকে তাল করা।
ব্যাখ্যা
• 'Physicians heal thyself' এর সঠিক বাংলা অনুবাদ - চাচা আপন প্রাণ বাচা

অন্যদিকে,
- আপ ভালা তো জগৎ ভালা - To the pure all things are pure.
- তিলকে তাল করা - To make a mountain of a molehill.
- পরিশ্রমই সৌভাগ্যের মূল বা প্রসূতি - Diligence is the mother of good luck.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৯৩.
‘পথ দিয়ে চল।’- বাক্যে ‘পথ দিয়ে’ কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, যে স্থানে বা যে সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে- এসব দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই অধিকরণ কারক। বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আধার (স্থান): আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়): সকালে সূর্য উঠবে।

• অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
- প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: শফিক রাজশাহী থাকে।
- তৃতীয় বিভক্তি: পথ দিয়ে চল।
- পঞ্চমী বিভক্তি: ছাদ থেকে পানি পড়ে।
- সপ্তমী বিভক্তি: আহারে রুচি নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,২৯৪.
'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. কৃপণতা
  2. বহুলতা
  3. স্বতন্ত্রতা
  4. বৈশিষ্ট্যতা
ব্যাখ্যা

• বানানের নিয়ম:
'তা' 'ত্ব' এবং 'য' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' 'ত্ব' বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ 'দীন' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে -বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'দৈন্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে 'দৈন্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
অধৈর্যতা-  অধৈর্য, ধীরতা। 
আলস্যতা-  আলস্য, অলসতা।
ঐক্যতা-  ঐক্য, একতা। 
দৈন্যতা-  দৈন্য, দীনতা। 
কার্পণ্যতা-  কার্পন্য, কৃপণতা।
বাহুল্যতা - বাহুল্য, বহুলতা। 
বৈচিত্র্যতা - বৈচিত্র্য, বিচিত্রতা। 
বৈশিষ্ট্যতা - বৈশিষ্ট্য, বিশিষ্টতা। 
বৈষম্যতা- বৈষম্য, বিষমতা। 
ভারসাম্যতা - ভারসাম্য, ভারসমতা। 
সারল্যতা - সারল্য, সরলতা। 
সৌজন্যতা - সৌজন্য, সুজনতা। 
স্বাতন্ত্র্যতা - স্বাতন্ত্র্য, স্বতন্ত্রতা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,২৯৫.
'গুণহীন চিরদিন থাকে পরাধীন।' - এখানে 'গুণহীন' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
  2. কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি
  3. করণকারকে শূন্য বিভক্তি
  4. অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- গরু ঘাস খায়। - কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।
- 'গুণহীন চিরদিন থাকে পরাধীন।' - কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি। ('কে থাকে পরাধীন? - গুণহীন)
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা – কর্তৃকারক)।
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা – কর্তৃকারক)।
- পাছে লোকে কিছু বলে। ( ৭মী বিভক্তি)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৯৬.
নিচের বাক্যটিতে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
'বিদ্যান মুর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।'
  1. উপমার ভুল প্রয়োগ
  2. বানান জনিত
  3. বাহুল্য দোষ
  4. বিভক্তি জনিত
ব্যাখ্যা
উপরের বাক্যটিতে বানান জনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
বিদ্যান ও মুর্খ শব্দদ্বয়ের সঠিক রূপ হবে বিদ্বান ও মূর্খ।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,২৯৭.
আধিক্য বুঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে কোথায়?
  1. ক) রাশি রাশি ধন
  2. খ) ধামা ধামা ধান
  3. গ) কে কে এলো
  4. ঘ) উপরের সবগুলোতেই
ব্যাখ্যা
আধিক্য বুঝাতে - রাশি রাশি ধন, ধামা ধামা ধান, ভালো ভালো আম, ‘কে কে এলো?’।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৩,২৯৮.
কোন বানানটি শুদ্ধ
  1. জন্মজন্মান্তর
  2. রূপায়ন
  3. স্বায়ত্ত্বশাসন
  4. আলস্যতা
ব্যাখ্যা
⇒ শুদ্ধ বানান: জন্মজন্মান্তর (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত থেকে আগত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = [জন্মন্ + জন্মান্তর]

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• রূপায়ণ (বিশেষ্য), 
- এটি সংস্কৃত থেকে আগত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = [√রূপায়্‌+অন]
অর্থ: 
- মূর্তি বা আকার দান, রূপদান।
- বাস্তবে পরিণতকরণ। 

• আলস্য (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত থেকে আগত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [অলস+য]
অর্থ: কুঁড়েমি, অলসতা, জড়তা, শ্রমবিমুখতা। 
 
• স্বায়ত্তশাসন (বিশেষ্য), 
- এটি সংস্কৃত থেকে আগত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [স্বায়ত্ত+শাসন]
অর্থ: স্বশাসিত রাষ্ট্র। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,২৯৯.
কোনটি সন্ধিজনিত অশুদ্ধি?
  1. ক) অতলস্পর্শী
  2. খ) ফনীভূষণ
  3. গ) অহর্নিশি
  4. ঘ) শুধুমাত্র
ব্যাখ্যা
‘অতলস্পর্শী’ সন্ধিজনিত অশুদ্ধি। এর শুদ্ধরূপ - ‘অতলস্পর্শ’।
‘ফনীভূষণ’ ও ‘অহর্নিশি’ সমাসজনিত অশুদ্ধি। এগুলো শুদ্ধরূপ - ‘ফণিভূষণ’ ও ‘অহর্নিশ’।
‘শুধুমাত্র’ বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি। এর শুদ্ধরূপ - ‘শুধু’ অথবা ‘মাত্র’।
সূত্র: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৩,৩০০.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. মাদকাশক্তি ভাল নয়।
  2. তুমিই টাকাটি আত্মস্ম্যাৎ করেছ।
  3. সকল ছাত্রগণ ক্লাসে উপস্থিত ছিল।
  4. আমি সাক্ষ্য দিয়েছি।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: "আমি সাক্ষ্য দিয়েছি।"

অন্য অপশন,
• অশুদ্ধ: মাদকাশক্তি ভাল নয়।
শুদ্ধ: মাদকাসক্তি ভালো নয়।

• অশুদ্ধ: সকল ছাত্রগণ ক্লাসে উপস্থিত ছিল।
শুদ্ধ: সকল ছাত্র ক্লাসে উপস্থিত ছিল।

• অশুদ্ধ: তুমিই টাকাটি আত্মস্ম্যাৎ করেছ।
শুদ্ধ: তুমিই টাকাটি আত্মসাৎ করেছ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।